শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

 🔙 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 চতুর্থ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৪১. ত্রিবিক্রম বেশ 🏹 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ত্রিবিক্রম বেশ:-
জগন্নাথ সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয়, জগন্নাথ ত্রিলোকস্বামী। তিনি সাক্ষাৎ নারায়ণের ত্রিবিক্রম মূর্তি। স্বর্গলোক, মর্ত্যলোক ও পাতাললোকের পালনকর্তা স্বয়ং জগন্নাথ। প্রতিটি জীব ও জড় তাঁর আপন। তিনিই চেতন

 রূপে জীব, অচেতন রূপে জড়। জগৎ তাঁর চৈতন্যে চেতনা অর্জন করে। এই ধারণা থেকেই এসেছে জগন্নাথের ত্রিবিক্রম বেশ। জগন্নাথের ত্রিবিক্রম বেশ অনুষ্ঠিত হয় কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে। এই তিথিতে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের শিরে সোনার মুকুট পরানো হয়। তাঁদের কানে সোনার কুণ্ডল, মাথায় সোনার চন্দ্রসূর্য, গলায় সোনার কদম্ব অলংকারে সজ্জিত করা হয়। জগন্নাথ ও বলভদ্র সোনার তিলক ধারণ করেন। জগন্নাথ ও বলভদ্র ত্রিবিক্রম বেশ শৃঙ্গারের সময় সোনার হস্ত-পদ ব্যবহার করেন। বলভদ্র ও জগন্নাথ দুই হাতে যথাক্রমে মুষল-হল ও শঙ্খ-চক্র ধারণ করেন। কথিত জগন্নাথের বিশিষ্ট ভক্ত রামজয়ন্তী দাস জগন্নাথের ত্রিবিক্রম বেশ প্রবর্তন করেছিলেন। জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের মাথার মুকুটের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অলংকারে শোলা, বেত ও কচি বাঁশের সাহায্যে নক্‌শা সাজানো হয়। এছাড়াও পাটের কাপড় ও ফুলের সজ্জায় জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরাম ত্রিবিক্রম বেশে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন। জগন্নাথের ত্রিবিক্রম বেশ বীর ভাবের উদ্রেক করে। তাঁর এই বেশ ভক্তদের অহংকার নাশ করে। সাধারণ মানুষ বুঝতে শেখে, অনন্ত জ্যোতিঃসমুদ্রে বিরাজমান বিরাট পরমপুরুষের তুলনায় সে বড়ই নগন্য। আর সেই বিরাটের সামনে অহংকার করার মতো কিছুই নেই।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৪২. লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশ  🏹 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশ:-
জগন্নাথদেব সাক্ষাৎ নৃসিংহ। সত্যযুগে বিষ্ণুর চতুর্থ ও শেষ অবতার নৃসিংহদেব। প্রহ্লাদের আহ্লাদের জন্য ও হিরণ্যকশপুর মুক্তির জন্য নারায়ণ নৃসিংহ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন জগন্নাথের বিগ্রহ ও মন্দির নির্মাণের আগে নৃসিংহদেবের দর্শন পেয়েছিলেন। স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মা রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে নৃসিংহমন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন। রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন নৃসিংহ দেবতার কৃপায় সহস্র অশ্বমেধ যজ্ঞের পর মহাসমুদ্রে ভেসে আসা শঙ্খ-চক্র চিহ্নিত নিমদারু পেয়েছিলেন। এর পরেই সেই নিমদারু দিয়ে তিনি নিরাকার বিষ্ণুর সাকার বিগ্রহ তৈরি করান। নৃসিংহ উগ্ৰরূপ শুধু নন, তিনি ভক্তবৎসল। কায়মনোচিত্তবাক্যে যে ভক্ত তাঁর শরণাগত হন, নৃসিংহদেব সেই ভক্তের সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। ভক্তের ভালোবাসা ছাড়া তিনি আর কিছু চান না। নৃসিংহদেবের কৃপায় ভক্তের জগন্নাথলাভ হয়। অর্থাৎ মোক্ষলাভ হয়। জগন্নাথ সংস্কৃতিতে জগন্নাথকে সাক্ষাৎ নৃসিংহরূপে ভজনার রীতিও রয়েছে। ওড়িশায় জগন্নাথ-নৃসিংহ মিলিত বিগ্রহও রয়েছে। জগন্নাথকে বলা হয় পুরুষসিংহ। মনরূপ মত্ত হস্তিকে পুরুষসিংহ জগন্নাথ সংযত করতে সাহায্য করেন।

কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে জগন্নাথ লক্ষ্মী-নৃসিংহ রূপে শৃঙ্গার করেন। জগন্নাথের লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশটি ডালিকিয়া বেশ নামেও পরিচিত। লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশ অলঙ্করণ খুবই ইঙ্গিত দেয় যে, জগন্নাথের সমৃদ্ধশালী, ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে জগন্নাথ মন্দিরে প্রাচীন সময় থেকেই যথাযথ স্বীকৃতি ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশ শৃঙ্গারে জগন্নাথ ও বলভদ্রের মাথায় যে চূড়া পরানো হয় তার গড়ন দেখতে অনেকাংশে শিল্পশৈলীগত সিংহের কেশরের মতো। এই বেশে জগন্নাথ ও বলভদ্রকে চূড়াফণী ও অজস্র স্বর্ণালংকার পরানো হয়। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মাথায় সোনার চন্দ্র-সূর্য, কানে কুণ্ডল, তাদাদি পরানো হয়। জগন্নাথ ও বলভদ্র এই দিনে সোনার হস্ত-পদ ধারণ করেন। জগন্নাথের ডান হাতে চক্র ও বাম হাতে শঙ্খ থাকে। বলভদ্রের ডান হাতে মুষল ও বাম হাতে হল দেখা যায়। ফুলের মুকুট, পদ্ম সহ বিভিন্ন ফুলের মালা, তুলসীর মালা, সোনার কদম্ব ও কমলে শ্রীবিগ্রহ সেজে ওঠে। কথিত জগন্নাথের লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশ দর্শন করলে ভক্তদের সমস্ত পার্থিব ভয় বিনষ্ট হয়ে যায়।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
৪৩. শ্রাদ্ধ বেশ  🏹 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html
══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রাদ্ধ বেশ:-
জগন্নাথ সমগ্র বিশ্বের পিতা। বিশ্বের প্রতিটি মানুষের ক্রন্দনধ্বনি তাঁকে কাঁদায়, প্রতিটি মানুষের হাসিমুখ তাঁকে আরও আনন্দময় করে তোলে। তিনি তাঁর সমস্ত সন্তানের তদ্ভাবরঞ্জিত হতে ভালোবাসেন। তিনি আদর্শ পিতার মতো শাসন করেন, আবার স্নেহে ভরিয়ে দেন। তিনি যেমন আদর্শ পিতা, তেমনই তিনি আদর্শ পুত্রও। সৃষ্টির কল্যাণে তিনি মানবশরীর ধারণ করেছিলেন ত্রেতা ও দ্বাপর যুগে। তিনি রামচন্দ্র, তিনিই কৃষ্ণচন্দ্র। জগন্নাথই পুত্ররূপে পিতার মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন অযোধ্যারাজ দশরথকে, ব্রজরাজ নন্দকে ও যদুপতি বসুদেবকে। পিতৃঋণ জনমে শেষ করা যায় না। জগন্নাথ দশরথ, নন্দ ও বসুদেবের কাছে চিরঋণী রয়েছেন। জগন্নাথ এখনও প্রতি বছর নির্দিষ্ট তিথিতে পিতৃঋণ শোধ করে চলেছেন। তিনজন পিতার জন্য তিনদিনে পিতৃঋণ শোধের সময় জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা শ্রাদ্ধ বেশ পরিধান করেন।

জগন্নাথ ত্রেতা যুগে অযোধ্যার সূর্যবংশীয় মহারাজ দশরথের প্রথম পুত্র সন্তান রামচন্দ্র রূপে মাতা কৌশল্যার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দশরথ রামচন্দ্রকে স্নেহে ভরিয়ে তুলেছিলেন। মহারাজ দশরথ রামচন্দ্রকেই অযোধ্যার যোগ্যতম উত্তরপুরুষ নির্বাচন করেছিলেন। রামচন্দ্রও ছিলেন পিতার যথার্থ অনুগামী। পিতার আজ্ঞা তাঁর কাছে ছিল অলঙ্ঘনীয়, বেদবাক্যের সমান। পিতৃসত্য পালনের জন্য রামচন্দ্র রূপে রাজকীয় সমস্ত সুখ, সমৃদ্ধি, বৈভব, বিলাসবহুল জীবন বর্জন করে সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর মতো বনবাসী জীবন বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর সহযাত্রী হয়েছিলেন অনন্তাবতার বলরামের পূর্বরূপ রামানুজ লক্ষ্মণ ও জগন্নাথের শক্তি সীতা দেবী। জগন্নাথ তাঁর পূর্বপিতার স্মরণে প্রথমদিন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জগন্নাথ দ্বাপর যুগে মথুরার রাজা কংসের কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের অষ্টম পুত্র কৃষ্ণ রূপে জন্মগ্রহণ করেন। দেবকী দেবীর সপ্তম গর্ভের সন্তান গর্ভেই নষ্ট হয়ে যায়। কথিত দৈব পরিকল্পনা অনুযায়ী দেবকীর সেই সন্তান বিষ্ণুর নির্দেশে দেবী যোগমায়ার মাধ্যমে উপ্ত হয়েছিল বসুদেবের অপর স্ত্রী দেবী রোহিণীর গর্ভে। সেই পুত্রই বলভদ্র। এছাড়া দেবী যোগমায়াও জন্মগ্রহণ করেন নন্দরাজের গৃহে। কৃষ্ণের জন্মের আগে বাসুদেব ও নন্দ শলা পরামর্শ করেছিলেন, বসুদেবের অষ্টম পুত্র হবেন কংসের হত্যাকারী, তাই যে কোনো প্রকারে এই পুত্রকে রক্ষা করতে হবে। নন্দরাজ বসুদেবকে আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁর ঘরে যে সন্তানই জন্মাবে তার সঙ্গে বসুদেবের সন্তান বদলে নেবেন তিনি। দৈবনির্দিষ্ট সময়ে দেবকীর কোল আলো করে কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। এরপরেই নবমী তিথিতে দেবী যোগমায়াও মাতা যশোমতীর কোল আলো করে কন্যারূপে আবির্ভূত হন। সত্যবদ্ধ নন্দরাজ নিজের সদ্যজাত কন্যাকে স্ত্রীর অজ্ঞাতেই বসুদেবের হাতে তুলে দেন এবং বসুদেবের অষ্টম পুত্রকে রক্ষার দায় গ্রহণ করেন। এরপর থেকে কৃষ্ণ ও বলরামকে নন্দরাজ নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছিলেন। কৃষ্ণ ও বলরাম বড় হয়ে তাঁদের প্রকৃত পরিচয় জানতে পারেন। পরবর্তীতে কৃষ্ণ ও বলরাম নন্দরাজ-যশোমতী ও বসুদেব-দেবকী অর্থাৎ তাঁদের পালক পিতা-মাতা ও জন্মদাতা পিতা-মাতার প্রতি সমস্ত কর্তব্য পালন করেছিলেন। জগন্নাথ তাঁর পূর্বপিতাদ্বয়ের জন্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। বলরামও জগন্নাথকে অনুসরণ করে একইভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁদের পিতৃপুরুষের প্রতি।

মার্গশীর্ষ (অগ্রহায়ণ) মাসে শ্রীমন্দিরে দেবদীপাবলী পালিত হয়। অজস্র আলোময় প্রদীপে শ্রীমন্দিরে চারধার সেজে ওঠে। মার্গশীষের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী, অমাবস্যা ও শুক্লপক্ষের প্রতিপদ এই তিনদিনে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা শ্রাদ্ধ বেশ পরেন। সাদা রঙের আঠারো হাত লম্বা চার হাত চওড়া কাপড় পরেন জগন্নাথ। পিতৃপুরুষের প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশই শ্রাদ্ধ। শ্রাদ্ধ বাহ্যিক উপকরণের চেয়ে অন্তরের উপকরণে সমৃদ্ধ হয়। শ্রাদ্ধে বৈভবের কোনো গুরুত্ব নেই। তাই শ্রাদ্ধ বেশে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের সজ্জায় সেভাবে কোনো অতিরিক্ত জৌলুস থাকে না। অলংকারের বাহুল্যও দেখা যায় না। জগন্নাথ ও বলভদ্র ধুতি ও চাদরে সাজেন। সুভদ্রা দেবী সাজেন সাজা শাড়িতে। রত্নসিংহাসনের দেবতাদের সাদা কাপড়ের পারের অংশের জন্য কয়েকটি রঙ নির্ধারিত রয়েছে, তার মধ্যে কালো, নীল, সবুজ, লাল উল্লেখযোগ্য। শ্রাদ্ধ বেশ শৃঙ্গারে জগন্নাথ ও বলভদ্রের মাথায় কোনো মুকুট থাকে না। তাঁদের মাথা ও কান সাদা কাপড়ে ঢাকা থাকে। বড় ওড়িআ মঠ থেকে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের জন্য যাবতীয় সামগ্রী পাঠানো হয়। এটি এখানের পরম্পরা। শ্রাদ্ধ বেশে দেবতারা শুধুমাত্র ফুলের মালা প্রভৃতির শৃঙ্গার করেন।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৪. সেনাপটা বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
সেনাপটা বেশ:-
জগন্নাথ ও বলদেব সেনাপটা (সোনপটা বা সেনপটাও বলে অনেকে) বেশ বহুল আলোচিত নয়। সেনাপটা প্রকৃতপক্ষে পৃথক দারু নির্মিত উপকরণ। জগন্নাথ ও বলভদ্রের মাথায় অনেকটা ঝুঁটি বা শিখার মতো দেখতে। সেনাপটা অনেকটা অর্ধবৃত্তকারে বিগ্রহের মাথা ও কোমড়ে যুক্ত থাকে। দেববিগ্রহের অঙ্গে সারাবছর থাকে না। সেনাপটার কিছুটা অংশ দেখা যায় জগন্নাথের স্নানযাত্রা ও রথযাত্রার সময়ে। তবে উভয় সময়েই সেনাপটা নরম সুতির বা পাটের কাপড়ে ঢাকা থাকে। দীর্ঘদিন শ্রীবিগ্রহের অঙ্গে সেনাপটা যুক্ত থাকায় এর গুরুত্ব অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার আগেরদিন জগন্নাথের শ্রীঅঙ্গে সেনাপটা লাগানো হয়। শ্রীমন্দিরের অভ্যন্তরে গুপ্ত রীতিতে সেদিনের যাবতীয় আচার-আচরণ সামাল দেন সেবকগণ। সাধারণ ভক্তেরা এই দৃশ্য দেখতে পান না। এর ছবি আজ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। বলরাম ও জগন্নাথের সেনাপটা বেশে বেশি বৈচিত্র্য নেই।

জগন্নাথের সেনাপটার পিছনে একটি কিংবদন্তি রয়েছে। জগন্নাথের বিখ্যাত ভক্ত মাধব দাসের সঙ্গে জগন্নাথ ও বলভদ্র সখ্যভাবে মেলামেশা করতেন। চপল বন্ধুসুলভ অত্যাচারে মাধব দাসকে মাঝে মাঝে বিরক্তও করতেন জগন্নাথ। মাধব দাস হয়ে উঠেছিলেন জগন্নাথের নিত্যলীলা সহচর। মাধব দাসের সঙ্গে জগন্নাথ ও বলভদ্র দুভাই বিচিত্র বিচিত্র লীলায় মাততেন। এমনই একদিন তাঁরা দুভাই মিলে মাধব দাসকে স্থানীয় একটি বাগানে নিয়ে আসেন। তখন বর্ষাকাল বাগানের কাঁঠাল গাছে কাঁঠাল পেঁকে বাগান মাতিয়ে রেখেছে। হঠাৎ জগন্নাথ মাধব দাসের কাছে কাঁঠাল খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। কিন্তু জগন্নাথ জানান, তাঁর ও বলভদ্রের শরীর স্থূল। এই বপুতে গাছে ওঠা দুঃসাধ্য। অতএব মাধব দাসকেই গাছে উঠে কাঁঠাল নামাতে হবে। মাধব দাস আর কি করে। তিনি জানেন জগন্নাথ ও বলভদ্র যা বলেছেন তা না পাওয়া পর্যন্ত থামবেন না। মাধব দাস কাঁঠাল গাছে উঠে কাঁঠাল নামাতে রাজি হলেন। জগন্নাথ ও বলভদ্র একের পর এক গাছে মাধব দাসকে উঠতে বলেন, মাধব দাস গাছে ওঠার পর তাঁরা বলেন এই গাছ নয় অন্য গাছের কাঁঠাল খাবেন। এভাবে মাধব দাস একটি একটি করে অনেকগুলি গাছে উঠলেন আর নামলেন। মাধব দাস তাঁর হৃদয়বন্ধু জগন্নাথের এমন আচরণে অস্থির হয়ে উঠলেও জগন্নাথের অনুরোধে শেষবারের মতো তিনি আর একটি কাঁঠাল গাছে ওঠেন। কিন্তু কাঁঠাল নামানোর সময় জগন্নাথ ও বলভদ্র কাঁঠাল ধরতে রাজি হলেও কাঁঠাল ধরার আগে অদৃশ্য হয়ে যান। গাছের থেকে বড় মাপের কাঁঠাল টি মাটিতে পড়তেই ধুপ করে শব্দ হয়। শব্দ পেয়ে বাগানের রক্ষক ছুটে এসে দেখেন মাধব দাস কাঁঠাল পারছেন। সেই সময় মাধব দাসকে পুরীবাসী সকলেই চিনতেন। সবাই জানতেন মাধব দাস জগন্নাথের সঙ্গে বিচরণ করেন। স্বাভাবিকভাবেই মাধব দাসকে দেখে বাগানের রক্ষক চুপ করে যান। উল্টে অনুরোধ করেন, এরপর কাঁঠাল লাগলে মাধব দাস যেন তাকে নির্দেশ দেন। মাধব দাস বলেন, তিনি নিজের জন্য কাঁঠাল নামাতে আসেননি, জগন্নাথ ও বলভদ্র তাঁকে এমন কাজ করিয়েছেন। বাগান রক্ষক আর কি বলবেন! এমনভাবে আর একদিন আবার মাধব দাসকে জগন্নাথ ও বলভদ্র কাঁঠাল গাছে উঠিয়েছেন। সেদিনও এই গাছ সেই গাছ করে তাঁকে দুই ভাই মিলে অস্থির করে তুলেছেন। গাছে উঠতে নামতে অনেক গাছেই পাতা ইত্যাদি খসে গাছ বেয়ে কষ বা আঠা নেমেছে। কিন্তু জগন্নাথের লীলায় বাগানের রক্ষক কিছুই টের পাননি। বাগানের রক্ষক দুপুরবেলা একটি গাছে হেলান দিয়ে বসে ঘুমোচ্ছিলেন। আগের দিনের মতো হঠাৎ কাঁঠাল পড়ার শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং দৌড়ে গিয়ে চোর ধরার সময় তিনি দেখেন তার সাজের শিখা কাঁঠাল গাছের আঠায় লেগে গাছের সঙ্গে আটকে গেছে। এই আকস্মিক ঘটনায় তার শিখায় খুব জোরে টান লাগে, তার ব্যথা হয়। রাগে গজগজ করে তার মুখ দিয়ে অভিশাপ বেরিয়ে আসে, যার কারণে এভাবে তার চুলের শিখায় আঠা লাগায় তার এত ব্যথা লাগলো, যেন সেই ব্যক্তিরও এভাবে শিখায় টান দেওয়া হয়। জগন্নাথ ও বলভদ্র সেই অভিশাপ গ্রহণ করেন।

শ্রীমন্দিরে পরবর্তী সময়ে তুলোর গদির ওপর দিয়ে জগন্নাথের চলাচলের পাহণ্ডি রীতি বন্ধ হয়ে যায় এবং চালু হয় সেনাপটা রীতি (নীতি)। এখনও জগন্নাথ যখন শ্রীমন্দির থেকে বাইরে এসে স্নানমঞ্চে বা রথে ওঠেন তখন সেবকরা জগন্নাথের মাথার সেনাপটা ধরে তাঁকে দুলে দুলে এগিয়ে নিয়ে চলেন। জগন্নাথের সেনাপটা বেশ ভক্ত-ভগবানের বৈচিত্র্যময় লীলাসমূহের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে রয়েছে।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৫. চাচেরি বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
চাচেরি বেশ:-
ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথি থেকে চতুর্দশী তিথি পর্যন্ত মোট পাঁচদিন শ্রীমন্দিরের আরাধ্য জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা মধ্যাহ্নকালীন ভোগরাগের সমাপ্তির পরে লাল রঙের চাচেরি বেশ শৃঙ্গারে সাজেন। রূপোর পাত্রে শীতল চন্দন শ্রীবিগ্রহের অঙ্গে লেপন করা হয়। জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলরাম ও সুদর্শন বিগ্রহ চাচেরি বেশভূষায় সজ্জিত করার উপকরণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কড়া লাল (অনেকাংশে বেনারসীর পাকা লাল) রঙের রেশমী ধুতি, লাল রঙের শ্রীমুখ বালা, লাল উত্তরীয়, আডাকানী ও নালিভূজা প্রভৃতি। চাচেরি বেশে জগন্নাথ সহ চতুর্ধা বিগ্রহ সজ্জিত হলে জগন্নাথের শক্তিদেবী শ্রীদেবী ও ভূদেবীকে মহাজন সেবকরা সুসজ্জিত খাটে (এক ধরনের আসনই) নিয়ে বসান। জগন্নাথের দোলপূর্ণিমার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি দেবতা দোলগোবিন্দের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। সকলেই চাচেরি বেশ পরে তৈরি থাকেন। এরপর তাঁদের দিব্য ভোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভোগরাগের শেষে তাঁদের আবার রত্নসিংহাসনের বসানো হয়। এরপর শুরু হয় ফাগুলাগীর অনুষ্ঠান। এমন চলে প্রায় দোলযাত্রা পর্যন্ত‌। এছাড়াও কিছু গুহ্যাতিগুহ্য পদ্ধতিতে জগন্নাথের পূজা চলতে থাকে।

জগন্নাথের চাচেরি বেশের সময় তাঁদের প্রত্যেকের ব্যবহৃত সাজসজ্জার প্রধান রঙ লাল। লাল বসন্তের অন্যতম প্রধান রঙ। প্রকৃতি বসন্তবন্দনা করেন লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের মেলায়। জগন্নাথ সময় অনুসারে সাজেন, তাই রঙ যখন প্রকৃতিকে রাঙায় তখন জগন্নাথও রাঙা রঙে রঙিন হতে ভালোবাসেন। চাচেরি বেশে নতুন কাপড়ের সঙ্গে প্রায় ত্রিশ রকমের অলংকারে জগন্নাথ আরও দিব্যতনুধর হয়ে ওঠেন।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৬. চন্দনলাগী বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
চন্দনলাগী বেশ:-
জগন্নাথ ঋতু অনুযায়ী যে কয়েকটি বেশে শৃঙ্গার করেন তার মধ্যে প্রথম চন্দনলাগী বেশ। মৃদু সুগন্ধযুক্ত চন্দন কাঠ জলে ভিজিয়ে পাথরের পাটায় ঘষতে ঘষতে মিহি চন্দনের কাঁদ তৈরি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি ঘরেই প্রায় অনুরূপে চন্দন তৈরি করার রীতি রয়েছে। শ্রীক্ষেত্রের শ্রীমন্দিরে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের জন্য তৈরি করা চন্দন রূপোর সুন্দর বাটিতে তুলে রাখা হয়। জলের সঙ্গে চন্দনের কাঠের মিহি মিশ্রণটি সুশীতল। চন্দন তৈরির সময় খেয়াল রাখা হয় তা যেন অতিরিক্ত পাতলা না হয়। সঠিকভাবে ঘর্ষণ না হলে চন্দন কাঠের সূক্ষ্ম দানা থেকে যায়, দেবতার জন্য তৈরি করা চন্দনের যেন দানা না থাকে সেই দিকে খেয়াল রাখা হয়।

শ্রীমন্দিরে চন্দনযাত্রা দুই ধরনের। প্রথমটি শ্রীমন্দিরের বাইরে অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। জগন্নাথের প্রতিনিধি দেবতা মদনমোহন শ্রীদেবী ও ভূদেবীর সঙ্গে চন্দনযাত্রা করেন। তাঁদের সঙ্গে যান অষ্টধাতুর রাম ও কৃষ্ণ। দ্বিতীয়টির আয়োজন হয় শ্রীমন্দিরের ভেতরে। তখন জগন্নাথ স্বয়ং এই চন্দনলাগী উৎসবের কেন্দ্রীয় আকর্ষণ। এই দুই প্রকার চন্দনযাত্রা বা চন্দনলাগী অনুষ্ঠানই একুশ দিন করে অনুষ্ঠিত হয়। মোট বিয়াল্লিশ দিন জগন্নাথ এভাবে চন্দনসেবা গ্রহণ করেন। বৈশাখের পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠের পূর্ণিমা পর্যন্ত চন্দনযাত্রা বা চন্দনলাগী অনুষ্ঠান হয়। শ্রীমন্দিরে চন্দনলাগী বেশ অনুষ্ঠিত হয় জ্যৈষ্ঠের কৃষ্ণপক্ষের নবমী থেকে জ্যৈষ্ঠের পূর্ণিমা পর্যন্ত।

চন্দনলাগী বেশ অনুষ্ঠানের সময় জগন্নাথাদি দেবতার শরীরে মিহি সুগন্ধযুক্ত চন্দনের প্রলেপ দেওয়া হয়। জগন্নাথের মাথা ও হাতে চন্দনের পুরু প্রলেপ দেওয়া হয়। এছাড়াও পেটের ওপরের অংশে চন্দনের ঘন প্রলেপ দেওয়া হয়। শোনা যায়, জগন্নাথের চন্দনবেশের সময় বিগ্রহের শীতলতা ভক্তরা অনুভব করতে পারেন। গরমের সময় দেবতাদের শরীর ঠাণ্ডা রাখার জন্য পরানো হয় গরমের উপযোগী কাপড়। চন্দনলাগী অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়, এই সময় দেবতাগণ প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন রঙের কাপড় পরেন। জগন্নাথের ভোগেও এমন কিছু বিশেষ উপাদানের আয়োজন থাকে, যা ভক্ষণে বাস্তবিকই গরমের হাত থেকে খানিকটা নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। বিশ্বাস করা হয়, জগন্নাথ পরমপুরুষ পরমাত্মা, তাঁর আবার গরম কী, ঠাণ্ডা কী? তবু ভক্তরা নিজস্ব ভাবে তাঁদের প্রভুকে দেখেন। যখন প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের দাবদাহ চলছে তখন নিশ্চয়ই প্রভুরও গরমে কষ্ট হচ্ছে, এই একটি ভাবনা এর পিছনে কাজ করে। চন্দনলাগী অনুষ্ঠানের সময় জগন্নাথকে লাল ও সাদা রঙের পদ্মের মালায় সাজতে দেখা যায়। সাদা, হলুদ সহ বিভিন্ন স্নিগ্ধ বর্ণের ফুলে জগন্নাথ এই সময়ে সাজেন। বাস্তবিকই শ্রীমন্দিরে অভ্যন্তরে চন্দনলাগী অনুষ্ঠানের সময় প্রকৃতির তাপ কম অনুভূত হয়। জগন্নাথের চন্দনলাগী অনুষ্ঠানের প্রসাদী চন্দন তাঁর ভক্তেরা অনেকেই পেয়েছেন। জগন্নাথের স্পর্শধন্য চন্দনের মাহাত্ম্য ভক্তদের কাছে অনেক। শুনেছি চন্দনলাগী বেশের প্রসাদী চন্দন অনেকে কবচের মতো ধারণ করেন, অনেকে শুভ কাজে যাওয়ার আগে পরম শ্রদ্ধায় নিজের মাথায় প্রসাদী চন্দনের বিন্দু এঁকে নেন। অনেক মানুষই জগন্নাথের চন্দনবেশের প্রসাদী চন্দন ঘরে এনে পবিত্র স্থানে সংরক্ষণ করে প্রতিদিন জগন্নাথের আশীর্বাদ অনুভব করেন। আরও একটি তথ্য এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন রয়েছে, জগন্নাথের চন্দনলাগী অনুষ্ঠানের সময় কবি জয়দেব গোস্বামীর পদ প্রায় প্রতিদিনই শ্রীমন্দিরে গীত হয় :

চন্দনচর্চিত নীলকলেবর পীতবসন বনমালিন্৷
কেলিচলন্মণি কুণ্ডলমণ্ডিত গণ্ডযুগ স্মিতশালিন্৷৷
চন্দ্রকচারু ময়ূরশিখণ্ডক মণ্ডল বলয়িত কেশম্৷
প্রচুর পুরন্দর ধনুরনুরঞ্জিত মেদুরমুদির সুবেশম্৷৷
সঞ্চরদধর সুধা মধুর ধ্বনি মুখরিত মোহন বংশম৷
বলিত দৃগঞ্চল চঞ্চল মৌলি কপোল বিলোল বতংসম্৷৷
হারমমলতর তারমুরসি দধতং পরিরভ্য বিদূরম্৷
স্ফুটতর ফেন কদম্ব করম্বিতমিব যমুনা জল পূরম্৷৷
শ্যামল মৃদুল কলেবর মণ্ডলমধিগত গৌর দুকূলম্৷
নীল নলিনমিবপীত পরাগ পটল ভর বলয়িত মূলম্৷৷
বদনকমল পরিশীলন মিলিত মিহির সম কণ্ডল শোভম্৷
বন্ধুজীব মধুরাধর পল্লব মুল্লসিত স্মিত শোভম্৷৷
বিশদকদম্বতলে মিলিতং কলিকলুষ ভয়ং শময়ন্তম্৷
করচরণোরসি মণিগণভূষণ কিরণ বিভিন্ন তমিস্রম্৷৷
শশি কিরণোচ্ছুরিতোধর জলধর সুন্দর সকুসুম কেশম্৷
তিমিরোদিত বিধুমণ্ডল নির্মল মলয়জ তিলক নিবেশম্৷৷

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৭. ঘোড়লাগী বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঘোড়লাগী বেশ:-
জগন্নাথ গ্রীষ্মকালে যেমন চন্দনলাগী বেশে শৃঙ্গার করেন, তেমনই তিনি শীতকালে ওড়নষষ্ঠী তিথি থেকে ঘোড়লাগী অনুষ্ঠানেও মাতেন। সোজা ভাষায় বললে, এই ঘোড়লাগী প্রকৃতপক্ষে জগন্নাথের শীতকালীন সাজসজ্জা। প্রকৃতিতে শীত এলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন জগন্নাথেরও শৈত্যপ্রবাহে শীত অনুভূত হচ্ছে। সেই বিশ্বাস থেকেই জগন্নাথের ঘোড়লাগী বেশের আয়োজন করা হয়। জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে শীত ঋতুর শৈত্য থেকে রক্ষা করতে ঘোড়লাগী বেশে তাঁদের সাজানো হয়। ঘোড়লাগী বেশ শৃঙ্গারের সময় জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের শ্রীবিগ্রহের মুখ বাদে প্রায় সর্বাঙ্গ মোটা শীতবস্ত্র দিয়ে সম্পূর্ণ আবৃত করে রাখা হয়।

মার্গশীর্ষ (অগ্রহায়ণ) মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ পৌষ মাস ও মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথি (সরস্বতী পূজা) পর্যন্ত জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের ঘোড়লাগী বেশে সুসজ্জিত থাকেন। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রীপঞ্চমী তিথিতেই জগন্নাথের রথযাত্রার প্রাথমিক উপকরণ অর্থাৎ কাঠগুলি শ্রীমন্দির চত্বরে এসে পৌঁছায়। শ্রীপঞ্চমী শীতশেষে কর্মতৎপরতার প্রারম্ভিক দিন। ঘোড়লাগী বেশ শৃঙ্গারের জন্য নির্দিষ্ট বারের জন্য নির্দিষ্ট রঙের বিধিবিধান রয়েছে। ঘোড়লাগী শৃঙ্গারের সময় রবিবারে টুকটুকে লাল রঙের শীতবস্ত্র, সোমবারে সাদার ওপরে কালো বিন্দু দেওয়া শীতবস্ত্র, মঙ্গলবারে মিশ্র বহুবর্ণ যুক্ত শীতবস্ত্র, বুধবারে হাল্কা নীলচে বা অনেকটা আকাশী রঙের শীতবস্ত্র, গুরুবার বা বৃহস্পতিবারে হলুদ রঙের শীতবস্ত্র, শুক্রবারে সম্পূর্ণ সাদা রঙের শীতবস্ত্র ও শনিবারে কালচে নীল বা বেগুনী রঙের শীতবস্ত্রে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের আপাদমস্তক আবৃত করা হয়। এই শীতবস্ত্রগুলির চারিধারে উজ্জ্বল জরির কাজ করার হয়। অনেকসময় সূক্ষ্ম কারুকার্য খচিত প্রাগুক্ত রঙের শীতবস্ত্রও জগন্নাথের শৃঙ্গারে ব্যবহার করা হয়। এই কাপড়গুলি ওজনে বেশ ভারমুক্ত কিন্তু যথেষ্ট গরম হয়। এই সময় জগন্নাথের শ্রীমন্দিরের পতিতপাবন বিগ্রহ ও সিংহদ্বারে বিরাজমান ভগবতী লক্ষ্মীদেবীকেও ঘোড়লাগী বেশ শৃঙ্গার করানো হয়। ঘোড়লাগী বেশের সময় জগন্নাথ ও বলভদ্র কোনো অস্ত্র ধারণ করেন না। বিগ্রহের সঙ্গে সোনার হস্ত-পদ বা পৃথক কোনো স্বর্ণ মুকুট পরানো হয় না। ঘোড়লাগী শৃঙ্গারের সময় অজস্র ফুলের মালায় জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা সজ্জিত হন। বলরাম ও জগন্নাথের গলায় তুলসীর মালাও পরানো হয়। এই সময়ে গাঁদা ফুল সুলভ হয়। গাঁদা ফুলের দীর্ঘ মালায় জগন্নাথাদি দেবতাদের সাজানো হয়। শীতকালীন বিভিন্ন সাদা ও রঙিন ফুলে জগন্নাথ ও বলভদ্রের হাত থেকে বুক পর্যন্ত মালার সম্ভার দেখা যায়। টোপরের আকৃতিতে বিভিন্ন ফুল ও তুলসীর মালা দিয়ে তৈরি মুকুটে সাজানো হয় রত্নসিংহাসনে বিরাজমান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে। ফুলের নোলকের ব্যবহারও দেখা যায়। সোনার অলংকার ঘোড়লাগী বেশে বাইরে থেকে দেখা যায় না। তবে এই দীর্ঘমেয়াদী বেশের মধ্যে মাত্র কয়েকদিন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মাথায় সোনার চন্দ্র-সূর্য সাজানো হয়। ঘোড়লাগী বেশ শৃঙ্গারের শ্রীমন্দিরের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী অনুষ্ঠান। ঘোড়লাগী বেশ শৃঙ্গারের সময় জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের শরীরের বেশিরভাগ অংশই শীতবস্ত্রের আড়ালে থাকায় এই বেশ ভক্তদের কাছে খুব বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৮. জামালাগী বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
জামালাগী বেশ:-
ভারতে মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ে (ইংরেজি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি) শীতের বাতাবরণ ম্লান হয়ে আসে। এরপর থেকেই ঋতু পরিবর্তন শুরু হয়। মাঘ মাসের শ্রীপঞ্চমীতে বসন্ত ঋতুর আগমনের সূচনা হয়, এমন একটি ধারণা ভারতবর্ষে অনেককাল আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। শ্রীপঞ্চমীর (সরস্বতী পূজা) থেকে দোলপূর্ণিমা (ফাল্গুনী পূর্ণিমা) পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন প্রাচীন মন্দিরে বসন্তের বন্দনা শুরু হয়। মধ্যবর্তী তিথিগুলিতে বিভিন্ন দেবস্থানে ভিন্ন ভিন্ন তিথিতে ফাগ উৎসব বা ফাগু উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রাচীন কৃষ্ণ মন্দিরগুলি ছাড়াও অজস্র শিব মন্দির, শক্তি মন্দিরে ফাগ উৎসবের রীতি রয়েছে। প্রাচীন ভারতের ঋষিদের কাছে শীত কাম্য ঋতু ছিল না। শীত জড়তা আনে, আর জড়তা মৃত্যুর সমতুল। শীতে প্রকৃতির প্রাচূর্য কমে আসে। শীতকে প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যের বৃদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ফাল্গুনী নাটকেও এই ধারণা রয়েছে। তাই ভারতীয় সভ্যতায় শীতের বিদায় লগ্ন থেকেই বসন্ত বরণের এতো আয়োজন। বসন্ত প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের দূত, নতুন প্রাণের সঞ্চারক ঋতু।

বৈচিত্র্যময় জগন্নাথও শীতের বিদায় মুহূর্তে প্রকৃতিমাতার বুকে আসন্ন বসন্তের জয়গানের সময় নববেশে সজ্জিত হন। জগন্নাথের এই সময়ের বেশ শৃঙ্গার মূলত জামালাগী বেশ নামে পরিচিতি পেয়েছে। মাঘের মাঝামাঝি সময় থেকে সমগ্র পূর্ব-ভারতে শীত বিদায় নিতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই পুরীর শ্রীমন্দিরেও শীতের প্রোকোপ কমে আসে। শীত কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে জগন্নাথকে প্রাকৃতিক তাপমাত্রার ও ঋতু পরিবর্তনের সময়ের সঠিক উপযোগী পোশাক পরানো শুরু হয়। এমনিতেও লোকসংস্কার রয়েছে ঋতু পরিবর্তনের সময় শরীরের প্রতি যত্নবান না হলে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ফলে এই সময়ে আরও সাবধানে থাকতে হয়। শীত বিদায় নেওয়ার সময় বেশ কিছুদিন ধরেই তাপমাত্রা ওঠানামা করে। জগন্নাথকে আত্মভাবে সেবার সুযোগ রয়েছে বলেই জগন্নাথের ক্ষেত্রেও এই সমস্ত সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। জগন্নাথের জামালাগী বেশ শৃঙ্গারে যে রকমের পোশাক ব্যবহার করা হয় তা জগন্নাথের শীতকালীন পোশাকের চেয়ে বেশ অনেকটাই পাতলা আবার গ্রীষ্মকালীন পোশাকের চেয়ে অনেকটা মোটা। অর্থাৎ মাঝারি নরম কাপড়কে জগন্নাথের জামালাগী বেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হয়। বসন্তের তারুণ্য পুরীতে ছেড়ে যায় জগন্নাথের জামালাগী বেশের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে। ফাল্গুনের পূর্ণিমা পর্যন্ত জামালাগী বিধির সঙ্গে জগন্নাথের পূজা, সেবা ও ভোগ সংক্রান্ত কয়েকটি গুহ্য পরিবর্তনও নাকি ঘটে।

জামালাগী বেশ শৃঙ্গারের সময় রবিবারে লাল, সোমবারে সাদার ওপরে কালো বিন্দু, মঙ্গলবারে মিশ্র বহুবর্ণ, বুধবারে হাল্কা নীল বা আকাশী, বৃহস্পতিবারে হলুদ, শুক্রবারে সাদা ও শনিবারে কালচে নীল বা বেগুনী রঙের নরম পোশাকে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্র সেজে ওঠেন। জামালাগী বেশেও জগন্নাথ ও বলভদ্র কোনো অস্ত্র ধারণ করেন না। বসন্ত ঋতুর বিভিন্ন ফুলে জগন্নাথ সেজে উঠতে থাকেন। গরম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পদ্ম ফুলও সুলভ হয়। পদ্মের মালায় সাজতে শুরু করেন জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা ও সুদর্শন। মাঘের শুক্লপক্ষের শ্রীপঞ্চমী থেকে ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত রত্নসিংহাসনের দেবতাগণ প্রতিদিন জামালাগী বেশ শৃঙ্গারে ভক্তমন মোহিত করেন। জগন্নাথের জামালাগী বেশকে অনেকেই ঘোড়লাগী বেশের অঙ্গীভূত মনে করেন। কারণ উভয়ের রীতিপদ্ধতির মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৯. মকর চৌরাশী বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
মকর চৌরাশী বেশ:-
পৌষ মাসের শেষ দিন সারা ভারতময় মকর সংক্রান্তি পালিত হয়। সাধারণত ইংরেজি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখেই মকর সংক্রান্তি পড়ে। অধিকাংশ হিন্দু উৎসবই সৌর বর্ষপঞ্জির ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। মকর সংক্রান্তির একটি আদিম মাহাত্ম্য রয়েছে। এই সময়ে ঋতু পরিবর্তনের লগ্নে প্রাকৃতিক অনেকগুলি পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। পরিবেশ ও কৃষিভূমিকে কেন্দ্র করে মকর সংক্রান্তিতে ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, গুজরাট প্রভৃতি রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এই সময় থেকেই ভারতে ধীরে ধীরে দিন বাড়তে থাকে ও রাত কমে আসে। শীতের জড়তাও ধীরে ধীরে মুছে যেতে শুরু করে। ভারতে আবার উত্তাপ বাড়তে থাকে। মকর সংক্রান্তিতে পুরীর শ্রীমন্দিরে আয়োজিত হয় জগন্নাথের উত্তরায়ণ যাত্রা। পৌরাণিক কাহিনীতে রয়েছে, সাক্ষাৎ জগৎ সংসারের সঞ্চালক ভগবান সূর্যদেব মকর সংক্রান্তিতে তাঁর পুত্র শনিদেবের ঘরে আসেন। শনিদেব মকর রাশির অধিপতি দেবতা।

মকর সংক্রান্তিতে পুরীর শ্রীমন্দিরে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্র মকরচৌরাশী বেশ শৃঙ্গার করেন। তাঁরা এই বেশে মাথায় বিশেষ ধরনের মকরচূড়া ধারণ করেন। এই সময় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার জন্য নতুন মিঠে চালের বিভিন্ন পিঠা, পরমান্ন প্রভৃতি নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন স্বাদু ফল, শুকনো ফল (ড্রাই ফ্রুট), ছানা, খোয়াক্ষীর, গুড়, দুধ, নারকেল কোরানো প্রভৃতি পদে জগন্নাথ সেবা গ্রহণ করেন।

মকরচৌরাশী বেশের সময় জগন্নাথ সাধারণ বস্ত্রই পরেন। এই সময় শ্রীমন্দিরে একই সঙ্গে ঘোড়লাগী শৃঙ্গারও চলে। তাই মকরচৌরাশী বেশে তেমন বৈচিত্র্য দেখা যায় না। মকরচৌরাশীতে বিভিন্ন ফুলের সাজে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা, সুদর্শন, শ্রীদেবী, ভূদেবী, নীলমাধবের সাজানো হয়। মালা দিয়ে গোল করে এক ধরনের বিশেষ মুকুটের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও জগন্নাথাদি দেবতাদের মাথায়, নাসায়, বাহুমূলে, বুকে কয়েকটি ফুলের তৈরি অলংকার দেখা যায়। মকরচৌরাশী বেশেও জগন্নাথ ও বলভদ্র বিশেষ কোনো অস্ত্র ধারণ করেন না।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৫০. পুষ্যাভিষেক বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
পুষ্যাভিষেক বেশ:-
স্কন্দপুরাণের বিষ্ণুখণ্ডে পুষ্যাভিষেকের নির্দেশ রয়েছে। বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পৌষ মাসের পুষ্যা নক্ষত্র বিহিত পূর্ণিমা তিথিতে (অনেকসময় পৌষের তিথি মাঘ মাসে প্রসারিত হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে মাঘ মাসের অনুষ্ঠিত হয়) জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের বিশেষ ভাবে রঙিন ফুল ও সুগন্ধি দ্রব্যে বিশেষ অভিষেক করা হয়। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন অনেক দেবমন্দিরে পুষ্যাভিষেক পৌষের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতেও অনুষ্ঠিত হয়। ‘পুষ্যা’ শব্দের সঙ্গে পুষ্টির যোগাযোগ রয়েছে। বৈষ্ণব ভক্তমণ্ডলী বিশ্বাস করেন নববিধা ভক্তির সঠিক পুষ্টিসাধনের জন্য পৌষের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে ভগবানের অভিষেক করলে তিনি তৃপ্ত হন। আগে শীতকালের রঙিন ফুলের প্রাচূর্য দেখা দিত পৌষের শেষ দিকে। এখন বিভিন্ন রকমের জৈব ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে শীতকালীন ফুলও গ্রীষ্মকালে তৈরি করা হয়। প্রাচীন সময়ে কৃষির এই সাফল্য ছিল না। শীতকালে ভারতে ফুলের সংকট দেখা দিত। বিশেষত পদ্ম, শালুক, টগর, শিউলি, নাগলিঙ্গম্, নাগকেশর, জবার মতো সহজলভ্য পূর্ব ভারতীয় ফুলগুলি শীতকালে প্রাকৃতিক উপায়ে এখনও কম ফোটে। প্রাচীন সময়ে এই কারণেই সম্ভবত মাঘ মাসে অনুষ্ঠিত জগন্নাথের পদ্মবেশে শোলা ও রঙিন কাগজের তৈরি পদ্মের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। বঙ্গেও রাসপূর্ণিমার সময় কৃষ্ণের আসন সাজানোর জন্য শোলার তৈরি কদমের ব্যবহার করা হয়। এছাড়া উৎকল ও বঙ্গের অধিকাংশ শুভ অনুষ্ঠানে সুতো বা দড়ি দিয়ে বাঁধা পরিণত আমপাতার তৈরি বনমালার দুটি আমপাতার মাঝখানে শোলার তৈরি কদম ঝোলানোর রেওয়াজ রয়েছে। কদম মূলত বর্ষার ফুল। তাই এর প্রাকৃতিক অভাবের সময় শোলার তৈরি কদমের ব্যবহার শুরু হয়েছে।
ওড়িশায় লোকবিশ্বাস রয়েছে, জগন্নাথের শ্রীমন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শন আদিবিগ্রহ পুষ্যাভিষেকের দিনই প্রথম স্থাপিত হয়েছিল। বলাবাহুল্য এর প্রামাণিক নথিপ্রমাণের অভাব রয়েছে। এর বিশেষ স্মরণোৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে শ্রীমন্দিরে জগন্নাথ-বলভদ্র-সুভদ্রার পুষ্যাভিষেক আয়োজন করা হয়। সকালে দেবতাদের অভিষেকের পর জগন্নাথাদি দেবতাদের রাজকীয় আভিজাত্যময় পোষাক পরানো হয়। এই সময় স্বর্ণ ভাণ্ডার থেকে নিয়ে আসা বিভিন্ন ভারী ভারী সোনার গহনা দিয়ে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের শৃঙ্গার হয়। কুণ্ডল, কবচ, তাগা, নোলক, কোমরবন্ধ, মুকুট প্রভৃতিতে সেজে ওঠেন তাঁরা। পুষ্যাভিষেকের বস্ত্রের নির্দিষ্ট রঙ নেই, বারভিত্তিক রঙের যে প্রকরণ রয়েছে সেই অনুযায়ী তিনি বস্ত্রের রঙ বেছে নেষ। এই সময় বিভিন্ন সুগন্ধি দ্রব্য জগন্নাথকে নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন রঙিন ফুলের মালায় বিগ্রহ সাজানো হয়। ষোড়শ ব্যঞ্জনে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার ভোগ হয়, তারপর আরতি করা হয়। অতিযত্নে বিগ্রহের মাথায় ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের তৈরি রাজছত্র ধরা হয়। এই সময় বিগ্রহের নিত্য পদসেবার রীতিও রয়েছে।

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧










শ্রীরাধাকুণ্ড ও শ্যামকুণ্ড প্রাকট্য 🙇 কার্তিক কৃষ্ণাষ্টমী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/radhashyam.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীরাধাকুণ্ড ও শ্যামকুণ্ড প্রাকট্য 🙇 কার্তিক কৃষ্ণাষ্টমী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/radhashyam.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#শ্রীরাধাকুণ্ড_ও_শ্যামকুণ্ড_প্রাকট্য।*

(#কার্তিক_কৃষ্ণাষ্টমী)

বহুলাষ্টমী বা অহৈয়াষ্টমী নামে পরিচিত এই তিথিতে রাধাকুণ্ডের প্রাকট্যজনিত স্নানযোগ। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ  ভক্ত, সাধকের আগমন হয়, রাধাকুণ্ডে স্নান করার জন্য।
 #কুম্ভমেলার স্নানে অমৃতযোগ থাকে। সে স্বর্গের ন্যায় প্রাকৃত অমৃত। তার এক কণা পাওয়ার লালসায় সকলের সম্মিলিত হয়। 
কিন্তু রাধাকুন্ডের স্নান অপ্রাকৃত প্রেমধনে ধনী হওয়ার জন্য, আনুসঙ্গে মনের কামনাও পূর্ণ হয়ে যায়। তাই কুম্ভস্নান রাধাকুণ্ডের স্নানের সঙ্গে কোন অংশেই তুল্য নয়।

রাধাকুণ্ড ও শ্যামকুণ্ড সম্বন্ধে আলোচনা করতে গেলে প্রথমে অরিষ্টাসুর সম্বন্ধে জানা প্রয়োজন। অরিষ্টাসুর শব্দের অর্থ "বৃষ+অসুর"। শ্রীগর্গ- সংহিতা গ্রন্থে আছে —  রাক্ষসরাজ বলীর পুত্র *#বরতন্তু* গুরু বৃহস্পতির কাছে বিদ্যা গ্রহন করতেন। একদিন পাঠগ্রহণ কালে তিনি গুরুর সামনে পদ প্রসারিত করল। গুরু তা দেখে রেগে বললেন, — "হে দুষ্ট! তুমি বৃষের মত আমার সামনে আচরণ করেছ, অতএব তুমি বৃষ হয়ে যাও।" এই অভিশাপে বরতন্তু বৃষরূপে অসুরত্ব প্রাপ্ত হয়ে অরিষ্টাসুর নামে পরিচিত হয়।

কংস দ্বিগবিজয় কালে সমস্ত অসুরদের পরাস্ত করে তাদের সঙ্গে সন্ধি করে যে, তারা প্রয়োজন অনুমতে  সহায়তা করবেন। সেজন্যই এবার কংস  অরিষ্টাসুরকে আহ্বান করল।
 শাপগ্রস্ত অরিষ্টাসুর কংসের নির্দেশে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণকে হত্যা করতে আসল। অরিষ্টাসুর ব্রজে এসে সখা ও গোগণের মধ্যে গোচারণ লীলায় প্রবেশ করল। অরিষ্টাসুরের মাথায় ছিল খুব ধারালো শিং । সে পায়ের খুর দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে যখন বৃন্দাবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ,তখন বনভূমিতে ভূকম্প হতে লাগলো । অরিষ্ট প্রচন্ড গর্জন করতে করতে লোকালয়ে প্রবেশ করলো । সেই ষাঁড়রূপী অসুরের গর্জন শুনে অনেক গর্ভবতী ব্রজনারী ও গাভীদের গর্ভপাত হল । সেই অসুর যখন বৃন্দাবনে লোকালয়ে প্রবেশ করলো , তখন পশুপাখী , ব্রজবাসীরা যে যেদিকে পারলো পালাতে লাগলো । তার নিষ্ঠুর নিনাদে গোপ-গোপীগণ ভয়ে ত্রস্ত হয়ে “#হা_কৃষ্ণ, #হা_কৃষ্ণ, #রক্ষা_কর” বলে চিৎকার করতে লাগল।
শ্রীকৃষ্ণ এই দেখে এগিয়ে এলেন । অরিষ্টাসুর তাঁর তীক্ষ্ণ শিং দুটি উঁচিয়ে তেড়ে আসলো । শ্রীকৃষ্ণ তাঁর শিং দুটো ধরে তাঁকে দূরে নিক্ষেপ করলো । পড়ে গিয়ে আহত অসুর পুনরায় আক্রমণ করতে আসলো । শ্রীকৃষ্ণ তার শিং দুটো ধরে পুনরায় সজোরে মাটিতে আছাড় দিলেন ও শিং দুটি ভেঙ্গে ফেললেন । এরপর শ্রীকৃষ্ণ সেই অসুরের পেছনের পা দুটো ধরে ঘুরিয়ে এক আছাড় দিলেন । কিছুক্ষণ পর রক্তবমি করতে করতে অরিষ্টাসুর প্রাণত্যাগ করল। শ্রীকৃষ্ণের হাতে নিহত হবার ফলে অরিষ্টাসুর মুক্তি পেল , ব্রজবাসীরাও ভয়মুক্ত হলেন।

সেদিন অরিষ্টাসুরকে বধ করে কৃষ্ণ যখন রাত্রে রাসস্থলীতে গেলেন, তখন গোপীগন মৃদুমন্দ হাস্য সহকারে বললেন-হে বৃষাসুর মর্দ্দন!আজ আমাদিগকে স্পর্শ করবে না,আজ তুমি বৃষকে হত্যা করেছো।

তখন কৃষ্ণ বলল -হে গোপীগন! সে তো বৃষ নয়, ভয়ঙ্কর অসুর!
 গোপীগন বললেন- শোন, বৃত্রাসুরের ব্রাহ্মন শরীর হওয়ায় তাকে বধের নিমিত্ত ইন্দ্রকে ব্রহ্মহত্যার পাপস্পর্শ করেছিল।তেমনি এরও বৃষেররূপ ছিল!

কৃষ্ণ বললেন-হে গোপকন্যাগণ! তোমরা এসব পুরাণের কথা কি করে জানলে!! গোপীগণ বলছেন- কৃষ্ণ! আমরা পূর্ণমাসী দেবীর নিকট দৈনিক পুরাণের কথা শ্রবণ করি। তার কাছেই সব জেনেছি। তোমার মত সব সময় গরু নিয়ে হৈ হৈ করে বেড়াই না।
 গোপীগনের কথা শুনে গোবিন্দ বললেন তাহলে আমি এখন কি রূপে এই পাপ হতে মুক্তি পাব?গোপীগন বললেন - তুমি যদি পৃথিবীর সমস্ত তীর্থে অবগাহন করতে পার তবেই তুমি পাপমুক্ত হবে।

কৃষ্ণ বললেন- কি! আমি যাব সমস্ত তীর্থে স্নান করতে? সব তীর্থকে আমি এখানেই ডেকে আনছি।এই বলে শ্রীকৃষ্ণ ঐ স্থানে সজোরে বাম চরনের পার্ষ্ণি দ্বারা আঘাত করলে সঙ্গে সঙ্গে পাতাল হতে ভোগবতী গঙ্গা এবং নিখিল তীর্থ এসে উপস্থিত হলে শ্রীকৃষ্ণ বললেন তোমরা আমার কুন্ডে বিরাজমান হও।শ্রীকৃষ্ণের বাক্য শুনে সমস্ত তীর্থ কুন্ডমধ্যে উপস্থিত হল।তখন কৃষ্ণ বললেন - হে প্রিয়ে! দেখো সকল তীর্থ আমার এই কুন্ডে বিরাজমান।তখন গোপীগন বললেন- তোমার কথায় বিশ্বাস করিনা।
তখন সমস্ত তীর্থ নিজ নিজ পরিচয় দিলেন- লবনসমুদ্র,ক্ষীরসমুদ্র,অমরদীর্ঘিকা,শোননদী,ভাদ্রপর্নী, পুস্কররাজ,সরস্বতী,গোদাবরী,গঙ্গা, যমুনা,সরযূ,প্রয়াগরাজ,রেবাতীর্থ - সকলেই -"এই দেখুন আমার জল" এই প্রকার বলে জলে মিশে যেতে লাগল। তখন কৃষ্ণ সেই তীর্থে স্নান করে পবিত্র হলেন,এবং বললেন আমি সর্বতীর্থময় এইকুণ্ড প্রকাশ করলাম,এইকুণ্ডে স্নান করিলে সর্বতীর্থ স্নানের ফল পাবে। শুনে শ্রীরাধা স্বীয় সখীগনকে বললেন - হে সখীগন!ওই কুণ্ডে স্নান করো না, ওর সব পাপ ওখানে রয়েছে। অতএব ওখানে যে স্নান করবে সেই পাপ তাকেও লাগবে। আমরা আলাদা কুণ্ড নির্মান করব। বলে রাধারানী বৃষাসুরের খুরের আঘাতে যে গহ্বর হয়েছিল,ঐ গহ্বরের নরম মৃত্তিকা কঙ্কন দ্বারা খনন করে  অল্প সময়েই  এক মনোরম কুণ্ড তৈরী করে ফেললেন।
তখন
কৃষ্ণ বললেন - হে রাধে! তোমার কুণ্ড অতীব মনোরম। কিন্তু  জল  নেই, জল ছাড়া কুণ্ডের শোভা হয় না।তাই আমার কুন্ডের জল নিয়ে  তোমার কুণ্ড পূর্ন কর।
শ্রীরাধিকা বললেন - না, তাহা কদাপি নয়,কারন তোমার অবগাহনে ঐ জলও গোবধ পাতকযুক্ত হয়েছে। আমি সখীগনকে সঙ্গে নিয়ে কলসী দ্বারা মানসীগঙ্গার পবিত্র জলে  পূর্ন করব।তথাপি তোমার কুণ্ডের একবিন্দু জলও নেব না।
সখীগণ মানসীগঙ্গা থেকে জল আনতে আনতে হাঁফিয়ে উঠলো তথাপি কুণ্ডের এক কোনাও পূর্ণ হল না।
তখন শ্রীকৃষ্ণ তীর্থগনকে ইঙ্গিত করলে তারা রাধিকার চরনে দন্ডবৎ করে স্তুতি করতে লাগল। স্তুতি শুনে শ্রীরাধা প্রসন্না হলেন,ও কৃষ্ণের প্রতি একটি বিলোল কটাক্ষ করলেন,এর অর্থ দেখো তুমি তীর্থগণকে নিয়ে আসলেও তারা তোমার কুণ্ডে থাকতে চাইছে না, সবাই আমার কুণ্ডে আসতে চাইছে। 
কৃষ্ণের ইঙ্গিতে তীর্থগণ উভয় কুন্ডের মাঝের ভিত্তি ভেদন করে শ্রীকুণ্ড জলে পূর্ণ করল।
কুণ্ডের শোভা দেখে কৃষ্ণ মুগ্ধ হয়ে বলল- হে রাধে! তোমার কুণ্ডের অদ্ভুত শোভা! তুমি বর চাও।
শ্রীরাধিকা বললেন -হে প্রিয়তম! তুমি যদি আমাকে বর দিতেই চাও, তবে এই বর দাও যেন এই স্থানের নাম, আমার নামানুসারে হয়।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন -  "তথাস্তু"।
আরো বললেন এই কুণ্ডে যে একবার স্নান করবে  তাকে তোমার তুল্য প্রেম দান করব। এই কুণ্ডের সেবা করলে আমারই সেবা করা হবে।
কালে কালে বৃন্দাবনের বহুতীর্থ লুপ্ত হল।
 মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব বৃন্দাবন ভ্রমণ করতে করতে প্রেমাবেশে *#আরিট_গ্রামে* এসে উপস্থিত হলেন। ঐ স্থানে এসে তাঁর অকস্মাৎ বাহ্যজ্ঞান ফিরে এল । আরিট গ্রামের লোকেদের কাছে প্রভু রাধাকুণ্ডের কথা জিজ্ঞাসা করলেন, —  কেউ কিছু বলতে পারল না এবং তাঁর সঙ্গী ব্রাহ্মণটিও তা জানতেন না । সর্বজ্ঞ ভগবান মহাপ্ৰভু জানলেন তীর্থলোপ হয়েছে । দুইটি ধানক্ষেতে অল্প জল ছিল,— তাতেই গিয়ে স্নান করলেন. তা দেখে গ্রামের লোকেরা বিস্মিত হলেন, তখন মহাপ্রভু শ্রীরাধাকুণ্ডের স্তব করে বললেন, — “সমস্ত গোপী থেকে যেমন শ্রীরাধা শ্ৰীকৃষ্ণের প্রেয়সী শ্রেষ্ঠা, তেমনি প্রিয়তমার সরোবর হেতু শ্রীরাধাকুণ্ডও তাঁর সেইরূপ প্রিয় । যেহেতু সৰ্ব্ব প্রেয়সীগণের মধ্যে  শ্রীরাধা শ্ৰীকৃষ্ণের অত্যন্ত বল্লভ রূপে পরিগণিত হয়েছেন, যে কুণ্ডে শ্ৰীকৃষ্ণ নিত্য শ্রীরাধিকার সঙ্গে জলে জলকেলি এবং তীরে রাসরঙ্গ করেন, সেই কুণ্ডে যে ব্যক্তি একবার মাত্র স্নান করে, শ্ৰীকৃষ্ণ তাঁকে শ্রীরাধার তুল্য প্রেম দান করেন, যেমন শ্রীরাধার মধুরিমা, সেইরূপ  কুণ্ডের মাধুরী আর যেমন শ্রীরাধার মহিমা, রাধাকুণ্ডের মহিমাও তদ্রূপই । 
মধ্যরাত্রে রাধাকুণ্ড প্রকট হয়েছিলেন এজন্য আজও সেই নিয়ম অনুসারে রাত বারোটার পর স্নান হয়। সব ভক্তগণ প্রতীক্ষা করে থাকেন, সেই মধ্যরাত্রির। রাত বারোটা বাজতেই সকলের সেকি উল্লাস! সকলেই একসঙ্গে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন, প্রেমানন্দে অধীর হয়ে।
আজ সেই দিন! হা রাধে!! কোথায় তুমি? আর কোথায় আমি!!🙏🙏🙏🙏😭😭😭😭
শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুর আবির্ভাব পীঠ একচক্রা ধাম। এখানেও রাধাকুণ্ড বিদ্যমান। এখানে নিত্যানন্দ প্রভু রাধাকুণ্ড প্রাকট্য লীলা অভিনয় করেছিলেন। বর্তমানে একে রাইপুকুর বলা হয়। এ বিষয়ে বিশদ জানতে "অতি গূঢ় নিত্যানন্দ"  ইউটিউব চ্যানেল সার্চ করুন।।

*জয় নিতাই!*
*নিত্যানন্দ প্রভু ও গৌড়ীয় গোস্বামী সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিবিধ প্রসঙ্গ জানতে এই গ্রুপে অ্যাড হোন, বন্ধুদের অ্যাড করুন , লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন।*

https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/

*এখানে ধর্মীয় ভক্তি-জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন পোস্ট পেতে পারবেন।*
 *জয় নিতাই!*
 *জয় জয় নিতাই!!*
*🌹🌹🙏🙏🌹🌹*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
  ꧁👇📖সূচীপত্র ✍️ শ্রী গোপীশরণ দাস📖👇
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীল রামচন্দ্র কবিরাজ 😭 তিরোভাব কার্তিক কৃষ্ণাষ্টমী তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/ramchandra.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীল রামচন্দ্র কবিরাজ 😭 তিরোভাব কার্তিক কৃষ্ণাষ্টমী তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/ramchandra.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#শ্রীল_রামচন্দ্র_কবিরাজ।*

(*#তিরোভাব_কার্তিক_কৃষ্ণাষ্টমী_তিথি*।)

স্বর্ধুন্যাস্তীরভূমৌ সরজনিনগরে গৌড় ভুপাধিপাত্ৰাদ-
ব্রহ্মণ্যাদ্বিষ্ণুভক্তাদপি সুপরিচিতাৎ শ্রীচিরঞ্জীবসেনাৎ I
যঃ শ্রীরামেন্দুনামা সমজনি পরমঃ শ্রীসুনন্দাভিধায়াং
সোঽয়ং শ্রীমান্নরাখ্যে স হি কবিনৃপতিঃ সম্যগাসিদভিন্নঃII

অর্থ:- 'গঙ্গাতীরস্থ সরজনিনগরে গৌড়রাজ্যের শ্রেষ্ঠ অমাত্য দ্বিজভক্ত,বিষ্ণুভক্ত ও সুপরিচিত শ্রীচিরঞ্জীব সেন নামক পিতা হইতে ও মাতা শ্রীসুনন্দার গর্ভে শ্রীরামচন্দ্র নামক যে মহাজন জন্মগ্রহণ করেছিলেন,তিনি পরম রূপবান ;তিনি নরোত্তম - নামক কবি নৃপতির সহিত সর্ব্বতোভাবে একাত্মা ছিলেন I'

নরহরি সরকার ঠাকুরের শিষ্য ও শ্রীচৈতন্য সহচর কুমারনগরের শ্রীচিরঞ্জীব ঠাকুরের সাথে শ্রীখণ্ডের বিখ্যাত শাক্তকবি দামোদর সেনের কন্যা "সুনন্দা দেবীর" বিবাহ হয়। বিবাহের পর চিরঞ্জীব ঠাকুর শ্রীখন্ডে চলে আসেন। তাঁদের দুই পুত্র- বড় "রামচন্দ্র কবিরাজ" এবং ছোট "গোবিন্দ কবিরাজ"।
এঁরা দুই ভাই পরবর্তী কালে কুমারনগরে ফিরে গেলেও শাক্তদের উৎপীড়নে সেই স্থান ছেড়ে তেলিয়াবুধরিতে চলে আসেন।

 রামচন্দ্র কবিরাজ বিবাহ করিলেও কখনও সংসারাশ্রমে প্রবিষ্ট হন নাই I শ্রীরামচন্দ্রকে বিবাহবেশে দেখে শ্রীনিবাসাচার্য্য প্রভু উহার অসারতা সম্বন্ধে কিছু কথা বললেন, 

*#অপূর্ব_এ_রূপ_ধন্য, #নহে_আত্মভোগ_জন্য,  #যোগ্য_শুধু_গোবিন্দ_সেবার।।*

*#সংসার_বিষয়_কূপে, #ডুবাইতে_সর্বজীবে, #মায়ার_মূরতি_এই_নারী।*
*#কৃষ্ণদাস্য_ভুলাইতে, #নরক_যন্ত্রণা_দিতে, #পুরুষ_রতনে_লয়_হরি।।*

একথা শুনেই রামচন্দ্র মনে মনে ভাবছে তাইতো দুর্লভ মনুষ্য জন্ম, #শ্রীকৃষ্ণ_ভজনের জন্যই তো মিলেছে! আর আমি একি করলাম? গোবিন্দ সেবার দেহ কারে দিলাম! 
 বাড়িতে গিয়ে রামচন্দ্র আর কোন কাজে উৎসাহ পেলেন না। গৃহ অগ্নিকুন্ডের মত প্রতীত হতে লাগল। নব বিবাহিতা পত্নীকে ছেড়ে সবার অজ্ঞাতসারে সেই রাত্রে এসে ছিন্নমূল তরুর ন্যায় আছড়ে পড়লেন আচার্য প্রভুর চরণে। সেই দেখা অবধি আচার্য প্রভু প্রাণে প্রাণে কাঁদছিলেন আর ভাবছিলেন কতক্ষণে রামচন্দ্রকে কাছে পাব।এবার হারানিধি ফিরে পেয়ে, তুলে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
রামচন্দ্র একান্ত ভাবে শ্রীগুরু সেবায় আত্মনিয়োগ করলেন । 
শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি স্নেহাবিষ্ট হয়ে শ্রীনিবাসাচার্য্য প্রভু তাঁহাকে দীক্ষামন্ত্র প্রদান করতঃ নিজ সেবক রূপে গ্রহণ করলেন I

ঠাকুর নরোত্তমের সঙ্গ লালসায় গঙ্গা-পদ্মা মধ্যস্থান তেলিয়াবুধুরীগ্রামে এসে বসতি স্থাপন করলেন।
 *পথের ধারে বসে থাকে __যদি, পথে যেতে দেখা হয়।*

সত্যি সত্যিই একদিন নরোত্তম ঠাকুর এসে উপস্থিত হলেন তেলিয়াবুধুরীগ্রামে। রামচন্দ্র চরণে প্রণত হলে নরোত্তম তুলে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।ক্ষনিকের দেখায় উভয়ে এক অবিচ্ছেদ্য প্রেমবন্ধনে আবদ্ধ হলেন।

একদিন যাজিগ্রামে আচার্য প্রভু রাতের বেলায় অঙ্গনে পদচারণা করছেন।পেছনে রামচন্দ্র। হঠাৎ আচার্য বলছেন দেখ দেখ রামচন্দ্র! কত বড় বিষধর সাপ! রামচন্দ্র দেখছেন সত্যিই এক বিষধর সাপ।
 একটু পরে আচার্য প্রভু বলছেন -"আরে না না, ওটা একটা দড়ি পড়ে আছে। তখন রামচন্দ্র  দেখছেন সত্যিই একটা দড়ি পড়ে আছে।

শুধু মনে মনে মানা নয়,
 গুরুবাক্যে বিশ্বাসের বলে _ রজ্জুতে সর্প দেখে সেই কালে।
 আদর্শ শ্রীরামচন্দ্র__ শ্রীগুরু-বাক্যনিষ্ঠার ।

একদিন শ্রীনিবাস আচার্য প্রভু আদেশ দিলেন, যাও গৃহে গিয়ে পত্নী সম্ভাষণ করে এস। রামচন্দ্র অবিচারে গুরু আজ্ঞা পালন করলেন। সারাদিন গুরুদেবের সেবা করে সন্ধ্যার প্রাক্কালে গৃহে গমন করলেন।সারারাত্রি স্ত্রীর সঙ্গে গুরু কথা প্রসঙ্গে কাটালেন। এখন প্রভুর এই সেবা, এরপরে এই সেবা করি। এইভাবে গুরু কথায় রাত্রি ভোর হয়ে গেল‌। প্রাতঃকালে নিজ সেবার সময় জেনে তাড়াতাড়ি উঠে চলে আসলেন। রাস্তায় এসে মনে পড়ল, গুরুদেব বলেছিলেন স্ত্রীসম্ভাষণ করে আসতে। তা তো হয় নাই! ভুলে গিয়েছি। আবার ছুটলেন। ছুটে গিয়ে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করলেন। সখী যেমন সখীকে আলিঙ্গন করে সেই ভাবে। রামচন্দ্রের দেহ স্মৃতি নাই। পুরুষ দেহ অভিমান দূর হয়ে গিয়েছে শ্রীগুরুকৃপায়। সেই স্বভাবে রামচন্দ্র আলিঙ্গন করলেন গুরুদেবের আজ্ঞা স্মরণ করে। রামচন্দ্র বুঝতে পারলেন না পুরুষ কিংবা প্রকৃতি কাকে আলিঙ্গন করছেন। কেবল আজ্ঞা পালনের জন্য আলিঙ্গন করলেন। সে সময় প্রিয়ার সিঁথির সিন্দুর রামচন্দ্রের কপালে লেগে গেল। সেই অবস্থায় নিজ সেবার সময় বয়ে যায় দেখে ছুটে চলে আসলেন গুরু আশ্রমে। সেসময় ঠাকুর নরোত্তম আঙ্গিনা ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। তাকে ছুটে আসতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন -রামচন্দ্র! কোথায় গিয়েছিলে ?
রামচন্দ্র  সহজ সরলভাবে উত্তর দিলেন - স্ত্রীর সম্ভাষণ করতে গিয়েছিলাম। শ্রীগুরুদেবের আজ্ঞায় । এইমাত্র আসছি তার সেবা করবো বলে।
 নরোত্তম দেখলেন তার কপালে সিঁদুর লেগে আছে।
বললেন - ছি ছি রামচন্দ্র! একি তোমার ব্যবহার? ধিক্ ধিক্ তোমায়। এই অপবিত্র দেহে প্রভুর সেবা কি করে করবে? এই বলে নরোত্তম ক্রোধ করে হাতের সম্মার্জনী দিয়ে সজোরে আঘাত করলেন । রামচন্দ্র কোন প্রকার প্রতিবাদ করলেন না। নিজেকেই দোষী মনে করে, স্নান করে শ্রীগুরু সেবায় সংলগ্ন হলেন। মধ্যাহ্নকালে নরোত্তমের সেবা। আচার্য প্রভুর অঙ্গে তৈল মর্দন করতে গিয়ে দেখছেন পিঠে সেই ঝাঁটার বাড়ির দাগ। বুঝতে পারলেন নরোত্তম যে, রামচন্দ্রকে ঝাঁটার বাড়ি মেরেছিলেন! সেই দাগই আচার্য প্রভুর দেহে ফুটে উঠেছে। আত্যন্তিক মর্মাহত হলেন ।
এই হাত দিয়ে আমি তার শ্রীঅঙ্গে আঘাত করেছি! এ হাত আমি আর রাখব না। আজ রাত্রেই পুড়িয়ে ফেলব। অন্তর্যামী আচার্য প্রভু সব জানতে পারলেন। তিনি হঠাৎ বলে উঠলেন - *#এ_দেশে_বিচার_নাই_বাপরে_বাপ্*।    # *#দিনে_মারে_ঝাটার_বাড়ি_রাতে_পুড়ায়_হাত*।।*
 শুনে নরোত্তম যারপরনাই লজ্জিত হলেন।

আচার্য প্রভু বললেন- রামচন্দ্রের অঙ্গে আঘাত করাতে আমার অঙ্গে লেগেছে, আর তুমি হাত পুড়াবার সংকল্প করাতেই আমার হাত পুড়েছে।
ওটা নয় তোমার হাত, ওটা আমি করেছি আত্মসাৎ।
বলে দুজনকেই বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

 শ্রীগুরুনিষ্ঠা প্রভাবে তিনি গুরুদেবের হৃদয়ের খবর জানতে পারতেন। একবার শ্রীনিবাস আচার্য প্রভু তিনদিন সমাধিস্থ ছিলেন। সকলে কান্নাকাটি শুরু করলেন ,হয়তো উনি দেহত্যাগ করেছেন। সেসময় রামচন্দ্র বাইরে ছিলেন। হঠাৎ এসে দেখছেন বাড়িতে কান্নার রোল। সকলকে আশ্বস্ত করে গুরুদেবের পাশেই বসলেন রামচন্দ্র কবিরাজ। ধ্যানস্থ হয়ে দেখলেন শ্রীগুরুদেব কি করছেন। দেখছেন মধুময় শ্রীধামবৃন্দাবনে যমুনায় জলবিহার হচ্ছে যুগলের। জলবিহার কালে নাকের বেশর খসে পড়ে গিয়েছে জলে। সকলে মিলে অনুসন্ধান করছেন। রামচন্দ্র কবিরাজও শ্রীগুরু আনুগত্যে খুঁজতে লাগলেন ।গুরুকৃপায় সহজেই পেয়ে গেলেন, নিয়ে শ্রীগুরুদেবকে দিলেন। শ্রীগুরুদেব তাঁর গুরুদেব গুনমঞ্জরীকে দিলেন, তিনি নিয়ে গিয়ে রূপমঞ্জরী কে দিলেন। তিনি রাধারানীর নাকে পরিয়ে দিলেন । রাধারানী বললেন- কোন সখী  পেয়েছে?
রূপমঞ্জরী বললেন -
 "এই নবদাসী পেয়েছে।"
 রাধারানী স্বচর্বিত তাম্বুল উপহার দিলেন। হাত পেতে নিলেন রামচন্দ্র। ধ্যান ভঙ্গ হলে, সে রাধারাণীর অধরামৃত চর্বিত তাম্বুল নিজহস্তে দেখতে পেলেন,তার সুবাসে চারিদিক আমোদিত হল। আচার্য প্রভু ও ফিরে আসলেন বাহ্যাবেশে, রামচন্দ্র কবিরাজ গুরুদেবকে সমর্পণ করলেন, সেই রাধারানীর প্রসাদী পান। বিতরণ করলেন   সকলকে।
রামচন্দ্রের হাতে কেমন করে এলো? রাধারানীর চর্বিত তাম্বুল? সেই দেহ এই দেহ যদি এক না হয় তাহলে কেমন করে এলো?

কেউ অসিদ্ধ মনে করো না, গৌর পরিকরের স্বরূপ।
দুই লীলা ভোগ করে__ প্রতি গৌরকিঙ্করে।
  নদীয়া লীলা ব্রজলীলা_ দুই লীলা ভোগ করে।

ব্রজ পরিকরের গৌরলীলা ভোগে যদি লোভ হয়, তবে গৌর পরিকরের আনুগত্য করতে হয়।
 আর _ #গৌর_পরিকর_দুই_লীলার_অধিকারী।

 দুই লীলা ভোগ করতে পারে __ গৌর পরিকর যদি ইচ্ছা করে।
 অপূর্ব রহস্য ভাই।

এই দেহ সেই দেহ হয়_ শ্রীগুরুচরণে যার রতি হয়।

 কেন বা হবে না?
 এই প্রাকৃত রাজ্যে দেখ!
 আরশোলা কাঁচপোকা হয়__ কাঁচপোকা ভাবতে ভাবতে।
 প্রাকৃত রাজ্য যদি এই হয় _ তবে সে রাজ্যে কেন হবে না?
 এ দেহ সেই শক্তি পায় __শ্রীগুরু আনুগত্যের ফলে।
 তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ।

 এমনি এক ব্যতিক্রমী চরিত্র আমরা দেখতে পাই রামচন্দ্র কবিরাজের জীবনে।শ্রীগুরুনিষ্ঠা হলে কি না হয়! এটাই দেখালেন রামচন্দ্র কবিরাজ জগতে।

বিষ্ণুপুরের রাজা বীরহাম্বীর শ্রীনিবাস আচার্য্যের শিষ্য হয়েছিলেন,কিন্তু রামচন্দ্র কবিরাজ শিক্ষাগুরু রূপে তাকে শিক্ষা প্রদান করতেন I শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ যেকালে বৃন্দাবনধামে অবস্থান করছিলেন,সেকালে তাঁহার শ্রীজীব গোস্বামী আদি বৈষ্ণবগণের সঙ্গ ও কৃপালাভের সৌভাগ্য হয়েছিল I বৈষ্ণবগণ তাঁহার অপূর্ব্ব কবিত্ব শ্রবণে পরিতৃপ্তি লাভ করেছিলেন I শ্রীল জীবগোস্বামী শ্রীরামচন্দ্রকে 'কবিরাজ' উপাধি প্রদান করেন I  ইনি অষ্ট - কবিরাজের অন্যতম I শ্রীল নরোত্তম ঠাকুরের প্রচার ও ভজনের ইনি প্রিয়তম সঙ্গী ছিলেন I
ইঁহার রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে "স্মরণচমৎকার", "স্মরণ - দর্পণ", "সিদ্ধান্ত - চন্দ্রিকা', ''শ্রীনিবাসাচার্য্যের জীবন - চরিত'" বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য I শ্রীল নরোত্তম ঠাকুর তাঁহার রচিত 'প্রার্থনা' গীতিতে রামচন্দ্র কবিরাজের সঙ্গ কামনা করেছেন I

‘’দয়া কর শ্রীআচার্য প্রভু শ্রীনিবাস I
 রামচন্দ্র সঙ্গ মাগে নরোত্তম দাস।।‘’

 কিছুইতো চাইলেন না।
 গুরু গৌর-গোবিন্দ- কিছুইতো চাইলেন না।
ঠাকুর নরোত্তমের শেষ প্রার্থনা।
এই করো শ্রীগুরুদেব।

যদি জন্ম হয় পুনঃ, পাই- রামচন্দ্র সঙ্গ যেন , তবে নরোত্তম হয় ধন্য।।
বাঁধা পড়ে সে আধারে।
 গুরু গৌর গোবিন্দ- বাঁধা পড়ে সে আধারে।
 যে গুরুপদে বিকায়েছে- বাধা পড়ে সে আঁধারে_ গুরু গৌর-গোবিন্দ অভিন্ন- তাই বাঁধা পড়ে সে আধারে ।

কোন ভাগ্যে তার সঙ্গ হলে __গুরু গৌর-গোবিন্দ সকলি মিলে।
 বাকি থাকে না কিছু পেতে __শ্রীগুরুনিষ্ঠ ভক্তের সঙ্গে হলে।

তাই ঠাকুর নরোত্তম ভাবলেন,
 সকলই পাওয়া হবে__ রামচন্দ্র সঙ্গ পেলে।

*#সর্বোত্তমা_প্রাপ্তি_ভাই*।   *#গৌর_দাসের_দাসের_সঙ্গ* -সর্বোত্তমা প্রাপ্তি ভাই।
 
তাই_ব্যাকুল হয়ে কাঁদলেন- শ্রীঠাকুর নরোত্তম__ শ্রীরামচন্দ্রের বিরহে ।

কৃষ্ণলীলায় যিনি করুণামঞ্জরী,তিনি শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ রূপে প্রকটিত,এইরূপ তাঁহার সিদ্ধ পরিচয় জ্ঞাত হওয়া যায় I

 শ্রীনিবাসাচার্য্যের অন্তর্ধানের পর রামচন্দ্র কবিরাজ বৃন্দাবনেই অপ্রকট হন। আচার্যের পাশেই তাঁর সমাধি বিদ্যমান।।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
  ꧁👇📖সূচীপত্র ✍️ শ্রী গোপীশরণ দাস📖👇
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







লীলাতীর্থ শ্রীরাধাকুণ্ডে স্নানযোগ 💧 কার্তিক মাসের কৃষ্ণা অষ্টমী তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/radhakund.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

লীলাতীর্থ শ্রীরাধাকুণ্ডে স্নানযোগ 💧 কার্তিক মাসের কৃষ্ণা অষ্টমী তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/radhakund.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#কার্তিক_মাসের_কৃষ্ণা_অষ্টমী_তিথি* 
*#লীলাতীর্থ_শ্রীরাধাকুণ্ডে_স্নানযোগ;*

কংস একের পর এক রাক্ষসকে পাঠাচ্ছে, কৃষ্ণকে হত্যা করতে।কৃষ্ণও তাদেরকে পাঠাচ্ছেন এক এক করে যমালয়ে।
এইবার পালা অরিষ্টাসুরের।অরিষ্ট শব্দের অর্থ ষাঁড়।ষাঁড় রূপী এক রাক্ষসকে কংস পাঠালেন কৃষ্ণকে মারতে।কৃষ্ণের সাথে অরিষ্টাসুরের প্রচণ্ড যুদ্ধ হল। কৃষ্ণের প্রবল পরাক্রমে অরিষ্টাসুর অল্পক্ষণেই মারা গেল।এখন এই ঘটনার পর কৃষ্ণকে নিয়ে তার সখারা আনন্দে নিমগ্ন হল।
রাতে সেখানে এলেন সখীসহ বৃষভানু রাজনন্দিনী। ভানুনন্দিনী বলে বসলেন অরিষ্টাসুর এসেছিল ষাঁড়ের ছদ্মরূপে ।সেই রূপেই কৃষ্ণ অরিষ্টাসুর কে মেরেছে।সুতরাং কৃষ্ণ গোহত্যা করেছে।নিজে গোপালক হয়ে গোহত্যা!!! কৃষ্ণ কে এখন সর্ব তীর্থের জলে স্নান করতে হবে। কৃষ্ণ শুনে হতবাক। একটু থেমে বললেন আমাকে যেতে হবে সর্ব তীর্থে? এখানেই আমি সবতীর্থকে নিয়ে আসছি।
 কৃষ্ণ সজোরে মাটিতে পদাঘাত করলেন।সাথে সাথেই মাটিতে একটা গর্ত হয়ে গেল।
গঙ্গা-যমুনা-গোদাবরী-সরস্বতী-নর্মদা-সিন্ধু-কাবেরী সহ সর্বতীর্থের জল এসে উপস্থিত হলেন ঐ গর্তে।গর্ত পরিপূর্ণ হল জলে।কৃষ্ণ স্নান করলেন ঐ জলে।ব্যাস্।সারা বিশ্বের তীর্থজলে পরিপূর্ণ গর্ত টি ছোটোখাটো পুকুর রূপে শোভা পেল।নাম হল শ্যামকুণ্ড ।লীলা কাহিনী এখানেই শেষ হওয়া উচিত।
কিন্তু আমাদের ঠাকুরটির এক স্বভাব, যে লীলা আস্বাদন আরম্ভ করালে থামতে চায় না মোটে।কোথায় থামতে হয় তা জানেও না।।
সর্বতীর্থের জলে স্নান করে কৃষ্ণের গোহত্যার পাপস্খালন হল বটে।অন্তত রাধারানির তো তাই যুক্তি ।এখন কৃষ্ণও ছেড়ে দেবার পাত্র নয়।

 রাধারানীকে বললেন ,"দেখো আমি তীর্থ জলে স্নান করে পবিত্র হলাম।কিন্তু তোমাকেও স্নান করতে হবে।
রাধারানি:কোন দুঃখে?
কৃষ্ণ:কারণ তুমি এতক্ষণ অরিষ্টাসুরের পক্ষে কথা বলেছ।
রাধারানি:তাতে কি হয়েছে.....??
কৃষ্ণ:একটা অসুরের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছ।সুতরাং তোমারো পাপ হয়েছে।তোমাকেও স্নান করতে হবে।
রাধারানি:(মনে মনে ) বোঝো ঠেলা, এখন আমি তীর্থের জল পাব কোথায় ।
কৃষ্ণ: তুমি ভাবছ তো কোথায় তীর্থের জল পাবে।কোনো চিন্তা নেই।তুমি আমার এই কুণ্ডে স্নান করো।
রাধারানি:আমার বয়েই গেছে তোমার কুণ্ডে স্নান করতে।আমি নিজেই কুণ্ড তৈরি করব।

এই বলে রাধারাণী নিজের হাতের কঙ্কন দিয়ে শ্যামকুণ্ডের ঠিক পাশেই মাটি খুঁড়তে আরম্ভ করলেন।অতি কষ্টে একটা ডোবা হল বটে।কিন্তু তাতে জল কই?
কৃষ্ণ:আমার কুণ্ডে জল আছে। তুমি আমার কুণ্ড জলে স্নান করে পবিত্র হও।
রাধারাণি:আমার দরকার নেই তোমার কুণ্ডের জলে স্নান করে। তোমার পাপরাশি তোমার কুণ্ডের জলে লেগে আছে। তোমার কুণ্ডের জলে স্নান করা মানে তোমার পাপলগ্ন জলে স্নান করে নিজেকে আরো অপবিত্র করা।
রাধারাণি এবং সখী রা মানসী গঙ্গা থেকে জল এনে কঙ্কণ দিয়ে সৃষ্ট ঐ কুণ্ডে জল ঢালতে না ঢালতেই জল শুষে যেতে লাগল।কুণ্ড আর পরিপূর্ণ হয় না। তখন লীলাময় কৃষ্ণের অলক্ষ্য নির্দেশে সর্বতীর্থ রাধা রাণীর কুণ্ডে এসে উপস্থিত হলেন।রাধারানি স্নান করলেন নিজের কুণ্ডে।মাঝখানে সরু একটা রাস্তা ।এপাশে রাধাকুণ্ড ওপাশে শ্যামকুণ্ড ।কৃষ্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন যে রাধাকুণ্ডে একবার স্নান করবে তাকে রাধারাণীর সমান প্রেম দান করবে।তাহলে তো ঝামেলাই নেই। একবার ডুবতে পারলেই হল।তাহলেই তো প্রেম পাব।
 
 আজ্ঞে না। পূর্ণ বিশ্বাস পূর্ণ আস্থা পূর্ণ লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে স্নান করতে হবে। ডোবে তো সবাই ।কিন্তু কই? ঠাকুর নরোত্তম বা রঘুনাথ দাস গোস্বামীর মতো তো কারুর প্রেম হয় না।। ঐকান্তিকতাই আসল।

দ্বাপর শেষে কলি এলেন ।রাধাকুণ্ড-শ্যামকুণ্ড ধানক্ষেতে পরিণত হল।কলিতে ব্রজ দর্শনে এলেন কলিপাবনাবতার।আমাদের নবদ্বীপের নিমাই পণ্ডিত ।তখন অবশ্য তিনি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নামেই পরিচিত । এসে পুনরুদ্ধার করলেন এই দুই কুণ্ডকে।(এর সুন্দর চিত্র বৃন্দাবনে ইমলিতলা মন্দিরে আর পুরী ধামে হরিদাস ঠাকুরের সমাধি মন্দিরে আছে।) যোগ্য উত্তরাধিকার দিলেন তাঁর দুই ভক্ত রূপ সনাতন কে।একে একে গোপাল ভট্ট, শ্রীজীব , ভট্ট রঘুনাথ সবাই এলেন। শেষে এলেন রঘুনাথ দাস গোস্বামী ।ইনিই বর্তমান রাধাকুণ্ডের সংস্কার করলেন। আজকের রাধাকুণ্ড শ্যামকুণ্ড তা একান্ত ভাবেই রঘুনাথ দাস গোস্বামীরই অবদান।।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
      ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী দীপ বাগুই📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয় 😭 তিরোভাব আশ্বিন কৃষ্ণা পঞ্চমী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/narattam.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয় 😭 তিরোভাব আশ্বিন কৃষ্ণা পঞ্চমী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/narattam.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#শ্রীনরোত্তম_ঠাকুর_মহাশয়*

(#তিরোভাব_আশ্বিন_কৃষ্ণা_পঞ্চমী)

১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দের মাঘী পূর্ণিমায় রাজশাহী জেলার গড়েরহাট পরগনার খেতুরী গ্রামে, পিতা কৃষ্ণানন্দ দত্ত ও মাতা শ্রীনারায়নী দেবীর কোল আলো করে নিত্যানন্দ শক্তি আবির্ভূত হলেন, নাম হল নরোত্তম।

শ্রীমন্মহাপ্রভুর বৃন্দাবন যাত্রার প্রাক্কালে রূপ সনাতনের উদ্ধারের জন্য রামকেলি আগমন করেন, আর খেতুরী গ্রামের পানে চেয়ে "নরু"  "নরু" বলে প্রেমস্বরে আহ্বান করেন।
পদ্মানদীতে নিত্যানন্দ সহ নিজপ্রেম গচ্ছিত রাখলেন। পদ্মাকে বললেন,- নরোত্তম যখন স্নানে আসবে তখন তাঁকে এই প্রেম প্রদান করবে।

 পদ্মা বলল - আমি কি করে চিনবো প্রভু?

 মহাপ্রভু - যার স্পর্শে তুমি অত্যধিক উচ্ছ্বলিত হবে,জানবে সেই নরোত্তম।

নরোত্তমের জন্মের সময় গৃহাঙ্গনে গৌরনিত্যানন্দ  সপরিকরে নৃত্য করেছিলেন। নারায়ণী দেবী তা প্রত্যক্ষ দর্শন করেছিলেন। অন্নপ্রাশনের সময় অন্ন মুখে দিলে মুখ ফিরিয়ে নেন। সে সময় এক ব্রাহ্মণ দ্বারা অন্ন প্রসাদ আনীত হলে, তা আনন্দপুর্বক গ্রহণ করেন। চূড়াকরণান্তর বিদ্যাভ্যাস শুরু হল। সুমেধা নরোত্তম অতি অল্পকালেই সর্ব শাস্ত্রে ব্যূৎপত্তি লাভ করলেন।

এরই মধ্যে কৃষ্ণদাস নামক এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের সাহচর্য পেলেন ।সেই ব্রাহ্মণ নরোত্তম কে সপরিকর  গৌরাঙ্গের সম্পূর্ণ জীবনী শ্রবণ করালেন।
তার মুখেই নরোত্তম শ্রীনিবাস সম্পর্কে বিশেষভাবে জ্ঞাত হলেন। স্বাভাবিক অনুরাগ জাত হল,ও ব্যাকুল হয়ে বলতে লাগলেন,- "কিভাবে তোমার সঙ্গ পাব" - বলে কাঁদতে লাগলেন।

এরই মধ্যে শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভু একদিন স্বপ্নে দেখা দিয়ে মৃদু হেসে আজ্ঞা দিলেন, প্রাতঃকালে তুমি পদ্মায় গিয়ে স্নান কর, সেখানেই তুমি গৌর প্রেম প্রাপ্ত হবে। আদেশ শিরোধার্য করে নরোত্তম পদ্মায় স্নান করে প্রেমধন প্রাপ্ত হলেন।
শ্রীগৌরাঙ্গপ্রেম মূর্তিমান হয়ে আলিঙ্গন করে হৃদয়ে প্রবিষ্ট হলেন। তৎক্ষণাৎ নরোত্তমের অঙ্গকান্তি শ্যামবর্ণ থেকে গৌরবর্ণে রূপান্তরিত হল।
(যে ঘাটে নরোত্তম প্রেম পেয়েছিলেন তা পরবর্তীকালে প্রেমতলি ঘাট নামে প্রসিদ্ধ হয়েছিল। তথায় মহৎ প্রাচীন তমাল বৃক্ষ আজও সেই লীলার সাক্ষীরূপে দর্শকের মনকে আনন্দে অভিভূত করে।)

ছেলের কান্না দেখে মা নারায়নী দেবী জিজ্ঞাসা করলেন,- বৎস! কাঁদছো কেন? কি কষ্ট তোমার?
নরোত্তম- আমি পদ্মায় স্নানে গিয়েছিলাম, সেখানে গৌরবর্ণ এক মহাপুরুষ আমার হৃদয়ে প্রবিষ্ট হয়ে আমায় এইরূপ দশা করল।
 মা!কোথায় গেলে আমি তাকে পাব? আমায় ছেড়ে দাও! আমি তার কাছে যাব। এই প্রকার বলতে বলতে  আছাড় খেয়ে পড়ে মূর্ছিত হয়ে গেলেন।

ছেলের এই প্রকার বৈরাগ্য দেখে রাজা কৃষ্ণানন্দ দত্ত চিন্তান্বিত চিত্তে, কোথাও পালিয়ে না যায় ভেবে, কড়া প্রহরী নিযুক্ত করলেন।
বন্দীদশায় নরোত্তম কিভাবে ঘর ছাড়বেন? দুই হাত উপরে তুলে গৌরসুন্দর কে বারংবার ডাকতে লাগলেন,- *হে প্রভু! আমায় সংসার সাগর থেকে পার করো।* 
নরোত্তমের এই প্রকার ব্যাকুলতায় দিন কাটতে লাগল। না দিনে ঘুম না রাতে। হাগৌর! প্রাণ গৌর! বলে দিন রাত জেগে অতিবাহিত করতে লাগলেন। একদিন প্রভুর ইচ্ছায় কিঞ্চিৎ তন্দ্রার উদ্গম হল। মহাপ্রভু এসে দুহাতে উঠিয়ে আলিঙ্গন করলেন, আর মধুর স্বরে বললেন,- নরোত্তম তোমার জন্য আমিও ব্যাকুল! কোন চিন্তা কো'রো না। শীঘ্রই বৃন্দাবনে যাবে। সেখানে আমার প্রিয় লোকনাথের  চরণাশ্রয় করবে।
 নিদ্রাভঙ্গ হতেই নরোত্তম মহাপ্রভুর অদর্শন জনিত দুঃখে অতিশয় ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। পুনরায় স্বপ্নে মহাপ্রভু সপরিকরে দর্শন দিয়ে সুস্থ করলেন।

 কিছুদিন পরে মহাপ্রভুর ইচ্ছায় অনুকূল পরিবেশ তৈরি হল।

N__I__T__Y__A__N__A__N__D__A

রাজা কৃষ্ণানন্দ রাজ কার্যে গৌড়ে গেলেন। নরোত্তম সুযোগ বুঝে প্রকারান্তরে মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে নিজের অঙ্গরক্ষকদের বঞ্চনা করে গৃহ ত্যাগ করলেন। ব্যাকুল হয়ে হা গৌর, প্রাণ গৌর, বলতে বলতে বৃন্দাবনের দিকে রওনা দিলেন।  রাজকুমার হয়েও খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে রাস্তা চলতে চলতে পায়ে ফোস্কা পড়ে গেল। শ্রান্ত-ক্লান্ত হয়ে এক গাছের নিচে বসে পড়লেন। সহসা নিদ্রাদেবী এসে কোলে তুলে নিলেন।
 ইতিমধ্যেই এক গৌরবর্ণ ব্রাহ্মণের রূপ ধারণ করে স্বয়ং গৌরহরি এসে ওনাকে দুগ্ধ পান করতে বলে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।
কিন্তু নরোত্তম দুধ পান করতে অনিচ্ছুক দেখে শ্রীরূপ সনাতন স্বপ্নে এসে বললেন,- "এখন তোমার সব দুঃখ দূর হয়ে গেল। স্বয়ং মহাপ্রভু তোমাকে দুগ্ধ প্রদান করে গিয়েছেন। উঠ দুগ্ধ পান কর, আর বৃন্দাবনের দিকে অগ্রসর হও। স্বপ্ন দূর হতেই নরোত্তম ব্যাকুল হয়ে হা রূপ-সনাতন বলতে বলতে আর্তস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন। উনার আর্তনাদ দেখে রূপ সনাতন পুনঃ দর্শন দিলেন ,আর এরপর অল্প সময়ে নরোত্তম ব্রজধামে পৌঁছে গেলেন।

মথুরার বিশ্রাম ঘাটে রাত্রি সময় এক মাথুর বিপ্র অতিশয় স্নেহে  প্রসাদ এনে খাওয়ালেন। ব্রাহ্মণের মুখেই শ্রীরূপ-সনাতন শ্রীরঘুনাথ ভট্ট ও শ্রী কাশীশ্বরের অন্তর্ধান সমাচার শুনে মুর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। স্বপ্নে কাশীশ্বর আর রঘুনাথের সাথে শ্রীরূপ সনাতন আসলেন,ও নানা প্রকারে সান্ত্বনা দিলেন। সেই সব কথা সেই ভাগ্যবান বিপ্র ও কিছু শুনতে পেলেন।

প্রাতঃকালে উঠে নরোত্তম ব্যাকুল প্রাণে বৃন্দাবনের দিকে হাঁটা দিলেন। বৃন্দাবনে এসে শ্রীজীব গোস্বামী, শ্রীগোপালভট্ট গোস্বামী, শ্রীলোকনাথ গোস্বামী আদির দর্শন করলেন। মহাপ্রভু স্বপ্নে আদেশ দিয়েছিলেন লোকনাথের চরণাশ্রয় করবার। কিন্তু এখানে এসে শুনলেন লোকনাথ প্রভু কাউকে শিষ্য, না করার সংকল্প করেছেন ।নরোত্তম ব্যাকুল হয়ে পড়লেন, ও চিন্তা করতে লাগলেন, কিভাবে কৃপা পাওয়া যায়।

 *#ভাবিতে_ভাবিতে_কৃষ্ণ_স্ফূরয়ে_অন্তরে।*
 ভগবান তার হৃদয়ে কৃপা প্রাপ্তির উপায় জানিয়ে দিলেন।

নরোত্তম লক্ষ্য করলেন গভীর রাত্রে লোকনাথ গোস্বামী শৌচে যান। তিনি সেই স্থান ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে জল দিয়ে ধুয়ে সুন্দর করে পরিষ্কার করে রাখতে লাগলেন ও সেই ঝাড়ু বুকে ধরে কাঁদতে থাকেন। এমনিভাবে একটি বছর পার হয়ে গেল। একদিন লোকনাথ গোস্বামী লক্ষ্য করলেন,  আমার শৌচ স্থান কে যেন উপস্কার করে! কোনো ব্রজবাসী কি আমায় অপরাধে ফেলছে? 
উনি ঘটনাটি জানার জন্য গভীর রাত্রে উঠে আসলেন, এসে দেখছেন একজন এসে জল ঢেলে ঝাড়ু দিয়ে স্থান পরিষ্কার করে ঝাড়ু বুকে ধরে কাঁদছে। লোকনাথ এগিয়ে এলেন, বললেন -কে বাপু তুমি ?
ছুটে এসে চরণে পড়ে বলছেন,- আপনার ক্রীতদাস!
 লোকনাথের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেল, তুলে বুকে জড়িয়ে ধরলেন,ও বললেন যাও যমুনায় স্নান করে এসো। আজই তোমার দীক্ষা হবে।
 মহাপ্রভু জগতে শিক্ষা দিলেন, যে কিভাবে গুরু কৃপা প্রাপ্ত করতে হয়। 

#অনুভব_কর_ভাইরে- #কোন_সাধনে_গুরুকৃপা_মিলে।
 *#শুধু_কি_মুখের_কথাই_গুরুকৃপা_মিলে❓- #এমন_করে_সেবা_না_করিলে❓*

 গৌরহরি দেখালেন জগতেরে- প্রেমের মূর্তি নরোত্তমের দ্বারে।
 শ্রীগুরু কৃপা মিলে কেমন করে- গৌরহরি দেখালেন জগতেরে।

 *#আদর্শ_শ্রীনরোত্তম_শ্রীগুরু_সেবার।*

 শ্রীনরোত্তমে কৃপা কৈলেন- শুভদিনে দীক্ষা দিয়ে।
সঁপে দিলেন শ্রীজীবের করে- ভক্তি শাস্ত্র অধ্যয়ন করাবারে।

N__I__T__Y__A__N__A__N__D__A

শ্রাবণী পূর্ণিমার দিন শ্রীলোকনাথ গোস্বামী নরোত্তম কে দীক্ষা দিলেন ।এরপর শ্রীজীব গোস্বামীর  নিকট ভক্তি গ্রন্থ অধ্যয়নের জন্য আদেশ দিলেন। শ্রীজীব গোস্বামী ভক্তি শাস্ত্রে অপূর্ব দক্ষতা দেখে আর সব গোস্বামীর অনুমতি নিয়ে  নরোত্তমকে *#ঠাকুর_মহাশয়* উপাধি প্রদান করলেন।

 এরপূর্বেই শ্রীনিবাস আচার্য বৃন্দাবনে পৌঁছেছিলেন এক শুভক্ষণে উনার মধুর মিলন হল। কিছুদিন পরে শ্যামানন্দ প্রভু বৃন্দাবনে এসে মিললেন ।শ্রীনিতাইগৌরসীতানাথ আস্বাদনের ত্রিমূর্তি সম্মিলিত হয়ে বৃন্দাবনে প্রেম তরঙ্গিণীর ত্রিবেণী সঙ্গম উচ্ছসিত হল। শ্রীলোকনাথ নরোত্তম ঠাকুরের অপূর্ব মানসিক সেবার বর্ণনা করার সামর্থ্য কার আছে?
অর্ধবাহ্য অবস্থায় সাক্ষাৎ রাধারানী দর্শন দিয়ে দুগ্ধ আবর্তন সেবা  প্রদান করেছিলেন এবং নাম রেখেছিলেন চম্পক মঞ্জরী।
একদিন স্মরণ করার সময় দুগ্ধ আবর্তন করছেন, বারেবারে উথলে উঠছে, তাড়াতাড়ি হাত দিয়ে নামাতে গিয়ে হাত পুড়ে গেল। ধ্যান ভাঙলে দেখছেন যে সত্যিই হাত পুড়ে গিয়েছে। হাত কাপড়ে ঢেকে শ্রীগুরুদেবের নিকট প্রণাম করতেই লোকনাথের দৃষ্টি পড়ল,- বললেন কি হয়েছে নরোত্তম? আনুপূর্বিক সব ঘটনা গুরুদেবের নিকট বিবৃত করলে গুরুদেব আনন্দে বুকে জড়িয়ে ধরলেন,ও বললেন তোমারই জীবন সার্থক, তুমি ধন্য হয়েছ,সাক্ষাৎ রাধারানীর কৃপা লাভ করে।

শ্রীনিবাস নরোত্তম শ্যামানন্দ তিনজনে রাঘব পণ্ডিতের সঙ্গে ব্রজমন্ডল পরিক্রমা করলেন। তারপর গোস্বামী গনের আদেশ অনুমতে গ্রন্থ সম্পূট নিয়ে শ্রীগৌড়মণ্ডলে এলে বিষ্ণুপুরে গ্রন্থ চুরি হয়ে যায়। শ্রীনিবাস নরোত্তম কে বললেন নিজের জন্মভূমে ফিরে যেতে।

নরোত্তম খেতুরীতে আসলে গ্রামবাসী গণের আনন্দের সীমা রইল না, সর্বপ্রথম তার কাকাতুতো ভাই সন্তোষ দত্ত তার কাছে দীক্ষা নিলেন।
এরপর গৌরীদাস, শ্রীগোকুল, শ্রীগৌরাঙ্গ, শ্রীগঙ্গানারায়ণ চক্রবর্তী, শ্রীরামকৃষ্ণ, রাজা নরসিংহ, রানী রূপমালা, রাজা চাঁদরায়, সন্তোষরায়, রাজা রাঘবেন্দ্র প্রভৃতি নরোত্তম ঠাকুরের  চরণাশ্রয় করে ধন্য হলেন ও জগতে ভক্তির প্রচার করতে লাগলেন।

অভিন্ন চৈতন্যতনু নিগুঢ় নিতাই শ্রীনরোত্তমের কৃপায় অসংখ্য পাপীতাপী উদ্ধার হল।

কিছুদিন পরে শ্রীগৌড়মণ্ডলে এসে পরিক্রমা ও মহাপ্রভুর সমস্ত প্রকট  পরিকর গনের দর্শন করে নীলাচলে গিয়ে গোপীনাথ আচার্য আদি ভক্তবৃন্দের দর্শন করে পুনরায় শ্রীখণ্ডে নরহরি সরকার ও রঘুনন্দনের দর্শন করলেন। পশ্চাৎ যাজিগ্রামে এসে আচার্য প্রভুর সঙ্গে মিলিত হলেন। সেখান থেকে মহাপ্রভুর সন্ন্যাসপীঠ দর্শন করে, শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান একচক্রা আসলেন। সেখানে দর্শন আদি সম্পন্ন করে পুনরায় খেতুরীতে ফিরে আসলেন।
খেতুরীতে এসে প্রভু লোকনাথের প্রেরণায় বিগ্রহ সেবা স্থাপনের ইচ্ছা হল। শ্রীগৌরসুন্দরের আবির্ভাব তিথি গৌরপূর্ণিমায় বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার শুভ দিন নির্ধারিত হল। 

 এই বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা উৎসবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন *#মা_জাহ্নবা_ঠাকুরানী*।
 সমস্ত প্রকট অপ্রকট গনসহ মহাপ্রভু  এসে নৃত্য করেছিলেন। ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন- *#শ্রীগৌরাঙ্গ, #শ্রীবল্লভীকান্ত, #শ্রীকৃষ্ণ, #শ্রীব্রজমোহন, #শ্রীরাধারমণ, #শ্রীরাধাকান্ত* এই ছয় যুগল বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হলেন ।সেই উৎসবে নিজ আবিষ্কৃত অপূর্ব গরাণহাটি ঘরানার কীর্তন গান করলে সপরিকর গৌরসুন্দর প্রকট হয়ে ভুবনমোহন নৃত্য করেছিলেন। 

(এখন যার গরানহাটি নাম -কৈলেন নব আবিষ্কৃত-কীর্তন।
নরোত্তমের সংকীর্তনে-গৌর প্রকট হইলা গণ সনে।
  গৌর নাচলেন আনন্দ মনে-নরোত্তমের ভক্তি গুনে।
 সবাই দেখল নয়নে- সঙ্গে যারা ছিল সেখানে।
 তাদের  সনেও নাচলেন-  যারা প্রকট বিহার দেখে নাই।

 নবদ্বীপ নীলাচল ব্রজ-তিন যেন এক হল।
 শ্রীখেতুরী নাম ধরিল-তিন যেন এক হল।)

শ্রীনরোত্তম ঠাকুরের কীর্তনে আকর্ষিত হয়ে প্রকট অপ্রকট পরিকরের সাথে প্রাণ গৌরাঙ্গের এই অপূর্ব বিহার- গৌরাঙ্গের পরিপূর্ণতম বিহার। কার গুন গাইব বল!  দাস এর গুন না প্রভুর গুন, না এই খেতুরী ভূমির মহিমার গুন!!
 শ্রীগুরুচরণ হৃদয়ে ধরে অনুভব কর ভাইরে ।
*ভাগ্যবতী খেতুরী ভূমিতে নদীয়া নীলাচল বৃন্দাবন ধামের প্রকট অপ্রকট গণ সাথে গৌরসুন্দর নৃত্য করলেন।*
 N__I__T__Y__A__N__A__N__D__A
 ধামেশ্বর আর তাঁর পরিকর কখনো ধাম ছেড়ে যান না। যেখানে ধামেশ্বর বিহার করবেন, সেখানে ধাম ব্যাপক বিভূ রূপ ধারণ করে আগেই প্রকট হয়ে যান। এই লীলার নিয়ম। খেতুরীর প্রাঙ্গনে সংকীর্তন বিহার করার জন্য যখন নদীয়া নীলাচল বৃন্দাবনের প্রকট অপ্রকট গৌর পরিকর যখন সেখানে গেলেন তখন নিশ্চিত সেখানে নদীয়া নীলাচল বৃন্দাবন ধাম ও এসে গিয়েছিলেন।
*#খেতুরী_ভূমির_স্বরূপ_নদীয়া_নীলাচল_ব্রজধাম_তিন_ধামের_সমন্বিত_স্বরূপ*।
এছাড়াও নদীয়া নীলাচল ও ব্রজধাম থেকেও খেতুরী ভাগ্যশালিনী কেননা ইহা বাসনা পূর্তিকারী লীলা । অভিন্ন চৈতন্য নিগূঢ় নিতাই এর গৌরলীলায় যে বাসনা  পূর্তি হয়নি, তারও পূর্ণ করার জন্য নরোত্তম রূপ ধারণ করে বিলাসের ইচ্ছাপুর্তি করার জন্য তিনি এক স্থানে প্রকট করে দিয়েছিলেন।

ঠাকুর নরোত্তম তিন লীলার একীভূত মূর্তি। ত্রিকাল সত্য  লীলায় সপরিকর নরোত্তম এখনও বিহার করছেন।  নিতাই গৌর  প্রেমের পাগল বললেন,- যদি তিন লীলার সমন্বয় ভোগ করতে চাও তাহলে নিতাই নরোত্তমের  শরণ লও।
 শ্রীনরোত্তম লীলা পরিপূর্ণ লীলা ভোগ করানোর শক্তি রাখেন। 

নরোত্তম এর মহিমা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। অনেক বিমুখ, দস্যু-তস্কর চরণে আশ্রয় নিলেন।প্রথমেই তার ভাই সন্তোষ দত্ত দীক্ষা নেন। তারপরে গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্তী আদি অনেক ব্রাহ্মণও তার চরণে শরন নেন।
একবার ভগবদ্ লীলা স্মরণাবিষ্ট দশায় তিন দিন কেটে যায়। সকলেই ভাবলেন উনি দেহ ছেড়ে দিয়েছেন। এই ভেবে চিতা সাজিয়ে, তার উপরে নিয়ে শয়ন করালেন। বিমুখ লোক সব এসে বলতে লাগল দেখলে তো! কায়স্থ হয়ে এই ব্রাহ্মণদের দীক্ষা দেওয়ার ফলে বাকরুদ্ধ হয়ে মারা গেল। এসমস্ত কথা গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্তীর প্রাণে খুব ব্যাথা দিল‌। তিনি সাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ করে বললেন *#গুরুদেব_রক্ষা_করো এই গুরুনিন্দা শ্রবন রূপ অপরাধের থেকে রক্ষা কর। বলে ব্যাকুল প্রাণে কাঁদতে লাগলেন। ধীরে ধীরে ঠাকুর মহাশয় চিতা থেকে উঠে বসলেন এই দৃশ্য দেখে সমস্ত পাষন্ডরা এসে চরণে শরণ নিল। বললেন আমাদের অপরাধ হয়ে গেছে, আমাদের ক্ষমা করুন। আমাদের চরণে আশ্রয় দিন। ঠাকুরমশাই বললেন "তোমাদের আমি আর আশ্রয় দিতে পারবো না। তোমরা গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্তীর চরণে শরণ নাও। বলে উঠে চলে আসলেন। কিছুকাল ব্যতীত হলো এদিকে শ্রীনিবাস আচার্য প্রভু ও রামচন্দ্র কবিরাজও অন্তর্হিত হলেন। তাদের বিরহে আর প্রাণ ধারণ করা যায় না। এই সময়ে ঠাকুর মহাশয় প্রেমভক্তি চন্দ্রিকা ও প্রার্থনা লিখেছিলেন।
 তারপর একদিন বললেন গঙ্গানারায়ণ!চল গঙ্গায় স্নান করে আসি। এই বলে জিয়াগঞ্জের গাম্ভিলাঘাটে গঙ্গাস্নান করতে গেলেন। গিয়ে বলছেন -"আমার দেহ মার্জনা করে দাওতো! সেবকগণ দেহ মার্জন করতে লাগলেন।সাদা দুধের মত বের হতে লাগল ও ধীরে ধীরে তিনি সম্পূর্ণ গঙ্গা জলে মিশে গেলেন। এজন্য তার কোথাও পূর্ণ সমাধি নেই। (মহাপ্রভুর প্রেম পদ্মাতে প্রাপ্ত হয়েছিলেন সেই প্রেম ই পুনরায় গঙ্গা জলে মিশে গেল।)

*জয় নিতাই!*
*নিত্যানন্দ প্রভু ও গৌড়ীয় গোস্বামী সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিবিধ প্রসঙ্গ জানতে এই গ্রুপে অ্যাড হোন, বন্ধুদের অ্যাড করুন , লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন।*


*এখানে ধর্মীয় ভক্তি-জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন পোস্ট পেতে পারবেন।*
 *জয় নিতাই!*
 *জয় জয় নিতাই!!*
*🌹🌹🙏🙏🌹🌹*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
  ꧁👇📖সূচীপত্র ✍️ শ্রী গোপীশরণ দাস📖👇
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds