শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২৬. শ্রীক্ষেত্র লীলা 🙇  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঠাকুর অভিরাম প্রেমাম্মত্ত অবস্থায় শ্রীগোপাল গুরুকে পরীক্ষার জন্য নীলাচলে গমন করিলেন।

তথাহি - শ্রীঅভিরাম লীলামৃত - ১৪ পরিচ্ছদে -

“তখন অভিরাম তারে দেখিতে চলিলা।
গোপাল রহিল কোথা সকলে কহিলা ।।
তবে বক্রেশ্বর কহে পন্ডিত ঠাকুর।
ভাই অভিরাম রাখ আমার অঙ্কুর।।
এত শুনি অভিরাম কহেন হাসিয়া ।
দেখিব গোপালে আমি কর্ষণি করিয়া।।
এতেক বলিয়া তারে করায় মিলন।
দেখেন গোপালে তিঁহো হাস্য যে বদন ৷৷
রসিক হইলে জানে রসের সন্ধান।
অশেষ বিশেষে রস করে মূর্ত্তিমান।।
দুহার নয়ন বাণে দুহাতে বিভোর ।
দন্ডবতে অভিরাম বুলেন অন্তর।।
গোপাল রহিল বসি হৈয়া মৌনমনে।
অন্তর্মনা চেষ্টা সিদ্ধা আছেন ভজনে।।
প্রেমে পুলকিত অঙ্গ অরুণ নয়ন ।
দেখি অভিরাম তাঁরে কৈলা আলিঙ্গন।।


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


🔙 পূর্ব লীলা 👉  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২১. শ্রীজয়মঙ্গল চাবুক 〰️ শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ক্রমে ক্রমে আপনার পারিষদগণকে আকর্ষণ করিয়া তাহাদিগকে শক্তি সঞ্চার করতঃ এক এক স্থানে বসাইতে লাগিলেন। ঠাকুর অভিরাম হরিদাস, পাখিয়া গোপাল, রজনী পন্ডিত, কৃষ্ণানন্দ অবধূত প্রভৃতি শিষ্যগণকে শ্রীবিগ্রহ সেবা প্রকাশ করিয়া এক এক স্থানে বসাইলেন। আর স্বীয় পারিষদগণসহ নাম-প্রেম প্রচার করিয়া জীবোদ্ধার করিতে লাগিলেন। শ্রী মম্মহাপ্রভুর অর্ন্তদ্ধানের পর ‘শ্রীজয়মঙ্গল’ নামক এক ঘোড়ার চাবুক দ্বারা যোগ্যপাত্রে আঘাত করিয়া প্রেমশক্তি সঞ্চার করিতেন। একদা শ্রীনিবাস আচার্য্যপ্রভু কৃষ্ণনগরে গমন করিলে তাহাকে পরীক্ষা করিয়া তিনবার জয়মঙ্গল চাবুক দ্বারা প্রহার করতঃ প্রেম শক্তি সঞ্চার করিয়াছিলেন। তথাহি - শ্রীঅনুরাগবল্লী -

“ঘোড়ার চাবুক নাম জয়মঙ্গল ৷
তাহা মারি করে লোকে প্রেমায় বিহ্বল।।
এই মত কথোক্ষণ অঙ্গবাহ্য পাইয়া ৷
সম্মুখে দেখয়ে শ্রীনিবাস দাঁড়াইয়া ৷৷
সে চাবুক সেবকের হাত আনাইয়া ।
মারয়ে ঠাকুরে যেন ক্রোধ মুখ হয়া।।
তিনবার যদি সেই চাবুক মারিল ৷
মালিনী ব্যাকুল হৈয়া হস্তেতে ধরিল।।
ভাসাইলা কিবা আর করিবারে চাহ।
কি হইল চেষ্টা তাহা বারেক দেখহ।।”

এইভাবে শ্রীনিবাস আচার্য্য প্রেমশক্তি সঞ্চার করিয়া সুনির্ম্মল গৌরপ্রেম প্রচারের পথপ্রশস্ত করিলেন। এইভাবে প্রভূত অপ্রাকৃত লীলারঙ্গে শ্রীপাট কৃষ্ণনগরে বিহার করিতে লাগিলেন।

মধ্যে মধ্যে প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীপাটে আসিয়া লীলা-বিলাস করিতেন। এইভাবে কতককাল যাপন করিয়া প্রিয়শিষ্য বিপ্রসূত শ্রীকানুকৃষ্ণের হস্তে শ্রীপাঠ সেবা অর্পন করিয়া অর্ন্তদ্ধান করেন।
তথাহি -
“এই কলিযুগে মুই না করিনু গর্ভবাস ।
কানুকৃষ্ণ দ্বারে সব করিব প্রকাশ।।
কানুকৃষ্ণ বংশোদ্ভব হইবে আমার।
কানুকৃষ্ণ সিদ্ধদেহ জানি যে নির্দ্ধার।।”
“দ্বিজ কুলোদ্ভব তিঁহ হৈলা ব্রজধামে।
গৌড়মন্ডলে তিঁহ আইলা মম সনে।।
এর কানু কৃষ্ণ ঠাকুর নাম যে তাহার।
তাহারে সঁপিলু বস্তু সকল আমার।”


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২২. অভিরাম ঠাকুর ও শ্রীমালিনীদেবীর অর্ন্তদ্ধান লীলা  🙇  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ইহা ভিন্ন কানুকৃষ্ণের পরিচিত কিছুই জানা যায় না। কানুকৃষ্ণকে সৰ্ব্বশক্তি অর্পন করিয়া ঠাকুর অভিরাম অন্তর্দ্ধান করেন। ঠাকুর অভিরাম আপনার অন্তর্দ্ধান করেন। ঠাকুর অভিরাম আপনার অন্তর্দ্ধান বাক্য কানুকৃষ্ণকে কহিলে তিনি বিচ্ছেদ বিরহে ব্যাকুল হইলেন। তখন ঠাকুর সান্ত্বনা বাক্যে তাঁহাকে প্রবোধ করিতে লাগিলেন।
তথাহি -
“কানুকৃষ্ণ প্রবোধিয়া বলেন বচন।
মায়িক হইয়া কেন করিছ রোদন।।
তোমা ছাড়া আমি নাহি জানি কদাচন ।
এই স্থান ছাড়া না হব কখন ৷ ৷
নিরন্তর পরিবার রক্ষা যে করিব।
সহায় করিয়া তোমা সকল সাধিব ।।

বলিতে বলিতে গোঁসাই সৃজিলা উপায়।
দৈব ভাস্কর এক আইল তথায়।।
তখন কহেন গোঁসাই ডাকিয়া ভাস্করে।
মোর প্রতিমূর্ত্তি গড়ি দেহত আমারে।।
আজ্ঞামাত্র ভাস্কর সে মূৰ্ত্তি যে গড়িলা।
গোঁসাই লইয়া তাহা কানুকৃষ্ণে দিলা।।
সন্ধ্যা হইলে গোঁসাই গিয়া নিজ ঘর।
বিম্বচ্ছিদ্রে প্রবেশয় প্রতিমা ভিতর।।
কানুকৃষ্ণে দেখাইয়া যাতায়াত করে।।
কানুকৃষ্ণে আশীর্ব্বাদ করি নানা মতে।
উপদেশ দিলা কত কে পারে কহিতে।।

আগেতে মালিনীজীউ হৈলা সঙ্গোপন।
আশীর্ব্বাদ করি কানুকৃষ্ণে বিলক্ষণ।।
কানুকৃষ্ণে গোসাঞে শক্তি সঞ্চারিয়া।
মালিনী আছেন দেখ স্বর্ণকান্তি হয়া ৷৷
কানুকৃষ্ণে পুনঃ সেই বলেন বচন।
আমিত এব দেখ হৈনু সঙ্গোপন ৷৷
তুমিত ব্রাহ্মণ ছাওয়াল গোস্বামীর পুত্র।
আমাদের পুত্র নাই তুমি হৈলে পুত্র।।

বংশের বিস্তার সেই শ্রীকৃষ্ণনগরে।
গোপীনাথ সেবে সবে আনন্দ অন্তরে।।
চৈত্রমাসে মধুকৃষ্ণ সপ্তমী দিবসে।
প্রতিমা ভিতরে প্রভু করিলা প্রবেশে।।

প্রতিমূৰ্ত্তি প্রবেশিয়া গোঁসাই রহিলা।
অন্যদিন মত আর বাহির না হৈলা।।
দুহার শ্রীপতি মূর্ত্তি রহে কৃষ্ণনগরে।
অদ্যাবধি ভক্তগণ দরশন করে।।”

এইভাবে ঠাকুর অভিরাম ও শ্রীমালিনীদেবী কানুকৃষ্ণে শক্তি সঞ্চার করতঃ শ্রীগোপীনাথদেবের প্রেমসেবা প্রদান করিয়া অর্ন্তদ্ধান করেন। অদ্যাবধি শ্রীকানুকৃষ্ণের বংশধরগণ শ্রীপাট কৃষ্ণনগরে অবস্থা করিয়া শ্রীগোপীনাথদেবের সেবা করিতেছেন। শ্রীঅভিরাম ঠাকুরের শ্রীমূর্ত্তি, শ্রীবকুল বৃক্ষ, শ্রীরামকুন্ড, শ্রীগোপীনাথদেব, শ্রীমদনমোহন ও শ্রীমতীসহ শ্রীব্রজবল্লভদের বিরাজ করিয়া ঠাকুর অভিরামের অপ্রাকৃত লীলা প্রকাশের সাক্ষ্য ঘোষণা করিতেছেন। এইভাবে ব্রজের শ্রীদাম সখা গৌড়দেশে আগমন করিয়া কৃষ্ণনগরে শ্রীপাট স্থাপন করতঃ কৃষ্ণনগরকে মহামহিম তীর্থে পরিণত করিলেন।


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২৩. বিষ্ণুপুরের লীলা  🙇  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
প্রেম অনুরাগে ঠাকুর অভিরাম ভ্রমণ করিতেছেন। অভিরামের প্রণামে দেশ বিগ্রহ শূন্য হইল। ভ্রমণ করিতে করিতে অভিরাম বিষ্ণুপুরে উপনীত হইলেন।

তথাহি - শ্রীঅভিরাম লীলামৃত - ৪র্থ পরিচ্ছদে -
'লোক সংঘটনে তিঁহো দন্ডবৎ কৈলা।
মন্দির নিকটে যেন ভূমিকম্প হৈলা ।।
দণ্ডবত দিয়া পুনঃ দেখেন চাহিয়া।
মদনমোহন তবু না যায় ফাটিয়া ।।
আর এক দন্ডবত তখন করিলা ।
পুনর্ব্বার উঠি তাহা দেখিতে লাগিলা ।।
মদনমোহন তবু আছেন বসিয়া।।
মন্দিরের দ্বারমাত্র গিয়াছে বাঁকিয়া ।।
পুনঃ এক দণ্ডবত করেন তখন।
ঘাড় বাঁকা হৈল সেই মদনমোহন।।”

এইভাবে তিনবার প্রণাম করিয়া অভিরাম শ্রীমদনমোহনের মহিমা বাড়াইলেন। ইহার কতককাল পরে পুনরায় বিষ্ণুপুরে গমন করতঃ রাজা বীর হাম্বীরকে কৃপা উপলক্ষে এক অপ্রাকৃত লীলার প্রকাশ করেন। রাজা বীর হাম্বীর নিঃসন্তান। বংশরক্ষার জন্য শ্রীনিবাস আচার্য্য ঠাকুর অভিরামের সমীপে আবেদন করিলেন। রাজমহিষীগণ অভিরামের ভোজন উপযোগী খাদ্য সামগ্রী আয়োজন করিলেন। শ্রীনিবাসের অনুরোধে অভিরাম ভোজনের জন্য রাজভবনে চলিলেন। রাজার কনিষ্ঠা মহিষীর প্রদত্ত ক্ষীর সর-নবনী পাইয়া অভিরাম আনন্দে ভোজন করিলেন। অপ্রাকৃত লীলা প্রকাশপূর্ব্বক অভিরাম প্রচুর পরিমাণে ক্ষীর- সর-নবনী ভক্ষণ করিলেন।
তথাহি - শ্রীঅভিরাম লীলামৃত - ১৯ পরিচ্ছেদ -
-
“যাইয়া গোসাঞে সেই করান ভোজন ৷
ভোজন চাতুরী সেই অপূৰ্ব্ব কথন৷৷৷
ভোজন করিয়া সঙ্গে উঠিয়া গোসাঞি।
হস্তের আঙ্গুল চিহ্ন রাখেন তথাই।।
দালানে রাখিয়া চিহ্ন নদীতে আইলা ।
মুখ প্রক্ষালন করি নদীতে আইলা ।
বিড়াই বলিয়া নাম হইল এবার ।
রাজার নন্দন স্রোত বান্ধিবে তোমার।
তথাপি বাহিবে স্রোত ঘুষিবে সবাই।।”

এইভাবে ঠাকুর অভিরাম বিষ্ণুপুরে প্রভূত অপ্রাকৃত লীলার প্রকাশ করেন। অভিরামের বরেই রাজার পুত্র শ্রীধাড়ী হাম্বীর জন্ম হয়। শ্রীজীব গোস্বামী শ্রীধাড়ী হাম্বীরের নাম শ্রীগোপাল দাস রাখেন।


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২৪. বগড়ীর লীলা 🙇  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
বিষ্ণুপুর হইতে ভ্রমণ করিতে করিতে অভিরাম মেদিনীপুরের বগড়ী নামক স্থানে। বিরাজিত শ্রীকৃষ্ণদেব মন্দিরে গমন করেন।

তথাহি - শ্রীঅভিরাম লীলামৃত - ৫ম পরিচ্ছদে -

'এক দন্ডবৎ দিয়া দেখেন চাহিয়া ।
সর্ব্বাঙ্গে রুধির তার পড়িছে ফুটিয়া।
তখন সে কৃষ্ণরায় বলেন বচন ।
মোর অপমান কৈলে কিসের কারণ।।
শরীর ফুটিয়া মোর রুধির পড়িলা।
এতেক শুনিয়া তবে গোসাঞি কহিলা।।
এহো রক্ত নহে তব চুয়াইছে ঘাম ৷
প্রকাশ হইল এবে কৃষ্ণরায় নাম।।

শ্রীঅভিরাম গোপাল ঠাকুর বগড়ী নামক স্থানে শ্রীকৃষ্ণদেব মন্দিরে কৃষ্ণরায় জিউকে দর্শন করিয়া দন্ডবৎ করিলেন এবং দেখলেন দন্ডবৎ মাত্রে কৃষ্ণরায় জিউর শ্রীঅঙ্গ হইতে রক্ত খরণ হচ্ছে।  কৃষ্ণরায় জিউ গোসাঞি ঠাকুরকে বলতে লাগলেন দন্ডবৎ করিয়া আমায় অপমান করিবার কারন কি। শ্রীঅভিরাম গোপাল ঠাকুর বলতে লাগলেন এ রক্ত নয় এ শরীরের ঘাম মাত্র। এইভাবে শ্রীকৃষ্ণ রায়ের মহিমা বর্দ্ধন করিলেন।


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২৫. শ্রীখন্ডের লীলা 🙇  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঠাকুর অভিরাম শ্রীবিগ্রহ প্রণামের সঙ্গে সঙ্গে শ্রীগৌরাঙ্গপার্ষদগণের মহিমা বর্দ্ধনের জন্য প্রণামের মাধ্যমে তাঁহাদের মহিমা প্রকাশ করিলেন। ঠাকুর অভিরাম শ্রীরঘুনন্দনের মহিমা বর্দ্ধনের জন্য শ্রীখন্ডে উপনীত হইয়া শ্রীমুকুন্দ দাসের সমীপে তৎপুত্রের দর্শনের আকাঙ্খা জানাইলেন। মুকুন্দদাস অভিরামের উদ্দন্ড প্রতাপের কাহিনী স্মরণ করিয়া নিজপুত্র রক্ষায় বহুত অনুরোধ করিয়া অভিরামকে ফিরাইলেন।

এই প্রেমলীলা বিষয়ে পদকর্তা উদ্ধব দাসের বর্ণন যথা -

পূরবে শ্রীদাম, এবে অভিরাম, মহাতেজঃপুঞ্জ রাশি।
বাঁশী বাজাইতে, ভ্রমিতে ভ্রমিতে, শ্রীখন্ড গ্রামেতে আসি।।
দেখিয়া মুকুন্দে, কহয়ে সানন্দে, কোথায় রঘুনন্দন।
তাহারে দেখিতে, আইলাম এথাতে, আনি দেহ দরশন।।
শুনি ভয় পায়া, রাখে লুকাইয়া, গৃহেতে দুয়ার দিয়া।
তেহো নাহি ঘরে, বলি স্তুতি করে, অভিরাম গেল না দেখিয়া।।
বড়ডাঙ্গি নামে, স্থান নিরজনে, নৈরাশ হইয়া বসি।
বুঝি তার মন, শ্রীরঘুনন্দন, অলখিতে মিলে আসি ।।
দেখিয়া তাহারে, দন্ডবৎ করে, দুই চারি পাঁচ সাতে।
শ্রীরঘুনন্দনে, করি আলিঙ্গনে, আনন্দ আবেশে মাতে।।
তবে দুহু মেলি, নাচে কুতূহলী, নিজ পঁহু গুণ গাইয়া।
চরণ ঝাড়িতে, নূপূর পড়িল, আকাই হাটেতে যাইয়া ৷৷
অভিরাম সনে, শ্রীরঘুনন্দনে, মিলন হইল শুনি।
সঘনে মুকুন্দ, হই নিরানন্দ, কান্দে শিরে কর হানি।।
পত্নীর সহিতে বিষাদিত চিতে, আইলা দোঁহার পাশ।
দুহ নৃত্যগীত, দেখি হরষিত, ভনয়ে উদ্ধব দাস।।


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২৬. শ্রীক্ষেত্র লীলা 🙇  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঠাকুর অভিরাম প্রেমাম্মত্ত অবস্থায় শ্রীগোপাল গুরুকে পরীক্ষার জন্য নীলাচলে গমন করিলেন।

তথাহি - শ্রীঅভিরাম লীলামৃত - ১৪ পরিচ্ছদে -

“তখন অভিরাম তারে দেখিতে চলিলা।
গোপাল রহিল কোথা সকলে কহিলা ।।
তবে বক্রেশ্বর কহে পন্ডিত ঠাকুর।
ভাই অভিরাম রাখ আমার অঙ্কুর।।
এত শুনি অভিরাম কহেন হাসিয়া ।
দেখিব গোপালে আমি কর্ষণি করিয়া।।
এতেক বলিয়া তারে করায় মিলন।
দেখেন গোপালে তিঁহো হাস্য যে বদন ৷৷
রসিক হইলে জানে রসের সন্ধান।
অশেষ বিশেষে রস করে মূর্ত্তিমান।।
দুহার নয়ন বাণে দুহাতে বিভোর ।
দন্ডবতে অভিরাম বুলেন অন্তর।।
গোপাল রহিল বসি হৈয়া মৌনমনে।
অন্তর্মনা চেষ্টা সিদ্ধা আছেন ভজনে।।
প্রেমে পুলকিত অঙ্গ অরুণ নয়ন ।
দেখি অভিরাম তাঁরে কৈলা আলিঙ্গন।।


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২৭. খড়দহের লীলা 🙇  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঠাকুর অভিরামের প্রণামে প্রভু নিত্যানন্দের ছয় সন্তান অন্তর্দ্ধান করেন। কেবলমাত্র কন্যা শ্রীগঙ্গাদেবী ও পুত্র বীরচন্দ্র অভিরামের প্রণাম সহ্য করেন। অভিরামের প্রণামে স্বীয় সন্তানগণের অন্তর্দ্ধান কারণে প্রভু বীরচন্দ্রের জন্ম-উৎসবে শ্রীনিত্যানন্দ অভিরামকে আমন্ত্রণ করেন নাই। বক্রেশ্বর পন্ডিতের মুখে সংবাদ পাইয়া অভিরাম অযোচিতভাবে খড়দহ অভিমুখে রওনা রইলেন। খড়দহের অপর পারে নদীতীরে অভিরাম আসিলে তাহাকে কেহ পার করিতে চাহিল না। বরং প্রভু নিত্যানন্দের নির্দ্দেশ মত নৌকা জলে ডুবাইয়া রাখিল। তখন উপায় না দেখিয়া এক লীলার প্রকাশ করিলেন।



══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২৮. বিষ্ণুপুর গমন ও মদনমোহন মূৰ্ত্তিদর্শন 🙇  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

এইরূপে অভিরাম গোস্বামী বীরভূম জনপদবাসী নরনারীর হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেমামৃতদান করিয়া ক্রমশঃ বাঁকুড়ায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন । বাঁকুড়ার অধিবাসিবৃন্দ অভিরামের অসাধারণ শক্তি ও ভগবদ্ভক্তি-দর্শনে তাঁহার উপর অতিশয় ভক্তিমান হইয়া উঠিল। বিষ্ণুপুরের রাজা পরম সমাদরে তাঁহাকে গ্রহণ করিলেন, এবং রাজ্যমধ্যে ধৰ্ম্মশিক্ষাদান করিয়া প্রজাগণের হৃদয় ভগবৎপ্রেমে অভিষিক্ত করিতে সানুনয় প্রার্থনা করিলেন ।

একদিন অভিরাম কতকগুলি ভক্ত সমভিব্যাহারে কৃষ্ণনাম কীৰ্ত্তন করিতে করিতে বিষ্ণুপুররাজ প্রতিষ্ঠিত মদনমোহনমূৰ্ত্তি দর্শন করিতে গমন করিলেন। মদনমোহনের মন্দিরসম্মুখে গমন করিবামাত্র তাঁহার সমস্ত শরীর প্রেমপুলকে কণ্টকিত হইয়া উঠিল। তিনি ভক্তগণের সহিত সুমধুর হরিনাম সঙ্কীর্ত্তন করিতে করিতে মন্দির প্রদক্ষিণ করিতে লাগিলেন । অনন্তর মন্দিরদ্বারে প্রণিপাত করিবা মাত্র যেন ভূমিকম্প হইতে লাগিল ৷ সমস্ত মন্দির আমূল কম্পিত হইয়া উঠিল ৷ অভিরাম মহাহর্ষতরে মন্দিরমধ্যে প্রবেশ করিলেন। বিচ্ছেদের পর প্রাণপ্রিয় সখার সহিত মিলন হইলে প্রাণে যেরূপ মহানন্দরসের আবির্ভাব হয়, তদ্রূপ শ্রীকৃষ্ণের মদনমোহনমূৰ্ত্তি দর্শন করিয়া অতিরামের হৃদয়েও মহানন্দের উদয় হইল। মদনমোহনমূর্তির মধ্যে কৃষ্ণশক্তি বর্তমান আছে কিনা উপস্থিত জনগণকে দেখাইবার জন্ম তিনি মদনমোহনকে নমস্কার করিলেন । প্রথম নমস্কারে মদনমোহন অবিচল রহিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় নমস্কারে মদনমোহন স্থির থাকিতে না পারিয়া যেন প্রতিনমস্কারচ্ছলেই গ্রীবাদেশ বক্র করিলেন। এই দৃশ্য দর্শন করিয়া সকলেই অতিশয় আশ্চর্য্যান্বিত হইল এবং অভিরাম গোস্বামীর ঐশীশক্তি সন্দর্শন করিয়া মহাভক্তিভরে তাহারা তাঁহার পদতলে প্রণত হইল ৷ অভিরাম প্রণত ভক্তবৃন্দকে সম্বোধন করিয়া বলিতে লাগিলেন- “কলির জীবগণকে উদ্ধার করিবার জন্য শ্রীকৃষ্ণ নবদ্বীপে আবির্ভূত হইয়াছেন। তিনি স্বীয় জীবনে কৃষ্ণপ্রেম সাধনা করিয়া প্রেমের বন্যায় দেশ প্লাবিত করিবেন । তাঁহারই ইচ্ছায় আমিও কৃষ্ণপ্রেম বিলাইবার জন্য এই বঙ্গদেশে আগমন করিয়াছি। কৃষ্ণমূর্ত্তিসকল কেবল জড়-মূর্ত্তি নহে, ইহাদের মধ্যে কৃষ্ণশক্তি বিদ্যমান আছে দেখাইবার জন্য এবং তোমাদের হৃদয়বা কৃষ্ণপ্রেমরসে অভিষিক্ত করিবার জন্য আমি দেবমূৰ্ত্তি সকল পরীক্ষা করিয়া বেড়াইতেছি। তোমরা ভক্তিভরে কৃষ্ণারাধনায় নিযুক্ত হও, কৃষ্ণপ্রেম-সাগরে নিমজ্জিত হও, তোমাদের সমস্ত পাপ, তাপ বিচ্ছুরিত হইবে, মহানন্দে তোমাদের জীবন পূর্ণ হইবে, তোমরা ইহজীবনে মহাশক্তি লাভ করিয়া জীবনান্তে কংসাযুজ্য লাভে সমর্থ হইয়া চিরধন্য হইবে ।

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧




প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*🌻মহাপ্রভুর বাল‍্যলীলা।*

*🍀নিমাই প্রায়শঃই সহচরগণের সঙ্গে সুরধূনী গঙ্গায় গিয়ে জলে নেমে জল ছুড়াছুড়ি লীলা করেন।প্রত‍্যেকদিন নদীয়া নাগরী কন‍্যাগণ দেবতার পূজা জন্য পুষ্প,মালা,চাল,কলা, নৈবেদ‍্যাদি নিয়ে গঙ্গাস্নানে গমন করেন।আমার নিমাইও সহচরগণের সঙ্গে গঙ্গায় গমন করেন।নদীয়ার কিশোরীগণ দেবতার পূজা আরম্ভ করলে চঞ্চল নিমাই কন‍্যাগণের মধ্যে বসে বলেন, "তোমরা আমাকে পূজো কর। গঙ্গা,দূর্গা প্রভৃতি দেবীগণ আমার দাসী,শঙ্করও আমার কিঙ্কর।নিজ শ্রীহস্তে নিমাই ঐ পুষ্পের মালা কন্ঠে দোলায়ে দেবতা অর্চনের সন্দেশ, কলা, চাল নৈবেদ‍্যাদি ভোজন করেন।তা দেখে কন‍্যাগণ রেগে গেলে নিমাই বলেন,"তোমাদের পরম সুন্দর পতি হবে এবং প্রত‍্যেকের সাতজন মতিমান পুত্র হবে।এইকথা শুনে সব রাগ জল হয়ে গেল এবং সকলেই সন্তোষ লাভ করলেন। আবার গৌরসুন্দর বললেন,যদি আমাকে নৈবেদ‍্যাদি ভোজন করতে না দাও, তবে তোমাদের প্রত‍্যেকের একজন করে বৃদ্ধ পতি ও চারটি করে সতিনী হবে। পুনঃ এইকথা শুনে কন‍্যাগণ তাঁর সম্মুখে নৈবেদ‍্য রাখলে সেটি ভোজন করে কন‍্যাগণকে ইষ্টবর প্রদান করলেন।অন‍্য একদিন শ্রীবল্লভ আচার্য‍্যের কন‍্যা কিশোরী লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবতা পূজনের জন্য গঙ্গায় গেলে শ্রীগৌরাঙ্গের চাঁদবদন দর্শন করে আচার্য‍্যদুহিতা চিত্তে প্রীতির সঞ্চার হল। সাহজিক প্রীতিতে দুঁহা দুঁহুকে দর্শন করে দুঁহার চিত্ত উল্লসিত হল। লক্ষ্মীপ্রিয়া শ্রীগৌরাঙ্গের অঙ্গে সুরভি সচন্দন পুষ্প অর্পণ করে কন্ঠে মল্লিকার মালা দোলায়ে বন্দনা করলেন। যাইহোক, নিমাইয়ের বাল‍্য চাপল‍্য দর্শনে পুরবাসীগণ তাঁর পিতা-মাতার নিকট নালিশ করলে মা ভর্ৎসনা করে নিমাইকে ধরতে গেলে মায়ের ভয়ে নিমাই পলায়ন করেন।একদিন বিশ্বম্ভর উচ্ছিষ্ট গর্তে ত‍্যক্ত হাড়ির উপর সুখে বসে আছেন দেখে শচীমা পুত্রকে গঙ্গাস্নান করে শুদ্ধ হতে বললেন।এইকথা শুনে নিমাই মাকে ব্রহ্মজ্ঞান শিক্ষা দিলেন। শ্রী মিশ্র পুরন্দর নিমাইকে বেশী শাসন করতে দেখলে পুরবাসীগণ পিতাকে বলেন যে তিনি এই নিমাইয়ের তত্ত্ব কিছুই জানেন না। উত্তরে শ্রীমিশ্র বললেন---*
*🌷মিশ্র কহে পুত্র কেনে নহে নারায়ণ।*
*🌷তথাপি পিতার ধর্ম পুত্রের শিক্ষণ।।চৈঃভাঃ।।*
*🌻ইংরেজি ১৫০৫ সালে শ্রীনিমাই পন্ডিত গঙ্গাদাসের নিকট ব‍্যাকরণ অধ‍্যয়ন করতে লাগলেন।অল্পকাল মধ্যেই ব‍্যাকরণ শিক্ষা করে টোলের মধ্যে পারদর্শী হলেন।নবীন হয়েও প্রবীনদের তিনি বিদ‍্যাশিক্ষা দিতে লাগলেন।*
*🏵একদিন মায়ের শ্রীচরণে প্রণাম বিশ্বম্ভর বললেন, মা! তোমার চরণে একটি নিবেদন আছে, তা কি তুমি পূর্ণ করবে?মা বললেন, কি সে নিবেদন? নিমাই বললেন,"একাদশীতে অন্ন গ্রহণ করবে না"।মা বললেন,ভালই হ'ল। শচীমা সেই দিন থেকে একাদশী ব্রতপালন করতে লাগলেন।*
*🌺জ‍্যেষ্ঠপুত্র শ্রীবিশ্বরূপের যৌবন দেখে পিতা জগন্নাথ মিশ্র বিয়ে দেবার জন্য সুকন‍্যা দেখতে লাগলেন।এইকথা বিশ্বরূপ শুনে গৃহত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণ করলেন।তখন নিমাই বললেন, "পিতৃকুল ও মাতৃকুল উভয় কুলই উদ্ধার প্রাপ্ত হবে। তবে আমি তোমাদের সেবা করব,মনে কোন দুঃখ করিও না।*
*🍀কিছুদিন অতিবাহিত হলে শ্রীমিশ্র ইহলীলা সংবরণ করলেন। শচীমা ও গৌরহরি শোকে বিষাদিত হলে আত্মীয়স্বজন আগমন করে প্রবোধ দিতে লাগলেন।বিধি অনুসারে নিমাই পিতার শ্রাদ্ধ তর্পণাদি করলেন।*
*🌲শ্রীগৌরহরি চিন্তা করলেন যে গৃহস্থ হয়ে গার্হস্থ ধর্ম পালন না করলে গৃহধর্ম শোভা পায়না। অকস্মাৎ একদিন অধ‍্যাপনা করে গৃহে ফেরার সময়ে শ্রীবল্লভাচার্য‍্যের কন‍্যা লক্ষ্মীপ্রিয়াকে গঙ্গার পথে দেখলে উভয়েরই পূর্বসিদ্ধ প্রীতিভাব জেগে উঠিল।তারপর,বনমালী ঘটক একদিন শচীমায়ের কাছে গিয়ে শুভ বিবাহের কথা বলিলে মায়ের ইঙ্গিতে শুভ পরিণয়ের দিন শুভক্ষণে শুভলগ্নে ধার্য‍্য হল। নিমাইচাঁদ শ্রীমতী লক্ষ্মীপ্রিয়াকে বিয়ে করলেন।মহাপ্রভুর চাঁদবদন, লক্ষ্মীপ্রিয়াদেবীর চাঁদবদনী। দুঁহে দুঁহার পূর্ব সাহজিক প্রেমে মুগ্ধ।এ বিষয়ে পূজ‍্যপাদ শ্রীবৃন্দাবন দাস মহাশয় বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীমন্মহাপ্রভুর লীলা কথন*

*🍀শ্রীশচী নন্দনের শতশত শিষ‍্যগণ তাঁর নিকটে এসে অধ‍্যয়ন করেন।মহাপ্রভুর শাস্ত্রের ব‍্যাখ‍্যা শ্রবণ করে সুপন্ডিতগণ চমকিত হয়ে উঠিলেন।তিনি সর্বশাস্ত্রে সুপন্ডিত।মহাপন্ডিতগণ শাস্ত্রতর্কে পরাজিত হলেও মহাপ্রভুর বিনয় স্বভাবে সকলেই মুগ্ধ, তিনি শিষ‍্যগণের সঙ্গে সুরধূনী গঙ্গায় নানা ভঙ্গিতে জলকেলি করেন। ১৫০৬ খৃষ্টাব্দে শ্রীগৌরাঙ্গের পূর্ববঙ্গে গমন করবার ইচ্ছে হল।গমনকালে যাকে দেখেন তাকেই "কৃষ্ণ!কৃষ্ণ!"বলো বলেন।"নিববধি হরি সংকীর্তন করো"।পূর্ববঙ্গে তপন মিশ্র নামে একভক্ত সাধ‍্য-সাধন তত্ত্ব সম‍্যক উপলব্ধি করতে না পেরে ভীষণ মন খারাপ।স্বপ্নে এক বিপ্র তপনমিশ্রকে কহিলেন, হে তপন! নিমাই পন্ডিতের কাছে যাও,সাধ‍্য-সাধন তত্ত্ব জানতে পারবে।*
*মহাপ্রভু সাধ‍্য-সাধন তত্ত্ব বর্ণনা করে নিরন্তর হরিনাম সংকীর্তন করতে উপদেশ প্রদান করে শ্রীতপন মিশ্রকে বারাণসী যেতে আজ্ঞা করলেন এবং বললেন যে বারাণসীতে তার সঙ্গে পুনঃ সাক্ষাৎ হবে। তিনি এইভাবে পূর্ববঙ্গে শ্রীহরিনাম প্রচার করতে লাগলেন।এদিকে লক্ষ্মীপ্রিয়াদেবী মহাপ্রভুর বিরহে দিবারাত্রি অশ্রু বর্ষণ করেন।গৌরহরির বিরহের তীব্র তাপে তিনি স্থূল দেহ পরিত‍্যাগ করে সূক্ষ্ম দেহে শ্রীগৌরাঙ্গে মিলিত হলেন।তাই শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন----*
*🌷প্রভুর বিরহ সর্পে লক্ষ্মীকে দংশিল।*
*🌷বিরহ সর্প বিষে তার পরলোক হইল।।*
*🌻কিছুদিন পরে শ্রীগৌরহরি পূর্ববঙ্গ হতে ফিরে এলেন।অন্তর্য‍্যামীরূপে তিনি লক্ষ্মীপ্রিয়ার বিয়োগের কথা জানতে পেরেছিলেন।*
*🍀একদিন নিমাইপন্ডিত গ্রন্থ হাতে অধ‍্যাপনা করতে যাচ্ছেন, এমন সময়ে শচীমা বললেন, বাপ!তুই তোবিদ‍্যারসে বিভোর হয়ে আছিস ; ঘরে একদিনের খাবারও সম্বল নেই।তখন মহাপ্রভু অধ‍্যাপনা করে জাহ্নবীতীরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে ঘরে ফিরে এসে শচীমাকে বললেন, মা!শ্রীকৃষ্ণই পালনকর্তা, এই দেখো,শ্রীকৃষ্ণই এই দুই-তোলা সোনা দিয়েছেন,যথা---*
*🌷দেখ মাতা!কৃষ্ণ এই দিলেন সম্বল।*
*🌷ইহা ভাঙ্গাইয়া ব‍্যয় করহ সকল।।চৈঃভাঃ।।*
*🏵এইভাবে সর্বসিদ্ধেশ্বর মহাপ্রভু গুপ্তভাবে শ্রীধাম নবদ্বীপে অবস্থান করেন।প্রত‍্যহ স্নান করে গঙ্গা বন্দনা করে ঘরে ফিরেন এবং তুলসীদেবীকে জলসেচন ও প্রদক্ষিণ করে কৃষ্ণ-পূজা সমাপনান্তে কৃষ্ণের অধরামৃত প্রসাদ ভক্ষণ করেন।*
*🌼শ্রীগৌরাঙ্গ ক্ষণকালের জন্যও নানান বৈষ্ণব গ্রন্থ শ্রীহস্ত হতে ত‍্যাগ করেন না।শ্রীগৌরাঙ্গের সুন্দর ললাটে উর্দ্ধ তিলক শোভা পাচ্ছে,শিরে মনোহর চাঁচর কেশ স্কন্ধে বা কাঁধে উপবীত যেন ব্রহ্মতেজ বিকীর্ণ করছে ; হাস‍্য চন্দ্রবদনে উজ্জ্বল আভা বিস্তার করছে ; আকর্ণ বিস্তৃত পদ্ম-পলাশ সদৃশ নয়ন ভাবাবেশে স্নিগ্ধ ও তরল।নদীয়াবাসীগণ সুন্দর ও ভাবময়মূর্তি দর্শন করে পরমানন্দ অনুভব করেন।*
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দররূপে মদন, বুদ্ধিতে বৃহস্পতি,বিদ‍্যায় সরস্বতীপতি,বিনয় ও দৈন‍্যে পরম ভাগবত।তাঁর শাস্ত্রব‍্যাখ‍্যা শুনলে সংস্কৃত অধ‍্যাপকগণ, মহা মহা পন্ডিতগণ ধন‍্য ধন‍্য করতেন এবং অগাধ পান্ডিত‍্য দর্শনে মুগ্ধ হয়ে যেতেন।মহাপ্রভু বিদ‍্যারসে সতত মগ্ন।এবার মা,পুত্রের জন্য উপযুক্তা কন‍্যা অনুসন্ধান করছেন।নবদ্বীপে এক রাজপন্ডিত সনাতন মিশ্র বাস করেন।তিনি জিতেন্দ্রিয়,সত‍্যবাদী উচ্চবংশজাত ও পরম উদার।তাঁর কন‍্যা মূর্তিমতী লক্ষ্মী,পরম সুচরিতা নাম বিষ্ণুপ্রিয়া। গৌরসুন্দর সুপ্রভাতে গঙ্গায় স্নান করে শ্রীবিষ্ণুর পূজা সমাপনান্তে আত্মীয়স্বজনসহ নান্দীমুখ কর্মাদি করলেন।সানাই,ঢাক,ঢোল প্রভৃতি বাদ‍্য ও জয় জয় কোলাহলের মধ্যে মহাসমারোহে শুভদিনে শুভক্ষণে শুভ পরিণয় হয়ে গেল।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী মহাপ্রভুর কন্ঠে মালা পরায়ে প্রণাম করে আত্মসমর্পণ করলেন।গৌরহরি ঈষৎ হেসে নবকন‍্যার গলায় মালা পরায়ে দিলেন।পরে বর ও কনে উভয়েই পরস্পরের অঙ্গে গন্ধপুষ্প বরিষণ করতে লাগলেন।১৫০৭ খৃষ্টাব্দে শুভবিবাহ হয়ে গেল।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীমন্মহাপ্রভুর লীলাতত্ত্ব* *অথ দ্বিগ্বিজয়ী পন্ডিতের দর্প চূর্ণ।*

*🌹দ্বিগবিজয়ী পন্ডিতের গর্ব চূর্ণ ও কৃপা দান--, সেদিন জ‍্যোৎস্নাবতী রাত্রি। শ্রীগৌরহরি অনেক শিষ‍্যগণসহ শাস্ত্রচর্চা ও অধ‍্যয়ন করছেন।এমনই সময়ে কেশব কাশ্মীরী নামে এক দ্বিগ্বিজয়ী পন্ডিত গঙ্গামাতাকে প্রণাম করে মহাপ্রভুর স্থানে আগমন করলে গৌরহরি তাকে আদর করে সসম্ভ্রমে সেখানে বসালেন।কেশব কাশ্মীরী পন্ডিত অবজ্ঞার সুরে মহাপ্রভুকে বললেন--,"তুমি ব‍্যাকরণ ও কলাপ অধ‍্যাপনা করে বাল‍্য শাস্ত্রে তোমাকে পন্ডিত বলে শিষ‍্যগণ বলে, মহাপ্রভু কহিলেন ব‍্যাকরণ পড়াই আমি অভিমানে, শিষ‍্যগণও বুঝে না,আমিও বুঝাতে পারি না। গৌরহরি কেশব পন্ডিতকে বললেন, আপনি সর্বশাস্ত্রে ও কবিত্বে প্রবীণ,আর আমি শাস্ত্রেতে নবীন, আপনি কৃপা করে গঙ্গার মাহাত্ম্য বর্ণনা করুন।এইকথা শুনে পন্ডিত এক ঘন্টায় গঙ্গার একশত শ্লোক অনর্গল ঝঞ্ঝাবাতের মত বলতে লাগলেন।শুনে মহাপ্রভু বললেন, আপনার সমতুল‍্য কবি আর কোথাও দেখা যায় না বলে ধন‍্যবাদ দিলেন।কেশব পন্ডিত মহাপ্রভুর কাছে শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা জানতে চাইলে শত শ্লোকের এক শ্লোক গৌরহরি ব‍্যাখ‍্যা করতে আরম্ভ করলেন।*
*তথাহি দ্বিগ্বিজয়ী বাক‍্যম্---*
*🌷মহত্ত্ব‍্যং গঙ্গায়াঃ সততামিদমাভাতি নিতরাং।*
*🌷যদেষা শ্রীবিষ্ণোশ্চরণকমলোৎ পতি সুভগা।।*
*🌷দ্বিতীয় শ্রীলক্ষ্মীরিব সুরনরৈরচ্চ‍্য চরণা।*
*🌷ভানীভর্ত্তুর্য‍্যা শিরসি বিভব‍ত‍্যদ্ভূতগুণা।।*
*অর্থ‍্যাৎ গঙ্গার মহিমা দেদীপ‍্যমান(উজ্জ্বলপ্রভা) রয়েছে যে ইনি শ্রীবিষ্ণুর চরণকমল হতে সঞ্জাত বা উৎপত্তি হয়ে সৌভাগ্য লাভ করেছেন।কি সুর,কি নর সকলেই দ্বিতীয় কমলের মত ইহার চরণ অর্চনা করে থাকেন।আর ইনি ভবানীপতির শীর্ষভাগে অদ্ভূত গুণ ধারণ করে বিহার করছেন। মহাপ্রভু পন্ডিতকে কহিলেন--- "এই শ্লোকের কি গুণ আর কি দোষ আছে বলুন"।উত্তরে পন্ডিত বললেন-- "শ্লোকে কোন দোষ নেই,তুমি ব‍্যাকরণ অধ‍্যয়ন করেছ,অলঙ্কার শাস্ত্র অধ‍্যয়ন কর নাই, সুতরাং কবিত্বের সার এই শ্লোকের কি বুঝবে?তখন মহাপ্রভু বলিলেন--*
*🌷প্রভু কহে কহি শুন না করিও রোষ।।*
*🌷পঞ্চদোষ এই শ্লোকেপঞ্চ অলঙ্কার।*
*🌷ক্রমে আমি কহি শুন করহ বিচার।।*
*🌹এই শ্লোকে অবিমৃষ্ট (বিবেচনা কর)বিধেয় অংশে দুই জায়গায় দোষ, বিরুদ্ধমতিকৃৎ, ভগ্নক্রম ও পুনরাত্তি এই তিন দোষ মিলে পঞ্চালঙ্কারে পঞ্চদোষ হয়েছে।ইদং শব্দের অনুবাদ পূর্বে না বলে পরে বসাতে দোষাবহ,কারণ বিধেয় আগে বলে পরে অনুবাদ করা হয়েছে বলে শ্লোকের অর্থ বাদ পড়েছে। দ্বিতীয়ত শ্রীলক্ষ্মী দ্বিতীয় বিধেয়,উহা সমাসে গৌণ হল বলে শব্দের অর্থ নষ্ট হল। ইহাতে লক্ষ্মীর সমতা অর্থ বিনষ্ট হল।এই দোষের নাম অবিমৃষ্ট বিধেয়াংশ বলা হয়ে থাকে।তারপর ভবানীযুক্ত শব্দের অর্থ মহাদেবের পত্নী,উহার ভর্ত্তা বা পতি বললে ভবানীর দ্বিতীয় পতি বুঝায়।ইহাকে শাস্ত্রে বিরুদ্ধ মতিকৃৎ বলে মহাদোষের মধ্যে পরিগণিত। অতএব শিবপত্নীভর্ত্তা শুনতে বিরুদ্ধ। আরও একটি দোষ এই যে বিভবতি ক্রিয়ার সঙ্গে পুনরায় অদ্ভুতগুণা আবৃত্তি করাতে পুনরাত্তি দোষে দূষিত।*
*🍀নিমাইপন্ডিত যখন এই দোষগুলি কেশব কাশ্মীরী পন্ডিতকে বললেন,বালক নিমাইপন্ডিতের কাছে পরাজিত হয়ে বিষাদিত অন্তঃকরণে গৃহে গিয়ে দিগ্বিজয়ী অভিভূত হলেন। স্বপ্নে দেবী সরস্বতী আগমন করে পন্ডিতকে কহিলেন, "পন্ডিত তুমি দুঃখ করিও না। তোমার মহাভাগ‍্যের উদয় হয়েছে ; তুমি যার কাছে পরাজিত হয়েছ তিনি স্বয়ং ভগবান,আমার পতি। তুমি প্রভাতে গিয়ে তাঁর শ্রীচরণে শরণ গ্রহণ করিও। তুমি ভাগ‍্যবান।*
*🌷ভাগ‍্যবন্ত দিগ্বিজয়ী সফল জীবন।*
*🌷বিদ‍্যারসে পাইল মহাপ্রভুর চরণ।।চৈঃচঃ।।*
*🌹যাইহোক, মহাপ্রভু বাল‍্যভাবে ক্রন্দনচ্ছলে সবাইকে হরিনাম শুনাতেন।বাল‍্য বয়সে হাতে খড়ি ও কর্মবেধ হল।নিমায়ের শুভ বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত পৌগন্ড বয়স।এই পৌগন্ডে তিনি শিষ‍্যগণকে বিদ‍্যাশিক্ষা দেন,সর্বত্র শ্রীকৃষ্ণনামের ব‍্যাখ‍্যা করেন।এই পৌগন্ড বয়সেই পঞ্জীটীকাতে পারদর্শী হলেন, এবং যাকেই সামনে দেখেন তাকেই কৃষ্ণভক্তির উপদেশ দান করেন।দিনরাত্রি হরিনাম সংকীর্তনে তিনি গৌড়মন্ডলকে প্রেমের বন‍্যায় প্লাবিত করলেন।*
*🏵শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর এখন যৌবনে পদার্পণ করেছেন।তাঁর প্রকান্ড অবয়বে তপ্ত হেম সম কান্তি,নবজলদ জিনি গম্ভীর কন্ঠধ্বনি,মহাপুরুষ লক্ষণ মতে নিজ হাতের চারহাত দীর্ঘ, আজানুলম্বিত ভূজদ্বয়,তিলফুল সম উন্নত নাক, শ্রীহরিসংকীর্তনে চন্দনে চর্চিত হয়ে,চন্দনের অঙ্গদ ও বালা পরিধান করে হেমদন্ড বাহু তুলে উদ্দন্ড নৃত্য করেন।তাঁর দেহের দ‍্যুতি কোটিচন্দ্র হতেও সমুজ্জ্বল।বদন চন্দ্রমার ছটায় কোটি-শারদ পূর্ণিমার শশধর নিষ্প্রভ হয়ে যাচ্ছে।পূর্ণ চন্দ্রের উদয়ে যেমন সমুদ্রের জলরাশি স্ফীত হয়, সেইরকম শ্রীগৌরচন্দ্রের আবির্ভাবে প্রেম মহাসমুদ্রে বান ডেকেছে।আসমুদ্র হিমাচল প্রেম-বন‍্যায় প্লাবিত।পূর্ণিমার চাঁদ সৌরকর তপ্ত জগতকে শীতল করে,আর এই গৌরচন্দ্র আধ‍্যাত্মিক, আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক তাপত্রয়ে জ্বলে পুড়ে যাওয়া বিশ্বমানবকে প্রেম-মাধুর্য‍্য ধারায় স্নিগ্ধ করেছেন।নিজ মাধুর্য‍্য আস্বাদন লোভে শ্রীরাধার মাদনাখ‍্য মহাভাব সিন্ধুতে অবগাহন বা স্নান করে শ্রীগৌরাঙ্গরূপী শ‍্যামসুন্দর প্রেমানন্দে হেমদন্ড সদৃশ দুই বাহু উত্তোলন করে নদীয়ার ধূলোয় নৃত্য করছেন এবং এই নৃত্যের তালে তালে যেন সমগ্র বিশ্বের পাপ,কলুষ নানান দুর্বাসনা মানব চিত্ত হতে চিরতরে মুছে যাচ্ছে।অযোগ‍্য,দীন-হীন মানবকে প্রেমদান করেন বলিয়া তিনি কল্পতরু হতেও উদার। তিনি অপরাধের বিচার না করেই নামের মুখ‍্যফল প্রেম নামের সঙ্গেই দান করেছেন। যথা শ্রীচৈঃচঃ গ্রন্থে---*
*🌷বাহু তুলি হরি বলি প্রেমদৃষ্টে চায়।*
*🌷করিয়া কল্মষ পাপ প্রেমেতে ভাসায়।।*
*🌷অদ‍্যাপিও দেখ,চৈতন‍্যের নাম যে লয়।*
*🌷কৃষ্ণ প্রেমে পুলকাঙ্গ বিহ্বল সে হয়।।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের প্রাণতত্ত্ব।*

*উল্লেখযোগ‍্য যে,কবি শ্রীজয়দেব গীতগোবিন্দে "রাধামাধয়োর্জয়ন্তি যমুনাকূলে রহঃ কেলয়ঃ", "রাসরসে-সহনৃত‍্যপরা হরিনা" (১|৪৫) প্রভৃতি কৃষ্ণের দিব‍্যসহচারিণী বা লীলাসঙ্গিনী-রূপে নির্বিচারে "রাধা" বা "রাধিকা" শব্দ ব‍্যবহার করেছেন প্রধানা গোপীর পরিবর্তে।শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও অন‍্যান‍্য প্রাচীন বাংলা-সাহিত‍্যেও "রাই","রাহী","রাধা" এবং "কিশোরী" প্রভৃতি শব্দের ব‍্যবহার পাওয়া যায়, কিন্তু বিকাশধারার দিক থেকে রাধা ও রাধিকা শব্দ দুটির মধ্যে বেশ পূর্বাপর ভাবের সামঞ্জস্য আছে। যেমন চন্ডীদাসের পদাবলীতে পাই---*
   *রাই,তুমি যে আমার গতি।*
*তোমার কারণে,রসতত্ত্ব লাগি,*
      *গোকুলে আমার স্থিতি।।১*
*প্রেমেতে রাধিকা,স্নেহেতে রাধিকা,*
      *রাধিকা আরতি পাশে।*
*রাধারে ভজিয়া,রাধাকান্ত নাম,*
      *পেয়েছি অনেক আশে।।২*
*উঠিতে কিশোরী,বসিতে কিশোরী,*
     *কিশোরী গলার হার।*
*কিশোরী ভজন,কিশোরী পূজন,*
       *কিশোরী চরণ সার।।৩*
*(নীলরতন মুখোপাধ‍্যায়-প্রকাশিত "চন্ডীদাসের পদাবলী" দ্রষ্টব‍্য)।*
*🍀এক্ষণে "রাধা" শব্দের অর্থ-সার্থকতা কতটুকু তা দেখার বিষয়।ডক্টর শ্রীসুকুমার সেন ভাষাতত্ত্বের দিক থেকে এ'সম্বন্ধে বলেছেন--, "রাধা"-শব্দটি অর্থ ও ব‍্যবহার দু'দিক দিয়েই প্রাচীনতর। যাকে রাধন করা হয়,খাওয়া হয় সে রাধা।"রাধিকা" শব্দটি অর্বাচীন,সংস্কৃতে বোধকরি দ্বাদশ শতাব্দীর আগে পাই না ; প্রাকৃতে আরও তিন চারশো বছর আগে মিলছে।*
*শব্দটি যদি প্রাকৃত থেকে সংস্কৃতে এসে থাকে তবে এটি রাধা-শব্দেরই রূপান্তর ক্ষুদ্রার্থক সা স্নেহদ‍্যোতক 'ইক্' বিভক্তি যোগে।আর যদি সংস্কৃতে সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে এটি হবে রাধক-শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ,আর অর্থ হবে,যে নারী রাধনা করে--যে চায়।এ' ব‍্যুৎপক্তি স্বীকার করলে রাধা ও রাধিকার পার্থক্য স্পষ্ট করে বোঝা যাবে কালিদাসের এই উক্তি থেকে, " ন রত্নমন্বিষ‍্যতি মৃগ‍্যতে হি তৎ"।রাধিকা অন্বেষণ করে,রাধা অনিষ্ট হয়। ☆ ☆ একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দী কিংবা তার কিছু আগে থেকে কৃষ্ণের প্রেমলীলা একটু নতুন দৃষ্টিতে দেখা হতে লাগল।আগেকার সাহিত‍্যে গোপীদের প্রেমে কৃষ্ণ চতুর নায়ক, পথভ্রান্ত মধুকর মাত্র, সময় হলেই তিনি উড়ে পালালেন,আর কোন সম্বন্ধ রইল না তাঁর ব্রজের সঙ্গে। দ্বিতীয় পর্য‍্যায়ে অর্থ‍্যাৎ একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দীর সাহিত‍্যে দেখা গেল যে, দ্বারকায় ঐশ্বর্যবিলাসের মধ্যে থেকে কৃষ্ণের চিত্ত থেকে থেকে উন্মনা হয় কৈশোরের সেই দিনগুলির জন‍্যে,রাধার জন‍্যে।*
*🍀রাধা শব্দের ব‍্যুৎপত্তিগত অর্থের নির্ণয় করে ডক্টর শ্রীসেন Indian Linguistics, Vol. V|||. "The Etymology of the Name 'Radha' নামে যে পান্ডিত‍্যপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন তা উল্লেখযোগ্য। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন--, "The name Radha, the chief beloved Gopi of Krishna, dose not occur in the older Puranas, e.g.in the Harivamsha (হরিবংশ),the Vayupurana, and the Bhagavata-purana, where the Krishna legend has been elaboratary described. In secular literature, however, it occurs as early as seventh or the eighth century ;it occurs in Gatha-saptasati (1_89),and in Ananda-vardhana's Dhvanyaloka (2,6). The Bhagavata, while mentioning Gopi, whom Krishna took aside during Rasa dance, says : anayaradhito nunam bhagavan-haririsvarah (X, 30. 28), 2 from this comes the traditional derivation of the word Radha 'who worship or placates'. "The word Radha must have once become a common noun, and the meaning was 'beloved, a desired woman' Its neuter counterpart Radha, 'adesired object, a gift', occurs in vedic and the masculine cognate appears in Avestan Rada i e"lover", 'a desired husband' e.g----*
               *বাঙ্গালা*
*🌷হওমো তাওস্-চিৎ যাও কইনীনো,*
*🌷অংহইবে দরঘম্ অগরাবো।*
*🌷হইতীম্ রাদম-চ রকষ ইতি,*
*🌷 মোষু জইদ‍্যনো হুক্রতুমা।।*
                  *সংস্কৃত অনুবাদ*
*🌷সোমঃ তাশ্চিৎ যাঃ কন‍্যকাঃ,*
*🌷আসিবে দীঘম্ অশ্রুবঃ।*
*🌷সত‍্যং রাধং ব ভক্ষতি,*
*🌷মোক্ষু গদ‍্যমানং সুক্রতুঃ।।*

*Those maidens who have remained husbandless for a long time, to them the wise Haomo, being entreated, soon give faithfull lovers (husbsnds), [ Yasna 9. Verse 10]. (অন‍্যত্রও তিনি এ ধরণের মন্তব‍্য করেছেন)।*
                    *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*বৈঃপদাবলীকীর্তনের প্রাণতত্ত্ব।*

*🍀ডক্টর সুকুমার সেন "রাধা" সম্বন্ধে মন্তব‍্য করার প্রসঙ্গে সেনরাজ-কবি উমাপতিধরের "রত্নচ্ছায়াচ্ছুরিতজলধৌ মন্দিরে দ্বারকায়া ☆ ☆ রাধাকেলিভ পরিমলধ‍্যামূর্ছা মুরারেঃ" এই শ্লোক-সম্পর্কে বলেছেন, রাধার আধিদৈবিক উন্নয়নে এই প্রথম ধাপ।শেষ ধাপ শ্রীচৈতন‍্যের বিরহোন্মত্ত রূপ।পদাবলী সাহিত‍্যে "রাধা" শব্দ ও তার অর্থ-সার্থকতার ক্রমবিকাশ কিংবা রাধা-রূপের ক্রমপরিণতি বেশ লক্ষ্য করার বিষয়।অবশ‍্য পরম ও চরম-তত্ত্ব রূপে শ্রীরাধার জায়গা ও চিন্তা যে পার্থিব জগতের অনেক উপরে তার কিছুটা আভাস পূর্বে দিয়েছি। বৈষ্ণব-কবিচিন্তার পূর্বাপর বিকাশকাহিনীর-রূপে চৈতন‍্যপূর্ব ও চৈতন‍্যোত্তর পদাবলী-সাহিত‍্যে "রাধা"-শব্দের প্রয়োগ ও বিকাশের যে বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্য আছে তা স্বীকার্য‍্য।চৈতন‍্যপূর্ব পদাবলীতে শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণের উপরেও নয়, নিচেও নয়, বরং সমান আসনেই অধিষ্ঠিত। কিন্তু চৈতন‍্যোত্তর পদাবলীতে শ্রীরাধার স্থান ও গৌরব শ্রীকৃষ্ণের মহিমাকেও অতিক্রম করেছে, অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধা সেখানে শ্রীকৃষ্ণ অপেক্ষা সচল ও মহান। মোটকথা শ্রীচৈতন‍্যের অভ‍্যুদয়ের পর থেকে আজ-পর্য‍্যন্ত বৈষ্ণব পদাবলীতে কোন পরিবর্তন দেখা না দিলেও ষোড়শ শতকের মধ‍্যবর্তী সময়ে পদাবলীসাহিত‍্যে শ্রীরাধার বিকাশ বা প্রকাশ শ্রীকৃষ্ণবিরহবিধুর শ্রীচৈতন‍্যের রূপ নিয়ে অন্ততঃ গৌড়ীয় বৈষ্ণব সাধকেরা শ্রীচৈতন‍্যকে গ্রহণ করেছিলেন শ্রীরাধারই অঙ্গদ‍্যুতি-রূপে, অর্থ‍্যাৎ শ্রীচৈতন‍্যের খোলে (শরীরে) শ্রীরাধার প্রকাশ। শ্রদ্ধেয় কৃষ্ণদাস কবিরাজ "শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত" গ্রন্থে এ'তত্ত্ব প্রকাশ করেছেন।( তিনি বিদগ্ধমাধব (১২) থেকে প্রমাণ‍্য দিয়েছেন --*
*🌷হরিপুরটসুন্দরদ‍্যুতিকদম্বসন্দীপিতঃ।*
*🌷সদা হৃদয়কন্দরে স্ফুরতি বঃ শচীনন্দনঃ।।*
*🌻শ্রীস্বরূপদামোদর গোস্বামীকৃত কড়চা থেকেও তিনি প্রমাণ উদ্ধৃত করেছেন---*
*🌷রাধা কৃষ্ণপ্রণয়বিকৃতির্হ্লাদিনী শক্তিরস্মা,*
*🌷দেকাত্মানাবপি ভুবিপুরা দেহভেদং গতৌ তৌ।*
*🌷চৈতন‍্যাখ‍্যং প্রকটমধুনা তদ্দ্বয়ং চৈক‍্যমাপ্তং,*
*🌷রাধাভাবদ‍্যুতিসুবলিতং নৌমি কৃষ্ণস্বরূপম্।।*
            *(শ্রীচৈঃচঃ আদিলীলা ৪-৫)*
*🌻সুতরাং পরবর্তী গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম চিন্তায় শ্রীরাধার সজীবতা পূর্ণ-সার্থকতার পাদপীঠে উন্নীত হয়েছিল বললেও বেশী বলা হবে না।তাছাড়া চৈতন‍্যোত্তর যুগে বৈষ্ণব দার্শনিকেরা যখন গৌড়ীয় বৈষ্ণবদর্শনের প্রতিষ্ঠা করেন বৌদ্ধিক যুক্তিজালের আশ্রয় নিয়ে,তখন ব্রহ্মের সন্ধিনী,সম্বিৎ ও হ্লাদিনী শক্তি তিনের কল্পনা করেছিলেন সগুণব্রহ্মসত্তার প্রতিপাদক অপার্থিব গুণত্রয় সৎ,চিৎ ও আনন্দকে উপলক্ষ্য করে। "ঈশ্বর সৎস্বরূপ হয়েও যে শক্তির দ্বারা স্বয়ং ধারণ করেন এবং অন‍্যান‍্য সকলকে ধারণ করেন,সেই সর্বকালে, সর্বদেশে,সর্বদ্রব‍্যে ব‍্যাপ্ত শক্তিকে "সন্ধিনী" বলা হয়। "হ্লাদিনী" বা আনন্দদায়িনী শক্তি যার দ্বারা ভগবান স্বয়ং আনন্দস্বরূপ হয়েও নিজে আনন্দ-আস্বাদন করেন। শ্রীরাধা হ্লাদিনী শক্তি।(ডঃ শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার "রবীন্দ্রসাহিত‍্য পদাবলীর স্থান" ১৩৬৮, পৃঃ ৯৮)। শ্রীচৈতন‍্যের সমসাময়িক ও বিশেষ করে শ্রীচৈতন‍্যের পরবর্তী বৈষ্ণবাচার্য‍্যেরা ব্রহ্মশক্তি ও "রাধা" সম্বন্ধে এরকম ব‍্যাখ‍্যাই করেছেন। শ্রদ্ধেয় শ্রীপাদ কবিরাজ "শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত" গ্রন্থে (১|৪) এই ব‍্যাখ‍্যা বা অর্থের পরিচয় দিয়ে বলেছেন--*
*🌷সচ্চিদানন্দপূর্ণ কৃষ্ণের স্বরূপ।*
*🌷একই চিচ্ছক্তি তাঁর ধরে তিন রূপ।।*
*🌷আনন্দাংশে হ্লাদিনী,সদংশে সন্ধিনী।*
*🌷চিদংশে সংবিৎ যারে 'জ্ঞান' করি মানি।।*
*🏵শ্রীকৃষ্ণকে কেন্দ্র করে এই তিন শক্তির বিকাশ সম্ভব হলেও পরবর্তী বৈষ্ণবাচার্য‍্যেরা যখন শ্রীচৈতন‍্যের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ-রাধার অন্তর্নিবেশ করেন তখন গৌড়ীয় বৈষ্ণবদর্শনতত্ত্বের রূপ আরও একটি অভিনব তত্ত্ব ও অর্থ নিয়ে বিকাশ লাভ করে।নীলাচলের শ্রীচৈতন‍্য-পরিকরদের মধ্যে-- বিশেষভাবে বাসুদেবসার্বভৌম, রায় রামানন্দ,স্বরূপ-দামোদর, রাজা প্রতাপ-রুদ্রদেব, এবং বৃন্দাবনমন্ডলের প্রথম স্তরের পরিকরবৃন্দ সনাতন-গোস্বামী, রূপ-গোস্বামী, গোপাল-ভট্টগোস্বামী প্রভৃতি অপেক্ষা বৃন্দাবনমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরের বিদগ্ধ বৈষ্ণবসাধক শ্রীজীব গোস্বামী,কৃষ্ণদাস কবিরাজ,রাঘব-পন্ডিত প্রভৃতি পরবর্তী পরিকরগণের সময়ে শ্রীরাধাকৃষ্ণের অভিন্ন রূপ শ্রীচৈতন‍্যকেন্দ্রিক গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের তত্ত্ব আরো উন্নত আকার ধারণ করেছিল।*
                   *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী, মালদা।*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৩)পদাবলী-কীর্তনের ইতিহাস*
*বৈঃপদাবলীকীর্তনের প্রাণতত্ত্ব।*

*🍀অবশ‍্য পদাবলীকীর্তনের প্রসঙ্গে এ' গ্রন্থের পরবর্তী ভাগে শ্রীচৈতন‍্য এবং তাঁর সমসাময়িক ও তাঁর পরবর্তী বৈষ্ণবসমাজ ও বৈষ্ণবতত্ত্বের আলোচনার সময়ে এ'সম্বন্ধে আরো বিস্তৃতভাবে অনুশীলন করার চেষ্টা করব।পদাবলীকীর্তনের প্রতিষ্ঠা,প্রাণ বা অধিষ্ঠান একমাত্র পঞ্চরাত্রসংহিতা,শ্রীমদ্ভাগবত, পুরাণাদি গ্রন্থ ও গৌড়ীয় বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণ-লিখিত বিভিন্ন দর্শন-গ্রন্থ। শ্রীচৈতন‍্যসম্প্রদায় আচার্য‍্য যমুনাচার্য‍্য,রঙ্গ-রামানুজ ও নাথমুনি প্রভৃতির অনুসারী হলেও তা বিশেষভাবে শ্রীজীব গোস্বামী ও শ্রদ্ধেয় বলদেব বিদ‍্যাভূষণ-ব‍্যাখ‍্যাত "অচিন্তভেদাভেদ"তত্ত্বের অনুগামী।শ্রীজীব গোস্বামী ও শ্রদ্ধেয় বলদেব বিদ‍্যাভূষণ দু'জনেই আচার্য‍্য রামানুজের অচিৎ (প্রকৃতি)পদার্থের বিশ্লেষণ করে ঈশ্বর ও চিৎ-এর (জীবের) সঙ্গে কাল ও কর্ম-পদার্থ দুটির যোগসূত্র রচনা করেছেন।যদিও শ্রীমদ্ভাগবতের ২|৫|১৪ শ্লোকে দ্রব‍্য,কর্ম,কাল,স্বভাব,জীব ও বাসুদেব তত্ত্বগুলির উল্লেখ ও অনুশীলন বিশেষভাবে লক্ষ্য করবার বিষয়।শ্রীজীব-গোস্বামী ও বলদেব বিদ‍্যাভূষণের মতে ঈশ্বর,জীব,প্রকৃতি ও কাল নিত‍্য পদার্থ এবং কর্ম বা অদৃষ্ট অনিত‍্য, সুতরাং বিনাশী পদার্থ। শ্রীমদ্ভাগবতে সগুণ-ব্রহ্ম ঈশ্বরের উপাসনাই অভিপ্রেত। শ্রীজীব গোস্বামী ও বলদেব বিদ‍্যাভূষণ সগুণ-ব্রহ্মে সেব‍্য-সেবকভাবের দ্বারাই মুক্তিলাভের কথা বলেছেন।এই সেব‍্য-সেবকভাব পাঁচ-রকম--শান্ত,দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও মধুর।এদের মধ্যে মধুরভাবেই ভক্তির(এবং প্রেমের) পরাকাষ্ঠা।এই ভক্তি ও প্রেম পার্থিব নয়,একান্তভাবে অপ্রাকৃত ও অপার্থিব।*
*🌻শ্রীমদ্ভাগবতের মতো শ্রীজীব গোস্বামী ও বলদেব পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণের তিনটি শক্তির কথা বলেছেন ও সে তিনটি অপার্থিব শক্তি হ'ল--(১)স্বরূপশক্তি, নিত‍্য লীলাধামে সন্ধিনী(অস্তি),সম্বিৎ (ভাতি) ও হ্লাদিনী (প্রীতি বা প্রিয়); (২)তটস্থাশক্তি,জীবশক্তি বা ভোক্তৃশক্তি, এবং (৩) বহিরঙ্গ মায়াশক্তি,সত্ত্ব,রজ,তমোগুণাত্মিকাশক্তি,যার পরিণাম দৃশ‍্য বিশ্বচরাচর। বহিরঙ্গ মায়াশক্তি ঈশ্বরকে স্পর্শ বা আবৃত করে না (অদ্বৈতবেদান্তেও তাই) এবং আচার্য‍্য রঙ্গ-রামানুজেরই মতো পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণ অতিপ্রকৃত গুণসম্পন্ন ও চিৎশক্তির আশ্রয়স্থল এবং কারণ, "অবিচিন্ত‍্যশক্তিকত্বাৎ"।অদ্বৈতবেদান্তীরা যেখানে মায়ার অনির্বচনীয়তার বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন, সেখানে শ্রীজীব গোস্বামী,বলদেব বিদ‍্যাভূষণ এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণবাচার্য‍্যেরা শক্তি অবিচিন্ত‍্য (অচিন্ত‍্য) বলে তার আর স্বরূপ বিশ্লেষণ করেন নি। অবশ‍্য গৌড়ীয় বৈষ্ণবদর্শন সম্পূর্ণভাবে অচিন্ত‍্যভেদাভেদতত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং বৈষ্ণব পদাবলীকীর্তনের তত্ত্ব এবং আদর্শও ঐ বাদ ও তত্ত্বের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত।*
*🍀অচিন্ত‍্যভেদাভেদবাদ-সম্পর্কে শ্রীজীব গোস্বামী "সর্বসম্বাদিনী" গ্রন্থে বলেছেন, "অপরে তু তর্কাপ্রতিষ্ঠানাৎ" (ব্রহ্ম সূত্র ২|১|১১) ভেদেহপ‍্যভেদেহপি নির্মার্য‍্যাদদোষসন্ততিদর্শনেন ভিন্নতয়া চিন্তয়িতুমশক‍্যত্বাদভেদং সাধয়ন্তঃ তদ্বদভিন্নতয়াপি চিন্তয়িতুমশত্বাদ্ভেদসাধয়ন্তোহচিন্ত‍্যভেদাভেদবাদং স্বীকুর্বন্তি"। অর্থ‍্যাৎ শ্রীজীব গোস্বামী বলেছেন--, অন‍্য এক সম্প্রদায়ের বেদান্তীরা বলেন, তর্কের অপ্রতিষ্ঠার জন্য ভেদেও এবং অভেদেও নিখিল(সমস্ত) দোষগুলি দর্শন করে ভিন্নত-রূপে চিন্তা করা অসম্ভব। সেজন‍্য যেমন ভেদসাধন করা কঠিন,তেমনি অভিন্নভাবে চিন্তা করে অভেদসাধন করাও দুষ্কর।এভাবে ভেদাভেদ উভয়ই সাধন করতে গিয়ে এঁরা ভেদাভেদসাধনে চিন্তার অসামর্থতা উপলব্ধি করায় অচিন্ত‍্যভেদাভেদবাদ এভাবেই ব‍্যাখ‍্যা করেছেন।শ্রীজীব গোস্বামীপাদ ও বলদেব বিদ‍্যাভূষণকে শ্রীমধ্ব ও শ্রীবল্লভেরই একটি নবীন সংস্করণ বলা যায়।আচার্য‍্য বল্লভাচার্য‍্যও শ্রীজীব-গোস্বামী ও বলদেবের মত স্বীকার করেন যে, মুক্তির আদর্শ নিত‍্যবৃন্দাবনে পতিভাবে শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্য সেবা ও আরাধনা করা উচিৎ।সেই নিত‍্য বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণভগবান পুরুষোত্তম-রূপে অতীন্দ্রিয় অক্ষর জ‍্যোতির্ময় নিরাকার ব্রহ্মকেও অতিক্রম করে বতর্মান। মাধ্বাচার্য‍্য মুক্তির প্রসঙ্গে একটু আলাদাভাবে বলেছেন--, "মুক্তির্নৈজসুখানুভূতিরমলা, ভক্তিশ্চং তৎসাধনম্,হ‍্যক্ষরাদি ত্রিতয়ং প্রমাণমলিলাম্নায়য়ৈকবেদ‍্যো হরিঃ"। বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের প্রাণকেন্দ্র পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণ ও প্রকৃতি শ্রীরাধার অপ্রাকৃত ও অপার্থিব লীলাকেই বিভিন্ন পালায় বা লীলাকর্মে বিভক্ত করে রসে,রূপে ও ভাবে বৈষ্ণব মহাজন বা পদকর্তাগণ কীর্তনের পদাবলী রচনা করেছেন ও শ্রীকৃষ্ণ-রাধার মহিমা বর্ণনা করেছেন শাশ্বত মুক্তিরসধারা আস্বাদনের জন্য।আগেই উল্লেখ করেছি যে, এ গ্রন্থের পরবর্তী ভাগে "পদাবলীকীর্তনে দর্শনতত্ত্ব" বিষয়বস্তুর আলোচনার সময়ে সম্পূর্ণভাবে বৈষ্ণবদর্শনে ও কীর্তনগানে প্রকৃত তত্ত্বদৃষ্টি সম্পর্কে অনুশীলন করার চেষ্টা করব।বর্তমান আলোচনা তার আভাস মাত্র।*

*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*বৈঃপঃকীর্তনের প্রাণতত্ত্ব*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆

*🍀কবি জয়দেবের পরবর্তীকালে পদাবলীকীর্তনের রূপবিকাশ নিয়ে অনুশীলন করলে দেখি যে,বৈষ্ণবসমাজে ও বৈষ্ণবসাধনতত্ত্বে বিশেষভাবে পদাবলীকীর্তনের উপাদান-সংবলিত জীবনরস সঞ্চার করেছিলেন বড়ু চন্ডীদাস ("চন্ডীদাস" নামধেয় ব‍্যক্তির আবির্ভাব বৈষ্ণবসমাজে বেশ কয়েকজন, যেমন অনন্ত-বড়ু চন্ডীদাস, দ্বিজ চন্ডীদাস, দীন চন্ডীদাস প্রভৃতি।এ'সম্বন্ধে পরে আলোচিত হবে)।চন্ডীদাস ও মৈথিলী কবি বিদ‍্যাপতি প্রভৃতি মরমিয়া বৈষ্ণব-মহাজনগণ।কবি জয়দেবের পদসাহিত‍্য ও পদলালিত‍্য আলোচনার পর আমাদের অনুশীলনের বিষয়বস্তু হবে বড়ু চন্ডীদাস ও অনন্ত-বড়ু চন্ডীদাসের পদরচনাশৈলী ও পদমাধুর্য‍্য। কিন্তু বড়ু চন্ডীদাসের পদসাহিত‍্য প্রসঙ্গ আলোচনা করার আগে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হবে বাংলাদেশে বৈষ্ণবধর্মের অনুপ্রবেশ ও তা কিভাবে ঘটেছিল।*
*🌻বৈষ্ণবধর্ম যে বহির্দেশ থেকে বাংলার মাটিতে তার আসন প্রতিষ্ঠা করেনি একথা অধিকাংশ ঐতিহাসিক স্বীকার করেন। তারপর একথাও স্বীকার্য‍্য যে, ভক্তিভাব পত্তনের তিনটি প্রধান ও প্রয়োজনীয় সূত্র হ'ল--, (i) Vasudeva-krishna-worship, dating from the pre-Christian centuries. (ii) Gopa Krishna-worship, based on honey and cattle around ; and (iii)Lokanatha-worship of Bengal Buddhism, which laid particular emphasis on all-round non-violence and compassion for living beings and on the attitude of perfect surrender to divine dispension.☆ ☆ sufi mysticism also contributed msterially to its development. (Ct. Dr. Sukumar Sen ; History of Bengal Literature (New Delhi,1960),page=82)।*
*🌹ঠিক এ'ধরণের ভক্তির ভাব ও প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছিল সমগ্র উত্তর-ভারতে খ্রীষ্টীয় ১৫শ শতকে এবং সে সৃষ্টির কেন্দ্রমণি ছিলেন দুইজন ধর্মমনীষী--শ্রীপাদরামানন্দ স্বামী ও শ্রীপাদ মাধবেন্দ্র পুরী।বারাণসী, সিন্ধু-পাঞ্জাব এবং মথুরা-বৃন্দাবন ছিল সেই প্রবাহসৃষ্টির উর্বর ক্ষেত্র। কিন্তু খ্রীষ্টীয় ১২শতকে সেন-রাজাদের সময়েই বাংলার সমাজে পাই বৈষ্ণবধর্মের এক নবচেতনার ইঙ্গিত।পাল-রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ-তান্ত্রিকধর্মের উপাসক ও সমর্থক।লামা তারানাথের "ভারতের ইতিহাস" সাক্ষ‍্য দেয় যে, পাল-রাজাদের সময়ে বৌদ্ধ মন্ত্র বজ্রাচার্য‍্যের আবির্ভাব ঘটেছিল অলৌকিক সিদ্ধাই বা সাধন-বিভূতির ঐশ্বর্য‍্য নিয়ে এবং সে সময়েই প্রতিষ্ঠিত হয় প্রসিদ্ধ নালন্দা,বিক্রমশীলা,জগদ্দল, সোমপুরী,পান্ডুভূমি প্রভৃতি বৌদ্ধ বিশ্ববিদ‍্যালয় ও গ্রন্থাগারগুলি। এমন কি পাল-রাজাদের শাসনকালে দেখি,বৌদ্ধধর্ম আত্মসাৎ করেছিল বহু হিন্দুদেবী, এবং বৌদ্ধ ও শৈবদের মধ্যেও চলেছিল এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী দ্বন্দ্ব-মিলনের ভাব। কিন্তু রাজা বল্লালসেন ও লক্ষ্মণসেনের সময়ে বাংলাদেশে হিন্দুধর্মের মধ্যে এল আবার এক নবজাগরণ।বৈষ্ণবধর্মকে তাঁরা গ্রহণ করলেন এবং ব্রাহ্মণ‍্য-ধর্ম, ব্রাহ্মণ‍্য-দর্শন ও ব্রাহ্মণ‍্য-সাহিত‍্যের হল পুনঃপ্রতিষ্ঠা।তবে একথাও সত‍্য যে,পাল-রাজারা বৌদ্ধধর্মের পরিপোষক হলেও হিন্দুধর্ম ও অন‍্যান‍্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী ছিলেন না।তার ফলে সম্ভবত সেন-রাজাদের সময়েই বৈষ্ণবধর্মের পুনঃপ্রবর্তন হয়েছিল বাংলাদেশে।তাছাড়া ভবদেব-ভট্ট ছিলেন একান্তভাবে বৌদ্ধবিদ্বেষী এবং তারই জন্য ব্রাহ্মণ‍্যধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ব্রাহ্মণ‍্যধর্মের শাস্ত্রও রচনা করেছিলেন তিনি।রাজা বল্লানসেন ও লক্ষ্মণসেনের সময়ে রচিত হয়েছিল হিন্দুধর্মের স্বার্থপরিপোষক অনেক গান ও ছড়া, রাধাকৃষ্ণ-লীলাগান এবং গোপীচাঁদ,লাউসেন,লক্ষ্মীন্দ্র, শ্রীমন্ত-সদিগর ও কালকেতু প্রভৃতি রাজার প্রবাদ ও কাহিনী সাহিত‍্য।আগেই উল্লিখিত হয়েছে যে,পাহাড়পুরে আবিস্কৃত রাধাকৃষ্ণের মূর্তি প্রভৃতি প্রাচীন যুগে বাংলাদেশে বৈষ্ণবধর্মের অনুপ্রবেশের কথা প্রমাণ করে। দ্বাদশ শতকর শেষদিকে কবি জয়দেব যে গীতগোবিন্দে রাধা-কৃষ্ণের প্রাকৃত-অপ্রাকৃত এই উভয় প্রেমলীলার পরিচয় দিয়েছেন তা থেকেও প্রমাণ হয়,বৈষ্ণবধর্মের ভক্তি-জাহ্নবীধারা স্বতঃপ্রবাহিত ছিল দ্বাদশ-এয়োদশ শতকে বাংলাদেশের বুকে।তারপর অনন্ত-বড়ু চন্ডীদাস ও কবি বিদ‍্যাপতির আবির্ভাবে রাধাকৃষ্ণ লীলাবিষয়ক যে পদামৃতধারার স্রোত প্রবাহিত হয়েছিল তা থেকেও বাংলায় বৈষ্ণবধর্মের প্রতিষ্ঠার কথা প্রমাণ হয়। শ্রীচৈতন‍্য,নিত‍্যানন্দ,অদ্বৈত আচার্য‍্য এ চৈতন‍্যপরিকরদের অপ্রাকৃত প্রেম-ভক্তির বন‍্যা বাংলার বৈষ্ণবধর্মকে আবার নতূন ধারায় প্রবাহিত করেছিল ১৫শ-২৬শ শতকের পরে বাংলাদেশে।*
*🍀কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, শ্রীচৈতন‍্যের পূর্বে বাংলায় বৈষ্ণবধর্মের প্রবাহ ও গতিবেগ উচ্ছ্বল ও প্রখর ছিল না।কবি জয়দেব যে রাধাকৃষ্ণলীলাসচ্ছল গীতগোবিন্দগান রচনা করেছিলেন তা থেকেও প্রমাণ হয় যে,তাঁর সময়ে ও পূর্বে বাংলার সজল মাটিতে যে বৈষ্ণবধর্মধারা প্রবাহিত ছিল,তারই প্রেরণায় কবি জয়দেবের ভক্তি-উৎসারিত লেখনী গীতগোবিন্দের মাধ‍্যমে রাধাকৃষ্ণ লীলাতত্ত্ব বর্ণনা করেছিলেন সাবলীল ছন্দে। বঙ্গভূমে আবিস্কৃত বিচিত্র লেখমালা থেকেও প্রমাণ হয় যে,বিষ্ণুর উপাসকরা রাঢ়দেশে চতুর্থ-পঞ্চম খ্রীষ্টীয় শতকেও বিশেষভাবে প্রচলিত ছিলেন। আচারাঙ্গসূত্র,মহাবংশ,পবনদূত, দিগ্বিজয়প্রকাশ,দশকুমারচরিত ও অন‍্যান‍্য গ্রন্থে রাঢ়দেশ তথা সুহ্মের বর্ণনা আছে।রাঢ়দেশ বাংলার আদিবাসীপ্রধান দেশ এবং পন্ডিতদের মতে, আর্য‍্যসভ‍্যতার বিকাশ হয় বাংলায় পরবর্তী সময়ে।কবি ধোয়ী "পবনদূত" গ্রন্থে লিখেছেন--*
*গঙ্গাবীচিপ্লুতপরিসরঃ সৌধমালাবতংসো।*
*বাস‍্যতুচ্চৈস্তয়ি রসময়ো বিষ্ময়ং সুহ্মদেশঃ।।*
*🌻গঙ্গার জলপ্রবাহের দ্বারা প্লাবিত যে বিস্তীর্ণ দেশের অংশ তারই নাম সুহ্মদেশ। "দিগ্বিজয়প্রকাশ"গ্রন্থে সুহ্মের বর্ণনা একটু আলাদা ধরণের---*
*🌷গৌড়স‍্য পশ্চিমে ভাগে বীরদেশস‍্য পূর্বতঃ।*
*🌷দামোদরোত্তরে ভাগে সুহ্মদেশঃ প্রকীর্তিতঃ।।*
*🌻গৌড়দেশের পশ্চিম,বীরদেশে পূর্ব ও দামোদরের উত্তরদেশ সুহ্ম নামে কথিত।(অধ‍্যাপক শ্রীবিনয় ঘোষ, "পশ্চিবঙ্গের সংস্কৃতি" (১৯৫৭) পৃষ্ঠা=৬৮-৬৯ দ্রষ্টব‍্য)। অধ‍্যাপক শ্রীবিনয় ঘোষ লিখেছেন--, "সমস্ত বর্ণনা লক্ষ্য করলে দেখা যায়,বর্তমান হুগলীজেলাকেই প্রাচীন সুহ্মদেশ বা রাঢ়দেশের কেন্দ্র বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং তার সীমানা থেকে বীরভূম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল মনে হয়।*
*🏵বাংলার বুকে রাঢ়দেশে বা সুহ্মে চতুর্থ-পঞ্চম খ্রীষ্টীয় শতকে বিষ্ণুপূজার ও বৈষ্ণবধর্মের যথেষ্ট প্রচলন ছিল সেকথা আগেই বলেছি।"বাঁকুড়া শহরের প্রায় বারো মাইল উত্তর-পশ্চিমে শুশুনিয়া-পাহাড়ের গুহাপ্রাচীরের একটি লিপিতে দেখা গেছে যে, পুষ্করণার অধিপতি ছিলেন রাজা চন্দ্রবর্মা। ☆ ☆ রাজা চন্দ্রবর্মা চক্রস্বামী বিষ্ণুর উপাসক। সুতরাং বিষ্ণুর উপাসনা রাঢ়দেশে চতুর্থ-পঞ্চম খ্রীষ্টাব্দ থেকে যে প্রবর্তিত হয়েছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাছাড়া বিষ্ণুমূর্তি এত প্রচুর পরিমাণে পাওয়া গেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যে,চৈতন‍্যপূর্ব যুগেও যে বিষ্ণুভক্ত বৈষ্ণবদের বেশ আধিপত্য ছিল তা পরিস্কার বোঝা যায়। বিষ্ণুর শিলামূর্তি ও দশাবতারের পূজা আগে থেকেই বাংলাদেশে চলে আসছিল।পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষদিকে মাধবেন্দ্রপুরী ও তাঁর শিষ‍্যগণ গোপাল-মূর্তির পূজা প্রচলন করেন।(পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি, পৃষ্ঠা ৮৫)।পালরাজাও সেন রাজাদের সময়ে বাংলায় শৈবধর্মের পাশাপাশি বৈষ্ণবধর্মের প্রচলনের কথা আগেই আলোচনা করেছি।*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত ও শ্রীব্রহ্মসংহিতা।*

*🍀খ্রীষ্টীয় নবম-একাদশ শতকের বৌদ্ধ-চর্যাগীতি ও ১২ শতকের শেষভাগে "গীতগোবিন্দ" পদগান বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের পাদপীঠ ও উৎসস্বরূপ।গবেষকদের মতে এগারশ শতক অথবা তেরশ শতকের প্রথমভাগে লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গল ঠাকুর "শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত" গ্রন্থ রচনা করেন এবং বহু মনীষীর অভিমতও যে,কবি জয়দেবের 'গীতগোবিন্দ' রচনা প্রত‍্যক্ষভাবে শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের এবং পরোক্ষভাবে শ্রীব্রহ্মসংহিতার পদমাধুর্য‍্যের নিকট ঋণী।খ্রীষ্টীয় ১৫১০-১৫১১ শতকে দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণকালে শ্রীচৈতন‍্যদেব সেখানকার ভক্ত-সাধকগণের মুখে ঐ দুইটি গ্রন্থের আবৃত্তি শুনে ভাবমুগ্ধ হন এবং পুরীধামে ফিরে আসবার সময় ঐ দুইটির গ্রন্থের সামান্য অংশ মাত্র সঙ্গে এনেছিলেন।আগেই উল্লেখ করেছি যে,শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের মত গ্রন্থ তিনি পুরীধামে গম্ভীরার নিভৃত কক্ষে ব্রহ্মসংহিতারও আবৃত্তি শুনে ও রসাস্বাদন করে মহাপ্রভু মহাভাবে অভিভূত হতেন।তাই পদাবলীকীর্তনের আলোচনায় শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত ও শ্রীব্রহ্মসংহিতার পদমাধুর্য‍্য নিয়ে অনুশীলন করাকে অবশ‍্য কর্তব‍্য বলে মনে করি।*
      *🌻এক, শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত🌻*
*🍀লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের আবির্ভাবকাল নিয়ে যথেষ্ট মতভেদ থাকলেও ভক্তিশাস্ত্রে পারগ ডক্টর বিমান বিহারী মজুমদার লিখেছেন--, বিল্বমঙ্গল ঠাকুর এয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে খ‍্যাতি লাভ করেন,তার কিছু পূর্বে হয়তো তিনি প্রাদুর্ভূত হয়েছিলেন।( শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতম্, ডঃ মজুমদার সম্পাদিত (জিজ্ঞাসা, ১৯৬৬), ভূমিকা পৃঃ-৯০)*
*🍀কেউ কেউ বিল্বমঙ্গলকে খ্রীষ্টীয় নবম শতাব্দীর (মমঃ রামকৃষ্ণ কবি) ও ১১শ শতকের ( ডক্টর উইন্টার নিজ) কবি বলেছেন, কিন্তু ডক্টর মজুমদারের মত আমরাও বলি, ১২০৬ খ্রীষ্টাব্দে শ্রীধরদাস "সদুক্তিকর্ণামৃত"-কাব‍্য বা সংকলনগ্রন্থ রচনা করে ২৩৭০টি শ্লোক ও ৪৮৫ জন কবির নাম উল্লেখ করেছেন। সুতরাং ডক্টর উইন্টারনিজের মতে বিল্বমঙ্গলের আবির্ভাব যদি এগার শতকে হয়,তবে সদুক্তকর্ণামৃতে অবশ্যই তাঁর ও তাঁর সংস্কৃত কবিতার উল্লেখ থাকত।সেজন‍্য নানান কারণে আমরা লীলাশুককে তের শতকের প্রথমভাগের কবি বলে গ্রহণ করি।*
*সাধক লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গল-রচিত "শ্রীরামকৃষ্ণকর্ণামৃত" শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর বিশেষ আদরণীয় ও শ্রদ্ধার গ্রন্থ ছিল।আগেই উল্লেখ করেছি যে,পুরীতে গম্ভীরায় ভক্তগণের সঙ্গে তিনি নিভৃতে শ্রীজয়দেব-বিরচিত গীতগোবিন্দের পদ, চন্ডীদাস ও বিদ‍্যাপতির পদ ও রায় রামানন্দের "জগন্নাথ বল্লভ" নাটকের সঙ্গে সঙ্গে বিল্বমঙ্গল-রচিত শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের ভক্তিনিষ্ণাত পদ শুনতেন।ডক্টর বিমানবাবু লিখেছেন, শ্রীচৈতন‍্যমহাপ্রভু ১৪৩২-১৪৩৩ শকে অর্থ‍্যাৎ ১৫১০-১৫১২ খ্রীষ্টাব্দে দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণকালে কৃষ্ণবেন্বা নদীর নিকটে সাধক বিল্বমঙ্গল শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের আবৃত্তি শুনে চমৎকৃত হয়েছিলেন (চৈতন‍্যচরিতামৃতের ২|৯|২৭৬-৮০) এবং সেজন‍্য তিনি উহার প্রথম অধ‍্যায়,লহরী,আশ্বাস বা শতকের ১১২টি শ্লোক লিখিয়ে নিয়ে পুরীতে আনেন।চৈতন‍্যচরিতামৃতের ২|২|৬৬ পদে শ্রীচৈতন‍্যদেব যে শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত শুনতেন এবং তার উল্লেখ আছে।তাছাড়া শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী"সারঙ্গরঙ্গদা" টীকার প্রারম্ভে লিখেছেন, দাক্ষিণাত‍্যের কৃষ্ণবেন্বা নদীর পশ্চিমতীরে শ্রীবিল্বমঙ্গল নামে পন্ডিত কবীন্দ্র ব্রাহ্মণ বাস করতেন।কবি যদুনন্দন দাসও লিখেছেন,*
*🌷দাক্ষিণাত‍্য দেশে আছে কৃষ্ণবেন্বা-নদী।*
*🌷যাহার পশ্চিম পারে তাহার বসতি।।*
*🌷শ্রীবিল্গমঙ্গল নাম ব্রাহ্মণ পন্ডিত।প্রভৃতি।*
                    *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত ও শ্রীব্রহ্মসংহিতা,*

*🍀দাক্ষিণাত‍্যের পন্ডিতদের অনেকেরই ধারণা যে,বিল্বমঙ্গল ঠাকুর কেরালা প্রদেশের কবি। শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের সমগ্র শ্লোক প্রথমে পাওয়া যেত না।শোনা যায়,বৃন্দাবনে ও বাংলাদেশে মাত্র প্রথম শতকের ১১২টি শ্লোকের আবৃত্তি।শ্রীচৈতন‍্যদেবই দক্ষিণদেশ থেকে শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের ১১২টি শ্লোক শ্রীপুরীধামে নিয়ে এসেছিলেন। তাছাড়া তিনি ১০০ অধ‍্যায়ে সম্পূর্ণ "ব্রহ্মসংহিতা" গ্রন্থের একটি মাত্র অধ‍্যায় শ্রীপুরীধামে সঙ্গে এনেছিলেন।তবে একথা স্বীকৃত যে,ব্রহ্মসংহিতা, গীতগোবিন্দ, কৃষ্ণকর্ণামৃত প্রভৃতি বৈষ্ণবদের আকরগ্রন্থ পরবর্তী পদাবলীকীর্তনের কাব‍্যদেহে ও সর্বোপরি পদাবলীকীর্তনের অপার্থিব রসতত্ত্ব ও ভাবতত্ত্ব এবং মধুর জীবনতত্ত্বের সৃষ্টিক্ষেত্রে প্রাণ সঞ্চার করেছিল।*
*🍀কথিত আছে যে,লীলাশুক "পুরুষকারম্", "কৃষ্ণলীলাবিনোদ", ও "গোবিন্দাভিষেক" নামে আরো তিনটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।তার মধ্যে "পুরুষাকারম্" নিছক ব‍্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ এবং "কৃষ্ণলীলাবিনোদ" মহারাজ ভোজ-কৃত সরস্বতীকন্ঠাভরণের টীকা ও "গোবিন্দাভিষেক" মনীষী বররুচি-কৃত "প্রাকৃতব‍্যাকরণ" গ্রন্থের টীকা। মনে হয় এই তিনটি গ্রন্থই ব‍্যাকরণশাস্ত্র-সম্পর্কে লিখিত,(শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতম্" গ্রন্থের ভূমিকা(ডঃ বিমানবিহারী মজুমদার লিখিত),পৃঃ--৯০ দ্রষ্টব‍্য)।ডক্টর মজুমদার লিখেছেন,লীলাশুকের রচনা বলে আরও যে গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়, "অভিনবকৌস্তুভমাল‍্য" (ত্রিবান্দম-সংস্কৃত গ্রন্থমালার দ্বিতীয় গ্রন্থ ) ও "কালবধম্" (কেরালা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের ১১৯ সংখ্যক গ্রন্থ ) অন‍্যতম।এ'দুটি গ্রন্থেও নাকি লীলাশুক গোপসখাদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের লীলামাধুর্য‍্য কাহিনী বর্ণনা করেছেন।(লীলাশুক রচিত অন‍্যান‍্য গ্রন্থগুলির প্রামাণ্য সম্পর্কে অবশ‍্য আরও গবেষণার প্রয়োজন ), তাছাড়া লীলাশুকের রচিত বলে যে কয়টি স্তবমালার প্রচলন আছে তাদের মধ্যে দূর্গাস্তুতি,দক্ষিণামূর্ত্তিস্তবম্, বালকৃষ্ণস্তবম্,বালগোপারস্তুতি,গণপতিস্তোত্রম্, রামচন্দ্রাষ্টকম্,বৃন্দাবনস্তোত্রম্, নৃসিংহনবরত্নস্তোত্রম্, মহিকালাষ্টকম্, শ্রীকৃষ্ণবরদাষ্টকম্, অনুভবাষ্টকম্ প্রভৃতি স্তব অন‍্যতম।*
*বিল্বমঙ্গল ঠাকুর সাধক ও উদার দৃষ্টিসম্পন্ন ভগবদ্ভক্ত ছিলেন, সুতরাং তাঁর পক্ষে গোপাল বা বালগোপাল প্রভৃতি শ্রীকৃষ্ণস্তব ছাড়াও শিব,গণপতি প্রভৃতি দৈবী ও দেবতার উদ্দেশ্যে স্তব রচনা করা অসম্ভব নয়।শোনা যায়,শ্রীচৈতন‍্যমহাপ্রভু দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণকালে শিব,দূর্গা,পার্বতী প্রভৃতি মন্দিরেও প্রণাম করতেন, যেমন আচার্য‍্য শঙ্কর অদ্বৈতবাদী হলেও বিভিন্ন দেবদেবীর স্তোত্র রচনা করে তাঁর অন্তরের ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।*
*বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ছিলেন পরমভক্ত ও শ্রীকৃষ্ণের সাধক। মনে হয়,তিনি সহজিয়ামতে অধ‍্যাত্মসাধনার অনুষ্ঠান করতেন এবং চিন্তামণি বারবনিতাকে শক্তিরূপে গ্রহণ তার সাক্ষ‍্য দান করে।সোমগিরি নামক একজন সাধকের তিনি শিষ‍্যত্ব বরণ করেন।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদকৃষ্ণদাস কবিরাজ এইকথা স্বীকার করেছেন। তিনি প্রথম পরিচ্ছেদে আদিলীলায় শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের প্রথম শ্লোক উদ্ধৃত করে চিন্তামণি ও গুরু সোমগিরিকে প্রণাম করেছেন গ্রন্থ রচনাসূচনায়---*
*তথা শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতে প্রথম শ্লোকে------*
*🌷চিন্তামণির্জয়তি সোমগিরির্গুরুর্মে,*
*🌷শিক্ষাগুরুশ্চ ভগবান শিখিপিঞ্জমৌলিঃ।*
*🌷যৎপাদকল্পতরু পল্লবশেখরেষু,*
*🌷লীলাস্বয়ংবরস‍্যং লভতে জয়শ্রীঃ।।*
*🌻বিল্বমঙ্গলশক্তি সাধিকা চিন্তামণি ও গুরু সোমগিরি যে বৈষ্ণব-সাধক-সমাজেও চিরবরেণ‍্য তা জানা যায়।*
*🍀অনেকে "চিন্তামণি" ও "সোমগিরি" শব্দগুলির ব‍্যাখ‍্যা ভিন্নভাবে করেছেন। যেমন, শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের বসন্ততিলক ছন্দে লীলাশুক যেখানে চিন্তামণি ও আচার্য‍্য সোমগিরির বন্দনা বা নামোল্লেখ করেছেন, সেখানে টীকাকার গোপালভট্ট বলেছেন, "চিন্তামণিঃ সোমগিরিঃ মে গুরুঃ শিক্ষাগুরুশ্চ", প্রভৃতি,কিংবা চৈতন‍্যদাস ও কৃষ্ণদাস কবিরাজ বলেছেন, "চিন্তামণিঃ সোমগিরিনামা মে গুরুঃ জয়তি" প্রভৃতি। এখানে শ্রদ্ধেয় গোপালভট্টের টীকা-অনুসারে শ্রীকৃষ্ণ-ভগবানকেই চিন্তামণি ও সোমগিরি-রূপ বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে এবং চৈতন‍্যদাস ও শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর টীকা-অনুসারে দীক্ষাগুরু সোমগিরির বিশেষণ-রূপে ব‍্যবহৃত হয়েছে চিন্তামণি।তাছাড়া অনেক টীকাকার ও এমনকি গোপালভট্টও "সোমগিরি" শব্দের ব‍্যাখ‍্যা করেছেন সোমগিরি বা অমৃতের গিরি, কিংবা উমার সঙ্গে বতর্মান থাকেন যিনি মহেশ বা দেবাদিদেব মহাদেব তিনিই, গিরির মত প্রতীয়মান। কিন্তু ডক্টর বিমানবিসারী মজুমদার শ্রীপাদকৃষ্ণদাস গোস্বামীর "সারঙ্গরঙ্গদা"-টীকা উল্লেখ করে গোস্বামীর মন্তব‍্য সম্পর্কে বলেছেন, "ইতি গুরুপরম্পরাগতা সার্বলৌকিকী প্রসিদ্ধিরিতিঃ"। কিন্তু সোমগিরি প্রকৃতপক্ষে আচার্য‍্য শঙ্করের সম্প্রদায়ভুক্ত সন্ন‍্যাসী ছিলেন এবং বৃন্দাবনের বিদগ্ধ বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণ সোমগিরি সন্ন‍্যাসী হয়েও যে লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গলের দীক্ষাগুরু ছিলেন তার যৌক্তিকতা স্বীকার করেন।*
                    *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত ও শ্রীব্রহ্মসংহিতা।*

*🍀সোমগিরির দৃষ্টিতে নাকি পরব্রহ্ম ও শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে কোন ভেদ ছিল না।ডক্টর মজুমদার ঐ সম্বন্ধে মন্তব‍্য করেছেন, "কিন্তু গৌড়ীয়-বৈষ্ণবধর্মের মূল স্তম্ভ শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী ও তাঁর শিষ্য শ্রীঈশ্বরপুরী এবং শ্রীরঙ্গপুরীরও "পুরী" উপনাম দেখা যায়। "বৃহৎশঙ্করদিগ্বিজয়" গ্রন্থ হতে "শব্দকল্পদ্রুম" পুরীর লক্ষণ দিয়েছে।*
*🌷জ্ঞানরত্নেন সম্পূর্ণং পূর্ণতত্ত্বপথস্থিতিঃ।*
*🌷পরব্রহ্মরতো নিত‍্যং পুরীনামা স উপতে।।*
*🌻সুতরাং সোমগিরির ঐতিহাসিক সত্তা ও এমন কি সহজিয়ামতে সাধনার সহায়স্বরূপ বারবণিতা চিন্তামণির বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোন সার্থকতা নেই। যদুনন্দন দাস তাঁর পদ‍্যব‍্যাখ‍্যায় এ'সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন--*
*🌷সেই নদীর পূর্বদিকে বেশ‍্যার বসতি।*
*🌷চিন্তামণি তাঁর নাম সুন্দরী যুবতী।।*
*🌷বড়ই আসক্তি তাঁর সেই বেশ‍্যা সনে।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷প্রাতে উঠি বেশ‍্যা পায়ে কৈল নতি স্তুতি।*
*🌷সেই পথে বলি গেলা সেই নদীতীরে।।*
*🌷বৈষ্ণব আছেন যথা সোমগিরিবরে।।*
*🌻🌻নদী=কৃষ্ণবেন্বা নদী*

*🏵বৈষ্ণব-কবি যদুনন্দন সোমগিরিকে "বৈষ্ণব" আখ‍্যা দিয়েছেন, কেননা সাধক সোমগিরি সন্ন‍্যাসী হয়েও পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণ-ভগবানের একান্ত অনুরাগী ছিলেন। মনে হয়,যদুনন্দন দাসের ব‍্যাখ‍্যা ও "ভক্তমাল" গ্রন্থকে অবলম্বন করেই শ্রীরামকৃষ্ণভক্ত গিরিশচন্দ্র ঘোষ তাঁর "বিল্বমঙ্গল" নাটকে সোমগিরি ও চিন্তামণির জীবন চরিত্র অঙ্কন করেছিলেন।তবে "গিরিশ-প্রতিভা" গ্রন্থে নাট‍্যসমালোচক হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ লিখেছেন--, "ভক্তমাল-গ্রন্থ" অবলম্বনে এই (বিল্বমঙ্গল)নাটকখানি রচিত। চিন্তামণি বারবণিতা হয়েও বিল্বমঙ্গলের গুরুস্থানীয়া ছিলেন এজন‍্য যে, তিনি বিল্বমঙ্গলকে অধ‍্যাত্মপথের সন্ধান দিয়েছিলেন।যদুনন্দনদাস এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করে লিখেছেন--*
*🌷এমন আসক্তি যদি জন্মে কৃষ্ণ লাগি।*
*🌷তবে কিবা লাভ নহে কৃষ্ণ-অনুরাগী।।*

*🌻চিন্তামণির ভর্ৎসনাই বিল্বমঙ্গলের পক্ষে কৃষ্ণভক্তি লাভের পথে প্রেরণা ও আশীর্বাদ।তাছাড়া ভক্ত গিরিশচন্দ্র ঘোষ তাঁর "বিল্বমঙ্গল" নাটকে সোমগিরির চরিত্র অঙ্কনের পেছনে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পরম আদর্শকেই রূপায়িত করেছেন, যা বিল্বমঙ্গলচরিত্র এবং ও ঐ নাটকের একটি দিক। সোমগিরির সমাধিভাবস্নিগ্ধ ভাব বা অবস্থা ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণদেবের দিব‍্যাবস্থা ও দিব‍্যভাবেরই হুবহু অনুকরণ বা রূপায়ণ।*
*🌺নাট‍্যসম্রাট গিরিশচন্দ্র ঘোষ তাঁর "বিল্বমঙ্গল" নাটকে চিন্তামণি,সোমগিরি ও পাগলিনীর ভূমিকাকে কীভাবে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের দিব‍্যভাবরসে সিঞ্চিত করেছেন তার সামান্য নিদর্শন সুপন্ডিত হেমেন্দ্রপ্রসাদ দাসগুপ্ত-প্রণীত "গিরিশ-প্রতিভা" (১৩৩৫) গ্রন্থ থেকে নিদর্শন দেন,যা পদাবলীকীর্তনের আলোচনায় মোটেই অবাস্তব না হয়ে বরং শোভনীয় হবে বলে মনে করি। নাট‍্যসমালোচক হেমেন্দ্রপ্রসাদ দাসগুপ্ত "বিল্বমঙ্গল" নাটক প্রসঙ্গে লিখেছেন, "সোমগিরি রামকৃষ্ণদেবের সাধন-উন্মাদ অবস্থা যেমন পাগলিনীচরিত্রে পরিস্ফুট,তাঁর অসাধারণ গুরুভাবও সেইরকম সোমগিরিতে প্রকটিত"।ধীর,শান্ত, কারুণিক গুরুরূপে রামকৃষ্ণদেব যেরকম গুণ-নির্বিশেষে শিষ‍্যগণের সংশয় ভঞ্জন করতেন,সোমগিরি-চরিত্রেও সেই আদর্শ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত। সোমগিরি-সম্বন্ধে "ভক্তমাল" গ্রন্থে সামান্যমাত্র উল্লেখ দেখা যায়। ভক্তমাল-গ্রন্থকার লিখেছেন---*
*🌷সর্বত‍্যাগ করি রামচন্দ্রের চরণ।*
*🌷আশ্রয় করিয়া কৈল একান্ত শরণ।।*
*🌻"বিল্বমঙ্গল" নাটকে গিরিশচন্দ্র একাধারে শান্ত,দাস‍্য, সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও মধুর, এ সব রসের সমন্বয়ই ঘটিয়েছেন, যা প্রেমসাধনার চরম-আদর্শ। পদাবলীকীর্তনেও এ সব রসের চরমবিকাশ লক্ষ্য করা যায় এবং বৈষ্ণবপদকর্তাগণ পদ-রচনায় ও সুর-যোজনায় সে সব রসের পরাকাষ্ঠা সাধন করেছেন।*
*🌼এবার লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের "শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত" থেকে কাব‍্য ও রসলীলায়িত রচনা সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব। আলোচনা প্রসঙ্গে ১৬শ শতকে রচিত কয়েকটি টীকা ও ১৭শ শতকের কবি যদুনন্দনদাসের কবিতারও মাঝে মাঝে নিদর্শন দেব। যদুনন্দনদাস আসলে পদ‍্যানুবাদ করেছিলেন।*
*🌹কবি জয়দেব-রচিত "গীতগোবিন্দ" পদগানের রসলীলায়িত ও সংস্কৃতায়িত রচনা অনুশীলন করলে একান্তভাবে বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের সমগোত্রীয় শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের পদগানের কথায় মনে পড়ে। কবি জয়দেব যেমন বিভিন্ন ছন্দে গীতগোবিন্দের ভাবসম্পদযুক্ত শ্লোক রচনা করেছেন, বিল্বমঙ্গল তেমনি ১১২টি শ্লোকের অবতারণা করে বিচিত্র ছন্দের মাধুর্য‍্য সৃষ্টি করেছেন। শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতে ছন্দগুলির নাম বসন্ততিলক,শার্দুল-বিকীড়িত, কোকিলক,মঞ্জুভাষিণী, ঔপচ্ছন্দসিক,দ্রুতবিলম্বিত, চেচ্চরী,মালিনী,অনুষ্টুপ, ললিতগতি,পৃথ্বি,উপেন্দ্রবজ্রা, ইন্দ্রবজ্রা,বৈতালীয়, শিখরিণী বংশস্থবিল,হরিণী,আর্য‍্যা, প্রহর্ষিনী,শালিনী,উদ্ধতা,তোটক প্রভৃতি। ১৭শ শতকের বৈষ্ণবকবি ঘনশ‍্যাম-নরহরি চক্রবর্তী তাঁর ছন্দশাস্ত্র "ছন্দসমুদ্র" গ্রন্থেও অসংখ্য ছন্দের নাম উল্লেখ ও পরিচয় দিয়েছেন।*
                       *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত ও শ্রীব্রহ্মসংহিতা*

*🌻ডক্টর বাসন্তী চৌধুরী তাঁর "বাংলার বৈষ্ণবসমাজ", "সঙ্গীত ও সাহিত‍্য" (১৯৬৮) গ্রন্থের নবম অধ‍্যায়ে "ছন্দশাস্ত্রে নরহরির দান" শীর্ষক আলোচনায় ললিত প্রভৃতি ৮৩টি ছন্দের নাম ও মাত্রাভাগের উল্লেখ করেছেন।(ঐ গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ২৪৮--২৭৮ দ্রষ্টব‍্য)।অবশ‍্য পিঙ্গলাচার্য‍্যই প্রথমে ছন্দশাস্ত্রের প্রবর্তক। ঘনশ‍্যাম নরহরি চক্রবর্তী "গৌরচরিত্রচিন্তামণি" গ্রন্থে ৮৩ প্রকার ছন্দের উদাহরণ উপস্থাপন করেছেন ও তাদের মধ্যে ৪১ সংখ্যক দ্বিপথা ছন্দে (ঐ গ্রন্থে পৃঃ ২৫১)।*
*🍀বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের আলোচনার অপরিহার্য‍্য অঙ্গরূপে ঠাকুর বিল্বমঙ্গল-রচিত শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত ভক্তিগ্রন্থের অনুশীলন প্রসঙ্গে ছন্দগুলির পরিচয়---------*
*(১)বসন্ততিলক-ছন্দের প্রতি চরণে চোদ্দটি অক্ষর এবং আট অক্ষর ও ছয় অক্ষরের পর যতি।*
*(২)শার্দুলবিক্রীড়িত-ছন্দের প্রতি চরণে ১৯টি অক্ষর এবং ৮ অক্ষর ও ৬ অক্ষরের পর যতি।*
*(৩)উপেন্দ্রবজ্রা-ছন্দের প্রতিচরণে এগারটি অক্ষর এবং পাঁচ ও ছয় অক্ষরের পর যতি।*
*(৪)পৃথ্বি-ছন্দের প্রতিচরণে সতেরটি অক্ষর এবং আট ও নয় অক্ষরের পর যতি।*
*(৫)প্রহষিণী-ছন্দের প্রতিচরণে ১৩টি অক্ষর এবং তিন ও দশ অক্ষরের পর যতি।*
*(৬)বংশস্থবিল-ছন্দের প্রতিচরণে ১২টি অক্ষর এবং ছয় ও ছয় অক্ষরের পর যতি।*
*(৭)মালিনী-ছন্দের প্রতিচরণে ১৫টি অক্ষর এবং আট ও নয় অক্ষরের পর যতি। (হয়ত প্রিন্ট ভুল আছে)।*
*(৮)রূচিরা-ছন্দের প্রতিচরণে ১৩টি অক্ষর, এবং তিন ও নয় অক্ষরের পর যতি, (হয়ত প্রিন্ট ভুল আছে)।*
*(৯)শালিনী-ছন্দের প্রতিচরণে ১১টি অক্ষর, এবং চার ও সাত অক্ষরের পর যতি।*
*(১০)শিখরিণী-ছন্দের প্রতিচরণে সতেরটি অক্ষর এবং ছয় ও এগার অক্ষরের পর যতি।*
*(১১)হরিণা-ছন্দের প্রতিচরণে ১৭টি অক্ষর এবং ছয় অক্ষরের পর প্রথম যতি, চার অক্ষরের পর দ্বিতীয় যতি, এবং সাত অক্ষরের পর তৃতীয় যতি।*
*🏵শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও মহিমা বর্ণনায় ছন্দ ও ছন্দায়িত শ্লোকগুলি চিরমুখর। যেমন শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের অষ্টম শ্লোক---*
*🌷মদশিখন্ডিশিখন্ডবিভূষণং,*
*🌷মদনমন্থবমুগ্ধমুখাম্বুজম্।*
*🌷ব্রজবধূনয়নাঞ্জনরঞ্জিতং,*
*🌷বিজয়তাং মম বাঙ্ময়জীবিতম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যাঁর চূড়ায় ভূষণ মদমত্ত ময়ূরের পুচ্ছ,যাঁর মুখপদ্ম দর্শন করে মদনও মোহিত ও স্তব্ধ, ব্রজবধূদের নয়নের উজ্জ্বল কাজলে যাঁর মূরতি রঞ্জিত,এমন যে আমার কথার প্রাণস্বরূপ তাঁর জয় হোক।*
*🍀কিম্বা শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের ১৮শ শ্লোক--------*

*তরুণারুণকরুণাময়বিপুলায়তনয়নং,*
*কমলাকুচকলসীভরবিপুলীকৃতপুলকম্।*
*মুরলীরব-তরলীকৃত-মুনিমানসনলিনং,*
*মম খেলতু মদচেতসি মধুরাধরমমৃতম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যাঁর নয়নযুগল তরুণ,অরুণবর্ণ,করুণাময়, বিপুল ও আয়ত, কমলার কূচকলসস্পর্শে যাঁর অঙ্গ বিপুল পুলকে পুলকিত,যাঁর মুরলীরব শুনে মুনীমন কমলদলের মত দুলে ওঠে,তাঁর মধুর অধরস্থিত অমৃত আমার প্রেমোন্মত্ত চিত্তে খেলা করুক।*
*লীলাশুক-রচিত সংস্কৃত পদগুলিতে রচনার সাবলীলতা ও গতিশীলতার তুলনা নেই এবং সেগুলি কবি জয়দেবের কোন কোন রচনার সমগোত্রীয় বলা যায়,(অধিকাংশ পন্ডিতের অভিমত যে,শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দ বিল্বমঙ্গল-রচিত শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের নিকট ঋণী এবং এ' তথ‍্য সত‍্য বলেই মনে করি)।যেমন শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের ৫২ এবং ৫৩ সংখ্যক শ্লোক দুইটিতে স্বচ্ছল গতিভঙ্গিমা নিয়ে পদগুলি লীলায়িত----*

*করকমলদলকলিতললিততরবংশী-,*
*কলনিনদগলদমৃতঘনসরসি দেবে।*
*সহজরসভরভবিতদরহসিতবীথী-,*
*সততবহদধরমণিমধুরমণি লীয়ে।।৫২।।*

*কুসুমশরশরসমরকুপিতমদগোপী-,*
*কূচকলসঘুসৃণরসলসদুরসি দেবে।*
*মদমুদিতমৃদুহসিতমুষিতশশিশোভা-*
*মূহরধিকমুখকমলমধুরিমণি লীয়ে।।৫৩।।*

*🏵শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতে লীলাশুক তাঁর জীবন-সাধনার বা শ্রীকৃষ্ণপ্রেম-সাধনার ইতিকথা ও মর্ম্মকথারই পরিচয় দিয়েছেন এবং তাঁর রচিত শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত যে চিরদিন বিশ্বের ভক্ত-হৃদয়ে শান্তি ও সান্ত্বনার অমৃতধারা বর্ষণ করে শাশ্বত হয়ে থাকবে সে কথার পরিচয় তিনি নিজে দিয়ে বলেছেন----*

*লীলাশুকেন রচিতং তব কৃষ্ণদেব।*
*কর্ণামৃতং বহতু কল্পশতান্তরেহপি।।১১০।।*

*🌻ডক্টর বিমানবিহারী মজুমদার লিখেছেন--, দাক্ষিণাত‍্যের প্রবাদ ও লিখিত টীকা অনুসারে এই ১১০ শ্লোকে লীলাশুক তাঁর গুরু ঈশানদেব, মাতা নীবি বা নীলীদেবী ও পিতা দামোদরের উল্লেখ করেছেন---*

*ঈশানদেচচরণাভরণেন নীবি-*
*দামোদরস্থিরযশঃস্তবকোদ্ভবেন।*

*🌹গোপালভট্ট ও শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ দাক্ষিণাত‍্যের প্রবাদ বি টীকার অর্থই গ্রহণ করেছেন।*

*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
         *শ্রীব্রহ্ম--সংহিতা*

*শ্রীব্রহ্মসংহিতা-র একটি অধ‍্যায় অর্থ‍্যাৎ পঞ্চম অধ‍্যায় মিত্র বৈষ্ণব পদাবলীকীর্তনের আদি প্রবর্তক শ্রীচৈতন‍্যদেব দক্ষিণদেশ থেকে পুরীতে সঙ্গে এনেছিলেন পূর্বে সেকথার উল্লেখ করেছি। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে গোস্বামীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ লিখেছেন--*
*🌷ব্রহ্মসংহিতা কর্ণামৃত দুই পুঁথি পাইয়া।*
*🌷মহারত্ন পাই আইলা সঙ্গে লইয়া।।*
*🌷সিদ্ধান্তশাস্ত্র নাহি ব্রহ্মসংহিতা সমান।*
*🌷গোবিন্দ-মহিমা-জ্ঞানের পরমকারণ।।*
*🌷অল্প অক্ষরে কহে সিদ্ধান্ত অপার।*
*🌷সকল বৈষ্ণবশাস্ত্র মধ্যে অতিসার।।*
*🌹শ্রীমন্মহাপ্রভুর পার্ষদপ্রবর শ্রীজীব-গোস্বামী শ্রীব্রহ্মসংহিতার পঞ্চম অধ‍্যায়ের উপর "দিগ্ দর্শনী" নামে একটি জ্ঞানগর্ভ টীকা রচনা করেন। শ্রীব্রহ্মসংহিতার পঞ্চম অধ‍্যায় প্রথম শ্লোক হল---*
*ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।*
*অনাদিরাদি গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্।।*
*🌹শ্রীজীব গোস্বামীপাদ এর বিস্তৃত ব‍্যাখ‍্যায় সচ্চিদানন্দবিগ্রহ দেবকীনন্দন শ্রীকৃষ্ণের মহিমা কীর্তন করেছেন,(বৃন্দাবনবাসী রবীন্দ্রনাথ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় প্রকাশিত "শ্রীব্রহ্মসংহিতা" পৃঃ ১--৯ দ্রষ্টব‍্য)। তাছাড়া "সহস্রশীর্ষা পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপাৎ, সহস্রবাহূর্বিশ্বাত্মা সহস্রাংশ সহস্রঃ"(২১) বলে মহাবিষ্ণুরূপী শ্রীগোবিন্দের রূপবর্ণনা করেছেন ব্রহ্মসংহিতাকার।বিধাতা ব্রহ্মা শ্রীকেশবের মাধুর্য‍্যে আত্মহারা হয়ে যখন স্তব করেছেন তখন পদলালিত‍্য অপরূপ মাধুর্য‍্য নিয়ে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর স্তবে এবং সে পদমাধুর্য‍্যের সঙ্গে মধুরকোমলকান্ত গীতগোবিন্দের পদমাধুর্য‍্যের বেশ প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়। স্তব মাধুর্য‍্য হ'ল--*
*🌷চিন্তামণিপ্রকরসদ্মহু কল্পবৃক্ষ,*
*🌷লক্ষাবৃতেষু সুরভীরভিপালয়ন্তম্।*
*🌷লক্ষ্মীসহস্রশতসম্ভ্রমসেব‍্যমানম্,*
*🌷গোবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি।।২৯।।*
*🌷বেণুং ক্বণন্তমরবিন্দদলায়তাক্ষম্,*
*🌷বর্হাবতংসমসিতাম্বুদ সুন্দরাঙ্গম্।*
*🌷কন্দর্পকোটিকমনীয়বিশেষশোভম্,*
*🌷গোবিন্দমিদিপুরুষং তমহং ভজামি।।৩০।।*

*পরবর্তী অন‍্য ছন্দে রচিত পদ---*

*শ্রিয়ঃ কান্তাঃ কান্তঃ পরমপুরুষঃ কল্পতরবো।*
*দ্রুমা ভূমিশ্চিন্তামণিগণময়ী তোয়মমৃতম্।।*
*কথা গানং নাট‍্যং গমনমপি বংশী প্রিয়সখি।*
*চিদানন্দং জ‍্যোতিঃ পরমপি তদাস্বাদ‍্যমপি চ।।*
*স যত্র ক্ষীরাব্ধিঃ সরতি সুরভীভ‍্যশ্চ সুমহান্।*
*নিমেষার্দ্ধাখ‍্যো বা ব্রজতি নহি যত্রাপি সময়ঃ।।*
*ভজে শ্বেতদ্বীপং তমহমিহ গোলকমিতি যম্।*
*বিদন্তস্তে সন্তঃ ক্ষিতিবিরলচারাঃ কতিপয়েঃ।।৫৬।।*
*🌻এই শ্লোকে "গমনমপি বংশী প্রিয়সখি"--, প্রিয়সখি অর্থে শ্রীজীব গোস্বামীপাদ "শ্রিয়ঃ পরমলক্ষ্মীরূপা শ্রীকৃষ্ণপ্রেয়সী ব্রজসুন্দরীগণের" উল্লেখ করেছেন,শ্রীরাধা বা শ্রীরাধিকার কোন উল্লেখ এখানে নেই।শ্রীব্রহ্মসংহিতার পঞ্চম অধ‍্যায়ের শেষ বা বাষট্টি সংখ্যক শ্লোকটি হ'ল----*
*🌷অহং হি বিশ্বস‍্য চরাচরস‍্য,*
*🌷বীজং প্রধানং প্রকৃতিঃ পুমাংশ্চ।*
*🌷ময়াহিতং তেজ ইদং বিভর্ষি,*
*🌷বিধে বিধেহি ত্বমথে জগন্তি।।*
*🌻এই শ্লোকে শ্রীগোবিন্দের পূর্ণ ভাগবত রূপের পরিচয় দিয়ে সংহিতাকার বলেছেন, শ্রীগোবিন্দ বিশ্বব্রহ্মান্ডের মূলকারণস্বরূপ পূর্ণ ভগবান।প্রকৃতি বা অব‍্যক্ত নামক ত্রিগুণাত্মিকা বহিরঙ্গ শক্তি ও তার দ্রষ্টা-পুরুষ শ্রীগোবিন্দ।শ্রীজীব-গোস্বামীপাদ ব্রহ্মসংহিতাকে "কৃষ্ণোপনিষদং" কৃষ্ণোপনিষদ বলে ব‍্যাখ‍্যা দিয়েছেন।*
*🏵শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের মত শ্রীব্রহ্মসংহিতার পদলালিত‍্যও দেশ ও কালের মায়িক সীমারেখার বহু উর্দ্ধে বিধৃত (ধারণা ) থেকে বৈষ্ণব পদাবলীসাহিত‍্যের ভাব-গাম্ভীর্য‍্য ও রসাস্বাদনকে সমৃদ্ধ করেছে। বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের রূপ-গঠন ও শৈলী যে শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত ও শ্রীব্রহ্মসংহিতার পদ ও ভাব-মাধুর্য‍্যের দ্বারা প্রভাবিত এ'বিষয়ে কৌন সন্দেহ নেই,সেকথা অনেক আগেই উল্লেখ করেছি।*

*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*পদাবলীকীর্তনের বিভিন্ন পদসাহিত‍্যের অবদান।*

*🍀পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের রূপায়ণ বিশ্বের সমগ্র সাহিত‍্য,কাব‍্য ও সঙ্গীতের জগতে একটি অনবদ‍্য ও অনাস্বাদিত(যত আস্বাদন করি যেন মন আরও চাই) সৃষ্টি। বিশেষ করে বাঙ্গালীজাতির জীবনচিন্তার সঙ্গে তার বিচিত্র রকমের সঙ্গীত ওতপ্রোতভাবে জড়িত।সে যেন আবিচ্ছেদ‍্যভাবে তার নাড়ীর সঙ্গে সম্পর্কিত।বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের স্বতন্ত্র রূপ ও মাধুর্য‍্য-সম্পর্কে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, "তার ভাষা, ছন্দ,ভাব,তুলনা,উপমা ও আবেগের প্রবলতা সমস্তই বিচিত্র ও নতূন।তার পূর্ববর্তী বঙ্গভাষা ও বঙ্গসাহিত‍্যের সমস্ত দীনতা কেমন করে এক মুহূর্তে বিদীর্ণ হ'ল অলঙ্কারশাস্ত্রের পাষাণ-বন্ধন সব কেমন করে কোথা হতে আহরণ করিল।বিদেশী সাহিত‍্যের অনুকরণে নহে, প্রাচীন সমালোচকের অনুশাসনে নহে, দেশ নিজের বীণায় আপনি সুর বেঁধে নিজের গান ধরিল।প্রকাশ করবার আনন্দ এত,আবেগ এত যে,তখনকার উন্নত মার্জিত কালোয়াতি সঙ্গীত থই বা সীমা পেল না।দেখতে দেখতে দশে মিলে এক অপূর্ব সঙ্গীতপ্রণালী তৈরী করিল, আর কোন সঙ্গীতের সঙ্গে তার সম্পূর্ণ সাদৃশ‍্য পাওয়া শক্ত।বৈষ্ণবধর্মের অপার্থিব শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমতত্ত্ব, উজ্জ্বল রসমাধুর্য‍্য ও গভীর ভাব-সম্পদকে ভীত্তি করেই বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের রূপায়ণ।মোটকথা ভক্তি-সাহিত‍্য ও ভক্তিভাবধারাই পদাবলীকীর্তনের প্রাণকেন্দ্র। ডক্টর অসিত কুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় বলেছেন যে, আদি রসাশ্রিত ভক্তিসাহিত‍্য ভারতবর্ষে নতূন নয়,গৌড়ীয় বৈষ্ণবদেরও সৃষ্টি নয়।প্রাচীন সংস্কৃতে ভক্তি-অনুসারে আদিরসাত্মক সাহিত‍্য ও সাধনার পরিচয় পাওয়া যায়। শৃঙ্গারশতক, অমরুশতক,কবীন্দ্রবচনসমুচ্চয়, সদুক্তিকর্ণামৃত,সুভাষিতমুক্তাবলী, শারঙ্গধরপদ্ধতি ও প্রাকৃত অপভ্রংশে রচিত সাতবাহন নরপতি হালের "গাথাসপ্তশতী" প্রভৃতি গ্রন্থে পার্থিব প্রেম-কাহিনীর পাশাপাশি অপার্থিব প্রেমতত্ত্ব কাহিনীর অভাব নাই।রাজা জয়াপীড়ের অমাত‍্য পন্ডিত দামোদর-গুপ্ত আনুমাণিক ৭৭৯-৮৩০ খ্রীষ্টাব্দে "কুট্টনীমতকাব‍্যম্" রচনা করেন এবং "কুট্টনীমতম্" কাব‍্যগ্রন্থ পদাবলীকীর্তনের পদসাহিত‍্যকে প্রত‍্যক্ষভাবে প্রভাবান্বিত না করলেও রচনাশৈলী ও ভাবসম্পদের ক্ষেত্রে সে পদকীর্তনের ধারাকে সচ্ছল ও প্রেরণাদীপ্ত করেছিল একথা অস্বীকার করা যায় না। বাংলাদেশে ১২শ-১৩শ শতকে কবীন্দ্রসমুচ্চয়,সদুক্তিকর্ণামৃত, গীতগোবিন্দ ও কবি জয়দেবের সমসাময়িক কবিগণ ধোয়ী,উমিপতি ধর, শরণ ও গোবর্দ্ধন আচার্য‍্য-রচিত কাব‍্যগ্রন্থগুলিও প্রত‍্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বৈষ্ণব-পদাবলী কীর্তনের সাহিত্য,রস ও ভাবধারাকে রসসিঞ্চিত করেছিল সেকথা আগেও কিছুটা আলোচনা করেছি। "কবীন্দ্রসমুচ্চয়" সম্ভবত ১২শ শতকে নেওয়ার অক্ষরে রচিত হলেও এই কাব‍্যগ্রন্থের অনেক রচয়িতায় বাঙ্গালী ছিলেন বলে মনে হয়।কবীন্দ্রসমুচ্চয়ের অধিকাংশ কবিতা বা পদ আদিরসাত্মক এবং পরোক্ষভাবে কবীন্দ্রসমুচ্চয়ের রস, ভাবসম্পদ ও পদরচনাশৈলী পদাবলীকীর্তনের সৃষ্টি ও বিকাশকে রূপায়িত করেছিল।তবে একথাও সত‍্য যে, কবীন্দ্রসমুচ্চয় ও এমনকি সদুক্তিকর্ণামৃত কাব‍্যগ্রন্থ দুটি রচিত হবার আগে ১ম-২য় শতকের "গাথাসপ্তশতী" শ্লোক বা কবিতাসংগ্রহ তার পরবর্তী সব কাব‍্যগ্রন্থ ও পদাবলীসাহিত‍্যকে প্রভাবান্বিত করেছিল বলা যায়। ডক্টর অসিত কুমার "বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত" গ্রন্থে (প্রথম খন্ড) উল্লেখ করেছেন, এই সাতশত শ্লোকে বিরহ-মিলনের অশ্রুবেদনা ও কামনার উত্তপ্ত উল্লাস যেভাবে চিত্রিত হয়েছে একমাত্র "অমরুশতক" এবং "শৃঙ্গারশতক"(ভর্তৃহরি-রচিত)বাদ দিলে সমগ্র সংস্কৃত সাহিত‍্যে ইহার অনুরূপ দৃষ্টান্ত নেই বলিলেই চলে।১৬শ শতকের হিন্দী-কবি বিহারীও ঐ আদর্শে "সাতসঞ্জ" গ্রন্থ রচনা করেন।মনে রাখতে হবে, পরবর্তীকালে সংস্কৃতে যে সব শ্লোকসংগ্রহ রচিত হয়েছিল (সুভাষিতবলী,শার্ঙ্গধরপদ্ধতি, কবীন্দ্রসমুচ্চয়,সদুক্তিকর্ণামৃত) তার প্রধান আদর্শটি "গাথাসপ্তশতী" হতেই গৃহীত হয়েছিল।ইহাতে যে কয়েকটি শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণের গোপলীলা, বিশেষত শ্রীরাধার উল্লেখ আছে তাহাই প্রণিধানযোগ্য বা একাগ্রভাবে মনোনিবেশ।*
*🍀খ্রীষ্টীয় প্রথম-দ্বিতীয় শতকে (ডক্টর রাধাগোবিন্দ বসাকের মতে গাথাসপ্তশতীর রচনাকাল প্রথম-দ্বিতীয় শতক।অনেকে আবার সম্ভবত পঞ্চম শতকের শেষকালে রচিত বলেন) সাতবাহন নরপতি হালের "গাথাসপ্তশতী" গ্রন্থে তদানীন্তন ভারতীয় সমাজের সামাজিক ও সংস্কৃতিক জীবনধারার একটি জীবন্ত আলেখ‍্যের পরিচয় পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রন্থটি দক্ষিণাপথের গ্রাম,গ্রাম‍্য দেব-দেওল, ধর্ম ও দর্শনবুদ্ধির আলেখ‍্য, প্রাচীন বাংলার সমাজ ব‍্যবস্থা ও সামাজিক জীবনযাত্রার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ঠিক বাংলাদেশেরই মত পল্লীর কুলরমণীরা ব্রতোৎসবের সমাপনে ঘরে ঘরে প্রহেনক বা রায়নক (পিঠের মত খাদ‍‍্যের) ও পুষ্পভাব উপহার প্রদান করত। তখনকার সমাজে শিল্পের মধ্যে ছিল চিত্রাঙ্কন ও নৃত্য-গীতের অনুশীলন।মৃদঙ্গ বা মূরজের গুরুগম্ভীর ধ্বনি (৩|৫৩), কোণদ্বারা আহত বীণার ঝঙ্কার (৬|৬০),বংশ বংশীর ধ্বনি (৬|৫৭), চাক বা চক্কা (৬|২৬) প্রভৃতি বিচিত্র গাথাগানের (৫|২১) প্রচলন ছিল।উৎসব ও বিয়ে উপলক্ষ্যে সুবেশসম্পন্ন গায়িকাগণ মঙ্গলগীতি (৭|৪৩) সুরে ও তালে গান করত।নরপতি হাল ছিলেন শৈব, সুতরাং তাঁর রচিত হরগোরীর স্তুতিগানের সঙ্গে সঙ্গে শ্রীরাধাকৃষ্ণের গাথাগানের (১|৮৯)অপ্রাচুর্য ছিল না।২|১৪ গাথায় শ্রীকৃষ্ণকে গোপীদের সঙ্গে নৃত‍্যক্রীয়ায়ও রত দেখা যায়। ২|১২ সংখ্যক গাথায় যশোদাদেবীকে বাৎসল‍্যভাবে আপ্লুত দেখি। তাছাড়া (৫|৪৭,৭|৫৫,২|১৭,৭|৬৯)প্রভৃতি গাথায় শ্রীকৃষ্ণলীলার উল্লেখ আছে।*
                      *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


adds