শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১১১ হইতে ১২০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
          *রায় রামানন্দের প্রশ্ন*
         *************************
*🍀 বর্তমান কলিকালে যাঁকে তোমরা শ্রীগৌরাঙ্গ বলে জেনেছ, ইনি সেই ব্রজের যুগলমূর্তি ছাড়া আর কাউ নহেন।এর সত‍্যতা শ্রীচরিতামৃতে আস্বাদন করুন।*
*🌷প্রেমভক্তি শিখাইতে আপনি অবতরি।।*
*🌷রাধাভাব কান্তি দুই অঙ্গীকার করি।*
*শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য রূপে কৈল অবতারি।।*
*🌻সর্বশেষে মহাপ্রভু তাঁর পদ্মহস্ত রামরায়ের শ্রীঅঙ্গে বুলাতে লাগলেন এবং ধীরে ধীরে রামরায়ের আনন্দ মূর্ছা ভঙ্গ হল এবং রামরায় তখন আবার তাঁর সামনে সচল মহাপ্রভুকে সন্ন‍্যাসীরূপে দর্শন করে অবাক বিস্ময়ে ভাবতে লাগলেন যে তাঁর কি দেবদুর্লভ ভাগ‍্য যে তিনি এই সন্ন‍্যাসীটির প্রকৃত স্বরূপ হৃদয়ঙ্গম করতে পারলেন। তিনি যেন মন্ত্রমুগ্ধবৎ অনিমেষ নয়নে শ্রীমন্মহাপ্রভুর রূপসুধা পান করতে লাগলেন এবং অষ্টসাত্ত্বিক ভাব বিকারে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করতে লাগলেন। ক্ষণিকের মধ্যে এমন একটা ব‍্যাপার ঘটে গেল যে সবই যেন দিবাস্বপ্নের মত প্রকাশিত হল।মহাপ্রভু তখন করুণা পরবশ হয়ে তাঁকে প্রেম-আলিঙ্গন দান করলেন এবং বললেন=*
*🌷আলিঙ্গন করি প্রভু কৈল আস্বাদন।*
*🌷তোমা বিনা এইরূপ না দেখে কোনজন।।*
*🌷মোর তত্ত্ব লীলারস তোমার গোচরে।*
*🌷অতএব এইরূপে দেখাইলু তোমারে।।*
*🌹এটিই হল সংক্ষেপে রায় রামানন্দ কর্তৃক মহাপ্রভুর স্বরূপতত্ত্ব প্রসঙ্গ।এইসব তত্ত্ব মহাসমুদ্রের মত অতলস্পর্শী এবং এটির সুগভীর তলে পৌঁছবার সাধ‍্য বোধকরি কারও নাই।যাইহোক,প্রস্ফুটিত ফুলের পাপড়ি এবং রেণুর মধ্যে মধু থাকলেও মধুর মহিমা বা মাহাত্ম্য জীব জগতে চিরকালই অবলুপ্ত থাকত যদি ভগবান মধুকরের সৃষ্টি না করতেন। কারণ ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করবার শক্তি একমাত্র মৌমাছিরই আছে এবং যে মৌচাকে সে মধু সংগ্রহ করে রাখে তা হতেই মধু আহোরণ করে জীব জগত ফুলের মহিমা বা যশগান করেন।সেইরকম ভগবানের অনন্ত মহিমা ভক্তরূপী মধুকর ছাড়া আর কারও পক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয়, সেজন‍্য গৌর ভক্তগণের মাধুকরী হতে সামান্য কিছু সংগ্রহ করে রায় রামানন্দ মহিমা ব‍্যক্ত হল। অধমের দোষ ত্রুটি কৃপা করে মার্জনা করবেন।🙏*
*🙌 🙌রায় রামানন্দ মহিমা🙌 🙌*
*🙏নীলাচলে মহাপ্রভুর একজন অতি মরমী ভক্ত ছিলেন যাঁর নাম শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র।প্রদ‍্যুম্ন ব্রহ্মচারী নামক অন‍্য একজন ভক্ত ছিলেন তাঁর উভয়েই স্বতন্ত্র ব‍্যক্তি।মিশ্র মহাশয় ছিলেন সংসারী ভক্ত এবং তাঁর মনটি ছিল শিশুর মত সরল।সংসার সুখে বীতস্পৃহ (আকাঙ্ক্ষা রহিত) হয়ে তিনি শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সুশীতল শ্রীচরণছায়া লাভ করেছিলেন। তিনি এত উচ্চস্তরের ভক্ত ছিলেন যে প্রায়শই তাঁর গৌরাঙ্গের আবেশ হত।যে কোন মানুষের মনে ভক্তি মহারাণীর প্রথম পদক্ষেপ হলেই কৃষ্ণকথা শোনা এবং কৃষ্ণপ্রেম লাভের জন্য হৃদয় মন ব‍্যাকুল হয়ে উঠা।মিশ্র মহাশয়ের অবস্থাও সেইরকম হল, তিনি কার কাছে গেলে প্রাণ ভরে কৃষ্ণকথা শুনতে পাবেন এই চিন্তায় ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন। অতঃপর একদিন সব দ্বিধা সঙ্কোচ জলাঞ্জলী দিয়ে শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণতলে পড়ে নিজ মনোবাসনা প্রকাশ করলেন।*
*🌷মহাপ্রভো,মুঞি দীন গৃহস্থ অধম।*
*🌷কোন ভাগ‍্যে পাইয়াছি তোমার দুর্লভ চরণ।।*
*🌷কৃষ্ণকথা শুনিবারে মোর ইচ্ছা হয়।*
*🌷কৃষ্ণকথা কহ মোরে হইয়া সদয়।।*
*🌻তখন মহাপ্রভু ভক্ত মহিমা প্রকাশ করবার জন্য দৈন‍্যবিনয় কন্ঠে বললেন মিশ্র!আমি তো নিজে কৃষ্ণকথা জানি না, যদি শুনতে মন সত‍্যই চায় তাহলে শ্রীরামরায়ের কাছে যাও, কারণ তিনিই একমাত্র কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা।তারপরে মহাপ্রভু বললেন, মিশ্র!তুমি কেন নিজেকে দীন বলছ?তোমার মত ভাগ‍্যবান কয়জন আছে?বহু জন্মের সঞ্চিত পুণ‍্যফলে মানুষের কৃষ্ণকথা শুনতে রুচি হয়, আরও কহিলেন=*
*🌷কৃষ্ণ কথায় রুচি তোমার বড় ভাগ‍্যবান।*
*🌷যার কৃষ্ণকথায় রুচি,সেই ভাগ‍্যবান।।*
*🌹মহাপ্রভুর কথায় তিনি একদিন রায় রামানন্দের বাড়ীতে গমন করে শুনলেন যে তিনি তখন ঘরে নাই, নির্জন উদ‍্যানে আছেন।কিছুক্ষণ ভৃত‍্য সঙ্গে কথাবার্তা হবার পর তিনি জানতে পারলেন যে,তিনি দুই তরুণ অপরূপা কিশোরী পরমা সুন্দরী দেবদাসীদ্বয়কে নাচ গান শেখান, যাতে তাঁরা শ্রীজগন্নাথদেবকে তা সুন্দরভাবে পরিবেশন করতে পারেন এবং তিনি বললেন যে রামরায়ের আদেশে সেখানে যাবার কারও অধিকার নাই।অতএব আপনাকে যদি সাক্ষাৎ করতেই হয় তাহলে রায় মহাশয় না ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, হ‍্যাঁ, তিনি কখন ফিরবেন তা কেউ জানেন না।*
*🍀অনেক আশা নিয়ে মিশ্র মহাশয় এসেছিলেন, কিন্তু এইসব কথা শুনে তাঁর মাথায় যেন বজ্রাঘাত হল এবং ভাবলেন এ কি সর্বনাশ!রায় মহাশয় এত উচ্চস্তরের কৃষ্ণভক্ত, তিনি কৃষ্ণনাম জপ করবেন,লীলাগ্রন্থ পাঠ করবেন,সাধুসঙ্গে কৃষ্ণকথা কহিবেন, তিনি তা না করে নির্জন কাননে যুবতী পরমা সুন্দরী নারীদ্বয়ের সঙ্গে এ কি আচরণ?মিশ্র মহাশয়ের মনে সহসা সন্দেহের তুফান উঠিল।তিনি তখনই রামরায়ের গৃহ ত‍্যাগের মনস্থ করলেন কিন্তু পরক্ষণেই মনে হল যে তাহলে তো মহাপ্রভুর আজ্ঞা লঙ্ঘন করা হবে অতএব অপেক্ষা করাই সমীচীন বোধ করলেন।*
*🌺বিকেলবেলা রায় মহাশয় যখন গৃহের ভিতরে আসিলেন তখন এই আগন্তুকের বৃত্তান্ত জেনে তিনি লজ্জায় এবং সঙ্কোচে মর্মাহত হলেন, যেন শত অপরাধীর মত ক্ষমা ভিক্ষা করলেন।রামরায় বিনয়ের খনি, বললেন--, আপনার চরণ স্পর্শে আমার গৃহ আজ পবিত্র হল, আমি আপনার দাসানুদাস,আপনি কৃপা করে আপনার মনোবাসনা ব‍্যক্ত করুন।রামরায় সম্বন্ধে মিশ্র মহাশয়ের মনের মধ্যে নানারকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়া সত্ত্বেও তাঁর শ্রীমূর্তি দর্শন মাত্র মনের ঘনীভূত সন্দেহ অনেক কমে গেল কিন্তু পুরোপুরি তিনি সন্দেহ মুক্ত হলেন না। মনের গোপন কথা প্রকাশ না করে বললেন--,রায় মহাশয়! আপনাকে দর্শন করতে এসেছি,দর্শন করে কৃতার্থ হলাম এবং পবিত্র হলাম। ইত্যাদি এইসব কথা বলে রায় ভবন ত‍্যাগ করলেন।*
        *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
            *রায় রামানন্দ মহিমা*
           *********************
*🍀প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের মন তখন সংশয় দোলায় দোদুল‍্যমান, তিনি মহা সমস‍্যায় পড়ে গেলেন, কারণ বৈষ্ণব শাস্ত্রের মূল কথায় হচ্ছে প্রকৃতি সন্দর্শন হতে দূরে থাকা, নারীর দারুমূর্তি দেখাও বৈষ্ণব শাস্ত্র বিরুদ্ধ। যে মিশ্র মহাশয়ের,মহাপ্রভু অন্তপ্রাণ, তিনি মহাপ্রভুর সব কথা স্মরণ করে ভাবতে লাগলেন=*
*🌷প্রভু কহে বৈরাগী করে প্রকৃতি সম্ভাষণ।*
*🌷দেখিতে না পারি আমি তাহার বদন।।*
*🌷দুর্ব্বার ইন্দ্রিয় করে বিষয় গ্রহণ।*
*🌷দারু প্রকৃতি হরে মুনিজনের মন।।*
*🌻এমনকি মহাপ্রভু নিজেকে উদ্দেশ্য করে নিজেই বলেছেন=*
*🌷আমি তো সন্ন‍্যাসী,আপনাকে বিরক্ত করি মানি।*
*🌷দর্শন দূরে রহুক,প্রকৃতির নাম যদি শুনি।।*
*🌷তবহু বিকার পায়,মোর তনু মন।*
*🌷প্রকৃতি দর্শনে স্থির হয় কোনজন?*
*🍀এইরকম মানসিকতার মধ্যে তিনি মহাপ্রভুর কাছে এসে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন, তাঁকে দেখা মাত্রই গৌরহরি কহিলেন, "রামরায়ের কাছ হতে কৃষ্ণকথা শুনেছ?" মিশ্র মহাশয় সঙ্কোচে সব কথা বলতে পারছেন না, সেজন‍্য তিনি মাথা নিচু করে মহাপ্রভুর শ্রীচরণের দিকে তাকিয়ে রইলেন।অন্তর্য‍্যামী শ্রীগৌরাঙ্গ সবই জানেন,সেহেতু তাঁকে অভয়দান করে বললেন, মিশ্র!কোন সঙ্কোচ বা ভয় নাই,মনে যদি কোন সংশয় বা দ্বিধা হয়ে থাকে তা অকপটে আমাকে বলো।তখন মহাপ্রভু সমস্ত বৃত্তান্ত শুনে,রামানন্দ মহিমা প্রকাশ করে বললেন=*
*🌷রামানন্দের কথা কহি শুন সর্বজন।*
*🌷কহিবার কথা নহে আশ্চর্য‍্য কথন।।*
*🌷একে দেবদাসী তায় সুন্দরী তরুণী।*
*🌷তার সব অঙ্গ সেবা করেন আপনি।।*
*🌷স্নানাদি করায় পরায় বাস-বিভূষণ।*
*🌷গুহ‍্য অঙ্গ হয় তার দর্শন স্পর্শন।।*
*🌷তবু নির্বিকার রায় রামানন্দের মন।*
*🌷নানা ভাবোদ্গমে তারে করায় শিক্ষণ।।*
*🌷নির্বিকার দেহমন "কাষ্ঠ পাষাণ সম"।*
*🌷আশ্চর্য‍্য!তরুণী স্পর্শে নির্বিকার মন।।*
*🌺মহাপ্রভু বললেন যে,মিশ্র!তোমার মনে যে সংশয় উপস্থিত হয়েছে তা অতি স্বাভাবিক, কারণ আমি সন্ন‍্যাসী হলেও প্রকৃতি দর্শনে ভয় পাই পরে মনের ধৈর্য‍্য নষ্ট হয়, কিন্তু রামানন্দের কথা স্বতন্ত্র।প্রকৃত জীবদেহের সঙ্গে তলনা চলে না।এক্ষেত্রে মহাপ্রভু, রামরায়কে নিজ হতে উচ্চ আসন দান করলেন। আরও বললেন, "প্রাণশূন‍্য কাঠ বা পাথর যেরকম যোষিৎ (নারী বা কামপত্নী) স্পর্শে অবিকৃত অবস্থায় থাকে, শ্রীল রামরায়ের মনও যোষিৎ স্পর্শে সেইরকম নির্বিকার। সুতরাং সেইরকম চিত্তের বিকারের তো কোন আশঙ্কায় নাই। শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখে এইরকম রামানন্দ মহিমা শুনে মিশ্র মহাশয় ভাবতে লাগলেন=*
*(১)মহাপ্রভুর বাক‍্য মাত্রেই বেদবাক‍্য।*
*(২)সে মহাবাক‍্য বেদের অনুশাসন হতেও গভীরতর।*
*(৩)বেদের মহাবাক‍্য হতেও গৌরবে অধিকতর গৌরবান্বিত।*
*(৪)মহাপ্রভু স্পষ্টই বলেছেন যে এইরকম ভাবে যোষিৎ সঙ্গ করতে একমাত্র রামরায়ই অধিকারী।*
*(৫)কেননা,তাঁর মন এবং দেহ অপ্রাকৃত এবং সেজন‍্য যোষিৎ সঙ্গে কিছুমাত্র উত্তেজনা হবার সম্ভাবনা নাই।*
*(৬)শ্রীল রামানন্দ রায়ের দেহ-মন প্রাকৃত জগতের নিয়মাধীন নয়, সদাসর্বদা চিন্ময়রসে পরিপূর্ণ, যে কথা শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামী পর্যন্ত হরিভক্তকে উপলক্ষ্য করে বলেছিলেন,*
*🌷হৃদাকাশে চিদানন্দং মুদাভাতি নিরন্তরং,*
*🌷উদয়াস্তং ন পশ‍্যামি কথং সন্ধ‍্যামুপাসীত?*
*(৭)এক রায় রামানন্দ ছাড়া এইরকম কার্য‍্য অনুষ্ঠানের আর দ্বিতীয় পাত্র এ জগতে নাই।*
*(৮)এমন কি এমন কাজের যোগ‍্যতা স্বয়ং মহাপ্রভুর পর্যন্ত নাই, (যদিও বা তিনি সন্ন‍্যাসী) ইত্যাদি।*
*🌻মহাপ্রভুর শ্রীমুখে এইরকম রায় রামানন্দ মহিমা শুনে ভক্তগণের মনের সন্দেহ দূর হল এবং অবাক বিস্ময়ে তাঁরা ভাবতে লাগলেন যে তাঁরা রামরায় হতে কত ন‍্যূন। প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র যেন নিজেকে শত অপরাধী বোধ করতে লাগলেন এবং রামরায়ের প্রতি সকলের হৃদয়েই এক অতুলনীয় ভক্তিরসের সঞ্চার হল।সকলে "ধন‍্য রামরায়" "ধন‍্য রামরায়" বলে হরিধ্বনি করতে লাগলেন। মহাপ্রভু বলেছেন=*
*🌷নির্বিকার দেহ মন কাষ্ঠ পাষাণ সম।*
*🌷আশ্চর্য‍্য!তরুণী স্পর্শে নির্বিকার মন।।*
*🌷এক রামানন্দের হয় ইথে অধিকার।*
*🌷তাতে জানি অপ্রাকৃত দেহমন তাঁর।।*
*🌷তাঁহার মনের ভাব তিঁহ জানে মাত্র।*
*🌷তাহা জানিবার আর দ্বিতীয় নহে পাত্র।।*
          *🌹ক্রমাগত🌹*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
          *রায় রামানন্দের মহিমা*
          ***********************
*🍀রামানন্দ রায়ের প্রশংসা করে মহাপ্রভু বলিলেন=*
*🌷আমিও রায়ের স্থানে শুনি কৃষ্ণ কথা।*
*🌷শুনিতে ইচ্ছা হয় যদি পুনঃ যাও তথা।।*
*🍀কারণ মহাপ্রভুর অন্ত‍্যলীলার অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে =*
*🌷রামানন্দের কৃৃষ্ণকথা স্বরূপের গান।*
*🌷বিরহ বেদনায় প্রভুর রাখয়ে পরাণ।।*
*🍀সুতরাং এই প্রসঙ্গ হতে সকল গৌরভক্তগণ নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন যে রায় রামানন্দ কি বস্তু। প্রকৃতি সম্বাষণ প্রকৃতির মুখদর্শন পর্য‍্যন্ত যেখানে নিষিদ্ধ এমন কি সামান্য একটু তন্ডুল (চাল) ভিক্ষার জন্য যে কঠিন শাস্তি ছোটহরিদাসকে পেতে হয়েছিল তা সকলেই জানেন।সেজন‍্য বৈষ্ণব জগতে (Discipline) বা চরিত্রের আদর্শ বজায় রাখবার জন্য মহাপ্রভু নিজেকে পর্য‍্যন্ত ধিক্কার দিতে দ্বিধা করেননি।তিনি স্বয়ং ভগবান হয়েও ত‍্যাগী বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের শিক্ষার জন্য বলেছেন=*
*🌷আমি তো সন্ন‍্যাসী আপনাকে বিরক্ত করি মানি।*
*দর্শন দূরে রহুক,প্রকৃতির নাম যদি শুনি।।*
*🌷তবহু বিকার পায় মোর তনু মন।*
*🌷প্রকৃতি দর্শনে স্থির হয় কোন জন।।*
*🍀রায় রামনন্দ বাস্তবে পুরুষদেহ পেলেও আসলে তিনি নারীই ছিলেন,যথা বিশাখার স্বরূপ।একই স্তরে ছিলেন শ্রীস্বরূপদামোদর গোস্বামী যিনি ললিতা সখীর স্বরূপ কিন্তু মহাপ্রভু তাঁকে পর্য‍্যন্ত এ ছাড় দেননি। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ বৈষ্ণব পরিকর এবং পার্ষদগণের চরিত্র অনুশীলন করলে মনে হয় যে মহাপ্রভুর প্রকটকালে যদি রামচন্দ্র কবিরাজ প্রভুর আবির্ভাব হত, তাহলে তিনিই বোধহয় অন‍্য একজন।যিনি হয়ত এই ছাড় পেতেন।সেজন‍্য রামরায় চরিত্র বা তাঁর জীবনের খুঁটিনাটি সব প্রসঙ্গ প্রত‍্যেক আগ্রহী ভক্তগণের জানা উচিৎ।আহা!কি অদ্ভুত চরিত্র!কি সুগভীর শাস্ত্র জ্ঞান, কি বিনয় নম্রতার প্রতীক, প্রবল পরাক্রান্ত রিপুগণ পর্যন্ত দাস‍্যভাবে তাঁর সেবা করছে, মন সদাসর্বদা ব্রজলীলার রস আস্বাদনের জন্য স্মরণ মননের মধ্যেই নিমগ্ন। যুগল সেবার পূজারী ছিলেন বলিয়া হৃদয়াকাশে সদাসর্বদা স্বর্গীয় সুখ অনুভূতি বোধ করতেন। সেজন‍্য এই মহাপুরুষকে ভালভাবেই যাচাই করেই মহাপ্রভু এইরকম মর্য‍্যাদা দান করেছেন। অন‍্য কেউ যাতে অনুকরণ করতে না পারেন সেইজন‍্য নিজেকে উপলক্ষ্য করে কটাক্ষ করতেও দ্বিধা করেননি। অর্থ‍্যাৎ এই জাতীয় নারীসঙ্গ বা নারীর অঙ্গসেবা করবার জন্য যে অপ্রাকৃত দেহ মন দরকার তা রামরায়ের ছিল, এই প্রসঙ্গটি শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*🌷রামরায়ের কথা কহি,শুন সর্বজন।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷নানা ভাবোদ্গমে,তারে করায় শিক্ষণ।।*
*🌻মহাপ্রভুর সুধাময়ী লীলা কথার শেষ নেই কারণ এই প্রেমবারিধি বিশাল এবং এত ছড়িয়ে আছে যে তার কোন কুল কিনারা নাই। তারউপরে সুগভীর, যে অতলস্পর্শ সাধ‍্যাতীত।তথাপি গ্রহ আকর্ষণ ভেদে এই মহা সমুদ্রের জলে কখনও জোয়ার এবং কখনও ভাটার টান দেখা যায়।মহাপ্রভুর এই প্রেমসমুদ্রেও সেইরকম সব সময় প্রেমের জোয়ার বহে না, আধার বিশেষে তিনি এই প্রেম বন‍্যার সৃষ্টি করে ভক্তমহিমা ব‍্যক্ত করে গিয়েছেন, যেমনটি হচ্ছেন এই ব্রজের বিশাখা স্বরূপিনী রায় রামানন্দ।সর্বশেষে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম করে এই প্রসঙ্গ বিরাম করব যেখানে তিনি সার্বিক মহিমা ব‍্যক্ত করে বলেছেন*
*🌷ভক্তিতত্ত্ব প্রেম কহে,রায়ে করি বক্তা।*
*🌷আপনি,প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র সহ,হয় শ্রোতা।।*
*🌷হরিদাস দ্বারা নাম মহাত্ম প্রকাশ।*
*🌷সনাতন দ্বারা ভক্তি সিদ্ধান্ত বিলাস।।*
*🌷শ্রীরূপ দ্বারা ব্রজরস প্রেমলীলা।*
*🌷কে বুঝিতে পারগম্ভীর চৈতন‍্যের খেলা।।*
*🌷শ্রীচৈতন‍্য লীলা এই অমৃতের সিন্ধু।*
*🌷জগৎ ভাসাতে পারে যার এক বিন্দু।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🙏🙏জয় জয় রায় রামানন্দের জয়।*
*🙏🙏জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর জয়।*
*🙏🙏জয় কবিরাজ কৃষ্ণদাস গোস্বামীর জয়।*
*🙏🙏জয় ভক্ত শ্রোতাগণের জয়।।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*বিশ্বে পরম কারণ,হও তোমরা দু'জন,*
   *প্রধান পুরুষ তুমি দেব জনার্দন।*আপন প্রভাবে হরি,কংসের পরাণ হরি,*
    *কুলের উদ্ধার তুমি করিলে সাধন।।*
*তব মায়াতে নিয়ত,বদ্ধ বিশ্বে জীব যত,*
   *আসিলে মানব রূপে উদ্ধার কারণ।*
*ধরণীর ভার হরি,রক্ষিলে জীবেরে হরি,*
   *ভক্তের বাসনা যত করিছ পূরণ।।*
*যোগী ঋষি মুনিগণ,নাহি পায় এ চরণ,*
   *নিরন্তর শুদ্ধ চিত্তে করি তব ধ‍্যান।*
*তোমারে জগত স্বামী,প্রত‍্যক্ষ করিনু আমি,*
   *আমার মতন কেহ নহে ভাগ‍্যবান।।*
*জায়া,পুত্র,মিত্র ধন,দেহ গৃহাদি স্বজন,*
    *মায়ার শৃঙ্খল কর সকল মোচন।*
*সদা মতি রহে হেন,তব কৃপা স্মরি যেন,*
    *পাদপদ্মে আজি মোর এই নিবেদন।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
           *খেতুরীর মহোৎসব*
       🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*🙏শ্রীনরোত্তম ঠাকুরের দীক্ষাগুরু হচ্ছেন শ্রীপাদ লোকনাথ গোস্বামী, একথা আপনারা সকলে নিশ্চয়ই জানেন এবং এই দীক্ষার কাহিনীও এক অতীব চমকপ্রদ ঘটনা যা এক হিসাবে বৈষ্ণব জগতে গুরুকরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।শ্রীধাম বৃন্দাবনে এই দীক্ষামন্ত্র দান সম্পাদিত হয় শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামীর তত্ত্বাবধানে, যে প্রসঙ্গ পূর্বে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।দীক্ষার পর নরোত্তম ঠাকুর বেশ কিছুদিন বৃন্দাবনে ছিলেন এবং তারপরে যখন গৌড়দেশে প্রত‍্যাগমন করেন তখন তাঁর গুরুদেব তাঁকে আদেশ করেন যে তিনি যেন খেতুরীতে গমন করে শ্রীগ‍ৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে নূতন সেবা প্রকাশ করেন।তারপর তিনি নীলাচল ধাম হয়ে শ্রীখন্ডে নরহরি ঠাকুর এবং শ্রীপাদ রঘুনন্দনের সঙ্গে কিছুদিন ছিলেন এবং মধ্যে মধ্যে খেতুরীতে যাতায়াত করতেন। অতঃপর তিনি এও বললেন যে একদিন প্রিয়াজীসহ মহাপ্রভু স্বয়ং এবং বল্লভীকান্ত,শ্রীকৃষ্ণ,ব্রজমোহন,রাধাকান্ত এবং শ্রীরাধারমণ ইঁনারা সকলে মিলিত ভাবে তাঁকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বললেন যে তাঁদের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে সেবা পূজা প্রবর্তনের আদেশ করেন।*
*🍀এইরকম স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর তিনি একজন সুদক্ষ ভাষ্কর মাধ‍্যমে এইসব বিগ্রহ নির্মাণের ব‍্যবস্থা করেন।সকল শ্রীমূর্তি গঠনের পর তা দর্শন করে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন কিন্তু প্রিয়াজীসহ মহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি দর্শন করে তাঁর চিত্তে বড় বেদনা অনুভব করলেন। কারণ সেই শ্রীমূর্তির প্রকাশ তাঁর হৃদয় স্পর্শ করতে পারে নাই।বিগ্রহ স্বপ্রকাশ, এটি ধর্মীয় কথা।শিল্পী নিমিত্ত মাত্র হলেও শ্রীবিগ্রহ যদি প্রকাশ না হতে চাহেন তাঁর স্বরূপে,তাহলে তা কিছুতেই সম্ভব হয় না।এর জ্বলন্ত উদাহরণ ব‍্যারাকপুর আশ্রমের নিতাই গৌরাঙ্গ বিগ্রহ কারণ বতর্মান কালের বৈষ্ণব জগতে এইরকম লাবণ‍্যময় দারু ব্রহ্ম স্বরূপে শ্রীবিগ্রহ কখনও দর্শন হয় না। যাইহোক,নরোত্তম ঠাকুর তখন মহা সংশয়ে পড়ে গেলেন এবং মনে মনে বিচার করলেন যে নিশ্চয়ই কোথাও অপরাধ হয়েছে, না হলে কেন এই বিগ্রহ এমন শ্রীহীন হলেন।মনোবেদনায় কাতর হয়ে তিনি নিরন্তর মহাপ্রভুর শ্রীচরণে প্রার্থনা জানাতে লাগলেন।তারপর মহাপ্রভু করুণা পরবশ হয়ে একদিন তাঁকে স্বপ্নযোগে জানালেন যে, নরু তুমি বৃথা মনোকষ্ট পেও না, "কারণ আমি যখন সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেছিলাম তার কিছুদিন পূর্বে আমার দ্বিতীয় স্বরূপ প্রকাশ করে তা গঙ্গা-গর্ভে রেখে দিয়েছি এবং বতর্মানে সেই বিগ্রহ তুমি তোমারই প্রতিবেশী বিপ্রদাসের ধানের গোলার মধ্যে পাবে। তুমি সেই মূর্তি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করো তাহলে তোমার মনোভিলাষ পূর্ণ হবে "।*
*🍀নরোত্তম ঠাকুর মহাশয় এইরকম স্বপ্নাদেশ পেয়ে ভোরবেলা সেই বিপ্রদাসের কাছে উপস্থিত হয়ে সেই ধানের গোলার সন্ধান জানতে চাইলেন।উত্তরে তিনি বললেন যে সত‍্যই তাঁর গৃহ সমীপে একটি ধানের গোলা আছে কিন্তু সেখানে ভীষণ সাপের ভয়,কারণ সেই ধানের গোলার ভিতরে এক ভীষণ বিষধর সাপের বাস এবং সাপের ভয়ে সেখানে তার কাছে কেউই যায় না।বলতে পারেন একরকম পরিত‍্যক্ত হয়ে পড়ে আছে।নরোত্তম ঠাকুর তখন সেই ধানের গোলার মধ্যে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, কিন্তু তাঁকে প্রবেশে  বিধা দিতে লাগলেন।দেখতে দেখতে পাড়া প্রতিবেশী সবাই সেখানে উপস্থিত হল।এইকথা শুনে প্রতিবেশীও বাধা দিলেন, কিন্তু নরোত্তম কোন বাধা নিষেধ না মেনে একাকী সেই ধানের গোলার মধ্যে প্রবেশ করিবামাত্র সেই প্রকান্ড বিষধর সাপ তখন সেই জায়গা হতে বেড়িয়ে চলে গেল, নরোত্তম ঠাকুর ধানের গোলা মধ‍্য হতে এক অপূর্ব লাবণ‍্যময় যুগল-বিগ্রহ উদ্ধার করলেন।পাড়া প্রতিবেশী সকলে সভয়ে প্রতীক্ষা করছিলেন, কি হয়!কি হয়!নানা রকম অমঙ্গল আশঙ্কায়, কিন্তু নরোত্তম ঠাকুর মহাশয় মহৎ কৃপায় বলীয়ান হয়ে নিঃসংশয় চিত্তে তা উদ্ধার করলেন।গ্রামবাসী সকলে এই দৃশ্য দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন এবং নরোত্তম ঠাকুরের মহিমা দ্বিগুণ ভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হল।আমাদের ধর্মীয় সংস্কারে বহু ধর্ম স্থানেই এইরকম সর্পস্থিতি দেখা যায়,কারণ দেবাদিদেব মহাদেব কৃপা পরবশ হয়ে তাঁর অনুচরদের দ্বারা এইসব পবিত্র স্থান রক্ষণাবেক্ষণ করান।বিশেষ করে আমাদের এই বৈষ্ণব জগতে সাপের এইরকম অধিষ্ঠান বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে এবং বৈষ্ণব মহান্তগণ একে অতীব শুভলক্ষণ বলে গণ‍্য করেন। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ফুলিয়ায় হরিদাস ঠাকুরের গোফার মধ্যে সাপের বাস ছিল,রমণরেতীর আশ্রমে সাপ নিয়মিত ভাগবদ পাঠ শুনত।পুণ‍্যভূমি রেমুনায় শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর সমাধি ক্ষেত্রে সাপের বাস ছিল ইত্যাদি।পাণিহাটি রাঘব ভবনে মাধবী কুঞ্জতলে দুধের মত ধবধবে সাদা বৃহৎ দুইটি সাপের বাস ছিল ইত্যাদি। যাইহোক,এই ভাবে ষড়্ বিগ্রহ একত্রিত করার পর নরোত্তম ঠাকুর তা খেতুরীতে প্রতিষ্ঠার জন্য আচার্য‍্য প্রভুর কাছে মনোবাসনা জ্ঞাপন করেন এবং আচার্য‍্য প্রভু এইসব অলৌকিক কাহিনী শোনার পর বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন এবং মহাপ্রভুর অপার করুণার কথা স্মরণ করতে লাগলেন।অবশেষে নরোত্তম ঠাকুর ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিনে সেই ষড় বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার বাসনা ব‍্যক্ত করলেন এবং আচার্য‍্য প্রভুর কৃপা ভিক্ষা করে বললেন এই গুরু দায়িত্ব তাঁকেই বহন করতে হবে। আচার্য‍্য প্রভু তাতে সম্মতি প্রদান করলেন।*
🍓🍓🍓🍓🍓🍓🍓🍓🍓🍓🍓🍓🍓
*অত্রুূর কর্ত্তৃক স্তুত,আর হইয়া অর্চিত,*
   *হাস‍্যাননে তবে তারে কন ভগবান।*
*করি তোমায় মিনতি,নাহি কর এত স্তুতি,*
   *তুমি যে পিতৃব‍্য মোর পিতার সমান।।*
*কহি তাত এবে যাহা,অবধান কর তাহা,*
    *হস্তিনা নগরে তুমি যাও একবার।*
*সেখানে পান্ডবগণ,রহিয়াছে কে কেমন,*
   *সকল সংবাদ তুমি লবে সবাকার।।*
*প্রয়োজন হয় যাহা,পশ্চাতে হইবে তাহা,*
   *মিত্রের কল‍্যাণ যাহা করিব সাধন।*
*অত্রুূরে আদেশ করি,উদ্ধবে লইয়া হরি,*
   *রামসহ করিলেন মথুরা গমন।।*
*শুকদেব মহামতি,কহে শোন নরপতি,*
   *অত্রুূর হস্তিনাপুরে করিল গমন।*
*সুদীর্ঘ সে পথ শেষে,উপনীত অবশেষে,*
   *নগরের শোভা হেরি মুগ্ধ তার মন।।*
*🙏🙏কুন্তীদেবীর কাছে প্রার্থনা🙏🙏*
*হে কৃষ্ণ!করুণাসিন্ধু,তুমি যে সবার বন্ধু,*
   *এখন বিপন্ন জনে করগো উদ্ধার।*
*বিপদভঞ্জণ হরি,দুঃখ নাশ ত্বরা করি,*
    *কত কষ্ট পাইতেছি হের একবার।।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
           *খেতুরীর মহোৎসব*
            ^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀অতঃপর নানাবিধ আলোচনার মাধ‍্যমে উৎসবের সব আয়োজন এবং পদ্ধতি বিষয়ক প্রসঙ্গ হল।আচার্য‍্য প্রভু তখন তাঁর প্রাণাধিক প্রিয় রামচন্দ্র কবিরাজের উপর উৎসবের দায়িত্ব অর্পণ করলেন।কথিত আছে যে সেই রাত্রে মহাপ্রভু আচার্য‍্য প্রভুকেও স্বপ্নে দেখা দিয়ে এই বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার ব‍্যাপারে উৎসাহিত করলেন।তারপর রামচন্দ্র কবিরাজ সকলের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী চারিদিকে নিমন্ত্রণ পত্র প্রেরণ করলেন বা পাঠিয়ে দিলেন।এক্ষণে বতর্মান কালের পাঠকগণের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই যে, তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে ছাড়া কোন যানবাহন ছিল না এবং সকল শিষ্য ভক্তগণ আদেশ পাওয়া মাত্র তা পালন করতেন। এইভাবে শতশত মাইল অতিক্রম করে সব উৎসবের নিমন্ত্রণ পত্র যেখানে যাঁদের দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল সকলকেই দেওয়া হল।কোথায় যাজিগ্রাম আমি কোথায় পুরীধাম এছাড়াও কালনা,কাটোয়া, শ্রীখন্ড,নবদ্বীপ,শান্তিপুর,খড়দহ এবং বিভিন্ন জায়গায় এইভাবে হাজার হাজার নিমন্ত্রণ পত্র দেওয়া হল।তখনকার দিনে আনুগত‍্য এতই প্রবল ছিল যে এই জাতীয় নিমন্ত্রণ পত্র পেলে সকলেই তার মর্য‍্যাদা দিতেন এবং এইভাবে শতশত মাইল পদব্রজে আগমন করে সেই অনুষ্ঠানে যোগদান করতে কোন কষ্ট বোধ করতেন না।সেই হিসাবে বতর্মান কালে গুরু বৈষ্ণবের আদেশ কিভাবে পালন করি তা ভক্তগণ কৃপা করে চিন্তা করে দেখবেন।এইভাবে রামচন্দ্র কবিরাজের উপর গুরু দায়িত্ব অর্পণ করে আচার্য‍্য প্রভু সকলকে খেতুরী পাঠিয়ে দিলেন এবং নিজেও অল্পদিনের মধ্যে যাত্রা করবেন তাও বললেন।*
*🍀এখানে জানা দরকার যে রাজনন্দন নরোত্তম যখন বিষয় গর্ত হতে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন করলেন তখন তাঁর পিতা, ভাইয়ের পুত্র সন্তোষ দত্তকে এই বিশাল জমিদারীর ভার অর্পণ করেন কিন্তু তিনি সারাটি জীবন যেভাবে বৈষ্ণব সেবার অনুকূলে কাজকর্ম করেছেন তা কল্পনাতীত।ক্ষণিকের জন্যও তিনি মান মর্য‍্যাদার বশীভূত হননি এবং নরোত্তম যাতে সুখ পান ও তাঁর মনোমত কার্য‍্যাদি দ্বারা রাজকোষ হতে অজস্র অর্থব‍্যয় করে গিয়েছেন। সম্পদ কখনও তাঁকে দাসত্ব শৃঙ্খলে বাঁধতে পারেনি এবং সারাটি জীবন তিনি বৈষ্ণব সেবার মাধ‍্যমে যে আদর্শ রেখে গিয়েছেন তা আর কেউ পারবেন কিনা সন্দেহ।এই হিসাবে খেতুরীর এই মহামহোৎসবের গুরু দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপেই তাঁরই উপর বর্ত্তাইল।ক্রমে একদিন গোবিন্দ কবিরাজ সহ আচার্য‍্য প্রভু খেতুরীতে এসে উপস্থিত হলেন এবং রাজা সন্তোষ দত্ত বহু পথ অগ্রসর হয়ে মর্য‍্যাদার সঙ্গে তাঁদের অভ‍্যর্থনা করে খেতুরীতে নিয়ে আসেন।কারণ তখনকার বৈষ্ণব সমাজে এটিই প্রচলিত ছিল যে কোন শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব মহাজন কোথাও আগমন করলে আতিথ‍্যেয়তার মর্য‍্যাদা হিসাবে এটি করা হত এবং তাঁরা সংবাদ পাওয়ামাত্র পদব্রজে অগ্রসর হয়ে তাঁদের যথোচিত মর্য‍্যাদা দান করে অভ‍্যর্থনা করে নিয়ে আসিতেন।*
*🍀তারপর আচার্য‍্য প্রভু সেই ষড়্ বিগ্রহ দেখে প্রাণে ভীষণ ভীষণ আনন্দ লাভ করলেন এবং ক্রমশ অভ‍্যাগত নিমন্ত্রিত বৈষ্ণব মহান্তগণ ধীরে ধীরে খেতুরী আগমন করতে লাগলেন।রাজা সন্তোষ দত্ত প্রত‍্যেকের জন্য আলাদা আলাদা সুবন্দোবস্ত এমন ভাবে করেছিলেন যে সকলেই তা দেখে পরম সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।তারপরে তাঁদের সেবার জন্য যে আন্তরিকতা এবং আয়োজনের প্রাচুর্য‍্য তাঁরা দেখে হৃদয়ে মনে অত‍্যন্ত তৃপ্তিলাভ করলেন। ক্রমশ খেতুরীর পুণ‍্যভূমি বৈষ্ণব মহাজনের আগমনের ফলে এক নবরূপ ধারণ করল।*
*🙏উড়িষ‍্যা হতে একদিন শ‍্যামানন্দ প্রভু তাঁর শিষ্য রসিকানন্দ এবং কিশোরী দাস প্রভৃতি ভক্তসহ সেখানে আগমন করলেন।*
*🙏অম্বিকা কালনা হতে তদীয় (শ‍্যামানন্দ প্রভুর)গুরুদেব শ্রীহৃদয়চৈতন‍্য প্রভু শিষ্য ভক্তগণ সহ সেখানে পদার্পণ করলেন।*
*🙏শান্তিপুর হতে শ্রীঅদ্বৈত-তনয় অচ‍্যুতানন্দ,গোপাল দাস প্রভুপাদগণ সহ সেখানে মিলিত হলেন।*
*🙏শ্রীপাট খড়দহ হইতে শ্রীনিত‍্যানন্দ ঘরণী মা জাহ্নবাদেবী,বলরাম দাস,বৃন্দাবন দাস সহ অনেকেই শুভাগমন করলেন।*
*🙏শ্রীধামনবদ্বীপ হতে শ্রীপতি,শ্রীনিধি,প্রমুখ ভক্তগণ ও শ্রীমন্মহাপ্রভুর পরিকরগণ খেতুরীতে পদার্পণ করলেন।*
*🙏আকাইহাট নিবাসী কৃষ্ণদাস,স্থানীয় ভক্তগণসহ খেতুরীতে পদার্পণ করে ধন‍্য করলেন।*
*🙏কাটোয়া হতে শ্রীযদুনন্দন এবং শ্রীখন্ড হতে শ্রীপাদ রঘুনন্দন এবং লোচনানন্দ প্রভৃতি শ্রীখন্ডবাসী মহাজনগণ খেতুরীতে গিয়ে উপস্থিত হলেন।*
*🙏এছাড়াও বিভিন্ন বৈষ্ণব পীঠস্থান সকল মহাজনগণ খেতুরীতে পদার্পণ করবার ফলে খেতুরী যেন চন্দ্রিমালোকে সুশোভিত হয়ে উঠিল। মহাপ্রভুর অপ্রকটের পর এতাবৎ কাল পর্যন্ত এইরকম মহা সমাবেশ আর হয়নি। সেজন‍্য এই বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা মহামহোৎসব বৈষ্ণব জগতে এক চিরস্মরণীয় ঐতিহাসিক ঘটনা হিসাবে অদ‍্যাপি পরিগণিত।নরোত্তম ঠাকুরের পিতা রাজা কৃষ্ণানন্দ এবং সন্তোষ দত্ত অকাতরে তাঁদের ধন ভান্ডার উন্মুত্ত করে দিয়েছিলেন এই বৈষ্ণব সেবার কাজে। তাঁদের অভিনব সুব‍্যবস্থায় অভ‍্যাগত বৈষ্ণব মহান্তগণ পরম তৃপ্তিলাভ করলেন।এইরকমে নির্দ্ধারিত শুভ দিনের বহু পূর্ব হতেই খেতুরীতে যে আনন্দ মেলার সমবায় হল।অতঃপর নরোত্তম ঠাকুরের ব‍্যবস্থানুযায়ী প্রসিদ্ধ বাদ‍্যকরগণ ধীরে ধীরে এসে সমবেত হলেন এবং তাঁদের নৃত্য গীত আদির মাধ‍্যমে খেতুরীর আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠিল।সেই স্বর্গীয় পরিবেশের যে কি মাধুর্য‍্য তা একমাত্র সমবেত বৈষ্ণব মহান্তগণই তা উপলব্ধি করতে পারলেন যা কি আনন্দ তা বর্ণনাতীত।*
*🍀অবশেষে সেই অতি প্রত‍্যাশিত দোলপূর্ণিমার দিন সমাগত হল কারণ এই দিনেই মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি এবং সেই দিনেই এই ষড়্ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার দিন ধার্য‍্য ছিলেন।সমবেত বৈষ্ণব মহান্তগণ আচার্য‍্য (শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য) প্রভুর উপরই এই বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করলেন। সেই হিসাবে বৈষ্ণব প্রথা অনুযায়ী তিনি আনুষ্ঠানিক ক্রিয়া কর্মের পর দশাক্ষর গোপাল মন্ত্রের সঙ্গে বিগ্রহগণের পূজা করলেন এবং নানাবিধ উপচারে পূজাদি সমাপন করবার কালে সমবেত বৈষ্ণব মহান্তগণ মূহুর্মূহু হরিধ্বনি করতে লাগলেন।অবশেষে শাস্ত্রমতে প্রতিষ্ঠা কার্য‍্যাদি সমাপ্ত হল আচার্য‍্য প্রভু সাষ্টাঙ্গে ভূলুন্ঠিত হয়ে প্রণাম করলেন, সেই সঙ্গে নরোত্তম ঠাকুর মহাশয়ও অশ্রু,কম্প,পুলকাদি প্রভৃতি সাত্ত্বিক ভাবে আবিষ্ট হয়ে গদগদ কন্ঠে সেই ষড় বিগ্রহগণকে মন্ত্র উচ্চারণের মাধ‍্যমে প্রণাম করলেন, কারণ এতদিনে তাঁর মনোবাসনা পূরণ হল।*
*🌷গৌরাঙ্গ বল্লভীকান্ত শ্রীকৃষ্ণ ব্রজমোহন।*
*🌷রাধা রমণ হে রাধে,রাধাকান্ত নমোহস্তুতে।।*
*🙏কারণ এই ষড় বিগ্রহের স্বপ্নদিষ্ট নাম হচ্ছেন=*
*🌷গৌরাঙ্গ---বল্লভীকান্ত---শ্রীব্রজমোহন।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণ---শ্রীরাধাকান্ত---শ্রীরাধারমণ।।*
*🍀অতঃপর সকলে মিলিতভাবে নরোত্তম ঠাকুর মহাশয়কে সঙ্কীর্তন মহাযজ্ঞের আদেশ করলেন এবং তখন তিনি নতশিরে খোল-করতালাদির পূজা ও যথাবিধি মঙ্গলাচরণের পর তাঁর নিজস্ব গরাণহাটি সম্প্রদায়কে নিয়ে সঙ্কীর্তনের জন্য প্রস্তুত হলেন।এমন সময় শ্রীপাদ রঘুনন্দন এসে তাঁর গলায় প্রসাদী মাল‍্যচন্দন দান করলে ঠাকুর মহাশয় সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন। তারপর তিনি সমবেত বৈষ্ণব মহান্তগণের কাছ হতে কৃপাশক্তি ভিক্ষা করে মহাসংকীর্তন যজ্ঞ আরম্ভ করলেন। ঠাকুর মহাশয়ের মধুমাখা কন্ঠ নিঃসৃত সেই প্রেমময় পদাবলীগুলি শুনে সমবেত ভক্তগণ আনন্দ পাথারে ভেসে যেতে লাগলেন।ক্রমশ ধীরে ধীরে এক অনির্বচনীয় শক্তি প্রভাবে তাঁরা ভাবরাজ‍্যে নিমজ্জিত হতে লাগলেন। সংকীর্তনের মাতন যখন পূর্ণভাবে প্রকাশ লাভ করল তখন সকলেরই নয়নে প্রেমাশ্রু ধারা প্রবাহিত হতে লাগিল এবং সেই প্রেমময় পদাবলী আস্বাদনে সকলেই যেন উন্মত্ত হয়ে গেলেন, ভাবাবেশে সকলেই সেই সমাবেশে নৃত্যকীর্তনে যোগদান করলেন। যেন এক অদৃশ্য শক্তি প্রভাব।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
*কোথা তুমি হে গোবিন্দ,অদৃষ্ট আমার মন্দ,*
    *সন্তানের কষ্ট যে গো সহ‍্য নাহি হয়।*
*নিলে তোমার শরণ,কর যাতনা হরণ,*
    *তব কৃপা বিনা মোর নাই যে আশ্রয়।।*
*কুন্তী ব‍্যথিত অন্তরে,কৃষ্ণে কত স্তুতি করে,*
   *অশ্রুপূর্ণ রহে তাঁর যুগল নয়ন।*
*বিদুর অত্রুূর মিলি, সান্ত্বনার বাক‍্য বলি,*
    *দূর করে তবে তার কতেক বেদন।।*
*বিদুরে লইয়া সাথে,অত্রুূর চলিয়া পথে,*
     *ধৃতরাষ্ট্র নিকটেতে উপনীত হন*।
*তবে প্রণমি রাজারে,পরিচয় কহি তারে,*
     *রামকৃষ্ণ বার্তা পরে করিল জ্ঞাপন।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
           *খেতুরীর মহামহোৎসব*
          ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀ভাবাবেশে সকলেই সেই সমাবেশে নৃত্যকীর্তনে যোগদান করলেন,যেন অদৃশ্য এক শক্তি প্রভাব।*
*🙌 কেউ বা নাচের তালে তালে নিজের দেহমনকে ভাসিয়ে দিয়েছেন।*
*🙌 কেউ বা আশ্রুধারায় ভেসে যাচ্ছেন।*
*🙌 কেউ বা ভাবাবেশে হাস‍্যধ্বনি করছেন।*
*🙌কেউ বা কাতর কন্ঠে রোদন করছেন।*
*🙌 কেউ বা ভাবাবেশে মূর্ছা যাচ্ছেন।*
*🙌কেউ বা ধূলি ধূসরিত প্রাঙ্গণে পড়ে আছেন।*
*🙌কেউ বা পাগলের ন‍্যায় মহানন্দে নৃত্য করছেন।*
*🙌আবার কেউবা অগ্নিসম দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলছেন।*
*🍀সে এক অপূর্ব স্বর্গীয় দৃশ্য এবং ভাগ‍্যবান-জনেই তা দর্শন করেছিলেন, বৈষ্ণব গ্রন্থে একটি পদাবলী আছে যে ঃ---*
*🌷প্রকট অপ্রকট লীলার এই তো বিধান।*
*🌷প্রকট লীলায় প্রভু করেন নিজে নৃত্য গান।।*
*🌷অপ্রকটে নামরূপে স্বয়ং ভগবান।*
*🌷কীর্তন বিহারীরূপে সদা বিদ‍্যমান।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ যেখানে নাম সংকীর্তন হবে সেখানেই মহাপ্রভুকে আসতেই হবে, সে তিনি প্রকটই হন বা অপ্রকটই হন।(নিন্দুক ও পাষন্ডীদের জন্য তিনি অপ্রকট, শুদ্ধভক্তের কাছে সদাসর্বদা প্রকট)। কিন্তু অপ্রকটে দেখবার ভাগ‍্য তো সকলের জুটে না, কারণ সেই প্রেমনেত্রের বিকাশ তো সকলের হয় নাই, কিন্তু সেদিন খেতুরীতে যাঁরা সমবেত ছিলেন তাঁরা সকলেই সিদ্ধ পরিকর। সেজন্য তাঁরা প্রত‍্যেকেই সেইসব মহাত্মার উপস্থিতি অনুভব করেছিলেন এবং তাঁরা সকলেই যেন দেখছিলেন যে মহাপ্রভু স্বয়ং তাঁর পার্ষদ এবং পরিকরগণসহ সেই মহাসংকীর্তনযজ্ঞে যোগদান করেছিলেন। এইভাবে ভাবিত হয়ে তাঁরা তাঁদের দেহস্মৃতি পর্য‍্যন্ত ভুলে গিয়েছিলেন।সকলেই যেন একত্রে সেই কীর্তনে অপূর্ব সুখ অনুভব করছিলেন। অর্থ‍্যাৎ তাঁরা সকলেই যেন দেখছেন যে সংকীর্তন যজ্ঞেশ্বর মহাপ্রভু,নিত‍্যানন্দ,অদ্বৈতাচার্য‍্য,ষড় গোস্বামীগণ ও অন‍্যান‍্য সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে অপ্রকটে তাতে যোগদান করেছেন। অর্থ‍্যাৎ নরোত্তমের ভক্তি প্রভাবে সেদিন প্রকট অপ্রকটের ব‍্যবধান আর রইল না, মহাপ্রভু মৃদুমন্দ হাসি সহকারে নৃত্য করছেন এবং যেন সস্নেহে সকলের প্রতি শুভদৃষ্টিপাত করছেন।এ আনন্দ যে কি আনন্দ, এই কল্পনাতীত সৌভাগ্য লাভে সকলেই যেন হৃদয় মন্দিরে মহাপ্রভুকে অভিষেক করে আনন্দ পাথারে ভেসে যেতে লাগলেন।*
*🍀অনেকেই ভাবাবেশে মূর্ছিত হয়ে রোদন করছেন আবার একটু আবেশ ভঙ্গ হলে মহাপ্রভুকে দর্শন মানসে হুঙ্কার গর্জন সহ নৃত্যের তালে তালে কীর্তন করছেন।কেউবা নিষ্পলক দৃষ্টিতে মহাপ্রভু এবং সকল অপ্রকট মহাত্মাকে দর্শন করেছেন।এটি যে বাস্তবে সত‍্য হতে পারে তা তাঁরা স্বপ্নেও ভাবতে পারেন নাই, কিন্তু সেইদিন সেইক্ষণে তা প্রত‍্যক্ষ করে সকলে যে কি অনির্বচনীয় সুখ অনুভব করেছিলেন তার বর্ণনা একমাত্র তাঁরাই দিতে পারেন, লেখনীর দ্বারা তার প্রকাশ সম্ভব নহে।*
*🍀নরোত্তমদাস ঠাকুরের ভাগ‍্যের সীমা নাই, মহাপ্রভু স্বপ্নের মাধ‍্যমে তাঁকে এই বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার আদেশ করেছিলেন, কিন্তু তিনি যে এই ভাবে এসে যোগদান করবেন তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেন নাই।এটি দ্বারা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে বৈষ্ণব জগতে অপ্রকটক বলে কিছুই নাই।অপ্রকট শুধু নামে মাত্র, শুদ্ধভক্তের কাছে সদা প্রকট।যাঁদের সেই প্রেমনেত্রের বিকাশ হয়েছে তাঁরা সদাসর্বদা তাঁদের সঙ্গসুখ অনুভব করেন। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আচার্য‍্য ও নরোত্তম ঠাকুরের জীবনীতে পাওয়া যায়।ভাগ‍্যবান শ্রীরঘুনন্দনও তাঁর গুরুদেব শ্রীনরহরি ঠাকুরের বাৎসরিক তিথিতে ভোগ মন্দিরে তাঁকে সশরীরে দর্শন করেছিলেন, সুতরাং এটি দ্বিধাহীন ভাবে পরমসত‍্য।এইভাবে সকলকে কৃপা করে মহাপ্রভু হঠাৎ যেন সেই সমাবেশ হতে অন্তর্হিত হয়ে গেলেন যে সময়ে তাঁরা তা অনুভব করলেন তখনই শুরু হল হাহাকার ও ক্রন্দনের রোল।চরম থেকে চরমতর অবস্থা হল নরোত্তম ঠাকুর মহাশয়ের, বিরহে অন্তর্জ্বালায় তাঁর দুইনয়ন হতে পিচকারীর মত অশ্রুধারা বহিতে লাগিল।আবেশে বাহ‍্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কখন যে আছাড় খেয়ে পড়ছেন, কখনও বা মাতৃহারা শিশুর ন‍্যায় অঝোর নয়নে ক্রন্দন করছেন, সর্বাঙ্গে প্রতি লোমকূপে পুলকাবলী দেখা যাচ্ছে,সে পুলকাবলী কদম্বফুলের মত কন্টকাকীর্ণ। সকলের মিলিত অশ্রুধারায় খেতুরীর প্রাঙ্গণ কাদাময় হয়ে গেল,অদ্বৈতাচার্য‍্যও সেই সমাবেশে যে বিরহের প্রকাশ করেছিলেন তা দেখে কারও পক্ষে অশ্রু সম্বরণ করা সম্ভব ছিল না।*
*🍀কীর্তনের উন্মত্ততা মানুষের মধ্যে যে কি বিপর্য‍্যয় ঘটাতে পারে তা একমাত্র খেতুরীতেই তা আস্বাদন করা গিয়েছিল।কেউ আর বাকী নেই, কে কাকে সান্ত্বনা দিবে সকলেই বিরহের উন্মত্ততায় ভবসাগরে ভুবে গেছে।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
*কোথা তুমি হে গোবিন্দ,অদৃষ্ট আমার মন্দ,*
    *সন্তানের ক্লেশ যে গো সহ‍্য নাহি হয়।*
*নিলে তোমার শরণ,কর যন্ত্রণা হরণ,*
     *তব কৃপা বিনা মোর নাই যে আশ্রয়।।*
*কুন্তী ব‍্যথিত অন্তরে,কৃষ্ণে কত স্তুতি করে,*
     *অশ্রুপূর্ণ রহে তাঁর যুগল নয়ন।*
*বিদুর অত্রুূর মিলি, সান্ত্বনার বাক‍্য বলি,*
    *দূর করে তবে তার কতক বেদন।।*
*বিদুরে লইয়া সাথে,অত্রুূর চলিয়া পথে,*
    *ধৃতরাষ্ট্র নিকটেতে উপনীত হন*
*তবে প্রণমি রাজারে,পরিচয় কহি তারে,*
    *রামকৃষ্ণ বার্তা পরে করিল জ্ঞাপন।।*
*তুমি রাজা বীর্য‍্যবান,খ‍্যাতি তব সর্বস্থান,*
    *বিচিত্র বীর্য‍্যের হও প্রথম সন্তান।*
*সহোদর অনুজাত, হন যবে স্বর্গগত,*
     *হস্তিনাপুরেতে রাজা হ'লে বর্তমান।।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🦚🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
           *খেতুরীর মহামহোৎসব*
            **********************
*🍀নরোত্তম ঠাকুরের পিতা কৃষ্ণানন্দ দত্ত এবং ভাই সন্তোষ দত্ত মহাপ্রভুর সেই পদাঙ্কিত ভূমিতে গড়াগড়ি যাচ্ছেন আর সকলের চরণধূলি গ্রহণ করছেন। কখনও বা নিজপুত্র নরোত্তমের চরণরজ গ্রহণ করছেন।আনন্দের আতিশয‍্যে বৃদ্ধ রাজা যেন বাহ‍্যজ্ঞান রহিত হয়ে গেলেন এবং কি যে করছেন,কি যে বলছেন,তার কোন বিচার নাই। নিজের সৌভাগ্যে গর্বিত হয়ে বলছেন, আজি আমি ধন‍্য,আজ আমি কৃতার্থ, আজ আমার মানব জনম স্বার্থক, আজ আমার হৃদয় পুত্র গর্বে স্ফীত হয়ে উঠছে।আজ আমি যেমন ধন‍্য, আমার বংশ ধন‍্য, আমার পৃর্বপুরুষ ধন‍্য, আমার অর্থ সম্পদ ধন‍্য, কারণ এই সৌভাগ্য তো মানুষের জীবনে খুবই কম ঘটে।*
*🍀এইভাবে ধীরে ধীরে সকলে বাহ‍্যদশা পেতে লাগলেন কিন্তু তথাপি সকলে যেন মহানন্দে মহাপ্রভুর কথা চিন্তা করে কাঁদতে লাগলেন।যাঁরা মূর্ছিত হয়ে পড়েছিলেন, পরিচারকগণ তাদের সেবার মাধ‍্যমে প্রকৃতিস্থ করতে সচেষ্ট হলেন এবং তখন আচার্য‍্য নরোত্তমকে উদ্দেশ করে বললেন যে তোমার প্রতি মহাপ্রভুর অপার করুণা, তোমার কৃপাতেই আমরা সকলে এই অনাস্বাদিত,অচিন্ত‍্যনীয়, স্বর্গীয় আনন্দ উপভোগ করলাম।ঠাকুর মহাশয় দীনতার সঙ্গে তাঁর চরণে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ করলেন।এই সমবায়ের মধ্যে সর্বপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে নিত‍্যানন্দ ঘরণী জাহ্নবাদেবীর আগমন এবং তিনিও এই অপ্রকট সমাবেশের মধ্যে নিত‍্যানন্দপ্রভুকে দর্শন করে নিজেকে কৃতার্থবোধ করেছিলেন।তখন তিনি অদ্বৈতাচার্য‍্যকে এবং নরোত্তমকে উদ্দেশ্য করে অজস্র প্রশংসাবাণী বর্ষণ করতে লাগলেন এবং হৃদয়ের অন্তঃস্থল হতে তাঁদের উভয়কে আশীর্বাদ করলেন। তারপর হোলী খেলবার আয়োজন করতে আদেশ করলেন। কারণ সেইদিনেই দোল পূর্ণিমা।অতঃপর ধীরে ধীরে সকলে হোলী খেলারঙ্গে মেতে গেলেন এবং সেইদিন সন্ধ্যায় আরতির পর যে অভূতপূর্ব নৃত্যকীর্তন সেই মন্দির প্রাঙ্গণে হয়েছিল তাতেও সকলে চরম আনন্দ লাভ করেছিলেন। এই সময় নরোত্তম ঠাকুর ভাবাবেশে বাহ‍্যজ্ঞান লুপ্ত হন এবং মূর্ছিত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।বৃদ্ধপিতা মনে করেছিলেন যে পুত্রের প্রাণবায়ু বোধহয় আর নাই, তখন তিনি হাহাকার করে কাঁদতে লাগলেন।তখন আচার্য‍্যপ্রভু ও শীর্ষস্থানীয় মহান্তগণ সেখানে গিয়ে নানাভাবে দেখাশুনা করবার ফলে বহুসময় পরে ঠাকুর মহাশয়ের ধীরে ধীরে বাহ‍্যদশা ফিরে পেলেন এবং সমবেত সকলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন।*
*🌻পরদিন হতে ধীরে ধীরে বিদায়ের পালা শুরু হল, রাজা সন্তোষ দত্ত সকলকে বহুবিধ অর্থ ও দ্রব‍্য সামগ্রীর দ্বারা মর্য‍্যাদা দান করলেন এবং ক্রমশ খেতুরীতে যেন অমাবস‍্যার আগমন হল। নরোত্তম ঠাকুর বৈষ্ণব বিদায়ের পর, সেই ষড় বিগ্রহের সেবা নিয়ে দিন কাটাতে লাগলেন।খেতুরী মহোৎসব বৈষ্ণব জগতে এক অতীব চিত্তাকর্ষক কাহিনী কারণ এইরকম প্রকট অপ্রকট সম্মেলন আর অদ‍্যাপি হয় নাই মহাপ্রভুর অপ্রকটের পর।🌻দুঃখের বিষয় এমন যে পবিত্র ভূমি খেতুরী তা আজ পূর্ব পাকিস্তানে চলে গিয়েছে এবং সেই পুণ‍্যভূমি বতর্মানে যে কি অবস্থায় আছেন! ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থে এই খেতুরীর মহোৎসব যে ভাবে বর্ণিত আছে তা সুধী পাঠকগণের আস্বাদনের জন্য দেওয়া হল।*
*🙏গৌরাঙ্গ!বল্লভীকান্ত!শ্রীকৃষ্ণ!ব্রজমোহন!*
*🙏রাধারমণ!হে রাধে!রাধাকান্ত নমোহস্তুতে।।*
*🌷কতশত লোক প্রবেশিয়া শ্রীঅঙ্গনে।*
*🌷প্রণমে বিহ্বল হৈয়া আরতি দর্শনে।।*
*🌷সকল মহান্ত প্রিয় নরোত্তম প্রতি।*
*🌷সঙ্কীর্তন আরম্ভে দিলেন অনুমতি।।*
*🌷নরোত্তম সবে প্রণময়ে মহীতলে।*
*🌷সঙ্কীর্তনারম্ভে হিয়া আনন্দে উথলে।।*
*🌷সঙ্কীর্তন সমুদ্র উথলে তিলে তিলে।*
*🌷চতুর্দিকে ভাসে লোক নয়নের জলে।।*
*🌷সকলেই আত্মবিস্মৃতি অতিশয়।*
*🌷উন্মত্তের প্রায় চতুর্দিকে নিরীক্ষয়।।*
*🙏🙏পরবর্তী পর্বে বাকী অংশ*
*******************************
*🌺🌺অত্রুূরের উপদেশ ঃ--*
*কহি আমি হে রাজন,শোন এবে দিয়া মন,*
   *সংসার অনিত‍্য হয় সব মায়াময়*।
*এ পৃথিবী মাঝে যাহা,ধন জন রহে তাহা,*
   *সব মিথ‍্যা এই বাক‍্য জানিও নিশ্চয়।।*
*অতএব নরপতি,স্বধর্মেতে রাখি মতি,*
   *কর্তব‍্য পালন কর স্থির করি মন*।
*কুরু আর পান্ডবেরে,সম দেখ এইবারে,*
   *ইহার অন‍্যথা যেন না হয় কখন।।*
*অত্রুূরের শুনি কথা,কহিলেন রাজা সেথা,*
   *শোনালে আমায় তুমি মঙ্গল বচন।*
*তোমার যতেক বাণী,অমৃত সমান মানি,*
   *তবু তৃপ্ত নাহি হয় মনযে এখন।।*
*হৃদি মোর অবিরত,পুত্র বশে বশীভূত,*
    *হিতাহিত বুদ্ধি তবে আর নাহি রয়।*
*যেমন বিদ‍্যুৎ গতি,তেমনি আমার মতি,*
     *ক্ষণেক জাগিয়া জ্ঞান দ্রুত পায় লয়।।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦜🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
            *খেতুরীর মহামহোৎসব*
            ***********************
*🍀ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থে, নরোত্তম ঠাকুরের মহাযজ্ঞে মহাপ্রভুর পরিকরগণসহ প্রকটাপ্রকট বিলাস*
*🌷কহিতে কি সংকীর্তন সুখের ঘটায়।*
*🌷গণসহ অধৈর্য‍্য হইলা গোরারায়।।*
*🌷মেঘেতে উদয় বিদ‍্যুতের পুঞ্জ যৈছে।*
*🌷সংকীর্তন-মেঘে প্রভু প্রকটয় তৈছে।।*
*🌷কি অদ্ভুত প্রকট-প্রকাশ সুশোভিত।*
*🌷নিত‍্যানন্দাদ্বৈতগণ সহ সুবেষ্টিত।।*
*🌷সবে হৈলা সংকীর্তন স্থলের ভূষণ।*
*🌷প্রভুগণ--মাধুর্য‍্য ব‍্যাপিল ত্রিভুবন।।*
*🌷প্রকট অপ্রকট একত্র চমৎকার।*
*🌷সবে জানে প্রভুর এ প্রকট বিহার।।*
*🌷প্রভুর এ লীলা ব্রহ্মাদির গম‍্য নয়।*
*🌷গণসহ মহাপ্রভু সঙ্কীর্তনে বিলসয়।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷নাচে গৌরচন্দ্র--- কি অদ্ভুত গান সৃষ্টি।*
*🌷ভুবন মাতায় প্রেমে,করে প্রেম বৃষ্টি।।*
*🌷মন্দ মন্দ হাসি' চাহে নরো‍ত্তম পানে।*
*🌷প্রভু নিত‍্যানন্দ সে প্রভুর ভঙ্গি জানে।।*
*🌷নাচে নিত‍্যানন্দ পদ্মাবতীর কুমার।*
*🌷পদ ভরে ধরণী কম্পয়ে অনিবার।।*
*🌷অদ্বৈত আচার্য‍্য নাচে উল্লাস হিয়ায়।*
*🌷করয়ে গর্জন মহামত্ত সিংহ প্রায়।।*
*🌷নাচায়ে পন্ডিত গদাধর, ধৈর্য‍্যনাশে।*
*🌷গৌরচন্দ্র সমীপে লইয়া শ্রীনিবাসে।।*
*🌷শ্রীবাস পন্ডিত নাচে হইয়া বিহ্বল।*
*🌷মুরারি গুপ্তের নৃত্যে নাশে অমঙ্গল।।*
*🌷নাচে বক্রেশ্বর---সে উপমা নাই দিতে।*
*🌷হৈল অভিলাষ পূর্ণ এ গীত বাদ‍্যেতে।।*
*🌷হরিদাস ঠাকুরের নৃত্য কি মধুর।*
*🌷স্বরূপ গোসাঞির নৃত্যে তাপ যায় দূর।।*
*🌷দাস গদাধরের নর্তন মনোহর।*
*🌷নাচে রায় রামানন্দ রসের সাগর।।*
*🌷বাসুদেব সার্বভৌম, বিদ‍্যাবাচস্পতি।*
*🌷দেখি এ দোঁহার নৃত্য কেবা ধরে ধৃতি।।*
*🌷নাচয়ে অচ‍্যুতানন্দ অদ্বৈত তনয়।*
*🌷নিরন্তর নয়নে আনন্দধারা বয়।।*
*🌷মুকুন্দ,শ্রীনরহরি,শ্রীরঘুনন্দন।*
*🌷নাচে যে ভঙ্গিতে তাহা না হয় বর্ণন।।*
*🌷গৌরীদাস পন্ডিতের কিবা নৃত‍্যাবেশ।*
*🌷শ্রীপতি শ্রীনিধি নাচে আনন্দ অশেষ।।*
*🌷গোবিন্দ,মাধব,বাসু ঘোষের নর্তনে।*
*🌷কে আছে এমন ধৈর্য‍্য ধরিবেক মনে।।*
*🌷নাচয়ে মুকুন্দ,শ্রীআচার্য‍্য পুরন্দর।*
*🌷বাসুদেব দত্ত,ব্রহ্মচারী শুক্লাম্বর।।*
*🌷শ্রীমন্ পন্ডিত,যদু আচার্য‍্য নন্দন।*
*🌷শ্রীমুকুন্দ দত্ত নাচে,শ্রীমধুসূদন।।*
*🌷শ্রীনাথ মহেশ নাচে,শ্রীধর শঙ্কর।*
*🌷জগদীশ,শ্রীযদুনন্দন,কাশীশ্বর।।*
*🌷শ্রীরঘুনাথ ভট্ট নাচে,রূপ সনাতন।*
*🌷যে নৃত্য দর্শন মাত্রে জুড়ায় নয়ন।।*
*🌷নাচে শ্রীনকুল ব্রহ্মচারী, ধনঞ্জয়।*
*🌷বিপ্র বাণীনাথ,শিখি,কানাই, বিজয়।।*
*🌷নাচে সূর্য‍্যদাস,শ্রীনৃসিংহ নানা ছন্দে।*
*🌷হৃদয় চৈতন‍্য নাচে লৈয়া শ‍্যামানন্দে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷নৃত‍্য-গীত-বাদ‍্যে হয় যে কাল ব‍্যতীত।*
*🌷সে কাল অলক্ষ‍্য, সবে সামান্য প্রতীত।।*
*🌷আহা মরি!কিবা গীত-বাদ‍্য মনোহর।*
*🌷কিবা নৃত্য নূতন ব্রহ্মাদির অগোচর।।*
*🌷কিবানন্দে বিহ্বল অদ্বৈত নিত‍্যানন্দ।*
*🌷কিবা ভক্ত মন্ডলী মধ্যেতে গৌরচন্দ্র।।*
*🌷প্রকাশিলা প্রভু কি বা অদ্ভুত করুণা।*
*🌷কিবা এ বিলাস--ইহা বুঝে কোন জনা।।*
*🌷শ্রীনিবাস নরোত্তমে কিবা অনুগ্রহ।*
*🌷দুঁহু অভিলাষ পূর্ণ কৈলা গণসহ।।*
*🌷কিবা গণসহ নরোত্তম শ্রীনিবাসে।*
*🌷আলিঙ্গন করি, কহয়ে কি মৃদুভাষে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷প্রভু অন্তর্ধান মাত্রে প্রাপ্ত বাহ‍্যজ্ঞান।*
*🌷সে আবেশ সবার হইল অন্তর্ধান।।*
*🌷সবে মহা-ব‍্যাকুল,ভাসয়ে নেত্রজলে।*
*🌷উঠিল ক্রন্দন রোল সংকীর্তন স্থলে।।*
*🌷কেহ কহে,কোথা গেল প্রভু গৌরচন্দ্র।*
*🌷কেহ কহে,কোথা শ্রীঅদ্বৈত নিত‍্যানন্দ।।*
*🌷কেহ কহে,কোথা শ্রীপন্ডিত গদাধর।*
*🌷কেহ কহে,কোথা হরিদাস বক্রেশ্বর।।*
*🌷কেহ কহে,কোথা শ্রীমুকুন্দ নরহরি।*
*🌷কেহ কহে,কোথা শ্রীবাস মুরারি।।*
*🌷কেহ কহে,কোথা গৌরীদাস গদাধর।*
*🌷কেহ কহে,কোথা শ্রীস্বরূপ দামোদর।।*
*🌷কেহ কহে,গণসহ প্রভু দেখা দিয়া।*
*🌷কোথা গেলা--বলি কান্দে ভূমে লোটাইয়া।।*
*🌷চতুর্দিকে অসংখ্য লোকের আর্ত ধ্বনি।*
*🌷সে সবার নয়নজলে কর্দম ধরণী।।*
*👹হাস‍্য হেতু আইলা যত পাষন্ডীর গণ।*
*😭সে সবেও কান্দে ধৈর্য‍্য না যায় ধারণ।।*
*🌷করয়ে বিলাপ সবে উর্ধ্ব বাহু করি'।*
*🌷--মো সবারে রক্ষা কর প্রভু গৌরহরি।।*
*🌷পুনঃপুনঃ নিবেদয়ে মহাপ্রভুর চরণে।*
*🌷"অপরাধ" না হয় যেন বৈষ্ণবের স্থানে।।*
*🌷সংকীর্তন-সুধা পান করি নিরন্তর।*
*🌷ঐছে কত কহি হয় ধূলায় ধূসর।।*
*🌷কহিতে কি জানি?কারু ধৈর্য‍্যমাত্র নাই।*
*🌷ভক্ত চেষ্টা উপমা দিবার নাই ঠাঁই।।*
*🌷শ্রীপতি শ্রীনিধি আদি প্রিয় ভক্তগণ।*
*🌷পরস্পর কহে,এই কি দেখিলু স্বপন।।*
*🌷কেহ কহে,ভ্রম বা জন্মিল মো সবার।*
*🌷কেহ কহে,প্রভু ইচ্ছা নারি বুঝিবার।।*
*🌻অতি সংক্ষেপে লিখিলাম, আরো বহু আছে, এটিই খেতুরী মহোৎসবের সংক্ষিপ্ত কাহিনী। সুতরাং এই পদাবলীটি যে কত সত‍্য তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে এই খেতুরীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা উৎসব।যথা=*
*🌷অদ‍্যাপিও সেই লীলা করেন গোরারায়।*
*🌷কোন কোন ভাগ‍্যবানে দেখিবারে পায়।।*
*🌻এ প্রসঙ্গে জানা দরকার যে, ভক্তমন্ডীর মধ্যে যে হাজার হাজার লোক ছিলেন তাঁরা কিন্তু কেউই এই অপ্রকট দর্শনে সমর্থ হননি একমাত্র এই সিদ্ধ পরিকরগণ ছাড়া।উপমা হিসাবে বলা যায় যে শ্রীধাম পুরীতে মহাপ্রভু যখন সার্বভৌমকে আত্মসাৎ মানসে ষড়ভূজরূপে দেখা দিয়েছিলেন তখন তবুও একমাত্র সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যই তা দেখেছিলেন।*
*🙏🙏জয় নরোত্তম ঠাকুরের জয়*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
           *শ্রীখন্ডের---------মহিমা*
          ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀মহাপ্রভুর প্রকটকালে আমরা সকলে সাধারণতঃ নবদ্বীপ,পুরীধাম, শান্তিপুর,কালনা,কাটোয়া, বৃন্দাবন এই জায়গা ক'টির নামই সাধারণত জানি কিন্তু কাটোয়ার খুব কাছেই বর্দ্ধমান জেলায় শ্রীখন্ড নামে একটি গ্রাম আছে,সে স্থানের মহিমা হয়ত সকলের কাছে তত জানা নাই।আমরা সকলেই নরহরি ঠাকুরের নাম জানি বিশেষ করে "আরতি করে নরহরি" এই পদটি আমরা সকলেই জানি কিন্তু এই নরহরি সম্বন্ধে বিশদভাবে জানতে গেলে শ্রীখন্ডের মহিমা জানা অতি অবশ্যই কর্তব‍্য। উপরন্তু জানা দরকার যে নরহরি ঠাকুর মহাপ্রভুর আবির্ভাবের বহু পূর্বেই আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তাঁর পিতৃদেবের নাম "নরনারায়ণ দেব" মায়ের নাম "গৌরীদেবী"। এই নরনারায়ণ দেবের দুইটি পুত্র সন্তান ছিলেন যাঁদের নাম হচ্ছেন মুকুন্দ ও নরহরি, মুকুন্দ নরহরি অপেক্ষা ৮|১০ বৎসরের বড় ছিলেন। উপরন্তু মুকুন্দ ছিলেন চিকিৎসা শাস্ত্রে সুপন্ডিত এবং তাঁর গুণাবলীতে মুগ্ধ হয়ে তখনকার মুসলমান নবাব তাঁকে রাজবৈদ‍্য হিসাবে গৌড়ে নিয়ে যান।এর কিছুদিন পরে নরনারায়ণ দেবের মৃত‍্যু হলে মুকুন্দ ছোট ভাইকে উচ্চস্তরে শাস্ত্রজ্ঞান অর্জনের জন্য নবদ্বীপে পাঠিয়ে নিজে নবাবের ওখানে চলে যান।এর ফলে নরহরি ঠাকুর নবদ্বীপে আগমন করেন কিন্তু তখনও মহাপ্রভুর কোন পরিচয় তিনি জানতেন না।*
*🍀মুকুন্দ যখন নবাবের কাছে চলে যান তখন তিনি তাঁদের কুলদেবতা গোপীনাথের সেবার উপযুক্ত সুব‍্যবস্থাও করে যান।ভক্তি সংস্কার নিয়েই নরহরির জন্ম এবং সেজন্য অনতিকালের মধ্যেই তিনি বিভিন্ন ভক্তিশাস্ত্রে চরমভাবে জ্ঞান অর্জন করেন এবং কৃষ্ণপ্রেমের উন্মাদনায় রাধাগোবিন্দ বিষয়ক নানা পদাবলীও তিনি রচনা করেন।এই সময়ে তিনি কখনও অঝোর নয়নে কেঁদে কেঁদে উন্মাদ হতেন, কখনও বা প্রেমাবেশে মূর্ছিত হয়ে যেতেন এবং কোন এক অজানা মহাপুরুষের সঙ্গ মানসে প্রায়শই তাঁর চিত্তে প্রবল উৎকণ্ঠা জাগরিত হ'ত।এই সময়ে সাধন ভজন কালে তাঁর দেহে অষ্টসাত্ত্বিক ভাব বিকারও দেখা যেত।এই প্রসঙ্গে নরহরি ঠাকুর পরবর্তীকালে তাঁর রচিত "শ্রীচৈতন‍্য সহস্র নাম" গ্রন্থে নিজেই লিখেছেন যে =*
*🍀আমার মনের যখন এইরকম অবস্থা শ্রীগৌরসুন্দর কৃপা করে বৈশাখমাসের এক শুক্লা চতুর্দশীতে স্বপ্নে আমায় সন্ন‍্যাস মূর্তিতে দর্শন দিয়েছিলেন।স্বপ্নেদেখা সেই মহাপুরুষকে দেখার পর হতেই আমার বিষয়াসক্তি ধীরে ধীরে দূরীভূত হতে লাগল। আমার প্রেমময় ভাব গাঢ় হতে গাঢ়তর হতে লাগল।স্বপ্নেদেখা সেই মহাপুরুষকে সাক্ষাৎ দর্শনের জন্য আমার মন ব‍্যাকুল হয়ে উঠিল।তারপর কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর কৃপায় আমি মহাপ্রভুর দেখা পেয়েছিলাম এবং সেই সাক্ষাৎ দর্শনকারে হৃদয়ে যে অনাবিল আনন্দ ও অত‍্যাশ্চর্য‍্য সুখ অনুভব হয়েছিল, সেই হতে তাঁর সম্মোহনী শক্তি প্রভাবে শয়নে স্বপনে জাগরণে দিনরাত্রি নিজের হৃদয় মন্দিরে শ্রীগৌর ভগবানকে প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, সেজন‍্য শ্রীনরহরির পদাবলীতে দেখা যায়*
*জাগিতে গৌর, ঘুমাতে গৌর*
         *স্বপ্নে গৌর দেখি।*
*🍀মহাপ্রভুর অবতার তত্ত্বের এমনই মহিমা যে তিনি তাঁর ভুবন ভোলানো রূপ-লাবণ‍্যের দ্বারা,কৃপাদৃষ্টি দ্বারা, কল‍্যাণহস্ত স্পর্শ দ্বারা, শ্রীচরণরজ দ্বারা তাঁর প্রিয়জন গুলিকে যথাস্থানে যথাভাবেই আত্মসাৎ করেছিলেন, যদিও এটি কৃপারই নামান্তর মাত্র। সেই হিসাবে বোধহয় নরহরি ঠাকুর ছিলেন তাঁর সর্বপ্রথম কৃপাপাত্র যিনি পার্ষদ হিসাবে ছিলেন ব্রজের "মধুমতীর" স্বরূপ।যাইহোক, এই শুভ দৃষ্টি প্রভাবে তিনি ক্রমশই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর প্রতি নিবিড় হতে নিবিড়তর ভাবে আকৃষ্ট হয়ে কখনও বা গৌরাঙ্গ ভবনে,কখনও তাঁর চতুষ্পাঠীতে, কখনও শ্রীবাস অঙ্গনে, আবার কখনও বা জাহ্নবী তীরে তাঁর সঙ্গে মিলিত হতেন এবং ক্রমশঃ সেই প্রেম আকর্ষণ ঘনীভূত দুগ্ধের মতো গাঢ় হতে গাঢ়তর হতে লাগিল।মহাপ্রভুও তাঁর প্রিয় পার্ষদের নিষ্ঠায় প্রীত হয়ে তাঁর হৃদয়ে পূর্ণ প্রেমের সঞ্চার করলেন যার ফলে নরহরির গৌরাঙ্গ প্রেম ভালোবাসা চরম হল।এই প্রেম সঞ্চারের ফলে সেই ঘনীভূত দুগ্ধে যেন শর্করার সংযোজন হল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*শুভকার্য‍্য আমা হ'তে,নাহি হবে ধরণীতে,*
   *ঈশ্বর বিধান ইহা জানিবে নিশ্চয়।*
*ভূ-ভার হরণকারী, ভগবান চক্রধারী,*
   *লঙ্খন তাহার কার্য‍্য সম্ভব না হয়।।*
*এই জগত সংসার,তিন গুণের আধার,*
   *শান্ত,ঘোর মূঢ় এই তিন রূপ তাঁর।*
*শ্রীকৃষ্ণের লীলা যত,কেহ না বুদ্ধিতে জ্ঞাত,*
     *অবোধ মানব মুগ্ধ মায়ার মাঝার।।*
*ধৃতরাষ্ট্র অভিপ্রায়,অত্রুূর জানিয়া তায়,*
    *ত্বরা সে বিদুর সহ কলিল গমন*।
*কুন্তীর যতেক কথা,শ্রীকৃষ্ণে জানায় সেথা,*
    *হস্তিনা সংবাদ যত করিল জ্ঞাপন।।*
*🙏🙏ভক্ত সুদামার কাহিনী🙏🙏*
*কৃষ্ণসখা একজন,দেব ভক্ত দ্বিজ রন,*
    *সুদামা তাঁহার নাম ধর্মে সদা মতি।*
*বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ হন,সদাই প্রশান্ত মন,*
    *জ্ঞানবান,জিতেন্দ্রিয় দরিদ্র সে অতি।।*
*গৃহস্থ আশ্রমে রন,তবু সদা তুষ্ট মন,*
   *যাহা পান ঈশ্বরের দান মানি লন।*
*পতিব্রতা পত্নী তাঁর,দুঃখ সহে অনিবার,*
   *অন্নাভাবে শীর্ণ দেহ মলিন বদন।।*
*বিষয় আসক্তি শূন‍্য,নাহি জানে হরি ভিন্ন,*
    *ভিক্ষা দ্বারা করে তাঁরা উদর পূরণ।*
*প্রয়োজন মত কভু,নাহি পান অন্ন তবু,*
   *প্রাপ্তি আসে উৎকণ্ঠিত না হন কখন।।*
*একদিন পত্নী হন,অতিশয় ক্ষুণ্ণমন,*
   *এক মুষ্টি অন্ন গৃহে না রহে যখন*।
*ক্ষুধার্ত যে পতি তবে,কেমনে এ কথা কবে,*
    *কি উপায়ে হবে তার ক্ষুধা নিবারণ।।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২১ হইতে ১৩০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori121to130.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
            *শ্রীখন্ডের--------মহিমা*
           °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গের অবতারে যেমন শ্রীনরহরির পদাবলী তেমনই বাসু ঘোষের পদাবলী,আর ততোধিক মাধুর্য‍্যের প্রকাশ হচ্ছে নরোত্তমের গানে। অর্থ‍্যাৎ মহাপ্রভু কৌশলী শিল্পীর মত তাঁর অবতার তত্ত্বকে জীব জগতে প্রকাশ করবার জন্য তাঁর চিহ্নিত পার্ষদগণ দ্বারা তাঁর নিজ মহিমা ব‍্যক্ত করে গিয়েছেন।কারণ মহাপ্রভু হচ্ছেন কলির প্রচ্ছন্ন (আবৃত) অবতার।অবতার তো কখনও নিজে বলবেন না যে আমি স্বয়ং ভগবান তোমরা আমার পূজো করো সুতরাং তাঁর সেই মহিমাকে প্রকাশ করেন তাঁর ভক্ত বা পার্ষদগণ।*
*🌷ভক্তিতত্ত্ব প্রেম কহে,রায়ে করি বক্তা।*
*🌷আপনি,প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র সহ,হয় শ্রোতা।।*
*🌷হরিদাস দ্বারা নাম মহাত্মা প্রকাশ।*
*🌷সনাতন দ্বারা ভক্তি সিদ্ধান্ত বিলাস।।*
*🌷শ্রীরূপ দ্বারা ব্রজরস প্রেমলীলা।*
*🌷কে বুঝিতে পারে গম্ভীর চৈতন‍্যের খেলা।।*
*🌷শ্রীচৈতন‍্য লীলা এই অমৃতের সিন্ধু।*
*🌷জগৎ ভাসাতে পারে যার এক বিন্দু।।*
*🍀বাস্তব জীবনেও যে দীক্ষামন্ত্র আমরা গ্রহণ করি সাধুগুরু বৈষ্ণবের মাধ‍্যমে, তাহাও অনেকটা অনুরূপ। কারণ সাধু বৈষ্ণবগণ হচ্ছেন ভগবানের নিজজন তাঁদের হৃদয় হচ্ছেন গোবিন্দের বাসস্থান, সুতরাং শ্রীগোবিন্দ সান্নিধ্যে প‍ৌঁছাতে গেলে তাঁর ভক্ত মাধ‍্যমে অগ্রসর হতে হবে।শ্রীনরহরি ঠাকুর তাঁরই রচিত "চৈতন‍্য সহস্র নাম গ্রন্থে" মহাপ্রভুর সঙ্গে প্রথম দর্শন অভিজ্ঞতা কি সুন্দর ভাবে সংস্কৃতে ব‍্যক্ত করেছেন, আস্বাদন করুন।*
*বৈশাখ শুক্লা চতুর্দশ‍্যাং, ন‍্যাসীনামহং নিশিদৃষ্টবান্,*
     *স্বপ্নদর্শনাদেব তস্মিন্ জাতা রতি মম।*
*প্রাদুর্ভাব নিশম‍্যাথ, তস‍্য দৃষ্টি পথং গতঃ,*
    *কিমাশ্চর্য‍্যম্ যদিষ‍্যামি দর্শনাদ যদভূত সুখং।।*
*🍀এইভাবে মহাপ্রভুর সঙ্গে নরহরির মিলন এবং পরিচয় হবার ফলে গৌরাঙ্গের কৃপায় নরহরির প্রেমভক্তি ধীরে ধীরে বাড়তে লাগিল।এদিকে বড় ভাই মুকুন্দও রাজবৈদ‍্য হিসাবে গৌড়ে চলে গেলেও তিনি সদাসর্বদা ব্রজলীলা চিন্তা করতেন এবং তিনি রাধা গোবিন্দের উপাসক ছিলেন।মাধবেন্দ্রপুরীর জীবনে যেরকম নীল নভোমন্ডল,ময়ূর-ময়ূরী দেখে কৃষ্ণস্ফূর্তি হত, সেইরকম ঘটনা মুকুন্দের জীবনেও দেখা যায়।অর্থ‍্যাৎ বৈষয়িক কাজে ব‍্যাপ্ত থাকলেও তাঁর কৃষ্ণ ভাবনা ও গোবিন্দ গোপীনাথ কৃপা তাঁর জীবনকে মহামহিমাময় করে তুলেছিলেন।একসময় এক ময়ূরপুচ্ছ দেখে মুকুন্দের কিরকম অবস্থা হয়েছিল তা আপনারা কবিরাজ গোস্বামীর ভাষায় শুনুন।*
*🌷ভক্তের মহিমা কহিতে প্রভু পান সুখ।*
*🌷ভক্তের মহিমা কহিতে প্রভু পঞ্চ মুখ।।*
*🌷ভক্তজনে কহে শুন মুকুন্দের প্রেম।*
*🌷নির্মল নিগূঢ় প্রেম যেন শুদ্ধ হেম।।*
*🌷বাহ‍্যে রাজবৈদ‍্য হয় করে রাজ সেবা।*
*🌷অন্তরে নিগূঢ় প্রেম জানিবেক কেবা।।*
*🌷একদিন ম্লেচ্ছ রাজা উচ্চ টুঙ্গিতে।*
*🌷চিকিৎসার বার্তা কহে তাঁহার অগ্রেতে।।*
*🌷হেনকালে এক ময়ূর পুচ্ছের আড়ানি।*
*🌷রাজ শিরোপরে ধরে এক সেবক আনি।।*
*🌷শিখিপুচ্ছ দেখি মুকুন্দ প্রেমাবিষ্ট হইল।*
*🌷অতি উচ্চ টুঙ্গে হইতে ভূতলে পড়িল।।*
*🌷রাজার জ্ঞান রাজবৈদ‍্যের হইল মরণ।*
*🌷আপনি নামাইয়া তবে করাইল চেতন।।*
*🌷রাজা বলে ব‍্যথা তুমি পাইলে কোন ঠাঁই।*
*🌷মুকুন্দ বলে অতি বড় ব‍্যথা নাহি পাই।।*
*🌷রাজা বলে মুকুন্দ তুমি পড়িলা কি লাগি।*
*🌷মুকুন্দ কহে রাজা মোর আছে ব‍্যাধি মৃগী।।*
*🌷মহা বিদগ্ধ রাজা সেই সব বাত জানে।*
*🌷মুকুন্দেরে হইল তার মহাসিদ্ধ জ্ঞানে।।*
*🌹এই ঘটনার পর হতে মুকুন্দের ব‍্যাপারে নবাবের মনোভাব বিশেষভাবে পরিবর্তিত হয় এবং তিনি ক্রমে এই রাজবৈদ‍্যের দায়িত্ব হতে মুক্তি পান।মহাপ্রভুর আবির্ভাব কালে ভারতে তথা বাংলায় মুসলমান নবাবেরা রাজত্ব করতেন এবং তারা সম্পূর্ণ হিন্দু বিদ্বেষী হলেও কয়েক ক্ষেত্রে মহাপ্রভুর অহৈতুকী কৃপার প্রভাবে তাদের মনোভাব বিশেষভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব 🥀 শুভাতিশুভ শ্রীজন্মাষ্টমী তিথি জয়যুক্ত হোন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/krishna_6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব  ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/krishna_6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব।*

*#ঈশ্বরঃ_পরমঃ_কৃষ্ণঃ_সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।  #অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ_সর্বকারণকারণম্।* 

#ব্রহ্ম_সংহিতার এই শ্লোকটির মধ্যেই কৃষ্ণ তত্ত্ব সম্পূর্ণ রূপে নিহিত আছে। 
*#ঈশ্বরঃ_পরমঃ_কৃষ্ণঃ:- শ্রীকৃষ্ণই পরম ঈশ্বর ।*
*#সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ:-কৃষ্ণের মধ্যেই সৎ,চিৎ এবং আনন্দ শক্তির প্রকাশ।সেই প্রকাশমানতার ঘনীভূত বিগ্রহ হলেন কৃষ্ণ।*
*#অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ:-তিনি গোবিন্দ।তিনি অনাদির আদি অর্থাৎ যা কিছু প্রারম্ভের অতীত তারও প্রারম্ভ কৃষ্ণ থেকেই।*
*#সর্বকারণকারণম্:-সৃষ্টির যে কোন কাজের কারণ এবং সেই কারণের কারণ তিনি।অর্থাৎ কৃষ্ণ থেকেই সমস্ত কিছুর সূত্রপাত।*
*#ঈশ্বর_পরম_কৃষ্ণ_স্বয়ং_ভগবান ।  #সর্ব_অবতারী_সর্ব_কারণ_প্রধান।।*

তিনি সর্ব ঐশ্বর্য, সর্ব শক্তি এবং সর্ব রসে পরিপূর্ণ । তাঁর মধ্যে অপরিপূর্ণতা কিছু নেই। তিনি রসস্বরূপ *#রসো_বৈ_সঃ।*
সমস্ত অবতারের মূল আশ্রয় হলেন কৃষ্ণ ।অনন্ত বৈকুন্ঠ  এবং অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড এই সবেরই আধার তিনি।তাঁর থেকেই অন্য সকল ভগবৎ স্বরূপের উৎপত্তি।
এহেন সর্ব ঐশ্বর্য সম্পন্ন ভগবান কৃষ্ণ নন্দ যশোদার পুত্র রূপে #বাৎসল্যের পরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। শ্রীদাম সুদামাদি সখার সঙ্গে খেলাচ্ছলে  #সখ্য রসের বিস্তার করেছেন। কালীয় নাগ আদি অসুরগণকে বিনাশ করে স্বীয় প্রভুত্ব তাদের ওপর আরোপ করে #দাস্যভাবের আরাধনা গ্রহণ করেছেন। সর্বোপরি ব্রজাঙ্গনা এবং গোপীশ্রেষ্ঠা শ্রীমতি রাধার ভজনাতে #মধুর_রসে তিনি মাধুর্যের ধুর্য্য হয়েছেন। কৃষ্ণ #বৃন্দাবনে_অপ্রাকৃত_নবীন_মদন।মদন মানে যার মত্ততা জন্মানোর ক্ষমতা আছে। কিন্তু সেই মত্ততা প্রাকৃত কামমত্ততা নয়। প্রাকৃত কামমত্ততা কে বিনষ্ট করে নিজের অপ্রাকৃত রূপের কাছে তিনি সবাই কে আকর্ষণ করেন। আকর্ষণ করেন বলেই তিনি কৃষ্ণ । কামবীজ এবং কামগায়ত্রী মন্ত্রে তিনি ভক্তের কাছে বশীভূত হন। (কামবীজ কামগায়ত্রীর বিস্তৃত আলোচনা বা মন্ত্র ইত্যাদি কোনোভাবেই এখানে আলোচনা করা হবে না। এই মন্ত্র সম্পূর্ণ রূপে গুরু আনুগত্যের বিষয় )।
স্থাবর জঙ্গম সবকিছুই কৃষ্ণে আকৃষ্ট হয়।নারায়ণ এবং লক্ষ্মীগণের মনও তিনি হরণ করেন।কৃষ্ণ স্বমাধুর্য্য আস্বাদনে সদাই ব্যস্ত ।
*#আপন_মাধুর্যে_হরে_আপনার_মন। #আপনা_আপনি_চাহে_করিতে_আলিঙ্গন ।।*
অনন্ত শক্তিশালী পরমেশ্বর ভগবান কৃষ্ণ #ভাদ্রমাসের_কৃষ্ণ_পক্ষের_অষ্টমী_তিথিতে মথুরাতে নিজের মাতুলালয়ের কারাঅলিন্দে জন্মগ্রহণ করেন। সন্তান রক্ষার্থে #পিতা_বসুদেব_মাতা_দেবকীর কাছ থেকে নবজাত পুত্র কে গোকুলে #নন্দ_যশোদার কাছে রেখে আসেন। ভবিষ্যতে নামকরণের সময়ে #গর্গ_ঋষি এই নবজাত শিশুটির ভুবনমঙ্গল নাম রাখেন #কৃষ্ণ।
(কৃষ্ণ তত্ত্ব এত সংক্ষেপে বলা সম্ভব নয়। স্বয়ং মহাপ্রভু নিজে বলেছেন
#কৃষ্ণ_নামের_বহু_অর্থ_তাহা_নাহি_জানি।
#শ্যামসুন্দর_যশোদানন্দন_এই_মাত্র_মানি।।
 পৃথিবীর সমস্ত তত্ত্বের থেকেও কৃষ্ণতত্ত্ব সর্ব বৃহৎ এবং সর্বব্যাপ্ত।সেই সর্বব্যাপী তত্ত্ব কে যথাসম্ভব মনুষ্যোপযোগী করে তুলে লেখার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র । তবে পরিশেষে একটাই কথা কৃষ্ণ যতই লীলাপুরুষোত্তম পরমেশ্বর ভগবান হোন না কেন গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের কাছে এই কৃষ্ণই বৃন্দাবনেশ্বরী শ্রীরাধার প্রাণবল্লভ রূপেই পূজিত।
*#মম_প্রাণেশ্বরী_রাধা_বৃন্দাবনেশ্বরী।  #তাঁর_প্রাণনাথ_বলি_ভজি_গিরিধারী ।।*

#বৃন্দাবনেশ্বরী_শ্রীমতি_রাধারাণী_জয়যুক্ত_হোন।
#বৃন্দাবনচন্দ্র_শ্রীগোবিন্দ_গোপীনাথ_মদনমোহন_জয়যুক্ত_হোন।
*#শুভাতিশুভ_শ্রীজন্মাষ্টমী_তিথি_জয়যুক্ত_হোন।*
*🌹🌹🙏🙏🌹🌹*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী দীপ বাগুই 📖 👇꧂


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫৬. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৬)শ্রীরামানন্দ রায়,শ্রেষ্ঠভক্ত*
           *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
         **************************
*☘আপনি এখন স্নানাহার করুন। এই বলে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র গৃহ-অভিমুখে প্রত‍্যাবর্তন করলেন, তাঁর হৃদয় তখনও কৃষ্ণকথার রসরঙ্গে ভাবসাগরে ডুবে ছিলেন, তাঁর কর্ণযুগল তখনও শ্রীরামরায়ের মধুময়ী কৃষ্ণকথার সুধাঝঙ্কার প্রবাহিত হচ্ছিল।তিনি গোলোকে কি ভূলোকে আছেন, অনেকক্ষণ পর্যন্ত তাঁর ষে জ্ঞান ছিল না। তিনি ধীরে ধীরে আপন ঘরে উপস্থিত হলেন,ভাব-এ ভাব-এ স্নান করলেন, আহার করলেন, তখনও শ্রীরামরায়ের সুধামধুর কন্ঠস্বরের আনন্দময় ঝঙ্কার তাঁর দুই কানে যেন ঝলকে ঝলকে অমৃতবর্ষণ করছিল।*
*☘সন্ধ‍্যার সময় মিশ্র শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণ সন্দর্শনার্থে (সাক্ষাৎ দর্শনের জন্য )আগমন করে তাঁর শ্রীপাদপদ্ম বন্দনা করলেন।মিশ্র মহাশয়ের মুখটি আজ আনন্দে ভরপুর, হৃদয়ে যেন কতই আনন্দ বিরাজমান,তাঁর শ্রীঅঙ্গে যেন আনন্দরাশি জায়গা না পেয়ে উছলিয়ে পড়ছে।মিশ্র মহাশয়কে দেখামাত্রই মহাপ্রভু একটু মৃদুমধুর হেসে বললেন,মিশ্র!কৃষ্ণকথা শুনেছ তো?মহাপ্রভুর কথা শেষ হতে না হতেই মিশ্র মহাশয় খুব উৎসাহের সঙ্গে বললেন, দয়াময়🙏,আপনি এই দাসকে কৃতার্থ করেছেন।আমি কৃষ্ণকথা শুনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনি কৃপা করে এ অধমকে কৃষ্ণকথা সাগরে একেবারে ডুবিয়ে রেখেছেন।রায় মহাশয়ের কথা বর্ণনার অতীত।শ্রীরায় মহাশয় মানুষ নহেন,তিনি কৃষ্ণভক্তিরসের মূর্তিমান অবতার।*
*☘এই কথাগুলি বলতে বলতে মিশ্রের দেহ পুলকিত হল,আবার যেন তাঁর হৃদয়ে কৃষ্ণকথা-রসসাগর উথলিয়ে উঠিল।শ্রীরামহাশয়ের সুধা মধুর ভক্তিমাখা কন্ঠস্বর, সেই কন্ঠস্বরে রসময়কৃষ্ণকথার অমৃত প্রবাহ, মিশ্র মহাশয়ের হৃদয়ে আবার যেন পূর্ণবেগে প্রবাহিত হল।শ্রীরামরায়ের প্রকৃত স্বরূপ, কৃষ্ণভক্তিরসময় শ্রীমূর্তি, আবার শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের চিত্তে লোকাতীত মাধুর্য‍্যে ও ঔজ্জ্বল‍্যে প্রকটিত হলেন।মিশ্র মহাশয় কথা বলতে বলতে অমনি একেবারেই চুপ করে গেলেন।ভক্তগণ বুঝলেন,শ্রীরামানন্দ রায় সত‍্যই মানুষ নহেন,তিনি নররূপে শ্রীকৃষ্ণ-ভক্তিরসের মূর্তিমান অবতার।প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের ভাব প্রবাহ অতর্কিতভাবে ভক্তগণের হৃদয়ে সঞ্চারিত হল।সকলেই বুঝতে পারলেন, রামরায় অকপট কৃষ্ণপ্রেমের প্রকৃত শিক্ষাগুরু। শ্রীচরিতামৃতে, শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের কথাতে লেখা হয়েছে =*
*🌷মিশ্র কহে প্রভু মোরে কৃতার্থ করিলা।*
*🌷কৃষ্ণকথামৃতার্ণবে মোরে ডুবাইলা।।*
*🌷রামানন্দ রায় কথা কহিলে না হয়।*
*🌷মনুষ‍্য নহে রায়--,কৃষ্ণভক্তিরসময়।।*
*🌻ফলে শ্রীকৃষ্ণভক্তি-রসময়ত্বই শ্রীরামানন্দ রায়ের স্বরূপ।শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীমতীবিশাখা নবদ্বীপ লীলায় কৃষ্ণভক্তিরসের পূর্ণ প্রবাহস্বরূপ শ্রীরামরায়রূপে বিরাজিতা।*
*🦚(শ্রীগোরাঙ্গ-লীলায় পাত্র-পাত্রীগণের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ-লীলার পাত্রপাত্রীগণের একত্ব প্রদর্শনের জন্য প্রাচীন গোড়ীয় বৈষ্ণব পন্ডিতগণের প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়।অন্ত‍্য লীলায় শ্রীমন্মহাপ্রভুর যে সব ভাব অভিব‍্যক্ত (প্রকাশিত) হয়েছে,তা শ্রীরাধিকার ভাব-অভিব‍্যক্তি বলেই পূজ‍্যপাদ গ্রন্থকারগণ নির্দেশ করেছেন।শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর ও শ্রীপাদ রামানন্দ রায় এই সময়ে সর্বদাই শ্রীরাধা ভাবনিমগ্ন মহাপ্রভুর পার্শ্বে বসে থেকে ললিতা ও বিশাখার মত তাঁর সেবা পরিচর্য‍্যা ও সান্ত্বনা করতেন।শ্রীপাদ কবিরাজ কৃষ্ণদাস গোস্বামী মহোদয় শ্রীচরিতামৃতের অন্ত‍্যলীলায় ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে লিখেছেন=*
*🌷পূর্বে যৈছে রাধার সহায় ললিতা প্রধান।*
*🌷তৈছে স্বরূপ গোঁসাই রাখে প্রভুর প্রাণ।।*
*🌻এতে প্রতিপন্ন (প্রমাণসিদ্ধ) হচ্ছে শ্রীকবিরাজ গোস্বামী শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরকে ললিতা বলে নির্দেশ করেছেন। কিন্তু শ্রীকবিকর্ণপুর কৃত গৌরগণোদ্দেশ দীপিকা গ্রন্থে লিখিত আছে স্বরূপদামোদর বিশাখা যথা=*
*🌷কলামশিক্ষয়দ্ রাধাং যা বিশাখা ব্রজে পুরা।*
*🌷সোহদ‍্য স্বরূপ গোস্বামী তত্তদ্ভাববিলাসবান্।।*
*🌹আমরা শ্রীকবিরাজ গোস্বামী মহোদয়ের অনুভবই এক্ষেত্রে সব থেকে বেশী সুসঙ্গত মনে করেছি।শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরই ললিতার মত রসজ্ঞ এটিই মহানুভাব বৈষ্ণবগণের ধারণা।শ্রীপাদ রামানন্দের তথ‍্য খুববেশী জটিল।শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু রামানন্দের পিতাকে পান্ডু এবং তার পঞ্চপুত্রকে পঞ্চপান্ডব বলে অভিহিত করেছেন,যদিও এটি আগে উল্লিখিত হয়েছে =*
*🌷সাক্ষাৎ পান্ডু তুমি তোমার পত্নী কুন্তী।*
*🌷পঞ্চপান্ডব তোমার পঞ্চপুত্র মহামতি।।*
*🌻আদিলীলাতে আরও স্পষ্ট করে লিখিত আছে ঃ---*
*🌷আলিঙ্গন করি তারে বলিল বচন।*
*🌷তুমি পান্ডু পঞ্চপান্ডব তোমার নন্দন।।*
*🌷রামানন্দ রায়,পট্টনায়ক গোপীনাথ।*
*🌷কলানিধি,সুধানিধি,নায়ক বাণীনাথ।।*
*🌷এই পঞ্চপুত্র তোমার প্রিয় পাত্র।*
*🌷রামানন্দ সহ মোর দেহভেদমাত্র।।*
*🌻এতে জানা যায় রামানন্দকে মহাপ্রভু বাহ‍্যদশায় সখা বলে মনে করতেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এর উল্লেখ আছে,যথা ঃ--*
*🌷পুরীর বাৎসল‍্য মুখ‍্য,রামানন্দের শুদ্ধ সৌখ‍্য,*
      *গোবিন্দাদ‍্যেরশুদ্ধদাস‍্যরস।*
*গদাধর জগদানন্দ,স্বরূপের মুখ‍্য রসানন্দ,*
     *এই চারি ভাবে প্রভু বশ।।*
*🍀দ্বারকার ভাবে রায় রামানন্দ অর্জ্জুন বলে কীর্তিত হয়েছেন।কবিকর্ণপুরের শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকাগ্রন্থে রায় রামানন্দকে অর্জুন বলে প্রথমে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু ব্রজের সখ‍্যরসের সঙ্গে ঐক‍্য রাখার জন্য শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচরিতামৃতে একে সুবল বলে নির্দিষ্ট করেছেন।যথা অন্ত‍্যলীলায় ষষ্ঠ অধ‍্যায়ে=*
*🌷সুবল যৈছে পূর্বে কৃষ্ণ সুখের সহায়।*
*🌷গৌর সুখ দান হেতু তৈছে রামরায়।।*
*🌹কিন্তু গম্ভীরা-লীলায় শ্রীরামরায়ের যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তাতে তাঁকে বিশাখা বলে মনে করাই উচিত, এ সম্বন্ধে শ্রীকবিকর্ণপুরের মীমাংসাই সুসঙ্গত, তদ্ যথা=*
*প্রিয় নর্মসখঃ কশ্চিৎ সোহর্জ্জুনঃ পান্ডবোহর্জ্জুনঃ।*
*মিলিত্বা সমভূদ্রামানন্দ রায়ঃ প্রভোঃ প্রিয়ঃ।।*
*অতো রাধাকৃষ্ণভক্তিপ্রেমতত্ত্বাদিকং কৃতী*।
*রামানন্দো গৌরচন্দ্রং প্রত‍্যবর্ণয়দম্বহম্।।*
*ললিতেত‍্যাহরেকো যত্তদেকো নানুমন‍্যতে।*
*ভবানন্দং প্রতিপ্রাহ গৌরো যত্ত্বং পৃথাপতিঃ।।*
*গোপার্জ্জুনী যয়া সার্দ্ধমেকীভূয়াপি পান্ডবঃ।*
*অর্জ্জুনো যদ্ রায় রামানন্দ ইত‍্যাহরুত্তমাঃ।।*
*অর্জ্জুনী যাভবৎ তূর্ণং অর্জ্জুনোহপি পান্ডবঃ।*
*ইতি পাদ‍্যোত্তরে খন্ডে ব‍্যক্তমেব বিরাজতে।।*
*তস্মাদেতৎত্রয়ং রায় রামানন্দ মহাশয়ঃ।*
*ব্রজভক্তা সমাসেন কথ‍্যন্তেহথ যথামতি।।*
*🌺কেউ কেউ বলেন পান্ডব অর্জুন ও ব্রজের নর্মসখা অর্জুন এই উভয়ে মিলে গৌরাঙ্গলীলায় রামানন্দরূপে প্রকাশিত হয়েছেন, সুতরাং তিনি ব্রজলীলায় অভিজ্ঞ ছিলেন বলেই মহাপ্রভুর কাছে শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমভক্তি আদিলীলা বর্ণনা করতে সমর্থ হয়েছিলেন।আবার কেউ কেউ বলেন তিনি ললিতা ছিলেন,কেউ কেউ এইকথা অনুমোদন করেন না।ইহারা বলেন মহাপ্রভু যখন ভবানন্দকে পান্ডু বলে অভিহিত করেছেন তখন রামরায়ললিতা না হয়ে বরং অর্জুনী বা বিশাখা হতে পারেন।সেই অর্জুনীতে বা বিশাখায় পান্ডব অর্জুন মিলিত হয়েছিলেন। চিদানন্দ রাজ‍্যের নিয়মে এটি যে সম্ভবপর হবে তাতে আর বৈচিত্র্য কি? পদ্মপুরাণে উত্তরখন্ডে এটি প্রকাশিত আছে। সুতরাং শ্রীপাদ রায় রামানন্দ এই তিনের মিলিত মূর্তি)*
*🍁রামরায়ের সন্দর্শন আর শ্রীকৃষ্ণভক্তিরস-সন্দর্শন একই কথা।শ্রীরামরায়ের শ্রীমুখে কৃষ্ণকথা শ্রবণ, আর কৃষ্ণকথারসসমুদ্রে ডুবে যাওয়া একই কথা।শিষ্টশান্ত ভদ্রলোক, কিংবা শুকনোজ্ঞানী বেদান্তী, যিনিই একবার শ্রীরামরায়ের সঙ্গে সরলভাবে ধর্মালাপ করতেন,তাঁরই হৃদয় ভক্তিরসে পরিপ্লুত হয়ে উঠিত।*
           *ক্রমাগত*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৪০ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda140to150.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫১)শ্রীরায় রামানন্দ,বিশাখা*
      *শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
      ====================
*🍀শ্রীরামরায়কি গুরুতর ব‍্যাপারে রত থাকতেন, পৃর্বের পর্বে যে শ্রীচরিতামৃতের কথন তা থেকে অবশ্যই তার ধারণা করা যেতে পারে।রায় মহাশয় শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটকটি যাঁরা পাঠ করেছেন,তাঁরা জানেন,এই নাটকে শ্রীপিদ জয়দেব গোস্বামীর রচিত গীতগোবিন্দের অনুকৃতিতে (অনুকরণ করা হয়েছে )অনেকগুলি গভীর গূঢ়ভাবময় গীত আছে।শ্রীমন্মহাপ্রভু অন্ত‍্যলীলায় রায় মহাশয়ের রচিত নাটকের এইসব গীতিরসে বিভোর থাকতেন। তাই শ্রীপাদ কবিরাজ লিখেছেন=*
*চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতি,রায়ের নাটক গীতি,*
      *কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ।*
*স্বরূপ রামানন্দ সনে,মহাপ্রভু রাত্রি দিনে,*
    *গায় শুনে পরম আনন্দ।।*
*🍀শ্রীরায় মহাশয়ের নাটক-গীতির কিঞ্চিৎ আলোচনা এখানে না করলে এই প্রসঙ্গ নিতান্তই অপূর্ণ থাকবে, সুতরাং এখানে উক্ত নাটকের দুই একটি গান উদ্ধৃত করা যাচ্ছে, তদ্ যথা=*
*মৃদুতর মারুত---, বেল্লিত পল্লব-,*
        *বল্লীবলিতশিখন্ডম্।*
*তিলক-বিড়ম্বিত-, মরকত মণিতল-,*
      *বিম্বিতশশধরখন্ডম্।।*
      *যুবতীমনোহরবেশম্।*
*কলয়কলানিধি-,   মিরধরণীমনু-,*
     *পরিণতরূপবিশেষম্।ধ্রু।*
*খেলাদোলায়িত-,   মণিময় কুন্ডল-,*
        *রুচিরাননশোভম্।*
*হেলাতরলিত,      মধুর বিমোচন-,*
        *জনিতবধূজনলোভম্।।*
*গজপতি রুদ্র-,  নরাধিপ চেতসী,*
        *জনয়তু মুদমনুবারম্।*
*রামানন্দ-,       রায় কবিভণিতং,*
        *মধুরিপুরূপমুদারম্।।*
*শ্রীলোচন দাস ঠাকুর এর যে বঙ্গানুবাদ করেছেন তা এই=*
   *যুবতী মনোহর ওনা বেশ গো।*
*অবনীমন্ডলে সখি,চাঁদের উদয় যেন,*
     *সুধাময় রূপের বিশেষ গো।।*
*চূড়ার উপরে শোভে,নানা ফুলদাম গো,*
      *তাহে উড়ে ময়ূরের পাখা।*
*যেন,চাঁদের উপরে চাঁদ,উদয় করিল গো,*
      *ললাটে চন্দনবিন্দু রেখা।।*
*সঘনে দোলায় বামে,মকর কুন্ডল গো,*
      *কুলবতীর কুল মজাইতে।*
*উহার নয়ন কুসুমশর,মরমে পশিল গো,*
      *ধৈরজ ধরিতে নারে চিতে।।*
*এমন সুন্দর রূপ,কোথা হতে এলো গো,*
      *মনোভব ভুলিল দেখিয়া।*
*লোচন মজিল সই,ওরূপ সাগরে গো,*
      *কিবা সে নাগর বিনোদিয়া।।*
*🌹সরসিক ভক্ত পাঠকগণ, কবিবর শ্রীরামরায়ের নাটকগীতি আর আমাদের রসময় কবি লোচনদাসের বঙ্গানুবাদ একবার একাধারে পাঠ করুন, আর ভেতরের চক্ষু খুলে দেখুন, এখানে মধুরে মধুরে কেমন চমৎকার সংমিলন।এই মধুর-উজ্জ্বলরস গীত অভিনয়ে পরিস্ফুট করে তুলবার জন্যই রামরায় কিশোরীসুন্দরী দুইজনসহ নিভৃত কাননচারী হয়েছিলেন, প্রেমসাধনার লোকাতীত যজ্ঞে প্রাকৃত  ইন্দ্রিয়-বৃত্তিনিচয়ের পূর্ণাহুতি প্রদান করে অপ্রাকৃত মানসিক বৃত্তি লাভ করেছিলেন,তাতে তাঁর নিজ পুরুষত্বের জ্ঞান বিলুপ্ত ও বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল।আনন্দ-চিন্ময়রস প্রতিভাবিতা সখীভাবের উন্মেষে (উদ্ভবে)তাঁর হৃদয়ে ব্রজরস উথলিয়ে উঠিত, তিনি দেবদাসীর দুইজনের হৃদয়ে সেই ভাবের সঞ্চার করে দিতেন, নিজের মুখ-চোখে ভাববিশেষের প্রকটন করে মুখচোখাদির বিলাসভঙ্গী শিক্ষা দিতেন,কন্ঠ হতে গান বাহির হত এবং মুখ চোখ ও হাত দিয়ে বাইরে ভাবের অভিব‍্যক্ত বা প্রকাশ হত।এইরকম অভিনয় ছাড়া গানের সজীবতা উপলব্ধি হয় না।এখানে উদাহরণচ্ছলে শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটক হতে আর একটি গান দেওয়া হল।*
*চিকুরতরঙ্গক-,  ফেন-পটলমিব,*
        *কুসুমং দধতী কামং।*
*নটদপসব‍্য-,      দৃশা দিশতীব চ,*
        *নর্ত্তিতুমতনুমবামম্।।*
        *রাধা মাধববিহরা।*
*হরীমুপগচ্ছতি,      মন্দুস্থপদগতী*
       *লঘুলঘুতলরিতহারা।।*
*শঙ্কিতলজ্জিত,    রসভর-মধুর,*
               *দৃগন্তলবেন।*
*মধুমথনং প্রতি,        সমুপহরন্তী,*
          *কুবলয়াদিমরসেন।।*
*গজপতিরূদ্র,  নরাধিপমধুনাতন,*
            *মদনং মধুরেণ।*
*রামানন্দরায় কবি-,ভণিতং সুখরতু,*
        *রসবিসরেণ।।*
*🌻এটি শ্রীমতী রাধারাণীর অভিসারের গানে।শ্রীরাধিকা কি সাজে ও কি ভাবে প্রাণবল্লভের সঙ্গে মিলিত হতে চলেছেন, এই গানে কবিবর তাইই প্রকাল করে লিখেছেন ঃ----*
*(১)শ্রীরাধা কুঞ্চিত ঘনকৃষ্ণ চিকুরে শুভ্র কুসুম ধারণ করেছেন। (শ্রীরাধার কোঁচকান কালোঘন চুলে সাদা ফুল ধারণ করেছেন)।সেটি নীল যমুনার মৃদুল (কোমল)তরঙ্গে ফেনার মত শোভা পাচ্ছে।তিনি তাঁর ডান নয়নভঙ্গীতে যেন অনুকূল অনঙ্গকে নৃত‍্য করতে আদেশ করতে মধুরবেশে হরির কাছে অভিসার করছেন।এখানে অত‍্যন্ত আনন্দে অভিসারিকা শ্রীমতীর নয়নে যে রস উথলিয়ে উঠেছিল, গানে তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু গায়িকা যখন এই গান করেন,তাঁর নয়নে তেমনি ভাবের অনন্ত লেশাভাসটুকুও অভিনয় না হলে এই সরস গানের সজীবতা থাকে না, অন‍্যের হৃদয়েও সে ভাব সঞ্চারিত হয় না। মানুষের মনের ভাব মুখ চোখাদিতে প্রকাশিত হয়।মনের সঙ্গে দেহের সম্বন্ধ অতি ঘনিষ্ঠ,চোখের সঙ্গে সে সম্বন্ধ আরও ঘনিষ্ঠতর।হাসির ভাবটুকু মুখে ফুটতে না ফুটতেই আগে চোখে ফুটে উঠে।কোন ভাব দেহের কোন জায়গায় কি রকম কাজ করে, তাতে কি রকম পরিবর্তনের সঞ্চার করে তার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। ইদানিং পাশ্চাত‍্য মনস্তত্ত্ব বিদগণের মধ্যে "প্রফেসর বেইন" প্রভৃতিও এ বিষয়ের আলোচনা আরম্ভ করেছেন। তিনি এই ব‍্যাপারকে (Manifestation of feeling) বা "ভাবপ্রকটন" নামে অভিহিত করেছেন। সহজ কথায় একে "ভাওবাতান" (Expression) বলা যেতে পারে। প্রফেসর Bell নামক অন‍্য একজন পন্ডিত (Psycho-Physionlogist) কোন ভাব মুখচোখাদিতে কি রকম পরিবর্তন উপস্থিত করে,তার বিবরণ লিখেছেন, কিন্তু সে সব অতি স্থূল।*
🦚🌷🪷🌸🦜🦚🌷🪷🌸🦜🌸🪷🦚

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫২. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫২)শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
    *শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
    **************************
*🍀কাব‍্যকলায় সুপন্ডিত, ভাব-রসে সুরসিক শ্রীরামরায় সঙ্গীত-বিদ‍্যায় পারদর্শী ছিলেন।নাট‍্যগানাদিতে তাঁর অপরিসীম নৈপুণ‍্য ছিল।তিনি শ্রীকৃষ্ণলীলার মধুররসে সবসময় পরিষিক্ত (ডুবে) থাকতেন।তাঁর সবরকম বিদ‍্যা শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ লীলারসের আস্বাদ অনুভাব সাধনে ব‍্যবহৃত হত।শ্রীরায় মহাশয় অপ্রাকৃত ভাবে বিভোর থেকে দুইটি পরমা সুন্দরী কিশোরী দেবদাসীকে এই ভাব প্রকটন লাস‍্য (স্ত্রলোকের নৃত‍্য) ও শ্রীশ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটকের গান শিক্ষা দিতেন।আমরা উদাহরণ স্বরূপ যে গানটি উদ্ধৃত করেছি,এখন তার অন‍্য অংশের উল্লেখ করা হচ্ছে।*
*(২)শ্রীমতী রাধারাণীর নয়নকোণে একই সময়ে শঙ্কা ও লজ্জার প্রকাশ হয়েছে।তাতে নেত্রপ্রান্ত রসভরে চঞ্চল মধুর প্রতিভাত (স্পষ্টভাবে ব‍্যক্ত) হচ্ছে। তিনি যেন নয়নরূপ নীল উৎপলে নব-নীরদ-সুন্দরকে ভালোবাসার উপহার প্রদান করছেন।এই যে এখানে নয়নে লজ্জা ও শঙ্কার ভাব প্রকটনের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, সেটি ব‍্যভিচারীভাবের অন্তর্গত।এই ব‍্যভিচারী ভাব সঞ্চারীভাব নামেও অভিহিত হয়ে থাকে, যথা ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে=*
*অথোচ‍্যন্তে ত্রয়স্ত্রিংশৎ ভাবা যে ব‍্যভিচারিণঃ।*
*বিশেষণাভিমুখ‍্যেন চরন্তি স্থায়িনং প্রতি।।*
*বাগঙ্গসত্ত্বসূচা যে জ্ঞেয়াস্তে ব‍্যভিচারিণঃ।*
*সঞ্চারয়ন্তি ভাবস‍্য গতিং সঞ্চারিণোহপি তে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ বাক‍্য ভ্রু-নেত্রাদি অঙ্গ এবং সত্ত্বোৎপন্ন ভাব দ্বারা যে সব ভাব প্রকাশিত হয় তারাই ব‍্যভিচারী।এরা ভাবের গতি সঞ্চার করে বলিয়া সঞ্চারী ভাব নামেও অভিহিত হয়ে থাকে।এদের সংখ্যা তেত্রিশটি, যথা= নির্ব্বেদ,বিষাদ,দৈন‍্য,গ্লানি,শ্রম,মদ, গর্ব্ব,শঙ্কা,ত্রাস,অবেশ,উন্মাদ,অপস্মৃতি,ব‍্যাধি,মোহ,মৃত‍্যু,আলস‍্য,জাড‍্য, ব্রীড়া,অবহিত্থা,হর্ষ,উৎসুকতা,উগ্রতা, অমর্ষ,চপলতা,নিদ্রা,সুপ্তি ও বোধ এরা সঞ্চারী ভাব।*
*🍀সাত্ত্বিকভাব আট প্রকার যথা= স্তম্ভ,স্বেদ,রোমাঞ্চ,স্বরভেদ,কম্প, বৈবণ‍্য,অশ্রু ও প্রলয়।*
*🌺এর পরে স্থায়ীভাবেরও আট প্রকার ভেদ আছে।এদের প্রভাবেও অঙ্গপ্রত‍্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়াদির বহুপ্রকার লাস‍্য বা ক্রীড়া জন্ম হয়।স্থায়ীভাব সম্বন্ধে প্রাচীন আলঙ্কারিক "ভোজরাজ" ভরত মুনির পদানুসরণ করে লিখেছেন ঃ----*
*রতির্হাসশ্চ শোকশ্চ ক্রোধোৎসাহৌ ভয়ং তথা।*
*জুগুপ্সা বিস্ময়শ্চাষ্টৌ স্থায়ীভাবাঃ প্রকীর্ত্তিতাঃ।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ রতি,হাসি,শোক,ক্রোধ,উৎসাহ,ভয়, জুগুপ্সা (কুৎসা,নিন্দা বা ঘৃণা), ও বিস্ময় এই আটটি স্থায়ীভাব। আমাদের এই প্রাকৃত জগতের পক্ষে স্থায়ীভাব বিচার এইরকম হলেও ব্রজরসের স্থায়ীভাব বিচারে সামান্য স্বাতন্ত্র‍্য দেখা যায়।*
*🍀শ্রীপাদ রূপগোস্বামী ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে লিখেছেন=*
*অবিরুদ্ধান্ বিরুদ্ধাংশ্চ ভাবান্ যো বশতাং নয়ন্।*
*সুরাজের বিরাজেত স স্থায়ীভাব উচ‍্যতে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যে ভাব,অবিরুদ্ধ ও বিরুদ্ধভাবগুলিকে বশে নিয়ে এসে পরাক্রমশালী রাজার মত বিরাজ করে,তাইই স্থায়ীভাব নামে খ‍্যাত।এখানে হাস‍্যাদিকে অবিরুদ্ধ ভাব এবং ক্রোধাদিকে বিরুদ্ধভাব সংজ্ঞায় অভিহিত করে হয়েছে।এখন প্রশ্ন হতে পারে যে সেই ভাবটি কি? এর উত্তরে শ্রীপাদ গোস্বামী মহোদয় বিশদ করেছেন=*
*স্থায়ীভাবোহত্র স প্রোক্তঃ শ্রীকৃষ্ণবিষয়া রতি।*
*র্মূখ‍্যা গৌণীচ সাদ্বেধা রসজ্ঞৈঃ পরিকীর্ত্তিতা।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ বিষয়া রতিই স্থায়ীভাব নামে অভিহিত।এই রতি বা অনুরাগ মুখ‍্যা ও গৌণীভেদে দুই প্রকার।মুখ‍্যারতি আবার দুই প্রকার= স্বার্থা ও পরার্থা।এদের প্রত‍্যেকে আবার পাঁচ প্রকার, যথা= শুদ্ধা, প্রীতি,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও প্রিয়তা। শুদ্ধারও প্রকার ভেদ আছে =সামান‍্যা, স্বচ্ছ ও শান্তি।শুদ্ধারতিতে অঙ্গে যে আকুঞ্চন (কোঁকড়ানো বা সংকোচন) প্রসারণ হয়,তাতে অঙ্গ কম্পন,চক্ষু উন্মীলনাদি(চোখ মেলাদি) উৎপন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং স্থায়ীভাবের শুদ্ধারতির ভাব প্রকটন লাস‍্যের অভিনয় করতে হলে উল্লিখিত আকুঞ্চন প্রসারণাদির অভিনয় শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজনীয়।*
*🍀প্রীতি,সখ‍্য ও বাৎসল‍্যরূপ মুখ‍্যারতিতে চোখেতে যে নৃত‍্যের উদ্গম(উদয়) হয়,তাতে চোখাদির ফুল্লতা(পূর্ণ প্রকাশিত) জৃম্ভণ (মুখব‍্যাদানবা হাই তোলা)উদঘূর্ণন (ক্রমাগত ঘুরতে ইচ্ছা) উপস্থিত হয়ে থাকে।এই তিনরকম রতি কেবলা ও সঙ্কুলাভেদে দুই প্রকার। প্রিয়তা রতির অন‍্য নাম মধুরা।মধুরায় কটাক্ষ, ভ্রুক্ষেপ এবং হাস‍্যাদি ভাব প্রকটিত হয়। হাস‍্য,বিস্ময়,উৎসাহ,শোক, ক্রোধ,ভয় এবং জুগুপ্সা এই সাতটি স্থায়ীভাব যখন ভাব ভিন্ন আর কিছুই নয়, তখন এরাও রতি নামেই অভিহিত। কিন্তু এরা মুখ‍্যারতি না, গৌণীরতি। কিন্তু হাস‍্য হতে ভয় পর্যন্ত এই ছয়টি ভাব দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের আলম্বনত্ব (আশ্রয়) সম্ভবপর হয়।জুগুপ্সা বা নিন্দায় শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় নাই। ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে এই সব বিষয়ের সূক্ষ্ম বিচার আছে।এখানে কেবল স্থায়ীভাব অঙ্গাদিতে কি কি লক্ষণ প্রকাশ করে, তাইই আলোচ‍্য। সুতরাং স্থায়ীভাবের বিশ্লেষণ এবং সেটির নানান শ্রেণী বিভাগের বিচার সম্বন্ধে বাহুল‍্যবোধে এখানে কোন আলোচনা করা হল না।ভাব প্রকটন লাস‍্যই এখানে আলোচ‍্য।*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤🔴🔵⚪

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫৩. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৩)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা*
   *শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
   ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*(১)হাস‍্যরতিতে নয়নের প্রকাশ, নাক ওষ্ঠ ও গালের কম্পন হয়।*
*(২)বিস্ময়-রতিতে চোখের কম্পন ও দেহ পুলকিত হয়।*
*(৩)দেহের স্ফূর্তিই উৎসাহ-রতির বাহ‍্য প্রকাশ।*
*(৪)শোক-রতিতে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, নিশ্বাসপতনাদি ঘটে থাকে,নয়ন জলপূর্ণ হয়  ও রোদন লক্ষণ পায়।*
*(৫)ক্রোধ-রতিতে ভ্রু-কোচকানো ও চোখে রক্তিমাদি লক্ষণ প্রকটিত হয়।*
*(৬)ভয়-রতিতে কম্পন ও ভয়ের চিহ্ন মুখ শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি হয়।*
*(৭)জুগুপ্সায় বা নিন্দায় ঘৃণার প্রকাশ পেয়ে থাকে।*
*🍀সাত্ত্বিকভাব আটটি,সঞ্চারীভাব তেত্রিশটি, এবং স্থায়ীভাব আটটি।সর্বসাকল‍্যে ঊনপঞ্চাশ রকম ভাবে চোখ ও মুখাদিতে যে সব আকুঞ্চন (একটুখানি কুকড়ে যাওয়া )প্রসারণ উপস্থিত করে,তা ভাবলাস‍্য নামে অভিহিত।এই লাস‍্য সমূহ দ্বারা মানসিক ভাবসকল প্রকটিত হয়, সুতরাং সেটিকে ভাব-প্রকটন-লাস‍্য বলা হয়ে থাকে।এইসব লাস‍্য অভিনয়ে প্রকটিত করাই অভিনয়ের প্রধানতম সৌন্দর্য্য।প্রাকৃত রসময় সঙ্গীতাদিতেও ভাব-প্রকটন-লাস‍্যের অভিনয় প্রদর্শন কঠিন ব‍্যাপার।ব্রজরসের ভাব-প্রকটন-লাস‍্য শিক্ষাদান করা যে কত বেশী নৈপুণ‍্য ও প্রেমভক্তির সাধনার প্রয়োজন, তা পাঠক মহোদয়গণ একটু ভেবে দেখুন।সিদ্ধ প্রেমিকভক্ত শ্রীরামরায় ছাড়া এই ব্রজরসের ভাব-প্রকটন-লাস‍্যের অভিনয় শিক্ষাদান অন‍্যের পক্ষে সম্ভব নয়। "যিনি সাক্ষাৎ বিশাখা," যিনি ব্রজরসের নিগূঢ় মর্মাভিজ্ঞ, যিনি দিনরাত্রি ব্রজরসে বিভাবিত সুতরাং প্রাকৃত কামের অত‍্যন্ত অস্পৃষ্ট,অস্পৃশ‍্য এবং অগোচর, তিনি ছাড়া এইরকম শিক্ষাদানে আর কারও অধিকার থাকতে পারে না। তাই স্বয়ং শ্রীভগবান মহাপ্রভু বলেছেন=*
*🌷এক রামানন্দের হয় এই অধিকার।*
*🌷তাতে জানি অপ্রাকৃত দেহ তাহার।।*
*🍀শ্রীরামরায় ব্রজরসে বিভাবিত সঙ্গে দেবদাসীদ্বয়কে এই ভাব-প্রকটন লাস‍্য শিক্ষা দিতেন,এই শিক্ষাদানের সময়ে তিনি যে রামানন্দ রায় এবং এরা দুইজন তরুবয়স্কা,এটি তাঁর জ্ঞান থাকত না। তিনি যে শিক্ষক, এরা যে তাঁর ছাত্রী,এইরকম জ্ঞানও তাঁর হৃদয়ে জায়গা পেত না, বরং তিনি এদেরকে ব্রজসখীদের অনুগা প্রেমভক্তির প্রকট মূর্তি বলেই শ্রদ্ধা ভক্তি করতেন। তিনি দেবদাসীদ্বয়কে দেবকার্য‍্য সাধনের সাধিকা বলে সেবা করতেন,যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷স্বহস্তে করেন তার অভ‍্যঙ্গ মার্জন।*
*🌷স্বহস্তে করান স্নান গাত্র-সংমার্জন।।*
*🌷স্বহস্তে পরান বস্ত্র সর্বাঙ্গ-মন্ডন*।
*🌷তবু নির্বিকার রায় রামানন্দের মন।।*
*🌷সেব‍্য-বুদ্ধি আরোপিয়া করেন সেবন।*
*🌷স্বাভাবিক দাস‍্যভাব করি আরোপণ।।*
*🌻এতে জানা যাচ্ছে যে,শ্রীরামরায় এই দুই দেবদাসীকে যদিও ভাবপ্রকটন-লাস‍্য শিক্ষা দিতেন, কিন্তু তিনি এদেরকে ছাত্রী বলে মনে করতেন না,প্রাকৃত মানবী বলেও মনে করতেন না। তিনি এদেরকে ব্রজরস শিক্ষার সাধিকা বলে সেব‍্যভাবে এদের সেবা করতেন।আমরা নিজের হাতে প্রতিমা গড়ে নিই, আবার সেই প্রতিমাকে সাক্ষাৎ চিন্ময়ী বলে পূজা করে থাকি।শ্রীরামরায় স্বয়ং যাঁদের হৃদয়ে ব্রজরস সঞ্চারিত করে দিচ্ছিলেন,যাঁদেরকে প্রাকৃত জগতের ভাব হতে টেনে নিয়ে অপ্রাকৃত জগতের ভাবরসে স্বয়ং বিভাবিত করেছিলেন,সেই দেবদাসীদ্বয়কে তিনি দেবীভাবে দেখতে পেতেন।গোলোকের ভাব হৃদয়ে প্রতিফলিত না হলে,গোলোকসুধায় হৃদয় পরিপ্লুত ও পবিত্রীকৃত না হলে এইরকম দিব‍্য ভাবের উদয় হয় না।এ ভাব মাতৃ শোণিত ও পিতৃ শুক্র দ্বারা জীবের অসম্ভব।তাই মহাপ্রভু বলেছেন=*
*🌷এক রামানন্দের হয় এই অধিকার।*
*🌻 এইরকম সাধন অন‍্যের পক্ষে সম্ভবে না।যাঁরা তড়িৎ বিজ্ঞানে নিপূণ, তাঁরা সদ‍্যঃপ্রাণনাশিনী দামিনীদাম নিয়ে যথেচ্ছ খেলা করতে পারেন, কিন্তু অন‍্যের পক্ষে সেটি ভীষণতম কৃষ্ণসর্প হতেও ভীষণতর। সুতরাং পরম করুণাময় মহাপ্রভু জগতের সমগ্র মানুষকে সাবধান করে বললেন, এইরকম কাজে কেবল একমাত্র রিমরায়ই অধিকারী। আমি তো সব ত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসী হয়েছি, কিছুতেই আমার আসক্তি নাই, কিন্তু আমার পক্ষেও স্ত্রীদর্শন তো দূরের কথা, তার নাম শূনলেও চিত্তবিকারের আশঙ্কা ঘটতে পারে। সুতরাং অন‍্যে পরে কা কথা। ফলে প্রকৃতি-দর্শনে কে স্থির থাকতে পারে? কিন্তু রামরায়ের কাজ প্রকৃতই আশ্চর্য‍্য। তিনি পরমাসুন্দরী দুইজন তরুণবয়স্কা দেবদাসীর অঙ্গ-স্পর্শ করেন,তাদের স্ননাদি করান, ইত্যাদি বহু কিছু।*

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫৪. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৪)শ্রীরায় রামানন্দ, বিশাখা*
        *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
        !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু ভক্তগণের সন্দেহ দূর করার ছলে শ্রীরামরায়ের ভজন গৌরব প্রকটনের জন্য প্রসঙ্গচ্ছলে শাস্ত্রযুক্তি অনুযায়ী বহু কথা বললেন।ভক্তগণের সন্দেহ দূর করার জন্য মহাপ্রভুর শ্রীমুখের একটি কথামাত্রই যথেষ্ট। তিনি যদি শুধু বলতেন রামরায় পরমসাধু, তাহলে তাঁর ভক্তগণ বেদবাক‍্য বলে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু তিনি সেইরকম ভাবে লোকের মনে বিশ্বাস আনাকে সুসঙ্গত মনে করলেন না। শাস্ত্র যুক্তি দ্বারা বিশ্বাসের মূল দৃঢ় করে দেওয়াই তাঁর চিরন্তনী রীতি।শ্রীপাদ সনাতনের শিক্ষায় গৌরহরি নিজ শ্রীমুখে উপদেশ করেছিলেন ঃ---*
*🌷শাস্ত্রে যুক্ত‍্যে সুনিপুণ দৃঢ় শ্রদ্ধা যাঁর।*
*🌷উত্তম অধিকারী তিঁহো তারয়ে সংসার।।*
*🍀শ্রীরামরায়ের অলৌকিক ব‍্যবহার সম্বন্ধে কারও মনে যেন সন্দেহের লেশমাত্র না থাকতে পারে,তাঁর উত্তম ভজনাধিকারিত্ব সম্বন্ধে যাতে সকলেরই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে, দয়াময় গৌরহরি এই জন্য শাস্ত্র যুক্তিদ্বারা ভক্তগণের হৃদয়ে শ্রীরামরায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠিত করে দিলেন, এবং প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের মনোবাঞ্জা পূরণের জন্য বললেন, মিশ্র! আমি তোমায় কৃষ্ণকথা কি শুনাব? আমার নিজের যখন সাধ হয়, আমি তখন রামরায়ের কাছেই কৃষ্ণকথা শুনে থাকি।কৃষ্ণকথা শুনতে ইচ্ছা হলে পুনর্বার রামরায়ের কাছে যাও। তুমি আমার নাম করে বলিও তিনি আমাকে আপনার কাছে কৃষ্ণকথা শুনতে পাঠিয়েছেন।এখনই তাঁকে ঘরের বাইরে দেখতে পাবে, তাড়াতাড়ি যাও,বিলম্ব করিও না। যথা শ্রীচরিতামৃতে পায়=*
*🌷আমিও রায়ের স্থানে শুনি কৃষ্ণকথা।*
*🌷শুনিতে ইচ্ছা হয় যদি পুন যাও তথা।।*
*🌻শ্রীরামরায় কৃষ্ণকথার সুধানিধি।নীলাচল-লীলায় যখনই কৃষ্ণকথার প্রসঙ্গ হয়েছে,তখনই ভুবনপাবন লীলাগ্রন্থকারগণ শ্রীরামরায়ের মধুমাখা নামের উল্লেখ করেছেন।মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণ বিরহে আকুল হয়ে পড়তেন,আর রামরায় অমনি শ্রীকৃষ্ণকথার প্রসঙ্গ করে তাঁর ব‍্যাকুলতার বেগ প্রশমিত করতেন। যথা অন্ত‍্যলীলায়=*
*🌷রামানন্দের কৃষ্ণকথা,স্বরূপের গান।*
*🌷বিরহবেদনা প্রভুর রাখয়ে পরাণ।।*
*🌹মহাপ্রভু স্বয়ং বিদ‍্যানগরে রামরায়কে বলে এসেছিলেন,রামরায় নীলাচলে চলো, আমরা দুইজন একত্র থাকব, আর কৃষ্ণকথা-রঙ্গে সুখে সময় অতিবাহিত করব। যথা=*
*🌷তুমি আর আমি নীলাচলে রহিব একসঙ্গে।*
*🌷সুখে কাল গোঙাইব কৃষ্ণকথা রঙ্গে।।*
*🌻প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র কৃষ্ণকথা শুনবার জন্য উৎকণ্ঠিত হয়ে মহাপ্রভুর কাছে নিজ প্রার্থনা জানালেন। দয়াময় গৌরহরি তৎক্ষণাৎ প্রত‍্যুত্তরে বললেন=*
*🌷-------কৃষ্ণকথা আমি নাহি জানি।*
*🌷সবে রামানন্দ জানেন তার মুখে শুনি।।*
*🌻প্রদ‍্যুম্ন বুঝলেন, ভগবান তাঁর ভক্তগণের দ্বারা নিজ মাহাত্ম্য প্রচারের বিধান করেছেন।শ্রীরামরায়কে তিনি কৃষ্ণকথা বর্ণনের পূর্ণতম অধিকার প্রদান করেছেন।মিশ্র মুহূর্তমাত্র বিলম্ব না করে রায় মহাশয়ের ভবনের অভিমুখে গমন করলেন,গিয়ে দেখলেন,রায় মহাশয় তখনও ঘরের বাইরেই রয়েছেন।অর্থ‍্যাৎ উদ‍্যানে প্রবেশ করেন নাই। মিশ্রকে দেখে রায় মহাশয় মিশ্রকে প্রণাম করে বললেন,কিসের জন্য মহোদয়ের শুভাগমন, বলতে আজ্ঞা হয়।মহাপ্রভুর আশেশ অনুসারে মিশ্র বললেন,আমি মহাপ্রভুর কাছে কৃষ্ণকথা শুনব বলে প্রার্থনা করেছিলাম।তিনি আপনার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।এখন আপনি কৃপা করুন।রামরায় আহ্লাদিত হয়ে বললেন, মহাপ্রভু যে এইরকম আজ্ঞা করেছেন, এ আমার মহাভাগ‍্য।যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷প্রভু-আজ্ঞায় কৃষ্ণকথা শুনিতে আইলা হেথা।*
*🌷ইহা বই মহাভাগ‍্য আমি পাব কোথা।।*
*🌹শ্রীরামরায় এখানে নিজ মহাভাগ‍্যের খ‍্যাপন করেছেন।এর হেতু কি? আমাদের মনে হয় প্রথমতঃমহাপ্রভুর আজ্ঞা পেয়েই শ্রীরামানন্দ রায় সৌভাগ্যফল বলে মনে করলেন।দ্বিতীয়তঃ দয়াময় গৌরহরি তাঁকে কৃষ্ণকথা বলবার অধিকার দান করলেন,এটিও সৌভাগ্যের কথা।তৃতীয়তঃ শাস্ত্রানুসারে যিনি কৃষ্ণ-কথার প্রশ্ন করেন, যিনি কৃষ্ণকথা বলেন ও যিনি শোনেন, এই তিনজনই ভাগ‍্যবান।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🙏🌻🌻🌻🌻🌻🌻

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

🆕 ১৫৫. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৫)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা*
        *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
         **********************
*🙏শ্রীভাগবতে পায়,১০|১|১৩,*
*"বাসুদেবকথাপ্রশ্নঃ পুরুষাংস্ত্রীন্ পুনাতি হি।*
*বক্তাবং প্রকচ্ছং শ্রোতৃং স্তৎপাদসলিলং যথা।।"*
*🍀একাদশ স্কন্ধে লেখা হয়েছে =*
*"শ্রুতোহনুপঠিতো ধ‍্যাতঃ আদৃতো বানুমোদিতঃ।*
*সদ‍্যঃ পুনাতি সদ্ধর্মো দেব বিশ্বদ্রুহোহপি হি।।"*
*🌻এইরকম নানান কারণে শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের প্রস্তাব শুনেই রামরায় নিজের সৌভাগ্য খ‍্যাপন (প্রচার) করলেন এবং মিশ্র মহাশয়কে নিয়ে এক নির্জন কক্ষে প্রবেশ করে বললেন, আপনি কি ভাবের কৃষ্ণকথা শুনতে ইচ্ছা করেন।মিশ্র মহাশয় এই প্রশ্নের কি উত্তর দিবেন,তা হঠাৎ ঠিক করতে পারলেন না।তিনি শুনেছিলেন, বিদ‍্যানগরে শ্রীরামরায় কৃষ্ণকথা শুনিয়ে মহাপ্রভুকে পরিতৃপ্ত করিয়েছিলেন।মিশ্র কৃষ্ণকথা শুনতে গিয়েছেন ; কৃষ্ণকথা কি,কৃষ্ণকথা কত ভাবের হতে পারে,কৃষ্ণকথা রসসাগরে কত ভাবের তরঙ্গ আছে, কত বিলাস-উল্লাস আছে,তিনি তখনও তা জানতেন না।তাঁর মন কৃষ্ণকথা শুনবার জন্য ব‍্যাকুল হয়েছিল।তিনি রামরায়ের কাছে মনের ভাবই প্রকাশ করলেন। কিন্তু রামরায়ের প্রশ্ন শুনে প্রথমতঃ তিনি কোনও সদুত্তর করতে না পেরে হঠাৎ বললেন,বিদ‍্যানগরে আপনি মহাপ্রভুকে যে কৃষ্ণকথা শুনিয়েছিলেন, সেই কথা আমাকে ক্রমে ক্রমে বলুন।*
*🌹পরক্ষণে মিশ্র মহাশয়ের মনে প্রাকৃত বুদ্ধির উদয় হল।তিনি নিজেই নিজের কথার সংশোধন করে বললেন=*
*🌷অন‍্যের কি কথা তুমি প্রভুর উপদেষ্টা।*
*🌷আমি তো ভিক্ষুক বিপ্র,তুমি মোর পোষ্টা।।*
*🌷ভালমন্দ কিছু আমি পুছিতে না জানি।*
*🌷দীন দে'খে কৃপা করি কহিবে আপনি।।*
*🌻রামরায় মিশ্রের কথায় বাধা দিয়ে বিনীত ভাবে বললেন, ঠাকুর!এ আধমকে অত বাড়াবেন না। মহাপ্রভুর আজ্ঞা এবং আপনারও একান্ত আগ্রহ।আমি কিছুই জানি না, তবে গৌরহরির প্রেরণায় যৎকিঞ্চিৎ নিবেদন করছি।এই বলে শ্রীরামরায় কৃষ্ণকথা আরম্ভ করলেন।মিশ্র মহাশয়কে শ্রীরামরায় কি ভাবের কৃষ্ণকথা শুনিয়েছিলেন,তার স্পষ্ট করে কোথাও কোনও উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায় না।বিদ‍্যানগরে মহাপ্রভুকে রামরায় রসতত্ত্ব,প্রেমতত্ত্ব, কৃষ্ণতত্ত্ব,রাধাতত্ত্ব এবং লীলাতত্ত্ব বিষয়িণী বহু কথা শুনিয়েছিলেন। প্রথম দশদিন পর্যন্ত রাত্রির পর দিন,দিনের পর রাত্রি অতিবাহিত হত, তথাপি সে কথার বিরাম হত না।মহাপ্রভু দক্ষিণ তীর্থ ভ্রমণের পরে আবার বিদ‍্যানগরে এসে কৃষ্ণকথা-রস-প্রসঙ্গে কিছুকাল অতিবাহিত করেছিলেন।শ্রীরামরায় সংক্ষেপ করে ক্রমানুসারে সেই সব রসময়ী প্রসঙ্গ করলেন।আগেই বলেছি,কৃষ্ণকথা সুধাসাগর বিশেষ। সেটির প্রসঙ্গ করামাত্রই রসের তরঙ্গে বক্তা ও শ্রোতার হৃদয় পরিপ্লুত হয়ে উঠে। এখানেও স্বয়ং রামরায় বক্তা এবং চিরপিপাসি ব‍্যাকুলপ্রাণ প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র শ্রোতা। সুতরাং কৃষ্ণকথা আরম্ভ হওয়া মাত্রই উভয় হৃদয়ে যে রসের উত্তালতরঙ্গ অদৃশ‍্য হবে তা বলাই বাহুল‍্য।রায় মহাশয়ের নির্জনকক্ষে কৃষ্ণকথা-রসার্ণবের যে তুমুল তরঙ্গ উঠেছিল, তার বর্ণনা কেমন ভাবে করব?শ্রীচরিতামৃতের ভাষায় "মন্ত্রশক্তিশালিনী"। মন্ত্রের ক্ষমতা অসীম ও অলৌকিক।*
*🌷তবে রামানন্দ ক্রমে কহিতে লাগিল।*
*🌷কৃষ্ণকথা-রসামৃত সিন্ধু উথলিল।।*
*🌷আপনি প্রশ্ন করি পাছে করেন সিদ্ধান্ত।*
*🌷তৃতীয় প্রহর হৈল,নহে কথা অন্ত।।*
*🌷বক্তা শ্রোতা কহে শোনে দোঁহে প্রেমাবেশে।*
*🌷আত্মস্মৃতি নাহি,কাঁহা জানিবে দিন শেষে।।*
*🙏মধুময়ী কৃষ্ণকথা একবার মরমে প্রবেশ করলে মানুষের বাহ‍্যজ্ঞান তিরোহিত(অন্তর্হিত)হয়, হৃদয় মধুময় হয়ে উঠে,ক্ষুধা-তৃষ্ণা ও অন‍্যান‍্য জীবধর্ম বিলুপ্ত হয়,আত্মা প্রেমময়ের অপ্রাকৃত প্রেমানন্দময় রাজ‍্যে বিচরণ করে গোলোকসুধায় পাগল হয়।কৃষ্ণকথা মাদনীশক্তিশালিনী, কৃষ্ণকথা ভবরোগনাশিনী এবং সাক্ষাৎ প্রেমদায়িনী।*
*🌺শ্রীরামানন্দ রায় মহাশয়ের নির্জন কক্ষে কৃষ্ণকথারসামৃতসিন্ধু উথলিয়ে উঠিল,দন্ডের পর দন্ড, (এক প্রহরের সাড়ে সাত ভাগের এক ভাগ অর্থ‍্যাৎ চব্বিশ মিনিট কে দন্ড বলা হয় )অতিবাহিত হতে লাগল,শ্রোতা ও বক্তার কাছে বাহ‍্যজগৎ বিলুপ্ত হয়ে গেল, উভয়ে এক সুধারসে বিভোর হলেন, এদিকে বেলা তৃতীয় প্রহর গত প্রায়, কিন্তু তবুও কথার বিরাম নেই, অথচ কোথাকার বেলা কোথায় ঢলে পড়েছে, উভয়ের একজনেরও সে জ্ঞান নেই।*
*🦚শ্রীরায় মহাশয়ের ভৃত‍্য উভয়ের ভাবগতি দেখে আর বেশীক্ষণ অপেক্ষা করা অসঙ্গত মনে করে বলিল, "বেলা অবসান প্রায়, এখনও আপনাদের স্নান-আহ্নিক হল না!" ভৃত‍্যের কথায় উভয়ের বাহ‍্যজ্ঞান হল।মিশ্র মহাশয় ব‍্যস্তভাবে বললেন,তবে আজ এই পর্য‍্যন্তই থাক।রায় মহাশয় বললেন, যে আজ্ঞে🙏। সে দিনের জন্য সুখময় কৃষ্ণকথার বিরাম হল,রায় মহাশয় মিশ্র মহাশয়ের সেবার জন্য বললেন,মিশ্র মহাশয় বললেন,"মহানুভব আপনি আমায় কৃষ্ণকথাসুধাপানে চিরতৃপ্ত করেছেন,আমি কৃতার্থ হলাম।রায় মহাশয় আপনি আমার জন্য ব‍্যস্ত হবেন না, আপনি স্নান আহার করুন।*
           *ক্রমাগত*
🦚🦜🌸🙏🪷🌷🦚🦜🌸🙏🪷🌷🙏


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫৬. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৬)শ্রীরামানন্দ রায়,শ্রেষ্ঠভক্ত*
           *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
         **************************
*☘আপনি এখন স্নানাহার করুন। এই বলে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র গৃহ-অভিমুখে প্রত‍্যাবর্তন করলেন, তাঁর হৃদয় তখনও কৃষ্ণকথার রসরঙ্গে ভাবসাগরে ডুবে ছিলেন, তাঁর কর্ণযুগল তখনও শ্রীরামরায়ের মধুময়ী কৃষ্ণকথার সুধাঝঙ্কার প্রবাহিত হচ্ছিল।তিনি গোলোকে কি ভূলোকে আছেন, অনেকক্ষণ পর্যন্ত তাঁর ষে জ্ঞান ছিল না। তিনি ধীরে ধীরে আপন ঘরে উপস্থিত হলেন,ভাব-এ ভাব-এ স্নান করলেন, আহার করলেন, তখনও শ্রীরামরায়ের সুধামধুর কন্ঠস্বরের আনন্দময় ঝঙ্কার তাঁর দুই কানে যেন ঝলকে ঝলকে অমৃতবর্ষণ করছিল।*
*☘সন্ধ‍্যার সময় মিশ্র শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণ সন্দর্শনার্থে (সাক্ষাৎ দর্শনের জন্য )আগমন করে তাঁর শ্রীপাদপদ্ম বন্দনা করলেন।মিশ্র মহাশয়ের মুখটি আজ আনন্দে ভরপুর, হৃদয়ে যেন কতই আনন্দ বিরাজমান,তাঁর শ্রীঅঙ্গে যেন আনন্দরাশি জায়গা না পেয়ে উছলিয়ে পড়ছে।মিশ্র মহাশয়কে দেখামাত্রই মহাপ্রভু একটু মৃদুমধুর হেসে বললেন,মিশ্র!কৃষ্ণকথা শুনেছ তো?মহাপ্রভুর কথা শেষ হতে না হতেই মিশ্র মহাশয় খুব উৎসাহের সঙ্গে বললেন, দয়াময়🙏,আপনি এই দাসকে কৃতার্থ করেছেন।আমি কৃষ্ণকথা শুনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনি কৃপা করে এ অধমকে কৃষ্ণকথা সাগরে একেবারে ডুবিয়ে রেখেছেন।রায় মহাশয়ের কথা বর্ণনার অতীত।শ্রীরায় মহাশয় মানুষ নহেন,তিনি কৃষ্ণভক্তিরসের মূর্তিমান অবতার।*
*☘এই কথাগুলি বলতে বলতে মিশ্রের দেহ পুলকিত হল,আবার যেন তাঁর হৃদয়ে কৃষ্ণকথা-রসসাগর উথলিয়ে উঠিল।শ্রীরামহাশয়ের সুধা মধুর ভক্তিমাখা কন্ঠস্বর, সেই কন্ঠস্বরে রসময়কৃষ্ণকথার অমৃত প্রবাহ, মিশ্র মহাশয়ের হৃদয়ে আবার যেন পূর্ণবেগে প্রবাহিত হল।শ্রীরামরায়ের প্রকৃত স্বরূপ, কৃষ্ণভক্তিরসময় শ্রীমূর্তি, আবার শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের চিত্তে লোকাতীত মাধুর্য‍্যে ও ঔজ্জ্বল‍্যে প্রকটিত হলেন।মিশ্র মহাশয় কথা বলতে বলতে অমনি একেবারেই চুপ করে গেলেন।ভক্তগণ বুঝলেন,শ্রীরামানন্দ রায় সত‍্যই মানুষ নহেন,তিনি নররূপে শ্রীকৃষ্ণ-ভক্তিরসের মূর্তিমান অবতার।প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের ভাব প্রবাহ অতর্কিতভাবে ভক্তগণের হৃদয়ে সঞ্চারিত হল।সকলেই বুঝতে পারলেন, রামরায় অকপট কৃষ্ণপ্রেমের প্রকৃত শিক্ষাগুরু। শ্রীচরিতামৃতে, শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের কথাতে লেখা হয়েছে =*
*🌷মিশ্র কহে প্রভু মোরে কৃতার্থ করিলা।*
*🌷কৃষ্ণকথামৃতার্ণবে মোরে ডুবাইলা।।*
*🌷রামানন্দ রায় কথা কহিলে না হয়।*
*🌷মনুষ‍্য নহে রায়--,কৃষ্ণভক্তিরসময়।।*
*🌻ফলে শ্রীকৃষ্ণভক্তি-রসময়ত্বই শ্রীরামানন্দ রায়ের স্বরূপ।শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীমতীবিশাখা নবদ্বীপ লীলায় কৃষ্ণভক্তিরসের পূর্ণ প্রবাহস্বরূপ শ্রীরামরায়রূপে বিরাজিতা।*
*🦚(শ্রীগোরাঙ্গ-লীলায় পাত্র-পাত্রীগণের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ-লীলার পাত্রপাত্রীগণের একত্ব প্রদর্শনের জন্য প্রাচীন গোড়ীয় বৈষ্ণব পন্ডিতগণের প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়।অন্ত‍্য লীলায় শ্রীমন্মহাপ্রভুর যে সব ভাব অভিব‍্যক্ত (প্রকাশিত) হয়েছে,তা শ্রীরাধিকার ভাব-অভিব‍্যক্তি বলেই পূজ‍্যপাদ গ্রন্থকারগণ নির্দেশ করেছেন।শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর ও শ্রীপাদ রামানন্দ রায় এই সময়ে সর্বদাই শ্রীরাধা ভাবনিমগ্ন মহাপ্রভুর পার্শ্বে বসে থেকে ললিতা ও বিশাখার মত তাঁর সেবা পরিচর্য‍্যা ও সান্ত্বনা করতেন।শ্রীপাদ কবিরাজ কৃষ্ণদাস গোস্বামী মহোদয় শ্রীচরিতামৃতের অন্ত‍্যলীলায় ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে লিখেছেন=*
*🌷পূর্বে যৈছে রাধার সহায় ললিতা প্রধান।*
*🌷তৈছে স্বরূপ গোঁসাই রাখে প্রভুর প্রাণ।।*
*🌻এতে প্রতিপন্ন (প্রমাণসিদ্ধ) হচ্ছে শ্রীকবিরাজ গোস্বামী শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরকে ললিতা বলে নির্দেশ করেছেন। কিন্তু শ্রীকবিকর্ণপুর কৃত গৌরগণোদ্দেশ দীপিকা গ্রন্থে লিখিত আছে স্বরূপদামোদর বিশাখা যথা=*
*🌷কলামশিক্ষয়দ্ রাধাং যা বিশাখা ব্রজে পুরা।*
*🌷সোহদ‍্য স্বরূপ গোস্বামী তত্তদ্ভাববিলাসবান্।।*
*🌹আমরা শ্রীকবিরাজ গোস্বামী মহোদয়ের অনুভবই এক্ষেত্রে সব থেকে বেশী সুসঙ্গত মনে করেছি।শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরই ললিতার মত রসজ্ঞ এটিই মহানুভাব বৈষ্ণবগণের ধারণা।শ্রীপাদ রামানন্দের তথ‍্য খুববেশী জটিল।শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু রামানন্দের পিতাকে পান্ডু এবং তার পঞ্চপুত্রকে পঞ্চপান্ডব বলে অভিহিত করেছেন,যদিও এটি আগে উল্লিখিত হয়েছে =*
*🌷সাক্ষাৎ পান্ডু তুমি তোমার পত্নী কুন্তী।*
*🌷পঞ্চপান্ডব তোমার পঞ্চপুত্র মহামতি।।*
*🌻আদিলীলাতে আরও স্পষ্ট করে লিখিত আছে ঃ---*
*🌷আলিঙ্গন করি তারে বলিল বচন।*
*🌷তুমি পান্ডু পঞ্চপান্ডব তোমার নন্দন।।*
*🌷রামানন্দ রায়,পট্টনায়ক গোপীনাথ।*
*🌷কলানিধি,সুধানিধি,নায়ক বাণীনাথ।।*
*🌷এই পঞ্চপুত্র তোমার প্রিয় পাত্র।*
*🌷রামানন্দ সহ মোর দেহভেদমাত্র।।*
*🌻এতে জানা যায় রামানন্দকে মহাপ্রভু বাহ‍্যদশায় সখা বলে মনে করতেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এর উল্লেখ আছে,যথা ঃ--*
*🌷পুরীর বাৎসল‍্য মুখ‍্য,রামানন্দের শুদ্ধ সৌখ‍্য,*
      *গোবিন্দাদ‍্যেরশুদ্ধদাস‍্যরস।*
*গদাধর জগদানন্দ,স্বরূপের মুখ‍্য রসানন্দ,*
     *এই চারি ভাবে প্রভু বশ।।*
*🍀দ্বারকার ভাবে রায় রামানন্দ অর্জ্জুন বলে কীর্তিত হয়েছেন।কবিকর্ণপুরের শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকাগ্রন্থে রায় রামানন্দকে অর্জুন বলে প্রথমে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু ব্রজের সখ‍্যরসের সঙ্গে ঐক‍্য রাখার জন্য শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচরিতামৃতে একে সুবল বলে নির্দিষ্ট করেছেন।যথা অন্ত‍্যলীলায় ষষ্ঠ অধ‍্যায়ে=*
*🌷সুবল যৈছে পূর্বে কৃষ্ণ সুখের সহায়।*
*🌷গৌর সুখ দান হেতু তৈছে রামরায়।।*
*🌹কিন্তু গম্ভীরা-লীলায় শ্রীরামরায়ের যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তাতে তাঁকে বিশাখা বলে মনে করাই উচিত, এ সম্বন্ধে শ্রীকবিকর্ণপুরের মীমাংসাই সুসঙ্গত, তদ্ যথা=*
*প্রিয় নর্মসখঃ কশ্চিৎ সোহর্জ্জুনঃ পান্ডবোহর্জ্জুনঃ।*
*মিলিত্বা সমভূদ্রামানন্দ রায়ঃ প্রভোঃ প্রিয়ঃ।।*
*অতো রাধাকৃষ্ণভক্তিপ্রেমতত্ত্বাদিকং কৃতী*।
*রামানন্দো গৌরচন্দ্রং প্রত‍্যবর্ণয়দম্বহম্।।*
*ললিতেত‍্যাহরেকো যত্তদেকো নানুমন‍্যতে।*
*ভবানন্দং প্রতিপ্রাহ গৌরো যত্ত্বং পৃথাপতিঃ।।*
*গোপার্জ্জুনী যয়া সার্দ্ধমেকীভূয়াপি পান্ডবঃ।*
*অর্জ্জুনো যদ্ রায় রামানন্দ ইত‍্যাহরুত্তমাঃ।।*
*অর্জ্জুনী যাভবৎ তূর্ণং অর্জ্জুনোহপি পান্ডবঃ।*
*ইতি পাদ‍্যোত্তরে খন্ডে ব‍্যক্তমেব বিরাজতে।।*
*তস্মাদেতৎত্রয়ং রায় রামানন্দ মহাশয়ঃ।*
*ব্রজভক্তা সমাসেন কথ‍্যন্তেহথ যথামতি।।*
*🌺কেউ কেউ বলেন পান্ডব অর্জুন ও ব্রজের নর্মসখা অর্জুন এই উভয়ে মিলে গৌরাঙ্গলীলায় রামানন্দরূপে প্রকাশিত হয়েছেন, সুতরাং তিনি ব্রজলীলায় অভিজ্ঞ ছিলেন বলেই মহাপ্রভুর কাছে শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমভক্তি আদিলীলা বর্ণনা করতে সমর্থ হয়েছিলেন।আবার কেউ কেউ বলেন তিনি ললিতা ছিলেন,কেউ কেউ এইকথা অনুমোদন করেন না।ইহারা বলেন মহাপ্রভু যখন ভবানন্দকে পান্ডু বলে অভিহিত করেছেন তখন রামরায়ললিতা না হয়ে বরং অর্জুনী বা বিশাখা হতে পারেন।সেই অর্জুনীতে বা বিশাখায় পান্ডব অর্জুন মিলিত হয়েছিলেন। চিদানন্দ রাজ‍্যের নিয়মে এটি যে সম্ভবপর হবে তাতে আর বৈচিত্র্য কি? পদ্মপুরাণে উত্তরখন্ডে এটি প্রকাশিত আছে। সুতরাং শ্রীপাদ রায় রামানন্দ এই তিনের মিলিত মূর্তি)*
*🍁রামরায়ের সন্দর্শন আর শ্রীকৃষ্ণভক্তিরস-সন্দর্শন একই কথা।শ্রীরামরায়ের শ্রীমুখে কৃষ্ণকথা শ্রবণ, আর কৃষ্ণকথারসসমুদ্রে ডুবে যাওয়া একই কথা।শিষ্টশান্ত ভদ্রলোক, কিংবা শুকনোজ্ঞানী বেদান্তী, যিনিই একবার শ্রীরামরায়ের সঙ্গে সরলভাবে ধর্মালাপ করতেন,তাঁরই হৃদয় ভক্তিরসে পরিপ্লুত হয়ে উঠিত।*
           *ক্রমাগত*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৭)শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
           *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
           ***********************
*🍀বিষ্ণুপাদদকী পুণ‍্যসলিলা গঙ্গাপ্রবাহ অপেক্ষাও কৃষ্ণভক্তিরসময় শ্রীরামরায়ের কৃষ্ণকথা-প্রবাহ অনেকবেশী পবিত্রতাময় বলেই বিবেচিত হত। গঙ্গা নরকনিবারিণী,পবিত্রতা প্রদায়িনী এবং বিষ্ণুভক্তিপ্রদা। কিন্তু শ্রীরামানন্দ রায়ের কৃষ্ণকথা-সুধাসরিৎ বা সুধানদী সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণপ্রেম-প্রদায়িত্রী। শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের কথা শুনে ভক্তগণ এতদিন পরে অতি উত্তমরূপে শ্রীরামরায়ের মাহাত্ম্য বুঝতে পারলেন।তারপরে মিশ্র মহাশয় আরও একটি কথা বললেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷আর কথা রায় কহিল আমারে।*
*🌷কৃষ্ণকথাবক্তা করি না জানিও মোরে।।*
*🌷মোর মুখে কথা কহে আপনি গৌরচন্দ্র।*
*🌷যৈছে কহায় তৈছে কহি যেন বীণাযন্ত্র।।*
*🌷মোর মুখে কহে কথা,করে পরচার।*
*🌷পৃথিবীতে কে জানিবে এ লীলা তাহার।।*
*🌹প্রদ‍্যুম্ন মহাশয় শ্রীরামরায়ের মুখে কৃষ্ণকথা শুনে যখন তাঁর সাক্ষাতেই শতমুখে তাঁর প্রশংসা করে হৃদয়ে প্রগাঢ়তম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছিলেন,তা শুনে রামরায় বললেন, মহাশয়!আমাকে একি বলছেন, আমি কৃষ্ণকথার কি জানি? এই যে এতক্ষণ আপনি আমার মুখে কৃষ্ণকথা শুনলেন,আমাকে এর বক্তা বলে মনে করবেন না। শ্রীগৌরসুন্দরই আমার মুখে এইসব রসময়ী কথা বলিয়েছেন, আমি কেবল তাঁর কথা বলার যন্ত্রস্বরূপ।শ্রীশ্রীমহাপ্রভু আমার মুখে প্রেমতত্ত্ব,রসতত্ত্ব,লীলাতত্ত্ব ও শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণতত্ত্ব প্রভৃতি ব‍্যক্ত করিয়ে জগতে প্রচার করছেন।তাঁর লীলার এই এক গূঢ় রহস‍্য। সুতরাং এ সম্বন্ধে যদি কারও কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার প্রয়োজন হয়, তবে শ্রীমন্মহাপ্রভুই একমাত্র পাত্র।রামরায় স্তুতিবাদ ভালবাসতেন না।সত‍্য সরলতা বিনয় ও ন‍্যায়নিষ্ঠা তাঁর চরিত্রের প্রধান গৌরব ছিল।তাঁর ভাই গোপীনাথ রাজসরকারের তহবিল তছরূপ করার অপরাধে যখন গুরুদন্ড দন্ডে দন্ডিত হবার আদেশ পেলেন তখন শ্রীরামরায় মহারাজ প্রতাপরুদ্রের কাছে তাঁর ক্ষমার জন্য কোন অনুরোধও জ্ঞাপন করেননি।মিশ্র মহাশয় তাঁর অনেক স্তুতি করলেন।ন‍্যায়নিষ্ঠ সহজ সরল বিনয়ী রামরায় তখুনি বললেন,আমার কথায় যদি কোন কৃতীত্ব থাকে,তা মহাপ্রভুরই প্রেরণা।সেটি আমার গুণের পরিচয় নয়।*
*🍀মিশ্র মহাশয় বুঝলেন, ভক্ত ও ভগবান একআত্মা।ভক্তহৃদয়ই ভগবানের লীলাবিহারের স্থান।ভক্তহৃদয় বিরাজিত থেকেই ভগবান কথা বলেন,ধর্মোপদেশ করেন।ভক্তের কথা ভগবানেরই প্রেরণা। পরে মহাপ্রভুর কাছে এসে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র এই ব‍্যাপারের সমস্ত কথা বললেন, তারপর ভক্তি চিত্তে মিশ্র বললেন=*
*🌷যে সব শুনিলু কৃষ্ণ রসের সাগর।*
*🌷ব্রহ্মার এ সব রস না হয় গোচর।।*
*🌷হেন রস পান মোরে করাইলে তুমি।*
*🌷জন্মে জন্মে তোমার পায় বিকাইলাম আমি।।*
*🌲ভক্তিরসময় হৃদয়ের কেমন সরল ও সুমধুর উচ্ছাস।মিশ্র মহাশয় যেন কৃষ্ণকথা-সুধারসে একেবারেই গলে গেলেন।ভক্তবৎসল গৌরহরি, মিশ্র মহাশয়ের মুখে শ্রীরামরায়ের কথা শুনে মৃদু হেসে বললেন,"সে কথা কিছুই নয়"। রামানন্দ বিনয়ের খনি।তিনি নিজের গুণ পরের উপর অর্পণ করে নিজে তৃণাদপির থেকে নীচ হয়ে অন‍্যকে মানী ও গুণবান করেন। মহানুভবগণ কখনও নিজের গুণ স্বীকার করেন না,এটি তাঁদের স্বতঃসিদ্ধ স্বভাব।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৮)শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
          *শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🙏মহা-অনুভবগণ কখনও নিজের গুণ স্বীকার করেন না,এটি তাঁদের স্বতঃসিদ্ধ স্বভাব। যথা শ্রীচরিতামৃতে।*
*🌷প্রভু কহে রামানন্দ বিনয়ের খনি।*
*🌷আপনার কথা পর-মুন্ডে দেন আনি।।*
*🌷মহানুভবের এইমত স্বভাব হয়*।
*🌷আপনার গুণ নাহি আপনি কহয়।।*
*🙏যেমন প্রভু,তেমনই ভক্ত,উভয়েই গুণগ্রাহী(অন‍্যের গুণের সমাদর করেন)উভয়েই নিজগুণ স্বীকারে পরাঙ্মুখ (মুখ ফিরিয়ে থাকেন)।ভক্ত বলছেন, মহাপ্রভুর লীলার এই এক বিশেষত্ব যে, তিনি তাঁরভক্তের মুখে তত্ত্বকথা প্রকাশ করে জগতজনকে উপদেশ প্রদান করছেন।মহাপ্রভু বলছেন, আমি কিছুই জানি না।কৃষ্ণকথা শুনতে বাসনা হলে আমার রামরায়ের কাছে কৃষ্ণকথা শুনে কৃতার্থ (সিদ্ধমনোরথ বা কৃতকার্য‍্য)হই।শ্রীরামরায় কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা, তিনিই কৃষ্ণকথার সুধানিধি।মহানুভাবের স্বভাবই এই যে নিজে নিজের গুণ প্রকাশ করেন না ; তাই তিনি নিজের গুণ অন‍্যের উপরে অর্পণ করে থাকেন। ফলতঃ (ফলে) শ্রীনবদ্বীপলীলা প্রকৃতই অত‍্যদ্ভুত প্রেমলীলা।শ্রীভগবান ও ভক্তের এইরকম মাখামাখি আত্মীয়তা, ভক্ত-মাহাত্ম‍্য প্রকাশে ভগবানের এইরকম আগ্রহ অত‍্যন্ত,জীবের প্রতি এমন অদ্ভুত ঔদার্য‍্য (উদারতা)ও নিরঙ্কুশ(অবাধ) কৃপা আর কোথাও দেখা যায় না।*
*🍀শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের কৃষ্ণকথা-শ্রবণ উপলক্ষ্য করে শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীরামরায়ের উচ্চতম ভজন-অধিকারিত্বের বিবরণ ভক্তসমাজে প্রকাশ করেছেন,এটি স্পষ্টভাবেই পাঠকগণ বুঝতে পারছেন।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*🌷ভক্তগুণ প্রকাশিতে প্রভু ভাল জানে।*
*🌷নানা ভঙ্গীতে প্রকাশি নিজ লাভ মানে।।*
*☘শ্রীরামরায় দ্বারা মহাপ্রভু প্রেমধর্ম প্রকটন করেন এটি অতি সত‍্য কথা, কিন্তু এটির আরও একটি মহান উদ্দেশ্য আছে।যে সময়ে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর অবতরণ করে লীলা প্রকট করেন, সেই সময়ে এদেশে শুষ্কজ্ঞানী সন্ন‍্যাসীরা ধর্মাচার্য‍্যের পদে অভিষিক্ত হতেন।তাঁরা সমাজপূজ‍্য ব্রাহ্মণদেরও নমস‍্য। কিন্তু মহাপ্রভু দেখলেন,অধিকাংশ সন্ন‍্যাসীই নামমাত্র সন্ন‍্যাসী।এরা গার্হস্থ‍্য ধর্ম ত‍্যাগ করেও ক্রোধাদি ষড়্ বর্গের (কাম,ক্রোধ,লোভ,মদ,মোহ ও মাৎসর্য‍্য)বশীভূত।প্রকৃত ধর্মের যা প্রথম সোপান,এইসব সন্ন‍্যাসী তাতে আরোহণেও অসমর্থ,অথচ এরা কেবল অনর্থক সন্ন‍্যাসীর চিহ্নমাত্র ব‍্যবহার করেই সমাজে সদম্ভে ও সগর্বে বিচরণ করে থাকে।প্রকৃত ধর্ম কি,এরা তার বিন্দুমাত্রেরও খোঁজ রাখে না। কিন্তু এরা সমাজে ধর্মাচার্য‍্য বলে গণ‍্য।জীবশিক্ষার জন্য শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর নিজে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করলেন, অথচ এই সন্ন‍্যাসীবরেণ‍্য মহাপ্রভু ধর্মোপদেশ পাওয়ার জন্য শ্রীরামরায়ের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন ঃ-----*
*🌷সার্বভৌম সঙ্গে মোর মন নির্মল হৈল।*
*🌷"কৃষ্ণভক্তি তত্ত্ব কহ" তাঁহারে পুছিল।।*
*🌷তিঁহো কহে "আমি নাহি জানি কৃষ্ণকথা।"*
*🌷সবে রামানন্দ জানে তিঁহো নাহি হেথা।।*
*🌷তোমার ঠাঁই আইলাম মহিমা শুনিয়া।*
*🌷তুমি মোরে স্তুতি কর সন্ন‍্যাসী জানিয়া।।*
*🌷কিবি বিপ্র কিবা ন‍্যাসী শূদ্র কেন নয়।*
*🌷যেই কৃষ্ণ তত্ত্ববেত্তা সেই গুরু হয়।।*
*🌷সন্ন‍্যাসী বলিয়া মোরে না কর বঞ্চন।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ তত্ত্ব কহি পূর্ণ কর মন।।*
*🌻মহাপ্রভু জাতিতে সমাজপূজ‍্য ব্রাহ্মণ,আশ্রমে ব্রাহ্মণপূজ‍্য সন্ন‍্যাসী শ্রীরামরায় জাতিতে শূদ্র,আশ্রমে গৃহস্থ,---বিষয়ী।তাঁর কাছে মহাপ্রভু বলছেন, ব্রাহ্মণ হন,ন‍্যাসী হন,আর শূদ্র হন, যিনি কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা তিনিই গুরু।আমি সন্ন‍্যাসী আর তুমি শূদ্র, এটি মনে করে আমাকে বঞ্চনা করিও না।আমি তোমার কাছে শ্রীরাধাকৃষ্ণতত্ত্ব শুনতে এসেছি। আমার এই প্রার্থনা তোমায় পূর্ণ করতেই হবে।*
*🙏প্রিয় ভক্তপাঠক, গম্ভীর চরিত্র শ্রীগৌরাঙ্গের লীলাভঙ্গী দেখুন।যে সমাজে সন্ন‍্যাস-চিহ্নধারী হলেই ধর্মাচার্য‍্যের গুরুগৌরবময় আসন পাওয়ার অধিকার বতর্মান, ভগবান সেই সমাজে পূর্ণ বিপরীত প্রথার প্রবর্তন করলেন,রাজাধিরাজ যেন মুষ্টিভিক্ষার জন্য পথের কাঙালের কাছে ব‍্যাকুল ভাবে হাত বাড়ালেন! এই লীলা অতি রহস‍্যময়ী,অতি নিগূঢ় ও অতি গম্ভীর।*
*🍀শ্রীরামরায় মহানুভাব দ্বারা শ্রীমন্মহাপ্রভু জগতে সপ্রমাণ করলেন যে,জাতিতে শূদ্র ও আশ্রমে গৃহস্থ হলেও তাঁর হৃদয়ে আধ‍্যাত্মিক গুণ-প্রভাব পূর্ণমাত্রায় বিরাজিত থাকতে পারে,এমন কি তিনি সন্ন‍্যাসীর ধর্মো-উপদেষ্টাপদেও অভিষিক্ত হতে পারেন।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন ঃ---"*
*🌷গৃহস্থ হঞা নহে রায় ষড়বর্গের বশ।*
*🌷বিষয়ী হইয়া সন্ন‍্যাসীর উপদেশে।।*
☆          ☆          ☆          ☆          ☆
*🌷সন্ন‍্যাসী পন্ডিতগণের করিতে গর্ব নাশ।*
*🌷নীচ শূদ্র দ্বারা করে ধর্মের প্রকাশ।।*
*🌷ভক্তিতত্ত্ব প্রেম কহে রায়ে করি বক্তা।*
*🌷আপনি প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র সহ হয় শ্রোতা।।*
*🌷হরিদাস দ্বারা নামমাহাত্ম‍্য প্রকাশ।*
*🌷সনাতন দ্বারা ভক্তি-সিদ্ধান্ত-বিলাস।।*
*🌷শ্রীরূপ দ্বারা ব্রজরস-প্রেমলীলা।*
*🌷কে বুঝিতে পারে গম্ভীর চৈতনের লীলা।।*
*🌷শ্রীচৈতন‍্যলীলা এই অমৃতের সিন্ধু।*
*🌷জগৎ ভাসাতে পারে যার একবিন্দু।।*
*🌻শ্রীমৎ প্রদ‍্যুম্নমিশ্রের কৃষ্ণকথা শ্রবণচ্ছলে শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীরামানন্দ রায় মহাশয়ের অকৈতব বা অকপট কৃষ্ণপ্রেম-সিদ্ধির অলৌকিক অপ্রাকৃত মাহাত্ম্য গৌরব প্রকট করেছেন।*
*🌹শ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদগণের সুধাময়ী লীলাকথার সীমা নেই,এটি অপার ও অনন্ত।আমি সেটির বিন্দুমাত্রও বলতে সমর্থ হলাম না।আত্মশোধনের জন্য এই রসময় চরিত্রের সম্বন্ধে সামান্য চিন্তা করে ছিলাম,এই গ্রন্থে তাইই সঙ্কলিত হল মাত্র।আর দুই একটি আনুসঙ্গিক কথা লেখেই গ্রন্থের উপসংহার করছি।করুণাময় শ্রীগৌরহরির কৃপায় "গম্ভীরায় শ্রীগৌরাঙ্গ " গ্রন্থ  প্রকাশিত হল আরও দুই চারবার এই প্রেমরসময় ভুবনপাবন নামোচ্চারণ করবার আশা আছে।নচেৎ শ্রীপাদ রায় রামানন্দের রসময়লীলা বর্ণনের সৌভাগ্য এখানেই একরকম সমাপ্ত হ'ল🙏।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৯)শ্রীরামানন্দ রায়, কাষ্ঠ পাষাণ সম*
          *😭😭তিরোভাব😭😭*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভুর গম্ভীরা লীলায় শ্রীরামরায়, কৃষ্ণবিরহিনী শ্রীরাধার সঙ্গে থাকা বিশাখা সখীর মত শ্রীপাদ স্বরূপসহ তাঁর (মহাপ্রভুর) সান্ত্বনা করতেন,উভয়ে দিন-রাত্রি ভাবনিধি গৌরহরির কাছে থেকে তাঁকে সুধাময় কৃষ্ণ-কথা শুনাতেন।সেই সব কথা "গম্ভীরায় শ্রীগৌরাঙ্গ" সন্দর্ভে আলোচ‍্য।তাতে শ্রীরামরায়ের নাম উল্লেখমাত্র পরিলক্ষিত হয়।সেটিতে তাঁর চরিতের অন‍্য কোন উপাদান দেখতে পাওয়া যায় না।তিনি যে কিরকম ভাবের কৃষ্ণকথায় মহাপ্রভুর সান্ত্বনা করতেন, কোনও গ্রন্থে তার উল্লেখ নাই।এই অবস্থায় সেই সন্দর্ভে শ্রীরামরায়ের তিরোভাব সম্বন্ধে আলোচনা করা অপ্রাসঙ্গিক। সুতরাং শ্রীরামরায়ের চরিত-কথা এই গ্রন্থে পূর্ণরূপ আলোচিত না হলেও এই স্থলেই তাঁর তিরোভাব সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলা প্রয়োজন।*
*🍀শ্রীকবিকর্ণপুর শ্রীচৈতন‍্যচরিত মহাকাব‍্যে লিখেছেন যে শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীবৃন্দাবনে গমন করায় শ্রীরামানন্দ রায় তাঁর বিরহে প্রাণত‍্যাগ করলেন, যথা=*
*🌷স্থিত্বা তত্র শ্রীময়োগৌরচন্দ্রঃ,*
*🌷ক্বচিৎ কালং তেন ভূয়োহধ্বনৈব।*
*🌷কালিন্দীয়ং তীরমেব প্রতস্থে,*
*🌷বিচ্ছেদার্ত্তাং স্তত্র তাং স্তান্ বিধায়।।*
*🌷রামানন্দস্তদবিয়োগাধিপীড়া,*
*🌷ক্ষীণ ক্ষীণ স্তত‍্যাজাহসূন্ মহাত্মা।*
*🌷বিচ্ছেদে স‍্যাদ্ যোগ‍্যমেতচ্চরিত্রং,*
*🌷প্রেম্নস্তাবত্তাদৃশস‍্যাস‍্য নূনম্।।*
*🌻এতে বুঝা যাচ্ছে যে,শ্রীরামরায় মহাপ্রভুর বিয়োগরূপ মানসিক যন্ত্রণায় দিন দিন ক্ষীণ হয়ে প্রাণত‍্যাগ করলেন। কেননা প্রেম-বিচ্ছেদের এটিই রীতি।রসশাস্ত্রে লেখা আছে, বিরহে যে দশ দশা উপস্থিত হয়,সেটির শেষদশায় মৃত‍্যু।মৃত‍্যু বিরহের দশমী দশা। সুতরাং কবিকর্ণপুর বর্ণিত এই প্রাণত‍্যাগ ব‍্যাপার বা মৃত‍্যু কিরকম ব‍্যাপার,তা বিচার্য‍্য। শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ কৃত শ্রীচেতনচরিতামৃতের পাঠকগণের অজানা নাই যে মহাপ্রভু শ্রীবৃন্দাবন থেকে ফিরে আসার পরেও শ্রীরামরায়ের সঙ্গে পুনর্ম্মিলন হয়।শ্রীরামরায় শ্রীরূপের নাটক সমালোচনা করেন,প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রকে উপদেশ প্রদান করেন, মহাপ্রভুর গম্ভীরা-লীলায় শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর শ্রীরামরায়ই তাঁর অন্তরঙ্গ পার্ষদরূপে সর্বদা সেবা করতেন। সুতরাং এই প্রাণত‍্যাগ কিরকম ব‍্যাপার, তা অবশ্যই বিচার্য‍্য।শ্রীকবিকর্ণপুরের এই গ্রন্থ ১৪৬৪ শকে লিখিত হয় বলে তিনি নিজে লিখে রেখে গিয়েছেন,যথা=*
*🌷বেদারসাঃ শ্রুতয়ঃ ইন্দুরিতি প্রসিদ্ধে।*
*🌷শাকে তথা খলু শুচৌ সুভগে চ মাসি।।*
*🌷বারে সুধাকিরণনাম্ন‍্যসিতদ্বিতীয়া-,*
*🌷-তিথ‍্যন্তরে পরিসমাপ্তিরভুদমুষ‍্য।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ চৌদ্দশত চৌষট্টি শকের আষাঢ় মাসে সোমবারে কৃষ্ণ দ্বিতীয়া তিথিতে এই গ্রন্থ পরিসমাপ্তি হয়। সুতরাং মহাপ্রভুর অন্তর্দ্ধানের পর ৯ বৎসর যেতে না যেতেই এই গ্রন্থ রচিত হয়। কিন্তু শ্রীমুরারি গুপ্ত এর বহুপূর্বে নিজ গ্রন্থ রচনা করেন।কবিকর্ণপুর শ্রীমুরারির সেই গ্রন্থ দেখেই এই গ্রন্থ বিরচন করেন।তিনি নিজ গ্রন্থে স্পষ্টভাবেই তার উল্লেখ করে গিয়েছেন, তদ্ যথা=*
*🌷আশৈশবং প্রভুচরিত্রবিলাসবিজ্ঞৈঃ,*
*🌷কেচিন্মুরারিরিতিমঙ্গলনামধেয়ৈঃ।*
*🌷যদ্ যদ্ বিলাসললিতং সমলেখি তজজ্ঞৈ,*
*🌷স্তত্তদ্বিলোক‍্য বিলিলেখ শিশুঃ স এষঃ।।*
*🍀এখন কথা এই যে শ্রীরামানন্দের নির্য‍্যাণ সম্বন্ধে শ্রীমুরারি গুপ্ত কিছু লিখেছেন কি না?শ্রীমুরারিকৃতশ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীরামরায়ের অন্তর্দ্ধানের সম্বন্ধে কোন সংবাদ দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর শ্রীবৃন্দাবন হতে নীলাচলে ফিরে আসার পরেও যে রামরায়ের সঙ্গে তাঁর পুনর্ম্মিলন হয়েছিল,তার উল্লেখ আছে। ঐ গ্রন্থের চতুর্থ প্রক্রমের পঞ্চদশ সর্গে শ্রীবৃন্দাবন হতে পুরুষোত্তমক্ষেত্রে মহাপ্রভুর প্রত‍্যাগমন পর্য‍্যন্ত বর্ণিত হয়েছে। ষোড়শ সর্গের প্রারম্ভে লিখিত হয়েছে =*
*🌷ততো গজপতিরাজা দর্শনার্থং মহাপ্রভোঃ।*
*🌷সার্ব্বভৌমং সমাহূয় রামানন্দসমন্বিতম্।।*
*🍀এছাড়াও অন‍্যান‍্য লীলা সম্বন্ধেও সূত্ররূপে বর্ণনা আছে।এতে জানা যাচ্ছে,মহাপ্রভু বৃন্দাবন হতে ফিরে আসিলে তার পর গজপতি প্রতাপরুদ্রদেব মহাপ্রভুর দর্শনে অধীর হলেন এবং তার পরামর্শের জন্য সার্বভৌম ও রামানন্দকে আহ্বান করলেন।*
*শ্রীমুরারিকৃত শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থই যে কবিকর্ণপুরের আদ‍্য(প্রথম)আলেখ‍্য, তাতে আর সন্দেহ নাই। কিন্তু এতে যখন স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে যে বৃন্দাবন হতে ফিরে আসার পরেও মহাপ্রভুর সঙ্গে রামরায়ের অনেকদিন পর্য‍্যন্ত একসঙ্গে অবস্থান হয়েছে,রামরায়ের নাম অনেক লীলার সঙ্গে বিজড়িত রয়েছে,তখন এই প্রাণত‍্যাগের অর্থ, মহাবিরহে রামরায় জীবনমৃতবৎ হয়েছিলেন এটিই বুঝতে হবে।তাছাড়া অন‍্য রকম অর্থ সঙ্গতি করা যেতে পারে না।বিশেষ করে হাতে লেখা আরও কয়েকটি শ্রীকবিকর্ণপুরকৃত এই গ্রন্থ না দেখা পর্যন্ত এ সম্বন্ধে* 
*আমরা আর কোনও ব‍্যাখ‍্যা করতে পারি না।*
*🍀এখন অন‍্য এক কথা বিচার্য‍্য এই যে শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রকট অবস্থাতেই শ্রীরামরায়ের তিরোভাব হয়, কিংবা তাঁর অন্তর্ধানের পরে শ্রীরামরায় তিরোহিত হন।মহাপ্রভুর প্রকট অবস্থায় রামানন্দের তিরোভাব হলে মহাপ্রভু তাঁর মহাপ্রস্থানের ব‍্যাপারে হরিদাস নির্য‍্যাণের মত কোন রকম কাজের অনুষ্ঠান করতেন এবং লীলা লেখক মহাশয়গণও এই ব‍্যাপার লিখে রাখতেন। সুতরাং আমাদের অনুমান হচ্ছে শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর অপ্রকট হবার পরেই কোনও সময়ে শ্রীপাদ স্বরূপ দামোদরের মত মহাপ্রভুর মহাবিরহে শ্রীরামরায়ও বিরহের শেষ অশ্রু ও শেষ দীর্ঘশ্বাস ত‍্যাগ করে সহসা এই ধরাধাম হতে অন্তর্হিত হন। প্রাচীন বৈষ্ণবগণও এই অনুমান পোষণ করে আসছেন। ভক্তিরত্নাকরের লেখক এই অনুমানের সমর্থক। তিনি লিখেছেন=*
*🌷হেন কালে প্রভুর অদর্শন কথা শুনি।*
*🌷অঙ্গ আছাড়িয়া রাজা (প্রতাপরুদ্র)লুটায় ধরণী।।*
*🌷শিরে করাঘাত করি হৈর অচেতন।*
*🌷রায় রামানন্দ মাত্র রাখিল জীবন।।*
*🍀ভক্তিরত্নাকর-পাঠে আরও জানা যায়, মহাপ্রভুর অপ্রকট হবার পরে শ্রীনিবাস আচার্য‍্য শ্রীক্ষেত্রে গিয়েছিলেন।তিনি তখন শ্রীপাদ সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য ও শ্রীরায় রামানন্দের সন্দর্শন পেয়েছিলেন।যথা ভক্তিরত্নাকর তৃতীয় তরঙ্গে=*
*🌷সবে উৎকণ্ঠিত শ্রীনিবাসেরে দেখিতে।*
*🌷শ্রীনিবাস গেলা সার্বভৌমের বাটীতে।।*
*🌷তথায় শ্রীরায় রামানন্দের গমন।*
*🌷দোঁহে বসি গায় গৌরচন্দ্র-গুণ-গুণ।।*
*🌷মহাশোক-সমুদ্রে ভাসয়ে দুই জনে।*
*🌷শ্রীনিবাস দেখি সুখ উপজিল মনে।।*
*🍀মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের অতি অল্পদিন পরেই শ্রীনিবাস শ্রীক্ষেত্রে গমন করেছিলেন।তখনও শোকের ঘনকৃষ্ণ-বিষাদ ছায়ায় সমগ্র পুরীক্ষেত্র সমাচ্ছন্ন।বোধহয় এর অল্পদিন পরেই শ্রীরায় রামানন্দ অপ্রকট হয়েছিলেন।*
*🍀মুরলীবিলাস নামক একটি গ্রন্থের গ্রন্থকারও উক্ত মতের পোষক।এই গ্রন্থে লেখা আছে বংশীবদনের পৌত্র রামাই মহাপ্রভুর অপ্রকটের পরে শ্রীক্ষেত্রে গিয়ে শ্রীরামরায়ের দেখা পেয়েছিলেন এবং তাঁর কাছে উপদেশ গ্রহণ করেছিলেন, যথা=*
*🌷তবে মিশ্র লঞা গেল রায়ের সদন।*
*🌷রায় বসি সদা ভাবেন চৈতন‍্য চরণ।।*
*🌷বিরহে আকুল অঙ্গ নিতান্ত দুর্বল।*
*🌷কভু কিছু ভক্ষণ করয়ে মাত্র জল।।*
*🍀এইসব কথা জানা যায় যে মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পরে শ্রীরামানন্দের তিরোধান হয়েছিল। ১৪৫৫ শকে শ্রীশ্রীমহাপ্রভু অন্তর্হিত হন।রায় রামানন্দকে সম্ভবতঃ এই ভীষণ বিরহ দীর্ঘকাল সহ‍্য করতে হয়নি।১৪৫৫ বা ১৪৫৬ শকেই হয়ত রামানন্দের তিরোভাব ঘটে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় এই যে পঞ্জিকাতে মহাপ্রভুর পারিষদগণ ও ভক্তগণের অনেকেরই আবির্ভাব ও তিরোভাবের দিন সূচিত হয়ে থাকে।কিন্তু যিনি মহাপ্রভুর একান্ত অন্তরঙ্গ পারিষদ সেই রায় রামানন্দের আবির্ভাব ও তিরোভাবের দিনের কোন উল্লেখ নেই! সেই পুণ‍্যদিনের স্মরণ ও মহোৎসব-বৈষ্ণব-সমাজে প্রচলিত নাই, এটি অত‍্যন্ত পরিতাপের বিষয়।প্রেমরস-বিগ্রহ শ্রীপাদ রামানন্দ রায় মহাশয়ের স্মরণ মহোৎসবের কোন সময় নির্দ্ধারণ করা গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের একান্ত কর্তব‍্য।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬০)শ্রীরায় রামানন্দ, বিশাখা*
         *শ্রীরায় রামানন্দের গ্রন্থ*
          ***********************
*🍀শ্রীরায় রামানন্দের পান্ডিত‍্য ও ভগবৎ-প্রেম সম্বন্ধে আমলা বহুকিছু পরিচয় পেয়েছি।তিনি বঙ্গদেশে কিংবা উৎকলই তাঁর জন্মভূমি ছিল,তার সম্বন্ধে কোনরকম প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারিনি, কল্পনার সাহায্যে এইরকম বিষয় অভিমত প্রকাশ করাও যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় নাই।বাংলা ভাষায় বা উড়িয়া ভাষায় তাঁর কোন গ্রন্থ আছে কি না,তার খোঁজ করেছিলাম, কিন্তু সে খোঁজ নিস্ফল হয়েছে।বাংলা ভাষায় তাঁর রচিত শ্রীকৃষ্ণলীলা-বিষয়ক পদ আছে বলে জনশ্রুতি আছে, তার আলোচনা তারপরে করা যাবে।*
*🍀শ্রীপাদ রূপগোস্বামী সঙ্কলিত "পদ‍্যাবলী নামক গ্রন্থে" যে সব শ্লোক সংগৃহীত হয়েছে,সেই গ্রন্থে রায় রামানন্দের শ্লোকও দুই-একটি দেখতে পাওয়া যায়।তারপরে সেই শ্লোকাদির উল্লেখ করব।*
*🍀ভারতীয় সংস্কৃত পুস্তকের তালিকাকার সুবিখ‍্যাত জার্মান পন্ডিত আউফ্রেক্ট তার গ্রন্থ-তালিকায় যে সব গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছেন,তাতে রামানন্দ রায় প্রণীত কেবল একটি "জগন্নাথ বল্লভ নাটকের" নামই দেখা যায়।কেউ কেউ বলেন রায় রামানন্দ "শান্তিশতকের" একটি টীকা লিখেছিলেন।*
*🍀খুব সম্ভবতঃ শ্রীরামরায় উড়িয়া, বাংলা,আরবী,পারসী,তামিল, তেলেগু ও সংস্কৃত ভাষায় সুপন্ডিত ছিলেন।তামিল ও তেলেগু ভাষা মাদ্রাজে প্রচলিত।বিদ‍্যানগরের শাসনকর্তার পক্ষে এই দুই ভাষার অভিজ্ঞতা সেইসময়ে একান্তই প্রয়োজন ছিল।চারশত বৎসর পূর্বে মুসলমানদের প্রভাব-সময়ে এ দেশবাসীদের বিশেষ করে রাজকীয় কর্মচারীদের পক্ষে আরবী ও পারসী ভাষায় জ্ঞান, বিষয়কার্য‍্যে একান্ত পয়োজনীয়,সেই সময়ে আরবী ও পারসী ভাষাও সেইরকম রাজভাষা বলে সম্মানিত ও আদৃত হত।বাঙ্গালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকার জন্য উড়িষ্যার অধিবাসীদের পক্ষে বাংলা-ভাষাজ্ঞানও স্বাভাবিক।রায় মহাশয় সংস্কৃত ভাষাতেও যথেষ্ট পান্ডিত‍্য লাভ করেছিলেন। কিন্তু কেবল সংস্কৃত ভাষায় লিখিত শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটক ছাড়া তাঁর রচিত অন্য কোন গ্রন্থের সন্ধান লাভ করতে পারিনি। ফলে সবসময় বিশাল সাম্রাজ্যের রাজকার্য‍্যের ভার নিজ কাঁধে বহন করে তাঁর গ্রন্থরচনার অবকাশ সম্ভবত বড়ই কম ছিল।*
*🍀শ্রীজগন্নাথ বল্লভ নাটকটি কোন সময়ে রচিত হয়েছিল, গ্রন্থকার নিজ গ্রন্থে তার উল্লেখ করেননি।তবে শ্রীশ্রীকৃষ্ণ চৈতন‍্য মহাপ্রভুর সহ আলাপ পরিচয়ের পৃর্বেই যে তিনি এই গ্রন্থ লিখেছিলেন তার যুক্তসঙ্গত কারণ অনুমিত হতে পারে।মহাপ্রভুর ভক্তমাত্রেই গ্রন্থের মঙ্গলাচরণে মহাপ্রভুর বন্দনা করেছেন। শ্রীজগন্নাথ বল্লভ নাটকে শ্রীচৈতন‍্যদেবের বন্দনা নাই।এতে অনুমিত হয় ১৪৩২ শকের পূর্বে কোনও সময়ে তিনি এই নাট‍্য-গীতিকা রচনা করেছিলেন।শ্রীপুরীধামে রক্ষিত মাদলা পঞ্জী অনুসারে জানা যায় ১৪২৬ হতে ১৪৫৪ শকাব্দ পর্যন্ত মহারাজ প্রতাপরুদ্র উৎকলে রাজত্ব করেন।এই নাটক যে প্রতাপরুদ্রের ভালবাসার জন্যই রচিত হয়, গ্রন্থকারে বহু স্থলে তার উল্লেখ করেছেন।প্রতাপরুদ্র নিজ বাহুবলে মুসলমান শাসনকর্তা সেকেন্দরকে পরাজিত করেছিলেন, জগন্নাথ বল্লভ নাটকের প্রথমে তাও উল্লিখিত হয়েছে। সুতরাং সম্ভবত ১৪২৬ শকাব্দ হতে ১৪৩২ শকাব্দের মধ্যে কোনও সময়ে এই গ্রন্থ বিরচিত হয়েছিল।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে জায়গায় জায়গায় এই নাকটটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।শ্রীমন্মহাপ্রভু এই নাটকগীতি অতীব আগ্রহের সঙ্গে শুনতেন। যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতি, রায়ের নাটকগীতি,*
        *কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ।*
*স্বরূপ রামানন্দ সনে, মহাপ্রভু রাত্রিদিনে,*
      *গায় শুনে পরম আনন্দ।।*
*🍀এখানে "রায়ের নাটকগীতি" বলে যে গ্রন্থের নাম করা হয়েছে, সেই গ্রন্থই শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটক।এই নাটকটিতে গ্রন্থকার নিজেও "রামানন্দ সঙ্গীত নাটক" বলে এই গ্রন্থেই অভিহিত করেছেন, যথা=*
 *পৃথীশ্বরস‍্য শ্রীভবানন্দরায়স‍্য তনুজেন শ্রীহরিচরণালঙ্কৃতমানসেন শ্রীরামানন্দরায়েন কবিনা তৎতৎগুণালঙ্কৃতং শ্রীজগন্নাথবল্লভ- নামগজপতি প্রতাপরুদ্রংপ্রিয়ং "রামানন্দসঙ্গীত নাটকম্" নির্ম্মায় সমর্পিতম্।*
*🍀সুতরাং "রামানন্দ সঙ্গীত নাটককেই শ্রীপাদ কবিরাজ "রায়ের নাটকগীতি" আখ‍্যা প্রদান করেছেন।মহাপ্রভু দিনরাত্রি যে নাটকগীতির রসমাধুর্য‍্য আস্বাদন করতেন,তা যে শ্রীবৃন্দাবন-রসমাধুর্য‍্যের উচ্ছসিত উৎসস্বরূপ তা স্পষ্টভাবেই স্বতঃসিদ্ধ।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds