শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
           *শ্রীখন্ডের---------মহিমা*
            ~~~~~~~~~~~~~~~
*🍀প্রসঙ্গত বলা যায় যে শ্রীহরিদাস ঠাকুরের উপর যে কাজী নির্ম্মম পাশবিক অত‍্যাচার করেছিল,পরে সেই কাজীই ফুলিয়া গ্রামে এসে হরিদাস বন্দনা করে বলেছিলেন=*
*🌷সত‍্য সত‍্য জানিলাম তুমি মহাপীর।*
*🌷এক জ্ঞান তোমার যে হইয়াছে স্থির।।*
*🌷যোগী জ্ঞানী সব যত মুখে মাত্র বোলে।*
*🌷তুমি যে পাইলা সিদ্ধি মহা কুতূহলে।।*
*🌷তোমারে দেখিতে মুঞি আইনু হেথায়।*
*🌷সব দোষ মহাশয় ক্ষমিও আমায়।।*
                          *(শ্রীচৈঃ ভাঃ)*
*🍀সেইরকম নবদ্বীপে মহাপ্রভুর নরিনাম কীর্তনে কাজী যখন বাধার সৃষ্টি করেছিল তখন সেই কাজী দলন অভিযানে কাজীকে তিনি উচিৎ শিক্ষা দিয়েছিলেন। তখন সেই কাজীর কিরকম ভাবান্তর হয়েছিল তা আপনারা শুনুন। কারণ সেই পরম হিন্দু বিদ্বেষী কাজী তখন অনুতাপানলে দগ্ধ হয়ে কৃষ্ণনাম জপ করতে লাগলেন, তখন মহাপ্রভু কি বলেছিলেন তা আপনারা শ্রীচরিতামৃতের ভাষায় শুনুন=*
*🌷তোমার মুখে কৃষ্ণনাম এ বড় বিচিত্র।*
*🌷পাপক্ষয় গেলা হৈলা পরম পবিত্র।।*
*🌷হরি কৃষ্ণ নারায়ণ লইলে তিননাম।*
*🌷বড় ভাগ‍্যবান্ তুমি বড় পুণ‍্যবান।।*
*🌷এত শুনি কাজীর দুই চক্ষে পড়ে পানি।*
*🌷প্রভুর চরণ ছুঁই বলে প্রিয় বাণী।।*
*🌷তোমার প্রসাদে মোর ঘুচিল কুমতি।*
*🌷এই কৃপা করু যেন তোমাতে রহে ভক্তি।।*
*🍀সেইরকম মহাপ্রভু যখন শ্রীরূপ-সনাতনকে সাক্ষাত করতে রামকেলি অভিমুখে যাচ্ছিলেন, তখন হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ লোক তাঁর সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছিল এবং সেই বিশাল জনসমুদ্র আগমনের সংবাদ পেয়ে গৌড়ের নবাব ভীত হয়ে গুপ্তচর মাধ‍্যমে জানতে চাইলেন যে এরা কারা--,এরা কি সব বিদ্রোহী প্রজা না তার রাজ‍্য আক্রমণ করতে এসেছে, তখন শ্রীরূপ-সনাতন নবাবকে বলেছিলেন ইনি হচ্ছেন এক নবীন সন্ন‍্যাসী,নবদ্বীপে যাঁর আবির্ভাব হয়েছে, ইনি সাক্ষাৎ ভগবান। নবাব তখন দ্বিধাগ্রস্ত ভাবে ভাবতে লাগলেন যে আমি দৈনিক রোজ না দিলে একজনও কাজের লোক পাই না আর লক্ষ লক্ষ লোক কোনরকম প্রত‍্যাশা না করে কিসের আকর্ষণে এই মহাপুরুষের সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে।কি এমন আকর্ষণ শক্তি মানুষের থাকলে এটি সম্ভব! সুতরাং ইনি নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষ নহেন, তখন তার সঙ্গে শ্রীরূপ-সনাতনের যে বাক‍্যালাপ হয়েছিল তা শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী সুন্দর ভাবে ব‍্যক্ত করেছেন।*
*🌷মোরে কেন পুছ তুমি পুছ আপন মন।*
*🌷তুমি নরাধিপ হও বিষ্ণু অংশসম।।*
*🌷তোমার চিত্তে চৈতন‍্যের কৈছে হয় জ্ঞান।*
*🌷তোমার চিত্তে যেই আয় সেইত প্রমাণ।।*
*🌺নবাব তখন বলেছিলেন=*
*🌷রাজা নহে শুন মোর মনে হেন লয়।*
*🌷সাক্ষাৎ ঈশ্বর তিঁহ নাহিক সংশয়।।*
*🌻যাইহোক,আমরা আবার মুকুন্দের প্রসঙ্গে ফিরে আসি।অর্থ‍্যাৎ উক্ত ঘটনার পর হতে মুকুন্দের বৈষয়িক জীবনের যবনিকা পাত হল এবং তিনি মহাপ্রভু এবং ভাই নরহরির সঙ্গ মানসে নবদ্বীপে এসে উপস্থিত হলেন।ইঁনারা সব চিহ্নিত দাস বা পার্ষদ যার পরিচয় পাওয়া যায় তিনটি ভক্তি গ্রন্থে। ভক্তমাল, বৈষ্ণবাচার দর্পণ, গৌরগণোদ্দেশ দীপিকা।এই প্রামাণ্য গ্রন্থের মিলিত সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে মুকুন্দ হচ্ছেন বৃন্দাবনের বৃন্দাদেবীর স্বরূপ এবং এই প্রসঙ্গে কিছু উদ্ধৃতি দেওয়া হল। যথা=*
*🌷ভক্তমাল গ্রন্থ বলছেন=*
*🌷বৃন্দাবনে বনদেবী বৃন্দা যে আখ‍্যান।*
*🌷তিঁহ শ্রীমুকুন্দ দাস খন্ডবাসী জন।।*
*🌻বৈষ্ণবাচার দর্পণ বলেছেন=* 
*🌷ব্রজে বৃন্দাদেবী ছিল শ্রীমুকুন্দ দাস।*
*🌷চৈতন‍্যের প্রিয় শাখা শ্রীখন্ডেতে বাস।।*
*🌹গৌরগণোদ্দেশ দীপিকা বলেছেন=*
*🌷ব্রজধিকারিণী যা আসীদ্ বৃন্দাদেবী তু নামতঃ।*
*🌷সা শ্রীমুকুন্দদাসোহস‍্য খন্ডবাসঃ প্রভু প্রিয়ঃ।।*
*🌻সুতরাং এটি দ্বারা এই সত‍্যই প্রতিষ্ঠিত হয় যে নরনারায়ণ দেবের ঔরসে এবং গৌরী দেবীর গর্ভে যে দুই পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে মুকুন্দ হচ্ছেন ব্রজের বৃন্দাদেবীর স্বরূপ এবং নরহরি হচ্ছেন ব্রজের মধুমতীর স্বরূপ। মহাপ্রভুর পার্ষদ এবং পরিকরগণের মধ্যে দুই সহোদর ভাইয়ের এইরকম গৌরাঙ্গ প্রীতি ও সাধন ভজনের পরাকাষ্ঠা দেখা যায় শ্রীরূপ-সনাতন ও শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ ও গোবিন্দ কবিরাজের মধ্যে।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌻🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*নিতান্ত ব‍্যথিতা যবে,কম্পিত দেহেতে তবে,*
    *পতির নিকটে ত্বরা উপনীত হন*।
*সে সময় করজোড়ে,নিবেদন করি তারে,*
    *কহে প্রভু শোন এবে আমার বচন।।*
*রমা পতি নারায়ণ,তব প্রিয় সখা হন,*
   *পরম দয়ালু তিনি করেছি শ্রবণ*।
*দ্বিজভক্ত হন অতি,সদা কৃপা ভক্ত প্রতি,*
    *এবে তুমি লও প্রভু তাঁহার শরণ।।*
*ত্বরা তাঁর কাছে গিয়া,কহ দুঃখ বিস্তারিয়া,*
    *সাংসারিক ক্লেশ যত হবে নিবারণ।*
*দয়াময় নারায়ণ,আনি দিবে বহু ধন,*
    *না রাখেন তিনি কারো বাঞ্জা অপূরণ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
            *শ্রীখন্ডের--------মহিমা*
             **********************
*🍀শ্রীনরহরি ও শ্রীমুকুন্দের মধ্যে এত স্নেহ ভালবাসার বন্ধন ছিল যে নরহরি সদাসর্বদা ভাইয়ের বিরহে বিষাদগ্রস্ত ভাবে থাকতেন। একদিন তা মহাপ্রভুর গোচরে আসিলে তিনি তার প্রকৃত কারণ বললে সর্বজ্ঞ মহাপ্রভু তাঁকে বললেন, নরহরি!তুমি আর মনে কষ্ট করিও না কারণ তোমার ভাই মুকুন্দ তাড়াতাড়ি এসে তোমার সঙ্গে মিলিত হবেন।অর্থ‍্যাৎ ভক্তবৎসল মহাপ্রভু তাঁর প্রিয় ভক্ত নরহরির মনোকষ্ট নিবারণের জন্য মুকুন্দকে আকর্ষণ করলেন, যার ফলে মুকুন্দ বাদশাহের কাজ ছেড়ে দিয়ে নবদ্বীপে এসে নরহরির সঙ্গে মিলিত হলেন। নরহরির আনন্দ আর ধরে না শ্রীগৌরাঙ্গের কৃপায় তাঁর সাধন ভজনের উপযুক্ত সাথী হিসাবে ভাইকে পেয়ে নরহরির গৌরাঙ্গ প্রীতি দ্বিগুণ ভাবে বেড়ে গেল।এক হিসাবে ব্রজের মধুমতী কি কখনও ব্রজের বৃন্দাদেবীকে ছাড়া থাকতে পারেন?*
*🍀এইভাবে দুইভাই নবদ্বীপে স্থায়ী হলেন, তখন একদিন মহাপ্রভু মুকুন্দকে আদেশ করলেন শ্রীখন্ডে গিয়ে আদি বাসস্থানে বাস করতে। আরও বললেন যে, মুকুন্দ!সংসারী জীবন যাপন করতে হবে।এই প্রসঙ্গে তিনি নরহরিকে উদ্দেশ্য করে বললেন যে নরহরি,তাঁর কাছে চির কৌমার্য‍্য (চির কুমার হয়ে ) ব্রত অবলম্বনে তাঁর পার্ষদ হিসাবে থাকবেন।এইরকম দুই ভায়ের মধ্যে ব‍্যতিক্রম দেখে মুকুন্দ অশ্রুসজল নয়নে করজোড়ে বললেন, প্রভো! আপনার আজ্ঞা অলঙ্ঘনীয় কিন্তু আমার উপর এমত নির্দেশ দিলেন কেন? সংসার করব না বলে সঙ্কল্প করে আপনার শ্রীচরণে আশ্রয় পেয়েছি।অতএব আমাকে কেন আবার সেই বিষয় গর্তে নিক্ষেপ করছেন।মুকুন্দের নানারকম কাতরোক্তি শুনে কৃপাময় মহাপ্রভু তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন যে মুকুন্দ!তুমি সংসার করবে বটে, কিন্তু তোমাকে সংসারী হতে হবে না।তোমাকে বিয়ের আদেশ দিবার মূল কারণ হচ্ছে, যে তোমার পত্নীর গর্ভে যে পুত্র সন্তান জন্মিবে সে হচ্ছে আমার স্বীকৃত পুত্র মদনাবতার সাক্ষাৎ রঘুনন্দন, অতএব তোমাকে বিয়ে করতেই হবে।*
*সেহেতু তুমি শ্রীখন্ডে গমন করো, আমার বিরহে যখন তুমি খুবই কাতরতা বোধ করবে, তখনই আমি তোমাকে অবশ্যই দেখা দিব।মুকুন্দ তখন অধোবদনে বললেন যে, প্রভু! আপনার আদেশ শিরোধার্য‍্য। তার উপরে বৈষ্ণব জগতে আজ্ঞা বলবান কিন্তু তথাপি বললেন যে, আমার বিয়ের বয়স পার হয়ে গিয়েছে, তদপেক্ষা এই কাজ কি নরহরির মাধ‍্যমে সমাধা করা যায় না।প্রত‍্যুত্তরে মহাপ্রভু কহিলেন যে,আমার এই অভীষ্ট কার্য‍্য তোমা ব‍্যতীত সাধিত হবে না, তদুপরি সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী জ‍্যেষ্ঠ ভাইয়ের বিয়ে না হলে কনিষ্ঠ ভাই কিভাবে বিয়ে করবে? তদুপরি তোমার মাধ‍্যমে আমার যে বরপুত্র অবতীর্ণ হবেন তিনি নরহরি দ্বারা লালিত পালিত হবেন। উপরন্তু মহাপ্রভু বললেন যে তোমার যে স্ত্রী বা নারী জাতির উপর কোন আকর্ষণ নাই তা আমি ভালো মতে জানি, তবুও এক অতীব মহৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তোমায় এই আদেশ করছি।তুমি আর দ্বিধাবোধ করিও না। আর হ‍্যাঁ,এই বিয়ের জন্য তোমাকে কোনরকম চেষ্টায় করতে হবে না এবং তুমি শ্রীখন্ডে প্রত‍্যাবর্তনের পরই কন‍্যাপক্ষ নিজে থেকে আসবে,সর্ব সুলক্ষণা যুক্তা কন‍্যা তোমার হাতে সম্প্রদান করবেন।তুমি তাড়াতাড়ি শ্রীখন্ডে গমন করো।*
*☘মুকুন্দ তখন গৌরহরির আজ্ঞা শিরোধার্য‍্য করে বিরহ-ক্ষীণ্ণ হৃদয়ে ছোট ভাই নরহরির কাছ হতে বিদায় কালে বললেন যে, ভাই নরহরি!এ জগতে তুমিই ধন‍্য আর ধন‍্য তোমার গৌরাঙ্গ প্রীতি এবং অনুরাগ।এই অনুরাগ রজ্জুতে তুমি পরম প্রেমময় গৌরহরিকে এমন ভাবে নিজ হৃদয়াসনে বেঁধে রেখেছ যে তিনি তোমাকে ছাড়তে পারবেন না, আর দুর্ভাগ্য আমার যে আমি নিজকর্ম দোষে এই সঙ্গচ‍্যুত হলাম।এইকথা শুনে মহাপ্রভু তাঁকে পুনরায় আশ্বস্ত করে কহিলেন, মুকুন্দ!অযথা খেদ করিও না,আমি এক মহৎ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তোমাকে এই আদেশ করছি এবং তুমি আমার বিরহে অধৈর্য‍্য হলে নিশ্চিত আমার দেখা পাবে। দেখ!শ্রীখন্ড হতে নবদ্বীপ তো বেশী দূর না, মাঝে মধ্যে এসে আমার সঙ্গে দেখা করে যাবে। তারপর তিনি গৌর ভগবানের আজ্ঞা শিরোধার্য‍্য করে বিষন্ন মনে শ্রীখন্ডে এসে পৌঁছিলেন এবং শ্রীখন্ডের দক্ষিণে বড়ডাঙ্গা নামক এক নির্জন বনে গৌরাঙ্গ ভজনে নিজেকে নিমজ্জিত করবেন এই আশা নিয়ে সেখানে একটি কুটীর নির্মাণ করে সাধন ভজনে লিপ্ত হলেন।কৃপার সাগর মহাপ্রভুর এমনই আত্মসাৎ মহিমা যে বাস্তব চক্ষে দেহ নিয়ে আসিলেও মনপ্রাণ সব মুকুন্দের পড়ে রইল শ্রীগৌরাঙ্গ চরণে। তিনি সেই নির্জন বন পরিবেশে বেশির ভাগ সময়ই বাস করতেন এবং শ্রীখন্ডে নিয়মিত যথাসময়ে আগমন করে কুলদেবতা গোপীনাথের সেবার আত্মনিয়োগ করতেন।এমত অবস্থায় একদিন যখন মুকুন্দ তাঁর বড়ডাঙ্গা স্থিত ভজন কুটীরে বসে আছেন তখন একজন লোক হঠাৎ এসে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং দু'চারটি কথার পর মুকুন্দ সম্মতি দান করলেন, কারণ তিনি তো এ ভবিষ্যৎ জানতেন এবং একে মহাপ্রভুর এক ভঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করলেন।এর পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেল এবং এর ফলে ভাগ‍্যবতী সেই রমণীর গর্ভে ঠাকুর রঘুনন্দনের জন্ম হল।*
############################
*অধুনা দ্বারকা পুরী,র'য়েছেন সেই হরি,*
    *ভোজ বৃষ্ণি যদুগণে করিতে পালন।*
*তিনি যে নিকটে অতি,যাও প্রভু দ্রুতগতি,*
    *উদরের জ্বালা যে গো না সহে এখন।।*
*অন্তরে চিন্তিলে যাঁরে,আত্মজ্ঞান দেন তাঁরে,*
    *সর্ব্বৈশ্চর্য‍্য পূর্ণ তিনি দেব নারায়ণ।*
*কল্পতরু যিনি হন,তুচ্ছ এই আকিঞ্চন,*
    *এবে তিনি করিবেন অবশ‍্য পূরণ।।*
🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
           *শ্রীখন্ডের---------মহিমা*
           ************************
*🍀গুরু পরম্পরায় শোনা যায় যে শ্রীমন্মহাপ্রভুর চর্ব্বিত তাম্বুল ভক্ষণের ফলেই মুকুন্দ পত্নী গর্ভ সঞ্চার হয়েছিল, যেমনটি হয়েছিল শ্রীপাদ বৃন্দাবনদাস জননী নারায়ণী দেবীর।কথিত আছে যে, মুকুন্দ ঘরণী অত‍্যন্ত পীড়িতা হলেতাঁর রোগ মুক্তির জন্য মহাপ্রভু নবদ্বীপ হতে কৃষ্ণ-পাগলিনী নামক এক ব্রাহ্মণ কন‍্যার মাধ‍্যমে তার চর্বিত তাম্বুল প্রসাদ পাঠিয়েছিলেন যা ভক্ষণের ফলে তিনি সম্পূর্ণ রোগমুক্ত হন এবং গর্ভবতী হন। মহাপ্রভুর এই অভীষ্ট বরপুত্রই হচ্ছেন রঘুনন্দন, যেমনটি ছিলেন শ্রীনিবাস আচার্য‍্য প্রভু।কবি কর্ণপুর সেজন‍্য এই রঘুনন্দনকে "চৈতন‍্যাদ্বৈত তনু" এই আখ‍্যা দিয়াছেন। ক্রমে মুকুন্দের ভক্তিময় জীবনের উন্মেষ ঘটতে লাগল এবং তাঁর ভক্তি শাস্ত্রের জ্ঞান এবং উৎকর্ষতা দেখে শ্রীখন্ডের মহিমা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে লাগল।নরহরিও মাঝে মধ্যে শ্রীখন্ডে এসে তাঁর সঙ্গ করতেন এবং মহাপ্রভু প্রবর্তিত প্রেমভক্তি জীবজগতে বিতরণ করতেন।সেইরকম আবার মুকুন্দও মধ্যে মধ্যে নবদ্বীপে এসে মহাপ্রভুর চরণ দর্শন করে যেতেন। এইভাবে মহাপ্রভুর কৃপায় শ্রীখন্ডের মহিমা ধীরে ধীরে বেড়ে যেতে লাগল।*
*🍀মুকুন্দ দাসের একটা বড় সদ্ গুণ ছিল যে তিনি বড় অতিথি সেবাপরায়ণ ছিলেন। কোন ক্ষুধার্ত ব‍্যক্তি তাঁর কাছ হতে কখনও অভুক্ত অবস্থায় ফিরে যেতে দিতেন না।তার উপরে গোপীনাথজীর সেবা পূজা অন্তে নিজে প্রসাদ পাবার আগে অভুক্ত কেউ আছেন কিনা সে খবর না নিয়ে তিনি কখনও স্বয়ং ভোজন করতেন না।শ্রীমদ্ ভাগবতগীতার যে সব মর্মবাণী তা মুকুন্দ স্বয়ং আচরণের দ্বারা প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন।সংসারে ছোট ছিলেন বটে কিন্তু সংসারের জঞ্জাল তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। সংসারের মধ্যে তিনি পাঁকাল মাছের মতোই থাকতেন এবং নিজের সুখের সবরকম বাসনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভগবানের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপন করে তিনি জীবন ধারণ করতেন।তাঁর ধ‍্যান জ্ঞান চিন্তা সবই ছিলেন কুলদেবতা গোপীনাথ এবং মহাপ্রভু ছাড়া তিনি আর কিছুই জানতেন না।এইভাবেই একটি অজ্ঞাত অখ‍্যাত গ্রাম শ্রীখন্ড, মুকুন্দ নরহরির মহিমায় বঙ্গদেশের মানচিত্রে বিশেষ করে বৈষ্ণব জগতের পীঠস্থান রূপে গণ‍্য হলেন।যার চরম প্রকাশ দেখা যাবে রঘুনন্দনের জীবনে।*
*🍀অতঃপর মহাপ্রভু সন্ন‍্যাস গ্রহণ করলে নরহরি তাঁর বিরহে পাগলের মতো হয়ে গেলেন এবং তাঁর সঙ্গে শান্তিপুরে অদ্বৈত ভবন পর্যন্ত এসে অনেক নৃত্য কীর্তন করেছিলেন। কারণ তখনও পর্যন্ত মনের দৃঢ় বাসনা ছিল যে করুণাময় মহাপ্রভু কখনই তাকে সঙ্গচ‍্যুত করবেন না। কিন্তু বিধি বাম,শান্তিপুর হতে তিনি যখন পুরী অভিমুখে রওনা হলেন তখন নরহরিকে আদেশ করলেন যে তাঁকে শ্রীখন্ডে গিয়ে গৌড় মন্ডলে থেকে তাঁর অভীষ্ট সিদ্ধি করতে হবে এবং এ কথাও বললেন বিরহ ব‍্যথায় আকুল হলে তাঁর দেখা পাবেন এবং তার পরের বৎসরের শেষে রথযাত্রা কালে নীলাচলে এসে তাঁর সঙ্গে যেন সাক্ষাৎ করেন। এইভাবে গৌরসুন্দর নদীয়া পরিত‍্যাগ করলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে নদীয়া যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল।তাঁর প্রধান প্রধান ভক্তগণ গৌরাঙ্গ বিরহে পাগলের মত হয়ে গিয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়লেন।কারণ গৌরহরি শূন‍্য নবদ্বীপে বা নদীয়ায় সবসময়ই অবস্থান করা তাঁদের পক্ষে অসহনীয় হয়ে উঠিল।পরে মহাপ্রভু শ্রীরূপ-সনাতন প্রভৃতি গোস্বামীগণকে ব্রজমন্ডলে পাঠিয়ে শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের সুমধুর লীলা প্রচারে এবং ভক্তি শাস্ত্র প্রণয়নে নিয়োগ করলেন।নিত‍্যানন্দ প্রভুকে ঘরে ঘরে নাম প্রেম বিতরণের আদেশ করলেন এবং এর ফলে এইসব ভক্তমন্ডলী সবসময়ই হরিনাম সংকীর্তন ও বিভিন্ন ভক্তিগ্রন্থ আলোচনায় বিভোর হয়ে গেলেন। সুমধুর নদীয়া লীলা বা গৌরলীলা রসাস্বাদনের বড়ই ব‍্যতিক্রম ঘটল। এই সময়ে জীবের প্রতি করুণা পরবশ হয়ে নরহরি সেই কাজে ব্রতী হলেন।নরহরি ঠাকুর শ্রীখন্ডকে গৌরাঙ্গ প্রেমভক্তি বিতরণের একটি মুখ‍্য কেন্দ্র করে মুকুন্দ-রঘুনন্দনের সহায়তায় তাঁর ষোলআনা পুষ্টি সাধন করলেন।এই সময়েই নরহরি ঠাকুর তাঁর সর্বাধিক ভক্তিমূলক পদাবলীগুলি রচনা করেছিলেন।*
*🌻ঠাকুর রঘুনন্দনের আবির্ভাব তিথি হচ্ছে মাঘী শুক্লা পঞ্চমী, এই পুণ‍্য তিথিতে তিনি শ্রীখন্ডের পুণ‍্যভূমিতে অবতীর্ণ হন।শাস্ত্র বিচারে এই পুণ‍্য তিথি হচ্ছে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর জন্মতিথি।অদ‍্যাপি পুণ‍্যভূমি শ্রীখন্ডে রঘুনন্দনের জন্মতিথি খুব জাঁকজমকের সঙ্গে ভক্তগণ পালন করে সেই মহাপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন।মুকুন্দের পুত্র হলেও প্রকৃত পক্ষে নরহরির স্নেহ ভালবাসার মাধ‍্যমে মানুষ হন, সেজন্য ভক্তি জগতের সহায়ক সবরকম গুণাবলীতে তিনি ভূষিত হন।*
           *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
           *শ্রীখন্ডের----------মহিমা*
           ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀ঠাকুর শ্রীরঘুনন্দনের বাল‍্যজীবন প্রসঙ্গ খুবই মনোমুগ্ধকর।বাল‍্যকাল হতেই সাধু বৈষ্ণব সেবায় তাঁর খুবই নিষ্ঠা ছিল।শ্রীখন্ডবাসী বালকদের সাথে মিলিত হয়ে তিনি নানারকম পূজার্চনা করতেন।যতক্ষণ কুলদেবতা গোপীনাথের পূজা হত ততক্ষণ তিনি একাগ্রমনে সেখানে বসে থাকতেন।পিতা মুকুন্দদেব কিভাবে গোপীনাথজীর সেবাপূজা করেন তা শ্রদ্ধা সহকারে দেখতেন এবং প্রতিদিন সকালবেলা তুলসীপত্র চয়ন করে গোপীনাথের সেবার জন্য রেখে দিতেন। গ্রামের কোন জায়গায় খুব সুন্দর পুষ্প দেখতে পেলে খুব সকালবেলা তা চয়ন করে এনে গোপীনাথের সেবার জন্য রেখে দিতেন।পুত্রের এইসব ভাগবদ্ লক্ষণ দেখে পিতা মুকুন্দ নিজে খুবই আনন্দ লাভ করতেন। মনে মনে বিচার করলেন যে তাঁর কুলদেবতা গোপীনাথের সেবার একজন সুযোগ‍্য অধিকারী তাঁর বংশে জন্মগ্রহণ করেছে।এইরকম মানসিকতার মধ্যে একদিন মুকুন্দকে কোন অপরিহার্য কাজের জন্য গ্রামান্তরে যেতে হয় এবং তখন তিনি পুত্র রঘুনন্দনের উপর গোপীনাথের সেবার ভার অর্পণ করে সেখানে গমন করলেন।রঘুনন্দনের হৃদয় মন আনন্দে ভরে উঠিল, কারণ এতদিনে তাঁর মনের গুপ্ত বাসনা পূরণের সুযোগ মিলিল।*

*শ্রীরঘুন্দন তখন শুদ্ধভাবে পূজোর সামগ্রী জোগাড় করে পূজার ব‍্যবস্থায় উদ‍্যোগী হলেন।মা তাঁকে অনেক সহায়তা করলেন তারপর রঘুনন্দন পিতা যে প্রথা অনুযায়ী সেবা পূজো করতেন সেই হিসাবে গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে শৃঙ্গার করলেন।তুলসী,চন্দন ও পুষ্পাদি দিয়ে গোপীনাথের অভিষেক করলেন এবং তার সঙ্গে নিত‍্য ভোগের সব দ্রব‍্যাদি অর্পণ করলেন।বালক রঘুনন্দনের মনে এই ধারণাই ছিল যে ভোগ যখন দেওয়া হয় ঠাকুর নিশ্চয়ই তা ভোজন করেন, ভাল ভাল খাবার জিনিস পেলে কি কেউ না খেয়ে থাকে। এই বাৎসল‍্য সেবার কাছে ভগবান সবসময়ই পরাজিত।রঘুনন্দন তখন তাঁদের কুলদেবতাকে অন্তরের ষোলআনা আর্তি দিয়ে বললেন, ঠাকুর!তুমি এবার খেয়ে নাও, এই ক্ষীর সর নাড়ু মা কত সব বানিয়ে দিয়েছেন, এবার তুমি মনের আনন্দে একটু খাও দেখি। নিষ্পাপ সরল রঘুনন্দনের বিশ্বাস যে ঠাকুর রোজ যখন ভোজন করেন আজও করবেন।অতএব তিনি "ঠাকুর খাও" "ঠাকুর খাও" বলে বারবার বলতে লাগলেন।কিন্তু বিগ্রহরূপী গোপীনাথ নিশ্চল। তখন বাৎসল‍্য প্রেমভরে রঘুনন্দন বললেন, তুমি যদি আমার হাতে না খাও তাহলে আমি তোমার জন্য তুলসী তুলে আনব না,তোমার জন্য ভাল ফুলটি তুলে আনব না,তোমাকে আর মালা গেঁথে দিব না,আর তুমি না ভোজন করলে আমি বাবার কাছে বকুনি খাব, ইত্যাদি বলতে লাগলেন। এইরকম মান অভিমান,প্রণয় অনুরাগ এবং অবশেষে রঘুনন্দন যখন প্রেমাশ্রু বর্ষণ করতে করতে মনের দুঃখে গোপীনাথকে বললেন যে আমি তাহলে যাই, আমার হাতে যখন খাবেই না,তখন বুঝব তুমি আমায় ভালবাস না।আর তুমি অভুক্ত থাকলে আমি বাবার কাছে বকুনি খাব তোমার ভাল লাগবে?আর তুমি কত ক্ষুধায় কতনা কষ্ট পাবে, আমরা একটুও প্রসাদ পাব না,কারণ তুমি না ভোজন করলে তো সেটি প্রসাদ হয় না, এইভাবে নানারকম বাৎস‍্য রসময় কথা এবং কান্নাকাটির পর গোপীনাথের হৃদয়ে করুণার সঞ্চার হল এবং তিনি সেই নৈবেদ‍্য ধীরে ধীরে গ্রহণ করতে নাগলেন। রঘুনন্দনের আর আনন্দ ধরে না।জীবনে প্রথম দিনের সেবায় তিনি মনেপ্রাণে অপার আনন্দ লাভ করলেন এবং তিনি জানতেন যে বাবার দেওয়া ভোগ তিনি নিশ্চয়ই রোজ রোজ ভোজন করেন,অতএব তাঁর হাতেই বা ভোজন করবেন না কেন?*
*🍀এদিকে দুপুরের কিছু পরে বাবা মুকুন্দ গৃহে ফিরে এসে সেবার পর খবর নিলেন এবং পুত্রের কাছে প্রসাদ চাইলেন, কারণ বিষ্ণু নিবেদিত প্রসাদ আগে ভোজন না করে তিনি অন‍্য কিছু ভোজন করতেন না।রঘু তখন বললেন, প্রসাদ তো কিছুই নাই, সব নৈবেদ‍্য ঠাকুর ভোজন করে নিয়েছেন।মুকুন্দ অবাক বিস্ময়ে রঘুর সব কথা শুনে, আত্মশ্লাঘায় মৃতপ্রায় হয়ে গেলেন যে তিনিও নিত‍্য ভোগ দেন কৈ তাঁর হাত থেকে তো ঠাকুর কখনও এইরকমভাবে গ্রহণ করেন না। আর এই বালক পুত্রের উপর গোপীনাথের কি অপার করুণা! অতঃপর তিনি পুত্রকে বললেন যে রঘু!তোমার হাতে যখন ঠাকুর সব ভোজন করেছেন তুমি আগামীকালও পুজো করবে।মুকুন্দের মনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে পুত্রের অজান্তে সেই সেবা দেখা।দ্বিতীয় দিনেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি, গোপীনাথ প্রকট ভাবে প্রসাদ ভোজন করতে লাগলেন, আর ভাগ‍্যবান রঘুনন্দন তা দেখতে লাগলেন,এমনই এক সময় মুকুন্দ উৎকণ্ঠায় অধৈর্য‍্য হয়ে যেইমাত্র তা দেখলেন,তখনই ঠাকুর ভোগ খাওয়া স্থগিত হয়ে গেল।গোপীনাথ সেই মুহূর্তে একটি নাড়ু খাবার জন্য হাতে নিয়েছিলেন কিন্তু সে নাড়ু আর খাওয়া হল না।হাতের নাড়ু হাতেই থেকে গেল। সেই হতে শ্রীখন্ডের এই গোপীনাথ বিগ্রহের হাতে সেই নাড়ু অদ‍্যাপি ভক্তগণ দর্শন করেন, যা হচ্ছে ভগবানের ভক্ত বাৎসল‍্যের এক জ্বলন্ত নিদর্শন যার মাধ‍্যমে রঘুনন্দনের এই গোপীনাথ কীর্তিত হয়েছে।শ্রীনিবাস আচার্য‍্য একটি সংস্কৃত শ্লোকের মাধ‍্যমে রঘুনন্দনের এই গোপীনাথ সেবার মহিমা প্রকাশ করে বলেছেন যে পাঁচ বছর বয়সে রঘুনন্দনের এই বাৎসল‍্য সেবা দ্বারা ইহাই প্রতীয়মান হয় যে তিনি সাক্ষাৎ মদনাবতার।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*পত্নী তারে বারে বারে,অনুনয় যবে করে,*
    *তবে সে আপন মনে করিল চিন্তন।*
*যাই যদি পুরী পানে,দেখা হবে হরি সনে,*
   *এ সুযোগে তিরপিত হবে আঁখি মন।।*
*যাত্রা যবে স্থির করে,কহে তবে পরিবারে,*
   *রিক্ত হস্তে তাঁর কাছে যাইব কেমনে।*
*যদি কিছু রহে সতী,আনি দাও ত্বরা করি,*
   *করিব সম্ভার সহ দেখা সখাসনে।।*
*পতি যবে কন তারে,উপায়ন আনিবারে,*
   *ভিক্ষা মাগে প্রতিবেশি নিকটে তখন।*
*শুনি সে কহিল তারে,দিব যাহা আছে ঘরে,*
   *অপেক্ষা আমার গৃহে কর কিছুক্ষণ।।*
     *সুদামা কাহিনী পয়ার ছন্দে*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪔🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
                 *শ্রীখন্ডের মহিমা*
         ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀এই প্রসঙ্গে উদ্ধবদাস নামক এক পরম বৈষ্ণব একটি পদাবলী রচনা করেছেন যা আমরা শ্রীখন্ডে নরহরি ঠাকুরের তিরোভাব তিথিতে প্রসাদ পাবার সময় শুনতে পাই, স্থানীয় এক ভক্তমুখে সুন্দর কন্ঠস্বরের মাধ‍্যমে,যথা=*
*প্রকট শ্রীখন্ডে বাস,নাম শ্রীমুকুন্দ দাস,*
       *ঘরে সেবা গোপীনাথ জানি।*
*গেলা কোন কার্য‍্যান্তরে,সেবা করিবার তরে,*
      *শ্রীরঘুনন্দনে বলে জানি।।*
*ঘরে আছে কৃষ্ণ সেবা,যত্ন করি খাওয়াইবা,*
      *এত বলি মুকুন্দ চলিলা।*
*পিতার আদেশ পাইয়া,সেবার সামগ্রী লইয়া,*
   *গোপীনাথের সম্মুখে আইলা।।*
*শ্রীরঘুনন্দন অতি, বয়ঃক্রম শিশু মতি,*
      *খাও বলে কাঁদিতে কাঁদিতে।*
*কৃষ্ণ সে প্রেমের বশে,না রাখিয়া অবশেষে,*
      *সকলি খাইলা অলক্ষিতে।।*
*আসিয়া মুকুন্দ দাস,কহে বালকের পাশ,*
      *প্রসাদী নৈবেদ‍্য আন দেখি।*
*শিশু কহে বাপ শুন,সকলি খাইল তেন,*
      *অবশেষ কিছুই না রাখি।।*
*শুনি অপরূপ হেন,বিস্মিত হৃদয় পুনঃ,*
      *আর দিন বালকে কহিয়া।*
*সেবা অনুমতি দিয়া,বাটীর বাহির হইয়া,*
     *পরে আসি রহে লুকাইয়া।।*
*শ্রীরঘুনন্দন অতি, হই হরষিত মতি,*
     *গোপীনাথে নাড়ু দিয়া করে।*
*খাও খাও বলে ঘন,অর্দ্ধেক খাইতে হেন,*
     *সময়ে মুকুন্দে দেখে দ্বারে।।*
*যে খাইল রহে তেন,আর না খাইল পুনঃ,*
      *দেখিয়া মুকুন্দ প্রেমে ভোর।*
*নন্দন করিয়া কোলে,গদগদ স্বরে বলে,*
     *নয়নে বরিষে ঘন লোর।।*
*অদ‍্যাপি শ্রীখন্ডপুরে,অর্দ্ধ নাড়ু আছে করে,*
     *দেখে যত ভাগ‍্যবন্ত জনে।*
*অভিন্ন মদন যেই, শ্রীরঘুনন্দন সেই,*
     *এ উদ্ধব দাস রস ভণে।।*
*🌻সেই হতে রঘুনন্দনের মহিমার প্রথম বিকাশ এবং জনশ্রুতি মাধ‍্যমে দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়ল।কারণ মহাপ্রভুর যিনি বরপুত্র তিনি যে অনন‍্য সাধারণ ঐশী শক্তির অধিকারী হবেন তাতে এক হিসাবে আশ্চর্য হবার কিছুই নাই।এর কিছুদিন পর মহাপ্রভুর সঙ্গে মুকুন্দের সাক্ষাৎ হলে মহাপ্রভু ভাবে প্রকারে বুঝিয়ে দিলেন যে কেন তিনি তাঁকে বিয়ের জন্য, কেন বারংবার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পরিহাসচ্ছলে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে মুকুন্দ! এবার বলো তো, "তুমি রঘুর পিতা না রঘু তোমার পিতা"।মুকুন্দ তখন বললেন,প্রভু!বালকের এই সেবার উৎকর্ষতা দেখে আমার দৃঢ় ধারণা হচ্ছে যে রঘু আমার পিতা।এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচরিতামৃতে বলেছেন যে=*
*🌷মুকুন্দ দাসেরে পুছে শচীর নন্দন।*
*🌷তুমি পিতা পুত্র তোমার শ্রীরঘুন্দন।।*
*🌷কিবা রঘু পিতা তুমি তাহার তনয়।*
*🌷নিশ্নয় করিয়া কহ সঠিক সংশয়।।*
*🌷মুকুন্দ কহে রঘুনন্দন মোর পিতা হয়।*
*🌷আমি তার পুত্র এই আমার নিশ্চয়।।*
*🌷আমা সভার কৃষ্ণ ভক্তি রঘুনন্দন হইতে।*
*🌷অতএব পিতা রঘু আমার নিশ্চিতে।।*
*🌷শুনি হর্ষে কহে প্রভু কহিলে নিশ্চয়।*
*🌷যাহা হইতে কৃষ্ণ ভক্তি সেই গুরু হয়।।*
*🌻শ্রীখন্ডের এই মহাপুরুষকে তিনটি বিশেষ কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। যথা ঃ--, মুকুন্দকে চিকিৎসা বিদ‍্যার দ্বারা ধন উপার্জন করে দীন দরিদ্রের সেবা করতে।*
*নরহরির মাধ‍্যমে গদাধর পন্ডিতের মধ্যে যে রাধা ভাবে ভাবিত সেবা দাস‍্যভাব তা আস্বাদন করতে। আর রঘুনন্দনকে গোপীনাথের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে। অর্থ‍্যাৎ মহাপ্রভুর সব কাজের মধ্যেই সুচিন্তিত ভাবধারা ছিল।যা গৌরাঙ্গ চরিত সঠিক মনোনিবেশ সহকারে পাঠ করলে প্রত‍্যেকেই উপলব্ধি করিতে পারবেন।এই প্রসঙ্গে আবার শ্রীচরিতামৃতে বলেছেন=*
*🌷মুকুন্দেরে কহে প্রভু মধুর বচন*।
*🌷তোমার এ কার্য‍্য ধর্মধন উপার্জন।।*
*🌷রঘুনন্দনের কার্য‍্য কৃষ্ণের সেবন।*
*🌷কৃষ্ণ সেবা বিনা ইহার নাহি অন‍্য মন।।*
*🌷নরহরি রহু মোর ভক্তগণ সনে*।
*🌷এই তিন কার্য‍্য সমাধান কর তিনজনে।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
                  *শ্রীখন্ডের মহিমা*
            ************************
*🍀পুত্রকে পিতার স্বীকৃতি যেরকম মুকুন্দ দিয়েছিলেন, তার অনুরূপ নিদর্শন পাওয়া যায় অদ্বৈত তনয় অচ‍্যুতানন্দের প্রসঙ্গে যখন এক পরিব্রাজক সাধু এসে অদ্বৈতাচার্য‍্যকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর গুরুদেব কে? সে প্রসঙ্গে আপনারা সকলই অবগত আছেন সেজন‍্য আর পুনরাবৃত্তি করব না।তবে একটি বিষয় বলতে চাই যথা--, হয়ত সকলের ঠিক স্মরণে নেই যা হচ্ছে মহাপ্রভু কর্তৃক বালক অচ‍্য‍্যুতানন্দকে ভাই হিসাবে অঙ্গীকার করা যখন তিনি অদ্বৈত ভবনে শান্তিপুরে আগমন করেছিলেন এবং পঞ্চম বর্ষীয় বালক অচ‍্যুতানন্দের শ্রীঅঙ্গের জ‍্যোতি এবং ভক্তিভাব দর্শনে বলেছিলেন যে=*
*🌷প্রভু বোলে অচ‍্যুত আচার্য‍্য মোর পিতা।*
*🌷সে সম্বন্ধে তোমায় আমায় হই দুই ভ্রাতা।।*
*🌷অচ‍্যুত বলেন তুমি দৈবে জীব সখা।*
*🌷সবেকে তোমার বাপ এই নাহি লেখা।।চৈঃভাঃ।।*
*মহাপ্রভুর এইরকম আজ্ঞা পেয়ে রঘুনন্দন গোপীনাথ সেবায় মনপ্রাণ সমর্পণ করলেন এবং শ্রীখন্ডে মধু পুষ্করিণীর তীরবর্তী যে কদম্ব বৃক্ষ বিরাজিত তা হতে পুষ্প চয়ন করে নিত‍্য গোপীনাথের কর্ণভূষণ করতেন। গোপীনাথের কৃপায় সেই কদম্ববৃক্ষে বারো মাস প্রত‍্যহ দুইটি করে পুষ্প প্রস্ফুটিত হত।এটি যে কত সত‍্য তা শ্রীচরিতামৃতের ভাষ‍্য হতে জানা যায়, যথা=*
*🌷রঘুনন্দন সেবা করে কৃষ্ণের মন্দিরে।*
*🌷দ্বারে পুষ্করিণী তীরে ঘাটের উপরে।।*
*🌷কদম্বের এক বৃক্ষ ফুটে বারো মাসে।*
*🌷নিত‍্য দুই ফুল হয় কৃষ্ণ অবতংসে।।*
*🌻অবতংস=গৌরবভূষণ,কর্ণভূষণ, শিরোভূষণ ইত্যাদি।*
*🍀রঘুনন্দনের মহিমার অন্ত নাই।মহাপ্রভু তাঁর এই বরপুত্রের মধ্যে যে কতখানি শক্তি সঞ্চার করেছিলেন, তা প্রমাণিত হবে অভিরাম গোস্বামীর শ্রীখন্ড আগমন প্রসঙ্গে।পূর্ব অবতারে তিনি ছিলেন শ্রীদাম সখা এবং এক তেজস্বী মহাপুরুষ।তাঁর কাছে কেউ দর্শন করার জন্য গমন করলে তিনি চাবুক দ্বারা প্রহার করতেন।এমন কি শালগ্রাম শিলা পর্যন্ত তাঁর প্রণামে ফেটে যেত।তাঁর প্রণামের কি প্রভাব ছিল তা নিচের লেখা পয়ার হতে বিশেষ ভাবে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হবে।মহাশক্তির নিত‍্যানন্দ ঘরণীও ইঁনার তেজ হতে রেহাই পাননি, যা প্রেমবিলাস গ্রন্থে পাওয়া যায়।*
*🌷আমার অষ্টরাণীর অষ্ট পুত্র হয়।*
*🌷অভিরামের প্রণামে সপ্ত পরাণ ত‍্যজয়।।*
*🌷শেষ পুত্র বীরচন্দ্র বীরভদ্র নাম।*
*🌷বীরচন্দ্র চরিতে লিখিত তাঁহার আখ‍্যান।।*
*🌻আবার "বৈষ্ণবাচার দর্পণে" লেখা আছে যে=*
*🌷নিত‍্যানন্দের অষ্ট পুত্র কন‍্যা গঙ্গা নামে।*
*🌷সপ্ত অন্তর্দ্ধান অভিরামের প্রণামে।।*
*🌹তাঁর এমনই প্রভাব এবং তেজ ছিল যে তিনি কোথাও গমন করলে বেশীর ভাগ সকলেই ভয়ে পালিয়ে যেতেন।এমন যে অভিরাম গোস্বামী তিনি শ্রীখন্ডে আগমন করে রঘুনন্দনকে কি ভাবে কৃপা করেছিলেন তা শুনুন।*
*🌹অভিরাম গোস্বামীর আগমন বার্তা শুনে পিতা মুকুন্দ বালক রঘুনন্দনকে লুকিয়ে রাখলেন, কিন্তু পরিশেষে বড়ডাঙ্গার নির্জন পরিবেশে রঘুনন্দন সকলের অলক্ষিতে তাঁকে দর্শন করতে আসিলেন।অভিরাম গোস্বামী নিজ প্রথা অনুযায়ী ত‍ৎক্ষণাৎ তাঁকে প্রণাম করলেন এবং তাঁকে আলিঙ্গনও করলেন।এই প্রসঙ্গটি সুকবি উদ্ধবদাস একটি সুন্দর পয়ারের মাধ‍্যমে প্রকাশ করেছেন, যথা=*
*পুরবে শ্রীদাম,এবে অভিরাম, মহাতেজ পুঞ্জঃরাশি।*
*বাঁশী বাজাইতে,ভ্রমিতে ভ্রমিতে,শ্রীখন্ড গ্রামেতে আসি।।*
*দেখিয়া মুকুন্দে,কহয়ে আনন্দে, কোথা শ্রীরঘুনন্দন।*
*তাহারে দেখিতে,আইনু হেথাতে, আনি দেহ দরশন।।*
*শুনি ভয় পাঞা,রাখে লুকাইয়া, গৃহেতে কবাট দিয়া।*
*তিঁহ নাহি ঘরে,বলি স্তুতি করে, অভিরাম না দেখিয়া।।*
*বড়ডাঙ্গা গ্রামে,স্থান নিরজনে, নিরাশ হয়ে বসি।*
*বুঝি তার মন,শ্রীরঘুনন্দন,অলক্ষিতে মিলে আসি।।*
*দেখিয়া তাহারে,দন্ডবৎ করে, দুই চারি পাঁচ সাতে।*
*শ্রীরঘুনন্দনে,করি আলিঙ্গনে, আনন্দ আবেশে মাতে।।*
*🌻রঘুনন্দন মহাপ্রভুর স্বীকৃত পুত্র হলেও তিনি আর এক হিসাবে প্রদ‍্যুম্নের অবতার এবং তিনি শ্রীধাম বৃন্দাবনে শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের লীলার পরম সহকারী প্রিয় নর্ম্মসখা ছিলেন।এই প্রসঙ্গে প্রামাণ্য গ্রন্থ হতে নিম্নে কিছু উদ্ধৃতি দেওয়া হল, যথা=*
*🌻বৈষ্ণবাচার দর্পণে পাই=*
*🌷প্রদ‍্যুম্নের ব‍্যূহ হয় শ্রীরঘুনন্দন।*
*🌷মহান্তের মধ্যে যাঁর প্রাধান‍্য গণন।।*
*🌻ভক্তমাল গ্রন্থে পাই=*
*🌷ব‍্যূহ তৃতীয় প্রদ‍্যুম্ন যেঁহো বৃন্দাবনে।*
*🌷প্রিয় নর্ম্ম সখা নিত‍্য উজ্জ্বল আখ‍্যানে।।*
*🌷শ্রীচৈতন‍্যের অদ্বৈত তনুর সমান।*
*🌷তিঁহ প্রিয় পার্ষদ শ্রীরঘুনন্দন।।*
*🌻আমরা যে লোচন দাসের "চৈতন‍্য মঙ্গল" গ্রন্থ জানি তাঁর প্রণেতা এই লোচন দাসের প্রকৃত নাম শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুর। তাঁর আদি জন্মস্থান বর্দ্ধমান জেলার কোগ্রাম নামক গ্রামে।জাতিতে তিনি বৈদ‍্য ছিলেন এবং তাঁর পিতৃদেবের নাম শ্রীকমলাকর দাস এবং মায়ের নাম সদানন্দী দেবী। কিন্তু এই বংশ পরিচয় অপেক্ষা সর্বাপেক্ষা বেশী পরিচয় হচ্ছেন যে তিনি ছিলেন নরহরি ঠাকুরের আশ্রিত।*
=================================
*চিপিটক ছিল যাহা,চারি মুষ্টি দিল তাহা,*
    *বালা তবে ফুল্ল মনে করিল গমন।*
*একখন্ড বস্ত্র দ্বারা,সে সকল বাঁধি ত্বরা,*
    *পতির নিকটে তাহা করে আনয়ন।।*
*ল'য়ে দ্বিজ সে সম্ভার,ভাবে মনে বার বার,*
   *কেমনে পাইব আমি কৃষ্ণ দরশন।*
*হই আমি মূঢ়মতি,তাহাতে দরিদ্র অতি,*
    *উদয় হবে কি মোর সৌভাগ্য এখন।।*
*মনে মনে চিন্তা করি,চলেন দ্বারকা পুরী,*
    *শেষে পুরী দ্বারদেশে উপনীত হন।*
*প্রবেশ নিষেধ তারে,দ্বিজ জানি নাহি করে,*
    *সুদামা চলিল তবে হয়ে হৃষ্ট মন।।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
             *শ্রীখন্ডের--------মহিমা*
            ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীনরহরি ঠাকুরের সর্বশ্রষ্ঠ দুইজন শিষ্য ছিলেন,শ্রীলোচনানন্দ ঠাকুর ও দিগ্বিজয়ী পন্ডিত লোকানন্দ আচার্য‍্য। তাঁরই প্রণীত "বৈষ্ণবাচার দর্পণ " গ্রন্থ।নরহরি আসলে ছিলেন সংস্কৃত শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শী এবং তিনি সংস্কৃতে বহু গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।বাংলা পদাবলীতে মহাপ্রভুর লীলা প্রসঙ্গে লিখতে তাঁর বড় সাধ ছিল, সেজন্য তিনি খেদ করে বলেছেন=*
*গৌরলীলা গুণগানে,বড় বাঞ্জা হয় মনে,*
       *ভাষায় লিখিয়া কিছু রাখি।*
*মুই অতি অধম, লিখিতে না জানি ক্রম,*
      *কেমন করিয়া তাহা লিখি।।*
*কিছু কিছু পদ লিখি,যদি কেহ ইহা দেখি,*
      *প্রকাশ করয়ে প্রভু লীলা।*
*নরহরি পাবে সুখ,ঘুচিবে মনের দুঃখ,*
     *গ্রন্থ গানে দরবিবে শিলা।।*
*🌹নরহরি ঠাকুরের এই বাসনা অচিরেই মহাপ্রভুর কৃপায় পূরণ হয়েছিল,তারই শিষ্য লোচনদাসের চৈতন‍্য মঙ্গল গ্রন্থ দ্বারা।*
*🍀লোচনদাসের বিবাহিত জীবনের এক চমকপ্রদ ঘটনা আছে।নরহরি ঠাকুরের কৃপালাভের আগেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল, পরে যখন কন‍্যা সাবালিকা হলেন তখন শ্বশুরালয় হতে তাঁকে ষেখানে যাবার জন্য বারবার অনুরোধ আসতে লাগল, কিন্তু লোচনদাস তাতে কর্ণপাত করলেন না। কারণ তখন তিনি গুরু সেবার মাধ‍্যমে পরমানন্দে দিনযাপন করছিলেন।শ্বশুরালয়ের লোকেরা তখন নিরুপায় হয়ে নরহরি ঠাকুরের শরণাপন্ন হলেন। নরহরি ঠাকুর এক মহাসমস‍্যায় পড়ে গেলেন।লোচনদাস যখন বিয়ে করেছিলেন তখন ভক্তি জগতের এ পথের সন্ধান বা আস্বাদ তিনি তখন পাননি। লোচনদাস তখন নরহরির সহচর্য‍্যে শ্রীহরির প্রেমমাধুর্য‍্য আস্বাদন করবার ফলে জাগতিক দাম্পত‍্য সুখের উপর আর কোন বাসনা থাকল না।শ্রীহরির একান্ত অনুগত ভক্তগণের এতাদৃশ (এরকম) দশায় সর্বত্র পরিলক্ষিত হয়, কারণ তাঁরা তখন পান এক স্বর্গীয় অনাস্বাদিত প্রেমের আস্বাদ যার কাছে দাম্পত‍্য প্রেম অতি তুচ্ছ। লোচনদাসের এরকম অবস্থা হলেও তাঁর শ্রীগুরুদেব সামাজিক কারণে তাকে শ্বশুরালয়ে যেতে আজ্ঞা দিলেন। যাত্রাকালে লোচনদাস অশ্রুসিক্তনয়নে শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণে এই প্রার্থনায় করলেন যে তিনি যেন চিরকুমার ব্রত অবলম্বন করে মহাপ্রভুর অভীষ্ট পথে চলতে পারেন। কৃপার সাগর নরহরি তখন কহিলেন মহাপ্রভু নিশ্চয়ই তোমার মনোবাঞ্জা পূর্ণ করবেন। এতাবদ্ (এ পর্য‍্যন্ত) তিনি যুবতী পত্নীর মুখদর্শন পর্য‍্যন্ত করেননি। কিন্তু মহৎ কৃপায় এমনই এক অঘটন ঘটিল যে তা শুনে গুরু কৃপার মহিমা উজ্জ্বল ভাবে প্রতীয়মান (বোধগম‍্য) হয়। তিনি শ্বশুরালয়ের নিটকবর্তী হয়ে পুষ্করিণীর ঘাটের কাছে এক যুবতী রমণীকে দেখে তাঁকে মা সম্বোধন করে শ্বশুর বাড়ীর প্রকৃত ঠিকানা জানতে চাইলেন। কিন্তু অদৃষ্টের এমনই নির্মম পরিহাস যে পরে জানতে পারলেন যে তিনি যাঁকে মা সম্বোধনের মাধ‍্যমে এই তথ‍্য জানতে চেয়ে ছিলেন, তিনিই হচ্ছেন তাঁর প্রকৃত বিবাহিতা পত্নী। পরে ধীরে সুস্থে পত্নীকে নিজের মনোভাব সব ব‍্যক্ত করলেন এবং তাঁর মনে যে সংসার বৈরাগ‍্য ভাব হয়েছে তাও সব বললেন। উপরন্তু তিনি তাঁর স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিবার ছলে বললেন যে এইই যদি ভগবানের ইচ্ছা না হবে তাহলে তোমাকেই বা মাতৃ সম্বোধন করব কেন?যে কোন বিবাহিতা নারীর পক্ষে এটি চরম পরীক্ষা।এইসব মনোভাব জ্ঞাত হয়ে তিনি প্রথমে খুবই চিন্তিতা হয়ে বিষণ্ণ মনে নিজের অদৃষ্টকে ধিক্কার দিতে লাগলেন। কিন্তু গুরু কৃপায় এবং মহাপ্রভুর সঞ্চারিত শক্তিতে তিনি এতই বলীয়ান হয়ে ছিলেন যে অচিরেই তিনি তাঁর স্ত্রীর মনোভাব পরিবর্তন করতে সমর্থ হয়েছিলেন।পত্নীকে নানারকম তত্ত্বকথা শুনানোর পর তিনি তাঁকে বললেন--,"আমি তোমার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ সুতরাং আমাদের এই সম্বন্ধ চিরন্তন কিন্তু আমরা দুইজন দাম্পত‍্য সুখে মগ্ন না হয়ে গৌর গুণগান এবং গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর লীলারস আস্বাদনের মাধ‍্যমে জীবনকে মহামহিমময় করে তুলব।লোচনদাস এইভাবে আজীবন চিরকুমার ব্রত অবলম্বন করে এক মহান ঐতিহ্য রেখে গেছেন।এই ঘটনা রামচন্দ্র কবিরাজ এবং রত্নমালা দেবীর বিবাহিত জীবনের সঙ্গে অনেকটা তুলনীয়।শ্রীখন্ডের সঙ্গে লোচনদাসের ভক্তিময় জীবন এমন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত সেজন্য তাঁর এই বিবাহ প্রসঙ্গটি এখানে দেওয়া হল।*
*🍀তারপর আমরা নরহরি ঠাকুরের মধুমতী নাম মাহাত্ম্য প্রসঙ্গ করব। মহাপ্রভুর পার্ষদগণের প্রত‍্যেকেই এক এক ব্রজের মঞ্জরী রূপী সখী।যেমন গদাধর হচ্ছেন রাধাস্বরূপ,ষড় গোস্বামীগণ যথাক্রমে= রূপমঞ্জরী, লবঙ্গমঞ্জরী,রসমঞ্জরী,বিলাসমঞ্জরী, গুণমঞ্জরী, রতিমঞ্জরী। প্রকৃতপক্ষে তাঁদের প্রত‍্যেকের সাধন ভজনের পদ্ধতি ও ভাবধারায় উপরেই এইসব ব্রজভাব ভাবিত নামকরণ করা হয়েছিল।সেই হিসাবে ঠাকুর নরহরির পরিচয় ছিল ব্রজের মধুমতী।* *তিনি যে এই নামের মূর্ত্ত প্রতীক ছিলেন তা তিনি যেভাবে নিজ আচরণের দ্বারা প্রকট করে গিয়েছেন তাতে মনে হয় মহাপ্রভুর পার্ষদগণের মধ্যে বোধহয় সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ। নরহরির মহিমা জীবজগতে সবথেকে বেশী ভাবে প্রচার করার জন্য একবার মহাপ্রভু ও নিত‍্যানন্দ প্রভু শ্রীখন্ডে আগমন করে মধুমতীর কাছে মধু পানের ইচ্ছে প্রকাশ করলেন।তখন নরহরি ঠাকুর তার বাড়ীর কাছেই যে পুষ্করিণী ছিল তা হতে ঘটিতে করে জল এনে উভয়কে পান করিয়েছিলেন। তাঁর মহিমায় সেই ঘটির জল মধুতে পরিণত হয়েছিল এবং তা পান করে উভয়েই প্রেমোন্মত্ত হয়ে গিয়েছিলেন।সেই হতে শ্রীখন্ডের এই পুষ্করিণীর নাম হল "মধু পুষ্করিণী"। আমরা গীতায় যা পাঠ করি ভগবদ্ কৃপায় "মূকং করোতি বাচালং-পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিং। যৎ কৃপা ত্বমহং বন্দে পরমানন্দ মাধবং।। অর্থ‍্যাৎ সেই মাধবের কৃপায় সবই সম্ভব হয়,অসম্ভব সম্ভবে পরিণত হয় এবং করুণাময় ভগবান তাঁর প্রিয়ভক্ত মাধ‍্যমে তাঁর ঐশ্বর্য‍্য প্রকাশ করেন।*
*🍀না হলে অন্ধ বিল্বমঙ্গল কিভাবে পুনরায় তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।সেইরকম সাধারণ পুষ্করিণীর জল কি, কোন প্রকারে মধুতে পরিণত হতে পারে?জ্ঞান-বিজ্ঞান এর কাছে পরাস্ত।সেইজন‍্য শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী মহোদয় বলেছেন যে=*
*🌷আদ‍্যপান্ত চৈতন‍্যলীলা অলৌকিক জেনো।*
*🌷শ্রদ্ধা করি শুন ইহা সত‍্য করি মেনো।।*
*🌷যেই তর্ক করে ইহার সেই মূর্খরাজ।*
*🌷অলৌকিক লীলায় যার না হয় বিশ্বাস।।*
*🌻নরহরি ঠাকুর এই মধুপান প্রসঙ্গটি পদকর্তা উদ্ধব দাস পরম বৈষ্ণব এক সুন্দর পয়ারের মাধ‍্যমে ব‍্যক্ত করেছেন, আস্বাদন করুন।*
*গৌড়দেশে রাঢ়ভূমে,শ্রীখন্ড নামেতে গ্রামে,*
     *মধুমতী প্রকাশ যাহার।*
*শ্রীমুকুন্দ দাস সঙ্গে,শ্রীরঘুনন্দন রঙ্গে,*
     *ভক্তি তত্ত্ব জগতে লওয়ায়।।*
*শুনি মধুমতী নাম,নিত‍্যানন্দ বলরাম,*
     *সপার্ষদে দিল দরশন।*
*দেখি অবধূত চন্দ্র,হইয়া পরমানন্দ,*
       *নতি করি বন্দিল চরণ।।*
*কহে নিত‍্যানন্দ রাম,শুনি মধুমতী নাম,*
       *আসিয়াছি তৃষিত হইয়া।*
*এত শুনি নরহরি,নিকটেতে জল হেরি,*
        *সেই জল ভাজনে ভরিয়া।।*
*আইয়া ধরিল আগে,মধু স্নিগ্ধ মিষ্ট লাগে,*
       *গণ সহ খায় নিত‍্যানন্দ।*
*যত জল ভরি আনে,মধু হয় ততক্ষণে,*
      *পুনঃ পুনঃ খাইতে আনন্দ।।*
*মধুমতীর মধু দান,সপার্ষদে করি পান,*
      *উনমত অবধূত রায়।*
*হাসে কাঁদে নাচে গায়,ভূমে গড়াগড়ি যায়,*
     *এ উদ্ধবদাস রস গায়।।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*কৃষ্ণ-কক্ষ অভ‍্যন্তরে,উপনীত ধীরে ধীরে,*
   *সম্মুখে শ্রীকৃষ্ণে তবে করে দরশন।*
*হেরি সুদামা তখনি,পাশে র'য়েছে রুক্মিণী,*
   *পুলকে হইল তার সজল নয়ন।।*
*তারে যবে হেরে হরি,পুলক জাগিল তাঁরি,*
    *তবে করি গাত্রত্থান দেন আলিঙ্গন।*
*সখা-অঙ্গ পরশনে,শিহরণ জাগে প্রাণে,*
     *আনন্দাশ্রুপূর্ণ আঁখি ঝরিল তখন।।*
*সজ্জিত পর্য‍্যঙ্ক পরে,শ্রীহরি বসায়ে তারে,*
   *সযতনে পাদ‍্য অর্ঘ‍্য করিয়া অর্পণ।*
*পদদ্বয় নারায়ণ, করি তবে প্রক্ষালন,*
    *ধৌতবারি মস্তকেতে ত্ত্বরা তুলি লন।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩৮) বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
              *শ্রীখন্ডের--------মহিমা*
            ************************
*🍀সেইরকম আবার এক বিশিষ্ট পদকর্তা পাপিয়াশেখর রায়ও এই ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে অনুরূপ একটি পয়ার রচনা করে গিয়েছেন মহাপ্রভুর উত্তর সাধক ভক্তগণের প্রতীতি এবং আস্বাদনের জন্য যা পরিবেশন না করলে মনের ক্ষুধা মিটছে না। যথা=*
*ভূখন্ড মন্ডল মাঝে,তাহাতে শ্রীখন্ড সাজে,*
          *মধুমতী যাহে পরকাশ।*
*ঠাকুর গৌরাঙ্গ সনে,বিলসই রাত্রি দিনে,*
       *নাম ধরে নরহরি দাস।।*
*শ্রীরাধিকার সহচরী,রূপে গুণে আগোরি,*
      *মধুর মাধুরী অনুপাম।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*অবনীতে মধুদানে, ভাসাইল ত্রিভুবনে,*
       *মত্ত কৈলা গৌরাঙ্গ নাগরে।*
*মাতিল যে নিত‍্যানন্দ,আর সব ভক্তবৃন্দ,*
        *বেদ বিধি পড়িল ফাঁপরে।।*
*যোগপথ করি নাশ,ভকতির পরকাশ,*
       *করিল মুকুন্দ সহোদর।*
*পাপীয়া শেখর রায়,বিকাইলা রাঙ্গা পায়,*
      *শ্রীরঘুনন্দন প্রাণেশ্বর।।*
*🌻সবই এক হিসাবে মহাপ্রভুর সঙ্গী যার মাধ‍্যমে তিনি তাঁর ভক্ত মহিমা প্রকাশ করে তাঁর অবতার তত্ত্বকে নিঃসংশয় ভাবে প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন।আর তাই যদি না হবে, তাহলে মানসে দুগ্ধ জাল দিবার সময় স্মরণ মননের মাধ‍্যমে কিভাবে নরোত্তম ঠাকুরের আঙ্গুলের চামড়া পুড়ে যায়!কিভাবেই বা মানসে হোলী খেলবার সময় আচার্য‍্যপ্রভুর সর্বাঙ্গে ফাগুময় হয়ে যায়!আবার কিভাবেই বা রামচন্দ্র কবিরাজের পিঠে সম্মার্জনীর (ঝাড়ু বা ঝাটার) আঘাত করলে তা শ্রীনিবাস আচার্য‍্য প্রভুর পিঠে উজ্জ্বলভাবে দেখা যায়।সত‍্য কথা বলতে কি মহাপ্রভুর পার্ষদগণের এইসব সাধন ভজনের কাহিনী সমুদ্রের মতো অতলস্পর্শী গভীর, তার কোন কুল কিনারা নেই।এইসব লীলারস আস্বাদনের জন্য সাধক ভক্তগণ সেই লীলা সমুদ্রে সদা সর্বদা ভাসমান কারণ তাঁদের সাধ‍্য নাই সেই সুগভীর অতলে পৌঁছবার। অর্থ‍্যাৎ পিপীলিকাগণ যেরকম মধুপানে প্রলুব্ধ হয়ে সেই মধুর ক্ষীরের মধ্যে পান করতে করতে অবশেষে মৃত‍্যু বরণ করে ভাসতে থাকে,সেইরকম গৌর ভক্তগণও এই লীলারসে প্রলুব্ধ (অতি লোভী)হয়ে তার মধ্যে ভাসতে ভাসতে জীবনটিকে উৎসর্গ করে দেন।*
*🌹মহাপ্রভু ও নিতাইচাঁদ যখন সপার্ষদে এই শ্রীখন্ডে আগমন করেছিলেন,তখন নরহরি এবং রঘুনন্দনের কাতর প্রার্থনায় সেখানে সেদিন যে ভোজন লীলারঙ্গ হয়েছিল, তাও এক অপূর্ব স্বর্গীয় ঘটনা।যা সুপ্রসিদ্ধ পদকর্তা বাসুদেব ঘোষ স্বয়ং উপস্থিত থেকে একটি পয়ারের মাধ‍্যমে ভবিষ্যতের গৌর ভক্তগণের জন্য রচনা করে গিয়েছেন।যথা=*
*কি আনন্দ খন্ডপুরে,ঠাকুর নরহরি ঘরে,*
      *মহোৎসবের কি কব আনন্দ।*
*সকল মহন্ত আসি,প্রেমানন্দ রসে ভাসি,*
     *নিরখয়ে গৌর মুখ চন্দ্র।।*
*দ্বাদশ গোপাল আর,চৌষট্টি মহান্ত সাথ,*
     *আর ক্রমে ছয়টি গোঁসাই।*
*শাখা উপশাখা যত,আইল সকল ভক্ত,*
     *আনন্দেতে গৌর গুণ গায়।।*
*শ্রীনিবাস জনে জনে,বসাইল যথাস্থানে,*
      *বসিল মহান্ত সারি সারি।*
*যার যৈছে অনুমান,বসাইল স্থানে স্থান,*
      *দুই প্রভুর মধ্যে গৌরহরি।।*
*দক্ষিণেতে নিত‍্যানন্দ,বামেতে অদ্বৈত চন্দ্র,*
     *তার বামে গদাধর আচার্য‍্য।*
*ভোজনে বসিল সবে,রঘুনন্দন আসি তবে,*
      *করেন পরিবেশন কার্য‍্য।।*
*মহাপ্রভু সুখোল্লাসে,করে লৈয়া এক গ্রাসে,*
     *দেন প্রভু নিতাইয়ের মুখে।*
*এই রূপে পরস্পর,নরহরি গদাধর,*
      *ভোজন করায়ে প্রেমসুখে।।*
*ভোজনান্তে জয়ধ্বনি,জয় গৌর দ্বিজমণি,*
      *সবে মিলি কৈল আচমন।*
*শ্রীনিবাস সুখোল্লাসে,করে লৈয়া মুখবাসে,*
      *সবে দিলা শ্রীমালা চন্দন।।*
*নরহরি ঠাকুর ধন‍্য,যাঁর গৃহে শ্রীচৈতন‍্য,*
      *নিত‍্যানন্দ সহিত আপনি।*
*তা দেখি বৈষ্ণবগণ,হরি হরি বলে ঘন,*
      *বাসু মাগে চরণ দু'খানি।।*
*🌻শ্রীনিবাস বলতে বোধহয় শ্রীবাসকে বলা হয়েছে।🌻*
*🍀এইভাবে মধুমতীর মহিমা এবং ব্রজরস সকলে কাছে প্রকাশ করে মহাপ্রভু। নিত‍্যানন্দ প্রভু শ্রীখন্ডের মাহাত্ম্য দ্বিগুণ,চতুর্গুণ ভাবে বর্দ্ধিত করলেন।এর কিছুদিন পর মহাপ্রভু নরহরি ঠাকুরের দুই শিষ্যকে বিশেষ ভাবে কৃপা এক স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন যাঁদের নাম ছিল দৈতারী ঘোষ ও কংসারী ঘোষ।এই স্বপ্নের মাধ‍্যমে তিনি তাঁদের বাড়ীর নিমবৃক্ষের দ্বারা নিজ বিগ্রহ তৈরী করে তা তাঁদের শ্রীগুরুদেব নরহরি ঠাকুরকে সমর্পণ করতে বলেন।মহাপ্রভুর আজ্ঞা অনুযায়ী তা অচিরেই সম্পন্ন হল এবং নরহরি ঠাকুর সেই বৃক্ষ হতে তৈরী তিনটি বিগ্রহকে তিন জায়গায় পাঠিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন।যথা=*
*🙏ছোট বিগ্রহটি ---শ্রীখন্ডে।*
*🙏মধ‍্যমটি বিগ্রহটি--গঙ্গানগর (ভাগখোলায়) বর্তমানে আবার শ্রীখন্ডে।*
*🙏বড় বিগ্রহটিকে---কাটোয়ায়।*
*🌻আবার এই শ্রীখন্ডের অতি কাছেই হচ্ছে যাজিগ্রাম এবং কাটোয়া নবদ্বীপ এবং যাজিগ্রামেই আবার মহাপ্রভুর দ্বিতীয় স্বরূপ আচার্য‍্য প্রভুর শ্রীপাট। এর ফলে এই অঞ্চলে তৎকালে বিভিন্ন মহা মহা বৈষ্ণব এবং পার্ষদগণের আগমন হত। অর্থ‍্যাৎ নরহরি ঠাকুর তাঁর ভাই মুকুন্দ এবং রঘুনন্দন ছাড়া এই অঞ্চলের মহারথীগণের মধ্যে আচার্য‍্য প্রভু, নরোত্তম ঠাকুর, যদুনন্দন ঠাকুর, লোচনদাস,লোচনাচার্য‍্য,দাস গদাধর, দ্বিজহরি দাস, বাসুদেব ঘোষ প্রমুখ ছিলেন।*
*🌺সুদূর শ্রীহট্ট হতে যেরকম গঙ্গাতীরে বসবাস করবার জন্য শ্রীপাদ শ্রীজগন্নাথ মিশ্র, মাধবেন্দ্রপুরী, শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য প্রভৃতি এসেছিলেন, সেইরকম শ্রীনিবাস আচার্য‍্য পিতৃ বিয়োগের পর নিজ নিবাস স্থান চাখুন্দী গ্রাম পরিত‍্যাগ করে ভক্তসঙ্গ লালসায় শ্রীখন্ডের কাছেই যাজিগ্রামে এসে শ্রীপাঠ স্থাপন করেন। এই জায়গায় থাকার সময় কোন একদিন গঙ্গাস্নান যাত্রাকালে তাঁর নরহরি ঠাকুরের সঙ্গে প্রথম মিলন হয়।সেইরকম আবার রাজনন্দন নরোত্তম ঠাকুর যখন শ্রীক্ষেত্র হতে গৌড়দেশ অভিমুখে যাত্রা করেন তখন নরহরি ঠাকুরের দর্শন মানসে তিনিই এই শ্রীখন্ডে আগমন করেন এবং শ্রীজগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ সকলকে বিতরণ করেন।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*সুদামার হস্ত হরি,সস্নেহে ধারণ করি,*
    *আনন্দে একত্রে তব উপবিষ্ট হন।*
*বাল‍্যকালে গুরু গৃহে,উভে যাহা বাক‍্য কহে,*
   *উত্থাপন করি করে কথোপকথন।।*
*গুরুগৃহে বাস যবে,ঘটনা না ঘটে তবে,*
   *তোমার কি আছে সখা স্মরণে এখন?*
*ইন্ধন সংগ্রহ তরে,যাই বন অভ‍্যন্তরে,*
    *গুরু পত্নী করিলেন আদেশ যখন।।*
*যবে সে গভীর বনে,যাই মোরা দুই জনে,*
   *ঝড়,বৃষ্টি,বজ্রপাত আরম্ভে তখন।*
*ভীত মনে সেই কালে, বসি দোঁহে বৃক্ষ মূলে,*
    *প্রবল বারিতে শীতে জাগিল কম্পন।।*
🌸🌸🌸🌸🌸🌸👬🌸🌸🌸🌸🌸🌸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩৯) বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
             *শ্রীখন্ডের-------মহিমা*
             ************************
*🍀এই প্রসঙ্গটি নরোত্তম বিলাস গ্রন্থে কি ভাবে লেখা আছে তা কৃপা করে আস্বাদন করুন।যথা=*
*🌷গৌড়দেশে প্রসিদ্ধ শ্রীখন্ড নামেতে গ্রাম।*
*🌷তথা আসিলেন নরোত্তম গুণধাম।।*
*🌷কিবা সে প্রেমের গতি চলে বা না চলে।*
*🌷চাহিয়া শ্রীখন্ড পানে ভাসে নেত্র জলে।।*
*🌷শ্রীরঘুনন্দন শুনি আগুসরি নিল।*
*🌷দূরে হইতে নরোত্তমে দেখি হর্ষ হৈল।।*
*🌷নরোত্তম ভূমে পড়ি তাঁরে প্রণমিতে।*
*🌷ধাইয়া করিল কোলে না পারে ছাড়িতে।।*
*🌷বহুক্ষণে স্থির হইয়া শ্রীরঘুনন্দন।*
*🌷নরোত্তমে লইয়া শীঘ্র করিল গমন।।*
*🌷শ্রীসরকার ঠাকুর সমীপেতে গিয়া।*
*🌷প্রণময়ে নরোত্তম ভূমে লোটাইয়া।।*
*🌷যদ‍্যাপি ঠাকুর বিচ্ছেদ অগ্নিতে।*
*🌷তথাপিহ নরোত্তমে দেখি হর্ষ চিতে।।*
*🌷আইস আইস বলি দুইবাহু পসারিয়া।*
*🌷নেত্রজলে ভাসে নরোত্তমে কোলে লৈয়া।।*
*🌷স্থির হইয়া আজ্ঞা দিলা শ্রীরঘুনন্দনে।*
*🌷নরোত্তমে লইয়া যাও গৌরাঙ্গ প্রাঙ্গণে।।*
*🌻এই প্রসঙ্গে অপরাধ ভঞ্জনের জন্য উল্লেখ করা দরকার যে শ্রীখন্ডে শ্রীমুকুন্দ,নরহরি ও রঘুনন্দন ছাড়া মহাপ্রভুর আরও দুইটি শাখার বাসস্থান ছিল এবং তাঁদের নাম হচ্ছে চিরঞ্জীব ও সুলোচন। যা এই পদবলী হতে সুস্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান হবে।*
*🌷জয় জয় শ্রীকৃষ্ণ চৈতন‍্য অবতার।*
*🌷কল্পবৃক্ষ রূপে প্রেম শাখার বিস্তার।।*
*🌷শাখা উপশাখা তার অনেক বাড়িল।*
*🌷মূল বৃক্ষের পঞ্চশাখা খন্ডেতে জন্মিল।।*
*🌻সেইরকম আবার শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী মহাশয় তাঁর শ্রীচরিতামৃতে লিখেছেন যে=*
*🌷মুকুন্দ নরহরি শ্রীরঘুনন্দন।*
*🌷খন্ডবাসী চিরঞ্জীব আর সুলোচন।।*
*🌷এইসব মহাশাখা চৈতন্য কৃপাধাম।*
*🌷প্রেম ফল ফুল করেন যাঁহা তাঁহা দান।।*
*🌻এই চিরঞ্জীব এবং সুলোচনের পূর্ব অবতারে ব্রজধামের স্বরূপ হিসাবে কবিকর্ণপুর তাঁরই রচিত গৌর গণোদ্দেশ দীপিকায় তাঁদের যথাক্রমে চন্দ্রিকা ও চন্দ্রশেখরা রূপে শ্রীবৃষভানু নন্দিনীর সেবিকা হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন।তেমনি আবার লোচনানন্দ আচার্য‍্য রচিত বৈষ্ণবাচার দর্পণে তাঁদের ভিন্ন স্বরূপ বলা হয়েছে।*

*🌷কলকন্ঠী সখি এবে চিরঞ্জীব দাস।*
*🌷চৈতন‍্যের শাখা হয় শ্রীখন্ডেতে বাস।।*
*🌷কলাবতী সখি এবে ঠাকুর সুলোচন।*
*🌷চৈতন‍্যের শাখা যার শ্রীখন্ডে ভবন।।*
*এটি দ্বারা শ্রীখন্ডের পঞ্চ শাখার পূর্ণ তাৎপর্য‍্য। সুতরাং মহাপ্রভু সন্ন‍্যাস গ্রহণ করে নীলাচলে স্থায়ী হলেন এবং ব্রজধাম প্রকট করবার জন্য তাঁর প্রধান প্রধান পরিকরগণকে বৃন্দাবনে প্রেরণ করবার ফলে নবদ্বীপ তমসাচ্ছন্ন হয়ে গেলেও নরহরি ঠাকুরের প্রভাবে শ্রীখন্ড যেন দ্বিতীয় বৃন্দাবনধামে পরিণত হয়ে মহাপ্রমুর মহিমা বঙ্গদেশে প্রচার এবং প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। মুকুন্দ,রঘুনন্দন, লোচনদাস, শ্রীনিবাস আচার্য‍্য, নরোত্তম ঠাকুর, যদুনন্দন ঠাকুর,দাস গদাধর, দ্বিজ হরিদাস,বাসুদেব ঘোষ, চিরঞ্জীব,সুলোচন, লোচনানন্দ আচার্য‍্য ইত্যাদি মহাবৈষ্ণবগণ এতে পূর্ণ সহায়তা করেছিলেন। তুলনামূলকভাবে বলা যায় যে শ্রীরূপ সনাতন ভাইয়ের পুত্র শ্রীজীব গোস্বামী যেভাবে অখন্ড দায়িত্ব নিয়ে শ্রীধাম বৃন্দাবন পরিচালনা করেছিলেন, সেইরকম আবার শ্রীখন্ডে নরহরি ঠাকুরের ভাইয়ের পুত্র রঘুনন্দনও শ্রীখন্ডে সব ব‍্যাপারে হোতা ছিলেন এবং মহাপ্রভুর বরপুত্র হিসাবে তিনি সর্বপ্রকারে সর্বভাবে এই গুরু দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। সেই হিসাবে পুণ‍্যভূমি এই শ্রীখন্ডের রঘুনন্দন এবং শ্রীধাম বৃন্দাবনের শ্রীজীব গোস্বামীর ভূমিকা খুবই সমতুল ও তাৎপর্য‍্যপূর্ণ।*
*🌻ভক্তিমার্গের সবরকম গুণাবলীর আকর হয়ে এইভাবে শ্রীখন্ড মহিমা বিস্তার করে ধীরে ধীরে মুকুন্দ নরহরির প্রকট লীলা সাঙ্গ করবার সময় আগত হল, তাঁদের মধ্যে জ‍্যেষ্ঠ মুকুন্দ শ্রীশ্রীরাস পূর্ণিমার দিনে নিত‍্যলীলায় প্রবেশ করলেন। তারপরে দাস গদাধর সঙ্গোপনে ঠাকুর নরহরি একেবারে বিরহ ব‍্যথায় মৃতপ্রায় হয়ে গেলেন। গৌর পরিকরগণের বিরহের এই অন্তর্জ্বালা ভাষায় প্রকাশ করে যায় না।কেউ কারো রক্তের সম্পর্কের আপনজন নহেন এবং প্রত‍্যেকেই হচ্ছেন গৌরবক্ষে সুশোভিত ফুলমালার এক একটি পুষ্প।সবই যেন এক সুতায় গাঁথা এ পরমার্থ জীবনের এই সম্পর্কের কাছে বাস্তব সংসারী জীবনের সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে পরাজিত। এই বিরহ,এই হাহাকার, এই অন্তর্জ্বালা, এই দীর্ঘ নিশ্বাস, এই অনাহার, জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা সব মূর্ত্ত হয়ে আছে দাস গোস্বামীর জীবনে, আচার্য‍্য প্রভুর জীবনে, গদাধর পন্ডিতের জীবনে, নরহরি ঠাকুরের জীবনে যা ভক্তশ্রোতাগণ বিস্তৃত গ্রন্থগুলি পাঠ করলে অনুভব করতে পারবেন। যাইহোক,এই প্রসঙ্গে নরহরি ঠাকুরের কি দশা হয়েছিল তার সামান্য পরিচয় নিচে দেওয়া হল, যথা=*
*🌷কার্ত্তিকে শ্রীদাস গদাধর সঙ্গোপনে।*
*🌷প্রভু নরহরি শীর্ণ হইলা ক্ষণে ক্ষণে।।*
*🌷কে বুঝিতে পারে তাঁর অন্তরের ব‍্যথা।*
*🌷সেই দিবস হৈতে কারো সনে নাই কথা।।*
*🌷নিরন্তর সিক্ত দুই নেত্রের ধারাতে।*
*🌷তাহা কি বলিব যাহা দেখিলে সাক্ষাতে।।*
*🌷তাঁহার বিরহ ব‍্যথা সহিতে না পারি।*
*🌷ছাড়িয়া গেলেন শ্রীঠাকুর নরহরি।।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪০) বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
              *শ্রীখন্ডের------মহিমা*
             *************************
*🌷তাঁহার বিরহ ব‍্যথা সহিতে না পারি।*
*🌷ছাড়িয়া গেলেন শ্রীঠাকুর নরহরি।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ এই ভাবেই পরিণত বয়সে মহাপ্রভুর আদেশ কর্ম সুসম্পন্ন করে এইসব বিরহ ব‍্যথা সহ‍্য করতে না পেরে ব্রজের মধুমতী তাঁর প্রকট লীলা সাঙ্গ করেন। তার ফলে শ্রীখন্ডের ভাগ‍্যাকাশে যে নবারুণের উদয় হয়েছিল তা যেন চিরতরে অস্তমিত হল, অগ্রহায়ণের কৃষ্ণা একাদশী তিথিতে।*
*🍀উপরন্তু তাঁর ভাগবত্তার পরিচয় আরও বিশেষ ভাবে প্রকটিত হয় তাঁর লীলা সম্বরণ কাহিনী শুনে। কারণ অপ্রকটের পর তাঁর স্থূলদেহের কোন নিদর্শনই পাওয়া যায় না, যা ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থে সুস্পষ্ট ভাবে ব‍্যক্ত করেছেন।*
*🌷মার্গশীর্ষ মাসে কৃষ্ণা একাদশী দিনে।*
*🌷অকস্মাৎ অদর্শন হৈলা এই স্থানে।।*
*🙏ইহাকেই বলে মহাপ্রয়াণ।ইহাকেই বলে মনুষ‍্য জীবনের প্রকৃত স্বার্থকতা। সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে নররূপে লীলা করে গেলেও তাঁরা সব ছিলেন প্রকৃত ভগবদ্ শক্তির অধিকারী।এই জন্য তাঁর অপ্রকটের পর তাঁর স্থূলদেহের কোন চিহ্ন বা সমাধি কিছুই পাওয়া যায় না এই শ্রীখন্ডে।এইরকম মহাপ্রয়াণের পরিচয় পাওয়া যায় শ্রীমন্মহাপ্রভু,নিত‍্যানন্দপ্রভু ও শ্রীশ‍্যামানন্দপ্রভুর জীবনে, নরহরি দ্বিজ হরিদাস, দাস গদাধর প্রভৃতি সকলের অপ্রকটের পর তাঁর অনুরাগী শিষ‍্যভক্তগণ বিষাদে এবং দুঃখে মৃতপ্রায় হয়ে গেলেন। তার কিছু পরিচয় শ্রীরঘুনন্দনের এই উক্তি থেকে আভাষ পাওয়া যাবে, যথা=*
*🌷শুনি রঘুনন্দন কহে বারবার।*
*🌷দিনে দিনে অবনী হইতেছে অন্ধকার।।*
*🌷প্রভু নরহরি প্রিয়গণের সহিতে*।
*🌷ছাড়িয়া গেলেন মোরে দুঃখ ভুঞ্জাইতে।।*
*🌷কি লাগিয়া দেহে আছয়ে জীবন।*
*🌷ঐছে কত কহি কাঁদে শ্রীরঘুনন্দন।।*
*🌷প্রভু নরহরি করুণা সোঙরিয়া*।
*🌷কাঁদে শ্রীনিবাস ভূমিতলে লোটাইয়া।।*
*🌷কে ধরে ধৈরয এ দোঁহার কাঁদনেতে।*
*🌷উঠিল ক্রন্দন রোল শ্রীখন্ড গ্রামেতে।।*
*🌷শ্রীরঘুনন্দন স্থির হইয়া শ্রীনিবাসে।*
*🌷স্থির করি অনেক কহিল মৃদুভাষে।।*
*🌻গুরুদেব বা জ‍্যেষ্ঠতাত নরহরি ঠাকুরের তিরোভাব তিথি যথাযথ পালন করা হল, কিন্তু তারপরে প্রথম বার্ষিকী তিরোভাব তিথি যে ভাবে শ্রীরঘুনন্দন পালন করেছিলেন, তা বৈষ্ণব জগতের ইতিহাসে সকলের কাছে চিরস্মরণীয় এবং চির বরণীয় হয়ে আছে।এই তিথিকে সম‍্যক্ মর্য‍্যাদার সঙ্গে পালন করবার জন্য "বীর হাম্বীর" যথেষ্ট অর্থ ব‍্যয় করেছিলেন। এই তিরোভাব উৎসবে যে মহাবৈষ্ণব সম্মেলন হয়েছিল তা তৎপূর্বে বা তারপরে খেতুরী ছাড়া আর কোথাও হয়েছে কি না জানা যায় না।একাদশীর তিন-চারদিন আগেই সকল মহান্তগণ শ্রীখন্ডে আগমন করলেন, নাম সংকীর্তন, ভাগবত পাঠ প্রসঙ্গে শ্রীখন্ডের পুণ‍্যভূমিতে যেন নবজীবন লাভ করিল।এর বিস্তৃত বিবরণ ভক্তি রত্নাকর গ্রন্থে আছে। তবুও একটি ছোট পয়ার নিচে দেওয়া হল।*
*🌷কহিতে কি অতুল দুর্লভ সংকীর্তনে।*
*🌷মনুষ‍্যের কথা কি মজিবে দেবগণে।।*
*🌷ঐছে পরস্পর কত কহে ঠাঁই ঠাঁই।*
*🌷শ্রীখন্ড নগরেতে লোকের সংখ্যা নাই।।*
*🌷প্রতিদিন যে উৎসবে শ্রীখন্ড নগরে।*
*🌷তাহা না বর্ণিয়ে গ্রন্থ বাহুল‍্যের ভরে।।*
*🌷একাদশী দিনে যে উৎসব অন্ত নাই।*
*🌷যে শুনিল তাহা কিছু সংক্ষেপে জানাই।।*
*🌻এই উৎসবে রঘুনন্দন নিজহাতে সকল মহান্তগণকে মাল‍্য চন্দন দান করেছিলেন।পরম আনন্দে বীরচন্দ্র প্রভুর শ্রীঅঙ্গে চন্দন লেপন করেছিলেন এবং বীরচন্দ্র প্রভু নিজহাতে এই মালা-চন্দন শ্রীরঘুনন্দনকে পরিয়ে শক্তি সঞ্চার করেছিলেন।যে ভুবনমঙ্গল নাম সংকীর্তন যজ্ঞ হয়েছিল তাতে শ্রীখন্ডের মাটি সিক্ত হয়ে গিয়েছিল। এই সময়ে শ্রীনিবাস আচার্য‍্য যে ভাগবত পাঠ করেছিলেন, তা শুনেও এক অনাস্বাদিত আনন্দ তরঙ্গে সকলে বিলীন হয়ে গিয়েছিলেন।শ্রীনিবাসের প্রেমসমুদ্র যেন উথলিয়ে উঠিল এবং সেই পাঠ শুনে সকলে মিলিত সিদ্ধান্ত দিলেন যে একমাত্র শ্রীশুকদেব গোস্বামীর কৃপা ছাড়া এইরকম পাঠ কেউ করতে পারেন না। নিশ্চয়ই বেদব‍্যাস তাঁকে শক্তি সঞ্চার করেছেন।বৈষ্ণব দেহ চিন্ময় জীবের মঙ্গলের জন্যই তাঁরা নবরূপে ভুবনে এসেছেন এটি চির সত‍্য কথা।*
*🍀এই উৎসব প্রাঙ্গণে যে যতজন সমাবেশ হয়েছিল তার মধ্যে রামাই নামে এক জন্মান্ধ ভক্ত এসেছিলেন। তিনি এই ভুবন ভোলান নৃত‍্য অদর্শনে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করতে লাগলেন এবং তাঁর খেদোক্তি শুনে করুণা পরবশ হয়ে বীরচন্দ্র প্রভু তাঁর দুই চক্ষুতে হাত বুলিয়ে দৃষ্টিশক্তি দান করেছিলেন।এটির দ্বারা এই চিরসত‍্য প্রমাণিত হয় যে ভগবদ্ কৃপায় সবই সম্ভব, জ্ঞান বিজ্ঞান এখানে পরাস্ত।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
          *সুদামার কথন*
*ক্রমে ক্রমে অস্তাচলে,সূর্য‍্যদেব পড়ে ঢলে,*
   *চতুর্দিক আঁধারেতে ঘেরে সে সময়।*
*আশ পাশ স্থান যত,হয় বারিতে প্লাবিত,*
    *উচ নীচ কোন কিছু দৃষ্ট নাহি হয়।।*
*বনপথ অন্ধকার, নাহি পাই দেখিবার,*
   *অত‍্যন্ত ব‍্যাকুল তবে হই দুইজন*
*পরস্পর হাত ধরি,বন মাঝে ঘুরে মরি,*
    *গভীর রজনী ক্রমে হইল তখন।।*
*এহেন ঘটনা শুনি,তবে মুনি সান্দীপনি,*
    *গৃহে রহি অতিশয় উৎকণ্ঠিত হন।*
*পাব দোঁহারে কেমনে,চিন্তি তব নিজ মনে,*
    *প্রত‍্যুষে উঠিয়া বনে করেন গমন।।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🙏🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧






শ্রীমতি সীতা ঠাকুরানি 🥀 ভাদ্র শুক্লা চতুর্থী সীতাদেবীর 🐚জন্মতিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/sita.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীমতি সীতা ঠাকুরানি 🥀 ভাদ্র শুক্লা চতুর্থী সীতাদেবীর জন্মতিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/sita.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#শ্রীমতি_সীতা_ঠাকুরানি।*
 (অদ্বৈত প্রভুর সহধর্মিণী):

*#ভাদ্র_শুক্লা_চতুর্থী_সীতাদেবীর_জন্মতিথি।*

মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ পার্ষদ শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর সহধর্মিণী হলেন সীতাদেবী।তৎকালীন সময়ে সীতা ঠাকুরানি ছিলেন বরীয়সী একজন রমণী।কানুদেব গোস্বামী রচিত অদ্বৈত স্বরূপামৃত গ্রন্থে সীতা দেবীর জন্মতিথি নিরূপিত হয়েছে।

*"#ভাদ্র_শুক্লা_চতুর্থী_দিবসে_কলি_প্রথম_সন্ধ্যায়াং_সীতা_নাম্নি_প্রকটভূতা।"*

 অর্থাৎ কলিযুগে প্রথম সন্ধ্যায় ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থী তিথিতে সীতাদেবী জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা নৃসিংহ ভাদুড়ী এবং মা নারসিংহী দেবী। যমজ বোন ছিলেন শ্রীদেবী। সীতাদেবীর তত্ত্বে বলা হয়েছে সীতাদেবী হলেন ব্রজের অঘটন ঘটন পটীয়সী পৌর্ণমাসি দেবী। তিনিই রাধারাণীর সেবাসুখে কনকসুন্দরী নাম ধারণ করে সখীস্বরূপা হয়ে নিকুঞ্জে রাধারাণীর সেবা তে নিয়োজিত আছেন।
#ব্রজলক্ষ্মী_হয়_এহো_পৌর্ণমাসী_নামে।
#কনকসুন্দরী_নাম_কুঞ্জবন_ধামে।।(অদ্বৈত মঙ্গল-হরিচরণ দাস)।
 #আদ্যা_বলি_রাধিকার_জেষ্ঠ্যা_সখি।
#কনক_সুন্দরী_হৈয়া_সেবা_করে_দেখি।।
#রাধার_প্রকাশ_মূর্তি_সীতা_ঠাকুরানি_এবে।
#কনক_সুন্দরী_নাম_কহিলাম_এবে।।(অদ্বৈতোদ্দেশদীপিকা- দেবকীনন্দন দাস)
যথা বিধি সময়ে অদ্বৈত প্রভুর সাথে সীতাদেবীর শুভ পরিণয় সুসম্পন্ন হয়। পরিণয়ের পরে স্বপ্নাদেশে বৈষ্ণবাচার্য্য #মাধবেন্দ্রপুরী সীতা দেবীকে দীক্ষা দেন। স্বপ্নের কথা অদ্বৈত প্রভুকে জানাতেই তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে সীতাদেবীর কানে মাধবেন্দ্রপুরীর দেওয়া মন্ত্রই পুনরায় প্রদান করেন।
#একদিন_শ্রীসীতা_মাতার_স্বপ্নাবেশে।
#পুরীরাজ_আসি_কহে_সুমধুর_ভাষে।।
#শুন_সীতাদেবী_মোর_নাম_মাধবেন্দ্র।
#মোর_স্থানে_মন্ত্র_লৈলা_শ্রীঅদ্বৈতচন্দ্র ।।

#যেই_নিত্যসিদ্ধ_কৃষ্ণমন্ত্র_দিনু_তারে।
#সেই_কৃষ্ণাকর্ষী_মন্ত্ররাজ_দিমু_তোরে।
#তবে_পুরী_সীতারে_কৃষ্ণমন্ত্র_দিলা।
#দেখিতে_দেখিতে_পুনঃ_অন্তর্হিত_হৈলা।
#প্রভু_সেই_মন্ত্র_পুনঃ_বিধি_অনুসারে ।
#শুভক্ষণে_সমর্পিলা_স্বভার্যা_সীতারে।।(অদ্বৈত প্রকাশ-ঈশান নাগর) এর কয়েক দশক পরেই নবদ্বীপে শচী জগন্নাথমিশ্রের ঘরে মহাপ্রভু জন্মগ্রহণ করেন। সীতাদেবী নানা উপহার সামগ্রী নিয়ে নবজাত গৌরহরি আর শচীমাকে দেখতে আসেন। ছোট্ট মহাপ্রভুকে দেখেই সীতাদেবী বাৎসল্যে দ্রবীভূত হয়ে যান।এবং মহাপ্রভুর শিশুমঙ্গল নামকরণ করেন "#নিমাই"।
#ডাকিনী_শাকিনী_হৈতে__শঙ্কা_উপজিল_চিতে__ডরে_নাম_থুইল_নিমাই।
(চৈতন্য চরিতামৃত-কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী)
মহাপ্রভুও সীতাদেবীকে মাতৃজ্ঞান করতেন।সন্ন্যাস পরবর্তীতে যখন নিত্যানন্দ প্রভু র অলক্ষ্য নির্দেশে মহাপ্রভু শান্তিপুরে অদ্বৈত প্রভুর বাড়িতে যান,তখন মহাপ্রভুর সমস্ত রান্না সীতাদেবীই করতেন।সেই সব রান্না বিবিধ উপকরণের যত নাম চৈতন্য চরিতামৃতে বর্ণিত হয়েছে তাতে সহজেই অনুমান করা যায় সীতা ঠাকুরানি রন্ধন পটীয়সী ছিলেন।
#প্রথমে_পাক_করিয়াছেন_সীতা_ঠাকুরানি ।
#বিষ্ণু_সমর্পণ_কৈল_আচার্য_আপনি।।
মহাপ্রভু যখন গম্ভীরা তে রাধাকৃষ্ণের লীলারস আস্বাদনে মত্ত তখন প্রতিবছর রথের সময় অদ্বৈত প্রভুর সাথে সীতাদেবীও যেতেন তাঁর নিমাই কে দেখতে।
#অদ্বৈত_সাথে_চলে_অচ্যুত_জননী।
#শ্রীবাস_পণ্ডিত_সাথে_চলিলা_মালিনী।।

শ্রীমন্মহাপ্রভুর শুভ অধিবাস সংকীর্তনে যদি একমাত্র কোনো রমণীর নাম উল্লেখ থাকে তাহলে তিনি #সীতাদেবীই।

#শুনিয়া_আনন্দে_আসি____সীতা_ঠাকুরানি_হাসি_বলিলেন_মধুর_বচন।
কিছু পরেই দেখা যায় 
#শুন_ঠাকুরানি_সীতা_____বৈষ্ণব_আনিয়া_হেথা_আমন্ত্রণ_করিয়া_যতনে।
একই প্রসঙ্গ আছে মধ্যাহ্ন ভোগারতির পদে-
#অদ্বৈত_গৃহিণী_আর_শান্তিপুর_নারী
#হুলু_হুলু_রব_দেয়_গোরা_মুখ_হেরি।।

আজ এই মহীয়সী নারী অদ্বৈত গৃহিণী সীতাদেবীর শুভ আবির্ভাব তিথি। চৈতন্য চরিতামৃতে কবিরাজ গোস্বামীর বন্দনার সাথে আজ আমরাও কন্ঠ মেলাই-
*অদ্বৈত আচার্য ভার্যা,   জগৎ পূজিতা আর্যা,     নাম তাঁর সীতা ঠাকুরানি ।।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী দীপ বাগুই 📖 👇꧂


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬১)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা*
           *শ্রীরামানন্দ রায়ের গ্রন্থ*
           ***********************
*🍀এই নাটকটি পাঁচ অঙ্কে বিভক্ত, প্রথম অঙ্কে পূর্বরাগ,দ্বিতীয় অঙ্কে ভাবপরীক্ষা,তৃতীয় অঙ্কে ভাবপ্রকাশ, চতুর্থ অঙ্কে শ্রীরাধাভিসার, পঞ্চম অঙ্কে শ্রীরাধাসঙ্গম বর্ণিত হয়েছে।নাটকটি আয়তনে ছোট।এতে নট,শ্রীকৃষ্ণ,বিদুষক ও অরিষ্টাসুর ছাড়া অন‍্য কোন পুরুষের উল্লেখ নাই।নারীগণের মধ্যে নটী, শ্রীমতী রাধা,পূজনীয়া মদনিকা--,ইনি শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ মিলনের সহায়রূপী, অশোকমঞ্জরী শ্রীরাধার অনঙ্গপত্রবাহিনী--মাধবী ও শশীমুখী প্রভৃতির নাম উল্লেখ্য।*
*🍀কবিবর খুব কম উপাদানে এবং খুব কম কথাতেই এই গ্রন্থে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করেছেন।এতে গদ‍্যে, পদ‍্যে, প্রাকৃতভাষায় ও গানে কথা-উত্তর লেখা হয়েছে।গানগুলি সরস ও সুললিত, শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দের অনুকারে রচিত। এই শ্রীগ্রন্থ হতে কিছু কিছু উদ্ধৃত করে প্রেমিক পাঠকগণের চোখের সামনে এই নাটকগীতিকার সুন্দরভাবে প্রকাশ পাবে বলে মনে করেছিলাম, কিন্তু তাতে গ্রন্থের কলেবর অত‍্যন্ত বৃদ্ধি পাবে, এই আশঙ্কায় সে চেষ্টা হতে ক্ষান্ত হলাম।রসজ্ঞ পাঠক মহোদয়গণ ল্রীলোচনদাস ঠাকুরের অনুবাদসহ এই সঙ্গীত নাটক পাঠ করবেন।আমরা এখানে কেবল সামান্য আভাস মাত্র প্রদান করছি।*
*🍀প্রথমে নান্দীশ্লোকে শ্রীভগবানের নৃত্য বর্ণনা করা হয়েছে।গীতিনাট‍্যে, নাচই নমস্কাকের বস্তু।*
*🍀প্রিয়পাঠকগণ, বেদান্তে আনন্দ-শ্রুতির উল্লেখ দেখতে পেয়েছেন,রস-শ্রুতির উল্লেখও দেখতে পেয়েছেন, কিন্তু আনন্দলীলারস-বিগ্রহ, ভক্তের মনোবাঞ্জা-পরিপূরণের জন্য ত্রিভঙ্গিমরূপে কি রকম ভুবনভোলানো নাচ করেন,ভক্তির দর্শনশাস্ত্র ছাড়া অন‍্য কোন দর্শনে তার কোনসন্ধান পেয়েছেন কি? শ্রীরায় মহাশয়ের এই গ্রন্থের নমস্কার-পদ‍্যে আনন্দরস-বিগ্রহের নৃত্যভঙ্গি-মাধুর্য‍্য একবার অনুভব করুন।তারপরে "মৃদুলমলয়জপবন- তরলিত চিকুরপরিগতকলাপ" শ‍্যামসুন্দরের শ্রীমুখকান্তি ভক্তিনয়নে সন্দর্শনকরুন,দেখবেন ভজনের জন্য আর বেশী চেষ্টা করতে হবে না।শ্রীরায় রামানন্দ তাঁর সঙ্গীত নাটকে এই মধুর মনোহর শ্রীমূর্তির মাধুর্য‍্য প্রকটন করেছেন।*

*শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বিদুষকের কাছে যে গীতে শ্রীবৃন্দাবনের শোভা-বর্ণনা করেছেন,তাতে বৃন্দাবনের অতুলনীয় বৈভব ও কাব‍্যসম্পত্তি-শোভা প্রকাশিত হয়েছে।বৃন্দাবন অপ্রাকৃত অলৌকিক কাব‍্যের নিত‍্য-নিকেতন, চিরসরস,চিরমধুময়, নিজ সৌন্দর্য্য গৌরবে চিরগৌরবাস্পদ। প্রেমময় শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের সুখময়ী লীলাস্থলী-- বৃন্দাবনের কাব‍্যসম্পদ ভক্তি-ভাবিত-চিত্তে স্বতঃই প্রকটিত হন, কবির বাক‍্যঝঙ্কার কেবল সেটির উদ্বোধকমাত্র।ফুলের হাসি, চাঁদের জ‍্যোৎস্না মলয়ের পবন,কোকিলের কুজন,শ‍্যামল কানন, আনন্দঘন প্রেমমূর্তি-শ‍্যামসুন্দর,আর আনন্দ-চিন্ময়-রস-প্রতিভাবিতা আহ্লাদিনী শক্তিগণের আনন্দলীলা,ইঁহাই জগন্নাথ বল্লভের নাটকের কবিত্ব সম্পদ।*
*🍀দ্বিতীয় অঙ্গে লেখা আছে শ্রীমতীর অর্পিতবস্তু দূতী শশিমুখী অনঙ্গপত্র নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের কাছে উপস্থিত হলেন।শ্রীকৃষ্ণ শশিমুখিকে বললেন, "তিনি কুলবধূ"। আমার সহিত তাঁর কখনও আলাপ পরিচয় নাই।এই অবস্থায় আমার কাছে এইরকম পত্র লেখা অসঙ্গত ও অধর্মজনক। যথা শ্রীজগন্নাথ বল্লভ নাটকে=*
*🌷দয়িতো দয়িতস্তস‍্যা বালেয়ং কুলপালিকা।*
*🌷অকান্ডে কিমসৌ মুগ্ধে ধত্তামাচারবিপ্লবম্।।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, "ভদ্রে!আরও দেখ তিন কুলপালিকা,তাঁর পক্ষে পতিই পরম দয়িত।তিনি অনর্থক আচার-বিপ্লব (তাঁর আচার আচরণ পরিবর্তন)করতে রত হবেন কেন? এই কথা বলে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "দূতী তুমি শ্রীমতীকে এই অধর্ম কর্ম হতে প্রতিনিবৃত্ত(বিরত) করিও।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🦜🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬২)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা,*
           *শ্রীরায় রামানন্দের গ্রন্থ*
           ***********************
*🍀শ্রীরায় রামানন্দ একটি গানেও এই ভাব প্রকাশ করলেন। তার মর্ম্ম এইরকম,-- দূতী,ভেবে দেখ,শশধরের প্রতি নলিনী কখনও অনুরাগিনী হয় না, যামিনী (রাত্রি) কখনও রবিকে (সূর্য‍্যকে) পতি বলিয়া গ্রহণ করে না,এটিই প্রাকৃতিক নিয়ম। কুলবনিতাদের আচরণও তদ্রূপ।কুলবধূদের পক্ষে পরপুরুষে অনুরাগ পাপজনক। শশিমুখী, তুমি পদ্মমুখী শ্রীরাধিকাক‍ে এই অনুচিত অনুরাগে প্রবৃত্ত হতে বারণ কর।তিনি কুলবধূ হয়ে যদি কুলচরিত্রের মর্য‍্যাদা রক্ষা না করেন।আমরা তাঁর এই ব‍্যবহারে কি মনে করব?এই প্রবৃত্তি ভাল না ; যাও তাঁকে বারণ কর।*
*🌹শ্রীমদ্ভাগবতে রাসের সময়ে বনে উপনীতা ব্রজবধূদেরকে শ্রীকৃষ্ণ প্রথমে যেরকম পাতিব্রাত‍্য ধর্মের উপদেশ করে ভাব-পরীক্ষা করেছিলেন,এই নাটকের ভাব-পরীক্ষাতেও সেই পাতিব্রাত‍্য ধর্মোপদেশই অতি কম কথায় দেওয়া হয়েছে।এই গানেই দ্বিতীয় অঙ্কের উপসংহার করা হয়েছে।*
*🌻তৃতীয় অঙ্গের দৃশ‍্যারম্ভ এইরকম ঃ--- শ্রীরাধা মাধবীকুঞ্জে বিষণ্ণ ভাবে বসে আছেন।শশিমুখি শ্রীকৃষ্ণের প্রত‍্যাখ‍্যানসূচক অশুভ সংবাদ বলায় শ্রীমতী রাধিকার মুখকমল চরমভাবে ম্নান হয়েছে। মদনিকা তাঁর কাছে বসে মৃদু মৃদু ভাবে প্রবোধ বাক‍্য বলছেন।এই সময়ে অশোকমঞ্জরী দূর হতে তাঁদেরকে অতি মৃদু ও সতর্কভাবে কথাবার্তা বলতে দেখে আর ওদিকে গেলেন না। তিনি আপন মনে বললেন, তাঁরা মৃদু মৃদু ভাবে কি গোপন কথা বলছেন,এখন ওনাদের কাছে যাওয়া অসঙ্গত। তিনি এই বলে চলে গেলেন।শ্রীমতী রাধিকা উষ্ণনিশ্বাস ত‍্যাগ করে গানে মনের বেদনা প্রকাশ করে বললেন=*
*🌷কুলবনিতাজনধৃতমাচারং তৃণবদগণয়ং গলিতবিচারম্। ইত্যাদি।*
*🍀এই গানটিতে শ্রীরাধার আক্ষেপ-অনুরাগ সূচিত (জ্ঞাপন, কথন বা সংকেত বা চিহ্নাদি দ্বারা জানানো)হয়েছে। শ্রীমৎ রূপগোস্বামী যখন তাঁর নাটকের "যস‍্যোৎসঙ্গসুখাশয়া" শ্লোক ল্রীরামরায়কে শুনাচ্ছিলেন,শ্রীরামরায়তখন বিস্মিত হয়ে শ্রীরূপের মুখপানে তাকিয়েছিলেন।শ্রীরূপ শ্রীরামরায়ের নাটক তখনও দেখেননি। কিন্তু তাঁর নাটকে এইসব ভাবের বিকাশ এবং কাব‍্যের অনন্ত মাধুর্য‍্যময়ী বর্ণনা দেখে রামরায় তখন বিমোহিত হয়েছিলেন। অতঃপরে শ্রীমতী রাধিকা বলছেন, যথা জগন্নাথবল্লভে ঃ---*
*🌷শ্রাবং শ্রাবং সুসামশ্রুতিসমিতপরব্রহ্মবংশী প্রসূতং,*
*🌷দর্শং দর্শং ত্রিলোকীববতরুণকলাকেলিলাবণ‍্যসারম্।*
*🌷ধ‍্যায়ং ধ‍্যায়ং সমুদ‍্যদ্ দ‍্যুমণিকুমুদিনী বন্ধুরোচিতঃ সরোচি,*
*🌷শ্ছায়ং শ্রীকান্তসঙ্গং দহতি মম মনো মাং কুকূলাগ্নিদাহম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ সখি!সামবেদের মত তাঁর মনোহর সুস্বরময় পরব্রহ্ম বংশীরব শুনে শুনে,তাঁর ত্রেলোকসুন্দর সাক্ষাৎ মদনের মত লাবণ‍্যসার শ্রীমূর্তি দেখে দেখে এবং এককালীন উদিত দিননাথ (সূর্য‍্য) ও নিশানাথ (চন্দ্র) সমান শোভাশালী তার ভুবনমোহন রূপ ধ‍্যান করে করে আমার মন সততই আমাকে তুষানলের মত পুড়াচ্ছে।*
*🍀তখন শশিমুখী প্রবোধ দিয়ে বললেন, "প্রিয়সখী! অস্থানে আগ্রহ ত‍্যাগ কর", শশিমুখী বলতে চাইলেন যে,শ্রীকৃষ্ণের কথায় তোমার যে দেহমন তুষানলের মত জ্বলে যাচ্ছে,তাঁর কথা ভুলে যাও।দেখ!সেই কাজলের মত কৃষ্ণবর্ণ শ্রীকৃষ্ণের নিকট তোমার সম্বন্ধে যত যত কথা বললাম, তিনি তার সব কথাতেই উপেক্ষা করে শিশুর মত ভাব দেখালেন। সুবদনে রাধে! শ্রীকৃষ্ণের ধ‍্যানে আর প্রয়োজন নাই। সেটি মনের উৎকলিকা-কুসুম-বিগলিত মধুমিশ্রিত বিষ, সুতরাং অন‍্য কিছুতে মনোনিবেশ করো। যথা ঃ----*
*🌷যদ্ যদ্ ব‍্যঞ্জিতমঞ্জনপ্রতিকৃতৌ কৃষ্ণে তদর্থং ময়া,*
*🌷তত্তত্তেন নিবারিতং শিশুদশাভাবপ্রকাশৈরলম্।*
*🌷আস্তামুৎকলিকাস্রসূনবিগলন্মাধ্বীকনন্ধং বিষং,*
*🌷কৃষ্ণধ‍্যানমিতহন‍্যতঃ সুবদনে সঙ্কল্পমাকল্পয়।।*
*🌻কবিবর এই জায়গায় কৃষ্ণধ‍্যান সম্বন্ধে শ্রীরাধিকার যে অদ্ভুত ভাবের কথা লিখেছেন,তা রসাভিজ্ঞ পাঠকগণের নিয়ত বা নিয়মিত আস্বাদ‍্য। শ্রীরাধার পক্ষে শ্রীকৃষ্ণধ‍্যান "প্রসূনবিগলন্মাধ্বিকনন্ধং বিষম্" অর্থ‍্যাৎ="বিষামৃতে একত্র মিলন"। শ্রীপাদ শ্রীরূপ গোস্বামী মহোদয়ের নাটকে এই ভাবটি কিরকমে ব‍্যাখ‍্যাত হয়েছে তাও দেখুন=*
*🌷পীড়াভির্নবকালকূটকটুতা গর্ব্বস‍্য নির্ব্বাসনো,*
*🌷নিষ‍্যন্দেন মুদাং সুধামাধুরিমাহঙ্কারসঙ্কোচনঃ।*
*🌷প্রেমা সুন্দরি নন্দনন্দনপরো জাগর্ত্তি যস‍্যান্তরে,*
*🌷জ্ঞায়ন্তে স্ফুটমস‍্য বক্রমধুরা স্তেনৈব বিক্রান্তয়ঃ।।*
*🌹এই শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা, শ্রীচরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ মহোদয় ভাবানুগত অনুবাদ করে লিখেছেন=*
*বাহ‍্যে বিষজ্বালা হয়, ভিতরে আনন্দময়,*
        *কৃষ্ণপ্রেমার অদ্ভুত চরিত।।*
*এই প্রেমার আস্বাদন,তপ্ত ইক্ষুচর্বণ,*
       *মুখ জ্বলে না যায় ত‍্যজন।*
*সেই প্রেমা যার মনে, তার বিক্রম সেই জানে,*
      *বিষামৃতে একত্র মিলন।।*
*🌻এখানেও শ্রীপাদ রূপগোস্বামী ও শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর ভাব-সাম‍্য খুবই স্পষ্ট। এইরকম ভাবের সমতা আমরা আকস্মিক বলেই মনে করি না।এর অভ‍্যন্তরে অবশ্যই প্রগাঢ় নিয়ম আছে।ভক্তহৃদয়বিহারী মহাপ্রভু উভয় গ্রন্থকারের হৃদয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে শ্রীরাধাপ্রেমের এই উচ্চতম তত্ত্ব প্রতিফলিত করে দিয়েছিলেন।তাই উভয়ে বিরহিণী শ্রীমতীরাধারাণীর কৃষ্ণধ‍্যানের এই অদ্ভুত বেগবান্ (দ্রুতগতি সম্পন্ন) ভাবের সার কথা লিখে রেখেছেন।শ্রীকৃষ্ণের রূপধ‍্যান করতে বসলেই বিগত সুখস্মৃতি একে একে শ্রীরাধার হৃদয়পটে চরমভাবে উদিত হয়,তাঁর হৃদয়ের স্তরে স্তরে গত সুখের সুধাস্মৃতি বিশেষভাবে মিশ্রিত।সুখের স্মৃতি আছে কিন্তু সুখের পদার্থ নাই, যাকে নিয়ে সুখভোগ, এখন তিনি বাম বা প্রতিকূল,তিনি দূরতর, অনেক দূরে আছেন, সুতরাং ভীষণ অসহ‍্য জ্বালা। কিন্তু অদ্ভুত ব‍্যাপার এই যে,এই বিষের জ্বালা পরিহারের জন্য শ্রীকৃষ্ণধ‍্যান-ত‍্যাগও শ্রীমতীর পক্ষে সম্ভব না।কেননা,সেই সুখের স্মৃতি মধুময়ী,সেটি বিষামৃতে মিশ্রিত।*
            *ক্রমাগত*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬৩)শ্রীরামানন্দ রায়,বিশাখা,*
          *শ্রীরামানন্দ রায়ের গ্রন্থ*
         ************************
*🍀শশিমুখী এইসব জেনেও শ্রীমতী রাধিকাকে বললেন,সখী! "মুঞ্চ অস্থানাগ্রহম্" সখী!অস্থানে আগ্রহ ত‍্যাগ করো, অর্থ‍্যাৎ যে তোমাকে প্রকারন্তরে গ্রহণ করছেন না তাঁর কথা, তাঁর জায়গায় যাবার চিন্তা, ও তাঁর কথা মন থেকে মুছে ফেল।এর উত্তরে শ্রীমতীরাধারাণী বললেন যে, একটি পদ‍্যে গভীর ভাবময় প্রেমবিলাপে তার মনকষ্ট প্রকাশ করেন।সেইরকম কথা জগতের আর কোন সাহিত‍্যে প্রকাশিত হয়েছে কি না বলতে পারি না।এখানে সেই শ্লোকটীর অবতারণা করা যাচ্ছে।শশিমুখীর কথা শুনে শ্রীমতীর নয়নকমল হতে মণিমুক্তার মোহনমালাবিনিন্দি অশ্রুজল গড়িয়ে পড়তে লাগিল।তিনি ভাঙ্গাকন্ঠে প্রেম গদগদ স্বরে অতি মৃদুস্বরে বা ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন ঃ---*
*প্রেমচ্ছেদরুজোহবগচ্ছতি হরির্নায়ং ন চ প্রেম বা,*
*স্থানাস্থানমবৈতি নাপি মদনো জানাতি নো দুর্ব্বলাঃ।*
*অন‍্যো বেদ ন চান‍্যদুঃখমখিলং নো জীবনং বাশ্রবং,*
*দ্বিত্রাণ‍্যেব যৌবনমিদং হা হা বিধেঃ কা গতিঃ।।*
*🌻শ্রীচরিতামৃতের বৈষ্ণবসুখদা টীকানুগ বঙ্গানুবাদ ঃ---*
*🌻সখী!হরি প্রেম বিচ্ছেদ-জন‍্য যন্ত্রণা জানেন না এবং প্রেমও জায়গা অজায়গা জানে না।আমরা যে দুর্বলা মদনেরও সে জ্ঞান নেই। এ জগতে কেউ কারও অশেষ কষ্ট বুঝতে পারে না।জীবন অস্থির, এই যৌবনও দুইদিন মাত্র স্থায়ী।সখী!বিধাতার কি এই লীলা!*
*🍀পরম রসময় শ্রীলোচনদাস ঠাকুর ও শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী মহোদয় এর যে সরস সুন্দর পদ‍্যানুবাদ করেছেন তা অতীব মধুর।রসজ্ঞ পাঠকগণ অবশ্যই তা আস্বাদন করেছেন।*
*🍀শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটকের এই শ্লোক উচ্চারণ করে ভাবনিধি মহাপ্রভু কত দিন-রাত্রি হৃদয়ের কপাট খুলে বিলাপ করতেন, নয়নজলে তাঁর বদনকমল ভিজে একাকার হ'ত,ভাবের আবেগে তিনি অধীর ও ব‍্যাকুল হয়ে পড়তেন,শ্রীচরিতামৃতের প্রেমিক ভক্তপাঠকগণের হৃদয়ে তাঁর লেশাভাস এখনও অনুভবনীয়।*
*🍀শ্রীকৃষ্ণের কথায় শ্রীমতী বিরহে ক্রমেই অধীরা হয়ে পড়লেন।মদনিকা (মঞ্জরীসখী) প্রবোধ বাক‍্যে সান্ত্বনা করতে লাগলেন। কিন্তু যাঁর হৃদয় সে প্রবোধ বাক‍্যে স্থির হল না।তিনি বললেন,সখী! চারিদিকে ভীষণ দাবানল, হরিণীর কোমল বা নরম দেহ সে জ্বালা কি করে সইবে?শ‍্যাম জলধরের জলধারায় সে অনল-নির্বাণ হবে(কখন আগুন নিভবে) এই আশায় কি হরিণী প্রাণ ধারণ করতে পারে?আর এই জীবন চলে গেলে নবনীরদের জল-ধারায় (এই প্রাণ চলে গেলে পরে যে শ‍্যাম জলধরের জলধারায়) বা সন্তাপ-মৃতার কি লাভ হবে? (দুঃখ কষ্ট পেয়ে যে মানুষটি মরে যায়, এখন আমার অগ্নি নিভানোর জন্য জল দরকার, সেই জল যদি মৃত‍্যুর পর পাই তাতে মৃতের কি লাভ হবে?)।তাই কবি তুলসীদাসও একজায়গায় লিখেছেন ঃ---*
*🌷এক বিন্দু জল লাগি চাতক নিতি দুঃখ পাবে।*
*🌷প্রাণ গেলে সাগর মিলেত কোন কামমে আবে।।*
*🌻এইরকমে শ্রীরাধার অনুরাগ ক্রমেই বেড়ে যেতে লাগিল।তিনি প্রবোধ বচনে আর সান্ত্বনা পেলেন না। তখন মদনিকা বললেন, রাধে!স্থির হও আমি মাধবের কাছে মাধবীকে পাঠিয়েছি।সে তোমার চিত্রফলক নিয়ে মাধবের কাছে গেছে।এই কথা বলতে বলতেই মাধবী এসে দেখা দিলেন।তাঁর হাতে চিত্রফলক দেখে মদনিকার হৃদয় আনন্দে ভরে উঠিল।চিত্রফলকে শ্রীকৃষ্ণ কি লিখে দিয়েছেন,তা দেখবার জন্য মদনিকা চিত্রফলক চাইলেন।শ্রীরাধাও সলজ্জ ভাবে চিত্রফলকের জন্য হাত বাড়ালেন।মাধবী বললেন আগে পুরস্কার চাই।এই বলে সামান্য দেখিয়ে আবার চিত্রফলকটি কাপড়ের আঁচলে লুকালেন।এই সময়ে সুপন্ডিতা মদনিকা সহসা শ্রীকৃষ্ণের লেখা পাঠ করে মরম অবগত হলেন।শশিমুখীর বিলম্ব সইল না।তিনি জোড়করে টেনে নিয়ে পাঠ করতে লাগলেন।তারপর শশিমুখী শ্রীরাধার হাতে চিত্রফলক দিলেন।তখন শ্রীমতী আনন্দে অধীরা।শ্রীমতীর দুঃখও যেমন প্রবলতম, সুখও তেমনি প্রবলতম।তিনি মদনিকার হাতে চিত্রফলক দিয়ে বললেন,সখী! তোমার হৃদয় জেনে শ্রীকৃষ্ণও তোমার প্রতি অনুরক্ত হয়েছেন। কেননা, প্রমাদবশতঃ প্রেমাঙ্কুর ভেঙ্গে গেলে আর তা জোড়া লাগে না। এখানে শ্রীচরিতামৃতের "উপজল প্রেমাঙ্কুর ভাঙ্গিল যে দুঃখপুর" ইত্যাদি পদের মূল কোথায়, তারও খোঁজ পাওয়া গেল।*
*🍀শ্রীবৃন্দাবনের নিকুঞ্জবন চিরবসন্তময়--,শ‍্যামল লতিকায় সবুজ পাতার আড়ালে মধুময় পুষ্প, ফুলের গন্ধে চারিদিক আমোদিত, মধুলোলুপ অলি গুঞ্জনে নিকুঞ্জ সবসময়ই মুখরিত, তার উপরে প্রমত্ত পিককুলের কুহুতান, এরকম প্রাণমাতানো দৃশ্যে,প্রাণমাতানো গন্ধে, ও প্রাণমাতানো রবে কার মন স্থির থাকতে পারে?শ্রীরাধা শ্রীকৃষ্ণের সরস সঙ্গমলালসায় অধীরা হয়ে উঠলেন, প্রাণবল্লভের জন্য প্রাণ আকুল হয়ে উঠিল,তিনি আকুল প্রাণে গাইলেন=*
*🍀শ্রীমতীর এই উৎকণ্ঠাময়ী গীতিকা শুনে মদনিকা আর বিন্দুমাত্র দেরী না করে শ্রীকৃষ্ণের কাছে গমন করলেন,যাবার সময় বলে গেলেন,সখী!এই বকুলপাদোপকন্ঠেই আমাকে দেখতে পাবে।*
*🍀এইখানে ভাবপ্রকাশ তৃতীয় অঙ্গের যবনিকা পতিত হল।*
*🌹তারপরে মদনিকা শ্রীকৃষ্ণের কাছে উপস্থিত হয়ে দেখলেন,তাঁর মুখখানি মলিন হয়ে গিয়েছে, শ্রীরাধাপ্রেমের তরঙ্গেতাঁর হৃদয়ও প্রহত (আঘাত প্রাপ্ত)হয়েছে। তিনি সহচর প্রিয় বন্ধুগণের সঙ্গে বসে আছেন।এমন সময়ে মদনিকাকে দেখে শ্রীকৃষ্ণের মুখমন্ডলে আনন্দের উজ্জ্বলরেখা দেখা দিল, তিনি শ্রীমতীর কথা তুললেন। মদনিকা বললেন, বৎস শ্রীমতীর কথা আর কি বলব,তাঁর লাবণ‍্য-মাত্র-শেষ। শ্রীকৃষ্ণের উৎকণ্ঠা ক্রমশই বেড়ে যেতে লাগল। তিনি শ্রীমতীকে যেরকম প্রথমে উল্টোপাল্টা কথা বলেছিলেন, যে কথায় তিনি শ্রীমতীর দূতীকে নিরাশ করে দিয়েছিলেন,তা তাঁর মনে পড়িল। তিনি মদনিকাকে বললেন,দেবী তবে কি শ্রীমতী আমার অভিলাষ হতে ক্ষান্ত হলেন? মদনিকা বললেন, বৎস তার অবস্থার কথা শোন=*
*🌷যদা নাসৌ দোষং গণয়তি গুরূণাং কুবচনে,*
*🌷ন বা তোষং ধত্তে সরসবচনে নর্ম্মসুহৃদাম্।*
*🌷বিষাভং শ্রীখন্ডং কলয়তি বিধুং পাবকসমং,*
*🌷তদাস‍্যাস্তদ্বৃত্তং ত্বয়ি গদিতুমত্রাহমগমম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ আমি যখন দেখলাম গুরুগণের গঞ্জনাময় কথাও তিনি দোষ বলে গণ‍্য করছেন না, নর্মসখীগণের সরস কথাতেও তিনি তুষ্ট হচ্ছেন না,চন্দনকে তিনি বিষের মত মনে করছেন, চন্দ্র তাঁর পক্ষে আগুনের মত প্রতিফলিত হচ্ছে, তখন তাঁর এই সব কথা বলবার জন্যই আমি তোমার কাছে আসিলাম।*
*🌹এটি শ্রীমতী রাধারাণীর অতি উৎকণ্ঠাময় ও লোকাপেক্ষাত‍্যাগেরই উদাহরণ।*
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌷🌸🌸🌸🌸🌸🌸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬৪)শ্রীরামানন্দ রায়,বিশাখা*
           *শ্রীরামানন্দ রায়ের গ্রন্থ*
            **********************
*🍀অজয়তটের অমরকবি শ্রীল জয়দেব গোস্বামী উৎকণ্ঠিতা শ্রীমতী রাধারাণীর যে চিত্র প্রদর্শন করেছেন,প্রেমিক ভক্ত পাঠকগণ এখানে একবার শ্রীগীত গোবিন্দের সেই উৎকণ্ঠিতা শ্রীমতীর বিষাদ-গীতিকার কথা স্মরণ করুন। উভয় বর্ণনাতে সাদৃশ‍্য ও পার্থক‍্য যথেষ্টই দেখতে পাবেন।শ্রীরায় মহাশয় এখানে প্রথম অনুরাগের পরে শ্রীমতী রাধারাণীর কৃষ্ণবিরহ কষ্টের বর্ণনা করেছেন, তাই এই বিরহ কষ্ট অতি অল্পাক্ষরে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু শ্রীপাদ জয়দেব গোস্বামীর রচিত গীতগোবিন্দে শ্রীমতীর বিরহ-উৎকন্ঠা বর্ণন-পাঠে পাষাণ হৃদয়ও বিগলিত হয়ে যায়, শ্রীমন্মহাপ্রভুর অন্ত‍্যলীলার দিব‍্য-উন্মাদের প্রত‍্যেক ঘটনাই পাঠকগণের স্মৃতির দ্বারে আমন্ত্রণ করে উপস্থিত করে দেয়।শ্রীপাদ জয়দেব লিখেছেন ঃ-----*
*বহতি চ বলিত-, বিলোচনজলভর-,*
         *মাননকমলমুদারং।*
*বিধুমিব বিকট-, বিধুন্তুদদন্ত-,*
         *দলনগলিতামৃতধারম্।।*
*🍀প্রিয় পাঠক, একবার এই পদটি পাঠ করুন, আর আমাদের সজলনয়ন মহাপ্রভুর মুখকমলের ধ‍্যান করুন ; দেখবেন, বিরহিণী শ্রীরাধিকা, আর বিপ্রলম্ভসমগ্ন শ্রীগৌরাঙ্গ একই পদার্থ একই ভাবে এবং একই রসে উভয়ের হৃদয় পরিপ্লুত। আরও দেখুন=*
*বিলিখতি রহসি, কুরঙ্গ-মদেন্,*
         *ভবন্তমসমশরভূতং।*
*প্রণমতি মকর, মধো বিনিধার,*
        *করে চ শরং নবচূতম্।।*
*প্রতিপদমিদমপি,নিগদতি মাধবঃ,*
        *তব চরণে পতিতাহং।*
*ত্বয়ি বিমুখে মরি, সপদি সুধানিধি,*
       *রপি তনুতে তনুদাহম্।।*
*☘শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে লিখিত আছে*
*🌷ক্ষণে পৃথিবীতে লেখে ত্রিভঙ্গ আকৃতি।*
*🌷চাহিয়া রোদন করে ভাসে সব ক্ষিতি।।*
*🌻শ্রীগীতগোবিন্দে শ্রীমতীর দূতী শ্রীকৃষ্ণের কাছে শ্রীমতীর অবস্থা বলছেন=*
*ধ‍্যানলয়েন পুরঃ, পরিকল্প‍্য ভবন্ত-,* 
           *মতীব দুরাপং।*
*বিলপতি হসতি, বিষীদতি রোদিতি,*
       *চঞ্চতি মুঞ্চতি তাপম্।।*
*🍀শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর অবস্থা বর্ণনা করে শ্রীনরহরি ঠাকুর লিখেছেন ঃ--*
      *আরে আমার গৌরকিশোর।*
*নাহি জানে দিবানিশি,কারণবিহীন হাসি,*
      *মনের ভরমে পহুঁ ভোর।।*
*ক্ষণে উচ্চৈঃস্বরে গায়,কারে পহুঁ কি শুধায়,*
      *কোথায় আমার প্রাণনাথ।*
*ক্ষণে শীতে অঙ্গ কম্প,ক্ষণে ক্ষণে দেয় লম্ফ,*
     *কাঁহা পাঙ যাঙ কার সাথ।।*
*ক্ষণে উর্দ্ধবাহু করি,নাচি বলে ফিরি ফিরি,*
    *ক্ষণে ক্ষণে করয়ে বিলাপ।*
*ক্ষণে আঁখিযুগ মুদে,হা নাথ বলিয়া কাঁদে,*
    *ক্ষণে ক্ষণে করয়ে সন্তাপ।।*
*কহে দাস নরহরি,আরে মোর গৌরহরি,*
      *রাধার পিরীতে হৈল হেন।*
*ঐছন করিয়া চিতে,কলিযুগ উদ্ধারিতে,*
     *বঞ্চিত হইনু মুঞি কেনে।।*
*🌻এইরকম ভাবাবেশ শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দে যথেষ্টই আছে।এখানে আর একটা পদ‍্য উদ্ধৃত করা যাচ্ছে।*
*সা রোমাঞ্চতি শীৎকরোতি বিলপত‍্যুৎকম্পতে তাম‍্যতি,*
*ধ‍্যায়ত‍্যুদভ্রমতি প্রমীলতি পতত‍্যুদযাতি মূর্চ্ছত‍্যপি।*
*এতাবত‍্যতনুজ্বরে বরতনু র্জীবের কিন্তে রসাৎ,*
*স্বর্ব্বৈদ‍্যপ্রতিম প্রসীদসি যদি ত‍্যক্তোহন‍্যথা হস্তকঃ।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ বিরহাকুলা শ্রীমতীর এইরকম বহুবিধ প্রবলতম ভাব শ্রীগীতগোবিন্দ গ্রন্থে যেরকম চিত্রিত হয়েছে, অন‍্য কোথাও সেরকম স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।শ্রীমন্মহাপ্রভুর লীলায় শ্রীরাধার এইসব ভাবরাশি ভক্তজন-সামনে সাক্ষাৎ সম্বন্ধেই অভিব‍্যক্ত হয়েছে।মহাপ্রভু শেষলীলায় চন্ডীদাসের পদ, বিদ‍্যাপতির পদ,রামরায়ের নাটক-গীতি, কর্ণামৃত ও শ্রীগীতগোবিন্দের পদমাধুর্য‍্য রসাস্বাদন করতেন। কিন্তু তাঁর এই লীলায় এইসব গ্রন্থনিহিত রসের যে পরাকাষ্ঠা প্রদর্শিত হয়েছে, তা মানবীয় ভাষাতে একেবারেই প্রকাশ পাবার নয়।তথাপি এইসব গ্রন্থে সেই মহাভাবের প্রতিচ্ছবি সামান্য পরিমাণে প্রদর্শিত হয়েছে।তাই মহাপ্রভু সবসময় রায়ের নাটক-গীতির রস আস্বাদন করতেন।শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দের সঙ্গে রামরায়ের রচিত গানের সাদৃশ্য পরিস্ফূট।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬৫)শ্রীরামানন্দ রায়, কাষ্ঠ পুত্তলি*
        *শ্রীরামানন্দ রায়ের গ্রন্থ*
        ***********************
*🙏শ্রীপাদ জয়দেব গোস্বামীর গ্রন্থেও দেখতে পাই=*
*🌷সরস মসৃণ মপি মলয়জ পঙ্কং,*
*🌷পশ‍্যতি বিষমিব বপুষি সশঙ্কম্*।
*🌻আবার অন‍্যত্র লিখিত হয়েছে =*
*🌷চেতশ্চন্দনচন্দ্রমঃ কমলিনীচিন্তাসু সংতাম‍্যতি।*
*🌹ফলে শ্রীকৃষ্ণ বিরহ বিধুরা শ্রীমতীর এই বাহ‍্যভাব অন্তর্নিহিত বিরহ কষ্ট আতিশর্য‍্যেরই ক্ষীণতর নিদর্শন মাত্র।ইতঃপূর্বে শ্রীরামরায়ের একটি গীত উদ্ধৃত করা হয়েছে।সেটিতে লেখা রয়েছে ঃ---*
*🌷নিরবধি নয়নসলিলভবসাদে।*
*🌷পততি কৃশা পরিচলিত চ পাদে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ শ্রীমতী বিরহাতিশয‍্যে এইরকম বিবশা হয়েছেন যে একপা চলতেও পারছেন না।কবিবর শ্রীজয়দেবের গ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায় =*
*🌷ত্বদভিসরণরভসেন বলন্তী।*
*🌷পততি পদানি কিয়ন্তী বলন্তী।।*
*☘অর্থ‍্যাৎ "তোমার সঙ্গে মিলিতা হবার আশায় তিনি যেন বলযুক্তা হচ্ছেন,আবার কয়েক পা মাত্র চলেই ক্ষীণতাবশতঃ পড়ে যাচ্ছেন।"।*
*🌻দেবী মদনিকা শ্রীকৃষ্ণের কাছে শ্রীমতীর এই অবস্থা বর্ণনা করলেন।শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতীর ভাব-পরীক্ষার উৎকৃষ্ট বা উত্তম নিদর্শন পেলেন, তিনি নিজেও তাঁর জন‍্য যথেষ্ট ব‍্যাকুল হয়েছিলেন, সুতরাং আগ্রহের সঙ্গে মদনিকাকে বললেন,"দেবি! আপনি তাড়াতাড়ি কোন উপায়ে শ্রীরাধাকে একবার এই কুঞ্জে নিয়ে আসুন। মদনিকা আর বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করে শ্রীরাধার কাছে যাত্রা করলেন।এদিকে শ্রীমতীর উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছিল।রাত্রি ক্রমেই অন্ধকার হচ্ছিল। কবিবর শ্রীরামরায় এখানে অতি কৌশলের সঙ্গে বিরহবিধুরা শ্রীমতীর শ্রীমুখে তামসী অভিসার যাত্রার কাল বর্ণনা করেছেন।শ্রীমতী তাঁর প্রিয় সখী মাধবীকে বলছেন=*
*🌹সখী!এই তো বনপথ অন্ধকারে সম্পূর্ণ ঢেকে গেল,এখন গিরিগুহা কিছুই দেখা যাচ্ছে না,জায়গা সব সমান দেখছি, এখনও তো দেবীর আগমন হল না। তিনি সেখানে কি করছেন? হায় বিধাতা আমার প্রতি কি এতই রুষ্ট হলেন, হায়!কি কষ্ট, আমার এই অসীম দুর্গম কানন লঙ্ঘন একেবারেই যে বিফল হল। এই কথা বলতে বলতেই মদনিকা এসে উপস্থিত হলেন।শ্রীরাধিকা তাঁকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, সখী! সেখানকার খবরাখবর কি?মদনিকা বললেন, "বিরহে যেরকম হয়ে থাকে,তাইই হয়েছে।শ্রীরাধা জিজ্ঞাসা করলেন, সখী!কিরকম? তখন মদনিকা বললেন=*
*ইন্দুং নিন্দতি চন্দনং বিকিরতি প্রালম্বকং মুঞ্চতি।*
*প্রালেয়াৎ ত্রসতি প্রিয়ং পরিজনং নাভাসতে সংপ্রতি।।*
*গোবিন্দস্তব বিপ্রযোগবিধুরঃ কিং কিং ন বাচেষ্টতে।*
*তৎকুঞ্জোদরতল্পকল্পনপরং রাধে তমারাধয়।।*
*☘অর্থ‍্যাৎ বৎসে!শ্রীকৃষ্ণ তোমার বিরহে দুঃখিত হয়ে কত চেষ্টাই করছেন, তিনি চন্দ্র দেখে তার নিন্দা করছেন,চন্দন দেখলেই সেটি দূরে ফেলে দিচ্ছেন,দোদুল‍্যমান গলার হারও দূরে ফেলে দিচ্ছেন,নীহার বা শিশির দেখলেই তাঁর ভয় উপস্থিত হচ্ছে,কোন প্রিয়জনের সঙ্গেও আলাপ করছেন না, বা কথা বলছেন না, সবসময় কুঞ্জগৃহে শয‍্যা রচনা করছেন।রাধে আর দেরী করিও না, এখন খুব তাড়াতাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে মিলিতা হও।*
*🌻কবিবর, মদনিকার মুখে এই কথাগুলি বলিয়ে অন‍্য দৃশ্যের জন্য পটক্ষেপ করেছেন। মদনিকাদেবী শ্রীমতী রাধিকাকে আনবার জন্য গমন করলেন, কিন্তু এদিকে প্রতিমুহূর্তেই শ্রীকৃষ্ণের উৎকণ্ঠা বেড়ে উঠতে লাগল।তিনি নানারকম আশঙ্কা করতে লাগলেন,তাঁর মনে নানান রকম ভাবনার উদয় হতে লাগল। তিনি মনে করলেন আমি শ্রীমতীর অপরিচিত সম্ভবতঃ এই জন্যই হয়ত তিনি এখানে আসতে দ্বিধা করছেন।আবার মনে করলেন তা হবে কেন, যখন অপরিচিতের কাছে অনঙ্গ-পত্র লিখলেন তখন আসতে সন্দেহ হবে কেন, সম্ভবতঃ সখীদের কথায় তাঁর একেবারেই বিশ্বাস হয় নাই--,তাই বা হবে কেন?হতে পারে তিনি আসছেন, কিন্তু একে কৃশাঙ্গী (ক্ষীণকায়ী)তাতে স্তনভার ও জঘনভারেই তিনি মন্থরগতিতে আসছেন,তাতেই হয়ত দেরী হচ্ছে, আমার এ সঙ্কেত-কুঞ্জও অতি দূরে। রমণীরা স্বভাবতই ভীরু,তার উপরে আবার অন্ধকার,কিভাবেই বা তিনি তাড়াতাড়ি আসবেন। আবার এমনও হতে পারে তিনি আসছেন, অন্ধকারে ঘন বনের পথ ঠিক করতে না পেরে পথভ্রমে অন‍্য পথে চলে গিয়েছেন।অথবা সেই কৃশাঙ্গী কামবাণে পীড়িতা হয়ে একেবারেই বিবশা হয়ে পড়েছেন। তিনি তিনি সামনে দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন আকাশে চন্দ্র উদিত হচ্ছে, তখন আরও নিরাশ হয়ে ভাবতে লাগলেন, প্রিয়তমা তামসী অভিসারিকার বেশে আসছেন, হঠাৎ চন্দ্র উদয় হওয়ায় অর্দ্ধপথে বিপদে পড়েছেন, এখন তিনি না আসতে পারছেন,না যেতে পারছেন।*
*🌻শ্রীজন্নাথ বল্লভ নাটকের শ্রীকৃষ্ণের এরকম উৎকণ্ঠাময়ী নানান ভাবনা ও শ্রীশ্রীগীতগোবিন্দের শ্রীমতী রাধার উৎকণ্ঠাময়ী নানান ভাবনা যে একরকম।*
*🌹শ‍্যামসুন্দর শ্রীমতীর দেরী দেখে এইরকম নানা ভাবনা করছেন, হঠাৎ এই সময়ে নূপুরধ্বনি শুনে শ্রীকৃষ্ণ চমকিত ভাবে তাকিয়ে দেখলেন সামনেদিকে শ্রীরাধাচন্দ্রিকার উদয় হয়েছে।*
*🍀কবিবর শ্রীরামরায় শ্রীকৃষ্ণ-কাছে শ্রীরাধার শুভাগমন যেরকম ভাবে বর্ণন করেছেন,সে বর্ণনাচাতুর্য‍্য অতীব রসময় ও প্রত‍্যক্ষদৃষ্টবৎ, যথা=*
         *রাধা মাধববিহারা।*
*হরিমুপগচ্ছতি-, মন্থরপদগতি-*
        *লঘুলঘুতরলিতহারা।।*
*শঙ্কিতলজ্জিত, রসভরচঞ্চল,*
        *মধুরদৃগন্ত-লবেন।*
*মধুমথনং প্রতি, সমুপহরন্তী,*
         *কুবলয়দামরসেন।।*
*🌻সুরসিক প্রেমিকভক্ত পাঠক উল্লিখিত চার ছত্রের প্রতি একবার ভক্তিভরে দৃষ্টিপাত করুন, দেখতে পাবেন শ্রীরামরায় মহাশয় অতি কম কথায় প্রেমতত্ত্বের কি এক গূঢ়গম্ভীর ব‍্যাপার এই চার ছত্রে স্পষ্টভাবে প্রকটন করেছেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬৬)শ্রীরামানন্দ রায়,বিশাখা*
         *শ্রীরামানন্দ রায়ের গ্রন্থ*
          ***********************
*☘শ্রীরাধিকার প্রবেশমাত্রই বিদূষক ও মদনিকা সেখান থেকে বেড়িয়ে গেলেন।এখানেই চতুর্থ অঙ্কের যবনিকা পতন হল।*
*🍀পঞ্চম অঙ্কে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের সম্ভোগকেলি এবং তারপরে অরিষ্টাসুর বধের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। এই পাঁচ অঙ্কেই শ্রীজগন্নাথ বল্লভ নাটকের পরিসমাপ্তি হয়েছে।এই সঙ্গীত নাটক হতে শ্রীকৃষ্ণ ও বিদূষকের হাস‍্যরসময় উক্তি-প্রত‍্যক্তির একটু নিদর্শন উদ্ধৃত করে দেওয়া যাচ্ছে, যথা ঃ---*
*কৃষ্ণ বলছেন=সখে!এই কোকিল গুলির ডাক কি সুমধুর।*
*বিদূষক বলছেন=বন্ধু! তোমার বংশীধ্বনি কোকিল অপেক্ষাও মধুর।তদপেক্ষা আবার আমার কন্ঠরব আরও মধুর। তুমি বংশী ধ্বনি কর,আর আমি কন্ঠরব করি*।
*অমনি কৃষ্ণ বাঁশী বাজালেন।তখন বিদূষক বললেন,"সখে! তোমার বংশীধ্বনি তো শুনলাম। এখন একবার আমার কন্ঠরব শুন"।এই বলে বিদূষক বিকট চিৎকার করতে লাগলেন এবং বৃক্ষের দিকে তাকিয়ে দেখে বললেন--,সখে দেখেছ! কোকিলগুলি তোমার বংশীধ্বনি শুনে নীরব ছিল কিন্তু আমার কন্ঠস্বর শুনে কে কোথায় পালিয়ে গিয়েছে।বংশীধ্বনির আর গর্বের কারণ নাই। বিদূষকের কথাগুলি সবসময়ই এইরকম প্রতিভাময়ী ও হাস‍্যরসময়ী।ফলে এই সঙ্গীত নাটকটি আকারে ছোট হলেও মধুরাদি নবরসের অফুরন্ত উৎস।*
*🌻আমরা এ পর্যন্ত কেবল গীতিপদ‍্যই উদ্ধৃত (কোনো উক্তি বা রচনা থেকে গৃহীত)করে তার সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলেছি।গদ‍্যে কথোপকথন সম্বন্ধে কিছুই বলিনি।এই নাটকের অনেকস্থলেই প্রাকৃত ভাষা ব‍্যবহৃত হয়েছে।বিদূষক সর্বত্রই প্রাকৃতভাষী।শ্রীরাধা,মদনিকা ও মাধবীর কথোপকথন সংস্কৃত ভাষায় লিখিত।শ্রীরাধা ক্কচিৎ ক্কচিৎ (কোথাও কখনও ) প্রাকৃত ভাষাতেও কথা বলেছেন। সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষায় শ্রীরামরায় যে যথেষ্ট পান্ডিত‍্যলাভ করেছিলেন, এই গ্রন্থে লিখিত সংস্কৃত ও প্রাকৃতভাষা দেখলেই,তার যথেষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।যেখানে যাঁর মুখে যখন যেরকম ভাষা ব‍্যবহৃত হওয়া উচিৎ, সর্বত্রই সেইরকম স্বাভাবিকতা সংরক্ষিত হয়েছে --,কোথাও বা বহুল সমাসনিবদ্ধ সুদীর্ঘ পদচ্ছটায় প্রাকৃতিক বৈভব বর্ণনায় বক্তার অশেষ পান্ডিত‍্য প্রকাশিত হয়েছে, আবার কোথাও বা অতি সংক্ষেপে সরস সরল ভাষায় সরলভাবে হৃদয়ের স্বাভাবিক কথা প্রকটিত হয়েছে।প্রাকৃত ভাষা স্বভাবমধুরা, সেটি মধুর কবি শ্রীরামরায়ের হাতে মধুরতর হয়ে উঠেছে।*
*☘শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটকের রসমাধুর্য‍্য শ্রীলোচনদাস বাংলা ভাষায় পদ‍্য অনুবাদেও সুমধুর ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।শ্রীজগন্নাথ বল্লভ নাটক যে বঙ্গবাসী ভক্তগণের পরম আদরের বস্তু ছিল, শ্রীলোচনদাসের পদ‍্য অনুবাদ দ্বারাই তা সপ্রমাণ হয়।স্বয়ং মহাপ্রভু যে নাট‍্যগীতির রসাস্বাদনে বিভোর থাকতেন, সেই নাট‍্যগীতি যে ভক্তগণের অতীব আরাধ‍্য বস্তুর মধ্যে পরিগণিত হবে এতে আর বৈচিত্র্য কি?আমরা এখানে এই নাটক আলোচনার উপসংহার(গ্রন্থের শেষ ) করলাম।*
*🍀শ্রীরামরায়ের কৃত (রচিত)অন‍্য কোন গ্রন্থ আছেন কি না, আমরা এখনও তার সন্ধান পাইনি।শ্রীরামরায় রচিত কতিপয় খন্ড সংস্কৃত পদ‍্য দেখতে পাওয়া যায়। তারমধ‍্য হতে নিচে একটি পদ‍্য উদ্ধৃত করা যাচ্ছে। শ্রীরূপ সংগৃহীত পদ‍্যবলীতে এবং কবি কর্ণপুর রচিত শ্রীচৈতন‍্যচরিতমহাকাব‍্য এই পদ‍্যটি শ্রীরামরায় রচিত বলে লিখিত আছে।শ্রীচরিতামৃতেও এই শ্লোকটি উদ্ধৃত হয়েছে,যথা=*
*নানোপচারকৃতপূজনমার্ত্তবন্ধোঃ,*
*প্রেম্নৈব ভক্তহৃদয়ং সুখবিদ্রুতং স‍্যাৎ।*
*যাবদ্ ক্ষদন্তি জঠরে জরঠা পিপাসা,*
*তাবৎ সুখায় ভবতো ননু ভক্ষ‍্যপেয়।।*
*🌹এই কবিতাটির পাঠ পদচ্ছেদ বৈচিত্রী অনুসারে ব‍্যাখ‍্যার যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।*
*🌻কেবল প্রথম দুই পংক্তিতেই বহুল অর্থ প্রকাশিত হয়েছে। আমরা পদচ্ছেদ করে কয়েক প্রকার ব‍্যাখ‍্যার মর্ম প্রকাশ করছি।*
*(১)নানোপচারকৃতপূজনম্--(১) উপচারকৃতপূজনং "নানা" অস্তি। অর্থ‍্যাৎ উপচার দ্বারা পূজন অনেক প্রকার=রাজোপচার,অষ্টাদশোপচার, ষোড়শপচার,পঞ্চোপচার ইত্যাদি। (২) অমরকোষে নানাশব্দের আরও অর্থ দেখতে পাওয়া যায়, যথা--, পৃথগ্ বিনান্তরেনর্ত্তেহিরুঙ্ নানা চ বর্জ্জনে। "নানা" শব্দে বিনা"অর্থ নিলে উপচারকৃতপূজনং বিনাপি" অর্থ‍্যাৎ উপচারকৃত পূজন বিনাও এইরকম অর্থে ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে।ব‍্যাকরণে বিধান আছে,"নানা" যোগে দ্বিতীয়া হয়।*
*(২)নানোপচারকৃতপূজন+মা+আর্ত্তবন্ধোঃ ----নানোপচারৈঃ কৃতং পূজনং যয়া সা চাসৌ মা চেতি নানোপচিরকৃতমা সা চ আর্ত্তাশ্চ তেষাং বন্ধুঃ তস‍্য। মা লক্ষ্মী ঃ-- ইন্দিরা লোকমাতা মা ইতি কোষ প্রমাণম্।*
*অর্থ‍্যাৎ নানা উপচার দ্বারা পূজা হয় যারদ্বারা এমন যে মা (লক্ষ্মী)তাঁর এবং আর্ত্তের (দুঃখিতের) বন্ধু শ্রীকৃষ্ণের।এইরকমেও ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে।*
*(৩)অপিচ (আরও) নানোপচারৈঃ কৃতং পূজনং যেন, অর্থ‍্যাৎ নানা উপচার সহ যে হৃদয় শ্রীকৃষ্ণের পূজা করেন, তাদৃশ(সেইরকম) হৃদয়ও কেবল প্রেমেই সুখবিদ্রুত(সুখে গলিত) হয়।*
*(১)আর্ত্তবন্ধোঃ ---,আর্ত্তবন্ধুর।আবার "আর্ত্তবন্ধো" এইরকম সম্বোধন পাঠও দেখতে পাওয়া যায়।তার জায়গায় হে "আর্ত্তবন্ধু শ্রীকৃষ্ণ" এইরকম বুঝতে হবে।*
*(২)আবার "আর্ত্তবন্ধোঃ" পদটি "নানাপোপচারকৃতপূজনম্" এই পদের সঙ্গে সম্বন্ধ হতে পারে ; আবার "হৃদয়" শব্দের সঙ্গেও সম্বন্ধ হতে পারে।*
*ভক্ত-হৃদয়ম্----ভক্তস‍্য হৃদয়ম্, ভক্ত-হৃদয়ম্। আবার ভক্ত পদটি সম্বোধন অর্থে ব‍্যহৃত হতে পারে।*
*নানা পূজা উপচার হতে পারে, যেমন রোজোপচার, অষ্টাদশোপচার, অথবা ষোড়শ উপচার, দশ উপচারে এবং পঞ্চ উপচারে। কিন্তু ক্ষুধাতৃষ্ণা দ্বারাই যেন খাদ‍্যদ্রব‍্য সুখকর হয়, সেইরকম কেবল প্রেমদ্বারাই ভক্তহৃদয় সুখ বিদ্রুত হয়ে থাকে।প্রেমছাড়া কেবল বাহ‍্য উপচার সেবা-সুখের হেতু নহে।এই জন্যই অন‍্যান‍্য উপচারাদির ব‍্যবচ্ছেদকতার জন্য "প্রেম্নৈব" পদে "এব" শব্দ প্রযুক্ত হয়েছে।কেবল প্রেমই সেবাসুখের হেতু।প্রেমদ্বারা হৃদয় আর্দ্রীভূত হয়।কেননা মমত্বাতিশয়যুক্ত ঘনভাবই প্রেম।মমত্বাতিশয় হলেই চিত্ত আর্দ্র (সজল) হয়।*
*সুবিদ্রুতম্---সুখপরিপ্লুত, সুখে দ্রবীভূত। পিপাসার্ত্তের শুকনোকন্ঠ যেমন জলপানে আর্দ্র(সিক্ত বা ভেজা) হয়, উক্তহৃদয়ও সেই প্রকার প্রেমদ্বারা আর্দ্র হয়ে থাকে। দৃষ্টান্ত -সাম‍্যের জন্য বিদ্রুত শব্দের প্রয়োগ উপযুক্তই বটে।*
*🌹দ্রু ধাতু গতি ও প্রাপ্তি অর্থেও প্রযুক্ত হয়ে থাকে।সেরকম অর্থে সুখবিদ্রুত অর্থ=সুখপ্রাপ্ত।*
*ফলে ভক্তহৃদয়ে সুখুদয়ের প্রেমই একমাত্র হেতু।শিন্ডিল‍্যসূত্রভাষ‍্যে ব্রহ্ম পুরাণের একটি পদ‍্য উদ্ধৃত হয়েছে, সেটি এই=*
*🍀গঙ্গাদিতীর্থে মৎস‍্যাদি থাকে,দেবলয়েও পক্ষীগণ থাকে, কিন্তু তাতে মৎস‍্যাদির গঙ্গাবাস ফল হয় না, পাখীদেরও দেবালয়বাসের ফল হয় না। কেননা তারা তদ্ভাববিবর্জিত। শ্রীকৃষ্ণ পূজনের ফল,শ্রীকৃষ্ণের পরতোষ, তার ফল প্রেম। প্রেমই সুখ। ভক্ত কবি তুলসীদাসের "নিৎ না হনেসে হরি মিলে তো জল জন্তু হোই" ইত্যাদি এবং "মীরা কহে বিনা প্রেমসে না মিলে নন্দলালা" ইত্যাদি পদটি এই শ্লোকেরই বিবৃতি।*
*জরঠ=কর্কশ,পান্ডু,জরা ও কঠিন ইতি মেদিনী।কর্কশ শব্দের অর্থ কূট দৃঢ়,খরস্পর্শ,সাহসিক ইতি শব্দরত্নাকর।*
*শ্রীরামরায়ের এই পদ‍্যটির ব‍্যাখ‍্যা আরও বহো রকমে হতে পারে। কিন্তু দৃষ্টান্ত দ্বারা স্পষ্টভাবে এটিই ব‍্যক্ত হয়েছে যে প্রেমই ভগবৎসুখ-প্রাপ্তির হেতু।যদি ক্ষুধাতৃষ্ণা না থাকে তবে নানান প্রকার খাদ‍্যের উপচার ও সুস্বাদু পেয় প্রভৃতি থাকলেই বা কি,আর না থাকলেই বা কি? ক্ষুধাতৃষ্ণা থাকলেই এইসব সুখের হেতু হয় ; সেইরকম প্রেম না থাকলে নানাপোচার পূজনও সুখকর না।*
           *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬৭)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা*
           *শ্রীরায় রামানন্দের গ্রন্থ*
            ***********************
*🍀পদকল্পতরু গ্রন্থে রামানন্দ রায়ের ভণিতায় অনেকগুলো পদ দেখা যায়।শ্রীরামরায় ও রামানন্দ বসু এই দুই মহোদয়ই রামানন্দ নামে অভিহিত।তবে ইনি রায়,আর তিনি বসু।শ্রীগৌরপদতরঙ্গিণী নামক গ্রন্থের সূচীতে পদকর্তাদের মধ্যে রামানন্দ রায় ও রামানন্দ বসু এই উভয়ের নাম ধৃত হয়েছে।শ্রীগৌরপদতরঙ্গিণী সংগ্রাহক গোলোকগত ঁজগদ্বন্ধু ভদ্র মহাশয় কি ভাবে এই উভয়ের পদাবলীর পার্থক্য নির্ণয় করেছেন,তা বুঝতে পারলাম না।তবে একটা পার্থক্য এই দেখা যায় যে,রামানন্দ বসুর পদের ভণিতায় নামের আগে বা পরে "বসু" শব্দের ব‍্যবহার আছে।তাহলে শ্রীগৌরপদতরঙ্গিণীতে রামানন্দ বসুর শ্রীগৌরাঙ্গ সম্বন্ধীয় পদ কেবল দুইটি মাত্র পেয়েছি। কেবল "বসু" শব্দ ছাড়া এই উভয়ের পদের পার্থক্যের আর কোন উপায় শ্রীগৌরপদতরঙ্গীণীতে অবলম্বিত হয়নি।"রামানন্দ"ভণিতায় শ্রীগৌরাঙ্গ সম্বন্ধীয় পদ এই গ্রন্থে অনেক দেখা হল।এর সবগুলিই শ্রীরামানন্দ রায় রচিত কিনা,তার সম্বন্ধে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে। শ্রীগৌরপদতরঙ্গিণীতে যে দুইটি পদ রায় রামানন্দের বলে নির্দেশ করা হয়েছে সেই দুইটি পদ নীলাচলবাসী রামানন্দ রায় কবিরচিত কিংবা বর্দ্ধমানের কুলীনগ্রামবাসী রামানন্দ বসু রচিত,তার সম্বন্ধে পাঠক মহোদয়গণের যেরকম ধারণা হয়,সেইরকমই বিশ্বাস করতে পারেন।এ সম্বন্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে কোন কথা বলতে সাহসী নহি।ফলতঃ পদে "বসু" উপাধির উল্লেখ না থাকলেই যে "রায় রামানন্দ রচিত" বলে বুঝতে হবে, আমরা এর কোন বিশিষ্ট যুক্তি পেলাম না। রামানন্দ রায় উৎকলবাসী ছিলেন। বাংলা ভাষায় পদাবলী লিখতে তিনি অভ‍্যাস করেছিলেন কিনা,তা আমরা জানবার জন্য চেষ্টা করেও কৃতকার্য‍্য হতে পারিনি।এইসব পদের মধ্যে অধিকাংশ পদের ভাষায় বর্দ্ধমান অঞ্চলের বাংলা ভাষা।শ্রীরামানন্দ রায় মহাশয়ের "পহিলহি রাগ নয়ন ভঙ্গ‍্যা ভেল" সুপ্রসিদ্ধ পদটি ব্রজবুলিতে লিখিত।এই সময়ে বঙ্গে ও উৎকলে ব্রজবুলিতে পদলেখার যথেষ্ট প্রচলিত ছিল। সুতরাং শ্রীরায় মহাশয় উৎকলের ভাষার পরিবর্তে ব্রজবুলিতে পদ লিখবেন, এটি বিস্ময়ের বিষয় নহে। কিন্তু রামানন্দ রায় বর্দ্ধমান অঞ্চলের বাংলা ভাষায় পদ রচনা করতেন কিনা,এ বিষয়ে কোন কোন পাঠকের মনে সন্দেহ হতে পারে।বসু রামানন্দ শ্রীগৌরাঙ্গের প্রিয়ভক্ত।তিনি বাঙ্গালী, এবং বর্দ্ধমান অঞ্চলবাসী।"রামানন্দ"নাম ভণিতায় শ্রীগৌরাঙ্গ সম্বন্ধীয় যেসব বাংলা পদ দেখা যায়,সেইসব পদের রচয়িতা যে বসু রামানন্দ নহেন, তারই বা প্রমাণ কি?তিনি হয়ত দুই একটি পদেই বসু রামানন্দ ভণিতা লিখতেন, বাকী পদগুলিতে "বসু" ভণিতা প্রদান করেননি। এইরকম অনুমান করার বিরুদ্ধেও কোন যুক্তি দেখতে পাই না।রামরায় মহাশয়ের প্রণীত জগন্নাথবল্লভ নাটকের সংস্কৃত পদাবলীতে কোথাও বা "রামানন্দ রায়" আবার কোথাও বা কেবল "রামানন্দ" ভণিতা দেখা যায়। সুতরাং কোন পদের ভণিতায় "বসু" শব্দ না থাকলেই যে সেটি রামানন্দ বসু রচিত নহে,এমন মনে করা যেতে পারে না।*
*🍀"নীলমণি চন্দ্রোদয় " গ্রন্থের প্রণেতা মনোহর দাস নিজেকে "রায় রামানন্দের বংশ বলে পরিচিত করেছেন" এবং এই গ্রন্থে বৎস পরিচয় স্থলে লিখেছেন--,ইঁনাদের পূর্বপুরুষগণ উৎকলবাসী ছিলেন।মনোহর দাসের ভাই কার্য‍্যোপলক্ষ‍্যে বর্দ্ধমানে এসে বসবাস করেন এবং মনোহরকেও বর্দ্ধমানে নিয়ে চলে আসেন। উভয়ে এইখানেই বসবাস করেন। "দিনমণিচন্দ্রোদয়" লেখকের সঙ্গে রায় রামানন্দের প্রকৃত পক্ষে কোন সম্বন্ধ ছিল কিনা, অথবা এটি কেবল এই গ্রন্থ-রচয়িতার বিশিষ্ট কুলোদ্ভবতা পরিচয়ের জন্য রুচিসঙ্গত একরকম প্রয়াস বিশেষ।*
*তার সম্বন্ধে আমাদের কোন বক্তব‍্য নেই।মৃত‍্যুঞ্জয় তর্কালঙ্কার ও গোপাল উড়ে উৎকলবাসী হয়েও বাংলা সাহিত‍্যে প্রসিদ্ধি লাভ করে গিয়েছেন। সুতরাং ভাষার প্রশ্ন তুলে শ্রীরামরায় মহাশয়কে এইসব পদের রচয়িতার অধিকারিত্ব হতে বিচ‍্যুত করা ও যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। শ্রীরামরায় মহাশয় আমাদের ভক্তির সামগ্রী। কিন্তু তাই বলে রামানন্দ বসুকে বঞ্চিত করা রামরায়কে বিনা প্রমাণে কতিপয় গৌরপদাবলীর রচয়িতা বলে স্থির করা যুক্তিসঙ্গত নহে। শ্রীগৌরপদাবলীতে "রামানন্দ" ভণিতায় যেসব পদ আছে, সেইসব পদ রামানন্দ রায় বা রামানন্দ বসু অথবা অন‍্য কোন রামানন্দের রচিত তা নির্ণয় করা সুকঠিন। সুতরাং অজ্ঞাতস্থলে পরে বা একের কৃতিত্ব অন‍্যের বলে প্রকাশ করে ন‍্যায় ও সত‍্যের মর্য‍্যাদা লঙ্ঘন করি, এই ভয়ে আমরা শ্রীগৌরপদাবলী-রচয়িতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছিলেন। কিন্তু শ্রীগৌরপদতরঙ্গিণীকারের সূচী অনুসারে আমরা ইঁনার রচিত দুইটি মাত্র পদ দেখতে পাই।ইঁনার রচিত পদের এত অল্পতা সম্ভবপর নহে।এ সম্বন্ধে বেশী বলা মনে হয় নিষ্প্রয়োজন।*
*🙏জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরি হরিবল, ভুল ভ্রান্তি, বানান ক্ষমা করবেন🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🦚(১৬৮) শ্রীরায় রামানন্দ পরিশিষ্ট🦚*
    *অন‍্যান‍্য গ্রন্থের কিছু কথা*
   🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
*🍀শ্রীরামানন্দ রায় সম্বন্ধে এই গ্রন্থে যা লিখিত হয়েছে,শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতই তার প্রধান অবলম্বন।অন‍্যান‍্য কোন কোন গ্রন্থ হতে যতটুকু প্রয়োজনীয় বলে বোধ হয়েছে,সেইটুকুই নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাছাড়া আরও একটি গ্রন্থে রায় মহাশয়ের পরিচয় এবং কিছু কিছু কথা লেখা হয়েছে। শ্রীরামরায় সম্বন্ধে অন‍্যান‍্য গ্রন্থে যা কিছু লেখে হয়েছে,এক জায়গায় সেইগুলি সংগ্রহ করে রাখলে যাঁরা ভবিষ্যতে এই রসময় চরিতসুধা প্রণয়ন করবেন,উপাদান সংগ্রহ ব‍্যাপার তাঁদের পক্ষে সহজ হবে এইরকম মনে করে আমরা অপ্রামাণিক ও প্রামাণিক,আধুনিক ও প্রাচীন যে কোন গ্রন্থে শ্রীরামানন্দ রায়ের কথা পেয়েছি, তারমধ‍্যে এই গ্রন্থে যে সব পুস্তকের অভিপ্রায় গৃহীত হয় নাই এই পরিশিষ্টে সেইসব গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত মর্ম্ম উল্লেখ করা যাচ্ছে।*
*🍀(১)শ্রীলোচনদাসের শ্রীচৈতন‍্য মঙ্গল পাঠে জানা যায়,শ্রীরায় মহাশয় যখন আপন নির্জন গৃহে বসে নিত‍্য কৃষ্ণপূজা করছিলেন,সেই সময়ে তিনি শ্রীকৃষ্ণধ‍্যানে অচিন্ত‍্যপূর্ব (আগে যা চিন্তা করা হয়নি এমন) ও অশ্রুতপূর্ব (পূর্বে শোনা যায়নি এমন) শ্রীগৌরাঙ্গরূপ দর্শন করেন,তিনি পুনশ্চ শ্রীকৃষ্ণধ‍্যানে রত হন, আবার সেই কষিত (কষ্টিপাথরে পরীক্ষিত) কনককান্তি বিনিন্দিত শ্রীগৌরাঙ্গমূর্তি তাঁর হৃদয়ে আবির্ভূত হন। তিনি বিস্মিত হয়ে আবার তাঁর নিত‍্যধ‍্যেয় (প্রত‍্যেকদিন যে চিন্তা নিয়ে ধ‍্যান করেন) শ্রীকৃষ্ণধ‍্যানে চিত্ত দৃঢ় করতে রত হলেন, কিন্তু বড়ই আশ্চর্য‍্যের সেই নিরুদ্ধ (অবরুদ্ধ)চিত্তে আবার সেই মহাবলবান্ শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর প্রোজ্জ্বলরূপে উদ্ভাসিত হলেন। রামরায় স্তম্ভিত ও বিস্মিত হয়ে নয়ন উন্মীলিত করলেন, তিনি দেখতে পেলেন সেই ভুবনমোহন ধ‍্যানদৃষ্ট মহাপুরুষ স্বশরীরে তাঁর পুরোভাগে (সম্মুখে) বিরাজমান।সেই মহাপুরুষ প্রহরীগণের নিষেধ বাধা না মেনে ভক্তবাঞ্জা-কল্পতরু ভক্ত-হৃদ-বিহারী শ্রীশ্রীগৌরহরি হঠাৎই শ্রীরামরায়ের অন্তঃপুরে তাঁর নির্জন ধ‍্যানমন্দিরে পদার্পণ করে তাঁকে দেখা দিলেন। সাক্ষাৎ দর্শনের পূর্বে রামরায়ের ধ‍্যানের সময় তাঁর চিত্তে শ্রীগৌরাঙ্গরূপ প্রকাশিত,অদ্ভুত ও আধ‍্যাত্মিকতাপূর্ণ।অর্থ‍্যাৎ কোন সময়ের জন্য বিন্দুমাত্রও চিন্তা করেননি।যাঁকে আমি কোনদিনই নাম শুনেনি, রূপ চিন্তা করিনি, তিনি স্বয়ং সম্মুখে বিরাজমান। চৈতন‍্যমঙ্গলে লেখা আছে মহাপ্রভু "কাঞ্চিনগরে" রামরায়ের সঙ্গে মিলিত হন।কাঞ্চিনগরটি গোদাবরী নদীতটবর্তী বলেই লোচনদাসের বর্ণনায় জানা যায়।শ্রীপাদ মুরারি গুপ্তের গ্রন্থ হতেই শ্রীলোচনদাস রামানন্দ-মিলন উক্ত অংশ গ্রহণ করেছেন।শ্রীমুরারি গুপ্ত মহাশয়ও কুঞ্চিনগরেই রামানন্দ মিলনের জায়গা নির্দেশ করেছেন।*
*🍀(২)ভজন নির্ণয় নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। শ্রীমদ্ বৃন্দাবনদাস ঠাকুর এই গ্রন্থের রচয়িতা বলিয়া লেখা হয়েছে। কিন্তু এই গ্রন্থখানি শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের পরে বিরচিত হয়েছে বলেই অনেকরই বিশ্বাস।এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় কর্তব‍্যে শ্রীরামরায়ের কথা আছে।সেটিতে সবিশেষ কোন নূতন তত্ত্ব নেই। এই গ্রন্থেও শ্রীরামরায়কে বিশাখা ও স্বরূপদামোদরকে ললিতা বলে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।এই গ্রন্থে একটি নূতন বিষয় আছে।ইনি লিখেছেন শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর শিষ্য রাঘবেন্দ্র পুরী, তাঁর শিষ্য শ্রীরামানন্দ রায়। যথা=*
*🌷মাধবপুরীর শিষ্য রাঘবেন্দ্রপুরী।*
*🌷তার শিষ্য রামানন্দ প্রেম-অধিকারী।।*
*🍀এই কথার পোষকতা অন‍্য কোন বিখ‍্যাত প্রামাণিক বৈষ্ণব গ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায় না।*
*🌺(৩)জয়ানন্দ মিশ্রের চৈতন‍্যমঙ্গল নামক একটি গ্রন্থ পুরোনো গ্রন্থ নহে, প্রকাশিত হয়েছে।এতেও রামানন্দের উল্লেখ আছে। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বর্ণিত শ্রীরামরায় সমুজ্জ্বল অলৌকিক দেবমূর্তিতে উদ্ভাসিত হয়েছেন, এমন কি তিনি স্বয়ং মহাপ্রভু্রও উপদেষ্টৃরূপে(উপদেশদাতারূপে) বর্ণিত হয়েছেন।জয়ানন্দ মিশ্র তাঁর চৈতন‍্যমঙ্গলে সেই রামানন্দের অতি শোচনীয় দুরবস্থা করে রেখেছেন,সেটির একটুকু নিদর্শন এখানে উদ্ধৃত করা যাচ্ছে। এই গ্রন্থে পুরীতেই রামানন্দ-মিলনের স্থান নির্দেশ করা হয়েছে।রাজা রামানন্দ রায়ের সোনার সিংহাসন,হাতী,ঘোড়া,পতাকা,পরিচ্ছদ, বাদ‍্যভান্ড ও রাজকীয় ঠাটের বিপুল বর্ণনা এই গ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু এই গ্রন্থে শ্রীপাদ রামরায়ের আধ‍্যাত্মিক চরিত্র একেবারেই বিকৃত করা হয়েছে।*
*🌷গন্ধে আমোদিত দশ দিক সিন্ধুতটে।*
*🌷রায় রামানন্দ আইলা প্রভুর নিকটে।।*
*🌷তা দেখিয়া হাসিল চৈতন‍্য দয়ানিধি।*
*🌷রায় রামানন্দে এত বিড়ম্বিল বিধি।।*
*🌷হিঙ্গুলিয়া ত্রিশূলে বসিতে কত সুখ।*
*🌷কৃষ্ণ সঙ্কীর্তনে নৃত্যে হৈয়াছে বৈমুখ।।*
☆           ☆           ☆          ☆            ☆
*🌷শূকর কুটীরে তুমি হৈয়াছ বিভোর।*
*🌷হেন দেহে না পাইলে বৈষ্ণবের ক্রোড়।।*
*🌷হেন চক্ষে না দেখিলে শ্রীজগন্নাথ।*
*🌷জগন্নাথের সেবায় না করিলে জোড়হাথ।।*
*🍀এইরকম বহু তিরস্কার করে মহাপ্রভু শ্রীপাদ রায় রামানন্দকে ধর্মোপদেশ প্রদান করেন।এই গ্রন্থটি অবশ‍্য বৈষ্ণবসমাজ অবিদিত ও অনাদৃত। এতে বহুল অবাস্তব সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধ ও ভক্তিচিত্ত কষ্টকর অলীক কথার উল্লেখ আছে।*
*🍀(৪) রস-তত্ত্ব-সার নামে বৈষ্ণব সম্প্রদায় বিশেষের একটি হাতে লেখা গ্রন্থ আছে।সেটি অবশ‍্য অমুদ্রিত।লেখক এই গ্রন্থটিকে স্বরূপদামোদরের কড়চা বলে অভিহিত করেছেন।গ্রন্থকার নানাভাবে এই গ্রন্থের পরিচয় দিয়েছেন-- কোথাও লিখেছেন,এই গ্রন্থটি শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের কড়চা, আবার কোথাও লিখেছেন, মূল কড়চা সংস্কৃতে বিরচিত, এই গ্রন্থটি তদবলম্বনে লিখিত।যাইহোক, এই গ্রন্থটি বিশুদ্ধ বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের গ্রন্থ নহে।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের অনেক পরে এই গ্রন্থখানি রচিত হয়েছে।এতে রায় রামানন্দের সঙ্গে মহাপ্রভুর কথোপকথন আছে। সেটি শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের বিকৃত অনুবাদ ছাড়া আর কিছুই নাই।এতে কোন নূতন কথা নাই, কিন্তু বহু জায়গায় সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধ কথাও আছে।যদিও এই গ্রন্থের রামানন্দ-মিলন-পরিচ্ছেদে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের পয়ারের প্রতিধ্বনিমাত্র, কিন্তু এর জায়গায় জায়গায় মূল গ্রন্থের কথা,ভাব ও মহান উদ্দেশ্য শোচনীয়ভাবে বিকৃত করা হয়েছে।সম্প্রদায় বিশেষের গ্রন্থকারগণ মহাপ্রভুর,তাঁর পারিষদগণের এবং প্রধান প্রধান ভক্তগণের চরিত্র ও ভজনমুদ্রাদি যিরকম বিকৃত ও দোষাবহরূপে বর্ণিত করেছেন,এ গ্রন্থেও সেইসব ভাব যথেষ্ট পরিমাণেই আছে।*
*🌻এছাড়াও মুরলী বিলাস ও গোবিন্দদাসের কড়চা প্রভৃতি গ্রন্থেও রামানন্দের শিক্ষাদির উল্লেখ আছে। কিন্তু এইসব গ্রন্থ অত‍্যন্ত আধুনিক এবং তাদের বর্ণনা শ্রীচরিতামৃতেরই ক্ষীণ প্রতিধ্বনিমাত্র।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🔥🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬৯) শ্রীরামানন্দ রায়, পরিশিষ্ট (২)*
*রামানন্দ রায় কি শূদ্র বর্ণোদ্ভব?*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরীতামৃতের বর্ণনায় রামানন্দ রায়কে শূদ্র বলেই জানা যায়। কিন্তু রায় মহাশয় শূদ্র ছিলেন কি না এটি বিচার্য‍্য।রামরায় উড়িষ্যার রাজা বলেই খ‍্যাত ছিলেন। রায় শব্দটি ক্ষত্রিয় বর্ণেই ব‍্যবহৃত হত।বিদ‍্যানগরের বুক্ক রাজবংশ ক্ষত্রিয় ছিলেন।ইঁনাদের যে বংশাবলী আছে তা "রায়বংশাবলী" নামে খ‍্যাত। উড়িষ্যার রাজগণ ক্ষত্রিয়।প্রতাপরুদ্রও ক্ষত্রিয় ছিলেন।বর্তমান সময়েও উড়িষ্যায় যে সব প্রাচীন রাজবংশ আছেন,তাঁদের মধ্যে প্রায় সকলেই ক্ষত্রিয়।রায় ভবানন্দ শূদ্র বা করণ ছিলেন,এমন মনে হয় না।শ্রীলোচনদাস কৃত শ্রীচৈতন‍্যমঙ্গল পাঠে জানা যায়,রায় ভবানন্দও রাজা ছিলেন এই গ্রন্থে রামানন্দকে কুঞ্চিনগরের রাজপুত্র বলা হয়েছে,যথা=*
*🌷প্রভু কহে রাজপুত্রে জানাহ বচন।*
*🍀এই গ্রন্থ পাঠে আরও জানা যায় রামানন্দের একাধিক রাণী ছিলেন, যথা=*
*🌷রাণীগণ দেখে কান্দে আনন্দিত মনে।*
*🌷সন্ন‍্যাসীর বেশে ফিরে রাধার রমণে।।*
*🍀বিদ‍্যানগরের রাজবংশের অনেক রাজারই একাধিক রাণী ছিলেন।এই প্রথা সেইসময়ে রাজবংশের সম্মানরূপে গণ‍্য হ'ত।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতেও রামানন্দ রায়কে রাজাখ‍্যায় ভূষিত করা হয়েছে।ক্ষত্রিয়োচিত নানান কাজের ভার যে তাঁর উপরে অর্পিত ছিল, যুদ্ধাদি ব‍্যাপারের জন্য যে অগণ‍্য সৈন‍্য,হাতী,ঘোড়া,ও নানান যুদ্ধসজ্জা তাঁর পরিচালনায় নিযুক্ত থাকত, সেইসব সম্বন্ধে যথেষ্ট প্রমাণ উক্ত গ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায়।সেইসব বিবরণ পাঠে স্পষ্টভাবেই মনে হয় রাজা শ্রীরামানন্দ রায় ক্ষত্রিয় ছিলেন। কিন্তু শ্রীচরিতামৃতে একাধিক জায়গায় তাঁকে শূদ্র বলেই অভিহিত করা হয়েছে।*
*🍀অনেকেই মনে করেন এই সময়ে বাঙ্গালীরা ব্রাহ্মণ ও শূদ্র ছাড়া অন‍্য কোন বর্ণের খবর রাখতেন না।সুবিখ‍্যাত বাচস্পতি মিশ্রেরও এইরকম ধারণা ছিল।সুপ্রসিদ্ধ স্মৃতি-নিবন্ধকার রঘুনন্দনের শুদ্ধিতত্ত্বে স্পষ্টভাবেই লিখিত আছে,=*
*🌷যুগে জঘন‍্যে দ্বে জাতী ব্রাহ্মণঃ শূদ্র এব তে।*
*🍀এমন কি বৈদ‍্যপন্ডিত ভরত মল্লিক স্বকৃত "চন্দ্রপ্রভা" নামে বৈদ‍্যকুল পঞ্জিকাতেও লিখেছেন--,*
*🌷এবমম্বষ্ঠাদীনামপি কলৌ শূদ্রত্বমিতি স্ব স্ব গ্রন্থেষু,*
*🌷বাচস্পতি মিশ্রাদিভি স্মার্ত্তভট্টাচার্য‍্যেণাপ‍্যুক্তম্।*
*🍀ফলে এই সময়ে এ দেশবাসীগণের ক্ষত্রিয় ও বৈশ‍্যবর্ণের অস্তিত্ব ধারণা এইরকম বিলুপ্ত হয়েছিল। সুতরাং এটি অসম্ভব নহে যে শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ মহোদয়ও এই সুপ্রচলিত ধারণার বশবর্তী হয়ে রায় রামানন্দকেও শূদ্র বলেই অভিহিত করেছেন।রায় মহাশয় পরম ভক্ত ছিলেন। কিন্তু তবুও তিনি নিজ গ্রন্থ জগন্নাথ বল্লভ নাটকে নিজের নামের পরে শূদ্রত্বব‍্যঞ্জক দাস উপাধি সংযোজন করেননি।উক্ত গ্রন্থে গ্রন্থকারের নিজ পরিচয় স্থলে এবং গানগুলির ভণিতায় রায় উপাধিই দেখা যায়।*
*🍀দাক্ষিণাত‍্যের ক্ষত্রিয় নৃপতিগণের রায় উপাধি ঐতিহাসিক সত‍্য।সম্ভবতঃ ভবানন্দ রায়ের পূর্ব পুরুষ দাক্ষিণাত‍্যে হতেই উড়িষ্যায় আগমন করেন।রায় রামানন্দ বিজয়নগরের সুবিখ‍্যাত ক্ষত্রিয় রায় বংশসম্ভূত বলেই আমাদের বিশ্বাস।বিজয়নগরের রায় বংশ অতি প্রাচীন।ধনে,মনে,কুল-গৌরবে,বিদ‍্যা, বুদ্ধি ও যশঃ, সৌরভে ইঁনারা বহুকাল নিজ বংশের গৌরব রক্ষা করেন।সুপ্রসিদ্ধ রায় রামানন্দ যে এই প্রাচীন প্রখ‍্যাতনামা বংশের কুল-গৌরব এটিই যুক্তিযুক্ত অনুমান।*
*👑👑বিদ‍্যানগর সাম্রাজ্য👑👑*
*********************************
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লিখিত আছে মহারাজ প্রতাপরুদ্র শ্রীরামানন্দ রায় মহাশয়কে মহারাজ প্রতাপরুদ্র "রাজমহেন্দ্রীর" রাজপদে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ; যথা শ্রীচরিতামৃতে নবম পরিচ্ছেদে অন্ত‍্যলীলার নবমে মহারাজ প্রতাপরুদ্র বলেছিলেন=*
*🌷রাজমহেন্দ্রীর রাজা কৈনু রামরায়।*
*🌷যে খাইল,যেবা দিল,নাহি তার দায়।।*
*🍀এই রাজমহেন্দ্রী জায়গাটি এখনও বতর্মান।রাজমহেন্দ্রী গোদাবরী তটে অবস্থিতা। কিন্তু মহাপ্রভুর দক্ষিণযাত্রার সময়ে শ্রীপাদ সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য বলে গিয়েছিলেন,*
*🌷রামানন্দ রায় আছে গোদাবরী তীরে।*
*🌷অধিকারী হয়েন তিঁহো বিদ‍্যানগরে।।*
*🙏শ্রীরামানন্দ রায় চরিত শেষ পরিশিষ্ট পর্ব আগামীকাল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭০) শ্রীরায় রামানন্দ,পরিশিষ্ট (৩) 
👑👑বিদ‍্যানগর সাম্রাজ্য👑👑*
*রামানন্দ রায় আছে গোদাবরী তীরে।*
*অধিকারী হয়েন তিঁহো বিদ‍্যানগরে।।*
*🍀ফলে এই সময়ে বিদ‍্যানগর এক বিপুল সাম্রাজ্য ছিল।কুমারিকা অন্তরীপ হতে বঙ্গের সপ্তগ্রাম ত্রিবেণী পর্য‍্যন্ত এই বিশাল সাম্রাজ্যের সীমা নির্দ্ধারিত হত।আবদুল রজক নামক পারস‍্য রাজদূত বিদ‍্যানগর সাম্রাজ্যের এইরকম সীমা প্রত‍্যক্ষ করেছিলেন।তিনি বলেন বিদ‍্যানগরের উত্তর প্রান্ত হতে দক্ষিণ প্রান্ত তিন মাসের পথ।প্রতিদিন ২০ মাইল হিসাবে ভ্রমণ করলে তিনমাসে ১৮০০ মাইল পথ ভ্রমণ করা যায়।আবদুল রজকের কথা অতিরঞ্জন বলে মনে হয় না।বিদ‍্যানগরই এই বিশাল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল।এই দাক্ষিণাত‍্যে তুঙ্গভদ্রা নদীর দক্ষিণতটবর্তী।দাক্ষিণাত‍্যের প্রাচীন ইতিহাসে বিদ‍্যানগর অতীব বিখ‍্যাত ও সমৃদ্ধশালী জায়গা।এর প্রাচীন নাম "বিজয়নগর "।প্রাচ‍্যবিদ‍্যামহার্ণব বিশ্বকোষ সম্পাদক সুহৃদবর শ্রীযুক্ত নগেন্দ্রনাথ বসু মহাশয় এই সুবিশাল সাম্রাজ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণী বিশ্বকোষের জন্য লিখতে আমার উপরে ভার অর্পণ করেন,বিশ্বকোষের সেই প্রবন্ধ হতে বিদ‍্যানগর সমৃদ্ধি সম্বন্ধে পংক্তি নিচয় উদ্ধৃত হল=*
*👑বিদ‍্যারণ‍্য মাধবাচার্য‍্যের নামানুসারে প্রাচীন বিজয়নগর বিদ‍্যানগর নামে অভিহিত।মাধবাচার্য‍্য বিজয়নগরের রাজাদের গুরু রাজনীতিক উপদেষ্টা ও মন্ত্রী ছিলেন।বিজয়নগরের ধ্বংসাবিশেষের উপর মাধবাচার্য‍্য বিদ‍্যারণ‍্য সুবিপুল অভিনব নগর সংস্থাপিত করেন। তিনি এই বিপুল রাজধানীর সংস্থাপয়িত সুতরাং তদীয় উপাধি অনুসারে এই নগর "বিদ‍্যানগর" নামে অভিহিত হয়।সেই সময় হতেই এই বিশাল সাম্রাজ্যের আয়তন, অর্থ-গৌরব ও রাজবৈভব দিন দিন বাড়তে থাকে।এর বিশাল বৈভবের কথা শুনে পারস‍্য ও ইউরোপ প্রভৃতি জায়গার পর্য‍্যটকগণ এই মহানগর সাক্ষাৎ দেখবার জন‍্য আগমন করেন।বিদ‍্যানগরে সেইসময়ে বৈভব বাস্তবিকই বর্ণনাতীত।গগনভেদি গিরিমালার মত সুদৃঢ় দূর্গমালা, কবিকল্পিত ইন্দ্রপুরী বিনিন্দিত বিপুল বৈভবান্বিত বহুমূল‍্য ভোগবিলাস উপকরণ দ্রব‍্যাদি পরিপূর্ণ নিরুপম শোভাময় শত শত রাজপ্রাসাদ, নগরবক্ষঃ প্রবাহিণী বহুল জলপ্রবাহিকা,শত শত দেবমন্দির,অগণ‍্য শিক্ষার্থিসঙ্কুল বিদ‍্যালয় সব,মহামূল‍্য নানান দ্রব‍্য পরিপূর্ণ অগণ‍্য পণ‍্যবীথিকা, বিলাসিজনসেব‍্য সুরম‍্য প্রমোদ ভবন, চিরহরিৎ শোভাময় লতামন্ডপ, সুবিপুল পুষ্পোদ‍্যান, কোমল কমলকুসুম-কহ্লারপূর্ণ শত শত সরোবর,সৌধশ্রেণী মধ‍্যবর্তী সরল ও সুদীর্ঘ রাজপথ,বহুসংখ‍্যক সুবিশাল পান্থশালা,হস্তিশালা,অশ্বশালা,গ্রীষ্মাবাস,ফলোদ‍্যান,মন্ত্রভবন,সভামন্ডপ, ধর্ম‍্যাধিকরণ প্রভৃতি নাগরীয় বৈভবে এই সমস্তে বিদ‍্যানগর জগতের প্রধানতম নগররূপে পরিণত হয়েছিল। "কৃষ্ণদেব রায়লুর" সময়ে একশ চল্লিশ বর্গমাইল পরিমিত ভূখন্ডের উপর এই সুবিশাল নগর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।এর সর্বত্রই ঘন লোকবসতি দেখা গিয়েছিল।সুদূর দেশাগত বণিকমন্ডলী ও রাজপ্রতিনিধিগণ বিদ‍্যানগরে এসে নিজ নিজ কাজ পরিচালনা করতেন।সেনাবিভাগে অনবরত হাজার হাজার লোক নিযুক্ত থাকত।বিদ‍্যানগরের হাজার হাজার শিল্প এই সময়ে সমগ্র জগতে খ‍্যাতিলাভ করেছিল।স্থাপত‍্যবিদ‍্যা,কলাবিদ‍্যা,অস্ত্র নির্মাণ বিদ‍্যা,বহুপ্রকার শিল্পবিদ‍্যা,হাতী-ঘোড়া শিক্ষাদান বিদ‍্যা,সমরবিদ‍্যা,বিদ‍্যা, বেদাধ‍্যয়ন,যাজনিক শাস্ত্রাধ‍্যয়ন, প্রভৃতি প্রাচীন হিন্দু সভ‍্যতার সবরকম উপাদান পূর্ণরূপে বিদ‍্যানগরে দেখা গিয়েছিল।*
*কৃষ্ণদেব রায়লুর রাজত্বকালে বিদ‍্যানগর অতুলনীয় সমৃদ্ধিতে পূর্ণ হয়ে উঠেছিল।তখন বিদ‍্যানগরে ১০০০০০ পদাতি,৩০০০০ অশ্বারোহী ও ৪০০০ গজারোহী সৈন‍্য নানান যুদ্ধ সম্ভারসহ কেবল রাজধানী সংরক্ষণ করার জন্য নিযুক্ত থাকত।রাজার দেহ রক্ষা করার জন্য ৬০০০ সুশিক্ষিত, সুসজ্জিত অশ্বারোহী সৈন‍্য সবসময়ই রাজার সঙ্গে থাকত।২০০০০ পালকী রাজকার্য‍্যের জন্য সবসময় নিযুক্ত থাকত।রাজার নিজ ব‍্যবহারের জন্য এক হাজার খুব বড় ও সুষ্পুষ্ট ঘোড়া সবসময়ই অশ্বশালায় থাকত। ঐতিহাসিক ও কতিপয় পর্য‍্যটক বিদ‍্যানগর সম্বন্ধে যা লিখে গিয়েছেন তা দেওয়া হল।*
*🌹চার পৃষ্ঠা ইংরেজিতে লেখা তা লিখিলাম না, 🙏শ্রীরামানন্দ রায় চরিত সংক্ষিপ্তাকারে এখানেই রইল, বানান,ভুল, ভ্রান্তি মার্জনা করবেন🙏*
*🙌 জয় জয় শ্রীরায় রামানন্দের জয়, জয় শ্রীমন্মহাপ্রভুর জয়, জয় জয় সকল ভক্তমন্ডলীর জয়।*
*🌻গ্রন্থে যেভাবে লেখক লিখেছিলেন তা হুবহু তুলে ধরলাম।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds