শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
*শ্রীচৈতন‍্যের বিদ‍্যাবিলাস*
*শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাসংকীর্তন*
****************************
*🌹মহাপ্রভু দাক্ষিণাত‍্যে যেখানে যেখানে গিয়েছেন সেখানে " সকলের বুলি বুঝে শচীর দুলাল"। গোবিন্দ নিজে সে সকল "কাঁই মাঁই " বুঝতে পারতেন না বলে এবং তাঁর বিদ‍্যা বেশী ছিল না বলে তিনি শাস্ত্র-বিচারের বিশদ বিবরণ দিতে পারেন নাই। কিন্তু তিনি যে সব বিবরণ দিয়েছেন, তা হতেই শ্রীচৈতন‍্যের পান্ডিত‍্যের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি দাক্ষিণাত‍্যেদেশে গমনের পূর্বে নারায়ণগড়ে এক ধনীর সঙ্গে তর্কে তাঁকে পরাস্ত করেন।তিনি বটেশ্বরে তীর্থরাম নামক ধনীকে তত্ত্বজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছিলেন।এইরকম নাগর নগরে এক দুরাত্মা ব্রাহ্মণকে ধন‍্য করেছিলেন।ত্রিপাত্র নগরে প্রসিদ্ধ শৈবপন্ডিত ভর্গদেবকে তিনি হরিনাম লওয়াইয়াছিলেন।বেঙ্কট নগরে এক পন্ডিত ছিলেন,বেদান্তে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিলেন না।মহাপ্রভুর সঙ্গে বিচার করতে আসলেন।গৌরহরি বললেন, আমি হেরে গেলাম,বিচার প্রয়োজন কি? কিপন্ডিত নাছোড়বান্দা!তখন বিচার হ'ল।*
*🌷অদ্বৈতবাদের কথা স্বামী যত কয়।*
*🌷দ্বৈতাদ্বৈতবাদ তুলি চৈতন‍্য বুঝায়।।*
*🌷অবশেষে ঘোরতর বিচার বাধিল।*
*🌷ক্রমে ক্রমে দন্ডিস্বামী হার মেনে নিল।।*
*🌺ত্রিবঙ্কু দেশে ব্রহ্মবাদী এসে তর্ক করতে লাগল।শ্রীচৈতন‍্যদেব তাকে বেদ বেদান্তের কথা শাস্ত্রের প্রমাণ বলে বুঝালেন।গুর্জরী নগরে অর্জুন নামে এক পন্ডিত ছিলেন।গৌরচন্দ্র তাঁকে "বেদান্তের সূক্ষ্ম কথা" খুলে "তন্ন তন্ন করে" বুঝালেন।সহ‍্যকুলাচল ত‍্যাগ করে উত্তরে গিয়ে পূর্ণনগরে গৌরহরি উপনীত হলেন,তখন সেখানে বহু পন্ডিত তর্ক করতে আসিল। "অসংখ‍্য পন্ডিত আসে বিচার করতে"।এইরকম ভাবে যেখানেই শ্রীচৈতন‍্যদেব গিয়েছেন সেখানেই শাস্ত্রের বিচার করে নিজমত স্থাপন করতে হয়েছিল। এর দ্বারা মনে হয় না কি যে সেইকালে যখন ভারতবর্ষে পান্ডিত‍্যের প্রতিভা অব‍্যাহত ছিল,যেকালে সার্বভৌম, বিদ‍্যাবাচস্পতি,রঘুনাথ শিরোমণি, রঘুনন্দন,প্রকাশানন্দ সরস্বতী প্রভৃতি পন্ডিতের আবির্ভাব হয়েছিল,সেইকালে শ্রীচৈতন‍্যদেব শুধু ভক্তির প্রাবল‍্যে না,নিজের অসাধারণ বিদ‍্যা-প্রভাবে দক্ষিণদেশ ও নীলাচলে নিজের গৌরব সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।*
*🌻শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন🌻*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গ ১৪৮৬ খৃষ্টাব্দে নবদ্বীপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।সে এক ফাল্গুনের সন্ধ্যায়। পূর্ণিমার রজনী।সেদিন আবার চন্দ্রগ্রহণ।হাজার হাজার লোক গ্রহণ-স্নান করবার জন্য নবদ্বীপের ঘাটে ঘাটে আসছেন।সকলেই হরিবোল হরিবোল বলছেন।ভক্তগণ হরিসংকীর্তন করতে করতে স্নানে আসছেন।*
*🌷হরিবোল হরিবোল সবে এই শুনি।*
*🌷সকল ব্রহ্মান্ডে ব‍্যাপিলেক হরিধ্বনি।।*
*🌹আর একদিন যখন কৃষ্ণচন্দ্র আবির্ভূত হয়েছিলেন,সেদিনও আমরা প্রকৃতির সঙ্গে এইরকম এক বিশেষ সামঞ্জস‍্য দেখি।ভাদ্র মাসের কৃষ্ণাষ্টমী।কারাগৃহ অন্ধকার। কিন্তু সহসা দিঙ্মন্ডল প্রসন্ন হয়ে উঠিল,ঋক গ্রহ নক্ষত্র প্রশান্ত ভাব ধারণ করল,নদীসকল নির্মল জলে পূর্ণ হল,সরোবরে পদ্মফুল ফুটিল, বনরাজি ফুলে ফুলে শ্রীসমন্বিত হল,পক্ষীকুল কলধ্বনি করতে লাগিল।সাগ্নিক ব্রাহ্মণগণের নির্বাণোন্মুখ বহ্নি দীপ্ত হয়ে জ্বলিল, সমুদ্রের জল-কল্লোলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে জলধরগণ গুরু গুরু ডাকতে লাগল।এমনি এক ঘোর অন্ধকার রাত্রিতে ভগবান কৃষ্ণচন্দ্র আবির্ভূত হলেন।কৃষ্ণের আবির্ভাবের প্রয়োজন পৃথিবীর ভার-হরণ।পাপের ভারই দুর্বহ। পৃথিবীর যখন পাপের মাত্রা পরিপূর্ণ হয়ে উঠে তখন ভগবান আবির্ভূত হন, এটিই সমস্ত শাস্ত্রের ও পুরাণের তাৎপর্য‍্য।কৃষ্ণ অবতারের প্রয়োজন পাপের উচ্ছেদ-সাধন, শত্রু সংহারের দ্বারা,যুদ্ধ বিগ্রহের দ্বারা।শ্রীগৌরহরির অবতারও পাপের উচ্ছেদ-সাধন নিমিত্ত, কিন্তু সংহারের দ্বারা নয়, ভক্তির দ্বারা, নাম-প্রেমের দ্বারা।তিনি হরিনাম প্রচার করবার জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন, কাজেই হরিধ্বনির মধ্যে তাঁর জন্ম।পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে অবতার প্রয়োজনের অপূর্ব সামঞ্জস‍্য। নবদ্বীপে চন্দ্র-গ্রহণের সময় সজ্জন দুর্জন সকলেই হরিবোল বলে গঙ্গায় ডুব দিচ্ছেন বটে। কিন্তু এর দ্বারা সে সময়কার অবস্থা প্রতীয়মান হয় না।লোকের মধ্যে ভক্তির অভাব ছিল, দেশে তখন মুসলমানদের রাজত্ব স্থাপিত হয়েছে।হিন্দুধর্মের প্রতি লোকের আস্থা কমে গিয়েছে।বাশুলী, বিষহরি যোগীপাল ভোগীপাল প্রভৃতি দেবতার পূজা অর্চনা হচ্ছে।পূজায় তান্ত্রিক আচারেরই প্রাচুর্য‍্য।বৌদ্ধধর্মের প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে সংক্রামিত হয়ে নানা বীভৎস আচার অনুষ্ঠান ও বিশ্বাসের সৃষ্টি করেছে।পাষন্ডী ভন্ড ও নাস্তিকের অত‍্যাচারে ভক্তগণ সন্ত্রাসিত।পূজা অর্চনায় লোকে ধন-পুত্রই কামনা করে,কীর্তন শুনলেই উপহাস করে।ভগবৎ নামের কোনই প্রসঙ্গ নাই।এমনই কলিতিমিরাকুল যুগে ভগবান শ্রীগৌরহরি আবির্ভূত হলেন। নিরুপায়ের উপায় ভগবান সর্বকালেই। কিন্তু এবারে এক নূতন উপায় উদভাবিত হল,যা কোনও অবতারে কখনও হয়নি।সে ধূতন উপায় হরিনাম সংকীর্তনের দ্বারা জীবের উদ্ধার।যদিও বা প্রত‍্যেক অবতারে ভগবান যুগধর্ম স্থাপন করেন।*
*🌷কলি যুগের যুগধর্ম নাম সংকীতন।*
*🌷এতদর্থে অবতীর্ণ শ্রীশচীনন্দন।।*
*🌻মুরারি গুপ্ত বলেছেন যে,শ্রীচৈতন‍্য অবতারের মুখ‍্য প্রয়োজন কীর্তন প্রচার।*
*🌹কীর্তনং কারয়ামাস স্বয়ং চক্রে মুদান্বিতঃ।*
*🌻শ্রীগৌরহরি গয়া হতে ফিরে এই নাম-কীর্তনের পদ্ধতি দেখালেন।*
*🌷হরিকীর্তনমাদিশৎ স্মরণ্ পুরুষার্থায় হরেরতিপ্রিয়ম্।*
*🌷স গয়াসু পিতৃক্রিয়াং চরণ্ হরিপাদাঙ্কিতভূমিষুস্বয়ম্।।*
  *(মুরারিগুপ্তের করচা ১মপ্র,১ম সর্গ)*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
    *শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন*
   ***************************
*🍀নিমাই পন্ডিত আর অধ‍্যাপনা করতে পারলেন না।*
*🌷গয়া হৈতে যাবত আসিয়াছেন ঘরে।*
*🌷তদবধি কৃষ্ণ ব‍্যাখ‍্যা,আন নাহি স্ফুরে।।*
*🌷যে প্রভু আছিল ভোলা মহাবিদ‍্যারসে।*
*🌷এবে কৃষ্ণ বিনা আর কিছু নাহি বাসে।।*
*🌷সর্বদা বলেন কৃষ্ণ পুলকিত অঙ্গ।*
*🌷ক্ষণে হাসে হুঙ্কার ক্ষণে বহু রঙ্গ।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷শিষ‍্য বলে পন্ডিত উচিত ব‍্যাখ‍্যা কর।*
*🌷প্রভু বলে সর্বক্ষণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ স্মর।।*
*🌻তখন মহাপ্রভু বললেন=*
*🌷তোমা সবা স্থানে মোর এই পরিহার।*
*🌷আজি হৈতে আর পাঠ নাহিক আমার।।*
*🌻তোমাদের যেখানে ইচ্ছা হয় গিয়ে পড়তে পার, আমার দ্বারা আর হবে না।*
*🌷কৃষ্ণ বিনা আর বাক‍্য না স্ফূরে আমার।*
*🌹পড়াই ও পড়তে বসলেই আমি দেখি=*
*🌷কৃষ্ণবর্ণ এক শিশু মুরলী বাজায়।*
*🌻শিষ‍্যেরাও অধ‍্যাপকের উপযুক্ত ; তাঁরা বললেন আমরা আর পড়াশোনা করব না।*
         *এত বলি,*
*🌷পুস্তকে দিলেন সব শিষ‍্যগণ ডোর।*
*🌺তখন কৃষ্ণভাবে বিভাবিত গৌরহরি বললেন,তবে তোমরা কৃষ্ণনাম কর।*
*🌷কৃষ্ণ নামে পূর্ণ হউক সবার বদন।*
*🌻পড়ুয়ারা বললেন আমরা তো সংকীর্তন করতে জানি না, আমাদেরকে শিখিয়ে দিন।তখন মহাপ্রভু করতালি দিয়ে "দিশা" দেখিয়ে দিলেন।*
*🌲হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ।*
*🌲গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসূদন।।*
*🌳ছাত্র এবং অধ‍্যাপক মিলে এই নামকীর্তন আরম্ভ করলেন।তখন নবদ্বীপের সব লোক ধেয়ে আসিল।সকলে বলাবলি করতে লাগল=*
*🌷এবে সংকীর্তন হৈল নদীয়া নগরে।*
*🌻এতেই এরকম বুঝা যায় যে পূর্বে এমনটি ছিল না। এর পর হতে রীতিমতো কীর্তন চলিল। কিন্তু সে কীর্তনে কী গীত হত,কি প্রণালীতে গান করা হত,তা আমরা জানবার সুযোগ পাইনি।চৈতন‍্যভাগবত হতে এইমাত্র জানতে পারি যে এই সংকীর্তন হতে=*
*🌷নবদ্বীপে প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র।*
*🌺এখন হতে তাঁর চেষ্টা হল যাতে=*
*🌷ঘরে ঘরে নগরে নগরে অনুক্ষণ।*
*🌷সর্বদেশে হইবেক কৃষ্ণের কীর্তন।।*
*🌻এর পরে নিত‍্যানন্দচন্দ্র নবদ্বীপে এসে উদিত হলেন।তিনি শুনেছিলেন=*
*🌷নদীয়ায় শুনি বড় হরি সংকীর্তন।*
*🌷কেহ বলে এথায় জন্মিলা নারায়ণ।।*
*🌹এর পর হতে=*
*🌷মহামত্ত দুই প্রভু কীর্তনে বিহরে।*
*🌳নিরন্তর ভক্তগণ মধ্যে এই কীর্তনানন্দ হত।*
*🌷শ্রীবাসবিপ্রাদিগণৈঃ ক্কচিন্নবং গায়ত‍্যসৌ নৃত্যতি ভাবপূর্ণঃ।*
   *(মুরারির করচা=১ম ১৬শ)*
*🌺রাত্রিকালে শ্রীবাসের দ্বাররুদ্ধ করে কীর্তন হত।সে কীর্তনের আসরে সকলের প্রবেশ অধিকার থাকত না।*
*🌷এই মত প্রতি নিশা করয়ে কীর্তন।*
*🌷দেখিবার শক্তি নাহি ধরে অন‍্যজন।।*
*🙌এই কীর্তনে গৌরসুন্দর নৃত্য করতেন।শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর যখনই এই কীর্তন-প্রসঙ্গ তুলেছেন, তখনই তিনি এই নৃত্যের কথায় বলেছেন।*
*🌹তিনি মঙ্গলাচরণে বলেছেন যে নিত‍্যানন্দ ও গৌরচন্দ্র সংকীর্তনের একমাত্র জন্মদাতা। "সংকীর্তনৈক পিতরৌ" কিন্তু আমরা আগেই দেখেছি যে চন্দ্রগ্রহণের সময় শত সহস্র লোক সংকীর্তন করতে করতে গঙ্গাস্নানে গিয়েছিলেন।ইহা হতে বুঝা যায় যে, গৌরচন্দ্রের পূর্বেই একরূপ সংকীর্তন হত।*

*শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীও বলেছেন=*
*🌷চৈতন‍্যের সৃষ্টি এই নাম সংকীর্তন।*
*🌳কবিরাজ গোস্বামী এটি কবিকর্ণপুরের "চৈতন‍্য চন্দ্রোদয়" নাটক হতে অনুবাদ করেছেন=*
*রাজা।ঈদৃশং কীর্তনকৌশলং ক্কাপি ন দৃষ্টম্।*
*সার্বভৌম।ইয়মিয়ং ভগব্বচ্চৈতন‍্যস‍্য সৃষ্টিঃ।।*
*🌺প্রতাপরুদ্র রাজা মহাপ্রভুরকীর্তন শুনে যখন বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন=*
*🌷কভু নাহি শুনি এই মধুর কীর্তন।*
*🌹তখন সার্বভৌম বললেন, মহারাজ! ঠিকই বলেছেন। এই সংকীর্তন শ্রীচৈতন‍্যের সৃষ্টি।এই কীর্তনে মহাপ্রভু তান্ডব নৃত্য করতেন।সে সময়ে তাঁর অষ্টসাত্ত্বিক ভাবের উদয় হত।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী একেই চৈতন‍্যের কীর্তন-বিলাস বলেছেন।*
*🌷মহাপ্রেম মহানৃত‍্য মহাসংকীর্তন।*
*🌺এইরকম উক্তি হতেও বুঝা যায় যে চৈতন‍্যের এই কীর্তন এক পরম অদ্ভুত ব‍্যাপার ছিল। লোচনদাস এই সংকীর্তনকে সর্বধর্মসার বলেছেন।এই হরিসংকীর্তন "পঞ্চম বেদ" এবং ইহার প্রবর্তক গৌরচন্দ্র।*
*🙌জয় জয় সংকীর্তন দাতা গৌরহরি।*

*🌷অদ্বৈত আচার্য‍্য গোসাঞি আমারে আনিয়া।*
*🌷সংকীর্তন যজ্ঞ স্থাপে সুদৃষ্টি হইয়া।।*
*🌹অতএব দেখা যাচ্ছে যে সকলেই একবাক‍্যে মহাপ্রভুকে সংকীর্তনের জনক বলছেন।তাঁর অবতারের প্রয়োজনও বঙ্গীয় গোস্বামীদের মতে "সংকীর্তন-প্রকাশ"।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
      *শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন*
     ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺শ্রীবাসাদির গৃহে দরজা বন্ধ করে রাত্রে বা দিনে কীর্তন হ'ত।অবশ‍্য এর উদ্দেশ্য এই যে অভক্ত কেউ এই নৃত্যবিলাসে উপস্থিত না থাকে। কিন্তু এমনও হতে পারে যে ভজনের এই নূতন পদ্ধতির হয়ত সমাদর হবে না, এই সন্দেহেও সম্ভবতঃ মনে ছিল বলে দরজা বন্ধ করা হ'ত। শ্রীবৃন্দাবন দাস একদিনকার এক ঘটনায় এটি বুঝাতে চেষ্টা করেছেন।নবদ্বীপের এক পরম সাধুপ্রকৃতি ব্রহ্মচারীর বড় সাধ হ'ল মহাপ্রভুর কীর্তন আস্বাদন করবার জন্য।তিনি শ্রীবাসকে বললেন, কিন্তু শ্রীবাস বললেন,মহাপ্রভুর আজ্ঞা না হ'লে তো তোমাকে প্রবেশ করতে দিতে পারি না,তুমি ভেতরে এলে, মহাপ্রভু যদি রাগ করেন!শেষে সেই বিপ্রের আগ্রহাতিশয‍্যে বাধ‍্য হয়ে তাঁকে সন্ধ‍্যার সময় নিজের বাড়ীতে লুকিয়ে রাখলেন।মহাপ্রভুর কীর্তন আরম্ভ হ'ল।তিনি মুকুন্দ মুরারি বনমালী প্রভৃতি ভক্তের সঙ্গে নৃত্য করতে আরম্ভ করলেন, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সেইদিন আর সেই আনন্দ হল না।তখন মহাপ্রভু শ্রীবাসকে কারণ জিজ্ঞাসা করে জানলেন যে,একজন ঘরের কোণে লুকিয়ে রয়েছে।তৎক্ষণাৎ সে ব্রহ্মচারীকে বাহির করে দেওয়া হল।সে ব্রাহ্মণ অতিশয় লজ্জিত হলেন বটে, কিন্তু মনে মনে ভাবলেন,যাইহোক, ভাগ‍্যে তো কিছু দর্শন হল,এটিই পরম লাভ।*
*🌷অদ্ভুত দেখিনু নৃত্য অদভূত ক্রন্দন।*
*🌷অপরাধ অনুরূপ পাইনু তর্জন।।*
*🌹তিরস্কৃত হয়েও যে ব্রহ্মচারী মনে মনে অভিমান করলেন না,এটি বুঝে প্রেমের ঠাকুর গৌরসুন্দর তাঁকে ডেকে এনে কৃপা করলেন।এই কীর্তনের বর্ণনায় চৈতন‍্যভাগবত বলছেন=*
*🌷হরিবোল হরিবোল হরি বল ভাই।*
*🌷ইহা বই আর কিছু শুনিতে না পাই।।*
*🌺সুতরাং দেখতে পাচ্ছি যে শ্রীবাসঅঙ্গনে নামকীর্তনই হ'ত।এই কীর্তন-মঙ্গলের কথা ক্রমেই সুপ্রচারিত হয়ে পড়ল।তখন নাগরিকগণ দধি ঘৃত কদলী মালা প্রভৃতি নিয়ে মহাপ্রভুকে দেখতে আসতে লাগলেন।মহাপ্রভু তাঁদেরকে আশীর্বাদ করলেন "কৃষ্ণভক্তি হোক সবার" এবং বলে দিলেন "হরেকৃষ্ণ" নাম জপ করলে সর্বসিদ্ধি হবে।এই শ্রীনাম করতে কোনও বিধির প্রয়োজন নাই।সর্বক্ষণ এই নাম নেওয়া যেতে পারে।*
*🌷দশ পাঁচ মিলি নিজ দ্বারেতে বসিয়া।*
*🌷কীর্তন করহ সবে হাতে তালি দিয়া।।*

*🌷হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ।*
*🌷গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসূদন।।*
*🌻মহাপ্রভু সর্বক্ষণ নাম করতেন বলে সদানন্দ নামে একজন উড়িয়া কবি তাঁকে "হরিনাম-মূর্তি" আখ‍্যা দিয়েছিলেন।*
*🌹পদাবলী যে সে সময়ে সুপরিচিত ছিল,তার প্রমাণ আছে।শ্রীজয়দেব গোস্বামীর কোমল-কান্ত পদাবলীর তো কথায় নাই,বাংলা পদাবলীও আস্বাদ‍্য ছিল।মহাপ্রভুর সমসাময়িক মুরারি গুপ্ত বলেছেন=*
*🌷ভাবানুরূপ শ্লোকেন রাসসংকীর্তনাদিন।*
*🌷শ্রীরাধাকৃষ্ণয়ো র্লীলারসবিদ‍্যা-নিদর্শনম্।।*
*🌻এই ভাবানুরূপ শ্লোক ও রাসসংকীর্তন বাংলা পদাবলীও হতে পারে।সে সময়ে যে বাংলা পদাবলীর মাধুর্য‍্য বৈষ্ণবসমাজে স্বীকৃত হত তা নানা প্রমাণ হতেও বুঝা যায়।*
*🌹কাটোয়া হতে শ্রীগৌরহরি যখন সন্ন‍্যাস গ্রহণের পর নিত‍্যানন্দ "প্রেমপূর্ণ কৌশলে" শ্রীঅদ্বৈতভবনে উপনীত হলেন,তখন অদ্বৈতাচার্য‍্য বিদ‍্যাপতির একটি পদ পরিবেশন করে আনন্দে নৃত্য করেছিলেন।*
*🌷কি কহবরে সখি আজুক আনন্দ ওর।*
*🌷চিরদিনে মাধব মন্দিরে মোর*।।
*🌺অনেকদিন পরে মাধব গৃহে ফিরেছেন,সখি! আজ আমার আনন্দের সীমা নাই। অর্থ‍্যাৎ ইহা অপেক্ষা আনন্দ আর হতে পারে না।এই বলেই তিনি নৃত্য,গর্জন,হুঙ্কার করতে লাগলেন।সেই দৃশ্য দেখে ও পদটি শুনে শ্রীগৌরসুন্দর ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন।তাঁর অন্তরে কৃষ্ণপ্রেম-ব‍্যথা জেগে উঠিল।মহাপ্রভুর এই অবস্থা দেখে মুকুন্দ "ভাবের সদৃশ পদ লাগিল গাহিতে"।মুকুন্দ অতি সুমিষ্ট গান করতেন।পদাবলীও তাঁর কন্ঠস্থ ছিল।মুকুন্দের গীতে মহাপ্রভুর ধৈর্য‍্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেল।মহাপ্রভু তিনদিন উপবাসী ছিলেন।তা হলেও অদ্দৈতাচার্য‍্য মহাপ্রভুকে ধরে তুললেন নৃত্য করবার জন্য।মুকুন্দ তখন গান ধরলেন=*
*🌷হা হা প্রাণ প্রিয়সখি কিনা হৈল মোরে।*
*🌷কানুপ্রেম বিষে মোর তনুমন জরে।।*
*🌷দিবানিশি পোড়ে মন সোয়াথ না পাঙ।*
*🌷যথা গেলে কানু পাঙ তথা উড়ি যাঙ।।*
*🌻এই পদটি সম্ভবত চন্ডীদাসের। কিন্তু এই পদের ভণিতা নাই।পদকল্পতরুতে পদটি উদ্ধৃত হয়নি। যাইহোক এই পদটি শুনে মহাপ্রভু প্রথমে জ্ঞান হারালেন।পরে বাহ‍্যদশা পেয়ে উদ্দন্ড নৃত্য করতে লাগলেন।সঙ্গে অদ্বৈতাচার্য‍্য ও নামাচার্য‍্য হরিদাস নাচতে লাগলেন*।
*☆ঁসতীশচন্দ্র রায় এই ঘটনাকে মধ‍্যলীলার শেষ সময়ে নিয়ে ফেলেছেন।এই মধ‍্যলীলার শেষ সময়ে শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীবৃন্দাবনের পথ ভুলে রাঢ়দেশে উপনীত হলে শ্রীনিতাইচাঁদ মহাপ্রভুর প্রেমপূর্ণ কৌশলে তিনি শান্তিপুরে শ্রীমৎ অদ্বৈতাচার্য‍্যের গৃহে সমানীত হয়েছিলেন।শ্রীপদকল্পতরু, ৫ম খন্ড ভূমিকা ৯৭।* 
*🌹সন্ন‍্যাসের পূর্বে মহাপ্রভু কোনদিন শ্রীবাসের গৃহে, কোনদিন বিদ‍্যানিধির গৃহে, কোনদিন মুরারির গৃহে,কোনদিন বা আচার্য‍্যরত্নের গৃহে কীর্তন করতেন।(চৈঃ চন্দ্রোদয় নাটক)।এইভাবে নবদ্দীপে ক্রমে কীর্তনের প্রসার বাড়তে লাগল।খোল করতাল নিয়ে নাগরিকগণ কীর্তন করছেন,এমন সময়ে কাজী সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন।কাজীর হুকুমে সরকারি লোক তখনই খোল ভেঙ্গে দিল এবং লোকের ঘরে ঘরে অনাচার করল।*
*🌷ভাঙ্গিল মৃদঙ্গ অনাচার কৈল দ্বারে।*
*🌻এইরকম অত‍্যাচার যখন চলতে লাগল তখন মহাপ্রভু নগরকীর্তন বাহির করলেন। অনেকে মহাত্মা গান্ধীকে Civil Disobedience এর প্রবর্তক মনে করেন, কিন্তু এর প্রথম প্রবর্তন হয় নবদ্বীপে শ্রীচৈতন‍্যের দ্বারা।তিনি কাজীর হুকুম আমান‍্য করে কীর্তন বাহির করলেন।নবদ্বীপের প্রতি গৃহ পূর্ণকুম্ভ রম্ভা ও আমেরশাখায় শোভিত হ'ল, ঘরে ঘরে দীপমালা জ্বলিল, নগরের যত লোক সকলেই কীর্তনে যোগদান করলেন।প্রত‍্যেক লোকের হাতে প্রদীপ।খোল করতাল শঙ্খ নিয়ে কীর্তন বাহির হল।কাজী এই অবস্থা দেখে অন্দরমহলে লুকিয়ে গেলেন,শেষমেষ প্রতিরোধ করতে না পেরে রফা করলেন। এই নগরকীর্তনে একটি লক্ষ্য করবার বিষয় এ যে আপামর সাধারণ এতে যোগদান করেছিলেন।দ্বিতীয় লোকের মনে এটি অদ্ভুত সাহসের সঞ্চার করিল।এই সাহস গণতান্ত্রিকতার একটি ফল।অর্থ‍্যাৎ বহু লোকের সহযোগিতা এক অনাস্বাদিতপূর্ব শক্তির সন্ধান দিল।তৃতীয়ত আমরা দেখতে পাই যে এই কীর্তনে মহাপ্রভু একটি পদ গেয়ে নৃত্য করেছিলেন। সে গানটি এই=*
*🌷তুয়া চরণে মন লাগহুঁ রে।*
*🌷শার্ঙ্গধর তুয়া চরণে মন লাগহুঁ রে।।*
*🌺সম্ভবত এই কলিটি কোনও প্রচলিত গানের ধুয়া।এইরকম ভাবে পদাবলী গান করে সম্ভবত এর পূর্বে কীর্তন করা হত না।সেইজন‍্যই বলা হয়েছে =*
*🌷চৈতন‍্যচন্দ্রের এই আদি সংকীর্তন।*
*🌹এই কীর্তনের নাম "বেড়া-কীর্তন"। এক এক দল স্বতন্ত্র হয়ে কীর্তন করেন,এইরকম বহুদলে বিভক্ত হয়ে একসঙ্গে কীর্তনের নাম "বেড়া-বেড়া"।*
              *ক্রমাগত* 
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
   *শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন*
***************************
*☘প্রথম বারের এই বেড়া-কীর্তনে আর একটি পদ গান করা হয়েছিল।*
*🌷বিজয় হইলা হরি নন্দ ঘোষের বালা।*
*🌷হাতে মোহন বাঁশী গলে দোলে বনমালা।।*
                         *(শ্রীচৈঃভাঃ মধ‍্য)*
*এইরকম কীর্তন কেউ কখনও দেখে ও শুনে নাই।এতে শাস্ত্রের বচনের সহিতও অপূর্ব মিল হ'ল---*
*কৃষ্ণবর্ণং ত্বিষাকৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদৈঃ।*
*সংকীর্তনপ্রায়ৈর্যজ্ঞৈ র্যজন্তি হি সুমেধসঃ।।*
*🌳শ্রীচৈতন‍্য অবতারের অস্ত্র সঙ্গোপাঙ্গ এবং যজ্ঞ সংকীর্তন।ভাগবতের দ্বিতীয় অধ‍্যায়ে কীর্তনের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে।তারই অপূর্ব অভিব‍্যক্তি গৌরাঙ্গের লীলায় দেখতে পাই।*
*🍀নবদ্বীপ হতে যখন গৌরহরি নীলাচলে গেলেন,তখনও তিনি কীর্তন করতেন।গম্ভীরায় বসে রাত্রিদিন চন্ডীদাস,বিদ‍্যাপতি,রামানন্দরায়ের জগন্নাথবল্লভ নাটক,শ্রীজয়দেব গোস্বামীর গীতগোবিন্দ, বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত গান করতেন এবং শুনতেন।এগুলি কি ভাবে গীত হত তা আমরা জানতে পারি না,মহাপ্রভু এগুলির আস্বাদন করতেন এইমাত্র জানি।মহাপ্রভুর ভাবোল্লাসের গতি বুঝে এই সমস্ত গ্রন্থ হতে মুকুন্দ এবং স্বরূপদামোদর শ্লোক ও কবিতা আবৃত্তি করতেন বা গান করতেন এটিই বুঝা যায়।গম্ভীরার ছোট কক্ষে এইসব গ্রন্থ অবলম্বন করে যে রীতিমতো কীর্তন হ'ত,তা বলা যায় না। এই পাঁচটি গ্রন্থের মধ্যে তিনটি সংস্কৃত,একটি বাংলা, অন‍্যটি মৈথিল,ব্রজবুলি বা বাংলা তা স্থির করে বলা কঠিন।সেকালে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে সংস্কৃতের চলনই বেশী ছিল।সেজন‍্য আমরা অনেক সময়ে দেখতে পাই যে,মহাপ্রভু সংস্কৃত শ্লোক পড়ে কীর্তন করছেন। কখনও কখনও উড়িয়া পদেও পরম আবেশে নৃত্য করছেন।*
*🌷জগমোহন পরিমুন্ডা যাঙ।*
*🌷মন মজিলারে চকা চন্দ্রকু চাউ।।*
*🌷উড়িয়া পদ মহাপ্রভুর মনে স্মৃতি হইল।*
*🌷স্বরূপেরে সেই পদ গাহিতে আজ্ঞা দিল।।*
*🙌হে জগন্নাথ!তোমার পদে মস্তক নত করি। আমার মন-চকোর তোমার মুখচন্দ্র দেখে উন্মত্ত হয়েছে।এই গীতে মহাপ্রভু তিন প্রহর নৃত্য করেছিলেন।*
*🌹পুরীতে জগন্নাথমন্দিরেও বেড়া-কীর্তন হয়েছিল।গৌড়ীয় ভক্তগণ সেখানে সম্মিলিত হয়েছেন।জগন্নাথ মন্দিরে সন্ধ‍্যাধূপ আরতি দেখে ভক্তগণ সংকীর্তন করতে রত হলেন।*
*🌷চারিদিকে চারি সম্প্রদায় করে সংকীর্তন।*
*🌷মধ‍্যে নৃত্য করে প্রভু শচীর নন্দন।।*
*🌷অষ্ট মৃদঙ্গ বাজে বত্রিশ করতাল।*
*🌷চারিদিকে চারি সম্প্রদায় উচ্চস্বরে গায়।*
*🌷মধ‍্যে তান্ডব নৃত্য করে গোরারায়।।*
*🌻যতদিন গৌড়ীয় ভক্তগণ পুরীতে ছিলেন ততদিন প্রত‍্যহ তিনি এইমত কীর্তন করতেন।স্বরূপদামোদরের উচ্চকন্ঠে গান করতে পারতেন।মহাপ্রভু তাতে নেচে আনন্দ পেতেন।এইরকম গুন্ডিচা মন্দিরে এবং রথযাত্রায় গৌড়ীয় ভক্তগণ নিয়ে মহাপ্রভু কীর্তন করতেন। রথযাত্রায় গৌড়ীয় কীর্তনীগণকে চার সম্প্রদায়ে বিভক্ত করা হয়েছিল।প্রত‍্যেক সম্প্রদায়ে দুইজন মৃদঙ্গ বাজাতেন।প্রত‍্যেক সম্প্রদায়ে এক একজন নৃত্য করবেন স্থির হল।*
*🌷নিত‍্যানন্দ অদ্বৈত হরিদাস বক্রেশ্বরে।*
*🌷চারিজনে আজ্ঞা দিল নৃত্য করিবারে।।*
*🍀ইহা ছাড়া কুলীন গ্রামের এক কীর্তনের দল,অদ্বৈত-আচার্য‍্যের এক কীর্তনের দল,শ্রীখন্ডের এক কীর্তনের দল নিয়ে সর্বসমেত সাত সম্প্রদায় হল এবং চৌদ্দ মাদল বাজতে লাগিল। জগন্নাথের রথের আগে চারদল দুই পার্শ্বে দুই দল এবং পেছনে একদল গান করতে করতে চললেন। পরে মহাপ্রভুর যখন নাচতে মন হ'ল, তখন সাত সম্প্রদায়কে মিলিত করলেন।স্বরূপদামোদরাদি দশজন মহাপ্রভুর সঙ্গে গাইতে লাগলেন।অন‍্য দল সব দূরে থেকে যোগ দিলেন।মহাপ্রভু এইবার উদ্দন্ড নৃত্য করতে লাগলেন এবং প্রথমে সংস্কৃত শ্লোক আবৃত্তি করে তার উদ্বোধন করলেন।কতক্ষণ এইভাবে নৃত‍্য করে গৌরহরি ভাববিশেষে অভিভূত হয়ে পড়লেন এবং তান্ডব নৃত্য পরিত‍্যাগ করলেন।স্বরূপ ভাবের গতি বুঝে=*
*🌷সেই ত পরাণ নাথে পাইলুঁ।*
*🌷যাহা লাগি মদন দহনে ঝুরি গেলুঁ।।*
*🌹গান ধরলেন।এ পদটি কার তা আমরা জানি না। হা হা প্রাণপ্রিয় সখি, পদটিরও কোনও সন্ধান পাওয়া যায় না। শেষোক্ত পদটির অবশিষ্ট কলি একজন বন্ধু পুরাতন কাগজের মধ্যে চন্ডীদাসের নামে পেয়েছিলেন। কিন্তু "সেই ত পরাণ নাথে পাইলুঁ" এ পর্যন্ত পাওয়া যায়। স্বরূপ গোস্বামী এই ধূয়ামাত্র গেয়েছিলেন।তাতেই আমাদের উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছেন। জানতে ইচ্ছে হয় পদটির শেষে কি ছিল। "সেই ত পরান নাথে পাইলুঁ" "ত" দেওয়াতে রহস‍্য আরও জটিল হয়েছে।একি "রেবা রোধসি বেতসীতলে চেতঃ সমুৎকন্ঠতে" এই শ্লোকের অনুবাদ? এই মধুর পদটি কাব‍্যপ্রকাশে উদ্ধৃত হয়েছে ; এই পদ‍্যের ভাব নিয়ে শ্রীপাদ রূপগোস্বামী লিখলেন= সেই আমার প্রাণ রমণকে কুরুক্ষেত্রে দেখলাম বটে, কিন্তু "মনো মে কালিন্দী-পুলিনায় স্পৃহয়তি"। আমার সাধ হচ্ছে সেই কালিন্দী পুলিনের নীপঘন ছায়ায় মিলনের জন্য,যেখানে শ‍্যামের মোহন বাঁশী বাজিয়ে যমুনাকে উজান বহাইত। আমার বোধ হয় স্বরূপ গোস্বামী নিজেই এই কবিতার ভাব নিয়ে ঐ বাংলা পদটি লিখেছেন।স্বরূপ দামোদর অসাধারণ পন্ডিত ছিলেন, সুকন্ঠ গায়ক ছিলেন এবং তৎকাল প্রচলিত বাংলা পদাবলীর সঙ্গেও সুপরিচিত ছিলেন।স্বরূপ গোস্বামীর ধুয়া শুনেই মহাপ্রভু আনন্দে মধুর কীর্তন করতে লাগলেন। তখন জগন্নাথের রথ চলতে লাগিল।আগে আগে শ্রীগৌরহরি কীর্তন করে চললেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧of
*(২৫) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
    *শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*☘অতএব আমরা দেখছি যে মহাপ্রভুর সময়ে পদাবলীর প্রচার থাকলেও কীর্তন বলতে ইঁনাদের নৃত্য ও ভাবাবেশ বুঝাত।কবিকর্ণপুর বলেছেন=*
*🌷সান্দ্রানন্দময়ী ভবন্ননুদিনঃ দেবো নরীনৃত‍্যতে।*
            *(চৈতন‍্যচন্দ্রোদয়=২য় অঙ্ক)*
*🌹আমরা কীর্তন বলতে যা বুঝি "গরাণহাটী" "মনোহরসাহী প্রভৃতির সুর, এটি অবশ‍্য পরবর্তীকালের সৃষ্টি।মহাপ্রভুর সময়ে কীর্তনে কিরকম সুর ছিল তা আমরা জানি না।তবে আমি দেখাতে চেষ্টা করেছি যে, এখনকার মত পালাবদ্ধ ভাবে সাজিয়ে কীর্তন করবার প্রণালীর দৃষ্টান্ত আমরা কোথাও দেখতে পাই না। প্রধানতঃ নামকীর্তনই কীর্তন নামে অভিহিত হত। লীলাকীর্তন যা ছিল,তা ভক্তগণকে নিয়ে মহাপ্রভু নবদ্বীপে ও নীলাচলে আস্বাদন করতেন। গৌর-নিত‍্যানন্দকে সংকীর্তনের প্রবর্তক বলা হয় তার কারণ এই, মহাপ্রভু যে প্রেমধর্ম প্রচার করলেন কীর্তনকে তার বাহন করলেন।ধর্মের সাধক (এবং প্রধান সাধক) যে কীর্তন এটি মহাপ্রভুর আগে স্বীকৃত হয়নি। তিনি এবং নিতাইচাঁদ নিজের দ্বারা দেখালেন যে সংকীর্তনের দ্বারা নরনারীর মন যত সহজে আকর্ষণ করা যায় এমন আর কিছুতেই না।ধর্ম জন-কতক ভক্তের মধ্যে,ঋষিযোগ বা সাধুসন্ন‍্যাসীর মধ্যে নিবদ্ধ থাকলেই হল না।সকলকে পারের খেয়ায় তুলতে না পারলে শুধু দুই একজন পার হলেই কি,আর না হলেই কি? আয়াসসাধ‍্য ভজন-সাধন-আরাধনার পরিবর্তে এই কীর্তনযজ্ঞ বা নামযজ্ঞ মহাপ্রভু সকলের চোখের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্তসহ ধারণ করলেন।এটিই চৈতন‍্যচন্দ্রের অবদান কীর্তনের ইতিহাসে।*
*🙌দক্ষিণাপথে আর একজন ভাবুক এইরকমভাবে কীর্তন-মহিমা প্রচার করে গিয়েছেন, তাঁর নাম "তুকারাম"। তুকারামের অভঙ্গ বৈষ্ণবপদাবলীর মত প্রসিদ্ধ।তুকারাম একজন মারাঠী বৈষ্ণব সাধু ছিলেন।তাঁর ইষ্টমন্ত্র ছিল "রাম কৃষ্ণ হরি"।এই মন্ত্র তিনি স্বপ্নে পেয়েছিলেন। মহাপ্রভুর সঙ্গে তুকারামের অনেক বিষয়ে আশ্চর্য‍্য সাদৃশ‍্য লক্ষিত হয়।তুকারাম নামের প্রভাবে ‍মাতোয়ারা ছিলেন।"নাম অতি মধুর"।নাম যে কত মধুর তা বর্ণনা করা যায় না।নামের মাধুর্য‍্য ক্রমেই বাড়ে।একবার এই নামের মাধুর্য‍্য যে আস্বাদন করেছেন,তার আর অন‍্য কিছুই ভাল লাগে না। ভগবান নিজে তাঁর নাম যে কত মধুর তা জানেন না।পদ্মফুল কি জানে যে তার সৌরভ কত মিষ্ট?শুক্তি কি তার মুক্তার মূল‍্য জানে?নাম করার যে মহিমা, সেই মহিমা কীর্তনের।যেখানে কীর্তন হয়,সেখানে ভগবান নিজেই সমাগত হন।কীর্তন শুনে যার কান পরিতৃপ্ত হয় না, তার কান বুঝি মুষিকের গর্তের মত।তুলনা করুন, মহাপ্রভুর উক্তি=*
*কৃষ্ণের মধুর বাণী, অমৃতের তরঙ্গিণী,*
      *তার প্রবেশ নাহি যে শ্রবণে।*
*কাণাকড়ি ছিদ্র সম,জানিহ সেই শ্রবণ,*
     *জন্ম তার হৈল অকারণে।।*
*🙌কীর্তন করতে হলে শরীরের সামর্থ‍্য থাকা চাই। সেইজন‍্য তুকারাম প্রার্থনা করেন, "হে ভগবান আমার শরীর যেন কখনও অসমর্থ না হয় "। জীবন একদিন পঞ্চভূতে মিশে যাবেই, তাতে ক্ষতি নাই। কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকি,ততদিন যেন কীর্তন প্রাণভরে গাইতে পারি। কীর্তনকে তুকারাম নদীর সঙ্গে তুলনা করেছেন, এই নদী ভগবানের দিকে উর্ধ্বমুখে প্রবাহিত হয়। কখনও তিনি কীর্তনকে বলেছেন ভজনের ত্রিবেণী--ভক্ত, ভগবান ও নাম এই ত্রিধারা সম্মিলিত হয়ে কীর্তন হয়েছে।কীর্তনে যে অমৃতের ধারা বহে,তাতে জগৎ সংসার পবিত্র হয়ে যায়।🌹যিনি কীর্তন করবেন, তিনি অর্থ বা টাকা পয়সা নিবেন না, অনাহারে থাকবেন,গন্ধ-মাল‍্যাদি ধারণ করবেন না। এইরকমভাবে কীর্তনের মাহাত্ম্য প্রচার করে দক্ষিণাপথে তুকারাম এক অত‍্যুজ্জ্বল আদর্শ রেখে গিয়েছেন।প্রবাদ এই যে, ভগবান নিজে এসে তাঁকে নিজের রথে তুলে নিয়ে যান। সে যাই হোক, শ্রীচৈতন‍্য কীর্তনকে যে ভাবে প্রভাবিত করে গিয়েছেন, অবশ্যই তুকারাম তা পারেননি।চৈতন‍্যের প্রভাব এরকম যে,এক্ষণে কোনও বৈষ্ণব মহাপ্রভুর নাম আগে না করে কীর্তন করতে সম্মত হবেন না। এই যে কীর্তনের পূর্বে মহাপ্রভুর নাম করা হয়,তাকে "গৌরচন্দ্রিকা" বা সংক্ষেপে গৌরচন্দ্র বলে।কীর্তনের আসরে তাঁকে আবাহন করাই মহাপ্রভুর তদ্ ভাবোচিত পদ গান করবার রীতি আছে। যথা,শ্রীকৃষ্ণের রূপগান করবার আগে গৌরাঙ্গের রূপ, বিরহ গাইবার পূর্বে গোরাচাঁদের সংসারত‍্যাগ,হোলি গানের পূর্বে মহাপ্রভু কর্তৃক রাধাকৃষ্ণের হোলিলীলা স্মরণ ইত্যাদি। এ যে গৌরচন্দ্রিকা গান করবার প্রথা, এটি কত দিনের?অবশ‍্য মহাপ্রভুর প্রকট সময়ে নিশ্চয়ই এইরকম হত না।এমনকি শ্রীবাস প্রভৃতি পারিষদগণ যখন শ্রীচৈতন‍্যকে ঈশ্বর বলে আখ‍্যাত করে তাঁর জয়গান করতে লাগলেন, তখন গৌরহরি অত‍্যন্ত লজ্জিত ও ক্রদ্ধ হলেন।*
*🌷অহে অহে শ্রীনিবাস পন্ডিত উদার।*
*🌷আজ তুমি সব কি করিলা অবতার।।*
*🌷ছাড়িয়া কৃষ্ণের নাম কৃষ্ণের কীর্তন।*
*🌷কি গাইলে আমারে তা বুঝাও এখন।।*
*🌻কিন্তু কে শুনে কার কথা?লক্ষ লক্ষ লোক মহাপ্রভুর জয়গান করতে লাগলেন।শ্রীবাস বললেন, আমাদের না হয় দন্ড দিতে পার, কিন্তু =*
*🌷আব্রহ্মান্ড পূর্ণ হইল তোমার কীর্তনে।*
*🌷কত জনে দন্ড তুমি করিবা কেমনে।।*
*🌹এই হতে গৌরাঙ্গ-গীতি বিশেষভাবে প্রচারিত হতে লাগিল। কিন্তু তা হলেও ঐ সময়ে গৌরচন্দ্রিকার উল্লেখ আমরা কোথাও পাইনা। আমার বোধহয় গৌরচন্দ্রিকার সূত্রপাত শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর হতে।নরোত্তম শ্রীগৌরাঙ্গের তিরোভাবের অব‍্যবহিত পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাজপুত্র হয়েও অল্পবয়সে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেন। শ্রীবৃন্দাবনধামে লোকনাথ গোস্বামীর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করে তিনি নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসেন এবং গ্রামের প্রান্তে ভজনকুটীর নির্মাণ করে সাধন ভজন করতে থাকেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪔🪷🪷🪷🪷🪷🪷

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
    *শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন*
    🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*☘শ্রীনরোত্তম দাসের উদ্দেশ্যে খেতুরীতে যে মহোৎসব হয়েছিল,সে অতি অদ্ভুত ব‍্যাপার।খেতুরীর বর্ণনা পড়ে মনে হয়,সেখানে এইরকম বিচিত্র উৎসব এর পূর্বে বা পরে অনুষ্ঠিত হয়নি।আর হবে কি-না সন্দেহ আছে।গৌর-নিতাই,অদ্বৈত এবং তাঁদের পার্ষদগণ অনেকেই তখন নিত‍্যলীলায় প্রবেশ করেছিলেন।নিত‍্যানন্দ-পত্নী জাহ্নবীদেবী এই মহোৎষবে উপস্থিত ছিলেন এই উৎসবের হোত্রী,শ্রীনিবাস প্রধান পুরোহিত, নরোত্তম উদগাতা এবং রাজা সন্তোষ দত্তযজমান।খেতুরীতে ছয় বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষ্যে এই মহোৎসব হয়।*
*🌷শ্রীগৌরাঙ্গ বল্লবীকান্ত শ্রীকৃষ্ণ ব্রজমোহন।*
*🌷শ্রীরাধারমণ রাধে রাধাকান্ত নমোহস্তুতে।।*
*🌻এই ছয় বিগ্রহের প্রথমেই আমরা শ্রীগৌরাঙ্গকে স্থাপিত দেখতে পাই।শ্রীনরোত্তম শ্রীখন্ডে গিয়ে প্রথম শ্রীগৌরাঙ্গের যুগলমূরতি দর্শন করে আসেন।শ্রীখন্ডের ঋষিকল্প শ্রীনরহরি সরকার ঠাকুর এই বিগ্রহ স্থাপন করে দিবানিশি তাঁর সামনে ভজনসাধন করতেন।খেতুরীতে যেসব বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা হ'ল তার মধ্যে শ্রীগৌরাঙ্গ-বিগ্রহই সর্বাগ্রবর্তী।এই হতেই তখনকার মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।এই উৎসবে অপূর্ব সংকীর্তন স্থল তৈরী হয়েছিল।সেই সংকীর্তনস্থলে শ্রীনিবাসাদি আর্য‍্যগণ এবং প্রসিদ্ধ গায়ক ও বাদক সমবেত হয়েছিলেন।বঙ্গের এমন কোনও বিখ‍্যাত গায়ক,বাদক,ভক্ত মহাজন ছিলেন না যে যিনি খেতুরীর মহোৎসবে যোগদান করেননি।শ্রীজাহ্নবাদেবী সকলের অলক্ষ‍্যে বসিলেন।শ্রীঅদ্বৈর্তচার্য‍্যের পুত্র অচ‍্যুতানন্দ নরোত্তমকে গান করবার জন্য ইঙ্গিত করলেন।শ্রীখন্ডের শ্রীরঘুনন্দন ঠাকুর নরোত্তমকে মালা চন্দন দিলেন।নরোত্তম সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন এবং দেবীদাস অমৃতের মত ধ্বনি করে মর্দ্দলে শব্দ করলেন।গৌরাঙ্গদাস প্রভৃতি সেই সঙ্গে মৃদঙ্গ করতাল প্রভৃতি বাজাতে লাগলেন। ভক্তিরত্নাকরে এই কীর্তনের বিশদ বর্ণনা আছে।গ্রন্থকার খেতুরীর উৎসবের অনেক পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাহলেও প্রাচীনদের মুখে শুনে তিনি এই উৎসবের বিবরণ সংগ্রহ করে থাকবেন।নরহরি বা ঘনশ‍্যাম অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকেই সম্ভবত জন্মগ্রহণ করেন।ইঁনার পিতা শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর শিষ্য ছিলেন।বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ১৭০৪ খৃষ্টাব্দে বর্তমান ছিলেন এটি জানা যায়।খেতুরীর মহামহোৎসবের একশ বছর পরেও যে এর স্মৃতি উজ্জ্বলভাবেই বৈষ্ণবসমাজে ছিল সে বিষয়ে সন্দেহ করবার কারণ নাই।নরোত্তমদাস ঠাকুরের পরিবারভুক্ত নরহরি চক্রবর্তী যে নরোত্তমের লীলা সম্বন্ধে যাবতীয় তথ‍্য সংগ্রহ করতে চেষ্টা করেছিলেন,তা বিশ্বাস করা যায়।ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থেও এবং নরোত্তমবিলাসে তিনি এই কীর্তনানন্দের যেরকম বর্ণনা দিয়েছেন,তাতে মনে হয় না যে তিনি শুধু কল্পনার মালা গেঁথে এটি রচনা করেছেন।তাঁর গ্রন্থ হতে আমরা জানতে পারি যে,🌹কীর্তন দুই প্রকার= নিবদ্ধ ও অনিবদ্ধ। অনিবদ্ধ কীর্তন শ্রীগোকুলদাস গান করলেন।সুর,তান,রাগিনী, মূর্চ্ছনা প্রভৃতি বিস্তার করে তিনি এই গান করেছিলেন। 🌻আর শ্রীনরোত্তম নিজে গেয়েছিলেন নিবদ্ধ কীর্তন।নরোত্তম নিজে গরাণহাটী সুরের স্রষ্টা, তিনি অসামান্য পদকর্তা।শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর পালা সাজিয়ে গান করেছিলেন এবং তারপূর্বে "গৌরচন্দ্রিকা" গান করেছিলেন।*
*🌷শ্রীরাধিকাভাবে মগ্ন নদীয়ার চান্দ।*
*🌷সেই ভাবময় গীত রচনা সুছান্দ।।*
*🌷আকর্ষণ মন্ত্র কি উপমা তায় দিতে।*
*🌷হইল বিহ্বল তাহা প্রথমে গাইতে।।*
*🌷তদুপরি শ্রীরাধিকা কৃষ্ণের বিলাস।*
*🌷গাইবেন মনে এই কৈল অভিলাষ।।*
           *(ভক্তিরত্নাকর ১০ম)*
*🙏এটিই গৌরচন্দ্রিকা আরম্ভ। ঠাকুর মহাশয় যে দৃষ্টান্ত দিলেন,তাইই পরবর্তী গায়ক ও পদকর্তাগণ অনুসরণ করেছেন। চৈতন‍্যভাগবত,চৈতন‍্যচরিতামৃত প্রভৃতি গ্রন্থে প্রতি অধ‍্যায়ের সূচনায় গৌরচন্দ্রের নাম করবার রীতি দেখা যায়। সে সময়ে বৈষ্ণবদের মধ্যে গৌরচন্দ্রকে প্রণাম না করে কোন গ্রন্থ বা নূতন কোন অধ‍্যায় আরম্ভ করবার প্রথা ছিল না। কিন্তু কীর্তনের গৌরচন্দ্রিকা শুধু গৌরচন্দ্রকে প্রণাম মাত্র নহে। এক্ষণে গৌরচন্দ্র বলতে আমরা যা বুঝি তা এই যে, শ্রীরাধাকৃষ্ণের কোন লীলা গান করতে হলে সেই লীলার ভাবোচিত গৌরাঙ্গবিষয়ক গান করতে হয়।এই প্রণালীর সর্বপ্রথম উল্লেখ দেখতে পাই, খেতুরীর উৎসবের বর্ণনায়।তখনও পালাক্রমে গান করবার পদ্ধতি সুপ্রচলিত হয়নি বলে বোধ হয়।কারণ ঐ খেতুরীর মহোৎসবে দেখতে পাই=*
*🌷কেহ হোলিযাত্রা পদ‍্য পঢ়য়ে উচ্ছায়।*
*🌷কেহ নবদ্বীপ বৃন্দাবন লীলা কেহ গায়।।*
                *(নরোত্তম বিলাস)*
*🌹এটি হতে বুঝা যায় যে গান করবার প্রণালী তখনও সুনিয়মিত হয়নি।সে দিন ফাল্গুনী পূর্ণিমা।খেতুরীতে মহাপ্রভুর জন্মোৎসব গান করা হয়েছিল।আর হোলির দিন বলে কেউ কেউ উৎসাহ সহকারে (উচ্ছায়) হোলি সম্বন্ধে পদ আবৃত্তি করেছিলেন। সে যাইহোক, খেতুরীর উৎসবে শ্রীঠাকুর মহাশয় কর্তৃক যে প্রথার উদ্ভব হ'ল, তাইই পরবর্তীকালে নানা গায়ক মহাজন কর্তৃক অনুসৃত হয়ে, বতর্মান আকারে এসে পৌঁছেছে।পূর্বে অনেক মহাজন গৌরলীলা সম্বন্ধে পদ লিখেছেন।সেগুলি যথানিয়মে সন্নিবেশিত করে পালা সাজানো হতে লাগিল। খেতুরীতেই নরোত্তমদাস আরতির পরে বাসুদেব ঘোষের পদ গেয়ে গৌরচন্দ্রিকা করেছিলেন,এটি নরোত্তমবিলাসে জানা যায়।*
*🌷সখি হে,ওই দেখ গোরা কলেবরে।*
*🌹এই অনুরাগের পদটি ঠাকুর মহাশয় গান করেছিলেন। খেতুরীতে যা হল, সমস্ত বৈষ্ণব জগৎতা আনন্দের সহিত গ্রহণ করিলেন।প্রচারের দিক দিয়ে খেতুরীর মহোৎসব এক অতি প্রয়োজনীয় ঘটনা।মহাপ্রভুর প্রেমধর্ম, মহাপ্রভুর সংকীর্তন, খেতুরীর উৎসব হতেই দেশময় ছড়িয়ে পড়ল।নবদ্বীপে যে ধর্মের বীজ উপ্ত বা বপন হয়েছিল, বৃন্দাবনের গোস্বামীপাদগণ যে ধর্মের ভিত্তি সুদৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত করলেন,খেতুরীর মহোৎসবে তা আপামর সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়িল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
        *কীর্তনে গৌরচন্দ্রিকা*
         🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🌷রাই রূপে তার অঙ্গ ঢাকা।*
*🌷হেরিলাম গৌর বাঁকা।।*
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর সেই "নাগর বনমালী" গোপীজনবল্লভ মদনমোহন। কিন্তু রাইরূপে তাঁর নীলকান্তমণি সদৃশ অঙ্গকান্তি ঢাকা পড়েছে।শুধু তিনি যে শ্রীরাধিকার স্বর্ণকান্তি চুরি করেছেন, তা নয়। সেই মহাভাবস্বরূপিনীর ভাবরাশিও তিনি অঙ্গীকার করে এসেছেন। কখনও তিনি প্রেমের কাঙ্গাল,আবার কখনও প্রেমের ঠাকুর,প্রেমিক শিরোমণি, কখনও শ্রীরাধা ভাবে বিভাবিত হয়ে হা-কৃষ্ণ, হা-কৃষ্ণ বলে কেঁদে আকুল, আবার কখনও "জয়রাধে শ্রীরাধে" বলে গড়াগড়ি দিচ্ছেন ; তিনি কখনও ভক্ত, কখনও ভগবান।তাই একজন আধুনিক কবি বলছেন=*
*দেবতা ভিখারী, মানব দুয়ারে,*
    *দেখে যারে তোরা দেখে যা।*
*🌹বাংলার কবিতা, গানে শ্রীগৌরচন্দ্র চির মধুধারা ঢেলে দিয়েছেন।কেউ তাঁর তত্ত্ব বুঝে,কেউ তাঁর তত্ত্ব বুঝে না।কেউ তাঁকে ভগবান জ্ঞানে আরাধনা করেন,কেউ তাঁকে ভক্তশ্রেষ্ঠ বলে গণনা করেন। যিনি যেভাবে তাঁকে ভাবুন না কেন, বাংলার সাহিত‍্যে, বাংলার সঙ্গীতে, বাংলার ভাবধারায় মহাপ্রভু অদ্ভুত প্রভাব বিস্তার করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন আর একটি দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায় না =*
*যে বা নাহি বুঝে কেহ,শুনিতে শুনিতে কেহ,*
       *কি অদভূত গৌরাঙ্গ-চরিত।*
*কৃষ্ণে উপজীবে প্রীতি,জানিবে রসের রীতি,*
      *শুনিলে হইবে বড় হিত।।*
*🌹মহাপ্রভু সন্ন‍্যাসী,ত‍্যাগী,বিরক্ত,বৈরাগী।অথচ তিনি শুষ্ক,নীরস ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করে ব্রহ্মানন্দে নিমগ্ন রহেন নাই।যোগীর মত তিনি সর্বেন্দ্রিয় বৃত্তি রোধ করে নিবাত নিষ্কম্প প্রদীপের মত ধীর স্থির অচঞ্চল ভাবে শ্বাসরোধ করে জীবন অতিবাহিত করেননি।তিনি শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রণয়মহিমায় বিভোর হয়ে থাকতেন,নিভৃতে স্বরূপ দামোদর, রায় রামানন্দর মত ভক্তের সঙ্গে চন্ডীদাস,বিদ‍্যাপতি প্রভৃতির পদাবলী আস্বাদন করতেন, আর কেঁদে কেঁদে আকুল হতেন।তাঁর চোখের জলে পাষাণ গলে যেত।তাঁর এই দিব‍্যোন্মাদনা পূর্ণ গানে এদেশে ভাবের যমুনা একদিন উজান বহিতে আরম্ভ করেছিল।কখনও কখনও ভাবের আতিশয‍্যে অজ্ঞান হয়ে যেতেন। পুরুষোত্তমে জগন্নাথ-দেবের মন্দির মধ্যে গরুড়-স্তম্ভের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে যখন তিনি শ্রীমূর্তি দেখতেন, তখন তাঁর নয়নজলে সেখানকার খাল ভরে যেত।এমন দৃশ্য এদেশের ইতিহাসে আগে বা পরে কেউ কখনও দেখেনি।*
*গরুড়ের সন্নিধানে, রহি করে দরশনে,*
     *সে আনন্দের কি কহিব বলে।*
*গরুড় স্তম্ভের তলে,আছে এক নিম্নখালে,*
     *সেই খাল ভরে অশ্রুজলে।।*
*🍀এটিই কীর্তনের আদর্শ।এই অনুরাগ,এই ব‍্যাকুলতা, এই আকুতি কীর্তনগানের,তথা বৈষ্ণবধর্মের মূল সূত্র।এইটুকু বাদ দিলে গান শুধুই অনুষ্ঠান। সফলতাহীন।প্রতিমাতে যেমন প্রাণ-প্রতিষ্ঠা করবার রীতি আছে,গানেও সেইরকম প্রাণ-প্রতিষ্ঠা হতে পারে।প্রাণহীন গানের কসরতে নিপুণতা প্রমাণিত হতে পারে, কিন্তু তাতে প্রাণের প্রেরণা পাওয়া যায় না। দেবতার পূজার আগে অধিবাসের নিয়ম আছে,সেই অধিবাসে প্রতিমার প্রাণ-প্রতিষ্ঠা কল্পে মন্ত্র পাঠ করতে হয়।এই জন‍্যই হিন্দুরা পুতুল পূজা করবার অপবাদ হতে আত্মরক্ষা করতে সমর্থ হন।অধিবাসে যে প্রতিমার প্রাণ-প্রতিষ্ঠা হয় নাই, ঋত্বিক এমন প্রতিমার পূজা করেন না।সেইরকম যে কীর্তনে গৌরচন্দ্রিকা গীত হয় না,এমন কীর্তন প্রকৃত ভক্তেরা শুনেন না।পূজার যেমন অধিবাস, কীর্তনের সেইরকম গৌরচন্দ্রিকা।গৌরচন্দ্রিকা অর্থে শ্রীগৌরচন্দ্র সম্বন্ধীয়।কীর্তনে যে রসের গান হবে,গৌরচন্দ্রিকায় সেই রসাশ্রিত পদ গান করতে হয়। সুতরাং গৌরচন্দ্রিকা হতেই বুঝতে পারা যায় যে গায়ক অভিসার,মান,বিরহ বা রাসলীলা গান করবেন।এইরকম পূর্বাভাস থাকে বলে গৌরচন্দ্রিকার গৌণ অর্থ হয়েছে সূচনা বা পূর্বাভাস।*
*☘গৌরচন্দ্রিকার উদ্দেশ্য সকলে বুঝতে পারেন বলে মনে হয় না।সেইজন‍্যই এ সম্বন্ধে বিশেষ আলোচনা হওয়া উচিত।কীর্তন-গান মহাপ্রভুর সম্পত্তি।শ্রীচৈতন‍্য নিত‍্যানন্দকে সংকীর্তনের একমাত্র জনক বলে উল্লেখ করা হয়।অন‍্য সমস্ত কারণ ছেড়ে দিলেও শুধু কৃতজ্ঞতার দিক দিয়ে গৌরচন্দ্রিকার আদর হওয়া উচিত।বাঙ্গালী অকৃতজ্ঞ নহে ; তারা অন‍্যের সম্পত্তি ব‍্যবহার করতে হলে তার নাম করতে ভুলে না।সেইজন‍্য কোনও পুরাণ পাঠ করতে হলে নরনারায়ণকে নমস্কার করবার সঙ্গে সঙ্গে ব‍্যাসদেবকে নমস্কার করতে হয়। সুতরাং যে করুণাবতার কীর্তনের ভাগীরথী ধারা বঙ্গে আনয়ন করে এদেশ ধন‍্য করেছেন, কীর্তনের প্রারম্ভে তাঁর নাম স্মরণ করে বাঙ্গালী দু'ফোটা নয়নেরজল কেন ফেলবে না? মহাপুরুষদের কীর্তিকাহিনী স্মরণ করে তাঁদের স্মৃতির অর্চনা করবার প্রথা সমস্ত সভ‍্য ও উন্নত জাতির মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। সুতরাং সেদিক দিয়েও গৌরচন্দ্রিকা আমাদের পরম আদরের বস্তু হওয়া উচিত।*
*🌹কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা গৌরচন্দ‍্যিকার মূল উদ্দেশ্য ভুলে যেতে বসেছি।শ্রোতাদের কথা দূরে থাকুক, একজন সুকন্ঠ কীর্তন গায়ক আমার কাছে গৌরচন্দ্রিকার আবশ‍্যকতা জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন।শুনেছি এখন তিনি গৌরচন্দ্রিকা গান করে থাকেন।অনেক কীর্তন গায়িকার গানে গৌরচন্দ্রিকা কোনও রকমে নমঃ নমঃ করে সেরে দেওয়া হয়।দোহারগণ মহাকলরবে গৌরচন্দ্রিকার এককলি বা দুইকলি গান করে ক্ষান্ত হয়, তখন গায়িকা ধীরে ধীরে বৃন্দাবন লীলা গাইতে আরম্ভ করেন।ঢপ কীর্তনে অনেক বিষয়েই কীর্তনের নিয়ম রক্ষিত হয় না। সুতরাং এক গৌরচন্দ্রিকা সম্বন্ধে অনুযোগ করলে কি হবে? সাধারণ শ্রোতাদেরও যে এদিকে মনোযোগ আছে,তা মনে হয় না।বর্তমান ভক্ত বলব না, শ্রোতারা একশ জনের মধ্যে কেবল পাঁচজন হয়ত কীর্তন বুঝেন, বাকী সব শুনেন, কীর্তন শুনলে পাপ দূরে যায় ইত্যাদি। যাইহোক, অনেকে গৌরচন্দ্রিকার পরে আসরে আসতে পারলেই যেন সুখী হন।একজায়গায় আমি গান করবার জন্য অনুরুদ্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু আমার সময় কম দেখে উদ‍্যোক্তা বললেন আপনি একটু পরেই না হয় যাবেন, ততক্ষণ আমরা গৌরচন্দ্রিকা সম্পূর্ণ করি।আমি মনে মনে হাসলাম কিছু বললাম না, কিন্তু প্রাণপণ চেষ্টা করে ঠিক সময়ে উপস্থিত হলাম। তাতেও নিস্তার পেলাম না। বন্ধুবর নিয়মিত সময়ের আগেই ঐ অনাবশ‍‍্যক বস্তুটি আরম্ভ করে দিয়েছেন এবং প্রায় তা সাঙ্গ করে ফেলেছেন! গৌরচন্দ্রিকার সম্বন্ধে এইরকম অনাদর হওয়ার অন‍্যতম কারণ গায়কদের অত‍্যাচার।অনেক জায়গায় দেখা যায়, কীর্তনকারীরা গৌরচন্দ্রিকার নামে এমন অযথা চেঁচামেচি জুড়ে দিয়েছেন যে,শ্রোতাদের ধৈর্য‍্যচ‍্যুতি ঘটবার উপক্রম হয়।নিরঙ্কুশ গলাবাজি ও বিকৃত অঙ্গভঙ্গী বাদ দিলে গৌরচন্দ্রিকার কোন ক্ষতি হয় না, শ্রোতাদেরও রুচি অক্ষুন্ন থাকে।এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে যে,গৌরচন্দ্রিকার আগে যে "মেল" হয়, অর্থ‍্যাৎ গায়কদের পক্ষে সুর ভাঁজিয়া যে কন্ঠ মিলাবার ব‍্যবস্থা আছে,তাতে চেঁচামেচি সেরে নিলে স্বচ্ছন্দে চলতে পারে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮)🙌বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🙌*
          *কীর্তনে গৌরচন্দ্রিকা*
        ••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌹আর একটি কারণ আমার মনে হয় এই যে,বৈষ্ণব পদাবলীতে মহাপ্রভুকে যে স্থান দেওয়া হয়েছে, অনেকে হয়ত তা মন থেকে মেনে নিতে পারছে না।মহাপ্রভু স্বয়ং ভগবান,ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ, অথবা তাঁর কোনৎ অবতার, বা একজন ভক্তশ্রেষ্ঠ, এটি নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে।ব্রহ্মণ‍্য প্রভাবান্বিত হিন্দুসমাজ মহাপ্রভুকে ভগবান বলে স্বীকার করতে চিরদিনই কুন্ঠিত। এইখানেই বৈষ্ণব ও ব্রাহ্মণ সমাজের মধ্যে পার্থক্য।এ পার্থক্য নিয়ে আমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই। কিন্তু শ্রীচৈতন‍্যের বৈশিষ্ট্য কারও অস্বীকার করবার উপায় নাই।এমন সন্ন‍্যাসী অথচ প্রেমিক জগতে আর হয় নাই, পতিত জীবের জন্য এমন করে অজস্র অশ্রু কেউ বিসর্জন করেননি।এমন সব ভুলে ভগবানকে ভালোবাসা আর কেউ শিখায় নাই, জগতের মঙ্গলের জন্য নামপ্রেম এমন করে আর যেচে যেচে বিতরণ করেন নাই।এই মহামহিমময় বৈশিষ্ট্য শ্রীগৌরাঙ্গকে জগতের মহাপুরুষগণের মধ্যে যে এক অতি উচ্চ স্থান দিয়েছে, অবতারগণের মধ্যেও যে শ্রেষ্ঠ আসনে বসিয়েছে, এটি অস্বীকার করবার উপায় নাই।তার পরে আমাদের শাস্ত্রে ভক্ত ও ভগবানে বিশেষ প্রভেদ করে নাই। শাস্ত্র বলেন=*
*🌷সাধবো হৃদয়ং মহ‍্যং সাধূনাং হৃদয়ত্ত্বহম্।*
*🌷মদন‍্যৎ তে ন জানন্তি নাহং তেভ‍্যো মনাগপি।।*
*🌹ভগবান বলছেন,সাধুদের হৃদয় আমাতে অর্পিত ; আমি সাধুদের হৃদয় -স্বরূপ।তাঁরা আমাকে ছাড়া অন‍্য জানেন না ; আমিও মুহূর্তের জন্য তাঁদেরকে ছাড়া অন‍্য জানি না।*
*🌻গৌরচন্দ্রিকার যে সম‍্যক্ আদর হয় না,তার আরও একটি কারণ এই যে,গৌরচন্দ্রিকা সাধারণের পক্ষে কিছু দুর্বোধ‍্য।যেহেতু কীর্তনের প্রথম গীত গৌরচন্দ্রিকা বলে সব গায়কই গৌরচন্দ্রিকায় আপন আপন কৃতিত্বের পরিচয় দিবার জন্য উৎসুক।প্রায়শঃই গৌরচন্দ্রিকা হালকা সুরে বা চপল তালে গান করা যায় না।গৌরচন্দ‍্রিকার পদগুলিও যেমন ভাবগর্ভ, সাধারণের পক্ষে একটু কঠিন। এর তাল এবং সুরও সেরকম গুরুগম্ভীর। কীর্তনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিলম্বিত তালগুলি যথা যোত-সমতাল, বড়-রূপক প্রভৃতি গৌরচন্দ্রিকায় প্রযোজ‍্য।রাগরাগিনীর কলা-কৌশল দেখাবার পক্ষেও গৌরচন্দ্রিকা প্রশস্ত। কিন্তু পূর্বে স্বর মূর্চ্ছনাদি দেখাবার ও আলাপ করবার যে রীতি ছিল,তা এক্ষণে কচকচিতে পরিণত হবার উপক্রম হয়েছে।আগে সঙ্গীত হিসাবে কীর্তনের যে গৌরব তা বহু পরিমাণে গৌরচন্দ্রিকার উপর নির্ভর করত। সুতরাং এইদিকে আমি সঙ্গীতজ্ঞগণের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ইচ্ছা করি। উচ্চাঙ্গের সঙ্গীত-কীর্তনই হোক আর ধ্রুপদই হোক সাধারণের তেমন উপভোগ‍্য হয় না।না হোক, কিন্তু তা বলে এই সঙ্গীতের প্রাধান‍্যটুকু অস্তমিত হতে দেওয়া কোনও ক্রমেই বাঞ্জনীয় নয়। এখনও চেষ্টা করলে যথাযোগ্য উৎসাহদানের দ্বারা এবং স্বরলিপির সাহায্যে হয়ত তা সম্ভবপর হবে না। সুতরাং যদি কোনও চেষ্টা করতে হয়, এখনই তা করা উচিত বলে মনে করি। আগেই বলেছি,যে কাব‍্যের দিক দিয়ে গৌরচন্দ্রিকাগুলি সাধারণতঃ অতি সুললিত ভাবগর্ভ কবিতা।এরকম ভাবসমৃদ্ধ কবিতা বাংলা ভাষায় বেশী দেখতে পাওয়া যায় না।ভাবসমৃদ্ধ কবিতাগুলি বুঝতে কিছু বিলম্ব হয়, কিন্তু বুঝতে পারলে তা হতে অপূর্ব রসের আস্বাদন লাভ করা যায়।সেগুলি যত নিংড়ানো যায়,ততই যেন মধুরাতি মধুর নির্গত হয়। একটি নমুনা=*
*কো কহ অপরূপ, প্রেম-সুধা-নিধি,*
      *কোই কহত রসমেহ।*
*কোই কহত ইহ, সোই কলপতরু,*
       *মঝু মনে হোয়ত সন্দেহ।।*
   *পেখলুঁ গৌরচন্দ্র অনুপাম।*
*যাচত যাক, মূল নাহি ত্রিভুবনে,*
         *ঐছে রতন হরিনাম।।*
*যো এক সিন্ধু, বিন্দু নাহি যাচত,*
        *পরবশ জলদ-সঞ্চার।*
*মানস অবধি, রহত কলপতরু,*
        *কো অছু করুণা অপার।।*
*যছু চরিতামৃত, শ্রুতি পথে সঞ্চরু,*
       *হৃদয় সরোবর পূর।*
*উমড়ই নয়নে, অধম মরুভূমহি,*
       *হোয়ত পুলক অঙ্কুর।।*
*নামহি যাক, সব তাপ মিটই,*
       *তাহে কি চাঁদ উপাম।*
*ভণ ঘনশ‍্যাম, দাস নাহি হোয়ত,*
       *কোটি কোটি এক ঠাম।।*
*🌻কেউ বলেন যে শ্রীগৌরহরি অপূর্ব (অপরূপ) প্রেমরূপ সুধার সমুদ্র (নিধি), কেউ বলেন তিনি রসের (প্রেম,ভক্তির) মেঘস্বরূপ, কেন না অবিরল তিনি অশ্রু বাদলের সৃষ্টি করেন। আবার কেউ বলেন যে এই পৃথিবীতে (ইহ) সেই কল্পতরুই আবির্ভূত হয়েছেন। কিন্তু আমার (মঝু)মনে সন্দেহ হয় অর্থ‍্যাৎ এটির কোনটিও মহাপ্রভুর যোগ্য তুলনার জায়গা বলে মনে হয় না।*
*🌹আমি দেখলাম গৌরচন্দ্র তুলনাহীন (অনুপাম)! কারণ ত্রিভুবনে যার মূল‍্য নাই এমন হরিনাম-রত্ন তা তিনি যেচে (যাচত) সেধে লোককে বিতরণ করেছেন।(যে রত্ন অত‍্যন্ত দুর্মূল‍্য,কেউ তা কখনও কাউকেও দান করে না। কিন্তু আমার গৌরসুন্দর ত্রিভুবনে মূল‍্য নাই যার এমন রত্ন নয়নজলে বুক ভাসিয়ে কাতর ভাবে সেধে সেধে সকলকে বিতরণ করেন।এঁর তুলনা কোথায়?সেইজন‍্যই বলছি যে গৌরচন্দ্র অনুপাম)।*
*🌳তারপর দেখ,সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করেছ ; কিন্তু সমুদ্রের অপ্রমেয় জলরাশি থাকতেও কখনও কাউকেও যেচে একবিন্দু দেয় না। তোমার কন্ঠ শুকনো হোক, তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে যাক, সিন্ধু কখনও বলবে কি, ওগো! আমার কাছে অনেক জল আছে, তুমি একবিন্দু পান করে পিআসা শান্ত কর?*
*🌲মেঘের সঙ্গেও তাঁর তুলনা হয় না, কারণ মেঘ পরবশ। যদি অনুকূল পবন প্রবাহিত হয়, তবেই মেঘ জল বর্ষণ করে পৃথিবী শীতল করে ; নচেৎ না।আর শ্রীগৌরসুন্দর অবিরলধারে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করেছেন কোন কিছুরই অপেক্ষা নাই।প্রেমবন‍্যায় জগৎ ভাসিয়ে দিচ্ছেন, কে কোথায় আছ পাপীতাপী,আকন্ঠ ভরে পান কর।*
*🌺কল্পতরুর কথা বলছ? কিন্তু কল্পতরুর কাছে যা অভীষ্ট (মানস) কর,সেই বাঞ্জিত ফল পর্য‍্যন্ত (অবধি) পাওয়া যায়, তার অতিরিক্ত কিছু পাওয়া যায় না। কিন্তু এমন (অছু) অপার করুণাময় কে আছেন,যিনি জীবের চরম ও পরম মঙ্গলকর ফল অসাধনে,অযাচিত ভাবে দান করেন!*
*🌹আবার দেখ, মেঘ যেখানে উদিত হয়,সেইখানেই বারিবর্ষণ করে কিন্তু গৌরসুন্দরের চরিতামৃত শুধু শ্রবণপথে প্রবেশ করলেই হৃদয় সরোবর পূর্ণ হয়ে যায়।কেবল তা নই। সরোবর পরিপূর্ণ হয়ে উঠে সে প্রেমবারি নয়নপথে হঠাৎ বাহির হয় এবং মরুভূমি অপেক্ষাও নিকৃষ্ট শুকনো, কঠিন পাষাণবৎ যে হৃদয়, সে হৃদয়ে পুলকরূপ অঙ্কুর সঞ্চার করে।মেঘের কি সাধ‍্য যে সে মরুভূমিতে অঙ্কুর জন্মাইতে পারে? বলতে পার যে তুমিও তো শ্রীগৌরাঙ্গকে চাঁদের সঙ্গে তুলনা করেছ (গৌরচন্দ্র অনুপাম)। কিন্তু না, আমি চাঁদের সঙ্গে তাঁর তুলনা করিনি, শুনতে ভাল শোনায় এই জন্য শুধু গৌর বা গৌরাঙ্গ না বলে গৌরচন্দ্র বলেছি।কেন না যাঁর নামমাত্রে সবতাপ (দেহের,মনের,আত্মার জ্বালা)বিদূরিত হয়, তাঁর সঙ্গে কি চাঁদের তুলনা?পদকর্তা ঘনশ‍্যাম দাস বলছেন যে কোটি কোটি চাঁদ একত্র (একুঠাম) হলেও মহাপ্রভুর তুলনা হয় না।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯)🙌বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🙌*
         *🌹কীর্তনের রস🌹*
        ***********************
*🌹রস🌹 বলতে আমরা সাধারণতঃ বুঝি "আনন্দ"।জড়-জগতেররূপ,রস,শব্দ,গন্ধ, স্পর্শের মধ্যে দ্বিতীয়টি আমরা জিহ্বার দ্বারা আস্বাদন করতে পারি। এইজন্যই জিহ্বার এক নাম "রসনা"।কটু তিক্ত কষায় লবণ অম্ল মধুর এই ছয়টি রসনেন্দ্রিয়গ্রাহ‍্য রস।আবার যা মনের আস্বাদ‍্য তাও "রস" নামে পরিচিত।(কোনও বস্তু দর্শন করলে বা কোনও চিন্তা মনে উদিত হলে যে অনির্বচনীয় আনন্দ অন্তঃকরণে অনুভূত হয়,তাকেও রস বলা হয়।কাব‍্যপাঠে বা অভিনয় দর্শনেও এইরকম আনন্দ মনোমধ‍্যে উদিত হয়।সেইজন‍্য অলঙ্কার শাস্ত্রে "নবম" প্রকার রসের উল্লেখ আছে ; আদি, বীর,করুণ,অদ্ভূত,হাস‍্য,ভয়ানক, বীভৎস,রৌদ্র ও শান্ত।বাৎসল‍্যরস গণনা করলে রসের সংখ্যা হয় দশ।বৈষ্ণবদের মতে সাহিত‍্যের নয়টি রস গৌণ।মুখ‍্যরস পাঁচটি যথা=শান্ত,দাস‍্য, সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও মধুর।) এখানেও রসের অর্থ=যা আস্বাদ‍্য, কিন্তু এ আস্বাদন প্রাকৃত বস্তুর না, এটি পারমার্থিক আস্বাদন।কারণ এই অনিত‍্য সংসারে একমাত্র আস্বাদ‍্য বা উপভোগের বিষয় "শ্রীকৃষ্ণ" ঃ--*
*🌷রসিকশেখর কৃষ্ণ পরমকরুণ।চৈঃচঃ।*
*🌹কীর্তনে এই রসের বিন‍্যাসদ্বারা শ্রীকৃষ্ণের উপভোগকেই বাস্তব রূপ দান করা হয়েছে।শান্ত,দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও মধুর প্রভৃতির রসের মধ‍্য দিয়েই ভগবান আস্বাদ‍্য এটিই বৈষ্ণব সাধকদের অভিপ্রায় বা বাসনা।এই রসবিভাগ অনুসারে ভক্তও ভিন্ন ভিন্ন রসের অধিকারীরূপে বিভক্ত ; কেউ শান্ত, কেউ সখ‍্য,কেউ বা মধুর রসের অধিকারী।শান্তরস ভগবদ্-ভক্তজনের মনের সাধারণ স্থায়িভাব।সংসারের অনিত‍্যতা এবং এর চিরচঞ্চল সুখ-দুঃখরূপ ছায়াবাজির স্বরূপ যতই অন্তঃকরণে উপলব্ধি হবে,ততই মন প্রশান্ত স্থির অপ্রমত্ত হয়ে উঠবে।যতক্ষণ মনকে শান্ত করতে না পারবে, ততক্ষণ অন‍্য রসে প্রবেশ করতে পারবে না।এই শান্তরসের ভক্ত ছিলেন ব্রহ্মার চার মানস পুত্র, সনক, সনদ,সনাতন ও সনৎকুমার। সুতরাং এই বৈরাগ‍্য মিশ্রিত মনোভাব সমস্ত ভক্তচিত্তের স্বাভাবিক ভিত্তি,এইজন‍্য বৈষ্ণবগণ শান্তরসকে শ্রেষ্ঠ স্থান দেন না।ইঁনাদের চারটি রস প্রধান =দাস‍্য,সখ‍্য, বাৎসল‍্য ও মধুর বা কান্তা।*
*🌷দাস‍্য সখ‍্য বাৎসল‍্য শৃঙ্গার চারি রস।*
*🌷চারি ভাবে ভক্ত যত কৃষ্ণ তার বশ।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷দাস‍্য সখ‍্য বাৎসল‍্য আর যে শৃঙ্গার।*
*🌷চারি ভাবে চতুর্বিধ ভক্তই আধার।।*
*🌷নিজ নিজ ভাবে সবে শ্রেষ্ঠ করি মানে।*
*🌷নিজ ভাবে করে কৃষ্ণ সুখ-আস্বাদনে।।*
                     *(শ্রীচৈঃচঃ,আদি)*
*🌳এইসব রসের মধ্যে আবার আদি বা শৃঙ্গার অর্থ‍্যাৎ মধুর রসই বেশী আস্বাদ‍্য।সেজন‍্য মধুর রসের গানই কীর্তনে বেশী।*
*🌹ভগবানকে ভজনা করবার যে চার প্রকার রীতি (রস) কথিত হ'ল, তার মধ্যে মধুর রসের ভক্তই সর্বাপেক্ষা বেশী। কিন্তু আমরা যদি মনে করি যে সকলেই মধুর রসের ভক্ত,তা হলে ভুল হবে।এমন বহু লোক দেখেছি যাঁরা মধুর রসের পদাবলী শুনেন না।অর্থ‍্যাৎ অভিসার, কলহান্তরিতা, মাথুর প্রভৃতি পালার গান হলে তাঁরা সে জায়গা ত‍্যাগ করেন। এমন অনেক ভক্ত আছেন যাঁরা কেবল দাস‍্য,সখ‍্য ও বাৎসল‍্য রসের অধিকারী।শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলীলা তাঁরা শোনেন না।দাস‍্য ও সখ‍্য রসের ভজন অন‍্যান‍্য ধর্মেও দেখতে পাওয়া যায়। ভগবানকেপ্রভু বা বন্ধু বলে মনে করা সকল ধর্মেই চলে। কিন্তু বৈষ্ণবদের বাৎসল‍্য রসের তুলনা বোধ হয় বিরল। ভগবানকে সন্তান বা পুত্র বলে স্নেহ করা,সেইভাবে তাঁর সেবা করা,সচরাচর অন‍্যত্র প্রায় দেখতে পাওয়া যায় না।বাৎসল‍্য রসে সেবক যাঁরা,তাঁরা নন্দ-যশোমতীর অভিমানে ভাবিত হয়ে শ্রীগোপালকে বা শ্রীকৃষ্ণকে প্রতিপাল‍্য জ্ঞানে আদর করেন।এই বাৎসল‍্য রসের গান গোষ্ঠলীলা,উত্তরগোষ্ঠ,মৃত্তিকা ভক্ষণ,দামবন্ধন,নবনী চুরি,উদুখল বন্ধন প্রভৃতি পালায় শুনতে পাওয়া যায়। ভগবানের প্রতি অপত‍্যবুদ্ধির (পুত্রজ্ঞানের বুদ্ধি) দৃষ্টান্ত অন‍্যত্র একান্ত বিরল। ভগবানকে পিতা বা মাতা বা বন্ধু ভাবে ভজনা করবার দৃষ্টান্ত অন‍্যান‍্য ধর্মসম্প্রদায়ের মধ্যে যথেষ্ট দেখতে পাওয়া যায়। (পতিভাবে বা প্রাণবল্লভ ভাবে ভজনা করবার পদ্ধতিও অজ্ঞাত নয়)। (St.Catherne of Theresa এবং Carmelite Nuns দের মধ‍্য যীশুখ্রীষ্টকে পতিভাবে উপাসনা করবার প্রণালী দেখা যায়।ইঁনারা Brides of Christ বা খ্রীষ্টের পাত্রী বলে পরিচিত।কার্মেলাইট সন্ন‍্যাসিনীরা এতদূরমধুর ভাববিষ্ট যে তাঁরা অন‍্য পুরুষের মুখ পর্য‍্যন্তও দেখেন না।তাঁরা যে-মঠে থাকেন সে-মঠে কোনও পুরুষের প্রবেশাধিকার নাই।যদি কখনও রাজমিস্ত্রী বা অন‍্য কোন মজুরদের প্রবেশ আবশ‍্যক হয়, তখন তাদের গলায় ঘন্টা বেঁধে দেওয়া হয় অথবা মঠ-অধিকারিণীদের পূর্বে সংবাদ দেওয়া হয় যাতে তাঁরা নির্জন জায়গায় অপেক্ষা করতে পারেন।দূর হতে মাত্র এই মঠ দেখবার সুযোগ আমার (লেখকের, খগেন্দ্র নাথ মিত্রের)হয়েছে। কিন্তু বৈষ্ণবদের বাৎসল‍্য রসটি অতি অপূর্ব।এই রসের এবং অন‍্যান‍্য রসের বৈশিষ্ট্য এই যে,স্বার্থের কোন সন্ধান এর মধ্যে নেই।সাংসারিক হিসাবে পুত্রের প্রতি মাতৃস্নেহের মধ্যে যতই আত্মবিস্মৃতি থাকুক,এটি একেবারে বিশুদ্ধ হতে পারে না। কিন্তু ভগবানের প্রতি নন্দ যশোদার যে পুত্রস্নেহ, সেটি জোর দিয়ে বলা যায় একান্তভাবে বিশুদ্ধ অর্থ‍্যাৎ কিছুমাত্র স্বার্থের সন্ধান সেই ভালোবাসায় ছিল না।যাইহোক, পুত্র আমার যেন কিছুমাত্র কষ্ট না পায়, এইরকম ভাবে ভগবৎসেবা বিশুদ্ধ বাৎসল‍্যরসের উপজীব‍্য।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🦚🌷🌷🌷🌷🌷🌷

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
     *কীর্তনের রস বা আনন্দ*
    *************************
*🍀রসের আভাস মাত্র বতর্মান অথচ যেখানে প্রকৃত রসের অভাব তাকে রসাভাস বলে।রসাভাস বা রসদুষ্টি বা অনুচিত রস কীর্তনে অত‍্যন্ত দোষাবহ।কীর্তনীয়াকে অতি সন্তর্পণের সঙ্গে এই রসাভাস-দোষ পরিহার করতে হয়।মনে করুন, কীর্তনীয়া মধুর বা আদিরসের গান করছেন,এমন সময়ে যদি তিনি পরকালের কথা উপস্থাপিত করেন,তাহলে সে গান অত‍্যন্ত শ্রুতিকটু হয়। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যেতে পারে যে,যখন রূপ-গুণ-যৌবনশালিনী গোপবালাগণ যমুনাতীরে পারে যাবার জন্য অপেক্ষা করছেন,তখন যদি গায়ক নাবিকরূপী শ্রীকৃষ্ণকে দিয়ে বলান যে তিনি ভবপারের কর্ণধার, জীবকে ভবপারে নিয়ে যাবার জন্য অনাদিকাল হতে তিনি খেয়া দিচ্ছেন, তাহলে সেখানে রসাভাস-দোষ বা রসভঙ্গ হল বলতে হবে।মনে করুন,বাসরঘরে বরকে ঘিরে কুটুম্বিনীর দল আনন্দোল্লাসে মগ্না, বরকে গান গাইবার জন্য পীড়াপীড়ি করছে,তখন বর যদি গান ধরেন=*
*🌷বাঁশের দোলাতে চড়ে কে হে বটে,*
        *যাচ্ছ তুমি শ্মশানঘাটে।*
*🍀তাহলে তা যেমন শ্রুতিকটু হয়,কীর্তনে রসাভাস অনেক সময়ে তেমনি রসপুষ্টির বিরোধী হয়ে পড়ে।*
*☘বৈষ্ণবশাস্ত্রে রস এক অপূর্ব সৃষ্টি।সেটির বিভাব,অনুভাব সঞ্চারিভাব আদি ক্রম অনুশীলন না করলে কীর্তন সর্বাঙ্গসুন্দর হয় না।মহাজন পদাবলী সুর-লয় সংযোগ শ্রুতিমধুররূপে পরিবেশন করলে,তাকেই উচ্চাঙ্গের কীর্তন বলে।মহাজনপদাবলী মধ্যে প্রধান রস শৃঙ্গাররস।সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও দাস‍্য রসের বহু পদ থাকলেও গানের পক্ষে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে পদাবলীর আদিরস। অর্থ‍্যাৎ অধিকাংশ পদাবলী প্রেমকবিতা।এই প্রেমকবিতা শ্রীরাধাকৃষ্ণ ও তাঁদের সখীবৃন্দকে কেন্দ্র করে রচিত। সুতরাং প্রত‍্যেকটি পদের ভিতরে একটি আধ‍্যাত্মিক ইঙ্গিত আছে, অর্থ‍্যাৎ প্রত‍্যেক পদের রসের প্রবাহ চলেছে সেই অনন্ত সাগর-পানে যেখানে সকল হৃদয়বৃত্তি বাঞ্জিতকে পেয়ে চরম চরিতার্থতা লাভ করে। কিন্তু কীর্তনের সর্বপ্রধার সতর্কতা আবশ্যক হয় এইখানে।রাধাকৃষ্ণের প্রেম বর্ণনায় যথাসম্ভব আধ‍্যাত্মিক ব‍্যাখ‍্যা বর্জন করে গান করতে না পারলে কাব‍্যের মাধুর্য‍্য এবং গীতের সার্থকতা উভয়ই নষ্ট হয়ে যায়। এখানেই বৈষ্ণব কবি এবং বৈষ্ণব গায়কের চরম পরীক্ষা।বৈষ্ণব-কবি পরমার্থতত্ত্ব বলবেন প্রেমের মধ‍্য দিয়ে,স্নেহের মধ‍্য দিয়ে, আত্মসমর্পণের মধ‍্য দিয়ে। কিন্তু তিনি কাব‍্যের রসমাধুর্য‍্য নষ্ট করতে চান না।কাব‍্য হিসাবে,রস পরিবেশন হিসাবে, তাঁর কাব‍্য উপভোগ‍্য হবে, অথচ তার মধ্যে থাকবে প্রিয়তমের সান্নিধ্য লাভের উদগ্র আকাঙ্ক্ষা।এই যে সর্বপ্রকার বাধাহীন সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রেম, শ্রীজীব গোস্বামী একে মুক্তি অপেক্ষাও সুদুর্লভ বলেছেন। এই অপ্রাকৃত প্রেমের গীত কীর্তন, অথচ কীর্তন গায়ক যদি সেকথা স্পষ্টভাষার প্রকাশ করেন,তবেই তাঁর কীর্তন ব‍্যর্থ হল।সহজ প্রেমকেই আখরের সাহায্যে ফুটিয়ে তুলতে হবে, কবি যে চিত্রটি এঁকেছেন,তারই সৌন্দর্য ও মাধুর্য‍্য কীর্তনীয়া পরিবেশন করবেন তার শিল্পকৌশলীর দ্বারা।তত্ত্ব ও লীলার সঙ্গে যে নিগূঢ় রহস‍্যময় সম্বন্ধ আছে,কথকতায় বা ভাগবত ব‍্যাখ‍্যায় বক্তা তা পরিস্ফুট করতে চেষ্টা করেন কিন্তু কীর্তনীয়া লীলার চমৎকারিত্ব বর্ণনা করবেন, তত্ত্বকথার দ্বারা তাকে রূপকমাত্র পরিণত করতে চেষ্টা করবেন না। একটি দৃষ্টান্ত দিলে কথাটি সহজে বুঝতে পারা যাবে।*
    *সই কবা শুনাইলে শ‍্যামনাম।*
*কানের ভিতর দিয়া,মরমে পশিল গো,*
     *আকুল করিল মোর প্রাণ।।*
*🌻এই গানে নামের মাহাত্ম্য বা প্রতাপ বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এই মধুর পদটি গান করতে গিয়ে যদি কেউ শ‍্যামনাম-মাহাত্ম‍্য প্রচার করে পরকালের পাথেয় সঞ্চয় করবার উপদেশ দেন, তবে তাঁর গান অশ্রাব‍্য হবে।তার কারণ ঐ গানটির কবিত্বই সর্বাগ্রে উপভোগ‍্য, সেটির মধ্যে যে কবিত্বপূর্ণ প্রেমতন্ময়তা আছে তাইই পরম আস্বাদ‍্য।তাকে ক্ষুণ্ন করবার অধিকার কীর্তনীয়ার নাই।*
*🌹রসাভাস-দোষ অতি সন্তর্পণে পরিহার করতে হয় বলেছি।তার কারণ এই যে কীর্তন গানটি যেমন রচিত হয়েছে, তেমনি গান করলেই হয় না।অন‍্য সঙ্গীতের সঙ্গে কীর্তনের একটি মুখ‍্য বৈলক্ষণ‍্য এই যে,এই গানে গায়ক ইচ্ছামত অলঙ্কার বা আখর যোজনা করতে পারেন।গানের অর্থ বিশদ করবার জন্য,অন্তর্নিহিত ভাবকে পরিস্ফুট করবার জন্য,রচয়িতার গূঢ় মনোভাবকে সুরের বেদনায় প্রকাশ করবার জন্য আখর দেওয়া হয়। গায়ক নিজে যা যোজনা করেন,তাইই আখর।কোনও কোনও সময় সুরের পোষকতায় আখরের স্থলে পদের অংশবিশেষের পুনরাবৃত্তিও করা হয়, অর্থ‍্যাৎ গায়ক নিজের কথা না জুড়ে পদকর্তার ভাষাই হুবহু ব‍্যবহার করেন, তাকেও আখর বলা হয়। কিন্তু আখর অর্থে প্রধানতঃ গায়কের স্বকীয় যোজনা। অনেক সময়ে এইসব আখর পূর্ববতী গায়কেরা যা রচনা করে গিয়েছেন, বতর্মান গায়ক তারই আবৃত্তি করেন।আবার অনেক সময়ে গায়ক নিজ উদভাবনী শক্তির সাহায্যে ভাবপোষক কথা সংযোজিত করেন।গায়কের কবীত্ব শক্তি ও সুরতালের নৈপূণ‍্য থাকলে এইসব আখর অনেক সময়ে তত্তৎ পদাবলী অপেক্ষাও শ্রুতিমধুর হয়। কিন্তু এইখানেই বিপদ! অনেক অল্পশক্তিসম্পন্ন লোক আখর যোজনার প্রলোভন সংবরণ করতে না পেরে এমন হয়ত বলে ফেলেন,যা রসপরিপোষক তো নয়ই, বরণ তার বিরোধী।সেসব জায়গায় রসিকসমাজ অত‍্যন্ত মর্মাহত হন।এই জন্যই আখর দিবার প্রলোভন সংযত না করলে কীর্তনগান পীড়াদায়ক হয়ে উঠতে পারে।কারণ রসিক ভক্তগণ এরকম রসাভাসদোষ সহ‍্য করেন না।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীশ্রীদামোদরাষ্টকম্ বাংলা মানে সহ 🌼 নিয়মসেবা কি❓ কি ভাবে পালন করা উচিৎ ❓✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/damodar.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীশ্রীদামোদরাষ্টকম্ বাংলা মানে সহ 🌼 নিয়মসেবা কি❓  কি ভাবে পালন করা উচিৎ ❓✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/damodar.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
  ꧁👇📖সূচীপত্র ✍️ শ্রী গোপীশরণ দাস📖👇
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
          *রাগানুগা ভক্তি*
         ********************
*🍀ভক্তি এবং জ্ঞানের প্রাধান্য নিয়ে অনেক বাদানুবাদ শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু এ সম্বন্ধে দুই একটি কথা স্মরণ না রাখলে স্বভাবতঃ যে বিষয় জটিল,তার জটিলতা আরও বেশী হয় বলে মনে হয়।প্রথমেই মনে রাখা আবশ্যক এই বিষয়টি ভগবৎ-সম্বন্ধী।অন‍্য কোনও প্রসঙ্গে এ প্রশ্ন উঠতে পারে না। অর্থ‍্যাৎ বস্তুবিচার বা তত্ত্ব-মীমাংসায় এ বিতর্কের কোনও স্থান নাই।জ্ঞানের দ্বারা বস্তুর স্বরূপ লভ‍্য হয়। সারসত‍্যের আলোচনায়ও জ্ঞানই সাধন। কিন্তু ভক্তির দ্বারা বস্তুজ্ঞান লাভ হয় না।যেখানে ভগবানই সারসত‍্য বা পরমার্থ তত্ত্ব, সেখানে অবশ‍্য ভক্তির অধিকার আছে। সুতরাং সাধারণ ভাবে বলা যেতে পারে যে, ঈশ্বর যেখানে অনুসন্ধান বা উপলব্ধির বিষয়,সেখানেই ভক্তি ও জ্ঞানের প্রাধান্য বিষয়ক প্রশ্ন উঠতে পারে। দ্বিতীয়তঃ জ্ঞান বলতে কি বুঝি, ভক্তি বলতেই বা কি বুঝি, তা স্থির না হওয়া পর্যন্ত,জ্ঞান ও ভক্তির প্রাধান্যের কথা উঠতে পারে না। প্রাথমিক এই প্রশ্নের মীমাংসা করতে হলে আমাদের মনস্তত্ত্ববিজ্ঞানের স্মরণ নিয়ে হবে।আমরা হয়ত নিজ নিজ মতের প্রতি পক্ষপাতিত্বের আতিশয‍্যে এই কথাটি অনেক সময়ে স্মরণ রাখি না।জ্ঞান ও ভক্তি উভয়ই চিত্তের ব‍্যাপার। সুতরাং মনস্তত্ত্ব হতেই এদের সম্বন্ধে জানা যায়।মনোবিজ্ঞান অনুসারে জ্ঞান বা ভক্তিকে পৃথক ব‍্যাপার বা Crocess বলেই বোধ হয়।তার কারণ এতদুভয়ের ধর্ম অনেকটা পৃথক।যদিও জ্ঞান ও ভক্তি উভয়ই পরিণত মনের ক্ষেত্রে যুগপৎ ক্রিয়াশীল,তথাপি উহাদের কাজ এবং গতি স্বতন্ত্র।জ্ঞানের বিষয়বস্তু সত‍্য,ভক্তির বিষয় ব‍্যক্তি বা ব‍্যক্তিসাম‍্য-বিশিষ্ট পদার্থ।একখন্ড শর্করা জ্ঞানের বিষয়ীভূত হতে পারে। কিন্তু ব‍্যক্তি-নিরপেক্ষ ভক্তি দেখা যায় না।মানব মনের বিশ্লেষণে যে তিনটি বিভাগ প্রধান বলে বর্ণিত হয় অর্থ‍্যাৎ চেতনা,অনুভূতি এবং ইচ্ছা,তারমধ‍্যে চেতনার পরিণতি জ্ঞানে এবং সুখদুঃখরূপা অনুভূতির অবস্থাবিশেষ ভক্তি।অতএব জ্ঞান ও ভক্তিকে পৃথীরূপে না ভেবে উপায় নাই। চিত্তের যে রসস্বরূপ একটি ধর্ম (Sentiment) আছে,ভক্তি তারই ব‍্যাপার।অথচ এমন অনেকে আছেন যাঁরা জ্ঞান ও ভক্তিকে এক বলে মনে করেন। তাঁদের কাছে পরিবিদ‍্যাও যা, পরাভক্তিও তাইই।*
*🌺মহাভারতে শান্তিপর্বে ব্রহ্মসংস্থার উল্লেখ আছে।এই "সংস্থা" ভক্তিরেব ন জ্ঞানং।শঙ্করাচার্য‍্যও এখানে ব্রহ্মসংস্থার অর্থ করেছেন "ব্রহ্মণি সম‍্যগবস্থিতিঃ।আচার্য‍্য শঙ্করের ব্রাহ্মীস্থিতি ভক্তির নামান্তর হতে পারে।কারণ যাঁরা যোগদৃষ্টির দ্বারা ব্রহ্মকে লাভ করেন,তাঁদের তন্ময়তা ভক্তি হতে হয়ত পৃথক না। কিন্তু সাধারণ দৃষ্টিতে ভক্তির স্বরূপ জ্ঞানের দ্বারা পরিমিত না। উপনিষৎ যখন বলেন=*
*যস‍্যামতং তস‍্য মতং মতং যস‍্য ন বেদ সঃ।*
*অবিজ্ঞাতং বিজানতাং বিজ্ঞাতমবিজানতাম্।।*
                   *(কেনোপনিষৎ)*
*🍀অর্থ‍্যাৎ যিনি জানেন না,তিনিই জানেন,যিনি জানেন,তিনি জানেন না।তাঁর অবিজ্ঞাত এবং যিনি জানেন না,তাঁরই বিজ্ঞাত।জ্ঞানের অনুসরণে আমরা এই রহস‍্যবাদে উপনীত হই।যাঁকে জানবার জন্য অনাদিকাল হতে মানব-মন ছুটেছে, তাঁকেই জানা যায় না --, এটিই সিদ্ধান্ত করে নিরাশ হতে হয়।কঠোপনিষৎ বললেন যে তিনি আছেন, এইমাত্র বলতে পারা যায়=*
*🌷অস্তীতি ব্রুবতোহন‍্যত্র কথং তদুপলভ‍্যতে।*
*🌹যাঁরা তর্ক করেন, তর্কের মুখে এতটুকুও ঢোকে না। সুতরাং উপনিষৎ যখন বললেন যে,তিনি পুত্র হতে প্রিয়, বিত্ত হতে প্রিয়,অন‍্য সব হতে প্রিয়,তখন আমরা এক নূতন আলোকের সন্ধান পেলাম।আমরা বুঝলাম জ্ঞানের ক্ষুদ্র পরিধি, যে বিরাট পুরুষকে ছুঁই ছুঁই করেও ধরতে পারে না, তিনি প্রেমের কাছে আপনি ধরা দেন। উপনিষদের সেই আলোকে আমরা পথের কিছু সন্ধান পাই, এবং সে সন্ধান পেয়ে ধন‍্য হই।তাই আমাদের বরেণ‍্য কবি সকলের হয়ে বলেছেন=*
*🌷তোমারে বলেছে যারা পুত্র হতে প্রিয়।*
*🌷বিত্ত হতে প্রিয়তর যা কিছু আত্মীয়।।*
*🌷সব হতে প্রিয়তম নিখিল ভুবনে।*
*🌷আত্মার অন্তরতম,তাদের চরণে।।*
*🌷পাতিয়া রাখিতে চাহি হৃদয় আমার।*
*🌹ভারতীয় ভক্তিবাদের এটিই মূলসূত্র।ঋষিগণ তাই বললেন=*
*🌷ওঁ ত্রিসত‍্যস‍্য ভক্তিরেব গরীয়সী।*
*🌳পাশ্চাত‍্য পন্ডিত বলেছেন যে ভক্তির উপাদান দুইটি।এক প্রেম, অপর ভয়। REVERENCE IS LOVE MIXED WITH AWE. আমরা তা বলি না, আমরা বলি ভক্তি শুধুই প্রেম।"সা কস্মৈ পরমপ্রেমস্বরূপা"। ভক্তি অর্থ‍ে প্রেম,অনুরাগ,রতি,পরমাবিষ্টতা।জ্ঞান স্থির,ধীর,অচল,অটল ; ভক্তি ব‍্যাকুলময়ী।নারদভক্তিসূত্রে ভক্তিকে "পরম ব‍্যাকুলতা" বলা হয়েছে। আমরা জানি ভগবদ্ জনের নাম ভক্তি।ভগবদ্-ভজনে যে সব চিত্তবৃত্তির প্রয়োজন হয়,তারমধ‍্যে প্রেমই শ্রেষ্ঠ।এখানে ভক্তি জানায় কল্প‍্যতে।অর্থ‍্যাৎ যাঁকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসা যায়,তাঁকেই সত‍্যরূপে জানতে পারা যায়। জ্ঞান এবং ভক্তির যোগে তখন চিত্ত বিমল শান্তি লাভ করে।"ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নত্মা ন শোচতি না কাঙ্ক্ষতি"। সব চাওয়া সব পাওয়ার শেষ এখানেই।*
*🌻যীশুখ্রীষ্ট এই ভগবৎ প্রেমের মহিমা কীর্তন করেছিলেন।যখন তাঁকে বধ‍্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন এক তার্কিক জিজ্ঞাসা করল,আপনি তো চললে, আপনার শেষ আদেশটি কি প্রভু?যীশুখ্রীষ্ট ব‍্যথার কন্টকক্ষত হৃদয়ে তাঁকে অমোঘ বাণী শুনিয়ে দিলেন, ভগবানকে ভালবাসা।Love God.*
*🍀কিন্তু এই ভালোবাসা কি পদার্থ, তার সম‍্যক্ আলোচনা পাশ্চাত‍্য পন্ডিতেরা বা খ্রীষ্ট্রীয় ধর্ম-যাজকেরা করেন নাই।প্রেম তাঁদের সুপরিচিত একটি চিত্তধর্ম বলেই হোক বা যে কারণেই হোক,ঐ LOVE কথাটিকেই তাঁরা পর্য‍্যাপ্ত বলে গ্রহণ করেছেন। আমাদের দেশে পন্ডিতগণ কিন্তু ভক্তির প্রেমস্বরূপতা নির্দেশ করে সন্তুষ্ট নহেন। এ প্রেম যে কি বস্তু, তা বলে বুঝান যায় না। "মূকাস্বাদনবৎ"।বোবা যেমন কোনও দ্রব‍্য আস্বাদন করলে তা ব‍্যক্ত করতে পারে না,সেরকম। কিন্তু এই প্রেমের একটি গুণ এই যে এটি গুণরহিত,কামনা রহিত। সর্বোপাধি বিনির্মুক্তং তৎপরত্বেন নির্মলং (নারদ পাঞ্চরাত্র)।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
                *প্রেমধর্ম*
           °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀এরই ব‍্যাখ‍্যায় বলা হ'ল=*
*লক্ষণং ভক্তিযোগস‍্য নির্গুণস‍্য হ‍্যুুদাহৃতম্।*
*অহৈতুক‍্যব‍্যবহিতা যা ভক্তিঃ পুরুষোত্তমে।।*
*🌻নির্গুণ ভক্তিযোগের এই লক্ষণ= পুরুষোত্তমে যে অহৈতুকী ও অব‍্যবহিত প্রীতি তারই নাম ভক্তি।অর্থ‍্যাৎ এটি নির্মল এবং কামশূন‍্য। এরই প্রতিধ্বনি করে শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী বললেন=*
*🌷অন‍্যাভিলাষিতাশূন‍্যং জ্ঞানকর্মাদ‍্যনাবৃতম্।*
*🌷আনুকুল‍্যেন কৃষ্ণানুশীলনং ভক্তিরুত্তমা।।*
                         *(ভক্তিরসামৃতসিন্ধু)*
*🍀কোনও অভিলাষ বা বাসনা বা কামনা থাকবে না,জ্ঞানের দ্বারা বিতর্কিত হবে না, কর্মের দ্বারা বাধিত হবে না এমন ভাবে শ্রীকৃষ্ণের একনিষ্ঠ ভজন করলে তাকে উত্তমা ভক্তি বলা যায়।*
*🌹এখন কথা হ'ল যে,কৃষ্ণের ভজন অর্থে যদি তাঁকে "একান্তভাবে আশ্রয় " করা যায়, তাহলে শ্রীমদ্ভাগবতগীতায় যে শরণাগতির কথা বলা হয়েছে,তাইই সাধনতত্ত্বের শেষ কথা বলে মানতে হবে।*
*🌷সর্ব ধর্মান্ পরিত‍্যজ‍্য মামেকং শরণং ব্রজ।*
*🌻কিন্তু বৈষ্ণবধর্ম যখন প্রেম ও ভক্তির মধ্যে সমস্ত ব‍্যবধান ঘুচিয়ে দিল অর্থ‍্যাৎ ভক্তি ও ভগবৎ-প্রেমের তাদাত্ম‍্য প্রতিস্থাপিত হ'ল,তখন প্রেম কি বস্তু তা জানবার প্রয়োজন হ'ল।যতই অনির্বচনীয় হোক,প্রেম একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞাবিশিষ্ট চিত্তবৃত্তি।কাজেই সেটির স্বরূপ কি,সেটির উপাদান কি কি প্রণালীতে সেটি পরিণতি প্রাপ্ত হয়,তা অনুসন্ধানের বিষয় হল আগেই বলেছি মনোবিজ্ঞানেই সমস্ত চিত্তবৃত্তির উৎপত্তি ও প্রকৃতি আলোচিত হয়। আমাদের দেশে এই কাজ অলঙ্কারশাস্ত্র করেছেন।পাশ্চাত‍্য দেশে মনোবিজ্ঞানের অস্তিত্ব সপ্তদশ খ্রীষ্ট্রাব্দের পূর্বে অপরিজ্ঞাত ছিল।অর্থ‍্যাৎ জানা ছিল না। কিন্তু প্রায় স্মরণাতীত কাল হতে এদেশে অলঙ্কার-শাস্ত্রসমূহ মনোবিজ্ঞানের আলোচনা করে আসছে।কাব‍্যের আস্বাদ‍্য হিসাবে প্রেমের স্বরূপ সম্বন্ধে আলোচনা এদেশের অলঙ্কারশাস্ত্রে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।তার কারণ প্রেমই কাব‍্যের চিরন্তন ও প্রধান আস্বাদ‍্য বস্তু।ভগবৎ-প্রেম যখন প্রেম পদবাচ‍্য, তখন এটি সাধারণ নরনারীর অনুরাগ হতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হতে পারে না।অপরা অনুরক্তি আমাদের পরিজ্ঞাত।কাজেই পরানুরক্তি তারই সুচির ও চরমোৎকর্ষভূত পরিণতি মনে করতে পারা যায়।সমস্ত অসীমের কল্পনাই সসীমের উপলব্ধি হতে জাত বা জন্ম।প্রেমের যে কামনা-বাসনা-শূন‍্য আত্মহরা পরিণতি,তাইই ভগবদ্ জনের অনুকূল। ভগবান অনন্ত হতে পারেন, কিন্তু তাঁর পূজোর ফুল মানুষের ঘরের কাছের উদ‍্যানেই ফুটে।সেইরকম আদর্শ মানবীয় প্রেমের এক অনির্বচনীয় পরিণতি যে ভক্তি তাইই ভগবানকে লাভ করবার একমাত্র অথবা প্রশস্ত উপায় বলে বর্ণিত হয়েছে।তার কারণ এই যে, ভগবান যদি চৈতন‍্যস্বরূপ হতেন, তাহলে তাঁকে একমাত্র জ্ঞানের দ্বারা লভ‍্য বলে মনে করতে বাধা ছিল না। কিন্তু তিনি তো কেবল জ্ঞানস্বরূপ নহেন। তিনি সচ্চিদানন্দ-আনন্দঘন বিগ্রহ।*
*🌹ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।*
                      *(ব্রহ্মসংহিতা)*
*🌻সৎ,চিত্ত ও আনন্দ এই তিনগুণের সমবায়ে সেই পরম ঈশ্বর কৃষ্ণের বিগ্রহ রচিত। বিজ্ঞানমানন্দং ব্রহ্ম (বৃহদারণ‍্যক) তিনি আনন্দস্বরূপ। আনন্দ হতেই সমস্ত জীব জন্মলাভ করেছে,আনন্দই জীবের উপজীব‍্য।প্রেমের গঠনে আনন্দই সর্বপ্রধান উপাদান।পাশ্চাত‍্য মনোবিজ্ঞানও এই কথায় বলেন।LOVE IS THE HIGHEST FORM OF DELIGHT. প্রেমে দুঃখও সুখ।
*🔵দুঃখমপ‍্যধিকং চিত্তে সুখত্বেনৈব ব‍্যজ‍্যতে।* 
*🔵যতস্তু প্রণয়োৎকর্ষাৎ স রাগ ইতি কীর্ত‍্যতে।।উঃনীলমণি।।*
*🌻প্রণয়ের উৎকর্ষ হেতু যে স্থলে চিত্তমধ‍্যে অতিশয় দুঃখও সুখরূপে অনুভূত হয়,তাকে রাগ কহে।*
*❤মানবজীবনে প্রেমের মত আর কিছুই নাই,চন্ডীদাসের উক্তি।*
*🌷চন্ডীদাস কহে শুনহে নাগরি,*
             *পিরীতি রসের সার।*
*🌷পিরীতি রসের রসিক নহিলে,*
           *কি ছার জীবন তার।।*
*🌹এখানে রস অর্থে আনন্দ, আনন্দেরই নামান্তর প্রেম।*
*🔶ভগব‍ৎ-প্রেমের করতে গিয়ে মনস্তাত্ত্বিক এই অনির্বচনীয় তত্ত্বে উপনীত হন।প্রেম জ্ঞানের মত শান্ত ও স্থির নহে ; মানুষের প্রায় সমস্ত EMOTION বা SENTIMENT চিত্তকে চঞ্চল করে তোলে।প্রেম ব‍্যাকুলতায় ভরা।যেখানে ব‍্যাকুলতা নেই,সেখানে প্রেম নেই।শান্তশিষ্টভাবে ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসা পাগল কোরে ছাড়ে এরই নাম "রাগ"।*
*🌷ইষ্টে স্বারসিকী রাগঃ পরমাবিষ্টতা ভবেৎ।*
*🌷তন্ময়ী যা ভবেদ্ ভক্তিঃ সাহত্র রাগাত্মিকোদিতা।।*
     *(রাগবত্মর্চন্দ্রিকা=বিশ্বনাথ চক্রবর্তী)*
*🌹এই যে পরমাবিষ্টতা,একান্ত তন্ময়তা, এতে শ্রুতি,বুদ্ধি বা শাস্ত্র জ্ঞানের অপেক্ষা করে না।*
*🌷নাত্র শাস্ত্রং ন যুক্তিঞ্চ তল্লোভোৎপত্তি-কারণং।*
             *(শ্রীপাদ রূপগোস্বামী)*
*🌷ইষ্টে গাঢ়তৃষ্ণা এই স্বরূপলক্ষণ*।
*🌷ইষ্টে আবিষ্টতা এই তটস্থ লক্ষণ।।চৈঃচঃ।।*
*❤প্রেমের লক্ষণ গাঢ়তৃষ্ণা।কাজেই ভক্তিবাদের আলোচনায় আমরা এক নূতন স্তরে উপনীত হলাম।প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে যে আবিষ্টতা দেখা যায়,যা কোনও কিছুর অপেক্ষা করে না,যা শাস্ত্রের শাসন মানে না,যা ধর্মাধর্মের বিচার রাখে না,যাতে উৎকট লোভই হয় পথপ্রদর্শক, তাইই ভক্তি।এই ভক্তির নামই রাগানুগা ভক্তি।*
*🌷কৃষ্ণ তদ্ ভক্ত কারুণ‍্যমাত্রলোভৈক হেতুকা।*
*🌷পুষ্টিমার্গতয়া কৈশ্চিদিয়ং রাগানুগোচ‍্যতে।।*
          *(ভক্তিরসামৃতসিন্ধু)*
*🌻এই যে ধর্মাধর্ম নিরপেক্ষ ভক্তিবাদ এটি সর্বসম্মত হতে পারে নাই। কারণ আমরা দেখি এক দলভক্ত বলছেন যে,এতে উৎপাতের সৃষ্টি হতে পারে।*
*🌷শ্রুতি স্মৃতি পুরাণাদি পঞ্চরাত্রবিধিং বিনা।*
*🌷ঐকান্তিকী হরের্ভক্তিরুৎপাতায় কল্প‍্যতে।।*
*🌹যাঁরা এই রাগানুগা ভক্তির দুর্লভ এবং আশঙ্কাপূর্ণ পন্থা অনুসরণ করতে ইচ্ছে করেন না,তাঁদের জন্য বৈধীভক্তি উপদিষ্ট হয়েছে।রাগমার্গে ভজনশীল ব‍্যক্তিও বিধিমার্গ পরিত‍্যাগ করবেন না, এটিই রূপ গোস্বামীপাদের অভিমত বলে বোধ হয়।*
*🌷বস্তুতত্ত্ব লোভপ্রবর্তিতং বিধি মার্গেণ সেবনমেব রাগমার্গ উচ‍্যতে*।
*🍀পশ্চিমাঞ্চলে বল্লভাচার্য‍্য কর্তৃক পুষ্টিমার্গ উপদিষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গদেশে বোধহয় শ্রীরূপগোস্বামী প্রথমে এর উল্লেখ করেন।অন্ততঃ শ্রীবিশ্বনাথ চক্রবর্তীর সেইরকম ধারণা ছিল কারণ তিনি রাগবত্মর্চন্দ্রিকায় তাঁকেই সর্বাগ্রে নমস্কার করেছেন।*
*🌷শ্রীরূপবাকসুধাস্বাদি চকোরেভ‍্যো নমঃ নমঃ।*
*🌷যেষাং কৃপালবৈর্বক্ষ‍্যে রাগবত্মনি চন্দ্রিকাম্।।*
*শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ শ্রীচৈতনের শ্রীমুখ দিয়ে এই রাগানুগা ভক্তির ব‍্যাখ‍্যা শুনিয়েছেন।*
*🌷রাগানুগাভক্তির লক্ষণ শুন সনাতন।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷ইষ্টে গাঢ়তৃষ্ণা রাগ-স্বরূপ লক্ষণ।*
*🌷ইষ্টে আবিষ্টতা, এই তটস্থ লক্ষণ।।*
*🌷রাগময়ী ভক্তির হয় রাগাত্মিকা নাম।*
*🌷তাহা শুনি লুব্ধ হয় কোন ভাগ‍্যবান।।*
*🌷লোভে ব্রজবাসী-ভাবে করে অনুগতি।*
*🌷শাস্ত্রযুক্তি নাহি মানে রাগানুগার প্রকৃতি।।*
*🌷বাহ‍্য অন্তর ইহার দুই ত সাধন*।
*🌷বাহ‍্যে সাধক দেহে করে শ্রবণ কীর্তন।।*
*🌷মনে নিজ সিদ্ধ দেহ করিয়া ভাবন।*
*🌷রাত্রি দিনে করে ব্রজে কৃষ্ণের সেবন।।*
*🙏এটি কৃষ্ণভজন প্রণালীর সঙ্কেত এবং ভক্তির ব‍্যাখ‍্যায় এটিই এ পর্যন্ত সর্বশেষ স্তর বলে মনে হয়।*
🦚🦋🙏🪔🌷🦜🌸🪷🦚🦋🪔🌷🌸🪔

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
*বৈষ্ণব সাহিত‍্যে প্রেমের আদর্শ*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌹বৈষ্ণব সাহিত‍্যে প্রেমের যে আদর্শ স্থাপিত হয়েছে,অন‍্য কোথায়ও তার তুলন মিলে না।অন‍্য অনেক সাহিত‍্যেও প্রেমের বর্ণনা আছে, আস্বাদন আছে,তাতেও আমাদের মন মুগ্ধ হয়। কিন্তু প্রেম যেমন বৈষ্ণবের সর্বস্ব,জোর গলায় বলতে পারি এমনটি আর কোথাও নাই।বৈষ্ণবের আরাধ‍্য প্রেম,বৈষ্ণবের ভজন প্রেম, বৈষ্ণবের সাধন প্রেম,বৈষ্ণবের স্বর্গও প্রেম।বৈষ্ণব সাহিত‍্য প্রেমের কবিতা, বৈষ্ণবের গান প্রেমের গান,বৈষ্ণবের ভগবান প্রেমময়, "প্রেম দিয়ে গড়া তনু"।তাঁদের মতে সংসারের পঞ্চম পুরুষার্থ প্রেম।তাঁরা ভুক্তি বা ভোগের কামনা করেন না,মুক্তিরও কামনা করেন না।আনন্দকন্দ শ্রীনন্দনন্দনই তাঁদের একমাত্র কাম‍্য।*
*🌻ভগবানের সহিত মানুষের যে প্রেমের সম্বন্ধ, সে কথা অন‍্য অনেক ধর্মে স্বীকৃত হয়েছে। কিন্তু বৈষ্ণবগণ যেমন প্রেমের তত্ত্ব উপলব্ধি করেছিলেন, অন‍্য কোনও মতবাদে তার শতাংশের একাংশও পাওয়া যায় না।বৈষ্ণবগণ তত্ত্বের দিক দিয়ে প্রেমকেই ধর্মের ভিত্তি করেছেন।ধর্মে প্রেমের প্রয়োজন আছে বলিয়া তাঁরা ক্ষান্ত হন নাই,প্রেমকেই ধর্মে পরিণত করেছেন।এই পরিণতির ফলে বৈষ্ণব কাব‍্যের গূঢ় অর্থ হয়েছে এই যে,এটি উপাস‍্যেরই স্তুতি।বৈষ্ণব সঙ্গীত মাত্রই ভজন।ভজনই ভগবৎ-প্রাপ্তির একমাত্র উপায়।কাজেই বৈষ্ণব সাহিত‍্যের মণিমন্দির এই প্রেম-কবিতায় ভরে গেল।পূজার ফুলের মত এই কবিতার রাশি বাঞ্জিতের চরণোপান্তে সঞ্চিত হয়ে স্তূপাকার হয়েছিল। গানে গানে দেশের আকাশ বাতাস একদিন পূর্ণ হয়েছিল।কারণ গীতায়, ভাগবতে বলা হয়েছে যে,"একমাত্র ভক্তির দ্বারাই তাঁকে লাভ করা যায় "।এই ভক্তিই প্রেম।যার নাম ভক্তি তাইই যখন প্রেম বলে নিরাকৃত হল,তখন কাব‍্যে,কবিতায় প্রেমের নির্ঝর উচ্ছসিত হয়ে উঠিল।*
*🌺আমরা সাধারণ ভাবে স্থির করে নিয়েছি যে, সংসারে নরনারীর মধ্যে যে সর্বগ্রাসী আকর্ষণ,তাইই বৈষ্ণবদের প্রেম।কথাটা যে একেবারে অমূলক,তা হয়ত নয়। কারণ ভাষা মানুষের স্বাভাবিক মনোভাব প্রকাশ করবার জন্যই কল্পিত হয়। আমরা প্রিয়তমের জন্য যে মালা গাঁথি,তাইই আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্ঘ‍্য।কাজেই দেবতার উদ্দেশ্যে আমরা যা নিবেদন করি তাও আমাদের সেই বিরলে গাঁথা মালাখানি, রবীন্দ্রনাথ বলেছেন=*
*🌷প্রিয়জনে যাহা দিতে পাই,*
*🌷তাই দিই দেবতারে,আর পাবো কোথা?*
*🌹কিন্তু বৈষ্ণবগণ এই পার্থিব গন্ডী অতিক্রম করে তাঁদের প্রেমকে এক অনাস্বাদিতপূর্ব অপ্রাকৃত জগতে নিয়ে গিয়েছেন।তাঁরা বলেন, এ প্রেম বুঝানো যায় না, এটি এক অনির্বচনীয় ব‍্যাপার। নারদ ভক্তিসূত্রে বলেছেন, "অনির্বচনীয়ং প্রেমস্বরূপং"। একজন হিন্দী কবি তার প্রতিধ্বনি করে বললেন=*
*🌷প্রেম হৃদয়কী বস্তু হ‍্যায় পরমগুহ‍্য আনমোল।*
*🌷কথনীমে আবৈ নহী সকৈন কোউ বোল।।*
*🌹ভাষায় প্রকাশ করা যায় না এই গুহ‍্যাতিগুহ‍্য প্রেম,এটি অনুভবের বস্তু অর্থ‍্যাৎ হৃদয়ে (ভাগ‍্যগুণে) যদি বা অনুভূত হয়,কথায় তা প্রকাশ করা যায় না।আর একজন ভক্ত কবি এই প্রেমের লক্ষণ বলেছেন=*
*🌷রসময় স্বাভাবিক বিনা স্বারথ অচল মহান্।*
*🌷সদা এক রস বঢ়ত নিত শুদ্ধ প্রেম রসখান।।*
*🌻এই "রসখান" একজন পাঠান ছিলেন।উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে ইনি একজন ধনী গণ‍্যমান‍্য ব‍্যক্তি ছিলেন। ঘটনাচক্রে শ্রীকৃষ্ণের রূপ দেখে রসখান মুগ্ধ হলেন।ইঁনার কবিতায় যে ভক্তিভাব ফুটেছে,তা সত‍্যই অদ্ভুত। যাইহোক,উপরে যে কাব‍্যাংশ উদ্ধৃত হয়েছে,তা হতে বুঝা যায় যে,প্রেমের স্বরূপ সম্বন্ধে বাংলার বাইরেও বৈষ্ণবদের ধারণা কত উচ্চে উঠেছিল।প্রেম বিশুদ্ধ,সহজ,নিঃস্বার্থ, অচল ও মহান, নিত্য বৃদ্ধিশীল এবং চির-আনন্দ-স্বরূপ।ভক্তিসূত্রেও এই লক্ষণ আমরা দেখতে পাই=*
*গুণরহিতং কামনারহিতং প্রতিক্ষণ বর্দ্ধমানং,*
*অবিচ্ছিন্নং সূক্ষ্মতরমনুভবস্বরূপম্*।
                  *(নারদ ভক্তিসূত্র=৫৪)*
*❤এই প্রেম সূক্ষ্মাদপিসূক্ষ্ম এবং কেবল অনুভূতিবেদ‍্য।*
*🌹প্রেম যে কি বস্তু,তা নির্দেশ করাও যায় না, অথচ বৈষ্ণবগণের চেষ্টারও অবধি নাই।যা সহজে জানা যায় না,তাইই জানবার জন্য মানুষের অফুরন্ত কৌতূহল। কিন্তু বৈষ্ণবদের মত এত কৌতূহল আর কেউ দেখাননি, আর এত বিশ্লেষণও অন‍্য কোন জায়গায় দেখা যায় না। শ্রীচৈতন‍্যদেবের সঙ্গে শ্রীরূপ গোস্বামীর মিলন প্রসঙ্গে যে প্রেমতত্ত্ব ব‍্যাখ‍্যা আমরা পাই,তা মনস্তত্ত্বের দিক দিয়েও বিস্ময়কর। মহাপ্রভু বলেছেন যে =*
*🌷সাধন ভক্তি হৈতে হয় রতির উদয়।*
*🌷রতি গাঢ় হৈলে তারে প্রেম নাম কয়।।*
*🌷প্রেম বৃদ্ধিক্রমে নাম স্নেহ মান প্রণয়।*
*🌷রাগ অনুরাগ ভাব মহাভাব হয়।।*
*🌺অর্থ‍্যাৎ প্রেম হৃদয়ে সঞ্জাত বা জন্ম হলে সেটি স্নেহমান প্রণয় রাগ অনুরাগের মধ‍্য দিয়ে ভাব ও পরে মহাভাবে পরিণত হয়। সুতরাং প্রেমের স্তর বিন‍্যাসে মহাভাবই প্রেমের পরাকাষ্ঠা।এই মহাভাব আবার দুইপ্রকার=রূঢ় ও অধিরূঢ়।গোপীকাগণের যে প্রেম তার নাম "অধিরূঢ়" মহাভাব।এর মধ্যেও আবার বিরহে যে অধিরূঢ় মহাভাব হয় তার নাম "মোহন"। মোহনাখ‍্য মহাভাবে দিব‍্যোন্মাদ হয় যাতে সমস্তই কৃষ্ণময় হয়ে যায়, এমনকি নিজেকেও কৃষ্ণ বলিয়া ভ্রম হয়।*
*🌷অনুখন মাধব মাধব সোঙরিতে,*
    *সুন্দরি ভেলি মাধাই। বিদাপতি*।
*🍀আবার এর বহু পূর্বে শ্রীজয়দেব গোস্বামী লিখেছেন=*
*🌷মুহুরবলোকিত-মন্ডনলীলা,*
*🌷মধুরিপুরহমিতি ভাবনশীলা।।*
*🌻এই দিব‍্যোন্মাদই প্রেমের বিবর্তনে শেষ কথা। তখন ভক্ত =*
*🌷স্থাবর জঙ্গম দেখে না দেখে তাঁর মূর্তি।*
*🌷যাঁহা যাঁহা নেত্র পড়ে তাঁহা কৃষ্ণস্ফূর্তি।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
 *বৈষ্ণব সাহিত‍্যে প্রেমের আদর্শ*
********************************
*🌹বৈষ্ণব অলঙ্কার শাস্ত্রে প্রেম নামক চিন্ময় রসের যে স্তর-পরম্পরা বর্ণিত হয়েছে,তা অন‍্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। সুতরাং প্রেম বৈষ্ণবগণের আদর্শ বা লক্ষ্য,এটি বলিলেই সব বলা হল না। যে প্রেম ঈশ্বর-প্রাপ্তির একমাত্র সাধন বা উপায়,তার স্বরূপ নির্ণয় করা বড় সহজ নহে। বর্তমান প্রবন্ধে আমি শুধু এইই বলতে চাই যে,বৈষ্ণব তত্ত্ববিদগণ প্রেমের সুর এইরকম উচ্চগ্রামে বেঁধেছিলেন বলেই বৈষ্ণব কাব‍্যে এর এত প্রসার দেখতে পাই। "বৈষ্ণব পদকর্তাগণ প্রেমের কথা বলতে অজ্ঞান।কোনও উপমাই ইঁনাদের বাদ পড়ে নাই,তথাপি যেন তৃপ্তি নাই।এত বলেও বলার শেষ নাই। প্রেম যে অনির্বচনীয় বস্তু,কাব‍্য কথার স্বর্ণসূত্রে সে গাঁথা পড়তে চাহে না। (বিদ‍্যাপতির রাধা উপমার পর উপমা সাজিয়েছেন,পঞ্চ প্রদীপের মত আরতি করে তাঁর প্রেমকে উজ্জ্বল করে তুলেছেন, কিন্তু কিছুতেই তৃপ্তি হচ্ছে না)।*
*🌷হাথক দরপণ মাথক ফুল।*
*🌷নয়নক অঞ্জন মুখক তাম্বুল।।*
*🌷হৃদয়ক মৃগমদ গীমক হার।*
*🌷দেহক সরবস, গেহক সার।।*
*🌷পাখীক পাখ,মীনক পানি।*
*🌷জীবক জীবন হাম তুহুঁ জানি*
*🌷তুহুঁ কৈসে মাধব কহ তুহুঁ মোয়*।
*🌷বিদ‍্যাপতি কহ দুহুঁ দোহা হোয়।।*
*🌻হে রাধে প্রিয়তম তুমি আমার হাতের আরসী,মাথার ফুল,আঁখির কাজল,অধরের তাম্বুল,হিয়ার মৃগমদচিত্র,গলার মালা,দেহের সর্বস্ব, সংসারের সার,পাখীর পাখা,মীনের নীর,জীবনের জীবন, এত বলেও বলার শেষ হল না। শেষে বলছেন,তুমি কেমন আমাকে বলে দাও।বিদ‍্যাপতি বলছেন, তোমরা উভয়ে উভয়ের তুলনা, অর্থ‍্যাৎ তোমাদের তুলনা নাই।*
*🌺চন্ডীদাস রাধাকৃষ্ণ প্রেমের তুলনার জন্য প্রকৃতির ভান্ডার উজাড় করেছেন,তথাপি সে প্রেমের নাগাল পাওয়া গেল না।*
*🌷এমন পিরীতি কভু দেখি নাহি শুনি।*
*🌷পরাণে পরাণ বান্ধা আপধা আপনি।।*
*🌷দুহু কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।*
*🌷আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া।।*
*🌷জল বিনু মীন যেন কভু নাহি জীয়ে।*
*🌷মানুষে এমন প্রেম কোথা না শুনিয়ে।।*
*🌷ভানু কমল বলি সেহো হেন লয়।*
*🌷হিমে কমল মরে ভানু সুখে রয়।।*
*🌷চাতক জলদ কহি-- সে নহে তুলনা।*
*🌷সময় নহিলে সে না দেয় এক কণা।।*
*🌷কুসুমে মধুপ কহি সেহো নহে তুল।*
*🌷না আইলে ভ্রমর আপনি না যায় ফুল।।*
*🌷কি ছার চকোর চান্দ দুহুঁ সম নহে।*
*🌷ত্রিভুবনে হেন নাহি চন্ডীদাস কহে।।*
*🌹এইসব উপমা সম্বন্ধে বিদাপতি ও চন্ডীদাসের মধ্যে অদ্ভুত সাদৃশ‍্য দেখা যায়। কিন্তু ত্রিভুবনে এর তুলনা হয় না। মুরারি গুপ্ত সেইজন‍্য বলেছেন=*
*খাইতে শুইতে রৈতে,আন নাহি লয় চিতে,*
      *বঁধূ বিনা আন নাহি ভায়।*
*মুরারি গুপতে কহে,পিরীতি এমনি হৈলে,*
     *তার গুণ তিন লোকে গায়।।*
*🌻বিদ‍্যাপতির একটি উপমা মামুলি বুলি ছড়িয়ে গিয়েছে।*
*🌷খোঁজলুঁ সকল মহীতল গেহ।*
*🌷খীর নীর সম ন হেরল নেহ।।*
*🌷যব কোই বেরি আনল মুখ আনি।*
*🌷খীর দন্ড দেই নিরসত পানি।।*
*🌷তবহুঁ খীর উমড়ি পড় তাপে।*
*🌷বিরহ বিয়োগে আগ দেই ঝাঁপে।।*
*🌷যব কোই পানি আনি তাহি দেল।*
*🌷বিরহ বিয়োগ তবহি দূর গেল*।।
*🌷ভণই বিদ‍্যাপতি এহেন সুনেহ।*
*🌷রাধামাধব ঐসন নেহ।।*
*🌹সমস্ত পৃথিবী খুঁজিলাম দুগ্ধ ও জলের মধ্যে যে প্রেম, তার তুলনা দেখলাম না।যদি কেউ জলমিশ্রিত দুধ আগুনে চাপিয়ে দেয় এবং জল শুকিয়ে দেয়(নিরসত),তাহলে দুধ উথলিয়ে জলের বিরহে আগুনে ঝাঁপ দেয়।তখন যদি কেউ তাতে একটু জল দেয়, তখন বিরহ দূরে যায় এবং দুধ শান্ত ভাব অবলম্বন করে। বিদাপতি বলছেন যে,এরই নাম প্রেম এবং রাধামাধবের প্রেম এইরকমই।*
*🌺গোবিন্দদাসের রাধা যখন বিরহে কাতর,মিলনের আর কোনও আশাই দেখা যায় না, তখন মরণে মিলন কামনা করছেন।*
*🌷যাঁহা পহুঁ অরুণ চরণে চলি যাত।*
*🌷তাহাঁ তাহাঁ ধরণি হইয়ে মঝু গাত।।*
*🌷যো সরোবরে পহুঁ নিতিনিতি নাহ।*
*🌷মঝু অঙ্গ সলিল হোই তথি মাহ।।*
*🌷এ সখি বিরহ মরণ নিরদন্দ।*
*🌷ঐছন মিলই যব গোকুল চন্দ*।।
*🍀হে সখি!আজ বিরহ মরণ নির্দ্বন্দ্ব হোক,যাতে আমি (মরণের মধ‍্য দিয়ে ) আমার প্রিয়তমকে লাভ করতে পারি। আমার শরীরের পঞ্চভূত পঞ্চভূতে মিশে যাক এবং আমার অঙ্গপ্রিয়তমের গমন পথের মৃত্তিকা হোক।যে সরোবরে প্রিয়তম নিত‍্য স্নান করেন, আমার অঙ্গের সলিলাংশ যেন সেই সরোবরের সলিল বা জল হয়।*
*🙏এ প্রেম কি এতই সহজ? ভগবদগীতা যে বলেছেন "মামেকং শরণং ব্রজ" সেই "কৃষ্ণৈকশরণ" কি কথার কথা?*
*পীরিতি পীরিতি, সব জন কহে,*
       *পীরিতি সহজ কথা।*
*বিরিখের ফল, নহে তো পীরিতি,*
      *নাহি মিলে যথাতথা।।*
*(সংস্কৃত কাব‍্যের অনুকরণে এ কবিতা রচিত)।*
*পিরীতি লাগিয়া, আপনা ভুলিয়া,*
       *পরেতে মিশিতে পারে।*
*পরকে আপন, করিতে পারলে,*
      *পিরীতি মিলয়ে তারে।।*
*দুই ঘুচাইয়া, এক অঙ্গ হও,*
       *থাকিলে পিরীতি আশ।*
*পিরীতি সাধন, বড়ই কঠিন,*
       *কহে দ্বিজ চন্ডীদাস।।*
*🍀বৈষ্ণব কবিদের মধ্যে চন্ডীদাসের মত পিরীতি পাগল আর কেউ ছিলেন কিনা সন্দেহ আছে।চন্ডীদাসের প্রেমের আদর্শ আজও অম্লান শুভ্রতায় সদ‍্যঃপ্রস্ফুটিত যুঁই ফুলের মত দেবতার বেদীমূলে উজ্জ্বল হয়ে আছে।প্রেমে-- এমন কি মানবীয় প্রেমে, যে তন্ময়তা আনে,তারই চরম বিকাশ চন্ডীদাসের প্রেমে। গীতায় যেমন ভগবান বলেছেন=*
*যো মাং পশ‍্যতি সর্বত্র সর্বং চ ময়ি পশ‍্যতি।*
*তস‍্যাহং ন প্রণশ‍্যামি স চ মে ন প্রণশ‍্যতি।। ষষ্ঠ অঃ।।*
*🌺এই রকম প্রেমিক ভক্ত প্রকৃত প্রম উপলব্ধি করতে পারেন।তাঁর চিত্ত কৃষ্ণময় হয়ে যায়।চক্ষু কৃষ্ণ বিনা আন কিছু দেখে না,কান মধুরাতিমধুর ব্রহ্মময়ী বেণুধ্বনি বিনা আর কিছুই শুনে না।নাসিকা সেই অঙ্গ-সৌরভে পাগল হয়।জিহ্বা সবসময়ই তাঁরই নামলীলারসে বিভোর হয়।এরই নাম কৃষ্ণপ্রেম।তখন দিনরাত্রি ঘরপর কিছুই আর জ্ঞান থাকে না।*
*🌷ঘর কৈনু বাহির বাহির কৈনু ঘর।*
*🌷পর কৈনু আপন আপন কৈনু পর।।*
*🌷রাতি কৈনু দিবস দিবস কৈনু রাতি।*
*🌷বুঝিতে নারিনু বঁধূ তোমার পিরীতি।।* *(চন্ডীদাস)*
*📿কলঙ্ক সে তো গলার হার।গরব করে কলঙ্কের হার পরতে সাধ হয়।কারও কথায় কিছু আসে যায় না।বিধি নিষেধেরও তখন অধিকার থাকে না।*
*🌺বাহির দুয়ারে কপাট লেগেছে,*
           *ভিতর দুয়ার খোলা।*
*🌺(তোরা)নিসাড়া হইয়া আইলো সজনি,*
        *আঁধার পেরিয়ে আলা।।*
*🌻যে সেই সমুদ্রে ডুব দিয়েছে,তার পক্ষে বাহির জগতের অস্তিত্ব লুপ্ত হয়েছে।বাহির জগৎ খোলা খোলা থাকতে তো অনুভূতি প্রাণে জাগে না। যোগে যেমন চিত্তবৃত্তি নিরোধ হয়, এই প্রেমের যোগীরও সেইরকম সর্বেন্দ্রিয়বৃত্তি প্রেমাস্পদের অনুভূতিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। তোরা কথা কহিস না, অনুভূতির নেশা ছুটে যাবে।ক্ষণিকের জন্য হয়ত মনে হবে যে,বহির্জগৎ হতে চিত্ত বিযুক্ত হলে বুঝি আর কিছুই রইল না, শুধু অন্ধকার। কিন্তু তা না,কিছুক্ষণ পরেই চিত্তে প্রেমের যে নির্মল জ‍্যোতি ফুটে উঠবে,তাতে জীবনের সমস্ত আঁধার, সমস্ত সংশয় নিমেষে অন্তর্হিত হয়ে যাবে।*
*🍀আর একজন কবি কি ভাবে এই একান্ত আত্ম-বিলয়ের কথা বলেছেন, এই বলেই প্রেমের কথা বিরাম দেব।*
*🌻শ্রীমতী বলছেন=*
*🌷নব রে নব রে নব নবঘন-শ‍্যাম*।
*🌷তোমার পিরীতিখানি অতি অনুপাম।।*
*🌷তোমার পিরীতি-সুখ-সায়রের মাঝ।*
*🌷তাহাতে ডুবিল মোর কুলশীল লাজ।।*
*🌷কি দিব কি দিব বন্ধু মনে করি আমি।*
*🌷যে ধন তোমারে দিব সে ধন আমার তুমি।।*
*🌷তুমি যে আমার বন্ধু আমি যে তোমার।*
*🌷তোমার ধন তোমারে দিব কি যাবে আমার।।*
*🌹ত্বদীয়তাময় এবং মদীয়তাময় প্রেমের দুইটি ধারা এখানে একত্র মিশে গিয়েছে।এই নিত‍্য নবায়মান প্রেমে তুমি-আমির পালা শেষ হয়ে এক অখন্ড,অনবছিন্ন, সম্পূর্ণ,কেবলানন্দময় অনুভূতি জাগরিত হয়।*
*হৃদয় মন্দিরে মোর, কানু ঘুমাওল,*
       *প্রেম প্রহরী রহু জাগি।*
               *(গোবিন্দ দাস)*
*🌷আমার হৃদয় মধ্যে প্রমময় ভগবান একাত্ম হয়ে মিশে গিয়েছেন, প্রেমই শুধু জেগে আছে।*
🙏🌸🪔🦚🌷🦋🦜🪷🌷🦚🪔🌸

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
       *ভক্তিবাদ ও শ্রীমদ্ভাগবত*
      ••••••••••••••••••••••••••••••••
*🙏ভক্তিবাদ অতীব প্রাচীন। বতর্মানে যে সব ধর্মমতের প্রতি লোকের আস্থা দেখা যায়,তার সবগুলির মধ্যেই ভক্তিবাদ অল্পাধিক পরিমাণে মিশ্রিত আছে। কিন্তু এমন এক সময় ছিল,যখন ভক্তিবাদ লোকের মন আকৃষ্ট করবার জন্য বিশেষভচেষ্টিত হয়েছিল। ভগবদ্ গীতায় এর কিছু আভাস পাওয়া যায় ; চতুর্থ অধ‍্যায়ে উক্ত হয়েছে ঃ---*
*🌷ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব‍্যয়ম্।*
*🌷বিফস্বান্ মনবে প্রাহ মনুরিক্ষাকবেহব্রবীৎ।।*
*🌻ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বরছেন যে,তিনি পূর্বে এই অব‍্যয় যোগ সূর্য‍্যকে শিক্ষা দিয়েছিলেন, সূর্য‍্য তাঁর পুত্র মনুকে এবং মনু ইক্ষাকুকে বলেছিলেন। নিমি প্রভৃতি রাজর্ষিগণ পরম্পরাক্রমে এই যোগ অবগত হয়েছিলেন। কিন্তু কালবশে এই যোগ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।আজ আমি তোমাকে সেই পুরাতন যোগের কথা বলছি।*
*🌷স এবায়ং ময়া তেহদ‍্য যোগঃ প্রোক্তঃ পুরাতনঃ।*
*🌷ভক্তোহসি মে সখা চেতি রহস‍্যং হ‍্যেতদুত্তমম্।।*
                          *(গীতা=৪র্থ অঃ)*  
*🍀অর্জুনের মনে সংশয় হল।তিনি বললেন,তুমি তো আধুনিক অর্থ‍্যাৎ এখন বতর্মান, বিবস্বান্ (সূর্য‍্য) প্রাচীন কালের একজন, তুমি কিভাবে তাঁকে এই যোগ শিক্ষা দিলে? তার উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "আমি অজ হয়েও বহুবার জন্মগ্রহণ করেছি,তুমিও তাই।আমি সেসব রহস‍্য জানি, তুমি অবিদ‍্যার অধীন বলে ভুলে গিয়েছ। যাইহোক, গীতারও বহু পূর্বে যে এই ভক্তিতত্ত্ব ভারতে সুবিদিত ছিল,তা বুঝা যায়।গীতার রচনাকাল নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে সুপ্রসিদ্ধ পন্ডিত জ‍্যাকোবি প্রভৃতির মতে গীতা মহাভারতের অংশ হলেও সেটিতে প্রথমে কোন ধর্মতত্ত্ব ছিল না। গীতার যে সমস্ত শিক্ষা সভ‍্যজগতের বিস্ময় ও শ্রদ্ধা উৎপাদন করেছে, সেটি নাকি পরবর্তী কালের যোজনা! এরকম মতবাদের সারবত্তা সম্বন্ধে পন্ডিতগণের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, ভক্তিবাদ যে খ্রীষ্ট-জন্মেরও পূর্ব হতে ভারতে পরিজ্ঞাত ছিল,এটি অস্বীকার করা যায় না।*
*🌹ভক্তিবাদের প্রধান প্রচারক ছিলেন পাঞ্চরাত্র সম্প্রদায়।মহাভারতের শান্তিপর্বে যে "হরিগীতং পুরাতনম্" আছে, তা এই পাঞ্চরাত্র সম্প্রদায়েরই মত।শান্তিপর্ব এবং তদন্তর্গত মোক্ষধর্ম ও নারায়ণীয় পরবর্তীকালে সংযোজিত বলে কোন কোন পন্ডিত মত প্রকাশ করেছেন।এইরকম প্রক্ষেপবাদ হতে পরিত্রাণ পাওয়া অবশ‍্য সুদুষ্কর। কিন্তু অনেক জায়গায় দেখা যায়, এরকম মতবাদের ভিত্তি নিতান্তই শিথিল। দক্ষিণদেশের একটি জায়গা বোধহয় উত্তর-ভারতের পদাবলী।এইসব তামিল দেশীয় ভক্তকবি খ্রীষ্টীয় তৃতীয় হতে অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে আবির্ভূত হন বলে জানা যায়।ইঁনাদের ভক্তিবাদ "দ্রাবিড়াম্নায়" নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।এর এক অংশ দ্রাবিড় সামবেদ নামে কথিত।শঠারি,শটকোপ বা নম্মা আলবার এই সামবেদের রচয়িতা।নম্মা আলবার সম্বন্ধে কথিত আছে যে তিনি ষোল বৎসর বয়স পর্যন্ত মৌন ছিলেন।এই সময়ে তিনি এক বকুল বৃক্ষের তলে বসে থাকতেন এবং ভগবান অনেক সময়ে তাঁকে দেখা দিতেন।ষোল বৎসরের পর তিনি যখন "প্রকাশ" হলেন তখন লোকে দেখল যে তাঁর দেহে নানা অলৌকিক ভাব প্রকটিত হয়।অশ্রুকম্প,পুলক প্রভৃতি সাত্ত্বিক লক্ষণগুলি দেখা দিল।তিনি কখনও হাসেন, কখনও কাঁদেন, কখনও নৃত্য করেন, আবার কখনও গান করেন।এই সমস্ত দেখে লোকে তাঁকে অসাধারণ ব‍্যক্তি বলে বুঝতে পারল।কেউ কেউ তাঁকে বিষ্ণুর অবতার বলতেও কুন্ঠিত হতেন না। নম্মা আলবারের শিষ্য মধুরকবি নামক আলবার বলেছেন যে, ব্রজরমণীগণের যে ভাব ছিল শ্রীকৃষ্ণে, শঠারি মুনিরও সেই সব ভাব দেখা যেত। ভাগবতেও আমরা অনুরূপ ভাবের বর্ণনা পাই।*
*🌷এবং ব্রতঃ স্বপ্রিয় নামকীর্ত্ত‍্যা,*
*জাতানুরাগো দ্রুতচিত্ত উচ্চৈঃ।*
*🌷হসত‍্যথ রোদিতি রৌতি গায়,*
*তুন্মুত্তবৎ নৃত‍্যতি লোকবাহ‍্যঃ।।*
              *(ভাঃ=১১|২|৪০)*
*🌻তামিল দার্শনিক কবি বেদান্তদেশিকাচার্য‍্য "তাৎপর্য‍্য রত্নাবলী" নামক গ্রন্থ, শঠারি সম্বন্ধে বলেছেন যে, তিনি ব্রজরমণীগণের রীতি অবলম্বনে ভগবানকে আস্বাদন করেছিলেন=*
*🌷ব্রজযুবতীগণ-খ‍্যাতনীত‍্যাহন্বভুংক্ত।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ ব্রজযুবতীগণ যে ভাবে শ্রীকৃষ্ণকে আস্বাদন করেছিলেন,ইনি (শঠারি) সেই বিখ‍্যাত নীতিতে ভগবান কে উপভোগ করেছিলেন। এখানে আমরা মধুর ভাব বা কান্তাভাবের উপাসনা-পদ্ধতির সর্বপ্রথম পরিচয় লাভ করেছে।আলবারদের মধ্যে ১২ জন খুব বিখ‍্যাত হয়েছিলেন।ইঁনাদের শেষ ব‍্যক্তি তিরুমঙ্গই আলবার খ্রীষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে বতর্মান ছিলেন।অন‍্যান‍্য আলবাররা ইঁহার পূর্বে পাঁচ কি ছয় শত বৎসরের মধ্যে প্রাদুর্ভাব হয়েছিলেন।নম্মা আলবার এই দ্বাদশ জনের মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করে আছেন। সেই অতি প্রাচীন কাল হতে দক্ষিণ ভারতে ভক্তিধর্মের এই অভ‍্যুত্থান দেখে বুঝতে পারা যায় যে, ভাগবতধর্ম সারা ভারতবর্ষে কি অদ্ভুত প্রেরণা যোগিয়েছিল।গ্রীকদূত কর্তৃক খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে বাসুদেবের নামে দাক্ষিণাত‍্যে বেসনগর স্তম্ভ উৎসর্গীকৃত হয়েছিল, কবি ভাস শ্রীকৃষ্ণের লীলা অবলম্বন করে বালচরিতম্ লিখিলেন, মহাকবি কালিদাস মেঘদূতে শ্রীকৃষ্ণের নবঘনশ‍্যামরূপের উল্লেখ করলেন, এ সমস্ত ব‍্যাপারই ইহা হতে বুঝতে পারা যায়। তামিল ভাষার প্রাচীন গ্রন্থ "কুরল" এই গ্রন্থে প্রেমের যে বিশ্লেষণ আছে তা রাধাকৃষ্ণের লীলাই স্মরণ করিয়ে দেয়।প্রণয়,মান, মানান্তে মিলন প্রভৃতির সুন্দর চিত্র এই গ্রন্থে পাওয়া যায়।*
*🌻ভক্তিধর্মের অভ‍্যুত্থানের যে অদ্ভুত ইতিহাস আমরা দক্ষিণ ভারতে পাই,অন‍্যত্র তার তুলনা নাই।পরবর্তীকালে বাংলায় যে প্রেমভক্তির অভ‍্যুদয় হয়েছিল,পাঞ্জাবে এবং উত্তর পশ্চিমে যে ভক্তিধর্মের ধারা নানকজী, মীরাবাঈ প্রভৃতির মধ্যে দেখতে পাই, তার মূল উৎস অনুসন্ধান করতে সম্ভবত দক্ষিণ ভারতেই যেতে হবে।পূর্বে আলবারদের কথা বললাম,তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা ছিলেন, তাঁর নাম আন্ডাল।এই মহিলা আলবারের পিতা পেরি আলবরও প্রসিদ্ধ ব‍্যক্তি ছিলেন।আন্ডালের এই অভিমান ছিল যে,শ্রীরঙ্গনাথ তাঁর স্বামী! এই হেতু তাঁর পিতা আন্ডালের বিয়ে দেননি।আন্ডালের বিগ্রহ এখনও শ্রীরঙ্গনাথের মন্দিরে পূজিত হয়।মীরাবাঈ আন্ডালেরই যেন প্রতিমূর্তি এইরকম মনে হবে।এই দুই মহিলার চরিত্রে এইরকম সাদৃশ‍্য দেখা যায় যে,একই উৎস হতে অনুপ্রাণনা এসেছিল এরকম মনে না করে উপায় নাই।*
           *ক্রমাগত*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
   *শ্রীচৈতন‍্য ও পদাবলী*
   ***********************
*🍀সমাজের দিক দিয়ে,শ্রীচৈতন‍্য প্রচারিত ধর্ম শুধু জাতিভেদ এবং সাম্প্রদায়িক মনোভাবের শিথিলতা সম্পাদন করেই ক্ষান্ত হয়নি, নীচুজাতিদের উন্নত করতেও ইহা বহুল পরিমাণে কৃতকার্য‍্য হয়েছিলেন।বৌদ্ধধর্মের অবনতির যুগে যে সব পঙ্কিলতা সমাজদেহকে কলুষিত করেছিল,তার কুফল কতদূর গড়াত,তা বলা যায় না, যদি সেই সময়ে বৈষ্ণবধর্ম বাধা না জন্মাত।আমরা ইতিহাস হতে জানতে পারি যে,শ্রীমন্নিত‍্যানন্দের পুত্র বীরচন্দ্র প্রভু বহু নেড়ানেড়ি ও তথাকথিত সহজিয়াকে বৈষ্ণব ধর্মে স্থান দান করেছিলেন।এও জানা যায় যে, পরবর্তীকালে এতে বৈষ্ণবধর্মে কতকটি ময়লা প্রবেশ করেছিল, কিন্তু তা শ্রীচৈতন‍্যের সংকল্পিত আদর্শের দোষে নয়।কারণ বৈষ্ণবধর্মের আদর্শ সেই যুগে যে উচ্চ ধাপে স্থাপিত হয়েছিল, তা যে কোন যুগে যে কোনও দেশের পক্ষে গৌরবজনক এটি নিঃসংকোচে বলা যায়।*
*🌷অসৎসঙ্গ ত‍্যাগ এই বৈষ্ণব আচার।*
*🌷স্ত্রীসঙ্গী এক অসাধু কৃষ্ণাভক্ত আর।।*
             *(শ্রীচৈঃচঃমধ‍্যলীলা)*
*🌹স্ত্রীলোকের কাছে ভিক্ষা-গ্রহণের জন্য মহাপ্রভু প্রিয়ভক্ত ছোট হরিদাসকে বর্জন করেছিলেন।সেই উচ্চ আদর্শ যে পরবর্তীকালে অনুসৃত হয়নি, তাইই বৈষ্ণব ধর্মের অবনতির অন‍্যতম কারণ, এ সম্বন্ধে সন্দেহ নাই। সংসারে থেকে এরকম আদর্শ পালন করা অসম্ভব বলে শ্রীচৈতন‍্য এবং তাঁর প্রসিদ্ধ সঙ্গীগণ সংসারের মায়ামোহ হেলায় উপেক্ষা করে চলে গিয়েছিলেন।*
*🍀কিন্তু একটি লক্ষ্য করবার বিষয়ে এই যে,ইঁনারা সন্ন‍্যাসী হয়েও সংসারকে অবজ্ঞা করেননি। সংসার পাপের কুন্ড অতএব সংসার ছেড়ে না গেলে মুক্তিলাভ অসম্ভব, এই চিন্তা নিয়ে শ্রীচৈতন‍্য সংসার ত‍্যাগ করেননি। পক্ষী যেমন বায়ুভরে উর্দ্ধ আকাশে উড়ে সস্নেহে নিচের পৃথিবীর দিকে চেয়ে থাকে,শ্রীচৈতন‍্য ও তাঁর পারিষদগণের অন্তরও সেইরকম জগতের প্রতি করুণায় পরিপূর্ণ ছিল।দুর্গত মানুষের উপায় কি হবে?তারা কি উপায়ে সহজে উন্নততর জীবনের স্বাদ লাভ করবে,এটিই তাঁদের সন্ন‍্যাসপূত জীবনের একমাত্র কাম‍্য ছিল বললে বেলী বলা হবে না।জগতের জন্য কেঁদেই মহাপ্রভু জগতের হৃদয় জয় করেছিলেন।প্রেম যার কাছে পরম পুরুষার্থ স্নেহপ্রণয়রতি যার সমস্ত কামনা সমস্ত কল্পনার সার বস্তু,জগৎ তার কাছে এক নূতন সত‍্যরূপে প্রতিভাত হবে,এতে বিচিত্র কি?সংসারের অসারতা, জগতের অনিত‍্যতার কথা নিত‍্য শুনে শুনে মানুষের মনে যে অনপনেয় দৈন‍্য,যে নৈরাশপূর্ণ কষ্ট এসেছিল,তা কতকটা এই নূতন ধর্মের শিক্ষায় দূর হতে লাগল।সংসার দুঃখময়,এর হাত হতে পরিত্রাণ লাভই একমাত্র কাম‍্য, এই শিক্ষায় যে কুফল ফলে,তা আমরা মর্মে মর্মে বুঝেছি।শ্রীচৈতন‍্যের প্রেমধর্ম এই শিক্ষায়মোড় ফিরাতে চেষ্টা করেছিলেন। মানুষকে সবরকম হীনতা হতে মুক্ত করে শ্রীচৈতন‍্য তাকে সংসারের মধ্যে স্থাপন করলেন।সবার উপরে মানুষ সত‍্য। ভগবানের যত লীলা আছে,তার মধ্যে সর্বোত্তম নরলীলা, নরবপু তাহার স্বরূপ। মানুষকে এমন করে মর্য‍্যাদা দান আর কেউ কখনও করেনি। ভগবান মানুষের সঙ্গে মানুষ সেজে লীলাখেলা করেন। মানুষ হেয় নহে,অসার নহে,মানুষ ভগবানের নিত‍্য দাস।এই দাসত্বই তার সারাজীবনের সারকামনা। "গোপীভর্ত্তুশ্চরণ কমলয়ো র্দাসদাসানুদাসঃ "।*

*জীব যে কৃষ্ণের নিত‍্য দাস তা ভুলে গিয়েই যত গন্ডগোল বাধিল এবং মায়া তখনই তার গলায় ফাঁস পরাল।তা না হলে মানুষ নিজ স্বরূপে অবস্থান করে সংসারের দুঃখ শোক মোহ হেলায় অতিক্রম করতে পারত?যে ভগবৎপ্রেম মানুষের পক্ষে পরম কাম‍্য তা তার জন্মগত অধিকার।এ অধিকার কষ্টসাধ‍্য তপ জপ আসন প্রাণায়ামের দ্বারা লাভ করা যায় না।আপনা হতেই এই মনুষ‍্য জন্মেই ভগবানের দান হিসাবে এটি লাভ করেছে।*
*🌷নিত‍্য সিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম সাধ‍্য কভু নয়।*
*🌹সংসার দুঃখময় কে বলিল? যে সংসারে থেকে এই মানুষ দেহেই কৃষ্ণসেবার অধিকার লাভ করা যায়, তা হতে পলায়ন করাই যে শ্রেয়ঃ এরকম মনে করবার কি কারণ আছে? বৈষ্ণবগণ এই জন্য মুক্তি চাহেন না।এই যে দৃষ্টিভঙ্গী জগতের সম্বন্ধে,সমাজের সম্বন্ধে,মানবজীবনের সম্বন্ধে এটি সম্পূর্ণ অভিনব। ভগবান প্রেমময়, তিনি জগৎ সংসারকে দুঃখ-কষ্টের আগার করে সৃষ্টি করবেন কেন? ভগবান মধুর,এই জগৎ মধুর, তুমি মধুর, আমিও মধুর।মাধুর্য‍্যভরা এই জগতের মাঝখানে মানুষকে স্থাপন করে ভগবান তার প্রেম লুন্ঠন করবার জন্য সর্বদা লালায়িত।❤যেমন খদ্দের না থাকলে দোকানের কি মূল‍্য!ভক্ত না থাকলে ভগবানের কি কদর! এই মাধুর্য‍্যবাদ সাহিত‍্যে,সঙ্গীতে,শিল্পে বিকশিত হয়ে উঠেছিল শ্রীচৈতন‍্যদেবের শিক্ষায়। বাংলাদেশে সাহিত‍্য যে প্রেরণা লাভ করিল,তার ফলে অসংখ্য কবি অসংখ্য কবিতার অর্ঘ‍্য রচনা করলেন প্রেমের উদ্দেশ্যে, প্রেমময়ের উদ্দেশ্যে।সেই যুগে অর্থ‍্যাৎ শ্রীচৈতন‍্যের পরবর্তী যুগে কাব‍্য সাহিত‍্যে যেরকম বান বা বন‍্যা ডেকেছিল, তেমন আর কোনও দেশে,কোনও যুগে দেখা যায় নাই।চন্ডীদাস,বিদ‍্যাপতি পদ রচনা করে যুগলভজনের প্রশস্ত পথ প্রস্তুত করে দিয়ে গিয়েছিলেন।শ্রীমন্মহাপ্রভুর পরে সেই পথে অসংখ্য লোক প্রেমের পথে যাত্রা করিল।অধিকন্তু নূতন যুগে সেই যাত্রাপথের পুরোভাগে সর্বসম্মতিক্রমে স্থাপন করল ল্রীচৈতন‍্যদেবকে।সেই হতে গৌরচন্দ্রিকায় সাহিত‍্যের আর এক বিরাট পর্ব আরম্ভ হল।গৌরাঙ্গলীলা স্বতন্ত্রভাবেও সাহিত‍্যে একটি সুপরিসর জায়গা করে নিল।খেতরির মহোৎসব হতে আজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ বৎসর বৈষ্ণব কবিতায় শ্রীগৌরাঙ্গের অপ্রতিহত প্রভাব চলে আসছে। এখানেও আমরা দেখি যে,শ্রীচৈতন‍্য সম্বন্ধে বাংলা কাব‍্যসাহিত‍্যে যে দরদ তার তুলনা আমরা আর কোথাও পাই না।*
*পূর্বে শ্রীচৈতন‍্যের প্রবর্তিত সাম‍্যবাদের কথা বলেছি।এই সময়ের পদাবলী সাহিত‍্যে সেই অখণ্ড সাম‍্যবাদের প্রকৃষ্ট বা উত্তম পরিচয় পাওয়া যায়।মহাপ্রভুর পূর্ববর্তী পদকর্তাদের পরিচয়ে দেখি "দ্বিজ" "বড়ু" (ব্রাহ্মণতনয়) প্রভৃতি আভিজাত‍্যবোধক শব্দের ছড়াছড়ি। কিন্তু শ্রীচৈতন‍্য পরবর্তী সাহিত‍্যে সকলেই সমান।সকলের উপাধি "দাস"।ব্রাহ্মণ,বৈদ‍্য,কায়স্থ প্রত‍্যেক বর্ণই দাস-সংজ্ঞায় অভিহিত হতে চেয়েছেন।এটিকে "বিনয়"মাত্র মনে করলে ভুল করা হবে।এখন অনেক জায়গায় বৈষ্ণবদের দৈন‍্য বা বিনয় উপহাসের বিষয় হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে,বিনয় মিলনের পক্ষে একান্ত পরিহার্য‍্য।যতক্ষণ মনে অভিমান বা অহংকার থাকে,ততক্ষণ কোনও রকম সাম‍্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।সমাজের মধ্যে যে অসংখ্য প্রকার উচনীচ ভেদ চলে আসছে,তাকে সমভূমিতে নিয়ে আসতে না পারলে সমস্ত সাম‍্য চেষ্টাই ব‍্যর্থ হতে বাধ‍্য।এই নিগূঢ় মনস্তত্ত্ব শ্রীমন্মহাপ্রভু ও তাঁর পরিকরগণ বুঝিয়েছিলেন। আমরা কিন্তু এখনও তা বুঝতে পারিনি।জগতে মানুষে মানুষে যদি,কখনও ভালবাসা সম্ভফ হয়,তবে তার প্রথম সোপান রচিত হবে এই বিনয়ের মধ‍্য দিয়ে ; সনাতন রক্ষণশীলতার অপ্রতিহত প্রভাব সেই জায়গায় ব‍্যর্থ। হাজার হাজার টোলে বাংলা ও ভারতের নানাস্থান হতে ছাত্রেরা নবদ্বীপে এসে ন‍্যায়শাস্ত্র,দর্শনশাস্ত্র,কাব‍্য,স্মৃতির আলোচনা করে ; বিদ‍্যার বিলাসই সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্রাহ্মণদের জীবনের প্রধান আনন্দ।জাতিভেদের কঠিন নিগড়ে বা শিকলে সমস্ত সমাজ বাঁধা, ব্রত নিয়ম অনুষ্ঠান,আচার ও প্রথার নির্মম অনুশাসনে সমাজ জীবন নিষ্প্রভ, মানুষের চলার পথ শত বাধানিষেধে কন্টকিত।শ্রীগৌরাঙ্গ প্রথমেই সেই প্রাণহীন আচার অনুষ্ঠানের অচলায়তনের নির্মমভাবে আঘাত করলেন,শুকনো তর্ক ও বিদ‍্যাবিলাসের মোহকে ছিন্ন করতে রত হলেন,ছুৎমার্গের নাগপাশকে শিথিল করে দিলেন। তিনি নির্ভীকভাবে প্রচার করলেন,ঈশ্বরে ভক্তিই ধর্ম,জ্ঞান ও তর্কের পথে এই ধর্মলাভ হয় না। ভগবানের দৃষ্টিতে উচনীচ জাতিভেদ নেই।প্রেমধর্মের মধ‍্য দিয়ে মানুষকে তিনি নূতন মর্য‍্যাদা দিলেন,হিন্দু সমাজের সামনে তিনি নূতন আদর্শ স্থাপন করলেন।সমাজের যে অস্পৃশ‍্য অন্ত‍্যজ,দীনাতিদীন, সেও তার প্রেমস্পর্শে আত্ম উপলব্ধি করতে শিখিয়েছিল।মহাপ্রভু তাঁর অমোঘ ভাষায় বলে দিলেন=*
*🌷যে-ই ভজে,সে-ই বড় অভক্ত হীন ছার।*
*🌷কৃষ্ণ ভজনে নাহি জাতি কুলাদি বিচার।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ মানুষ মানুষের সঙ্গে মিলতে পারে একমাত্র প্রশস্ত ক্ষেত্রে ; সেই ক্ষেত্র হচ্ছে ধর্মের বিস্তৃত প্রাঙ্গণ।ধর্ম বাহিরের বস্তু নয়,প্রাণের বস্তু।প্রাণের মিলনই সত‍্যকার মিলন। সুতরাং ভারতবর্ষে সাম‍্যবাদের প্রতিষ্ঠা করতে হলে শ্রীচৈতন‍্যের শিক্ষায় অবলম্বন করতে হবে।অর্থের জন্য, সুযোগ সুবিধার জন্য যে মিলন তা সাময়িক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেও তার স্থায়িত্ব সম্বন্ধে নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
     *শ্রীচৈতন‍্যের বিদ‍্যাবিলাস*
    **************************
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেবকে যাঁরা ভগবানের স্বরূপ বলে মনে করেন,তাঁদের কাছে তিনি কতদূর লেখাপড়া শিখেছিলেন, এ প্রশ্ন একান্ত অবান্তর ও অনাবশ‍্যক। যিনি সর্বজ্ঞ এবং সর্ববিভূত্বমন্ডিত,যিনি সরস্বতিপতি ও অন্তর্য‍্যামী,তাঁর সমস্ত জ্ঞান করাকমলবৎ,সমস্ত বিদ‍্যা অধীত। কিন্তু জগন্নাথ মিশ্র তনয় বিশ্বম্ভর, শচীর আদরের দুলাল, ব্রাহ্মণ পন্ডিত মেখলা পন্ডিত নবদ্বীপের অধ‍্যাপক নিমাই কোন্ কোন্ বিদ‍্যায় পারদর্শী হয়েছিলেন,তা জানতে কৌতূহল হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে নবপ্রকাশিত একটি গ্রন্থে বলা হয়েছে যে,চৈতন‍্যের বিদ‍্যার দৌড় ছিল কলাপ ব‍্যাকরণ,কিছু কাব‍্য ও কিছু অলঙ্কারশাস্ত্র এই পর্যন্ত।*
*💧His(Chaitanya's) Studies,however,appear to have been chiefly onfined to sanskrit Grammar especially kalapa Grammar and some literature and rhetoric to which allusion is made.*
*Padyavali=By Rupa Gosvamin edited by professor Sushil Kumar De Interduction, page xviii.*
*It is misdirected zeal which invest him (chaitanya) with the false lory of scholastic eminence •••••••••••. lbid p, xxxiv.*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন ঃ---,*
*🌷হয় ব‍্যাখ‍্যা নয় করে নয় করে হয়।*
*🌷সকল খন্ডিয়া শেষে সকল স্থাপয়।।*
*🍀এইরকম পান্ডিত‍্য গ্রীস দেশে সক্রেতিসের সম্বন্ধে শুনতে পাওয়া যায়। সেকালে ঐ দেশে আরও কতকগুলি পন্ডিত আবির্ভূত হয়েছিলেন, তাঁরা শুধু তর্কের জোরে এইরকম "হয়"কে "নয়" এবং "ধয়"কে "হয়" করতে পারতেন।তাঁদের নাম ছিল "সফিষ্ট"(Sophist)।এইসব পন্ডিতের সম্বন্ধে আর যাই বলা যাক না কেন,তাঁরা যে অসাধারণ পান্ডিত‍্য লাভ করেছিলেন,সে সম্বন্ধে কারও সন্দেহ নাই।*
*🌹অধ‍্যাপক হয়ে নিমাই পন্ডিত শত শত ছাত্র পড়াতেন।*
*🌷শত শত শিষ‍্য সঙ্গে সদা অধ‍্যাপন।*
*🌷ব‍্যাখ‍্যা শুনি সর্বলোকের চমৎকার মন।।*
       *(শ্রীচৈঃচঃ ১৬ পরিচ্ছেদ)*
*🌺নিমাই পন্ডিত তাঁর পিতার মৃত‍্যুর পরে একবার পূর্ববঙ্গ ভ্রমণে বাহির হয়েছিলেন।তখন সেই বাইশ বছরের "বালক" পন্ডিত কিরকম সম্মান পেয়েছিলেন,তাও চিন্তা করবার বিষয়। সেখানে---*
*🌷বিদ‍্যার প্রভাবে দেখি চমৎকার চিত্তে।*
*🌷শত শত পড়ুয়া আসি লাগিল পড়িতে।।*
*কিছুদিন পূর্ববঙ্গে ভ্রমণ করে যথেষ্ট ধন উপার্জন করে নিমাই নবদ্বীপে ফিরে আসিলেন।*
*🌷ঘরেতে আইলা প্রভু নানাধন লঞা।*
*🌷মাতৃস্থানে দিল ধন হরষিত হঞা।।*
         *(লোচনদাসের চৈঃমঃ আদি)*
*☘লোচনদাসের মতে অধ‍্যাপক গঙ্গাদাস পন্ডিত ব‍্যতীত বিষ্ণু পন্ডিত এবং সুদর্শন পন্ডিতের কাছে চৈতন‍্যদেব পাঠাভ‍্যাস করেছিলেন*
*🌷হেনমতে নবদ্বীপে প্রভু বিশ্বম্ভর।*
*🌷পড়িবারে গেলা বিষ্ণু পন্ডিতের ঘর।।*
*🌷সুদর্শন আর গঙ্গাদাস যে পন্ডিতে।*
*🌷পঢ়িলা জগত-গুরু তা' সভার হিতে।।ঐ,ঐ।।*
*🌹এর দ্বারা বোধ হয় চৈতন‍্যদেব গঙ্গাদাসের কাছে ব‍্যাকরণ এ বিষ্ণু পন্ডিত এবং সুদর্শনের কাছে কাব‍্য,দর্শন ও অলঙ্কার ইত্যাদি পড়েছিলেন।*
*🌺এইসময়ে একজন দিগ্বিজয়ী পন্ডিত বহুস্থান হতে জয়পত্র নিয়ে নবদ্বীপে আসিলেন।তিনি অনেক হাতী ঘোড়া দোলা লোকজন নিয়ে দিগ্বিজয়ে বাহির হয়েছিলেন।সম্ভবতঃ তিনি কোন রাজার সভাপন্ডিত ছিলেন।তা না হলে ব্রাহ্মণ পন্ডিতের এইরকম বিভব হওয়া সম্ভবপর নয়।যাইহোক,গঙ্গাতীরে এসে তিনি নিমাই পন্ডিতের সঙ্গে তর্ক যুদ্ধে রত হলেন। দিগ্বিজয়ী বললেন ঃ--"*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
   *শ্রীচৈতন‍্যের বিদ‍্যাবিলাস*
****************************
*🍀দিগ্বিজয়ী বললেন=*
*🌷ব‍্যাকরণ পড়াও নিমাই পন্ডিত তোমার নাম।*
*🌷বাল‍্য শাস্ত্রে লোক কহে তোমার গুণগ্রাম।।*
*🌷ব‍্যাকরণ মধ্যে জানি পড়াহ কলাপ।*
*🌷শুনিল ফাঁকিতে তোমার শিষ‍্যের সংলাপ।।*
            *(শ্রীচৈঃচঃ আদি)*
*🌹এবারে দিগ্বিজয়ীর গঙ্গাস্তব শুনে নিমাই পন্ডিত তার অলঙ্কার দোষ ধরলেন।দিগ্বিজয়ী বিদ্রূপ করে বললেন=*
*🌷ব‍্যাকরণিয়া তুমি নাহি পড় অলঙ্কার।*
*🌷তুমি কি জানিবে এই কবিত্বের সার।।*
*🍀কিন্তু শেষমেষ এই অলঙ্কারের বিচারেই দিগ্বিজয়ী পরাভব স্বীকার করতে বাধ‍্য হলেন।ইঁনারা সকলেই যখন নিমাইকে কলাপ ব‍্যাকরণের পন্ডিত বলছেন,তখন অধ‍্যাপক সুশীল কুমার বললেন, তা আর বিচিত্র কি? কিন্তু কথা এই যে,যাঁরা নিমাই পন্ডিতকে ব‍্যাকরণিয়া বলেছেন,তাঁরাই আবার তাঁকে সর্বশাস্ত্রে পন্ডিত বলেছেন।কাজেই তাঁদের সাক্ষ‍্য গ্রহণ করলে সমস্তটাই গ্রহণ করতে হয়।এক অংশ গ্রহণ করে অন‍্য অংশ বর্জন করা সাক্ষ‍্য সম্বন্ধীয় আইন (Evidence Act) ও অনুমোদন করে না।*
*🌺শ্রীমন্মহাপ্রভু যখন নীলাচলে গমন করলেন,তখন সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য সেই অপরিণত বয়স্ক সন্ন‍্যাসীকে দেখে কিছু সদুপদেশ দিতে রত হলেন।সার্বভৌম প্রবীণ পন্ডিত।তিনি সমস্ত উত্তরভারতে পান্ডিত‍্যের খ‍্যাতি অর্জন করে উড়িষ‍্যার স্বাধীন নরপতি গজপতি প্রতাপরুদ্রের রাজপন্ডিত পদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।এটি শুধু বাসুদেব সার্বভৌমের ব‍্যক্তিগত গৌরব নহে,এটি বঙ্গদেশের গৌরব। সার্বভৌম বললেন,সন্ন‍্যাস গ্রহণে কি লাভ?এতে কেবল অহঙ্কার,দাম্ভিকতা বাড়ে।সন্ন‍্যাসী হলেই তাঁকে মহাজ্ঞানী সাজতে হয়।মহাভাগবতগণ সন্ন‍্যাসী দেখলেই প্রণাম করেন।অথচ তাঁদের প্রণাম গ্রহণ করা মহাপাপ।তুমি এমন কাজ করবে কেন?কৃষ্ণভক্ত যে হয়,সে সকলকেই প্রণাম করে। শিখাসূত্র ঘুচিয়ে লাভ হয় এই যে,কাউকেও প্রণাম করতে হয় না, সকলের প্রণাম গ্রহণ করা হয়। তখন মহাপ্রভু বললেন, আমি সন্ন‍্যাসী এ-কথা আপনাকে কে বলল?আপনি আমাকে কৃপা করে কৃষ্ণপ্রেম দান করুন।*
*🌷সন্ন‍্যাসী করিয়া জ্ঞান ছাড় মোর প্রতি।*
*🌷কৃপা কর যেন মোর কৃষ্ণে হয় মতি।।চৈঃভাঃ।।*
*🙏মহাপ্রভু আবার বিনীতভাবে বললেন=*
*🌷----মোর এক আছে মনোরথ।*
*🌷তোমার মুখেতে শুনিবাঙ ভাগবত।।*
*🍀সার্বভৌম জিজ্ঞাসিলেন=*
*🌷বল দেখি তোমার সন্দেহ কোন স্থানে।*
*🌷আছে তাহা যথাশক্তি করিব বাখানে।।*
*🌹শ্রীমন্মহাপ্রভু তখন তাঁকে "আত্মারামাশ্চ মনয়ে" ইত্যাদি শ্লোকের অর্থ বলতে বললেন, সার্বভৌম ভাগবতের এই প্রসিদ্ধ শ্লোকের তের রকম ব‍্যাখ‍্যা করলেন। তখন=*
*🌷ঈষৎ হাসিয়া গৌরচন্দ্র প্রভু কয়।*
*🌷যত বাখানিলে তুমি সব সত‍্য হয়।।*
*🌷এবে শুন আমি কিছু করিয়ে ব‍্যাখান।*
*🌷বুঝ দেখি বিচারিয়া হয় কি প্রমাণ।।চৈঃভাঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ সার্বভৌম যে তের প্রকার ব‍্যাখ‍্যা করেছিলেন, তার পরেও শ্রীচৈতন‍্যদেব আরও অনেক রকম ব‍্যাখ‍্যা করে সার্বভৌমকে স্তম্ভিত করলেন। ইহা হতেই বুঝা যায় যে,নিমাই পন্ডিত শুধু কলাপ ব‍্যাকরণে পন্ডিত ছিলেন না, তিনি নানা শাস্ত্রে অসাধারণ পান্ডিত‍্য লাভ করেছিলেন।*
*🌺জয়ানন্দের চৈতন‍্যমঙ্গলে আছে=*
*গৌরাঙ্গ সুন্দর, পঢ়ে নিরন্তর,*
          *ভোট কম্বলে বসিঞা।*
*কলাপে আলাপ, করয়ে প্রলাপ,*
             *ঈষৎ হাসিয়া।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*সটীক ব‍্যাস বৈ, কাব‍্য অলঙ্কার,*
      *নাটক তর্ক সাহিত‍্যে।*
*না দেখি না শুনি, বেদশাস্ত্র বাখানি,*
      *সভা মোহে কবিত্বে।।*
*🌹মহাপ্রভু দক্ষিণাপথে বৃদ্ধকাশী দর্শন করে যখন এক গ্রামে আসিলেন,তখন ব্রাহ্মণগণের সঙ্গে শাস্ত্র বিচারে শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর পারদর্শিতা সপ্রমাণ করেছিলেন=*
*🌷তার্কিক মীমাংসক মায়াবাদীগণ।*
*🌷সাংখ‍্য পাতঞ্জল স্মৃতি পুরাণ আগম।।*
*🌷নিজ নিজ শাস্ত্রোদগ্রাহে সবাই প্রচণ্ড।*
*🌷সর্বমত দূষি প্রভু করে খন্ড খন্ড।।চৈঃচঃমঃ।।*
*🍀মহাপ্রভুর পান্ডিত‍্যের কথা শুনে পাষন্ডীরা আসিল।পাষন্ডী অর্থে বৌদ্ধ নাস্তিক প্রভৃতি বুঝাত।মহাপন্ডিত বৌদ্ধাচার্য‍্য স্বয়ং এসে তর্কে রত হলেন। সুতরাং ভক্তির দোহাই দিয়ে ইঁনাকে নিরস্ত করা সম্ভব হল না।*
*🌷তর্কপ্রধান বৌদ্ধশাস্ত্র নবমতে।*
*🌷তর্কেই খন্ডিল প্রভু না পারে স্থাপিতে।।*
*🌷বৌদ্ধাচার্য‍্য নব নব প্রশ্ন উঠাইল।*
*🌷দৃঢ় যুক্তি তর্কে প্রভু খন্ড খন্ড কৈল।।ঐ ঐ।।*
*🌻গোবিন্দ দাসের কড়চার প্রমাণও এই প্রসঙ্গে উদ্ধৃত করা যেতে পারে।কড়চাকে অনেকে প্রামাণ্য বলে স্বীকার করেন না। কিন্তু অধ‍্যাপক সুশীল কুমার দে কড়চা হতে যখন প্রমাণ উদ্ধৃত করেছেন, তখন আমরাও তাঁর অনুসরণ করে দেখাব যে গোবিন্দ দাসের প্রমাণ অনুসারেওমহাপ্রভু একজন অসামান্য পন্ডিত ছিলেন।তিনিও শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর মত নানা জায়গায় শাস্ত্রবিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।দাক্ষিণাত‍্য-ভ্রমণে মহাপ্রভুর উদ্দেশ্য ছিল সকলকে হরিনাম লওয়াতে। যাঁরা তাঁর প্রেমাশ্রু দেখে গলে যেতেন,তাঁদেরকে সহজেই নিজ মতে নিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যারা তার্কিক,মায়াবাদী বা নাস্তিক তাঁদের সঙ্গে বিচার করতে হত। গোবিন্দ দাস লিখেছেন যে =*
*🌷কখন তামিল বুলি বলে গোরারায়।*
*🌷কভু বা সংস্কৃত বলি শ্রোতারে মাতায়।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds