শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর রথাগ্রে নর্তন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/rath.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর রথাগ্রে নর্তন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/rath.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ DeepBagui.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
           ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
      এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য_মহাপ্রভুর_রথাগ্রে_নর্তন:

বঙ্গবাসী গৌরগত প্রাণ ভক্তগণ শচীমায়ের আজ্ঞা নিয়ে এসেছেন নীলাচল পুরীতে জগন্নাথ সান্নিধ্যে। শুধুই কি জগন্নাথের সান্নিধ্য পেতে? না জগন্নাথ ছাড়াও আরেকজন আছে যে একসময়  নবদ্বীপে বাস করত।আজ সন্ন্যাসী হয়ে পুরীতে কাশীমিশ্রালয়-গম্ভীরা তে তিনি বিরাজ করছেন। তিনি নিমাই পণ্ডিত । তবে এখন কি আর তাকে সেই নামে ডাকা যাবে? তিনি এখন জগৎবাসীর কাছে পরিচিত শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য  মহাপ্রভু নামে ।
বঙ্গবাসী ভক্তদের কাছে পেয়ে বিশেষত তাঁর দুই অভিন্ন তনু নিত্যানন্দ আর অদ্বৈত কে কাছে পেয়ে আনন্দ আর ধরে না। বৈষ্ণব সন্মিলন, ঝালি সমর্পণ, গুণ্ডিচা মার্জন পর্ব সুসম্পন্ন হয়েছে।ভক্তগণ জগন্নাথ দর্শনে আসেন না। তাদের মুখ্য উদ্দেশ্যই গৌরকে দেখা ।যখন ভক্তগণ সিংহদরজা পার হয়ে চলে যাচ্ছিল। তখন অট্টালিকার উপর থেকে প্রতাপরুদ্র জিজ্ঞেস করছেন ,এরা জগন্নাথ দর্শন না করে কোথায় যাচ্ছে? তখন সার্বভৌম ভট্টাচার্য বলেছিলেন এরা এসেছে গৌর দর্শনে ।এরা গৌরগত প্রাণ। গৌর ছাড়া কিছু জানে না ।তাই তারা আগে গৌরদর্শন করে গৌরকে নিয়ে তার আনুগত্যে জগন্নাথ দর্শন করবেন।

আজ আষাঢ় মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথি। জগৎবাসীর কাছে এই তিথি পূজ্য #রথযাত্রা_উৎসব নামে। নীলাচল-পুরীধামের এটাই মূল উৎসব।ভাগ্যবন্ত গৌরগণের সৌভাগ্যের কথা আর কি বলব? স্বয়ং ভগবানের সাথে তারা জগন্নাথের রথারোহণ দেখবে।গৌর কি আর তাদের কাছে ভগবান? গৌর তাদের প্রেমনিধি- ভালোবাসার ধন।সেই প্রেমনিধির সাথে প্রেমমধু আস্বাদন করবে ভক্ত-ভ্রমরেরা।

আনন্দে ব্যাকুল মহাপ্রভু আজ ব্রাহ্ম-মুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে ভক্তদের সাথে স্নান সেরে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই  চলে এসেছেন শ্রীমন্দিরে। শ্রীমন্দিরের রীতি নীতি সমাপ্ত হবার পর শুরু হয়ে গেছে জগন্নাথের #পহণ্ডি_বিজয় উৎসব । জগন্নাথ এবার রত্নবেদী থেকে নেমে ধীরে ধীরে দয়িতাপতি সেবকদের কাঁধে চড়ে চলেছেন রথের দিকে। রথের দিকে যাবার সময় দয়িতাপতিরা কি সুন্দর ভাবে জগন্নাথ কে দোলাতে দোলাতে নিয়ে চলল। মনে হচ্ছে যেন জগন্নাথ হেলেদুলে যাচ্ছেন।এই দয়িতাপতিরা মত্তহাতীর মতো শক্তিশালী।কোনো কোনো দয়িতা পতি  জগন্নাথের কাঁধ ধরেছে , কেউ কেউ ধরেছে চরণ।জগন্নাথের কোমরে পট্টডোরী (একধরণের কাপড়) বাঁধা আছে।জগন্নাথের দুই পাশের দয়িতা পতিরা সেই পট্টডোরী ধরেছে। সেবার আতিশয্যে কখনো কখনো সেই পট্টডোরী থেকে তুলো বের হয়ে চারিদিক শুদ্ধ দুগ্ধ ফেননিভ হয়ে যাচ্ছে । প্রকৃতপক্ষে পট্টডোরি থেকে তুলো বের হয়না।একখানা করে গদি নিচে পাতা হয় তার উপরে জগন্নাথকে রাখা হয় সামনে আবার আরেকখানা গদি পাতা হয় তার উপরে যখন জগন্নাথ কে যখন রাখেন তখন সেগুলো ফেটে তুলো বেরিয়ে যায়।এইভাবে সেবকদের মাধ্যমে জগন্নাথের পহণ্ডি বিজয় হয় । জগন্নাথ ভক্তদের সাথে নিজ ইচ্ছায় এগিয়ে চলেছেন।যিনি অখিল ব্রহ্মাণ্ডের নাথ তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে কে? তিনি নিজ ইচ্ছায় সেবকের সাথে চলেছেন । "#বিশ্বম্ভর_জগন্নাথে_কে_চালাইতে_পারে?
#আপন_ইচ্ছায়_চলে_করিতে_বিহারে"।।

জগন্নাথ-বিশ্বম্ভর এগিয়ে চলেছেন রথের দিকে। আর গৌর-বিশ্বম্ভর সেই দৃশ্য দেখছেন দাড়িয়ে দাড়িয়ে।"

#দুই_বিশ্বম্ভর_দুই_মহাপ্রভু " 
একজন আরেকজনকে দেখতে রত্নবেদী থেকে নেমেছেন রাস্তায় । গম্ভীরা থেকে বেরিয়েছেন রাজপথে। শুধু কি মহাপ্রভু একা দেখছেন এই দৃশ্য? সাথে আছে ভক্ত বৃন্দ। আছে "#এক_অঙ্গ_ত্রিধা_মূর্তি"র বাকি দুইজন। প্রভু নিত্যানন্দ আর প্রভু অদ্বৈত।
 #নিতাই_গৌর_সীতানাথ এর যে ত্রিবেণী সঙ্গম একদিন ঘটেছিল নবদ্বীপে শ্রীবাস অঙ্গনে আজ সেই সঙ্গম আবার প্রকট হয়েছে পুরীধামে জগন্নাথ মন্দিরে।

"#অদ্বৈত_নিতাই_আদি_সঙ্গে_ভক্তগণ।
#সুখে_মহাপ্রভু_দেখে_ঈশ্বর_গমন।।"

নানা বাদ্যযন্ত্র বাজছে চারিদিকে। শঙ্খ ঘন্টা কাঁসর জগঝম্প। সেইসাথে মহাপ্রভুর মুহুর্মুহু 
 #মণিমা #মণিমা ধ্বনি । (মণিমা=প্রভু)।

মহাপ্রভু জগন্নাথ কে প্রভু বলে ডাকছেন। আজ আর তিনি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সন্ন্যাসী নন। আজ তিনি বৃষভানু রাজনন্দিনী শ্রীরাধারাণী। তাঁর দয়িত গোবিন্দ রূপী জগন্নাথ আজ গুণ্ডিচা রূপী শ্রীবৃন্দাবনে চলেছেন। কতদিন পরে আবার প্রাণনাথকে নিজ কুঞ্জে পাবেন।তাই রাধাভাবে বিভাবিত মহাপ্রভু জগন্নাথ কে ডাকছেন মণিমা বলে। এমন সময়ে রাজা প্রতাপরুদ্রদেব এলেন "#পথ_সংমার্জন" করতে।জগন্নাথের রথের রাস্তায় চন্দন জল নিক্ষেপ করে সোনার ঝাঁটা দিয়ে সেই রাস্তা পরিষ্কার করছেন রাজা।(সে দেশীয় ভাষায় বলে ছেরা-পোহরা) যদিও রাজ সিংহাসনে বসে রাজত্ব সামলানোর দায়িত্ব যাঁর ওপরে সেই রাজার কাছে রাস্তা ঝাঁট দেওয়া অতি তুচ্ছ কাজ তুচ্ছ সেবা। আর এই তুচ্ছ সেবাতেই জগন্নাথ রাজার ওপর ভারী সন্তুষ্ট।আর রাজার এই তুচ্ছ সেবা দেখে মহাপ্রভুও যারপরনাই আনন্দিত।
"#মহাপ্রভুর_সুখ_হইল_সে_সেবা_দেখিতে।
#মহাপ্রভুর_কৃপা_পাইল_সে_সেবা_হইতে।।"

এদিকে রথের সাজ অতি চমৎকার । সুমেরু আকৃতির তিনটি রথ।তিনটি রথেই শতশত চামর শতশত উজ্জ্বল আয়না বিরাজিত।রথের উপরে পতাকা। রথের সামনে চাঁদোয়া টাঙানো।নানা চিত্র পট্টবস্ত্রে রথ সুশোভিত।লাল-হলুদ; লাল-সবুজ;লাল-কালো কত রঙ বেরঙের কাপড়ে রথ সুসজ্জিত । নামভেদেও রথের তিন নামকরণ।এবার ধীরে ধীরে সপার্ষদ  জগন্নাথ এগিয়ে চলেছেন রথের দিকে। মহাপ্রভু অনিমেষ নয়নে দেখছেন সেই দৃশ্য ।নন্দীঘোষ রথে জগন্নাথ;তালধ্বজ রথে বলরাম আর দেবদোলন রথে সুভদ্রা আর সুদর্শন।

"#লীলায়_চড়িল_ঈশ্বর_রথের_উপর।
#আর_দুই_রথে_চড়ে_সুভদ্রা_হলধর" ।।

পনের দিন অনবসরে জগন্নাথদেব দেবী লক্ষ্মীর সাথে নিভৃতে লীলাবিলাস করে আজ বেরিয়েছেন রাজপথে। ভক্ত কে দর্শন দিতে ; ভক্ত কে দর্শন করতে।রথে আরোহণ করেছেন প্রভু জগন্নাথ । রথ চলতে শুরু করেছে।রথের উপরে বসে জগন্নাথ সবাই কে দেখতে দেখতে এগিয়ে চলেছেন। গৌড়ীয়বৈষ্ণবদের আজ কি আনন্দ!! এত দিনের পথ পায়ে হেঁটে আসা সার্থক । স্বার্থক  কি জগন্নাথ কে দেখতে পেয়ে? না স্বার্থক হয়েছে গৌর আনুগত্যে জগন্নাথকে দেখতে পেয়ে । গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ রথের দড়ি স্পর্শ  করে রথ এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। রথ কখনো দ্রুত এগোচ্ছে কখনো ধীরে। কখনো সম্পূর্ণ স্থির হয়ে যাচ্ছে রথ। জগন্নাথের এটাই ইচ্ছে । এইভাবেই উনি ভক্তদের নয়নমণি হয়ে ধীরে ধীরে এগোতে চাইছেন। মহাপ্রভু আনন্দে পরমানন্দ পুরী; ব্রহ্মানন্দ ভারতী সহ সমস্ত ভক্তদের নিজহাতে মালা চন্দন পরাচ্ছেন । নিজ হাতে পরাচ্ছেন তার অভিন্ন দুই সত্ত্বা - নিতাই চাঁদ কে আর অদ্বৈত প্রভু কে।
মহাপ্রভু এবার তার ভক্তদের চারটি সম্প্রদায়ে ভাগ করে দিলেন। প্রতি দলে ছয়জন করে মোট চব্বিশ জন কীর্ত্তনীয়া থাকবেন।প্রতি  দলে মৃদঙ্গ বাজাবেন দুইজন করে মোট আটজন।
                 --------------------------------------------
#প্রথম_সম্প্রদায়:
কীর্ত্তন করবেন - ১)দামোদর; ২)নারায়ণ; ৩)গোবিন্দ দত্ত; ৪)পাণিহাটির রাঘব পণ্ডিত এবং ৫)গোবিন্দানন্দ।
মূল কীর্ত্তনীয়া- স্বরূপ দামোদর গোস্বামী ।
নৃত্য করবেন- অদ্বৈত প্রভু ।

#দ্বিতীয়_সম্প্রদায়:
কীর্ত্তন করবেন -১)গঙ্গাদাস; ২)হরিদাস(ইনি নামাচার্য্য হরিদাস ঠাকুর নন); 
৩)শ্রীমান; ৪)শুভানন্দ; 
৫)শ্রীরাম পণ্ডিত ।
মূল কীর্ত্তনীয়া- নবদ্বীপের শ্রীবাস পণ্ডিত
নৃত্য করবেন- বৈষ্ণব নয়নমণি প্রভু নিতাই চাঁদ। 

#তৃতীয়_সম্প্রদায়:
কীর্ত্তন করবেন-১)বাসুদেব; ২)গোপীনাথ; ৩)মুরারি; 
৪)শ্রীকান্ত; ৫)বল্লভসেন
মূল কীর্ত্তনীয়া-নবদ্বীপের মুকুন্দ,
নৃত্য করবেন-নামাচার্য্য হরিদাস ঠাকুর

#চতুর্থ_সম্প্রদায়:
কীর্ত্তন করবেন-১)হরিদাস; ২)বিষ্ণুদাস; 
৩)রাঘব; 
৪)মাধব; 
৫)বাসুদেব ঘোষ
মূল কীর্ত্তনীয়া-গোবিন্দ ঘোষ,
নৃত্য করবেন- বক্রেশ্বর পণ্ডিত।

এছাড়াও আছে গৌড়বঙ্গ থেকে যাওয়া আরো তিন কীর্ত্তনীয়া সমাজ।রামানন্দ; সত্যরাজের নেতৃত্বাধীন #কুলীনগ্রামের_কীর্ত্তনীয়া_সমাজ।
 অদ্বৈত প্রভুর আনুগত্যে আসা #শান্তিপুরের_কীর্ত্তনীয়া_সমাজ।
এবং রঘুনন্দন;ঠাকুর নরহরির নেতৃত্বাধীন #শ্রীখণ্ডের_কীর্ত্তনীয়া_সমাজ। 
তাহলে মোট সাত সম্প্রদায় নিয়ে মহাপ্রভু রথযাত্রা উৎসব অবলোকন করছেন। যে চারটি সম্প্রদায় মহাপ্রভু নিজে তৈরী করেছেন সেই চার সম্প্রদায় জগন্নাথের  রথের আগে কীর্ত্তন করছেন। কুলীন গ্রাম আর শান্তিপুরের কীর্ত্তন সমাজ জগন্নাথের  রথের দুইপাশে কীর্ত্তন করছেন আর শ্রীখণ্ডের কীর্ত্তন সমাজ রথের পেছনে কীর্ত্তন করছেন।কীর্ত্তনানন্দে পুরীর রাজপথ আনন্দ উদ্বেলিত। সবার চোখে প্রেমাশ্রু।শুধু কৃষ্ণ নাম সংকীর্তনের ধ্বনিই দিগ্ দিগন্তে ব্যাপ্ত।অন্য বাদ্য যন্ত্রের শব্দ শোনা যায় না।মহাপ্রভু সাত সম্প্রদায়েই ঘুরে ঘুরে কীর্ত্তন করছেন। এমন এক সময়ে মহাপ্রভু একই সাথে  সাত সম্প্রদায়েই কীর্ত্তন করতে লাগলেন। প্রতি সম্প্রদায়ই ভাবছে মহাপ্রভু তাদের দলে কীর্ত্তনানন্দে বিভোর।
#আর_এক_শক্তি_প্রভু_করিলা_প্রকাশ।
#এককালে_সাত_ঠাঞি_করিল_বিলাস।।

#সবে_কহে_প্রভু_আছেন_মোর_সম্প্রদায়।
#অন্য_ঠাঞি_নাহি_যান_আমারে_দয়ায়।।

এইরূপে কীর্ত্তন হচ্ছে ।আর এমনসময়ে জগন্নাথের রথ থেমে গেল।আর এগোতে চায় না। মহাপ্রভুর এই কীর্ত্তন দেখে বোধকরি জগন্নাথ নিজেই স্তব্ধ হয়ে গেছেন। গৌররূপী শ্রীরাধার প্রেমানুভবে আজ জগন্নাথ রূপী কৃষ্ণ স্তব্ধ ।মহাপ্রভু অন্তরে অনুভব করছেন সেই রাসবিলাসের কথা।কীর্ত্তন করতে করতে মহাপ্রভু প্রেমাবেশে সাত সম্প্রদায়কে একত্রিত করলেন।হেমদণ্ড বাহু তুলে উদ্দণ্ড নৃত্য কীর্ত্তন চলতে লাগল।একবার কীর্ত্তন করছেন তো পরক্ষণেই জগন্নাথের দিকে মুখ করে বিষ্ণুপুরাণ উদ্ধৃত শ্লোকে স্তব করছেন।কখনো হাত জোড় করে শ্রীমদ্ভাগবতের শ্লোক পড়ে প্রণাম করছেন।একটা দড়ির অগ্রভাগে আগুন লাগিয়ে সেই দড়িটাকে যদি চক্রবৎ ঘোরানো যায় তাহলে চোখে ধাঁধা লেগে যাবে। মনে হবে শুধু যেন আগুনের গোলাটাই চক্রের মতো ঘুরছে।এই ঘূর্ণণ কে #অলাত_আকার বলা হয় । মহাপ্রভুর এই উদ্দণ্ড নৃত্য দেখে মনে হচ্ছে  যেন অলাত আকারে চক্র ঘুরছে। মহাপ্রভুর সারাদেহে পুলক ;কম্পাশ্রু আদি অষ্ট সাত্ত্বিক বিকার দেখা দিচ্ছে ।মাঝে মাঝে  কীর্ত্তনানন্দে মহাপ্রভু আছাড় খেয়ে মাটিতে পড়ে যাচ্ছেন।মনে হচ্ছে যেন একটা সোনার পাহাড় মাটিতে পড়ে যাচ্ছে । মহাপ্রভুর এই ভাব সংবরণের জন্য নিত্যানন্দ প্রভু আর অদ্বৈত প্রভু মহাপ্রভু কে দুই হাত দিয়ে আগলে রেখেছেন। অন্যান্য ভক্তরাও মহাপ্রভু কে সংবরিত করতে ব্যস্ত । রাজা প্রতাপরুদ্রদেবও পাত্রমিত্র সহ দাড়িয়ে আছেন। এই সংকীর্তন দেখে রাজা প্রতাপরুদ্রদেবও স্তম্ভিত । স্তম্ভিত সার্বভৌম ভট্টাচার্য আর কাশীমিশ্র ।প্রভুর এই নৃত্য দেখে ভক্তগণ তো বটেই; স্বয়ং রথারূঢ় জগন্নাথও পুলকিত।শুধু জগন্নাথ নয়, সুভদ্রা বলরামের অন্তরেও উল্লাস ।
#সুভদ্রা_বলরামের_হৃদয়ে_উল্লাস।
#নৃত্য_দেখি_দুইজনার_শ্রীমুখেতে_হাস।।

ভাবাবেশে মহাপ্রভুর মুখের উচ্চারণ বিকৃত হয়ে যাচ্ছে । জগন্নাথ শব্দ উচ্চারণ করতে পারছেন না।'জজ গগ' বেরিয়ে আসছে মুখ থেকে।জগন্নাথের বিগ্রহেই মহাপ্রভুর নয়ন হৃদয় বিগলিত।কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণ দর্শন করে গোপিনীদের যে ভাব হয়েছিল আজ জগন্নাথ কে গুণ্ডিচা যেতে দেখে মহাপ্রভুর সেই ভাব।পরিশেষে গৌররূপী রাধা জগন্নাথ রূপী গোবিন্দের কাছে আত্মসমর্পণ করছেন । রথ এগিয়ে চলছে।গুণ্ডিচা মন্দিরের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে তিনটি রথ। এসে দাঁড়ালেন সপার্ষদ গৌরহরি।রথযাত্রা উৎসব মহানন্দে মহাপ্রভু আস্বাদন করছেন। আর সেই আস্বাদনের ভাগ দিচ্ছেন ভক্তদের।কৃপার ভাণ্ডার আজ উন্মুক্ত । যে যত পারছে কৃপা লুটে নিচ্ছে। 
জয় নবদ্বীপচন্দ্র। জয় নীলাচলচন্দ্র।।*জয় নিতাই!*
*নিত্যানন্দ প্রভু ও গৌড়ীয় গোস্বামী সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিবিধ প্রসঙ্গ জানতে এই গ্রুপে অ্যাড হোন, বন্ধুদের অ্যাড করুন , লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন।*

https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/

*এখানে ধর্মীয় ভক্তি-জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন পোস্ট পেতে পারবেন।*
 *জয় নিতাই!*
 *জয় জয় নিতাই!!*
*🌹🌹🙏🙏🌹🌹*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




মহাপ্রভুর গুণ্ডিচা মার্জন লীলা 🏵️ আষাঢ়ী শুক্লা প্রতিপদ তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/gundicha.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভুর গুণ্ডিচা মার্জন লীলা 🏵️ আষাঢ়ী শুক্লা প্রতিপদ তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/gundicha.html 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ DeepBagui.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
           ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
      এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*মহাপ্রভুর_গুণ্ডিচা_মার্জন_লীলা*

(আষাঢ়ী_শুক্লা_প্রতিপদ_তিথি )

শ্রীজগন্নাথদেব রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে স্বপ্নাদেশ দিলেন। প্রতি বছর আষাঢ়ের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে তাঁর শ্রীবিগ্রহ কে রথে আরোহণ করিয়ে তাঁর প্রাকট্য ভূমি গুণ্ডিচা-মন্দিরে আনয়ন করতে হবে।  শুক্লা দশমীতে পুনরায় রথে আরোহণ করিয়ে শ্রীমন্দিরে নিয়ে যেতে হবে। প্রসঙ্গত: এই গুণ্ডিচা মন্দিরেই জগন্নাথ দেব প্রকট হয়েছিলেন জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে। তাই এই তিথিতে জগন্নাথ - বলরাম - সুভদ্রা - সুদর্শন এই চতুর্ধা মূর্তির অভিষেক করানো হয় ১০৮ কলস পবিত্র জল দিয়ে । তাই এই তিথির শুভ নাম স্নানযাত্রা । জগন্নাথের স্বপ্নাদেশ মতোই রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন আষাঢ়ের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে জগন্নাথ সহ চতুর্ধা মূর্তিকে রথে আরোহণ করিয়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে নিয়ে আসেন। এই উৎসবের ভুবনমঙ্গল নাম রথযাত্রা মহোৎসব । তারপর রাজা-রাজত্ব-রাজনীতির পরিবর্তন হয়।  বহু রাজার রাজত্বের পর এখন পুরীর রাজা গজপতি প্রতাপরুদ্রদেব । এই প্রতাপরুদ্রদেবের রাজত্ব কালেই পুরীধামে পদার্পণ করেন কলিযুগপাবনাবতার শ্রীমন্মহাপ্রভু। এই গুণ্ডিচা-মার্জন লীলা শ্রীমন্মহাপ্রভুর একান্ত নিজস্ব দান। ভক্তদের ভগবৎ সেবার যোগ্য করে তোলার জন্যেই মহাপ্রভুর এই লীলা।আষাঢ়ের শুক্লা দ্বিতীয়া তে জগন্নাথদেব রথে চড়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে যাবেন।সারাবছর গুণ্ডিচা মন্দির ধুলো বালিতে জমে থাকে। মহাপ্রভুর একান্ত ইচ্ছা যে, তিনি তার ভক্তদের সাথে গুণ্ডিচা মন্দির পরিষ্কার করবেন। কারণ মহাপ্রভুর কাছে গুণ্ডিচা মন্দির হলো শ্রীধাম বৃন্দাবন । দ্বারকাধীশ কৃষ্ণ পুনরায় বৃন্দাবনে ফিরে আসছেন। তাই বৃন্দাবন রূপী গুণ্ডিচা মন্দিরের জমে থাকা ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করে জায়গাটি ভগবৎসেবার উপযুক্ত করে তুলতে হবে। কারণ ভগবৎ সেবার প্রধান শর্ত হল পরিচ্ছন্নতা। এই পরিচ্ছন্নতা আন্তরিক এবং বাহ্যিক উভয়তই। তাই মহাপ্রভু গুণ্ডিচা মার্জন করবেন। এই গুণ্ডিচাই সেই গুণ্ডিচা যেখানে ভক্তের হৃদয়ে ভগবান বিরাজ করবেন। সুতরাং নিজের হৃদয় ক্ষেত্রকে সবার আগে পরিষ্কার করতে হবে। কলুষিত হৃদয়ে যেখানে সবসময় পরনিন্দা পরচর্চা হয় সেই হৃদয়ে ভগবান আসতে পারেন না। তাই নিজের হৃদয় কে সংশোধন করানোর শিক্ষা দিলেন মহাপ্রভু এই গুণ্ডিচা মার্জনের মধ্যে দিয়ে।মহাপ্রভুর অন্তরে অভিলাষ জেগেছে গুণ্ডিচা মন্দির পরিষ্কার করার।  রাজগুরু কাশীমিশ্র; জগন্নাথের পড়িছা পাত্র এবং সার্বভৌম ভট্টাচার্য কে নিজ অন্তরের অভিলাষ ব্যক্ত করলেন মহাপ্রভু। পড়িছা সেবক জানাল যে রাজার আদেশ হয়েছে মহাপ্রভুর ইচ্ছাকে যেন পূর্ণতা দেওয়া হয়। সুতরাং মহাপ্রভুর যখন গুণ্ডিচা মার্জনের ইচ্ছা হয়েছে, তখন সেই ইচ্ছা অবশ্যই পূর্ণ হবে। পড়িছা সেবক একথাও জানাল যে মন্দির পরিষ্কার করা মহাপ্রভুর কাজ নয়, তথাপি এটা তাঁর এক লীলা।প্রাণনাথ কে নিজের হাতে সেবা করে যে সুখ তা কি আর অপরের দ্বারা হয়!
 তাই মহাপ্রভু নিজেই এই সেবাটি গ্রহন করলেন।
মহাপ্রভুর আজ্ঞাক্রমে একশো নতুন ঘট আর একশো নতুন সংমার্জনীর  (ঝাঁটা) ব্যবস্থা করে দিল পড়িছা সেবক। রথযাত্রার আগের দিন মহাপ্রভু সকালবেলাতে উড়িয়া এবং গৌড়ীয়া উভয় ভক্তদের কপালে চন্দন পরালেন আর প্রত্যেকের হাতে দিলেন একটি করে নূতন ঝাঁটা ।তারপর ভক্ত সহ মহাপ্রভু এলেন গুণ্ডিচা মন্দিরে।প্রথমে  ঝাঁটা দিয়ে সমস্ত ধুলো-বালি পরিষ্কারের আদেশ দিলেন মহাপ্রভু । শুধু আদেশ দিলেনই না নিজেও ধুলো পরিষ্কার করতে লাগলেন।গুণ্ডিচা মন্দিরের ভিতর বাহির জগমোহন সমস্ত  পরিষ্কার হতে লাগল।তবে নীরব হয়ে কাজ করলে চলবে না। মুখে অনবরত কৃষ্ণ নাম করে যেতে হবে।এটাই মহাপ্রভুর আদেশ।

*#প্রেমোল্লাসে_শোধেন_লয়েন_কৃষ্ণ_নাম।#ভক্ত_গণ_কৃষ্ণ_কহে_করে_নিজ_কাম।*

 প্রাণনাথ আসবেন ভেবে মহাপ্রভু চোখের জলে সিংহাসন পরিষ্কার করতে লাগলেন। সাথে সাথে নিজের হৃদয় খানাও স্বচ্ছ বিধৌত হয়ে গেল। জগন্নাথ লুব্ধ হয়ে পড়লেন সেথায় আগমনের জন্য।জগমোহন পরিষ্কারের শেষে ভোগমন্দিরের ধুলো ঝাড়া শেষ হল।যত ধুলো ছিল সব একত্র করে নিজের বহির্বাসে নিয়ে তা বাইরে ফেলে দিলেন মহাপ্রভু।মহাপ্রভুর দেখাদেখি ভক্তগণও নিজের নিজের কাপড়ে ধুলো নিয়ে বাইরে ফেলতে লাগল।রঙ্গ রসিক মহাপ্রভু  এবার ভক্ত দের সাথে রসিকতা আরম্ভ করলেন। বলে বসলেন যে যত ধুলো বাইরে ফেলার জন্য  নিজের নিজের কাপড়ে জড়ো করতে পারবে তাঁর পরিশ্রমের পরিমাণ জানা যাবে। সমস্ত ভক্ত নিজ নিজ কাপড়ে ধুলো জড়ো করতে  লাগল। শেষে দেখা গেল সবার জমা করা ধুলোর থেকে মহাপ্রভুর জমাকরা ধুলোর পরিমাণ সবথেকে বেশি ।এইভাবে দুইবার ধুলো পরিষ্কার করার  পর মহাপ্রভু এবার জল আনতে  বললেন। যে একশো ঘটে জল রাখা ছিল সেই একশো ঘট এবার আনতে লাগল ভক্তগণ।

*#জল_আন_বলি_যবে_মহাপ্রভু_কহিল।
#তবে_শত_ঘট_আনি_প্রভু_আগে_দিল।*

মহাপ্রভু নিজে হাতে সেই ঘটের জল দিয়ে মন্দির পরিষ্কার শুরু করলেন।মন্দিরের মধ্যে বিরাজিত সিংহাসন; মন্দিরের উপরের ও নীচের ভিত এই সব স্থানে জল দিয়ে পরিষ্কার করলেন ।কোন ভক্ত কলসীতে জল এনে মহাপ্রভুর হাতে দিচ্ছেন আবার কেউ মহাপ্রভুর চরণে ঢেলে দিচ্ছে। কোনো ভক্ত আবার মহাপ্রভুর অলক্ষ্যে সেই চরণ ধোয়া জল  নিজে পান করছেন।মন্দিরের মধ্যে জল ঢেলে পরিষ্কার করা হলে প্রণালিকা (নর্দমা) খুলে দেওয়া হল।এবার মহাপ্রভু নিজের বস্ত্র দিয়ে সিংহাসন  মুছতে  আরম্ভ করলেন। আসলে এই গুণ্ডিচা মার্জনের মধ্যে দিয়ে মহাপ্রভু নিজের হৃদয় কে মার্জনের পদ্ধতি শেখালেন।

*#নির্মল_শীতল_স্নিগ্ধ_করিল_মন্দিরে।
#আপন_হৃদয়_যেন_ধরিল_বাহিরে।*
এই ভাবে ভক্ত সঙ্গে মহাপ্রভু গুণ্ডিচা মন্দির পরিষ্কার করলেন। তবে মহাপ্রভু তার ভক্তদের বারংবার মুখে কৃষ্ণ নাম করতে করতে কাজ করতে শিখিয়েছেন। হাতে কাজ মুখে নাম - এটাই মহাপ্রভুর আদর্শ ।

*#জল_ধরে ,#ঘর_ধোয় ,#করে_হরিধ্বনি।
'#কৃষ্ণ', '#হরি' #ধ্বনি_বিনা_আর_নাহি_শুনি।*
নিজে আচরণ করে জগৎবাসীকে দেখালেন ভগবত সেবার নিদর্শন।কারণ নিজে আচরণ করে না দেখালে যে কেউ তার এই শিক্ষা গ্রহণ করবে না। যে ভক্ত খুব ভালো ভাবে পরিষ্কার করেছে তার কাছে মহাপ্রভু প্রশংসা করলেন।
এইভাবে ভক্তদের সাথে মহাপ্রভু গুণ্ডিচামন্দির পরিষ্কার করলেন।জগমোহন, ভোগমন্দির,নাটশালা, পাকশালা সমস্ত কিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে গেল। জগন্নাথের আগমনের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠল গুণ্ডিচা মন্দিরে।এমন সময়ে এক সরলমতি গৌড়ীয় বৈষ্ণব এক ঘট জল এনে মহাপ্রভুর পায়ের ওপর ঢেলে দিয়ে তার সামনেই সেই জল পান করতে লাগল। এই দেখে মহাপ্রভু অত্যন্ত দুঃখিত  হলেন।স্বরূপদামোদরকে ডেকে বললেন "এই দেখ স্বরূপ!  তোমার গৌড়ীয়ার ব্যবহার!ভগবানের মন্দিরে আমার পা ধুইয়ে দিয়ে সেই জল নিজে পান করল। এই পাপে আমার কোথায় গতি হবে?" স্বরূপদামোদর  মহাপ্রভুর প্রসন্নতার জন্য তাকে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে বাইরে নিয়ে গেলেন। পরে স্বরূপদামোদর মহাপ্রভুর কাছে নিবেদন করলেন, অজ্ঞজীব ক্ষমা করে দাও, তার কথায় মহাপ্রভু প্রসন্ন হলেন ও ক্ষমা করে দিলেন। গুণ্ডিচামন্দির পরিষ্কার অন্তে মহাপ্রভু আনন্দে নৃত্য আরম্ভ করলেন।ভক্তগণ মহাপ্রভুকে বেষ্টন করে নাম সংকীর্তন আরম্ভ করলেন।এমন সময়ে অদ্বৈত প্রভুর ছেলে গোপাল ভাবাবেশে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ । অদ্বৈত প্রভু নিজ পুত্রের এই অবস্থা দেখে নৃসিংহদেবের মন্ত্র স্মরণ করে জলের ঝাপটা দিতে লাগলেন।তবুও গোপালের দেহে প্রাণের চিহ্ন নেই। মহাপ্রভু এবার গোপালের বুকে হাত দিয়ে "উঠহ গোপাল" বলে ডাকলেন। মহাপ্রভুর হস্তস্পর্শে  গোপালের দেহে আবার প্রাণ ফিরে এল।এখন গুণ্ডিচা মার্জন করতে গিয়ে সবাই পরিশ্রান্ত। একটু বিশ্রাম করেই ভক্তদের সাথে করে মহাপ্রভু চললেন ইন্দ্রদ্যুম্ন  সরোবরে। সেখানে জলকেলি অন্তে সকলে শুষ্ক বসন পরিধান করলেন। এরপরে ভোজনলীলা। বানীনাথ সবার জন্য মহাপ্রসাদের আয়োজন করেছিল।
কাশীমিশ্র এবং জগন্নাথের পড়িছা সেবক আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন।জগন্নাথের অন্ন-মহাপ্রসাদ পিঠা-পানা সব প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত হল। অদ্বৈত প্রভু নিত্যানন্দ প্রভু সহ সমস্ত ভক্তদের নিয়ে মহাপ্রভু প্রসাদ পেতে বসলেন। হঠাৎ মহাপ্রভু খেয়াল করলেন তাঁর প্রিয় হরিদাস অনুপস্থিত । হরিদাস বলে ডাকতেই দূরে এককোণে বসে থাকা ঠাকুর হরিদাস এসে বললেন "প্রভু , তোমার ভক্তদের সাথে প্রসাদ পাবার যোগ্যতা আমার নেই। তুমি পেয়ে নাও। পরে তোমার অধরামৃত গোবিন্দ আমাকে দেবে।আমি আলাদা ভাবে প্রসাদ পেয়ে নেব"। অন্তর্যামী গৌরহরি হরিদাসের অন্তরের দৈন্য ভাব বুঝতে পারলেন।এরপর মহাপ্রসাদ ভোজন লীলা আরম্ভ হল। বৃন্দাবনে যমুনার তীরে বসে সেই পুলিন ভোজন লীলা পুনরায় প্রকট হল নীলাচলে।নানাবিধ প্রসাদের মধ্যে মহাপ্রভু শুধু লাফরা ব্যঞ্জন নিলেন আর পিঠা পানা অমৃত গুটিকা সমস্ত কিছু ভক্তদের বিতরণ করতে বললেন। তবুও কি ভক্তদের প্রাণ সন্তুষ্ট হয়, মহাপ্রভুর ঐটুকু প্রসাদ পাওয়া দেখে? কখনো জগদানন্দ পণ্ডিত কখনো  স্বরূপ দামোদর মহাপ্রভুর পাতে হঠাৎ করে প্রসাদ ঢেলে দিয়ে চলে যান।মহাপ্রভুও প্রসাদের অমর্যাদা হবে এই ভেবে সেই সমস্ত প্রসাদ গ্রহণ করেন। প্রসাদ পেতে পেতে কত কৌতুক হতে লাগল। কখনো গোপীনাথ আচার্য আর সার্বভৌম ভট্টাচার্য কৌতুক করেন তো কখনো আবার অদ্বৈত প্রভু আর নিত্যানন্দ প্রভু কৌতুক করেন। সমস্ত কিছুতেই গৌরহরি পরিতুষ্ট । ভোজন সমাপ্ত করে "#হরিবোল" ধ্বনি করে সবাই উঠলেন। যারা এতক্ষণ প্রসাদ পরিবেশন করছিলেন, তাঁরা এবার প্রসাদ পেতে বসলেন। তাদের প্রসাদ পাওয়া হয়ে গেলে পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো গোবিন্দ মহাপ্রভুর অধরামৃত জগন্নাথের মহাপ্রসাদ হরিদাস কে দিয়ে এলেন। হরিদাস পরমানন্দে প্রসাদ পেলেন। সম্পূর্ণ হলো গুণ্ডিচা মন্দির মার্জন উৎসব । উড়িষ্যা রাজ্যে এই উৎসব "#ধোয়াপাখলা" নামে পরিচিত । এইদিন সন্ধ্যায় সপার্ষদ  মহাপ্রভু  চললেন জগন্নাথের নেত্রোৎসব দর্শন করতে । প্রায় পনেরো দিন অনবসর এরপর আজ জগন্নাথদেব পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেবেন।

ত্রিকাল সত্য গৌর লীলা । লীলার কখনো পরিসমাপ্তি ঘটে না। প্রকটে অপ্রকটে আজও লীলা চলছে এবং চলবেও। আজ মহাপ্রভু আবার গুণ্ডিচা মার্জন করতে আসবেন। ভাগ্যবান ভক্ত প্রভু কে দর্শন করতে পারবে। কারণ 
*#অদ্যাপিহ_সেই_লীলা_করে_গোরারায়।
#কোনো_কোনো_ভাগ্যবান_দেখিবারে_পায় "।।*
*জয় নিতাই!*
*নিত্যানন্দ প্রভু ও গৌড়ীয় গোস্বামী সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিবিধ প্রসঙ্গ জানতে এই গ্রুপে অ্যাড হোন, বন্ধুদের অ্যাড করুন , লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন।*


*এখানে ধর্মীয় ভক্তি-জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন পোস্ট পেতে পারবেন।*
 *জয় নিতাই!*
 *জয় জয় নিতাই!!*
*🌹🌹🙏🙏🌹🌹*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




শ্রীগম্ভীরা মঠে ঝালি সমর্পণ উৎসব ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস এবং শ্রী দীপ বাগুই একত্রে 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/gambhira.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীগম্ভীরা মঠে ঝালি সমর্পণ উৎসব ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস এবং শ্রী দীপ বাগুই একত্রে 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/gambhira.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ Gopisharan.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ DeepBagui.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
           ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
      এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীগম্ভীরা_মঠে_ঝালি_সমর্পণ_উৎসব

প্রাণগৌর সন্ন্যাসী হয়েছে। কতদূরে আছে।কোথায় নবদ্বীপ কোথায় পুরী! বঙ্গদেশের মত সুজলা সুফলা দেশ তো আর নয়। বিশাল সমুদ্রের তীরের বালি কখনো তপ্ত ।পায়ে ফোসকা পড়ে যায়।কতকষ্টে আছে আমার গৌর!
এই আর্তি নবদ্বীপের তথা গৌড় বঙ্গের ভক্তদের! এই আর্তি গৌরপার্ষদ দের। প্রভুকে দেখতে যে মন চায় তাদের। কতদিন দেখেনি তারা ঐ চাঁদবদন।
রথযাত্রা উৎসব পুরীর তথা উড়িষ্যার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব। জগন্নাথত্রয়ী রথারূঢ় হবেন।ভক্তদের দেখবেন।ভক্তরাও দেখবে।ব্যাস। এইতো সুযোগ।

চলো তবে নীলাচলে।প্রাণ গৌর দেখব বলে চলো তবে নীলাচলে।
শচীমায়ের অনুমতি নিয়ে নবদ্বীপ থেকে রওনা হলেন মহাপ্রভুর ভুবনমঙ্গল পার্ষদগণ।অতিবৃদ্ধ অদ্বৈত প্রভু চলেছেন সীতা ঠাকুরাণিকে নিয়ে । শ্রীবাস পণ্ডিত চলেছেন মালিনী দেবীকে নিয়ে । সস্ত্রীক চলেছেন শিবানন্দ সেন। আছেন মুরারি গুপ্ত মুকুন্দ বাসুঘোষ। আছেন ঠাকুর হরিদাস আর অভিন্নতনু নিতাইচাঁদ ।

আরো আছেন দুইজন। নবদ্বীপের শ্রীধর পণ্ডিত আর পানিহাটির রাঘব পণ্ডিত। চোখের জল বাঁধ মানে না তাদের। একদিন নবদ্বীপের রাস্তায় নিমাই পণ্ডিত শ্রীধরের থেকে থোড় মোচা কেড়ে খেয়েছিলেন।সেসব মনে পড়ছে শ্রীধরের।তাই প্রাণের প্রাণ গৌরহরিকে দেখতে যেতে সাথে নিয়েছে চাষের থোড় মোচা লাউ আরো কত কি !! পথ প্রায় আঠারো দিনের।তাতে কি? প্রভুর নাম মুখে নিয়ে জিনিসপত্র  মাথায় নিয়ে এগিয়ে যাব- শ্রীধরের পণ।
আর পানিহাটির রাঘব পণ্ডিত!  তাঁর সৌভাগ্যের তুলনা নেই।তাঁর ঘরে মহাপ্রভু সদা বিরাজমান।নিজমুখেই বলেছেন গৌরহরি।সেই রাঘব পণ্ডিতের একবোন আছেন।দময়ন্তী ঠাকুরাণি।গৌরে তাঁর বড় প্রীতি।নিজে হাতে কত কি বানিয়েছেন।আলাদা আলাদা পাত্রে রেখেছেন কত খাদ্যদ্রব্য।সব খাবারের গুণাগুণ বিচার করে তবেই দিয়েছেন। কোনো খাবার মাটির পাত্রে; কোনোটা বা কলা পাতাতে মুড়ে। কোনোটা শালপাতার আবরণে। যে পাত্রে যে খাবারের গুণ থাকবে সেই পাত্রে সেই খাবার। গৌর আমার সারাবছর ধরে খাবেন সেইসব প্রীত দ্রব্য ।পাত্রে বেঁধে ভালো করে মুড়ে দিয়েছে।যাতে মাথায় নিয়ে যেতে সুবিধা হয়।
বাৎসল্যময়ী দময়ন্তী দেবী!
কী কী খাবার দিয়েছেন?? তাহলে তো কবিরাজ গোস্বামী র পদাঙ্ক অনুসরণ করতেই হয়। দেখি তবে--

অপরূপ ভক্ষ্যদ্রব্য প্রভুর যোগ্যভোগ।
 বৎসরেক প্রভু যেন করেন উপভোগ।।

আম্রকাসুন্দি, ঝালকাসুন্দি, আদাকাসুন্দি আর।
 লেবু আদা আম্রকলি বিবিধ প্রকার।।

আমসি আম্রখণ্ড আর তৈলাম্র আমতা।
 চূর্ণ করি দিয়াছেন পুরাণ শুকুতা।।

 __বাৎসল্যবতী দময়ন্তী
আম দোষ নাশিবে বলে__ বাৎসল্যভাবে দিয়াছেন

চূর্ণ করি দিয়াছেন পুরাণ শুকুতা।।

শুকুতা বলি' অবজ্ঞা না করিহ চিতে।
 শুকুতায় যে প্রীতি প্রভুর নহে পঞ্চামৃতে।।

 ধনিয়া মহুরী তণ্ডুল চুর্ণ করিয়া।
লাড়ু বান্ধি দিয়াছেন চিনি পাক দিয়া।।

 শুঁটিখণ্ড লাড়ু হয় আম পিত্তহর।
 পৃথক পৃথক বাঁধা আছে কুথলি ভিতর।।

 কোলি-শুঁটি, কোলিচুর্ণ, কোলি খন্ড আর।
 কত নাম লব যত প্রকার আচার।।

 নারিকেল খন্ড আর নাড়ু গঙ্গাজল। 
চিরস্থায়ী খণ্ড বিকার দিয়েছে সকল।।

শালিকা চুটি ধান্যের আতপ চিঁড়া করি।
দিয়াছেন বড় বড় কুথলিতে ভরি।।

 কতক চিঁড়া হুড়ুম করি ঘৃতেতে ভাজিয়া।
 চিনি পাকে লাড়ু কৈল কর্পুরাদি দিয়া।।

 শালি তণ্ডুল ভাজা চূর্ণ করিয়া।
 ঘৃত সিক্তে লাড়ু কৈল চিনি পাক দিয়া।।

 কর্পূর মরিচ এলাচ লবঙ্গ রসবাস।
চুর্ণ করি নাড়ু কৈল পরম সুবাস।।

 কভু নাহি জানি নাম এ জন্মে যাহার।
 ঐছে নানা দ্রব্য দিল সহস্র প্রকার।।

 গঙ্গা মৃত্তিকা আনি বস্ত্রেতে ছানিয়া।
 পাপড়ী করিয়া দিল গন্ধদ্রব্য দিয়া।।

 কহিতে না পারি নাম কতেক প্রকার।
 দিয়াছেন দময়ন্তী প্রীতি উপহার।।

হেন মতে রাঘব-পন্ডিত ঝালি সমর্পিল।
 ভোজন গৃহের কোণে গোবিন্দ রাখিল।।
--------------------------------------------------------------------
পানিহাটিবাসী রাঘবপন্ডিত প্রতি বৎসরই রথের আগে আসতেন মহাপ্রভুর কাছে‌ তার সাথে সংরক্ষিত সম্পূট মধ্যে__ সুব্যবস্থাপিত দীর্ঘস্থায়ী বিবিধ নাড়ু,খণ্ড, মোরব্বা, আচার,কাসন্দি, আমসত্ত্ব, তেতো পাটপাতা-চূর্ণ হতে মহাপ্রভুর শৌচাদির পর ব্যবহারের অনুকূলে কর্পূরবাসিত গঙ্গামৃত্তিকায় তৈরি 'পাপড়ি'ও থাকতো। রাঘব স্বয়ং এগুলো সমর্পন করতেন শ্রীমন্মহাপ্রভুর সেবক শ্রীগোবিন্দদাসকে । এই প্রীতি দ্রব্য সমূহ তৈরি করতেন রাঘব পণ্ডিতের বোন দময়ন্তী ঠাকুরানি । গৌর সেবার জন্য তিনি সদা বাৎসল্যময়ী।
 
মাত্র রাঘবই নহেন, অপর অপর ভক্তরাও আনতেন নানা সুস্বাদু দ্রব্যাদি। ভালোবাসাভরা সেই দানে আর গ্রহণে পরিমণ্ডল হয়ে উঠত অবাধ আনন্দময়, যা একান্তই অনির্বচনীয়। রাঘবের ঝালিসমর্পণের কালে, অতি দৈন্যে গৌরজন শ্রীধরপন্ডিত দাঁড়িয়ে আছেন একপাশে, সংকুচিত অন্তরে। মনে মনে গনছেন, রাঘবের এই সুস্বাদু উত্তম সেবোপচারের পাশাপাশি নবদ্বীপ হতে আনীত সামান্য থোড়মোচা, কেমন করে দিব আমি।

 ঐতিহাসিক 'ঝালিসমর্পন' অনুষ্ঠানটিকে পুঁথির পাতা হতে, সবার সামনে নিয়ে এসেছিলেন বড় বাবাজি ও বাবাজি মহাশয়ের(শ্রীপাদরামদাস বাবাজী মহাশয়) যৌথ উদ্যোগে,১৩০১সনে ভক্ত-সম্মেলন ও গুণ্ডিচামন্দির মার্জন শুরু হলেও বিধিবদ্ধভাবে ঝালি-সমর্পণ লীলার শুভারম্ভ হয় ১৩০৮ বঙ্গাব্দে। প্রথমতঃ বড় বাবা ও পরে বাবাজি মহাশয় অনুভবের মনিকোঠায় বসে এ কীর্তন করতেন। করুণরসের অথৈ প্লাবনে সব হোত একাকার! আবহ নিথর!বাতাসও বুঝি দাঁড়িয়ে পড়েছে, সে বিরহোচ্ছ্বাসের ব্যঞ্জনানুভবে। এই ঝালি-সমর্পণ অনুষ্ঠানের পরদিনই শ্রীজগন্নাথের গুণ্ডিচামন্দির মার্জনোৎসব।

*নিত্যানন্দ প্রভু ও গৌড়ীয় গোস্বামী সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিবিধ প্রসঙ্গ জানতে এই গ্রুপে অ্যাড হোন, বন্ধুদের অ্যাড করুন , লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন।*
*এখানে ধর্মীয় ভক্তি-জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন পোস্ট পেতে পারবেন।*
*🌹🪴🙏🪴🌹*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বারের সামনে উড়িয়া গৌড়ীয়া মিলন 🏵️ আষাঢ়ী কৃষ্ণা চতুর্দশী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস এবং শ্রী দীপ বাগুই একত্রে 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/gouriyo.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বারের সামনে উড়িয়া গৌড়ীয়া মিলন 🏵️ আষাঢ়ী কৃষ্ণা চতুর্দশী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস এবং শ্রী দীপ বাগুই একত্রে 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/gouriyo.html 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ Gopisharan.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ DeepBagui.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
           ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
      এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*ভক্ত সম্মেলন*

(আষাঢ়ী_কৃষ্ণা_চতুর্দশীতে_সিংহদ্বারের_সামনে_উড়িয়া_গৌড়ীয়া_মিলন)

মহাপ্রভু দক্ষিণদেশ থেকে ফিরে এসেছেন।রাজা প্রতাপরুদ্র রাজগুরু কাশীমিশ্রের বাড়ির ছোট একটি প্রকোষ্ঠে মহাপ্রভুর থাকার বন্দোবস্ত করে দিলেন।যদিও রাজা প্রতাপরুদ্রদেব কে মহাপ্রভু এখনও প্রত্যক্ষে  দর্শন দেন নাই, তথাপি রাজা প্রবল অনুরাগ বসত মহাপ্রভুর সেবা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করলেন।কাশীমিশ্রের বাড়ির ঐ প্রকোষ্ঠের নাম গম্ভীরা।মহাপ্রভু এখন থেকে গম্ভীরাতেই অবস্থান করতে লাগলেন ।মহাপ্রভু ফিরে এসেছেন পুরীতে - এই সংবাদ জানানো দরকার নবদ্বীপবাসী ভক্তগণকে।বিশেষত  শচীমাতা ও অদ্বৈত প্রভু দুজনেই বড় ব্যাকুল মহাপ্রভুর প্রত্যাবর্তনের সংবাদ শোনার জন্য।নিত্যানন্দ প্রভু, জগদানন্দ পণ্ডিত,মুকুন্দ দত্ত  আর দামোদর পণ্ডিত এই চারজনে মিলে মহাপ্রভুর দক্ষিণভ্রমনের সঙ্গী কালাকৃষ্ণদাসকে পাঠালেন নবদ্বীপে।মহাপ্রভুর আগমনের খবর শুনেই নবদ্বীপবাসী গৌরগত প্রাণ ভক্তদের হৃদয়ের  তাপ শান্ত হল। শচীমাতা,দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া এবং অদ্বৈত প্রভু অত্যন্ত আনন্দিত হলেন খবর শুনে। 

  সামনেই রথযাত্রা উৎসব আগত।পুরীতে সাজো সাজো রব। গৌড়মণ্ডলবাসী ভক্তদের মন উতলা হয়ে উঠল মহাপ্রভুকে দর্শনের জন্য,আনুসঙ্গে জগন্নাথের রথযাত্রা  দর্শনও হয়ে যাবে।

 

শচীমাতার আজ্ঞা লইয়া, সকল ভকত ধাইয়া,
চলিলেন নীলাচল-পুরে।
 শ্রীনিবাস গঙ্গাদাস, অদ্বৈত আচার্য-পাশ, মিলিলা সকল সহচরে।।

নিতাই-অদ্বৈত-সঙ্গে, মিলিলা-কৌতুক-রঙ্গে, নীলাচল পথে চলি যায়।
 অতি উৎকন্ঠিত মনে, হেরিতে গৌরাঙ্গ-ধনে, অনুরাগে আকুল-হিয়ায়।

(প্রথমবারে ভক্তগণ সঙ্গে নিত্যানন্দ প্রভু ছিলেন না। তিনি তখন নীলাচলে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীকালে নিতাইচাঁদ তাদের সঙ্গে গিয়েছেন। মহাজনী পদে সেই পরেরবারের বর্ণনা আছে।প্রত্যেকবার এক তিথিতেও আসেন নাই।কোন বার এসে স্নানযাত্রা দর্শন করেছেন। কোন বার পরে এসেছেন।)

মধু-মাখা কন্ঠে, প্রাণ মাতানো সুরে, সকল ভক্তগন কীর্তন করতে করতে চলেছেন। অদ্বৈত প্রভু মাঝে নৃত্য করছেন।
  পানিহাটির রাঘব পণ্ডিত;  কাঁচড়াপাড়ার শিবানন্দ সেন;  অদ্বৈত আচার্যের সাথে স্ত্রী সীতা ঠাকুরানী;  শ্রীবাস পণ্ডিত, যাঁর অঙ্গনে একদিন নিমাই পণ্ডিত নাম সঙ্কীর্ত্তন রস আস্বাদন  করেছিলেন। আজ আর সে নিমাই পণ্ডিত নয় তাঁর নাম হয়েছে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য । সেই শ্রীবাস পণ্ডিত চলেছেন স্ত্রী মালিনী ঠাকুরানী কে সাথে নিয়ে। চললেন আরো কত শত ভক্ত - বক্রেশ্বর পণ্ডিত; আচার্য বিদ্যানিধি; পুরন্দর পণ্ডিত;গঙ্গাদাস পণ্ডিত; শঙ্কর পণ্ডিত;মুরারি গুপ্ত; নৃসিংহানন্দ ব্রহ্মচারী;গোবিন্দ ঘোষ; মাধব ঘোষ; বাসু ঘোষ;! বাসুদেব দত্ত;কুলীন গ্রামের সত্যরাজ খান ;মুকুন্দ দাস; শ্রীখণ্ডের নরহরি ; রঘুনন্দন; চিরঞ্জীব। আর কেউ নেই ?আছেন। আরেকজন আছেন। প্রত্যহ তিনলক্ষ নাম জাপক গৌরপ্রিয় শ্রীহরিদাস ঠাকুর।তিনিও এসেছেন তাঁর আরাধ্য নিধি দর্শনে।
গৌর গুনে কাঁদতে কাঁদতে সকলে  আঠারো নালার কাছে এসে পড়লেন।
মহাপ্রভু গম্ভীরায় বসেছিলেন, 
স্বরূপ-দামোদর, রায় রামানন্দ সাথে। হঠাৎ নামের ধ্বনি শ্রবণে প্রবেশ করল।
 চমকে উঠলেন মহাপ্রভু।
অপরূপ নামের ধ্বনি শোনা যায়!
 ঐ যে আঠারনালার পথে!
 ঐ ধ্বনি চঞ্চল করলো আমায়।
 মনে হয় আসছেন শান্তিপুরনাথ!
 আমার - গৌড় দেশের ভক্ত সাথে।
নইলে এমন নামের ধ্বনি কেবা করে? 
আমার গৌড় দেশের ভক্ত বিনে?
স্বরূপ দামোদর আর গোবিন্দ কে দিয়ে মালা পাঠিয়ে দিলেন। প্রথমে স্বরূপ দামোদর স্বাগত-সৎকার করে অদ্বৈত প্রভু কে মালা পরালেন। পরে গোবিন্দও মালা পরালেন। সব ভক্তবৃন্দদের মালা পরিয়ে আহ্বান করে নিয়ে আসছেন।

 মহাপ্রভু আর স্থির থাকতে পারলেন না।
 গৌর রাজ্যের বিপরীত রীতি ।

আজ সিন্ধু ধাইছে ব্যাকুল প্রাণে - মিলি বারে নদ-নদী সনে।
সিন্ধু ধাইছে উজান পানে - মিলিবারে নদ-নদী সনে।
 গৌর রাজ্যের বিপরীত রীতি।

 গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সঙ্গে
 নিত্যানন্দ গদাধর শ্রীপুরীগোসাঞি।
চলিলেন আনন্দে কাহারো বাহ্য নাই।।

সার্বভৌম জগদানন্দ কাশীমিশ্র, প্রদ্যুম্ন মিশ্র, রায় রামানন্দ প্রভৃতি সকলেই মহাপ্রভুর সঙ্গে চললেন।জগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বারের সামনে এসে মিলন হল। দীর্ঘদিন পরে মহাপ্রভুর দর্শন পেয়ে সকল ভক্তবৃন্দ স্তম্ভ ভাব প্রাপ্ত হল।
কারো পা চলে না- না চলে পা, না সরে রা।
 সবে হল থকিত পারা, ঠউর হারা, না চলে পা, না সরে রা। সবার-ই নয়নে ধারা।

অপরূপ সে মিলন রঙ্গ।
কেউ কিছু বলতে নারে, 
দূরে পরস্পর হেরে _ সবার প্রেমে কণ্ঠরোধ হল।
পুনরায় মহাপ্রভু সব ভক্তবৃন্দকে নিজহস্তে মালাচন্দন পরালেন। সবাইকে প্রেমালিঙ্গন প্রদানে তাদের তপ্ত হৃদয় শান্ত করলেন।

সকলকে নিয়ে মহাপ্রভু গম্ভীরা আসলেন। মহাপ্রসাদ আসলো ।সবাইকে মহাপ্রভু নিজহস্তে পরিবেশন করে পূরণ করে পাওয়ালেন।

রাজা প্রতাপরুদ্র অট্টালিকার উপর থেকে দর্শন করছিলেন। গৌড়ীয় ভক্তবৃন্দের অদ্ভুত তেজোময় স্বরূপ। দর্শন করে গোপীনাথ আচার্য কে জিজ্ঞাসা করলেন, এত মহাপ্রসাদ যাচ্ছে কোথায়? ধামে আসলে তো ক্ষৌর, উপবাস করতে হয়।  আচার্য বলছেন শাস্ত্রে ক্ষৌর এবং উপবাসই বিধান আছে। যেখানে মহাপ্রসাদ নেই সেখানে। এক তো মহাপ্রসাদ, দ্বিতীয় মহাপ্রভুর নিজহস্তে পরিবেশন। এত বড় লাভ ছেড়ে কি কেউ উপবাস করে! 
শুনে রাজা আনন্দিত হলেন।সেবককে আজ্ঞা দিয়ে সমস্ত গৌড়মণ্ডলবাসী ভক্তগণের থাকবার বাসা-ঘর ব্যবস্থা করে দিলেন। যাতে কারো কোন প্রকার অসুবিধা না হয়।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

(এখন পর্যন্ত এই লীলা অপতিত ভাবে হয়ে আসছে। বৈষ্ণবাচার্য্য শ্রী রাধারমণ চরণ দাস বাবাজী মহারাজের আনুগত্যে শ্রীশ্রীবরাহনগর পাঠবাড়ী আশ্রম থেকে সমস্ত ভক্তবৃন্দ সাথে পুরীতে গিয়ে ভক্ত সম্মেলন, ঝালি সমর্পণ, গুণ্ডিচা মার্জন  ইত্যাদি লীলা কীর্তন করেন। ভক্তগণ  প্রত্যক্ষ রূপে আস্বাদন করেন।)

*জয় নিতাই!*
*নিত্যানন্দ প্রভু ও গৌড়ীয় গোস্বামী সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিবিধ প্রসঙ্গ জানতে এই গ্রুপে অ্যাড হোন, বন্ধুদের অ্যাড করুন , লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন।*


*এখানে ধর্মীয় ভক্তি-জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন পোস্ট পেতে পারবেন।*
 *জয় নিতাই!*
 *জয় জয় নিতাই!!*
*🌹🌹🙏🙏🌹🌹*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




১৪৬. উপ-সম্প্রদায় ও প্রাচীন কথা 🏵️ হিন্দুশব্দের উৎপত্তি 🏵️বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob146.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১৪৬. উপ-সম্প্রদায় ও প্রাচীন কথা 🏵️ হিন্দুশব্দের উৎপত্তি 🏵️বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob146.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ JoydebDaw.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
     এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                       🙏 👇 পূর্ব লীলা 👇🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১৪৫. উপসম্প্রদায়ী বৈষ্ণব 🏵️ অন‍্যান‍্য প্রদেশের বৈষ্ণব 🏵️ বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob145.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪৬)গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাস*
           *উপ-সম্প্রদায় ও প্রাচীন কথা*
*🌹মাদ্রাজের বড়্গল ও তিঙ্গল সম্প্রদায় বিশেষ উল্লেখযোগ্য।প্রায় ৬০০ শত বৎসর পূর্বে কাঞ্চীপুরম নিবাসী বেদান্ত তোসীকর নামে জনৈক ব্রাহ্মণ এই সম্প্রদায় দ্বয়ের প্রবর্তক।এঁনারা সাক্ষাৎ বিষ্ণুর উপাসনা করেন।🌹মহারাষ্ট্রদেশে "বিত্থলভক্ত" নামে একটি বৈষ্ণব সম্প্রদায় আছে।এঁনাদের উপাস‍্য দেবতার নাম পান্ডুরঙ্গ বিত্থল বা বিত্থোবা।কেউ কেউ এঁনাদেরকে বৌদ্ধ-বৈষ্ণব বলে থাকেন। খৃঃ ১৪শ, শতাব্দীতে এই সম্প্রদায় গঠিত হয়।🌹দ্বিতীয় আলমগীরের সময় দিল্লীনগরে ধূসর বংশীয় চরণদাস নামক এক ব‍্যক্তি "চরণদাসী" নামে এক সম্প্রদায় গঠন করেন।এঁনারা শ্রীকৃষ্ণের উপাসক,কর্ম ও ভক্তিই তাঁর সাধন বলে অবলম্বন করেন।দিল্লীতে পাঁচ-ছয়টি মঠ আছে।🌹দ্বারকা অঞ্চলে ""মার্গী"" নামে এক সাধু-বৈষ্ণব সম্প্রদায় আছে।রামানন্দী বৈষ্ণবদের সঙ্গে এঁদের মতের ঐক‍্য (মিল) আছে। এঁদের মধ্যে সকলেই গৃহস্থ। আরও বহু বহু বঙ্গদেশে ভিন্ন অন‍্যান‍্য দেশের বৈষ্ণব সম্প্রদায় আছেন তাঁদের বিবরণ আলোচনা হল না।প্রসঙ্গতঃ কেবল নামমাত্র উল্লেখ হল।তাছাড়াও বঙ্গদেশেও তিলকদাসী,দর্পনারায়ণী, হজরতী, গোবরাই, পাগলনাথী প্রভৃতি আরও কয়েকটি ছোট ছোট উপসম্প্রদায় আছে।ওরা চারসম্প্রদায়ের কারও মতাবলম্বী না।কেবল ভিক্ষা-ব‍্যবসায়ী বলে বৈষ্ণব বা বৈরাগী নামে অভিহিত, বস্তুতঃ ওরা বৈষ্ণব নামের অযোগ্য।বৈষ্ণবের করণীয় কোন আচার আচরণ সদাচার করে না।*
🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳🌳
*🙏🙏প্রাচীন কিছু কথা🙏🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
         *🙏আর্য‍্য-ধর্ম🙏*
*🌹আর্য‍্য শব্দের অর্থ বিশিষ্ট মান‍্য ও সৎকুলোদ্ভব। বেদ-সংহিতার হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকমাত্রকেই আর্য‍্য বলে অভিহিত করা হয়েছে। যথা ঋগ্বেদে=*
*"বিজানী হ‍্যার্য‍্যান্ যে চ দস‍্যবো বর্হিষ্মতে রনয়া শাসদব্রতান্।" ১ম,৫১ সূত্র।*
*🌷হে ইন্দ্র!ভূমি আর্য‍্যবর্গকে ও দস‍্যুদেরকে বিশেষরূপে অবগত হও।ঐ ব্রতবিরোধীদেরকে নিগ্রহ করে যজ্ঞানুষ্ঠাতা যজমানের অধীন কর। এই দস‍্যু বা দাসগণই শূদ্রনামে অভিহিত। এই আর্য‍্যগণের ধর্মই সনাতন ধর্ম=আর্য‍্যধর্ম বা হিন্দুধর্ম।*
              *🌹আর্য‍্যাবর্ত🌹*
*🍀ঋক্ মন্ত্র পাঠে বুঝা যায় যে,আর্য‍্য ও দস‍্যু বা দাসগণ পরস্পর বিরুদ্ধ স্বভাব ও বিরুদ্ধজাতি ছিলেন। অথর্ববেদ সংহিতা পাঠে জানা যায়,সমগ্র মানব আর্য‍্য ও শূদ্র এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিলেন।*
*"তথাহং সর্বং পশ‍্যামি যশ্চ শূদ্র উতার্য‍্যঃ।(কাঃ ৪|১২০|৪)*
*"প্রিয়ং সর্বস‍্য পশ‍্যত উতশূদ্র উতার্য‍্যে।(কাঃ ১৯|৬২|১)*
*🌷আবার শতপথ-ব্রাহ্মণে ও কাত‍্যায়ন শ্রৌত্রসূত্রে কথিত হয়েছে, ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয় ও বৈশ‍্য এই বর্ণরই আর্য‍্য।*
*"শূদ্রার্য‍্যৌ চর্মণি পরিমন্ডলে ব‍্যবচ্ছেতে।১৩অ,৩ক,৭সূত্র।*
*☘এই সূত্রের অর্থে ভাষ‍্যকার বলেছেন=*
*"শূদ্র শ্চতুর্থবর্ণঃ আর্য‍্যস্ত্রৈবর্ণিকঃ।*
*🍀অতএব শূদ্র পৃথক এক অনার্য‍্য জাতি বলেই বোধ হয়।আর্য‍্যজাতি এই অনার্য‍্যদেরকে নিজেদের সমাজভুক্ত করে নিয়েছিলেন এবং অনেক আর্য‍্যজাতিও আচার-ভ্রষ্ট হয়ে অনার্য‍্য জাতির দলপুষ্ট করেছে। এই আর্য‍্যজাতি যেখানে বাস করতেন তার নাম আর্য‍্যাবর্ত।মনুসংহিতায় এর চতুঃসীমা এইরকম কথিত আছে।=*
*"আসমুদ্রাত্তু বৈ পূর্বাদাসমুদ্রাত্তু পশ্চিমাৎ।*
*তয়োরেবান্তরং গির্য‍্যোরার্য‍্যাবর্তং বিদুর্বুধাঃ।।" ২য়,অঃ।*
*🌺উত্তরে হিমালয়,দক্ষিণে বিন্ধ‍্যাচল, পূর্বে পূর্ব সমুদ্র ও পশ্চিমে পশ্চিম সমুদ্র এই চতুঃসীমাযুক্ত ভূভাগের নাম পন্ডিতগণ আর্য‍্যাবর্ত কহেন।*
*🍁আর্য‍্যাবর্ত  প্রধানতঃ আর্য‍্য অর্থ‍্যাৎ ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয় ও বৈশ‍্য এই দ্বিজাতিবৃন্দেরই বাসস্থান ছিল।অতএব আর্য‍্যশব্দ হিন্দুদের জাতিগত সাধারণ নাম।*
*"এতান্ দ্বিজাতয়ো দেশান্ সংশ্রয়েরন্ প্রযত্নতঃ।*
*শূদ্রস্তু যস্মিন্ কস্মিন্ বা নিবসেৎ বৃত্তিকর্ষিতঃ।।" (মনু ২য়, অঃ)*
*🌻দ্বিজাতি অর্থ‍্যাৎ ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়-বৈশ‍্যরা এই সকল দেশে বসতি করবেন,শূদ্রেরা ব‍্যবসার অনুরোধে যেখানে সেখানে বাস করতে পারে।*
*🔥অমরকোষেও আর্য‍্যাবর্তের এইরকম সীমা নির্দেশ আছে।*
*"আর্য‍্যাবর্তঃ পূণ‍্যভূমির্মধ‍্যং বিন্ধহিমাগয়োঃ।"*
*🍀বিন্ধ‍্য ও হিমালয় পর্বতের মধ‍্যগত জায়গা আর্য‍্যাবর্ত বা আর্য‍্যদের বাসভূমি।*
       *🔥হিন্দুশব্দের উৎপত্তি 🔥*
        ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹এই আর্য‍্যদের ধর্মই আর্য‍্যধর্ম বা হিন্দু ধর্ম নামে কীর্তিত হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য‍্যের বিষয়,এই হিন্দু শব্দটি সংস্কৃত-মূলক নহে।বেদ,স্মৃতি,পুরাণ, দর্শনাদি কোন প্রাচীন গ্রন্থে দেখা যায় না।ঐ শব্দটি "আবস্তিক" নামক প্রাচীন পারসিক ভাষারই অন্তর্গত। সংস্কৃত সিন্ধু শব্দ হতেই পারসিক "হেন্দু" শব্দের উৎপত্তি  এবং কোন অনিবার্য‍্য কারণে এই রূপান্তরিত শব্দই আর্য‍্যসমাজে "হিন্দুস্থান" 'হিন্দুধর্ম' নামে প্রচলিত হয়ে এক্ষণে আর্য‍্যত্বের প্রতিপাদক হয়ে পড়েছে। মেরুতন্ত্রে হিন্দুশব্দের ব‍্যুৎপত্তি লিখিত আছে=*
*"হীনঞ্চ দূষয়ত‍্যেব হিন্দুরিত‍্যুচ‍্যতে প্রিয়ে। (২৩ প্রকাশ)।*
*🌻হীনকে দূষিত করে বলে হিন্দু নামে কথিত। কেউ কেউ বলেন হিমালয় ও বিন্দু সরোবর এই শব্দের আদ‍্য ও অন্ত অংশ নিয়ে "হিন্দু" শব্দের উৎপত্তি  হয়েছে।কারণ উত্তরে হিমালয় দক্ষিণে বিন্দুসরোবর পর্য‍্যন্ত তাবৎ ভূভাগই হিন্দুদের বাসস্থান।*
*🙏গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাস বা ওঁ নমো ভগবতে শ্রীকৃষ্ণায়ঃ বৈষ্ণব বিবৃত এখানেই সমাপ্ত করা হ'ল, যদি পরিশিষ্ট রূপে পরবর্তী কিছু সংগ্রহ হয় যুক্ত করা হবে।ভুল ভ্রান্তি, বানান,মার্জনীয়। 🙌জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবোল🙌*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏রাধে রাধে🙏🙏🙏
 গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাস এখানেই পরিসমাপ্তি হইল।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



adds