✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀গীতগোবিন্দে ক্রমিক পদগান বা অষ্টপদীর রীতি অনুসারে রাগ ও তালের নাম ও রূপের পরিচয় দেবার চেষ্টা করব।যে ক'টি অভিজাত শাস্ত্রীয় রাগ ও তালের সন্নিবেশ আছে গীতগোবিন্দের পদগানগুলিতে, সেগুলির সঙ্গে অন্যান্য বিচিত্র রাগ ও তালকে সম্পর্কিত করা হয়েছে পরবর্তী কৃষ্ণকীর্তন অপেক্ষাও মহাজন-পদাবলীকীর্তনে। সুতরাং পদাবলী কীর্তনের রাগ ও তালের বিশেষ অনুশীলন করার প্রসঙ্গে গীতগোবিন্দ-পদগানের রাগ ও তাল-সম্বন্ধে আমাদের সম্যকজ্ঞান থাকা প্রয়োজন।*
*🌺গীতগোবিন্দে--(রাণা কুম্ভা বলেছেন অষ্টপদী)মোট চব্বিশটি গানের সমাবেশ আছে এবং সে চব্বিশটি গান বা অষ্টপদী দ্বাদশ সর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত।দ্বাদশ সর্গের মধ্যে--*
*(১)প্রথম সর্গে চারটি গান মালব বা মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত ও রামক্রী বা রামকীরি এই চারটি রাগে এবং রূপক, দিঃসাব কী দিঃসার ও যতি (৩য় ও ৪র্থ গানই যতি)তালে।*
*(২)দ্বিতীয় সর্গে দুটি গান গুর্জরী ও মালব বা মালবগৌড় রাগে এবং যতি ও একতালী তালে।*
*(৩)তৃতীয় সর্গে একটি গান গুর্জরী রাগে ও যতি তালে।*
*(৪)চতুর্থ সর্গে একটি গান কর্ণাট ও দেশাগ রাগে এবং যতি ও একতালী তালে।*
*(৫)পঞ্চম সর্গে দুটি গান দেশ-বরাড়ী ও গুর্জরী রাগে এবং রূপক ও একতালী তালে।*
*(৬)ষষ্ঠ সর্গে একটি গান গোন্ডকিরী রাগে ও রূপক তালে।*
*(৭)সপ্তম সর্গে চারটি গান মালব বা মলবগৌড়,বসন্ত, গুর্জরী ও দেশ-বরাড়ী রাগে এবং যতি (দুটি গান যতি তালে)একতালী ও রূপক তালে।*
*(৮)অষ্টম সর্গে একটি গান ভৈরবী রাগে ও যতি তালে।*
*(৯)নবম সর্গে একটি গান রামকীরি রাগে ও যতি তালে।*
*(১০)দশম সর্গে একটি গান দেশ-বরাড়ী রাগে ও অষ্টতালী তালে।*
*(১১)একাদশ সর্গে তিনটি গান বসন্ত,দেশ-বরাড়ী ও বরাড়ী রাগে এবং যতি ও রূপক (রূপক দুটি গানে)তালে।*
*(১২)দ্বাদশ সর্গে দুটি গান বিভাষ রামকীরি রাগে এবং একতালী ও যতি তালে।*
*🌻এখানে বারোটি সর্গে চব্বিশটি গানে বা অষ্টপদীতে মালব, মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত,রামকীরি বা রামক্রী,কর্ণাট,দেশাগ বা দেশাখ, দেশ-বরাড়ী,গোন্ডকিরী বা গোন্ডক্রী, ভৈরবী,বরাড়ী বা বরাটী,বিভাষ বা বিভাস এই বারোটি রাগ (ও রাগিনী) এবং যতি,রূপক,নিঃসার কী নিঃসাব, একতালী,অষ্টতালী বা অষ্টতাল এই পাঁচটি তাল।আগেই আলোচনা করেছি যে,রাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়া" টীকায় গীতগোবিন্দের মূলপাঠে কবি জয়দেব-কর্তৃক উল্লিখিত রাগ ও তালগুলির উল্লেখ করলেও টীকায় ভিন্ন ভিন্ন রাগ ও তালের সন্নিবেশ করেছেন সম্ভবত তৎকালীন সমাজে প্রচলিত রাগনাম ও তালনাম অনুসারে।*
*🍁গীতগোবিন্দের মূলপাঠে রাগ-রাগিনীগুলির নাম-উল্লেখ আছে, কিন্তু তাদের রূপ বা স্বররূপের কোন উল্লেখ নাই। জয়দেব ১২শ শতকের প্রায় শেষের দিকের কবি, সুতরাং দ্বাদশ-এয়োদশ শতকের এবং তার আগের সঙ্গীত-শাস্ত্রোক্ত রাগরূপকে লক্ষ্য করেই কবি রাগগুলির নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং জয়দেবপূর্ব সঙ্গীতগ্রন্থরূপে আমরা মোটামুটিভাবে পার্শ্বদেবের (নবম-একাদশ শতক) "সঙ্গীতসময়সার",অভিনবগুপ্তের (দশম শতকের শেষার্ধ)ভরতভাষ্য "অভিনবভারতী",নান্যদেব বা নান্যভূপালের (১১০৭--১১২৩ খ্রীঃ) ভরতভাষ্য "সরস্বতীহৃদয়লঙ্কার", সোমেশ্বরদেবের-দ্বিতীয় (১১৩১খ্রীঃ) "মানসোল্লাস" বা 'অভিলাষার্থচিন্তামণি' মম্মটের (১০৫০-১১৫০ খ্রীঃ)"সঙ্গীতরত্নমালা", শার্ঙ্গদেবের (১২১০-১২৪৭খ্রীঃ) "সংগীত-রত্নাকর" সোমেশ্বরের-৩য় (১১৭৪-১১৭৭ খ্রীঃ)"সংগীত-রত্নাবলী", শারদাতনয়ের(১২০০ খ্রীঃ) "ভাবপ্রকাশন" বা 'ভাবপ্রকাশ', হরিপালের (১৩০৯-১৩১২ খ্রীঃ) "সঙ্গীত-সুধাকর", সুধাকলসের (১৩ ৩-১৩৪৯ খ্রীঃ)"সঙ্গীত-উপদিষৎ", সিংহভূপালের (১৩৩০ খ্রীঃ)'সঙ্গীতসার' বেমভূপালের (১৫শ শতকের প্রারম্ভে) "সঙ্গীত-চিন্তামণি", রাণা কুম্ভার (১৪৩৩-১৪৬৮ খ্রীঃ কারো কারো মতে ১৪৫০ খ্রীঃ।) "সঙ্গীত-মীমাংসা" ও সঙ্গীতরাজ, কল্লিনাথের (১৪শ শতকের মধ্যভাগ) সংগীত-রত্নাকরের টীকা "কালানিধি" প্রভৃতি।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
*🍀এ' সকল সঙ্গীতগ্রন্থে ও টীকায় রাগ ও স্বরসজ্জা বা স্বরসমাবেশের যে পরিচয় দেওয়া আছে,দ্বাদশ-এয়োদশ শতকের ভারতীয় (এবং বাংলার) সঙ্গীত-সমাজেও সেই ধরণের রাগ-রূপের ও তাদের প্রকাশভঙ্গীর প্রচলিত ছিল মনে করা যায়, সুতরাং গীতগোবিন্দে উল্লিখিত রাগ-রাগিনীদের স্বররূপ ও স্বরবিকাশভঙ্গীর আলোচনা করতে গেলে আমাদের নাট্যশাস্ত্রের সময় থেকে সঙ্গীত-রত্নাকর ও তার পরবর্তী কালের রাগরূপ সম্বন্ধে কিছুটা অনুশীলন করা উচিত।*
*☘আগেই বলেছি যে,গীতগোবিন্দ চব্বিশটি পদগানে মালব,মালবগৌড়, গুর্জরী,বসন্ত,রামকীরি,কর্ণাট,দেশাখ, দেশবরাড়ী,গোন্ডকিরী,ভৈরবী,বরাড়ী ও বিভাষ বা বিভাস এই বারোটি রাগনামের উল্লেখ পাই।কবি জয়দেব রাগের স্বররূপ ও ধ্যানশ্লোকের কোন উল্লেখ করেননি। পরবর্তীকালে পূজারী গোস্বামী,রাণা কুম্ভা ও অন্যান্য টীকা ও ভাষ্যকারগণ রাগগুলির ধ্যানরূপের সঙ্গে সঙ্গে তালগুলির শাস্ত্রীয় রূপের পরিচয় দিয়েছেন।*
*🍁এই প্রসঙ্গে মনে রাখা উচিত যে, বতর্মানকালের উত্তর-ভারতীয় ও দক্ষিণভারতীয় রাগের রূপগুলি প্রাচীন ভারতে প্রচলিত রাগরূপ থেকে বেশ কিছুটা আলাদা এবং সে পার্থক্যের কারণ রাগগুলির নিয়ামক রাগ বা থাটের (Standard Scale) রূপ-পরিবর্তন।প্রাচীন ভারতে (নাট্যশাস্ত্রকার ভরতের সময়ে থেকেই ) রাগ-নিয়ামক থাট বা মূলরাগের রূপ ছিল বতর্মান কালের অনেকটা "কাফীর" মত।"সঙ্গীতসার" গ্রন্থকার 'মাধব বিদ্যারণ্য' তদানীন্তন কালে নিয়ামক থাট বা ষ্ট্যান্ডার্ড স্কেলের নাম দিয়েছেন "মুথারী-- যার স্বরসজ্জা বা স্বররূপ ছিল বতর্মান কালের উত্তর-ভারতীয় সঙ্গীতপদ্ধতির "কাফী" রাগেরই প্রায় অনুরূপ।গীতগোবিন্দের পদগানে ব্যবহৃত রাগগুলির প্রাচীন ও আধুনিক স্বররূপগুলির আলোচনা করলে তা থেকে গীতগোবিন্দের রাগগুলির রূপ ও বিকাশভঙ্গীর পরিচয় পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করি।*
*🌺প্রথমেই গীতগোবিন্দের অষ্টম সর্গে প্রথম গানে বা অষ্টপদীতে "ভৈরবীযতিতালাভ্যাং গীয়তে" এই ভৈরবী রাগ বা রাগিনীর আলোচনা করা যাক।খ্রীঃ নবম-একাদশ শতকের সংগীত গুণী পার্শ্বদেব "সঙ্গীতসময়সার" গ্রন্থে ভৈরবীর পরিচয় দিয়েছেন।*
*🌷ভিন্নষড়্ জসমুদ্ভূতা ধাংশন্যাসগ্রহান্বিতা।*
*🌷সমশেষস্বরা পূর্ণা গান্বিতা তার-মন্দ্রয়োঃ।*
*🌷দেবাদিপ্রার্থনায়াং তু ভৈরবী বিনিযুজ্যতে।।*
*❓ধাংশন্যাসগ্রহান্বিতা কি*
*বাংশন্যাসগ্রহান্বিতা।(বহু পুরোনো গ্রন্থ অনেকলেখায় কিছু কিছু বুঝা যাচ্ছে না)।*
*🌻ধৈবতস্বর ভৈরবীর অংশ (বা বাদী) এবং গ্রহ (আরম্ভ স্বর)ও ন্যাস (বিরাম বা শেষ-স্বর) এবং সম্পূর্ণজাতি অর্থে সাত স্বরবিশিষ্ট। মন্দ্র ও তার (নিম্ন ও উচ্চ) এই উভয় সপ্তকের গান্ধার পর্যন্ত ভৈরবীর স্বরগুলি লীলায়িত।*
*🌹শার্ঙ্গদেব (তের শতকে) সঙ্গীত-রত্নাকর গ্রন্থে ভৈরবীর প্রসঙ্গে পার্শ্বদেবকেই অনুসরণ করেছেন, অর্থ্যাৎ ভৈরবী সাতস্বরবিশিষ্ট, তার ধৈবত বাদী,গ্রহ ও ন্যাস স্বর।এখানে কোন স্বর কোমল বা বিকৃত তার কোন পরিচয় দেননি পার্শ্বদেব এবং শার্ঙ্গদেবও।কিন্তু পন্ডিত অহোবল (১৭শ শতক) সঙ্গীত-পারিজাত গ্রন্থে ভৈরবীর পূর্ণরূপের পরিচয় দিয়েছেন, আর দিয়েছেন সতেরশ শতকের গুণী সোমনাথ,দামোদর,লোচন-কবি ও অন্যান্য পরবর্তী সঙ্গীতগ্রন্থকারগণ।পন্ডিত অহোবল ভৈরবীর স্বররূপের ও অন্যান্য বিষয়ের পরিচয় দিয়ে বলেছেন--*
*🌷স-স্বরাংশগ্রহন্যাস ভৈরবী স্যাদ ধ-কোমলা।*
*🌷বি-নারোহে তু প-ন্যাসা পঞ্চমেনোভয়োরপি।*
*🌷ষড়্ জেনাথাবরোহে তু সর্বদা সুখদায়িনী।।*
*🛑ভৈরবীর অংশ বা বাদীস্বর ষড়জ (সা) এবং সংবাদী পঞ্চম (পা), গ্রহ ও ন্যাস তথা আরম্ভ স্বর এবং শেষ-স্বরও ষড়জ এবং ধৈবত কোমল বা বিকৃত (এখানে কোমল স্বরের উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেই কোমলস্বর ধৈবত)।*
*🌹পন্ডিত সোমনাথ মনে হয় পারিজাতকারকে অনুসরণ করেছেন। কিন্তু পন্ডিত দামোদর ও লোচন কবির পরিচয়দানের মধ্যে একটু বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।লোচন-কবি (১৭শ শতকের প্রথম বা মধ্যভাগ) "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থে ভৈরবীর পরিচয় প্রসঙ্গে বলেছেন--, "শুদ্ধা সপ্তস্বর রম্যা বাদনীয়াঃ প্রযত্নতঃ"। অর্থ্যাৎ ভৈরবীর সাত স্বরই শুদ্ধ। কিন্তু এখানে মনে করতে হবে যে,লোচনের সময়েও নিয়ামক রাগ বা থাট (S.S) ছিল বর্তমানের কাফীরাগ বা কাফীথাটের অনুরূপ, সেজন্য লোচন-কবি বতর্মান কালের কাফীকেই শুদ্ধমেল বা শুদ্ধথাট রূপে গ্রহণ করেছেন এবং সে হিসাবে তখনকার (১৭শ শতকের)ভৈরবীর স্বরূপ ছিল-- সা রি গ (কোমল) ম প ধ নি (কোমল)।কোন কোন গুণী সেই সময়ে ঋষভকে কোমলস্বর-রূপে ভৈরবীতে ব্যবহার করতেন (এখানে লক্ষণীয় যে,সব সময়ই রাগরূপ নিয়ে মতভেদের অন্ত ছিল না)।সেজন্য লোচন-কবি বলেছেন-- "তদ্ শুদ্ধং যতস্তাদৃক্ নায়ং রাগাহনুরঞ্জকম্", অর্থ্যাৎ কোমল-ঋষভযুক্ত ভৈরব ব্যবহৃত হলে তা শ্রুতিমধুর হয় না। হৃদয়নারায়ণদেব "হৃদয়কৌতুক" ও "হৃদয়প্রকাশ" গ্রন্থ দুটিতে লোচন-কবিকে এ'বিষয়ে হুবহু অনুসরণ করেছেন।পন্ডিত দামোদর (১৬২৫ খ্রীঃ)"সঙ্গীতদর্পণ" গ্রন্থে ভৈরবী সম্বন্ধে বলেছেন--, "সংপূর্ণা ভৈরবী জ্ঞেয়া গ্রহাংশন্যাসমধ্যমা" অর্থ্যাৎ ষড়জের পরিবর্তে মধ্যমস্বর ভৈরবীর বাদী,গ্রহ ও ন্যাস স্বর।দামোদর সৌবীরীমূর্ছনার মাধ্যমে ভৈরবীর স্বররূপের পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির ভৈরবীতেও বাদীস্বর মধ্যম ও সংবাদী ষড়জ (অবশ্য কারো কারো মতে ধৈবত বাদী ও গান্ধার সংবাদী)। অনেকে ভৈরবীকে সন্ধিপ্রকাশরাগের অন্তর্ভুক্ত করেন, কিন্তু তা কতদূর সমীচীন বা উচিত তা অনুধাবন যোগ্য, কারণ রাত্রির অন্তর্ধানে দিবালোকের প্রকাশ মুহূর্তকে "সন্ধি" (Meeting Period of night and day) বলে এবং সে সময়ে সকালেরসূর্য্যকে আরতি জানানোর জন্য ভৈরবরাগের ব্যবহার হয়, সুতরাং ভৈরবকেই সেদিক থেকে সন্ধিপ্রকাশ-রাগ বলা উচিত। বতর্মান সময়ে ভৈরবী সম্পূর্ণজাতি, অর্থ্যাৎ তাতে সাতস্বরের ব্যবহার হয়।ঋষভ,গান্ধার,ধৈবত ও নিষাদ কোমলস্বর-রূপে ব্যবহার হয় বতর্মান পদ্ধতির ভৈরবীতে। সুতরাং ভৈরবীতে প্রাচীন ও নবীন ( আধুনিক ) স্বররূপের মধ্যে পার্থক্য অনেক।*
*ক্রমাগত*
*🙏জয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
*🍀অন্যান্য রাগসম্বন্ধেও ঠিক এককথা,অর্থ্যাৎ প্রাচীন রূপের সঙ্গে আধুনিকের পার্থক্য অনেক তার নিয়ামক মেল বা থাটরূপের পরিবর্তনের জন্য।সেভাবে বরাড়ী বা বরাটী,কর্ণাট বা কানাড়া,বসন্ত,মালব, গুর্জরী প্রভৃতি রাগের প্রাচীন ও আধুনিক রূপের মধ্যে কিছু কিছু (কিম্বা অনেক) পার্থক্য দেখা যায়।যেমন,৯ম-১১শ শতকের গুণীজন পার্শ্বদেব বসন্তকে বলেছেন ঋষভ-ধৈবতবর্জিত ঔড়ব তথা পঞ্চস্বরের রাগ।পন্ডিত রামামত্য (১৫৫০ খ্রীঃ)"স্বরমেলকলানিধি"গ্রন্থে বসন্তকে "শুদ্ধবসন্ত" বলেছেন এবং তার স্বরূপ ষাড়ব-সম্পূর্ণ-জাতির (ছয় স্বর--সাত স্বরযুক্ত), কেননা আরোহণে পঞ্চমবর্জিত। এখানে লক্ষ্য করার বিষয়ে যে,রামামত্য মুখারীকে নিয়ামক শুদ্ধমেল (S.S) বলে গণ্য করেছেন,তাতে মুখারীর বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির রূপ দাঁড়ায়-- সা বি (কোমল) বি ম প ধ (কোমল) ধ র্সা ; অর্থ্যাৎ রামামত্যের শুদ্ধঋষভ ও শুদ্ধগান্ধার ও শুদ্ধনিষাদ বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির তীব্র-ঋষভ ও তীব্র-ধৈবত। পন্ডিত সোমনাথ অনুরূপ অভিমত পোষণ করেন বসন্তের রূপ-সম্বন্ধে। বতর্মান পদ্ধতিতেও বসন্তের রূপ নিয়ে মতভেদের অন্ত নেই।শুদ্ধবসন্তের প্রচলিত রূপ উভয়-মধ্যম, পঞ্চম-বর্জিত ও ঋষভ-কোমল।প্রাচীন ধ্রুবপদ পদ্ধতির গানে এই রূপের প্রচলনই দেখা যায় এবং অনেকের মতে,কোমল-ধৈবতেরই ব্যবহার হয় বসন্তে ; যেমন, সা গ ম (কড়ি) ধ (কোমল, ঋষভ (কোমল-তারস্থানে), র্সা।এই বসন্তের রূপ পরজ-বসন্তের রূপের সমান। সুতরাং বসন্তের রূপে বর্তমানকালেও মতভেদ দেখা যায়।লোচন-কবি "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থে এবং তাঁর মতানুবতী পন্ডিত হৃদয়নারায়ণ বসন্তকে গৌরী সংস্থান বা গৌরীমেলের রাগ বলেছেন তখনকার গৌরীমেল বতর্মান ভৈরবমেলের সমান ; সুতরাং তখনকার মেলনাম ও বতর্মানের মেলনাম এক নয়,যদিও স্বররূপে প্রায় এক।*
*☘গীতগোবিন্দ-পদগানে ব্যবহৃত মালব,মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত, রামকিরী,কর্ণাট,দেশাখ,দেশবরাড়ী, গোন্ডকিরী,ভৈরবী,বরাড়ী বা বরাটী ও বিভাষ বা বিভাস এই বারোটি প্রাচীন যুগের রূপানুশীলন করেছেন সঙ্গীতশাস্ত্রী সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী, পন্ডিত হৃদয়নারায়ণের "হৃদয়প্রকাশ" ও 'হৃদয়কৌতুক' গ্রন্থ দুটিতে উল্লিখিত স্বররূপকে অনুসরণ করে।(তাঁর প্রবন্ধ কয়েক বৎসর পূর্বে "বিশ্ববাণী" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল )। রাগতরঙ্গিণীকার লোচন কবির অভিমতকে অনুসরণ করেই পন্ডিত হৃদয়নারায়ণও প্রাচীন রাগগুলির স্বরবিন্যাস করেছেন।লোচন কিম্বা হৃদয়নারায়ণের ও অন্যান্য প্রাচীন সঙ্গীতগ্রন্থকারদের রাগ বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখি----*
*(১)মালব ও মালবগৌড় গৌরী-সংস্থান বা ভৈরবমেলের স্বররূপ সা রি (কোমল) গ ম প ধ (কোমল) নি । কিন্তু বতর্মান হিন্দুস্থানী পদ্ধতিতে কড়ি-মধ্যমের (হ্ম) ব্যবহার হয়, যদিও লোচন কবি সে সম্বন্ধে কোন কিছু বলেননি।*
*(২)গুর্জরীও লোচন কবির মতে, গৌরী-সংস্থান তথা ভৈরবমেলের রাগ, সুতরাং এতে ঋষভ ও ধৈবত কোমল বা বিকৃত।*
*(৩)বসন্তও লোচন কবির মতে, গৌরী-সংস্থানের রাগ।বসন্ত সম্বন্ধে আগে আলোচনা করেছি। কিন্তু লোচন কবির পূর্বগ-শাস্ত্রীদের মতের সঙ্গে লোচনেরমতের মিল নেই।লোচন ও হৃদয়নারায়ণ বসন্তে ঋষভকে বাদ দিয়ে কোমল-ধৈবতের ব্যবহার করেছেন অবরোহণে।প্রাচীন ধ্রুবপদগানে যে শুদ্ধবসন্তের প্রচলন আছে,তাতে পঞ্চম-বর্জিত, এবং ঋষভ-কোমল এবং উভয়-মধ্যমের (ম হ্ম) ব্যবহার।*
*(৪)রামকিরি বা রামক্রী লোচনের মতে ভৈরবমেলের রাগ। বতর্মান ভৈরবমেলের স্বররূপ-- সা বি (কোমল) গ (কোমল) ম প ধ (কোমল)।লোচনের অনুবতী হৃদয়নারায়ণ রামকিরি-রাগিনীতে কোমল-ধৈবত ও কোমল-ঋষভের ব্যবহার করেছেন।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
*(৫)কর্ণাট লোচন কবির মতে, খাম্বাজমেলের অনুরূপ ও ঐ মেলের অন্তর্গত।খাম্বাজ মেলে কোমল-নিষাদের, ব্যবহার এবং অন্যান্য স্বর অবিকৃত বা শুদ্ধ। ইতিহাসের পাতায় কর্ণাটের পরবর্তী রূপ হিসাবে আমরা কানড়ারাগকে পাই। "সঙ্গীত-রত্নাকর" গ্রন্থে শার্ঙ্গদেব কর্ণাট বা কানাড়ার পরিবর্তে কর্ণাট-রঙ গাল-রাগের পরিচয় দিয়েছেন এবং তা পঞ্চম-বর্জিত ষাড়বজাতির রাগ বা রাগিনী। পন্ডিত রামামত্য (১৫৫০ খ্রীঃ) পৃথকভাবে কর্ণাট বা কানাড়ার নাম উল্লেখ করেননি,তবে কন্নড় শব্দ ব্যবহার করেছেন সম্ভবত কর্ণাটকে লক্ষ্য করে।পন্ডিতপুন্ডরীকে বিঠ্ঠল সম্রাট আকবরের সময়কার শাস্ত্রী। তিনি কর্ণাটের নামোল্লেখ করে "রি-ধ-বর্জিত বা পূর্ণস্তু কর্ণাট ইনাস্তশোভী" বলেছেন। অর্থ্যাৎ তাঁর মতে,কর্ণাট ঋষভ ও ধৈবত-বর্জিত ঔড়ব বা পাঁচ স্বরের রাগ, আবার সমস্ত স্বরকে নিয়ে সম্পূর্ণ জাতির।পন্ডিত সোমনাথের রাগবিরোধে (১৬০৯ খ্রীঃ) "কর্ণাটঃ কর্ণাটগৌড়ঃ" শব্দগুলির উল্লেখ পাওয়া যায় এবং তা থেকে কর্ণাট ও কর্ণাটগৌড়কে যেন একই রাগ বলে প্রতীত হয় (?) ; খ্রীষ্টীয় ১৭শ শতকে লোচন-কবি "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থে কর্ণাট ও কানড়া বা কানাড়া শব্দ দুটি পৃথকভাবে ব্যবহার করেছেন। যেমন,*
*🌷রাগেশ্বরী কানরশ্চ খম্ ভাইচী তু রাগিনী।*
☆ ☆ ☆
*🌷কর্ণাটসংস্থিতাবেতে রাগাঃ সন্তীতি নিশ্চিতম্।।*
*🍀এখানে উল্লেখযোগ্য যে,আনুমানিক ১৪শ শতকের "পঞ্চমসারসংহিতা" গ্রন্থে রাগ মল্লারের রাগিনী-রূপে 'কানড়া'-র উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৭শ শতকের দক্ষিণী সঙ্গীতশাস্ত্রী বেঙ্কটমখী চতুর্দন্ডীপ্রকাশিকায় শ্রীরাগের জন্মরাগ-রূপে কন্নড়গৌল বা কন্নড় বা কানাড়ার পরিচয় দিয়েছেন।তাছাড়া ভাবভট্টের "অনূপসঙ্গীতাংকুশ ও অনূপসঙ্গীতরত্নাকর" এবং পুরুষোত্তমের মিশ্রের "সঙ্গীতনারায়ণ" গ্রন্থগুলিতে 'কর্ণাটী-শব্দের উল্লেখ দেখি।অহোবলের "সঙ্গীতপরিজাত- গ্রন্থে কানাড়া আবার কানড়ী নামে উল্লিখিত।সেখানে কানড়ী বা কানাড়া তীব্র-গান্ধারযুক্ত।মোটকথা কর্ণাট ও কানাড়াকে যদি এক ও অভিন্ন রাগরূপে পাই,তবে সঙ্গীতদর্পণকার দামোদরের মতে, কর্ণাট বা কানাড়া সম্পূর্ণ তথা সাত স্বরের রাগ বা নিষাদ বিকৃত বা কোমল। কিন্তু বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির কানড়া তথা কর্ণাটরাগে গান্ধার,ধৈবত ও নিষাদ বিকৃত বা কোমল (জ্ঞ দ ণ)।*
*(৬)দেশাখ,দেশাখ্য বা দেবশাখ লোচনকবির মতে মেঘ-সংস্থানের রাগ।দেশাখ বা দেশাখ্য রাগ বা রাগিনীরই ভিন্ন নাম।হনুমন্মতে দেশাখ্য বা দেশাখ হিন্দোলরাগের তৃতীয় রাগিনী।দেশাক্ষী,দেবশাখ, দেওশাখ নামেও ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গীতগ্রন্থে উল্লিখিত।পার্শ্বদেব "সঙ্গীতসময়সার" গ্রন্থে দেশাখ ও দেশাখ্য এই দু'রকম শব্দ ব্যবহার করেছেন।দেশাখ বা দেশাখ্য পার্শ্বদেবের মতে, ঋষভ-বর্জিত ষাড়ব, অর্থ্যাৎ ছ'স্বরের রাগ।এতে সমস্ত স্বরই শুদ্ধ। সঙ্গীতরত্নাকরে শার্ঙ্গদেব "দেশাখ্য" নামেরই উল্লেখ করেছেন।"কলানিধি" টীকায় কল্লিনাথ দেশাখ্য বা দেশাখকে পঞ্চম-বর্জিত ষাড়বরাগ বলেছেন। কিন্তু পার্শ্বদেবের মতে, দেশাখ্য ঋষভ-বর্জিত ষাড়বরাগ। পন্ডিত রামামত্যের মতে,দেশাখ বা দেশাখ্য বা দেশাক্ষী আরোহণে সম্পূর্ণ ও অবরোহণে মধ্যম ও নিষাদ-বর্জিত ঔড়বজাতি। পন্ডিত সোমনাথ দেশাখ বা দেশাক্ষীকে ঔড়ব-সম্পূর্ণ বলেছেন। সুতরাং দেশাখ,দেশাখ্য বা দেশাক্ষীকে নিয়ে মতভেদের অন্ত নাই। বতর্মানে দেশাখ বা দেবশাখ কাফীমেলের ধৈবত-বর্জিত ষাড়বজাতির রাগ।কবি জয়দেব সময় (১২ শতকের শেষভাগে) দেশাখ বা দেশাখ্য বা দেবশাখ সম্ভবত কল্লিনাথ সমর্থিত পঞ্চম-বর্জিত ষাড়ব-ষাড়ব-জাতির রাগ ছিল।*
*ক্রমাগত*
*🍀শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
*(৭)দেশ-বরাড়ী সম্ভবত দেশ ও বরাড়ী-রাগদুটির সংমিশ্রণে সৃষ্ট।'বরাড়ী'রাগ বৈরাটী,বিরাটী, বরাটিকা প্রভৃতি নামেও পরিচিত। শার্ঙ্গদেব একে "বটুকী"নামেও অভিহিত করেছেন, "তজ্জা বরাটিকা সৈব বটুকী ধ-নি-পাধিকা"।ধৈবত, নিষাদ ও পঞ্চম স্বর-তিনটির এতে বেশী ব্যবহার।দেশ,দেশী ও দেশাখ্য ভিন্ন ভিন্ন রাগ। কিন্তু দেশ ও দেশকার সমশ্রেণীভুক্ত বা একই রাগ।দেশ বা দেশকার মোটেই প্রাচীন রাগ নয়, কেননা নান্যদেব মম্মটাচার্য্য,সোমেশ্বরদেব এবং এমনকি ১৩শ শতকে শার্ঙ্গদেব "সঙ্গীতরত্নাকর" গ্রন্থে দেশ ও দেশকার-রাগের কোন পরিচয় দেননি।পন্ডিত সোমনাথ (১৬০৯ খ্রীঃ) দেশ বা দেশকারকে "দেশকৃৎ"তথা "দেশকৃদ্দেশকারঃ"বলেছেন।তিনি বলেছেন,দেশ বা দেশকার সংপূর্ণজাতির রাগ, "সাংশাদ্যন্তেহহ্নোহন্তকম্প্রমনির্দেশকৃৎ পূর্ণ"।আগেই বলেছি যে,জয়দেব-বর্ণিত দেশ-বরাড়ী সম্ভবত দেশ ও বরাটী বা বরাড়ী রাগ-দুটির মিশ্রণে সৃষ্ট।লোচন-কবি ও হৃদয়নারায়ণদেব এ' রাগের কোন পরিচয় দেননি। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না, কারণ কবি জয়দেব ১২শ-১৩শ শতকে তাঁর গানের সঙ্গে দেশ-বরাড়ী রাগের সম্পর্ক ঘটিয়েছেন,অথচ ঠিক সেই সময়ে দেশ-বরাড়ী অথবা দেশ-বরাটী নামে নির্দিষ্ট কোন রাগের নাম কোন প্রাচীন সঙ্গীতগ্রন্থে পাওয়া যায় না।পাওয়া যায় না পঞ্চম-সপ্তম শতকের সঙ্গীতগ্রন্থ "মতঙ্গের" বহুদ্দেশীতে,পার্শ্বদেবের সঙ্গীতসময়সারে এবং নাট্যলোচনেও। অথচ পরবর্তীকালে দেশ-বরাড়ীরাগের শিল্পী-অঙ্কিত চিত্র পাওয়া যায়।মনে হয়,দেশ-বরাড়ী রাগ বা রাগিনী পরবর্তীকালে সৃষ্ট এবং ১২শ শতকের গীতগোবিন্দে তার উল্লেখ ঐতিহাসিকদের মনে একটু সংশয়ের উদ্রেক করে।*
*(৮)গোন্ডকিরি--,গুণকেলী,গুন্ডত্রুী, গুণক্রী,গুণক্রিয়া,গুণকিরি প্রভৃতি নামে পরিচিত।"গুন্ডকী" নামও প্রাচীন গ্রন্থ সঙ্গীতসময়সারে পাওয়া যায়। ১৩শ শতকের গুণীজন শার্ঙ্গদেব গুণক্রীরাগের পরিচয় দেননি কেন-- তা বলা যায় না।পন্ডিত রামামত্য একে ধৈবত-বর্জিত ষাড়ব-ষাড়বজাতির রাগ বলেছেন।পুন্ডরীক বিঠ্ঠল(১৫৯০ খ্রীঃ)একে "গৌন্ডকৃতি"বলেছেন এবং তাঁর মতে, ধৈবত-বর্জিত ষাড়ব-ষাড়বজাতির রাগ গোন্ডকিরি। কিন্তু ১৭শ শতকের প্রথম পাদের সঙ্গীতশাস্ত্রী পন্ডিত সোমনাথ তাঁর গ্রন্থে "গোন্ডক্রিয়া" তথা গোন্ডকিরিকে কোমল-ঋষভ ও ধৈবতযুক্ত গান্ধার ও নিষাদ-বর্জিত ঔড়বজাতির রাগ বলেছেন। গৌরী-সংস্থান বর্তমানে ভৈরবমেলের অনুরূপ এবং ভৈরবরাগের জন্যরাগ, সুতরাং প্রাতঃকালে গেয়।গোন্ডকিরা বা গোন্ডক্রীর ঋষভ ও ধৈবত কোমল বা বিকৃত।*
*(৯)ভৈরবী--,তখনকার সময়ে ভৈরবীর রূপ ছিল বর্তমানের কাফীমেলের অনুরূপ বা সমান, সুতরাং ভৈরবীর রূপ পাই-- সা রি গ (কোমল) ম প ধ নি (কোমল)। পন্ডিত সোমনাথ বলেছেন--, "অন্যে তু ভৈরবীরাগে ধৈবতং কোমলং বিদুঃ"।অর্থ্যাৎ অনেকে ভৈরবীতে কোমল-ঋষভ ব্যবহার করেন। বতর্মান হিন্দুস্থানপদ্ধতির ভৈরবীতে কোমল-ঋষভ,গান্ধার,ধৈবত ও নিষাদ ব্যবহৃত হয় (ঋ জ্ঞ দ ণ)। লোচন-কবি ভৈরবীতে কোমল-ধৈবতের ব্যবহারকে অসুন্দর বলেছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, লোচনকবি ১৬শ শতকের শেষার্ধের কিংবা ১৭শ শতকের প্রথম বা মধ্যম পাদের কবি। সুতরাং ১২শ শতকের পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাগরূপে পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।পন্ডিত অহোবল প্রভৃতি ভৈরবীতে কোমল-ধৈবতের ব্যবহার বলেছেন, "ভৈরবী স্যাদ্ ধ কোমল"।*
*(১০)বরাড়ী বা বরাটী সম্বন্ধে আমরা দেশ-বরাড়ী প্রসঙ্গে কিছুটা আলোচনা করেছি।বরাড়ী বা বরাটীর প্রকারভেদ, যেমন সৈন্ধববরাটী, কুন্তলবরাটী,দ্রাবিড়বরাটী, প্রতাপবরাটী,নাগবরাটী, শোকবরাটী প্রভৃতি। বতর্মান পদ্ধতির বরাড়ী তথা বরাটীতে কোমল-ঋষভ ও কড়ি-মধ্যমের ব্যবহার হয়। শার্ঙ্গদেব বরাড়ীতে কোন কোমল স্বরের উল্লেখ করেননি,বলেছেন--ধৈবত,নিষাদ ও পঞ্চমের বেশী প্রয়োগ।পন্ডিত অহোবল বরাড়ীতে কোমল-ঋষভ ও ধৈবতের ব্যবহারেরই কথায় বলেছেন।লোচনকবি বরাড়ীর কোন পরিচয় দেননি।*
*(১১)বিভাসরাগ লোচনের মতে ভৈরবমেলের সমান, সুতরাং বিভাসে ঋষভ ও ধৈবত কোমল।বিভাসের রূপ প্রধানত দু'রকম-- একটি প্রাতঃকালে ও অন্যটি রাত্রে গেয়। বিভাসের প্রাচীনরূপেও নিষাদ ও মধ্যমবর্জিত দেখা যায়।*
*(১২)মালব বা মালবগৌড় রাগের প্রকারান্তরে আমরা পরিচয় দিয়েছি।লেখকের "রাগ ও রূপ" গ্রন্থের প্রথম ভাগে এই মালবরাগ সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা দ্রষ্টব্য।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
*(দুই)*
*🍀মেবারের রাণা কুম্ভা (বা কুম্ভকর্ণ) গীতগোবিন্দের উপর "রসিকপ্রিয়া" নামক টীকা রচনা করেছেন-- যাতে দেশীরাগগুলির স্বররূপ বা স্বর-সমাবেশের মধ্যে মতঙ্গ, শার্ঙ্গদেব প্রভৃতি নির্দেশিত রাগসজ্জার বিকাশ থেকে কিছু কিছু পার্থক্য বা প্রভেদ দেখি।গীতগোবিন্দে যে রাগগুলির উল্লেখ আছে পদগুলি সুরে প্রকাশ করার জন্য,তাদের রূপের পার্থক্যের কথা আলোচনা-প্রসঙ্গে পূর্বে উল্লেখ্য করেছি। "সঙ্গীতরাজ"রাণা কুম্ভার একটি অবিস্মরণীয় অক্ষয় অবদান। ডক্টর কুঞ্জন রাজা "সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থের স্বরাধ্যায়মাত্র সম্পাদনা করে বিকানীর থেকে প্রকাশ করেছেন।পরে বারাণসী হিন্দুবিশ্ববিদ্যালয় (Banaras Hindu University) ডক্টর প্রেমলতা শর্মা "সঙ্গীতরাজ" বিশেষভাবে সম্পাদনা করে ইংরেজী ১৯৬৩ খ্রীষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রথমভাগ প্রকাশ করেছেন।সম্পাদিকা ডক্টর প্রেমলতা শর্মা মেবারের রাণা কুম্ভার আবির্ভাব-কাল-সম্পর্কে লিখেছেন--, (The date of Kumbha Presents no difficulty. He ascended the throne of Mewar in Chittorgarh in 1433 A.D. after the assassination of his father Mokal and had a glorious reign of thirty-five years.(vide Sanskrit verse). The above verse ; "শ্রীমদ্বিক্রমকালতঃ পরিগতে নন্দাভ্রভূতক্ষিতা"☆ ☆ mentions the year 1374 corresfondnig to 1456 A.D. The Kirttistambha inscription which was installed in 1460 A.D. clearly refers to the composition of S.Raj by Kumbha.। রাণা কুম্ভার তিরোভাব ঘটে ১৪৬৮ খ্রীষ্টাব্দে।"সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থে সাঙ্গীতিক উপাদানের ও বিশেষ করে রাগ-রাগিনীদের পরিচয়প্রসঙ্গে রাণা কুম্ভার একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যায় সেকথা আগেই উল্লেখ করেছি। বিদগ্ধ সম্পাদিকা সঙ্গীতরাজে আলোচিত ও অনুসৃত ধারা-প্রসঙ্গে লিখেছেন--, The author's theories and concepts are traditional though he evenices a special Partiality for the more ancient authorities, who do not seem to Possess the same degree of appeal for contemporary writers (vide Introduction, P- 151). Traditional বা ঐতিহ্যবাহী ধারাপারম্পর্য্য-সম্পর্কে তিনি রাণা কুম্ভার নিজের স্বীকারোক্তির উল্লেখ করেছেন।স্বীকারোক্তিটি হল--*
*🌷অধ্যাসিতায়া নিজপূর্বপুঙ্ ভিঃ,*
*🌷পদং সবীসর্তি ন যঃ কদাচিৎ।*
*🌷বিশুদ্ধিমত্যাঃ সরণে স রাজা,*
*🌷পদং চরীকর্তি বিচারবর্তী।।*
*🌹রাণা কুম্ভার যে নিজস্ব একটি স্বাধীন বৃত্তি ও দৃষ্টি ছিল সঙ্গীতমীমাংসার বেলায় গীতগোবিন্দের "রসিকপ্রিয়া" টীকায় রাগরূপের আলোচনার সময়ে কিছুটা তার উল্লেখ করেছি। এখানে গীতগোবিন্দের রাগরূপের পরিচয় প্রসঙ্গে খ্রীষ্টীয় সতের শতকের প্রথমে বা মধ্যকালে লোচন-কবি-রচিত "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থের মত-অনুযায়ী যে ভৈরবাদি রাগগুলির (যে রাগগুলি গীতগোবিন্দে উল্লিখিত হয়েছে ) স্বররূপের উল্লেখ করেছি, এখানে রাণা কুম্ভা-রচিত"সঙ্গীতরাজ" থেকে সেই সেই রাগের কতকগুলি পরিচয়ের উল্লেখ করি তুলনামূলক দৃষ্টির পরিপ্রেক্ষণে সেকাল ও একালের রাগগুলির স্বরসমাবেশের পরিচয় লাভ করার জন্য।যেম গীতগোবিন্দে মালব,মালবগৌড়, গুর্জরী,বসন্ত,রামকিরী,কর্ণাট,দেশাখ, দেশ-বরাড়ী, গোন্ডকিরী,ভৈরবী, বরাড়ী ও বিভাস বা বিভাষ এই বারোটি রাগের উল্লেখ পাই।রাণা কুম্ভা সঙ্গীতরাজে বসন্তরাগের পরিচয় দিয়েছেন --*
*🌷সাংশন্যাসগ্রহঃ পূর্ণো মন্দ্রানিঃ সকম্পিতঃ।*
*🌷ভূযিষ্ঠরিনিসো দৈনে পশ্চিমে প্রহরে বুধৈঃ।।১|৭৭*
*🌷হিন্দোলাঙ্গ বসন্তোহয়ং বসন্তে গীয়তে শুচৌ।*
*🌷বিদ্রুমাভং দশভূজং ষড়াস্যং কোকিলাগতিম।।১|৭৮*
*রী রী বি গা ম নি ধ পা ম গ রী স রী রী,*
*গা মং বি গা ম প স সা স বি গা বী সা রী।*
*প মং বি সা ম প ধ নী নি স নী ধ পা মং,*
*পা ধা নি ধা বি নি ধ ধা প ধ মা ম সা রী।।১|৮০*
*🍀এটি বসন্তরাগের (স্বর)-করণ। তাছাড়া আলাপ-- সা রী গ সা গ গ ধা ম গ মা গ রী সা প্রভৃতি।*
*▪কর্ণাটী বা কর্ণাট-রাগ সম্বন্ধে রাণা কুম্ভা বলেছেন---*
*🌷ধান্তা ষড়্ জগ্রহন্যাসা তারণা মন্দ্রমধ্যমা।*
*🌷সমশেষস্বরা পূর্ণা কর্ণাটী কর্ণরক্তিদা।।১|১১৩*
*🌷ইমাং ভাষাং সমাচষ্ট মতঙ্গাদিবিদাং গণঃ।*
*🌷রাগাঙ্গমাহ নিঃশঙ্কো গ্রামরাগানুসারতঃ।।*
*🌷কৃষ্ণবস্ত্রা নীলবর্ণা গজেন্দ্ররবরাহ না।।১|১১৪*
*🌹অবশ্য কর্ণাটী-সম্পর্কে রাণা কুম্ভা কর্ণাটীর দ্বিতীয় রূপের পরিচয় দিয়েছেন --"গান্ধারতারা মৃদুমা ধৈবতাংশগ্রহাস্তিমা" প্রভৃতি এবং "পূর্ণা কর্ণাটী বর্ণিতা" (১°১০৮) বলেছেন।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
*🍀ভৈরবী-সম্পর্কে রাণা কুম্বা সংগীতরাজে বলেছেন---*
*🌷ভৈরবী-ভৈরবোপাঙ্গং ধ-গ্রহাংশাবসানিকা।*
*🌷মন্দ্রতাব-গান্ধারা সমশেষস্বরা ভবেৎ।।১|১৪৮*
*ধ নী স গ ম ধা নী গ স গ রী ম গ ধ নি ধা।*
*ধ প মা ধ ধ পা মা গ ম ধ নী স রি গা নি ধা ।।*
*(১|১৪৯)*
*🍀মালবরাগ সম্পর্কে রাণা কুম্ভা বলেছেন---*
*🌷টক্বকৈশিকভবা তু মালবা যা,*
*তদঙ্গমিহ মালবা মতা।*
*🌷সংগতাবিহ রিপৌ সধৌ তথা,*
*নিগ্রহাংশবিবতির্নিযোজিতা।২|৭৯*
*🌷বাসবান্তিমদলে শুচৌ বসে,*
*বস্যতে চ করুণে পুরাতনৈঃ।*
*🌷ধৈবতাংশবিবতির্ভয়ানকে,*
*কেশ্চিদেব নিপুণং বিভাষ্যতে ২|৮০*
*🌻তেমনি সংগীতরাজে রামকৃতি বা রামক্রী বা রামকিরী সম্পর্কে রাণা কুম্ভা বলেছেন----*
*🌷কোলাহলা টক্কভবাত্র ভাষা,*
*পূর্বোদিতা রামকৃতিস্তদঙ্গম্।*
*🌷সান্তা গ্রহাংশীকৃতমধ্যমা চ,*
*বিবর্জিতা পঞ্চমনিস্বনেন।।২|১১৪*
*🌹রামকৃতি বা রামক্রী রাগ বা রাগিনী হল-- "দোলারূঢ়া চ গৌরাঙ্গী বীণাদন্ডবিভূষিতা"।তাছাড়া ক্রিয়াঙ্গরাগ-রূপে পূর্বরামক্রিয়া, রামক্রিয়া,গৌন্ডকৃতি,দেবকৃতি প্রভৃতির পরিচয়ও দিয়েছেন রাণা কুম্ভা। রামকৃতি (২|১১৪) ও রামক্রিয়া (৩|২) রাগকে পৃথক দৃষ্টিতেই বিচার বিশ্লেষণ করেছেন রাণা কুম্ভা। রামক্রিয়ার রূপ---*
*🌷আপঞ্চমং তিবমৃদুপ্রচারা,*
*সাংশগ্রহান্তা রিসভূরিনাদা।*
*🌷স্যাদ্বিপ্রলম্ভে করুণে রসে চ,*
*রামক্রিয়া বাসরপশ্চিমার্ধে।।৩|৪*
*🌻মোটকথা রাগতরঙ্গিণীকার লোচন-কবি রাণা কুম্ভার বহু পরবর্তী গ্রন্থকার বা শাস্ত্রকার। ঐতিহাসিক পটভূমিকায় বিচার-দৃষ্টিতে দেখা যায়,১২শ-১৩শ শতকের কবি জয়দেবের নির্দেশিত রাগরূপকে ১৫শ শতকের শাস্ত্রকার ও সংগীতজ্ঞানী রাণা কুম্ভা রচিত "র্সগীতরাজ" গ্রন্থে উল্লিখিত রাগগুলির স্বরসমাবেশপদ্ধতির দৃষ্টিকোণ থেকেই আমাদের বিচার করা উচিত। বতর্মান উত্তর-ভারতীয় রাগরূপের মধ্যে রাণা কুম্ভা নির্দিষ্ট রাগরূপগুলি ঐক্য-অনৈক্য লক্ষ্য করা যায়।*
*🔵গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী এখানেই রইল।*
*🌹শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দে রাগরূপ ও তার বিকাশ*
*🍀আমরা আগে আলোচনা করেছি যে,মালব,মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত, রামকিরী বা রামক্রী,কর্ণাট,দেশাখ বা দেবশাখ,দেশ-বরাড়ী, গোন্ডকিরী, ভৈরবী,বিভাস ও বরাড়ী বা বরাটী রাগগুলি "গীতগোবিন্দ"পদগানের সঙ্গে সম্পর্কিত।পূজারী গোস্বামী ও অন্যান্য অধিকাংশ টীকা ও ভাষ্যকারগণ এই রাগগুলিরই উল্লেখ করেছেন এবং একথাও আলোচনা করেছি যে,রাণা কুম্ভ (রাণা কুম্ভা নামটি "রাণা কুম্ভা" নামে পরিচিত-- যদিও 'রাণা কুম্ভা বলে অনেকে ব্যবহার করেন),"রসিকপ্রিয়া" টীকায় বহু অন্যান্য রাগের নাম উল্লেখ করেছেন।এ'থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে,গীতগোবিন্দে রাগসম্পর্কে গুণীসমাজে মতভেদেরও প্রয়োজন হয়েছিল।মূলপদগানে ও রাণা কুম্ভার টীকায় রাগ-সমাবেশের রীতির তুলনামূলক আলোচনা করলে দেখা যায়, (১ ক)প্রথম অষ্টপদীপ্রসঙ্গে কবি জয়দেব বলেছেন--,"মালবগৌড়রাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ)আগেই উল্লেখ করেছি যে,রাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়ার"সৃচনায় (উপোদঘাতে) চতুর্থ শ্লোকে বলেছেন--, "নত্বা মতঙ্গভরতপ্রমুখান সুগীতসংগীতশাস্ত্রনিপুণাঞ্জয়দেববাচাম্। শ্রীকুম্ভকর্ণনৃপতির্বিবৃতিং তনোতি গানং নিধায় সরসং রসিকপ্রিয়াহ্বাম্।। অর্থ্যাৎ, রাণা কুম্ভা গীতগোবিন্দের পদ-সম্পর্কিত সংগীত বিষয়ে আলোচনা করেছেন পূর্বগ বিদগ্ধ সংগীতবিদ্বান ভরত,মতঙ্গ প্রভৃতি-রচিত সংগীতশাস্ত্রকে অনুসরণ করে। তাছাড়া রাণা কুম্ভা ছিলেন যথার্থ অভিজাত সঙ্গীতধারায় বিজ্ঞানী এবং তাঁর রচিত "সঙ্গীতমীমাংসা ও সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থ দুইটি সেকথা প্রমাণ করে।টীকায় উপোদঘাতের উনিশ সংখ্যক শ্লোকের শেষে তিনি বলেছেন--, "গমকালাপ- পেশলতয়া মধ্যমগ্রামে ষাড়রেব মধ্যমগ্রহেণ মধ্যমাদিরাগেণ গীয়তে"। প্রথম অষ্টপদীসম্পর্কিত টীকায় ১২ সংখ্যক শ্লোকে তিনি পুনরায় বলেছেন--,"☆ ☆ ধবলোহয়ং প্রবন্ধবাট।রাগোহত্র মধ্যমাদিঃ স্যাদাদিতালো বিলম্বিতঃ।।লয়ঃ স্যান্মাগধীরীতিঃ শৃঙ্গারোহত্র রসঃ স্মৃতঃ"। সুতরাং এখানে পাই মধ্যমাদি তথা মধুমাধবী রাগের উল্লেখ।এই সব রাগরূপ-সম্বন্ধে পূর্বে আলোচনা করেছি।*
*২|(ক) দ্বিতীয় অষ্টপদীসম্পর্কে কবি উল্লেখ করেছেন--,"গুর্জরীরাগা- নিঃসারতালাভ্যাং গীয়তে।*
*(খ) রাণা কুম্ভা প্রারম্ভে বলেছেন-,"ইদানীং বর্ণ্যমানং শ্রীকৃষ্ণং স্বরূপনিরূপণদ্বারা মঙ্গলগীতেন স্তৌতি। তত্রেদমাদ্যং পদং ললিতরাগেণ লখ্বাদিতাল ইতি আদিতালে গীয়তে"। অর্থ্যাৎ ললিতরাগে ও লঘু-আদিতালে গীত হবে দ্বিতীয় প্রবন্ধ।*
*৩|(ক) তৃতীয় অষ্টপদসম্পর্কে মূলে আছে--, "বসন্তরাগ যতিতালাভ্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা এ প্রসঙ্গে টীকার নবম শ্লোকে বলেছেন--, "মধ্যা নায়িকা। গুর্জরীরাগেণ ঋষভাদিনা"-- যদিও "বিপ্রলম্ভাখ্যঃ শৃঙ্গারো রসঃ ব্যাখ্যাপ্রসঙ্গে বলেছেন--, "☆ ☆ বসন্তরাগে ঝম্পাখ্যতালে মধ্যলয়াঞ্চিতে।" সুতরাং তৃতীয় অষ্টপদী বাংপ্রবন্ধ-প্রসঙ্গে গুর্জরী রাগে ও মধ্যলয়ে গীত হবে তৃতীয় প্রবন্ধ।*
*৪|(ক) চতুর্থ অষ্টপদীপ্রসঙ্গের মূলে আছে--,"রামকিরীরাগযতিতালাভ্যাং গীয়তে।*
*(খ)"রাণা কুম্ভেন তেন" প্রভৃতি বলে রাণা কুম্ভ রাগসম্পর্কে বলেছেন--, "যত্র স্যাদগুর্জরীরাগস্তালো ঝম্পেতি ভাগশঃ ☆ ☆।*
*☘প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য যে, চতুর্থ প্রবন্ধের তৃতীয় শ্লোক "গোপবধূরনুগায়তি ☆ ☆ পঞ্চমরাগম্----এই পঞ্চমরাগ সম্পর্কে পূজারী গোস্বামী অর্থ করেছেন--, ☆ ☆ উন্মীতঃ পঞ্চমস্বরো যত্র তং রাগামনুগায়তি"। রসমঞ্জরী ব্যাখ্যায় শঙ্করমিত্র বলেছেন--, "পঞ্চমাখ্যো রাগো যত্র"।রাণা কুম্ভা বলেছেন--, "পঞ্চমরাগো যেন বা, ☆ ☆ পঞ্চমস্বরোপলক্ষিতো রাগো যেন বা"।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দে রাগরূপ ও তার বিকাশ*
*৫|(ক)গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "গুর্জরীরাগেণ যতিতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা নবম শ্লোকের ব্যাখ্যার পর "গণগ্রামং"-পদপ্রসঙ্গে বলেছেন-- (১)ইদানীং রাধা তদেব রহস্যং ভঙ্গ্যন্তরেণাহ---'রাগো ধন্যাসিকো যত্র তালো বর্ণয়তিঃ স্মৃতঃ ☆ ☆।স চায়ং মধুরিপুরত্নকন্ঠি কা নাম পঞ্চমঃ প্রবন্ধো ভৈরবরাগেণ গীয়তে গণয়তীতি"। অর্থ্যাৎ পঞ্চম প্রবন্ধ ধন্যাসিক বা ধানসি এবং ভৈরবরাগে ও যতিতালে গেয়।*
*৬|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "মালবগৌড়রাগেণ একতালেন চ গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন--, "তথা চ সংগীতরাজে--গীতৌ ভৈরবরাগেণ তালে বর্ণযতৌ যথা।আভোগান্তস্থিতৈঃ পাটৈঃ স্বরৈঃ পদ্যাঞ্চিতস্ততঃ "।।অর্থ্যাৎ যষ্ঠ প্রবন্ধ ভৈরবরাগে ও যতিতালে গীত হবে।*
*৭|(ক)মূলে আছে--, "গুর্জরীরাগযতিতালাভ্যাং গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন--, "রাগো গৌড়াকৃতির্যত্র প্রতিমন্ঠপুরস্কৃতঃ। আভোগান্তে তথা পাটস্বরৈঃ পদ্যগণাঞ্চিতঃ।।শৃঙ্গাররসসংপূর্ণ ☆ ☆।অর্থ্যাৎ যষ্ঠ প্রবন্ধ গৌড় বা গৌড়াকৃতি রাগে ও প্রতিমন্ঠতালে গেয়।*
*৮|(ক)গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "কর্ণাটরাগৈকতালীতালাভ্যাং গীয়তে"।*
*(খ) এ প্রসঙ্গে রাণা কুম্ভা বলেছেন--,*
*🌷প্রতিমন্ঠকতালেন রাগে দেশাঙ্কসংজ্ঞিতে।*
*🌷পদাত্তূর্যাক্ষরৈর্যুক্তঃ পদাৎ সংগমতস্তথা।।*
*🌷আকারোপচিতালাপগমককাকুবিগ্রহঃ।*
*🌷আভোগাত্তেনকৈঃ পাটৈঃ প্রচুরৈরতিপেশনঃ।।*
*🌺মোটকথা সপ্তম প্রবন্ধ দেশাক বা দেবশাখ-রাগে ও প্রতিমন্ঠতালে গান করা কর্তব্য।*
*৯|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "দেশাখরাগৈকতালীতালাভ্যং গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন--,*
*🌷মালবশ্রীঃ স্মৃতো রাগস্তালো নিঃসারসংজ্ঞকঃ।*
*🌷রাগগেয়কারনামাঙ্কপদতস্তেন সন্ততিঃ।।*
*🌷ততঃ পাটাঃ পদানি স্যুঃ পঞ্চমানি রসোহত্র যঃ।*
*🌷শৃঙ্গারো বাসুদেববস্য ক্রীড়নং রাসকাদিভিঃ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ অষ্টম প্রবন্ধ মালবশ্রী রাগে ও নিঃসারতালে গেয়।*
*১০|(ক)গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "দেশবড়ীরাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন-- সঙ্গীতরাজে----*
*🌷নিঃসারতালরচিতো রাগে কেদারসংজ্ঞকে।*
*🌷কবিনামাঙ্কিতপদাৎ পাটৈঃ স্বল্পতবৈশ্চিতঃ।।*
*🍁অর্থ্যাৎ অষ্টম প্রবন্ধ কেদাররাগে ও নিঃসারতালে গেয়।*
*১১|(ক)মূলে আছে--, গুর্জরীরাগেণ একাতালীতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা এপ্রসঙ্গে বলেছেন, "গীত্যাদি পূর্বোক্তমেব"। "পূববৎ" বলতে দশম প্রবন্ধ যে কেদাররাগ ও নিঃসারতালের প্রয়োগ আছে,এখানে সে প্রয়োগই বুঝতে হবে।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের রাগরূপ ও তার বিকাশ।*
*১২|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "গুণকরীরাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন, 'তথা চ সংগীতরাজে'--*
*🌷মালবীয়ঃ স্মৃতো গৌড়া রাগস্তালোহড্ডতালকঃ।*
*🌷শৃঙ্গারো বিপ্রলম্ভাখ্যো রসো দেবাদিববর্ণনম্।।*
*🌷পদসন্ততিস্তেনাঃ পাটাঃ স্বরসমুচ্চয়ঃ।*
*🌷তত পদ্যানি যত স্যুর্লমধ্যমমানতঃ।।*
*🔷রাণা কুম্ভার অভিমতে দ্বাদশ প্রবন্ধ মালবরাগে ও অড্ডতালে গান করা হয়।*
*১৩|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "মালবরাগ-যতিতালাভ্যাং গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা সংগীতরাজে বলেছেন---*
*🌷রাগঃ স্যাৎ স্থানগৌড়াখ্যস্তালো বর্ণযতি-রসঃ।*
*🌷শৃঙ্গারো বিপ্রলম্ভাখ্যঃ প্রমদা মদনাকুলা।।*
*🔷অর্থ্যাৎ এয়োদশ প্রবন্ধ স্থানগৌড় তথা গৌড়রাগে এবং যতিতালে গীত হবে।*
*১৪|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, তথাত্র সংগীতরাজে---*
*"বসন্তরাগ-যতিতালাভ্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা সঙ্গীতরাজে বলেছেন--*
*🌷শ্রীরাগো যত্র রাগঃ স্যাত্তালস্তু দ্রুতমন্ঠকঃ।*
*🌷বর্ণনং বাসুদেবস্য হরিস্তদ্ব্যত্যয়ে স্ত্রিয়াঃ।।*
*🌷পদেভ্যঃ পাটসন্তানং স্বরাস্তেনাস্তথৈব চ।*
*🔷অর্থ্যাৎ চতুর্দশ প্রবন্ধে শ্রীরাগ ও দ্রুত মন্ঠকতালের ব্যবহার হবে।*
*১৫|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "গুর্জরীরাগৈকতালীতালেন গীয়তে"।*
*(খ)সংগীতরাজে রাণাকম্ভা বলেছেন--*
*🌷দ্রুতমন্ঠেন তালেন দ্রুতেনৈব লয়েন চ ।*
*🌷মহ্লারে রসরাজে স্যাৎ পদানাং সংততে পুনঃ।।*
*🌷স্বরগ্রামস্তথা পাটাস্তেনা অপি যথাক্রমম্।*
*🔷অর্থ্যাৎ পঞ্চদশ প্রবন্ধ মহ্লার বা মল্লাররাগে ও দ্রুতমন্ঠতালে গান হবে।*
*১৬|(ক) মূলে আছে-- "দেশবরাড়ীরাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা বলেছেন-, সঙ্গীতরাজে-------*
*🌷রাগো বরাটিকা যত্র তালো বর্ণ-যতিস্তথা।*
*🌷পদানি স্বেচ্ছয়ালাপ ভূষিতানি যথাদ্যুতি।।*
*🌷ততঃ স্বরাশ্চ পাটাশ্চ ততঃ পদ্যানি কানিচিৎ।*
*🔷অর্থ্যাৎ ষোড়শ প্রবন্ধ বরাটিকা বা বরাটি রাগে ও যতিতালে গান করা হয়।*
*১৭|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "ভৈরবীরাগযতিতালাভ্যাং গীয়তে"।*
*(খ)সংগীতরাজে রাণা কুম্ভা বলেছন---*
*🌷তালো বর্ণযতির্মেঘরাগো দেবাদিবর্ণনম্।*
*🌷বিপ্রলম্ভাখ্যশৃঙ্গারো রসঃ করুণবেদনম্।*
*🌷কবিনামাঙ্কিতপদপ্রান্তে পাটস্বরাবলিঃ।।*
*🔷অর্থ্যাৎ সপ্তদশ প্রবন্ধ মেঘরাগে ও যতিতালে গীত হবে।*
*১৮|(ক) গীঃগোঃ মূলে আছে, "গুর্জরীরাগ-যতিতালাভ্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা বলেছেন, সংগীতরাজে---*
*🌷নট্টরাগস্তৃতীয়াখ্যস্তালো মধ্যে ক্বচিৎ ক্বচিৎ।*
*🌷পদানাং শোভয়ালাপগুম্ফানাং নানাহেতুকম্।।*
*🌷অন্তে পাটাঃ স্বরাস্তেনাস্তদন্তে পদগুম্ফনম্।*
*🔷অর্থ্যাৎ অষ্টাদশ প্রবন্ধ নটরাগে ও তৃতীয় তালে বা ত্রিতালে গান করা হয়, বা কখনো কখনো গীত হয়।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা ।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
