শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🌺নীলাচলে মহাপ্রভু🌺*
   *🔷পুরীর রাজাদের বিবরণ🔷*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀চৌরগঙ্গ রাজ‍্য অধিকারের পর রাজ‍্য-বিস্তারে প্রয়াসী হন এবং বঙ্গদেশ পর্যন্ত অধিকার করেন।এই বংশের ষষ্ঠ নৃপতি অনঙ্গভীমদেব অত‍্যন্ত খ‍্যাতনামা রাজা ছিলেন।ইঁনার রাজত্বকালে শ্রীশ্রীজগন্নাথ-মন্দিরের পুনঃ সংস্কার হয়েছিল। এবং পরমহংস বাজপেয়ীর হাতে মন্দিরের দেখাশোনা এবং নির্মাণের ভার অর্পিত হয়।১১৩১ শকাব্দে এই সংস্কার করা হয়, এবং অনঙ্গভীমদেব দ্বারা এই কর্ম সম্পাদিত হয়।এই বৃত্তান্ত জগন্নাথ-মন্দিরের প্রস্তরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। "শকাব্দে রন্ধ্র শুভ্রাংশুরূপ-নক্ষত্র-নায়কে।প্রাসাদঃ কারিতোহনঙ্গভীমদেবেন ধীমতা "।। এই রাজা অত‍্যন্ত বিষ্ণুভক্ত ছিলেন, এমন কি তিনি তাঁর রাজ‍্যে ঘোষণা করেছিলেন, "এ রাজ‍্যের রাজা শ্রীশ্রীজগন্নাথ,আমি তাঁর দাস মাত্র।" ইনি রাজ‍্যবিস্তার সম্বন্ধে ত্রুটি করেননি।কৃষ্ণানদীর ভূভাগ হতে গঙ্গানদী পর্যন্ত তাঁর রাজ‍্যের সীমা পরিবর্ধিত হয়েছিল।এই বংশের রাজাদের ভিতর অনঙ্গভীমদেবের পর, এই বংশীয় সপ্তম রাজা লাঙ্গুলা নরসিংহদেবের সময়,কারুকার্য‍্যখচিত শিল্প-নৈপুণ‍্যের পরাকাষ্ঠার দৃষ্টান্তস্থল, কোণার্কের মন্দির নির্মিত হয়, যা দেখলে উড়িষ‍্যাবাসীরা শিল্পনৈপুণ‍্যে অনভিজ্ঞ ছিলেন,একথা বলা যায় না।এই নরসিংহদেবের সময় বোধহয়,নরেন্দ্র সরোবর খনিত হয়েছিল।*
*এই বংশীয় দ্বাদশপুরুষ রাজা নিঃশঙ্কভানুদেবও বিশেষ বিখ‍্যাত রাজার মধ্যে গণ‍্য ছিলেন।তাঁর সময়েও রাজ‍্য অক্ষুণ্ণ ছিল এবং ধর্মবিশ্বাস অটল ছিল।তাঁর সময় বালধূপের প্রচার হয়, সুতরাং জগন্নাথ-মন্দিরের সঙ্গে তিনি বিশেষ সম্পর্কিত। ইঁনার পরবর্তী উনবিংশ পুরুষ রাজা কপিলদেবও, বিষ্ণুভক্তি পরায়ণ,রাজ‍্যশাসনে সমানভাবে পারদর্শী, ও শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের কৃপাপাত্র ছিলেন।ইঁনার সময়ে বিশেষ স্মরণীয় ঘটনা এই যে,ইঁনার ঔরসে প্রধানা মহিষীর গর্ভে আঠারটি পুত্র জন্মে, এবং দাসীর গর্ভে এক পুত্র জন্মে,তাঁর নাম পুরুষোত্তম দেব।শ্রীশ্রীজগন্নাথ কপিলদেবকে স্বপ্নযোগে আদেশ করেন যে, "দাসীপুত্র পুরুষোত্তমকে যুবরাজ‍্যে অভিষিক্ত কর"।যদিও কপিলদেবের অষ্টাদশ পুত্র রাজ‍্যের প্রকৃত সত্ত্বাধিকারী,তবুও সেই নিয়ম উলঙ্ঘন করে,ভগবদ্ ভক্ত রাজা কপিলদেব, ভগবানের আদেশ প্রতিপালন করে,১৪৭৯ খ্রিষ্টাব্দে পুরুষোত্তমদেবকে যুবরাজ‍্যে অভিষিক্ত করেন। পুরুষোত্তমদেব অত‍্যন্ত বিষ্ণুভক্ত ছিলেন,ইনিও অনঙ্গভীমের মত ঘোষণা করেছিলেন, "এই রাজ‍্য শ্রীশ্রীজগন্নাথের, আমি কেবল তাঁর কিঙ্করমাত্র"।ইঁনার সময়ে ভেতরের দেওয়াল নির্মিত হয়।তাঁর ভক্তিবলে ভগবান শাস্ত্রীয় নিয়ম উল্লঙ্ঘন করে,তাঁকে রাজ‍্য প্রদান করলেন,অষ্টাদশ ভাইদের শত্রুতা হতে রক্ষা করলেন ; অবশেষে ভক্তের অধীন ভগবান,এটি চিরস্মরণীয় করবার জন্য,বলরাম সহ,কাঞ্চিযুদ্ধে যোদ্ধাবেশে স্বয়ং যুদ্ধ করেছিলেন।এই বৃত্তান্ত অন‍্যত্র লিখিত হয়েছে।পুরুষোত্তমদেব পরম পন্ডিত ছিলেন,তিনি সমস্ত শাস্ত্র মন্থন "মুক্তিচিন্তামণি"প্রণয়ন করেন।*
*এর পরেই,আমাদের সর্বগুণধর, সুপন্ডিত,পরমভক্ত,বীরপুরুষ, রাজা প্রতাপরুদ্র পিতৃসিংহাসনে আরোহণ করেন।এই বংশে সর্বগুণোপেত এরকম রাজা আর জন্মগ্রহণ করেননি,এরকম মহাপুরুষ অতি অল্পই জন্মগ্রহণ করে থাকেন।১৫০৪ খৃষ্টাব্দে ইনি সিংহাসন আরোহণ করেন।ইঁনার রাজত্বকাল যদিও বিশেষ স্মরণীয়, এবং ইতিহাস আদরে বক্ষে ধারণ করে চিরকাল পোষণ করবে,তথাপি ইহাকে একেবারে নিষ্কন্টক বলতে পারি না।কমল বা পদ্ম যেমন কাঁটাশূন‍্য হয় না,গোলাপ গাছে যেমন কাঁটা আছেই, সেইরকম এই রাজত্বকাল যুদ্ধ-বিগ্রহে পরিপূর্ণ ছিল ; ইঁনার রাজত্বের সময়ে মুসলমানদের সহিত যুদ্ধ চলেছিল, এইজন‍্য রাজ‍্যে একেবারে নিরবচ্ছিন্ন (একটানা)শান্তি ছিল না।শ্রীগৌরাঙ্গের কৃপাতে কতকদিনের জন্য যুদ্ধাদি স্থগিত হয়েছিল,এই অবসরে প্রতাপরুদ্রের আধ‍্যাত্মিক সৌভাগ্যসূর্য‍্যের উদয় হল।শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গদেব নবদ্বীপ হতে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করে পুরীতে উপস্থিত হন।জীব-উদ্ধার তাঁর ব্রত।নিজে শ্রীজগন্নাথের মহিমা বিস্তার করবেন,তাই জগন্নাথে উপস্থিত।মহাপ্রভুর উপস্থিত হবার পর,দেশময় এই আন্দোলনে,এক মহাশক্তির আবির্ভাব হল।ছোট,বড়, ধনী,নির্ধন,রাজা,প্রজা,স্ত্রী,পুরুষ সকলের মধ্যেই এই শক্তি কাজ করতে লাগল।এই শক্তি প্রথমে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যেতে সংক্রামিত হল,তারপর মন্ত্রী রায় রামানন্দ আক্রান্ত হলেন।উভয়েই একেবারে পাগল হয়ে গেলেন। ইতঃপর রাজার পালা,অল্প দিন মধ্যে,তিনিও ঐ দলভুক্ত হলেন।এই উন্মাদনায় সমস্ত দেশ পূর্ণ হয়ে গেল।মহাপ্রভু ঘরে ঘরে পূজিত হতে লাগলেন,সকলেই গৌরভক্ত হলেন। এইরকমে উড়িষ‍্যাতে এক নবযুগের সূচনা হল।এই আনন্দস্রোত এখানে আঠার বৎসর ব‍্যাপি কাজ করেছিল।যেমন আনন্দ,সেই পরিমাণে নিরানন্দ আসে।যখন মহাপ্রভু অপ্রকট হলেন,রামরায় এবং প্রতাপরুদ্র শোকে অধীর হলেন,স্বরূপ ও দামোদর প্রাণত‍্যাগ করলেন।ইনার বিস্তারিত বিবরণ ঠিক জায়গা মত করা হবে।মহামহোপাধ‍্যায় সদাশিব মিশ্র মহাশয়ের "জগন্নাথ মন্দির" গ্রন্থ হতে আমরা অনেক সাহায্য পেয়েছি। এই গ্রন্থে কিছু মতানৈক‍্য ছিল তা লিখিলাম না।যাইহোক, প্রতাপরুদ্রের দুই পুত্র,তাঁরা অল্পসময় রাজত্ব করে কালগ্রাসে পতিত হওয়ায়,এই রাজবংশ বিলুপ্ত হয়ে গেল। মন্ত্রী গোবিন্দ বিদ‍্যাধর কতদিন রাজত্ব করলেন।তারপর মুকুন্দ হরিচন্দনকে প্রজারা রাজা করেন।এই বংশ তিন পুরুষ রাজত্ব করেছিলেন।এই মুকুন্দদেবের সময়,কালাপাহাড় সুলেমানের সেনানায়ক হয়ে ১৫৬৭ খৃঃ অব্দে পুরী আক্রমণ করে এবং মুকুন্দদেবকে পরাজিত করে পুরী অধিকার করে।এই যুদ্ধে মুকুন্দদেবের মৃত‍্যু হয়।*
*কালাপাহাড় কেবল রাজ‍্য অধিকার করে সন্তুষ্ট না হয়ে জগন্নাথের মূর্তি চিল্কাহ্রদ হতে এনে,তাকে দগ্ধ করে উড়িষ‍্যাবাসী বিশার মহান্তি একজন পরম ভক্ত,এই দগ্ধ মূরতি সংগ্রহ করে,কুজঙ্গ রাজার কাছে দেন,তিনি নাভিস্থ ব্রহ্মমণি নতূন মূর্তিতে স্থাপন করে,মূর্তি প্রতিষ্ঠা করলেন।কালাপাহাড়ের বৃত্তান্ত আগামীতে পাওয়া যাবে।মুকুন্দদেবের মৃত‍্যুর পর,তাঁর পুত্র কতদিন রাজত্ব করেন।এই বংশ শেষ হলে,রাজ‍্য মধ্যে প্রজাদের ভিতর নানারকম আত্মকলহ উপস্থিত হয়।পরে ১৫৭৮ খ্রীঃ অব্দে প্রজাগণ জনার্দন বিদ‍্যাধরের পুত্র রামচন্দ্রদেবকে রাজা করলেন।রামচন্দ্রদেব বিশেষ ভাগ‍্যবান।কারণ তাঁর রাজ‍্যাধিকার,মোগল সম্রাট আকবরের হিন্দু সেনাপতি টোডরমল ঘোষণা করলেন, এবং তারপরে মানসিংহ তাঁর সম্মান আরও বৃদ্ধি করলেন।গঞ্জাম ইঁনার রাজত্বের অধীন করে দিলেন।রাজা রামচন্দ্রদেব জগন্নাথের মূর্তি কুজঙ্গ রাজার কাছ হতে এনে পুনরায় নতূন মূর্তি শাস্ত্রমতে গঠন করে প্রতিষ্ঠিত করলেন।ইনি আমাদের পরম বন্ধু।*
*১৭৬১ খ্রীষ্টাব্দে এই মন্দিরের ভার মহারাষ্ট্রদের হাতে অর্পিত হয়।এইবারের হস্তান্তর আপোষ ভাবে হয়েছে।মহারাষ্ট্রীয় রাজারা জগন্নাথের মন্দির সম্বন্ধে কোনও উন্নতি সাধন করেছিলেন কি না,তা জানা যায় না। কিন্তু মঠের যত সম্পত্তি ছিল,তার অধিকাংশ মহারাষ্ট্র রাজাদের সময় প্রদত্ত হয়েছে।এই মন্দির ১৭৬১ খৃষ্টাব্দ হতে ১৮০২ খৃঃঅব্দ পর্যন্ত মহারাষ্ট্র অধীন ছিল। এই সময় শঙ্করাচার্য‍্যের মতানুযায়ী সেবা পরিত‍্যক্ত হয়ে,বৈষ্ণবমতে (রামানন্দি মতে)সেবা আরম্ভ হয়, এবং এখন পর্যন্তও সেইরকমে সেবা চলছে।১৮০৩ খৃষ্টাব্দে মহারাষ্ট্রদের পরাজয় হয়, এবং গভর্ণমেন্ট এই মন্দিরের শাসনভার গ্রহণ করেন। রামচন্দ্রদেবের বংশধরগণ Superintendent স্বরূপে নিযুক্ত হন, এবং তাঁরা ২৩৩৩|- টাকা বৃত্তি পান।সেই হতে অদ‍্যাবধি (মুকুন্দদেব পর্যন্ত )Government এর অধীনে আছে।এখন Manager নিযুক্ত হয়ে শ্রীশ্রীজগন্নাথের সেবার বন্দোবস্ত হচ্ছে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🌳নীলাচলে মহাপ্রভু🌳*
        *🌲শ্রীমন্দিরের বিবরণ🌲*
       🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*☘শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দির সমুদ্র হতে প্রায় এক মাইল দূরে নীলাচলে অবস্থিত।মন্দিরের চারটি দ্বার=পূর্বদিকে সিংহদ্বার,তার দুইদিকে দুইটি প্রস্তরময় সিংহ আছে ; উত্তরদিকে হস্তিদ্বার ; পশ্চিমদিকে খাঞ্জাদ্বার,দক্ষিণদিকে অশ্বদ্বার।মন্দিরের চারিদিকের প্রাচীরকে "মেঘনাদ"বলে।মেঘনাদ ২৪ ফিট্ উচ্চ,২২ফিট্ প্রস্থ।এটি উত্তর দক্ষিণে ৬৭৬ ফিট ও পূর্ব পশ্চিমে ৬৮৭ ফিট। সিংহ দ্বারে একটি অরুণ স্তম্ভ আছে ; স্তম্ভটি কৃষ্ণপ্রস্তর নির্মিত,বাইশহাত উচ্চ। এটি একটি প্রস্তর কেটে খোদা হয়েছে। এই দরজায় প্রকান্ড দুই সিংহ আছে।এই দরজায় প্রবেশ করে ডান ধারে,যে মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়,তার নাম পতিত-পাবন। ভগবান পতিত-পাবনরূপী হয়ে দ্বারদেশে অবস্থান করছেন। যারা মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করতে পারে না,যথা=হাড়ি,ডোম,মেথর,ধাঙ্গড়, ম্লেচ্ছ এই সমস্তকে কৃপা করবার জন্য ভগবান পতিতপাবন বরাভয় হাতে দরজাতে অবস্থান করছেন।*
*বাম পার্শ্বে সিদ্ধ হনুমান ও রাধাকৃষ্ণ আছেন।প্রথমে এই পতিতপাবন দর্শন করতে হয়।এই দরজাটি পার হলে,বামদিকে একটি মন্দির পাওয়া যায়,তাতে ঁকাশীর বিশ্বেশ্বর মহাদেব বিরাজমান।এই জায়গায় রামাভিষেক নামে একটি জায়গা আছে ; সেই জায়গা হতে কতকগুলি সিঁড়ি নেমে এসেছে--তাকে বাইশ পৈঠা বলে।ক্রমে উপরের দিকে উঠে আর একটি দরজা পাওয়া যায়।এই দ্বারে খাজা,গজা ইত্যাদি মিষ্ট প্রসাদ বিক্রয় হয়।উত্তরদিকের হস্তিদ্বারে প্রবেশ করে,ডান ধারে শীতলাদেবী,সন্নিকটে সোনাকূপ ও তার দক্ষিণ দিকে বৈকুন্ঠধাম দেখতে পাওয়া যায়।*
*বৈকুন্ঠধামে একটি মন্দির আছে। যখন জগন্নাথদেবের নতূন কলেবর হয়,তখন জগন্নাথদেবের পুরাতন বিগ্রহ এই বৈকুন্ঠধামে রাখা হয়।এই মন্দির সর্বদাই বন্ধ থাকে।মন্দিরে একটি মহাদেব প্রতিষ্ঠিত আছেন।এই মন্দিরের কাছে,মাধব নাটা অর্থ‍্যাৎ মাধবীলতা আছে।বামদিকে লোকনাথ মহাদেব ও ঈশানেশ্বর শিব মন্দির ; এই স্থানের উত্তর ও পূর্ব কোণে আনন্দবাজার,এই জায়গায় অন্ন মহাপ্রসাদ বিক্রয় হয়।তারকাছে স্নানবেদী ও চাহিনী মন্ডপ।এর উত্তরদিকে অন‍্য একটা দরজা আছে,তার সামনে প্রকান্ড দুইটি হাতী আছে। পশ্চিমদিকে খাঞ্জা দ্বার=এই দ্বারে প্রবেশ করে,বামদিকে হনুমান,পার্শ্বে শিবমন্দির এবং নতূন ধানকুটির পাওয়া যায় ; দক্ষিণদিকে সেতুবন্ধ রামেশ্বর কল্পিত স্থান।এইখানে অন‍্য একটি দ্বার আছে, তা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়।দক্ষিণদিকে অশ্বদ্বার,এখানে বিরাট একটা হনুমান মূর্তি আছে।এই দ্বারে প্রবেশ করে,ডানদিকে একটি মন্দিরে শ্রীশ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর ষড়্ ভূজ মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়।তাঁর জীবনী ও অবতারত্ব সম্বন্ধে পশ্চাৎ যথাস্থানে লিখিত হয়েছে।কতগুলি সিঁড়ি পার হলে,অন‍্য একটি দরজা পাওয়া যায়।*
*শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দির চারভাগে বিভক্ত=মূলমন্দির,জগমোহনমন্দির, নাটমন্দির ও ভোগমন্দির।মূলমন্দিরের অন‍্য একটি নাম মণিকোঠা। সেইজায়গাটি অন্ধকারপূর্ণ,সবসময়ই প্রদীপ রাখা হয়।সেই জায়গায় রত্নবেদী আছে,সেটি ষোল ফিট দীর্ঘ এবং তের ফিট প্রস্থ এবং চার ফিট উচ্চ কৃষ্ণপাথর দ্বারা নির্মিত।এতে লক্ষ শালগ্রাম শিলা আছেন।এর উপরে শ্রীশ্রীজগন্নাথ,শ্রীশ্রীবলরাম,শ্রীশ্রীমতী সুভদ্রা ও শ্রীশ্রীসুদর্শন চক্র স্থাপিত, ও সুবর্ণাচ্ছাদিত ভূদেবী এবং রৌপ‍্যাচ্ছাদিত সরস্বতীদেবী, জগন্নাথরূপী মাধবদেব সহ বিরাজমানা।শ্রীশ্রীজগন্নাথ দর্শনকালে রত্নবেদী পরিক্রমণ করতে হয়।জগমোহনে লম্বা লম্বা দুইটি চন্দন কাষ্ঠ উত্তর দক্ষিণ প্রস্থে লোহার শিকলে বাঁধা আছে। ভিতরে সব সময় প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। সকালবেলা,মঙ্গল আরতির পর একবার এবং রাত্রে একবার মণিকোঠায় প্রবেশ করতে পারা যায়। জগমোহনের সামনে প্রকান্ড প্রকান্ড কপাট আছে।নাটমন্দিরে নাচ গান হয়ে থাকে। নাটমন্দিরের মধ্যেও পূর্বরূপ সামনে দুইটি চন্দনকাঠ লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে।নাটমন্দিরে,যার যে ভাবে ইচ্ছা,ভজন সাধন করতে পারেন।যদিও এস্থান কোলাহলপূর্ণ,তবুও এস্থানে ভজনসাধন করলে,মনঃস্থির ও ভক্তির উদ্দীপনা হয়,এইরূপ অনেক সাধুর মত।এই মন্দিরে,ভোগ মন্দিরের সামনে একটি স্তম্ভ আছে।তার উপর একটি গরুড় মূর্তি আছে।স্তম্ভের সামনে যে একটি গর্ত দেখতে পাওয়া যায়,তা শ্রীশ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর প্রেমাশ্রুপতনে হয়েছে বলে কথিত হয়।মহাপ্রভু প্রত‍্যেকদিন ঐ স্তম্ভের কাছে দাঁড়িয়ে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের দর্শন ও অজস্র অশ্রুপাত করতেন।তিনি এইভাবে এই জায়গায় থেকে,আঠার বৎসর পর্যন্ত,শ্রীমুখ দর্শন করেছিলেন।মহাপ্রভুর নয়নের জলে গর্ত তৈরী হয়েছে,একথা অনেকের কাছে আশ্চর্য‍্য বোধ হতে পারে, কিন্তু যিনি শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত পাঠ করবেন,তাঁর এ সন্দেহ থাকবে না।তিনি জানতে পারবেন,মহাপ্রভুর নয়নে যেন সুরধূনী প্রবাহিত হত, পিচকারীর জলের মত সজোরে বাহির হত। এই অশ্রু অবিরত বাহির হওয়াতে এইরকম গর্ত হয়েছে।গরুড় স্তম্ভের উপর হাত রেখে মহাপ্রভু দর্শন করতেন।অঙ্গুলি চিহ্ন এবং নিচে চরণচিহ্ন অদ‍্যাবধি বতর্মান আছে।মহাপ্রভুর ভক্তগণ শ্রীশীচরণযুগল তুলে নিয়ে মন্দিরের উত্তরদিকে,একটি ছোট মন্দির নির্মাণ করে,তাতে রক্ষা করেছেন।ঐ চরণযুগল বোধহয় সকলের পদদলিত হয় বলে অন‍্য জায়গায় রাখা হয়েছে।এখনও অনেক লোকে,এই স্তম্ভের কাছে দাঁড়িয়ে প্রথমে দর্শন করে থাকে।এই স্থানে প্রদীপ দান এবং পূজাদি হয়ে থাকে।"ভোগমন্দির"= এখানে জগন্নাথদেবের অন্নভোগ হয়ে থাকে।নাটমন্দিরের স্তম্ভে এবং ভোগ মন্দিরের গায়ে,অনেক দেবদেবীর মূর্তি অঙ্কিত আছে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🌹নীলাচলে মহাপ্রভু🌹*
        *🌻শ্রীমন্দিরের বিবরণ🌻*
        ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀জগন্নাথদেবের মূলমন্দিরের চূড়া ১৯২ ফিট উঁচা।এটি বিষ্ণুচক্র ও ধ্বজা দ্বারা সুশোভিত।উৎকলের রাজা গজপতি বংশজ অনঙ্গভীমদেবের সময়ে,১১১৯ শকাব্দে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দির সংস্কার করা হয়। এই মন্দিরের সংস্কার কাজ,দেশবাসীদের স্থাপত‍্য বিদ‍্যার পরিচায়ক।পরমহংস বাজপেয়ী সেবা কার্য‍্যে নিযুক্ত হন।অনঙ্গভীমদেব পুরুষোত্তমক্ষেত্রে বহু সংখ্যক দেবালয় নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।জগন্নাথের সেবার জন্য ১২০ জন নর্তকী আছে।এরা ভোগের সময় ও অন‍্যান‍্য সময়, নৃত্য করে থাকে।ভোগের সময় মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। জগন্নাথের মন্দিরের চতুর্দিকে অনেক দেবদেবীর মন্দির আছে ;তা যথাক্রমে নিচে দেওয়া হল। যথা পূর্বদিকে ১)অগ্নীশ্বর শিবমন্দির,এটি একটি গর্তের মধ্যে দর্শন করতে হয়।এ মন্দিরের কাছে দিয়ে যে রাস্তাটি দক্ষিণদিকে গিয়েছে,তা নতূন রন্ধনশালায় মিলেছে।পূর্বদিকে রামজীউর মন্দির। দক্ষিণদিকে ও পূর্ব কোণে নতূন রান্নাঘর,সেই দিকে ভান্ডার ও চূণাকোঠার ঘর। গঙ্গা-কূপ,যমুনা-কূপ, ময়দা-ঘর, ভেট মন্ডপ এইগুলি কিছু বাইরে দিকে পড়েছে।দক্ষিণ দিকের ভিতরে ২) সত‍্য নারায়ণ।৩)রাধাকৃষ্ণ।৪)ছাইল ঠাকুর।৫)অক্ষয় বট।৬)গণেশের মন্দির।৭)মার্কন্ড মহাদেব।৮)ইন্দ্রাণী। ৯)সর্বমঙ্গলা।১০)শিবমন্দির।১১)গণেশ।১২)শিবমন্দির।১৩)পাদপদ্ম।১৪)জগন্নাথদেব। ১৫)রাধাকৃষ্ণ।১৬)অনন্ত।১৭)বাসুদেব।১৮)মুক্তিশ্বর।১৯) ক্ষেত্রপাল।২০) মুক্তি-মন্ডপ ; এই মন্ডপে বসে, ব্রহ্মা জগন্নাথের প্রতিষ্ঠাকার্য‍্য সমাপন করেছিলেন। এই জন্য এই জায়গা অতি পবিত্র।এখানে অত্রত‍্য (এখানকার)মঠাধীশ্বর সন্ন‍্যাসী এবং ব্রহ্মচারী ভিন্ন,অন‍্য কারও বসিবার অধিকার ছিল না। ২১)নৃসিংহ।২২)মদনমোহন।২৩) পাদপদ্ম মন্দির।২৪)রোহিণী কুন্ড, চতুর্ভূজ ভুষন্ডী কাক,ও চক্র আছে। রোহিণী কুন্ড শঙ্খের নাভিদেশে অবস্থিত। কারণবারি দ্বারা পরিপূর্ণ। প্রলয়কালে সমুদ্রের জল বাড়লে,রোহিণী কুন্ডের কারণ-জল বেড়ে গিয়ে,শেষে কুন্ডেই বিলুপ্ত হয়েছিল।এই জন্য এই পবিত্র কুন্ডের নাম রোহিণী কুন্ড হয়েছে।রোহিণী কুন্ড এক্ষণে অদৃশ্য প্রায়,সেই জায়গায় একটি চৌতারা বাঁধান জায়গা দেখা যায়। এখন রোহিণী কুন্ডে স্নান করবার সুবিধা নাই।এঁর জল স্পর্শ ও পান করতে হয়।এঁর জল পান করে,বৃদ্ধ কাক শঙ্খ-চক্র গদা-পদ্মধারী চতুর্ভূজ বিষ্ণুমূর্তি ধারণ করে,বৈকুন্ঠধামে গমন করেছিলেন।তারজন‍্য রোহিণী কুন্ড অতি পবিত্র তীর্থ।*
*🌷মার্কন্ডেয়ে বটে কৃষ্ণে রোহিণ‍্যাঞ্চ মহোদধৌ।*
*🌷ইন্দ্রদ‍্যুম্নসরঃ স্নাত্বা পুনর্জন্ম ন বিদ‍্যতে।।*
*২৫)সিদ্ধিদাতা গণেশ।২৬)বিমলাদেবীর মন্দির।তার সামনেই,একটি হাতীর উপর একটি সিংহ আছে। পশ্চিম-দিকে=২৭) বাসুদেবের মন্দির।২৮)নন্দগোপাল। ২৯)পাদপদ্ম।৩০)সাক্ষীগোপাল। এই মন্দিরে চৈতন‍্য মহাপ্রভুর ষড়ভূজ মূর্তি আছে।৩১)গণেশ।৩২)গোপীনাথ।৩৩)মাখনচোর। ৩৪) সত‍্যভামা।৩৫)কর্ম্মাবাই,যার খিচুড়ি প্রসিদ্ধ।কর্ম্মাতিবাইএর বিবরণ পশ্চাৎ যথাস্থানে দেওয়া গেল। ৩৬)সরস্বতী।৩৭)ষষ্ঠী।৩৮)ভদ্রকালী। ৩৯)লক্ষ্মীনারায়ণ।৪০)লক্ষ্মীর মন্দির। ৪১)নীলমাধব। উত্তরদিকে=৪২) নারায়ণের মন্দির।৪৩)সূর্য‍্য,নারায়ণ। ৪৪)সূর্য‍্যদেব।৪৫)রামলক্ষ্মণ। ৪৬)পাতালমহাদেব,একে "বলি পাতাল"বলে।ভিতরে একটি গর্তের মধ্যে এই মহাদেব আছেন।জায়গাটি খুবই অন্ধকারপূর্ণ।৪৭)শ্রীশ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর পাদপদ্ম।৪৮)বিষ্ণু-পাদ-পদ্ম।৪৯)কীর্তন চড়কা।*
*🌺কপোতেশ্বর=বিরাজমন্ডলের ও নীলাচলের মধ‍্যস্থিত কুশস্থলী নামক একটি বড় জায়গা আছা। সেখানে জলাশয়াদি কিছুই ছিল না।একদিন মহাদেব শ্রীজগন্নাথদেবের তপস‍্যা দ্বারা, পৃথিবীতে সকলের পূজাস্পদ হবার ইচ্ছায়,সেখানে একটা জলাশয় করে দেন, এবং ফল-ফুল দ্বারা সুশোভিত করে,কুশস্থলীকে একটি মনোরম স্থান করে তুলেন।প্রভু কঠোর তপস‍্যায় কপোতাকার মূর্তি ধারণ করেছিলেন,এইজন‍্য,সেই জায়গা কপোতেশ্বর নামে পূজিত হয়।এটি সংসারের সুখদুঃখের একমাত্র শান্তিনিকেতন।*
*🌸পূর্বদিকে একটি রাস্তা আনন্দবাজারে গিয়েছে।উত্তরদিকে জগন্নাথের মন্দিরের সংলগ্ন একটি মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ আছেন।অন‍্য একটি মন্দিরে সর্ব্বমঙ্গলা আছেন।এই জায়গায় মন্দির বিষয়ক লেখাপড়ার কাজ হয়ে থাকে।জগন্নাথদেবের মূল মন্দিরের গায়ে,তিনদিকে তিনটি মন্দির আছে,দক্ষিণে বরাহ,এবং পশ্চিমে নৃসিংহদেবের মন্দির।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *👣নীলাচলে মহাপ্রভু👣*
                *শ্রীমন্দিরের বিবরণ*
               👣👣👣👣👣👣👣
*🌻বামন ও বরাহ=বামন ও বরাহমূর্তির কথা যে লেখা হল,ইঁনারা দশ অবতারের অন্তর্ভুক্ত।বরাহ অবতারেতে ভগবান্ হিরণ‍্যাক্ষকে বধ করেছিলেন।*
*🌷বসতি দশনশিখরে ধরণী তব লগ্না।*
   *🌷শশিনি কলঙ্ককলেব নিমগ্না,*
*🌷কেশব ধৃত-শূকর-রূপ জয় জগদীশ হরে।*
*🌷ছলয়সি বিক্রমণে বলিমদ্ভুত-বামন,*
*🌷পদনখ-নীর-জনিত-জনপাবন,*
*🌷কেশব ধৃত-বামন-রূপ জয় জগদীশ হরে।*
*🌼পশ্চিম দিকে,মন্দিরের নীচে,একটি ছোট মন্দির আছে তার নাম একাদশী মন্দির।প্রবাদ আছে যে,এই জায়গায় একাদশী বাঁধা আছেন,এখানে একাদশীর উপবাস বাধ‍্যকর না হলেও বিধবাগণ একাদশী করে থাকেন ; কিন্তু প্রসাদ উপেক্ষা করতে হবে,এই ভয়ে অনেকে মন্দিরে যান না।ব্রাহ্মণেরা প্রসাদ দ্বারা একাদশী করে থাকেন। অক্ষয়বট------*
*🌷বটরূপধরো বৃক্ষঃ প্রলয়েহপি ন নশ‍্যতি।*
*🌷প্রদক্ষিণন্তু যঃ কুর্য‍্যাৎ দৃষ্ট্বা বৃক্ষং প্রণম‍্য চ।*
*🌷ব্রক্ষহত‍্যাদিকং পাপং তৎক্ষণাদেব নশ‍্যতি।।*
*🌻এই অক্ষয় বট ভগবানের স্বরূপ, মহাপ্রলয়েতেও নষ্ট হয় না,একে দর্শন,স্পর্শন এবং প্রণাম করলে,ব্রক্ষহত‍্যাদি পাপ নষ্ট হয়।শঙ্খের নাভিদেশে অবস্থিত অক্ষয়বট ভগবানের বপুঃস্বরূপ।মহাপ্রলয়ের সময়,চরাচর বিনাশপ্রাপ্ত হবে জেনে,মহাবিষুর সুখশয‍্যারূপী অনন্তদেব,পাতাল হতে উত্থিত হয়ে, বটবৃক্ষরূপে স্থিতি করছেন।মন্দির প্রদক্ষিণ কালে অক্ষয়বট স্পর্শ করতে হয়।*
*🌹বটকৃষ্ণ=*
*🌷মার্কন্ডেয় বটে কৃষ্ণ রোহিণ‍্যাঞ্চ মহোদধৌ।*
*🌷ইন্দ্রদ‍্যুম্নসরঃ স্নাত্বা পুনর্জন্ম ন বিদ‍্যতে।।*
*🍀বটকৃষ্ণ ও মার্কন্ডেয় সম্বন্ধীয় মায়ার কাহিনী,আগেই বর্ণনা করা হয়েছে। মহর্ষি মার্কন্ডেয় বটবৃক্ষোপরি যে বালক মূর্তি দেখিয়েছিলেন, এবং যাঁর উদর মধ্যে প্রবেশ ও বাহির হয়েছিলেন,তিনি এই বটকৃষ্ণ।বটকৃষ্ণ পাষাণমূর্তি পরিগ্রহ করে,অক্ষয়বটের নিচে বসবাস করছেন।তাঁকে দর্শন করলে,কালভয় দূর হয়, এবং এখানে যা মানস করে,তা পূর্ণ হয়।অনেকে সন্তান হওয়ার মানস করে থাকে।এই বালমূর্তি দেখতে অতি মনোহারিণী।*
*🌻নৃসিংহদেব= ভগবান নৃসিংহদেব, দশাবতারের মধ্যে চতুর্থ অবতার।গীত গোবিন্দ গ্রন্থে ভক্তজয়দেব, এইরকম বর্ণনা করেছেন=*
*🌷তব কর-কমল-বরে নখমদ্ভুতশৃঙ্গং,*
*🌷দলিত-হিরণ‍্য-কশিপু-তনু-ভৃঙ্গং,*
*🌷কেশব ধৃত-নরহরি-রূপ জয় জগদীশ হরে।*
*🌺বিমলাদেবী ও অক্ষয়বটের মধ‍্যস্থানে,মুক্তি মন্ডপের কাছে,নৃসিংহদেব অবস্থিত।তাঁকে দর্শন ও পূজা করলে সর্ব পাপ ক্ষয় হয়।এই নৃসিংহদেব নখদ্বারা হিরণ‍্যকশিপুকে সংহার করেছিলেন ও প্রহ্লাদকে হিরণ‍্যকশিপুর দেওয়া বিষ প্রয়োগ,অগ্নি,জল,পর্বত, সর্পদংশ,হস্তিপদ-দলন ইত্যাদি,সমস্ত বিপদ হতে উদ্ধার করে,তাঁর দ্বারা হরিনাম প্রচার করিয়েছিলেন, এবং অবশেষে প্রহ্লাদের কথা রক্ষা করবার জন্য,স্ফটিক-স্তম্ভ হতে বাহির হয়ে,নৃসিংহ মূর্তি ধারণ করে,হিরণ‍্যকশিপুকে বধ করেছিলেন। অন্তর্ব্বেদী=*
*☘সমুদ্রতীর হতে অক্ষয়বটের মূল পর্যন্ত জায়গাকে ভগবানের অন্তর্ব্বেদী বলে।অন্তর্ব্বেদীর যে কোন স্থানে মৃত‍্যু হলে,জীব মুক্তি পেয়ে যায়।*
*🌷বটসাগরয়োর্মধ‍্যে মুক্তিস্থানে সুদুর্ল্লভে।*
*🌷তীর্থেহস্মিন্ খেচরে বাপি ধ্রুবং তে মুক্তিমাপ্নুয়ুঃ।।*
*🌸শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের নাট-মন্দিরে, গরুড়-স্তম্ভের নিকটবর্তী ভোগ মন্দিরের গায়,কয়েকটি দেবার মূর্তি আছে,তার মধ্যে ঘোড়ার উপর সৈনিক-বেশধারী যে দুই মূর্তি আছেন,তাঁদের একজন জগন্নাথ, আর একজল বলরাম।যিনি কৃষ্ণবর্ণ ঘোড়ার উপরে তিনি জগন্নাথ, যিনি শুভ্রবর্ণ ঘোড়ার উপরে তিনি বলরাম, উভয়েই যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হয়ে আছেন।ঢাল,তলোয়ার,ধনু ইত্যাদি প্রত‍্যেকের সঙ্গে রয়েছে।এই সম্বন্ধে একটি কিম্বদন্তী আছে যে,ভক্তকে রক্ষা করবার জন্য জগন্নাথ ও বলদেব যুদ্ধ করতে সৈনিক বেশ ধারণ করেছিলেন।ভক্তের জন্য ভগবান যে,সব কাজই করে থাকেন,তার দৃষ্টান্ত নিচে দেওয়া হল।*
*🔵শ্রীজগনাথক্ষেত্রে বহু মহাপুরুষের জন্ম হয়েছে।রাজাদের মধ্যে অনেকেই মহাপুরুষের মধ্যে গণ‍্য ছিলেন।সেই জন‍্যই ভগবান এই জায়গা,লীলাক্ষেত্রের উপযুক্ত ভূমি মনে করে অবতীর্ণ হয়েছেন।গঙ্গাবংশীয় নৃপতিগণের মধ্যে অনঙ্গভীমদেব একজন প্রবল পরাক্রান্ত ধর্মপরায়ণ নরপতি ছিলেন ; তিনি এই মন্দির-সংস্কার করেন।সেই বংশে নিঃশঙ্কভানুদেবের জন্ম হয়। তিনি অনেক ধর্মকার্য‍্য দ্বারা বিখ‍্যাত হয়েছিলেন।সেই বংশের উনিশতম রাজা কপিলচন্দ্রদেব, রাজ‍্য বিস্তার সহকারে মন্দিরের অনেক উন্নতি সাধন করেছিলেন। ইনি মন্দিরের বাইরের দেওল তৈরী করান।কপিলদেবের প্রধানা মহিষীর গর্ভজাত অষ্টাদশ পুত্র, এবং তাঁর ঔরসে দাসীর গর্ভজাত পুরুষোত্তমদেব নামক এক পুত্র ছিলেন।পুরুষোত্তমদেব জগন্নাথের পরমভক্ত ছিলেন।শ্রীজগন্নাথদেব স্বপ্নযোগে কপিলদেবকে আদেশ করেন যে,দাসীপুত্র পুরুষোত্তমদেবকে যৌবরাজ‍্য অভিষিক্ত করতে হবে। কপিলদেব জগন্নাথদেবের সেই আদেশ শিরোধার্য‍্য করে,প্রকৃত অধিকারী অষ্টাদশ পুত্র থাকা সত্ত্বেও,তাদেরকে যৌবরাজ‍্য অভিষিক্ত না করে,১৪৭৯ খৃষ্টাব্দে পুরুষোত্তমদেবকে যৌবরাজ‍্য অভিষিক্ত করেন।এই উপলক্ষ্যে পুরুষোত্তমদেবের সঙ্গে এই অষ্টাদশ পুত্রের নানা বিবাদ উপস্থিত হয়েছিল। কিন্তু জগন্নাথদেবের কৃপাতে পুরুষোত্তমদেবের কোন ক্ষতি করতে পারেন নাই।পুরুষোত্তমদেব যেমন বিষ্ণুভক্ত, তেমনি সুপন্ডিতও ছিলেন। অষ্টাদশ পুরাণ উপনিষদ্ তন্ত্র এই সমস্ত শাস্ত্র মন্থন করে "মুক্তি-চিন্তামণি" এই গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।*
🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৫)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🍀নীলাচলে মহাপ্রভু🍀*
               *শ্রীমন্দিরের বিবরণ*

*🌹মুক্তিচিন্তামণি গ্রন্থের প্রারম্ভে লিখেছেন=*
*🌷নানাগম-স্মৃতি-পুরাণ-মহাব্ধিমধ‍্যাদুদ্ধৃত‍্য,*
*🌷বুদ্ধিমথনেন হরেঃ প্রসাদাৎ।*
*🌷বাক‍্যানি যানি বিলিখানি বিমুক্তয়েহহং,*
*🌷সন্তস্তদর্থমনিশং পরিপালয়ন্তু।।*
*🌷বিনাপ‍্যষ্টাঙ্গযোগেন বিনাপ‍্যধ‍্যয়ন‍ানি চ।*
*🌷মুক্তিচিন্তামণিস্ত্বেষ মোক্ষদঃ সর্বদেহিনাম্।।*
*🔶রাজা স্বয়ং সিংহাসনে আরোহণ না করে, শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবকে প্রকৃত রাজা বলে ঘোষণা করেছিলেন। তিনি নিজেকে জগন্নাথের ভৃত‍্য মনে করে,রাজকার্য‍্য সম্পন্ন করতেন।ইঁনার সময়ে ভিতরের দেউল নির্মিত হয়।পূর্বে যে মূর্তির কথা বলা হয়েছে,এই পুরুষো‍ত্তমদেবকে রক্ষা করবার জন্য,শ্রীজগন্নাথ ঐ মূর্তি ধারণ করেছিলেন এবং তারদ্বারা জগজ্জনকে দেখিয়েছেন যে, "ন মে ভক্তঃ প্রণশ‍্যতি", আমার ভক্ত কিছুতেই বিনাশ প্রাপ্ত হন না,তাঁকে আমি রক্ষা করি।এই রাজার সম্বন্ধীয় নিম্নলিখিত ঘটনা,এর একটি প্রধান দৃষ্টান্ত স্থল।*
*🌻রাজা পুরুষোত্তমদেবের,কোন সময়ে কাঞ্চীনগরের রাজাকে জয় করবার কারণ উদ্ভব হয়।তদনুসারে তিনি যুদ্ধে যাত্রা করেন।শ্রীজগন্নাথ ও বলরাম উভয়ে পুরুষোত্তমের পক্ষে, শুক্ল ও কৃষ্ণবর্ণ ঘোড়াতে আরোহণ করে, প্রচ্ছন্নভাবে বা আবৃত সৈনিক বেশে যুদ্ধস্থলে উপস্থিত হন।রাজা তা কিছুই জানতেন না।ভগবৎ-কৃপায় কর্ণাট প্রদেশ জয় করে হল,কাঞ্চীনগরের রাজা পরাজিত হলেন।জগন্নাথ ও বলরামদেব প্রত‍্যাবর্তনকালে মাণিক‍্য নামে এক গোয়ালিনীর নিকট হতে,দধি কিনে নেন, এবং জগন্নাথের হাতের আঙ্গুলের আংঠি গোয়ালানীর কাছে বন্ধক রাখেন।গোয়ালিনীকে বললেন, আমার পেছনে যে রাজা আসছেন, তিনিই তোমার দধির দাম দিয়ে অঙ্গুরী ফেরৎ নিবেন।এইকথা বলে উভয়ে প্রস্থান করলেন।গোয়ালিনী তদনুসারে রাজা আসিবামাত্র,সমস্ত বিবরণ বলে আংঠি দেখালেন।রাজা ঐ আংঠি দেখামাত্রই বুঝতে পারলেন যে,এটি জগন্নাথদেবের অঙ্গুরী, এবং জগন্নাথ ও বলরাম যোদ্ধাবেশে তাঁর সহায়তা করেছেন।*
*রাজা তখন বুঝলেন, ভগবান ভক্তের জন্য কতদূর কিভাবে কৃপা করে থাকেন, এবং এই জন‍্যই ভগবান অর্জুনের রথের সারথি হয়েছিলেন।তখন রাজা ভগবানের ভাবে বিভোর হলেন এবং মাণিক‍্য নামে গোয়ালিনীকে চরমধন‍্য মনে করতে লাগলেন, শত-সহস্র জন্মের সুকৃতির ফলে এমনটি লাভ করা যায়।সেই দিন হতে,ঐ গোয়ালিনীর নাম অনুসারে,অদ‍্যাবধি ঐ গ্রামের মাণিক‍্য পট্টনা নাম বতর্মান আছে।মনে হয়,তদনুসারেই মন্দির মধ্যেও শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও বলরামের যোদ্ধাবেশে মূর্তি ও গোয়ালিনীর দধিভান্ডবাহিনী মূর্তি, তিনিই অঙ্কিত করেছিলেন।সেই মূর্তিই এই মূর্তি। ভগবানের ভক্তবৎসলতার চিহ্ন-স্বরূপ বতর্মান আছে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🦚নীলাচলে মহাপ্রভু🦚*
*শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের নিত‍্য পূজাপদ্ধতি*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*☘প্রথম ভোরবেলা দরজা খুলে মঙ্গল আরতি হয়।তৎপর অবকাশ হয়,অর্থ‍্যাৎ দন্তধাবন ও স্নান হয়, এবং তারপর শিঙ্গার হয়,পরে ধূপ বা বাল‍্যভোগ হয়।এতে ক্ষীর,নবনী,দধি, নারিকেল,মুড়কি,মাখন,পাপড়ী,হংসকলী দেওয়া হয়।রাজভোগ, খেচরান্ন, বড়া ও পিষ্টকাদি দ্বারা হয়ে থাকে।তারপরে অন্নব‍্যঞ্জনাদি ভোগ হয়।মধ‍্যাহ্ন-ধূপ বা দ্বিপ্রহর-ধূপ বা ভোগ যথা,তিপুরী,নারী,আরিসা,মাধুকূরী, মালপোয়া,উপাধিভোগ, ও অন্ন ব‍্যঞ্জনাদি দেওয়া হয়।অন্নভোগ ইত্যাদি ভোগমন্ডপে দেওয়া হয়।সরশুয়ারি,পাখাল (পান্তা)সরবত, বড়াপিঠা,ঘি-ভাত হয়।পরে শিঙ্গার অর্থ‍্যাৎ বেশ হয়।এর পর আরতি হয়, আরতি হয়ে চারটা পর্যন্ত দরজা বন্ধ থাকে, এই সময়ে জগন্নাথদেব নিদ্রা যান।চারটার পর জগন্নাথদেবের নিদ্রা ভঙ্গ হয়,নিদ্রা ভঙ্গ হবার পর জিলাপী ভোগ দেওয়া হয়। সান্ধ‍্য-ধূপ বা অপরাহ্নভোগ,এটি আরতি হবার পর দেওয়া হয়।এতে খাজা,গজা, মতিচূর,দধি প্রভৃতি নানারকম দ্রব‍্য দেওয়া হয়।সন্ধ‍্যাভোগের পর চন্দনাদি অর্থ‍্যাৎ চন্দন লেপন করা হয়।ইতঃপর নৈশভোগ বা বড় শিঙ্গার ভোগ।নৈশভোগের আগে, বেশ পরিবর্তিত হয়ে নানা সুগন্ধ পুষ্পমালা দ্বারা তিনি ভূষিত হন।এই সময়ে বীণাকরের বাদ‍্য ও গীতগোবিন্দ পাঠ হয়ে থাকে।🌺গীতগোবিন্দ পাঠ সম্বন্ধে একটি আখ‍্যায়িকা আছে। এই ঘটনার আগে শ্রীশ্রীজন্নাথদেবের কাছে গীত-গোবিন্দ পাঠ হত না।এক সময়ে একটি স্ত্রীলোক বেগুনক্ষেতে বেগুন তুলছিল আর গীতগোবিন্দ গাইছিল।গীতগোবিন্দ শ্রীজগন্নাথের অতি প্রিয়,এত প্রিয় যে, যেখানে গীতগোবিন্দ পাঠ হয় বা গীত বা গান হয় সেখানে জগন্নাথ উপস্থিত হন।*
*🌷নাহং তিষ্ঠামি বৈকুন্ঠে যোগীনাং হৃদয়ে ন চ।*
*🌷মদ্ভক্তাঃ যত্র গায়ন্তি তত্র তিষ্ঠামি নারদ।।*
*🌹এইকথার সার্থকতা বুঝাবার জন্য ভগবান সেই বেগুন ক্ষেতে বেগুনওয়ালীর মুখে গীতগোবিন্দ গান শুনতে উপস্থিত হলেন। এবং সেই বেগুনওয়ালীর পেছন পেছন ধাবিত হওয়াতে তাঁর উত্তরীয় বসন ছিন্ন হয়েছিল।এই বসন ছিন্ন হবার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সেবক জানতে পারলেন অর্থ‍্যাৎ ভগবান জানালেন যে,এক বেগুনওয়ালী গীত-গোবিন্দ গাইতেছিল, তার পেছনে অনুসরণ করাতে বসন ছিন্ন হয়েছে।"গীতগোবিন্দ আমার অতি প্রিয়" তখন হতে মন্দিরে গীত-গোবিন্দ পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। গীত-গোবিন্দ পাঠান্তে নৈশভোগ হয়, এতে নানানরকম ঘৃতপক্ক দ্রব‍্য,পিষ্টকাদি ও মিষ্ট সামগ্রী দেওয়া হয়।এই সময়েই রাজবাড়ীর প্রেরিত গোপালবল্লভ ভোগও দেওয়া হয়।ভোগ শেষ হলে দেবদাসীর নৃত্য,গীত,ও বাদ‍্যাদি বাজিয়ে, শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রাত্রি নিদ্রা হয়, একে রাত্রি "পহুড়"বলে।প্রাতঃকালে মঙ্গলাতির শেষে, এবং সন্ধ‍্যাকালেও সন্ধ‍্যারতির শেষে,সাধারণের মণিকোঠাতে প্রভুর দর্শন লাভ হয়ে থাকে।*
*জগনাথ ও বলরামের পূজা বিষ্ণুমন্ত্রে এবং সুভদ্রাদেবীর পূজা শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর মন্ত্রেতে হয়ে থাকে। শ্রীশ্রীবলদেবের ধ‍্যান=*
*🌷বলঞ্চ শুভ্রবর্ণাভং শারদেন্দুসমপ্রভম্।*
*🌷কৈলাসশিখরাকারং ফণাবিকটবিস্থরম্।।*
*🌷নীলাম্বরধরং স্নিগ্ধং বলং বলমদোদ্ধধতম্।*
*🌷কুন্ডলৈকধরং দিব‍্যং মহামূষলধারিণম্।*
*🌷মহাবলং বলধরং রৌহিণেয়ং প্রভুম্।।*
*🔵শ্রীশীসুভদ্রাদেবীর ধ‍্যান=*
*🌷সুভদ্রাং স্বর্ণপদ্মাভাং পদ্মপত্রায়তেক্ষণাম্।*
*🌷বিচিত্র-বস্ত্র-সংচ্ছন্নাং হারকেয়ূর শোভিতাম্।।*
*🌷বিচিত্রাভরণোপেতাং মুক্তাহার বিলম্বিতাং।*
*🌷পীনোন্নত-কুচাং রম‍্যামাদ‍্যাং প্রকৃতিরূপিকাম্।।*
*🌷ভুক্তিমুক্তিপ্রদাত্রীঞ্চ ধ‍্যায়েত্তামম্বিকাং পরাম্।।*
*🌻শ্রীশ্রীজগন্নাথের ধ‍্যান=*
*🌷পীনাঙ্গং দ্বিভুজং কৃষ্ণং পদ্মপত্রায়তেক্ষণম্।*
*🌷মহোরস্কং মহাবাহুং পীতবস্ত্রং শুভাননম্।।*
*🌷শঙ্খচক্রগদাপাণিং মুকুটাঙ্গদভূষণম্।*
*🌷সর্বলক্ষণ-সংযুক্তং বনমালা-বিভূষিতং।।*
*🌷দেব-দানব-গন্ধর্বং-যক্ষ-বিদ‍্যাধরোরগৈঃ।*
*🌷সেব‍্যমানং সদাদারুং কোটিসূর্য‍্যসমপ্রভম্।*
*🌷ধ‍্যায়েন্নারায়ণং দেবং চতুর্ব্বর্গ ফলপ্রদং।।*
*🌻সুদর্শনের ধ‍্যান=*
*🌷সুদর্শন নমস্তেহস্তু বিষ্ণুশস্ত্র নমোহস্তু তে।*
*🌷নমস্তুভ‍্যং,নমস্তুভ‍্যং,নমস্তুভ‍্যং,নমোনমঃ।।*
🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭)শ্রীশ্রীজগনাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🌿নীলাচলে মহাপ্রভু🌿*
*শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের নিত‍্য পূজাপদ্ধতি।*
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
*🌹পূজার বিধান,তান্ত্রিক এবং বৈদিক উভয় মতের সামঞ্জস্য করে বিহিত হয়েছে।কাজেই,এখানে কোন সম্প্রদায়েরই ভেদাভেদ নাই।এখানে শাক্ত বৈষ্ণবের মারামারি নাই।প্রসাদের মাহাত্ম্য সর্বজনস্পৃষ্ট হলেও নষ্ট হয় না। সুতরাং নীচজাতিতে যে হেয় জ্ঞান,তা এখানে নাই।শ্রীশ্রীজগন্নাথের মূর্তি,প্রসাদ মাহাত্ম্য এবং সর্বজাতিতে সমভাব দেখে,ইঁহাকে ব্রহ্ম বস্তুরই প্রতিকৃতি বলে মনে হয়।ব্রহ্মের কোন মূর্তি নাই, তিনি নিরাকার বলে শাস্ত্রে কথিত হয়েছে।এখানে সেইব্রহ্ম পদার্থকেই নিরাকার বলে পূজা করা হয়েছে। সমস্ত অবতারের মূর্তিই ব্রহ্মের স্বরূপ ; কিন্তু শ্রীশ্রীজগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রা মূরতি,তা হতে কিছু ভিন্ন আছে, এই তিনমূর্তির হাতও নেই, চরণও নেই। এই মূর্তি যেরকমভাবে গঠিত,তাতে সাধারণ লোকে মনে করে, এবং এরকম জনশ্রুতিও আছে যে,এই তিনমূর্তি সম্পূর্ণ গঠিত হওয়ার আগেই মূতিনির্মাণ গৃহের দ্বার খোলা হয়েছিল,তারজন‍্যই হাত-পা বিহীন,সময়ের পূর্বে দরজা খোলার কারণে মূর্তি নির্মাণক পরিপূর্ণ মূতি নার্মাণ করতে সক্ষম হননি,কথা ছিল, একুশদিন পূর্বে কেউ দরজা খুলবেন না, কিন্তু তার পূর্বে দরজা খোলার জন্য এই মূতি দেখা যায়।পরবর্তীকালে স্বপ্নাদেশে এই মূর্তিই প্রতিষ্ঠা করা হয়।🍀কিন্তু বাস্তবিক তা নহে,শাস্ত্রও তা বলে না। "অপাণিপাদো যবনোগৃহীতা", এই শ্রুতিরই প্রমাণস্বরূপ হস্ত-পদ অসম্পূর্ণ করা হয়েছে।পরন্তু এই মূর্তি দর্শনমাত্রেই,বিরাটভাবের আভাস হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়। শ্রীজগন্নাথদেবের চক্ষু দর্শন করলেই,একটি মহান ভাবের উদয় হয়,তা যাঁরা ভাল করে লক্ষ্য করেছেন,তাঁরা বুঝতে পেরেছেন। ভগবান অর্জুনকে যে বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলেন,এই মূর্তি দেখে তার আভাস পাওয়া যায়,যথা=*
*🌷অনাদিমধ‍্যান্তমনন্তবীর্য‍্যম্,*
*🌷অনন্তবাহুং শশিসূর্য‍্যনেত্রম্।*
*🌷পশ‍্যামি ত্বাং দীপ্ত-হুতাশ-বক্ত্রং,*
*🌷স্বতেজসা বিশ্চমিদং তপন্তং।।*
*🌹শাস্ত্রও এই বিরাট আকারের প্রতিমূর্তিরই সাক্ষ‍্য দিচ্ছে।এই সমস্ত অবস্থা বিবেচনা করে,শ্রীজগন্নাথদেবের দারুময় মূর্তি, ভগবানের বিরাট আকারের প্রতিমূর্তি (REPRESENTATION) বলে আমাদের ধারণা হয়েছে।এটি শিল্পীর সুকৌশলতার অভাব, অথবা বৌদ্ধ প্রতিমূর্তির যন্ত্র নহে।কারও কারও মতে,এই মূর্তি ওঁকারের যন্ত্রস্বরূপ।ওঁকার ত্রিগুণাত্মক বলে,ব্রহ্মবস্তু তিনভাগে বিভক্ত হয়েছেন।কেউ কেউ বলেন যে,এই তিন মূর্তি পরমাত্মা, জীবাত্মা ও মায়ার প্রতিকৃতি।হাত-পা নেই,এর অর্থ যে তিনি নিষ্ক্রিয়। যে বৃক্ষ ভেসে এসেছিল,তা ব্রহ্মস্বরূপ,সেই বৃক্ষ হতেই জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রা নির্মিত হয়েছেন ; সুতরাং সেই ব্রহ্ম পদার্থই তিনভাগে বিভক্ত হয়েছেন। আমরা ইঁনাদেরকে জ্ঞান,কর্ম ও ভক্তির প্রতিনিধি বলে মনে করি।গীতা অনুসারে, ভক্তি অর্থ‍্যাৎ সুভদ্রা মধ‍্যবর্তী হয়েছেন।*
🪷🌷🪷🌷🪷🌷🪷🌷🪷🌷🪷🌷🦚

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🍁নীলাচলে মহাপ্রভু🍁*
          *মন্দিরের সেবকমন্ডলী*
         °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের সেবকমন্ডলীর বর্ণনা ও মন্তব‍্য, মহামহোপাধ‍্যায় শ্রীযুক্ত সদাশিব মিশ্র মহাশয়ের "জগন্নাথ মাহাত্ম্য" গ্রন্থ হতে উদ্ধৃত করা গেল।*
*এই মন্দিরে ছত্রিশটি সেবক, ছত্রিশটি বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত আছেন,এইজন‍্য ইঁনাদেরকে ছত্রিশ-নিয়োগ বলে অভিহিত করা হয়।ইঁনাদের মধ্যে কয়েকটি প্রধান প্রধান নিয়োগের নাম নিচে দেওয়া হল।*
*১)পান্ডা নিয়োগ=ইঁনারা জগন্নাথদেবের পূজা কার্য‍্য করেন*
*২)পশুপালক নিয়োগ=অর্থ‍্যাৎ ইঁনারা ভগবানের বেশ করবার জন্য,পুষ্পাদি রক্ষাপ্রযুক্ত, শুদ্ধভাষায় "পুষ্মপালক", অথবা পশুদেবতা,তাঁদের রক্ষা করা প্রযুক্ত,পশুপালক নামে অভিহিত।*
*৩)সূপকার নিয়োগ=ইঁনারা প্রভুর পাক কার্য‍্য নির্বাহ করে।*
*৪)প্রতিহারী নিয়োগ=বহির্দ্বারের রক্ষণাবেক্ষণ এদের কাজ।*
*৫)খুন্টিয়া নিয়োগ=এরা মন্দিরান্তর্বতী কপাট গুলির রক্ষক*
*৬)গরাবড়ু নিয়োগ=এরা সমস্ত দেবতাদের আবশ‍্যকীয় জল যোগায়।*
*৭)বিমানবড়ু নিয়োগ= সংস্কৃতে বিমানবডৃ নিয়োগ,এরা প্রভুর যাত্রা সময়ে বিমান বহন করে।*
*৮)দইতা নিয়োগ=এরা "ক্ষেত্র-মাহাত্ম‍্য" বিশ্বাবসু বংশীয়।এরা দেবতার কলেবর পরিবর্তন ও পাহন্ডি বিজয় প্রভৃতি কাজ করে থাকে।*
*৯)বিদ‍্যাপতি নিয়োগ=এরা দেবতার দয়িতাদের সঙ্গে সমস্ত কাজ এবং অনবসর সময়ে পূজা সম্পাদন করে,এরা বিদ‍্যাপতি বংশীয়।*
*১০)ভিতর ছেউ নিয়োগ=এরা মন্দিরের ভিতরের দরজা সব মুদ্রাচিহ্ন দিয়ে বন্ধ করে এবং সময়ে সময়ে কাজ বিশেষে দেবতার পূজাও করে।*
*১১)সেকাপ নিয়োগ=এরা মন্দিরের যাবতীয় জিনিসপত্রের রক্ষক।*
*১২)তটাউ নিয়োগ=এরা মন্দিরের যাবতীয় কাজের লেখক।*
*১৩)দেউলকরণ নিয়োগ=ইনারা মন্দিরে আয়-ব‍্যয় লেখক।*
*১৪)উড়িষ‍্যার রাজ-নিয়োগ= ইঁনারাও একটি নিয়োগরূপে পরিগণিত।ইঁনারা স্নানপূর্ণিমা প্রভৃতি সময়ে কতগুলি সেবা কার্য‍্য করে থাকেন।*
*১৫)মুদিরথ নিয়োগ=সংস্কৃত নাম মুদ্রাহস্ত।ইঁনারা রাজার অনুপস্থিত সময়ে,রাজকীয় কাজ সব প্রতিনিধিস্বরূপে নির্বিহ করেন।এইরূপ নিয়োগ সমূহের কার্য‍্যাবলী নির্ধারিত হয়েছে।*
*পাঠকগণ দেখুন,আধুনিক সরকারের কাজকর্ম যেরকম বন্দোবস্ত করছেন,আজ হতে বহু বৎসর আগেও পুরীর মন্দিরের কাজকর্মের বন্দোবস্ত তদপেক্ষা কোন অংশে কম ছিল বলে দেখা যায় না।আর একটি বিশেষত্ব দেখুন, বতর্মান সব রাজকীয় বিভাগে বহু কর্মচারী নিযুক্ত হয়েছেন,তাঁদের দেখাশোনার জন্য তত্ত্বাবধারক নিযুক্ত হয়েছেন,তবুও অনেক জায়গায় বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। কিন্তু আবহমান কাল হতে পুরীর পরিচর্য‍্যাকারকগণ শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে নিযুক্ত হয়েছেন,যেন প্রত‍্যেক ব‍্যক্তি নিজ নিজ কাজে অনুরাগ-সহকারে উপস্থিত হয়ে কার্য‍্য সম্পন্ন করে ; কারণ যে ব‍্যক্তি যে কাজে নিযুক্ত,সে ছাড়া অন‍্য দ্বারা ষে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না, অতএব সকলে নিজ নিজ কাজে তৎপর থাকে।মহামহোপাধ‍্যায় সদিশিব মিশ্র মহাশয় নিয়োগদের বন্দোবস্ত সম্বন্ধে প্রশংসা করে,যে মন্তব্য প্রকাশ করেছেন,তা সম্পূর্ণ সত‍্য।এইরকম সুশৃঙ্খলভাবে কাজ সম্পন্ন কোথাও দেখা যায় না।কেবল পুরুষকারের(দৈবনিরপেক্ষ প্রযত্ন বা উদ‍্যমের) দিক দিয়ে যাঁরা দেখতে যান,তাঁদের পক্ষে এই মন্তব্যই ঠিক ; কিন্তু আমরা এর উপর আর কিছু যোগ না করলে, মন্তব্য সম্পূর্ণ সমীচীন হয়েছে বলে মনে করতে পারি না।যেখানে কেবল পুরুষকারের দ্বারা কাজ পরিচালিত হচ্ছে,দেখছি সে শক্তি বহুদিন স্থায়ী হয় না।কতদিন পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলে,তারপরে আবার পুনঃ মুষিক ভবঃ,অর্থ‍্যাৎ আগের মত অগোছালো ভাবে চলে আসে।নানারকম গন্ডগোল বেধে যায়।পুরীতে সে আবহমান কাল হতে,এইরকম সুশৃঙ্খলভাবে কাজ চলে আসছে,তার কারণ কেবল পরিশ্রমের বিভাগ সুশৃঙ্খলভাবে পর্য‍্যাপ্ত হয়েছে বলেই মনে করি, না আরও কিছু আছে?আমরা যোগ করতে চাই--,শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের কৃপা, জগন্নাথদেবের নিজের প্রতিজ্ঞা,পুরীবাসী সেবকদের ভক্তি ও বিশ্বাস।শ্রীজগন্নাথ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন রাজার কাছে প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন যে,পরার্দ্ধকাল (ব্রহ্মার একদিন বা একরাত্রিকে পরার্দ্ধকাল বলে, "সত‍্য,ত্রেতা,দ্বাপর,কলি চারযুগ জানি। এই চারযুগকে এক দিব‍্যযুগ মানি।।একাত্তর দিব‍্যযুগে এক মন্বন্তর।চোদ্দ মন্বন্তরে ব্রহ্মার এক দিবস ভিতর।। অর্থ‍্যাৎ মানব সমাজে চারশ উনত্রিশ কোটি, চল্লিশ লক্ষ,আশী হাজার বৎসরে ব্রহ্মার এক পরার্দ্ধকাল)।জগন্নাথদেব প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন যে, এক পরার্দ্ধকাল এখানে বাস করবেন, সুতরাং তাঁর কাজ তিনিই করেন, "লোকে বলে আমি করি" তাতেই এত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে।*
*🌻দ্বিতীয়তঃ কারণ এই, সেই সময়ে জগন্নাথের সেবকগণ লেখাপড়া কিছুই জানতেন না,বুদ্ধিও তাঁদের তেমন তীক্ষ্ণ ছিল না। কিন্তু একটি বস্তু তাঁদের মধ্যে ছিল,তা অন‍্যের মধ্যে দেখা যেত না,তা হচ্ছে শ্রীজগনাথের প্রতি তাঁদের অচলা ভক্তি।এই ভক্তি দ্বারা জগন্নাথকে একেবারে তাঁরা অতি নিজের করে ফেলেছিলেন, এই ভক্তি যে সময়ে তাঁরা হারাবেন,তখন দেখবেন, আমাদের পুরুষকারের যতরকম বন্ধনরজ্জু সমস্তই হালকা হয়ে যাবে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🦚নীলাচলে মহাপ্রভু🦚*
*🪔মহাপ্রসাদ ও নির্মাল‍্য-মাহাত্ম‍্য*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪔
*🍀শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ ও নির্মাল‍্য মাহাত্ম্য সম্বন্ধে আগেই মুখবন্ধে সামান্যকিছু বর্ণন করেছি, এখন বিশেষরূপেও স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করব।মহাপ্রসাদ যতক্ষণ পর্যন্ত পাকশালায় থাকে,অথবা মন্দিরের পূজারী কর্তৃক আনীত হয়,তখনও মহাপ্রসাদ বলিয়া গণ‍্য হয় না। নিবেদন হওয়ার পর হতেই, এটি মহাপ্রসাদ বলে গণ‍্য হয়,তখন আর তাদের স্পৃষ্টদোষ থাকে না।এর প্রমাণ নিচে দেওয়া হল,যথা, পদ্মপুরাণে---*
*🌷তত্রান্নপাচিকা লক্ষ্মীঃ স্বয়ং ভোক্তা জনার্দ্দনঃ।*
*🌷তস্মাৎ তদন্নং বিপ্রর্ষে দৈবতৈরপি দুর্ল্লভম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ এখানে লক্ষ্মীদেবী স্বয়ং রন্ধন করেন, স্বয়ং বিষ্ণু তাঁর ভোক্তা ; এই অন্ন অতি পবিত্র,দেবতাদেরও দুর্লভ।*
*🌹বিষ্ণুপুরাণে পাই----*
*🌷নৈবেদ‍্যং জগদীশস‍্য অন্নপাকাদিকঞ্চ যৎ।*
*🌷ভক্ষ‍্যাভক্ষ‍্যবিচারস্তু নাস্তি তদ্ ভক্ষণে দ্বিজ।।*
*🌻হে দ্বিজ!জগন্নাথকে অন্নপানাদি যা উৎসর্গ করে দেওয়া হয়,তাতে ভক্ষ‍্যাভক্ষ‍্যের বিচার নাই*।
*🌷অতিপাতক-পাপানি মহাপাপানি যানি চ।*
*🌷তানি সর্বাণি নশ‍্যন্তি জগন্নাথান্ন ভক্ষণাৎ।।*
*🌺অতিপাপী,মহাপাপীদের সমস্ত পাপ, জগন্নাথের অন্ন ভক্ষণ করলেই সব পাপ নাশ হয়।*
*🌷জগন্নাথস‍্য নৈবেদ‍্যং মহাপাতকনাশনং।*
*🌷ভক্ষণাৎ ফলমাপ্নোতি কপিলাকোটিদানজং।।*
*🌹শ্রীজগন্নাথের নৈবেদ‍্য ভক্ষণে মহাপাতক নাশ হয় একোটি গো-দানের ফল হয়।*
*🌷ন কালনিয়মো বিপ্রা ব্রতে চান্দ্রায়ণে তথা।*
*🌷প্রাপ্তিমাত্রেণ ভুঞ্জীয়াৎ যদীচ্ছেন্মোক্ষমাত্মনঃ।।*
*🔵গরুড় পুরাণে,মহাপ্রসাদ ভক্ষণের কোন নির্দিষ্ট সময় নাই।চান্দ্রায়ণ ব্রতেরও কোন কালনিয়ম নাই।মোক্ষাভিলাষী ব‍্যক্তি মহাপ্রসাদ উপস্থিত হওয়ামাত্র,কোন বিচার না করে ভক্ষণ করবে।*
*🔷আবার বিষ্ণু পুরাণে লেখা আছে =*
*🌷জগন্নাথস‍্য নৈবেদ‍্যং নাস্তি সংস্পৃষ্ট-দূষণং।*
*🌷সকৃৎ ভক্ষণমাত্রেণ পাপেভ‍্যো মুচ‍্যতে পুমান্।।*
*🔴শ্রীজগনাথের প্রসাদেতে সংস্পৃষ্টদোষ(ছোঁয়া)হয় না।একবার প্রসাদ ভক্ষণ মাত্রেই সমস্ত পাপ হতে বিমুক্ত হয়।*
*🔶স্কন্দ পুরাণে পাওয়া যায় =*
*🌷মহাপবিত্রং হি হরের্নিবেদিতং,*
*🌷নিযোজয়েদ্ যঃ পিতৃদেবকর্মষু।*
*🌷তেপ‍্যন্তি তস্মৈ পিতরঃ পুরা তথা,*
*🌷প্রযান্তি লোকং মধুসূদনস‍্য তে।।*
*🌻শ্রীহরিকে নিবেদিত অন্ন অতি পবিত্র,পিতৃকর্মে ও দেবকর্মে উৎসর্গ করলে,সমস্ত পিতৃকুল ও দেবতাগণ তৃপ্তিলাভ করেন, এবং তাঁরা ভগবদ্ধামে গমন করেন।*
*🌷কুক্কুরস‍্য মুখাদ্ ভ্রষ্টং মমান্নং যদি জায়তে।*
*🌷ব্রহ্মাদ‍্যৈরপি তদ্ ভক্ষ‍্যং ভাগ‍্যতে যদি লভ‍্যতে।।*
*🌹শ্রীভগবান্ বলেছেন,যদি আমার নিবেদিত অন্ন কুকুরের মুখ হতে পড়ে, এবং ব্রহ্মাদি দেবগণ যদি সৌভাগ্যক্রমে লাভ করেন,তাহলে তাদেরও ভক্ষণীয়।*
*🌷শুষ্কং পর্য‍্যুষিতং বাপি নীতং বা দূরদেশতঃ।*
*🌷দুর্জ্জনেনাপি সংস্পৃষ্টং সর্ব্বস‍্যৈবাঘনাশনং।।*
*🌻শুকনো হোক,অথবা পর্য‍্যুষিত (অনন্ত একদিনের বাসি)হোক,অথবা একদেশ থাকে অন‍্যদেশে আনা হোক,অস্পৃশ‍্য জাতি দ্বারা র্সস্পৃষ্ট হলেও সেই মহাপ্রসাদে সমস্ত পাপ নাশ হয়, এবং তার মাহাত্ম্য কখনও কমে না*।
*🌹এই মহাপ্রসাদ মাহাত্ম্য সম্বন্ধে,একটি উপাখ‍্যান কথিত আছে। কথিত আছে যে,একটি আচারনিষ্ঠ বেদপারগ ব্রাহ্মণ, সপরিবারে জগন্নাথ-দেবের দর্শনের জন্য জগন্নাথ ক্ষেত্রে উপস্থিত হন ; এবং যথাবিধি শাস্ত্রোক্ত কাজ অনুষ্ঠান করেন।পন্ডিত মাত্রেই কিছু যুক্তি-শাস্ত্রের পক্ষপাতী।তাঁরা মহাপ্রসাদ সম্বন্ধেও নানা কূট তর্ক উপস্থিত করে,সকলের সম্বন্ধে মহাপ্রসাদ গ্রহণীয় কিনা, এবং শাস্ত্রসিদ্ধ কিনা তা বিচার না করে ছাড়েন না।এই ব্রাহ্মণ সম্বন্ধেও তাইই ঘটল।তাঁর বিচারে মহাপ্রসাদ তাঁর পক্ষে ভক্ষণীয় না বলে ঠিক করলেন।তিনি জানেন না যে,এই জায়গা শ্রুতি স্মৃতি পুরাণের অতীত।*
*🌷দক্ষিণোদধিতীরস্থং দারুব্রহ্ম সনাতনং।*
*🌷বিনা সাংখ‍্যং বিনা যোগং দর্শনাৎ মুক্তিদং ধ্রুবং।।*
*🌷শ্রুতি-স্মৃত‍্যুক্ত-নিয়মা বিদ‍্যন্তে নেহ পার্থিব।।*
*🍀তিনি এই শাস্ত্র পুরোপুরি ভাবে অবগত ছিলেন না, সুতরাং তিনি তাঁর গন্ডীর ভিতরেই রয়ে গেলেন। তিনি আর মহাপ্রসাদ ভক্ষণ করলেন না। কিন্তু অচিরাৎ তিনি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন।বিচার করে বুঝতে পারেন না,এইরকম পাপজ ব‍্যাধি তাঁর কেন হল, তিনি এখানে এসে,এমন কি মহাপাপ করলেন যে জন্য এরকম ব‍্যাধি তাঁর হতে পারে।এইরকম চিন্তা করে রাত্রিতে শয়ন করে আছেন,এমন সময় স্বপ্ন দেখলেন যে,মহাপ্রসাদ অবজ্ঞার জন্য তাঁর গুরুতর অপরাধ হয়েছে।তারজন‍্যই তাঁর এই ব‍্যাধি।এখানে বিধিশাস্ত্রের প্রাধান‍্য নাই,এটি প্রেমের ক্ষেত্র, রাগানুগামার্গে ইহায় ভজন। সুতরাং তিনি যে বিধিশাস্ত্র অনুসারে বিচার করে প্রসাদ অবজ্ঞা করেছেন,তারজন‍্য তাঁর মহাপাপ হয়েছে।তিনি স্বপ্নে আদেশ পেলেন যে, তিনি যদি এই অন্ন মহাপ্রসাদ ভক্তি সহকারে পুনরায় গ্রহণ করেন, তাহলেই তিনি রোগমুক্ত হবেন। তার পরদিনই অতি শ্রদ্ধার সহিত মহাপ্রসাদ ভক্ষণ করে,তিনি সেই দুশ্চিকিৎস‍্য রোগ হতে মুক্ত হলেন। এটি যে প্রেমের ক্ষেত্র,বিধিমার্গ অনুসারে ভজন হয় না,তার একটি গল্প বলছি এবং সত‍্য।*
*শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গদেব সন্ন‍্যাস ধর্ম গ্রহণ করে,যখন জগন্নাথে এসেছিলেন, সেই সময়ে তাঁর সঙ্গে বহু ভক্তমন্ডলী উপস্থিত হয়েছিলেন। পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি মহাপ্রভুর একজন পরমভক্ত।তিনি একদিন শ্রীজগন্নাথদেব দর্শন করতে গিয়ে,দেখেন জগন্নাথকে যত বস্ত্র দেওয়া হয়েছে,তার কোনটিও ধূয়ে দেওয়া হয়নি।শাস্ত্র অনুসারে তা অবৈধ হয়েছে।এ বিষয়ে তিনি অন‍্যান‍্য ভক্তগণের সঙ্গে আলোচনা করেন।সেইদিন রাত্রিতে তিনি শুয়ে আছেন, এমন সময় নিদ্রাযোগে শ্রীজগন্নাথদের আবির্ভূত হয়ে,ক্রমাগত তাঁর গালে থাপ্পড় মারছেন, এবং বলছেন যে,তোমার একনও এ জ্ঞান হল না যে,জগন্নাথক্ষেত্র বিধিশাস্ত্রের অতীত।নিদ্রা ভঙ্গ হয়ে দেখেন যে তাঁর গালে থাপ্পড়ের আঘাতে গাল ফুলে গেছে।পরদিন সকালবেলা আন‍্যান‍্য ভক্তগণ তাঁর কাছে দেখা করবার জন্য উপস্থিত হলেন, কিন্তু তিনি সেদিন বাইরের ঘরে আসিলেন না।তারপর অনেকে ভিতর বাড়ীতে প্রবেশ করে তথ‍্য অনুসন্ধান করলেন। তখন তিনি তাঁদেরকে গত রাত্রের সমস্ত বৃত্তান্ত বলে,তাঁর গন্ডদেশ ফুলে গেছে তা দেখালেন।তখন সকলেই জগন্নাথের যথেষ্ট কৃপা বলে মনে করলেন, এবং এই ক্ষেত্র বিধি নিষেধের অতীত স্থান বলে স্থির সিদ্ধান্ত হল।এইরকম গল্প অনেক আছে।স্তানান্তরে কর্মাবাইয়ের খিচুরীর উপাখ‍্যান উল্লিখিত হয়েছে।তাতেও বিধিমার্গের নিন্দা এবং প্রেমমার্গের প্রশংসা কীর্তিত হয়েছে।*
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *⭐নীলাচলে মহাপ্রভু⭐*
*জগন্নাথদেবের দ্বাদশ মাসের উৎসব*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍁শ্রীজগন্নাথদেবের বারমাসে,যে যে উৎসব হয়ে থাকে,তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হল।বিস্তারিত বিবরণ পরে দেওয়া যাবে। বৎসরের প্রথম হতে গণনা করতে হলে,বৈশাখ মাসে যে যাত্রা হয়,তাইই প্রথম ধরতে হয়।সেই হিসাবে চন্দনযাত্রাই প্রথম হয়।চন্দনযাত্রাকে প্রথম ধরে উৎসবগুলির নাম এখানে লিপিবদ্ধ করা হল। কিন্তু শ্রীজগন্নাথদেব প্রথমতঃ যে তারিখে,কি যে তিথিতে স্থাপিত হন, সেই অনুসারেও এইরকম গণনা করা হয় ; তাহলে স্নানযাত্রা প্রথম হবে। পাঠক,যদি মনে করেন যে,স্নানযাত্রা প্রথম হওয়া উচিত,তাহলে চন্দনযাত্রা সর্বশেষ হবে।জগন্নাথদেবের প্রতিষ্ঠা তারিখে,তাঁর স্মৃতির জন্য স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।অনেকে এই ব‍্যাপারকে প্রথম ধরে,দ্বাদশ মাসে, দ্বাদশ যাত্রা লিখেছেন।কেউ কেউ চন্দনযাত্রা হতেও আরম্ভ করেছেন।*
*🌹যাত্রার নাম=১)চন্দনযাত্রা, অক্ষয়-তৃতীয়া হতে আরম্ভ হয়ে একুশদিন থাকে।২)রুক্মিণী-হরণ, জ‍্যৈষ্ঠমাসের শুক্ল একাদশী তিথিতে হয়ে থাকে।৩)স্নানযাত্রা,৪)রথযাত্রা, ৫)ঝুলনযাত্রা,৬)জন্মাষ্টমী,৭)কালিয় দমন,৮)রাসযাত্রা,৯)গজোদ্ধারণবেশ, ১০)মাঘীপূর্ণিমা,১১)দোলযাত্রা, ১২)শ্রীরামনবমী,১৩)দমনকভঞ্জিকা। তারপর ১৪)শয়ন একাদশী, ১৫)পার্শ্ব পরিবর্তন,১৬)উত্থান একাদশী, ১৭)দক্ষিণায়ণ,১৮)উত্তরায়ণ, ১৯) প্রাবরণ,২০)পোষ‍্যপূজা। এই কয়েকটি যাত্রা সমস্ত গ্রন্থের অনুমোদিত নয়।কোনটি যাত্রা এবং কোনটি উৎসব,তা নির্ণয় করা কিছু কঠিন। সুতরাং যাত্রা ও উৎসব একত্রেই দেওয়া হল।যাত্রা উৎসবের অন্তর্গত হতে পারে,সেইজন‍্য সমস্তই উৎসব বললে,আর কোন গোল থাকে না।রথযাত্রা এবং স্নানযাত্রা ছাড়া অন‍্য কোন যাত্রায় জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রা যান না।মদনমোহন ইঁনাদের প্রতিনিধিরূপে গিয়ে থাকেন।*
*🍀চন্দনযাত্রা=মদনমোহন,পঞ্চ পান্ডব সহ,নরেন্দ্র সরোবরে জলকেলি করেন।এই উৎসবে চন্দন লেপন করা হয় বলেই,এর নাম চন্দনযাত্রা।*
*🍀রুক্মিণী-হরণ=শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতী রুক্মিণীকে বিমলার মন্দির হতে হরণ করে নেন। এই উৎসব জ‍্যৈষ্ঠ মাসের শুক্ল একাদশীতে অনুষ্ঠিত হয়।*
*🍀স্নানযাত্রা=এটি জগন্নাথের জন্মতিথি বললেই হয়।জ‍্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমাতে এই যাত্রা হয়ে থাকে। রোহিণীকুন্ডের জল দিয়ে জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রাকে স্নান করান হয়।এই উৎসবে বহুলোকের সমাগম হয়।*
*🍀রথযাত্রা=আষাঢ় মাসের শুক্ল দ্বিতীয়াতে রথযাত্রা হয়ে থাকে।প্রথমে বলরামের রথ,পরে সুভদ্রার রথ তারপর জগন্নাথের রথ মন্দির হতে যাত্রা করে,ঐ দিনেই গুঞ্জাবাড়ীতে পৌঁছে।রথযাত্রা সমস্ত যাত্রার শ্রেষ্ঠ, এবং এই উপলক্ষ্যে বহুলোক একসঙ্গে মিলিত হয়ে থাকে।রথযাত্রার পুণ‍্য শ্রুতিও বিশেষ আছে, এবং লোকের বিশ্বাসও এই যে, "রথে তু বামনং দৃষ্ট্বা পুনর্জ্জন্ম ন বিদ‍্যতে"। এই ব‍্যাপার নয়দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।*
*🍀ঝুলনযাত্রা=শ্রাবণ মাসের শুক্ল একাদশী তিথি হতে পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত পাঁচদিন ঝুলনযাত্রা হয়ে থাকে। মুক্তিমন্ডপে মদনমোহন যাত্রা করে থাকেন।*
*🍀জন্মাষ্টমী=ভাদ্র মাসের কৃষ্ণাষ্টমীতে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়।জন্মোৎসব উপলক্ষ্যে অনেক নৃত্যগীত হয়ে থাকে।*
*🍀কালিয়দমন=শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণ একাদশীতে মদনমোহন মার্কন্ড সরোবরে,সাপের উপর কালিয়দমন উৎসব করে থাকেন।*
*🍀রাসযাত্রা=কার্তিকমাসের পূর্ণিমা তিথিতে হয়ে থাকে।এই সময়ে বহু লোকের সমাগম হয়ে থাকে।*
*🍀গজোদ্ধারণবেশ=পৌষমাসে হয়। ভগবান যে পশুদের প্রার্থনাও শুনে থাকেন,পিপীলিকার পায়ের নূপুরধ্বনিও যে তাঁর কর্ণগোচর হয় এবং ইতর প্রাণী পর্যন্তও যে তাঁর দয়ায় বঞ্চিত হয় না,তার দৃষ্টান্ত স্থল গজোদ্ধারণবেশ।*
*🌹এটি একটি পুরাণোক্ত গল্প=একসময়ে একটি গজ নদীতে স্নান করবার জন্য নেমেছে, এমন সময় একটি কুমীর এসে তার পায়ে আক্রমণ করে।গজ এবং কুমীরে ঘোরতর যুদ্ধ আরম্ভ হল।অন‍্য সব গজ একত্রে সহায়তা করে,কুমীরকে ছাড়িয়ে আনতে পারল না,গজ ক্রমশই অবসন্ন(ক্লান্ত) হয়ে পড়তে লাগল।তখন সে অনন‍্যোপায় হয়ে, ভগবান নারায়ণের শরণাপন্ন হল।ভক্তবৎসল ভগবান তৎক্ষণাৎ গজকে উদ্ধার করলেন।কুমীরও ভগবৎ-স্পর্শে মুক্ত হয়ে গেল।উভয়েই শাপগ্রস্ত হয়ে পশুযোনিতে প্রাপ্ত হয়েছিল।শাপমুক্ত হয়ে,তাঁরা যথাস্থানে গমন করলেন।*
*🍀মাঘীপূর্ণিমা=মদনমোহন সমুদ্রজলে স্নান করেন এবং তারপর পূজিত হন।*
*🍀দোলযাত্রা=এই উৎসবও খুব জাঁকজমকের সঙ্গে সম্পন্ন হয়ে থাকে।ফাল্গুনমাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব হয়।মদনমোহন দোলবেদীতে গিয়ে থাকেন।এই সময়েও বহু ভক্তের সমাগম হয়।ঠাকুরকে ফাগ বা আবীর দেওয়া হয়।*
*🍀শ্রীরামনবমী=চৈত্র মাসের শুক্লা নবমীতে মদনমোহনকে রামবেশে সাজিয়ে পূজো দেওয়া হয়।*
*🍀দমনকভঞ্জিকা=চৈত্র মাসের শুক্লা এয়োদশীতে জগন্নাথবল্লভ উদ‍্যানে মদনমোহনের পূজা হয়।*
*🍀শয়ন-একাদশী=আষাঢ় মাসের শুক্লা একাদশীতে হয়ে থাকে।*
*🍀পার্শ্ব-পরিবর্তন একাদশী= ভাদ্র মাসের শুক্লা একাদশীতে হয়ে থাকে।*
*🍀উত্থান একাদশী=কার্তিক মাসের শুক্লা একাদশীতে হয়ে থাকে।*
*🍀সংক্ষেপতঃ=এই সব উৎসবের কথা লেখা হল।এই সব ছাড়াও আরও অনেক উৎসব আছে।*
🌼💮🌸☘🌳🌲💐🌿🌻🌷🌺🍁🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ত্রয়োদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga13.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ত্রয়োদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga13.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ত্রয়োদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga13.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২১)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
         *প্রেমবিকার ও সাগরে পতন*
          ~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🌺এইরকম সন্ধ‍্যের সময় একদিন মহাপ্রভু তাঁর অন্তরঙ্গ ভক্ত স্বরূপ ও রামরায়ের কাছে কৃষ্ণপ্রসঙ্গ করতে করতে,ভাবে বিভোর হয়ে পড়লেন, এমন সময় রামরায় কৃষ্ণকর্ণামৃত,বিদ‍্যাপতি ও গীতগোবিন্দের মূল অংশ পাঠ করতে লাগলেন এবং মধুরকন্ঠ সুগায়ক স্বরূপদামোদর মধুর কীর্তন ধরলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব কিছুক্ষণ সুস্থির হয়ে সাগরের দিকে ধাবিত হলেন,যেতে যেতে তিনি একটি উদ‍্যানে প্রবেশ করলেন।শ্রীমদ্ভাগবতে পাই শ্রীশ্রীরাসলীলার সময়ে একবার শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধিকাকে নিয়ে পলায়ন করলে,গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণবিরহে ব‍্যাকুল হয়ে তরুলতা ও বৃক্ষদের কাছে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণের অন্বেষণ করতে লাগলেন।মহাপ্রভু প্রেম-উদ‍্যানে প্রবেশ করতেই শ্রীশ্রীরাসলীলার সেই ছবি তাঁর স্মৃতিপথে উদিত হল। তিনি ভাগবতের দশম স্কন্ধের এই শ্লোকটি আবৃত্তি করতে করতে,গোপীদের ন‍্যায় তাঁর প্রাণসখা শ্রীকৃষ্ণের অন্বেষণ করতে লাগলেন=*
*🌷চূতপিয়ালপনসাসন কোবিদার,*
*🌷জম্বর্কবিল্ববকুলাম্র কদম্বনীপাঃ।*
*🌷যেহন‍্যে পরার্থভাবকা যমুনোপকূলাঃ,*
*🌷শংসন্তু কৃষ্ণপদবীং রহিতাত্মনাং নঃ।।*
*🌻হে চূত!হে পিয়াল!হে পনস!হে অসন!হে কোবিদার!হে জম্ব!হে অক!হে বিল্ব বকুল!হে আম্র!হে কদম্ব!হে নীপা!হে অন‍্যান‍্য বৃক্ষ সকল!তোমরা যমুনাতীর্থবাসী,পরোপকারের জন্যই জন্মগ্রহণ করেছ,আমরা কৃষ্ণবিরহে আত্মহারা হয়েছি, শ্রীকৃষ্ণ কোন পথে গিয়েছেন,আমাদেরকে বলে দাও।*
*🌼বৃক্ষসব নীরবে দাঁড়িয়ে, গৌরহরিরবিরহের কাতরোক্তি সবই শুনিল, কিন্তু কেউই কোন উত্তর দিল না। তখন তিনি ভাবলেন,এরা সবাই পুরুষজাতি,এরা আমার কথার কোন উত্তর দিবে না,তারপর গৌরসুন্দর দেখলেন,সামনে মালতী,মল্লিকা প্রভৃতি নানাজাতীয় ফুল ফুটে রয়েছে, তাঁর মনে হল এরা নারীজাতি,এরা অবশ্যই আমার ব‍্যাথায় ব‍্যথিত হয়ে আমার প্রাণবল্লভের সমাচার নিশ্চয়ই দিবে,তাই তিনি গোপীদের মত ভাগবতের এই শ্লোকটি আবৃত্তি করতে করতে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন=*
*🌷মালত‍্যদর্শি বঃ কচ্চিন্মল্লিকে জাতি যূথিকে।*
*🌷প্রীতিং বো জনয়ন্ যাতঃ করস্পর্শেন মাধবঃ।।*
*🌹হে মালতী!মল্লিকে!জাতি!যূথিকে! তোমরা কি তোমাদের মাধবকে দেখেছ?করস্পর্শে তোমাদের প্রীতি জানিয়ে তিনি কি এই পথে গিয়েছেন?তাই শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী সুললিতছন্দে,তাঁর চৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থে বলেছেন=*
*🌷আম্র!পনস!পিয়াল!জম্বু!কোবিদার!*
*🌷তীর্থবাসী সবে,কর উপকার।*
*🌷কৃষ্ণ তোমার ইঁহা আইলা?পাইলা দরশন?*
*🌷কৃষ্ণের উদ্দেশ কহি রাখহ জীবন।*
*🌷উত্তর না পাইয়া পুনঃ করে অনুমান ;*
*🌷এ সব পুরুষ জাতি সখার সমান ;*
*🌷এ কেন কহিবে কৃষ্ণের উদ্দেশ আমায়?*
*🌷এই স্ত্রীজাতি লতা আমার সখী প্রায় ;*
*🌷অবশ‍্য কহিবে কৃষ্ণের পেয়েছে দর্শনে।*
*🌷এত অনুমানি পুছে তুলস‍্যাদিগণে ঃ---*
*🌷তুলসি!মালতি!যূথি!মাধবি!মল্লিকে!*
*🌷তমার প্রিয় কৃষ্ণ আইলা তোমার অন্তিকে?*
*🌷তুমি সব হও আমার সখীর সমান ;*
*🌷কৃষ্ণোদ্দেশ কহি সবে রাখহ পরাণ।*
*🌻অবশেষে কারও কাছ হতে কোন উত্তর না পেয়ে, তিনি সাগরতটে গমন করলেন, এবং উপকূলস্থিত একটি কদম্ব বৃক্ষতলে, কৃষ্ণ পেলাম কৃষ্ণ পেলাম, বলিয়া চেতনাহীন হয়ে পড়লেন।রায় রামানন্দ, স্বরূপদামোদর প্রভৃতি সাথী হয়েই বিচরণ করছিলেন, এখন আগেরমত সঙ্গীত ও ভক্তিগ্রন্থের শ্লোকাদির দ্বারা মহাপ্রভুর চেতনা ফিরিয়ে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে গেলেন। গৌরহরির অবস্থা এইরকম ভাবে কাটতে লাগল।উন্মাদের মত কখন প্রলাপ বাক‍্য বলেন,কখন ব‍্যাকুল হৃদয়ে কাঁদতে কাঁদতে স্বরূপাদির গলা জড়িয়ে ধরে বলেন,"আমার সে কৃষ্ণধন কোথায় গেলেন!কোথায় গেলে আমি তাঁর দেখা পাব!রাত্রিতে একেবারেই ঘুমোতে পারতেন না,দিব‍্যোন্মাদের সব লক্ষণই তাঁতে প্রকাশ পেতে লাগল।*
🌷🦚🙏🪷🌸🪔🌷🦚🙏🪔🪷🌸🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ত্রয়োদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga13.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
               *💮সাগরে পতন💮*
              *********************
*🍀শরৎকাল,জ‍্যোৎস্নাময়ী রজনী ; চন্দ্রালোকে চারিদিক আলোকিত।গৌরহরি কি এসময় স্থির থাকতে পারেন?তিনি ভক্তগণসহ উদ‍্যানে উদ‍্যানে বিচরণ করতে লাগলেন।বেড়াতে বেড়াতে তিনি অদূরে আইটোটায় সাগরের প্রতি তাঁর নজর পড়িল।জ‍্যোৎস্নালোকে নীলাম্বুরাশির বক্ষ যেন ঝলমল করছে।ভাবনিধি গোরাচাঁদের ভাবে বিভোর হয়ে মনে হল এটি পুরুষোত্তমের সমুদ্র নহে,এটি সেই শ্রীবৃন্দাবনের যমুনা। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না, ভক্তদের অগোচরে অতি দ্রুতবেগে সেইদিকে ধাবিত হলেন এবং সাধ্বী প্রেমিকার ন‍্যায় তাঁর সেই হৃদয়স্বামী শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করবার জন্য সিগর বক্ষে ঝাঁপ দিলেন।কিছুক্ষণ পরেই স্বরূপ গোস্বামী ও রায় রামানন্দ চারিদিকে চেয়ে দেখেন,মহাপ্রভু অদৃশ্য হয়েছেন।তাঁরা সকলেই জানতেন যে গৌরহরির ভাবতরঙ্গ যেরকম প্রবল হয়েছে, তাতে যে কোন সময় যেকোন ঘটনায় ঘটতে পারে,তাতে কোন ঘটনায় যে তাঁর জীবন সংশয় হবে তার কিছুই স্থিরতা নাই,এইজন‍্য তাঁরা বড়ই ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন।অন‍্যান‍্য ভক্তবৃন্দের নিকট এ সমাচার পাঠানো হল।সকলেই উদ্বিগ্ন চিত্তে মহাপ্রভুর খোঁজ করতে লাগলেন, আর কেউ কেউ বা চিরায়ু পর্বত প্রভৃতির দিকে গমন করলেন।নিশি প্রায় অবসান হয়ে আসিল, গৌরসুন্দরের দেখা নেই।এই দীর্ঘ সময় খোঁজ করবার পর,মহাপ্রভুকে না পেয়ে নিরাশ হয়ে,সকলেরই মন বিষাদের ঘন মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল,মনে করলেন মহাপ্রভুর দর্শনে তাঁরা চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হলেন,এই হৃদয় বিদারক কথায় তাঁদের হৃদয় মধ্যে উদিত হতে লাগল, এবং বিষাদের মেঘকে আরো ঘনীভূত করে তুলল।ঘন বিষাদে মন আচ্ছন্ন হলেও,তাঁরা শ্রীচৈতন‍্যের অন্বেষণে নিরস্ত হয়ে ঘরে ফিরে গেলেন না। স্বরূপ গোঁসাই কয়েকজনকে নিয়ে সাগরের তীরে ঘুরতে লাগলেন। তাঁর যেন মনে হল,গোরাচাঁদ তাঁদেরকে একেবারে পরিত‍্যাগ করে যাননি।এমন সময়ে তাঁরা দেখলেন,এক ধীবর জাল নিয়ে গমন করছে।গমনকালীন সে হরিবোল বলতে বলতে কখন হাসছে,কখন কাঁদছে ও কখন বা নাচছে।তার এই অবস্থা দেখে সকলেই অবাক হয়ে গেলেন, কেউই আর কারণ নির্ণয় করতে পারলেন না।তখন স্বরূপ গোস্বামী ধীবরকে তার এইরকম অবস্থার কারণ জিজ্ঞাসা করাতে সে বলিল, "আমি ধরবার জন্য জলে জাল ফেলে, তুলে দেখি,আমার জালের মধ্যে একটা মরা মানুষ রয়েছে।সেই মৃতদেহ বাহির করে ফেলবার সময় আমি তাকে ছুঁয়ে ফেললাম।তখন হতেই ভয়ে আমার শরীর কাঁপছে। সেটি মানুষ কি ব্রহ্মদৈত‍্য কি ভূত তা কিছুই বলতে পারি না।তার শরীর হাত-পা খুবই লম্বা। তার গোঁ গোঁ শব্দ শুনে ভয়েতে আমার প্রাণ কেঁপে উটছে।আমি গরীব মানুষ,স্ত্রীপুত্র নিয়ে ঘর করি,আমি ভিন্ন তাদের আর কে দেখবে?আমার মনে হয়েছে ঐ লম্বা মানুষটিকে ভূতে ধরেছে, তাই আমি ভূত ঝাড়াবার জন্য ওঝার বাড়ী যাচ্ছি।তোমরা ওখানে যেও না,তোমাদেরও ভূতে পাবে।ধীবরের কথা শুনে স্বরূপ গোঁসাই বুঝলেন,তিনি ধীবরের পিঠে তিনটি চপেটাঘাত করে বললেন,তোমার ভূত ছেড়ে গেছে আর তোমার ভয় নেই।সরল ধীবর,স্বরূপ গোস্বামী যথার্থ ওঝার কাজ করলেন মনে করে নির্ভয় হল।তখন স্বরূপদামোদর বললেন,তুমি যাঁকে জালে তুলেছ,তিনি ভূত নন,শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব।তখন ধীবর বলল,আমি তো আর তাঁকে চিনি না?এ তিনি নন। স্বরূপ ও অন‍্যান‍্য ভক্তগণ তারপর ধীবরকে নিয়ে তার জালধৃত ব‍্যক্তির কাছে উপস্থিত হলেন।*
*গিয়ে দেখেন মহাপ্রভু অচৈতন‍্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন।শ্রীগৌরাঙ্গের অপরূপ রূপ যেন মলিন হয়ে গিয়েছে।তারপর তাঁরা তাঁকে শুকনো কৌপীন ও বহির্বাস পরালেন এবং সকলে মিলে মধুর হরিনাম সংকীর্তন করতে লাগলেন।যে শ্রীনাম ও কীর্তনে তাঁর বাহ‍্যজ্ঞান বিলুপ্ত হত,সেই শ্রীনামেই তিনি আবার চেতনা লাভ করতেন।এখন সাগর-তটে সুধামাখা হরিনামের মধুর ঝঙ্কারে সংজ্ঞাহীন গৌরসুন্দর চৈতন‍্য লাভ করলেন। মহাপ্রভু চেতনা লাভ করে স্বরূপ গোঁসাইকে জিজ্ঞাসা করলেন,তোমরা আমাকে সমুদ্র-তটে আনলে কেন?তখন স্বরূপদামোদর সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলেন। আর বললেন, তুমি সমুদ্রকে যমুনা ভেবে ব্রজেন্দ্রনন্দনের জলকেলি দেখছিলে, আর আমরা তোমার জন্য সমস্ত জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছি।গৌরহরি স্বরূপের কথায় যেন একটু লজ্জিত হলেন।তারপর ভক্তগণ মহাপ্রভুকে সমুদ্র স্নান করিয়ে ভবনের দিকে ফিরে গেলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ত্রয়োদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga13.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                 *🙌লীলা সমাপ্তি🙌*
             🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🍁অনুদিন প্রেমোন্মত্তভাবে শ্রীমন্মহাপ্রভুর দিন কাটতে লাগল।বিশেষ করে শেষের দিকে শ্রীমন্মহাপ্রভুর চরম থেকে চরমতম শ্রীকৃষ্ণপ্রেমে বিহ্বল হয়ে থাকতেন। কিন্তু এই মত্ততার অবস্থায়ও তিনি জননীর প্রতি কর্তব‍্য সাধনে বিরত হননি।ভক্তেরা বঙ্গদেশ হতে বৎসরান্তে আগমন করলে,তিনি জননীর সংবাদ নিতেন, এবং তাঁরা যখন ফিরে যেতেন,তখন মাতৃবৎসল গৌরহরি মায়ের জন্য প্রাসাদান্ন ও বস্ত্র পাঠিয়ে,ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাতে বলতেন।তিনি পন্ডিত জগদানন্দের উপরই জননীর দেখাশোনার ভার অর্পণ করেছিলেন।এজন‍্য তিনি মহাপ্রভুর আজ্ঞাবহ হয়ে নবদ্বীপে শচীমায়ের ভবনে অধিকাংশ সময় বাস করতেন।জগদানন্দ নীলাচলে আসবার সময় শ্রীমৎ অদ্বৈতাচার্য‍্যের অনুমতি গ্রহণের জন্য গমন করলে,আচার্য‍্য জগদানন্দকে নীলাচলে গিয়ে,মহাপ্রভুকে তাঁর কোটি নমস্কার জানিয়ে,তাঁর একটি তরজা বলতে অনুরোধ করলেন।জগদানন্দ নীলাচলে এসে,গৌরহরিকে অদ্বৈতাচার্য‍্যের প্রণাম জানিয়ে বললেন,আচার্য‍্য তোমাকে এই তরজাটি জানাতে বলেছেন=*
*🌷বাউলকে কহিও লোক হইল আউল।*
*🌷বাউলকে কহিও,হাটে না বিকায় চাউল।।*
*🌷বাউলকে কহিও কাজে নাহিক আউল।*
*🌷বাউলকে কহিও ইহা কহিয়াছে বাউল।।*
*🌺মহাপ্রভু আচার্য‍্যের এই তরজাপত্র শুনে ঈষৎ হাসিলেন।এই তরজাপত্রের প্রকৃত অর্থ হৃদয়ঙ্গম করতে মহাপ্রভুর ভক্তগণের মধ্যে কেউ বুঝতে পারেননি বলেই বোধ হয়।আমরাও ইহার তাৎপর্য‍্য বুঝতে পারলাম না।মহাপ্রভু তখন বিরহ বেদনায় অস্থির ; এমন সময় এই তরজা শুনলেন।শোনার পর হতেই তাঁর সেই প্রেমভাব আরো বেড়ে গেল।তিনি কখন রামানন্দের ও কখন স্বরূপদামোদরের গলা ধরে অঝোর নয়নে কাঁদতে থাকেন,অনিদ্রায় নিশি যাপন করে ঘরের ভিতরেই দেওয়ালে নাক,মুখ ঘষে, রক্তের ধারায় বদনমন্ডল প্লাবিত করে ফেলতেন।মহাপ্রভুর এই মহাভাবের লক্ষণ দেখে, স্বরূপ গোঁসাই,রামরায় প্রভৃতি ভক্তগণ দীর্ঘরাত্রি পর্যন্ত তাঁর কাছে বসে থাকতেন।তিনি কখন গৃহত‍্যাগ করে দেহপাত করেন,এই আশঙ্কায় তাঁরা শঙ্কর পন্ডিতকে সমস্ত রাত্রি,তাঁর কাছে শয়ন ও তাঁর সেবা করবার জন্য ভার অর্পণ করলেন।স্বরূপ গোঁসাই প্রভৃতিও গৌরহরির দেহ রক্ষার জন্য সদাসর্বদা সতর্ক থাকতেন।শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রাণ এখন সব ভূতেতেই শ্রীকৃষ্ণের অপরূপ রূপ মাধুরী দেখবার জন্য ব‍্যাকুল হয়েছে। এই মহাভাবের অবস্থাতে তিনি সুনীল আকাশে,হরিৎবর্ণ শস‍্যক্ষেত্রে, বৃক্ষ ও লতাদিতে,গিরিশৃঙ্গে ও নীলাম্বু বক্ষে যেদিকে তাকান,সব জায়গতেই*
*সব জায়গাতেই যেন তাঁর সামনে তাঁর জীবন-নিধি শ্রীকৃষ্ণধনকে প্রকাশ করে দিতেন।তিনি কৃষ্ণরূপ সাগরে তন্ময় হয়ে ব্রহ্মান্ডের চারিদিকেই সেই রূপ দর্শন করে তাঁকে ধরবার জন্য ব‍্যাকুল হয়ে ধাবিত হতেন।বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে তিনি জগন্নাথ বল্পভ নামক এক মনোহর কুসুম-উদ‍্যানে সন্ধ‍্যার সময় বিচরণ করতে গেলেন।চাঁদের রজতকিরণে চারিদিক উদ্ভাসিত। কাননের চতুর্দিক নানাজাতীয় ফুলের গাছ সব ফুলে ফুলে ভরে রয়েছে,তার উপরে বিমল চন্দ্রকিরণে তাদের সৌন্দর্য্য আরো ফুটিয়ে তুলেছে।কত পাখী মনের উল্লাসে বৃক্ষডালে বসে,সুমধুর কন্ঠে প্রাণ ভরে গান করছে ; প্রকৃতির এই মনোহর সৌন্দর্য‍্যের মধ্যে শ্রীচৈতন‍্যদেব মনের উল্লাসে বৃক্ষগুলির তলে তলে গমন করে,প্রেমানন্দে নৃত্য ও কীর্তন করতে লাগলেন।এমন সময়ে কুসুমোদ‍্যান তাঁর কাছে বৃন্দাবনের নিধুবন বলে বোধগম্য হল।তিনি দেখলেন,শ্রীকৃষ্ণ এক বৃক্ষতলে দাঁড়িয়ে বাঁশী বাজাচ্ছেন ; সে মূরতি দরশন করে,সে বাঁশীর শব্দ শুনে,তাঁর চিত্ত বিমোহিত হয়ে পড়ল, যমুনার উজানের মত তাঁর ভাবতরঙ্গ উথলিয়ে উঠিল।প্রবল তুফানে যেমন তরীকে ডুবিয়ে দেয়,প্রবল ভাবের স্রোত তেমনি তাঁর চিত্তকে নিমজ্জিত করে ফেলল। তিনি ভাবাবেশে হতচেতন হয়ে মৃত্তিকায় পড়ে গেলেন।অবশেষে ভক্তগণ জানতে পেরে,নামকীর্তনে তাঁর চৈতন‍্যোদয় করলেন।*
*স্বরূপদামোদর ও রামরায় সবসময়ই তাঁর সঙ্গে থাকতেন।মহাপ্রভুও তাঁদের সঙ্গে ভগবৎ প্রসঙ্গ করে,তৃপ্তিলাভ করতেন।একদিন গৌরহরি স্বরূপ ও রামরায়কে বললেন,দেখ,নাম সংকীর্তন ভিন্ন জীবের আর গতি নাই ; নাম সংকীর্তনেই মানবের সব অমঙ্গল বিদূরিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি প্রেমোদয় হয়।এইকথা বলতে বলতে তাঁর হৃদয়ে বিষাদ ও দৈন‍্য ভাব উপস্থিত হল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ত্রয়োদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga13.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২৪)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                   *লীলা----সমাপ্তি*
                ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀তিনি ক্রমে ক্রমে স্বরচিত কয়েকটি শ্লোক আবৃত্তি করতে লাগলেন=*
*🌷নাম্নামকারি বহুধা নিজ সর্বশক্তি,*
*🌷স্তত্রার্পিতা নিয়মিতঃ স্মরণেন কালঃ।*
*🌷এতাদৃশী তব কৃপা ভগবন্মমাপি,*
*🌷দুর্দ্দৈবমীদৃশ মিহাজনি নানুরাগঃ।।*
*🙏হে ভগবন্!তুমি নিজ নাম বহুধা করে তাতে আবার শক্তি সঞ্চার করেছ, এবং এত এতদূর কৃপা করেছ যে,সে সব স্মরণ করতে,কালাকাল বিচার বা কোন নিয়মের প্রয়োজন নাই।তথাপি আমার ও সংসারের লোকদের এমন দুর্ভাগ্য যে,সে সুমধুর নাম গ্রহণে রুচি জন্মায় না।তৎপর নামমাহাত্ম‍্য বর্ণন করে,নামগ্রহণের অধিকারী কে তা উল্লেখ করলেন=*
*🍀তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুণা।*
*🍀অমানিনা মান দেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরি।।*
*🌼যে ব‍্যক্তি তৃণ অপেক্ষাও নীচ,তরুর মত ক্ষমাশীল অর্থ‍্যাৎ বৃক্ষ ছেদনকারীকেও যেমন ছায়া দান করে, এবং যে ব‍্যক্তি নিরভিমান হয়ে অন‍্যকে মান দান করে,সেই ব‍্যক্তিই হরিগুণ কীর্তন করে থাকেন।এই শ্লোক পাঠান্তে মহাপ্রভুর দৈন‍্যভাব আরো বেড়ে উঠিল,তিনি প্রেমে গদগদ স্বরে বললেন=*
*🌷ন ধনং ন জনং ন সুন্দরীং কবিতাং বা জদীশ কাময়ে।*
*🌷মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে,ভবতাদ্ভক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি।।*
*হে ভগবন্!আমি ধন,জন,যুবতীনারী বা কবিতারও রসাস্বাদন করতে বাসনা করি না ; যেন জন্মে জন্মে তোমার প্রতি অহৈতুকী প্রেম থাকে, আমার এই একান্ত প্রার্থনা।এই শ্লোক পাঠান্তে গৌরহরির প্রেমভাব আরো চরমভাবে বেড়ে উঠিল, তিনি বলতে লাগলেন=*
*🌷নয়নং গলদশ্রু ধারয়া বদনং কদা,*
*🌷গদগদ-রুদ্ধয়া গিরা।*
*🌷পুলকৈ-নিচিতং বপুঃ কদা,*
*🌷তব নাম গ্রহণে ভবিষ‍্যতি।।*
*🌹হে পরমেশ্বর!তোমার নাম গ্রহণে কবে আমার নয়ন হতে অশ্রু বর্ষিত হবে ; কবে গদগদ কন্ঠে তোমার নাম উচ্চারণ করব ; এবং আমার সমস্ত অঙ্গ আনন্দে পুলকিত হবে?*
*🔷ক্রমে তাঁর ব‍্যাকুলতা আরও বাড়তে লাগল,তিনি বললেন=*
*🌷যুগায়িতং নিমেষেণ চক্ষুষা প্রাবৃষায়িতম্।*
*🌷শূন‍্যায়িতং জগৎ সর্বং গোবিন্দ বিরহেণ মে।।*
*😭গোবিন্দ বিরহে এক নিমেষ যেন আমার কাছে একযুগ বলে বোধ হচ্ছে ; বর্ষার বৃষ্টির মত আমার দুইনয়ন হতে বারিধারা বাহির হচ্ছে, এবং তিনি বিহনে সমস্ত সংসার যেন শূন‍্য বোধ হচ্ছে।*
*🍁শ্রীচৈতন‍্যদেবের বিরহজ্বালা ক্রমশই বাড়তে লাগিল। তিনি যতই হৃদয় মধ্যে তাঁর প্রাণনাথকে সম্ভোগ করতে লাগলেন, ততই তাঁর সম্ভোগেচ্ছা আরো প্রবল হয়ে উঠতে লাগল।গৌরহরি আমার কৃষ্ণপ্রেমে উন্মত্ত ; তিনি এই উন্মত্ত অবস্থায় একাকী নির্জনে বহু বৃক্ষ সমন্বিত কাননের মধ্যে থেকে তাঁর হৃদয়নাথের সহবাস-সুখ লাভ করতেই ভীষণ ভীষণ প্রয়াসী হয়ে উঠলেন।গদাধর পন্ডিতকে মহাপ্রভু খুবই স্নেহ করতেন।আর গদাধরও মহাপ্রভুর অচলা ভক্তিবশত তাঁকে সুখে ও শান্তিতে রাখবার জন্য যত্নবান থাকতেন।আজন্ম সাধু ও চিরকুমার গদাধর যমেশ্বর টোটায় সাগর-তীরবর্তী এক মনোহর কুসুম উদ‍্যানে বাস করতেন।গৌরহরি অধিকাংশ সময় সে জায়গায় গিয়ে নামকীর্তন ও গদাধরের ভাগবত পাঠ শুনে বিশেষ আনন্দ লাভ করতেন।বারিধি-তীরস্থ বৃক্ষলতাদি পরিশোভিত এই মনোহর স্থানে মহাপ্রভুর ভাবোচ্ছ্বাসে কোন বিপদ ঘটতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি সর্বদা তাঁকে নিজের নয়নপথে রাখতে ব‍্যস্ত থাকতেন।*
*গৌরহরির আদেশে গদাধর উদ‍্যান মধ্যে গোপীনাথের একটি মন্দির তৈরী করেন।🌻কথিত আছে,একদিন মহাপ্রভু উদ‍্যান মধ্যে প্রবেশ করে গোপীনাথের মন্দিরে প্রবেশ করলেন।তখন গদাধর এক বৃক্ষতলে বসে ভাগবত পাঠ করছিলেন।কিছুক্ষণ পরে,গৌরহরিকে ঘর হতে বাহির হতে না দেখে গদাধরের মন চঞ্চল হয়ে উঠলেন ; তিনি তৎক্ষণাৎ মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে দেখলেন যে সেখানে মহাপ্রভুকে দেখতে পেলেন না,মহাপ্রভুর লীলা সম্বরণে কৃতনিশ্নয় হয়ে কেঁদে আকুল হয়ে গেলেন।যাঁকে নিমেষকাল না দেখলে তাঁদের প্রাণ অস্থির হয়ে পড়ত,সেই শ্রীগৌরাঙ্গদেবকে আর তাঁরা দেখতে পেলেন না।আকুল হৃদয়ে অশ্রুবারি ফেলতে ফেলতে গৌরহরির চিরসঙ্গী গদাধর একটা খোলামকুচি (হাড়ি বা কলসির ভাঙ্গা টুকরো)নিয়ে বালুর উপর লিখলেন=*
*🌷কি কহিব কোথা যাব বাক‍্য নাহি সরে।*
*🌷গোরাচাঁদ হারাইলাম গোপীনাথের ঘরে।।*
*🌹বৈষ্ণবগণ বলেন,গোপীনাথের দেহের সঙ্গে মহাপ্রভু নিজের দেহ মিশিয়ে দিয়ে,মর্ত্ত‍্যলীলা সাঙ্গ করেছেন।১৪৫৫ শকের মাঘমাসে পূর্ণিমা তিথিতে ৪৮ বৎসর বয়ঃক্রমের সময় শ্রীশ্রীগৌরহরির তিরোভাবের দিন নির্ণীত হয়েছে।ভক্তিধর্ম-প্রবর্তক ভাগবতশ্রেষ্ঠ প্রমের অবতার শ্রীগৌরসুন্দর মর্ত্ত‍্যলীলা সাঙ্গ করলে,তাঁর ভক্তগণ একরাশ বুকে ব‍্যথা নিয়ে ইহলোকে বাস করতে লাগলেন।গদাধর সেই দিন হতে শোকে,দুঃখে,কষ্টে কোন নির্জন জায়গায় বাস করে,মৃত‍্যুকে আলিঙ্গন করবার জন্য সচেষ্ট হয়েছিলেন।অদ্বৈতাচার্য‍্য,শ্রীরূপ,শ্রীসনাতন গোস্বামী মহাপ্রভুর তিরোভাবের সংবাদ শোনার পর দারুণ শোকানলে দগ্ধ হতে লাগলেন। মহাপ্রভুর অপ্রকটে যেন সকল ভক্তগণ মৃত‍্যুমুখে নিপতিত হলেন।পুরুষোত্তমে গৌড়ীয় ভক্তদের শ্রেণীবদ্ধ হয়ে আগমন ও রথোৎসবের আনন্দোৎসব সবই বন্ধ হয়ে গেল। বাংলা,বিহার ও উড়িষ‍্যার চারিদিকেই বিষাদের চিহ্ন পরিলক্ষিত হতে লাগল।*
*🌹বহুদিন পূর্বে লেখক পুরুষোত্তমে গমন করেছিলেন।সেখান থাকাকালীন তিনি কোন ভক্ত সঙ্গে বৈষ্ণবদের আশ্রমে গমন করে তাঁদের সঙ্গে শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রসঙ্গ করেন।মহাপ্রভুর তিরোভাবের প্রসঙ্গে তিনি তাঁদের নিকট হতে গদাধরের বালির উপর উক্ত কবিতাটির রেখাপাতের কথা শুনেছিলেন।*
*🌺শ্রীগৌরচরিত্রের অসাধারণ,স্নিগ্ধ ও মধুময় প্রভাব বিনষ্ট হবার নয়। তিনি যে ভক্তির অমৃতময় প্রভাব প্রবাহিত করে দিয়েছেন।তা চিরদিনই প্রবাহিত হয়ে নরনারীর প্রাণকে সুশীতল করবে। তিনি ভগবদ্ভক্তির যে আদর্শ দেখিয়ে গিয়েছেন,তা অতুলনীয়,সে আদর্শ চিরদিনই মানুষকে অনন্ত সৌন্দর্য্য,আনন্দ, প্রেম ও পুণ‍্যের দিকে ধাবিত করবে।*
*🙏গৌরহরি! তোমার অমিয়মাখা জীবন-চরিত পাঠে সংশয়বাদী,জড়বাদী ও নাস্তিক বুঝবে যে,জড়াতীত এক বস্তু আছেন,যিনি নরনারীর চিত্তকে হরণ করতে পারেন মুগ্ধ করতে পারেন।তুমি সেই পরমপুরুষকে স্বামীরূপে হৃদয়ে দর্শন করে ভগবদ্ লীলার অপূর্ব কীর্তি স্থাপন করে গেলে।ভাগবত বর্ণিত ভক্তির শ্রেষ্ঠ লক্ষণ সব তোমাতেই প্রকাশ পেয়েছিল।ভক্ত ছাড়া কি ভগবৎ লীলা বুঝতে বা দেখতে সমর্থ হয়?হে গৌরহরি!তুমি সেই লীলা দেখিয়ে গিয়েছ।তুমি অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডে ভক্তচূড়ামণি, ভক্তশ্রেষ্ঠ।তোমার লীলা বড়ই মধুর ও মধুর হতে মধুরতর সুমধুর।তোমার অমিয়মাখা চরিত পাঠে পাষাণ হৃদয় বিগলিত হয়,অভক্ত হৃদয়ে ভক্তির সঞ্চার হয়,ঘোর বিষয়াসক্ত ব‍্যক্তির বিষয়-লালসা দূরীভূত হয়, এবং তুমি ভগবৎ-ভক্তি ও প্রেমের অবতার স্বরূপ হয়ে চিরদিনই মানুষের চিত্ত অধিকার করে থাকবে, আর নরনারী তোমার মধুর লীলাকথা শ্রবণে ও কীর্তনে মধুর প্রেম ও ভক্তির রসাস্বাদন করে,জীবনকে সুশীতল ও মধুময় করতে সমর্থ হবে।*
*🙏দীর্ঘদিন ধরে "শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা" লিখিলাম, ভুলভ্রান্তি, বানানভুল অনেক হয়েছে হয়ত, অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমি জয়দেব দাঁ করজোড়ে ক্ষমাপ্রার্থী, নিজগুণে ক্ষমা করবেন।পরবর্তী নীলাচলে মহাপ্রভু বা শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পর্ব শুরু করব, আস্বাদন করবেন🙏*
*🙌জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবোল🙌🙌🙌*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧





শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🌸নীলাচলে মহাপ্রভু🌸*
                    *🏵প্রস্তাবনা🏵*
      *****************************
*🍀বেদান্ত মতে জীব এবং পরমাত্মা একই পদার্থ।কেবল মায়া দ্বারা বিভিন্ন হয়েছে। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লেখে হয়েছে =*
*🌷কাঁহা পূর্ণানন্দৈশ্বর্য‍্য কৃষ্ণ মায়েশ্বর।*
*🌷কাঁহা ক্ষুদ্র জীব দুঃখী মায়ার কিঙ্কর।।*
*🌼তথাহি, ভগবৎ-সন্দর্ভে ঃ----*
*🌷হ্লাদিন‍্যা সম্বিদাশ্লিষ্টঃ সচ্চিদানন্দ ঈশ্বরঃ।*
*🌷স্বাবিদ‍্যা সংবৃতো জীবঃ সংক্লেশনিকরাকরঃ।।*
*🏵আনন্দ ও সম্বিৎ-শক্তিযুক্ত ভগবান সচ্চিদানন্দ,আর জীব নিজ অবিদ‍্যাচ্ছন্ন হয়ে অশেষ কষ্টগুলি ভোগ করতে থাকে।*
*💐বিবেকরাম ও বিশ্বাসরাম, ইঁনারা বিবেক ও বিশ্বাস,ইঁনারা জ্ঞানের সহচর।পূর্বে যে উল্লেখ করা হয়েছে, সমস্ত জায়গা অন্ধকারময় করা হল, এর অর্থ জ্ঞান আলো,মায়া অন্ধকার। জ্ঞানের অভাব হলেই অজ্ঞানান্ধকারে সমস্ত আচ্ছন্ন হয়,জ্ঞান কি তা এক রকম বুঝলাম। এই যে জ্ঞান সম্বন্ধে আলোচনা করা হল,তদনুসারে ব্রহ্মবস্তুই আরাধ‍্য।তা নিরাকার "সচ্চিদানন্দমদ্বয়ম্ ব্রহ্ম"।আর,ভক্তি এবং কর্মের কথা যে আগে বলে হয়েছে,তাতে সাকার এবং নিরাকার উভয় রূপেতে ভগবানের উপাসনা হতে পারে।অধিকারী ভেদে উপাসনার প্রভেদ আছে।এই নিয়ে বহুদিন হতেই বাদানুবাদ চলছে। তন্ত্র এই বিষয়ের একটা মীমাংসা করেছেন।যথা মহেশ্বর বলেছেন=*
*🌷স্ত্রীরূপাং বা স্মরেৎ দেবি পুংরূপাং বা স্মরেৎ প্রিয়ে।*
*🌷স্বরেদ্বা নিষ্কলং ব্রহ্ম সচ্চিদানন্দরূপিণম্।।*
*🌷নেয়ং যোষিন্ন চ পুমান্ ন ষন্ডোন জড়ঃ স্মৃতঃ।*
*🌷তথাপি কল্পবল্লীব স্ত্রীশব্দেন চ যুজ‍্যতে।।*
*🌷সাধকানাং হিতায়ৈব অরূপা রূপধারিণী।*
*🌷চিন্ময়স‍্যাপ্রমেয়স‍্য নিষ্কলস‍্যাশরীরিণঃ।*
*🌷সাধকানাং হিতার্থায় ব্রহ্মণো রূপকল্পনা।।*
                             *(তন্ত্রপ্রদীপ)*
*🌻এই কথা দ্বারা বুঝা যায়,তিনি অরূপ হয়েও ভক্তের কাছে ভক্তের বাঞ্জিতরূপে দেখা দেন।*
*🌸কর্ম্ম,জ্ঞান ও ভক্তি, যে বিষয়ের এতক্ষণ আলোচনা করা হল,এর প্রত‍্যেকেই মুক্তিদান করতে পারে, কিন্তু সহজ-সাধ‍্য কেউই নয় ; তার পরে ভাগ‍্যের সাপেক্ষ ; শুনতে পাই,তীর্থদর্শন দ্বারাতে সহজে ফললাভ হয়।*
*🌹এখন আমাদের পক্ষে সব অপেক্ষা কোন তীর্থ সহজে মুক্তিদান করতে পারে, এবং কোন অবতার আমাদের মত পাপীকে উদ্ধার করবার জন্য করুণার হাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নেন,তাঁরই মহিমা কীর্তন করব।এই গ্রন্থের এটিই উদ্দেশ্য। আমাদের মোক্ষপ্রাপ্তির জন্য অনেক তীর্থ আছে, কিন্তু জ্ঞানলাভ না হলে,কোন তীর্থ মুক্তিদ হন না। যথা-- গঙ্গা বড়ই দয়াবতী,সকলকেই উদ্ধার করেছেন ; কিন্তু মোক্ষপ্রাপ্তির জন্য জ্ঞান-গঙ্গালাভের প্রয়োজন ; সুতরাং তা অনিশ্চিত। জ্ঞান লাভ না হলে মোক্ষপ্রাপ্তির কোন আশা নাই। সুতরাং গঙ্গার কাছে আমার মত জীবের মোক্ষপ্রাপ্তির আশা সুদুর্লভ। ঁকাশীর কথাও ঐরকম। স্কন্দপুরাণে জানতে পারলাম,উড্রদেশে সমুদ্রতীরে এক তীর্থ আছে,তার নাম পুরুষোত্তম  ক্ষেত্র।*
*তাতে শ্রীভগবান নিত‍্য বাস করছেন, এবং সেই ক্ষেত্রেই বাস করলেই মোক্ষপ্রাপ্তি হয়ে থাকে,এমন কি কাক মরে সেখানে চতুর্ভূজ হয়েছিল।সেখানে জাতিবিচার নাই।বিশ্বাবসু শবর জাতি হয়ে শ্রীভগবানের কৃপা লাভ করেছিলেন।সেখানে প্রসাদ সেবা করলেই মহাপূণ‍্য হয়।অন‍্য জাতিস্পর্শেও সে প্রসাদ অগ্রাহ্য হয় না।এইসব গুণকীর্তন থাকায়,অধমতারণের পক্ষে এই তীর্থকে সর্বশ্রেষ্ঠ তীর্থ বলে মনে হয়।এই তীর্থ যে পাপ-তাপ-হারণ, অধমতারণ তা বিবেচনা করতে হলে, তার মাহাত্ম্য কিরকম রয়েছে,তা প্রথমে বিবৃত হওয়া উচিত।তাহলে সকলের শুনবার জন্য প্রবৃত্তি ও বিশ্বাস জন্মিবে।তারজন‍্য এইখানে মাহাত্ম্যসূচক কয়েকটি শ্লোক উদ্ধৃত হল।*
*যথা মুক্তচিন্তামণৌ পদ্মপুরাণে=*
*🌷যঃ পশ‍্যেত্তমজং কৃষ্ণং সর্বচাক্ষুষগোচরং।*
*🌷সর্বপাপ-বিনির্মুক্তো যাতি সাযুজ‍্যতাং হরেঃ।।*
*🌷স এষ করুণাসিন্ধুঃ সিন্ধুতীরে শরীরবান্।*
*🌷যথা তথা দৃষ্টিপথাদাচন্ডালাৎ বিমুক্তয়ে।।*
*🏵জন্মরহিত শ্রীকৃষ্ণ,যিনি সকলের দর্শনের বিষয়ীভূত হয়েছেন,সেই হরিকে দর্শন করলে সর্বপাপ বিমুক্ত হয়ে সাযুজ‍্য(পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার একত্ব ও অভেদ)প্রাপ্ত হয়।সেই যে করুণারসিন্ধু শ্রীকৃষ্ণ,তিনি সিন্ধুতীরে শরীর ধারণ করে বিরাজ করছেন।আচন্ডাল সমস্ত জীবদেরকে মুক্তিপ্রদান করবেন বলে এই জগন্নাথরূপী শরীর ধারণ করেছেন।এটি দ্বারা আমরা দেখালাম তিনি পরম কারুণিক।তথাচ কপিলদুর্বাসঃসংবাদে ব‍্যাস উবাচ=*
*🌷বস্তুস্বভাবো বিপ্রেন্দ্র দর্শনাৎ মোক্ষদায়কঃ।*
*🌷যথার্কস‍্য প্রতপনং যথা চন্দ্রস‍্য শীতলং।।*
*🌹এই শ্লোক দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, এই বস্তুরই স্বভাব যে,এই দারুময় মূর্তি দর্শন করলেই মুক্তিপ্রদান হয়ে থাকেন।সূর্য‍্যের স্বভাব যেমন তাপ দেওয়া,চন্দ্রের স্বভাব যেরকম শীতলতা প্রদান করা,এই দারুময় মূর্তিরও মোক্ষপ্রদান বস্তু-শক্তি। "নহি বস্তু-শক্তিঃ বুদ্ধিমপেক্ষতে"।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🌸নীলাচলে মহাপ্রভু🌸*
                   *💮প্রস্তাবনা💮*
        🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀
*🌼তথা চ যুধিষ্ঠিরিং প্রতি নারদ বচনং=*
*🌷স এব পরমানন্দঃজনবৎ চেষ্টতে জগৎ।*
*🌷দাদাত‍্যেব ধ্রুবং মুক্তিং দর্শনাৎ পাপকর্মিণাং।।*
*🌻তথাচ ব্রহ্মান্ড পুরাণে মোক্ষাধিকার-নির্ণয়ে বেদব‍্যাসং প্রতি উদ্দালক বচনং=*
*🌷শ্রুত্বা ময়া নিদিধ‍্যাস‍্যং স্বরূপমাত্মনস্তথা।*
*🌷যৎ সাক্ষাৎ-করণং প্রোক্তং তত্ত্বমুক্তি-স্বরূপকম্।।*
*🌷তদনেক-জন্ম-সাধ‍্যং দুর্ল্লভং জন্মিনাং সদা।*
*🌷শুকো বা বামদেবো বা মুক্ত ইত‍্যভিধীয়তে।।*
*🌷তদেতন্মুক্তিদং ক্ষেত্রং মরণাদৌ ত্বয়োদিতং।*
*🌷অর্থবাদস্বরূপঞ্চ এতন্মে সংশয়ো মহান্।।*
*🌷সাক্ষাৎকারবলান্মুক্তি র্নাস্তীত‍্যেতন্মতং শ্রুতং।*
*🌷ধর্ম্মশাস্ত্রেষ্বপি মুনে নিশ্চিতং ভারতাদিষু।*
*🌷তৎ কথং মরণাল্লভ‍্যং ক্ষেত্রেহস্মিন্ পুরুষোত্তমে।।*
*🍁বেদব‍্যাস উবাচ=*
*🌹গতাগতপ্রদং কর্মমার্গং শ্রুত‍্যাদিচোদিতং।*
*🌹তত্ত্বরূপং হি জানামি এতৎ ক্ষেত্রং বহিঃ স্মৃতম্।।*
*🌹যথা সুগোপিতং ব্রহ্ম তথেদং ক্ষেত্রমুত্তমম্।*
*🌹ক্ষেত্রং বিষ্ণোস্তু জানীহি যথা বিষ্ণুস্তথৈব তৎ।।*
*🌹তথ‍্যং ব্রবীমি তে বিপ্র শ্রুত্বৈতদবধারয়।*
*🌹সত‍্যং সত‍্যং পুনঃ সত‍্যং বদাম‍্যাহতডিন্ডিমম্।।*
*🌹দক্ষিণোদধিতীরস্থং দারুব্রহ্মাবলোকিতং।*
*🌹বিনা সাংখ‍্যমতং পুংসাং দর্শনান্মুক্তিদং ধ্রুবং।।*
*🌹ইত‍্যয়ং দারুরূপীশো দর্শনাদপি মুক্তিদঃ।*
*🌹কিং পুনস্তস‍্য চরণাভ‍্যাসে প্রাণান্ বিযোজয়েৎ।।*
*🔴পদ্মপুরাণে শ্রীশ্রীভগবান উবাচ=*
*🌷শ্রুতি-স্মৃতীতিহাস-পুরাণ-গোপিতং মন্মায়য়া যন্নহি কস‍্য গোচরম্।*
*🌷প্রসাদতো মে স্তুবতস্তবাধুনা প্রকাশমায়াস‍্যতি সর্বগোচরঃ।।*
*🌷ব্রতেষু তীর্থেষু চ যজ্ঞদানয়োঃ পুণ‍্যং যদুক্তং বিমলাত্মনাংহি।*
*🌷অহো নিবাসাল্লভতেহত্র সর্বং নিশ্বাসবাসাৎ খলু চাশ্বমেধিকম্।।*
                         *(মুক্তিচিন্তামণৌ)*
*🔵তথাচ পদ্মপুরাণে-------*
*🌷ক্ষেত্রোত্তমে শ্রীপুরুষোমাখ‍্যে স্বেচ্ছাশনং দেবী মহাহবিষ‍্যং।*
*🌷যোগেইত্র নিদ্রা ক্রতবঃ প্রচারঃ স্তুতিঃপ্রলাপঃ শয়নং প্রণামঃ।।*
*🌷পথি শ্মশানে গৃহমন্ডপ বা রথ‍্যাপ্রদেশে ভুবি যত্র তত্র।*
*🌷ইচ্ছন্ননিচ্ছন্ পুরুষোত্তমাখ‍্যে দেহাবসানে লভতে চ মোক্ষং।।*
            *🔶ব্রহ্ম উবাচ=*
*🌷অহো ক্ষেত্রস‍্য মাহাত্ম্যং সমন্তাদ্দশযোজনং।*
*🌷দিবিষ্ঠা যত্র পশ‍্যন্তি সর্বানৈব চতুর্ভুজান্।।*
*🌷যা গতির্যোগযুক্তস‍্য বারাণস‍্যাং মৃতস‍্য চ।*
*🌷সা গতির্ঘটিকার্দ্ধেন পুরুষোত্তমদক্ষিণে।।*
           *🔷ভগবদ্ বাক‍্যং-----*
*🌹সত‍্যং সত‍্যং পুনঃ সত‍্যং সত‍্যমেব সুনিশ্চিতং।*
*🌹ভক্ত‍্যা মমান্নং ভুক্ত্বা তু সান্নিধ‍্যং মম গচ্ছতি।।*
*🌹একতঃ সর্বতীর্থানাং যৎ ফলং পরিকীর্তিতং।*
*🌹তৎ ফলং সমবাপ্নোতি কৃষ্ণ সিধান্ন-ভোজনাৎ।।*
*🌹কুক্কুরস‍্য মুখভ্রষ্টং মমান্নং যদি জায়তে।*
*🌹ব্রহ্মাদ‍্যৈরপি তৎ ভক্ষ‍্যং ভাগ‍্যতো যদি লভ‍্যতে।।*
           *⭐বায়ু পুরাণে------*
*🌷শুষ্কং পর্য‍্যুষিতং বাপি নীতম্বা দূরদেশতঃ।*
*🌷দুর্জ্জনেনাপি সংস্পৃষ্টং সর্বমেবাঘনাশনং।।*
*🔵মেদতন্ত্রে বৈষ্ণবান্ প্রতি নারদবাক‍্যং---*
*🌷নাতঃ পরতরং নাম ত্রিষু লোকেষু বিদ‍্যতে।*
*🌷ন গঙ্গাস্নানমেতাদৃক্ ন কাশীগমনং তথা।*
*🌷জগন্নাথে তু সঙ্কীর্ত্ত‍্য নরঃ কৈবল‍্যমাপ্নুয়াৎ।।*
*🔷বিষ্ণুযামলে নারদং প্রতি ভগবদ্ বাক‍্যং=*
*🌹চিদানন্দময়ং ব্রহ্ম দারুব‍্যাজেন সংস্থিতং।*
*🌹জীবভূতং জগন্নাথং মামবেহি কলিপ্রিয়ঃ।।*
*🌹মামত্র যে প্রপশ‍্যন্তি দৃষ্ট্বা চাক্ষুষগোচরম্।*
*🌹বিদধামীতি তন্মুক্তিমিতি মে নিশ্চয়া মতিঃ।।*
*🌻গরুড় পুরাণে বেদব‍্যাস উবাচ=*
*🌷সত‍্যং সত‍্যং পুনঃ সত‍্যং তৎক্ষেত্রং ভগবত্তনুঃ।*
*🌷সচ্চিদানন্দরূপং তদব্রহ্ম দারব-দেহভৃৎ।।*
*🌷যতো বিষ্ণোঃ শরীরং তৎ ক্ষেত্রং পরমদুর্ল্লভং।*
*🌷তস্মাৎ শরীর-সংত‍্যাগাৎ পাপিনোহপি ব্রজন্তি তং।।*
*🌷সংসার-মগ্নচিত্তানাং নরাণাং পাপকর্ম্মাণাম্।*
*🌷তাপত্রয়াভিভূতানাং বাসনাবদ্ধচেতসাম্।।*
*🌷অন‍্যেষাং অন্ত‍্যজাতীনাং দর্শনান্মুক্তিদো বিভূঃ।*
*🌷আস্তে তত্র জগন্নাথো দারুণা নির্ম্মিতোহব‍্যয়ঃ।।*
*❤জীবের মোক্ষপ্রাপ্তি সম্বন্ধে এই পর্যন্ত বলা হল।এখন কৃমিকীট পতঙ্গাদি যে পরমাগতি লাভ করে তার একটি প্রমাণ উল্লেখ করছি। শৌনকাদীন্ প্রতি ব্রহ্ম-উবাচ=*
*🌷কৃমি-কীট-পতঙ্গাদ‍্যাস্তীর্য‍্যগ্ যোনি-গতাশ্চ যে।*
*🌷তত্র দেহং পরিত‍্যজ‍্য তে যান্তি পরমাং গতিং।।*
*🌻যে সব শ্লোক উল্লেখ করা হয়েছে, তা দ্বারা আমাদের আবশ‍্যকতা পূর্ণ হল।প্রথমতঃ দ্রষ্টব‍্য দারুময় ব্রহ্ম,যিনি নীলাচলে অবতীর্ণ হয়েছেন,তিনি আমাদের মত পাপীকে উদ্ধার করবেন কি না? প্রথম শ্লোকের দ্বিতীয়ার্দ্ধ======*
*🌷স এষ করুণাসিন্ধুঃ সিন্ধোস্তীরে শরীরবান্।*
*🌷যথা তথা দৃষ্টিপথাদাচন্ডালাৎ বিমুক্তয়ে।।*
*🌻এটি দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম তিনি করুণাসিন্ধু,আচন্ডালকে বিমুক্ত করবার জন্য তিনি সিন্ধুতীরে শরীরধারী হয়ে অবস্থান করছেন, সুতরাং আমাদের কোনও চিন্তা করবার কারণ নাই।ইতঃপরে যে সব শ্লোক উল্লেখ করা হয়েছে,তা দ্বারা বলা হয়েছে,তাঁর দর্শনেই মুক্তি হয়, তাঁর প্রসাদ ভক্ষণে মুক্তি হয়,তাঁর নির্মাল‍্য ধারণে মুক্তি হয়,সেখানে বাস করলে মুক্তি হয় এবং অবশেষে প্রাণত‍্যাগ করলেও মুক্তি হয়।*
               *ক্রমাগত*
🥀🥀🥀🥀🥀🥀🌼🥀🥀🥀🥀🥀🥀
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🌸নীলাচলে মহাপ্রভু🌸*
                  *🌹প্রস্তাবনা🌹*
          💮💮💮💮💮💮💮💮
*🍀পাপীদের উদ্ধারের পথ আরও সহজ করবার জন্য প্রয়াসী হয়ে বলেছেন,যথা-- "ক্ষেত্রোত্তমে শ্রীপুরুষোত্তমাখ‍্যে" ইত্যাদি।শ্রীপুরুষোত্তম ক্ষেত্রে যা ইচ্ছা আহার কর, মহা-হবিষ‍্যেরফল হবে ;এখানে নিদ্রাতে যোগের ফল হয়,শয়ন করলে শ্রীজগন্নাথকে প্রণাম করলে যে ফল,তা লাভ হয়,আর ঘরে হোক বা শ্মশানে হোক, ইচ্ছায় অনিদ্রায় মৃত‍্যুর পর মুক্তি অবধারিত।এরকম সহজে মুক্তিলাভ অন‍্য কোন তীর্থ দিতে পারেন না বলেই মনে হয় না।সমস্ত তীর্থ হতে শ্রীজগন্নাথ যে শ্রেষ্ঠ তীর্থ তা বর্ণিত হয়েছে।এইসব শ্লোকেতে এওও পেয়েছি যে,সাংখ‍্য যোগ দ্বারা যা লাভ হয়,শ্রুতি,স্মৃতি,পুরাণোক্ত সাধন দ্বারা যা পাওয়া যায়,তার সমস্তই শ্রীজগন্নাথদর্শন দ্বারা লাভ হয়ে থাকে।আমার মনে হয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা ত্রিমূর্তি,জ্ঞান,ভক্তি ও কর্মের প্রতিকৃতি।এইজন‍্য সুভদ্রা মধ‍্যস্থানে রয়েছেন।কর্মযোগ,ভক্তিযোগ ও জ্ঞানযোগ দ্বারা যা লাভ হয়,এই শ্রীজগন্নাথ সেবা দ্বারা সেই ফললাভ হয়ে থাকে।শ্রীমুখদর্শনে,তাঁর প্রসাদ ভোজনে এবং নির্মাল‍্য গ্রহণে মন পরিস্কার হয়ে অব‍্যভিচারিণী ভক্তির উদয় হয়।ভক্তি দ্বারা জ্ঞানের লাভ হয় এবং জ্ঞান হতে মুক্তি হয়।*
*🌷সর্বপাপাবিনির্ম্মুক্তো বিষ্ণুভক্তি-সমন্বিতঃ।*
*🌷নির্ম্মলজ্ঞান-সম্পন্নস্ততো মোক্ষমবাপ্নুয়াৎ।।*
*🌻সংক্ষেপতঃ, আমাদের যা প্রার্থিত,তা আমরা অতি সহজেই লাভ করছি।এটি অপেক্ষা সহজতর উপায় আর বোধহয় হতে পারে না।মহাপ্রভু যে হরিনামের পথ প্রচার করেছেন,তাও এটিরই প্রতিধ্বনি বলে বোধহয় ; সুতরাং যে হরিনাম কীর্তন,তাও এরই অঙ্গীভূত।*
*এই যে প্রতিধ্বনির কথা উল্লেখ করলাম,এর ভিতরে কিছু নিগূঢ় তত্ত্ব নিহিত রয়েছে। শ্রীশ্রীজগন্নাথ-লীলার মাহাত্ম্যশাস্ত্র অধ‍্যয়ন করলে দেখতে পাই,তাঁর মুখ‍্য উদ্দেশ্য পাপী জীবকে উদ্ধার করা,যার অন‍্য কোন উপায় নাই বা আশ্রয় নাই।তাকে একটা অবলম্বন করে দেওয়া।সেই উপায় জগন্নাথ নামকীর্তন,প্রসাদ ভক্ষণ,জগন্নাথ দর্শন ইত্যাদি।এখন শ্রীগৌরাঙ্গলীলারও উদ্দেশ্য দেখতে পাই,তিনি পাপী জীবের জন্য হরিনাম প্রচারের পথ প্রসারণ করেন।পাপী উদ্ধার অংশে জগন্নাথদেবের সঙ্গে শ্রীগৌরাঙ্গদেবের বিশেষ সাদৃশ‍্য দেখা যাচ্ছে।এতে মনে হয় যেন শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবই যেন পুনরায় এই গৌরদেহ ধারণ করে জীব উদ্ধারের জন্য হরিনাম প্রচার এবং কৃষ্ণপ্রেমের নিগূঢ় তত্ত্ব,অর্থ‍্যাৎ রাধাতত্ত্ব,কৃষ্ণতত্ত্ব এবং জগন্নাথতত্ত্ব সমস্ত দেখাবার জন্য তিনি শ্রীরাধার ভাব নিয়ে কৃষ্ণকে পাওয়ার উপায় করেছেন, এবং কৃষ্ণ ও জগন্নাথ যে এক বস্তু তা দেখিয়েছেন। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই=*
*🌷গরুড়ের পাছে রহি করেন দর্শন।*
*🌷দেখেন জগন্নাথ হয় মুরলী-বদন।।*
*🌹দারুময় ব্রহ্ম এবং শ্রীশীচৈতন‍্যদেব যে এক বস্তু,তা চৈতন‍্যচরিতামৃতে এইরকম উল্লেখ আছে=*
*🌷জগন্নাথ হয় কৃষ্ণের আত্মাস্বরূপ।*
*🌷কিন্তু ইহা দারুব্রহ্ম স্থাবরের রূপ।।*
*🌷তাহা সহ আত্মতা একরূপ হঞা।*
*🌷কৃষ্ণ এক তত্ত্বরূপ দুইরূপ হঞা।।*
*🌷সংসার তারণ হেতু যে ইচ্ছা শক্তি।*
*🌷তাহার মিলনে কহি একতা প্রাপ্তি।।*
*🌷সকল সংসারী লোকের করিতে উদ্ধার।*
*🌷গৌর জঙ্গমরূপে কৈল অবতার।।*
*🌷জগন্নাথ দরশনে খন্ডায় সংসার।*
*🌷সবদেশের সব লোক নারে আসিবার।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণ চৈতন‍্য প্রভু দেশে দেশে যাঞা।*
*🌷সব লোক নিস্তারিল জঙ্গম ব্রহ্ম হৈয়া।।*
*💮অবশেষে সেই গৌর কলেবর জগন্নাথ দেহেতেই মিশে গিয়েছে।পরবর্তী ঘটনাদ্বারা এই অনুমান আরও দৃঢ়ীভূত হয়।ইহা আমার অনুমান হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত তত্ত্বই এই।যাঁরা প্রত‍্যক্ষ দেখেছেন,তাঁদের মধ্যে প্রধান সাক্ষ‍্য রায় রামানন্দ,স্বরূপদামোদর, সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য,শিখি মাইতি,মাধবী দাসী বহুভক্তগণ।এইসব সম্বন্ধে চৈতন‍্যচরিতামৃতে বিস্তৃতরূপে আলোচিত হয়েছে ; আমি তারই আভাস মাত্র এখানে দিলাম। অতএব, তাঁদেরই মাহাত্ম্য বর্ণন করা আবশ্যক মনে করছি।এই উপলক্ষ্যে জগন্নাথ নাম কীর্তন হবে,তাতেও ফলশ্রুতি আছে,যথা=*
*নাতঃ পরতরং নাম ত্রিষু লোকেষু বিদ‍্যতে।*
*ন গঙ্গাস্নানমেতাদৃক্ ন কাশী গমনং তথা।।*
*জগন্নাথে তু সংকীর্ত্ত‍্য নরঃ কৈবল‍্যমাপ্নুয়াৎ।*
        *বর্তমান যুগে এখন=*
*হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্।*
*কলৌ নাস্ত‍্যেব নাস্ত‍্যেব নাস্ত‍্যেব গতিরন‍্যথা।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🙏নীলাচলে মহাপ্রভু🙏*
                *🌼প্রস্তাবনা🌼*
      ^^^^^^^^*****^^^^^*****^^^^
*🍀হরের্নাম শ্লোকের সহিত এর বিরোধ মনে করতে পারেন-- কিন্তু তা নয়।এই "জগন্নাথেতি কীর্তনাৎ" শব্দ বলা হয়েছে এটি দ্বারা হরি,কৃষ্ণ,জনার্দন,বামন,হর,কালী ইত্যাদি সমস্ত নাম মাত্রেই বুঝতে হবে।হরি নামেতেও কেবল হরি নাম নয়, জগন্নাথ নামেতেও কেবল জগন্নাথ নয়,উপলক্ষণ বিধায় একটি নামের উল্লেখ করা হয়েছে।এই হরি নামের যিনি প্রবর্তক,হরিনাম প্রচারের জন্য যিনি নবদ্বীপে অবতীর্ণ হয়ে বহু পাপীতাপী উদ্ধার করেছেন এবং হরিনামে সকলকে মাতিয়েছেন,যিনি যুবতী পত্নী,বৃদ্ধা মাতা এবং সুখের সংসার পরিত‍্যাগ করে ডোর কৌপীন ধারণ করে জীবের মঙ্গলের জন্য আঠার বৎসর পুরীধামে অবস্থান করেছেন এবং দিবানিশি অশ্রু বিসর্জন করেছেন এবং সেই প্রেমের বন‍্যায় রায় রামানন্দ, সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য,স্বরূপ,দামোদর,রাজা প্রতাপরুদ্র এবং পুরীবাসীদেরকে ভাসিয়েছেন ; যিনি জগন্নাথ ও শ্রীকৃষ্ণ যে একবস্তু নিজে দৃষ্টান্ত দ্বারা দেখিয়েছেন ও তার সম্পর্কে বহুলীলা জগন্নাথে করেছেন।তাঁর নাম এবং তাঁর লীলা জগন্নাথলীলার সহিত সম্মিলিত না থাকলে,প্রকৃত জগন্নাথলীলা মাহাত্ম্য সম্পূর্ণ বর্ণিত হল, বলেই আমি মনে করি না,সেইজন‍্য এই সঙ্গে নদেবিহারী শ্রীগৌরাঙ্গদেবের পুরীধামের লীলা উল্লিখিত হল।*
*ভগবান্ পরম দয়াল,তাঁর গুণ আমি আর কি কীর্তন করব।কেউই এ পর্যন্ত তাঁর গুণ কীর্তন করে সীমা পাননি।তাই "পুষ্পদন্ত" লিখেছেন=*
*🌷মহিম্নঃ পারং তে পরমবিদুষো যদ‍্যসদৃশী,*
*🌷স্ততি র্ব্রহ্মাদীনামপি তদবসন্নাস্ত্বয়ি গিরঃ। ইত্যাদি।*
     *আবার লিখেছেন=*
*🌷অসিতগিরিসমং স‍্যাৎ কজ্জলং সিন্ধুপাত্রে,*
*🌷সুরতরুবরশাখা লেখনী পত্রমুর্ব্বী।*
*🌷লিখতি যদি গৃহীত্বা সারদা সর্বকালং,*
*🌷তদপি তব গুণানামীশ পারং ন যাতি।।*
                         *(মহিম্ন-স্তোত্র)*
*🌳এটি দ্বারা তাঁর গুণের অপরিসীমত্ব দেখিয়ে ভক্তগণ তাঁর কিভাবে পূজা করবেন এর ব‍্যবস্থা করেছেন।তা বেশ সুন্দর =*
*🌷অথাবাচ‍্য সর্বঃ স্বমতিপরিণামাবধিগৃণম্,*
*🌷মমাপ‍্যেষ স্তোত্রে হর-নিরপবাদঃ পরিকরঃ।*
*🌷অতীতঃ পন্থানঃ তবচ মহিমা বাঙ্ মনসয়ো-,*
*🌷-রতদৃব‍্যাবৃত্ত‍্যা যং চিতমভিধত্তে শ্রুতিরপি।*
*🌷স কস‍্য স্তোতব‍্যঃ কতিবিধগুণঃ কস‍্য বিষয়ঃ,*
*🌷পদেত্বর্ব্বাচীনে পততি ন মনঃ কস‍্য ন বচঃ।।*
*🌻পুষ্পদন্ত লিখেছেন, তোমার স্তুতি কে করতে সমর্থ? ব্রহ্মাদিরাও স্তুতি করে তোমার গুণের পরিসীমা করতে পারেননি,ঋষিগণও তোমার গুণবর্ণনে অসমর্থ।সিন্ধু বা সাগর যদি কজ্জলপত্র বা কাজলপাত্র হয়,গিরি যদি পত্র হয়, সুরতরু(কল্পবৃক্ষ) যদি লেখনী হয়, এবং সারদা বা সরস্বতী যদি অনন্তকাল বসেও লিখতে থাকেন,তবুও তোমার মহিমার শেষ হবে না। তোমার স্তব আমি কি করব? যখন কারও স্তুতিই সিদ্ধ হয় না,তখন আমার স্তুতি হাসির পাত্র হতে পারে, কিন্তু তা তোমার উদ্দেশ্য নয়।তুমি ভক্তাধীন ভগবান,ভক্তই তোমার পরম বস্তু,ভক্তের জন্য তুমি সবকিছুই করতে পার।যাইহোক, নিজ নিজ জ্ঞানের সীমা অনুযায়ী যদি কেউ স্তব করে,তাইই তোমার গ্রহণীয়। সুতরাং আমার যে স্তব তাহাও তোমার অগ্রাহ্য হবে না।এখন পুষ্পদন্তের উপদেশ অনুসারে আমাদেরও স্তব বা গুণ কীর্তনের অধিকার বর্ত্তিল।এখন প্রার্থনা করি, ভগবান্, তুমি আমার এই স্তব এবং গুণকীর্তন করবার সহায় হও।যাঁর কৃপাতে মূকের(বোবার) কথা ফোটে, পঙ্গুর গিরি লঙ্ঘন করবার শক্তি জন্মে,সেই পরমানন্দরূপী ভগবানকে প্রণাম করছি।*
*🌷মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।*
*🌷যৎকৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দ-মাধবং।।*
*🔶গ্রন্থারম্ভে গ্রন্থ নির্বিঘ্নে সমাপন করবার জন্য আর্য‍্যঋষিরা চিরদিন "ওঁ নমো গণেশায়" বলে গ্রন্থারম্ভ করে থাকেন।এই সামান্য গ্রন্থের উদ্দেশ্য কেবল গ্রন্থ সমাপন নয়,মুখ‍্য উদ্দেশ্য শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের নাম-কীর্তন, সুতরাং "ওঁ নমো গণেশায়" বলে শ্রীজগন্নাথের স্তোত পাঠ করি,তাতে আমাদের উভয় কাজ সংসাধিত হবে।প্রথমে আমরা শ্রীজগন্নাথের স্তুতিগান পাঠ করি। শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রমুখপদ্ম-বিনির্গত যে স্তব তাইই আগে পাঠ করা হোক=*
*কদাচিৎ কালিন্দী-তটবিপিন-সঙ্গীতক-রবো*
*মুদাভারী-নারী-বদন-কমলাস্বাদ-মধুপঃ।*
*রমা-শম্ভু-ব্রহ্মা-সুরপতি-গণেশার্চ্চিতপাদো,*
*জগন্নাথঃ স্বামী নয়ন-পথগামী ভবতু মে।।*
*ভুজ‍ে সব‍্যে বেণুং শিরসি শিখিপুচ্ছং কটিতটে,*
*দুকূলং নেত্রান্তে সহচর-কটাক্ষং বিদধতে।*
*সদা শ্রীমদ্বৃন্দাবন-বসতি-লীলাপরিচয়ো*
*জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।*
*মহাম্ভোধস্তীরে কনকরুচিরে নীলশিখরে,*
*বসন্ প্রসাদান্তে সহজ-বলভদ্রেণ বলিনা।*
*সুভদ্রামধ‍্যস্থঃ সকল-সুরসেবাবসরদো,*
*জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।*
*কৃপাপারাবারঃ সজল-জলদ-শ্রেণীরুচিরো,*
*রমাবাণীরামঃ স্ফুরদমলপদ্মেক্ষণমুখৈঃ।*
*সুরেন্দ্রৈরারাধ‍্যঃ শ্রুতিগণশিখা-গীতচরিতো,*
*জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।*
*রথারূঢ়ো গচ্ছন্ পথি মিলিতভূদেবপটলৈঃ,*
*স্তুতিপ্রাদুর্ভাবং প্রতিপদমুপাকর্ণ‍্য সদয়ঃ।*
*দয়াসিন্ধুর্বন্ধুঃ সকলজগতাং সিন্ধুসুতয়া,*
*জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।*
*পরব্রহ্মাপীড়ঃ কুবলয়দলোৎফুল্লনয়নো,*
*নিবাসী নীলাদ্রৌ নিহিতচরণোহনন্ত শিরসি।*
*রসানন্দো রাধা-সরস-বপুরালিঙ্গনসুখো,*
*জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।*
*ন বৈ যাচে রাজ‍্যং ন চ কণক-মাণিক‍্য-বিভবং,*
*ন যাচেহহং রম‍্যাং সকলজনকাম‍্যাং বরবধূম্।*
*সদা কালে কালে প্রমথপতিনা গীতচরিতো,*
*জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।*
*হর ত্বং সংসারং দ্রুততরমসারং সুরপতে,*
*হর ত্বং পাপানাং বিততিমপরাং যাদবপতে।*
*অহো দীননাথং নিহিতমচলং নিশ্চিতপদং,*
*জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।*
*জগনাথাষ্টকং পুণ‍্যং যঃ পঠেৎ প্রযতঃ শুচিঃ।*
*সর্বপাপ-বিশুদ্ধাত্মা বিষ্ণুলোকং স গচ্ছতি।।*
*🙏🙏শেষ নিবেদন🙏🙏*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🙏ভক্তপ্রবর পাঠক মহাশয়গণ, এ ক্ষেত্রে পাঠক এবং গ্রন্থকার উভয়েরই একই উদ্দেশ্য।আপনারাও চান ভগবানের পূজা করতে,আমিও আপনাদের আশীর্বাদ গ্রহণ করে পূজা করবার জন্য নানা ফুল সংগ্রহ করে সাজি পূর্ণ করেছি।ভক্তগণ,আসুন আমরা এই ফুলের দ্বারা ভগবৎ চরণে পুষ্পাঞ্জলী দেই।*
       *বিনীত নিবেদক=*
           *শ্রীগোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🌹নীলাচলে মহাপ্রভু🌹*
*নৈমিষারণ‍্যে ঋষিগণ কর্ত্তৃক সূতমনির নিকট প্রশ্ন।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌸পূর্বকালে পুণ‍্যক্ষেত্র নৈমিষারণ‍্যে সমবেত ঋষিগণ অশেষ শাস্ত্রজ্ঞ ব‍্যাসশিষ‍্য সূতমনির নিকট শ্রীশ্রীপুরুষোত্তমক্ষেত্র বিবরণ শুনতে ইচ্ছুক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন------- উৎকলখন্ডে বর্ণিত আছে যে =*
*🌷উৎকলে নাভিদেশশ্চ বিরজাক্ষেত্রমুচ‍্যতে।*
*🌷বিমলা সা মহাদেবী জগন্নাথস্তু ভৈরবঃ।।*
             *তথাচ*
*🌷ভারতে চোৎকলে দেশে ভূস্বর্গে পুরুষোত্তমে।*
*🌷দারুরূপী জগন্নাথঃ ভক্তানামভয়প্রদঃ।।*
*🌻এই বর্ণিত পরম পবিত্র পুরুষোত্তম ক্ষেত্র এবং শ্রীশ্রীজগন্নাথ মাহাত্ম্যের বিস্তারিত বিবরণ জানবার জন্য আমরা আপনার নিকট উপস্থিত হয়েছি।কৃপা বিতরণে ভগবান লক্ষ্মীপতি যে ভাবে যে লীলা করেছিলেন তার সবিস্তার বর্ণন করে আমাদের কৌতূহল নিবৃত্তি করুন।*
*ব‍্যাসশিষ‍্য পরমভাগবত মহাত্মা সূত মুনিগণ কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হয়ে বললেন,হে মুনিগণ!পরমপাবন শ্রীশ্রীজগন্নাথক্ষেত্রের বিষয় আমার মত ব‍্যক্তি কর্তৃক বিস্তারিত বর্ণন দুঃসাধ‍্য।স্বয়ং ব্রহ্মা চতুর্মুখে বহু বৎসর বর্ণন করেও ইহার মাহাত্ম্য শেষ করতে পারেননি।যথা=*
*🌷অহো ক্ষেত্রস‍্য মাহাত্ম্যং সমন্তাদ্দশযোজনং।*
*🌷দিবিষ্ঠা যত্র পশ‍্যন্তি সর্বানেব চতুর্ভুজান্।।*
*🌷সপ্ত সপ্তসু লোকেষু লোকালোকে চরাচরে।*
*🌷নাস্তি নিস্তি সমং ক্ষেত্রং উত্তমং পুরুষোত্তমাৎ।।*
*🌷মাহাত্ম‍্যমস‍্য তীর্থস‍্য বক্তুম্ বর্ষশতৈরপি।*
*🌷ন সমর্থো দ্বিজশ্রেষ্ঠাঃ কিমন‍্যৎ শ্রোতুমিচ্ছথ।।*
*🌹সুতরাং আমার মত অল্পজ্ঞান মানুষ এটি কিভাবে বিস্তারিত বর্ণন করতে সমর্থ হবে? কিন্তু আপনারা শুনতে নিতান্ত উৎসুক হয়েছেন, এবং আমিও ভগবদ্ধামের বিষয় বর্ণন করে পবিত্র হতে পারব ভেবে সেই ভগবান বৈকুন্ঠনাথের ভগবৎলীলা,যা পরম কারুণিক গুরুদেবের নিকট শুনেছি, তা যথাসাধ‍্য বর্ণন করছি শুনুন।🔶 একসময়ে মহর্ষি মার্কন্ডেয় মায়ার শক্তি এবং তার স্বরূপ জানবার জন্য ভগবানের নিকট প্রশ্ন করেছিলেন।সেই সময়ে ভগবান বলেছিলেন, মায়ার যে কি স্বরূপ তা একসময়ে তোমাকে দেখাব।মহাপ্রলয়াবসানে মহর্ষি মার্কন্ডেয় ধ‍্যানভঙ্গে শিশুর কান্নার শব্দের মত শব্দ শুনে চারিদিকে দেখতে লাগলেন এবং দেখলেন,কাছে বটবৃক্ষতলে একটি শিশু মুখ ব‍্যাদান করে হাসছে।শিশুরূপী ভগবান মহর্ষিকে দেখে আহ্লাদ সহকারে বললেন--এসো।এই বলে শিশু মুখ বিস্তার করলেন।মার্কন্ডেয় মুনি তাঁর উদরে প্রবেশ করে তারমধ‍্যে,চন্দ্র,সূর্য‍্য,গ্রহ,নক্ষত্রাদি সমন্বিত ত্রিলোক দর্শন করলেন। সেখান হতে বেড়িয়ে স্তব করছেন এমন সময় দৈববাণী হল,তুমি যে মায়া দর্শন করতে চেয়েছিলে,তা দেখালাম।*
*🔵মার্কন্ডেয়ং প্রতি শ্রীভগবদ্ বচনং*
*🌷মুনে পুণ‍্যমিদং ক্ষেত্রং শাশ্বতং মে বিভাবয়।*
*🌷ন সৃষ্টিপ্রলয়ৌ যত্র বর্ত্ততে নাত্র সংশয়ঃ।।*
*🌷মদেকরূপং পুরুষোত্তমাখ‍্যং মুক্তিপ্রদং মামিব সংপ্রবুধ‍্য।*
*🌷তত্র প্রবিষ্টা ন পুনঃ প্রযান্তি গর্ভস্থিতং সান্দ্রসুখস্বরূপং।।*
*🔴আমি এই বটবৃক্ষ নিকটস্থ নীলাচলে নীলমাধবরূপে অবস্থান করব।মহর্ষি মার্কন্ডেয় দৈববাণী শুনে, এই জায়গায় ভগবান আছেন জেনে, সেই জায়গায় একটা সরোবর খনন করে তার কুলে তপস‍্যায় রত হলেন।কাজেই এই জায়গা অতীব প্রাচীন এবং মহাপ্রলয়াবসান হতেই এই জায়গা ভগবদ্ধাম।সেই সময়ে এই জায়গাটি সাধারণ মানুষের অগম‍্য (মানুষের নাগালের বাইরে) ছিল।দেবগণ স্বর্গ হতে অবতরণ করে পারিজাতাদি পুষ্প,অমৃত ও উপাদেয় নৈবেদ‍্যাদি দ্বারা ভক্তিভাবে ভগবানের পূজার্চনা এবং নৃত‍্যগীতাদি করতেন।অতঃপর কেবল দেবতাদের সেবায় তৃপ্ত না হয়ে, অথবা জীবের দুঃখে দুঃখিত হয়ে,মানবলোকে অবতীর্ণ হবার ইচ্ছা হল।*
*রাজস্থানের অন্তর্গত মালবারে, বতর্মান উজ্জয়িনী নগরে, পরমভাগবত সর্বশাস্ত্রবিশারদ প্রজাপালক পরম ধার্মিক ইন্দ্রদ‍্যুম্ন নামক রাজা ছিলেন।মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন ব্রহ্মার অধস্তন পঞ্চম পুরুষ। তিনি ভগবৎ প্রাপ্তির জন্য নিতান্ত অধীর হয়েছিলেন।অশেষ শাস্ত্রবিশারদ বহুদর্শী ধর্মজ্ঞ ব্রাহ্মণ পন্ডিতগণের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, মহাত্নাগণ! আপনারা কৃপাকরে বলুন,কোথায় গেলে,কি করলে,সেই ত্রিতাপহারীর দেখা পাব?পন্ডিতগণ বললেন, মহারাজ!আপনার যখন ভগবৎ লাভের জন্য এতদূর উৎকণ্ঠা হয়েছেন,তখন অবশ্যই আপনার বাসনা সিদ্ধ হবে।*
              *ক্রমাগত*
🦜🦜🦜🦜🦜🦜🪔🦜🦜🦜🦜🦜🦜
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🙌নীলাচলে মহাপ্রভু🙌*
*নৈমিষারণ‍্যে ঋষিগণ কর্তৃক সূতমুনির নিকট প্রশ্ন।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*💮ভক্তবৎসল ভগবান রাজার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে,বৃদ্ধ জটিল ব্রাহ্মণরূপে রাজসভায় প্রবেশ কোরে বললেন,মহারাজ!আমি পৃথিবীর সবতীর্থ পর্য‍্যটন করে,অবশেষে দক্ষিণ সমুদ্রতীরে নীলাচলে অক্ষয়বট নিকটবর্তী জায়গায় উপস্থিত হয়েছিলাম।সেখানে মোহিনীকুন্ড নামে একটি অতি পবিত্র কুন্ড আছে।সেই স্থানে ভগবান "নীলমাধব মূর্তিতে" পূর্ণভাবে বিরাজমান।তাঁকে দর্শন করলেই সমস্ত বাসনা পূর্ণ হবে।এইকথা বলেই তিনি অদৃশ্য হলেন।বৃদ্ধ ব্রাহ্মণকে দর্শন করে, ভগবান এই বেশে এসেছেন,মনে করে,রাজা তাঁর স্তব করতে লাগলেন।মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন স্বচক্ষে ভগবদ্দর্শন করে,ভক্তি গদগদ স্বরে হরির স্তব করে,ভগবৎস্বরূপ বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কথিত স্থান নির্ণয় করবার জন্য,তাঁর পুরোহিতের ভাই বিদ‍্যাপতি নামক জনৈক বহু-ভাষাবিৎ পন্ডিতকে পাঠালেন।বিদ‍্যাপতি বহুকষ্টে নানা জায়গা খোঁজ করে,অবশেষে দক্ষিণ সমুদ্রের তীরবর্তী,অরণ‍্যাকীর্ণ স্থানে এসে উপস্থিত হন।বহু খোঁজ করে বিশ্বাবসু নামক জনৈক শবরজাতিয় লোকের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।এই বিশ্বাবসু ব‍্যাধ হয়েও ভগবানের অত‍্যন্ত কৃপাপাত্র ও প্রিয় সেবক ছিলেন।তাঁর কাছে নীলমাধব সংক্রান্ত বিষয় আলোচনা করে,এই স্থানই,সেই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কথিত স্থান স্থির করে,বিশ্বাবসুর সাহায্যে নীলমাধব দর্শন ও অতি উপাদেয় প্রসাদ ভক্ষণ করে,দেবগণ-সেবিত নির্মাল‍্য-মালা নিয়ে বিদ‍্যাপতি স্বদেশে গমন করলেন। তিনি মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্নকে পরম পবিত্রধাম জগন্নাথক্ষেত্রের বিস্তারিত বিবরণ জানালেন।মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন পুরোহিত প্রমুখাৎ শ্রীধামের বিষয় সবিশেষ জেনে সপরিবারে পাত্র-মিত্র-বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়স্বজন পরিবৃত হয়ে,পুণ‍্যক্ষেত্রে শ্রীক্ষেত্রাভিমুখে শুভদিনে যাত্রা করলেন।এমন সময় দেবর্ষি নারদ,হরিগুণ কীর্তন করতে করতে সেখানে উপস্থিত হলেন, এবং রাজার পুরুষোত্তমে গমন সংবাদ শুনে,তাঁর সঙ্গে যাবার জন্য ইন্দ্রদ‍্যুম্নের একান্ত ইচ্ছা জানতে পেরে,পথপ্রদর্শকরূপে তাঁর সঙ্গে গমন করলেন।উজ্জয়িনী হতে যাত্রা করে,বহুদেশ জনপদ অতিক্রম করে বিরজাক্ষেত্রে বরাহরূপী ভগবানকে দর্শন,বৈতরণীস্নান ও পিতৃগণের উদ্দেশ্যে পিন্ডদান করে একাম্রকাননে উপস্থিত হলেন। সেখানে বিন্দু সরোবরে স্নান করে ভুবনেশ্বরদেবের পূজার্চনা ও অন‍্যান‍্য দেবদেবী দর্শন করে,তাঁরা শ্রীশ্রীপুরুষোত্তম-ক্ষেত্রাভিমুখে চললেন। লীলাময়ের লীলা বুঝবার শক্তি,যখন ব্রহ্মাদিরও নাই,তখন সামান্য মানুষ কিভাবে বুঝবে। নীলাচলবিহারী নীলমাধব ভক্তবৎসল বটে, কিন্তু তিনি সহজে দেখা দেন না, এবং কর্ম ছাড়া তাঁর দর্শন লাভ হয় না।বহুবিধ কর্মের পর তাঁর দর্শন লাভ হয়। ভগবান ইন্দ্রদ‍্যুম্নের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন,তাঁকে দর্শন দিবেন স্থির করেছেন, কিন্তু তাঁর কর্ম শেষ হয়নি, কাজেই যে দিন বিদ‍্যাপতি গিয়ে রাজাকে সংবাদ দিয়েছেন,সেই দিনই ভগবান নীলাচল হতে অন্তর্দ্ধান হলেন।প্রবল ঝটিকা এসে নীলমণিময় স্থান বালুকা দ্বারা আচ্ছাদিত করে ফেলল।মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন পুরোহিতপ্রদর্শিত জায়গায় এসে উপস্থিত হলেই,তাঁর বাম চক্ষু স্পন্দিত হতে লাগল।এই দুর্লক্ষণ দেখে তিনি দেবর্ষি নারদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন,এর কারণ কি?আমাকে তাড়াতাড়ি বলুন।তখন মহর্ষি বললেন,হে মহারাজ!স্বর্ণপদ্মাসনস্থ মণিময় নীলমাধব এই জায়গা হতে অন্তর্হিত হয়েছিলেন।*
*মালবাধিপতি এই সংবাদ শোনামাত্র, পাতা ঝরা বৃক্ষের মত অজ্ঞান হয়ে ধূলায় বা মাটিতে পড়ে গেলেন।চেতনা পেয়ে নীলমাধবকে না দেখে,শোকে, দুঃখে ও আশাভঙ্গে নিতান্ত মুহ‍্যমান হয়ে বালুর মধ্যে পড়ে গেলেন এবং উচ্চৈঃস্বরে আর্তনাদ করতে লাগলেন। তিনি কখনও বিদ‍্যাপতির প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে তিরস্কার করলেন, কখনও বা পাত্র,মিত্র,বন্ধুবান্ধবসকলকে ডেকে বললেন,তোমরা স্বরাজ‍্যে প্রস্থান কর, এবং সেখানে গিয়ে আমার পুত্রকে সিংহাসনে বসিয়ে,তার আদেশ অনুসারে রাজ‍্যসংক্রান্ত কাজ করতে থাক।আমি এ দেহ আর রাখব না ; এখনই সমুদ্রে ডুবে বা অনলে ঝাঁপ দিয়ে জীবন বিসর্জন করব।দেবর্ষি নারদ তখন রাজাকে বললেন,হে মহারাজ!তুমি পরম জ্ঞানবান্ হয়ে, সামান্য লোকের মত বিচলিত হচ্ছ কেন?ধৈর্য‍্য ধরে আমার কথা শোন,পিতা ব্রহ্মা আমাকে যা বলে পাঠিয়েছেন,তা তোমার মঙ্গলকর। অতএব ব্রহ্মার কথিত মত কাজ আরম্ভ কর, তাহলেই তোমার মনস্কামনা অচিরে সিদ্ধ হবে।যেদিন ভগবান নীলমাধব এই জায়গা হতে শ্বেতদ্বীপে দারুমূর্তি ধারণ করে গমন করেছেন,সেই দিনই,আমি ব্রহ্মা কর্তৃক আদেশ পেয়ে,তোমার কাছে চলে এসেছি।অতএব তুমি ব্রহ্মার আদেশ মত সব কাজ কর।তাহলেই নারায়ণকে দর্শন করতে পারবে।তিনি তোমার প্রতি প্রসন্ন হয়েছেন, তোমার ভাগ‍্যের সীমা নাই। তুমি এই জায়গায় শুদ্ধমতে শতাশ্বমেধ যজ্ঞ কর।তাহলেই তুমি তাঁর দর্শন পাবে।তিনি তোমা কর্তৃক দারুব্রহ্মময়রূপে স্থাপিত হয়ে,জগতের দুঃখী ও পাপী জীব সকলকে দর্শন দিয়ে চরিতার্থ করবেন। অতএব শোক পরিহার করে কাজে ব্রতী হও।তাহলেই অচিরে তোমার সব কষ্টের অবসান হবে।*
🌸🪷🙏🌷🪔🌸🪷🙏🌷🪔🙏🌷🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🙏নীলাচলে মহাপ্রভু🙏*
*নৈমিষারণ‍্যে ঋষিগণ কর্তৃক সূতমুনির নিকট প্রশ্ন।*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🌸এই সময় হঠাৎ দেববাণী হল,মহারাজ!তুমি দেবর্ষি নারদের কথা সম্পূর্ণ বিশ্বাস করে,তাঁর আদেশ মত কাজ কর।তাহলেই তোমার মনোবাসনা পূর্ণ হবে তোমার মঙ্গল হবে।আমি দারু-কলেবর ধারণ কোরে তোমার দ্বারা এই জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে,তোমার মনোবাসনা পূর্ণ করব এবং চিরদিন জীবগণের নয়ন চরিতার্থ করে ভক্তবৎসল নামের সার্থকতা করব ও তোমায় অমর করে রাখব।রাজা দৈববাণী শুনে,বাতাহত (প্রবল বায়ুর দ্বারা আহত বা আন্দোলিত)কদলী বৃক্ষের মত মুনির চরণে পতিত হয়ে, ভক্তি গদগদ কন্ঠে, দেবর্ষির স্তব করতে লাগলেন।নারদ বললেন,মহারাজ! আমার অনুসরণ কর।মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন তদনুসারে ভগবান নৃসিংহদেবকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে বট-বৃক্ষস্থ নীলকন্ঠ দেবকে প্রণাম করলে পর,দেবর্ষি নারদ বললেন,অক্ষয় বটের উত্তর পশ্চিমে স্বর্ণবালুকাময় স্থানে এক মন্দির নির্মাণ করতে আরম্ভ কর, এবং যত তাড়াতাড়ি পার শতাশ্বমেধ যজ্ঞে ব্রতী হও,যজ্ঞ সমাপন হলেই দারুরূপী ব্রহ্ম আগমন করবেন।তুমি সেই কাষ্ঠরূপী ভগবানকে সমুদ্র হতে তুলে আনবে।সূত্রধর রূপে বিশ্বকর্মা এসে,ঐ বৃক্ষ দ্বারা সাতটি মূর্তি নির্মাণ করবেন।ঐ সপ্তমূর্তি নির্মিত হলে,স্বয়ং ব্রহ্মা এসে ঐ মূর্তি সব স্থাপন ও প্রতিষ্ঠা করবেন।অতএব তুমি এতে নিঃসন্দেহ হয়ে ভক্তিভাবে গণেশাদি দেবতাগণের অর্চনা ও নারায়ণ স্থাপন করে শুভ কার্য‍্য আরম্ভ কর।মালবাধিপতি রাজা কাল বিলম্ব না করে, তৎক্ষণাৎ অমাত‍্য,বন্ধুবান্ধব ও পুরোহিতগণকে প্রয়োজনীয় দ্রব‍্যাদি সংগ্রহের জন্য আদেশ করে,দেবর্ষির পদতলে বসে,তাঁকে সাক্ষাৎ ভগবান বোধে সেবা পূজা করতে লাগলেন।*
*মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন যজ্ঞ সমাপনের দিন শেষরাত্রে স্বপ্ন দেখলেন,তাঁর কাছে শঙ্খ,চক্র,গদা,পদ্মধারী ভগবান লক্ষ্মী এবং হল-মুষলধারী বলরাম সহ উপস্থিত হয়ে আদেশ করলেন,নারদের কথা অনুসরণ কর,তোমার মনোবাঞ্জা পূর্ণ হবে।স্বপ্নে অভীষ্টদেবকে দেখে,মহারাজ আনন্দে অভিভূত হয়ে আছেন,এমন সময়ে দেবর্ষি নারদ এসে রাজার কাছে উপস্থিত হলেন।নারদ মহারাজকে খুব আনন্দিত দেখে জানলেন রাজার ভগবদ্দর্শন হয়েছে।তখন তিনি রাজাকে নিয়ে সমুদ্রতীরে গমন করে মহা সমারোহে নানা দেবতার অর্চনা করে,নানারকম উৎসব সহকারে দারুব্রহ্মকে যজ্ঞবাটীতে আনয়ন করলেন।যেদিন দারুরূপী ভগবান যজ্ঞবাটীতে আসিলেন,সেইদিন মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন দেবর্ষি নারদকে বললেন,প্রভো!দাসের প্রতি কৃপা করে বলুন,এই ব্রহ্মরূপী কাষ্ঠ দ্বারা কে কিভাবে মূর্তি নির্মাণ করবে।নারদ বললেন,তাঁর যে কি ইচ্ছা,তা কারও বলবার শক্তি নাই।ইচ্ছাময়ের ইচ্ছাতেই তাঁর মূর্তি নির্মিত হবে।তোমাকে কোন চিন্তা করতে হবে না। এইরকম কথোপকথন হচ্ছে,এমন সময় দৈববাণী হল,মহারাজ!আগামী কল‍্য এক বৃদ্ধ সূত্রধর যন্ত্রাদিসহ তোমার বাড়িতে আসবে,তুমি তাকে যত্নকরে মূর্তি নির্মাণ কাজে নিযুক্ত করে,পনেরদিন পর্যন্ত কপাট না খুলেসর্বদা প্রাঙ্গণে শঙ্খ,ঘন্টা,কাঁশি, শিঙ্গা,মৃদঙ্গাদি বাদ‍্যযন্ত্র দ্বারা এই পনেরদিন পর্যন্ত উৎসবানন্দ করবে।তারপর দরজা খুলে যেরকম মূর্তি দেখবে,তাইই তাঁর ইচ্ছারূপ মূর্তি।তারপরদিন ভগবান বৃদ্ধ সূত্রধররূপে ইন্দ্রদ‍্যুম্নের কাছে এসে উপস্থিত হলে,রাজা ভক্তি সহকারে তাঁর পূজন করে মন্দিরে প্রবেশ করতে দিয়ে,দরজা বন্ধ করলেন ; এবং যেরকম আদেশ পেয়েছিলেন,তদনুসারে উৎসবাদি করতে লাগলেন।পক্ষান্তে দরজা খুলে দেখলেন,সপ্তধা মূর্তি নির্মিত হয়েছে-- জগন্নাথ,বলরাম,সুভদ্রা,সুদর্শন,লক্ষ্মী,সরস্বতী ও মাধব।লক্ষ্মী,সরস্বতী ও মাধব এই তিনটির কথা অন‍্যান‍্য গ্রন্থে উল্লেখ নাই। কিন্তু জগন্নাথ মন্দিরে এই সাতটি মূর্তি এখনও দেখা যায়। নীলমেঘকান্তি জগন্নাথ,ভক্তজনে অভয় দেবার জন্য হস্তদ্বয় তুলে আছেন।পদ্মাসনে স্থিত বলে তাঁর শ্রীচরণ দর্শন হয় না।বলরাম শ্বেতবর্ণ, ভক্তদের অভয়দান ছলে হস্তদ্বয় উত্তোলিত (হাত উপরে করে আছেন),বাসুকী ফণা দ্বারা মস্তক আচ্ছাদিত করে রেখেছেন।পদ্মাসন করে আছেন বলে শ্রীচরণ দর্শন হয় না।সুভদ্রাদেবী কুঙ্কুমবরণা, হস্ত অপ্রকাশিত। সুদর্শন স্তম্ভরূপে প্রকাশিত।শ্রীলক্ষ্মীদেবী স্বর্ণাচ্ছাদিতা এবং শ্রীসরস্বতীদেবী রৌপ‍্যাচ্ছাদিতা। মাধব জগন্নাথেরই মূর্তি, কিন্তু ক্ষুদ্র কলেবর। দেবর্ষি নারদ বললেন,মহারাজ!আজ তুমি ধন‍্য হলে,আমিও ধন‍্য হলাম এবং জগৎবাসী জীবগণও ধন‍্য হল।তাঁরা তোমা কর্তৃক স্থাপিত এই মূরতি দর্শন করে ভবযন্ত্রণা হতে উদ্ধার হবে।হে রাজন!বারাণসী ও কুরুক্ষেত্রে যাবজ্জীবন বাস করলে যে ফল হয়,শ্রীপুরুষোত্তম ক্ষেত্রে কোন ধর্মকর্ম না করেও কেবলমাত্র একদিন বাস করলেই,জীব সেই ফল পাবে। ঁবারাণসী ধামে ধ‍্যান করতে করতে জীবনান্ত হলে যে ফল হয়,এই জায়গায় আধঘন্টা কাল বাস করলেই সেই ফল পাবে,এতে কখনোই অন‍্যথা হবে না।*
*🌷কিলাস্তে ভারতে বর্ষে চোৎকলে পাবনং মহৎ।*
*🌷চতুর্ভূজা জনাঃ সর্বে দৃশ্যন্তে তত্র বাসিনঃ।।*
*🌷বাঞ্জন্তি অমরাঃ সর্বে যত্র স্থাতুং মুহুর্মুহুঃ।*
*🌷কিং বচমি তস‍্য মাহাত্ম্যং ক্ষেত্রস‍্য মহিমাপরঃ।।*
*🌷যন্নাম-কীর্তনাদেব লীয়ন্তে সকলাংহসঃ।*
*🌷ন স্থাননিয়মস্তত্র ভূস্বর্গে পুরুষোত্তমে।।*
*🌷যত্র তত্রাপ‍্যসুত‍্যাগাদযে কেচিৎ পুরুষাধমাঃ।*
*🌷তেহপি সালোক‍্যত‍াং যান্তি নাত্র কার্য‍্যা বিচারণা।।*
*🌷বারাণস‍্যাং কুরুক্ষেত্রে যাবজ্জীবং বসেন্নরঃ।*
*🌷প্রাপ্নোতি যৎ ফলং রাজন্ ক্ষেত্রে শ্রীপুরুষোত্তমে।।*
*🌷দিনমেকং বসেৎ যস্তু সর্বধর্মবহিস্কৃতঃ।*
*🌷তৎফলং সমবাপ্নোতি ন কিঞ্চিৎ ক্রিয়তে যদি।।*
*🌷যা গতির্যোগযুক্তস‍্য বারাণস‍্যাং মৃতস‍্য চ।*
*🌷সা গতির্ঘটিকাকার্দ্ধেন পুরুষোত্তমদক্ষিণে।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
*নৈমিষারণ‍্যে ঋষিগণ কর্তৃক সূতমুনির নিকট প্রশ্ন।*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🌻মহারাজ তখন অক্ষয়বটের বায়ু-কোণে নীলাচলে,যে জায়গায় নীলমাধব ছিলেন,সেই জায়গায় অতি উচু সুবিস্তৃত এক মন্দির নির্মাণ করলেন।তাতে চারটি প্রকোষ্ঠ (দরজার পাশে ঘর)হল।তার ভিতরে রত্নবেদী,তদনন্তর কোষাগার,নাটমন্দির ও ভোগমন্দির।ঐ মন্দিরটি সুবিস্তৃত প্রাচীর প্রাচীর দিয়ে ঘেরা হল, এবং চারটি প্রবেশদ্বার রাখা হল।এইরকমে মন্দির নির্মাণ হলে,মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন ব্রহ্মাকে আনবার জন্য দেবর্ষি নারদের সঙ্গে স্বর্গে গমন করলেন।রাজা ও দেবর্ষি নারদ,ইন্দ্রলোকাদি পেছনে রেখে,ব্রহ্মলোকে গিয়ে উপস্থিত হলেন। সেখানে মণিকোদর নামক দৌবারিক মুনিকে বলল, "পিতা এখন সামফেদ দ্বারা ভগবানের স্তুতি করছেন।আপনি সেখানে গিয়ে,ব্রহ্মার আদেশ নিয়ে রাজার সঙ্গে গমন করুন। তখন নারদ প্রহরীর কথা অনুযায়ী অন্তঃপুরে প্রবেশ করে,ইন্দ্রদ‍্যুম্নের আগমন কথা বলিলে, ব্রহ্মা রাজাকে আনবার জন্য ইঙ্গিত করলেন।নারদ রাজার সঙ্গে অন্তঃপুরে প্রবেশ করলেন।ইন্দ্রদ‍্যুম্ন ব্রহ্মার নিকট উপস্থিত হয়ে, সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে,করজোড়ে স্তুতি করতে লাগলেন।স্তবে তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা মহারাজকে বললেন,হে মালবাধিপতি!তুমি যেজন‍্য এসেছ,তা আমি আগেই জেনেছি ; অতএব আমি বলছি, যে তুমি তাড়াতাড়ি প্রতিগমন করে প্রতিষ্ঠা উপযোগী সমস্ত দ্রব‍্যাদি নারদের আদেশমত প্রস্তুত কর ; এবং এই শঙ্খনিধি ও পদ্মনিধি নিয়ে যাও।আমি দেবগণ সহ তোমার কাজ ও প্রতিষ্ঠা করতে আসছি।তখন ইন্দ্রদ‍্যুম্ন বললেন, আমি সমস্ত প্রস্তুত করতে বলে এসেছি। তখন ব্রহ্মা সামান্য হেসে বললেন, তুমি বহুকাল যাবৎ এসেছ,ইতিমধ‍্যে তোমার পুত্রপৌত্রাদি অনেক পুরুষ ধ্বংস হয়েছে ; পুনরায় গিয়ে সমস্ত প্রস্তুত কর।আমি তারপর আসছি।মহারাজ!তুমি ধন‍্য, ভগবানের দারুময় মূরতি প্রতিষ্ঠা দ্বারা তুমি কৃতার্থ হবে।এই কাজ করে সমস্ত জীবের মুক্তির দরজা প্রসারণ করা হবে। ভগবান এরকম দয়া কাউকেও আর কোনও কালে করেননি।এই দারুময় মূর্তির যে কি মাহাত্ম্য,তা দেবতাদের কাছেও গোপনীয়। ভগবান যেরকম আমাকে বুঝিয়েছেন, সেরকম তোমাকে বলছি শুন। ব্রহ্ম উবাচ বা ব্রহ্মকথন=*
*🌷সুভদ্রাং রামসহিতং মঞ্চস্থং পুরুষোত্তমং।*
*🌷দৃষ্ট্বা নরোহব‍্যয়ং স্থানং যাতি নাস্ত‍্যত্র সংশয়ঃ।।*
*⭐ব্রহ্মপুরাণে ব্রহ্ম উবাচ=*
*🌷সকৃৎ পশ‍্যতি যো মর্ত্ত‍্যঃ শ্রদ্ধয়া পুরুষোত্তমং।*
*🌷পুরুষাণাং সহস্রেষু স ভবেদুত্তমঃ পুমান্।।*
*🌷ধন‍্যাস্তে বিবুধপ্রখ‍্যা যে বসন্তুৎকলে নরাঃ।*
*🌷তীর্থরাজ-জলে স্নাত্বা পশ‍্যন্তি পুরুষোত্তমং।।*
*🔴ব্রহ্মার প্রতি ভগবান বলেছিলেন=*
*🌷সাগরস‍্যোত্তরে তীরে মহানদ‍্যাস্তু দক্ষিণে।*
*🌷সঃ প্রদেশো পৃথিব‍্যাং হি সর্ব-তীর্থবরপ্রদঃ।।*
*🌷তত্র যে মনুজা ব্রহ্মন্ নিবসন্তি সুবুদ্ধয়ঃ।*
*🌷জন্মান্তর-কৃতানাঞ্চ পুণ‍্যানাং ফরভাগিনঃ।।*
*🌷একাম্রকাননাদ্ যাবৎ দক্ষিণোদধি-তীরভূঃ।*
*🌷পদাৎ পদাৎ শ্রেষ্ঠতমা ক্রমেণ পরীকীর্তিতা।।*
*🌷সিন্ধুতীরে তু যো ব্রহ্মন্ রাজতে নীলপর্বতঃ।*
*🌷পৃথিব‍্যাং গোপিতং স্থানং তব চাপি সুদুর্লভং।।*
*🌷সুরাসুরাণাং দুর্জ্ঞৈয়ং মায়য়াচ্ছাদিতং মম।*
*🌷ক্ষরাক্ষরমতিক্রম‍্য বর্ত্তেহহং পুরুষোত্তমে।*
*🌷সৃষ্ট‍্যা লয়েন নাক্রান্তং ক্ষেত্রং মে পুরুষোত্তমং।।*
*❤মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন প্রজাপতিকে প্রণাম করে বিদায় নিলেন।অনন্তর মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন এসে দেখেন যে,তাঁর বংশধরগণের সকলেরই অভাব হয়েছে।যে মন্দির নির্মিত হয়েছিল,তা সেই সময় এক প্রতাপশালী মহারাজা গালমাধবদেব কর্তৃক অধিকৃত হয়ে,তাতে নীলমাধব মূরতি প্রতিষ্ঠা হয়েছে।মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন এসে,ঐ মন্দির মধ্যে নীলমাধব-মূরতি দেখে চরম আশ্চর্য হলেন।তাঁর লোকের কাছে আনুপূর্বিক সমস্ত অবস্থা জানলেন যে বহুকাল অতীত হওয়ায় মন্দির বালি দ্বারা বালির তলে চলে গেছে এবং রাজা গালমাধব সেখানে এসে ঐ মন্দির পুনরুদ্ধার করে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছেন।মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন ঐ মূর্তিকে অন‍্য এক জায়গায় রাখার বন্দোবস্ত করেন। এই সংবাদ গালব রাজার কাছে প্রেরিত হলে, গালবরাজ যুদ্ধের জন্য আগমন করেন ; কিন্তু দেবর্ষি নারদের মুখে সমস্ত বৃত্তান্ত শুনে গালমাধব লজ্জিত হলেন, এবং ইন্দ্রদ‍্যুম্নের সঙ্গে দারুব্রহ্ম-মূর্তির প্রতিষ্ঠা কার্য‍্যে রত হলেন। নিজ স্থাপিত বিগ্রহ পুরীর মধ্যে,প্রধান মন্দিরের উত্তর পশ্চিমদিকে, অন‍্য এক মন্দির নির্মাণ করিয়ে তাতে স্থাপিত করলেন।*
*মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন নারদ আদেশে দারুব্রহ্ম-প্রতিষ্ঠা উপযোগী সমস্ত বস্তু প্রস্তুত করলেন।প্রজাপতি স্বয়ং স্বর্গ হতে দেবগণ সহ প্রথম যে জায়গায় অবতরণ করেন,তারই নাম স্থর্গদ্বার। প্রজাপতি ঐ জায়গায় রথ হতে নামিলে মহারাজ ও দেবগণ কর্তৃক স্তুত হয়ে,প্রতিষ্ঠা কার্য‍্যে ব‍্যাপৃত (নিযুক্ত বা রত) হলেন।জগন্নাথ,বলরাম সুভদ্রা,সুদর্শন, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও মাধব এই সাত মূরতি মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্নের যজ্ঞবেদী হতে তিন রথে চড়ে মন্দিরের সামনের অরুণ স্তম্ভের কাছে আনয়ন করা হল, এবং রথ হতে নেমে নূতন রত্নবেদীতে স্থাপন করা হল। তখন ব্রহ্মা,বৈদিক মন্ত্র দ্বারা স্নানাদি সমাপন করিয়ে, নৃসিংহ মন্ত্রে প্রাণ-প্রতিষ্ঠা করামাত্র, নারায়ণ,নৃসিংহ মূর্তিতে আবির্ভূত হলেন।তাঁর অঙ্গতেজে নরগণ অস্থির হয়ে উঠলেন,কেউই আর সেদিকে তাকাতে পারলেন না।এই অবস্থা দেখে রাজা করজোড়ে স্তবস্তুতি করতে লাগলেন।নৃসিংহদেব রাজার স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে সেই জ‍্যোতিঃ সাতমূর্তির অভ‍্যন্তরে প্রবিষ্ট করলেন।তখন ইন্দ্রদ‍্যুম্ন সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে মাটিতে বসে, ভগবানকে ও প্রজাপতিকে বন্দনা করলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🌲নীলাচলে মহাপ্রভু🌲*
*নৈমিষারণ‍্যে ঋষিগণ কর্তৃক সূতমুনির নিকট প্রশ্ন।*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍁ভগবান্, ইন্দ্রদ‍্যুম্ন রাজার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে,শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মাহাত্ম্য যেরকম বর্ণনা করেছিলেন, তা আস্বাদন করুন=*
*🍀পুরুষোত্তম-মাহাত্ম‍্যে ইন্দ্রদ‍্যুম্নং প্রতি ভগবদ্ বাক‍্যং==*
*🌷ভঙ্গে প্রোথে চ রাজেন্দ্র স্থানং ন ত‍্যজ‍্যতে ময়া।*
*🌷কালান্তরেহপি যোহপ‍্যন‍্যং প্রাসাদং কারয়িষ‍্যতি।।*
*🌷তবৈব কীর্ত্তিঃ সা নূনং ত্বৎপ্রীত‍্যৈ তত্র মে স্থিতিঃ।*
*🌷সত‍্যং সত‍্যং পুনঃ সত‍্যং সত‍্যমেব ব্রবীমি তে।।*
*🌷প্রাসাদভঙ্গে তৎ স্থানং ন ত‍্যজ‍ামি কদাচন।*
*🌷অনেন দারুবপুষা স্থাস‍্যাম‍্যত্র পরার্দ্ধকং।।*
*🌷দ্বিতীয়ং পদ্মযোনেস্তু যাবৎ পরিসমাপ‍্যতে।*
*🔵তথা রুদ্রযামলে ইন্দ্রদ‍্যুম্নং প্রতি ভগবদ্ বাক‍্যং=*
*🌷রাজন্নবেহি রূপং মে নামজাতি- বিবর্জ্জিতং।*
*🌷কেবলানুভবানন্দং প্রবদন্তি মনীষিণঃ।।*
*🌷স আস্তে শ্রীনীলগিরৌ জগন্নাথাখ‍্য-সংজ্ঞয়া।*
*🔴ব্রহ্মপুরাণে ইন্দ্রদ‍্যুম্নং রাজানং প্রতি শ্রীভগবানুবাচ=*
*🌷সর্বঃ সম্পৎস‍্যতে কামস্তব রাজন্ যথেচ্ছসি।*
*🌷মুক্তিপ্রদং মম ক্ষেত্রং ত্রৈলোক‍্যসার-সংগ্রহং।।*
*🌷ইদং ক্ষেত্রবরং রম‍্যং ধর্ম্মার্থ-কাম-মোক্ষদং।*
*🌷ক্ষেত্রাণাং সর্বতীর্থানাং রাজেব ক্ষেত্রমদ্ভুতং।।*
*🌷যথা সমুদ্রস্তীর্থানাং রাজেন্দ্র উচ‍্যতে বুধৈঃ।*
*🌷অতএব পুরাণাদৌ প্রধানত্বাচ্চ উচ‍্যতে।।*
*🌷কলৌ তর্থানি ন সন্তি ক্ষেত্রং ভাগীরথীং বিনা।*
*🌷নদীনাঞ্চ যথা গঙ্গা ক্ষেত্রাণাং পুরুষোত্তমঃ।।*
*❤বৈরঞ্চ‍্যতন্ত্রে ইন্দ্রদ‍্যুম্নং প্রতি ব্রহ্মোবাচ=*
*🌷জ‍্যৈষ্ঠ‍্যাং প্রাতস্তনে কালে ব্রহ্মণা সহিতঞ্চ মাং।*
*🌷রামং সুভদ্রাং সংস্নাপ‍্য মম লোকমবাপ্নুয়াৎ।।*
*🌷স্নাপ‍্যমানস্তু যঃ পশ‍্যেন্মাং তদা নৃপসত্তম।*
*🌷দেহবন্ধমবাপ্নোতি ন পুনঃ স তু পুরুষঃ।।*
*🌻🌻স্কন্দ পুরাণে🌻🌻*
*🌷তত্ত্বং ব্রবীমি তে ভূপ শ্রুত্বৈতদবধারয়।*
*🌷ন‍্যগ্রোধমূলে কূলেহস‍্য সিন্ধোর্নীলাচলে স্থিতং।।*
*🌷দক্ষিণোদধিতীরস্থং দারুব্রহ্ম সনাতনং।*
*🌷বিনা সাংখ‍্যং বিনা যোগং দর্শনাৎ মুক্তিদং ধ্রুবং।।*
*🌷শ্রুতি-স্মৃত‍্যুক্ত-নিয়মা বিদ‍্যন্তে নেহ পার্থিব।।*
*🌺তারপরে ভগবান বৈকুন্ঠপতি, প্রতিষ্ঠার দিন হতে আরম্ভ করে,প্রতি মাসে যে যে কার্য‍্য সম্পাদন করতে হবে,তার উপদেশ দিলেন এবং দৈনিক কিরকম ভাবে পূজার্চনাদি করতে হবে,তার ব‍্যবস্থা করে,রাজাকে তারকার্য‍্যে নিযুক্ত করে বৈকুন্ঠে গমন করলেন।কতদিন এইভাবে রাজা সেবা করলেন।দেশময় "জয় জয় জগদীশ হরে" এই রবে এবং শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের গুণগানে দেশ মুখরিত হতে লাগল।তারপরে ইন্দ্রদ‍্যুম্ন, বিশ্বাবসু ও বিদ‍্যাপতি বংশীদের উপর সেবার ভার দিয়ে, এবং গালব রাজার উপর তত্ত্বাবধানের ভার অর্পণ করে,দেবর্ষি নারের সঙ্গে হরিগুণ গান করতে করতে বৈকুন্ঠধামে গমন করলেন।*
*🌸সমুদ্রের উত্তর উপকূলে শ্রীশ্রীপুরুষোত্তম-ক্ষেত্রে সচ্চিদানন্দময় ভগবান দারু শরীরে বিরাজ করছেন।দারুময় ভগবানকে দর্শন করতে হলে প্রথমে সমুদ্রে স্নান করে অক্ষয় বট প্রদক্ষিণ ও প্রণাম করে,নৃসিংহ মূর্তি প্রণাম করতে হবে।ইতঃপর মন্দির ভিতরে প্রবেশ করবে ; মন্দির মধ্যে দক্ষিণে জগন্নাথ,বামে বলরাম,মধ‍্যে সুভদ্রা, ও জগন্নাথদেবের বাম পার্শ্বে সুদর্শন চক্র অবস্থিত।ইঁনাদেরকে দর্শন ও প্রণাম করে তিনবার বেদী প্রদক্ষিণ করবে ; পরে মন্দির হতে দক্ষিণ দিকে নিষ্ক্রান্ত (বহির্গত বা বেড়িয়ে আসা)হবে।জগন্নাথদেবের ললাটে হীরকজ‍্যোতি দেখতে পাবে।দারুময়ী লক্ষ্মী,সরস্বতী ও মাধব এই স্থানে আছেন।অন‍্যান‍্য গ্রন্থে,এই তিন মূর্তির বিষয় উল্লেখ না থাকায়,এই গ্রন্থেও উঁহাদের বিস্তারিত উল্লেখ করা হল না।এখন হতে এই চার মূর্তির কথায় উল্লিখিত হবে।প্রভাস পুরাণে ইঁনাদের এইরকম মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে =*
*🌷দক্ষিণস‍্যোদধেস্তীরে নীলাদ্রৌ পুরুষোত্তমে।*
*🌷দৃষ্ট্বা দারুময়ং ব্রহ্ম ভ্রাতৃভ‍্যাম্ সহ সংস্থিতং।।* 
*🌷মুচ‍্যতে নাত্র সন্দেহঃ সর্বক্লেশ বিবর্জ্জিত।*
*🌹এই দারুময় ব্রহ্মকে,বলরাম ও সুভদ্রা সহ, যিনি দর্শন করবেন,তিনি সর্বপাপ হতে বিমুক্ত হয়ে,মুক্তি লাভ করবেন,এতে কোন সন্দেহ নাই। এই মাহাত্ম্য বর্ণন উপলক্ষ্যে ভগবান নারদকে বলেছেন, বিষ্ণুযামলে=*
*🌷চিদানন্দময়ং ব্রহ্ম দারুব‍্যাজেন সংস্থিতং।*
*🌷জীবভূতং জগন্নাথং মামবেহি কলিপ্রিয়।।*
*🌷মামত্র যে প্রপশ‍্যন্তি দৃষ্ট্বা চাক্ষুষগোচরং।*
*🌷বিদধামীতি তন্মুক্তিমিতি মে নিশ্চয়া মতিঃ।।*
          *🔴তথা ব্রহ্মযামলে*🔴
*🌷অপিচেৎ সুদুরাচারাঃ সর্বধর্ম-বহিস্কৃতাঃ।*
*🌷তীর্থ-রাজ-জলে স্নাত্বা যে মাং পশ‍্যন্তি মানবাঃ।।*
*🌷তেভ‍্য এবহি দাস‍্যামি মুক্তিং যোগেন্দ্রদুর্লভাং।*
*🌷ইতি সত‍্যপ্রতিজ্ঞোহস্মি স্থাস‍্যাম‍্যত্র পরার্দ্ধকং।।*
*🌻হে নারদ!এই জীবরূপ দারুময় মূর্তিতে আমার যেরকম দর্শন করছ,এটি চিদানন্দময় ব্রহ্মস্বরূপ, এটি নিশ্চয় জানিও।আমাকে এই মূর্তিতে যে দর্শন করে,তাকে আমি মুক্তি প্রদান করে থাকি।সর্বধর্ম বহিস্কৃত অতি দুরাচার হয়েও যদি সমুদ্রজলে স্নান করে,আমাকে দর্শন করে,তাহলে দেবদুর্লভ যে মুক্তি,তা আমি প্রদান করব ; এটি আমার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, এবং আমি পরার্ধকাল এই জায়গায় অবস্থান করব।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🌷নীলাচলে মহাপ্রভু🌷*
     *🌹পুরীর রাজাদের বিবরণ*
     ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀শ্রীশ্রীজগন্নাথ যদিও নির্গুণ,নিষ্কাম,পরমব্রহ্ম, কিন্তু তিনি যখন দারুময় দেহ ধারণ করেছেন,তখন লৌকিক দেহানুরূপ তাঁকে ভোগ স্বীকার করতে হয়েছে। সেই জন্য তাঁকে সময়ে সময়ে নানারকম কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে। জরাসন্টের উপদ্রবে, শ্রীকৃষ্ণ যেমন দ্বারকায় বাসস্থান নির্মাণ করেন,জগন্নাথও সেইরকম সময়ে সময়ে,তাঁর মন্দির ত‍্যাগ করে,চিল্কা হ্রদে শোণপুরে অবস্থান করেছেন এবং কলেবর পরিত‍্যাগ করে নব কলেবর ধারণ করেছেন। মন্দিরও নূতন নির্মিত বা পুনঃ সংস্কৃত হয়েছে। সুতরাং শ্রীমন্দিরের বিবরণের সঙ্গে পুরীর রাজাদের বিবরণ সংসৃষ্ট রয়েছে।এই মন্দির কোন রাজার অধীনে কিরকম ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে,তা জানার জন্য পাঠকদের কৌতূহল হতে পারে। সেই কৌতূহলের অনুরোধে,সামান‍্যভাবে,কিছু রাজার বিবরণ লিপিবদ্ধ করা যাচ্ছে।*
*এই রাজাদের রাজত্বের সময় নিরূপণ বা নির্ণয় করা বড়ই কঠিন হয়ে পড়েছে।ইতিহাস লেখকগণ নানারকম ভিন্ন ভিন্ন সময় নির্ণয় করেছেন।এই সময় সম্বন্ধে পার্থক্য এতদূর বেশী যে,তা বিচার করতে গেলে,বাস্তবিক কিছুই স্থির হয়েছে বলিয়া,বলা যায় না।এই সমস্ত ঐতিহাসিকদের বিভিন্ন মতের উপর নির্ভর করে,কোনও সিদ্ধান্তে উপস্থিত হওয়া যায় না। সুতরাং ঐতিহাসিকদের মত,বাদ দিয়ে,অন‍্য প্রমাণ দ্বারা যা পাওয়া যায়,তাইই গ্রহণ করা যাক।*
*এই মন্দির প্রথমত মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্ন স্থাপন করেন।তাঁর কোন পুত্রপৌত্রাদি ছিল না,সেইজন‍্য শ্রীশ্রীজগন্নাথের মন্দির ও জগন্নাথের সেবা পূজা, গালবাধিপতির হাতে অর্পিত হয়,তা আগেই বলা হয়েছে।এর পর কোন বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাস না থাকায়,ধারাবাহিক ইতিহাস জানা যায় না।আমরা কেশরীবংশীয় রাজা যযাতি হতে কিছু উৎকলাধিপতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিখছি।*
*মহারাজ যযাতি একজন প্রবল নৃপতি ছিলেন ; ইনি রক্তবাহুবংশীয় যবন রাজাদেরকে পরাজিত করেন, এবং ইঁনার সময়ে উৎকল স্বাধীনতা প্রাপ্ত হয় বলে বর্ণিত হয়েছে।ইনি শৈব ধর্মাবলম্বী রাজা ছিলেন।শৈব ধর্মাবলম্বী হলেও শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের উপর বিশেষ শ্রদ্ধাবান ছিলেন, এবং তাঁর উন্নতিকল্পে বহু যত্ন করেন।ইঁনার পিতার নাম রাজা জনমেজয়। ইঁনারই সময়ে বোধহয়,যবন রাজাদের ভয়ে শ্রীশ্রীজগন্নাথ মূর্তি চিল্কা হ্রদে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, কারণ,যযাতি-কেশরীর সময়ে জগন্নাথদেবের পুনঃ স্থাপন হয় এবং মন্দিরের পুনঃ সংস্কার হয়। সুতরাং তিনি হিন্দু মাত্রেরই পূজ‍্য।রক্তবাহু উড়িষ‍্যার রাজা ছিলেন।তাঁর ভয়েই হোক, বা তার পূর্ববর্তী বৌদ্ধরাজাদের প্রভাব বশতঃই হোক,শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মূর্তি এই মন্দির হতে সরিয়ে চিল্কা হ্রদে রাখা হয়েছিল।তারপরে যযাতি কেশরীর রাজত্ত্বকালে,এই মূর্তি পন্ডিতদের মতানুযায়ী নীলাদ্রি মহোদয়োক্ত বিবরণ অনুসারে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রাজা যযাতি কেশরীর রাজত্ব বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মেরও বিস্তার হয়েছিল।সেই সময়ে ভুবনেশ্বরের বিশেষ উন্নতি হয়েছিল,শিব মন্দিরে ভুবনেশ্বর পরীশোভিত হয়েছিলেন।*
*আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে,যযাতিকেশরী নবম শতাব্দীতে রাজত্ত্ব করেন ; কিন্তু তা সম্ভবপর নয়।"মাদলাপঞ্জিকা" অনুসারে দেখা যায়, তিনি চতুর্থ শতাব্দীর অনেক আগে রাজত্ব করেছিলেন ; কারণ কেশরীবংশীয় ষষ্ঠ নৃপতি ললাটেন্দু কেশরী ভুবনেশ্বরের মন্দির নির্মাণ করেন।তাঁর নাম এবং সময় ঐ ভুবনেশ্বর মন্দিরে খোদিত রয়েছে।সেই শ্লোকটি উদ্ধৃত করছি=*
*🌷গজাষ্টেন্দুমিতে জাতে শকাব্দে কৃত্তিবাসসঃ।*
*🌷প্রাসাদং কারয়ামাস ললাটস্থেন্দুকেশরী।।*
*🌻এই শ্লোক দ্বারা দেখা যায় যে,৫৮৮ শকাব্দে এই মন্দির নির্মিত হয়েছে এবং ইন্দুকেশরী নির্মাণ করিয়েছেন।তাওও লিখা রয়েছে।মাদলাপঞ্জিকা অনুসারে ষষ্ঠ নৃপতির রাজত্বকাল যদি ৫৮৮ শকাব্দে নিরূপিত হয়,তাহলে তার পূর্ববর্তী যযাতিকেশরীর সময় ৪০০ শকাব্দা হওয়ায় সম্ভব।*
*এই কেশরীবংশীয় রাজাগণ ৪৪ পুরুষ ব‍্যাপিয়া,নবম শতাব্দী পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন।এই বংশীয় রাজাদের মধ্যে যযাতিকেশরী, ললাটেন্দুকেশরী এবং নরেন্দ্রকেশরী বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। নরেন্দ্রকেশরীর সময় নরেন্দ্র-সরোবর খনিত হয়েছিল।ললাটেন্দুকেশরীর সময় ভুবনেশ্বর মন্দির তৈরী বা পুনঃ সংস্কৃত করা হয়েছিল।*
*এই কেশরী বংশের ক্রমশ অবনতি আরম্ভ হল।সহস্র শকাব্দের প্রারম্ভে উড়িষ‍্যার দক্ষিণ প্রান্তে, গোকর্ণেশ্বরের ঔরসে এবং গঙ্গাদেবীর গর্ভে চৌরগঙ্গ নামক এক বীরপুরুষের অভ‍্যুদয় হয়।উড়িষ‍্যা এই বীরপুরুষের দ্বারা আক্রান্ত হয়,এবং তৎকর্তৃক কেশরীর্বশীয় রাজা পরাজিত হন।এই হতে কেশরীবংশ বিলুপ্ত হয়, এবং চৌরগঙ্গ হতে গঙ্গাবংশের আরম্ভ হয়।এই গঙ্গাবংশীয় রাজাদের শাসন সময়ে,রাজ‍্যের এবং মন্দিরের বহু উন্নতি সাধিত হয়।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds