শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)শ্রীঅদ্বৈতার্য‍্যের চরিতসুধা*
         *বৈষ্ণব-অপরাধ খন্ডন*
      """""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀একদিন শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীবাস মন্দিরে বিষ্ণখট্টায় বসে সকলকে বরদান করতে আরম্ভ করলেন। অখিলরসামৃতমূর্তি শ্রীগৌরসুন্দর প্রত‍্যহই এক এক ভাবে প্রেমের বহু বৈচিত্র্য প্রকাশ করতে লাগলেন।ভক্তগণ যদিও সকলেই গৌরপ্রেমের পাত্র, সকলেই মহাপ্রেমিক, তবুও প্রেমরূপ মহাসমুদ্রের এক এক রত্ন এক এক দিন শ্রীমন্মহাপ্রভু কৃপা করে বিতরণ করেন।সেদিন মহাপ্রভু এক অভিনব প্রেম রত্ন প্রকাশ করলে, ভক্তগণ মহানন্দিত হয়ে সেই অপূর্ব বস্তু শ্রীশচীমাতাকে আস্বাদন করাইতে অনুরোধ করলেন।তখন মহাপ্রভু বললেন,ইহা বৈষ্ণবাপরাধীর পক্ষে সুদুর্লভ।*
*তখন সকলে বললেন, স্বয়ং ভগবান যাঁর গর্ভে অবতীর্ণ হয়েছেন,তাঁর অপরাধ থাকতেই পারে না।তখন গৌরহরি বললেন,শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের কাছে ইঁনার অপরাধ আছে।আমি প্রতিকার-উপায় বলে দিতে পারি, কিন্তু বৈষ্ণব-অপরাধ খন্ডাতে পারি না।যে বৈষ্ণবের কাছে যার অপরাধ আছে,তিনি ক্ষমা করলে তবেই অপরাধ ঘুচে।অন‍্যের পক্ষে তা সম্ভব না। দুর্বাসামুনির অম্বরীষের কাছে অপরাধ ক্ষমার বিষয় সকলেরই জানা আছে।অতএব অদ্বৈতের চরণের ধূলি শচীমা মস্তকে ধারণ করলে সেই অপরাধ যদি আচার্য‍্য ক্ষমা করেন,তবে আমি আজ্ঞা করব,তখন তাঁর প্রেমরস আস্বাদন সম্ভব হবে।তখন সকলে মিলে শ্রীঅদ্বৈতের স্থানে গিয়ে সমস্ত বিবরণ বললেন।এইকথা শুনে তখন আচার্য‍্য বিষ্ণুস্মরণ করে বললেন, তোমরা ওকথা মুখে এনো না।যাঁর প্রেমে বশীভূত হয়ে ভগবান পরমস্বতন্ত্র হয়েও তাঁর গর্ভে আবির্ভূত হয়েছেন,সেই জগন্মাতা বিষ্ণুভক্তির মূর্তিমতী,পরমবৈষ্ণবী শ্রীশচীমায়ৈর কখনও অপরাধের সম্ভাবনা থাকতে পারে?তাঁর দুর্বিজ্ঞেয় তত্ত্ব আমি একটু অবগত আছি বা জানি।যদি সেই অভিন্না দেবকী-যশোদাস্বরূপার "আই"(মা) নাম কেও তত্ত্ব অবগত না হয়েও মুখে বলে,তার সর্বদুঃখ বিমোচন হয়ে যায়।অর্থ‍্যাৎ তাঁর নামের এত গুণ যে, কেবল না নিলেই সর্বদুঃখ দূর হয়। আচার্য‍্য বলেছেন, আমি তাঁর পদধূলি পেলে কৃতার্থ হই।ইত‍্যাদি বলতে বলতে "আই'র" তত্ত্বে আবিষ্ট হয়ে আচার্য‍্য মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।সময় বুঝে শ্রীশচীমা সেই বাহ‍্যজ্ঞানহীন অদ্বৈতচার্য‍্যের পদধূলি মস্তকে ধারণ করলেন।শ্রীশচীমা আচার্য‍্যের পদধূলি মস্তকে ধারণ করিবা মাত্র বিহ্বল হয়ে বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্য হলেন।*
*🌷অদ্বৈতের বাহ‍্য নাহি--- আইর প্রভাবে।*
*🌷আইর নাহিক বাহ‍্য -- অদ্বৈতানুভাবে।।*
*🌷দোঁহার প্রভাবে দোঁহে হইলা বিহ্বল।*
*🌷'হরি হরি'-ধ্বনি করে বৈষ্ণবমন্ডল।।*
*🌷হাসে, প্রভু বিশ্বম্ভর খট্টার উপরে।*
*🌷প্রসন্ন হইয়া প্রভু বলে জননীরে।।*
*🌷এখনে সে বিষ্ণুভক্তি হইল তোমার।*
*🌷অদ্বৈতের স্থানে অপরাধ নাহি আর।।*
*🌷শ্রীমুখের অনুগ্রহ শুনিয়া বচন*।
*🌷জয়-জয়-হরিধ্বনি হইল তখন।।*
*🌷জননীর লক্ষ‍্যে শিক্ষাগুরু ভগবান।*
*🌷করায়েন বৈষ্ণবাপরাধ-সাবধান।।*
*🌷"শূলপাণি-সম যদি বৈষ্ণবেরে নিন্দে।*
*🌷তথাপিহ নাশ পায়-- কহে শাস্ত্রবৃন্দে।।*
*🌷ইহা না মানিয়া যে সুজন-নিন্দা করে।*
*🌷জন্মে জন্মে সে পাপীষ্ঠ দৈব-দোষে মরে।।*
*🌷অন‍্যের কি দ‍্যায়,গৌর-সিংহের জননী।*
*🌷তাঁহারেও "বৈষ্ণবাপরাধ" করি গণি।।*
*🌷বস্তুবিচারেতে সেহ অপরাধ নহে।*
*🌷তথাপিহ "অপরাধ" করি' প্রভু কহে।।*
*🌷ইহারে "অদ্বৈত" নাম কেনে লোকে ঘোষে?*
*🌷"দ্বৈত" বলিলেন আই কোন অসন্তোষে।।*
             *(শ্রীচৈঃ ভাঃ মঃ ২২|৪৯-৫৯)*
*🌻পূর্বে মহাপ্রভুর অগ্রজ শ্রীবিশ্বরূপ সর্বক্ষণ অদ্বৈতের সঙ্গ করতেন। কিছুদিন পরে সংসার ত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করে চলে গেলেন।তখন শচীমা দুঃখিত হয়ে ভাবলেন অদ্বৈতের সঙ্গফলে বিশ্বরূপের বৈরাগ‍্যের উদয় হওয়ায় সন্ন‍্যাস গ্রহণ করলেন, কিন্তু বৈষ্ণব অপরাধ ভয়ে কিছুই বললেন না, বিশ্বম্ভরকে পরে পেয়ে সব ভুলে গেলেন।আবার যখন বিশ্বম্ভর ভাব প্রকাশ আরম্ভ করলেন।তখন তিনিও প্রায় সর্বক্ষণ শ্রীঅদ্বৈতের কাছে থাকতে লাগলেন।মহাপ্রভু গৃহে থাকেন না, সর্বক্ষণ অদ্বৈতের সঙ্গে কৃষ্ণকথায় রত।এটি দেখে শচীমা বলেছিলেন যে,আচার্য‍্য এক পুত্রকে গৃহত‍্যাগী করিয়েছেন,এক্ষণে আমার যথাসর্বস্ব প্রাণাপেক্ষা প্রিয়তম এই বিশ্বম্ভরকেও বুঝি গৃহত‍্যাগী করাবেন।এই ভেবে দুঃখে শচীমা বলেছিলেন=*
*🌷কে বলে অদ্বৈত,দৈত এ বড় গোসাঞি।*
*🌻এক পুত্র বাহির করে দিলেন, আবার এই পুত্রকেও ঘরে স্থির রাখছেন না। আমি "অনাথিনী" আমার প্রতি একটু দয়া নাই! জগতের কাছে তিনি "অদ্বৈত", আমার কাছে তিনি "দ্বৈত-মায়া"।মাত্র এই অপরাধ, আর কিছুই নাই*। *এর জন‍‍্যই বিশ্বম্ভর তাঁকে অপরাধী সাব‍্যস্ত করে প্রেম-প্রদানে বিরত থাকলেন।নিজ মাকে লক্ষ্য করে সর্বজগতের শিক্ষাগুরু শ্রীগৌরসুন্দর বৈষ্ণব অপরাধের গুরুত্ব ও তার খন্ডনের উপায় জানিয়ে জীবগণকে বৈষ্ণব অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য এই কৌশল প্রপঞ্চিত করলেন।*
*🍀কাজী উদ্ধার লীলায়ও শ্রীঅদ্বৈতার্য‍্যের এক কীর্তন সম্প্রদায় গঠিত হয়ে মহানগর সংকীর্তনে সংকীর্তন হয়েছিল।কাজী উদ্ধার সময়ে ও তারপরে শ্রীধরের জনপানের সময় আচার্য‍্য- মহাপ্রভুর সঙ্গী ছিলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২) শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
  *শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের বিশ্বরূপ দর্শন*
  <><><><><><><><><><><><><>
*🍀একদিন অদ্বৈতাচার্য‍্য গোপীভাবে ভক্তগণসহ নৃত্য-কীর্তন করতে লাগলেন।তাঁর প্রেমভাব আর থামে না, দুই প্রহর হয়ে গেল, ভক্তগণ কোনরকমে কিছু স্থির করে গৃহে চলে গেলেন।শ্রীবাসাদিও গঙ্গাস্নান করতে চলে গেলেন।অদ্বৈতাচার্য‍্য একাকী শ্রীবাস-অঙ্গনে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।শ্রীবিশ্বম্ভর তখন নিজ গৃহে।সেখান হতেই অদ্বৈতের আর্ত্তি শুনে, শ্রীবাস অঙ্গনে এসে অদ্বৈতকে নিয়ে বিষ্ণুগৃহে দরজা বন্ধ করে আচার্য‍্যকে কহিলেন--,আচার্য‍্য! তোমার ইচ্ছে কি? এবং তুমি কি চাইছ? তখন অদ্বৈত বললেন, "পূর্বে অর্জুনকে যে বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলে, তা দেখতে আমার ইচ্ছে হচ্ছে"।ত‍ৎক্ষণাৎ আচার্য‍্য দেখলেন, এক রথ চতুর্দিকে সৈন‍্য-দলে বেষ্টিত মহা-যুদ্ধক্ষেত্রে বিরাজিত।সেই রথের উপরে শ‍্যামল-সুন্দর, চতুর্ভূজ শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম ধর অনন্তব্রহ্মান্ডরূপ দর্শন করলেন।চন্দ্র, সূর্য‍্য,সিন্ধু,গিরি,নদী,উপবন ; কোটি চক্ষু,বাহু,মুখ পুনঃপুনঃ দেখলেন এবং সম্মুখে অর্জুন স্তুতি করছেন।তাঁর বদনগুলিতে যেন মহা অগ্নি জ্বলছে।সেই মুখাগ্নিতে ভগবদ্ বৈমুখ যারা পাপ-পরায়ণ হয়ে শ্রেষ্ঠ ভাগবতগণের নিন্দা বা বিদ্বেষ করে, সেই পাপ-প্রবণ চিত্তগণের মানসিক দুর্বলতা ও কায়িক তান্ডবনৃত‍্যরূপ মলগুলি শ্রীচৈতন‍্যদেবের অনুকম্পালব্ধ প্রকৃত অভিজ্ঞতাসূচক চেতনময় কীর্তনাগ্নিতে দগ্ধ হয়,অর্থ‍্যাৎ যারা বৈষ্ণব নিন্দুক, ভাগবতগণের নিন্দুক তারা মহাপাপের পাপী, তাদের একমাত্র পথ হচ্ছে, শ্রীচৈতন‍্যদেবের নামকীর্তন করে সমস্ত পাপ হতে মুক্তি হয়। কারণ কর্তৃত্বাভিমান প্রবল হওয়ায় পূর্ণ-বস্তু-দর্শনে জীবের অসামর্থ‍্য হয়।অতএব এই রূপ দর্শন করতে অন‍্যে অসমর্থ।আচার্য‍্য সেই রূপ দেখে, দন্তে তৃণ ধারণ করে কাঁদতে লাগলেন। তখন শ্রীমন্নিত‍্যানন্দপ্রভু পর্য‍্যটনসুখে নগরে ভ্রমণ করছিলেন।তিনি মহাপ্রভুর উক্ত প্রকাশের বিষয় জেনে, সত্বর শ্রীবাস-অঙ্গনে এসে বিষ্ণু-গৃহের দরজায় ভীষণ গর্জন করতে লাগলেন।বিশ্বম্ভর নিত‍্যানন্দের আগমন জেনে দরজা খুলে দিলেন এবং ভিতরে নিলেন।নিত‍্যানন্দপ্রভু দেখলেন--, পরিপূর্ণতম শ্রীগৌরাবতারের বিশ্বে প্রকাশিত গৌণ-লক্ষণ-রূপ এক অঙ্গ "বিশ্বরূপ" দেখে চোখ বুজে দন্ডবৎ প্রণত হয়ে পড়লেন।মহাপ্রভু নিত‍্যানন্দপ্রভুকে উঠিয়ে বললেন, তুমি আমার সব অবতারের বিষয়ে সবই জানো। তোমার কৃপায় আমার দর্শন জীবের পক্ষে সুষ্ঠু হয়।তুমি ও অদ্বৈত ভেদ না থাকায় উভয়েই আমার পূর্ণ অবতারীত্ব জ্ঞাত আছ।নিত‍্যানন্দ ও অদ্বৈতাচার্য‍্য, মহাপ্রভুকে দেখে মন্দির মধ্যে পরমানন্দে বাহ‍্যজ্ঞান-শূন‍্য হলেন।পরে উভয়েই নৃত্যকীর্তন আরম্ভ করলেন।শেষে উভয়ের প্রেম কোন্দল আরম্ভ হল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*অদ্বৈতাচার্য‍্যের বিশ্বরূপ দর্শনের উদ্দেশ্য*
*********************************
*🍀বিশ্বরূপ তাঁর অপ্রাকৃত প্রেমময় স্বরূপ নহে। সর্ববতার-অবতারী সর্বাংশী শ্রীগৌরসুন্দরের সঙ্গে পার্ষদরূপে বিলাস ও সেবাকারী নিত‍্য সেব‍্য-সেবকভাবে লীলাপুষ্টিকারী প্রভুদ্বয়ের লীলাবিলাস বৈচিত্র্য বিশ্বরূপের মধ্যে কিভাবে সংশ্লিষ্ট ও অবস্থিত এবং সেই শ্রীগৌরলীলায় বিশ্বরূপের মধ্যে গৌরকৃপা-কটাক্ষ বৈভব অবলোকন করাই উভয়ের হৃদগত উদ্দেশ্য,যা বর্তমানে শ্রীঅদ্বৈত ও নিত‍্যানন্দের শুভ উদযোগে ও শ্রীগৌরসুন্দরের কৃপাভিষিক্ত অবস্থার বৈশিষ্ট্য অবলোকন করলেন।মহামহাবদান‍্যাবতার অনর্পিচর প্রেমোদ্ভাসিত অবস্থা দর্শন করে শ্রীআচার্য‍্য ও নিত‍্যানন্দপ্রভু মহাপ্রভুর বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করে ধীরশিরোমণিদ্বয় অধীর হয়ে পড়লেন।শেষে পরস্পর পরস্পরের আকর্ষণীশক্তি ও কারুণ‍্যগুণে বর্ণনা করার জন্য প্রেম-কোন্দলের আবাহন করলেন।আচার্য‍্য কহিলেন--, তোমাকে কে আকর্ষণ করিল?আমি তো শ্রীমন্মহাপ্রভুকে আসিবার জন্য সকরুণ আবেদন ও আর্ত্তি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি না আসিলে তো মহাপ্রভু আসিবেন না।তুমি এত করুণাময় যে, তোমার জন্য কারণোদ্ভাসিত জীবগণকে উদ্ধার করার জন্য তুমি নিজেই করুণা করে, আমার প্রতিও করুণা করে আবির্ভূত হয়েছ ; কারণ তুমি চরম গুরু বস্তু,এত গম্ভীর ও মহৎশ্রেষ্ঠ যে,তোমাকে আনিবার শক্তি অনন্তব্রহ্মান্ডে কারও নাই ; এমন কি আমারও শক্তি নাই। অন‍্যের কথা তো দূরের কথা।তাই তুমি এসে নিজ কারুণ‍্যগুণে জোর-পূর্বক ভক্তিবিঘ্নরূপ আবরণ ও অর্গল ঘুচিয়ে,জগৎজীবের ভগবদ্দর্শনের স্বরূপ অবগত করিয়েছ। সঙ্কীর্ণদৃষ্টি জীবগণ তাঁকে বিশ্বের অন‍্যতম জানিলেও,বিশ্ব তাঁর অঙ্গ,এইরকম বিশিষ্টাদ্বৈতদর্শনের পূর্ণত্ব তোমারই পূর্ণ সেবাময়ী দৃষ্টিতে দেখতে পায়।শ্রীমদ্ভাগবত-- বিশ্বের জন্ম-স্থিতি-ভঙ্গ-দর্শনকে ভগবত্তার গৌণ-লক্ষণেরই প্রকাশ বলেছেন।*
*এইভাবে অতি গূঢ় গম্ভীর শ্রীচৈতন‍্যদেবকে তোমার কৃপা ছাড়া কেউ উপলব্ধি করতে পারে না।অতএব শ্রীগৌরসুন্দরকে জানতে বা তাঁর কৃপা লাভ করতে হলে তোমার কৃপায় একমাত্র সম্বল।তুমি কপট সন্ন‍্যাসী অর্থ‍্যাৎ সন্ন‍্যাসীত্ব তোমার বাহ‍্য পরিচয়।তুমি জাতির অতীত শুদ্ধ-সত্ত্ব-ভগবৎ-তনু।তা স্বরূপশক্তি প্রকটিত অপ্রাকৃত।প্রকৃতির অধীন তত্ত্ব নহে।তোমার তত্ত্ববিদ্ কোন ব‍্যক্তি তোমাকে কোন মায়িক জাতীয়ের অন্তর্ভুক্ত বলবে না অর্থ‍্যাৎ যাঁরা তোমাকে চিনতে পেরেছে, তাঁরা কোনদিনই মায়ার সংসারের যুক্ত বলতে পারে না।এই বৈষ্ণবসভায় তোমার মতো প্রেমোন্মত্ত মহাপুরুষের আবির্ভাব মহাসৌভাগ‍্যের ও তোমার অহৈতুক কৃপারই নিদর্শন।তুমি যদি সত্বর না যাও তবে এই বৈষ্ণবসভায় সমস্ত ভক্তগণকেও তোমার মতো মাতাল করে তুলবে।এটি জাগতিক "মঙ্গল" মাত্র নহে,পরন্তু মহাপ্রেমের প্লাবন।এইভাবে আচার্য‍্য নিতাইচাঁদের মহিমা প্রকাশ করলেন, একেই বলছেন "প্রেম-কোন্দল"।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
  *নিতাইচাঁদ কর্তৃক অদ্বৈত-তত্ত্ব*
   ****************************
*🍀তখন গৌর প্রেমোন্মত্ত শ্রীমন্নিত‍্যানন্দপ্রভু ছলে অদ্বৈততত্ত্ব ব‍্যাখ‍্যা করতে লাগলেন।নিত‍্যানন্দপ্রভু বললেন--,আচার্য‍্য!তুমি যে আমার এত গুণ বর্ণন করলে,তা অনুচিত!তা-- আমার পক্ষে অতি-স্তুতি মাত্র,আমি তা খন্ডন করতে চাই।কারণ তুমি যে সব কারুণ‍্যাদি গুণগ্রাম আমার বর্ণনা করলে,তা আমার নহে, তা আমার প্রভুর ; তাঁর শক্তিতে ও প্রভাবে আমি শক্তিশালী ও প্রভাবান্বিত, আমার গৌরব,আমি বিশ্বম্ভরের ভাই। আমি তারকৃপা ও প্রেমে তারজন‍্য মত্ত।তিনি বৃক্ষদ্বারেও মহৎ কার্য‍্য করাতে ও স্থাবর ও জঙ্গমকে তাঁর প্রেমে উন্মত্ত বা পাগল করতে পারেন।আমার মূল তাঁর পাদপদ্মে সংশ্লিষ্ট (সম্বন্ধযুক্ত)।এবার তোমার গুণের কথা একটু বলি--, এই দৃশ‍্যাদৃশ‍্য জগতের তুমিই উপাদান কারণ।সমস্তই তোমার আশ্রিত।তুমি সকলেরই আশ্রয়দাতারূপে এই জগত সংসারের মহাসংসারী।সমস্ত জীবই তোমার শক্তি ও পুত্রাদি স্থানীয়। অতএব তাদের প্রতি তোমার কৃপা ও আসক্তি-প্রবলতা হেতু তুমি তাদের ভরণ-পোষণ ও পালন করবার জন্য শ্রীবিশ্বম্ভরকে নিয়ে এসেছ।তাই মহামত্ত প্রভু বিশ্বম্ভর নাম ধারণ করে তোমার সংসারে তোমার আশ্রিতবর্গের জন্য আবির্ভূত হয়েছেন।*
*🌷প্রথম লীলায় তাঁর বিশ্বম্ভর নাম।*
*🌷ভক্তিরসে ভরিল,ধরল ভূতগ্রাম।।*
*🌷ডুভৃঞ্ ধাতুর অর্থ পোষণ, ধারণ।*
*🌷পুষিল,ধরিল প্রেম দিয়া ত্রিভুবন।।*
                 ( *চৈঃচঃআঃ=৩|৩২|৩৩*)
*🌹আর আমি পরমহংসপথের আধিকারী বা অবধূত--স্বেচ্ছাচারী। বিষয়গ্রহণ সত্ত্বেও বিষয়-বাধ‍্য নাই। অতএব জীবের প্রতি আমার কোন দয়ামায়া নাই।তুমিই পরম দরদী। অতএব আমাকে "জীব উদ্ধারকর্ত‍া" ইত্যাদি কথা বলিও না।তুমি আমার যে করুণার কথা বলছ, তাহাও মহাপ্রভুরই।অতএব আমার কোন গুণব‍্যাখ‍্যা করলে তা আমি নিতে পারি না, যেহেতু তা আমার কিছুই নেই সবই তিনি।বাহ‍্য বিচারে সকলে পরমহংসকে সম্মান করে, সুতরাং সে বিচারেও আমার কথা, তুমি আমার গুণবর্ণনা করবে না। তখন অদ্বৈতাচার্য‍্য নিত‍্যানন্দ স্বরূপের দৈন‍্য ও শ্রীচৈতন‍্য-পাদপদ্মে নিষ্ঠাদি গুণ শুনে আরও মুগ্ধ হয়ে তাঁর বিরোধীগণের প্রতি ক্রোধ প্রকাশ লীলাভিনয় করে বলতে লাগলেন,যে পাষন্ডী এমন কৃষ্ণ-প্রেমময়তনু শ্রীগৌরসুন্দর বিশ্বম্ভরের প্রিয়তম পাত্রকে সন্ন‍্যাসীর উপযুক্ত না বলে মৎস‍্য-মাংসাশী বলে নিন্দা করে,তাদেরকে আমি সংহার করব। তাঁর গৌর-প্রেমময়তনু, আচরণ, লীলা ও কৃপাময়ত্ব উপলব্ধি করতে না পেরে প্রাকৃত বিচারে অপরাধ করছে।তিনি কোনও প্রাকৃত বস্তু গ্রহণ করেন না। তাঁর অপ্রাকৃত গূঢ় গম্ভীর লীলার আবরণ উন্মোচন করে,তা আমি প্রকাশ করব,এজন‍্য আমি আবরণ খুলে দিগবাসী হলাম।আমায়ায় নিত‍্যানন্দতত্ত্ব প্রকাশ করিব।তাঁকে প্রাকৃতবস্তু বা প্রাকৃতবুদ্ধি মনে করা মহানিন্দা।তিনি নিমিত্তকারণ মহাবিষ্ণুরও অবতারী। তাঁর সৃষ্টিকর্তা বা মাতা-পিতা কেউ নেই।তবে যে রোহিণী-বসুদেব মাতা-পিতা বলে পরিচয় দেন বা গৌরলীলায় হাড়াই পন্ডিতের পুত্র বলিয়া পরিচিত, তা কেবল বাৎসল‍্য-রসের রসিকাগ্রগণ‍্যগণকে কৃপাপূর্বক সেবা প্রদানেচ্ছাই জানতে হবে।*
         🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
         *শ্রীমন্নিত‍্যানন্দের উক্তি*
        *************************
*🍀যারা নিন্দুক, বৈষ্ণব-বিদ্বেষী ও প্রাকৃত বুদ্ধিকারীকে আমি সংহার করব, অর্থ‍্যাৎ তাদের সমস্ত প্রাকৃত বুদ্ধিকে গ্রাস করে ভক্তিপথে আনয়ন করব।সন্ন‍্যাসীর লক্ষণ বিচারে তিনি সন্ন‍্যাসী নহেন।ফল্গুবৈরাগীর বা কর্মজড়স্মার্তের বিচার তাঁর যুক্তবৈরাগ‍্যের অর্থ নির্ণয় করতে অসমর্থ। ধন‍্য শ্রীবাস পন্ডিত,ধন‍্য তোমার ভক্তি, তাই তাঁকে অজ্ঞ,অপরাধী,কর্মজড়স্মার্তাদির বিচারাধীনে না দেখে তাঁর প্রকৃত স্বরূপ অবগত হয়ে তাঁর সুষ্ঠু-সেবায় নিযুক্ত হয়ে নিজের আশ্রয়রূপে সেব‍্যবিচারে সেবা করছ।আমার সে সৌভাগ্য ঘটিল না(নাতাইচাঁদ এই কথাগুলি বলছেন)।তিনি কোথা হতে স্বতন্ত্রেচ্ছাময় কৃপা-পূর্বক কৃষ্ণপ্রেম বিতরণ করার জন্য প্রকাশিত হয়েছেন।তাঁকে কেউ আনতে পারে না।উভয়ের দৈন‍্যময়ী কলহপ্রতীম কথার দ্বারা তত্ত্ব নির্দ্ধারণ ও প্রকাশপূর্বক ভক্তবৎসল শ্রীগৌরসুন্দরের সুখ-বিধানে তৎপর ও মহাপ্রেমিক।এসব কথা মহাভাগ‍্যবান ও শ্রীচৈতন‍্যদেবও তদ্ভক্ত-কৃপাভিষিক্ত ব‍্যক্তি ছাড়া অন‍্যে জানতে পারে না। অন‍্যে=অজ্ঞব‍্যক্তিগণ গূঢ়ার্থ বা অন্তরতত্ত্ব ও তত্ত্ব না জেনে, বাইরে কলহ-প্রতীম অপ্রাকৃত কথার তাৎপর্য‍্য প্রাকৃত বিদ‍্যা-বুদ্ধিদ্বারা অবগত হতে গিয়ে একের পক্ষ অবলম্বন করে অন‍্যের নিন্দা করলে সর্বনাশ হবে, অর্থ‍্যাৎ প্রকৃত তত্ত্ব না জেনে কিছু ব‍্যক্তি আছে যারা মনগড়া ও কাল্পনিক কথা কথা বলে, কিছু লোক তাদের কথায় তখন বৈষ্ণব নিন্দা করতে থাকে, এবং তাদের পরিণতি সর্বনাশ হয়।বিষ্ণু ও বৈষ্ণবের মধ্যে বিষয়াশ্রয়-ভেদে বিশেষ ধর্মযুক্ত। সুতরাং বিষ্ণুর তাৎপর্য‍্য ও বৈষ্ণবের তাৎপর্য‍্য ভেদের বিচারে সমতার পরিবর্তে বৈষম‍্যের বিচার আহৃত হয় বা আমন্ত্রণ করে।এইরকম বৈষম্য পাষন্ডী ও নিন্দুকগণের মধ্যেই প্রবল, কেন না তারা বিষ্ণু ও বৈষ্ণবের প্রকৃততত্ত্ব না জেনে নিজ নিজ মনগড়া কথা লোকের কাছে বিচার করে। তারা বিষ্ণুসেবা-বর্জিত অহঙ্কারী তাদেরকে "প্রভু" সাজিয়ে বিষ্ণু-বৈষ্ণবের সমতা ও বৈষম্য বিচার করে।তারজন‍্য বৈষ্ণবমাত্রেরই শ্রীকৃষ্ণচরণ-ভজনে কৃষ্ণের লীলায় প্রবেশ অধিকারের অভেদত্ব জানলে জীবের ভজনের সুষ্ঠুতা হয়।পরিকর-বৈশিষ্ট‍্য-বিচার-রহিত হয়ে ভগবানের যে নাম,রূপ ও গুণাবলী, তাতে শুদ্ধ বৈষ্ণবসঙ্গ না করায় জীবের ভগবদ্-ভজনের প্রতি রুচি নাই, যাহাও আছে তা লোক দেখান।কোটিতে গুটিকয়েক শুদ্ধ বৈষ্ণব রয়েছেন,তা আবার যত্রতত্র দেখা মিলে না।নিজ ভজন স্থলে প্রায় অষ্টপ্রহর ভজনে রত আছেন। যাইহোক,বিষ্ণুভক্তি রহিত বৈষ্ণবকেই "অবৈষ্ণব " বলা হয়।উষ্ণতা রহিত বস্তুকেই "শীতল" বলা হয়। বৈচিত্র্য বা বিলাস স্বরূপের ধর্ম।বিরূপ-বিচারে স্বভাব ও অভাবের সাম‍্য বা বৈষম্য, উভয়ই দোষযুক্ত।এই উভয় জড়ীয়-বর্জিত চিন্ময় ভাবের উদয় না হওয়া পর্যন্ত জীবের শুদ্ধা ভাবাভাব সেবা প্রবৃত্তি উদিত হয় না।সেবা-বৃত্তির অনুদয়ে ভগবদ্দর্শন বা ভক্তিতে অবস্থান সম্ভব হয় না।*
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভুর সন্ন‍্যাসের কথা শুনে,মহাপ্রভুর সঙ্গ ত‍্যাগ হবে বলিয়া অদ্বৈতাদি ভক্তগণ দেহত‍্যাগের সঙ্কল্প করলেন।তাঁদের বিলাপ শুনে পাষাণ-কাষ্ঠ পর্যন্ত দ্রবীভূতহতে লাগিল।তখন এক দৈববাণী হল, অদ্বৈতাদি ভক্তগণ!তোমরা এইভাবে দুঃখ করিও না,সকলে মনের সুখে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করো, সেই প্রভু দুই-চার দিনের মধ্যে তোমাদের সঙ্গ দান করে আগের মতো তোমাদের সঙ্গে বিহার করবেন।এই দৈববাণী শুনে,ভক্তগণ দেহত‍্যাগ সঙ্কল্প ত‍্যাগ করে মহাপ্রভুর গুণ ও লীলা আশ্রয় করে সর্বক্ষণ শচীমাতার কাছে থাকলেন।*
*🌹এদিকে শ্রীমন্নিত‍্যানন্দপ্রভু মহাপ্রভুকে কৌশলে শান্তিপুরে নিয়ে এলেন।তখন অদ্বৈতাচার্য‍্য নূতন বস্ত্র কৌপীনসহ নৌকা নিয়ে গঙ্গায় শ্রীমন্মহাপ্রভুর জন্য নিত‍্যানন্দপ্রভুর ইঙ্গিত মতো অপেক্ষা করছিলেন।মহাপ্রভু গঙ্গায় স্নান করিলে,দেখলেন আচার্য‍্য অপেক্ষা করছেন,প্রেমোন্মাদে মহাপ্রভুর বাহ‍্য জ্ঞান ছিল না। তিনি মনে করেছিলেন বৃন্দাবনে এসেছেন এবং যমুনায় স্নান করছেন। কিন্তু আচার্য‍্যকে দেখে বুঝলেন নিতাইচাঁদের সুকৌশলে তিনি শান্তিপুরে এসেছেন।*
*🌹শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে বর্ণিত আছে = শ্রীমন্মহাপ্রভু ফুলিয়া হতে শান্তিপুরে আসিলেন।তখন আচার্য‍্য নিজ প্রভুকে দেখে দন্ডবৎ প্রণত হয়ে কান্দিতে লাগলেন।মহাপ্রভু তাঁকে উঠিয়ে উভয়ের নয়ন প্রেমজলে উভয়ে স্নাত হলেন।আচার্য‍্যপুত্র "অচ‍্যুত"দন্ডবৎ প্রণত হলে মহাপ্রভু তাঁর ধূলা ধূসরিত অঙ্গ কোলে করে বললেন, "আচার্য‍্য আমার পিতা, তুমি আমার ভ্রাতা। অচ‍্যুতানন্দ বললেন=*
*🌷তুমি দৈবে জীব সখা।*
*🌷সবাকার বাপ তুমি এই বেদে লেখা।।*
*🌻সকলেই শিশুমুখে এই অপূর্ব সিদ্ধান্ত-পূর্ণ কথা শুনে বিস্মিত হয়ে ভাবলেন,না জানি কোন মহাপুরুষ এসে জন্মিয়েছেন। সবাইকে মহাপ্রভু প্রেমালিঙ্গন করে কৃপা করলেন।কৃপা পেয়ে ভক্তগণ রোদন করতে লাগলেন।পরে নৃত্য কীর্তন করে বিষ্ণুখট্টায় বসে নিজতত্ত্ব প্রকাশ করলেন।পরে সবাইকে নিয়ে ভোজন করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*মহাপ্রভুর সন্ন‍্যাসান্তে অদ্বৈত-গৃহে মিলন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু বললেন, নিত‍্যানন্দ আমাকে বললেন,"তুমি যমুনায় স্নান করছ", এখন দেখছি, আমি গঙ্গায় স্নান করছি এবং আমি বৃন্দাবনে আসি নাই।*
*🌷আচার্য‍্য কহে,মিথ‍্যা নহে,শ্রীপাদ বচন।*
*🌷যমুনাতে স্নান তুমি করিলা এখন।।*
*🌷গঙ্গা যমুনা বহে হঞা একাধার*।
*🌷পশ্চিমে যমুনা বহে,পূর্বে গঙ্গাধার।।*
*🌷পশ্চিম পারে যমুনা বহে,তাঁহা কৈলে স্নান।*
*🌷আর্দ্র কৌপীন ছাড়ি' শুষ্ক কর পরিধান।।*
*🌷প্রেমাবেশে তিন দিন আছ উপবাস।*
*🌷আজি মোর ঘরে ভিক্ষা,চল মোর বাস।।*
*🌷একমুষ্টি অন্ন মুঞি করিয়াছোঁ পাক।*
*🌷শুখরুখা ব‍্যঞ্জন কৈলুঁ,সূপ আর শাক।।*
*🌷এত বলি নৌকায় চড়ায়া নিল নিজ-ঘর।*
*🌷পাদ প্রক্ষালন কৈল আনন্দ-অন্তর।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷শুনি সব ভক্তগণ কহে করি নমস্কার।*
*🌷মাতার যে ইচ্ছা,সেই সম্মত সবার।।*
*🌷মাতার ব‍্যগ্রতা দেখি ' প্রভুর ব‍্যগ্র মন।*
*🌷ভক্তগণ একত্র করি বলিলা বচন।।*
*🌷তোমা সবার আজ্ঞা বিনা চলিলাম বৃন্দাবন।*
*🌷যাইতে নারিল,বিঘ্ন কৈল নিবর্তন।।*
*🌷যদ‍্যপি সহসা আমি কর‍্যাছো সন্ন‍্যাস।*
*🌷তথাপি তোমা-সবা হৈতে নাহিব উদাস।।*
*🌷তোমা-সব না ছাড়িব,যাবৎ আমি জীব।*
*🌷মাতারে তাবৎ আমি ছাড়িতে নারিব।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷তবে ত' আচার্য‍্য কহে বিনয় করিয়া।*
*🌷দিন দুই চারি রহ কৃপা ত' করিয়া।।*
*🌷আচার্য‍্যের বাক‍্য প্রভু না করে লঙ্ঘন।*
*🌷রহিলা অদ্বৈত-গৃহে না কৈল গমন।।*
*🌷আনন্দিত হৈল আচার্য‍্য,শচী,ভক্ত,সব।*
*🌷প্রতিদিন করে আচার্য‍্য মহা-মহোৎসব।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷নিত‍্যানন্দ গোসাঞি, পন্ডিত জগদানন্দ।*
*🌷দামোদর পন্ডিত, আর দত্ত মুকুন্দ।।*
*🌷এই চারিজন, আচার্য‍্য দিল প্রভু সনে।*
*🌷জননী প্রবোধ করি 'বন্দিল চরণে।।*
*🌷তাঁরে প্রদক্ষিণ করি,করিল গমন।*
*🌷এথা অদ্বৈতের ঘরে উঠিল ক্রন্দন।।*
*🌷নিরপেক্ষ হঞা প্রভু শীঘ্র চলিলা।*
*🌷কান্দিতে কান্দিতে আচার্য‍্য পশ্চাৎ চলিলা।।*
*🌷কতদূর গিয়া প্রভু করি ' জোড়হাত।*
*🌷আচার্য‍্যে প্রবোধি কিছু কহে মিষ্ট বাত।।*
*🌷জননী প্রবোধ, কর ভক্ত সমাধান।*
*🌷তুমি ব‍্যগ্র হৈলে কারো না রহিবে প্রাণ।।*
*🌷এত বলি ' প্রভু তাঁরে করি আলিঙ্গন।*
*🌷নিবৃত্ত করিয়া কৈল স্বচ্ছন্দ গমন।।চৈঃচঃ।।*
😭😭😭😭😭😭🙏😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
        *শ্রীধামপুরীতে মহামিলন*
        ************************
*শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীক্ষেত্রে গমন করিলে,ভক্তগণ মহাপ্রভু বিরহে ব‍্যথিত হয়ে কোন রকমে জীবন ধারণ করে রইলেন।মাঝে মধ্যে সংবাদ নিতে থাকতেন।যখন দক্ষিণ দেশে গমন করলেন,তখন ভক্তগণ আরও বিরহক্লিষ্ট হলেন।মহাপ্রভু দক্ষিণদেশ হতে নীলাচলে ফিরে আসিলে শ্রীমন্নিত‍্যানন্দপ্রভু বঙ্গদেশীয় ভক্তগণকে মহাপ্রভুর সমাচার প্রদান করে কিছু শান্ত করবার জন্য মহাপ্রভুর দক্ষিণ ভ্রমণ কালীন সেবক কালা-কৃষ্ণদাসকে বঙ্গদেশে পাঠালেন। সেখানকার বৈষ্ণবগণকে দেবার জন্য প্রচুর পরিমাণে মহাপ্রসাদ পাঠালেন।কারণ নবদ্বীপ,শান্তিপুর,কালনা প্রভৃতি স্থানে বহু বৈষ্ণবগণ রয়েছেন। কালা-কৃষ্ণদাস মহাপ্রভুর সংবাদ নিয়ে গৌড়দেশে সর্বপ্রথমেই শচীমাকে প্রসাদ দিয়ে, শ্রীমায়ের শ্রীচরণ বন্দনা করে মহাপ্রভুর কুশল সংবাদসহ দক্ষিণবিজয় ও সেখান হতে শ্রীক্ষেত্রে পুনরাগমন বার্তা নিবেদন করলেন।কালা-কৃষ্ণদাস সেখন থেকে শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্য‍্যের গৃহে গিয়ে মহাপ্রসাদ দিয়ে,আচার্য‍্যের শ্রীচরণ বন্দনা করে, মহাপ্রভুর দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণের সব সমাচার বললেন।এই সমাচার সকলে শুনে, তখন গৌড়ের ভক্তগণ আচার্য‍্যের কাছে গিয়ে নীলাচলে যাবার জন্য যুক্তি করলেন।আচার্য‍্য সুসংবাদ পেয়ে ভক্তগণকে নিয়ে মহাপ্রভুর নীলাচলে ফিরে এসেছেন, এই খুশীতে দুই-তিনদিন মহা-মহোৎসব করলেন।এবং সকলে শচীমায়ের আদেশ নিয়ে শ্রীআচার্য‍্যসহ নীলাচলে যাত্রা করলেন।পায়ে হাঁটা পথ, কিছুদিনের মধ্যে নীলাচলে পৌঁছলেন।শ্রীমন্মহাপ্রভু সংবাদ পেয়ে শ্রীস্বরূপ দামোদর ও শ্রীগোবিন্দকে দিয়ে মালা পাঠিয়ে পুরীতে প্রবেশমাত্র সম্বোধন করতে পাঠালেন।স্বরূপ দামোদর প্রথমে শ্রীল আচার্য‍্যকে মালা দিয়ে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন। তারপর স্বরূপদামোদর গোবিন্দের পরিচয় প্রদান করলেন।কথা বলতে বলতে কিছুদূর অগ্রসর হলে,স্বয়ং শ্রীমন্মহাপ্রভু এসে ভক্তগণকে দেখা দিলেন।শ্রীআচার্য মহাপ্রভুর চরণ বন্দনা করিলে, প্রেমেরঠাকুর মহাপ্রভু আচার্য‍্যকে প্রেমালিঙ্গন প্রদান করলেন।সবাইকে নিয়ে মহাপ্রভুর বাসায় নিয়ে গিয়ে শ্রীহস্তে সবার অঙ্গে মাল‍্য চন্দনাদি প্রদান করে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য ও ক্ষেত্রবাসী ভক্তগণের সঙ্গে সবার পরিচয় করিয়ে দিলেন। অদ্বৈতাচার্য‍্যকে মহাপ্রভু অতি সুমধুর বাক‍্যে বললেন--, তোমার শুভাগমনে আজি আমার মনোরথ পূর্ণ হ'ল।তখন আচার্য‍্য কহিলেন--, এটি ঈশ্বরের স্বভাব,যদিও নিজে সর্বৈশ্বর্য‍্যময়পূর্ণ, তথাপি ভক্তসঙ্গে নিত‍্য বিবিধ বিলাস করার জন্য তাঁর সুখোল্লাস হয়। সকলকে গোপীনাথ আচার্য‍্য দ্বারা বাসস্থান দিয়ে ভক্তগণকে পাঠিয়ে দিলেন।সকলে সমুদ্রস্নান করে শ্রীজগন্নাথদেবের শ্রীমন্দিরের চূড়া দর্শন করে পুনঃ মহাপ্রভুর কাছে আসিলেন।সকলকে যথাস্থানে বসিয়ে, স্বয়ং মহাপ্রভু মহাপ্রসাদ পরিবেশন করতে লাগলেন।স্বরূপদামোদরের প্রার্থনায় সন্ন‍্যাসী ভক্তগণসহ মহাপ্রভু প্রসাদ পেতে আরম্ভ করলেন।নানা প্রকার বিচিত্র শ্রীজগন্নাথদেবের প্রসাদ মহাপ্রভু ভক্তগণকে পাওয়াইলেন।ভোজনান্তে নিজে ভক্তগণকে মালা-চন্দনাদি দিয়ে সকলকে বিশ্রাম করতে বাসায় পাঠালেন।সন্ধার সময় সকলে পুনঃ মহাপ্রভুর কাছে আসিলে, সকলকে নিয়ে গৌরহরি শ্রীজগন্নাথ দর্শনে চলিলেন।সন্ধ‍্যা-ধূপ দেখে সকলকে নিয়ে শ্রীমন্মহাপ্রভু সংকীর্তন আরম্ভ করলেন।পড়িছা সকলকে মাল‍্যচন্দন দিল।চারদিকে চার সম্প্রদায় কীর্তন করতে লাগলেন মধ্যে শ্রীগৌরাঙ্গ নৃত্য আরম্ভ করলেন। সেই সংকীর্তনধ্বনি যেন ব্রহ্মান্ড ভেদ করে উঠিল।সকলে শ্রীমন্দির সংকীর্তনসহ পরিক্রমা করতে লাগলেন।কিছুক্ষণ বেড়া নৃত্য করে মন্দিরের পেছনে থেকে কীর্তন করতে লাগলেন।চারদিকে চার সম্প্রদায় উচ্চৈঃস্বরে কীর্তন করছেন, মধ্যে মহাপ্রভু নৃত্য করছেন, তখল অশ্রু,পুলক,কম্প,স্বেদ অষ্টসাত্ত্বিক ভাব মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গে প্রকাশিত হল। কিছুক্ষণ নৃত্য করে নিজে স্থির হয়ে চারমহান্তকে নাচতে আজ্ঞা দিলেন। শ্রীনিত‍্যানন্দ,শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য,শ্রীবক্রেশ্বর ও শ্রীবাস।চারদিকে চার মহান্ত নৃত্য করছেন,মহা সংকীর্তনের মধ্যে মহাপ্রভু মধ্যে থেকে তাঁদের নৃত্য দেখছেন।বহু ভক্তগণ নৃত্য করছেন,যাঁরায় নৃত্য করতে করতে মহাপ্রভুর দিকে তাকাচ্ছেন, তাঁরায় যেন দেখছেন, মহাপ্রভুর তাঁদের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করছেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌🙏🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
      *শ্রীধাম পুরীতে মহামিলন*
      *************************
*🌳গুন্ডিচামার্জন লীলায় অদ্বৈতাচার্য‍্যাদি ভক্তগণসহ মহাপ্রভু গুন্ডিচা-মার্জন বা পরিস্কার করলেন।নৃত‍্য-কীর্তনসহ গুন্ডিচা-মন্দির পরিস্কার করে শেষে মহা-সংকীর্তন নৃত্যাদি করতে লাগলেন।সেখানে আচার্য‍্যের পুত্র গোপালকে মহাপ্রভু নৃত্য করতে অনুমতি দিলে, গোপাল মহাপ্রভুর আদেশে প্রেমবেশে নৃত্য করতে করতে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।শ্রীঅদ্বৈত তাঁকে কোলে কোরে উঠিয়ে দেখলেন,তাঁর শ্বাস-রহিত হয়েছে।তাতে মহাপ্রভুর প্রেমিক-ভক্তের এই অবস্থা দেখে শ্রীআচার্য‍্য বিকল হয়ে নৃসিংহ-মন্ত্রে জল ছিটা মারতে লাগলেন।তাঁর হুঙ্কারের শব্দে ব্রহ্মান্ড যেন কেঁপে উঠতে লাগল।বহুক্ষণ ঐ প্রক্রিয়াতে তাঁর শ্বাস ফিরল না, তখন মহাপ্রভু তাঁর বক্ষে হাত দিয়ে উচ্চেঃস্বরে কহিলেন--,গোপাল! উঠো?এইকথা শুনতেই গোপালের চেতন হল।তখন ভক্তগণ "হরি হরি" ধ্বনি দিয়ে নৃত্য করতে লাগলেন।ক্ষণেক বিশ্রাম করে মহাপ্রভু সকলকে নিয়ে স্নান করিয়ে অদ্বৈতাদি ভক্তগণ সহ শ্রীজগন্নাথদেবের মহপ্রসাদ ভোজন করতে বসলেন, এমত সময় নিত‍্যানন্দপ্রভু কিছু প্রেম-কলহ আরম্ভ করলেন।আচার্য‍্য কহিলেন--,অবধূত নিত‍্যানন্দের সঙ্গে একসারিতে বসে ভোজন করলে যে আমার কি অবস্থা হয় জানি না।মহাপ্রভু সন্ন‍্যাসী,তাঁর অন্ন-দোষ নাই। "নান্নাদোষেণ মস্করী" এই শাস্ত্রবাক‍্য। কিন্তু আমি তো সন্ন‍্যাসী নহি, আমার অন্নের দোষ-গুণ লাগবে।যাঁর জন্ম-কুল-শীল-আচার জানা যায় না,তাঁর সঙ্গে একসারিতে ভোজনে তাঁর সঙ্গদোষ লাগে।তাঁর এই সঙ্গ-ফলে আমার কি অবস্থা হয় জানি না। তখন নিত‍্যানন্দপ্রভু বললেন--, তুমি অদ্বৈত-আচার্য‍্য ; তোমার সিদ্ধান্তসকল যেন অদ্বৈতবাদ, যাতে শুদ্ধভক্তি-কাজের বাধা হয়। তোমার সিদ্ধান্তে যিনি আসক্ত হন, তিনি একবস্তু (চিদ্বিলাস) ব্রহ্ম বৈ আর কিছুই দেখতে পান না। এবং তোমার সঙ্গ দ্বৈতবাদীর ত‍্যজ‍্য হলেও তোমার সঙ্গে একসঙ্গে ভোজন করতে হচ্ছে, এতে আমার মন সায় দেয় না।এটি ব‍্যাজস্তুতি অর্থ‍্যাৎ বাইরে নিন্দাকথা, ভিতরে মহাত্ম‍্যসূচক।উভয়েই মায়াধীশ তত্ত্ব, মায়িক জাতীয়ত্ব ও মায়িক মায়াবাদসিদ্ধান্ত উভয়কে স্পর্শ করতে পারে না।উক্তবাক‍্য "মায়াবাদ সঙ্গ সর্বথা পরিত‍্যজ‍্য ও ভক্তিবাধক" এবং অনাচারীর সঙ্গে এক সারিতে ভোজনে সঙ্গদোষ হয়, সেইজন‍্য ভোজন বাধাপ্রাপ্ত হয়। এইকথাগুলি সাধকগণকে সাবধান করবার জন্য বললেন।*
*🌻🌻🌻স্তুতিবাক‍্য🌻🌻🌻*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*শ্রীমন্নিত‍্যানন্দপ্রভু অপ্রাকৃত অবধূত, তাঁর সঙ্গ-প্রভাবে মায়িক সব অবরতা ধৌত হয়ে পরম নির্মল শুদ্ধভক্তির প্রাকট‍্য-রূপ ফল লাভ হয়, তা সকলেরই পক্ষে অত‍্যন্ত লোভনীয়। অদ্বৈত-আচার্য‍্য সমান বা ততোধিক সিদ্ধান্তবিদ্ কেহ নাই, তাঁর সঙ্গ ফলে তাঁর মতো কৃষ্ণপ্রেমোন্মত্ততা লাভ হয়, তাও অত‍্যন্ত লোভনীয়, এবং তাঁর সিদ্ধান্তই চরম অসমোর্দ্ধ অদ্বৈত, অতএব উভয়েই উভয়ের সঙ্গ পিপাসু।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🦚🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
        *শ্রীধাম পুরীতে মহামিলন*
       ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌳নেত্র উৎসবের দিন মহাপ্রভু পুরী ভারতীকে আগে রেখে স্বরূপদামোদর ও অদ্বৈতাচার্য‍্যকে পার্শ্বে নিয়ে শ্রীজগন্নাথ দর্শনোৎকন্ঠায় ভোগমন্ডপে গিয়ে দর্শন করলেন। রথযাত্রার দিন শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীমন্নিত‍্যানন্দপ্রভু ও শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যাদি ভক্তগণসহ পান্ডুবিজয় দর্শন করলেন, পরে চার সম্প্রদায় রচনা করে প্রত‍্যেক সম্প্রদায়ে দুইজন মৃদঙ্গবাদক,একজন মূলগায়ক, একজন নর্তক এবং পাঃচজন করে পালিগানকারী বিভাগ করে দিলেন।তারমধ‍্যে দ্বিতীয় সম্প্রদায়ে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য নর্তক,শ্রীবাস পন্ডিত মূলগায়ক হলেন।আরও কুলীনগ্রামের এক কীর্তনসম্প্রদায়, শান্তিপুরের আচার্য‍্যের এক কীর্তনসম্প্রদায়, তাতে শ্রীঅচ‍্যুতানন্দ (অদ্বৈত তনয়) নর্তক, ও শ্রীখন্ডের এক কীর্তনসম্প্রদায় এই সাত সম্প্রদায়।শ্রীজগন্নাথের রথের আগে চার সম্প্রদায়,দুই পার্শ্বে দুই সম্প্রদায়, ও পেছনে এক সম্প্রদায় নৃত্য কীর্তন করতে লাগলেন।মহাপ্রভু সেখানে ঐশ্বর্য‍্য প্রকাশ করে এক কালে সাত ঠাঞি বিলাস করলেন।এই দৃশ্য মহাভাগ‍্যবান প্রতাপরুদ্র রাজা পথ পরিস্কারের সেবায় সন্তুষ্ট মহাপ্রভুর কৃপায় দর্শন সৌভাগ্য লাভ করলেন।তাঁরা রাজার সৌভাগ্য দর্শনে বিস্মিত হলেন।মহাপ্রভুর যখন নিজেই নৃত্য করতে হচ্ছে হল, তখন সাত সম্প্রদায়কে একত্র করে সেখানে নৃত্য করতে লাগলেন।নৃত‍্য করা কালীন নানা সাত্ত্বিকভাবের বিকার শ্রীঅঙ্গে প্রকাশিত হল।নিতাইচাঁদ দুই বাহু প্রসার করে মহাপ্রভুকে আগলে রাখলেন।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য পেছনে হুঙ্কার করে "হরিবোল হরিবোল" বারবার বলতে লাগলেন।ক্রমে রথ গুন্ডিচা অভিমুখে চলতে লাগিল। "বলগন্ডি-ভোগের সময় মহাপ্রভু এক উপবনে বিশ্রাম করবার সময় রাজা প্রতাপরুদ্রকে কৃপা করলেন। সেখানে বিচিত্র বহু "বলগন্ডি ভোগের" প্রসাদ বাণীনাথ আনিলে সব ভক্তগণসহ শ্রীমন্মহাপ্রভু তা আস্বাদন করে বহু পারিপার্শিক ভক্তদের বিতরণ করলেন। ক্রমে রথ শ্রীগুন্ডিচায় পৌঁছিল।মহাপ্রভুও ভক্তগণসহ আঙ্গিনাতে নৃত্য কীর্তন করলেন।সন্ধ‍্যাবেলা পান্ডুবিজয় ও স্নান ভোগান্তে আরতি হল, তা দর্শন করে মহাপ্রভু আইটোটায় এসে বিশ্রাম করলেন।সেখানে নয়দিন থাকলেন।এই নয়দিন শ্রীঅদ্বৈতাদি ভক্তগণকে নৃত্য করতে আদেশ দিয়ে নাচতেন।ভক্তগণসহ মহাপ্রভু প্রত‍্যেকদিন "ইন্দ্রদ‍্যুম্ন" সরোবরে জলকেলি করতেন।কোনদিন নিত‍্যানন্দকে সঙ্গে নিয়ে জলকেলি করতেন,কোনদিন নিত‍্যানন্দ ও অদ্বৈতকে নিয়ে লীলাবিলাস করতেন।নিত‍্যানন্দ ও আচার্য‍্য একসঙ্গে থাকলে কোন কারণ বশত আচার্য‍্য হেরে গেলে নিত‍্যানন্দকে গালমন্দ করতেন। একদিন মহাপ্রভু শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যকে ডেকে কাছে এনে জলের উপর তাঁর শেষশয‍্যা করে শয়ন করে "শেষশায়ী" লীলা প্রকট করলেন।মহাবিষ্ণু অবতার অদ্বৈত নিজ-শক্তি প্রকট করে মহাপ্রভুকে নিয়ে জলেতে ভেসে বেড়াতে লাগলেন।এইভাবে নানান প্রকার জলক্রীড়া করে আইটোটায় এসে প্রসাদ পেতেন।আচার্য‍্যের নিমন্ত্রণে পুরী, ভারতী ও মুখ‍্য ভক্তগণসহ ভোজন করলেন।অন‍্যান‍্য ভক্তগণ বাণীনাথের আনা প্রসাদ পেতেন।বিকেলবেলা দর্শন-নর্তনাদি করতে করতে রাত্রে আইটোটায় এসে শয়ন করতেন।এইভাবে রোজ নৃত্য কীর্তন দর্শন ও প্রসাদ সেবনে নয়দিন আইটোটায় অতিবাহিত করলেন।মধ‍্যে "হেরা-পঞ্চমীর" উৎসবাদি দেখলেন।আবার কোনদিন নরেন্দ্র সরোবরে জলক্রীড়াও করতেন।শ্রীজগন্নাথ,বলদেব,সুভদ্রা পুনঃ শ্রীমন্দিরে আসিলেন।পুর্নযাত্রাতে আগের মতই নৃত্য কীর্তনাদি ভক্তগণসহ মহাপ্রভুও করলেন।শ্রীজগন্নাথ সিংহাসনে বসিলেন, মহাপ্রভু্ও কাশীমিশ্র ভবনে অবস্থান করতে লাগলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
         *শ্রীধাম পুরীক্ষেত্রে মিলন,*
         ************************
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রথম বৎসর ভক্তগণসহ এইরকম নৃত্য-গীত, দন্ডবৎ-প্রণাম,স্তবন করে প্রত‍্যহ শ্রীজগন্নাথ দর্শন করতেন। "উপলভোগ" সম্পূর্ণ হয়ে গেলে, বাইরে এসে শ্রীনামাচার্য‍্য হরিদাস ঠাকুরের সঙ্গে কুটিরে বসে নাম-সঙ্কীর্তন করতেন। মহাবিষ্ণুর অবতার অদ্বৈত প্রত‍্যহ এসে মহাপ্রভুর পূজা করতেন।সর্বাঙ্গে সুগন্ধি চন্দন লেপন করতেন,মাল‍্য তুলসীমঞ্জরী দিয়ে পূজা করে জোড়হাতে নানারকম স্তবস্তুতি করে শ্রীচরণে প্রণাম করতেন।ভক্তবৎসল শ্রীমন্মহাপ্রভুও পূজাপাত্রের অবশিষ্ট তুলসী,চন্দনাদি দ্বারা "যোহসি সোহসি নমোহস্তুতে" এই মন্ত্রে শ্রীঅদ্বৈতকে পূজা করতেন। এবং মুখবাদ‍্য করে আচার্য‍্যকে হাসাতেন।*
*🌺এইরকম চারমাস গৌড়ীয় ভক্তগণ মহাপ্রভুর কাছে থেকে শ্রীজগন্নাথদেবের নানা যাত্রা মহোৎসবাদি দর্শ করতেন। কৃষ্ণজন্ম অষ্টমী দিনে নন্দোৎসব করলেন।মহাপ্রভু সেদিন নিজ কাঁধে দধিদুগ্ধ ভান্ড নিয়ে মহোৎসব স্থানে আসিলেন। তখন অদ্বৈত বললেন, যদি লগুড় ঘুরাতে পার তাহলেই প্রকৃত গোপবেশের লক্ষণ প্রকাশিত হয়।মহাপ্রভু এইকথা শুনে অপূর্ব কৌশলে লগুড় বা লাঠি ঘুরাতে লাগলেন। সঙ্গে নিত‍্যানন্দপ্রভুও সেইরকম হাতে লাঠি নিয়ে তিনিও ঘুরাতে লাগলেন।মহারাজ প্রতাপরুদ্রের আজ্ঞায় তুলসী-পড়িছা শ্রীজগন্নাথদেবের একটি প্রসাদীবস্ত্র নিয়ে আসিলে মহাপ্রভু সেই বস্ত্রের সম্মান নিজ মস্তকে বেঁধে, আচার্য‍্যাদি ভক্তগণের মস্তকেও পরালেন।এইপ্রকার বিজয়া-দশমী,রাসযাত্রা, দীপাবলী, উত্থান একাদশী প্রভৃতি সব যাত্রা দেখলেন।*
*একদিন মহাপ্রভু নিত‍্যানন্দপ্রভুকে ডেকে নির্জনে বসে যেন কি যুক্তি করে গৌড়ীয় সকল ভক্তগণকে ডেকে বললেন, তোমরা সকলে গৌড়দেশ বিজয় কর বা ফিরে যাও।প্রত‍্যেক বৎসর রথযাত্রার সময় শ্রীজগন্নাথ দর্শন এসে আমার সঙ্গে মিলিত হবে।শ্রীঅদ্বৈতকে সসম্মানে বললেন, আ-চন্ডালাদিকে কৃষ্ণভক্তি দান করবে। নিতাইচাঁদকেও বললেন, গৌড়দেশে ফিরে গিয়ে তুমি প্রেমভক্তি দান করবে ও শ্রীরামদাস গদাধর দাস আদি তোমার সাহায্যের জন‍্য পাশে থাকবে। আরও বললেন আমি মাঝে মধ্যে গিয়ে অলক্ষিতে তোমার নৃত্য দেখব।এইভাবে সকল সেবাকার্য‍্য ভাগ করে দিয়ে,তাঁদের বিচ্ছেদ আশঙ্কায় বিহ্বল হয়ে পড়লেন।সকল ভক্তের যাঁর যে গুণে প্রভু মুগ্ধ,তাঁর সেই গুণ বলে সকলকে বিদায়ালিঙ্গন প্রদান করে মহাপ্রভু অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলেন।ভক্তগণও শ্রীমন্মহাপ্রভুর অবস্থা দেখে তাঁরাও অঝোর নয়নে রোদন করতে লাগলেন।সে বিরহ ক্রন্দনে মহাপাষাণ হৃদয়ও গলে যাবে।এইভাবে গৌড়ীয় প্রেমিক ভক্তগণকে বিদায় দিয়ে মহাপ্রভু ভক্তের বিচ্ছেদে বিষণ্ণ হয়ে রইলেন।শ্রীগদাধর পন্ডিত মহাপ্রভুর নিকট রইলেন।*
*🌹তৃতীয় বৎসর গৌড়ের ভক্তগণ নীলাচলে আসিবার জন্য শ্রী অদ্বৈতের কাছে এসে একত্রিত হলেন। আবার বৈষ্ণবগৃহিণীগণ আচার্য‍্যানী সীতাঠাকুরাণীসহ মহাপ্রভুকে দর্শন করতে চাইলেন।সব ঠাকুরাণী মহাপ্রভুকে ভিক্ষা দিতে মহাপ্রভুর প্রিয় দ্রব‍্য সঙ্গে নিয়ে নিলেন।পথের সমস্ত ব‍্যবস্থা শিবানন্দ সেনই করতে লাগলেন।সকলে কিছুদিনের মধ্যে রেমুনায় এসে উপস্থিত হলেন। সেখানে গোপীনাথ দর্শন করে আচার্য‍্য নৃত্য কীর্তন করলেন।নিতানন্দপ্রভু সকলের কাছে ক্ষীরচোরা গোপীনাথের বৃত্তান্ত কীর্তন করলেন এবং সে রাত্রি ভক্তগণ সেখানে থাকলেন।এই মত কটকে সাক্ষীগোপালের কথা শুনে সে রাত্রি তথায় অবস্থান করলেন।তারপর মহাপ্রভু দর্শন আকাঙ্ক্ষায় ভক্তগণ নীলাচলে এসে উপস্থিত হলেন।আঠারনালায় পৌঁছিলে মহাপ্রভু গোবিন্দকে দিয়ে, নিত‍্যানন্দ ও আচার্য‍্যকে পরাবার জন্য দুটি মালা পাঠিয়ে অভ‍্যর্থনা করলেন।*
📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩১) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলিতে একমাত্র উপাস‍্য গৌরহরি*
      *সংকীর্তন আরম্ভ ও ভক্তসেবা*
*********************************
*🍀নিমাই পন্ডিত অধ‍্যাপনা হতে বিরত হলেন।তাঁর জীবনের প্রেমপ্রবাহ তাঁর ছাত্রদের হৃদয়ে আঘাত করে,তাদের হৃদয়কেও উদ্বেলিত করে তুলেছিল। শ্রীগৌরাঙ্গের প্রতি অচলা ভক্তিবশত চতুষ্পাঠীর অনেক ছাত্র আর অন‍্য কোন চতুষ্পাঠীতে অধ‍্যয়ন করতে গেল না।অনেকেই তাঁর ভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে,ভক্তির শান্তিদায়িনী পথ অবলম্বন করিল। ইতিমধ্যে গৌরহরির ছাত্রগণ তাঁর বাড়ীর প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলে, তিনি করতালি দিয়ে=*
*🌷 হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ*।
*🌷গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসূদন।।*
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গ হরিপ্রেমে বিভোর হয়ে, নিজের বাড়ীর আঙ্গিনায় যখন করতালি দিয়ে এই কীর্তনটি গাহিতে লাগলেন, তখন তাঁর অধিকাংশ ছাত্র, তাঁর সঙ্গে এই কীর্তনে যোগদান করিল।গৌরহরি মধুর ভাবে উচ্চৈঃস্বরে "বোল হরি বোল" বলতে লাগলেন। তাঁর দুইনয়ন দিয়ে বারিধারা বহিতে লাগল।তিনি কীর্তন করতে করতে, হঠাৎ ধূলায় গড়াগড়ি দিতে লাগলেন এবং কখনো কখনো প্রেমাবেশে জ্ঞানহীন হয়ে পড়লেন*।
*🍀যে সংকীর্তনের মধুর ভাবে কত লোক জীবন পেয়েছে ; কত লোকের শুকনো হৃদয় সরস হয়েছে ; যাঁর মধুর প্লাবনে নরনারীর হৃদয় হতে কত পাপ,নীচতা ও স্বার্থপরতা ভেসে গিয়েছে,শ্রীগৌরাঙ্গের বাড়ীর প্রাঙ্গণেই তার সূত্রপাত হল।ভক্তবৎসল চূড়ামণি শ্রীগৌরহরি ছাত্রদেরকে নিয়ে সে মধুর ধারা প্রথম প্রবাহিত করলেন।কীর্তনের সুমধুর ধ্বনি, তরঙ্গের মতো বহুদূর পর্য‍্যন্ত বহে যেতে লাগিল।দূরের ও কাছের বহু লোক গৌরহরির সংকীর্তন শোনার জন্য ছুটে আসতে লাগিল।বিষ্ণুভক্ত বৈষ্ণবগণ, শ্রীগৌরহরি কীর্তন করছেন শুনে,মহা উল্লাসে তাঁর সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে হরিনাম কীর্তন করবার জন্য এসে উপস্থিত হলেন।খোল নেই, করতাল নেই,বাদ‍্যের মধ্যে কেবল ভক্তগণের করতালের ধ্বনি ; গৌরহরির কন্ঠস্বরের সঙ্গে ভক্তগণের কন্ঠস্বর মিশ্রিত হয়ে যেন এক মধুর তরঙ্গ উঠিল।হরিনামের মধুর ভাবে সকলের প্রাণ বিমোহিত হয়ে পড়ল।অনেকে আবার কীর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মনের সুখে নাচতেও লাগলেন, আবার অনেকে কাষ্ঠ-পুত্তলিকার মতো শ্রীগৌরাঙ্গ ও তাঁর ভক্তবৃন্দের সংকীর্তন শুনতে লাগলেন।*
*🍀যেমন নিজে না কাঁদলে অপরকে কাঁদানো যায় না, নিজে না মাতিলে অপরকে মাতানো যায় না।নিজে কোন বস্তুর রসাস্বাদন না করিলে, সে রসের কথা অপরকেও ভাল করে বলা যায় না।গৌরচাঁদ নাম-কীর্তনের রসাস্বাদন করেছেন এবং ভগবৎপ্রেমের শক্তি নিজে অন্তরে অনুভব করেছিলেন ; তাই তিনি সে সময় এই মধুর শ্লোকটি রচনা করে সংকীর্তনের মাহাত্ম্য বর্ণনা করলেন।*
*চেতোদর্পণমার্জনং, ভবমহাদাবাগ্নি নির্বাপণং।*
*শ্রেয়ঃ কৈরবচন্দ্রিকা বিতরণং, বিদ‍্যাবধূজীবনং।।*
*আনন্দাম্বুধিবর্দ্ধনং,প্রতিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদনং।*
*সর্ব্বাত্মস্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তনং।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের নাম সংকীর্তনে মানুষের চিত্তদর্পণ মার্জিত হয় ; সংসাররূপ দাবাগ্নি নির্বাপিত হয়।এর বিমল আলোকে হৃদয়ে শ্রেয়ঃ কুমুদ বিকশিত হয়, আনন্দ জলধি উচ্ছসিত হয়।এর প্রতিপদ অমৃতের পূর্ণ আস্বাদযুক্ত এবং এটি প্রাণ তৃপ্তিদায়িনী।*
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গের প্রেমোন্মত্ততা দেখে,লোকে বিস্মিত হয়ে বলতে লাগল, নিমাই পন্ডিত উদ্ধতের শিরোমণি ছিল,জ্ঞানগর্বে সদা মত্ত হয়ে থাকত, বৈষ্ণবদের প্রতি তেমন শ্রদ্ধা প্রদর্শন করত না, তাঁর আজ একি আশ্চর্য‍্য পরিবর্তন!কেউ কেউ বলতে লাগলেন,আমরা তো আর ইহজীবনে কোন মানুষের মধ্যে এইরকম অপূর্ব ভক্তিভাব কখনও দেখতে পাইনি।এমন উচ্চ ভক্তির লক্ষণ দেবর্ষি নারদের মধ্যেও বোধহয় পরিলক্ষিত হয়নি। সত‍্যই আজ নবদ্বীপে গৌর ভগবদ্ভক্তি লাভের এক নূতন পথ আবিষ্কার করলেন।তৃষিত ও তাপিত প্রাণের জন্য স্বর্গের প্রেমনদী হতে এক নূতন বারি আনয়ন করলেন।তারপর গৌরহরি দুইহাত প্রসারিত করে যেন সকলের কাছে এই ঘোষণা করলেন, ভগবানের নাম সংকীর্তন বড়ই মধুর,আত্মার পক্ষে অতীব শান্তিপ্রদ।গৌরচন্দ্রের ভগবৎপ্রেম প্রচারের এই নব অনুষ্ঠানে অনেকেই আনন্দ লাভ করতে লাগলেন। অনেকেই বলতে লাগলেন যে,শীঘ্রই এই দিগ্বিজয়ী জয়ী নিমাই পন্ডিতের দ্বারা বৈষ্ণবধর্ম পুনর্জীবন লাভ করবে, এই আশায় বৈষ্ণবগণের চিত্ত মহানন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠিল।কোন পরম বৈষ্ণব, বৈষ্ণবাগ্রগণ‍্য অদ্বৈতাচার্য‍্যের কাছে এই শুভ সংবাদ দিবার জন্য ছুটে চললেন।আচার্য‍্য ভক্তগণের মুখ হতে সংকীর্তনের কথা শুনে তিনি আনন্দে যেন উন্মাদপ্রায় হয়ে বললেন,ভাই সকল!আমি গতরাত্রে একটি স্বপ্ন দেখেছি শোন,আমি গীতা পাঠ করতে করতে,তার কোন অংশের অর্থ ভাল ভাবে বুঝতে না পেরে,মনের দুঃখে উপবাস থেকে শয‍্যায় শয়ন করলিম। বেশী রাত্রি হলে, আমার শয‍্যার কাছে কে যেন এসে আমার পাঠের অর্থ ভাল করে বুঝিয়ে দিয়ে বলিল,তুমি এখন শয‍্যা হতে উঠে ভোজন করো।তুমি যে অভাব পূর্ণ করবার মানসে, অনাহারে থেকে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে, ক্রন্দন করতে করতে তাঁর কাছে অকপট ও ব‍্যাকুল হৃদয়ে প্রার্থনা করেছ, তিনি এ নবদ্বীপে প্রকাশিত হয়েছেন। আর দুঃখ নাই,ভয় নাই।যে মধুর হরিনাম প্রচারের জন্য তুমি ব‍্যাকুল, সে মধুর হরিনাম দেশে বিদেশে ও ঘরে ঘরে কীর্তিত হবে। সেই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য,শ্রীবাসের গৃহে ভক্তগণ মিলিত হয়ে হরিনাম কীর্তন করবেন।তুমি আর এইরকম ভাবে থাকিও না,উঠে ভোজন করো। আচার্য‍্য বলছেন, তারপর আমি চোখ মেলে দেখি, গৌরসুন্দর আমার কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু পলকের মধ্যে আমার সামনে হতে অন্তর্হিত হয়ে গেলেন। আদ্বৈতাচার্য‍্য ভক্তগণের কাছে এই পরম প্রীতিকর স্বপ্নবৃত্তান্ত বিবৃত করে মহানন্দে হুঙ্কার করে উঠিলেন। ভক্ত বৈষ্ণবগণও তাঁর সঙ্গে উচ্চকন্ঠে "হরি হরি" ধ্বনি বলতে লাগলেন।বৈষ্ণবগণ আচার্য‍্যের চরণে প্রণিপাত করে বিদায় নিলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩২) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র আরাধ‍্য গৌরহরি*
     *সংকীর্তন আরম্ভ ও ভক্তসেবা*
  ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀কিছুদিন পরে অদ্বৈতাচার্য‍্য, গৌরহরি প্রমুখ কীর্তনকারীদের সঙ্গে যোগদান করে,তাঁদেরকে উৎসাহ বর্দ্ধন করেছিলেন।ভক্তি বড় কোমল পদার্থ, সেটির স্পর্শে মানবের মন সরস হয়,অহঙ্কার ও দাম্ভিকতা দূরে পলায়ন করে।নিমাই পন্ডিত ঔদ্ধত‍্যের শিরোমণি ছিলেন। কিন্তু তিনি আজ ভক্তির প্রভাবে একেবারেই নূতন মানুষ হয়ে উঠেছেন।তিনি এখন বিনয়ের অবতার,তাঁর জ্ঞানগর্বিত হৃদয় সুধামাখা ভক্তিরসে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে।তিনি এখন ভক্তবৃন্দের চরণসেবার জন্য ব‍্যাকুল হয়েছেন*।
*🍀গৌরহরি সকালবেলা গঙ্গায় স্নান করার জন্য গমন করলেন। সেখানে শ্রীবাস প্রভৃতি বৈষ্ণবগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে, তিনি অতি বিনয়ের সঙ্গে তাঁদের চরণে প্রণাম করলেন।তাঁরা গৌরহরির বিনয় দেখে অত‍্যন্ত প্রীতমনে, তাঁকে আশীর্বাদ করে বললেন, বাপু! তুমি শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণ ভজনা করো, তাঁর নাম কীর্তন করো। তাঁর ভজনা না করলে বিদ‍্যা,বুদ্ধি,রূপ সবই বৃথা। ভক্তগণের এই শুভ আশীর্বাদ লাভ করে তাঁর চিত্ত পুলকিত হয়ে উঠিল।তিনি অতি বিনয়ের সঙ্গে সকলকে বললেন, "তোমরা এ-দাসকে কৃষ্ণভক্তি শিক্ষা দাও, তোমরাই বিষ্ণুধর্ম শিক্ষা দেবার উপযুক্ত ব‍্যক্তি ; তোমরা আশীর্বাদ করলে, আমার হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেম উদয় হবে।*
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গের হৃদয় এখন কৃষ্ণপ্রেমে বিগলিত হয়ে গেছে।তিনি ভক্তদের সেবা করবার জন্য উন্মুখ হলেন। তিনি জাহ্নবীতটে গিয়ে,কোন ভক্তের ভিজে কাপড় নিঙ্গারায়ে দিতেন,কারো স্নানের পর,তাঁর পরিধানের জন্য শুকনো বস্ত্র হাতের কাছে এনে দিতেন, বিষ্ণুপূজার জন্য যাঁরা ফুলের সাজি নিয়ে আসতেন, তাঁদের সঙ্গে গমন করতেন, নবদ্বীপের নিমাই পন্ডিতের এইসব কাজ দেখে, তাঁরা অতি ব‍্যস্ত ও লজ্জিত হয়ে বলতেন,"কি করো!কি করো!" কিন্তু নিমাই এখন সে নিমাই আর নেই।তিনি বিনয়ের অবতার।ভক্তির সঙ্গে ভক্তসেবার যেন কোন বিশেষ সম্বন্ধ আছে, এইজন‍্য তিনি তাঁদের আপত্তির প্রতি বিশেষ কর্ণপাত না করেও সেই কাজে রত হতেন।*
*🌷সভারে শিখায় গৌরচন্দ্র ভগবানে।*
*🌷বৈষ্ণবের সেবা প্রভু করিয়া আপনে।।*
*🌷সাজি বহে ধুতি বহে,লজ্জা নাহি করে।*
*🌷সম্ব্রমে বৈষ্ণবগণ হস্ত আসি ধরে।।চৈঃভাঃ।।*
*🌻ভক্তগণ গৌরহরির এইরকম সেবার কাজ দেখে,শতকন্ঠে তাঁকে আশীর্বাদ করলেন,-- তুমি সদাই শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করো,তিনি তোমার জীবন হোক।হরিভক্তিহীন পাপীরা নিজেও হরিনাম করে না,আর যাঁরা হরিনাম কীর্তন করেন, তাঁদের দেখে হাসাহাসি করে থাকে।আমরা বেশ বুঝেছি, তোমা হতেই হরিভক্তহীন লোকদের অহঙ্কার চূর্ণ হবে, তুমি চিরজীবী হয়ে হরিনাম কীর্তন করো।*
*শ্রীগৌরহরি তাঁদের শুভ আশীর্বাদ মস্তকে নিয়ে বললেন,তোমরা ভক্ত,তোমরা যা বললে,শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদে যেন তাইই হয়।তোমরা আমাকে তোমাদের সেবক বলে জানবে।এই বলে নত-মস্তকে নিমাই সকলের চরণধূলি গ্রহণ করলেন।সকলেই মনভরে আশীর্বাদ করলেন।* *ধীরে ধীরে ভক্তদল ক্রমে বাড়তে লাগল।তখন তাঁরা শ্রীবাস পন্ডিতের গৃহে মিলিত হয়ে সংকীর্তন আরম্ভ করলেন।সময় সময়ে কীর্তনকারীগণ কীর্তন করতে করতে সমস্ত রাত্রি কাটিয়ে দিতেন।কীর্তনের ধ্বনিতে চারিদিক মুখরিত হত।নিমাই ও তাঁর শিষ‍্যবৃন্দের প্রভাবে নবদ্বীপ টলমল করে উঠিল।জ্ঞান প্রধান নবদ্বীপে ভক্তির গঙ্গায় ভাসতে লাগলেন।নবদ্বীপে এক নবজীবনের সঞ্চার হতে লাগল।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৩) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র উসাস‍্য গৌরহরি*
    *সংকীর্তন আরম্ভ ও ভক্তসেবা*,
  *প্রেমোন্মত্ততা ও শ্রীবাস পন্ডিত*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর কথা পূর্বে কিছু উল্লেখ করি গিয়েছে।ইনি জাহ্নবীর তটে একটি সুন্দর আশ্রমে বাস করতেন।ইনি তপস্বী, বহুদেশ ভ্রমণ করেছিলেন।শুক্লাম্বর গৌরহরির ভক্তি-পথ অবলম্বন করবার প্রয়াসী হয়ে,তাঁর কাছে আগমন করলেন।তিনি বললেন, আমি মধুপুরী,দ্বারাবতী প্রভৃতি সব জায়গায় ভ্রমণ করেছি ; এখন আমাকে প্রেমধন বিতরণ কর।ব্রহ্মচারীর কথা শুনে, গৌরাঙ্গের মনে হল, নানা জায়গা ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে যেন তিনি জ্ঞানের পরিচয় দান করেছেন।নিমাইচাঁদ তার কথার মধ্যে যেন কিছু অহঙ্কারের আঘ্রাণ পেলেন।শুক্লাম্বর প্রেমপ্রার্থী হলেও, তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁকে বললেন, দেখ শুক্লাম্বর!শ্রীকৃষ্ণে মতি না থাকলে সবই বৃথা।তাই লোচনদাস তাঁর শ্রীচৈতন‍্য মঙ্গলে লিখেছেন=*
*🌷নানা-তীর্থ-পর্য‍্যটন করিয়াছি আমি।*
*🌷অনেক যন্ত্রণা দুঃখ--- কিছুই না জানি।।*
*🌷মধুপুরী দ্বারাবতী কৈলু পর্য‍্যটন।*
*🌷দুঃখিত হঞাছি আমি--, দেহ প্রেমধন।।*
*🌷এ বোল শুনিঞা প্রভু কহিল উত্তর।*
*🌷মোর এক বোল তুমি শুন শুক্লাম্বর।।*
*🌷সে বনে কতক আছে শৃগাল-কুকুর।*
*🌷আমার কি হৈল তাহে কহিল ঠাকুর।।*
*🌷হৃদয়ে যাবত কৃষ্ণ উদয় না করে।*
*🌷তাবত তীর্থের অনুগ্রহ" নাহি তারে।।*
*🍁শুক্লাম্বর গৌরহরির কথা শুনে নিজ দোষ বুঝতে পারলেন, এবং ধূলায় লুন্ঠিত হয়ে পড়লেন।তখন গৌরহরি তাঁর হৃদয়ে ভগবৎ-প্রেমের সঞ্চার করে তাঁকে সুখী করলেন। তাই শ্রীচৈতন‍্যমঙ্গলে=*
*🌷অনুগত আর্তি প্রভু সহিবারে নারে।*
*🌷করুণ অরুণ ভেল গৌর কলেবরে।।*
*🌷প্রেম দিল প্রেম দিল ডাকে আর্তনাদে।*
*🌷শুক্লাম্বর বিপ্র পাইল প্রেম পরসাদে।।*
*🙌 এবার ভক্তগণ কীর্তন করতে লাগলেন।কীর্তন করতে করতে রাত্রি প্রভাত হয়ে গেল।*
*🙌প্রেমোন্মত্ততা ও শ্রীবাস পন্ডিত🙌*
*🍀ভক্ত-সেবক গৌরসুন্দরও ভক্তদের আশীর্বাদ গ্রহণ করে আনন্দিত মনে আপন ভবনে গমন করলেন। কিন্তু নবদ্বীপে ভক্তি বিরোধীরা হরিভক্তদের প্রতি উপহাস প্রদর্শন করে, ইতঃপূর্বেই গৌরসুন্দর বিষ্ণুভক্তদের কাছ হতে শুনেছিলেন।তাদের প্রতি সহানুভূতির সঞ্চার হল, এবং তাদের মনের ভিতরে থাকা ময়লা দূর করবার জন্য যেন ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন।*
*🌻তিনি একদিন চিৎকার করে "মুঞি (আমি)সেই, মুঞি সেই", হুঙ্কার করে এই কথা বলতে বলতে, কখন কাঁদছেন,কখন তিনি হাসতে লাগলেন এবং অবশেষে মনের আবেগে মূর্ছিত হয়ে ভূতলে পড়ে গেলেন। গৌরহরি এখন পরিপূর্ণ ভাবে কৃষ্ণপ্রেমে ভাবিত।*
*🍁শ্রীবাস পন্ডিত গৌরসুন্দরকে বড় স্নেহ করতেন।শচীমা বিষ্ণুভক্তের বৈষ্ণবগণের কাছে নিমাইয়ের অবস্থার কথা বলে পাঠালেন।শ্রীবাস আসিলেন।শ্রীবাসকে দেখিবামাত্র বিশ্বম্ভর উঠে দাঁড়ালেন, এবং ভক্তিভরে তাঁর চরণে প্রণাম করলেন। চন্দ্রোদয়ে যেমন সাগরের জল উথলিয়ে উঠে, পরম বিষ্ণুভক্ত শ্রীবাসকে দেখে, গৌরহরির ভাবসাগর যেন ভাবাবেগে আকুল হলেন।ভক্তির লক্ষণ সব তাঁতে প্রকাশ পেতে লাগিল, নয়ন দিয়ে বারিধারা বহিতে লাগিল, দেহ কন্টকিত হল, তিনি থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। বৈষ্ণব একমাএ বৈষ্ণবকে চিনতে পারেন, শ্রীবাস দেখলেন,নিমাই হরিনামের সুধা পান করে উন্মত্ত হয়েছেন,এ অন‍্য কোন রোগ নহে,এ দেববাঞ্জিত।গৌরহরি কিছুক্ষণ পরে জ্ঞান ফিরলে, শ্রীবাসকে বললেন,পন্ডিত! লোকে বলে,আমার বায়ুরোগ জন্মেছে, আমাকে বেঁধে রাখতে বলে,তুমি তো সব ভাল বুঝ,তুমি আমার অবস্থা দেখে কি মনে কর? তা বলো? শ্রীবাস পন্ডিত গৌরসুন্দরের কথা শুনে, মৃদু হেসে বললেন, ভাই!তোমার রোগ যদি আমি পাই,তাহলে আমার জীবন কৃতার্থ হয়।বুঝতে পারছি, শ্রীকৃষ্ণ তোমার ভেতরে আবির্ভূত হয়েছেন।ভক্তিযোগের সমস্ত লক্ষণই তোমাতে প্রকাশ পাচ্ছে।*
*🌷হাসি বোলে শ্রীবাসপন্ডিত "ভাল যাই।*
*🌷তোমার যেমত বাই তাহা আমি চাই।।*
*🌷মহাভক্তি যোগ দেখি তোমার শরীরে।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণের অনুগ্রহ হইল তোমারে।।"*
*🌹বিশ্ব‍ম্ভর শ্রীবাসের কাছ হতে এইসব আশার কথা শুনে পরম পুলকিত অন্তরে তাঁকে আলিঙ্গন করে বললেন, পন্ডিত!সকলেই বলে,আমার বায়ুরোগ হয়েছে, কিন্তু তুমি অন‍্যরকম কথা বলিলে,তুমি যদি অন‍্যের কথার মতো, আমার বায়ুরোগ হয়েছে বলতে, তাহলে আমি গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে এই দেহ বিসর্জন করিতাম।*
*🌷যদি তুমি বায়ু-হেন বলিতা আমারে।*
*🌷প্রবেশিতোঁ আজি আমি গঙ্গার ভিতরে।।*
*🌻নিমাইয়ের কথা শুনে শ্রীবাস কহিলেন, নিমাই! তোমাতে যে ভক্তির লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে,সে দুর্লভ ভক্তি লাভ করিবার জন্য ব্রহ্মা,শিব,শুক প্রভৃতি পরম ভাগবতগণও প্রার্থনা করে থাকেন। মহানন্দে আমরা উভয়ে মিলে কীর্তন করব।আমাদের কীর্তন শুনে পাষন্ডীরাও ক্রমে হরিভক্ত হয়ে উঠিবে।তারপর শ্রীবাস, চিন্তাকুলা শচীদেবীকে শান্ত করবার জন্য শচীগৃহে গিয়ে বললেন, আপনার নিমাইয়ের বায়ুরোগ হয়নি, এসব তাঁর কৃষ্ণপ্রেমেরই পরিচয়।অভক্তগণ কোনদিন ভক্তির মর্য‍্যাদা বুঝেও নাই, তবে এবার থেকে হয়ত একটু একটু করে বুঝবে, এই আমার বিশ্বাস।আমি যেসব কথা বললাম, অন‍্য কারো কাছে বলবার প্রয়োজন নাই,কিছুদিন পরে আপনি আপনার এই পুত্রের জীবনে শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলীলার আরও অনুপম ঘটনা সব দেখতে পাবেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৪) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র আরাধ‍্য গৌরহরি*
        *প্রেমোন্মত্ততা ও শ্রীবাস*
*********************************
*☘শ্রীবাস পন্ডিতের নিকট হতে গৌর-জননী যখন শুলেন যে, নিমাইয়ের বায়ুরোগ হয়নি, নিমাইয়ের সেটি কৃষ্ণপ্রেমের প্রবল ভাব মাত্র,এই কথা শোনার পর তাঁর মন হতে অনেকটা দুর্ভাবনা বিদূরিত হল বটে, কিন্তু তাঁর মনে হতে লাগল, ভগবানের প্রতি এত প্রেম যার, সংসারের প্রতি যাঁর এত উদাসীনতা, সে কি কখনও সংসারে বাস করতে পারবে?নিমাই বোধ হয় বিশ্বরূপের পথ ধরবে না তো? এই চিন্তার আবেগে তাঁর প্রাণকে অস্থির করে তুলতে লাগিল।*
*🌳গৌরসুন্দর শ্রীবাসের কথায় আনন্দলাভ করলেন। ইতিমধ্যে তিনি একদিন গদাধরের সঙ্গে অদ্বৈতাচার্য‍্যের গৃহে গমন করলেন।গিয়ে দেখলেন,আচার্য‍্য তুলসীবেদী প্রদক্ষিণ করতে করতে দুই হাত তুলে, সিংহরবে হরিধ্বনি করছেন।তাঁর দুই নয়ন দিয়ে নয়নবারি বহিছে।অদ্বৈতের এই ভাব দেখে, গৌরহরির হৃদয় ভাবে বিভাবিত হল। তিনি আর মনের আবেগ সম্বরণ করতে না পেরে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।অদ্বৈত তাঁকে সামান্য মানব মনে করতেন না ; তিনি নররূপে হরিনাম বিতরণ করবার জন্য অবতীর্ণ হয়েছেন, এই তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস।তিনি গৌরহরিকে নিজ ভবনে দেখে সুখসাগরে ভাসতে লাগলেন।তিনি মনে মনে ভাবতে লাগলেন, "তুমি আমাকে ফাঁকি দিবে,আজ ধরা পড়েছ, চোরা,তুমি কোথায় পালাবে?*
*🌹গৌরসুন্দর মূর্ছিত হয়ে মৃত্তিকায় পঅএ রয়েছেন।অদ্বৈতাচার্য‍্য সেই স্নেহপূর্ণ, ভক্তিমাখান বদনমন্ডল অপলকে নিরীক্ষণ করতে লাগলেন,অবশেষে স্বয়ং ভগবান গৌরহরিকে পঞ্চোপচারে পূজা করে,শ্রীগৌরহরির শ্রীচরণে প্রণত হলেন।গৌরহরির সঙ্গী গদাধর, আচার্য‍্যকে পূজো ও প্রণাম করতে দেখে জিহ্বা কামড়িয়ে বললেন, নিমাই বালক, তাঁকে পূজা করা ও প্রণাম করা আপনার উচিৎ নহে।আচার্য‍্য গদাধরের কথা শুনে ঈষৎ হেসে বললেন, "এ কেমন বালক কিছুদিন পরে জানতে পারবে। বর্তমান আচার্য‍্যের বয়স সত্তর।*
*🌺কিছুক্ষণ পর গৌরহরি চেতনা পেলেন,আচার্য‍্য তাঁকে নানান উপচারে পূজো করেছেন। গৌর আচার্য‍্যের এই কাজের জন্য অতি বিনীতভাবে তাঁর চরণধূলি গ্রহণ করে বললেন,আজ আমি আপনার দর্শন পেয়ে জীবনকে ধন‍্য মনে করছি।আপনার দর্শনে আমার হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণের ভাব উদয় হল।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
*🌻নিশা সংকীর্তন ও অলৌকিক ভাব প্রদর্শন🌻*
*🌹শ্রীগৌরাঙ্গের ব‍্যাকুলতা, প্রেমোন্মত্ততা ও ঐকান্তিক ভগবৎনিষ্ঠা দেখে বৈষ্ণবগণ, ক্রমে তাঁর অনুগত হয়ে পড়লেন ; তার মধ্যে অনেকেই বললেন, এতবড় পন্ডিত বিষ্ণুভক্ত হলেন, এতে তাঁদের প্রাণে এক নূতন শক্তির সঞ্চার হতে লাগিল। লৌহ যেমন চুম্বকপাথরের দিকে আকৃষ্ট হয়,নবদ্বীপের বৈষ্ণবদলও সেই ভাবে ক্রমে ক্রমে তাঁর দিকে আকৃষ্ট হতে লাগলেন।বিশেষ করে তাঁর সঙ্গে হরিনাম কীর্তন করে তাঁরা যেন ধরাধামে স্বর্গসুখ অনুভব করতে লাগলেন।*
*🌹 গৌরহরি ভক্তি-ধর্ম প্রচারের অবতারস্বরূপ হয়ে নবদ্বীপে উপস্থিত হয়েছেন।নাম সংকীর্তনই তাঁর প্রচারের মহামন্ত্র।সেই মন্ত্র বিশেষ ভাবে সাধন করতে হবে।সেজন‍্য তিনি আপন ভবনে মধুর হরিনাম সংকীর্তন আরম্ভ করলেন। ভক্তগণ তাঁর ভবনে সম্মিলিত হতে লাগলেন। সন্ধ‍্যারসময় কীর্তন আরম্ভ হত।ভক্তগণ কীর্তন করতে করতে পাগল হয়ে উঠতেন।ঘন্টার পর ঘন্টা এইরকম ভাবে কেটে যেত।অবশেষে নিশি অবসানে দেখা যেত, তখনও নাম সংকীর্তনের তরঙ্গ সমভাবেই হয়ে চলেছেন।গৌরহরি যখন ভক্তসঙ্গে কীর্তন করতেন, তখন অষ্টসাত্ত্বিকের বেশ কিছু ভাব তাঁর স্পষ্টভাবেই প্রকাশ পেত।তাঁর নয়ন হতে প্রেমাশ্রু নির্গত হত,ভাবাবেশে তিনি যেন স্পন্দহীন হয়ে পড়তেন।তাঁর এই সব লক্ষণ দেখে,লোকে তাঁকে নরলোকের অতীত বলে বিশ্বাস করতে লাগিল।তিনি শ্রীকৃষ্ণের অবতার বলে বৈষ্ণবগণের বিশ্বাস জন্মিতে লাগল।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৫) শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র উপাস‍্য গৌরহরি*
*নিশা সংকীর্তন ও অলৌকিক ভাব প্রদর্শন।*
***************************************
*🌹সংকীর্তনের মাঝে গৌরহরি সকলের কন্ঠালিঙ্গন করে ক্রন্দন করতেন।আর বলিতেন,"কৃষ্ণ দেখা দিয়ে কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেলেন"! পরক্ষণে একদিন এক মোহন মূরতির বিষয় বন্ধুদেরকে বললেন,দেখ ভাই! গয়াধাম হতে আসিবার সময় কানাই নাটশালায়, এক শ‍্যামল সুন্দর বালক,বাঁশী হাতে দেখা দিয়ে কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেল। সেই সুন্দর মোহন মূরতি দেখবার জন্য আমার প্রাণ ব‍্যাকুল হয়েছে।এই বলে,তিনি তাঁর বিরহে অস্থির হয়ে পড়লেন।*
*🍁একদিন গদাধর তাম্বুল নিয়ে গৌরসুন্দরের কাছে গমন করলেন।গৌরহরি তাঁকে ব‍্যাকুল অন্তরে, জিজ্ঞাসা করলেন, "কৃষ্ণ কোথায় আছেন"? সে অপরূপ রূপমাধুরী দেখবার জন্য আমার প্রাণ যে অস্থির হয়েছে। গদাধর তদুত্তরে বললেন, কৃষ্ণ সকলেরই দেহে বাস করছেন।গদাধরের মুখ হতে এই কথা শুনিবামাত্র, তিনি নখ দ্বারা নিজের বক্ষঃস্থল বিদীর্ণ করতে উদ‍্যত হলেন। গদাধর তৎক্ষণাৎ তাঁর হাত ধরে বললেন, এখনি কৃষ্ণ আসিবেন, স্থির হও।গদাধর তাঁকে এইভাবে প্রবোধ দিয়ে শান্ত করলেন, শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে পায়=*
*🌷হৃদয়ে আছেন কৃষ্ণ,বচন শুনিয়া।*
*🌷আপন হৃদয় প্রভু চিরে নখ দিয়া।।*
*🌷আথে ব‍্যথে গদাধর দুই হাত ধরি।*
*🌷নানা-মতে প্রবোধি রাখিলা স্থির করি।।*
*🌻গদাধরের আশ্বাস বাক‍্য শুনে,গৌরহরি খুব তুষ্ট হলেন এবং গদাধর যে গৌরাঙ্গকে নখ দ্বারা বক্ষঃস্থল বিদীর্ণ করবার উদ‍্যোগ হতে রক্ষা করলেন,সেজন‍্য তাঁর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করলেন।*
*🍁শচীমায়ের গৃহে যেন নিত‍্য মহোৎসব হতে লাগল।সুগায়ক ও ভক্ত মুকুন্দ দত্ত সুস্বরে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করতেন, আর গৌরসুন্দর ভাবে বিভোর হয়ে তা শুনতেন।ভক্তগণ অলিকুলের মত হরিনামের সুধা পান করবার জন্য সন্ধ‍্যার সময় শচীগৃহে উপস্থিত হতেন। এবং সকলে মিলে সমস্ত রাত্রি র্সকীর্তনে অতিবাহিত করতেন।তাঁদের সংকীর্তনের ধ্বনিতে প্রতিবেশীর কিছু মানুষের নিদ্রার ব‍্যাঘাত হতে লাগল। অনেকেই বলতে লাগল,এরকম না করলে কি আর হরিভক্তি হয় না?চারিদিকেই একটা ভয়ানক গোলযোগ পড়ে গেল।শ্রীগৌরহরি ও তাঁর ভক্তদল ক্রমে অনেকের অপ্রিয় হয়ে পড়লেন।শ্রীচৈতন‍্য-পরিচালিত সংকীর্তনকারীদের প্রতি লোকে ভয় প্রদর্শন করতে লাগল।কেউ বলল,রাজার আজ্ঞাতে বৈষ্ণবদল ধৃত হবে, এবং তাঁদেরকে এই জায়গা হতে অন‍্য জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কেউ বলল,শ্রীবাস পন্ডিতই এর মূল, তাঁকেই বেঁধে নিয়ে যাবার জন্য দুইটি নৌকা আসবে।এইরকম জনরবে নবদ্বীপের চারিদিক পূর্ণ হয়ে গেল।সকল ধর্ম-সম্প্রদায়ের মধ্যেই সরলচিত্ত মানুষ দেখতে পাওয়া যায় ; তাঁরা কোন সামান্য ভয়ের করণেই বিচলিত হয়ে পড়েন।বৈষ্ণবদলের মধ্যে কেউ কেউ এই জনরবে ভীত হয়ে পড়েছিলেন।শ্রীবাস বিচক্ষণ,পন্ডিত ও ভক্ত হলেও, সরল সাদাসিদে প্রকৃতির লোক ছিলেন।তিনি নবারের আজ্ঞায় ধলা পড়ে বন্দী হবেন, এই কথায় তাঁর মন কিছু চঞ্চল হয়ে পড়েছিল।শ্রীগৌরাঙ্গপ্রমুখ ভক্তদলকে ভীত করবার জন্য লোকে এইরকম কথা প্রচারেই রত হয়েছিল। মহাপুরুষগণ চিরদিনই নির্ভীক। তাঁরা সহজে কোন বিষয়েই বিচলিত হন না।বৈষ্ণবদের প্রতি রাজদন্ড বিধান করা হবে,এইকথা গৌরসুন্দরের কানে যখন শুনলেন,তখন তিনি সুন্দর বস্ত্র পরিধান করে, তাঁর বিশাল বক্ষঃস্থলে চন্দন লেপে দিয়ে,তাম্বুল চিবাতে চিবাতে নির্ভয়ে রাজপথে বিচরণ করতে লাগলেন।নরনারী তাঁর চাঁচর কেশ,তাঁর অত‍্যুজ্জ্বল রূপ ও প্রফুল্ল মুখ দেখে,তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকত।দেখলে মনে হত,যেন কোন রাজপুত্র নগর ভ্রমণে বাহির হয়েছেন।*
*🌷এত ভয় শুনিয়াও ভয় নাহি পায়।*
*🌷রাজার কুমার যেন নগরে বেড়ায়।।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦜🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৬) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*নিশি-সঙ্কীর্তন ও অলৌকিক ভাব প্রকাশ*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🌷এত ভয় শুনিয়াও ভয় নাহি পায়।*
*🌷রাজার কুমার যেন নগরে বেড়ায়।।*
*🌹যখন প্রেমমত্ততার সঙ্গে নিশি-কীর্তন চলতে লাগল,তখন অনেকেই বৈষ্ণবদের বিরুদ্ধে নানা কথা বলতে লাগল। কেউ বলল,এই সব লোকেরা কীর্তনের নামে দরজা বন্ধ করে সুরাপান,ও অন‍্যরকম কোন কুকর্মে রজনী যাপন করে ; কেউ বলল,দেশে অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষ এদের জন্যই ঘটছে। কিন্তু লোকে বৈষ্ণবদের বিরুদ্ধে নানারকম নিন্দাপবাদ রটনা করলেও,বেশ কিছু লোকে বলত, নিমাই পন্ডিত খুবই ভালো মানুষ, কিন্তু মুর্খদের দলে মিশে,নিজের পান্ডিত‍্য হারাচ্ছেন ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ছে।*
*🍀নবদ্বীপে চপল গোপাল নামে এক ব্রাহ্মণ বাস করিত, সে বৈষ্ণবদের চরিত্র,কলুষিত বলে সকলের কাছে সপ্রমাণ করবার জন্য, একদিন গভীর রাত্রিতে,শ্রীবাস পন্ডিতের বাড়ীর বাইরে দরজায়, তান্ত্রিকদের পূজোপযোগী একটি জবাফুল,কলা,মদ‍্যভান্ড আরও বেশ কিছু অরুচিকর রেখে দেয়।সকালবেলা শ্রীবাস পন্ডিত এইসব দেখে প্রতিবেশীদের ডেকে কৌতূহলচ্ছলে বললেন দেখ,আমরা রাত্রিতে সুরাপান প্রভৃতি কাজে সময় অতিবাহিত করি।শ্রীবাস পন্ডিত পরম ভক্ত বলে সকলেই বিশ্বাস করত। এজন‍্য সকলেই মনে করল যে,কোন দুষ্টলোকের দ্বারা এই কাজ হয়েছে। অল্পদিন পরেই চপলগোপাল যে এই কাজ করেছে তা জানাজানি হয়ে গেল।প্রবাদ এই, দুষ্ট ব্রাহ্মণ নিরপরাধ বিষ্ণুভক্তদের চরিত্রকে লোকের চোখে হেয় করবার জন্যই,কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু অবশেষে শ্রীবাসের পদধূলি গ্রহণ করে,এই কঠিন পীড়ার হাত হতে মুক্তি লাভ করে।*
*🌻শ্রীগৌরসুন্দর একদিন "মুঞি সেই মুঞি সেই" এই ধ্বনি করতে করতে শ্রীবাস পন্ডিতের গৃহে উপস্থিত হলেন।ভক্ত শ্রীবাস তখন গৃহে বসে নৃসিংহ পূজায় রত ছিলেন।গৌরহরি গৃহদ্বারে বারেবারে পদাঘাত করতে করতে বলতে লাগলেন, "তুই কার পূজা করছিস?তুই যার পূজা করছিস,সে তোর দ্বারেতেই উপস্থিত হয়েছে।শ্রীবাস পন্ডিত গৌরহরির কন্ঠস্বর শুনেই,পূজার আসন হতে তাড়াতাড়ি এসে দেখলেন,বিশ্বম্ভর শঙ্খ,চক্র,গদা,পদ্মধারী হয়ে চতুর্ভূজ মূর্তিতে বীরাসনে (পদ্মাসনের ন‍্যায়)বসে আছেন।শ্রীবাস নারায়ণের সে মূর্তি দেখে স্তম্ভিত হয়ে রইলেন। শ্রীবাস নিকটে আসতেই, মহাপ্রভু শ্রীবাসকে সম্বোধন করে বললেন, "ওরে শ্রীবাস! তুই এতদিন আমাকে চিনতে পারিস নাই, তোর উচ্চ সংকীর্তনে ও নাড়ার (অদ্বৈতাচার্য‍্যের) ব‍্যাকুলতা ও হুঙ্কার রবে আমি বৈকুন্ঠধাম পরিত‍্যাগ করে এখানে আগমন করেছি।তুই আমায় এখানে এনে নিশ্চিন্ত হয়ে আছিস।তোদের আর কোন চিন্তা নাই, আমি ভক্তদের উদ্ধার করব ও পাষন্ডীদের পাষন্ডতা বিনাশ করব।* 
*🙏শ্রীবাস পরমভক্ত, পঞ্চতত্ত্বের ভক্ত‍্যাখ‍্য।আজ শ্রীগৌর অঙ্গে চতুর্ভূজ মূর্তি দেখে ও তাঁর বৈকুন্ঠ পরিত‍্যাগ করে আসিবার কথা শুনে, শ্রীবাস শ্রীগৌরের পদতলে প্রণত হয়ে, তাঁর স্তব করতে লাগলেন। স্তবস্তুতি করে, শ্রীবিষ্ণুপূজার সমস্ত পুষ্প শ্রীগৌরের শ্রীচরণে উৎসর্গ করলেন। আর তাঁর পরিবারের সকলে পূজোর উপহার নিয়ে শ্রীগৌরাঙ্গকে বন্দনা করলেন। তারপরে বিশ্বম্ভর শ্রীবাসকে ডেকে বললেন, শ্রীবাস!রাজার নৌকা এসে তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে, এইকথা শুনে তুমি বড়ই ভয় পেয়েছ তাইনা?যদি তোমায় বেঁধে নিয়ে যাবার জন্য রাজ-আজ্ঞায় নৌকা পাঠাই, তাহলে আমি আগে সে নৌকায় গমন করব, আমি রাজার কাছে গিয়ে, তাঁকে ও তাঁর পারিষদবর্গকে হরিনাম দিয়ে মুগ্ধ করে ফেলব।কেবল তাইই নয়,অশ্ব, হস্তী,মৃগ,পক্ষী সকলকে হরিনাম শুনিয়ে অশ্রুজলে সিক্ত করব।*
*🍁গৌরহরি এইসব কথা বলতে বলতে শ্রীবাসকে বললেন, তোমার সামনেই তার এক দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করছি।সে সময় চার বছর বয়সের বালিকা শ্রীবাসের ভাইয়ের কন‍্যা নারায়ণী সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল।গৌরহরি তাঁকে বললেন, "নারায়ণী কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলিয়া কাঁদত।"ত‍ৎক্ষণাৎ নারায়ণি "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে ডাকতে লাগলেন, আর সেই সরলা বালিকার দুইনয়ন হতে বারিধারা বহিতে লাগল।শ্রীবাস ও অন‍্যান‍্য সকলে এ দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেলেন।এই চার বৎসরের বালিকা নারায়ণী দেবীই ভবিষ্যতে শ্রীচৈতন‍্য-ভাগবত রচয়িতা শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুরের জননী হয়েছিলেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৭) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*নিশি সঙ্কীর্তন ও অলৌকিক ভাব প্রকাশ*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌳আর একদিন বরাহ অবতারের শ্লোক শ্রবণ করে, গৌরসুন্দরের বরাহাবতার হবার বাসনা জন্মিল।তিনি ছুটে মুরারি গুপ্তের বাড়ীতে উপস্থিত হলেন। মুরারি গুপ্ত সসম্মানে গৌরহরিকে অভ‍্যর্থনা করলেন। ভাবনিধি গৌরহরি "শূকর শূকর" বলে চিৎকার করে উঠলেন ; এবং সামনে জলপাত্র দেখে,সেটি দাঁত দিয়ে উঠালেন।বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণ বললেন,মুরারি গুপ্ত!সে সময় গৌরহরিকে প্রকৃতরূপে বরাহমূর্তি ধারণ করতে দেখেছিলেন। গৌরহরির এ-সকল অলৌকিক দৃশ্য ভক্তগণ দর্শন করেছিলেন।*
*🌹🌹গৌর-নিত‍্যানন্দ মিলন🌹🌹*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🌻শ্রীপাদ নিত‍্যানন্দপ্রভু রাঢ়দেশের অন্তর্গত একচক্রা গ্রামে,১৭০৭ শকে ফাল্গুন মাসে শুক্ল ত্রয়োদশী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন।পিতার নাম হাড়াই ওঝা, মাতা পদ্মাবতী।হাড়াই ওঝা সুখ ও শান্তিতে বাস করছিলেন, এমন সময়ে অকস্মাৎ এক ঘটনা উপস্থিত হল।এক সন্ন‍্যাসী একচক্রায় আগমন করে হাড়াই ওঝার বাড়ীতে আতিথ‍্য গ্রহণ করেন, সরলচিত্ত হাড়াই ওঝা সন্ন‍্যাসীকে যথোচিত সম্মান প্রদর্শন করে,তাঁকে আপন বাড়ীতে সম্মানের সঙ্গে রাখলেন।আগন্তুক তাঁর বাড়ীতে আশ্রয় লাভ করে,গৃহস্বামী ব্রাহ্মণের মধুর আলাপনে পরম পরিতোষ লাভ করলেন।হাড়াই ওঝা ও সন্ন‍্যাসী উভয়েই ভক্তিপথের পথিক--,উভয়েই ধর্মানুরাগী।হাড়াই ওঝার সঙ্গে সন্ন‍্যাসীর সারারাত্রি কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গে অতিবাহিত হল।এই ভগবৎ কথা আস্বাদন করে উভয়েই পরম প্রীতি লাভ করলেন। সন্ন‍্যাসী ইতিপূর্বেই মনে একটি বাসনা করেছিলেন।তাঁর ইচ্ছা হয়েছিল, তিনি হাড়াই ওঝার কাছ হতে তাঁর পুত্র নিত‍্যানন্দকে ভিক্ষা স্বরূপ প্রার্থনা করবেন।তাই তিনি হাড়াই পন্ডিতকে বললেন, আমি নানাতীর্থে বিচরণ করি, কিন্তু আমার কোন সঙ্গী নাই ; তোমার এই বালকটি পেলে, আমি তাকে নানা জায়গা পরিদর্শন করাব ও বিশেষ যত্নসহকারে তাকে রক্ষা করব। তুমি তোমার এই বালকটিকে আমায় দাও। অতিথির কাছে এইকথা শুনে শিহরিয়ে উঠলেন।তাঁর অঙ্গ কাঁপতে লাগল, নিতাই তাঁর প্রাণ অপেক্ষাও প্রিয়তর,তিনি সন্তানকে বিদায় দিয়ে, কিভাবে জীবন ধারণ করবেন! তা কিছুই স্থির করতে পারলেন না।অথচ সন্ন‍্যাসীর প্রার্থনা পূর্ণ না করলেও চরম অধর্ম হবে। তিনি সন্ন‍্যাসীকে বললেন,এ বিষয়ে আমার পত্নীর একটা মতামত গ্রহণের আবশ‍্যক।এই বলে তিনি পদ্মাবতীর কাছে গিয়ে,সন্ন‍্যাসীর প্রার্থনা বললেন।পদ্মাবতী ধর্মপরায়ণা নারী ; তিনি ভাবলেন সন্ন‍্যাসীর প্রার্থনা পূর্ণ না করলে,চরম অধর্ম হবে। তিনি সেজন্য স্বামীকে বললেন, তুমি যা ভাল মনে কর, তাই করো।হাড়াই পন্ডিত পত্নীর কাছ হতে কোন নিষেধ বাক‍্য না শুনে, সন্ন‍্যাসীর কাছে গিয়ে নত মস্তকে তাঁর প্রাণাপেক্ষাও প্রিয়তম পুত্রকে সন্ন‍্যাসীর হাতে তুলে দিলেন।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৮) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
    *শ্রীগৌরহরি নিত‍্যানন্দ মিলন*
    ****************************
*🍀সন্ন‍্যাসী, বালক নিত‍্যানন্দের হাত ধরে হাড়াই পন্ডিতের বাড়ী হতে নিষ্কান্ত (বহির্গত) হলেন।এদিকে পুত্রকে সন্ন‍্যাসীর হাতে প্রদান করে হাড়াই পন্ডিত মূর্ছিত হয়ে ভূতলে পড়ে গেলেন।তিনি সেই অবধি অন্তিমকাল পর্য‍্যন্ত প্রায় মনমরা হয়ে সংসারে বাস করেছিলেন।পুত্রকে বিদায় দিয়ে তিনি প্রায় তিনমাস একরকম অন্নজল গ্রহণ করেননি।এদিকে নিত‍্যানন্দ সন্ন‍্যাসীর সঙ্গে ভারতের বহু দেশে ও নানা তীর্থে পর্য‍্যটন করতে লাগলেন।*
*🌳তিনি নানা জায়গা ভ্রমণ করে মথুরাতে এসে বাস করতে লাগলেন।নিত‍্যানন্দ সাধু সঙ্গে বিচরণ করে,নিজের মনপ্রাণকে দারুণ ভাবে পূর্ণ করেছিলেন।ভক্তিরসে তাঁর চিত্ত সদাসর্বদা পরিপ্লুত হয়ে থাকত।বাল‍্য জীবন হতে সংসারের সুখ ও আনন্দকে জলাঞ্জলী দিয়ে, পরম বৈরাগীর মতো জীবন ধারণ করতেন।তাঁর আহার ও পরিচ্ছদের দিকে কিছুমাত্র দৃষ্টি ছিল না।তিনি কখনও অনাহারে,কখনও বা সামান্য কিছু আহার করে জীবন ধারণ করতেন।সেই আহার,তাও কেউ যখন স্বেচ্ছাক্রমে কিছু প্রদান করত,তবেই তা গ্রহণ করতেন, নতুবা অনশনেই দিন যাপন করতেন। তিনি যখন মথুরাতে বাস করছিলেন, তখন ভগবৎ-প্রেমরসে সর্বদাই বিভোর হয়ে থাকতেন।তাঁর স্বভাব বালকের ন‍্যায় ছিল।তিনি বৃন্দাবনে বালকের ন‍্যায়, কখন খেলাধূলা করতেন,কখনও ভগবৎপ্রেমে বিভোর হয়ে ভূমিতে পড়ে গড়াগদিতেন ; তাঁর সুন্দর কোমল অঙ্গ সর্বদা ধূলায় ধূসরিত হয়ে থাকত।নিত‍্যানন্দ যখন মথুরায় এইভাবে দিন যাপন করছেন,তখন নবদ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর ভক্ত সঙ্গে সংকীর্তন কোরে, ভগবদ্ভক্তহীন ব‍্যক্তিদের কঠিন প্রাণ দ্রবীভূত করছিলেন।*
*🍀এক ভক্তের হৃদয়তন্ত্রী ভগবানের প্রেমাঙ্গুলির আঘাতে বেজে উঠিলে, অন‍্য ভক্তের হৃদয়েও সে ঝঙ্কার প্রবেশ করে তাঁর চিত্তকে বিমোহিত করে তুলে। গৌরহরি যখন নবদ্বীপে মত্ত মাতঙ্গের ন‍্যায় ভাবাবেশে কীর্তন করতেন,তখন তিনি নিত‍্যানন্দের অভাব বড়ই অনুভব করতেন।নিত‍্যানন্দও বৃন্দাবনে থেকে শুনতেন,শ্রীগৌরাঙ্গ নবদ্বীপে ভক্তসঙ্গে মধুর কীর্তনে লোকের প্রাণ মুগ্ধ করেছেন, তাঁর চিত্ত এই প্রেমস্রোতে ভাসাবার জন্য,ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না, গৌরাঙ্গের জন্মভূমি,প্রেমভক্তি প্রচারের উৎসস্বরূপ নবদ্বীপে আগমন করলেন, এবং নন্দন আচার্য‍্যের ভবনে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।*
*🌺নন্দন আচার্য‍্য অবধূত নিত‍্যানন্দকে পেয়ে যেন কোন স্বর্গের দেবতা লাভ করলেন বলে মনে করতে লাগলেন।নিতাইচাঁদ কৃষ্ণপ্রেমে কখনও কাঁদতেন, কখনও বা হাসিতেন, কখনও আবার হুঙ্কার রবে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে চিৎকার করে উঠতেন।নিত‍্যানন্দের আগমন বার্তা চারিদিকে প্রচারিত হল।অদ্বৈত- প্রমুখ বৈষ্ণব ভক্তগণ,একটি নবযুগের আবির্ভাব প্রতীক্ষা করছিলেন।নিত‍্যানন্দের অদ্ভুত ভক্তিভাবের কথা কারও অজানা ছিল না ; বৈষ্ণবগণ মনে মনে ভাবতে লাগলেন,তিনি গৌরহরির সঙ্গে মিলিত হলে,নবদ্বীপে ভক্তিনদী প্রবাহিত হবে।ভক্তচূড়মণি শ্রীগৌরসুন্দরের কানে নিত‍্যানন্দের আগমন বার্তা প্রবেশ করলে, আনন্দে তাঁর হৃদয় নৃত্য করতে লাগল।তিনি পুলকিত অন্তরে তাঁর সঙ্গীদের কাছে গিয়ে,এ বিষয়ের একটি স্বপ্ন বৃত্তান্ত উল্লেখ করে বললেন, আজ রাত্রিতে এক আশ্চর্য‍্য স্বপ্ন দেখেছি, দেখলাম, একটি রথ এসে আমার বাড়ীর সামনে এসে দাঁড়াল। এক ব‍্যক্তি সেই রথে বসে আছেন, তাঁর প্রকান্ড শরীর, সৌম‍্যমূর্তি, তিনি নীলবসন পড়ে আছেন,কর্ণে কুন্ডল ঝুলছে। তিনি আমায় জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি নিমাই পন্ডিতের বাড়ী? আমি তাঁর কথা শুনে জিজ্ঞাসা করলাম, "আপনি কোন মহাপুরুষ?তিনি হেসে বললেন, ভাই! আগামীকাল তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় হবে।" তাঁর কথা শুনে, আনন্দে আমার প্রাণ পূর্ণ হয়ে গেল।সঙ্গীদেরকে গৌরসুন্দর স্বপ্নকথা বলে ভাবে বিভোর হয়ে পড়লেন, এবং "মদ‍্য আন,মদ‍্য আন" বলে চিৎকার করতে লাগলেন।গৌরসুন্দরের এইকথা শুনে শ্রীবাস পন্ডিত বললেন, ভাই!তুমি যে মদ‍্য চাইছ, সে মদ‍্য তোমারই কাছে আছে, তুমি যাকে তা বিলাও, সেই তা পায়।*
*🌷শ্রীবাস পন্ডিত বোলে শুন হে গোসাঞি।*
*🌷যে মদির চাহ তুমি সে তোমার ঠাঞি।।*
*🌷তুমি যারে বিলাও, সেই তাহা পায়।*
*🌹এইকথা শোনার কিছুক্ষণ পরে শ্রীগৌরহরি মৃদু হেসে বললেন,এসো আমরা সকলে মিলে নন্দন আচার্য‍্যের গৃহে গিয়ে নিত‍্যানন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাই।ভক্তগণ মহাপ্রভুর আদেশে "জয় কৃষ্ণ" বলতে বলতে উল্লসিত হয়ে অবধূত, কৃষ্ণপ্রেমিক মহাভক্ত নিত‍্যানন্দকে দেখবার জন্য গমন করলেন।বিশ্বম্ভর তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।নিত‍্যানন্দ যাঁর জন্য ব‍্যাকুল হয়ে নবদ্বীপে আগমন করেছেন,আজ সেই গৌরসুন্দরকে সম্মুখে দেখে,অনিমিষ নয়নে তাকিয়ে রইলেন। ক্ষণকাল পরে গৌরহরি শ্রীবাসকে ভাগবতের একটি শ্লোক পাঠ করতে ইঙ্গিত করলেন।শ্রীবাস ইঙ্গিতানুসারে শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক একটি শ্লোক পাঠ করিবামাত্র নিতাইচাঁদ মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।বিশ্বম্ভর তাঁর এই ভাবাবেশ দেখে, বললেন--, "আবার পড়,আবার পড়" বলতে লাগলেন।তারপর নিত‍্যানন্দ একটু চেতনা লাভ করে, সিংহ-নাদে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে চিৎকার করতে লাগলেন, মাটিতে পুনঃপুনঃ আছাড় খেতে লাগলেন; উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন।তাঁর এই উন্মত্তপ্রায় অবস্থা দেখে ভক্ত বৈষ্ণবগণের প্রাণে ভীতির সঞ্চার হল। অবশেষে করুণাময় গৌরহরি নিত‍্যানন্দকে কোলে কোরে বসিলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৯) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
       *শ্রীগৌর নিত‍্যানন্দ মিলন*
       ************************
*🍀শ্রীগৌর নিত‍্যানন্দের মধ্যে এই অপূর্ব ভক্তলীলার সৌন্দর্য্য দেখে বিমুগ্ধ হয়ে পড়লেন।সাধুগণকে কিভাবে সম্মান করতে হয় তা গৌরহরি নিজ জীবনে দেখিয়ে দিলেন। তিনি নিত‍্যানন্দের স্তুতি করতে আরম্ভ করলেন, এবং প্রেমে গদগদ হয়ে নিত‍্যানন্দকে বললেন, শ্রীপাদ! শ্রীকৃষ্ণ তোমাতে অবতীর্ণ হয়েছেন,তোমাকে ভজনা করলে জীব কৃষ্ণভক্তি লাভ করতে পারে।*
*তারপর শ্রীগৌরহরি তাঁর আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করলে,তিনি বিনম্রভাবে বললেন,বহুদেশ পর্য‍্যটন করলাম, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের দেখা কোথাও পেলাম না ; কত লোককে জিজ্ঞাসা করলাম, কোথায় কৃষ্ণ, তাঁকে দর্শন করে আমি আমার তাপিত জীবন শীতল করব? কেউ কোন সন্ধান দিতে পারল না।তারপর শুনলাম,শ্রীকৃষ্ণ গৌরবেশে নবদ্বীপে অবতীর্ণ হয়েছেন ; সেখানে গেলে অবশ্যই শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীগৌররূপে দর্শন হবে। নবদ্বীপে তিনি সদা হরিনাম সংকীর্তনে বিভোর হয়ে আছেন, আমি পাতকী, ঐকথা শোনার পর পরিত্রাণ লাভের জন্য এখানে আসিলাম। দুই ভক্তের হৃদয়ে প্রেম-নদী প্রবাহিত হতে লাগল ; উভয়ের হৃদয়ে প্রেম-তরঙ্গ উথলিত হল। গৌর-নিতাইয়ের মিলনে, বঙ্গদেশে এক নূতন যুগের সৃষ্টি হল। গঙ্গা-যমুনার মিলনের ন‍্যায়, ভারতভূমিতে প্রেমভক্তির নবস্রোত প্রবাহিত হতে আরম্ভ হল।*
*নিতাইচাঁদ সরল শিশুর মতো বিচরণ করতেন।যখন গঙ্গায় স্নান করতে যেতেন, তখন আনন্দে জলে সাঁতার দিতেন,জলে বড় কোন জলজন্তু দেখলে ধরতে যেতেন।একদিন গৌরহরি স্নান করছেন,এমন সময় গৌরহরি নিত‍্যানন্দকে বললেন, শ্রীপাদ!আজ যে ব‍্যাসপূজা।কোথায় ব‍্যাস পূজা হবে?শ্রীবাসের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললেন,এই বামুনের বাড়ীতে।বেদব‍্যাসের সব পূজার আয়োজন হল, শ্রীবাস একছড়া বন-ফুলের মালা,সুগন্ধে লেপে, নিত‍্যানন্দের হাতে দিয়ে বললেন, ব‍্যাসদেবের উদ্দেশ্যে পূজার স্থানে এই মালা অর্পণ কর। নিত‍্যানন্দ মালা হাতে করে চারিদিক তাকিয়ে অবশেষে গৌরহরির গলায় পরিয়ে দিলেন। 🙏পরম বৈষ্ণব লেখকগণ বলেন,সেই সময় শ্রীগৌরহরি নিত‍্যানন্দের নিকট ষড়ভূজ মূর্তি প্রকাশ করেছিলেন।🙏নিত‍্যানন্দ সেই মূরতি দর্শন করে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।গৌরাঙ্গ তারপরে তাঁর শ্রীঅঙ্গে হাত বুলাতে লাগলেন, চেতনা ফিরে পেলেন। ব‍্যাসপূজা সমাপনান্তে গৌরসুন্দর কীর্তন করতে বললেন। ভক্তবৃন্দ মহোল্লাসে কীর্তন আরম্ভ করলে, গৌর-নিতাই হাত ধরাধরি করে নৃত্য করতে লাগলেন।শচীদেবী যখন দেখলেন,তাঁর পুত্র ও নিতাই পরস্পর হাত ধরে নৃত্য করছেন, তখন তাঁর আর আনন্দের সীমা রইল না।তিনি নিতাইকে বিশ্বরূপের মতো নিজের পুত্রজ্ঞানে স্নেহ করতেন।*
*শ্রীগৌরাঙ্গ, নিত‍্যানন্দ প্রভৃতি ভক্তগণ নিয়ে একদিন হরিগুণ কীর্তনে আনন্দে সময় অতিবাহিত করছেন, এমন সময় গৌরহরি, "নাড়া কোথায় গেল" বলে চিৎকার করে উঠলেন। ভক্তগণ বুঝতে পারলেন যে, মহাপ্রভু অদ্বতাচার্য‍্যকে লক্ষ্য করে ডাকছেন। অদ্বৈতাচার্য‍্য কিন্তু শান্তিপুরে নিজ বাস ভবনে আছেন। গৌরহরি, শ্রীবাস পন্ডিতের ভাই, রামাই পন্ডিতকে বললেন, তুমি শান্তিপুরে গিয়ে নাড়াকে নিয়ে এসো।রামাই গৌরহরি আজ্ঞা পেয়ে তৎক্ষণাৎ শান্তিপুরের দিকে ছুটলেন, এবং অদ্বৈত ভবনে উপস্থিত হয়ে,শ্রীগৌরাঙ্গের সমস্ত কথা তিনি বললেন। এবং তারসঙ্গে নবদ্বীপে ভক্তদলের মধ্যে হরিপ্রেমের কিরকম তরঙ্গ উঠেছে তারও কিঞ্চিৎ আভাস দিলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ যে শ্রীকৃষ্ণের অবতার, অদ্বৈতাচার্য‍্যের মনে এ বিশ্বাস অনেকদিন হতে স্থান পেয়েছিল, এখন তাঁর বিশ্বাস ক্রমে দৃঢ়তর হয়ে উঠিল।তিনি রামাই পন্ডিতে কাছে সব কথা শুনে, একটু আমোদ করে বললেন,শ্রীকৃষ্ণের তো আর কাজ নেই, তিনি নবদ্বীপে এসে অবতার হয়েছেন। এই কথাগুলি বলার পর তাঁর নয়ন হতে আনন্দাশ্রু নির্গত হতে লাগল। তিনি তাঁর পত্নী সীতাদেবীকে নবদ্বীপের সব কথা বললেন।স্বামীর মুখে গৌরলীলার কথা শুনে,তাঁর পত্নীর নয়ন হতেও আনন্দধারা বহিতে লাগল।অবশেষে এই আনন্দমেলায় যোগদান করবার জন্য আচার্য‍্য সস্ত্রীক নবদ্বীপে গমন করলেন।*
*আচার্য‍্য যখন শান্তিপুর হতে নবদ্বীপের পথে যাচ্ছিলেন,তখন তিনি বলেছিলেন, নিমাই যদি যথার্থই শ্রীকৃষ্ণের অবতার হন, তাহলে, তিনি এমন কোন কার্য‍্য প্রদর্শন করবেন, যাতে আমি প্রকৃতরূপে তাঁর অবতারত্বে পরিপূর্ণ ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারি।আচার্য‍্য নবদ্বীপে উপস্থিত হয়েই, গৌরাঙ্গের সভায় উপস্থিত হলেন। 🔶বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণ বলেন, আচার্য‍্যের মনে নিজের অবতারত্বের বিশ্বাস উৎপাদন করবার জন্য, বৃদ্ধের মস্তকোপরি নিজের পদযুগল স্থাপন করেছিলেন। তখন আচার্য‍্যের সকল সংশয় দূর হয়েছিল। যাঁর জন্য তিনি কত সময় সকাতরে প্রার্থনা করেছিলেন,কতদিন তিনি অনাহারে দিন যাপন করেছিলেন, এখন সে গৌরাঙ্গ দর্শনে সে আশা পূর্ণ হল।তাঁর মনপ্রাণ আনন্দে নৃত্য করতে লাগিল। আবার শোনা যায় আচার্য‍্য, নন্দন আচার্য‍্যের গৃহে লুকিয়ে ছিলেন, সত‍্য গৌর শ্রীকৃষ্ণ কিনা পরীক্ষা করবার জন্য। যাইহোক,আচার্য‍্যের আগমনে ভক্তগণের মধ্যে আরো আনন্দে মেতে উঠিলেন।নিত‍্যানন্দের সঙ্গে অদ্বৈতাচার্য‍্যের পরিচয় হল। তাঁরা সকলে মিলে মনের আনন্দে কীর্তন করতে লাগলেন।*
🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪০) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
          *শ্রীগৌরাঙ্গের "প্রেমনিধি"*
           ***********************
*🍀শ্রীগৌরসুন্দর নিত‍্যানন্দ প্রভৃতি ভক্তগণের সঙ্গে সংকীর্তন করছেন, এমন সময়ে তিনি "পুন্ডরীক বাপ রে" বলে ক্রন্দন করে উঠলেন।ভক্তগণ মহাপ্রভুর শ্রীমুখ হতে "পুন্ডরীকের" নাম শুনে, পুন্ডরীক কে, তা বুঝতে পারলেন না।ভক্তগণ বুঝলেন,গৌরসুন্দরের শ্রীমুখ হতে যখন পুন্ডরীকের নাম উচ্চারিত হচ্ছে, তখন ইনি নিশ্চয়ই একজন পরমভক্ত হবেন।তাঁরা উৎসুক চিত্তে শ্রীগৌরাঙ্গকে জিজ্ঞাসা করলেন, প্রভো! পুন্ডরীক কে? মহাপ্রভু বললেন,"পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি চট্টগ্রাম নিবাসী ; তিনি ঐশ্বর্য‍্যশালী, তাঁকে দেখলে ভক্ত বলে মনে হবে না, একজন বিলাসী পুরুষ বলেই বোধ হবে। গৌরহরি এইকথা বলতে বলতে অশ্রুবর্ষণ করতে লাগলেন।তারপর ভক্তগণকে বললেন, "তোমরা প্রেমাকর্ষণ দ্বারা তাঁকে এখানে নিয়ে এসো ; তাঁকে দেখবার জন্য আমার প্রাণ বড় ব‍্যাকুল হয়েছে।*
*🌷তাঁরে না দেখিয়া আমার স্বাস্থ‍্য নাহি পাই।*
*🌷সবে তাঁরে আকর্ষিয়া আনহ এথাই।।*
*🌷কহি তাঁর কথা প্রভু আবিষ্ট হইলা।*
*🌷"পুন্ডরীক বাপ" বলি কাঁদিতে লাগিলা।।*
                            *(শ্রীচৈঃভাঃ)*
*🍀চুম্বকের আকর্ষণী শক্তির মতো প্রেমেরও আকর্ষণী শক্তি আছে।যে সময় গৌরসুন্দর বিদ‍্যানিধিকে দেখবার জন্য ব‍্যাকুল হয়েছিলেন, সে সময় পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির মনও, শ্রীগৌরসুন্দরকে দেখবার লালসায় ব‍্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম হতে নবদ্বীপে আগমন করলেন। এখানে তাঁর বাসস্থান আছে। তিনি যখন আগমন করলেন, তখন তাঁর সঙ্গে অনেক দাসদাসী, ও বহুবিধ দ্রব‍্যসম্ভার নিয়ে এসেছিলেন।নবদ্বীপে আগমন করে তিনি রাজকুমারের ন‍্যায় নিজ বাড়ীতে বসবাস করতে লাগলেন। পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি নবদ্বীপে আগমন করলে, মুকুন্দ দত্ত তাঁর বন্ধু, শ্রীমাধব মিশ্রের পুত্র পরম ভাগবত গদাধর পন্ডিতকে সঙ্গে নিয়ে বিদ‍্যানিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গমন করলেন।পুন্ডরীক হিঙ্গুলবর্ণে রঞ্জিত অতি সুন্দর একটি সুকোমল শয‍্যাপরি সুন্দর সুন্দর বালিশ নিয়ে মনোসুখে বসে আছেন। একেবারে মহারাজার মতো।তাঁর দুই পার্শ্বে পিকদানী ও সম্মুখে ডিবেভরা পাকা পান শোভা পাচ্ছে।গৃহের চারিদিকে নানারকম শোভনীয় বস্তুসব সজ্জিত রয়েছে।মুকুন্দ দত্ত গদাধরকে নিয়ে তাঁর ভবনে উপস্থিত হলে,পুন্ডরীক মুকুন্দকে বললেন, তোমার সঙ্গে যিনি এসেছেন তিনি কে?মুকুন্দ বললেন, ইঁনার নাম গদাধর পন্ডিত, শ্রীমাধব মিশ্রের পুত্র, পরমভক্ত।পুন্ডরীক গদাধরের পরিচয় পেয়ে পরম আনন্দ পেলেন।*
*🌹গদাধর বিদ‍্যানিধির বিলাসিতা দেখে মনে মনে ভাবতে লাগলেন, মহাপ্রভু ইঁনাকে পরমভক্ত বলেন, ইঁনাকে দেখবার জন্য গৌরহরি ব‍্যাকুল হয়ে রোদন করছেন! কিন্তু এ ব‍্যক্তি তো বিষয়ীর চূড়ান্ত ও বিলাসী বলেই বোধ হচ্ছে।মুকুন্দ দত্ত গদাধরের মনের ভাব বুঝতে পেরে, পুন্ডরীকের প্রকৃত পরিচয় কি, তা প্রকাশ করবার ইচ্ছে করলেন।তিনি শ্রীমদ্ভাগবতের ভক্তি-উদ্দীপক একটি শ্লোক আবৃত্তি করলেন। মুকুন্দের রসনা হতে মধুর ভাগবতের শ্লোক শোনামাত্র পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি ভাবাবেশে সুকোমল দুগ্ধফেনিনিভ শয‍্যা হতে ভূতলে পড়ে, ঘন ঘন পদদ্দয় সঞ্চালন ও "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে রোদন করতে লাগলেন।তাঁর অঙ্গ সঞ্চালনে গৃহের সুসজ্জিত দ্রব‍্যাদি ছিন্নভিন্ন হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।আবার কোন কোন দ্রব‍্য ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল।ভাগবতের শ্লোক শুনে তিনি এতই অধীর হয়ে পড়লেন যে,তিনি নিজের সুন্দর পরিধেয় বস্ত্র মাটিতে গড়াগড়ি দেবার ফলে মলিন হয়ে গেল।যখন মুকুন্দ শ্লোক পাঠ করছিলেন তখন তিনি মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিলেন। গড়াগড়ি দিতে দিতে তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।*
*🌺গদাধর পন্ডিত মনে মনে যা ভেবেছিলেন, পুন্ডরীকের মধ্যে তার বিপরীত ভাব দেখে তিনি অবাক হয়ে গেলেন।যাঁকে তিনি ঘোর বিষয়ী, বিলাসী মনে করেছিলেন,এখন দেখলেন,তাঁর ঐশ্বর্য‍্যের আড়ালে অনাসক্তির অসি লম্বমান রয়েছে, আর কৃষ্ণপ্রেমরূপ অমূল‍্য প্রেমরত্ন বিরাজ করছে।সেই রত্নের শুভ্র জ‍্যোতিতে তাঁর অন্তর্জ্জগৎ আলোকিত।তখন গদাধর বুঝলেন, বিদ‍্যানিধি বিষয়ী নন, তিনি অকপট কৃষ্ণপ্রেমিক।*
*🌲এমন অকপট কৃষ্ণপ্রেমিককে দর্শন করে গদাধর নিজেকে কৃতার্থ বোধ করতে লাগলেন। তিনি মুকন্দকে আলিঙ্গন করে বললেন, মুকুন্দ তুমি, আমার যথার্থ বন্ধুর কাজ করলে,তুমি এমন পরমভক্তকে দেখিয়ে আমার যথার্থ উপকার করলে। সত‍্যি বলছি, বিলাসীতার মধ্যে এত কৃষ্ণপ্রেম আমি আর কখনও দেখি নাই।এইরকম ভক্ত দর্শনে জীবন পবিত্র হয়।গদাধর বন্ধুর কাছে এইসব কথা বলে তিনি বিদ‍্যানিধির নিকট দীক্ষা গ্রহণের অভিলাষ জ্ঞাপন করলেন।মুকুন্দ, দীক্ষা গ্রহণের কথা জ্ঞাপন করাতে, তিনি ভাল ভাল বলে আনন্দ প্রকাশ করলেন*।
*☘কথায় কথায় সন্ধ‍্যা অতীত হয়ে গিয়েছে। মুকুন্দ বিদ‍্যানিধিকে সঙ্গে নিয়ে গৌরহরির নিকটে উপস্থিত হলেন।ইতঃপূর্বেই মহাপ্রভু তাঁর আগমন বার্তা শুনেছিলেন।পুন্ডরীক গৌরাঙ্গের মোহনমূর্তি দেখা মাত্র,ভাবের উচ্ছাসে একেবারে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন।মহাপ্রভুর ভক্তগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু ইনিই সেই পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি তা তাঁরা প্রথমে বুঝতে পারেন নাই।বিদ‍্যানিধির ভাব দেখে সকল ভক্তগণ ক্রন্দন করতে লাগলেন।তখন গৌরসুন্দর "বাপ পুন্ডরীক"বলে তাঁকে বক্ষে জড়িয়ে ধরে মহাপ্রভুও ক্রন্দন করতে লাগলেন।ভক্তগণ তখন নবাগত ব‍্যক্তির পরিচয় পেলেন। তারপর ভক্তগণ কীর্তন আরম্ভ করলেন।যেন চারিদিকে প্রেমের ঢেউ উঠতে লাগিল।ভক্তদলের মাঝে, গৌরহরি পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধিকে বক্ষে জড়িয়ে ধরে বললেন, "ইঁনার পদবী আজ হতে, "প্রেমনিধি"।মহাপ্রভুর রসনা হতে বিদ‍্যানিধির নব উপাধি ব‍‍্যক্ত হইবামাত্র ভক্তবৃন্দ উর্দ্ধবাহু হয়ে আনন্দে "হরিধ্বনি " করে উঠিলেন।*
*🌹তারপর সবার হৃদয়ের ভাবতরঙ্গ কিছু প্রশমিত হলে, মুকুন্দ গৌরহরিকে বললেন, বিদ‍্যানিধির নিকট গদাধরের দীক্ষার বাসনার কথা।গৌরহরি এই শুভ সংবাদে পরম আনন্দ প্রকাশ করে তাড়াতাড়ি এই কাজ সমাধা করতে বললেন।পুন্ডরীক প্রেমনিধি অতি প্রসন্নমনে গদাধরকে কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত করলেন।*
*🍀যাঁর হৃদয়ে যথার্থ ভগবদ্ভক্তি জন্মিয়েছে, তিনি ঐশ্বর্য‍্যশালী হয়ে বিষয়-কার্য‍্যে লিপ্ত থাকলেও তাঁর হৃদয় মুক্তভাবেই অবস্থিতি করে। সকল মুনি ঋষিগণ বলেন যে, এইরকম ব‍্যক্তির মন পদ্মপত্রের জলের মতোই অবস্থিতি করে।সংসারের আবর্জনা ও ক্লেদ তাঁর হৃদয় মলিন করতে পারে না।পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি বাইরে বিষয়ী, অন্তরে কৃষ্ণপ্রেমে পরিপূর্ণ ছিলেন।শ্রীগৌরহরি কৃষ্ণপ্রেমিক সংসারী লোকদের কিরকম শ্রদ্ধা করতেন, বিদ‍্যানিধি তার দৃষ্টান্ত।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds