শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
    *কমলাক্ষের বিদ‍্যা--বিলাস*
   """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻কমলাক্ষ স্বাভাবিক মেধা ও প্রতিভাগুণে অল্পদিনের মধ্যেই সাহিত‍্য অলঙ্কারাদি অধ‍্যয়ন করে চরম শিক্ষা লাভ করে দুরূহ বা কষ্টসাধ‍্য গ্রন্থ সব অধ‍্যয়ন করতে লাগলেন।অধ‍্যাপক মহাশয়ের আদেশে অনেক ছাত্রের অপ‍্যাপনায় নিযুক্ত হলেন।সেই সব ছাত্রের মধ্যে অনেকেই কমলাক্ষ অপেক্ষা বেশী বয়স্ক ছিলেন,তাঁরা কমলাক্ষের কাছে অধ‍্যয়ন করতে অত‍্যন্ত লজ্জা ও অপমান বোধ করতে লাগলেন।কেউ কেউ বা হিংসার বশে তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে লাগলেন। কিন্তু অধ‍্যাপকের অসন্তোষ ও ক্রোধ উৎপত্তির ভয়ে প্রকাশ‍্যে কিছুই বলতে পারলেন না।অন্তরের সেই বিদ্বেষ ভাব ক্রমে প্রকাশিত হতে লাগল।সেই ছাত্র সব একসময় রাজা দিব‍্যসিংহের কাছে গিয়ে কমলাক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে লাগলেন।রাজা "শক্তি" উপাসক, কৃষ্ণবিদ্বেষী ও বৈষ্ণবদের প্রতি বিতৃষ্ণ।ছাত্রগণ বলিল--, "কমলাক্ষ কালী মানেন না, আমাদেরকে কৃষ্ণভজন করতে ও সর্বদা কৃষ্ণনাম জপ করতে উপদেশ করেন,এজন‍্য তাঁর সঙ্গে আমাদের সর্বদাই বিষম তর্ক বিতর্ক ও বিবাদ হয় ; আমাদের প্রতি তিনি অত‍্যন্ত রুষ্ট ও অসন্তুষ্ট।যারা তাঁর কথায় কৃষ্ণনাম করে,তারাই তাঁর প্রিয়পাত্র, তাদের সঙ্গে তাঁর ভীষণ ভালোবাসা, তিনি অনেককে কৃষ্ণভজনে রত করেছেন।তারা তাঁর সঙ্গে (পাঠ বন্ধ করে )কীর্তন ও নাচ করেন।এতে আমাদের পাঠের অত‍্যন্ত ব‍্যাঘাত হয় ; অনুগ্রহ করে আপনি প্রতিবিধান করুন।"*
*🌻কমলাক্ষ রাজার পরমপ্রিয় সভাপন্ডিতের পুত্র হলেও কৃষ্ণ অনুরক্ত বলে তার প্রতি রাজার বিলক্ষণ বিরাগ ছিল।ছাত্রগণ তা জানত বলেই রাজার কাছে কমলাক্ষের দোষ কীর্তন করতে সাহসী হয়েছিলেন।রাজার রাগ হলেই কমলাক্ষকে লাঞ্জিত ও অপমানিত করবেন, তা হলেই ছাত্রদের অপমানের প্রতিশোধ হবে,দুষ্ট ছাত্রগণ এটিই মনে করেছিল।ছাত্রগণের অভিযোগ শুনে রাজার আগের ঘটনার কথা মনে পড়ে জ্বলে উঠলেন।(কেন?তাঁর পুত্রের ঘটনাকে কেন্দ্র করে) এবং গর্বিত রাজা কমলাক্ষকে ভর্ৎসনা করতে সঙ্কল্প করলেন।ভক্তমহিমা ধন,বিদ‍্যা ও কুলাভিমানীর কাছে দুর্বোধ‍্য কমলাক্ষ বয়সে বালক,রাজা তাঁকে সামান্য বালক জ্ঞান করেই তিরস্কৃত ও অপমানিত করতে সাহসী হলেন। কিন্তু কার্য‍্যকালে সেই বালকের সুযুক্তিপূর্ণ কথা শুনে ও তেজঃ দেখে তাঁকে(রাজাকে)কম্পিত,বিস্মিত ও স্তম্ভিত হতে হল।*
*🌺দীপান্বিতা অমাবস‍্যার দিন রাজার কালী মন্দিরে মহা সমারোহে উৎসব হয়।পূজা,উৎসব,গীত-বাদ‍্য নৃত‍্যাদি নানারকম আমোদ প্রমোদ হতে লাগল।তা দেখে বহু লোকের সমাগত হয়েছে।রাজা অমাত‍্যদের উপযুক্ত জায়গায় উপনীত হয়ে উপযুক্ত স্থানে গিয়ে বসিলেন।সেই সময় কমলাক্ষও কৌতূহল বশত সেখানে উপনীত হলেন এবং কালীকে প্রণাম না করে ধীরে ধীরে রাজসভায় প্রবেশ করে এক জায়গায় বসে পড়লেন।কালী প্রতিমাকে প্রণাম না করায় রাজা ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন--, কমলাক্ষ!তুমি সকলের প্রণম‍্যা জয়ন্তীদেবীকে প্রণাম করলে না?শক্তিই সকলের আদি, শক্তি হতে সকলের উৎপত্তি ; শক্তিই জীবের একমাত্র প্রণম‍্য ও উপাস‍্য দেবতা, তুমি কি এটি স্বীকার কর না?কমলাক্ষ বিনীত ভাবে বললেন, রাজন!স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণই আমার সাধ‍্য ও আরাধ‍্য ;তিনিই সকলের প্রণম‍্য ও একমাত্র আরাধ‍্য ;তাঁকে প্রণাম করলেই তাঁর অধীনস্থ সমস্ত আধিকারীক দেবদেবীকে প্রণাম করা যায়, আলাদা করে আর কাউকেও প্রণাম করবার আবশ‍্যক হয় না বা তারজন‍্য কেউই রুষ্ট হন না, বরং শ্রীকৃষ্ণকে সম্মান,পূজা ও প্রণাম না করলে অন‍্যান‍্য দেবদেবীগণ তার প্রতি রুষ্টই হন।শ্রীকৃষ্ণকে প্রণাম করলেই সকল জীবের ও দেবদেবীর আনন্দ সম্পাদনই করা হয়।অন‍্য কোন দেবতা কৃষ্ণভক্তের প্রণাম গ্রহণ করেন না।কৃষ্ণভক্তও কৃষ্ণ ছাড়া অন‍্য কাউকেও প্রণাম করেন না,পূজো করেন না বা অবজ্ঞাও করেন না।একপথ ছেড়ে অন‍্য পথে গেলে ঐকান্তিকী ও নিষ্ঠার অভাব হয়।যে ব‍্যক্তি এর অন‍্যথা করে,তার ধর্মজীবন লাভ বিষয়ে অনেক প্রকার বিড়ম্বনা ঘটে ; বুদ্ধিমার ব‍্যক্তির এক ইষ্টে নিষ্ঠাবান হওয়াই কর্তব‍্য। এইকথায় রাজা ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন--,তুমি যথার্থ তত্ত্ব অবগত হওনি।ব্রহ্মের নানা রূপ, (এটি বেদের সিদ্ধান্ত )দেবদেবী ব্রহ্মের রূপবিশেষ, দেবদেবীর বিদ্বেষে মহাপাতক জন্মে।সুধীব‍্যক্তি,ঈদৃশ (এপ্রকার)পাপজনক কাজ কখনই করবেন না,ভক্তি সহকারে দেবতার পূজা করাই কর্তব‍্য। সকল দেবতাকে প্রণাম করে সম্মান দেওয়াই কর্তব‍্য।দেখুন, ত্রেতাযুগে সাক্ষাৎ নারায়ণ ভগবান শ্রীরামচন্দ্র সীতাদেবীর উদ্ধারের জন্য ভগবতীর আরাধনা করেছিলেন।জগন্মাতা দেবী ভগবতী,অতি দয়াবতী ; তাঁর পূজা অর্চনায় জীবের মঙ্গল হয়,তাঁর প্রতি ভক্তি,মুক্তি লাভের কারণ জ্ঞানীগণ তাঁর প্রতি কখনও বিদ্বেষ করেন না ; বরং ভক্তিই করে থাকেন।তুমি দুষ্টবুদ্ধি,ভ্রম-জ্ঞান পরিত‍্যাগ করে দেবীকে ভক্তি করে প্রণাম করো ; কখনও কোনও বাধাবিঘ্ন ঘটবে না, অনায়াসে সিদ্ধিলাভ করবে।এইকথা শুনে কমলাক্ষ বিনীতভাবে কহিলেন--, সিদ্ধান্ত গ্রন্থ ব্রহ্মসংহিতায় ব্রহ্মা দূর্গাদেবীর স্বরূপ বিচারে বলেন ঃ--, "সৃষ্টিস্থিতিপ্রলয় সাধনশক্তিরেকা ছায়েব যস‍্য ভুবনানি বিভর্ত্তিদূর্গা। ইচ্ছানুরূপমপি যস‍্য চ চেষ্টতে সা গোবিন্দমাদিপুরুষংতমহং ভজামি।" ভগবানের স্বরূপ শক্তি একটিই।তাঁকেই উপনিষদের পরাশক্তি বলিয়া আখ‍্যা দেওয়া হয়। সেই স্বরূপশক্তির ছায়াস্বরূপ প্রাপঞ্চিক জগতের সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় সাধিকা মায়াশক্তিই ভুবন রক্ষয়িত্রী দূর্গা।সেই দূর্গাদেবী যে আদিপুরুষ গোবিন্দের ইচ্ছা বিধায়িনী, সেই মূল পুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজন করি।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২)শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
        *শ্রীঅদ্বৈত বিদ‍্যা---বিলাস*
        ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🔥স্বারোচিষ মন্বন্তরে অর্থ‍্যাৎ চোদ্দ মন্বন্তরের দ্বিতীয় মন্বন্তরে চৈত্রবংশ সমুদ্ভূত রাজ‍্যভ্রষ্ট সুরথ রাজা স্বজন পরিত‍্যক্ত সমাধি নামক বৈশ‍্যের সময় হতে ইনার পূজার প্রথা ধরাধামে প্রচলিত হয়েছে।রাজা দেবীর আরাধনায় পুনরায় রাজ‍্য ফিরে রে পেলেন এবং দেবী নির্বিণ্ণ(দুঃখিত) চিত্ত বৈশ‍্যকে জ্ঞান-লাভ হবে বলে বর প্রদান করলেন। সৌরাশ্বিন মাসে অকালে রামচন্দ্র রাবণকে বধ করবার জন্য ব্রহ্মা দ্বারা দেবীর বোধন করিয়ে দূর্গাদেবীর পূজা করেছিলেন বলে সেই পূজার প্রথা জগতে প্রচলিত আছে, তা মহর্ষি বাল্মিকীকৃত মূল রামায়ণে কোনও জায়াগায় পাওয়া যায় না। কথকতা শুনে কবি কৃত্তিবাস যে বাংলা পয়ার ছন্দে রামায়ণ রচনা করেছিলেন তাতেই ঐ বিষয় দেখা যায়। তিনি তাঁর রামায়ণে বিষ্ণুর অবতার শ্রীরামচন্দ্রকে প্রাকৃত জীবের মত সাজিয়েছেন।ব্রহ্মা-রুদ্রাদিদেবসেবিত বিষ্ণু,বিষ্ণুমায়া তাঁর আজ্ঞাবাহিকা।দ্বিতীয়তঃ জড়মায়া স্বরূপশক্তির ছায়া।,তাঁর প্রভাব ও কাজ প্রাকৃত বিমুখ ক্ষুদ্র বদ্ধ জীবের উপর সম্ভব।অপ্রাকৃত চিন্ময়ধামে ভগবান লীলার পোষকতা কল্পে যোগমায়ারই কাজ।তটস্থাশক্তি প্রসূত অনুচিৎ বিভিন্নাংশ জীবগণ অনাদি বহির্মুখতা প্রযুক্ত স্বতন্ত্রতার অপব‍্যবহার ফলে যে প্রাপঞ্চিক জগতে পতিত ও কারারুদ্ধ হন,তাহাই দেবীধাম বা দূর্গাদেবীর দূর্গ।পতিত অপরাধী জীবকে কারা রক্ষয়িত্রী দূর্গাদেবী কয়েদির পোষাকের মতো দুইটি আবরণে আবৃত করে থাকেন।একটি মন-বুদ্ধি অহঙ্কারাত্মক সূক্ষ্মশরীর,লিঙ্গদেহ বা বাসনাময় কোষ,অন‍্যটি বাসনাময় দেহের সহায়ক স্বরূপ পাঞ্চভৌতিক স্থূলদেহ।এই দুইটি পোষাকে পরিহিত হলে জীবের শুদ্ধ চিন্ময়স্বরূপ সুপ্ত হয়ে পড়ে।তখন চিদাভাস মন-বুদ্ধি অহঙ্কারাত্মক লিঙ্গদেহে নানারকম অভিমান উপস্থিত হয়। কখনও মনুষ‍্য,পশুপক্ষী প্রভৃতি বলে অভিমান করেন, কখনও বা পুরুষ,নারী, রাজা, প্রজা,পিতা,পুত্র,সুখী,দুঃখী এইরকম নানাপ্রকার অভিমান উপস্থিত হয়ে থাকে।এইরকমে বিরূপজ্ঞানের বশবর্তী হয়ে মায়া অভিনিবিষ্ট জীব নিজেকে শোকে মোহে আচ্ছন্ন এবং অভাবগ্রস্ত মনে করে।তখনই ঐ কারাকত্রীর কাছে ধন,জন,পুত্র, পৌত্র, রূপবতী পত্নী, যুদ্ধে জয়লাভ ইত‍্যাদি কামনা করে পূজা করে থাকে।কখনও সুখ-দুঃখ বোধের হাত হতে পরিত্রাণ পাবার জন্য অচিৎ(জ্ঞানহীন) হয়ে যেতে চায়,কখনও বা জড়ীয় সুখ-দুঃখকে অকিঞ্চিকর(সামান‍্য) জ্ঞানে জড় ব‍্যতিরেক সুখলাভের আশায় ভগবানের আসন নিতে অগ্রসর হয়।দূর্গাদেবীও তাদের কামনা অনুযায়ী ধনজনাদি প্রদান করে কর্মচক্রে নিক্ষেপ করেন,কখনও বা তাদের আত্মবিনালরূপ ভগবদ্বৈমুখ‍্যের দন্ড প্রদান করে থাকেন। কিন্তু যাঁরা সুকৃতীবান,তাঁরা ঐ সব ভুক্তি মুক্তির বাসনাকে মহামায়ার কপট কৃপা জেনে বিষ্ণুমায়ার সৎস্বরূপের আশ্রয় গ্রহণ করেন, লিঙ্গ এবং স্থূলদেহের বন্ধন হতে উন্মুক্ত হয়ে নিত‍্য ভাগবতী তনু লাভ করেন ও স্বরূপদেহে চিচ্ছক্তি হ্লাদিনীর সেবায় নিযুক্ত হয়ে কৃতার্থ হয়ে থাকেন।*
*⭐স্বরূপশক্তির ছায়ারূপা দূর্গার কাজই বিমুখমোহন।। সুতরাং কর্মফলভোগী ও কর্মফলত‍্যাগী বহির্মুখ জনগণ কর্তৃক জগতে যে দূর্গাদেবীর আবাহন হয়, তা ভগবানের চিন্ময়ধামে বিরাজিতা চিন্ময়ী কৃষ্ণদাসী যোগমায়া দূর্গার ছায়া মাত্র। ভগবানের পীঠাবরণ পূজায় যে দূর্গা,গনেশ প্রভৃতি দেবতা আছেন,তাঁরা নিত‍্য বৈকুন্ঠ সেবক। তাঁরা ভগবানের স্বরূপভূতশক্তি, কিন্তু জড়জগতে পূজিত দূর্গা-গণেশাদি দেবতা মায়াশক্ত‍্যাত্মক। ভগবানের নিত‍্য বৈকুন্ঠ সেবিকা যোগমায়াই ভগবৎ সেবা প্রার্থিনী ব্রজরাজকুমারীগণ কর্তৃক পূজিতা। সেই পূজায় কেবল ভগবৎ প্রীতি কামনা। নিজের ফলভোগ বা ফলত‍্যাগ কামনা নাই।যে সব অতাত্ত্বিক অসারগ্রাহী ব‍্যক্তি ব্রজরাজকুমারীগণের কাত‍্যায়নী অর্চন ব্রতের দোহাই দিয়ে নিজ নিজ ভুক্তি-মুক্তি কামনামূলক ছায়াশক্তির কল্পিত মূর্তির পূজাকে সমর্থন করতে চেষ্টা করে, তারা কাত‍্যায়নীর চরণে, ব্রজরাজকুমারীগণের চরণে এবং শ্রীভগবানের চরণে অপরাধ করে থাকেন।ব্রজকুমারীগণ কি প্রকৃত বদ্ধ জীব?তাঁরা প্রাকৃত জড় দেশবাসী?তাঁদের দেহ কি জড় দেহ?তাঁদের কামনাত্মক বদ্ধজীবের কামনার তুল‍্য? কিছুতেই নয়।তাঁরা শ্রীভগবানের স্বরূপশক্তি হ্লাদিনীর কায়ব‍্যূহ, তাঁদের ধাম চিন্ময়,দেহ চিন্ময়,কৃষ্ণপ্রীতি কামনাই তাঁদের কামনা।*
*🍁এই জড়জগৎ চিজ্জগতের হেয় প্রতিফলন।চিদ্বিলাসের নানা বৈচিত্র্যের ছায়া এই জগতেও বর্তমান। সুতরাং অপ্রাকৃত চিদধামের প্রেমচেষ্টার সঙ্গে প্রাকৃত জগতের কামচেষ্টা এক হতে পারে না।ইহজগতে দেখা যায় প্রণয়িনী প্রেমিকের জন্য,পত্নী স্বামীসেবা লাভের জন্য ছায়াশক্তি মহামায়ার আরাধনা করে,তারদ্বারা পত্নী প্রণয়িনীর স্বামী ও প্রেমিকের প্রতি ভালবাসারই পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু এই জড়জগৎ হেয়তা(ঘৃণতা বা তুচ্ছতা) ও অবরতাপূর্ণ(অশ্রেষ্ঠপূর্ণতা)।এখানে বদ্ধজীবের যত চেষ্টা কেবল নিজ ভোগের জন্য।অপ্রাকৃত জগতে সেইরকম হেয়তা ও অবরতা নাই।সেখানে সকলেরই স্বরূপে অবস্থান, সুতরাং সকলেই একমাত্র ভগবৎ প্রতিই আকাঙ্ক্ষা করে থাকেন। অতএব স্বরূপশক্তির কায়ব‍্যূহ ব্রজকুমারীগণের কৃষ্ণপ্রীতির চরম উৎকর্ষেরই পরিচয় পাওয়া যায়।দেহাভিমানি জীব কি ভাবে ঘরে চুরি না করে বলতে পারে যে, তাদের দূর্গা আরাধনা সেইরকম? ছায়াশক্তির কাজই বিমুখমোহন। সুতরাং তাঁর কাছে প্রার্থনা করলেও তিনি ভগবৎপ্রেম দান করতে পারে না।যার কাছে ধন নাই, তার কাছে ধন ভিক্ষা চাইলে প্রত‍্যাখ‍্যাত(অবজ্ঞাত) হতে হয়। অতএব জগতের দূর্গা-আরাধনা ছায়াশক্তির আরাধনা মাত্র।*
*🌹নারদ পঞ্চরাত্রে শ্রুতি-বিদ‍্যা সংবাদে দেখা যায় --,সেই পরমপুরুষ ভগবানের একটিই পরাশক্তি আছে তাহাই স্বরূপাত্মিকা দূর্গা।এই মহাবিষ্ণু স্বরূপিনী পরাশক্তির বিজ্ঞান মাত্রেই পরম পুরুষকে পাওয়া যায়।ইনি প্রেমসর্বস্ব-স্বভাবা হ্লাদিনী শক্তি।ইঁহার আশ্রয়ে আদিদেব অখিলেশ্বরকে সহজে জ্ঞাত হওয়া যায়। কিন্তু মহামায়া নামে একটি আবরিকা (আবরণ করা) শক্তি ইঁহার আছে, তা দ্বারা নিখিল জগত ও সমস্ত দেহাভিমানীগণ মুগ্ধ হচ্ছে। সুতরাং দেহাভিমানী কর্মিগণ ও যারা দেহে বদ্ধ মনে করে মুক্তিকামী, উভয়ে প্রাকৃত সম্বন্ধযুক্ত থাকায় তাদের দ্বারা পরাশক্তির আবরিকা ছায়াস্বরূপা দূর্গারই আরাধনা হয়ে থাকে।রাবণ যে রকম মায়াসীতা হরণ করে চিন্ময়ী বিষ্ণুশক্তি সীতাদেবীকে হরণ করেছি মনে করেছিলেন,তদ্রূপ জগতের বদ্ধ জীব সব ছায়াশক্তির আরাধনা করেছি মনে করলেও, তা দ্বারা প্রেমফল লাভ করতে পারে না --, অধিকন্তু (আরও)মহামায়ার দ্বারা আরও মোহিত হয়।মহামায়া এইরকম জীবকে মোহিত করে ব‍্যতিরেক (বিভিন্ন) ভাবে ভগবানের সেবাকার্য‍্যে নিযুক্তা।যে সব বহির্মুখ অপরাধী জীব সর্বকারণ পরম ঈশ্বর সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ গোবিন্দের সেবাবিমুখ,যারা গোবিন্দভজন পরায়ণ সাধু,সদ্ গুরু বা সৎশাস্ত্রে বিশ্বাস করে না, সেইসব পাষন্ড জীবকে মহামায়া সংসার দূর্গের কর্মচক্রে পেষণ করতে করতে ভগবদুন্মুখ করবার চেষ্টা করেন। সুতরাং মহামায়ার ঐ চেষ্টা সাক্ষাৎ উন্মুখ করবার চেষ্টা নয়,ব‍্যতিরেক চেষ্টা মাত্র।সেইজন‍্য মহামায়া ভগবানের দৃষ্টিপথে থাকতে লজ্জা বোধ করেন। তাই ভাগবতে পাই (২|৫|১৩) বলেছেন= "বিলজ্জমানয়া যস‍্য স্থাতুমীক্ষাপথেহ মুয়া বিমোহিতা বিকত্থন্তে মমাহমিতিদুর্ধিয়ঃ "। অর্থ‍্যাৎ যে মায়া ভগবানের দৃষ্টিপথে থাকতে লজ্জাবোধ করেন,দুর্বুদ্ধি জীব সেই মায়া কর্তৃক বিমোহিত হয়ে আমি আমার এইরকম শ্লাঘা (প্রশংসা) করে।এখানে বিলজ্জমানা এই শব্দের দ্বারা এইরকম বোধহয় যে মায়ার জীব-সম্মোহনকার্য‍্য ভগবানের রুচিকর নহে ; কারণ ভগবান কৃষ্ণ সর্বদাই জীবগণকে সাধুগণের দ্বারা সাক্ষাৎ, সেবাদানে আকর্ষণ করে আনন্দ প্রদান করতে ইচ্ছুক, ইহা যদিও মায়া অবগত আছেন,তথাপি জীব সেই স্বতন্ত্রতার অপব‍্যবহার ফলে ভগবানের সেবা পরিত‍্যাগ করে দ্বিতীয় বস্তুতে অভিনিবিষ্ট হয়ে নিজের স্বরূপ বিস্মৃত হন।*
               *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*বিদ‍্যা-বিলাস ও শাস্ত্র যুক্তিকথন*
********************************
*🌹রাজা দিব‍্যসিংহকে প্রামাণ্য শাস্ত্র যুক্তি বলছেন কমলাক্ষ।*
*🌻তখন মায়া জীবের এই অনাদি বহির্মুখতা সহ‍্য করতে না পেরে জীবের স্বরূপে আবরণ ও অস্বরূপের আবেশরূপ কপট করে থাকেন,অর্থ‍্যাৎ জীবের স্বরূপ কী তা ভুলে গিয়ে, ভগবদ্ বহির্মুখতায় ভুলে যাওয়া স্বরূপ জীবকে আমি আমার বুদ্ধি,স্ত্রী-পুত্রাদি,ধন-জন, প্রদান করে আরো অস্বরূপের আবেশে বিপন্ন করে রাখেন।এইজন‍্য মায়া লজ্জিত হয়ে ভগবানের দৃষ্টিপথে আসতে পারেন না। কিন্তু এটি দ্বারা মায়া কর্তৃক ভগবানের প্রতি বিভিন্ন সেবা হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এই দূর্গাধিষ্ঠাত্রী যে দূর্গাদেবী, ভগবানের দৃষ্টিপথে যেতে লজ্জা পান,তাঁর আরাধনা দ্বারা পরম পুরুষার্থ ভগবৎ প্রেম লাভ হয় না, ধর্ম-অর্থাদি অপবর্গ দ্বারা মোহিত হওয়া যায়। ভগবান মায়ার কাজে কোন হস্তক্ষেপ করেন না। কিন্তু পরম করুণাময় ভগবান জীবগণকে মায়ার কবলে পেষিত হতে দেখে মায়ার আশ্রয় করলে তাদের ভয় বিদূরিত হবে না, এটি জেনে তিনি জীবগণকে নিজের সম্মুখীন করবার জন্য শাস্ত্ররূপে উপদেশ দিয়ে থাকেন, "আমার এই ত্রিগুণময়ী দেবী মায়া দুষ্পারা, কেবল যারা একমাত্র আমারই আশ্রয় গ্রহণ করেন,তাঁরাই ঐ মায়ার হাত থেকে উদ্ধার পান"। (গীতা=৭|১৪)। এবং "সাধুগণের উত্তম সঙ্গে সাধুমুখ-বিগলিত, মায়ার বিনাশ করতে শক্তিশালী হৃদয় ও কর্ণ পরিতৃপ্তিকারী আমার কথা সেবা করতে করতে শুনিলে তাঁরা খুব তাড়াতাড়িই আমার সেবায় শ্রদ্ধা-রতি ও ভক্তির ক্রমশঃ উদয় হয়ে থাকে। অতএব যারা সাধু ও গুরুর আশ্রয়ে একমাত্র সর্বেশ্বর ভগবানে শরণাপন্ন হন, তাঁরাই চরম মঙ্গল লাভ করে কৃতার্থ হন।(ভাগবত=৩|২৫|২২)। আরও যে দেবী প্রানী-হিংসা-যজ্ঞে উল্লাসিতা,জগতের জীব তাঁর সন্তান হয়,তবে সন্তান বধে কেমন করে আনন্দ লাভ করেন?যদি বলেন "পশুবলী গ্রহণ তাঁর নির্দয়তা নয় ; বরং সম্পূর্ণ সদয়তা। কারণ বলি গ্রহণে বলীকরা পশু লাভবান হয় ; পশুত্ব মুক্ত হয়ে স্বর্গে গমন করে। যজ্ঞার্থে পশু বধে মানবেরও পাপস্পর্শ হয় না ; যজ্ঞের জন্য পশু বলি, হিংসা মধ্যে গণ‍্য নয়। তার উত্তরে বলছি যে,মুক্তির এমন সহজ উপায় থাকতে লোকে পিতামাতার উদ্ধার কামনায় নানারকম কষ্ট ভোগ করে, কিজন‍্য?কালী পূজা করে বৃদ্ধ বা মুমূর্ষু পিতা মাতাকে বলিদান করলেই তো তাঁরা মুক্ত হয়ে স্বর্গে গমন করতে পারেন? কমলাক্ষের এইসব শাস্ত্র-সিদ্ধান্ত ও সুযুক্তিপূর্ণ কথা শুনে সকলেই মুগ্ধ হয়ে চিন্তা করতে লাগলেন, এ বালক কোন সাধারণ মনুষ‍্য নয়।সকলেই আনন্দিত।কেবল রাজা এইসব সুসিদ্ধান্ত ও সুযুক্তিপূর্ণ কথার কোনও উত্তর দিতে না পেরে লজ্জায় মাথা নিচু করে রইলেন।সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুবের পন্ডিত, রাজার এমত অবস্থা দেখে তাঁকে কিছু সান্ত্বনা দিবার জন্য বললেন, বাপ কমলাক্ষ! এত বিচার ও তর্কের প্রয়োজন কি? তুমি মহারাজের তুষ্টির জন্য ও আমার আদেশ পালনের জন্য দেবীকে একবার প্রণামটি কর না কেন। এতে তোমার কোনও দোষ হবে না। "সেই সে বৈষ্ণবধর্ম সবারে প্রণতি"।তখন কমলাক্ষ রাজাকে সাক্ষাৎ ভাবে শিক্ষা ও প্রণাম দিবার জন্য ও পিতার আদেশে বললেন, "আচ্ছা আমি এখনই গিয়ে দেবীকে প্রণাম করছি, দেখুন কি ফল হয় "।এই বলে কমলাক্ষ দেবীর সামনে গিয়ে প্রণাম করলেন।🙏কমলাক্ষ যে মহাবিষ্ণু ও সদাশিবের অবতার, দেবী কি করে নিজ প্রভুর প্রণাম গ্রহণ করবেন!প্রণাম করামাত্র অকস্মাৎ সেই প্রস্তরময়ী বা পাথরের মূর্তির অঙ্গ বিদীর্ণ (খন্ডিত বা ছিন্ন),হয়ে বিভিন্ন ও মহাশব্দে মাটিতে পড়ে গেলেন।সকলে এই অত‍্যাশ্চর্য‍্য অমঙ্গল ঘটনায় আশ্চর্য‍্যন্বিত হয়ে স্তব্ধ হল।রাজাও "কি হ'ল,কি হ'ল, সর্বনাশ ঘটিল" বলে উচ্চৈঃস্বরে রোদন করতে করতে বিবশ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।রাজার পারিষদবর্গ রাজার অবস্থা দেখে ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন, মন্দির-প্রাঙ্গণে কোলাহল হতে লাগল।কমলাক্ষ সেখান থেকে নিজ ঘরের দিকে চলে গেলেন। কমলাক্ষ ঘরে এসে পিতার সঙ্গে পরামর্শ করলেন,এই নবগ্রামে আর এক মুহূর্তও থাকা  উচিত নয়। রাজা অতি পাষন্ড,এখানে বাস করলে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হবে।এই রাজ‍্য পাপে ভরে গেছে, অচিরে নানারকম বিপদ ও অমঙ্গল এই রাজ‍্যকে শান্তিহীন ও অসুখের আগার করবে।গঙ্গাতীরের পুণ‍্যভূমি শান্তিপুর আমার স্বদেশ,সেখানে আমাদেরও শান্তিস্থান। অতএব আর কালবিলম্ব না করে তাড়াতাড়ি শান্তিপুরে যাওয়া কর্তব‍্য।কমলাক্ষের কথা শুনে পিতা কুবের পন্ডিত ভীষণ আনন্দ পেলেন ও সম্মত হলেন এবং যত তাড়াতাড়ি হয় শান্তিপুরে যাবার উদ‍্যোগ করতে লাগলেন।*
*🍁দেশের সকলেই কমলাক্ষের মাহাত্ম্য ও রাজার দোষ কীর্তন করতে  লাগল।রাজার পাপে দেবী চলে গেছেন, তাতে আগামীতে অমঙ্গলের আশা অবশ‍্যম্ভাবী, এই কথাগুলি বলতে লাগল।এইসব কথা এবং আরও মর্মান্তিক সংবাদ, "কুবের পন্ডিত, যিনি রাজার পরম হিতৈষী মন্ত্রী, তাঁকে ছেড়ে শান্তিপুর গমন করবেন", রাজার কর্ণগোচর হওয়ায় রাজা অত‍্যন্ত বিষন্ন হয়ে তার প্রিকার করার জন্য পাত্র-মিত্র সমভিব‍্যাহারে (সহচর্য‍্য বা সঙ্গ) কুবের আচার্য‍্যের গৃহে উপনীত হলেন।রাজা কুবের পন্ডিতের কাছে গিয়ে বললেন, আপনি শান্তিপুর গমনের ইচ্ছা পরিবর্তন করেন এবং এই প্রার্থনা জ্ঞাপন করে সজলনয়নে গলবস্ত্র ও কৃতাঞ্জলী হয়ে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে রইলেন।রাজার ঐ অবস্থা দেখে কুবের আচার্য‍্যের হৃদয় দ্রবীভূত হল বা গলে গেল ; তিনি কিভাবে রাজার প্রার্থনায় অসম্মত হবেন, ভেবে আকুল হলেন। তাঁর মন বুঝে কমলাক্ষ বললেন, পিতঃ! আমি এখানে কিছুতেই থাকব না। বিচক্ষণ কুবের আচার্য‍্য রাজার সম্মান রক্ষা করার জন্য বললেন, মহারাজ!আপনি প্রজাবৎসল প্রবল প্রতাপ নরেশ্বর পরম উদার,ক্ষমাশীল,গভীর বুদ্ধি ও মহাজ্ঞানী।আমার বালক পুত্রের দোষ গ্রহণ করবেন না।আমি কমলাক্ষকে নিয়ে শান্তিপুর গমন করব বলে স্থির করেছি ; আপনি প্রসন্নচিত্তে অনুমতি করুন।শুভদায়িনী দেবীর কৃপাতে আপনি চিরকাল পরমসুখে রাজ‍্য ভোগ করছেন, সুন্দর একটি মন্দির নির্মাণ করে নূতন দেবী প্রতিষ্ঠা করুন।আচার্য‍্যের কথা শুনে রাজা বললেন, ধীমান! আপনার এই অসাধারণ সর্বগুণময় সর্বশক্তিমান পুত্রের কাছে আমি না বুঝে ও দুষ্টলোকের কথা শুনে মহা অপরাধ করেছি।কমলাক্ষকে তিরস্কার ও অপমান করেছি এবং ওঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছি ; জানিনা সেই বিষম অপরাধে আমার কি নিদারুণ শাস্তি ভোগ করতে হবে।যে বালক,দেবী ভগবতীকে দন্ড বিধান করতে শক্তি ধরে,সেই অদ্ভুতকর্মা অসাধারণ বালকের কাছে আমি অপরাধ করেছি, আমার সর্বনাশ অবশ‍্যম্ভাবী। এই কথা বলে ব‍্যাকুল হয়ে কমলাক্ষের চরণতলে পড়ে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, আমি মহা অপরাধী, পতিত,অজ্ঞ, দীন, বিবেক-বুদ্ধিহীন,পামর না বুঝে আপনার শ্রীচরণে অনেক অপরাধ করেছি, এক্ষণে আপনার অভয় চরণে শরণ গ্রহণ করলাম, আপনি পরম দয়াল,শরণাগতপালক,দীনবৎসল ও অভয়দাতা ; আপনি কৃপা করে আমার প্রতি দয়াবান হন, নচেৎ আমার আর কোনও মঙ্গল হবে না।আমি বুঝেছি আপনি ঈশ্বর,সবকিছুই আপনার পক্ষে সম্ভব। রাজার এইরকম স্তুতিবাদ শুনে কমলাক্ষ হেসে বললেন, "আমি কৃষ্ণদাস, ক্ষুদ্র জীব,আমাকে এইরকম অযথা স্তুতি করবেন না।আপনি ভক্ত ও ভগবানের চরণে অপরাধ করেছেন, ভক্ত ভগবানের শ্রীচরণে অপরাধীর সঙ্গে কথা বলাতেও জীবের পতন হয়, সেজন‍্য তাদের সঙ্গত‍্যাগ করাই কর্তব‍্য বিবেচনায় আমি আপনার রাজ‍্য পরিত‍্যাগ করে যেতে ইচ্ছে করেছি।আপনি রাজা,রাজার সঙ্গে প্রজার বিশিষ্ট সম্বন্ধ ; প্রজাকে রাজার ধর্মাধর্ম,পাপ-পুণ‍্যের ফলভাগী হতে হয়। বিশেষ করে আপনি কৃষ্ণনিন্দা করেছিলেন,কৃষ্ণদাসী দেবী কখনই কৃষ্ণনিন্দা সহ‍্য করতে পারেন না ; তিনি কৃষ্ণনিন্দা শুনে অসমর্থা হয়ে আপনার সেবনীয়া দেবী আলাদা হয়েছেন, আমি কি করব?*
             *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
      *অদ্বৈতাচার্য‍্যের বাল‍্যলীলা*
      **************************
*🍀আমি কি করব? নৃপতি এইসব কথা শুনে দৃঢ়ভাবে কুবের কুমারের চরণ ধরে নানা কাকুতিবাক‍্যে স্তুতি করতে করতে বললেন আমি রাজ‍্য ত‍্যাগ করে আপনার সঙ্গে যাব, আমার রাজ‍্যের আর প্রয়োজন নাই, পুনরায় দেবী নির্মাণেরও ইচ্ছা নাই। এতদিন সেবা করলাম, তথাপি দেবী ছেড়ে গেলেন।আপনার দৃষ্টিপাত মাত্র পলায়ন করলেন। আমার নিঃসংশয় জেনেছি, মায়া যাঁর দাসী,আপনি সেই সর্বশক্তিমান নিখিলেশ্বর বিষ্ণু।কৃপা করে আমাকে ক্ষমা করে শ্রীচরণে স্থান দিয়ে নিজ শরণাগত সেবককে পালন করুন।কুবের তনয় বললেন--, আমি ক্ষুদ্রজীব,আমাকে ঐরকম স্তুতি করবেন নাহরাজা সে কথায় ভুললেন না।পুনরায় নানা প্রকার কাকুতি-মিনতি ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে কমলাক্ষের শ্রীচরণতলে পড়ে কাঁদতে লাগলেন।তখন করুণাময় কমলাক্ষ রাজার প্রতি প্রসন্ন হয়ে কহিলেন,রাজন্!আর রোদন করবেন না ; আপনি কৃষ্ণনাম করুন, শ্রীকৃষ্ণের ভজন করুন। কৃষ্ণ অনন্ত গুণধাম, পরম দয়াল,পাপীর উদ্ধার কর্তা, অগতির গতি,পতিতের বন্ধু, অপরাধীর ত্রাণকর্তা ; একান্তভাবে তাঁর শরণাপন্ন হন,তাঁর সেবা পূজা করুন। বৈষ্ণবের সেবা করুন,কৃষ্ণভক্তের সঙ্গ করুন, কায়মনোবাক‍্যে ভক্তের গৌরব করুন, যে মুখে কৃষ্ণ ও কৃষ্ণভক্তের নিন্দা করেছেন,সেই মুখে সবসময়ই তাঁদের মাহাত্ম্য কীর্তন করুন, অচিরে শ্রীকৃষ্ণ কৃপা করবেন। রাজা রাজপ্রাসাদে গমন করে শ্রীকৃষ্ণের মন্দির নির্মাণ ও শ্রীকৃষ্ণবিগ্রহ স্থাপন করে যথা বিধানে পূজা করুন ও শ্রীকৃষ্ণের সেবক অভিমানে রাজত্ব করুন। কিছুদিন এইভাবে সৎসঙ্গে কৃষ্ণসেবা করতে করতে অপরাধ ক্ষয়ে ভক্তিতত্ত্বে প্রবেশ করতে পারবেন।তখন পুত্রের হাতে রাজ‍্যভার অর্পণ ও বৈরাগ‍্য গ্রহণ করে শান্তিপুরে আমার কাছে চলে আসবেন।সেই সময় সমস্ত তত্ত্ব অবগত হতে পারবেন।রাজা অবনত মস্তকে তাঁর কৃপাদেশ মাথায় ধরে, পুনরায় আরও কিছুদিন সেখানে থাকবার জন্য প্রার্থনা নিবেদন করলেন।কমলাক্ষ বললেন, আমি শান্তিপুর গমনের সমস্ত ব‍্যবস্থা করে ফেলেছি, আর শান্তিপুর গমনের জন্য আমার মনও খুব ব‍্যাকুল হয়েছে ; শান্তিপুর আমার স্বদেশ অতএব আর দেরী করতে পারব না।*
*☘রাজা অগত‍্যা বিদায় গ্রহণ করলেন। সেইসময়ে কুবের আচার্য‍্য ও কমলাক্ষের বিচ্ছেদ-দুঃখ রাজার অসহনীয় হল।কমলাক্ষের চরণে অপরাধ স্খালনে সামান্য আশ্বস্ত হলেন বটে, কিন্তু তাঁদের বিরহ-দুঃখ রাজাকে বড়ই কষ্ট দিল।তখন কমলাক্ষের চরণধূলি মাথায় নিয়ে রাজা বিদায় হলেন।গ্রামের বন্ধুবর্গ কুবের পন্ডিতের শান্তিপুর গমনের সংবাদে সকলেই দুঃখিত হলেন। কয়েকজন অন্তরঙ্গ বন্ধু কুবের পন্ডিতের সঙ্গে থাকতে প্রস্তুত হলেন।কমলাক্ষ পিতা মাতা ও বন্ধুগণসহ শান্তিপুরে গমন করলেন। তখন কমলাক্ষের বয়স প্রায় এগার বৎসর অতিক্রম করেছে মাত্র।সকলকে নিয়ে শান্তিপুরের দিকে চলিলেন।*
*🌺রাজা দিব‍্যসিংহ কমলাক্ষের আদেশ মত একটি খুবই সুন্দর মন্দির নির্মাণ করে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত করে যথা বিধানে সেবা আরম্ভ করলেন।তাঁর সমস্ত স্বজনগণ কৃষ্ণভক্ত হলেন। নিষ্ঠার সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণসেবা,সাধুসঙ্গ,সাধুসেবা প্রভৃতি বৈষ্ণবাচার পালন করতে লাগলেন। বহুদাস-দাসী থাকা সত্ত্বেও রাজা ও রাণী নিজহাতে শ্রীমন্দিরমার্জন ও সেবাকার্য‍্যাদি সম্পন্ন করতে লাগলেন।রাজা, কমলাক্ষের কৃপায় কৃতার্থ হলেন।*
🦚🪷🌸🌷🦜🦚🪷🌸🌷🦚🪷🌸🌷🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
     *অদ্বৈতাচার্য‍্যের শাস্ত্রাধ‍্যয়ন*
      """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀কমলাক্ষ শান্তিপুরে গিয়ে শাস্ত্র অধ‍্যয়ন করতে লাগলেন।অল্পদিনের মধ্যেই "ষড়-দর্শন" পাঠ সমাপ্ত করলেন।পিতার আদেশে বেদাধ‍্যয়ন করতে ইচ্ছুক হয়ে "ফুল্লবাড়ীতে প্রসিদ্ধ বেদ-অধ‍্যাপক শান্ত-আচার্য‍্যের কাছে গমন করে সেখানে বেদ অধ‍্যয়ন আরম্ভ করলেন"।শান্ত-ভট্টাচার্য‍্য প্রশান্ত স্বভাব,বহুশাস্ত্র বিশারদ ও মহাপন্ডিত।তাঁর কোন নিজ সন্তানাদি নেই ;গৃহে কেবল সহধর্মিনী আছেন।সহধর্মিনীও তাঁর মত শান্ত প্রকৃতি।ফুল্লবাড়ী (ফুলিয়া) গ্রামে গঙ্গার তীরের কাছে তাঁদের আলয়।উভয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্মাচরণ করে জীবন যাপন করেন। তিনি সমস্ত ছাত্রকে খুবই যত্ন ও স্নেহ সহকারে অধ‍্যয়ন করান এবং প্রভূত (অসামান‍্য) পান্ডিত‍্য প্রকাশ করে ভক্তিশাস্ত্রের বিচার করেন।কমলাক্ষ তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে ভক্তিভরে প্রণাম করে কৃতাঞ্জলীপুটে অর্থ‍্যাৎ জোড়হস্তে নিবেদন করলেন, মহাভাগ!আপনি অদ্বীতীয় অধ‍্যাপক ; আমি আপনার কাছে অধ‍্যয়ন-মানসে এসেছি ; অনুগ্রহ করে আমাকে ছাত্র হিসাবে গ্রহণ করে কৃতার্থ করুন।*
*🌻কমলাক্ষের অসাধারণ অলৌকিক ভাব, অনুপম সৌন্দর্য্য ও নানারকম সুলক্ষণ দেখে শান্তাচার্য‍্য অবাক হয়ে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন।কমলাক্ষ বিনীতভাবে যথাযথ পরিচয় দিলেন। অধ‍্যয়নের কথা জিজ্ঞাসা করাতে কমলাক্ষ বললেন, আমি সাহিত‍্য, অলঙ্কার ও জ‍্যোতিষশাস্ত্র অধ‍্যয়ন করে বতর্মানে ষড়-দর্শন পাঠ সমাপ্ত করেছি।এইকথা শুনে শান্তাচার্য‍্য আশ্চর্য‍্যান্বিত হয়ে কিছুক্ষণ তাঁর পরীক্ষা করলেন। কমলাক্ষ পরীক্ষায় অদ্ভুত শিক্ষার পরিচয় দিলেন। ভট্টাচার্য্য মহাশয় বহু ছাত্রের অধ‍্যাপনা করেছেন, কিন্তু কুবের তনয়ের মত ছাত্র তাঁর কাছে আর কখনও কেউ উপস্থিত হয়নি।তিনি যৎপরোনাস্তি (অতিশয়)প্রীতি লাভ করলেন এবং বহু প্রশংসা করে বললেন, বৎস!তুমি কি অধ‍্যয়ন করবে? কমলাক্ষ বললেন, আপনি যা পাঠ করতে অনুমতি করবেন,তাইই পাঠ করব। আপনার ইচ্ছায় আমার শিরোধার্য‍্য ; আপনার কৃপা হলেই আমার বাসনা পূর্ণ হবে, তত্ত্বজ্ঞান লাভ হবে।কমলাক্ষের এই কথায় পরম তুষ্ট হয়ে শান্তাচার্য‍্য ভাবলেন, কমলাক্ষের বয়স যদিও অল্প, তথাপি তিনি উন্নত জ্ঞানের অধিকারী ; তাঁকে বেদ অধ‍্যয়ন করাতে হবে। কমলাক্ষ বেদ পাঠ আরম্ভ করলেন। অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর অসাধারণ বুদ্ধি, মেধা ও প্রতিভায় আচার্য‍্যকে চমৎকৃত ও বিমোহিত করিল। তিনি ভাবলেন, এ বালক মানুষ নয়,কোন ভাগবত অবতার হবেন।সুধীবর আচার্য‍্য ঐকান্তিক স্নেহে তদীয় অধ‍্যাপনা করতে লাগলেন।*
*🌻নিঃসন্তান শান্তাচার্য‍্যের পুত্রাভাব কমলাক্ষ দূর করলেন।তিনি পুত্রের মত শান্তাচার্য‍্যের সেবা করতে লাগলেন। আচার্য‍্য সর্ব বিষয়ে কমলাক্ষের বৈশিষ্ট্য দেখে তার প্রতি অধিক হতে অধিকতর স্নেহবান হতে লাগলেন।একসময় বেদান্তবাগীশ শান্তাচার্য‍্য ছাত্রগণ সমভিব‍্যাহারে (একত্রিত হয়ে ) স্নান করতে গমন করলেন।গঙ্গার কাছেই অগাধ-জল একটি বড় বিলে পদ্মবনে একটি অনেকবড় পদ্মফুল ফুটে রূপে ও গন্ধে চারিদিক আমোদিত করেছে। আচার্য‍্য হেসে বললেন, তোমরা কেউ পদ্মটি আনতে পারবে? সকলেই বললেন, "সর্প বহুল কন্টকাকীর্ণ অগাধ সলিলে প্রস্ফুটিত পদ্ম আনা আমাদের কারও পক্ষে সম্ভবপর নয়।" অর্থ‍্যাৎ সেই জায়গায় অনেক সাপের বাস এবং কাটাতে ভরা অগাধ জলে ফুটে থাকা পদ্মফুল আনা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। কমলাক্ষ বললেন, আপনার আজ্ঞা হলে আমি অতি সহজে পদ্মফুলটি আনতে পারি।এই বলে কমলপত্রে পদবিক্ষেপ করে অনায়াসে সেই পদ্মফুল এনে শিক্ষাগুরুকে অর্পণ করলেন। ভট্টাচার্য্য মহাশয় ঘরে এসে নির্জনে কমলাক্ষকে জিজ্ঞাসা করলেন, বৎস!তুমি এই অলৌকিক কাজ কোন বিদ‍্যার প্রভাবে, না কোন দৈববলে করলে?আমি তোমার শিক্ষাগুরু, সত‍্য করে বলো? কমলাক্ষ তখন বললেন,যে ব‍্যক্তি শ্রীহরির অনুগত হয়,সমস্ত সিদ্ধি তার অধীন হয়ে থাকে। আচার্য‍্য কমলাক্ষের কথায় তৃপ্ত হলেন না--, বুঝলেন,প্রকৃত কারণটি বালক, প্রকৃত পরিচয় দিল না।*
*🍀অসাধারণ শিক্ষা-সামর্থ‍্যশালী, অপ্রতিম-মেধাবান ও বুদ্ধিমান্ কমলাক্ষ, অল্পদিন মধ্যে সমস্ত বেদশাস্ত্রে ব‍্যুৎপন্ন (শাস্ত্র জ্ঞান সম্পন্ন) হলেন।তারপর আচার্য‍্যের কাছে শ্রীমদ্ভাগবত অধ‍্যয়ন করলেন।কিছুদূর অধ‍্যয়ন হলে,একদিন তাঁর মুখে সিদ্ধান্তসার অতিগুহ‍্য তত্ত্বকথা শুনে শান্তাচার্য‍্য বিচার করলেন, কমলাক্ষ এই কুমার বয়সে যে তত্ত্বকথা বলে,তা কখনই জীবশক্তিতে সম্ভবনীয় নয়,কমলাক্ষ নিশ্চয়ই ঈশ্বর অবতার। কিছুদিন পরে কমলাক্ষের শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ সাঙ্গ হ'ল।তিনি গুরুর নিকট বিদায় গ্রহণ প্রার্থনা করলেন।বিচ্ছেদ আশঙ্কায় গুরু চরমভাবে ব‍্যথিত হলেন।তিনি কমলাক্ষকে "বেদপঞ্চানন" উপাধি প্রদান করে গুরুদক্ষিণা-স্বরূপ কৃষ্ণভক্তি ভিক্ষা করলেন।কমলাক্ষ আচার্য‍্যপদে প্রণাম করলে,আচার্য‍্য তাঁকে কোলে করে জড়প্রায় স্তম্ভিত হয়ে রইলেন। তাঁর নয়ন হতে অবিরল ধারায় নয়নবারি বিগলিত হতে লাগিল। আচার্য‍্যাণীও সন্তানসম স্নেহভাজন ও নয়নরঞ্জন কমলাক্ষের অদর্শন জনিত দুঃখ চিন্তা করে অশ্রুজলে অভিসিক্তা হতে লাগলেন। আচার্য‍্যের আশ্রম ঘোরতর বিষাদের লীলাস্থান হল।কমলাক্ষ সকলকে যথাযোগ্য প্রণাম ও আলিঙ্গন ও প্রণয় মধুর কথায় সান্ত্বনা দিয়ে শান্তিপুরের দিকে গমন করলেন।তিনি নিমিষ মধ্যে সকলের দৃষ্টি অতিক্রম করলেন। তাঁর সতীর্থগণ এদিকওদিক দেখতে লাগলেন কিন্তু দেখতে পেলেন না।তিনি কোন মন্ত্র প্রভাবে কি দৈববলে অদৃশ্য হলেন। কমলাক্ষ ঘরে ফিরে এসে ব‍্যাকুল পিতা মাতার চরণ বন্দনা করলেন।দুই বৎসর পরে তাঁদের হৃদয়ধন নয়ননন্দন কমলাক্ষকে সন্দর্শন করে আনন্দে আত্মহারা হলেন।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
             *কৈশোর--লীলা*
           *তীর্থ------পর্য‍্যটন*
           ^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শান্তিপুরে এসে সর্বক্ষণ পিতা মাতার সেবা ও ভাগবত চর্চাই তাঁর ব্রত হল।তাঁর সুমধুর ব‍্যবহারে শান্তিপুরের সকলেই তাঁর প্রতি অনুরাগী হলেন।সকলেই এককথায় তাঁর প্রশংসা করতে লাগলেন।তিনি যেন শান্তিপুরবাসীর জীবন-স্বরূপ হলেন। পন্ডিত সমাজ বলতে লাগলেন, কমলাক্ষ কখনও মনুষ‍্য নহেন, নিশ্চয়ই কোন দেব অবতার ; মানুষে কি কখনও এ রকম সর্ব সাধারণের অন্তর আকর্ষণ করতে পারে বা এ রকম পান্ডিত‍্য সম্ভবপর হতে পারে? কুবের আচার্য‍্য ধন‍্য, বহু জন্মের পুণ‍্য ও তপস‍্যার ফলে এইরকম পুত্র পেয়েছেন। নিশ্চয়ই এই পুত্র হতে দেশ উদ্ধার হবে। তখন কমলাক্ষের বয়স কত! এইই চোদ্দ বছর হবে।এই অল্প বয়সে সর্বশাস্ত্রে পারদর্শী হয়েছেন।*
*🍀একদিন কুবের পন্ডিত কমলাক্ষকে বললেন,আমার বতর্মান বয়স উননব্বই হয়েছে,হয়ত আর বেশীদিন এ জগতে থাকব না, আমরা পরলোকে গমন করলে গয়াতীর্থে শ্রীগদাধরের পাদপদ্মে পিন্ডদান করিও।এর অল্পদিন পরেই কুবের পন্ডিত বৈকুন্ঠে গমন করলেন। পিতৃভক্ত কমলাক্ষ পিতৃবিয়োগে কাতর হলে জ্ঞানবতী মা নাভিদেবী তাঁকে নানারকম সান্ত্বনা দিয়ে শান্ত করলেন।কুবের পন্ডিতের মৃতদেহ শ্মশানে এনে চিতায় দিয়ে দাহ করতে লাগলেন।ধূ ধূ শব্দে চিতা জ্বলছে, হঠাৎ নাভাদেবী সেই জ্বলন্ত চিতায় গিয়ে শুয়ে পড়লন। পতিব্রতা নাভাদেবী কুবের পন্ডিতের সঙ্গে সহমৃতা হলেন।কমলাক্ষ একেবারেই অধীর হয়ে পিতামাতার বিয়োগে কাতর হয়ে কাঁদতে লাগলেন।*
*🔵মতান্তরে ঃ---,চর্মচক্ষুর অপ্রত‍্যক্ষ শূন‍্যচর এক দিব‍্য পুষ্পক রথ আগমন করল ; পুণ‍্যবান ভক্তদম্পতি সেই রথে আরোহণ করে বৈকুন্ঠধামে গমন করলেন।তখন কমলাক্ষ উচ্চৈঃস্বরে হরিধ্বনি করতে লাগলেন।কমলাক্ষ বিবেকবলে শোক সম্বরণ করে পিতামাতার পারলৌকিক কর্ম সম্পাদন করলেন।লৌকিক আচারে কমলাক্ষ খানিক শোক প্রকাশ করে শোক-দুঃখ-ভয়াতীত মহাপুরুষ আত্মপ্রকাশ আরম্ভ করলেন।তখন তিনি পরিপূর্ণ ভাবে সংসারে একা, তিনি একেশ্বর।তখন তাঁর বয়স পনের বৎসর মাত্র।*
*👣👣👣তীর্থ-পর্য‍্যটন👣👣👣*
  👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*কিছুদিন পরে পিতার আদেশ পালন করবার জন্য গয়াতীর্থ গমন লক্ষ্য করে তীর্থকে ধন‍্য করবার ও জীব উদ্ধারের জন্য কমলাক্ষ তীর্থ পর্য‍্যটনে বাহির হলেন। একাকী পদব্রজে কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করতে করতে প্রেমভরে চলতে লাগলেন।মুখে শ্রীকৃষ্ণনাম, ক্ষণে ক্ষণে ভাবাবেশে হুঙ্কার,দেহে কদম্ব কলিকার মত রোমাঞ্চ উদয় ইত্যাদি নানা সাত্ত্বিক ভাবসকল সেইসময়ে তাঁর শ্রীঅঙ্গে প্রকাশিত হতে লাগিল।কিছুদিন পরে তিনি শ্রীবিষ্ণুপাদতীর্থ গয়াধামে উপনীত হলেন।তাঁর ভাব-আদি দর্শনে সেখানকার ব্রাহ্মণগণ তাঁকে অত‍্যন্ত শ্রদ্ধা ও সমাদর করতে লাগলেন।কয়েকদিন সেখানে থাকবার পর গয়াসুর-মস্তকে স্থাপিত গদাধর-পদে পিন্ডদানাদি ও দানাদি করে ব্রাহ্মণগণের সন্তোষ বিধান করলেন।সেখান হতে নাভী গয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন।প্রেমোন্মত্তে কৃষ্ণনাম করতে করতে কিছুদিনে রেমুনায় উপস্থিত হলেন।সেখানে শ্রীগোপীনাথকে দেখে বিভোর হয়ে গেলেন।কখনও হাসছেন, কখনও কাঁদছেন, কখনও বা নৃত্য করতে করতে বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্য হলেন।বহুক্ষণ পরে বাহ‍্যজ্ঞান ফিরলে নানারকম স্তব স্তুতি করে শ্রীগোপীনাথকে প্রণাম করলেন।সেখান হতে নাভিগয়ায় গিয়ে পিন্ডাদি দান করে পুরীধাম অভিমুখে যাত্রা করলেন।*
*🌻শ্রীক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করে শ্রীজগন্নাথদেব,বলদেব ও সুভদ্রার শ্রীমূর্তি দর্শন করে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।কিছুক্ষণ পরে চেতন পেয়ে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম ও নানারকমে স্তবস্তুতি করতে লাগলেন। মূর্ছিত হবার কারণ, শ্রীজগন্নাথকে শ্রীকৃষ্ণরূপে দর্শন করে পুনঃ পুনঃ "হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ " বলে পুনরায় মূর্ছিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।বহুক্ষণ পরে চেতনা পেয়ে হুঙ্কার করে বলে উঠলেন, "পাইনু শ্রীকৃষ্ণধন পুনঃ কোথা গেল!" তারপর উদন্ড নৃত্য,হাসি ও কান্নাকাটি করতে করতে দিনরাত্রি অতিবাহিত হল।সকাল হলে বাহ‍্যজ্ঞান লাভ হল।তারপর একটা বাসাবাড়ী ঠিক করে, প্রাতঃকৃত‍্যাদি সম্পন্ন করে সমুদ্র স্নান করে শ্রীজগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ সেবা করিলেন।সেখানে কিছুদিন থেকে সেখানকার সব তীর্থ প্রেমানন্দে দর্শন করেন।প্রত‍্যহ শ্রীজগন্নাথ দর্শন, সমুদ্র স্নান ও মহাপ্রসাদ সেবনে পরমানন্দ লাভ করলেন।*
*🌺শ্রীজগন্নাথদেবের আজ্ঞা ভিক্ষা করে কমলাক্ষ দক্ষিণের তীর্থগুলোকে  ধন‍্য করবার জন্য যাত্রা করলেন।প্রেমানন্দে দিকবিদিক জ্ঞান নেই,সুরামত্তের মত ঢলতে ঢলতে মন্থর গতিতে যদৃচ্ছাক্রমে (নিজের মত করে) উচ্চৈঃস্বরে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে করতে চললেন।গোদাবরী,কাবেরী,শিবকাঞ্চী, বিষ্ণুকাঞ্চী, পাপনাশন,দক্ষিণ মথুরা প্রভৃতি দক্ষিণের যত তীর্থ আছে সব জায়গায় নৃত্য-গীতাদি করে বিহ্বল হয়ে সব তীর্থ দেখলেন।বহুদিনের পরে সেতুবন্ধে উপনীত হয়ে শ্রীরামচন্দ্রের স্মৃতিতে মূর্ছিত হয়ে অনেকক্ষণ নাচ-গানাদি ও স্তব বন্দনাদি করলেন।ধনুতীর্থে গিয়ে স্নানাদি করলেন।রামেশ্বর-শিব দর্শন করে সেখানেও নৃত্য গীত স্তব ও বন্দনাদি করলেন।কয়েকদিন সেখানে থেকে রামভক্তের কাছে শ্রীরামায়ণ শুনে প্রেমানন্দে বিভোর হলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৭)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
         *তীর্থ-----------পর্য‍্যটন*
         **********************
*🍀রামেশ্বর হতে কমলাক্ষ দক্ষিণ কর্ণাটকে শ্রীমাধ্বাচার্য‍্য আশ্রমে উপনীত হলেন।সেখানে মাধ্বী সম্প্রদায়ী সাধুগণ নিরন্তর(সবসময়) ভক্তিশাস্ত্র আলোচনা করেন।তাঁদের মুখে ভক্তিযোগের ব‍্যাখ‍্যা শুনে কমলাক্ষ পরম আনন্দিত হলেন।অন‍্যান‍্য তীর্থে ভক্তিযোগের ব‍্যাখ‍্যা কোথাও শুনতে না পেয়ে বড়ই ব‍্যথিত হয়ে তীর্থাদি ভ্রমণ করছিলেন।এখানে এসে ভক্তিযোগের ব‍্যাখ‍্যা শুনে প্রেমানন্দে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। সেখানে প্রেমতনুময় শ্রীল মাধবেন্দ্রপুরীপাদ বাস করছিলেন।তিনি কমলাক্ষের ভাব ও প্রেমোদয়ের লক্ষণ দেখে বুঝলেন--,ইনি মহাভাগবত বা কোনও ভাগবত অবতার হবেন,নচেৎ এ রকম প্রেম মানুষে অসম্ভব।তখন সকলে মিলে উচ্চৈঃস্বরে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ কৃষ্ণনাম করবার পর কমলাক্ষ হুঙ্কার করে উঠে উদ্দন্ড নৃত্য সহকারে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে লাগলেন।তাঁর অপূর্ব প্রেমাবেশ দেখে শ্রীপাদ মাধবেন্দ্র পুরী তাঁকে কোলে করে উভয়ে পুনরায় মূর্ছিত হলেন।ভক্তগণ বহুক্ষণ উচ্চৈঃস্বরে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে করতে উভয়ের বাহ‍্যজ্ঞান লাভ হল।বহুক্ষণ ইষ্টগোষ্ঠী হল।উভয়ের মিলনে যে কি অপূর্ব আনন্দ হ'ল তা বর্ণনাতীত। কিছুদিন কমলাক্ষ সেখানে বাস করে উভয়ের মধ্যে কৃষ্ণকথা আলোচনা হতে থাকল। উভয়ই বললেন জগৎ ব‍্যবহার রসে প্রমত্ত।অর্থ‍্যাৎ নিজ নিজ কর্মে ব‍্যস্ত, কৃষ্ণনাম, কৃষ্ণকথা তাদের মুখে শুনতে পালাম না।কৃষ্ণনাম কৃষ্ণপ্রেম কোথাও শুনা বা দেখা যায় না ; কি ভাবে এই অজ্ঞ দুর্গত জীবের উদ্ধার হবে?উভয়েই পরদুঃখে দুঃখী জীববান্ধব মহাভাগবত।উভয়ের কোমল হৃদয়ে ব‍্যথা অনুভব হতে লাগিল।তখন কমলাক্ষ বললেন,এই দুর্গতি কোন দেব বা মানুষের সাধ‍্য নাই। আমার প্রভু যদি নিজে এসে উদ্ধার করেন তবেই মঙ্গল নচেৎ আর কোন উপায় দেখছি না।কেউ কাউকেও ছাড়ছেন না, সর্বক্ষণ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও ইষ্টগোষ্ঠীতে কয়েকদিন কাটল।একদিন সকালবেলা কমলাক্ষ শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীকে প্রণাম করে আশ্রম হতে বিদায় নিলেন।যদিও উভয়ের বিচ্ছেদ অসহনীয় তথাপি শ্রীভগবদিচ্ছায় ভগবদ্ কাজে বিদায় নিতে হল।বিদায়কালে উভয়ে উভয়কে আলিঙ্গন করে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন প্রায়।কিছুক্ষণ পরে বাহ‍্যজ্ঞান লাভ করে শ্রীপাদপুরী গোস্বামীর পদধূলি মস্তকে ধারণ করে কমলাক্ষ অন‍্য তীর্থ পবিত্র করতে চললেন।কুবের তনয় সেখান হতে নানা তীর্থ দর্শন করতে করতে দন্ডকারণ‍্য এবং সেখান হতে নাসিকাদি তীর্থ দর্শন করে দ্বারকা অভিমুখে যাত্রা করলেন। শ্রীলক্ষ্মী বাসুদেবকে প্রণাম,বন্দনা ও নৃত্য-গীতাদি করলেন।সেখান থেকে প্রভাস,পুষ্করাদি,কুরুক্ষেত্র,হরিদ্বার প্রভৃতি ভ্রমণ করে বদরিকাশ্রমে নরনারায়ণ, ব‍্যাসদেব দর্শন করে প্রেমাবেশে অনেকক্ষণ নৃত্যকীর্তন, স্তবস্তুতি করে গোমুখী তীর্থে উপস্থিত হলেন।তথা হ'তে গন্ডকী শালগ্রাম ক্ষেত্রে গিয়ে সেখান হতে সর্ব সুলক্ষণযুক্ত এক শালগ্রাম শিলা নিয়ে মিথিলা যাত্রা করলেন।*
*মিথলায় জনকনন্দিনী সীতাদেবীর আবির্ভাব স্থান দর্শন করে  সেখানকার ধূলিতে গড়াগড়ি দিয়ে প্রেমাবিষ্ট হলেন, সময়টি ১৩৭২ শকে।মিথিলায় থাকাকালীন একদিন হঠাৎ মধুময় সুললিত কৃষ্ণগুণ গান ধ্বনি শুনতে পেলেন। তিনি ব‍্যগ্র ভাবে স্বর লক্ষ্য করে গমন করলেন।কিছুদূর গিয়ে দেখলেন, এক ব্রাহ্মণ বটবৃক্ষতলে বসে আছেন এবং সুমধুর কৃষ্ণগুণ কীর্তন করছেন।শ্রীকৃষ্ণরূপের অপূর্ব বর্ণন শুনে, কৃষ্ণগতপ্রাণ কমলাক্ষ প্রেমাবেশে সেই ব্রাহ্মণকে গাঢ় আলিঙ্গন করে শক্তিসঞ্চার-করে প্রেমদান করলেন। পরশমণির স্পর্শে যেমন লোহা সোনাই পরিণত হয়,তদ্রূপ অদ্বৈতাচার্য‍্যের আলিঙ্গনে ব্রাহ্মণ প্রেমময় হয়ে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।জ্ঞান লাভ করে তাঁর অপূর্ব শক্তির পরিচয় পেয়ে কমলাক্ষের শ্রীচরণযুগল ধারণ করলেন ও তাঁকে মহাভাগবতজ্ঞানে বন্দধা করলেন। অদ্বৈতাচার্য‍্য বিষ্ণু স্মরণ করে ব্রাহ্মণের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন।ব্রাহ্মণ বললেন, আমার নাম "বিদ‍্যাপতি", রাজান্ন পালিত,সাধুর আলাপের অযোগ‍্য, আমি ঘোর বিষয়ী। শ্রীকমলাক্ষ পুনঃ জিজ্ঞাসা করলেন,এই গীত বা কৃষ্ণকীর্তন কার রচিত?বিদ‍্যাপতি বললেন,আমিই বাতুলতা প্রকাশ করে এই গীত রচনা করেছি ; আপনি সারগ্রাহী (রসজ্ঞ) সাধু,তাতেই এই গানটি আপনার প্রীতিকর হয়েছে।কমলাক্ষ বললেন, এমন বর্ণন ও সুমিষ্ট স্বরালাপ আমি পূর্বে কখনও শুনি নাই।আমি সেই গানে আকৃষ্ট হয়ে এসেছি।বিদ‍্যাপতি বললেন--,আপনাকে কে আকৃষ্ট করতে পারে?আপনি নিজগুণে আমাকে কৃপা ও উদ্ধার করতে এসেছেন।শ্রীঅদ্বৈত বললেন,তোমার রচিত গীতামৃতে শ্রীকৃষ্ণ আকৃষ্ট হন, জীব আকৃষ্ট হবে,তাতে আর আশ্চর্য‍্য কি?এইরকম নানারকম কথাবার্তা হবার পর তিনি বিদ‍্যাপতিকে পুনরায় আলিঙ্গন করে সেখান হতে চলে গেলেন।বিদ‍্যাপতি বিরহে ভূমিতে পড়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৮)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
         *তীর্থ------------পর্য‍্যটন*
         ***********************
*🍀অনন্তর বহুদিনে অযোধ‍্যায় উপস্থিত হয়ে  পুলকভরে শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থানে প্রণাম করে রামচন্দ্রের লীলারসমাধুর্য‍্য স্মরণ করতে করতে উন্মত্ত হলেন এবং উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন।কিছুক্ষণ ক্রন্দনের পর "রাবণ বধ করো" বলে গর্জন করে উঠলেন এবং আবিষ্টচিত্তে শ্রীরামচন্দ্রের লীলা মাধুর্য‍্য চিন্তা করতে লাগলেন।বহুক্ষণ সেই ভাবে অতিবাহিত হলে পর তাঁর বাহ‍্য স্ফূর্তি হল।তখন সরযুনদীর জলে স্নান করে অন‍্যান‍্য শ্রীরামলীলার  স্থান সব দর্শন করলেন।*
*🍀সেখান হতে নাভা-নন্দন বারাণসীতে উপনীত হলেন। সেখানে মণিকর্ণিকার ঘাটে স্নান করে প্রথমে আদিকেশব তারপরে বিন্দুমাধব দরশন করলেন।বিন্দুমাধবের সামনে অনেকক্ষণ নৃত্যকীর্তন ও পুনঃ পুনঃ প্রণাম ও কৃতাঞ্জলীপুটে স্তব করতে লাগলেন। স্তুতির মর্ম এইরকম= "হে মাধব!হে হরি! আমি তোমার অসীম দয়া দেখে মুগ্ধ হয়েছি ; তুমি ভক্তবৎসল,বাঞ্জাকল্পতরু। তোমার দিব‍্যমূর্তি দেখে,যাঁরা এখানে দেহত‍্যাগ করে, তুমি সে সমস্ত জীবকে মুক্তি প্রদান করে নিত‍্যধামে প্রেরণ করে থাকো। তোমার সম‍্যক্ তত্ত্ব, ব্রহ্মা ও শিবের অজানা, আমি সামান্য জীব, আমি তার আর কি জানি? তোমার অনন্ত মহিমা; দেব মানব কেউই তার অন্ত জানে না।বিন্দুমাধব দর্শনের পর তিনি বিশ্বেশ্বর ও অন্নপূর্ণা দেখে, পূজা করে, দুইটি বাহু তুলে নৃত্য কীর্তন করলেন।কাশীতে তিনদিন থেকে সেখানকার বহু যোগী,সন্ন‍্যাসী ও অযাচক সাধুর কাছে ভক্তি মাহাত্ম্য কীর্তন করতে লাগলেন।তৃতীয় দিন রাত্রে শ্রীমাধবেন্দ্রপুরীপাদের শিষ‍্য শ্রীবজয়পুরীপাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল।তাঁর পূর্বাশ্রম শ্রীহট্টের নবগ্রামে নিবাস ছিল।ইঁনার পিতা নাভাদেবীর পিতৃ-পুরোহিত ছিলেন।পূর্ব পরিচিত এবং বর্তমানে শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর কৃপায় প্রেম লাভ করায় উভয়ের সম্মিলন বড়ই মধুর হল।সারারাত জাগরণ করে উভয়ে কৃষ্ণকথা আলাপনে অতিবাহিত করলেন।পরদিন সকালবেলা কুবেরতনয় প্রয়াগ যাত্রা করলেন। শ্রীমদ্ বীজয়পুরী কাশীতেই রইলেন।কমলাক্ষ কিছুদিনে প্রয়াগে উপনীত হয়ে সেখানকার দর্শনীয় জায়গা সব প্রেমানন্দে দর্শন ও সেখানকার কৃত‍্যাদি সমাপন করলেন। সেখানে অক্ষয়বট ও ভীমের গদা দেখে প্রেমানন্দে নৃত‍্যকীর্তন করলেন।*
*🌻শ্রীমথুরামন্ডল দর্শন= ☆বৃন্দাবনে কথোদিন কৃষ্ণে আরাধয়। (ভক্তিরত্নাকর ১২|১৭৭৩)। তারপরে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য প্রয়াগ হতে মথুরা যাত্রা করলেন।শ্রীকৃষ্ণলীলাক্ষেত্র শ্রীমথুরামন্ডলে তাঁর অসাধারণ প্রীতি। মথুরায় উপস্থিত হয়ে সর্বক্ষণ প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান ও লীলা স্থানাদি দেখলেন।তিনি কখনও মথুরার রজে গড়াগড়ি, ক্রন্দন,আবার কখনও হাসি, কখনও বা হুঙ্কার ইত্যাদি ভাবে বিহ্বল হয়ে পুলকিত অঙ্গে অশ্রুজলে স্নান হয়ে সব লীলাস্থান সন্দর্শন করলেন। মধ্যে মধ্যে হা কৃষ্ণ!হা মথুরানাথ!হা বাসুদেব!হা নন্দনন্দন!হা যশোদা-দুলাল!বলে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদছেন ও হুঙ্কার করতে করতে ব্রজমন্ডল পরিক্রমা করলেন।তাঁর এই প্রেমময় ভাব দেখে সকলেই তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হলেন।এইরকমে ব্রজমন্ডলের সব লীলাস্থান ক্রমে ক্রমে দেখলেন।*
*🍀ভ্রমণ করতে করতে মধুবনে উপস্থিত হলেন,তখন সেখানে এক বিদেশী ব্রাহ্মণ বাস করতেন।তিনি কিন্তু উগ্র-প্রকৃতি,পরুষভাষী বা কর্কশভাষী,পন্ডিতাভিমানী,তার্কিক, বিবাদপটু ও বৈষ্ণব বিদ্বেষী ছিলেন।একসময় সেই ব্রাহ্মণ শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের কাছে এসে বিষ্ণু-বৈষ্ণবের নিন্দা আরম্ভ করলেন।সেইকথা শুনে কমলাক্ষ ক্রোধে অধীর হয়ে বিষ্ণু-বৈষ্ণব নিন্দুকের শাস্তি দিবার জন্য চতুর্ভূজ ভৈরবমূর্তি ধারণ করে ভীষণ তর্জন-গর্জন ও হাতের আস্ফালন করে বললেন ; ওরে পাষন্ড!আজ তোর রক্ষে নেই ; আজ তোর শরীর শৃগাল-কুকুরের ভক্ষ‍্য হবে।তাঁর সেই ভয়ঙ্কর মূর্তি, মহারুদ্র তেজঃ, অগ্নিময় কথায় সেই ব্রাহ্মণ ভীষণ ভীত ও কম্পিত শরীরে কৃতাঞ্জলীপুটে তাঁর চরণের সামনে মাটিতে পড়ে নিজকৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করতে লাগল। এবং বলল,আমি খারাপ সঙ্গলাভে বহু বৈষ্ণব অপরাধ করেছি, আমার উপযুক্ত শাস্তি হওয়াই উচিৎ, আপনি কৃপা করে যথোচিত শাস্তি দিয়ে আমাকে শোধন করে অপরাধ মুক্ত করুন।এই কথাগুলি বলে অদ্বৈতাচার্য‍্যের অভয়চরণারবিন্দে শরণাগত হলেন।বৈষ্ণবের স্ব-ভাব ক্ষমা করা, করুণাময় কমলাক্ষ তার অনুতাপ অনুশোচনা দেখে তুষ্ট হয়ে কৃপা-করে বললেন, বিষ্ণুনিন্দা ও বৈষ্ণব অপরাধ অপেক্ষা জীবের আর বেশী সর্বনাশ পতন ও শাস্তি আর নাই। এক্ষণে জ্ঞানাভিমান,আভিজাত‍্য গৌরব উগ্রতা ও দম্ভাদি ত‍্যাগ করে অশিষ্টাচার,অসাধু-ব‍্যবহার হতে ক্ষান্ত হয়ে,শান্ত বিনীত,সহিষ্ণু ও মিষ্টভাষী হয়ে যে মুখে বিষ্ণু-বৈষ্ণবের নিন্দা করেছ, সবসময়ই দীনভাবে সেইমুখে বিষ্ণু-বৈষ্ণবের গুণকীর্তন ও মাহাত্ম্য কীর্তন করো।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৯)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
  *শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের তীর্থ পর্য‍্যটন*
   ******************************
*🍀সেই বিদেশী উগ্র-প্রকৃতি ব্রাহ্মণকে বললেন, যাঁদের কাছে অপরাধ করেছ তাঁদের শ্রীচরণে ধরে কাকুতি-মিনতিবাক‍্যে করে ক্ষমা প্রার্থনা করো ও তাঁদের প্রসন্ন করতে সদাসর্বদা মুখে হরিনাম কীর্তন করো এবং সর্বদা ভক্তি-শাস্ত্র আলোচনা ও তার বিধান মত আচরণ করো।বহুদিন এইরকমে দৈন‍্যভাবে সকলের প্রীতিবিধান করলে তাঁরা প্রসন্ন হলে তোমার অপরাধ ক্ষয় হবে।তখন তাঁদের কৃপায় ভক্তিলাভ অধিকার হবে।হ‍্যাঁ, মনে রেখ, আর কখনও ভুলেও যেন বিষ্ণু-বৈষ্ণবের নিন্দাদি করিও না।এইরকম হিত উপদেশ দিয়ে অদ্বৈতাচার্য‍্য চলে গেলেন।তারপর হতে সেই ব্রাহ্মণের চরিত্র একেবারে পরিবর্তন হয়ে গেল।শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর কৃপার-মাহাত্ম‍্য লোকে জানতে পারল।সেখান থেকে কমলাক্ষ বৃন্দাবন গমন করলেন, বৃন্দাবনে প্রবেশ মাত্র তাঁর অদ্ভূত প্রেমবিকার হল।কিছুক্ষণে বাহ‍্যজ্ঞান হলে পাগলের মত শ্রীকৃষ্ণকে খোঁজ করতে লাগলেন।কখনও মূর্ছা,কখনও কান্না, কখন বা হুঙ্কার করতে করতে বৃন্দাবনে ভ্রমণ করতে লাগলেন। তিনি তালবন,কুমুদবন,বহুলাবন, গোবর্দ্ধন পরিক্রমা সেখানে হরিদের দর্শন,মানস গঙ্গায় স্নান ও দানঘাট দর্শন করে কাম‍্যবনে গমন করলেন। কাম‍্যবনে বিমলাকুন্ডে স্নান ও সেখানকার বালকদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা খেললেন।সেখান হতে বর্ষাণা,নন্দগ্রাম,জাবট, খদিরবন, রামঘাট,গোপীঘাট, অক্ষয়বট,ও চীরঘাট দেখে বিশ্রাম করবার জন্য একটি কদম্ববৃক্ষের তলে বসে পড়লেন।বেশ কয়েক ঘন্টা বিশ্রাম করে সেখান থেকে ভদ্রবন, বিল্ববন ও ভান্ডীরবন দেখে সেখানকার বেশ কিছু বালকের সঙ্গে অনেকক্ষণ পর্যন্ত খেলা করলেন।তারপরে লৌহবন, মানস-সরোবর তথা হতে "শ্রীরাধার জন্মস্থান" রাওল দর্শন করে মহাবনে যমলার্জ্জুন ভঞ্জন, পূতনার খাত,গোপকূপ দেখে ব্রহ্মান্ডঘাটে কিঞ্চিৎ মাটি ভক্ষণ করলেন।শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলার সমস্ত জায়গা দেখে মনে ভীষণ ভীষণ আনন্দ লাভ করলেন।ঐসব দেখে যমুনাতীরে গিয়ে বসিলেন।এমন সময়ে কাম‍্যবনবাসী "কৃষ্ণদাস" নামক কিশোর বয়স্ক ভক্তিমান ব্রাহ্মণপুত্র এসে তাঁর কাছে ভক্তিশাস্ত্র অধ‍্যয়নের জন্য প্রার্থনা করলেন।তার আকৃতি প্রকৃতি হাব-ভাব ও সুলক্ষণাদি দেখে তাঁর প্রার্থনায় রাজী হয়ে তাঁকে সঙ্গে রাখলেন।*
*🙏🙏শ্রীমদনগোপাল প্রকটন🙏🙏*
*🌹একসময় শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলাস্থান দেখার পর যমুনাতীরের কাছে এক বটবৃক্ষতলে বসে তার শীতল ছায়ায় সারাদিনের পথ পরিশ্রম করা শরীর তিনি বিশ্রাম করছেন।সেই বটবৃক্ষের এত সুন্দর শোভায় আকৃষ্ট হয়ে সেরাত্রি সেখানেই যাপন করলেন।সন্ধ‍্যার সময় এক ব্রজবাসী কিছু আহার্য‍্য এনে দিলেন,তা আহার করে শয়ন করলেন।পথশ্রম যুক্ত শরীর,গাঢ়নিদ্রায় ডুবে গেলেন।রাত্রি তৃতীয় প্রহর অতীত হলে এক অপূর্ব স্বপ্ন দেখলেন, পরণে পীতাম্বর,মুরলী বদন,  শিখি পুচ্ছমৌলী,নবীন নীরদ কান্তি,নবনীত কোমল কলেবর, শ্রীনন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ,তাঁর কাছে এসে বলছেন,হে অদ্বৈত!তুমি আমার অঙ্গস্বরূপ, তুমি জীব উদ্ধারের জন্য জগতে আবির্ভূত হয়েছ। তুমি শ্রীকৃষ্ণনাম প্রচার ও লুপ্ততীর্থ উদ্ধার করো।মদনমোহন নামে আমার এক মণিময় মনোহর মূর্তি,যমুনার তীরে দ্বাদশাদিত‍্য-কুঞ্জবনের মধ্যে অল্প মাটির চাপা পড়ে আছি।যবন-ভয়ে সেবক ঐ জায়গায় লুকিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে।সেই অবধি সেইখানে গুপ্তভাবে আছি। তুমি গ্রামের লোক নিয়ে এসে তা প্রকটিত করে অভিষেকাদি করে পুনঃ সেবার ব‍্যবস্থা করো।ব্রজবাসীগণ তোমায় সব বিষয়ে সাহায্য করবেন ও তাঁরা সেবার ভার নিবেন। এই কথাগলি বলে শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র অন্তর্হিত হলেন। অদ্বৈতাচার্য‍্যের ঘুম ভাঙ্গল। তিনি শ্রীকৃষ্ণের অদর্শনে বিলাপ করে কাঁদতে লাগলেন।কিছুক্ষণ পরে চিত্ত স্থির করে আদেশ-পালনে তৎপর হলেন। তিনি সকালবেলা স্নান করে প্রেমযোগে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে করতে গ্রামবাসীগণকে একত্রিত করে শ্রীমদনগোপাল প্রকটনের জন্য সকলকে তাড়াতাড়ি আসতে বললেন।গ্রামবাসীগণ মহানন্দে কোদাল,কুড়ুল,প্রভৃতি জিনিস নিয়ে অদ্বৈত প্রভুর সঙ্গে দ্বাদশাদিত‍্য-কুঞ্জ মধ্যে গিয়ে ভীষণ জঙ্গল কেটে পরিস্কার করে অল্প মাটিরতলে সেই অপূর্ব শ্রীমূর্তি প্রকাশ করলেন।সকলে মহানন্দে হরিধ্বনি করে সেই শ্রীমূর্তির অভিষেকাদি করলেন।বটবৃক্ষতলে ব্রজবাসীগণ লতা-তৃণাদি দ্বারা একটি কুটির নির্মাণ করে সেখানে সেবা পূজার ব‍্যবস্থা করলেন।একজন সদাচারসম্পন্ন কৃষ্ণভক্তকে সেই মদনগোপালের সেবায় নিযুক্ত করলেন।যথারীতি সেবা পূজা চলতে লাগিল।ইতিমধ‍্যে কতকগুলো দুষ্টবুদ্ধি মুসলমান হিংসা করে সেই শ্রীমূর্তি ভাঙ্গবার উদ্দেশ্যে মন্দিরে গিয়ে দেখল, মন্দিরে শ্রীমূর্তি নাই।তারা হতাশ হয়ে ফিরে গেল।যথা সময়ে সেবক পূজা করতে এসে দেখেন শ্রীবিগ্রহ মন্দিরে নাই।তখন কমলাক্ষ বৃন্দাবন পরিক্রমায় গিয়েছিলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২০)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
    *অদ্বৈতাচার্য‍্যের তীর্থ পর্য‍্যটন*
     ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*☘সেবক ভাবলেই আমার অপরাধেই শ্রীবিগ্রহ অন্তর্হিত হয়েছেন।উক্ত শ্রীবিগ্রহ যে কমলাক্ষের প্রাণস্বরূপ, তিনি এসে যে কত মর্মান্তিক দুঃখ পাবেন,তার পরিমাণ নাই।এই ভেবে সেবক আহারাদি ত‍্যাগ করে কেবল কাঁদতে লাগলেন।অদ্বৈতাচার্য‍্য ফিরে এসে উক্ত ব‍্যাপারে মর্মান্তিক দুঃখ পেয়ে রোদন করতে করতে দিনাতিপাত করলেন।ভাবলের শ্রীকৃষ্ণ কৃপাকরে আমাকে কৃতার্থ করতে এসেছিলেন, কিন্তু আমার অপরাধ ফলে তিনি শ্রীবিগ্রহ চলে গেলেন।সেদিন উপবাস করে সেই বটবৃক্ষতলে ঘুমিয়ে রইলেন।শ্রীমদনমোহনের বিরহে বিষণ্ণচিত্তে ঘুমিয়ে রইলেন।নিদ্রা নাই,সারারাত্রি কেবল কেঁদে কেঁদে শেষরাত্রে একটু নিদ্রাবেশ হলে স্বপ্ন দেখলেন, মদনমোহন হাসিমুখে মধুর কথায় বলছেন, অদ্বৈত!চিন্তা করিও না, আমি তোমাকে কি ত‍্যাগ করতে পারি! ম্নেচ্ছভয়ে গোপাল হয়ে পুষ্পের ভিতরে গুপ্তভাবে রয়েছি।সেরূপে আমি আর কাউকেও দেখা দিব না ; কেবল তোমার ভক্তি প্রেমের চোখে আমাকে দেখতে পাবে।তুমি স্নান করে এসে মন্দিরে প্রবেশ করো।তোমাকে দেখা দিয়ে পূর্বরূপ পরিগ্রহ করব।এই স্বপ্ন দেখে নিদ্রা ভঙ্গ হল।তিনি ব‍্যাকুল হয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে দেখলেন পুষ্পমধ‍্যে অনুপম মাধুরীময় শ্রীগোপালমূরতি বিরাজিত।তাঁর দর্শনে তাঁর শ্রীঅঙ্গে অষ্টসাত্ত্বিক বিকার প্রকাশিত হল, তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।কিছুক্ষণ পরে বাহ‍্যজ্ঞান লাভ করে ফল ও জল ভোগ দিয়ে প্রসাদ পেয়ে শয়ন করলেন।সকালবেলা শ্রীঅদ্বৈত যমুনায় স্নান করতে গিয়ে সেই সেবককে দেখে বললেন,যাও সত্বর ঠাকুরের সেবা করো।মদনগোপাল নামে পূজা করিও।পূজারি বললেন, শ্রীবিগ্রহ তো শ্রীমন্দিরে নাই, কার পূজো করব?অদ্বৈতাচার্য‍্য বললেন, ভগবান কখনও সেবককে ত‍্যাগ করতে পারেন না ; মন্দিরে গিয়ে দেখ, ঠাকুর আছেন। পূজারি অবাক হয়ে মন্দিরে গিয়ে দেখলেন, ঠাকুর যথাস্থানে শয়ন করে আছেন।তাঁর দর্শনে ব্রাহ্মণের আনন্দ ও আশ্চর্য‍্য হলেন।তিনি কিছুক্ষণ জোড়হাতে দাঁড়িয়ে রইলেন, পরে ভক্তিভরে প্রণাম ও বহু স্তব স্তুতি করে শ্রীবিগ্রহকে প্রেমভরে পূজা করলেন। সেইসময় হতে শ্রীমদনমোহন বিগ্রহের শ্রীমদনগোপাল নাম হল।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য পরমানন্দ শ্রীমদনগোপালের সেবায় নিযুক্ত রইলেন।ব্রজবাসীগণ সেবায় সহায়তা করতে লাগলেন। কিছুদিন পরে একদিন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য স্বপ্ন দেখলেন, শ্রীমদনগোপাল আদেশ করছেন,হে অদ্বৈত!আর তোমার এখানে থাকবার প্রয়োজন নাই ; তুমি শান্তিপুরে গমন করো, সেখানে শুদ্ধভক্তি প্রচার করতে হবে। আর দেরী করিও না, ব্রজবসীগণের উপর সেবাভার অর্পণ করে তুমি তাড়াতাড়ি চলে যাও।সেই স্বপ্ন দেখে শ্রীঅদ্বৈত ব্রজবাসীগণকে শ্রীমদনগোপালের সেবাভার অর্পণ করে শ্রীবিগ্রহের এক আলেখ‍্য (চিত্রপট)প্রস্তুত করে পরম যত্নে তা নিয়ে শান্তিপুর অভিমুখে যাত্রা করলেন।কাম‍্যবনের কৃষ্ণদাস তাঁর সঙ্গে চললেন।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের স্মৃতিস্বরূপে সেই অদ্বৈত-বট অদ‍্যাপি শ্রীবৃন্দাবনে বিদ‍্যমান ও সেখানে সেই শ্রীবিগ্রহও সেবিত হচ্ছেন। প্রবাদ আছে শ্রীমদনগোপাল মথুরায় চৌবারিক ও শ্রীঅদ্বৈতপ্রভুকে স্বপ্নযোগে সেবা আদান প্রদানের ব‍্যবস্থা করেন।সেই মত সেই চৌবারিকের হাতে শ্রীঅদ্বৈত সেবা সমর্পণ করেছিলেন।শ্রীঅদ্বৈত বৃন্দাবন হতে নবগ্রাম যান, সেখান হতে শান্তিপুরে গমন করেন।শান্তিপুরবাসী শ্রীঅদ্বৈতকে পেয়ে হারানিধি ফিরে পেয়ে আনন্দে বিহ্বল হয়ে সর্বক্ষণ তাঁর সঙ্গাদি করতে লাগলেন।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






১১১ হইতে ১২০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html

  ✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১০১ হইতে ১১০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ১১১ হইতে ১২০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
     *পরম ভাগবদ্ রামানন্দ রায়*
    """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻কারণ প্রেমসাগরের অধিপতি শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রেমসাগরে ডুবতে জানেন,ডুবাতেও জানেন,ভাসতেও জানেন ও ভাসাতেও জানেন।এইভাবে কৃষ্ণ প্রেমের সঞ্জীবনী সুধাপান করে রামরায় আর মায়ামুগ্ধ মানুষ রইলেন না, তিনি অধীর আগ্রহে দিন কাটাতে লাগলেন যে কবে তাঁর আরাধ‍্য দেবতা আবার বিদ‍্যানগরে ফিরে আসিবেন।এমন সময় প্রায় দুই বৎসর বাদে হঠাৎ তাঁর বিরহ বিষাদ অন্ধকার হৃদয়ে যেন নবারুণ (নূতন সূর্য‍্যের) কিরণপাতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠিল এবং তাঁর যেন মনে হল এইবার পূর্ণিমার পূর্ণ শশী আবার বিদ‍্যানগরের আকাশে উদিত হবেন। কার্য‍্যত তা সত‍্যে পরিণত হল কারণ প্রকৃত ভক্তের বিরহ স্বয়ং ভগবানকেও সমানভাবে পীড়া দেয়।ভক্ত যখন বিরহ অনলে জ্বলতে পুড়তে থাকেন তখন কৃপাময় ভগবান আর ধৈর্য‍্য ধরে থাকতে পারেন না। তখন তিনি এসে তাঁকে শান্ত করেন এবং এক্ষেত্রেও রামরায় তাঁর হৃদয় বল্লভকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন এবং প্রেমালিঙ্গন দানে উভয়ে বাহ‍্যজ্ঞান শূন‍্য হয়ে গেলেন, বিগলিত অশ্রুধারায় মাটি যেন কর্দমাক্ত হয়ে উঠিল।অনেক পরে কিঞ্চিৎ ধৈর্য‍্য ধরে উভয়ে ভ্রমণ বৃত্তান্ত প্রসঙ্গ করলেন, যথা=*
*🌷সপ্ত গোদাবরী দেখি তীর্থ বহুতর।*
*🌷পুনরপি আইলা প্রভু বিদ‍্যানগর।।*
*🌷রামানন্দ রায় শোনি প্রভুর আগমন।*
*🌷আনন্দে আসিয়া কৈল প্রভুর মিলন।।*
*🌷দন্ডবৎ হৈয়া পড়ে প্রভুর চরণ ধরিয়া।*
*🌷আলিঙ্গন করে প্রভু তাঁরে উঠাইয়া।।*
*🌷দুই জনে প্রেমাবেশে করয়ে ক্রন্দন।*
*🌷প্রেমাবেশে শিথিল হইল দু'জনার মন।।*
*🍀এই প্রত‍্যাবর্তন কালে মহাপ্রভু সাতদিন বিদ‍্যানগরে থেকে রামরায়ের ব‍্যথিত হৃদয়কে শান্তিদান করেন এবং এই সময় তিনি দুইটি অমূল‍্য গ্রন্থ রামরায়কে দেখান, যা তিনি পরিব্রাজন কালে পেয়েছিলেন, এই গ্রন্থ দুইটির নাম=ব্রহ্ম সংহিতা ও শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত।উভয়ে এই দুই গ্রন্থ পাঠ করে অনেক রস আস্বাদন করেন এবং রামরায় এই গ্রন্থদ্বয়ের সম্পূর্ণ হৃদয়ে গ্রথিত করে লন।অতঃপর মহাপ্রভু সাতদিন অতিক্রান্ত হবার পর  বললেন যে নীলাচলচন্দ্রের দর্শনের জন্য তাঁর চিত্ত অতীব ব‍্যাকুল হয়েছে  এবং সেজন‍্য তিনি পুরীধামের প্রত‍্যাগমন করতে চাহেন।রামরায় আর বাধা সৃষ্টি সৃষ্টি করলেন না এবং বললেন যে ইত‍্যবসরে তিনি রাজা প্রতাপরুদ্রকে তাঁর মনোভাব ব‍্যক্ত করে এই রাজকার্য‍্য হতে অব‍্যাহতির জন্য অনুমতি ভিক্ষা করেছিলেন এবং ভক্তবৎসল রাজা তাতে স্বীকৃত হয়েছেন এবং তিনি শীঘ্রই নীলাচলে তাঁর সঙ্গে মিলিত হবেন। শ্রীচরিতামৃতে পাওয়া যায় =*
*🌷রামানন্দ কহে গোসাঞী তোমার আজ্ঞা পাইয়া।*
*🌷রাজাকে লিখিনু আমি বিনতি করিয়া।।*
*🌷রাজা মোরে আজ্ঞা দিলা নীলাচল যাইতে।*
*🌷চলিবার সজ্জা আমি লাগিয়াছি করিতে।।*
*🌷প্রভু কহে হেথা মোর এ নিমিত্ত আগমন।*
*🌷তোমা লইয়া নীলাচলে করিব গমন।।*

*অতঃপর মহাপ্রভু নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন করলেন এবং তার কিছুদিনের মধ্যেই রামরায় ঐশ্বর্য‍্য ভোগ-বিলাস পরিত‍্যাগ করে কটকে এসে সর্বপ্রথম রাজদর্শন করে পরে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পুরীধামে আগমন করলেন এবং এই প্রসঙ্গে শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷হেনকালে প্রতাপরুদ্র পুরুষোত্তমে আইলা।।*
*🌷রামানন্দ রায় আইল গজপতি সঙ্গে।*
*🌷প্রথমেই প্রভুরে আসি মিলিলেন রঙ্গে।।*
*🌷রায় প্রণতি কৈল,প্রভু কৈল আলিঙ্গন।*
*🌷দুই জন প্রেমাবেশে করেন ক্রন্দন।।*
*🌷রায় সনে প্রভুর দেখি স্নেহ ব‍্যবহার।*
*🌷সব ভক্তগণ মনে হৈল চমৎকার।।*
*🌷রায় কহে তোমার আজ্ঞা রাজাকে কহিল।*
*🌷তোমার ইচ্ছায় রাজা মোরে বিষয় ছাড়াইল।।*
*🌷আমি কহিনু আমা হইতে না হয় বিষয়।*
*🌷চৈতন‍্য চরণে রহি যদি আজ্ঞা হয়।।*
*🌷তোমার নাম শুনি রাজা আনন্দিত হৈল।*
*🌷আসন হইতে উঠি মৌরে আলিঙ্গন কৈল।।*
*🌷তোমার নাম শুনি হইল মহা প্রেমাবেশ।*
*🌷মোর হাত ধরি কহে পিরীতি বিশেষ।।*
*🌷তোমার যে বর্ত্তন তুমি খাহ সে বর্ত্তনে।*
*🌷নিশ্চিন্ত হইয়া সেব প্রভুর চরণে।।*
*🍀শুধু রাজকার্য‍্য হতে অব‍্যাহতি দান করেই রাজা ক্ষান্ত হলেন না, তাঁর সাংসারিক ভরণ পোষণের জন্য যাতে কোন অর্থকষ্ট না হয় সেজন্য মহানুভব মহাভক্ত রাজা প্রতাপরুদ্র, সেই বিদ‍্যানগরের জমিদারীর সব রাজস্ব তাঁকে দান করলেন, যাতে সাংসারিক জীবনে তাঁর কোন অসুবিধা ভোগ না করতে হয়।ধন‍্য রাজা প্রতাপরুদ্র, তোম মত গৌরভক্ত বা ভগবদ্ ভক্ত রাজাই আমাদের হিন্দুধর্মের আদর্শ বজায় রেখেছেন।এইভাবে রামরায় চিরতরে মহাপ্রভুর সঙ্গী হলেন এবং মহাপ্রভুর অপ্রকট কাল পর্যন্ত নিরলস ভাবে গম্ভীরার নির্জন কক্ষে বসে কৃষ্ণকথার ইষ্টগোষ্ঠী করে মহাপ্রভুর বিরহ ক্ষীণ্ণ হৃদয়কে শান্তি দান করেছিলেন।এটিই সংক্ষেপে এই মহাপুরুষের জীবনালেখ‍্য।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*ব্রহ্মা,ইন্দ্র,মুনিগণ,বাঞ্জে যাঁর শ্রীচরণ,*
   *ঊর্দ্ধমুখে যোগ মার্গে করিয়া সাধন।*
*তবু তারা নাহি পায়,সেই পরম আশ্রয়,*
    *সে চরণ সদা হৃদে রাখে গোপীগণ।।*
*ব্রজের গোপী বিনা আর,হেন ভাগ‍্য হয় কার,*
    *যাদের কৃষ্ণের বাহু কন্ঠেতে শোভিত।*
*নাহি পান লক্ষ্মী যাহা,গোপীগণ লভে তাহা,*
    *না যায় বর্ণন তারা ভাগ‍্যবতী কত।।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌹🌻🌻🌻🌻🌻🌻
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
    *রামানন্দ রায় ও শ্রীমন্মহাপ্রভু*
       *সাধ‍্য সাধনতত্ত্ব আলোচনা*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀মহাপ্রভু ব্রাহ্মণের গৃহে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন এবং রামরায় তার প্রসাদে ফিরে গেলেন।রামরায় তখন যেন মানুষ নন কৃষ্ণপ্রেমে পাগল এবং সন্ধ‍্যাকালে মহাপ্রভুর সঙ্গমানসে অধীর উৎকণ্ঠার সঙ্গে দিনটি কেটে গেল এবং সন্ধ‍্যার পর সেই ব্রাহ্মণের কুঠিরে এসে মহাপ্রভুর পদপ্রান্তে লুটিয়ে পড়লেন।মহাপ্রভুও তাঁর প্রিয় ভক্তকে আলিঙ্গন করে তপ্ত হৃদয় খানিকটা শীতল করলেন এবং বললেন রামরায় তোমার আশায় তৃষিত চকোরের মত সারাটি দিন বসে আছি কখন তুমি এসে আমার এই জ্ঞানশূন‍্য শুকনো হৃদয়কে কৃষ্ণকথা শুনিয়ে শান্তি দিবে এ বললেন=*
*🌷সাধ‍্যবস্তু সাধন বিনা কেহ নাহি পায়।*
*🌷কৃপা করি কহ রায় পাবার উপায়।।*
*🙏তখন শ্রীরামানন্দ রায় কহিলেন=*
*🌷আমি  নট  তুমি   সূত্রধর।*
*🌷যেমত নাচাহ তৈছে চাহি নাচিবার।।*
*🌷মোর জিহ্বা বীণাযন্ত্র তুমি বীণাধারী।*
*🌷তোমার মনে যেই উঠে তাহাই উচ্চারি।।*
*🌻এখানে একটি বিষয় খুবই লক্ষ্য করবার বস্তু।শাস্ত্রে যেখানে দুইজনের মধ্যে সংলাপ হয়, সেখানে জ‍্যেষ্ঠ বক্তা কনিষ্ঠ শ্রোতা।যেমন--, গুরুদেব বক্তা, শিষ‍্য শ্রোতা।শ্রীশুকদেব গোস্বামী বক্তা, মহারাজ পরীক্ষিত শ্রোতা, শ্রীকৃষ্ণ বক্তা,অর্জুন শ্রোতা। ধর্ম জগতে এটিই প্রচলিত পদ্ধতি। কিন্তু রামানন্দ রায় এবং মহাপ্রভুর সংলাপের মধ্যে এর বিপরীত দেখা যায়, এখানে রামানন্দ রায় বক্তা, আর পরমদয়াল মহাপ্রভু শ্রোতা। প্রয়াগে শ্রীপাদ রূপগোস্বামী এবং শ্রীমন্মহাপ্রভুর মধ্যে যে সাধ‍্যসাধন তত্ত্ব আলোচিত হয়েছিল, সেখানে কিন্তু মহাপ্রভু বক্তা,শ্রীরূপ শ্রোতা।কাশীতেও সেইরকম সনাতন শ্রোতা, মহাপ্রভু বক্তা।কিন্তু এখানে কনিষ্ঠ বক্তা, জ‍্যেষ্ঠ শ্রোতা অর্থ‍্যাৎ ভক্ত বলছেন আর ভগবান শুনছেন।যিনি সকলের তৃষ্ণা মেটান, তিনিই নিজেই তৃষ্ণাতুর।যিনি ভান্ডারী তিনিই ভিখারী। যিনি দাতা তিনিই গ্রহীতা।এ এক গভীর রহস‍্য।*
*🍀সাধ‍্য সাধন তত্ত্বটি অনেকাংশে আশ্রয় ও বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস‍্য আছে যা এই গ্রন্থের অন‍্যত্র দেওয়া হয়েছে।আশ্রয়ের মাধ‍্যমে ভক্ত যেরকম ধীরে ধীরে বিষয়তত্ত্বে পৌঁছাতে পারেন সেইরকম মানুষের জীবনে সর্ববিধ প্রচেষ্টার দ্বারা যে বস্তু বা ভাবকে সাধন করতে হবে তাই সাধ‍্য।সংসারের সব বস্তুই  জানতে বা অজানতে সাধ‍্য বস্তুর দিকে ছুটছে তা যার যে সাধ‍্য হোক না কেন? ভক্তি জগতেও সেইরকম সাধ‍্যতত্ত্বে না পৌঁছানো পর্যন্ত আপন স্বরূপে বা স্বভাবে স্থিতিলাভ করতে পারে না। সাধ‍্যতত্ত্বে না পৌঁছানো পর্যন্ত গতিশীলই থাকে।গিরিকন্দর হতে উচ্ছসিত জলধারা যখন পাহাড় হতে প্রবলবেগে প্রবাহিত হয়, তখন দুর্গম গতি এবং স্রোত দেখলে ভয়ে প্রাণ শিহরিয়ে উঠে, সে তখন উত্তাল তরঙ্গের সৃষ্টি করে ছুটে চলেছে তার সাধ‍্য বস্তুর দিকে।পরিশেষে যখন সে মহাসমুদ্রে এসে বিলীন হয়ে যায় তখন সে হয় শান্ত স্থির কারণ সে তার সাধ‍্য বস্তুকে পেয়ে গেছে।*
*🍁জমাট বরফ যেমন যতক্ষণ জল হতে না পারে ততক্ষণ গলতেই থাকে তখন সেই বিগলিত জলধারার একটা গতি থাকে  কিন্তু যখন সম্পূর্ণরূপে গলে যায় তখন শান্ত ও গতিহীন হয়ে যায়।আবার সেই বরফকে যদি কাঠের গুড়া চাপা দিয়ে আবদ্ধ জায়গায় রাখা হয়,তাহলে সেই বরফের গলতে অনেক সময় লাগে, সেইরকম মায়াবদ্ধ এই জীবের মন হাজার প্রকার কামনা বাসনায় আবৃত থাকে বলে সাধ‍্যবস্তু পাওয়ার পথে চলতে দেরী হয়। আবার সেই বরফকে যদি কাঠের গুড়ি সরিয়ে গরম জায়গায় রাখা যায় তাহলে তার গলনকে দ্রুততর করে দেয়, সেইরকম কামনা বাসনারূপ মালিন‍্য দ্বারা আচ্ছন্ন এই মনকে কি জাতীয় কৃষ্ণ অনুরাগের তাপ দিলে জীবকে অভিসারের পথে অর্থ‍্যাৎ সাধ‍্যের পথে দ্রুততরে নিয়ে যাওয়া যায় তাহাই সাধন।এই সমস্ত অতি গুহ‍্য তত্ত্বকথা আমাদের মত সাধারণ নগণ‍্য জীবের দ্বারা ব‍্যাখ‍্যা করা একেবারেই সম্ভব নয় এবং আশাকরি ভক্ত শ্রোতাগণ কিছুটা বুঝতে পেরেছেন যে মহাপ্রভু তাঁর প্রিয়ভক্ত রামরায়ের শ্রীমুখ হতে কৃষ্ণভক্তি বিষয়ক কি জাতীয় সাধ‍্যসাধন তত্ত্বকথা সব শুনতে চেয়েছিলেন।এককথায় রামরায়কে শক্তি সঞ্চার করে মহাপ্রভু রামরায় মহিমা জীব জগতে প্রচার করেছেন, কারণ ভক্তমুখে আস্বাদন করে ভগবান সুখ পান।মহাপ্রভুর প্রশ্নের উত্তরে রামরায় ধীরে ধীরে প্রসঙ্গ আরম্ভ করলেন।*
*(১)রামরায় সর্বপ্রথম "স্বধর্ম আচরণকে" সাধ‍্য বলিয়া উল্লেখ করলেন। শ্রীমদ্ ভাগবত গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান অর্জুনকে বলেছিলেন, "স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ"*। *মহাপ্রভু এর বিস্তারিত ব‍্যাখ‍্যা শুনলেন এবং বললেন রামরায়!ইহ বাহ‍্যকথা, আগে কহ আর।(ভক্ত পাঠকগণ কৃপা করে "সাংখ‍্য যোগের "৩১-৩২-৩৩ নম্বর শ্লোক এবং "কর্ম যোগের" ৩৫ নম্বর শ্লোকটি পাঠ করবেন।*
*(২)অতঃপর রামরায় বললেন "কৃষ্ণে কর্মার্পণ" হচ্ছে সাধ‍্য বস্তুর মধ্যে সার কথা, যে কথা গীতায় বলা আছে যে "যৎ করোষি,যদ্ অশ্নাষি" ইত্যাদি অর্থ‍্যাৎ হে অর্জুন! তুমি যা ইচ্ছা হয় করো, কিন্তু আমাকে স্মরণ করে তবে কোরো ইত্যাদি।এর বিস্তারিত ব‍্যাখ‍্যা শুনে মহাপ্রভু পুনরায় কহিলেন "রাম ইহ বাহ‍্য" আগে কহ আর। (কৃপা করে "রাজবিদ‍্যা রাজগুহ‍্য" যোগের ২৭ নম্বর শ্লোকটি পাঠ করবেন)।*
*(৩)মহাপ্রভুর মনের ভাব বুঝে রামরায় পুনরায় কহিলেন "স্বধর্ম ত‍্যাগ সর্বসাধ‍্যসার", যে কথা গীতায় বলা আছে যে "সর্ব ধর্মান পরিত‍্যজ‍্য মামেকর শরণং ব্রজ", ইত্যাদি অর্থ‍্যাৎ আগে বললেন কর্মফল অর্পণের কথা  কিন্তু এবার বললেন আত্মদানের কথা। (কৃপা করে  "মোক্ষ যোগের" ৬৬ নং শ্লোকটি পাঠ করবেন)।এর বিশদ আলোচনা শুনে, মহাপ্রভুর মনের ভাব বুঝতে পেরে রামরায় যেন গন্তব্যের দিকে ধীরে ধীরে একপা্ একপা্ করে অগ্রসর হতে লাগলেন এবং মহাপ্রভুও বললেন, রামরায়! ইহ বাহ‍্য, আগে কহ আর।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
*🌻🌻🌻উদ্ধবের প্রার্থনা🌻🌻🌻*
*ব্রজের মাঝে বিরাজিত,বৃক্ষ লতা আছে যত,*
    *কত পুণ‍্য তারা সবে করেছে অর্জন।*
*যদি কৃপা মোর প্রতি,এই কর বিশ্বপতি,*
    *বৃন্দাবনে করি যেন জনম গ্রহণ।।*
*ব্রজনারীগণ যবে,পথ ধরি চলি যাবে,*
   *পদধূলি অঙ্গে আমি করিব লেপন।*
*যাঁর চিন্তা অনুক্ষণ,করে যোগী ঋষিগণ,*
   *গোপী তাঁরে প্রেমডোরে করেছে বন্ধন।।*
*কহি উদ্ধব সবারে,ল'য়ে বিদায় এবারে,*
   *করিলেন তবে তিনি রথে আরোহণ।*
*নন্দ আদি গোপগণ,আনি নানা উপায়ন,*
   *অশ্রুপূর্ণ নেত্রে তারে করিল অর্পণ।।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🦚🌷🌷🌷🌷🌷🌷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
      *শ্রীরামানন্দ রায় ও মহাপ্রভু*
      *সাধ‍্য-সাধনতত্ত্ব আলোচনা*
                    *২*
*(৪)তখন রামরায় পুনরায় গীতার আশ্রয়ে বললেন, "জ্ঞানমিশ্র ভক্তিই সার সাধ‍্যবস্তু", এই বল "ব্রহ্মভূত প্রসন্নাত্মা ন শোচতি ন কাঙ্ক্ষতি" এই শ্লোকটির ব‍্যাখ‍্যা করলেন। অর্থ‍্যাৎ তিনিই একমাত্র শরণ‍্য,এই জ্ঞানলাভ হলেই শরণাগতি জাগবে। কিন্তু মহাপ্রভু সব শুনে কহিলেন, রাম! ইহ বাহ‍্য, আগে কহ আর "। (কৃপা করে  "মোক্ষ যোগের " ৫৪ নং শ্লোকটি পাঠ করবেন)।*
*(৫) এতক্ষণ রামানন্দ রায় গীতার আশ্রয়ে চলতেছিলেন কিন্তু মহাপ্রভুর মনোভাব বুঝে ভাবতে লাগলেন যে এখন কি বললে তিনি তুষ্ট হবেন।তখন তাঁর হঠাৎ মনে হল দেবর্ষি নারদ এবং মহর্ষি বেদব‍্যাসের সংলাপ প্রসঙ্গ।মহর্ষি বেদব‍্যাস গীতা মহাভারত ইত্যাদি সব গ্রন্থ রচনা করেও যেন মনে শান্তি পাচ্ছিলেন না। মন যেন অশান্ত,তখন দেবর্ষি নারদের কৃপায় তিনি শ্রীকৃষ্ণের লীলা মাহাত্ম্য রচনার জন্য শ্রীমদ্ ভাগবত প্রণয়ণে উদ‍্যোগী হন। সেই হিসাবে রামরায় এখন গীতার সর্বোচ্চ সিঁড়িতে উঠেও যখন মহাপ্রভুর তাপিত হৃদয় সুশীতল হল না,তখন শ্রীমদ্ভাগবতের দুয়ারে পদক্ষেপ করলেন এবং বললেন ঃ---*
*🌷জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তি সাধ‍্য সার।*
*🍀হঠাৎ শুনলে মনে হয় এ আবার কি বললেন? কিন্তু এর অন্তর্নিহিত অর্থ অন‍্যরকম। জ্ঞানশূন‍্যা অর্থ‍্যাৎ জ্ঞানের ক্রিয়াশূন‍্য। পূর্ণতায় পৌঁছলেই জ্ঞান ক্রিয়াহীন হয়।যেমনটি দেখা যায় কলসী জলপূর্ণ করবার সময়ে। যতক্ষণ জল পূর্ণ না হয় ততক্ষণ একরকম শব্দ করতে থাকে, কিন্তু জলে পরিপূর্ণ যখন হয়ে যায় তখন আর সে শব্দ থাকে না। সেইরকম জ্ঞান যতক্ষণ চরম ভূমিতে না যায়, ততক্ষণই তার অস্তিত্বের বা সত্ত্বার প্রকাশ থাকে। জ্ঞান আছে আমার, আমি জ্ঞানী,এটি যতক্ষণ বুঝতে পারা যাচ্ছে ততক্ষণ জ্ঞান চরম সীমায় পৌঁছয় না।অর্থ‍্যাৎ নিবিড়ভাবে জ্ঞানকে আত্মসাৎ করেই ভক্তি জ্ঞানশূন‍্য হবে।এত বেশী জানা যে না জানার তুল‍্য।কর্ম,কর্মার্পণ স্বভাব সৃষ্টি করে দিয়ে যেন বিদায় নিয়েছে,তারপর জ্ঞান এসেছে এবং জ্ঞান পূর্ণতায় পৌঁছিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়ে শ্রদ্ধাভক্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে দিচ্ছে।এখানে ঐশ্বর্য‍্য বুদ্ধি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত।*
*☘ভগবানকে ভগবান বলে যাঁরা ভক্তি করেন তারা যেন প্রতিবেশী এবং কৃষ্ণকে আপনজন বলে যাঁরা ভালবাসেন তাঁরা যেন ঘরের মানুষ।এই ঘরের মানুষের মত পাওয়াই মহাপ্রভুর হৃদয়ের বাসনা এবং এই ঘরোয়া ভক্তির খবর দিয়েছেন বা আস্বাদ দিয়েছেন শ্রীমদ্ভাগবত।সেজন‍্য রামরায় গীতার উক্তি জ্ঞানভক্তি সমস্ত ছেড়ে শ্রীমদ্ভাগবতের শ্রদ্ধাভক্তি জগতে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছেন।ভক্তির দ্বারে ভগবান পরাজিত হন।কখন হন?যতক্ষণ ভক্ত তাঁকে ভগবান বলে জানেন ততক্ষণ হন না।(তিনি ভাগবতের একাদশ অধ‍্যায়ে বলেছেন, তপ,জপ,বৈরাগ‍্য,দান ও ধ‍্যানের মাধ‍্যমে আমাকে কেউ বশীভূত করতে পারেন না, আমি একমাত্র ভক্তির অধীন। আবার দেখুন, এই ভক্তির দ্বারা মা যশোমতী গোপালকে কান ধরে প্রহার করেছেন, রজ্জু দিয়ে বন্ধন করেছেন, যিনি অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের অধিপতি,তিনি মা যশোদার হাতে লাঠি দেখে ভয়ে পলায়ন করেছেন! কি আশ্চর্য‍্য তাইনা?)। এবং যার প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় গোপীগণের ও গোপ বালকের আচরণর মধ্যে।*
*সেজন‍্য মহাপ্রভুর মনের গোপন কথাটি বুঝতে পেরে রামরায় এই জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তির কথা বললেন। এই জ্ঞান শূন‍্যতা তেই জ্ঞানের পরিপূর্ণ।এইরকম বিশ্লেষণ করে রামানন্দ গৌরহরির বদনপদ্মের দিকে যেন একটু তাকালেন এবং দেখলেন যে শ্রীমুখে যেন নির্মল আনন্দের আভাষ। অর্থ‍্যাৎ বদনপদ্মে সামান্য হাসি ফুটল এবং গ্রীবা হেলিয়ে বললেন, এহো হয়, হ‍্যাঁ এইবার বেশ ভাল বলেছ, এতক্ষণ কিন্তু মহাপ্রভু বলেছিলেন এহ বাহ‍্য কিন্তু এইবার সর্বপ্রথম বললেন এহো হয়, এবং তারপরে বললেন, রামরায়! আগে কহ আর*
*(৬)এইবার রামরায় কহিলেন--, মহাপ্রভু!তুমি তো সবই জানো আমার মুখ দিয়ে যা বলাবে তাইই বলিব।তুমি যদি জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তি অপেক্ষা শ্রেয়তর কি তা জানতে চাও তাহলে বলিব--*
*🙏প্রেমভক্তি সর্ব সাধ‍্যসার।*
*জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তি এবং প্রেমভক্তি এই উভয় প্রায় একই স্তরের, তবে কিঞ্চিৎ তফাৎ আছে।জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তিতে জ্ঞান নাই বটে, কিন্তু জ্ঞান যে নাই সে জ্ঞানটি তো বোধ হয় বা বোধ আছে। অর্থ‍্যাৎ জ্ঞান শূন‍্যতায় জ্ঞানাভাস আছে কিন্তু প্রেমভক্তির মধ্যে সেটি নেই। রামরায় এই প্রসঙ্গে বলছেন যে মহাপ্রভু! তোমাকে আমি কি করে বুঝাব, সে ভাষা বা জ্ঞান আমার নাই তথাপি বলছি যে জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তিতে ভক্তিদেবীর বাইরের অঙ্গ প্রত‍্যঙ্গগুলি যেন ব‍্যক্ত হয় এবং প্রেমভক্তির মাধ‍্যমে তার অন্তরের দিকটা ফুটে উঠে।জ্ঞানশূন‍্যা অবস্থায় ভক্ত যেন ভক্তির ফুটন্ত ফুলটি দেখেন এবং প্রেমভক্তি দ্বারা ফুটন্ত ফুলের মন মাতানো সৌরভটি ভোগ করেন।প্রেমভক্তির বক্ষের মধ্যে ঐ লুকানো গন্ধটি হল কৃষ্ণতৃষ্ণা।*
*🍀যত উপচারেই পূজা হোক না কেন হৃদয়ের শুদ্ধ প্রেম যেরকম শ্রীকৃষ্ণকে গলিয়ে দিতে পারে, তেমন আর কিছুতেই পারে না।এই শুদ্ধপ্রেম কিন্তু প্রয়াসলভ‍্য নয় প্রসাদলভ‍্য,যদিও প্রয়াসের বা চেষ্টার মাধ‍্যমেই ধীরে ধীরে ভগবানের কৃপালাভ করা যায়।এই কৃপাটির জন্য অন্তরে সদা সর্বদা লোভটি জাগিয়ে রাখতে হবে।একটি বাস্তব উদাহরণ দ্বারা একে আরও একটু সরল ভাষায় বলি, মিষ্টির দোকানে থরে থরে সাজান নানারকম মিষ্টি দেখে লোভ তত জন্মায় না। কিন্তু কেউ যদি সেই রসমালাই কিনে নিয়ে কাউকে দেখিয়ে দেখিয়ে সামনে বসে খেতে থাকে তাহলে তখন লোভ সম্বরণ করা যেন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। সেইরকম কোন ভক্ত যখন শ্রীকৃষ্ণমাধুর্য‍্য আস্বাদন করেন এবং ধীরে ধীরে যখন তাঁর মনপ্রাণ কৃষ্ণপ্রেম রসসিন্ধুতে ভাসতে থাকে, হৃদয় মন যখন আনন্দ তরঙ্গে বিলীন হয়ে যায় তা দর্শন করলে লোভ জাগা খুব স্বাভাবিক।এই লোভই প্রেমভক্তির সার কথা বা প্রাণ, সেইজন‍্য রামরায় এই তথ‍্যটিকে আরও পরিস্কার ভাবে বুঝাবার জন্য একটি শ্লোক বললেন, যথা=*
*🌷কৃষ্ণভক্তি রস ভাবিতা মতিঃ,*
*🌷ক্রীয়তাং যদি কুতোহপি লভ‍্যতে।*
*🌷তত্র লৌল‍্যমপি মূল‍্যমেকং,*
*🌷জন্ম কোটী সুকৃতৈর্ণ লভ‍্যতে*।।
*☘এই শ্লোক শুনে শ্রীগৌরাঙ্গ স্নিগ্ধমধুর কন্ঠে মিষ্টি হাসি হেসে বললেন, রামরায়! এহো হয়, কিন্তু তথাপি শর্করাসহ ঘনাবর্ত ক্ষীর আস্বাদনের জন্য কহিলেন রামরায় "আগে কহ আর"। অর্থ‍্যাৎ আরও কিছু বলো এখন আর "ইহ বাহ‍্য" এই কথাটি বলছেন না।*
*(৭)রামায় তখন দৈন‍্যবিনয় কন্ঠে বললেন,প্রভো! তোমার হাতের আমি খেলনা মাত্র, তুমি তো সবই জানো, এবং বললেন=*
*🙏দাস‍্য প্রেম সর্বসাধ‍্যসার।*
*অর্থ‍্যাৎ জীবমাত্রেই কৃষ্ণদাস এই নিগূঢ় সত‍্যটি যখন মানুষ উপলব্ধি করে ভগবানের সঙ্গে নিজেকে দাস বলে সম্বন্ধ স্থাপনা করতে পারে, তখনই তাকে দাস‍্যভাব বলে।তুমি প্রভু আমি দাস,তুমি যন্ত্রী আমি যন্ত্র, আমি যে আহার করব তা তোমারি ইচ্ছায়, যে সংসার করি তাও তোমারই দয়ায়,তুমি কর্তা আমি দাস, এই দাস‍্য ভক্তির শ্রেষ্ঠত্বের কথা রামরায় প্রকাশ করলেন এবং মহাপ্রভু তা শুনে অতিশয় আনন্দ লাভ করলেন।*
             *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
   *পরম ভাগবত রামানন্দ রায়,*
   *সাধ‍্য সাধনতত্ত্ব আলোচনা*
   ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীকৃষ্ণকে ভালবাসাই জীবের চরম সাধ‍্য নহে, ভালবেসে তাঁর সেবা করা এবং তার মাধ‍্যমে তাঁর সুধবিধান করাই জীবের পরম পুরুষার্থ।নিজেকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে আরাধ‍্যের সুখ দেওয়াই হচ্ছে ভক্তের শেষ লক্ষ্য।সেব‍্য ও সেবকের ব‍্যবধান যত বেশী হবে সেবায় আত্ম বিসর্জন ততই বাধাপ্রাপ্ত হবে  অর্থ‍্যাৎ ঐশ্বর্য‍্যভাব মন থেকে একেবারেই মুছে ফেলতে হবে। কৃষ্ণ বড় আমি ছোট এইরকম সঙ্কোচ ভাব থাকলে আত্ম বিসর্জনটি কখনও সর্বাঙ্গ সুন্দর হতে পারে না।দাস‍্য ভক্তির মূর্ত্ত প্রতীক হচ্ছেন বীর হনুমান। মহাপ্রভু দাস‍্যভক্তির এইরকম বিশ্লেষণ শুনে অত‍্যন্ত আনন্দ পেলেন এবং বললেন, রামরায় এহো হয়, অর্থ‍্যাৎ খুব সুন্দর কথা বলেছ কিন্তু আমি তৃষিত, আমি ক্ষুধার্ত, আমার এই জ্ঞানশুষ্ক হৃদয় সরসীতে তুমি কৃষ্ণপদ্ম প্রস্ফুটিত করো যাতে আমি সেই সৌরভ সবসময় হৃদয়ে ধারণ করতে পারি অতএব আরও কিছু বলো এবং সেইজন‍্য বললেন, আগে কহ আর।*
*(৮)এবার গৌরহরির অন্তরের চাহিদা বুঝে রামরায় বললেন মহাপ্রভু! আর কি বলিব, আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে যেটুকু সম্পদ আছে তা তোমার শ্রীচরণতলে নির্মাল‍্য হিসাবে সমর্পণ করেছি এবং বললেন=*
*🌷সখ‍্য প্রেম সর্ব সাধ‍্যসার।*
*🍀রামরায় দাস‍্যপ্রেমের ব‍্যাখ‍্যার পর তিনি ব্রজ বালকগণের সখ‍্য প্রেমের বিস্তারিত ব‍্যাখ‍্যা করলেন।কারণ ব্রজবালকগণের কৃষ্ণ প্রেমের মধ্যে ঐশ্বর্য‍্যভাব একেবারেই ছিল না।নিজ চরণ নিজ গায়ে ঠেকলে যেমন কোন উদ্বেগের কারণ হয় না, তেমনি কৃষ্ণ অঙ্গে ঠেকলেও তাঁদের মনে কোন বিকার জন্মিত না।নিজেদের মুখের উচ্ছিষ্ট ফল আদর করে কৃষ্ণ মুখে দিয়ে বললেন সখা খেয়ে দ‍্যাখ কি সুন্দর মিষ্টি ফল, কি সুস্বাদু, এতো একা খেয়ে সুখ পাওয়া যায় না। তাঁদের বিচার বুদ্ধি এমনই একটা স্তরে বিচরণ করত যে আমার উচ্ছিষ্ট, আমার মুখে খাওয়া আর কৃষ্ণমুখে খাওয়াও তাই।এই দুই মুখের মধ্যে কোন ভেদ বুদ্ধি সখ‍্য ভক্তের অন্তরে জাগ্রত হয় না।এই অভিন্ন মননই সখ‍্য প্রেমের প্রাণ। মহাপ্রভু এই সখ‍্যপ্রেমের ব‍্যাখ‍্যা শুনে বিশেষ সুখ পেলেন, কারণ রামরায়ের সঙ্গে তাঁরও তো সখ‍্যভাব সেজন‍্য পুলকিত অঙ্গে উল্লাস ভরে কহিলেন, রায়! এহোত্তম। তিনি এতক্ষণ বলেছিলেন "এহো হয় " কিন্তু এবার বললেন "এহোত্তম", অর্থ‍্যাৎ এতক্ষণ যা শোনালে ইহা যেন তাদের মধ্যে সর্বোত্তম। কিন্তু তথাপি মহাপ্রভুর লালসা নিবৃত্তি (বিরাম) নাই, মনের ক্ষুধা, বুকের তৃষ্ণা যেন কিছুতেই মিটছে না, সেজন‍্য বললেন,*
*🌷রাম এহোত্তম---আগে কহ আর।*
*(৯)রামরায় মরমী ভক্ত, গৌরহরির অন্তরের ভাব বুঝতে পেরে এবং বৈষ্ণব জগতকে কৃতকৃতার্থ করবার মানসে শ্রীভাগবতের আশ্রয়ে পুনরায় বললেন=*
*🌷বাৎসল‍্য প্রেম সর্বসাধ‍্যসার।*
*🍀সখ‍্যরসে সখা কৃষ্ণকে নিজের সমান মনে করেন, ছোটও নয় বড়ও নয়। কৃষ্ণ কোন অন‍্যায় করতে পারে  বা ভুল করতে পারে, এইরকম কোন চিন্তাই তাঁদের মনে জায়গা পেত না।কৃষ্ণকে উপদেশ দেওয়া প্রয়োজন, শাসন করা দরকার এইরকম চিন্তাধারা কিন্তু সখ‍্যপ্রেমে বিবর্জিত, এই শাসনের ভাবটি কিন্তু বাৎসল‍্য প্রেমের মধ্যে বিকশিত যার সর্বোচ্চ প্রকাশ হচ্ছে দামবন্ধন লীলা এবং মৃত্তিকা ভক্ষণ লীলার মধ্যে।*
*শুদ্ধ বাৎসল‍্য রসে নিমজ্জিত মা যশোমতী ও পিতা নন্দরাজা।মা যশোদা এই বালকটিকে সন্তানবোধে স্নেহ করেন, কেউ ভগবান বললে তিনি ক্ষুব্ধ হন, এইজন‍্য যখন শিশুগোপাল শিশুকালে অত‍্যন্ত দুর্দান্ত হয়ে উঠলেন তখন মা যশোদা তাঁকে উদুখলের সঙ্গে বেঁধে রেখে ছেলেকে শাসন করেছিলেন।এই ভাবটি কিন্তু সখ‍্যরসের মধ্যে নেই।যেমন আবেশ জননীর তেমনি আবেশ শিশুগোপালের।মা যশোদা বকাবকি করছেন,ধরবার জন্য ছুটাছুটি করছেন কিন্তু কিছুতেই দুরন্ত ছেলের সঙ্গে পেরে উঠছেন না, মাকে ক্লান্ত দেখে করুণাময় ভগবান যেন করুণা পরবশ হয়ে নিজেকে ধরা দেন।যেন নিজের অপরাধের জন্য কত লজ্জিত ও সঙ্কুচিত। ভগবানের এই আপনহারা ভাবটি পরাকাষ্ঠা প্রাপ্ত হয় বাৎসল‍্য রসের উদ্বেলিত সাগরে। যিনি অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের অধিপতি,তিনি কিনা স্বেচ্ছায় মায়ের কষ্ট লাঘবের জন্য দড়ির বন্ধনে বদ্ধ হলেন।*
*🍀সেইরকম গোপাল মৃত্তিকা ভক্ষণ করেছিলেন, মা বলেছিলেন দুষ্টু ছেলে মাটি খেয়েছিস? মাটি খেয়ে মুখটি বন্ধ করে আছিস আমাকে লুকাবার জন্য?খোল মুখ খোল, আমি দেখতে চাই তোর মুখে কি আছে, তখন মুখ ব‍্যাদান করে সেই ছোট মুখের ভিতরে মাকে বিশ্বরূপ দর্শন করিয়েছিলেন।মা যশোদা ক্ষণিকের জন্যও মনে করেন না যে এই ছেলে অন‍্য কেউ, তিনি তখন বাৎসল‍্য স্নেহে বলেন হ‍্যাঁ বাপ মাটি খেতে গেলি কেন? খিদে পেয়েছে আমাকে বললেই তো হোতো, আয় বাপ আমার কোলে আয়,এই বলে মিতৃস্তনধারা পান করাতে লাগলেন।শিশু গোপালও ক্ষণিকের জন্য নিজের স্বরূপকে মাকে বুঝতে না দিয়ে সন্তান বোধে প্রাণ ভরে স্তন ক্ষীরধারা পান করতে লাগলেন।মা যশোদাও তখন বাৎসল‍্য রসের প্রবল প্রবাহে ভেসে গিয়ে নিজের ধমনীতে যত স্নেহরস সঞ্চিত ছিল তা যেন স্তনধারার সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে সন্তানকে পান করাতে লাগলেন। এখানে লীলার এমনই বৈশিষ্ট্য যে তিনি তাঁর ক্ষুদ্র মুখের ভিতরে অনন্ত কোটি বিশ্বব্রহ্মান্ড ক্ষণিক আগে মাকে দেখালেন তাঁর মুখের মধ্যে ক্ষীরধারার প্রবল প্রবাহ যেন  তিনি ধারণ করতে পারছেন না এবং তা যেন উপচিয়ে পড়তে লাগল এবং মা যশোদা মাতৃস্নেহের সহজাত প্রবৃত্তি অনুযায়ী তা তাঁর কাপড়ের আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দিতে লাগলেন। সেজন‍্য ভাগবতে শ্রীশুকদেব গোস্বামী বলেছেন যে হরি যাঁর স্তন‍্যপান করেছেন সেই মা যশোদা কি ভাগ‍্যবতী।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
*ভব সাগর কান্ডরী,সবার মঙ্গলকারী,*
    *শ্রীহরির শ্রীচরণ কর সবে সার।*
*ভাগবতে রাখি মতি,পাঠ কর নিতি নিতি,*
    *অন্তরে আনন্দে তবে মিলিবে অপার।।*
*উদ্ধব ফিরিলে পরে,জিজ্ঞাসেন হরি তারে,*
   *জানিবারে ব্রজবাসী সবার কুশল।*
*গোপগোপী সবাকার,বল বারতা এবার,*
     *কিভাবে কাটায় সবে দিবস সকল।।*
*শুনিয়া কৃষ্ণের কথা,কহিল উদ্ধব সেথা,*
    *করজোড়ে পদে তাঁর করিয়া প্রণতি।*
*তব লাগি যশোমতী,শোকান্বিত রহে অতি,*
    *সান্ত্বনার বাক‍্যে তারে কহিনু সম্প্রতি।।*
*ব্রজবাসী গোপীগণ,কাঁদিতেছে অনুক্ষণ,*
    *তোমার বিচ্ছেদে তারা যেন উন্মাদিনী।*
*হেরি ভূতল উপরি,রোহিণী র'য়েছে পড়ি,*
   *কত আর কব হরি দুঃখের কাহিনী।।*
🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
   *পরম ভাগবদ্ রামানন্দ রায়,*
    *সাধ‍্য সাধনতত্ত্ব আলোচনা*
    **************************
*শ্রীপাদ শুকদেব গোস্বামী বলেছেন, যে হরি যাঁর স্তন‍্যপান করেছেন, সেই মা যশোদা কি ভাগ‍্যবতী। যথা=*
*🌷ভাগ‍্যবতী যশোমতী কত পুণ‍্য ধরে।*
*🌷অনুক্ষণ তোমায় রাখয়ে হৃদিপরে।।*
*🌷তুমি তুষ্ট ভগবান স্তন পানে যাঁর।*
*🌷কি কব ভাগ‍্যের কথা কহ নাথ তার।।*
*🌹কৃষ্ণ ভগবানের বা গোপালের বাৎসল‍্য প্রেমের এইরকম নানাপ্রকার ব‍্যাখ‍্যা রামরায় করলেন এবং শ্রবণ সুখকর এইসব প্রসঙ্গের পরিবেশন মাধুর্য‍্য এতই মনোরম ছিল যে মহাপ্রভু যেন তা আকন্ঠ ভোজন করলেন এবং কহিলেন রাম!"এহোত্তম, সত‍্যই এবার বড় মধুর কথা বলেছ।যে বাৎসল‍্য প্রেমবশে মুক্তিদাতা বন্ধন গ্রহণ করেন সেই প্রেমই পরম সাধ‍্য। কিন্তু তথাপি তৃষ্ণা যেন আর মিটছে না এবং বললেন রামায় অনেক আশা নিয়ে তোমার কাছে এসেছি আরও কিছু শোনাও অর্থ‍্যাৎ আগে কহ আর।*
*(১০)শ্রীরামানন্দ রায় তখন ব্রজাঙ্গনাগণের কৃষ্ণপ্রেমের মাধুর্য‍্য রসের কথা ব‍্যক্ত করে বললেন যে লক্ষ্মীদেবী যদিও নারায়ণের বক্ষস্থলে সদাসর্বদা বিরাজ করেন তথাপি ব্রজগোপীগণের মত আস্বাদনের চমৎকারিতা তাতে দেখা যায় না, কারণ লক্ষ্মীদেবীর প্রেমে ঐশ্বর্য‍্য বুদ্ধি থাকায় তা সঙ্কোচপূর্ণ  কিন্তু গোপীদের শ্রীকৃষ্ণে ঈশ্বর বুদ্ধি না থাকায় তা পরিপূর্ণভাবে বিশুদ্ধ এবং সঙ্কোচ মুক্ত যার উত্তম প্রমাণ পাওয়া যায় গোপীগণ কর্তৃক নিজেদের চরণরজ দ্বিধাহীন ভাবে শ্রীকৃষ্ণের ললাটে স্পর্শের মাধ‍্যমে। মহাপ্রভু গয়াধামে যেরকম অবলুপ্ত ব্রহ্মণ‍্য ধর্মের মর্য‍্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য কৃত্রিম জ্বর সৃষ্টি করে তদ্দেশীয় ব্রাহ্মণের পদরজ ভিক্ষা করে নিজেকে জ্বরমুক্ত করেছিলেন, শ্রীকৃষ্ণও সেইরকম গোপীপ্রেম মাধুর্য‍্য  জীবজগতে প্রকট করবার মানসে কৃত্রিম শিরপীড়া সৃষ্টি করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুতেই যেন আর সে শিরপীড়া ভাল হয় না,সকলেই উৎকণ্ঠিত, এমন সময় দেবর্ষি নারদ সেখানে উপস্থিত হয়ে বলেন, তোমরা যারা কৃষ্ণকে ভালোবাসো তারা যদি তাদের চরণধূলি শ্রীকৃষ্ণের ললাটে লাগালে শিরপীড়া ভাল হয়ে যাবে। কিন্তু আমি অনেক জায়গায় গেলাম কেউ পদধূলি দিতে রাজী হল না, তাই তোমাদের কাছে এলাম।ব্রজের গোপীগণ এইকথা শোনামাত্রই বললেন, শ্রীকৃষ্ণ সুখের জন্য আমরা সবকিছুই করতে পারি এবং এইকথা বলে বিনা দ্বিধায় বিনা সঙ্কোচে বললেন নিন আমাদের এই চরণধূলি নিন, গোপীগণ নিজ চরণ ধূলি দিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে সুখী করেছিলেন। সেখানে কিন্তু বিন্দুমাত্র ঐশ্বর্য‍্য বুদ্ধি ছিল না, আমাদের ঘরের মানুষ কৃষ্ণ। আবার গোপীপ্রেমের প্রকৃত আস্বাদ পেয়েছিলেন ভক্তরাজ উদ্ধব, সেজন‍্য তিনি শেষ পর্যন্ত ব্রজে গুল্মলতা হয়ে জন্ম নিবার বাসনা প্রকাশ করেছিলেন। শ্রীলক্ষ্মীদেবীর নারায়ণে তদীয়তা(তাঁর) বুদ্ধি এবং সেজন‍্য সে প্রীতি দুর্বল কিন্তু ব্রজাঙ্গনাদের শ্রীকৃষ্ণে মদীয়তা(আমার) বুদ্ধি এবং সেজন‍্য সেই প্রীতি শ্রেষ্ঠতম।*
*🍀ভাগবতে দেখা যায় যে শ্রীলক্ষ্মীদেবী নারায়ণের অপেক্ষা করেন কিন্তু গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণের অপেক্ষা করেন না বরং কৃষ্ণই তাঁদের জন্য অপেক্ষা করেন যার উত্তম প্রমাণ পাওয়া যায় রাসলীলা রজনীতে।এক কৃষ্ণ বহুবল্লভ হয়ে সকলের সঙ্গে রাসলীলা করছেন এবং তার ফলে যে স্বর্গীয় প্রেমবন‍্যার সৃষ্টি হয়েছিল তাতে সকলে ভাসমান হয়ে গিয়েছিলেন।এমনি সময়ে গোপীদের প্রেমাধিক‍্য দর্শনে কৃষ্ণ পাছে গোপীপ্রেমের প্রবল প্রবাহে নিজে ভেসে যান এজন‍্য নিজেকে রক্ষা করব জন্য ভূজদন্ড দ্বারা গোপীদের গলা ধরে যেন হাবুডুবু খাচ্ছিলেন।এ সৌভাগ্য অনন্ত বিশ্বে অন‍্য কারও ভাগ‍্যে জুটে নাই, সেজন‍্য শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামী বলেছেন,*
*🌷যে রাসলীলা কালে, লক্ষ্মীদেবী হতে ব্রজাঙ্গনাদের প্রেমাধিক‍্য ব‍্যক্ত হয়েছিল, এমন যে মনোহারিণী রাসলীলা তার জয় হোক। সুতরাং কান্তা প্রেমে আমার আমিত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে কৃষ্ণে সমর্পণের মাধ‍্যমে একেবারে কৃষ্ণময় হয়ে যায়। এই প্রসঙ্গ শুনে মহাপ্রভু এই কান্তাপ্রেমকে "সাধ‍্যাবধি" আখ‍্যা দিলেন এবং বললেন রামরায় তুমি যদি এর পরেও কৃপা করে যদি এই "অবধির" পরেও কিছু শোনাও তাহলে বড়ই সুখ পাবো। যথা=*
*🌷প্রভু কহে এই সাধ‍্যাবধি সুনিশ্চয়।*
*🌷কৃপা করি কহ যদি আগে কিছু হয়।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ কিছুতেই যেন আর ক্ষুধাতৃষ্ণা মিটছে না এবং রামরায় প্রাণ ভরে পরিবেশন করছেন। মহাপ্রভু সেই গোদাবরী তীরে শান্ত নির্জন পরিবেশে গভীর রাত্রে সব অঙ্গীকার করছেন।এইরকম সুবর্ণ সুযোগ তো আর জীবনে মিলবে না, ভক্তমুখে আস্বাদন বড় উপাদেয় সেজন্য ক্রমাগত দশরাত্রি ধরে এইসব অতি গুহ‍্য কথা উভয়ের মধ্যে ইষ্টগোষ্ঠী হয়েছিল, তাই রামরায় বলেছিলেন=*
*🌷মোর মুখে বক্তা তুমি,তুমি হও শ্রোতা।*
*🌷হৃদয়ে প্রেরণ কর,জিহ্বায় কহাও  কথা।।*
*(১১)তখন রামরায় কহিলেন কান্তা প্রেম সাধ‍্যাবধি হলেও "রাধা প্রেম সাধ‍্য শিরোমণি" যথা=*
*🌷ইহার মধ্যে রাধা প্রেম সাধ‍্য শিরোমণি।*
*🌷যাঁহার মহিমা সর্ব শাস্ত্রেতে বাখানি।।*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ১১১ হইতে ১২০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী *পরম ভাগবদ্ রামরায় ও মহাপ্রভু*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀আপনারা সকলেই জানেন যে কান্তাভাব দুই প্রকার যথা "স্বকীয়া ও পরকীয়া"।বৈকুন্ঠের লক্ষ্মী ও দ্বারকার মহিষীগণের মধ্যে "স্বকীয়া" কান্তাভাব, কিন্তু, ব্রজাঙ্গনাগণের মধ্যে  "পরকীয়া" কান্তাভাব।শ্রীকৃষ্ণের এই স্বকীয়া কান্তাভাবে তত আগ্রহ নেই, কারণ স্বকীয়া ভালবাসাতে রস থাকলেও "রসের নির্য‍্যাস" তত আস্বাদিত হয় না। এজন‍্য শ্রীরাধাকে বলা হয় "মহাভাব স্বরূপিনী"। অর্থ‍্যাৎ ঘি যেমন দুধের চরম পরিণতি, মহাভাবও সেইরকম প্রেমের চরম অভিব‍্যক্তি।রাধাপ্রেম যে সাধ‍্য শিরোমণি তা বুঝাবার জন্য রামরায় বললেন ঃ---------।*
*🍀রাসলীলার আসল তত্ত্বকথাটি হচ্ছে যে সেই স্বর্গীয় রাসরজনীতে এক কৃষ্ণ বহুবল্লভ হয়ে যদিও সকলের সঙ্গে রাসবিহারী হয়েছিলেন সেইরকম "শ্রীরাধিকার কৃপায়" সকল গোপীগণই "রাধাতুল‍্যা" হয়ে শ্রীকৃষ্ণের সুখ বিধানের অধিকারিণী হয়েছিলেন।অর্থ‍্যাৎ রাধার কৃপা সূত্রই মূল হেতু।কতকগুলি ফুল হলেই তো আর মালা হয় না, ফুলের ভিতরে আবৃতভাবে সে সুতাটি থাকে তার কৃপাতেই মালার সৌন্দর্য্য ব‍্যক্ত হয়, যদিও বাইরে তা দেখা যায় না।ফুল নিজস্ব স্বানীনতায় মালা হিসাবে দুলতে পারে না, একমাত্র এই সুতাই তাকে কন্ঠে দুলবার শক্তি দেয়।সেজন‍্য সুতাটি ছিড়ে গেলেই ফুলগুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে ধূলায় লুটিয়ে পড়ে।সেহেতু সেই রাস-রজনীতে সুতারূপী রাধা যখন মানিনী হয়ে রাসমঞ্চ হতে অন্তর্হিতা হলেন, তখনিই রাসলীলা বিপর্য‍্যস্ত হয়ে গেল।এ হতেই বুঝা যায় যে শ্রীরাধাই হচ্ছেন  সকল গোপীগণের শিরোমণি। রাসলীলা বিপর্য‍্যস্ত হলেও শ্রীকৃষ্ণের তখন করুণ অবস্থা, তিনি রাধা বিহনে ব‍্যাকুল হয়ে রাধা অন্বেষণে উদগ্রীব হয়ে পড়লেন। অর্থ‍্যাৎ যিনি সর্ব জীবের আরাধ‍্য, সর্ব চিত্তাকর্ষক, সেই কৃষ্ণ ভগবান নিজেই রাধার খোঁজে রত হলেন, এ যেন চরম বিপরীত! সর্ব আরাধ‍্য, আজ রাধা আরাধনায় নিযুক্ত, অর্থ‍্যাৎ সর্ব আরাধনার যে ধন শ্রীকৃষ্ণ,তাঁর কাছেও রাধা আরাধনার ধন হয়ে উঠলেন, সুতরাং যে কৃষ্ণ সকলের সাধ‍্যধন, শ্রীরাধা যখন তাঁরই আরাধ‍্য-ধন হয়ে উঠলেন, তখন রাধাকে "সাধ‍্য শিরোমণি" বলতে আর বাধা কি? তখন মহাপ্রভু দৈন‍্যবিনয় কন্ঠে বললেন=*
*🌷সন্ন‍্যাসী বলিয়া মোরে না কর বঞ্চন।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ তত্ত্ব কহি পূর্ণ করো মন।।*
*🌻তখন রামরায় বললেন, শ্রীকৃষ্ণকে আনন্দদান করেন বলেই শ্রীরাধার আরেক নাম আহ্লাদিনী এবং এই প্রসঙ্গে গোবিন্দ লীলামৃতে একটি শ্লোক নিচে দেওয়া হল, যার দ্বারা রাধার মহিমা পূর্ণভাবে প্রকাশ হয়েছে, যথা=*
*🌷কা কৃষ্ণস‍্য প্রণয়জনিভুঃ শ্রীমতী রাধিকৈকা,*
*🌷কাস‍্য প্রেয়স‍্য অনুপমগুণা রাধিকৈকা ন চান‍্যা।*
*🌷জৈম্ম‍্যং কেশে,দৃশি সরলতা, নিষ্ঠুরত্বং কুচোহস‍্যাঃ,*
*🌷বাঞ্জাপূর্ত্ত‍্যে প্রভবতি হরেঃ রাধিকৈকা ন চান‍্যা।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ গোবিন্দামৃত বলছেন যে= শ্রীকৃষ্ণের প্রেমের জন্মভূমি কে? একা শ্রীরাধিকা।শ্রীকৃষ্ণের অনুপম গুণবতী প্রেয়সী কে? একমাত্র শ্রীরাধিকা ছাড়া অন‍্য কেউ নয়। কারণ কেশে কুটিলতা,দৃষ্টিতে তরলতা বা তারুণ‍্য এবং কুচযুগলে কঠিনতা একমাত্র এই রাধিকারই আছেন এবং সেজন্য শ্রীরাধাই শ্রীহরির বাসনা পূরণে সমর্থা অন‍্য কেউ নয়।*
*🍀এই কথাগুলি শুনে মহাপ্রভু বললেন, এমন যে গুণসম্পন্না রাধা যাঁর প্রেমের নাগাল শ্রীকৃষ্ণ পর্যন্ত পান না, "তার গুণ গণিবে জীব কোন ছার"।এতক্ষণে বললেন, রামরায়! তোমার কৃপায় রাধাকৃষ্ণ প্রেমতত্ত্ব কিছুটা বুঝলাম কিন্তু আমার মন চাইছে দুইজনার বিলাস মহত্ত্ব শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে, অতএব কিছু আগে কহ আর।*
*🌺তখন শ্রীরায় মহাশয় বললেন, আমার বুদ্ধিতে আর কিছু কুলোচ্ছে না, আবার কি বলব?তখন মহাপ্রভু বললেন=*
*🌷প্রভু কহে সাধ‍্যবস্তু অবধি এই হয়।*
*🌷তোমার প্রসাদে ইহা জানিল নিশ্চয়।।*
*🌷সাধ‍্যবস্তু সাধন বিনু কেহ নাহি পায়।*
*🌷কৃপা করি কহ ইহা পাবার উপায়।।*
*🙏তখন রামরায় কহিলেন=*
*🌷মোর মুখে বক্তা তুমি,তুমি হও শ্রোতা।*
*🌷অনন্ত রহস‍্য শুন সাধকের কথা।।*
*🌷সবে এক সখীগণের ইথে অধিকার।*
*🌷সখী হইতে হয় এই লীলার বিস্তার।।*
*🌷সখী বিনা এই লীলা পুষ্টি নাহি হয়।*
*🌷সখী লীলা বিস্তারিয়া সখী আস্বাদয়।।*
*🌷সখী বিনা এই লীলায় অন‍্যের নাহি গতি।*
*🌷সখী ভাবে তাহা যেই করে অনুগতি।।*
*🌷রাধার স্বরূপ কৃষ্ণ প্রেম কল্পলতা।*
*🌷সখীগণ হয় তার পল্লব পুষ্পপাতা।।*
*🌻সর্বশেষে তুলনামূলকভাবে কহিলেন=*
*🌷অতএব গোপীভাব করি অঙ্গীকার।*
*🌷রাত্রিদিনে চিন্তে রাধাকৃষ্ণের বিহার।।*
*🌷সিদ্ধদেহ চিত্তে করে তাহাই সেবন।*
*🌷সখ‍্যভাব পায় রাধাকৃষ্ণের চরণ।।*
*🌷গোপী আনুগত‍্য বিনা ঐশ্বর্য‍্য জ্ঞানে।*
*🌷ভজিলেও নাহি পায় ব্রজেন্দ্র নন্দনে।।*
*🌷তাহাতে দৃষ্টান্ত লক্ষ্মী করিয়া ভজন।*
*🌷তথাপি না পাইল ব্রজে ব্রজেন্দ্র নন্দন।।*
*🌻এইভাবে রাতের পর রাত কৃষ্ণকথা শোনার পর যখন নিশি অবসান হত, তখন মহাপ্রভু রামারায়ের কন্ঠ আলিঙ্গন করে ভাবাবেশে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করতেন এবং উভয়ে উভয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতেন। নিত‍্যানন্দ আশ্রয় ছাড়া যেমন গৌরাঙ্গতত্ত্বে পৌঁছান যায় না, এ ক্ষেত্রেও সেরকম সখীর আনুগত‍্য ভজন ছাড়া ব্রজেন্দ্রনন্দনকে পাওয়া সুদুর্লভ এটিই সর্বশেষ এবং সারকথা। এইসব অতি গুহ‍্য কথা ক্রম বিকাশ অনুসারে পর্য‍্যালোচনা করলে দেখা যায় রামরায় সাধ‍্যসাধন তত্ত্ব বিশ্লেষণ কালে ধীরে ধীরে পদক্ষেপ করে এক এক ধাপ করে সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
*ধেনু বৎস আদি যত,তব তরে ব‍্যাকুলিত,*
    *নিবদ্ধ তাদের দৃষ্টি মথুরার পানে।*
*উদ‍্যানে নাহি সে শোভা,পুষ্পরাজি হীনপ্রভা,*
   *পাখীরা সেথায় রহে বিরত কূজনে।।*
*ব্রজের রাখাল যারা,বিরহে কাতর তারা,*
   *মাঠে আর নাহি যায় গোচারণ তরে।*
*ব্রজবাসীগণ যত,রহে সবে শোকান্বিত,*
    *জাগিছে বেদনা সদা তাদের অন্তরে।।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ১১১ হইতে ১২০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
  *পরম ভাগবদ্ রামানন্দ রায়*
..***************************
*(১)সর্বপ্রথম শ্রীমদ্ গীতার আশ্রয়ে বললেন "চারটি তত্ত্ব", যথা= স্বধর্ম পালন,কৃষ্ণে কর্মার্পণ,কৃষ্ণে ধর্মার্পণ ও জ্ঞান মিশ্রাভক্তি, যা শুনে মহাপ্রভু বললেন,"ইহ বাহ‍্য"।*
*(২)তারপর শ্রীমদ্ ভাগবদ আশ্রয়ে বললেন তিনটি তত্ত্ব যথা=জ্ঞানশূন‍্যাভক্তি, প্রেমভক্তি এবং দাস‍্যভক্তি। যে শুনে মহাপ্রভুর মুখে হাসি দেখা গেল এবং তিনি বললেন "এহো হয় "।*
*(৩)তৎপরে শ্রীমদ্ভাগবত আশ্রয়ে "সখ‍্যপ্রেম" ও "বাৎসল‍্যপ্রেমকে" মহাপ্রভু বলেছিলেন,এহোত্তম।*
*(৪)কান্তাপ্রেমকে বললেন="অবধি"।*
*(৫)সর্বশেষে রাধাপ্রেমকে "সাধ‍্য শিরোমণি" এই আখ‍্যা দিলেন এবং একমাত্র সখীগণের আনুগত‍্যে এর প্রাপ্তি সম্ভব এটিই শেষ কথা।*
*🍀এইবার আপনারা কৃপা করে শুনুন শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ বিরচিত বৈষ্ণব জগতের এক অমূল‍্য তথ‍্য যা এই গোদাবরী তীরে উভয়ের মধ্যে সংলাপ সৃষ্টি করে তিনি রচনা করেছেন যথা=*
*(১)প্রভু=কোন বিদ‍্যা, বিদ‍্যা মধ্যে সার।*
*রায় কহে কৃষ্ণভক্তি বিনা বিদ‍্যা নাহি আর।।*
*(২)প্রভু কহে কীর্তিগণ মধ্যে জীবের কোন বড় কীর্তি।*
*রায় কহে কৃষ্ণ প্রেমভক্ত বলি যার হয় খ‍্যাতি।।*
*(৩)প্রভু কহে সম্পত্তির মধ্যে জীবের কোন সম্পত্তি গণি।*
*রায় কহে রাধাকৃষ্ণে প্রেম সেই বড় ধনী।।*
*(৪)প্রভু কহে দুঃখ মধ্যে কোন দুঃখ হয় গুরুতর।*
*রায় কহে কৃষ্ণ ভক্তি বিরহ বিনু দুঃখ নাহি আর।।*
*(৫) প্রভু কহে মুক্ত মধ্যে কোন জীব মুক্ত করি মানি।*
*রায় কহে কৃষ্ণ প্রেম সাধে সেই মুক্ত শিরোমণি।।*
*(৬)প্রভু কহে গান মধ্যে কোন গান জীবের নিজধর্ম।*
*রায় কহে রাধাকৃষ্ণের প্রেমকলি যেই গীতের মর্ম।।*
*(৭)প্রভু কহে শ্রেয়ো মধ্যে কোন শ্রেয়ঃ জীবের হয় সার।*
*রায় কহে কৃষ্ণভক্ত সঙ্গ বিনা শ্রেয়ঃ নাহি আর।।*
*(৮)প্রভু কহে কাহার শরণ জীব করে অনুক্ষণ।*
*রায় কহে কৃষ্ণনাম গুণলীলা প্রধান স্মরণ।।*
*(৯)প্রভু কহে ধ‍্যান মধ্যে জীবের কর্তব‍্য কোন ধ‍্যান।*
*রায় কহে রাধাকৃষ্ণ পদাম্বুজ ধ‍্যান প্রধান।।*
*(১০)প্রভু কহে সর্বত‍্যজি জীবের কর্তব‍্য কাঁহা বাস।*
*রায় কহে শ্রীবৃন্দাবন ভূমি যাঁহা নিত‍্যলীলা রাস।।*
*(১১)প্রভু কহে শ্রবণ মধ্যে জীবের কোন শ্রেষ্ঠ শ্রবণ।*
*রায় কহে রাধাকৃষ্ণ প্রেমকলি কর্ণ রসায়ণ।।*
*(১২)প্রভু কহে উপ‍্যাস‍্যের মধ্যে কোন উপাস‍্য প্রধান।*
*রায় কহে শ্রেষ্ঠ উপাস‍্য যুগল রাধাকৃষ্ণ নাম।।*
*(১৩)প্রভু কহে মুক্তি ভক্তি বাঞ্জে যেই কাঁহা দোঁহার স্থিতি।*
*রায় কহে স্থাবর দেবদেহ যৈছে অবস্থিতি।।*
*(১৪)প্রভু কহে অরসজ্ঞ কাক চুষে জ্ঞান নিম্বফলে।*
*রায় কহে রসজ্ঞ কোকিল খায় প্রেমাম্র মুকুলে।।*
*(১৫)প্রভু কহে অভাগিয়া জ্ঞানী আস্বাদয়ে শুষ্ক জ্ঞান।*
*রায় কহে কৃষ্ণ প্রেমামৃত পান করে ভাগ‍্যবান।।*
*🌻এই পদাবলীটি ১--১২ শ্লোক পর্য‍্যন্ত অর্থ ভক্ত পাঠকগণ সকলেই উপলব্ধি করতে পারবেন কিন্তু ১৩--১৫ শ্লোক কয়টির একটু ব‍্যাখ‍্যা মনে হয় প্রয়োজন আছে।সর্বপ্রথম ১২ নং শ্লোকে মহাপ্রভু রামরায়কে প্রশ্ন করলেন যে =*
*যাঁরা মুক্তি বাঞ্জা করেন তাদের গতি কোথায়?*
*এবং যাঁরা ভক্তি বাঞ্জা করেন তাঁদেরই বা গতি কোথায়?*
*🍀তার উত্তরে রামরায় বলেছেন যে, "স্থাবর দেবদেহ যৈছে অবস্থিতি।" এখানে মুক্তির সঙ্গে স্থাবরদেহের এবং ভক্তির সঙ্গে দেবদেহের উপমা দেওয়া হয়েছে,স্থাবরদেহ বলতে আমরা বুঝি যা জড় অর্থ‍্যাৎ প্রাণহীন, চৈতন‍্যশক্তি রহিত, যেমন পাহাড় পর্বত ইত্যাদি। এই জাতীয় বস্তুতে যদি আঘাত করে যায় তাহলে কোন অনুভূতি বোধ তাদের হয় না, অস্তিত্ব আছে সত্ত্বা আছে,অথচ অনুভূতি নাই।মহাপ্রভুর মনোভাব ব‍্যক্ত করে কবিরাজ গোস্বামী রামানন্দ রায়ের মাধ‍্যমে বলাচ্ছেন যে মুক্ত পুরুষ সাধন জগতে এমন স্তরে বিচরণ করেন যে,তাঁদের অবস্থা অনেকটা স্থাবরদেহের স্থিতির মত।সুখ ও দুঃখের অতীত।যে কথা গীতায় বলা হয়েছে  ঃ-------*
*🌷সুখেষু অনুবিঘ্নমনা দুঃখেষু বিগতস্পৃহ।*
*🌷বীতরাগ ভয়ক্রোধ স্থীতধীঃ মুনুরুচ‍্যতে।।*
*🌻সেইরকম আবার ভক্তি বাঞ্জাকারীদের অবস্থা দেবদেহে অবস্থিতির মত।এখানে দেবদেহ বলতে ঠিক দেবতাগণের দেহ বুঝাচ্ছে না।ভক্তি মহারাণীর কৃপা হলে মানুষ তখন আর মানুষ থাকে না, কৃষ্ণপ্রেমে পাগল হয়ে যান, শুকনো জ্ঞানলাভ বা শাস্ত্রচর্চার দিকে আর কোন মোহ থাকে না, যার পরিচয় আমরা পাই সার্বভৌম পন্ডিত এবং প্রকাশানন্দ সরস্বতীর জীবনে।সাধকের হৃদয় মন্দিরে তখন সদা সর্বদা ভগবান বারাজ করেন, আহার নিদ্রার কোন প্রয়োজন বোধ নাই এবং করুণাময় ভগবান ভক্তের যোগাক্ষেম বহন করেন।যে ভক্তির আস্বাদ পেয়েছিলেন, জগদ্ গুরু মাধবেন্দ্রপুরী এবং তাঁর পার্ষদগণ অর্থ‍্যাৎ তাঁরা সদা সর্বদা পূর্ণানন্দে বিভোর থাকেন।মুক্তি সাধারণতঃ জ্ঞানের ফল সেজন‍্য প্রকৃত রসিক ভক্তগণের কাছে সেটি বাঞ্জনীয় না। অর্থ‍্য‍াৎ শুদ্ধা ভক্তির শ্রেষ্ঠত্ব এখানে বলা হয়েছে।যার পরিচয় পরবর্তী শ্লোকে পাওয়া যাবে।*
*🍀সেজন‍্য ১৪ নং শ্লোকে বায়স বা কাক এবং কোকিলের মধ্যে তুলনার সৃষ্টি করে বলা হয়েছে যে,কাকের স্বর কর্কশ, নানা রকম অখাদ‍্য কুখাদ‍্য সে খায় এবং এমন যে তিক্ত বা তিতা নিমফল তা কাক খুব ভালবেসে খায় সেজন‍্য কাককে অরসিক বলা হয়েছে, যেন শুকনো জ্ঞানীর মত আচরণ করছে।সেরকম আবার কোকিল বায়স শ্রেণীভুক্ত হলেও তার কন্ঠস্বর কি সুমধুর, বসন্তের আগমনে সে তার সুরের ঝঙ্কারে সকলকে মোহিত করে দেয় এবং তার প্রিয় খাবার আমের মুকুল।অর্থ‍্যাৎ সে যেন প্রেমিক ভক্তের মত আচরণ করে, সেহেতু কোকিলকে রসজ্ঞ বলা হয়েছে,যার ভাবার্থ প্রেমিক ভক্তের মত আচরণ।*
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*🌻🌻🌻কুব্জা উদ্ধার🌻🌻🌻*
#######################
*উদ্ধবেরে সেইক্ষণ, কহিলেন জনার্দন,*
    *কুব্জার নিকটে মোর রহিয়াছে পণ।*
*মনোবাঞ্জা পুরাইতে, যবে তার নিকটেতে,*
   *করিব তাহারে তৃপ্ত করি আলিঙ্গন।।*
*উদ্ধবেরে সঙ্গে করি,কুব্জা গৃহে যান হরি,*
    *মুক্তা দামে আচ্ছাদিত তাহার ভবন।*
*বিচিত্র পতাকা কত,চতুর্দিকে সুসজ্জিত,*
    *মনোহর চন্দ্রাতপ শয‍্যা ও আসন।।*
*শ্রীহরির আগমন,যবে করে দরশন,*
    *ত্বরিত দাঁড়ায় কুব্জা ত‍্যজিয়া আসন।*
*সখীগণে ল'য়ে সবে,আসিয়া সম্মুখে তবে,*
    *আসনে বসায়ে তাঁরে করিল পূজন।।*
*আহ্বান করিয়া হরি,কুব্জার করেতে ধরি,*
   *আপনার শয‍্যা পার্শ্বে বসান যতনে।*
*শুনি তাঁর প্রেম কথা,জুড়ায় কুব্জার ব‍্যথা,*
    *তবে তারে আলিঙ্গন দেন প্রীতমনে।।*
🦚🪷🦚🪷🦚🪷🦚🪷🦜🦚🪷🪷🪷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ১১১ হইতে ১২০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
        *পরম ভাগবত রামরায়*
        ***********************
*🍀সর্বশেষে ১৫ নং শ্লোকে বলা হয়েছে যে এই প্রেমভক্তির সন্ধান যাঁরা জানেন না বা সেই পথের পথিক হবার জন্য যাদের বাসনা নাই তারা শুধু শুকনো জ্ঞানচর্চা নিয়েই থাকুন এবং ভাগ‍্যবান ব‍্যক্তিগণ কৃষ্ণপ্রেম রসসিন্ধুতে সদাসর্বদা ভেসে থাকুন আর চরম আনন্দ লাভ করুন।কারণ কৃষ্ণ প্রেম কোন জাতি,কুল,নিষ্ঠা বা আচার বিধির শাসন মানে না।যে ভক্তির সন্ধান দিয়েছেন ভাগবদ্।নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিসর্জন দিয়ে আরাধ‍্যের সুখ চাওয়াই হচ্ছে কৃষ্ণভক্তের প্রধান এবং শেষ লক্ষ্য।সেব‍্য ও সেবকের ব‍্যবধান যত বেশী হবে সেবায় আত্মবিসর্জন ততই বাধা পাবে কৃষ্ণ বড়,আমি ছোট, এইরকম একটা সঙ্কোচ ভাব থাকলে সেবায় আত্মবিসর্জন কখনও সর্বাঙ্গ সুন্দর হতে পারে না, প্রেমিক ভক্ত‍ সেজন‍্য ফুলের বাইরের সৌন্দর্য্য দেখে তত মুগ্ধ হন না, কারণ তিনি ফুটন্ত ফুলের মনমাতান সৌরভটি ভোগ করেন। কারণ প্রেমভক্তির বুকের মধ্যে ঐ লুকান সৌরভটি হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ তৃষ্ণা। এটিই হচ্ছে ১৩,১৪,১৫ নং শ্লোকের মোটামুটি ভাবার্থ যার মাধ‍্যমে প্রেমভক্তির উৎকর্ষতা এবং শুষ্ক জ্ঞানের নিকৃষ্টতা বলা হয়েছে*
*🍀এই কথনগুলি শুনে মহাপ্রভুর হৃদয় মন্দিরে কৃষ্ণকথার তরঙ্গ-হিল্লোল প্রবাহিত হতে লাগল এবং তিনি ব্রজভাবে ভাবিত হয়ে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করতে লাগলেন।ভাগ‍্যবান রামরায় সেই ভাবাবেশে অধীর হয়ে মহাপ্রভুর শ্রীচরণতলে চেতনাহীন হয়ে পড়লেন।করুণাময় মহাপ্রভু তখন তাঁর দেহে তাঁর পদ্মহস্ত বুলিয়ে সুস্থ করলেন এবং আলিঙ্গনের মাধ‍্যমে হৃদয়ের সঞ্চিত যত প্রেম তাঁর মধ্যে সঞ্চার করে দিলেন।*
*🍀এইভাবে ক্রমাগত দিনের পর দিন দীর্ঘ নিশা অবসান হত, কারণ এইরকম ইষ্টগোষ্ঠী করবার সুযোগ তো সকলের ভাগ‍্যে জুটে না। রামরায় প্রাণ ভরে তাঁর হৃদয় মন্দিরে সঞ্চিত কৃষ্ণকথা মহাপ্রভুকে শুনাতেন এবং উভয়ে এক স্বর্গীয় আনন্দ অনুভূতির মাধ‍্যমে কৃষ্ণপ্রেমরস সিন্ধুতে ভাসমান থাকতেন।*
*🌺শ্রীরামরায় সর্বপ্রথমে যে গীতার শ্লোকগুলির উল্লেখ করেছিলেন, তা এই ঃ----*
*(১)স্বধর্মং অপি চাবেক্ষ‍্য ন বিকম্পিতুম্ অর্হসি,*
*ধর্ম‍্যাৎ হি যুদ্ধাৎ শ্রেয়ো অন‍্যৎ ক্ষত্রিয়স‍্য বিদ‍্যতে।*
*(২)যদৃচ্ছয়া চোপপন্নং স্বর্গদ্বারম্ অপাবৃতং,*
*সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লভন্তে যুদ্ধমীদৃশাম্।।*
*(৩)অথ চেৎ ত্বম ইমং ধর্ম‍্যং সংগ্রামং ন করিষ‍্যসি,*
*ততঃ স্বধর্মং কীর্তিং চ হিত্বা পাপম্ অবাপস‍্যসি।*
*🌻কর্মযোগের শ্লোকটি হচ্ছে ঃ--*
*(৪)শ্রেয়ান্ স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ,*
*স্বধর্ম‍্যে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মোভয়াবহঃ।।*
*🌹দ্বিতীয় প্রশ্ন ঃ-----*
*🍀রাজবিদ‍্যা রাজগুহ‍্য যোগের শ্লোক।*
*যৎ করোষি যদশ্নাসি যৎ জুহোসি দদাসি যৎ,*
*যৎ তপস‍্যসি কৌন্তেয় তৎ কুরুষ্ব মদর্পণম্।*
*🌻তৃতীয় প্রশ্ন= মোক্ষযোগের শ্লোক--*
*সর্ব্বধর্ম্মান্ পরিত‍্যজ‍্য মামেকং শরণং ব্রজ।*
*অহং ত্বাং সর্বপাপেভ‍্যো মোক্ষয়িষ‍্যামি মা শুচঃ।।*
*🍁চতুর্থ মোক্ষযোগের শ্লোক=*
*ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্মা ন শোচতি ন কাঙ্ক্ষতি,*
*সমং সর্বেষু ভূতেষু মদ্ভক্তিং লভতে পরাম্।।*
🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵
*কব্জা সপ্রেম বচনে,কহে কথা হরি সনে,*
    *বলে নাথ কিছুদিন হেথা কর বাস।*
*এবে তোমা ছাড়ি দিতে,ইচ্ছা নাহি হয় চিতে,*
   *মোর সাথে ফুল্ল মনে রহ পীতবাস।।*
*কামরূপে ভগবানে,করেছিল বাঞ্জা মনে,*
    *শ্রীহরি কুব্জারে তাই দেন কাম বর।*
*তাহারে আদর করি,সম্মান বাড়ান হরি,*
   *দিব‍্য বস্ত্র অলঙ্কার দিয়া অতঃপর।।*
*মুক্তি দাতা পায় কাছে,তবু মুক্তি নাহি যাচে,*
    *কৃষ্ণের নিকটে সে যে কাম শুধু চায়।*
*গোপীদের কৃষ্ণে নিষ্ঠা,তাই তাদের প্রতিষ্ঠা,*
   *শুদ্ধ প্রেমে ধ‍্যান করি তাঁরে কাছে পায়।।*
*ভগবান জনার্দন,করি প্রতিজ্ঞা স্মরণ,*
   *যাইতে অত্রুূর গৃহে করেন মনন*।
*গমনের আয়োজন,করিলেন সেইক্ষণ,*
    *মথুরা পুরীতে রথ করি আনয়ন।।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🪷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ১১১ হইতে ১২০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
          *রায় রামানন্দের প্রশ্ন*
           """""""""""""?''''''''''''''''''''''''''''''''
*🍀এই দশদিনের কৃষ্ণকথার মধ্যে আবার একদিন এক অতি উপাদেয় প্রসঙ্গের অবতারণা হয়েছিল যার একটু আলাদা করে প্রসঙ্গ করা দরকার।একদিন রামরায় বললেন ঃ---*
*🍀মহাপ্রভু আপনি কৃপা করে আমাকে শক্তিসঞ্চার করে আমার মাধ‍্যমে অনেক তত্ত্ব প্রকটিত করলেন। আপনার কৃপায় কৃষ্ণতত্ত্ব, রাধাতত্ত্ব,প্রেমতত্ত্ব,রসতত্ত্ব অনেক অতি গুহ‍্য কথা কিছু আস্বাদন করলাম, কিন্তু একটি বিষয়ে আমার মনে বড় সংশয় জেগেছে। আমি কিছুতেই তার সমাধান করতে পারছি না।আমায় কৃপা করে সেই সন্দেহটি ভঞ্জণ করে দিন এই প্রার্থনা।মহাপ্রভু তখন বললেন বলো,রামরায় বলো! তোমার মনে যখন ইচ্ছে হয়েছে আমি নিশ্চয়ই তা পূরণ করতে চেষ্টা করব।রায় মহাশয় তখন বললেন ঃ---*
*🌷পহিলে দেখিনু তোমা সন্ন‍্যাসী স্বরূপ।*
*🌷এবে তোমা দেখি মুঞি শ‍্যাম গোপরূপ।।*
*🌷তোমার সম্মুখে দেখি কাঞ্চন পঞ্চালিকা।*
*🌷তার গৌরকান্ত‍্যে তোমার শ‍্যাম অঙ্গ ঢাকা।।*
*🌷তাহাতে প্রকট দেখি শ্রীবংশীবদন।*
*🌷নানাভাবে চঞ্চল তাতে আমার নয়ন।।*
*🌷এই মত দেখি তোমা হয় চমৎকার।*
*🌷অকপটে কহ প্রভু কারণ ইহার।।*
*🌻এখানে জানা দরকার যে সার্বভৌম পন্ডিত যখন রায় রামানন্দ মহিমা মহাপ্রভুর কাছে ব‍্যক্ত করেন  তখন পর্যন্ত সার্বভৌম পন্ডিত জানতেন যে তিনি একজন উচ্চস্তরের কৃষ্ণভক্ত তার উপরে মহাপ্রভুর মহিমা তখনও পর্যন্ত পরিপূর্ণ ভাবে ব‍্যক্ত হয়নি।সেজন‍্য রামরায় গৌরাঙ্গতত্ত্ব বিষয়ে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞই ছিলেন এবং মহাপ্রভুকে প্রথম দর্শনে একজন পরিব্রাজক সন্ন‍্যাসী হিসাবেই মর্য‍্যাদা দান করাই স্বাভাবিক ছিল।এই প্রসঙ্গে শ্রীমুরারি গুপ্ত তাঁর কড়চায় এক অদ্ভুত তথ‍্য প্রকাশ করেছেন এবং তিনি এটিকে মহাপ্রভুর অনুগ্রহ-দর্শন হিসাবে ব‍্যাখ‍্যা করেছেন। সকলেই এটি নিশ্চিত মানবেন যে অনুগ্রহ বা কৃপা ছাড়া এই দর্শন কখনও সম্ভব হত না।সেজন‍্য তিনি বলেছেন যে=*
*(১)মহাপ্রভু যখন বিদ‍্যানগরের দিকে গমন করছিলেন----*
*(২)ঠিক সেই সময় রামরায় তাঁর নিত‍্যপূজা বিরাম করে ব্রজেন্দনন্দনের স্বরূপ চিন্তা করতে করতে---*
*(৩)দেখতে পেলেন যে কৃষ্ণ ভগবান যেন গৌর সন্ন‍্যাসীরূপে তাঁর সামনে আগমন করছেন।*
*(৪)শ্রীরামানন্দ রায় তার পূর্বে শ্রীগৌরাঙ্গরূপ কখনও দর্শন করেননি  অথবা শোনেননি।*
*(৫)সেজন‍্য ব্রজভাবে ভাবিত মনে সহসা শ্রীগৌরাঙ্গের কনকোজ্জ্বল রূপ মাধুরী দেখে যেন বিস্মিত হয়ে গেলেন। এবং ভাবতে লাগলেন এ আবার কি দেখলাম।*
*(৬)সেহেতু তিনি পুনরায় ব্রজেন্দনন্দনের শ‍্যামরূপ স্মরণমননে উদ‍্যোগী হলেন, যতই মনঃসংযোগ করতে চেষ্টা করেন না কেন, তবুও শ‍্যামরূপ ভাবতে ভাবতে গৌরাঙ্গরূপ মাধুরী মানসে দর্শন করে স্তম্ভিত ও বিস্মিত হলেন।*
*(৭)পুনর্বার তিনি ধ‍্যানস্থ হলেন এবং নিত‍্য যে হৃদয়ে কৃষ্ণস্মৃতি অনুভূত হত সেদিন কিন্তু শ‍্যামসুন্দরের পরিবর্তে গৌরাঙ্গসুন্দর তাঁর হৃদয়াকাশে উজ্জ্বল কিরণ দিতে লাগলেন।*
*🍀সেজন‍্য তিনি যখন সন্ন‍্যাসী মহাপ্রভুকে সর্বপ্রথম গোদাবরী তীরে দেখলেন, তার আগেই মহাপ্রভু কৃপা করে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। কারণ কৃপা করতে হলে কিছু পূর্বাভাস তো দরকার, না হলে হঠাৎ একজন অজানা অচেনা পরিব্রাজক সন্ন‍্যাসী যা তদানীন্তন কালে প্রায় সদাসর্বদাই দেখা হত এইরকম একজন সন্ন‍্যাসীকে দর্শন করে বিদ‍্যানগরের রাজার এই দুর্দশা হবে কেন?পরম কৃষ্ণভক্ত রাজার মন তখন সংশয় দোলায় দোদুল‍্যমান, এবং ভাবতে লাগলেন এই কিছুক্ষণ আগে যাঁকে ধ‍্যানে দর্শন করলাম এখন তো দেখছি তিনিই সাক্ষাৎ স্বরূপে বিদ‍্যমান।এ কি স্বপ্ন না জাগরণ?শ‍্যামসুন্দরের এ কি লীলা?*
*🍀এই তথ‍্যটি কোন কল্পনা প্রসূত কাহিনী নয়, তা শ্রীপাদ মুরারি গুপ্ত রচিত চৈতন‍্য চরিতামৃতের পঞ্চদশ সর্গ হতে কিছু উদ্ধৃতি এর সত‍্যতা ব‍্যক্ত করবে সেখানে রামরায় বলছেন=*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*হেরে অত্রুূর তখন,আছে রথে তিনজন,*
   *দূর হ'তে প্রত‍্যক্ষ সে করে আগমন।*
*রাম ও উদ্ধবে হরি,আপনার সঙ্গে করি,*
    *সহসা অত্রুূর গৃহে উপনীত হন*।।
*তাঁহাদের শ্রীচরণ,করি সেথা সমার্জন,*
   *স্বীয় ক্রোড়ে অত্রুূর তা করিয়া স্থাপন।*
*দিব‍্য বসন ভূষণ,ত্বরা করি আনয়ন,*
    *ভক্তি ভরে দু'জনারে করিল পূজন।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ১১১ হইতে ১২০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
            *রামানন্দ রায়ের প্রশ্ন*
          ?????????????????????
*🍀শ্রীপাদ মুরারি গুপ্ত রচিত চৈতন‍্যচরিতামৃতের পঞ্চদশ সর্গ হতে উদ্ধৃত, সেখানে রামরায় বলছেন=*
*🌷স স্বগৃহে কৃষ্ণ পূজাবসানে,*
*🌷ধ‍্যায়ন্ পরম ব্রহ্ম ব্রজেন্দ নন্দনম্।*
*🌷দদর্শ বারত্রয়ম অদ্ভূতং মহদ্,*
*🌷গৌরাঙ্গ মাধুর্য‍্যম্ অতীব বিস্মিতঃ।।*
*🌷উন্মীল‍্য নেত্রে চ তদেব রূপং,*
*🌷দৃষ্ট্বা পরং ব্রহ্ম সন্ন‍্যাস বেশং,*
*🌷প্রণম‍্যমুর্দ্ধা বিহিতঃ কৃতাঞ্জলিঃ,*
*🌷পপ্রচ্ছ কুত্রত‍্য ভবান্ ইতি প্রভো।।*
*🌻সেজন‍্য মহাপ্রভুকে প্রথম দর্শন মাত্রেই তিনি অবাক বিস্ময়ে গৌরহরির আপাদমস্তক সতৃষ্ণনয়নে দেখতে লাগলেন এবং ভাবতে লাগলেন এ কাঁহাকে দেখলাম, ইনি তো তিনিই--, এ কি রহস‍্য!তাঁর আজন্ম সেবিত শ‍্যামসুন্দর যেন সন্ন‍্যাসীর আবরণে সামনে বিরাজমান, আবার দেখতে লাগলেন যেন একটি সোনার পুতুল এবং সেই কনক-উজ্জ্বল জ‍্যোতিতে শ‍্যামসুন্দরের অঙ্গ সৌন্দর্য্যে যেন উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।বস্তুতপক্ষে রায় রামানন্দ কর্তৃক সন্ন‍্যাসী মহাপ্রভুর মধ্যে এই প্রকার বিভিন্ন ভাবমূর্তি বা শ্রীমূর্তি দর্শন, ভক্তি জগএক মহা অবদান।প্রেমিকভক্ত তাঁর উপাস‍্যকে ঠিকই চিনতে পেরেছিলেন। ভগবানের প্রচ্ছন্ন (আবৃত) স্বরূপটিকে প্রকট করবার সাধ বা বাসনা ভক্তগণের চিরন্তন।নিজে যুগল সেবা করেন, যুগলরূপ মানসে স্মরণ ও মনন করেন। সেজন‍্য তিনি যেন দেখলেন সন্ন‍্যসী মহাপ্রভু সাক্ষাৎ রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তিতে বিদ‍্যমান।*
*🙏তিনি দৈন‍্য বিনয় কন্ঠে বললেন, "অকপটে কহ প্রভু কারণ ইহার।" চতুর চূড়ামণি গৌরহরি কি সহজে ধরা দেবার পাত্র, আসল প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে তিনি রামরায় মহিমা ব‍্যক্ত করে বললেন=*
*🌷কৃষ্ণে তোমার গাঢ় রতি হয়।*
*🌷প্রেমের স্বভাব এই জানিহ নিশ্চয়।।*
*🌷মহাভাগবদ্ দেখে স্থাব জঙ্গম।*
*🌷তাঁহা তাঁহা হয় তার শ্রীকৃষ্ণ স্ফুরণ।।*
*🌷স্থাবর জঙ্গম দেখে,না দেখে তার মূর্তি।*
*🌷সর্বত্র হয় নিজ ইষ্টদেব স্ফূর্তি*।।
*🌷রাধাকৃষ্ণে তোমার মহাপ্রেমা হয়।*
*🌷যাঁহা তাঁহা রাধাকৃষ্ণ তোমারে স্ফুরয়।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ মহাপ্রভু রামরায়কে বললেন প্রগাঢ় প্রেমের এই তো স্বভাব, তোমার রাধাকৃষ্ণ প্রেম এমন এক স্তরে পৌঁছে গেছে, যে সর্বত্র তোমার মানসপটে কৃষ্ণস্মৃতি জাগরিত,সেইজন‍্যই এইরকম স্ফুর্তি খুবই স্বাভাবিক।স্থাবর জঙ্গম যেদিকেই তোমার দৃষ্টি পড়ে সেইদিকেই তুমি ভগবানের অপার মহিমা উপলব্ধি করো, অতএব সেজন‍্যই আমাকে দেখে তোমার মনে এইরকম একটি ভাব হয়েছে।রামরায় এইরকম ছলনা কথায় কিছুতেই সন্তুষ্ট হতে পারলেন না এবং বেশ বুঝলেন যে মহাপ্রভু সন্ন‍্যাসী বেশে তাঁকে যেন প্রতারণা বা ছলনা করছেন। কারণ তিনি ইতিপূর্বে যে দৃশ্য নিজ মানসপটে দেখেছিলেন তা তো অভ্রান্ত সত‍্য কারণ।(আমি যে দৃশ্য দেখেছি তা কোনমতেই ভুল হতে পারে না)।*
*(১)তিনি সর্বপ্রথম শ‍্যামসুন্দর মূর্তি ধ‍্যান করতে করতে গৌরাঙ্গ মূরতি দর্শন করলেন, এবং মানসে যা অনুভব করলেন সাক্ষাৎ দরশনের সঙ্গে তার সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে*
*(২)তার পরে তিনি দেখলেন যে চতুর শিরোমণি সন্ন‍্যাসী শ্রীগৌরাঙ্গ সোনার পুতুলের মত শ্রীরাধিকাকে সঙ্গে নিয়ে যুগলরূপে বিদ‍্যমান।*
*(৩)সেইজন‍্য তিনি অবাক বিস্ময়ে ভাবতে লাগলেন এ তো কোন কুহেলিকা (কুয়াশা) নয় কারণ বাস্তবে সন্ন‍্যাসমূর্তি দর্শন করলেও তিনি তাঁর মধ্যে দেখছেন "শ‍্যামসুন্দরের" ত্রিভঙ্গমূর্তি, একবার দেখছেন সোনার বর্ণছটা বিকিরণ করে রাধাভাবে ভাবিত, একবার দেখছেন মুরলীধর শ‍্যামসুন্দর, আবার দেখছেন যে শ্রীগৌরাঙ্গের দেহ হতে নিষ্ক্রান্ত বাহির হচ্ছে বা বহির্গত) সোনার বর্ণচ্ছটায় যেন শ‍্যামাঙ্গ গৌরাঙ্গে পরিণত হয়েছে। সেইজন‍্য তিনি পুনরায় বললেন প্রভু!তুমি কেন আমার সঙ্গে ছলনা করছ, আমি অজ্ঞ,আমি মূঢ়, আমাকে কৃপা করে এ রহস্যের উত্তর দাও।তবুও সন্ন‍্যাসী মহাপ্রভু প্রকৃত উত্তর না দিয়ে,স্নিগ্ধ মধুর কন্ঠে বললেন,রামরায়!তুমি যুগল সেবা কর তাইনা? তোমার সেবা নিষ্ঠা এত প্রবল যে সদা সর্বদা তোমার মানসপটে সেই রূপ স্ফুরণ হয়। অতএব তুমি যে যুগল মূরতি দেখেছ সেটি তোমার ইষ্ট মূর্তির স্মরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। অর্থ‍্যাৎ করুণাময় গৌরহরি রামরায়কে প্রকৃত আধার জ্ঞানে তাঁকে কৃপা করবেন বলেই তাঁর মানস পটখানিকে নানা রঙে রঙ করাইয়ে ধীরে ধীরে প্রচ্ছদপট (আবরণেরপটটি)সুনিপুণ শিল্পীর মতো তৈরী করে নিচ্ছেলেন,যাতে লালসা বা লৌল‍্যবৃদ্ধি চরম স্তরে পৌঁছায়। (ভক্তাধীন ভগবান, রামরায়ও ছাড়বার পাত্র নন, সেজন‍্য তিনি বললেন)=*
*🌷রায় কহে প্রভু তুমি ছাড় ভারি ভুরি।*
*🌷মোর আগে নিজ রূপ না করিহ চুরি।।*
*🌷রাধিকার ভাবকান্তি করি অঙ্গীকার।*
*🌷নিজ রস আস্বাদিতে করিয়াছ অবতার।।*
*🌷নিজ গূঢ়কার্য‍্য তোমার প্রেম আস্বাদন।*
*🌷অনুসঙ্গে প্রেমময় কৈলে ত্রিভবন।।*
*🌷আপনে আইলে মোরে করিতে উদ্ধার।*
*🌷এবে কপট কর,তোমার কোন ব‍্যবহার?*
*🍀তখন ভক্তের কাছে ভগবান পরাজয় করলেন, যেমনটি করে ভগবান চিরকালই আনন্দ পান এবং নিজের প্রকৃত স্বরূপ রামরায়কে দেখলেন, যা আপনারা চৈতন‍্যচরিতামৃতের ভাষায় আস্বাদন করুন।*
*🌷তবে হাসি তাঁর প্রভু দেখাইলা স্বরূপ।*
*🌷রসরাজ মহাভাব দুই একরূপ*।।
*🌷দেখি রামানন্দ হইল আনন্দে মূর্চ্ছিত।*
*🌷ধরিতে না পারি দেহ,পড়িলা ভূমিত।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ এই যে দেখলেন রামরায়, এই রসরাজ মহাভাব শ্রীমূর্তি, গৌর পরিকরগণের মধ্যে কারও ভাগ‍্যে এই দুই রূপ দর্শন হয় নি।এ তত্ত্ব অতি দুর্জ্ঞেয় এর বিশ্লেষণ করা জীবজগতের পক্ষে সম্ভব নয়। গীতায় ভগবান বলেছেন,*
*🌷নাহং প্রকাশঃ সর্বস‍্য যোগমায়া সমাবৃতঃ।*
*🌹আমি যোগমায়া দ্বারা সমাবৃত (সম্পূর্ণভাবে আবৃত) থাকায় সকলের কাছে প্রকটিত হই না, আবার পাত্র ভেদে এই প্রকটের তারতম‍্য আছে। সেজন‍্য রসিক ভক্তশ্রেষ্ঠ শ্রীল রামরায়কে সন্ন‍্যাসী মহাপ্রভু যে রসরাজ মহাভাব মূর্তি দেখিয়েছিলেন গৌর লীলায় এই অপরিসীম সৌভাগ্য কারও কপালে জুটে নাই, যে কথা নিজমুখেই বলেছেন।*
*🌷তোমা বিনা এইরূপ না দেখে কোন জন।*
*🌻এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদ স্বরূপ দামোদর মহাপ্রভুর যে তত্ত্ব উদঘাটন করেছেন তা সকলের জানা দরকার।তিনি বলেছেন=*
*☘তোমরা যে গৌর বিগ্রহ দেখছ, জান উনি কি পদার্থ?তোমরা শ্রীকৃষ্ণের নাম শুনেছ। শ্রীরাধা যে শ্রীকৃষ্ণের আহ্লাদিনী শক্তি তাও তোমরা শুনেছ। শক্তি ও শক্তিমান যে একাত্মা ইহাও তোমাদের কাছে অজানা নয়। সুতরাং শ্রীরাধাকৃষ্ণ লিলারস আস্বাদনের জন্য যদিও অনাদিকাল হতে শ্রীবৃন্দাবনে নিত‍্য লীলাময় যুগল বিগ্রহ বতর্মান, তত্ত্বের দিক দিয়ে বিচার করলে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সঙ্গে শ্রীরাধাগোবিন্দের কোন ভেদ নাই।এই দুই বস্তু এক হয়েও দুই, আবার দুই হয়েও এক।শ্রীগৌরাঙ্গরূপে এই দুই স্বরূপ এক হলেন। এটিই শ্রীভগবদ্ দেহের অচিন্ত‍্য ঐশ্বর্য‍্য। বতর্মান কলিকালে যাঁকে তোমরা শ্রীগৌরাঙ্গ বলে জেনেছ ইনি সেই ব্রজের যুগলমূরতি ছাড়া আর কেউ নহেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

adds