✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬১) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*শান্তিপুরে শ্রীমন্মহাপ্রভু*
~~~~~~~~~~~~~~~
*🍀পরদিন প্রভাতে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেব শ্রীগুরুর চরণে প্রণত হয়ে বললেন, আমি নির্জন অরণ্যে গমন করে সেখানে আমার অভীষ্টদেব শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করিব।এই বলে তিনি অরণ্যযাত্রায় উদ্যত হলেন। কেশবভারতী শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রতি ভীষণ ভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন।তিনি বললেন, আমিও তোমার সঙ্গে অরণ্যে গিয়ে হরিনামামৃত পানে প্রাণ জুড়াব।ভারতীকে অগ্রগামী করে,শ্রীচৈতন্যদেব ও চন্দ্রশেখর আচার্য্য তাঁর পশ্চাদনুবর্তী হলেন।তাঁরা কিছুদুর গমন করলে,গৌরসুন্দর চন্দ্রশেখর আচার্য্যকে নবদ্বীপ ফিরে গিয়ে জননীকে সমস্ত বৃত্তান্ত জানাতে বললেন।চন্দ্রশ্রেখর নবদ্বীপে ফিরে এসে শচীদেবীর ভবনে গমন করে দেখলেন,গৌরজননী ও বিষ্ণুপ্রিয়া মাটিতে শয়ন করে আছেন।তিনি গৌরজননীকে নানান বাক্যে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন।। কিন্তু তাঁর হৃদয়ের দুর্বিষহ শোকানলকে সান্ত্বনা দিয়ে শান্ত করতে পারে?চন্দ্রশেখরের আগমনবার্তা নবদ্বীপে প্রচারিত হলে, অদ্বৈত প্রভৃতি ভক্তগণ শচীদেবীর ভবনে আগমন করলেন, এবং গৌর বিরহে বালকের ন্যায় ক্রন্দন করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পরে তাঁরা এক দৈববাণী শুনলেন, "তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা কর,দুই চারদিন পরেই গৌরহরি তোমাদের সঙ্গে মিলিত হবেন।এই দৈববাণী শুনে তাঁরা আশ্বস্ত হলেন।এই সংবাদে শচীমায়ের শোকদগ্ধ হৃদয়ও কিছু পরিমাণে শান্তি লাভ করল।*
*🌹এদিকে মহাপ্রভু ভক্তবৃন্দসহ পশ্চিমাভিমুখে গমন করতে লাগলেন।কেশবভারতী ও অন্যান্য ভক্তবৃন্দও তাঁর অনুগমন করছেন।শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য যখন হরিধ্বনি করতে করতে গ্রাম হতে গ্রামান্তরে গমন করতে লাগলেন,তখন চারিদিকের বায়ু যেন হরিনামে পূর্ণ হয়ে উঠিল।তাঁর অমানুষিক দেবতুল্য পবিত্র মূর্তি, সন্ন্যাসবেশ, অনুপম ভক্তির উচ্ছাস দর্শ করে,আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই অশ্রু বর্ষণ করতে লাগলেন।কোন কোন জায়গায় তিনি সমবেত লোকমন্ডলীকে সংসারে অনাসক্ত হয়ে কৃষ্ণ-প্রেমানুরাগী হবার জন্য উপদেশ দান করতে লাগলেন।এইভাবে তাঁরা রাঢ়দেশে এসে উপস্থিত হলেন।রাঢ়দেশের পর্বত ও বৃক্ষলতাদির সৌন্দর্য্য দর্শন করে মহাপ্রভু বিমোহিত হয়ে গেলেন ; এবং হরিবোল হরিবোল বলে আনন্দে নৃত্য করতে করতে চলতে লাগলেন।কতকদূর গমন করে বললেন, আমি বক্রেশ্বরের আশ্রমে যাব, সেস্থান অরণ্যময়,সাধনের অনুকূল।সন্ধ্যা সমাগত হলে যাত্রীদল যেতে যেতে কোন এক ব্রাহ্মণের বাড়ীতে আতিথ্য গ্রহণ করলেন।গৃহস্বামী তাঁদের যথোচিত সম্মান করে আতিথ্য-সৎকার করলেন।আহারান্তে আগন্তুকগণ সেইখানেই শয়ন করলেন।নিত্যানন্দ নিদ্রাভঙ্গের পর উঠে দেখেন গৌরহরি নাই।তিনি তৎক্ষণাৎ অন্যান্য সকলকে জাগ্রত করলেন, এবং সকলে মিলে গৌরসুন্দরের অন্বেষণে বাহির হলেন।ব্যাকুল হৃদয়ে তাঁরা চারিদিকে ধাবিত হচ্ছেন, এমন সময়ে ক্রন্দনের ধ্বনি তাঁদের কর্ণগোচর হল ; কন্ঠস্বর, মহাপ্রভুর কন্ঠস্বর বলে বিশ্বাস হওয়াতে তাঁরা সেই দিকেই ধাবিত হলেন। গিয়ে দেখলেন, শ্রীমন্মহাপ্রভুই অশ্রুসিক্ত নয়নে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"বলে ক্রন্দন করছেন।তাঁর ভক্তিভাব দেখে তাঁদেরও ভাবোদয় হল। তাঁরাও মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে কাঁদতে লাগলেন। ওদিকে মুকুন্দ দত্ত মহাপ্রভুর ক্রন্দন থামাবার জন্য কীর্তনগান আরম্ভ করলেন।প্রেমোন্মত্ত শ্রীচৈতন্যদেব কীর্তন শুনে আনন্দে নৃত্য করতে আরম্ভ করতে করতে, পশ্চিমাভিমুখেই চলতে লাগলেন।*
*🌺বক্রেশ্বরের আশ্রম আর চার ক্রোশ আছে, এমন সময় গৌরহরি পশ্চিমাভিমুখ হতে হঠাৎ পূর্বাভিমুখে চলতে আরম্ভ করলেন, এবং বললেন, জগন্নাথ প্রভুর আদেশ হয়েছে আমাকে নীলাচলে যেতে হবে।ভক্তগণ তাঁর কথা শুনে বিশেষ আনন্দ লাভ করলেন।তাঁরা সকলেই উৎসাহের সঙ্গে চলতে লাগলেন।পথে যেতে শ্রীচৈতন্যদেব অত্যন্ত দুঃখের সহিত বলতে লাগলেন,কারও মুখে কৃষ্ণনাম শুনতে পাচ্ছি না! এমন সময়ে দেখলেন, পথিমধ্যে কয়েকজন রাখাল গাভী চরাচ্ছে ; তাদের মধ্যে হতে একজনের মুখ হতে হঠাৎ হরিধ্বনি শুনে তাঁর প্রাণ যেন আনন্দে নৃত্য করে উঠিল। তিনি রাখালবালকের জিজ্ঞাসা করলেন,এখান হতে গঙ্গা কত দূর? তারা বলল,এক প্রহরের পথ।গঙ্গা দর্শন ও তাতে অবগাহন করে শরীর শীতল করব, এই আশায় তিনি প্রফুল্ল হৃদয়ে হরিধ্বনি করতে করতে সেই দিকেই ধাবিত হতে লাগলেন।পরিশ্রান্ত দেহে যাত্রীদল সন্ধ্যার সময় জাহ্নবী তীরে উপস্থিত হলেন।শ্রীকৃষ্ণচেতন্যদেব জাহ্নবী দর্শনে পুলকিত চিত্তে তাতে স্নান ও গন্ডুষ ভরে সে বারি পান করে শরীর ও মনের তৃপ্তি সাধন করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*শান্তিপুরে শ্রীমন্মহাপ্রভু*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹পরদিন গৌরভক্তগণ মহাপ্রভুসহ নীলাচলাভিমুখে চলতে লাগলেন। যেতে যেতে তিনি নিত্যানন্দকে নবদ্বীপে যেতে বললেন, "তুমি নবদ্বীপে গিয়ে শ্রীবাসাদি সকলকে বলবে, আমি একবার শান্তিপুর হয়ে নীলাচলে গমন করব।এখন আমি ফুলিয়া গ্রামে হরিদাসের আশ্রমে গমন করছি।নিত্যানন্দ গৌরহরির আদেশ শিরোধার্য্য করে গমন করলেন, এবং সেখানে গমন করে সর্বাগ্রে মহাপ্রভুর ভবনে উপস্থিত হলেন।আজ দ্বাদশদিন হল,গৌরহরি সন্ন্যাসব্রত অবলম্বন করেছেন।নিত্যানন্দ গিয়ে দেখলেন, শচীমা সন্তানের সন্ন্যাসাবধি অনাহারে পড়ে আছেন।এই নিদারুণ পুত্রশোকে ও দীর্ঘকাল অনশনে তাঁর মস্তিষ্ক অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল।তিনি নিত্যানন্দকে দেখে,অপ্রকৃতিস্থা নারীর মত কথা বলতে লাগলেন।নিতাই এখন শচীমায়ের প্রাণে একটু আনন্দের সঞ্চার করলেন,তিনি বললেন,নিমাই শীঘ্রই শান্তিপুরে অদ্বৈত-ভবনে আসিবেন, আমি আপনাকে সঙ্গে করে সেখানে নিয়ে যাব।নিত্যানন্দকে তিনি পুত্রসম স্নেহ করতেন।তাঁর কাছ হতে নিমাই শান্তিপুরে আসবে,এইকথা শুনে, যেন মৃত শরীরে নবজীবনের সঞ্চার হল।তাঁর শোকপূর্ণ হৃদয় এই আনন্দের সংবাদে উদ্দীপ্ত হয়ে উঠল।তিনি উঠে বসলেন।যিনি এতদিন পুত্র বিরহে মাটিতে শুয়ে অনশনে দিনযাপন করছিলেন,তিনি আজ পাকশালায় গমন করে স্বহস্তে রন্ধন করে নিত্যানন্দকে আহার করালেন, এবং নিজেও আহার করে পুত্রমুখ দর্শন অভিলাষে শান্তিপুরে যাবার জন্য প্রস্তুত হলেন।*
*🌺বেলা অধিক হল।সকলে গৌরহরিকে নিয়ে গঙ্গাস্নান করতে গেলেন।স্নানান্তে সকলে ফিরে আসিলে, আহারের আয়োজন হল।আচার্য্য নানারকম ব্যঞ্জন পিষ্টকাদি প্রস্তুত করিয়েছিলেন।সকলে বসে পরম আনন্দে ভোজন করতে লাগলেন।তাঁরা আচার্য্য ভবনে থেকে পরিতোষপূর্বক আহার,ধর্মপ্রসঙ্গ ও কীর্তনাদিতে সময় অতিবাহিত করতে লাগলেন।এইভাবে দশদিন কেটে গেল ; শ্রীচৈতন্যদেব নীলাচল যাবার জন্য উৎসুক হয়ে উঠলেন।অদ্বৈতাচার্য্য তাঁকে আর কিছুদিন থাকতে অনুরোধ করলেও তিনি তাঁর অনুরোধ রক্ষা করতে পারলেন না।মহাপ্রভু নীলাচল যাবেন যখন স্থির হল,তখন শচীমা কাঁদতে লাগলেন।তিনি জননীকে বললেন, মা! তুমি আমার জন্য চিন্তা করিও না, আমি নীলাচলে থাকলে, তুমি মধ্যে মধ্যে আমার সংবাদ পাবে।এইরকম নানান মধুর বচনে তাঁর প্রাণে সান্ত্বনা দান করতে লাগলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*মহাপ্রভুর নীলাচল-যাত্রা*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻শান্তিপুর হতে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেব নীলাচল যাত্রা করলেন।তাঁর বিচ্ছেদ সকলের অসহনীয় হয়ে পড়ল ; সকলেই কেঁদে আকুল হয়ে পড়লেন। নিত্যানন্দ,গদাধর,মুকুন্দ,গোবিন্দ, জগদানন্দ ও ব্রহ্মানন্দ মহাপ্রভুর সঙ্গী হলেন।শ্রীচৈতন্যদেব সকলকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কার কাছে কি বল আছে?পথের সম্বলের জন্য তোমাদের কেউ কি কিছু দান করেছেন? সকলেই বললেন,তোমার বিনা অনুমতিতে, কোন দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে আসতে কার সাধ্য আছে?তাঁর প্রতি ভক্তদের নিষ্ঠা ও ঐকান্তিক অনুরাগের পরিচয় পেয়ে শ্রীচৈতন্য অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন।পরম বৈরাগী, বিশ্বাসের চূড়ামণি ও ভক্তদের শিরোভূষণ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবতখন ভগবানের প্রতি ঐকান্তিক নির্ভরের কথা উল্লেখ করে বলতে লাগলেন, সেই বিশ্ব নিয়ন্তাই আমাদের অন্ন-জল বিধাতা।যদি অদৃষ্টে থাকে,অরণ্যে বাস করলে সেখানেও আহার মিলে থাকে,আর পরমেশ্বর যদি অন্ন না যোগান তাহলে রাজপুত্র হলেও উপবাস থাকতে হয়।কারণ গৃহে তার আহারের বহুবিধ সামগ্রী থাকলেও হয়তসে কোন কারণে কারও সঙ্গে বিবাদ করে ক্রোধভরে "আমি ভাত খাব না" বলে উপবাসী থাকে।অথবা আহারের সকল বস্তু তৈরী থাকলেও হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতার কারণে আক্রান্ত হয়ে পড়ে,আহার বন্ধ হয়ে যায়।তিনিই সর্বত্র অন্নছত্র খুলে রেখেছেন ; তাঁর ইচ্ছে হলে মানুষ সর্বত্র আহার পেয়ে থাকে।পথে আনন্দিত মনে চলতে চলতে শ্রীচৈতন্যদেব ভক্তবৃন্দদের এইভাবে ভগবানের প্রতি অটল বিশ্বাসের কথা বলে,তাঁদের চিত্তকে সুদৃঢ় করতে যত্নশীল হয়েছিলেন।*
*🌹যাত্রীদল সানন্দে শ্রীচৈতন্যদেবের সঙ্গে ধর্মপ্রসঙ্গ করতে করতে আঠিসারা নামক গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন।🔷আঠিসারা=২৪ পরগণার অন্তর্গত বারুইপুর নামক জায়গার কাছে আটঘরা নামক একটি জায়গা আছে, শ্রীচৈতন্যভাগবতকার বোধ হয়,এই জায়গাটিকেই আঠিসারা নামে উল্লেখ করেছিলেন।*
*🍀সে গ্রামে অনন্ত পন্ডিত নামে এক বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণ বাস করতেন।মহাপ্রভুর সঙ্গীগণ তাঁর আলয়ে আতিথ্য গ্রহণ করলেন।সাধু অনন্ত পন্ডিত, শ্রীচৈতন্যদেবের মত পরমজন তাঁর বাসভবনে আতিথ্য গ্রহণ করলেন দেখে আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠলেন, এবং যথাবিধানে সকলের পরিচর্য্যা করলেন।শ্রীচৈতন্যচূড়ামণি সমস্ত রজনীই কীর্তনানন্দে অতিবাহিত করে পরদিন গঙ্গার উপকূল দিয়ে সকলে ছত্রভোগের দিকে যাত্রা করলেন।ছত্রভোগে ☆এই গ্রামটি ২৪ পরগণা জেলার মধ্যে,জয়নগর-মজিলপুর হতে ২|৩ ক্রোশ দক্ষিণে।🍀গঙ্গা শতমুখী হয়ে প্রবাহিতা হচ্ছেন।এখানে আম্বূলিক নামে একটি ঘাট আছে।প্রবাদ আছে এই যে,ভগীরথ যখন গঙ্গাকে নিয়ে যান,তখন শিব তাঁর বিরহে ব্যাকুল হয়ে পড়লেন এবং তাঁর দর্শন লালসায় বাহির হয়ে ছত্রভোগে এসে তাঁর দর্শন লাভ করলেন। শঙ্কর দেখলেন,প্রসন্নসলিলা জাহ্নবীদেবী কল কল নিনাদে প্রবাহিতা হচ্ছেন। তিনি গঙ্গাদেবীর এই অপরূপ মূর্তি দর্শন করে অনুরাগভরে তাঁর মধ্যে ঝাঁপ দিলেন।জাহ্নবীও প্রসন্নচিত্তে মহাদেবকে গ্রহণ করলেন।শঙ্করের দেহ গঙ্গাবক্ষে সলিলরূপে অবস্থিতি করতে লাগল।এই জায়গায় শিবদেহ জাহ্নবী দেহে একীভূত হয়েছিল বলিয়া,এই জায়গা আম্বুলিঙ্গ ঘাট নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।*
*🌻সকলে ছত্রভোগে এসে উপস্থিত হলেন।প্রেমিক চূড়ামণি শ্রীচৈতন্যদেব আম্বুলিঙ্গ ঘাটে গঙ্গাদেবীর এই মনোহর সৌন্দর্য্য দর্শন করলেন এবং এ স্থানের পৌরাণিক কাহিনী স্মরণ করে,আনন্দে উন্মত্তপ্রায় হয়ে মধুর ও উচ্চকন্ঠে "হরি হরি"বলে নৃত্য করতে লাগলেন।বায়ুর আঘাতে বৃক্ষ যেমন ভূতলে নিপতিত হয়, গৌরহরিও প্রেমাবেশে সেইভাবে ভূতলে নিপতিত হতে লাগলেন।তাঁর কন্ঠের সঙ্গে ভক্তগণএর কন্ঠও মিশ্রিত হয়ে হরিনামের কোলাহলে সে জায়গা পূর্ণ করে তুলল।শ্রীচৈতন্য শতপথবিহিনী গঙ্গার পবিত্র জলে স্নান করলেন,তাঁর নয়নে প্রেমধারা বহিতে লাগিল।সে শ্রীমুখের জ্যোতিঃ দর্শন করলে পাষাণ হৃদয়েও ভক্তিধারা প্রবাহিত হয়।*
*শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য আম্বুলিঙ্গঘাটে হরিনামে উন্মত্তপ্রায় হয়ে নৃত্য কীর্তন করছেন,এমন সময়ে,ভূম্যধিকারী রামচন্দ্র খান দোলারোহণে সেই জায়গা দিয়ে গমন করছিলেন, তিনি নবীন সন্ন্যাসীর অপূর্ব ভক্তির লক্ষণ দেখে,দোলা নেমে,ভক্তিভরে তাঁর চরণে বিলুন্ঠিত হয়ে পড়লেন।শ্রীচৈতন্য জিজ্ঞাসা করলেন,তুমি কে? রামচন্দ্র খান তৎক্ষণাৎ উঠে করযোড়ে বললেন,আমা আপনার দাসানুদাস। উপস্থিত লোকজন রামচন্দ্র খানের পরিচয় দিয়ে বলল, ইনি এখানকার রাজা। শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর পরিচয় পেয়ে বললেন,তুমি এই জায়গার অধিকারী,ভালই হয়েছে ; কিভাবে নীলাচলে নীলাদ্রিনাথকে দর্শন করব,তাইই বলে দাও।রামচন্দ্র খান বললেন,আপনি যা আজ্ঞা করবেন,আমি তা অবশ্যই পালন করব।তবে এখন নীলাচলের পথ বড় বিপদসঙ্কুল,উৎকলের সঙ্গে বঙ্গদেশের যুদ্ধ বেঁধেছে।রাজারা জায়গায় জায়গায় ত্রিশূল পুতেছে, দস্যুরা পথিকের অর্থাদি লুন্ঠন করে তার জীবন নাশ করে থাকে।তথাপি আমি আপনার আজ্ঞা পালন করে আপনাদেরকে অদ্য রাত্রে সেখানে পাঠাবার ব্যবস্থা করব।রামচন্দ্র খানের এই কথা শুনে গৌরসুন্দর আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠলেন।সেদিন রামচন্দ্র খান কোন ব্রাহ্মণের আশ্রমে তাঁদেরকে আহারাদির ব্যবস্থা করে দিলেন।গৌরহরি যৎকিঞ্চিৎ আহার করে আচমনান্তে ব্যাকুল হৃদয়ে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন,শ্রীক্ষেত্র এখান হতে কত দূর?মহাপ্রভুর ভাবাবেশ দর্শন করে মুকুন্দ দত্ত সুস্বরে কীর্তন করতে লাগলেন।শ্রীচৈতন্য একে নিরন্তরই (সবসময়ই) প্রেমানন্দে বিভোর ; তার উপর নীলাদ্রি যাত্রা স্মরণ করে তাঁর হৃদয়ের ভাবতরঙ্গ আরো উচ্ছসিত হয়ে উঠিল।এইভাবে রাত্রি তৃতীয় প্রহর কেটে গেল।এমন সময়ে রামচন্দ্র খান এসে বললেন, প্রভো! আপনাদের জন্য নৌকা এসেছে। শ্রীচৈতন্যদেব হরিধ্বনি করতে করতে,সপার্ষদে নৌকারোহণ করলেন। স্রোতস্বিনীর উপর দিয়ে মাঝিরা নৌকা বেয়ে চলিল।শ্রীচৈতনের যেন আনন্দের আর সীমা নাই।তিনি মুকুন্দকে কীর্তন গাইতে বললেন।মুকুন্দ কীর্তন করতে আরম্ভ করলেন,অপরাপর ভক্তগণও মহোল্লাসে মুকুন্দের সঙ্গে কীর্তন করতে লাগলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৪) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*মহাপ্রভুর নীলাচল যাত্রা*
**************************
*🔷নৌকা চলতে লাগিল। কিন্তু মাঝিরা আরোহীদের সংকীর্তনে বড় ভীত হয়ে পড়ল।তারা বলল, এবার আর আমাদের জীবনের আশা নাই।কুলে জঙ্গলের মধ্যে বাঘ ঘুরছে।জলে কুমীর বাস করছে,আর দস্যুরা আরোহীদের সর্বস্ব লুন্ঠন করবার জন্য জলপথে গোপনে বিচরণ করছে। যে পর্যন্ত আমরা উড়িষ্যা দেশে না যাই সে পর্যন্ত আর কীর্তন করবেন না।মাঝিদের কাছ হতে এই আশঙ্কার কথা শুনে,সকলের রসনা নীরব হল। কিন্তু গৌরহরি কোন ভয়ে ভীত হবার মানুষ নন।তিনি সকলকে নীরব হতে দেখে,হুঙ্কার করে বলে উঠলেন,সম্মুখে সুদর্শন চক্র ঘুরছে,তা কি দেখতে পাও না?এই চক্র বৈষ্ণবদের সকল বিঘ্ন হরণ করে থাকে।কোন ভয় নাই,নির্ভয়ে হরিনাম সংকীর্তন কর।*
*🌺শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন্ত বিশ্বাসের কথায় তাঁর ভক্তদের হৃদয় হতে ভীতির মেঘরাশি যেন বায়ু প্রবাহে উড়ে গেল।তাঁরা জীবন্ত বিশ্বাসে ও ভক্তিতে পূর্ণ হয়ে উঠলেন এবং অধিকতর উৎসাহের সঙ্গে সকলে সর্বভয়হারী হরিনাম সংকীর্তন করতে লাগলেন।মাঝিরা বুঝল,পরম রূপবান নবীন সন্ন্যাসী নরদেহী হলেও সামান্য মানব নহেন। শ্রীচৈতন্যদেব এইভাবে ভক্তগণসহ কীর্তনানন্দে মত্ত হয়ে গঙ্গাবক্ষ দিয়ে যেতে যেতে উৎকল প্রদেশে প্রবেশ করলেন।মাঝিরা প্রয়াগঘাটে তরী লাগালে,মহাপ্রভু সদলে কুলে অবতরণ করলেন, এবং ভক্তগণকে বসতে বলে,ভিক্ষার জন্য গ্রামের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন।তিনি যখনই যে গৃহীর দ্বারে ভিক্ষার জন্য উপস্থিত হতে লাগলেন,তখনই সেই পরিবারের লোকেরা তাঁর অনুপম সৌন্দর্য্য দেখে বিমোহিত হয়ে তাঁর ভিক্ষাপাত্রে প্রচুর পরিমাণে তন্ডুল ও বিবিধ আহার্য্য সামগ্রী প্রদান করতে লাগলেন।শ্রীচৈতন্য ভিক্ষাদ্রব্য নিয়ে প্রিয় সঙ্গীদের কাছে উপস্থিত হলেন।সকলে আশাতীত খাদ্যবস্তু দেখে পরম পুলকিত হলেন, এবং সহাস্য বদনে বলতে লাগলেন,প্রভো!আপনি আমাদের পোষণ করতে পারবেন, দেখছি।ভক্তদলের মধ্যে জগদানন্দ পরমানন্দে মহাপ্রভুর সঙ্গে সকলে ভোজন করতে বসলেন।সেদিন সেখানে থেকে তাঁরা সমস্ত রাত্রি কীর্তনানন্দে যাপন করলেন।*
*রজনী প্রভাত হ'ল।যাত্রীদল পুনরায় চলতে আরম্ভ করলেন।যেতে যেতে তাঁরা এক খেয়াঘাটে উপস্থিত হলেন।ঘাটে কড়ি না দিলে মাঝি কাউকেও পার করে না।শ্রীগৌরহরি যখন সেখানে উপস্থিত হলেন,তখন মাঝি তাঁর মধ্যে অপূর্ব জ্যোতিঃ দেখে তাঁকে বিনামূল্যে পার করে দিবে বলল, জিজ্ঞাসা করল,তোমার সঙ্গে ক'জন লোক আছে?নবীন সন্ন্যাসী বললেন,এ জগতে আমার কেউ নেই, এবং আমি কারও নই ; আমি একা,অথচ সকলেই আমার।মাঝি এইকথা শুনে তাঁকে নিঃসঙ্গ মনে করে বলল, "ঠাকুর" তুমি নৌকায় উঠ ; তোমাকে বিনা কড়িতে আমি পারে নিয়ে যাব ; আর সকলের জন্য মূল্য না পেলে পার করব না।এই বলে নবীন সন্ন্যাসীকে সে পর পারে নিয়ে গেল।এদিকে তাঁর সঙ্গীগণ মহাপ্রভুর লীলা কিছু বুঝতে না পেরে একটু চিন্তিত হয়ে পড়লেন।নিত্যানন্দ সকলকে আশ্বাস দিয়ে বললেন,তোমরা কোন চিন্তা করবে না, মহাপ্রভু আমাদেরকে কখনই পরিত্যাগ করে যাবেন না।এমন সময় মাঝি এসে তাঁদেরকে বলল,তোমরা তো আর সন্ন্যাসী নহ, তোমরা উচিতমত মূল্য দাও,তবে তোমাদের পার করব। গৌরহরি সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী ; কিন্তু তাঁর প্রাণ কোমলহৃদয়া নারীর মত।তিনি পরপারে গিয়ে একটি জায়গায় বসে মাথা নত করে ক্রন্দন করতে লাগলেন।সে ক্রন্দন, সে অশ্রুপূর্ণ লোচন দেখে মাঝির প্রাণ গলে গেল।সে শ্রীচৈতন্যের সঙ্গীদের কাছে এসে বলল,উনি তো সামান্য মানুষ নহেন,তোমরা কে?কার লোক আমাকে ভেঙ্গে বল দেখি। নিত্যানন্দ প্রভৃতি শ্রীচতন্য ভক্তগণ বললেন, শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের নাম শুনেছ? উনিই সেই ; আমরা উনার ভৃত্য। তখন আনন্দে ও বিস্ময়ে মাঝির হৃদয় অভিভূত হয়ে পড়ল।তার দুই নয়ন হতে জলধারা বহিতে লাগল। এবং তৎক্ষণাৎ তাঁদেরকে নিয়ে পার করে দিল।সে বহু পুণ্যফলে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের দর্শন লাভ করল, এবং মাঝি কেন যে কাঁদতে কাঁদতে গৌরহরির শ্রীচরণে প্রণত হয়ে বলল, প্রভো!তোমার দর্শনে আমি আজ কোটি জন্মের পুণ্যফল লাভ করলাম, হে করুণার অবতার! আমি তোমার চরণে যদি কোন অপরাধ করে থাকি,তুমি আমার সব অপরাধ ক্ষমা করো।*
*শ্রীচৈতন্যদেব মাঝিকে কৃষ্ণপ্রেমের অনুরাগী হতে বলে,সকলকে নিয়ে সেখান হতে গমন করতে লাগলেন। যাত্রীদল চলতে চলতে কয়েকদিন পরে সবর্ণরেখা নদীর কাছে এসে উপস্থিত হলেন।স্রোতস্বিনী সুবর্ণরেখার জল অতীব নির্মল। সুবর্ণরেখা=মেদিনীপুর ও উড়িষ্যার মধ্য দিয়ে এই নদী প্রবাহিত হয়ে গিয়েছে। এটি একটি প্রসিদ্ধ নদী।*
*শ্রীচৈতন্য,সঙ্গীগণ এই নির্মল জলে স্নান করলেন।স্নানান্তে তিনি নিত্যানন্দ প্রভৃতিকে পশ্চাতে রেখে অগ্রসর হয়ে চললেন, এবং যাওয়ার পর একটি জায়গায় বসে পেছনে পড়ে থাকা ভক্তগণদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।এদিকে নিত্যানন্দ আনন্দে নৃত্য করতে করতে গমন করতে লাগলেন।জগদানন্দ,তাঁকে পথের মধ্যে কোন স্থানে বসতে বলে ভিক্ষার জন্য পল্লীর মধ্যে গমন করলেন।জগদানন্দ শ্রীচৈতন্যের সন্ন্যাসদন্ড বহন করতেন।তিনি ভিক্ষায় যাবার সময় নিত্যানন্দ দন্ডটি হাতে করে তাঁর মনে কি এক ভাবের উদয় হল, তিনি বলতে লাগলেন,"দন্ড"!আমি যাকে হৃদয়ে ধারণ করি,তিনি তোমাকে বহন করবেন?এই বলে তিনি মহাপ্রভুর দন্ড দ্বিখন্ডিত করে ফেললেন।জগদানন্দ ভিক্ষা করে ফিরে এসে ভাঙ্গাদন্ড দেখে,নিত্যানন্দকে জিজ্ঞাসা করলেন, মহাপ্রভুর দন্ড কে ভেঙ্গে ফেলেছে? নিত্যানন্দ বললেন,মহাপ্রভুর দন্ড মহাপ্রভুই ভেঙ্গেছেন। জগদানন্দ আর কোন প্রত্যুত্তর না করে ভাঙ্গাদন্ড হাতে করে গৌরহরির কাছে এসে উপস্থিত হলেন।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🙏🌻🌻🌻🌻🌻🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৫) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*শ্রীমন্মহাপ্রভুর নীলাচল-যাত্রা*
******************************
*🌺শ্রীচৈতন্যদেব ভাঙ্গা দন্ড দেখে জিজ্ঞাসা করলেন,"দন্ড কে ভেঙ্গেছে"? জগদানন্দ বললেন, প্রভো!নিত্যানন্দ আপনার দন্ড ভেঙ্গেছেন। তারপর শ্রীচৈতন্যদেব নিত্যানন্দকে দন্ড ভাঙ্গিবার কারণ জিজ্ঞাসা করাতে, তিনি তদুত্তরে বললেন,"বাঁশখান ভেঙ্গেছি" এতে আমার প্রতি যেরকম শাস্তি বিধান করা কর্তব্য মনে কর,তাইই কর।নিত্যানন্দের কথায় মহাপ্রভু আর বেশী কিছু না বলে এই মাত্র বললেন, যাতে সর্বদেবতার অধিষ্ঠান,তুমি তাকে কেবল বাঁশখন্ড বললে? এটি আমার সন্ন্যাস-দন্ড,দীক্ষার সময় আমার গুরুদেব কেশব ভারতীর আশ্রমে গৌরহরি সেটি গ্রহণ করেছিলেন।শ্রীচৈতন্যদেব দুঃখিত অন্তঃকরণে সকলকে বললেন, "আমার আর কারও সঙ্গ আবশ্যক নেই, হয় তোমরা আগে যাও, না হয় আমি আগে গমন করি "। তাঁর এইরকম কথা শুনে ভক্তগণ বড়ই দুঃখিত হলেন ; কিন্তু মহাপ্রভুর কথার কোন প্রতিবাদ করা তাঁরা গর্হিত কর্ম বলেই মনে করতেন।এই জন্য মুকুন্দ দত্তকে বললেন,তুমিই আগে যাও,আমরা তোমার পেছনে যাচ্ছি।শ্রীচৈতন্য মুকুন্দের কথা শুনে বললেন,"ভাল তাইই ভাল ", এই বলে তিনি নৃত্য করতে করতে একবারে জলেশ্বরে (উড়িষ্যার অন্তর্গত একটি প্রাচীন শহর) গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন।এখানে শিব মন্দির আছে।শ্রীচৈতন্যদেব যখন আগমন করলেন,তখন বাদ্যধ্বনির সহকারে সেখানে শঙ্করের পূজা হচ্ছিল। তিনি সেখানে গমন করে,সেই বাদ্যধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে নৃত্য করতে লাগিলেন।তাঁর নৃত্য ও ভক্তির উচ্ছাস দেখে সকলেই বিস্মিত হলেন।কিছুক্ষণ পরে নিত্যানন্দ,মুকুন্দ প্রভৃতি এসে উপনীত হলেন।এসে দেখলেন,মহাপ্রভু উন্মাদপ্রায় হয়ে নৃত্য করছেন ; সুগায়ক মুকুন্দ দত্ত কীর্তন করতে লাগলেন।শ্রীচৈতন্য মুকুন্দের কীর্তনে সঙ্গীদের আগমন সমাচার বুঝতে পেরে বাহু প্রসারিত করে সকলকে আলিঙ্গন করলেন।নিত্যানন্দকে কোলে করে বললেন,শ্রীপাদ দেখ,আমার সন্ন্যাসধর্ম যাতে রক্ষা হয়, তুমি সে বিষয়ে সহায় হবে,তা না করে তুমি আমায় পাগল করতে চাও?আর যদি কখন এরকম কর,তবে তুমি আমার মাথা খাও।গৌরহরি নিত্যানন্দকে এত ভালবাসতেন যে,তিনি সেইসময়ে সকলের সামনে বললেন, "নিত্যানন্দ আমার দেহ অপেক্ষাও বড়, তার প্রতি যার ভাব নেই,সে ব্যক্তি আমার ভক্ত হলেও,আমার ভালবাসার পাত্র হবার উপযুক্ত নয়।*
*🍀তাঁরা সেইদিন জলেশ্বরে রাত্রিযাপন করে পরদিন প্রভাতে পথ চলতে আরম্ভ করলেন।পথিমধ্যে বাঁশধা নামক জায়গায় একজন শাক্তধর্মাবলম্বী সন্ন্যাসীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়,শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর সঙ্গে ধর্মালাপ করেন।সন্ন্যাসী মহাপ্রভুর কথায় অত্যন্ত প্রীত হয়ে বললেন, "আমার মঠে চল, সেখানে সকলে মিলে আজ আনন্দ করিব।শ্রীচৈতন্যদেব জানতেন,শাক্তগণ সুরাপানে আনন্দ লাভ করে থাকেন।তিনি শাক্ত সন্ন্যাসীর সেই অভিপ্রায় বুঝে, হাসতে হাসতে বললেন,আপনি আগে গিয়ে ব্যবস্থা করুন, আমরা পরে যাচ্ছি।শাক্ত সন্ন্যাসী হর্ষোৎফুল্ল চিত্তে দ্রুতপদে মঠে গমন করলেন। কোন এক বৈষ্ণবজন বলেন,শ্রীগৌরাঙ্গদেবের সঙ্গে ধর্মালোচনায় ও তাঁর চরিত্রের মাধুর্য্যে শাক্ত সন্ন্যাসীর জীবন পরিবর্তন হয়ে গেল।শাক্তকে পরিত্রাণের পথ দেখিয়ে দিয়ে,গৌরসুন্দর রেমুণাগ্রামে আসিলেন, এবং গোপীনাথ বিগ্রহ দর্শন,এবং নৃত্য কীর্তনাদি করে, কয়েকদিন ভ্রমণ করে যাজপুরে এসে উপস্থিত হলেন।যাজপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অতি রমণীয়।এখানে বৈতরণী নদী প্রবাহিত হচ্ছে।তরুরাজি চারদিকে শোভা পাচ্ছে। গৌরসুন্দর নদীতে স্নান,ভক্তদের সঙ্গে দেবমন্দির দর্শন ও নাম সংকীর্তনাদিতে সময় অতিবাহিত করলেন।ইতিমধ্যে এক ঘটনা ঘটিল।ভক্তগণ মহাপ্রভুকে দেখতে পাচ্ছেন না,তাঁরা চারিদিকে তাঁর খোঁজ করতে লাগলেন, কিন্তু কোথাও তাঁকে দেখতে না পেয়ে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। নিত্যানন্দ বললেন,তিনি দেবমন্দির সব দর্শন করছেন। আমাদের চিন্তার কোন কারণ নেই, আগামীকালই তিনি আমাদের কাছে এসে উপস্থিত হবেন। ভক্তগণ সকলে নিত্যানন্দের কথায় আশ্বস্ত হলেন এবং ভিক্ষালব্দ দ্রব্যাদি দ্বারা রন্ধন করে আহারাদি করলেন। কিন্তু যিনি কাছে না থাকলে,তাঁদের হৃদয় জ্যোতিহীন হয়ে পড়ে, সেই গৌরসুন্দরকে না দেখে তাঁদের হৃদয় যেন ম্লানভাব ধারণ করল।সেদিন এইরকম ভাবে কেটে গেল।*
*🌻এদিকে ভাবুকহৃদয় শ্রীচৈতন্যদেব সঙ্গীদেরকে পরিত্যাগ করে যাজপুরের দেবমন্দির সব দর্শন করবার জন্য একাকী হয়ে পড়েন।তিনি মন্দিরে দেব-দেবী দর্শন ও সাধু সন্ন্যাসীদের সঙ্গে কথোপকথনে সেদিন যাপন করে,পরদিন তাঁর সঙ্গীদের কাছে এসে উপস্থিত হলেন। ভক্তগণ মহাপ্রভুকে দশান করে সকলে হরিধ্বনি করতে লাগলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*মহাপ্রভুর নীলাচল যাত্রা*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*তাঁরা যাজপুর গ্রাম পরিত্যাগ করে কয়েকদিন ভমণ করে কটক শহরে এসে উপস্থিত হলেন।এখানে স্বচ্ছসলিলা মহানদী দর্শন করে গৌরসুন্দরের হৃদয় আনন্দে পুলকিত হয়ে উঠিল।তিনি মহানদীতে স্নান ও মন্দিরে দেবাদি দর্শন করে, ভক্তগণসহ ভুবনেশ্বরের দিকে অগ্রসর হলেন।ভুবনেশ্বরের অন্য নাম "গুপ্তকাশী"।এখানে মহাপ্রভু বিন্দু সরোবরে অবগাহন ও শিব দর্শন করে সকলে মিলে কমলপুরে গমন করলেন। দুই,কমলপুর হতে জগন্নাথদেবের মন্দিরের চূড়ার উপরিস্থিত ধ্বজা দর্শন করা যায়। শ্রীচৈতন্যদেব সেই ধ্বজা দেখে যেন আনন্দ সাগরে ভাসতে লাগলেন,তিনি ভাবে ও আনন্দে উন্মত্তপ্রায় হয়ে, ভাগবতের এই শ্লোকটি পড়তে পড়তে, উর্দ্ধশ্বাসে ধাবিত হতে লাগলেন।*
*▪প্রাসিদাগ্রে নিবসতি পুরঃ স্মেরবক্ত্রারবিন্দো,*
*▪মামালোকাস্মিত সুবদনো বালগোপালমূর্তি।।*
*🌺যাঁর বদনবিকশিত পদ্মের ন্যায়, সেই বালগোপাল শ্রীকৃষ্ণ আমাকে দর্শন করে মৃদু মধুর হাস্যে, শ্রীবদনের শোভা বিস্তার করতে করতে প্রাসাদের উপরি মদীয় পুরোভাগে এসে অবস্থিতি করছেন।*
*🌻বিন্দুসরোবর=ভুবনেশ্বরে। যথা শ্রীচৈতন্যভাগবতে পায়=*
*🌷তবে প্রভু আইলেন শ্রীভুবনেশ্বর।*
*🌷গুপ্তকাশী-____ যথা করেন শঙ্কর।।*
*🌷সর্বতীর্থ জল যথা বিন্দু বিন্দু আনি।*
*🌷বিন্দু সরোবরে শিব সৃজিলা আপনি।।*
*(২) কমলপুর=পুরীর মধ্যে। এখান হতে শ্রীজগন্নাদেবের মন্দির চূড়া দেখা যায়।*
*🌻যাইহোক, এই শ্লোক উচ্চারণ করতে করতে তিনি যখন চলতে লাগলেন তখন তাঁর প্রাণ প্রেমানন্দে বিভোর হয়ে পড়ল, তাঁর নয়ন হতে অনর্গল বারিধারা বাহির হতে লাগিল। তিনি বালকের মত ক্রন্দন করতে লাগলেন ; এবং অনুরাগভরে ভূতলে পতিত হয়ে দন্ডবৎ প্রণাম করতে লাগলেন।চারিদিকের লোক এই নবীন সন্ন্যাসীর মধ্যে ভক্তির এই অভিনব ব্যাপার দর্শন করে চরম অবাক হলেন।তারা বলতে লাগলেন, এমন ভক্তির লক্ষণ কোন মানবে তো দেখা যায় না, বোধহয় ইনিই নারায়ণের অবতার।ভক্তচূড়ামণি শ্রীচৈতন্যদেব এইভাবে ভক্তজন পরিবেষ্টিত হয়ে আঠারোনালায় এসে উপস্থিত হলেন।এখানে এসে তিনি স্থির হয়ে বসলেন।শ্রীজগন্নাথদেবকে দর্শন করে তিনি আজ মনের বাসনা পূর্ণ করবেন, এই চিন্তায় তাঁর হৃদয়ে আনন্দ স্রোত বহিতে লাগল। তিনি প্রেমে গদগদভরে সঙ্গীদের বললেন, "তোমরা আমাকে এখানে এনে যথার্থই বন্ধুর কাজ করলে।এখন তোমরাই আগে যাবে না আমিই যাব বল? মুকুন্দ দত্ত বললেন,তুমিই আগে যাও, আমরা পরে যাচ্ছি।*
*🌹এইকথা শুনামাত্র শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ত্বরিত গতিতে পুরুষোত্তমে গিয়ে শ্রীজগন্নাথ দর্শনের জন্য মন্দারের ভেতরে প্রবেশ করলেন।নীলাদ্রীনাথ দর্শনে,তাঁর ভাবসিন্ধু দ্বিগুণতর উথলিয়ে উঠিল।সে প্রেম,সে ভক্তি, সে ব্যাকুলতা সত্যিই বর্ণনাতীত। তিনি শ্রীজগন্নাথের মূর্তি দর্শন করে তাঁকে বক্ষে গ্রহণ করবার জন্য পাগলের মত অগ্রসর হলেন।এইরকম কাজ দেব-মন্দিরের বিরুদ্ধ বলে পান্ডারা তাঁর গতি রোধ করতে ও তাঁকে প্রহার করতে উদ্যত হল। সেখানে সুবিখ্যাত রাজপন্ডিত সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য সেই সময়ে মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন।তিনি এই নবীন সন্ন্যাসীর প্রবল ধর্মানুরাগ দর্শন করে,ইঁনাকে সামান্য মানব বলে মনে করলেন না।যখন পান্ডারা উগ্রমূর্তি ধারণ করে শ্রীচৈতন্যকে প্রহার করতে উদ্যত হলে,তখন সার্বভৌম "হাঁ হাঁ" শব্দে তাদেরকে এ কার্য্য করতে প্রতিনিবৃত্ত করলেন।এদিকে দিগ্বিজয়ী জয়ী নবদ্বীপের শ্রীগৌরসুন্দর শ্রীজগন্নাথ দর্শন করে ভক্তিতে বিভোর হয়ে মৃত্তিকায় হতচেতন হয়ে পড়লেন।সার্বভৌম সে মূর্চ্ছা অপনোদনের জন্য যত্ন করলেন ; কিন্তু কিছুতেই তাঁর চৈতন্যোদয় হ'ল না দেখে, তিনি তাঁকে তাঁর ভবনে নিয়ে যাবার জন্য পরিহারিদেরকে(তাঁর অনুগত পান্ডাগণকে) আদেশ করলেন।তারা শ্রীচৈতন্যদেবকে সেই অচৈতন্য অবস্থায় সার্বভৌম ভট্টাচার্যের ভবনে বহন করে নিয়ে গেল।*
*🌳এদিকে ভাবনিধি গৌরহরির সঙ্গীগণ পুরীতে প্রবেশ করে,শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে এসে শুনলেন, একজন গৌরবর্ণ যুবাপুরুষ মন্দিরের ভেতরে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়েছিলেন ; এবং তাঁকে রাজপন্ডিত সার্বভৌম ভট্টাচার্যের ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।ঘটনার বিষয় তাঁরা সবই বুঝলেন, এবং তৎক্ষণাৎ সার্বভৌম ভট্টাচার্যের বাসভবনে গমন করলেন।সার্বভৌম তাঁদেরকে যথোচিত সম্মান করে নিজের ভবনে অভ্যর্থনা করলেন।তাঁরা দেখলেন, মহাপ্রভু তখনও মূর্চ্ছিত অবস্থায় শয্যায় শয়ন করে রয়েছেন। সুগায়ক মুকুন্দ দত্ত তখন কীর্তন আরম্ভ করলেন। এই মূর্চ্ছিত অবস্থাতে কীর্তনের ধ্বনি গৌরহরির কর্ণকুহরে প্রবেশ করে বীণার ঝঙ্কারের ন্যায় তাঁর হৃদয়তন্ত্রীকে আলোড়িত করতে লাগিল।মধুর হরিকীর্তনে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেব চৈতন্য লাভ করলেন।*
*🍀শষ্ক হৃদয়ে ভক্তি দাঁড়াতে পারে না।ধার্মিকদের হৃদয় স্বভাবতই বড় কোমল,তাঁরা রসজ্ঞ।এই জন্য কবি হৃদয়ের সঙ্গে ভক্তিপ্রবণ হৃদয়ের যেন এক অপূর্ব সম্বন্ধ দৃষ্ট হয়ে থাকে। ভগবতভক্তগণ স্বভাবতই বড় সঙ্গীতপ্রিয়।তাঁরা মধুর সঙ্গীতে(কীর্তনে) আত্মহারা হন, আবার সঙ্গীতেই যেন চেতনা লাভ করেন।ইতিহাসে দেখতে পাই,ইউরোপের সুবিখ্যাত মার্টিন লুথার একবার প্রার্থনা করতে করতে, ভাবাবেশে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়েন, আশ্রমস্থিত সন্ন্যাসীগণ অন্য কোন উপায়ে যখন তাঁকে চেতনা দান করতে পারলেন না,তখন ওনাদের মধ্যে এক ব্যক্তি একটি সঙ্গীত ধরিলেন।কারণ তিনি জানতেন,ভক্ত হৃদয়ের রহস্য সব জায়গায় যেন একরকম দেখা যায়। যাইহোক, এদিকে অতিথিগণের সেবার যাতে কোনরকম ত্রুটি না হয়,সেই বিষয়ে ভট্টাচার্য্য মহাশয় বিশেষ দৃষ্টি রাখতে লাগলেন। ভক্তগণদের জন্য বিবিধ অন্ন ব্যঞ্জনের ব্যবস্থা হল। স্নানান্তে তাঁরা একত্রে আহার করতে বসলেন। সার্বভৌম স্বয়ং পরিবেশন করতে লাগলেন। ভট্টাচার্য্য মহাশয় নবাগত ব্যক্তিদের জন্য স্বতন্ত্র বাসার ব্যবস্থা করে,তাঁর শ্যালক গোপীনাথকে তাঁদের তত্ত্বাবধানের ভার দিলেন।শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর সঙ্গীগণ আহারান্তে নূতন বাসায় গমন করলেন।গোপীনাথ তাঁদের তত্ত্বাবধানের ভার গ্রহণ করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৭) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*সার্বভৌমকে ভক্তিদান*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻গোপীনাথ আচার্য্য একদিন মুকুন্দকে নিয়ে সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্যের বাসভবনে উপস্থিত হলেন। সার্বভৌম গোপীনাথকে বললেন, "নবীন সন্ন্যাসীর রূপ দেখে তাঁর প্রতি আমার মন বড়ই আকৃষ্ট হয়েছে "।তারপর তিনি গোপীনাথকে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে, গোপীনাথ বললেন, ইনি নবদ্বীপের শ্রীজগন্নাথ মিশ্রের পুত্র ও নীলাম্বর চক্রবর্তীর দৌহিত্র, ইঁনার নাম বিশ্বম্ভর।এইভাবে গৌরহরির আরও বিদ্যাবুদ্ধির পরিচয় দান করলেন। সার্বভৌম গৌরসুন্দরের পরিচয় পেয়ে বললেন,নীলাম্বর চক্রবর্তী আমার পিতা বিশারদের সমপাঠী ছিলেন। সার্বভৌম বিশ্বম্ভরের সন্ন্যাস গ্রহণের কথা উল্লেখ করে, গোপীনাথকে জিজ্ঞাসা করলেন, "ইঁনি কোন সম্প্রদায়ের মত অনুসারে সন্ন্যাস গ্রহণ করেছেন? গোপীনাথ বলিলেন, ইঁনি শ্রীকেশবভারতীর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করে, "শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য" নাম পেয়েছেন। সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য, পন্ডিত ব্যক্তি।তিনি ভারতী সম্প্রদায়কে অতি সামান্য বলে মনে করতেন,সেজন্য তিনি বললেন, ইঁনার নাম খুবই সুন্দর হয়েছে, কিন্তু ভারতী সম্প্রদায় সেরকম বড় সম্প্রদায় নহে। গোপীনাথ সার্বভৌমের কথা শুনে বললেন, শ্রীচৈতন্যদেব বাইরের আড়ম্বর ভালবাসেন না, সে জন্য বড় সম্প্রদায় উপেক্ষা করলেন।*
*☘সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য এইসব কথা শুনে,শ্রীচৈতন্যদেবের এই অল্প বয়সে সন্ন্যাস গ্রহণের জন্য অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করলেন, এবং বললেন যে, আমি তাঁকে প্রতিদিন বেদান্ত পাঠ করে শোনাব এবং অদ্বৈত মার্গের পথে তাঁকে নিয়ে আসিব। সার্বভৌমের এই সকল কথা শ্রবণ করে গোপীনাথ ও মুকুন্দ অত্যন্ত দুঃখিত হলেন।গোপীনাথ সার্বভৌমকে বললেন,তুমি ইঁনার মহিমা কি বুঝবে? ভক্তির উচ্চতম লক্ষণ ইঁনার মধ্যে বিদ্যমান। সার্বভৌম তখন গোপীনাথকে বললেন, তুমি তাঁকে আগামী কল্য আমার বাড়ীতে আহার করবার জন্য নিমন্ত্রণ করবে।তারপর গোপীনাথ ও মুকুন্দ সার্বভৌমের বাড়ী হতে বেড়িয়ে মহাপ্রভুর নিকট গমন করলেন এবং ভট্টাচার্য্যের সমস্ত কথতাঁর কাছে বললেন।শ্রীচৈতন্যদেব তাঁদের কথা শুনে বললেন, ভট্টাচার্য্য মহাশয় আমায় অত্যন্ত স্নেহ করেন, এবং যাতে আমার মঙ্গল হয়, সে বিষয়ে তিনি আমাকে নিশ্চয়ই সৎ পরামর্শই প্রদান করবেন।*
*🌺গৌরসুন্দর সার্বভৌম-ভবনে উপস্থিত হলে, তিনি তাঁকে যথোচিত সমাদরপূর্বক বসতে আসন দিলেন এবং তাঁর অসাধারণ ধর্মভাব ও তাঁর বংশাবলীর কথা উল্লেখ করে ভীষণ আনন্দ প্রকাশ করলেন। আচার্য্য তারপর তাঁকে বললেন,আমার মনে হয়েছে তুমি ভীষণ বুদ্ধিমান, তুমি এমন বুদ্ধিমান হয়ে সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ কেন করলে?ভেবে দেখ,সন্ন্যাস গ্রহণ করলে প্রথমেই মনে একটা অহংভাব উপস্থিত হয়। দন্ডধারী হয়ে,সকলকেই সামান্য মনে করে, এবং অনেক সময় "আমিই নারায়ণ" এইকথা বলতে কিছুমাত্র সঙ্কুচিত হয় না।ভগবান সব দেহেতেই অংশরূপে অধিষ্ঠান করছেন, সেজন্য প্রত্যেক জীব,জন্তু ও সকল বর্ণের লোকের কাছেই মস্তক নত করতে হয়। কিন্তু দন্ডধারী সন্ন্যাসীদের কাছে সকলেই দন্ডবৎ করে, কিন্তু তাঁরা কারও কাছে মাথা নত করতে চাহেন না।অনেকে শঙ্করাচার্য্যের তাৎপর্য্য না বুঝে, শিখা সূত্র পরিত্যাগ করে সন্ন্যাসাশ্রম গ্রহণ করে অশেষ কষ্ট পেয়ে থাকেন।তুমি এমন পথ কেন গ্রহণ করলে?যদি বল,মাধবেন্দ্রপুরী প্রভৃতি পরম ভাগবতগণ, এই পথই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করেছিলেন, কিন্তু তাঁরা সংসারধর্ম পালন কোরে, শেষে পরিণত বয়সে ভক্তিপথ অবলম্বন করেছিলেন। তোমার কাঁচা বয়স,এ সময় সংসারধর্ম পালনের সময়,তোমার সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণের অধিকার হয় নাই।*
*🙏পরম বৈরাগী,বিনয়ের অবতার,ভক্তের শিরোভূষণ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেব সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের কথাগুলি শুনে বললেন, আচার্য্য!আপনি আমাকে সন্ন্যাসী বলে মনে করবেন না, আমার হৃদয়ের নিধি শ্রীকৃষ্ণের বিরহে ব্যাকুল হয়ে,শিখা সূত্র পরিত্যাগ করে,গৃহের বাহির হয়েছি।যাতে আমার শ্রীকৃষ্ণের প্রতি মতি থাকে, আমাকে এমন আশীর্বাদ করুন। যথা শ্রীচৈতন্যভাগবতে পায়=*
*🌷প্রভু বোলে,শুন সার্বভৌম মহাশয়।*
*🌷"সন্ন্যাসী" আমারে নাহি জানিহ নিশ্চয়।।*
*🌷কৃষ্ণের বিরহে মুঞি বিক্ষিপ্ত হইয়া।*
*🌷বাহির হইলুঁ শিখা সূত্র মুড়াইয়া।।*
*🌷"সন্ন্যাসী" করিয়া জ্ঞান ছাড় মোর প্রতি।*
*🌷কৃপা কর যেন মোর কৃষ্ণে হয় মতি।।*
*শ্রীচৈতন্যদেব, সার্বভৌমের অনেক গুণানুবাদ বা গুণকীর্তন করলে, তিনি লজ্জিত হয়ে বললেন, "শাস্ত্রমতে তুমিই বন্দনীয়,আমি উপাসক ; কিন্তু তুমি আমার স্তব স্তুতি করছ, এটি যুক্তিযুক্ত নয়, এতে আমার অপরাধ হবে। এইরকম কথাবার্তার পর সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য বললেন, আমার এখানে প্রতিদিন প্রাতে বেদান্ত পাঠ হয়, সন্ন্যাসীদের বেদান্ত শ্রবণ করা একান্ত আবশ্যক, তুমি বেদান্ত শ্রবণ করবে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৮) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*সার্বভৌমকে ভক্তিদান*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*শ্রীচৈতন্যদেব, আচার্য্যের কথায় সম্মতি হয়ে পরেরদিন সকালে গোপীনাথ আচার্য্যের সঙ্গে সার্বভৌম ভবনে আগমন করলেন।এসে দেখলেন, সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য শিষ্যবৃন্দ পরিবেষ্টিত হয়ে বেদান্ত শিক্ষা দিচ্ছেন।শ্রীচৈতন্যদেব সেখানে বসে মনোযোগপূর্বক বেদান্তের ব্যাখ্যা শুনতে লাগলেন।এই ভাবে সাতদিন অতিবাহিত হয়ে গেল।অষ্টম দিনে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য শ্রীচৈতন্যকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি সাতদিন বেদান্তের ব্যাখ্যা শুনলে, কিন্তু তুমি এ বিষয়ে একটি কথাও তো আমাকে বললে না? তুমি এ সবের অর্থ বুঝতে পার কি না, তা আমি কিছু বুঝতে পারছি না।*
*☘তখন শ্রীচৈতন্য বললেন, আপনি বলেছেন বেদান্ত শ্রবণ সন্ন্যাসীর ধর্ম, আমি তাই আপনার কাছে বেদান্ত শুনছি, কিন্তু আমি অন্ধ, সেটির প্রকৃত তাৎপর্য্য সম্যক্ হৃদয়ঙ্গম করা কি আমার মত মানুষের সাধ্য? সার্বভৌম নবীন সন্ন্যাসীর কথা শুনে, যা বুঝতে পার না, তা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেই পার।*
*🌹তখন অতীতের নিমাই পন্ডিত বাহ্য বিনয় পরিত্যাগ করে বললেন, আপনার বেদান্তের ব্যাখ্যা শুনছি, ব্যাসবর্ণিত সূত্রের অর্থ সুন্দররূপে হৃদয়ঙ্গম হচ্ছে, কিন্তু আপনার ব্যাখ্যা হৃদয়ঙ্গম করতে গিয়ে মন যেন বিকল হয়ে পড়ছে। ভাষ্যের দ্বারাই সূত্রের অর্থ প্রকাশ হয়, কিন্তু আপনার ভাষ্যে সূত্রের প্রকৃত তাৎপর্য্য প্রকাশ পাচ্ছে না। আপনার ব্যাখ্যায় সূত্রের প্রকৃত অর্থ যেন কল্পনায় আচ্ছাদিত করে রাখে। ব্যাসসূত্রের প্রকৃত অর্থ উপনিষদেই প্রকাশ পেয়ে থাকে।আপনি সেই ব্যাস-সূত্রের মুখ্যার্থ পরিত্যাগ করে,গৌণার্থ করে থাকেন। মহামুনি বেদব্যাস বর্ণিত সূত্রগুলি যেন সূর্য্যরশ্মির মত উজ্জ্বল, কিন্তু আপনি সেগুলি আপনার স্বকপোল-কল্পিত ব্যাখ্যায় যেন মেঘাবৃত করে ফেলেছেন।*
*গৌরসুন্দর, ভট্টাচার্য্যের ব্যাখ্যার দোষের কথা উল্লেখ করে বললেন, "বেদে ও পুরাণে ব্রহ্মের বিষয় নিরূপিত হয়েছে।ব্রহ্ম বৃহদ্বস্তু, তিনি ষড়ৈশ্বর্য্যপূর্ণ ভগবান। এমন পরমেশ্বরকে আপনি নিরাকার বলে ব্যাখ্যা করেছেন? শ্রুতিতে যদিও তাঁকে নিরাকার ও নির্বিশেষ বলা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতরূপে তার বিচার করলে, ভগবানের সবিশেষ ভাবই তাতে প্রতিপন্ন(প্রমাণ সিদ্ধ) হয়ে থাকে।শ্রুতি বলেন,ব্রহ্ম হতে এই বিশ্ব উৎপন্ন হয়, এবং পুনরায় সেই পরব্রহ্মতেই প্রবেশ করা থাকে। এইজন্য ভগবানে, অপাদান করণ ও অধিকরণ এই তিন কারকের চিহ্ন প্রকাশ পেয়ে থাকে।তিনি এক হয়ে বহুরূপে এই বিশ্বে নিজের সত্তা প্রকাশ করবার জন্য লৌকিকভাব আশ্রয় করলেন, এবং সেই ভাবেই এই সংসার দেখতে লাগলেন।বেদেতে ব্রহ্মস্বরূপের যা নিরূপিত না হয়, পুরাণে তার মীমাংসা পাওয়া যায়। শ্রুতিতে ভগবানকে নিরাকার বলা হয়, সত্য, কিন্তু তার সঙ্গে আবার এও বলা হয় যে,তাঁর চরণ নাই, অথচ তিনি চলাফেরা করেন, হাত নেই, অথচ তিনি গ্রহণ করেন ; অতএব দেখা যাচ্ছে যে,শ্রুতিতে প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মকে সবিশেষ বলেই স্বীকার করা হয়েছে।কেবল কল্পিত অর্থে তাঁকে নির্বিশেষ বলা হয়ে থাকে। তিনি পরম ঐশ্বর্য্যপূর্ণ ভগবান, আপনি এমন ভগবানকে কেবল নিরাময় বলেই ক্ষান্ত থাকতে চান?*
*🌺শ্রীমন্মহাপ্রভু আবার বলতে লাগলেন, "সেই পরমাত্মাতে তিনটি শক্তি বিরাজ করছে ; সৎ,চিৎ, আনন্দ।সেই সর্বব্যাপী পরমেশ্বর এই বিশ্বের সব জায়গায় পূর্ণ করে বিরাজ করছেন, এটিই সন্ধিনী শক্তি, তিনি জ্ঞানময়, সবই জানেন, এটি সংবিৎ ; সেই পরমাত্মাতে পূর্ণ আনন্দ বিরাজ করছে, ইহাকে হ্লাদিনী শক্তি বলে।*
*🙏পরম ভাগবত চূড়ামণি শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে বলেছেন=*
*🌷"হ্লাদিনী"করায় কৃষ্ণে আনন্দাস্বাদন।*
*🌷"হ্লাদিনী" দ্বারায় করে ভক্তের পোষণ।।*
*🌷সচ্চিদানন্দ পূর্ণ কৃষ্ণের স্বরূপ*।
*🌷একহ চিচ্ছক্তি তার ধরে তিনরূপ।।*
*🌷আনন্দাংশে হ্লাদিনী,সদংশে সন্ধিনী।*
*🌷চিদংশে সম্বিত,যারে জ্ঞান করি মানি।।*
*🌻ভগবানে এই যে তিনটি শক্তি বিরাজ করছে, ইহাকে অন্তরঙ্গা চিচ্ছক্তি বলা যায়। আর জীবনশক্তি তটস্থা অন্তরঙ্গা শক্তি ভগবানে চিরবিরাজিত।আর তটস্থা শক্তি সৃষ্টিকার্য্যের মধ্যে নিরন্তর বিরাজিত রয়েছেন।বহিরঙ্গ শক্তিকে মায়াশক্তি বলে। এই মায়াশক্তি ব্রহ্ম হতে প্রসূত হয়ে,সৃষ্টির উপর আধিপত্য বিস্তার করে,ব্রহ্মের উপর কোন প্রভাব বিস্তার করে না ; ব্রহ্মেতে মায়ার প্রভাব নাই। মায়াবাদীরা এই মায়াকে অবস্তু বলে থাকেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটি মিথ্যা নহে, অসম্পূর্ণ জ্ঞানমাত্র। যাঁর সত্তা জগৎ পূর্ণ করে রয়েছে,যিনি জ্ঞানেতে অনন্ত ও মায়াতীত, যাঁর আনন্দকণা লাভ করে,ভক্তগণ আনন্দ ও প্রেমে উচ্ছসিত হয়ে পড়েন, আপনি সেই পরমাত্মাকে মানুষের সঙ্গে কিভাবে অভেদাত্মা বলে স্বীকার করতে চান?*
*🌹সার্বভৌম শ্রীগৌরাঙ্গের সুযুক্তিপূর্ণ তত্ত্বজ্ঞানের কথা শুনে বিমুগ্ধ হলেন। তিনি যাঁকে অল্পবয়সী সন্ন্যাসী মনে করে,বেদান্ত শিক্ষা দিয়ে, নিজ মতাবলম্বী করতে বাসনা করেছিলেন, এখন দেখলেন যে,নবদ্বীপের নবীন সন্ন্যাসী সামান্য যুবাপুরুষ নহেন। গৌরহরি ভগবানের স্বরূপ বিষয়ে যুক্তি প্রদর্শন করে, আবার বলতে লাগলেন, যাঁরা এমন সচ্চিদানন্দ শ্রীবিগ্রহকে স্বীকার করেন না,তাঁদেরকে পাষন্ডী বা নাস্তিক নামে অভিহিত করা যেতে পারে। বুদ্ধ বেদ মানতেন না বলে তাঁকে নাস্তিক বলা হয়ে থাকে ; কিন্তু যাঁরা বেদ আশ্রয় করে সেই সচ্চিদানন্দ বিগ্রহে বিশ্বাস না করেন,তাঁদের নাস্তিকতা কি তদপেক্ষা অধিকতর বলে বোধ হয় না? কেউ কেউ এই কথা বলতে পারেন,পরমেশ্বর বিকারশূন্য হয়ে কিভাবে সৃষ্টিকার্য্য সম্পন্ন করলেন? এসব কথা যুক্তিযুক্ত বলে বোধ হয় না।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*সার্বভৌমকে ভক্তিদান*
▪▪▪▪▪▪▪▪
*🔷মণি হতে স্বর্ণ বাহির হয়ে যদি সেটি অবিকৃত থাকতে পারে, তাহলে সেই অনন্ত সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর হতে এ জগৎ প্রসূত (উৎপত্তি) হলে,তিনি কি আর অবিকৃত হয়ে থাকতে পারেন না? নবদ্বীপের নবীন সন্ন্যাসী এইভাবে বহুবিধ যুক্তিদ্বারা বৈদান্তিক চূড়ামণি সার্বভৌমের অদ্বৈতমত খন্ডন করলে তিনি অবাক হয়ে, তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।তখন ভক্তচূড়ামণি, ভক্তিধর্মের শ্রেষ্ঠতম প্রচারক শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেব ভক্তির মাহাত্ম্য কীর্তন করে আচার্য্যকে বললেন, "ভগবানে ভক্তিই মানবের পরম পুরুষার্থ" ; তাঁতেই ভক্তি অর্পণ করে, পরম শান্তি লাভ করুন। এই বলিয়া শ্রীচৈতন্যদেব ভাগবতের এই শ্লোকটি আবৃত্তি করলেন=*
*🌷আত্মারামাশ্চ মুনয়ো নির্গন্থা অপ্যুরুক্রমে।*
*🌷কুর্ব্বন্ত্যহেতুকীং ভক্তিমিত্থংভূতগুণো হরিঃ।।*
*🌹আত্মারাম মুনিগণ বিধি ও নিষেধের অতীত হয়েও সেই অমিত পরাক্রমশালী হরিতেই অহৈতুকী ভক্তি স্থাপন করে থাকেন।কারণ সেই শ্রীহরির গুণই এইরকম।*
*🌻সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য, গৌরহরিকে ভাগবতের এই শ্লোকটি ব্যাখ্যা করতে বললেন, কিন্তু গৌরহরি তা না করে, ভট্টাচার্য্যের নিকট হতেই সেটির ব্যাখ্যা শোনার জন্য অনুরোধ করলেন। সার্বভৌম এয়োদশ প্রকারে এই শ্লোকটির ব্যাখ্যা করলেন।গৌরহরি তা শুনে তাঁর বুদ্ধির বিশেষ প্রশংসা করে বললেন, "আপনি পান্ডিত্যের দিক দিয়ে,শ্লোকটির যেরকম ব্যাখ্যা করলেন,তা অতীব সুন্দর হয়েছে, কিন্তু সেটির আর একটা দিক আছে। এই বলে, তিনি শ্লোকের অষ্টাদশ ব্যাখ্যা করলেন, অথচ সার্বভৌমের ব্যাখ্যার কোন অংশই গ্রহণ করলেন না। সার্বভৌম শ্রীচৈতন্যদেবের ব্যাখ্যা শুনে একেবারে বিস্মিত হয়ে পড়লেন, এবং এ শক্তি যে সাধারণ মানবের অতীত, তাঁর মনে এই বিশ্বাস জন্মিতে লাগিল। কথিত আছে, এমন সময় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের নিকট ষড়ভূজরূপে প্রকাশিত হয়েছিলেন। সার্বভৌম সে মোহনরূপ দর্শনে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। শ্রীচৈতন্যদেব অবশেষে তাঁর হাত ধরে "উঠ উঠ" বলে ভূমি হতে উঠালেন। ভূমি হতে উঠে তিনি কাঠপুতুলির মত ক্ষণকাল দাঁড়িয়ে রইলেন, এবং শ্রীচৈতন্যকে শ্রীকৃষ্ণের পূর্ণ অবতার জ্ঞানে কাঁদতে কাঁদতে, তাঁর শ্রীচরণে লুন্ঠিত হয়ে পড়লেন। বৈষ্ণব কবিগণ বলেন, সার্বভৌম সে সময় একশ শ্লোক মহাপ্রভুর সামনে স্তব করেছিলেন।মহাপ্রভু, তাঁর হৃদয়ে ভক্তিভাবের সঞ্চার হয়েছে দেখে তাঁকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করেছিলেন।সার্বভৌমের হৃদয়ে ভক্তির দরজা খুলে গেল, এবং তাঁর দু'নয়ন হতে বারিধারা বহিতে লাগল। তাঁর শরীর কাঁপতে লাগল, তিনি প্রকৃত অনুরাগী ভক্ত বৈষ্ণবের মত নৃত্য ও ক্রন্দন করতে লাগলেন।*
*🌺সুবিখ্যাত বৈদান্তিক রাজপন্ডিত সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য, শ্রীচৈতন্যের নিকট বিচারে পরাস্ত হলেন, এবং তাঁর দেখানো ভক্তিপথ অবলম্বন করলেন। পরদিন প্রভাতে মহাপ্রভু জগন্নাথ দর্শন করতে গমন করলে, পান্ডারা তাঁকে মালা ও প্রসাদান্ন প্রদান করে। শ্রীচৈতন্যদেব, সেটি পেয়ে, ভট্টাচার্যের ভবনে আগমন করেন। তিনি তখনও শয্যা হতে উঠেন নাই, কিন্তু শ্রীচৈতন্যদেবের শ্রীমুখ হতে শ্রীকৃষ্ণের নামধ্বনি শুনে তিনি তৎক্ষণাৎ শয্যা পরিত্যাগ করে,মহাপ্রভুর কাছে এসে উপস্থিত হলেন, এবং তাঁর চরণে প্রণত হয়ে তাঁকে বসবার আসন দিলেন। চৈতন্যদেব সার্বভৌমকে মালা ও জগন্নাথের প্রসাদান্ন প্রদান করলেন। সার্বভৌম তখনও মুখ প্রক্ষালন, বা প্রাতঃকৃত্য সমাপন করেননি। কিন্তু তথাপি মহাপ্রভুর দেওয়া মালা গ্রহণ করে প্রসাদান্ন ভক্ষণ করলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭০) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*সার্বভৌমকে ভক্তিদান*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀সার্বভৌম প্রসাদান্ন ভক্ষণ করলে, মহাপ্রভু তা দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন।অবশেষে দুইজনে হাত ধরাধরি করে নৃত্য করতে লাগলেন।উভয়ের কন্ঠ হতে হরিধ্বনি উদয় হতে লাগল ; আর উভয়ের অশ্রুজলে,উভয়ের বক্ষ ভেসে যেতে লাগল।মহাপ্রভু তাঁর অনুগত ভক্তের মধ্যে ভক্তির লক্ষণ দেখলে পরম আহ্লাদ সহকারে সার্বভৌমকে বলতে লাগলেন, আজ আমার সব অভিলাষ পূর্ণ হ'ল, তুমি অকপট হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণের চরণ আশ্রয় করলে ; তোআসকল বন্ধন ছিন্ন হল ; তুমি বেদধর্ম লঙ্ঘন করে প্রসাদ ভক্ষণ করলে, তোমার হৃদয় শ্রীকৃষ্ণের অধিকারের উপযুক্ত হয়েছে।*
*☘সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য একদিন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের কাছে উপস্থিত হয়ে,ভক্তিভরে তাঁর চরণে প্রণিপাত করে ভক্তিতত্ত্ব বিষয়ে জিজ্ঞাসু হলে, মহাপ্রভু তাঁকে নাম সংকীর্তনই ভক্তি সাধনের শ্রেষ্ঠ উপায় বলে নির্দাকরেন, এবং নারদীয় পুরাণের এই শ্লোকটি ব্যাখ্যা করে শুনালেন=*
*🌷হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্।*
*🌷কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতারন্যথা।।*
*🌺শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখ হতে এই শ্লোকটির ব্যাখ্যা শুনে, সার্বভৌমের হৃদয় ভক্তিরসে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। তিনি অবন মস্তকে তাঁকে দন্ডবৎ করলেন, শ্রীচৈতন্যদেবও তাঁর ভক্তকে প্রেমালিঙ্গন দানে পরম সুখী করলেন।বাসুদেব ভট্টাচার্য্য তারপর চৈতন্যদেবের অনুমতি নিয়ে,শ্রীজগন্নাথদেবকে দর্শন করে গৃহে আগমন করলেন।বাড়ীতে ফিরে, তিনি বহুবিধ প্রসাদান্ন আনিয়ে,দুইজন লোক দ্বারা, মহাপ্রভুর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এই সময় সার্বভৌমভট্টাচার্য্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবের স্তবস্তুতিসূচক দুইটি শ্লোক রচনা করে,জগদানন্দের হাত দিয়ে সেটি মহাপ্রভুকে দিতে বললেন।মুকুন্দ দত্ত, জগদানন্দের হাত হতে তালপত্রে লিখিত শ্লোক দুইটি দেখে, দেয়ালে সেটি লিখে রেখে দেন।জগদানন্দ সার্বভৌম-লিখিত শ্লোক দুইটি গৌরহরির হাতে দিলেন।চৈতন্যদেব শ্লোক দুইটি পাঠ করে তা ছিঁড়ে ফেললেন।মুকুন্দ দত্ত সে শ্লোক দুইটি দেওয়ালে লিখে রেখেছিলেন, সকলে সেই শ্লোক দুটি কন্ঠস্থ করে চারিদিকে প্রচার করতে লাগলেন।সেই শ্লোক দুইটি এই=*
*🌷বৈরাগ্য-বিদ্যা-নিজ-ভক্তিযোগ,*
*🌷শিক্ষার্থমেকঃ পুরুষঃ পুরাণঃ।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য শরীরধারী,*
*🌷কৃপাম্বুধির্যস্তমহং প্রপদ্যে।।*
*🍀যিনি এক করুণার অবতার পুরাণ পুরুষ,বৈরাগ্য,বিদ্যা এবং স্বকীয় ভক্তিযোগ শিক্ষা দিবার জন্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যরূপে আবির্ভূত হয়েছেন,আমি তাঁরই শরণাপন্ন হলাম।*
*🌻শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর লিখেছেন=*
*🌷কালবশে ভক্তি লুকাইয়া দিনে দিনে।*
*🌷পুনর্বার নিজ ভক্তি প্রকাশ কারণে।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম প্রভু অবতার।*
*🌷তাঁহার পাদপদ্মে চিত্ত বসুক আমার।।*
*🌹কালান্নষ্টং ভক্তিযোগং নিজং যঃ,*
*🌹প্রাদুষ্কর্ত্তুং কৃষ্ণচৈতন্যনামা।*
*🌹আবির্ভূতস্তস্য পদারবিন্দে।*
*🌹গাঢ়ং গাঢ়ং লীয়তাং চিত্তভৃঙ্গঃ।।*
*🌻যিনি কাল প্রভাবে বিলুপ্তপ্রায় স্বকীয় অসাধারণ ভক্তিযোগ সমর্পণ করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম ধারণ করে আবির্ভূত হন, তাঁর চরণারবিন্দে আমার মনোমধুকর প্রগাঢ়রূপে বিলীন হোক।*
*🌳শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর তাই লিখেছেন=*
*🌷বৈরাগ্য সহিতে নিজ ভক্তি বুঝাইতে।*
*🌷যে প্রভু কৃপায় অবতীর্ণ পৃথিবীতে।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য তনু পুরুষ পুরাণ।*
*🌷ত্রিভুবনে নাহি যার অধিক সমান।।*
*🌷হেন কৃপাসিন্ধুর চরণ-গুণ নাম।*
*🌷স্ফুরুক আমার হৃদয়েতে অবিরাম।।*
*🌺সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের উপদেশে ভক্তি পথাবলম্বী হ'লে,নীলাচলের চারিদিকে এ বার্তা ছড়িয়ে পড়িল।লোকে শ্রীচৈতন্যদেবের অপূর্ব শক্তি দেখে,তাঁকে ভগবানের অবতার বলিয়া ঘোষণা করতে লাগল।অনৈকে বলতে লাগল,ইনিই তো সচল জগন্নাথ।নীলাচলের ধনী,দরিদ্র,পন্ডিত,মূর্খ,সকলেই নবদ্বীপের এই নূতন সন্ন্যাসীর বিদ্যা বুদ্ধি,জীবনের অনুপম সৌন্দর্য্য ও তাঁর অসাধারণ ভক্তিভাব দেখে, তাঁর দিকে আকৃষ্ট হতে লাগিল। হাজার হাজার কন্ঠ হতে হরিধ্বনি হতে লাগিল, যাঁদের রসনা হতে কখনও ভগবানের মধুর নাম বাহির হত না,তাঁদের রসনাও এ নাম উচ্চারণে সুধারসে সিক্ত হতে লাগিল।শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য যখন পথে বাহির হতেন,তখন পথের দুই পার্শ্বের লোক হরিনামের মধুর রবে যেন চারিদিকের বায়ুমন্ডলকে প্লাবিত করে তুলিত।শ্রীচৈতন্যদেব এইভাবে নিজে হরিপ্রেমে মত্ত হয়ে সকলকে মাতিয়ে তুললেন।*
*🌷ভট্টাচার্য্যের বৈষ্ণবতা দেখি সর্বজন।*
*🌷প্রভুকে জানিল সাক্ষাৎ ব্রজেন্দ্রনন্দন।।*
*🌷কাশীমিশ্র আদি করি নীলাচলবাসী।*
*🌷স্মরণ লইল সবে প্রভুপদে আসি।।*
*🌹সুবিখ্যাত বৈদান্তিক বাসুদেব সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে বিচারে পরাস্ত করতঃ (করে) নীরস অদ্বৈতবাদের পথ হতে,মধুময় জীবনপ্রদ ভক্তির পথে আনয়ন করা, চিত্তবিমোহন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য লীলার মধ্যে এক অপূর্ব কীর্তি বলে, ভারতের ভক্তি-ইতিবৃত্তে চিরদিনই লিখিত থাকবে।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🙏🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

