শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১১. মানব জীবনে হরিভজন 🙇 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
             *মানব জীবনে হরিভজন*

*🍀এই দুর্লভ মনুষ‍্যজনমে মুহূর্তকালও অতীব মূল‍্যবান।সেজন‍্য শাস্ত্র বলেন--
*🌷জীবিতং বিষ্ণুভক্তস‍্য বরং পঞ্চদিনানি বৈ।*
*🌷ন ত কল্প সহস্রানি ভক্তিহীনস‍্য কেশবে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যেজনা শ্রীবিষ্ণুকে ভজন করেন তাঁর পাঁচদিনের পরমায়ুও ধন‍্য কিন্তু কেশবে ভক্তিহীন জনের হাজার কল্প জীবন ধারণও বৃথা। আবার বিষ্ণুপুরাণ বলেছেন--*
*🌷সা হানিঃ তৎ মহচ্ছিদ্রম্ স চ বিভ্রমঃ।*
*🌷যন্মূহুর্ত্তং ক্ষণং বাপি বাসুদেবং ন চিন্তয়েৎ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ সেটিই হানি,সেটিই মহাছিদ্র, সেটিই মোহ,সেটিই বিভ্রম যে মুহূর্ত কিম্বা ক্ষণকালে ভগবান বাসুদেবকে চিন্তা করা হয় না।*
*🌸সেহেতু প্রাজ্ঞ বা জ্ঞানী ব‍্যক্তিগণ মুহূর্তকালও শ্রীকৃষ্ণভজন ছাড়া ব‍্যয় করেন না, কারণ তখন ভজনের প্রভাবে তাঁদের চিত্ত দর্পণের মালিন‍্য (মনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ময়লা বা মনের আয়নায় লেগে থাকা ময়লা)সব অবলুপ্ত হয় এবং তাঁরা সদা-সর্বদা সর্ববস্তুতে সর্বজীবে ভগবদ্ সান্নিধ্য উপলব্ধি করেন।কলিযুগের জীবের অর্দ্ধেক পরমায়ু বৃথা নিদ্রায় অতিবাহিত হয়, অবশিষ্ট অর্দ্ধেক আয়ু বাল‍্যকালে ও পৌগন্ডে অজ্ঞানতায়, কৈশরে বিদ‍্যাশিক্ষার চেষ্টায়,যৌবনে পত্নীসঙ্গ এবং কামবিলাসের মত্ততায়,বার্ধ‍্যক‍্যে জ্বরা ব‍্যাধি গ্রস্থতায় অতিবাহিত হয়।অতএব দীর্ঘ সুত্রতাবশে শ্রীকৃষ্ণভজন বৃদ্ধকালের জন্য স্থগিত রাখার অর্থ নরকের দ্বার সুগম করা।সেজন‍্য পরমায়ু যখন আমাদের অজানা রহস‍্যে আবৃত বা ঢাকা,কতদিন বাঁচব তাইই যখন জানিনা তখন ভবিষ্যতের জন্য কি সাধনভজন তুলে রাখা উচিত?তাই মনে করি বাল‍্যকাল হতেই শ্রীকৃষ্ণভজনে সকলের রত হওয়া উচিৎ, কারণ মৃত‍্যু যে কখন হাতছানি দিবে তা আমাদের সকলেরই অজানা।সেজন‍্য ভক্তমাল বলেন-----*
*🌷স্পর্শমণি পাইয়া কি কহে কোন জন।*
*🌷আজি নাসি কালি লব থাকুক এখন।।*
*🌷 যে মূর্খ কহে কৃষ্ণ পশ্চাতে ভজিব।*
*🌷এখনি কি হইল,কত দিবস বাঁচিব।।*
*🌷যাতে হেন ধন ভাই যখনই পাইব।*
*🌷তখনই লইয়া হৃদ্ মাঝারে রাখিব।।*
*🌷 পরাণ চিরিয়া তার সারাংশ যথায়।*
*🌷তাঁরে সমাদর করি রাখহ তথায়।।*
*🌻মানব দেহের যত প্রকার অবস্থা সম্ভব সব অবস্থাতেই হরিভক্তির সুযোগ আসতে পারে।যথা গর্ভাবস্থায় দেবর্ষি নারদ ভক্ত প্রহ্লাদকে হরিকথা স্মরণ করিয়েছিলেন, এতে গর্ভাবস্থাতেই হরিভক্তির সুযোগ দেখা যায়।বাল‍্যকালে ধ্রুবের মধ্যে হরিভক্তির চরমভক্তি দেখা গিয়েছিল।যৌবনে মহারাজ অম্বরীষের মধ্যে এবং মরণকালে অজামিলের মধ্যেও হরিভক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। (অজামিল চরমভাবে বিপথগামী ছিলেন, তাঁর অনেক পুত্রের মধ্যে এক পুত্রের নাম নারায়ণ রেখেছিলেন, পুত্রকে নারায়ণ নারায়ণ বলে ডাকতে ডাকতে কখন যে তাঁর হৃদয় মাঝে ভক্তির সঞ্চার হয়েছিল, তা বোধহয় তিনিও অনুভব করতে পারেননি, কিন্তু তাঁর অনেক পুত্রের মধ্যে কেবলমাত্র নারায়ণকেই মৃত‍্যকালে ডেকেছিলেন, বাকী সমস্ত কাহিনী আপনারা নিশ্চয়ই জানেন)।সেজন‍্য আদর্শ মানবগণ শ্রীল শুকদেব গোস্বামীকৃত এই শ্লোকটি তাঁদের জীবনে কন্ঠহার করে রেখেছেন, যথা---*
*🌷গতাগতেন শ্রান্তোহস্মি দীর্ঘ-সংসার-বর্ত্তেষু,*
*🌷পুনঃ ন আগন্তুম ইচ্ছামি ত্রাহি মাং মধুসূদনঃ।*
*🌷বহবোহি ময়া দৃষ্টা যোনিদ্বারঃ পৃথক পৃথক,*
*🌷গর্ভবাসো মহাদুঃখাৎ ত্রাহি মাং মধুসূদনঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ হে মধুসূদন! এই সংসারের দীর্ঘপথে পুনঃ পুনঃ গতাগতিতে আমি অত‍্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমি আর আগমন করতে চাই না, অতএব তুমি আমায় রক্ষা কর।আমি পৃথক পৃথক বহু যোনিদ্বার দর্শন করেছি।হে মধুসূদন!হে হরি! তুমি আমায় গর্ভবাসের মহাদুঃখ হতে ত্রাণ কর।*
*🌲এই ত্রাণ পেতে হলে করুণাময় শ্রীহরির দেওয়া দেহ মন প্রাণ দিয়ে তাঁরই সেবা করা জীবের একান্ত কর্তব‍্য।দেহ রক্ষা করা বা না করা তাঁর কাজ।মানুষের সে কাজে নজর দিলে আর তা ভগবানের কাজে হাত দেওয়া সম্ভব হবে।তাঁর জিনিস নিজের ভোগে নিযুক্ত করে নিলে বিশ্বাসঘাতকতার কাজ করা হবে।নিজেল করে নিলেও তো তা আমি রক্ষা করতে পারি না,কেবল লাঞ্জিতই হই।এই দেবদুর্লভ দেহ দ্বারা কেবল তাঁর সেবা করলেই মিথ‍্যা কর্তৃত্বাভিমান দূরীভূত হয়ে নিত‍্য-কৃষ্ণদাস স্বরূপ স্ফূর্তি পাওয়া যাবে।*
*🍀অন‍্যান‍্য যুগের তুলনায় কলিযুগের অন্নগত মানুষের পরমায়ু সীমিত হলেও এই কলিযুগেই সর্বযুগের সার,কল‍্যাণপ্রদ এবং সর্বোত্তম, শ্রীমন্মহাপ্রভু আপামর জনসাধারণকে হরিনামের মাধ‍্যমে ভজনের বড় সহজ উপায় উদ্ভাবন করে দিয়েছেন এবং আমার নিতাইচাঁদ নামের সঙ্গে প্রেম যুক্ত করে আপামর জনসাধারণকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে প্রেমের বাঁধনে আবদ্ধ করে গিয়েছেন,যা সত‍্যযুগ,ত্রেতাযুগ ও দ্বাপরযুগেও ছিল না।অন‍্যান‍্য যুগে যাগ-যোগ,ধ‍্যান,তপস‍্যা প্রভৃতি অতীব কষ্ট সাধন গুলি অনুষ্ঠান করে যে ফল লাভ হত, কলিযুগে শুধুমাত্র হরিনাম সঙ্কীর্তন করে তার থেকেও অনেক বেশী ফল লাভ হয়ে থাকে।এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নামাচার্য‍্য হরিদাস ঠাকুর,গোস্বামীগণ,প্রকাশানন্দ সরস্বতী প্রভৃতি মহাপ্রভুর বহু পরিকরগণ বিভিন্ন শাস্ত্রাদি রচনা করে এক নবযুগের সন্ধান দিয়েছেন।আজ হতে প্রায় ৫৩৭ বৎসর পূর্বে।সাম্প্রতিকালে পরমকরুণ,পরমদয়াল শ্রীমদ্ রাধারমণ চরণদাস বাবাজী মহারাজ শ্রীমন্মহাপ্রভু এবং নিত‍্যানন্দ প্রভুর ভাবধারাকে পুনরুজ্জীবিত করে এক নতূন সম্প্রদায়ের সৃষ্টি করে গিয়েছেন, যাঁদের ভজনের পদাবলী হচ্ছে--"*
*🌷ভজ নিতাই গৌর রাধেশ‍্যাম,*
*🌷জপ হরে কৃষ্ণ হরে নাম।*
*🙏এই রাধারমণ সম্প্রদায়ের দিকপাল হচ্ছেন শ্রীপাদ রামদাস বাবাজী মহারাজ যিনি হচ্ছেন আমাদের পরম গুরুদেব এবং তাঁরই আদর্শে আমাদের চলতে হবে।*
*🙌বরাহনগর পাটবাড়ীর আসল নাম=*
*🍀রঘুনাথ ভাগবদ্ আচার্য‍্যের পাঠবাড়ী অর্থ‍্যাৎ এই জায়গা জঙ্গলের মধ্যে গঙ্গাতীরে একটি কুটিরে বাস করে সাধনভজন করতেন রঘুনাথ গোস্বামী নামক এক মহাবৈষ্ণব, যিনি আবার ছিলেন পঞ্চতত্ত্বের শ্রীগদাধর পন্ডিতের শিষ্য এবং ভাগবতপাঠে সুদক্ষ।তাঁরই শ্রীমুখে ভাগবত পাঠ শুনে শ্রীমন্মহাপ্রভু তাঁকে ভাগবত আচার্য‍্য উপাধি দান করেছিলেন। সেজন‍্য ইহাকে পাঠবাড়ী বলা ঠিক উচিৎ না বরং বলতে হবে রঘুনাথ ভাগবত আচার্য‍্যের পাটবাড়ী।কারণ যে কোন বৈষ্ণব মহাত্ম‍্যর সাধনস্থলটিকে তাঁর পাটবাড়ী বলা হয়।*
   *🙏জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল🙏🙏🙏*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১২. গুরুসেবার অবিশ্বাস্য কাহিনী 🙇 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
          *গুরুসেবার অবিশ্বাস্য কাহিনী*

*🍀আচার্য‍্য রামানুজ স্বামীর নাম আপনারা সকলে নিশ্চয়ই শুনেছেন, কারণ তিনি ছিলেন দক্ষিণ ভারতের এক মহাবৈষ্ণব। তাঁর ভক্তিময় জীবনে অনেক অলৌকিক কাহিনী আছে তারমধ‍্যে তাঁরই এক শিষ্যের গুরুভক্তির প্রসঙ্গটি এখানে বর্ণিত হবে।*
*🌻একবার আচার্য‍্য রামানুজ স্বামী শিষ্যগণসহ সদলবলে পরিক্রমায় বাহির হয়েছেন।পথ মধ্যে অষ্টসহস্র নামে এক গ্রাম এবং সেই গ্রামে তাঁর একজন শিষ্য ছিলেন,যিনি দীনদরিদ্র এবং এমনই গরীব যে ভিক্ষা ছাড়া অন্ন সংস্থান হত না।রামানুজ স্বামী সদলবলে তাঁরই গৃহে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।দীনদরিদ্র সেই শিষ‍্যের নাম বরদাচার্য‍্য। তিনি যখন ভিক্ষায় বাহির হলেন, তখন তাঁর ভক্তিমতী পত্নী লক্ষ্মীদেবী যথাযথ আদর অভ‍্যর্থনা করে তাঁদের মর্য‍্যাদা দিলেন।মনে বড়ই আনন্দ যে গুরুদেব এসেছেন গরীবের কুটিরে, কিন্তু ভিক্ষান্নে যাঁদের দুজনের পেট চলে, তাঁরা কিভাবে এত লোকের সেবার ব‍্যবস্থা করবেন, এই চিন্তায় চরম চিন্তিত হলেন।গুরুদেব পথশ্রমে ক্লান্ত-ক্ষুধার্ত্ত।স্বামী ফিরে আসা অবধি বসে থাকা ঠিক হবে না, এই বিবেচনা করে লক্ষ্মীদেবী এক অবিশ্বাস্য সংকল্প করলেন।সকলেই জানে যে তাঁরা অতি গরীব-কপর্দকশূণ‍্য কিন্তু এই দৈন‍্যের মধ্যেও লক্ষ্মীদেবী পরমা সুন্দরী যুবতী ছিলেন।তাঁর রূপলাবণ‍্যে মুগ্ধ হয়ে ঐ গ্রামের বিশাল যে ধনী ব‍্যক্তি সে বহুবার লোক-মারফৎ তাঁর কাছে কুপ্রস্তাব এবং প্রলোভন পাঠিয়েছে, কিন্তু ভক্তিমতী লক্ষ্মীদেবী বারবার প্রত‍্যাখ‍্যান করেছেন।যে কোন সাধ্বী পত্নীর পক্ষে সেটি করা সম্ভবও নয়।*
*🌲লক্ষ্মীদেবী তখন ভাবলেন যে এই ধনীর দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া এই সঙ্কট হতে মুক্তির কোন উপায় তো তিনি দেখছেন না, সেজন‍্য গুরুসেবার জন্য নিজে দেহকে তিনি কামুক বণিকের লালসার অগ্নিতে সমর্পণ করবেন। এইরকম মনস্থ করে স্বামীর ফিরে আসা অবধি অপেক্ষা না করে সত্বর সেই বণিকের কাছে সব বৃত্তান্ত বললেন, এবং তাঁর কাছে গুরু সেবার দ্রব‍্য সম্ভার চাইলেন। চরিত্রহীন ধনী বণিক অপ্রত‍্যাশিত ভাবে এই প্রস্তাব পেয়ে আনন্দে অধীর হয়ে গেল এবং পর্য‍্যাপ্ত পরিমাণ সেবার দ্রব‍্য লক্ষ্মীদেবীর বাড়ীতেতখনই পাঠিয়ে দিলেন।লক্ষ্মীদেবী সত‍্যবদ্ধ রইলেন যে সেই রাত্রিতে তিনি তাঁর ঘরে আসবেন, তাঁকে তাঁর লালসার অগ্নিতে সমর্পিত করবেন।*
*☘ভাবলেও অবাক লাগ যে মানুষে কি সাধুগুরু সেবার জন্য এ কাজ করতে পারে? লক্ষ্মীদেবী নিজেকে সেই লম্পট বণিকের হাতে বিলিয়ে দিবার আগে সুস্থ মস্তিকে চিন্তা করলেন যে শ্রীগুরুদেব তো স্বয়ং ঈশ্বরস্বরূপ তাঁর সেবায় তিনি দেহাত্মবোধ রাখবেন কেন?শাস্ত্রে তিনি পাঠ করেছেন যে ইষ্টসেবার জন্য চুরি করাও অপরাধ না, কারণ শাস্ত্র বলেছেন যে ------*
*🌷মন্নিমিত্তিং কৃতং পাপ্ অপি পুণ‍্যায় কল্পতে।*
*🌷এবং মাম্ অনাদৃত‍্য তু কৃতং পুণ‍্যং পাপায় কল্পতে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ ভগবান বলেছেন যে ভক্ত যদি আমার জন্য কোন পাপ করে তা পুণ‍্যে পরিবর্তিত হয় এবং আমাকে অনাদর করে-- অর্থ‍্যাৎ অবসেলা করে যদি লোক দেখান পুণ‍্য কাজও করে তার ফল পাপ হয়।*
*🍀এস্থলে লক্ষ্মীদেবীর এই সঙ্কল্প আত্মসুখের জন্য নয় বা পরিবর্তে ধনদৌলত পাওয়ার আশায়ও নয়, এর একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে গুরুসেবা অর্থ‍্যাৎ ভগবদ্ সেবা------*
*🌷 জীবের নিস্তার লাগি নন্দসুত হরি।*
*🌷ভুবনে প্রকাশ হন গুরুরূপ ধরি।।*
*🌷 মহিমায় গুরু কৃষ্ণ এক করি জান।*
*🌷গুরু আজ্ঞা হৃদে সব সত‍্য করি মেনো।।*
*🌻কিন্তু প্রকৃত আচরণ কয়জন করতে পারি।শ্রীগুরুদেবকে সাক্ষাৎ নারায়ণ জ্ঞানে সেবা করা কি সহজ কথা? কিন্তু লক্ষ্মীদেবী সেই আদর্শ দেখিয়েছেন, গুরুরূপী ভগবদ্ সেবার জন্য তিনি নিজ সতীত্বকেও বিসর্জন দিতে কুন্ঠা বোধ করেননি। যাইহোক, ভিক্ষা প্রত‍্যাগত স্বামী বরদাচার্য‍্য আগাগোড়া সব বৃত্তান্ত শুনলেন এবং লক্ষ্মীদেবীর এই সঙ্কল্পে অত‍্যন্ত প্রীত হয়ে সম্মতি দিলেন।পরম নিষ্ঠার সঙ্গে নারায়ণকে ভোগ সমর্পণ করে আচার্য‍্য রামানুজ স্বামী এবং তাঁর দলের সকলকে প্রাণ ভরিয়ে প্রসাদ দেওয়া হল। অতঃপর রাত্রির অন্ধকারে বিষ্ণু-নিবেদিত সেই প্রসাদ থালায় নিয়ে লক্ষ্মীদেবী চললেন সত‍্য রক্ষা করতে সেই বণিকের লালসার স্বীকার হতে।*
*🌹অন্তর্য‍্যামী গুরুদেব অলক্ষ‍্যে তাঁর এই শিষ‍্যকে রক্ষা করবার জন্য বদ্ধপরিকর। সেজন‍্য অদৃশ‍্য হাতের ক্রিয়া হতে লাগল।রাত্রির অন্ধকারে প্রসাদের থালা হাতে যখন লক্ষ্মীদেবী তাঁর বাড়িতে হাজির হলেন,তখন কোথা হতে যে কি অঘটন ঘটিলতা একমাত্র ভগবানই জানেন, কারণ ভক্ত রক্ষা করবার দায়িত্ব ভগবানের।ভক্তকে রক্ষা করা,ভক্তের যোগক্ষম বহন করার দায়িত্ব সেই ভগবানের কারণ ভক্তাপেক্ষা প্রিয় তো আর কেউ নয়।সেজন‍্য শাস্ত্রে বলেছেন যে -----*
*🌷বৎসের পশ্চাতে যেমন ধায় ধেনুগণ।*
*🌷তেমনি ভক্তের পাছে ধায় জনার্দন।।*
*🍁লক্ষ্মীদেবীর এই আখ‍্যানটি তার সত‍্যতাকে আরও দ্বিগুণ ভাবে প্রকট করে দিলেন, কারণ প্রসাদ হাতে যখন তিনি রাত্রির অন্ধকারে তার গৃহে প্রবেশ করলেন তখন হঠাৎ কি কারণে সেই বণিকের পাপ প্রবৃত্তি সব অন্তর্হিত হয়ে গেল এবং তিনি লক্ষ্মীদেবীর চরণে পড়ে ক্ষমা ভিক্ষা করলেন এবং বললেন যে আমি কামার্ত্ত হয়ে নরপশুতে পরিণত হয়েছি, গুরুসেবার জন্য তুমি যে অভাবনীয় আত্মত‍্যাগ দেখিয়েছ, তাতে আমার বন্ধ চোখ ফুটিয়ে দিয়েছ।তোমার মত সতী সাধ্বী স্ত্রীলোক আমার কাছে মাতৃ স্বরূপ সম্মানীয়া।তুমি কৃপা করে আমার জীবনকে মঙ্গলময় করে তোলো, মা তুমি আমায় ভবরোগ হতে উদ্ধার করে সেই মহাপুরুষের চরণপ্রান্তে পৌঁছিয়ে দাও।পরিশেষে সেই বণিক আচার্য‍্য রামানুজের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং দীনদরিদ্র এই ব্রাহ্মণ দম্পতির দারিদ্র মোচনের জন্য তাঁদের প্রচুর ধনদৌলত উপঢৌকন দিতে চাইলেন। কিন্তু বরদাচার্য‍্য সবিনয়ে তা প্রত‍্যাখ‍্যান করলেন এবং কৃষ্ণ-সুদামা প্রসঙ্গে ভাগবতে যা বর্ণিত আছে সেইরকম বললেন, মহাশয় আপনার আশীর্বাদে আমাদের কোন অভাব নাই।ভিক্ষান্নেই আমাদের দিন চলে যায়।ধন সম্পদ শুধু চিত্তের চাঞ্চল‍্যকেই বাড়িয়ে তোলে, সুতরাং আপনি কৃপা করে এ দাসকে আর এ প্রলোভন দেখাবেন না।আচার্য‍্য রামানুজস্বামী আদ‍্যপান্ত বিবরণ শুনে খুবই খুশী হলেন এবং প্রাণ ভরে ব্রাহ্মণ দম্পতিকে আশীর্বাদ করলেন।*
*🙏একেই বলে "মহৎ" কৃপা এবং এই মহৎকৃপা প্রভাবে আজন্ম পাপাচারী বণিক ক্ষণিকের এক ঘটনার মাধ‍্যমে জীবনকে মহিমান্বিত করতে পেরেছিলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৩. মহামন্ত্র সাধনের প্রকৃত উদ্দেশ্য 🙇 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (২য় খন্ড)*
   *মহামন্ত্র সাধনের প্রকৃত উদ্দেশ্য*

*🍀সাধারণত দেখা যায় যে সাধুগুরু বৈষ্ণব মহান্তগণ ভগবদ্ উন্মুখী বা ভগবদ্ কথা শোনার জন্য আগ্রহী ব‍্যক্তিদের প্রথমদিকে একই উপদেশ দান করেন, তা তিনি যে সম্প্রদায়েরই হন না কেন, মত ও পথ ভিন্ন হলেও এই উপদেশটি কিন্তু সর্বক্ষেত্রেই এক এবং তা হচ্ছে--,"সদা সর্বদা নাম করুন" অর্থ‍্যাৎ হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। এই মহানাম সাধন করতে বলেন।*
*🍀এতে সাধারণত একটা কৌতূহল হওয়া স্বাভাবিক যে সবাই কেন এই একই উপদেশ দান করেন। এর শাস্ত্রগত তাৎপর্য‍্য হচ্ছে যে,প্রত‍্যেক জীবের মধ্যেই জীবাত্মা বা পরমাত্মা রয়েছেন, এই আত্মা পরমেশ্বরের অংশ বিশেষ। এই পরমাত্মা অথবা আত্মার পরিমাপ এত ক্ষুদ্র যার কোন স্থূল পরিমাপ করা সম্ভব না। যথা একটি চুলের হাজার অংশের এক অংশ হতেও ক্ষুদ্র বা সূক্ষ্ম। অর্থ‍্যাৎ এই সৃষ্টি যখন পরমেশ্বরের এবং এই কোটি কোটি জীবের মধ্যে যখন জীবাত্মা বিরাজিত তখন আপনারাই কল্পনা করে দেখুন যে এর পরিমাণ কি হতে পারে?অথচ এই আত্মাই আমাদের প্রাণ ধারণের মূল অংশ এবং এই আত্মা হচ্ছেন অবিনশ্বর, যে কথা গীতায় আছে যে ----*
*🌷বাসাংসী জীর্ণানী যথা বিহায়,*
*🌷নবানি গৃহ্নাতি নরোহপরানী,*
*🌷তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণানী,*
*🌷অন‍্যানি সংযাতি নবানি দেহী।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ ভগবদ্ উন্মুখী জীবকে যদি সাধন ভজন পথে জীবনকে চালনা করবার বাসনা জাগে তাহলে এই আত্মার পুষ্টি দরকার।যেমন ধরুন, একটি শিশুর পুষ্টি মাতৃদুগ্ধে হয়, আবার কিছুদিন পরে অন্নজলের মাধ‍্যমে দেহের পুষ্টি হয় অর্থ‍্যাৎ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে খাদ‍্য তালিকা পরিবর্তনের মাধ‍্যমে দেহের পুষ্টি সাধিত হয়, যার অর্থ হচ্ছে,এই যে একটা খাদ‍্য চাই বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য।*
*🌸সেইরকম অনাদিকাল হতে জীব কৃষ্ণবহির্মুখী, জীবকে যদি ভগবদ্ উন্মুখী করতে হয় তাহলে এই আত্মার পুষ্টি দরকার।শাস্ত্র বলেছেন যে দেহের পুষ্টি খাদ‍্যে কিন্তু আত্মার পুষ্টি নামামৃত ভজনে। এই জন্যই শাস্ত্রে পাই, নাম-নামী অভেদ যথা----*
*🌷যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।*
*🌷নামের সহিত আছেন আপনি শ্রীহরি।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ নাম সংযোগ হলেই ভগবানের সঙ্গে সংযোগ হয়। এই হিসাবে নামকে বেতারযন্ত্রের তারও বলা যেতে পারে, কারণ এই নামের মাধ‍্যমে পরমপুরুষ শ্রীভগবানের সান্নিধ্যে আসা যায়।*
*🛑এখন আমরা মূল প্রশ্নে ফিরে যেতে চাই।কেন সকল সাধু মাহাত্ম্যগণ শ্রীভগবানের নাম করতে বলেন। এই প্রসঙ্গে দেখুন দেবর্ষি নারদ সদা-সর্বদা বৈকুন্ঠনাথের কাছে থাকেন, সেজন‍্য তিনি নিশ্চিত জানেন যে কৃষ্ণ ভগবান কিসে ভীষণ সন্তুষ্ট হন।এটি এমন কি বস্তু, -- না সদাসর্বদা ভগবানের গুণকীর্তন অর্থ‍্যাৎ নাম,স্মরণ ও মনন। সেজন‍্য মানুষ তো ছার,দেবর্ষি অর্থ‍্যাৎ যে ঋষি দেবতাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ তিনি নারদমুনি পর্যন্ত সদাসর্বদা তাঁর বীণাযন্ত্রে হরিগুণগান করে বেড়াচ্ছেন।*
*সে কথা আগেই বলা হয়েছে, এই মানব দেহের মধ্যে যে জীবাত্মা বিরাজমান,এমনিতেই তার অস্তিত্ব অতিক্ষীণ--অতি কৃশ--অণুপরমাণু হতেও ছোট।তা আরও সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে কৃষ্ণবহির্মুখ জীবের দেহের মধ্যে।এখন এই আত্মার পুষ্টি দরকার--অর্থ‍্যাৎ একটি ছোট গাছকে যদি অঙ্কুরিত হবার পর হতে সার,জল,মাটি নিয়মিত ভাবে সেচন করা না হয় তাহলে তার মৃত‍্যু অনিবার্য‍্য। আর যদি প্রকৃত যত্ন নেওয়া হয় তাহলে সেই গাছের শ্রীবৃদ্ধি অনিবার্য‍্য।এখন এই আত্মার খাদ‍্য নামামৃত ভজন এবং ক্রমাগত দিবারাত্র--অভ‍্যাসের ফলে এই নামরূপ খাদ‍্য পেয়ে আত্মা ধীরে ধীরে পুষ্টিলাভ করে, কারণ এটাই আত্মার খাদ‍্য।*
*🍀একটি দৃষ্টান্তে বলা যায় যে,এক বিন্দু জল যদি শানের উপর ফেলা যায় তাহলে তার কোন গতি নজরে আসে না। একবিন্দু,দুইবিন্দু,তিনবিন্দু এইরকম পরপর দিলেও, যে মুহূর্তে একটু বেশী জল,যা বহু ফোঁটারসমষ্টি ছাড়া আর কিছুই নয়, যেই শানের উপর ঢেলে দিবেন তখনই জলেরধারা বহিতে শুরু হয় অর্থ‍্যাৎ জলের পুষ্টি বা প্রাচুর্য‍্য হলেই জলের স্বাভাবিক ধর্ম প্রকাশ পায়।তখন সেই ধারা নিম্নমুখী হয়,তারপর নালার দিকে প্রবাহিত হয়,তারপর ড্রেনে পড়ে, আবার তারপর খালে পড়, তারপর নদনদীর মাধ‍্যমে সাগরে মিলিত হয়। অর্থ‍্যাৎ যে মুহূর্তে পুষ্টি হল তখনই স্ব-ভাব জাগ্রত হয় এবং সে স্বভাবে-স্বধর্মে চলে। সেইরকম এই কেশ আত্মা যদি নামরূপ খাদ‍্য দিনরাত্রি,অহরহ পেতে থাকে,তখন ধীরে ধীরে তার পুষ্টি সাধিত হয় এবং যে মুহূর্তে পূর্ণ পুষ্টতা লাভ করে তখনই স্থভাব জাগ্রত হয় এবং সে ভগবদ্ সান্নিধ্য লাভের যোগ্য হয়। আশাকরি আপনারা নামাভাস তাৎপর্য‍্য কিঞ্চিৎ উপলব্ধি করতে পেরেছেন। কারণ এই সব বস্তু লিখে বুঝান খুবই কষ্টকর।*
*পরম করুণ শ্রীগুরুদেবের নিকট হতে শুনেই লেখা হল, শ্রীগুরুদেবের দান,যদিও এক হিসাবে সবই কৃপার দান।*
*🍁কৃপা কিভাবে পাওয়া যায়? অর্থ‍্যাৎ কৃপাকারী হলেন দাতা, আর যাকে কৃপা করেন তিনি হলেন ভিখারি।ভিখারির যেরকম চাহিদা,সেইরকম হতে হবে।ভিখারি মুখে বলছে অনেকদিন খাইনি কিন্তু সেটি যখন তার চোখে মুখে চেহারায় ফুটে উঠবে। তখনই দাতার মন গলবে এবং দাতা তখনই দান করবেন।*
*🌸আমরা সাধারণত সাধুগুরু বৈষ্ণবকে প্রণাম করে বলি, "বাবা একটু কৃপা করবেন", অনেকটা মুখের কথার মত, প্রকৃত আর্তি নিয়ে কয়জন বলি তাইনা? আবার পাইও সেরকম।প্রকৃত প্রয়োজন যখন ফুঝা যাবে, ভক্ত যখন কৃপা না পেলে অন্নজল ত‍্যাগ করবে, দেহত‍্যাগেও কুন্ঠিত হবে না, তখনই কৃপাকারীর মন গলবে। যেমনভাবে নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয় গুরু কৃপা পেয়েছিলেন।*
*♻আমাদের কৃপা চাওয়া কিরকম? সব বজায় থাক এর উপর গৌরগোবিন্দ যদি আসেন মন্দ কি। কিন্তু তাতে কৃপা হয় না।দাতার মন গলে না।*
*💮আমাদের কৃপা প্রার্থনা যেন অনেকটাই মুখস্থ কথার মতন সাধুগুরু বৈষ্ণব মহান্তগণ সেটি বেশ বুঝেন মনে মনে, কিন্তু আমরা ব‍্যথা পাব বলে কিছু বলেন না।কৃপা ভিক্ষা যদি যথার্থ হয় এবং সেই আর্তি যদি চোখে মুখে ফুঔইয়ে তুলতে পারা যায় তাহলে মহাজনগণের কাছে যদি কৃপা সম্পদ নাও থাকে তবুও তারা ধার করেও কৃপা করেন।বাস্তব জীবনেও দেখা যায় যে আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধব যদি প্রকৃত বিপদে পরে কোন স্বচ্ছল আত্মীয়ের দ্বারস্থ হন এবং তিনি যদি সত‍্য সত‍্যই তার অভাব বোধ সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হন, তখন তাঁর মন গলতে বাধ‍্য এবং তিনি তখন অনেক ক্ষেত্রে ধার করেও তাদের অভাব মোচন করেন। সুতরাং সাধুগুরু বৈষ্ণবগণ যে ধার করেও কৃপা করেন বা করতে পারেন তাহাও অসম্ভব নয়।সবই নির্ভর করে গ্রহীতার নিঃস্বতা এবং আর্তির উপর।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪. শ্রীগুরুমুখী অমৃতবাণী ✋ বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (২য় খন্ড)*
         *শ্রীগুরুমুখী অমৃতবাণী*

*🍀শ্রীগোবিন্দ জীবকে দেখে ভাবেন "মায়ার" দেওয়া উপহারে প্রকৃত সত‍্য ভুলে আছিস।ধন আছে তার সদ্ব‍্যয় কর,সাধুসেবা কর,বিদ‍্যা আছে-- সে বিদ‍্যাকে বিনয়ে ভূষিত কর, যে কথা শাস্ত্রে বলা হয়েছে, "বিদ‍্যা দদাতি বিনয়ম্"।*
*জীব যতক্ষণ না অভাবগ্রস্থ হচ্ছে ততক্ষণ তো কৃপা প্রার্থনা করবেন না। ধন,জন,বিদ‍্যা,রূপ,যৌবন, আভিজাত‍্য অভিমান যাই থাকুক না কেন সব অভিমান বা গর্ব যতক্ষণ এপারে আছে, ওপারে যাবার সময় কিছুই সঙ্গে থাকে না। সেজন‍্য জীবদেহ থাকতে থাকতে পরলোকের পাথেয় সংগ্রহ করতেই হবে।*
*হ‍্যাঁ--, নৌকায় উঠবার আগেই পাথেয় সঞ্চয় করে নিতে হবে, নৌকায় উঠে পাথেয় খুঁজলে চলবে না। কর্মময় নদীকেই ভবসাগর বলা হয়। সাগরে যেমন নিরন্তর বা সবসময় কুমীর হাঙ্গরের দংশন, তেমনি জীব নিত‍্য কামনা বাসনার দংশনে জর্জরিত।*
*🍀ভগবান কারও গর্ব সহ‍্য করতে পারেন না।যে গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণের এত প্রিয়, ভগবান তাঁদেরও গর্ব সহ‍্য করতে পারেননি। গোপীদের যে গর্ব, সে গর্ব হল কৃষ্ণকে পাওয়ার গর্ব।অর্থ‍্যাৎ ভগবদ্ সান্নিধ্য পেলেও গর্ব করা চলবে না।গর্ব হলেই শ্রীকৃষ্ণ দূরে চলে যাবেন।এই গর্ব রোগ শুধু মূর্খেরই হয়। ভাগবদ্ ধর্ম যিনি যাপন করেন তাঁরা কখনও অনর্থকভাবে গর্ব প্রকাশ করেন না।তাঁরা এ ব‍্যাপারে সদা জাগ্রত এবং সদা সতর্ক।*
*চোরের ভ য়ে গৃহস্থ যদি সারারাত্রি জেগে থাকেন, তাহলে যেমন চোর ঢুকতে পারে না, তেমনি প্রকৃত সাধকও সাধন রাত্রিতে জেগে থাকেন এবং তার ফলে অপরাধ রূপ চোর প্রবেশ করতে পারে না।পরিণাম, হরিভক্তি এবং হরিভক্ত এই জগৎরূপ মরুভূমির আশ্রয়,সেহেতু হরিকে, হরিকথাকে, হরিভক্তিকে সমান মর্য‍্যাদা দিতে হবে।হরিভক্তি,সাধনে মেলে না,অর্থ‍্যাৎ এটি প্রয়াস লভ‍্য নয়, এটি প্রসাদ লভ‍্য অর্থ‍্যাৎ কৃপা সাপেক্ষ। প্রসঙ্গত বলা যায় যে, কোন একটি বদ্ধ ঘরের জানালা সব খুলে দিলেই যে বাতাস আসবে,তার কোন স্থিরতা নাই, বাতাস যদি বহে তবেই তো আসবে। অর্থ‍্যাৎ বাতাস আসা করুণা।সেইরকম এই দেহ পিঞ্জরের মধ্যে যে আত্মা আবদ্ধ রয়েছে পঞ্চেন্দ্রিয় ও পঞ্চরসের যে দ্বার আমাদের দেহমন্দিরে আছে তা সদা সর্বদা ভজনের মাধ‍্যমে খুলে রাখতে হবে। সেজন‍্য শাস্ত্র বলেছেন, হৃদয়ের কপাট খোলা সাধনা এবং বাতাস আসা করুণা।*
*🌹এখন এই করুণার ধারা কোথা হতে প্রবাহিত হবে, না,গুরুবৃক্ষ হতে।যখনই শ্রীগুরুদেব বুঝবেন যে শিষ‍্যের চিত্তদর্পণের ময়লা অপসারিত হয়েছে,তখন "ভাগবতের গলিতং ফলং এর মত না চাইতেই পাবেন। আধ‍্যাত্মিক জগৎ বা সাধনভজন জগতের ধারাই এই যে প্রত‍্যেকেই অন্তর দিয়ে চান যে তাঁর শ্রীগুরুদেবের ভাবধারা যেন যতদূর সম্ভব তিনি সমুজ্জ্বল রাখতে পারেন এবং সেজন‍্য তাঁরা উপযুক্ত আধারের জন্য সদা জাগ্রত। এই আধার অর্থ‍্যাৎ প্রকৃত আধার পাওয়া কজনের ভাগ‍্যে ঘটে।*
*🌷কৃষ্ণ কৃপা জগৎময়।*
*🌷গুরু কৃপা কোন কোন ভাগ‍্যবান বা ভাগ‍্যবতীর হয়।।*
*🍀ভাগ‍্যবান চরণদাস বাবাজী পেয়েছিলেন, তাঁর প্রাণপ্রিয় শিষ‍্য রামদাসকে।ভাগ‍্যবান হৃদয়চৈতন‍্য পেয়েছিলেন শ‍্যামানন্দ প্রভুকে। ভাগ‍্যবান শ্রীনিবাস আচার্য‍্য পেয়েছিলেন রামচন্দ‍্য কবিরাজকে।বৈষ্ণব জগতে এই জাতীয় মণিকাঞ্চন সংযোগ আরও বহু আছে যা পাবেন আচার্য‍্য প্রভু এবং নরোত্তমদাস ঠাকুরের জীবনীর মধ্যে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে গুরু আনুগত‍্য এবং গুরুরূপী গাভী হতে প্রাণ ভরে দুগ্ধ পান করেছেন বাবাজী মহারাজ, যাকে বলে আকন্ঠভোজন এবং তার ফলে নিজেও আস্বাদন করে পরমতৃপ্তি পেয়েছেন আর জীবজগত যাতে এই আস্বাদ‍্যবস্তু আহার করতে পারে, সেজন‍্য অজস্র দান করে গেছেন গ্রন্থের মাধ‍্যমে। তারসত্ত্বেও অহঙ্কার বা অহমিকা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।যাকে তিনি বলতেন লাভ-পূজা-প্রতিষ্ঠা এরা বড় শত্রু এবং সাধকের পক্ষে বড়ই ক্ষতিকর।বাবাজী মহারাজের এত উৎকর্ষতা সত্ত্বেও তার গুরু অনুগত‍্যের সম‍্যক উপলব্ধির কয়েকটি ছন্দ এখানে দেওয়া হল।*
*🌷 কীর্তনের ছন্দ আর শব্দ অলঙ্কার।* 
*🌷 বৈষ্ণব দর্শন আর সাহিত্য সম্ভার।।*
*🌷করপুটে নিয়ে সব করি নিবেদন।*
*🌷শ্রীগুরু পাদপদ্মে কৈলে সমর্পণ।।*
*🌷যা কিছু গুরুর ধন নিজে নিঃস্ব রিক্ত।*
*🌷পবিত্র বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বিরক্ত।।*
*🌻সত‍্য থা বলতে কি বাবাজী মহারাজ আমার বিচারে ষড় গোস্বামীগণের কৃপাপ্রাপ্ত সন্তান এবং প্রকৃত বৈষ্ণবতা কাকে বলে তা কলির জীবকে দেখিয়ে গিয়েছেন।আমরা সাহিত্য রবীন্দ্রনাথ,শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র ইহাদের উৎকর্ষতা দেখতে পাই কিন্তু বৈষ্ণব জগতে বিষ্ণুভক্তি বা কৃষ্ণভক্তির প্রচারের জন্য যে গ্রন্থ সম্পদ তিনি দান করে গিয়েছেন তা এই জগতের লোকে যে কবে বুঝবে বা সেই সুদিন কবে আসবে তার প্রত‍্যাশায় রইলাম।তবে আমাদের গর্ব এই যে বাবাজী মহারাজ আমাদের পরম গুরুদেব।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৫. জপতপ ও সাধনভজন 🙇 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (২য় খন্ড)*
             *🙏জপতপ ও সাধনভজন*

*🍀সর্বপ্রথম জপ কথাটি হচ্ছে যে বস্তুর মাধ‍্যমে জীবাত্মার সহিত পরমাত্মার সংযোগ সাধিত হয় তাকেই "জপ"বলে। অর্থ‍্যাৎ নিরালায় নিজের ঠাকুর ঘরে বসে ইষ্টমূর্তির ধ‍্যানে যিনি নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারবেন তিনিই প্রকৃত জপ করেন।শ্রীবিগ্রহ বা প্রাণহীন পাথরের মূর্তি নয়, তার জাজ্জ্বল‍্য প্রমাণ শ্রীখন্ডের "রঘুনন্দন ঠাকুরের গোপীনাথ সেবা"।ভক্তাধীন ভগবান ভক্তের নিষ্ঠা এবং আর্তিতে ব‍্যাকুল হয়ে তাঁর কাছে ধরা দেন। যেমনটি দেখা যায় ভক্তের কাছ থেকে নাড়ু চেয়ে খাওয়া। আবার এই বড়ডাঙ্গাতেই ঠাকুর নরহরি তাঁর তিরোভাব তিথিতে স্বয়ং প্রকটভাবে আবির্ভূত হয়ে রঘুনন্দনের দেওয়া ভোগ গ্রহণ করেছিলেন।*
*শ্রীমন্মহাপ্রভুর বৈষ্ণবজগতে নামজপ নিষ্ঠার ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত আছে, যার সর্বশ্রেষ্ঠ কাহিনী হরিদাস ঠাকুর। তেমনি আবার বিগ্রহ সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা যায় শ্রীনিবাস আচার্য‍্য প্রভু নরোত্তম ঠাকুর, রামচন্দ্র কবিরাজ প্রভৃতি মহান্তগণের চরিত সুধায়।এই সব কাহিনী যদি কেউ জানতে আগ্রহী হন, এই অধম প্রণীত সপার্ষদ শ্রীগৌরাঙ্গ ও বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী গ্রন্থের মধ্যে প্রাপ্ত হবেন। সাধন জগতে প্রবেশ করতে হলে সর্বপ্রথম শ্রীনামকে আশ্রয় করেই তা সম্ভব।সেজন‍্য দেখা যায় যে মহাপ্রভু যখন পূর্ববঙ্গ ভ্রমণে গিয়েছিলেন তখন তপন মিশ্র তাঁর কাছে সাধ‍্যসাধনতত্ত্ব জানবার বাসনা প্রকাশ করেন, তদুত্তরে মহাপ্রভু বলেছিলেন,এখন শুধু শ্রীনাম করে যাও, পরে সাধ‍্যসাধন তত্ত্বের রসাস্বাদন করতে পারবে। অর্থ‍্যাৎ নামকে সর্বপ্রথম আশ্রয় করতেই হবে, কারণ নাম-নামী অভিন্ন।নামে একবার নিষ্ঠা জন্মালে বা রুচি হলে তখন আর আন কিছুই ভাল লাগে না।এই জন্যই একটি সহজ উদাহরণ দ্বারা এটি বুঝাবার চেষ্টা করা হবে।একজন বৈষ্ণব প্রশ্ন করেছিলেন যে, "ভক্ত বড় না ভগবান বড়"। উত্তরে শ্রোতা ভক্তটি বলেছিলেন যে ভক্তই বড়।তখন সেই বৈষ্ণবটি বলেন যে ভগবান তো অসীম অনন্ত তাঁর থেকে ভক্ত কি ভাবে বড় হবে?উত্তরে সেই ভক্তটি বলেছিলেন, "আপনি যাঁকে অসীম অনন্ত বলছেন, তাঁকে যিনি সসীম করে নিজ হৃদয়ে আবদ্ধ করে রাখেন তিনি তাঁর চেয়ে বড় হবেন কি করে "। যেমন দেখুন বালক রঘুনন্দনের কি ক্ষমতা যে তিনি পাষাণ বিগ্রহ গোপীনাথকে নাড়ু পর্যন্ত খাইয়েছিলেন।তাহলে আপনারাই বলুন যে ভক্ত বড় না ভগবান বড়। আবার ভগবানের এমনই মহিমা যে তিনি তাঁর ভক্তের কাছে ধরা দিয়ে আনন্দ লাভ করেন। ভগবান যে ভক্তাধীন তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় ভক্তপ্রবর লালাবাবুর জীবনে। জমিদার নন্দন লালাবাবু যখন বিষয় বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে শ্রীধাম বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন, তখন তিনি প্রথম দিকে বৈষ্ণবসেবা,ভক্তসেবা, জীর্ণোদ্ধারে ইত্যাদি কাজে ব‍্যাপৃত হন এবং পরিশেষে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রমা বিগ্রহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন যা অদ‍্যাপি বিদ‍্যমান। এই লালাবাবু যখন সাধনার উচ্চ শিখরে আরোহিত,তখন তাঁর সেবিত বিগ্রহ একদিন স্বপ্নচ্ছলে আবির্ভূত হয়ে বলেন,লালা!তোমার নিকট আমার একটি প্রার্থনা আছেন।লালাবাবু তখন বলেন প্রভু! কি আপনার বাসনা তা বলুন আমার সাধ‍্যের মধ্যে হলে তা অবশ্যই পূরণ করব।তখন ভক্তাধীন ভগবান বলেছিলেন, "লালা! তুমি আমার জন্য একটি মন্দির বানিয়ে দাও"।তখন লালাবাবু দৈন‍্য-বিনয় সহকারে বলেছিলেন যে,প্রভু আপনি এমন সময় এই বাসনা প্রকাশ করলেন যে মন্দির তৈরী করবার মত কোন টাকাপয়সা আমার কাছে নাই।তখন ভগবান বলেছিলেন, যে লালা!আমি যে মন্দিরের কথা বলছি তার জন্য তোমার কোন পয়সাকড়ি খরচ হবে না।"আমি শুধু তোমার হৃদয় মন্দিরে থাকতে চাই,সেখানে আমাকে একটু জায়গা ভিক্ষা চাই"। ভগবানের কৃপা বা মহিমার কথা আর কি বলব।সারা বিশ্বের যিনি অধিপতি,তিনি বাস্তুহারার মত ভক্তহৃদয়ে বাস করবার জন্য একটু জায়গা ভিক্ষা চাইছেন।আহা!আহা! কি অপূর্ব 😭😭😭।*
*গঙ্গার জলধারা সুদূর গঙ্গোত্রী বা গোমুখ হতে নির্গত হয়ে যেরকম নিজ থেকে সাগরের দিকে ধাবিত হয়, সেই উপলক্ষ্যে ভক্ত ভগবানকে বলেছেন, গঙ্গাধারার মত আমার হৃদয়ের সব বৃত্তিগুলি যেন নিজ থেকেই তোমার দিকে ধাবিত হয়। এটিই প্রকৃত ভক্তমনের একান্ত কামনা বাসনা।উচ্চাঙ্গের এই সব ভক্তগণ কিভাবে নামজপের মাধ‍্যমে ভগবদ্ কৃপা লাভ করা যায় সেই প্রসঙ্গে বলেছেন----*
*🙏একেবারেই ডুবে গিয়ে জপ করতে হয়।কোন পিছুটান রেখে জপে বসতে নেই।বাস্তবে না হলেও মনোভঙ্গিটি সেরকম করতে সচেষ্ট হতে হবে। অর্থ‍্যাৎ এই যে আমি বসলাম,আমার ইহ জগতে এখন আর কোন কাজকর্ম নেই,কোন আকর্ষণ আকিঞ্চন নেই একজন ছাড়া আর কারোর সঙ্গে কোন সম্বন্ধ বা সম্পর্ক নেই। বহির্জগতের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছেদ করে নিরালায় এই যে আমি বসলাম এতেই আমার শেষ নিশ্বাস যদি ত‍্যাগ হয়, আমার মৃত‍্যু ঘটে তবুও ভাল।অর্থ‍্যাৎ আমি ডুব দিতে চাইছি তা অতল তলে ডুবে যাবার জন্য, আর আমি ভেসে উঠতে চাই না। যদিওবা এইরকম মনোভাব আনা সহজ কথা নয়, সত‍্যই নিত‍্যকার সংসারের পটভূমিতে অবাস্তব এবং অসম্ভব বলেই মনে হবে কিন্তু তবুও এই আকুতিটুকু মনে মনে জিইয়ে রাখতে হবে।এই একগ্রতা,একতানতা,একলক্ষ‍্যতা ছাড়া সিদ্ধি অসম্ভব। হ‍্যাঁ--,যেন একেবারে হাত-পা ছেড়ে দিয়ে পর্বতের চূড়া থেকে ঝাঁপিয়ে পড়া।এই যে আমি বসলাম,না পেয়ে আর উঠছি না,এই মনোভাব আনতে হবে।(অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডে যত জীব আছে,প্রত‍্যেকেই অভ‍্যাসের দাস, যে বা যারা যেমন অভ‍্যেস করেছেন ঠিক সেইমত তারা চলাফেরা করছেন, যেমন একটু অপ্রিয় সত‍্য কথা বলি--, কেউ দুধ বিক্রি করে মদ পান করে, আবার কেউ মদ বিক্রি করে দুধ পান করে।)যাইহোক, এইরকম শক্ত মনোভাবের চিন্তা করলেই সহজেই শান্ত এবং নিবিষ্ট হয়।*
*👣প্রতিদিন জপের মধ‍্য দিয়ে দেহ-মন-প্রাণ অধিকতর সতেজ করে তুলতে প্রয়াসী হওয়া চাই।রোজকার জপে বসবার আগে সুতীব্র সঙ্কল্প করে বলতে হবে জপের মাধ‍্যমে যেন আমার মন প্রাণ স্থির বা শান্ত ও স্নিগ্ধ রসাল হয়।এইরকম দৃঢ় মনোভাব নিয়ে জপ শুরু করতে হয়,(করব,করছি, আজ নয় কাল, এখন এইরকম করার সময় আসেনি,সামনে বহু সময় পড়ে আছে ইত্যাদি )এই মনোভাব যেন না আসে। দিনের কাজের নানা ঝুট-ঝামেলায় মনপ্রাণ অশান্ত অস্থির হতেই পারে, এসবই জপের আসনে বসার পূর্বে সঙ্গে সঙ্গে যেন অন্তর্হিত হয়।সেজন‍্য ভজনে বসার আগে সংসার চিন্তায় বিক্ষিপ্ত প্রতিটি মানুষকে কি করতে হবে, নিজের মন,বুদ্ধি,অহঙ্কার,চিত্তকে ডেকে বলবে,তোমরা প্রায় সবসময়ই আমাকে অশান্ত করে রেখেছ,এখন তোমাদের যে প্রভু,তাঁর কাছে একটু যাচ্ছি তোমরা আমাকে কৃপা করে পথ ছেড়ে দাও।(এই মনোভাব অভ‍্যাস করতে থাকুন, একদিন দেখবেন ঠিকই আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন, অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের জীব অভ‍্যাসের দাস,"যার যেমন ভাব,তার তেমনি লাভ)।*
*🌸সমস‍্যা জীবনে প্রকৃত কতটা মিটবে বা দ্রুত মিটবে সেটি বড় কথা নয়।আসল কথা হল আমি নিজেকে বাস্তবের মুখোমুখি হতে কিভাবে তৈরী করে তুলছি। আমার লড়াই করার মনোবল বাড়ছে কি না?আপদে-বিপদে আমি স্থির থাকতে পারছি কি না। নানা মোহময় প্রতিকূল পরিবেশে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমি অনুকূল উপাদানটুকু নিঙড়ে নিতে পারছি কি না।সব কাজের মধ্যে তাঁর ইচ্ছেকে প্রকটিত হতে দেখতে পারছি কি না?দুঃখ,কষ্ট,বেদনা, যন্ত্রণার মধ্যেই চিত্তের প্রসন্নতাকে অবিঘ্নিত রাখতে পারছি কি না?এষব যদি পারিবা পারা যায় তাহলেই বুঝতে হবে জপ ঠিক মত হচ্ছে। সমস‍্যাটি মিটিয়ে দাও বলে আমি প্রত‍্যক্ষে মুখফুটে হয়ত ঠাকুরকে বলছি না, কিন্তু আমি যদি জপযোগে তাঁকে ডাকি, ভালবাসি,তাঁর সঙ্গে ভাব বিনিময় করতে পারি, তাহলে আমার গোপন ব‍্যথা বেদনা কি আর তাঁর কাছে গোপন থাকে, ভক্তের আর্তি দেখে তিনি কি আর স্থির থাকতে পারেন।তখন নিজ ইষ্টদেব ভক্তের মনোবাসনা পূরণ করে দেন।*
*🍀হরিকথা শ্রবণ প্রসঙ্গে নববিধা ভক্তিতে বলা হয়েছে শ্রবণ,কীর্তন,স্মরণ, বন্দন ইত্যাদি।অর্থ‍্যাৎ শ্রবণকেই প্রাধান‍্য দেওয়া হয়েছে।এই যে শ্রবণের ইচ্ছা এই শ্রীকৃষ্ণের রূপ-গুণ-লীলাতে যদি মনকে ডোবাতে চান,তাহলে তা সম্ভব "মহৎসেবয়া" অর্থ‍্যাৎ মহতের সেবা করুন, মহতে সঙ্গ করুন, কারণ যাগ,যোগ,ধ‍্যান,তপস‍্যা করে এই পরমবস্তু পেতে যুগ যুগ চলে যায়।সেজন‍্য শ্রদ্ধার পুজি সম্বল করে সেই সব মহাজনের মুখ হতে হরিকথা শুনতে শুনতে হৃদয়ের রুদ্ধকপাট বা দুয়ার খুলে যাবে, কারণ তাঁরাই এই সত‍্যটিকে প্রকৃত উপলব্ধি করেছেন।সেজন‍্য যেখানে আলো জ্বলছে সেখান থেকে নিজের হৃদয়ের প্রদীপটি জ্বালিয়ে নিন, তাহলে তাঁদের সেই সাধনলব্ধ উত্তাপ থেকে অচিরেই আপনার মধ্যে সে শক্তি সঞ্চারিত হবে। অচিরেই হৃদয়ের মধ্যে হরিকথায় রুচি জন্মাবে বা জাগ্রত হবে।(অন্ধ কোনদিনই কি পথ দেখাতে পারে)?*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৬. ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন ❓ 
বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (২য় খন্ড)*
*ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন?*

*🌷নিগম কল্পতরোর্গলিতং ফলং শুকমুখাদমৃতদ্রব সংযুক্তম্।*
*🌷পিবত ভাগবতং রসমালয়ং মুহুরহো রসিকা ভুবি ভাবুকাঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ বৃক্ষের ফলটি যখন বৃক্ষের ধর্ম-অনুযায়ী সুপক্ক হয়ে আপনা হতে বৃন্তচ‍্যুত হয় অর্থ‍্যাৎ আহরণের কোন প্রয়োজন নাই,সেই ফলের স্বাদ এবং মিষ্টত্ব সর্বোত্তম। অর্থ‍্যাৎ যে না চাইতে পাওয়া,ভাগবদ্ গ্রন্থ হচ্ছেন বেদ বৃক্ষের সুপক্ক ফল।ইহার উৎপত্তি দেবাদিদেব নারায়ণ হতে, তিনি কৃপা পরবশ হয়ে পরম্পরা অনুসারে তা দান করেছেন অর্থ‍্যাৎ না চাইতেই পরপর সকলে পেয়েছেন।ইহাকে এককথায় বলা হয় "বাসুদেব মন্ত্র" এবং চতুঃশ্লোকী।*
*এদিকে মহর্ষি বেদব‍্যাস হিন্দুধর্মের উপর গ্রন্থের পর গ্রন্থ রচনা করে চলেছেন, যথা বিভিন্ন পুরুণ,মহাভারত,বেদ বিভাগ,পাতঞ্জল যোগ দর্শনের টীকা ইত্যাদি নানাবিধ গ্রন্থ।এতসব গ্রন্থ রচনা করা সত্ত্বেও তাঁর মনে শান্তি নেই, কেমন যেন একটা অভাব বোধ করছেন, এইসব কারণে সরস্বতী নদীতীরে চিন্তাকুল হৃদয়ে ধ‍্যানমগ্ন অবস্থায় বসে আছেন মহর্ষি বেদব‍্যাস।এমনই এক পবিত্র সময়ে দেবর্ষি নারদ সেখানে আগমন করলেন এবং কুশলবার্তা জিজ্ঞেস করলে মহর্ষি বেদব‍্যাস নারদকে তাঁর চিত্তের অশান্তির কথা সব বললেন, তদুত্তরে দেবর্ষি নারদ বললেন যে,বেদব‍্যাস! তুমি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছ তা অতীব সত‍্য কিন্তু ভক্তের সঙ্গে ভগবানের হৃদয়ের যে আদানপ্রদান সে কথাগুলি কোথাও তুমি বর্ণনা করোনি, সেই কারণেই তোমার হৃদয়ের পরিতৃপ্তি ঘটেনি।তোমার জ্ঞানের তুলনা মেলা ভার,বিচক্ষণ লোকেরা তোমার এইসব রচনা থেকে জীবনে চলার পথে অনেক পাথেয় সংগ্রহ করতে পারবে কিন্তু যারা সাধারণ মানুষ,যারা বিষয় জালে মোহাচ্ছন্ন, তাদের জন্য তো তুমি কিছু রচনা করনি, সেজন‍্য সেই মহানপুরুষ শ্রীকৃষ্ণের লীলা কাহিনী তুমি বর্ণনা কর।নররূপে জন্মগ্রহণ করে পরমপুরুষ সেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে সব লীলা করে গেলেন, সেইসব লীলা কীর্তনের মাধ‍্যমে তুমি নিশ্চিত শান্তিলাভ করবে।পুরাণ,বেদ,গীতা, মহাভারত সব কিছুই তুমি রচনা করেছ শুধুমাত্র সেই পরমপুরুষের লীলা কাহিনী কিছুই বর্ণনা বা রচনা তুমি করনি।ব‍্যাসদেব কথাটা বুঝলেন এবং ভাবতে লাগলেন যে দেবর্ষি নারদ যা বললেন তা তো প্রকৃতই সত‍্য অতএব কিভাবে তা করবেন। তখন তিনি দেবর্ষি নারদের আশীর্বাদ ভিক্ষা করায় নারদ তখন তাঁকে দিলেন তাঁর "বাসুদেব মন্ত্র" এবং চতুঃশ্লোকী, যা তিনি পেয়েছিলেন কমলযোনি ব্রহ্মার নিকট হতে।মহর্ষি বেদব‍্যাস তখন দেবর্ষির কৃপাশক্তিতে বলীয়ান হয়ে একেবারে ধ‍্যানস্থ হলেন এবং মহাসমাধির মধ‍্য দিয়ে অপরোক্ষ ভাবে শ্রীকৃষ্ণের সমস্ত লীলা তিনি প্রত‍্যক্ষ করলেন।তৎপরে তাঁর সমাধি ভঙ্গ হল, তাঁর অমৃতময় লেখনী হতে গঙ্গাধারার মত প্রবাহিত হতে লাগল ভাগবতের শ্লোকগুলি।এইভাবে দেবর্ষির আশীর্বাদে মহর্ষির অপূর্ব প্রতিভা তখন ধীরে ধীরে রূপায়িত হল শ্রীমদ্ ভাগবতরূপে ১৮০০০ শ্লোকের মাধ‍্যমে। এইজন‍্য ভাগবতকে বলা হয় "নিগম কল্পতরোর্গলিতং ফলং"।*
*🍀এইজন‍্যই শুকদেব গোস্বামীপাদ হরিদ্বারে মহারাজ পরীক্ষিৎকে বলেছেন,আমি তোমাদের কাছে সেই বেদেরই পরমতত্ত্ব পরিবেশন করতে এসেছি এই তত্ত্বটি কিভাবে এসেছে, ধা গলিত ফলরূপে,গলিত ফল মানে সুপক্ক ফল যা হতে রসক্ষরণ হয় যা সকলে পরিতৃপ্তির সহিত আস্বাদন করেন এবং সেই বেদবৃক্ষরূপ কল্পতরুর সুপক্ক ফলটি হচ্ছেন শ্রীমদ্ভাগবত, অর্থ‍্যাৎ একে আহরণ করতে কোন পরিশ্রমই করতে হয় না, সুপক্ক হয়ে আপনা থেকেই পড়ে রসে ভরপুর অবস্থায়।*
*🌻শুক মুখাৎ অমৃত দ্রব সংযুক্তম্। অর্থ‍্যাৎ গাছের পাকা ফলটিতে যেরকম পাখীরা ঠুকরে ঠুকরে খেয়ে তার রস আস্বাদন করে, এখানেও শুকদেব গোস্বামীপাদ যেন ভাগবতের রস ঠুকরে ঠুকরে বের করে শুধু মাত্র নিজে পান করেননি, আমাদের সকলকে পান করিয়েছেন, এইজন‍্য ভাগবতের পরিবেশনকে শুক মুখাৎ অমৃত দ্রব‍্যসংযুক্তম্ বলা হয়।*
                  *ক্রমাগত*


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৭. ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন ❓ বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (২য় খন্ড)*
  *ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন?*

*🍀গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান অর্জুনকে কর্ম,ভক্তি ইত্যাদি বিষয় সম‍্যক জ্ঞানদানের মাধ‍্যমে তাঁর মোহ ভঙ্গ করেছিলেন এবং সর্বশেষে বলেছিলেন যে,দেখ অর্জুন!এতসব যদি করতে না পারো, তবে "সর্বধর্মান পরিত‍্যজ‍্য মামেকং শরণং ব্রজ"।অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ এই কথাগুলি বলেই যেন মুক্ত। সর্বতোভাবে আমার শরণ নাও।তুলনামূলক হিসাবে বলা যায়,পিতামাতা সন্তানকে বলছেন খোকা!ভাল কোরে পড়াশুনা করো যদি জীবনে উন্নতি করতে চাও। কিন্তু ছেলেকে মানুষ করতে গেলে যা প্রয়োজন সেদিকে তাঁরা নজর দিলেন না।বললেন খোকা ভাল করে পড়াশুনা করো, এখানেও সেইরকম শ্রীকৃষ্ণ শরণ নাও বলেই মুক্ত হলেন। কিন্তু ভগবানকে আপন করে পাবার যে আকাঙ্ক্ষা, নিবিড়ভাবে তাঁর সান্নিধ্যলাভের যে আকুতি ভক্তহৃদয়কে উদ্বেল করে তুলে সে তৃষ্ণার শান্তি তো শুধু আহ্বানে মিটেনা।সেজন‍্য ভক্তপ্রাণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে চরিতার্থ করবার জন্য এগিয়ে এলেন শ্রীমদ্ভাগবত।এইজন‍্য মহাজনগণ বলেছেন গীতার যেখানে শেষ, শ্রীমদ্ভাগবতের সেখানে শুরু।এই জন্যই ভাগবতকে বলা হয় "শ্রবণমঙ্গলম্" অর্থ‍্যাৎ শুধু হরিকথা শুনে যাও, শুনলেই মঙ্গল হবে।*
*🍀আমরা দেখতে পাই যে মহাভারতে ঘটনাগুলি আছে তার মধ্যে নানা তত্ত্বের উপদেশ,রাজনীতির কথা আছে, ধর্মনীতির কথা আছে কিন্তু ভক্ত কেমন করে ভগবানের সঙ্গে হৃদয়ের আদান প্রদান করে সে কথাটি মহাভারতে নেই। আমরা মহাভারতে এই সব ঘটনাগুলিই পাই কিন্তু ভক্তের নয়ন দিয়ে ভগবানকে দেখা মহাভারতে পাই না।ভক্ত ভগবানের নিবিড় সম্পর্কের অজস্র দৃষ্টান্ত শুধুমাত্র শ্রীমদ্ভাগবতেই আমরা আস্বাদন করতে পারি।নারদ ও ব‍্যাসদেবের কথোপকথনের মধ্যে দেখা যায় যে মহাভারত রচনা করে ব‍্যাসদেবের তৃপ্তি বোধ হয় নি।সেজন‍্য ভক্তির যে পরমরস সেই রসটুকু প্রাণভরে ঢেলে দেবেন বলে রচনা করলেন শ্রীমদ্ভাগবত।ভাগবতে একদিকে যেমন রয়েছে ভগবৎ-তত্ত্ব ও ভগবৎলীলার পরিবেশন,তেমনি অন‍্যদিকে রয়েছে ভগবদ্ ভক্তদের নানা কাহিনী।যাঁরা মহাজন,তাঁদের জন্য রয়েছে ভগবদ্ তত্ত্বের আলোচনা এবং একমাত্র তাঁরাই সেই ভগবদতত্ত্ব ও লীলা আস্বাদনের অধিকারী।আর যাঁরা অভাজন তাঁরা ভগবদ্ ভক্তদের জীবনী কথার মধ‍্য দিয়ে ভগবানের রস আস্বাদন করবেন।এইসব ভক্ত চরিত্র আস্বাদনের ম‍ধ‍্য দিয়েই তারা একদিন ভগবানকে লাভ করে ধন‍্য হবেন,কারণ ভগবানকে পেতে হলে--, "ভগবানের ভক্ত যাঁরা, ভগবানের স্পর্শ যাঁরা পেয়েছেন,তাঁদের স্পর্শ পাওয়া চাই "।*
*🌹ভগবান বলেছেন------*
*ভক্ত আমার পিতা মাতা,*
*ভক্ত আমার গুরু,*
*ভক্ত আমার নাম রেখেছে*
*বাঞ্জা কল্পতরু।*
*🍀যাইহোক,এইসব মহৎজনের সেবার দ্বারা অর্থ‍্যাৎ মহৎ সেবায় মনের মধ্যে জাগবে বাসুদেবে কথারুচি ; এই ভাবে বাসুদেবের কথায় রুচি হলে তাঁর কথা শুনতে শুনতে সমস্ত অমঙ্গল দূরীভূত হবে। ভগবানের যত ঐশ্বর্য‍্যময় রূপই থাকুক না কেন সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হল "তাঁর ভক্ত পরাধীনরূপ"।ভক্তের কাছে তিনি নিজের সত্ত্বাকে একেবারেই বিকিয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন এদের ঋণ আমি শোধ দিতে পারি না,পারব না।*
*🍀এই দুনিয়ায় বহু জায়গায় ভাগবত পাঠ হয়,শ্রোতারও বহু সমাগম হয়,ভাগবত শোনার জন্য। কিন্তু শুধু শুনলেই হবে না বা শুনতে হবে কি ভাবে--, "শুশ্রুষঃ শ্রদ্ধধশ্চ" অর্থ‍্যাৎ শ্রদ্ধাপূর্বক শুনতে হবে এবং এই শোনার ইচ্ছা যেন হৃদয়ের মধ্যে জাগ্রত হয়।বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নিছক কৌতূহলের বসে ভাগবত পাঠ শুনতে যাই এবং ভাগবত পাঠ শোনার ফল লাভ করতে পারি না।সেজন‍্য ভাগবদ্ বলছেন যে সত‍্যিকারের শুনবার ইচ্ছা নিয়ে শ্রদ্ধা সহকারে যদি কেউ তাঁকে গ্রহণ করতে পারে তাহলে ধীরে ধীরে তার হৃদয়গ্রন্থী ভেদ হয়ে যায়,সব সংশয় ছিন্ন হয়ে যায় এবং কর্মবন্ধন শিথিল হয় যাকে বলা হয় মুক্তি।শোনার মধ‍্যদিয়েই এই মুক্তির পথই আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।*
*এটি শুধু মুখের কথা নয়,শোনা কথা নয়,ইচ্ছার জাজ্বল‍্য প্রমাণ মহারাজ পরীক্ষিৎ। মহারাজ শাপগ্রস্ত, আর মাত্র সাতদিন তাঁর পরমায়ু রয়েছে,কিন্তু তার জন্য মনে কোন বিষাদ নাই, কেবল ভাবছেন জীবনের এই অবশিষ্ট সাতদিন How best to utilise । সেজন‍্য বিশেষ ভাগ‍্য জোরে পেলেন শুকদেব গোস্বামীপাদকে এবং সঙ্কল্প করলেন একমনে একপ্রাণে ক্ষুধা-তৃষ্ণা বিসর্জন করে শুধু হরিকথা শোনার মাধ‍্যমে জীবনকে তক্ষক দংশনের দ্বারা বিসর্জন দিবেন। সম্পূর্ণভাবে উপবাসী থেকে হরিদ্বারের ব্রহ্মকুন্ডে আসীন হলেন, মুখে একবিন্দু জল পর্যন্ত গ্রহণ করেননি।অবধারিত মৃত‍্যুমুখে দাঁড়িয়ে শুকদেব গোস্বামীপাদকে মহারাজ পরীক্ষিৎ বলছেন, "আসুক আমার মৃত‍্যু,আমায় শেষ করে দিক তক্ষক, আপনি হরিকথা বলুন হরিকথার বিরাম দিবেন না।আমি চাই অভুক্ত উপবাসী অবস্থায় দেহ মন প্রাণ শ্রীহরির চরণে নিবেদন করে হরিকথা,কৃষ্ণকথা,বিষ্ণুকথা শুনতে শুনতে যেন প্রাণটি চলে যায়।তারপরে বললেন যে,আপনার শ্রীমুখ থেকে হরিকথা শুনতে শুনতে দেহবোধই যেন আমার বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।এটিই হল ভাগবতের মহিমা একবার সেই ভাগবদ্ রসের আস্বাদ পেলে আর কোন রসই ভাল লাগবে না।হ‍্যাঁ--, দুই-একদিনের জন্য পান করলে চলবে না। এই যে ভাগবত রসামৃত তা পান করতে হয়ে "আলয়ম্" অর্থ‍্যাৎ যতদিন না লয় হয়।শোনার যে পথ,শোনার যে লালসা, শোনার যে মানসিকতা তা দেখিয়ে গেছেন মহারাজ পরীক্ষিৎ।কারণ ভাগবত শোনার সময় তাঁর দেহবোধ ছিল না।তিনি তখন মৃত‍্যুঞ্জয়ী বীর হিসাবে ভাগবতরস সমুদ্রে ভাসমান ছিলেন।এইভাবেই ভাগবদ্ পাঠ শুনতে হয় বা শুনতে যেতে হয়।সেজন‍্যই ভাগবত ডাক দিয়েছেন তোমরা শুধু শুনে যাও,শুনে যাও,শুনে যাও,হরিকথার এমনই মহিমা যে শোনার মাধ‍্যমে চিত্তদর্পণের ময়লা দূর হবে এবং হৃদয়ে শুদ্ধাভক্তির উদয় হবে।গঙ্গার জলধারা সুদূর গঙ্গোত্রী বা গোমুখ থেকে নিসৃত হয়ে যেমন সাগরের দিকে নিজ থেকেই প্রবাহিত হয়,এই উপলক্ষ্যে ভক্ত ভগবানকে বলছেন,গঙ্গাধারার মত আমার হৃদয়ের সমস্ত বৃত্তিগুলি যেন তোমার দিকে আপনা আপনি ধাবিত হয়।এটিই হল প্রকৃত ভক্তমনের একান্ত কামনা বাসনা।*
                   *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৮. ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন ❓ বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী(২য় খন্ড)*
*ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন?*

*🍀সংসারী ভক্ত এই সব কথা শুনে ভগবানকে যেন বলছেন, আমি যে সংসারী মানুষ আমাকে বৈষয়িক কথা বলতে হবে,শুনতে হবে,আমি কি করে সমস্ত মন প্রাণ তোমার শ্রীচরণে ঢেলে দিব। তদুত্তরে ভগবান বললেন---*
*🌷বাণী গুণানু কথনে শ্রবণৌ কথায়াং,*
*🌷হস্তৌ চ কর্মসু মনস্তব পাদয়ের্নঃ,*
*🌷স্মৃতাং শিরস্তব নিবাস জগৎ প্রণামে,*
*🌷দৃষ্টিঃ সতাং দর্শনেস্তুব ভবৎ তনুনাম্।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ ভগবান বলছেন আমি যে তোমাকে তোমার দেহ মন্দিরে এতগুলো ইন্দ্রিয় দিয়ে জগতে পাঠালাম তার কি তুমি সদ্ব‍্যবহার করবে না।*
*(১)মুখে বাণী দিলাম=কথা বলার শক্তি দিলাম কিন্তু সেই বাক‍্য কি তুমি কখনও তাঁর গুণানুকথনে লাগিয়েছ, সে জন্য ভগবানের গুণগানে তোমার এই বাক‍্যেন্দ্রিয়কে ব‍্যাপৃত (নিযুক্ত বা নিয়োজিত)কর।*
*(২)তোমাকে দুইটি কান দিলাম=কি শোনার জন্য?অর্থ‍্যাৎ দুটি কান দিয়ে তাঁর কথা শোনবার জন্য,তা-কি কখনো শুনছো বা শুনেছ?*
*(৩)দুইটি হাত দিলাম=তাদের কি কখনও তাঁর কর্মে বা তাঁর সেবায় কাজে লাগিয়েছ?*
*(৪)মন দিলাম=সে মন দিয়ে তো শুধু বিষয় চিন্তা,ভোগ লালসার চিন্তা করলে তা চলবে না।সেই মনটি দিতে হবে তাঁর সকোমল পাদপদ্মে বা চরণসেবায়।*
*(৫)শির বা মস্তক দিলাম=সেটিকে কি শুধু উদ্ধত হয়ে অহঙ্কারে মাথা উচুঁ করে যাবার জন্য?না---,কখনও নয়,তাকে মহারাজ অম্বরীষের মত ভগবদ্ চরণে লুটিয়ে দেবার জন্য।*
*🌹ভক্ত তখন বলছেন তাঁকে কোথায় পাব যে প্রণাম করব?তখন ভগবদ্ বলছেন এই সমস্ত চরাচর বিশ্বের মধ্যেই তিনি বিরাজ করছেন, সেই বিভূ সৃষ্ট জগতকে প্রণাম জানাও, কারণ জগন্নিবাস জগন্নাথ সর্বত্রই সাক্ষাৎ বিরাজিত। অর্থ‍্যাৎ এই বিশ্বজগতে যাঁকেই তুমি সামনে দেখবে,অবনতচিত্তে তাঁকেই প্রণাম জানাও,কারণ তারা যে সব "হরেঃ শরীরম্" অর্থ‍্যাৎ সকলের মধ্যেই শ্রীহরির চিৎ শক্তি বিরাজ করছে।মাথার উপর ঐ যে নীলাকাশ,এই যে মৃদুমন্দ সমীরণ প্রবাহিত হচ্ছে,এই যে সুশীতল পানীয়জল,এই যে মাটির পৃথিবী সব কিছুই যে তাঁর সৃষ্টির মূর্ত্ত প্রতীক। সেজন‍্যই বৈষ্ণবধর্মে বলা হয়েছে ---*
*🌷ব্রাহ্মণ আচন্ডাল কুক্কুরান্ত করি।*
*🌷দন্ডবৎ করিবেক বহুমান‍্য করি।।*
*☘সুতরাং প্রণাম জানাবার জন্য মঠ মন্দিরে না গেলেও চলবে কারণ সারা বিশ্বটাই যে ভগবানের মূর্ত্ত প্রতীক।*
*🍁নববিধা ভক্তিতে বলা হয়েছে শ্রবণ কীর্তন স্মরণ বন্দন ইত্যাদি এবং এই জন‍্যই শ্রবণকে সর্ব প্রথম প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।ভাগবদ্ বলছেন তোমরা শুধু শুনে যাও, কি শুনবে? না--,ভগবদ্ হরি কথা? শ্রদ্ধার পুঁজি সম্বল করে শুধু শুনে যাও,শুনতে শুনতে হৃদয়ের রুদ্ধদুয়ার খুলে যাবে।কথাটি বড় সহজ অর্থ‍্যাৎ কোন পয়সাকড়ি কিছুই লাগবে না, মহৎজনের মুখ হতে নিঃসৃত হরিকথা শুনে যাও, কারণ তাঁরাই যে এই সত‍্যটিকে প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করেছেন। এইভাবে শুনতে শুনতে নিজের মনে বাসুদেব কথারুচি জাগ্রত হবে।এই রুচি জন্মাবার জন্য কি করতে হবে,না--, মহৎ সেবা। অর্থ‍্যাৎ যেখানে আলো জ্বলছে সেখান থেকে তোমার হৃদয়ের প্রদীপটি জ্বালিয়ে নাও।মহৎ ব‍্যক্তিদের মধ্যে আবার যাঁর মধ্যে হরিকথা রুচির প্রগাঢ়তা রয়েছে সেখান থেকে রুচি আহরণ করো,কারণ তপস‍্যা করে,যাগযজ্ঞ করে,সাধনভজন করে সেই পরম বস্তু লাভ করতে অনন্তকাল লেগে যায়।কলির জীব স্বল্পায়ু।জন্মের পর জন্ম চলে যায়,সেজন‍্য যেখানে আগুন জ্বলছে অর্থ‍্যাৎ যিনি ভগবানকে উপলব্ধি করছেন তাঁর সান্নিধ্যে যদি আসতে পারো তাহলে তাঁর দ্বারাই তাঁর সেই সাধনলব্ধ উত্তাপ থেকে সেই আলো তোমার মধ্যে অচিরেই সঞ্চিত হবে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৯. ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন ❓ বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী(২য় খন্ড)*
*ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন?*

*🍀এইজন‍্য দেবর্ষি নারদ বলেছেন মহৎজনের কৃপা যদি লাভ করতে পার, তাহলেই এই হরিকথায় রুচি নিজে থেকেই এসে যাবে।সেজন‍্যই করতে হবে মহাপুরুষের অর্চনা মহাপুরুষের বন্দনা-সেবা-তাঁদের সঙ্গ এবং তাঁর দ্বারাই তোমার উপলব্ধি হবে।কি উপলব্ধি?যাঁরা তাঁদের জীবনে তাঁর কৃপা পেয়েছেন। অর্থ‍্যাৎ সাক্ষাৎ উপলব্ধি যেখানে হয়েছে সেখান থেকেই আগুন জ্বালিয়ে নিতে হয় বা হবে।সেজন‍্য নারদ তাঁর ভক্তি সূত্রে বারবর ডেকে ডেকে বলেছেন "তদেব সাধ‍্যতম,তদেব সাধ‍্যতম" অর্থ‍্যাৎ তুমি শুধু তাই সাধো অর্থ‍্যাৎ সাধন করো, মহৎজনের সঙ্গ করো। না হলে অন্ধ কি কখনও কাউকে পথ দেখাতে পারে? সেজন‍্য যিনি ভগবদ্ কৃপায় দিব‍্য চক্ষু লাভ করেছেন,তাঁদের চরণে শরণ নাও, শ্রীকৃষ্ণ ভগবান গীতার সর্বশেষে বলেছেন "মামেকং শরণং ব্রজ"। কৃষ্ণকে কোথায় পাব, না যাঁরা কৃষ্ণভজন,কৃষ্ণপূজন,কৃষ্ণসেবায় তাঁদের নিজের জীবনকে মহিমান্বিত করেছেন তাঁদের শরণাগতি কামনা করো।তাহলে তখনই তোমার মনে পরমেশ্বের রতি দেখা দিবে।*
*🍀প্রসঙ্গত বলা যায় এই যে,আমরা সকলে তীর্থদর্শনে যাই, তার প্রধান কারণ মহতের সঙ্গ লাভ।কারণ তাঁদের ভজনপ্রভাবে সেখানকার আকাশ বাতাস ভূমি জল সবই পুণ‍্যবান হয়ে উঠেছে।এরজন‍্যই সাধু দর্শনের এত মহিমা বা এত বাসনা।শুধু তীর্থে গেলাম গাড়ী ঘুরে বেড়ালাম,কেনাকাটা করলাম এতে তীর্থস্থান হয়ত দর্শন হয় কিন্তু তীর্থ দর্শন হয় না।মহৎ কৃপা না হলে আবার সাধু দর্শন হয় না, কারণ এই ভক্তি জগতটা সবই যেন কৃপার দাড়িপাল্লার উপর প্রতিষ্ঠিত।মহৎজনের অন্তরের অন্তস্থল থেকে যদি কৃপা বর্ষিত হয় তখনই সেই লোকের মনে ভক্তিবীজের মাধ‍্যমে অঙ্কুরোদ্গম হবে।সব জিনিসটিই প্রভূত সময় সাপেক্ষ, কারণ ভগবান যখন নিজেকে ভক্তের দাস করে রেখেছেন, তিনি কি সহজে তার দাসত্ব স্বীকার করবেন।ভক্তের কাছে ভগবান পরাধীন,নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছেন তাঁর সেবা নিষ্ঠা দেখে, সুতরাং ভগবানের উপর কর্তৃত্ব করতে গেলে নিজেকে সেইভাবে ভগবদ্-দাসানুদাস হতে হবে।*
*🍁সেইজন‍্য ভক্ত বলছেন, "দৃষ্ট এব আত্মনি ঈশ্বরে", যার অর্থ আমার মধ্যে তাঁর প্রকাশ অর্থ‍্যাৎ তাঁকে যখন নিজের মধ্যে দেখতে পাব তখনি বুঝতে হবে মনের আয়না থেকে সব ময়লা দূরীভূত হয়েছে।*
*💮ভাগবতের অন‍্য বৈশিষ্ট্য হল ব‍্যাসদেব কর্তৃক ভাগবদ্ জনের জীবনধারা নিয়ে এক বৈচিত্রময় প্রকাশ।এখানে তিনি দেখিয়েছেন বিভিন্ন ভক্তরা কিভাবে ভগবানকে প্রত‍্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেছেন, সেই উপায়গুলিও প্রকাশিত হয়েছে ভাগবতে, এবং সেগুলি তাঁদের মুখ থেকেই শোনান হয়েছে। ভগবানের আপনজনদের জীবনী,তাঁরা ভগবানকে লাভ করে যে সব স্তব স্তোত্রের মাধ‍্যমে ভগবানের অনন্ত মহিমা ব‍্যক্ত করেছেন, তা সব যেন প্রত‍্যক্ষভাবে উদভাষিত হয়েছে। অর্থ‍্যাৎ এই ভাগবতের মধ্যেই আমরা ধ্রুব,প্রহ্লাদ,বলি,বামনের উপাখ‍্যান আবার পাই,মহারাজ অম্বরীষের মত ভক্তের উপাখ‍্যান। এইগুলি সব Direct Experience এর কথা, কিভাবে তাঁরা সাধনভজনের মাধ‍্যমে ভগবানের স্বরূপকে চিনেছেন তা সব তাঁরা নানাবিধ স্তবস্তুতির মাধ‍্যমে ভগবানের মহিমা কীর্তন করেছেন। যথা=*
*🌷অসিত গিরিসমং স‍্যাৎ কজ্জলং সিন্ধুপাত্রে,*
*🌷সুরতরু বরশাখা লেখনী পত্রমুর্ব্বী,*
*🌷লিখতি যদি গৃহীত্বা সারদা সর্বকালং,*
*🌷তদপি তব গুণানামীশ পারং ন যাতি।*
*🌻এখানে ভগবানের মহিমা কীর্তন করে এক চমৎকার একটি শ্লোক রচনা করেছেন, যা নিম্নে দেওয়া হল।ইহার ভাবার্থ এরকম=*
*🌹সিত=সাদা, সুরতরু=স্বর্গের কল্প বৃক্ষ, অসিত=সাদা না,লেখনী=কলম, গিরি=পর্বত,উর্ব্বী=পৃথিবীর মাটি, কজ্জলং=কালী, সারদা=মা সরস্বতী, সিন্ধু=সমুদ্র, গুণীনাম=গুণকীর্তন, ঈশ=ভগবান।*
*🌻এখানে ভক্ত ভগবানের মহিমা কীর্তন প্রসঙ্গে বলছেন যে, হে ভগবান! এই পৃথিবীর সব পাহাড় পর্বত যদি কালীর পাথর হত, এবং সমুদ্র যদি মসীধার বা কালির দোয়াত হত, সেই সমুদ্ররূপী দোয়াতে যদি কালি গোলা হত, এবং স্বর্গের কল্পবৃক্ষের ডাল দিয়ে যদি কলম করা হত এবং সারা ভূমন্ডল যদি কাগজ হত এবং মা সরস্বতী যদি নিজ হাতে সেই কলম ধরে তোমার গুণকীর্তন সব লিখে যেতেন,তাহলেও হে ভগবান, তোমার গুণকীর্তন বা মহিমা লিখে শেষ করতে পারতেন না।*
🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২০. এ জগতে কে আপন কে পর 🍁 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী(২য় খন্ড)*
       *এ জগতে কে আপন কে পর*
        ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆

*🍀এ দুনিয়ায় কে আপন কে যে পর তার কোন বাস্তব সূত্র নাই। নিজের অন্তরাত্মাকে জিজ্ঞাসা করলেই বুঝতে পারবে যে তুমি যাকে আপন ভাবছ সে-কি সত‍্যই তোমার আপনজন?সে কি তোমার প্রাণের প্রাণ হতে পেরেছে?যাকে ভালবাসিলে তোমার ভালবাসা প্রকৃত সার্থক হয় তাঁকে কি সে ভালবেসেছে? তোমার ঔরসে জন্মেছে বলেই কি সে তোমার আপন হয়ে গেল?ইহা কখনও মনে করিও না।সে কি ভগবানকে ভালবাসে? না,সে হরি বিরোধী?পুত্র হয়েও প্রহ্লাদ হিরণ‍্যকশিপুকে আপন মনে করতে পারেননি।পত্নী হয়েও মীরাবাই মনে প্রাণে রানা ভোজরাজকে আপন বলে স্বীকার করতে পারেননি। ভগবানের জন্য যার প্রাণের টান সেই তোমার খাঁটি আপনজন।তার সঙ্গে লৌকিক বা সামাজিক কোন সম্পর্ক না থাকলেও সেই প্রকৃত আপন তা সে মুচি-মেথর-হাঁড়ি-ডোম-চন্ডাল যেই হোক না কেন।*
*🍀তোমাকে ভগবদ্ উপাসনায় ব্রতী দেখলে যার মনে আনন্দ হয় সেই তোমার প্রকৃত আপনজন আর তোমার হরি বিমুখতায় যার তৃপ্তি সেই তোমার পর।এই কথাগুলি মনে রেখে মনের কষ্ঠিপাথরে যাচাই করে দেখ সে তোমার প্রকৃত আপন কি পর।*
*🍀সেজন‍্য এ জগতে আপন চিনে চল, আপন বুঝে চল, যে পর তার সঙ্গে মায়িক সম্বন্ধ থাকলেও নিজেকে জড়াইও না, শুধু মাত্র কর্তব‍্যের খাতিরে যা করা দরকার তাইই করবে।যতদিন বেঁচে থাকবে "হাতের কর কাম,মুখে কর নাম", নিমেষের জন্য ভগবদ্ চিন্তা পরিহার করবে না। প্রত‍্যেক নিশ্বাসে প্রত‍্যেক প্রশ্বাসে (চব্বিশ ঘন্টায় আমরা ৪৩২০০বার নিশ্বাস-প্রশ্বাস আদানপ্রদান করি),প্রত‍্যেকটি হস্তপদ সঞ্চালনে, হৃদয়ের প্রত‍্যেকটি স্পন্দনে, শরীরের প্রত‍্যেকটি আন্দোলনে অবিরাম ভগবানের মধুময় মধুমাখা নাম স্মরণ কর।তাঁর নামের সেবায় জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ।অন‍্য কাজকে তার অধীন করে নাও।এই কাজই প্রধান,অন‍্য কাজ সব অপ্রধান।এটিই হচ্ছে মহাজন,বৈষ্ণবগণের বাক‍্য।প্রতিটি কাজের মধ্যে এই অনুভবটি যেন থাকে যে,তাঁরই কৃপায় বেঁচে আছি,তাঁরই কৃপায় জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ ভোগ করছি।তাঁরই কৃপায় দুটি আহার জুটছে।আহা!আহা! তিনি কত দয়াময়, সুতরাং মনুষ‍্য জীবনে এমন পরম বন্ধু তাঁকে ভুলে যাওয়া বা ভুলে থাকা কি ঠিক? কারণ তিনিই প্রকৃত আপনজন।"এক কথায় ভগবদ্ কথায় কথা,আর সব ব‍্যথা"। মানুষের জীবনটা হবে অখন্ড ভগবদ্ ভজন। শুদ্ধ আহার বা সাত্ত্বিক আহার, উষাকালে উপাসনা, শাস্ত্রপাঠ এবং ধীরে ধীরে বিষয় বৈরাগ‍্য।এইভাবে জীবন যাপন করলেই কে আপন কে পর তা সহজেই বুঝতে পারা যাবে।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
              *চর্যা ও নাথ-গীতি*

*🍀ঐ সময়ে যোগপন্থানুসারী নাথধর্মও স্বতন্ত্রভাবে বাংলার সর্বত্র বিস্তারলাভ করেছিল বৌদ্ধতন্ত্রের প্রভাবকে অতিক্রম না করেও। মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেছেন--,*
*But there were other forms of religions which the Buddhist community absorbed in itself. One of these is the "Nath-marga" or Nathism. ☆ ☆Thus the Nathism of Matsyendra arose outside Buddhism, but was at last absorbed into it. On the otherhand, Ramana Vajra was a Buddhism of the Varayana School, but when he became Goraksanath, and was regarded as a hertic by Buddhists, so Goraksa's Nathism was originally within Buddhism, but it was not incorporated into it.*
*🌹Vide Introduction to the Modern Buddhism and its Followers in Orissa, page=89.*
*🍀আসলে গুরু গোরক্ষনাথ,মীননাথ, মৎস‍্যেন্দ্রনাথ ও অন‍্যান‍্য নাথ আচার্য‍্যদের প্রবর্তিত যোগসাধন,কায়াসাধন ও উল্টাসাধন প্রভৃতিও বৌদ্ধ ও হিন্দুধর্মে প্রবেশ করেছিল। "গোরক্ষসম্প্রদায়ে প্রচলিত হঠযোগের গ্রন্থে মৎস‍্যেন্দ্রনাথ-প্রবর্তিত একটি কষ্টসাধ‍্য আসন ও তার ফলের কথা আছে,যথা---*
*🌷বামোরুমূলার্পিতদক্ষপাদং,*
*🌷জানোর্বহির্বেষ্টিতবামপাদম্।*
*🌷প্রগৃহ‍্য তিষ্ঠেৎ পরিবর্তিতাঙ্গঃ,*
*🌷শ্রীম‍্যস‍্যনাথোদিতমাসনং স‍্যাৎ।।*
                       *(হঠযোগপ্রদীপিকা ১|২৬)*
*🌻"আদিনাথ শঙ্কর হঠযোগের উপদেষ্টা ; "আদিনাথ শিবঃ সর্বেষাং নাথনাং প্রথমো নাথঃ। ☆ ☆ মৎস‍্যেন্দ্রাখ‍্যশ্চ আদিনাথ-শিব"। ☆  ☆ গোরক্ষ সংহিতায় গোরক্ষনাথের উপদেশ  "আসনং প্রাণসংরোধঃ প্রত‍্যাহাবাশ্চ ধারণা" এবং "যোগশাস্ত্রঞ্চ পরমং যোগিণাং সিদ্ধিদায়কম্"। এছাড়াও গোরক্ষনাথ কায় বা কায়াসাধনের প্রধান নেতা ছিলেন, যোগের কঠোর নিয়ম দ্বারা দেহসংযম ও চিত্তবৃত্তিনিরোধ ছিল মৎস‍্যেন্দ্র-গোরক্ষের পন্থা।*
*ডাক্তার কল‍্যাণী মল্লিক, "নাথসম্প্রদায়ের ইতিহাস,দর্শন ও সাধনপ্রণালী (১৯৫০) পৃঃ ৬৫ ।*
*🍀এ থেকে প্রমাণ হয় যে,গোরক্ষনাথ,মৎস‍্যেন্দ্রনাথ প্রভৃতি নাথাচার্য‍্যদের যোগ পদ্ধতি বৌদ্ধধর্ম-সাধনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং চর্যা-রচয়িতা সিদ্ধাচার্য‍্যরাও সেই যোগপদ্ধতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।*
*🍀পরে খ্রীষ্টীয় নবম শতকে সহজিয়া সম্প্রদায় যখন বৌদ্ধ-বজ্রযান ধর্মমতের অনুসরণ করেছিল তখন কৃষ্ণাচার্য‍্য বা (কাহ্ন-পাদ) প্রভৃতি গাথা বা পদ-রচয়িতারা যে বহু সহজিয়াগান রচনা করে বাংলার গীতিভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছিলেন বাংলার ইতিহাস তার সাক্ষ‍্য দান করে।অচ‍্যুতানন্দের শূন‍্যসংহিতায়ও আমরা এর কিছুটা প্রমাণ পাই।শূন‍্যসংহিতায় দশম অধ‍্যায়ে উল্লেখ আছে----*
*🌷নাগান্তক বেদান্তক যোগান্তক জেতে।*
*🌷নানা প্রতি বিধিরে কহিলে তোষ চিতে।।*
*🌷গোরক্ষনাথঙ্ক বিদ‍্যা বীরসিংহ আজ্ঞা।*
*🌷মল্লিকানাথঙ্ক যোগ বাউলী প্রতিজ্ঞ।।*
*🌷লোহিদাস কপিলঙ্ক সাক্ষিসন্ত্র জেতে।*
*🌷কহিলে জে যেমন্ত সে হোইক্কি গুপতে।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ নাগার্জুনের অনুসারী নাগান্তক বা সৌত্রান্তিক,যোগান্তিক বা যোগাচার প্রভৃতি বৌদ্ধসম্প্রদায় তাঁদের আপনাপন নিয়ম-পদ্ধতিতে অনুসরণ করেও স্বধর্মে ও বিশ্বাসে নিষ্ঠ ছিলেন।তাছাড়া বীরসিংহের অনুশাসনে গোরক্ষনাথের ধর্মমত ও যোগানুষ্ঠান, মল্লিকানাথের যোগসাধন,বাউলী বা বাউলধর্ম এবং লোহিদাস ও কপিলের সাক্ষীমন্ডল ছিল সর্বসাধারণের লোকচক্ষের অন্তরালে গুপ্ত ও রহস‍্যময়। আচার্য‍্য মীননাথের মন্ত্রশিষ‍্য গুরু গোরক্ষনাথ পরে মৎস‍্যেন্দ্রনাথ নামে পরিচিত হয়েছিলেন।তিব্বতের ইতিবৃত্ত থেকে জানা যায়, গোরক্ষনাথ তিব্বতের বৌদ্ধসম্প্রদায়ের বিশেষভাবে পূজিত ছিলেন। ঐতিহাসিক লামা তারানাথের বিবরণ থেকেও জানা যায়, খ্রীষ্টীয় তেরশ শতকে গোরক্ষনাথ শৈবধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন এবং তারজন‍্য তাঁর প্রবর্তিত যোগীসম্প্রদায়ের কাছে তিনি "শিবাবতার"বলে পরিচিত ও পূজিত ছিলেন। অচ‍্যুতানন্দ তাঁর শূন‍্যসংহিতায় গোরক্ষনাথ ও মল্লিকানাথকে বৌদ্ধ-যোগাচার ধর্মমতের অনুসারী ছিলেন বলে বর্ণনা করেছেন।*
           ♻♻♻♻♻♻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
           *চর্যা ও নাথ-গীতি=দুই*

*🍀পূর্বেই আলোচনা করেছি যে,চর্যা ও বজ্র-গীতি নির্দিষ্ট তালে ও রাগে গীত হ'ত এবং তাল ও রাগগুলি ছিল শাস্ত্রীয় অভিজাত সঙ্গীতপদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেন--, শ্রীচৈতন‍্যদেবের অন্ততঃ ছয়শ বৎসর পূর্বে ভারতে বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য‍্যগণ সংকীর্তনের গান ("সংকীর্তন" শব্দটির প্রয়োগ ঠিক নয়, কেননা চর্যাগুলি ছিল গীতি বা গান,বৈষ্ণবপদকীর্তন বা সংকীর্তন থেকে তারা প্রকাশে ও গঠনে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল )। সংকীর্তনের গান বেঁধে ও নানা রাগ-রাগিনীতে ঐ সমস্ত গান গেয়ে ভারতবাসীর মন বৌদ্ধধর্মের দিকে আকৃষ্ট করতেন।তাঁরা সচরাচর যে সমস্ত রাগিনীতে গান গায়তেন তাদের নাম পঠমঞ্জরী,অরু,গুঞ্জরী,দেবক্রী দেশাখ,ভৈরবী,কামোদ,ধনেশ্রী,রামক্রী, বরাড়ি,শীবরী বা সাবেরী,মল্লারি,মালশ্রী, কহ্নূ গুঞ্জরী, বাংলা প্রভৃতি।(বৌদ্ধ গান ও দোহা (১৩২৩ সাল)পৃষ্ঠা ছয়)। অবশ‍্য চর্যায় অনেক বিকৃত রাগ-নামের উল্লেখ আছে,যেগুলির সুসংস্কৃত নাম সঙ্গীতশাস্ত্রে পাওয়া যায়। মহামহোপাধ‍্যায় বলেছেন যে,বৌদ্ধসন্ন‍্যাসীরা অনেক সময় গাথা রচনা করতেন এবং গাথা বা গাথাগান রচনার জন্য একটি স্বতন্ত্র ভাষা ছিল।*
*☘কোন কোন পন্ডিতের অভিমত যে, বৌদ্ধ-ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের অচরণমূলক অথবা আচরণের উদ্দেশ্য রচিত গাথাগানই চর্যাগীতি। "চর্যা" শব্দটির আভিধানিক অর্থ আচরণ (চর্-ধাতু থেকে নিষ্পন্ন),পালন,রক্ষণ,অনুষ্ঠান প্রভৃতি ; যেমন ধর্মচর্যা,দেহচর্যা,ব্রতচর্যা। ডাক্তার সুকুমার সেন বলেন, "ঐ চর্যা" শব্দ থেকেই তপস্বীর আচরণ --তপশ্চর্যা, নটের আচরণ --নটচর্যা শব্দগুলির সৃষ্টি।এথেকে অনুমান হয় যে,খ্রীষ্টীয় ১০-১১শ শতকের বাংলার বৌদ্ধসমাজে ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের ধর্মাচরণমূলক বা অধ‍্যত্মকর্ম-আচরণের উদ্দেশ্য রচিত গাথাগানই চর্যাগীতি।এখানে 'গাথা' গানেরই প্রতিশব্দ। বৈদিক যুগে যজ্ঞানুষ্ঠান বা যজ্ঞকর্মে 'গাথা-নারশাংসী' গান করা হ'ত। ঠিক ঐরকমভাবে বৌদ্ধযুগে নিষ্ঠাচারী ভিক্ষু ও নিষ্ঠাচারিণী ভিক্ষুণীরা অসংখ্য গাথা বা পদ রচনা ক'রে শাস্ত্রীয় রাগে ও তালে তাদের সম্পৃক্ত বা মিলিত করে বিভিন্ন ধমানুষ্ঠানে ও উৎসব-ব‍্যাপারে গান করতেন।তাছাড়া অধ‍্যাত্ম সাধনচর্যার গানের বিধি তো ছিলই।(লেখকের "রাগ ও রূপ " প্রথমভাগ (তৃতীয় সংস্করণ) পৃষ্ঠা ৭৮ দ্রষ্টব‍্য)।অনেকে বলেন,চর্যাগীতিগুলি প্রধানত উৎসবে বা অবসর-বিনোদনে গান করা হ'ত। কিন্তু অবসর বিনোদনের কথা বাদ দিলে উৎসব-প্রসঙ্গে গীত হলেও চর্যাগীতি যে পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টর কারণ হত তা "উৎসব" শব্দ থেকেই স্পষ্ট প্রমাণ হয়। আসলে চর্যা ও বজ্র-গীতিগুলি গুহ‍্য যৌগিক ও তান্ত্রিক অনুষ্ঠানে মন্ডলচক্রে গীত হত। ডাক্তার সুকুমার সেন বলেন,এই মন্ডলচক্র ছিল অনেকটা ব্রাহ্মণ‍্যতন্ত্রের যোগিনীচক্রের সম পর্য‍্যায়ভুক্ত।বৌদ্ধ-যোগিনীচক্র বা মন্ডলচক্রের অনুষ্ঠানে বজ্রগীতি গান করে বজ্রধর হেরুককে জাগ্রত করা হত।এরই জন্য চর্যাগীতি বজ্রগীতি থেকে কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির ছিল।চর্যার সাহিত‍্যরচনা প্রায় সম্পূর্ণ হত, যদি শেষপদে ও তৃতীয় পদে অথবা দ্বিতীয় পদরূপ ধ্রুবপদে ভণিতা সন্নিবেশিত থাকত।তবে এই ধ্রুবপদ "ধ্রুবপদের তস‍্যানুৎপাদং সূচয়তি", "ধ্রুবপদের তমেবার্থমভিদ‍্যোতয়তি", "ধ্রুবপদেনাসংগপরিহারং করোতি" প্রভৃতি নিবদ্ধ প্রবন্ধগীতিরূপ ধ্রুবপদ নয়, এটি গান বা পদের অংশ বা ধাতু।কারও কারও মতে, চর্যাগীতির ভাষায় দুইরকম অর্থের দ‍্যোতনা বা প্রকাশ পাওয়া যায়।অদ্দয়বজ্র ও মুণিদত্তের ভাষ‍্যে এই দ্ব‍্যর্থক ভাষাকে বলা হয়েছে "সন্ধাভাষা, বা সন্ধাসংকেত বা সন্ধাবচন"।(সন্ধাভাষার মধ্যে 'সন্ধ‍্যা' শব্দটির মার্জিত রূপ 'সন্ধা' (সম্+ধা=সন্ধা) অর্থ‍্যাৎ যা অভিসন্ধিসূচক বা আভিপ্রায়িক ভাষা তাই "সন্ধাভাষা"।)যেমন (১)যথা=বালৈঃ সন্ধাভাষণম-জনদভির্মনপবনাদিনিরোধমাশ্রয়ঃ কল্পিতঃ ; (২) বারুনীতি সন্ধাবচনেন ☆ ☆ (৩) "দুলি সন্ধাসংকেতে বোদ্ধব‍্যম্" প্রভৃতি )।*
                  *ক্রমাগত*
📯🎻🎺🎷🎸🎺📯🎸📟🎧🎷🎸🎷🎺
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
         *চর্যা ও নাথ-গীতি (তিন)*

*চর্যাগীতির প্রকৃতি,রচনা ও গীতরীতি বা গায়নশৈলীর ধারা আমরা পরবর্তী সঙ্গীতগ্রন্থগুলির মধ্যেও পাই।আগেই বলেছি যে,খ্রীষ্টীয় তের শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী শার্ঙ্গদেবের "সঙ্গীত-রত্নাকর" এবং ১৬শ শতকের গুণী বেঙ্কটমখীর "চতুর্দন্ডীপ্রকাশিকা" গ্রন্থে চর্যার গীতি ও গায়নশৈলীর পরিচয় আছে সম্পূর্ণ ক্ল‍্যাসিক‍্যাল পরিবেশ নিয়ে।হতে পারে যে, ৯ম--১১শ শতকের চর্যাগীতির গীতিরীতি হয়ত ১৩শ বা ১৬শ শতকের চর্যার উন্নত গীতিরীতির ঠিক সহপর্যায়ভুক্ত ছিল না। কিন্তু তাহলেও সঙ্গীত-রত্নাকর ও চতুর্দন্ডীপ্রকাশিকায় বিশ্লেষিত চর্যার রূপ ও শৈলী থেকে ৯ম-১১শ শতকের সমাজে গীত চর্যার রূপ ও গায়নশৈলীর কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া একথা সত‍্য যে, খ্রীষ্টীয় শতকের আরম্ভ থেকে প্রায় ১৭শ-১৮শ শতক পর্যন্ত ভারতীয় সঙ্গীতের রাগরূপ তার মূলনিয়ন্ত্রক রাগ বা ষ্ট‍্যান্ডার্ড-স্কেল অনুযায়ী বতর্মান রাগরূপ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল, আর তার জন্য প্রাচীন গানে বা পদে রাগনামের উল্লেখ থাকলেই যে তা ঠিক বতর্মান রাগরূপ অনুযায়ী গীত হবে এমন কোন নিয়ম নেই।যেমন,সঙ্গীত শিক্ষাবিদ্-মাত্রেই জানেন যে, নাট‍্যশাস্ত্রকার "ভরতের" সময়ে মূল-নিয়ন্ত্রক রাগ বা থাট (Standard scale) ছিল অনেকটা এখনকার কাফীরাগ-অনুযায়ী অর্থ‍্যাৎ স-রি-জ্ঞ-ম-প-ধ-ণ (=গান্ধার ও নিষাদ কোমল বা বিকৃত) এবং এই নিয়ন্ত্রক রাগ বা থাটরূপের প্রচলন ছিল প্রায় ১৭শ-১৮শ শতক পর্যন্ত। বিদ‍্যারণ‍্য মুনি ছিলেন যেমন বিদগ্ধ দার্শনিক, তেমনি ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞানী।বিদ‍্যারণ‍্য মুনির আবির্ভাব-কাল খ্রীষ্টীয় ১৪শ-১৫শ শতক।তাঁর মতে,তদানীন্তন সকল রাগের মূল-নিয়ামক রাগ বা থাট ছিল মুখারী---,তার স্বররূপ ছিল এখনকারই কাফীরাগের (থাটের) মত --, স-রি-জ্ঞ-ম-প-ধ-ণ ।অথচ ১৯শ শতকের শেষভাগ অথবা ২০শ শতকের প্রথম ভাগে সব রাগের মূল নিয়ন্ত্রক বা নিয়ামক-রাগরূপে আত্মপ্রকাশ করল "বিলাবল-রাগ বা বিলাবল-থাট, যার সব স্বররূপ-- স-রি-গ-ম-প-ধ-ন (অর্থ‍্যাৎ সব স্বরই শুদ্ধ)। সুতরাং প্রাচীন রাগগুলিকে পদ বা গানের রূপে প্রকাশ করতে গেলে অনেক সময় প্রয়োজন হয় স্বররূপের পরিবর্তন।যেমন, দ্বারভাঙ্গার রাগতরঙ্গিণীকার লোচন কবি (১৬৫০খ্রীঃ)(◆অনেকে দ্বারভাঙ্গা সংস্করণে উল্লেখ অনুযায়ী রাগতরঙ্গিণীর রচনাকাল নির্ণয় করেন ১১শ শতকে,কিন্তু তা ঠিক নয়। রাগতরঙ্গিণীর আলোচনাভঙ্গি ও রাগরূপসমাবেশ লক্ষ্য করলে তাকে খ্রীঃ সতের শতকের মধ‍্যভাগের গ্রন্থ বলেই প্রতিপন্ন(প্রমাণ সিদ্ধ) করা উচিত)।*
*ভৈরবরাগকে গৌরীসংস্থান বা গৌরীমেলের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন।গৌরীমেলের রূপ বতর্মান হিন্দুস্থানী পদ্ধতির ভৈরবীমেলের মত অর্থ‍্যাৎ স-ঋ-জ্ঞ-ম-প-দ-ণ (ঋষভ,গান্ধার, বৈধত,ও নিষাদ কোমল বা বিকৃত)। কিন্তু ৯ম-১১শ শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী জৈন পার্শদেব বলেছেন--,ভৈরব-শ্রীরাগৌ-রি-প-হীনৌ, ☆  ☆ রাগাংগানি বিদুর্বুধাঃ। সুতরাং ভৈরব ও শ্রীরাগ পাঁচ স্বরের ঔড়বজাতির রাগ। কিন্তু বতর্মান পদ্ধতির ভৈরব সম্পূর্ণজাতির। সুতরাং এ'থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে,প্রাচীনকালে বর্ণিত (খ্রীঃ ১ম-১৩শ অথবা তারও বেশী)রাগরূপগুরি হুবহু প্রাচীনের মত প্রকাশ করতে গেলে অনেক সময় তা অসমীচীন হবে।তাছাড়া প্রাচীন মূলনিয়ন্ত্রক রাগ বা মেলে ক্রমিক মূর্ছনার পরিবর্তন থেকে আমরা ভৈরবী,কল‍্যাণ,খামাজ (খম্বাজ বা খাম্বাজ বা খামাইচ), আশাবরী, বিলাবল (বর্তমান পদ্ধতির) রাগগুলিরও রূপবিকাশ পেতে পারি। অবশ‍্য এ সমস্তই সঙ্গীতে গাণিতিক বিশ্লেষণের পরিণতি, সুতরাং সাধারণের পক্ষে তা সহজবোধ‍্য নয় বলে তার আলোচনা থেকে বিরাম হলাম। যাইহৌক, কিন্তু চর্যাগীতিতে যে সমস্ত শাস্ত্রীয় রাগের উল্লেখ আছে,সেগুলি নিশ্চয়ই সাধক-শিল্পীরা সার্থকভাবে প্রকাশ করতেন তাদের রাগে,তালে,রসে ও ভাবে সম্পৃক্ত বা মিলিত করে।  বর্তমানে ঐ প্রাচীনকালের তথা ৯ম-১১শ শতকের চর্যা ও বজ্র গীতিগুলিকে গানে প্রকাশ করতে গেলে একটি নিয়মকে আমাদের অবশঅনুসরণ করতে হবে এবং সেক্ষেত্রেই এই সব প্রাচীন ও নবীন সঙ্গীতপদ্ধতি তথা রাগপদ্ধতির আলোচনা প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। (এ সম্বন্ধে লেখকের 'রাগ ও রূপ' প্রথম ভাগ,(তৃতীয় সংস্করণ), পৃঃ ৮১ দ্রষ্টব‍্য)।সুতরাং সহজবোধ‍্য ভাবে "গীতগোবিন্দ" পদগীতিতে রাগরূপের প্রসঙ্গে এগুলির আলোচনা করার চেষ্টা করব।*
*তবে একথা সত‍্য যে,প্রাচীন ভারতেও শাস্ত্রীয় রাগ ও তাল সম্পৃক্ত (মিলিত বা সংযুক্ত) করে যে সব গান গাওয়া হত তারা বেশীর ভাগই ছিল নিবদ্ধ-প্রবদ্ধশ্রেণীর গান।চর্যা সম্বন্ধেও ঠিক একথা বলা চলে।চর্যাপদগীতি সত‍্যই নিবদ্ধ, সতাল,ধাতুবদ্ধ ও রাগযুক্ত ছিল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
             *চর্যা ও নাথ--গীতি*

*🍀শার্ঙ্গদেব ও বেঙ্কটমখী "চর্যা"-প্রবন্ধগানকে অঙ্গযুক্ত তারাবলীজাতির গান বলেছেন, "চর্যা বাহড়ী" ☆ ☆ তারাবলীজাতিমন্তঃ প্রবন্ধাঃ পরিকীর্তিতাঃ। অর্থ‍্যাৎ চর্যা প্রবন্ধ গীতির পরিচয় প্রসঙ্গে শার্ঙ্গদেব বলেছেন---------*

*🌷পদ্ধডীপ্রভৃতিচ্ছন্দাঃ পাদান্তপ্রাসশোভিতাঃ।*
*🌷অধ‍্যাত্মগোচরা চর্যা স‍্যাদ্ দ্বিতীয়াদিতালতঃ।।*
*🌷সা দ্বিধা ছন্দসঃ পূর্ত‍্যা পূর্ণাপূর্ণাত্বপূর্তিতঃ।*
*🌷সমধ্রুবা চ বিষয়ধ্রুবেত‍্যেষা পুনর্দ্বিধা।।*
*◆সঙ্গীত-রত্নাকর (আড়েয়ার সংস্করণ)দ্বিতীয় ভাগ, পৃষ্ঠা ৩০৩,৩০৪ ।*

*🌻সিংহভূপাল টীকায় বলেছেন, পদ্ধডিতি রাহডিমুখ‍্যানি ছন্দাংসি। যস‍্যাংপাদানামন্তেহনুপ্রাসযুক্তঃ ; অধ‍্যাত্ম-বাচকৈঃ পদৈরুপনিবদ্ধা সা চর্যা। দ্বিতীয়াদিতালৈঃ সা কর্তব‍্যা। তৃতীয়াবহুবচনার্থে তলপ্রত‍্যয়। সা দ্বিপ্রকারা-- ছন্দঃপুর্তৌ পূর্ণঃ, অপূর্তাবপূর্ণঃ। পুনরপি দ্বিধা। সর্বেষাং পাদানামাবৃত্তৌ সমধ্রুবা, ধ্রুবসৈবাবৃত্তৌ।*
*(সঙ্গীত-রত্নাকর, পৃঃ ৩০৪।*

*🌻"কলানিধি" টীকায় কল্লিনাথ আরও বিশদভাবে অর্থ দিয়েছেন। মোটকথা,পদ্ধডি,রাহডি প্রভৃতি ছন্দে রচিত চর্যাগীতির পাদের শেষে অনুপ্রাস(শব্দালঙ্কারবিশেষ,একই ধ্বনি ও বর্ণের পুনঃ পুনঃ প্রয়োগ সমন্বিত কাব‍্যলঙ্কারবিশেষ) থাকে।চর্যা পদনিবদ্ধ ও দ্বিতীয়াদি তালযুক্ত।পূর্ণ ও অপূর্ণভেদে চর্যা আবার দুইরকম ছিল।তাছাড়া সমধ্রুবা বিষমধ্রুবাভেদে চর্যা দুইশ্রেণীর ছিল।সব পদ আবৃত্তিযুক্ত গীত হলে সমধ্রুবা এবং কেবল ধ্রুব বা ধ্রুবধাতুর আবৃত্তি থাকলে বিষমধ্রুবাশ্রেণীর চর্যা বলা হত।চর্যায় বীররসের সমাবেশ করতে গেলে রাহডীছন্দে পদ তথা গীত রচনা করা হত ; "যত্র বীররসেন স‍্যাৎ ☆ ☆ রাহডী পরিকীর্তিতা"। পদ্ধডীতে বিরুদ, স্বর ও পাট এই তিনটি অঙ্গ থাকত, আর তারজন‍্য চর্যা পদ্ধডীছন্দযুক্ত এবং তিন ধাতুযুক্ত ছিল। সেজন‍্য কল্লিনাথ বলেছেন-- "তেনায়ং ত্রিধাতুঃ ছন্দস্তালনিয়মান্নির্যুক্তঃ ; পদতালবদ্ধত্বাদ্দ‍্যঙ্গ তারাবলীজাতিমান্"। "নির্যুক্ত" বলতে অঙ্গবদ্ধ তথা নিবদ্ধ-প্রবন্ধগীতশ্রেণীর ছিল চর্যাগীতি।*
*🍀শার্ঙ্গদেব ও বেঙ্কটমখীর এই বিবরণ থেকে এ কথায় প্রমাণিত হয় যে, ৯ম-১১শ শতকের বাংলাদেশে বৌদ্ধ-চর্যাগীতিগুলিও ক্ল‍্যাসিক‍্যাল তথা শাস্ত্রীয় ও ট্ট‍্যাডিসন‍্যাল শ্রেণীভুক্ত ছিল।হতে পারে যে,১৩শ থেকে ১৬শ শতকে গীত চর্যাগীতরীতি গঠনে ও প্রকাশভঙ্গিতে ছিল অনেকটা সহজ সরল, কিন্তু তা যে ৯ম-১১শ শতকের গীতিরূপ ও গীতশৈলীকে ভিত্তি করেই বিকাশ লাভ করেছিল একথা সত‍্য।৯ম-১১শ শতকের পরবর্তী "গীতগোবিন্দ" পদগান বা অষ্টপদীগান, কৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলগান, নামকীর্তন, পদাবলীকীর্তন ও অন‍্যান‍্য ভক্তিমূলক অভিজাত গানের যোগসূত্রও চর্যাগীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। মোটকথা চর্যার গীতরীতি ও প্রেরণাই সব গীতিশ্রেণীর সমৃদ্ধির পথে পাথেয়।*
🎷🎷🎸🎸🎧🎧🎻🎻📯📯🎺🎺🎷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀চর্যাগীতির পরবর্তী পদগান অষ্টপদী বা গীতগোবিন্দ প্রবন্ধশ্রেণীর পর্যায়ভুক্ত এবং এ'কথা ভক্তকবি জয়দেব গোস্বামীও নিজে স্বীকার ক'রে বলেছেন--, "শ্রীবাসুদেবরতিকেলিকথাসমেনমেতং করোতি জয়দেবকবিঃ প্রবন্ধম্" (১ম সর্গ,২য় শ্লোক)।"বালবোধিনী" টীকাকার পূজারী গোস্বামীও সে'কথার প্রতিধ্বনি ক'রে বলেছেন--, "এতৎ শ্রীগীতগোবিন্দাখ‍্যা প্রবন্ধং প্রকর্ষেণ বাধ‍্যতে শ্রোতৃণাং হৃদয়মস্মিন্নিতি প্রবন্ধস্তং করোতি প্রকাশয়তি"। অবশ‍্য গীতগোবিন্দগানের আলোচনার সময়ে এই সম্বন্ধে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করতে চেষ্টা করব। আগেই বলেছি যে, পদাবলীকীর্তনের গীতিরূপ ও গীতশৈলীর যথাযথ আলোচনা করতে হলে খ্রীষ্টীয় শতকের প্রথম থেকে ১৫শ-১৬শ শতকের বাংলাসাহিত‍্যে গাথা, গীতিরূপ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ধারা এবং পরিবেশের আমাদের কিছুটা অনুশীলন করা উচিত,কেননা, দীর্ঘ সময় ব‍্যবধানের মধ্যে যতগুলি পদসাহিত‍্য,গীতিরূপ ও কাব‍্যসম্ভারের সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে--তারাই বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনে যথেষ্ট পরিমাণে উপাদান ও প্রেরণা জোগিয়েছে।*
*🍀চর্যা ও গীতগোবিন্দ-পদগানের "পদ" শব্দটি আবার বিশেষ অর্থবোধক।আমরা খ্রীঃ৭ম থেকে ১৪শ শতকের মধ্যে রচিত সঙ্গীতশাস্ত্রগুলি থেকে জানতে পারি যে,"পদ" শব্দটি প্রবন্ধ বা প্রবন্ধগানের একটি অঙ্গবিশেষ।পার্শ্বদেব শার্ঙ্গদেব ও অন‍্যান‍্য সঙ্গীতশাস্ত্রীরা প্রবন্ধের অপরিহার্য "পদ" অঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় সব শ্রেণীর গান বা গীতিরূপকেই প্রবন্ধগানের পর্যায়ভুক্ত বলেছেন।সেদিক থেকে চর্যা,বজ্র, গীতগোবিন্দ প্রভৃতি গীতি বা গানগুলি প্রবন্ধশ্রেণীরই অন্তর্ভুক্ত। ১৩শ শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী শার্ঙ্গদেব, ১৭শ শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী তাঞ্জোরের রঘুনাথ নায়ক ও দক্ষিণ-ভারতের পন্ডিত বেঙ্কটমখী "সঙ্গীত-রত্নাকর", "সঙ্গীতসুধা" ও "চতুর্দন্ডীপ্রকাশিকা" গ্রন্থগুলিতে চর্যাকে নিঃসংশয়ে প্রবন্ধগীতির পর্যায়ভুক্ত বলেছেন।আগেই উল্লেখ করেছি,শার্ঙ্গদেব প্রবন্ধাধ‍্যায়ে বলেছেন--,"অধ‍্যাত্মগোচরা চর্যা (২|২৯৬), অর্থ‍্যাৎ চর্যাগীতি অধ‍্যাত্মপ্রকৃতির পরিচায়ক।*
*শার্ঙ্গদেব সঙ্গীত-রত্নাকরের চতুর্থ অধ‍্যায়ে বিপ্রকীর্ণ-প্রবন্ধের প্রসঙ্গে বলেছেন, "বদনং চর্চ্চরী চর্যা পদ্ধডী বাহুডী তথা"।(৪|৩২)।শার্ঙ্গদেবের মত ত্রিপদী,চতুষ্পাদী,ষটপদী,চতুর্মুখ, হংসীলীল,চর্চরী,মঙ্গল,ধবল প্রভৃতির মত চর্যাও প্রবন্ধগান।চর্যার প্রাথমিক বা প্রারম্ভিক গীতিরূপ ও গীতিশৈলী সম্ভবতঃ সহজ সাধারণ হলেও সাধকগণের সৃষ্টি প্রতিভায় ক্রমশঃ তা প্রবন্ধরূপ পরিগ্রহ করেছিল। শার্ঙ্গদেব চর্যাগীতির সঠিক রূপ,প্রকৃতি ও গায়নশৈলীর পরিচয় দিয়ে যে বলেছেন তার পরিচয় আমরা আগেই দিয়েছি।মোটকথা পদ্ধডী,রাহুডী প্রভৃতি প্রধান ছন্দে চর্যাপদ রচিত হত এবং তাতে দ্বিতীয়াদি তালের সমাবেশ থাকত (এদের বিশেষ পরিচয় সঙ্গীত-রত্নাকরে দেওয়া আছে )। সাধারণতঃ সেই গান বা গীতি ছিল দু'রকম ; ছন্দপ্রধান ও ছন্দ অপ্রধান। ছন্দপ্রধান হলে তাকে বলা হত "পূর্ণ" এবং ছন্দের প্রাধান্য না থাকলে বলা হত "অপূর্ণ"।তারা ছিল আবার সমধ্রুবা ও অসমধ্রুবা-রূপে দু'ভাগে বিভক্ত।সমধ্রুবার গানে সমগ্র পদের আবৃত্তি করা হত, আর কেবল ধ্রুবাংশটি আবৃত্তি করে গাওয়া হলে তাকে বলা হতঅসম বা বিষমধ্রুবা। চর্যায় ধ্রুব ও উদগ্রাহ ধাতু দু'টি যখন উদগ্রাহধাতু অপেক্ষা ধ্রুবধাতুর ◆(ধ্রুব-শব্দটি বিচিত্র অর্থবোধক।ধ্রুব পদ বা গানের ধাতু,অংশ বা ভাগ। ধ্রুব প্রবন্ধ-হিসাবে ধ্রুবপদপ্রবন্ধ বা ধ্রুপদ। শাস্ত্রের দৃষ্টিতে সালগ-সূড়শ্রেণীর।নাট‍্যশাস্ত্রে "ধ্রুবা" নাট‍্যগীতির পরিচয় আছে। প্রাচীন নাটকে জাতিরাগের সঙ্গে ছন্দ,অক্ষর,তাল প্রভৃতি সম্পৃক্ত বা মিলিত হয়ে নাট‍্যগীতি ধ্রুবার ব‍্যবহার হত।তবে মনে রাখতে হবে যে,নাট‍্যগীতি ধ্রুবা ও ধ্রুবাপ্রবন্ধ জাতিতে ও শ্রেণীতে সম্পূর্ণ আলাদা। অনেকেই নাট‍্যগীতি ধ্রুবাকে ধ্রুবপ্রবন্ধের সমগোত্রীয় বলে ভুল করেন।আসলে নাট‍্যরধ্রুব প্রবন্ধজাতীয় ধ্রুবপদ বা ধ্রুপদ থেকে আলাদা)।প্রয়োগ কম হত তখন তাকে বলা হত বিষমধ্রুবজাতীয় চর্যা। চতুর্থ অভোগধাতুকে পৃথকভাবেই ব‍্যবহার করা হত।উদগ্রাহক,ধ্রুব ও অভোগ এই তিন ধাতুর ব‍্যবহারে সমগ্র গান বা গীতির প্রকাশ হত বলে চর্যাপদকে (চর্যাপ্রবন্ধগানকে) "ত্রিধাতুক" বলা হত।ত্রিধাতুক চর্যায় মেলাপকধাতুর ব‍্যবহার হত না। অনেক সময় মেলাপক ও আভোগকে বাদ দিয়ে মাত্র উদগ্রাহ ও ধ্রুব এই দু'টি ধাতুতেই চর্যাগীতা গান করা হত।পদ ও তাল এই দুইটি অঙ্গযুক্ত বলে চর্যাকে বলা হত তারাবলীজাতীয় গান বা গীতি (পদতালবদ্ধত্বাদ্দ্ব‍্যঙ্গস্তারাবলীজাতীমান্) সেকথা আগেই বলেছি।*
🎺📯🎻🎺📯🎻🎺📯🎻🎺📯🎻🎺
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
  *চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀এ তো গেল চর্যার গঠন ও গায়নশৈলীর কথা, কিন্তু চর্যায় যে সব রাগের ব‍্যবহার হ'ত,তাদের গঠন ও বিকাশধারার কথাও এখানে কিছুটা আলোচনা করা উচিত।প্রাচীন ভারতে রাগের গঠনপ্রকৃতি নির্ধারিত হত সাতটি স্বরসম্বন্ধ গ্রামকে নিয়ে।স্বরসম্বন্ধ গ্রাম ছিল তিনটি--,ষড়জ, গান্ধার ও মধ‍্যম।ঐ প্রচলিত রীতি বা ধারার মধ্যে এলো ক্রমে পরিবর্তন।রাগগুলির নিয়ামকরূপে বা নিয়ন্ত্রণকারীরূপে দেখা দিল মূর্ছনা। মূর্ছনার মধ্যেও সাতটি স্বরের দেখি সজ্জা বা বিকাশ।প্রতিটি গ্রামে মূর্ছনা সাতটি করে, সুতরাং তিন গ্রামের মূর্ছনা সংখ্যা একুশটি।গ্রাম তিনটি, সুতরাং মূর্ছনার সংখ্যা একুশটি (৭×৩=২১) ব'লে বিচিত্র রাগগুলিকে নিয়মিত করার রীতি মূর্ছনার সংস্থান মাধ‍্যমেই প্রচলিত হল। ক্রমে মূর্ছনার স্থান অধিকার করল "থাট" বা ঠাট শব্দ।'থাট' শব্দটির ব‍্যবহার ১৭শ শতকের গোড়াকার দিকে পন্ডিত সোমনাথের "রাগবিরোধ" গ্রন্থে পাওয়া যায়। "ঠাট" পারসিক শব্দ।এই উভয়ই অর্থই "গটন" বা কাঠামো।গ্রাম ও মূর্ছনার মত সাত স্বরের লীলায়ন থাকে থাটেও। সুতরাং ৯ম-১১শ শতকের বজ্র ও চর্যা-গানে যে ভৈরবী, গুর্জরী,বসন্ত,গুণক্রী প্রভৃতি শাস্ত্রীয় রাগের ব‍্যবহার ছিল সেগুলির একটি নির্দিষ্ট নিয়ামক (Standard) থাট অবশ্যই ছিল একথা সঙ্গীতশাস্ত্রীরা স্বীকার করেন।প্রাচীন ভারতে অর্থ‍্যাৎ খ্রীঃ শতকের গোড়ার দিকে ভারতীয় সঙ্গীতধারায় রাগের মূল-নিয়ামক বা নির্ধারক হিসাবে গ্রাম ও মূর্ছনা এই উভয়েরই প্রচলন ছিল।ভরত নাট‍্যশাস্ত্রে গ্রাম ও মূর্ছনার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু ভরতের সময়ে (খ্রীঃ দ্বিতীয় শতকে)◆(নাট‍্যশাস্ত্রকে অনেকে খৃষ্টপূর্ব যুগে রচিত বলেন।নাট‍্যশাস্ত্র রচনা করেন ভরত)। গ্রাম ছিল মাত্র দুইটি--ষড়জ ও মধ‍্যম।নানান কারণে (সেই বিস্তৃত আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক হবে ) গান্ধারগ্রামের প্রচলন লোপ পেল। সুতরাং গান্ধারগ্রামের সাতটি মূর্ছনার বিলুপ্তিও ঐ সঙ্গে ঘটলো।খ্রীঃ প্রথম শতকের গ্রন্থ নারদীশিক্ষায় (১ম নারদ-রচিত "শিক্ষাশাস্ত্রে") গান্ধারগ্রামের সাতটি মূর্ছনার উল্লেখ আছে।অনেকের মতে,গ্রাম ও মূর্ছনা-সঙ্কটের জন্য তখন থেকেই এক ধরণের শুদ্ধথাটের প্রচলন হ'ল, যার স্বরবিকাশ ছিল বতর্মান কালের কাফীরাগের বা থাটের স্বরসজ্জার মত।বিদ‍্যারণ‍্য মুনি-নির্দেশিত শুদ্ধথাট মুখারীর স্বররূপও অনেকটা তাই ছিল।তবে ভরতের নাট‍্যশাস্ত্রে নির্দিষ্ট কোন শুদ্ধথাটের উল্লেখ নেই।বলা যায় যে, আমাদের প্রাচীন রাগগুলিকে নিরূপণ বা নির্ধারণ করার সুবিধার জন্যই আমরা রাগ-নিয়ামক একটি শুদ্ধথাটের প্রলন মেনে নিয়েছি এবং সেদিক থেকে খ্রীঃ নবম থেকে একাদশ শতকের প্রবন্ধশ্রেণীভুক্ত বজ্র ও চর্যা গীতি দুটির নির্দিষ্ট নিয়ামক-রূপে একটি শুদ্ধথাটের অস্তিত্বও কল্পনা করা অসমীচীন নয়।তার স্বরবিকাশ ছিল বতর্মান উত্তর-ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতির কাফীরাগের বা থাটের অনুযায়ী। কিন্তু বর্তমানে বিলাবলকে আমরা রাগ-নিয়ামক শুদ্ধথাট বলে স্বীকার করি। উল্লেখযোগ্য যে,এই শুদ্ধথাটরূপের বিপর্যয় বা বিবর্তনের জন্য বর্তমানে সব রাগরূপেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে, আর তারজন‍্য প্রাচীন রাগরূপের সঙ্গে বতর্মান বা নবীন রাগরূপের ঠিক মিল পাওয়া যায় না।*
*🍀পদাবলীকীর্তনের অন‍্যতম পটভূমিকা চর্যাগীতির আলোচনার পর অষ্টপদী বা গীতগোবিন্দপদের বিশেষ আলোচনায় আমরা রত হব। কিন্তু তার আগে "প্রবন্ধ"-বস্তুসম্বন্ধে কিছুটা ধারণা আমাদের থাকা উচিত। আগেই বলেছি যে, "পদ" অর্থে গান ছাড়াও প্রবন্ধগানের একটি অঙ্গকে বোঝায়।প্রাচীন সঙ্গীতশাস্ত্রীরা বিচিত্র প্রবন্ধগানের বিস্তৃত পরিচয় দিয়েছেন। "সঙ্গীত-রত্নাকর" গ্রন্থে প্রবন্ধের পরিচয় দিয়ে শার্ঙ্গদেব বলেছেন, প্রবন্ধ প্রধানত তিন শ্রেণীতে বিভক্ত--সূড়,আলি বা আলিসংশ্রয় ও বিপ্রকীর্ণ।অঙ্গ,তাল,ধাতু, প্রভৃতি উপাদানে প্রকৃষ্টরূপে বদ্ধ হয়ে গান প্রকাশ পেলেই তাকে "প্রবন্ধ" বলা হত। শার্ঙ্গদেব বলেছেন--"প্রবন্ধস্ত্রিবিধা সূড়স্থা আলিসংশ্রয়াঃ বিপ্রকীর্ণাশ্চি" (রত্নাকর ৪|২২-২৩)।তাছাড়া দ্বিধাতু,ত্রিধাতু ও চতুর্ধাতু ভেদে প্রবন্ধ আবার তিনরকম।প্রবন্ধের ছয়টি অঙ্গ, "প্রবন্ধোহঙ্গানি ষট্"।এই ছয়টি অঙ্গের নাম--স্বর,বিরুদ,পদ,তেনক,পাট ও তাল। "স্বর" ষড়্ জাদি সাত স্বর। "বিরুদ" অর্থে গুণ বা প্রশংসাবাচক শব্দ-- "বিরুদং গুণনাম স‍্যাৎ"। এই বিরুদ গদ‍্যে ও পদ‍্যে রচিত শৌর্য‍্য, গুণ, প্রশংসা,ধৈর্য‍্য,স্তুতিপ্রকাশক, "তেন স‍্যান্মঙ্গলার্থপ্রকাশকঃ"।বিরুদের অর্থ-সার্থকতার সঙ্গে কীর্তনের কীর্তিগাথাগান কীর্তনের অর্থের বা অর্থ-সার্থকতার অনেকটা সাদৃশ‍্য আছে।*
                    *ক্রমাগত*
🎻🎻🎻🎻🎻🎻🎺🎻🎻🎻🎻🎻🎻
*🌻"ভরত" সংজ্ঞা একটি "পদবী" ও "ভরত" পদবী বা উপাধিকারী ভরত ছিলেন প্রায় পাঁচজন।বৃদ্ধ,কোহল,দত্তিল,মতঙ্গ প্রভৃতি শাস্ত্রকারদের উপাধিও ভরত ছিল।নাট‍্যশাস্ত্রকার ভরতকে তাই "মুনিভরত" বলা হ'ত।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀তবে প্রবন্ধাঙ্গ বিরুদ ও প্রবন্ধরূপে কীর্তন এক বস্তু নয়। "পাট" বাদ‍্যের বোল--- যেগুলি মুখে মুখে উচ্চারণ করা হত। "পাটো বাদ‍্যোক্ষারোৎকর " এবং "তাল" মাত্রার সমষ্টি ও গানের সঙ্গতির থাক।অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে ঘনশ‍্যাম-নরহরি চক্রবর্তী "ভক্তিরত্নাকর" গ্রন্থের সঙ্গীতাংশে অতি প্রাঞ্জল ভাষায় এই অঙ্গগুলির পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন--*
*🌷স্বর বিরুদ পদ তেনক পাঠ তাল।*
*🌷এই ছয় অঙ্গে গীত পরম রসাল।।*
*🌷স্বর স বি গ ম প ধা দিক নিরূপয়।*
*🌷গুণ-নাম-যুক্ত মতে বিরুদ কহয়।।*
*🌷পদ শব্দ বাচক প্রকার বহু ইথে।*
*🌷তেনা তেনাদিক শব্দ মঙ্গল নিমিত্তে।।*
*🌷পাট বাদ‍্যোদ্ভবাক্ষর ধা ধা ধিলঙ্গাদি।*
*🌷তাল চচ্চাৎপুট যত‍্যাধিক যথাবিধি।।*
*🌷এ' ষড়ঙ্গ প্রাচীন আচার্য‍্য নিরূপয়।*
*🌷বাক‍্য স্বর তাল তেনা চারি কেহ কয়।।*
*🍀প্রবন্ধগানের জাতি আছে ও সে' জাতি পাঁচটি। যেমন,*
*🌷মেদিন‍্যাথানন্দিনী স‍্যাদ্দীপনী ভাবনী তথা।*
*🌷তারাবলীতি পঞ্চ স‍্যুঃ প্রবন্ধানাঞ্চ তু জাতয়।।*
*🛑ঘনশ‍্যাম-নরহরি চক্রবর্তী লিখিত "সঙ্গীতসারসংগ্রহ" ও "গীত-চন্দ্রোদয়" গ্রন্থ দুইটিও দ্রষ্টব‍্য। লেখক কর্তৃক সম্পাদিত সংস্কৃত "সঙ্গীতসারসংগ্রহ, শ্রীরামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠ থেকে প্রকাশিত এবং গীতচন্দ্রোদয় লেখকের 'রাগ ও রূপ' গ্রন্থের দ্বিতীয় ভাগে অন্তনির্বিষ্ট করা হয়েছে।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ মেদিনী,আনন্দিনী,দীপনী ভাবনী,ও তারাবলী এই পাঁচটি জাতি।এদের লক্ষণ নির্ণয় করতে গিয়ে রত্নাকরের টীকাকার সিংহভূপাল বলেছেন--, ষড়্ ভিরঙ্গৈরূপনিবদ্ধা মেদিনীত‍্যুচ‍্যতে ; পঞ্চভিরঙ্গৈরুপানিবদ্ধা আনন্দিনী ; চতুর্ভিরঙ্গৈরূপনিবদ্ধা দীপনী ; ত্রিভিরঙ্গৈরূপনিবদ্ধাভাবনী ; দ্বাভ‍্যামঙ্গাভ‍্যামুপনিবদ্ধা তারাবলীতি", অর্থ‍্যাৎ ছয়টি অঙ্গ প্রবন্ধের নাম মেদিনী,পাঁচ অঙ্গযুক্ত প্রবন্ধ আনন্দিনী, চার অঙ্গযুক্ত দীপনী,তিন অঙ্গযুক্ত ভাবনী ও দুটি অঙ্গযুক্ত প্রবন্ধ ছিল তারাবলীজাতি। শার্ঙ্গদেব "কেষাংচন মতে" বলে অন‍্য মতানুযায়ী শ্রুতি,নীতি,সেনা,কবিতা ও চম্পূ এই পাঁচটি জাতির নামও উল্লেখ করেছেন।এই অন‍্য মতের জাতিগুলিও মেদিনী প্রভৃতির মত সমান অঙ্গযুক্ত।শেষোক্ত চম্পূজাতি গদ‍্য ও পদ‍্যযুক্ত পদের সমজাতীয়। প্রবন্ধগান আবার নির্যুক্ত ও অনির্যুক্ত ভেদে দুরকম।অনির্যুক্ত প্রবন্ধ ছন্দ,তাল প্রভৃতির নিয়মাধীন নয়, কিন্তু নির্যুক্ত প্রবন্ধে যথারীতি ছন্দ ও তালের সমাবেশ থাকে।*
            *🛑🛑দুই🛑🛑*
            ◆◆◆◆◆◆◆
*🍀চর্যা-সম্পর্কে আরও কিছু আলোচনার প্রয়োজন, কেননা, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহের অভিমত--, "বৌদ্ধগানগুলিই (চর্যা)(অনেকে লিখেন "চর্য‍্যা", কিন্তু "চর্যা" শব্দই ঠিক )। পরবর্তীকালের মহাজন পদাবলী ও মুসলমানী মারফতী গানের পূর্বরূপ (Proto-type)। একসময়ে নাথগণের চর্যাগীতি সমস্ত ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল।পারস‍্য সাহিত‍্যের গজলগীতিরও পূর্বরূপ চর্যাগীতি। পরবর্তীকালে হিন্দি ভাষায় দোহা রচনা তুলসীদাস,কবীর প্রভৃতি দ্বারা উৎকর্ষ লাভ করেছিল।(বাংলা সাহিত‍্যের কথা, (প্রথম খন্ড,ঢাকা ১৯৫৩) পৃষ্ঠা--৯)। তিনি পুনরায় লিখেছেন--, আমরা দেখেছি যে,গীতগোবিন্দ, বৌদ্ধগান (চর্যা) দ্বারা প্রভাবান্বিত। আর এই গীতগোবিন্দই বৈষ্ণব পদাবলীর আদিম আদর্শ। জয়দেব স্বয়ং "পদাবলী"-শব্দ ব‍্যবহার করেছেন--*
*🌷মধুর কোমল-কান্ত-পদাবলীং,*
*🌷শৃণু তদা জয়দেবী-সরস্বতীম্।*
*পদাবলীর কবিগণের মধ্যে সর্বপ্রাচীন চন্ডীদাস ও বিদ‍্যাপতি। চন্ডীদাসের "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" (যার আদি নাম শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ) আমরা পেয়েছি।☆ ☆ বৌদ্ধগানের "শূন‍্যতা", বৈষ্ণব-পদাবলীতে "রাধা" হয়েছেন।তদ্ভিন্ন রাগ ও ভণিতা একরকমই রয়েছে।কাজেই আমরা বলতে পারি যে,বৌদ্ধগানই (চর্যা ও বজ্রগীতি)যেমন একদিকে গজলের,তেমনি অন‍্যদিকে বৈষ্ণব পদাবলীর মূল-উৎস।ভাষাতত্ত্ব ও ধর্মতত্ত্বের কথা ছেড়ে দিলেও এই দিক দিয়ে বৌদ্ধ-চর্যাগানের এক বিশেষ মূল‍্য আছে।*
*🍀চর্যা ও চর্যাগীতির ভাষা-সম্পর্কে মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী অভিমত প্রকাশ করেছেন "সন্ধ‍্যাভাষা"--যা আলো-আঁধারি ভাষা, কিছু বুঝা যায়, কিছুটা বুঝা যায় না। ডক্টর বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য তাঁর (AN INTRODUCTION TO BUDDHIST ESOTERISM, Page--32) গ্রন্থেও অনুরূপ মন্তব‍্য করেছেন।তিনি লিখেছেন ঃ-----*
*🍀They (Vajrayani Mahaasiddhas) wrote(gitis or songs) in a language which was designated by them as the sandhyabhasa, or the twilight language, meaning these by that the contents may be explained either by the light of day, or by the darkness of night. The songs composed by the Mahasiddhas were all written in this language, which had always a hidden or a mystic meaning. (Page 35). ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর Buddhist Mystic গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন ; The original text with its Sanskrit commentary was edited by M.M Haraprasad Shastri from a unique MS.obtained from Nepal. It was published in Bengali chatacter under the title "Charyacharya-Vinishchaya" in a volume with other works entitled Banddha Gan-O-Doha by the Vangiya sahitya porishad of calcutta in 1323 B.E (-1916 A D.)*
               *ক্রমাগত*
🎷🎷🎷🎷🎷🎷🎻🎷🎷🎷🎷🎷🎷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, চর্য‍্যা,(চর্যা) আলো-আঁধারি ভাষায় লেখা মন্তব‍্য-সম্পর্কে মহামহোপাধ‍্যায় বিধুশেখর শাস্ত্রী বলেছেন, ভাষাটি মূলে সন্ধ‍্যাভাষা নয়, পরন্তু সন্ধাভাষা (সম্ +ধা) একটি বিশেষ অভিসন্ধি বা অভিপ্রায় নিয়ে প্রয়োগ করা ভাষা, সুতরাং অশিক্ষিত লিপিকারগণের ভ্রম বা প্রমাদবশতই "সন্ধাভাষা" পরবর্তীকালে বিকৃত সন্ধ‍্যাভাষায় রূপান্তরিত হওয়া স্বাভাবিক।Vide (a)Sastri ; Sandhabhasa (in the Indian Historical Quaterly, Vol.5,1928 ; (b)Dr. P. G. Bagchi ; Sandhabhasa and Sandhavachana (in Studies in Tanra, 1939).*
*🍀মহামোহপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী "বৌদ্ধ গান ও দোহা"- গ্রন্থে লিখেছেন, "সহজিয়া ধর্মের সকল বইই সন্ধ‍্যাভাষায় লিখা।সন্ধ‍্যাভাষার মানে, আলো-আঁধারি ভাষা-- কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। অর্থ‍্যাৎ এই সব উচু অঙ্গের ধর্মকথার ভিতরে একটা অন‍্য ভাবের কথায় আছে (পৃষ্ঠা--৮)। ডাক্তার শশীভূষণ দাসগুপ্ত বলেছেন-- আমার মনে হয়,সন্ধাভাষা কথাটিই পরবর্তীকালে আভিপ্রায়িক অর্থ হতে অস্পষ্ট আলো-আঁধারি ভাষার একটা অর্থ গ্রহণ করেছিল এবং এই ভাবেই সন্ধ‍াভাষা সন্ধ‍্যাভাষাতে রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছিল।(বৌদ্ধধর্ম ও চর্যাগীতি )*
*🙏একটি শুদ্ধতত্ত্ব ঃ---------*
*বৈষ্ণব-জগতের মুকুটমণি সর্বশাস্ত্র বিশারদ শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামী তৎকৃত ভক্তিসন্দর্ভে বলেছেন----*
*🌷শুদ্ধভক্তাস্ত্বেকে শ্রীগুরোঃ শ্রীশিবস‍্য চ ভগবতা,*
*🌷সহাভেদ-দৃষ্টিং তৎপ্রিয়তমত্বেনৈব মন‍্যন্তে।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ, শা‍স্ত্রে যে শ্রীগুরুদেব ও শ্রীশিবকে শ্রীভগবানের সঙ্গে অভেদ দৃষ্টিতে দেখতে বলেছেন, তৎসম্বন্ধে পরম-বিজ্ঞ মুখ‍্য মুখ‍্য শুদ্ধভক্তগণ এইরকমই বিবেচনা করেন যে, গুরুদেব ও শিব শ্রীভগবানের প্রিয়তম অর্থ‍্যাৎ পরমপ্রিয় ভক্ত বা দাস বলেই শাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণ সহ তাঁদের ঐরকম অভেদ-দৃষ্টির আদেশ করেছেন।*
*🌹এখানে কেউ কেউ "শুদ্ধভক্তাস্ত্বেকে" এই বাক‍্যে "একে" শব্দের অর্থে "কোন কোন" অর্থ ধরে "কোন কোন শুদ্ধভক্ত" এইরকম অর্থ করে থাকেন ; কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবত দশম স্কন্ধ দ্বিতীয় অধ‍্যায় "ত্বয‍্যম্বুজাক্ষাখিলসত্ত্বধাম্নি" ইত্যাদি ৩০ দাগ শ্লোকের (অস্মৎ-সম্পাদিত শ্রীমদ্ভাগবত দ্রষ্টব‍্য) ব‍্যাখ‍্যায় শ্রীধর স্বামীপাদ "একে" শব্দের অর্থ বলেছেন "মুখ‍্যা বিবেকিনঃ" অর্থ‍্যাৎ "প্রধান প্রধান বিজ্ঞগণ"।তাহলে তদনুসারে "শুদ্ধভক্তাস্ত্বেকে" ইহার অর্থে "পরম-বিজ্ঞ মুখ‍্য মুখ‍্য শুদ্ধভক্তগণ" এইরকম অর্থই নিষ্পন্ন হয়।পরন্তু যদি "শুদ্ধভক্তাস্ত্বেকে" এই কথার অর্থে "কোন কোন শুদ্ধভক্ত" এইরকম অর্থ ধরা যায়,তাহলে তারদ্বারা ইহাই বুঝায় যে, "গুরুদেব ও শিব যে ভগবানের প্রিয়তম, এইরকম অর্থ শ্রীজীব গোস্বামীপাদের নিজের অভিপ্রেত না বলেই তিনি বলেছেন "কেউ কেউ বলে থাকেন"। কিন্তু এটি যে শ্রীজীবপাদের নিজের অভিপ্রেত না, এ কথা কদাচ বলা যায় না, যেহেতু তিনি "শুদ্ধভক্তাঃ" এই শব্দের উল্লেখ করে এটিই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, "একে" শব্দের অর্থে "কোন কোন" এই অর্থ ধরলেও, ঐ সমস্ত শুদ্ধভক্তগণের মত কদাচ বা কখনও অগ্রাহ‍্য করবার নয়, যেহেতু তিনি তাঁদেরকে "শুদ্ধভক্ত" বলে উল্লেখ করেছেন। তবে যদি তিনি "শুদ্ধভক্ত" না বলে কেবল "ভক্ত" এই কথা বলতেন, তাহলেও না হয় "একে" শব্দের অর্থে "কোন কোন" এই অর্থ ধরেও,তা যে শ্রীজীবপাদের নিজ-মত না এইরকম মন্তব‍্য প্রকাশ করা চলতে পারত। কিন্তু শুদ্ধভক্তগণের মত তো কদাচ অগ্রাহ‍্য করবার না ; সুতরাং শ্রীজীবপাদ "শুদ্ধভক্তাঃ" বলায়, সেটি যে তাঁর নিজেরও মত তাইই স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।*
*🍀শ্রীগুরুদেব যে শ্রীকৃষ্ণের দাস, এই তত্ত্ব পরমারাধ‍্যপাদ শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীও তৎপ্রণীত বিশ্ববিশ্রুত শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থে স্পষ্টভাবেই ব‍্যক্ত করে বলেছেন, যথা---*
*🌷যদ‍্যপি আমার গুরু চৈতন‍্যের দাস।*
*🌷তথাপি জানিয়ে আমি তাঁহার প্রকাশ।।*
*🍀এই সমস্ত শাস্ত্রোক্তি দ্বারা শ্রীগুরুদেবের শ্রীকৃষ্ণদাসত্ব-স্বরূপই স্পষ্টভাবে প্রকটিত হয়েছে।এই "গুরুবন্দনা" প্রবন্ধেও ইহার পরেই দ্বিতীয় দাগ পয়ারে বলেছেন---"*
*🌷মহিমায় গুরু কৃষ্ণ এক করি জান।*
*🌻এতদ্বারা এটিই ব‍্যক্ত করলেন যে,শ্রীকৃষ্ণের যেমন অপার মহিমা,শ্রীগুরুদেবকেও তদ্রূপই মহিমময় বলে জ্ঞান করবে,যেহেতু যে গুরুদেব এই সুদুস্তর ভব-সাগর পার করবার একমাত্র মূল, যাঁর কৃপা ছাড়া এই সুদুঃসহ ভব-যন্ত্রণার হাত হতে নিস্তার পাবার অন্য আর কোনও উপায় নাই,তাঁর যে কি মহামহিম তা কে বর্ণনা করতে পারে? সেইজন‍্য শাস্ত্রে বলেছেন, শ্রীগুরুদেবকে শ্রীকৃষ্ণের ন‍্যায় ভক্তি করতে হবে,তাঁকে কৃষ্ণ-স্বরূপেই দেখতে হবে ; পরন্তু "কৃষ্ণদাস-রূপ" তাঁর যে প্রকৃত-স্বরূপ বা মূলতত্ত্ব, তা স্মরণ করে তাঁর শ্রীচরণে তুলসী দিয়ে বা তাঁকে অনিবেদিত দিয়ে যেন অপরাধী হতে না হয়,তদ্বিষয়েও বিশেষ ভাবে সাবধান থাকতে হবে।শ্রীগুরুদেব নিজে নিজ-তত্ত্ব বিশেষভাবে অবগত আছেন বলে,তিনি নিজ চরণে তুলসী গ্রহণের কথা ভাবতেই পারেন না, বরং দিতে গেলে ভীত হয়ে সরে দাঁড়ান, বা তাঁর পক্ষে তেমন প্রবৃত্তি হওয়াও কদাচ বাঞ্জনীয় বা শাস্ত্রসঙ্গত নয়।*
*🌻শ্রীজগন্নাথদেবের লীলা।*

*🍀শ্রীজগন্নাথদেব ও শ্রীবলদেব প্রত‍্যেকদিন একটি পানের দোকানে গিয়ে পান নিতেন ও মুখে দিয়ে দিতেন।দোকানদার কিন্তু পয়সা চাইত না, সকলের কাছেই পয়সা নিত, কিন্তু ছদ্মবেশী জগন্নাথ ও বলরামের কাছে পয়সা চাইত না।একদিন জগন্নাথ বললেন তুমি পয়সা নেবে না কেন? তোমাকে তো পয়সা দিয়ে জিনিস কিনতে হয় তাইনা? ছদ্মবেশী দুই ভাই এত কিছু বললেন, তবুও পয়সা নিল না। তখন জগন্নাথ ও বলরামের গায়ে উত্তরীয় ছিল তা পানের দোকানদারকে দিয়ে দিলেন। দোকানদার সুন্দর উত্তরীয় পেয়ে ভীষণ আনন্দ পেল। পরদিন মন্দিরের দরজা খুলে পান্ডাগণ দেখলেন জগন্নাথ ও বলরামের উত্তরীয় নাই। দেখে পান্ডাগণ অন‍্যান‍্য পান্ডাদের জানালেন, এবং সিদ্ধান্ত হল যে, এই বিষয়টি রাজাকে জানানো দরকার। রাজাকে জানাতে গেলে রাজা বললেন যে ভাবেই হোক সেই উত্তরীয় খোঁজ করে আনতে হবে।খোঁজ করতে করতে পান্ডাগণ দেখলেন সেই পানের দোকানদারের কাছে সেই দুইটি উত্তরীয়।তখন পান্ডারা বলছেন তোর এতবড় স্পর্ধা যে তুই মন্দির থেকে উত্তরীয় চুরি করে এনেছিস? এই কথা শুনে পানের দোকানদার বলল, না আমি উত্তরীয় চুরি করিনি, রোজ দুইভাই, দেখতে খুবই সুন্দর, যখন আমি তাদের দিকে দেখতাম সবকিছুই ভুলে যেতাম। তখন দুইভাই আমার কাছে পান চাইতেন, আমি সুন্দর করে দুই খিলি দিতাম কিন্তু পয়সা নিতাম না, ঐ দুই ভাই আমাকে এই দুটি উত্তরীয় দিয়ে গিয়েছেন। এই কথা শুনে সকলেই অবাক হলেন, শোনা যায়, সেই উত্তরীয় অদ‍্যাবধি সেই পরিবারে আছে।*
*(১৩৭৬, পৃঃ--১৩২)। ডক্টর সুকুমার সেন বলেন,কতকগুলি চর্যাগীতিতে তত্ত্ব-উপদেশ ও সাধনার ইঙ্গিত সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখা হয়েছে বাহ‍্য অর্থের ঢাকনায়।এই ধরণের চর্যায় এমন শব্দ ও উপমা-উৎপ্রেক্ষা (অর্থালঙ্কার বিশেষ, এতে উপমেয়কে উপমান বলে কল্পনা করা হয়)ব‍্যবহার করা হয়েছে যার দুটি অর্থ একটি অর্থ--- সাধারণের ভাষা,অন‍্য অর্থ-- চর্যাকর্তাদেরসিধনার পারিভাষিক, যেন তাঁদেরই প্রাইভেট কোড্।এইরকম দ্ব‍্যর্থ শব্দ ও প্রকাশরীতিতে সরহের দোহাকোষের "পঞ্জিকা"-কার অদ্বয়বজ্র এবং চর্যগীতিকোষের বৃত্তিকার মুনিদত্ত বলেছেন সন্ধ‍্যাভাষা (সন্ধাভাষা),সন্ধ‍্যাভাষা,সন্ধ‍্যাবচন, সন্ধ‍্যাসঙ্কেত,অথবা শুধু সন্ধ‍্যা। ডক্টর সুকুমার সেন,মহামোহপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মন্তব‍্য খন্ডন করে লিখেছেন, "একথা ঠিক নয়।সন্ধ‍্যা (সন্ধা)ভাষার কৌন সম্পর্ক নাই দিবারাত্রির মোহানার সঙ্গে।☆ ☆ যে ভাষার বা শব্দের অভীষ্ট অর্থ অনুধ‍্যান করে অর্থ‍্যাৎ মর্মজ্ঞ হয়ে বুঝতে হয়, অথবা যে ভাষার শব্দের অর্থ বিশেষভাবে নির্দিষ্ট, তাইই সন্ধ‍্যা (সন্ধা) ভাষা।(চর্যাগীতি-পদাবলী (১৯৫৬), পৃঃ ২৩-২৪)।অধ‍্যাপক তারাপদ মুখোপাধ‍্যায় আর একটু সুচিন্তিত ভাবে বিচার করে বলেছেন, "তান্ত্রিক বৌদ্ধ যোগীদের সাধনপদ্ধতি গুহ‍্য ব‍্যাপার।সাধনার এই গুহ‍্যত্ব বজায় রাখবার উদ্দেশ্যে তাঁরা কতগুলি কায়িক এবং বাচনিক সঙ্কেত সৃষ্টি করেছিলেন।☆ ☆ এই সঙ্কেতের তাৎপর্য‍্য কেবলমাত্র যোগীদেরই বোধগম্য ছিল।☆ ☆ হেবজ্রব‍্যাখ‍্যা বিবরণে আরও বলা হয়েছে,চর্যাবত যোগী যখন পীঠ এবং ক্ষেত্রে যোগিনীর সন্ধানে ঘুরে বেড়াবে তখন কায়িক সঙ্কেতের দ্বারাই যোগিনীর সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান করবে।(চর্যাগীতি, বিশ্বভারতী-১৯৫৬, পৃঃ ৩৮)।হেবজ্রতন্ত্র গ্রন্থের প্রথম খন্ডের সপ্তম পটলে ও দ্বিতীয় খন্ডের তৃতীয় পটলে বিভিন্ন অঙ্গুলি ও দৃষ্টি-সঙ্কেতের প্রকাশই ছোম্বা বা কায়িক সঙ্কেত।এই সঙ্কেত বা ভাষার রহস‍্য শ্রাবকরাই(শ্রবণকারীরাই) ভেদ করতে পারত।(ঐ) পৃষ্ঠা।*
*🍀এখানে উল্লেখযোগ্য যে,বৌদ্ধতন্ত্রের মত হিন্ধুতন্ত্রেও সাংকেতিক ও দ্ব‍্যর্থ ভাষার প্রচলন ছিল। কৌলোপনিষদে "প্রাকট‍্যং ন কুর্যাৎ"(২৭) "আত্মরহস‍্যং ন বদেৎ (৩১) "গুপ্তা কুলবধূরিব", "পীত্বা পীত্বা পুন পীত্বা যাবৎ পততি ভূতলে" প্রভৃতি।পরশুরামকল্পসূত্রে এদের দুটি অর্থের বিশ্লেষণ আছে।🍀চর্যার অর্থ আচার বা আচরণ।এগুলি গান করা হত।* "*কৌলজ্ঞাননির্ণয়" গ্রন্থে যে চর্যার উল্লেখ আছে, "শৃণু ত্বং বীরচামুন্ডে পাত্রাণাং চর্য‍্যলক্ষণম্"(১২|৩)--এর অর্থ রহস‍্যমূলক আচরণ (mystic practice)। চর্যাকে তাই গেয় গাথা বা সাহিত্য বলা যায়। চর্যাগীতিগুলি একই সময়ে রচিত হয়নি।বহুকাল ধরে এগুলি মুখে মুখে প্রচলিত ছিল ও গান করা হত। বৈষ্ণবপদাবলীর মতচর্যাগীতিতে ভণিতা আছে ও কবির নাম ভণিতায় উল্লিখিত।গান বা গীতিগুলি অধ‍্যাত্ম-সহজসাধনার অঙ্গরূপে ব‍্যবহৃত হত এবং সে গানগুলি ছিল গুপ্তসাধনার জন্য অভিপ্রেত এবং বৌদ্ধ-অধ‍্যাত্মসাধনার উদ্বোধক ও পথনির্দেশক। "কৌলজ্ঞাননির্ণয়" গ্রন্থের অন্তর্গত অকুলবীরতন্ত্রে বজ্রযোগও সহজানন্দ-রূপ সামরস‍্য বা মুক্তির কথা আছে।*
               *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🌷সর্বজ্ঞং সর্বমাসৃত‍্য সর্বতো হিতলক্ষণম্।*
☆ ☆ ☆
*🌷ভাবাভাববিনির্মুক্ত উদয়াস্তমনবর্জিতঃ।*
*🌷স্বভাবমতিমতং শান্তং মনো যস‍্য মনোময়ম্।।১১-১৪*
*🌻যখন সাধক সহজ-সাধনায় কৃতকার্য‍্য হন, তখন তাঁর অবস্থা হয়---*
*🌷কার্যকারণনির্মুক্তমচিন্ত‍্যকমনাময়ম্।*
*🌷মায়াতীতং নিরালম্বং ব‍্যাপকং সর্বতোমুখম্।।*
*🌷সমত্বঞ্চ একভূতঞ্চ ☆ ☆ ☆* *৩৩-৩৪।*
*🌻বৌদ্ধ-বজ্রযানী সাধকরা চর্যাগীতির ব‍্যবহার করতেন তাঁদের অধ‍্যাত্মসাধনার অনুকূলে এবং সাধকরা প্রভাস্বর মহাসুখময় সহজানন্দকে লাভ করে কৃতকৃতার্থ হতেন।অকুরবীরতন্ত্রে (বৌদ্ধ-বজ্রযানীদের তন্ত্র) এই সহজানন্দের বর্ণনা এইরকম---*
*🌷দগ্ধবীজস‍্য সংভূতির্যথা নৈব প্রপদ‍্যতে।।*
*🌷মূলচ্ছিন্নো যথা বৃক্ষঃ প্ররোহন্নৈব বিদ‍্যতে।*
*🌷অকুলবীরস‍্য বৈ তদ্বদন পুনর্ভববন্ধনম্।।৮৩-৮৪*
*🌻সহজকামী বৌদ্ধসাধকগণ ভব বা অস্তিত্ব (বাসনা)ও নির্বাণ বা অনস্তিত্বের (নির্বাসনা)পারে-- ইতি ও নেতির পারে অবধূতিকা পথে উর্ধে স্থিত হয়ে অদ্বয় বোধিচিত্ত বা সহজানন্দ-রূপ মহাসুখ লাভ করেন।*
*🌺চর্যাগীতির অনুশীলনের সঙ্গে সঙ্গে চর্যা-রচয়িতা বৌদ্ধ তান্ত্রিক আচার্য‍্যদের সাধনতত্ত্ব ও অনুভূতিতত্ত্বের কিছুটা অনুশীলন করা দরকার, কেননা চর্যাগীতি যেমন ভাবসিদ্ধ অনুভূতির দ্বারা প্রদীপ্ত,চর্যার ভাবধারায় অনুপ্রাণিত বৈষ্ণব-পদাবলীগুলিও তেমনি অনুভূতিরসে নিবিড়ভাবে সিক্ত।চর্যাগীতি মন্ত্রশক্তির বজ্রযানী সাধকদের চিত্তকে সংযত ও জ্ঞানলাভের পথে প্রবুদ্ধ(জ্ঞানপ্রাপ্ত) করত।অবধূতিকা-পথে চর্যা ছিল প্রেরণাদানের উৎস স্বরূপ।*
*♻এক্ষণে দেখা যাক,বজ্রযানী বৌদ্ধ-সিদ্ধসাধকগণের সাধনতত্ত্বের রূপ কি ছিল--,যে রূপকে গ্রহণ ও অনুভব করে তাঁরা সহজানন্দ লাভ করতেন। বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মের বিস্তৃতি ঘটে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে এবং চর্যাকারগণ সকলেই ছিলেন সহজিয়া-সাধক।সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের বিকাশ মহাযান-ধর্মমত থেকে। মহাযান মতে, শূন‍্যতার সঙ্গে মহাকরুণার মিলন অবিচ্ছেদ‍্যভাবে।করুণার বিশুদ্ধির জন্যই শূন‍্যতার সার্থকতা ও সেজন‍্য চর্যাগানগুলিতে বা তান্ত্রিক দোহাগীতিগুলিতে করুণার স্পর্শ পাই আমরা বিশেষভাবে।মহাযানীদের মধ্যে যারা আবার মন্ত্রনয়ের উপর বিশ্বাসী ছিলেন,তাঁরা মুদ্রা,মন্ডল,মন্ত্র,যন্ত্র, ধারণী প্রভৃতির প্রচলন করে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মকে বজ্রযান রূপে রূপায়িত করেন।"বজ্র" শব্দের অর্থ "শূন‍্যতা" ও সেজন‍্য বজ্রযানের মূল অর্থ "শূন‍্যতাযান"।তাই বজ্রযানের পূজাবিধি,মন্ত্র,দেবদেবী,সাধনতত্ত্ব ও সাধনসামগ্রী সমস্তই বজ্রচিহ্নিত ছিল।নেপালে বজ্রযান থেকে ক্রমশঃ কালচক্রযানের উদ্ভব হল।কালচক্রযানের সাধনবৈশিষ্ট‍্য হল শ্বাসপ্রশ্বাসধারার উপর আধিপত্য করা ও শ্বাসপ্রশ্বাসকে নিরুদ্ধ আবদ্ধ করে কালচক্রকে অতিক্রম করা।সহজযানী সাধকরা বজ্রযানী ও কালচক্রযানীদেরই সমন্বিত রূপ।সহজযানী তান্ত্রিক বৌদ্ধাচার্য‍্যের সাধ‍্য ও সাধন উভয়ই ছিল 'সহজ' এবং এই 'সহজ'-স্বরূপই চিরপরিবর্তনের মধ্যে এক অপরিবর্তনীয় অদ্বয় রূপ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং এই অদ্দয়রূপে আসীন হওয়ার নামই মহাসুখ বা সহজানন্দ লাভ।(এ'সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা ডক্টর বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য লিখিত Buddhist Esoterism, chapt. 111, (2)মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখিত "অদ্বয়বজ্রর্সগ্রহ" গ্রন্থের Introduction এবং (3) ডক্টর শশীভূষণ দাসগুপ্ত লিখিত "বৌদ্ধধর্ম ও চর্যাগীতি দ্রষ্টব‍্য)।*
*♻বৌদ্ধ-সহজিয়া বা বৌদ্ধসহজযান মতাবলম্বীদের মহাসুখতত্ত্ব সম্পর্কে মহামোহপ‍াধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখেছেন--, ☆ ☆ Sunyavada of Nagarjuna was supplemented by that of the Vijnanavada of Maitrcya, but to some minds there is little difference between the two. ☆ ☆ So another idea was thought in. And that is the idea of Mahasukha. * * But what is Mahasukha? It is a result of the union of two principles, existence in one priciple and the existence is another principle, but they are one and the same, * * The Bodhi is pleasure, because without pleasure there is no Bodhi ।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🌳ডক্টর বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য "গুহ‍্যসমাজতন্ত্র" বা তথাগত গুহ‍‍্যকতন্ত্রের ইংরেজি ভূমিকাও তান্ত্রিক বৌদ্ধ-দেবদেবী ও পূজাবিধির উল্লেখ করেছেন।"গুহ‍্যসমাজতন্ত্রের" সম্ভবত খ্রীঃ তৃতীয় শতকে আচার্য‍্য অসঙ্গ রচনা করেন।গুহ‍্যসমাজতন্ত্রের পূর্বে খ্রীঃ দ্বিতীয় শতকে "মঞ্জুশ্রীমূলকল্প" নামে তান্ত্রিক গ্রন্থ লিখিত হয় এবং "জ্ঞানসিদ্ধি" গ্রন্থকার ইন্দ্রভূতি ঐ দুটি তন্ত্রের নাম উল্লেখ করেছেন।গুহ‍্যসমাজতন্ত্রের রচয়িতা অসঙ্গ যোগাচারী ছিলেন এবং সম্ভবত এই অসঙ্গ "পারমিতা-সাধনা"র প্রবর্তক অসঙ্গ থেকে ভিন্ন ব‍্যক্তি।অবশ‍্য এটি নিয়ে মতভেদ আছে।তবে বজ্রযানী সাধকদের মধ্যে পঞ্চধ‍্যানীবুদ্ধ ও বুদ্ধশক্তি এবং ধারণী, মন্ডল,মন্ত্র প্রভৃতির প্রবর্তন করে বিশেষভাবে গুহ‍্যসমাজতন্ত্র।শুদ্ধচিত্ত বৌদ্ধযোগীরা মন্ত্রে মন নিবিষ্ট করেন ও তখনই সমগ্র বিশ্বপ্রপঞ্চ সংবৃতি বা মায়ায় পরিণত হয় ও মনের বা চিত্তের বা বোধির তখন স্থিতি হয় অদ্বয়তত্ত্বে। তখন বাহ‍্য ও অন্তর বিশুদ্ধতা-রূপ অদ্বয়তত্ত্বে ও সত‍্যে প্রজ্ঞা ও উপায়ের (শিব ও শক্তির বা বিন্দু ও নাদের) লয় হয় সিদ্ধযোগী 'মহাসুখ' উপলব্ধি করেন।(Introduction to Advayavaja-samgraha, pp.XXXI I--XXX I I I.)।*
*🍀ডক্টর বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য বৌদ্ধধর্মের বিকাশ-সম্পর্কে বলেছেন, যোগাচারী বৌদ্ধরা মাধ‍্যমিকদের শূন‍্যতার সত্তাকে বাদ না দিয়ে শূন‍্যতার সঙ্গে বিজ্ঞানের সহচারিতা স্বীকার করেন।তখন মাধ‍্যমিকদের 'শূন‍্যতা' সত্তাসম্পন্ন 'তথতা'-য় রূপান্তরিত হয়।*
*সুতরাং যোগাচারের পাশাপাশি মহাসুখবাদের অভ‍্যুত্থান হয় ও নাম গ্রহণ করে,বজ্রযান বা "the ament-vehicle"।বজ্রযানের মধ্যে নির্বাণ রূপ পেল শূন‍্য, বিজ্ঞান ও মহাসুখ এই ত্রিতত্ত্বের রূপ নিয়ে এবং এই ত্রিতত্ত্বকেই বজ্রযানীরা নাম দিলেন "বজ্র" নামে,কেননা এই বজ্রের রূপ ও প্রকৃতি স্থির,অবিনশ্বর ও অচ্ছেদ‍্য।*
*🌷দৃঢ়ং সারমসৌশীর্ষমচ্ছেদ‍্যাভেদ‍্যলক্ষণম্।*
*🌷অনাদি অবিনাশী চ শূন‍্যতা বজ্রমুচ‍্যতে।।*
*(অদ্বয়বজ্রসংগ্রহে পঞ্চতথাগতমুদ্রা বিবরণম, বরোদা সং,পৃঃ ২৩)।*
*🍀বজ্রযানী বৌদ্ধসাধকরা কল্পনা করলেন শূন‍্যই নৈরাত্মাদেবী-- যাঁর অনন্ত গর্ভে ব‍্যষ্টিচিত্ত-রূপ বোধিচিত্ত বা বিজ্ঞানের বিকাশ অক্ষুন্ন থাকে।ক্রমে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মরূপ বজ্রযানের মধ্যে পঞ্চ ধ‍্যানীবুদ্ধ বৈরোচন, রত্নসম্ভব,অমিতাভ,অমোঘসিদ্ধি ও অক্ষোভ‍্যের কল্পনা হল।(পঞ্চ ধ‍্যানীবুদ্ধের বিস্তৃত ব‍্যাখ‍্যা ডক্টর শশিশেখর দাসগুপ্তের "বৌদ্ধধর্ম ও চর্যাগীতি" পৃঃ ৬২-৬৬ দ্রষ্টব‍্য)।*
*🍀সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হল দেহশুদ্ধি,কায়া বা কায়া-সাধনের তত্ত্ব,কেননা তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মে দেহের মধ্যে পঞ্চ স্কন্ধাত্মক পাঁচটি নাড়ী ও পাঁচটি তথাগত বা ধ‍্যানীবুদ্ধের কল্পনার সংক্রমণ অপরিহার্য‍্য হল।তাই একটি চর্যাগীতিতেও উল্লেখ দেখি----*
*🌷 পঞ্চ তথাগত কিঅ কেড়ুআল।*
*🌷বাহঅ কাঅ কাহ্নিল মাআজাল।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷চিঅ কণ্ণহার সুণত মাঙ্গে।*
*🌷চলিল কাহ্ন মহাসুখ সাঙ্গে।।*
*🍀ধ‍্যানীবুদ্ধগণের সঙ্গে পঞ্চশক্তিরও কল্পনা করা হয়েছিল তান্ত্রিক বৌদ্ধসাধনায়। মোটকথা সহজিয়া-সাধনায় সমরস বা সামরস‍্য-রূপ সহজানন্দ লাভ করাই ছিল বৌদ্ধ-চর্যারচয়িতা সহজ-সাধকদের উদ্দেশ্য। সরহপাদ একটি দোঁহাতে বলেছেন---*
*🌷সঙ্কপাস তোড়হ গুরুবঅণেঁ।*
*🌷 ণ্ণ সুনই সোণউ দীসই ন অণেঁ।।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷ণউ বট্টই ণ তনুন্তে ণ বজ্জই।*
*🌷 সমরস সহজাণন্দ জাণিজ্জই।।*
*🍀সহজই সহজানন্দ এবং সহজকে উপলব্ধি করতে পারলেই নির্বিকল্প পরমানন্দ লাভ হয়।পরমানন্দস্বরূপ সহজানন্দ অদৃশ্য,অস্পৃশ‍্য,অদাহ‍্য, আক্লেদ‍্য যেভাবে আত্মার স্বরূপ নির্ণীত হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতগীতায়। বৌদ্ধগান ও দোহা-গ্রন্থে শাস্ত্রী মহাশয় লিখেছেন, "সহজধর্মে বাচ‍্য নাই,বাচক নাই এবং এদের সম্বন্ধও নাই। যে যে উপায়ে মুক্তির উপায় করুক না কেন,সবই শূন‍্যরূপ, অর্থ‍্যাৎ ভব ও নির্বাণে কোন ভেদ নাই, দুই এক সুতরাং সহজিয়ারা অদ্বয়বাদী (পৃঃ ৮)।এই সহজ বা সহজানন্দকে বৌদ্ধতন্ত্রে মহাসুখ নৈরাত্মা বলা হয়েছে এবং "জ্ঞানসিদ্ধি"-গ্রন্থের সপ্তম পরিচ্ছেদে এইমহাসুখবাদের বিশেষ পরিচয় দেওয়া হয়েছে। (Vide Two Vajrayana Works, G.O.S, No. XL IV,p.57, and vide also Advayavayaja, p. XXXVlll.)।*
*অবশ‍্য সুত্তনিপাতে, ধর্মপদে, অঙ্গুত্তর নিকায়ে নির্বাণ বা নির্বাণকেই "পরমসুখ" বা সহজানন্দবলে বর্ণনা করা হয়েছে --নির্ব্বাণং পরমং সুখম্।*
                  *ক্রমাগত*

*🌻তত্ত্বকথন,কৃষ্ণতত্ত্ব,১১০ ও ৪২৯*

*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই--*
*🌷কৃষ্ণের যে সাধারণ সদ্ গুণ পঞ্চাশ।*
*🌷সেই সব গুণ তাঁর শরীরে নিবাস।।*
*🌻ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে শ্রীপাদ রূপগোস্বামী বলেন, শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত গুণের মধ্যে যে পঞ্চাশটি প্রধান গুণের কথা জানিয়েছেন, সেগুলো হল--,সুরম‍্যদেহ,সুলক্ষণযুক্ত, রুচিশীল,তেজস্বী,বলীয়ান, কৈশোর-বয়োযুক্ত, বিবিধ-অদ্ভুত-ভাষাবিদ্, সত‍্যবাক্, প্রিয়ংবদ বা প্রিয়ভাষক,বাবদূক (শ্রবণপ্রিয় ও অখিল গুণান্বিত বাক‍্য প্রয়োগে পটু), সুপন্ডিত,বুদ্ধিমান, প্রতিভান্বিত,বিদগ্ধ, চতুর,দক্ষ,কৃতজ্ঞ, সুদৃঢ়ব্রত,দেশকালপাত্রজ্ঞ, শাস্ত্রচক্ষু (যিনি শাস্ত্রানুসারে কর্ম করেন),শুচি, বশী (জিতেন্দ্রিয়),স্থির,দান্ত, (যিনি নিজ রিপুকে দমন করেছেন), ক্ষমাশীল, গম্ভীর,ধৃতিমান (ধৈর্য‍্যশালী),সম,বদান‍্য,ধার্মিক,শূর (বলবান্),করুণ,মান‍্যমানকৃৎ, দক্ষিণ, বিনয়ী,হ্রীমান (লজ্জাশীল), শরণাগত-পালক,সুখী, ভক্তসুহৃৎ, প্রেমবশ‍্য,সর্বশুভঙ্কর,প্রতাপী, কীর্তিমান,রক্তলোক (লোকের অনুরাগ-ভাজন), সাধু-সমাশ্রয়,নারীগণ-মনোহারী, সর্বারাধ‍্য,সমৃদ্ধিমান, বরীয়ান ও ঈশ্বর।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই---*
*🌷 সর্ব মহাগুণগণ বৈষ্ণব-শরীরে।*
*🌷কৃষ্ণভক্তে কৃষ্ণের গুণ সকল সঞ্চারে।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত গুণের মধ্যে ৬৪টি প্রধান।এই ৬৪টি গুণের সবগুলিই কৃষ্ণভক্তে সঞ্চারিত হয় না।ভক্তিরসামৃতসিন্ধু মতে ৬৪ গুণের মধ্যে মাত্র ২৯টি গুণ কৃষ্ণভক্তে লক্ষ্য করা যায়। সেগুলি হল--, সত‍্যবাক‍্য, প্রিয়ম্বদ, বাবদূক (মধুর বাক‍্যপ্রয়োগে পটু),সুপন্ডিত,বুদ্ধিমান, প্রতিভান্বিত, বিদগ্ধ, চতুর,দক্ষ,কৃতজ্ঞ,সুদৃঢ়ব্রত, দেশকাল সুপাত্রজ্ঞ, শাস্ত্রচক্ষু, শুচি,বশী (জিতেন্দ্রিয়),স্থির, দান্ত, ক্ষমাশীল, গম্ভীর,ধৃতিমান,সম, বদান‍্য (দাতা), ধার্মিক,শূর (অস্ত্র প্রয়োগে দক্ষ),করুণ,মান‍্যমানকৃৎ (গুরু-ব্রাহ্মণে শ্রদ্ধা),দক্ষিণ (সৎস্বভাব গুণে কোমল চরিত্র ), বিনয়ী এবং হ্রীমান (লজ্জাযুক্ত)।*
*🌻শ্রীমদ্ভাগবতে পাই----*
*🌷যস‍্যাস্তি ভক্তির্ভগবত‍্যকিঞ্চনা সর্বৈর্গুণৈস্তত্র সমাসতে সুরাঃ।*
*🌷হরাবভক্তস‍্য কুতো মহদ্ গুণা মনোরথেনাসতি ধাবতো বহিঃ।।*

*🍀অন্বয়= ভগবতি যস‍্য অকিঞ্চনা ভক্তিঃ (ভগবানে যাঁর নিষ্কামা ভক্তি আছে ); তত্র সর্বৈঃ গুণৈঃ সুরাঃ সমাসতে (তাঁতে সেই ব‍্যক্তির মধ্যে সমস্ত গুণের সহিত দেবগণ নিত‍্য বাস করেন) ; মনোরথেন বহিঃ (মনোরথ দ্বারা বাইরের) ; অসতি ধাবতঃ (অনিত‍্য বিষয়-সুখের দিকে ধাবমান) ; হরৌ (হরিতে) ; অভক্তস‍্য মহদ্ গুণাঃ কুতঃ (অভক্ত ব‍্যক্তির মহদ্ গুণগুলি কোথা হতে আসবে?)।*
*🌻শ্রীভগবানে যাঁর নিষ্কামা ভক্তি আছে,সমস্ত গুণের সঙ্গে সকল দেবগণ তাঁর মধ্যে নিত‍্য বাস করেন। আর যে ব‍্যক্তির হরিতে বা ভগবানে ভক্তি নাই,তার মহদ্ গুণ সব কোথায়? যেহেতু, সে ব‍্যক্তি সর্বদা মনোরথের দ্বারা অসৎপথে অনিত‍্য বিষয় সুখাদিতে ধাবিত হয়।*
              👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds