✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 প্রথম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/gauranga1.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত🙏*
*যজ্ঞোপবীত ও পিতৃ বিয়োগ*
***************************
*🌻বর্তমানে নিমাইয়ের বয়স নবম বৎসর।পিতা জগন্নাথ, পুত্রের উপবীত দিবার দিন ধার্য্য করলেন।ক্ষৌরকার নিমাইয়ের মস্তক মুন্ডন করে দিলে, তাঁকে লাল রঙের বস্ত্র পরান হল ; এবং তাঁর হাতে দন্ড ও স্কন্ধে বা কাঁধে ঝুলি দেওয়া হল।এই ব্রহ্মচারীর বেশে তাঁকে সাজানো হল। তখন তাঁর অন্তরের ও বাইরের জ্যোতিঃ যেন ফুটে বাহির হতে লাগল। এই উপলক্ষ্যে জগন্নাথ-পরিবারের অনেক আত্মীয় স্বজন ব্যক্তিগণ নিমন্ত্রিত হয়ে জগন্নাথ গৃহে এসেছিলেন।শচীমায়ের যেন আনন্দের সীমা নেই। অনেক নারী আজ সমবেত হয়ে আনন্দ কোলাহল করতে লাগলেন।শচীগৃহ উৎসবময় হয়ে উঠিল।মৃদঙ্গ, সানাই প্রভৃতি বাদ্য বেজে উঠল।বাদকেরা নেচে নেচে বাদ্য বাজাতে লাগিল। সানাই মোহনসুরে ধ্বনি ধরিল ; চারিদিকে আনন্দ-কোলাহলে যেন মুখরিত হয়ে উঠিল।এদিকে শ্রীগৌরের মোহনমূর্তি কত লোক নয়ন ভরে দেখতে লাগল, আর যেন মনে মনে এই কথা বলতে লাগল, এমন দেবতুল্য,এমন রূপবান, ব্রাহ্মণকুমার আর তো কোথাও দেখিনি। এই উৎসবময় গৃহে যজ্ঞসূত্র ধারণের সময় উপস্থিত হল।গৌরের পিতৃদেব সন্তানের কর্ণে গায়ত্রী মন্ত্র প্রদান করলেন।নবদ্বীপে হাজার হাজার বালকের কানে গায়ত্রী মন্ত্র প্রদান করা হয়েছে ; কিন্তু বিশ্বম্বরের কানে সে বৈদিক মন্ত্র প্রদান করা হলে,এক নূতন ঘটনা উপস্থিত হল,মন্ত্র দেওয়া মাত্রই, তাঁর শরীরে যেন এক বৈদ্যুতিক শক্তি সঞ্চারিত হল।নিমাই হুঙ্কার করে উঠিলেন ; তাঁর বদনমন্ডল এক অপূর্ব শ্রী ধারণ করল, তাঁর চক্ষু যেন কি এক মনোহর মূর্তি দর্শন করতে লাগল।মন্ত্র-দীক্ষিত নিমাই সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।*
*🌹তাঁর এইসব লক্ষণ দেখে,সমবেত পন্ডিতমন্ডলী বলতে লাগলেন, এ বালক সামান্য বালক নহেন,এঁর শরীরে শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছেন।কিছুক্ষণ পরে নিমাইয়ের জ্ঞানোদয় হলে, তিনি শচীদেবীকে বললেন, মা! একাদশীর দিন তুমি অন্ন আহার করিও না। জননী নিমাইকে সেইসময় সামান্য সন্তান বলে মনে করেননি।পুত্রের শ্রীমুখ হতে এইকথা শোনামাত্র, তিনি তৎক্ষণাৎ বললেন, "হ্যাঁ বাপ, তুমি যা বললে আমি এবার হতে,তোমার কথা অনুসারেই কাজ করব।*
*💧ব্রাহ্মণ্যধর্মের নিয়ম অনুসারে তাঁকে কয়েকদিন নির্জন জায়গায় বাস করতে হয়েছিল।এ অবস্থায় তাঁর রূপলাবণ্য যেন আরো বৃদ্ধি হতে লাগিল। তাঁর আত্মা ভগবানের জ্যোইতে জ্যোইষ্মান হয়ে উঠিল।একাদশ দিনে তিনি যখন ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে করে,সকলের কাছে ভিক্ষাপ্রার্থী হলেন,তখন পুরুষ ও নারী, যার যতটুকু সাধ্য তারা সেই ঝুলির মধ্যে প্রদান করতে লাগলেন। এমন সময়ে, এক ব্রাহ্মণ সেই ঝুলির মধ্যে একটি সুপারী ফেলে দিলেন।সুপারীটি বাহির করে, নিমাই সেই সুপারীটি চিবিয়ে ভক্ষণ করলেন।ভক্ষণ করিবামাত্র, তিনি হুঙ্কার রবে গর্জন করতে লাগলেন,তারপর মাকে বললেন,মা! আমার এই শরীর পড়ে রইল দেখিও, আমি চললাম। এইকথা বলবার পরই তিনি জ্ঞানহারা হয়ে ভূমিতে পড়ে গেলেন।শচীমা এই কথায় বেশ অবাক হলেন, কথার মানে বুঝতে পারলেন না।তারপর তাঁর চৈতন্য পেরাবার জন্য তাঁর সমস্ত অঙ্গ গঙ্গার শীতল জল দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হল। ভেজানোর পর গৌরহরি চেতনা লাভ করলেন। তখন তাঁর ঐ ভাবাবেশ দূরীভূত হলে,শচীনন্দন গৌরহরি সহজ বালকের অবস্থা প্রাপ্ত হলেন।গৌরহরির এই অবস্থা দেখে, সকলে বলতে লাগলেন--,শ্রীকৃষ্ণ এই বালকের দেহে আশ্রয় করেছিলেন।উপনয়ন কার্য্য সম্পন্ন হয়ে গেল। কিন্তু জগন্নাথ মিশ্রের মনে বিশ্বরূপের সন্ন্যাসের পর হতেই কেমন এক আশঙ্কার উদয় হত ; এবং ইতিঃপূর্বে নিমাইয়ের নিদ্রিত অবস্থায় বিশ্বরূপের আবির্ভাব, ও তদীয় ভাইকে বৈরাগ্য অবলম্বন করতে অনুরোধ ; যজ্ঞোপবীতের পর নিমাইয়ের এই ভাবাবেশ ও প্রহেলিকাপূর্ণ (এখানে প্রহেলিকাপূর্ণ বলতে,যে রচনায় বাহ্য অর্থের আবরণে স্বরূপার্থ গূঢ়ভাবে অবস্বিতি করে, বা এককথায় হেঁয়ালী)কথাবার্তার বিষয় মনে উদিত হয়ে,তাঁর চিত্তকে আলোড়িত করে তুলল।তিনি পুত্রকে কাছে বসিয়ে পড়াতেন, আর তাঁর অনুপম মুখের সৌন্দর্য্য দেখতে দেখতে মনে করতেন, নিমাই কি আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবে? আর নীরবে বসে অশ্রুপাত করতেন।একদিন ব্যাকুল হৃদয়ে, রঘুনাথ ঠাকুরের কাছে প্রণাম করে বললেন, "ঠাকুর"! আমার পুত্র যেন সন্ন্যাসী না হয়। বিশ্বম্ভর তখন একটু দূরে ছিলেন, পিতা মিশ্র মহাশয় তা জানতেন না। নিমাইয়ের কানে পিতার প্রার্থনা প্রবেশ করল।তিনি পিতার এই প্রার্থনা শুনে দূর হতেই ঈষৎ হাসিলেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🦚🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
*(১২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত🙏*
*নিমাইয়ের পিতৃবিয়োগ*
**********************
*🌻মানুষের মনে যখন যে চিন্তা প্রবল হয়,তখন আহারে, বিহারে, শয়নে, স্বপনে সেটি তার মনকে অধিকার করে বসে।নিমাই সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করবে,এই চিন্তাই জগন্নাথ মিশ্রের মনকে প্রবলভাবে অধিকার করে বসেছিল।তিনি একদিন স্বপ্ন দেখলেন, গৌরের মস্তক মুন্ডিত, মধ্যে একটি শিখা শোভা পাচ্ছে ; গৈরিক বসন পরিহিত ;হাতে দন্ড ও কমন্ডলু, মুখে এক অপূর্ব জ্যোতিঃ নির্গত হচ্ছে, গৌর সন্ন্যাসীর বেশে সজ্জিত হয়ে,সংসার পরিত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন।তাঁর নিদ্রা ভঙ্গ হ'ল, আর নয়নজলে তাঁর বক্ষ ভেসে গেল।তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে শচীকে স্বপ্ন বৃত্তান্ত বললেন। শচীদেবী দেখলেন,স্বামীর হৃদয় যেন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে, তিনি তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, নিমাই আমার সদাসর্বদা পাঠে রত থাকে, নিমাই আমার এমনটি করতে পারে না।সে কেন আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবে? আপনি আপনার মন থেকে স্বপ্ন কথা মুছে ফেলুন।দিন যেতে লাগল, মিশ্র মহাশয় বৃদ্ধ হয়েছেন।তিনি পীড়াগ্রস্ত হয়ে পড়লেন, কিছুতেই মন থেকে স্বপ্নের কথা মুছে ফেলতে পারলেন না।সেই পীড়াতেই তাঁর দেহান্তের সব লক্ষণ প্রকাশ পেল।তিনি আর চলাফেরা করতে পারছেন না,তখন মৃত্যু আসন্ন দেখে জগন্নাথ মিশ্রকে গঙ্গাতীরস্থ করবার আয়োজন করা হলে, নিমাই কেঁদে আকুল হয়ে পড়লেন এবং জাহ্নবী-তীরে গমন করে পিতৃদেবের মৃত্যুশয্যার কাছে বসলেন, এবং কাঁদতে কাঁদতে বললেন, বাবা!আমাদের ফেলে তুমি চলে গেলে, আমাদের আর কে দেখবে?তখন নিমাইয়ের কথা শুনে পুরন্দর মহাশয় হয়ত শেষবারের মত স্নেহভরে আলিঙ্গন করলেন ; এবং নিমাইয়ের চন্দ্রবদন দেখতে লাগলেন।হয়ত পিতা-পুত্রের এই শেষ দেখা। পুরন্দর মিশ্র বিষ্ণুনাম উচ্চারণ করতে করতে চিরদিনের জন্য চক্ষু বুজিলেন। জগন্নাথ পরলোক গমন করলে,শচীমা পুত্রকে নিয়ে যেন অকুল সাগরে ভাসতে লাগলেন। পরিবার প্রতিপালনের জন্য তিনি কিছুই ধন সম্পত্তি রেখে যেতে পারেননি।একদিকে পতিবিরহ,অপর দিকে সাংসারিক কষ্ট,এতে শচীমায়ের দেহ মন ভেঙ্গে পড়ল। তবু,এত কষ্টের মধ্যেও, তাঁর একটু সান্ত্বনা ছিল, সে সান্ত্বনা কেবল নিমাইয়ের মুখ দর্শন।নিমাই যখন মা বলে ডাকতেন তিনি তিনি সব কষ্ট ভুলে যেতেন।এ সংসারে নিমাই ছাড়া যে তাঁর আর কেউই ভালবাসার পাত্র ছিল না। স্বামী নাই,আর অন্য পুত্র কন্যা কেউই নাই,এইজন্য তাঁর সকল স্নেহ ও ভালোবাসা তাঁর একমাত্র পুত্র গৌরচন্দ্রেতেই বদ্ধমূল হয়ে পড়েছিল। তাই শচীমা নিমাইয়ের সকল আবদারই সহ্য করতেন।নিমাই যদি রাগ করে সংসারের কোন বস্তু অপচয় করতেন, শচীমা নিমাইকে কোন তিরস্কার বা প্রহার করতেন না।*
*🌻একদিন নিমাই বিষ্ণুপূজা করবার জন্য মায়ের কাছে মালা চাইলেন ; মা মালাকারের নিকট হতে মালা আনতে যাবেন বলাতে, নিমাই যেন হঠাৎ রাগে অধীর হয়ে উঠলেন, এবং এতক্ষণ মালা আনা হয়নি বলে, লাঠি হাতে নিয়ে ঘরের সমস্ত জিনিস ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেললেন।চাল,ডাল,লবণ প্রভৃতি ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে ফেললেন।ঘি, তেলের ভান্ড ভেঙ্গে ফেলাতে, ঘি তেল চারিদিকে গড়িয়ে পড়ল। কেবল ঐসব জিনিস নষ্ট করেই ক্ষান্ত হলেন না, ঘরের দেয়ালের অধিকাংশ জায়গার মাটি পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেললেন।অবশেষে ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে নিদ্রায় অভিভূত হয়ে পড়লেন।নিমাই যখন ক্রোধপরবশ হয়ে লাঠি হাতে নিয়ে ঘরের দ্রব্যাদি ভাঙ্গছিলেন,তখন শচীমা দূরে ছিলেন, না জানি কি হতে কি হয়।এখন পুত্র নিদ্রাভিভূত হলে, ধীরে ধীরে কাছে এসে,স্নেহভরে নিমাইয়ের গায়ে হাত বুলাতে লাগলেন।ইতঃপূর্বেই মালাকারের কাছ হতে মালা এনে রেখেছিলেন।শচীমা তাঁর প্রাণসম পুত্রের গায়ে হাত বুলাতে বুলাতে বলতে লাগলেন, "বাপ! এই মালা নে, আর বিষ্ণুপূজা কর।নিমাইয়ের ঘুম ভেঙ্গে গেল,তিনি দেখলেন,পুত্রবৎসলা শচীমদেবী তাঁর পার্শ্বে বসে তাঁর গায়ে হাত বুলাচ্ছেন। নিমাই মায়ের হাত থেকে মালা নিয়ে, গঙ্গাস্নান করতে গেলেন, এবং আপনার ইষ্টদেবতার পূজা করে গৃহে ফিরে এলেন।যখন আহার করতে বসলেন, তখন শচীমা মিষ্টবাক্যে ক্রোধের বিষয় উল্লেখ করে বললেন, বাপ!রাগ করে কি নিজের ঘরের জিনিস এইরকম ভাবে নষ্ট করতে হয়, আমাদের ঘরে আর অন্নের সংস্থান নাই। তখন নিমাই মায়ের কথায় নিজের ক্রোধের জন্য অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে মাথা নিচু করে রইলেন। কিন্তু সংসারের অভাবর জন্য তাঁকে চিন্তা করতে নিষেধ করলেন।*
*🌹কথিত আছে,সেদিন সন্ধ্যাকালে অধ্যয়ন-স্থান হতে বাড়ী আসবার সময়,তিনি কিছু সময়ের জন্য জাহ্নবী তটে গমন করেন, এবং সেখান হতে দুই তোলা সোনা এনে মাকে তা প্রদান করেন।এইরকমে সময়ে সময়ে সংসারের অভাব হলে,তিনি মাকে সোনা এনে দিতেন, মা কিছুতেই বুঝতে পারতেন না কারণ কি!*
*🌳জগন্নাথ মিশ্রের পরলোক গমনের পর, শচীমা শোকে অভিভূতা হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সন্তানের জন্য তিনি সে শোকের আবেগ সম্বরণ করতেন।তিনি জানতেন যে,নিমাইয়ের হৃদয় অতি কোমল ও স্নেহপ্রবণ ; তিনি স্বামী শোকে অধৈর্য্য হয়ে ক্রন্দন করলে,নিমাইয়ের মনে পিতৃশোক উদ্দীপ্ত(উত্তেজিত) হয়ে তার মনকে চঞ্চল করে তুলবে।এই পতিপ্রাণা শচীদেবী তাঁর এই একমাত্র পুত্রের মুখ দেখেই শোকাবেগ হৃদয়েই আবদ্ধ করে রাখতেন।*
*🌲কিন্তু স্বাভাবিক গতিকে একেবারে কে রোধ করতে পারে? সময়ে সময়ে তাঁর ধৈর্য্যের সীমা অতিক্রম করে সে বেগ উথলিয়ে উঠত, শচীদেবী তখন কেঁদে আকুল হতেন।তখন নিমাই মাকে অনেক সান্ত্বনা দিতেন, আর বলতেন,মা! যিনি সকলের অভাব মোচন করেন,তিনিই আমাদের দেখবেন।শচীমা পুত্রের মুখ হতে মধুর ধর্মবিশ্বাসের কথা শুনে, নিজের চোখের জল মুছে স্বাভাবিক হতেন। আর তাঁর এই নয়নমণিকে কোলে নিয়ে,সেই চাঁদবদনে চুম্বন করে,প্রাণে শান্তি অনুভব করতেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
*(১৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা🙏*
*অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা*
***********************
*🌺গৌরহরির পিতার শ্রদ্ধাক্রিয়া করলেন।পুরন্দর মিশ্র পরলোক গমনের পূর্বেই নিমাইকে শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিতের চতুষ্পাঠীতে ভর্ত্তি করে দিয়েছিলেন।গৌরহরি এখন আবার পাঠের জন্য গঙ্গাদাসের নিকট গমন করলেন।গঙ্গাদাস পন্ডিত ব্যাকরণে নবদ্বীপের মধ্যে অদ্বিতীয় ছিলেন ; তাঁর খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।পুরন্দর মিশ্র পরলোক গমন করলে, শচীদেবী তাঁর(গঙ্গাদাস পন্ডিতের) বাড়ীতে গমন করেন, এবং গৃহের এক পার্শ্বে দাঁড়িয়ে পিতৃহীন নিমাইয়ের প্রতি স্নেহদৃষ্টি রেখে,তার শিক্ষা দানে মনোযোগী হন, এ বিষয়ে তাঁকে অনুরোধ করেন। গঙ্গাদাস শচীমায়ের কথা শুনে বললেন, "নিমাইয়ের মতো ছাত্র পেয়ে তিনি পরম সুখী হয়েছেন ; এইরকম ছাত্র পেয়ে তিনি নিজেকে পরম সৌভাগ্যশালী বলে মনে করে থাকেন।শচীমা অধ্যাপকের মুখ হতে এইরকম কথা শুনে খুবই আনন্দ পেলেন এবং স্বগৃহে ফিরে আসিলেন।*
*🌹নিমাই কেবল যে তাঁর জননীর আদরের দুলাল,তা নয় ; নিমাইকে সকলেই ভালবাসতেন।তাঁর মুখ দেখলেই লোকের চিত্ত আকৃষ্ট হত।গঙ্গাদাস পন্ডিত কি এমন ছাত্রকে ভাল না বেসে থাকতে পারেন?তাঁর চিত্তহারী রূপ দেখে তিনি তো মুগ্ধ হতেনই,তার উপরে তাঁর অসাধারণ বুদ্ধি,অদ্ভুত স্মৃতিশক্তি দর্শন করে, তিনি সময়ে সময়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়তেন।তিনি নিজের সন্তানের মত গৌরহরিকেও ভালবাসতেন। গঙ্গাদাস পন্ডিতের চতুষ্পাঠীতে শ্রীমুরারি গুপ্ত পাঠ করতেন।মাঝে মধ্যেই তাঁর সঙ্গে তর্ক বেঁধে যেত। মুরারি নিমাইয়ের অপেক্ষা বয়সে অনেক বড় ছিলেন, কিন্তু তিনি এই প্রতিভাশালী বালকের কাছে পরাস্ত হতেন।নিমাই হেসে বলতেন,যাও,যাও লতা-পাতা নিয়ে থাকো,ব্যাকরণে বুৎপত্তি লাভ করা সামান্য নয়।এইসব কথা বলে, নিমাই তাঁর সঙ্গে হাসিতামাসা করতেন, আর হাসতে হাসতে প্রেমের সঙ্গে তাঁর গায়ে হাত দিতেন, মানে রঙ্গরস করতেন।সে সুকোমল হাতের স্পর্শে মুরারির শরীর যেন আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠিত।তিনি নিমাইয়ের সেই মনোহর মুখখানি অনিমিষ নয়নে চেয়ে থাকতেন, আর বলতেন, এ বালক কি নরলোকের, না কোন দেবলোকের?*
*☘নিমাই মায়ের কথা মনে করে,অতি মনোযোগের সঙ্গে পাঠ করতে আরম্ভ করলেন।তিনি ব্যাকরণে, চতুষ্পাঠীর সব ছাত্রের মধ্যে উচ্চ স্থান অধিকার করলেন।এই ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ব্যাকরণের একখানি টিপ্পনী লিখতে আরম্ভ করেন।তাঁর এই টিপ্পনীর সাহায্যে চতুষ্পাঠীর অনেক ছাত্র বিশেষ উপকৃত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন সে টিপ্পনীর কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না। যাইহোক,নবদ্বীপের চতুষ্পাঠীর ছাত্রেরা গঙ্গায় স্নান করতে গিয়ে,শাস্ত্রাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন।নিমাই তর্ক যুদ্ধে কেশরী (প্রধান) ছিলেন। তিনি স্নানের সময় অন্যান্য চতুষ্পাঠীর ছাত্রদের সঙ্গে তর্কে রত হতেন।সময়ে সময়ে ঘোরতর তর্ক বেধে যেত, কিন্তু সব সময়েই নিমাই সকলকে পরাস্ত করে, নিজের বুদ্ধিমত্তার বিশেষ পরিচয় দান করতেন।*
*🍀গঙ্গাদাস পন্ডিত মহাশয়ের এই প্রতিভাশালী ছাত্র নিমাই কেবল যে বুদ্ধিমত্তার ও প্রতিভার পরিচয় দানে শিক্ষকের মুখ উজ্জ্বল করতেন তা নয়,নিমাই সন্তরণ(সাঁতার)বিদ্যাতেও বেশ পটু ছিলেন।জাহ্নবীর বক্ষে কোমরে গামছা বেধে সঙ্গীদের সঙ্গে আমোদ করতে করতে বহুদূর পর্যন্ত সাঁতার দিয়ে চলে যেতেন।কখন কখনও সাঁতার দিয়ে এপার হতে ওপারে গিয়ে উপস্থিত হতেন।*
*🙌 জয় মহাপ্রভু🙌*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
*(১৪)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা🙏*
*নিমাই পন্ডিতের অধ্যাপনা*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹নিমাইয়ের ব্যাকরণ পাঠ সমাপ্ত হল।এই ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর যশ খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।সকলেই তাঁর অদ্ভুত বুদ্ধির প্রশংসা করতেন।নিমাই, শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিতের কাছে পাঠ সমাপ্ত করে তাঁর শুভাশীর্বাদ মস্তকে গ্রহণ করে চতুষ্পাঠী হতে বিদায় নিলেন।বিশারদ সার্বভৌমের চতুষ্পাঠী তখন নবদ্বীপের মধ্যে ন্যায়শাস্ত্র আলোচনা করবার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ বলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।নিমাই এখন ন্যায়শাস্ত্র অধ্যয়ন করবার জন্য সার্বভৌমের চতুষ্পাঠীতে ভর্ত্তি হলেন।সার্বভৌমের চতুষ্পাঠীতে অন্যান্য ছাত্রের মধ্যে রঘুনাথ ন্যায়শাস্ত্রে বিশেষ দক্ষতা লাভ করেছিলেন।নিমাই যখন চতুষ্পাঠীতে প্রবেশ করলেন বা ভর্ত্তি হলেন, তখন রঘুনাথ ভাবলেন, নিমাইয়ের কাছে তাঁর বুদ্ধি অতি ক্ষীণপ্রভ অর্থ্যাৎ খুবই কম বলে বোধ হবে,তাঁর জ্ঞান গরিমা খর্ব্ব হয়ে যাবে,যে জায়গায় তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ বলে পরিগণিত হতেন,সে জায়গায় নিমাইয়ের প্রতিভা জয়যুক্ত হবে।এইসব তাঁর মনে উদিত হয়ে,তাঁর হৃদয়ে এক কালিমার রেখা পড়ে গেল।নিমাই সার্বভৌমের চতুষ্পাঠীতে প্রবিষ্ট হয়ে অতি উৎসাহের সঙ্গে ন্যায়শাস্ত্র আলোচনা করতে লাগলেন। শ্রীগঙ্গাদাসের চতুষ্পাঠীতে নিমাই যেমন ব্যাকরণে প্রতিপত্তি লাভ করেছিলেন,সার্বভৌমের চতুষ্পাঠীতেও ন্যায়শাস্ত্রেও সেইরকম প্রশংসা লাভ করতে লাগলেন।সব জায়গায় গুরু ও তাঁর সহপাঠীরা তাঁর সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধি, ও সব বিষয় পরিস্কার ভাবে হৃদয়ঙ্গম করবার ক্ষমতা দেখে অবাক হয়ে যেতেন। নিমাই ন্যায়শাস্ত্র অধ্যয়ন করে একখানি ন্যায়ের টীকা রচনায় রত হন।তার আগেই, রঘুনাথ একখানি টীকা রচনা করে ফেলেছেন।তিনি এই টীকা রচনা করে মনে করেছিলেন যে,তাঁর টীকা সর্বত্র আদৃত বা সম্মানিত হবে এবং তিনিই অদ্বিতীয় নৈয়ায়িক পন্ডিত বলে পরিগণিত হবেন। কিন্তু যখন শুনলেন যে, নিমাইও একখানি টীকা রচনা করেছেন,তখন তাঁর আশার প্রদীপ যেন নিবিয়ে গেল প্রায়। তিনি উৎসুক হয়ে নিমাইকে জিজ্ঞাসা করলেন,ভাই! তুমিও নাকি একখানি ন্যায়ের টীকা রচনা করেছ? রঘুনাথ যখন শুনল যে,তিনিও একটি ন্যায়ের টীকা রচনা করেছেন, তখন তিনি নিমাইয়ের টীকা শুনবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।নিমাই শোনাতে রাজী হলেন, এবং বললেন,যখন ওপারে নৌকায় করে যাব, তখন আমি তোমাকে সেটি পাঠ করে শোনাব।উভয়ে যখন গঙ্গা বক্ষ দিয়ে তরণী করে যাচ্ছিলেন,তখন রঘুনাথ সেটি শুনবার জন্য নিমাইকে অনুরোধ করলেন।নিমাই টীকা পাঠ করতে লাগলেন। রঘুনাথ এক মনে তা শুনছিলেন, কিছুক্ষণ পরে রঘুনাথের চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগিল। তিনি স্থির থাকতে না পেরে কাঁদতে লাগলেন।নিমাইচাঁদ রঘুনাথকে কাঁদতে দেখে বললেন,ভাই, কাঁদছ কেন? কি হয়েছে বলো? এইকথা বলে গৌরহরি তাঁর গায়ে নিজের সুকোমল হাত বুলাতে লাগলেন, তাতে রঘুনাথের কান্না আরও বেড়ে গেল, এবং কাঁদতে কাঁদতে বললেন,ভাই নিমাই!আমি দীধিতি (ন্যায়শাস্ত্রের একটি টীকা)লিখে মনে করেছিলাম,আমার টীকায় সর্বজন সম্মানিত হবে, সব চতুষ্পাঠীতে আমার টীকা পঠিত হবে।এখন দেখছি, তোমার টীকার কাছে, আমার টীকা কোন জায়গা পাবার উপযুক্ত নয়।আমি এক পৃষ্ঠায় যা লিখেছি,তুমি দুই-একটি সূত্রের মধ্যেই তা বিশদরূপে প্রকাশ করেছ।তোমার টীকা প্রকাশিত হলে, আমার টীকা আর কে গ্রহণ করবে? উদারহৃদয় পন্ডিতবর নিমাই সকরুণ বাক্যে বললেন, "এর জন্য আর দুঃখ কি?" এই বলে স্বরচিত হস্তস্থিত টীকাখানি ভাগীরথীর খরতর স্রোতে চিরদিনের জন্য ফেলে দিলেন।*
*🔵প্রসিদ্ধ বৈয়াকরণ,প্রসিদ্ধ নৈয়ায়িক নিমাইচাঁদের ন্যায়শাস্ত্রের টীকা গঙ্গার জলে ফেলে দেবার কথা, কেবল নবদ্বীপে নয়,দেশ দেশান্তরে প্রচারিত হতে লাগিল।এইকথা শুনে সকলেরই মুখ হতে সরবে বা নীরবে,একথায় উঠে এসেছিল যে,নিমাই পন্ডিত কি মানুষ না দেবতা?*
*🍀নিমাই সার্বভৌমের চতুষ্পাঠীতে থেকে ন্যায়,স্মৃতি প্রভৃতি নানা শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। বিদ্যা বুদ্ধির জন্য তাঁর নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।নবদ্বীপ নগরে সকল চতুষ্পাঠীর ছাত্রগণের মধ্যে তাঁর নাম সর্বোপরি শোভা পেতে লাগল।তিনি জয় পতাকা হাতে নিয়ে, সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্যের চতুষ্পাঠী হতে বেড়িয়ে এলেন। এই প্রতিভাশালী জ্ঞানানুরাগী ব্যক্তি কি জ্ঞান বিতরণ না করে কি থাকতে পারেন? এবার নিমাইপন্ডিত নিজে চতুষ্পাঠী স্থাপনের সঙ্কল্প করলেন। নবদ্বীপের মুকুন্দ সঞ্জয় নামক এক ধনী ব্যক্তির চন্ডীমন্ডপে নিমাই পন্ডিত চতুষ্পাঠী স্থাপন করলেন। প্রতিভা অপূর্ব পদার্থ।সেটি যে মানুষকে স্পর্শ করে তার শক্তি সাধারণ লোক অপেক্ষা, অধিকতররূপে ফুটে উঠে। নিমাই পন্ডিত যখন চতুষ্পাঠী স্থাপন করলেন,তখন তাঁর বয়স ষোল বৎসর মাত্র।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🦜🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
*(১৫)শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস্য শ্রীগৌর*
*অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা*
*********************************
*🍀সেইসময়ে নবদ্বীপে অনেক বিশিষ্ট পন্ডিতদের চতুষ্পাঠী ছিল ; কিন্তু নিমাই পন্ডিত চতুষ্পাঠী স্থাপন করেছেন, শুনে,দলে দলে বিদ্যার্থীরা তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করবার জন্য আসিতে লাগল।তাঁর শিক্ষার প্রণালী, ছাত্রদের প্রতি তাঁর মিষ্ট ব্যবহার,এইসব গুণে তাঁর চতুষ্পাঠীর প্রশংসা সকলের মুখে কীর্তিত হতে লাগল।গৌরহরি কেবল চতুষ্পাঠীতে ছাত্রদেরকে শিক্ষা দিয়েই নিশ্চিন্ত থাকতেন না,তিনি বহু ছাত্র নিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় জাহ্নবী-তটে গমন করতেন,এবং এই সব ছাত্রদের দ্বারা পরিবৃত হয়ে,শাস্ত্র আলোচনায় রত হতেন।তাঁর চতুষ্পাঠীতে হাজারের বেশী ছাত্র ভর্তি হয়েছিল। নিমাই বিখ্যাত পন্ডিত বলে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন সত্য, কিন্তু তাঁর চরিত্রে গাম্ভীর্য্য দেখা যেত না।অর্থ্যাৎ কোন অহং ভাব ছিল না।তাঁর সময়ে শ্রীহট্টের আরও অন্যান্য লোক নবদ্বীপে এসে বাস করে।অনেকে সংস্কৃত শিক্ষার এই প্রধান স্থানে অধ্যয়ন করার জন্য আসিতেন।মুকুন্দ দত্ত একজন শ্রীহট্টবাসী। তিনি অন্য চতুষ্পাঠীতে অধ্যয়ন করতেন। মুকুন্দ একজন সুগায়ক ছিলেন,তিনি অদ্বতাচার্য্য প্রমুখ বৈষ্ণবদলের সঙ্গে মিলিত হয়ে,বৈষ্ণবধর্ম আলোচনা করতেন, এবং অবসর সময় মধুর সুরে গান করে, বৈষ্ণবদলের তৃপ্তি সাধন করতেন। একদিন শ্রীগৌরাঙ্গ পথে দাঁড়িয়ে আছেন,এমন সময়ে তাঁকে দেখে, পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন,গৌর,কাছের লোকদের বললেন, "এ আমায় দেখে এইরকম ভাবে পালিয়ে যায় কেন?এইকথা বলে তিনি মুকুন্দকে ডাকলেন,ডেকে বললেন,তুমি আমাকে দেখে পালিয়ে যাও কেন, আমি তোমাকে এমন ভাবে আবদ্ধ করব যে তুমি আমায় ছেড়ে পালাতে পারবে না। মুকুন্দ মনে করলেন নিমাই তো ব্যাকরণে দক্ষ, ইনি তো আর অলঙ্কার ভাল জানেন না,এখন ইঁনাকে "অলঙ্কার" বিষয়ে প্রশ্ন করা যাক, তাহলে ইঁনি পরাস্ত হবেন।গৌরহরি তৎক্ষণাৎ তাঁর প্রশ্নের সদুত্তর দিয়ে দিলেন।মুকুন্দ প্রশ্নের উত্তর শুনে,অবাক হয়ে গেলেন,আর মনে মনে বলতে লাগলেন, "এমন পন্ডিত তো আর দেখিনি, সব বিষয়েই ইঁনার ব্যুৎপত্তি (জ্ঞান,অভিজ্ঞতা,গভীর পান্ডিত্য) দেখছি ; এমন লোক যদি ভক্তিপথ অবলম্বন করে,তাহলে, বৈষ্ণবধর্মের বিশেষ মঙ্গল হয় "।গৌরহরি সকলের সামনে বললেন, "আমি যদি বৈষ্ণব হই, তাহলে এমন বৈষ্ণব হ'ব যে দেবতারাও সেরকম হতে পারবেন না।*
*🍀আর একদিন গৌরহরি, গদাধর মিশ্রকে পথে দেখতে পেলেন।ইনি ন্যায়শাস্ত্র পাঠ করতেন,গৌরাঙ্গ তাঁর হাত ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, "মুক্তি কাকে বলে?" গদাধর বললেন, আত্যন্তিক দুঃখ নিবৃত্তির নাম মুক্তি।" গৌরহরি প্রশ্নের উত্তর শুনে মুক্তি বিষয়ে অতি বিশদভাবে তাঁকে বুঝিয়ে দিলেন।*
*🌻কিছুদিন পরে এক ঘটনা ঘটিল।নিমাই গঙ্গায় স্নান করতে গিয়েছেন, এমন সময় একটি পরমাসুন্দরী বালিকা গৌরহরির মোহন মূর্তি দেখে বিমুগ্ধ হয়ে যায়। সুন্দরী,গৌরহরির চরণে প্রণাম করে,তাঁর গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিল। গৌরহরিও মেয়েটির দিকে তাকিয়ে তার মনোগত ভাব বুঝতে পারলেন।শ্রীগৌরের প্রাণ তার দিকে আকৃষ্ট হল। সেদিন এই পর্য্যন্ত।আর একদিন বনমালী ভট্টাচার্য্য নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে গৌরহরি বেড়াতে বাহির হয়েছেন, এমন সময়,ঘটনাক্রমে ঐ মেয়েটি তাঁদের সম্মুখীন হল।প্রেমের মিলন কে নিবারণ করতে পারে,মেয়েটিকে দেখামাত্র,নিমাইয়ের হৃদয়ে ভাবতরঙ্গ যেন উথলিয়ে উঠিল। তিনিও সেই সুন্দরী মেয়েটির দিকে তাকালেন, আর সেই মেয়েটিও, এই অপরূপ-রূপলাবণ্য-জড়িত যুবক পুরুষের চোখের উপর নিজের চোখের পলক ফেলতে লাগলেন।বনমালী সবই দেখলেন, এবং উভয়ের মনের ভাব পরিস্কারভাবে হৃদয়ঙ্গম করলেন।এ মেয়েটি আর কেউ নন, তিনি বল্লভাচার্য্যের কন্যা নাম লক্ষ্মীপ্রিয়া।বনমালী একজন ঘটক।*
*🍀বনমালী শচীদেবীর কাছে গিয়ে বল্লভাচার্য্যের এই লক্ষ্মীপ্রিয়া নামে কন্যার সঙ্গে নিমাইয়ের বিয়ের প্রস্তাব করলেন।শচীদেবী এই প্রস্তাব শুনে বললেন, আমার নিমাই, এখন বালক, বর্তমানে বিদ্যা শিক্ষায় ব্যস্ত, এইসব কথার দ্বারা তিনি বিয়ের অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন।বনমালী নিরাশ হয়ে চলে গেলেন।পথে যেতে যেতে নিমাইয়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হল।নিমাই বনমালীকে একটু বিরক্তবদনে যেতে দেখে, কারণ জিজ্ঞাসা করে, সবকিছুই জানতে পারলেন। নিমাই আর কিছু না বলে বাড়ীতে চলে এলেন। বাড়ীতে এসে মাকে জিজ্ঞাসা করলেন, মা!বনমালী আমাদের বাড়ীতে এসেছিলেন শুনলাম,তিনি কেন এমন মনমরা হয়ে চলে গেলেন?শচীমা পুত্রের কথায় সবই বুঝতে পারলেন।আর কালবিলম্ব না করে,বনমালীকে ডেকে, বল্লভাচার্য্যের কাছে প্রস্তাব উপস্থিত করতে বললেন। এমন গুণবান পাত্রকে কে না কন্যা দিতে ইচ্ছে করে?*
🦋🦋🦋🦋🦋🦋🌷🦋🦋🦋🦋🦋🦋
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
*(১৬) শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস্য শ্রীগৌর*
*নিমাই ও লক্ষ্মীপ্রিয়ার বিবাহ*
*********************************
*☘বল্লভাচার্য্য, বনমালীর প্রস্তাবে সম্মত হলে শুভ লগ্নে বিয়ের দিন স্থির হল। শচীর গৃহে তাঁদের আত্মীয়স্বজন মিলিত হলেন ; সকল রমণীগণ এসে সমবেত হলেন।আনন্দ কোলাহলে বাড়ীর প্রাঙ্গণ পূর্ণ হল।শচীমা সকলের কাছে বিনীতভাবে বললেন, আমরা দরিদ্র,তাতে আবার নিমাই পিতৃহীন, আমি তোমাদের উচিত মত সেবা করতে পারব না।এমন সময়ে শচীমা দেখলেন,বিশ্বম্ভর বসে ক্রন্দন করছেন। শচীমা, নিমাইকে ক্রন্দন করতে দেখে,দৌড়িয়ে এসে নিজের আঁচল দিয়ে, নিমাইয়ের নয়নের জল মুছাতে মুছাতে বললেন,বাপ!কাঁদ কেন?তোমার কি হয়েছে?নিমাই, বিশ্বরূপ ও পিতার কথা উল্লেখ করে বললেন,আজ বাবা ও দাদা থাকলে কত আনন্দ হত! পুত্রের কান্না দেখে শচীমাও কাঁদতে কাঁদতে নিমাইকে সান্ত্বনা দিলেন।*
*🎎বিয়ের সকল আয়োজন স্থির হলে,নিমাই বল্লভাচার্য্যের বাড়ীতে গমন করলেন। লক্ষ্মীপ্রিয়া নিমাইয়ের বামপার্শ্বে দাঁড়ালেন।শঙ্খধ্বনি ও রমণীগণের উলুধ্বনির মধ্যে শুভ কার্য্য সমাধা হয়ে গেল।পরদিন নিমাই লক্ষ্মীপ্রিয়া সহ নিজের বাড়ীতে আগমন করলেন।শচীমা,নববধূকে নিজের কোলে নিয়ে আশীর্বাদ করতে করতে মুখচুম্বন করলেন।কুলরমণীদের মঙ্গল ধ্বনির মধ্যে লক্ষ্মীপ্রিয়া স্বামী-গৃহে প্রবেশ করলেন।নিমাই পন্ডিত নিজ পত্নীকে নিয়ে গৃহস্থালী করতে লাগলেন।*
*🍀পরমভক্ত শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর একজন শিষ্য শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী একজন প্রধান ভক্ত ছিলেন।এখানে ঈশ্বরপুরীর একটু পরিচয় দান করা আবশ্যক।ইনি হালিশহর গ্রামে বৈদ্য বংশে জন্মগ্রহণ করেন।ইনি পরমভক্ত ছিলেন।সর্বদাই কৃষ্ণপ্রেমে বিভোর হয়ে থাকতেন।ইনি রসযুক্ত শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত নামক একটি সুন্দর কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।ভক্তপুরী দেশ পর্য্যটন করে বেড়াতেন।এ সময় তিনি নানা জায়গা ঘুরতে ঘুরতে নবদ্বীপে এসে উপস্থিত হন, এবং বৈষ্ণবদের শিরোমণি অদ্বৈতাচার্য্যের গৃহে আতিথ্য গ্রহণ করেন।অদ্বৈত-প্রমুখ বৈষ্ণবগণ প্রথমে তাঁর কিছুই পরিচয় পাননি।অদ্বৈত, ঈশ্বরপুরীর গম্ভীর,প্রশান্ত ও ধর্মভাব পূর্ণ মুখমন্ডল দেখে,তিনি বৈষ্ণব কিনা, এ বিষয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।পুরী তদুত্তরে বলেন যে,তিনি একজন সামান্য লোক মাত্র আর কিছুই নহে।পরে তাঁরা তাঁর প্রকৃত পরিচয় পেলেন।ঈশ্বরপুরী সুপন্ডিত ও অনুরাগী বৈষ্ণব।তিনি অদ্বৈতাচার্য্যের ভবনে বাস করতে লাগলেন।নবদ্বীপের ক্ষুদ্র বৈষ্ণবমন্ডলী তাঁকে পেয়ে পরম আনন্দিত হলেন, এবং এই পন্ডিত ও ভক্তের কাছে ভক্তিধর্ম শিক্ষা করতে লাগলেন।*
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গ শিষ্যবৃন্দ বা ছাত্রদের সঙ্গে প্রায়ই নগর ভ্রমণে বাহির হতেন।একদিন ঈশ্বরপুরীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হল।নিমাই পন্ডিতের নাম চারিদিকে প্রচারিত হয়েছিল।পুরীপাদ নিমাইকে দেখে যেন বিমুগ্ধ হয়ে গেলেন।উভয়ের কিছুক্ষণ কথোপকথনের পর তাঁরা পরস্পর বিদায় নিলেন।এই সাধু পুরুষকে দেখে, নিমাইয়ের হৃদয়ে ভক্তি-তরঙ্গ যেন উথলিয়ে উঠিল। তিনি প্রতিদিন অদ্বৈত ভবনে এই পরমভক্তকে দেখবার জন্য ও তাঁর শ্রীচরণে প্রণিপাত করবার জন্য গমন করতে লাগলেন।*
*🍀পুরীপাদ, "শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত" গ্রন্থ রচনা করেছিলেন আগেই বলা হয়েছে। একদিন গৌরহরিকে বললেন, "আমার রচিত "শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত" গ্রন্থ পাঠ করে যদি কোন দোষ থাকে তাহলে আমাকে বলবে, তাতে কিছুমাত্র সঙ্কোচ বোধ করবে না। নিমাই,ঈশ্বরপুরীর এইরকম অনুরোধ শুনে বললেন, " আপনি গ্রন্থ রচনা করেছেন, এতে আর দোষ কি?পরে পুরীপাদের অনুরোধে তিনি গ্রন্থখানি আদ্যপান্ত পাঠ করেন। বলেন, কৃষ্ণ যাঁর প্রতি সহায় হন, তাঁর কি কোন ভুল থাকতে পারে। ঈশ্বরপুরী ও শ্রীগৌরাঙ্গ, উভয়ের মধ্যে যেন এক অদৃশ্য সম্বন্ধ স্থাপিত হয়েছিল।কিছুদিন পরে পুরীপাদ নবদ্বীপ থেকে অন্যত্র চলে গেলেন।*
*🌻🌻দিগ্বিজয়ীর সঙ্গে বিচার🌻🌻*
*🍀নবদ্বীপে পন্ডিতদের সঙ্গে বিচার করার জন্য এক দিগ্বিজয়ী আগমন করেন।ইঁনার নাম কেশব,নিবাস কাশ্মীরে।এইজন্য ইনাকে কেশব কাশ্মিরী বলা হত।পন্ডিত কেশব কাশ্মিরী নবদ্বীপে আগমন করে,পন্ডিতদের সঙ্গে বিচার করতে প্রস্তুত হন।তিনি নবদ্বীপে আগমন করে বলেন,পন্ডিতগণ আমার সঙ্গে বিচার করুন,অথবা তাঁরা আমার কাছে পরাস্ত হলেন বলে,আমাকে জয়পত্র লিখে দিন।দিগ্বিজয়ী বললেন যে,তিনি সব শাস্ত্র বিষয়েই বিচার করতে প্রস্তুত আছেন।কেশব কাশ্মীরী সরস্বতীর বরপুত্র বলে বিদিত।ইঁনার আগমনে নবদ্বীপের খ্যাতনামা পন্ডিতগণ,কেউই তাঁর সঙ্গে বিচারে অগ্রসর হতে সাহসী হলেন না।তাঁরা মনে করলেন,দিগ্বিজয়ীর সঙ্গে বিচারে পরাস্ত হলে নবদ্বীপের কলঙ্ক হবে।কেশব কাশ্মীরী দেখলেন, কেউই তাঁর সঙ্গে তর্কযুদ্ধে সমকক্ষ নয় বলে বিচারে প্রবৃত্ত হচ্ছেন না। নিমাই পন্ডিত চতুষ্পাঠীতে অধ্যাপনায় নিযুক্ত আছেন,এমন সময় তাঁর ছাত্রগণ তাঁকে দিগ্বিজয়ীর আগমন বার্তা ও তাঁর অভিপ্রায় জ্ঞাপন করে বললেন, "তাঁর সঙ্গে বিচারে রত হয়ে তাঁকে পরাস্ত করতে না পারলে,নবদ্বীপের পন্ডিতমন্ডলী তাঁর কাছে পরাভূত হলেন, এইরকম জয়পত্র তাঁকে লিখে দিতে হবে। নিমাই পন্ডিত ছাত্রদের মুখে এইরকম দিগ্বিজয়ীর কথা শুনে বললেন,পরমেশ্বর অহঙ্কারীর অহঙ্কার চিরদিনই চূর্ণ করে থাকেন। নিমাই পন্ডিত সন্ধার সময় গঙ্গাতীরে শিষ্যবৃন্দের সঙ্গে বসে নানারকম কথাবার্তায় রত আছেন,চন্দ্রালোকে চারিদিক আলোকিত ; এমন স, কেশব কাশ্মীরী দূর হতে,নিমাই পন্ডিত ছাত্রদের সঙ্গে গঙ্গার তীরে রয়েছেন, শুনে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন।নিমাই ও তদীয় শিষ্যেরা সম্ভ্রমের সঙ্গে তাঁকে অভ্যর্থনা করে বসতে দিলেন।দিগ্বিজয়ী নিমাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমারই নাম নিমাই পন্ডিত? তুমি না ব্যাকরণে বিশেষ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছ?*
*গৌরহরি বললেন,ব্যাকরণ পড়াই বটে, কিন্তু একনও সেটির তাৎপর্য্য ভাল করে বুঝতে সমর্থ হয়নি।*
*দিগ্বিজয়ী বললেন, না,আমি শুনেছি, তুমি ব্যাকরণে অদ্বিতীয়।*
*🍀তারপরে কেশব কাশ্মীরী তাঁর সঙ্গে নিমাইকে শাস্ত্র আলোচনা করতে বললেন।নিমাই বিনীতভাবে বললেন, আমি আপনার সঙ্গে শাস্ত্র বিষয়ে আলোচনা করি, আমার এমন ক্ষমতা আছে? আপনি দিগ্বিজয়ী, আপনি কৃপা করে আমাকে শাস্ত্রের কথা কিছু বলুন।*
*তখন দিগ্বিজয়ী বললেন,কোন শাস্ত্র? কোন বিষয় তুমি শুনতে ইচ্ছা কর? গর্বচূর্ণকারী গৌরহরি কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বললেন,আচ্ছা, এই গঙ্গার মাহাত্ম্য বিষয়ে আপনি কিছু বর্ণনা করুন।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
*(১৭) শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস্য শ্রীগৌর*
*দিগ্বিজয়ী পন্ডিতের গর্ব চূর্ণ*
********************************
*🍀দিগ্বিজয়ী পন্ডিত গঙ্গার মাহাত্ম্য বিষয়ে প্রায় একশত শ্লোক বলে গেলেন।বলা শেষ হলে নিমাই পন্ডিততার মধ্যে একটি শ্লোক উল্লেখ করে দিগ্বিজয়ীকে তার ব্যাখ্যা করতে বললেন।কেশব কাশ্মীরী বিস্মিত হয়ে বললেন,"শত শ্লোক বলে গেলাম, এর মধ্যে তুমি কিভাবে সেটি স্মরণ করে যথাযথ শ্লোকটি উল্লেখ করলে?গৌরহরি একটু হেসে বললেন, "সরস্বতীর বরে কেউ শাস্ত্র-বেত্তা হয়,কেউবা শ্রুতিধর হয়।*
*নিমাই বললেন যাইহোক,আপনি শ্লোকটির দোষ গুণ বিচার করে আমাকে কৃতার্থ করুন। দিগ্বজয়ী বলেন,শ্লোকের দোষ দেখি না। নিমাই পন্ডিত তারপরে বিনীতভাবে দোষ গুণ প্রদর্শনের অনুমতি প্রার্থনা করে শ্লোকটির মধ্যে ব্যাকরণের ও অলঙ্কার-ঘটিত দোষগুলি দেখিয়ে দিলেন, এবং যা প্রশংসনীয় সে বিষয়ও উল্লেখ করলেন। কেশব কাশ্মীরী নিমাই পন্ডিতের মুখ হতে শ্লোকের নানান দোষের উল্লেখগুলি যথাযথ মনে করে লজ্জায় অধোবদন হয়ে রইলেন।নিমাই পন্ডিতের ছাত্রগণ দিগ্বিজয়ীর অহংকার চূর্ণ হল দেখে সকলে হাসতে লাগলেন।গৌরহরি তাঁদের একটু মৃদুস্বরে ভর্ৎসনা করে,দিগ্বিজয়ীকে বললেন, মহাশয়, আপনি এজন্য দুঃখিত হবেন না।আপনি যে অল্পসময়ের মধ্যে একশ কবিতা অনর্গল বলে গেলেন, এতে আপনার আশ্চর্য্য কবিতা-শক্তির পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে।কালিদাস,ভবভূতি প্রভৃতি কবি শ্রেষ্ঠদেরও কবিতার দোষ দেখা যায়।আপনার কবিতায় সামান্য দোষই প্রকাশ পাচ্ছে। কেশব কাশ্মীরী অবশেষে নিমাই পন্ডিতের জ্ঞানের ভূয়সী প্রশংসা করে বললেন, "তুমি অলঙ্কার শাস্ত্র পাঠ না করেও অলঙ্কারে এত জ্ঞান লাভ করেছ? এই আশ্চর্য্যের বিষয়। এই বলে কেশব কাশ্মীরী চলে গেলেন। কেশবকাশ্মীরী সর্বজন সমক্ষে এক তরুণ বয়স্ক যুবাপুরুষের কাছে পরাভূত হয়ে মর্মাহত হয়ে পড়লেন।তাঁর সব গর্ব খর্ব হয়ে গেল।ভারাক্রান্ত হৃদয়ে শয্যায় শয়ন করে তাঁর আরাধ্য দেবী সরস্বতীকে বললেন, মা!তুমি আজ এই বালকের কাছে আমাকে অপমানিত করলে?বীণাপানী তার উত্তরে বললেন, নিমাই পন্ডিত যে শ্রীকৃষ্ণের অবতার। প্রভাতের সূর্য্য আকাশে উদিত হবার পরেই কেশব কাশ্মীরী বিনীতভাবে নিমাই পন্ডিতের কাছে এসে,তাঁর চরণদ্বয়ের কাছে মাথা নত করে আত্মসমর্পণ করলেন।*
*🌹🌹পূর্ব-বঙ্গে গমন🌹🌹*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀দিগ্বিজয়ী কেশব কাশ্মীরী নিমাই পন্ডিতের কাছে পরাস্ত হলে, নিমাই পন্ডিতের যশ চরমভাবে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল যে, নিমাই পন্ডিত দিগ্বিজয়ী কেশব কাশ্মীরীকে পরাস্ত করেছেন। শ্রীগৌরাঙ্গের গৌরবে নবদ্বীপের গৌরব বেড়ে গেল।কেউ কেউ বলতে লাগলেন, নিমাইয়ের মত পন্ডিত আর কোথায় নেই।পথে,বাজারে,ঘরে, বিভিন্ন চতুষ্পাঠীতে সব জায়গায় ঐ একই কথা, নিমাই পন্ডিতের মত আর বড় পন্ডিত কোথাও কেউই নেই। নিমাই কেবল পন্ডিত নহেন,তিনি হৃদয়বানও বটে। তিনি লক্ষ্মীপ্রিয়ার সঙ্গে যখন পরমানন্দে গৃহাশ্রম বাস করতেন,তখন তাঁর বাড়ীতে অতিথি অভ্যাগত উপস্থিত হলে,কেউ আর তাঁর আতিথ্যসৎকারে বিমুখ হয়ে ফিরে যেত না।তাঁর গৃহের দ্বার সর্বদাই অতিথির জন্য খোলা থাকত।লক্ষ্মীপ্রিয়া যেন সাক্ষাৎ বৈকুন্ঠের লক্ষ্মীর মত অন্ন ব্যঞ্জনাদি রন্ধন করতেন। অল্প বয়সে তিনি রন্ধনে বেশ দক্ষতা লাভ করেছিলেন।নিমাই পন্ডিতের বাড়ীতে প্রতিদিন প্রায় কমবেশী বিশ বাইশজন অতিথি আহার করতেন।বিয়ের পর লক্ষ্মীপ্রিয়াই প্রায়ই গৃহের এইসব আগন্তুকের অন্ন ব্যঞ্জন রন্ধন করতেন।যত অতিথি শচীমায়ের গৃহে আসিতেন, সকলেই সকলের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে যেত।*
*এইভাবে চলতে লাগল, কিছুদিন পরে নিমাইয়ের পূর্ববঙ্গ যাবার বাসনা মনে উদিত হল।মাতৃভক্ত নিমাই, সে জন্য তিনি মায়ের অনুমতি প্রার্থনা করলেন।নিমাই তাঁর নয়নমণি,নিমেষকাল তাঁর অদর্শনে মায়ের মন চঞ্চল হয়ে উঠে ; নিমাই বহু দূরদেশে যাবেন,এটি কি সহ্য করা যায়? কিন্তু কি করবেন, সন্তানের মনের প্রবল বাসনা রোধ করাও ভাল নয়,এই ভেবে বললেন,বাপ!তোমার যদি একান্তই ইচ্ছে হয় তবে যাও।গৌরহরি মায়ের আজ্ঞা পেয়ে, কয়েকজন শিষ্য নিয়ে, পূর্বাঞ্চলে গমন করলেন। তিনি পূর্ববঙ্গের কোন কোন জায়গায় গমন করেছিলেন,তা স্পষ্টভাবে ঠিক বলা যায় না।তবে বোধ হয়, ঐদেশের যেসব জায়গায় চতুষ্পাঠী ছিল, এবং সেসব জায়গায় পন্ডিতদের বসতি ছিল,সেইসব জায়গায় তিনি গমন করেছিলেন, এই সব কথা জানা যায়। তিনি পূর্ববঙ্গে উপস্থিত হলে,আশেপাশের চতুষ্পাঠীর ছাত্রগণ তাঁর কাছে আসেন,সকল পন্ডিতমন্ডলী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তাঁর অসাধারণ পান্ডিত্যের প্রশংসা করতে লাগলেন। ইতঃপূর্বে তাঁর নাম পূর্ববঙ্গের চারিদিকেই ঘোষিত হয়েছিল। নিমাই দেখলেন, তাঁর ব্যাকরণের টিপ্পনি ঐ অঞ্চলের সব চতুষ্পাঠীর ছাত্রগণই অধ্যয়ন করে থাকে।তিনি যেখানে যেতেন,সেইখানেই ছাত্রগণ এসে তাঁর কাছে ব্যাকরণের পাঠ নিত,ও অন্যান্য শাস্ত্রাদির জ্ঞাতব্য বিষয় সকল, মীমাংসা করে নিত।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🪷🌷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
*(১৮) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস্য শ্রীগৌর*
*পূর্ব-বঙ্গে গমন*
*********************************
*🍀শ্রীতপন মিশ্র নামে একজন অতি পরমভক্ত পূর্ববঙ্গে বাস করতেন।গৌরচন্দ্রের আগমনে তাঁর প্রাণ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠে।তিনি নিমাই পন্ডিতকে দেখে, যেন মনে হল আকাশের চন্দ্র তিনি হাতে পেয়েছেন। তাঁর ভক্তিপ্রবণ হৃদয়, গৌর দরশনে যে ভক্তির উচ্ছাসে উচ্ছসিত হয়ে উঠিল।তিনি এ সময় এক মধুর স্বপ্ন দেখলেন ; কে যেন তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে বলছেন, "গৌরচন্দ্র মনুষ্য নহে" তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের অবতার।তপন মিশ্র এই স্বপ্ন দেখে,পরদিন আগমন করে শ্রীগৌরহরির শ্রীচরণ ধরে কাঁদতে লাগলেন,আর বললেন,প্রভো!আমি জানতে পেরেছি,আপনি মনুষ্য নহেন, স্বয়ং ভগবান।প্রভো!আমি আপনার সঙ্গের সাথী হয়ে থাকব।পরমদয়াল গৌরহরি তপন মিশ্রের ব্যাকুলতা দেখে পরম সন্তুষ্ট হলেন। গৌরহরি বুঝলেন, তপন মিশ্র যথার্থই ভক্ত।তিনি তাঁর ব্যাকুলতা দেখে বললেন, "তুমি স্ত্রী-পুত্র নিয়ে,বৃন্দাবনে গমন কর, পরে তোমার সঙ্গে সেখানে আমার সাক্ষাৎ হবে।" তিনি সে সময় তপন মিশ্রকে কেন বৃন্দাবনে বাস করতে বললেন,তা কিন্তু কিছুই বুঝা যায় না ; আর তিনি যে ভবিষ্যতে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করে,বৃন্দাবনে গিয়ে,তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন,এটিও তিনি কিভাবে বুঝতে পেরেছিলেন,তাও বলতে পারা যায় না।*
*🍀পূর্ববঙ্গে কয়েক মাস বাস করে, গৌরসুন্দর গৃহে প্রত্যাগত হলেন।সেখানে থাকাকালীন তিনি অনেক বস্তু উপহার পেয়েছিলেন।গৃহে প্রত্যাগত হবার সময় ঐসব দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে আসিলেন।এ সময় সেখানকার কয়েকজন ছাত্রও তাঁর চতুষ্পাঠীতে অধ্যয়ন করবার জন্য তাঁর অনুগমন করে। বহুদিন পরে,মা ও পত্নীর মুখ দেখে কতসুখী হবেন, মনে করে গৃহে প্রবেশ করলেন।গৃহে প্রবেশ করেই মায়ের চরণে প্রণাম করলেন। কিন্তু বহুদিন পরে সন্তানের আগমনে মায়ের মুখ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠবে ; নিমাইয়ের সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণের প্রসঙ্গ উপস্থিত করবেন, কিন্তু তা না হয়ে,শচীমায়ের মুখ মলিন হয়ে রয়েছে। তিনি বিশেষ কোন কথা বললেন না।নিমাই এর কারণ কিছুই বুঝতে পারলেন না।তাঁর মনে হতে লাগল,মায়ের মুখ এমন বিষণ্ণ কেন, কিছু বিপদ ঘটেছে!এমন সময় শচীমা নিজের আঁচলে চোখের জল মুছতে মুছতে বললেন,বাপ!লক্ষ্মীপ্রিয়া আর নেই,সে পরলোকে চলে গেছে, সর্পাঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে।*
*☘গৌরহরির কোমল হৃদয় ব্যথিত হয়ে উঠিল।তিনি নিজের গালে হাত দিয়ে শোক প্রকাশ করতে লাগলেন।কিছুকাল পরে মনকে স্থির করে,মাকে বুঝাতে লাগলেন,মা সকলই অসার, বৃথা শোক করে আর কি লাভ।*
*🍀নিমাই পন্ডিতের প্রশংসায় চারিদিক পূর্ণ হলেও,নিমাইয়ের বালকের মত সরলতা এখনও দেখা যেত।লোকেও বলত, নিমাই এত বড় পন্ডিত, কিন্তু এখনও তাঁর বালকত্ব ঘুচিল না। নিমাই একদিন তাঁর কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে পান চিবাতে চিবাতে যাচ্ছেন এমন সময় শ্রীবাস পন্ডিতের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। শ্রীবাস পন্ডিত পরমবৈষ্ণব। একমাত্র অদ্বৈতাচার্য্য ছাড়া,তাঁর মতো বৈষ্ণবমন্ডলীর মধ্যে আর উপযুক্ত সম্মানিত ব্যক্তি কেউই ছিলেন না।শ্রীবাস গৌরহরিকে জ্ঞানাভিমানী ব্যক্তি বলেই বিশ্বাস করতেন।এজন্য,তাঁকে সশিষ্যে আসতে দেখে অহঙ্কারীর শিরোমণি বলে সম্বোধন করলেন।নিমাই অবনত মস্তকে তাঁর চরণে প্রণাম করলেন।শ্রীবাস পন্ডিত ভক্তের মতো বললেন,"নিমাই, কেবল জ্ঞান উপার্জনে কি ফল?"শ্রীকৃষ্ণে ভক্তি না হলে মানব-জীবন বৃথা।নিমাই গম্ভীর ভাবে বললেন, "আমি ভবিষ্যতে এমন বৈষ্ণব হব,যে তেমন কেউই আর হতে পারে নাই।নিমাইয়ের দম্ভপূর্ণ কথা শুনে শ্রীবাস পন্ডিত হাসতে লাগলেন।নিমাইও তারসঙ্গে একটু হাসিলেন।শ্রীবাস তাঁর ধর্ম-বিশ্বাসের কথা জিজ্ঞাসা করতে, গৌরহরি বললেন,আমিই ভগবান।এইসব কথা বলে তিনি হাসতে হাসতে চলে গেলেন।নিমাই, শ্রীবাসের কথায় এইরকম উত্তর দেওয়াতে,শ্রীবাস মনে করলেন, শ্রীজগন্নাথ মিশ্র পরম বৈষ্ণব, হয়ত নিমাইও একদিন সত্যিকারের বৈষ্ণব হবে। কিন্তু শ্রীবাস ও তাঁর পত্নী মালিনীদেবী নিমাইকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।তাঁরা শৈশব কালে নিমাইকে কোলে নিলে মনে হত তাপিত জীবন সুশীতল হল।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
*(১৯) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস্য শ্রীগৌর*
*গৌরহরির বাজার দর্শন*
*********************************
*🍀শ্রীগৌরহরি ছাত্রদের সঙ্গে নগরের চারিদিক ঘুরে বেড়াতেন।পান চিবাতে চিবাতে গমন করতেন, আর সঙ্গীদের সঙ্গে হাস্য পরিহাস করতেন। দেখলে মনে হত,যেন এক আনন্দের উৎস সর্বদা তাঁর হৃদয় হতে উথলিয়ে উঠছে। গৌরহরির বদনমন্ডল সবসময়ই যেন আনন্দে ভরা ; তাঁকে দেখলে লোকে মুগ্ধ হত।তাঁর এমন যাদু শক্তি ছিল যে,তিনি ইচ্ছে করলেই লোককে বশীভূত করে ফেলতে পারতেন। তিনি একদিন ছাত্রদের বললেন,চল বাজারে যাই, অনেক জিনিসপত্র কিনতে হবে।ছাত্রেরা দেখলেন, গুরুজীর হাতে একটিও কপর্দকও(অর্থও) নাই। তাঁরা বললেন,গুরুজীর কাছে তো জিনিস কেনার কোন পয়সা নাই, তখন গৌরহরি বললেন,মূল্যের প্রয়োজন নাই,চল যাই,মিষ্ট কথা বলে জিনিস আনতে পারব। ছাত্রগণ নিমাইয়ের সঙ্গে হাটে প্রবেশ করলেন।গৌরহরি এক তন্তুবায়ের দোকানে গেলেন।গৌরহরি বললেন,"ভাল কাপড় বাহির করুন দেখি"।তন্তুবায় কাপড় দেখালে, তিনি কাপড় হাতে করে বলতে লাগলেন, কাপড়টি বেশ, কিন্তু হাতে পয়সা নাই, কিভাবেই বা কিনি? তন্তুবায় বলিল, তুমি ঠাকুর একন না হয়, যখন সুবিধে হবে তখন কাপড়ের দাম দিয়ে দিও। নিমাই বললেন, "ধারে কোন জিনিস কেনা ভাল নয়"।তখন তন্তুবায় বলিল, ঠাকুর তুমি এ কাপড় নিয়ে যাও,তোমাকে আর দাম দিতে হবে না।গৌরহরি আনন্দিত মনে কাপড় নিয়ে, ছাত্রদের কাছে এসে বললেন, এই দেখ,বিনামূল্যে কাপড় পেয়েছি।*
*🍀সর্বজনপ্রিয় গৌরহরি গোয়ালার বাড়ীতে গমন করলেন।গোপগণ তার রূপকান্তি দেখে মুগ্ধ হয়ে যেত।গৌরহরি যাওয়ামাত্র তারা অতি আগ্রহের সাথে তাঁকে বসতে আসন দিত।অনেকে "মামা,মামা" বলে ডাকতে লাগল।তারা দুগ্ধ,দধি,নবনী এনে উপস্থিত করল।*
*🍀নিমাই তাম্বূলীর দোকানের কাছে যাওয়ামাত্র, পান বিক্রেতা অতি সুন্দর করে পানের খিলি সাজিয়ে তাঁর হাতে দিল।নিমাই পানের খিলেটি হাতে বললেন,পান তো দিলে, কিন্তু হাতে তো পয়সা নাই।তাম্বূলী বলল,আমি পানের পয়সা চাই না। তুমি খেয়ে সুখী হলেই আমি সুখী হব।*
*🍀গৌরহরি গন্ধবণিকের ঘরে গমন করলে,সে সম্ভ্রমে তাঁর চরণে প্রণত হয়ে, বসতে আসন দিলেন ; এবং সুগন্ধি দ্রব্য প্রদান করে বলিল, আমি তোমার কাছে কিছুই চাই না, এই সুগন্ধি দ্রব্য কাপড়ে লাগালে, কাপড় ধৌত করলেও আটদিনে এর গন্ধ যাবে না।*
*🍀এইরকম ঘুরতে ঘুরতে তিনি শঙ্খবণিকের কাছে গেলেন।সে গৌরহরিকে বসতে আসন দান করলে,গৌর বললেন,ভাই!ভাল শাঁখ নিয়ে এসো, তবে কিন্তু আমার হাতে পয়সা নাই।শঙ্খবণিক খুব ভাল শঙ্খ বেছে তাঁর কাছে এনে বলল,শঙ্খ নিয়ে ঘরে যাও,যখন সুবিধে হবে,তখন মূল্য দিও।গৌর আনন্দিত মনে শঙ্খ হাতে নিয়ে গৃহে চললেন।*
*🍀শ্রীগৌর এক জ্যোতিষীর নিকট গেলেন। গণক ঠাকুর তাঁকে দেখে প্রণাম করে বসতে আসন দিলেন।গৌর বললেন,তুমি,ভবিষ্যৎ ও বর্তমানের সব বিষয়ই বলতে পার, আচ্ছা বলত দেখি, আমি পূর্বজন্মে কি ছিলাম? জ্যোতিষী চোখ বুজে কিছুক্ষণ বসলেন।তিনি এইরূপে ধ্যানস্থ হয়ে দেখলেন ; গোকুলের শ্রীকৃষ্ণ শঙ্খ,চক্র,গদা,পদ্ম হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, ব্রজের বালকগণ তাঁকে বেষ্টন (ঘিরে) করে রয়েছে।আবার ক্ষণকাল পরে দেখলেন, তিনি ত্রিভঙ্গ বেশে মুরলী বাজাচ্ছেন। জ্যোতিষী দিব্যচক্ষে দেখলেন,আর গণনার দ্বারা জানলেন,সেই শ্রীকৃষ্ণই গৌররূপ ধারণ করে,নবদ্বীপে গৌরচন্দ্ররূপে আবির্ভূত হয়েছেন।জ্যোতিষী চোখ খুললেন।দেখলেন, গৌরাঙ্গ সেখানে বসে রয়েছেন, তিনি তখন তাঁর বদনমন্ডলে যেন এক অপরূপ জ্যোতিঃ দেখতে পেলেন। গৌরের সে রূপমাধুরী নিরীক্ষণ করতে করতে, তার নয়নদ্বয় হতে বারিধারা বহিতে লাগিল।তিনি গৌররূপধারী গোকুলের সেই শ্রীকৃষ্ণকে যেন প্রত্যক্ষ করতে লাগলেন। আর আনন্দে তাঁর হৃদয় উথলিয়ে উঠিল।তিনি মনে করতে লাগলেন, এমন লোকের জীবন-ঘটনা গণনা করে,আমার জীবন আজ ধন্য হল। তিনি গৌরহরির শ্রীচরণে সাষ্টাঙ্গে প্রণত হয়ে,তাঁর পূর্ব জন্মের বিষয় জ্ঞাপন করলেন।নিমাইচাঁদ ঈষৎ হেসে সেখান থেকে চলে গেলেনব মানবজীবনের ভবিষ্যৎ গণনায় সময়ে সময়ে সত্য ফলই প্রসব করে থাকে দেখা যায়। কিন্তু ভবিষ্য গণনা যে কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে,তা নিঃসংশয়ে বলা যেতে পারা যায় না। গৌর সম্বন্ধে গণকের গণনা, অনেকাংশে সত্য বলেই মনে হয়।*
*🍀বাজারে শ্রীধর নামক এক পসারি,থোড়,মোচা,খোলা প্রভৃতি বিক্রি করত।শ্রীধর বৈষ্ণব ও অতি সাধু লোক।সে এইসব সামান্য দ্রব্য বিক্রি করে,যা উপার্জন করত,তাতেই এক রকমে সংসার প্রতিপালন করত। ভক্ত শ্রীধর সব সময়ে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে হৃদয়ে শান্তি লাভ করত।শ্রীগৌরাঙ্গ শ্রীধরকে ভীষণ ভালবাসতেন,এবং শ্রীধরের সঙ্গে রসিকতা করে কিছু তৃপ্তি লাভ করতেন।গৌরসুন্দর বাজারে উপস্থিত হয়ে,শ্রীধর পসারির কাছে আসিলেন।*
*🍀শ্রীধর গৌরহরিকে দেখে ঠাকুর বলে প্রণাম করল।গৌরহরি শ্রীধরের সঙ্গে একটু আমোদ করবার জন্য বললেন,শ্রীধর! তুমি তো সদাসর্বদা হরিনাম করো,তবে এত কষ্ট পাও কেন?শ্রীধর বলল,ঠাকুর কিসের কষ্ট? আমি তো আর উপবাস থাকি না ; ছোট হোক বা বড় হোক কাপড় পরছি।তারপরে শ্রীধরের সঙ্গে একটু কৌতূক করবার জন্য গৌরহরি বললেন, শ্রীধর! তোমার অনেক লুকোনো অর্থ আছে,তা আমি শুনেছি।শ্রীধর বলল, "ঠাকুর, আমি অর্থ কোথা পাব। আমি থোড়,মোচা, খোলা বিক্রি করি এই মাত্র।*
*🌷প্রভু বোলে তোমার বিস্তর আছে ধন।*
*🌷তাহা তুমি লুকাইয়া করহ ভোজন।।*
*🌻গৌরহরি শ্রীধরের দোকান হতে থোড়,মোচা প্রভৃতি নিলে, শ্রীধর বলল, ঠাকুর!এ জিনিসগুলির যা মূল্য হয় তাই দিবেন।গৌরহরি বললেন, "তুমি জান না, যে গঙ্গার তুমি পূজো কর, আমি তাঁর পিতা, তুমি বিনামূল্যে দেবতাদেরকে এসব দ্রব্য দিয়ে থাক, আমাকে না হয় অর্ধেক দামেই বা দিলে? তাতে ক্ষতি কি? শ্রীধর বললে,ঠাকুর!তোমার কাছ থেকে আমি আর দাম চাই না, তুমি প্রতিদিন থোড় মোচা আমার কাছ থেকে নিয়ে যেও।*
*🌷চিন্তিয়া শ্রীধর বলে,শুনহ গোসাঞি।*
*🌷কড়ি পাতি তোমার কিছুই দেয় নাই।।*
*🌷থোড়,কলা,মূলা,খোলা দিব এই মনে।*
*🌷সবে আর কোন্দল না কর আমা সনে।।*
*🍀গৌরহরি শ্রীধরের কথা শুনে বললেন, যখন তুমি আমাকে এসব জিনিস বিনামূল্যে দিবে,তখন আর তোমার সঙ্গে বিবাদের প্রয়োজন কি?*
*🌷প্রভু বলে ভাল ভাল আর দ্বন্দ্ব নাই।*
*🌷সবে থোড় কলা মূলা ভাল যেন পাই।।*
*🌻এইকথা বলে নিমাইচাঁদ হাসতে হাসতে চলে গেলেন।আর মনে মনে ভাবতে লাগলেন, শ্রীধর কি সরল!এমন লোকই যথার্থ বৈষ্ণব হবার উপযুক্ত।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
*(২০) শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস্য শ্রীগৌর*
*শ্রীগৌরাঙ্গ ও বিষ্ণুপ্রিয়া*
********************************
*🍀শ্রীগৌরসুন্দর পূর্ববঙ্গ হতে ফিরে এসে,চতুষ্পাঠীতে পুনরায় অধ্যাপনা কার্য্যে নিযুক্ত হলেন।তাঁর অনুপস্থিতিকালে চতুষ্পাঠীর কার্য্য স্থগিত ছিল।প্রায় দুই বৎসর হয়ে গেল, লক্ষ্মীপ্রিয়া ইহলোক হতে চলে গিয়েছেন।শচীমা পুত্রের পুনরায় বিয়ের জন্য মনস্থ করলেন।সুন্দরী, গুণবতী একটি কন্যার সঙ্গে, নিমাইয়ের পরিণয় কার্য্য সম্পন্ন হয়,মনে মনে এই সঙ্কল্প করে, সেই বিষয়ের চেষ্টায় রত হলেন।*
*🍀শচীমা প্রতিদিন গঙ্গাস্নান করতে যেতেন,আর দেখতেন, একটি সুন্দরী,রূপলাবণ্যময়ী বালিকা স্নান করবার জন্য গঙ্গায় প্রত্যহ আসিত। বালিকাটি শচীমাকে দেখে, তাঁর কাছে আসিত, এবং তাঁর চরণে প্রণাম করত।শচীমা, মেয়েটির সৌন্দর্য্য, বিনয় ও ধর্মনিষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতেন।তাঁর মনে হল,এ মেয়েটি তাঁর পুত্রবধূ হলে, শচীমার গৃহ আলোকিত হয়ে থাকবে।তিনি একদিন মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, বাছা!তোমার নাম কি?তুমি কার মেয়ে?সুন্দরী বালিকাটি,মাথা নত করে ধীরে ধীরে বলল, আমার নাম বিষ্ণুপ্রিয়া, আমার পিতার নাম সনাতন পন্ডিত। সনাতন পন্ডিত নবদ্বীপের মধ্যে ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে গণনীয়।শচীমা মনে করলেন,এই কুসুমের ন্যায় মেয়েটিকে আমার গৃহে নিয়ে যাই, আমার তো ষোলআনা ইচ্ছে, কিন্তু সনাতনের মত ধনী ব্যক্তি কি,আমার মত দরিদ্র পরিবারের পুত্রের হাতে তাঁর কন্যা সমর্পণ করবেন?*
*🍀বালিকা বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রতি তাঁর অন্তরের ভালোবাসা হয়েছে।শচীমা গৃহে ফিরে এসে, কাশীনাথ নামক ঘটককে সংবাদ দিয়ে নিজ বাড়ীতে আনিলেন।কাশীনাথ উপস্থিত হলে,তিনি সমস্ত ঘটনা তাঁর কাছে বর্ণন করে বললেন, "সনাতন ধনী ব্যক্তি" তিনি কি আমার ঘরে তাঁর কন্যা দিবেন? কাশীনাথ শচীদেবীর কথা শুনে, সনাতন পন্ডিতের নিকট উপস্থিত হলেন।শচীদেবী বর্ণিত সমস্ত ঘটনা তাঁর কাছে নিবেদন করে বললেন,"নিমাইপন্ডিতের সঙ্গে আপনার কন্যার বিয়ে হলে তিনি সুখী হন।সনাতন এইকথা শুনিবামাত্র, কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইলেন।তাঁর হৃদয়ে আনন্দের সঞ্চার হতে লাগল ; মনে মনে বলতে লাগলেন, নিমাই পন্ডিতের নাম প্রায় জগতে ছড়িয়ে পড়েছে, নিমাইয়ের মত পাত্রে বিষ্ণুপ্রিয়া সমর্পিত হবে,তা পরম সৌভাগ্যের কথা মনে করতে লাগলেন।কিছুক্ষণ পরে, কাশীনাথকে বসতে বলে,তিনি পত্নীকে এই শুভ সংবাদ জানাবার জন্য বাড়ীর ভিতরে গমন করলেন।সনাতন-পত্নী, স্বামীর মুখ হতে শচীদেবীর বাসনা শুনলেন, বললেন, "নিমাইয়ের মত জামাতা লাভ করা, এর তুল্য সৌভাগ্য আর কি আছে?সনাতন সহাস্য বদনে, মনের আনন্দে ঘর থেকে বাইরে বেড়িয়ে কাশীনাথকে তাঁদের এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অভিমতের কথা জানালেন। কাশীনাথও পরম আনন্দে নিমাইজননীর কাছে চললেন, শচীগৃহে এসে সনাতনের অভিমত জ্ঞাপন করলেন।এইকথা শুনে আর শচীমায়ের প্রাণে আনন্দ ধরে না ; বিষ্ণুপ্রিয়ার মত রূপসী ও গুণবতী কন্যা,তাঁর নিমাইয়ের পত্নী হবে, এ-কথা তাঁর মনে যত উদিত হতে লাগল,ততই আনন্দে তাঁর মন যেন উথলিয়ে উঠতে লাগল।তিনি সহাস্য বদনে কাশীনাথকে সনাতনের কাছে যথাযথরূপে উপস্থিত করবার জন্য অনুরোধ করলেন।*
*🍀কাশীনাথ এই আনন্দজনক প্রস্তাব শিরোধার্য্য করে, পুনরায় সনাতনের ভবনে উপস্থিত হলেন।সনাতন এই প্রস্তাবের সূচনা মাত্র শুনে, চরম আনন্দ লাভ করলেন। এখন ঘটকের কাছ হতে,সবকথা শুনে সনাতনের আর আনন্দ ধরে না, নিমাই আমার জামাতা হবে!আমার পরম সৌভাগ্য।তিনি আর কাল বিলম্ব না করে, বিয়ের দিন ধার্য্য করবার জন্য,এক বিখ্যাত জ্যোতিষকে আহ্বান করলেন। গণকঠাকুর বিশ্বম্ভরের বিয়ের শুভদিন ধার্য্য করবার জন্য সনাতন পন্ডিতের বাড়ীতে গমন করছেন,এমন সময়ে পথিমধ্যে নিমাইয়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। নিমাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, গণকঠাকুর, কোথায় যাচ্ছেন?গণক বললেন,কেন,তোমার বিয়ের দিন স্থির করতে। সনাতন পন্ডিতের কন্যার সঙ্গে তোমার যে বিয়ে হবে, তা কি তুমি জানো না? নিমাই বললেন, আমার বিয়ে!কৈ আমি তো জানি না?গণকঠাকুর নিমাইয়ের সঙ্গে আর কিছু কথা না বলে সনাতন ভবনে গিয়ে উপস্থিত হলেন।সনাতন পন্ডিত অতি আনন্দের সঙ্গে গণকঠাকুরকে কন্যার বিয়ের জন্য, শুভদিন ও শুভলগ্ন দেখতে বললেন।তখন গণকঠাকুর বললেন, এইমাত্র এখানে আসিবার সময়,নিমাইয়ের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়, কিন্তু নিমাই তো এ বিয়ে সম্বন্ধে কিছুই জানেন না বললেন। গণকের মুখ হতে এই কথা শুনে সনাতনের আনন্দপূর্ণ হৃদয় নিরানন্দে ভরে উঠল।তাঁর আশাপূর্ণ মন নিরাশার অন্ধকারে ঢাকা পড়ে গেল।তাঁর বদনমন্ডল মলিন হয়ে গেল। তিনি নিরাশ হয়ে পত্নীকে এই সমাচার জানানোর জন্য অন্তঃপুরে প্রবেশ করলেন। গণক পাত্রের অনিচ্ছায় এ বিয়ে এখন সম্ভবপর নয় বিবেচনা করে গৃহে ফিরে গেলেন।*
*🍀সনাতন ভাবলেন,নিমাই বালক নহেন,তিনি বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছেন,তাঁর জননীর এ বিয়েতে সম্পূর্ণ মত থাকলেও,সন্তানের অমতে তিনি এইরকম কাজে অগ্রসর হবেন!এইসব চিন্তা করে,সনাতন পন্ডিত বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে নিমাইয়ের বিয়ে হবে না মনে করে যেন হতাশ হয়ে পড়লেন।*
*🙏কোন বৈষ্ণব লেখক বলেন, শ্রীসনাতন পন্ডিত শ্রীগৌরাঙ্গকে সাধারণ মানুষ বলে মনে করতেন না। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং গৌরাঙ্গরূপে নবদ্বীপ ধামে অবতীর্ণ হয়েছেন বলিয়া তাঁর বিশ্বাস জন্মেছিল।এমন নররূপধারী দেবতাকে কন্যা অর্পণ করলে, বিষ্ণুপ্রিয়া সশরীরে স্বর্গের শান্তি অনুভব করবে, এবং তারও মানবজীবনধারণ সার্থক হবে। এই বিশ্বাসে তাঁর মন যেন এক অপার্থিব আনন্দে ভাসছিল।আজ সে আনন্দের উপর চরম বাধা সৃষ্টি হল দেখে, তিনি নিরাশ মনে হা গৌরাঙ্গ,হা গৌরাঙ্গ বলে দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করতে লাগলেন, আর তাঁর দুইনয়ন দিয়ে অশ্রুধারা বহিতে লাগিল।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
