শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীকৃষ্ণের রূপের একটি পদ 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/rup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীকৃষ্ণের রূপের একটি পদ 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/rup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🍀রূপানুরাগ-- গৌরচন্দ্রিকা*
    *সোম তাল----২৮  মাত্রা ।*

*১|গোরা অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে,*

*১| কাটান---*
*আমি আর যে ধৈরজ-- আ  আ  আ-  -  -  -*
*আর যে ধৈরজ ধরতে নারি রে-  -  -  -  -  -*
*আহা  মরি  আরে-  -  এ এ এ এ*
*২| কাটান---*
   *ওকি  আহা রে- - - এ  এ  এ  এ- - -*
*আমি  আর  যে  ধৈরজ- - - - -*
*আর যে ধৈরজ ধরতে নারি রে- - - -*
*আহা  মরি   আরে এ  এ  এ  এ*

         *তাল=মধ‍্যম*

*নিরবধি  ছল-  -  -  -ছল-  -  -*
*আরে কিবা নিরবধি ছল  ছল-------*
*- - - - নিরবধি  ছল  ছল------*
*- - - আঁখি জল ঝরে----হায় আমার একি হল--------*

*সজনি-----------*
*শিকলি=*
*আমি কেন সুরধূনীর ঘাটে গেলাম-----*
*গেলাম  গেলাম  গৌর বদন পানে চাইলাম, গৌর বদন পানে চেয়ে--*
*সুকমল গৌর বদন পানে চেয়ে ------*
*আর যে ধৈরজ ধরতে নারি*
   *হায়  আমার একি হল------*
*৩| কাটান----*
*আমি ) আর যে ধৈরজ নারি রে এ এ এ*
*নিরবধি-----আমার আঁখি ঝুরে------*
*৪| কাটান---*
*গৌর  গৌর  বলে রে----------*
*নিরবধি----- আমার আঁখি ঝুরে*
     *গৌর  গৌর  বলে------।*

*রাগিনী=*
        *আহা  মরি  রে-----------*
      *আহা  মরি  রে-------------*
 *আ-  -  আ-  -আ-  -আ-  -  -*

*সুরে=*
*১|গোরা অনুরাগে আমার পরাণ কাতরে -  -    -    -   -*
*২|নিরবধি ছল ছল আঁখি জল ঝুরে।।*

       *তাল=বড় একতালী, ৭ মাত্রা*

*দেখ সজনী )আমার আঁখি ঝুরে রে----।*
*সদাই ) গৌর গৌর গৌর বলে।*
*আমি ) আর যে ধৈরজ ধরতে নারি।*

           *তাল= ঝাঁতি*

*১|গোরা অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে।*
*২|নিরবধি ছল ছল আঁখি জল ঝুরে।।*

*🌹আখর=*
  *সজনি ) আমার বাধ মানে না রে।*
*নয়ন বারি )উছলি উছলি পরে।*
*প্রাণ আমার  ) কেঁদে উঠে।*
*প্রাণ বল্লভ) গৌর গৌর গৌর বলে।।*

*১|গোরা গোরা করি মোর কি হইল বেয়াধি।*

*🌹আখর=*
       *ব‍্যাধির ঔষধ পেলাম না।*
   *এ ব‍্যাধির বৈদ‍্য পেলাম না।*
          *এ নদীয়ার মাঝে।।*

   *হায় আমার )একি হল রে।*
*এ যে আমার )বিষম ব‍্যাধি উপজিল।*
*আমি কেন) গৌর বদন নিরখিলাম।।*

*🍀কথা=নবদ্বীপ সুধাকর শ্রীমন্  গৌর সুন্দর সাঁঝের বেলায় সুরধূনী গঙ্গার ঘাটে পূরবের ভাবে বিভাবিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।এমন সময় এক গৌর অনুরাগিনী রমণী সুরধূনীর জলে গিয়ে আমার শ্রীমন্ গৌরসুন্দরের বদন পানে তাকিয়ে কোন ভাবে ধের্য‍্য ধরে নিজের গৃহে ফিরে এসে, নির্জনে বসে তার মরমীর কাছে বলছেন--*

*🏵সুরে=মরমীরে---------আজ সাঁঝের বেলায়------সুরধূনী গঙ্গার জলে গিয়ে ---------- নবদ্বীপ সুধাকর গৌর সুন্দরের --------- দন পানে চেয়ে দেখলাম-----।*

*🌹আখর= দাঁড়িয়ে আছে রে।*
         *ললিত ত্রিভঙ্গিমায়।*
*সুরধূনীর)এ-কুল ও-কুল আলো করে।।*

*🏵সুরে=ঐ গৌর মূরতী পানে চেয়ে অবধি--------আমার প্রাণে আর প্রাণ নেই বললেই চলে------ এমন কি আমি ব‍্যাধিগ্রস্তা রমণীর ন‍্যায় সবসময় আমার প্রাণে ঐ গৌরসুন্দর দেখছি--- আন কিছু আর দেখতে পাচ্ছি না, কেন না------,*

*২|নিরবধি পড়ে মনে গোরা গুণনিধি।।*

*🌹আখর=ভুলতে নারি রে।*
        *আমার)গৌরাঙ্গ গুণনিধি।*
 *ঐ রূপ সদায় আমার, হিয়ায় জাগে।।*

*🏵কথা= ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন,সজনী-----*

    *ও রূপ)কেমনে ভুলিবে।*
*তুমি)যা চেয়েছ তাই পেয়েছ।*
*তাই তোমার )হৃদয় মাঝে জুড়ে আছে।*
   *মাধুর্য‍্যময় গৌর রূপ।।*

*🏵কথা=এই যে মাধুর্য‍্যময় গৌর রূপ,এই মাধুর্য‍্য শব্দের অথা কি? মাধুর্য‍্য শব্দের অর্থ হল চারুতা। উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে আছে-- শ্লোক---*

 *রূপং কিমপ‍্যনির্ব্বাচ‍্যং তনো মাধুর্য‍্যচ‍্যতে।*

*🍀অর্থ‍্যাৎ শরীরের কোন অনির্বচনীয় রূপকে মাধুর্য‍্য বলে। আবার রূপ কাকে বলে? ঐ গ্রন্থেই আছে---*

*অঙ্গান‍্য ভূষিতয়ন‍্যব কেন চিদ্ভূষণাদিনা।*
*যেন ভূষত বদ্ভাতি তদ্রুপ মিতি কথ‍্যতে।।*

*অর্থ‍্যাৎ শরীরের কোন ভূষণাদি না থাকলেও যদ্বারা অঙ্গ সকলকে ভূষিতের ন‍্যায় দেখায় তাকে রূপ বলে।*
*তাই রূপ ও মাধুর্য‍্য মিলিত হয়ে সৌন্দর্য্য হল। এই সৌন্দর্য্য কাকে বলে? শ্লোক---*

*অঙ্গ প্রত‍্যঙ্গ কানাং যঃ সন্নিবেশো যথোচিতং,*
*সুশ্লিষ্টঃ সন্ধি বন্ধঃ সাত্তৎ সৌন্দর্য্য মিতুচ‍্যতে।।*

*অর্থ‍্যাৎ অঙ্গ প্রত‍্যঙ্গাদির যে যথোচিত সন্নিবেশ এবং সন্ধি সকলের যথাযথ মাংসলত্ব তাকেই সৌন্দর্য্য বলে।*
*এর ভিতরে আরেকটি বস্তু আছে লাবণ‍্য। এই লাবণ‍্য কাকে বলে? উক্ত গ্রন্থে উল্লেখ আছে, শ্লোক---*

*মুক্তা ফলেষু ছায়াস্তর লত্বমিবান্তরা।*
*প্রতিভাতি সদোঙ্গেষু লাবণ‍্যং তদিহোচ‍্যুতে।।*

*অর্থ‍্যাৎ প্রশস্ত মুক্তো কলাপের অন্তর হতে ছটা বহির্গত হয়,তার মত স্বচ্ছতা প্রযুক্ত অঙ্গ সকলে যে চাকচিক‍্য প্রতীয়মান হয়ে থাকে তাকে লাবণ‍্য বলে।*
*🍀এই রূপ, সৌন্দর্য্য,লাবণ‍্য ও মাধুর্য‍্যযুক্ত রসিকেন্দ্র চূড়ামণি গৌর মূরতি, এই মূরতিখানির আরও অনেক মাধুর্য‍্যময় তত্ত্ব আছে, কৃষ্ণ সন্দর্ভ গ্রন্থে উল্লেখ আছে----*

*অন্তঃ কৃষ্ণং বহি র্গৌরং দর্শিতাঙ্গাদি বৈভবম্।*
*কলৌ সংকীর্তনাদ‍্য স্ম কৃষ্ণ চৈতন‍্য মাশ্রিতা।।*

*🍀অর্থ‍্যাৎ যিনি অন্তরে কৃষ্ণ এবং বাইরে শ্রীমতী রাধিকার অঙ্গাদির বৈভব রূপ গৌরদেহ ধারণ করে এই কলিযুগে অবতীর্ণ হয়েছেন। আমরা হরিনাম যজ্ঞের দ্বারা সেই শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের স্মরণ গ্রহণ করি।*
*🍀তাহলে গৌরসুন্দরকে লাভ করার এত একটি পথ হল। কিন্তু যাদের এই হরিনাম যজ্ঞ করার মত সামর্থ নেই, তাদের জন্ম কি বৃথায় যাবে? তাদের কি গৌরসুন্দর লাভ হবে না?তাদের কি কোন উপায়ই নেই? আছে, কেমন ভাবে? না-- শ্রীমদ্ভাগবতে দ্বাদশ স্কন্ধে তৃতীয় অধ‍্যায়ে ১৯২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে----*

*কৃতে যদ্ধ‍্যায়ত বিষ্ণুং ত্রেতায়াং যজতো মখৈঃ।*
*দ্বাপরে পরিচর্য‍্যায়াং কলৌ তদ্ধারি কীর্তনাৎ।।*

*সত‍্যযুগে ধ‍্যান করিলে মুক্ত হয়,ত্রেতাযুগে যজ্ঞ করিলে মুক্ত হয়,দ্বাপরে বিষ্ণুর সেবার্চনায় মুক্ত হয় আর কলিযুগে কেবল হরিনাম কীর্তন হতেই জীব মুক্ত হয়ে থাকে।*

*🍀তাই ভাবাবিষ্ট পদকর্তা অনন্তকোটি জগৎ পানে লক্ষ্য করে বলছেন, তোমরা একবার---*

      *গৌর হরি বলরে।*
*প্রেমানন্দে বাহু তুলে।*
*গৌর হরিবোল হরি বোলে।।*

*🍀কথা=তাই শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়েছেন----*

*🌷রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি।*
*🌷অনন‍্যে বিলসয় রস আস্বাদন করি।।*
*🌷সেই দুই এক এবে চৈতন‍্য গোঁসাই।*
*🌷লীলা রস আস্বাদিতে হৈলা একঠাঁই।।*

*🌹আখর=*
  *এই তো আমার,গোরা বটেরে।*
*উজ্জ্বল রস, শৃঙ্গার মূরতি খানি।*
        *রাই কানু মিলিত তনু।।*

*🌹কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, এ হেন গৌর মূরতি দর্শন করে হে সজনি---*

       *কে না ভুলে রে।*
*মাধুর্য‍্যময় গৌর হেরে।*
*বলি একা তুমি ভুল নাই।।*

*🌹কথা=নাগরী আবার আক্ষেপ করে বলছেন, এখন আমি----*

             *পদের পরের অংশ*
*১|কি করিব কোথা যাব গোরা অনুরাগে।*
*২|অনুক্ষণ গোরা প্রেম হিয়ার মাঝে জাগে।।*

*🌹আখর=*
    *আমায়, পাগলিনী কৈলে রে।*
*আর যে ধৈরজ ধরতে নারি।*
*আমার ভাগ‍্যে কি বা আছে।।*

*🌹কথা= এই কথা শুনে ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন--*

*১|গৌরাঙ্গ  পিরীতিখানি বড়ই বিষম।*

        *সেই তো জানে রে।*
  *এ প্রেম,  যার হিয়ায় জেগেছে।*
     *মাধুর্য‍্যময় গৌর প্রেম।।*

*২|বাসু কহে নাহি রহে কুলের ধরম।।*

     *আর, কুল থাকে না রে।*
*যে জন, গৌর ভালবেসেছে রে।*
    *কুল  ধর্ম বিসর্জন দিয়ে।*
*প্রাণ, গৌর তোমার হরেম বলে।।*

*জামালী-- নাহি রহে কুলের ধরম রে।*

*🍀ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।*

*🌹শ্রীকৃষ্ণের রূপের একটি পদ।*

      *🏈🏈তাল=ধরা🏈🏈*

*১| ও মুখ মন্ডল জিতি---*

  ০                 |        ০    |    ০    |    
ও গো  সখি  ও---- মু--খ----- ম 
  ০     |             ০                    |
----- ন্ডল  সখিরে এ এ এ এ  ও--- 
 ০               ০   |
 মু- - - - খ- - -  ম- - ও  মুখ   মন্ডল।

১|           ০                           
      কি  বলব  সখি  সে যে  
   |    ০
  আমার-  -  - আমার-  -  - -
         ০                          |
 কি  বলব  সখি সে যে আমার  আমার-  -  -  - আমার  আমার- - -  আ- - আ- - আ- - আ  আমার  
আমার শ‍্যাম- - - - না- - আ-আ-আ- আমার  আমার শ‍্যাম নাগরের মুখ।

২|    +             |       ০            |
       ও  মুখ   যে    দেখেছে   সেই 
তো-  -  - ও- -ও- -ও জা-  -  - - - সেই তো জানে গো-  -  -ও--ও--ও

৩|      ০                |           ০
        আমার- - -- বৃন্দা- - -বন - - - চাঁদের- - - আমার  আমার ব্রজ চাঁদের - - - আমার  আমার ব্রজ চাঁদের বদন রে- - এ-এ-এ ও বদন  যে  দেখেছে- - - - সেইতো- - - - -

*🏵কথা=সখি! আজ সাঁঝের বেলায় যমুনার জলে গিয়ে দেখলাম যমুনার একুল ওকুল আলো করে ভূবন মোহন রূপ মাধুর্য‍্য বিস্তার করে আমার প্রাণবল্লভ কদম্ববৃক্ষে হেলন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।*

*🌻সুরে=ও  মুখ  মন্ডল  জিতি শারদ সুধাকর------*

             *তাল=মধ‍্যম*
               ========
*১| কাট--- চাঁদ জিনি বদন চাঁদ------- তমাল জিনি  তনুরুচি --------- হঠাৎ  দেখলে এই মনে  হয় - - - যেন তমাল গাছে----- যেন তমাল গাছে-------- ষোল কলা পূর্ণ চন্দ্র ধরেছে। আহা  কি বা-ই  তার-----তনু রুচি তরু।*

*২|কাট-- শারদের চাঁদ জিনি প্রাণ বল্লভের বদন চাঁদ নব তমালের অঙ্গ কান্তি জিনি বঁধূর আমার তনুখানি, হঠাৎ দেখিলে এই মনে হয়------ একটি তমাল গাছে একটি তমাল গাছে নিষ্কলঙ্ক পূর্ণ চন্দ্র ধরেছে------, আহা কি বা-ই তার----*

*৩|কাট-- ঐ রূপ আমার হিয়ায় জাগে গো----*
   *তনুরুচি  তরুণ  তমাল------*
   *আর যে পাশরিতে নারিরে---।*

    *তাল= ছোট দশকুশি*
    ===============

*২|চূড়া চারু,শিখন্ডক মন্ডিত,*
        *মধুকর মালতী মাল।।*
*আহা মরিরে---মধুকর মালতিক মাল--*
      *শোভার বালাই যাইরে---*
    *মধুকর মালতিক মাল।।*

         *তাল=মধ‍্যম*
          =========

*🏵আখর=
*মালার প্রতি ফুলে---- ও ফুলে ফুলে রে---*
   *ঝাঁকে ঝাঁকে ভ্রমর বৈসে----*
*শোভাটি মনে হয়) যেন মধুকরের মালা।*
*যাইরে শোভার বালাই যাইরে।*

         *তাল=একতালী*
          ^^^^^^^^^^^^^^^

*১|ধনি ধনি বনি নব নাগর কান।*

           *তাল=লোফা*
           ^^^^^^^^^^^^^

*২|রহই ত্রিভঙ্গ, ভূবন মন   মোহন,*

*🌹কথা=সখিরে---অপার্থিব মাধুর্য‍্যময় ভূবন মোহন রূপ ধরিয়া শ‍্যাম আমার দাঁড়িয়ে আছেন---*

          *ভুলে  গেল  রে।*
   *আমার  মন  প্রাণ সব।*
*ঐ ভূবন মোহন রূপ দেখে।।*

*২|মধুর  মুরলী  করু  গান  রে।।*

            *গান  গেয়ে  ছিল।*
            *ঐ মুরলীতে গান।*
  *লখি, আমা পানে চেয়ে চেয়ে।*
   *রাধা রাধা রাধা বোলে।*
    *ঐ মুরলীর তান ধরে।।*

       *তাল=তেওট  ৭ মাত্রা*
         <><><><><><>>>>>
*১| টল   মল  অল- - -কা- - আ- -আ- -আ- - -আ- - - -আ*
*ও  তিলক- - -মুখ- - - ও-ও-্ও-ও ঝল  কৈ ঝল কৈ রে--এ-এ-এ-এ-এ-এ-এ-এ- - - -*

*১|কাট-- তিলক,টলমল,টলমল টলমল করছে রে- - -*

*🌻কথা=ঐ অলকাবলীর টলমল দেখে-----*

*২|কাট-- তিলক, ঝলমল ঝলমল ঝলমল করে রে,*
*আমার) বঁধূর রূপের ছটা লেগে রে*

         *তাল=লোফা*
           •••••••••••••••

*১|টলমল অলকা,তিলক মুখ ঝলকৈ,*
          *ভাঙ্গকি ধুনুয়া ধুনান।*

                *🏵আখর*
                *ফুল   ধনু।*
   *যেন মদনের ফুল ধনু।*
*যেন, সন্ধান করে রেখেছে রে।*
*রমণীর, মন মৃগী বিধবে বোলে।।*

*২|কুলবতী বরত, বিমোচন লোচন,*
         *বিষম কুসুম শর বাণ।।*
*১|বান্ধুলী বন্ধু, অধরে মধু মাখল,*
          *মধুর মধুর মৃদু হাস।*

*🌹কথা=সখীরে! আমার মনে হল লাল টুকটুকে বান্ধলী ফুল অধরে মেখে দিয়েছে, তাই বন্ধুর অধর লাল টুকটুকে হয়ে শোভা পাচ্ছে।*

*২|যছু আমোদে, মদন মদ মন্থর,*
          *ভণতহি গোবিন্দ দাস।।*

*🌹শ্রীকৃষ্ণের রূপ, তাল=দোঠুকি, ৭ মাত্রা।*

*আমি কি রূপ হেরিনু কালিন্দী কুলে,*
*অতি অপরূপ কদম্বের মূলে।।*

*🍀কাট= আমি, এই এখুনি দেখে এলাম সাঁঝের বেলায় (সন্ধ‍্যে বেলায়) জলকে গিয়ে সেই ভূবন মোহন মনোহর রূপ----*

*🏵কথা=সখীরে! আজ আমি কি অপরূপ রূপ দেখলাম,সেই অপরূপটি কি-না রূপাতীত রূপ।*

*১|🌷অচলা চপলা শোভিত তায়।*
*২|🌷মৃগাঙ্ক রহিত শশাঙ্ক উদয়।।*

*🏵কথা=আরও একটি আশ্চর্য‍্য দর্শন করলাম। ইহাও সম্ভব সখী?যে চপলা (বিদ‍্যুৎ)কোন দিন স্থির হয় না,যার স্বভাবের সঙ্গে জড়িত একটি নাম আছে কি, না "ক্ষণপ্রভা"। কিন্তু আমি দেখলাম আজ স্থির বিদ‍্যুৎ। ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন হে রাধারাণী! তোমরা যে বিদ‍্যুৎ প্রায়শ দেখ সেই চপলার স্বভাব এত চঞ্চল কেন জানো? না উপযুক্ত মেঘ পাই না  বলিয়া, ঐ চপলার স্বভাব এত চঞ্চল। সেই চপলা আজ সত‍্যই স্থির। কেন? না--*

        *স্বভাব ভুলে গিয়েছে।*
         *উপযুক্ত মেঘ পেয়ে।*
    *ঐ নব মেঘ জড়িয়ে ধরে।।*

*🏵কথা=আবার রাইধনি বলছেন, শশাঙ্ক অর্থ‍্যাৎ একটি চন্দ্র বা চাঁদ দর্শন করিলাম, কেমন?না-- গগনে যে চাঁদ আমরা দেখি ঐ চাঁদের মতই বটে কিন্তু এই গগন-চাঁদের ভেতর যে মৃগ চিহ্ন আছে,ঐ মৃগ চিহ্ন রহিত সুনির্মল যে চাঁদ সেই--*

         *যেন, উদয় হয়েছে।*
          *সুনির্মল চাঁদ যেন।*
        *মাধুর্য‍্যময় চাঁদ যেন।*
*ঐ চাঁদ যেন, অন্তর বাহির আলো করে।।*

*🏵কথা==আবার দেখলাম।*

*১|নাচিছে ময়ূর জলদ পরি।*
*২|অলিকুল সব চাঁদেরে ঘেরি।।*

*🏵কথা=রাধারাণী শ‍্যামসুন্দরের শিখিপুচ্ছ দর্শন করে মনে করেছেনযে নবমেঘ সদৃশ‍্য বা সমান শ‍্যামবর্ণ,তার উপরে ময়ূর পুচ্ছ মৃদু পবন পরশে দুলছে, রাধারাণী মনে করেছেন--*

             *ময়ুর নাচিছে।*
      *নব, জলধর উপরে।*
        *ঐ পেখম ধরে।।*

*🏵কথা=আবার অলিকুল বা ভ্রমরগণ ফুলের কাছে থাকে, কিন্তু চাঁদের কাছে কি করে  ভ্রমরগণ সম্ভব?সত‍্যি রাধারাণীর ভুল হয়েছে।কেন-না,শ্রীগোবিন্দের বদন চন্দ্রে অলকা বলি দেখে অলিকুল মনে করেছেন।*

*১|আরও অপরূপ কহিতে নারি।*
*২|যথা মেঘ তথা না রহে বারি।।*

*🏵কথা=তখন ললিতা সখী বলছেন, রাইধনি!এ তুমি অবান্তর কথা বললে,কেন-না, আমরা জানি মেঘ যেখানে থাকে সেইখানে বরিষণ হয়। আর তুমি বলছ, যেখানে মেঘ সেখানে বরিষণ হয় না।তাহলে ঐ মেঘ থাকে কোথায়?আর বরিষণই বা হয় কোথায়?*

*১|ও মেঘ হৃদয় আকাশে উদয় করি।*
*২|আবার নয়নের পথে বরিখে বারি।।*

                *সেই তো জানে।   *ঐ মেঘ, যার হিয়ায় লেগেছে।*
*তারে, বরিষণে ভাসিয়েছে।।*

*১|মোর মনে হয় বিজুরী হইয়া।*
*২|জড়ায়ে রহি গো ও মেঘে গিয়া।।*

            *জড়ায়ে থাকব।*
*ঐ নব মেঘ হিয়ায় ধরে।*
*আমায়, যে যাই বলুক লোকে।।*

*১|জ্ঞান দাসে কহে না কহ আন।*
*২|যা কহিলে ধনি সেই সে প্রমাণ।।*

          *আর যেন বোলো না।*
    *লোকে শুনলে কি বলবে।*
*ঐ হৃদয়ের ধন হৃদয়ে রাখ।।*

*🌹🌹রূপানুরাগ🌹🌹*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

       *তাল=তেওট, ৭ মাত্রা*
       •••••••••••••••••••••••••••

*১|দেখে এলাম তারে তারে সই ও-ও-ও-ও-ও*
*ও দেখে এলাম তারে----- তারে এ-এ-এ-এ*

*১| কাট=*
*আমি,  এই এখনি দখে এলাম রে।*
       *সুখদা  কালিন্দী কুলে।*
             *কদম্ব----হিলনে।*
      *ত্রিভঙ্গ  ভঙ্গিম  ঠামে।।*

               *তাল=লোফা*
               ************
*১|দেখে এলাম তারে সই দেখে এলাম তারে।*
*২|এক অঙ্গে এত রূপ নয়নে না ধরে।।*

               *🏵আখর🏵*
      
          *ধরে না রে।*
       *আমার নয়নেতে।*
 *তার এক অঙ্গ এত রূপ।।*

*১|বেন্ধেছে বিনোদ চূড়া নব গুঞ্জা দিয়া।*
*২|উপরে ময়ূরের পাখা বামে হেলাইয়া।।*

*🌹কথা=সখীরে! আমার বঁধূর মস্তকে যে চূড়া আছে তা নবগুঞ্জা ফুল দিয়ে বাধা এবং তার উপরে ময়ূরের পাখা আছে বটে,তা আবার বামে হেলে আছে।*
*ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন,চূড়া কেন বামে হেলে আছে জান?*

              *পাবে বোলে।*
     *যুগল চরণ পাবে বোলে।*
    *যুগল চরণে ঠাঁই পাবে বোলে।*
    *তাইতো চূড়া বামে হেলে।।*

          *তাল=দাস পারিয়া*
          ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*১|কালিয়া বরণ খানি চন্দনেতে মাখা।*
*২|আমা হৈতে জাতি কুল নাহি গেল রাখা।।*

*বুঝি,  আমার জাতি কুল মান থাকবে নারে।*
*ঐ কালিয়ার রূপে নয়ন দিয়ে।*
*আরে ও ললিতা ও বিশাখা।।*

*১|মোহন মুরলী হাতে কদম্ব হিলোন।*
*২|দেখিয়া শ‍্যামের রূপ হৈলাম অচেতন।।*

*🌹কথা=সখীরে! দেখলাম  আমার প্রাণবল্লভ কদম্ব বৃক্ষে হেলন দিয়ে মোহন মুরলী হাতে নিয়ে ঐ মুরলীতে------*

   *ঐ মুরলীতে গান করছিল।*  
     *আমা পানে চেয়ে চেয়ে।* 
    *রাধা  রাধা  রাধা বলে।।*

*🌹কথা=ঐ মুরলীর গান শুনে অবধি--*

           *তাল=মধ‍্যম*
            ☆☆☆☆☆

*আমি,আর যে ধৈরজ ধরতে নারিরে ও বিশাখা।*
       *ঐ মুরলীর গান শুনে।* *আমি অচেতন হয়েছিলাম।।*  

*🌹সুরে=*
*১| গৃহ কর্ম করিতে এলায় সব দেহ।*
*২|জ্ঞান দাস কহে বিষম শ‍্যামের লেহ।।*

*🌹কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা জ্ঞানদাস রাধা অনুগত বলছেন, হে রাধারাণী-----*

          *গৃহ কর্মে মন বসে না।*
       *ঐ শ‍্যামের রূপে মন দিয়ে।*
     *তার কুল মান সবই যাবে।।*


*🌹মুরলী বর্ষণ অন‍্য পদে🌹*
      ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹নিকুঞ্জবনে উভয়ে বিলাস করে গৃহগমনের পথে চলেছেন।*

                *ছোট দোঠুকি*
               ▪▪▪▪▪
*১|বেশ বনাই, বদন পুনঃ হেরই,*
        *পদে করু বারহি বার।*
*২|ঢর ঢর লোর, ঢরকি পরি লোচনে,*
    *নিজ তনু নহে আপনার।।*

*১|    সুন্দরী কোরে নাগর কান।*
*২|দেহ বিদায়, মন্দিরে যাওব,*
        *দিনকর করত পয়ান।।*
*🏀কথা=রাধারাণী বলছেন--*
                   *🌹আখর🌹*
                         ^^^^^^^^
    *শুধু,  দেহ বিদায়।*
*বঁধূ,  প্রাণ রৈল তোমার ঠাঁই।*
     *ওহে আমার প্রাণবল্লভ।।*

*🌻সুরে=*
*১|কানুক চিত,থির করি সুন্দরী,*
        *কুঞ্জ বাহির দুহুঁ ভেল।*
*২|নীলাম্বরে ঝাঁপি,অঙ্গ মণি মঞ্জির,*
     *নিজ মন্দিরে চলি গেল ।।*
*🌻সুরে= শ‍্যামনাগর নন্দালয়ের পথে, আর রাধারাণী যাবটের পথে গমন করে নিজ মন্দিরে (গৃহে) প্রবেশ করে------*

*১|রতন পালঙ্কপর,বৈঠল রসবতী,*
        *সখীগণ ফুকারই চাই।*
*২|রজনী পোহাওল,গুরুজন জাগল,*
       *গোবিন্দ দাস বলিহারী যাই।।*

            *ছোট দোঠুকি, পদ*
             ☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*নিশাচল অস্তাচলে গত,*
*জটিলা দেখিলে রজনী গত,*

*🌹কথা=চন্দ্রদেবকে অস্তগামী দেখে জটিলা নিশি প্রভাত জেনে---*

*চলিলা তুরিতে, সুরজ পূজিতে,*
       *পাঠাতে বধূর স্থলে।।*

*🌹কথা=সূর্য‍্য পূজা করিবার জন্য বধূকে পাঠাবে বলিয়া তাড়াতাড়ি বধূর ঘরে চলিলেন,*

*জটিলা চলিলা তুরিত গতি,*
*আবার, দ্বার মোচন দেখি গৃহেতে গতি,*

*🌹কথা=তাড়াতাড়ি যেতেই রাধারাণীর ঘরের দরজা খোলা দেখে জটিলা রাধারাণীর ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেছেন।*

*দেখিল নয়নে, বধূ যে শয়নে,*
      *অচেতন বাঁশী কোলে।।*

*🌹কথা=ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে দেখলেন যে,বধূ শয়নে আছে এবং তার কোলে কৃষ্ণের বাঁশী।*
*🍀ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, গত রজনীতে যে রাস নৃত্যে কৃষ্ণ বাঁশী পণ রেখে, পণে বাঁশী হারিয়েছিলেন অর্থ‍্যাৎ পণে হেরে গিয়েছিলেন।সেই বাঁশীটি রাধারাণীর কাছেই সখিগণ জমা রেখেছিলেন।রাধারাণী গোবিন্দের রূপ মাধুর্য‍্যে বা প্রেম মাধুর্য‍্যে ও কেলি মাধুর্য‍্যে ভুলে গিয়েছেন,আর বাঁশীর কথাও মনে নেই।বাঁশীটি আঁচলেই বাঁধা ছিল। ঘরে এসে ঐ অবস্থাতেই পালঙ্কে শয়নে আছেন বটে কিন্তু গোবিন্দের স্মৃতিতেই আত্ম-মন প্রাণ বিভোর হয়ে আছেন।নিজ কোল মধ্যে যে আঁচলে বাঁধা বাঁশীটি রয়েছে তা একেবারেই বিস্মরণ হয়ে গেছেন।ঐ বাঁশীটি বক্ষে ধরে বিভোর হয়ে শয়নে আছেন। জটিলা রাইধনির ঘরের দরজা খোলা দেখে তাড়াতাড়ি ভিতরে প্রবেশ কোরে,ঐ কালার বাঁশী দেখতে পেয়েছেন।*

*দেখিল নয়নে,বধূ যে শয়নে,*
       *অচেতন বাঁশী কোলে।।*

*জটিলা দেখিয়া ক্রোধেতে ভোর,*
*বলে একি কলঙ্কিণী কোলেতে তোর,*
*হইবে অনুজ,       নন্দ তনুজ,*
   *ভূজ বাঁশী কোথায় পেলে।।*

*🌹কথা=ঐ বাঁশী দেখে জটিলা রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলছেন, কলঙ্কিণী, তোর কোল মধ্যে দেখছি ঐ কেলে ছোড়ার বাঁশী, ঐ বাঁশী তুই পেলি কোথায়?*
*🌹ও বুঝেছি, হ‍্যাঁ,ঠিক, বাঁশীটি ঐ কেলে ছোড়ার,ঐ মুরলীতে আমার কুলেতে কালি দিয়েছে, আমার গুরুগৌরব যা ছিল তাও ঐ মুরলীতেই খেয়েছে।ঐ মুরলী তুই পেলি কোথায়? ও---হা---হা----বুঝেছি---*

*গত রজনীতে আসিল শ‍্যাম,*
*বাঁশীতে গাহিল তোহারি নাম,*
*হেরি নিশি গত, পালাতে তুরিত,*
       *বাঁশীটি গিয়েছে ফেলি।।*

*🌹কথা=গত রাত্রে তোর ঘরে কেলে ছোড়া এসেছিল বা তোর নাম ধরে বাঁশীও বাজিয়েছিল, সারারাত্রি তোর ঘরেই ঐ কলেলে ছোড়া ছিল, হঠাৎ নিশি প্রভাত দেখে তাড়াতাড়ি চলে যেতেই বাঁশীটি ভুল করে ফেলে চলে গিয়েছে।*

*এতেক বচন শুনিয়া রাই,*
*নয়ন মেলিয়া ইঙ্গিতে চাই,*
*দেখে বাঁশরী লাজে কিশোরী,*
        *ঈশ্বরী প্রতি বলে।।*

*🌹কথা=রাধারাণী জটিলার মুখে ঐসব কথা শুনে সামান্য একটু নয়ন মেলে চেয়ে দেখছেন, সত‍্যই তো আমার কোল মধ্যে বঁধূর বাঁশী। হায়! হায়! আজ আমার ভাগ‍্যে যে কি আছে, এই মনে করে,মনে মনে অঘটন-ঘটন পটীয়ষী যোগমায়া বড়াই বুড়িকে স্মরণ করে বলছেন--*

*বিপদ ভঞ্জনী বলি মা তোরে,*
*এই বিপদে রাখ মা মোরে,*
*নইলে আমি ব্রজের গণি বাস,*
         *ভাগবত দাসে বলে।।*

*🌹কথা=রাধারাণী বলছেন,বিপদভঞ্জনী মাগো, এই বিপদে তুমি রক্ষা কর মা,নইলে বোধহয় এই ব্রজে বাস করা আমার অসম্ভব হয়ে যাবে।*
[11/07, 3:37 pm] Joydeb Dawn: *পদ*
*বাঁশী দেখি জটিলার ক্রোধে অঙ্গ জ্বলে।*
*ডাক দিয়ে কহে আসি দেখ গো কুটিলে।।*

*🌹কথা=জটিলে ঐ বাঁশী দেখে কুটিলাকে ডেকে বলছেন, ও কুটিলে-----,দেখে  যা---দেখে যা, তাড়াতাড়ি আয়-- তোর এতদিনের সাধনা সিদ্ধি হয়েছে,আমাদের কলঙ্কিণী বধূর কলঙ্ক নিজের ঘরের মধ্যেই ধরা পরেছে।*

*কুটিলা মায়ের বাক‍্যে এলো তাড়াতাড়ি।*
*কে বলে সাধ্বী সতী রাধিকা সুন্দরী।।*

*🌹কথা=জটিলার ডাক শুনে কুটিলে তাড়াতাড়ি ছুটে এসেছে, এসেই দেখে বলছে, ও বাবা! এত দিনের সাধনা আমার আজ সিদ্ধি হয়েছে।*

*🏵আখর= আজ, দেখাইব।*
     *এই, বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে।*
     *কলঙ্কিণীর সতী পণা।।*

*🌹কথা=এই বলে কুটিলা দাসীকে ডাকছে, দাসী কাছে এলে কুটিলা দাসীকে বলছে, দেখ দাসী! এই বৃন্দাবনের মধ্যে রাধা-সতী,রাধা-সতী বেশী গেয়ে বেড়ায় কে জান?না,ঐ যে---- বড়াইবুড়ি--------*

*দাসী প্রতি ডেকে বলে তারে ডেকে আন তুমি।*
*তাহারি ঘটক পণা আজি দেখাইব আমি।।*

*🏵আখর= আজ দেখাইব।*
        *সতীর দলের সতীপনা।*
     *মুখে চুন কালি দিয়ে।।*

*কুটিলার বাক‍্যে দাসী যায় দ্রুত পদে।*
*ভাগবত দাসে কহে মাগো রাখগো বিপদে।।*

*🌹কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা ভাগবত দাস রাধা অনুগত হয়ে বলছেন---*

*🏵আখর=ওমা, রক্ষা কর।*
                *এই বিপদ হইতে।*
   *আমাদের, বৃষভানু রাজনন্দিনীকে।।*

*🌹কথা=জটিলা-কুটিলার আদেশে দাসী তাড়াতাড়ি যোগমায়ার বাড়ি গিয়ে,বাড়ীর বাহির হতে ডাকছে-- ও--- বড়াইবুড়ি------ও----- বড়াইবুড়ি বলে ডাকতে লাগল।*
*বড়িমাই ঐ ডাক শুনেই বুঝতে পেরেছেন যে কুটিলার দাসী এসেছে।বড়িমাই মনে করছেন নিশ্চয়ই কোন অঘটন ঘটেছে। তা যাই হোক, দাসীর মনের মধ্যে প্রবেশ করে বিষয়টি আগে জানতে হবে। এই মনে করে বড়িমাই ঘর হতে বেড়িয়ে দাসীকে ডেকে বলছেন, এসো এসো আমার ঘরে এসো।দাসী বড়াইয়ের কাছে গিয়ে বলছে,না বাপু আমি বসতে পারব না, তুমি তাড়াতাড়ি করে আমার সঙ্গে চলো।আমাদের বাড়ি তোমাকে যেতে হবে,কুটিলা মাই তোমাকে ডাকছে।তখন বুড়িমাই দাসীর গায়ে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে বলছেন, বোন আমার দিদি আমার!বলত তোদের বাড়ীতে কি হয়েছে?তখন দাসী বলছে, না বাপু,তা আমি বলতে পারব না,বলে শেষে কুটিলা মায়ের ঝাটা লাথি খাবে কে!তুমি তাড়াতাড়ি চল। বড়িমাই ঘরের ভিতর হতে কিছু খাবার এনে দাসীর হাতে দিয়ে,কাছে বসিয়ে বলছেন,বোন! তোকে আমি এত ভালবাসি আর তুই এই সামান্য কথাটি আমাকে বলবি না, এতে আমার মনে বড়ই দুঃখ হল। দাসী তখন নাড়ু মোয়া খেতে খেতে বলছে তবে শোন, দেখ বাপু, আবার তাদের কাছে যেন বলনা, যে আমার মুখে শুনেছ।গেলেই জানতে পারবে যে আজ কি অঘটন ঘটেছে।* 
*তখন পুনঃ বড়াই বলছেন,কি হয়েছে বোন!ভাল কোরে বলনা, এবার দাসী মুখ খুলল,বলল,তবে শোন--, গত রজনীতে আমাদের বধূর ঘরে নন্দঘোষের যে কালছেলে চোর,লম্পট,শঠ অর্থ‍্যাৎ সবাই যাকে  ননীচোরা বলে ডাকে সেই এসেছিল, বধূর ঘরে সারারাত্রি ছিল।আবার নাকি বধূর না ধরে মুরলীও বাজিয়েছিল।বোধহয় সারারাত্রি বধূর সঙ্গে হাসি কৌতুক করতে করতে ঘুমিয়ে পরেছিল। হঠাৎ নিশি প্রভাত জেনে,তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছে, কিন্তু হাতের যে মুরলী তা ভুলে ফেলে গিয়েছে। সেই মুরলী কোলে নিয়ে বোকা বধূ ঘুমে বিভোর হয়েছিল।প্রতিদিন সূর্য‍্য পূজায় যেতে হবে কিনা-- তাই জটিলা-মা সকালবেলা বধূর দরজা খোলা দেখে ঘরের মধ্যে ঢুকে দেখে, বধুর কোলে ঐ মুরলী, আর যাবে কোথায়!জটিলা আর কুটিলাতে কি কান্ডই না বেঁধেছে।আর বাপু বোকা বধূ কিনা সঙ্কটে পরেছে, তা বলে আর পারি না।*
*তখন বড়িমাই মনে মনে চিন্তা করে দেখলেন, গত রজনীতে যে রাস নৃত্যের পণে শ‍্যামনাগর মুরলী হেরেছিল,সেই মুরলীটাই রাধারাণীর কাছে ছিল,বোধ হয় ভুলে সেই মুরলী নিয়েই কৃষ্ণ স্মৃতি হৃদয়ে জাগায়ে ঘুমে বিভোর ঘুমিয়েছে, সেই মুরলী ধরা পরেছে।এই চিন্তা করে বড়াই হেসে মনে মনে বলছেন, এই--- কথা, আচ্ছা--------।*

*🏵আখর=*
        *আজ আমি, হাতে নিব।*
          *কলঙ্ক ছড়ার হাঁড়ি।*
   *বৃন্দাবনের, ঘরে ঘরে ছিটাইব।*

*আজ আমি, দাগ লাগাইব।*
   *কৃষ্ণ,  কলঙ্ক কালির।*
*আজ আর, কাউকে বাকী রাখব না।*
*সব,  মায়ে ঝিয়ে এক করব।।*

*🏵আখর= আজ, মাখাইব।*
      *কৃষ্ণ,  কলঙ্ক কালি মুখে।*
*যেসব মুখ, কৃষ্ণ নিন্দায় সদায় রত।।*

*🌹কথা=এই কথা মনে মনে চিন্তা করে--*

                 *পদ*
*দাসী মুখে যোগেশ্বরী,*
*শুনিল সঙ্কট  ভারি,*
*করিলেন মায়া চমৎকার।*

*🌹কথা=যে অঘটন-ঘটন পটীয়সী যোগমায়া কৃষ্ণ মায়ায় বলিয়ান, সর্বদা কৃষ্ণ সেবাই রত,সেই মা আমার এমন মায়া বিস্তার করলেন যে ----*

*হয় মুরলী বরিষণ,*
*যে যেথা করে শয়ন,*
*পার্শ্বেতে পার্শ্বেতে সবাকার।।*

*🏵আখর=বরিষণ করিল।*
         *বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে।*
           *শ্রীগোবিন্দের মুরলী।।*

*🌹কথা=গোবিন্দের মুরলী যোগমায়ার যোগবলে প্রত‍্যেকের ঘরে ঘরে নিজ নিজ শয়ন শয‍্যার উপরে একটি করে মুরলী পরে রইল।এমন কি নিজ গৃহে নিজের শয‍্যার উপরেও একটি মুরলী পরে রইল।*

*🌻সুরে= দাসীর হাত ধরে নিজ গৃহ মধ্যে নিয়ে গিয়ে বলছেন------- দাসীরে--------,*

*শীঘ্র এসে দেখ দাসী,*
*আমার শয‍্যাতে বাঁশী,*
*কি ভাবে বাঁশীটি আসিলে।*

*🌹কথা=বড়াইবুড়ি বলছেন, এই দেখ দাসী, আমার শয‍্যার উপরেও দেখছি একটি বাঁশী,এ বাঁশী কোথা থেকে এলো? তা যাই হোক, এই বলে নিজ ঘরের বাঁশীটি হাতে নিয়ে---*

*যশোদার গৃহের মুরলী,*
*লইলেন ছলা করি,*
*দিল রাণী কৃষ্ণের বাঁশী ব'লে।।*

*🌹কথা=নিজ ঘরের বাঁশীটি হাতে নিয়ে,দাসীকে সঙ্গে করে, মা যশোদার ঘরে গিয়ে বলছেন,ও মা যশোদে!তোমাদের শয‍্যার উপরে দেখ তো একটি বাঁশী পরে আছে? থাকলে ঐ বাঁশীটি আমায় দাও তো,এই বলিয়া বাঁশীটি নিয়ে অন‍্য একটি বাড়িতে গেলেন,সে বাড়িরও বাঁশীটি নিলেন। এমনি করে সারা বৃন্দাবনের ঘর ঘর হতে মুরলী একত্রিত করে, মুরলীর বিরাট বোঝা বেঁধে নিয়ে দাসীর মাথায় তুলে দিয়ে বলছেন, এবার চল----*

*তদন্তর বাঁশী নিয়ে,*
*চলিলা জটিলা লয়ে,*
*হাসি হাসি মায়া প্রকাশিয়া।*

*🌹কথা=সখী ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন---*

*🏵আখর=*
   *বড়াই হেলে দুলে যায় রে।*
*জটিলা-কুটিলার, মুখে চুন-কালি দিতে।*
*যে মুখ, কৃষ্ণ নিন্দায় সদাই রত।।*

*ভাগবত দাসে কয়,*
*প্রণাম করি মা পায়,*
*কে বুঝিতে পারে তব মায়া।।*

*🌹কথা=জটিলার দরজার সামনে গিয়ে বাইরে মুরলীর বোঝাটি নামিয়ে রেখে অঙ্গন মধ্যে প্রবেশ করেছে।যখনিঅঙ্গন মধ্যে  প্রবেশ করেছে অমনি--*

                 *পদ*
         *ছোট দোঠুকি*

*যোগমায়ারে দেখিলা কুটিলা।*
*ক্রোধভরে কিছু কহিতে লাগিলা।।*

*🌹কথা=ও-----বড়াইবুড়ি------- এসো------এসো-------আমি---- চুন-কালির------হাঁড়ি হাতে নিয়ে বসে আছি।এসো----তোমাদের ঘটকপনা আজ আমি------*

*🏵আখর=  ঘুচায়ে দিব।*
 *আজ, সতীর দলের সতীপনা।*
*আজ--- হাতে হাতে ধরেছি।।*

*🌹কথা=এসো এসো এই বলিয়া রাধারাণীর ঘরের দরজার সামনে নিয়ে গিয়ে বলছে, ঐ দেখ-----*

*তুমি বল মোদের সতী যে রাই।*
*এমন সতী ত্রিভূবনে দেখি নাই।।*

*🏵আখর=*
     *বলি,  তুলনা মেলে না।*
*তোমাদের, রাধা চূড়ামণি সতীর।*
*এ যে,  ত্রিভূবন বিজয়ই সতী।।*

*🌹কথা= ও---বড়াই-- ঐ দেখ,*

*গত রজনীতে আসিল শ‍্যাম।*
*বাঁশীতে গাহিল রাধার নাম।।*

*🏵আখর=*
    *আমরা,  শুনতে পেয়েছি।*
       *রাধা বলে বংশীধ্বনি।*
       *এই গত রজনীতে।।*

*🌹কথা=গত রজনীতে তোমাদের সেই রাখাল ছোরা, তমাদের রাধাসতীর নাম ধরে প্রথমে বাঁশী বাজায়,তারপর চুপি চুপি রাধার ঘরে এসে রাধার কাছেই সারা রাত্রি ছিল, এবং সারা রাত্রি হাসি কৌতুকে কেটে গিয়েছে। হঠাৎ নিশি প্রভাত দেখে মুরলীটি ভুল করে ফেলে চলে গিয়েছে।*

*লুকাইতে তাহা প্রকাশ পাইল।*
*ধর্মের ঢোল বাজিয়া উঠিল।।*

*🌹কথা=আজ যখন আমার এতদিনের সাধনা সিদ্ধি হয়েছে,তখন আজ আমি----*

*🏵আখর=ঢোল বাজাইব।*
        *বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে।*
      *মুখে চুন কালি দিয়ে।।*

*🌹কথা=কুটিলা, পুনঃ বড়াইকে বলছে,তোমাকে ডেকেছি কেন জান? ঐ মুরলীর মালা গেঁথে কলঙ্কিণীর গলে দিয়ে এই বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে বেড়াব।আর আমি পেছনে পেছনে ঢোল বাজাতে বাজাতে যাব। আর তুমি খুব লম্বা গলা করে "রাধা-সতীর" গুণ গাও কি-না দেখব?তাই তোমাকেও আমার সঙ্গে যেতে হবে।*
*তখন বড়াইবুড়ি বলছেন, তা যখন বলছিস যাব, কিন্তু এই বলিয়া জটিলার হাত ধরে বলছেন, ও জটিলে!দেখি তোর ঘরের ভিতর একটু ঘুরে আসি চল।এই বলে জটিলাকে সঙ্গে নিয়ে, জটিলার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলেন, দেখলেন জটিলার শয‍্যার উপরে একটি মুরলী পরে আছে,তখন ঐ মুরলী দেখিয়ে বলছেন, ও--------গো------জটিলে--------ও------কি-------তুইও----কি----ঐ কালাছোড়ার--------!*
*তোর শয‍্যার উপরেও তো মুরলী দেখছি, ঐটা কার মুরলী?এই বলে মুরলীটি হাতে নিয়ে দেখে বলছেন, এ যে কৃষ্ণের মুরলী গো-------,তোমার ঘরেও কৃষ্ণ এসেছিল?ওগো-----দেখ-গো----- দেখ-------বুড়ি বয়সে পিরীতের কি ঘটা----দেখ গো-----,*

*🏵আখর= পিরীত করা।*
       *বুড়িকালে ছোড়ার সনে।*
 *আ-ছি-ছি, লাজে মরি লাজে মরি।।*

*🏵কথা=ও- - -ও- - - বুঝেছি জটিলে-------,তোদের কীর্তি বুঝেছি-------তুইও------- কৃষ্ণের সঙ্গে বুড়োকালে পিরীত করছিস? তাই গোপনে গোপনে তোর ঘরেও কৃ-----ষ্ণ আসে। এই কথাগুলি বলে মুরলীটি বগলে রেখে, কুটিলার হাত ধরে কুটিলার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলেন,প্রবেশ করে দেখেন যে, কুটিলার শয‍্যার উপরেও মুরলী দেখা যাচ্ছে, মুরলীটি হাতে নিয়ে বড়াইবুড়ি বলছেন, কি-----গো-----কুটিলে! চোরের মায়ের বড় গলা----- কেমন-----। তুইও ভিতর ভিতর কৃ----ষ্ণের সঙ্গে পিরীত করছিস দেখছি, তা না হলে তোর শয‍্যায় মুরলী কেমন করে এলো বল?তোর ঘরে কৃষ্ণ না এলে মুরলী কোথা থেকে এলো বল সতীর মেয়ে সতী?এই বলে এক হাতে বাঁশী সমেত কুটিলার হাত ধরেছেন,অন‍্য হাতে বাঁশী শুদ্ধ জটিলার হাত ধরে মনের আনন্দে বলছেন---*

*🌹আখর= ঢোল বাজাইব।*
         *বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে।*
*মায়ে, ঝিয়ে বৌয়ে পিরীত করা।।*

*🏵কথা= এই কথা শুনে ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন--*

*🏵আখর=*
  *এ পিরীতে,  বাধা নেই বাধা নেই।*
*মায়ে   ঝিয়ে   পিরীত  করে।*
*প্রাণ গোবিন্দ তোমার হলেম বলে।।*

*🌹কথা=এ পিরীতের এমনি গতি যে পিতাও বলেন প্রাণবল্লভগোবিন্দ , পুত্রেও বলেন প্রাণবল্লভগোবিন্দ , মায়েও বলছেন প্রাণবল্লভগোবিন্দ, স্বামীও বলছেন প্রাণবল্লভ গোবিন্দ,পুত্র বধূও বলছে প্রাণবল্লভ গোবিন্দ, কেন বলবে না? কারণ পুরুষ বলতে একমাত্র আমার প্রাণবল্লভ শ্রীকৃষ্ণ, আর সব প্রকৃতি। কিন্তু অনেকেই প্রকৃতি হয়েও নিজে পুরুষ অভিমানে বিভোর হয়ে, কামনা বাসনায় মেতে আছে,তাই শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়েছেন----*
*🌷প্রকৃতি হইয়া করে প্রকৃতি সম্ভাষণ।*
*🌷প্রভু কহে আমি তার না হেরি বদন।।*

*🌷প্রকৃতি হইয়া করে প্রকৃতি সঙ্গ।*
*🌷দিনে দিনে বারে তার প্রেমের তরঙ্গ।।*

*🏵কথা= এদিকে জটিলা, কুটিলার মুখ শুকিয়ে গিয়েছে, তখন বড়াই বলছেন, ওগো------ জটিলে, ওগো----- কুটিলে! তোমাদের কোন দোষ নেই। কেননা,গত রজনীতে এই বৃন্দাবনে চরম মেঘ হয়েছিল,সেই মেঘে এই বৃন্দাবনবাসীর ঘরে ঘরে প্রত‍্যেকের শয‍্যার উপরে একটি করে মূরলী বরিষণ হয়েছে।তোরা কেউ তা উপলব্ধি করতে পারিস নাই। আমি সব মুরলী কুড়িয়ে নিয়ে এসেছি।এই বলে ঐ মুরলীর বোঝাটি বা মুরলীর থোকটি নিয়ে এলেন।তখন জটিলা ও কুটিলা ঐ মুরলীর বোঝা দেখে অবাক---*

*সকলেতে বাঁশী এনে একত্র করিল।*
*কৃষ্ণের মুরলী তথায় রাশি রাশি হইল।।*

*🌹জটিলা কিন্তু ছারবার পাত্রী নয়, তাই বলছেন----*

*কুল নাশা বাঁশী আমি তাও ভাল জানি।*
*বাঁশীর নাম গন্ধ না রাখিব লাগাব আগুনি।।*

*🌹কথা= এই বলে যখনই জটিলা মুরলীর বোঝাতে আগুন দিতে গিয়েছে,অমনি বড়াই বলছেন, তা বাপু!তোদের কুলের ভয় আছে,তোরা সব মুরলী পুরিয়ে ফেল, কিন্তু আমার ঘরে যে মুরলীটি পরেছিল, তা আমি পোড়াতে দিব না।আমার বুড়োকালে এত কুলের ভয় নেই।*

*যোগমায়া বলে শুন আমি কিছু বলি।*
*মূল বাঁশী চিনে নিল এই ছলা করি।।*

*🏵কথা=বড়াইবুড়ি তখন যেটি প্রকৃত শ্রীকৃষ্ণের মুরলী ছিল, সেইটিকে চিনে নিয়ে রাধার বদন পানে চেয়ে মুচকি হেসে চলে গেলেন।*

*ভাগবত দাস বলে মা বলিহারি যাই।*
*মুরলী পুড়িল কিন্তু ভস্ম কিছু নাই।।*

*🏵কথা= একটি মুরলী বাদে সবই মায়ার দ্বারা মুরলী তৈরী করা হয়েছিল, একমাত্র রাধারাণীর সম্মান বাঁচানোর জন্য। কিন্তু দেখা গেল একটি বাদে সব মুরলী পোড়ানো হল বটে, কিন্তু ভস্ম বা ছাই দেখা গেল না।*
*🌹ঠিক এমনি সময়  ললিতা ও বিশাখা সহ সব সখীগণ এসে বলছেন, ও মা! জটিলে!তোমার বধূকে নিয়ে আমরা যমুনায় স্নানে যাই অনুমতি কর।জটিলা তখন রাইধনির মস্তকে ও বদনে হাত বুলিয়ে বললেন,সতী লক্ষ্মীমা আমার সখীদের সঙ্গে স্নানে যাও। রাধারাণী সখীদের সঙ্গে স্নানের জন্য নন্দালয়ের নিকট পথ দিয়ে যমুনা ঘাটে চলেছেন।শ‍্যামনাগর তখন গো-দোহনের ছলে ধেনু বৎসের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন,দূর হতে দেখলেন সখীদের সঙ্গে প্রেমময়ী রাইধনি আসছেন, অমনি---*

               *🍀পদ🍀*
*রাধা বদন,  চাঁদ হেরি ভুলল,*
    *শ‍্যামের নয়ন চকোর।*
*ছান্দ বন্দ বিনা,ধবলী দোহত,*
     *বাছিয়া করত কোর।।*

*🏵কথা=ছাদন  ডুরি অর্থ‍্যাৎ গরুর  বাঁধা যে দড়ি, বিহীন বৎস ছেড়ে দিয়ে ধবলীকে দোহন করতে বসলেন।কিন্তু চোখ রয়েছে রাধা বদনের দিকে। আর এদিকে ধবলী সরে গিয়েছে, শুধু হাত দুখানিই দোহন কার্য‍্য করছে কিন্তু গরুর বাট বিহীন।কেন--*

     *সুন্দরী দেখে মুগধ মুরারি।*
*ঝাঁটুহি অঙ্গুলি,করত গতাগতি,*
      *হেরি হাসত ব্রজনারী।।*

*🌹কথা=গাভী বিহীন দোহন অবস্থা দেখে সখীগণ বেষ্টিত শ্রীরাধিকা হেসে অধীর হয়ে যাচ্ছেন। শ্রীকৃষ্ণ সখীদের হাসি দেখে তখন নিজের পানে লক্ষ্য করে,আর ধবলীর পানে লক্ষ্য করে,দেখছেন, ধবলী নেই, তখন---*

*লাজহি লাজ, হাসি দিঠি কুঞ্চিত,*
       *পুনলেহি ছাদন ডোর।*

*🏵কথা=শ‍্যামনাগর লজ্জা পেয়ে মুচকি হাসি হেসে তাড়াতাড়ি আবার ছাদন ডুরি নিয়ে রাধারাণীর বদন পানে লক্ষ্য  করতে করতে-----*

*ধবলী ভরমে,  ধবল পদ ছান্দহি,*
       *গোবিন্দ দাস মন ভোর।।*

*🏵কথা=গোবিন্দ আমার ধবলী ভ্রমে ধবল অর্থ‍্যাৎ পাশে একটি ষাঁড় ছিল,সেই ষাঁড়ের পায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধেছেন, তা ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন যে, গোবিন্দ!আমার ষন্ড অর্থ‍্যাৎ "সাক্ষাৎ কাম" ছেঁদে নিয়ে বা বেঁধে দিয়ে, জগৎকে শিক্ষা দিয়েছেন, কেমন শিক্ষা, না,পদকর্তা জগৎকে ডেকে ডেকে বলছেন, হে অনন্তকোটি জগতের জীব যদি কারও অপ্রাকৃত বিশুদ্ধ প্রেমভক্তির লালসা হৃদয়ে জেগে থাকে বা রাধা বদন দরশনের সাধ থাকে তাহলে---*

*🌹আখর=ছাঁদন পরাও।*
       *কামনা বাসনা কামকে।*
*গুরুদত্তা, উপাসনার ডুরি দিয়ে।।*

*আখর= যদি সাধ থাকে।*
   *রাধা,  গোবিন্দ ভজনের।*
*উপাসনা, ডুরির ছাঁদন পরাও।।*

*🏵কথা=উপাসনা ডুরির ছাঁদনটি কেমন? না, একমাত্র সৎগুরুর দেওয়া বস্তু।গুরুর দেওয়া বস্তুটি কি? না, কামবীজ কামগায়ত্রী।*

*🌷বৃন্দাবনে অপ্রাকৃত নবীন মদন।*
*🌷কাম বীজ কাম গায়ত্রী যার উপাসন।।*

*🏵কথা=শ্রীকৃষ্ণই অপ্রাকৃত নবীন মদন। মত্ততা জন্মায় যে তার নাম মদন।। কামবীজ কাম গায়ত্রী জপ সাধন-ভজন করিলে অন‍্য প্রাকৃত কাম কামনা বাসনা দূরীভূত হয়। এবং শ্রীরাধা গোবিন্দে তীব্র উৎকণ্ঠা জন্মায়।তীব্র উৎকণ্ঠা না জন্মিলে, শ্রীগোবিন্দের দর্শন বা সেবা লাভ হয় না।*
*🍀তাই ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, সৎগুরু আশ্রয় করে, শ্রীগুরুদেবের শ্রীপাদপদ্ম হৃদয়ে ধারণ করে এই কামবীজ কাম গায়ত্রী দ্বারা ভজন সাধন করিলে শ্রীরাধাগোবিন্দের রূপমাধুর্য‍্য হৃদয়ে স্ফুরিত হয় বা সেবা লাভ হয়---*

*🏵আখর=এবার, জড়ায়ে ধরবে।*
   *শ্রীগুরু, শ্রীপাদপদ্ম হৃদয়ে।*
*দয়ালগুরু, তোমার হলেম বলে।।*
       *যেই গুরু সেই কৃষ্ণ।।*

*🌹🌹বিরাম পদ🌹🌹*

*হেরইতে বিনোদিনী ভুলল রে।*
*গোদোহন শ‍্যাম তেজল রে।।*

*🌹কথা=সখীগণ নয়ন ইঙ্গিত করে যমুনায় চলে গেলে, শ‍্যামনাগরও ঐ ইঙ্গিত অনুসারে গমন করলেন। গেল সবে যমুনার জলে।যমুনার জলে গিয়ে জলকেলি করে তীরে উঠিল সখীগণ মেলি।শুকনো বসন পরিধান করে সবে নিকুঞ্জ মন্দিরে  বসাইল রতন বেদীর উপরে।ক্ষীর,সর,ননী যা কিছু ছিল, আগে দেয় কৃষ্ণ বদনে, পরে দেয় রাধার বদনে।সবে প্রসাদ পেল জনে জনে।ভোজন আচমন শেষ করে নিভৃত নিকুঞ্জে।*

*চাঁদ চকোর যেন পাওল রে।*
*রাই প্রেমজলে ভাসল রে।।*
*অঙ্গ পুলকিত পূরল রে।*
*গোবিন্দ দাস মন ভুলল রে।।*

*🏵কথা=এই নিভৃত নিকুঞ্জে রতন বেদীর উপরে শ্রীরাধা গোবিন্দকে যুগল করে বলছেন--*

*🏵আখর=*
    *তোরা,  জয়  দে  জয়  দে।*
*রাধা গোবিন্দের যূগল হেরে।                                      প্রেমানন্দে বাহু তুলে।।*
    *জয়  দিলে  জয়  হবে।।*

*🙌অমনি থাকুক যুগল,যূগল কিশোর আমাদের, শ্রীরাধা গোবিন্দের যূগল, শ‍্যাম জয় কিশোরীর জয়।*

*🙌জয়রাধে রাধে গোবিন্দ বল জয়।*
*🙌শ‍্যামের জয় কিশোরীর জয়।*
*🙌জয় রাধে জয় রাধে জয় রাধে জয় রাধে 🙌🙌🙌🙌*
   
*🙏মুরলী বর্ষণ লীলা এখানেই রইল, বানান, ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়। শ্রীশ্রীরাধাশ‍্যামসুন্দরের জয়🙏🙏🙏*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


গোপীকাদের বস্ত্র হরণ অন্তর তত্ত্ব 🥻শ্রীমৎ বিজয়ানন্দ ভক্তিরত্ন প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/bastroharon.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 গোপীকাদের বস্ত্র হরণ অন্তর তত্ত্ব 🥻শ্রীমৎ বিজয়ানন্দ ভক্তিরত্ন প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/bastroharon.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🌹গোপীকাদের বস্ত্র হরণ অন্তর তত্ত্ব।* 
   *শ্রীমৎ বিজয়ানন্দ ভক্তিরত্ন প্রণীত।*

*🍀শ্রুতি অর্থে বেদ,উপনিষদ্, ব্রহ্মতত্ত্ব।শ্রুতি অর্থে আবার সাধন জগতে প্রণব ধ্বনি শ্রবণ।*
*শ্রুতি বিপ্রতিপন্ন তে যদাস্থাস‍্যতি নিশ্চলা।*
*সমাধৌ অচলাবুদ্ধি তদা যোগম বাস্প‍্যসি।।*
                        *(গীতা)*
*🍀অর্থ‍্যাৎ শ্রুতি (প্রণব ধ্বনি শ্রবণ) দ্বারা যখন মন প্রাণ নিশ্চল হয়ে স্থির হবে এবং বুদ্ধি অচলাবস্থা প্রাপ্ত হবে,তখন জীবাত্মা পরমাত্মার মিলন হয়।*

*🍀সাধারণ অর্থ ভগবান প্রাপ্তি।পরমাত্মাই ভগবান।ভগবানই জগৎপতি। বাইরের জগতে যেমন নারী বিয়ে করে পতি লাভ করে,তদ্রুপ অন্তর্জগতে আত্মপতি লাভ করে মনুষ‍্য জনম সার্থক করতে হয়। যেমন একটি শিল-নোড়া, একটি স্থির অন‍্যটি তার উপর অস্থির। অর্থ‍্যাৎ নোড়া স্পন্দন যুক্ত।যেমন মনগতি, প্রাণগতি স্পন্দন। জীবাত্মা মনোগতি,প্রাণগতি,ইন্দ্রিয় গতিবেগ যুক্ত।পরমাত্মা স্থির নির্বিকার।জীবাত্মাকে মনগতি,প্রাণগতি,ইন্দ্রিয়গতি ত‍্যাগ করে স্থির হতে হয়।তখনই পরমাত্মার সান্নিধ্যে আশ্রয় পায়।গীতায় শ্রীভগবান অর্জুনকে স্থির ও শান্ত হতে উপদেশ দিয়েছেন।*
*🌷এষা ব্রাহ্মী স্থিতি পার্থ নৈনং প্রাপ‍্য বিমুহ‍্যতি।*

*🍀গীতার ক্ষেমাধ‍্যায়  অর্জুন স্থিতি লাভ করে স্থির হয়ে বলেছিলেন--*
*🌷স্থিতোহাস্মি গত সন্দেহ।*
*🍀আমি সব সংশয় দূর করে অন্তর্জগতে স্থিতি লাভ করেছি। ভগবানের সৃষ্টি এই বিশ্বব্রহ্মান্ড সপ্তলোক বিরাজমান, ভূ,ভুবঃ,স্ব, মহ,জন,তপ ও সত‍্য। অতএব এই সপ্তলোকের মধ্যে ভূলোক সবার নিচে। আর সত‍্যলোক সবার উপরে।ভূ-অর্থে পৃথিবী বা ক্ষিতি। মাটির দেহ নিয়ে ভূলোকে আমরা বাস করি।ভুবঃ অর্থ হ'ল প্রৈতলোক। অর্থ‍্যাৎ সাধারণের মৃত্যুতে তাদের প্রেতলোক স্থান হয়। স্ব-অর্থে স্বর্গলোক। অর্থ‍্যাৎ স্বর্গলোকে দেবতার স্থান। মানুষ শুভ কর্ম করে স্বর্গলোকে স্থান করে নেয় এবং ভোগ শেষ হ'লে আবার নিচে নামতে হয়।এইরকম তপলোক পর্যন্ত ছয়স্তর ওঠা-নামা আছে।ইহার উর্দ্ধে সত‍্যলোক পরমব্রহ্ম অর্থ‍্যাৎ পরমাত্মার স্থান। সৎ চিৎ আনন্দময় স্থান।অতএব জীবাত্মার ভুবাদি লোকে অর্থ‍্যাৎ ষট্ চক্র বা ষট্ লোক অতিক্রম করে পরমাত্মার স্থানে পৌঁছাতে হয়। ইহাই গুরু-শিষ‍্যের মিলন।🌹অতএব গোপীগণ অতি সন্তর্পণে শ্রীভগবানকে লাভ করবার জন্য কাত‍্যায়নী ব্রত করেছিলেন।এই মিলন বহু ভাগ‍্যের ফলে দুই-একজনের হয়। কারণ তৃষ অর্থে ইচ্ছা বাসনা কামনা,এই কামনা বাসনায় জীবকে বন্ধনে বন্ধ করে রেখেছে।বাসনার পঙ্কিল কর্দমাক্ত গতি হতে নিজেকে প্রথমে মুক্ত করতে হয়। ইহাই অন্তর্মুখী।*
*🌷দ্বে উর্জ্জে বিষ্ণু স্ত্বানয়তু।*
*🍀উর্জ্জ অর্থ শ্বাস-প্রশ্বাস। শ্বাস প্রশ্বাসই জীবনের মূল গতি। শ্বাস প্রশ্বাসকে প্রত‍িহত করে ইহাকে অন্তর্জগতের জন্য শ্রীগুরুদেবের নিকট শিক্ষা নিয়ে সাধনায় প্রবেশ করতে হয়।এইরকম ভাবে পঞ্চপশু হতে মুক্ত করে জীবকে পঞ্চমন্ডলে নিতে হয়।পঞ্চ পীড়নে বন্ধন।পঞ্চভূতের বন্ধন রূপ পশুভাব হতে মুক্ত হয়ে পঞ্চত্বমন্ডলে প্রাপ্ত হয়। প্রাকৃতিক বিকার ও পরিবর্তন জীবের ভিতরে গ্রীষ্মাদি ষড়রিপু বিকার রয়েছে।ষড়রিপু বিকার ও গতি হতে মুক্ত করে সপ্তমন্ডল প্রাপ্তি করতে হয়। সপ্তপ্রাণের সপ্ত সমিধে যে হোম হচ্ছে, যে বিশ্বব‍্যাপী বিরাট প্রাণযজ্ঞের আহুতি হচ্ছে,সেটির মধ্যে জীবের অগ্রাহ‍্য বস্তু আহুতি দিয়ে সপ্তাহতি অতিক্রম করে সপ্তম মন্ডল প্রাপ্তি করতে হয়।*
              *ক্রমাগত*

*🍀গোপীকাদের বস্ত্র হরণ লীলার অন্তর্তত্ত্ব। দ্বিতীয়।*

*🍀বৈষ্ণব শ্রীভাগবত সাধনার উপায় স্বরূপ দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও মধুর,এই কয়টি বতর্মান।কেউবা সখ‍্যভাবে ভজনা করছেন। যেমন গোপবালকেরা সুদাম,শ্রীদাম প্রমুখ এবং গোপিনীরা কেহ বা বাৎসল‍্য ভাবে অর্থ‍্যাৎ এখানে পুত্র ভাবে তাঁকে প্রার্থনা করেছেন।*
*🍀সখা কে?সমপ্রাণ।সমপ্রাণ হলেই সখ‍্যতা হয়।যখন প্রাণ সাম‍্য ভাবে থাকে তখন সখ‍্যত্ব ভাব প্রকাশিত হয়।আত্মভাব, আত্মবোধ---জগৎ হয়।জীবাত্মা, পরমাত্মা সমভাবে  অবস্থায় থাকে।আর পরমাত্মা অতি উর্দ্ধে সত‍্যলোকে স্ব-প্রকাশ অবস্থায় অবস্থিত।মানব বা জীবাত্মা শুধু বদ্ধ নয়,চঞ্চল ও অস্থির-- জরা ব‍্যাধি,ত্রিতাপ পীড়িত ও কষ্টযুক্ত।ইহা জীবাত্মার অতি বিষম অবস্থা ছাড়িয়ে উর্দ্ধলোকে অগ্রসর হতে হয়। সখ‍্যত্ব অবস্থা পাওয়ার জন্য।*
*🌷"সখে সপ্তপদীভব,সখ‍্যান্তে গময়ম্" বলা হয়েছে।*
*🍀মানুষের মস্তকস্থ সহস্রার, সপ্তম মন্ডল।এই সপ্তলোক প্রাণ পতি জগৎপতি জগন্নাথ শ্রীকৃষ্ণ রয়েছেন।প্রাণ পতির জন্য সকলের প্রাণনাথের সঙ্গে মিলনের জন্য শ্রীগুরুর নিকট হতে শিক্ষা নিয়ে সাধনপথে অগ্রসর হতে হয়।যেমন স্থির নিশ্চল এক অবস্থার নাম "ধ্রুব" নক্ষত্র।বিশেষকরে ধ্রুবতারা অচল।বাহ‍্য জগতে নক্ষত্রের গতি পরিবর্তনাদি রয়েছে। কিন্তু ধ্রুবতারার কোন পরিবর্তন নেই।ঠিক অন্তর্জগতে ধ্রুব দর্শন আছে।যোগী ঋষিরা এই তারকা দর্শন করেন।ইহাকে "তারকব্রহ্ম নিশ্চিতং" বা তারকব্রহ্ম নাম দিয়েছেন।এই তারকাকে বিন্দু বলা হয়েছে।ইহাকে লক্ষ্য করেই যোগী ঋষিগণ উচ্চমার্গে অগ্রগতি হন।*
*🍀শ্রীকৃষ্ণের সামাজিক দৃষ্টি সংস্করণ কি রকম? যিনি ধর্মাত্মা, তিনি গোপীদের অর্থ‍্যাৎ বিবস্ত্রা মেয়েদের যমুনার জলে স্নানরত কালে তাঁদের বস্ত্রগুলি তুলে শ্রীকৃষ্ণ বংশীবাদন করলেন, এ কি রকম ধর্মাত্মা?
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


নৌকা বিলাস 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/noukobilas.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 নৌকা বিলাস 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/noukobilas.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🌻নৌকা বিলাস গৌরচন্দ্রিকা।*
*🏵সোম তাল ২৮ মাত্রা🏵*

*১|আরে মোর আরে মোর গৌরাঙ্গ রায়।*

*প্রথম কাট=*
*আমার ভাবনিধি---------- ভাবনিধি শ্রীগৌরাঙ্গের*
*আহা মরি আরে এএএএ-------*
*দ্বিতীয় কাট=*
*ওকি আ-----আ------হা----রে এএএএএ*
                    *তাল=মধ‍্যম*
*২|সুরধূনীর মাঝে যাইয়া----- আরে কিবা---*
*সুরধূনীর মাঝে যাইয়া-- নবীন নাবিক হইয়া----*
*সহচর মেলিয়া খেলায়।*

*ভাবনিধি গৌর আমার ----- সুরধূনীর মাঝে--*
*আহা  মরি  রে-----এএএএএ*
*শিকলি=*
*শ্রীবৃন্দাবন ভাব মনে  করি*
*ভাব  ময় শ্রী গৌরহরি*
*সেই ভাব সাগরে, পূর্ব রচিত ভাব  সাগরে*
       *হলো নবীন  কান্ডারী।*

*শিকলি দ্বিতীয়=*
*এ কান্ডারী কোন কান্ডারী*
*এ যে কলি জীবের কর্ণধারী*   *হাতে ধরি পায়ে পড়ি*
         *সবাইকে বলাবে হরি।*
*সবাইকে বলাবে হরি-------------*
*কাউকে বাকী রাখবে নারে।।*

*কাট=*
*এবার) হরি বলায়ে পার করবে রে*
*কাউকে বাকী ------ কাউকে বাকী রাখবে নারে।*

*২| স্থাবর জঙ্গম কীট পতঙ্গম রে-------*
*কাউকে বাকী রাখবে নারে।।*

*রাগিনী=*
*আহা মরিরে------আহা মরিরে এএএএ*
*আহা মরিরে এএএএ-------আ------*

*সুরে=*আরে মোর আরে মোর গৌরাঙ্গ রায়।*
*সুরধূনী মাঝে যাইয়া, নবীন নাবিক হৈয়া,*
       *সহচর মেলিয়া খেলায়।।*
                 *বড় একতালী*
      *গৌর আমার-------------*
*নবীন কান্ডারী হয়েছে রে।*
*কলির)জীবকে পার করবে বলে।*
*কলির)জীবের দশা মলিন দেখে।*
*আজ আর ) কাউকে বাকী রাখবে নারে।।*
                   *ছুট একতালী*
*১|সুরধূনীর মাঝে*
*সুরধূনীর মাঝে যাইয়া,নবীন নাবিক হৈয়া,*
        *সহচর মেলিয়া খেলায়।।*

*🌻কথা=*
*ভাবময় পদকর্তা বলছেন---, গৌর আমার কান্ডারী তো হয়েছেন,এ কান্ডারী যে আজই হয়েছেন তা নয়,এ কান্ডারী প্রতি যুগে যুগেই হয়ে এসেছেন হয়ত বা হবেও। কিন্তু নবীন কান্ডারী হল কেন? এবার নবীনওটা কি?না-- প্রতি যুগে যুগে কান্ডারী হয়েছেন বটে, কিন্তু যাদের পার করেছেন বা ওপারে নিয়ে গিয়েছেন,নিয়ে গিয়ে সময় ফুরিয়ে গেলেই পুনরায়  এ পারে তাদের আসতে হয়েছে। কিন্তু এবারে এই নবীন কান্ডারী হয়ে যাদের পার করেছেন----*
*🍀আখর=*
*তারা আর) ফিরে আসবে না*
*হরি বোলে যারা পারে গেছে*
*প্রাণ গৌর তোমার হলেম বোলে।।*
*🏵কথা=*
*ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, এটি হলো গৌরসুন্দরের নবীনও। অর্থ‍্যাৎ গৌরসুন্দর আমার কৃপা করে,এই কামনা বাসনারূপ সাগর পার করে ওপারে নিয়ে গিয়েছেন, নিয়ে গিয়ে নিজ সেবা অধিকার দিয়ে অপার্থিব প্রেম সাগরে নিমজ্জিত করেছেন।*
*🌺তাই ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন যে,এ হেন সুযোগ পেয়েও যারা হেলায় হারান তারা আত্মঘাতি হন।কেমন আত্মঘাতি?না, শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশ স্কন্ধে বিংশ অধ‍্যায় উল্লেখ আছে----*
*🌷নৃদেহ মাদ‍্যং সুলভং সুদুর্লভং।*
*🌷প্লবং সুকল্পং গুরু কর্ণধারম্।।*
*🌷ময়ানু কূলেন নভেস্বতেরিতং পুমান্।*
*🌷ভবাব্ধিং তরেৎ স আত্ম হা।।*

 *🍀এই দেহ সব ফলের মূল ও কার্য‍্যসাধন পটু,এই নৌকারূপ দেহের কর্ণধার গুরু আমি,সর্বোপরি আমি অনুকূল বায়ুরূপে প্রবাহিত হয়ে ইহা চালিয়ে থাকি, এহেন অনেক যত্নলভ‍্য অথচ যদৃচ্ছাপ্রাপ্ত দেহ লাভ করে যে ভবপারের জন্য প্রযত্ন না করে,সে আত্মঘাতী।*

*ভাবাবিষ্ট পদকর্তা আরও বলছেন যে গৌর গোবিন্দ লীলা হ'ল দুটি ধারা, একটি হ'ল স্বমাধুর্য‍্য আস্বাদন, অপরটি হ'ল জীব শিক্ষা। তাহলে জীবশিক্ষা এ পর্যন্ত হলো। এইবার স্বমাধুর্য‍্য আস্বাদন করব।*
*১|প্রিয় গদাধর সঙ্গে,পূরব রভস রঙ্গে,*
        *নৌকায় বসিয়া করে কেলি।*
*🌹আখর=*
            *আনন্দ ধরে না।*
            *আনন্দ ধরে না।*
    *আনন্দ ময় গৌর হরির    সেই পূরবের ভাব মনে করে।।*

*২|ডুবু ডুবু করে না',বহয়ে বিষম বা',*
         *দেখি হাসে গোরা বনমালী।।*

*🌺কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন--, গৌরসুন্দর আমার দুই প্রকার ভক্ত নিয়ে এই মন্ডলী করে নৌকায় উঠেছেন,উঠে গৌর  আমার এতই ভাবে বিভোর হয়েছেন যে নিজেই নৌকাখানি দোলাচ্ছেন।*

*🌹আখর=*
     *দোলাইতে লিগিলেন।*
   *মহাভাবের তরণী খানি।*
      *প্রেম সমুদ্র মাঝে।।*
*🌺কথা= নৌকাখানি ডুবু ডুবু দেখে--*

*১|কেহ করে উতরোল,ঘন ঘন হরিবোল,*
          *দুকুলে নদীয়ার লোক দেখে।*

*🌺কথা=নৌকাখানি ডুবু ডুবু দেখে,যারা ভক্তিহীন ভক্ত তারা ডুবে ম'লাম ডুবে ম'লাম বলে চিৎকার করছেন।আর যাঁরা নাকি আমার গৌরসুন্দরের অন্তরঙ্গ ভক্ত তাঁরা----*

*🌹আখর= হরিবোল বলছে।*
           *গৌর বদন নিরখিয়া।*
     *প্রেমানন্দে বাহু তুলে।।*
*🌺কথা=আরও বলছেন----*

*🌹আখর=যেন ডুবায়ে রেখ হে।*
*তোমার) প্রেম সিন্ধু মাঝে।*
*সদাই যেন ) সাঁতার খেলতে পারি।।*

*২|ভুবন মোহন নেইয়া,দেখিয়া বিবশ হইয়া,*
      *যুবতী ভুলিল লাখে লাখে।।*

*🌹আখর= তারাই ভুলেছে।*
               *যারা যুবতী হয়েছে।*
*পুরসত্তা )অভিমান ছেড়ে দিয়ে।*
      *অন্তর মুখী হয়েছে।।*

*🌺কথা=যদি বলেন অন্তর মুখী কেমন? বহির্মুখীই বা কেমন? তার প্রমাণ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন---*

*🌷বহির্মুখী জীবের নাই কৃষ্ণ স্মৃতি জ্ঞান।*
*🌷এ কারণে কৈলেন বেদ আর পুরাণ।।*

*🌻অর্থ‍্যাৎ বহির্মুখী ধারায় জগৎ সৃষ্টি হচ্ছে।এই ধারা অর্থাৎ এইটি,আত্মসুখ জনিত ধারা। এতে ইষ্টসুখ অর্থ‍্যাৎ গৌর সেবার নাম গন্ধ টুকুও নেই।যাঁরা সদ্ গুরু আশ্রয় করে শ্রীগুরুর শ্রীপাদপদ্ম হৃদয়ে ধারণ করে অন্তর মুখী হয়ে হা গৌর বলে কাঁদতে পেরেছেন।*

*🌹আখর= তারাই তো ডুবেছে।*
    *গৌর প্রেম রসার্ণবে।*
*সৎ ) গুরু চরণ হিয়ায় ধরে।।*

*১|জগ জন চিত চোর, গৌর সুন্দর মোর,*
         *যে করে তাহাই পরতেক।*
*২|কহে দীন রামানন্দে,এ হেন আনন্দ কন্দে,*
      *বঞ্চিত হইনু মুই এক।।*
     *জামালী---মধ‍্যম*
*🙌গৌরচন্দ্রিকা এখানেই রইল।*

*🌹ব্রজলীলা নৌকা বিলাস।*

             *তাল=তেওট*
*সখা গণ---গণ  সঙ্গ ও ছোড়ি যদুনন্দন*
*কাট, প্রথম,*
*আর তো খেলা ভাল লাগে নারে।*
*২|প্রাণ যেন )কেমন কেমন কেমন কেমন করে রে*
*৩| উদ্দীপনের বদন দেখে রে*
*৪|আর যে ধৈরজ ধরতে, আর যে ধৈরজ ধরতে নারি রে।*
         *তাল=ছোট দশকুশি*
         *চলতহি নাগর রাজ।*
                *তাল=মধ‍্যম*
*শ‍্যাম আমার চলে যায় ও চলে যায়*
       *সখা গণের সঙ্গ ছাড়ি।*
  *রাধা বদন উদ্দীপন হয়ে*
.*উদ্দীপনের বদন দেখবে বলে।।*
*🏵কথা=শ্রীনন্দ নন্দন যশোদাদুলাল ব্রজ বল্লভ শ‍্যামসুন্দর আজ সকালে সখাদের সঙ্গে গোচারণে এসেছেন।গোচারণে এসে শীতল তরুর ছায়ায় বিপিন খেলায় মেতে আছেন।খেলতে খেলতে হঠাৎ মরম সখা সুবলের বদন দর্শন করা মাত্রই অমনি রাধারাণীর বদনখানি উদ্দীপন হয়েছে।কারণ টি কি?না,কারণ হল মরম সখা সুবলের বদন হল রাধারাণীর বদনের মত।ঐ রাধা বদন যখনি উদ্দীপন হয়েছে অমনি সখ‍্যরসের খেলা আর ভাল লাগছে না।তখন খেলা ভেঙ্গে দিয়ে যে পথে গেলে রাধা বদন দর্শন পাবে,শ‍্যামসুন্দর আমার সেই পথ ধরে চলে যাচ্ছেন।এমন সময় ঐ মরম সখা সুবল ছুটে এসে কানাইয়ের পথ আগলিয়ে দাঁড়িয়ে বলছেন,*
*🌻সুরে= ভাই কানাইরে------ আমরা সব রাখালগণে মিলিত হয়ে সকালবেলা মাকে বলে কয়ে, কত হাতে ধরে,পায়ে পরে তোকে আমরা বনে এনেছি ভাই----- কেন জানিস?না,আমরা বনে এসে তোকে মাঝে রেখে আমরা খেলা পাতি,আর খেলার মাধ‍্যমে ঘুরে ঘুরে তোর ঐ অলকাবৃত বদনখানি দেখতে পাই ভাই। কিন্তু এমন করে,এমন সুন্দর খেলা ভেঙ্গে দিয়ে কোথায় চলেছিস ভাই?*
*🏵সুরে=শ‍্যামনাগর বলছেন--,ভাই সুবলরে------ তুই যে আমার মরম সখা----- আমি যে কেন খেলা ভেঙ্গে দিয়ে চলে যাচ্ছি,মুখে বলবার কথা নয়-----, আয় আয় আমার কাছে আয়, এই বোলে কানাই সুবলকে আলিঙ্গনবদ্ধ করেছেন আর কানে বদন দিয়ে বলছেন---*
             *তাল=মধ‍্যম*
*তোর মুখ দেখে মুখ মনে ------ মনে পরলরে-- ওরে আমার মরম সখা--।*

*১|সখারে----- আমার আর যে খেলা ভাল লাগে নারে*
*২|ঐ বদন দরশন বিনে----*
*🏵কথা=তখনি মরম সখা সুবল  কানাইয়ের মরমের ভাব বুঝতে পেরে অমনি পথটি ছেড়ে দিয়েছে।তবে ও পথ আবদ্ধ করবার মত সাধ‍্য একমাত্র সুবলেরই আছে।কারণ, কারণ হলো--- সুবল একে হলো কানাইয়ের মরম সখা। তারপর আবার হল প্রিয়নর্ম্মসখা।*
*🌹কৃষ্ণের সখা হল পাঁচ প্রকার। উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে নায়ক সহায়ে ৪৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে--*
*চেটক, বিট, বিদুষক, পীঠমর্দ্দ ও প্রিয়নর্ম্ম, এই পাঁচ প্রকার মধ্যে তিন প্রকার প্রধান। এদের গুণ কি?*
*১|পরিহাস বাক‍্য কথনে নিপুনতা।*
*২|সর্বদা গাঢ় অনুরাগিত্ব।*
*৩|দেশ কালের অভিজ্ঞতা।*
*৪|গোপীগণ রুষ্ট হলে প্রসন্নতা করতে পারে।*
*৫|নিগূঢ় মন্ত্রণা দেওয়া ইত্যাদি।*
*🍀এদের মধ্যে প্রধান তিনটির গুণ কি কি?*
*প্রধান হল বিদূষক,পীঠমর্দ্দ ও প্রিয়নর্ম্ম।*

*😄বিদুষক সখার গুণ।*

*বসন্তাদ‍্যভিধো লোলো ভোজনে কলহপ্রিয়ঃ।*
*বিকৃতাঙ্গ বচো বেশৈর্হাহ‍্যকারী বিদুষক।।*

*🌻অর্থ‍্যাৎ  যে ব‍্যক্তি ভোজন বিষয়ে অত‍্যন্ত লোলুপ ও কলহপ্রিয়, এবং দেহ বেশ ও কথার বিকৃতি করে লোকের কাছে হাস‍্যকারী হয়,তাকে বিদুষক বলা হয়। (মধুমঙ্গল হলেন বিদুষক সখা)।*
        *পীঠমর্দ্দ সখার গুণ*
*গুণৈর্নায় ককল্লোয়ঃ প্রেম্না তত্রানুবৃত্তি মান।*
*পীঠমর্দ্দ স কথিতঃ শ্রীদাম স‍্যাদযথা হরে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যে ব‍্যক্তি কৃষ্ণ তুল‍্য গুণবান হয়েও সেই কৃষ্ণেরই অনুবৃত্তি কারী হয়, তাকে পীঠমর্দ্দ সখা কহে। (শ্রীদাম সখাই হলেন পীঠমর্দ্দ সখা)।*
     *আর প্রিয় নর্ম্ম সখা কাকে বলে?*
*অত‍্যান্তিক রহস‍্যজ্ঞঃ সখিভাব সমাশ্রিতঃ।*
*সর্বেভ‍্যঃ প্রণয়িভ‍্যো হসৌ প্রিয় নর্ম্ম সখৌ বরঃ।।*
*স্ব গোকুলেতু সুবলস্তথা স‍্যাদর্জুনা দিকঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ অত‍্যন্ত রহস‍্যজ্ঞ ও সখি ভাবাশ্রিতা এবং প্রণয়ীগণ মধ্যে অত‍্যন্ত প্রিয় তাকে প্রিয় নর্ম্ম সখা বলে। (গোকুল মধ্যে সুবল এবং দ্বারকায় অর্জুন,ইঁহারাই কৃষ্ণের প্রিয় নর্ম্ম সখা)।*

*তা এই সুবল এই বৃন্দাবনে মাধুর্য‍্যময় কৃষ্ণপ্রেম সরোবরে এমন ভাবেই নিমজ্জিত হয়েছেন যে উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে ৪৯ পৃষ্ঠায় নায়ক সহায় মধ্যে সনাতনী টীকায় উল্লেখ আছে যে--*

*🌹একদিন শ্রীরূপ মঞ্জরী নিজ সখীকে কহিলেন সখী! সুবল শ্রীকৃষ্ণের কোন সেবার অধিকারই না পেয়েছেন। দেখ কৃষ্ণ প্রেয়সীগণ শ্রীকৃষ্ণ সনে খেলা করতে করতে কলহ করে সেখান থেকে চলে গেলেন, ঠিক এমনি সময়ে সুবল ছুটে গিয়ে নানান বিনয় বাক‍্যে তাদের ফিরিয়ে এনে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে মিলিয়ে পুনঃ মিলন করান।*
     *🌻সব জায়গায় বলা চলবে না।*
*🌺আরও নিগূঢ় তত্ত্বে বলেছেন যে,শ্রীরাধাগোবিন্দের নিভৃত নিকুঞ্জ গৃহে অপূর্ব কন্দর্প লীলাচিত শয‍্যা রচনা করে দিয়েছেন বা দেয়।*
*🌹আরও নিগূঢ় তত্ত্বে বলেছেন যে,যখন শ্রীগোবিন্দ আমার স্বরসমরে ক্লান্ত হয়ে প্রেয়সীর হৃদয় পরিন‍্যাস্তাঙ্গ হন, তখন সুবল চামর গ্রহণ করে ব‍্যজন করতে থাকেন।*
*🏵কাজেই এমন সেবাধিকারী সুবল কৃষ্ণের হৃদয়ের ভাব অনুভব করে পথটি ছেড়ে দিলেন। যখনি পথ ছেড়ে দিলেন অমনি কানাই রাধা দর্শনের পথ পেয়ে---*
                *তাল=লোফা*
                      *পদ*
*ভাবিনি মনরথে,চলত বিপিন পথে,*
       *সাধিতে মনমথ কাজ।।*

*🌹আখর=*
               *ধরে না  রে।*
      *আনন্দ আর ধরে না রে।*
   *শ্রীরাধা দরশন পাবে বলে।।*

*পদ*
   *তাল=কয়ালী*

     *চতুর শিরোমণি কান।*
*হেরি যমুনার জল মনমথ উথলল,*

*🏵কথা=কানাই ব্রজ রাখালদের সঙ্গ ছেড়ে শ্রীযমুনার কিনারে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। দাঁড়িয়ে যমুনার জল পানে লক্ষ্য করে দেখছেন যে শ্রীযমুনা করজোড়ে শ্রীগোবিন্দের বদন পানে চেয়ে আছে।শ্রীগোবিন্দ যমুনার বদন পানে চেয়ে হঠাৎ একটা কথা মনে করলেন। মনে করেই শ্রীগোবিন্দ বলছেন--*

*🌻আখর=*
          *আমার মনে পড়েছে।*
          *তোমার) মন  বাসনা।*
  *রাইকে বামে লয়ে, পূরণ করব।*
     *তোমার মনের বাসনা।।*

*🏵কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন যে, এই গোবিন্দের কাছে শ্রীযমুনা কি বাসনা করেছিলেন, না, বাসনা হ'ল এই যে-----*

*সুরে কথা= যেদিন শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় জন্মগ্রহণ করেন,সেদিন কি ভীষণ দুর্যোগ পূর্ণ রজনী।*
*🌷বৃষ্টি পরে ঘন ঘন তাতে অশনি গর্জন।*
*🌷হেন কালে জন্ম নিলেন শ্রীমধুসূদন।।*

*🍀পুত্রে মুখ দেখে দৈবকী ও বসুদেবের ভীষণ ভয় হল, হেন পুত্রের জীবন কেমন করে রাখব! রাত্রি প্রভাত হতে না হতেই সেই অত‍্যাচারী কংস এসে উপস্থিত হবে। দৈবকী ও বসুদেব পুত্র কোলে নিয়ে অত‍্যন্ত চিন্তা করছেন।এমন সময় শূন‍্যপথে দৈববাণী হ'ল।ঐ দৈববাণী শুনে বসুদেব নিজ পুত্র বক্ষে নিয়ে কারাগারের দরজায় এসে দেখেন, যোগমায়ার প্রভাবে দ্বার খুলে গেল, প্রহরীরা সবাই অচৈতন‍্য হয়ে পড়ে আছে, বসুদেব তখন অতি সন্তর্পণে কারাগার হতে বাহির হয়ে বৃন্দাবনের দিকে গমন করলেন।যেতে যেতে শ্রীযমুনার কিনারে দাঁড়িয়ে ঐ ঘনঘটা পূর্ণ ঘোর অন্ধকার রজনীতে এই খরতর যমুনা কেমন করে পার হবেন এই চিন্তায় বসুদেব আকুল হয়ে পরেছেন।এমন সময় যোগমায়া, যিনি এই শ্রীরাধাগোবিন্দের লীলার অঘটন-ঘটন-পটীয়ষী, তিনি এক শৃগালিনীর বেশে বাম দিক দিয়ে পদব্রজে যমুনা পার হয়ে যাচ্ছে। এই দেখে বসুদেব অত‍্যন্ত আনন্দিত হয়ে ঐ শৃগালিনীর পিছন পিছন চলতে লাগলেন, এমন সময় যমুনা ঐ গোবিন্দের শ্রীচরণ পাবার জন্য ক্রমশ বাড়তে লাগল।বসুদেবের অত‍্যন্ত চিন্তা হল বুঝি যমুনার তরঙ্গে পুত্রধনকে আর রাখতে পারব না।এই ভেবে পুত্রকে মস্তকে তুলতে নিয়েছেন, এমন সময় বসুদেবের বক্ষ হতে শ্রীগোবিন্দ যমুনায় পড়ে গেলেন।যমুনা তখন শ্রীগোবিন্দের শ্রীচরণ হিয়ায় ধরে প্রেম হিল্লোলে ভাসতে লাগল।এদিকে পুত্রহারা বসুদেব পাগলের মত পুত্রকে খুঁজছেন। এবার শ্রীগোবিন্দ যমুনাকে বলছেন যমুনা! ও যমুনা ঐ দেখ আমার পিতা আমায় হারিয়ে কেমন পাগলের মত খুঁজে চলেছেন।এইবার আমায় ছেড়ে দাও।তখন যমুনা বলছেন, হে প্রাণ বল্লভ!তুমি তো জানো, তোমার ঐ শ্রীচরণ যে একবার হিয়ায় ধারণ করেছে সে কি কখন আর ছেড়ে দিতে পারে।তবে আমি তোমায় ছেড়ে দিতে পারি, যদি তুমি আমায় প্রতিশ্রুতি দাও প্রভু, শ্রীগোবিন্দ তখন বললেন, বল যমুনা তুমি কি প্রতিশ্রুতি চাও? যমুনা বললে হে প্রাণ বল্লভ! প্রাণ গোবিন্দ!তুমি শ্রীবৃন্দাবনে যাচ্ছ মানব লীলা করবার জন্য, আমার এই প্রার্থনা  প্রভু! তোমার ঐ মাধুর্য‍্যময় লীলা যেন আমার বক্ষে সতত বিস্তার  বা অনুষ্ঠিত হয়।আমি যেন তোমার ঐ মাধুর্য‍্যময় লীলা দর্শন করতে পারি।শ্রীরাইধনিকে বামে লয়ে আমার হৃদয় পরে যুগল হয়ে বিলাস করবে আর আমি----*

*🌹আখর=*
   *নয়ন ভরে দরশন করব।*
*তোমার ঐ যুগল বিলাস।*
*আর,ঐ যুগল চরণ সেবা করব।*
    *যুগল চরণ হিয়ায় ধরে।।*

*🏵কথা= শ্রীগোবিন্দ বললেন, তথাস্তু। তখনি যমুনা অমনি ছেড়ে দিলেন, বসুদেব তখন পুত্র পেয়ে, যমুনা পার হয়ে বৃন্দাবনে এলেন।সেই যে প্রতিশ্রুতির কথা আজ হঠাৎ মনে পড়েছে। অমনি শ্রীগোবিন্দ ত্রিভঙ্গ বঙ্কিম ঠামে দাঁড়িয়ে অধরে মুরলী ধরে----*
              *পদ*
     *পূরল মুরলী নিশান।*
          *তাল=মধ‍্যম*
*🌹আখর=*
*মুরলী ধরে বাজাইতে--------*
  *মুরলী বাজাতে লাগলোরে শ‍্যামসুন্দর।*
*প্রেমময়ী, রাধা দেখা------ দাও বোলে।*
    *অদর্শনে প্রাণ থাকে না।।*

*🏵কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বললেন যে,ঐ যে শ্রীগোবিন্দ আমার মুরলী ধ্বনি করলেন, এই মুরলীধ্বনির দুইটি ধারা, একটি হল গোপী চিত্ত আকর্ষণ করা, অপরটি হল এই লীলায় যে সহায়কারিণী যোগমায়া বড়ি মাই। অর্থ‍্যাৎ ইনি হলেন বৃন্দাবনে সান্দিপনী মুনির পত্নী,ইনার দুই কন‍্যা,এক পুত্র।বীরা ও বৃন্দা এই দুই কন‍্যা, আর পুত্র হলেন মধুমঙ্গল। এঁরা সবাই মিলে সদাসর্বদা শ্রীকৃষ্ণ লীলায় যোগ করেছেন।কাজেই শ্রীগোবিন্দ ঐ যোগমায়া বড়িমাইকে মুরলীধ্বনিতে আকর্ষণ করেছেন।মুরলীধ্বনি শ্রবণ করা মাত্র যোগমায়া এসে কৃষ্ণের কাছে উপস্থিত হলেন।বললেন হে গোবিন্দ!বলো তোমার কি বাসনা?*

*🌺সুরে=শ্রীগোবিন্দ আমার বলছেন-----মাগো আমার------- মনে বড় সাধ------অদ‍্য আমি শ্রীমতীরাইধনিকে বামে নিয়ে সখীসহ শ্রীযমুনার মাঝখানে নৌকায় বিলাস করব।তুমি মা কৃপা কোরে সখীগণ সহ আমার প্রেমময়ী রাধারাণীকে মিলিয়ে দাও এবং সুন্দর করে আমার রাই বিলাসের একখানি তরণী সৃজন করে দাও।তখন যোগমায়া গোবিন্দের মনোবাসনা পূরণের জন্য-----*

*সৃজিল তরণী খানি,প্রবাল মুকুতা আনি,*
       *মাঝে মাঝে হীরার গাথনি।*

*🌹আখর= তরণী সৃজন কৈলেন।*
*রাধা,  গোবিন্দের বিলাসের তরী।*
*বড়াই মাই, বড় সাধে সাধে।।*
                  *পদ*
*শিখি পুচ্ছ গুঞ্জাছড়া,রজত কাঞ্চনে ভরা,*
     *কেরোয়াল রজত কিঙ্কিণী।।*

*🏵কথা= কেরোয়াল অর্থ‍্যাৎ নৌকার হাল।*
*যোগমায়া যখন হালের সঙ্গে ডুরি বেঁধে দিলেন,অমনি ঐ ডুরির সঙ্গে যমুনার জলের একটা যোগ লেগে কিঙ্কিণী কিঙ্কিণী শব্দ উঠছে।ঐ শব্দ শুনে পদকর্তা বলছেন যে, হে জগৎবাসী! তোমরা শোন ঐ তরণীর তারে আনন্দে বাজছে বা ডেকে বলছে, কি বলছে?*

*🌹আখর=কিং কিনি কিং কিনি।*
  *এই রসের বাজারে এসে।*
*রাই কিনি না শ‍্যাম কিনি।।*

*🏵কথা=সখী ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, শুধু রাই কিনেও সুখ হবে না, আবার শুধু শ‍্যাম কিনেও সুখ হবে না।কাজেই সুখ পেতে হলে---*

*🌺আখর=আমরা যুগল কিনিব।*
*এই রসের বাজারে এসে।*
*রাধা  গোবিন্দের যুগোল।।*

*🌻কথা=উপস্থিত বৈষ্ণব ভক্তগণ,মা এবং বোনেরা চিন্তা করুন আজ আমরা এসেছি কোথায়, না রসের বাজারে তাইনা?এই রসের বাজারে আমরা কি নেব? না,নেয়ার মত এ বাজারে আর কিছুই নেই। আছে শুধু অপার্থিব মাধুর্য‍্যময় যুগলসেবা।*
*🍀অন‍্য বাজারে যার পয়সার জোর বেশী যে তাড়াতাড়ি ভাল ভাল জিনিসগুলো কিনে নেয়, কিন্তু এ বাজারে বিনামুল্যে কিছু মিলবে না।যদি বলেন এ বাজারে এসেও যদি  পয়সা লাগে তাহলে তো বড়ই মুশকিল। তবে এখানে পয়সা লাগে না  কিন্তু কড়ি লাগে। কারণ কড়িতেই তরী।এই কড়ি কেমন, না, বিশুদ্ধ প্রেমভক্তি কঅই।এই কড়ির যাঁর জোর আছে,সে অনায়াসে যুগোল সেবা কিনে নিয়ে নিজ ঘরে গিয়ে রসে প্রাণ ভরে যুগল সেবা করবেন। যদি বলেন,যার ভক্তিদেবীর জোড় আছে সে না হয় কিনে নিয়ে গেল,আর যার ভক্তি জোড় নেই,সে কি শুধু খালি হাতে ফিরে যাবে? না-----*

*🌺আখর=*
*তারা বসে বসে কাঁদ কাঁদ।*
*যাদের কোন সম্বল নাই গো।*
*প্রাণ গোবিন্দ তোমার হলেম বলে।।*

*যাদের,  আর কিছুই নাই কাঁদাই ভাল।*
*যদি,  কাঁদার মত কাঁদতে পার।।*
*সৎগুরু চরণ হিয়ায় ধরে।।*

*সুরে== দেহ মন প্রাণ এক করে ভগবানের সামনে বসে দুইটি নয়নজলে ভেসে হৃদয় খানা পেতে দিয়ে যদি প্রিণ খুলে বলতে পার, হে প্রাণ বল্লভ, প্রাণ গোবিন্দ, এই আমি হৃদয় মন্দির বিছিয়ে দিয়েছি, এই হৃদয় কারাগারে অবস্থান কর।এই কারাগারে আবব্ধ করে নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে আমার নিজ পরিজন বেষ্টিত হয়ে সবাই মিলে---*

*🌻আখর=*
*প্রাণ  ভরে  সেবা  করব।*
*নিরালা  নির্জনে   বসে।*
*হা-রাধা, গোবিন্দ  তোমার হলেম বলে।।*

 *🌺কথা=তাই সখীভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন যে,অদ‍্য আমরা রসের বাজারে এসেছি। ঐ ঐ যোগমায়ার সৃজিত তরণীর ডূরিতে যদি যুগল কিনতে পারি তাহলে আমাদেরও তো শ্রীরাধাকৃষ্ণ বিলাসের উপযুক্ত এই দেহতরী আছে।এই হৃদয় বীণার তারে সুর ধরে যদি একবার হা রাধা গোবিন্দ বোলে বাজাতে পারি তাহলে---*
*🏵আখর=*
*আমরাও যুগল কিনে নেব।*
*এই রসের বাজারে এসে।।*

*🌹কথা=মেলাতে গিয়ে যদি কেউ মাটির যুগলমূর্তি কিনে নিয়ে যায় তবে সে রাখে কোথায়?না, ভেঙ্গে যাবে বোলে হৃদয়ে ধরে নিয়ে যায়।আমরাও----*

*🍀আখর=*
*এই হৃদয়ে ধরে নিয়ে যাব।*
*অতি,  সযতনে যুগল মূরতি।।*

*🏵কথা=তাই পদকর্তা বলছেন--- রসের বাজারে সবাই কিনি কিনি বলছে।তাই ঐ তরণীরও----*
                *পদ*
*কেরোয়ালে রঞ্জিত কিংকিনি।*
*🌼সুরে=*
*তপন তনয়া নীরে,তরণী লইয়া ফিরে,*
     *বিদগধ নাগর রাজ।*

*🌲কথা=সূর্য‍্যকন‍্যা যমুনার মাঝে শ্রীগোবিন্দ আমার তরণীতে উঠলেন নাবিক বেশে বিচরণ করছেন।*

*🍀সুরে=*
*গোবিন্দ দাস ভণে,কি আনন্দ হল মনে,*
     *ঝুনুর ঝুনুর নূপুর বাজ।।*

*🌼এইবারে অঘটন-ঘটন-পটীয়সী যোগমায়া জটিলার মন্দিরে এসে রাধারাণীর কাছে উপস্থিত হয়েছেন।দেখছেন, রাধারাণী সখীগণ পরিবেষ্টিতা হয়ে,শ্রীগোবিন্দের মুরলী ধ্বনি শুনে,বসে বসে কাঁদছেন। কি বলে কাঁদছেন-- আর বলছেন-----*

*🌲সুরে=আমি কেমন করে ----- আমার------বঁধূর--------মুরলী রঞ্জিত বদন------দরশনে যাব। এমন সময় বুড়িমাই এসে বলছেন,ও নাতিনি বধূ দরশনে যাবি না?রাইধনি বলছেন, বুড়িমাইগো-----*

*🏵সুরে=তুমি যখন এসে পড়েছ------- তখন------- বধূ দরশনে যাবার উপায়------ তুমিই করে দাও গো-------তোমার কৃপা ছাড়া গোবিন্দ দরশনের আর কোন উপায় দেখি না। বড়াই বললেন---- আমি এখুনি জটিলির কাছ হতে আদেশ নিয়ে আসছি। এই বোলে জটিলার কাছে গিয়ে বলছেন---- ও জটিলে-------মথুরার হাটে বিকিকিনি করতে যাবি না? জটিলা বললেন, আমি বয়স্কা আমি তো যেতে পারব না, তবে কি কুটিলা যাবে? তখন জটিলা বলছেন, কুটিলা যদি হাটে যায়, ভরা হাট ভেঙ্গে দিবে।বুড়িমাই বললেন তাহলে কি হবে, পুনঃ বললেন তাহলে আজ তোর বধূকে নিয়ে মথুরায় বিকিকিনি করতে যায় কেমন?*
*🌻কথা=জটিলা বলছেন ভাল,আমিও তাই ভাবছিলাম যে আজ বধূকেই পাঠাই। তখন বড়াই বলছেন,নতূন হাটে তোর বধূকে নিয়ে যাব। জটীলা ববলছেন, যদি নতূন হিটে যাও তবে,আমার বধূকে বলো যে যখন পসরা নিয়ে ঘরের বাহির হবে তখন যেন আমাদের কুলদেবী শ‍্যামা-মা আছেন তার জয় দিয়ে যেন যায়।বড়াই বললেন,তার জয় দিলে কি হবে?জটিলা বললেন, বেশী লাভের সম্ভাবনা থাকবে। ঐশ্বর্য‍্যবতী মা কিনা!তাই মায়ের জয় দিলে ঐশ্বর্য‍্য হবে।বড়াই বললেন তাই-ই হবে। এই বোলে বড়াই ফিরে এসে রাধারাণীকে এবং  সখীদেরকে বললেন আজ বিকিকিনির ছলে আমরা গোবিন্দ দরশনে যাব।তোরা যার যা পসরা সাজিয়ে নে।*

*পদ*
    *তাল=কয়ালী*

*দধি দুগ্ধ ঘৃত ঘোলে সাজায়ে পশরা।*

*🌲আখর= সাজাইতে লাগিল।*
      *যার যার পশরা খানি।*
    *বিকি কিনি করবে বলে।।*

*🏵কথা=দধি,দুগ্ধ,ঘৃত ও ঘোল--, এই এক একটি রস দিয়ে এক একটি পাত্র পূরণ করলেন। চারটি রসের পাত্র একত্রিত করে একটি করে পশরা সাজাতে লাগিল।এ পশরা হল বিকিকিনির পশরা।পদকর্তা বলছেন, আমরা জানি যে ব্রজের পাঁচটি রস। তাহলে চারটি রস দিয়ে পশরা সাজালেন কেন?আর একটি রস কে বা কোথায় থাকল? তাহলে বৃন্দাবনে কি দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও মধুর এই চারটি রস।আর একটি রস অর্থ‍্যাৎ শান্তরস কি বৃন্দাবনে নেই?তখন পদকর্তা বলছেন,না, একটি রসও আছে।সে রসটি কোথায়? না, সে রসটি---*

*🌼আখর=শান্ত রসের পাগ বেঁধেছে।*
*🌹কথা=পাগটি কেমন?না, আমাদের দেশের ঘোষ মহাশয়গণও প্রত‍্যেকটি রস পাত্রের নিচে একটি করে বিড়ে বা বিড়া বেঁধে দিয়ে তার উপরে পাত্রটি বসিয়ে রাখে।কেন? না----*
*🌺আখর=*
*পশরা টলে পরবে না।*
*এই বৃন্দাবনের পথে যেতে।*
*বৃন্দাবনের পথে যেতে,যার২ পশরা।।*

*🍀কথা=খুব সাবধান, কারণ পশরা যদি টলে পড়ে যায়,তাহলে আর রসের বাজারে বেচা কেনা হবে না। গোবিন্দ সেবায়ও লাগবে না।তাই পশরা স্থিত বা শান্ত রস সাবধানে রাখতে হলে প্রথমেই ধীর-স্থির শান্ত রসটি আগে চাই। এ তো একটি করে পশরা হল।তার সঙ্গে আর একটি করে পশরাও----*
*🌹আখর=সাজাইতে লাগিল।*
*এই পঞ্চরসের পশরা খানি।*
*গোবিন্দ, সেবায় লাগবে বোলে।।*
*🏵কথা=রাধারাণী ও সখীগণ সকলেই বলছেন--*
          *দাস পারিয়া*
          ☆☆☆☆☆☆
*যেন তোমার সেবায় লাগে হে।*
*অতি যতন করে পশরা সাজালাম।*
*প্রাণবল্লভ, তোমার সেবায় লাগবে বলে।*
*ওহে প্রাণ বঁধূ, এইতো ঘরের বাহির এলাম।।*
                *পদ*
*দধি দুগ্ধ ঘৃত ঘোলে সাজাইয়া পশরা।*
*মথুরায় বিকে চলে যত ব্রজবালা।।*
*🌺কথা=যার যার পশরা মাথায় তুলে নিয়ে এইবার ঘরের বাহির হচ্ছে, এমন সময় বড়িমাই বলছেন ও নাতিনী শুন শুন, তোর শ্বাশুড়ী ঠাকরুণ বলেছেন যে,তুই যখন পশরা নিয়ে ঘরের বাহির হবি তখন তোদের যে কুলদেবী শ‍্যামা-মা আছেন তাঁর যেন জয় জয় দিয়ে যাস। রাইধনি বললেন, ঐ শ‍্যামা মায়ের জয় দিলে কি হবে?বড়াই বলছেন,অনেক বেশী লাভ হবে রে, কি বেশী লাভ হবে? তখন রাধারাণী বলছেন,ও ললিতে তুই জয় দে, ললিতা বলছেন, হেইমা, মলেম আর কি?আমি ওসব পারব না। বড়াই বলছেন, তা হলে হয়ত আর যাওয়াই হবে না।ললিতা বলছেন,যাওয়া হয় হোক আর না হোক, আমি জয় দিতে পারব না।*

*🍀রাধারাণী বলছেন, ও বিশাখা তুই জয় দে না? বিশাখা বলছেন হেই-মা আমি পারব না বাপু শেষে কি বলতে কি বলব তাতে হয়ত যাওয়াই হবে না।তোদের কুলদেবী তুই জয় দে। আমাদের কুলও নেই,আমাদের দেবীও নেই, আর আমাদের জয় পরাজয়ও নেই। রাইধনি তুই জয় দে। আমরা সবাই তোর মঙ্গলের জন্য সকলেই তোর সঙ্গে জয় দিব।তখন রাইধনি চিন্তা করলেন যে,যদি জয় না দিয়ে যায় তাহলে যে দর্জাল শ্বাশুড়ী হয়ত মাঝ রাস্তা হতে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। কাজেই আমি জয় দিব। সখী! তোরা যেন সবাই আমার সঙ্গে জয় দিস।এই বোলে রাইধনি জয় দিচ্ছেন----*
*🏵আখর=*
*শ‍্যামা মার শ‍্যাম আমার।*
*তোরা সবাই মিলে বল সখী।।*
*🌹কথা=তখন সখী দেখলেন, রাধারাণী সর্বনাশ করল। অমন করে শ‍্যাম আমার শ‍্যাম আমার বলে চিৎকার করল নিশ্চয়ই কোন অঘটন হবে।আর হয়ত গোবিন্দ দরশনে যাওয়াই হবে না।কাজেই চতুরা সখীগণ ঐকথা ঢাকবার জন্য সবাই মিলে উচ্চকন্ঠে বদন ভরে জয় দিতে লাগলেন, আর বলছেন---*

*শ‍্যাম আমার শ‍্যাম আমার।*
*সখী সব, বদন ভরে জয় দাও বলো।*
*জয়   দিলে  জয়   হবে।*
*বদন  ভরে   জয়  দাও।।*

*🌻কথা=ঐ জয়ধ্বনি শুনে,গৃহমধ‍্য হতে হাত তুলে জটিলা আশীর্বাদ করছেন---*

*🏵আখর=যেন পূরণ হয় গো*
      *বধূ তোমার মনো বাসনা।*
    *আমি প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করলাম।।*
                 *পদ*
*মথুরার বিকে চলে যত ব্রজবালা।*
*🌹আখর=*
*তারা,  সারি সারি চলেছে।*
*কেহ আগে কেহ পিছে।*
*কৃষ্ণ নামের সারী গেয়ে।।*
*🌼কথা=কৃষ্ণ দরশনে চলেছেন,তাতে আগে পরে কেন?*
*🏵আখর=আগে পিছে চলেছে।*
       *যার যেমন অধিকার।*
*যার এমন ভজনে গতি তার তেমন অধিকার।।*

*মরালিনী চলেছে।*
*সাগরে খেলবে বোলে।*
*কৃষ্ণ, প্রেম সাগর মাঝে।।*
*🌲কথা= ইহ জগতেও তাই, যার যেমন ভজনের গতি,তার সেই গতি অনুযায়ী অধিকার হবে।আর এই অধিকার অনুযায়ী সেবা স্থান পাবে।*
                 *পদ*
*তপনক তাপে,তাপিত ভেল মহীতল,*
     *বালুকা দহন সমান।*
*চড়ই মনরথে,ভাবিনী চলু পথে,*
     *তাপ তাপি কিছু নাহি মান।।*
*🌹আখর=তাপ লাগে না।*
        *অগম‍্য পথে চলেছেন।*
      *বৃষভানু রাজ নন্দিনী।।*
                 *পদ*
*প্রেমক গতি দুরবার।*
*🏵আখর=এই তো রীতি।*
                 *কৃষ্ণ প্রেমের।*
     *উর্দ্ধ মুখে হয় তার গতি।।*
                  *পদ*
*নবীনা যৌবনা ধনি,চরণ কমল জিনি,*
         *তবহি করল অভিসার।।*

*সতীগণ সৌরভ,গুরুজন গৌরব,*
      *তৃণ করি না মানল বাধা।*
*ছুটল মন মাহা, মন্মথে মাতল,*
       *ডুবল কুল সবিসাদা।।*
*প্রখর রবির তাপে,চলিয়া যাইতে পথে,*
      *ঘামিয়াছে ও মুখ শশী।*
*শীতল তরুর ছায়,রহিয়া রহিয়া যায়,*
      *যমুনাতে দেখা দিল আসি।।*

*🌻কথা=সখীগণ বেষ্টিতা হয়ে,রাইধনি আমার বড়িমায়ের সঙ্গে যমুনা পুলিনে এসে দাঁড়িয়েছেন। দাঁড়িয়ে বলছেন-- বড়াই ও বড়াই----*
*🌹আখর=তারে তো দেখি না।*
         *যার লাগি এই বিকিকিনি।*
   *পশার,   কেবা কিনিবে।।*
*🌻কথা=রাইধনি যমুনার পুলিনে এসে প্রাণবল্লভ, প্রাণবধূকে যমুনার তটে তটে খুঁজছেন এবং দূরে লক্ষ্য করছেন।এদিকে শ্রীযমুনা কিন্তু কুল ভেঙ্গে দূর করতে না পেরে জলোচ্ছাস করে দুইকুল ঝেপে দিয়ে রাধারাণীর পদ প্রান্তে এসে শ্রীপাদপদ্ম স্পর্শ করেছেন।অমনি রাইধনি চমকে উঠে নিজ চরণ পানে লক্ষ্য করে সখীদের বলছেন---*
          *🏵লোফা🏵*
*রাই কহে নিকটে জল পশরা সব তিতে।*
*কোথা হতে এলো জল একি আচম্বিতে।।*
*একদিকে গোপীগণ যমুনা পানে চায়।*
*তরী আরোহিত হরি দেখিল তথায়।।*

🌹কথা=যখন রাইধনির দুটি নয়ন গিয়ে শ্রীগোবিন্দের রূপ সাগরে পরেছে,অমনি রাইধনি মনে করছেন,বুঝি আমি একাই দেখেছি, কিন্তু তা নয়। সখী ও বড়াই সকলের লক্ষ্য গিয়ে একসঙ্গে রাধা বল্লভ শ‍্যামনাগরের উপর পরেছে।তখন রাধারাণী লক্ষ্য স্থির রেখে বড়াইকে ডেকে বলছেন, ও বড়ি মাই--- ঐ দেখ-----*
       *পদ=তিন*
    *তাল=কাটা দশকুশী*
    °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*তরণীতে  তরুণ তমাল।*

*শিকলি=*
*একবার চেয়ে দেখ গো বড়াই।*
*বড়াই গো, তরীর নাবিক বড় দয়াল বটে,*
*আরোহীদের বড় দুঃখ দেখে*
*একটি নবীন তমাল তরু,তরু এনে বসায়েছে,*
     *চেয়ে দেগ গো বড়াই।*
*বড়াই গো--আরোহীগণ সংসার তপন তাপে,*
*তাপিত হয়ে, ত্রিতাপ জ্বালায় জ্বলে পুড়ে,*
*তরুণ তমাল তলে, তলে বসে বসে প্রাণ জুড়াবে।*
     *চেয়ে দেখ গো বড়াই।*
*বড়াই গো--বড়াই আমার দৃষ্টির ভ্রম,কি মনের ভ্রম,তমাল গাছে গুণে দেখলাম, এখন তমাল গাছে এক এক বৃন্তে বৃন্তে থোকা থোকা চাঁদ ধরেছে।।*

*🏵কাট=*
*তার রূপে দুকূল আলো করেছে।*
*রূপ  দেখে  প্রাণ জুড়াইল।।*
*এমন রূপ তো দেখি নাই গো।।*
            *একতালী বা কয়ালী*
             ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*তরুণীতে তরুণ তমাল।*
*কিয়ে নব জলধর,অঙ্গে কত বিধুবর,*
      *রূপেতে করেছে দুকুল আলো।।*

*🌻কথা=রাধারাণী বলছেন-- ও বড়াই! প্রথমে দেখে মনে করেছিলাম যে তমাল তরুই বটে, পরে যা দেখলাম বা দেখছি,তাতে প্রথমের সঙ্গে কোন সামঞ্জস্যই নাই।এখন মনে হচ্ছে---*
  *🏵আখর= মেঘ লেগেছে।*
           *শ্রীযমুনার মাঝখানে।*
  *মনে হয়,  এখনি বরিষণ হবে।।*
                *তাল=কয়ালী*
                       *পদ*
*গলে গজমতি হার,মণিময় অলঙ্কার,*
        *দামিনী দরপ ঘুচাইল।*
*🌹আখর= হলে নিল  রে।*
           *আমার মন  মণি।*
*আমি,  আর যে ধৈরজ ধরতে নারি।।*

*অলকা তিলক ভালে,শ্রবণ যুগল মূলে,*
    *মকর কুন্ডল দোলে ভাল।।*
              *দাস---পারিয়া*
*🏵আখর=*
*এনা তিলক কেনা পরে।*
*দেখ বড়াই, কপাল গুণে তিলক ঝলমল করে।।*
*হেইমা এসে,  দেখে নয়ন ফেরান যায় না।।*
*এসে,  দেখে মনের সাধ মেটে না।।*
*এই, বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে।।*
          *তাল=লোফা*
*পরিধানে পীত ধড়া,চূড়া বেড়া গুঞ্জছড়া,*
    *আর তাহে শোভে নানা ফুল।*
*🌼আখর= ভুলাইল গো।*
     *ধরায় ধরা ভুলাইল গো।।*
*একা আমি ভুলি নাই গো।।*

*দেখিয়া বদন চাঁদে,মদন পড়িল ফাঁদে,*
     *যুবতী কেমনে রাখে কুল।।*
   *তাল=মধ‍্যম/বিরাম দশকুশী*

*🌹আখর=*
*আজ বুঝি, কুল বিকাইয়ে গেল রে, ওগো সখী।*
*এই পার ঘাটে-------যমুনার জলে--------*
*আমি, আর যে ধৈরজ ধরতে নারি।।*

*🍀সুরে=এত আভরণ যার, কিসের অভাব তার, সে কেন ঘাটের ঘাটোয়াল।*

*যদুনাথ দাসের বাণী,শুন রাধা বিনোদিনী,*
     *পরিচয় পাবে তৎকাল।।*

*🔳🔳পদ---চার🔳🔳*
          *বড়----দোঠুকি*
           *************

*১| বড়াই ঐ কি ঘাটের নিয়ে।*

*কাট=*
*নাবিকের,  মাথায় দেখি মোহন চূড়া।*
*এযে দেখি,  ভূবন মোহন চূড়া।*
         *চূড়ায় ভূবন ডুবাইল।।*
*এযে,  যেমন তেমন চূড়া নয় যে।।*
            *তাল=ছোট দোঠুকি*

*২|কোথা হতে আসি,দিল দরশন,*
           *বিনোদ নাগর নেয়ে।*
*🌺আখর=*
*এমন নেয়ে দেখি নাই গো,*
*নিতুই নিতুই আসি যাই মা,*
*ঐ মথুরার হাটে যেতে।।*
*১|রজত কাঞ্চনে,না'খানি সাজান,*
           *বাজিছে কিঙ্কিণী জাল।*
*২|অপরূপ তাতে,শোভে রাঙ্গা হাতে,*
           *মণি বাধা কেরোয়াল।।*
*🌺আখর=*
*এত  মণি  কোথায়   পেল।*
*মণি  দিয়ে   হাল  বেধেছে।*
*ঘাটের ঘাটোয়াল হয়ে।।*
*🌹সুরে=*
*১|রতনের ফালি,শিরে ঝলমলি,*
          *কদম্ব কুসুম কানে।*
*২|জঠর অঞ্চলে,বাঁশীটি গুঁজেছে,*
       *শোভে নানা আভরণে।।*

*১|হাসিতে হাসিতে,গীত আলাপিছে,*
         *ঢুলায়েছে রাঙ্গা আঁখি।*
*🏵আখর=*
*ও বুঝি, জন্মে নারী দেখে নাই গো।*
*তাই অমন করে,  নারীর পানে চেয়ে আছে।*
*আবার আঁখি,  ঢুলায়ে ঢুলায়ে কিবা বলছে।*
*আমাদের  পানে  চেয়ে   চেয়ে।।*
*২|চাপাইয়া নায়,কি যেন কি চায়,*
          *চঞ্চল উহারে দেখি।*
*🌻কথা=রাইধনি বলছেন, বড়িমাই! ঐ নাবিকের দিকে চেয়ে দেখ-----*
*🌹আখর=*
             *নয়ন না চাইছে।*
            *আমা পানে চাইছে।   *নেয়ের, এত গৌরব কিসের।।*

*আমার মনে হয়,  উহার স্বভাব বড় ভাল নয় গো।*
*ও নারীর পানে চেয়ে থাকে।*
*এই ঘাটের ঘাটোয়াল হয়ে।।*
*১|আমরা কহিব,কংসের যোগান,*
          *মুখে না হারিও কেহ।*
*২|জগন্নাথে কহে,শশী ষোল কলা,*
        *পেলে কি ছাড়িবে রাহু।।*
*🏵কথা=সখী ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন---*
               *তাল=মধ‍্যম*
*চাঁদ পেলে কি রাহু ছাড়ে রে----*
*এবার,  শুভ যোগ মিলেছে।*
*এযে,  চূড়া মণি যোগের ঘটা।।*
*🌲কথা=বড়াই বলছেন, নাতিনী তুই যাই বল, ও এই ঘাটেরই নাবিক। এই দেখ ওকে ডেকে আনছি। এই বোলে বড়িমাই নাবিককে ডাকছে।ও বলছেন, ও ন‍্যাইয়া হে! আমাদেরকে পার কর---*

*🌹🌹🌹পদ পাঁচ🌹🌹🌹*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
              *লোফা*
*১|হেদে হে সুন্দর নেয়ে,*
    *বিকিকিনি গেল বয়ে,* *কুলেতে আসহ খেওয়া তরী।*
*২|এ তিন সংসার,সবে হইল পার,*
       *মোরা অনাথিনী নারী।।*
*১|ওহে নবীন কান্ডারী,*
    *দীন হীনের কান্ডারী,*
   *নাবিক সেজেছ ভাল।*
*২|করি দিলে পার,*
    *এ যশ তোমার,*
   *ঘুচিবে কতক কাল।।*

*🌲আখর=*
*তোমার,  কাল বরণ ঘুচে যাবে।*
*আমাদের,  বিনামূল‍্যে পার করিলে।*
*তোমার,  যশে জগৎ ভরে যাবে।*
*এই পারের ঘাটে সবাই আসবে।।*
*🏵সুরে=*
*কুলেতে আইসহ,রূপখানি নেহারি,*
        *শুনহ নেয়ের পো।*
*আমরা মথুরার,বিকেতে যাইব,*
        *ওপারে লইয়া থো।।*
*🌻কথা=বড়ি মায়ের ঐ কথার উত্তরে নাবিক বলছেন---*
      *তাল=দাস পাড়িয়া*
*১|আলো তোরা কে লো খঞ্জনা নয়নী।*
*২|এ হেন সুন্দর সাজে,*
     *বল যাবে কোন কাজে,*
  *বলনা বলনা তাই শুনি।।*
*🌹কথা=সুচতুর নাবিক প্রথমে গোপীদের নয়নের তুলনা দিলেন খঞ্জনা নয়নের সঙ্গে।অতঃপর নাবিক বলছেন,হে ব্রজাঙ্গনাগণ আমার মনে হয় এই ব্রজের মধ্যে--*
*🏵আখর=(১)*
      *তোমরাই সুন্দরী বটে।*
*তাতে আবার,  সুন্দর সাজ সেজেছ গো।*
*তোমাদের,  পানে চাইলে নয়ন ফেরান যায় না।।*
*(২)*
*তা বল তোমরা কোথায় যাবে।*
*দেখে মনে হয়,  তোমরা কুলের ভয় রাখ না।।*
        *কুলবতী সতী হয়ে--*
*এই দুপুর বেলায়,  ঘরের বাহির হয়েছ গো।।*

*১|যে হই সে হই মোরা,*
     *তরণী   আনহ  ত্বরা,*
  *কাজে কাজে জানিবে সকলি।*
*🌲আখর=*
*পরিচয়ের কাজ কি আছে।*
    *কুলের কুল বধূ সনে।*
    *ঘাটের ঘাটোয়াল হয়ে।।*
*🌻কথা=যখন গোপীগণ ঐভাবে বলছেন,অমনি চতুর নাবিকও বলছেন---*

*২|তোমরা ডাকিছ সুখে,  *আমার তরণী পরেছে পাকে,*
*🏵আখর=*
*আমি দোটানায় পরেছি।*
*ঐ নয়নের টানে,আর এই যমুনার টানে।*
   *তাইত তরী বাইতে নারি।।*

*🏵আখর=*
*আমি এই, ঘুরণি পাকে পরে আছি।*
*আমি, আর তরণী বাইতে নারি।*
*ঐ রূপ ঘূর্ণি পাকে পড়ে।।*
*🌹কথা=যখনি নাবিক ঐ "রূপ"  কথাটি বলেছেন,অমনি সুচতুরা ললিতা সখী রাধারাণীর চিবুকখানা ধরে বদন উচু করে ধরে বলছেন--*
*🌻আখর=*
*এই লক্ষ্য করে বেয়ে এসো।*
*তোমার মতি যেন ঠিক থাকে।*
*হোকনা নদীর তুফান ভারী।।*
*🌻আখর=*
*তোমার মতি যেন নড়ে না হে।*
*আমাদের এই,  শ্রীমতীর বদন দেখে।*
      *মতি থাকলেই মিলবে রতি।।*
*🌼কথা=নাবিক তাড়াতাড়ি বলছেন--*
*২|আপনি সামালি আগে আসি*
               *সামালিয়া আসি।।*
*🍀সুরে=*
*দেখিয়া গোপীর ঠাট,নাবিক নাগায় না,*
      *অঙ্গ ভঙ্গ গান রঙ্গ রসে।*
*২|যমুনা আনন্দ ভরে,সম্বরিতে নাহি পারে,*
         *উছলি পড়িছে দুই পাশে।।*
*১|কিবা সে তরণীখানি, রজত কাঞ্চন মণি,*
      *মানিক খচিত দেবলোভা।*
*তার মাঝে নীলোৎপল,কান্তি জিনি সুকমল,*
     *প্রফুল্ল বদন অঙ্গ শোভা।।*
*১|রমণী ভ্রমরী যত,শবদ করয়ে কত,*
         *পরিমলে লুব্ধ হইয়া।*
*২|চঞ্চল সে নীলোৎপল,অগাধ যমুনার জল,*
      *আনন্দ তরঙ্গ যায় বৈয়া।।*
*🌹কথা=নাবিক ধীরে ধীরে তরণীখানি কুলে নিয়ে এসে লাগিয়ে বলছেন, হে ব্রজাঙ্গনাগণ! তোমরা তাড়াতাড়ি নৌকায় উঠে বস। দেরী করলে আমার চলবে না। তারপর কোন কথা বোলো না। কারণ----*

*🍀পদ,তাল=একতালী🍀*
      *******************

*কথায় কথায় বেলা যায়,*
    *দান দিয়া চড় নায়,*
*আঁধার করিয়ে এল দেওয়া।*
             *ছোট দশকুশী*
*🌲আখর=তোমরা নৌকায় উঠ।*
      *পারের কড়ি বুঝে দিয়।*
   *আমার বিলম্ব সহে না।।*

*একে আমার ভাঙ্গা না,*
*তাহাতে  উঠিছে  বা',*
*দুই প্রহরে দেই এক খেওয়া।।*
            *তাল=লোফা*

*সবে আছে দিন,দন্ড দুই তিন,*
        *তোমরা অবলা জাতি।*
                *তাল=দোঠুকি*
*একে একে পার করিতে সবে,*
             *হইবে অনেক রাতি।।*
*নৌকাখানি মোর,অতিশয় ক্ষীণ,*
          *বুঝিয়া চাপিতে হয়।*
*শুন সব সই,      দুই জনা বই,*
      *তিন জনা নাহিক সয়।।*

*🏵কথা=নাবিক বলছেন, হে সখীগণ! আমার এই নৌকা খুবই ক্ষীণ।কাজেই দুইজন ভিন্ন তিনজন উঠা চলবে না।এই বলতে বলতে চতুর নাবিক লক্ষ্য করছেন ললিতা সখীর দিকে,আর হাত বাড়িয়েছেন রাধারাণীর দিকে।হাতখানা বাড়িয়ে বলছেন----*
 
*আগে কে চাপিবে,চাপহ তুরিতে,*
       *নৌকা রাখিবারে নারি।*
*অতি খর জলে,নৌকাখানি দোলে,*
      *চাপ মোর হাত ধরি।।*

*🍀আখর=*
                   *নৌকায় উঠ।*
            *আমার হাত ধরে।*
  *এতে কুল যাবে না মান যাবে না।*
*এই নাবিকের অনুগত হলে পরে।।*

*🌻কথা=যখনি নাবিক রাধারাণীর দিকে হাত বাড়িয়ে নৌকায় উঠতে বলছেন,অমনি প্রেমময়ী রাইধনি আর ধৈর্য‍্য ধরতে না পেরে নাবিকের হাত ধরতে গিয়েছেন, এমন সময় কাছেই ললিতা সখী ছিলেন,অমনি উভয়ের মাঝখানে বাধা দিয়ে বলছেন--*

*হাসিয়া ললিতা,  কহয়ে বচন,*
        *শুনহ খেওয়ানি রায়।*
*বেতন চুকাইলে, নৌকাতে চড়িব,*
        *মাধব এ রস গায়।।*

*🌹আখর= কি নেবে হে।*
  *পারের কড়ি নি নেবে হে।*
  *সময় থাকতে চুকায়ে নাও।।*

*🌼কথা=ললিতা সখী বলছেন,ও নাবিক! তুমি হ'লে নবীন নাবিক আমাদের যে পার করবে,সেই পারের কড়ি কি নেবে বলো?তবে তোমার নৌকায় উঠিব। ঐকথা শুনে নাবিক বলছেন--*

*আমার সুন্দর নৌকায় যেবা পার হবে।*
*এক মণ ওজন ষোল আনা কড়ি দেবে।।*

*🌹কথা= হে গোপীগণ! আমার নৌকায় পার হতে হলে ষোল আনা কড়ি দিতে হবে।*
*🌹ললিতা বলছেন,হে নাবিক! তুমি ষোল আনা কড়ি চাইছ, আর আমাদের কাছে এক আনাও কড়ি নেই।*
*🌹নাবিক বলছেন, তোমাদের সঙ্গে এত অলংকার দেখতে পাচ্ছি। না জানি তোমরা কত বড় ধনী। ধনী ব‍্যক্তির দাসী হয়ে বিশেষ করে পারের ঘাটে এসে এত কৃপণতা সাজে না।*
*🌹ললিতা সখী বলছেন, নাবিক! তুমি বিশ্বাস কর আমাদের বলতে কিছুই নেই।*

*🌻সুরে=নাবিক হে! আমাদের বলতে যা কিছু ছিল সব একজনকে দিয়ে ফেলেছি। নাবিক বলছেন, কাকে দিয়েছ? ললিতা বলছেন,ও কথা তুমি শুনিও না নাবিক, আমাদের বলতে যা ছিল সব আমরা এই ব্রজের এক রাখালকে দিয়েছি। নাবিক বলছেন,তাহলে তোমাদের সঙ্গে তাকে দেখছি না কেন?আর দিয়ে দেওয়া বস্তু সঙ্গে রেখেছ কেন?তখন ললিতা সখী বলছেন,কেবলমাত্র তারই সুখের জন্য আমরা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি।*
*🍀নাবিক বলছেন,বেশ! দত্তা বস্তুর উপরে আমার কোন লোভ নেই। কিন্তু আমার এই নৌকায় উঠতে হলে,এক মণ ওজন হতে হবে।তার বেশী হলেও চলবে না, আর কম হলেও চলবে না।*
*🌺ললিতা সখী বলছেন, আচ্ছা নাবিক! তোমার ঘাটে যদি কেউ এক মণের বেশী ওজন আসে তাহলে,তাকে বোধ হয় তুমি পার কর না?সে বোধহয় ফিরে অন‍্য ঘাট দিয়ে পার হয়ে যায়? নাবিক বলছেন------*

*🌻আখর=*
       *আর ঘাট নাই হে।*
      *এই  ঘাট ছাড়া।*
*যেথায় সেথায় যাক না কেন।।*
       *আর ঘাট নাই হে।*
*ঘুরে ঘুরে, আমার ঘাটেই আসতে হবে।*
*যদি,  পারের আশা থাকে।।*

*🏵কথা=নাবিক বলছেন, একেবারে পার হবার আর অন‍্য কোন ঘাট নেই।সবে মাত্র আমার এই ঘাট।তবে আর যে সব ঘাট আছে, সে সব ঘাটেও পার হবার উপায় আছে, কিন্তু পার হলেও নির্ধারিত দিন আছে, সেই দিন ফুরিয়ে গেলে আবার ফিরে আসতে হবে, কিন্তু আমার ঘাটে পার হলে পরে আর এপারে ফিরে আসতে হয় না।কাজেই আমার ঘাটের ওজন এক মণ (এক মন)।তবে যে জন এক মণের বেশী হয়ে এই ঘাটের কুলে এসে পৌঁছায়, তাকেও আমি পার করে দেয়। ললিতা বলছেন, কি করে পার কর?*

*🌺আখর=*
       *তারে আমি শুকায়ে লই।*
      *বিরহানলের তাপ দিয়ে।*

*🌲কথা=তার পর কি করি জানো?*

*🏵আখর=*
  *ওজন, ঠিক করে পার কোরে দেই।*
*তাকে আর, ঘরে ফিরে যেতে হয় না।*
*যদি, একবার ঘাটে আসতে পারে।।*

*🌺কথা=ললিতা বলছেন, যে এক মণের কম হয়,তাকে কি কর নাবিক?*

*🌲আখর=*
     *তারে আমি ভিজায়ে লই।*
*এই ঘাটের কুলে কাঁদাইয়ে।*
*পার কর দয়াল নাবিক বলে।।*

*🏵কথা=এই ঘাটের কুলে বসায়ে নয়নজলে ভিজায়ে যখন দেখি এক মণ ওজন হয়ে যাই--*

*🌻আখর=*
   *তখন তারে পারে কোরে দেই।*
*তার পারের কড়ি আর লাগে না।।*
*অনায়াসে পারে যায় সে।।*

*🍀কথা=তখন সখীদের মধ্যে একজন বলছেন, আমাদের সঙ্গে গোরস ছাড়া আর কিছুই নেই।আচ্ছা নাবিক!যাদের কোন সম্বল নেই,তাদের কে কি তুমি পার কর না?এদিকে রাই কমলিনী নাবিকের কথা শুনে বলছেন, আমার কাছে একটি আধুলি ( আটআনা, বা পঞ্চাশ পয়সা) আছে। এই বোলে শাড়ীর আঁচল থেকে আধুলিটি দিতে যাচ্ছেন, এমন সময় নেয়ে বলছেন----*

*🏵আখর=*
      *আমি আধুলি চাই না ধূলি বিনে।*

*🌹কথা=তবে নাবিক আট আনা নাও।*

*🌺আখর=*
      *আমি,আট আনা চাইনা।*
 *আর, টানা টানি রেখ না।*
  *আমার এই পারের ঘাটে।।*

*🏵কথা=এই ঘাটে পার হতে হলে ষোল আনায় লাগবে। তখন প্রেমময়ী বিনোদিনী বলছেন, আমরা না হয় নয়-আনা দিব। তখন নাবিক বলছেন--*

*🌹আখর=নয়া না নয়া না।*
        *আমি বহুদিনের পুরানা।*
  *আমি যুগে যুগে পার করি।।*

*🌺কথা=নাবিকের এইরকম কথা শুনে ভাবাবিষ্ট পদকর্তা  ব্রজ সুন্দরীগণকে ডেকে বলছেন, তোমরা-----*

*🌲আখর=*
      *ষোল আনা ধরে দাও।*
       *দশ ইন্দ্রিয় ছয় রিপু।*
 *কৃষ্ণায় নমঃ নমঃ বোলে।।*

*🌼কথা= ললিতা সখি বলছেন, তাহলে ষোল আনা না হয় দেওয়া হ'ল, আচ্ছা নাবিক!  তোমার তো ওজনের কোন সরঞ্জাম দেখছি না?তা আমাদের কি করে ওজন করবে? নাবিক বললেন,এই নৌকায় হল ওজনের।*
*🍀ললিতা বললেন, কেমন ওজনের নৌকা? নাবিক বলেন,এই দেখ,আমি এইদিকে হাল ধরে দাঁড়িয়ে আছি-- আমার এক মন,আর যে নৌকায় উঠবে, তার এক মন।*

*🌻আখর=*
    *যখন,দুইমন ভেঙ্গে একমন হবে,*
*আমার, মনে তার মন মিলে যাবে।*
*আমার তরী তখন আপনি চলিবে।।*

*🌺কথা=ললিতা সখী বলছেন,বেশ দেখি তোমার কেমন ওজন। এই বলে ললিতা সখীকে রাধারাণী নয়ন ইঙ্গিত করলেন, অমনি--*
                 *পদ*
*বিনোদিনী পহিলে চাপিলা গিয়া নায়।*
*বামেতে পশরাখানি,দক্ষিণে ঘোমটা টানি,*
   *গুড়া ধরি বসাওলো তায়।।*

*🌹আখর= উঠে বসিল।*
           *বৃষভানু রাজনন্দিনী।*
*আনন্দের আর সীমা নাই রে।।*
*🌻কথা=এইবার রাইধনি ঘোমটা টেনে গুড়া ধরে নৌকায় বসিলেন।তারপর ললিতা সখী বলছেন, নাবিক ওজন ঠিক হ'ল তো? নাবিক বললেন, হ‍্যাঁ, আমার মনের সঙ্গে মন মিলে, এক মন ওজন পূর্ণ  হয়েছে।*
*🏵ললিতা পুনঃ বলছেন, এইবার তোমার তরী সাবধান। আর তুমি তরীর কান্ডারী তুমিও সাবধান।এবার আমরা সকলে মিলে একযোগে নৌকায় উঠব। নাবিক বললেন, তা হয় না।আমি একে একে সবার ওজন দেখব। ললিতা বললেন,আর ওজন দেখতে হবে না,আমরা--------*

*🌻আখর=*
    *আমরা, সবাই মিলে একমন আছি।*
*আমরা, আন মন আর কেউই নাই হে।*
*আমরা সবাই, এক মনে তোমায় ভজি।।*

*🌺কথা=এই বলে সব সখীগণ বড়ি মাইয়ের হাত ধরাধরি করে--*

*🌷হুলু হুলু জয় দিয়া নৌকাতে উঠিল।*

*🌺কথা=ললিতা সখী বলছেন--*

*সবাই, মন সুখে জয় দে সই।*
*আমাদের, রমণীর মণি রাধারাণীর।*
   *জয় দিলে জয় হবে।।*

*🌷হুলু হুলু জয় দিয়া ন‍ৌকাতে উঠিল।*
*🌷আনন্দে তরণী খানি চলিতে লাগিল।।*

*🌹আখর=তরী আপনি চলছে।*
    *রাধা গোবিন্দে হৃদে পেয়ে।*
*সবার, আনন্দের আর সীমা নাই।।*

*🌺কথা=এইভাবে নৌকা খানি মাঝ যমুনায় গিয়ে ধীরে ধীরে চলেছেন।এমন সময় চতুরের শিরোমণি নাবিক দেখলেন যে রাধারাণী ঘোমটা টেনে বসে আছেন।কিছুতেই তাঁর বদন দর্শন করতে পারছেন না। তাই চিন্তা করে রাধা বদন দরশনের উপায় স্থির করে----*

*কহিছে কান্ডারী,শুনহ গৌরী,*
      *তেজহ ও নীলশাড়ী।*
*নব ঘন বলি,   বাড়িবে পবন,*
      *রাখিতে নারিব তরী।।*

*🌺কথা= নাবিক বলছেন, হে ধনি! তোমার ঐ----*

*খুলে ফেল নীল শাড়ী।*
*ঐ শাড়ীতে পবনের আড়ি।*
*হবে, যমুনার তুফান ভারী।*
*তাইতো তরী রাখতে নারি।।*

*🌷ধনি ত‍্যজহ বসন তোর।*
*তরঙ্গ বাড়িবে,   বিষম হইবে,*
     *না'খানি ডুবিবে মোর।।*

*🌹আখর=*
*আমার অপযশে ঘিরে যাবে।*
*কেউ, পার হবে না আমার ঘাটে।*
*আমার, তরী যদি ডুবে যায় গো।।*

*🌺কথা=এবার রাইধনি বলছেন--*

*🌷নেয়ে তুমি কি কহিলে ভাল।*
*নব ঘন জিনি,  তোমার বরণ,*
       *কেমনে ঘুচিবে কাল।।*

*🌺কথা=ললিতা বলছেন,ওহে নাবিক---*

*🌹আখর=
  *তোমার, কাল বরণ যাবে কিসে।*
*দেখ দেখি নিজ বরণ চেয়ে।*
       *বল বল ওহে নাবিক।।*

*আছয়ে উপায়, বলিহে তোমায়,*
      *তবে শুন মোর বোল।*
*কালিয়া মূরতি, ঘুচাইবে যদি,*
      *শিরে ঢালি দিব ঘোল।।*

*🌹কথা=হে নাবিক উপায় আছে, আমার কথা শোন---*

*তোমার কাল বরণ দূর করিব।*
*সব সখী মিলে ঘোল ঢালিয়ে।*
*তোমায় কেহ চিনতে পারবে নাহে।।*

*তোমার মাথায় ঘোল ঢালিব।*
*তোমার কাল বরণ সাদা হবে।*
*পবনের ভয় আর থাকবে নাহে।।*

              *শ্লোক*
   *সর্ব্ব ব‍্যাধি হরের তক্র*
            *কিন্তু কফ্ বদ্ধক্।*

*🌺কথা=সখীগণ বলছেন, আমাদের এই ঘোলে সর্বব‍্যাধি বিনাশ করে। কিন্তু কফকে একটু বৃদ্ধি করে মাত্র।তবে আর একটি গুণ আছে সেটি হ'ল বায়ুর ব‍্যাধি একেবারে ভাল হয়ে যায়। তাইতো বলছি ওহে নাবিক---*
   *শিরে ঢালি দিব ঘোল।।*

*🌹আখর=*
  *বায়ুর ভয় আর থাকবে নাহে।*
*শোন ওহে নীল কান্ডারী।*
*মোদের পার করে দাও তাড়াতাড়ি।।*

*এ বোল শুনিয়া,অবনত হইয়া,*
       *রহল চতুর নেয়ে।*
*জ্ঞান দাস কহে,বিলম্ব না সহে,*
       *বিকিকিনি গেল বয়ে।।*

*🌺কথা= সুচতুর নাবিক, ক্ষণকাল অবনত মস্তকে থেকে একটি চতুরতা বুদ্ধির সৃষ্টি করে নিজেই নৌকাখানি দোলাতে লাগলেন।আর কি করলেন? না নিজেই----*

*🌷ডুবিল ডুবিল ছলনা করি।*
*🌷উচ্চ স্বরে বলে হলি।।*

*🌹আখর= ডুবে গেল রে।*
                *আমার তরী বুঝি।*
   *আমি আর তরণী বাইতে নারি।।*

*🌺কথা=নৌকাখানি  নিজেই দোলাচ্ছেন আর ডুবে গেল ডুবে গেল বলে চিৎকার করছেন।নৌকাতে যখনি জোড়ে দোলন দিয়েছেন,অমনি----*

*🌷গুড়া ঝাপি উঠিলেক জল।*
*🌷ভয়েতে কাঁপয়ে রমণী সকল।।*

*🌺কথা=নৌকার গুড়া (নৌকার দুইপাশের বসার তক্তা)ঝেঁপে জল উঠছে দেখে রমণীগণ ভয়ে থরথর করে কাঁপছেন। রাধারাণী দেখলেন যে নৌকাটি এখুনি ডুবে যাবে, ঐ অবস্থা দেখে নেয়েকে লক্ষ্য করে রাইধনি বলছেন, ওহে নাবিক! তরী ভাল করে চালাও, তোমার নাকাতে জল ঢুকছে।*
*🏵ঐকথা শুনে চতুর নাবিক বলছেন---*

*🌷দধি দুগ্ধ ঘৃত ফেলহ ঘোল।*
*🌷ডালা ভরি বালা সেচহ জল।।*

*🌹আখর=জল সেচ রাই।*
     *ডালা ভরি জল সেচ রাই।*
   *নইলে তরী ডুবে যাবে।।*

*🏵কথা=রাধারাণী নাবিকের নয়নে নয়ন রেখে বলছেন,ওহে নাবিক! আমি হলেম বৃষভানু রাজার মেয়ে, আমি তো জল সেচতে জানি না। নাবিক বলছেন, তা বটেই তো,তুমি জানবে কেন,তবে-----*

*🌹আখর=কত জল ফেলিছে।*
      *তোমার মত কত নারী।*
  *ঘরের কোণে বসে বসে।*
*হা  কৃষ্ণ  গোবিন্দ  বলে।।*

*🌺কথা=তখন সুচতুর নাবিক নৌকাখানি আরও জোড়ে দোলাচ্ছেন, ঐ দেখে----*

*🌷হুতাশে নিশ্বাস ছাড়য়ে রাই।*

*🌺কথা=রাধারাণী হতাশ হয়ে পড়েছেন,কেন হতাশ হয়েছেন? নিজে ডুবে মরবেন বলিয়া তা নয়----*

          *ছোট দাস পারিয়া*
          ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*আমার,বধূ যদি ডুবে মরে।*
*প্রাণবধূকে, রাখব হিয়ায় ধরে।*
*আমি হৃদয় ছাড়া করব নাহে।।*

*🌷বধূর গলেতে ধরিল যাই।।*

*🌹আখর                      *আমার, প্রাণবধূ হৃদে এলো।*
*অমনি,বধূর গলে জড়িয়ে ধরল।।*
*ঐ বৃষভানু রাজ নন্দিনী।।*

*🌺কথা=তখন শ‍্যাম নাগর,*

*🌷রাইকে লইয়া বিনোদ নেয়ে।*
*🌷ঝাঁপ দিলে জলে আকুল হয়ে।।*

*🌺কথা=শ্রীযমুনার আশা পূরণের লাগি রাই-কানু একত্রিত হয়ে যমুনায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন।

*🌹আখর=*
*এইবার যমুনার আশা পূরণ হল।*
*হৃদয়ে, রাধা গোবিন্দের যুগল পেয়ে।*
*যমুনার, আনন্দের আর সীমা নাইরে।।*

*🌷পিঠের উপরে শোভয়ে বেণী।*
*🌷যেন,হেম পিঠের উপর শোভে ফণি।।*

*🌹আখর=*শ্রীরাধা, গোবিন্দের বিলাস দর্শন করে।*
    *শ্রীযমুনার হৃদয় পরে।*
*যা হয় নাই আর হবার নাইরে।।*

*🌷উলট কমল, কমল মুখী।*
*🌷তা দেখি নাগর কতেক সুখি।।*
*🌷পুড়িল দোঁহার মনের আশ।*
*🌷দূরেতে হেরয়ে মাধব দাস।।*

*🏵ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন--*

*🌹আখর=*
*আমাদের, সবার আশা পূরণ হল।*
*তোমরা, বদন ভরে রাধাগোবিন্দ বলো।*
*সবাই, বদন ভরে জয় দাও গো।।*

*🏵কথা=শ্রীরাধাশ‍্যাম শ্রীযমুনার আশা পূরণ করে তীরে উঠলেন সহচরী মেলি। শুকনো বসন পরিধান করে,সকলে গেলেন নিকুঞ্জ মন্দিরে।*
*🍀সেবা পরা  যত সখিগণ, বসাওল রতন বেদীর উপরে,*
*🌷যেখানে বিগলিত হয়েছে বেশ।*
*🌷সাজাওল সখীগণে মনের আবেশ।।*

*🏵ক্ষীর, সর, ছানা,যা কিছু ছিল  আগে দেয় কৃষ্ণ বদনে,পরে  রাধার মুখে দেয় সবে। মনসুখে প্রসাদ পেল জনে জনে। আচমন করে কর্পূর তাম্বুল দিল মুখে। কর্পূর তাম্বুল খেয়ে সখীগণ বললেন--*

*🌹আখর=*
*দাঁড়া রাই দাঁড়া রাই।*
*তোরা  যুগল  হয়ে।*
*আমরা নয়ন ভরে দেখে যাই।।*

*🏵   দাঁড়াইল রে।*
*দোঁহা যুগল হয়ে।*
*রূপে ভূবন আলো করে।*
*বদন ভরে জয় দাও।*
*শ্রীরাধা গোবিন্দের যুগল হেরে।।*

*🙏নৌকা বিলাস লীলা এখানেই রইল। বানান ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।*
*শ্রীশ্রীরাধা-শ‍্যামসুন্দরের জয়।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


শ্রীশ্রীরাস-লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/raslila.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕  শ্রীশ্রীরাস-লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/raslila.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙏🙏শ্রীশ্রীরাস-লীলা🙏🙏*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🙌 🙌শ্রীগৌরচন্দ্রিকা🙌🙌*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
         *সোমতাল--২৮ মাত্রা*

*🌲পদ*
*১| বৃন্দাবনলীলা গোরার মনেতে পড়িল।*
*🏵কাটান=*
*আমার ভাবনিধি-----ভাবনিধি শ্রী গৌরাঙ্গের*
*আহা মরি আরে  এ এ এ এ এ এ  ওকি-------------------------- আ------হা--------রে--এ এ এ এ এ এ এ*
                *তাল=মধ‍্যম*
                 °°°°°°°°°°°°°
*২|যমুনার ভাব সুরধূনীরে করিল।।*
*ভাব নিধি গৌর আমার----------*

*🍀শিকলি=*
*প্রেমাধীন গৌরচন্দ্র,পূরব লীলা রঙ্গ,*
*আজ সেই পূরবের ভাব মনে হয়ে*
*সেই ভাব মনে উদয় হয়ে -------*
*আনন্দের  আর সীমা নাই-------*
*ভাব নিধি গৌর আমার----------*

*🍀২ নং কাটান=*
*আনন্দের আর সীমা নাই রে,*
*ভাবনিধি ভাবনিধি গোরাচাঁদের-----*
                      *বড় একতালী*
                        °°°°°°°°°°°°°°°
*আখর=*
*আজ) মনেতে পরেছে রে।*
*সেই) বৃন্দাবন লীলার কথা।*
*ভাব নিধি গোরা চাঁদের।।*
*সেই পূরবের ভাব মনে হয়ে।*
*আনন্দ   আর ধরে না।।*

*১)ফুল বন দেখি বৃন্দাবনের সমান।*
*🌻কথা=নবদ্বীপ সুধাকর শ্রীমন্ গৌরসুন্দর আমার পূরব রচিত ভাবে বিভোর হয়ে মধ‍্য রজনীতে উঠে সুরধূনী গঙ্গার তীরে গিয়ে ফুলবনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সঙ্কেত করলেন।ঐ সংকেত অনুসারে যাঁরা আমার গৌরসুন্দরের অন্তরঙ্গ ভক্ত, তাঁরাও ঐ সংকেত স্থানে গিয়ে মিলিত হলেন। এবং শ্রীমন্ গৌরসুন্দরকে ঘিরে মন্ডলী আকারে দাঁড়াইলেন। গৌরসুন্দর এমনভাবে বিভোর হয়েছেন যে সুরধূনী গঙ্গাকে দেখে বলছেন--*

*আখর=*
        *এই  তো  যমুনা।*
*🌻কথা=আবার ফুলবন দেখে বলছেন--*
*আখর=*
          *এই  তো   বৃন্দাবন।*
   *এই যে বৃন্দাবনের ফুলবন।* *আজ) আনন্দের আর সীমা নাই।।*
*২|সহচর গণ ব্রজ গোপী অনুমান।।*
*🌻কথা=সহচরগণকে দেখে বলছেন-------*
           *এই তো গোপীগণ।*
     *এই বৃন্দাবনের ফুলবন।*
   *আনন্দের আর সীমা নাই।।*

*🏵কথা=তাহলে শ্রীমন্ গৌরসুন্দর আমার যে পূরবের ভাবে বিভোর হয়ে নিজেকে পর্যন্ত ভুলে গিয়েছেন, সেই পূরবের ভাবটি কি?*
*না, সেই পূরবের ভাবটি হ'ল মধুর শ্রীবৃন্দাবন রচিত ভাব। তাহলে মধুর শ্রীবৃন্দাবনে গৌরসুন্দর আমার কে ছিলেন?*
*আখর=*
              *এই তো সেই রে।*
  *আমাদের) বৃন্দাবনের রাধাবল্লভ।*
*প্রেম আস্বাদিতে নদীয়ায় এলেন।।*
*🏵কথা=তাই শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লিখেছেন--- শ্লোক।*

*শ্রীরাধায়াঃ প্রণয় মহিমা কীদৃশো বানয়ৈবাস্বাদ‍্যো।*
*যেনাদ্ভুত মধুরিমা কিদৃশো বা মদীয়ঃ।।*
*সৌখ‍্যং চাস‍্যা মদনুভবতঃ কীদৃশং বেতি লোভাৎ।*
*তদ্ভাবাঢ‍্যঃ সমজনি শচী গর্ভ সিন্ধৌ হরীন্দূঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যেমন সমুদ্র থেকে চন্দ্র উঠেছিলেন, শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রও তেমনি শচীর সন্তান হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।*
*শ্রীকৃষ্ণই শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে চৈতন‍্যরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন, তিনটি সাধ পূরণের জন্য।*
*প্রথম সাধ=রাধা প্রেমের মহিমা কতখানি তা তিনি জানবেন।*
*দ্বিতীয় সাধ=সেই প্রেমের আলোকপাতে শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য‍্যের চমৎকারিতা কতখানি তা তিনি জানবেন।*
*তৃতীয় সাধ=সেই চমৎকারিতা অনুভব করে রাধার আনন্দ কতখানি তাও তিনি জানবেন।*
*🏵কথা=তাহলে মধুর শ্রীবৃন্দাবনে যদি গৌরসুন্দর আমার রাধা-বল্লভ ছিলেন,সেই রাধা-বল্লভের অঙ্গবরণটি কেমন ছিল?না, উজ্জ্বল নীলকান্তমণি সদৃশ নবঘন শ‍্যামবর্ণ। সেই বরণটি গৌরসুন্দর আমার কোথায় রাখলেন?*

*আখর=  লুকায়ে রেখেছে।*
     *অন্তরে নীল কান্ত মণি।*
 *বাইরে, রাধা ভাব স্বরূপিনী।।*
*🏵কথা=তাহলে বতর্মান যে শ্রীমন্মহাপ্রভু, এই মহাপ্রভুর রূপ মাধুর্য‍্য তত্ত্বটি কি? না, মাধুর্য‍্যময় গৌর রূপের তত্ত্বটি হ'ল, কৃষ্ণ সন্দর্ভ গ্রন্থে উল্লেখ আছে---*
*🌷অন্তঃকৃষ্ণং বহি গৌরং দর্শিতাঙ্গাদি বৈভবম্।*
*🌷কলৌ সংকীর্তনাদ‍্যৈঃস্ম কৃষ্ণ চৈতন‍্য মাশ্রিতা।।*

*🌻অর্থ‍্যাৎ যিনি অন্তরে কৃষ্ণ বাইরে শ্রীমতী রাধিকার অঙ্গাদির বৈভব রূপ গৌরদেহ ধারণ করে অবতীর্ণ হয়েছেন।কলিযুগে সংকীর্তন যজ্ঞদ্বারা সেই শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের স্মরণ গ্রহণ করি।*

*আখর=  অবতীর্ণ হয়েছেন।*
              *যুগল মূরতি খানি।*
    *হরিনাম আর প্রেম নিয়ে।।*
*আখর= অবতীর্ণ  হয়েছেন।*
       *প্রেমময় করবেন বলে।* *এই স্থাবর জঙ্গম কীটপতঙ্গ।।*

*🏵কথা=তাহলে এই হরিনাম যজ্ঞদ্বারাই শ্রীমন্ গৌরসুন্দরকে লাভ করা যায় বা পাওয়া যায়। গৌর ধনে ধনী হবার এ একটি পথ তো পাওয়া গেল।*
*🌹আচ্ছা যাদের এই হরিনাম যজ্ঞ করবার মত সামর্থ নেই তাদের কি গৌর লাভ হবে না?তাদের জনম কি বৃথা যাবে? তাদের কি কোন উপায়ই নেই? না,আছে,তাদেরও উপায় আছে গৌরসুন্দর যে আমার কাঙ্গালের ঠাকুর।তাদের উপায়, বিষ্ণুপুরাণে উল্লেখ আছে---*

*🌷ধ‍্যায়ন কৃতে যজন যজ্ঞৈ স্ত্রেতায়াং দাপরেহর্চ্চয়ন।*
*🌷যদ প্নোতি তদা প্নোতি কলৌ সংকীর্ত্ত কেশবম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ সত‍্যযুগে ধ‍্যান,ত্রেতাযুগে যজ্ঞ,দ্বাপরযুগে অর্চনা দ্বারা যে ফল লাভ করা গিয়েছে,কলিযুগে একমাত্র হরিনাম সংকীর্তন দ্বারা একটিবার মাত্র গৌর-হরি-হরিবল বলে ডাকলেই সেই ফল লাভ হয়ে থাকে।*
*🌹তাই ভাবাবিষ্ট পদকর্তা জগৎকে ডেকে ডেকে বলছেন--*
*আখর=*
*তোমরা একবার, হরিবল বলরে।*
*আমার, গৌর কাঙ্গাল যাঁরা আছে।*                                                          *        *প্রেমানন্দে বাহু তুলে।।*
*🏵কথা=সংকীর্তনৈব পিতরোপি।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ শ্রীগৌরসুন্দর এই সংকীর্তনের পিতা বা গায়ক। এই কলিহত জীব অসংযত ইন্দ্রিয়,অন্নগত প্রাণ,নারীগত মন,অভক্ষ‍্য ভক্ষণ,কুপথে গমন,বিষয়াসক্ত হৃদয়। এই কলুষিত জীবের উদ্ধার কল্পে গৌরসুন্দর আমার সুলোভ,সুগম‍্য,সুসাধ‍্য উপায় স্থির করে দিলেন, এই হরিনাম সংকীর্তন। তাই গৌরহরি আমার এই কলিহত জীবের কাছে ধরা দেবার জন্যই এই সংকীর্তন বিধি,  ও নিজে আচরণ করেছেন।*
*🌷আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়।*
*🌷নিজে না আচরিলে ধর্ম শিখানো না যায়।।*

*🏵গৌরসুন্দর  আমার কি করে আচরণ করলেন এই পদেই তার প্রমাণ আছে এই দেখুন---*
                   *পদ*
*১)খোল করতালে গোরা সুমেলি করিয়া।*
*২)তার মাঝে নাচে গোরা জয় জয় দিয়া।।*

*আখর=*
*গৌর আমার, নাচিতে লাগিল।*
*ভকত, মন্ডলী মাঝে দাঁড়ায়ে।*
*যেমন করে,রাস,মন্ডলিতে নেচেছিলেন।।*

*🏵কথা=গৌর আমার নাচছেন বটে,কি বলে নাচছেন?জয় দিয়ে নাচছেন, আর বলছেন--*
*আখর= একবার,জয় দাও রে।*
 *আমার, রাসেশ্বরী বিনোদিনীর।*
*🙌জয়  দিলে  জয়  হবে।*
*🙌বদন  ভরে  জয়  দাও।।*
                  *পদ*
*১)বাসুদেব ঘোষ তাহে করয়ে বিলাস।*
*২)রাস রস গোরাচাঁদ করিলা প্রকাশ।।*
*🏵কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বাসুদেব ঘোষ, যিনি পূর্বলীলায় অর্থ‍্যাৎ বৃন্দাবনলীলায় সুদেবী ছিলেন।তিনি ভাবনিধি গৌরসুন্দরের ভাব দর্শন করে বলছেন,শ্রীমন্ গৌরসুন্দর তাঁর সহচরগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রেমাবেশে সংকীর্তনে রত হয়ে সুরধূনীর তীরে বিহার করছেন। শারদীয় নীলগগনে পূর্ণচন্দ্র বিকসিত পুষ্পের ন‍্যায় প্রস্ফুটিত হয়ে যেন অপূর্ব শোভা বর্ধন করছে।আকাশ সুনির্মল,মৃদুমন্দ সমীরণ,প্রতি পুষ্প বৃক্ষে ফুল্লিত লতা জড়িত। পুষ্প বৃক্ষগুলি পুষ্প বিকসিত হয়ে ভ্রমর আলিঙ্গনে ও চুম্বনে অপূর্ব শোভা বর্ধন করছে। ভ্রমরগণও গুণগুণ স্বরে গীতধ্বনি করছে।আর প্রতি পুষ্পে মধুপানে রত হয়ে আছে।এই দৃশ‍্যগুলি দেখে গৌরসুন্দরের  পূর্বলীলার স্মরণ হয়ে সুরধূনীকে দেখছেন যমুনা,বন দর্শন করে বৃন্দাবন ও সহচরগণকে গোপীগণ দেখছেন, কারণ কি? না, কারণ হল, পূর্ণত্তম শ্রীভগবান বৃন্দাবনে গোপীগণের সঙ্গে লীলা করেছিলেন আজ---*
*আখর= তারাই তো বটে হে।*
      *এই,নিত‍্য পারিষদ গণ।*
   *এই, গৌরলীলায় এসেছেন।।*
*১)বাসুদেব ঘোষে তাহে করয়ে বিলাস।*
*২)রাস রস গোরাচাঁদ করিলা প্রকাশ।।*
              *জামালী*
*🙏গৌরচন্দ্রিকা এখানেই রইল।*

*🙏শ্রীশ্রীরাস ব্রজলীলা🙏*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀সুরে----------*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে আজ কি সুমধুর ভাব,*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে আকাশ মধুর---*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে বাতাস মধুর----*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে দ্বাদশবন মধুর----*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে কেলিকুঞ্জ মধুর----*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীশ‍্যামকুন্ড মধুর---*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীরাধাকুন্ড মধুর---*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীযমুনা মধুর---*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে বংশীবট মধুর---*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে কেশীঘাট মধুর----*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে নিকুঞ্জবন মধর----*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে শুক-সারি মধূর---*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে কোকিল কোকিলা মধুর---*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে ভ্রমর-ভ্রমরা মধুর---*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে ময়ূর-ময়ূরী মধুর----*
*মধুর শ্রীবৃন্দাবনে কপোত-কপোতি মধুর--*
*🏵এমনকি মধুর শ্রীবৃন্দাবনে স্থাবর-জঙ্গম,কীট পতঙ্গাদি সকলি মধুর।এ হেন মধুর শ্রীবৃন্দাবনে কালিয়হ্রদ সেও আজ মধুর।কেননা যে কালিয়হ্রদ  বিষপূর্ণ জলে পরিপূর্ণ ছিল,শ্রীগোবিন্দের শ্রীপাদপদ্ম লাভ করেছে বলে সেও আজ মধুর।এ হেন মধুর শ্রীবৃন্দাবনে আর যে কত কত সুমধুর যার তুলনা হয় না। আমার অপ্রাকৃত শ্রীরাধাগোবিন্দের লীলায়।*

*🌹তারপর------ সুরে---*

*কৃষ্ণের যতেক খেলা, সর্বোত্তম নরলীলা,*
       *নর বপু তাহার স্বরূপ।*
*গোপ বেশ বেণুকর,নব কৈশোর নটবর,*
      *নরলীলার হয় অনুরূপ।।*
*কৃষ্ণের মধুর রূপ শুন সনাতন।*
*যে রূপের এককণ,ডুবায় সব ত্রিভুবন,*
      *সর্বপ্রাণী করে আকর্ষণ।।*
*পুরুষ যোষিত কিংবা স্থাবর জঙ্গম।*
*সর্বচিত্ত আকর্ষক ব্রজের মন্মথ মদনমোহন।।*
*যোগমায়া চিচ্ছক্তি,বিশুদ্ধ সত্ত্ব পরিণতি,*
      *তার শক্তি লোকে দেখাইতে।*
*এই রূপ-রতন,ভক্তগণের গূঢ় ধন,*
       *প্রকট কৈল নিত‍্যলীলা হৈতে।।*

*🏵কথা=এই বতর্মান শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীরাধাকৃষ্ণের বতর্মান লীলাটি কি, না,বর্তমান লীলা হ'ল শ্রীশ্রীরাসলীলা। লীলা কাকে বলে? উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে উদ্দীপন প্রকরণে ২৩৭ পৃষ্ঠায় ৪৪ নম্বর শ্লোকে উল্লেখ আছে-----*

*অগ্রেহনুভাবা বক্ত ব‍্যালীলেয়ং কথ‍্যতেহধুনা।।*
*লীলা স‍্যাচ্চারু বিক্রীড়া তান্ডবং বেণুবাদনম্।*
*গোদোহঃ পর্বতোদ্ধারো গোহূতির্গমনাদিকা।।*

*🌹অর্থ‍্যাৎ আগে অনুভাব বিষয়ে বলা হবে  এক্ষণে লীলা সম্পর্কে বলছি।লীলা বলতে মনোজ্ঞ বিক্রীড়া,তান্ডব,বেণুবাদন, গোদোহন,গিরিধারণ, গোগণের আহ্বান এবং গমন ইত্যাদি বুঝায়।তারমধ‍্যে চারু বিক্রীড়া রাসাদি ও কন্দুক খেলাদি ইহাকে লীলা বলে।*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


adds