শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

মাধবেন্দ্রপুরী কর্তৃক অন্নকূট উৎসব 🌾🍙 কার্তিক মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/annokut.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

মাধবেন্দ্রপুরী কর্তৃক অন্নকূট উৎসব 🌾🍙 কার্তিক মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/annokut.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#কার্তিক_মাসের_শুক্লা_প্রতিপদ_তিথি*
*#মাধবেন্দ্রপুরী_কর্তৃক_অন্নকূট_উৎসব* 

মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করে যখন নীলাচলপুরীতে আসার পথে রেমুণার মন্দিরে ক্ষীরচোরা গোপীনাথকে দর্শন করেছিলেন তখন ক্ষীরচোরা গোপীনাথের ক্ষীর প্রসাদ আস্বাদনের ছলে সঙ্গের ভক্তদের তিনি নিজের পরম গুরুদেব মাধবেন্দ্রপুরীর চরিতাস্বাদন করিয়েছিলেন । মহাপ্রভু নিজে এই কাহিনী শুনেছিলেন শ্রীগুরুদেব ঈশ্বর পুরী গোস্বামীর কাছ থেকে।

*#মহাপ্রসাদ_ক্ষীরলোভে_রহিলা_প্রভু_তথা*।
*#পূর্বে_ঈশ্বরপুরী_তাঁরে_কহিয়াছেন_কথা*।।

বৃন্দাবনের তীর্থ তখন লুপ্ত ।কারণ মাধবেন্দ্রপুরীর বহুপরে শ্রীমন্মহাপ্রভুর বৃন্দাবনে আগমন ,আরিট গ্রামে রাধাকুণ্ড প্রকটন এবং ভবিষ্যতের দায়ভার রূপ সনাতনাদি গোস্বামীগণের ওপর আরোপন।

মাধবেন্দ্রপুরী বৃন্দাবন দর্শন করতে করতে এলেন গোবর্ধন পর্বতের পাদদেশে ।পর্বত পরিক্রমা করে গোবিন্দকুণ্ডে এসে নিত্যকর্ম করে এক গাছের তলায় এসে স্মরণে রত রয়েছেন।তিনি অযাচকবৃত্তি ধারী সন্ন্যাসী ।নিজে কিছু চেয়ে খান না। যদি কেউ কিছু দেন তো ভোগ লাগিয়ে প্রসাদ পান নয়তো উপবাসী। গোবিন্দকুণ্ডের তটে বসে তিনি উপবাসী রয়েছেন। বোধকরি অন্তর্যামীর অন্তর কেঁদে উঠল ভক্তের জন্য । গোপবালকের ছদ্মবেশে এসে শ্রীগোবিন্দ এক ভাঁড় দুধ দিয়ে গেলেন মাধবেন্দ্রপুরীকে ।
 *#গোপবালক_এক_দুগ্ধভাণ্ড_লৈয়া*।
*#আসি_আগে_ধরে_কিছু_বলিল_হাসিয়া* ।।
মাধবেন্দ্রপুরী রাতে গোবিন্দকুণ্ড তটেই শুয়েই পড়লেন। স্বপ্ন দেখলেন। সেই গোপবালক তাঁর হাত ধরে এক কুঞ্জে নিয়ে গিয়ে বলছেন ,"আমি এই কুঞ্জে খুব কষ্টে আছি।আমার সেবক ম্লেচ্ছভয়ে আমাকে এখানে গোপনে রেখে দিয়ে গেছে।আমাকে তুমি উদ্ধার করে পর্বতের ওপরে প্রতিষ্ঠা করো।আমি তোমার হাতে সেবা পেতে অপেক্ষায় আছি।
*#বহুদিন_হৈতে_করি_পথ_নিরীক্ষণ*।
*#কবে_আসি_মাধব_মোরে_করিবে_সেবন*।।
স্বপ্নভঙ্গে মাধবেন্দ্রপুরী দেখলেন ভোরের আলো ফুটে উঠবে এবার।ব্রজবাসীদের ডেকে তিনি তার স্বপ্নের কথা বললেন এবং ব্রজবাসীদের সহায়তায় গোবর্ধন পর্বতের অন্তর্গত এক কুঞ্জে মাটি ঘাসের আড়াল থেকে উদ্ধার করলেন গোপালের নয়নাভিরাম বিগ্রহ ।বিধিমতো অবিষেকাদি সম্পন্ন হবার পরেই দই দুধ সন্দেশ (ব্রজের সর্বত্রই এই দুগ্ধজাত সামগ্রীর প্রাচুর্য) দিয়ে বাল্যভোগ নিবেদন করলেন। এরপরে শুরু হল মধ্যাহ্নভোগের প্রস্তুতি।গোবর্ধনের সন্নিকটস্থ গ্রামের মানুষজন সবাই ভোগের সামগ্রী নিয়ে এল।তণ্ডুল ডাল গোধূম চূর্ণ ইত্যাদি । কুমোরের ঘরে যত মাটির পাত্র ছিল সবাই নিয়ে এল ভোগরান্নার জন্য ।

*#কুম্ভকার_ঘরে_ছিল_যে_মৃদ্ভাজন*।
*#সব_আনাইল_প্রাতে_চড়িল_রন্ধন*।।
দশজন ব্রাহ্মণ অন্ন রান্না করতে লাগলেন।পাঁচ জন মিলে ব্যঞ্জন ডাল রসা তৈরি করতে লাগলেন।কেউ কেউ বড়া বড়ি তৈরি করলেন।পাঁচ সাত জন মিলে রাশি রাশি রুটি তৈরি করলেন।অন্ন ব্যঞ্জন সবকিছুর ওপর ঘি দেওয়া হতে থাকল । রন্ধনকারীর সংখ্যা দেখেই অনুমান করা যায় যে কি পরিমান ভোগ তৈরি হয়েছিল।
ভোগ রান্নার পরে সমস্ত অন্ন চূড়া করে সাজানো হতে থাকল।অন্নের পাশে রুটির চূড়া করা হলো।চারদিকে ডাল রসা লাফড়া ব্যঞ্জন রাখা হল।তারপাশে দই দুধ মাঠা পায়েস সর সব সাজানো হল। দেখে মনে হল ছোটো খাটো একটা খাবারের পর্বত।এইভাবে অন্নকূট তৈরি হল।

*#হেনমতে_অন্নকূট_করিল_সাজন*।
*#পুরী_গোসাঞি_গোপালেরে_কৈল_সমর্পণ* ।।

গোপালের আনন্দ আর ধরে না। এতদিন যাঁর সেবার জন্য তিনি উৎকণ্ঠিত ছিলেন, সেই মাধবেন্দ্রপুরী আজ নিজে স্বয়ং অন্নকূট উৎসব করলেন।অন্নকূটের সবকিছুই গোপাল প্রাণভরে খেল।আর গোপালের হাতের স্পর্শে অন্নকূট পুনরায় যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেল। অন্তরঙ্গ ব্যক্তি ছাড়া কেউ বুঝতে পারল না গোপালের এই লীলা। অন্তরে অন্তরে যাঁর যোগ সেই তো অন্তরঙ্গ হতে পারে।গোপালের সঙ্গে অন্তরের যোগ মাধবেন্দ্রপুরীর । তাই মাধবেন্দ্রপুরীই একমাত্র অনুভব করলেন যে গোপাল সবকিছু খেয়েছে।

*#যদ্যপি_গোপাল_সব_অন্ন_ব্যঞ্জন_খাইল*।
*#তাঁর_হস্তস্পর্শে_পুনঃ_তেমনি_রহিল*।।
*#ইহা_অনুভব_কৈল_মাধব_গোসাঞি*।
*#তাঁর_ঠাঞি_গোপালের_লুকা_কিছু_নাই*। 
এরপরে প্রায়শই গোপালকে দেখতে আশপাশের মানুষজন আসতে লাগল ।তাঁরাও গোপালের জন্য ভোগ সামগ্রী নিয়ে আসতে লাগল। দৈনিক অন্নকূট মহোৎসব হতে থাকল।*জয় নিতাই!*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
      ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী দীপ বাগুই📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







রমা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/rama.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

রমা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/rama.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#রমা_একাদশী_ব্রত_মাহাত্ম্য।*

একসময় যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন-
হে জনার্দন! কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপা করে আমায় বলুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে রাজন! মহাপাপ দূরকারী সেই একাদশী ‘রমা’ নামে বিখ্যাত। আমি এখন এর মাহাত্ম্য বর্ণনা করছি, আপনি তা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন। 

পুরাকালে মুচুকুন্দ নামে একজন সুপ্রসিদ্ধ রাজা ছিলেন। দেবরাজ ইন্দ্র, যম, বরুণ ও ধনপতি কুবেরের সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল। ভক্তশ্রেষ্ঠ বিভীষণের সাথেও তার অত্যন্ত সদ্ভাব ছিল। তিনি ছিলেন বিষ্ণুভক্ত ও সত্যপ্রতিজ্ঞ। এইরূপে তিনি ধর্ম অনুসারে রাজ্যশাসন করতেন।

 চন্দ্রভাগা নামে তার একটি কন্যা ছিল। চন্দ্রসেনের পুত্র শোভনের সাথে তার বিবাহ হয়েছিল। শোভন একসময় শ্বশুর বাড়িতে এসেছিল। দৈবক্রমে সেইদিন ছিল একাদশী তিথি। স্বামীকে দেখে পতিপরায়ণা চন্দ্রভাগা মনে মনে চিন্তা করতে লাগল-হে ভগবান! আমার স্বামী অত্যন্ত দুর্বল, তিনি ক্ষুধা সহ্য করতে পারেন না। এখানে আমার পিতার শাসন খুবই কঠোর। দশমীর দিন তিনি নাগড়া বাজিয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, একাদশী দিনে আহার নিষিদ্ধ। আমি এখন কি করি! 

রাজার নিষেধাজ্ঞা শুনে শোভন তার প্রিয়তমা পত্নীকে বলল-হে প্রিয়ে, এখন আমার কি কর্তব্য, তা আমাকে বলো। উত্তরে রাজকন্যা বলল-হে স্বামী, আজ এই গৃহে এমনকি রাজ্যমধ্যে কেউই আহার করবে না। মানুষের কথা তো দূরে থাকুক পশুরা পর্যন্ত অন্নজল মাত্র গ্রহণ করবে না। হে নাথ, যদি তুমি এ থেকে পরিত্রাণ চাও তবে নিজগৃহে প্রত্যাবর্তন কর। এখানে আহার করলে তুমি সকলের নিন্দাভাজন হবে এবং আমার পিতাও ক্রুদ্ধ হবেন। এখন বিশেষভাবে বিচার করে যা ভাল হয়, তুমি তাই কর।

 সাধ্বী স্ত্রীর এই কথা শুনে শোভন বলল-হে প্রিয়ে! তুমি ঠিকই বলেছ। কিন্তু আমি গৃহে যাব না। এখানে থেকে একাদশী ব্রত পালন করব। ভাগ্যে যা লেখা আছে তা অবশ্যই ঘটবে। 

এইভাবে শোভন ব্রত পালনে বদ্ধপরিকর হলেন। সমস্ত দিন অতিক্রান্ত হয়ে রাত্রি শুরু হল। বৈষ্ণবদের কাছে সেই রাত্রি সত্যিই আনন্দকর। কিন্তু শোভনের পক্ষে তা ছিল বড়ই দুংখদায়ক। কেননা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় সে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ল। এভাবে রাত্রি অতিবাহিত হলে সূর্যোদয়কালে তার মৃত্যু হল। রাজা মুচুকুন্দ সাড়ম্বরে তার শবদাহকার্য সুসম্পন্ন করলেন। চন্দ্রভাগা স্বামীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সমাপ্ত করে পিতার আদেশে পিতৃগৃহেই বাস করতে লাগল।

কালক্রমে রমাব্রত প্রভাবে শোভন মন্দরাচল শিখরে অনুপম সৌন্দর্যবিশিষ্ট এক রমণীয় দেবপুরী প্রাপ্ত হলেন। একসময় মুচুকুন্দপুরের সোমশর্ম্মা নামে এক ব্রাহ্মণ তীর্থভ্রমণ করতে করতে সেখানে উপস্থিত হলেন। সেখানে রত্নমণ্ডিত বিচিত্র স্ফটিকখচিত সিংহাসনে রত্নালঙ্কারে ভূষিত রাজা শোভনকে তিনি দেখতে পেলেন। গন্ধর্ব ও অপ্সরাগণ দ্বারা নানা উপচারে সেখানে তিনি পূজিত হচ্ছিলেন। রাজা মুচুকুন্দের জামাতারূপে ব্রাহ্মণ তাকে চিনতে পেরে তার কাছে গেলেন। শোভনও সেই ব্রাহ্মণকে দেখে আসন থেকে উঠে এসে তাঁর চরণ বন্দনা করলেন। শ্বশুর মুচুকুন্দ ও স্ত্রী চন্দ্রভাগা সহ নগরবাসী সকলের কুশলবার্তা জিজ্ঞাসা করলেন। ব্রাহ্মণ সকলের কুশল সংবাদ জানালেন। জিজ্ঞাসা করলেন-এমন বিচিত্র মনোরম স্থান কেউ কখনও দেখেনি। আপনি কিভাবে এই স্থান প্রাপ্ত হলেন, তা সবিস্তারে আমার কাছে বর্ণনা করুন। শোভন বললেন যে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া রমা একাদশী সর্বব্রতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আমি তা শ্রদ্ধারহিতভাবে পালন করলেও তার আশ্চর্যজনক এই ফল লাভ করেছি। আপনি কৃপা করে চন্দ্রভাগাকে সমস্ত ঘটনা জানাবেন।

 সোমশর্ম্মা মুচুকুন্দপুরে ফিরে এসে চন্দ্রভাগার কাছে সমস্ত ঘটনার কথা জানালেন। ব্রাহ্মণের কথা শুনে অত্যন্ত আনন্দিত চন্দ্রভাগা বললেন-হে ব্রাহ্মণ! আপনার কথা আমার কাছে স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে। তখন সোমশর্ম্মা বললেন-হে পুত্রী, সেখানে তোমার স্বামীকে আমি স্বয়ং সচক্ষে দেখেছি। অগ্নিদেবের মতো দীপ্তিমান তার নগরও দর্শন করেছি। কিন্তু তার নগর স্থির নয়, তা যাতে স্থির হয় সেই মতো কোন উপায় কর। এসব কথা শুনে চন্দ্রভাগা বললেন, তাকে দেখতে আমার একান্ত ইচ্ছা হচ্ছে। আমাকে এখনই তার কাছে নিয়ে চলুন। আমি ব্রত পালনের পুণ্যপ্রভাবে এই নগরকে স্থির করে দেব। 

তখন সোমশর্ম্মা চন্দ্রভাগাকে নিয়ে মন্দার পর্বতে বামদেবের আশ্রমে উপনীত হলেন। সেখানে ঋষির কৃপায় ও হরিবাসর ব্রত পালনের ফলে চন্দ্রভাগা দিব্য শরীর ধারণ করল। দিব্য গতি লাভ করে নিজ স্বামীর নিকট উপস্থিত হলেন। প্রিয় পত্নীকে দেখে শোভন অতীব আনন্দিত হলেন।

 বহুদিন পর স্বামীর সঙ্গ লাভ করে চন্দ্রভাগা অকপটে নিজের পুণ্যকথা জানালেন। হে প্রিয়, আজ থেকে আট বছর আগে আমি যখন পিতৃগৃহে ছিলাম তখন থেকেই এই রমা একাদশীর ব্রত নিষ্ঠাসহকারে পালন করতাম। ঐ পুণ্য প্রভাবে এই নগর স্থির হবে এবং মহাপ্রলয় পর্যন্ত থাকবে। 

হে মহারাজ! মন্দারাচল পর্বতের শিখরে শোভন স্ত্রী চন্দ্রভাগা সহ দিব্যসুখ ভোগ করতে লাগলেন। পাপনাশিনী ও ভক্তি প্রদায়িনী রমা একাদশীর মাহাত্ম্য আপনার কাছে বর্ণনা করলাম। যিনি এই একাদশী ব্রত শ্রবণ করবেন, তিনি সর্বপাপ মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে পূজিত হবেন।*জয় নিতাই!*
*নিত্যানন্দ প্রভু ও গৌড়ীয় গোস্বামী সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিবিধ প্রসঙ্গ জানতে এই গ্রুপে অ্যাড হোন, বন্ধুদের অ্যাড করুন , লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন।*

https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/

*এখানে ধর্মীয় ভক্তি-জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন পোস্ট পেতে পারবেন।*
 *জয় নিতাই!*
 *জয় জয় নিতাই!!*
*🌹🌹🙏🙏🌹🌹*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
  ꧁👇📖সূচীপত্র ✍️ শ্রী গোপীশরণ দাস📖👇
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
        *গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায়*
*জগৎ শেঠ প্রথমে "উৎসাহ"পত্রে পরে "ঐতিহাসিক চিত্রে" প্রকাশিত হতে আরম্ভ হয়, উক্ত পত্রদ্বয়ে জগৎশেঠের সামান্য অংশ প্রকাশিত হয়েছিল।এক্ষণে সম্পূর্ণ গ্রন্থ প্রকাশিত হল।*
*🔷ইংরেজী ১৯১২ সালে জগৎশেঠ বইখানি প্রথম প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই তদানীন্তন ইংরেজ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়।*
**************************************
*🌻🌻ধর্ম ও আদি পুরুষ🌻🌻*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*🌹প্রকৃতির ভৈরবীমূর্তি মরুস্থলী বা মাড়বারভূমি রাঠোর বিজয় পতাকা হৃদয়ে ধারণ করে এককালে সমগ্র রাজস্থানে নিজের গৌরবপ্রভা বিস্তার করেছিল।এই মাড়বার প্রদেশে "নাগর" নামে এক প্রসিদ্ধ নগর আছে।মাড়বারের রাজধানী যোধপুরের পরই নাগর উক্ত প্রদেশের প্রধান স্থান বলে পরিকীর্তিত।খৃষ্টীয় ১৩৮২ অব্দে নাগর রাঠোরকুলশ্রেষ্ঠ চন্ড কর্তৃক অধিকৃত হয়।তদবধি সেটি যোধপুরের যুবরাজগণের বৃত্তিভূমিরূপে নির্দিষ্ট হয়ে আসছিল।রাঠোরগণের প্রভুত্বকালে নাগর হতে বার্ষিক ৭৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায়ের কথা শোনা যায়।নাগর অনেক বার মুসলমানদের দ্বারা অধিকৃত হয়েছিল। মোগরকেশরী আকবর শাহ একবার এর বক্ষে বিজয়বৈজয়ন্তী প্রোথিত করে বিকানীররাজকে উক্ত নগর সমর্পণ করেছিলেন।* 
*🔴yet surrounded by walls, Mr Habib, with a party of their best horses. having found means, to fall upon that city, before Alywerdy qhan could come up carried from Jagat-seat's house two crores of rupees, in Arcot coin only ; and this prodigious sum did not affect the two brothers, more than if it had been two trusses of straw. They continued to give afterwards to Government. as they had done before, bill of exchange, called dursunnies, of one crore at a time by which words is meant, a draft,which the acceptor. is to pay at sight without any sort of excuse In short their wealth was such that there is no mentioning it, whitout seeming to exaggerate, and to deal in extravagant fables. Thousands of their agents and factors, have acquired such fortunes in their service, as have enabled them to purchase large trabts of land, and other astonishing possession.(Seir Mutuqherin Trans. Vol. II, pp. 226-227).*
*🌹কিন্তু অবশেষে সেটি পুনর্বার যোধপুর-রাজ‍্যের অন্তর্ভূত হয়।কারও কারও মতে এই "নাগর" হতে দেবনাগর অক্ষরের উৎপত্তি হয়েছে।মাড়বারের অন্তর্গত এই সুপ্রসিদ্ধ নাগরই বাংলার "শেঠ বংশীয়দের পূর্বনিবাস"।নাগরে বহুকাল হতে জৈনধর্মাবলম্বী বণিকগণ বাস করতেন।বৌদ্ধধর্মের অবসানের পর জৈনধর্ম কিছু দিনের জন্য ভারতের কোন কোন জায়গায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল।রাজপুতানার অনেক জায়গা জৈনদের বাসভূমি হয়ে উঠে।নাগর তারমধ‍্যে একটি প্রধান জায়গা। বাংলার শেঠগণ প্রথমে উক্ত জৈনধর্মাবলম্বী ছিলেন,তাঁরা জৈনদের শ্বেতাম্বর-সম্প্রদায়ী বলে গণ‍্য হতেন। সাধারণের অবগতির জন্য আমরা প্রথমে শেঠগণের পূর্ব ধর্মের কিঞ্চিৎ আভাস প্রদান করছি।*
*🍀যৎকালে ভারতবর্ষে শাক‍্যসিংহের প্রচারিত বৌদ্ধধর্ম দিন দিন হীনপ্রভ হতে লাগল, (ধীরে ধীরে ডুবতে লাগল), সেই সময়ে জৈনধর্ম ক্রমে ক্রমে নিজের প্রসার বৃদ্ধি করতে আরম্ভ করে। জৈনধর্ম প্রাচীনকাল হতে প্রচলিত থাকলেও সাধারণত বৌদ্ধধর্মের নীতিমালার উপর বতর্মান জৈনমতের ভিত্তি সংস্থাপিত হয়। কিন্তু অন‍্যান‍্য উপকরণ মিশ্রিত হওয়ায় তার ভিত্তি সেইরকম সুদৃঢ় হতে পারেনি।সেই জন্য এটি কেবলই ভারতবর্ষে আবদ্ধ হয়ে থাকে ; ভারত ছাড়া অন‍্য কোন দেশে এর জায়গা হয়নি। জৈনধর্মের সৃষ্টিকর্তার নাম "অর্হৎ", ইনি দক্ষিণ কর্ণাটনিবাসী ও বেঙ্ককগিরির অধীশ্বর ছিলেন। অর্হৎ নৃপতি ঋষভদেবের চরিত্র আদর্শ করে তাঁর মত ধর্মপরায়ণ হবার জন্য উদাসীনবেশে ধর্মপ্রচারে রত হন।হিন্দুদের মতে ঋষভদেব ভগবান বিষ্ণুর অংশাবতার। জৈনেরা তাঁকে প্রথম অর্হৎ বলে ব‍্যক্ত করে থাকেন।জৈনগণ পরমেশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন না, তাঁদের মতে অর্হৎই পরমেশ্বর।ইঁনাদের পরমেশ্বর সর্বজ্ঞ,রাগদ্বেষাদি সমস্ত দোষজয়ী, ত্রিলোকমান‍্য ও সত‍্যবাদী।জৈনমতে ধর্মই একমাত্র মুক্তির পথ।ধর্ম দ্বারা বন্ধক্ষয় হলে জীব মুক্ত হয়, অর্থ‍্যাৎ স্বভাব-প্রাপ্ত হয়ে থাকে।মুক্তির স্বরূপ সতত উর্দ্ধগমন। এই মতে দুইটি মাত্র মূলতত্ত্ব, জীব ও অজীব তারমধ‍্যে বোধস্বরূপ জীব ও অবোধাত্মক অজীব।কোন কোন সম্প্রদায়ের মতে জীবাজীবেরও ভেদ আছে, জীব দ্বিবিধ, সংসারী ও মুক্ত।অমনস্ক,ধর্মাধর্ম,পুদ্গল(শরীর) অস্তিকায় (তত্ত্ব) প্রভৃতি ভেদে অজীব বহুবিধ।সম‍্যক্ দর্শন,সম‍্যক্ জ্ঞান ও সম‍্যক্ চরিত্র এই তিনটি মোক্ষের পথ।জৈনেরা এই তিনটিকে রত্নত্রয় নামে অভিহিত করে থাকেন।বৌদ্ধদের মত জৈনরাও অহিংসাকে পরম ধর্ম বলে মনে করে থাকেন। জৈনদের যে সমস্ত নীতি প্রচলিত আছে,তারমধ‍্যে কিছু প্রধান নীতির কথা উল্লেখ করা যাচ্ছে।*
*☘যেখানে গুণবান লোক,সত‍্য,শৌচ, প্রতিষ্ঠা,গুণগৌরব, এবং যেখানে বাস করলে অপূর্ব জ্ঞানলাভের সম্ভাবনা, সেই জায়গায় বাস করা কর্তব‍্য। উত্তম ব‍্যক্তিগণ জীর্ণ কি মলিন বস্ত্র পরিধান করবেন না। যদি প্রাজ্ঞ হও,তবে দেবতা ও বৃদ্ধদের প্রতারণা করিও না।প্রতিভূ হইও না,সাক্ষী হইও না। পেষণযন্ত্র,ছেদনযন্ত্র, জলাধার, বর্ধনী (গাড়ু, ঘটী) এই পাঁচটি ব‍্যবহার্য‍্য বস্তু হতে গৃহস্থদের ধর্মবাধক পাপ জন্মে, অর্থ‍্যাৎ এইসব জায়গায় হিংসা ঘটবার সম্ভাবনা। দয়া,দান,ইন্দ্রিয়সংযম,দেবপূজা, গুরু,ভক্তি, ক্ষমা,সত‍্য,শৌচ, তপস‍্যা,চৌর্য‍্য-বিমুখতা এইগুলি গৃহস্থদের ধর্ম। ধর্মের অবয়ব বহুবিস্তৃত হলেও তৎসমস্তের সার পরোপকার। পতিতের উদ্ধার,অহিংসা,বিনয়, ইন্দ্রিয়সংযম, ন‍্যায়পূর্বক জীবিকাগ্রহণ, মৃদুতা, এইসব ধর্ম পাপ নাশ করে।*
*🌻অতিথি,যাচক,দুঃস্থ ব‍্যক্তি গৃহাগত হলে যথাশক্তি ভক্তি-শ্রদ্ধা সহকারে তাদেরকে কৃতার্থ করে পরে তোমরা আহার করবে। পীড়িত,ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর ও ভয়যুক্ত হয়ে যদি কোন ব‍্যক্তি আগমন করে,তবে তাকে বিশেষরূপে অর্চনা করবে। দুর্লভ মনুষ‍্য জনম পেয়ে এমন কাজ করতে হবে যে,যাতে এক মুহূর্ত্ও যেন বৃথা না যায়। এই সমস্ত নীতি যে হিন্দু নীতিশাস্ত্র হতে গৃহীত হয়েছে তা স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে।বৌদ্ধ ও জৈনধর্ম হিন্দুধর্মের কাছে যে অনেক বিষয়ে ঋণী তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে।*
❤❤❤❤❤❤🌻❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
      *📿ধর্ম ও আদি পুরুষ📿*
      **************************
*🔷জৈনরা চতুর্বিংশতি তীর্থঙ্কর বা মহাপুরুষের পূজা করে থাকেন,ইঁনারা "জিন" নামে অভিহিত হন।মন্দিরে তাঁদের প্রতিমূর্তি স্থাপিত করে পূজা করা হয়।ঋষভ,অজিত, সম্ভব,অভিনন্দন,সুমতি,পদ্মপ্রভ, সুপার্শ্ব,চন্দ্রপ্রভা,পুষ্পদন্ত,শীতল, শ্রেয়াংস,বসুপূজ‍্য,বিমল,অনন্ত,ধর্ম, শান্তি,কুন্তু,অরা,মালি,সুব্রত,নাম,নেমি, পার্শ্ব ও মহাবীর এই চতুর্বিংশ জন জৈনদের জিন বা তীর্থঙ্কর।ইঁনাদের মধ্যে পার্শ্বনাথের মত ভারতের সর্বস্থানেই প্রচলিত।পার্শ্বনাথ কাশীধামের অশ্বসেন নামে জৈনরাজের পুত্র,ইঁনার মাতার নাম বামা।বামাদেবী স্বপ্নে দেখেছিলেন যে,আদি জিনেশ্বর তাঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন।পার্শ্বদেব গর্ভে অবস্থানকালে বামাদেবীর এইরকম জ্ঞান হত যেন তিনি নিজ পার্শ্বে একটি সর্প ধারণ করছেন,এইকথা তিনি মুখেও ব‍্যক্ত করতেন।সেই কারণে তাঁর পিতা তাঁকে "পার্শ্ব" বলে অভিহিত করেন।পার্শ্বনাথের বাল‍্যকাল ও যৌবনকাল নির্দোষে অতিবাহিত হয়েছিল,বার্ধক‍্যে তিনি কাশীবাস পরিত‍্যাগ করে সম্মেত পর্বতে প্রাণত‍্যাগ করেন।তিনি শত বৎসর জীবিত ছিলেন,তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময়ই উপদেশপ্রধান ও ধর্মপ্রচার প্রভৃতি সদ-অনুষ্ঠানে অতিবাহিত হ'ত।জৈনদের চতুর্বিংতিতম তীর্থঙ্কর মহাবীরও জৈনধর্ম প্রচারের জন্য অপরিসীম যত্ন করেছিলেন।আবুগির্ণার,শত্রুঞ্জয় ও পার্শ্বনাথ পর্বত জৈনদের প্রধান তীর্থ স্থান।এদের মধ্যে শত্রুঞ্জয় মাহাত্ম্যে প্রসিদ্ধ।জৈনদের পূজক ও সাধুদেরকে যতি বলা হয়।তাঁরা জৈনধর্মের দার্শনিক মতের বিষয় সম‍্যক্ অবগত না।ধর্মই জগতের সার,যেহেতু ধর্মই সুখমাত্রেই প্রধান কারণ,ধর্মের উৎপত্তি কারণ মানুষ, সেই কারণে মনুষ‍্য জীবের সার,যারদ্বারা মানুষের উৎকর্ষ-লাভ হয়,তাইই ধর্ম--, ইত্যাদি কিছু স্থূল নীতিমাত্র ইঁনারা জানতেন।দেবমন্দিরে পাঠ,সাধুদের বন্দনা, তীর্থভ্রমণ,পরস্পর মিত্রভাবে থাকা ও ইন্দ্রিয়দমন এই পাঁচটি যতিদের অবশ‍্য কর্তব‍্য কার্য‍্য বলে উল্লিখিত হয়।মুখবন্ধন,পিচ্ছিকাগ্রহণ,কেশোল্লুঞ্চন প্রভৃতি কয়েকটি জৈনদের অসাধারণ ধর্ম আছে, অন‍্য কোন জাতির মধ্যে এসব দেখা যায় না।শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর ভেদে জৈনেরা সাধারণতঃ দুইটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত।তাঁদের সাধারণ লক্ষণ এই যে,শ্বেতাম্বরগণ ক্ষমাশীল,সঙ্গ-রহিত, কেশসংস্কার-বিহীন ও ভিক্ষান্নভোজী হয়ে থাকেন।দিগম্বরগণ পিচ্ছিকা (চামরধারী) ও পয়ঃপাত্রধারী এবং নিরাবরণ অর্থ‍্যাৎ উলঙ্গ।শ্বেতাম্বরগণ বস্ত্র পরিধান করেন।তাঁরা স্ত্রীসম্ভোগে একান্ত বিরত, কিন্তু দিগম্বরগণ স্ত্রীসম্ভোগে রত।জগৎশেঠগণ পূর্বে উক্ত শ্বেতাম্বর জৈনসম্ম্রদায়ভুক্ত ছিলেন, পরে বাংলার বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করেন।*
*🌺নাগরবাসী শ্বেতাম্বর জৈনদের মধ্যে হীরানন্দ একজন সামান্য গৃহস্থ ছিলেন।মাড়বারিগণ চিরদিন হতে ব‍্যবসায় বাণিজ‍্যে নিজেদের শ্রীবৃদ্ধি সম্পাদন করে আসছেন।তাঁদের মধ্যে জৈনগণই উক্ত কাজে বিশেষ পটু। ভারতবর্ষের এমন কোন নগর নাই,যেখানে অনন্তঃ দুই-চারজন মাড়বারি ব‍্যবসায়ের জন্য বাস করতেন না।কলকাতা,মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জায়গা তাঁদের এক একটি উপনিবেশ বললেও বেশী বলা হবে না।কলকাতার বড়বাজার ও মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ,বালুচর প্রভৃতি জায়গা এই সমস্ত মাড়বারি বণিক সম্প্রদায়ের প্রধান জায়গা।মুর্শিদাবাদবাসী মাড়বারিও আছেন, ঐসব জায়গা বাণিজ‍্যলক্ষ্মীর প্রিয় বাসনিকেতন হওয়াই, সেখানে প্রতিনিয়ত উন্নতির স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে।দুঃখের বিষয় মুর্শিদাবাদের জৈন বণিক-সম্প্রদায় কিঞ্চিৎ শ্রীহীন হয়ে পড়েছে।এই সমস্ত মাড়বারি বণিকগণ কেবল ভারতবর্ষে আবদ্ধ না থেকে বিশাল সাগর অতিক্রম করে জাঞ্জিবার,নেটাল প্রভৃতি আফ্রিকার উপকূলহমূহেও বাণিজ‍্য করবার জন্য বসবাস করছেন।তাঁদের এইরকম সমুদ্রযাত্রা নিতান্ত আধুনিক না,বহুদিন হতে তাঁদের মধ্যে উক্ত প্রথা প্রচলিত রয়েছে।হীরানন্দ সেই জাতির মধ্যে জন্ম পরিগ্রহ করায় নিতান্ত সম্বলহীন হলেও তাঁর বাণিজ‍্য পিপাসা বলবতী হয়ে উঠে।তিনি ব‍্যবসায়কার্য‍্যে উন্নতি লাভ করবার ইচ্ছায় নিজের সামান্য মূলধন নিয়ে ছাতু,ভুট্টা,লঙ্কা ও লবণের আহারে পরিতৃপ্ত হয়ে পর্বত,নদী,গ্রাম,নগর অতিক্রম করতে করতে প্রাচীন পাটলীপুত্র বা বতর্মান পাটনা নগরীতে এসে উপস্থিত হলেন।সেইসময় তিনি পাটনায় শ্রীশালিনী হয়ে ওঠেন।*

*মোঘল রাজত্বে ভারতবর্ষে যে বাণিজ‍্যের অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছিল এটি সর্ববাদীসম্মত।দেশীয় বণিকসম্প্রদায় ছাড়া ইউরোপীয় বণিকগণ সেইসময় পাটনায় কুঠী স্থাপন করে সুচারুরূপে বাণিজ‍্যকার্য‍্য পরিচালনা করেছিলেন।শোণ,গন্ডবত ও গঙ্গা সম্মিলিত হয়ে পাটনাকে বাণিজ‍্যকার্য‍্যের উপযুক্ত স্থান করে তুলেছিল।এই জন্য উত্তরপশ্চিম প্রদেশ,নেপাল,ও বাংলার বাণিজ‍্যের সঙ্গে চিরদিন হতে এদের গাঢ় সম্বন্ধ ছিল।সপ্তদশ শতাব্দীতে এর ব‍্যবস‍াবাণিজ‍্য উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে।তুলা,সরিসা,এরন্ড, নীল,লবণ প্রভৃতির বাণিজ‍্যের জন্য এটি চিরবিখ‍্যাত।হীরানন্দ ব‍্যবসায় বাণিজ‍্যে সর্বদা কোলাহলময় পাটনানগরীতে উপস্থিত হয়ে নিজ ভাগ‍্যোদয়ের জন্য যত্নবান হলেন।পাটনা বাণিজ‍্যের প্রধান জায়গা হওয়ায়,সেখানে অনেক মহাজনের গদী সংস্থাপিত ছিল।ব‍্যবসায়ীগণ সেই সমস্ত গদী হতে প্রয়োজন অনুসারে অর্থ গ্রহণ করতেন।যাঁরা গদীয়ানের কাজ করতেন,অল্প সময়ের মধ্যে তাঁরা বিপুর সম্পত্তির অধীশ্বর হতেন।কোন গদীর সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপন করতে পারলে অল্প দিনের মধ্যে ভাগ‍্যলক্ষ্মীর অনুগ্রহ লাভ হবে বিবেচনা করে হীরানন্দ সেই চেষ্টায় রত হলেন। কিন্তু প্রথমে ভাগ‍্যলক্ষ্মী তাঁর প্রতি প্রসন্না হলেন না! তিনি যে গদীয়ানের কাছে পরিচিত হতে যান,তিনি তাকে নবাগত দেখে তাঁর প্রতি সেইরকম বিশ্বাস স্থাপন করতে অনিচ্ছুক হন।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🔴🌲🌲🌲🌲🌲🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
             *ধর্ম ও আদি পুরুষ*
         --------------------------------------
*🌹কোনভাবে কোন গদীয়ানের কাছে পরিচিত হতে না পেরে তিনি অত‍্যন্ত মনঃকষ্টে পীড়িত হতে লাগলেন।তিনি তাঁর সুদূর জন্মভূমি মাড়বার পরিত‍্যাগ করে ভাগ‍্যোদয়ের জন্য কত কষ্ট সহ‍্য করে পাটনায় উপস্থিত হলেন। কিন্তু ভাগ‍্যলক্ষ্মীর বিন্দুমাত্রও করুণা তাঁর উপর নিপতিত হল না।এইরকম হতাশ অন্তঃকরণে তাঁকে সময় অতিবাহিত করতে বাধ‍্য হতে হল।একদিন বিষণ্ন চিত্তে তিনি নগরের বাইরে ভ্রমণ করতে লাগলেন।কিছু দূর যেতে যেতে তিনি একটি নিবিড় বনমধ‍্যে প্রবেশ করলেন।তার মন এত চিন্তাকুল হয়ে ছিল যে, তিনি বুঝতে পারেননি যে, তিনি একটি নিবিড় জঙ্গলমধ‍্যে প্রবেশ করেছিলেন।তখন সন্ধ‍্যা হয়ে এসেছে।চন্দ্রালোকের স্নিগ্ধ জ‍্যোতিতে শ‍্যামল বৃক্ষরাজি হাসছিল,পাখীগুলি পাখার শব্দ করতে করতে বৃক্ষশাখায় আশ্রয় নিতেছিল।ক্রমে ঝিল্লীরবে অরণ‍্যানী ঈষৎ মুখরা হয়ে উঠিল।প্রকৃতির সেই মনোহারিণী শোভা দেখতে দেখতে হীরানন্দ ক্রমে অরণ‍্যের বহুদুরে এসে পড়লেন।সহসা এক যাতনাব‍্যঞ্জক আর্তনাদ তাঁর কানে এসে প্রবেশ করল।সেই শব্দ শোনামাত্র তাঁর চমক ভেঙ্গে গেল।কোথা থেকে সেই শব্দ আসছে, তা জানবার জন্য তিনি ব‍্যগ্র হয়ে পড়লেন।ক্রমে ক্রমে সেই শব্দের দিকনির্ণয় করে তিনি তার অনুসরণে রত হলেন।যে জায়গা হতে শব্দ আসছিল, অনুসন্ধানের পর তিনি সেই জায়গার আবিস্কারে সমর্থ হলেন।দেখলেন,একটি ভাঙ্গা অট্টালিকা, সেই ভাঙ্গা অট্টালিকার মধ্যে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পেলেন,তার কোন প্রকোষ্ঠে একটি মুমূর্ষু বৃদ্ধ যন্ত্রণায় আর্তনাদ করছে।হীরানন্দ বৃদ্ধের সেই অবস্থা দেখে আর স্থির থাকতে পারলেন না, তিনি তৎক্ষণাৎ তার সেবায় প্রবৃত্ত হলেন।তার শুশ্রূষায় বৃদ্ধের যন্ত্রণার কিছু উপশম হল বটে, কিন্তু তার জীবনদীপ ক্রমশ নির্বাণোন্মুখ হয়ে আসিল। হীরানন্দ বহু চেষ্টা করেও তাকে সেই মহাযাত্রা হতে ফিরাতে পারলেন না, অল্পক্ষণের মধ্যে বৃদ্ধ চিরদিনের জন্য চক্ষু মুদিত করল।মরবার পূর্বে বৃদ্ধ হীরানন্দকে সঙ্কেত করে গৃহের এক কোণে অঙ্গুলী নির্দেশ করে যায়।হীরানন্দের সেবায় তুষ্ট হয়ে প্রত‍্যুপকার-স্বরূপ যেন বৃদ্ধ ঐরকম করেছিল বলে বোধ হয়।হীরানন্দ একাকী যথাসাধ‍্য বৃদ্ধের সৎকার করে পরে গৃহের সেই কোণে খননে রত হলেন,খনন করতে করতে বুঝতে পারলেন যে,বৃদ্ধ তাতে অপরিমিত ধনের অধিকারী করে গিয়েছে।যতই খনন করেন,ততই তাঁর হৃদয় উৎফুল্ল হয়ে উঠে।অবশেষে তিনি সেই সমস্ত অর্থ হাতে নিয়ে মনে মনে ভাগ‍্যলক্ষ্মীকে কোটি কোটি প্রণাম করতে লাগলেন।সেই বিপুল ধনরাশি নিয়ে হীরানন্দ পাটনায় একটি গদী স্থাপিত করলেন।এক্ষণে তিনি অন‍্যান‍্য গদীয়ানদেরকে আর গণনার মধ্যে আনতে চাইলেন না।তিনি অন‍্যান‍্য গদীয়ান অপেক্ষা কিছু অল্প সুদে অর্থ দিতে লাগলেন,ক্রমে সমস্ত ব‍্যবসায়ীগণই তাঁর গদীর কথা জানতে পারল, এবং বহুলোকে তাঁরই গদী হতে প্রয়োজন অনুসারে অর্থ গ্রহণ করতে লাগল।অল্পদিনের মধ্যে গদীয়ানের কাজ করে তিনি প্রচুর সম্পত্তির অধীশ্বর হলেন।অর্থলাভের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সুসন্তান লাভেরও আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তিনি গোবর্ধন,সদানন্দ,রূপচাঁদ,মুলুকচাঁদ, আমীনচাঁদ, নয়নচাঁদ ও মানিকচাঁদ নামে সাতটি পুত্র লাভ করলেন।ধনবাঈ নামে তাঁর একটি কন‍্যারও উল্লেখ দেখা যায়।শেঠ উদয়চাঁদ নামক কোন এক যুবকের সঙ্গে তার পরিণয় সংঘটিত হয়।হীরানন্দের পুত্র সাতটিই সুসন্তান হয়েছিলেন,তাঁরাও পিতার মত কার্য‍্যপটু ও ব‍্যবসায়কার্য‍্যে অত‍্যন্ত অভিজ্ঞতা লাভ করেন।এইভাবে "ধনে পুত্রে লক্ষ্মীলাভ" করে হীরানন্দ মহানন্দে দিনযাপন করতে লাগলেন।সর্বদা নিজ জীবনকে যেরকম অকিঞ্চিৎকর বিবেচনা করতেন, এক্ষণে সেই ভাগ‍্যলক্ষ্মী যেন নিজহাতে তাঁকে আশীর্মাল‍্য পরিয়ে দিলেন।এই চিন্তায় তিনি অত‍্যন্ত উৎফুল্ল হতে লাগলেন।যখন তাঁর গদীর কাজ অত‍্যন্ত ভাবে চলতে লাগল, তখন তিনি উত্তরপশ্চিম প্রদেশে বাংলার প্রধান প্রধান জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন গদী স্থাপনে রত হলেন।দিল্লী,আগ্রা,পাটনা,ঢাকা প্রভৃতি সাতটি জায়গায় তিনি সাতটি পুত্রের জন্য সাতটি আলাদা আলাদা গদী সংস্থাপিত করে দিলেন।তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র মানিকচাঁদ ঢাকার গদীর ভারপ্রাপ্ত হন।এই মানিকচাঁদ হতেই মুর্শিদাবাদের জগ‍ৎ শেঠগণের উৎপত্তি।এইভাবে সাত পুত্রের দ্বারা গদীর কাজ সুচারুরূপে নির্বাহিত হতে দেখে হীরানন্দ যথাসময়ে এ জগৎ হতে চিরবিদায় গ্রহণ করলেন।উক্ত সাত পুত্রের মধ্যে মানিকচাঁদের নামই ক্রমশ সমস্ত উত্তর ভারতবর্ষে প্রচারিত হয়ে পড়ে।*
*🌻ধর্ম ও আদি পুরুষ এখানেই বিরাম হ'ল।*
*🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪷🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪) 🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
              *🏢মানিকচাঁদ🏢*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🔴খৃষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে ঢাকা নগরী বাংলা বিহার ও উড়িষ‍্যার রাজধানীপদে প্রতিষ্ঠিত ছিল।বাংলার প্রাচীন রাজধানী গৌড় মহামারীতে বিধ্বস্ত হলে,বঙ্গসিংহাসন ঢাঁড়া,রাজমহল প্রভৃতি জায়গায় কিছুদিন অবস্থান করে,অবশেষে পূর্ববঙ্গের গৌরবস্থল ঢাকায় আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ‍্য হয়।ষোড়শ শতাব্দী হতে নিম্নবঙ্গ নানারূপ অত‍্যাচার সহ‍্য করছিল।পর্তুগীজ,মগ প্রভৃতি দস‍্যুগণের উপদ্রবে বঙ্গভূমি জলে স্থলে সর্বত্রই সন্ত্রাসিত হয়ে উঠেছিল, এর সঙ্গে উড়িষ‍্যার পাঠানদের অত‍্যাচারও যুক্ত হয়।এছাড়াও ইউরোপীয়গণ সেই সময়ে বাণিজ‍্যের জন্য বঙ্গদেশকে একরকম নিজেদের বাসভূমি করে তুলেছিল। বাংলার শেষপ্রান্তে রাজধানী স্থাপিত হওয়াই তাঁরা অনেক পরিমাণে অবাধ বাণিজ‍্য সুখভোগ করছিলেন।এই সমস্ত বিষয়ে দৃষ্টি রাখবার জন্য ঢাকা রাজধানীর উপযুক্ত জায়গা বলে বিবেচিত হয়।১৬০৮ খৃষ্টাব্দে ইসলাম খাঁ বাংলার সুবেদার পদে প্রতিষ্ঠিত হলে, তিনি পূর্বোক্ত উপদ্রব সব নিবারণের জন্য, বিশেষ করে ফিরিঙ্গী জলদস‍্যুদেরকে উপযুক্ত শিক্ষা দিবার ইচ্ছায়,ঢাকায় মসনদ স্থাপন করতে বাধ‍্য হন। কিন্তু ১৬৩১ খৃষ্টাব্দে সা সুজা পুনর্বার রাজমহলে মসনদ নিয়ে আসেন।সম্রাট শাহজাহানের মৃত‍্যুর পর তাঁর পুত্রদের মধ্যে অন্তর্বিবাদ উপস্থিত হলে,ঔরঙ্গজেব সা সুজাকে দমন করবার জন্য তাঁর প্রধান সেনাপতি মীরজুল্মাকে প্রেরণ করেন।মীরজুল্মা সা সুজাকে রাজমহল হতে বিতারিত করে পূর্ববঙ্গে, পরে আরাকান প্রদেশে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ‍্য করেন।সেখানে সা সুজার মৃত‍্যু হলে,মীরজুল্মা বাংলার সুবাদার হয়ে পূর্ববঙ্গেই অবস্থান করতে থাকেন, এবং আসাম কুচবিহার প্রভৃতি আক্রমণের পর অবশেষে ঢাকায় এসে তাঁর জীবনবায়ুর অবসান হয়।তাঁর পরেই সুপ্রসিদ্ধ সায়েস্তা খাঁ বাংলার সুবাদারীর ভার প্রাপ্ত হয়েছিলেন। সেই সময়ে আবার আরাকান ও পর্তুগীজ দস‍্যুদের উপদ্রব আরম্ভ হওয়ায় তিনি ঢাকাতেই রাজধানী পুনঃস্থাপিত করতে বাধ‍্য হন।খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে মুর্শিদকুলী খাঁ মুর্শিদাবাদে রাজধানী স্থাপন করেন।মুর্শিদাবাদই বাংলা বিহার ও উড়িষ‍্যার শেষ মুসলমান রাজধানী।*
*🍀সপ্টদশ শতাব্দীর শেষভাগে সেইসময়ে ঢাকা বাংলার রাজধানী পদে প্রতিষ্ঠিত ছিল,সেই সময়ে বাণিজ‍্যাদি ব‍্যাপারে এর অত‍্যন্ত শ্রীবৃদ্ধি সাধিত হয়। নবাব সায়েস্তা খাঁর শাসন সময়ে ঢাকা বিশেষকরে উন্নতি লাভ করে।রাজস্ব,বাণিজ‍্য ও অন‍্যান‍্য ব‍্যবসায়ের জন্য ঢাকা নগরীতে প্রতিনিয়ত অর্থের প্রয়োজন হ'ত,সেই জন্য হীরানন্দ এখানে একটি গদী স্থাপিত করেছিলেন। মানিকচাঁদ সেই গদীর ভারপ্রাপ্ত হয়েছিলেন,এর আগে উল্লিখিত হয়েছে।মানিকচাঁদ অত‍্যন্ত কার্য‍্যদক্ষ ছিলেন,তিনি দিন দিন ঢাকার গদীর উন্নতি সাধন করতে লাগলেন।সেইসময়ে স্বর্ণ প্রসবিনী বঙ্গভূমি বাণিজ‍্য স্রোতে প্রতিনিয়ত ভাসমান থাকায় ঢাকার গদী শেঠদের মধ্যে দারুণ ভাবে উন্নতি লাভ করে।এমন কি দিল্লী,আগরার গদী অপেক্ষা এরই প্রসিদ্ধি ব‍্যাপ্ত হয়ে পড়ে।সেই সময়ে মানিকচাঁদ ঢাকায় গদীয়ানের কাজ করছিলেন, সেই সময়ই ঔরঙ্গজেবের পৌত্র আজিম ওশ্বান বাংলার সুবেদারী পদে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।তাঁর সঙ্গে মানিকচাঁদের যথেষ্ট পরিচয় হয়। অনেক সময়ে নবাবকে শেঠদের গদী হতে অর্থাদি নিতে হত বলে এই পরিচয় ঘটেছিল।এই সময়ে মুর্শিকুলী খাঁ বাংলার দেওয়ান হয়ে ঢাকায় উপস্থিত হলেন।রাজস্ব বিষয়ের সমস্ত ভার দেওয়ানের প্রতি ন‍্যস্ত বা অর্পিত থাকায় মানিকচাঁদের সঙ্গে অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর পরিচয় হল।কেবল পরিচয় নয়,ক্রমে ক্রমে উভয়ের মধ্যে বেশ একটু সৌহার্দ্যও স্থাপিত হয়।তৎকালে দেওয়ানের ক্ষমতা প্রচুর ছিল। সুতরাং দেওয়ান (রাজস্ব বিভাগীয় মন্ত্রী) মুর্শিদের উৎসাহে ও সাহায্যে মানিকচাঁদের যে দিন দিন উন্নতি লাভ হবে,তাতে আর সন্দেহ কি? বাস্তবিকই দেওয়ানের জন্য তাঁর উন্নতি ক্রমেই বর্ধিত হতে লাগিল।*
*🌳মোগল বাদশাহীদের সময় হতে বাংলার রাজস্ব সম্বন্ধে সুবন্দোবস্ত হয়।সম্রাট ঔরঙ্গজেব উক্ত রাজস্বের বন্দোবস্তের জন্য দেওয়ানের পদ সৃষ্টি করেন।তাঁর আর এক উদ্দেশ্য ছিল যে,নবাবের হাত হতে কিছু ক্ষমতা নিয়ে আর একজন প্রধান কর্মারীকে অর্পণ করলে,উভয়েরই ক্ষমতা কতকটা সুসংযত হবে।একজনের হাতে সমস্ত ক্ষমতা থাকলে ভবিষ্যতে নানারকম গোলযোগ ঘটতে পারে। সেই সময় হতে নাজিম বা দেওয়ান এই দুই পৃথক পদের সৃষ্টি হয়। যুদ্ধ ও শাসনসংক্রান্ত সমস্ত ভার নাজিমের (মুসলমান গর্ভনরের) উপর ন‍্যস্ত হত। তিনিই সাধারণত নবাব বা সুবাদার নামে অভিহিত হতেন।দেওয়ান রাজস্ব-সংগ্রহ,তার বন্দোবস্ত ও সেইরকম অন‍্যান‍্য কাজ এবং কোষাধ‍্যক্ষেরও কাজ করতেন।তাঁর হাত হতে রাজ‍্যসংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে অর্থাদির ব‍্যয় হত।এমন কি নাজিমকে পর্যন্তও দেওয়ানের কাছ হতেই বেতন গ্রহণ করতে হত।এতে বুঝা যায় যে,দেওয়ানেরও ক্ষমতা নিতান্ত কম ছিল না, অথচ একজনে সম্পূর্ণ ক্ষমতা প্রাপ্ত হতেন না।মুর্শিদকুলী খাঁর আগে বাংলা হতে অতি অল্প পরিমাণেই রাজস্ব সংগৃহীত হত, অথচ বাংলা চিরদিনই স্থর্ণপ্রসবিনী বলে বিখ‍্যাত ছিল।বাংলার রাজস্ব অনেক অসৎ উপায়ে ব‍্যয় হত এবং সেটি অনেক ভূমি জায়গীররূপে নির্দিষ্ট থাকায় বেশী পরিমাণে রাজস্ব আদায় হতে পারত না। বাংলার রাজস্বের ক্রমেই লাঘব হচ্ছে দেখে বাদশাহ ঔরঙ্গজেব এর সুবন্দোবস্তের জন্য কার্যদক্ষ মুর্শিদকুলী খাঁকে বাংলায় পাঠিয়ে দেন। মুর্শিদকুলী খাঁ ব্রাহ্মণের সন্তান বলে বিখ‍্যাত।একজন পারসীক সওদাগর তাঁকে দাসরূপে ক্রয় করে পারস‍্যে নিয়ে যান এবং সেখানে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত করেন।তিনি সেখান হতে দাক্ষিণাত‍্যে আগমন করে "বেরারের" দেওয়ানের অধীন কিছুদিন কাজ করেছিলেন।এইসময়ে তাঁর আয়,ব‍্যয়, হিসাব নিকাশ প্রভৃতি বিষয়ে বিশিষ্ট জ্ঞানের কথা ছড়িয়ে পড়ে।বাদশাহ ঔরঙ্গজেব সেই সময়ে দাক্ষিণাত‍্যে ছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলীর কার্যদক্ষতার কথা জেনে তাঁকে হায়দরাবাদে দেওয়ানী পদে নিযুক্ত করেন।পরে সেখান হতে ১৭০১ খৃষ্টাব্দে বাংলায় পাঠিয়ে দেন।সেই সময়ে বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের পৌত্র আজিম ওশ্বান বাংলার সুবাদারী পদে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।মুর্শিদকুলী ঢাকায় এসে রাজস্ব আদায়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সরকারে নিজের পরিচিত লোক সব পাঠিয়ে দিলেন।এইভাবে মুর্শিদকুলী রাজস্ব আদায়ের বন্দোবস্ত করলেন।জায়গীর ভূমি সব বাংলা হতে উঠিয়ে তার পরিবর্তে উড়িষ‍্যা প্রদেশে নির্দিষ্ট করলেন।(জায়গীর=কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ রাজদত্ত জমি ; ভূপতির দেওয়া পারিতোষিক স্বরূপ নিষ্করজমি বা পেনশন স্বরূপ প্রাপ্ত ভূসম্পত্তি)।তাঁর বন্দোবস্তে বাংলা হতে সেইসময় কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতে লাগল।রাজ‍্য-সংক্রান্ত যাবতীয় আয়ব‍্যয়াদির ভার তাঁর হাতে অর্পিত হওয়ায় দেওয়ান মুর্শিদকুলী খাঁকে অনেক সময়ে প্রয়োজন অনুসারে শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গে আদান প্রদান ব‍্যাপারে লিপ্ত হতে হয়েছিল।ক্রমে উভয়ের মধ্যে বিশেষ একটু ঘনিষ্ঠতাও হয়। দেওয়ান রাজস্ব বন্দোবস্ত প্রভৃতি বিষয়ে মানিকচাঁদের কাছ হতে অনেক পরামর্শ গ্রহণ করতেন, এবং যাতে মানিকচাঁদের গদীর উন্নতি সাধন হয়,সে বিষয়েও দেওয়ানের যথেষ্ট চেষ্টা ছিল।এইরকমে দেওয়ানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ হওয়ায় লোকে শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গেই আদান প্রদান করতে লাগলেন।কি জমিদার,কি ব‍্যবসায়ী সকলেই মানিকচাঁদের গদীতে কারবার আরম্ভ করলেন,কাজেই দিন দিন তাঁর লক্ষ্মীলাভ হতে লাগিল।*
⚪⚪⚪⚪⚪⚪🌹⚪⚪⚪⚪⚪⚪
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
              *🏢মানিকচাঁদ🏢*
        ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀মুর্শিদকুলী খাঁ সম্রাট ঔরঙ্গজেবের অত‍্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন।তাঁর কর্মদক্ষতায় এর একমাত্র কারণ।বিশেষ করে বাংলার এইরকম সুবন্দোবস্তে তিনি মুর্শিদের প্রতি অত‍্যন্ত প্রীত হয়েছিলেন।মুর্শিদের প্রতি সম্রাট ঔরঙ্গজেবের এরকম প্রীতি নবার আজিম ওশ্বানের ভাল লাগত না। তিনি সম্রাটবংশধর,কাজেই দেওয়ানের এরকম ক্ষমতা-বিস্তার তাঁর পক্ষে অসহ‍্য বোধ হতে লাগল।বিশেষ করে রাজ‍্যের সমস্ত আয়-ব‍্যয় মুর্শিদের মত দেওয়ানের হাতে অর্পিত হওয়ায়,তাঁর বিলাস বিভ্রমেরও অনেক বিঘ্ন উপস্থিত হল।এই সমস্ত কারণে তিনি মুর্শিদকে অপদস্থ করতে যত্নবান হলেন ; কেবল তাইই নয়,তাঁর প্রাণসংহারের ষড়যন্ত্র পর্যন্ত হল।নবাবের অধীন একজন সেনাপতি নিজেদের বেতন আদায় করবার ছলে দেওয়ানকে আক্রমণ করবার জন্য নবাবের অনুমতি চাহে।নবাব গোপনে তাতে সম্মতি দেন।প্রকাশ‍্যে দেওয়ানের প্রতি কোনরকম অত‍্যাচার করলে পরে সম্রাট বিরক্ত হন, এই জন্য তিনি কৌশল অবলম্বন করতে বাধ‍্য হয়েছিলেন।উক্ত সেনাপতি নিজের দলবল নিয়ে পথিমধ‍্যে দেওয়ানকে আক্রমণ করে ; কিন্তু সে সময়ে দেওয়ান এরকম সাহস দেখালেন যে,অবশেষে তারা পালিয়ে যেতে বাধ‍্য হয়। সমস্তই আজিম ওশ্বানের সম্মতিতে হয়েছে এটি বুঝতে দেওয়ানের অসুবিধা হল না।তিনি প্রাসাদে গিয়ে নবাবকে যৎপরোনাস্তি (অতিশয়)তিরস্কার করলেন।নবাব নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য উক্ত সেনাপতিকে ডেকে পাঠিয়ে দেওয়ানের সামনেই তার প্রতি অনেক তীব্র শাসনবাক‍্য প্রয়োগ করেন।দেওয়ান তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে অবিলম্বে তাদের সমস্ত প্রাপ‍্য পাবার বন্দোবস্ত করে দিলেন এবং নবাবের প্রতি অত‍্যন্ত বিরক্ত হলেন।*
*🌺নবাব আজিম ওশ্বানের সঙ্গে এইরকম মনোবিবাদ ঘটায় দেওয়ান মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকায় থাকা নিরাপদ মনে করলেন না।তিনি সমস্ত ঘটনাই সম্রাটের কাছে লিখে পাঠালেন।পরে আপনার আত্মীয় বন্ধু-বান্ধব, অধীন কর্মচারী বিশেষ করে শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঢাকা পরিত‍্যাগ করাই শ্রেয় মনে করলেন।দেওয়ানের সঙ্গে তাঁর অধীন দেওয়ানী বিভাগের সমস্ত কর্মচারী আসতে প্রস্তুত হল।মুর্শিদকুলী খাঁ শেঠ মানিকচাঁদকেও সেই সঙ্গে আসতে অনুরোধ করলেন, এবং তাঁকে এইরকম সাহস প্রদান করলেন যে,যতদিন বঙ্গরাজ‍্যের কোন না কোন ভার তাঁর উপর অর্পিত থাকবে,ততদিন যাতে শেঠ মানিকচাঁদ বাংলার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ গদীয়ান বলে প্রতিপন্ন হন,সে বিষয়ে তাঁর বিশেষ ভাবে দৃষ্টি থাকবে।মানিকচাঁদ মুর্শিদকুলীর দ্বারা অত‍্যন্ত উপকৃত হয়েছিলেন।তিনি আরও দেখলেন যে,ঢাকা হতে দেওয়ানী বিভাগ স্থানান্তরিত হলে,সেখানে আর গদীর কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন হওয়া কষ্টকর হবে,পরন্তু তাঁর প্রতি যদি দেওয়ানের অনুগ্রহদৃষ্টি থাকে,তাহলে ভবিষ্যতে তাঁর যে অনেক অনেক উন্নতি সাধিত হবে,সে বিষয়ে অণুমাত্র সন্দেহ নাই।বিশেষ করে দেওয়ান মুর্শাদকুলী খাঁ মূকসুদাবাদে দেওয়ানী বিভাগ নিয়ে যেতে ইচ্ছে করেছিলেন।সেই সময়ে মূকসুদাবাদের নিকটস্থ বঙ্গের প্রধান বন্দর কাশীমবাজার দিন দিন বাণিজ‍্যে শ্রীশালী হয়ে উঠছিল।মূকসুদাবাদে গমন করলে প্রধান প্রধান বণিকসম্প্রদায়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ হতে পারবে, ইত্যাদি মনে করে তিনি দেওয়ানের সঙ্গে ঢাকা পরিত‍্যাগ করতে কৃতসঙ্কল্প হলেন। যদিও এক জায়গা হতে অন‍্য জায়গায় ব‍্যবসায় উঠিয়ে নিয়ে গেলে প্রথমতঃ কিছু ক্ষতি স্বীকার করতে হয়, তথাপি ভবিষ্যতে যদি সে বিষয়ের অপরিসীম উন্নতি সম্ভাবনা থাকে,তাতে সেরকম আপাতক্ষতি সহ‍্য করতে বিচক্ষণমাত্রেই কুন্ঠিত হন না।বাস্তবিক পরিশেষে শেঠ মানিকচাঁদের পক্ষে তাইই ঘটেছিল।মূকসুদাবাদে আসার পর শেঠদের শ্রীবৃদ্ধি উত্তরোত্তর চরম সীমায় উপনীত হতে আরম্ভ হয়।*
*☘মুর্শিদকুলী খাঁ মূকসুদাবাদকে বাংলার মধ‍্যস্থলে ও ভাগীরথীতীরে অবস্থিত বলে দেওয়ানীর উপযুক্ত স্থান বিবেচনা করেছিলেন। সেইসময়ে ভাগীরথী বাংলার বাণিজ‍্যকার্য-পরিচালনের একমাত্র প্রধান উপায় ছিল।*

*কাশীমবাজার,হুগলী প্রভৃতি প্রধান প্রধান বন্দর এরই তীরে অবস্থিত ছিল।ইউরোপীয়গণ নানারকম বাণিজ‍্য অতি চতুরতার সঙ্গে নির্বাহ করতেন।তাঁদের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হলে মূকসুদাবাদের মত জায়গায় উপযুক্ত।পূর্ববঙ্গ অপেক্ষা সেইসময়ে এর স্বাস্থ‍্যও ভাল ছিল, এবং আরাকানী,পর্তুগীজ প্রভৃতি দস‍্যুগণের উপদ্রব সে সময়ে শান্ত হয়েছিল। সুতরাং সে সময় পূর্ববঙ্গে থাকার বিশেষ কোন প্রয়োজন ছিল না। বিশেষ করে শান্তিস্থাপন বিষয়ের সঙ্গে নাজিমেরই সম্বন্ধ ছিল,দেওয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্বন্ধ ছিল না।বিহার ও উড়িষ‍্যার সঙ্গে সম্বন্ধ রাখতে হলে মূকসুদাবাদের মত জায়গায়ই অবস্থান করা কর্তব‍্য।কারণ মূকসুদাবাদ হতে উভয় প্রদেশে যাতায়াতের সুগম পথ বিদ‍্যমান ছিল। এসব কারণে মুর্শিদকুলী খাঁ মুর্শিদাবাদে দেওয়ানী বিভাগ স্থাপন করতে কৃতসঙ্কল্প হন।তিনি ১৭০৩ খৃষ্টাব্দে দেওয়ানী বিভাগের সমস্ত কর্মচারী,শেঠ মানিকচাঁদ ও অন‍্যান‍্য আত্মীয় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঢাকা পরিত‍্যাগ করে মূকসুদাবাদে উপস্থিত হলেন।মুর্শিদাবাদের বতর্মান কেল্লার মধ্যেই তিনি নিজ বাসভবন নির্মাণ করেন।শেঠ মানিকচাঁদ তার কাছে মহিমাপুর নামক জায়গায় বসবাস করবার জন্য ঠিক করলেন।মহিমাপুর মুর্শিদাবাদ হতে এক ক্রোশের কিছু বেশী উত্তরে অবস্থিত।আজও সেখানে শেঠভবনে ভগ্নাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়।মহিমাপুরে গদী স্থাপন করে শেঠ মানিকচাঁদ নিজ ব‍্যবসায়ে বিশেষ মনোযোগ প্রদান করলেন।দেওয়ানের সাহায্যে ও উৎসাহে তাঁর গদী অল্পদিনের মধ্যেই সর্বশ্রেষ্ঠ গদী বলে প্রসিদ্ধ হয়ে পড়ল।*
*🍀মুর্শিদকুলী খাঁ মূকসুদাবাদে আগমন করলে, সম্রাট ঔরঙ্গজেব দেওয়ানের সঙ্গে পৌত্র আজিম ওশ্বানের মনোবিবাদ অবগত হয়ে তাঁকে বিহারে রাজধানী স্থাপন করতে আদেশ করলেন।নবাব আজিম নিজ পুত্র ফরখ্ শেরকে ঢাকায় প্রতিনিধিস্বরূপ রেখে বিহারে উপস্থিত হন ও পাটনায় রাজধানী স্থাপন করেন।তদবধি পাটনা আজিমাবাদ নামে অভিহিত হয়।এদিকে দেওয়ান রাজস্ব সংক্রান্ত সমস্ত হিসাবপত্র নিয়ে সম্রাটের কাছে উপস্থিত হলেন। সম্রাট সে সময়ে দাক্ষিণাত‍্যে ছিলেন। তিনি দেওয়ান মুর্শিদকুলীর রাজস্ব বন্দোবস্তে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বাংলা,বিহার ও উড়িষ‍্যার দেওয়ানীর সঙ্গে বাংলা ও উড়িষ‍্যার নায়েব নাজিমী প্রদান করলেন।তাছাড়া মুর্শিদকুলী সম্মানসূচক উপাধি ও খেলাতাদিতে ভূষিত হয়ে বাংলায় আগমন করবার জন্য আদিষ্ট হলেন।মূকসুদাবাদে উপস্থিত হয়ে মুর্শিদকুলী খাঁ নিজ নামানুসারে একে মুর্শিদাবাদ আখ‍্যা প্রদান করেন।তদবধি মূকসুদাবাদ মুর্শিদাবাদ নামে অভিহিত হয়ে আসছে। মুর্শিদাবাদে থাকা কালীন মুর্শিদকুলী জাফর খাঁ রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ের ক্রমোন্নতি সাধনে তৎপর হলেন।তিনি ঐ সম্বন্ধে শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করলে,তিনি প্রথমে মুর্শিদাবাদে টাঁকশাল স্থাপনের প্রস্তাব করেন। কারণ, মুর্শিদাবাদ সেইসময়ে দেওয়ানী বিভাগের মুখ‍্য জায়গা হওয়ায় সর্বদাই মুদ্রাদির প্রয়োজন হত।টাঁকশাল স্থাপিত হলে,অন‍্য জায়গা হতে মুদ্রাদির আনার জন্য কষ্ট স্বীকার করতে হবে না মনে করে, দেওয়ান মানিকচাঁদের প্রস্তাবে সম্মত হলেন। সঙ্গে সঙ্গে মানিকচাঁদের গদীরও উন্নতি হবে বলে বুঝতে পারলেন।সেই পরামর্শ অনুসারে ১৭০৬ খৃষ্টাব্দে মহিমাপুরের পরপারে গঙ্গাতীরে মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল স্থাপিত হল। স্বয়ং শেঠ মানিকচাঁদ তার দেখাশুনা করতে নিযুক্ত হলেন।শেঠদের গদীর পরপারে টাঁকশাল স্থাপিত হওয়ায় মানিকচাঁদের পক্ষে তার দেখাশুনার যথেষ্ট সুযোগ হয়ে ছিল।তাঁর যত্নে মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের দিন দিন শ্রীব‍ৃদ্ধি হতে লাগিল।যতদিন পর্যন্ত বাংলায় মুসলমান রাজত্বের সামান্যমাত্রও অস্তিত্ব ছিল,ততদিন পর্যন্ত শেঠদের সঙ্গে এদের বিশেষ ভাবে সম্বন্ধই ছিল।ইংরেজ প্রভৃতি ইউরোপীয় বণিকরা নিজেদের সুবিধার জন্য এই টাঁকশাল হতে মুদ্রা মুদ্রিত করিয়ে নিতেন।নবাব সায়েস্তা খাঁর আদেশে বাংলার অন‍্যান‍্য জায়গার মত কাশীমবাজারে কুঠী সরকার হতে বাজেয়াপ্ত হয়। কিন্তু নবাব ইব্রাহিম খাঁর আদেশে যদিও ইংরেজগণ বাংলায় পুনঃপ্রবেশের অধিকার পেয়েছিলেন, তথাপি কাশীমবাজারে তাঁরা রীতিমত কাজ আরম্ভ করতে পারেননি।মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল স্থাপিত হলে,তাঁরা পুনর্বার কাশীমবাজারের কুঠী সুদৃঢ় করে উৎসাহ সহকারে কাজ আরম্ভ করেন।কারণ,এই টাঁকশালের জন্য কাশীমবাজার প্রদেশের ব‍্যবসায়ীগণের বিশেষরূপ উপকার সংসাধিত হয়েছিল। এই সময়ে লন্ডন কোম্পানী ও ইংলিশ কোম্পানী নামে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ইংরেজ কোম্পানী মিলিত হয়ে ইষ্ট ইন্ডিয়া নামে একটি মাত্র কোম্পানীতে পরিণত হওয়ায় ইংরেজদের ব‍্যবসায়ে আরও সুযোগ সুবিধা ঘটে।কোম্পানী নিজেদের সুবিধার জন্য মুর্শিদকুলী খাঁকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করে ইংল‍্যান্ড হতে আনীত অমুদ্রিত রৌপ‍্যসমূহ মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল হতে মুদ্রাকারে পরিণত করাইয়ে নিবার অনুমতি পেয়েছিলেন।টাঁকশালের কর্মচারীগণের আদেশে ইংরেজরা সপ্তাহে তিনদিন নিজেদের মুদ্রা করাইয়ে নিতেন।ইংরেজদের জন্য মুদ্রিত মুদ্রাসবও সরকারী মুদ্রার মত ব‍্যবহৃত হত। পলাশী যুদ্ধের পর হতে তাঁরা নিজেদের স্বতন্ত্র মুদ্রা মুদ্রিত করতে আরম্ভ করেন, এবং তাতেও প্রথমে দিল্লীর বাদশাহের নাম অঙ্কিত থাকত।১৭৫৮ খৃষ্টাব্দে ইংরেজরা কলিকাতায় নিজেদের টাঁকশাল স্থাপন করেন। কিন্তু মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁদেরকে অনেক দিন পর্যন্ত অসুবিধা ভোগ করতে হয়েছিল।শেঠেরা সেই সময়ে সামান্য রৌপ‍্য বাটা দিয়ে মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল হতে নিজেদের জন্য মুদ্রা মুদ্রিত করিয়ে নিতেন।*
👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑
══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
            *🏢মানিকচাঁদ🏢*
      ০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
*🍀দেশমধ‍্যে মুদ্রা প্রচলনের ভার তাঁদেরই প্রতি অর্পিত হওয়ায় ইংরেজদের প্রথমে নানারকম অসুবিধা হয়েছিল।নবাব মীর কাশিমের সিংহাসনে আহোরণের পর ১৭৬০ খৃষ্টাব্দের নভেম্বর মাস হতে কলকাতা টাঁকশালের সমস্ত অসুবিধাই দূর হয় এবং ইংরেজরা সব রকম সুবিধা লাভ করেন।তদবধি মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের অধঃপতন শুরু হয়, এবং অল্পদিনের মধ্যেই তার পরিসমাপ্তি ঘটে।১৭৮৫ খৃষ্টাব্দে আবার মুর্শিদাবাদে টাঁকশাল স্থাপিত হয়। কিন্তু তা বেশীদিন স্থায়ী হয়নি।১৭৯৬ খৃষ্টাব্দে সমস্ত প্রাদেশিক টাঁকশাল উঠে গেলেও মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের কাজ থেমে যায়নি।১৭৯৯ খৃঃ মুর্শিদাবাদের কালেক্ট্রার টাঁকশালের সমস্ত উপকরণাদি কলকাতায় পাঠিয়ে দেন এবং টাঁকশাল-গৃহ প্রকাশ‍্যে নিলামে বিক্রিত হয়।☆Hunter's Statistical Accounts of Murshidabad,p.174. নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর স্থাপিত টাঁকশালের ও ইংরেজ কোম্পানীর টাঁকশালের জায়গা বিভিন্ন।মুর্শিদকুলী খাঁর স্থাপিত টাঁকশাল মহিমাপুরের পরপারে স্থাপিত ছিল,এখনও তার যৎসামান্য ভগ্নাবশেষ দেখা যায়। জগৎশেঠদের ভাঙ্গা বাসভবনের সামনে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে উক্ত টাঁকশালের চিহ্ন বিদ‍্যমান আছে।যেরকম জানা যায়,তাতে মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের অত‍্যন্ত শ্রীব‍ৃদ্ধি হয়েছিল বোধহয়।১৭২৮ খৃঃ রাজস্ব হিসাবে মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল হতে ৩০৪১০৩ টাকা আয়ের কথা উল্লিখিত আছে।তখনকার বাজার চরম মূল‍্য জানতে হবে।আজও মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের মুদ্রা দেখতে পাওয়া যায়। বাজারে শাহ আলম বাদশাহের নামাঙ্কিত যে সমস্ত মোহর দেখা যায়,সেগুলি মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল হতেই মুদ্রিত হয়েছিল। আগে বলা হয়েছে যে,দেওয়ান মুর্শিদকুলী বাংলার রাজস্বের অনেক পরিমাণে উন্নতি সাধন করেছিলেন।তাঁর সময়ে বাংলা হতে এক কোটি তিরিশ লক্ষ টাকার রাজস্ব দিল্লীতে পাঠানো হত।◆(রিয়াজ-উস্ সালাতীন গ্রন্থে পাওয়া যায় যে,তিনকোটি তিনলক্ষ লেখা আছে।ফরাসী সে শব্দে ৩ ও সী,৩০। সে ও সীর গোলযোগ হয়ে থাকবে)।এই রাজস্ব সম্বন্ধে শেঠ মানিকচাঁদ দেওয়ান মুর্শিদকে অনেক সাহায্য করায় তিনি বাদশাহের অনুমতিক্রমে তাঁকে বাংলার পেস্কার রূপে নিযুক্ত করেন। বাংলার যাবতীয় জমিদার অথবা তাঁদের প্রতিনিধিগণ মানিকচাঁদের কাছে নিজেদের দেয় রাজস্ব প্রদান করতেন।মানিকচাঁদ তা সরকারে পেশ করতেন।রাজস্ব আদায়ের সুব‍্যবস্থার জন্য মুর্শিদকুলী খাঁ পুণ‍্যাহের (কর্মের জন্য একটি ভাল দিন) সূচনা করেছিলেন।বৎসরের শেষে সমস্ত রাজস্ব পরিশোধ করে নববর্ষের প্রথমে শুভ পুণ‍্যাহে বতর্মান বর্ষের কতক রাজস্ব প্রদান করে জমিদারগণ সনন্দ বহাল করিয়ে নিতেন।রাজস্ব বিষয়ে মানিকচাঁদের এইরকম ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ থাকাই বাংলার সমস্ত জমিদারের সঙ্গে তাঁর বিশেষ ভাবে পরিচয় ঘটে। সময়ে সময়ে যখন জমিদারগণ নির্দিষ্ট সময় মধ্যে রাজস্ব প্রদানে অক্ষম হতেন,তখন তাঁরা শেঠ মানিকচাঁদের কাছ হতে টাকা নিয়ে রাজস্ব পরিশোধ করতেন।এইভাবে বাংলার প্রায় সমস্ত জমিদারের সঙ্গে মানিকচাঁদের কারবার চলতে লাগল।সেইসময়ে বাংলা হতে দিল্লীতে রাজস্ব পাঠানোর এইরকম ব‍্যবস্থা ছিল যে,সমস্ত মুদ্রা বাক্সবন্দী হয়ে দুই শতেরও বেশী গো-শকটে রেখে উপযুক্ত প্রহরী ও একজন নায়েব খাজাঞ্জীর সঙ্গে পাঠানো হত।সেই সঙ্গে বাদশাহ ও অমাত‍্যদের জন্য নানা উপঢৌকন পাঠাবার ব‍্যবস্থা ছিল।এই সমস্ত শকট ও প্রহরী বিহার পর্যন্ত পৌঁছে দিত, পরে সেখান হতে নূতন শকট ও প্রহরীর দ্বারা সেই সমস্ত রাজস্ব এলাহাবাদ পর্যন্ত যেত, তথা হতে আবার নূতন শকট ও প্রহরীর সাহায্যে একেবারে দিল্লী গিয়ে উপস্থিত হত।এতে অবশ‍্য সময়ে সময়ে অসুবিধা ঘটত। দেওয়ান মুর্শিদকুলী শেঠ মানিকচাঁদের পরামর্শে তাঁদের দিল্লীর গদীতে হুন্ডি পাঠাবার ব‍্যবস্থা করেন, এবং সেই হুন্ডি অনুসারে দিল্লীর শেঠ গদীয়ানগণ বাংলার সমস্ত রাজস্ব সম্রাট দরবারে উপস্থিত করতেন।এদিকে মানিকচাঁদ বাংলার গদীতে সমস্ত রাজস্ব জমা করে নিতেন।এইভাবে বাংলার জমিদারদের কাছ হতে রাজস্ব আদায় করে দিল্লীতে পৌঁছাতেন, তার সমস্তটাই মানিকচাঁদকে করতে হত।সেজন‍্য বাংলার রাজস্বের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল।মুর্শিদকুলী খাঁর এই সমস্ত বন্দোবস্তের সময় দিল্লীতে বাদশাহ পরিবর্তন ও নানারকম বিপ্লব উপস্থিত হয়।১৭০৭ খৃঃ সম্রাট ঔরঙ্গজেবের দেহত‍্যাগ ঘটলে, তাঁর পুত্রগণ মোয়াজিম, বাহাদুর শাহ উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে বসিলেন।নবাব আজিমের পিতা বাহাদুর শাহের সময়েও মুর্শিদকুলী তিন প্রদেশের দেওয়ানী ও বাংলা বিহার ও উড়িষ‍্যার নায়েব নাজিমী পদেই নিযুক্ত ছিলেন।বাহাদূর শাহের পরে জাহান্দরশাহ,অবশেষে ফরখ্ শের দিল্লীর সিংহাসনে বসেন।১৭১৩ খৃঃ অব্দে সম্রাট ফরখ্ শেরের কাছ হতে মুর্শিদ দেওয়ানী ও নাজিমী উভয় পদেরই ক্ষমতা প্রাপ্ত হন।তদবধি তিনি নবাব মুর্শিদকুলী নামে অভিহিত হয়ে আসছেন।নবাব মুর্শিদকুলী দেওয়ানী ও নাজিমী উভয় পদই পেয়ে বাংলার শাসন ও বন্দোবস্তে বেশী মনোযোগ প্রদান করলেন। যদিও নায়েব নাজিমীর সময় হতেই তিনি অনেকটা স্বাধীনভাবে কাজ আরম্ভ করেছিলেন, তথাপি অনেক কাজে হস্তক্ষেপ করতে সঙ্কুচিত হতেন।এই সময় হতে তিনি নির্ভয়ে কাজ আরম্ভ করেন।*

*নবাব নিজে উচ্চ পদ পেয়ে মানিকচাঁদকেও সম্মানিত করে তুললেন।যদিও ইতিপূর্বে লোকে তাঁদেরকে শেঠ বলত,তবুও বাদশাহ দরবার হতে তাঁরা সেটির কোন সনন্দ বা ফার্মান পেয়েছিলেন না। বাদশাহ ফরখ্ শের এঁদেরকে আগে থেকেই জানতেন এবং তাঁদের সঙ্গে বাদশাহেরও ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল।সেইসময়ে বাদশাহ ফরখ্ শের সিংহাসন পাওয়ার আশায় সৈন‍্যাদি সংগ্রহের জন্য অর্থাভাব অনুভব করেছিলেন, সেই সময়ে শেঠেরা যথেষ্ট পরিমাণে তাঁর সাহায্য করেন।এছাড়াও বাদশাহ নিজেও মানিকচাঁদকে বিশেষ ভাবে অবগত ছিলেন।পিতা আজিম ওশ্বানের ঢাকায় থাকা কালীন শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গে সম্রাটের পরিচয় হয় ; তার পর ফরখ্ শের অনেকদিন বাংলায় ছিলেন।এই সমস্ত কারণে তিনি মানিকচাঁদকে খুব ভাল ভাবেই জেনেছিলেন।মানিকচাঁদকে উপযুক্ত পাত্র জেনে ও নবাব মুর্শিদের অনুরোধক্রমে বাদশাহ ফরখ্ শের ১৭১৫ খৃষ্টাব্দে (হিজরী ১২২৭) মানিকচাঁদকে শেঠ উপাধিতে ভূষিত করে যথারীতি ফার্মান প্রদান করেন।শেঠ মানিকচাঁদের উক্ত ফার্মান অদ‍্যাপি জগৎ শেঠদের কাছে রয়েছে।মুর্শিদকুলী খাঁ দেওয়ানী পদে নিযুক্ত হয়ে অবধি বাংলার রাজস্ব সম্বন্ধে সুবন্দোবস্ত করতে আরম্ভ করেন। কিন্তু সম্পূর্ণ ক্ষমতা না পাওয়ায় অনেক কাজ অসম্পূর্ণ ভাবে সম্পাদন করতে বাধ‍্য হন।নবাব হয়ে তিনি এর আমূল সংস্কারে রত হলেন।এবিষয়ে শেঠ মানিকচাঁদ তাঁর প্রধান পরামর্শদাতা ছিলেন। বাংলার জমিদার সম্প্রদায়ের হাতে সেইসময়ে রাজস্ব আদায়ের ভার ছিল। কিন্তু তাঁরা অনেক সময়ে রাজস্ব প্রদানে সক্ষম হতেন না।মুর্শিদকুলী খাঁ তাঁদের কাছ হতে রাজস্ব আদায়ের ভার কেড়ে নিয়ে কতকগুলি আমিনের হাতে তা প্রদান করেন।এই আমিনী প্রথা তিনি আগে হতেই ক্রমে ক্রমে প্রচলিত করছিলেন। উপযুক্ত বিবেচনা করে দুই-চারজন জমিদারের হাতেও তার ভার অর্পিত হয়েছিল।এইসব জমিদারদের মধ্যে নাটোর বা রাজশাহীর, বর্ধমানের, দিনাজপুরের, নদীয়ার ও বিষ্ণুপুরের রাজারাই প্রধান।এছাড়াও বীরভূমের জমিদারেরও উল্লেখ দেখা যায়।বিষ্ণুপুর কতটা স্বাধীনভাবেও কাজ করতেন। ত্রিপুরা ও কুচবিহারের স্বাধীন রাজাদেরকে জয় করে তাঁদেরকে করদ-রূপে গণ‍্য করা হয়।যেসব জমিদারদের রাজস্ব আদায় হত না,এবং তাদের প্রতি যথেষ্ট অত‍্যাচার করাও হত।তাঁদেরকে ধরে মুর্শিদাবাদে আনা হত।কয়েকজন লোকের প্রতি এই উৎপীড়নের ভার দেওয়া হয়েছিল।তাদের মধ্যে নাজীর আমেদ ও সৈয়দ রেজা খাঁ প্রধান।রেজা খাঁ নবাবের স্বসম্পর্কীয় হওয়ায় তাঁর ক্ষমতা অসীম হয়ে উঠে।তিনি দুর্গন্ধময় নানা আবর্জনাপূর্ণ এক নরককুন্ড স্থাপন করে,তাতে জমিদারদের ফেলে দিতেন এবং হিন্দুদেরকে উপহাস করবার জন্য তার "বৈকুন্ঠ" আখ‍্যা প্রদান করেন।যে সমস্ত জমিদারের হাত হতে জমিদারী কেড়ে নেওয়া হত, জীবিকার জন্য তাদেরকে নানকর,বনকর ও জলকর নামে কতগুলি বৃত্তি প্রদত্ত হত।কোন জায়গায় তার পরিবর্তে জমি দেওয়ারও ব‍্যবস্থা ছিল।অনেক অত‍্যাচারী জমিদার মুর্শিদাবাদে বন্দি অবস্থায় সময় কাটাতে বাধ‍্য হয়।নবাব সুজাউদ্দীন তাদেরকে মুক্তি প্রদান করে অত‍্যাচারকারী কর্মচারীগণ মধ্যে কারও কারও দন্ডবিধান করেছিলেন। রাজস্ব ও শাসন সুচারুরূপে নির্বাহ করার জন্য নবাব মুর্শিদকুলী সমস্ত বাংলা ১৩টি চাকলায় বিভক্ত করেন।রাজা তোড়রমল্লের সময়ে সমস্ত বাংলা ১৯ সরকারে ও ৬৮২ পরগণায় বিভক্ত হয়।এক্ষণে তা ১৩ চাকলায় ৩৪ সরকারে ও ১৬৬০ পরগণায় বিভক্ত হয়ে ১৪,২৮৮,১৮৬ টাকা মোট জমা নির্দিষ্ট হল।এই তের চাকলার মধ্যে হিজলী ও বন্দর বালেশ্বর উড়িষ‍্যা হতে গৃহীত হয়।সপ্তগ্রাম,বর্ধমান,মুর্শিদাবাদ,যশোহর ও ভূষণা এই পাঁচটি গঙ্গা ও পদ্মার পশ্চিম,এবং আকবরনগর (রাজমহল) ঘোড়াঘাট,কড়াইবাড়ী, জাহাঙ্গীরনগর(ঢাকা) শ্রীহট্ট, ইসলামাবাদ (চট্টগ্রাম) এই ছয়টি পদ্মার উত্তর ও পূর্বে অবস্থিত ছিল। এই সমস্ত বন্দোবস্তের জন্য যে কাগজ বা হিসাব তৈরী হয়,তার নাম "জমা কামেল তুমার"।উক্ত আসল জমা ছাড়া মুর্শিদকুলী খাঁ আড়াইলক্ষ টাকার উপর আবওয়াব বা অতিরিক্ত কর ধার্য‍্য করেছিলেন।*

*Grant's Analysis of Bengal Finance. ১৭২২ খৃষ্টাব্দে মুর্শিদকুলী খাঁর উক্ত বন্দোবস্ত কার্য‍্যে পরিণত হয়। কিন্তু সেই বৎসরই শেঠ মানিকচাঁদ পরলোকগত হন।তিনি মুর্শিদকুলীকে এই বন্দোবস্তে অনেক সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু জমিদারদের প্রতি অত‍্যাচার,উৎপীড়ন তাঁর কতটা অনুমোদিত ছিল, তা আমরা বলতে পারি না। সম্ভবত তিনি উক্ত পরামর্শের বিরোধী ছিলেন বলেই বোধ হয়। ঐ সমস্ত উৎপীড়ন অত‍্যাচার নবাবের সেইসময় অনুমোদিত না হলেও তাঁর কর্মচারীরা যে তাতে বিশেষভাবে তৎপর ছিল, এর অনেক প্রমাণ আছে।*

*আমরা আগেই বলেছি যে, শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গে নবাব মুর্শিদকুলীর অত‍্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল। উভয়ে উভয়ের সাহায্যে কোন ভুল করতেন না।নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর অনুরোধ ক্রমে যেমন বাদশাহ ফরখ শের মানিকচাঁদকে শেঠ উপাধি দিয়েছিলেন, আবার এরকম শোনা যায় যে,মুর্শিদের নবাবিপ্রাপ্তির জন্য নজর,উপঢৌকনাদি প্রদানে যে সমস্ত অর্থের প্রয়োজন হয়েছিল,শেঠ মানিকচাঁদ অকাতরে তার সাহায্য করেছিলেন।নবাব মুর্শিদকুলী মানিকচাঁদকে যেরকম বিশ্বাস করতেন,নিজের পরিবারের মধ্যে আর কাউকেও সেরকম করতেন কিনা সন্দেহ।এই বিশ্বাসের জন্য শেঠকে নবাবের কোষাধ‍্যক্ষ‍েরও কর্ম করতে হত।সরকারী ও নবাবের নিজ অর্থ সমস্তই তাঁর কাছে গচ্ছিত থাকত।এইরকম দেখা যায় যে,শেঠের কাছে নবাবের নিজের পাঁচকোটি (কোন কোন মতে সাতকোটি) টাকা গচ্ছিত ছিল।এই টাকা প্রত‍্যর্পিত না হওয়ায় শেঠবংশীয়দের সঙ্গে মুর্শিদকুলীর দৌহিত্র নবাব সরফরাজ খাঁর মনোবিবাদ ঘটে বলিয়া শেঠবংশীয়গণ উল্লেখ করে থাকেন। এইভাবে মুর্শিদকুলীর রাজস্ব বন্দোবস্তে যথেষ্ট সাহায্য করে ও নিজের গদীর শ্রীবৃদ্ধি করে শেঠ মানিকচাঁদ ১৭২২ খৃষ্টাব্দে নিঃসন্তান অবস্থায় পরলোকগমন করেন। তিনি নিজ ভাগনেয় ফতেচাঁদকে দত্তক গ্রহণ করেছিলেন।ধনবাঈ নামে তাঁর এক ভগিনীর সঙ্গে বারাণসীর শেঠ উদয়চাঁদের বিয়ে হয়,ফতেচাঁদ তাঁদেরই কনিষ্ঠ পুত্র।এই ফতেচাঁদই প্রথমে জগৎশেঠ উপাধি পেয়েছিলেন, আমরা পরে সে বিষয়ে উল্লেখ করব।মহিমাপুরের পরপারে "দয়াবাগ" নামে মনোহর উদ‍্যানে শেঠ মানিকচাঁদের স্মৃতি স্তম্ভ স্থাপিত হয়।অনেক দিন পর্যন্ত সেই উদ‍্যানটি শোভা বিস্তার করে ভাগীরথীতীর আলোকিত করত।কয়েক বৎসর হল, সেই উদ‍্যানের সঙ্গে স্মৃতিস্তম্ভটি ভাগীরথী গর্ভস্থ করেছেন।মানিকচাঁদের গঠিত মহিমাপুরের বাড়ীর অধিকাংশ তাঁর গর্ভস্থ।সামান‍্য ভগ্নাবশেষ আজও তাঁর নাম স্মৃতিপথে এনে দেয়।তাঁর বিশেষ যত্নের সামগ্রী মুর্শিদাবাদ টাঁকশালেরও বিশেষ চিহ্ন নাই। যা কিছু আছে,দুই এক বৎসর পরে তাও ধরণীপৃষ্ঠ হতে মুছে যাবে।মুর্শিদাবাদের সমস্ত গৌরব-চিহ্ন ক্রমে কালগর্ভে নিমগ্ন হয়ে গিয়েছে।এক্ষণে তা শ্মশান ছাড়া আর কিছুই নয়।একসময়ে যা গৌরবে জগৎ বিখ‍্যাত ছিল,এক্ষণে তার শোচনীয় পরিণাম দেখলে অসহনীয় যন্ত্রণায় হৃদয় অভিভূত হয়ে পড়ে।*
🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
             *🏢ফতেচাঁদ (১)🏢*
        °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌺মানিকচাঁদের পরলোক গমনের পর ফতেচাঁদ দিল্লী হতে মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হয়ে মহিমাপুরের গদীর ভার গ্রহণ করেন।ইতিপূর্বে তিনি দিল্লীর গদীতে কাজ করতেন, এবং উক্ত গদীর কর্তা-স্বরূপই ছিলেন! মানিকচাঁদ তাঁকে পুত্ররূপে গ্রহণ করায়,তিনি দিল্লী পরিত‍্যাগ করে মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হন।এখানেই বুঝা যায় যে দিল্লীর গদী অপেক্ষা মুর্শিদাবাদের গদীই বেশী শ্রীবৃদ্ধিশালী ছিল।হীরানন্দ নিজের সাত পুত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় গদী স্থাপন করে দেন, কিন্তু মানিকচাঁদের অধ‍্যবসায় ও যত্নে বাংলার গদীই শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠে।নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর বিশেষ অনুগ্রহই যে মুর্শিদাবাদ গদীর শ্রীবৃদ্ধির কারণ এটিও স্মরণ রাখা কর্তব‍্য। বস্তুতঃ মুর্শিদাবাদের গদী শেঠদের সমস্ত গদীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ না হলেও ফতেচাঁদ কখনও দিল্লী হতে মুর্শিদাবাদে আসতেন না। মানিকচাঁদ তাঁকে দত্তক পুত্র মনোনীত করেছিলেন সত‍্য, কিন্তু তিনি ভারত সম্রাটের রাজধানী দিল্লী নগরীর গদীর কর্তা হয়েও, বিশেষ কোন কারণ না থাকলে কখনও মুর্শিদাবাদে আসতেন না।আমরা এও জানতে পারি যে,দিল্লীতে থাকা কালীন ফতেচাঁদের সঙ্গে বাদশাহ ও আমীর ওমরাহগণের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল, এবং তাঁর গদীর সঙ্গে তাঁরা প্রায়ই কারবার সূত্রে আবদ্ধ হতেন।ফতেচাঁদ বুদ্ধিমান,চতুর ও কর্মদক্ষ বলে মানিকচাঁদ তাঁকেই পুত্র ও স্বীয় উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান।পূর্বাধ‍্যায়ে উল্লিখিত হয়েছে যে,ফতেচাঁদ মানিকচাঁদের ভাগ্নে ; কিন্তু কেউ কেউ বলে থাকেন যে,তিনি মানিকচাঁদের ভাইয়ের পুত্র।যাঁরা মানিকচাঁদের ভাগ্নে বলে থাকেন,তাঁরা বলেন যে,মানিকচাঁদের বোন ধনবাঈএর সঙ্গে শেঠ উদয়চাঁদের বিয়ে হয়,উদয়চাঁদ পিতার একমাত্র পুত্র ছিলেন,ফতেচাঁদ তাঁরই কনিষ্ঠ পুত্র।রিয়াজ-উস-সালাতীন গ্রন্থে লিখিত আছে যে,ফতেচাঁদ বারাণসীর বিখ‍্যাত মহাজন নগরশেঠের ভাগ্নে।মানিকচাঁদের সাত ভাইয়ের মধ্যে কারও নাম নাগরশেঠ ছিল না,তবে তাঁদের আদি নিবাস "নাগর" হওয়ায়,যদি তাঁরা নাগর বা নগরশেঠ বলে অভিহিত হয়ে থাকতেন,তাহলে ফতেচাঁদের পক্ষে মানিকচাঁদের ভাগ্নে হওয়া সম্ভব হলেও হতে পারে।নগরশেঠ কোন ব‍্যক্তি বিশেষের নাম হলে উক্ত সম্বন্ধের প্রমাণ ঘটে উঠে না।তবে হীরানন্দের সাত পুত্রের মধ্যে যদি কারও নাম নাগরশেঠ থাকে,তাহলে উক্ত সম্বন্ধ স্থাপন করা যেতে পারে।ফলে ফতেচাঁদ মানিকচাঁদের ভাইয়ের পুত্র কি ভাগ্নে এই বিষয়ে বিশেষ কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।সাধারণতঃ তিনি ভাগ্নে বলেই উল্লিখিত হয়ে থাকেন।*
*🌳মুর্শিদাবাদে আসবার আগে ফতেচাঁদ যে সময়ে দিল্লীর গদীতে কাজ করতেন, সেইসময়ে তিনি শেঠ উপাধি পেয়েছিলেন।রিয়াজ-উস-সালাতীনে লেখা আছে যে,সেইসময় ফরখশের দিল্লীর সিংহাসন লাভের জন্য চেষ্টা করছিলেন,সেই সময়ে তাঁর অর্থাভাব হওয়ায় বারাণসীর বিখ‍্যাত মহাজন নগরশেঠ তাঁকে অর্থ সাহায্য করেছিলেন, তার প্রত‍্যুপকার স্বরূপ বাদশাহ ফরখশের নগরশেঠের ভাগ্নে ও গোমস্তা ফতেচাঁদকে জগৎশেঠ উপাধি প্রদান ও বাংলার রাজস্বের পেস্কারী পদে নিযুক্ত করেন।রিয়াজ-উস-সালাতীনের উক্ত বিবরণ যথার্থ বলে বিশ্বাস হয় না।ফতেচাঁদের ফার্মান বা সনন্দে দেখা যায় যে,ফরখশের তাঁকে শেঠ উপাধি মাত্রই প্রদান করেছিলেন, কিন্তু সম্রাট মহম্মদশাহ তাঁকে জগৎশেঠ উপাধি প্রদান করেন।ফতেচাঁদ মুর্শিদাবাদে আসার পর জগৎশেঠ উপাধি পেয়েছিলেন।মানিকচাঁদের মৃত‍্যুর পর তিনি মুর্শিদাবাদে আসেন।১৭২২ খৃঃ অব্দে মানিকচাঁদের মৃত‍্যু হয়। কিন্তু ১৭২০ খ‍ৃঃঅব্দে ফরখশের এ জগৎ থেকে চিরবিদায় নিতে বাধ‍্য হয়।১৭২৪ খৃঃ অব্দে মুর্শিদাবাদ হতে দিল্লী গমন করলে সম্রাট মহম্মদশাহ ফতেচাঁদকে জগৎশেঠ উপাধিতে ভূষিত করে তারসঙ্গে "একটি বহুমূল‍্য খেলাত,জগৎশেঠ নামাঙ্কিত মণিময় মোহর ও শিরোপা সম্মান চিহ্নস্বরূপ প্রদান করেন"। সেইকালে মুর্শিদাবাদের গদীর নাম এরকম ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে,জগতে তার সমকক্ষ আর দ্বিতীয় গদী ছিল না বলে সাধারণে বিশ্বাস করত।সেইজন‍্য ফতেচাঁদ জগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মহাজন হওয়ায় বাদশাহ তাঁকে জগৎশেঠ উপাধি প্রদান করেছিলেন।ফতেচাঁদই প্রথমে জগৎশেঠ উপাধি লাভ করেন। ফতেচাঁদের গদী মুর্শিদাবাদে থাকলেও ভারতের নানা জায়গার সঙ্গে তাঁর সম্বন্ধ সংস্থাপিত হয়। দিল্লীর বাদশাহগণও মুর্শিদাবাদের গদীর সঙ্গে সম্বন্ধ রেখেছিলেন। নবাব সরকারেও দিন দিন ফতেচাঁদের প্রতিপত্তি বাড়তে লাগল।রাজা জমিদার ব‍্যবসায়ী মহাজন সকলের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় হল।* *নবাব মুর্শিদকুলী ফতেচাঁদের ব‍্যবহারে পরম সন্তুষ্ট হয়েছিলেন,তিনি পূর্ব হতেই ফতেচাঁদের পরামর্শ অনুসারে অনেক কাজ করতেন, এক্ষণে বাদশাহের আদেশ পেয়ে রাজ‍্যশাসন বিষয়ে সব সময়েই জগৎশেঠের পরামর্শ গ্রহণ করতে লাগলেন।বাদশাহের দরবারে ও নবাব সরকারে শেঠদের এইরকম প্রতিপত্তি হওয়ায়, বাংলার সমস্ত লোক তাঁদেরকে গৌরবের চক্ষে দেখতে লাগল।মুর্শিদাবাদের নবাবদের পরই শেঠেরা সম্মানে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে উঠলেন।নবাব মুর্শিদকুলী যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিনই ফতেচাঁদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করেছিলেন। ১৭২৭ খৃঃ অব্দে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি মৃত‍্যুর পূর্বে তাঁর মনোনীত উত্তরাধিকারী দৌহিত্র সরফরাজকে ফতেচাঁদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করতে উপদেশ দিয়েছিলেন।মুর্শিদকুলী খাঁর মৃত‍্যুর পর সরফরাজ নবাব হতে পারেননি।মুর্শিদকুলীর জামাতা ও সরফরাজের পিতা সুজাউদ্দীন মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন। সুজাউদ্দীন মহাম্মদ খাঁ মুর্শিদকলীর সময়ে উড়িষ‍্যার শাসনকর্তার পদে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।মুর্শিদকুলী জামাতার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না,তাঁর কন‍্যা স্বামীর কাছে না থেকে পিতার কাছেই থাকত।রাজনৈতিক অনেক বিষয়ে শ্বশুর জামাতার ঐক‍্য হত না। যাইহোক, সুজাউদ্দীন মুর্শিদকুলীর মৃত‍্যুর পর উড়িষ‍্যা হতে মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হলে সরফরাজ পিতার কোনরকম বিরুদ্ধাচরণ করেনি।জগৎশেঠ ফতেচাঁদ ও অন‍্যান‍্য অমাত‍্যবর্গ তাঁকে পিতার বশ‍্যতা স্বীকারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।*
🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮) 🏢🏢জগৎ শেঠ 🏢🏢*
            *🏢ফতেচাঁদ(১)🏢*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌺সরফরাজ যদি সেই পরামর্শ অনুসারে কাজ না করতেন তাহলে পিতাপুত্রের গৃহবিবাদে বাংলায় এক অশান্তির আগুন জ্বলে উঠত।ফতেচাঁদ এ বিষয়ে যে পরামর্শই দিয়েছিলেন এতে সন্দেহ নাই।সুজাউদ্দীন পুত্রের ব‍্যবহারে তুষ্ট হয়ে তাঁকে বাংলার দেওয়ানী পদে নিযুক্ত করলেন,এবং রায় আলমচাঁদ নামক এক ব‍্যক্তিকে তাঁর সহকারী নিযুক্ত করে দিলেন।এই রায় আলমচাঁদ পরে "রায়রায়ান"উপাধি পেয়ে রাজস্ব বিষয়ে প্রধান দেওয়ান নিযুক্ত হন।যাতে শাসনকার্য‍্য সুচারুরূপে পরিচালিত হয়,তার জন্য সুজাউদ্দীন একটি মন্ত্রীসভা গঠিত করলেন।হাজী আহম্মদ,আলিবর্দী খাঁ,জগৎশেঠ ফতেচাঁদ ও রায়রায়ান আলমচাঁদ এর সভ‍্য নিযুক্ত হলেন।আলিবর্দীর প্রতি যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ের ভার ছিল। রাজস্ব সম্বন্ধীয় সমস্ত কাজই রায়রায়ন ও জগৎশেঠ করতেন।আলমচাঁদই প্রকৃত প্রস্তাবে রাজস্ববিষয়ে প্রথম দেওয়ান নিযুক্ত হন।*
*🍀নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর সময় অপেক্ষা সুজাউদ্দীনের সময় রাজস্ববৃদ্ধি হল,নবাব মুর্শিদ দিল্লীতে এক কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাঠাতেন,সুজাউদ্দীন তার জায়গায় দেড়কোটি পাঠাতেন।১৭৩২ খৃঃ অব্দে পুনর্বার সুজাউদ্দীনের প্রতি বিহার শাসনের ভার অর্পিত হলে,সেখানে একজন উপযুক্ত ব‍্যক্তি পাঠাবার আবশ্যক হওয়ায়,নবাব মন্ত্রিসভার সঙ্গে পরামর্শ করে আলিবর্দী খাঁকে সেখানে পাঠিয়ে দেন।আলিবর্দী মন্ত্রীসভার একজন প্রধান ব‍্যক্তি ছিলেন।জগৎশেঠ,ফতেচাঁদ প্রভৃতির তাঁর সঙ্গে সৌহার্দ্য জন্মে।ফতেচাঁদ প্রভৃতির পরামর্শ অনুসারে নবাব আলিবর্দী খাঁকে পাটনায় পাঠিয়ে দেন।ফতেচাঁদ মন্ত্রিসভায় থেকে যেরকম শাসনকার্য‍্য পরিচালন করছিলেন,সেইরকম নিজের গদীর প্রতি যত্নেরও ত্রুটি ছিল না।রাজ‍্যশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ থাকায় সব শ্রেণীর লোকের সঙ্গে তাঁর গদীর সম্বন্ধ স্থাপিত হয়।রাজা জমিদার ও অন‍্যান‍্য ভূম‍্যধিকারীদের তো কথাই নাই,ব‍্যবসায়ী মহাজন সকলেই আগে যেমন মহিমাপুরের গদী হতে অর্থাদি গ্রহণ করতেন,এখনও সেইরকম ভাবেই কারবার চলতে লাগল।এই সময় ইংরেজ ফরাসী ওলন্দাজ ও অন‍্যান‍্য ইউরোপীয়দের বাণিজ্য দিন দিন উন্নতি লাভ করতে লাগল।কলিকাতা,চন্দননগর,চুঁচুড়া প্রভৃতি ইউরোপীয়দের প্রধান প্রধান জায়গা,দিন দিন শ্রীবৃদ্ধিশালী হয়ে উঠতে ছিল।সেইসব জায়গার ব‍্যবসায়ীগণ জগৎশেঠের সঙ্গে কারবারসূত্রে আবদ্ধ ছিলেন।যেমন যেমন সেই সমস্ত জায়গায় উন্নতি হতে লাগল,জগৎশেঠগণও দিন দিন সেইরকম ধনকুবের হয়ে উঠতে লাগলেন।জগৎশেঠ ফতেচাঁদের এইরকম উন্নতির সময়ে ১৭৩৯ অব্দে নবাব সুজাউদ্দীন পরলোকগমন করেন।সুজাউদ্দীনের মৃত‍্যুর পর সরফরাজ মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে উপবিষ্ট হন।যদিও তাঁর পিতা মৃত‍্যুকালে সরফরাজকে জগৎশেঠ প্রভৃতির পরামর্শ অনুসারে সমস্ত কাজ করতে উপদেশ দিয়ে যান। কিন্তু তিনি বেশীদিন পিতার যে উপদেশ পালন করেননি।জগৎশেঠ প্রভৃতির সঙ্গে মনোমালিন‍্য ঘটাতেই তাঁর অধঃপতনের সূত্রপাত হয়।*
*১৭৪৪ খৃষ্টাব্দে জগৎশেঠ ফতেচাঁদের মৃত‍্যু হয়।☆হন্টার লিখেছেন যে,১৭৪৪ খৃষ্টাব্দে ফতেচাঁদের মৃত‍্যু হয়।এটি কতদূর সত‍্য বলা যায় না,কারণ আমরা মহাতপচাঁদের জৎশেঠ ফরমানে দেখতে পাই যে,মহাতপচাঁদ সম্রাট আমেদ সাহার রাজত্বের প্রথম বর্ষে ১১৬১ হিজরী বা ১৭৪৮ খৃষ্টাব্দে জগৎশেঠ উপাধি পেয়েছিলেন।ফতেচাঁদের মৃত‍্যুর চার বৎসর পরে এই উপাধি পাওয়ায় তাঁর মরণাব্দ ১৭৪৪ কি না এতে সন্দেহ উপস্থিত হয়।তবে যদি সেই সময়ে মহাতপচাঁদের বয়স বেশী না থাকাই অথবা মহারাষ্ট্রীয় আক্রমণ ও আফগান বিদ্রোহের অশান্তির জন্য তাঁর জগৎশেঠ উপাধি পাবার দেরী ঘটে থাকে তাহলে ১৭৪৪ খৃষ্টাব্দে ফতেচাঁদের মৃত‍্যু হওয়া অসম্ভব বলে মনে হয় না।হন্টার নিজামত দেওয়ান রাজা প্রসন্ননারায়ণ দেব বাহাদুরের দ্বারা তাৎকালীক জগৎশেঠের কাছ হতে বিবরণ সংগ্রহ করেছিলেন।তারজন‍্য সন্দেহ থাকলেও আমরা ১৭৪৪ খৃষ্টাব্দে ফতেচাঁদের মৃত‍্যু বৎসর ধরে নিলাম।*
*🌹তাঁর মৃত‍্যুর পর তদীয় পৌত্র ও শেঠ আনন্দচাঁদের পুত্র মহাতপচাঁদ গদীতে বসেন।ফতেচাঁদের বয়স তখন আশির উপরে হয়েছিল।সেই বহুদর্শী বৃদ্ধ জগৎশেঠের মৃত‍্যুতে আলিবর্দী খাঁ অত‍্যন্ত অভাব অনুভব করতে লাগলেন।যাঁর সাহায্যে ও পরামর্শে তিনি ভাগ‍্যলক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ করে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেছিলেন, এবং মহারাষ্ট্রীয় আক্রমনরূপ ভীষণ বিপদ হতে যিনি তাঁকে পদে পদে রক্ষা করেছিলেন,তাঁর অভাব যে অত‍্যন্তই কষ্টকর তাতে সন্দেহ কি? কিন্তু অল্পকাল মধ্যে শেঠ মহাতপচাঁদ নবাবের সে অভাব মোচনে সমর্থ হয়েছিলেন।ফতেচাঁদের মত প্রতিভাশালী কার্যদক্ষ ও সুচতুর ব‍্যক্তি খুব অল্পই দেখা যায়, তিনি জগৎশেঠবংশীয়দের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।নিজের প্রতিভা ও ক্ষমতাবলে তিনিই প্রথমে "জগৎশেঠ" উপাধি লাভ করেন।মানিকচাঁদ হতে যে গদীর উন্নতি আরম্ভ হয়েছিল,ফতেচাঁদের দ্বারা তা পূর্ণতা পেয়ে থাকে।বাদশাহ ও নবাব দরবারে তাঁর অসীম প্রতিপত্তি ছিল।কেবল সরফরাজ খাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যোগদান করে তিনি নিজের নামের কলঙ্কিত করে গিয়েছেন।তথাপি তিনি যে বহুগুণে গরীয়ান ছিলেন তা অস্বীকার করবার উপায় নাই।*
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯) 🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
             *🏢মহাতপচাঁদ🏢*
               *অতি সংক্ষেপে*
        ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀ফতেচাঁদের মৃত‍্যুর পর তাঁর পৌত্রদ্বয় মহাতপচাঁদ ও স্বরূপচাঁদ মুর্শিদাবাদ গদীর অধিকারী হয়ে দিন দিন তার উন্নতিসাধনে যত্নবান হন।ফতেচাঁদের আনন্দচাঁদ,দয়াচাঁদ ও মহাচাঁদ নামে তিনপুত্র জন্মে,এঁরা পিতার জীবদ্দশাতেই এ জগৎ হতে বিদায় নিয়েছিলেন।আনন্দচাঁদের মহাতপচাঁদও দয়াচাঁদের স্বরূপচাঁদ নামে পুত্র হয়।পুত্রশোকাতুর ফতেচাঁদ পৌত্রদেরকে অবলম্বন করে যেমন দিন দিন শান্ত ছিলেন,তেমনই তাদের প্রতি তাঁর অপরিসীম স্নেহ বর্ধিত হতে থাকে।এই জন্য তিনি দুইজনকেই গদীর উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান।ইঁনাদের মধ্যে মহাতপচাঁদ বয়সে বড় হওয়ায় তিনি গদীর তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত হন,স্বরূপচাঁদও তাঁকে যথারীতি সাহায্য করতেন।দুইভাই মিলিত হয়ে গদীর উন্নতিসাধনে প্রাণপণে চেষ্টা করতে আরম্ভ করেন। মুর্শিদাবাদের যে গদীকে ফতেচাঁদ ভারতের বা জগতের মধ্যে অদ্বিতীয় করেছিলেন,মহাতপচাঁদ ও স্বরূপচাঁদ তাকে কেবল তদবস্থায় রাখননি বরঞ্চ তার গৌরববৃদ্ধির জন্য অশেষ রকম চেষ্টা আরম্ভ করেছিলেন।তাঁদের গদীর অপরিসীম শ্রীবৃদ্ধি দেখে নবাব আলিবর্দী খাঁ অত‍্যন্ত আনন্দ পেয়েছিলেন, এবং তাঁদের যারপরনাই (অতিশয়) কার্যতৎপরতা জেনে সময়ে সময়ে মহাতপচাঁদের সঙ্গে রাজকার্য‍্যের পরামর্শও করতেন।*
*🍁নবাব আলিবর্দী খাঁ অত‍্যন্ত ক্ষমতাশালী হয়ে সুচারুরূপে রাজ‍্যশাসনে মনোনিবেশ করলেও তাঁর রাজত্ব যেরকম ঘোরতর অশান্তিপূর্ণ হয়েছিল,তাতে তিনি তিলমাত্রও বিশ্রাম করবার অবকাশ পেতেন না। যদিও মহাতপচাঁদ প্রভৃতির সুপরামর্শে তিনি দক্ষতা সহকারে রাজ‍্য-শাসনে সক্ষম হয়ে উঠেছিলেন। ভাস্কর পন্তের মৃত‍্যুর পর কিছুকাল মহারাষ্ট্রীয় আক্রমণ বঙ্গভূমিকে শান্তিলাভের অবকাশ দিলেও মুর্শিদাবাদের রাজ সিংহাসনে সে শান্তি কল‍্যাণছায়া বিতরণ করতে সক্ষম হয়নি।মহারাষ্ট্রীয় আক্রমণের পর ভীষণ আফগান-বিদ্রোহ উপস্থিত হয়ে নবাব আলিবর্দী খাঁকে অত‍্যন্ত ব‍্যাকুল করে তুলে। এই ভয়াবহ বিদ্রোহ বঙ্গদেশ পরিত‍্যাগ করে বিহার প্রদেশেই ভীষণ আকার ধারণ করে।নবাবের সেনাপতি মস্তাফা খাঁ অসংখ্য আফগান সৈন‍্য সমবেত করেছিলেন। তাঁর অধীনে অনেক আফগান কর্মচারী মহারাষ্ট্রীয় যুদ্ধ প্রভৃতিতে অদ্ভুত বীরত্ব প্রদর্শন করে ক্রমে ক্রমে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে। ক্রমে ক্রমে মস্তাফা খাঁর ক্ষমতা প্রবল হয়।তাঁর ক্ষমতা যেমন দিন দিন বাড়তে থাকে,তেমনি তাঁর হৃদয়ে রাজ‍্যপিপাসার সঞ্চার হয়ে তাঁকে উত্তেজিত করে তুলে। বাংলা অপেক্ষা বিহারের প্রতি তাঁর লালসা বেশী দেখা গিয়েছিল।মস্তাফা আলিবর্দীর কাছ হতে বিহারের নায়েবী প্রার্থনা করেছিলেন, আলিবর্দী তাঁকে সময়ে সময়ে আশাও দেন, কিন্তু মস্তাফা খাঁ আলিবর্দীর কথায় বিশ্বাস না করে নিজ বাহুবলে তা অধিকারের জন্য উদ‍্যোগী হন।তিনি নবাবের সেনাপতিত্ব ত‍্যাগ করে সসৈন‍্যে বিহার অভিমুখে ধাবিত হন। এই সময়ে আলিবর্দীর কনিষ্ঠ ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা এবং সিরাজউদ্দৌলার পিতা জৈনুদ্দীন আহম্মদ বিহারে সহকারী শাসনকর্তা নিযুক্ত ছিলেন।নবাবের কাছ হতে তিনি মস্তাফার অভিপ্রায়ের খবর পেয়ে মস্তাফা খাঁকে বাধা দিতে প্রস্তুত হন।মস্তাফা খাঁ পাটনা আক্রমণ করে কৃতকার্য হতে পারেন নাই।সেই সময়ে নবাব আলিবর্দী বিহারে উপস্থিত হয়ে জৈনুদ্দীনের সঙ্গে যোগদান করেন।উভয়ের আক্রমণে মস্তাফাকে পরাজিত হতে হয়, এবং তিনি শেষে জীবন বিসর্জন দিতে বাধ‍্য হয়েছিলেন।মস্তাফা খাঁর মৃত‍্যুতে কিন্তু আফগান বিদ্রোহের উপশম হয়নি। বরঞ্চ তা শেষে ভীষণ আকার ধারণ করে সমগ্র বিহার প্রদেশে অশান্তির আগুন জ্বলেছিল।*
*🌺বিহারে আফগান বিদ্রোহ কিছু সময়ের জন্য শান্ত হলেও, বাংলা ও উড়িষ‍্যায় আবার মহারাষ্ট্রীয় আক্রমণের আগুন জ্বলতে আরম্ভ করল।ভাস্কর পন্তের মৃত‍্যু-সংবাদ অবগত হয়ে রঘুজী ভোঁসলে সসৈন‍্যে নিজেই বাংলায় উপস্থিত হন।নবাব আফগান-বিদ্রোহ দমনে ব‍্যস্ত থাকায় কোনরকমে রঘুজীকে শান্ত করবার চেষ্টা করেছিলেন।রঘুজী সেই সময়ে বর্ধমান পর্যন্ত অগ্রসর হন।তিনি নবাবের কাছে অনেক টাকার দাবী করে বসেন।নবাব তাতে রাজি না হওয়ায় রঘুজী প্রথমে উড়িষ‍্যা অধিকারে কৃতসংকল্প হন।এই সময়ে রাজা দুর্লভরাম উড়িষ‍্যার সহকারী শাসনকর্তা নিযুক্ত ছিলেন।তাঁর অবিবেচনা ও অকর্মণ‍্যতার জন্য সহজে উড়িষ‍্যা মহারাষ্ট্রীয়দের হাতে চলে গেল।দুর্লভরাম বন্দী হয়ে অবশেষে কোনরকমে নিষ্কৃতিলাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।তার পর রঘুজী বিহারে উপস্থিত হয়ে আফগানদের সঙ্গে মিলিত হন।এর পর রঘুজী বাংলায় উপস্থিত হয়ে মুর্শিদাবাদাভিমুখে অগ্রসর হবার ইচ্ছা করেন।*
*রঘুজীর বিহারে অবস্থানকালে পবাব সৈন‍্যগণের সঙ্গে তার ঘোরতর যুদ্ধ লাগে।এই যুদ্ধে আফগান সেনাপতিগণ বিশ্বাসঘাতকতা করায় নবাব পরাজয় হন।তিনি প্রথমে রঘুজীর কাছে সন্ধির প্রস্তাব করে পাঠান, কিন্তু রঘুজী মীর হাবিবের পরামর্শে অরাজি হওয়ায়,নবাব তাঁকে বাধা দিবার জন্য চেষ্টা করেন।রঘুজী মুর্শিদাবাদের দিকে অগ্রসর হলে নবাব তাঁকে আক্রমণ করেন।এই আক্রমণে রঘুজী পরাজিত হয়ে প্রবলবেগে মুর্শিদাবাদের দিকে ধাবিত হন।নবাবের আদেশ অনুসারে নওয়াভেস মহম্মদ খাঁ রঘুজীকে বাধা দিবার জন্য প্রস্তুত হন।এদিকে নবাব নিজে তার পেছন পেছন ধাবিত হন।রঘুজী মুর্শিদাবাদের কাছের কোন কোন জায়গা লুন্ঠন করে কাটোয়ার দিকে অগ্রসর হন।নবাব মহারাষ্ট্রীয়গণের পেছন পেছন গিয়ে কাটোয়ার কাছে তাদেরকে আক্রমণ করেন।এই আক্রমণে পরাজিত হয়ে রঘুজী বাংলা পরিত‍্যাগ করতে বাধ‍্য হন।তার পর কিছুদিন বঙ্গভূমি মহারাষ্ট্রীয় আক্রমণ হতে নিষ্কৃতি লাভ করেছিল।রঘুজীর সঙ্গে যুদ্ধে যে সমস্ত আফগান সেনাপতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল,তাদের মধ্যে সমসের খাঁ ও সর্দার খাঁ প্রধান। নবাব মহারাষ্ট্রীয়দেরকে বিতাড়িত করে সৈনিক কর্মচারীদ্বয়কে অবসর দেন। কিন্তু এরা শেষে ঘোর বিদ্রোহের অবতারণা করেছিল।রঘুজীদের আক্রমণ হতে শান্তিলাভ করে নবাব কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম করবার অবকাশ পেয়েছিলেন।এই অবসরে তিনি নিজ দৌহিত্র ও প্রিয়পাত্র সিরাজউদ্দৌলা ও তার ভাই এক্রামউদ্দৌলার বিয়ে দিলেন। এই সময়ে তিনি মহাতপচাঁদের জগৎশেঠ উপাধির জন্য বাদশাহ দরবারে চেষ্টা করেন, সম্রাট মহম্মদ সাহের মৃত‍্যু হলে তারপুত্র আহম্মদ সাহ দিল্লীর সিংহাসনে বসেন।নবার তাঁর কাছে মহাতপচাঁদের "জগৎশেঠ" উপাধির জন্য অনুরোধ করে পাঠান। সেই সময়ে মহিমাপুরের শেঠদের গদীর উন্নতি চরমসীমায় উপনীত হয়েছিল।তাঁদের গদীতে সেইসময় অনবরত দশকোটি টাকার লেনদেন বা কারবার হত।সমগ্র ভারতে তাঁদের মত শ্রেষ্ঠী আর কেউ ছিলেন না। সুতরাং বাদশাহ তাঁদেরকে তাঁদের বংশের সম্মানীয় উপাধিযে দান করবেন,তাতে সন্দেহ কি? সেইজন‍্য আহম্মদ সাহের রাজত্বের প্রথমবর্ষে ১১৬১ হিজরী বা ১৭৪৮ খৃঃঅব্দে মহাতপচাঁদ বাদশাহ দরবার হতে "জগৎশেঠ" উপাধি পেয়েছিলেন।*
🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
             *🏢মহাতপচাঁদ🏢*
       ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀মহাতপচাঁদ জ‍্যেষ্ঠ বা বড় হওয়ায় "জগৎশেঠ" উপাধি লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু স্বরূপচাঁদ তাঁর ডান-হাতস্বরূপ থাকায়, বাদশাহ দরবার থেকে তিনিও সম্মানীয় উপাধি লাভ করেন,বাদশাহ তাঁকে "মহারাজ" উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।*
*🔥মাঝে বহু সময় অতিবাহিত হলে পরবর্তীকালে গিরিয়ার পরাজয় খবর শুনে মীরকাসিম মুঙ্গের পরিত‍্যাগ করতে কৃতসংকল্প হন।যদিও তিনি নিজের সৈন‍্যগণকে উধুয়ানালায় যাবার আদেশ দিয়ে সেখানে ইংরেজসৈন‍্যের গতিরোধের ব‍্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু তার ফলাফলের উপর নির্ভর করতে সাহসী না হয়ে,তিনি মুঙ্গের পরিত‍্যাগ করেন ও নিজের পরিবারবর্গ ও ধনসম্পত্তি রোটাসগড়ে পাঠিয়ে দেন।মুঙ্গের পরিত‍্যাগের পূর্বে তিনি যে সমস্ত দেশীয় ধনবান লোককে মুঙ্গেরে বন্দী করে রেখেছিলেন,তাদের বধ করবার জন্য।তাঁর আদেশে সেই সমস্ত সম্ভ্রান্ত লোকের গলায় বালুভরা বস্তা বেধে, মুঙ্গের দূর্গপ্রাকারের অতি উচ্চ শিখর হতে নদীগর্ভে ফেলে দেওয়া হয়।জগৎশেঠ মহাতপচাঁদ ও মহারাজ স্বরূপচাঁদের হননকান্ডও সেইরকম ভাবেই হয়েছিল বলে শোনা যায়। মুতাক্ষরীণকার বলেন যে,মীরকাসিম মুঙ্গের পরিত‍্যাগের পর বাঢ়নগরে উপস্থিত হয়ে শেঠ ভ্রাতৃদ্বয়কে হনন করতে আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ জনপ্রবাদে তাদেরকে মুঙ্গের দূর্গশিখর হতে ভাগীরথীবক্ষে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। শেঠ ভ্রাতৃদ্বয়ের গোলাপচাঁদ ও মিহিরচাঁদ নামে পুত্রদ্বয় বন্দিভাবে মীরকাসিমের সঙ্গে দেশে দেশে পরিভ্রমণ করতে বাধ‍্য হন। এইরকমভাবে জগৎশেঠ মহাতপচাঁদ ও মহারাজ স্বরূপচাঁদের জীবলীলার অবসান হয়।যাঁরা নবাব আলিবর্দী খাঁর সময় হতে দক্ষতা সহকারে বঙ্গরাজ‍্যের রাজনৈতিক ব‍্যাপারগুলি পরিচালনা করে আসছিলেন,যাঁদের সময় তাঁদের বিশাল কারবারলব্দ পর্বতাকার অর্থ ভাগীরথীর মোহনা বদ্ধ করতেও সমর্থ ছিল,কি দেশীয়,কি বিদেশীয়, সব সম্ভ্রান্ত জনগণ যাঁদের মুখাপেক্ষা করতেন,মুর্শিদাবাদ নবাব-দরবারে যাঁদের একাধিপত‍্য ছিল,এমন কি বাদশাহ-দরবারেও যাঁদের সম্মানের সীমা ছিল না,মীরকাসিমের কঠোর ব‍্যবস্থা তাঁদেরকে সামান্য অপরাধীর মত এ জগৎ হতে অন‍্য জগতে পাঠিয়ে দিয়েছিল।যাঁদের দ্বারা বঙ্গরাজ‍্যে কত উন্নতি সাধিত হয়েছিল,দেশের ধনী নির্ধন যাঁদের দ্বারা উপকৃত হত,যাঁরা দেশমধ‍্যে শান্তি স্থাপনের অশেষ প্রকার চেষ্টা করতেন,তাঁদেরকে ইহলোক হতে বিদায় নিয়ে পরলোকে যেতে হল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সেই বিশাল কারবারও দিন দিন শ্রীহীন হতে লাগল। মুর্শিদাবাদের গৌরবও দিন দিন ধ্বংসের পথে অগ্রসর হল।দেশীয় বিদেশীয় সকলেই হাহাকারে গগন বিদীর্ণ করতে লাগল, এবং মীরকাসিমের প্রতি অভিশাপ দিতে লাগল।*
*🍀জগৎশেঠ মহাতপচাঁদ অল্প বয়স হতেই অত‍্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন।মহারাজ স্বরূপচাঁদ তাঁর দক্ষিণ-হস্তস্বরূপ ছিলেন।যে সময়ে আলিবর্দী খাঁ মহারাষ্ট্রীয় যুদ্ধে ব‍্যস্ত থাকায় বঙ্গভূমিতে ঘোরতর অশান্তি বিরাজ করছিল,সে সময়ে শেঠভ্রাতৃদ্বয় নিজেদের কারবার সুচারুরূপে পরিচালনা করে অগাধ সম্পত্তির অধীশ্বর হয়েছিলেন।সেইজন‍্য প্রবাদ ছিল যে,🌹তাঁরা ইচ্ছে করলে সোনা দিয়ে ভাগীরথীর মোহনা বাঁধিয়ে দিতে পারেন,এতই অর্থ ছিল।যাইহোক,মহারাষ্ট্রীয়রা তাঁদের গদী লুঠ করেও তাঁদের কারবারের কিছুই ক্ষতি করতে পারিনি।তাঁদের ক্ষমতা অসীম ছিল।আলিবর্দী খাঁ, সিরাজউদ্দৌলা,মীরজাফর খাঁ প্রভৃতি নবাবদের দরবারে তাঁদের অপরিসীম প্রভুত্ব ছিল।নবাবগণ অনেক বিষয়ে তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন।সিরাজউদ্দৌলার উচ্ছৃঙ্খলার জন্য তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যোগদান করলেও, সিরাজ একেবারে তাঁদের পরামর্শ উপেক্ষা করেননি।দেশীয় রাজা মহারাজগণ এবং বিদেশীয় ইংরেজ,ফরাসী,ওলন্দাজ প্রভৃতি বণিকগণ কিভাবে তাঁদের শরণাগত হতেন,তা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।ফলে অর্থে ও প্রভুত্বে শেঠভ্রাতৃদ্বয় যে বঙ্গরাজ‍্য মধ্যে অতুলনীয় ছিলেন, তাতে সন্দেহ নেই।দুঃখের বিষয়,তাঁদের সেই অর্থ ও প্রভুত্বই তাঁদের পক্ষে কালস্বরূপ হয়ে উঠে, এবং তাঁদের সেই অর্থ ও প্রভুত্বের জন‍্যই মীরকাসিম তাঁদেরকে বন্দী করে অবশেষে এ জগৎ হতে অপসারিত করবার ব‍্যবস্থা করেছিলেন।মীরকাসিমের এরকম নির্দয় নরহত‍্যা যে তাঁর চরিত্রের একটি প্রধান কলঙ্ক,তা হয়ত সকলেই জানেন।শেষজীবনে মীরকাসিম ভিখারীর বেশে দেশে দেশে ভ্রমণ করে,অবশেষে অজ্ঞাতভাবে একমুষ্টি অন্নের অভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দিতে বাধ‍্য হয়েছিল।*
*মীরকাসিম প্রথমে রোহিলখন্ডে উপস্থিত হয়ে পরে দিল্লীর নগরোপকন্ঠের এক জীর্ণ কুটীরে অজ্ঞাতভাবে দিনযাপন করেন। ১৭৭৭ খৃষ্টাব্দে ৬ই জুন তার জীবন-পক্ষী দেহ-পিঞ্জর পরিত‍্যাগ করে কোন অলক্ষিত জায়গায় উড়ে যায়।তার একটি জীর্ণ শাল বিক্রি করে নাগরিকগণ তার অন্ত‍্যোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। এইভাবে বাংলা,বিহার,উড়িষ‍্যার নবাব নাজিম, অগাধ ধনসম্পত্তির অধীশ্বর,স্বাধীনচেতা মীরকাসিম বঙ্গরাজ‍্যে নানারকম লীলার অভিনয় করে,রাজ‍্যচ‍্যুত,হৃতসর্বস্ব হয়ে,ভিখারীর বেশে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল।*
🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩১) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
          *কীর্তনের----রস*
         ********************
*🌹কীর্তনের এক-একটি পালা বা পর্যায় একটি খন্ডকাব‍্য। অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণের কোনও একটি লীলা কয়েকটি মহাজন-পদাবলীর সাহায্যে জীবন্তভাবে চিত্রিত করায় কীর্তনের উদ্দেশ্য।আগে অবশ‍্য এইসব বিষয় নিয়ে উল্লিখিত হয়েছে।কিন্তু কিভাবে পালাগান নিষ্পন্ন হয়,তা বলা হয়নি এবার বলব।সাধারণতঃ কীর্তনগায়ক বিভিন্ন পদকর্তার ভিন্ন ভিন্ন পদ বেছে তাহাই পালার আকারে সাজিয়ে নেন।বস্তুতঃ যাত্রার পালা যেমন নির্দিষ্ট গান ও কথোপকথনের মধ‍্য দিয়ে নির্বাহিত হয়,কীর্তনের পালা সেরকম নয়।মনে করুন অনুরাগের এক পালা কীর্তনগান হবে ; গায়ক ইচ্ছামত একটি "তদুচিত" গৌরচন্দ্রিকা বেছে নিলেন=*
*কি খণে দেখিলাম গোরা,নবীন কামেরি কোঁড়া,*
    *সেই হইতে রইতে নারি ঘরে।*
*(ইত‍্যাদি ইত‍্যাদি=লক্ষ্মীকান্ত দাস)*
*🍀তার পর তিনি গায়তে পারেন=*
*বেলি অবসানকালে,একা গিয়েছিলাম জলে। ইত্যাদি।*
                *(বসু রামানন্দ)*
*অথবা=*
*চিকণ কালিয়া রূপ মরমে লেগেছে গো,*
       *ধরণে না যায় মোর হিয়া।*
                   *(জ্ঞানদাস)*
*অথবা=*
*রূপে ভরল দিঠি,সোঙরি পরশ মিঠি,*
      *পুলক না তেজই অঙ্গ।*
                     *(গোবিন্দ দাস)*
*🌻অতএব বুঝা যাচ্ছে যে,গায়ক মহাজন-পদাবলী হতে বিভিন্ন পদকর্তার পদ নিয়ে নিজের ইচ্ছামত সাজিয়ে থাকেন।এইরকম সাজাতে গিয়ে কিন্তু পৌর্বাপর্য (আগে ও পরের যে সম্বন্ধ) রক্ষা করা একান্ত আবশ্যক। বিভিন্ন পদকর্তার পদ এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে রসটি ক্রমেই পরিণতির দিকে অগ্রসর হয়।*
*🙌এই লীলাকীর্তন রসকীর্তন নামে অভিহিত হয়। আগেই বলেছি,রস অর্থে যা আস্বাদন করা যায় অর্থ‍্যাৎ যা চিন্তা করলে বা শুনিলে হৃদয় আনন্দে আপ্লুত হয়,তার নাম রস।আনন্দময় ভগবানের লীলাৎ আনন্দের সৃষ্টি করে, এই জন্যই লীলাকীর্তনের অপর নাম রসকীর্তন।বলা বাহুল‍্য এ দিক দিয়েও রসকীর্তনে শৃঙ্গার রসই প্রধান স্থান অধিকার করে।কারণ প্রেম বা শৃঙ্গার রসেই আনন্দ পরাকাষ্ঠা বা চরম প্রাপ্ত হয়।কীর্তনে ৬৪ রস আছে।প্রথমতঃ অলঙ্কারশাস্ত্রে শৃঙ্গাররস দুই ভাগে বিভক্ত হয়,যথা বিপ্রলম্ভ ও সম্ভোগ।অতিশয় অনুরক্ত যুবক-যুবতীর অসমাগম নিমিত্ত রতি যখন উৎকৃষ্টতা প্রাপ্ত হয়,অভীষ্টসিদ্ধি করতে পারে না, তখন সেই ভাবকে "বিপ্রলম্ভ" বলে।প্রেমিক-প্রেমিকার পরস্পর মিলনে যে উল্লাসময় ভাব হৃদয়ে আবির্ভূত হয় তার নাম "সম্ভোগ"।বিপ্রলম্ভ আবার চার প্রকার, যথা=পূর্বরাগ,মান,প্রেমবৈচিত্র‍্য ও প্রবাস। এঁদের প্রত‍্যেকটি আফার আট ভাগে বিভক্ত।যথা=পূর্বরাগের অন্তর্গত আটটি রস=সাক্ষাৎ দর্শন,চিত্রপটে দর্শন,স্বপ্নে দর্শন,(তিনটি দর্শন) বন্দী বা ভাটমুখে গুণশ্রবণ,দূতীমুখে শ্রবণ,সখীমুখে শ্রবণ,গুণিজনের গানে শ্রবণ,বংশীধ্বনি শ্রবণ (শ্রবণ পাঁচটি)। মানের অন্তর্গত আটটি রস=সখীমুখে শ্রবণ,শুকমুখে শ্রবণ,মুরলীধ্বনি শ্রবণ, প্রতিপক্ষের দেহে ভোগচিহ্ন দর্শন, প্রিয়তমের দেহে ভোগচিহ্ন দর্শন, গোত্রস্খলন,স্বপ্নে দর্শন ও অন‍্য নায়িকার সঙ্গ দর্শন। প্রেমবৈচিত্র‍্যের আটটি রস, যথা= শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আক্ষেপ,নিজপ্রতি আক্ষেপ,সখীর প্রতি আক্ষেপ,দূতীর প্রতি আক্ষেপ,মুরলীর প্রতি আক্ষেপ, বিধাতার প্রতি আক্ষেপ,কন্দর্পের প্রতি আক্ষেপ এবং গুরুজনের প্রতি আক্ষেপ। প্রবাসের অন্তর্গত আটটি রস যথা= ভাবী (বিরহ), মথুরাগমন, দ্বারকাগমন,কালীয়দমন (অদর্শনে বিরহ), গোচারণজনিত বিরহ, নন্দমোক্ষণ লীলা,কার্য‍্যানুরোধে প্রবাস, রাসে অন্তর্ধান। বিপ্রলম্ভের মত সম্ভোগেও চারটি বিভাগ আছে,যথা= সংক্ষিপ্ত সম্ভোগ, সংকীর্ণ সম্ভোগ,সম্পন্ন সম্ভোগ ও সমৃদ্ধি মান সম্বোগ। সংক্ষিপ্ত সম্ভোগের অন্তর্গত আটটি রসের নাম=ব‍াল‍্যাবস্থায় মিলন,গোষ্ঠে মিলন,গো-দোহন,অকস্মাৎ চুম্বন, হস্তাকর্ষণ,বস্ত্রাকর্ষণ,পথরোধ, রতিভোগ। সংকীর্ণ সম্ভোগে মহারাস,জলক্রীড়া,কুঞ্জলীলা,দানলীলা,বংশীচুরি,নৌকাবিলাস,মধুপান,সূর্য‍্যপূজা,এই আটটি বিভাগ আছে। সম্পন্ন সম্ভোগের বিভাগ যথা=সুদূর দর্শন,ঝুলন,হোলি,প্রহেলিকা,পাশাখেলা,নর্তকরাস,রসালস, কপটনিদ্রা। সমৃদ্ধিমান সম্ভোগে =স্বপ্নে বিলাস,কুরুক্ষেত্রে মিলন,ভাবোল্লাস,ব্রজাগমন,বিপরীত সম্ভোগ,ভোজনকৌতূক,একত্রনিদ্রা, স্বাধীনভর্তৃকা।*
*🌺পৃর্বে যে সব লীলার উল্লেখ করা হয়েছে,তাদের মধ্যে এই চতুঃষষ্টি (৬৪) রসের অল্পাধিক বিস্তার আছে।কীর্তনগায়ককে সেইজন‍্য সাবধানতার সঙ্গে কীর্তনগান করতে হয়।কীর্তনীয়া শুধু সঙ্গীতজ্ঞ হলেই হয় না,তাঁকে পন্ডিতও হতে হয়।সব কীর্তনীয়াই যে পন্ডিত একথা বলছি না।তবে পন্ডিত হ'লে ভাল হয়।পূর্বে এরকম বহু কীর্তনগায়কের নাম শোনা যায় যাঁরা মহাপন্ডিত ছিলেন।এই সেদিনও অদ্বৈতদাস পন্ডিত বাবাজী, রায় বাহাদুর রসময় মিত্র এম.এ কীর্তনগানে প্রসিদ্ধি লাভ করে গিয়েছেন।রস-জ্ঞান না থাকলে অভিজ্ঞ শ্রোতাভক্তের কাছে গায়ককে পদে পদে লাঞ্জিত হতে হয়।রস-জ্ঞানের অভাব থাকলে রসাভাস হয় এবং রসাভাসবিশিষ্ট গানে রসিক শ্রোতাভক্তের মনস্তুষ্টি হয় না।যেখানে যে রসের পরিবেশন করতে হবে তা না করে অন‍্য রস বা বিরুদ্ধ রস পরিবেশন করলে তা শ্রুতিকটু হয়। সূক্ষ্ম রসবিচারে নিপুণতার সহিত সুর-লয়ের সঙ্গতি থাকলে তবেই কীর্তন শ্রুতিসুখকর হয়।আনন্দ সব সঙ্গীতের উপদান হলেও,কীর্তনের বৈশিষ্ট্য এই যে,গায়ক এবং শ্রেয়তাভক্ত উভয়কেই রসজ্ঞ হতে হয় অর্থ‍্যাৎ বৈষ্ণব সিদ্ধান্ত এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল সূত্রের সঙ্গে সুপরিচয় থাকা আবশ‍্যক।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦜🦚🦚🦚🦚🦚🦚

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩২) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
          *বৈষ্ণব----কবিতা*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🔥বৈষ্ণব কবিতা বুঝবার চেষ্টা এযুগে সব সময়ে সফল হতে পারে না।আমিও (লেখক) যে ঠিক বুঝাতে পারবো এবিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।আজকালকার দিনে প্রকৃত বৈষ্ণব কবিতার সৃষ্টি হয় না।⚪যে যুগে বৈষ্ণব কবিতার সৃষ্টি হয়েছিল সে ছিল অন‍্য একটা যুগ।বৈষ্ণব কবিতা বুঝতে হলে সে যুগের পারিপার্শ্বিক অবস্থা কেমন ছিল তা বুঝতে হবে।যেমন বতর্মানযুগে রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে হলে তাঁর আবেষ্টনী বুঝতে হবে।নবীন সেনকে বুঝতে হলে মহাভারতকে বুঝতে হবে। Back-ground বোঝা আগে দরকার ; তা না হলে কোন বস্তুই ভাল করে বুঝা যায় না।মাইকেলকে বুঝতে হলে আমাদের বুঝা দরকার "ভার্জ্জিল, দান্তে, মিলটনকে"।বিশেষ কোন কাব‍্য বুঝতে গেলেই তার পটভূমি (Back-ground) বুঝা একান্ত প্রয়োজন।এযুগে বৈষ্ণব কবিতা বুঝবার পক্ষে অনেক বাধা আছে। কারণ আমরা সেযুগ ছাড়িয়ে অনেক দূরে এসে পড়েছি।বৈষ্ণব সাহিত‍্য আলোচনা করলে দেখা যায় বৈষ্ণব কবিগণ কেবল একই বিষয়ে কবিতা লিখেছেন।তাঁরা কেন এ লিখলেন?আর কি কোন বিষয় লিখবার ছিল না?বিদ‍্যাপতি পুরুষ-পরীক্ষা প্রভৃতি অনেক গ্রন্থ লিখেছিলেন।শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব কবিগণ ক্রমাগত রাধাকৃষ্ণ নিয়ে নয়ত গৌরাঙ্গলীলা নিয়ে ছোট ছোট কবিতা লিখেছেন,কেন তাঁরা এই খন্ড কবিতা লিখলেন। আরও বড় কিছু কি তাঁরা করতে পারতেন না? ভাববার বিষয় বটে।*
*🌹যাঁরা বৈষ্ণব কবিতাকে কিছু-না বলে মনে করেন,তাঁদের জন্য আমার বক্তব‍্য নয়।যাঁরা বৈষ্ণব কবিতাকে ভাল ও সুপাঠ‍্য বলে বিবেচনা করেন তাঁদের উদ্দেশ্যেই আমি দুই-চারটে কথা বলবো। অনেকে শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলাকে রূপক বলে মনে করেন। উপনিষদে যেমন আছে দুটি পক্ষী একবৃক্ষে বসে,একটি ফল আস্বাদন করে আর একটি নিরীক্ষণ করে, সেইরকম রাধাকৃষ্ণলীলা জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন বৈ আর কিছু নয়। বৈষ্ণব কবিতা সত‍্যি কি রূপক?যদি রূপক হ'তো তা-হলে রাধাকৃষ্ণ সম্পর্কে এত কবিতা রচিত হতে পারত না।কী পরিমাণ দরদ,কী পরিমাণ আগ্রহ দিয়ে এই সব কবিতা দিনের পর দিন লিখে কবিগণ কৃতকৃতার্থ হয়েছেন।বৈষ্ণব কবিতা বুঝবার পক্ষে এই যে বাধা এটা সত‍্যিকারের বাধা।যদি বৈষ্ণব কবিতাকে রূপক বলেই মনে করি তা হলেই রবীন্দ্রনাথ বৈষ্ণব কবিতা বলতে কি বুঝেছেন,তা আমরা বুঝতে পারি। তিনি বলেছেন=*
*🌻🌻এই প্রেম-গীতি-হার🌻🌻*
*🌷গাঁথা হয় নরনারী-মিলন-মেলায়,*
*🌷কেহ দেয় তাঁরে,কেহ বঁধূর গলায়।*
*🌷দেবারে যাহা দিতে পারি,দিই তাই,*
*🌷প্রিয়জনে--প্রিয়জনে যাহা দিতে পাই।*
*🌷তাই দিই দেবতারে ; আর পাব কোথা?*
*🌷দেবতারে প্রিয় করি,প্রিয়েরে দেবতা।*
*🍀এইরকম ভাবে বৈষ্ণব কবিতার উপরের ভাবটি গ্রহণ করা যেতে পারে। বিশেষ ভিতরে যেতে পারা যায় না।ভিতরের নিগূঢ় বিষয় বুঝতে গেলে বৈষ্ণব কবিতার মানস সরোবরের অভ‍্যন্তরে প্রবেশ করা ছাড়া উপায় নাই।*
*🌺বালিগঞ্জ লেক্ এর উদাহরণে কথাটা হয়ত সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। ভিন্ন ভিন্ন লোক ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে এখানে গিয়ে থাকেন,কেউ যান দৃশ্য দেখবার জন্য, কেউ যান স্বাস্থের উন্নতির জন্য, আর তরুণেরা কেউ কেউ সন্তরণ বা সাঁতার,আত্মহত‍্যা ইত্যাদি অনেক কারণে গিয়ে থাকেন।বৈষ্ণব কবিতার বিষয়েও ঠিক এই ভাব।ভক্ত রসিক একভাবে একে গ্রহণ করেন,সাধারণ পাঠক গ্রহণ করেন অন‍্যভাবে।ভক্তগণ কেমন ভাবে বৈষ্ণব কবিতা গ্রহণ করেন তা বুঝবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সাধারণ পাঠকেরা মনে করেন বৈষ্ণব কবিতার মধ্যে যখন রস আছে, শৃঙ্গার রয়েছে,তখন মন্দই বা কি?এ সময় একজনের কথা আমার মনে পড়েছে--, চ‍্যাপম‍্যান সাহেব সুরেন্দ্র নাথ কুমারের সাহায্যে VAISNAV LYRICS সংগ্রহ করেছিলেন, তার ভূমিকায় লিখেছেন=*
*"Oh Radha! I wish to have you as my wife". কবি কি উদ্দেশ্য নিয়ে লিখেছেন তা না বুঝলে বৈষ্ণব কবিতা বুঝা যায় না।*
*🌿তুলসীদাসের রামায়ণ পড়লে বুঝা যায় তাঁর রামচরিত্র বাল্মীকির রামের চেয়ে সুন্দর।বাল্মীকির রামায়ণের কঠোর রামচরিত্র তুলসীদাসের হাতে আরও সরস ও সুন্দর হয়ে উঠেছে।তুলসীদাসের রামচরিতমানস বাস্তবিকই কবিতার মানসসরোবর।রসিক মরালগণ এই সরোবরে সুখে ভ্রমণ করতে পারেন।তাঁর প্রত‍্যেকটি কবিতা প্রাণ গলিয়ে লেখা।তুলসীদাসের এই রামচরিত মানসের দ্বারা অন্ততঃ নয়কোটি লোকের আধ‍্যাত্মিক ক্ষুধা তৃপ্ত হচ্ছে।শুধু কবিতার সৌন্দর্য্য দেখে নয়, আনন্দের খোরাক তারা পায় সেখান হতে।*
*🌻বৈষ্ণব কবিতা ঠিক এইভাবে গ্রহণ করতে হবে।বৈষ্ণব কবিতাকে লীলার দিক থেকে দেখতে হবে, রূপকের দিক থেকে দেখলে চলবে না।রূপকের দিক থেকে দেখলে interpretation হবে সত‍্যি, কিন্তু কিছুই বুঝে উঠতে পারা যাবে না।*
*☘লীলা সম্পর্কে দুই-একটি কথা মনে রাখা আবশ্যক।দার্শনিক ভাবে লীলার আলোচনার প্রয়োজন নাই।বৈষ্ণব কবিতার মাধুর্য‍্যে তর্ক আপনি নিরস্ত হয়ে যায়।ধার করা বিদ‍্যা দিয়ে তা বুঝতে হয় না। কোন লিলিকে রঙ ফলাতে হয় না। কোন রঙে রঞ্জিত করে যদি বৈষ্ণব কবিতা বুঝতে হয় তবে তার কোন মূল‍্যই থাকে না। There is no need to paint the lily. বৈষ্ণব কবিতা নিজের দ্বারাই ব‍্যক্ত।এ বুঝতে শাস্ত্রের প্রয়োজন হয় না।এ বুঝতে গিয়ে অনেকে বেদান্তের মায়াবাদ টেনে আনেন।বৈষ্ণবগণ মায়াবাদকে উপেক্ষা করেছেন।লীলার অর্থ লীলা,যা আপনি মধুর। লীলা বুঝতে হলে বৈষ্ণবদের সহজ সরল তত্ত্বটি মনে রাখতে হয়।তাঁদের মত=*
*🌷শ‍্যামমেব বরং রূপম্ পুরী মাধুপুরী বরা,*
*🌷বয়ঃ কৈশোরকং ধ‍্যেয়ং।*
*🌷আদ‍্য এব পরোরসঃ।*
*🌺বৈষ্ণব কবিতায় বেদান্তের তত্ত্বও নিহিত রয়েছে -----,*
*🌷সর্ব্বং খল্বিদং ব্রহ্ম,ব্রহ্ম সত‍্যং জগন্মিথ‍্যা।*
*🌹কিন্তু তাঁরা কবির ভাষায় মাধুর্য‍্যের সঙ্গে সে কথাটি ব‍্যক্ত করেছেন=*
*যদি নয়ন মুদে থাকি, অন্তরে গোবিন্দ দেখি,*
       *নয়ন মেলিয়া দেখি শ‍্যামে।*
*☘কিন্তু এমনতর ভাববার প্রয়োজন নাই যে,বেদান্ত উপনিষদের দুরূহ তত্ত্বেরই উপর বৈষ্ণব কবিতা প্রতিষ্ঠিত।বৈষ্ণব কবিতায় কবি সরস সহজ সুকোমল ভাষায় এ সব ভাব প্রকাশ করেছেন।*
*তমেব ভান্তমনুভাতি সর্বং তস‍্য ভাসা সর্বমিদম্ বিভাতি।*
*🌺এই কথাটি বৈষ্ণব কবিতায় আছে=*
*🌷তোমারই গরবে, গরবিনী হাম,*
            *রূপসী তোমারি রূপে।*
                              *(জ্ঞান দাস)*
🦚🦚🦚🌷🌷🌷🙏🙏🙏🪷🪷🪷🪔

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৩) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
          *বৈষ্ণব------কবিতা*
           ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏বৈষ্ণব কবিতায় যে তত্ত্ব ব‍্যক্ত হয়েছে,তাতে সবিশেষ ভগবানের কথায় বলা হয়েছে =*
*বদন্তি যৎ তত্ত্ববিদস্তত্ত্বং যজ্ জ্ঞানমদ্বয়ম্।*
*ব্রহ্মেতি পরমাত্মেতি ভগবানিতি শব্দ‍্যতে।।*
*🔥বৈষ্ণব কবিতায় ব্রহ্মও নয় পরমাত্মাও নয় ভগবানকেই গ্রহণ করা হয়েছে।তাঁকে আমরা কি ভাবে ভাবি? অনেকে ভাবেন তাঁর রূপ-গুণের অন্ত নেই।লীলায় প্রবেশ করতে হলে এই ধারণা দরকার।*
*🌷শ‍্যামমেব বরং রূপম্, শ‍্যামরূপই শ্রেষ্ঠ।বিবাদ বাধে এই শ‍্যামরূপই শ্রেষ্ঠ নিয়ে। শ‍্যামরূপ শ্রেষ্ঠ কেন? অন‍্য রূপেরও তো ধ‍্যান করতে পারি? কিন্তু বৈষ্ণবগণ বলেন--, শ‍্যামরূপের মত রূপ নাই,যদি ধামের কথা ভাবতে হয় তবে বৃন্দাবনই সেই ধাম।যে বৃন্দাবনে প্রতি ধেনু কামধেনু,প্রতি লতা কল্পলতা,প্রতি বৃক্ষ কল্পবৃক্ষ, সেই চিন্তামণি-ধাম বৃন্দাবনই ভগবানের ধাম।কিশোর বয়সই সুন্দর, এ বয়স বড় চমৎকার।এতে কেবল তরুণিমার লাবণ‍্যময় আভাস, এতে কোন রকম পাপ বা কলুষ নেই।*
*🍀রসের মধ্যে আদিরসই শ্রেষ্ঠ বা প্রধান।শৃঙ্গার রস মধুর ও উজ্জ্বল। অন‍্য অনেক রস আছে তার মধ্যে আদিরস শ্রেষ্ঠ।আদিরস (রতি বা প্রেম) ইংরেজিতে Love।পিরীতি বা পিরীত কথাটা আমাদের মধ্যে আজকাল আর চলে না। ভালোবাসার পুরোনো নাম রতি,প্রেম, প্রীতি,ভাব। ভালোবাসা কথাটি আমাদের ভাষায় নূতন আমদানী।"ভালবাসা" দুটো কথা থেকে হয়েছে ; ভাল ও বাসা।পূর্ববঙ্গে এখনও কথাটি প্রচলিত,যেমন তিনি কেমন বাসেন? প্রেমটাও আজকাল জোড়াতাড়া দেওয়া জিনিস হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভালবাসার মধ্যে খাঁটি প্রেম বা প্রীতি নেই।জোড়াতাড়া দেওয়া জিনিস সহজেই ভেঙ্গে যেতে পারে।তাই এই ভালোবাসা দিয়ে বৈষ্ণব-প্রেম বুঝতে পারা যায় না।ভালবাসার নিখুঁত রূপটি মহাপ্রভুর আগে ধরা পড়েনি কিন্তু মহাপ্রভুই প্রেমের মন্ত্র প্রচার করেছেন সেইজন‍্য তিনি =*
           *করুণা সিন্ধু অবতার।*
*নিজগুণে গাঁথি, নাম চিন্তামণি*
        *জগতে পরাওল হার।।*
*🙏গোবিন্দদাস এই ভাবে মহাপ্রভুর চরিত্র অঙ্কন করেছেন।এই হচ্ছে মহাপ্রভুর শ্রেষ্ঠ অবদান। তিনি ছিলেন প্রেমের জীবন্ত প্রতিমূর্তি ; এযুগে মহাপ্রভুর চরিত্র আমরা বুঝতে পারব না।তখন এমন যুগ ছিল যে যুগে দেশ মেতে উঠেছে। পাষন্ড,নাস্তিক,ভন্ড, পন্ডিত রসে মেতে উঠেছেন,সমস্ত দেশ চঞ্চল হয়ে উঠেছে।সকলেই শ্রীচৈতন‍্যকে দেখবার জন্য পাগল।এই প্রেমের কথা চারিদিকে প্রচারিত হতে লাগল।লোক সমাজকে জাগিয়ে দিল, মহাপ্রভুর জন‍্যই প্রেমের প্রচার সম্ভব হল। তিনি এই প্রেম-প্রচারের ভার গ্রহণ না করলে কেউ গ্রহণ করতো কিনা সন্দেহ।একবার যখন এই বার্তা প্রচারিত হলো তখন সকলে উঠে পড়ে লাগলেন।শ্রীরাধাকৃষ্ণ-লীলা ধ‍্যান করতে লাগলেন। মনের মধ্যে অন‍্য চিন্তা থাকে না। জানে না কি করছে, কোথায় যাচ্ছে নিজের দিকে নজর নেই।কেবল সবসময়ে কৃষ্ণকথা।*
*🌷স্মর্ত্তব‍্যো সততং বিষ্ণুরস্মর্ত্তব‍্যো ন জাতুচিৎ।*
*🌳জনসমাজ সাগ্রহে এই প্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে পড়ল।তাই বৈষ্ণব কবিতাকে বুঝতে গেলে মহাপ্রভুকে বুঝা দরকার।কি অদ্ভুত প্রেরণায় এই বৈষ্ণব সাহিত‍্য গড়ে উঠেছিল তা জানতে হলে মহাপ্রভুর পরিচয় জানা একান্ত প্রয়োজন।পদাবলীর প্রসার ও আদর হয় এই মহাপ্রভুর পর থেকেই।চন্ডীদাস-বিদ‍্যাপতির কবিতা যদি মহাপ্রভু প্রচার না করতেন তবে ঐ সব কবিতা প্রচার হতো কি-না সন্দেহ।প্রেম এমন বস্তু যে তা সকলকে তাদের অজ্ঞাতসারে চালিত করে।এর জন‍্যই আমাদের মন বৈষ্ণব কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়। বৈষ্ণব কবিতা কেবল কবিতা নয়,এগুলো কীর্তনগান করবার জন্য রচিত হয়ে ছিল।তা না হলে এত ছোট হবে কেন? তাছাড়া সে সময়ে সুর-তাল-লয় বাদ‍্যযন্ত্র আবিষ্কৃত হল ; কোন সময়ে কি ভাবে গান করতে হবে সমস্ত ঠিক হয়ে গেল।অদ্ভুত ব‍্যাপার!আমার ধারণা চারিদিক থেকে চেষ্টার ফলেই এমন ব‍্যাপার দাঁড়িয়েছে।আপামর সাধারণকে বুঝাবার জন্য এসব হয়েছে।এতে তাদের সহানুভূতি সমবেদনা ছিল সন্দেহ নেই।তা না হলে মুসলমান রাজত্বেও এই Culture গড়ে উঠলো এবং টিকে থাকলো কি করে? মহাপ্রভুর যুগ বাংলার খুব উজ্জ্বল যুগ।এই সময়ে দেশে অনেক মনীষী জন্মগ্রহণ করেছিলেন।অসাধারণ পন্ডিতের তখন আবির্ভাব হয়েছিল।স্মার্ত্ত রঘুনন্দন,নৈয়ায়িক রঘুনাথ, বাসুদেব সার্বভৌম তখন উজ্জ্বল জ‍্যোতিষ্কের মত বিরাজ করছেন। স্মার্ত্ত রঘুনন্দন এমন ভাবে হিন্দুধর্মের নিয়ম কানুন বেঁধে দিলেন যে আজ পর্য‍্যন্তও সেই ধারা মেনে চলতে হয়।যখন কাজকর্ম কিছু করতে হয় তখন তাঁর স্মৃতি ছাড়া গত‍্যন্তর নেই।এক অন্ধকার যুগে যে বৈষ্ণবদের প্রেমধর্মের সৃষ্টি হয়েছিল তা নয়।এঁদের একজনও যদি কোনও যুগে জন্মগ্রহণ করতেন তবে সেই যুগ ধন‍্য হয়ে যেত।মহাপ্রভু পৃথিবীতে এমন Dynamic force নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন যার তুলনা হয় না।কেননা বাংলা দেশে সে সময় এমন একটি ভক্তির বন‍্যা বয়ে গিয়েছিল যে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন‍্যপ্রান্ত ভেসে গেল।আমরা এখন সে যুগের কল্পনাও করতে পারি না।বৈষ্ণব কাব‍্য বুঝতে গেলে মহাপ্রভুর জীবনের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে হয়।তিনি কেমন করে ভগবৎ প্রেমকে সাধারণের মধ্যে সহজবোধ‍্য করেছিলেন তাই বুঝতে হয়।"প্রেম কাকে বলে"? প্রেম অর্থে প্রিয়ের জন্য পরম ব‍্যাকুলতা।*
*🍀যদি ভগবানের সত্তা উপলব্ধি করতে হয় তবে এই প্রেম ছাড়া উপায় নেই।মহাপ্রভুর পূর্বে এই প্রেমের কথা কেউ এমন কোরে বলেননি। বৈষ্ণব কবিগণ মহাপ্রভুকে কি ভাবে গ্রহণ করেছেন তাই দেখতে হবে =*
*নীরদ নয়নে, নীর ঘন সিঞ্চনে,*
         *পুলক মুকুল অবলম্ব।*
*স্বেদ মকরন্দ, বিন্দু বিন্দু চুয়ত,*
         *বিকশিত ভাব-কদম্ব।।*
*কি পেখলুঁ নটবর গৌর কিশোর।*

*এইটি বুঝাতে গিয়ে ভাষার আলোচনা করবো না।এ এমন জিনিস যে অনেক কথা না বুঝালে বুঝা যাবে।মহাপ্রভুর নয়নদুটি অবিরল বারি বর্ষণ করছে।অবিরল বারিপাত হলে বৃক্ষে বৃক্ষে মুকুলের উদগম হয়, তেমনি শ্রীগৌরাঙ্গের কাঁচা সোনার মত দেহে মুকুলের (রোমাঞ্চ)উদগম হয়েছে।••••••••••••••*
*🌹অঙ্গের স্বেদজল মকরন্দের মত বিন্দু বিন্দু ঝরছে ; তাতে ভাবরূপ কদম্ব ফুল ফুটেছে।কদম্ব ফুল ফোটার মধ্যে একটা বৈশিষ্ট্য আছে।অন‍্য ফুল এমন ডগমগ-ভাবে ফোটে না।কদম্ব অর্থ এখানে "সমূহ" হতে পারে।ভাব বলতে কেউ কেউ অষ্ট-সাত্ত্বিক ভাব বলতে পারেন কিন্তু তা নয়, কেননা অষ্টসাত্ত্বিকের মধ্যে অন্ততঃ তিনটির (অশ্রু,পুলক,ঘর্ম্ম) উল্লেখ করে,আবার তার কথা বললে পুনরুক্তি দোষ হয়।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যদেব গৌরবর্ণ বলে তাঁকে সোনার বৃক্ষ বলা হয়েছে।সুরধূনীর তীর উজ্জ্বল করে একটি সোনার গাছ চলে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সোনার গাছ কি কখনও চলে বেড়ায়? তাই বলছেন অভিনব,নূতন, আর কখনও এইরকম দেখা যায়নি।ভক্ত সোনার গাছ বলে' তৃপ্ত হতে পারলেন না,তাই বলেছেন সোনার কল্পবৃক্ষ চলে বেড়াচ্ছে।*
*🌳"কল্পতরু" অর্থে যা অভীষ্ট দান করে।মহাপ্রভু কি আমাদের সমস্ত অভীষ্ট পূর্ণ করেন?তা তো নয়,তিনি আমাদের পক্ষে যা পরম হিতকর তাই দান করেন যেচে যেচে,সেধে সেধে,নয়নের জলে ভেসে ভেসে।ঈশ্বরের কাছে আমরা সবই চায়,সবই বলি।তিনি কি দেন? ভগবান সে সকল দেন না তিনি বলেন=*
*🌷সেহ মূর্খ,আমি বিজ্ঞ বিষয় কেনে দিব।*
*🌷স্বচরণামৃত দিয়ে বিষয় ভুলাইব।।চৈঃচঃ।।*

*🌷কাম লাগি কৃষ্ণ ভজে,পায় কৃষ্ণ-রসে।*
*🌷কাম ছাড়ি দাস হৈতে হয় অভিলাষে।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের নাম করতে করতে নামের প্রভাবে যেমনি একটু রসের সঞ্চার হয়,তখন সে আর কিছু চায় না ; শুধু সে ভাবে আমাকে তোমার দাস করে নাও।তাই কবি বলেছেন "অভিনব হেম কল্পতরু সঞ্চরু সুরধূনী তীরে উজোর"।*
*🌹এমন অনেক পদ আছে।নবদ্বীপের সাধারণ ব্রাহ্মণ পরিবারের একটি ছেলের সম্বন্ধে বৈষ্ণবগণ যে দরদ ও মমতা দিয়ে কবিতা লিখেছেন, গান বেঁধেছেন,আজও যে গান শুনে অনেক দরদী,মরমী ভক্ত ভাবুক রসিক অশ্রু বিসর্জন করেন,তার তুলনা বিশ্বসাহিত‍্যের কোথাও পাই না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৪) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
       *শ্রীজয়দেব গোস্বামী*
      °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🙏কবি-শিরোমণি শ্রীজয়দেব গোস্বামীর কথা পুরাতন। কিন্তু পুরাতন হলেও শ্রীজয়দেব চিরনূতন।শ্রীজয়দেবের বহু আলোচনা হয়েছে,হবেও আরও বহু।তার কারণ শ্রীজয়দেব বাংলা কবিতাধারার মূল ঝরণা বা প্রস্রবণ। বাংলার এক ক্ষুদ্র পল্লী "কেন্দুবিল্ব",সেই পল্লীর কবি নিভৃতে যে গীত গেয়ে গেছেন,তা এই অষ্ট শতাব্দী ধরে বাঙ্গালীর প্রাণ মাতিয়ে রেখেছে।শ্রীজয়দেব গোস্বামী হতেই বাঙ্গালীর গীতি কবিতা।সেই কোমলকান্ত পদাবলী সুর-তান-লয়ে কীর্তনেরও বলা যায় জন্মদান করেছিলেন।বৈষ্ণব গীতি-কবিতার তুলনাও সারা বিশ্বে মিলে না, কীর্তনের মত এমন ললিত কোমল, মদিরা-তরল গানও জগতে দুর্লভ।এই জন্য সমস্ত সভ‍্য জগতে শ্রীজয়দেব গোস্বামীর সমাদর।ইংল‍্যান্ডে Sir Edwin Arnold শ্রীজয়দেবের কবিতার ঝঙ্কারে এত মুগ্ধ হয়েছিলেন যে,তিনি তাঁর ইংরেজি কবিতার সঙ্গে "মা কুরু মানিনি মানময়ে" জুড়ে দিয়েছিলেন।জার্মান,ফ্রেঞ্চ প্রভৃতি ভাষায় গীতগোবিন্দের অনুবাদ হয়েছিল। কেউ কেউ অনেক সময় গীতগোবিন্দকে অনুপ্রাস-বহুল শব্দালঙ্কার-প্রধান কাব‍্য বলে একটু উপেক্ষার চোখে দেখে থাকেন।আমরা অলঙ্কার শাস্ত্র হতে যে শিক্ষা লাভ করেছি,তার এমন সহজ প্রয়োগের সুযোগ কি পরিত‍্যাগ করতে পারি? কিন্তু এরকম নিশ্চিন্ত মনে আমরা যে সিদ্ধান্ত করি,তার মূলে যে কত বড় অবিচার আছে তা ভুলে যাই।আমরা ভুলে যাই যে,শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দ একখানি গতানুগতিক ধরণের কাব‍্য নহে।কালিদাসের সমস্ত কাব‍্যসৃষ্টির মধ্যে মেঘদূত যেমন মৌলিকতায় এখনও বিশ্বের বিস্ময় উৎপাদন করে,শ্রীজয়দেবের এই গীতি কবিতা তেমনি একখানি মৌলিক কাব‍্য।এর তুলনা প্রাচীন সাহিত‍্যে বিরল।গীতিকবিতা হিসাবেও বটে, সুর-লয়যুক্ত গান হিসাবেও বটে। কালিদাসের প্রসিদ্ধ কাব‍্য বিক্রমোর্বশীতে কয়েকটি অন্ত‍্যমিল যুক্ত গান আছে ; গানগুলি প্রাকৃতে রচিত,প্রায়ই চর্চরী জাতীয়। কিন্তু শ্রীজয়দেব গোস্বামীর গীতগোবিন্দে ছন্দ ঝঙ্কারময়ী যে অনবদ‍্য গীতিকবিতা আমরা পাই,তার তুলনা কোনও দেশের সাহিত‍্যে মিলে না। আধুনিক সমালোচকের বিচারে যদি এই অতুলনীয় মাধুর্য‍্য প্রথম শ্রেণীর কাব‍্যোৎকর্ষ বলে বীবেচিত না হয়,তা হলেও স্রষ্টা হিসাবে শ্রীজয়দেবের স্থান অনতিক্রম‍্য বলে নিশ্চয়ই স্বীকৃত হবে। শ্রীজয়দেব বাংলা কবিতার আদি গুরু বললে বেশী বলা হবে না। বাংলা কবিতার ছন্দ, প্রকাশভঙ্গী,অনুপ্রাস,কোমলতা ও মাধুর্য‍্য সবই শ্রীজয়দেবের বরহস্তের অমূল‍্য দান।জয়দেব তাঁর সংস্কৃত পদাবলীতে যে সুরে সুর বেঁধে দিয়ে গিয়েছেন, বাংলা কাব‍্যলক্ষ্মীর বীণায় তা আজ পর্য‍্যন্ত অনুরণিত হচ্ছে। শ্রীজয়দেব গোস্বামীকে প্রাচীন বৈষ্ণব কবিগণ কি ভাবে অর্চনা করেছেন,তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে বুঝা যায় যে,বঙ্গদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তাঁর স্থান কত উচ্চে।*
*জয় জয় জয়, দেব দয়াময়,*
        *পিরিতি রতন খনি।*
*পরম পন্ডিত, পূজ‍্যগুণগণ,*
       *মন্ডিত চতুর মণি।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*পদ্মাবতী সহ গানে বিচক্ষণ,*
          *আনে কি উপমা সাজে।*
*পশু পক্ষ ঝুরে শুনিয়া গন্ধর্ব,*
         *কিন্নর মরয়ে লাজে।।*
                     *(শ্রীনরহরি দাস)*
*🌻এই কবি দম্পতী যে গানে অদ্ভুত প্রতিভাশালী ছিলেন,তা সেক-শুভোদয়া হতেও জানা যায়। সেক শুভোদয়া সম্ভবত পঞ্চদশ শতাব্দীতে লিখিত।সেক শুভোদয়ায় একটি গল্প আছে যে বুঢ়নমিশ্র নামে এক দিগ্বিজয়ী গায়ক লক্ষ্মণ সেনের রাজসভায় এসে জয়পত্র লিখে দিতে বললেন। কিন্তু পদ্মাবতী ও জয়দেব এই দিগ্বিজয়ীকে গানে পরাস্ত করলেন।গীতগোবিন্দের "পদ্মাবতীর চরণ চারণে চক্রবর্তী" দেখে কেউ কেউ মনে করেন যে শ্রীজয়দেবের মনোহর গীতের সঙ্গে পদ্মাবতী নৃত্য করতেন।অথবা উভয়েই নৃত‍্যগীতের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের উপাসনা করতেন।*
*🌹ভক্তমাল ও বনমালী দাসের শ্রীজয়দেব চরিত্রে জয়দেব সম্বন্ধে নানা কিম্বদন্তীও অলৌকিক কাহিনী লিপিবদ্ধ আছে।তার মধ্যে একটি প্রবাদ সর্বাপেক্ষা বেশী প্রচলিত ; শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দের একটি পদ ভগবান নিজে এসে পূরণ করে দিয়েছিলেন। জয়দেব "স্মরগরল খন্ডনং মম শিরসি মন্ডনং" পর্য‍্যন্ত লিখে অবশিষ্টাংশ লিখতে কুন্ঠিত হলেন।*
*🌷কৃষ্ণচাহে পাদপদ্ম মস্তকে ধরিতে।*
*🌷কেমনে লিখিব ইহা বিস্ময় বড় চিতে।।*
*🙏কিন্তু অনাদিরআদি গোবিন্দ সে সংশয়ের অবসান করে দিলেন, নিজ পদ্মহস্তে লিখে দিলেন=*
*🌹দেহি পদ পল্লবমুদারম্।*
*☘উপরে শ্রীনরহরি দাসের যে পদটি উদ্ধৃত হয়েছে,তাতেও আছে=*
*🌷যার বিরচিত শ্রীগীতগোবিন্দ,*
          *🌷গ্রন্থ সুকৌশল তাতে।*
*🌷গোবিন্দ আনন্দে "দেহি পদপল্লব,*
          *🌷আদি বর্ণিলেন যাতে।।*
*🙏এইসব কিংবদন্তী ও প্রবাদ হতে বুঝতে পারা যায় যে,কবির হৃদয় ভক্তিভাবের উৎস ছিল এবং তাঁর সমকালে এবং পরবর্তীকালেও শীজয়দেবের ন‍্যায় ভক্ত কবি বেশী জন্মগ্রহণ করেননি।বাঙ্গালীর স্বাভাবিক ভাবালুতা ও রসপ্রবণতা শ্রীজয়দেবের কবিতার স্বচ্ছ মুকুরে প্রথম আপনার রূপ দেখল।বাস্তবিক এমন রূপ ও রসের পসরা নিয়ে এর আগে বাংলা দেশে কোনও কাব‍্য আবির্ভূত হয়নি।বাঙ্গালীর প্রতিভা সাধারণতঃ গীতিকবিতা ধর্ম।যে lyric মাধুর্য‍্য গ্রীক সাহিত‍্যে পাওয়া যায়,জার্মান কবি হায়েনের মধ্যে যে রসটি ফুটে উঠেছিল,ইংরেজ কবি শেলির মধ্যে যে রসের আভাস মাঝে মাঝে পাওয়া যায়,তারই মধ্যে বাঙ্গালীর কাব‍্য প্রতিভার বিলাস দেখতে পাওয়া যায়।শ্রীজয়দেবই সেই যাদুকর শিল্পী যিনি রূপে-রসে মজিয়ে তাঁর অনুপম চিত্র অঙ্কন করেছিলেন।*
*🌺কাব‍্যে যত প্রকার রস আছে,তার মধ্যে শৃঙ্গার রসই মুখ‍্য।বিশ্বের সমস্ত কাব‍্যকবিতার মধ্যে এই শৃঙ্গাররস ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে।সার্বজনীন প্রীতির আস্পদ বলেই শৃঙ্গার রসের নাম মধুররস।*
*কিন্তু শ্রীজয়দেব গোস্বামী এই মধুররসকে যে ভাবে পরিবেশন করেছিলেন,তাঁর আগে অন‍্য কেউই সেইরকম পারেননি।বস্তুতঃ ভগবানকে মূর্তিমান শৃঙ্গার রস রূপে কল্পিত করে তিনি যে ভক্তিভাব ও সাহিত‍্যরসের মধ্যে এক স্বর্ণশৃঙ্খল নির্মাণ করলেন,তা সম্পূর্ণ একেবারেই নূতন ব‍্যাপার।মনে রাখতে হবে যে,শ্রীজয়দেবের কাব‍্য ধর্মগ্রন্থ নহে, অর্থ‍্যাৎ মনুসংহিতাও নয়,ভগবদ্ গীতাও নয়। গীতগোবিন্দ কাব‍্য, কাব‍্যরসই ইহার প্রধান সম্পদ।অথচ তার মধ‍্য দিয়ে একটি স্বচ্ছন্দ অন্তঃসলিল প্রবাহরূপে ভক্তিভাবের ফল্গু ধারা তিনি কেমন করে বহাইলেন, তা চিরদিন ভাবুকমনের বিস্ময়ের বস্তু হয়ে থাকবে। তিনি যে "মঙ্গলমুজ্জল গীতি" গেয়ে গিয়েছেন, সেই উজ্জ্বল রসই বৈষ্ণব কাব‍্য,বৈষ্ণব দর্শন ও বৈষ্ণব ধর্মেরসার কথা হয়ে রয়েছে। কারও কারও মতে জয়দেবের কাব‍্যে এই আদিরসাধিক‍্য শ্লীলতারসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই সমালোচনা নিছক রুচির উপর নির্ভর করছে! কাব‍্যের নিয়ামক পরিবর্তন শীল রুচি নহে,খেয়াল নহে,অলঙ্কার শাস্ত্রের ধরাবাঁধা নিয়ম। কাজেই কাব‍্যের রসসৃষ্টির প্রয়োজনে,অলঙ্কার শাস্ত্রের শাসনে শ্রীজয়দেব যে চিত্রকাব‍্য রচনা করেছেন,তা সাময়িক রুচির দ্বারা বিচার্য নহে।হিন্দু সাম্রাজ‍্যের অস্তগমন কালে শেষ অক্ষম নরপতির রাজসভার রুচি যদি বতর্মান বিংশ শতাব্দীর রুচির দ্বারা সমর্থিত না-ও হয় তা হলেও শ্রীজয়দেবের অনন‍্য সাধারণ সৃজনী প্রতিভার বিলাস ক্ষুণ্ন হতে পারে না।*
*🌳গীতগোবিন্দ আদিরস প্রধান হলেও জয়দেব যে সহজিয়া সম্প্রদায় ভুক্ত ছিলেন না,তা বুঝা যায় তাঁর নিজের উক্তি হতেই। তিনি বলেছেন যে,*
*🌷যদি হরি-স্মরণে সরসং মনো,*
*🌷বিলাস-কলাসু কুতূহলম্।*
*🌷মধুর কোমল কান্ত পদাবলীং,*
*🌷শৃণু তদা জয়দেব-সরস্বতীম্।।*
                  *(গীতগোবিন্দ ১ম সর্গ)*
*🌹সুতরাং শ্রীজয়দেব যে আদিরসের জন্যই আদিরস সৃষ্টি করেন নাই,তা স্বীকার করতেই হবে। তিনি গ্রন্থশেষেও এই কথা বলে উপসংহার করছেন=*
*যদ্ গান্ধর্বকলাসু কৌশলমনুধ‍্যানঞ্চ যদ্বৈষ্ণবং,*
*যচ্ছৃঙ্গারবিবেকতত্ত্বমপি যৎকাব‍্যেষু লীলায়িতম্।*
*তৎসর্বং জয়দেবপন্ডিত কবে ; কৃষ্ণৈকতানাত্মনঃ,*
*সানন্দা ঃ পরিশোধয়ন্তু সুধিয়ঃ শ্রীগীতগোবিন্দতঃ।।*
*🙏হে সুধী সজ্জনগণ!যদি সঙ্গীত শাস্ত্রোক্তগীতরাগতালাদিতে কৌশল,সর্বব‍্যাপী বিষ্ণুর অনুধ‍্যান,কাব‍্যকথায় লীলায়িত শৃঙ্গার তত্ত্ব সম্বন্ধে জ্ঞান লাভের বাসনা থাকে,তবে কবি জয়দেব পন্ডিতের এই শ্রীগীতগোবিন্দ হতে আনন্দ সহকারে তা লাভ করে আশঙ্কাপঙ্ক হতে বিমুক্ত হন( পরিশোধয়ন্তু) কারণ জয়দেবের আত্মা শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে একতান, অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণই তাঁর একমাত্র ধ‍্যানজ্ঞান।*
*🌺সহজিয়া সম্প্রদায় অনেকটা বৈষ্ণব ভাবধারা অনুসরণ করে বটে, তাঁদের ভজন প্রণালী কিছু ভিন্ন প্রকার।বৈষ্ণবগণ যেমন লীলাকে সর্বপ্রকার কামগন্ধ বিবর্জিত ভাবে গ্রহণ করবার প্রয়াসী, সহজিয়ারা তা নয়।তাঁদের সহজ সিদ্ধি বা সহজানন্দ যৌনপ্রবৃত্তির একান্তবর্জন-নিষ্ঠ নহে। শ্রীজয়দেবের মত যে এঁদের অনুকূল ছিল না,তা বুঝা যায় শ্রীচৈতন‍্যদেবের অনুরাগ হতে।শ্রীচৈতন‍‍্যদেব যে শ্রীজয়দেবের কাব‍্যের অনুরাগী ছিলেন,তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে।শ্রীচৈতন‍্যের প্রিয় পার্ষদ আজীবন ব্রহ্মচারী,সুপন্ডিত,রসজ্ঞ ও ভক্ত স্বরূপদামোদর জয়দেবের পদাবলী গান করে শ্রীচৈতন‍্যদেবকে তাঁর দিব‍্যোন্মাদ দশায় আনন্দ দান করতেন।এই জন্য অন‍্যান‍্য বৈষ্ণব মহাজনগণের অগ্রণী রূপে শ্রীজয়দেব এখনও বঙ্গেদেশে পূজিত হয়ে থাকেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৫) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
       *🙏🙏চন্ডীদাস🙏🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀বাংলার অন‍্যতম শ্রেষ্ঠ কবি চন্ডীদাস কে ছিলেন, কোথায় তাঁর জন্ম, কবে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন, এ সম্বন্ধে কিছুই নিশ্চিতরূপে জানা যায় না।কিংবদন্তীর অভাব নেই, কিন্তু তার উপর নির্ভর করে কোনোও কথা বলা নিরাপদ নয়।বীরভূমে কিংবদন্তী আছে চন্ডীদাস কীর্ণাহারের কাছে নান্নুর গ্রামে বাস করতেন,এখন সে জায়গা ভগ্নস্তূপে চিহ্নিত হচ্ছে।তার কাছে পুরাণো বাশুলী মন্দিরও ভগ্নস্তূপে পরিণত।চন্ডীদাস এই বাশুলী বা বিশালাক্ষ্মীর সেবক ছিলেন। আবার বাঁকুড়ায় এক কিংবদন্তী আছে যে,চন্ডীদাস ছাতনার কাছে যে নান্নুর আছে,তারই অধিবাসী ছিলেন।সেখানেও বাশুলীর মন্দির আছে। পুরাণো যে মন্দিরটি ছিল,সেটি ভেঙ্গে যাওয়াতে তারই কাছে একটি নূতন মন্দির নির্মিত হয়েছে।রামী রজকিনীর বাড়ী নান্নুরেও আছে,ছাতনায়ও আছে। ছাতনায় এখনও রামী ধুবনীর পাট আছে যেখানে সে কাপড় কাচতো।কয়েক বছর আগে বাঁকুড়া থেকে চন্ডীদাস-রচিত কিছু লেখা বেড়িয়েছে, তাতে বাঁকুড়ার দাবীই সমর্থন করে।কাজেই ব‍্যাপারটি শক্ত হয়ে উঠেছে।আমি ছাতনায় গিয়েছি ; নান্নুরেও গিয়েছি।ছাতনা বাঁকুড়ার শহর থেকে ১২ মাইল দূরে।এখনও সেখানে ধোবা পাড়া আছে।অনেক ধোবা সেখানে বাস করে।চন্ডীদাসের বংশধরেরাও এখানে বতর্মান।চন্ডীদাস অবশ‍্য বিয়ে করেননি। কিন্তু তাঁর নাকি এক ভাই ছিলেন,তাঁরই বংশের ধারা এখনও চলছে।এই বংশধরগণের মধ্যে একজন আমাকে বললেন যে,চন্ডীদাস প্রথমে ছিলেন বীরভূমে, তারপর তিনি বাঁকুড়ায় চলে আসেন।অবশ‍্য এটা অসম্ভব নয়, দূরত্ব ৫০ মাইল মাত্র।এমন হতে পারে যে,চন্ডীদাস প্রথম জীবনে বীরভূমের নান্নুরে বাস করে,শেষজীবন কাটিয়েছিলেন বাঁকুড়ায় এবং সেখানে বাশুলীর মন্দির,শাঁখা পুকুর প্রভৃতি বীরভূমে যেমন ছিল,সে সব ছাতনায় হুবহু এনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু আমার মনে হয় চন্ডীদাস দুইজন ছিলেন, একজন ছাতনার, আর অপরজন বীরভূম নান্নুরে।এঁদের মধ্যে শেষোক্তই প্রাচীনতর এবং ইনিই সম্ভবতঃ আমাদের শ্রেষ্ঠ কবি চন্ডীদাস। কিন্তু এ শুধু অনুমান,তার চেয়ে বেশী কিছু বলা যায় না।*
*🍀চন্ডীদাসের কবিতার প্রধান গুণ তার সরলতা,যাকে আলঙ্কারিক অর্থে বলেন প্রসাদ গুণ।একজন কবি যেমন চন্ডীদাসের সম্বন্ধে বলেছেন, "সরল তরল রচনা প্রাঞ্জল প্রসাদ গুণেতে ভরা"।তাঁর ভাষায় আড়ম্বর নেই,অলঙ্কারের বালাই নেই। সহজ সরল ভাষায় তিনি প্রাণের কথা বলেছেন। সেই প্রাচীন যুগে যখন বাংলা কবিতার কোনো আদর্শ ছিল না বললেই হয় তখন তিনি এমন স্বচ্ছ সরল প্রাণস্পর্শী ভাষায় কেমন করে কবিতা লিখতে পারলেন।এ ভাবলে আমরা বিস্মিত না হয়ে পারি না কিন্তু তার কারণ এই যে,সে সময়ে করে ততো কবিতা লেখা হত না, যত না হ'ত গানের জন্য।গীতের ভাষা সরল না হলে লোকের কাছে আদরণীয় হয় না।চন্ডীদাসের কবিতা একে গীত-ধর্মী, তাতে আবার তার বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রেম।প্রেমগীতি সরল না হলে তা মর্মে প্রবেশ করে না।এই জন্যই চন্ডীদাসের কবিতার ভাষা সরল, ভাব তরল এবং ছন্দ মিষ্ট।এই দেখাদেখি অনেক কবি সহজ অনাড়ম্বর ভাষায় কবিতা রচনা করেছেন, কিন্তু চন্ডীদাসের নিরাভরণা  (আভরণহীনা) ভাষায় যে সৌন্দর্য্য-মাধুর্য‍্য বিকশিত হয়েছে,অন‍্য কেউ তা আনতে পারেননি।চন্ডীদাস অল্পকথায় যে চিত্র ফুটিয়েছেন,তা সত‍্যই মর্ম স্পর্শ করে, এখানেই চন্ডীদাসের অনন‍্য সাধারণ প্রতিভা স্বীকার করতে হবে।*
*🌷এ ঘোর যামিনী মেঘের ঘটা,*
                    *কেমনে আইল বাটে*।
*🌷আঙ্গিনার কোণে বঁধুয়া তিতিছে,*
                *দেখিয়া পরাণ ফাটে।।*
*🌺এই কথাগুলি বলামাত্র একখানি করোণ কোমল চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু এই যে জলে ভেজা, অশ্রুসজল চিত্র এটি আকস্মিক নয়।পাছে কেউ আকস্মিক বলে উপেক্ষা করে,এই জন্য চন্ডীদাস তাঁর নায়িকার মুখ দিয়ে বলালেন=*
*🌷আপনার দুখ সুখ করি মানে,*
                   *আমার দুখেতে দুখী।*
*🌷চন্ডীদাস কহে কানুর পিরীতি,*
                  *শুনিতে জগত সুখী।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ প্রেমের সার্বজনীন এবং সার্বজনীন অনুভূতি দিয়ে রচিত এই চিত্র।সকল প্রেমিক প্রেমিকার পক্ষেই কথাগুলি প্রযোজ‍্য।*
*🌷আমি যাই যাই বলি বলে তিন বোল।*
*🌷কত না চুম্বন দেই কত দেই কোল।।*
*🌷করে কর ধরি পিয়া শপতি দেই মোরে।*
*🌷পুন দরশন লাগি কত চেষ্টা করে।।*
*🌹হৃদয়ের কাকুতি এর চেয়ে সহজ সরল কথায় প্রকাশ করা যায় কিনা সন্দেহ। চন্ডীদাস যখন বলেন=*
*🌷পরাণ বঁধুরে স্বপনে দেখিনু,*
                   *বসিয়া শিয়র পাশে।*
*🌷নাসার বেশর পরশ করিয়া,*
                   *ঈষত মধুর হাসে।।*
*🌷পিয়ল বরণ বসন খানিতে,*
                 *মু'খানি আমার মুছে।*
*🌷শিথান হইতে মাথাটি বাহুতে,*
               *রাখিয়া শুতল কাছে।।*
*🌹প্রেমিকার এই স্বপ্ন-দর্শন চিত্রটি এত মধুর যে বৈষ্ণব কাব‍্যেও এর তুলনা খুঁজে পাওয়া যায় না। জ্ঞানদাসের প্রসিদ্ধ পদটি চন্ডীদাসের অনুকরণে রচিত বটে, কিন্তু তিনিও এতখানি দরদ দিয়ে লিখতে পারেননি।*
*🌷রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া গরজন,*
         *রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।*
*🌷পালঙ্কে শয়ান রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে,*
         *নিন্দ যাই মনের হরিষে।।*
*🔷এই চিত্রও অতুলনীয় কিন্তু এ ধনীর দুলালীর চিত্র।চন্ডীদাসের সেই পল্লীবালার সুখ-দুঃখ বেদনার চিত্র এ নয়। "শিথান হইতে মাথাটি বাহুতে রাখিয়া শুতল কাছে"। এমন আন্তরিকতা জ্ঞানদাসের কবিতায় ফোটে না।চন্ডীদাসের চিত্রটি বড় সরস,বড় কোমল অনুভূতির স্পর্শে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তারপরে স্বপ্ন যখন ভেঙ্গে গেল,তখন রাধার অবস্থার যে চিত্র চন্ডীদাস দিয়েছেন, সে অতি অপূর্ব।*
*🌷কপোত পাখীরে চকিতে বাঁটুল,*
                *বাজিলে যেমন হয়।*
*🌷চন্ডীদাস কহে এমন হইলে,*
                 *আর কি পরাণ রয়।।*
*🌳নিবিড় মিলনে বিভোর কপোত-দম্পতির একটিকে হঠাৎ বাঁটুল মারলে সে যেমন যন্ত্রণায় ছটফট করে,স্বপ্ন-ভঙ্গে রাধার দশাও তেমনি হয়েছিল।বাঁটুল অর্থে ধনুক হতে যে গোলাকার সীসা বা লৌহখন্ড সজোরে নিক্ষিপ্ত(বা ছাড়া) হয়। পল্লীসুলভ এই উপমাটিতে চিত্র অপূর্ব সজীবতা লাভ করেছে।*
*🍀চন্ডীদাসের শ্রীরাধার চিত্রে প্রেমের এই যে ঐকান্তিকতা ফুটে উঠেছে,তা-ই পরবর্তী কবিদের মনে প্রেমের উচ্চ আদর্শ মুদ্রিত করে দিয়েছে।চন্ডীদাস বলেছেন,এমন প্রেমে বিচ্ছেদ হলে আর কি পরাণ রয়?তাই আমরা দেখি তাঁর অনেক পরে শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন=*
*অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
       *সেই প্রেম নৃলোকে না হয়।*
*যদি তার হয় যোগ,না হয় তার বিয়োগ,*
       *বিয়োগ হৈলে কেহ না জীয়য়।।*
                  *(শ্রীচৈঃচঃ মধ‍্য ২পরিঃ)*
*🌹অর্থ‍্যাৎ এ প্রেম স্বর্গীয়, এমন প্রেম যদি ভাগ‍্যগুণে কারও হয়, তবে সে প্রেম বিচ্ছেদ সহে না।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৬) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
     *🙏🙏চন্ডীদাস🙏🙏*
    🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀চন্ডীদাস স্পষ্টই বলেছেন=*
*🌷পিরীতি লাগিয়ে পরাণ ছাড়িলে,*
                *পিরীতি মিলয়ে তথা।*
*🌹চন্ডীদাস সারা জীবন এই পিরীতের মহিমাই গান করেছেন।প্রেমকে এমন বড় করে আর কোনও দেশের কোনও কবি দেখাননি।তাই বাংলার নরনারী যুগ যুগ ধরে, চন্ডীদাসের পায়ে মাথা বিকিয়ে দিয়েছে। "না জানে পিরীতি যারা নহি পায় তাপ", যারা পিরীতের মর্ম জানে তাদের কোনও দুঃখ পেতেও হয় না। (দুখ নহিলে প্রেমে সুখ কি)?*
*পিরীতি বলিয়া , এ তিন আখর,*
          *ভুবনে আনিল কে।*
*মধুর বলিয়া, ছানিয়া খাইনু*
          *তিতায় তিতিল দে।।*
*🍀নিখিল মধুরতার খনি এই প্রেমের সঙ্গে সন্দেহ,শঙ্কা,বিরহের পরম ব‍্যথা গাঁথা রয়েছে।এই কথায় চন্ডীদাস সবজায়গায় বলতে চেয়েছেন।এই অফুরন্ত ব‍্যথাবেদনা প্রেমকে এক পরম রহস‍্য জড়িত করে তুলেছে। সাধারণতঃ প্রেমকে Sex instinct বলে যাঁরা মনে করেন,তাঁরা কখনও চিন্তা করেন না যে নিখিল মানব মনের এই সুকুমার বৃত্তিটির মধ্যে দুঃখই সবচেয়ে বড় জায়গা অধিকার করে রয়েছে।প্রেমের সার্থক বিকাশ সেইখানে,যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় দুঃখকে বরণ করে নেয় জীবনের চিরসাথীরূপে।কামনা বাসনা,স্বার্থ-চিন্তা যে প্রেমকে বিচলিত করে তোলে,সে প্রেমাভাস মাত্র, প্রেম নয়।বৈষ্ণবগণ তাকে বলেছেন "কাম"।চন্ডীদাসের প্রেম আদর্শ সৃষ্টি করেছে।তাই চন্ডীদাস শুধু বাংলার কবি নন,তিনি বিশ্বের কবি।সমস্ত দেশে সর্বকালে তাঁর এই আদর্শ মহনীয় হয়ে রয়েছে।একবার একজন ফরাসী মহিলা এদেশে বেড়াতে এসে চন্ডীদাসের কাব‍্যের পরিচয় পান।তিনি এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে কতকগুলো কবিতা সংগ্রহ করে "ফরাসী ভাষায় " তার অনুবাদ করে বই ছাপিয়েছিলেন।সে গ্রন্থের নাম "Amours de Radha et Krishna. এখানে একটি কথা বলে রাখা দরকার। যাঁরা মনে করেন যে এ ভাষা পাঁচশ বছরের পুরাতন হতেই পারে না,তাঁরা সাধারণতঃ ইংরেজি ভাষার Chaucer এর সঙ্গে Tennyson এর ভাষার তুলনা করে,একথা বলেন।ইংরেজি ভাষার যে পার্থক্য দেখা যায়,তাঁরা মনে করেন যে এদেশের ভাষায়ও ঠিক সেই রকম পার্থক্য নিশ্চয়ই থাকবে! কিন্তু আমাদের দেশের কাব‍্য সাহিত‍্য আলোচনা করলে দেখা যায় যে কিছু কিছু পরিবর্তন ঘটে থাকলেও মোটামুটি কবিতার ভাষা সেই প্রাচীন যুগ থেকে অনেকটা একই রকম চলে আসছে।কৃত্তিবাসের কথা ছেড়ে দি,মালাধর বসুর ভাষা,বাসুদেব ঘোষের ভাষা,লোচন দাসের ভাষা এসব আলোচনা করলে দেখা যাবে যে আমাদের ভাষার কাঠামো বেশী বদলায়নি।আমি কেবল সংশয়টির আভাস মাত্র দিয়ে আমার মত ব‍্যক্ত করলাম ; যাঁরা এ বিষয় আরো ভাল করে জানতে চান,তাঁরা প্রাচীন সাহিত‍্য আলোচনা করে দেখবেন।*
*☘ভাষার কথা ছেড়ে দিলেও চন্ডীদাসের আরোও যে বৈশিষ্ট্য আছে,তা চন্ডীদাসকে আমাদের কাছে চিনিয়ে দেয়।চন্ডীদাসের শ্রীরাধার চিত্রটি এক অপূর্ব সৃষ্টি।রাধা প্রিয়তমের নাম শুনেই পাগল।একবার মাত্র নাম শুনেই তাঁর প্রাণ আকুল হয়ে উঠল।শ‍্যামের বাঁশী যখন বাজে,তখন তিনি সব কাজ ভুলে যান, আত্মহারা হয়ে পড়েন। সেই বাঁশীর সুরের আশায় তাঁর নয়ন পুনঃ পুনঃ কদম্ব কাননের দিকে ধাবিত হয়।*
*মন উচাটন,নিশ্বাস সঘন,কদম্ব কাননে চায়।*
*🌹এ কদম্ব কানন হতেই তো বাঁশীর লহরী ভেসে আসে। এই হলো শ্রীরাধার পূর্বরাগ! মিলনের পূর্বেই তাঁর মন প্রাণ তিনি নিঃশেষে প্রিয়তমের শ্রীচরণে অর্পণ করে দিয়েছেন।*
*কহে দ্বিজ চন্ডীদাসে, কুলবতী কুল নাশে,*
       *আপনার যৌবন যাচায়।*
*🍀সুতরাং সংসারের আকর্ষণ তাঁর মনকে বেঁধে রাখতে পারে না। কদম্বতলা দেখলে তাঁর প্রাণ কেঁদে ওঠে,যমুনার জল দেখলে যার বন্ধুকে মনে পড়ে,সংসারে তার কোনও আসক্তি থাকতে পারে কি? রাধার প্রেমের জন্য যৌবনে যোগিনী সাজলেন!*
*🌷পিয়ার পিরীতি লাগি যোগিনী সাজিনু।*
*🌷তবু-তো দারুণ চিতে সোয়াস্তি না পানু।।*
*☘তিনি যে মনে মনে শুধু বৈরাগ‍্য অবলম্বন করলেন, তা নয়। যোগিনীর যে বেশ,গেরুয়া বসন,তাই ধারণ করলেন!*
*বিরতি আহারে রাঙ্গাবাস পরে,*
               *যেমতি যোগিনী পারা!*
*🌹প্রেমে যে মনে বৈরাগ‍্য এনে দেয়, একথা নূতন নয়। কিন্তু পূর্বরাগে প্রেমিকাকে যোগিনী সাজাতে একমাত্র চন্ডীদাসই পেরেছিলেন।আমরা কালিদাসের কুমার-সম্ভবে উমার তপস‍্যার কথা পড়েছি, কিন্তু সেখানে প্রেমের ব‍্যাকুলতা অপেক্ষা অটল সংকল্পও সাধনার দৃঢ়তা আমাদের মনে পড়ে বেশী। "মন্ত্রের সাধন কিম্বা শরীর পতন", এই ভাবটাই সেখানে বেশী দেখা দিয়েছিল। কিন্তু কিশোরী রাধা যোগিনী সাজে প্রেমের অতি কমনীয় মূর্তিটি লাভ করেছেন।*
*🌺চন্ডীদাস কোথা হতে এই চিত্রের উপাদান পেয়েছিলেন তা আমরা জানি না,তবে এই কথা আমরা বলতে পারি যে,চন্ডীদাসের শ্রীরাধা বাংলা কাব‍্য সাহিত‍্যে যে মূর্তিটি প্রথম প্রবেশ করলেন তাতে এমন একটি পটভূমি তৈরী হলো যা চিরদিনের জন্য বাংলা কাব‍্যকে এক অফুরন্ত গম্ভীর মাধুর্য‍্যে মন্ডিত করে রেখেছে।চন্ডীদাস প্রথম থেকে যে উচ্চগ্রামে তাঁর প্রেমগীতির সুর বাঁধলেন,তা শুধু যে বাংলার বৈষ্ণব সাহিত‍্যকে ধন‍্য করেছেন,তা নয়,গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মকেও প্রেরণা যুগিয়েছে। অনেকে বলেছেন যে,চন্ডীদাস বিরহের কবি, কিন্তু আমার মনে হয় কথাটি সম্পূর্ণ সত‍্য নয়।চন্ডীদাস প্রেমের কবি। প্রেমে সুখও আছে,দুঃখও আছে।প্রধানতঃ প্রেমের চারিদিকে ঘিরে থাকা দুঃখের অশ্রুজল।বিরহের মেদুর(স্নিগ্ধ) মেঘের মধ‍্য দিয়েই প্রেমের চাঁদিনী ফুটে ওঠে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৭) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
   *🙏🙏চন্ডীদাস🙏🙏*
 ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌷এই ভয় উঠে মনে এই ভয় উঠে।*
*🌷না জানি কানুর প্রেম তিলে জনি টুটে।।*
*🌳সদাই এই ভয় হয়,এত প্রেম এত আনন্দ, পাছে এই সুখের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। প্রেম বড় ভঙ্গপ্রবণ,কোথাও একটু সন্দেহের আঘাত লাগলে বিম্বের ফানুসের মত মিলিয়ে যায়।তাই মিলনেও সুখ নাই।অশ্রুধারায় প্রেমের জন্ম,এই হলো চন্ডীদাসের কাব‍্যের মূল সুর ; বিরহের বাদল ধারায় প্রেম রামধনুর রঙ ফলায়, তাই তো প্রেম এত মধুর।নরনারীর মিলন মেলায় প্রেমের যে মালা গাঁথা হয়,তাই চন্ডীদাস দেবতার গলায় দেবার যোগ্য করে তুলেছেন।এইখানেই চন্ডীদাসের আইডিয়ালিজম্। এই আইডিয়ালিজম্ বা আদর্শের উচ্চভাবের জন্য চন্ডীদাসের প্রেম সর্বকালের মানবের আস্বাদ‍্য হয়েছে। দেহের সম্বন্ধের বহু উর্ধ্বে প্রেমকে স্থাপন করে, চন্ডীদাস এই যে প্রেমের এক সুমহান আদর্শ দেখিয়ে দিলেন,তাতে এর মানবিকতার উপাদান বা Human element এর অভাব নেই।চন্ডীদাসের প্রেম স্বর্গীয়, কিন্তু মানবিক সহানুভূতির প্রাচুর্য‍্যের ফলে তাঁর চিত্র প্রাণবন্ত হয়েছে।কাজেই চন্ডীদাসের সঙ্গে সকলেই অশ্রু মিশাতে পারেন।তাঁর পিরীতি সহজ সাধ‍্য নয়, কিন্তু মানুষের নাগালের বাইরেও নয়।*
*🌷পিরীতি পিরীতি সবজন কহে,*
                  *পিরীতি সহজ কথা।*
*🌷বিরিখের ফল নহেত পিরীতি,*
                 *নাহি মিলে যথা তথা।।*
     *🌻বিরিখ= বৃক্ষ বা গাছ।*
*🌺এ প্রেম মানুষের সহজাত সংস্কার বলে লব্ধ নয়,এর জন্য চাই রসের নিবিড় অনুভূতি।বিরহ থাকে থাক,জীবন যায় যাক,তবু প্রেমের সুখের মত সুখ নেই।প্রেম নহিলে জীবনে কি লাভ!*
*🌷চন্ডীদাস কহে শুনহে নাগরি,*
             *পিরীতি রসের সার।*
*🌷পিরীতি রসের রসিক নহিলে,*
             *কি ছার জীবনে তার।।*
*🌹চন্ডীদাসের ভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলার কত কবি কত কবিতা কত গান লিখে গেছেন।কবিগণ দলে দলে এই প্রেমের সঙ্গীত গান করেছেন।কোনও কোনও কবি চন্ডীদাসের অনুকরণে কবিতা লিখে ভণিতায় নিজের নাম দিতে ভুলে গেছেন,চন্ডীদাসেরই নাম জুড়ে দিয়েছেন। এইসব অনুকরণের মধ‍্যে যে ভাল কবিতা দু-চারটে নেই,একথা বলা যাবে না।ফলে হয়েছে এই যে,কোন কবিতা আসল,কোন কবিতা নকল,তা আর ঠিক করবার উপায় নেই।আমি এখানে সে জটিল সমস‍্যার বিচারে রত হতে চাই না।তবে আমি শুধু বলতে চেয়েছি যে চন্ডীদাসের কাব‍্যে এমন একটি রসের ধারা আছে যা কষ্টিপাথর রূপে আমাদের চন্ডীদাসকে চিনিয়ে দিতে পারে।সে রসধারার সঙ্গে শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রেম-ধর্মের অপূর্ব মিল আছে।খাঁটি চন্ডীদাসকে চিনিবার পক্ষে এতেও কিছু সহায়তা করবে,যে কবি পিরীতির জয়গান কোরে ধন‍্য হয়েছিলেন, যে কবি গোবিন্দদাসের নমস‍্য,যিনি জ্ঞানদাসের উপাস‍্য,প্রেমিক সন্ন‍্যাসী গৌরসুন্দর বাংলার সেই মরমী কবির কাব‍্যসুধা পান করতেন,এই অনুমানই অপরিহার্য হয়ে উঠে।এই চন্ডীদাসের পদাবলী শ্রীমন্মহাপ্রভু গান করতেন,শুনতেন, আর নয়নেরজলে ভাসতেন।একথা আমরা প্রাচীনদের মুখে শুনি। একদিকে মহামানব শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য,অন‍্যদিকে মানবিকতার ধ‍্যানমগ্ন কবি চন্ডীদাস।কবি শ্রীচৈতন‍্যদেবকে দেখেননি, কিন্তু তা হলেও তিনি উচ্চকন্ঠে ঘোষণা করতে পেরেছিলেন ঃ----*
*🌷শুনহে মানুষ ভাই।*
*🌷সবার উপরে মানুষ আছয়ে,*
*🌷তাহার উপরে নাই।।*
                    *অথবা*
*🌷মানুষ মানুষ, সবাই বলয়ে,*
           *মানুষ কেমন জন।*
*🌷মানুষ রতন, মানুষ জীবন,*
          *মানুষ পরাণ ধন।।*
*🌹কবি এই যে নূতন কথা বরে গেলেন,তাই ফলেছিল এই বাংলা দেশেই এক শতাব্দী পরে।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৩৮. কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল 🎵 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৮) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
*কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆

*🍀কৃষ্ণ-কীর্তনের পুঁথি আবিস্কৃত হবার পরে এর সম্বন্ধে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আমি যতদূর জানি,এর সঙ্গীত সম্বন্ধে কোনও আলোচনা এ পর্যন্ত হয়নি।এই পুথির সাঙ্গীতিক অংশে যে নূতনত্ব আছে,তা অনেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন। আমাদের পরিচিত অন‍্য কোনও প্রাচীন বা অর্বাচীন পুথিতে রাগ রাগিনী ও তালের এরকম বিস্তৃত সমাবেশ নাই,এটি নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে। এইসব পুঙ্খানুপুঙ্খ নির্দেশ-সংবলিত সঙ্গীতের সম্বন্ধে অনুসন্ধান আবশ‍্যক।সঙ্গীতে যাঁরা বিশেষজ্ঞ, আমি এই প্রবন্ধে কয়েকটি বিষয়ে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।*
*☘প্রথম এর অভিনবত্ব। কৃষ্ণকীর্তনের সব কবিতাই গীত ; এইসব কবিতার উপরিভাগে বিস্তারিত ভাবে সুর ও তাল দেওয়া হয়েছে।কোনও কোন গীতে শুধু সুর দেওয়া হয়েছে,তালের উল্লেখ নেই।কয়েকটি নমুনা দিলেই আমার বক্তব‍্য সুস্পষ্ট হবে ঃ------*
*🌷পাহাড়ীয়াআ রাগঃ।। ক্রীড়া।।*
*🌷গুজ্জরী রাগঃ।। কুড়ুক্কঃ।।*
*🌷কোড়ারাগঃ।। অঢ়ুক্কঃ।।*
*🌷গুজ্জরীরাগঃ।।রূপকং।।লগনী।।জয়জয়।।*
*🌷মালব রাগঃ।।প্রকীণ্ণকঃ।।চিত্রকঃ।।লগনী।।রূপকং।। দন্ডকঃ।।*
*🌷মালব রাগঃ।।বিচিত্র লগনী।। দন্ডকঃ।।*
*🌷রামগিরী রাগঃ।।প্রকীণ্ণক।।চিত্রকং।।লগনী।।একতালি।।দন্ডকঃ।।*
*🌷বিভাষ রাগঃ।।দন্ডকঃ।। একতালি।।রূপকথা।।দন্ডকঃ।।*
*🌷পাহাড়ীআ রাগঃ।।প্রকীণ্ণক।।লগনী।।দন্ডকঃ।।ক্রীড়া।।*
*🌹অনুস্বার বিসর্গ দেখে আপাততঃ বোধ হতে পারে যে,সংস্কৃত সঙ্গীত গ্রন্থ হতে এইসব নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যতদূর দেখা যায় তাতে প্রাচীন সংস্কৃত শাস্ত্রে যেসব রাগরাগিনী বা তালের উল্লেখ আছে,কৃষ্ণকীর্তনে তার অনেক ব‍্যতিক্রম দেখা যায়। "সঙ্গীত রত্নাকর" একটি অতি প্রাচীন গ্রন্থ।খ্রীষ্টীয় এয়োদশ শতাব্দীতে এই গ্রন্থ নিঃশঙ্ক শার্ঙ্গদেব সংকলন করেন। শার্ঙ্গদেব দৌলতাবাদের যাদব বংশীয় নরপতি সিংঘনের সমকালে বতর্মান ছিলেন। সিংঘন নরপতি শকাব্দ ১১৩২ হতে ১১৬৭ (১২১০--১২৪৫ খ্রীঃঅঃ) পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। সঙ্গীতরত্নাকর সঙ্গীত সম্বন্ধে একটি অতি প্রাচীন ও প্রামাণিক গ্রন্থ।এর টীকাকারও একজন প্রসিদ্ধ ব‍্যক্তি।খ্রীষ্টীয় পঞ্চদশ বা ষোড়শ শতকে চতুরকল্লিনাথ এর টীকা প্রণয়ন করেন।কল্লিনাথ বিজয় নগরের অভ‍্যুদয় কালে (১৪শ হতে ১৬শতক) আবির্ভূত হয়েছিলেন। আমাদের দেশে প্রাচীনকাল হতে সঙ্গীত সম্বন্ধে বহু প্রামাণিক গ্রন্থ রচিত হয়েছিল। সঙ্গীত রত্নাকর বৃহৎ সঙ্গীত রত্নাকর,সঙ্গীত পারিজাত,সঙ্গীত দামোদর, সঙ্গীত মুক্তাবলী, সঙ্গীত সার, সঙ্গীত চন্দ্রিকা প্রভৃতি।এইসব গ্রন্থে বহু রাগরাগিনীর নাম আছে এবং তাল-অধ‍্যায়ে তালের নাম আছে।সঙ্গীত রত্নাকরে একশ কুড়িটি তালের নাম আছে।মতান্তরে তালের সংখ্যা দুইশ চব্বিশ (সঙ্গীতরাগকল্প-দ্রুম)।রত্নাকরের টীকায় কল্লিনাথ "দেশী" সঙ্গীতঙ্গেরা দেশী তাল ও সুরের সন্ধান রাখতেন এবং সেগুলিকে তাঁদের গণনার মধ্যে আনতেন।তাল সম্বন্ধে ভারতীয় সঙ্গীতের এক অসাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। অন‍্য দেশের সুর ও প্রণালী সম্বন্ধে যতই উৎকর্ষ স্বীকার করা যাক না কেন,তালের অশেষ প্রকার ভেদ ও তার লক্ষণ-নির্দেশ ভারতবর্ষের এক অনন‍্যসাধারণ বৈলক্ষণ‍্য। প্রাচীনকালেও বিভিন্ন তালের বোল সঙ্গীত শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ হয়েছিল। (সঙ্গীত রত্নাকরের বাদ‍্যাধ‍্যায়ে মৃদঙ্গের বোল দ্রষ্টব‍্য)। কিন্তু সঙ্গীতের এইরকম বিস্তৃত বর্ণনার মধ্যেও কৃষ্ণকীর্তনে ব‍্যবহৃত সাঙ্গীতিক শব্দগুলির মধ্যে অনেকগুলির সন্ধান মিলে না।কতকগুলি হয়ত কিছু রূপান্তরিত হয়ে ব‍্যবহৃত হয়েছে। যথা---, ককূ, কহু=ককুভ ; আহের=আভীর, আভীরী বা আহীর ; রামগিরি=রামক্রী, রামকলি বা রামকেলি। ধানুষী=ধনাশ্রী। লগনী =লাউনী বা লগ্নী নামক গীত। দেশাগ =দেশাখ,দেশাখ‍্য। "দন্ডক" বলতে একটি ছন্দ বুঝায়। (পাদৈ স্বরৈর্দন্ডকেন ছন্দসা মতঃ। সঙ্গীতরত্নাকর।*
*🍀দন্ডকাশাবরীবৃত্ত দন্ডকাশাবরী যথা।*
*🍀তথা দন্ডক-কোডারে স রাগঃ কিল জায়তে।।*
       *(রাগতরঙ্গিণী ৩১০ বৎসর আগে রচিত)।*
*🌻কিন্তু গীতের প্রসঙ্গে তার অবকাশ কোথায়,তা বুঝতে পারা কঠিন।ক্রীড়া,কুড়ুক্ক প্রভৃতি অপেক্ষাকৃত অপ্রসিদ্ধ তালের উল্লেখ সঙ্গীত রত্নাকরের একশ একুশটি তালের মধ্যে পাওয়া যায়। কিন্তু প্রকীণ্ণক কি বস্তু?প্রকীর্ণক অর্থে "চামর" জানি।চৈতন‍্য মঙ্গল গানে চামরের ব‍্যবহার দেখা যায়।গায়ক মধ্যে মধ্যে চামর হাতে নিয়ে নেচে নেচে গান করেন।রামায়ণ গানেও কোথাও কোথাও এই প্রথা আছে। (সঙ্গীত রত্নাকরে রাগরাগিনীর বর্ণনায় "প্রকীর্ণক" নামে একটি অধ‍্যায় আছে।সেখানে এরকম কতকগুলি সুরের পরিচয় দেওয়া হয়েছে,যা বিষয়-বিভাগের মধ্যে ধরে পড়েনি। প্রকীর্ণত্বং চ গ্রন্থস‍্য বিষয় বিভাগেন বিনা প্রবৃত্তত্বমুচ‍্যতে।◆কিন্তু কৃষ্ণকীর্তনে সুরের বিশেষ উল্লেখ থাকায় এ অর্থ প্রযোজ‍্য নয় বলিয়া মনে করি)।*
      *আজ এ পর্য‍্যন্ত থাক, ক্রমাগত।*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৩৯. কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল 🎵 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৯) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
*কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆

*কিন্তু অঢ়ুক্ক,জয়জয়,চিত্রক, রূপকথা,বিচিত্র বা চিত্রক লগনীর অর্থ কি? "রূপকথা" শব্দটি বেশী পুরাতন বলে জানা ছিল না। "রূপকড়া" নামে একটি অল্প পরিচিত তাল আছে বটে, কিন্তু এটিও আধুনিক।বিশেষজ্ঞরা এ সম্বন্ধে হয়ত বলতে পারবেন। আমরা জানি,রাগরাগিনী ও তাল অসংখ্য। সঙ্গীতশাস্ত্রকারেরা সঙ্গীতকে অনন্ত সমুদ্র বলেছেন=*
*🌷নাদাব্ধেস্তু পরং পারং ন জানাতি সরস্বতী।*
*🌷অদ‍্যাপি মজ্জনভয়াৎ তুম্বং বহতি বক্ষসি।।*
*🌹ভিন্ন ভিন্ন দেশে গানের বিভিন্ন গতি, এটিও সঙ্গীতকারেরা লক্ষ্য করেছেন=*
*🌷দেশে দেশে ভিন্ন নাম তদ্দেশীগানমুচ‍্যতে।*
*🌻আমার মনে হয়, কৃষ্ণকীর্তনের সঙ্গীত প্রণালী কোনও দেশীয় বা স্থানীয় রীতির পরিচয় দিচ্ছে। এই রীতির সম্বন্ধে প্রাচীন সঙ্গীতশাস্ত্র হতে বিশেষ কিছু জানা যায় না।এটি সম্ভবতঃ বেশী প্রাচীন নয়।যথা রাগ গবড়া,রাগঅরু ইত্যাদি। চর্য‍াপদে তালের উল্লেখ নাই, কিন্তু সুরের মধ্যে রামক্রী,বলাড্ডি,মালসী, ভৈরবী, পটমঞ্জরী, গুঞ্জরী বা গুজ্জরী প্রভৃতির উল্লেখ আছে।*
*🌺এর পরে জয়দেবে আমরা সঙ্গীতের যে ধারা পাচ্ছি, তাও প্রাচীন রীতির অনুগামী। গীতগোবিন্দে যে সুর ও তালের উল্লেখ আছে, তা সরল। যথা= মালব রাগ রূপক তাল, গুজ্জরী রাগ নিঃসার তাল,বসন্ত রাগ যতি তাল, কর্ণাট রাগ দেশাগ রাগ একতালী ইত্যাদি।এসব কোনও স্থানীয় বা দেশীয় রীতির অনুসরণ করেনি।আশ্চর্য‍্যের বিষয় এই যে, কৃষ্ণকীর্তন অনেক স্থলে শ্রীজয়দেবের একান্ত অনুকরণ করলেও সুর তাল সম্বন্ধে অনুকরণ করেননি।এর কারণ কি? তাও ভাববার বিষয় বটে। চৈতন‍্য-পূর্ববর্তী মালাধর বসুর শ্রীকৃষ্ণবিজয় বা গোবিন্দ বিজয় গ্রন্থে সঙ্গীতের যে প্রণালী দেখা যায়,তা কৃষ্ণকীর্তনের অনুরূপ নয়। এই পুস্তকের প্রাচীনতম পুথি দেখে কেদারনাথ দত্ত ভক্তিবিনোদ মহাশয় প্রায় ৫০ বৎসর পূর্বে যে পুস্তক ছাপিয়েছিলেন, তাতে রাগরাগিনীর যে ক্রম দেখা যায়, তা সঙ্গীতশাস্ত্রসম্মত বটে।তালের নির্দেশ নাই, কেবল সুর দেওয়া আছে ; যথা= শ্রীরাগ,সুইরাগ,রামক্রী,পটমঞ্জরী, বসন্ত,মল্লার,ধানশ্রী ইত্যাদি।এই গ্রন্থের ভূমিকায় ভক্তিবিনোদ মহাশয় বলেছেন যে,অদর্শ পুথিখানি শ্রীচৈতন‍্য-জন্মের দুই বৎসর আগে লিখিত হয়েছিল (১৪০৫ শক)।কৃষ্ণকীর্তন যদি এর ১০০ বা ১৫০ বৎসর আগে (রাখালদাস বন্দোপাধ‍্যায়) রচিত বা লিখিত হয়ে থাকে, তবে সে পদ্ধতি শ্রীকৃষ্ণবিজয়ে কেন অনুসৃতহল না, তাহাও বিবেচ‍্য। আমার মনে হয়,কৃষ্ণকীর্তন চৈতন‍্য পরবর্তী কালের কোন দেশীয় বা স্থানীয় সঙ্গীতরীতি অবলম্বন করে লিখিত হয়েছিল। এই পুথিটি বাঁকুড়া জেলায় পাওয়া গেছে। পন্ডিত বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্ বল্লভ ১৩১৮ সালে এটি আবিস্কার করেন বনবিষ্ণুপুরের কাছে। ঐ অঞ্চলের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায় যে,সপ্তদশ শতকে বিষ্ণুপুরে দেশীয় রাজাদের প্রভাবে নানা বিষয়ে উৎকর্ষ ঘটেছিল। ☆The Rajas of Mallabhum seem now (from the time of Raghunath Singh--- seventeenth century) to have entered on their palmiest days, if we may judge by the exquisite memorials left by him and his descendants-- O'Maley (District Gazetteer).*
*🍀সম্ভবতঃ বিষ্ণুপুর এই সময়ে সঙ্গীতচর্চার জন্য ও প্রসিদ্ধি লাভ করে। বীরহাম্বীর ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ও সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে মোগল-পাঠান কলহে লিপ্ত হয়েছিল।এটি ইতিহাস হতে জানা যায়।বৈঠকী সঙ্গীতের চর্চা বঙ্গদেশের মধ্যে এই মল্লরাজগণের প্রভাবে বনবিষ্ণুপুরেই বেশী পরিমাণে হয়েছিল। সেই জন্য এখনও আমরা বিষ্ণুপুরী রীতি বলে উচ্চাঙ্গের সঙ্গীতের একটি অপেক্ষাকৃত স্বতন্ত্র প্রণালীর সন্ধান পাই।প্রচলিত হিন্দুস্থানী রীতি হতে এটি উৎকৃষ্ট বা অপকৃষ্ট, সে প্রশ্নের কোনও প্রয়োজন নাই। আমরা শুজানতে পেরেছি যে,বিষ্ণুপুরই সঙ্গীতচর্চায় একদিন বঙ্গদেশের গৌরব রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছিল।*
*কৃষ্ণকীর্তনের সঙ্গীতেও যে সেই প্রভাবের ঢেউ পৌঁছেছিল এই অনুমানই স্বাভাবিক বলে মনে হয়।কারণ এই সময়ে অর্থ‍্যাৎ প্রায় তিনশ বা সাড়ে তিনশ বছর আগে বঙ্গের সর্বত্র সঙ্গীতচর্চার ধুম পড়ে গিয়েছিল।খ্রীষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর শেষ এবং সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম পাদে কীর্তনেরও প্রসার ঘটে। এই সময়ে শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর গরাণহাটী বা গড়ের হাটী কীর্তনের প্রবর্তন করেন।রাঢ়ে জ্ঞানদাস, বলরাম দাস প্রভৃতি মনোহরসাহী সুরের সৃষ্টি করেন। সুতরাং এই যুগ হতে সঙ্গীতের অনুশীলন বঙ্গদেশে প্রবল ভাবে হয়েছিল ধরা যায় এবং কৃষ্ণকীর্তনও সেই যুগে লিখিত বলে অনুমান করলে তা অসঙ্গত হয় না। কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের পুঁথিশালায়,অধ‍্যাপক শ্রীযুক্ত মণীন্দ্রমোহন বসু এম,এ দুইটি পুথি পেয়েছিলেন এবং তাঁর এই আবিস্কার সাহিত‍্য পরিষৎ পত্রিকায় ১৩৩৯ ও ১৩৪০ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।এই পুথি দুইটিতে কৃষ্ণকীর্তনের কতকগুলি পদ পাওয়া যায়।এই পুথির সম্বন্ধে অধ‍্যাপক শ্রীযুক্ত সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় কর্তৃক লিখিত এক প্রবন্ধ (পরিষৎ-পত্রিকা,১৩৩৯)ছাড়া বিশেষ কোন আলোচনা এ পর্যন্ত হয়েছে বলে আমি জানি না।এ পুথি দুইটি আলোচনা করলে বুঝা যাবে যে, বাঁকুড়া অঞ্চলে সম্প্রদায় বিশেষের মধ্যে একটি বিশেষ সঙ্গীতরীতি প্রচলিত ছিল।বলা বাহুল‍্য ঐ পুথি দুইটিও বাঁকুড়া অঞ্চলে সংগৃহীত হয়েছিল। এই পুথি দ্বয়ের একটি ১২৩৭ সালে লিখিত, অপরটি তারও প্রায় পঞ্চাশ বৎসর আগে লেখা। প্রথমতঃ এই পুথি দুইটিই সঙ্গীত বিষয়ক। অর্থ‍্যাৎ গীতবাদ‍্য ছাড়া ইঁনাদের অন‍্য কোনও উদ্দেশ্য নাই।কোন তালের কোন গান এবং তার কতগুলি কলা ইত্যাদি এনাদের মধ্যে প্রাচীনতর পুথিতে আলোচিত হয়েছে।কৃষ্ণকীর্তনের অদ্ভুত সাঙ্গীতিক নির্দেশ এতে অনুসৃত না হলেও,যেসব তালের উল্লেখ হয়েছে তার অভিনবত্ব অস্বীকার করবার উপায় নাই। যথা= হরগৌরী, অপূর্বকলা,কুন্দশেখর বা কুন্দুশেখর, আলুটী,বিষমসন্ধি,জদ্দ বা জজ্ঞ? কাঠের বা কাচের?তাল,চুটখিলা তাল ইত্যাদি।দ্বিতীয় পুথিতে আরও সব নূতন তালের সন্ধান আছে ; দশকোশি, জহ্মতাল,অপূর্ব কলিকা, বশোতাল,জলদকান্তি ইত্যাদি। এইসব তালের বোলে দ্বিতীয় পুথিটির কলেবর পূর্ণ ; সেগুলি মণীন্দ্রবাবু ছাপান নাই। এই পুথিতেও কোন তালের কত কলা,তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিচয় আছে।এই কলার মধ্যে আবার লঘু,গুরু,সদগুরু,গুরুর গুরু পরম গুরু প্রভৃতি নানাবিধি বিধান আছে।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪০. কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল 🎵 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪০) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
   *কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

*🍀একটি লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে,কৃষ্ণকীর্তনের প্রকীণ্ণক লগনী চিত্রক প্রভৃতির নামগন্ধ এতে নেই। বরং পাহিড়া,গুজ্জরী প্রভৃতির সঙ্গে বহু পরিচিত সুরের উল্লেখ আছে, যথা= বাগেশ্রী,মঙ্গল,ভীমপলাশী (ডিম্পনাশী নহে--১৮৩ পৃষ্ঠা) মাউর, শ্রী ইত্যাদি। এই পুথি দুইটিতে সুরের সরলতা থাকলেও তালের অভিনবত্ব লক্ষ করা যায়। আগেই বলেছি যে,এই পুথিদ্বয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য গীতবাদ‍্য।গীত অপেক্ষা বাদ‍্যই প্রধান স্থান গ্রহণ করেছে।বাদ‍্য সম্বন্ধে ভারতীয় সঙ্গীতশাস্ত্রের অনুকরণে বাদ‍্যের সংস্কৃত সংজ্ঞা দিবারও চেষ্টা হয়েছে।তা অতী দীন অনুকরণ ; না আছে ব‍্যাকরণ,না আছে কোনও অর্থসঙ্গতি।যথা দ্রুতংদ্বয়ং লঘুদ্বয়ং [••••••••] স তাল দশকুশীঞ্চ ভবেৎ। হয়ত এটি অশিক্ষিত লোকের লেখা,সে জন্যও এরকম বিকৃতি ঘটতে পারে।যাইহোক, তালগুলির উদাহরণ স্বরূপেই গানগুলি উদ্ধৃত হয়েছে। যথা=হরগৌরী তালের পদাবলী,আলুটী তালের পদাবলী, জদ্দকাঠের তালের পদাবলী ইত্যাদি। উদাহরণ ছাড়া গীতের অন‍্য কোনও মূল‍্য এই দুই পুথিতে নেই। সুতরাং তালের উদাহরণ হিসাবে নানা কবির গীত উদ্ধৃত হওয়া উচিত ছিল।এটিই সাধারণতঃ প্রত‍্যাশা করা যায় যে,গায়ক বা বাদক বিভিন্ন তালের বিভিন্ন ছন্দ দেখাবার জন্য চন্ডীদাস, গোবিন্দদাস,জ্ঞানদাস প্রভৃতি হতে পদ বেছে নিবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে সে প্রণালী অনুকরণ করা হয়নি।একজন কবির পদই উদ্ধৃত হয়েছে এবং তিনি বড়ু (বোঁড়ু,বাঁড়ু বা বটু) চন্ডীদাস।আর কোনও কবির পদের সঙ্গে যে সংগ্রহকার পরিচিত ছিলেন, এরকম প্রমাণ একেবারেই পাওয়া যায় না।দুইটি পুথিতে অনেকগুলো পদ প্রায় সমান এবং প্রায়শঃ দানখন্ড হতেই সেইসব পদ সংগৃহীত হয়েছে।পদগুলির কবিত্ব বিশেষ কিছু থাকুক বা না থাকুক,অশ্লীল অংশে কৃষ্ণকীর্তনের অনুসারী। যথা,প্রথম পুথি (প্রাচীনতর)।*
*🌷মোরে সেহ[•••••] বড়াই করু কোন বুদ্ধি।*
*🌷শুনিঞা বা কি বলিবে স্বামী গুণনিধি।।*
*🌷অমূল‍্য রতন মানে (মাগে) ধরে মোর হাথে।*
*🌷মাগএ ষুরতি দান ☆ ☆ দেই হাথে।।*
     *(সাঃ পাঃ পত্রিকা,১৩৩৯ সাল ১৪৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব‍্য)*
*🌻দ্বিতীয় পুথি=*
*🌷মোর সিশুমতি বড়াই করি কোন বুদ্ধি।*
*🌷শুনিঞা বা কি বলিব স্বামী গুণনিধি।।*
*🌷য়মূল‍্য রতন মাগে ধরি মোর হাথে।*
*🌷মাগএ শুরতি দান ☆ ☆ দেই হাতে।।*
    *(ঐ ১৩৪০ সাল ৫০ পৃঃ দ্রষ্টব‍্য)*
*🙌কৃষ্ণকীর্তন=*
*🌷মোএঁ শিশুমতী বড়ায়ি করোঁ কোণ বুধী।*
*🌷শুনিআঁ বা কি বুলিবে সামী গুণনিধি।।*
*🌷অমূল রতন মানে ধরে মোর হাথে।*
*🌷মাঙ্গে সুরতি দান সান দেই মাথে।।৮৭পৃঃ*
*🍀"সান দেই মাথে" এই পাঠে কোন অর্থ হয় কি?বসন্তবাবু জোর করে অবশ‍্য একটি অর্থ করেছিলেন, মস্তক সঞ্চালন দ্বারা সঙ্কেত করিয়া, কিন্তু ঐ সময় মস্তক-সঞ্চালনরূপ সঙ্কেতের অর্থ কি হতে পারে, তা বুঝা যায় না।পদাবলীতে "সান দেও শিঙ্গায়" এরকম প্রয়োগ পাই।(সান=অবগুন্ঠন ; সান কাড়া বা দেওয়া=ঘোমটা দেওয়া। বীরভূম অঞ্চলে এই অর্থে "সান" শব্দ প্রচলিত।*
*🌹এই নব আবিস্কৃত পুথি দুইটির অনেকগুলি পদ কৃষ্ণকীর্তনে আছে।রুচি,গ্রাম‍্যতাদোষ ও অভিনবত্ব হিসাবেও পাওয়া পুথি এবং কৃষ্ণকীর্তনের মধ্যে অসাধারণ সাম‍্য দেখা যায়।ভাষার বিচার করলেও কৃষ্ণকীর্তন ও এই পুথি দুইটির মধ্যে বড় বেশী কালের ব‍্যবধান অনুমিত হয় না।অশিক্ষিত লিপিকরের খামখেয়ালীপনা কৃষ্ণকীর্তন ও এই পুথি দুইটি তুলনা করলে স্পষ্টই বুঝা যায় যথা=অমূল [কৃঃ কীঃ] য়মূল [আধুনিক পুথি] আঙ্গুল [কৃঃ কীঃ] য়ঙ্গুলি [আঃ পুঃ] বেশ‍্যাক [কৃঃ কীঃ] বেউশ‍্যাক [আঃ পুঃ]।*
*🌺এই দুইটি পুথি দেখলে এইরকম অনুমান হয় যে,বাঁকুড়া জেলায় কৃষ্ণকীর্তন-লেখকের সম্প্রদায়ে তাঁর পদগুলি গীত হত এবং নূতন নূতন তাল সহযোগে সেগুলির প্রচারের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু এই গীত যে বহুদূর বিস্তৃত হয়নি, তার প্রমাণ --*
*(১)কৃষ্ণকীর্তনের অন‍্য পুথি পাওয়া যায় না।*
*(২)আধুনিক পুথিরও অন‍্য প্রতিলিপি পাওয়া যায় না।*
*🍀এই গীতগুলির মধ্যে যে একটি সাম্প্রদায়িক ভাব আছে,তা এই নতুন আবিস্কার করা পুথি বেশ বুঝতে পারা যায়।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds