শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৪৫. (২) স্বপ্ন বিলাস লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/swapnabilasleela.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪৫. (২) স্বপ্ন বিলাস লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/swapnabilasleela.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

*শ্রীমদ্ভাগবতে পাওয়া যায়----*
*🌷কৃষ্ণবর্ণং ত্বিষাহকৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদম্।*
*🌷যজ্ঞৈঃ সংকীর্তন-প্রায়ৈর্যজন্তি হি সুমেধসঃ।।*
*🌻সুমেধসঃ=সুবুদ্ধি ব‍্যক্তিগণ, ত্বিষা=অঙ্গকান্তিতে, অকৃষ্ণং= অকৃষ্ণ অর্থ‍্যাৎ পীতবর্ণ বা গৌরবর্ণ, সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদ= যেনি অঙ্গ ও উপাঙ্গরূপ অস্ত্র ও পার্ষদগণের সহিত বিদ‍্যমান, কৃষ্ণবর্ণং= কৃষ্ণবর্ণ, [ভগবন্তং]=ভগবানকে, সংকীর্তন প্রায়ৈ যজ্ঞৈঃ হি যজন্তি =সংকীর্তন প্রধান পূজোপকরণ দ্বারা নিশ্চিত পূজা করেন।*
*🌹সুবুদ্ধি ব‍্যক্তিগণ সংকীর্তন প্রধান পূজা উপকরণ দ্বারা, অঙ্গ ও উপাঙ্গরূপ অস্ত্র এবং পার্ষদগণের সঙ্গে বিদ‍্যমান গৌরকান্তি বিশিষ্ট কৃষ্ণবর্ণ (ভগবানকে)অর্চনা করে থাকেন।*
*🔵এই শ্লোকে কৃষ্ণবর্ণ শব্দের অর্থ দুটিকে ত্বিষাকৃষ্ণ শব্দের দুটি অর্থের সঙ্গে মিলালে মোট চারটি অর্থ পাওয়া যায়।*
*যেমন (১)যাঁর বর্ণ কৃষ্ণ এবং কান্তিও কৃষ্ণ,(২)যিনি কৃষ্ণকে বর্ণন করেন যাঁর কান্তি কৃষ্ণ,(৩)যাঁর বর্ণ কৃষ্ণ, কিন্তু কান্তি কৃষ্ণবর্ণ নয় বা পীত বা গৌর এবং (৪)যিনি কৃষ্ণকে বর্ণন করেন এবং যাঁর কান্তি কৃষ্ণবর্ণ নয় বা পীত।◆কিন্তু প্রথম দুইটি অর্থ অসঙ্গত, কারণ কলিযুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, অন‍্য বর্ণের দ্বারা আচ্ছাদিত,ছন্ন অবতার,তাই তাঁর কান্তি কখনো কৃষ্ণ হতে পারে না। তাহলে শেষ দুইটি অর্থই সঙ্গত,কারণ কলিতে স্বয়ং ভগবান ভিতরে কৃষ্ণবর্ণ,বাইরে পীত বা গৌরবর্ণ ; অর্থ‍্যাৎ তিনি অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর। তাই "ত্বিষা কৃষ্ণম্"(সন্ধিহীন)পাঠ সঙ্গত নয় ; "ত্বিষা অকৃষ্ণম্"(সন্ধিবদ্ধ) পাঠই সঙ্গত।*
*🍀ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই পীত বা গৌরবর্ণ কোথা হতে পেলেন?এটি তাঁর অন্তরঙ্গ স্বরূপশক্তির বর্ণ।স্বরূপ-শক্তি আবার দুইভাবে বিভক্ত= অমূর্ত্ত ও মূর্ত্ত।অমূর্ত্তভাবে শক্তি থাকে শক্তিমানের মধ্যে, যা সমস্ত ভগবৎ-স্বরূপেই থাকে, কিন্তু এই শক্তির কোন বর্ণ নেই।আর শক্তির মূর্ত্ত হল,সর্বশক্তিগরীয়সী হ্লাদিনীর পরমসারভূতা মাদনাখ‍্য মহাভাবস্বরূপিনী শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণী ; তাঁর বর্ণ পীত বা নবগোরচনাগৌর।কেবল তাঁর পীত বর্ণ নয়,তাঁর পীত অঙ্গদ্বারাই যেন শ্রীকৃষ্ণ আচ্ছাদিত হন।*
*🌷রাধায়া ভবতশ্চ চিত্তজতুনী স্বেদৈর্বিলাপ‍্য।*
        *(উজ্জ্বলনীলমণি,স্থাঃ ১১০)*
*🍀ইত‍্যাদি শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রীবৃন্দাদেবীর উক্তি দ্বারা বুঝা যায়, প্রেমপরিপাক শ্রীরাধাকৃষ্ণের চিত্তকে গলিয়ে এক করে দিয়েছিল ; সেই মহাপরাক্রান্ত প্রেমই কৃষ্ণ প্রেমময়ী শ্রীরাধার অঙ্গকেও গলিয়ে যেন তাঁর প্রতি অঙ্গদ্বারা শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ‍্যামঅঙ্গকে আলিঙ্গন করে পীতবর্ণ করে দিয়েছেন,শ‍্যামসুন্দরকে অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর করে দিয়েছেন।তাই এই কলিযুগের এই অবতার শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগলিত বিগ্রহ।*
*🌷"কৃষ্ণ"এই দুই বর্ণ সদা যাঁর মুখে।*
*🌷অথবা কৃষ্ণকে তিহোঁ বর্ণে নিজ সুখে।।*
*🌷কৃষ্ণবর্ণ শব্দের অর্থ দুইত প্রমাণ।*
*🌷কৃষ্ণ বিনা তাঁর মুখে নাহি আইসে আন।।*
*🌷কেহ তারে বলে যদি "কৃষ্ণ-বরণ"।*
*🌷আর বিশেষণে তার করে নিবারণ।।*
*🌷দেহ-কান্ত‍্যে হয় তিহোঁ অকৃষ্ণ-বরণ।*
*🌷অকৃষ্ণ-বরণে শব্দে কহে পীত-বরণ।।*
*🌻ব্রহ্মা-শিবের পক্ষেও সুদুর্লভ যে ব্রজ প্রেম তা জনসাধারণের মধ্যে অকাতরে বিতরণের উদ্দেশ্যে স্বয়ং ভগবান প্রেমময়ী শ্রীরাধার ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে গৌররূপে এই কলিতে অবতীর্ণ হয়েছেন।এটিই শ্রীচৈতন‍্যের মহিমা সীমা বা করুণার পরাকাষ্ঠা।*
*🌷শুন ভাই এই সব চৈতন‍্য-মহিমা।*
*🌷এই শ্লোকে কহে তাঁর মহিমার সীমা।*
🙏 🙏 🙏


*🌻গৌরচন্দ্রিকায় বলা যাবে।*

*🌹প্রত‍্যক্ষ তাহার তপ্ত কাঞ্চনের দ‍্যুতি।*
*🌹যাহার ছটায় নাশে অজ্ঞান-তমস্তুতি।।*
*🛑কলি অবতার শ্রীমন্মহাপ্রভুকে যাঁরা স্বচক্ষে দর্শন করেছেন,তাঁরা জানেন গলিত স্বর্ণের ন‍্যায় পীতবর্ণ তাঁর দেহকান্তি,যার প্রভাবে অজ্ঞানরূপ অন্ধকার বিনষ্ট হয়।*

*🌷জীবের কল্মষ তমো নাশ করিবারে।*
*🌷অঙ্গ উপাঙ্গ নাম নানা অস্ত্র ধরে।।* *🌷ভক্তির বিরোধী কর্ম ধর্ম বা অধর্ম।*
*🌷তাহার কল্মষ নাম সেই মহাতম।।*

*🛑কল্মষ=ভক্তিবিরোধী কর্ম। তা ধর্মই হোক আর অধর্মই হোক,যা কিছু ভক্তির প্রতিকূল বা অন্তরায় তা-ই কল্মষ।এমনকি বৈদিক অনুষ্ঠান ধর্ম নামে অভিহিত হলেও তা আত্মেন্দ্রিয় প্রীতিমূলক হওয়ায় ভক্তিবিরোধী।*
*🌺আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্জা তারে বলে কাম।*
*🛑মুক্তির উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত কর্মও ভক্তিবিরোধী। অর্থ‍্যাৎ যাতে শ্রীকৃষ্ণপ্রীতি নেই তাই ভক্তিবিরোধী।ভক্তির একমাত্র তাৎপর্য‍্য হল-- শ্রীকৃষ্ণপ্রীতি।*
*🌺কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্জা ধরে প্রেমনাম।*
*🛑ভুক্তি-মুক্তি সিদ্ধি বাসনা হৃদয়ে জাগ্রত থাকলে,সেখানে ভক্তিরাণী কখনো আসন গ্রহণ করেন না।তাই ভঃ রঃ সিন্ধু পূঃ ২|১৫ বলেছেন---*
*🌺ভুক্তি-মুক্তি-স্পৃহা যাবৎ পিশাচী হৃদি বর্ততে।*
*🌺তাবৎ ভক্তিসুখস‍্যাত্র কথমভ‍্যূদয়ো ভবেৎ।*

*🛑কলিহত জীবের এই ভক্তিবিরোধী কর্মাসক্তি দূর করবার জন্য শ্রীগৌরাঙ্গ অঙ্গ,উপাঙ্গ ও হরেকৃষ্ণ নাম-রূপ অস্ত্র নিয়েই অবতীর্ণ হয়েছেন।*


*🌻গৌরচন্দ্রিকায় বলা যাবে।*

*🌷'অঙ্গ' শব্দে অংশ কহে শাস্ত্র পরমাণ।*
*🌷অঙ্গের অবয়ব তার "উপাঙ্গ" ব‍্যাখ‍্যান।।*

*🔵অঙ্গের অবয়ব= অঙ্গের অঙ্গ অর্থ‍্যাৎ উপাঙ্গ। সামান্য একটু ব‍্যাখ‍্যা করি।*
*🌹জলশায়ী কারণার্ণবশায়ী,গর্ভোদশায়ী এবং ক্ষীরোদশায়ী পুরুষ প্রকৃতির অন্তর্য‍্যামী, ব্রহ্মান্ডের অন্তর্য‍্যামী এবং ব‍্যষ্টি (পৃথক পৃথক) জীবের অন্তর্য‍্যামী বা পরমাত্মা রূপে বিরাজিত।এঁরা শ্রীকৃষ্ণের অংশ বা স্বাংশ।*
*🌻শ্রীমদ্ভাগবতে ১০|১৪|১৪ পাই*
*🌷নারায়ণস্ত্বং ন হি সর্বদেহিনা-,*
   *মাত্মাস‍্যধীশাখিল লোকসাক্ষী।*
*🌷নারায়ণোহঙ্গং নবভূজলায়নাত্তচ্চাপি,*
     *সত‍্যং ন তবৈব মায়া।।*

*🌺ত্বং নারায়ণঃ ন হি =তুমি কি নারায়ণ নহ?; যতঃ ত্বং সর্বদেহিনাং আত্মা আসি = যেহেতু তুমি সকল দেহীদের আত্মা ; অধীশ= হে সর্বেশ্বর ; অখিল লোকসাক্ষী অসি =সকল লোকের দ্রষ্টা বা অন্তর্য‍্যামী হও ; নবভূজলায়নাৎ নারায়ণঃ= জীব হৃদয়ে ও কারণ সলিলে আশ্রয় হেতু যিনি নারায়ণ ; তব অঙ্গং= তিনি তোমারই দেহ ; তৎ চ অপি সত‍্যং এব ন তু মায়া = সেই অঙ্গও অপ্রাকৃত বা সত‍্য তোমার মায়া নয়।*
*🔵ব্রহ্মা শ্রীকৃষ্ণকে বললেন-- তুমি নারায়ণ না? যেহেতু তুমি সকল দেহীগণের আত্মা হও, হে সর্বেশ্বর! তুমি সব লোকের দ্রষ্টা বা অন্তর্য‍্যামী হও।জীব হৃদয়ে এবং কারণ সলিলে বা জলে আশ্রয় হেতু যিনি নারায়ণ তিনি তোমারই অঙ্গ।সেই অঙ্গও অপ্রাকৃত বা সত‍্য, তা তোমার মায়া নয়।*

*🛑অর্থ‍্যাৎ এই শ্লোকে "নারায়ণোহঙ্গং" বাক‍্যে নারায়ণকে শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গ বলা হয়েছে। তবে নারায়ণ মায়িক বস্তু নন, তিনি চিদানন্দময়,নিত‍্য সত‍্য।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের দুই অঙ্গ বা অংশ হলেন শ্রীঅদ্বৈত ও শ্রীমন্নিত‍্যানন্দ। আর শ্রীঅদ্বৈত ও নিত‍্যানন্দের যে অঙ্গ বা অংশ তাঁরা হলেন শ্রীচৈতন‍্যের উপাঙ্গ ; শ্রীবাসাদি ভক্তগণই হলেন শ্রীচৈতন‍্যের উপাঙ্গ।*

*🔷গৌরচন্দ্রিকায় বলা যাবে পদের কথা অনুযায়ী।*

*🍀যমুনাচার্য‍্যস্তোত্র (১৫)*

*🌷ত্বাং শীলরূপচরিতৈঃ পরমপ্রকৃষ্টৈঃ,*
*সত্ত্বেন সাত্ত্বিকতয়া প্রবলৈশ্চ শাস্ত্রৈঃ।*
*🌷প্রখ‍্যাতদৈবপরমার্থবিদাং মতৈশ্চ,*
*নৈবাসুরপ্রকৃতয়ঃ প্রভবন্তি বোদ্ধুম্।।*

*🌹হে ভগবন্ =হে ভগবন্ ; পরম প্রকৃষ্টৈঃ = সর্বোৎকৃষ্ট ; শীলরূপচরিতৈঃ = স্বভাব, রূপ ও আচরণের দ্বারা ; সত্ত্বেন= শুদ্ধ সত্ত্বের অলৌকিক প্রভাব দ্বারা ; সাত্ত্বিকতয়া = সাত্ত্বিক ভাবের দ্বারা ; প্রবলৈঃ শাস্ত্রৈঃ= প্রবল শাস্ত্রগুলি দ্বারা ; চ=এবং ; প্রখ‍্যাতদৈবপরমার্থ বিদাং মতৈঃ = দৈব ও পরমার্থ বিষয়ে প্রখ‍্যাত পন্ডিতগণের মতের দ্বারাও ; অসুর-প্রকৃতয়ঃ = অসুরপ্রকৃতি ব‍্যক্তিগণ ; ত্বাং বোদ্ধুং ন প্রভবন্তি এব = তোমাকে জানতে সমর্থ হয়ই না।*

*🔵হে ভগবান! তোমার সর্বোৎকৃষ্ট স্বভাব,রূপ ও আচরণের দ্বারা, শুদ্ধ সত্ত্বের অলৌকিক প্রভাব বা সাত্ত্বিকভাবের দ্বারা প্রবল প্রামাণ‍্য শাস্ত্রগুলির উপদেশ শ্রবণ করে এবং দৈব ও পরমার্থ বিষয়ে প্রখ‍্যাত পন্ডিতগণের মতের আলোচনা দ্বারাও অসুর প্রকৃতির ব‍্যক্তিগণ তোমাকে জানতে পারে না বা সমর্থ হয় না।*

*🌳গৌরচন্দ্রিকায় বলা যাবে পদ অনুযায়ী।*

*🌷আপনা লুকাইতে প্রভু নানা যত্ন করে।*
*🌷তথাপি তাঁহার ভক্ত জানয়ে তাঁহারে।।*
*🌷অসুর স্বভাবে কৃষ্ণে কভু নাহি জানে।*
*🌷লুকাইতে নারে কৃষ্ণ ভক্তজন স্থানে।।*

*🌹ভগবান ভক্তগণের নিকটে আত্মগোপন করতে চেষ্টা করেন। ভক্তভাব অঙ্গীকার করে তাঁর সেই আত্মগোপন করার চেষ্টা তাঁর প্রিয় ভক্তগণের কাছে প্রকাশিত হয়ে যায়।কারণ শুদ্ধভক্তির প্রভাবে ভক্তের চিত্ত গুণাতীত নির্মলত্ব লাভ করে ভগবৎ কৃপাশক্তি ধারণের যোগ‍্যতা লাভ করে বলে ভগবান ভক্তের কাছে আত্মগোপন করতে পারেন না। (যা রায় রামানন্দ শ্রীমন্মহাপ্রভুর মধ্যে রসরাজ ও মহাভাব রূপ দর্শন করেছিলেন, বাইরে সন্নাসীর বেশ)। কিন্তু আসুরিক প্রকৃতিসম্পন্ন ব‍্যক্তিগণ অর্থ‍্যাৎ অভক্তগণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে কখনো জানতে পারে না।*
*🌻শাস্ত্রে পাওয়া যায়----*
*🌷উল্লিঙ্ঘিত-ত্রিবিধসীমসমাতিশায়ী,*
*🌷সম্ভাবনং তব পরিব্রঢ়িমস্বভাবম্।*
*🌷মায়াবলেন ভবতাপি নিগুহ‍্যমানং,*
*🌷পশ‍্যন্তি কেচিদনিশং ত্বদনন‍্যভাবাঃ।।*

*🌻হে ভগবন্= হে ভগবান্ ; কেচিৎ =কোনো কোনো ; ত্বদনন‍্যভাবাঃ= তোমার একান্ত ভক্ত ; ভবতা মায়াবলেন নিগুহ‍্যমানমপি= যোগমায়াবলে তুমি গোপন করলেও ; উল্লিঙ্ঘিত-ত্রিসীম-সমাতিশায়ী-সম্ভাবনং = যা দেশ ও কালকৃত পরিচ্ছেদ ও পরিমাণ-- এই তিন সীমার অতীত, যাঁর সমান বা উর্ধ্বে কেউ নেই এবং নিজের যোগমায়ার বলে তুমি যাঁকে সর্বদা গোপন করতে চেষ্টা করছ, তোমার সেই প্রভুত্ব স্বরূপকে ; অনিশং পশ‍্যন্তি= সর্বদা দর্শন করে থাকেন।*

*🛑হে ভগবান! যিনি দেশ,কাল ও পরিমাণ --এই তিন সীমার অতীত,যাঁর সমান বা উর্ধ্বে আর কেউ নেই এবং নিজের যোগমায়ার বলে তুমি যাঁকে সর্বদা গোপন করতে চেষ্টা করছ, তোমার সেই প্রভুত্বপূর্ণ স্বরূপকে তোমার একান্ত কোনো কোনো ভক্ত সর্বদা দর্শন করে থাকেন।*

*🙏এই জগতে দুই রকমের প্রাণী সৃষ্টি আছে---দৈব ও আসুর।যাঁরা বিষ্ণুভক্ত তাঁরা দৈব নামে ও যারা তার বিপরীত অর্থ‍্যাৎ বিষ্ণুভক্তহীন তারা আসুর নামে কথিত।*

*🌻শ্রীধাম বৃন্দাবনের প্রধান গোপীনাথ বিগ্রহ প্রকট কাহিনী।*

*শ্রীধাম বৃন্দাবনে গোবিন্দ-- গোপীনাথ--মদনমোহন এই তিন বিগ্রহই সর্ব প্রধান।এইসব বিগ্রহ গুলি প্রস্তুত করেছিলেন বজ্রনাভদেব যিনি ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের প্রপৌত্র। অর্থ‍্যাৎ এইসব শ্রীবিগ্রহ দ্বাপর যুগের স্থাপন এবং ধাম বৃন্দাবনই যে সত‍্যসত‍্যই সেই আদি চিন্ময়ধাম তার বাস্তব প্রমাণ যমুনা প্রবাহ এবং গিরিগোবর্দ্ধন। তদুপরি শ্রীমন্মহাপ্রভু তাঁরই ভগবত্তার দ্বারা বুঝতে পারেন এই স্থানের মহিমা এবং সেজন‍্য তাঁরই সঞ্চারিত শক্তির দ্বারা গোস্বামীগণ এই চিন্ময় ধামের লুপ্ত মহিমা উদ্ধার করেন যা আমর্রএক প্রকার সকলেই জানি।*
*🌷শ্রীপাদরূপ গোস্বামী প্রকট করেছিলেন শ্রীগোবিন্দকে, শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী প্রকট করেছিলেন শ্রীমদনমোহনকে, কিন্তু একথা সকলেই অবশ‍্য স্বীকরবেন যে এই তিন বিগ্রহের মধ্যে গোপীনাথ বিগ্রহ কে,কিভাবে প্রকট করেছিলেন তার বৃত্তান্ত অনেকেই জানেন না।অথচ গোবিন্দ, গোপীনাথ, মদনমোহন এই তিন বিগ্রহই ধাম বৃন্দাবনের সর্ব প্রধান এবং--- গোবিন্দনাথজী হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের মুখারবিন্দ, গোপীনাথজী হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের বক্ষদেশ, মদনমোহন হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের চরণযুগল। অর্থ‍্যাৎ এই তিন বিগ্রহ দর্শন করলেই কৃষ্ণদর্শন হয় ইহাই ধর্মীয় বিশ্বাস। গোপীনাথ বিগ্রহ কে প্রকট করেছিলেন তা সকলে গৌরভক্তগণের জানা দরকার।এই মহাপুরুষ মহাভক্তের নাম শ্রীমধুপন্ডিত, যিনি ছিলেন নবদ্বীপবাসী এবং তাঁর শ্রীগুরুদেব হচ্ছেন পঞ্চতত্ত্বের গদাধর পন্ডিত।*

*গুরুকৃপায় শ্রীমধুপন্ডিত শ্রীকৃষ্ণ গুণগানে দিবানিশি বিভোর থাকতেন, একদিন ভক্তমুখে শ্রীকৃষ্ণের গুণ,রূপ,লীলা, মাধুরী শুনে শ্রীকৃষ্ণ দর্শনের জন্য অত‍্যন্ত ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন।একদিন প্রভুর প্রবল আকর্ষণে হঠাৎ পাগলের মত গৃহত‍্যাগ করে শ্রীবৃন্দাবনে আগমন করে কেশীঘাটে পরমানন্দ ভট্টাচার্য্যের কাছে বাস করতে লাগলেন। কিন্তু হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণ দর্শন লালসা প্রবলভাবে বৃদ্ধি হওয়ায় তিনি আর স্থির হতে না পেরে পাগলেরমত হয়ে শ্রীবৃন্দাবনের সব জায়গা ভ্রমণ করতে লাগলেন।এইভাবে ভ্রমণ করতে করতে একদিন বংশীবটের তটে বসে অত‍্যন্ত বিহ্বল অন্তরে বিলাপ করতে করতে মূর্ছা হয়ে যান।ভক্তবৎসল ভগবান ভক্তের ব‍্যাকুল ক্রন্দনে আর স্থির থাকতে পারলেন না,তখন অপরূপ রাস-রসারম্ভী ললিত ত্রিভঙ্গ স্বরূপে মধুর মুরলী বাজাতে বাজাতে শ্রীগোপীনাথরূপে তাঁকে দর্শন দিলেন।তৃষিত চাতকের ন‍্যায় তাঁর রূপামৃতপানে অতৃপ্ত হয়ে প্রার্থনা করলেন--প্রভু তুমি এইরূপেই আমার কাছে সর্বদা অবস্থান কর।আমাকে আর বঞ্চনা করিও না।ভক্তবৎসল ভগবান মধুপন্ডিতকে বললেন মধু! আমি তোমার কাছে সর্বদা এইরূপেই অবস্থান করব, কিন্তু এক্ষণে কলিকাল সুতরাং সকলের সমক্ষে আমার এইরূপে অবস্থান সম্ভব না,সকলের জন্য আমি শ্রীমূরতিরূপে দর্শন দিব,এই বলে শ্রীগোপীনাথ শ্রীমূর্তিরূপে আবির্ভূত হলেন,শ্রীমধু পন্ডিত প্রেমে তাঁকে আলিঙ্গন করে নিজস্থানে আনলেন এবং শ্রীরাধিকার সঙ্গে শ্রীরাধা-গোপীনাথ নামে সেই মূরতি প্রতিষ্ঠিত করলেন।এইভাবে শ্রীধাম বৃন্দাবনের গোপীনাথ বিগ্রহ প্রকট হন,যার মূল হোতা হচ্ছেন শ্রীমধুপন্ডিত।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣

*🌻স্বপ্নবিলাস গৌরচন্দ্রিকার ব‍্যাখ‍্যা।*
*🌹🌹🌹🌹পদ🌹🌹🌹🌹*
*রসে তনু ঢর ঢর,গৌর কিশোর বর,*
       *নাম যাঁর শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য।*
*এ সব নিগূঢ় কথা,কহিতে অন্তরে ব‍্যথা,*
       *ভক্ত বিনা নাহি জানে অন‍্য।।*
*🌻রসে তনু ঢর ঢর,গৌর কিশোর বর=রস--এই রস নয় প্রকার মতান্তরে দশ প্রকার।এই নয় প্রকার রস কি কি? শৃঙ্গার বা আদিরস,বীররস, করুণরস,অদ্ভুতরস,হাস‍্যরস,ভয়ানকরস,বীভৎসরস,রৌদ্ররস ও শান্তরস। কিন্তু দশমরস হচ্ছে বাৎসল‍্যরস।*
*(১)শৃঙ্গাররস=স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে পরস্পর সম্ভোগেচ্ছাজনিত ভাব।অনুরাগ ইহার স্থায়ীভাব।*
*(২)বীররস=যে রসে উৎসাহ বৃদ্ধি করে।*
*(৩)করুণরস=ইষ্টনাশ, ক্লেশ বা কষ্ট উপতাপাদিজনিত যে ভাব চিত্ত দ্রবীভূত করে,শোক ইহার স্থায়ীভাব।*
*(৪)অদ্ভুতরস=যে স্থায়ীভাব বিস্ময় উৎপাদন করে এবং তদ্দ্বারা চিত্তকে অভিভূত বা আপ্লুত করে।*
*(৫)হাস‍্যরস=হাস‍্যের উৎপত্তিজনক স্থায়ীভাব।*
*(৬)ভয়ানকরস=ভয়ের উৎপত্তিজনক স্থায়ীভাব।*
*(৭)বীভৎসরস=জুগুপ্সা বা ঘৃণার উৎপাদক স্থায়ীভাব।*
*(৮)রৌদ্ররস=ক্রোধ উৎপাদক স্থায়ী ভাব।*
*(৯)শান্তরস=সংসারের অনিত‍্যতা বা আত্মদর্শনজনিত শান্তির উৎপাদক স্থায়ীভাব।*
*(১০)বৎসল বা বাৎসল‍্যরস= সন্তানের প্রতি যে স্বাভাবিক স্নেহ তার উৎপাদক স্থায়ীভাব।*
*🌻জয় নিতাই, এখানে পদকর্তা কি এই দশম রসের মধ্যে শৃঙ্গার রসের কথা বলেছেন? এখানে পদকর্তা সেই উজ্জ্বলরসের কথা বলেছেন।তাহলে উজ্জ্বররস কি?এই উজ্জ্বলরসের উৎস কোথা হতে?এই উজ্জ্বলরসের উৎসের সন্ধান করতে গেলে আমাদের দ্বাপরযুগে প্রবেশ করতে হবে।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ শৃঙ্গার বা উজ্জ্বলরস,সর্বস্বশৃঙ্গার বা উজ্জ্বলরসের ঘনীভূত মূর্তি, সেইজন‍্য তাঁর হৃদয়ে সততই শৃঙ্গার শুচি বা প্রেমদ্বারা পরমোজ্জ্বল রস পিপাসা জেগে থাকে। নিরন্তর প্রেমক্রীড়া যাঁর চরিত,সেই প্রেমতৃষ্ণা শান্তির জন্য শ্রীরাধিকা উজ্জ্বল শ‍্যামরসই পরিবেশন করেন।শ্রীরাধারস সুধানিধি গ্রন্থে শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ শ্রীরাধাকে "শ‍্যাম মন্ডল মৌলীমন্ডল মণিঃ" বলে আখ‍্যা দিয়েছেন।শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক শৃঙ্গার রস হতে যে উদ্দাম প্রেমময়ী তৃষ্ণা উপজাত হয়,সেই প্রেম-উন্মত্ততা রূপ মধু (শ‍্যামরস মধু) শ্রীরাধা শ‍্যামসুন্দরকে পরিবেশন করেন। তাই শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বর্ণিত হয়েছে,যথা--*
*🌷কৃষ্ণবাঞ্জা পূর্তিরূপ করে আরাধনে।*
*🌷অতএব রাধানাম পুরাণে ব‍্যাখ‍্যানে।।*
*🌷অন‍্যত্র,কৃষ্ণকে করায় শ‍্যামরস মধুপানে।*
*🌷নিরন্তর পূর্ণ করেন কৃষ্ণের সর্বকামে।।*
*🌻মধুর শ্রীবৃন্দাবনে সূর্য‍্যপূজা,দান,মান,রাস প্রভৃতি নানান প্রেয়সী প্রেমবশ‍্যতাময়ী লীলার মধ‍্য দিয়ে শ্রীরাধা ধীরললিত,নায়ক শিরোমণি প্রাণবল্লভ শ‍্যামসুন্দরকে নানাভাবে নব নব নিগূঢ় প্রেমরসই আস্বাদন করিয়েছিলেন।*
*🌻সেই রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু শ্রীগৌরাঙ্গ,শ্রীরাধার নিগূঢ় প্রেমরসে পরিপূর্ণ হয়ে ঢর ঢর।*
 *🔵বিদগ্ধমাধবে(১|২) শ্রীপাদ রূপগোস্বামী বলেছেন---*
*🌷অনর্পিতচরীং চিরাৎ করুণয়াবতীর্ণঃ কলৌ,*
*🌷সমর্পয়িতুমুন্নতোজ্জ্বলরসাং স্বভক্তিশ্রিয়ম্।*
*🌷হরিঃ পুরটসুন্দরদ‍্যুতিকদম্বসন্দীপিতঃ,*
*🌷সদা হৃদয়কন্দরে স্ফুরতু বঃ শচীনন্দনঃ।।*


*চিরাৎ=বহুকাল পর্যন্ত, অনর্পিতচরীং =পূর্বে যাণ করা হয়নি, উন্নতোজ্জ্বলং রসাং=উন্নত এবং উজ্জ্বল অর্থ‍্যাৎ মধুর রসময়ী, স্বভক্তিশ্রিয়ং= নিজের ভক্তি-সম্পত্তি, সমর্পয়িতুং=দান করবার জন্য,কলৌ=কলিযুগে, করুণয়া= কৃপাবশত, অবতীর্ণঃ= অবতীর্ণ হয়েছেন,সেই ; পুরটসুন্দর-দ‍্যুতিকদম্বসন্দীপিতঃ = স্বর্ণ হতেও অতি সুন্দর দ‍্যুতি সমন্বিত ; শচীনন্দনঃ হরিঃ=শচীনন্দনরূপী শ্রীহরি ; সদা বঃ হৃদয়-কন্দরে স্ফুরতু= আপনাদের হৃদয়রূপ গুহায় সর্বদা প্রকাশিত হন।*
*🌹বহুকাল পর্যন্ত পূর্বে যা অর্পণ করা হয়নি, সেই উন্নত-উজ্জ্বল রসময়ী নিজস্ব ভক্তি-সম্পদ দান করবার জন্য যিনি কৃপা করে এই কলিযুগে অবতীর্ণ হয়েছেন, স্বর্ণ থেকেও অতি উজ্জ্বল দ‍্যুতিসম্পন্ন সেই শচীনন্দন শ্রীগৌরহরি আপনাদের হৃদয় কন্দরে সর্বদা প্রকাশিত হন।*
*🍀আর একটু পরিস্কার করে বলিলে--, সত‍্য,ত্রেতা,দ্বাপরের মত বহুকাল পর্যন্ত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ভক্তিসম্পদ দান করেননি। স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এক-কল্পে (অর্থ‍্যাৎ ব্রহ্মার একদিনে) একবার জগতে অবতীর্ণ হন।যে দ্বাপরে তিনি ব্রজে অবতীর্ণ হয়ে রাসলীলাদি প্রকাশ করেন, ঠিক তার পরবর্তী কলিতেই তিনি শ্রীরাধার ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গসুন্দররূপে নবদ্বীপে অবতীর্ণ হয়ে অতি সুদুর্লভ কৃষ্ণপ্রেম বা ভক্তিসম্পত্তি (ব্রজপ্রেম) দান করেন। কিন্তু তার পরে এবং বতর্মান কলির পূর্বে এই সুদীর্ঘকাল সেরকম প্রেমভক্তি আর দান করেননি। পুনরায় এই কলিতে সেই লুপ্তপ্রায় উন্নত-উজ্জ্বল রসময়ী শৃঙ্গার বা মধুর ভাবসম্পন্ন প্রেমভক্তি কলিহত জীবের মধ্যে বিতরণের জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কৃপাকরে শ্রীশ্রীগৌরসুন্দররূপে অবতীর্ণ হলেন।*
*🛑শ্রীশ্রীগৌরসুন্দরের বিতরিত বস্তুকে উন্নত এবং উজ্জ্বল রস বলা হয় কেন?উন্নত অর্থ‍্যাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ রস হল মধুররস।ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ ব্রজে চারভাবের ভক্তের প্রেমরস আস্বাদন করেছেন, যথা--দাস‍্য, সখ‍্য, বাৎল‍্য ও মধুর।ব্রজবাসীজনের শ্রীকৃষ্ণে মমতা-বুদ্ধির গাঢ়তা অনুযায়ী ভালবাসার উৎকণ্ঠাও তীব্র থেকে তীব্রতম হয়ে থাকে।ব্রজে শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের একান্ত আপনজন, কিন্তু তাঁদেরও মমতা-বুদ্ধির তারতম্য আছে।তাই দাস‍্য অপেক্ষা সখ‍্যে, সখ‍্য অপেক্ষা বাৎসল‍্যে, বাৎসল‍্য অপেক্ষা মধুরে মমতা-বুদ্ধির তীব্রতা বেশী।শ্রীকৃষ্ণের রসাস্বাদন চমৎকারিতা এবং প্রেমবশ‍্যতাও বেশী।এই কারণে দাস‍্য অপেক্ষা সখ‍্যে,সখ‍্য অপেক্ষা বাৎসল‍্য, বাৎসল‍্য অপেক্ষা মধুর ভাব উন্নত।শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন--*
*🌷সব রস হৈতে শৃঙ্গারে অধিক মাধুরী।১|৪|৪০*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷পরিপূর্ণ কৃষ্ণপ্রাপ্তি এই প্রেমা হইতে।২|৮|৬৯*
*🌻আর ভক্ত কেবল প্রেমের মাধ‍্যমেই শ্রীকৃষ্ণ-মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে পারেন। সুতরাং দাস‍্য-সখ‍্য-বাৎসল‍্য অপেক্ষা মধুরভাবেই শ্রীকৃষ্ণমাধুর্য‍্য আস্বাদনের শ্রেষ্ঠ উৎকর্ষতা।এই উন্নত উজ্জ্বলরস অর্থ‍্যাৎ শ্রেষ্ঠবস্তু সকলকে দান করবার জন্যই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই কলিযুগে অবতীর্ণ হয়েছেন।*
*🌷এ সব নিগূঢ় কথা,কহিতে অন্তরে ব‍্যথা,*
         *ভক্ত বিনা নাহি জানে অন‍্য।*
              *🌻🌻প্রথম🌻🌻*

*🌻স্বপ্নবিলাস গৌরচন্দ্রিকা ২য় অন্তরা*

*দ্বাপর যুগেতে শ‍্যাম,কলিতে চৈতন‍্য নাম,*
       *গর্গবাক‍্য ভাগবতে লিখি।*
*মনে করি অনুমান,গৌরাঙ্গ ভেল শ‍্যাম,*
       *রাধাকৃষ্ণ তনু তার সাখি।।*

*🌹শ্রীস্বরূপগোস্বামী কড়চা থেকে পাওয়া যায় যে------*
*🌷রাধা কৃষ্ণপ্রণয়বিকৃতির্হ্লাদিনীশক্তিরস্মা-,*
*🌷দেকাত্মানাবপি-ভুবি পুরা-দেহভেদং গতৌ তৌ।*
*🌷চৈতন‍্যাখ‍্যং প্রকটমধুনা তদ্দ্বয়ঞ্চৈক‍্যমাপ্তং,*
*🌷রাধাভাবদ‍্যুতিসুবলিতং নৌমি কৃষ্ণস্বরূপম্।।*

*🌺রাধা=(শ্রীরাধিকা); কৃষ্ণপ্রণয়বিকৃতিঃ=(কৃষ্ণপ্রণয়ের বিকার রূপ) ; হ্লাদিনী শক্তিঃ=(শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী বা আনন্দদায়িনী শক্তি) ; অস্মাৎ=(এই হেতু) ; তৌ=(শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণ উভয়ে); একাত্মানৌ=(স্বরূপত এক আত্মা বা অভিন্ন) ; অপি= (হয়েও) ; ভুবি= (গোলোকে) ; পুরা দেহভেদং গতৌ= (অনাদিকাল হতেই ভিন্ন দেহ ধারণ করেছেন) ;তদ্দ্বয়ং ঐকং আপ্তং =(সেই দুইজন একত্ব প্রাপ্ত হয়ে ) ; রাধাভাবদ‍্যুতিসুবলিতং= (শ্রীরাধার ভাব ও অঙ্গকান্তির দ্বারা সুশোভিত) ; অধুনা প্রকটং= (সম্প্রতি প্রকটিত) ; চৈতন‍্যাখ‍্যং= (শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নামক) ; কৃষ্ণস্বরূপং=(শ্রীকৃষ্ণস্বরূপকে) ; নৌমি=(নমস্কার করি)।*

*🛑শ্রীকৃষ্ণের ভালবাসা স্বরূপা শ্রীরাধিকা হলেন শ্রীকৃষ্ণেরই হ্লাদিনী বা আনন্দদায়িনী শক্তি,স্বরূপত উভয়ে এক আত্মা বা অভিন্ন হয়েও অনাদিকাল থেকে গোলোকে ভিন্ন দেহ ধারণ করে রয়েছেন।তাঁদের একত্বরূপে শ্রীরাধার ভাব ও অঙ্গকান্তিতে সুশোভিত হয়ে প্রকাশিত শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নামক শ্রীকৃষ্ণস্বরূপকে আমি প্রণাম করি।*
*🌳একটু পরিস্কার করে বলি--- স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আনন্দদায়িকা শক্তির নাম হ্লাদিনী-শক্তি।হ্লাদিনী-শক্তির ঘনীভূত বিলাসই প্রেম, আর প্রেমের ঘনীভূত রূপ হল মহাভাব।প্রেমসার মহাভাবস্বরূপিনী শ্রীরাধাই মহাভাবস্বরূপিনী বলে তাঁকে কৃষ্ণ-প্রণয়-বিকৃতি বলা হয়েছে।*
*আবার রাধা পূর্ণ শক্তি,কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান। শক্তি ও শক্তিমানের অভেদ-বশত শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণে কোন ভেদ নেই। কিন্তু লীলারস আস্বাদনের জন্য তাঁরা পৃথক দেহ ধারণ করে শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্য লীলার ধাম শ্রীগোলোকে অনাদিকাল অবস্থান করছেন।এখন এই কলিযুগে সেই দুইদেহ এক আত্মা একদেহে অবস্থান করে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যরূপে বিরাজিত।তাই শ্রীরাধার ভাব ও কান্তি অঙ্গীকার করে অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর হয়ে এই কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যরূপে শ্রীকৃষ্ণই নবদ্বীপে আবির্ভূত হলেন।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে আদি লীলায় পাই---*
*🌷ভাগবত ভারত-শাস্ত্র আগম পুরাণ।*
*🌷চৈতন‍্যকৃষ্ণ অবতারে প্রকট প্রমাণ।।*
*🛑অর্থ‍্যাৎ স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণই যে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন, শ্রীমদ্ভাগবত,মহাভারত, উপপুরাণ এবং আগমাদি শাস্ত্রের শ্লোকই তার উজ্জ্বল প্রমাণ।*
                  *দ্বিতীয় অন্তরা*

*🌻স্বপ্নবিলাস গৌরচন্দ্রিকা ৩য় অন্তরা--*
*🌷অন্তরে শ‍্যাম তনু, বাহিরে গৌরাঙ্গ যনু,*
        *অপরূপ গৌরাঙ্গের লীলা।*
*🌷রাই সঙ্গে খেলাইতে,কুঞ্জরস বিলসিতে,*
       *অনুরাগে গৌর তনু হৈলা।।*

*🙏শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য প্রভু স্বয়ং ভগবান।*
*🙏তাঁহার পদারবিন্দে অনন্ত প্রণাম।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান।এই তত্ত্ব অনুসারে চৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী জানালেন---*
*🌷নন্দসুত বলি যাঁরে ভাগবতে গাই।*
*🌷সেই কৃষ্ণ অবতরি চৈতন‍্য গোঁসাই।।*

*🌻আমার প্রেমের ঠাকুর সেই শ্রীচৈতন‍্যই আবার বললেন---*

*🌷রাঘব! তোমারে আমি নিজ গোপ‍্য কই।*
*🌷আমার দ্বিতীয় নাই নিত‍্যানন্দ বই।।*
*🙏ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব নিজ শ্রীমুখে বলেছেন,অতি গোপন কথা তোমাকে বলি, আমার বহু বহু অন্তরঙ্গ ভক্ত আছে, কিন্তু একমাত্র তুমিই আমার দ্বিতীয় কায়া,তোমা হতেই কারণার্ণবশায়ী,গর্ভোদশায়ী ও ক্ষীরোদশায়ী বিষ্ণু-মহাবিষ্ণুর উৎপত্তি।*
*🍀যাইহোক,গৌড়ীয় ভক্তিশাস্ত্র অনুযায়ী শ্রীচৈতন‍্যদেবের কৃপা পেতে হলে সর্ব প্রথমে শ্রীনিতাইচাঁদের কৃপা পেতে হবে,তবেই বৃন্দাবনে যুগলভজন অর্থ‍্যাৎ শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দ ভজনে অপ্রাকৃত প্রেম-আস্বাদন হবে।নরোত্তম ঠাকুর মহাশয় বললেন--*

*নিতাই পদকমল,কোটিচন্দ্র সুশীতল,*
       *যে ছায়ায় জগৎ জুড়ায়।*
*হেন নিতাই বিনে ভাই,রাধাকৃষ্ণ পাইতে নাই,*
       *দৃঢ় করি ধর নিতাই পায়।।*
*🌻কৃষ্ণতত্ত্ব,রাধাতত্ত্ব,গৌরতত্ত্ব,নিত‍্যানন্দতত্ত্বাদি না জানলে ভক্তি দৃঢ় হয় না, এবং ভজনে নিষ্ঠা আসে না।*

*🙏শ্রীনিতাইচাঁদের শ্রীচরণকমল কোটিচন্দ্রের ন‍্যায় সুশীতল, সূর্য‍্য কিরণ আমাদের ভস্মিভূত করে, আর চন্দ্র শীতল করে,সেই কোটিচন্দ্র সম আমার নিত‍্যানন্দ,যাঁর ছায়ায় বিশ্বমানবের ত্রিতাপজ্বালা জুড়িয়ে যায়।কমলে শীতলতা এবং তার মকরন্দের মাদকতা রয়েছে,চন্দ্রে শীতলতা ও অমৃতের স্বাদুতা আছে এবং কল্পতরুতে শীতলতার সঙ্গে সর্ব অভীষ্টপ্রদ গুণ রয়েছে।শ্রীশ্রীনিতাইচাঁদের শ্রীচরণাশ্রয়ে আশ্রয়ী যাঁরা তাঁরা প্রেমরসের উন্মাদনায় মত্ত হয়ে থাকেন।শ্রীশ্রীগৌরগোবিন্দ-সেবামৃতের আস্বাদন পেয়ে সর্বাভীষ্ট পেয়ে ধন‍্য হয়ে থাকেন এবং তাঁর সমস্ত তাপ অর্থ‍্যাৎ ত্রিতাপজ্বালা বিনাশ হয়ে থাকে।*
*🍀শ্রীগৌরলীলার মধ্যে প্রধানত দুটি ভাব দেখা যায়,একটি আকর্ষণ, অন‍্যটি ভগবৎপ্রেম বা বিশ্বপ্রেম। আকর্ষণ হচ্ছে প্রেমের প্রধান কাজ।"প্রেম" নিজ-পর সব বস্তুকেই আকর্ষণ করে নিজের করতে চাই। এটিই প্রেমের স্বরূপগত ধর্ম।যেখানে প্রেম, সেখানেই আকর্ষণ,প্রেম ও আকর্ষণ যেন একই বস্তু।প্রেম কারণ, আকর্ষণ তার কাজ।শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য প্রেমস্বরূপ বিশ্বকে প্রেমদানে ধন‍্য করবার ব‍্যাপক আকাঙ্ক্ষা তাঁর অন্তরে বিরাজিত।সেই আকাঙ্ক্ষা পূর্তির জন্য যিনি সবাইকে আকর্ষণ করছেন, তিনিই মহাসঙ্কর্ষণেরও অংশী মূলসঙ্কর্ষণ শ্রীমন্নিত‍্যানন্দপ্রভু। প্রেমময় শ্রীগৌরহরির শ্রীচরণে বিশ্বমানবকে আকর্ষণ করবার জন্য তাঁর কত দায়িত্ব, "দন্তে তৃণ ধরি নিতাই নগরে বেড়ায়"।*
*🌷যারে দেখে তারে কহে দন্তে তৃণ ধরি।*
*🌷আমারে কিনিয়া লহ বল গৌরহরি।।*
*🙏এইরকম করুণাময় প্রভুর পাদকল্পতরুর সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় ছাড়া ত্রিতাপজ্বালা কলিজীবের হৃদয় জুড়াবার এবং শ্রীগৌরহরির অনর্পিতচরীং শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের চরণে প্রেমলাভের আর উপায় কি আছে। তাই ঠাকুরমহাশয় নিজ মনকে বলছেন--*
*🌷হেন নিতাই বিনে ভাই,*
*🌷রাধাকৃষ্ণ পাইতে নাই,*
*🌷দৃঢ় করি ধর নিতাইয়ের পায়।*
*🌻শ্রীনিতাইচাঁদের বিহনে শ্রীরাধাগোবিন্দকে পাবার চেষ্টা করিও না,নিতাই বিনে শ্রীরাধাকৃষ্ণ পেতে নাই বা পাওয়া উচিত নয়। আর যদি নেহাত পেয়ে যাও,তাঁদের মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে পারবে না।অভীষ্টের মাধুর্য‍্য আস্বাদনই যখন ভক্তিসাধনার চরমলক্ষ‍্য।প্রশ্ন হতে পারে, শ্রীরাধাকৃষ্ণের মাধুর্য‍্য আস্বাদনের জন্য শ্রীনিতাইচাঁদের কৃপার বা তাঁর ভজনের এত অপেক্ষা কেন?একমাত্র প্রেমই ভগবৎ-মাধুরী আস্বাদনের কারণ বা উপায়।আবার জাতিগত বা পরিমাণগত যাঁর যেরকম প্রেম,তিনি সেইরকমই ভগবৎ-মাধুরী আস্বাদন করে থাকেন।শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের মাধুর্য‍্য আস্বাদনে একমাত্র গোপীভাবই উপজীব‍্যতা। ব‍্যাসাবতার শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর লিখেছেন--*
*🌷যে ভক্তি গোপীকাগণে কহে ভাগবতে।*
*🌷নিত‍্যানন্দ হইতে তাহা পাইল জগতে।।চৈঃভাঃঅন্ত‍্য ৫ম অঃ।*
*🙏করুণাময় শ্রীমন্মহাপ্রভু পরমকরুণ শ্রীনিতাইচাঁদের প্রতি এই রহস‍্যময় গোপীপ্রেম প্রচারের ভার দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন। তাই বলেছেন--*
*🌷দৃঢ় করি ধর নিতাইয়ের পায়।*
*🌻অতি সংক্ষেপে বর্ণনা।*
*🛑এবার "অন্তরে শ‍্যাম তনু" কথায় আসি।*
*🌷ভাগবতসন্দর্ভ গ্রন্থের মঙ্গলাচরণে।*
*🌷এই শ্লোক জীব গোসাঞী করিয়াছেন ব‍্যাখ‍্যানে।।*


*🌷অন্তঃ কৃষ্ণং বহির্গৌর দর্শিতাঙ্গাদিবৈভবম্।*
*🌷কলৌ সংকীর্তনাদ‍্যৈঃ স্মঃ কৃষ্ণচৈতন‍্যমাশ্রিতাঃ।।*

*🍀অন্বয়= কলৌ=কলিযুগে, অন্তঃ কৃষ্ণং বহির্গৌর= ভেতরে কৃষ্ণ বাইরে গৌর, দর্শিতাঙ্গাদি বৈভবং= অঙ্গাদি দ্বারা নিজের বৈভব প্রকাশ, কৃষ্ণচৈতন‍্যং=শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যকে, [বয়ং]=আমরা, সঙ্কীর্তনাদ‍্যৈঃ আশ্রিতাঃ স্মঃ=ষংকীর্তন প্রধান যজ্ঞ দ্বারা আশ্রয় করেছি।*
*🌻শ্রীপাদ শ্রীজীবগোস্বামী এই শ্লোকে বলেছেন--, যিনি ভিতরে কৃষ্ণবর্ণ, কিন্তু বাইরে গৌরবর্ণ অঙ্গাদি দ্বারা নিজের মহিমা প্রকাশ করেছেন,সেই শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যকে কলিযুগে সংকীর্তনপ্রধান যজ্ঞের দ্বারা আমরা আশ্রয় করেছি।*
*🌷অন্তরে শ‍্যাম তনু,বাহিরে গৌরাঙ্গ যনু,*
       *অপরূপ গৌরাঙ্গের লীলা।*
*🛑রাই সঙ্গে খেলাইতে,কুঞ্জরস বিলসিতে,*
        *অনুরাগে গৌর তনু হৈলা।।*
*🌻দ্বাপরযুগের ব্রজলীলায় প্রবেশ করতে হবে, তবেই এর মাহাত্ম্য অনুভব হবে।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণের এই প্রতিজ্ঞা পর্যন্ত গোপীর ভজনে বিফল হয়ে যায়।*
*🌷কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা দৃঢ় সর্বকালে আছে।*
*🌷যে যৈছে ভজে কৃষ্ণে তারে ভজে তৈছে।।*
*🌷সে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হইল গোপীর ভজনে।*
*🌷তাহাতে প্রমাণ কৃষ্ণ শ্রীমুখবচনে।।*
*🛑শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধে বত্রিশ অধ‍্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ গোপীগণকে বলেছিলেন---*

*ন পারয়েহহং নিরবদ‍্য সংযুজাং,*
*স্বসাধুকৃত‍্যং বিবুধায়ূষাপি বঃ।*
*যা মাভজন্ দুর্জ্জর গেহশৃঙ্খলাঃ,*
*সংবৃশ্চ‍্য তদ্বঃ প্রতিযাতু সাধুনা।।*

*🍀নিরবদ‍্যসংযুজাং বঃ = অনিন্দ‍্য সংযোগবতী তোমাদের, স্ব সাধুকৃত‍্যং = স্বীয় বা নিজ সাধুকৃত‍্য, অহং বিবুধায়ূষাপি ন পারয়ে= অমর আয়ু লাভ করেও আমি তোমাদের ঋণ শোধ করতে সমর্থ হব না, দুর্জ্জরগেহশৃঙ্খলাঃ সংবৃশ্চ‍্য= যেহেতু তোমরা দুশ্ছেদ‍্য গৃহশৃঙ্খল ছিন্ন করেও, মাভজন্=আমাকে ভজন করেছ, বঃ সাধুনা তৎ প্রতিযাতু= তোমার সাধুকৃত‍্যের দ্বারাই তার শ্রতিশোধ হোক।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ গোপীগণকে বলছেন= হে গোপীগণ! তোমাদের নির্দোষ ও নিষ্কাম মিলন এবং প্রেম ব‍্যবহারের ঋণ আমি অনন্তকালেও পরিশোধ করতে পারব না।তোমরা যে ছিদ্রহীন গৃহশৃঙ্খল ছিন্ন করে আমাকে ভজন করেছ, তার ঋণ তোমাদের নিজগুণেই পরিশোধ হতে পারে। কিন্তু আমার এমন ক্ষমতা নাই যে, তোমাদের সেই ঋণ আমি পরিশোধ করি।*

*🛑গোপীগণ ধৈর্য‍্য,লজ্জা,কুল,শীল, মান, ভয়াদি সব ত‍্যাগ করে শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছিলেন।এমন সেবা অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডে আর কেউ করতে পারেনি বলে শ্রীকৃষ্ণ গোপীগণের কাছে ঋণ হয়ে, সেই ঋণ শোধের লাগি,ভগবানত্ব ত‍্যাগ করে কলিযুগে ভক্ত হয়ে এসেছিলেন।*
*🌷রাই সঙ্গে খেলাইতে, কুঞ্জরস বিলসিতে,*
          *অনুরাগে গৌর তনু হৈলা।।*
*🙏তৃতীয় অন্তরা ব‍্যাখ‍্যা*

*🌻স্বপ্নবিলাস গৌরচন্দ্রিকার ব‍্যাখ‍্যা চতুর্থ অন্তরা বা বিরাম।*

*🌷কহিবার কথা নয়,*
*🌷কহিলে কি জানি হয়,*
*🌷মনে মোর এই বর তাপ।*
*🌷চিতে অনুমান করি,*
*🌷হৃদয়ে গৌরাঙ্গ ধরি,*
*🌷নরহরি করয়ে বিলাপ।।*

*🌻জয় নিতাই, এই অন্তরাতে পদকর্তা কি বলতে চেয়েছেন, তা অনুমান করা আমার মত অধমের পক্ষে সম্ভব নহে।তবে আমার মহাপ্রভু আমাকে যেমন লিখাবেন, আমি নিমিত্তমাত্র হয়ে লিখিব।পদকর্তা নরহরি দাসের মনে কি তাপ, কি ব‍্যথা,কেন যে তিনি পদটি লিখে বিলাপ করেছেন জানি না।*

*🌷জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য জয় নিত‍্যানন্দ।*
*🌷জয় অদ্বৈতচন্দ্র জয় গৌর ভক্তবৃন্দ।।*
*🌷বৃন্দাবনদাস কবিরাজ গোস্বামীর চরণ শিরে ধরি।*
*🌷নিতাই-গৌরাঙ্গ-পাদপদ্মে ভৃঙ্গ হৈয়া মধু পান করি।।*

*🌻শ্রীগৌরসুন্দর কখনও কৃষ্ণ-বিরহিনী রাধাভাবে ব‍্যাকুল হয়ে কাঁদছেন,তাঁর হৃদয় নিকুঞ্জে শ্রীমতীর ভাবে নিজের অন্তর ভাবিতা করে নিয়েছেন।তখন তিনি শুনলেন, "কৃষ্ণবর্ণ শিশু এক মুরলী বাজায়"। শ্রীগৌরাঙ্গের চিত্ত নিকুঞ্জ বাসিনী কৃষ্ণাঙ্গিনী কিশোরী শ্রীরাধা যে মুরলী বাজাচ্ছেন তাইই গৌরহরি শুনে প্রেম উন্মত্ত হয়েছেন।প্রাণকোটি প্রিয়তমকে নিজের কাছে পেয়ে বিরহ উন্মাদনা এটি প্রেমবৈচিত্র‍্যে, এখানে বাঞ্জাত্রয়ের আংশিকভাবে পূর্ণ হল।*
*🌻এর পর যখন নবীন সন্ন‍্যাসী শ্রীচৈতন‍্যদেব প্রেমোন্মত্ত হয়ে শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করে,জগন্নাথকে আলিঙ্গন করে প্রেমাবিষ্ট হয়ে মন্দিরে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন,তখন শ্রীচৈতন‍্যের শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ,উদর স্পন্দন নাই।তাঁর দশা দেখে সার্বভৌম ভীষণ চিন্তিত হলেন, এটি অধিরূঢ় মহাভাবের সুদীপ্ত সাত্ত্বিক বিকার।তিনঘন্টা পর্যন্ত ছিল।এখানেও গোপীঋণ পরিশোধ হতে লাগল।*

*🌻রথযাত্রায় শ্রীচৈতন‍্যদেব শ্রীস্বরূপদামোদরকে-- "সেই ত পরাণনাথ পাইলু" পদ গাইতে বললেন।গান শুনে মহাপ্রভুর ব্রজের ভাবে ভাবিত হয়ে, স্বরূপের গলা ধরে আস্বাদন করলেন, মনে হল শ্রীরাধা ললিতার কাছে কৃষ্ণ মাধুর্য‍্য বর্ণনা করছেন।তার পর জগন্নাথকে মালা ও অলঙ্কারে ভূষিত দেখে মহাপ্রভুর আনন্দসিন্ধু উথলিয়ে উঠিল।তারসঙ্গে প্রেমের উন্মাদ প্রবলভাবে বাড়তে লাগলে,শ্রীমুখ হতে ফেন ও লালাস্রাব হতে লাগল।এটি অধিরূঢ় মহাভাবে দিব‍্য উন্মাদ দশা।এইভাবে ধীরে ধীরে রাধা ঋণ শোধ হতে লাগল।শ্রীচৈতন‍্যদেব রাধাভাবে শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য‍্যাস্বাদন করে তিন বাঞ্জা পূর্ণ করলেন।*
*🌻মহাপ্রভুর কৃষ্ণ দর্শনের উৎকণ্ঠায় চিন্তা,জাগরণ,উন্মাদ ও মূর্ছা প্রভৃতি দশদশায় দীর্ঘাকৃতি মূর্তি ধারণ করেছিলেন।এটিও রাধা ঋণ পরিশোধের একঅঙ্গ।*

*🌻গোপীগণের মধ্যে যিনি সর্বোত্তমা অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধা,যাঁর নিজ সুখের বিন্দুমাত্র সুখবাঞ্জা নেই, যার মাদনাখ‍্য মহাভাবে দিব‍্য বা অলৌকিক মধু বিশেষের মত মাদকতা সম্পন্ন সেই রাধার ভাবে ভক্তভাব অঙ্গীকার করে নীলাচলে গম্ভীরার মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ-মাধুর্য‍্য ও বৃন্দাবন লীলা রসাস্বাদন করেছিলেন।শ্রীকৃষ্ণের তিনটি বাঞ্জা যথা,শ্রীরাধার প্রণয়মহিমার তাৎপর্য‍্য, শ্রীরাধা কর্তৃক মাদনাখ‍্য মহাভাবের দ্বারা আস্বাদ‍্য শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত মাধুর্য‍্য ও শ্রীকৃষ্ণের এই অদ্ভুত,অনন্ত মধুরিমা অনুভব করে শ্রীকৃষ্ণ হতে শ্রীরাধার কোটিগুণ সুখানুভূতি কিরকম, ইত্যাদি পরিপূর্ণ হল। শ্রীমদ্ভাগবতে ১০|৩২|২০ " ন পারয়েহহং" শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ গোপীগণের ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে এবং গীতার "যে যথা মাং প্রপদন্তে" শ্লোকে গোপীর প্রীতি অনুরূপ প্রীতি করতে অসমর্থ হয়ে ধন‍্য কলিযুগে শ্রীগৌররূপে অবতীর্ণ হলেন।গোপীঋণ বা রাধাঋণ এতই ভারী ও গরীয়ান যে শ্রীগৌরহরি কলির জীবের ঘরে ঘরে জয়রাধে শ্রীরাধে বলে নয়নজলে বক্ষ প্লাবিত করে শ্রীরাধার মহিমা ও প্রেম রসসীমা প্রকাশ করলেন।গম্ভীরাতে দিব‍্যোন্মাদ দশা দশম দশা,দীর্ঘাকৃতি,কূর্মাকৃতি প্রভৃতি মহাভাব দ্বারা শ্রীরাধার প্রেম পরিশোধ হল।তারপর ধীরে ধীরে শ্রীচৈতন‍্যদেবের দেহ ক্ষীণ হতে লাগল।এই ভাবে যখন তিনবাঞ্জা পরিশোধ হল,তখন আর বেশীদিন থাকবার ইচ্ছা মনে হল না।*
*🌻লেখকের উক্তি, সম্প্রতি "শ্রীচৈতন‍্য কড়চা" নামে উড়িয়া ভাষায় একটি গ্রন্থ পাওয়া গিয়েছে, সেটি যুগান্তর পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে গরুড় স্তম্ভের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন,তখন ভক্তগণ ও অগণিত লোকগুলি একটি চোখ ধাধান দিব‍্য জ‍্যোতি দেখতে পেলেন,পরমুহূর্ত‍্যেই আর মহাপ্রভুকে দেখা গেল না,শুধু দেখা গেল তাঁর পরিধেয় কৌপীনবস্ত্র,সেটি পরিশেষে আইটোটায় অবস্থিত পন্ডিত গদাধরের আশ্রমে সমাধিস্থ হয়। লেখক প্রায় চল্লিশ বৎসর পূর্বে গদাধর সেবিত শ্রীগোপীনাথ জীউকে দর্শন করতে গিয়েছিলেন, তখন একটি ফলকে লেখা ছিল----*
*🌷কি বলিব দুঃখের কথা বক্ষ ফেটে যায়।*
*🌷মহাপ্রভু মিলিলেন গোপীনাথের গায়।।*
*🌻মহাপ্রভুর আবির্ভাব--, ১৪০৭ শকে ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৮৬ খৃষ্টাব্দে ১৮ই ফেব্রুয়ারি।তিরোভাব--, ১৫৩৩ খৃষ্টাব্দে ২৯শে জুন,(৩১শে আষাঢ়)তাঁর জীবনকাল মাত্র ৪৭ বৎসর ০৪ মাস।*

*🍀হয়ত পদকর্তার মনে এই ভাবনাগুলো জাগরিত হয়ে, "কহিবার•••••••••••••••••বিলাপ।।*

*🙏যাইহোক, বানান ভুলভ্রান্তি মাজনীয়।*

*🌻পদটি এই রকম-----*
*🌷রসে তনু ঢরঢর,গৌর কিশোর বর,*
          *নাম যাঁর শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য।*
*🌷এ সব নিগূঢ় কথা,কহিতে অন্তরে ব‍্যথা,*
      *ভক্তি বিনা নাহি জানে অন‍্য।।*
*🌷দ্বাপর যুগেতে শ‍্যাম,কলিতে চৈতন‍্য নাম,*
          *গর্গবাক‍্য ভাগবতে লিখি।*
*🌷মনে করি অনুমান,গৌরাঙ্গ ভেল শ‍্যাম,*
            *রাধাকৃষ্ণ তনু তার সাখি।।*
*🌷অন্তরে শ‍্যাম তনু,বাহিরে গৌরাঙ্গ যনু,*
        *অপরূপ গৌরাঙ্গ লীলা।*
*🌷রাই সঙ্গে খেলাইতে,কুঞ্জরস বিলসিতে,*
          *অনুরাগে গৌর তনু হৈলা।।*
*🌷কহিবার কথা নয়,কহিলে কি জানি হয়,*
           *মনে মোর এই বর তাপ।*
*🌷চিতে অনুমান করি,হৃদয়ে গৌরাঙ্গ ধরি,*
           *নরহরি করয়ে বিলাপ।।*

🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏






*🌻স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা ১ম পদ*
      •••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀প্রথম পদে প্রথম অন্তরা---*
*নিধুবনে দুহুঁজনে,চৌদিকে সখীগণে,*
         *শুতিয়াছে রসের আলসে।*
*নিশিশেষে বিধুমুখী,উঠিলেন স্বপ্ন দেখি,*
        *কাঁদি কাঁদি কহে বঁধূ পাশে।।*

*🌻ভক্তবৎসল প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণ, রাধারাণী তথা সমস্ত সখীগণের কাছে তাঁদের সেবায় শ্রীকৃষ্ণ ঋণী হয়েছেন।শ্রীকৃষ্ণ এই কথাও বলেছিলেন যে, তোমরাই পারবে আমার এই ঋণ মুক্ত করতে, তোমাদের এই ঋণ আমি কোনদিনই পরিশোধ করতে পারব না।তাই চতুরের শিরোমণি শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতী রাধারাণীর সঙ্গে চাতুরিতা করেছিলেন। কি চাতুরিতা? আস্বাদন করুন।*
*🍀রাসমঞ্চে সারানিশি নৃত্য-গীত করে ভীষণ পরিশ্রান্ত হয়েছেন সকলেই,সখীদের কর্ম কেবল যুগলরূপ দর্শন ও সেবা করে চরম আনন্দ লাভ করা।শেষে সখীগণ বুঝতে পারলেন যে নৃত‍্যগীতে রাধারাণীর জয় হয়েছে,এবার বিশ্রামের প্রয়োজন, তখন তাঁরা নিকুঞ্জ বনে কুসুম দিয়ে শয‍্যা রচনা করলেন, সেই শয‍্যায় রাধাগোবিন্দ শয়ন করলেন।*

*রাধারাণীর অষ্টসখী, এই অষ্টসখীর সেবা ললিতার তাম্বুলসেবা, বিশাখার নূপুর সেবা,চিত্রা বসন সেবা,চম্পকলতার চামর সেবা, তুঙ্গবিদ‍্যার গীতবাদ‍্য সেবা ও দুগ্ধ সেবা,ইন্দুরেখা শ্রীমতীর সঙ্গে নৃত‍্য সেবা করেন,রঙ্গদেবীর আলতা সেবা, ও সুদেবীর জল-সেবা। এই অষ্টসখীর সেবাকার্য‍্য। এছাড়াও অন‍্য কিছু সখী আছেন যেমন শশীরেখার দর্পণাদি রক্ষণের কাজ, বিমলার পদসেবায়, পালিকার কুসুমশয‍্যা রচনাকারিণী, শ‍্যামলার চন্দনাদি প্রলপনে নিয়োজিতা,অঙ্গনার মলাদি রচনা, মধুমতীর বস্ত্রাদি রক্ষণায় নিয়োজিত।*
*শ্রীরাধাগোবিন্দ শয়নে আছেন আর শয়নকালের যে সেবা, সখীগণ নিজ নিজ সেবা করছেন।এইভাবে নিশি প্রায় শেষ হতে চলেছে,এমন সময় শ্রীকৃষ্ণ ছলনা করে শ্রীমতীকে স্বপ্ন দেখালেন, কেন? পূর্বেই বলেছি যে তিনি ঋণ হয়েছেন, এই ঋণ শোধ করতে হলে একমাত্র রাধারাণীর অনুমতি না পেলে কোন কর্মই সফল হবে না।তাই কৃষ্ণচন্দ্র গৌররূপ ধারণ করে রাইধনিতে স্বপ্ন দেখালেন।স্বপ্ন দেখে রাইধনি কেঁদে কেঁ‍দে প্রাণবল্লভকে বলছেন।*


*স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা ২য় কলির ব‍্যাখ‍্যা।*

*🌻🌻🌻🌻পদ🌻🌻🌻🌻*
*উঠ উঠ প্রাণনাথ,কি দেখিলাম অকস্মাৎ,*
        *এক যুবা গৌরবরণ।*
*কিবা তার রূপঠাম,জিনি কত কোটি কাম,*
        *রসরাজ রসের সদন।।*

*🌻শ্রীমতী প্রেমময়ী রাইধনি দেখলেন তাঁর প্রাণবল্লভ শয়নে আছেন,ঘুমন্ত অবস্থায় কাউকেও জাগাতে নেই,তাই তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় ব্রজবিহারী শ্রীকৃষ্ণের চরণসেবা করতে লাগলেন।চরণসেবা করতে করতে যদি প্রাণনাথের নিদ্রা ভঙ্গ হয়,তাহলে তিনি সেই স্বপ্নের কথা বলবেন।তিনি অন্তরে বলছেন, " উঠ উঠ প্রাণনাথ" বদন দিয়ে কিন্তু বাহির হচ্ছে না।চতুরের শিরোমণি ছলনা করে ঘুমিয়ে ছিলেন, রাধারাণী কি করেন তা দেখবার জন্য।রাইধনির পদসেবায় কৃষ্ণের নিদ্রা ভঙ্গ হল, এটিই তিনি শ্রীমতীর সম্মুখে দেখালেন।যখন তিনি উঠলেন, রাইধনি বলছেন, প্রাণবল্লভ! কি এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম, "এক মনোহরণকারী নব যুবক গৌরবর্ণ দেখলাম, অহো! কি তার রূপ!আমি জানি যে কামদেব দেখতে অতীব সুন্দর, কিন্তু ঐ যুবকের রূপ দেখে মনে হল ঐরকম কোটি কামদেব তার রূপের কাছে তুচ্ছাতিতুচ্ছ।যেন মনে হল তিনি রসে টইটম্বুর, রসের ভান্ডার।*
*কিবা তার রূপঠাম,জিনি কত কোটি কাম,*
        *রসরাজ রসের সদন।।*

*স্বপ্নবিলাস ৩য় কলির ব‍্যাখ‍্যা*

*অশ্রু কম্প পুলকাদি,ভাব ভূষা নিরবধি,*
         *নাচে গায় মহা মত্ত হৈয়া।*
*অনুপম রূপ দেখি,জুড়াইল মোর আঁখি,*
         *মন ধায় তাহারে দেখিয়া।।*

*🌻হে প্রাণবল্লভ!সেই অপরূপ রূপের গৌরবরণ যুবকটির মধ্যে অষ্টসাত্ত্বিকের বেশ অনেকগুলি ভাব প্রকাশ পেয়ে,দেখলাম মহানন্দে মহা মত্ত হয়ে নৃত্য গীত করছে। বলতে আমার বড়ই লজ্জা করছে যে, আমার তো একটি মন, সেই মন প্রাণ সমস্ত তোমার শ্রীচরণে অর্পণ করেছি, কিন্তু কেন যে ঐ যুবকের রূপে আমার দেহ মন প্রাণ তার চরণে সঁপে দিলাম, আর কেনই বা ঐ রূপ দেখে আমার আঁখি জুড়াইল কিছুই বুঝতে পারলাম না,স্বপ্নে যখন থেকে আমি ঐ গৌরবরণ যুবককে দেখেছি, আমার মন তার দিকে ধাবিত হয়েছে।*
*অনুপম রূপ দেখি,জুড়াইল মোর আঁখি,*
        *মন ধায় তাহারে দেখিয়া।।*

*স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলার ৪র্থ কলির সংক্ষেপে ব‍্যাখ‍্যা।*

*নব জলধর রূপ, রসময় রসকূপ,*
        *ইহা বৈ না দেখি নয়নে।*
*তবে কেন বিপরীত,হেন ভেল আচম্বিত,*
       *কহ নাথ ইহার কারণে।।*

*🌻হে প্রাণেশ্বর! এই ব্রজে, তোমার কাছে বোধহয় আমার আর মান-সম্মান রইল না, একজন সতীনারীর একমাত্র সম্বল তার পতি, যে সতীনারী নিজ পতি ত‍্যাগ করে অন‍্য পরপুরুষের প্রতি নজর দেয় তাকে কুলটাই বলে, তাইনা? যে এক কুল হতে অন‍্য কুলে গমন করে, "ভুলিনু রূপের জালে,কুলটা হইনু কালে। চতুরের শিরোমণি চোখ-মুখ বন্ধ করে রাইধনির কথাগুলি শুনছেন, আর মনে মনে হাসছেন, এবং বলছেন--আমার বাসনা পূর্ণ হ'ল। শ্রীমতী রাধা আরও বললেন, প্রাণনাথ!কি রূপই না দেখলাম!ব্রজে এতকাল ধরে বাস করছি পূর্বে কখনই এমন স্বপ্ন দেখি নাই।এইরকম কেন হল বল না?তুমি যদি জান তবে এর কারণটি আমায় বল।*
*তবে কেন বিপরীত,হেন ভেল আচম্বিত,*
       *কহ নাথ ইহার কারণে।।*

*স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা বিরাম কলি*

*চতুর্ভূজ আদি কত,বনের দেবতা যত,*
      *দেখিয়াছি এই বৃন্দাবনে।*
*তাহে তিরপিত মন,না হইল কদাচন,*
       *(এই)গৌরাঙ্গ হরিল মোর মন।।*
*এতেক কহিতে ধনি,মূর্ছাপ্রায় ভেল জানি,*
       *বিদগধ রসিক নাগর।*
*কোলেতে করিয়া গোরী,মুখ চুম্বে বেরি বেরি,*
        *হেরিয়া জগদানন্দ ভোর।।*

*🌻রাধারাণী এওও বললেন, যেদিন আমি রাখাল বেশ ধারণ করে গোচারণ ভূমিতে গিয়েছিলাম, তখন সেই গোচারণ ভূমিতে কত দেব দেবতাগণ এসে আমার শ্রীচরণ দর্শন করবার জন্য লালায়িত হয়েছিলেন, কিন্তু তাতেও আমার মন তাঁদের দেখে তিরপিত (তৃপ্তি) হয়নি,তবে আজ কেন এমন হল, বলো প্রাণনাথ? এই কথাগুলি বলতে বলতে রসময়ী রাধারাণী প্রায় অচেতন হয়ে পড়লেন।যখন অচেতন হলেন রসিকনাগর রসের সাগর শ্রীকৃষ্ণ, রাইধনিকে কোলে নিয়ে আদর করতে লাগলেন। পদকর্তা সখী ভাবাবিষ্ট হয়ে জগদানন্দ শ্রীকৃষ্ণের কোলে রাইধনীকে আদর করতে দেখে আনন্দে বিভোর হলেন।*
*কোলেতে করিয়া ধনি,মুখ চুম্বে বেরি বেরি,*
      *হেরিয়া জগদানন্দ ভোর।।*

*🌻স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা ২য় পদের ১ম কলি।*

*শুনইতে রাই, বচন-অধরামৃত,*
      *বিদগধ রসময় কান।*
*আপনাক ভাবে, ভাব প্রকাশিত,*
     *ধনী অনুমতি ভেল জান।।*
  *সুন্দরি যে দেখিলা গৌর-স্বরূপ।*
*সো নহি আন, কেবল তুয়া প্রেম,*
       *মোহে করব তেন রূপ।।*

*🌻ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ আগত কলিযুগের জীবের দশা মনে করে চিন্তায় আকুল হয়েছিলেন সেই দ্বাপরযুগে।তিনি ভেবেছিলেন একমাত্র রাধারাণী ছাড়া আমার কলিযুগে সম্ভব নই,তাই হেন তেন প্রকারে রাধারাণীর অনুমতি না পেলে আমি কলিযুগে গৌরাঙ্গ হয়ে যেতে পারব না,রাধারাণীর স্বপ্নকথা শুনে বুঝতে পারলেন যে,রাইধনি সেই গৌরবরণ রূপে দেহ মন প্রাণ সমস্ত কিছুই অর্পণ করে দিয়েছেন,এও ভাবলেন যে,সত‍্যিই আমি রাইয়ের অনুমতি পেলাম।*
*আপনাক ভাবে, ভাব প্রকাশিতে,*
       *ধনি অনুমতি ভেল জান।।*
*🍀তখন শ্রীকৃষ্ণ প্রেমময়ী রাইধনিকে বললেন, রাধে! তুমি যে গৌর-স্বরূপ দেখলে,তা আন নহি, একেবারেই সত‍্য, এই গৌররূপ ধারণ আমার পক্ষে সম্ভব নয়,একমাত্র তোমার প্রেম সম্বল করে, এবং তোমার রূপ অঙ্গে ধারণ করে আমায় যেতে হবে।*
*সো নহি আন, কেবল তুয়া প্রেম,*
       *মোহে করব তেন রূপ।।*

*কৈছন তুয়া প্রেমা,কৈছন মধুরিমা,*
       *কৈছন সুখে তুহুঁ ভোর।*
*এ তিন বাঞ্জিত ধন,ব্রজে নহিল পূরণ,*
        *কি কহব না পাইয়া ওর।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণ মহাভাব প্রেমময়ী কৃষ্ণানুরাগিনী রাধাঠাকুরাণীকে বলছেন, রাই! তুমি ছাড়া আমার গতি নাই, বিশেষ করে তোমার প্রেম মহিমা কিরকম, তুমি যে প্রেম সহকারে আস্বাদন করেছ সেই মাধুর্য‍্যই বা কিরকম, তুমি আমাকে ভালবেসে যে আনন্দ উপভোগ করেছ,সেই আনন্দই বা কিরকম। এই তিনটি বিষয়ে লোভবশবর্তী হয়ে আমি কলিযুগে নদীয়ায় অবতীর্ণ হব।*
*এ তিন বাঞ্জিত ধন,ব্রজে নহিল পূরণ,*
       *কি কহব না পাইয়া ওর।।*
              *ক্রমাগত*

*🌻স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা পদের ব‍্যাখ‍্যা।*

*ভাবিয়া দেখিনু মনে,তোঁহারি স্বরূপ বিনে,*
       *এ বাসনা পূর্ণ কভু নয়।*
*তুয়া ভাব কান্তি ধরি, তুয়া প্রেম গুরু করি,*
      *নদীয়াতে করব উদয়।।*

*🌻খুবই সহজ পদের মধ্যেই ব‍্যাখ‍্যা আছে।*
*🌻আগত কলিযুগের জীব কাম-কামনা,বিষয়-বাসনায় মত্ত হয়ে আছে, তা ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপরযুগের দেখতে পাচ্ছেন, কারণ তিনি সর্ব কারণ কারণ,তাই মুখ‍্য ও গৌণ দুইটি কারণ নিয়ে নদীয়ায় অবতীর্ণ হবেন।* *তাহলে কলির জীবকে আকর্ষণ করতে হলে অপরূপ রূপের মানুষ হয়ে অবতীর্ণ হতে হবে, তাই অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডে একমাত্র শ্রীরাধার থেকে সুন্দরী আর কেউ নেই, তাই শ্রীকৃষ্ণের মনের বাঞ্জা শ্রীরাধার ভাবকান্তি ধারণ করে তিনি অবতীর্ণ হবেন।*
*তুয়া ভাব কান্তি ধরি,তুয়া প্রেম গুরু করি,*
      *নদীয়াতে করব উদয়।।*

*সাধিব মনের সাধা,ঘুচাব মনের বাধা,*
     *জগতে বিলাব প্রেমধন।*
*বলরাম দাসে কয়,প্রভু মোর দয়াময়,*
      *না ভজিনু মুঞি নরাধম।।*

*🌻আমরা ভগবানের জন্য কতটুকু ভাবি, তাইনা? কিন্তু ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ আমাদের মত অবাধ‍্য সন্তানদের জন্য দ্বাপরযুগ থেকেই ভাবছেন যে, তাদের কেমন করে উদ্ধার করব।কেমন করে অবাধ‍্য সন্তানরা আনন্দে মুখরিত হবে এই চিন্তায় ব‍্যাকুল।তাই শ্রীরাধার প্রেমধন হৃদয়ে নিয়ে,সেই প্রেমধন বিতরণ করে কলির জীবকে উদ্ধার করব।অন‍্যান‍্য যুগে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অসুর নিধন করে ধর্ম স্থাপন করেছি, কিন্তু কলি জীবের পরমায়ু অতি স্বল্প, এই স্বল্পায়ু জীবদের একমাত্র প্রেমভক্তি দিয়েই উদ্ধার করতে হবে। পদকর্তা বলরামদাস সখী ভাবাবিষ্ট হয়ে বলছেন,প্রভু (কৃষ্ণ) আমার কত দয়াময়,আমাদের জন্য তাঁর কত ব‍্যাকুলতা,এমন সুদুর্লভ মনুষ‍্য জনম পেয়েও এমন প্রেমের ঠাকুরকে ভজিলাম না।*

*বলরামদাসে কয়,প্রভু মোর দয়াময়,*
      *না ভজিনু মুঞি নরাধম।।*

*স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা ৩য় পদের ব‍্যাখ‍্যা।*

    *বঁধূ হে শুনইতে কাঁপই দেহা।*
*তুহুঁ ব্রজ-জীবন,তুয়া বিনু কৈছন,*
       *ব্রজপুর বাঁধব থেহা।।*
*🌻কৃষ্ণহৃদিবিলাসিনী,শ‍্যামকন্ঠ হেমমণি,রমণীমুকুটমণি,কৃষ্ণমনমোহিনী,মহাভাবস্বরূপিনী শ্রীরাধাঠাকুরাণী বলছেন---, হে আমার প্রাণবল্লভ শ‍্যামসুন্দর!তুমি কি কথা শুনালে!তোমার কথাগুলি শুনে আমার সমস্ত শরীর যেন কাঁপতে লাগিল।হে প্রাণনাথ!ব্রজজনের জীবন,তুমি আমার হৃদয়ের ধন,তুমি আমার জীবন,তুমি আমার সবকিছু,তোমাকে ছেড়ে কি করে এই ব্রজে থাকব?*
*তুহুঁ ব্রজ-জীবন, তুয়া বিনু কৈছন,*
        *ব্রজপুর বাঁধব থেহা।।*

*জল বিনু মীন, ফণী বিনু মণি,*
      *তেজয়ে আপন পরাণ।*
*তিল আধ তুহাঁরি,দরশ বিনু তৈছন,*
        *ব্রজপুর গতি তুহুঁ জান।।*

*🌻শ্রীনামের তত্ত্ব।*

*🌷যত্ন করি কৃপা মাগি ব‍্যাকুল অন্তরে।*
*🌷তুমি কৃপাময় কৃপা কর অতঃপরে।।*
*🌷তব কৃপালাভে যদি না করি যতন।*
*🌷তবে আমি ভাগ‍্যহীন হে শচীনন্দন।।*
*🌻যে সব মানুষ কেবল নিজবুদ্ধি ও অর্থ চেষ্টা বলে ভজনে রত হন,তাঁরা কখনই ফললাভ করতে পারেন না।কৃষ্ণ কৃপায় সব কাজের মূল। সুতরাং যিনি কৃষ্ণ কৃপা পাবার চেষ্টা না করেন তিনি নিতান্ত ভাগ‍্যহীন।*
*🍀এই পরিচ্ছেদ শেষে একাগ্র মানসে যে নাম স্মৃতি অভ‍্যাস করবে বলা হয়,তার সম্বন্ধে সর্বজীবের প্রতি শ্রীমন্মহাপ্রভুর উপদেশ (চৈঃভাঃ মধ‍্য)*
*🌷আপন সবারে প্রভু করে উপদেশে।*
*🌷কৃষ্ণনাম মহামন্ত্র শুনহ হরিষে।।*
*🌷হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।*
*🌷হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।*
*🌷 প্রভু বলে হরিনাম এই মহামন্ত্র।*
*🌷ইহা জপ গিয়া সবে করিয়া নির্ব্বন্ধ।।*
*🌷ইহা হইতে সর্ব সিদ্ধি হইবে সবার।*
*🌷সর্বক্ষণ বল ইথে বিধি নাহি আর।।*
*🌻এখানে নির্ব্বন্ধ শব্দের অর্থ এই যে সাধক ১০৮ সংখ্যক তুলসীমালায় এই ষোলনাম বত্রিশ অক্ষর জপ করবেন।চারবার মালা ফিরিলে একগ্রন্থ হয়।একগ্রন্থ নিয়ম করে ক্রমশ বৃদ্ধি করতে করতে ১৬ গ্রন্থে এক লক্ষ নাম নির্ব্বন্ধ হবে।ক্রমশ তিন লক্ষ করলে অখিলকার নামেতেই যাপিত হবে।সমস্ত পূর্বমহাজনগণ মহাপ্রভুর এই আদেশ পালন করে সর্বসিদ্ধিলাভ করেছিলেন।এখনও এই নাম জপ দ্বারা সকলেরই সর্বসিদ্ধি লাভের সম্ভাবনা।মুক্ত,মুমুক্ষু,বিষয়ী সকলেই এই নামের অধিকারী।মুক্ত প্রভৃতির নামে কিছু কিছু ভাবনা ভেদ দেখা যায়।বিরহ ও সম্ভোগ উভয় অবস্থায় এই নাম ভাবনাভেদে নিত‍্য আস্বাদ‍্য।*
*🌷হরিনাম চিন্তামণি অলঙ্কার যার।*
*🌷 হরিদাস পদযুগ ভরসা তাহার।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣


*স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা ৩য় পদ*

*🍀যেমন মণি ছাড়া ফণি, জল ছাড়া মাছ বাঁচে না, তেমনি আমি তোমায় ছাড়া বাঁচতে পারব না।*

*তিল আধ তুহাঁরি,দরশ বিনু তৈছন,*
       *ব্রজপুর গতি তুহুঁ জান।*
*🍀হে নাথ!এই ব্রজপুরের একমাত্র তুমিই আমার প্রাণ, তোমাকে তিলমাত্র সময় দর্শন না করে থাকতে পারি না,আর তুমি বলছ গৌর হয়ে নদীয়ায় চলে যাবে!*

*সকল সমাধি,কোন সিধি সাধবি,*
       *পাওবি কোন সুখ।*
*কিয়ে আন জন,তুয়া মরমহি জানব,*
      *ইথি লাগি বিদরয়ে বুক।*
*🌻এক বিষয়ে মনোনিবশই "একাগ্রতা" ,একাগ্রতা বদ্ধমূল হলেই তার নাম "ধারণা",ধারণা বদ্ধমূল হলেই তাকে "ধ‍্যান" বলে, ধ‍্যান বদ্ধমূল বা গাঢ় হলেই ঐ ধ‍্যানকে "সমাধি" বলে।সমাধি দশায় অহং-জ্ঞান থাকে না,কেবলমাত্র ধ‍্যেয় বস্তুরই আভাস থাকে।*
*🍀তাই রাধারাণী বলছেন,কিসের জন্য তুমি নদীয়ায় যাবে, ঐখানে কোন সমাধি সাধন করবে?ঐখানে গিয়ে তুমি কোন সুখ পাবে?নদীয়ার আনজন সাধারণ মানুষগুলি কি তোমার মর্ম বুঝবে?না জানি তোমার কত না কষ্ট হবে, তোমার কথা শোনার পর হতেই আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।*
*🌷ইথি লাগি বিদরয়ে বুক।*

*বৃন্দাবন কুঞ্জ,নিকুঞ্জহি নিবসয়ি,*
         *তুহুঁ বর নাগর কান।*
*অহনিশি তুহাঁরি, দরশ বিনু ঝুরব,*
         *তেজব সবহুঁ পরাণ।।*

*🌻হে নাথ! বলতে বড় ব‍্যথা লাগছে, তুমি চলে গেলে দিবানিশি তোমার দর্শন না পেয়ে আমরা সকলেই প্রাণ ত‍্যাগ করব।*

*অগ্রজ সঙ্গে, রঙ্গে যমুনা তটে,*
    *সখা সঙ্গে করবি বিলাস।*
*পরিহরি মুঝে কিয়ে,প্রেম প্রকাশবি,*
      *না বুঝয়ে বলরাম দাস।।*


*🌻🌻🌻🌻শরীর তত্ত্ব🌻🌻🌻🌻*

*🌷নবচক্রং ষোড়শধারং ত্রিলক্ষ‍্যং বোমপঞ্চকং।*
*🌷স্বদেহে যো ন জানন্তি কথং সিদ্ধ‍্যন্তি যোগিনঃ।।*
                   *(উৎপত্তিতত্ত্ব)*

*🌹নবচক্র,ষোড়শাধার,ত্রিলক্ষ‍্য ও পঞ্চাকাশ স্বদেহে যে লোক জানে না,তার সিদ্ধি কিরকম ভাবে হবে?যে কোন সাধনের জন্য যা প্রয়োজন,সমস্তই দেহমধ‍্যে আছে।*

*🌷ত্রৈলোক‍্য যানি ভূতানি তানি সর্বাণি দেহতঃ।*
*🌷মেরুং সংবেষ্ট‍্য সর্বত্র ব‍্যবহারঃ প্রবর্ততে।।শিব সংহিতা ২|৪*

*🌹ভূ-ভূর্বঃ-স্বঃ এই তিনলোকমধ‍্যে যত রকম জীব আছে,তার সমস্তই দেহের মধ্যে অবস্থিত করছে।সেই সব পদার্থ মেরুকে বেষ্টন বা ঘিরে আপন আপন বিষয়ের সম্পাদন করছে।*

*🌷দেহেহস্মিন্ বর্ততে মেরুঃ সপ্তদীপসমন্বিতঃ।*
*🌷সরিতঃ সাগরাঃ শৈলাঃ ক্ষেত্রাণি ক্ষেত্রপালকাঃ।।*
*🌷ঋষয়ো মনয়ঃ সর্বে নক্ষত্রাণি গ্রহাস্তথা।*
*🌷পুণ‍্যতীর্থানি পীঠানি বর্তন্তে পীঠদেবতাঃ।।*
*🌷সৃষ্টিসংহারকর্তারৌ ভ্রমন্তৌ শশিভাস্করৌ।*
*🌷নভো বায়ুশ্চ বহ্নিশ্চ জলং পৃথ্বী তথৈব চ।।*
                        *(শিবসংহিতা ২|১-৩)*

*🌹জীবদেহে সপ্তদীপের সঙ্গে সুমেরু পর্বত অবস্থিতি করে এবং সকল নদ,নদী,সমুদ্র,পর্বত,ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রপাল প্রভৃতিও অবস্থান করে থাকে।মুনি-ঋষিসকল,গ্রহ-নক্ষত্র, পুণ‍্যতীর্থ,পুণ‍্যপীঠ ও পীঠদেবতাগণ এই দেহে নিত‍্য বিরাজ করছেন।সৃষ্টিসংহারক চন্দ্র-সূর্য‍্য এই দেহে সবসময় ভ্রমণ করছেন।আর পৃথিবী,জল,অগ্নি,বায়ু ও আকাশ প্রভৃতি পঞ্চমহাভূতও দেহে অধিষ্ঠিত হয়ে আছেন।*

*🌷জানাতি যঃ সর্বমিদং স যোগী নাত্র সংশয়ঃ। *(ঐ-২|৫)*

*🌹যে ব‍্যক্তি দেহের এই সমস্ত বৃতান্ত জানতে পারে,সেই ব‍্যক্তিই যোগী। সুতরাং সবার আগে দেহতত্ত্বটি জানা দরকার।*

*🌻প্রত‍্যেক জীবশরীরই শুক্র,শোণিত,মজ্জা, মেদ, মাংস, অস্থি ও ত্বক্ এই সাতটি ধাতুদ্বারা নির্মিত।মৃত্তিকা,বায়ু,অগ্নি,জল ও আকাশ--এই পঞ্চভূত হতে শরীর নির্মাণ হয় এই সপ্তধাতু এবং ক্ষুধা তৃষ্ণাদি শরীর-ধর্ম উৎপন্ন হয়েছে।পঞ্চভূত হতে এই শরীর জন্ম বলে ইহাকে ভৌতিক দেহ বলে।ভৌতিক দেহ নির্জীব ও জড়সম্পন্ন ; কিন্তু এটি চৈতন‍্যরূপী পুরুষের আবাসভূমি হওয়াতে সচেতনের মত প্রতীয়মান বা বোধগম্য হয়।শরীরের অভ‍্যন্তরে পঞ্চভূতের প্রত‍্যেকের অধিষ্ঠানের জন্য স্বতন্ত্র জায়গা আছে, ঐ জায়গাগুলিকে চক্র বলে।তারা নিজ নিজ চক্রে অবস্থান করে শারীরিক সমস্ত কাজ পরিচালনা করছে।গুহ‍্যদেশে মূলাধারচক্রটি পৃথিবীতত্ত্বের জায়গা, লিঙ্গমূলে স্বাধিষ্ঠনচক্রটি জলতত্ত্বের জায়গা, নাভিমূলে মণিপুরচক্রটি অগ্নতত্ত্বের জায়গা,হৃদ্দেশে হৃদয়দেশে অনাহতচক্রটি বায়ুতত্ত্বের জায়গা, কন্ঠদেশে বিশুদ্ধচক্রটি আকাশতত্ত্বের জায়গা।যোগীগণ এই পাঁচটি পৃথ্ব‍্যাদি ক্রমে পঞ্চমহাভূতের ধ‍্যান করে থাকেন।এটি ছাড়া চিন্তাযোগ‍্য আরও কয়েকটি চক্র আছে।ললাটদেশে আজ্ঞা নামক চক্রে পঞ্চতন্মাত্রতত্ত্ব,ইন্দ্রিয়তত্ত্ব, চিত্ত ও মনের জায়গা।তারউপরে জ্ঞান নামক চক্রে অহংতত্ত্বের জায়গা।তারওউর্ধে ব্রহ্মরন্ধ্রে একটি শতদলচক্র আছে, তারমধ‍্যে মহত্ততত্ত্বের জায়গা।আবার তারওউপরে মহাশূন‍্যে সহস্রদলচক্রে প্রকৃতি-পুরুষ পরমাত্মার স্থান।যোগীগণ পৃথ্বীতত্ত্ব হতে পরমাত্মা পর্যন্ত সমস্ত তত্ত্ব এই ভৌতিক দেহে চিন্তা করে থাকেন।*


*🔆🔆🔆নাড়ীর কথা🔆🔆🔆*
⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉

*🌷সার্দ্ধলক্ষত্রয়ং নাড‍্যঃ সন্তি দেহান্তরে নৃণাম্।*
*🌷প্রধানভূতা নাড‍্যস্তু তাসু মুখ‍্যাশ্চতুর্দশঃ।।*
                *(শিবসংহিতা ২|১৩)*

*🌹ভৌতিক দেহটি কার্যঁম হবার জন্য মূলাধার হতে প্রধানভূতা সাড়েতিনলক্ষ নাড়ী উৎপন্ন হয়ে, "গলিত অশ্বত্থ বা পদ্মপত্রে যেরকম শিরাজাল দেখা যায়,তদ্রূপ অস্থিময় দেহের উপর ওতপ্রোতভাবে পরিব‍্যাপ্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে অঙ্গ প্রত‍্যঙ্গের কার্যসব সম্পন্ন করছে।এই সাড়ে তিন লক্ষ নাড়ীর মধ্যে চোদ্দটি প্রধান।*

*🌷সুষুম্নেড়া পিঙ্গলা চ গান্ধারী হস্তিজিহ্বিকা।*
*🌷কুহূঃ সরস্বতী পূষা শঙ্খিনী চ পয়স্বিনী।।*
*🌷বারুণ‍্যলম্বুষা চৈব বিশ্বোদরী যশস্বিনী।*
*🌷এতাসু তিস্রো মুখ‍্যাঃ স‍্যুঃ পিঙ্গলেড়াসুষুম্নিকা।।*
                  *(শিবসংহিতা ২|১৪-১৫)*

*🌹ইড়া,পিঙ্গলা,সুষুম্না,গান্ধারী,হস্তিজিহ্বা, কুহূ,সরস্বতী,পূষা,শঙ্খিনী, পয়স্বিনী, বারুণী,অলম্বুষা,বিশ্বোদরী ও যশস্বিনী--এই চোদ্দটি নাড়ীর মধ্যে ইড়া,পিঙ্গলা ও সুষুম্না-- এই তিন নাড়ী প্রধানা।সুষুম্না নাড়ী মূলাধার হতে উৎপন্ন হয়ে নাভিমন্ডলে যে ডিম্বাকৃতি নাড়ীচক্র আছে,তার ঠিক মধ‍্যস্থল দিয়ে উত্থিত হয়ে ব্রহ্মরন্ধ্র পর্যন্ত গমন করেছে। সুষুম্নার বামপার্শ্ব হতে ইড়া এবং দক্ষিণপার্শ্ব হতে পিঙ্গলা উত্থিত হয়ে স্বাধিষ্ঠান,মণিপুর, অনাহত ও বিশুদ্ধ চক্রকে ধনুকাকারে বেষ্টন করে ইড়া দক্ষিণ বা ডান নাসাপুট বা নাকেরগর্ত পর্যন্ত এবং পিঙ্গলা বাম নাসাপুট পর্যন্ত গমন করেছে।মেরুদন্ডের রন্ধ্র ভিতর দিয়ে সুষুম্না নাড়ী ও মেরুদন্ডের বহির্দেশ দিয়ে পিঙ্গলেড়া(পিঙ্গলা ও ইড়া) নাড়ীদ্বয় গমন করেছে।ইড়া চন্দ্রস্বরূপা, পিঙ্গলা সূর্য‍্যস্বরূপা এবং সুষুম্না চন্দ্র,সূর্য‍্য ও অগ্নিস্বরূপা,সত্ত্ব,রজঃ ও তমঃ এই ত্রিগুণযুক্ত ও প্রস্ফুটিত ধুস্তুরপুষ্পষদৃশ শ্বেতবর্ণা।*

*🍀আগের অন‍্যান‍্য প্রধানা নাড়ীর মধ্যে কুহূ নাড়ী সুষুম্নার বাম দিক হতে উঠে মেঢ্রদেশ (পুরুষের শিশ্ন)পর্যন্ত গমন করেছে।বারুণী নাড়ী দেহের ঊর্ধ্ব এবং অধঃ প্রভৃতি সর্বগায়েই (সমস্ত শরীরেই) আচ্ছাদন আছে।যশস্বিনী নাড়ী ডান পায়ের অঙ্গুষ্ঠাভাগ পর্যন্ত,পূষানাড়ী ডান চোখ পর্যন্ত, পয়স্বিনী ডান কান পর্যন্ত, সরস্বতী জিহ্বাগ্র পর্যন্ত,শঙ্খিনী বাম কান পর্যন্ত,গান্ধারী বাম চোখ পর্যন্ত, হস্তিজিহ্বা বামপদাঙ্গুষ্ঠ পর্যন্ত,অলম্বুষা বদন পর্যন্ত এবং বিশ্বোদরী উদর পর্যন্ত গমন করেছে। এইভাবে সমস্ত শরীরটি নাড়ীদ্বারা আবৃত হয়ে রয়েছে।নাড়ীর উৎপত্তি ও বিস্তার সম্বন্ধে মনঃস্থির করে চিন্তা করলে বোধ হবে।*

*কন্দমূলটি ঠিক যেন পদ্মবীজকোষের চারপাশটি কেশরের মত নাড়ীগুলি দ্বারা ঘিরে আছে ; এবং বীজকোষটির মধ‍্যস্থল হতে ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্না নাড়ী পরাগকেশরের মত উঠে পূর্বোক্ত জায়গা পর্যন্ত গমন করেছে। ক্রমে ঐ সব নাড়ী হতে শাখা-প্রশাখাসব উঠে শরীরটিকে আপাদমস্তক কাপড়ের টানা পড়িয়ানের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।*
*🍀যোগীগণ প্রধানভূতা এই চোদ্দ নাড়ীকে পুণ‍্যনদী বলে থাকেন।কুহূনামে নাড়ীকে নর্মদা,শঙ্খিনী নাড়ীকে তাপ্তী,অলম্বুশা নাড়ীকে গোমতী,গান্ধারী ধাড়ীকে কাবেরী, পূষা নাড়ীকে তাম্রপর্ণী এবং হস্তিজিহ্বা নাড়ীকে সিন্ধু বলে। ইড়া গঙ্গারূপা,পিঙ্গলা যমুধারূপা আর সুষুম্না সরস্বতীরূপিনী। এই তিন নদী আজ্ঞাচক্রের উপরে যে জায়গায় মিলিত হয়েছে, সেই জায়গার ত্রিকূট বা ত্রিবেণী।এলাহাবাদে ত্রিবেণীতে লোক কষ্টে উপার্জিত পয়সা ব‍্যায় করে কিম্বা শারীরিক কষ্ট স্বীকার করে স্নান করতে যান, কিন্তু ঐসব নদীতে বাহ‍্যস্নান করলে যদি মুক্ত হত,তবে তীর্থাদির জলে জলচর জীবজন্তু থাকত না, সবাই উদ্ধার পেত। শাস্ত্রেও ব‍্যক্ত আছে যে---*

*🌷অন্তঃস্নানবিহীনস‍্য বহিঃস্নানেন কিং ফলম্।*

*🌹অন্তঃস্নান বিহীন ব‍্যক্তির বাইরের স্নানে কোন ফল নাই।গুরুর কৃপায় যিনি আত্মতীর্থ জেনেছেন,আজ্ঞাচক্রোর্ধ্বে এই তীর্থরাজ ত্রিবেণীতে মানস স্নান বা যৌগিক স্নান করেন,তিনি নিশ্চয়ই মুক্তিপদ লাভ করেন, শিববাক‍্যে সন্দেহ নাই।*
*💮ইড়া,পিঙ্গলা ও সুষম্না এই প্রধান তিনটি নাড়ীর মধ্যে সুষুম্না সর্বপ্রধান। এর গর্ভে বজ্রাণী নামক নাড়ী আছে। ঐ নাড়ী শিশ্নদেশ হতে আরম্ভ করে শিরঃস্থান বা মাথা পর্যন্ত পরিব‍্যাপ্ত বা ছড়িয়ে আছে।বজ্রনাড়ীর প্রণবযুক্তা অর্থ‍্যাৎ চন্দ্র,সূর্য‍্য ও অগ্নিস্বরূপ ব্রহ্মা, বিষ্ণু,শিব দ্বারা আদিতে ও অন্তে পরিবৃতা মাকড়সার জালের মত অতি সূক্ষ্মা চিত্রাণীনামক আর একটি নাড়ী আছে।এই চিত্রাণীনাড়ীতে পদ্ম বা চক্রসব গ্রথিত(গাথা) রয়েছে।চিত্রাণী নাড়ীর মধ্যে আর একটি বিদ‍্যুৎবর্ণা নাড়ী আছে, তার নাম ব্রহ্মনাড়ী।ব্রহ্মনাড়ী মূলাধার পদ্মস্থিত মহাদেবের মুখবিবর হতে উঠে শিরঃস্থিত সহস্রদল পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। যথা----*

*🌷তন্মধ‍্যে চিত্রাণী সা প্রণববিলসিতা যোগীনাং যোগগম‍্যা,*
*🌷লূতাতন্তূপমেয়া সকলসরসিজান্ মেরুমধ‍্যান্তরস্থান।*
*🌷ভিত্ত্বা দেদীপ‍্যতে তদ্ গ্রনরচনায়া শুদ্ধবুদ্ধিপ্রবোধা,*
*🌷তস‍্যান্তর্ব্রহ্মনাড়ী হরমুকুহরাদাদিদেবান্তসংস্থা।।*
  *(পূর্ণানন্দ পরমহংসকৃত ষট্ চক্রনিরূপণম্, ৩)*

*🌹এই ব্রহ্মনাড়ীটি অহর্নিশ বা সবসময়ই যোগীগণের পরিচিন্তনীয়। কারণ,যোগসাধনার চরম ফল এই ব্রহ্মনাড়ীটি হতে লাভ হয়ে থাকে।এই ব্রহ্মনাড়ীর ভিতর দিয়ে গমন করতে পারলে আত্ম সাক্ষাৎকার লাভ হয় এবং যোগের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়ে মুক্তিলাভ হয়ে থাকে।এখানে কোন নাড়ীতে কিরকম বায়ু সঞ্চরণ করে জানা আবশ্যক।*

*স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা ৪র্থ পদ*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆

*🌹ভক্তবৎসল শ্রীগোবিন্দ, শ্রীরাধিকার কথা শুনে প্রেমভরে বলছেন----*

*🌷শুনহ সুন্দরী মঝু অভিলাষ।*
*🌷ব্রজপুর-প্রেম করব পরকাশ।।*

*🌻হে রাইধনি! তোমার হৃদয়ের ব‍্যথার কথা শুনে আমারও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু কি করব, আমি যে তোমাদের ঋণে জর্জরিত হয়ে চরম ঋণী হয়ে গেছি, আর আগত কলিজীবের কথা চিন্তা করেও আমি স্থির থাকতে পারছি না।অন‍্যান‍্য যুগে অস্ত্র-শস্ত্র ধারণ করে অধর্মকে নাশ করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।কিন্তু আগত কলিজীবের স্বল্প পরমায়ু, "আমি এবে অস্ত্র না ধরিব, প্রেমভক্তি দিয়ে জীব উদ্ধারিব"।তাই আমার মনের বাসনা তোমার এই ব্রজপ্রেম আগত কলিযুগে আমি প্রকাশ করব।*
*🌻শুনহ সুন্দরী মঝু অভিলাষ।*
*🌻ব্রজপুর-প্রেম করব পরকাশ।।*

*🌷গোপ গোপাল সব জন মিলি।*
*🌷নদীয়া নগরে পরে করবহুঁ কেলি।।*

*🌹রাইধনি! আমায় কৃপা কর,ব্রজের যত গোপ-গোপাল-গোপী আছেন আমি সকলকে নিয়ে আগত কলিযুগে অবতীর্ণ হয়ে লীলাবিলাস করে সকলকে আনন্দ দিব আর কলিজীবকে উদ্ধার করব। তোমার অষ্টসখী আর চৌষট্টি মঞ্জরী আমার দ্বাদশ গোপাল আর অন‍্যান‍্য সখাগণকে নিয়ে মহানন্দ করব।তাছাড়া আমার যে গুপ্ত মনোবাসনা তা রসের ভক্তদের নিয়ে পূর্ণ করব।*
*🌻গোপ গোপাল সব জন মিলি।*
*🌻নদীয়া নগরে পরে করবহুঁ কেলি।।*

*🌷তনু তনু মেলি হোই এক ঠাম।*
*🌷অবিরত বদনে বোলব তব নাম।।*

*🌹হে প্রেমময়ী রাধে! আমার একান্ত ইচ্ছে তুমি আমি এক হয়েই আগত কলিযুগে নদীয়া নগরে অবতীর্ণ হয়ে,অবিরত, সবসময়ই এই বদনে তোমার নাম করব।*
*💮জয় রাধে রাধে,*
*💮রাধে তুমি কৃপা কর, জয় রাধে রাধে।*
*💮তোমা বিনে গতি নাই, রাধে রাধে।*
*💮প্রেমভক্তি ভান্ডারিনী, রাধে রাধে।*
*💮মঝু অভিলাষ পূর্ণকারিণী, রাধে রাধে।*
*💮জয় রাধে, জয় রাধে, জয় রাধে।*
*🌻তনু তনু মেলি হোই এক ঠাম।*
*🌻অবিরত বদনে বোলব তব নাম।।*

*🌷 ব্রজপুর পরিহরি কবহুঁ না যাব।*
*🌷ব্রজ বিনু প্রেম না হোয়ব লাভ।।*
*🌷ব্রজপুর-ভাব পূরব মন কাম।*
*🌷 অনুভবি জানল দাস বলরাম।।*

*🌻অনাদিরাদি গোবিন্দ শ্রীমতী প্রেমময়ীকে বলছেন, হে প্রেমময়ী! আমি তোমায় কথা দিলাম, আমি কখনই এই ব্রজপুর ত‍্যাগ করে কোথাও যাব না।এর প্রমাণ কি?এইকথার প্রমাণ পায় যে--*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপরযুগে লীলাবিলাস করেছিলেন,আর আমরা কলিযুগে এই সমস্ত তত্ত্বগুলি আস্বাদন করছি।কি করে জানব যে তিনি ব্রজপুর ছেড়ে কখনই অন‍্যত্র যাননি।এর প্রমাণ--*
*🍀অদ‍্যাবধি রাধাকৃষ্ণ লীলা করে যায়।*
*🍀কোন কোন ভাগ‍্যবান ভাগ‍্যবতী দেখিবারে পায়।।*
*🌻ব্রজে সাধারণত দুইপ্রকার লীলার কথা শোনা যায়,নিত‍্যলীলা ও নৈমিত্তিক লীলা।নিত‍্যলীলার ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি আছে।তাহলে শ্রীকৃষ্ণ যে বলেছেন,*
*🍀 ব্রজপুর পরিহরি কবহুঁ না যাব।*
*🌹আমি গোলোকে বহু কোটি বৎসর লীলা করেছি, কিন্তু তার থেকে সর্বোত্তম লীলা আমি মর্ত্ত‍্য বৃন্দাবনে করে আনন্দ পেয়েছি বা দিয়েছি।তাই একমাত্র ব্রজপুর ভাবই আমি নদীয়ায় গিয়ে বিতরণ করব।*
*🌻যাঁরা পরম রসিকভক্ত হন, ভাগবতচূড়ামণি হন, একমাত্র তাঁরাই শ্রীরাধাগোবিন্দের লীলা মানসনেত্রে দর্শন করতে পারেন।সেই লীলা দর্শন করে পদকর্তা সখী ভাবাবিষ্ট হয়ে বলেছেন,শ্রীকৃষ্ণই গৌররূপ ধারণ করে নদীয়ায় অবতরী হবেন।এই অনুভব আমার মনে হয়েছে।*
*🛑অতি সংক্ষেপে দুই-এক কথায় ব‍্যাখ‍্যা।*


*🌻🌻দেহতত্ত্ব বায়ুর কথা🌻🌻*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻

*ভৌতিক দেহে যত প্রকার শারীরিক কাজ হয়ে থাকে,তার সমস্তই বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়।চৈতন‍্যের সাহায্যে এই জড় দেহে বায়ুই জীবরূপে সমস্ত দৈহিক কাজ সম্পন্ন করছে।দেহ কেবল যন্ত্র মাত্র। বায়ু ঐ যন্ত্র চালনা করবার উপকরণ। সুতরাং বায়ুকে বশ করবার উপায়ের নাম যোগসাধন।বায়ু বশ হলেই মনও বশ হয়,মন নিজের বশে আসিলে ইন্দ্রিয় জয় করা যায়, ইন্দ্রিয় জয় হলেই সিদ্ধিলাভের আর বাকী থাকে না। বায়ু জয় করে যাতে চৈতন‍্যস্বরূপ পুরুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ হয়, তার জন্যই যোগীগণ যোগসাধন করে থাকেন, সুতরাং সবার আগে বায়ুর বিষয় জানা ভীষণ দরকার।*
*🍀মানবদেহের অভ‍্যন্তরে হৃদ্দেশে "অনাহত" নামক একটি রক্তবর্ণ পদ্ম আছে,তার মধ্যে ত্রিকাণাকার পীঠে "বায়ুবীজ (যং)নিহিত আছে।ঐ বায়ুবীজ বা বায়ুযন্ত্র প্রাণ নামে অভিহিত হয়ে থাকে।প্রাণবায়ু শরীরের নানাস্থানে অবস্থিত থেকে দৈহিক কার্যভেদে দশ নাম ধারণ করেছে।*
*🌷প্রাণোহপানঃ সমানশ্চোদানব‍্যানৌ চ বায়বঃ।*
*🌷নাগঃ কূর্মোহথ কৃকরো দেবদত্তো ধনঞ্জয়ঃ।।*
               *(গোরক্ষ সংহিতা ১|২৯)*
*🌻প্রাণ,অপান,সমান,উদান,ব‍্যান,নাগ,কূর্ম,কৃকর,দেবদত্ত ও ধনঞ্জয় এই দশ নামে প্রাণবায়ু অভিহিত হয়ে থাকে।এই দশ বায়ুর মধ্যে প্রাণাদি পঞ্চবায়ু অন্তঃস্থ এবং নাগাদি পঞ্চবায়ু বহিঃস্থ।অন্তঃস্থ পঞ্চপ্রাণের দেহমধ‍্যে পৃথক পৃথক জায়গা নির্দিষ্ট আছে, যথা-----*
*🌷হৃদি প্রাণো বসেন্নিত‍্যমপানো গুহ‍্যমন্ডলে।।*
*🌷সমানো নাভিদেশে তু উদানঃ কন্ঠমধ‍্যগঃ।*
*🌷ব‍্যানো ব‍্যাপী শরীরে তু প্রধানাঃ পঞ্চবায়বঃ।।*
                           *(ঐ--১|৩০)*
*🌻প্রধান পঞ্চবায়ুর মধ্যে প্রাণবায়ু হৃদ্দেশে,অপানবায়ু গুহ‍্যদেশে,সমানবায়ু নাভিমন্ডলে, উদানবায়ু কন্ঠদেশে, ব‍্যানবায়ু সর্বশরীর ব‍্যাপিয়া অবস্থান করছে।*
*🛑যদিও বা বিভিন্ন নাম পেয়েছে, তথাপি এক প্রাণবায়ুই মূল ও প্রধান।*
*🌷প্রাণস‍্য বৃত্তিভেদেন নামানি বিবিধানি চ।*
                          *(শিবসংহিতা ৩|৩)*
*🌻প্রাণবায়ুর বৃত্তিভেদে নানান নাম সংকল্পিত হয়েছে।*

*🌻🌻🌻দশবায়ুর গুণ🌻🌻🌻*
*জানা আবশ্যক।প্রাণাদি অন্তঃস্থ পঞ্চবায়ু ও নাগাদি বহিঃস্থ পঞ্চবায়ু যথাস্থানে অবস্থিত থেকে শারীরিক সমস্ত কাজ সম্পন্ন করছে।যথা--*
*🌷নিঃশ্বাসোচ্ছ্বাসরূপেণ প্রাণকর্ম সমীরিতম্।*
*🌷অপানবায়োঃ কর্মৈতদ্বিন্মূত্রাদিবিসর্জনম্।।*
*🌷হানোপাদানচেষ্টাদির্ব‍্যানকর্মেতি চেষ‍্যতে।*
*🌷উদানকর্ম তচ্চোক্তং দেহস‍্যোন্নয়নাদি যৎ।।*
*🌷পোষণাদি সমানস‍্য শরীরে কর্ম কীর্তিতম্।*
*🌷উদ্গারাদির্গুণো যস্তু নাগকর্ম সমীরিতম্।।*
*🌷নিমীলনাদি কূর্মস‍্য ক্ষুত্তৃষ্ণে কৃকরস‍্য চ।*
*🌷দেবদত্তস‍্য বিপ্রেন্দ্র তন্দ্রাকর্মেতি কীর্তিতম্।*
*🌷ধনঞ্জয়স‍্য শোষাদি সর্বকর্ম প্রকীর্তিতম্।।*
               *(যোগীযাজ্ঞবল্ক‍্যম্, ৪|৬৬-৬৭)*
*🌻নাক দ্বারা হৃদয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস, উদরে ভুক্তান্ন-পানীয়কে পরিপাক ও আলাদা করা,নাভিস্থলে পুরীষরূপে, পানীয়কে স্বেদ বা ঘাম ও মূত্ররূপে এবং রসাদিকে বীর্যরূপে পরিণত করা প্রাণবায়ুর কাজ ; উদরে অন্নাদি পরিপাক বা হজম করবার জন্য অগ্নিপ্রজ্বলন করা,গুহ‍্যে মলনিঃসারণ করা,উপস্থে মূত্রনিঃসারণ করা,অন্ডকোষে বীর্যনিঃসারণ করা এবং মেঢ্র,ঊরু,জানু,কটিদেশ বা কোমরে ও জঙ্ঘাদ্বয়ের কাজ সম্পন্ন করা অপানবায়ুর কাজ। পরিপক্ক রসাদিকে বাহাত্তর হাজার নাড়ী মধ্যে পরিব‍্যাপ্ত করা, দেহের পুষ্টিসাধন করা ও স্বেদ বা ঘাম বাহির করা সমানবায়ুর কাজ।অঙ্গ-প্রত‍্যঙ্গের সন্ধিস্থান ও অঙ্গের উন্নয়ন করা উদানবায়ুর কাজ,কান,চোখ,কাঁধ,গুলফ্,গলা ও কোমরের অধোদেশের কাজ সম্পন্ন করা ব‍্যানবায়ুর কাজ।উদ্গারাদি বা বমনাদি নাগবায়ু, সঙ্কোচনাদি কূর্মবায়ু,ক্ষুধা-তৃষ্ণাদি কৃকরবায়ু, নিদ্রা-তন্দ্রাদি দেবদত্তবায়ু ও শোষনাদি কাজ ধনঞ্জয়বায়ু সম্পন্ন করে থাকে।বায়ুর এই সব গুণ জেনে বায়ুজয় করতে পারলে স্বেচ্ছামত শরীরের উপর আধিপত‍্য স্থাপন এবং শরীর সুস্থ,নীরোগ ও পুষ্টিকান্তিবিশিষ্ট করা যায়।*
*🌹শরীরে যে পর্যন্ত বায়ু বিদ‍্যমান থাকে,সেই পর্যন্ত দেহ জীবিত থাকে।সেই বায়ু দেহ হতে নিষ্ক্রান্ত(বাহির) হয়ে পুনঃ প্রবিষ্ট বা প্রবেশ না হলে মৃত‍্যু সংঘটন হয়।প্রাণবায়ু নাকের ভিতর দিয়ে আকৃষ্ট হয়ে নাভিগ্রন্থি পর্যন্ত গমনাগমন করে,আর যোনিস্থান হতে নাভিগ্রন্থি পর্যন্ত অপানবায়ু অধোভাগে গমনাগমন করে।যখন নাকের ভিতর দিয়ে প্রাণবায়ু আকৃষ্ট হয়ে নাভিমন্ডলের উর্ধ্বভাগ স্ফীত করতে থাকে,সেইকালেই অপানবায়ু যোনিদেশ হতে আকৃষ্ট হয়ে নাভিমন্ডলের অধোভাগ স্ফীত(বৃদ্ধি) করতে থাকে।এইরকম নাসারন্ধ্র ও যোনিস্থান উভয় দিক হতে প্রাণ ও অপান এই দুই বায়ুই পূরণকালে নাভিগ্রন্থিতে আকৃষ্ট হয় এবং রেচনকালে(নিঃসরণকালে) দুই বায়ু দুই দিকে গমন করে। যথা-----*
*🌷অপান কর্ষতি প্রাণং প্রাণোহপানঞ্চ কর্ষতি।*
*🌷রজ্জুবদ্ধোযথা শ‍্যেনো গতোহপ‍্যাকৃষ‍্যতে পুনঃ।।*
*🌷তথা চৈতৌ বিসম্বাদে সম্বাদে সন্ত‍্যজেদিদম্।*
                    *(ষট্ চক্রভেদটীকা)*
*🌻অপানবায়ুকে আকর্ষণ করে এবং প্রাণ অপানবায়ুকে আকর্ষণ করে।যেমন শ‍্যেনপাখী রজ্জুবদ্ধ থাকলে,উড্ডীয়মান হয়েও পুনর্বার প্রত‍্যাগমন করে,প্রাণবায়ুও সেইরকম নাকের ভিতর থেকে বাহির হয়েও অপানবায়ু কর্তৃক আকৃষ্ট হয়ে পুনর্বার দেহমধ‍্যে প্রবেশ করে।এই দুই বায়ুর বিসম্বাদে অর্থ‍্যাৎ নাক ও যোনিস্থানের অভিমুখে বিপরীত ভাবে গমনে জীবন রক্ষা হয়।আর যখন ঐ দুই বায়ু নাভিগ্রন্থি ভেদ পূর্বক একত্রে মিলিত হয়ে গমন করে,তখন তারা দেহ ত‍্যাগ করে, পৃথিবীর ভাষায় জীবেরও মৃত‍্যু হয়।গমনকালে ঐভাবকে নাভিশ্বাস বলে।বায়ুর ঐ সব তত্ত্ব জেনে নিয়ে যোগাভ‍্যাসে রত হওয়া উচিত।বর্তমান শরীরের হংসাচারের বিষয় জানা আবশ্যক।*

*🌻🌻🌻প্রাণায়াম🌻🌻🌻*
  🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

*🍀প্রাণায়াম কাকে বলে?*
*🌷তস্মিন্ সতি শ্বাসপ্রশ্বাসয়োর্গতিবিচ্ছেদঃ প্রাণায়ামঃ।*
                *(পাতঞ্জল,সাধনপাদ,৪৯)*
*🌻শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতি ভেঙ্গে শাস্ত্রোক্ত নিয়মে বিধৃত করার নাম প্রাণায়াম।তাছাড়া প্রাণ ও অপান বায়ুর সংযোগকেও প্রাণায়াম বলে। যথা---*
*🌷প্রাণাপানসমাযোগঃ প্রাণায়াম ইতীরিতঃ।*
*🌷প্রাণায়াম ইতি প্রোক্তো রেচকপূরককুম্ভকৈঃ।।*
               *(যোগীযাজ্ঞবল্ক‍্যম্,৬|২)*
*🌻প্রাণায়াম বললে আমরা সাধারণত রেচক,পূরক ও কুম্ভক এই তিন ক্রিয়াই বুঝে থাকি।বাইরের বায়ু আকর্ষণ করে ভেতরের অংশ পূরণ করাকে পূরক বলা হয়,জলপূর্ণ কলসীর মত অভ‍্যন্তরে বায়ু ধারণ করাকে কুম্ভক এবং ঐ ধৃত বায়ুকে বাইরে নিঃসারণ বা বাহির করাকে রেচক বলে।প্রথমে ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে ডান নাক ধারণ করে বায়ু রোধ করে প্রণব (ওঁ) অথবা নিজ নিজ ইষ্টমন্ত্র ষোড়শ বার জপ করতে করতে বাম নাক দিয়ে বায়ু পূরণ করে,কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙ্গুল দিয়ে বাম নাক ধরে,বায়ু রোধ করে ওঁ বা মূলমন্ত্র চৌষট্টি বার জপ করতে করতে কুম্ভক করবে।তারপরে আঙ্গুল ডান নাক হতে তুলে নিয়ে ওঁ বা মূলমন্ত্র বত্রিশবার জপ করতে করতে ডান নাক দিয়ে বায়ু রেচন করবে।এইভাবে পুনরায় বিপরীতক্রমে অর্থ‍্যাৎ শ্বাসত‍্যাগের পর ঐ ডান নাক দিয়েই ওঁ বা মূলমন্ত্র জপ করতে করতে পূরক এবং উভয় নাক ধরে কুম্ভক, শেষে বাম নাকে রেচন করবে। অতঃপর পুনরায় অবিকল প্রথমবারের মত নাকধরে ক্রমানুসারে পূরক,কুম্ভক ও রেচক করবে।বাম হাতের কররেখায় জপের সংখ্যা রাখবে।*
*🌻প্রথম প্রথম প্রাগুক্ত (আগেরমত) সংখ্যায় প্রাণায়াম করতে না পারলে, ৮|৩২|১৬ অথবা ৪|১৬|৮ বার জপ করতে করতে প্রাণায়াম করবে।অন‍্য ধর্মাবলম্বিগণ বা যাঁদের মন্ত্রজপের সুবিধা নাই,তাঁরা ১|২ এইরকম সংখ্যার দ্বারাই প্রাণায়াম করবে।নতুবা ফল হবে না।কেননা,তালে তালে নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের কাজ সম্পন্ন করতে হয়। আর সাবধান!যেন সবেগে রেচক বা পূরক না হয়,ধীরে ধীরে।রেচকের সময় বিশেষ সতর্ক ও সাবধান হওয়া কর্তব‍্য।এরকম অল্প বেগে শ্বাস ত‍্যাগ করতে হবে যে হাতের শক্তু যেন নিঃশ্বাস বেগে উড়ে না যায়। প্রাণায়ামকালীন সুখাসনে বসে মুরুদন্ড,ঘাড় ও মাথা সোজা ভাবে রাখতে হয় এবং ভ্রুর মাঝারে দৃষ্টি রাখতে হয়।ইহাকে সহিত-কুম্ভক বলে।যোগশাস্ত্রে আট প্রকার কুম্ভকের কথা উল্লেখ আছে।যথা----*
*🌷সহিতঃ সূর্যভেদশ্চ উজ্জায়ী শীতলী তথা।*
*🌷ভস্ত্রিকা ভ্রামরী মূর্ছা কেবলী চাষ্টমুম্ভিকা।।*
                 *(গোরক্ষ-সংহিতা ১|১৯৫)*
*🌻সহিত,সূর্য‍্যভেদ,উজ্জায়ী,শীতলী,ভস্ত্রিকা,ভ্রামরী,মূর্ছা ও কেবলী এই আট প্রকার কুম্ভক।◆(মৎপ্রণীত "জ্ঞানীগুরু" গ্রন্থে এই আট প্রকার প্রাণায়ামের সাধন-পদ্ধতি লিখিত হয়েছে।)*
*🍀এদের বিশেষ বিবরণ মুখে বলে কৌশল দেখিয়ে না দিলে সাধারণের কোন উপকার দর্শিবে না, তাই বিরাম রইলাম।*

*🌷ততঃ ক্ষীয়তে প্রকাশাবরণম্।*
*🌻প্রাণায়াম সিদ্ধ হলে মোহরূপ আবরণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে দিব‍্যজ্ঞান প্রকাশিত হয়।প্রাণায়াম পরায়ণ ব‍্যক্তি সর্বরোগ মুক্ত হন। কিন্তু অনুষ্ঠানের ব‍্যতিক্রমে নানারকম রোগের জন্ম হয়। যথা----*

*🌷প্রাণায়ামেন যুক্তেন সর্বরোগক্ষয়ো ভবেৎ।*
*🌷অযুক্তাভ‍্যাসযোগেন সর্বরোগ সমুদ্ভবঃ।।*
*🌷হিক্কা শ্বাসশ্চ কাসশ্চ শিরঃকর্ণাক্ষিবেদনা।*
*🌷ভবন্তি বিবিধা দোষাঃ পবনস‍্য ব‍্যতিক্রমাৎ।।*
                       *(সিদ্ধিযোগ গ্রন্থ)*
*🌻নিয়মমত প্রাণায়াম করলে সর্বরোগ ক্ষয় হয় ; কিন্তু অনিয়মে বায়ুর ব‍্যতিক্রম হলে হিক্কা,শ্বাস,কাস ও চক্ষু-কর্ণ-মস্তকের রোগাদি নানা রোগ জন্ম হয়ে থাকে।*
                *ক্রমাগত*


*🌻🌻প্রাণায়াম (প্রত‍্যাহার)🌻🌻*
*🌷স্ববিষয়াসম্প্রয়োগে চিত্তস্বরূপানুকার,*
*🌷ইবেন্দ্রিয়াণাং প্রত‍্যাহারঃ। (পাতঞ্জল,সাধনপাদ,৫৪)*
*🌻প্রত‍্যেক ইন্দ্রিয়ের নিজ নিজ গ্রহীতব‍্য বিষয় পরিত‍্যাগ করে অবিকৃত অবস্থায় চিত্তের অনুগত হয়ে থাকার নাম প্রত‍্যাহার। ইন্দ্রিয়গণ স্বাভাবতঃ ভোগ‍্য বিষয়ের প্রতি প্রধাবিত হয়ে থাকে,(মাছ,মাংস, ডিম ও অন‍্যান‍্য মুখরুচি বিষয়ক খাবারের দিকে মন ধাবিত হয়)এই বিষয় হতে তাদেরকে* *(ইন্দ্রিয়গুলিকে)প্রতিনিবৃত্ত(বা সংযম)*
 *করাকে প্রত‍্যাহার বলে।*
*🌷ততঃ পরমা বশ‍্যতেন্দ্রিয়াণাম্।(ঐ ৫৫)*
*🌻প্রত‍্যাহার সাধনায় ইন্দ্রিয়গণ বশীভূত হয়।প্রত‍্যাহার পরায়ণ যোগী প্রকৃতিকে চিত্তের বশে আনয়ন করে পরম ধৈর্য‍্য লাভ করবেন, এতেই বহিঃপ্রকৃতি বশীভূতা হবেন। প্রত‍্যাহারের পর যোগের ষষ্ঠাঙ্গ।*

        *🌻🌻ধারণা🌻🌻*
           🍀🍀🍀🍀🍀
*🌷দেশবন্ধশ্চিত্তস‍্য ধারণা।*
               *(পাতঞ্জল,বিভূতিপাদ ১)*
*🌻চিত্তকে বা মনকে দেশবিদেশে বন্ধন করে রাখার নাম ধারণা অর্থ‍্যাৎ পূর্বোক্ত ষোড়শধারে কিংবা কোন দেব-দেবীর প্রতিমূর্তিতে আবদ্ধ করে রাখার নাম ধারণা।*
*🌹বিষয়ের চিন্তা পরিত‍্যাগ করে যে কোন একটি বস্তুতে মনকে আরোপণ করে বেঁধে রাখবার চেষ্টা করলে ক্রমশ মন একমুখী হবে।ধারণা স্থায়ী হলে ক্রমে তাহাই----- ধ‍্যান।*

          *🌻🌻ধ‍্যান🌻🌻*
            🌺🌺🌺🌺🌺
*🌷তত্র প্রত‍্যয়ৈকতানতা ধ‍্যানম্।(ঐ ২)*

*🌻ধারণা দ্বারা ধারণীয় পদার্থে মনের যে একাগ্রতা ভাব জন্মে,তার নাম ধ‍্যান।চিত্ত দ্বারা আত্মার স্বরূপ চিন্তা করাকে ধ‍্যান বলে।সগুণ ও নির্গুণ ভেদে ধ‍্যান দুইপ্রকার।*
*🍀পরমব্রহ্মের কিম্বা সহস্রারস্থিত পরমাত্মার ধ‍্যান করার নাম নির্গুণ ধ‍্যান। সূর্য‍্য,গণপতি,বিষ্ণু,শিব ও আদ‍্যাপ্রকৃতি কিম্বা ষট্ চক্রস্থিত ভিন্ন ভিন্ন দেবতার ধ‍্যান করবার নাম সগুণ ধ‍্যান। সগুণ ও নির্গুণধ‍্যান ছাড়া জ‍্যোতির্ধ‍্যান অনেকে করে থাকেন।ধ‍্যানের পরিপক্ক অবস্থায়।*

*🔵🔵🔵🔵সমাধি🔵🔵🔵🔵*
   🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷
*🌹ধ‍্যান গাঢ় হলে,ধ‍্যেয়বস্তু ও আমি এরকম জ্ঞান থাকে না। চিত্ত তখন ধ‍্যেয় বস্তুতেই প্রবেশ করে থাকে ; স্থূল কথায় তাতে লীন। সেই লয় অবস্থাকেই সমাধি বলে।*

*🌷তদেবার্থমাত্রনির্ভাসং স্বরূপশূন‍্যমিব সমাধিঃ।*
                              *(ঐ----৩)*
*🌺কেবল সেই পদার্থ(স্বরূপ আত্মা) আছেন,সেইরকম আভাস জ্ঞান মাত্র থাকবে,আর কিছু জ্ঞান থাকবে না, চিত্তের ধ‍্যেয় বস্তুতে এইরকম যে বিভোরতা,তার নাম সমাধি। জীবাত্মা পরমাত্মার সমতা অবস্থাকে সমাধি বলে।*
*🌷সমাধিঃ সমতাবস্থা জীবাত্মপরমাত্মনোঃ।*
                   *(দত্তাত্রেয়সংহিতা)*
*🌹বেদান্তমতে সমাধি দুই প্রকার। যথা-- সবিকল্প ও নির্বিকল্প।জ্ঞাতা,জ্ঞান,জ্ঞেয় এই পদার্থ তিনের ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞানসত্ত্বেও অদ্বিতীয় ব্রহ্মবস্তুতে অখন্ডাকার চিত্তবৃত্তির অবস্থানের নাম সবিকল্প সমাধি।*
*🌹পাতঞ্জল-দর্শনে এটিই সম্প্রজ্ঞাত সমাধি নামে উক্ত আছে।*
*🍀জ্ঞাতা,জ্ঞান ও জ্ঞেয় এই পদার্থ তিনের ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞানের অভাব হয়ে অদ্বিতীয় ব্রহ্মবস্তুতে অখন্ডাকার চিত্তবৃত্তির নাম নির্বিকল্প সমাধি।পাতঞ্জল মতে এটিই অসম্প্রজ্ঞাত সমাধি।* 

*🛑এই বক্ষ‍্যমাণ (আলোচ‍্য) অষ্টাঙ্গ যোগের প্রণালী সর্বোৎকৃষ্ট।পর পর এই অষ্টাঙ্গযোগ সাধনায় সিদ্ধিলাভ করতে পারলে মরজগতে অমরত্ব লাভ হয়।বেশী কি,কোন প্রকার ক্রিয়ার অনুষ্ঠান না করে ইহার যম-নিয়ম পালনেই প্রকৃত মনুষ‍্যত্ব জন্মে।অষ্টাঙ্গ সাধন করলে আর কি চাই?মানবজন্ম ধারণ সার্থক! কিন্তু এটি যেমন সর্বোৎকৃষ্ট,তেমনি কঠিন ও গুরুতর ব‍্যাপার।সকলের সাধ‍্যের মধ্যে পড়ে না।তাই সিদ্ধযোগীগণ এই মূল অষ্টাঙ্গযোগ হতে ভেঙ্গে গড়ে সহজ সুখসাধ‍্য যোগের কৌশল বাহির করেছেন।*


*স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা ৪র্থ পদ*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆

*🌹ভক্তবৎসল শ্রীগোবিন্দ, শ্রীরাধিকার কথা শুনে প্রেমভরে বলছেন----*

*🌷শুনহ সুন্দরী মঝু অভিলাষ।*
*🌷ব্রজপুর-প্রেম করব পরকাশ।।*

*🌻হে রাইধনি! তোমার হৃদয়ের ব‍্যথার কথা শুনে আমারও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু কি করব, আমি যে তোমাদের ঋণে জর্জরিত হয়ে চরম ঋণী হয়ে গেছি, আর আগত কলিজীবের কথা চিন্তা করেও আমি স্থির থাকতে পারছি না।অন‍্যান‍্য যুগে অস্ত্র-শস্ত্র ধারণ করে অধর্মকে নাশ করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।কিন্তু আগত কলিজীবের স্বল্প পরমায়ু, "আমি এবে অস্ত্র না ধরিব, প্রেমভক্তি দিয়ে জীব উদ্ধারিব"।তাই আমার মনের বাসনা তোমার এই ব্রজপ্রেম আগত কলিযুগে আমি প্রকাশ করব।*
*🌻শুনহ সুন্দরী মঝু অভিলাষ।*
*🌻ব্রজপুর-প্রেম করব পরকাশ।।*

*🌷গোপ গোপাল সব জন মিলি।*
*🌷নদীয়া নগরে পরে করবহুঁ কেলি।।*

*🌹রাইধনি! আমায় কৃপা কর,ব্রজের যত গোপ-গোপাল-গোপী আছেন আমি সকলকে নিয়ে আগত কলিযুগে অবতীর্ণ হয়ে লীলাবিলাস করে সকলকে আনন্দ দিব আর কলিজীবকে উদ্ধার করব। তোমার অষ্টসখী আর চৌষট্টি মঞ্জরী আমার দ্বাদশ গোপাল আর অন‍্যান‍্য সখাগণকে নিয়ে মহানন্দ করব।তাছাড়া আমার যে গুপ্ত মনোবাসনা তা রসের ভক্তদের নিয়ে পূর্ণ করব।*
*🌻গোপ গোপাল সব জন মিলি।*
*🌻নদীয়া নগরে পরে করবহুঁ কেলি।।*

*🌷তনু তনু মেলি হোই এক ঠাম।*
*🌷অবিরত বদনে বোলব তব নাম।।*

*🌹হে প্রেমময়ী রাধে! আমার একান্ত ইচ্ছে তুমি আমি এক হয়েই আগত কলিযুগে নদীয়া নগরে অবতীর্ণ হয়ে,অবিরত, সবসময়ই এই বদনে তোমার নাম করব।*
*💮জয় রাধে রাধে,*
*💮রাধে তুমি কৃপা কর, জয় রাধে রাধে।*
*💮তোমা বিনে গতি নাই, রাধে রাধে।*
*💮প্রেমভক্তি ভান্ডারিনী, রাধে রাধে।*
*💮মঝু অভিলাষ পূর্ণকারিণী, রাধে রাধে।*
*💮জয় রাধে, জয় রাধে, জয় রাধে।*
*🌻তনু তনু মেলি হোই এক ঠাম।*
*🌻অবিরত বদনে বোলব তব নাম।।*

*🌷 ব্রজপুর পরিহরি কবহুঁ না যাব।*
*🌷ব্রজ বিনু প্রেম না হোয়ব লাভ।।*
*🌷ব্রজপুর-ভাব পূরব মন কাম।*
*🌷 অনুভবি জানল দাস বলরাম।।*

*🌻অনাদিরাদি গোবিন্দ শ্রীমতী প্রেমময়ীকে বলছেন, হে প্রেমময়ী! আমি তোমায় কথা দিলাম, আমি কখনই এই ব্রজপুর ত‍্যাগ করে কোথাও যাব না।এর প্রমাণ কি?এইকথার প্রমাণ পায় যে--*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপরযুগে লীলাবিলাস করেছিলেন,আর আমরা কলিযুগে এই সমস্ত তত্ত্বগুলি আস্বাদন করছি।কি করে জানব যে তিনি ব্রজপুর ছেড়ে কখনই অন‍্যত্র যাননি।এর প্রমাণ--*
*🍀অদ‍্যাবধি রাধাকৃষ্ণ লীলা করে যায়।*
*🍀কোন কোন ভাগ‍্যবান ভাগ‍্যবতী দেখিবারে পায়।।*
*🌻ব্রজে সাধারণত দুইপ্রকার লীলার কথা শোনা যায়,নিত‍্যলীলা ও নৈমিত্তিক লীলা।নিত‍্যলীলার ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি আছে।তাহলে শ্রীকৃষ্ণ যে বলেছেন,*
*🍀 ব্রজপুর পরিহরি কবহুঁ না যাব।*
*🌹আমি গোলোকে বহু কোটি বৎসর লীলা করেছি, কিন্তু তার থেকে সর্বোত্তম লীলা আমি মর্ত্ত‍্য বৃন্দাবনে করে আনন্দ পেয়েছি বা দিয়েছি।তাই একমাত্র ব্রজপুর ভাবই আমি নদীয়ায় গিয়ে বিতরণ করব।*
*🌻যাঁরা পরম রসিকভক্ত হন, ভাগবতচূড়ামণি হন, একমাত্র তাঁরাই শ্রীরাধাগোবিন্দের লীলা মানসনেত্রে দর্শন করতে পারেন।সেই লীলা দর্শন করে পদকর্তা সখী ভাবাবিষ্ট হয়ে বলেছেন,শ্রীকৃষ্ণই গৌররূপ ধারণ করে নদীয়ায় অবতরী হবেন।এই অনুভব আমার মনে হয়েছে।*
*🛑অতি সংক্ষেপে দুই-এক কথায় ব‍্যাখ‍্যা।*


*🌻স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা বিরাম পদ।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🔵শ্রীমতী রাইধনি তাঁর প্রাণনাথকে বলছেন------------*

*এত শুনি বিধুমুখী,মনে হয়ে অতি সুখী,*
        *কহে পুন প্রাণনাথ তুমি।*
*কহিলে সকল তত্ত্ব,বুঝিনু স্বপন সত‍্য,*
       *সেই রূপ দেখিব হে আমি।।*
*🌻শ্রীমতী রাধারাণী শ্রীকৃষ্ণকে বলছেন, প্রাণনাথ!আমি তোমার কথা শুনে খুবই আনন্দ পেলাম।তোমার সমস্ত কথা আমি বুঝতে পারলাম, আর এও বুঝতে পারলাম যে আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম তাহাও সত‍্য।হে প্রাণনাথ! তুমি যে রূপে নদীয়া নগরে যেতে চাও,আমি সেই রূপ পুন দেখতে চাই।*
*🌷সেই রূপ দেখিব হে আমি।।*

*আমারে যে সঙ্গে লবে,দুই দেহ এক হবে,*
        *অসম্ভব হইবে কেমনে।*
*চূড়া ধড়া কোথা যাবে,বাঁশী কোথা লুকাইবে,*
       *কালো গৌর হইবে কেমনে।।*

*🌻রাইধনি পুনঃ বললেন--, তুমি পূর্বে বলেছিলে,আমি ছাড়া এই কর্ম সম্ভব হবে না,আমাকে যে সঙ্গে নিবে,তাহলে এই দুইদেহ কেমন করে এক হবে?তা বাদেও,তোমার মাথার চূড়া,পরিধানের ধড়া,তোমার প্রাণের থেকেও বেশী তোমার বাঁশী,কোথায় লুকাবে?আরও আশ্চর্য‍্যের বিষয়! তোমার এই কালো বর্ণ গৌর অর্থ‍্যাৎ শ্বেত করবে কেমন করে?*
*🌷কালো গৌর হইবে কেমনে।।*

*🌷এত শুনি কৃষ্ণচন্দ্র,কৌস্তুভের প্রতিবিম্বে,*
            *দেখাওল শ্রীরাধার অঙ্গ।*
*🌷আপনি তাহে প্রবেশিলা,দুইদেহ এক হৈলা,*
            *ভাব-প্রেমময় সব অঙ্গ।।*

*🌻ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ রাধারাণীর সমস্ত কথা শুনে বললেন, প্রিয়তমা একটু অপেক্ষা কর, শ্রীকৃষ্ণ তখন তাঁর বক্ষের শ্রীবৎস বা কৌস্তুভ দেখালেন, দেখামাত্র দুই দেহ এক হয়ে গেল, কালো বরণ দূরে গেল, গৌর বরণ প্রকাশ পেল।"অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর হলেন।*
*🌻শ্রীবৎস বা কৌস্তুভ সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলি।মহাভারতে পাই--, শ্রীবৎস লাঞ্জন-- শ্রীর মানে লক্ষ্মীর, বৎস মানে প্রিয়, লাঞ্জন মানে চিহ্ন, অথবা যাঁর বৎস অর্থ‍্যাৎ "বক্ষ",শ্রীর মানে লক্ষ্মীর,লাঞ্জন মানে চিহ্ন, ধারণ করেন বিষ্ণু।বিষ্ণুর বক্ষে রোমাবর্ত বিশেষ শ্রীবৎসই কৌস্তুভমণি।*
*🌹মতান্তরে= শ্রীর মানে লক্ষ্মীর, পিতা অর্থ‍্যাৎ ভৃগু,কর্তৃক অঙ্কিত চিহ্ন যাঁর বক্ষে,তাইই শ্রীবৎস বা কৌস্তুভ।ব্রহ্মার মানসপুত্র ভৃগু, ব্রহ্মা-বিষ্ণু ও মহাদেবের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তা জানবার জন্য প্রথমে ব্রহ্মার কাছে গিয়ে তাঁকে যথোচিত প্রণাম করেননি।অসন্তুষ্ট ব্রহ্মা তাঁকে (ভৃগুকে) খুব তিরস্কার করলে তিনি ব্রহ্মাকে স্তবস্তুতি করে শান্ত করেন।তারপরে মহাদেবের কাছেও ঐ একই ব‍্যাপার ঘটে এবং ক্রদ্ধ শিবকে তুষ্ট করে তিনি বিষ্ণুর কাছে গেলেন।সেইকালে যোগনিদ্রাভিভূত বিষ্ণুর বক্ষে ভৃগু পদাঘাত করেন।বিষ্ণু জাগরিত হয়ে ক্রদ্ধ হওয়া তো দূরের কথা, পরম ব্রাহ্মণ ভৃগুর পায়ে আঘাত লেগেছে কিনা জানবার জন্য ব‍্যস্ত হয়ে উঠেন।বিষ্ণুর ব‍্যবহারে ভৃগু অভিভূত হয়ে তাঁর চরণতলে লুটিয়ে পড়েন এবং দেবত্রয়ের মধ্যে তাঁর (বিষ্ণুর) শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেন।বিষ্ণু বা শ্রীকৃষ্ণ বক্ষে যে ভৃগু-পদচিহ্ন তাহাই কৌস্তুভমণি।*

*🌻সেই কৌস্তুভমণিতে দুইদেহ এক হয়ে ছিলেন।কালোরূপ লুকাইল আর গৌররূপ প্রকাশ পেল, মহাভাব প্রেমময়ী রাধারাণীর গৌরবরণ বাইরে প্রকাশ পেল।দুইদেহ এক হয়ে ভাবময় দেহে পরিণত হল।*
*🌷ভাব-প্রেমময় সব অঙ্গ।।*

*নিধুবনে এই কহে,দুহুঁ তনু এক হয়ে,*
       *নদীয়াতে হইলা উদয়।*
*সঙ্গেতে সে ভক্তগণে,হরিনাম সঙ্কীর্তনে,*
      *প্রেমবন‍্যায় জগত ভাসায়।।*
*বাহিরে জীব উদ্ধারণ,অন্তরে রস আস্বাদন,*
      *ব্রজবাসী সখা-সখী সঙ্গে।*
*বৈষ্ণব দাসের মন,হেরি রাঙ্গা শ্রীচরণ,*
        *না ভাসিলাম সে সুখতরঙ্গে।।*

*🌻দ্বাপরযুগে রাধাকৃষ্ণের দুই অঙ্গ এক হয়েছিল সেই ব্রজের নিধুবনে। তারপর দ্বারকালীলা সমাপন করে তিনি কলির প্রথম সন্ধ‍্যায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।সঙ্গে ব্রজের সখা-সখীদের নিয়েছিলেন।বাইরে জীব উদ্ধার, প্রেমভক্তি বিতরণ ও জীবশিক্ষা, অন্তরে ১২ বৎসর গম্ভীরাতে অন্তরঙ্গ ভক্তের সঙ্গে রসাস্বাদন করেছিলেন।*
*🌹ভাবাবিষ্ট পদকর্তা সখীভাবে তা দর্শন করে বলেছেন,আমি যুগলরূপ দর্শন করলাম বটে, কিন্তু আমি সেই সুখতরঙ্গে ভাসতে পারলাম না।প্রকৃত বৈষ্ণবের লক্ষণই তাই, যে রাধাগোবিন্দের লীলা যতই দর্শন করেন,ততই তাঁর লালসা বেড়ে যায়।*

*🙏স্বপ্নবিলাস ব্রজলীলা এখানেই বিরাম হ'ল।বানান ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

                ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
           ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
     *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
      °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀গীতগোবিন্দে ক্রমিক পদগান বা অষ্টপদীর রীতি অনুসারে রাগ ও তালের নাম ও রূপের পরিচয় দেবার চেষ্টা করব।যে ক'টি অভিজাত শাস্ত্রীয় রাগ ও তালের সন্নিবেশ আছে গীতগোবিন্দের পদগানগুলিতে, সেগুলির সঙ্গে অন‍্যান‍্য বিচিত্র রাগ ও তালকে সম্পর্কিত করা হয়েছে পরবর্তী কৃষ্ণকীর্তন অপেক্ষাও মহাজন-পদাবলীকীর্তনে। সুতরাং পদাবলী কীর্তনের রাগ ও তালের বিশেষ অনুশীলন করার প্রসঙ্গে গীতগোবিন্দ-পদগানের রাগ ও তাল-সম্বন্ধে আমাদের সম‍্যকজ্ঞান থাকা প্রয়োজন।*
*🌺গীতগোবিন্দে--(রাণা কুম্ভা বলেছেন অষ্টপদী)মোট চব্বিশটি গানের সমাবেশ আছে এবং সে চব্বিশটি গান বা অষ্টপদী দ্বাদশ সর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত।দ্বাদশ সর্গের মধ্যে--*
*(১)প্রথম সর্গে চারটি গান মালব বা মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত ও রামক্রী বা রামকীরি এই চারটি রাগে এবং রূপক, দিঃসাব কী দিঃসার ও যতি (৩য় ও ৪র্থ গানই যতি)তালে।*
*(২)দ্বিতীয় সর্গে দুটি গান গুর্জরী ও মালব বা মালবগৌড় রাগে এবং যতি ও একতালী তালে।*
*(৩)তৃতীয় সর্গে একটি গান গুর্জরী রাগে ও যতি তালে।*
*(৪)চতুর্থ সর্গে একটি গান কর্ণাট ও দেশাগ রাগে এবং যতি ও একতালী তালে।*
*(৫)পঞ্চম সর্গে দুটি গান দেশ-বরাড়ী ও গুর্জরী রাগে এবং রূপক ও একতালী তালে।*
*(৬)ষষ্ঠ সর্গে একটি গান গোন্ডকিরী রাগে ও রূপক তালে।*
*(৭)সপ্তম সর্গে চারটি গান মালব বা মলবগৌড়,বসন্ত, গুর্জরী ও দেশ-বরাড়ী রাগে এবং যতি (দুটি গান যতি তালে)একতালী ও রূপক তালে।*
*(৮)অষ্টম সর্গে একটি গান ভৈরবী রাগে ও যতি তালে।*
*(৯)নবম সর্গে একটি গান রামকীরি রাগে ও যতি তালে।*
*(১০)দশম সর্গে একটি গান দেশ-বরাড়ী রাগে ও অষ্টতালী তালে।*
*(১১)একাদশ সর্গে তিনটি গান বসন্ত,দেশ-বরাড়ী ও বরাড়ী রাগে এবং যতি ও রূপক (রূপক দুটি গানে)তালে।*
*(১২)দ্বাদশ সর্গে দুটি গান বিভাষ রামকীরি রাগে এবং একতালী ও যতি তালে।*
*🌻এখানে বারোটি সর্গে চব্বিশটি গানে বা অষ্টপদীতে মালব, মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত,রামকীরি বা রামক্রী,কর্ণাট,দেশাগ বা দেশাখ, দেশ-বরাড়ী,গোন্ডকিরী বা গোন্ডক্রী, ভৈরবী,বরাড়ী বা বরাটী,বিভাষ বা বিভাস এই বারোটি রাগ (ও রাগিনী) এবং যতি,রূপক,নিঃসার কী নিঃসাব, একতালী,অষ্টতালী বা অষ্টতাল এই পাঁচটি তাল।আগেই আলোচনা করেছি যে,রাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়া" টীকায় গীতগোবিন্দের মূলপাঠে কবি জয়দেব-কর্তৃক উল্লিখিত রাগ ও তালগুলির উল্লেখ করলেও টীকায় ভিন্ন ভিন্ন রাগ ও তালের সন্নিবেশ করেছেন সম্ভবত তৎকালীন সমাজে প্রচলিত রাগনাম ও তালনাম অনুসারে।*
*🍁গীতগোবিন্দের মূলপাঠে রাগ-রাগিনীগুলির নাম-উল্লেখ আছে, কিন্তু তাদের রূপ বা স্বররূপের কোন উল্লেখ নাই। জয়দেব ১২শ শতকের প্রায় শেষের দিকের কবি, সুতরাং দ্বাদশ-এয়োদশ শতকের এবং তার আগের সঙ্গীত-শাস্ত্রোক্ত রাগরূপকে লক্ষ্য করেই কবি রাগগুলির নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং জয়দেবপূর্ব সঙ্গীতগ্রন্থরূপে আমরা মোটামুটিভাবে পার্শ্বদেবের (নবম-একাদশ শতক) "সঙ্গীতসময়সার",অভিনবগুপ্তের (দশম শতকের শেষার্ধ)ভরতভাষ‍্য "অভিনবভারতী",নান‍্যদেব বা নান‍্যভূপালের (১১০৭--১১২৩ খ্রীঃ) ভরতভাষ‍্য "সরস্বতীহৃদয়লঙ্কার", সোমেশ্বরদেবের-দ্বিতীয় (১১৩১খ্রীঃ) "মানসোল্লাস" বা 'অভিলাষার্থচিন্তামণি' মম্মটের (১০৫০-১১৫০ খ্রীঃ)"সঙ্গীতরত্নমালা", শার্ঙ্গদেবের (১২১০-১২৪৭খ্রীঃ) "সংগীত-রত্নাকর" সোমেশ্বরের-৩য় (১১৭৪-১১৭৭ খ্রীঃ)"সংগীত-রত্নাবলী", শারদাতনয়ের(১২০০ খ্রীঃ) "ভাবপ্রকাশন" বা 'ভাবপ্রকাশ', হরিপালের (১৩০৯-১৩১২ খ্রীঃ) "সঙ্গীত-সুধাকর", সুধাকলসের (১৩ ৩-১৩৪৯ খ্রীঃ)"সঙ্গীত-উপদিষৎ", সিংহভূপালের (১৩৩০ খ্রীঃ)'সঙ্গীতসার' বেমভূপালের (১৫শ শতকের প্রারম্ভে) "সঙ্গীত-চিন্তামণি", রাণা কুম্ভার (১৪৩৩-১৪৬৮ খ্রীঃ কারো কারো মতে ১৪৫০ খ্রীঃ।) "সঙ্গীত-মীমাংসা" ও সঙ্গীতরাজ, কল্লিনাথের (১৪শ শতকের মধ‍্যভাগ) সংগীত-রত্নাকরের টীকা "কালানিধি" প্রভৃতি।*
                  *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
       *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*

*🍀এ' সকল সঙ্গীতগ্রন্থে ও টীকায় রাগ ও স্বরসজ্জা বা স্বরসমাবেশের যে পরিচয় দেওয়া আছে,দ্বাদশ-এয়োদশ শতকের ভারতীয় (এবং বাংলার) সঙ্গীত-সমাজেও সেই ধরণের রাগ-রূপের ও তাদের প্রকাশভঙ্গীর প্রচলিত ছিল মনে করা যায়, সুতরাং গীতগোবিন্দে উল্লিখিত রাগ-রাগিনীদের স্বররূপ ও স্বরবিকাশভঙ্গীর আলোচনা করতে গেলে আমাদের নাট‍্যশাস্ত্রের সময় থেকে সঙ্গীত-রত্নাকর ও তার পরবর্তী কালের রাগরূপ সম্বন্ধে কিছুটা অনুশীলন করা উচিত।*
*☘আগেই বলেছি যে,গীতগোবিন্দ চব্বিশটি পদগানে মালব,মালবগৌড়, গুর্জরী,বসন্ত,রামকীরি,কর্ণাট,দেশাখ, দেশবরাড়ী,গোন্ডকিরী,ভৈরবী,বরাড়ী ও বিভাষ বা বিভাস এই বারোটি রাগনামের উল্লেখ পাই।কবি জয়দেব রাগের স্বররূপ ও ধ‍্যানশ্লোকের কোন উল্লেখ করেননি। পরবর্তীকালে পূজারী গোস্বামী,রাণা কুম্ভা ও অন‍্যান‍্য টীকা ও ভাষ‍্যকারগণ রাগগুলির ধ‍্যানরূপের সঙ্গে সঙ্গে তালগুলির শাস্ত্রীয় রূপের পরিচয় দিয়েছেন।*
*🍁এই প্রসঙ্গে মনে রাখা উচিত যে, বতর্মানকালের উত্তর-ভারতীয় ও দক্ষিণভারতীয় রাগের রূপগুলি প্রাচীন ভারতে প্রচলিত রাগরূপ থেকে বেশ কিছুটা আলাদা এবং সে পার্থক্যের কারণ রাগগুলির নিয়ামক রাগ বা থাটের (Standard Scale) রূপ-পরিবর্তন।প্রাচীন ভারতে (নাট‍্যশাস্ত্রকার ভরতের সময়ে থেকেই ) রাগ-নিয়ামক থাট বা মূলরাগের রূপ ছিল বতর্মান কালের অনেকটা "কাফীর" মত।"সঙ্গীতসার" গ্রন্থকার 'মাধব বিদ‍্যারণ‍্য' তদানীন্তন কালে নিয়ামক থাট বা ষ্ট‍্যান্ডার্ড স্কেলের নাম দিয়েছেন "মুথারী-- যার স্বরসজ্জা বা স্বররূপ ছিল বতর্মান কালের উত্তর-ভারতীয় সঙ্গীতপদ্ধতির "কাফী" রাগেরই প্রায় অনুরূপ।গীতগোবিন্দের পদগানে ব‍্যবহৃত রাগগুলির প্রাচীন ও আধুনিক স্বররূপগুলির আলোচনা করলে তা থেকে গীতগোবিন্দের রাগগুলির রূপ ও বিকাশভঙ্গীর পরিচয় পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করি।*
*🌺প্রথমেই গীতগোবিন্দের অষ্টম সর্গে প্রথম গানে বা অষ্টপদীতে "ভৈরবীযতিতালাভ‍্যাং গীয়তে" এই ভৈরবী রাগ বা রাগিনীর আলোচনা করা যাক।খ্রীঃ নবম-একাদশ শতকের সংগীত গুণী পার্শ্বদেব "সঙ্গীতসময়সার" গ্রন্থে ভৈরবীর পরিচয় দিয়েছেন।*
*🌷ভিন্নষড়্ জসমুদ্ভূতা ধাংশন‍্যাসগ্রহান্বিতা।*
*🌷সমশেষস্বরা পূর্ণা গান্বিতা তার-মন্দ্রয়োঃ।*
*🌷দেবাদিপ্রার্থনায়াং তু ভৈরবী বিনিযুজ‍্যতে।।*
*❓ধাংশন‍্যাসগ্রহান্বিতা কি*
 *বাংশন‍্যাসগ্রহান্বিতা।(বহু পুরোনো গ্রন্থ অনেকলেখায় কিছু কিছু বুঝা যাচ্ছে না)।*
*🌻ধৈবতস্বর ভৈরবীর অংশ (বা বাদী) এবং গ্রহ (আরম্ভ স্বর)ও ন‍্যাস (বিরাম বা শেষ-স্বর) এবং সম্পূর্ণজাতি অর্থে সাত স্বরবিশিষ্ট। মন্দ্র ও তার (নিম্ন ও উচ্চ) এই উভয় সপ্তকের গান্ধার পর্যন্ত ভৈরবীর স্বরগুলি লীলায়িত।*
*🌹শার্ঙ্গদেব (তের শতকে) সঙ্গীত-রত্নাকর গ্রন্থে ভৈরবীর প্রসঙ্গে পার্শ্বদেবকেই অনুসরণ করেছেন, অর্থ‍্যাৎ ভৈরবী সাতস্বরবিশিষ্ট, তার ধৈবত বাদী,গ্রহ ও ন‍্যাস স্বর।এখানে কোন স্বর কোমল বা বিকৃত তার কোন পরিচয় দেননি পার্শ্বদেব এবং শার্ঙ্গদেবও।কিন্তু পন্ডিত অহোবল (১৭শ শতক) সঙ্গীত-পারিজাত গ্রন্থে ভৈরবীর পূর্ণরূপের পরিচয় দিয়েছেন, আর দিয়েছেন সতেরশ শতকের গুণী সোমনাথ,দামোদর,লোচন-কবি ও অন‍্যান‍্য পরবর্তী সঙ্গীতগ্রন্থকারগণ।পন্ডিত অহোবল ভৈরবীর স্বররূপের ও অন‍্যান‍্য বিষয়ের পরিচয় দিয়ে বলেছেন--*
*🌷স-স্বরাংশগ্রহন‍্যাস ভৈরবী স‍্যাদ ধ-কোমলা।*
*🌷বি-নারোহে তু প-ন‍্যাসা পঞ্চমেনোভয়োরপি।*
*🌷ষড়্ জেনাথাবরোহে তু সর্বদা সুখদায়িনী।।*
*🛑ভৈরবীর অংশ বা বাদীস্বর ষড়জ (সা) এবং সংবাদী পঞ্চম (পা), গ্রহ ও ন‍্যাস তথা আরম্ভ স্বর এবং শেষ-স্বরও ষড়জ এবং ধৈবত কোমল বা বিকৃত (এখানে কোমল স্বরের উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেই কোমলস্বর ধৈবত)।*
*🌹পন্ডিত সোমনাথ মনে হয় পারিজাতকারকে অনুসরণ করেছেন। কিন্তু পন্ডিত দামোদর ও লোচন কবির পরিচয়দানের মধ্যে একটু বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।লোচন-কবি (১৭শ শতকের প্রথম বা মধ‍্যভাগ) "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থে ভৈরবীর পরিচয় প্রসঙ্গে বলেছেন--, "শুদ্ধা সপ্তস্বর রম‍্যা বাদনীয়াঃ প্রযত্নতঃ"। অর্থ‍্যাৎ ভৈরবীর সাত স্বরই শুদ্ধ। কিন্তু এখানে মনে করতে হবে যে,লোচনের সময়েও নিয়ামক রাগ বা থাট (S.S) ছিল বর্তমানের কাফীরাগ বা কাফীথাটের অনুরূপ, সেজন‍্য লোচন-কবি বতর্মান কালের কাফীকেই শুদ্ধমেল বা শুদ্ধথাট রূপে গ্রহণ করেছেন এবং সে হিসাবে তখনকার (১৭শ শতকের)ভৈরবীর স্বরূপ ছিল-- সা রি গ (কোমল) ম প ধ নি (কোমল)।কোন কোন গুণী সেই সময়ে ঋষভকে কোমলস্বর-রূপে ভৈরবীতে ব‍্যবহার করতেন (এখানে লক্ষণীয় যে,সব সময়ই রাগরূপ নিয়ে মতভেদের অন্ত ছিল না)।সেজন‍্য লোচন-কবি বলেছেন-- "তদ্ শুদ্ধং যতস্তাদৃক্ নায়ং রাগাহনুরঞ্জকম্", অর্থ‍্যাৎ কোমল-ঋষভযুক্ত ভৈরব ব‍্যবহৃত হলে তা শ্রুতিমধুর হয় না। হৃদয়নারায়ণদেব "হৃদয়কৌতুক" ও "হৃদয়প্রকাশ" গ্রন্থ দুটিতে লোচন-কবিকে এ'বিষয়ে হুবহু অনুসরণ করেছেন।পন্ডিত দামোদর (১৬২৫ খ্রীঃ)"সঙ্গীতদর্পণ" গ্রন্থে ভৈরবী সম্বন্ধে বলেছেন--, "সংপূর্ণা ভৈরবী জ্ঞেয়া গ্রহাংশন‍্যাসমধ‍্যমা" অর্থ‍্যাৎ ষড়জের পরিবর্তে মধ‍্যমস্বর ভৈরবীর বাদী,গ্রহ ও ন‍্যাস স্বর।দামোদর সৌবীরীমূর্ছনার মাধ‍্যমে ভৈরবীর স্বররূপের পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির ভৈরবীতেও বাদীস্বর মধ‍্যম ও সংবাদী ষড়জ (অবশ‍্য কারো কারো মতে ধৈবত বাদী ও গান্ধার সংবাদী)। অনেকে ভৈরবীকে সন্ধিপ্রকাশরাগের অন্তর্ভুক্ত করেন, কিন্তু তা কতদূর সমীচীন বা উচিত তা অনুধাবন যোগ‍্য, কারণ রাত্রির অন্তর্ধানে দিবালোকের প্রকাশ মুহূর্তকে "সন্ধি" (Meeting Period of night and day) বলে এবং সে সময়ে সকালেরসূর্য‍্যকে আরতি জানানোর জন্য ভৈরবরাগের ব‍্যবহার হয়, সুতরাং ভৈরবকেই সেদিক থেকে সন্ধিপ্রকাশ-রাগ বলা উচিত। বতর্মান সময়ে ভৈরবী সম্পূর্ণজাতি, অর্থ‍্যাৎ তাতে সাতস্বরের ব‍্যবহার হয়।ঋষভ,গান্ধার,ধৈবত ও নিষাদ কোমলস্বর-রূপে ব‍্যবহার হয় বতর্মান পদ্ধতির ভৈরবীতে। সুতরাং ভৈরবীতে প্রাচীন ও নবীন ( আধুনিক ) স্বররূপের মধ্যে পার্থক্য অনেক।*
                   *ক্রমাগত*
*🙏জয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
      *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*

*🍀অন‍্যান‍্য রাগসম্বন্ধেও ঠিক এককথা,অর্থ‍্যাৎ প্রাচীন রূপের সঙ্গে আধুনিকের পার্থক্য অনেক তার নিয়ামক মেল বা থাটরূপের পরিবর্তনের জন্য।সেভাবে বরাড়ী বা বরাটী,কর্ণাট বা কানাড়া,বসন্ত,মালব, গুর্জরী প্রভৃতি রাগের প্রাচীন ও আধুনিক রূপের মধ্যে কিছু কিছু (কিম্বা অনেক) পার্থক্য দেখা যায়।যেমন,৯ম-১১শ শতকের গুণীজন পার্শ্বদেব বসন্তকে বলেছেন ঋষভ-ধৈবতবর্জিত ঔড়ব তথা পঞ্চস্বরের রাগ।পন্ডিত রামামত‍্য (১৫৫০ খ্রীঃ)"স্বরমেলকলানিধি"গ্রন্থে বসন্তকে "শুদ্ধবসন্ত" বলেছেন এবং তার স্বরূপ ষাড়ব-সম্পূর্ণ-জাতির (ছয় স্বর--সাত স্বরযুক্ত), কেননা আরোহণে পঞ্চমবর্জিত। এখানে লক্ষ্য করার বিষয়ে যে,রামামত‍্য মুখারীকে নিয়ামক শুদ্ধমেল (S.S) বলে গণ‍্য করেছেন,তাতে মুখারীর বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির রূপ দাঁড়ায়-- সা বি (কোমল) বি ম প ধ (কোমল) ধ র্সা ; অর্থ‍্যাৎ রামামত‍্যের শুদ্ধঋষভ ও শুদ্ধগান্ধার ও শুদ্ধনিষাদ বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির তীব্র-ঋষভ ও তীব্র-ধৈবত। পন্ডিত সোমনাথ অনুরূপ অভিমত পোষণ করেন বসন্তের রূপ-সম্বন্ধে। বতর্মান পদ্ধতিতেও বসন্তের রূপ নিয়ে মতভেদের অন্ত নেই।শুদ্ধবসন্তের প্রচলিত রূপ উভয়-মধ‍্যম, পঞ্চম-বর্জিত ও ঋষভ-কোমল।প্রাচীন ধ্রুবপদ পদ্ধতির গানে এই রূপের প্রচলনই দেখা যায় এবং অনেকের মতে,কোমল-ধৈবতেরই ব‍্যবহার হয় বসন্তে ; যেমন, সা গ ম (কড়ি) ধ (কোমল, ঋষভ (কোমল-তারস্থানে), র্সা।এই বসন্তের রূপ পরজ-বসন্তের রূপের সমান। সুতরাং বসন্তের রূপে বর্তমানকালেও মতভেদ দেখা যায়।লোচন-কবি "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থে এবং তাঁর মতানুবতী পন্ডিত হৃদয়নারায়ণ বসন্তকে গৌরী সংস্থান বা গৌরীমেলের রাগ বলেছেন তখনকার গৌরীমেল বতর্মান ভৈরবমেলের সমান ; সুতরাং তখনকার মেলনাম ও বতর্মানের মেলনাম এক নয়,যদিও স্বররূপে প্রায় এক।*
*☘গীতগোবিন্দ-পদগানে ব‍্যবহৃত মালব,মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত, রামকিরী,কর্ণাট,দেশাখ,দেশবরাড়ী, গোন্ডকিরী,ভৈরবী,বরাড়ী বা বরাটী ও বিভাষ বা বিভাস এই বারোটি প্রাচীন যুগের রূপানুশীলন করেছেন সঙ্গীতশাস্ত্রী সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী, পন্ডিত হৃদয়নারায়ণের "হৃদয়প্রকাশ" ও 'হৃদয়কৌতুক' গ্রন্থ দুটিতে উল্লিখিত স্বররূপকে অনুসরণ করে।(তাঁর প্রবন্ধ কয়েক বৎসর পূর্বে "বিশ্ববাণী" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল )। রাগতরঙ্গিণীকার লোচন কবির অভিমতকে অনুসরণ করেই পন্ডিত হৃদয়নারায়ণও প্রাচীন রাগগুলির স্বরবিন‍্যাস করেছেন।লোচন কিম্বা হৃদয়নারায়ণের ও অন‍্যান‍্য প্রাচীন সঙ্গীতগ্রন্থকারদের রাগ বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখি----*
*(১)মালব ও মালবগৌড় গৌরী-সংস্থান বা ভৈরবমেলের স্বররূপ সা রি (কোমল) গ ম প ধ (কোমল) নি । কিন্তু বতর্মান হিন্দুস্থানী পদ্ধতিতে কড়ি-মধ‍্যমের (হ্ম) ব‍্যবহার হয়, যদিও লোচন কবি সে সম্বন্ধে কোন কিছু বলেননি।*
*(২)গুর্জরীও লোচন কবির মতে, গৌরী-সংস্থান তথা ভৈরবমেলের রাগ, সুতরাং এতে ঋষভ ও ধৈবত কোমল বা বিকৃত।*
*(৩)বসন্তও লোচন কবির মতে, গৌরী-সংস্থানের রাগ।বসন্ত সম্বন্ধে আগে আলোচনা করেছি। কিন্তু লোচন কবির পূর্বগ-শাস্ত্রীদের মতের সঙ্গে লোচনেরমতের মিল নেই।লোচন ও হৃদয়নারায়ণ বসন্তে ঋষভকে বাদ দিয়ে কোমল-ধৈবতের ব‍্যবহার করেছেন অবরোহণে।প্রাচীন ধ্রুবপদগানে যে শুদ্ধবসন্তের প্রচলন আছে,তাতে পঞ্চম-বর্জিত, এবং ঋষভ-কোমল এবং উভয়-মধ‍্যমের (ম হ্ম) ব‍্যবহার।*
*(৪)রামকিরি বা রামক্রী লোচনের মতে ভৈরবমেলের রাগ। বতর্মান ভৈরবমেলের স্বররূপ-- সা বি (কোমল) গ (কোমল) ম প ধ (কোমল)।লোচনের অনুবতী হৃদয়নারায়ণ রামকিরি-রাগিনীতে কোমল-ধৈবত ও কোমল-ঋষভের ব‍্যবহার করেছেন।*
                     *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
       *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*

*(৫)কর্ণাট লোচন কবির মতে, খাম্বাজমেলের অনুরূপ ও ঐ মেলের অন্তর্গত।খাম্বাজ মেলে কোমল-নিষাদের, ব‍্যবহার এবং অন‍্যান‍্য স্বর অবিকৃত বা শুদ্ধ। ইতিহাসের পাতায় কর্ণাটের পরবর্তী রূপ হিসাবে আমরা কানড়ারাগকে পাই। "সঙ্গীত-রত্নাকর" গ্রন্থে শার্ঙ্গদেব কর্ণাট বা কানাড়ার পরিবর্তে কর্ণাট-রঙ গাল-রাগের পরিচয় দিয়েছেন এবং তা পঞ্চম-বর্জিত ষাড়বজাতির রাগ বা রাগিনী। পন্ডিত রামামত‍্য (১৫৫০ খ্রীঃ) পৃথকভাবে কর্ণাট বা কানাড়ার নাম উল্লেখ করেননি,তবে কন্নড় শব্দ ব‍্যবহার করেছেন সম্ভবত কর্ণাটকে লক্ষ্য করে।পন্ডিতপুন্ডরীকে বিঠ্ঠল সম্রাট আকবরের সময়কার শাস্ত্রী। তিনি কর্ণাটের নামোল্লেখ করে "রি-ধ-বর্জিত বা পূর্ণস্তু কর্ণাট ইনাস্তশোভী" বলেছেন। অর্থ‍্যাৎ তাঁর মতে,কর্ণাট ঋষভ ও ধৈবত-বর্জিত ঔড়ব বা পাঁচ স্বরের রাগ, আবার সমস্ত স্বরকে নিয়ে সম্পূর্ণ জাতির।পন্ডিত সোমনাথের রাগবিরোধে (১৬০৯ খ্রীঃ) "কর্ণাটঃ কর্ণাটগৌড়ঃ" শব্দগুলির উল্লেখ পাওয়া যায় এবং তা থেকে কর্ণাট ও কর্ণাটগৌড়কে যেন একই রাগ বলে প্রতীত হয় (?) ; খ্রীষ্টীয় ১৭শ শতকে লোচন-কবি "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থে কর্ণাট ও কানড়া বা কানাড়া শব্দ দুটি পৃথকভাবে ব‍্যবহার করেছেন। যেমন,*
*🌷রাগেশ্বরী কানরশ্চ খম্ ভাইচী তু রাগিনী।*
 ☆ ☆ ☆
*🌷কর্ণাটসংস্থিতাবেতে রাগাঃ সন্তীতি নিশ্চিতম্।।* 
*🍀এখানে উল্লেখযোগ্য যে,আনুমানিক ১৪শ শতকের "পঞ্চমসারসংহিতা" গ্রন্থে রাগ মল্লারের রাগিনী-রূপে 'কানড়া'-র উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৭শ শতকের দক্ষিণী সঙ্গীতশাস্ত্রী বেঙ্কটমখী চতুর্দন্ডীপ্রকাশিকায় শ্রীরাগের জন্মরাগ-রূপে কন্নড়গৌল বা কন্নড় বা কানাড়ার পরিচয় দিয়েছেন।তাছাড়া ভাবভট্টের "অনূপসঙ্গীতাংকুশ ও অনূপসঙ্গীতরত্নাকর" এবং পুরুষোত্তমের মিশ্রের "সঙ্গীতনারায়ণ" গ্রন্থগুলিতে 'কর্ণাটী-শব্দের উল্লেখ দেখি।অহোবলের "সঙ্গীতপরিজাত- গ্রন্থে কানাড়া আবার কানড়ী নামে উল্লিখিত।সেখানে কানড়ী বা কানাড়া তীব্র-গান্ধারযুক্ত।মোটকথা কর্ণাট ও কানাড়াকে যদি এক ও অভিন্ন রাগরূপে পাই,তবে সঙ্গীতদর্পণকার দামোদরের মতে, কর্ণাট বা কানাড়া সম্পূর্ণ তথা সাত স্বরের রাগ বা নিষাদ বিকৃত বা কোমল। কিন্তু বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির কানড়া তথা কর্ণাটরাগে গান্ধার,ধৈবত ও নিষাদ বিকৃত বা কোমল (জ্ঞ দ ণ)।*
*(৬)দেশাখ,দেশাখ‍্য বা দেবশাখ লোচনকবির মতে মেঘ-সংস্থানের রাগ।দেশাখ বা দেশাখ‍্য রাগ বা রাগিনীরই ভিন্ন নাম।হনুমন্মতে দেশাখ‍্য বা দেশাখ হিন্দোলরাগের তৃতীয় রাগিনী।দেশাক্ষী,দেবশাখ, দেওশাখ নামেও ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গীতগ্রন্থে উল্লিখিত।পার্শ্বদেব "সঙ্গীতসময়সার" গ্রন্থে দেশাখ ও দেশাখ‍্য এই দু'রকম শব্দ ব‍্যবহার করেছেন।দেশাখ বা দেশাখ‍্য পার্শ্বদেবের মতে, ঋষভ-বর্জিত ষাড়ব, অর্থ‍্যাৎ ছ'স্বরের রাগ।এতে সমস্ত স্বরই শুদ্ধ। সঙ্গীতরত্নাকরে শার্ঙ্গদেব "দেশাখ‍্য" নামেরই উল্লেখ করেছেন।"কলানিধি" টীকায় কল্লিনাথ দেশাখ‍্য বা দেশাখকে পঞ্চম-বর্জিত ষাড়বরাগ বলেছেন। কিন্তু পার্শ্বদেবের মতে, দেশাখ‍্য ঋষভ-বর্জিত ষাড়বরাগ। পন্ডিত রামামত‍্যের মতে,দেশাখ বা দেশাখ‍্য বা দেশাক্ষী আরোহণে সম্পূর্ণ ও অবরোহণে মধ‍্যম ও নিষাদ-বর্জিত ঔড়বজাতি। পন্ডিত সোমনাথ দেশাখ বা দেশাক্ষীকে ঔড়ব-সম্পূর্ণ বলেছেন। সুতরাং দেশাখ,দেশাখ‍্য বা দেশাক্ষীকে নিয়ে মতভেদের অন্ত নাই। বতর্মানে দেশাখ বা দেবশাখ কাফীমেলের ধৈবত-বর্জিত ষাড়বজাতির রাগ।কবি জয়দেব সময় (১২ শতকের শেষভাগে) দেশাখ বা দেশাখ‍্য বা দেবশাখ সম্ভবত কল্লিনাথ সমর্থিত পঞ্চম-বর্জিত ষাড়ব-ষাড়ব-জাতির রাগ ছিল।*
                    *ক্রমাগত*
*🍀শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
     *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*

*(৭)দেশ-বরাড়ী সম্ভবত দেশ ও বরাড়ী-রাগদুটির সংমিশ্রণে সৃষ্ট।'বরাড়ী'রাগ বৈরাটী,বিরাটী, বরাটিকা প্রভৃতি নামেও পরিচিত। শার্ঙ্গদেব একে "বটুকী"নামেও অভিহিত করেছেন, "তজ্জা বরাটিকা সৈব বটুকী ধ-নি-পাধিকা"।ধৈবত, নিষাদ ও পঞ্চম স্বর-তিনটির এতে বেশী ব‍্যবহার।দেশ,দেশী ও দেশাখ‍্য ভিন্ন ভিন্ন রাগ। কিন্তু দেশ ও দেশকার সমশ্রেণীভুক্ত বা একই রাগ।দেশ বা দেশকার মোটেই প্রাচীন রাগ নয়, কেননা নান‍্যদেব মম্মটাচার্য‍্য,সোমেশ্বরদেব এবং এমনকি ১৩শ শতকে শার্ঙ্গদেব "সঙ্গীতরত্নাকর" গ্রন্থে দেশ ও দেশকার-রাগের কোন পরিচয় দেননি।পন্ডিত সোমনাথ (১৬০৯ খ্রীঃ) দেশ বা দেশকারকে "দেশকৃৎ"তথা "দেশকৃদ্দেশকারঃ"বলেছেন।তিনি বলেছেন,দেশ বা দেশকার সংপূর্ণজাতির রাগ, "সাংশাদ‍্যন্তেহহ্নোহন্তকম্প্রমনির্দেশকৃৎ পূর্ণ"।আগেই বলেছি যে,জয়দেব-বর্ণিত দেশ-বরাড়ী সম্ভবত দেশ ও বরাটী বা বরাড়ী রাগ-দুটির মিশ্রণে সৃষ্ট।লোচন-কবি ও হৃদয়নারায়ণদেব এ' রাগের কোন পরিচয় দেননি। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না, কারণ কবি জয়দেব ১২শ-১৩শ শতকে তাঁর গানের সঙ্গে দেশ-বরাড়ী রাগের সম্পর্ক ঘটিয়েছেন,অথচ ঠিক সেই সময়ে দেশ-বরাড়ী অথবা দেশ-বরাটী নামে নির্দিষ্ট কোন রাগের নাম কোন প্রাচীন সঙ্গীতগ্রন্থে পাওয়া যায় না।পাওয়া যায় না পঞ্চম-সপ্তম শতকের সঙ্গীতগ্রন্থ "মতঙ্গের" বহুদ্দেশীতে,পার্শ্বদেবের সঙ্গীতসময়সারে এবং নাট‍্যলোচনেও। অথচ পরবর্তীকালে দেশ-বরাড়ীরাগের শিল্পী-অঙ্কিত চিত্র পাওয়া যায়।মনে হয়,দেশ-বরাড়ী রাগ বা রাগিনী পরবর্তীকালে সৃষ্ট এবং ১২শ শতকের গীতগোবিন্দে তার উল্লেখ ঐতিহাসিকদের মনে একটু সংশয়ের উদ্রেক করে।*
*(৮)গোন্ডকিরি--,গুণকেলী,গুন্ডত্রুী, গুণক্রী,গুণক্রিয়া,গুণকিরি প্রভৃতি নামে পরিচিত।"গুন্ডকী" নামও প্রাচীন গ্রন্থ সঙ্গীতসময়সারে পাওয়া যায়। ১৩শ শতকের গুণীজন শার্ঙ্গদেব গুণক্রীরাগের পরিচয় দেননি কেন-- তা বলা যায় না।পন্ডিত রামামত‍্য একে ধৈবত-বর্জিত ষাড়ব-ষাড়বজাতির রাগ বলেছেন।পুন্ডরীক বিঠ্ঠল(১৫৯০ খ্রীঃ)একে "গৌন্ডকৃতি"বলেছেন এবং তাঁর মতে, ধৈবত-বর্জিত ষাড়ব-ষাড়বজাতির রাগ গোন্ডকিরি। কিন্তু ১৭শ শতকের প্রথম পাদের সঙ্গীতশাস্ত্রী পন্ডিত সোমনাথ তাঁর গ্রন্থে "গোন্ডক্রিয়া" তথা গোন্ডকিরিকে কোমল-ঋষভ ও ধৈবতযুক্ত গান্ধার ও নিষাদ-বর্জিত ঔড়বজাতির রাগ বলেছেন। গৌরী-সংস্থান বর্তমানে ভৈরবমেলের অনুরূপ এবং ভৈরবরাগের জন‍্যরাগ, সুতরাং প্রাতঃকালে গেয়।গোন্ডকিরা বা গোন্ডক্রীর ঋষভ ও ধৈবত কোমল বা বিকৃত।*
*(৯)ভৈরবী--,তখনকার সময়ে ভৈরবীর রূপ ছিল বর্তমানের কাফীমেলের অনুরূপ বা সমান, সুতরাং ভৈরবীর রূপ পাই-- সা রি গ (কোমল) ম প ধ নি (কোমল)। পন্ডিত সোমনাথ বলেছেন--, "অন‍্যে তু ভৈরবীরাগে ধৈবতং কোমলং বিদুঃ"।অর্থ‍্যাৎ অনেকে ভৈরবীতে কোমল-ঋষভ ব‍্যবহার করেন। বতর্মান হিন্দুস্থানপদ্ধতির ভৈরবীতে কোমল-ঋষভ,গান্ধার,ধৈবত ও নিষাদ ব‍্যবহৃত হয় (ঋ জ্ঞ দ ণ)। লোচন-কবি ভৈরবীতে কোমল-ধৈবতের ব‍্যবহারকে অসুন্দর বলেছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, লোচনকবি ১৬শ শতকের শেষার্ধের কিংবা ১৭শ শতকের প্রথম বা মধ‍্যম পাদের কবি। সুতরাং ১২শ শতকের পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাগরূপে পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।পন্ডিত অহোবল প্রভৃতি ভৈরবীতে কোমল-ধৈবতের ব‍্যবহার বলেছেন, "ভৈরবী স‍্যাদ্ ধ কোমল"।*
*(১০)বরাড়ী বা বরাটী সম্বন্ধে আমরা দেশ-বরাড়ী প্রসঙ্গে কিছুটা আলোচনা করেছি।বরাড়ী বা বরাটীর প্রকারভেদ, যেমন সৈন্ধববরাটী, কুন্তলবরাটী,দ্রাবিড়বরাটী, প্রতাপবরাটী,নাগবরাটী, শোকবরাটী প্রভৃতি। বতর্মান পদ্ধতির বরাড়ী তথা বরাটীতে কোমল-ঋষভ ও কড়ি-মধ‍্যমের ব‍্যবহার হয়। শার্ঙ্গদেব বরাড়ীতে কোন কোমল স্বরের উল্লেখ করেননি,বলেছেন--ধৈবত,নিষাদ ও পঞ্চমের বেশী প্রয়োগ।পন্ডিত অহোবল বরাড়ীতে কোমল-ঋষভ ও ধৈবতের ব‍্যবহারেরই কথায় বলেছেন।লোচনকবি বরাড়ীর কোন পরিচয় দেননি।*
*(১১)বিভাসরাগ লোচনের মতে ভৈরবমেলের সমান, সুতরাং বিভাসে ঋষভ ও ধৈবত কোমল।বিভাসের রূপ প্রধানত দু'রকম-- একটি প্রাতঃকালে ও অন‍্যটি রাত্রে গেয়। বিভাসের প্রাচীনরূপেও নিষাদ ও মধ‍্যমবর্জিত দেখা যায়।*
*(১২)মালব বা মালবগৌড় রাগের প্রকারান্তরে আমরা পরিচয় দিয়েছি।লেখকের "রাগ ও রূপ" গ্রন্থের প্রথম ভাগে এই মালবরাগ সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা দ্রষ্টব‍্য।*
                 *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
                  *(দুই)*
*🍀মেবারের রাণা কুম্ভা (বা কুম্ভকর্ণ) গীতগোবিন্দের উপর "রসিকপ্রিয়া" নামক টীকা রচনা করেছেন-- যাতে দেশীরাগগুলির স্বররূপ বা স্বর-সমাবেশের মধ্যে মতঙ্গ, শার্ঙ্গদেব প্রভৃতি নির্দেশিত রাগসজ্জার বিকাশ থেকে কিছু কিছু পার্থক্য বা প্রভেদ দেখি।গীতগোবিন্দে যে রাগগুলির উল্লেখ আছে পদগুলি সুরে প্রকাশ করার জন্য,তাদের রূপের পার্থক্যের কথা আলোচনা-প্রসঙ্গে পূর্বে উল্লেখ্য করেছি। "সঙ্গীতরাজ"রাণা কুম্ভার একটি অবিস্মরণীয় অক্ষয় অবদান। ডক্টর কুঞ্জন রাজা "সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থের স্বরাধ‍্যায়মাত্র সম্পাদনা করে বিকানীর থেকে প্রকাশ করেছেন।পরে বারাণসী হিন্দুবিশ্ববিদ‍্যালয় (Banaras Hindu University) ডক্টর প্রেমলতা শর্মা "সঙ্গীতরাজ" বিশেষভাবে সম্পাদনা করে ইংরেজী ১৯৬৩ খ্রীষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রথমভাগ প্রকাশ করেছেন।সম্পাদিকা ডক্টর প্রেমলতা শর্মা মেবারের রাণা কুম্ভার আবির্ভাব-কাল-সম্পর্কে লিখেছেন--, (The date of Kumbha Presents no difficulty. He ascended the throne of Mewar in Chittorgarh in 1433 A.D. after the assassination of his father Mokal and had a glorious reign of thirty-five years.(vide Sanskrit verse). The above verse ; "শ্রীমদ্বিক্রমকালতঃ পরিগতে নন্দাভ্রভূতক্ষিতা"☆ ☆ mentions the year 1374 corresfondnig to 1456 A.D. The Kirttistambha inscription which was installed in 1460 A.D. clearly refers to the composition of S.Raj by Kumbha.। রাণা কুম্ভার তিরোভাব ঘটে ১৪৬৮ খ্রীষ্টাব্দে।"সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থে সাঙ্গীতিক উপাদানের ও বিশেষ করে রাগ-রাগিনীদের পরিচয়প্রসঙ্গে রাণা কুম্ভার একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যায় সেকথা আগেই উল্লেখ করেছি। বিদগ্ধ সম্পাদিকা সঙ্গীতরাজে আলোচিত ও অনুসৃত ধারা-প্রসঙ্গে লিখেছেন--, The author's theories and concepts are traditional though he evenices a special Partiality for the more ancient authorities, who do not seem to Possess the same degree of appeal for contemporary writers (vide Introduction, P- 151). Traditional বা ঐতিহ্যবাহী ধারাপারম্পর্য‍্য-সম্পর্কে তিনি রাণা কুম্ভার নিজের স্বীকারোক্তির উল্লেখ করেছেন।স্বীকারোক্তিটি হল--*
*🌷অধ‍্যাসিতায়া নিজপূর্বপুঙ্ ভিঃ,*
*🌷পদং সবীসর্তি ন যঃ কদাচিৎ।*
*🌷বিশুদ্ধিমত‍্যাঃ সরণে স রাজা,*
*🌷পদং চরীকর্তি বিচারবর্তী।।*
*🌹রাণা কুম্ভার যে নিজস্ব একটি স্বাধীন বৃত্তি ও দৃষ্টি ছিল সঙ্গীতমীমাংসার বেলায় গীতগোবিন্দের "রসিকপ্রিয়া" টীকায় রাগরূপের আলোচনার সময়ে কিছুটা তার উল্লেখ করেছি। এখানে গীতগোবিন্দের রাগরূপের পরিচয় প্রসঙ্গে খ্রীষ্টীয় সতের শতকের প্রথমে বা মধ‍্যকালে লোচন-কবি-রচিত "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থের মত-অনুযায়ী যে ভৈরবাদি রাগগুলির (যে রাগগুলি গীতগোবিন্দে উল্লিখিত হয়েছে ) স্বররূপের উল্লেখ করেছি, এখানে রাণা কুম্ভা-রচিত"সঙ্গীতরাজ" থেকে সেই সেই রাগের কতকগুলি পরিচয়ের উল্লেখ করি তুলনামূলক দৃষ্টির পরিপ্রেক্ষণে সেকাল ও একালের রাগগুলির স্বরসমাবেশের পরিচয় লাভ করার জন্য।যেম গীতগোবিন্দে মালব,মালবগৌড়, গুর্জরী,বসন্ত,রামকিরী,কর্ণাট,দেশাখ, দেশ-বরাড়ী, গোন্ডকিরী,ভৈরবী, বরাড়ী ও বিভাস বা বিভাষ এই বারোটি রাগের উল্লেখ পাই।রাণা কুম্ভা সঙ্গীতরাজে বসন্তরাগের পরিচয় দিয়েছেন --*
*🌷সাংশন‍্যাসগ্রহঃ পূর্ণো মন্দ্রানিঃ সকম্পিতঃ।*
*🌷ভূযিষ্ঠরিনিসো দৈনে পশ্চিমে প্রহরে বুধৈঃ।।১|৭৭*
*🌷হিন্দোলাঙ্গ বসন্তোহয়ং বসন্তে গীয়তে শুচৌ।*
*🌷বিদ্রুমাভং দশভূজং ষড়াস‍্যং কোকিলাগতিম।।১|৭৮*

*রী রী বি গা ম নি ধ পা ম গ রী স রী রী,*
*গা মং বি গা ম প স সা স বি গা বী সা রী।*
*প মং বি সা ম প ধ নী নি স নী ধ পা মং,*
*পা ধা নি ধা বি নি ধ ধা প ধ মা ম সা রী।।১|৮০*
*🍀এটি বসন্তরাগের (স্বর)-করণ। তাছাড়া আলাপ-- সা রী গ সা গ গ ধা ম গ মা গ রী সা প্রভৃতি।*
*▪কর্ণাটী বা কর্ণাট-রাগ সম্বন্ধে রাণা কুম্ভা বলেছেন---*
*🌷ধান্তা ষড়্ জগ্রহন‍্যাসা তারণা মন্দ্রমধ‍্যমা।*
*🌷সমশেষস্বরা পূর্ণা কর্ণাটী কর্ণরক্তিদা।।১|১১৩*
*🌷ইমাং ভাষাং সমাচষ্ট মতঙ্গাদিবিদাং গণঃ।*
*🌷রাগাঙ্গমাহ নিঃশঙ্কো গ্রামরাগানুসারতঃ।।*
*🌷কৃষ্ণবস্ত্রা নীলবর্ণা গজেন্দ্ররবরাহ না।।১|১১৪*
*🌹অবশ‍্য কর্ণাটী-সম্পর্কে রাণা কুম্ভা কর্ণাটীর দ্বিতীয় রূপের পরিচয় দিয়েছেন --"গান্ধারতারা মৃদুমা ধৈবতাংশগ্রহাস্তিমা" প্রভৃতি এবং "পূর্ণা কর্ণাটী বর্ণিতা" (১°১০৮) বলেছেন।*
                  *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
       *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*

*🍀ভৈরবী-সম্পর্কে রাণা কুম্বা সংগীতরাজে বলেছেন---*
*🌷ভৈরবী-ভৈরবোপাঙ্গং ধ-গ্রহাংশাবসানিকা।*
*🌷মন্দ্রতাব-গান্ধারা সমশেষস্বরা ভবেৎ।।১|১৪৮*

*ধ নী স গ ম ধা নী গ স গ রী ম গ ধ নি ধা।*
*ধ প মা ধ ধ পা মা গ ম ধ নী স রি গা নি ধা ।।*
                             *(১|১৪৯)*
*🍀মালবরাগ সম্পর্কে রাণা কুম্ভা বলেছেন---*
*🌷টক্বকৈশিকভবা তু মালবা যা,*
                *তদঙ্গমিহ মালবা মতা।*
*🌷সংগতাবিহ রিপৌ সধৌ তথা,*
       *নিগ্রহাংশবিবতির্নিযোজিতা।২|৭৯*
*🌷বাসবান্তিমদলে শুচৌ বসে,*
        *বস‍্যতে চ করুণে পুরাতনৈঃ।*
*🌷ধৈবতাংশবিবতির্ভয়ানকে,*
          *কেশ্চিদেব নিপুণং বিভাষ‍্যতে ২|৮০*
*🌻তেমনি সংগীতরাজে রামকৃতি বা রামক্রী বা রামকিরী সম্পর্কে রাণা কুম্ভা বলেছেন----*
*🌷কোলাহলা টক্কভবাত্র ভাষা,*
            *পূর্বোদিতা রামকৃতিস্তদঙ্গম্।*
*🌷সান্তা গ্রহাংশীকৃতমধ‍্যমা চ,*
          *বিবর্জিতা পঞ্চমনিস্বনেন।।২|১১৪*
*🌹রামকৃতি বা রামক্রী রাগ বা রাগিনী হল-- "দোলারূঢ়া চ গৌরাঙ্গী বীণাদন্ডবিভূষিতা"।তাছাড়া ক্রিয়াঙ্গরাগ-রূপে পূর্বরামক্রিয়া, রামক্রিয়া,গৌন্ডকৃতি,দেবকৃতি প্রভৃতির পরিচয়ও দিয়েছেন রাণা কুম্ভা। রামকৃতি (২|১১৪) ও রামক্রিয়া (৩|২) রাগকে পৃথক দৃষ্টিতেই বিচার বিশ্লেষণ করেছেন রাণা কুম্ভা। রামক্রিয়ার রূপ---*
*🌷আপঞ্চমং তিবমৃদুপ্রচারা,*
         *সাংশগ্রহান্তা রিসভূরিনাদা।*
*🌷স‍্যাদ্বিপ্রলম্ভে করুণে রসে চ,*
            *রামক্রিয়া বাসরপশ্চিমার্ধে।।৩|৪*
*🌻মোটকথা রাগতরঙ্গিণীকার লোচন-কবি রাণা কুম্ভার বহু পরবর্তী গ্রন্থকার বা শাস্ত্রকার। ঐতিহাসিক পটভূমিকায় বিচার-দৃষ্টিতে দেখা যায়,১২শ-১৩শ শতকের কবি জয়দেবের নির্দেশিত রাগরূপকে ১৫শ শতকের শাস্ত্রকার ও সংগীতজ্ঞানী রাণা কুম্ভা রচিত "র্সগীতরাজ" গ্রন্থে উল্লিখিত রাগগুলির স্বরসমাবেশপদ্ধতির দৃষ্টিকোণ থেকেই আমাদের বিচার করা উচিত। বতর্মান উত্তর-ভারতীয় রাগরূপের মধ্যে রাণা কুম্ভা নির্দিষ্ট রাগরূপগুলি ঐক‍্য-অনৈক‍্য লক্ষ্য করা যায়।*
*🔵গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী এখানেই রইল।*
*🌹শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দে রাগরূপ ও তার বিকাশ*

*🍀আমরা আগে আলোচনা করেছি যে,মালব,মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত, রামকিরী বা রামক্রী,কর্ণাট,দেশাখ বা দেবশাখ,দেশ-বরাড়ী, গোন্ডকিরী, ভৈরবী,বিভাস ও বরাড়ী বা বরাটী রাগগুলি "গীতগোবিন্দ"পদগানের সঙ্গে সম্পর্কিত।পূজারী গোস্বামী ও অন‍্যান‍্য অধিকাংশ টীকা ও ভাষ‍্যকারগণ এই রাগগুলিরই উল্লেখ করেছেন এবং একথাও আলোচনা করেছি যে,রাণা কুম্ভ (রাণা কুম্ভা নামটি "রাণা কুম্ভা" নামে পরিচিত-- যদিও 'রাণা কুম্ভা বলে অনেকে ব‍্যবহার করেন),"রসিকপ্রিয়া" টীকায় বহু অন‍্যান‍্য রাগের নাম উল্লেখ করেছেন।এ'থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে,গীতগোবিন্দে রাগসম্পর্কে গুণীসমাজে মতভেদেরও প্রয়োজন হয়েছিল।মূলপদগানে ও রাণা কুম্ভার টীকায় রাগ-সমাবেশের রীতির তুলনামূলক আলোচনা করলে দেখা যায়, (১ ক)প্রথম অষ্টপদীপ্রসঙ্গে কবি জয়দেব বলেছেন--,"মালবগৌড়রাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ)আগেই উল্লেখ করেছি যে,রাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়ার"সৃচনায় (উপোদঘাতে) চতুর্থ শ্লোকে বলেছেন--, "নত্বা মতঙ্গভরতপ্রমুখান সুগীতসংগীতশাস্ত্রনিপুণাঞ্জয়দেববাচাম্। শ্রীকুম্ভকর্ণনৃপতির্বিবৃতিং তনোতি গানং নিধায় সরসং রসিকপ্রিয়াহ্বাম্।। অর্থ‍্যাৎ, রাণা কুম্ভা গীতগোবিন্দের পদ-সম্পর্কিত সংগীত বিষয়ে আলোচনা করেছেন পূর্বগ বিদগ্ধ সংগীতবিদ্বান ভরত,মতঙ্গ প্রভৃতি-রচিত সংগীতশাস্ত্রকে অনুসরণ করে। তাছাড়া রাণা কুম্ভা ছিলেন যথার্থ অভিজাত সঙ্গীতধারায় বিজ্ঞানী এবং তাঁর রচিত "সঙ্গীতমীমাংসা ও সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থ দুইটি সেকথা প্রমাণ করে।টীকায় উপোদঘাতের উনিশ সংখ্যক শ্লোকের শেষে তিনি বলেছেন--, "গমকালাপ- পেশলতয়া মধ‍্যমগ্রামে ষাড়রেব মধ‍্যমগ্রহেণ মধ‍্যমাদিরাগেণ গীয়তে"। প্রথম অষ্টপদীসম্পর্কিত টীকায় ১২ সংখ্যক শ্লোকে তিনি পুনরায় বলেছেন--,"☆ ☆ ধবলোহয়ং প্রবন্ধবাট।রাগোহত্র মধ‍্যমাদিঃ স‍্যাদাদিতালো বিলম্বিতঃ।।লয়ঃ স‍্যান্মাগধীরীতিঃ শৃঙ্গারোহত্র রসঃ স্মৃতঃ"। সুতরাং এখানে পাই মধ‍্যমাদি তথা মধুমাধবী রাগের উল্লেখ।এই সব রাগরূপ-সম্বন্ধে পূর্বে আলোচনা করেছি।*
*২|(ক) দ্বিতীয় অষ্টপদীসম্পর্কে কবি উল্লেখ করেছেন--,"গুর্জরীরাগা- নিঃসারতালাভ‍্যাং গীয়তে।*
*(খ) রাণা কুম্ভা প্রারম্ভে বলেছেন-,"ইদানীং বর্ণ‍্যমানং শ্রীকৃষ্ণং স্বরূপনিরূপণদ্বারা মঙ্গলগীতেন স্তৌতি। তত্রেদমাদ‍্যং পদং ললিতরাগেণ লখ্বাদিতাল ইতি আদিতালে গীয়তে"। অর্থ‍্যাৎ ললিতরাগে ও লঘু-আদিতালে গীত হবে দ্বিতীয় প্রবন্ধ।*
*৩|(ক) তৃতীয় অষ্টপদসম্পর্কে মূলে আছে--, "বসন্তরাগ যতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা এ প্রসঙ্গে টীকার নবম শ্লোকে বলেছেন--, "মধ‍্যা নায়িকা। গুর্জরীরাগেণ ঋষভাদিনা"-- যদিও "বিপ্রলম্ভাখ‍্যঃ শৃঙ্গারো রসঃ ব‍্যাখ‍্যাপ্রসঙ্গে বলেছেন--, "☆ ☆ বসন্তরাগে ঝম্পাখ‍্যতালে মধ‍্যলয়াঞ্চিতে।" সুতরাং তৃতীয় অষ্টপদী বাংপ্রবন্ধ-প্রসঙ্গে গুর্জরী রাগে ও মধ‍্যলয়ে গীত হবে তৃতীয় প্রবন্ধ।*
*৪|(ক) চতুর্থ অষ্টপদীপ্রসঙ্গের মূলে আছে--,"রামকিরীরাগযতিতালাভ‍্যাং গীয়তে।*
*(খ)"রাণা কুম্ভেন তেন" প্রভৃতি বলে রাণা কুম্ভ রাগসম্পর্কে বলেছেন--, "যত্র স‍্যাদগুর্জরীরাগস্তালো ঝম্পেতি ভাগশঃ ☆ ☆।*
*☘প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য যে, চতুর্থ প্রবন্ধের তৃতীয় শ্লোক "গোপবধূরনুগায়তি ☆ ☆ পঞ্চমরাগম্----এই পঞ্চমরাগ সম্পর্কে পূজারী গোস্বামী অর্থ করেছেন--, ☆ ☆ উন্মীতঃ পঞ্চমস্বরো যত্র তং রাগামনুগায়তি"। রসমঞ্জরী ব‍্যাখ‍্যায় শঙ্করমিত্র বলেছেন--, "পঞ্চমাখ‍্যো রাগো যত্র"।রাণা কুম্ভা বলেছেন--, "পঞ্চমরাগো যেন বা, ☆ ☆ পঞ্চমস্বরোপলক্ষিতো রাগো যেন বা"।*
                    *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দে রাগরূপ ও তার বিকাশ*

*৫|(ক)গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "গুর্জরীরাগেণ যতিতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা নবম শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যার পর "গণগ্রামং"-পদপ্রসঙ্গে বলেছেন-- (১)ইদানীং রাধা তদেব রহস‍্যং ভঙ্গ‍্যন্তরেণাহ---'রাগো ধন‍্যাসিকো যত্র তালো বর্ণয়তিঃ স্মৃতঃ ☆ ☆।স চায়ং মধুরিপুরত্নকন্ঠি কা নাম পঞ্চমঃ প্রবন্ধো ভৈরবরাগেণ গীয়তে গণয়তীতি"। অর্থ‍্যাৎ পঞ্চম প্রবন্ধ ধন‍্যাসিক বা ধানসি এবং ভৈরবরাগে ও যতিতালে গেয়।*
*৬|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "মালবগৌড়রাগেণ একতালেন চ গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন--, "তথা চ সংগীতরাজে--গীতৌ ভৈরবরাগেণ তালে বর্ণযতৌ যথা।আভোগান্তস্থিতৈঃ পাটৈঃ স্বরৈঃ পদ‍্যাঞ্চিতস্ততঃ "।।অর্থ‍্যাৎ যষ্ঠ প্রবন্ধ ভৈরবরাগে ও যতিতালে গীত হবে।*
*৭|(ক)মূলে আছে--, "গুর্জরীরাগযতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন--, "রাগো গৌড়াকৃতির্যত্র প্রতিমন্ঠপুরস্কৃতঃ। আভোগান্তে তথা পাটস্বরৈঃ পদ‍্যগণাঞ্চিতঃ।।শৃঙ্গাররসসংপূর্ণ ☆ ☆।অর্থ‍্যাৎ যষ্ঠ প্রবন্ধ গৌড় বা গৌড়াকৃতি রাগে ও প্রতিমন্ঠতালে গেয়।*
*৮|(ক)গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "কর্ণাটরাগৈকতালীতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) এ প্রসঙ্গে রাণা কুম্ভা বলেছেন--,*
*🌷প্রতিমন্ঠকতালেন রাগে দেশাঙ্কসংজ্ঞিতে।*
*🌷পদাত্তূর্যাক্ষরৈর্যুক্তঃ পদাৎ সংগমতস্তথা।।*
*🌷আকারোপচিতালাপগমককাকুবিগ্রহঃ।*
*🌷আভোগাত্তেনকৈঃ পাটৈঃ প্রচুরৈরতিপেশনঃ।।*
*🌺মোটকথা সপ্তম প্রবন্ধ দেশাক বা দেবশাখ-রাগে ও প্রতিমন্ঠতালে গান করা কর্তব‍্য।*
*৯|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "দেশাখরাগৈকতালীতালাভ‍্যং গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন--,*
*🌷মালবশ্রীঃ স্মৃতো রাগস্তালো নিঃসারসংজ্ঞকঃ।*
*🌷রাগগেয়কারনামাঙ্কপদতস্তেন সন্ততিঃ।।*
*🌷ততঃ পাটাঃ পদানি স‍্যুঃ পঞ্চমানি রসোহত্র যঃ।*
*🌷শৃঙ্গারো বাসুদেববস‍্য ক্রীড়নং রাসকাদিভিঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ অষ্টম প্রবন্ধ মালবশ্রী রাগে ও নিঃসারতালে গেয়।*
*১০|(ক)গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "দেশবড়ীরাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন-- সঙ্গীতরাজে----*
*🌷নিঃসারতালরচিতো রাগে কেদারসংজ্ঞকে।*
*🌷কবিনামাঙ্কিতপদাৎ পাটৈঃ স্বল্পতবৈশ্চিতঃ।।*
*🍁অর্থ‍্যাৎ অষ্টম প্রবন্ধ কেদাররাগে ও নিঃসারতালে গেয়।*
*১১|(ক)মূলে আছে--, গুর্জরীরাগেণ একাতালীতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা এপ্রসঙ্গে বলেছেন, "গীত‍্যাদি পূর্বোক্তমেব"। "পূববৎ" বলতে দশম প্রবন্ধ যে কেদাররাগ ও নিঃসারতালের প্রয়োগ আছে,এখানে সে প্রয়োগই বুঝতে হবে।*
                 *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের রাগরূপ ও তার বিকাশ।*

*১২|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "গুণকরীরাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন, 'তথা চ সংগীতরাজে'--*
*🌷মালবীয়ঃ স্মৃতো গৌড়া রাগস্তালোহড্ডতালকঃ।*
*🌷শৃঙ্গারো বিপ্রলম্ভাখ‍্যো রসো দেবাদিববর্ণনম্।।*
*🌷পদসন্ততিস্তেনাঃ পাটাঃ স্বরসমুচ্চয়ঃ।*
*🌷তত পদ‍্যানি যত স‍্যুর্লমধ‍্যমমানতঃ।।*
*🔷রাণা কুম্ভার অভিমতে দ্বাদশ প্রবন্ধ মালবরাগে ও অড্ডতালে গান করা হয়।*
*১৩|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "মালবরাগ-যতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা সংগীতরাজে বলেছেন---*
*🌷রাগঃ স‍্যাৎ স্থানগৌড়াখ‍্যস্তালো বর্ণযতি-রসঃ।*
*🌷শৃঙ্গারো বিপ্রলম্ভাখ‍্যঃ প্রমদা মদনাকুলা।।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ এয়োদশ প্রবন্ধ স্থানগৌড় তথা গৌড়রাগে এবং যতিতালে গীত হবে।*
*১৪|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, তথাত্র সংগীতরাজে---*
*"বসন্তরাগ-যতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা সঙ্গীতরাজে বলেছেন--*
*🌷শ্রীরাগো যত্র রাগঃ স‍্যাত্তালস্তু দ্রুতমন্ঠকঃ।*
*🌷বর্ণনং বাসুদেবস‍্য হরিস্তদ্ব‍্যত‍্যয়ে স্ত্রিয়াঃ।।*
*🌷পদেভ‍্যঃ পাটসন্তানং স্বরাস্তেনাস্তথৈব চ।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ চতুর্দশ প্রবন্ধে শ্রীরাগ ও দ্রুত মন্ঠকতালের ব‍্যবহার হবে।*
*১৫|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "গুর্জরীরাগৈকতালীতালেন গীয়তে"।*
*(খ)সংগীতরাজে রাণাকম্ভা বলেছেন--*
*🌷দ্রুতমন্ঠেন তালেন দ্রুতেনৈব লয়েন চ ।*
*🌷মহ্লারে রসরাজে স‍্যাৎ পদানাং সংততে পুনঃ।।*
*🌷স্বরগ্রামস্তথা পাটাস্তেনা অপি যথাক্রমম্।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ পঞ্চদশ প্রবন্ধ মহ্লার বা মল্লাররাগে ও দ্রুতমন্ঠতালে গান হবে।*
*১৬|(ক) মূলে আছে-- "দেশবরাড়ীরাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা বলেছেন-, সঙ্গীতরাজে-------*
*🌷রাগো বরাটিকা যত্র তালো বর্ণ-যতিস্তথা।*
*🌷পদানি স্বেচ্ছয়ালাপ ভূষিতানি যথাদ‍্যুতি।।*
*🌷ততঃ স্বরাশ্চ পাটাশ্চ ততঃ পদ‍্যানি কানিচিৎ।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ ষোড়শ প্রবন্ধ বরাটিকা বা বরাটি রাগে ও যতিতালে গান করা হয়।*
*১৭|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "ভৈরবীরাগযতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ)সংগীতরাজে রাণা কুম্ভা বলেছন---*
*🌷তালো বর্ণযতির্মেঘরাগো দেবাদিবর্ণনম্।*
*🌷বিপ্রলম্ভাখ‍্যশৃঙ্গারো রসঃ করুণবেদনম্।*
*🌷কবিনামাঙ্কিতপদপ্রান্তে পাটস্বরাবলিঃ।।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ সপ্তদশ প্রবন্ধ মেঘরাগে ও যতিতালে গীত হবে।*
*১৮|(ক) গীঃগোঃ মূলে আছে, "গুর্জরীরাগ-যতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা বলেছেন, সংগীতরাজে---*
*🌷নট্টরাগস্তৃতীয়াখ‍্যস্তালো মধ্যে ক্বচিৎ ক্বচিৎ।*
*🌷পদানাং শোভয়ালাপগুম্ফানাং নানাহেতুকম্।।*
*🌷অন্তে পাটাঃ স্বরাস্তেনাস্তদন্তে পদগুম্ফনম্।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ অষ্টাদশ প্রবন্ধ নটরাগে ও তৃতীয় তালে বা ত্রিতালে গান করা হয়, বা কখনো কখনো গীত হয়।*
                   *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা ।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
        *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🍀যে লক্ষ্মী শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গ অর্থ‍্যাৎ মূর্তিবিশেষ নারায়ণে সংযুক্তা,লক্ষ্মীর স্বর্ণকমলের ন‍্যায় অঙ্গকান্তি, সৌগন্ধবতী ও দিব‍্যসুখ ভোগাস্পাদা,লোকগণ শিরোমণি এবং বৈকুন্ঠস্থিত ভূ-লীলা প্রভৃতি শক্তিগণের মধ্যে পরম প্রেমবতী,তাঁরও এই জাতীয় কৃষ্ণ প্রেমের আস্বাদন নাই,অন‍্য রমণীর আর কী কথা?*
*🍁শ্রীনারায়ণ ও শ্রীকৃষ্ণ স্বরূপগত অভেদ হলেও বৈদগ্ধাদিগুণে শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ হতে অনেক বেশি উৎকর্ষ,ইহা সর্বশাস্ত্রেই বর্ণিত আছে। এই জন্য লক্ষ্মীদেবী শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গসঙ্গের জন্য লালায়িতা। যথা শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে----*
*তাতে সাক্ষী সেই রামা,নারায়ণের প্রিয়তমা,*
        *পতিব্রতাগণের উপাস‍্যা।*
*তিঁহো যে মাধুর্য‍্য লোভে, ছাড়ি সব কামভোগে,*
       *ব্রতকরি করিল তপস‍্যা।।*
*🌻যদিও স্বরূপে শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান এবং শ্রীনারায়ণ তাঁর বিলাসমূর্তি তথাপি স্বরূপের কমবেশী অবশ‍্য স্বীকার করতে হবে। স্বয়ং ভগবৎ স্বরূপের শক্তি ও স্বয়ংরূপা তথা শ্রীশক্তি বা লক্ষ্মী ঠাকুরাণী শ্রীব্রজদেবীগণের অংশস্বরূপ।লক্ষ্মী ঠাকুরাণী শ্রীনারায়ণের বক্ষস্থলে সদা বাস করেও শ্রীব্রজদেবীগণের ন‍্যায় আকুল প্রেমময়ী তৃষ্ণার অধিকারিনী নন বলে আস্বাদনের চমৎকারিতা ও প্রাচুর্য‍্য প্রকাশ পাচ্ছেন না।পিপাসার কমবেশীতেই আস্বাদনের কমবেশী প্রকাশ পেয়ে থাকে।শ্রীনারায়ণের প্রতি লক্ষ্মী ঠাকুরাণীর প্রেম ঈশ্বরবুদ্ধি থাকাই সেটি অনুরোধময় ও সঙ্কোচপূর্ণ।শ্রীব্রজবাসীগণের ঈশ্বরবুদ্ধি না থাকায় সেটি সঙ্কোচশূন‍্য ও অনেক বেশী উল্লাসময়।শ্রীনারায়ণে লক্ষ্মীদেবীর তদীয়তা বুদ্ধি বা তদাধীনতা বুদ্ধি থাকায় হৃদয়ে দুর্বলতা আছে।শ্রীব্রজসুন্দরীগণের শ্রীকৃষ্ণে মদীয়তা (আমার) বুদ্ধি থাকায় হৃদয়ে সবলতা ও দার্ঢ‍্য (স্থিরতা)আছে।লক্ষ্মীদেবী সবসময়ই নারায়ণের অপেক্ষা করেন, শ্রীব্রজরামাগণ শ্রীকৃষ্ণের অপেক্ষা তো করেনই-না বরং শ্রীকৃষ্ণই ব্রজাঙ্গগণের অপেক্ষা করেন। দৃষ্টান্ত স্বরূপ "রাসোৎসবেহস‍্য-ভূজ‍্যদন্ড গৃহীতকন্ঠ"। অর্থ‍্যাৎ রাস উৎসবকালে শ্রীকৃষ্ণই গোপীগণের কন্ঠাশ্রয় করেছিলেন,ব্রজদেবীগণ শ্রীকৃষ্ণের কন্ঠ ধারণ করেননি।ব্রজগোপীগণ ভর্ত্তৃকা বা প্রভুপালক নায়িকা আবেশে অতি প্রেমময়ী তৃষ্ণায় নৃত্য গীতাদি করেছিলেন।*

*🌷রাসোৎসবঃ সংবৃতো গোপীমন্ডল মন্ডিতঃ।*
*🌷যোগেশ্বরেন কৃষ্ণেন তাসাং মধ্যে দ্বযোর্দ্ধয়োঃ।*
*🌷প্রবিষ্টেন গৃহীতানাং কন্ঠে স্বনিকটং স্ত্রিয়ঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ গোপীমন্ডল শোভিত রাসোৎসব আরম্ভ হইলে ভক্তি যোগেশ্বর,কৃষ্ণ সেই গোপীগণের মধ্যে এরকমভাবে কন্ঠ ধারণ করে ছিলেন যে প্রত‍্যেক গোপীই দেখতে লাগলেন শ্রীকৃষ্ণ আমারই পার্শ্বে রয়েছেন, আমারই সঙ্গে বিহার করছেন।এই শ্লোকের "গৃহীতানাং কন্ঠে" প্রমাণ করছে যে শ্রীকৃষ্ণ ব্রজসুন্দরীগণের কন্ঠাশ্রয় করেছিলেন।*
*🌹শ্রীরাসলীলায় শ্রীশুকদেব গোস্বামীও কথার ভঙ্গীতে শ্রীরাধার প্রেম-উৎকর্ষতার কথা ব‍্যক্ত করেছিলেন।এই উৎকর্ষতার জন্যই শ্রীরাসমন্ডলী হতে শ্রীমতীকে বক্ষে ধারণ করে নটরাজ শ্রীকৃষ্ণ সমস্ত গোপীগণকে পরিত‍্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।সেই মহারাস রজনীতে শতকোটি গোপীর কন্ঠ ধারণ করে যখন রাসমন্ডলীর মাঝে নৃত্যবিলাস চলছিল,তখন গোপাঙ্গনাদের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের প্রেমাবেগের সমতা দর্শন করে এবং প্রেমের গতি সর্পগতির মত স্বভাবতঃ কুটিল ও আধল (অন্ধ) হেতু বাম‍্য-স্বভাবা শ্রীমতী মানবতী হয়ে শ্রীরাসমন্ডলী পরিত‍্যাগ করে গেলে শ্রীকৃষ্ণও সমস্ত ব্রজদেবীগণকে পরিত‍্যাগ করে অতি বিষাদিত মনে প্রেয়সী শিরোমণি শ্রীরাধাকে খোঁজ করতে লাগলেন।এই অভিপ্রায়ে শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীমন্মহাপ্রভুকে বলেছেন--*
*🌷ক্রোধ করি রাস ছাড়ি গেলা মান করি।*
*🌷তাঁরে না দেখিয়া ব‍্যাকুল হইলা শ্রীহরি।।*
*🌷তাঁরা বিনু রাসলীলা নহে ভায়চিতে।*
*🌷মন্ডলী ছাড়িয়া গেলা রাধা অন্বেষিতে।।*
*🌷শতকোটি গোপীতে নাহি কাম নির্বাপণ।*
*🌷ইহাতে অনুমানি শ্রীরাধার গুণ।।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
        *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🍀শ্রীশুকদেব গোস্বামীর শ্রীরাসের বর্ণনায় শ্রীকৃষ্ণ অন্তর্দ্ধান করেছেনএই কথায় সুস্পষ্ট।শ্রীরাধাকে সঙ্গে নিয়ে কিম্বা শ্রীরাধার অনুসন্ধানের কোন কথায় স্পষ্ট নয়।শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীশুকদেবের বর্ণনার সাহায্য না নিয়েই রসিক কবি শ্রীজয়দেব গোস্বামীর "শ্রীশ্রীগীতগোবিন্দের" অনুসরণ করলেন।শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীশুকমুনি শারদীয় রাসের বর্ণনা করেছেন।শ্রীরাসের মধ্যে অন্তর্দ্ধানের আড়ালে যে মানের ব‍্যাপারটি তা শ্রীশুকদেব অতি সংগোপনে রেখেছেন।শ্রীজয়দেব গোস্বামীপাদ প্রধানতঃ সেটিই অবলম্বন করেছেন। শ্রীজয়দেব শ্রীরাধার মানের কারণটি যথোচিত ও স্পষ্টভাবেই ব‍্যক্ত করেছেন ও শ্রীরাস মন্ডলীতে প্রত‍্যেক গোপীর পার্শ্বেই এক কৃষ্ণ আছেন। শ‍্যামসুন্দরের উজ্জ্বল শ্রীঅঙ্গে নিজ প্রতিবিম্ব দর্শন করে শ্রীরাধা মনে করলেন,শ্রীকৃষ্ণ অন‍্য গোপী সঙ্গে নৃত্যগীত করছেন, সুতরাং তিনি মানবতী হলেন।তারপর শ্রীরাইধনি নিজের পার্শ্বে শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করলেন, এটি আগে দেখেননি।শ্রীরাধা মনে করলেন,শ্রীকৃষ্ণ অন‍্য গোপীর সঙ্গে নৃত্য গীতালাপ করে পরিশেষে আমার পার্শ্বে দাঁড়িয়েছেন,এই ভাবতেই দুর্জয় মানবতী হয়ে শ্রীরাসমন্ডলী ছেড়ে চলে গেলেন।এই কথা বোলে শ্রীরামরায় ভক্ত জয়দেবের তৃতীয় সর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্লোকদ্বয় উচ্চারণ করে শ্রীমন্মহাপ্রভুকে বললেন যে,এই শ্লোক দুইটি পাঠ করলে-- মহা অমৃতের খনি উঠিবে, যথা----*
*🌷কংসারিরপি সংসার-বাসনাবন্ধশৃঙ্খলাম্।*
*🌷রাধামাধায় হৃদয়ে তত‍্যাজ ব্রজসুন্দরী।।(১)*
*🌻শ্রীমতী শ্রীরাধা কংসারি শ্রীহরিকে সংসার বাসনারূপ শৃঙ্খলে আবদ্ধ করলেন ; শ্রীকৃষ্ণও একমাত্র রাধাগত প্রাণ হয়ে তাঁকে হৃদয়ে ধারণ করে গোপাঙ্গনাগণের সঙ্গ ত‍্যাগ করলেন।শ্রীরাধার একটি বিশেষণ "সংসার বাসনাবন্ধ শৃঙ্খলাং"। শ্রীকৃষ্ণের আরেক নাম কংসারি-- এই শব্দটির একটি অর্থ হয় ভোগ-বাসনা, যিনি তার অরি অর্থ‍্যাৎ যার স্মরণে সমস্ত কামনা বাসনা দূরীভূত হয়-- সেই কৃষ্ণের যে একটা সম‍্যকসার (বহু প্রকারের মধ্যে অন‍্যতম) বাসনা আছে সেটি শ্রীশ্রীরাসলীলা,এটি কামনা-বাসনা ধ্বংসকারীর অপূর্ব বাসনা--যথা শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে--*
*🌷ব্রজবধূগণের সঙ্গে কৃষ্ণের রাস-বিলাস।*
*🌷সেইজন কহে শুনে করিয়া বিশ্বাস।।*
*🌷হৃদরোগ কাম তার তৎকালে হয় ক্ষয়।*
*🌷তিনগুণে ক্ষোভ নহে মহাধীর হয়।।*
*🌹ব্রজলীলার মুকুটমণি এই শ্রীরাসলীলায় শ্রীরাধা একটি শৃংখলা।শ্রীরাসোৎসবে শ্রীরাধার কৃপায় সমস্ত গোপীগণই রাধাতুল‍্য হয়ে স্বাধীন ভর্ত্তৃকা নায়িকারূপে শ্রীকৃষ্ণের সহিত নৃত্যবিলাস করেছিলেন।সেই শৃঙ্খলারূপিনী শ্রীরাধার অবর্তমানে সমগ্র রাসলীলা বিপর্য‍্যস্ত।এতেই প্রমাণ হয় যে,শ্রীরাধা সকল গোপীগণের শিরোমণি।তৃতীয় সর্গের দ্বিতীয় শ্লোকটি হ'ল ঃ-----*
*🌷ইতস্ততস্তামনুসৃত‍্য রাধিকামনঙ্গ বানব্রনখিন্ন মানসঃ।*
*🌷কৃতানুতাপঃ স কালিন্দীনন্দিনী তটান্ত কুঞ্জে বিষসান মাধবঃ।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ মদনবানে ব‍্যথিত হৃদয় মাধব বিলাপ করতে করতে ইতস্তত (এদিকওদিক)শ্রীরাধার অনুসন্ধানে রত হলেন। কিন্তু তাঁর দেখা না পেয়ে যমুনার কুলের পার্শ্বে কুঞ্জে প্রবেশ করে বসলেন,এবং বিষাদে অনুতাপ করতে লাগলেন।(শ্রীকৃষ্ণ স্বগতঃ বিষাদভাবে ব‍্যক্ত করলেন)।"আমি ব্রজবধূগণ পরিবৃত হয়ে যখন নৃত্য করছিলাম,তখন শ্রীরাধা তা প্রত‍্যক্ষ করেছেন ; আমি শ্রীমতীর কাছে অপরাধী,তাই ভীতিবশতঃ শ্রীরাধার গমনে বাধা দিতে পারিনি।অহো হরি। আমি তাকে আদর করিনি মনে করে বোধহয় রাধা ক্রোধ করে চলে গিয়েছেন।*
*🌻এখানে, একটু ভাববার বিষয় এই যে যিনি স্বয়ং ভগবান,যাঁর ভগবত্তা অন‍্য-নিরপেক্ষ ও স্বয়ংসিদ্ধ সেই শ্রীকৃষ্ণ বলছেন--,আমি ভীতিবশত শ্রীরাধার গমনে বাধা দিতে পারিনি। দ্বিতীয় শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতীর অনুসন্ধানে ব‍্যস্ত।যিনি অনুসন্ধেয়(অনুসন্ধানযোগ‍্য) বস্তু,তিনি আজ অনুসন্ধানে রত।(এই স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণ পাবার আশায় কতশত যোগী মুনি ঋষি হাজার হাজার বৎসর তপস‍্যায় রত আছেন, আর সেই বিশ্বব্রহ্মান্ডের অধিপতি শ্রীকৃষ্ণ ভক্তের সন্ধান করতে রত হয়েছেন, ভক্ত তাঁকেই বলে স্বয়ং ভগবান যাঁর সন্ধান করেন)। এই বিপরীতভাব অতীব আশ্বর্য‍্যজনক।আরও আশ্বর্য‍্য,খোঁজ করে যখন কৃতকার্য‍্য হলেন না, অনুতাপানলে পুড়ে যাচ্ছেন।যিনি সর্ব চিত্তাকর্ষক,সাক্ষাৎ মদনমোহন তিনিও শ্রীরাধার আকর্ষণে আকৃষ্ট,যিনি সর্বারাধ‍্যধন তিনিও মহাভাবময়ী শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণীর আরাধনায় নিযুক্ত।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩) প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
            *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🌻সাধ‍্যধন যে শ্রীকৃষ্ণ তাঁরও শিরোমণি শ্রীরাধা--সাধ‍্যশিরোমণি।*
*🌷পূর্ণানন্দময় আমি চিন্ময় পূর্ণতত্ত্ব।*
*🌷রাধিকার প্রেমে আমায় করায় উন্মত্ত।।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণতত্ত্ব হয়েও শ্রীরাধার জন্য কি করেন আর কি না করেন।কোন সময়ে বুড়ি জটিলার ভয়ে শ্রীমতীর আঙ্গিনার এক কোণে বদরীবৃক্ষতলে (কুলগাছ) রাত্রি যাপন করেন ; কখনও কালিন্দীতীরে রাধাকে দেখবার জন্য বাঁশী হাতে বসে থাকেন। কোনও সময় শ্রীমতী রাইধনির অঙ্গপরশের লালসে কলাবতী গায়িকা,বেদেনী,ভিখারাণী, মালিনী ইত্যাদি ছদ্মবেশ ধারণ করেন।আবার স্বর্ণ-লতিকাকে শ্রীরাধা ভেবে বক্ষে জড়িয়ে ধরেন।গোবিন্দ লীলামৃতে বর্ণিত "শ্রীরাধার মূর্তি-তরুলতাদিতে সর্বত্র স্ফূর্তি পেয়ে নর্তকীর মত ভ্রমণ সহকারে সেই কৃষ্ণকে শ্রীমতীর পশ্চাৎ পশ্চাৎ নৃত্য করাচ্ছেন।আবার রাসনৃত‍্যকালে "গৃহীতানাং কন্ঠে" প্রমাণ করছে যে শ্রীকৃষ্ণই গোপীগণের কন্ঠাশ্রয় করেছিলেন।এখানে শ্রীকৃষ্ণ গোপীগণকে আকর্ষণ করতে পারেননি।গোপীগণই চুম্বকের মত শ্রীরাধার কৃপায় শ্রীকৃষ্ণকে আকর্ষণ করেছেন।পুনঃ মহারাসের উপক্রম সভাতে শ্রীব্রজাঙ্গনাগণ যমুনা পুলিনে নিজ নিজ কুচপ্রদেশে নিজ প্রাণবল্লভের শ্রীচরণারবিন্দ পেয়েছিলেন।তাঁরা সেই দুর্লভ চরণকমল অনুরোধময় কথাদ্বারা পাননি,শ্রীকৃষ্ণই উত্তমস্থান বোধে গোপীগণের বক্ষপ্রদেশে ন‍্যস্ত বা অর্পিত করেছিলেন।*
*🍀শ্রীরাধার কৃপাতে গোপীগণ শ্রীরাধার মত কৃষ্ণমাধুর্য‍্য আস্বাদন করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ প্রায়শ বলেন--, "রাধিকার প্রেম আমায় করায় উন্মত্ত"।আবার বলেন--, "যে প্রেমে আমায় করে সর্বদা বিহ্বল"।শ্রীকৃষ্ণ উন্মত্ত বিহ্বল হয়ে যান,রাধাপ্রেমে এমন এক অনির্বচনীয় মাদকতা ও উন্মাদিনীশক্তি-মত্ততা আছে যে সেটি যাদুকরের মতন শ্রীকৃষ্ণকে বিহ্বল করে দেয়।তাই শ্রীরাধাপ্রেম শ্রীখৃষ্ণের গুরু,মহাগুরু,গুরুতম।গুরুবস্তু সবসময়ই গৌরবযুক্ত থাকবেই।শ্রীরাধা প্রেমের গুরুতম হয়েও সর্বতোভাবে গৌরব বর্জিত।কেননা দৈন‍্য নামক সঞ্চারীভাবের তরঙ্গ রাধাপ্রেমে নিরন্তর বা সবসময় বিদ‍্যমান।এই জন্য দৈন‍্যসাগরে নিমগ্না থেকেও তিনি মনে করেন, তিনি কৃষ্ণপ্রেমহীনা ও দীনা।যেমন-- শ্রীকৃষ্ণের বক্ষে দোদুল‍্যমান বনমালাকে দেখে বলেছিলেন, হে বনমালা! তোমার জন্মই সার্থক। আবার শ্রীকৃষ্ণের মধুর অধরে মুরলী দেখে তিনি বাঁশীজন্মে প্রার্থনা করেছিলেন।"শুধু আমি একাই কৃষ্ণপ্রেমহীনা হতভাগিনী।*
*🌷গোপগোয়ালিনী হাম অতি দীনা, না জানি ভজনপূজন।*
*🍀বিরহবেদন তুয়া ও দুটি চরণ পরাণে ধরিয়া নয়ন মুদে থাকি।*
*🌹শ্রীগীতগোবিন্দের প্রথম শ্লোকে দেখা যায় "রাধামাধায় হৃদয়ে" অর্থ‍্যাৎ রাধাকে হৃদয়ে ধারণ করে ব্রজবাসীগণকে ত‍্যাগ করলেন, আগেই বলা হয়েছে ক্রোধ করে মানবতী হয়ে,শ্রীরাসমন্ডলী পরিত‍্যাগ করে চলে গিয়েছেন। তারপর বলেছেন--, শ্রীরাধাকে হৃদয়ে ধারণ করেই রাধার খোঁজ করতে চললেন।যিনি নাই,তাঁকে আবার হৃদয়ে ধারণ করেন কিভাবে?যিনি হৃদয়ে ধৃত,অর্থ‍্যাৎ যিনি হৃদয়ে আছেন, তাঁকে অন্বেষণ করার প্রয়োজন হয় না। রাধামাধায় হৃদয়ে--, একথার তাৎপর্য‍্য এই যে,আমার ভাবকে হৃদয়ে ধারণ করে শ্রীরাসস্থলী ত‍্যাগ করলেন।শ্রীকৃষ্ণ রাধাবিরহে রাধাভাবময়ী হয়ে গিয়েছেন। তাই শ্রীরাধার অন্বেষণে শ্রীকৃষ্ণ রাধাভাব হৃদয়ে ধারণ করে হা রাধে!বলিয়া শ্রীবৃন্দারণ‍্যে ভ্রমণ করছেন কিন্তু প্রেমময়ী রাধাকে পাচ্ছেন না।একাগ্রচিত্তে কৃষ্ণ-অভিসারের তীব্রতা,চিত্তের উৎকণ্ঠা শ্রীরাধার মত আর কারও নাই।আজ রাধার খোঁজে শ্রীকৃষ্ণের অভিসার।তাই ভাবটি অঙ্গীকার করে রাধাভাবটি হৃদয়ে ধারণ করেছেন।সাধ‍্যশিরোমণি রাধাভাব অতি মধুর,সেইভাব যখন শ্রীকৃষ্ণ অঙ্গীকার করেন তখন আরো কত মধুরতর।সেই রাধাভাব ও বর্ণ অঙ্গীকারে যখন দেহের কান্তি ও পরিবর্তিত হয়ে অন্তর-কৃষ্ণ বহি-গৌর হয়ে যান,তখন আরো মধুরতম।শ্রীরাসলীলার পরিণতিতেই এটি সম্ভব হয়েছে।*
*🍀অচিন্ত‍্য ভেদাভেদত্ব বিধায় (বিধান অনুসার) শ্রীকৃষ্ণের শ্রীরাধারভাব গ্রহণ দার্শনিক দৃষ্টিতে অসম্ভব নয়।*
*এজন‍্য মূল শ্লোকে "প্রণয় বিকৃতি" 'রাধা' হ্লাদিনীশক্তি-এই তিনটি পদ দেওয়া হয়েছে। বতর্মান কলিযুগের প্রারম্ভে,বৈবস্বত মন্বন্তরীয় অষ্টাবিংশ চতুর্যুগীয় কলিযুগে প্রথম সন্ধ‍্যায় শ্রীরাধাকৃষ্ণ একত্র মিলিত হয়েছেন,অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধা শ্রীকৃষ্ণ উভয়ে পৃথক সত্তায় থেকেও অভিন্ন। এই যে "ভেদাভেদ" এটি অচিন্ত‍্য, অর্থ‍্যাৎ শ্রীগৌরকিশোরের শ্রীমূর্তিটি অচিন্ত‍্য ভেদাভেদের সাক্ষাৎ আবির্ভাব স্বরূপ, এই দুই তনুর মিলিত দেহই নামে শ্রীচৈতন‍্যদেব।ভিতরে আস্বাদনের করণ শ্রীরাধার মাদনাখ‍্য মহাভাবে সুবলিত অর্থ‍্যাৎ মোড়ান।এখানে এক অচিন্ত‍্য বিষয় যা ভাবতে গেলে দার্শনিকগণের মাথা একেবারেই অন‍্যরকম হয়ে যায় ; যেহেতু একজনের ভাব আস্বাদক, আর অন‍্যের ভাবটি সেই আস্বাদনের সাধন অর্থ‍্যাৎ আস্বাদন করবেন একজন,আর আস্বাদনের সাধন অন‍্যের রসনা--এটি চিন্তাতীত।একই অঙ্গে দুইটি ভিন্ন ভাব।এই দুইটি বিজাতীয় ভাবের এক আধারে স্থিতি এটিও আবার বিচিত্র।বাইরে নিজ ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ শ‍্যামবর্ণও স্বর্ণবর্ণ এই দুইয়ের একত্র মিলনে এক স্বতন্ত্রবর্ণ হয়ে থাকে, কিন্তু এ জায়গায় শ‍্যাম শ‍্যামই আছেন,গৌর গৌরই আছেন।উভয়ের স্বতন্ত্র সত্ত্বা বিদ‍্যমান থেকেও অভিন্নতা,এটি আবার বিচিত্র।*
                     *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
          *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🍀শ্রীরাধার ভাব ও কান্তি উভয়ই প্রয়োজন কারণ "আমি রাধা"-- এইভাবেই বিভাবিত অবস্থায় নিজাঙ্গের প্রতি দৃষ্টিপাত করে যদি শ‍্যামলকান্তিটা দেখেন তবে সেটি ভাব বিরুদ্ধ হবে, মূলতঃ যিনি স্বরূপে সাক্ষাৎ শ্রীনন্দ-নন্দন শ্রীকৃষ্ণ, কান্তি গৌর, ভাবাবেশে শ্রীরাধা ও নামে শ্রীগৌরকিশোর।"শ্রীরাধা কৃষ্ণস্বরূপই শ্রীচৈতন‍্য এটি না বলে শ্রীকৃষ্ণস্বরূপই শ্রীচৈতন‍্য বলা হয়েছে কারণ,শ্রীকৃষ্ণই নিজ মাধুর্য‍্য আস্বাদনের জন্য লোভী হয়ে শ্রীচৈতন‍্য হয়েছেন ; কিন্তু শ্রীরাধা কৃষ্ণমাধুর্য‍্য নিরন্তর বা সবসময়ই আস্বাদন করছেন। সুতরাং শ্রীরাধার গৌর হবার কোন আবশ্যক নেইহ পরন্তু মাদনাখ‍্য মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার আশ্রয় জাতীয় ভাবের আশ্রয় গ্রহণ না করলে শ্রীকৃষ্ণের বাঞ্ছাত্রয় পূর্ণ হ'ত না।এইজন‍্য শ্রীরাধিকা নিজের মাদনাখ‍্য মহাভাব ও তপ্তকাঞ্চন গৌরাঙ্গী কান্তিটা প্রদান করে শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীগৌরাঙ্গ করেছেন।*
*🌷শ্রীনন্দ-নন্দন গোপীজন বল্লভ,*
*🌷শ্রীরাধার নায়িক নাগর শ‍্যাম।*
*🌷সো শচীনন্দন,নদীয়া পুরন্দর,*
 🌷 *সুরনর মুনিগণ মোহনধাম।।*
*🌷জয় নিজকান্তা কান্তি কলেবর,*
*🌷 জয় নিজ প্রেয়সী ভাব বিনোদ।*
*🌷ব্রজতরুণীগণ লোচন মঙ্গল,*
*🌷 নদীয়া বধূগণ-নয়ন-আমোদ।।*
*🌻শ্রীরায় রামানন্দের মুখে রাধাকৃষ্ণ প্রেমতত্ত্ব শোনার পর শ্রীমহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণের বিলাসতত্ত্ব শুনতে ইচ্ছে করলেন।শ্রীরামরায় বললেন--"নিরন্তর কামক্রীড়া যাঁহার চরিত"। দিবারাতি কৃষ্ণপ্রেয়সীগণের সঙ্গে কোনও না কোন প্রেমের খেলা খেলছেন তিনি।এটিই তাঁর বিলাসমহত্ত্ব।শ্রীমন্মহাপ্রভু বললেন,রায়! যে কথা বললে এও হয়, আগে কহ আর।শ্রীরায় বললেন, প্রভো! এক প্রেম-বিলাস বিবর্ত্তের কথা বলব, কিন্তু তা শুনে তোমার সুখ হবে কি না বলতে পারি না।এই বলে স্বরচিত একটা গানের পদ গাইলেন।কিছুসময় গাইতেই, "প্রেমে প্রভু তাঁর মুখ আচ্ছাদিল"।*
*🍀সর্বত্রই শ্রীকৃষ্ণ সমগ্র জগতকে আকর্ষণ করেন বলে তাঁর কৃষ্ণ নাম সার্থক হয়েছে ; কিন্তু যখন তিনি অন‍্য কারও আকর্ষণে প্রলুব্ধ হন,তখনই প্রেমবিলাসবিবর্ত্ত হয় শ্রীকৃষ্ণ রাধার পূর্ণ বশীভূত হয়ে শ্রীমতী সমীপে দূতী প্রেরণ করেছেন।শ্রীরাধা কৃষ্ণ প্রেরিত দূতীর কাছে বলছেন--*
*🌷পহিলহি রাগ নয়নভঙ্গ ভেল।*
*🌷অনুদিন বাঢ়ল অবধি না গেল।।*
*🌷না সো রমণ না হাম রমণী।*
*🌷দুহুঁ মন মনোভর পেশল জানি।।*
*🌹শ্রীরাধা বললেন--, শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আমার অনুরাগ প্রথমাবধি।ঐ অনুরাগ বক্ষে নিয়ে আমি জন্ম নিয়েছি।শ্রীকৃষ্ণের চাঁদবদন না দেখে আমি আমার নয়নদ্বয় মেলিব না, এই সংকল্প নিয়েই আমি জন্মেছি।*
*🍁বৃষভানু রাজার একটি সুন্দরী স্বর্ণবর্ণা কন‍্যা জন্মগ্রহণ করেছেন শুনে রাজন‍্যবর্গ ও কুটুম্বগণ উপঢৌকন নিয়ে সুন্দরী কন‍্যাকে দেখতে আসিলেন।মা যশোমতীও গোপালকে কোলে করে আগমন করলেন।মা যশোদার কোল হতে মাটিতে নেমে হামাগুড়ি দিয়ে গোপাল শ্রীরাধার স্বর্ণবর্ণা কোমল অঙ্গ স্পর্শ করলেন। স্পর্শ করিবামাত্র শ্রীরাধার সঙ্কল্প পূর্ণ ও নয়ন উন্মোচিত হল। এবং জগতে আগমন করে প্রথমেই নীলমণির প্রফুল্ল বদন দর্শন করলেন।*
*🌻শিশুকালেই তাঁদের মধ্যে, শ্রীরাধা বললেন--,শ্রীকৃষ্ণ রমণ আমি রমণী তিনি স্বামী,আমি পত্নী--এইরকম সম্বন্ধ তাঁর সঙ্গে আমার নেই।শুধু মদন দুইজনকে প্রেমের কারণে এক করে দিয়েছে।স্বামী-স্ত্রী ধর্মবোধে ভজন করে থাকেন বলে তাঁদের প্রেম সঙ্কুচিত।এই প্রেম সম্বন্ধানুগ নয়, প্রেমানুগ।শ্রীরাধিকাদি ব্রজগোপীগণ অন‍্যকে স্পর্শ করা তো দূরে থাকুক,দ্বিভূজমুরলীধার ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের অন‍্যমূর্তিকেও স্পর্শ করতেন না।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতেও এই সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়,যথা--*
*🌷গৌর অঙ্গ নহে মোর রাধাঙ্গ স্পর্শন।*
*🌷গোপেন্দ্র সুত বিনা তেঁহ না স্পর্শে অন‍্যজন।।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৫)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
         *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🌻শ্রীরাধা মোহনাখ‍্য মহাভাবের চিত্রজল্পে (কাব‍্য বাক‍্যে)শ্রীউদ্ধব মহাশয়কে বলেছিলেন--"আর্য‍্যপুত্র" কি মধুপুরীতেই আছেন?শ্রীরাধা, কৃষ্ণকে আর্য‍্যপুত্র বলে সম্বোধন করায় গাঢ় অনুরাগের আবেশে শ্রীকৃষ্ণের বধূভাবই ব‍্যক্ত হয়েছে,কারণ পরবধূ উপপতিকে "আর্য‍্যপুত্র" বলতে পারেন না।আর্য‍্যপুত্র পদের নিজ পতিতেই রূঢ়বৃত্তি।যাইহোক,শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরে রাধাকৃষ্ণ এমনভাবে মিলিত যে,তাঁরা রমণ রমণী ভাবাতীত।তাঁরা এক দেহে মিলিত হলেও ভাব দুইটি,এক দেহে দুইটি মনের লীলা খেলা চলছে।*
*🍀শ্রীরামরায় গোদাবরী তটে হঠাৎ দর্শন করলেন-- শ্রীচৈতন‍্যদেবের ঐ সন্ন‍্যাসীরূপ নাই।ইহা দর্শন করে তিনি চমকিত হয়ে গিয়েছেন,আরও বিস্ময়ের বিষয় এই যে,সেখানে সন্ন‍্যাসীমূর্তির পরিবর্তে মুরলীবদন নবকন্দর্প--স্বরূপ এক শ‍্যামল গোপ-- কিশোরকে দেখলেন। আরও আশ্চর্য‍্য এই যে ঐ ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ কান্তিকে সম্মুখস্থ এক উজ্জ্বল স্বর্ণবর্ণা প্রতিমা বিদ‍্যুৎ প্রভার মত তার অঙ্গচ্ছটায় শ‍্যামল বেণুকর গোপকিশোরকে উজ্জ্বল গৌরকান্তিতে আবৃত (মোড়িয়ে)করে হেমাভ-দিব‍্যচ্ছবি একমূর্তি প্রকট করে দিলেন।এটিই শ্রীগৌরাঙ্গমূর্তি এটিই কলির জীব-উদ্ধারকারী মূর্তি। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে।*
*🌷পহেলি দেখিল তোমা সন্ন‍্যাসী স্বরূপ।*
*🌷এবে তোমা দেখি মুঞি শ‍্যাম গোপরূপ।।*
*🌷তোমার সম্মুখে দেখি কাঞ্চন পঞ্চালিকা।*
*🌷তার গৌরকান্তে তোমার সর্বাঙ্গ ঢাকা।।*
*🌻পঞ্চালিকা=ধাতু,কাষ্ঠ, বস্ত্রাদির পুতুল।*
*🌹
*শ্রীচৈতন‍্যদেব শ্রীরামরায়কে কহিলেন-- দেখছি তোমার শ্রীরাধাকৃষ্ণে প্রবল প্রেম,সেইজন‍্য তুমি আমার মধ্যে সেটি দেখছ।তখন রামরায় বললেন-- "আমার কাছে ভারিভূরি করিও না" ; আমার কাছে তোমার নিজস্ব-স্বরূপ আর চুরি করিও না।তোমার উপর এক, আর ভিতর আরেক। আমার মনে হয় তুমি--*
*🌷রাধিকার ভাবকান্তি করি অঙ্গীকার।*
*🌷নিজ রস আস্বাদিতে করিয়াছ অবতার।।*
*🌻তখন মহাপ্রভু স্মিতহাস‍্যে (মৃদু হেসে) বললেন--*
*🌷তবে হাসি প্রভু তারে দেখাইল স্বরূপ।*
*🌷রসরাজ মহাভাব দুই এক রূপ।।*
*🌻শ্রীরাধার তপ্তকাঞ্চন সমান অঙ্গ ছটাতেই আমার বর্ণ এইরকম হয়েছে। ব্রজনন্দনকৃষ্ণ ছাড়া কাউকেও আমি স্পর্শ করি না।*
*🌷গোপেন্দ্র সুতবিনা তেঁহো না স্পর্শে অন‍্য জন।*
*🌹চাতুর্য‍্যপূর্ণ ভাষায় বললেন-- আমি সেই রাধাভাব দ‍্যুতি সুবলিত শ্রীনন্দনন্দনকৃষ্ণ।*
*🌺শ্রীরাসরজনীতে শ্রীকৃষ্ণ রাসস্থলী হতে অন্তর্দ্ধান করলে বিরহিনী ব্রজদেবীগণ আকুলভাবে ক্রন্দন করতে করতে বলছেন--*
*🌷ধত্তে সুজাত চরণাম্বরুহং স্তনেবু।*
*🌷ভীতাঃ শনৈঃ প্রিয় দধীমহি কর্কশেষু।*
*🌷তেনাটবী মটসি তদ্ ব‍্যথতে নং কিং স্বিৎ,*
*🌷কুর্পাদিতি ভ্রমতি ধী সদা যুষাংনঃ।।*
                 *(ভাগবত--১০|৩১|১০)*
*🌻ব্রজগোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন-- হে প্রিয়ে তোমার যে কোমল চরণ আমরা আমাদের কঠিন স্তনোপরি ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে ধারণ করি,সেই চরণ দ্বারা তুমি এখন বন ভ্রমণ করছ ; তোমার অম্ভোরুহ বা কমল সমান চরণ উপল-খন্ডাদি (ব্রজের কঠিন মাটি দ্বারা) ব‍্যথিত হচ্ছেন?সেইকথা ভেবে আমাদের মন অতীব বিমুগ্ধ (মোহপ্রাপ্ত বা অজ্ঞানপ্রায়) হয়ে পড়ছে।কারণ তুমি আমাদের প্রাণ। অর্থ‍্যাৎ গোপীগণ নিজেদের বিরহ ব‍্যথায় যতটা ব‍্যাকুলিত,তা অপেক্ষাও অনেক বেশী বিমুগ্ধ হয়ে পড়েছেন,প্রিয়তমের শ্রীচরণে কাঁকর ও ব্রজের কঠিন মাটি দ্বারা ব‍্যথিত হওয়ায়।গোপীগণের কুচযুগে শ্রীকৃষ্ণের চরণযুগলের স্পর্শে আত্মসুখে জ্ঞান হারা না হয়ে সুখের বিরোধী যে ভীতি,সেই ভীতিমুক্ত হৃদয়ে ধীরে ধীরে ধারণ করেছেন।এটি নিজসুখ বিসর্জন দিয়ে কৃষ্ণসুখে পর্য‍্যবসান।তাঁদের কায়িক,বাচিক,মানসিক প্রভৃতি যাবতীয় উদ‍্যম শ্রীকৃষ্ণের সুখ-বিধান জন্য।শ্রীকৃষ্ণ নিজেই রাসরজনীতে বলেছেন--,হে অবলাগণ! তোমরা কুলবধূ হয়েও অতি কঠিন ঘরের বন্ধন ছিন্ন করে,স্বজন, বান্ধব, ইহকাল,পরকাল,কর্তব‍্য, অকর্তব‍্য, সুখ-দুঃখ,ভাল-মন্দ,ধর্মাধর্ম প্রভৃতি কোন বিষয়ে বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করে ধন,দেহ,মনোধর্ম,জীবন ও যৌবন আমার সুখের জন্য ঢেলে দিয়েছ!"মদর্থ"।গোপীগণের ত‍্যাগ কৃষ্ণ ভগবান-- এই বিচারের ফলে নয়,সেটি কৃষ্ণের প্রতি বিশেষ অনুরাগের আবেশেই সর্বস্ব পরিত‍্যাগ।এইরকম মহিমান্বিত স্বতঃস্ফূর্ত,নিরুপাধি অনুরাগের কাছে শ্রীভগবান পরাভব মেনে ঋণী হয়ে থাকেন।ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে কলিযুগে শ্রীধাম নবদ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গ-মাধব রূপে অবতীর্ণ হয়ে নয়নজলে বক্ষ প্লাবিত করে কলির জীবের ঘরে ঘরে শ্রীরাধার মহিমা ও প্রেমরস সীমা প্রকাশ করে ঋণমুক্ত হতে হয়েছে।(আমরা চারটি ঋণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছি কিন্তু) যাইহোক, তাই এই নিষ্কলঙ্ক রাধাপ্রেম সাধ‍্য শিরোমণি।কিভাবে শ্রীকৃষ্ণ ঋণী হলেন তা সামান্য বলি। গীতায়--*
*🌷যে যথা মাং প্রপদন্তে তাংস্তথৈব ভজাম‍্যহম্।*
*💮যে যেভাবে আমাকে ভজনা করেন,আমিও তদ্রুপ তাকে ভজন ও প্রীতি করে থাকি। শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন--*
*🌷কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা দৃঢ় সর্বকাল আছে।*
*🌷যে যৈছে ভজে কৃষ্ণ তারে ভজে তৈছে।।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
          *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🍀শ্রীকৃষ্ণের এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্রজগোপীগণের নিরুপাধি (উপাধিহীন বা যাঁরা নাম যশ প্রতিষ্ঠা চান না,নিস্বার্থ ও নিষ্কাম )ভজনে ব‍্যর্থ হয়ে গিয়েছে।কারণ গোপীগণের কোন কামনাই নেই, সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের দেবার কিছুই নেই।শ্রীব্রজদেবীগণের চিত্তে কৃষ্ণসুখ কামনা আছে,তা দিতে হলে নিজেরই সুখী হতে হয়।ঋণের জন্য প্রধানা গোপীকে সুখ দিতে গেলে আরও বেশী ঋণ হয় ; পরিশোধের সম্ভাবনা থাকে না।শ্রীরাধাদি গোপীগণের প্রেম অখন্ডিত, কৃষ্ণপ্রেম খন্ডিত, কারণ শ্রীকৃষ্ণ বহু বল্লভ।মান প্রকরণে শ্রীকৃষ্ণ চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে গিয়েছিলেন বলে মানবতী হয়ে শ্রীরাধা প্রথমে বুঝতে পারলেন যে শ্রীকৃষ্ণ বহুবল্লভ ; এর পূর্বে তিনি জানতেন না।*
*🌷মানে আমায় জানাইল সো বহু বল্লভ কান।*
*🌻যিনি তাকে উজ্জ্বলরসের ভজন করেন,তিনি তারই হয়ে যান।আর শ্রীব্রজাঙ্গনাগণ কৃষ্ণ ছাড়া আর কারও হয়ে যাননা।অতএব অখন্ডিত গোপীপ্রেমের নিকট কৃষ্ণ-ঋণী।শ্রীব্রজগোপীগণের ভজন-অনুরূপ ভজন বা প্রীতির অনুরূপ প্রীতি করতে অসমর্থ হয়ে নিজেই ঋণী হয়ে গিয়েছেন।প্রতিজ্ঞা ব‍্যর্থ হয়েছে,তা শ্রীকৃষ্ণ নিজ শ্রীমুখেই স্বীকার করেছেন।যথা শ্রীমদ্ভাগবতে ১০|৩২|২০*
*🌷ন পারেহহং নিরবদ‍্য সং যুজাং,*
*🌷 স্ব সাধু কৃত‍্যং বিবুধায়ুষাপি বঃ।*
*🌷যা মা ভজন্ দুর্জ্জয়-গৃহ-শৃঙ্খলাঃ,*
*🌷সংবৃশ্চ‍্য তদ্বঃ প্রতিযাতু সাধুনা।।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে সুন্দরীগণ! তোমাদের সহিত আমার প্রেম সংযোগ নিরবদ‍্য বা নির্মল, আমি বহু পক্ষপাত কাল জীবন ধারণ করেও তোমাদের প্রতি সাধু ব‍্যবহার (কর্তব‍্য অনুষ্ঠান)করতে সমর্থ হব না, তোমরা দুশ্ছেদ‍্য (দুঃখে কষ্টে ছিন্ন করা যায় না ) গৃহ-শৃঙ্খল ছিন্ন করতঃ (ঘরের সমস্ত চিন্তাধারা ছিন্ন করে)আমাকে ভজনা করেছ।আমি তোমাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারব না।*
*🛑অতএব নিজ থেকে তোমরা যদি কৃপা কর তাহলেই সম্ভব হতে পারে নচেৎ না। আমি প্রত‍্যুপকার করে তোমাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারলাম না।এখন তোমাদের প্রেমই সাধু আচরণের প্রতিদান করে এই ঋণ পরিশোধ করুক।*
*🔷শ্রীব্রজাঙ্গনাগণ যখন প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করেন তখন তাঁদের অঙ্গ-প্রত‍্যঙ্গ ও বদন মন্ডলের প্রফুল্লতা বৃদ্ধি পেয়ে রক্তিম আভামুক্ত হয়।তৎদর্শনে প্রিয়তম কৃষ্ণের পরম সুখ অনুভব হয়। "আহা"! শ্রীকৃষ্ণ আমাকে দেখে এত সুখ অনুভব করল, এই ভাবনা হতেই গোপীগণের মনোসুখ-তরঙ্গ আরও উচ্ছসিত হয়ে উঠে।এইভাবে পরস্পর পরস্পরের শোভা দেখে আনন্দ-তরঙ্গের উচ্ছাস লেগে যায়।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে--*
*🌷আমার দর্শনে কৃষ্ণ পাইল এত সুখ।*
*🌷এত সুখে গোপীর প্রফুল্ল অঙ্গ মুখ।।*
*🌷গোপীশোভা দেখি কৃষ্ণের শোভা বাড়ে যত।*
*🌷কৃষ্ণশোভা দেখি গোপীর শোভা বাড়ে তত।।*
*যদিও কৃষ্ণসেবা জনিত আনন্দ পরম পুরুষার্থ, তবুও কৃষ্ণ সেবার বাধা অশ্রু,পুলক,কম্প প্রভৃতি সাত্ত্বিক বিচারকে গোপীগণ বর্জন করেন। প্রেম সেবানন্দই ভক্তের জীবন।ইহাদ্বারা প্রমাণিত হল যে গোপীগণের স্বসুখ বাঞ্ছা একেবারেই নেই। যথা--*
*🌷নিজ প্রেমানন্দে কৃষ্ণসেবানন্দে বাধে।*
*🌷সে আনন্দের প্রতি ভক্তের হয় মহাক্রোধে।।*
*🍀গোপীগণের কৃষ্ণসুখ ছাড়া নিজসুখ বাঞ্ছা নাই,তবে যে দেহের মার্জন ভূষণ করেন,এটিও কৃষ্ণসুখের জন্য।শ্রীরাসরজনীতে বংশীধ্বনি হলে সকল গোপীগণ আত্মহারা হয়ে শ্রীরাসমন্ডলীতে ছুটেছিলেন।শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ বর্ণনা করেছেন-- "লিম্পন্ত‍্যঃ প্রমৃজন্ত‍্যোহন‍্যা অজন্ত‍্যঃ কাশ্চ লোচনে"---- অর্থ‍্যাৎ কোন কোন গোপী নিজ দেহে চন্দনাদি লেপন করছিলেন, কেউ বা প্রসাধন দ্রব‍্যাদি দেহে লাগাচ্ছিলেন,কেউবা নয়নে কাজল দিচ্ছিলেন, এক নয়নে পড়ছিলেন।এতে বোঝা যায় গোপীগণ দেহের মার্জন-ভূষণ করেন বটে, কিন্তু ইহাও কৃষ্ণসুখের জন্য।কেননা তাঁদের দেহকে কৃষ্ণ পূজার উপাচার বলে সেটি শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মে নিবেদন করেছিলেন।দেহটি কৃষ্ণপ্রেম বিলাসের দেহ,শ্রীকৃষ্ণের ভোগ‍্য দেহ,তাঁরা দেহকে সুসজ্জিত করেন শুধু শ্রীকৃষ্ণের সুখ বিধানের জন্য।তা না হলে ---*
*▪শ্রীকৃষ্ণের শিরপীড়ায় বা মাথার ভীষণ যন্ত্রণায় তো দেবর্ষি নারদ কোন জায়গায় ভক্তের পদরজ পেলেন না,শুধু ব্রজে গমন করে গোপীগণের পদরজঃ পেলেন।গোপীগণই মনে করেন কৃষ্ণপদে বিক্রীত দেহের চরণও শ্রীকৃষ্ণের,এইভাবে বিভাবিত হয়েই চরণরেণু প্রদান করলেন, শ্রীকৃষ্ণের মাথার ব‍্যথার উপশম হলেই গোপীগণের সুখ।দূর্জ্ঞেয় গোপীপ্রেম। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে----*
*🌷এ দেহ কৈলুঁ আমি কৃষ্ণে সমর্পণ।*
*🌷তাঁর ধন তাঁর এই সম্ভোগ সাধন।।*
*🌷এই দেহ দর্শন স্পর্শে কৃষ্ণ সম্ভাষণ।*
*🌷এই লাগি করে দেহের মার্জন ভূষণ।।*
*🛑গোপীগণের এই স্বভাব নিত‍্যসিদ্ধ ও স্বাভাবিক।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের কথায় জানা যায় যে তিনি সমগ্র বিশ্বকে আনন্দ দান করেন। কিন্তু শ্রীরাধা কৃষ্ণহৃদয়ে আনন্দদানে চন্দ্রকিরণ স্বরূপা।শ্রীরাধা নিজ অসংখ্য প্রাণপুষ্পগুলি দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের গমনাগমনের পথের চরণধূলি কণার নিরোজন করে থাকেন।তিনি কৃষ্ণমানস হংসের মানস-গঙ্গাস্বরূপা, ও কৃষ্ণপ্রেম সরোবরের সন্তরণশীল (সাঁতার দেওয়া )মরালিনী সমান।শ্রীকৃষ্ণের ব‍্যষ্টি বা ভিন্ন ভিন্ন হৃদয়স্থ প্রেম-রসাস্বাদনের তৃষ্ণা নিবারণ করতে সুধাধারার মত শ্রীরাধাপ্রেমই রমর্থ।শ্রীরাধার মহাভাব বাসিত মধুর রতি রসের অখন্ড পারাবারে ভ্রমণরত কৃষ্ণের মনোমীন সবসময় বিলাসানন্দে ডুবে থাকে।সেই জন্য শ্রীকৃষ্ণ শ‍্যামসুন্দর মদন-মোহনরূপে সমস্ত জগতকে মোহিত করলেও আবার কৃষ্ণকে মোহিত করছেন আমাদের কৃষ্ণ মনোমোহিনী শ্রীরাধা।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
           *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🍀মাদনাখ‍্য মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার নামে এমন একটি মাদকতা আছে,যা চিন্ময় পূর্ণতত্ত্ব শ্রীকৃষ্ণকে উন্মত্ত ও বিহ্বল করে দেয়।শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি টীকায় শ্রীজীব গোস্বামীপাদ মাদনাখ‍্য মহাভাবের ব‍্যাখ‍্যা এইভাবে করেছেন--,"তস্মোন্মাদনোত্র দিব‍্য মধুবিশেষান্মত্ততা---ইত‍্যর্থ ঃ--- অর্থ‍্যাৎ মাদন শব্দের অর্থ দিব‍্য বা অলৌকিক মধু বিশেষের মত মাদকতা সম্পন্ন।এই ভাবের পরিবেশনে অপ্রাকৃত মত্ততাই জেগে থাকে।অহো!মধুক্ষরা অমিয় নিছনি সেই রাধা-নামের যে কি প্রাণ-আকর্ষণের মোহিনী শক্তি আছে,যা শুনলেই কৃষ্ণের কানে যেন অমিয় প্রবাহ সিঞ্চিত হয়,মনে যেন কি এক অননুভূত ভাব-লালসা জাগিয়ে দেয় এবং এই লালসায় শ্রীকৃষ্ণের বিক্ষুব্ধ,বিলোল হৃদয় যেন কি এক মনোরম অজ্জাত বস্তুর খোঁজ করে, উৎসাহে হৃদয় নেচে উঠে,উল্লাসে ফুলে উঠে,উদ্বেগে গলে যায়।শ্রীকৃষ্ণ বুঝতে পারেন না যে কেন এই নামটি তাকে এত উন্মনা করে।রাধানামের সঙ্গে তাঁর কি এক ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ যে ভেবেও কিছু ঠিক করতে পারেন না।তবুও এই মধুক্ষরা অমিয় নিছনি বা নির্মঞ্জন নামটা শুনলেই অপূর্ব ভাবাবেশে বিভোর হয়ে আত্মসারা হয়ে যান।মা যশোমতী ও রোহিণীদেবীর কথোপকথনে যতবারই এই ভূবনমোহিনী রাধানাম শুনেছেন,ততবারই আত্মহারা হয়েছেন।শ্রীরাধার মাদনাখ‍্য মহাভাব শ্রীকৃষ্ণ আস্বাদন করতে অক্ষম। সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের অনুরাগ অপেক্ষা শ্রীরাধার কৃষ্ণের প্রতি অনুরাগ অনেক বেশী, এইজন্যই উভয়ের মিলনে শ্রীকৃষ্ণের যে সুখ,তদাপেক্ষা শ্রীরাধা অনেকবেশী সুখ আস্বাদন করেন।এটি "ভরতমুনির" জানা ছিল না।*
*🌷দোঁহার যে সমরস ভরতমুনি জানে,*
*🌷আমার ব্রজের রস সেই নাহি জানে।।চৈঃচঃ*
*🌻মিলনের সুখ-অনুভূতিতে মহাভাবময়ী শ্রীরাধা রসরাজ শ্রীকৃষ্ণকে পরাভূত করেছেন।তাই মহাভাবময়ীর হৃদয়ে মহাসুখের তরঙ্গ এমনই একটা নিরুপম সুদুর্লভ বস্তু যে যার আস্বাদন লালসায় রসিকশেখরের মন উৎকণ্ঠাময়। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে--*
*🌷আমা হৈতে রাধা পায় যে জাতীয় সুখ।*
*🌷তাহা আস্বাদিতে আমি সদাই উন্মুখ।।*
*🛑শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ শ্রীউজ্জ্বলনীলমণিতে মাদন শব্দের অর্থ এই ভাবে প্রকাশ করেছেন।যথা "সর্বভাবেদ্মমোল্লাসী মাদনোহয়ংপরাৎপরঃ"।ইহ মোদন ও মোহনাদি ভাব অপেক্ষা অধিকতম উৎকৃষ্ট, সদা শ্রীরাধাতেই এই মাদনাখ‍্য মহাভাব বিরাজিত।অন‍্যত্র ইহার উদয় হয় না। সমগ্র জগতের হর্ষপ্রদ বলে ইহা অদ্বৈত অর্থ‍্যাৎ দ্বিতীয় রহিত বা এক।কেবলমাত্র শ্রীরাধারাণীই এই মাদনাখ‍্য পরাৎপরের আশ্রয় হতে পারেন।*
*শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ বলেছেন-- "কুতুকী রসস্তোম হ‍্যত্ত্বা",অর্থ‍্যাৎ কৌতুকী শ্রীকৃষ্ণ কোন প্রয়সীর রসের ভান্ডার হরণ করে উপভোগ করতে প্রয়াসী হয়েছেন।শ্রীরূপ গোস্বামীপাদের "কুতুকী"-- এই পদবিন‍্যাস নিরুপম ও ভাবগ্রাহী। ব্রজের ঘরে ঘরে গোপীগণের নবনী চুরি,গোপীদের স্নানকালে বসন চুরি করে "চোর"-চূড়ামণি হয়ে ছিলেন।এই পরিপক্ক চোর এখন দস‍্যুবৃত্তি গ্রহণ করে কৃষ্ণধনের শ্রেষ্ঠা ধনী শ্রীরাধার রত্নভান্ডার লুঠ করতে প্রয়াসী হয়েছেন।ঐ রত্নভান্ডারে মাদনাখ‍্য মহাভাব বলে একটি অমূল‍্য রত্ন আছে,সেটি নাকি একমাত্র শ্রীরাধিকার ভান্ডারেই আছে।সেটি হরণ বা চুরি করে অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধার মহাভাব অঙ্গীকার করে শ্রীগৌরাঙ্গরূপে আস্বাদন করবেন।*
*শ্রীকৃষ্ণরসে বিশ্বজগৎ সরস,শ্রীরাধার অধর রসে অনন্তকোটি বিশ্বজগতকে মোহিত করা শ্রীকৃষ্ণ বিহ্বল।শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গস্পর্শ কোটিন্দুশীতল শ্রীরাধার অঙ্গস্পর্শে শ্রীকৃষ্ণ কোটিচন্দ্র সুশীতল মনে করেন।লীলাবিলাসে শ্রীকৃষ্ণের শ্রান্ত কলেবর বসন্তের শীতল বাতাসের মত তিনি স্নিগ্ধা ও তরুমনপ্রাণে উল্লাসদায়িনী। তাই-ত মাদনাখ‍্য মহাভাবের আশ্রয় স্বরূপা শ্রীরাধার সঙ্গে লীলা বিলাসে শ্রীকৃষ্ণ অখন্ড পরমানন্দ লাভ করেন।তখন শ্রীকৃষ্ণ মনে করেন----*
*🌷আমা হৈতে বড় গুণী জগতে অসম্ভব।*
*🌷একলি রাধাতে তাহা করি অনুভব।।চৈঃচঃ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের মৃগমদ-নীলোৎপল অঙ্গ-গন্ধ শ্রীরাধার নাসিকায় প্রবেশ করলে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে সেই সুগন্ধের দিকে উড়ে পড়তে ইচ্ছে করেন।*
*🌷অনুকূল বাতে যদি পায় মোর গন্ধ।*
*🌷উড়িয়া পড়িতে চাহে প্রেমে হৈয়া অন্ধ।।*
*🌻পক্ষান্তরে,শ্রীরাইধনির অধর রস শ্রীকৃষ্ণকে বশ করে থাকে এবং সেটিতে এমনই আসক্ত হয়ে পড়েন যে,বদন দেখে বদন ভুলতে পারেন না।আবার শ্রীকৃষ্ণের চর্বিত পান আস্বাদন করলে শ্রীরাইধনি শ্রীকৃষ্ণের অধরামৃতের আস্বাদনে আনন্দ সাগরে ডুবে যান।যথা---*
*🌷তাম্বুল চর্বিত যবে করে আস্বাদনে।*
*🌷আনন্দ সমুদ্রে ডুবে কিছুই না জানে।।চৈঃচঃ।।*
*শ্রীকৃষ্ণ ব্রজের ঘরে ঘরে গোপীগণের নবনী চুরি করে,স্নানকালে গোপীগণের বসন চুরি করে,"চোর" চূড়ামণি হয়ে ছিলেন,এই পরিপক্ব চোর এখন দস‍্যুবৃত্তি গ্রহণ করে কৃষ্ণধনের শ্রেষ্ঠা ধনী শ্রীমতীরাইধনির রত্নভান্ডার লুঠ করতে প্রয়াসী হয়েছেন।ঐ রত্নভান্ডারে মাদনাখ‍্য মহাভাব বলিয়া একটি অমূল‍্য রত্ন আছে,সেটি নাকি অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের মধ্যে একমাত্র শ্রীরাধারাণীর ভান্ডারেই আছে।সেটি হরণ করে বা চুরি করে অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধার মহাভাব অঙ্গীকার করে শ্রীগৌরাঙ্গরূপে আস্বাদন করবেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
           *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🛑শ্রীরাধার মধুমাখা কথা শুনলে শ্রীকৃষ্ণ অত‍্যন্ত আনন্দ অনুভব করেন।আর শ্রীরাধা,শ্রীকৃষ্ণের মধুর অধরে বংশীধ্বনি মাধুর্য‍্যকথা শুনলে, সেই বেণুগীত শুনে তিনি হারিয়ে যান, অর্থ‍্যাৎ মন হরণ হয়ে যায়, মন হরণ হয়ে গিয়ে নিকটস্থ তরুণ তমালকে জড়িয়ে ধরে শ্রীরাধা মনে করেন, আজ আমার জীবন ধন‍্য, আমি আমার প্রাণকোটি প্রিয়তমকে বক্ষে পেলাম, এই সুখে তরুণ-তমালকে বক্ষে ধরে শ্রীকৃষ্ণের আলিঙ্গন সুখ অনুভব করতে থাকেন।যথা--*
*🌷পরস্পর বেণু গীতে হরয়ে চেতন।*
*🌷মোর ভ্রমে তমালেরে করে আলিঙ্গন।।*
*🌷লীলান্তে সুখে ইহার যে অঙ্গের মাধুরী।*
*🌷তাহা দেখি সুখে আমি আপনা পাসরি।।চৈঃচঃ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের তিনটি বাঞ্ছার প্রথমটি, শ্রীরাধার প্রণয় মহিমা কিরকম। দ্বিতীয় বাঞ্ছা--,শ্রীরাধা কর্তৃক মাদনাখ‍্য মহাভাবের দ্বারা আস্বাদ‍্য কৃষ্ণের অনন্ত মাধুর্য‍্য কিরকম?আর তৃতীয় বাঞ্ছা--,শ্রীকৃষ্ণের অদ্ভুত,অনন্ত মাধুরিমা অনুভব করে শ্রীরাধার কৃষ্ণ অপেক্ষা কোটিগুণ সুখ-অনুভব কিরকম!এই তিনটি লোভ পরিপূর্ণ করতে হলে শ্রীরাধার মহাভাব ও কান্তি গ্রহণ ছাড়া বিষয় জাতীয় ভাবে সম্ভবপর নয়।যদি শ্রীরাধার মাদনাখ‍্য মহাভাবের আশ্রয় হতে পারেন তবেই তিনটি বাঞ্ছা পূর্ণ হবে।*
*🌷এত চিন্তি রহে কৃষ্ণ পরম কৌতুকী।*
*🌷হৃদয়ে বাড়য়ে প্রেম লোভ খকধকি।।*
*🌻একজনের ভাব ও কান্তি অন‍্যজন দ্বারা গ্রহণ কাজটি সহজসাধ‍্য নয়।শ্রীশ‍্যাম রয়েছেন বাইরে,তাকে প্রবেশ করতে হবে অন‍্যের অন্তরে--এটি একটি বিচিত্র বিষয়।*
*🌷অতএব সেই ভাব অঙ্গীকার করি।*
*🌷সাধিলেন নিজ বাঞ্ছা গৌরাঙ্গ শ্রীহরি।।চৈঃচঃ।।*
*🌻শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ একটি উপায়ের খোঁজ দিয়েছেন শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থে--, "রাধায়া ভবচশ্চ চিত্তজতুনী" ইত্যাদি শ্লোকে বর্ণনা করেছেন।শ্রীরাধাকৃষ্ণের চিত্তরূপ লাক্ষাকে (জতুকে বা আলতাকে) স্বেদজল (ঘামজল) দ্বারা দ্রবীভূত করে (গলিয়ে)উভয়ের ভেদভ্রম অপসারণ করতঃ (তুমি আমার,আমি তোমার,এরকম চিন্তা-ভাবনা দূরে সরিয়ে)শৃঙ্গারশাস্ত্র বিশারদ বিধাতা ব্রহ্মান্ডরূপ অট্টালিকা ভিতরে নবরাগ হিঙ্গুল দ্বারা স্বয়ং জগতের বিস্ময় বর্ধনার্থ অনুরঞ্জিত করেছেন।(নবরাগ নতুন করে নতুন ভাবনায় ব্রজের যে প্রেম সঞ্চার করে হিঙ্গুর বা দরদ দিয়ে নিজে জগতের কল‍্যান সাধনের জন্য,মানুষের মঙ্গের জন্য, যাতে মানুষ সুখে থাকতে পারে,কু-ভাবনা দূরে সরিয়ে দিয়ে ভক্তিপথের পথিক করবার জন্য )শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ শ্রীরাধাকৃষ্ণের চিত্তকে জতু বা লাক্ষার সহিত তুলনা দিয়েছেন।শ্রীরাধাকৃষ্ণের মধ্যে যে ভিন্নতা সেটি ভুল মাত্র।শৃঙ্গার নিপুণ বিধাতা স্বেদ-নামক সাত্ত্বিক বিকার দ্বারা উভয়ের চিত্ত গলিয়ে এ ভেদভ্রম দূরীভূত করেছেন।শ্রীগোস্বামীপাদের শ্লোক হতে দুইবস্তুর ভেদ দূর করে একীভূত করার একটি সঙ্কেত জানা গেল।এই সঙ্কেতটি সুদীর্ঘ বিরহের তাপ দ্বারা চিত্তজতুনীকে গলিয়ে দুইবস্তুকে এক করে হলেও শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলনে ভেদ ভ্রম সর্বতোভাবে দূরে যাবে না।এক দেহে অন‍্যের প্রবেশ হলেও ভিন্ন থাকবেন।*
*🍀শ্রীঅক্রূর মহাশয় যখন রথে করে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামকে নিয়ে যাচ্ছিলেন,তখন গোপীগণ উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে নয়নজলে প্লাবিত হতে লাগলেন।শ্রীরাইধনি অচৈতন‍্য হয়ে পড়লেন।*
*🌷রথের নিকটে সব চলহ এখন।*
*🌷রথচক্র মাথা পাতি ছাড়িব জীবন।।*
*🌷তার অদর্শনে সবে রব কি প্রকারে।*
*🌷না রবে এ প্রাণ সখি!সে বিচ্ছেদশরে।।*
*🌷 যেই নন্দসুত হেরি সুন্দর বদন।*
*🌷 নয়ন আনন্দ নীরে হইত মগন।।*
*🌷কিবা সে সুন্দর হাস‍্য,কিবা সে ঈক্ষণ।*
*🌷ক্ষণেক না হেরে তারে ব‍্যাকুলিত মন।।*
*শ্রীরাধা হা কৃষ্ণ! হা কৃষ্ণ! বলে কাঁদতে লাগলেন।শ্রীরাধা বিরহে কাতর হয়ে বলতেন-- "এতদিন অমৃতরস পান করিয়ে সে চলে গেল!বুকে দিবিনিশি আগুন জ্বলছে,ঘরে থাকতে পারিনা,শয‍্যা কাঁটাময়। শ্রীরাধার আহার নেই,নিদ্রা নেই, কোন কিছুতেই রুচি নেই,কেবল প্রাণভরা হাহাকার,বুকের পাঁজর ভেঙ্গে হৃদয় ছুটে বাইর হতে চায়, একবারও কি তাঁকে দেখতে পাবনা?অমৃত পান করলাম,সবই গরল হয়ে গেল।কৃষ্ণ নবজলধর দেখলাম,পিপাসা নিবৃত্তি হল না, আগুন জ্বলিল,জল পড়িল না নেভানোর জন্য, কি সে জ্বালা,আর সহিতে পারি না"।শ্রীকৃষ্ণের বিরহ দাবানলে মূহ‍্যমান শ্রীরাধা ললিতাদি সখীগণের কাছে যে সন্তাপ প্রকাশ করেছিলেন,তা ললিতমাধব গ্রন্থে বঙ্গানুবাদে এরকমভাবে বর্ণিত আছে--,▪হে সখী!পুটপাক (পুট অর্থে ঔষধ পাকের পাত্র বা ঔষধ,পুটপাক অর্থ মৃত্তিকা গোময়াদি নির্মিত পুটস্থ ঔষধপাক বা মিশ্রিত)।হতেও উত্তাপী বা খুবই কড়া, কালকূট বিষ হতেও মোহকারী,বজ্র হতেও দুঃসহ,হৃদয়ে লগ্ন শল‍্য হতেও অতি কটু এবং গুরুতর বিসূচিকা (ওলাউঠা বা কঠিন ব‍্যাধি) হতেও অতি তীব্র এই গোকুলপতির বিরহজনিত সন্তাপ বলপূর্বক আমার মর্মস্থান ভেঙ্গে চুড়মার করে দিচ্ছে।এই বিরহ সন্তাপ সহিবার আর কোন ক্ষমতা আমার নেই--এই কথাগুলি বলতে বলতে মুক্ত কন্ঠে রোদন করেছিলেন।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
         *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*😭শ্রীমতী রাধিকা আরও বলছেন-- কি নিষ্ঠুর সে,এমন শঠের হাতে জীবন যৌবন সঁপে দিলাম।কুলবতীর কুলের গৌরব অকুলে ভাসিয়ে দিলাম। সতীধর্ম, আর্য‍্যপথ(স্বামী বা সংসার ধর্মের পথ) হেসে বিসর্জন দিলাম।কলঙ্কের কালি গায়ে মাখলাম, কেবলমাত্র প্রেমের অঙ্কুরোদ্গম হয়েছিল, তাতে ▪নাহি ভেল যুগল পলাশা, সেই প্রণয়তরুতে যুগল পাতাও হতে পারল না,সে চলে গেল। কেমন করে ইহা সহ‍্য করি, ঘরে ঘরে কেবলই গঞ্জনা। জীবন বিষময় হয়ে গেল।জীবনে বাঁচা হতে মরণ শতগুণে শ্রেয়।বিস খেয়ে মরব? কিন্তু সে----ই অমৃতময়ের আশা ত‍্যাগ করতে পারছি না।যে মুখে ও রসনায় একসময় সেই শঠের অধরামৃত পান করেছিলাম,সেই মুখে কি করে বিষ পান করব?তাঁকে ভুলে থাকতে চাই ; কিন্তু সেই শঠ নিদ্রা,জাগরণে,স্বপ্নে মুহূর্তের মধ্যে দেখা দিয়ে অন্তর্হিত হয়ে যায়।মন শাসন মানে না।তাঁর কথা ভাবব না বললেও মন শুনে না।যেদিকে যাই সেই দিকেই যেন তাঁর ভুবন ভুলানো মূর্তি দেখি।বাতাসে যেন তাঁর অঙ্গগন্ধ পাই।দিকে দিকে যেন তাঁর মধুর মুরলীধ্বনি শুনতে পাই।(সত‍্যিকারের প্রেম কাকে বলে তা শ্রীরাধার কথায় স্পষ্ট)।শ্রীরাধা শ‍্যামবিরহে উন্মাদিনী।প্রবল বিরহে শ্রীরাধার দিব‍্যোন্মাদ,উদ্-ঘৃণা (উদ্ মানে উপরে ঘৃণা বলতে ধিক্কার) অবস্থা।ললিতমাধবের তৃতীয় অঙ্কটির নাম "উন্মত্ত রাধিকা"।বিরহের বেদনা যত তীব্র হয়,অন্তরের প্রাপ্তিও তখন নিকটবর্তী হয়।(যিনি আকুলি ব‍্যাকুলি ও উৎকণ্ঠা হয়ে ভগবানকে যত ডাকবেন, ভগবান তত নিকটে আসিবেন)।একদিকে রাধার বিরহব‍্যথার তীব্রতা,অন‍্যদিকে,পরমকৌতুকী শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় জাতীয় সুখের জন্য ধকধকি লোভ।রসরাজ শ্রীকৃষ্ণের,মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার চিত্তজাতুনীকে সুদীর্ঘ বিরহের তীব্র তাপে দ্রবীভূত করে বিরহসন্তপ্তা দিব‍্যোন্মাদিনী শ্রীরাধার মর্মের হৃদয় নিকুঞ্জে রহ-স্থানে(যা বাইরে থেকে দেখা যায় না,হৃদয়ের গোপন জায়গায়) প্রবেশ করলেন।বিরহ দশার পূর্ণতায় দশ-দশায় এই প্রবেশটি পূর্ণ হওয়ায় শ্রীশ‍্যামসুন্দর অর্ন্তকৃষ্ণ বহির্গৌর হলেন।*
*🌻শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভাবী মিলনটি দর্শন করেছেন নিধুবনে।ভবন বিরহের বেদনা তীব্রতম,সেটি শ্রীরায় রামানন্দকে দর্শন করিয়েছেন।তিনি দেখলেন--, শ্রীশ‍্যামসুন্দর আজ স্বর্ণকমলতুল‍্য শ্রীরাধার হৃদয় কোষের পাপড়িগুলি বিকশিত করে, পেলব কর্ণিকার স্থলে প্রবেশ করছেন।মিলন সময়ে বাম‍্য স্বভাবা নায়িকা সোহাগে শক্ত হয়ে যায়।তাই বিরহের তীব‍্যতাপে গলিয়ে মাদনাখ‍্য মহাভাবের কোষগুলিতে স্তরে স্তরে প্রবেশ করে রসরাজ নবরাগের হিঙ্গুলভরে শ্রীরাধার রঞ্জিত হৃদয় নিকুঞ্জ নিবাসে লুকিয়ে পড়লেন।শ্রীরায় রামানন্দ পরমানন্দের আঘাতে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।*
*🍀অপ্রাপ্তির জন্য আর্তনাদ যখন চরমপ্রাপ্তি হয়।অন্তর রাজ‍্যে শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলন তখন অত‍্যন্ত নিবিড় বা ঘন হয় এবং অভ‍্যন্তরে প্রবিষ্ট শ্রীকৃষ্ণ বাইরে হা কৃষ্ণ!হা কৃষ্ণ! হাঁ প্রাণনাথ মুরলীবদন বলে অশ্রু বর্ষণকারী রোরুদ‍্যমানা শুধু রাধার মূর্তিখানি--এটিই শ্রীগৌরসুন্দরের মূরতি।এই গৌরশশী যুগপৎ মিলনও বিরহের প্রতিমূর্তি।নিত‍্য নবনবায়নভাবে এই মিলন বিরহের জোয়ার ভাটা খেলছেন শ্রীনদীয়া বিনোদিয়ার হৃদয় অভ‍্যন্তরে।যথা শ্রীশ্রীচৈতন‍্য চন্দ্রামৃতে পাই,শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতী বলেন--*
*🌷ক্ষণং ক্ষীণঃ পীনঃ ক্ষণমহহ সাশ্রুঃ,*
*🌷ক্ষণমথ ক্ষণং স্মেরঃ শীতঃ ক্ষণমন,*
*🌷লতপ্ত ক্ষণমপি ক্ষণং ধাবন্ স্তব্ধঃ,*
*🌷ক্ষণমধিজল্পন ক্ষণমহো ক্ষণং মুকো,*
*🌷গৌরঃ স্ফুরতু মম দেহো ভগবতঃ।৭৬*
*🌻ক্ষণকাল ক্ষীণ,ক্ষণকাল পুষ্ট, ক্ষণকাল প্রেমাশ্রুপূর্ণ, কখনও হাসিবদন,কখনও শীতল, ক্ষণে আগুনের মত উত্তপ্ত, ক্ষণে ধাববান, আবার তখনই স্তম্বিত,ক্ষণে বহুভাষী, আবার তখনই মৌন,শ্রীকৃষ্ণের এইরকম গৌরদেহ আমার হৃদয়ে স্ফুরিত হোক।৭৬।*
*🍀শ্রীরসরাজ শ্রীকৃষ্ণের বর্ণ হ'ল শ‍্যাম বা কালো,আর মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার বর্ণ হ'ল গৌর বা স্বর্ণবর্ণ।কিভাবে শ‍্যাম গৌর হয় তার কয়েকটি উপায় বা প্রক্রিয়া বর্ণিত হচ্ছে।*
*(১)নিরন্তর উভয়ের ভাবনা।ইহার মধ্যে শ‍্যামের গৌর হবার ভাবনাটি বেশী।শ‍্যামসুন্দর শ্রীরাধার আশ্রয় জাতীয় মাদনাখ‍্য মহাভাবের লালসায় সবসময়ই চিন্তা ভাবনা হতে শ‍্যামসুন্দর রাধা হয়ে গিয়েছেন।* *(বহু তত্ত্ব বা তথ‍্য)*।

*(২)শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত আছে--, "পেশস্কৃত ভ্রমর অন‍্য কীটকে উহার কুলায় বা বাসায় নিয়ে গেলে ঐ কীটটি পেশস্কৃত ভ্রমরের দেহ প্রাপ্ত হয়।এই ভাবনায় চন্ডীদাস বলেছেন--*
*🌷যারে যেবা ভাবি যখন মরয়ে,*
                  *সে জনে অবশ‍্য পায়।*
*🌷ত্রিভঙ্গ পোকা দেখ আন জীব মাঝে,*
                   *সে হয়, ভৃঙ্গের কায়।।*

*(৩)শ্রীধর স্বামীপাদ শ্রীচৈতন‍্য চন্দ্রামৃত গ্রন্থে এক জায়গায় টীকায় বলেছেন--, "ইন্দ্রনীলমণি যেমন চম্পক কুসুমের সঙ্গে একজায়গায় থাকলে তারই ধর্ম গ্রহণ করে, তেমনিই হ্লাদিনী সারভূতা শ্রীরাধার সঙ্গে একত্রে স্থিতি (অবস্থান বা থাকা) হেতু তার কান্তিতে ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ বিগ্রহ শ্রীগোবিন্দ বাইরে গৌর বর্ণ হয়ে গিয়েছেন।*
*(৪)কৃষ্ণ ভৃঙ্গ সুপ্রভাতে স্বর্ণপদ্মের মধুর লোভে ফুলের উপরে বসে মধুর গুঞ্জন করতে থাকে,সূর্য‍্যরশ্মি তাপ বর্ষণ করলে ধীরে ধীরে স্বর্ণপদ্মের পাপড়ীগুলির ভিতরে ধীরে ধীরে পথ করে প্রবেশ করে সারাদিন মনের সাধে মধুপান করে থাকে।সন্ধ‍্যার প্রাক্কালে স্বর্ণপদ্ম মুদ্রিত হতে থাকলে সে বাইরে চলে আসে,তখন দেখা যায়,কৃষ্ণভৃঙ্গ সতত মধুপান ও একত্রে বাস হেতু কৃষ্ণভৃঙ্গ বর্ণ ভৃঙ্গের কায় বা বর্ণ গ্রহণ করেছে।তদ্রূপ স্বর্ণবর্ণা শ্রীরাধার মূর্তি ভাবনা হেতু শ্রীকৃষ্ণ মহাভাব স্বরূপিনীর হৃদয় নিকুঞ্জ নিবাসে প্রবেশ করে ভাব ও বর্ণ পেয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ হয়েছেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভু আবির্ভাবের গৌণ অন্তঃরঙ্গ কারণ।*
*🌷শ্রীঅদ্বৈত নমস্তুভ‍্যং কলিহত কৃপানিধে।*
*🌷গৌর প্রেম প্রদানায় শ্রীসীতাপতয়ে নমঃ।।*
*🌻আশ্রয় জাতীয় সুখ-আস্বাদনের জন্য শ্রীহরির অন্তর যখন অত‍্যন্ত ব‍্যাকুল হ'ল,তখন যুগাবতারের সময় আবির্ভাব হ'ল।তখন সন্ধানী শক্তির বৃত্তি গুরুবর্গ,পিতামাতা ও অন‍্যান‍্য পরিকরগণ শ্রীহরির আবির্ভাবের আগেই মানবকুলে জন্মগ্রহণ করলেন।শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোঁসাই, শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী গোঁসাই, পিতা শ্রীজগন্নাথ মিশ্র পুরন্দর, গর্ভধারিণী শচীমাতা-ঠাকুরাণী, রাঢ়দেশে এক চাকা গ্রামে প্রভু নিত‍্যানন্দ অবধূত,শ্রীহট্টে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য,তিরোতে পরমানন্দপুরী গোঁসাই,বুঢ়নে ঠাকুর হরিদাস, চট্টগ্রামে শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি ও শ্রীবাসুদেব দত্ত জন্মগ্রহণ করেন।শ্রীবাস পন্ডিত,পন্ডিত শ্রীগদাধর,শ্রীমুরারী, মুকুন্দ ও অন‍্যান‍্য বহু পার্ষদগণ ঐ সময়ে জন্মগ্রহণ করেন।সকলেই শ্রীধাম নবদ্বীপে এসে মিলিত হয়েছিলেন।*
*😭ভক্তগণের মনের ব‍্যথা,কলিহত জীবের হৃদয়ের বেদনা, মানুষের সীমাহীন তমঃ, দুরন্ত অবিদ‍্যা, পাপবাসনা,মানুষের ভগবৎ বিমুখতা, কৃষ্ণনাম ও ভক্তিশূন‍্য সব সংসার দেখে, শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যর প্রাণ কেঁদে উঠিল।তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন--*
*🌷করাইমু কৃষ্ণ সর্বনয়ন গোচর।*
*🌷তবে,অদ্বৈত নাম কৃষ্ণের কিঙ্কর।।*
*🌺জগতে লোকজনকে হরিভক্তিহীন দেখে নিত‍্য পরিমল যুক্ত তুলসী মঞ্জুরী,সুরভি ফুল ও গঙ্গাজল দ্বারা সাশ্রুনয়নে শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনা করেন।ঐ হুঙ্কারের ধ্বনি ব্রহ্মান্ড ভেদ করে গোলোকে শ্রীকৃষ্ণকে আকর্ষণ করে।*
*🌷ভক্তের ইচ্ছায় কৃষ্ণের সর্বাবতার।*
*🌹অন্তরঙ্গ পার্ষদের আহ্বান ছাড়া তাঁর আবির্ভাব হয় না।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য মহাবিষ্ণুর অবতার বা সদাশিব।তাঁরই কাতর প্রার্থনা ও ক্রন্দনে শ্রীকৃষ্ণের শ্রীগৌরাঙ্গ ভাবে আবির্ভাব।*
*🌷তাহার পিরীতে আইলা ত্বরিতে, উদয় নদীয়া মাঝ।*
*🍁এই জন্য এবং শ্রীঅদ্বৈত প্রভুতে অন্তরঙ্গ শক্তির বিলাস আছে বলে শ্রীগৌরাঙ্গের আবির্ভাবের গৌণ অন্তরঙ্গ কারণ বলা হয়েছে।*
*🌷যথা শয়ানে আছিলা ক্ষীর সাগর ভিতরে।*
*🌷নিদ্রাভঙ্গ হইল মোর নাড়ার হুঙ্কারে।।*
*🌷অদ্বৈত নিমিত্ত মোর এই অবতার।*
*🌷এইমত মহাপ্রভু বোলে বার বার।।*
                              *(চৈঃচঃ অন্ত‍্য)*
*🌕সেদিন ফাল্গুনী পূর্ণিমা।সকলেই সুমঙ্গল ঐ পূর্ণিমা তিথিতে মিলিত হলেন।শ্রীভগবানের ইচ্ছায়ই রাহু চন্দ্রকে গ্রাস করল।নদীয়ার সব লোকজন চন্দ্রগ্রহণ দেখে "হরিবোল, হরিবোল" ধ্বনি করতে লাগলেন।*
*🌷উঠিল মঙ্গল ধ্বনি শ্রীহরি সংকীর্তন।*
*🙌এই মঙ্গলধ্বনি ভারতের সর্বত্র ও স্বর্গে প্রতিধ্বনিত হল।স্বর্গের দেবগণ সর্বত্র পুষ্প বর্ষণ করে অনুক্ষণ জয় জয় শব্দে দুন্দুভি বাজাতে লাগলেন।হেন সময় শ্রীহরিনাম সংকীর্তনের সঙ্গে শ্রীমন্মহাপ্রভুর মর্ত্ত‍্যে অবতীর্ণ হলেন। যথা--*
*🌷পিতামাতা গুরুজনে আগে অবতারি।*
*🌷রাধিকার ভাব বর্ণ অঙ্গীকার করি।।*
*🌷নবদ্বীপে শচীগর্ভ শুদ্ধ দুগ্ধ সিন্ধু।*
*🌷তাহাতে প্রকট হৈলা কৃষ্ণপূর্ণ ইন্দু।।চৈঃচঃ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧



adds