শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬১) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *শান্তিপুরে শ্রীমন্মহাপ্রভু*
            ~~~~~~~~~~~~~~~
*🍀পরদিন প্রভাতে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব শ্রীগুরুর চরণে প্রণত হয়ে বললেন, আমি নির্জন অরণ‍্যে গমন করে সেখানে আমার অভীষ্টদেব শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করিব।এই বলে তিনি অরণ‍্যযাত্রায় উদ‍্যত হলেন। কেশবভারতী শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রতি ভীষণ ভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন।তিনি বললেন, আমিও তোমার সঙ্গে অরণ‍্যে গিয়ে হরিনামামৃত পানে প্রাণ জুড়াব।ভারতীকে অগ্রগামী করে,শ্রীচৈতন‍্যদেব ও চন্দ্রশেখর আচার্য‍্য তাঁর পশ্চাদনুবর্তী হলেন।তাঁরা কিছুদুর গমন করলে,গৌরসুন্দর চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যকে নবদ্বীপ ফিরে গিয়ে জননীকে সমস্ত বৃত্তান্ত জানাতে বললেন।চন্দ্রশ্রেখর নবদ্বীপে ফিরে এসে শচীদেবীর ভবনে গমন করে দেখলেন,গৌরজননী ও বিষ্ণুপ্রিয়া মাটিতে শয়ন করে আছেন।তিনি গৌরজননীকে নানান বাক‍্যে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন।। কিন্তু তাঁর হৃদয়ের দুর্বিষহ শোকানলকে সান্ত্বনা দিয়ে শান্ত করতে পারে?চন্দ্রশেখরের আগমনবার্তা নবদ্বীপে প্রচারিত হলে, অদ্বৈত প্রভৃতি ভক্তগণ শচীদেবীর ভবনে আগমন করলেন, এবং গৌর বিরহে বালকের ন‍্যায় ক্রন্দন করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পরে তাঁরা এক দৈববাণী শুনলেন, "তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা কর,দুই চারদিন পরেই গৌরহরি তোমাদের সঙ্গে মিলিত হবেন।এই দৈববাণী শুনে তাঁরা আশ্বস্ত হলেন।এই সংবাদে শচীমায়ের শোকদগ্ধ হৃদয়ও কিছু পরিমাণে শান্তি লাভ করল।*
*🌹এদিকে মহাপ্রভু ভক্তবৃন্দসহ পশ্চিমাভিমুখে গমন করতে লাগলেন।কেশবভারতী ও অন‍্যান‍্য ভক্তবৃন্দও তাঁর অনুগমন করছেন।শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য যখন হরিধ্বনি করতে করতে গ্রাম হতে গ্রামান্তরে গমন করতে লাগলেন,তখন চারিদিকের বায়ু যেন হরিনামে পূর্ণ হয়ে উঠিল।তাঁর অমানুষিক দেবতুল‍্য পবিত্র মূর্তি, সন্ন‍্যাসবেশ, অনুপম ভক্তির উচ্ছাস দর্শ করে,আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই অশ্রু বর্ষণ করতে লাগলেন।কোন কোন জায়গায় তিনি সমবেত লোকমন্ডলীকে সংসারে অনাসক্ত হয়ে কৃষ্ণ-প্রেমানুরাগী হবার জন্য উপদেশ দান করতে লাগলেন।এইভাবে তাঁরা রাঢ়দেশে এসে উপস্থিত হলেন।রাঢ়দেশের পর্বত ও বৃক্ষলতাদির সৌন্দর্য্য দর্শন করে মহাপ্রভু বিমোহিত হয়ে গেলেন ; এবং হরিবোল হরিবোল বলে আনন্দে নৃত্য করতে করতে চলতে লাগলেন।কতকদূর গমন করে বললেন, আমি বক্রেশ্বরের আশ্রমে যাব, সেস্থান অরণ‍্যময়,সাধনের অনুকূল।সন্ধ‍্যা সমাগত হলে যাত্রীদল যেতে যেতে কোন এক ব্রাহ্মণের বাড়ীতে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।গৃহস্বামী তাঁদের যথোচিত সম্মান করে আতিথ‍্য-সৎকার করলেন।আহারান্তে আগন্তুকগণ সেইখানেই শয়ন করলেন।নিত‍্যানন্দ নিদ্রাভঙ্গের পর উঠে দেখেন গৌরহরি নাই।তিনি তৎক্ষণাৎ অন‍্যান‍্য সকলকে জাগ্রত করলেন, এবং সকলে মিলে গৌরসুন্দরের অন্বেষণে বাহির হলেন।ব‍্যাকুল হৃদয়ে তাঁরা চারিদিকে ধাবিত হচ্ছেন, এমন সময়ে ক্রন্দনের ধ্বনি তাঁদের কর্ণগোচর হল ; কন্ঠস্বর, মহাপ্রভুর কন্ঠস্বর বলে বিশ্বাস হওয়াতে তাঁরা সেই দিকেই ধাবিত হলেন। গিয়ে দেখলেন, শ্রীমন্মহাপ্রভুই অশ্রুসিক্ত নয়নে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"বলে ক্রন্দন করছেন।তাঁর ভক্তিভাব দেখে তাঁদেরও ভাবোদয় হল। তাঁরাও মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে কাঁদতে লাগলেন। ওদিকে মুকুন্দ দত্ত মহাপ্রভুর ক্রন্দন থামাবার জন্য কীর্তনগান আরম্ভ করলেন।প্রেমোন্মত্ত শ্রীচৈতন‍্যদেব কীর্তন শুনে আনন্দে নৃত্য করতে আরম্ভ করতে করতে, পশ্চিমাভিমুখেই চলতে লাগলেন।*
*🌺বক্রেশ্বরের আশ্রম আর চার ক্রোশ আছে, এমন সময় গৌরহরি পশ্চিমাভিমুখ হতে হঠাৎ পূর্বাভিমুখে চলতে আরম্ভ করলেন, এবং বললেন, জগন্নাথ প্রভুর আদেশ হয়েছে আমাকে নীলাচলে যেতে হবে।ভক্তগণ তাঁর কথা শুনে বিশেষ আনন্দ লাভ করলেন।তাঁরা সকলেই উৎসাহের সঙ্গে চলতে লাগলেন।পথে যেতে শ্রীচৈতন‍্যদেব অত‍্যন্ত দুঃখের সহিত বলতে লাগলেন,কারও মুখে কৃষ্ণনাম শুনতে পাচ্ছি না! এমন সময়ে দেখলেন, পথিমধ‍্যে কয়েকজন রাখাল গাভী চরাচ্ছে ; তাদের মধ্যে হতে একজনের মুখ হতে হঠাৎ হরিধ্বনি শুনে তাঁর প্রাণ যেন আনন্দে নৃত্য করে উঠিল। তিনি রাখালবালকের জিজ্ঞাসা করলেন,এখান হতে গঙ্গা কত দূর? তারা বলল,এক প্রহরের পথ।গঙ্গা দর্শন ও তাতে অবগাহন করে শরীর শীতল করব, এই আশায় তিনি প্রফুল্ল হৃদয়ে হরিধ্বনি করতে করতে সেই দিকেই ধাবিত হতে লাগলেন।পরিশ্রান্ত দেহে যাত্রীদল সন্ধ‍্যার সময় জাহ্নবী তীরে উপস্থিত হলেন।শ্রীকৃষ্ণচেতন‍্যদেব জাহ্নবী দর্শনে পুলকিত চিত্তে তাতে স্নান ও গন্ডুষ ভরে সে বারি পান করে শরীর ও মনের তৃপ্তি সাধন করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *শান্তিপুরে শ্রীমন্মহাপ্রভু*
           ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹পরদিন গৌরভক্তগণ মহাপ্রভুসহ নীলাচলাভিমুখে চলতে লাগলেন। যেতে যেতে তিনি নিত‍্যানন্দকে নবদ্বীপে যেতে বললেন, "তুমি নবদ্বীপে গিয়ে শ্রীবাসাদি সকলকে বলবে, আমি একবার শান্তিপুর হয়ে নীলাচলে গমন করব।এখন আমি ফুলিয়া গ্রামে হরিদাসের আশ্রমে গমন করছি।নিত‍্যানন্দ গৌরহরির আদেশ শিরোধার্য‍্য করে গমন করলেন, এবং সেখানে গমন করে সর্বাগ্রে মহাপ্রভুর ভবনে উপস্থিত হলেন।আজ দ্বাদশদিন হল,গৌরহরি সন্ন‍্যাসব্রত অবলম্বন করেছেন।নিত‍্যানন্দ গিয়ে দেখলেন, শচীমা সন্তানের সন্ন‍্যাসাবধি অনাহারে পড়ে আছেন।এই নিদারুণ পুত্রশোকে ও দীর্ঘকাল অনশনে তাঁর মস্তিষ্ক অত‍্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল।তিনি নিত‍্যানন্দকে দেখে,অপ্রকৃতিস্থা নারীর মত কথা বলতে লাগলেন।নিতাই এখন শচীমায়ের প্রাণে একটু আনন্দের সঞ্চার করলেন,তিনি বললেন,নিমাই শীঘ্রই শান্তিপুরে অদ্বৈত-ভবনে আসিবেন, আমি আপনাকে সঙ্গে করে সেখানে নিয়ে যাব।নিত‍্যানন্দকে তিনি পুত্রসম স্নেহ করতেন।তাঁর কাছ হতে নিমাই শান্তিপুরে আসবে,এইকথা শুনে, যেন মৃত শরীরে নবজীবনের সঞ্চার হল।তাঁর শোকপূর্ণ হৃদয় এই আনন্দের সংবাদে উদ্দীপ্ত হয়ে উঠল।তিনি উঠে বসলেন।যিনি এতদিন পুত্র বিরহে মাটিতে শুয়ে অনশনে দিনযাপন করছিলেন,তিনি আজ পাকশালায় গমন করে স্বহস্তে রন্ধন করে নিত‍্যানন্দকে আহার করালেন, এবং নিজেও আহার করে পুত্রমুখ দর্শন অভিলাষে শান্তিপুরে যাবার জন্য প্রস্তুত হলেন।*
*🌺বেলা অধিক হল।সকলে গৌরহরিকে নিয়ে গঙ্গাস্নান করতে গেলেন।স্নানান্তে সকলে ফিরে আসিলে, আহারের আয়োজন হল।আচার্য‍্য নানারকম ব‍্যঞ্জন পিষ্টকাদি প্রস্তুত করিয়েছিলেন।সকলে বসে পরম আনন্দে ভোজন করতে লাগলেন।তাঁরা আচার্য‍্য ভবনে থেকে পরিতোষপূর্বক আহার,ধর্মপ্রসঙ্গ ও কীর্তনাদিতে সময় অতিবাহিত করতে লাগলেন।এইভাবে দশদিন কেটে গেল ; শ্রীচৈতন‍্যদেব নীলাচল যাবার জন্য উৎসুক হয়ে উঠলেন।অদ্বৈতাচার্য‍্য তাঁকে আর কিছুদিন থাকতে অনুরোধ করলেও তিনি তাঁর অনুরোধ রক্ষা করতে পারলেন না।মহাপ্রভু নীলাচল যাবেন যখন স্থির হল,তখন শচীমা কাঁদতে লাগলেন।তিনি জননীকে বললেন, মা! তুমি আমার জন্য চিন্তা করিও না, আমি নীলাচলে থাকলে, তুমি মধ্যে মধ্যে আমার সংবাদ পাবে।এইরকম নানান মধুর বচনে তাঁর প্রাণে সান্ত্বনা দান করতে লাগলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
         *মহাপ্রভুর নীলাচল-যাত্রা*
       °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻শান্তিপুর হতে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব নীলাচল যাত্রা করলেন।তাঁর বিচ্ছেদ সকলের অসহনীয় হয়ে পড়ল ; সকলেই কেঁদে আকুল হয়ে পড়লেন। নিত‍্যানন্দ,গদাধর,মুকুন্দ,গোবিন্দ, জগদানন্দ ও ব্রহ্মানন্দ মহাপ্রভুর সঙ্গী হলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব সকলকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কার কাছে কি বল আছে?পথের সম্বলের জন্য তোমাদের কেউ কি কিছু দান করেছেন? সকলেই বললেন,তোমার বিনা অনুমতিতে, কোন দ্রব‍্য সঙ্গে নিয়ে আসতে কার সাধ‍্য আছে?তাঁর প্রতি ভক্তদের নিষ্ঠা ও ঐকান্তিক অনুরাগের পরিচয় পেয়ে শ্রীচৈতন‍্য অত‍্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন।পরম বৈরাগী, বিশ্বাসের চূড়ামণি ও ভক্তদের শিরোভূষণ শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবতখন ভগবানের প্রতি ঐকান্তিক নির্ভরের কথা উল্লেখ করে বলতে লাগলেন, সেই বিশ্ব নিয়ন্তাই আমাদের অন্ন-জল বিধাতা।যদি অদৃষ্টে থাকে,অরণ‍্যে বাস করলে সেখানেও আহার মিলে থাকে,আর পরমেশ্বর যদি অন্ন না যোগান তাহলে রাজপুত্র হলেও উপবাস থাকতে হয়।কারণ গৃহে তার আহারের বহুবিধ সামগ্রী থাকলেও হয়তসে কোন কারণে কারও সঙ্গে বিবাদ করে ক্রোধভরে "আমি ভাত খাব না" বলে উপবাসী থাকে।অথবা আহারের সকল বস্তু তৈরী থাকলেও হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতার কারণে আক্রান্ত হয়ে পড়ে,আহার বন্ধ হয়ে যায়।তিনিই সর্বত্র অন্নছত্র খুলে রেখেছেন ; তাঁর ইচ্ছে হলে মানুষ সর্বত্র আহার পেয়ে থাকে।পথে আনন্দিত মনে চলতে চলতে শ্রীচৈতন‍্যদেব ভক্তবৃন্দদের এইভাবে ভগবানের প্রতি অটল বিশ্বাসের কথা বলে,তাঁদের চিত্তকে সুদৃঢ় করতে যত্নশীল হয়েছিলেন।*
*🌹যাত্রীদল সানন্দে শ্রীচৈতন‍্যদেবের সঙ্গে ধর্মপ্রসঙ্গ করতে করতে আঠিসারা নামক গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন।🔷আঠিসারা=২৪ পরগণার অন্তর্গত বারুইপুর নামক জায়গার কাছে আটঘরা নামক একটি জায়গা আছে, শ্রীচৈতন‍্যভাগবতকার বোধ হয়,এই জায়গাটিকেই আঠিসারা নামে উল্লেখ করেছিলেন।*
*🍀সে গ্রামে অনন্ত পন্ডিত নামে এক বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণ বাস করতেন।মহাপ্রভুর সঙ্গীগণ তাঁর আলয়ে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।সাধু অনন্ত পন্ডিত, শ্রীচৈতন‍্যদেবের মত পরমজন তাঁর বাসভবনে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন দেখে আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠলেন, এবং যথাবিধানে সকলের পরিচর্য‍্যা করলেন।শ্রীচৈতন‍্যচূড়ামণি সমস্ত রজনীই কীর্তনানন্দে অতিবাহিত করে পরদিন গঙ্গার উপকূল দিয়ে সকলে ছত্রভোগের দিকে যাত্রা করলেন।ছত্রভোগে ☆এই গ্রামটি ২৪ পরগণা জেলার মধ্যে,জয়নগর-মজিলপুর হতে ২|৩ ক্রোশ দক্ষিণে।🍀গঙ্গা শতমুখী হয়ে প্রবাহিতা হচ্ছেন।এখানে আম্বূলিক নামে একটি ঘাট আছে।প্রবাদ আছে এই যে,ভগীরথ যখন গঙ্গাকে নিয়ে যান,তখন শিব তাঁর বিরহে ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন এবং তাঁর দর্শন লালসায় বাহির হয়ে ছত্রভোগে এসে তাঁর দর্শন লাভ করলেন। শঙ্কর দেখলেন,প্রসন্নসলিলা জাহ্নবীদেবী কল কল নিনাদে প্রবাহিতা হচ্ছেন। তিনি গঙ্গাদেবীর এই অপরূপ মূর্তি দর্শন করে অনুরাগভরে তাঁর মধ্যে ঝাঁপ দিলেন।জাহ্নবীও প্রসন্নচিত্তে মহাদেবকে গ্রহণ করলেন।শঙ্করের দেহ গঙ্গাবক্ষে সলিলরূপে অবস্থিতি করতে লাগল।এই জায়গায় শিবদেহ জাহ্নবী দেহে একীভূত হয়েছিল বলিয়া,এই জায়গা আম্বুলিঙ্গ ঘাট নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।*
*🌻সকলে ছত্রভোগে এসে উপস্থিত হলেন।প্রেমিক চূড়ামণি শ্রীচৈতন‍্যদেব আম্বুলিঙ্গ ঘাটে গঙ্গাদেবীর এই মনোহর সৌন্দর্য্য দর্শন করলেন এবং এ স্থানের পৌরাণিক কাহিনী স্মরণ করে,আনন্দে উন্মত্তপ্রায় হয়ে মধুর ও উচ্চকন্ঠে "হরি হরি"বলে নৃত্য করতে লাগলেন।বায়ুর আঘাতে বৃক্ষ যেমন ভূতলে নিপতিত হয়, গৌরহরিও প্রেমাবেশে সেইভাবে ভূতলে নিপতিত হতে লাগলেন।তাঁর কন্ঠের সঙ্গে ভক্তগণএর কন্ঠও মিশ্রিত হয়ে হরিনামের কোলাহলে সে জায়গা পূর্ণ করে তুলল।শ্রীচৈতন‍্য শতপথবিহিনী গঙ্গার পবিত্র জলে স্নান করলেন,তাঁর নয়নে প্রেমধারা বহিতে লাগিল।সে শ্রীমুখের জ‍্যোতিঃ দর্শন করলে পাষাণ হৃদয়েও ভক্তিধারা প্রবাহিত হয়।*

*শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য আম্বুলিঙ্গঘাটে হরিনামে উন্মত্তপ্রায় হয়ে নৃত্য কীর্তন করছেন,এমন সময়ে,ভূম‍্যধিকারী রামচন্দ্র খান দোলারোহণে সেই জায়গা দিয়ে গমন করছিলেন, তিনি নবীন সন্ন‍্যাসীর অপূর্ব ভক্তির লক্ষণ দেখে,দোলা নেমে,ভক্তিভরে তাঁর চরণে বিলুন্ঠিত হয়ে পড়লেন।শ্রীচৈতন‍্য জিজ্ঞাসা করলেন,তুমি কে? রামচন্দ্র খান তৎক্ষণাৎ উঠে করযোড়ে বললেন,আমা আপনার দাসানুদাস। উপস্থিত লোকজন রামচন্দ্র খানের পরিচয় দিয়ে বলল, ইনি এখানকার রাজা। শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর পরিচয় পেয়ে বললেন,তুমি এই জায়গার অধিকারী,ভালই হয়েছে ; কিভাবে নীলাচলে নীলাদ্রিনাথকে দর্শন করব,তাইই বলে দাও।রামচন্দ্র খান বললেন,আপনি যা আজ্ঞা করবেন,আমি তা অবশ্যই পালন করব।তবে এখন নীলাচলের পথ বড় বিপদসঙ্কুল,উৎকলের সঙ্গে বঙ্গদেশের যুদ্ধ বেঁধেছে।রাজারা জায়গায় জায়গায় ত্রিশূল পুতেছে, দস‍্যুরা পথিকের অর্থাদি লুন্ঠন করে তার জীবন নাশ করে থাকে।তথাপি আমি আপনার আজ্ঞা পালন করে আপনাদেরকে অদ‍্য রাত্রে সেখানে পাঠাবার ব‍্যবস্থা করব।রামচন্দ্র খানের এই কথা শুনে গৌরসুন্দর আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠলেন।সেদিন রামচন্দ্র খান কোন ব্রাহ্মণের আশ্রমে তাঁদেরকে আহারাদির ব‍্যবস্থা করে দিলেন।গৌরহরি যৎকিঞ্চিৎ আহার করে আচমনান্তে ব‍্যাকুল হৃদয়ে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন,শ্রীক্ষেত্র এখান হতে কত দূর?মহাপ্রভুর ভাবাবেশ দর্শন করে মুকুন্দ দত্ত সুস্বরে কীর্তন করতে লাগলেন।শ্রীচৈতন‍্য একে নিরন্তরই (সবসময়ই) প্রেমানন্দে বিভোর ; তার উপর নীলাদ্রি যাত্রা স্মরণ করে তাঁর হৃদয়ের ভাবতরঙ্গ আরো উচ্ছসিত হয়ে উঠিল।এইভাবে রাত্রি তৃতীয় প্রহর কেটে গেল।এমন সময়ে রামচন্দ্র খান এসে বললেন, প্রভো! আপনাদের জন্য নৌকা এসেছে। শ্রীচৈতন‍্যদেব হরিধ্বনি করতে করতে,সপার্ষদে নৌকারোহণ করলেন। স্রোতস্বিনীর উপর দিয়ে মাঝিরা নৌকা বেয়ে চলিল।শ্রীচৈতনের যেন আনন্দের আর সীমা নাই।তিনি মুকুন্দকে কীর্তন গাইতে বললেন।মুকুন্দ কীর্তন করতে আরম্ভ করলেন,অপরাপর ভক্তগণও মহোল্লাসে মুকুন্দের সঙ্গে কীর্তন করতে লাগলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৪) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
          *মহাপ্রভুর নীলাচল যাত্রা*
          **************************
*🔷নৌকা চলতে লাগিল। কিন্তু মাঝিরা আরোহীদের সংকীর্তনে বড় ভীত হয়ে পড়ল।তারা বলল, এবার আর আমাদের জীবনের আশা নাই।কুলে জঙ্গলের মধ্যে বাঘ ঘুরছে।জলে কুমীর বাস করছে,আর দস‍্যুরা আরোহীদের সর্বস্ব লুন্ঠন করবার জন্য জলপথে গোপনে বিচরণ করছে। যে পর্যন্ত আমরা উড়িষ‍্যা দেশে না যাই সে পর্যন্ত আর কীর্তন করবেন না।মাঝিদের কাছ হতে এই আশঙ্কার কথা শুনে,সকলের রসনা নীরব হল। কিন্তু গৌরহরি কোন ভয়ে ভীত হবার মানুষ নন।তিনি সকলকে নীরব হতে দেখে,হুঙ্কার করে বলে উঠলেন,সম্মুখে সুদর্শন চক্র ঘুরছে,তা কি দেখতে পাও না?এই চক্র বৈষ্ণবদের সকল বিঘ্ন হরণ করে থাকে।কোন ভয় নাই,নির্ভয়ে হরিনাম সংকীর্তন কর।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেবের জীবন্ত বিশ্বাসের কথায় তাঁর ভক্তদের হৃদয় হতে ভীতির মেঘরাশি যেন বায়ু প্রবাহে উড়ে গেল।তাঁরা জীবন্ত বিশ্বাসে ও ভক্তিতে পূর্ণ হয়ে উঠলেন এবং অধিকতর উৎসাহের সঙ্গে সকলে সর্বভয়হারী হরিনাম সংকীর্তন করতে লাগলেন।মাঝিরা বুঝল,পরম রূপবান নবীন সন্ন‍্যাসী নরদেহী হলেও সামান্য মানব নহেন। শ্রীচৈতন‍্যদেব এইভাবে ভক্তগণসহ কীর্তনানন্দে মত্ত হয়ে গঙ্গাবক্ষ দিয়ে যেতে যেতে উৎকল প্রদেশে প্রবেশ করলেন।মাঝিরা প্রয়াগঘাটে তরী লাগালে,মহাপ্রভু সদলে কুলে অবতরণ করলেন, এবং ভক্তগণকে বসতে বলে,ভিক্ষার জন্য গ্রামের অভ‍্যন্তরে প্রবেশ করলেন।তিনি যখনই যে গৃহীর দ্বারে ভিক্ষার জন্য উপস্থিত হতে লাগলেন,তখনই সেই পরিবারের লোকেরা তাঁর অনুপম সৌন্দর্য্য দেখে বিমোহিত হয়ে তাঁর ভিক্ষাপাত্রে প্রচুর পরিমাণে তন্ডুল ও বিবিধ আহার্য‍্য সামগ্রী প্রদান করতে লাগলেন।শ্রীচৈতন‍্য ভিক্ষাদ্রব‍্য নিয়ে প্রিয় সঙ্গীদের কাছে উপস্থিত হলেন।সকলে আশাতীত খাদ‍্যবস্তু দেখে পরম পুলকিত হলেন, এবং সহাস‍্য বদনে বলতে লাগলেন,প্রভো!আপনি আমাদের পোষণ করতে পারবেন, দেখছি।ভক্তদলের মধ্যে জগদানন্দ পরমানন্দে মহাপ্রভুর সঙ্গে সকলে ভোজন করতে বসলেন।সেদিন সেখানে থেকে তাঁরা সমস্ত রাত্রি কীর্তনানন্দে যাপন করলেন।*

*রজনী প্রভাত হ'ল।যাত্রীদল পুনরায় চলতে আরম্ভ করলেন।যেতে যেতে তাঁরা এক খেয়াঘাটে উপস্থিত হলেন।ঘাটে কড়ি না দিলে মাঝি কাউকেও পার করে না।শ্রীগৌরহরি যখন সেখানে উপস্থিত হলেন,তখন মাঝি তাঁর মধ্যে অপূর্ব জ‍্যোতিঃ দেখে তাঁকে বিনামূল‍্যে পার করে দিবে বলল, জিজ্ঞাসা করল,তোমার সঙ্গে ক'জন লোক আছে?নবীন সন্ন‍্যাসী বললেন,এ জগতে আমার কেউ নেই, এবং আমি কারও নই ; আমি একা,অথচ সকলেই আমার।মাঝি এইকথা শুনে তাঁকে নিঃসঙ্গ মনে করে বলল, "ঠাকুর" তুমি নৌকায় উঠ ; তোমাকে বিনা কড়িতে আমি পারে নিয়ে যাব ; আর সকলের জন্য মূল‍্য না পেলে পার করব না।এই বলে নবীন সন্ন‍্যাসীকে সে পর পারে নিয়ে গেল।এদিকে তাঁর সঙ্গীগণ মহাপ্রভুর লীলা কিছু বুঝতে না পেরে একটু চিন্তিত হয়ে পড়লেন।নিত‍্যানন্দ সকলকে আশ্বাস দিয়ে বললেন,তোমরা কোন চিন্তা করবে না, মহাপ্রভু আমাদেরকে কখনই পরিত‍্যাগ করে যাবেন না।এমন সময় মাঝি এসে তাঁদেরকে বলল,তোমরা তো আর সন্ন‍্যাসী নহ, তোমরা উচিতমত মূল‍্য দাও,তবে তোমাদের পার করব। গৌরহরি সর্বত‍্যাগী সন্ন‍্যাসী ; কিন্তু তাঁর প্রাণ কোমলহৃদয়া নারীর মত।তিনি পরপারে গিয়ে একটি জায়গায় বসে মাথা নত করে ক্রন্দন করতে লাগলেন।সে ক্রন্দন, সে অশ্রুপূর্ণ লোচন দেখে মাঝির প্রাণ গলে গেল।সে শ্রীচৈতন‍্যের সঙ্গীদের কাছে এসে বলল,উনি তো সামান্য মানুষ নহেন,তোমরা কে?কার লোক আমাকে ভেঙ্গে বল দেখি। নিত‍্যানন্দ প্রভৃতি শ্রীচতন‍্য ভক্তগণ বললেন, শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের নাম শুনেছ? উনিই সেই ; আমরা উনার ভৃত‍্য। তখন আনন্দে ও বিস্ময়ে মাঝির হৃদয় অভিভূত হয়ে পড়ল।তার দুই নয়ন হতে জলধারা বহিতে লাগল। এবং তৎক্ষণাৎ তাঁদেরকে নিয়ে পার করে দিল।সে বহু পুণ‍্যফলে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের দর্শন লাভ করল, এবং মাঝি কেন যে কাঁদতে কাঁদতে গৌরহরির শ্রীচরণে প্রণত হয়ে বলল, প্রভো!তোমার দর্শনে আমি আজ কোটি জন্মের পুণ‍্যফল লাভ করলাম, হে করুণার অবতার! আমি তোমার চরণে যদি কোন অপরাধ করে থাকি,তুমি আমার সব অপরাধ ক্ষমা করো।*
*শ্রীচৈতন‍্যদেব মাঝিকে কৃষ্ণপ্রেমের অনুরাগী হতে বলে,সকলকে নিয়ে সেখান হতে গমন করতে লাগলেন। যাত্রীদল চলতে চলতে কয়েকদিন পরে সবর্ণরেখা নদীর কাছে এসে উপস্থিত হলেন।স্রোতস্বিনী সুবর্ণরেখার জল অতীব নির্মল। সুবর্ণরেখা=মেদিনীপুর ও উড়িষ‍্যার মধ‍্য দিয়ে এই নদী প্রবাহিত হয়ে গিয়েছে। এটি একটি প্রসিদ্ধ নদী।*
 *শ্রীচৈতন‍্য,সঙ্গীগণ এই নির্মল জলে স্নান করলেন।স্নানান্তে তিনি নিত‍্যানন্দ প্রভৃতিকে পশ্চাতে রেখে অগ্রসর হয়ে চললেন, এবং যাওয়ার পর একটি জায়গায় বসে পেছনে পড়ে থাকা ভক্তগণদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।এদিকে নিত‍্যানন্দ আনন্দে নৃত্য করতে করতে গমন করতে লাগলেন।জগদানন্দ,তাঁকে পথের মধ্যে কোন স্থানে বসতে বলে ভিক্ষার জন্য পল্লীর মধ্যে গমন করলেন।জগদানন্দ শ্রীচৈতন‍্যের সন্ন‍্যাসদন্ড বহন করতেন।তিনি ভিক্ষায় যাবার সময় নিত‍্যানন্দ দন্ডটি হাতে করে তাঁর মনে কি এক ভাবের উদয় হল, তিনি বলতে লাগলেন,"দন্ড"!আমি যাকে হৃদয়ে ধারণ করি,তিনি তোমাকে বহন করবেন?এই বলে তিনি মহাপ্রভুর দন্ড দ্বিখন্ডিত করে ফেললেন।জগদানন্দ ভিক্ষা করে ফিরে এসে ভাঙ্গাদন্ড দেখে,নিত‍্যানন্দকে জিজ্ঞাসা করলেন, মহাপ্রভুর দন্ড কে ভেঙ্গে ফেলেছে? নিত‍্যানন্দ বললেন,মহাপ্রভুর দন্ড মহাপ্রভুই ভেঙ্গেছেন। জগদানন্দ আর কোন প্রত‍্যুত্তর না করে ভাঙ্গাদন্ড হাতে করে গৌরহরির কাছে এসে উপস্থিত হলেন।* 
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🙏🌻🌻🌻🌻🌻🌻

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৫) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
      *শ্রীমন্মহাপ্রভুর নীলাচল-যাত্রা*
     ******************************
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেব ভাঙ্গা দন্ড দেখে জিজ্ঞাসা করলেন,"দন্ড কে ভেঙ্গেছে"? জগদানন্দ বললেন, প্রভো!নিত‍্যানন্দ আপনার দন্ড ভেঙ্গেছেন। তারপর শ্রীচৈতন‍্যদেব নিত‍্যানন্দকে দন্ড ভাঙ্গিবার কারণ জিজ্ঞাসা করাতে, তিনি তদুত্তরে বললেন,"বাঁশখান ভেঙ্গেছি" এতে আমার প্রতি যেরকম শাস্তি বিধান করা কর্তব‍্য মনে কর,তাইই কর।নিত‍্যানন্দের কথায় মহাপ্রভু আর বেশী কিছু না বলে এই মাত্র বললেন, যাতে সর্বদেবতার অধিষ্ঠান,তুমি তাকে কেবল বাঁশখন্ড বললে? এটি আমার সন্ন‍্যাস-দন্ড,দীক্ষার সময় আমার গুরুদেব কেশব ভারতীর আশ্রমে গৌরহরি সেটি গ্রহণ করেছিলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব দুঃখিত অন্তঃকরণে সকলকে বললেন, "আমার আর কারও সঙ্গ আবশ্যক নেই, হয় তোমরা আগে যাও, না হয় আমি আগে গমন করি "। তাঁর এইরকম কথা শুনে ভক্তগণ বড়ই দুঃখিত হলেন ; কিন্তু মহাপ্রভুর কথার কোন প্রতিবাদ করা তাঁরা গর্হিত কর্ম বলেই মনে করতেন।এই জন্য মুকুন্দ দত্তকে বললেন,তুমিই আগে যাও,আমরা তোমার পেছনে যাচ্ছি।শ্রীচৈতন‍্য মুকুন্দের কথা শুনে বললেন,"ভাল তাইই ভাল ", এই বলে তিনি নৃত্য করতে করতে একবারে জলেশ্বরে (উড়িষ‍্যার অন্তর্গত একটি প্রাচীন শহর) গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন।এখানে শিব মন্দির আছে।শ্রীচৈতন‍্যদেব যখন আগমন করলেন,তখন বাদ‍্যধ্বনির সহকারে সেখানে শঙ্করের পূজা হচ্ছিল। তিনি সেখানে গমন করে,সেই বাদ‍্যধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে নৃত্য করতে লাগিলেন।তাঁর নৃত্য ও ভক্তির উচ্ছাস দেখে সকলেই বিস্মিত হলেন।কিছুক্ষণ পরে নিত‍্যানন্দ,মুকুন্দ প্রভৃতি এসে উপনীত হলেন।এসে দেখলেন,মহাপ্রভু উন্মাদপ্রায় হয়ে নৃত্য করছেন ; সুগায়ক মুকুন্দ দত্ত কীর্তন করতে লাগলেন।শ্রীচৈতন‍্য মুকুন্দের কীর্তনে সঙ্গীদের আগমন সমাচার বুঝতে পেরে বাহু প্রসারিত করে সকলকে আলিঙ্গন করলেন।নিত‍্যানন্দকে কোলে করে বললেন,শ্রীপাদ দেখ,আমার সন্ন‍্যাসধর্ম যাতে রক্ষা হয়, তুমি সে বিষয়ে সহায় হবে,তা না করে তুমি আমায় পাগল করতে চাও?আর যদি কখন এরকম কর,তবে তুমি আমার মাথা খাও।গৌরহরি নিত‍্যানন্দকে এত ভালবাসতেন যে,তিনি সেইসময়ে সকলের সামনে বললেন, "নিত‍্যানন্দ আমার দেহ অপেক্ষাও বড়, তার প্রতি যার ভাব নেই,সে ব‍্যক্তি আমার ভক্ত হলেও,আমার ভালবাসার পাত্র হবার উপযুক্ত নয়।*
*🍀তাঁরা সেইদিন জলেশ্বরে রাত্রিযাপন করে পরদিন প্রভাতে পথ চলতে আরম্ভ করলেন।পথিমধ‍্যে বাঁশধা নামক জায়গায় একজন শাক্তধর্মাবলম্বী সন্ন‍্যাসীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়,শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর সঙ্গে ধর্মালাপ করেন।সন্ন‍্যাসী মহাপ্রভুর কথায় অত‍্যন্ত প্রীত হয়ে বললেন, "আমার মঠে চল, সেখানে সকলে মিলে আজ আনন্দ করিব।শ্রীচৈতন‍্যদেব জানতেন,শাক্তগণ সুরাপানে আনন্দ লাভ করে থাকেন।তিনি শাক্ত সন্ন‍্যাসীর সেই অভিপ্রায় বুঝে, হাসতে হাসতে বললেন,আপনি আগে গিয়ে ব‍্যবস্থা করুন, আমরা পরে যাচ্ছি।শাক্ত সন্ন‍্যাসী হর্ষোৎফুল্ল চিত্তে দ্রুতপদে মঠে গমন করলেন। কোন এক বৈষ্ণবজন বলেন,শ্রীগৌরাঙ্গদেবের সঙ্গে ধর্মালোচনায় ও তাঁর চরিত্রের মাধুর্য‍্যে শাক্ত সন্ন‍্যাসীর জীবন পরিবর্তন হয়ে গেল।শাক্তকে পরিত্রাণের পথ দেখিয়ে দিয়ে,গৌরসুন্দর রেমুণাগ্রামে আসিলেন, এবং গোপীনাথ বিগ্রহ দর্শন,এবং নৃত্য কীর্তনাদি করে, কয়েকদিন ভ্রমণ করে যাজপুরে এসে উপস্থিত হলেন।যাজপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অতি রমণীয়।এখানে বৈতরণী নদী প্রবাহিত হচ্ছে।তরুরাজি চারদিকে শোভা পাচ্ছে। গৌরসুন্দর নদীতে স্নান,ভক্তদের সঙ্গে দেবমন্দির দর্শন ও নাম সংকীর্তনাদিতে সময় অতিবাহিত করলেন।ইতিমধ‍্যে এক ঘটনা ঘটিল।ভক্তগণ মহাপ্রভুকে দেখতে পাচ্ছেন না,তাঁরা চারিদিকে তাঁর খোঁজ করতে লাগলেন, কিন্তু কোথাও তাঁকে দেখতে না পেয়ে অত‍্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। নিত‍্যানন্দ বললেন,তিনি দেবমন্দির সব দর্শন করছেন। আমাদের চিন্তার কোন কারণ নেই, আগামীকালই তিনি আমাদের কাছে এসে উপস্থিত হবেন। ভক্তগণ সকলে নিত‍্যানন্দের কথায় আশ্বস্ত হলেন এবং ভিক্ষালব্দ দ্রব‍্যাদি দ্বারা রন্ধন করে আহারাদি করলেন। কিন্তু যিনি কাছে না থাকলে,তাঁদের হৃদয় জ‍্যোতিহীন হয়ে পড়ে, সেই গৌরসুন্দরকে না দেখে তাঁদের হৃদয় যেন ম্লানভাব ধারণ করল।সেদিন এইরকম ভাবে কেটে গেল।*
*🌻এদিকে ভাবুকহৃদয় শ্রীচৈতন‍্যদেব সঙ্গীদেরকে পরিত‍্যাগ করে যাজপুরের দেবমন্দির সব দর্শন করবার জন্য একাকী হয়ে পড়েন।তিনি মন্দিরে দেব-দেবী দর্শন ও সাধু সন্ন‍্যাসীদের সঙ্গে কথোপকথনে সেদিন যাপন করে,পরদিন তাঁর সঙ্গীদের কাছে এসে উপস্থিত হলেন। ভক্তগণ মহাপ্রভুকে দশান করে সকলে হরিধ্বনি করতে লাগলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
         *মহাপ্রভুর নীলাচল যাত্রা*
         ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆

*তাঁরা যাজপুর গ্রাম পরিত‍্যাগ করে কয়েকদিন ভমণ করে কটক শহরে এসে উপস্থিত হলেন।এখানে স্বচ্ছসলিলা মহানদী দর্শন করে গৌরসুন্দরের হৃদয় আনন্দে পুলকিত হয়ে উঠিল।তিনি মহানদীতে স্নান ও মন্দিরে দেবাদি দর্শন করে, ভক্তগণসহ ভুবনেশ্বরের দিকে অগ্রসর হলেন।ভুবনেশ্বরের অন‍্য নাম "গুপ্তকাশী"।এখানে মহাপ্রভু বিন্দু সরোবরে অবগাহন ও শিব দর্শন করে সকলে মিলে কমলপুরে গমন করলেন। দুই,কমলপুর হতে জগন্নাথদেবের মন্দিরের চূড়ার উপরিস্থিত ধ্বজা দর্শন করা যায়। শ্রীচৈতন‍্যদেব সেই ধ্বজা দেখে যেন আনন্দ সাগরে ভাসতে লাগলেন,তিনি ভাবে ও আনন্দে উন্মত্তপ্রায় হয়ে, ভাগবতের এই শ্লোকটি পড়তে পড়তে, উর্দ্ধশ্বাসে ধাবিত হতে লাগলেন।*
*▪প্রাসিদাগ্রে নিবসতি পুরঃ স্মেরবক্ত্রারবিন্দো,*
*▪মামালোকাস্মিত সুবদনো বালগোপালমূর্তি।।*
*🌺যাঁর বদনবিকশিত পদ্মের ন‍্যায়, সেই বালগোপাল শ্রীকৃষ্ণ আমাকে দর্শন করে মৃদু মধুর হাস‍্যে, শ্রীবদনের শোভা বিস্তার করতে করতে প্রাসাদের উপরি মদীয় পুরোভাগে এসে অবস্থিতি করছেন।*
*🌻বিন্দুসরোবর=ভুবনেশ্বরে। যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে পায়=*
*🌷তবে প্রভু আইলেন শ্রীভুবনেশ্বর।*
*🌷গুপ্তকাশী-____ যথা করেন শঙ্কর।।*
*🌷সর্বতীর্থ জল যথা বিন্দু বিন্দু আনি।*
*🌷বিন্দু সরোবরে শিব সৃজিলা আপনি।।*
*(২) কমলপুর=পুরীর মধ্যে। এখান হতে শ্রীজগন্নাদেবের মন্দির চূড়া দেখা যায়।*
*🌻যাইহোক, এই শ্লোক উচ্চারণ করতে করতে তিনি যখন চলতে লাগলেন তখন তাঁর প্রাণ প্রেমানন্দে বিভোর হয়ে পড়ল, তাঁর নয়ন হতে অনর্গল বারিধারা বাহির হতে লাগিল। তিনি বালকের মত ক্রন্দন করতে লাগলেন ; এবং অনুরাগভরে ভূতলে পতিত হয়ে দন্ডবৎ প্রণাম করতে লাগলেন।চারিদিকের লোক এই নবীন সন্ন‍্যাসীর মধ্যে ভক্তির এই অভিনব ব‍্যাপার দর্শন করে চরম অবাক হলেন।তারা বলতে লাগলেন, এমন ভক্তির লক্ষণ কোন মানবে তো দেখা যায় না, বোধহয় ইনিই নারায়ণের অবতার।ভক্তচূড়ামণি শ্রীচৈতন‍্যদেব এইভাবে ভক্তজন পরিবেষ্টিত হয়ে আঠারোনালায় এসে উপস্থিত হলেন।এখানে এসে তিনি স্থির হয়ে বসলেন।শ্রীজগন্নাথদেবকে দর্শন করে তিনি আজ মনের বাসনা পূর্ণ করবেন, এই চিন্তায় তাঁর হৃদয়ে আনন্দ স্রোত বহিতে লাগল। তিনি প্রেমে গদগদভরে সঙ্গীদের বললেন, "তোমরা আমাকে এখানে এনে যথার্থই বন্ধুর কাজ করলে।এখন তোমরাই আগে যাবে না আমিই যাব বল? মুকুন্দ দত্ত বললেন,তুমিই আগে যাও, আমরা পরে যাচ্ছি।*
*🌹এইকথা শুনামাত্র শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য ত্বরিত গতিতে পুরুষোত্তমে গিয়ে শ্রীজগন্নাথ দর্শনের জন্য মন্দারের ভেতরে প্রবেশ করলেন।নীলাদ্রীনাথ দর্শনে,তাঁর ভাবসিন্ধু দ্বিগুণতর উথলিয়ে উঠিল।সে প্রেম,সে ভক্তি, সে ব‍্যাকুলতা সত‍্যিই বর্ণনাতীত। তিনি শ্রীজগন্নাথের মূর্তি দর্শন করে তাঁকে বক্ষে গ্রহণ করবার জন্য পাগলের মত অগ্রসর হলেন।এইরকম কাজ দেব-মন্দিরের বিরুদ্ধ বলে পান্ডারা তাঁর গতি রোধ করতে ও তাঁকে প্রহার করতে উদ‍্যত হল। সেখানে সুবিখ‍্যাত রাজপন্ডিত সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য সেই সময়ে মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন।তিনি এই নবীন সন্ন‍্যাসীর প্রবল ধর্মানুরাগ দর্শন করে,ইঁনাকে সামান্য মানব বলে মনে করলেন না।যখন পান্ডারা উগ্রমূর্তি ধারণ করে শ্রীচৈতন‍্যকে প্রহার করতে উদ‍্যত হলে,তখন সার্বভৌম "হাঁ হাঁ" শব্দে তাদেরকে এ কার্য‍্য করতে প্রতিনিবৃত্ত করলেন।এদিকে দিগ্বিজয়ী জয়ী নবদ্বীপের শ্রীগৌরসুন্দর শ্রীজগন্নাথ দর্শন করে ভক্তিতে বিভোর হয়ে মৃত্তিকায় হতচেতন হয়ে পড়লেন।সার্বভৌম সে মূর্চ্ছা অপনোদনের জন্য যত্ন করলেন ; কিন্তু কিছুতেই তাঁর চৈতন‍্যোদয় হ'ল না দেখে, তিনি তাঁকে তাঁর ভবনে নিয়ে যাবার জন্য পরিহারিদেরকে(তাঁর অনুগত পান্ডাগণকে) আদেশ করলেন।তারা শ্রীচৈতন‍্যদেবকে সেই অচৈতন‍্য অবস্থায় সার্বভৌম ভট্টাচার্যের ভবনে বহন করে নিয়ে গেল।*
*🌳এদিকে ভাবনিধি গৌরহরির সঙ্গীগণ পুরীতে প্রবেশ করে,শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে এসে শুনলেন, একজন গৌরবর্ণ যুবাপুরুষ মন্দিরের ভেতরে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়েছিলেন ; এবং তাঁকে রাজপন্ডিত সার্বভৌম ভট্টাচার্যের ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।ঘটনার বিষয় তাঁরা সবই বুঝলেন, এবং তৎক্ষণাৎ সার্বভৌম ভট্টাচার্যের বাসভবনে গমন করলেন।সার্বভৌম তাঁদেরকে যথোচিত সম্মান করে নিজের ভবনে অভ‍্যর্থনা করলেন।তাঁরা দেখলেন, মহাপ্রভু তখনও মূর্চ্ছিত অবস্থায় শয‍্যায় শয়ন করে রয়েছেন। সুগায়ক মুকুন্দ দত্ত তখন কীর্তন আরম্ভ করলেন। এই মূর্চ্ছিত অবস্থাতে কীর্তনের ধ্বনি গৌরহরির কর্ণকুহরে প্রবেশ করে বীণার ঝঙ্কারের ন‍্যায় তাঁর হৃদয়তন্ত্রীকে আলোড়িত করতে লাগিল।মধুর হরিকীর্তনে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব চৈতন‍্য লাভ করলেন।*
*🍀শষ্ক হৃদয়ে ভক্তি দাঁড়াতে পারে না।ধার্মিকদের হৃদয় স্বভাবতই বড় কোমল,তাঁরা রসজ্ঞ।এই জন্য কবি হৃদয়ের সঙ্গে ভক্তিপ্রবণ হৃদয়ের যেন এক অপূর্ব সম্বন্ধ দৃষ্ট হয়ে থাকে। ভগবতভক্তগণ স্বভাবতই বড় সঙ্গীতপ্রিয়।তাঁরা মধুর সঙ্গীতে(কীর্তনে) আত্মহারা হন, আবার সঙ্গীতেই যেন চেতনা লাভ করেন।ইতিহাসে দেখতে পাই,ইউরোপের সুবিখ‍্যাত মার্টিন লুথার একবার প্রার্থনা করতে করতে, ভাবাবেশে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়েন, আশ্রমস্থিত সন্ন‍্যাসীগণ অন‍্য কোন উপায়ে যখন তাঁকে চেতনা দান করতে পারলেন না,তখন ওনাদের মধ্যে এক ব‍্যক্তি একটি সঙ্গীত ধরিলেন।কারণ তিনি জানতেন,ভক্ত হৃদয়ের রহস‍্য সব জায়গায় যেন একরকম দেখা যায়। যাইহোক, এদিকে অতিথিগণের সেবার যাতে কোনরকম ত্রুটি না হয়,সেই বিষয়ে ভট্টাচার্য্য মহাশয় বিশেষ দৃষ্টি রাখতে লাগলেন। ভক্তগণদের জন্য বিবিধ অন্ন ব‍্যঞ্জনের ব‍্যবস্থা হল। স্নানান্তে তাঁরা একত্রে আহার করতে বসলেন। সার্বভৌম স্বয়ং পরিবেশন করতে লাগলেন। ভট্টাচার্য্য মহাশয় নবাগত ব‍্যক্তিদের জন্য স্বতন্ত্র বাসার ব‍্যবস্থা করে,তাঁর শ‍্যালক গোপীনাথকে তাঁদের তত্ত্বাবধানের ভার দিলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব ও তাঁর সঙ্গীগণ আহারান্তে নূতন বাসায় গমন করলেন।গোপীনাথ তাঁদের তত্ত্বাবধানের ভার গ্রহণ করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৭) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
              *সার্বভৌমকে ভক্তিদান*
             🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻গোপীনাথ আচার্য‍্য একদিন মুকুন্দকে নিয়ে সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্যের বাসভবনে উপস্থিত হলেন। সার্বভৌম গোপীনাথকে বললেন, "নবীন সন্ন‍্যাসীর রূপ দেখে তাঁর প্রতি আমার মন বড়ই আকৃষ্ট হয়েছে "।তারপর তিনি গোপীনাথকে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে, গোপীনাথ বললেন, ইনি নবদ্বীপের শ্রীজগন্নাথ মিশ্রের পুত্র ও নীলাম্বর চক্রবর্তীর দৌহিত্র, ইঁনার নাম বিশ্বম্ভর।এইভাবে গৌরহরির আরও বিদ‍্যাবুদ্ধির পরিচয় দান করলেন। সার্বভৌম গৌরসুন্দরের পরিচয় পেয়ে বললেন,নীলাম্বর চক্রবর্তী আমার পিতা বিশারদের সমপাঠী ছিলেন। সার্বভৌম বিশ্বম্ভরের সন্ন‍্যাস গ্রহণের কথা উল্লেখ করে, গোপীনাথকে জিজ্ঞাসা করলেন, "ইঁনি কোন সম্প্রদায়ের মত অনুসারে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেছেন? গোপীনাথ বলিলেন, ইঁনি শ্রীকেশবভারতীর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করে, "শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য" নাম পেয়েছেন। সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য, পন্ডিত ব‍্যক্তি।তিনি ভারতী সম্প্রদায়কে অতি সামান্য বলে মনে করতেন,সেজন‍্য তিনি বললেন, ইঁনার নাম খুবই সুন্দর হয়েছে, কিন্তু ভারতী সম্প্রদায় সেরকম বড় সম্প্রদায় নহে। গোপীনাথ সার্বভৌমের কথা শুনে বললেন, শ্রীচৈতন‍্যদেব বাইরের আড়ম্বর ভালবাসেন না, সে জন্য বড় সম্প্রদায় উপেক্ষা করলেন।*
*☘সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য এইসব কথা শুনে,শ্রীচৈতন‍্যদেবের এই অল্প বয়সে সন্ন‍্যাস গ্রহণের জন্য অত‍্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করলেন, এবং বললেন যে, আমি তাঁকে প্রতিদিন বেদান্ত পাঠ করে শোনাব এবং অদ্বৈত মার্গের পথে তাঁকে নিয়ে আসিব। সার্বভৌমের এই সকল কথা শ্রবণ করে গোপীনাথ ও মুকুন্দ অত‍্যন্ত দুঃখিত হলেন।গোপীনাথ সার্বভৌমকে বললেন,তুমি ইঁনার মহিমা কি বুঝবে? ভক্তির উচ্চতম লক্ষণ ইঁনার মধ্যে বিদ‍্যমান। সার্বভৌম তখন গোপীনাথকে বললেন, তুমি তাঁকে আগামী কল‍্য আমার বাড়ীতে আহার করবার জন্য নিমন্ত্রণ করবে।তারপর গোপীনাথ ও মুকুন্দ সার্বভৌমের বাড়ী হতে বেড়িয়ে মহাপ্রভুর নিকট গমন করলেন এবং ভট্টাচার্য্যের সমস্ত কথতাঁর কাছে বললেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁদের কথা শুনে বললেন, ভট্টাচার্য্য মহাশয় আমায় অত‍্যন্ত স্নেহ করেন, এবং যাতে আমার মঙ্গল হয়, সে বিষয়ে তিনি আমাকে নিশ্চয়ই সৎ পরামর্শই প্রদান করবেন।*
*🌺গৌরসুন্দর সার্বভৌম-ভবনে উপস্থিত হলে, তিনি তাঁকে যথোচিত সমাদরপূর্বক বসতে আসন দিলেন এবং তাঁর অসাধারণ ধর্মভাব ও তাঁর বংশাবলীর কথা উল্লেখ করে ভীষণ আনন্দ প্রকাশ করলেন। আচার্য‍্য তারপর তাঁকে বললেন,আমার মনে হয়েছে তুমি ভীষণ বুদ্ধিমান, তুমি এমন বুদ্ধিমান হয়ে সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণ কেন করলে?ভেবে দেখ,সন্ন‍্যাস গ্রহণ করলে প্রথমেই মনে একটা অহংভাব উপস্থিত হয়। দন্ডধারী হয়ে,সকলকেই সামান্য মনে করে, এবং অনেক সময় "আমিই নারায়ণ" এইকথা বলতে কিছুমাত্র সঙ্কুচিত হয় না।ভগবান সব দেহেতেই অংশরূপে অধিষ্ঠান করছেন, সেজন‍্য প্রত‍্যেক জীব,জন্তু ও সকল বর্ণের লোকের কাছেই মস্তক নত করতে হয়। কিন্তু দন্ডধারী সন্ন‍্যাসীদের কাছে সকলেই দন্ডবৎ করে, কিন্তু তাঁরা কারও কাছে মাথা নত করতে চাহেন না।অনেকে শঙ্করাচার্য‍্যের তাৎপর্য‍্য না বুঝে, শিখা সূত্র পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসাশ্রম গ্রহণ করে অশেষ কষ্ট পেয়ে থাকেন।তুমি এমন পথ কেন গ্রহণ করলে?যদি বল,মাধবেন্দ্রপুরী প্রভৃতি পরম ভাগবতগণ, এই পথই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করেছিলেন, কিন্তু তাঁরা সংসারধর্ম পালন কোরে, শেষে পরিণত বয়সে ভক্তিপথ অবলম্বন করেছিলেন। তোমার কাঁচা বয়স,এ সময় সংসারধর্ম পালনের সময়,তোমার সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণের অধিকার হয় নাই।*
*🙏পরম বৈরাগী,বিনয়ের অবতার,ভক্তের শিরোভূষণ শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের কথাগুলি শুনে বললেন, আচার্য‍্য!আপনি আমাকে সন্ন‍্যাসী বলে মনে করবেন না, আমার হৃদয়ের নিধি শ্রীকৃষ্ণের বিরহে ব‍্যাকুল হয়ে,শিখা সূত্র পরিত‍্যাগ করে,গৃহের বাহির হয়েছি।যাতে আমার শ্রীকৃষ্ণের প্রতি মতি থাকে, আমাকে এমন আশীর্বাদ করুন। যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে পায়=*
*🌷প্রভু বোলে,শুন সার্বভৌম মহাশয়।*
*🌷"সন্ন‍্যাসী" আমারে নাহি জানিহ নিশ্চয়।।*
*🌷কৃষ্ণের বিরহে মুঞি বিক্ষিপ্ত হইয়া।*
*🌷বাহির হইলুঁ শিখা সূত্র মুড়াইয়া।।*
*🌷"সন্ন‍্যাসী" করিয়া জ্ঞান ছাড় মোর প্রতি।*
*🌷কৃপা কর যেন মোর কৃষ্ণে হয় মতি।।*
*শ্রীচৈতন‍্যদেব, সার্বভৌমের অনেক গুণানুবাদ বা গুণকীর্তন করলে, তিনি লজ্জিত হয়ে বললেন, "শাস্ত্রমতে তুমিই বন্দনীয়,আমি উপাসক ; কিন্তু তুমি আমার স্তব স্তুতি করছ, এটি যুক্তিযুক্ত নয়, এতে আমার অপরাধ হবে। এইরকম কথাবার্তার পর সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য বললেন, আমার এখানে প্রতিদিন প্রাতে বেদান্ত পাঠ হয়, সন্ন‍্যাসীদের বেদান্ত শ্রবণ করা একান্ত আবশ্যক, তুমি বেদান্ত শ্রবণ করবে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৮) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *সার্বভৌমকে ভক্তিদান*
            ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*শ্রীচৈতন‍্যদেব, আচার্য‍্যের কথায় সম্মতি হয়ে পরেরদিন সকালে গোপীনাথ আচার্য‍্যের সঙ্গে সার্বভৌম ভবনে আগমন করলেন।এসে দেখলেন, সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য শিষ‍্যবৃন্দ পরিবেষ্টিত হয়ে বেদান্ত শিক্ষা দিচ্ছেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব সেখানে বসে মনোযোগপূর্বক বেদান্তের ব‍্যাখ‍্যা শুনতে লাগলেন।এই ভাবে সাতদিন অতিবাহিত হয়ে গেল।অষ্টম দিনে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য শ্রীচৈতন‍্যকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি সাতদিন বেদান্তের ব‍্যাখ‍্যা শুনলে, কিন্তু তুমি এ বিষয়ে একটি কথাও তো আমাকে বললে না? তুমি এ সবের অর্থ বুঝতে পার কি না, তা আমি কিছু বুঝতে পারছি না।*
*☘তখন শ্রীচৈতন‍্য বললেন, আপনি বলেছেন বেদান্ত শ্রবণ সন্ন‍্যাসীর ধর্ম, আমি তাই আপনার কাছে বেদান্ত শুনছি, কিন্তু আমি অন্ধ, সেটির প্রকৃত তাৎপর্য‍্য সম‍্যক্ হৃদয়ঙ্গম করা কি আমার মত মানুষের সাধ‍্য? সার্বভৌম নবীন সন্ন‍্যাসীর কথা শুনে, যা বুঝতে পার না, তা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেই পার।*
*🌹তখন অতীতের নিমাই পন্ডিত বাহ‍্য বিনয় পরিত‍্যাগ করে বললেন, আপনার বেদান্তের ব‍্যাখ‍্যা শুনছি, ব‍্যাসবর্ণিত সূত্রের অর্থ সুন্দররূপে হৃদয়ঙ্গম হচ্ছে, কিন্তু আপনার ব‍্যাখ‍্যা হৃদয়ঙ্গম করতে গিয়ে মন যেন বিকল হয়ে পড়ছে। ভাষ‍্যের দ্বারাই সূত্রের অর্থ প্রকাশ হয়, কিন্তু আপনার ভাষ‍্যে সূত্রের প্রকৃত তাৎপর্য‍্য প্রকাশ পাচ্ছে না। আপনার ব‍্যাখ‍্যায় সূত্রের প্রকৃত অর্থ যেন কল্পনায় আচ্ছাদিত করে রাখে। ব‍্যাসসূত্রের প্রকৃত অর্থ উপনিষদেই প্রকাশ পেয়ে থাকে।আপনি সেই ব‍্যাস-সূত্রের মুখ‍্যার্থ পরিত‍্যাগ করে,গৌণার্থ করে থাকেন। মহামুনি বেদব‍্যাস বর্ণিত সূত্রগুলি যেন সূর্য‍্যরশ্মির মত উজ্জ্বল, কিন্তু আপনি সেগুলি আপনার স্বকপোল-কল্পিত ব‍্যাখ‍্যায় যেন মেঘাবৃত করে ফেলেছেন।*
*গৌরসুন্দর, ভট্টাচার্য্যের ব‍্যাখ‍্যার দোষের কথা উল্লেখ করে বললেন, "বেদে ও পুরাণে ব্রহ্মের বিষয় নিরূপিত হয়েছে।ব্রহ্ম বৃহদ্বস্তু, তিনি ষড়ৈশ্বর্য‍্যপূর্ণ ভগবান। এমন পরমেশ্বরকে আপনি নিরাকার বলে ব‍্যাখ‍্যা করেছেন? শ্রুতিতে যদিও তাঁকে নিরাকার ও নির্বিশেষ বলা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতরূপে তার বিচার করলে, ভগবানের সবিশেষ ভাবই তাতে প্রতিপন্ন(প্রমাণ সিদ্ধ) হয়ে থাকে।শ্রুতি বলেন,ব্রহ্ম হতে এই বিশ্ব উৎপন্ন হয়, এবং পুনরায় সেই পরব্রহ্মতেই প্রবেশ করা থাকে। এইজন‍্য ভগবানে, অপাদান করণ ও অধিকরণ এই তিন কারকের চিহ্ন প্রকাশ পেয়ে থাকে।তিনি এক হয়ে বহুরূপে এই বিশ্বে নিজের সত্তা প্রকাশ করবার জন্য লৌকিকভাব আশ্রয় করলেন, এবং সেই ভাবেই এই সংসার দেখতে লাগলেন।বেদেতে ব্রহ্মস্বরূপের যা নিরূপিত না হয়, পুরাণে তার মীমাংসা পাওয়া যায়। শ্রুতিতে ভগবানকে নিরাকার বলা হয়, সত‍্য, কিন্তু তার সঙ্গে আবার এও বলা হয় যে,তাঁর চরণ নাই, অথচ তিনি চলাফেরা করেন, হাত নেই, অথচ তিনি গ্রহণ করেন ; অতএব দেখা যাচ্ছে যে,শ্রুতিতে প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মকে সবিশেষ বলেই স্বীকার করা হয়েছে।কেবল কল্পিত অর্থে তাঁকে নির্বিশেষ বলা হয়ে থাকে। তিনি পরম ঐশ্বর্য‍্যপূর্ণ ভগবান, আপনি এমন ভগবানকে কেবল নিরাময় বলেই ক্ষান্ত থাকতে চান?*
*🌺শ্রীমন্মহাপ্রভু আবার বলতে লাগলেন, "সেই পরমাত্মাতে তিনটি শক্তি বিরাজ করছে ; সৎ,চিৎ, আনন্দ।সেই সর্বব‍্যাপী পরমেশ্বর এই বিশ্বের সব জায়গায় পূর্ণ করে বিরাজ করছেন, এটিই সন্ধিনী শক্তি, তিনি জ্ঞানময়, সবই জানেন, এটি সংবিৎ ; সেই পরমাত্মাতে পূর্ণ আনন্দ বিরাজ করছে, ইহাকে হ্লাদিনী শক্তি বলে।*
*🙏পরম ভাগবত চূড়ামণি শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে বলেছেন=*
*🌷"হ্লাদিনী"করায় কৃষ্ণে আনন্দাস্বাদন।*
*🌷"হ্লাদিনী" দ্বারায় করে ভক্তের পোষণ।।*
*🌷সচ্চিদানন্দ পূর্ণ কৃষ্ণের স্বরূপ*।
*🌷একহ চিচ্ছক্তি তার ধরে তিনরূপ।।*
*🌷আনন্দাংশে হ্লাদিনী,সদংশে সন্ধিনী।*
*🌷চিদংশে সম্বিত,যারে জ্ঞান করি মানি।।*
*🌻ভগবানে এই যে তিনটি শক্তি বিরাজ করছে, ইহাকে অন্তরঙ্গা চিচ্ছক্তি বলা যায়। আর জীবনশক্তি তটস্থা অন্তরঙ্গা শক্তি ভগবানে চিরবিরাজিত।আর তটস্থা শক্তি সৃষ্টিকার্য‍্যের মধ্যে নিরন্তর বিরাজিত রয়েছেন।বহিরঙ্গ শক্তিকে মায়াশক্তি বলে। এই মায়াশক্তি ব্রহ্ম হতে প্রসূত হয়ে,সৃষ্টির উপর আধিপত্য বিস্তার করে,ব্রহ্মের উপর কোন প্রভাব বিস্তার করে না ; ব্রহ্মেতে মায়ার প্রভাব নাই। মায়াবাদীরা এই মায়াকে অবস্তু বলে থাকেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটি মিথ‍্যা নহে, অসম্পূর্ণ জ্ঞানমাত্র। যাঁর সত্তা জগৎ পূর্ণ করে রয়েছে,যিনি জ্ঞানেতে অনন্ত ও মায়াতীত, যাঁর আনন্দকণা লাভ করে,ভক্তগণ আনন্দ ও প্রেমে উচ্ছসিত হয়ে পড়েন, আপনি সেই পরমাত্মাকে মানুষের সঙ্গে কিভাবে অভেদাত্মা বলে স্বীকার করতে চান?*
*🌹সার্বভৌম শ্রীগৌরাঙ্গের সুযুক্তিপূর্ণ তত্ত্বজ্ঞানের কথা শুনে বিমুগ্ধ হলেন। তিনি যাঁকে অল্পবয়সী সন্ন‍্যাসী মনে করে,বেদান্ত শিক্ষা দিয়ে, নিজ মতাবলম্বী করতে বাসনা করেছিলেন, এখন দেখলেন যে,নবদ্বীপের নবীন সন্ন‍্যাসী সামান্য যুবাপুরুষ নহেন। গৌরহরি ভগবানের স্বরূপ বিষয়ে যুক্তি প্রদর্শন করে, আবার বলতে লাগলেন, যাঁরা এমন সচ্চিদানন্দ শ্রীবিগ্রহকে স্বীকার করেন না,তাঁদেরকে পাষন্ডী বা নাস্তিক নামে অভিহিত করা যেতে পারে। বুদ্ধ বেদ মানতেন না বলে তাঁকে নাস্তিক বলা হয়ে থাকে ; কিন্তু যাঁরা বেদ আশ্রয় করে সেই সচ্চিদানন্দ বিগ্রহে বিশ্বাস না করেন,তাঁদের নাস্তিকতা কি তদপেক্ষা অধিকতর বলে বোধ হয় না? কেউ কেউ এই কথা বলতে পারেন,পরমেশ্বর বিকারশূন‍্য হয়ে কিভাবে সৃষ্টিকার্য‍্য সম্পন্ন করলেন? এসব কথা যুক্তিযুক্ত বলে বোধ হয় না।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
              *সার্বভৌমকে ভক্তিদান*
             ▪▪▪▪▪▪▪▪
*🔷মণি হতে স্বর্ণ বাহির হয়ে যদি সেটি অবিকৃত থাকতে পারে, তাহলে সেই অনন্ত সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর হতে এ জগৎ প্রসূত (উৎপত্তি) হলে,তিনি কি আর অবিকৃত হয়ে থাকতে পারেন না? নবদ্বীপের নবীন সন্ন‍্যাসী এইভাবে বহুবিধ যুক্তিদ্বারা বৈদান্তিক চূড়ামণি সার্বভৌমের অদ্বৈতমত খন্ডন করলে তিনি অবাক হয়ে, তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।তখন ভক্তচূড়ামণি, ভক্তিধর্মের শ্রেষ্ঠতম প্রচারক শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব ভক্তির মাহাত্ম্য কীর্তন করে আচার্য‍্যকে বললেন, "ভগবানে ভক্তিই মানবের পরম পুরুষার্থ" ; তাঁতেই ভক্তি অর্পণ করে, পরম শান্তি লাভ করুন। এই বলিয়া শ্রীচৈতন‍্যদেব ভাগবতের এই শ্লোকটি আবৃত্তি করলেন=*
*🌷আত্মারামাশ্চ মুনয়ো নির্গন্থা অপ‍্যুরুক্রমে।*
*🌷কুর্ব্বন্ত‍্যহেতুকীং ভক্তিমিত্থংভূতগুণো হরিঃ।।*
*🌹আত্মারাম মুনিগণ বিধি ও নিষেধের অতীত হয়েও সেই অমিত পরাক্রমশালী হরিতেই অহৈতুকী ভক্তি স্থাপন করে থাকেন।কারণ সেই শ্রীহরির গুণই এইরকম।*
*🌻সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য, গৌরহরিকে ভাগবতের এই শ্লোকটি ব‍্যাখ‍্যা করতে বললেন, কিন্তু গৌরহরি তা না করে, ভট্টাচার্য্যের নিকট হতেই সেটির ব‍্যাখ‍্যা শোনার জন্য অনুরোধ করলেন। সার্বভৌম এয়োদশ প্রকারে এই শ্লোকটির ব‍্যাখ‍্যা করলেন।গৌরহরি তা শুনে তাঁর বুদ্ধির বিশেষ প্রশংসা করে বললেন, "আপনি পান্ডিত‍্যের দিক দিয়ে,শ্লোকটির যেরকম ব‍্যাখ‍্যা করলেন,তা অতীব সুন্দর হয়েছে, কিন্তু সেটির আর একটা দিক আছে। এই বলে, তিনি শ্লোকের অষ্টাদশ ব‍্যাখ‍্যা করলেন, অথচ সার্বভৌমের ব‍্যাখ‍্যার কোন অংশই গ্রহণ করলেন না। সার্বভৌম শ্রীচৈতন‍্যদেবের ব‍্যাখ‍্যা শুনে একেবারে বিস্মিত হয়ে পড়লেন, এবং এ শক্তি যে সাধারণ মানবের অতীত, তাঁর মনে এই বিশ্বাস জন্মিতে লাগিল। কথিত আছে, এমন সময় শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের নিকট ষড়ভূজরূপে প্রকাশিত হয়েছিলেন। সার্বভৌম সে মোহনরূপ দর্শনে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। শ্রীচৈতন‍্যদেব অবশেষে তাঁর হাত ধরে "উঠ উঠ" বলে ভূমি হতে উঠালেন। ভূমি হতে উঠে তিনি কাঠপুতুলির মত ক্ষণকাল দাঁড়িয়ে রইলেন, এবং শ্রীচৈতন‍্যকে শ্রীকৃষ্ণের পূর্ণ অবতার জ্ঞানে কাঁদতে কাঁদতে, তাঁর শ্রীচরণে লুন্ঠিত হয়ে পড়লেন। বৈষ্ণব কবিগণ বলেন, সার্বভৌম সে সময় একশ শ্লোক মহাপ্রভুর সামনে স্তব করেছিলেন।মহাপ্রভু, তাঁর হৃদয়ে ভক্তিভাবের সঞ্চার হয়েছে দেখে তাঁকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করেছিলেন।সার্বভৌমের হৃদয়ে ভক্তির দরজা খুলে গেল, এবং তাঁর দু'নয়ন হতে বারিধারা বহিতে লাগল। তাঁর শরীর কাঁপতে লাগল, তিনি প্রকৃত অনুরাগী ভক্ত বৈষ্ণবের মত নৃত্য ও ক্রন্দন করতে লাগলেন।*
*🌺সুবিখ‍্যাত বৈদান্তিক রাজপন্ডিত সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য, শ্রীচৈতন‍্যের নিকট বিচারে পরাস্ত হলেন, এবং তাঁর দেখানো ভক্তিপথ অবলম্বন করলেন। পরদিন প্রভাতে মহাপ্রভু জগন্নাথ দর্শন করতে গমন করলে, পান্ডারা তাঁকে মালা ও প্রসাদান্ন প্রদান করে। শ্রীচৈতন‍্যদেব, সেটি পেয়ে, ভট্টাচার্যের ভবনে আগমন করেন। তিনি তখনও শয‍্যা হতে উঠেন নাই, কিন্তু শ্রীচৈতন‍্যদেবের শ্রীমুখ হতে শ্রীকৃষ্ণের নামধ্বনি শুনে তিনি তৎক্ষণাৎ শয‍্যা পরিত‍্যাগ করে,মহাপ্রভুর কাছে এসে উপস্থিত হলেন, এবং তাঁর চরণে প্রণত হয়ে তাঁকে বসবার আসন দিলেন। চৈতন‍্যদেব সার্বভৌমকে মালা ও জগন্নাথের প্রসাদান্ন প্রদান করলেন। সার্বভৌম তখনও মুখ প্রক্ষালন, বা প্রাতঃকৃত‍্য সমাপন করেননি। কিন্তু তথাপি মহাপ্রভুর দেওয়া মালা গ্রহণ করে প্রসাদান্ন ভক্ষণ করলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭০) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *সার্বভৌমকে ভক্তিদান*
           ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀সার্বভৌম প্রসাদান্ন ভক্ষণ করলে, মহাপ্রভু তা দেখে অত‍্যন্ত আনন্দিত হলেন।অবশেষে দুইজনে হাত ধরাধরি করে নৃত্য করতে লাগলেন।উভয়ের কন্ঠ হতে হরিধ্বনি উদয় হতে লাগল ; আর উভয়ের অশ্রুজলে,উভয়ের বক্ষ ভেসে যেতে লাগল।মহাপ্রভু তাঁর অনুগত ভক্তের মধ্যে ভক্তির লক্ষণ দেখলে পরম আহ্লাদ সহকারে সার্বভৌমকে বলতে লাগলেন, আজ আমার সব অভিলাষ পূর্ণ হ'ল, তুমি অকপট হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণের চরণ আশ্রয় করলে ; তোআসকল বন্ধন ছিন্ন হল ; তুমি বেদধর্ম লঙ্ঘন করে প্রসাদ ভক্ষণ করলে, তোমার হৃদয় শ্রীকৃষ্ণের অধিকারের উপযুক্ত হয়েছে।*
*☘সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য একদিন শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের কাছে উপস্থিত হয়ে,ভক্তিভরে তাঁর চরণে প্রণিপাত করে ভক্তিতত্ত্ব বিষয়ে জিজ্ঞাসু হলে, মহাপ্রভু তাঁকে নাম সংকীর্তনই ভক্তি সাধনের শ্রেষ্ঠ উপায় বলে নির্দাকরেন, এবং নারদীয় পুরাণের এই শ্লোকটি ব‍্যাখ‍্যা করে শুনালেন=*
*🌷হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্।*
*🌷কলৌ নাস্ত‍্যেব নাস্ত‍্যেব নাস্ত‍্যেব গতারন‍্যথা।।*
*🌺শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখ হতে এই শ্লোকটির ব‍্যাখ‍্যা শুনে, সার্বভৌমের হৃদয় ভক্তিরসে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। তিনি অবন মস্তকে তাঁকে দন্ডবৎ করলেন, শ্রীচৈতন‍্যদেবও তাঁর ভক্তকে প্রেমালিঙ্গন দানে পরম সুখী করলেন।বাসুদেব ভট্টাচার্য্য তারপর চৈতন‍্যদেবের অনুমতি নিয়ে,শ্রীজগন্নাথদেবকে দর্শন করে গৃহে আগমন করলেন।বাড়ীতে ফিরে, তিনি বহুবিধ প্রসাদান্ন আনিয়ে,দুইজন লোক দ্বারা, মহাপ্রভুর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এই সময় সার্বভৌমভট্টাচার্য‍্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের স্তবস্তুতিসূচক দুইটি শ্লোক রচনা করে,জগদানন্দের হাত দিয়ে সেটি মহাপ্রভুকে দিতে বললেন।মুকুন্দ দত্ত, জগদানন্দের হাত হতে তালপত্রে লিখিত শ্লোক দুইটি দেখে, দেয়ালে সেটি লিখে রেখে দেন।জগদানন্দ সার্বভৌম-লিখিত শ্লোক দুইটি গৌরহরির হাতে দিলেন।চৈতন‍্যদেব শ্লোক দুইটি পাঠ করে তা ছিঁড়ে ফেললেন।মুকুন্দ দত্ত সে শ্লোক দুইটি দেওয়ালে লিখে রেখেছিলেন, সকলে সেই শ্লোক দুটি কন্ঠস্থ করে চারিদিকে প্রচার করতে লাগলেন।সেই শ্লোক দুইটি এই=*
*🌷বৈরাগ‍্য-বিদ‍্যা-নিজ-ভক্তিযোগ,*
*🌷শিক্ষার্থমেকঃ পুরুষঃ পুরাণঃ।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য শরীরধারী,*
*🌷কৃপাম্বুধির্যস্তমহং প্রপদ‍্যে।।*
*🍀যিনি এক করুণার অবতার পুরাণ পুরুষ,বৈরাগ‍্য,বিদ‍্যা এবং স্বকীয় ভক্তিযোগ শিক্ষা দিবার জন্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যরূপে আবির্ভূত হয়েছেন,আমি তাঁরই শরণাপন্ন হলাম।*
*🌻শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর লিখেছেন=*
*🌷কালবশে ভক্তি লুকাইয়া দিনে দিনে।*
*🌷পুনর্বার নিজ ভক্তি প্রকাশ কারণে।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নাম প্রভু অবতার।*
*🌷তাঁহার পাদপদ্মে চিত্ত বসুক আমার।।*
*🌹কালান্নষ্টং ভক্তিযোগং নিজং যঃ,*
*🌹প্রাদুষ্কর্ত্তুং কৃষ্ণচৈতন‍্যনামা।*
*🌹আবির্ভূতস্তস‍্য পদারবিন্দে।*
*🌹গাঢ়ং গাঢ়ং লীয়তাং চিত্তভৃঙ্গঃ।।*
*🌻যিনি কাল প্রভাবে বিলুপ্তপ্রায় স্বকীয় অসাধারণ ভক্তিযোগ সমর্পণ করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নাম ধারণ করে আবির্ভূত হন, তাঁর চরণারবিন্দে আমার মনোমধুকর প্রগাঢ়রূপে বিলীন হোক।*
*🌳শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর তাই লিখেছেন=*
*🌷বৈরাগ‍্য সহিতে নিজ ভক্তি বুঝাইতে।*
*🌷যে প্রভু কৃপায় অবতীর্ণ পৃথিবীতে।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য তনু পুরুষ পুরাণ।*
*🌷ত্রিভুবনে নাহি যার অধিক সমান।।*
*🌷হেন কৃপাসিন্ধুর চরণ-গুণ নাম।*
*🌷স্ফুরুক আমার হৃদয়েতে অবিরাম।।*
*🌺সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের উপদেশে ভক্তি পথাবলম্বী হ'লে,নীলাচলের চারিদিকে এ বার্তা ছড়িয়ে পড়িল।লোকে শ্রীচৈতন‍্যদেবের অপূর্ব শক্তি দেখে,তাঁকে ভগবানের অবতার বলিয়া ঘোষণা করতে লাগল।অনৈকে বলতে লাগল,ইনিই তো সচল জগন্নাথ।নীলাচলের ধনী,দরিদ্র,পন্ডিত,মূর্খ,সকলেই নবদ্বীপের এই নূতন সন্ন‍্যাসীর বিদ‍্যা বুদ্ধি,জীবনের অনুপম সৌন্দর্য্য ও তাঁর অসাধারণ ভক্তিভাব দেখে, তাঁর দিকে আকৃষ্ট হতে লাগিল। হাজার হাজার কন্ঠ হতে হরিধ্বনি হতে লাগিল, যাঁদের রসনা হতে কখনও ভগবানের মধুর নাম বাহির হত না,তাঁদের রসনাও এ নাম উচ্চারণে সুধারসে সিক্ত হতে লাগিল।শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য যখন পথে বাহির হতেন,তখন পথের দুই পার্শ্বের লোক হরিনামের মধুর রবে যেন চারিদিকের বায়ুমন্ডলকে প্লাবিত করে তুলিত।শ্রীচৈতন‍্যদেব এইভাবে নিজে হরিপ্রেমে মত্ত হয়ে সকলকে মাতিয়ে তুললেন।*
*🌷ভট্টাচার্য‍্যের বৈষ্ণবতা দেখি সর্বজন।*
*🌷প্রভুকে জানিল সাক্ষাৎ ব্রজেন্দ্রনন্দন।।*
*🌷কাশীমিশ্র আদি করি নীলাচলবাসী।*
*🌷স্মরণ লইল সবে প্রভুপদে আসি।।*
*🌹সুবিখ‍্যাত বৈদান্তিক বাসুদেব সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে বিচারে পরাস্ত করতঃ (করে) নীরস অদ্বৈতবাদের পথ হতে,মধুময় জীবনপ্রদ ভক্তির পথে আনয়ন করা, চিত্তবিমোহন শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য লীলার মধ্যে এক অপূর্ব কীর্তি বলে, ভারতের ভক্তি-ইতিবৃত্তে চিরদিনই লিখিত থাকবে।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🙏🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

 🔙 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 চতুর্থ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৪১. ত্রিবিক্রম বেশ 🏹 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ত্রিবিক্রম বেশ:-
জগন্নাথ সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয়, জগন্নাথ ত্রিলোকস্বামী। তিনি সাক্ষাৎ নারায়ণের ত্রিবিক্রম মূর্তি। স্বর্গলোক, মর্ত্যলোক ও পাতাললোকের পালনকর্তা স্বয়ং জগন্নাথ। প্রতিটি জীব ও জড় তাঁর আপন। তিনিই চেতন

 রূপে জীব, অচেতন রূপে জড়। জগৎ তাঁর চৈতন্যে চেতনা অর্জন করে। এই ধারণা থেকেই এসেছে জগন্নাথের ত্রিবিক্রম বেশ। জগন্নাথের ত্রিবিক্রম বেশ অনুষ্ঠিত হয় কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে। এই তিথিতে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের শিরে সোনার মুকুট পরানো হয়। তাঁদের কানে সোনার কুণ্ডল, মাথায় সোনার চন্দ্রসূর্য, গলায় সোনার কদম্ব অলংকারে সজ্জিত করা হয়। জগন্নাথ ও বলভদ্র সোনার তিলক ধারণ করেন। জগন্নাথ ও বলভদ্র ত্রিবিক্রম বেশ শৃঙ্গারের সময় সোনার হস্ত-পদ ব্যবহার করেন। বলভদ্র ও জগন্নাথ দুই হাতে যথাক্রমে মুষল-হল ও শঙ্খ-চক্র ধারণ করেন। কথিত জগন্নাথের বিশিষ্ট ভক্ত রামজয়ন্তী দাস জগন্নাথের ত্রিবিক্রম বেশ প্রবর্তন করেছিলেন। জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের মাথার মুকুটের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অলংকারে শোলা, বেত ও কচি বাঁশের সাহায্যে নক্‌শা সাজানো হয়। এছাড়াও পাটের কাপড় ও ফুলের সজ্জায় জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরাম ত্রিবিক্রম বেশে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন। জগন্নাথের ত্রিবিক্রম বেশ বীর ভাবের উদ্রেক করে। তাঁর এই বেশ ভক্তদের অহংকার নাশ করে। সাধারণ মানুষ বুঝতে শেখে, অনন্ত জ্যোতিঃসমুদ্রে বিরাজমান বিরাট পরমপুরুষের তুলনায় সে বড়ই নগন্য। আর সেই বিরাটের সামনে অহংকার করার মতো কিছুই নেই।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৪২. লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশ  🏹 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশ:-
জগন্নাথদেব সাক্ষাৎ নৃসিংহ। সত্যযুগে বিষ্ণুর চতুর্থ ও শেষ অবতার নৃসিংহদেব। প্রহ্লাদের আহ্লাদের জন্য ও হিরণ্যকশপুর মুক্তির জন্য নারায়ণ নৃসিংহ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন জগন্নাথের বিগ্রহ ও মন্দির নির্মাণের আগে নৃসিংহদেবের দর্শন পেয়েছিলেন। স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মা রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে নৃসিংহমন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন। রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন নৃসিংহ দেবতার কৃপায় সহস্র অশ্বমেধ যজ্ঞের পর মহাসমুদ্রে ভেসে আসা শঙ্খ-চক্র চিহ্নিত নিমদারু পেয়েছিলেন। এর পরেই সেই নিমদারু দিয়ে তিনি নিরাকার বিষ্ণুর সাকার বিগ্রহ তৈরি করান। নৃসিংহ উগ্ৰরূপ শুধু নন, তিনি ভক্তবৎসল। কায়মনোচিত্তবাক্যে যে ভক্ত তাঁর শরণাগত হন, নৃসিংহদেব সেই ভক্তের সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। ভক্তের ভালোবাসা ছাড়া তিনি আর কিছু চান না। নৃসিংহদেবের কৃপায় ভক্তের জগন্নাথলাভ হয়। অর্থাৎ মোক্ষলাভ হয়। জগন্নাথ সংস্কৃতিতে জগন্নাথকে সাক্ষাৎ নৃসিংহরূপে ভজনার রীতিও রয়েছে। ওড়িশায় জগন্নাথ-নৃসিংহ মিলিত বিগ্রহও রয়েছে। জগন্নাথকে বলা হয় পুরুষসিংহ। মনরূপ মত্ত হস্তিকে পুরুষসিংহ জগন্নাথ সংযত করতে সাহায্য করেন।

কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে জগন্নাথ লক্ষ্মী-নৃসিংহ রূপে শৃঙ্গার করেন। জগন্নাথের লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশটি ডালিকিয়া বেশ নামেও পরিচিত। লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশ অলঙ্করণ খুবই ইঙ্গিত দেয় যে, জগন্নাথের সমৃদ্ধশালী, ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে জগন্নাথ মন্দিরে প্রাচীন সময় থেকেই যথাযথ স্বীকৃতি ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশ শৃঙ্গারে জগন্নাথ ও বলভদ্রের মাথায় যে চূড়া পরানো হয় তার গড়ন দেখতে অনেকাংশে শিল্পশৈলীগত সিংহের কেশরের মতো। এই বেশে জগন্নাথ ও বলভদ্রকে চূড়াফণী ও অজস্র স্বর্ণালংকার পরানো হয়। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মাথায় সোনার চন্দ্র-সূর্য, কানে কুণ্ডল, তাদাদি পরানো হয়। জগন্নাথ ও বলভদ্র এই দিনে সোনার হস্ত-পদ ধারণ করেন। জগন্নাথের ডান হাতে চক্র ও বাম হাতে শঙ্খ থাকে। বলভদ্রের ডান হাতে মুষল ও বাম হাতে হল দেখা যায়। ফুলের মুকুট, পদ্ম সহ বিভিন্ন ফুলের মালা, তুলসীর মালা, সোনার কদম্ব ও কমলে শ্রীবিগ্রহ সেজে ওঠে। কথিত জগন্নাথের লক্ষ্মী-নৃসিংহ বেশ দর্শন করলে ভক্তদের সমস্ত পার্থিব ভয় বিনষ্ট হয়ে যায়।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
৪৩. শ্রাদ্ধ বেশ  🏹 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html
══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রাদ্ধ বেশ:-
জগন্নাথ সমগ্র বিশ্বের পিতা। বিশ্বের প্রতিটি মানুষের ক্রন্দনধ্বনি তাঁকে কাঁদায়, প্রতিটি মানুষের হাসিমুখ তাঁকে আরও আনন্দময় করে তোলে। তিনি তাঁর সমস্ত সন্তানের তদ্ভাবরঞ্জিত হতে ভালোবাসেন। তিনি আদর্শ পিতার মতো শাসন করেন, আবার স্নেহে ভরিয়ে দেন। তিনি যেমন আদর্শ পিতা, তেমনই তিনি আদর্শ পুত্রও। সৃষ্টির কল্যাণে তিনি মানবশরীর ধারণ করেছিলেন ত্রেতা ও দ্বাপর যুগে। তিনি রামচন্দ্র, তিনিই কৃষ্ণচন্দ্র। জগন্নাথই পুত্ররূপে পিতার মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন অযোধ্যারাজ দশরথকে, ব্রজরাজ নন্দকে ও যদুপতি বসুদেবকে। পিতৃঋণ জনমে শেষ করা যায় না। জগন্নাথ দশরথ, নন্দ ও বসুদেবের কাছে চিরঋণী রয়েছেন। জগন্নাথ এখনও প্রতি বছর নির্দিষ্ট তিথিতে পিতৃঋণ শোধ করে চলেছেন। তিনজন পিতার জন্য তিনদিনে পিতৃঋণ শোধের সময় জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা শ্রাদ্ধ বেশ পরিধান করেন।

জগন্নাথ ত্রেতা যুগে অযোধ্যার সূর্যবংশীয় মহারাজ দশরথের প্রথম পুত্র সন্তান রামচন্দ্র রূপে মাতা কৌশল্যার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দশরথ রামচন্দ্রকে স্নেহে ভরিয়ে তুলেছিলেন। মহারাজ দশরথ রামচন্দ্রকেই অযোধ্যার যোগ্যতম উত্তরপুরুষ নির্বাচন করেছিলেন। রামচন্দ্রও ছিলেন পিতার যথার্থ অনুগামী। পিতার আজ্ঞা তাঁর কাছে ছিল অলঙ্ঘনীয়, বেদবাক্যের সমান। পিতৃসত্য পালনের জন্য রামচন্দ্র রূপে রাজকীয় সমস্ত সুখ, সমৃদ্ধি, বৈভব, বিলাসবহুল জীবন বর্জন করে সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর মতো বনবাসী জীবন বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর সহযাত্রী হয়েছিলেন অনন্তাবতার বলরামের পূর্বরূপ রামানুজ লক্ষ্মণ ও জগন্নাথের শক্তি সীতা দেবী। জগন্নাথ তাঁর পূর্বপিতার স্মরণে প্রথমদিন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জগন্নাথ দ্বাপর যুগে মথুরার রাজা কংসের কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের অষ্টম পুত্র কৃষ্ণ রূপে জন্মগ্রহণ করেন। দেবকী দেবীর সপ্তম গর্ভের সন্তান গর্ভেই নষ্ট হয়ে যায়। কথিত দৈব পরিকল্পনা অনুযায়ী দেবকীর সেই সন্তান বিষ্ণুর নির্দেশে দেবী যোগমায়ার মাধ্যমে উপ্ত হয়েছিল বসুদেবের অপর স্ত্রী দেবী রোহিণীর গর্ভে। সেই পুত্রই বলভদ্র। এছাড়া দেবী যোগমায়াও জন্মগ্রহণ করেন নন্দরাজের গৃহে। কৃষ্ণের জন্মের আগে বাসুদেব ও নন্দ শলা পরামর্শ করেছিলেন, বসুদেবের অষ্টম পুত্র হবেন কংসের হত্যাকারী, তাই যে কোনো প্রকারে এই পুত্রকে রক্ষা করতে হবে। নন্দরাজ বসুদেবকে আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁর ঘরে যে সন্তানই জন্মাবে তার সঙ্গে বসুদেবের সন্তান বদলে নেবেন তিনি। দৈবনির্দিষ্ট সময়ে দেবকীর কোল আলো করে কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। এরপরেই নবমী তিথিতে দেবী যোগমায়াও মাতা যশোমতীর কোল আলো করে কন্যারূপে আবির্ভূত হন। সত্যবদ্ধ নন্দরাজ নিজের সদ্যজাত কন্যাকে স্ত্রীর অজ্ঞাতেই বসুদেবের হাতে তুলে দেন এবং বসুদেবের অষ্টম পুত্রকে রক্ষার দায় গ্রহণ করেন। এরপর থেকে কৃষ্ণ ও বলরামকে নন্দরাজ নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছিলেন। কৃষ্ণ ও বলরাম বড় হয়ে তাঁদের প্রকৃত পরিচয় জানতে পারেন। পরবর্তীতে কৃষ্ণ ও বলরাম নন্দরাজ-যশোমতী ও বসুদেব-দেবকী অর্থাৎ তাঁদের পালক পিতা-মাতা ও জন্মদাতা পিতা-মাতার প্রতি সমস্ত কর্তব্য পালন করেছিলেন। জগন্নাথ তাঁর পূর্বপিতাদ্বয়ের জন্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। বলরামও জগন্নাথকে অনুসরণ করে একইভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁদের পিতৃপুরুষের প্রতি।

মার্গশীর্ষ (অগ্রহায়ণ) মাসে শ্রীমন্দিরে দেবদীপাবলী পালিত হয়। অজস্র আলোময় প্রদীপে শ্রীমন্দিরে চারধার সেজে ওঠে। মার্গশীষের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী, অমাবস্যা ও শুক্লপক্ষের প্রতিপদ এই তিনদিনে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা শ্রাদ্ধ বেশ পরেন। সাদা রঙের আঠারো হাত লম্বা চার হাত চওড়া কাপড় পরেন জগন্নাথ। পিতৃপুরুষের প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশই শ্রাদ্ধ। শ্রাদ্ধ বাহ্যিক উপকরণের চেয়ে অন্তরের উপকরণে সমৃদ্ধ হয়। শ্রাদ্ধে বৈভবের কোনো গুরুত্ব নেই। তাই শ্রাদ্ধ বেশে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের সজ্জায় সেভাবে কোনো অতিরিক্ত জৌলুস থাকে না। অলংকারের বাহুল্যও দেখা যায় না। জগন্নাথ ও বলভদ্র ধুতি ও চাদরে সাজেন। সুভদ্রা দেবী সাজেন সাজা শাড়িতে। রত্নসিংহাসনের দেবতাদের সাদা কাপড়ের পারের অংশের জন্য কয়েকটি রঙ নির্ধারিত রয়েছে, তার মধ্যে কালো, নীল, সবুজ, লাল উল্লেখযোগ্য। শ্রাদ্ধ বেশ শৃঙ্গারে জগন্নাথ ও বলভদ্রের মাথায় কোনো মুকুট থাকে না। তাঁদের মাথা ও কান সাদা কাপড়ে ঢাকা থাকে। বড় ওড়িআ মঠ থেকে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের জন্য যাবতীয় সামগ্রী পাঠানো হয়। এটি এখানের পরম্পরা। শ্রাদ্ধ বেশে দেবতারা শুধুমাত্র ফুলের মালা প্রভৃতির শৃঙ্গার করেন।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৪. সেনাপটা বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
সেনাপটা বেশ:-
জগন্নাথ ও বলদেব সেনাপটা (সোনপটা বা সেনপটাও বলে অনেকে) বেশ বহুল আলোচিত নয়। সেনাপটা প্রকৃতপক্ষে পৃথক দারু নির্মিত উপকরণ। জগন্নাথ ও বলভদ্রের মাথায় অনেকটা ঝুঁটি বা শিখার মতো দেখতে। সেনাপটা অনেকটা অর্ধবৃত্তকারে বিগ্রহের মাথা ও কোমড়ে যুক্ত থাকে। দেববিগ্রহের অঙ্গে সারাবছর থাকে না। সেনাপটার কিছুটা অংশ দেখা যায় জগন্নাথের স্নানযাত্রা ও রথযাত্রার সময়ে। তবে উভয় সময়েই সেনাপটা নরম সুতির বা পাটের কাপড়ে ঢাকা থাকে। দীর্ঘদিন শ্রীবিগ্রহের অঙ্গে সেনাপটা যুক্ত থাকায় এর গুরুত্ব অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার আগেরদিন জগন্নাথের শ্রীঅঙ্গে সেনাপটা লাগানো হয়। শ্রীমন্দিরের অভ্যন্তরে গুপ্ত রীতিতে সেদিনের যাবতীয় আচার-আচরণ সামাল দেন সেবকগণ। সাধারণ ভক্তেরা এই দৃশ্য দেখতে পান না। এর ছবি আজ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। বলরাম ও জগন্নাথের সেনাপটা বেশে বেশি বৈচিত্র্য নেই।

জগন্নাথের সেনাপটার পিছনে একটি কিংবদন্তি রয়েছে। জগন্নাথের বিখ্যাত ভক্ত মাধব দাসের সঙ্গে জগন্নাথ ও বলভদ্র সখ্যভাবে মেলামেশা করতেন। চপল বন্ধুসুলভ অত্যাচারে মাধব দাসকে মাঝে মাঝে বিরক্তও করতেন জগন্নাথ। মাধব দাস হয়ে উঠেছিলেন জগন্নাথের নিত্যলীলা সহচর। মাধব দাসের সঙ্গে জগন্নাথ ও বলভদ্র দুভাই বিচিত্র বিচিত্র লীলায় মাততেন। এমনই একদিন তাঁরা দুভাই মিলে মাধব দাসকে স্থানীয় একটি বাগানে নিয়ে আসেন। তখন বর্ষাকাল বাগানের কাঁঠাল গাছে কাঁঠাল পেঁকে বাগান মাতিয়ে রেখেছে। হঠাৎ জগন্নাথ মাধব দাসের কাছে কাঁঠাল খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। কিন্তু জগন্নাথ জানান, তাঁর ও বলভদ্রের শরীর স্থূল। এই বপুতে গাছে ওঠা দুঃসাধ্য। অতএব মাধব দাসকেই গাছে উঠে কাঁঠাল নামাতে হবে। মাধব দাস আর কি করে। তিনি জানেন জগন্নাথ ও বলভদ্র যা বলেছেন তা না পাওয়া পর্যন্ত থামবেন না। মাধব দাস কাঁঠাল গাছে উঠে কাঁঠাল নামাতে রাজি হলেন। জগন্নাথ ও বলভদ্র একের পর এক গাছে মাধব দাসকে উঠতে বলেন, মাধব দাস গাছে ওঠার পর তাঁরা বলেন এই গাছ নয় অন্য গাছের কাঁঠাল খাবেন। এভাবে মাধব দাস একটি একটি করে অনেকগুলি গাছে উঠলেন আর নামলেন। মাধব দাস তাঁর হৃদয়বন্ধু জগন্নাথের এমন আচরণে অস্থির হয়ে উঠলেও জগন্নাথের অনুরোধে শেষবারের মতো তিনি আর একটি কাঁঠাল গাছে ওঠেন। কিন্তু কাঁঠাল নামানোর সময় জগন্নাথ ও বলভদ্র কাঁঠাল ধরতে রাজি হলেও কাঁঠাল ধরার আগে অদৃশ্য হয়ে যান। গাছের থেকে বড় মাপের কাঁঠাল টি মাটিতে পড়তেই ধুপ করে শব্দ হয়। শব্দ পেয়ে বাগানের রক্ষক ছুটে এসে দেখেন মাধব দাস কাঁঠাল পারছেন। সেই সময় মাধব দাসকে পুরীবাসী সকলেই চিনতেন। সবাই জানতেন মাধব দাস জগন্নাথের সঙ্গে বিচরণ করেন। স্বাভাবিকভাবেই মাধব দাসকে দেখে বাগানের রক্ষক চুপ করে যান। উল্টে অনুরোধ করেন, এরপর কাঁঠাল লাগলে মাধব দাস যেন তাকে নির্দেশ দেন। মাধব দাস বলেন, তিনি নিজের জন্য কাঁঠাল নামাতে আসেননি, জগন্নাথ ও বলভদ্র তাঁকে এমন কাজ করিয়েছেন। বাগান রক্ষক আর কি বলবেন! এমনভাবে আর একদিন আবার মাধব দাসকে জগন্নাথ ও বলভদ্র কাঁঠাল গাছে উঠিয়েছেন। সেদিনও এই গাছ সেই গাছ করে তাঁকে দুই ভাই মিলে অস্থির করে তুলেছেন। গাছে উঠতে নামতে অনেক গাছেই পাতা ইত্যাদি খসে গাছ বেয়ে কষ বা আঠা নেমেছে। কিন্তু জগন্নাথের লীলায় বাগানের রক্ষক কিছুই টের পাননি। বাগানের রক্ষক দুপুরবেলা একটি গাছে হেলান দিয়ে বসে ঘুমোচ্ছিলেন। আগের দিনের মতো হঠাৎ কাঁঠাল পড়ার শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং দৌড়ে গিয়ে চোর ধরার সময় তিনি দেখেন তার সাজের শিখা কাঁঠাল গাছের আঠায় লেগে গাছের সঙ্গে আটকে গেছে। এই আকস্মিক ঘটনায় তার শিখায় খুব জোরে টান লাগে, তার ব্যথা হয়। রাগে গজগজ করে তার মুখ দিয়ে অভিশাপ বেরিয়ে আসে, যার কারণে এভাবে তার চুলের শিখায় আঠা লাগায় তার এত ব্যথা লাগলো, যেন সেই ব্যক্তিরও এভাবে শিখায় টান দেওয়া হয়। জগন্নাথ ও বলভদ্র সেই অভিশাপ গ্রহণ করেন।

শ্রীমন্দিরে পরবর্তী সময়ে তুলোর গদির ওপর দিয়ে জগন্নাথের চলাচলের পাহণ্ডি রীতি বন্ধ হয়ে যায় এবং চালু হয় সেনাপটা রীতি (নীতি)। এখনও জগন্নাথ যখন শ্রীমন্দির থেকে বাইরে এসে স্নানমঞ্চে বা রথে ওঠেন তখন সেবকরা জগন্নাথের মাথার সেনাপটা ধরে তাঁকে দুলে দুলে এগিয়ে নিয়ে চলেন। জগন্নাথের সেনাপটা বেশ ভক্ত-ভগবানের বৈচিত্র্যময় লীলাসমূহের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে রয়েছে।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৫. চাচেরি বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
চাচেরি বেশ:-
ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথি থেকে চতুর্দশী তিথি পর্যন্ত মোট পাঁচদিন শ্রীমন্দিরের আরাধ্য জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা মধ্যাহ্নকালীন ভোগরাগের সমাপ্তির পরে লাল রঙের চাচেরি বেশ শৃঙ্গারে সাজেন। রূপোর পাত্রে শীতল চন্দন শ্রীবিগ্রহের অঙ্গে লেপন করা হয়। জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলরাম ও সুদর্শন বিগ্রহ চাচেরি বেশভূষায় সজ্জিত করার উপকরণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কড়া লাল (অনেকাংশে বেনারসীর পাকা লাল) রঙের রেশমী ধুতি, লাল রঙের শ্রীমুখ বালা, লাল উত্তরীয়, আডাকানী ও নালিভূজা প্রভৃতি। চাচেরি বেশে জগন্নাথ সহ চতুর্ধা বিগ্রহ সজ্জিত হলে জগন্নাথের শক্তিদেবী শ্রীদেবী ও ভূদেবীকে মহাজন সেবকরা সুসজ্জিত খাটে (এক ধরনের আসনই) নিয়ে বসান। জগন্নাথের দোলপূর্ণিমার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি দেবতা দোলগোবিন্দের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। সকলেই চাচেরি বেশ পরে তৈরি থাকেন। এরপর তাঁদের দিব্য ভোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভোগরাগের শেষে তাঁদের আবার রত্নসিংহাসনের বসানো হয়। এরপর শুরু হয় ফাগুলাগীর অনুষ্ঠান। এমন চলে প্রায় দোলযাত্রা পর্যন্ত‌। এছাড়াও কিছু গুহ্যাতিগুহ্য পদ্ধতিতে জগন্নাথের পূজা চলতে থাকে।

জগন্নাথের চাচেরি বেশের সময় তাঁদের প্রত্যেকের ব্যবহৃত সাজসজ্জার প্রধান রঙ লাল। লাল বসন্তের অন্যতম প্রধান রঙ। প্রকৃতি বসন্তবন্দনা করেন লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের মেলায়। জগন্নাথ সময় অনুসারে সাজেন, তাই রঙ যখন প্রকৃতিকে রাঙায় তখন জগন্নাথও রাঙা রঙে রঙিন হতে ভালোবাসেন। চাচেরি বেশে নতুন কাপড়ের সঙ্গে প্রায় ত্রিশ রকমের অলংকারে জগন্নাথ আরও দিব্যতনুধর হয়ে ওঠেন।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৬. চন্দনলাগী বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
চন্দনলাগী বেশ:-
জগন্নাথ ঋতু অনুযায়ী যে কয়েকটি বেশে শৃঙ্গার করেন তার মধ্যে প্রথম চন্দনলাগী বেশ। মৃদু সুগন্ধযুক্ত চন্দন কাঠ জলে ভিজিয়ে পাথরের পাটায় ঘষতে ঘষতে মিহি চন্দনের কাঁদ তৈরি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি ঘরেই প্রায় অনুরূপে চন্দন তৈরি করার রীতি রয়েছে। শ্রীক্ষেত্রের শ্রীমন্দিরে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের জন্য তৈরি করা চন্দন রূপোর সুন্দর বাটিতে তুলে রাখা হয়। জলের সঙ্গে চন্দনের কাঠের মিহি মিশ্রণটি সুশীতল। চন্দন তৈরির সময় খেয়াল রাখা হয় তা যেন অতিরিক্ত পাতলা না হয়। সঠিকভাবে ঘর্ষণ না হলে চন্দন কাঠের সূক্ষ্ম দানা থেকে যায়, দেবতার জন্য তৈরি করা চন্দনের যেন দানা না থাকে সেই দিকে খেয়াল রাখা হয়।

শ্রীমন্দিরে চন্দনযাত্রা দুই ধরনের। প্রথমটি শ্রীমন্দিরের বাইরে অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। জগন্নাথের প্রতিনিধি দেবতা মদনমোহন শ্রীদেবী ও ভূদেবীর সঙ্গে চন্দনযাত্রা করেন। তাঁদের সঙ্গে যান অষ্টধাতুর রাম ও কৃষ্ণ। দ্বিতীয়টির আয়োজন হয় শ্রীমন্দিরের ভেতরে। তখন জগন্নাথ স্বয়ং এই চন্দনলাগী উৎসবের কেন্দ্রীয় আকর্ষণ। এই দুই প্রকার চন্দনযাত্রা বা চন্দনলাগী অনুষ্ঠানই একুশ দিন করে অনুষ্ঠিত হয়। মোট বিয়াল্লিশ দিন জগন্নাথ এভাবে চন্দনসেবা গ্রহণ করেন। বৈশাখের পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠের পূর্ণিমা পর্যন্ত চন্দনযাত্রা বা চন্দনলাগী অনুষ্ঠান হয়। শ্রীমন্দিরে চন্দনলাগী বেশ অনুষ্ঠিত হয় জ্যৈষ্ঠের কৃষ্ণপক্ষের নবমী থেকে জ্যৈষ্ঠের পূর্ণিমা পর্যন্ত।

চন্দনলাগী বেশ অনুষ্ঠানের সময় জগন্নাথাদি দেবতার শরীরে মিহি সুগন্ধযুক্ত চন্দনের প্রলেপ দেওয়া হয়। জগন্নাথের মাথা ও হাতে চন্দনের পুরু প্রলেপ দেওয়া হয়। এছাড়াও পেটের ওপরের অংশে চন্দনের ঘন প্রলেপ দেওয়া হয়। শোনা যায়, জগন্নাথের চন্দনবেশের সময় বিগ্রহের শীতলতা ভক্তরা অনুভব করতে পারেন। গরমের সময় দেবতাদের শরীর ঠাণ্ডা রাখার জন্য পরানো হয় গরমের উপযোগী কাপড়। চন্দনলাগী অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়, এই সময় দেবতাগণ প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন রঙের কাপড় পরেন। জগন্নাথের ভোগেও এমন কিছু বিশেষ উপাদানের আয়োজন থাকে, যা ভক্ষণে বাস্তবিকই গরমের হাত থেকে খানিকটা নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। বিশ্বাস করা হয়, জগন্নাথ পরমপুরুষ পরমাত্মা, তাঁর আবার গরম কী, ঠাণ্ডা কী? তবু ভক্তরা নিজস্ব ভাবে তাঁদের প্রভুকে দেখেন। যখন প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের দাবদাহ চলছে তখন নিশ্চয়ই প্রভুরও গরমে কষ্ট হচ্ছে, এই একটি ভাবনা এর পিছনে কাজ করে। চন্দনলাগী অনুষ্ঠানের সময় জগন্নাথকে লাল ও সাদা রঙের পদ্মের মালায় সাজতে দেখা যায়। সাদা, হলুদ সহ বিভিন্ন স্নিগ্ধ বর্ণের ফুলে জগন্নাথ এই সময়ে সাজেন। বাস্তবিকই শ্রীমন্দিরে অভ্যন্তরে চন্দনলাগী অনুষ্ঠানের সময় প্রকৃতির তাপ কম অনুভূত হয়। জগন্নাথের চন্দনলাগী অনুষ্ঠানের প্রসাদী চন্দন তাঁর ভক্তেরা অনেকেই পেয়েছেন। জগন্নাথের স্পর্শধন্য চন্দনের মাহাত্ম্য ভক্তদের কাছে অনেক। শুনেছি চন্দনলাগী বেশের প্রসাদী চন্দন অনেকে কবচের মতো ধারণ করেন, অনেকে শুভ কাজে যাওয়ার আগে পরম শ্রদ্ধায় নিজের মাথায় প্রসাদী চন্দনের বিন্দু এঁকে নেন। অনেক মানুষই জগন্নাথের চন্দনবেশের প্রসাদী চন্দন ঘরে এনে পবিত্র স্থানে সংরক্ষণ করে প্রতিদিন জগন্নাথের আশীর্বাদ অনুভব করেন। আরও একটি তথ্য এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন রয়েছে, জগন্নাথের চন্দনলাগী অনুষ্ঠানের সময় কবি জয়দেব গোস্বামীর পদ প্রায় প্রতিদিনই শ্রীমন্দিরে গীত হয় :

চন্দনচর্চিত নীলকলেবর পীতবসন বনমালিন্৷
কেলিচলন্মণি কুণ্ডলমণ্ডিত গণ্ডযুগ স্মিতশালিন্৷৷
চন্দ্রকচারু ময়ূরশিখণ্ডক মণ্ডল বলয়িত কেশম্৷
প্রচুর পুরন্দর ধনুরনুরঞ্জিত মেদুরমুদির সুবেশম্৷৷
সঞ্চরদধর সুধা মধুর ধ্বনি মুখরিত মোহন বংশম৷
বলিত দৃগঞ্চল চঞ্চল মৌলি কপোল বিলোল বতংসম্৷৷
হারমমলতর তারমুরসি দধতং পরিরভ্য বিদূরম্৷
স্ফুটতর ফেন কদম্ব করম্বিতমিব যমুনা জল পূরম্৷৷
শ্যামল মৃদুল কলেবর মণ্ডলমধিগত গৌর দুকূলম্৷
নীল নলিনমিবপীত পরাগ পটল ভর বলয়িত মূলম্৷৷
বদনকমল পরিশীলন মিলিত মিহির সম কণ্ডল শোভম্৷
বন্ধুজীব মধুরাধর পল্লব মুল্লসিত স্মিত শোভম্৷৷
বিশদকদম্বতলে মিলিতং কলিকলুষ ভয়ং শময়ন্তম্৷
করচরণোরসি মণিগণভূষণ কিরণ বিভিন্ন তমিস্রম্৷৷
শশি কিরণোচ্ছুরিতোধর জলধর সুন্দর সকুসুম কেশম্৷
তিমিরোদিত বিধুমণ্ডল নির্মল মলয়জ তিলক নিবেশম্৷৷

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৭. ঘোড়লাগী বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঘোড়লাগী বেশ:-
জগন্নাথ গ্রীষ্মকালে যেমন চন্দনলাগী বেশে শৃঙ্গার করেন, তেমনই তিনি শীতকালে ওড়নষষ্ঠী তিথি থেকে ঘোড়লাগী অনুষ্ঠানেও মাতেন। সোজা ভাষায় বললে, এই ঘোড়লাগী প্রকৃতপক্ষে জগন্নাথের শীতকালীন সাজসজ্জা। প্রকৃতিতে শীত এলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন জগন্নাথেরও শৈত্যপ্রবাহে শীত অনুভূত হচ্ছে। সেই বিশ্বাস থেকেই জগন্নাথের ঘোড়লাগী বেশের আয়োজন করা হয়। জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে শীত ঋতুর শৈত্য থেকে রক্ষা করতে ঘোড়লাগী বেশে তাঁদের সাজানো হয়। ঘোড়লাগী বেশ শৃঙ্গারের সময় জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের শ্রীবিগ্রহের মুখ বাদে প্রায় সর্বাঙ্গ মোটা শীতবস্ত্র দিয়ে সম্পূর্ণ আবৃত করে রাখা হয়।

মার্গশীর্ষ (অগ্রহায়ণ) মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ পৌষ মাস ও মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথি (সরস্বতী পূজা) পর্যন্ত জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের ঘোড়লাগী বেশে সুসজ্জিত থাকেন। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রীপঞ্চমী তিথিতেই জগন্নাথের রথযাত্রার প্রাথমিক উপকরণ অর্থাৎ কাঠগুলি শ্রীমন্দির চত্বরে এসে পৌঁছায়। শ্রীপঞ্চমী শীতশেষে কর্মতৎপরতার প্রারম্ভিক দিন। ঘোড়লাগী বেশ শৃঙ্গারের জন্য নির্দিষ্ট বারের জন্য নির্দিষ্ট রঙের বিধিবিধান রয়েছে। ঘোড়লাগী শৃঙ্গারের সময় রবিবারে টুকটুকে লাল রঙের শীতবস্ত্র, সোমবারে সাদার ওপরে কালো বিন্দু দেওয়া শীতবস্ত্র, মঙ্গলবারে মিশ্র বহুবর্ণ যুক্ত শীতবস্ত্র, বুধবারে হাল্কা নীলচে বা অনেকটা আকাশী রঙের শীতবস্ত্র, গুরুবার বা বৃহস্পতিবারে হলুদ রঙের শীতবস্ত্র, শুক্রবারে সম্পূর্ণ সাদা রঙের শীতবস্ত্র ও শনিবারে কালচে নীল বা বেগুনী রঙের শীতবস্ত্রে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের আপাদমস্তক আবৃত করা হয়। এই শীতবস্ত্রগুলির চারিধারে উজ্জ্বল জরির কাজ করার হয়। অনেকসময় সূক্ষ্ম কারুকার্য খচিত প্রাগুক্ত রঙের শীতবস্ত্রও জগন্নাথের শৃঙ্গারে ব্যবহার করা হয়। এই কাপড়গুলি ওজনে বেশ ভারমুক্ত কিন্তু যথেষ্ট গরম হয়। এই সময় জগন্নাথের শ্রীমন্দিরের পতিতপাবন বিগ্রহ ও সিংহদ্বারে বিরাজমান ভগবতী লক্ষ্মীদেবীকেও ঘোড়লাগী বেশ শৃঙ্গার করানো হয়। ঘোড়লাগী বেশের সময় জগন্নাথ ও বলভদ্র কোনো অস্ত্র ধারণ করেন না। বিগ্রহের সঙ্গে সোনার হস্ত-পদ বা পৃথক কোনো স্বর্ণ মুকুট পরানো হয় না। ঘোড়লাগী শৃঙ্গারের সময় অজস্র ফুলের মালায় জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা সজ্জিত হন। বলরাম ও জগন্নাথের গলায় তুলসীর মালাও পরানো হয়। এই সময়ে গাঁদা ফুল সুলভ হয়। গাঁদা ফুলের দীর্ঘ মালায় জগন্নাথাদি দেবতাদের সাজানো হয়। শীতকালীন বিভিন্ন সাদা ও রঙিন ফুলে জগন্নাথ ও বলভদ্রের হাত থেকে বুক পর্যন্ত মালার সম্ভার দেখা যায়। টোপরের আকৃতিতে বিভিন্ন ফুল ও তুলসীর মালা দিয়ে তৈরি মুকুটে সাজানো হয় রত্নসিংহাসনে বিরাজমান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে। ফুলের নোলকের ব্যবহারও দেখা যায়। সোনার অলংকার ঘোড়লাগী বেশে বাইরে থেকে দেখা যায় না। তবে এই দীর্ঘমেয়াদী বেশের মধ্যে মাত্র কয়েকদিন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মাথায় সোনার চন্দ্র-সূর্য সাজানো হয়। ঘোড়লাগী বেশ শৃঙ্গারের শ্রীমন্দিরের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী অনুষ্ঠান। ঘোড়লাগী বেশ শৃঙ্গারের সময় জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের শরীরের বেশিরভাগ অংশই শীতবস্ত্রের আড়ালে থাকায় এই বেশ ভক্তদের কাছে খুব বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৮. জামালাগী বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
জামালাগী বেশ:-
ভারতে মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ে (ইংরেজি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি) শীতের বাতাবরণ ম্লান হয়ে আসে। এরপর থেকেই ঋতু পরিবর্তন শুরু হয়। মাঘ মাসের শ্রীপঞ্চমীতে বসন্ত ঋতুর আগমনের সূচনা হয়, এমন একটি ধারণা ভারতবর্ষে অনেককাল আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। শ্রীপঞ্চমীর (সরস্বতী পূজা) থেকে দোলপূর্ণিমা (ফাল্গুনী পূর্ণিমা) পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন প্রাচীন মন্দিরে বসন্তের বন্দনা শুরু হয়। মধ্যবর্তী তিথিগুলিতে বিভিন্ন দেবস্থানে ভিন্ন ভিন্ন তিথিতে ফাগ উৎসব বা ফাগু উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রাচীন কৃষ্ণ মন্দিরগুলি ছাড়াও অজস্র শিব মন্দির, শক্তি মন্দিরে ফাগ উৎসবের রীতি রয়েছে। প্রাচীন ভারতের ঋষিদের কাছে শীত কাম্য ঋতু ছিল না। শীত জড়তা আনে, আর জড়তা মৃত্যুর সমতুল। শীতে প্রকৃতির প্রাচূর্য কমে আসে। শীতকে প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যের বৃদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ফাল্গুনী নাটকেও এই ধারণা রয়েছে। তাই ভারতীয় সভ্যতায় শীতের বিদায় লগ্ন থেকেই বসন্ত বরণের এতো আয়োজন। বসন্ত প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের দূত, নতুন প্রাণের সঞ্চারক ঋতু।

বৈচিত্র্যময় জগন্নাথও শীতের বিদায় মুহূর্তে প্রকৃতিমাতার বুকে আসন্ন বসন্তের জয়গানের সময় নববেশে সজ্জিত হন। জগন্নাথের এই সময়ের বেশ শৃঙ্গার মূলত জামালাগী বেশ নামে পরিচিতি পেয়েছে। মাঘের মাঝামাঝি সময় থেকে সমগ্র পূর্ব-ভারতে শীত বিদায় নিতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই পুরীর শ্রীমন্দিরেও শীতের প্রোকোপ কমে আসে। শীত কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে জগন্নাথকে প্রাকৃতিক তাপমাত্রার ও ঋতু পরিবর্তনের সময়ের সঠিক উপযোগী পোশাক পরানো শুরু হয়। এমনিতেও লোকসংস্কার রয়েছে ঋতু পরিবর্তনের সময় শরীরের প্রতি যত্নবান না হলে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ফলে এই সময়ে আরও সাবধানে থাকতে হয়। শীত বিদায় নেওয়ার সময় বেশ কিছুদিন ধরেই তাপমাত্রা ওঠানামা করে। জগন্নাথকে আত্মভাবে সেবার সুযোগ রয়েছে বলেই জগন্নাথের ক্ষেত্রেও এই সমস্ত সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। জগন্নাথের জামালাগী বেশ শৃঙ্গারে যে রকমের পোশাক ব্যবহার করা হয় তা জগন্নাথের শীতকালীন পোশাকের চেয়ে বেশ অনেকটাই পাতলা আবার গ্রীষ্মকালীন পোশাকের চেয়ে অনেকটা মোটা। অর্থাৎ মাঝারি নরম কাপড়কে জগন্নাথের জামালাগী বেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হয়। বসন্তের তারুণ্য পুরীতে ছেড়ে যায় জগন্নাথের জামালাগী বেশের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে। ফাল্গুনের পূর্ণিমা পর্যন্ত জামালাগী বিধির সঙ্গে জগন্নাথের পূজা, সেবা ও ভোগ সংক্রান্ত কয়েকটি গুহ্য পরিবর্তনও নাকি ঘটে।

জামালাগী বেশ শৃঙ্গারের সময় রবিবারে লাল, সোমবারে সাদার ওপরে কালো বিন্দু, মঙ্গলবারে মিশ্র বহুবর্ণ, বুধবারে হাল্কা নীল বা আকাশী, বৃহস্পতিবারে হলুদ, শুক্রবারে সাদা ও শনিবারে কালচে নীল বা বেগুনী রঙের নরম পোশাকে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্র সেজে ওঠেন। জামালাগী বেশেও জগন্নাথ ও বলভদ্র কোনো অস্ত্র ধারণ করেন না। বসন্ত ঋতুর বিভিন্ন ফুলে জগন্নাথ সেজে উঠতে থাকেন। গরম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পদ্ম ফুলও সুলভ হয়। পদ্মের মালায় সাজতে শুরু করেন জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা ও সুদর্শন। মাঘের শুক্লপক্ষের শ্রীপঞ্চমী থেকে ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত রত্নসিংহাসনের দেবতাগণ প্রতিদিন জামালাগী বেশ শৃঙ্গারে ভক্তমন মোহিত করেন। জগন্নাথের জামালাগী বেশকে অনেকেই ঘোড়লাগী বেশের অঙ্গীভূত মনে করেন। কারণ উভয়ের রীতিপদ্ধতির মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৪৯. মকর চৌরাশী বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
মকর চৌরাশী বেশ:-
পৌষ মাসের শেষ দিন সারা ভারতময় মকর সংক্রান্তি পালিত হয়। সাধারণত ইংরেজি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখেই মকর সংক্রান্তি পড়ে। অধিকাংশ হিন্দু উৎসবই সৌর বর্ষপঞ্জির ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। মকর সংক্রান্তির একটি আদিম মাহাত্ম্য রয়েছে। এই সময়ে ঋতু পরিবর্তনের লগ্নে প্রাকৃতিক অনেকগুলি পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। পরিবেশ ও কৃষিভূমিকে কেন্দ্র করে মকর সংক্রান্তিতে ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, গুজরাট প্রভৃতি রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এই সময় থেকেই ভারতে ধীরে ধীরে দিন বাড়তে থাকে ও রাত কমে আসে। শীতের জড়তাও ধীরে ধীরে মুছে যেতে শুরু করে। ভারতে আবার উত্তাপ বাড়তে থাকে। মকর সংক্রান্তিতে পুরীর শ্রীমন্দিরে আয়োজিত হয় জগন্নাথের উত্তরায়ণ যাত্রা। পৌরাণিক কাহিনীতে রয়েছে, সাক্ষাৎ জগৎ সংসারের সঞ্চালক ভগবান সূর্যদেব মকর সংক্রান্তিতে তাঁর পুত্র শনিদেবের ঘরে আসেন। শনিদেব মকর রাশির অধিপতি দেবতা।

মকর সংক্রান্তিতে পুরীর শ্রীমন্দিরে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্র মকরচৌরাশী বেশ শৃঙ্গার করেন। তাঁরা এই বেশে মাথায় বিশেষ ধরনের মকরচূড়া ধারণ করেন। এই সময় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার জন্য নতুন মিঠে চালের বিভিন্ন পিঠা, পরমান্ন প্রভৃতি নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন স্বাদু ফল, শুকনো ফল (ড্রাই ফ্রুট), ছানা, খোয়াক্ষীর, গুড়, দুধ, নারকেল কোরানো প্রভৃতি পদে জগন্নাথ সেবা গ্রহণ করেন।

মকরচৌরাশী বেশের সময় জগন্নাথ সাধারণ বস্ত্রই পরেন। এই সময় শ্রীমন্দিরে একই সঙ্গে ঘোড়লাগী শৃঙ্গারও চলে। তাই মকরচৌরাশী বেশে তেমন বৈচিত্র্য দেখা যায় না। মকরচৌরাশীতে বিভিন্ন ফুলের সাজে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা, সুদর্শন, শ্রীদেবী, ভূদেবী, নীলমাধবের সাজানো হয়। মালা দিয়ে গোল করে এক ধরনের বিশেষ মুকুটের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও জগন্নাথাদি দেবতাদের মাথায়, নাসায়, বাহুমূলে, বুকে কয়েকটি ফুলের তৈরি অলংকার দেখা যায়। মকরচৌরাশী বেশেও জগন্নাথ ও বলভদ্র বিশেষ কোনো অস্ত্র ধারণ করেন না।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

৫০. পুষ্যাভিষেক বেশ 🌟 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
পুষ্যাভিষেক বেশ:-
স্কন্দপুরাণের বিষ্ণুখণ্ডে পুষ্যাভিষেকের নির্দেশ রয়েছে। বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পৌষ মাসের পুষ্যা নক্ষত্র বিহিত পূর্ণিমা তিথিতে (অনেকসময় পৌষের তিথি মাঘ মাসে প্রসারিত হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে মাঘ মাসের অনুষ্ঠিত হয়) জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের বিশেষ ভাবে রঙিন ফুল ও সুগন্ধি দ্রব্যে বিশেষ অভিষেক করা হয়। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন অনেক দেবমন্দিরে পুষ্যাভিষেক পৌষের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতেও অনুষ্ঠিত হয়। ‘পুষ্যা’ শব্দের সঙ্গে পুষ্টির যোগাযোগ রয়েছে। বৈষ্ণব ভক্তমণ্ডলী বিশ্বাস করেন নববিধা ভক্তির সঠিক পুষ্টিসাধনের জন্য পৌষের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে ভগবানের অভিষেক করলে তিনি তৃপ্ত হন। আগে শীতকালের রঙিন ফুলের প্রাচূর্য দেখা দিত পৌষের শেষ দিকে। এখন বিভিন্ন রকমের জৈব ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে শীতকালীন ফুলও গ্রীষ্মকালে তৈরি করা হয়। প্রাচীন সময়ে কৃষির এই সাফল্য ছিল না। শীতকালে ভারতে ফুলের সংকট দেখা দিত। বিশেষত পদ্ম, শালুক, টগর, শিউলি, নাগলিঙ্গম্, নাগকেশর, জবার মতো সহজলভ্য পূর্ব ভারতীয় ফুলগুলি শীতকালে প্রাকৃতিক উপায়ে এখনও কম ফোটে। প্রাচীন সময়ে এই কারণেই সম্ভবত মাঘ মাসে অনুষ্ঠিত জগন্নাথের পদ্মবেশে শোলা ও রঙিন কাগজের তৈরি পদ্মের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। বঙ্গেও রাসপূর্ণিমার সময় কৃষ্ণের আসন সাজানোর জন্য শোলার তৈরি কদমের ব্যবহার করা হয়। এছাড়া উৎকল ও বঙ্গের অধিকাংশ শুভ অনুষ্ঠানে সুতো বা দড়ি দিয়ে বাঁধা পরিণত আমপাতার তৈরি বনমালার দুটি আমপাতার মাঝখানে শোলার তৈরি কদম ঝোলানোর রেওয়াজ রয়েছে। কদম মূলত বর্ষার ফুল। তাই এর প্রাকৃতিক অভাবের সময় শোলার তৈরি কদমের ব্যবহার শুরু হয়েছে।
ওড়িশায় লোকবিশ্বাস রয়েছে, জগন্নাথের শ্রীমন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শন আদিবিগ্রহ পুষ্যাভিষেকের দিনই প্রথম স্থাপিত হয়েছিল। বলাবাহুল্য এর প্রামাণিক নথিপ্রমাণের অভাব রয়েছে। এর বিশেষ স্মরণোৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে শ্রীমন্দিরে জগন্নাথ-বলভদ্র-সুভদ্রার পুষ্যাভিষেক আয়োজন করা হয়। সকালে দেবতাদের অভিষেকের পর জগন্নাথাদি দেবতাদের রাজকীয় আভিজাত্যময় পোষাক পরানো হয়। এই সময় স্বর্ণ ভাণ্ডার থেকে নিয়ে আসা বিভিন্ন ভারী ভারী সোনার গহনা দিয়ে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের শৃঙ্গার হয়। কুণ্ডল, কবচ, তাগা, নোলক, কোমরবন্ধ, মুকুট প্রভৃতিতে সেজে ওঠেন তাঁরা। পুষ্যাভিষেকের বস্ত্রের নির্দিষ্ট রঙ নেই, বারভিত্তিক রঙের যে প্রকরণ রয়েছে সেই অনুযায়ী তিনি বস্ত্রের রঙ বেছে নেষ। এই সময় বিভিন্ন সুগন্ধি দ্রব্য জগন্নাথকে নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন রঙিন ফুলের মালায় বিগ্রহ সাজানো হয়। ষোড়শ ব্যঞ্জনে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার ভোগ হয়, তারপর আরতি করা হয়। অতিযত্নে বিগ্রহের মাথায় ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের তৈরি রাজছত্র ধরা হয়। এই সময় বিগ্রহের নিত্য পদসেবার রীতিও রয়েছে।

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧










শ্রীরাধাকুণ্ড ও শ্যামকুণ্ড প্রাকট্য 🙇 কার্তিক কৃষ্ণাষ্টমী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/radhashyam.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীরাধাকুণ্ড ও শ্যামকুণ্ড প্রাকট্য 🙇 কার্তিক কৃষ্ণাষ্টমী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/radhashyam.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#শ্রীরাধাকুণ্ড_ও_শ্যামকুণ্ড_প্রাকট্য।*

(#কার্তিক_কৃষ্ণাষ্টমী)

বহুলাষ্টমী বা অহৈয়াষ্টমী নামে পরিচিত এই তিথিতে রাধাকুণ্ডের প্রাকট্যজনিত স্নানযোগ। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ  ভক্ত, সাধকের আগমন হয়, রাধাকুণ্ডে স্নান করার জন্য।
 #কুম্ভমেলার স্নানে অমৃতযোগ থাকে। সে স্বর্গের ন্যায় প্রাকৃত অমৃত। তার এক কণা পাওয়ার লালসায় সকলের সম্মিলিত হয়। 
কিন্তু রাধাকুন্ডের স্নান অপ্রাকৃত প্রেমধনে ধনী হওয়ার জন্য, আনুসঙ্গে মনের কামনাও পূর্ণ হয়ে যায়। তাই কুম্ভস্নান রাধাকুণ্ডের স্নানের সঙ্গে কোন অংশেই তুল্য নয়।

রাধাকুণ্ড ও শ্যামকুণ্ড সম্বন্ধে আলোচনা করতে গেলে প্রথমে অরিষ্টাসুর সম্বন্ধে জানা প্রয়োজন। অরিষ্টাসুর শব্দের অর্থ "বৃষ+অসুর"। শ্রীগর্গ- সংহিতা গ্রন্থে আছে —  রাক্ষসরাজ বলীর পুত্র *#বরতন্তু* গুরু বৃহস্পতির কাছে বিদ্যা গ্রহন করতেন। একদিন পাঠগ্রহণ কালে তিনি গুরুর সামনে পদ প্রসারিত করল। গুরু তা দেখে রেগে বললেন, — "হে দুষ্ট! তুমি বৃষের মত আমার সামনে আচরণ করেছ, অতএব তুমি বৃষ হয়ে যাও।" এই অভিশাপে বরতন্তু বৃষরূপে অসুরত্ব প্রাপ্ত হয়ে অরিষ্টাসুর নামে পরিচিত হয়।

কংস দ্বিগবিজয় কালে সমস্ত অসুরদের পরাস্ত করে তাদের সঙ্গে সন্ধি করে যে, তারা প্রয়োজন অনুমতে  সহায়তা করবেন। সেজন্যই এবার কংস  অরিষ্টাসুরকে আহ্বান করল।
 শাপগ্রস্ত অরিষ্টাসুর কংসের নির্দেশে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণকে হত্যা করতে আসল। অরিষ্টাসুর ব্রজে এসে সখা ও গোগণের মধ্যে গোচারণ লীলায় প্রবেশ করল। অরিষ্টাসুরের মাথায় ছিল খুব ধারালো শিং । সে পায়ের খুর দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে যখন বৃন্দাবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ,তখন বনভূমিতে ভূকম্প হতে লাগলো । অরিষ্ট প্রচন্ড গর্জন করতে করতে লোকালয়ে প্রবেশ করলো । সেই ষাঁড়রূপী অসুরের গর্জন শুনে অনেক গর্ভবতী ব্রজনারী ও গাভীদের গর্ভপাত হল । সেই অসুর যখন বৃন্দাবনে লোকালয়ে প্রবেশ করলো , তখন পশুপাখী , ব্রজবাসীরা যে যেদিকে পারলো পালাতে লাগলো । তার নিষ্ঠুর নিনাদে গোপ-গোপীগণ ভয়ে ত্রস্ত হয়ে “#হা_কৃষ্ণ, #হা_কৃষ্ণ, #রক্ষা_কর” বলে চিৎকার করতে লাগল।
শ্রীকৃষ্ণ এই দেখে এগিয়ে এলেন । অরিষ্টাসুর তাঁর তীক্ষ্ণ শিং দুটি উঁচিয়ে তেড়ে আসলো । শ্রীকৃষ্ণ তাঁর শিং দুটো ধরে তাঁকে দূরে নিক্ষেপ করলো । পড়ে গিয়ে আহত অসুর পুনরায় আক্রমণ করতে আসলো । শ্রীকৃষ্ণ তার শিং দুটো ধরে পুনরায় সজোরে মাটিতে আছাড় দিলেন ও শিং দুটি ভেঙ্গে ফেললেন । এরপর শ্রীকৃষ্ণ সেই অসুরের পেছনের পা দুটো ধরে ঘুরিয়ে এক আছাড় দিলেন । কিছুক্ষণ পর রক্তবমি করতে করতে অরিষ্টাসুর প্রাণত্যাগ করল। শ্রীকৃষ্ণের হাতে নিহত হবার ফলে অরিষ্টাসুর মুক্তি পেল , ব্রজবাসীরাও ভয়মুক্ত হলেন।

সেদিন অরিষ্টাসুরকে বধ করে কৃষ্ণ যখন রাত্রে রাসস্থলীতে গেলেন, তখন গোপীগন মৃদুমন্দ হাস্য সহকারে বললেন-হে বৃষাসুর মর্দ্দন!আজ আমাদিগকে স্পর্শ করবে না,আজ তুমি বৃষকে হত্যা করেছো।

তখন কৃষ্ণ বলল -হে গোপীগন! সে তো বৃষ নয়, ভয়ঙ্কর অসুর!
 গোপীগন বললেন- শোন, বৃত্রাসুরের ব্রাহ্মন শরীর হওয়ায় তাকে বধের নিমিত্ত ইন্দ্রকে ব্রহ্মহত্যার পাপস্পর্শ করেছিল।তেমনি এরও বৃষেররূপ ছিল!

কৃষ্ণ বললেন-হে গোপকন্যাগণ! তোমরা এসব পুরাণের কথা কি করে জানলে!! গোপীগণ বলছেন- কৃষ্ণ! আমরা পূর্ণমাসী দেবীর নিকট দৈনিক পুরাণের কথা শ্রবণ করি। তার কাছেই সব জেনেছি। তোমার মত সব সময় গরু নিয়ে হৈ হৈ করে বেড়াই না।
 গোপীগনের কথা শুনে গোবিন্দ বললেন তাহলে আমি এখন কি রূপে এই পাপ হতে মুক্তি পাব?গোপীগন বললেন - তুমি যদি পৃথিবীর সমস্ত তীর্থে অবগাহন করতে পার তবেই তুমি পাপমুক্ত হবে।

কৃষ্ণ বললেন- কি! আমি যাব সমস্ত তীর্থে স্নান করতে? সব তীর্থকে আমি এখানেই ডেকে আনছি।এই বলে শ্রীকৃষ্ণ ঐ স্থানে সজোরে বাম চরনের পার্ষ্ণি দ্বারা আঘাত করলে সঙ্গে সঙ্গে পাতাল হতে ভোগবতী গঙ্গা এবং নিখিল তীর্থ এসে উপস্থিত হলে শ্রীকৃষ্ণ বললেন তোমরা আমার কুন্ডে বিরাজমান হও।শ্রীকৃষ্ণের বাক্য শুনে সমস্ত তীর্থ কুন্ডমধ্যে উপস্থিত হল।তখন কৃষ্ণ বললেন - হে প্রিয়ে! দেখো সকল তীর্থ আমার এই কুন্ডে বিরাজমান।তখন গোপীগন বললেন- তোমার কথায় বিশ্বাস করিনা।
তখন সমস্ত তীর্থ নিজ নিজ পরিচয় দিলেন- লবনসমুদ্র,ক্ষীরসমুদ্র,অমরদীর্ঘিকা,শোননদী,ভাদ্রপর্নী, পুস্কররাজ,সরস্বতী,গোদাবরী,গঙ্গা, যমুনা,সরযূ,প্রয়াগরাজ,রেবাতীর্থ - সকলেই -"এই দেখুন আমার জল" এই প্রকার বলে জলে মিশে যেতে লাগল। তখন কৃষ্ণ সেই তীর্থে স্নান করে পবিত্র হলেন,এবং বললেন আমি সর্বতীর্থময় এইকুণ্ড প্রকাশ করলাম,এইকুণ্ডে স্নান করিলে সর্বতীর্থ স্নানের ফল পাবে। শুনে শ্রীরাধা স্বীয় সখীগনকে বললেন - হে সখীগন!ওই কুণ্ডে স্নান করো না, ওর সব পাপ ওখানে রয়েছে। অতএব ওখানে যে স্নান করবে সেই পাপ তাকেও লাগবে। আমরা আলাদা কুণ্ড নির্মান করব। বলে রাধারানী বৃষাসুরের খুরের আঘাতে যে গহ্বর হয়েছিল,ঐ গহ্বরের নরম মৃত্তিকা কঙ্কন দ্বারা খনন করে  অল্প সময়েই  এক মনোরম কুণ্ড তৈরী করে ফেললেন।
তখন
কৃষ্ণ বললেন - হে রাধে! তোমার কুণ্ড অতীব মনোরম। কিন্তু  জল  নেই, জল ছাড়া কুণ্ডের শোভা হয় না।তাই আমার কুন্ডের জল নিয়ে  তোমার কুণ্ড পূর্ন কর।
শ্রীরাধিকা বললেন - না, তাহা কদাপি নয়,কারন তোমার অবগাহনে ঐ জলও গোবধ পাতকযুক্ত হয়েছে। আমি সখীগনকে সঙ্গে নিয়ে কলসী দ্বারা মানসীগঙ্গার পবিত্র জলে  পূর্ন করব।তথাপি তোমার কুণ্ডের একবিন্দু জলও নেব না।
সখীগণ মানসীগঙ্গা থেকে জল আনতে আনতে হাঁফিয়ে উঠলো তথাপি কুণ্ডের এক কোনাও পূর্ণ হল না।
তখন শ্রীকৃষ্ণ তীর্থগনকে ইঙ্গিত করলে তারা রাধিকার চরনে দন্ডবৎ করে স্তুতি করতে লাগল। স্তুতি শুনে শ্রীরাধা প্রসন্না হলেন,ও কৃষ্ণের প্রতি একটি বিলোল কটাক্ষ করলেন,এর অর্থ দেখো তুমি তীর্থগণকে নিয়ে আসলেও তারা তোমার কুণ্ডে থাকতে চাইছে না, সবাই আমার কুণ্ডে আসতে চাইছে। 
কৃষ্ণের ইঙ্গিতে তীর্থগণ উভয় কুন্ডের মাঝের ভিত্তি ভেদন করে শ্রীকুণ্ড জলে পূর্ণ করল।
কুণ্ডের শোভা দেখে কৃষ্ণ মুগ্ধ হয়ে বলল- হে রাধে! তোমার কুণ্ডের অদ্ভুত শোভা! তুমি বর চাও।
শ্রীরাধিকা বললেন -হে প্রিয়তম! তুমি যদি আমাকে বর দিতেই চাও, তবে এই বর দাও যেন এই স্থানের নাম, আমার নামানুসারে হয়।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন -  "তথাস্তু"।
আরো বললেন এই কুণ্ডে যে একবার স্নান করবে  তাকে তোমার তুল্য প্রেম দান করব। এই কুণ্ডের সেবা করলে আমারই সেবা করা হবে।
কালে কালে বৃন্দাবনের বহুতীর্থ লুপ্ত হল।
 মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব বৃন্দাবন ভ্রমণ করতে করতে প্রেমাবেশে *#আরিট_গ্রামে* এসে উপস্থিত হলেন। ঐ স্থানে এসে তাঁর অকস্মাৎ বাহ্যজ্ঞান ফিরে এল । আরিট গ্রামের লোকেদের কাছে প্রভু রাধাকুণ্ডের কথা জিজ্ঞাসা করলেন, —  কেউ কিছু বলতে পারল না এবং তাঁর সঙ্গী ব্রাহ্মণটিও তা জানতেন না । সর্বজ্ঞ ভগবান মহাপ্ৰভু জানলেন তীর্থলোপ হয়েছে । দুইটি ধানক্ষেতে অল্প জল ছিল,— তাতেই গিয়ে স্নান করলেন. তা দেখে গ্রামের লোকেরা বিস্মিত হলেন, তখন মহাপ্রভু শ্রীরাধাকুণ্ডের স্তব করে বললেন, — “সমস্ত গোপী থেকে যেমন শ্রীরাধা শ্ৰীকৃষ্ণের প্রেয়সী শ্রেষ্ঠা, তেমনি প্রিয়তমার সরোবর হেতু শ্রীরাধাকুণ্ডও তাঁর সেইরূপ প্রিয় । যেহেতু সৰ্ব্ব প্রেয়সীগণের মধ্যে  শ্রীরাধা শ্ৰীকৃষ্ণের অত্যন্ত বল্লভ রূপে পরিগণিত হয়েছেন, যে কুণ্ডে শ্ৰীকৃষ্ণ নিত্য শ্রীরাধিকার সঙ্গে জলে জলকেলি এবং তীরে রাসরঙ্গ করেন, সেই কুণ্ডে যে ব্যক্তি একবার মাত্র স্নান করে, শ্ৰীকৃষ্ণ তাঁকে শ্রীরাধার তুল্য প্রেম দান করেন, যেমন শ্রীরাধার মধুরিমা, সেইরূপ  কুণ্ডের মাধুরী আর যেমন শ্রীরাধার মহিমা, রাধাকুণ্ডের মহিমাও তদ্রূপই । 
মধ্যরাত্রে রাধাকুণ্ড প্রকট হয়েছিলেন এজন্য আজও সেই নিয়ম অনুসারে রাত বারোটার পর স্নান হয়। সব ভক্তগণ প্রতীক্ষা করে থাকেন, সেই মধ্যরাত্রির। রাত বারোটা বাজতেই সকলের সেকি উল্লাস! সকলেই একসঙ্গে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন, প্রেমানন্দে অধীর হয়ে।
আজ সেই দিন! হা রাধে!! কোথায় তুমি? আর কোথায় আমি!!🙏🙏🙏🙏😭😭😭😭
শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুর আবির্ভাব পীঠ একচক্রা ধাম। এখানেও রাধাকুণ্ড বিদ্যমান। এখানে নিত্যানন্দ প্রভু রাধাকুণ্ড প্রাকট্য লীলা অভিনয় করেছিলেন। বর্তমানে একে রাইপুকুর বলা হয়। এ বিষয়ে বিশদ জানতে "অতি গূঢ় নিত্যানন্দ"  ইউটিউব চ্যানেল সার্চ করুন।।

*জয় নিতাই!*
*নিত্যানন্দ প্রভু ও গৌড়ীয় গোস্বামী সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিবিধ প্রসঙ্গ জানতে এই গ্রুপে অ্যাড হোন, বন্ধুদের অ্যাড করুন , লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন।*

https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/

*এখানে ধর্মীয় ভক্তি-জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন পোস্ট পেতে পারবেন।*
 *জয় নিতাই!*
 *জয় জয় নিতাই!!*
*🌹🌹🙏🙏🌹🌹*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
  ꧁👇📖সূচীপত্র ✍️ শ্রী গোপীশরণ দাস📖👇
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীল রামচন্দ্র কবিরাজ 😭 তিরোভাব কার্তিক কৃষ্ণাষ্টমী তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/ramchandra.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীল রামচন্দ্র কবিরাজ 😭 তিরোভাব কার্তিক কৃষ্ণাষ্টমী তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/ramchandra.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#শ্রীল_রামচন্দ্র_কবিরাজ।*

(*#তিরোভাব_কার্তিক_কৃষ্ণাষ্টমী_তিথি*।)

স্বর্ধুন্যাস্তীরভূমৌ সরজনিনগরে গৌড় ভুপাধিপাত্ৰাদ-
ব্রহ্মণ্যাদ্বিষ্ণুভক্তাদপি সুপরিচিতাৎ শ্রীচিরঞ্জীবসেনাৎ I
যঃ শ্রীরামেন্দুনামা সমজনি পরমঃ শ্রীসুনন্দাভিধায়াং
সোঽয়ং শ্রীমান্নরাখ্যে স হি কবিনৃপতিঃ সম্যগাসিদভিন্নঃII

অর্থ:- 'গঙ্গাতীরস্থ সরজনিনগরে গৌড়রাজ্যের শ্রেষ্ঠ অমাত্য দ্বিজভক্ত,বিষ্ণুভক্ত ও সুপরিচিত শ্রীচিরঞ্জীব সেন নামক পিতা হইতে ও মাতা শ্রীসুনন্দার গর্ভে শ্রীরামচন্দ্র নামক যে মহাজন জন্মগ্রহণ করেছিলেন,তিনি পরম রূপবান ;তিনি নরোত্তম - নামক কবি নৃপতির সহিত সর্ব্বতোভাবে একাত্মা ছিলেন I'

নরহরি সরকার ঠাকুরের শিষ্য ও শ্রীচৈতন্য সহচর কুমারনগরের শ্রীচিরঞ্জীব ঠাকুরের সাথে শ্রীখণ্ডের বিখ্যাত শাক্তকবি দামোদর সেনের কন্যা "সুনন্দা দেবীর" বিবাহ হয়। বিবাহের পর চিরঞ্জীব ঠাকুর শ্রীখন্ডে চলে আসেন। তাঁদের দুই পুত্র- বড় "রামচন্দ্র কবিরাজ" এবং ছোট "গোবিন্দ কবিরাজ"।
এঁরা দুই ভাই পরবর্তী কালে কুমারনগরে ফিরে গেলেও শাক্তদের উৎপীড়নে সেই স্থান ছেড়ে তেলিয়াবুধরিতে চলে আসেন।

 রামচন্দ্র কবিরাজ বিবাহ করিলেও কখনও সংসারাশ্রমে প্রবিষ্ট হন নাই I শ্রীরামচন্দ্রকে বিবাহবেশে দেখে শ্রীনিবাসাচার্য্য প্রভু উহার অসারতা সম্বন্ধে কিছু কথা বললেন, 

*#অপূর্ব_এ_রূপ_ধন্য, #নহে_আত্মভোগ_জন্য,  #যোগ্য_শুধু_গোবিন্দ_সেবার।।*

*#সংসার_বিষয়_কূপে, #ডুবাইতে_সর্বজীবে, #মায়ার_মূরতি_এই_নারী।*
*#কৃষ্ণদাস্য_ভুলাইতে, #নরক_যন্ত্রণা_দিতে, #পুরুষ_রতনে_লয়_হরি।।*

একথা শুনেই রামচন্দ্র মনে মনে ভাবছে তাইতো দুর্লভ মনুষ্য জন্ম, #শ্রীকৃষ্ণ_ভজনের জন্যই তো মিলেছে! আর আমি একি করলাম? গোবিন্দ সেবার দেহ কারে দিলাম! 
 বাড়িতে গিয়ে রামচন্দ্র আর কোন কাজে উৎসাহ পেলেন না। গৃহ অগ্নিকুন্ডের মত প্রতীত হতে লাগল। নব বিবাহিতা পত্নীকে ছেড়ে সবার অজ্ঞাতসারে সেই রাত্রে এসে ছিন্নমূল তরুর ন্যায় আছড়ে পড়লেন আচার্য প্রভুর চরণে। সেই দেখা অবধি আচার্য প্রভু প্রাণে প্রাণে কাঁদছিলেন আর ভাবছিলেন কতক্ষণে রামচন্দ্রকে কাছে পাব।এবার হারানিধি ফিরে পেয়ে, তুলে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
রামচন্দ্র একান্ত ভাবে শ্রীগুরু সেবায় আত্মনিয়োগ করলেন । 
শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি স্নেহাবিষ্ট হয়ে শ্রীনিবাসাচার্য্য প্রভু তাঁহাকে দীক্ষামন্ত্র প্রদান করতঃ নিজ সেবক রূপে গ্রহণ করলেন I

ঠাকুর নরোত্তমের সঙ্গ লালসায় গঙ্গা-পদ্মা মধ্যস্থান তেলিয়াবুধুরীগ্রামে এসে বসতি স্থাপন করলেন।
 *পথের ধারে বসে থাকে __যদি, পথে যেতে দেখা হয়।*

সত্যি সত্যিই একদিন নরোত্তম ঠাকুর এসে উপস্থিত হলেন তেলিয়াবুধুরীগ্রামে। রামচন্দ্র চরণে প্রণত হলে নরোত্তম তুলে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।ক্ষনিকের দেখায় উভয়ে এক অবিচ্ছেদ্য প্রেমবন্ধনে আবদ্ধ হলেন।

একদিন যাজিগ্রামে আচার্য প্রভু রাতের বেলায় অঙ্গনে পদচারণা করছেন।পেছনে রামচন্দ্র। হঠাৎ আচার্য বলছেন দেখ দেখ রামচন্দ্র! কত বড় বিষধর সাপ! রামচন্দ্র দেখছেন সত্যিই এক বিষধর সাপ।
 একটু পরে আচার্য প্রভু বলছেন -"আরে না না, ওটা একটা দড়ি পড়ে আছে। তখন রামচন্দ্র  দেখছেন সত্যিই একটা দড়ি পড়ে আছে।

শুধু মনে মনে মানা নয়,
 গুরুবাক্যে বিশ্বাসের বলে _ রজ্জুতে সর্প দেখে সেই কালে।
 আদর্শ শ্রীরামচন্দ্র__ শ্রীগুরু-বাক্যনিষ্ঠার ।

একদিন শ্রীনিবাস আচার্য প্রভু আদেশ দিলেন, যাও গৃহে গিয়ে পত্নী সম্ভাষণ করে এস। রামচন্দ্র অবিচারে গুরু আজ্ঞা পালন করলেন। সারাদিন গুরুদেবের সেবা করে সন্ধ্যার প্রাক্কালে গৃহে গমন করলেন।সারারাত্রি স্ত্রীর সঙ্গে গুরু কথা প্রসঙ্গে কাটালেন। এখন প্রভুর এই সেবা, এরপরে এই সেবা করি। এইভাবে গুরু কথায় রাত্রি ভোর হয়ে গেল‌। প্রাতঃকালে নিজ সেবার সময় জেনে তাড়াতাড়ি উঠে চলে আসলেন। রাস্তায় এসে মনে পড়ল, গুরুদেব বলেছিলেন স্ত্রীসম্ভাষণ করে আসতে। তা তো হয় নাই! ভুলে গিয়েছি। আবার ছুটলেন। ছুটে গিয়ে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করলেন। সখী যেমন সখীকে আলিঙ্গন করে সেই ভাবে। রামচন্দ্রের দেহ স্মৃতি নাই। পুরুষ দেহ অভিমান দূর হয়ে গিয়েছে শ্রীগুরুকৃপায়। সেই স্বভাবে রামচন্দ্র আলিঙ্গন করলেন গুরুদেবের আজ্ঞা স্মরণ করে। রামচন্দ্র বুঝতে পারলেন না পুরুষ কিংবা প্রকৃতি কাকে আলিঙ্গন করছেন। কেবল আজ্ঞা পালনের জন্য আলিঙ্গন করলেন। সে সময় প্রিয়ার সিঁথির সিন্দুর রামচন্দ্রের কপালে লেগে গেল। সেই অবস্থায় নিজ সেবার সময় বয়ে যায় দেখে ছুটে চলে আসলেন গুরু আশ্রমে। সেসময় ঠাকুর নরোত্তম আঙ্গিনা ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। তাকে ছুটে আসতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন -রামচন্দ্র! কোথায় গিয়েছিলে ?
রামচন্দ্র  সহজ সরলভাবে উত্তর দিলেন - স্ত্রীর সম্ভাষণ করতে গিয়েছিলাম। শ্রীগুরুদেবের আজ্ঞায় । এইমাত্র আসছি তার সেবা করবো বলে।
 নরোত্তম দেখলেন তার কপালে সিঁদুর লেগে আছে।
বললেন - ছি ছি রামচন্দ্র! একি তোমার ব্যবহার? ধিক্ ধিক্ তোমায়। এই অপবিত্র দেহে প্রভুর সেবা কি করে করবে? এই বলে নরোত্তম ক্রোধ করে হাতের সম্মার্জনী দিয়ে সজোরে আঘাত করলেন । রামচন্দ্র কোন প্রকার প্রতিবাদ করলেন না। নিজেকেই দোষী মনে করে, স্নান করে শ্রীগুরু সেবায় সংলগ্ন হলেন। মধ্যাহ্নকালে নরোত্তমের সেবা। আচার্য প্রভুর অঙ্গে তৈল মর্দন করতে গিয়ে দেখছেন পিঠে সেই ঝাঁটার বাড়ির দাগ। বুঝতে পারলেন নরোত্তম যে, রামচন্দ্রকে ঝাঁটার বাড়ি মেরেছিলেন! সেই দাগই আচার্য প্রভুর দেহে ফুটে উঠেছে। আত্যন্তিক মর্মাহত হলেন ।
এই হাত দিয়ে আমি তার শ্রীঅঙ্গে আঘাত করেছি! এ হাত আমি আর রাখব না। আজ রাত্রেই পুড়িয়ে ফেলব। অন্তর্যামী আচার্য প্রভু সব জানতে পারলেন। তিনি হঠাৎ বলে উঠলেন - *#এ_দেশে_বিচার_নাই_বাপরে_বাপ্*।    # *#দিনে_মারে_ঝাটার_বাড়ি_রাতে_পুড়ায়_হাত*।।*
 শুনে নরোত্তম যারপরনাই লজ্জিত হলেন।

আচার্য প্রভু বললেন- রামচন্দ্রের অঙ্গে আঘাত করাতে আমার অঙ্গে লেগেছে, আর তুমি হাত পুড়াবার সংকল্প করাতেই আমার হাত পুড়েছে।
ওটা নয় তোমার হাত, ওটা আমি করেছি আত্মসাৎ।
বলে দুজনকেই বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

 শ্রীগুরুনিষ্ঠা প্রভাবে তিনি গুরুদেবের হৃদয়ের খবর জানতে পারতেন। একবার শ্রীনিবাস আচার্য প্রভু তিনদিন সমাধিস্থ ছিলেন। সকলে কান্নাকাটি শুরু করলেন ,হয়তো উনি দেহত্যাগ করেছেন। সেসময় রামচন্দ্র বাইরে ছিলেন। হঠাৎ এসে দেখছেন বাড়িতে কান্নার রোল। সকলকে আশ্বস্ত করে গুরুদেবের পাশেই বসলেন রামচন্দ্র কবিরাজ। ধ্যানস্থ হয়ে দেখলেন শ্রীগুরুদেব কি করছেন। দেখছেন মধুময় শ্রীধামবৃন্দাবনে যমুনায় জলবিহার হচ্ছে যুগলের। জলবিহার কালে নাকের বেশর খসে পড়ে গিয়েছে জলে। সকলে মিলে অনুসন্ধান করছেন। রামচন্দ্র কবিরাজও শ্রীগুরু আনুগত্যে খুঁজতে লাগলেন ।গুরুকৃপায় সহজেই পেয়ে গেলেন, নিয়ে শ্রীগুরুদেবকে দিলেন। শ্রীগুরুদেব তাঁর গুরুদেব গুনমঞ্জরীকে দিলেন, তিনি নিয়ে গিয়ে রূপমঞ্জরী কে দিলেন। তিনি রাধারানীর নাকে পরিয়ে দিলেন । রাধারানী বললেন- কোন সখী  পেয়েছে?
রূপমঞ্জরী বললেন -
 "এই নবদাসী পেয়েছে।"
 রাধারানী স্বচর্বিত তাম্বুল উপহার দিলেন। হাত পেতে নিলেন রামচন্দ্র। ধ্যান ভঙ্গ হলে, সে রাধারাণীর অধরামৃত চর্বিত তাম্বুল নিজহস্তে দেখতে পেলেন,তার সুবাসে চারিদিক আমোদিত হল। আচার্য প্রভু ও ফিরে আসলেন বাহ্যাবেশে, রামচন্দ্র কবিরাজ গুরুদেবকে সমর্পণ করলেন, সেই রাধারানীর প্রসাদী পান। বিতরণ করলেন   সকলকে।
রামচন্দ্রের হাতে কেমন করে এলো? রাধারানীর চর্বিত তাম্বুল? সেই দেহ এই দেহ যদি এক না হয় তাহলে কেমন করে এলো?

কেউ অসিদ্ধ মনে করো না, গৌর পরিকরের স্বরূপ।
দুই লীলা ভোগ করে__ প্রতি গৌরকিঙ্করে।
  নদীয়া লীলা ব্রজলীলা_ দুই লীলা ভোগ করে।

ব্রজ পরিকরের গৌরলীলা ভোগে যদি লোভ হয়, তবে গৌর পরিকরের আনুগত্য করতে হয়।
 আর _ #গৌর_পরিকর_দুই_লীলার_অধিকারী।

 দুই লীলা ভোগ করতে পারে __ গৌর পরিকর যদি ইচ্ছা করে।
 অপূর্ব রহস্য ভাই।

এই দেহ সেই দেহ হয়_ শ্রীগুরুচরণে যার রতি হয়।

 কেন বা হবে না?
 এই প্রাকৃত রাজ্যে দেখ!
 আরশোলা কাঁচপোকা হয়__ কাঁচপোকা ভাবতে ভাবতে।
 প্রাকৃত রাজ্য যদি এই হয় _ তবে সে রাজ্যে কেন হবে না?
 এ দেহ সেই শক্তি পায় __শ্রীগুরু আনুগত্যের ফলে।
 তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ।

 এমনি এক ব্যতিক্রমী চরিত্র আমরা দেখতে পাই রামচন্দ্র কবিরাজের জীবনে।শ্রীগুরুনিষ্ঠা হলে কি না হয়! এটাই দেখালেন রামচন্দ্র কবিরাজ জগতে।

বিষ্ণুপুরের রাজা বীরহাম্বীর শ্রীনিবাস আচার্য্যের শিষ্য হয়েছিলেন,কিন্তু রামচন্দ্র কবিরাজ শিক্ষাগুরু রূপে তাকে শিক্ষা প্রদান করতেন I শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ যেকালে বৃন্দাবনধামে অবস্থান করছিলেন,সেকালে তাঁহার শ্রীজীব গোস্বামী আদি বৈষ্ণবগণের সঙ্গ ও কৃপালাভের সৌভাগ্য হয়েছিল I বৈষ্ণবগণ তাঁহার অপূর্ব্ব কবিত্ব শ্রবণে পরিতৃপ্তি লাভ করেছিলেন I শ্রীল জীবগোস্বামী শ্রীরামচন্দ্রকে 'কবিরাজ' উপাধি প্রদান করেন I  ইনি অষ্ট - কবিরাজের অন্যতম I শ্রীল নরোত্তম ঠাকুরের প্রচার ও ভজনের ইনি প্রিয়তম সঙ্গী ছিলেন I
ইঁহার রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে "স্মরণচমৎকার", "স্মরণ - দর্পণ", "সিদ্ধান্ত - চন্দ্রিকা', ''শ্রীনিবাসাচার্য্যের জীবন - চরিত'" বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য I শ্রীল নরোত্তম ঠাকুর তাঁহার রচিত 'প্রার্থনা' গীতিতে রামচন্দ্র কবিরাজের সঙ্গ কামনা করেছেন I

‘’দয়া কর শ্রীআচার্য প্রভু শ্রীনিবাস I
 রামচন্দ্র সঙ্গ মাগে নরোত্তম দাস।।‘’

 কিছুইতো চাইলেন না।
 গুরু গৌর-গোবিন্দ- কিছুইতো চাইলেন না।
ঠাকুর নরোত্তমের শেষ প্রার্থনা।
এই করো শ্রীগুরুদেব।

যদি জন্ম হয় পুনঃ, পাই- রামচন্দ্র সঙ্গ যেন , তবে নরোত্তম হয় ধন্য।।
বাঁধা পড়ে সে আধারে।
 গুরু গৌর গোবিন্দ- বাঁধা পড়ে সে আধারে।
 যে গুরুপদে বিকায়েছে- বাধা পড়ে সে আঁধারে_ গুরু গৌর-গোবিন্দ অভিন্ন- তাই বাঁধা পড়ে সে আধারে ।

কোন ভাগ্যে তার সঙ্গ হলে __গুরু গৌর-গোবিন্দ সকলি মিলে।
 বাকি থাকে না কিছু পেতে __শ্রীগুরুনিষ্ঠ ভক্তের সঙ্গে হলে।

তাই ঠাকুর নরোত্তম ভাবলেন,
 সকলই পাওয়া হবে__ রামচন্দ্র সঙ্গ পেলে।

*#সর্বোত্তমা_প্রাপ্তি_ভাই*।   *#গৌর_দাসের_দাসের_সঙ্গ* -সর্বোত্তমা প্রাপ্তি ভাই।
 
তাই_ব্যাকুল হয়ে কাঁদলেন- শ্রীঠাকুর নরোত্তম__ শ্রীরামচন্দ্রের বিরহে ।

কৃষ্ণলীলায় যিনি করুণামঞ্জরী,তিনি শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ রূপে প্রকটিত,এইরূপ তাঁহার সিদ্ধ পরিচয় জ্ঞাত হওয়া যায় I

 শ্রীনিবাসাচার্য্যের অন্তর্ধানের পর রামচন্দ্র কবিরাজ বৃন্দাবনেই অপ্রকট হন। আচার্যের পাশেই তাঁর সমাধি বিদ্যমান।।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
  ꧁👇📖সূচীপত্র ✍️ শ্রী গোপীশরণ দাস📖👇
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds