শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

১০৮. শ্রীগৌরাঙ্গ------তত্ত্ব 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda108.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০৮)শ্রীরামানন্দ রায়, কাষ্ঠ পুত্তলী*
      *🙏🙏গৌরাঙ্গ-তত্ত্ব🙏🙏*
    ****************************
*🌳শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতকার বলছেন শ্রীগৌরাঙ্গ পরতত্ত্ব সীমা। তাঁর বস্তু নির্দেশসূচক পদ‍্য এই যে=*
*"যদদ্বৈতং ব্রহ্মোপনিষদি তদপ‍্যস‍্য তনুভা,*
*য আত্মান্তর্য‍্যামী পুরুষ ইতি সোহস‍্যাংশবিভবঃ।*
*ষড়ৈশ্বর্য‍্যৈঃ পূর্ণো য ইহ ভগবান্ স স্বয়ময়ং,*
*ন চৈতন‍্যাৎ কৃষ্ণাজ্জগতি পরতত্ত্বং পরমিহ।।"*
*🍀এই পরতত্ত্ব ভক্ত-বিশেষের কাছে ভক্তি-বিশেষের প্রভাবে এক এক রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।কেউ ইঁনাকে সন্ন‍্যাসীরূপেদেখেছেন,কেউবা কূর্ম্মরূপে,কেউবা নরসিংসরূপে, কেউবা বামনরূপে,কেউবা বলরামরূপে,কেউবা ষড়্ ভূজরূপে দর্শন করেছেন,কেউবা জ‍্যোতির্ময়ী রাসরসনর্ত্তকীগণের মধ্যে শ‍্যামসুন্দররূপে দর্শন করেছেন,কেউ বা এই শ্রীমূর্তির মধ্যে যুগলমূর্তি প্রত‍্যক্ষ করেছেন।এইজন‍্যই বলতে হয় =*
*🌷অবতারীর মধ্যে সব অবতারের স্থিতি।*
*🌷কেহ কোনরূপে কহে যার যেমন মতি।।*
*🌹ব্রজবধূগণ শ্রীকৃষ্ণে যে সাক্ষাৎ মন্মথ-মন্মথরূপ দর্শন করলেন,সখাগণ সে আবির্ভাব অনুভব করেননি।মা যশোদা ও পিতা নন্দও সেই শৃঙ্গার-রসোজ্জ্বল নিকুঞ্জবিহারীর মধুর শ্রীমূর্তি দর্শন করেননি।তিনি এক হয়েও ভক্তি-বিশেষের কাছে বিভিন্ন ভাবে আবির্ভূত হন, এটি অতি সত‍্য ঘটনা।*
*🍀সুতরাং রসময়বিগ্রহ পরমতত্ত্ব, যুগল রসভজনের একান্ত নিষ্ঠাবান ভক্তের প্রতি পরম কৃপা প্রদর্শনের জন্য যে অদৃষ্টপূর্ব (আগে দেখা যায়নি) কোন অনির্বচনীয় (ভাষায় প্রকাশ করা বা বর্ণনা করা যায় না) মূর্তির প্রকটন করেছিলেন, এইরকম অনুমান ভগবৎ রাজ‍্যের নিয়ম বহির্ভূত নয়।শ্রীভগবানের অনন্তমূর্তি, তিনি অনন্ত।চক্ষুভেদেই দর্শন-ভেদ, এবং ভাব-ভেদেই উপাসনা ভেদ। হিরণ‍্যকশিপুর চোখের সামনে নরসিংহ মূর্তি ছাড়া গোপবেশ প্রকাশিত হননি।গোপীগণ নরসিংহ মূর্তি দেখলে হয়তো গো-গণের মত মনে ভীষণ ভয় পেয়ে পলায়ন করতেন।এখানে বস্তু-বিচারে কৃষ্ণের কোনও পার্থক্য নাই।তবুও শ্রীকৃষ্ণ অদ্বয়তত্ত্ব কিন্তু তাঁর অবতার-পার্থক‍্য বা আবির্ভাব-পার্থক‍্য নিবন্ধন(হেতু বা জন‍্য)তিনি ভিন্ন ভিন্ন ভক্তের কাছে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ধ‍্যেয় (ধারণ যোগ্য )হয়ে থাকেন।জগতে যেমন ভক্ত অনন্ত, দয়াময় ভগবানের রূপও তেমনই অনন্ত, তাঁর নামও তেমন অনন্ত। সুতরাং ভিন্ন প্রকৃতিক ভক্তগণ তাঁর ভিন্ন ভিন্ন (আলাদা আলাদা) রূপের ধ‍্যান করবেন,ভিন্ন ভিন্ন নামে তাঁর পূজা ও জপ করবেন এটি শাস্ত্রযুক্তি বহির্ভূত নয়।শ্রীকৃষ্ণ যখন কংস-সভায় উপস্থিত হলেন তখন এক এক শ্রেণীর লোক তাঁকে এক একরূপে দেখতে পেলেন। যথা শ্রীভাগবতে ঃ--"*
*"মল্লানামশনি র্নৃণাং নরবরঃ স্ত্রিণাং স্মরো মূর্তিমান,*
*গোপীনাং স্বজনোহসতাং ক্ষিতিভুজাং শান্তা স্বপিত্রোঃশিশুঃ*।
*মৃত‍্যুতোজপতে র্বিরাড়বিদুষাং তত্ত্বং পরং যোগিনাং,*
*বৃষ্ণীনাং পরদেবতেতিবিদিতো রঙ্গংগত সাগ্রজঃ।।"*
*🌻অর্থ‍্যাৎ কংসসভায় শৃঙ্গার আদি সর্বরস কদম্বমূর্তি শ্রীভগবান দর্শনকারীদের মনোগত ভাব অনুসারে পরিলক্ষিত হতে লাগলেন। অর্থ‍্যাৎ যার যেমন ভাব, সেই ভাবেই ভগবানকে দর্শন করলেন।মল্লগণ দেখলেন শ্রীকৃষ্ণ যেন বজ্রসার মূর্তি, (বিদ‍্যুতের মূর্তি),কেননা মল্লগণ  রৌদ্ররসপ্রিয় বা রৌদ্ররসের সাধক।(কুস্তিগীরের রোদ অত‍্যন্ত প্রিয়) জনসাধারণ দেখলেন শ্রীকৃষ্ণ যেন পুরুষশ্রেষ্ঠ, কেননা ইঁনারা অদ্ভুতরসে মগ্ন হয়ে রঙ্গস্থলে এসেছেন।স্ত্রীগণ শৃঙ্গাররসে পরিপ্লুত হয়ে শ্রীকৃষ্ণকে সাক্ষাৎ কামদেব বলে মনে করলেন।শ্রীদামাদি গোপদের মনে হল শ্রীকৃষ্ণ তাঁদেরই একজন। বয়স‍্যোচিত হাস‍্যরসে আপ্লুত হয়ে তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের সেই গজরক্তাদি শোভিত তৎকালিক মূর্তিতে হাসির উদ্দীপক ভাব দেখতে পেলেন।অসৎ রাজারা মনে করলেন শ্রীকৃষ্ণ যেন অসৎগণের শাস্তা (শাসনকর্তা)। এখানে বীররসের আবির্ভাব সূচিত হল।বসুদেব-দেবকীর মনে শ্রীকৃষ্ণকে দেখে এইসব ভাবের কোনও ভাবের উদয় হল না। দেবকীর মনে করলেন, এই যে আমার কোঁকচেরা কোলের ধন শ্রীকৃষ্ণ এখানে উপস্থিত।শ্রীকৃষ্ণকে দেখে দেবকীর স্তনের দুগ্ধ পুত্র-স্নেহে ক্ষরিত হতে লাগল,আর পাছে বা কোমল শিশু বাছার উপরে বজ্রসার মল্লগণ কোনরকম দৌরাত্ম (অত‍্যাচার)করে,দেবকীর হৃদয়ে এই আশঙ্কার উদয় হল।এটি করুণরসের প্রভাব।*
*🌹দেখুন কি আশ্চর্য‍্য ভাব!মল্লগণ যাঁকে বজ্রসার ভীষণতম পদার্থ বলে মনে করে ভীত হচ্ছে,স্নেহময়ী জননী তাঁকেই কুসুম-কোমল কোলের শিশু মনে করে মল্লগণের মধ্যে দেখতে পেয়ে কত আশঙ্কাই করছেন ; এদিকে ভীত কংসের হৃদয়ে ভয়ানক রস প্রবাহিত।কংস দেখছেন,কৃষ্ণ যেন সাক্ষাৎ মৃত‍্যুস্বরূপ।নারীগণ যাঁর মদনমোহন রূপ দর্শনে আলিঙ্গন লাভের জন্য উপাস‍্যদেবতার কাছে শত প্রার্থনা করছেন, কংস তাঁকেই সাক্ষাৎ মৃত‍্যু বলে ভয় পাচ্ছেন।আবার অপরদিকে যোগীগণ দেখছেন শ্রীকৃষ্ণ সাক্ষাৎ পরব্রহ্মবিগ্রহ।কেননা শান্তিরসেই ইঁহাদের সাধনা।বৃষ্ণিগণের কাছে শ্রীকৃষ্ণ পরমারাধ‍্য প্রীতিময় বিগ্রহ বলে প্রতিভাত(উজ্জ্বল রূপে প্রকাশিত) হলেন।লোকে কথায় বলে "যার যেমন ভাব,তার তেমন লাভ"।ফলে রসভেদেই ভগবদ্দর্শনে তারতম‍্য ঘটে।*
       *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৫. শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিত প্রভুর প্রধান শিষ্যগণের নাম কি কি ❓❓❓❓❓ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/bokreshwar65.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••━❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀━┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀━┅••••* 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
     ꧁ 👇📖 সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী 📖👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এই অধ্যায়ে শ্রীমদ্‌ বক্রেশ্বর পণ্ডিতের শিষ্য-প্রশিষ্য ক্রমে নিমানন্দ সম্প্রদায়ী বৈষ্ণবগণের বিষয় যৎ কিঞ্চিৎ অবগত আছি, তাহাই বর্ণনা করা হইল। জনৈক ভক্ত, বৈষ্ণবের নিকট আমি একখানি লিখন, প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহাতে শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিত প্রভুর শিষ্য সম্বন্ধে লিখিত ছিল, যথা-----
চন্দ্রশেখর শঙ্করারণ্য আচাৰ্য্য এই দুই জন।
গোবিন্দানন্দ দেবানন্দ কহিল কথন ॥
গোপাল গুরু গোস্বামীর গুণের নাই লেখা।
বক্রেশ্বর পণ্ডিতের এই পঞ্চ শাখা ৷৷

লিপিখানির লিখন সত্যই বটে যে, শ্রীমদ্ গোপাল গুরু গোস্বামীর গুণের সীমা নাই। তিনি পণ্ডিত প্রভুর অতিশয় প্রিয়তম সেবক ছিলেন, এবং পূর্বেই বলা হইয়াছে কাশীমিশ্রের আলয়ে শ্রীমন্মহাপ্রভুর যে আশ্রম ছিল, ঐ আশ্রমের গাদিতে মহাপ্রভুর পর শ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিত আসন প্রাপ্ত হইয়া কিছু কাল পরে অপ্রকট হইলে সেই গাদি শ্রীমদ্ গোপাল গুরু গোস্বামীই প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। তিনি ঐ মঠে মোহান্তাসনে আসীন থাকা-সময়ে ঐ মঠের মধ্যে শ্রীরাধাকান্ত নামে সেবা প্রতিষ্ঠিত করেন। 
যথা অনুরাগবল্লী গ্রন্থে------
তাঁর পাট নীলাচলে রাধাকাস্তের সেবা।
অতি মনোহর তাহা বৰ্ণিবেক কেবা ৷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👏 ক্রমাগত 👉 ৬৬. গোপাল গুরু নাম হইবার সম্বন্ধে সাধুশ্রুতি এইরূপ অবগত হইয়াছি ❗ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/bokreshwar66.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৬৩. শ্রীরাঘব পন্ডিত প্রসঙ্গ 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori63.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
          *শ্রীরাঘব পন্ডিত প্রসঙ্গ*
        ••••••••••••••••••••••••••••••
*🌻মহাপ্রভু সমসাময়িক যে সকল ভক্তচূড়ামণি ছিলেন এবং যাঁদের সহচর্য‍্যে তাঁর লীলারহস‍্য উজ্জ্বল হতে উজ্জ্বলতর হয়েছিল।সেইরকম এক ভক্তের নাম হচ্ছেন শ্রীরাঘব পন্ডিত।তাঁর আদি নিবাস পানিহাটি এবং অদ‍্যাপি তাঁর স্মৃতি বহন করে জরাজীর্ণ অবস্থায় তাঁর সেই শ্রীপাট বিদ‍্যমান।*
*🔥বলতে সঙ্কোচ লাগে যে অধম লেখক তাঁর শ্রীগুরুদেবের সাহচর্য‍্যে (সঙ্গে) এই জায়গার দুর্দশা দেখে তা সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করবার মানসে দিনের পর দিন,মাসের পর মাস যাঁরা এর অধিকারী তাঁদের কাছে আবেদন নিবেদন করে বিফল হন।পরিস্কার ভাবে বলা হয়েছিল যে আমরা শুধু সংস্কার করে দিব কিন্তু কোনরকম দাবী-দাওয়া থাকবে না, আপনাদের ঠাকুরবাড়ী আপনাদেরই থাকবে। কিন্তু জানিনা শ্রীরাঘব পন্ডিতের কি ইচ্ছে অধম লেখক এবং তাঁর শ্রীগুরুদেবের বাসনা পূরণ হল না।কারণ আমরা চেয়েছিলাম যে পরম পূজনীয় রামদাস বাবাজী মহারাজের উপদেশ অনুযায়ী নূতন সেবা পূজার প্রবর্তন না করে যা আছে তার দিকে নজর দেওয়াই ভাল। এর পরই ব‍্যারাকপুর সেবাশ্রমের প্রেরণা ঠাকুর দেন, হয়তো এটিই তাঁর ইচ্ছা ছিল।যাইহোক,প্রসঙ্গের ক্রম ভঙ্গের জন্য মার্জনা ভিক্ষা করি।*

*💧শ্রীরাঘব পন্ডিতের এই পাটবাড়ী কতকগুলি বিশেষ কারণে মহাতীর্থস্থান কারণ তাঁর এই আবাসে নিত‍্যানন্দ প্রভুর অভিষেক হয়েছিল অর্থ‍্যাৎ শ্রীবাস অঙ্গনে মহাপ্রভুর যেরকম অভিষেক হয়েছিল সেরকম।ইহা দ্বারাই নিত‍্যানন্দ প্রভুর শ্রীরাঘব প্রীতি বুঝা যায়।অভিষেককালে নিত‍্যানন্দ প্রভু সম্পূর্ণ ঐশ্বর্য‍্য ভাবে শ্রীরাঘবের কাছে কদম্বপুষ্প চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন অসময় কদমফুল পাওয়া যায় না, সেইজন‍্য রাঘব পন্ডিত মহা সমস‍্যায় পড়ে গেলেন এবং যখন নিত‍্যানন্দ প্রভুর কাছে অসামর্থের কথা নিবেদন করলেন তখন নিত‍্যানন্দ প্রভুর ইচ্ছা শক্তি দ্বারা জম্বীর বৃক্ষে(জামীর বা বাতাবি লেবুর গাছে) কদম্বফুল ফুটিয়ে ছিলেন।*
*🌹মহাপ্রভু যখন নীলাচলে গমন করেন তখন তিনি কথা দিয়েছিলেন যে তিনটি জায়গায় স্মরণ মাত্রেই উপস্থিত হবেন এবং সেই তিন জায়গার তিনজন কে কে জানেন*
*(১)শচীমাতার রন্ধন স্মরণে।*
*(২)নিত‍্যানন্দের নর্ত্তনে।*
*(৩)শ্রীরাঘব পন্ডিত অঙ্গনে।*
*সুতরাং ইহা হতেই বুঝা যায় যে তিনি কত উচ্চমার্গের গৌরভক্ত ছিলেন।শ্রীরাঘব পন্ডিতের সেবা এবং রাঘব পন্ডিতের মহিমা দ্বিগুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল তাঁর পরমা ভক্তিমতী ভগিনী শ্রীমতী দময়ন্তী দেবীর সাহচর্য‍্যে, অর্থ‍্যাৎ সেবার যত খুটিনাটি,পরাপাটী, পবিত্রতা,ভোগ রন্ধন ইত‍্যাদি সব দময়ন্তী দেবী এত নিষ্ঠার সঙ্গে করতেন যে তা বর্ণনা করা যায় না।আর তাঁর শ্রীহাতের রান্না যে কি উপাদেয় ছিল তা গ্রন্থ পাঠ করে জানা যায় এবং সেজন‍্য শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন যে ঃ---*
*🌷রাঘবের গৃহে রান্ধে রাধা ঠাকুরাণী।।*
*🌷দুর্ব্বাসার ঠাঁই তিঁহো পাইয়াছেন বরে।*
*🌷অমৃত হৈতে তাঁর পাক অতি মধুরে।।*
*🌺আমরা আবার চলতি কথায় যে "রাঘবের ঝালি" কথাটি জানি বা যা বর্তমানে কয়েক বৎসর ব‍্যারাকপুর সেবাশ্রমে পালিত হচ্ছে এবং যা আবার পাটবাড়ীর বৈষ্ণব মহান্তগণ পুরীধাম অবধি গিয়ে তা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে সমর্পণ করেন তার মূলে কিন্তু এই দময়ন্তী দেবী।*
*🌳কারণ মহাপ্রভু যখন নীলাচলে থাকেন তখন রথের আগে গৌড়দেশের ভক্তগণ দল বেঁধে সবাই পুরীধাম যেতেন এবং বেশ কিছুদিন মহাপ্রভুর সঙ্গলাভ করে নিজেদের মনে পরম শান্তি লাভ করতেন এবং সেই উপলক্ষ্যে শ্রীরাঘব পন্ডিতও যেতেন। দময়ন্তী দেবী অতীব নিষ্ঠার সঙ্গে প্রাণভরা ভক্তি এবং অনুরাগ নিয়ে সারাবছর ধরে মহাপ্রভুর প্রিয় সব খাবার জিনিস তৈরী করে রাখতেন। সে সব জিনিসের নাম অসংখ্য এবং পরিমাণ পর্য‍্যাপ্ত।তাঁর মনের বাসনা যে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু উৎকল দেশে সন্ন‍্যাস নিয়ে জীব উদ্ধারের জন্য কত কষ্টই না স্বীকার করছেন এবং তাঁকে একটু প্রীতি করে তাঁর প্রিয় বস্তু যে কেউ খাওয়াবে সেরকম কেউ তো সেখানে নাই সেইজন‍্য দময়ন্তী দেবী মহাপ্রভুর প্রিয় এইসব খাদ‍্যদ্রব‍্য জ‍্যেষ্ঠ ভাইয়ের (শ্রীরাঘব পন্ডিত) মাধ‍্যমে প্রতি বৎসর পাঠাতেন।*
*☘ঝালি অর্থ‍্যাৎ ঝাঁকায় করে,বাঁকে* *করে  বহন করবার উপযোগী সেইসব জিনিস কাপড়ের কুথুলি, মাটির হাড়ি, বয়াম বা বয়েম* *ইত‍্যাদির মধ্যে সুন্দরভাবে সাজিয়ে দময়ন্তদেবী পানিহাটী হতে দাদাকে রওনা করিয়ে* *দিতেন।আর অনুরাগ ভরা প্রাণ নিয়ে মহাপ্রভুর ধ‍্যান এবং স্মরণ, মনন*
*করতে করতে শ্রীরাঘব পন্ডিত বিভিন্ন বাহকের সঙ্গে নিয়ে পুরী অভিমুখে পদযাত্রা করতেন।অবশেষে গম্ভীরা মন্দিরে পৌঁছিয়ে নানাপ্রকার কীর্তন ও আর্তির মাধ‍্যমে সেবক গোবিন্দের হাতে তা সমর্পণ করতেন যাতে তিনি সময় বুঝে সব জিনিস মহাপ্রভুর সেবা দেন।এই ঝালি সমর্পণের বিস্তৃত বিবরণ রামদাস বাবাজী মহারাজ যে ভাবে কীর্তনের মাধ‍্যমে বর্ণনা করেছেন তা শ্রবণ করলে চোখের জল সম্বরণ করা যায় না।*
*🍁অদ‍্যাপি বরাহনগর পাটবাড়ীর বৈষ্ণব মহান্তগণ রামদাস বাবাজী মহারাজের এই ভাবধারাকে জীবন্ত রেখেছেন। তাঁরা প্রত‍্যেক বৎসর বহুরকম জিনিস সংগ্রহ করে ট্রেনে করে পুরীধামে যান এবং শ্রীগুরুদেব রচিত কীর্তনের মাধ‍্যমে তা গম্ভীরা মন্দিরে সমর্পণ করেন।😭আজ আমাদের মহাপ্রভুও নাই,তাঁর সেবক গোবিন্দও নাই,আর না আছেন আমাদের পরম পূজনীয় এবং পরম আদরের রামদাস বাবাজী মহারাজ, কিন্তু তথাপি তাঁদের স্মরণ মননের মধ‍্য দিয়ে যেটুকু মনে আনন্দ পাওয়া যায় তাতেই আত্মতৃপ্তি।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
*বয়সে নবীনা নারী,যুবা মন লয় হরি,*
   *যদিও কুব্জ তার পৃষ্ঠেতে বিরাজে।*
*চোখ ভাসা দীর্ঘ নাসা,মুখে তার মিষ্ট ভাষা,*
    *পরমা সুন্দরী সে যে নারী মাঝে রাজে।।*
*তাহারে সম্মুখে হেরি,কহিলেন বংশীধারী,*
   *কহগো সুন্দরী তুমি কাহার ললনা।*
*কোথায় তোমার গতি,জানিতে বাসনা অতি,*
  *কার তরে গন্ধ-পাত্র লয়েজ বল না।।*
*এই সুগন্ধি চন্দন,হেরি মোর মুগ্ধ মন,*
   *ত্বরা ইহা অঙ্গে দিতে বাসনা এখন।*
*দেহে যদি এইক্ষণ,গন্ধ কর প্রলেপন,*
   *অতিশয় তুষ্ট হব ভাই দুইজন।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬২. শ্রীরাঘব পন্ডিতের ঝালি(বিরাম) 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori62.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
  *শ্রীরাঘব পন্ডিতের ঝালি(বিরাম)*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺আজ রাঘব পন্ডিত এবং দময়ন্তী দেবী স্থূল চক্ষে অপ্রকট হলেও এবং স্বচক্ষে ও স্বকর্ণে এই ঝালি কীর্তন শ্রবণ না করলেও তাঁরা নিশ্চিত অবাক বিস্ময়ে এই মহাপুরুষের সৃজনী শক্তির প্রশংসা করেন কারণ বৈষ্ণব জগতে অপ্রকট বলিয়া কিছুই নাই।কি অপূর্ব রন্ধন শক্তি,আমানি করা হতে শুরু করে রন্ধন প্রণালীর কি সুবিন‍্যস্ত প্রথা। কৌশলী শিল্পীর কি মনোরম অঙ্কন সৌন্দর্য,ভাস্করের কি অপূর্ব ভাস্কর্য‍্য যে তার প্রশংসা করবার ভাষায় নাই।অর্থ‍্যাৎ শ্রীপাদ বাবাজী মহারাজ রচিত এই ঝালি কীর্তনের আমানি করা হতে শুরু করে তাঁর রন্ধন প্রণালী এবং শেষে তার পরিবেশন মাধুর্য‍্য যেন ভক্তগণ আকন্ঠ ভোজন করে পরিতৃপ্তি লাভ করেন আর মানসে সেই মহাপুরুষের চরণে নিবেদন করেন অন্তরের ভক্তি অর্ঘ‍্য। গম্ভীরার প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থেকে বাবাজী মহারাজ যখন নানারকম আক্ষেপ করছিলেন এবং একটিবার দর্শনের জন্য বার বার নিবেদন করছিলেন তখন সেই পরিবেশের কারুণ‍্য যেন হৃদয়মনকে মথিত করে দিচ্ছিল।অবশেষে তিনি নিজ গুরুদেবের চরণে ঐ একই আকুতিভরা নিবেদন জানালেন যে একটিবার কৃপা করে দেখাও, তোমাদের বস্তু  অর্থ‍্যাৎ তোমাদের গৌর তোমাদেরই থাক কৃপা করে কেবল একবার দর্শন করার সুযোগ করে দাও।এইভাবে গম্ভীরার পাষাণ মন্দিরে এই ক্রন্দনের রোল যেন ধ্বনিত এবং প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। ভগবান হচ্ছেন ভাবগ্রাহী জনার্দন, তিনি ভক্তের ভাবটুকুই গ্রহণ করেন সেইজন‍্য তাঁর হৃদয় গলতে বাধ‍্য।(এই ভক্তির জন্য গোপাল মা যশোদার কাছে মার খেয়েছেন, ভয়ে পলায়ন করেছেন,যে ভগবানকে পাবার জন্য মুনি-ঋষিগণ হাজার হাজার বৎসর তপস‍্যা করেছেন, সেই ভগবানকে যশোমতী মা রজ্জু দিয়ে বন্ধন করেছেন, সত‍্যই তিনি ভক্তির বশবর্তী)।তাঁরা ঠিক বাবাজী মহারাজের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন এবং তাঁকে দর্শনদানও করিয়েছিলেন, কারণ সেই প্রেমনেত্রের বিকাশ একমাত্র বাবাজী মহারাজেরই ছিল।বৈষ্ণব জগতে আমরা দেখি যে বিরহের মধ্যেই ভোগ বেশী,সেহেতু বাবাজী মহারাজের এই বিরহ অনল সমন্বিত ক্রন্দন বা আক্ষেপ বৃথা যায় নাই কারণ তা না হলে তিনি এই প্রাণ-মাতানো প্রাণ-কাঁদানো কীর্তন সৃষ্টি করতে পারতেন না।*
*🌳অর্থ‍্যাৎ সৃজনী শক্তি থাকলে মহান ব‍্যক্তিগণ অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারেন।(সাহিত‍্যের মাধ‍্যমে মৃত বস্তুর মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করতে পারেন যা রবি ঠাকুর "নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ-- তাজমহল" ইত‍্যাদি কবিতা পাঠ করলেই বুঝা যায় )।সেইরকম বাবাজী মহারাজও গুরু কৃপায় এমনই এক ঐশ্বরিক শক্তির অধিকারী ছিলেন যে তিনি রাঘবের ঝালি কীর্তনের মাধ‍্যমে কত অপরূপ ভাবধারার সংযোজন করে একটি তথাকথিত অতীত প্রসঙ্গকে তাঁর সৃজনী শক্তির মাধ‍্যমে এত প্রাণবন্ত করে তুলতে পেরেছেন।অর্থ‍্যাৎ সেই বট বৃক্ষের মত শক্তি কয়জনার আছে যে নীরস পাষাণ হতে রস সংগ্রহ করে নিজেকে সঞ্জীবিত করতে পারে।*
*🌻অনেক সময় দেখা যায় যে যাঁরা পাতা পেতে বসে প্রসাদ পান তদপেক্ষা যিনি পরিবেশন করেন তিনি যেন বেশী সুখ পান।এ ক্ষেত্রেও অনেকটা অনুরূপ, বাবাজী মহারাজ পরিবেশন করেছেন আর আমরা প্রসাদ পেয়ে ধন‍্য।একেই বলে মহতের স্বভাব।স্কুল কলেজের বিদ‍্যা কিছুই তেমন ছিল না তথাপি কি অপূর্ব সৃজনী শক্তি।এ যেন কবিগুরু রবি ঠাকুরের "নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ" কবিতার সমতুল‍্য।রবির কিরণ স্পর্শে হিমালয়ের জমাট বরফ যখন ধীরে ধীরে গলতে শুরু হয় তখন সেই পাষাণ সদৃশ বরফগুলি হতে ধারা বহিতে আরম্ভ হয়  এবং তার ফলে সেই বিগলিত জলধারা পর্বত শীর্ষ হতে প্রবাহিত হয়ে নদনদীর মাধ‍্যমে ধরণীকে প্রাণবন্ত করে তোলে।সেইজন‍্য কবির ভাষায় জমাট বরফ যেন বলছে=*
*◽আমি ঢালিব করুণা ধারা।*
*◽আমি ভাঙ্গিব পাষাণ কারা।।*
*◽আমি জগৎ প্লাবিয়া বেড়াব গাহিয়া।*
*◽আকুল      পাগল         পারা।।*
*🍁অর্থ‍্যাৎ চির হিমশীতল প্রস্তর সদৃশ (পাথর সমান) বরফরাশি যা শীতকালে পর্ব্বত শিখরে নিস্তেজ প্রাণহীন জড় পদার্থের মত ঘনীভূত ছিল তা যেন রবির কিরণ স্পর্শে প্রাণবন্ত হয়ে উঠিল এবং যেন বলতে লাগল--, আমরা প্রাণহীন বরফ নয়, আমাদের মধ্যেও প্রাণ আছে, রবির কিরণের যাদুস্পর্শে আমরা যেন জেগে উঠেছি এবং আমরা জগৎকে এবং জগৎবাসীকে দেখাব যে ঃ--*
*🌲আমরাও করুণাধারা ঢালতে পারি, আমরাও পাথরের গন্ডীর মধ‍্য দিয়েও ভেঙ্গে চুরে বাহির হতে পারি এবং আমরা সারাদেশ দেশান্তরে আমাদের বিগলিত জলধারার দ্বারা নদীর দু'কুল প্লাবিত করে ধরণীকে সজীব এবং শস‍্য শ‍্যামলা করে তুলতে পারি। সেই জন‍্য রবির কিরণস্পর্শে জমাট বরফ যেন অবাক বিস্ময়ে বলতে লাগল=*
*◽না জানি কেন রে,এতদিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।।*
*◽জাগিয়া উঠেছে প্রাণ-- ওরে উথলি উঠিছে বারি।*
*◽ওরে প্রাণের বেদনা প্রামের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।।*
*🌹কবিগুরু রবীন্দ্রধাথ যেমন নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গের মাধ‍্যমে জমাট বরফকে দিয়ে কথা বলিয়েছেন এবং সেই জমাট বরফ রবির কিরণ স্পর্শে যেরকম জীবজগৎকে করুণাধারায় ভাসিয়ে দিয়েছে, শ্রীপাদ বাবাজী মহারাজও সেইরকম এই ঝালি কীর্তনের মাধ‍্যমে গম্ভীরার বুকে যে কত চাপা ব‍্যথা পুঞ্জীভূত আছে, গম্ভীরার সেই নির্জন কক্ষের মধ্যে যে মহাশূন‍্যতা এবং লীলারস বৈচিত্রের স্তব্ধতা বিরাজ করছে তাকে এই সৃজনীর মাধ‍্যমে অনবদ‍্য এ উপভোগ‍্য করে তুলেছেন।গম্ভীরা মন্দিরের মহাশূন‍্যতার মধ্যে পুঞ্জীভূত দুঃখ যা প্রায় পাঁচশ বৎসর ধরে সমাধিস্থ ছিল তা যেন জমাট বরফের মত বাবাজী মহারাজের যাদুস্পর্শে সঞ্জীবনি শক্তি ফিরে পেল এবং মনের সব গোপন বেদনা ও ব‍্যথা সব বাবাজী মহারাজ কাছে নিবেদন করল কারণ এতদিন তারা যেন প্রকৃত আধার খুঁজে পাচ্ছিল না।যে মুহূর্তে প্রকৃত আধার সে খুঁজে পেল তখনই যেন গম্ভীরার ইট পাথরের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার হল।*
*◽জমাট বরফ যেরকম সূর্য‍্যের কিরণস্পর্শে সঞ্জীবনি শক্তি ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সেইরকম এ ক্ষেত্রেও গম্ভীরার সেই স্তব্ধতা,সেই নীরবতা,গম্ভীরার বক্ষে যত চাপা ব‍্যথা,সব যেন বাবাজী মহারাজের স্পর্শ পেয়ে ইট পাথরগুলির মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করল এবং তারা পুনরুজ্জীবিত হল এবং প্রকৃত আধার পেয়ে মনের জমে থাকা বেদনার যে অশ্রু এতদিন শুকিয়ে গিয়েছিল তা যেন মাতৃহারা সন্তানের মত ক্রন্দনের মাধ‍্যমে বাবাজী মহারাজের হৃদয় বীণার তন্ত্রীটিকে আঘাত করল এবং তখনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ঝালি কীর্তনের পদগুলি রচনা করে বাবাজী মহারাজ ভগীরথের গঙ্গা আনার মত দুকুল ভাসিয়ে বৈষ্ণব জগৎকে কৃতকৃতার্থ করে দিলেন। এবং তার ফলেই সৃষ্টি হল এই রাঘবের ঝালি কীর্তন যা আস্বাদন করে আজ আমরা তৃপ্ত।সর্বশেষে বলতে চাই যে=গোমাতা যেরকম ত্বরিতগতিতে তৃণপাতা ভোজন করে পরে নিশ্চিন্ত মনে সুশীতল বৃক্ষছায়ায় বসে ভুক্ত দ্রব‍্যের রোমন্থন করে আমরাও সেইরকম গুরুদেবের সুশীতল ছায়ায় বসে সেদিনের সেই ভুক্ত দ্রব‍্যের রোমন্থন করছি এবং এক অপ্রাকৃত আনন্দ লাভ করছি।বাস্তব জগতের হিসাবে বাবাজী মহারাজ আজ অপ্রকট কিন্তু ভক্তি জগতে তিনি চির প্রকট।সূর্য‍্যের যেমন উদয়ও নাই অস্তও নাই শুধু এক দিগ্বলয় হতে অন‍্য দিগ্বলয়ে গমনাগমন অর্থ‍্যাৎ আবহমান কাল হতে সদা সর্বদা কিরণ দিচ্ছেন কিন্তু তথাপি আমরা দেখি বা বলি আজ সূর্য‍্য অস্ত গিয়েছেন, আমাদের সামনে হয়ত সূর্য‍্য তখন দেখা যাচ্ছে না  কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সূর্য‍্য তখন প্রকটভাবে অন‍্য জগতে কিরণ দিচ্ছেন।সেইরকম বাবাজী মহারাজও সূর্য‍্যের ন‍্যায় চির প্রকট, উদয় অস্ত বলে কিছুই নাই।কৃপা করে যাঁকে দর্শন দিতে চান তিনিই দর্শন পান এটি ধ্রুব সত‍্য কথা।*
🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥
*ওহে বিপদাবরণ,এবে লইনু শরণ,*
  *অন্তকালে একবার দিও দরশন।*
*বিশ্বম্ভর দামোদর,রূপ তব মনোহর,*
  *বংশীধারী হৃষীকেশ দেব জনার্দন।।*
*অক্রূর করিলে স্তুতি,প্রসন্ন হৈয়া অতি,*
  *হরি লন ব্রহ্মমূর্তি তবে নারায়ণ।*
*ভাগবত কথা সার,শোনে যেবা শান্তি তার,*
  *অক্লেশে পরম পদ লভে সেইজন।।*
*রাখ ভক্তি তাঁর প্রতি,পাবে তাঁরে কাছে অতি,*
  *অচিরে কাটিবে তব সংসার বন্ধন।।*
*রাম কৃষ্ণ একসাথে,চলিছেন রাজপথে,*
   *হেনকালে দেখিলেন নারী একজন।*
*সুন্দরী যুবতী সে যে,সাজিয়াছে নব সাজে,*
  *হস্তে তার ছিল তবে সুগন্ধি চন্দন।।*
☘🌴🌳🌺🍀🌷🍁🌲🌹🔥🌻🌳💧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬১. শ্রীরাঘব পন্ডিতের ঝালি(১) 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori61.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
     *শ্রীরাঘব পন্ডিতের ঝালি(১)*
    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺গ্রন্থকারের উক্তি, আমাদের ব‍্যারাকপুর নিতাই গৌরাঙ্গ সেবাশ্রমে প্রতি বৎসর শ্রীরাঘবের ঝালি উৎসবটি পালিত হয়, এর বিস্তৃত বিবরণ আপনারা যদি কেউ শুনতে আগ্রহী তাঁদের বাসনা পূর্ণ করা হবে। কিন্তু অদ‍্য এই ঝালি প্রসঙ্গে অধমের মনে যে ভাবোদয় হয়েছে তার কিঞ্চিৎ পরিবেশন করা হবে আশাকরি সুধী শ্রোতৃবৃন্দ তা উপভোগ করবেন।*
*🌳ঝালি কীর্তনের আনুসঙ্গিক ক্রিয়াকর্মের পর আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় গুরুদেব শ্রীসনাতন দাস বাবাজী গুণগ্রাহী এবং শিষ্য ভক্তগণ সমভিব‍্যাহারে মন্দির সমক্ষে দাঁড়িয়ে থেকে ঝালি কীর্তন আরম্ভ করলেন এবং প্রথমেই পদ ধরিলেন=*
*🌷আজু হবে শ্রীরাঘবের ঝালি সমর্পণ।*
*🌷হেন দিনে কোথা প্রভু শ্রীরাধারমণ।।*
*🌷আজ কার সঙ্গে যাব মোরা।*
*🌷প্রাণ গৌর লীলা গাইতে গাইতে,*
*🌷আজ কার সঙ্গে যাব মোরা।।*
*🙌অর্থ‍্যাৎ এই কীর্তন শ্রীপাদ বাবাজী মহারাজের রচিত বলিয়া তিনি সর্বপ্রথম গুরু বিরহে আক্ষেপ করেছেন যে আজ সব থেকেও যেন কিছু নেই।এত লোক,এত ভক্ত,এত শিষ্য,এত গুণগ্রাহী সব সঙ্গে রয়েছে তথাপি বাবাজী মহারাজের অন্তর যেন শোক সাগরে ডুবে আছে, অর্থ‍্যাৎ গুরু নিষ্ঠা কাকে বলে তার আদর্শ চরিত্র।নিজে সাধন ভজন জগতে এত উচ্চে আসীন হলেও নিজ গুরুদেবের মর্য‍্যাদা সবার আগে দান করেছেন এবং একেই বলে আদর্শ শিষ্য এবং প্রকৃত বৈষ্ণবতা।সেইজন‍্য আমাদের গুরুদেব যখন কীর্তনের এই পদটি ধরলেন তখনই তাঁর অন্তরেও অনুরূপ গুরুবিরহের শেল বিদ্ধ হল।তারউপরে সামনে মন্দিরের গর্ভগৃহে শ্রীগুরুদেবকে দর্শন করে ভাবাবেশে উচ্চৈঃস্বরে রোদন করতে লাগলেন--, কারণ এই জগতে যার ব‍্যথা সেই বুঝে।বাবাজী মহারাজ কেঁদে ভাসিয়েছেন রাধারমণের বিরহে আর আমাদের গুরুদেবও নিজ গুরুদেবকে হারিয়ে আক্ষেপ করে নয়নজলে ভেসে যেতে লাগলেন এবং তদ্দর্শনে সমাগত শিষ্য ভক্তগণও অশ্রুসিক্ত নয়নে অনুষ্ঠানের প্রকটত্ব অনুভব করতে লাগলেন।এ জ্বালা যে কি জ্বালা,এ অন্তর্দাহ যে মানুষকে কিভাবে তুষানলে দগ্ধ করে তা একমাত্র ভুক্তভোগী ব‍্যক্তি ছাড়া অন‍্য কেউ হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন না।সেইজন‍্য বাবাজী মহারাজের সূচক কীর্তনে একটি পদ আছে যে=*
*🌷শ্রীগুরু বিরহে তুমি কাঁদিত যখন।*
*🌷তখন বুঝিনি তব বেদন কেমন।।*
*🌷দাঁড়াবার স্থান নাই যখন বলিতে।*
*🌷কেউ নাই বলি যবে ফুকারি কাঁদিতে।।*
*🌷মোরা কাঁদিতাম শুধু কাঁদা মুখ চাহি।*
*🌷সে দশা মোদেরও হবে কভু ভাবি নাহি।।*
*🌹সেইরকম ঝালি কীর্তনের সর্বপ্রথম এই পদটি কীর্তিত হলে ক্ষণকালের মধ্যেই স্তব্ধতা,শুচিতা এবং অনুষ্ঠানের প্রকটত্ব অনুভূত হল।এইভাবে গ্রন্থের হিসাবে বিভিন্ন পদ গাওয়া হতে লাগল সকলেই যেন মানসে পুরীধামে উপস্থিত--, সকলেই যেন ঝালি মাথায় করে কাঁদতে কাঁদতে চলেছেন।একেই বলে লীলা মাহাত্ম্য, স্থান মাহাত্ম্য, পরিবেশের মাহাত্ম্য। মানুষকে ক্ষণিকের মধ্যেই যেন এক সম্মোহনী শক্তি প্রভাবে ভাবরাজ‍্যে নিয়ে যায় এবং মন তখন আত্মার খাদ‍্য পেয়ে সারা দেহমনে পুলক অনুভব করে।এককথায় একেই বলে লীলা প্রকট।*
*🍀রাঘবের স্বরূপে শ্রীগুরুদেব কীর্তনের পদগুলি গান করে নীরস পাষাণকেও যেন বিগলিত করে দিতেন এবং সামনে মন্দিরের মধ্যে মহাপ্রভু, নিজ পরম গুরুদেব চরণদাস বাবাজী মহারাজ, নিজ গুরুদেব রামদাস বাবাজী মহারাজ সকলেই যেন উপস্থিত, সকলেই যেন এই ঝালি কীর্তনে যোগদান করেছেন অর্থ‍্যাৎ এ যেন খেতুরি মহোৎসব প্রকট অপ্রকট সকলেই উপস্থিত আর আমাদের মত হতভাগ‍্যের দল এইরকম এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের মাধ‍্যমে যেন অমৃত ভোজন করছি কারণ মনের ক্ষুধা মিটলে আর দেহের ক্ষুধা থাকে না।* 
*🙏শ্রীপাদ বাবাজী মহারাজের হিসাবে গুরুদেব কাতর কন্ঠে আক্ষেপ করে বলছেন যে,হে দয়াময় মহাপ্রভু!হে করুণাময় মহাপ্রভু!হে ভক্তবৎসল মহাপ্রভু!তুমি একবার কৃপা করে আমাদের দরশন দাও।তোমার অনুগত ভক্তগণ কত আশা করে,কত কষ্ট স্বীকার করে তোমার কাছে এসেছে একবার গম্ভীরার নির্জন কক্ষ হতে বাইরে এসে দর্শন দিয়ে তাদের ব‍্যথিত হৃদয়কে সান্ত্বনা দাও। আমরা একটিবার শুধু তোমায় দর্শন করতে চাই, তোমার ভজন বিঘ্ন আমরা করতে চায়না কারণ হে দয়াময়! তুমি যেন ভুলে যেও না যে ভগবানের সর্বপ্রধান গুণ হচ্ছে যে তিনি ভক্তবৎসল, ভক্তের চেয়ে প্রিয় তাঁর কাছে আর কেউ নাই।কতদিন তোমায় দেখিনি, কত আশা করে কত কষ্ট স্বীকার করে তোমার কাছে এসে এই ভিক্ষা জানাই যে একটিবার সেই হরিবোলা রসের বদনখানি দরশন দাও, আর একবার সেই সন্ন‍্যাস মূরতিতে এসে আমাদের সামনে দাঁড়াও ইত‍্যাদি সব আক্ষেপযুক্ত পদগুলি কীর্তন হতে লাগল।বাবাজী মহারাজ যখন এই কীর্তন রচনা করেছিলেন তখন সকলেই তো অপ্রকট কিন্তু বাবাজী মহারাজ নিশ্চিত তাঁর সূক্ষ্ম দৃষ্টির দ্বারা সকলের উপস্থিতি অনুভব করতেন খেতুরির উৎসবের মত,কারণ তা না হলে কি করে তিনি এসব পদগুলি রচনা করলেন?নিজের অনুভূতি বোধ না হলে কি এইসব ব‍্যথাভরা প্রাণ কাঁদানো ছন্দগুলি রচনা করা যায়?*
*🌹যেকথা আগেই বলা হয়েছে এই কীর্তন রচনা কালে সেই অতীত যুগের কেউই প্রকট ছিলেন না,সর্বথা শূন‍্য সবদিকে,কি নীলাচলে,কি নবদ্বীপে, কি বৃন্দাবনে, সব জায়গায় যেন পাষাণের নিস্তব্ধতা এবং সেই ভাঙ্গা মঠ মন্দিরগুলি অতীত ঐতিহ্য বহন করে নীরবে অশ্রু বিসর্জন করছে। কিন্তু অশ্বত্থ বৃক্ষ যেরকম নীরস পাষাণ হতেও রস সংগ্রহ করতে পারে, সেই হিসাবে অনেক সাহিত‍্যিক অনেক লেখক এই অশ্বত্থ বৃক্ষকে বড়ই রসিক বলে আখ‍্যা দিয়েছেন যে কিভাবে সে এই নীরস পাষাণ হতে রস সংগ্রহ করতে পারে?কৈ অন‍্য কোন বৃক্ষ তো পারে না। সেইরকম শ্রীপাদ বাবাজী মহারাজও যে কি কৌশলে এই সব প্রসঙ্গকে এমন মধুময় এবং প্রাণবন্ত করে তুলতে পেরেছিলেন তা ভাবলেও অবাক লাগে। অর্থ‍্যাৎ এ যেন যাদুকরের খেলা। তাঁরই রচিত এইসব কীর্তন, সূচক ইত‍্যাদি যখন পাঠ হয় তখন শ্রোতা ভক্তগণ যেন অনুভব করেন যেন তাঁরা সেই সুদূর অতীতের পরিবেশে বসে একমনে শুনছেন, এই যাদুকরের শক্তি একমাত্র বাবাজী মহারাজেরই ছিল এবং তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য এই যে সর্ব সাধারণের পক্ষে বোধগম্য  এবং উপভোগ‍্য। বাংলা সাহিত‍্যে যেরকম দ্বিতীয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম আর হবে না। মহাপ্রভুর পার্ষদগণের অপ্রকটের পর আমারও সেইরকম মনে হয় যে দ্বিতীয় রামদাস আর হবেন না।*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
*জল মধ্যে বিশ্বরূপ,নিরখিয়া অপরূপ,*
   *ভক্তিতে অক্রূর কৃষ্ণে করিল স্তবন।*
*তুমি দেব নারায়ণ,সবাকার মূলাধার,*
  *মায়াময় সর্বাশ্রয় জগত কারণ।।*
*ওগো দুঃখ বিমোচন,নমি তোমা নারায়ণ,*
    *অপার মহিমা তব না হয় গোচর।*
*নমঃ অখিলের পতি,তুমি সর্বজনের গতি,*
     *প্রণমি তোমারে প্রভু দেব গদাধর।।*
*তব মহিমা অনন্ত,কেহ নাহি পায় অন্ত,*
   *অসীম যে হও তুমি বেদ অগোচর।*
*করে তব আরাধনা,নানা মতে নানা জনা,*
   *কেহ বা তোমায় পূজে করি আড়ম্বর।।*
*আমি যে অজ্ঞান অতি,কৃপা কর মোর প্রতি,*
   *তব পদে ভক্তিভরে নমি বার বার।*
*যত দৈত‍্য দুরাচার,সমূলেতে নাশিবার,*
   *কল্কিরূপে ধরাধামে আসিবে আবার।।*
        🔥🔥🔥🔥🔥🔥
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



adds