শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
     *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
      °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀গীতগোবিন্দে ক্রমিক পদগান বা অষ্টপদীর রীতি অনুসারে রাগ ও তালের নাম ও রূপের পরিচয় দেবার চেষ্টা করব।যে ক'টি অভিজাত শাস্ত্রীয় রাগ ও তালের সন্নিবেশ আছে গীতগোবিন্দের পদগানগুলিতে, সেগুলির সঙ্গে অন‍্যান‍্য বিচিত্র রাগ ও তালকে সম্পর্কিত করা হয়েছে পরবর্তী কৃষ্ণকীর্তন অপেক্ষাও মহাজন-পদাবলীকীর্তনে। সুতরাং পদাবলী কীর্তনের রাগ ও তালের বিশেষ অনুশীলন করার প্রসঙ্গে গীতগোবিন্দ-পদগানের রাগ ও তাল-সম্বন্ধে আমাদের সম‍্যকজ্ঞান থাকা প্রয়োজন।*
*🌺গীতগোবিন্দে--(রাণা কুম্ভা বলেছেন অষ্টপদী)মোট চব্বিশটি গানের সমাবেশ আছে এবং সে চব্বিশটি গান বা অষ্টপদী দ্বাদশ সর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত।দ্বাদশ সর্গের মধ্যে--*
*(১)প্রথম সর্গে চারটি গান মালব বা মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত ও রামক্রী বা রামকীরি এই চারটি রাগে এবং রূপক, দিঃসাব কী দিঃসার ও যতি (৩য় ও ৪র্থ গানই যতি)তালে।*
*(২)দ্বিতীয় সর্গে দুটি গান গুর্জরী ও মালব বা মালবগৌড় রাগে এবং যতি ও একতালী তালে।*
*(৩)তৃতীয় সর্গে একটি গান গুর্জরী রাগে ও যতি তালে।*
*(৪)চতুর্থ সর্গে একটি গান কর্ণাট ও দেশাগ রাগে এবং যতি ও একতালী তালে।*
*(৫)পঞ্চম সর্গে দুটি গান দেশ-বরাড়ী ও গুর্জরী রাগে এবং রূপক ও একতালী তালে।*
*(৬)ষষ্ঠ সর্গে একটি গান গোন্ডকিরী রাগে ও রূপক তালে।*
*(৭)সপ্তম সর্গে চারটি গান মালব বা মলবগৌড়,বসন্ত, গুর্জরী ও দেশ-বরাড়ী রাগে এবং যতি (দুটি গান যতি তালে)একতালী ও রূপক তালে।*
*(৮)অষ্টম সর্গে একটি গান ভৈরবী রাগে ও যতি তালে।*
*(৯)নবম সর্গে একটি গান রামকীরি রাগে ও যতি তালে।*
*(১০)দশম সর্গে একটি গান দেশ-বরাড়ী রাগে ও অষ্টতালী তালে।*
*(১১)একাদশ সর্গে তিনটি গান বসন্ত,দেশ-বরাড়ী ও বরাড়ী রাগে এবং যতি ও রূপক (রূপক দুটি গানে)তালে।*
*(১২)দ্বাদশ সর্গে দুটি গান বিভাষ রামকীরি রাগে এবং একতালী ও যতি তালে।*
*🌻এখানে বারোটি সর্গে চব্বিশটি গানে বা অষ্টপদীতে মালব, মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত,রামকীরি বা রামক্রী,কর্ণাট,দেশাগ বা দেশাখ, দেশ-বরাড়ী,গোন্ডকিরী বা গোন্ডক্রী, ভৈরবী,বরাড়ী বা বরাটী,বিভাষ বা বিভাস এই বারোটি রাগ (ও রাগিনী) এবং যতি,রূপক,নিঃসার কী নিঃসাব, একতালী,অষ্টতালী বা অষ্টতাল এই পাঁচটি তাল।আগেই আলোচনা করেছি যে,রাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়া" টীকায় গীতগোবিন্দের মূলপাঠে কবি জয়দেব-কর্তৃক উল্লিখিত রাগ ও তালগুলির উল্লেখ করলেও টীকায় ভিন্ন ভিন্ন রাগ ও তালের সন্নিবেশ করেছেন সম্ভবত তৎকালীন সমাজে প্রচলিত রাগনাম ও তালনাম অনুসারে।*
*🍁গীতগোবিন্দের মূলপাঠে রাগ-রাগিনীগুলির নাম-উল্লেখ আছে, কিন্তু তাদের রূপ বা স্বররূপের কোন উল্লেখ নাই। জয়দেব ১২শ শতকের প্রায় শেষের দিকের কবি, সুতরাং দ্বাদশ-এয়োদশ শতকের এবং তার আগের সঙ্গীত-শাস্ত্রোক্ত রাগরূপকে লক্ষ্য করেই কবি রাগগুলির নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং জয়দেবপূর্ব সঙ্গীতগ্রন্থরূপে আমরা মোটামুটিভাবে পার্শ্বদেবের (নবম-একাদশ শতক) "সঙ্গীতসময়সার",অভিনবগুপ্তের (দশম শতকের শেষার্ধ)ভরতভাষ‍্য "অভিনবভারতী",নান‍্যদেব বা নান‍্যভূপালের (১১০৭--১১২৩ খ্রীঃ) ভরতভাষ‍্য "সরস্বতীহৃদয়লঙ্কার", সোমেশ্বরদেবের-দ্বিতীয় (১১৩১খ্রীঃ) "মানসোল্লাস" বা 'অভিলাষার্থচিন্তামণি' মম্মটের (১০৫০-১১৫০ খ্রীঃ)"সঙ্গীতরত্নমালা", শার্ঙ্গদেবের (১২১০-১২৪৭খ্রীঃ) "সংগীত-রত্নাকর" সোমেশ্বরের-৩য় (১১৭৪-১১৭৭ খ্রীঃ)"সংগীত-রত্নাবলী", শারদাতনয়ের(১২০০ খ্রীঃ) "ভাবপ্রকাশন" বা 'ভাবপ্রকাশ', হরিপালের (১৩০৯-১৩১২ খ্রীঃ) "সঙ্গীত-সুধাকর", সুধাকলসের (১৩ ৩-১৩৪৯ খ্রীঃ)"সঙ্গীত-উপদিষৎ", সিংহভূপালের (১৩৩০ খ্রীঃ)'সঙ্গীতসার' বেমভূপালের (১৫শ শতকের প্রারম্ভে) "সঙ্গীত-চিন্তামণি", রাণা কুম্ভার (১৪৩৩-১৪৬৮ খ্রীঃ কারো কারো মতে ১৪৫০ খ্রীঃ।) "সঙ্গীত-মীমাংসা" ও সঙ্গীতরাজ, কল্লিনাথের (১৪শ শতকের মধ‍্যভাগ) সংগীত-রত্নাকরের টীকা "কালানিধি" প্রভৃতি।*
                  *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
       *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*

*🍀এ' সকল সঙ্গীতগ্রন্থে ও টীকায় রাগ ও স্বরসজ্জা বা স্বরসমাবেশের যে পরিচয় দেওয়া আছে,দ্বাদশ-এয়োদশ শতকের ভারতীয় (এবং বাংলার) সঙ্গীত-সমাজেও সেই ধরণের রাগ-রূপের ও তাদের প্রকাশভঙ্গীর প্রচলিত ছিল মনে করা যায়, সুতরাং গীতগোবিন্দে উল্লিখিত রাগ-রাগিনীদের স্বররূপ ও স্বরবিকাশভঙ্গীর আলোচনা করতে গেলে আমাদের নাট‍্যশাস্ত্রের সময় থেকে সঙ্গীত-রত্নাকর ও তার পরবর্তী কালের রাগরূপ সম্বন্ধে কিছুটা অনুশীলন করা উচিত।*
*☘আগেই বলেছি যে,গীতগোবিন্দ চব্বিশটি পদগানে মালব,মালবগৌড়, গুর্জরী,বসন্ত,রামকীরি,কর্ণাট,দেশাখ, দেশবরাড়ী,গোন্ডকিরী,ভৈরবী,বরাড়ী ও বিভাষ বা বিভাস এই বারোটি রাগনামের উল্লেখ পাই।কবি জয়দেব রাগের স্বররূপ ও ধ‍্যানশ্লোকের কোন উল্লেখ করেননি। পরবর্তীকালে পূজারী গোস্বামী,রাণা কুম্ভা ও অন‍্যান‍্য টীকা ও ভাষ‍্যকারগণ রাগগুলির ধ‍্যানরূপের সঙ্গে সঙ্গে তালগুলির শাস্ত্রীয় রূপের পরিচয় দিয়েছেন।*
*🍁এই প্রসঙ্গে মনে রাখা উচিত যে, বতর্মানকালের উত্তর-ভারতীয় ও দক্ষিণভারতীয় রাগের রূপগুলি প্রাচীন ভারতে প্রচলিত রাগরূপ থেকে বেশ কিছুটা আলাদা এবং সে পার্থক্যের কারণ রাগগুলির নিয়ামক রাগ বা থাটের (Standard Scale) রূপ-পরিবর্তন।প্রাচীন ভারতে (নাট‍্যশাস্ত্রকার ভরতের সময়ে থেকেই ) রাগ-নিয়ামক থাট বা মূলরাগের রূপ ছিল বতর্মান কালের অনেকটা "কাফীর" মত।"সঙ্গীতসার" গ্রন্থকার 'মাধব বিদ‍্যারণ‍্য' তদানীন্তন কালে নিয়ামক থাট বা ষ্ট‍্যান্ডার্ড স্কেলের নাম দিয়েছেন "মুথারী-- যার স্বরসজ্জা বা স্বররূপ ছিল বতর্মান কালের উত্তর-ভারতীয় সঙ্গীতপদ্ধতির "কাফী" রাগেরই প্রায় অনুরূপ।গীতগোবিন্দের পদগানে ব‍্যবহৃত রাগগুলির প্রাচীন ও আধুনিক স্বররূপগুলির আলোচনা করলে তা থেকে গীতগোবিন্দের রাগগুলির রূপ ও বিকাশভঙ্গীর পরিচয় পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করি।*
*🌺প্রথমেই গীতগোবিন্দের অষ্টম সর্গে প্রথম গানে বা অষ্টপদীতে "ভৈরবীযতিতালাভ‍্যাং গীয়তে" এই ভৈরবী রাগ বা রাগিনীর আলোচনা করা যাক।খ্রীঃ নবম-একাদশ শতকের সংগীত গুণী পার্শ্বদেব "সঙ্গীতসময়সার" গ্রন্থে ভৈরবীর পরিচয় দিয়েছেন।*
*🌷ভিন্নষড়্ জসমুদ্ভূতা ধাংশন‍্যাসগ্রহান্বিতা।*
*🌷সমশেষস্বরা পূর্ণা গান্বিতা তার-মন্দ্রয়োঃ।*
*🌷দেবাদিপ্রার্থনায়াং তু ভৈরবী বিনিযুজ‍্যতে।।*
*❓ধাংশন‍্যাসগ্রহান্বিতা কি*
 *বাংশন‍্যাসগ্রহান্বিতা।(বহু পুরোনো গ্রন্থ অনেকলেখায় কিছু কিছু বুঝা যাচ্ছে না)।*
*🌻ধৈবতস্বর ভৈরবীর অংশ (বা বাদী) এবং গ্রহ (আরম্ভ স্বর)ও ন‍্যাস (বিরাম বা শেষ-স্বর) এবং সম্পূর্ণজাতি অর্থে সাত স্বরবিশিষ্ট। মন্দ্র ও তার (নিম্ন ও উচ্চ) এই উভয় সপ্তকের গান্ধার পর্যন্ত ভৈরবীর স্বরগুলি লীলায়িত।*
*🌹শার্ঙ্গদেব (তের শতকে) সঙ্গীত-রত্নাকর গ্রন্থে ভৈরবীর প্রসঙ্গে পার্শ্বদেবকেই অনুসরণ করেছেন, অর্থ‍্যাৎ ভৈরবী সাতস্বরবিশিষ্ট, তার ধৈবত বাদী,গ্রহ ও ন‍্যাস স্বর।এখানে কোন স্বর কোমল বা বিকৃত তার কোন পরিচয় দেননি পার্শ্বদেব এবং শার্ঙ্গদেবও।কিন্তু পন্ডিত অহোবল (১৭শ শতক) সঙ্গীত-পারিজাত গ্রন্থে ভৈরবীর পূর্ণরূপের পরিচয় দিয়েছেন, আর দিয়েছেন সতেরশ শতকের গুণী সোমনাথ,দামোদর,লোচন-কবি ও অন‍্যান‍্য পরবর্তী সঙ্গীতগ্রন্থকারগণ।পন্ডিত অহোবল ভৈরবীর স্বররূপের ও অন‍্যান‍্য বিষয়ের পরিচয় দিয়ে বলেছেন--*
*🌷স-স্বরাংশগ্রহন‍্যাস ভৈরবী স‍্যাদ ধ-কোমলা।*
*🌷বি-নারোহে তু প-ন‍্যাসা পঞ্চমেনোভয়োরপি।*
*🌷ষড়্ জেনাথাবরোহে তু সর্বদা সুখদায়িনী।।*
*🛑ভৈরবীর অংশ বা বাদীস্বর ষড়জ (সা) এবং সংবাদী পঞ্চম (পা), গ্রহ ও ন‍্যাস তথা আরম্ভ স্বর এবং শেষ-স্বরও ষড়জ এবং ধৈবত কোমল বা বিকৃত (এখানে কোমল স্বরের উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেই কোমলস্বর ধৈবত)।*
*🌹পন্ডিত সোমনাথ মনে হয় পারিজাতকারকে অনুসরণ করেছেন। কিন্তু পন্ডিত দামোদর ও লোচন কবির পরিচয়দানের মধ্যে একটু বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।লোচন-কবি (১৭শ শতকের প্রথম বা মধ‍্যভাগ) "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থে ভৈরবীর পরিচয় প্রসঙ্গে বলেছেন--, "শুদ্ধা সপ্তস্বর রম‍্যা বাদনীয়াঃ প্রযত্নতঃ"। অর্থ‍্যাৎ ভৈরবীর সাত স্বরই শুদ্ধ। কিন্তু এখানে মনে করতে হবে যে,লোচনের সময়েও নিয়ামক রাগ বা থাট (S.S) ছিল বর্তমানের কাফীরাগ বা কাফীথাটের অনুরূপ, সেজন‍্য লোচন-কবি বতর্মান কালের কাফীকেই শুদ্ধমেল বা শুদ্ধথাট রূপে গ্রহণ করেছেন এবং সে হিসাবে তখনকার (১৭শ শতকের)ভৈরবীর স্বরূপ ছিল-- সা রি গ (কোমল) ম প ধ নি (কোমল)।কোন কোন গুণী সেই সময়ে ঋষভকে কোমলস্বর-রূপে ভৈরবীতে ব‍্যবহার করতেন (এখানে লক্ষণীয় যে,সব সময়ই রাগরূপ নিয়ে মতভেদের অন্ত ছিল না)।সেজন‍্য লোচন-কবি বলেছেন-- "তদ্ শুদ্ধং যতস্তাদৃক্ নায়ং রাগাহনুরঞ্জকম্", অর্থ‍্যাৎ কোমল-ঋষভযুক্ত ভৈরব ব‍্যবহৃত হলে তা শ্রুতিমধুর হয় না। হৃদয়নারায়ণদেব "হৃদয়কৌতুক" ও "হৃদয়প্রকাশ" গ্রন্থ দুটিতে লোচন-কবিকে এ'বিষয়ে হুবহু অনুসরণ করেছেন।পন্ডিত দামোদর (১৬২৫ খ্রীঃ)"সঙ্গীতদর্পণ" গ্রন্থে ভৈরবী সম্বন্ধে বলেছেন--, "সংপূর্ণা ভৈরবী জ্ঞেয়া গ্রহাংশন‍্যাসমধ‍্যমা" অর্থ‍্যাৎ ষড়জের পরিবর্তে মধ‍্যমস্বর ভৈরবীর বাদী,গ্রহ ও ন‍্যাস স্বর।দামোদর সৌবীরীমূর্ছনার মাধ‍্যমে ভৈরবীর স্বররূপের পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির ভৈরবীতেও বাদীস্বর মধ‍্যম ও সংবাদী ষড়জ (অবশ‍্য কারো কারো মতে ধৈবত বাদী ও গান্ধার সংবাদী)। অনেকে ভৈরবীকে সন্ধিপ্রকাশরাগের অন্তর্ভুক্ত করেন, কিন্তু তা কতদূর সমীচীন বা উচিত তা অনুধাবন যোগ‍্য, কারণ রাত্রির অন্তর্ধানে দিবালোকের প্রকাশ মুহূর্তকে "সন্ধি" (Meeting Period of night and day) বলে এবং সে সময়ে সকালেরসূর্য‍্যকে আরতি জানানোর জন্য ভৈরবরাগের ব‍্যবহার হয়, সুতরাং ভৈরবকেই সেদিক থেকে সন্ধিপ্রকাশ-রাগ বলা উচিত। বতর্মান সময়ে ভৈরবী সম্পূর্ণজাতি, অর্থ‍্যাৎ তাতে সাতস্বরের ব‍্যবহার হয়।ঋষভ,গান্ধার,ধৈবত ও নিষাদ কোমলস্বর-রূপে ব‍্যবহার হয় বতর্মান পদ্ধতির ভৈরবীতে। সুতরাং ভৈরবীতে প্রাচীন ও নবীন ( আধুনিক ) স্বররূপের মধ্যে পার্থক্য অনেক।*
                   *ক্রমাগত*
*🙏জয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
      *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*

*🍀অন‍্যান‍্য রাগসম্বন্ধেও ঠিক এককথা,অর্থ‍্যাৎ প্রাচীন রূপের সঙ্গে আধুনিকের পার্থক্য অনেক তার নিয়ামক মেল বা থাটরূপের পরিবর্তনের জন্য।সেভাবে বরাড়ী বা বরাটী,কর্ণাট বা কানাড়া,বসন্ত,মালব, গুর্জরী প্রভৃতি রাগের প্রাচীন ও আধুনিক রূপের মধ্যে কিছু কিছু (কিম্বা অনেক) পার্থক্য দেখা যায়।যেমন,৯ম-১১শ শতকের গুণীজন পার্শ্বদেব বসন্তকে বলেছেন ঋষভ-ধৈবতবর্জিত ঔড়ব তথা পঞ্চস্বরের রাগ।পন্ডিত রামামত‍্য (১৫৫০ খ্রীঃ)"স্বরমেলকলানিধি"গ্রন্থে বসন্তকে "শুদ্ধবসন্ত" বলেছেন এবং তার স্বরূপ ষাড়ব-সম্পূর্ণ-জাতির (ছয় স্বর--সাত স্বরযুক্ত), কেননা আরোহণে পঞ্চমবর্জিত। এখানে লক্ষ্য করার বিষয়ে যে,রামামত‍্য মুখারীকে নিয়ামক শুদ্ধমেল (S.S) বলে গণ‍্য করেছেন,তাতে মুখারীর বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির রূপ দাঁড়ায়-- সা বি (কোমল) বি ম প ধ (কোমল) ধ র্সা ; অর্থ‍্যাৎ রামামত‍্যের শুদ্ধঋষভ ও শুদ্ধগান্ধার ও শুদ্ধনিষাদ বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির তীব্র-ঋষভ ও তীব্র-ধৈবত। পন্ডিত সোমনাথ অনুরূপ অভিমত পোষণ করেন বসন্তের রূপ-সম্বন্ধে। বতর্মান পদ্ধতিতেও বসন্তের রূপ নিয়ে মতভেদের অন্ত নেই।শুদ্ধবসন্তের প্রচলিত রূপ উভয়-মধ‍্যম, পঞ্চম-বর্জিত ও ঋষভ-কোমল।প্রাচীন ধ্রুবপদ পদ্ধতির গানে এই রূপের প্রচলনই দেখা যায় এবং অনেকের মতে,কোমল-ধৈবতেরই ব‍্যবহার হয় বসন্তে ; যেমন, সা গ ম (কড়ি) ধ (কোমল, ঋষভ (কোমল-তারস্থানে), র্সা।এই বসন্তের রূপ পরজ-বসন্তের রূপের সমান। সুতরাং বসন্তের রূপে বর্তমানকালেও মতভেদ দেখা যায়।লোচন-কবি "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থে এবং তাঁর মতানুবতী পন্ডিত হৃদয়নারায়ণ বসন্তকে গৌরী সংস্থান বা গৌরীমেলের রাগ বলেছেন তখনকার গৌরীমেল বতর্মান ভৈরবমেলের সমান ; সুতরাং তখনকার মেলনাম ও বতর্মানের মেলনাম এক নয়,যদিও স্বররূপে প্রায় এক।*
*☘গীতগোবিন্দ-পদগানে ব‍্যবহৃত মালব,মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত, রামকিরী,কর্ণাট,দেশাখ,দেশবরাড়ী, গোন্ডকিরী,ভৈরবী,বরাড়ী বা বরাটী ও বিভাষ বা বিভাস এই বারোটি প্রাচীন যুগের রূপানুশীলন করেছেন সঙ্গীতশাস্ত্রী সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী, পন্ডিত হৃদয়নারায়ণের "হৃদয়প্রকাশ" ও 'হৃদয়কৌতুক' গ্রন্থ দুটিতে উল্লিখিত স্বররূপকে অনুসরণ করে।(তাঁর প্রবন্ধ কয়েক বৎসর পূর্বে "বিশ্ববাণী" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল )। রাগতরঙ্গিণীকার লোচন কবির অভিমতকে অনুসরণ করেই পন্ডিত হৃদয়নারায়ণও প্রাচীন রাগগুলির স্বরবিন‍্যাস করেছেন।লোচন কিম্বা হৃদয়নারায়ণের ও অন‍্যান‍্য প্রাচীন সঙ্গীতগ্রন্থকারদের রাগ বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখি----*
*(১)মালব ও মালবগৌড় গৌরী-সংস্থান বা ভৈরবমেলের স্বররূপ সা রি (কোমল) গ ম প ধ (কোমল) নি । কিন্তু বতর্মান হিন্দুস্থানী পদ্ধতিতে কড়ি-মধ‍্যমের (হ্ম) ব‍্যবহার হয়, যদিও লোচন কবি সে সম্বন্ধে কোন কিছু বলেননি।*
*(২)গুর্জরীও লোচন কবির মতে, গৌরী-সংস্থান তথা ভৈরবমেলের রাগ, সুতরাং এতে ঋষভ ও ধৈবত কোমল বা বিকৃত।*
*(৩)বসন্তও লোচন কবির মতে, গৌরী-সংস্থানের রাগ।বসন্ত সম্বন্ধে আগে আলোচনা করেছি। কিন্তু লোচন কবির পূর্বগ-শাস্ত্রীদের মতের সঙ্গে লোচনেরমতের মিল নেই।লোচন ও হৃদয়নারায়ণ বসন্তে ঋষভকে বাদ দিয়ে কোমল-ধৈবতের ব‍্যবহার করেছেন অবরোহণে।প্রাচীন ধ্রুবপদগানে যে শুদ্ধবসন্তের প্রচলন আছে,তাতে পঞ্চম-বর্জিত, এবং ঋষভ-কোমল এবং উভয়-মধ‍্যমের (ম হ্ম) ব‍্যবহার।*
*(৪)রামকিরি বা রামক্রী লোচনের মতে ভৈরবমেলের রাগ। বতর্মান ভৈরবমেলের স্বররূপ-- সা বি (কোমল) গ (কোমল) ম প ধ (কোমল)।লোচনের অনুবতী হৃদয়নারায়ণ রামকিরি-রাগিনীতে কোমল-ধৈবত ও কোমল-ঋষভের ব‍্যবহার করেছেন।*
                     *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
       *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*

*(৫)কর্ণাট লোচন কবির মতে, খাম্বাজমেলের অনুরূপ ও ঐ মেলের অন্তর্গত।খাম্বাজ মেলে কোমল-নিষাদের, ব‍্যবহার এবং অন‍্যান‍্য স্বর অবিকৃত বা শুদ্ধ। ইতিহাসের পাতায় কর্ণাটের পরবর্তী রূপ হিসাবে আমরা কানড়ারাগকে পাই। "সঙ্গীত-রত্নাকর" গ্রন্থে শার্ঙ্গদেব কর্ণাট বা কানাড়ার পরিবর্তে কর্ণাট-রঙ গাল-রাগের পরিচয় দিয়েছেন এবং তা পঞ্চম-বর্জিত ষাড়বজাতির রাগ বা রাগিনী। পন্ডিত রামামত‍্য (১৫৫০ খ্রীঃ) পৃথকভাবে কর্ণাট বা কানাড়ার নাম উল্লেখ করেননি,তবে কন্নড় শব্দ ব‍্যবহার করেছেন সম্ভবত কর্ণাটকে লক্ষ্য করে।পন্ডিতপুন্ডরীকে বিঠ্ঠল সম্রাট আকবরের সময়কার শাস্ত্রী। তিনি কর্ণাটের নামোল্লেখ করে "রি-ধ-বর্জিত বা পূর্ণস্তু কর্ণাট ইনাস্তশোভী" বলেছেন। অর্থ‍্যাৎ তাঁর মতে,কর্ণাট ঋষভ ও ধৈবত-বর্জিত ঔড়ব বা পাঁচ স্বরের রাগ, আবার সমস্ত স্বরকে নিয়ে সম্পূর্ণ জাতির।পন্ডিত সোমনাথের রাগবিরোধে (১৬০৯ খ্রীঃ) "কর্ণাটঃ কর্ণাটগৌড়ঃ" শব্দগুলির উল্লেখ পাওয়া যায় এবং তা থেকে কর্ণাট ও কর্ণাটগৌড়কে যেন একই রাগ বলে প্রতীত হয় (?) ; খ্রীষ্টীয় ১৭শ শতকে লোচন-কবি "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থে কর্ণাট ও কানড়া বা কানাড়া শব্দ দুটি পৃথকভাবে ব‍্যবহার করেছেন। যেমন,*
*🌷রাগেশ্বরী কানরশ্চ খম্ ভাইচী তু রাগিনী।*
 ☆ ☆ ☆
*🌷কর্ণাটসংস্থিতাবেতে রাগাঃ সন্তীতি নিশ্চিতম্।।* 
*🍀এখানে উল্লেখযোগ্য যে,আনুমানিক ১৪শ শতকের "পঞ্চমসারসংহিতা" গ্রন্থে রাগ মল্লারের রাগিনী-রূপে 'কানড়া'-র উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৭শ শতকের দক্ষিণী সঙ্গীতশাস্ত্রী বেঙ্কটমখী চতুর্দন্ডীপ্রকাশিকায় শ্রীরাগের জন্মরাগ-রূপে কন্নড়গৌল বা কন্নড় বা কানাড়ার পরিচয় দিয়েছেন।তাছাড়া ভাবভট্টের "অনূপসঙ্গীতাংকুশ ও অনূপসঙ্গীতরত্নাকর" এবং পুরুষোত্তমের মিশ্রের "সঙ্গীতনারায়ণ" গ্রন্থগুলিতে 'কর্ণাটী-শব্দের উল্লেখ দেখি।অহোবলের "সঙ্গীতপরিজাত- গ্রন্থে কানাড়া আবার কানড়ী নামে উল্লিখিত।সেখানে কানড়ী বা কানাড়া তীব্র-গান্ধারযুক্ত।মোটকথা কর্ণাট ও কানাড়াকে যদি এক ও অভিন্ন রাগরূপে পাই,তবে সঙ্গীতদর্পণকার দামোদরের মতে, কর্ণাট বা কানাড়া সম্পূর্ণ তথা সাত স্বরের রাগ বা নিষাদ বিকৃত বা কোমল। কিন্তু বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতির কানড়া তথা কর্ণাটরাগে গান্ধার,ধৈবত ও নিষাদ বিকৃত বা কোমল (জ্ঞ দ ণ)।*
*(৬)দেশাখ,দেশাখ‍্য বা দেবশাখ লোচনকবির মতে মেঘ-সংস্থানের রাগ।দেশাখ বা দেশাখ‍্য রাগ বা রাগিনীরই ভিন্ন নাম।হনুমন্মতে দেশাখ‍্য বা দেশাখ হিন্দোলরাগের তৃতীয় রাগিনী।দেশাক্ষী,দেবশাখ, দেওশাখ নামেও ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গীতগ্রন্থে উল্লিখিত।পার্শ্বদেব "সঙ্গীতসময়সার" গ্রন্থে দেশাখ ও দেশাখ‍্য এই দু'রকম শব্দ ব‍্যবহার করেছেন।দেশাখ বা দেশাখ‍্য পার্শ্বদেবের মতে, ঋষভ-বর্জিত ষাড়ব, অর্থ‍্যাৎ ছ'স্বরের রাগ।এতে সমস্ত স্বরই শুদ্ধ। সঙ্গীতরত্নাকরে শার্ঙ্গদেব "দেশাখ‍্য" নামেরই উল্লেখ করেছেন।"কলানিধি" টীকায় কল্লিনাথ দেশাখ‍্য বা দেশাখকে পঞ্চম-বর্জিত ষাড়বরাগ বলেছেন। কিন্তু পার্শ্বদেবের মতে, দেশাখ‍্য ঋষভ-বর্জিত ষাড়বরাগ। পন্ডিত রামামত‍্যের মতে,দেশাখ বা দেশাখ‍্য বা দেশাক্ষী আরোহণে সম্পূর্ণ ও অবরোহণে মধ‍্যম ও নিষাদ-বর্জিত ঔড়বজাতি। পন্ডিত সোমনাথ দেশাখ বা দেশাক্ষীকে ঔড়ব-সম্পূর্ণ বলেছেন। সুতরাং দেশাখ,দেশাখ‍্য বা দেশাক্ষীকে নিয়ে মতভেদের অন্ত নাই। বতর্মানে দেশাখ বা দেবশাখ কাফীমেলের ধৈবত-বর্জিত ষাড়বজাতির রাগ।কবি জয়দেব সময় (১২ শতকের শেষভাগে) দেশাখ বা দেশাখ‍্য বা দেবশাখ সম্ভবত কল্লিনাথ সমর্থিত পঞ্চম-বর্জিত ষাড়ব-ষাড়ব-জাতির রাগ ছিল।*
                    *ক্রমাগত*
*🍀শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
     *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*

*(৭)দেশ-বরাড়ী সম্ভবত দেশ ও বরাড়ী-রাগদুটির সংমিশ্রণে সৃষ্ট।'বরাড়ী'রাগ বৈরাটী,বিরাটী, বরাটিকা প্রভৃতি নামেও পরিচিত। শার্ঙ্গদেব একে "বটুকী"নামেও অভিহিত করেছেন, "তজ্জা বরাটিকা সৈব বটুকী ধ-নি-পাধিকা"।ধৈবত, নিষাদ ও পঞ্চম স্বর-তিনটির এতে বেশী ব‍্যবহার।দেশ,দেশী ও দেশাখ‍্য ভিন্ন ভিন্ন রাগ। কিন্তু দেশ ও দেশকার সমশ্রেণীভুক্ত বা একই রাগ।দেশ বা দেশকার মোটেই প্রাচীন রাগ নয়, কেননা নান‍্যদেব মম্মটাচার্য‍্য,সোমেশ্বরদেব এবং এমনকি ১৩শ শতকে শার্ঙ্গদেব "সঙ্গীতরত্নাকর" গ্রন্থে দেশ ও দেশকার-রাগের কোন পরিচয় দেননি।পন্ডিত সোমনাথ (১৬০৯ খ্রীঃ) দেশ বা দেশকারকে "দেশকৃৎ"তথা "দেশকৃদ্দেশকারঃ"বলেছেন।তিনি বলেছেন,দেশ বা দেশকার সংপূর্ণজাতির রাগ, "সাংশাদ‍্যন্তেহহ্নোহন্তকম্প্রমনির্দেশকৃৎ পূর্ণ"।আগেই বলেছি যে,জয়দেব-বর্ণিত দেশ-বরাড়ী সম্ভবত দেশ ও বরাটী বা বরাড়ী রাগ-দুটির মিশ্রণে সৃষ্ট।লোচন-কবি ও হৃদয়নারায়ণদেব এ' রাগের কোন পরিচয় দেননি। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না, কারণ কবি জয়দেব ১২শ-১৩শ শতকে তাঁর গানের সঙ্গে দেশ-বরাড়ী রাগের সম্পর্ক ঘটিয়েছেন,অথচ ঠিক সেই সময়ে দেশ-বরাড়ী অথবা দেশ-বরাটী নামে নির্দিষ্ট কোন রাগের নাম কোন প্রাচীন সঙ্গীতগ্রন্থে পাওয়া যায় না।পাওয়া যায় না পঞ্চম-সপ্তম শতকের সঙ্গীতগ্রন্থ "মতঙ্গের" বহুদ্দেশীতে,পার্শ্বদেবের সঙ্গীতসময়সারে এবং নাট‍্যলোচনেও। অথচ পরবর্তীকালে দেশ-বরাড়ীরাগের শিল্পী-অঙ্কিত চিত্র পাওয়া যায়।মনে হয়,দেশ-বরাড়ী রাগ বা রাগিনী পরবর্তীকালে সৃষ্ট এবং ১২শ শতকের গীতগোবিন্দে তার উল্লেখ ঐতিহাসিকদের মনে একটু সংশয়ের উদ্রেক করে।*
*(৮)গোন্ডকিরি--,গুণকেলী,গুন্ডত্রুী, গুণক্রী,গুণক্রিয়া,গুণকিরি প্রভৃতি নামে পরিচিত।"গুন্ডকী" নামও প্রাচীন গ্রন্থ সঙ্গীতসময়সারে পাওয়া যায়। ১৩শ শতকের গুণীজন শার্ঙ্গদেব গুণক্রীরাগের পরিচয় দেননি কেন-- তা বলা যায় না।পন্ডিত রামামত‍্য একে ধৈবত-বর্জিত ষাড়ব-ষাড়বজাতির রাগ বলেছেন।পুন্ডরীক বিঠ্ঠল(১৫৯০ খ্রীঃ)একে "গৌন্ডকৃতি"বলেছেন এবং তাঁর মতে, ধৈবত-বর্জিত ষাড়ব-ষাড়বজাতির রাগ গোন্ডকিরি। কিন্তু ১৭শ শতকের প্রথম পাদের সঙ্গীতশাস্ত্রী পন্ডিত সোমনাথ তাঁর গ্রন্থে "গোন্ডক্রিয়া" তথা গোন্ডকিরিকে কোমল-ঋষভ ও ধৈবতযুক্ত গান্ধার ও নিষাদ-বর্জিত ঔড়বজাতির রাগ বলেছেন। গৌরী-সংস্থান বর্তমানে ভৈরবমেলের অনুরূপ এবং ভৈরবরাগের জন‍্যরাগ, সুতরাং প্রাতঃকালে গেয়।গোন্ডকিরা বা গোন্ডক্রীর ঋষভ ও ধৈবত কোমল বা বিকৃত।*
*(৯)ভৈরবী--,তখনকার সময়ে ভৈরবীর রূপ ছিল বর্তমানের কাফীমেলের অনুরূপ বা সমান, সুতরাং ভৈরবীর রূপ পাই-- সা রি গ (কোমল) ম প ধ নি (কোমল)। পন্ডিত সোমনাথ বলেছেন--, "অন‍্যে তু ভৈরবীরাগে ধৈবতং কোমলং বিদুঃ"।অর্থ‍্যাৎ অনেকে ভৈরবীতে কোমল-ঋষভ ব‍্যবহার করেন। বতর্মান হিন্দুস্থানপদ্ধতির ভৈরবীতে কোমল-ঋষভ,গান্ধার,ধৈবত ও নিষাদ ব‍্যবহৃত হয় (ঋ জ্ঞ দ ণ)। লোচন-কবি ভৈরবীতে কোমল-ধৈবতের ব‍্যবহারকে অসুন্দর বলেছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, লোচনকবি ১৬শ শতকের শেষার্ধের কিংবা ১৭শ শতকের প্রথম বা মধ‍্যম পাদের কবি। সুতরাং ১২শ শতকের পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাগরূপে পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।পন্ডিত অহোবল প্রভৃতি ভৈরবীতে কোমল-ধৈবতের ব‍্যবহার বলেছেন, "ভৈরবী স‍্যাদ্ ধ কোমল"।*
*(১০)বরাড়ী বা বরাটী সম্বন্ধে আমরা দেশ-বরাড়ী প্রসঙ্গে কিছুটা আলোচনা করেছি।বরাড়ী বা বরাটীর প্রকারভেদ, যেমন সৈন্ধববরাটী, কুন্তলবরাটী,দ্রাবিড়বরাটী, প্রতাপবরাটী,নাগবরাটী, শোকবরাটী প্রভৃতি। বতর্মান পদ্ধতির বরাড়ী তথা বরাটীতে কোমল-ঋষভ ও কড়ি-মধ‍্যমের ব‍্যবহার হয়। শার্ঙ্গদেব বরাড়ীতে কোন কোমল স্বরের উল্লেখ করেননি,বলেছেন--ধৈবত,নিষাদ ও পঞ্চমের বেশী প্রয়োগ।পন্ডিত অহোবল বরাড়ীতে কোমল-ঋষভ ও ধৈবতের ব‍্যবহারেরই কথায় বলেছেন।লোচনকবি বরাড়ীর কোন পরিচয় দেননি।*
*(১১)বিভাসরাগ লোচনের মতে ভৈরবমেলের সমান, সুতরাং বিভাসে ঋষভ ও ধৈবত কোমল।বিভাসের রূপ প্রধানত দু'রকম-- একটি প্রাতঃকালে ও অন‍্যটি রাত্রে গেয়। বিভাসের প্রাচীনরূপেও নিষাদ ও মধ‍্যমবর্জিত দেখা যায়।*
*(১২)মালব বা মালবগৌড় রাগের প্রকারান্তরে আমরা পরিচয় দিয়েছি।লেখকের "রাগ ও রূপ" গ্রন্থের প্রথম ভাগে এই মালবরাগ সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা দ্রষ্টব‍্য।*
                 *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*
                  *(দুই)*
*🍀মেবারের রাণা কুম্ভা (বা কুম্ভকর্ণ) গীতগোবিন্দের উপর "রসিকপ্রিয়া" নামক টীকা রচনা করেছেন-- যাতে দেশীরাগগুলির স্বররূপ বা স্বর-সমাবেশের মধ্যে মতঙ্গ, শার্ঙ্গদেব প্রভৃতি নির্দেশিত রাগসজ্জার বিকাশ থেকে কিছু কিছু পার্থক্য বা প্রভেদ দেখি।গীতগোবিন্দে যে রাগগুলির উল্লেখ আছে পদগুলি সুরে প্রকাশ করার জন্য,তাদের রূপের পার্থক্যের কথা আলোচনা-প্রসঙ্গে পূর্বে উল্লেখ্য করেছি। "সঙ্গীতরাজ"রাণা কুম্ভার একটি অবিস্মরণীয় অক্ষয় অবদান। ডক্টর কুঞ্জন রাজা "সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থের স্বরাধ‍্যায়মাত্র সম্পাদনা করে বিকানীর থেকে প্রকাশ করেছেন।পরে বারাণসী হিন্দুবিশ্ববিদ‍্যালয় (Banaras Hindu University) ডক্টর প্রেমলতা শর্মা "সঙ্গীতরাজ" বিশেষভাবে সম্পাদনা করে ইংরেজী ১৯৬৩ খ্রীষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রথমভাগ প্রকাশ করেছেন।সম্পাদিকা ডক্টর প্রেমলতা শর্মা মেবারের রাণা কুম্ভার আবির্ভাব-কাল-সম্পর্কে লিখেছেন--, (The date of Kumbha Presents no difficulty. He ascended the throne of Mewar in Chittorgarh in 1433 A.D. after the assassination of his father Mokal and had a glorious reign of thirty-five years.(vide Sanskrit verse). The above verse ; "শ্রীমদ্বিক্রমকালতঃ পরিগতে নন্দাভ্রভূতক্ষিতা"☆ ☆ mentions the year 1374 corresfondnig to 1456 A.D. The Kirttistambha inscription which was installed in 1460 A.D. clearly refers to the composition of S.Raj by Kumbha.। রাণা কুম্ভার তিরোভাব ঘটে ১৪৬৮ খ্রীষ্টাব্দে।"সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থে সাঙ্গীতিক উপাদানের ও বিশেষ করে রাগ-রাগিনীদের পরিচয়প্রসঙ্গে রাণা কুম্ভার একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যায় সেকথা আগেই উল্লেখ করেছি। বিদগ্ধ সম্পাদিকা সঙ্গীতরাজে আলোচিত ও অনুসৃত ধারা-প্রসঙ্গে লিখেছেন--, The author's theories and concepts are traditional though he evenices a special Partiality for the more ancient authorities, who do not seem to Possess the same degree of appeal for contemporary writers (vide Introduction, P- 151). Traditional বা ঐতিহ্যবাহী ধারাপারম্পর্য‍্য-সম্পর্কে তিনি রাণা কুম্ভার নিজের স্বীকারোক্তির উল্লেখ করেছেন।স্বীকারোক্তিটি হল--*
*🌷অধ‍্যাসিতায়া নিজপূর্বপুঙ্ ভিঃ,*
*🌷পদং সবীসর্তি ন যঃ কদাচিৎ।*
*🌷বিশুদ্ধিমত‍্যাঃ সরণে স রাজা,*
*🌷পদং চরীকর্তি বিচারবর্তী।।*
*🌹রাণা কুম্ভার যে নিজস্ব একটি স্বাধীন বৃত্তি ও দৃষ্টি ছিল সঙ্গীতমীমাংসার বেলায় গীতগোবিন্দের "রসিকপ্রিয়া" টীকায় রাগরূপের আলোচনার সময়ে কিছুটা তার উল্লেখ করেছি। এখানে গীতগোবিন্দের রাগরূপের পরিচয় প্রসঙ্গে খ্রীষ্টীয় সতের শতকের প্রথমে বা মধ‍্যকালে লোচন-কবি-রচিত "রাগতরঙ্গিণী" গ্রন্থের মত-অনুযায়ী যে ভৈরবাদি রাগগুলির (যে রাগগুলি গীতগোবিন্দে উল্লিখিত হয়েছে ) স্বররূপের উল্লেখ করেছি, এখানে রাণা কুম্ভা-রচিত"সঙ্গীতরাজ" থেকে সেই সেই রাগের কতকগুলি পরিচয়ের উল্লেখ করি তুলনামূলক দৃষ্টির পরিপ্রেক্ষণে সেকাল ও একালের রাগগুলির স্বরসমাবেশের পরিচয় লাভ করার জন্য।যেম গীতগোবিন্দে মালব,মালবগৌড়, গুর্জরী,বসন্ত,রামকিরী,কর্ণাট,দেশাখ, দেশ-বরাড়ী, গোন্ডকিরী,ভৈরবী, বরাড়ী ও বিভাস বা বিভাষ এই বারোটি রাগের উল্লেখ পাই।রাণা কুম্ভা সঙ্গীতরাজে বসন্তরাগের পরিচয় দিয়েছেন --*
*🌷সাংশন‍্যাসগ্রহঃ পূর্ণো মন্দ্রানিঃ সকম্পিতঃ।*
*🌷ভূযিষ্ঠরিনিসো দৈনে পশ্চিমে প্রহরে বুধৈঃ।।১|৭৭*
*🌷হিন্দোলাঙ্গ বসন্তোহয়ং বসন্তে গীয়তে শুচৌ।*
*🌷বিদ্রুমাভং দশভূজং ষড়াস‍্যং কোকিলাগতিম।।১|৭৮*

*রী রী বি গা ম নি ধ পা ম গ রী স রী রী,*
*গা মং বি গা ম প স সা স বি গা বী সা রী।*
*প মং বি সা ম প ধ নী নি স নী ধ পা মং,*
*পা ধা নি ধা বি নি ধ ধা প ধ মা ম সা রী।।১|৮০*
*🍀এটি বসন্তরাগের (স্বর)-করণ। তাছাড়া আলাপ-- সা রী গ সা গ গ ধা ম গ মা গ রী সা প্রভৃতি।*
*▪কর্ণাটী বা কর্ণাট-রাগ সম্বন্ধে রাণা কুম্ভা বলেছেন---*
*🌷ধান্তা ষড়্ জগ্রহন‍্যাসা তারণা মন্দ্রমধ‍্যমা।*
*🌷সমশেষস্বরা পূর্ণা কর্ণাটী কর্ণরক্তিদা।।১|১১৩*
*🌷ইমাং ভাষাং সমাচষ্ট মতঙ্গাদিবিদাং গণঃ।*
*🌷রাগাঙ্গমাহ নিঃশঙ্কো গ্রামরাগানুসারতঃ।।*
*🌷কৃষ্ণবস্ত্রা নীলবর্ণা গজেন্দ্ররবরাহ না।।১|১১৪*
*🌹অবশ‍্য কর্ণাটী-সম্পর্কে রাণা কুম্ভা কর্ণাটীর দ্বিতীয় রূপের পরিচয় দিয়েছেন --"গান্ধারতারা মৃদুমা ধৈবতাংশগ্রহাস্তিমা" প্রভৃতি এবং "পূর্ণা কর্ণাটী বর্ণিতা" (১°১০৮) বলেছেন।*
                  *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
       *গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী*

*🍀ভৈরবী-সম্পর্কে রাণা কুম্বা সংগীতরাজে বলেছেন---*
*🌷ভৈরবী-ভৈরবোপাঙ্গং ধ-গ্রহাংশাবসানিকা।*
*🌷মন্দ্রতাব-গান্ধারা সমশেষস্বরা ভবেৎ।।১|১৪৮*

*ধ নী স গ ম ধা নী গ স গ রী ম গ ধ নি ধা।*
*ধ প মা ধ ধ পা মা গ ম ধ নী স রি গা নি ধা ।।*
                             *(১|১৪৯)*
*🍀মালবরাগ সম্পর্কে রাণা কুম্ভা বলেছেন---*
*🌷টক্বকৈশিকভবা তু মালবা যা,*
                *তদঙ্গমিহ মালবা মতা।*
*🌷সংগতাবিহ রিপৌ সধৌ তথা,*
       *নিগ্রহাংশবিবতির্নিযোজিতা।২|৭৯*
*🌷বাসবান্তিমদলে শুচৌ বসে,*
        *বস‍্যতে চ করুণে পুরাতনৈঃ।*
*🌷ধৈবতাংশবিবতির্ভয়ানকে,*
          *কেশ্চিদেব নিপুণং বিভাষ‍্যতে ২|৮০*
*🌻তেমনি সংগীতরাজে রামকৃতি বা রামক্রী বা রামকিরী সম্পর্কে রাণা কুম্ভা বলেছেন----*
*🌷কোলাহলা টক্কভবাত্র ভাষা,*
            *পূর্বোদিতা রামকৃতিস্তদঙ্গম্।*
*🌷সান্তা গ্রহাংশীকৃতমধ‍্যমা চ,*
          *বিবর্জিতা পঞ্চমনিস্বনেন।।২|১১৪*
*🌹রামকৃতি বা রামক্রী রাগ বা রাগিনী হল-- "দোলারূঢ়া চ গৌরাঙ্গী বীণাদন্ডবিভূষিতা"।তাছাড়া ক্রিয়াঙ্গরাগ-রূপে পূর্বরামক্রিয়া, রামক্রিয়া,গৌন্ডকৃতি,দেবকৃতি প্রভৃতির পরিচয়ও দিয়েছেন রাণা কুম্ভা। রামকৃতি (২|১১৪) ও রামক্রিয়া (৩|২) রাগকে পৃথক দৃষ্টিতেই বিচার বিশ্লেষণ করেছেন রাণা কুম্ভা। রামক্রিয়ার রূপ---*
*🌷আপঞ্চমং তিবমৃদুপ্রচারা,*
         *সাংশগ্রহান্তা রিসভূরিনাদা।*
*🌷স‍্যাদ্বিপ্রলম্ভে করুণে রসে চ,*
            *রামক্রিয়া বাসরপশ্চিমার্ধে।।৩|৪*
*🌻মোটকথা রাগতরঙ্গিণীকার লোচন-কবি রাণা কুম্ভার বহু পরবর্তী গ্রন্থকার বা শাস্ত্রকার। ঐতিহাসিক পটভূমিকায় বিচার-দৃষ্টিতে দেখা যায়,১২শ-১৩শ শতকের কবি জয়দেবের নির্দেশিত রাগরূপকে ১৫শ শতকের শাস্ত্রকার ও সংগীতজ্ঞানী রাণা কুম্ভা রচিত "র্সগীতরাজ" গ্রন্থে উল্লিখিত রাগগুলির স্বরসমাবেশপদ্ধতির দৃষ্টিকোণ থেকেই আমাদের বিচার করা উচিত। বতর্মান উত্তর-ভারতীয় রাগরূপের মধ্যে রাণা কুম্ভা নির্দিষ্ট রাগরূপগুলি ঐক‍্য-অনৈক‍্য লক্ষ্য করা যায়।*
*🔵গীতগোবিন্দের গঠনশৈলী এখানেই রইল।*
*🌹শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দে রাগরূপ ও তার বিকাশ*

*🍀আমরা আগে আলোচনা করেছি যে,মালব,মালবগৌড়,গুর্জরী,বসন্ত, রামকিরী বা রামক্রী,কর্ণাট,দেশাখ বা দেবশাখ,দেশ-বরাড়ী, গোন্ডকিরী, ভৈরবী,বিভাস ও বরাড়ী বা বরাটী রাগগুলি "গীতগোবিন্দ"পদগানের সঙ্গে সম্পর্কিত।পূজারী গোস্বামী ও অন‍্যান‍্য অধিকাংশ টীকা ও ভাষ‍্যকারগণ এই রাগগুলিরই উল্লেখ করেছেন এবং একথাও আলোচনা করেছি যে,রাণা কুম্ভ (রাণা কুম্ভা নামটি "রাণা কুম্ভা" নামে পরিচিত-- যদিও 'রাণা কুম্ভা বলে অনেকে ব‍্যবহার করেন),"রসিকপ্রিয়া" টীকায় বহু অন‍্যান‍্য রাগের নাম উল্লেখ করেছেন।এ'থেকে অনুমান করা যেতে পারে যে,গীতগোবিন্দে রাগসম্পর্কে গুণীসমাজে মতভেদেরও প্রয়োজন হয়েছিল।মূলপদগানে ও রাণা কুম্ভার টীকায় রাগ-সমাবেশের রীতির তুলনামূলক আলোচনা করলে দেখা যায়, (১ ক)প্রথম অষ্টপদীপ্রসঙ্গে কবি জয়দেব বলেছেন--,"মালবগৌড়রাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ)আগেই উল্লেখ করেছি যে,রাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়ার"সৃচনায় (উপোদঘাতে) চতুর্থ শ্লোকে বলেছেন--, "নত্বা মতঙ্গভরতপ্রমুখান সুগীতসংগীতশাস্ত্রনিপুণাঞ্জয়দেববাচাম্। শ্রীকুম্ভকর্ণনৃপতির্বিবৃতিং তনোতি গানং নিধায় সরসং রসিকপ্রিয়াহ্বাম্।। অর্থ‍্যাৎ, রাণা কুম্ভা গীতগোবিন্দের পদ-সম্পর্কিত সংগীত বিষয়ে আলোচনা করেছেন পূর্বগ বিদগ্ধ সংগীতবিদ্বান ভরত,মতঙ্গ প্রভৃতি-রচিত সংগীতশাস্ত্রকে অনুসরণ করে। তাছাড়া রাণা কুম্ভা ছিলেন যথার্থ অভিজাত সঙ্গীতধারায় বিজ্ঞানী এবং তাঁর রচিত "সঙ্গীতমীমাংসা ও সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থ দুইটি সেকথা প্রমাণ করে।টীকায় উপোদঘাতের উনিশ সংখ্যক শ্লোকের শেষে তিনি বলেছেন--, "গমকালাপ- পেশলতয়া মধ‍্যমগ্রামে ষাড়রেব মধ‍্যমগ্রহেণ মধ‍্যমাদিরাগেণ গীয়তে"। প্রথম অষ্টপদীসম্পর্কিত টীকায় ১২ সংখ্যক শ্লোকে তিনি পুনরায় বলেছেন--,"☆ ☆ ধবলোহয়ং প্রবন্ধবাট।রাগোহত্র মধ‍্যমাদিঃ স‍্যাদাদিতালো বিলম্বিতঃ।।লয়ঃ স‍্যান্মাগধীরীতিঃ শৃঙ্গারোহত্র রসঃ স্মৃতঃ"। সুতরাং এখানে পাই মধ‍্যমাদি তথা মধুমাধবী রাগের উল্লেখ।এই সব রাগরূপ-সম্বন্ধে পূর্বে আলোচনা করেছি।*
*২|(ক) দ্বিতীয় অষ্টপদীসম্পর্কে কবি উল্লেখ করেছেন--,"গুর্জরীরাগা- নিঃসারতালাভ‍্যাং গীয়তে।*
*(খ) রাণা কুম্ভা প্রারম্ভে বলেছেন-,"ইদানীং বর্ণ‍্যমানং শ্রীকৃষ্ণং স্বরূপনিরূপণদ্বারা মঙ্গলগীতেন স্তৌতি। তত্রেদমাদ‍্যং পদং ললিতরাগেণ লখ্বাদিতাল ইতি আদিতালে গীয়তে"। অর্থ‍্যাৎ ললিতরাগে ও লঘু-আদিতালে গীত হবে দ্বিতীয় প্রবন্ধ।*
*৩|(ক) তৃতীয় অষ্টপদসম্পর্কে মূলে আছে--, "বসন্তরাগ যতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা এ প্রসঙ্গে টীকার নবম শ্লোকে বলেছেন--, "মধ‍্যা নায়িকা। গুর্জরীরাগেণ ঋষভাদিনা"-- যদিও "বিপ্রলম্ভাখ‍্যঃ শৃঙ্গারো রসঃ ব‍্যাখ‍্যাপ্রসঙ্গে বলেছেন--, "☆ ☆ বসন্তরাগে ঝম্পাখ‍্যতালে মধ‍্যলয়াঞ্চিতে।" সুতরাং তৃতীয় অষ্টপদী বাংপ্রবন্ধ-প্রসঙ্গে গুর্জরী রাগে ও মধ‍্যলয়ে গীত হবে তৃতীয় প্রবন্ধ।*
*৪|(ক) চতুর্থ অষ্টপদীপ্রসঙ্গের মূলে আছে--,"রামকিরীরাগযতিতালাভ‍্যাং গীয়তে।*
*(খ)"রাণা কুম্ভেন তেন" প্রভৃতি বলে রাণা কুম্ভ রাগসম্পর্কে বলেছেন--, "যত্র স‍্যাদগুর্জরীরাগস্তালো ঝম্পেতি ভাগশঃ ☆ ☆।*
*☘প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য যে, চতুর্থ প্রবন্ধের তৃতীয় শ্লোক "গোপবধূরনুগায়তি ☆ ☆ পঞ্চমরাগম্----এই পঞ্চমরাগ সম্পর্কে পূজারী গোস্বামী অর্থ করেছেন--, ☆ ☆ উন্মীতঃ পঞ্চমস্বরো যত্র তং রাগামনুগায়তি"। রসমঞ্জরী ব‍্যাখ‍্যায় শঙ্করমিত্র বলেছেন--, "পঞ্চমাখ‍্যো রাগো যত্র"।রাণা কুম্ভা বলেছেন--, "পঞ্চমরাগো যেন বা, ☆ ☆ পঞ্চমস্বরোপলক্ষিতো রাগো যেন বা"।*
                    *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দে রাগরূপ ও তার বিকাশ*

*৫|(ক)গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "গুর্জরীরাগেণ যতিতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা নবম শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যার পর "গণগ্রামং"-পদপ্রসঙ্গে বলেছেন-- (১)ইদানীং রাধা তদেব রহস‍্যং ভঙ্গ‍্যন্তরেণাহ---'রাগো ধন‍্যাসিকো যত্র তালো বর্ণয়তিঃ স্মৃতঃ ☆ ☆।স চায়ং মধুরিপুরত্নকন্ঠি কা নাম পঞ্চমঃ প্রবন্ধো ভৈরবরাগেণ গীয়তে গণয়তীতি"। অর্থ‍্যাৎ পঞ্চম প্রবন্ধ ধন‍্যাসিক বা ধানসি এবং ভৈরবরাগে ও যতিতালে গেয়।*
*৬|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "মালবগৌড়রাগেণ একতালেন চ গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন--, "তথা চ সংগীতরাজে--গীতৌ ভৈরবরাগেণ তালে বর্ণযতৌ যথা।আভোগান্তস্থিতৈঃ পাটৈঃ স্বরৈঃ পদ‍্যাঞ্চিতস্ততঃ "।।অর্থ‍্যাৎ যষ্ঠ প্রবন্ধ ভৈরবরাগে ও যতিতালে গীত হবে।*
*৭|(ক)মূলে আছে--, "গুর্জরীরাগযতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন--, "রাগো গৌড়াকৃতির্যত্র প্রতিমন্ঠপুরস্কৃতঃ। আভোগান্তে তথা পাটস্বরৈঃ পদ‍্যগণাঞ্চিতঃ।।শৃঙ্গাররসসংপূর্ণ ☆ ☆।অর্থ‍্যাৎ যষ্ঠ প্রবন্ধ গৌড় বা গৌড়াকৃতি রাগে ও প্রতিমন্ঠতালে গেয়।*
*৮|(ক)গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "কর্ণাটরাগৈকতালীতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) এ প্রসঙ্গে রাণা কুম্ভা বলেছেন--,*
*🌷প্রতিমন্ঠকতালেন রাগে দেশাঙ্কসংজ্ঞিতে।*
*🌷পদাত্তূর্যাক্ষরৈর্যুক্তঃ পদাৎ সংগমতস্তথা।।*
*🌷আকারোপচিতালাপগমককাকুবিগ্রহঃ।*
*🌷আভোগাত্তেনকৈঃ পাটৈঃ প্রচুরৈরতিপেশনঃ।।*
*🌺মোটকথা সপ্তম প্রবন্ধ দেশাক বা দেবশাখ-রাগে ও প্রতিমন্ঠতালে গান করা কর্তব‍্য।*
*৯|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "দেশাখরাগৈকতালীতালাভ‍্যং গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন--,*
*🌷মালবশ্রীঃ স্মৃতো রাগস্তালো নিঃসারসংজ্ঞকঃ।*
*🌷রাগগেয়কারনামাঙ্কপদতস্তেন সন্ততিঃ।।*
*🌷ততঃ পাটাঃ পদানি স‍্যুঃ পঞ্চমানি রসোহত্র যঃ।*
*🌷শৃঙ্গারো বাসুদেববস‍্য ক্রীড়নং রাসকাদিভিঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ অষ্টম প্রবন্ধ মালবশ্রী রাগে ও নিঃসারতালে গেয়।*
*১০|(ক)গীতগোবিন্দের মূলে আছে--, "দেশবড়ীরাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন-- সঙ্গীতরাজে----*
*🌷নিঃসারতালরচিতো রাগে কেদারসংজ্ঞকে।*
*🌷কবিনামাঙ্কিতপদাৎ পাটৈঃ স্বল্পতবৈশ্চিতঃ।।*
*🍁অর্থ‍্যাৎ অষ্টম প্রবন্ধ কেদাররাগে ও নিঃসারতালে গেয়।*
*১১|(ক)মূলে আছে--, গুর্জরীরাগেণ একাতালীতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা এপ্রসঙ্গে বলেছেন, "গীত‍্যাদি পূর্বোক্তমেব"। "পূববৎ" বলতে দশম প্রবন্ধ যে কেদাররাগ ও নিঃসারতালের প্রয়োগ আছে,এখানে সে প্রয়োগই বুঝতে হবে।*
                 *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের রাগরূপ ও তার বিকাশ।*

*১২|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "গুণকরীরাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা বলেছেন, 'তথা চ সংগীতরাজে'--*
*🌷মালবীয়ঃ স্মৃতো গৌড়া রাগস্তালোহড্ডতালকঃ।*
*🌷শৃঙ্গারো বিপ্রলম্ভাখ‍্যো রসো দেবাদিববর্ণনম্।।*
*🌷পদসন্ততিস্তেনাঃ পাটাঃ স্বরসমুচ্চয়ঃ।*
*🌷তত পদ‍্যানি যত স‍্যুর্লমধ‍্যমমানতঃ।।*
*🔷রাণা কুম্ভার অভিমতে দ্বাদশ প্রবন্ধ মালবরাগে ও অড্ডতালে গান করা হয়।*
*১৩|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "মালবরাগ-যতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ)রাণা কুম্ভা সংগীতরাজে বলেছেন---*
*🌷রাগঃ স‍্যাৎ স্থানগৌড়াখ‍্যস্তালো বর্ণযতি-রসঃ।*
*🌷শৃঙ্গারো বিপ্রলম্ভাখ‍্যঃ প্রমদা মদনাকুলা।।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ এয়োদশ প্রবন্ধ স্থানগৌড় তথা গৌড়রাগে এবং যতিতালে গীত হবে।*
*১৪|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, তথাত্র সংগীতরাজে---*
*"বসন্তরাগ-যতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা সঙ্গীতরাজে বলেছেন--*
*🌷শ্রীরাগো যত্র রাগঃ স‍্যাত্তালস্তু দ্রুতমন্ঠকঃ।*
*🌷বর্ণনং বাসুদেবস‍্য হরিস্তদ্ব‍্যত‍্যয়ে স্ত্রিয়াঃ।।*
*🌷পদেভ‍্যঃ পাটসন্তানং স্বরাস্তেনাস্তথৈব চ।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ চতুর্দশ প্রবন্ধে শ্রীরাগ ও দ্রুত মন্ঠকতালের ব‍্যবহার হবে।*
*১৫|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "গুর্জরীরাগৈকতালীতালেন গীয়তে"।*
*(খ)সংগীতরাজে রাণাকম্ভা বলেছেন--*
*🌷দ্রুতমন্ঠেন তালেন দ্রুতেনৈব লয়েন চ ।*
*🌷মহ্লারে রসরাজে স‍্যাৎ পদানাং সংততে পুনঃ।।*
*🌷স্বরগ্রামস্তথা পাটাস্তেনা অপি যথাক্রমম্।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ পঞ্চদশ প্রবন্ধ মহ্লার বা মল্লাররাগে ও দ্রুতমন্ঠতালে গান হবে।*
*১৬|(ক) মূলে আছে-- "দেশবরাড়ীরাগেণ রূপকতালেন গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা বলেছেন-, সঙ্গীতরাজে-------*
*🌷রাগো বরাটিকা যত্র তালো বর্ণ-যতিস্তথা।*
*🌷পদানি স্বেচ্ছয়ালাপ ভূষিতানি যথাদ‍্যুতি।।*
*🌷ততঃ স্বরাশ্চ পাটাশ্চ ততঃ পদ‍্যানি কানিচিৎ।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ ষোড়শ প্রবন্ধ বরাটিকা বা বরাটি রাগে ও যতিতালে গান করা হয়।*
*১৭|(ক) গীতগোবিন্দের মূলে আছে, "ভৈরবীরাগযতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ)সংগীতরাজে রাণা কুম্ভা বলেছন---*
*🌷তালো বর্ণযতির্মেঘরাগো দেবাদিবর্ণনম্।*
*🌷বিপ্রলম্ভাখ‍্যশৃঙ্গারো রসঃ করুণবেদনম্।*
*🌷কবিনামাঙ্কিতপদপ্রান্তে পাটস্বরাবলিঃ।।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ সপ্তদশ প্রবন্ধ মেঘরাগে ও যতিতালে গীত হবে।*
*১৮|(ক) গীঃগোঃ মূলে আছে, "গুর্জরীরাগ-যতিতালাভ‍্যাং গীয়তে"।*
*(খ) রাণা কুম্ভা বলেছেন, সংগীতরাজে---*
*🌷নট্টরাগস্তৃতীয়াখ‍্যস্তালো মধ্যে ক্বচিৎ ক্বচিৎ।*
*🌷পদানাং শোভয়ালাপগুম্ফানাং নানাহেতুকম্।।*
*🌷অন্তে পাটাঃ স্বরাস্তেনাস্তদন্তে পদগুম্ফনম্।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ অষ্টাদশ প্রবন্ধ নটরাগে ও তৃতীয় তালে বা ত্রিতালে গান করা হয়, বা কখনো কখনো গীত হয়।*
                   *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা ।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
        *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🍀যে লক্ষ্মী শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গ অর্থ‍্যাৎ মূর্তিবিশেষ নারায়ণে সংযুক্তা,লক্ষ্মীর স্বর্ণকমলের ন‍্যায় অঙ্গকান্তি, সৌগন্ধবতী ও দিব‍্যসুখ ভোগাস্পাদা,লোকগণ শিরোমণি এবং বৈকুন্ঠস্থিত ভূ-লীলা প্রভৃতি শক্তিগণের মধ্যে পরম প্রেমবতী,তাঁরও এই জাতীয় কৃষ্ণ প্রেমের আস্বাদন নাই,অন‍্য রমণীর আর কী কথা?*
*🍁শ্রীনারায়ণ ও শ্রীকৃষ্ণ স্বরূপগত অভেদ হলেও বৈদগ্ধাদিগুণে শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ হতে অনেক বেশি উৎকর্ষ,ইহা সর্বশাস্ত্রেই বর্ণিত আছে। এই জন্য লক্ষ্মীদেবী শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গসঙ্গের জন্য লালায়িতা। যথা শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে----*
*তাতে সাক্ষী সেই রামা,নারায়ণের প্রিয়তমা,*
        *পতিব্রতাগণের উপাস‍্যা।*
*তিঁহো যে মাধুর্য‍্য লোভে, ছাড়ি সব কামভোগে,*
       *ব্রতকরি করিল তপস‍্যা।।*
*🌻যদিও স্বরূপে শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান এবং শ্রীনারায়ণ তাঁর বিলাসমূর্তি তথাপি স্বরূপের কমবেশী অবশ‍্য স্বীকার করতে হবে। স্বয়ং ভগবৎ স্বরূপের শক্তি ও স্বয়ংরূপা তথা শ্রীশক্তি বা লক্ষ্মী ঠাকুরাণী শ্রীব্রজদেবীগণের অংশস্বরূপ।লক্ষ্মী ঠাকুরাণী শ্রীনারায়ণের বক্ষস্থলে সদা বাস করেও শ্রীব্রজদেবীগণের ন‍্যায় আকুল প্রেমময়ী তৃষ্ণার অধিকারিনী নন বলে আস্বাদনের চমৎকারিতা ও প্রাচুর্য‍্য প্রকাশ পাচ্ছেন না।পিপাসার কমবেশীতেই আস্বাদনের কমবেশী প্রকাশ পেয়ে থাকে।শ্রীনারায়ণের প্রতি লক্ষ্মী ঠাকুরাণীর প্রেম ঈশ্বরবুদ্ধি থাকাই সেটি অনুরোধময় ও সঙ্কোচপূর্ণ।শ্রীব্রজবাসীগণের ঈশ্বরবুদ্ধি না থাকায় সেটি সঙ্কোচশূন‍্য ও অনেক বেশী উল্লাসময়।শ্রীনারায়ণে লক্ষ্মীদেবীর তদীয়তা বুদ্ধি বা তদাধীনতা বুদ্ধি থাকায় হৃদয়ে দুর্বলতা আছে।শ্রীব্রজসুন্দরীগণের শ্রীকৃষ্ণে মদীয়তা (আমার) বুদ্ধি থাকায় হৃদয়ে সবলতা ও দার্ঢ‍্য (স্থিরতা)আছে।লক্ষ্মীদেবী সবসময়ই নারায়ণের অপেক্ষা করেন, শ্রীব্রজরামাগণ শ্রীকৃষ্ণের অপেক্ষা তো করেনই-না বরং শ্রীকৃষ্ণই ব্রজাঙ্গগণের অপেক্ষা করেন। দৃষ্টান্ত স্বরূপ "রাসোৎসবেহস‍্য-ভূজ‍্যদন্ড গৃহীতকন্ঠ"। অর্থ‍্যাৎ রাস উৎসবকালে শ্রীকৃষ্ণই গোপীগণের কন্ঠাশ্রয় করেছিলেন,ব্রজদেবীগণ শ্রীকৃষ্ণের কন্ঠ ধারণ করেননি।ব্রজগোপীগণ ভর্ত্তৃকা বা প্রভুপালক নায়িকা আবেশে অতি প্রেমময়ী তৃষ্ণায় নৃত্য গীতাদি করেছিলেন।*

*🌷রাসোৎসবঃ সংবৃতো গোপীমন্ডল মন্ডিতঃ।*
*🌷যোগেশ্বরেন কৃষ্ণেন তাসাং মধ্যে দ্বযোর্দ্ধয়োঃ।*
*🌷প্রবিষ্টেন গৃহীতানাং কন্ঠে স্বনিকটং স্ত্রিয়ঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ গোপীমন্ডল শোভিত রাসোৎসব আরম্ভ হইলে ভক্তি যোগেশ্বর,কৃষ্ণ সেই গোপীগণের মধ্যে এরকমভাবে কন্ঠ ধারণ করে ছিলেন যে প্রত‍্যেক গোপীই দেখতে লাগলেন শ্রীকৃষ্ণ আমারই পার্শ্বে রয়েছেন, আমারই সঙ্গে বিহার করছেন।এই শ্লোকের "গৃহীতানাং কন্ঠে" প্রমাণ করছে যে শ্রীকৃষ্ণ ব্রজসুন্দরীগণের কন্ঠাশ্রয় করেছিলেন।*
*🌹শ্রীরাসলীলায় শ্রীশুকদেব গোস্বামীও কথার ভঙ্গীতে শ্রীরাধার প্রেম-উৎকর্ষতার কথা ব‍্যক্ত করেছিলেন।এই উৎকর্ষতার জন্যই শ্রীরাসমন্ডলী হতে শ্রীমতীকে বক্ষে ধারণ করে নটরাজ শ্রীকৃষ্ণ সমস্ত গোপীগণকে পরিত‍্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।সেই মহারাস রজনীতে শতকোটি গোপীর কন্ঠ ধারণ করে যখন রাসমন্ডলীর মাঝে নৃত্যবিলাস চলছিল,তখন গোপাঙ্গনাদের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের প্রেমাবেগের সমতা দর্শন করে এবং প্রেমের গতি সর্পগতির মত স্বভাবতঃ কুটিল ও আধল (অন্ধ) হেতু বাম‍্য-স্বভাবা শ্রীমতী মানবতী হয়ে শ্রীরাসমন্ডলী পরিত‍্যাগ করে গেলে শ্রীকৃষ্ণও সমস্ত ব্রজদেবীগণকে পরিত‍্যাগ করে অতি বিষাদিত মনে প্রেয়সী শিরোমণি শ্রীরাধাকে খোঁজ করতে লাগলেন।এই অভিপ্রায়ে শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীমন্মহাপ্রভুকে বলেছেন--*
*🌷ক্রোধ করি রাস ছাড়ি গেলা মান করি।*
*🌷তাঁরে না দেখিয়া ব‍্যাকুল হইলা শ্রীহরি।।*
*🌷তাঁরা বিনু রাসলীলা নহে ভায়চিতে।*
*🌷মন্ডলী ছাড়িয়া গেলা রাধা অন্বেষিতে।।*
*🌷শতকোটি গোপীতে নাহি কাম নির্বাপণ।*
*🌷ইহাতে অনুমানি শ্রীরাধার গুণ।।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
        *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🍀শ্রীশুকদেব গোস্বামীর শ্রীরাসের বর্ণনায় শ্রীকৃষ্ণ অন্তর্দ্ধান করেছেনএই কথায় সুস্পষ্ট।শ্রীরাধাকে সঙ্গে নিয়ে কিম্বা শ্রীরাধার অনুসন্ধানের কোন কথায় স্পষ্ট নয়।শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীশুকদেবের বর্ণনার সাহায্য না নিয়েই রসিক কবি শ্রীজয়দেব গোস্বামীর "শ্রীশ্রীগীতগোবিন্দের" অনুসরণ করলেন।শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীশুকমুনি শারদীয় রাসের বর্ণনা করেছেন।শ্রীরাসের মধ্যে অন্তর্দ্ধানের আড়ালে যে মানের ব‍্যাপারটি তা শ্রীশুকদেব অতি সংগোপনে রেখেছেন।শ্রীজয়দেব গোস্বামীপাদ প্রধানতঃ সেটিই অবলম্বন করেছেন। শ্রীজয়দেব শ্রীরাধার মানের কারণটি যথোচিত ও স্পষ্টভাবেই ব‍্যক্ত করেছেন ও শ্রীরাস মন্ডলীতে প্রত‍্যেক গোপীর পার্শ্বেই এক কৃষ্ণ আছেন। শ‍্যামসুন্দরের উজ্জ্বল শ্রীঅঙ্গে নিজ প্রতিবিম্ব দর্শন করে শ্রীরাধা মনে করলেন,শ্রীকৃষ্ণ অন‍্য গোপী সঙ্গে নৃত্যগীত করছেন, সুতরাং তিনি মানবতী হলেন।তারপর শ্রীরাইধনি নিজের পার্শ্বে শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করলেন, এটি আগে দেখেননি।শ্রীরাধা মনে করলেন,শ্রীকৃষ্ণ অন‍্য গোপীর সঙ্গে নৃত্য গীতালাপ করে পরিশেষে আমার পার্শ্বে দাঁড়িয়েছেন,এই ভাবতেই দুর্জয় মানবতী হয়ে শ্রীরাসমন্ডলী ছেড়ে চলে গেলেন।এই কথা বোলে শ্রীরামরায় ভক্ত জয়দেবের তৃতীয় সর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্লোকদ্বয় উচ্চারণ করে শ্রীমন্মহাপ্রভুকে বললেন যে,এই শ্লোক দুইটি পাঠ করলে-- মহা অমৃতের খনি উঠিবে, যথা----*
*🌷কংসারিরপি সংসার-বাসনাবন্ধশৃঙ্খলাম্।*
*🌷রাধামাধায় হৃদয়ে তত‍্যাজ ব্রজসুন্দরী।।(১)*
*🌻শ্রীমতী শ্রীরাধা কংসারি শ্রীহরিকে সংসার বাসনারূপ শৃঙ্খলে আবদ্ধ করলেন ; শ্রীকৃষ্ণও একমাত্র রাধাগত প্রাণ হয়ে তাঁকে হৃদয়ে ধারণ করে গোপাঙ্গনাগণের সঙ্গ ত‍্যাগ করলেন।শ্রীরাধার একটি বিশেষণ "সংসার বাসনাবন্ধ শৃঙ্খলাং"। শ্রীকৃষ্ণের আরেক নাম কংসারি-- এই শব্দটির একটি অর্থ হয় ভোগ-বাসনা, যিনি তার অরি অর্থ‍্যাৎ যার স্মরণে সমস্ত কামনা বাসনা দূরীভূত হয়-- সেই কৃষ্ণের যে একটা সম‍্যকসার (বহু প্রকারের মধ্যে অন‍্যতম) বাসনা আছে সেটি শ্রীশ্রীরাসলীলা,এটি কামনা-বাসনা ধ্বংসকারীর অপূর্ব বাসনা--যথা শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে--*
*🌷ব্রজবধূগণের সঙ্গে কৃষ্ণের রাস-বিলাস।*
*🌷সেইজন কহে শুনে করিয়া বিশ্বাস।।*
*🌷হৃদরোগ কাম তার তৎকালে হয় ক্ষয়।*
*🌷তিনগুণে ক্ষোভ নহে মহাধীর হয়।।*
*🌹ব্রজলীলার মুকুটমণি এই শ্রীরাসলীলায় শ্রীরাধা একটি শৃংখলা।শ্রীরাসোৎসবে শ্রীরাধার কৃপায় সমস্ত গোপীগণই রাধাতুল‍্য হয়ে স্বাধীন ভর্ত্তৃকা নায়িকারূপে শ্রীকৃষ্ণের সহিত নৃত্যবিলাস করেছিলেন।সেই শৃঙ্খলারূপিনী শ্রীরাধার অবর্তমানে সমগ্র রাসলীলা বিপর্য‍্যস্ত।এতেই প্রমাণ হয় যে,শ্রীরাধা সকল গোপীগণের শিরোমণি।তৃতীয় সর্গের দ্বিতীয় শ্লোকটি হ'ল ঃ-----*
*🌷ইতস্ততস্তামনুসৃত‍্য রাধিকামনঙ্গ বানব্রনখিন্ন মানসঃ।*
*🌷কৃতানুতাপঃ স কালিন্দীনন্দিনী তটান্ত কুঞ্জে বিষসান মাধবঃ।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ মদনবানে ব‍্যথিত হৃদয় মাধব বিলাপ করতে করতে ইতস্তত (এদিকওদিক)শ্রীরাধার অনুসন্ধানে রত হলেন। কিন্তু তাঁর দেখা না পেয়ে যমুনার কুলের পার্শ্বে কুঞ্জে প্রবেশ করে বসলেন,এবং বিষাদে অনুতাপ করতে লাগলেন।(শ্রীকৃষ্ণ স্বগতঃ বিষাদভাবে ব‍্যক্ত করলেন)।"আমি ব্রজবধূগণ পরিবৃত হয়ে যখন নৃত্য করছিলাম,তখন শ্রীরাধা তা প্রত‍্যক্ষ করেছেন ; আমি শ্রীমতীর কাছে অপরাধী,তাই ভীতিবশতঃ শ্রীরাধার গমনে বাধা দিতে পারিনি।অহো হরি। আমি তাকে আদর করিনি মনে করে বোধহয় রাধা ক্রোধ করে চলে গিয়েছেন।*
*🌻এখানে, একটু ভাববার বিষয় এই যে যিনি স্বয়ং ভগবান,যাঁর ভগবত্তা অন‍্য-নিরপেক্ষ ও স্বয়ংসিদ্ধ সেই শ্রীকৃষ্ণ বলছেন--,আমি ভীতিবশত শ্রীরাধার গমনে বাধা দিতে পারিনি। দ্বিতীয় শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতীর অনুসন্ধানে ব‍্যস্ত।যিনি অনুসন্ধেয়(অনুসন্ধানযোগ‍্য) বস্তু,তিনি আজ অনুসন্ধানে রত।(এই স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণ পাবার আশায় কতশত যোগী মুনি ঋষি হাজার হাজার বৎসর তপস‍্যায় রত আছেন, আর সেই বিশ্বব্রহ্মান্ডের অধিপতি শ্রীকৃষ্ণ ভক্তের সন্ধান করতে রত হয়েছেন, ভক্ত তাঁকেই বলে স্বয়ং ভগবান যাঁর সন্ধান করেন)। এই বিপরীতভাব অতীব আশ্বর্য‍্যজনক।আরও আশ্বর্য‍্য,খোঁজ করে যখন কৃতকার্য‍্য হলেন না, অনুতাপানলে পুড়ে যাচ্ছেন।যিনি সর্ব চিত্তাকর্ষক,সাক্ষাৎ মদনমোহন তিনিও শ্রীরাধার আকর্ষণে আকৃষ্ট,যিনি সর্বারাধ‍্যধন তিনিও মহাভাবময়ী শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণীর আরাধনায় নিযুক্ত।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩) প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
            *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🌻সাধ‍্যধন যে শ্রীকৃষ্ণ তাঁরও শিরোমণি শ্রীরাধা--সাধ‍্যশিরোমণি।*
*🌷পূর্ণানন্দময় আমি চিন্ময় পূর্ণতত্ত্ব।*
*🌷রাধিকার প্রেমে আমায় করায় উন্মত্ত।।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণতত্ত্ব হয়েও শ্রীরাধার জন্য কি করেন আর কি না করেন।কোন সময়ে বুড়ি জটিলার ভয়ে শ্রীমতীর আঙ্গিনার এক কোণে বদরীবৃক্ষতলে (কুলগাছ) রাত্রি যাপন করেন ; কখনও কালিন্দীতীরে রাধাকে দেখবার জন্য বাঁশী হাতে বসে থাকেন। কোনও সময় শ্রীমতী রাইধনির অঙ্গপরশের লালসে কলাবতী গায়িকা,বেদেনী,ভিখারাণী, মালিনী ইত্যাদি ছদ্মবেশ ধারণ করেন।আবার স্বর্ণ-লতিকাকে শ্রীরাধা ভেবে বক্ষে জড়িয়ে ধরেন।গোবিন্দ লীলামৃতে বর্ণিত "শ্রীরাধার মূর্তি-তরুলতাদিতে সর্বত্র স্ফূর্তি পেয়ে নর্তকীর মত ভ্রমণ সহকারে সেই কৃষ্ণকে শ্রীমতীর পশ্চাৎ পশ্চাৎ নৃত্য করাচ্ছেন।আবার রাসনৃত‍্যকালে "গৃহীতানাং কন্ঠে" প্রমাণ করছে যে শ্রীকৃষ্ণই গোপীগণের কন্ঠাশ্রয় করেছিলেন।এখানে শ্রীকৃষ্ণ গোপীগণকে আকর্ষণ করতে পারেননি।গোপীগণই চুম্বকের মত শ্রীরাধার কৃপায় শ্রীকৃষ্ণকে আকর্ষণ করেছেন।পুনঃ মহারাসের উপক্রম সভাতে শ্রীব্রজাঙ্গনাগণ যমুনা পুলিনে নিজ নিজ কুচপ্রদেশে নিজ প্রাণবল্লভের শ্রীচরণারবিন্দ পেয়েছিলেন।তাঁরা সেই দুর্লভ চরণকমল অনুরোধময় কথাদ্বারা পাননি,শ্রীকৃষ্ণই উত্তমস্থান বোধে গোপীগণের বক্ষপ্রদেশে ন‍্যস্ত বা অর্পিত করেছিলেন।*
*🍀শ্রীরাধার কৃপাতে গোপীগণ শ্রীরাধার মত কৃষ্ণমাধুর্য‍্য আস্বাদন করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ প্রায়শ বলেন--, "রাধিকার প্রেম আমায় করায় উন্মত্ত"।আবার বলেন--, "যে প্রেমে আমায় করে সর্বদা বিহ্বল"।শ্রীকৃষ্ণ উন্মত্ত বিহ্বল হয়ে যান,রাধাপ্রেমে এমন এক অনির্বচনীয় মাদকতা ও উন্মাদিনীশক্তি-মত্ততা আছে যে সেটি যাদুকরের মতন শ্রীকৃষ্ণকে বিহ্বল করে দেয়।তাই শ্রীরাধাপ্রেম শ্রীখৃষ্ণের গুরু,মহাগুরু,গুরুতম।গুরুবস্তু সবসময়ই গৌরবযুক্ত থাকবেই।শ্রীরাধা প্রেমের গুরুতম হয়েও সর্বতোভাবে গৌরব বর্জিত।কেননা দৈন‍্য নামক সঞ্চারীভাবের তরঙ্গ রাধাপ্রেমে নিরন্তর বা সবসময় বিদ‍্যমান।এই জন্য দৈন‍্যসাগরে নিমগ্না থেকেও তিনি মনে করেন, তিনি কৃষ্ণপ্রেমহীনা ও দীনা।যেমন-- শ্রীকৃষ্ণের বক্ষে দোদুল‍্যমান বনমালাকে দেখে বলেছিলেন, হে বনমালা! তোমার জন্মই সার্থক। আবার শ্রীকৃষ্ণের মধুর অধরে মুরলী দেখে তিনি বাঁশীজন্মে প্রার্থনা করেছিলেন।"শুধু আমি একাই কৃষ্ণপ্রেমহীনা হতভাগিনী।*
*🌷গোপগোয়ালিনী হাম অতি দীনা, না জানি ভজনপূজন।*
*🍀বিরহবেদন তুয়া ও দুটি চরণ পরাণে ধরিয়া নয়ন মুদে থাকি।*
*🌹শ্রীগীতগোবিন্দের প্রথম শ্লোকে দেখা যায় "রাধামাধায় হৃদয়ে" অর্থ‍্যাৎ রাধাকে হৃদয়ে ধারণ করে ব্রজবাসীগণকে ত‍্যাগ করলেন, আগেই বলা হয়েছে ক্রোধ করে মানবতী হয়ে,শ্রীরাসমন্ডলী পরিত‍্যাগ করে চলে গিয়েছেন। তারপর বলেছেন--, শ্রীরাধাকে হৃদয়ে ধারণ করেই রাধার খোঁজ করতে চললেন।যিনি নাই,তাঁকে আবার হৃদয়ে ধারণ করেন কিভাবে?যিনি হৃদয়ে ধৃত,অর্থ‍্যাৎ যিনি হৃদয়ে আছেন, তাঁকে অন্বেষণ করার প্রয়োজন হয় না। রাধামাধায় হৃদয়ে--, একথার তাৎপর্য‍্য এই যে,আমার ভাবকে হৃদয়ে ধারণ করে শ্রীরাসস্থলী ত‍্যাগ করলেন।শ্রীকৃষ্ণ রাধাবিরহে রাধাভাবময়ী হয়ে গিয়েছেন। তাই শ্রীরাধার অন্বেষণে শ্রীকৃষ্ণ রাধাভাব হৃদয়ে ধারণ করে হা রাধে!বলিয়া শ্রীবৃন্দারণ‍্যে ভ্রমণ করছেন কিন্তু প্রেমময়ী রাধাকে পাচ্ছেন না।একাগ্রচিত্তে কৃষ্ণ-অভিসারের তীব্রতা,চিত্তের উৎকণ্ঠা শ্রীরাধার মত আর কারও নাই।আজ রাধার খোঁজে শ্রীকৃষ্ণের অভিসার।তাই ভাবটি অঙ্গীকার করে রাধাভাবটি হৃদয়ে ধারণ করেছেন।সাধ‍্যশিরোমণি রাধাভাব অতি মধুর,সেইভাব যখন শ্রীকৃষ্ণ অঙ্গীকার করেন তখন আরো কত মধুরতর।সেই রাধাভাব ও বর্ণ অঙ্গীকারে যখন দেহের কান্তি ও পরিবর্তিত হয়ে অন্তর-কৃষ্ণ বহি-গৌর হয়ে যান,তখন আরো মধুরতম।শ্রীরাসলীলার পরিণতিতেই এটি সম্ভব হয়েছে।*
*🍀অচিন্ত‍্য ভেদাভেদত্ব বিধায় (বিধান অনুসার) শ্রীকৃষ্ণের শ্রীরাধারভাব গ্রহণ দার্শনিক দৃষ্টিতে অসম্ভব নয়।*
*এজন‍্য মূল শ্লোকে "প্রণয় বিকৃতি" 'রাধা' হ্লাদিনীশক্তি-এই তিনটি পদ দেওয়া হয়েছে। বতর্মান কলিযুগের প্রারম্ভে,বৈবস্বত মন্বন্তরীয় অষ্টাবিংশ চতুর্যুগীয় কলিযুগে প্রথম সন্ধ‍্যায় শ্রীরাধাকৃষ্ণ একত্র মিলিত হয়েছেন,অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধা শ্রীকৃষ্ণ উভয়ে পৃথক সত্তায় থেকেও অভিন্ন। এই যে "ভেদাভেদ" এটি অচিন্ত‍্য, অর্থ‍্যাৎ শ্রীগৌরকিশোরের শ্রীমূর্তিটি অচিন্ত‍্য ভেদাভেদের সাক্ষাৎ আবির্ভাব স্বরূপ, এই দুই তনুর মিলিত দেহই নামে শ্রীচৈতন‍্যদেব।ভিতরে আস্বাদনের করণ শ্রীরাধার মাদনাখ‍্য মহাভাবে সুবলিত অর্থ‍্যাৎ মোড়ান।এখানে এক অচিন্ত‍্য বিষয় যা ভাবতে গেলে দার্শনিকগণের মাথা একেবারেই অন‍্যরকম হয়ে যায় ; যেহেতু একজনের ভাব আস্বাদক, আর অন‍্যের ভাবটি সেই আস্বাদনের সাধন অর্থ‍্যাৎ আস্বাদন করবেন একজন,আর আস্বাদনের সাধন অন‍্যের রসনা--এটি চিন্তাতীত।একই অঙ্গে দুইটি ভিন্ন ভাব।এই দুইটি বিজাতীয় ভাবের এক আধারে স্থিতি এটিও আবার বিচিত্র।বাইরে নিজ ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ শ‍্যামবর্ণও স্বর্ণবর্ণ এই দুইয়ের একত্র মিলনে এক স্বতন্ত্রবর্ণ হয়ে থাকে, কিন্তু এ জায়গায় শ‍্যাম শ‍্যামই আছেন,গৌর গৌরই আছেন।উভয়ের স্বতন্ত্র সত্ত্বা বিদ‍্যমান থেকেও অভিন্নতা,এটি আবার বিচিত্র।*
                     *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
          *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🍀শ্রীরাধার ভাব ও কান্তি উভয়ই প্রয়োজন কারণ "আমি রাধা"-- এইভাবেই বিভাবিত অবস্থায় নিজাঙ্গের প্রতি দৃষ্টিপাত করে যদি শ‍্যামলকান্তিটা দেখেন তবে সেটি ভাব বিরুদ্ধ হবে, মূলতঃ যিনি স্বরূপে সাক্ষাৎ শ্রীনন্দ-নন্দন শ্রীকৃষ্ণ, কান্তি গৌর, ভাবাবেশে শ্রীরাধা ও নামে শ্রীগৌরকিশোর।"শ্রীরাধা কৃষ্ণস্বরূপই শ্রীচৈতন‍্য এটি না বলে শ্রীকৃষ্ণস্বরূপই শ্রীচৈতন‍্য বলা হয়েছে কারণ,শ্রীকৃষ্ণই নিজ মাধুর্য‍্য আস্বাদনের জন্য লোভী হয়ে শ্রীচৈতন‍্য হয়েছেন ; কিন্তু শ্রীরাধা কৃষ্ণমাধুর্য‍্য নিরন্তর বা সবসময়ই আস্বাদন করছেন। সুতরাং শ্রীরাধার গৌর হবার কোন আবশ্যক নেইহ পরন্তু মাদনাখ‍্য মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার আশ্রয় জাতীয় ভাবের আশ্রয় গ্রহণ না করলে শ্রীকৃষ্ণের বাঞ্ছাত্রয় পূর্ণ হ'ত না।এইজন‍্য শ্রীরাধিকা নিজের মাদনাখ‍্য মহাভাব ও তপ্তকাঞ্চন গৌরাঙ্গী কান্তিটা প্রদান করে শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীগৌরাঙ্গ করেছেন।*
*🌷শ্রীনন্দ-নন্দন গোপীজন বল্লভ,*
*🌷শ্রীরাধার নায়িক নাগর শ‍্যাম।*
*🌷সো শচীনন্দন,নদীয়া পুরন্দর,*
 🌷 *সুরনর মুনিগণ মোহনধাম।।*
*🌷জয় নিজকান্তা কান্তি কলেবর,*
*🌷 জয় নিজ প্রেয়সী ভাব বিনোদ।*
*🌷ব্রজতরুণীগণ লোচন মঙ্গল,*
*🌷 নদীয়া বধূগণ-নয়ন-আমোদ।।*
*🌻শ্রীরায় রামানন্দের মুখে রাধাকৃষ্ণ প্রেমতত্ত্ব শোনার পর শ্রীমহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণের বিলাসতত্ত্ব শুনতে ইচ্ছে করলেন।শ্রীরামরায় বললেন--"নিরন্তর কামক্রীড়া যাঁহার চরিত"। দিবারাতি কৃষ্ণপ্রেয়সীগণের সঙ্গে কোনও না কোন প্রেমের খেলা খেলছেন তিনি।এটিই তাঁর বিলাসমহত্ত্ব।শ্রীমন্মহাপ্রভু বললেন,রায়! যে কথা বললে এও হয়, আগে কহ আর।শ্রীরায় বললেন, প্রভো! এক প্রেম-বিলাস বিবর্ত্তের কথা বলব, কিন্তু তা শুনে তোমার সুখ হবে কি না বলতে পারি না।এই বলে স্বরচিত একটা গানের পদ গাইলেন।কিছুসময় গাইতেই, "প্রেমে প্রভু তাঁর মুখ আচ্ছাদিল"।*
*🍀সর্বত্রই শ্রীকৃষ্ণ সমগ্র জগতকে আকর্ষণ করেন বলে তাঁর কৃষ্ণ নাম সার্থক হয়েছে ; কিন্তু যখন তিনি অন‍্য কারও আকর্ষণে প্রলুব্ধ হন,তখনই প্রেমবিলাসবিবর্ত্ত হয় শ্রীকৃষ্ণ রাধার পূর্ণ বশীভূত হয়ে শ্রীমতী সমীপে দূতী প্রেরণ করেছেন।শ্রীরাধা কৃষ্ণ প্রেরিত দূতীর কাছে বলছেন--*
*🌷পহিলহি রাগ নয়নভঙ্গ ভেল।*
*🌷অনুদিন বাঢ়ল অবধি না গেল।।*
*🌷না সো রমণ না হাম রমণী।*
*🌷দুহুঁ মন মনোভর পেশল জানি।।*
*🌹শ্রীরাধা বললেন--, শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আমার অনুরাগ প্রথমাবধি।ঐ অনুরাগ বক্ষে নিয়ে আমি জন্ম নিয়েছি।শ্রীকৃষ্ণের চাঁদবদন না দেখে আমি আমার নয়নদ্বয় মেলিব না, এই সংকল্প নিয়েই আমি জন্মেছি।*
*🍁বৃষভানু রাজার একটি সুন্দরী স্বর্ণবর্ণা কন‍্যা জন্মগ্রহণ করেছেন শুনে রাজন‍্যবর্গ ও কুটুম্বগণ উপঢৌকন নিয়ে সুন্দরী কন‍্যাকে দেখতে আসিলেন।মা যশোমতীও গোপালকে কোলে করে আগমন করলেন।মা যশোদার কোল হতে মাটিতে নেমে হামাগুড়ি দিয়ে গোপাল শ্রীরাধার স্বর্ণবর্ণা কোমল অঙ্গ স্পর্শ করলেন। স্পর্শ করিবামাত্র শ্রীরাধার সঙ্কল্প পূর্ণ ও নয়ন উন্মোচিত হল। এবং জগতে আগমন করে প্রথমেই নীলমণির প্রফুল্ল বদন দর্শন করলেন।*
*🌻শিশুকালেই তাঁদের মধ্যে, শ্রীরাধা বললেন--,শ্রীকৃষ্ণ রমণ আমি রমণী তিনি স্বামী,আমি পত্নী--এইরকম সম্বন্ধ তাঁর সঙ্গে আমার নেই।শুধু মদন দুইজনকে প্রেমের কারণে এক করে দিয়েছে।স্বামী-স্ত্রী ধর্মবোধে ভজন করে থাকেন বলে তাঁদের প্রেম সঙ্কুচিত।এই প্রেম সম্বন্ধানুগ নয়, প্রেমানুগ।শ্রীরাধিকাদি ব্রজগোপীগণ অন‍্যকে স্পর্শ করা তো দূরে থাকুক,দ্বিভূজমুরলীধার ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের অন‍্যমূর্তিকেও স্পর্শ করতেন না।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতেও এই সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়,যথা--*
*🌷গৌর অঙ্গ নহে মোর রাধাঙ্গ স্পর্শন।*
*🌷গোপেন্দ্র সুত বিনা তেঁহ না স্পর্শে অন‍্যজন।।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৫)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
         *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🌻শ্রীরাধা মোহনাখ‍্য মহাভাবের চিত্রজল্পে (কাব‍্য বাক‍্যে)শ্রীউদ্ধব মহাশয়কে বলেছিলেন--"আর্য‍্যপুত্র" কি মধুপুরীতেই আছেন?শ্রীরাধা, কৃষ্ণকে আর্য‍্যপুত্র বলে সম্বোধন করায় গাঢ় অনুরাগের আবেশে শ্রীকৃষ্ণের বধূভাবই ব‍্যক্ত হয়েছে,কারণ পরবধূ উপপতিকে "আর্য‍্যপুত্র" বলতে পারেন না।আর্য‍্যপুত্র পদের নিজ পতিতেই রূঢ়বৃত্তি।যাইহোক,শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরে রাধাকৃষ্ণ এমনভাবে মিলিত যে,তাঁরা রমণ রমণী ভাবাতীত।তাঁরা এক দেহে মিলিত হলেও ভাব দুইটি,এক দেহে দুইটি মনের লীলা খেলা চলছে।*
*🍀শ্রীরামরায় গোদাবরী তটে হঠাৎ দর্শন করলেন-- শ্রীচৈতন‍্যদেবের ঐ সন্ন‍্যাসীরূপ নাই।ইহা দর্শন করে তিনি চমকিত হয়ে গিয়েছেন,আরও বিস্ময়ের বিষয় এই যে,সেখানে সন্ন‍্যাসীমূর্তির পরিবর্তে মুরলীবদন নবকন্দর্প--স্বরূপ এক শ‍্যামল গোপ-- কিশোরকে দেখলেন। আরও আশ্চর্য‍্য এই যে ঐ ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ কান্তিকে সম্মুখস্থ এক উজ্জ্বল স্বর্ণবর্ণা প্রতিমা বিদ‍্যুৎ প্রভার মত তার অঙ্গচ্ছটায় শ‍্যামল বেণুকর গোপকিশোরকে উজ্জ্বল গৌরকান্তিতে আবৃত (মোড়িয়ে)করে হেমাভ-দিব‍্যচ্ছবি একমূর্তি প্রকট করে দিলেন।এটিই শ্রীগৌরাঙ্গমূর্তি এটিই কলির জীব-উদ্ধারকারী মূর্তি। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে।*
*🌷পহেলি দেখিল তোমা সন্ন‍্যাসী স্বরূপ।*
*🌷এবে তোমা দেখি মুঞি শ‍্যাম গোপরূপ।।*
*🌷তোমার সম্মুখে দেখি কাঞ্চন পঞ্চালিকা।*
*🌷তার গৌরকান্তে তোমার সর্বাঙ্গ ঢাকা।।*
*🌻পঞ্চালিকা=ধাতু,কাষ্ঠ, বস্ত্রাদির পুতুল।*
*🌹
*শ্রীচৈতন‍্যদেব শ্রীরামরায়কে কহিলেন-- দেখছি তোমার শ্রীরাধাকৃষ্ণে প্রবল প্রেম,সেইজন‍্য তুমি আমার মধ্যে সেটি দেখছ।তখন রামরায় বললেন-- "আমার কাছে ভারিভূরি করিও না" ; আমার কাছে তোমার নিজস্ব-স্বরূপ আর চুরি করিও না।তোমার উপর এক, আর ভিতর আরেক। আমার মনে হয় তুমি--*
*🌷রাধিকার ভাবকান্তি করি অঙ্গীকার।*
*🌷নিজ রস আস্বাদিতে করিয়াছ অবতার।।*
*🌻তখন মহাপ্রভু স্মিতহাস‍্যে (মৃদু হেসে) বললেন--*
*🌷তবে হাসি প্রভু তারে দেখাইল স্বরূপ।*
*🌷রসরাজ মহাভাব দুই এক রূপ।।*
*🌻শ্রীরাধার তপ্তকাঞ্চন সমান অঙ্গ ছটাতেই আমার বর্ণ এইরকম হয়েছে। ব্রজনন্দনকৃষ্ণ ছাড়া কাউকেও আমি স্পর্শ করি না।*
*🌷গোপেন্দ্র সুতবিনা তেঁহো না স্পর্শে অন‍্য জন।*
*🌹চাতুর্য‍্যপূর্ণ ভাষায় বললেন-- আমি সেই রাধাভাব দ‍্যুতি সুবলিত শ্রীনন্দনন্দনকৃষ্ণ।*
*🌺শ্রীরাসরজনীতে শ্রীকৃষ্ণ রাসস্থলী হতে অন্তর্দ্ধান করলে বিরহিনী ব্রজদেবীগণ আকুলভাবে ক্রন্দন করতে করতে বলছেন--*
*🌷ধত্তে সুজাত চরণাম্বরুহং স্তনেবু।*
*🌷ভীতাঃ শনৈঃ প্রিয় দধীমহি কর্কশেষু।*
*🌷তেনাটবী মটসি তদ্ ব‍্যথতে নং কিং স্বিৎ,*
*🌷কুর্পাদিতি ভ্রমতি ধী সদা যুষাংনঃ।।*
                 *(ভাগবত--১০|৩১|১০)*
*🌻ব্রজগোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন-- হে প্রিয়ে তোমার যে কোমল চরণ আমরা আমাদের কঠিন স্তনোপরি ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে ধারণ করি,সেই চরণ দ্বারা তুমি এখন বন ভ্রমণ করছ ; তোমার অম্ভোরুহ বা কমল সমান চরণ উপল-খন্ডাদি (ব্রজের কঠিন মাটি দ্বারা) ব‍্যথিত হচ্ছেন?সেইকথা ভেবে আমাদের মন অতীব বিমুগ্ধ (মোহপ্রাপ্ত বা অজ্ঞানপ্রায়) হয়ে পড়ছে।কারণ তুমি আমাদের প্রাণ। অর্থ‍্যাৎ গোপীগণ নিজেদের বিরহ ব‍্যথায় যতটা ব‍্যাকুলিত,তা অপেক্ষাও অনেক বেশী বিমুগ্ধ হয়ে পড়েছেন,প্রিয়তমের শ্রীচরণে কাঁকর ও ব্রজের কঠিন মাটি দ্বারা ব‍্যথিত হওয়ায়।গোপীগণের কুচযুগে শ্রীকৃষ্ণের চরণযুগলের স্পর্শে আত্মসুখে জ্ঞান হারা না হয়ে সুখের বিরোধী যে ভীতি,সেই ভীতিমুক্ত হৃদয়ে ধীরে ধীরে ধারণ করেছেন।এটি নিজসুখ বিসর্জন দিয়ে কৃষ্ণসুখে পর্য‍্যবসান।তাঁদের কায়িক,বাচিক,মানসিক প্রভৃতি যাবতীয় উদ‍্যম শ্রীকৃষ্ণের সুখ-বিধান জন্য।শ্রীকৃষ্ণ নিজেই রাসরজনীতে বলেছেন--,হে অবলাগণ! তোমরা কুলবধূ হয়েও অতি কঠিন ঘরের বন্ধন ছিন্ন করে,স্বজন, বান্ধব, ইহকাল,পরকাল,কর্তব‍্য, অকর্তব‍্য, সুখ-দুঃখ,ভাল-মন্দ,ধর্মাধর্ম প্রভৃতি কোন বিষয়ে বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করে ধন,দেহ,মনোধর্ম,জীবন ও যৌবন আমার সুখের জন্য ঢেলে দিয়েছ!"মদর্থ"।গোপীগণের ত‍্যাগ কৃষ্ণ ভগবান-- এই বিচারের ফলে নয়,সেটি কৃষ্ণের প্রতি বিশেষ অনুরাগের আবেশেই সর্বস্ব পরিত‍্যাগ।এইরকম মহিমান্বিত স্বতঃস্ফূর্ত,নিরুপাধি অনুরাগের কাছে শ্রীভগবান পরাভব মেনে ঋণী হয়ে থাকেন।ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে কলিযুগে শ্রীধাম নবদ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গ-মাধব রূপে অবতীর্ণ হয়ে নয়নজলে বক্ষ প্লাবিত করে কলির জীবের ঘরে ঘরে শ্রীরাধার মহিমা ও প্রেমরস সীমা প্রকাশ করে ঋণমুক্ত হতে হয়েছে।(আমরা চারটি ঋণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছি কিন্তু) যাইহোক, তাই এই নিষ্কলঙ্ক রাধাপ্রেম সাধ‍্য শিরোমণি।কিভাবে শ্রীকৃষ্ণ ঋণী হলেন তা সামান্য বলি। গীতায়--*
*🌷যে যথা মাং প্রপদন্তে তাংস্তথৈব ভজাম‍্যহম্।*
*💮যে যেভাবে আমাকে ভজনা করেন,আমিও তদ্রুপ তাকে ভজন ও প্রীতি করে থাকি। শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন--*
*🌷কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা দৃঢ় সর্বকাল আছে।*
*🌷যে যৈছে ভজে কৃষ্ণ তারে ভজে তৈছে।।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
          *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🍀শ্রীকৃষ্ণের এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্রজগোপীগণের নিরুপাধি (উপাধিহীন বা যাঁরা নাম যশ প্রতিষ্ঠা চান না,নিস্বার্থ ও নিষ্কাম )ভজনে ব‍্যর্থ হয়ে গিয়েছে।কারণ গোপীগণের কোন কামনাই নেই, সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের দেবার কিছুই নেই।শ্রীব্রজদেবীগণের চিত্তে কৃষ্ণসুখ কামনা আছে,তা দিতে হলে নিজেরই সুখী হতে হয়।ঋণের জন্য প্রধানা গোপীকে সুখ দিতে গেলে আরও বেশী ঋণ হয় ; পরিশোধের সম্ভাবনা থাকে না।শ্রীরাধাদি গোপীগণের প্রেম অখন্ডিত, কৃষ্ণপ্রেম খন্ডিত, কারণ শ্রীকৃষ্ণ বহু বল্লভ।মান প্রকরণে শ্রীকৃষ্ণ চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে গিয়েছিলেন বলে মানবতী হয়ে শ্রীরাধা প্রথমে বুঝতে পারলেন যে শ্রীকৃষ্ণ বহুবল্লভ ; এর পূর্বে তিনি জানতেন না।*
*🌷মানে আমায় জানাইল সো বহু বল্লভ কান।*
*🌻যিনি তাকে উজ্জ্বলরসের ভজন করেন,তিনি তারই হয়ে যান।আর শ্রীব্রজাঙ্গনাগণ কৃষ্ণ ছাড়া আর কারও হয়ে যাননা।অতএব অখন্ডিত গোপীপ্রেমের নিকট কৃষ্ণ-ঋণী।শ্রীব্রজগোপীগণের ভজন-অনুরূপ ভজন বা প্রীতির অনুরূপ প্রীতি করতে অসমর্থ হয়ে নিজেই ঋণী হয়ে গিয়েছেন।প্রতিজ্ঞা ব‍্যর্থ হয়েছে,তা শ্রীকৃষ্ণ নিজ শ্রীমুখেই স্বীকার করেছেন।যথা শ্রীমদ্ভাগবতে ১০|৩২|২০*
*🌷ন পারেহহং নিরবদ‍্য সং যুজাং,*
*🌷 স্ব সাধু কৃত‍্যং বিবুধায়ুষাপি বঃ।*
*🌷যা মা ভজন্ দুর্জ্জয়-গৃহ-শৃঙ্খলাঃ,*
*🌷সংবৃশ্চ‍্য তদ্বঃ প্রতিযাতু সাধুনা।।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে সুন্দরীগণ! তোমাদের সহিত আমার প্রেম সংযোগ নিরবদ‍্য বা নির্মল, আমি বহু পক্ষপাত কাল জীবন ধারণ করেও তোমাদের প্রতি সাধু ব‍্যবহার (কর্তব‍্য অনুষ্ঠান)করতে সমর্থ হব না, তোমরা দুশ্ছেদ‍্য (দুঃখে কষ্টে ছিন্ন করা যায় না ) গৃহ-শৃঙ্খল ছিন্ন করতঃ (ঘরের সমস্ত চিন্তাধারা ছিন্ন করে)আমাকে ভজনা করেছ।আমি তোমাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারব না।*
*🛑অতএব নিজ থেকে তোমরা যদি কৃপা কর তাহলেই সম্ভব হতে পারে নচেৎ না। আমি প্রত‍্যুপকার করে তোমাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারলাম না।এখন তোমাদের প্রেমই সাধু আচরণের প্রতিদান করে এই ঋণ পরিশোধ করুক।*
*🔷শ্রীব্রজাঙ্গনাগণ যখন প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করেন তখন তাঁদের অঙ্গ-প্রত‍্যঙ্গ ও বদন মন্ডলের প্রফুল্লতা বৃদ্ধি পেয়ে রক্তিম আভামুক্ত হয়।তৎদর্শনে প্রিয়তম কৃষ্ণের পরম সুখ অনুভব হয়। "আহা"! শ্রীকৃষ্ণ আমাকে দেখে এত সুখ অনুভব করল, এই ভাবনা হতেই গোপীগণের মনোসুখ-তরঙ্গ আরও উচ্ছসিত হয়ে উঠে।এইভাবে পরস্পর পরস্পরের শোভা দেখে আনন্দ-তরঙ্গের উচ্ছাস লেগে যায়।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে--*
*🌷আমার দর্শনে কৃষ্ণ পাইল এত সুখ।*
*🌷এত সুখে গোপীর প্রফুল্ল অঙ্গ মুখ।।*
*🌷গোপীশোভা দেখি কৃষ্ণের শোভা বাড়ে যত।*
*🌷কৃষ্ণশোভা দেখি গোপীর শোভা বাড়ে তত।।*
*যদিও কৃষ্ণসেবা জনিত আনন্দ পরম পুরুষার্থ, তবুও কৃষ্ণ সেবার বাধা অশ্রু,পুলক,কম্প প্রভৃতি সাত্ত্বিক বিচারকে গোপীগণ বর্জন করেন। প্রেম সেবানন্দই ভক্তের জীবন।ইহাদ্বারা প্রমাণিত হল যে গোপীগণের স্বসুখ বাঞ্ছা একেবারেই নেই। যথা--*
*🌷নিজ প্রেমানন্দে কৃষ্ণসেবানন্দে বাধে।*
*🌷সে আনন্দের প্রতি ভক্তের হয় মহাক্রোধে।।*
*🍀গোপীগণের কৃষ্ণসুখ ছাড়া নিজসুখ বাঞ্ছা নাই,তবে যে দেহের মার্জন ভূষণ করেন,এটিও কৃষ্ণসুখের জন্য।শ্রীরাসরজনীতে বংশীধ্বনি হলে সকল গোপীগণ আত্মহারা হয়ে শ্রীরাসমন্ডলীতে ছুটেছিলেন।শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ বর্ণনা করেছেন-- "লিম্পন্ত‍্যঃ প্রমৃজন্ত‍্যোহন‍্যা অজন্ত‍্যঃ কাশ্চ লোচনে"---- অর্থ‍্যাৎ কোন কোন গোপী নিজ দেহে চন্দনাদি লেপন করছিলেন, কেউ বা প্রসাধন দ্রব‍্যাদি দেহে লাগাচ্ছিলেন,কেউবা নয়নে কাজল দিচ্ছিলেন, এক নয়নে পড়ছিলেন।এতে বোঝা যায় গোপীগণ দেহের মার্জন-ভূষণ করেন বটে, কিন্তু ইহাও কৃষ্ণসুখের জন্য।কেননা তাঁদের দেহকে কৃষ্ণ পূজার উপাচার বলে সেটি শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মে নিবেদন করেছিলেন।দেহটি কৃষ্ণপ্রেম বিলাসের দেহ,শ্রীকৃষ্ণের ভোগ‍্য দেহ,তাঁরা দেহকে সুসজ্জিত করেন শুধু শ্রীকৃষ্ণের সুখ বিধানের জন্য।তা না হলে ---*
*▪শ্রীকৃষ্ণের শিরপীড়ায় বা মাথার ভীষণ যন্ত্রণায় তো দেবর্ষি নারদ কোন জায়গায় ভক্তের পদরজ পেলেন না,শুধু ব্রজে গমন করে গোপীগণের পদরজঃ পেলেন।গোপীগণই মনে করেন কৃষ্ণপদে বিক্রীত দেহের চরণও শ্রীকৃষ্ণের,এইভাবে বিভাবিত হয়েই চরণরেণু প্রদান করলেন, শ্রীকৃষ্ণের মাথার ব‍্যথার উপশম হলেই গোপীগণের সুখ।দূর্জ্ঞেয় গোপীপ্রেম। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে----*
*🌷এ দেহ কৈলুঁ আমি কৃষ্ণে সমর্পণ।*
*🌷তাঁর ধন তাঁর এই সম্ভোগ সাধন।।*
*🌷এই দেহ দর্শন স্পর্শে কৃষ্ণ সম্ভাষণ।*
*🌷এই লাগি করে দেহের মার্জন ভূষণ।।*
*🛑গোপীগণের এই স্বভাব নিত‍্যসিদ্ধ ও স্বাভাবিক।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের কথায় জানা যায় যে তিনি সমগ্র বিশ্বকে আনন্দ দান করেন। কিন্তু শ্রীরাধা কৃষ্ণহৃদয়ে আনন্দদানে চন্দ্রকিরণ স্বরূপা।শ্রীরাধা নিজ অসংখ্য প্রাণপুষ্পগুলি দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের গমনাগমনের পথের চরণধূলি কণার নিরোজন করে থাকেন।তিনি কৃষ্ণমানস হংসের মানস-গঙ্গাস্বরূপা, ও কৃষ্ণপ্রেম সরোবরের সন্তরণশীল (সাঁতার দেওয়া )মরালিনী সমান।শ্রীকৃষ্ণের ব‍্যষ্টি বা ভিন্ন ভিন্ন হৃদয়স্থ প্রেম-রসাস্বাদনের তৃষ্ণা নিবারণ করতে সুধাধারার মত শ্রীরাধাপ্রেমই রমর্থ।শ্রীরাধার মহাভাব বাসিত মধুর রতি রসের অখন্ড পারাবারে ভ্রমণরত কৃষ্ণের মনোমীন সবসময় বিলাসানন্দে ডুবে থাকে।সেই জন্য শ্রীকৃষ্ণ শ‍্যামসুন্দর মদন-মোহনরূপে সমস্ত জগতকে মোহিত করলেও আবার কৃষ্ণকে মোহিত করছেন আমাদের কৃষ্ণ মনোমোহিনী শ্রীরাধা।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
           *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🍀মাদনাখ‍্য মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার নামে এমন একটি মাদকতা আছে,যা চিন্ময় পূর্ণতত্ত্ব শ্রীকৃষ্ণকে উন্মত্ত ও বিহ্বল করে দেয়।শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি টীকায় শ্রীজীব গোস্বামীপাদ মাদনাখ‍্য মহাভাবের ব‍্যাখ‍্যা এইভাবে করেছেন--,"তস্মোন্মাদনোত্র দিব‍্য মধুবিশেষান্মত্ততা---ইত‍্যর্থ ঃ--- অর্থ‍্যাৎ মাদন শব্দের অর্থ দিব‍্য বা অলৌকিক মধু বিশেষের মত মাদকতা সম্পন্ন।এই ভাবের পরিবেশনে অপ্রাকৃত মত্ততাই জেগে থাকে।অহো!মধুক্ষরা অমিয় নিছনি সেই রাধা-নামের যে কি প্রাণ-আকর্ষণের মোহিনী শক্তি আছে,যা শুনলেই কৃষ্ণের কানে যেন অমিয় প্রবাহ সিঞ্চিত হয়,মনে যেন কি এক অননুভূত ভাব-লালসা জাগিয়ে দেয় এবং এই লালসায় শ্রীকৃষ্ণের বিক্ষুব্ধ,বিলোল হৃদয় যেন কি এক মনোরম অজ্জাত বস্তুর খোঁজ করে, উৎসাহে হৃদয় নেচে উঠে,উল্লাসে ফুলে উঠে,উদ্বেগে গলে যায়।শ্রীকৃষ্ণ বুঝতে পারেন না যে কেন এই নামটি তাকে এত উন্মনা করে।রাধানামের সঙ্গে তাঁর কি এক ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ যে ভেবেও কিছু ঠিক করতে পারেন না।তবুও এই মধুক্ষরা অমিয় নিছনি বা নির্মঞ্জন নামটা শুনলেই অপূর্ব ভাবাবেশে বিভোর হয়ে আত্মসারা হয়ে যান।মা যশোমতী ও রোহিণীদেবীর কথোপকথনে যতবারই এই ভূবনমোহিনী রাধানাম শুনেছেন,ততবারই আত্মহারা হয়েছেন।শ্রীরাধার মাদনাখ‍্য মহাভাব শ্রীকৃষ্ণ আস্বাদন করতে অক্ষম। সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের অনুরাগ অপেক্ষা শ্রীরাধার কৃষ্ণের প্রতি অনুরাগ অনেক বেশী, এইজন্যই উভয়ের মিলনে শ্রীকৃষ্ণের যে সুখ,তদাপেক্ষা শ্রীরাধা অনেকবেশী সুখ আস্বাদন করেন।এটি "ভরতমুনির" জানা ছিল না।*
*🌷দোঁহার যে সমরস ভরতমুনি জানে,*
*🌷আমার ব্রজের রস সেই নাহি জানে।।চৈঃচঃ*
*🌻মিলনের সুখ-অনুভূতিতে মহাভাবময়ী শ্রীরাধা রসরাজ শ্রীকৃষ্ণকে পরাভূত করেছেন।তাই মহাভাবময়ীর হৃদয়ে মহাসুখের তরঙ্গ এমনই একটা নিরুপম সুদুর্লভ বস্তু যে যার আস্বাদন লালসায় রসিকশেখরের মন উৎকণ্ঠাময়। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে--*
*🌷আমা হৈতে রাধা পায় যে জাতীয় সুখ।*
*🌷তাহা আস্বাদিতে আমি সদাই উন্মুখ।।*
*🛑শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ শ্রীউজ্জ্বলনীলমণিতে মাদন শব্দের অর্থ এই ভাবে প্রকাশ করেছেন।যথা "সর্বভাবেদ্মমোল্লাসী মাদনোহয়ংপরাৎপরঃ"।ইহ মোদন ও মোহনাদি ভাব অপেক্ষা অধিকতম উৎকৃষ্ট, সদা শ্রীরাধাতেই এই মাদনাখ‍্য মহাভাব বিরাজিত।অন‍্যত্র ইহার উদয় হয় না। সমগ্র জগতের হর্ষপ্রদ বলে ইহা অদ্বৈত অর্থ‍্যাৎ দ্বিতীয় রহিত বা এক।কেবলমাত্র শ্রীরাধারাণীই এই মাদনাখ‍্য পরাৎপরের আশ্রয় হতে পারেন।*
*শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ বলেছেন-- "কুতুকী রসস্তোম হ‍্যত্ত্বা",অর্থ‍্যাৎ কৌতুকী শ্রীকৃষ্ণ কোন প্রয়সীর রসের ভান্ডার হরণ করে উপভোগ করতে প্রয়াসী হয়েছেন।শ্রীরূপ গোস্বামীপাদের "কুতুকী"-- এই পদবিন‍্যাস নিরুপম ও ভাবগ্রাহী। ব্রজের ঘরে ঘরে গোপীগণের নবনী চুরি,গোপীদের স্নানকালে বসন চুরি করে "চোর"-চূড়ামণি হয়ে ছিলেন।এই পরিপক্ক চোর এখন দস‍্যুবৃত্তি গ্রহণ করে কৃষ্ণধনের শ্রেষ্ঠা ধনী শ্রীরাধার রত্নভান্ডার লুঠ করতে প্রয়াসী হয়েছেন।ঐ রত্নভান্ডারে মাদনাখ‍্য মহাভাব বলে একটি অমূল‍্য রত্ন আছে,সেটি নাকি একমাত্র শ্রীরাধিকার ভান্ডারেই আছে।সেটি হরণ বা চুরি করে অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধার মহাভাব অঙ্গীকার করে শ্রীগৌরাঙ্গরূপে আস্বাদন করবেন।*
*শ্রীকৃষ্ণরসে বিশ্বজগৎ সরস,শ্রীরাধার অধর রসে অনন্তকোটি বিশ্বজগতকে মোহিত করা শ্রীকৃষ্ণ বিহ্বল।শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গস্পর্শ কোটিন্দুশীতল শ্রীরাধার অঙ্গস্পর্শে শ্রীকৃষ্ণ কোটিচন্দ্র সুশীতল মনে করেন।লীলাবিলাসে শ্রীকৃষ্ণের শ্রান্ত কলেবর বসন্তের শীতল বাতাসের মত তিনি স্নিগ্ধা ও তরুমনপ্রাণে উল্লাসদায়িনী। তাই-ত মাদনাখ‍্য মহাভাবের আশ্রয় স্বরূপা শ্রীরাধার সঙ্গে লীলা বিলাসে শ্রীকৃষ্ণ অখন্ড পরমানন্দ লাভ করেন।তখন শ্রীকৃষ্ণ মনে করেন----*
*🌷আমা হৈতে বড় গুণী জগতে অসম্ভব।*
*🌷একলি রাধাতে তাহা করি অনুভব।।চৈঃচঃ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের মৃগমদ-নীলোৎপল অঙ্গ-গন্ধ শ্রীরাধার নাসিকায় প্রবেশ করলে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে সেই সুগন্ধের দিকে উড়ে পড়তে ইচ্ছে করেন।*
*🌷অনুকূল বাতে যদি পায় মোর গন্ধ।*
*🌷উড়িয়া পড়িতে চাহে প্রেমে হৈয়া অন্ধ।।*
*🌻পক্ষান্তরে,শ্রীরাইধনির অধর রস শ্রীকৃষ্ণকে বশ করে থাকে এবং সেটিতে এমনই আসক্ত হয়ে পড়েন যে,বদন দেখে বদন ভুলতে পারেন না।আবার শ্রীকৃষ্ণের চর্বিত পান আস্বাদন করলে শ্রীরাইধনি শ্রীকৃষ্ণের অধরামৃতের আস্বাদনে আনন্দ সাগরে ডুবে যান।যথা---*
*🌷তাম্বুল চর্বিত যবে করে আস্বাদনে।*
*🌷আনন্দ সমুদ্রে ডুবে কিছুই না জানে।।চৈঃচঃ।।*
*শ্রীকৃষ্ণ ব্রজের ঘরে ঘরে গোপীগণের নবনী চুরি করে,স্নানকালে গোপীগণের বসন চুরি করে,"চোর" চূড়ামণি হয়ে ছিলেন,এই পরিপক্ব চোর এখন দস‍্যুবৃত্তি গ্রহণ করে কৃষ্ণধনের শ্রেষ্ঠা ধনী শ্রীমতীরাইধনির রত্নভান্ডার লুঠ করতে প্রয়াসী হয়েছেন।ঐ রত্নভান্ডারে মাদনাখ‍্য মহাভাব বলিয়া একটি অমূল‍্য রত্ন আছে,সেটি নাকি অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের মধ্যে একমাত্র শ্রীরাধারাণীর ভান্ডারেই আছে।সেটি হরণ করে বা চুরি করে অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধার মহাভাব অঙ্গীকার করে শ্রীগৌরাঙ্গরূপে আস্বাদন করবেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
           *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*🛑শ্রীরাধার মধুমাখা কথা শুনলে শ্রীকৃষ্ণ অত‍্যন্ত আনন্দ অনুভব করেন।আর শ্রীরাধা,শ্রীকৃষ্ণের মধুর অধরে বংশীধ্বনি মাধুর্য‍্যকথা শুনলে, সেই বেণুগীত শুনে তিনি হারিয়ে যান, অর্থ‍্যাৎ মন হরণ হয়ে যায়, মন হরণ হয়ে গিয়ে নিকটস্থ তরুণ তমালকে জড়িয়ে ধরে শ্রীরাধা মনে করেন, আজ আমার জীবন ধন‍্য, আমি আমার প্রাণকোটি প্রিয়তমকে বক্ষে পেলাম, এই সুখে তরুণ-তমালকে বক্ষে ধরে শ্রীকৃষ্ণের আলিঙ্গন সুখ অনুভব করতে থাকেন।যথা--*
*🌷পরস্পর বেণু গীতে হরয়ে চেতন।*
*🌷মোর ভ্রমে তমালেরে করে আলিঙ্গন।।*
*🌷লীলান্তে সুখে ইহার যে অঙ্গের মাধুরী।*
*🌷তাহা দেখি সুখে আমি আপনা পাসরি।।চৈঃচঃ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের তিনটি বাঞ্ছার প্রথমটি, শ্রীরাধার প্রণয় মহিমা কিরকম। দ্বিতীয় বাঞ্ছা--,শ্রীরাধা কর্তৃক মাদনাখ‍্য মহাভাবের দ্বারা আস্বাদ‍্য কৃষ্ণের অনন্ত মাধুর্য‍্য কিরকম?আর তৃতীয় বাঞ্ছা--,শ্রীকৃষ্ণের অদ্ভুত,অনন্ত মাধুরিমা অনুভব করে শ্রীরাধার কৃষ্ণ অপেক্ষা কোটিগুণ সুখ-অনুভব কিরকম!এই তিনটি লোভ পরিপূর্ণ করতে হলে শ্রীরাধার মহাভাব ও কান্তি গ্রহণ ছাড়া বিষয় জাতীয় ভাবে সম্ভবপর নয়।যদি শ্রীরাধার মাদনাখ‍্য মহাভাবের আশ্রয় হতে পারেন তবেই তিনটি বাঞ্ছা পূর্ণ হবে।*
*🌷এত চিন্তি রহে কৃষ্ণ পরম কৌতুকী।*
*🌷হৃদয়ে বাড়য়ে প্রেম লোভ খকধকি।।*
*🌻একজনের ভাব ও কান্তি অন‍্যজন দ্বারা গ্রহণ কাজটি সহজসাধ‍্য নয়।শ্রীশ‍্যাম রয়েছেন বাইরে,তাকে প্রবেশ করতে হবে অন‍্যের অন্তরে--এটি একটি বিচিত্র বিষয়।*
*🌷অতএব সেই ভাব অঙ্গীকার করি।*
*🌷সাধিলেন নিজ বাঞ্ছা গৌরাঙ্গ শ্রীহরি।।চৈঃচঃ।।*
*🌻শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ একটি উপায়ের খোঁজ দিয়েছেন শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থে--, "রাধায়া ভবচশ্চ চিত্তজতুনী" ইত্যাদি শ্লোকে বর্ণনা করেছেন।শ্রীরাধাকৃষ্ণের চিত্তরূপ লাক্ষাকে (জতুকে বা আলতাকে) স্বেদজল (ঘামজল) দ্বারা দ্রবীভূত করে (গলিয়ে)উভয়ের ভেদভ্রম অপসারণ করতঃ (তুমি আমার,আমি তোমার,এরকম চিন্তা-ভাবনা দূরে সরিয়ে)শৃঙ্গারশাস্ত্র বিশারদ বিধাতা ব্রহ্মান্ডরূপ অট্টালিকা ভিতরে নবরাগ হিঙ্গুল দ্বারা স্বয়ং জগতের বিস্ময় বর্ধনার্থ অনুরঞ্জিত করেছেন।(নবরাগ নতুন করে নতুন ভাবনায় ব্রজের যে প্রেম সঞ্চার করে হিঙ্গুর বা দরদ দিয়ে নিজে জগতের কল‍্যান সাধনের জন্য,মানুষের মঙ্গের জন্য, যাতে মানুষ সুখে থাকতে পারে,কু-ভাবনা দূরে সরিয়ে দিয়ে ভক্তিপথের পথিক করবার জন্য )শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ শ্রীরাধাকৃষ্ণের চিত্তকে জতু বা লাক্ষার সহিত তুলনা দিয়েছেন।শ্রীরাধাকৃষ্ণের মধ্যে যে ভিন্নতা সেটি ভুল মাত্র।শৃঙ্গার নিপুণ বিধাতা স্বেদ-নামক সাত্ত্বিক বিকার দ্বারা উভয়ের চিত্ত গলিয়ে এ ভেদভ্রম দূরীভূত করেছেন।শ্রীগোস্বামীপাদের শ্লোক হতে দুইবস্তুর ভেদ দূর করে একীভূত করার একটি সঙ্কেত জানা গেল।এই সঙ্কেতটি সুদীর্ঘ বিরহের তাপ দ্বারা চিত্তজতুনীকে গলিয়ে দুইবস্তুকে এক করে হলেও শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলনে ভেদ ভ্রম সর্বতোভাবে দূরে যাবে না।এক দেহে অন‍্যের প্রবেশ হলেও ভিন্ন থাকবেন।*
*🍀শ্রীঅক্রূর মহাশয় যখন রথে করে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামকে নিয়ে যাচ্ছিলেন,তখন গোপীগণ উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে নয়নজলে প্লাবিত হতে লাগলেন।শ্রীরাইধনি অচৈতন‍্য হয়ে পড়লেন।*
*🌷রথের নিকটে সব চলহ এখন।*
*🌷রথচক্র মাথা পাতি ছাড়িব জীবন।।*
*🌷তার অদর্শনে সবে রব কি প্রকারে।*
*🌷না রবে এ প্রাণ সখি!সে বিচ্ছেদশরে।।*
*🌷 যেই নন্দসুত হেরি সুন্দর বদন।*
*🌷 নয়ন আনন্দ নীরে হইত মগন।।*
*🌷কিবা সে সুন্দর হাস‍্য,কিবা সে ঈক্ষণ।*
*🌷ক্ষণেক না হেরে তারে ব‍্যাকুলিত মন।।*
*শ্রীরাধা হা কৃষ্ণ! হা কৃষ্ণ! বলে কাঁদতে লাগলেন।শ্রীরাধা বিরহে কাতর হয়ে বলতেন-- "এতদিন অমৃতরস পান করিয়ে সে চলে গেল!বুকে দিবিনিশি আগুন জ্বলছে,ঘরে থাকতে পারিনা,শয‍্যা কাঁটাময়। শ্রীরাধার আহার নেই,নিদ্রা নেই, কোন কিছুতেই রুচি নেই,কেবল প্রাণভরা হাহাকার,বুকের পাঁজর ভেঙ্গে হৃদয় ছুটে বাইর হতে চায়, একবারও কি তাঁকে দেখতে পাবনা?অমৃত পান করলাম,সবই গরল হয়ে গেল।কৃষ্ণ নবজলধর দেখলাম,পিপাসা নিবৃত্তি হল না, আগুন জ্বলিল,জল পড়িল না নেভানোর জন্য, কি সে জ্বালা,আর সহিতে পারি না"।শ্রীকৃষ্ণের বিরহ দাবানলে মূহ‍্যমান শ্রীরাধা ললিতাদি সখীগণের কাছে যে সন্তাপ প্রকাশ করেছিলেন,তা ললিতমাধব গ্রন্থে বঙ্গানুবাদে এরকমভাবে বর্ণিত আছে--,▪হে সখী!পুটপাক (পুট অর্থে ঔষধ পাকের পাত্র বা ঔষধ,পুটপাক অর্থ মৃত্তিকা গোময়াদি নির্মিত পুটস্থ ঔষধপাক বা মিশ্রিত)।হতেও উত্তাপী বা খুবই কড়া, কালকূট বিষ হতেও মোহকারী,বজ্র হতেও দুঃসহ,হৃদয়ে লগ্ন শল‍্য হতেও অতি কটু এবং গুরুতর বিসূচিকা (ওলাউঠা বা কঠিন ব‍্যাধি) হতেও অতি তীব্র এই গোকুলপতির বিরহজনিত সন্তাপ বলপূর্বক আমার মর্মস্থান ভেঙ্গে চুড়মার করে দিচ্ছে।এই বিরহ সন্তাপ সহিবার আর কোন ক্ষমতা আমার নেই--এই কথাগুলি বলতে বলতে মুক্ত কন্ঠে রোদন করেছিলেন।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
         *শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*

*😭শ্রীমতী রাধিকা আরও বলছেন-- কি নিষ্ঠুর সে,এমন শঠের হাতে জীবন যৌবন সঁপে দিলাম।কুলবতীর কুলের গৌরব অকুলে ভাসিয়ে দিলাম। সতীধর্ম, আর্য‍্যপথ(স্বামী বা সংসার ধর্মের পথ) হেসে বিসর্জন দিলাম।কলঙ্কের কালি গায়ে মাখলাম, কেবলমাত্র প্রেমের অঙ্কুরোদ্গম হয়েছিল, তাতে ▪নাহি ভেল যুগল পলাশা, সেই প্রণয়তরুতে যুগল পাতাও হতে পারল না,সে চলে গেল। কেমন করে ইহা সহ‍্য করি, ঘরে ঘরে কেবলই গঞ্জনা। জীবন বিষময় হয়ে গেল।জীবনে বাঁচা হতে মরণ শতগুণে শ্রেয়।বিস খেয়ে মরব? কিন্তু সে----ই অমৃতময়ের আশা ত‍্যাগ করতে পারছি না।যে মুখে ও রসনায় একসময় সেই শঠের অধরামৃত পান করেছিলাম,সেই মুখে কি করে বিষ পান করব?তাঁকে ভুলে থাকতে চাই ; কিন্তু সেই শঠ নিদ্রা,জাগরণে,স্বপ্নে মুহূর্তের মধ্যে দেখা দিয়ে অন্তর্হিত হয়ে যায়।মন শাসন মানে না।তাঁর কথা ভাবব না বললেও মন শুনে না।যেদিকে যাই সেই দিকেই যেন তাঁর ভুবন ভুলানো মূর্তি দেখি।বাতাসে যেন তাঁর অঙ্গগন্ধ পাই।দিকে দিকে যেন তাঁর মধুর মুরলীধ্বনি শুনতে পাই।(সত‍্যিকারের প্রেম কাকে বলে তা শ্রীরাধার কথায় স্পষ্ট)।শ্রীরাধা শ‍্যামবিরহে উন্মাদিনী।প্রবল বিরহে শ্রীরাধার দিব‍্যোন্মাদ,উদ্-ঘৃণা (উদ্ মানে উপরে ঘৃণা বলতে ধিক্কার) অবস্থা।ললিতমাধবের তৃতীয় অঙ্কটির নাম "উন্মত্ত রাধিকা"।বিরহের বেদনা যত তীব্র হয়,অন্তরের প্রাপ্তিও তখন নিকটবর্তী হয়।(যিনি আকুলি ব‍্যাকুলি ও উৎকণ্ঠা হয়ে ভগবানকে যত ডাকবেন, ভগবান তত নিকটে আসিবেন)।একদিকে রাধার বিরহব‍্যথার তীব্রতা,অন‍্যদিকে,পরমকৌতুকী শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় জাতীয় সুখের জন্য ধকধকি লোভ।রসরাজ শ্রীকৃষ্ণের,মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার চিত্তজাতুনীকে সুদীর্ঘ বিরহের তীব্র তাপে দ্রবীভূত করে বিরহসন্তপ্তা দিব‍্যোন্মাদিনী শ্রীরাধার মর্মের হৃদয় নিকুঞ্জে রহ-স্থানে(যা বাইরে থেকে দেখা যায় না,হৃদয়ের গোপন জায়গায়) প্রবেশ করলেন।বিরহ দশার পূর্ণতায় দশ-দশায় এই প্রবেশটি পূর্ণ হওয়ায় শ্রীশ‍্যামসুন্দর অর্ন্তকৃষ্ণ বহির্গৌর হলেন।*
*🌻শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভাবী মিলনটি দর্শন করেছেন নিধুবনে।ভবন বিরহের বেদনা তীব্রতম,সেটি শ্রীরায় রামানন্দকে দর্শন করিয়েছেন।তিনি দেখলেন--, শ্রীশ‍্যামসুন্দর আজ স্বর্ণকমলতুল‍্য শ্রীরাধার হৃদয় কোষের পাপড়িগুলি বিকশিত করে, পেলব কর্ণিকার স্থলে প্রবেশ করছেন।মিলন সময়ে বাম‍্য স্বভাবা নায়িকা সোহাগে শক্ত হয়ে যায়।তাই বিরহের তীব‍্যতাপে গলিয়ে মাদনাখ‍্য মহাভাবের কোষগুলিতে স্তরে স্তরে প্রবেশ করে রসরাজ নবরাগের হিঙ্গুলভরে শ্রীরাধার রঞ্জিত হৃদয় নিকুঞ্জ নিবাসে লুকিয়ে পড়লেন।শ্রীরায় রামানন্দ পরমানন্দের আঘাতে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।*
*🍀অপ্রাপ্তির জন্য আর্তনাদ যখন চরমপ্রাপ্তি হয়।অন্তর রাজ‍্যে শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলন তখন অত‍্যন্ত নিবিড় বা ঘন হয় এবং অভ‍্যন্তরে প্রবিষ্ট শ্রীকৃষ্ণ বাইরে হা কৃষ্ণ!হা কৃষ্ণ! হাঁ প্রাণনাথ মুরলীবদন বলে অশ্রু বর্ষণকারী রোরুদ‍্যমানা শুধু রাধার মূর্তিখানি--এটিই শ্রীগৌরসুন্দরের মূরতি।এই গৌরশশী যুগপৎ মিলনও বিরহের প্রতিমূর্তি।নিত‍্য নবনবায়নভাবে এই মিলন বিরহের জোয়ার ভাটা খেলছেন শ্রীনদীয়া বিনোদিয়ার হৃদয় অভ‍্যন্তরে।যথা শ্রীশ্রীচৈতন‍্য চন্দ্রামৃতে পাই,শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতী বলেন--*
*🌷ক্ষণং ক্ষীণঃ পীনঃ ক্ষণমহহ সাশ্রুঃ,*
*🌷ক্ষণমথ ক্ষণং স্মেরঃ শীতঃ ক্ষণমন,*
*🌷লতপ্ত ক্ষণমপি ক্ষণং ধাবন্ স্তব্ধঃ,*
*🌷ক্ষণমধিজল্পন ক্ষণমহো ক্ষণং মুকো,*
*🌷গৌরঃ স্ফুরতু মম দেহো ভগবতঃ।৭৬*
*🌻ক্ষণকাল ক্ষীণ,ক্ষণকাল পুষ্ট, ক্ষণকাল প্রেমাশ্রুপূর্ণ, কখনও হাসিবদন,কখনও শীতল, ক্ষণে আগুনের মত উত্তপ্ত, ক্ষণে ধাববান, আবার তখনই স্তম্বিত,ক্ষণে বহুভাষী, আবার তখনই মৌন,শ্রীকৃষ্ণের এইরকম গৌরদেহ আমার হৃদয়ে স্ফুরিত হোক।৭৬।*
*🍀শ্রীরসরাজ শ্রীকৃষ্ণের বর্ণ হ'ল শ‍্যাম বা কালো,আর মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার বর্ণ হ'ল গৌর বা স্বর্ণবর্ণ।কিভাবে শ‍্যাম গৌর হয় তার কয়েকটি উপায় বা প্রক্রিয়া বর্ণিত হচ্ছে।*
*(১)নিরন্তর উভয়ের ভাবনা।ইহার মধ্যে শ‍্যামের গৌর হবার ভাবনাটি বেশী।শ‍্যামসুন্দর শ্রীরাধার আশ্রয় জাতীয় মাদনাখ‍্য মহাভাবের লালসায় সবসময়ই চিন্তা ভাবনা হতে শ‍্যামসুন্দর রাধা হয়ে গিয়েছেন।* *(বহু তত্ত্ব বা তথ‍্য)*।

*(২)শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত আছে--, "পেশস্কৃত ভ্রমর অন‍্য কীটকে উহার কুলায় বা বাসায় নিয়ে গেলে ঐ কীটটি পেশস্কৃত ভ্রমরের দেহ প্রাপ্ত হয়।এই ভাবনায় চন্ডীদাস বলেছেন--*
*🌷যারে যেবা ভাবি যখন মরয়ে,*
                  *সে জনে অবশ‍্য পায়।*
*🌷ত্রিভঙ্গ পোকা দেখ আন জীব মাঝে,*
                   *সে হয়, ভৃঙ্গের কায়।।*

*(৩)শ্রীধর স্বামীপাদ শ্রীচৈতন‍্য চন্দ্রামৃত গ্রন্থে এক জায়গায় টীকায় বলেছেন--, "ইন্দ্রনীলমণি যেমন চম্পক কুসুমের সঙ্গে একজায়গায় থাকলে তারই ধর্ম গ্রহণ করে, তেমনিই হ্লাদিনী সারভূতা শ্রীরাধার সঙ্গে একত্রে স্থিতি (অবস্থান বা থাকা) হেতু তার কান্তিতে ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ বিগ্রহ শ্রীগোবিন্দ বাইরে গৌর বর্ণ হয়ে গিয়েছেন।*
*(৪)কৃষ্ণ ভৃঙ্গ সুপ্রভাতে স্বর্ণপদ্মের মধুর লোভে ফুলের উপরে বসে মধুর গুঞ্জন করতে থাকে,সূর্য‍্যরশ্মি তাপ বর্ষণ করলে ধীরে ধীরে স্বর্ণপদ্মের পাপড়ীগুলির ভিতরে ধীরে ধীরে পথ করে প্রবেশ করে সারাদিন মনের সাধে মধুপান করে থাকে।সন্ধ‍্যার প্রাক্কালে স্বর্ণপদ্ম মুদ্রিত হতে থাকলে সে বাইরে চলে আসে,তখন দেখা যায়,কৃষ্ণভৃঙ্গ সতত মধুপান ও একত্রে বাস হেতু কৃষ্ণভৃঙ্গ বর্ণ ভৃঙ্গের কায় বা বর্ণ গ্রহণ করেছে।তদ্রূপ স্বর্ণবর্ণা শ্রীরাধার মূর্তি ভাবনা হেতু শ্রীকৃষ্ণ মহাভাব স্বরূপিনীর হৃদয় নিকুঞ্জ নিবাসে প্রবেশ করে ভাব ও বর্ণ পেয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ হয়েছেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভু আবির্ভাবের গৌণ অন্তঃরঙ্গ কারণ।*
*🌷শ্রীঅদ্বৈত নমস্তুভ‍্যং কলিহত কৃপানিধে।*
*🌷গৌর প্রেম প্রদানায় শ্রীসীতাপতয়ে নমঃ।।*
*🌻আশ্রয় জাতীয় সুখ-আস্বাদনের জন্য শ্রীহরির অন্তর যখন অত‍্যন্ত ব‍্যাকুল হ'ল,তখন যুগাবতারের সময় আবির্ভাব হ'ল।তখন সন্ধানী শক্তির বৃত্তি গুরুবর্গ,পিতামাতা ও অন‍্যান‍্য পরিকরগণ শ্রীহরির আবির্ভাবের আগেই মানবকুলে জন্মগ্রহণ করলেন।শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোঁসাই, শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী গোঁসাই, পিতা শ্রীজগন্নাথ মিশ্র পুরন্দর, গর্ভধারিণী শচীমাতা-ঠাকুরাণী, রাঢ়দেশে এক চাকা গ্রামে প্রভু নিত‍্যানন্দ অবধূত,শ্রীহট্টে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য,তিরোতে পরমানন্দপুরী গোঁসাই,বুঢ়নে ঠাকুর হরিদাস, চট্টগ্রামে শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি ও শ্রীবাসুদেব দত্ত জন্মগ্রহণ করেন।শ্রীবাস পন্ডিত,পন্ডিত শ্রীগদাধর,শ্রীমুরারী, মুকুন্দ ও অন‍্যান‍্য বহু পার্ষদগণ ঐ সময়ে জন্মগ্রহণ করেন।সকলেই শ্রীধাম নবদ্বীপে এসে মিলিত হয়েছিলেন।*
*😭ভক্তগণের মনের ব‍্যথা,কলিহত জীবের হৃদয়ের বেদনা, মানুষের সীমাহীন তমঃ, দুরন্ত অবিদ‍্যা, পাপবাসনা,মানুষের ভগবৎ বিমুখতা, কৃষ্ণনাম ও ভক্তিশূন‍্য সব সংসার দেখে, শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যর প্রাণ কেঁদে উঠিল।তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন--*
*🌷করাইমু কৃষ্ণ সর্বনয়ন গোচর।*
*🌷তবে,অদ্বৈত নাম কৃষ্ণের কিঙ্কর।।*
*🌺জগতে লোকজনকে হরিভক্তিহীন দেখে নিত‍্য পরিমল যুক্ত তুলসী মঞ্জুরী,সুরভি ফুল ও গঙ্গাজল দ্বারা সাশ্রুনয়নে শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনা করেন।ঐ হুঙ্কারের ধ্বনি ব্রহ্মান্ড ভেদ করে গোলোকে শ্রীকৃষ্ণকে আকর্ষণ করে।*
*🌷ভক্তের ইচ্ছায় কৃষ্ণের সর্বাবতার।*
*🌹অন্তরঙ্গ পার্ষদের আহ্বান ছাড়া তাঁর আবির্ভাব হয় না।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য মহাবিষ্ণুর অবতার বা সদাশিব।তাঁরই কাতর প্রার্থনা ও ক্রন্দনে শ্রীকৃষ্ণের শ্রীগৌরাঙ্গ ভাবে আবির্ভাব।*
*🌷তাহার পিরীতে আইলা ত্বরিতে, উদয় নদীয়া মাঝ।*
*🍁এই জন্য এবং শ্রীঅদ্বৈত প্রভুতে অন্তরঙ্গ শক্তির বিলাস আছে বলে শ্রীগৌরাঙ্গের আবির্ভাবের গৌণ অন্তরঙ্গ কারণ বলা হয়েছে।*
*🌷যথা শয়ানে আছিলা ক্ষীর সাগর ভিতরে।*
*🌷নিদ্রাভঙ্গ হইল মোর নাড়ার হুঙ্কারে।।*
*🌷অদ্বৈত নিমিত্ত মোর এই অবতার।*
*🌷এইমত মহাপ্রভু বোলে বার বার।।*
                              *(চৈঃচঃ অন্ত‍্য)*
*🌕সেদিন ফাল্গুনী পূর্ণিমা।সকলেই সুমঙ্গল ঐ পূর্ণিমা তিথিতে মিলিত হলেন।শ্রীভগবানের ইচ্ছায়ই রাহু চন্দ্রকে গ্রাস করল।নদীয়ার সব লোকজন চন্দ্রগ্রহণ দেখে "হরিবোল, হরিবোল" ধ্বনি করতে লাগলেন।*
*🌷উঠিল মঙ্গল ধ্বনি শ্রীহরি সংকীর্তন।*
*🙌এই মঙ্গলধ্বনি ভারতের সর্বত্র ও স্বর্গে প্রতিধ্বনিত হল।স্বর্গের দেবগণ সর্বত্র পুষ্প বর্ষণ করে অনুক্ষণ জয় জয় শব্দে দুন্দুভি বাজাতে লাগলেন।হেন সময় শ্রীহরিনাম সংকীর্তনের সঙ্গে শ্রীমন্মহাপ্রভুর মর্ত্ত‍্যে অবতীর্ণ হলেন। যথা--*
*🌷পিতামাতা গুরুজনে আগে অবতারি।*
*🌷রাধিকার ভাব বর্ণ অঙ্গীকার করি।।*
*🌷নবদ্বীপে শচীগর্ভ শুদ্ধ দুগ্ধ সিন্ধু।*
*🌷তাহাতে প্রকট হৈলা কৃষ্ণপূর্ণ ইন্দু।।চৈঃচঃ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧



শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

                   🙏 জয় শ্রীশ্রী গোপীনাথ 🙏

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


🔙 পূর্ব লীলা 👉  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১১. শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
কন্যা নিজ প্রকট ঐতিহ্য জগতকে জানাইবার জন্যই মালীগণের কন্যারূপে মালিনী নাম ধারণ করিলেন। এভাবে মালিনী দেবী মালীগণের পরিচর্য্যায় কতককাল অতিবাহিত করিলেন। এদিকে গ্রামবাসীগণ কন্যার প্রকাশ কাহিনী কাজীর নিকটে সবিশেষ কহিলেন। তখন কাজী কন্যাসহ সিন্ধুক আনিতে লোক পাঠাইলেন। মালীগণ সংবাদ পাইয়া বিস্মিত হইলেন। তারপর দূতগণ পৌছিলে মালীগণ দূতের সঙ্গে কাজীর গৃহে উপনীত হইলেন। মালীগণ তাহাদের আনয়নের কারণ জিজ্ঞাসা করিলে কাজী বলিলেন, 'তোমরা সিন্ধুকসহ বহু সম্পদ পাইয়াছ। তাহা কোন বিচারে নিজেদের ঘরে রাখিয়াছ? তাহা সমস্ত আমাকে অর্পন কর।' মালীগণ বলিল, 'আমরা একটি সিন্ধুক পাইয়াছি। তাহা এখনই আনিয়া দিব।' কাজী বলিল, 'তাহাতে কি ধন ছিল?' তখন মালীগণ মনে মনে চিন্তা করিলেন, ‘কাজীর মনের অভিপ্রায় কি তাহা বুঝা দুঃসাধ্য; কোন দুষ্ট ব্যক্তি আসি কাজীকে বলিয়াছে। যাহা হউক প্রাণ থাকিতে আমরা কাজীর হস্তে কন্যাকে অর্পন করিব না।' এই যুক্তি সাব্যস্ত করিয়া মালীগণ বলিল, 'সিন্ধুকে একটি দিব্য কন্যারত্ন ছিল।' তখন ক্রোধে কাজী বলিল, ‘আমি সিন্ধুকসহ সেই কন্যাকে চাই।' কাজীর অভিপ্রায় বুঝিয়া মালীগণ সবিনয়ে বলিলেন, ‘আপনি যবন হইয়া দেবকন্যা বাঞ্ছা করিতেছেন? এই মহৎ অপরাধে প্রায় গ্রাম উজাড় হইবে। তৎসঙ্গে আপনিও রক্ষা পাইবেন না। তারপর মালীগণ কন্যার অপ্রাকৃত মহিমারাশির বর্ণন করিলেন। মালীগণের হিতবাক্যে কাজীর ভাবান্তর ঘটিল। তখন কাজী আপনারগণকে বলিলেন, ‘আমি না বুঝিয়া দুষ্টগণের বাক্যে মালীগণকে বহু কষ্ট দিয়াছি। আমার মহাঅপরাধ হইয়াছে। তোমরা এখনই মালীগণকে মুক্ত কর। আজ্ঞামাত্র পাত্রগণ মালীগণকে মুক্ত করিলে কাজী স্তুতিনতি সহকারে সবিনয়ে মালীগণকে বলিলেন, 'আমি হিন্দুর দেবতায় নিজ কন্যারূপে সেবা করিব। তোমরা নিঃসন্দেহে আমার গৃহে আনয়ন কর।’ কাজীর ভাবান্তর ঘটায় মালীগণ অন্তরে মহানন্দ লাভ করিলেন। তখন তাঁহারা বলিলেন, 'আমরা গিয়া দেবীকে অনুরোধ করব। যদি তিনি কৃপা-পরবশ হইয়া স্বেচ্ছায় আপনার গৃহে আসেন, তাহা হইলে অবশ্য আমরা লইয়া আসিব। মালীগণ মুক্ত হইয়া মহানন্দে গৃহে আসিলেন। তারপর দেবীর সমীপে কাজীর অভিপ্রায় ব্যক্ত করিলেন। তখন দেবী বলিলেন, “তোমরা কোন চিন্তা করিও না। আমি ঐ স্থানে অবস্থান করিয়া লীলার প্রকাশ করিব। তোমরা কাজীর সমীপে আমার আগমনবার্ত্তা কহিয়া আমার নির্দেশটি বলিবে। আমি কাজীর গোগৃহে অবস্থান করিব আর মিষ্টান্ন ভোজন করিব। কাজী সহাস্তে যেন গোগৃহ মাৰ্জ্জন করেন।' তখন মালীগণ কাজীর সমীপে উপনীত হইয়া দেবীর নির্দেশ জ্ঞাপন করিলেন। কাজী মহানন্দে স্বহস্তে গোগৃহ মার্জ্জনে প্রবৃত্ত হইলেন। কাজীর ভাবের অভিব্যক্তি দেখিয়া মালীগণ মহানন্দে দেবীকে কাজীর ভবনে আনয়ন করিতেছেন। দেবীর আগমনবাৰ্ত্তা শুনিয়া গ্রামবাসীগণ আসিয়া কাজীকে বলিলেন, ‘এতদিনে আপনার সৌভাগ্যের প্রকাশ ঘটিয়াছে। মালীগণ কন্যা লইয়া আসিতেছে। আপনি শীঘ্ৰ গিয়া দেবীকে সাদর অভ্যর্থনা জানাইয়া স্বগৃহে আনয়ন করুন।' তখন কাজী মহানন্দে পুষ্পরথ সাজাইয়া সপার্ষদে কন্যাকে আনিতে চলিলেন। পথে সাক্ষাৎ ঘটিলে কাজী সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিযা স্তবাদি করিতে লাগিলেন। কন্যা কাজীর স্তবে সন্তুষ্ট হইয়া রথারোহণে চলিলেন। তারপর কন্যা কাজীর গৃহে উপনীত হইলে মালীগণ কন্যাকে কাজীর গোগৃহে অধিষ্ঠান করাইয়া জল দ্বারা শ্রীচরণ ধৌত করিলেন। মালীগণের নির্দেশে কাজী দূত মারফৎ পসারীগণকে ডাকাইয়া বলিলেন, “তোমরা প্রত্যহ প্রভূত মিষ্টান্ন আনিয়া দিবে। আমার গৃহে সাধুর আগমন ঘটিয়াছে, তাঁহাকে নিত্য ভোজন করাইব।' অতঃপর কাজী ও পসারীগণ মালিনী দেবীকে --প্রণামাদি করিলেন। কাজী কন্যাকে মালীগণ দ্বারা নতুন বস্ত্র পরিধান করাইয়া মিষ্টান্ন ভোজন করাইলেন। কন্যার আদেশে মালীগণ প্রসাদ গ্রহণ করিয়া সকলকে বিতরণ করিয়া দিলেন। তখন সকলে জয় জয় ধ্বনি দিতে দিতে প্রসাদ পাইয়া প্রণামাদি করিলেন। তারপর কাজী কন্যার শ্রীচরণে লুণ্ঠিত হইয়া সবিনয়ে বহুত কাকুতি সহকারে বলিলেন, ‘আমি বহু অপরাধ করিয়াছি। আপনি আমায় নিজগুণে করুণা করিয়া ক্ষমা করুন।' কন্যা বলিলেন, ‘তুমি মালীগণের সমীপে অপরাধ করিয়াছ। তাঁহারা ক্ষমা না করিলে তোমার অপরাধ স্খলন হইতে পারে না।' তখন কাজী শীঘ্র মালীগণের সমীপে গমন করিয়া সকাতরে ক্ষমা প্রার্থনা করিলেন। মালীগণ বলিলেন, ‘চরণ ছাড়, তুমি ও আমরা এখন এক। তোমার আর কোন অপরাধ নাই। এখন কন্যারত্নে দর্শন করিয়া জীবন ধন্য কর। 

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১২. শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
তখন কাজী মালীগণকে কন্যারত্নের সেবাকার্য্যে নিযুক্ত করিলেন। মালীগণের  সংসারের ব্যয়ভার কাজী বহন করিতে লাগিল। এইভাবে শ্রীঅভিরাম গোপালের শক্তিরূপা কন্যা শ্রী মালিনী দেবী কাজীপুরে আগমন করতঃ কাজীর কন্যারূপ পরিহগ্রহ। করিয়া কাজীর গৃহে অবস্থান করিতে লাগিলেন। আর মালীগণ তাঁহার সেবক হইয়া মহানন্দে সেবা করিতে লাগিলেন। কতদিনে বিল্লোক গ্রামে কাজী সৈন্যগণের বিদায়ের কালে মালিনী দেবী কাজীপুরের নাম খানাকুল স্থাপন করেন।
- তথাহি -
“এতেক শুনিয়া কন্যা বলেন বচন।
খানাকুল হৈল নাম কাজীপুর এখন।।”

এদিকে শ্রীঅভিরাম গোপাল নিজশক্তিরূপা কন্যাকে লীলা প্রকাশের জন্য পাঠাইয়া আপনি এক অভিনব ভাবের উদ্দীপন করিলেন।
তথাহি - তত্রৈব -
“ভ্রমণ করিব সব বিগ্রহ দেখিয়া।
দেখি কেবা কোনরূপে আছেন বসিয়া।।
একে একে সবাকার করিব দর্শন।
চৈতন্যের মনোবৃত্তি বুঝিব এখন।।
দেখি কার কত শক্তি দিয়াছে চৈতন্য।
দুই কাৰ্য্য হেতু আমি হৈব অবতীর্ণ।।
ব্রজেতে শ্রীকৃষ্ণে বহু সেবন করিলা।
তখন আমাকে কৃষ্ণ আপনি কহিলা।।
তোমার সমান বন্ধু নাহি কোনজনে।
বশ যে হইনু দেখ তোমার সেবনে।।
বলরাম আদি করি যত সখাগণ।
সবার অপেক্ষা শক্তি দিলাম এখন।।
এমন পীরিতি সেই শ্রীকৃষ্ণ সহিত।
মনে না করিয়া গেলা হইয়া বিস্মিত।
বুঝিব এবে তাঁর প্রিয় হয় কেবা
কাহার প্রেমেতে বশ পাইলেন সেবা।।
সেববাশ হয়া সেই প্রেমেতে চলিলা।
অতেব আমারে তিঁহ বিস্মৃত হইলা।।
এতেক ভাবিয়া মনে করেন ভ্রমণ।
যেখানে বিগ্রহ আছে করেন দর্শন।।
দর্শন করিয়া তাঁরে বলেন হাসিয়া।
কেবা কোনরূপে আছে দেখিব কষিয়া।।”

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৩. অভিরাম ঠাকুরের শ্রীবিগ্রহ দর্শন লীলা 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
এইরূপ প্রেমানুরাগাবেশে ঠাকুর অভিরাম শ্রীবিগ্রহ দর্শন ও প্রণাম করিয়া ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। অভিরাম প্রণাম করিয়া তাকাইলেন অমনি প্রতিমা বিদীর্ণ হইয়া অন্তৰ্দ্ধান করিতে লাগিল। তাহার প্রণামে সর্ব্বদেশ বিগ্রহশূন্য হইল। কেবলমাত্র শ্রীবিগ্রহগণের প্রণামের মধ্যে বিষ্ণুপুরের মদনমোহন, বগড়ীর কৃষ্ণরায়, শ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদগণেল মধ্যে শ্রীগোপালগুরু, শ্রীখন্ডের রঘুনন্দন, প্রভু নিত্যানন্দের পুত্র বীরচন্দ্র ও কন্যা গঙ্গাদেবী তাহার প্রণাম সহ্য করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। তাঁহার প্রণামে প্রভু নিত্যানন্দের ছয় পুত্র অন্তর্দ্ধান করেন। বিষ্ণুপুরের শ্রীমদনমোহন দেবকে দ্বিতীয় প্রণামে মন্দিরের দ্বারা ঘুরাইয়া তৃতীয় প্রণামে মদনমোহনের ঘাড় বাঁকাইয়া মহিমাবর্দ্ধন করিয়াছিলেন। আর বগড়ীর কৃষ্ণরায়কে প্রণাম করিলে তাঁহার সর্ব্বাঙ্গ বহিয়া রক্তক্ষরণ হইয়াছিল । এইভাবে লীলারঙ্গে অভিরাম বৃন্দাবন হইতে গৌড়দেশ পরিভ্রমণ করিতে করিতে কেন্দুবিল্বগ্রামে জয়দেবের সহিত মিলন করিলেন । তথা হইতে বিষ্ণুপুর হইতে পথে কৃষ্ণরায়ে প্রণাম করতঃ বিক্রমপুরে উপনীত হইলেন। তথায় বসুলীদেবীর সহিত সাক্ষাত করিযা কাজীপুরে মালিনী দেবীর সহিত মিলন করিলেন।

- তথাহি -
“শুনিয়া তাঁহার বাক্য আনন্দিত হৈলা।
বিক্রমপুরেতে সেই বাসুলী রহিলা।।
বসুলীকে আশ্বাস দিয়া চলিলা তুরিতে।
কাজীপুরে হৈলা দেখা মালিনী সহিতে।।
মালিনী আসিয়া ছিলা স্নান করিবারে।
তখন গোঁসাইজীউ ডাকিলা তাহারে।।
শীঘ্রগতি আইস তুমি নদী পার হৈয়া।
ভ্রমণ করি যে আমি তোমার লাগিয়া।।”

মালিনী দেবী দাসীগণ সঙ্গে নদীতে স্নানে আসিয়াছেন। এদিকে ঠাকুর অভিরাম ভ্রমণ করিতে করিতে নদীর অপর পারে উপস্থিত। তথা হইতে মালিনী দেবীকে দেখিয়া ইঙ্গিতে আহ্বান জানাইলেন। মালিনী দেবীও দূর হইতে নিজ প্রাণনাথকে দর্শন করিয়া মিলনের জন্য ব্যাকুল‌ হইলেন। তখন মালিনী দেবী মহাচিন্তায় পড়িলেন। কি প্রকারে গিয়া প্রাণনাথের সহিত মিলন করিবেন। সঙ্গে দাসীগণ বৰ্ত্তমান। তখন অনন্যোপায় হইয়া মালিনী দেবী দাসীগণকে বলিলেন, ‘চল আমরা সকলে সাঁতার দিয়া নদীর ওপারে যাই। আবার এপারে ফিরিয়া আসিব।' দাসীগণের বচনের মালিনী দেবী মহানন্দে একাকী অপর পারে গিয়া নিজ প্রাণনাথের সহিত মিলিত হইলেন। তারপর কথা হইতে শীঘ্র প্রাণনাথের সঙ্গে চলিলেন। এদিকে দাসীগণ ব্যাকুল হইয়া কাজীর সমীপে গমন করতঃ সমস্ত ঘটনা বলিলেন। এবং বলিলেন, একজন উদাসী আসিয়া মালিনীকে সঙ্গে লইয়া চলিয়া গিয়াছে। এই সংবাদ শ্রবণমাত্র কাজীর মস্তকে যেন বিনামেঘে বজ্রপাত ঘটিল। তিনি অতীব ব্যাকুল হইয়া ব্যাগ্রতা সহকারে সৈন্য সাজাইয়া কন্যাকে আনিতে পাঠাইলেন । সৈন্যগণ মালিনীর অন্বেষণে চলিলেন। সৈন্যগণ অন্বেষণ করিতে করিতে‌ বিল্বোক গ্রামে উপনীত হইয়া মালিনীর সাক্ষাৎ পাইলেন। এইভাবে মালিনী দেবী খানাকুল গ্রামে আগমন
করিয়া অপ্রাকৃত লীলার প্রকাশ করতঃ খানাকুল গ্রামকে মহাতীর্থে পরিণত করিলেন।

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৪. বিল্লোকগ্রামের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঠাকুর অভিরাম খানাকুল হইতে মালিনী দেবীকে সঙ্গে লইয়া বিল্লোকগ্রামে উপনীত হইলেন।

তথাহি - শ্রীঅভিরাম লীলামৃতে - ৫য় পরিচ্ছেদেঃ------

“এখন বিল্লোক গ্রামে মালিনী লইয়া।
নদীর তটেতে দুঁহে আছেন বসিয়া।।
মুরলীর কাষ্ঠ তবে দেখেন সেখানে।
সে মৰ্ম্ম গোসাঞিজীউ জানেন সন্ধানে।।
সবার মুরলী পূর্ব্বে একত্র করিয়া ।
স্রোতেতে সকলে মিলি দিলা ভাসাইয়া।।
যমুনার স্রোত যায় দক্ষিণ বহিয়া ।
অতেব সে কাষ্ঠ হেথা আইলা ভাসিয়া।।”

ঠাকুর অভিরাম মালিনী দেবীর সঙ্গে বিল্লোক গ্রামে নদীর তীরে উপবিষ্ঠ আছেন; সেই সময় কাজীর সৈন্যগণ তথায় উপনীত হইলেন। তখন সৈন্যগণ মহাক্রোধে বলিতে লাগিলেন, ‘তুমি উদাসী হইয়া কেন এরূপ হীন কর্ম্ম আচরণ করলে, বৈরাগী বেশ ধারণ করিয়া যবণের কন্যায় অপহরণ করিলে কেন?' এদিকে গ্রামবাসী লোকজন তথায় একত্রিত হইয়া তিরস্কার সহকারে বলিতে লাগিল, 'তুমি কোথাকার উদাসী, যবনের কন্যা হরণ করিয়া এই গ্রামের অধিবাসী হইতে চাও।' তখন অভিরাম চিন্তা করিতে লাগিলেন, “কিভাবে মালিনী দেবীকে প্রকাশ করিবে।' মহিমা না দেখাইলে কেহ আমার কথায় বিশ্বাস করিবে না। তখন অভিরাম তীরে ভাসমান মুরলীর কাষ্ঠ বোঝাটি এক হস্তে উত্তোলন করিয়া কাজীর সৈন্যগণকে বলিলেন, 'তোমরা সকলে এই কাষ্ঠের বোঝাটি তুলিতে পারিলে আমার সহিত যুদ্ধ করিও।' এই অলৌকিক দৃশ্য দেখিয়া সকলে বিস্মিত হইল। যে বোঝাটি একশত জনে তুলিতে পারিবে না সেই বোঝাটি এই উদাসী অনায়াসে উত্তোলন করিলেন। তখন অভিরামের বাক্যে কাজীর সৈন্যগণ বিনয় সহকারে বলিলেন, "আমরা এই বোঝা তুলিতে পারিব না।' তখন অভিরাম মালিনী দেবীকে আজ্ঞা করিলে মালিনী দেবী এক অঙ্গুলীতে সেই কাষ্ঠের বোঝাটি তুলিয়া আনিলেন। তাহা দেখিয়া সকলেই আশ্চৰ্য্যান্বিত হইলেন।
তথাহি -
“সবাকার মনোভাব গোঁসাই জানিয়া।
মালিনীর হাতে কাষ্ঠ তখন লইয়া।।
মুরলী বাজায়ে কত করেন গর্জ্জন।
বকুলের বৃক্ষতলে করিলা আসন।।
মুরলী রাখিয়া তলে আসনে বসিলা।
হেনকালে কাজীগণ কহিতে লাগিলা।।”

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৫. কানা নদীর নামকরণ 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
এই অত্যাশ্চয় বৈভব দর্শন করিয়া কাজীর সৈন্যগণ বলিতে লাগিল, ‘এতদিনের এই কন্যা আমাদের ঘরে ছিল, আপনাদের মহিমা আমরা কি প্রকারে জানিব । এখন আমাদের সর্ব্ব অপরাধ ক্ষমা করিয়া আশীর্ব্বাদ প্রদান করুন।' তখন মালিনী দেবী সৈন্যগণকে বলিলেন, ‘আজ হইতে কাজীপুরের নাম খানাকুল বলিয়া খ্যাত হইবে।' তারপর কাজীর সৈন্যগণ বহুত দৈন্য স্তুতি সহকারে প্রণামাদি করিয়া স্বগৃহে চলিলেন। এদিকে অভিরাম ভাবিলেন, ‘আমি কি প্রকারে নিজ সখাগণের সহিত মিলন করিব, আর মালিনী দেবীকে কিভাবে অপ্রকট করিয়া রাখিব।' কতক্ষণে উপায় উদ্ভোবন করিয়া মালিনীকে বলিলেন, 'তুমি এখন অপ্রকট হও, আমি পুনরায় আসিয়া তোমার সহিত মিলন করিব। অভিরামের বাক্য শুনিয়া মালিনী দেবী বলিলেন, 'আমি কোথায় কিভাবে অবস্থান করিব। তখন অভিরাম বলিলেন :  যথা ------
তথাহি -
“তখনে গোসাঁইজী বলেন বচন।
মুরলী ভিতরে তুমি রহ যে এখন।।
এতেক শুনিয়া তিঁহো প্রবেশ করিলা।
গোপনের তাঁহারে রাখি গোঁসাই চলিলা।।”

এইভাবে মালিনী দেবীকে গোপন রাখিয়া অভিরাম চলিলেন। তারপর নদীতে স্নান করিতে আসিলে এক লীলা ঘটিল। সেই স্থানে তখন রত্নাকর নদী প্রবাহিত। অভিরাম নদীতে স্নান করিতে গেলে নদী তাহার কৌপীন হরণ করিল। তখন অভিরাম ক্রোধে নদীকে অভিশাপ প্রদান করিলেন। তখন নদী নিজ অপরাধ স্বীকার করিয়া বহুত স্তব-স্তুতি করিলে অভিরাম প্রসন্ন হইয়া বলিতে লাগিলেনঃ
তথাহি - তত্রৈব -
“অন্ধবৎ হয়া থাক তিনশত যে বৎসর।
পরে এক চক্ষু তুমি পাবে রত্নাকর ৷ ৷
দ্বারকেশ্বর বলি নাম কেহবা কহিবে।
কানা নদী নামে তোমা সবাই ডাকিবে।।”

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৬. বাসুলী দেবী ও অভিরাম গোপাল ঠাকুর 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
তারপর অভিরাম নদীয়ায় আগমন করতঃ শ্রীগৌরাঙ্গেদেবের সহিত মিলন করিয়া গৌরাঙ্গদেবসহ নীলাচলে গমন করিলেন। তথা হইতে গৌরাঙ্গদেবকে নদীয়ায় পাঠাইয়া আপনি একাকী চলিলেন।
তথাহি - তত্রৈব -
“এতেক শুনিয়া সবে গমন করিলা ।
একলা গোসাঁইজী বিল্লোকে আইলা।।
মালিনী সহিত আসি করিলা মিলন।
ছুঁহেতে বসিয়া দোঁহে কথোপকথন।।”

বহুদিন পরে অভিরামকে পাইয়া গ্রামবাসীগণ আনন্দে উৎফুল্ল হইলেন। সেই দুইজন আসিয়া বলিল, 'আমরা বৃন্দাবন হইতে আসিয়াছি। আপমার আশ্রিত হইয়া এখানে অবস্থান করিব। ভিক্ষা করিব আনয়ন করতঃ আপনার সেবা করিব।' তাহা শুনিয়া অভিরাম

দুইজনকে কৃষ্ণনগরে পাঠাইলেন। তাহারা হরি-সঙ্কীর্তন সহকারে তথায় ভ্রমণ করিতে লাগিল । পাষন্ডীগণ বহুত নিন্দা আরম্ভ করিলে দুইজন আসিয়া অভিরামের সমীপে সমস্ত জানাইলেন । অভিরাম তাহাদিগকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, “চিন্তা করিও না আমি গিয়া সবাইকে দলন করিব।’তারপর অভিরাম ভ্রমণ করিতে করিতে একদিন এক রান্ডী ব্রাহ্মণীকে পথে ক্রন্দন করিতে দেখিয়া তাহার ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। ব্রহ্মণী ব্যাকুলভাবে বলিতে লাগিলেন, ‘এই গ্রামে বাসুলী দেবী আছেন, তিনি আমার পুত্রকে ভক্ষণ করিয়াছেন। তখন অভিরাম বলিলেন, ‘তুমি আমার সঙ্গে চল, আমি তোমার পুত্রকে প্রদান করিব।' এই বলিয়া অভিরাম ব্রহ্মণীসহ দেবীর মন্দিরে আগমন করতঃ দেবীকে বলিলে দেবী বলিলেন, 'আমি এই গ্রামে বহুদিন যাবৎ স্থাপিত হইয়া সর্ব্বদা নরমাংস ভক্ষণ করি।' তখন অভিরাম বলিলেন, 'তুমি এখন ব্রহ্মণীর পুত্রকে আনিয়ে দাও; আর আজ হইতে মনুষ্য ভক্ষণ বন্ধ করিয়া মিষ্টান্ন ভক্ষণ আরম্ভ কর।' বাসলী বলিলেন, “মিষ্টান্ন খেতে আমার রুচি হয় না।' তখন অভিরাম ভাবিলেন, দেবীর বড় অহঙ্কার হইয়াছে। আজই ইহার দম্ভ বিনাশ করিব। অভিরাম দেবীকে বলিলেন, 'তুমি যে মুখে নর মাংস ভক্ষণ করিবে, তোমার সেই মুখের দন্ত খসিয়া পড়িবে।' তখন দেবী করপুটে বহু মিনতি করিলে অভিরাম বলিলেন, ‘অগ্রে ব্রাহ্মণীর পুত্র প্রদান কর। পরে তোমার বিহিত করিব, নতুবা শরীর বিনষ্ট করিব।' দেবী ভয়ে সন্ত্রস্ত হইয়া ব্রাহ্মণীর পুত্রকে আনিয়া দিলেন। অভিরাম পুত্রকে লইযা ব্রাহ্মণীর হস্তে অর্পন করিলেন। তারপর দেবী সবিনয়ে বলিলেন, ‘আপনি নিজ হস্তে পাক করিয়া এক সের চালের অন্ন আমায় খাওয়ান; আর আপনার সমীপে আমায় রাখুন।' অভিরাম বলিলেন, 'আমি কৃষ্ণনগরে অবস্থান করিলে তোমায় লইয়া যাইব।' তারপর অভিরাম তথা হইতে পুনরায় বিশ্লোক গ্রামে শ্রীমদনমোহনের সমীপে আসিলেন। কতদিনে কৃষ্ণনগরে গিয়া শ্রীপাঠ স্থাপন করিলেন। এইভাবে ঠাকুর অভিরাম বিল্লোক গ্রামে লীলা করিলেন।


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৭. শ্রীপাট কৃষ্ণনগরের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঠাকুর অভিরাম বিল্লোক গ্রাম হইতে সঙ্কীৰ্ত্তন নৃত্যাবেশে ভ্রমণ করিতে করিতে শ্রীকৃষ্ণনগরে আগমন করিয়া লীলা সূচনা করিলেন।

তথাহি -
“ষোলশাঙ্গে সেই কাষ্ঠ তুলিতে নারিলা।
সেই কাষ্ঠ লয়া তিঁহ মুরলী পূরিলা।।
মুরলীর কাষ্ঠ শীঘ্র রাখিল পুঁতিয়া।
কাষ্ঠকে বহুত স্তুতি করেন বসিয়া।।
বকুলের বৃক্ষ হয়ে থাকহ এখন।
তোমায় করিবে লোক আসিয়া পূজন।।
বৎসরে বৎসরে পুষ্প হইবে তোমার।
পুষ্প বিনা ফল কভু না হইবে আর।।
বলিতে বলিতে বৃক্ষ হইল মঞ্জরী।
মদনমোহন তবে কহেন বিচারি।।
শ্রীকৃষ্ণনগর হৈল গুপ্ত বৃন্দাবন।
বকুলের বৃক্ষ দেখি হইল স্মরণ।।
শ্রী ব্রজবল্লভ বলেন শুনিয়া তখনে।
বৃন্দাবন শোভা যেন কদম্ব কাননে।।”

তখন অভিরাম বকুল তলায় উপবেশন করিয়া নাম-সঙ্কীর্ত্তন আরম্ভ করিলেন। গ্রামবাসীগণ অত্যাশ্চর্য্য লীলা দর্শন করিযা মিষ্টান্ন আনয়ন করতঃ ভোজন করাইলেন। সে সময় গোপাল দাস এই সংবাদ শুনিয়া তথাই আগমন করতঃ অভিরামের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন। অভিরাম তাঁহার স্তুতিনতি শুনিয়া শক্তি সঞ্চার করতঃ বৃক্ষ সেবায় নিযুক্ত রহিলেন। সহসা একদিন এক ব্রহ্মচারী তথায় উপনীত হইলেন। ব্রহ্মচারী ভাবিলেন, 'তাহার প্রভাবিত এলাকায় আর একজন আসিয়া ভিত্তি স্থাপন করিয়াছে। তাই ঈর্ষাপরবশ হইয়া যোগ

প্রভাবে ব্রহ্মচারী দৃষ্টি প্রদান করতঃ অভিরামের প্রতিষ্ঠিত বৃক্ষটিকে ভস্মীভূত করিলেন। গোপাল দাস এই দৃশ্য দেখিয়া অভিরামের সমীপে গমন করতঃ সমস্ত নিবেদন করিলেন। তখন অভিরামের আদেশে গোপাল দাস অগ্নিতে শ্রীচরণামৃত প্রদান করিতেই অগ্নি নির্ব্বাপিত হলো এবং বৃক্ষও পূর্ব্ব স্বরূপ ধারণ করিল। গোপাল দাস ব্রহ্মচারীকে বলিলেন, ‘গোসাঞি বৃক্ষ রোপন করিয়াছেন, তাহা আপনি নষ্ট করিতেছেন কেন?” ব্রহ্মচারী বলিলেন, ‘তোমার গোসাইর কিরূপ প্রভাব তাহা দেখিব’, ঠিক সেই সময় ঠাকুর অভিরাম তথায় উপনীত হইলেন। অভিরামের দ্বাদশ আদিত্য সদৃশ তেজপুঞ্জ দেখিয়া ব্রহ্মচারী সবিস্ময়ে বলিলেন, ‘আপনার ঈশ্বর স্বরূপ লক্ষণ দৃষ্ট হইতেছে।' অভিরাম তাঁহার পরিচয় জানিতে চাহিলে তিনি বলিলেন, 'আমার নাম অমৃতানন্দ ব্রহ্মচারী। আমি শক্তি উপাসক, কোথাও স্থায়ীভাবে বাস না করিয়া সর্ব্বদা পরিভ্রমণ করি।' অভিরাম বলিলেন, ‘এখন দোঁহাকার শক্তি পরীক্ষা হইবে। যে শ্রেষ্ঠ হইবে তাঁহার উপাসনা অন্যকে গ্রহণ করিতে হইবে।' তারপর অভিরামের মালা ও তিলক এবং ব্রহ্মচারীর দন্ড, কমুন্ডলু অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হইল। এক সপ্তাহ পরে অগ্নি নির্ব্বাপণ হইলে দেখা গেল ব্রহ্মচারীর সকল দ্রব্য ভষ্মীভূত হইয়াছে। তখন অভিরামের অলৌকিক মহিমা দেখিয়া ব্রহ্মচারী তাঁহার শিষ্যত্ব বরণ করতঃ কৃষ্ণানন্দ অবধূত নাম ধারণ করিলেন। ব্রহ্মচারী অভিরামের শিষ্যত্ব গ্রহণ করিলে কৃষ্ণনগরবাসী ব্রহ্মচারীর শিষ্যগণ প্রতিবাদ করিল। অভিরাম তাহাদিগকে বৈষ্ণবতার মহিমা শ্রবণ করাইলেন। কিন্তু তাহাতে বিপ্রগণের মন সন্তুষ্ট হইল না । তাহারা অভিরামের অবমাননার জন্য উপায় চিন্তা করিতে লাগিলেন। শেষে সকলেই এক যুক্তিস্থির করিল যে, অভিরাম যবনের কন্যাকে গ্রহণ করিয়াছে, এই অপবাদ রটাইতে পারিলে অভিরাম আপনি কৃষ্ণনগর ছাড়িয়া পালাইবে। তাহারা গ্রামের সর্ব্বত্রই এই অপবাদ বাক্য প্রচার করিতে লাগিলেন। তখন অভিরাম ভাবিলেন, ‘আমি পাষন্ড উদ্ধারর জন্য আসিলাম, কিন্তু আমার স্থানের পাষন্ডের উদ্ভব হইল। অভিরাম কৃষ্ণনগরবাসীগণকে উদ্ধারের জন্য কৃতনিশ্চয় হইলেন। মালিনী দেবীর গুপ্ত মহিমাকে বিদিত করিয়া কৃষ্ণনগরবাসীগণকে উদ্ধারের জন্য এক মহামহোৎসবের আয়োজন করিলেন। সেই মহোৎসবে সপার্ষদ শ্রী গৌরসুন্দর উপনীত হইলেন। 

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৯. মালিনীর অপমান করে যেইজন 🙇
বৃন্দাবন প্রাপ্তি তার না হবে কখন 👏  শ্রীপাট কৃষ্ণনগরের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীমন্মহাপ্রভুর আদেশে মালিনী দেবী রন্ধন কার্য্যে প্রবৃত্ত l হইলেন। রন্ধনের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি অভিরাম যোগাড় দিতেলাগিলেন। সেই সময় এক সরোবর খোদাইতে শ্রীগোপীনাথ দেব প্রকট হইলেন।

তথাহি -
“এতেক বলিয়া পুনঃ বিচারিয়া মনে।
দিব্য এক সরোবর করিলা সেইক্ষণে।।
তথি মধ্যে গোপীনাথ করিলা প্রকাশ ।
দেখিয়া মালিনী দেবী হইল উল্লাস।।”

তথাহি - শ্রী অনুরাগবল্লী -
“বাড়ীর পূর্ব্বেতে রামকুন্ড খোদাইতে।
শ্রীমূর্ত্তির ছলে কৃষ্ণ হইল সাক্ষাতে।।
শ্রীগোপীনাথ নাম পরম মোহন।
অশেষ বিশেষ রূপে করেন সেবন।।”

তথাহি - শ্রী ভক্তিরত্নাকরে -
“শ্রী বিগ্রহ সেবিতে যবে ইচ্ছা উপজিল।
স্বপ্নছলে গোপীনাথ দরশন দিল।।
এথা মোর স্থিতি কহি স্থান দেখাইল।
অভিরাম খুদি তথা বিগ্রহ পাইল।।”

এইভাবে শ্রীগোপীনাথ প্রকট হইলেন। শ্রীগোপীনাথ দেবকে রন্ধন শালে লইয়া রাখিলেন । শ্রীগৌরাঙ্গদেব স্বীয় পরিকরগণের সঙ্গে শ্রীগোপীনাথ দেবকে দর্শন করিয়া আনন্দে বিভোর হইলেন। শ্রীগোপীনাথ দেবের সহিত রাসালাপ সহকারে মালিনীদেবী রন্ধন কার্য্য করিতে লাগিলেন। শ্রীমন্মহাপ্রভু পারিষদগণকে সঙ্গে লইয়া বকুলতলায় উপবেশন করিলেন। মালিনীদেবী পাক কাৰ্যে অতীব সুনিপুণ। শ্রীগোপীনাথদেব রন্ধনশালায় অবস্থায় করিয়া দেখিতে লাগিলেন। শ্রীগৌরাঙ্গদেব পাকশালে আগমন করতঃ পাকসামগ্রী দেখিয়া বিস্মিত

হইলেন। অভিরামকে বলিলেন, ‘তুমি এত সামগ্রী কোথায় পাইলে ?' অভিরাম বলিলেন, “শ্রীগোপীনাথদেবই জোগাইয়াছেন।' তারপর রন্ধন কার্য্য সমাপন হইলে প্রভু বলিলেন, ‘অগ্রে শ্রীগোপীনাথকে নিবেদন কর, পরে আমরা তাঁহার প্রসাদ গ্রহণ করিব।’ শ্রীগোপীনাথদেবের ভোগ সমাপন হইলে প্রভুপ্রসাদ গ্রহণের জন্য নিত্যানন্দাদিকে ডাকিতে বকুলতলায় আসিলেন । প্রভু আসিয়া বলিলেন, “তোমরা বিলম্ব না করিয়া সকলে প্রসাদ গ্রহণের জন্য গমন কর।' এই কথা শুনিয়া প্ৰভু নিত্যানন্দ বলিলেন, ‘আমরা কি প্রকারে প্রসাদ গ্রহণের জন্য যাইব। মালিনী যবনের কন্যা বলিয়া বিখ্যাত তাঁহার হস্তের পাক আমরা কি প্রকারে গ্রহণ করিব।' প্রভু নিত্যানন্দের বচনে শ্রীমন্মহাপ্রভু বলিলেন
তথাহি - তত্রৈব -
“তখন চৈতন্য পুনঃ করেন বিনয় ।
অভিরাম শক্তি কন্যা জানিব নিশ্চয়।।
মালিনীর অপমান করে যেইজন।
বৃন্দাবন প্রাপ্তি তার না হবে কখন।”

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ২০. মালিনীর মহিমা প্রকাশ 🙇 বৃন্দাবন প্রাপ্তি তার না হবে কখন 👏  শ্রীপাট কৃষ্ণনগরের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
তখন প্রভু নিত্যানন্দ পবনকে ডাকিয়া বলিলেন, “তুমি বিনা মালিনীর মহিমা প্রকাশ করা অসম্ভব। যখন মালিনীদেবী প্রসাদ লইয়া পরিবেশন করিতে আসিবে তখন তুমি আপন স্বরূপ ধরিয়া তাহার মস্তকে বস্ত্র উড়াইবে, তাইতেই মালিনীর প্রকাশ ঘটিবে।' নিত্যানন্দের বাক্য পালনে পবন স্বীকার করিলেন। তারপর সকলে ভোজন করিতে চলিলেন। প্রভু সকলকে লইয়া ভোজন করিতে বসিলে মালিনীদেবী পরিবেশন করিতে আসিলেন। তখন পবনদেব উঠিয়া প্রভু নিত্যানন্দের আজ্ঞা পালন করিলেন।
তথাহি -
“শুনি পদোদক করি আছেন বসিয়া ।
মালিনী আইলা তবে প্রসাদ লইয়া ।।
সুবর্ণের থালে হস্ত হইল বন্ধন।
হেনকালে পবন উঠি করিলা গমন।।
স্বভাব আপন তবে পবন ধরিলা।
শীঘ্রগতি মস্তকের বস্ত্র খসাইলা ।।
বস্ত্র সহিত কেশ উড়ায় তখন।
হেনকালে অভিরামে বলেন বচন।।
শুনহ গোঁসাইজীউ হইনু লজ্জিত।
পবন আসিয়া দেখ কৈল বিপরীত।।
দেখি অভিরাম তবে বলেন হাসিয়া ।
দুই হস্তে বস্ত্ৰ কৈলা সম্বরণ।।
বস্ত্র সম্বরণ কর চতুর্ভুজা হইয়া ।।
দেখিয়া সবার মনে হইল বিশ্বাস ।
অভিরাম শক্তি কন্যা জানিলা নিৰ্য্যাস।।”

এইভাবে মালিনীদেবীর প্রকাশ ঘটিল। মহান্ত সকলের প্রসাদ গ্রহণ অন্তে ঠাকুর অভিরাম প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। কিন্ত পাষন্ডীগণ পরিহাস করিয়া চলিলেন। কেহই প্রসাদ গ্রহণ করিল না। তখন মালিনীদেবী পবনকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিতে লাগিলেন।
তথাহি -
“সকলের সনে প্রসাদ না পাইল পবন।
শেষ প্রসাদ পাইবে সে শুনহ বচন।।
বৎসর বৎসর পবন আসি এই স্থানে।
স্বভাব প্রকাশি প্রসাদ পাইবে তখনে৷৷
এইত অভিশাপ আমি দিনু পবনে।
মিথ্যা না হইবে জেন আমার বচনে।।”

এইভাবে মহামহোৎসব সমাপন হইল। কিন্তু যাহাদের জন্য এই মহামহোৎসবের আয়োজন, তাহারা কেহই প্রসাদ গ্রহণ করিল না। তখন পাষন্ডীগণের উদ্ধারের জন্য ঠাকুর অভিরাম এক অভিনব উপায় উদ্ভাবন করিলেন। স্বশক্তি প্রভাবে এক অপ্রাকৃত মার্জ্জার সৃষ্টি করিয়া তাহার মাধ্যমে মহাপ্রসাদ প্রেরণ করতঃ প্রসাদের মহিমাত্বে পাষন্ডগণের চিত্তের বিভ্রান্তি দূরীভূত করিলেন। সকলে অভিরাম প্রসাদে সুনির্ম্মল প্রেমরসে নিমগ্ন হইল। তারপর ঠাকুর অভিরাম শ্রীপাট কৃষ্ণনগরে অবস্থান করিয়া আপনার লীলা-বৈচিত্র্য প্রকাশ করিতে লাগিলেন। 

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

                   🙏 জয় শ্রীশ্রী গোপীনাথ 🙏

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧





adds