*🌻নৌকা বিলাস গৌরচন্দ্রিকা।*
*🏵সোম তাল ২৮ মাত্রা🏵*
*১|আরে মোর আরে মোর গৌরাঙ্গ রায়।*
*প্রথম কাট=*
*আমার ভাবনিধি---------- ভাবনিধি শ্রীগৌরাঙ্গের*
*আহা মরি আরে এএএএ-------*
*দ্বিতীয় কাট=*
*ওকি আ-----আ------হা----রে এএএএএ*
*তাল=মধ্যম*
*২|সুরধূনীর মাঝে যাইয়া----- আরে কিবা---*
*সুরধূনীর মাঝে যাইয়া-- নবীন নাবিক হইয়া----*
*সহচর মেলিয়া খেলায়।*
*ভাবনিধি গৌর আমার ----- সুরধূনীর মাঝে--*
*আহা মরি রে-----এএএএএ*
*শিকলি=*
*শ্রীবৃন্দাবন ভাব মনে করি*
*ভাব ময় শ্রী গৌরহরি*
*সেই ভাব সাগরে, পূর্ব রচিত ভাব সাগরে*
*হলো নবীন কান্ডারী।*
*শিকলি দ্বিতীয়=*
*এ কান্ডারী কোন কান্ডারী*
*এ যে কলি জীবের কর্ণধারী* *হাতে ধরি পায়ে পড়ি*
*সবাইকে বলাবে হরি।*
*সবাইকে বলাবে হরি-------------*
*কাউকে বাকী রাখবে নারে।।*
*কাট=*
*এবার) হরি বলায়ে পার করবে রে*
*কাউকে বাকী ------ কাউকে বাকী রাখবে নারে।*
*২| স্থাবর জঙ্গম কীট পতঙ্গম রে-------*
*কাউকে বাকী রাখবে নারে।।*
*রাগিনী=*
*আহা মরিরে------আহা মরিরে এএএএ*
*আহা মরিরে এএএএ-------আ------*
*সুরে=*আরে মোর আরে মোর গৌরাঙ্গ রায়।*
*সুরধূনী মাঝে যাইয়া, নবীন নাবিক হৈয়া,*
*সহচর মেলিয়া খেলায়।।*
*বড় একতালী*
*গৌর আমার-------------*
*নবীন কান্ডারী হয়েছে রে।*
*কলির)জীবকে পার করবে বলে।*
*কলির)জীবের দশা মলিন দেখে।*
*আজ আর ) কাউকে বাকী রাখবে নারে।।*
*ছুট একতালী*
*১|সুরধূনীর মাঝে*
*সুরধূনীর মাঝে যাইয়া,নবীন নাবিক হৈয়া,*
*সহচর মেলিয়া খেলায়।।*
*🌻কথা=*
*ভাবময় পদকর্তা বলছেন---, গৌর আমার কান্ডারী তো হয়েছেন,এ কান্ডারী যে আজই হয়েছেন তা নয়,এ কান্ডারী প্রতি যুগে যুগেই হয়ে এসেছেন হয়ত বা হবেও। কিন্তু নবীন কান্ডারী হল কেন? এবার নবীনওটা কি?না-- প্রতি যুগে যুগে কান্ডারী হয়েছেন বটে, কিন্তু যাদের পার করেছেন বা ওপারে নিয়ে গিয়েছেন,নিয়ে গিয়ে সময় ফুরিয়ে গেলেই পুনরায় এ পারে তাদের আসতে হয়েছে। কিন্তু এবারে এই নবীন কান্ডারী হয়ে যাদের পার করেছেন----*
*🍀আখর=*
*তারা আর) ফিরে আসবে না*
*হরি বোলে যারা পারে গেছে*
*প্রাণ গৌর তোমার হলেম বোলে।।*
*🏵কথা=*
*ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, এটি হলো গৌরসুন্দরের নবীনও। অর্থ্যাৎ গৌরসুন্দর আমার কৃপা করে,এই কামনা বাসনারূপ সাগর পার করে ওপারে নিয়ে গিয়েছেন, নিয়ে গিয়ে নিজ সেবা অধিকার দিয়ে অপার্থিব প্রেম সাগরে নিমজ্জিত করেছেন।*
*🌺তাই ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন যে,এ হেন সুযোগ পেয়েও যারা হেলায় হারান তারা আত্মঘাতি হন।কেমন আত্মঘাতি?না, শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশ স্কন্ধে বিংশ অধ্যায় উল্লেখ আছে----*
*🌷নৃদেহ মাদ্যং সুলভং সুদুর্লভং।*
*🌷প্লবং সুকল্পং গুরু কর্ণধারম্।।*
*🌷ময়ানু কূলেন নভেস্বতেরিতং পুমান্।*
*🌷ভবাব্ধিং তরেৎ স আত্ম হা।।*
*🍀এই দেহ সব ফলের মূল ও কার্য্যসাধন পটু,এই নৌকারূপ দেহের কর্ণধার গুরু আমি,সর্বোপরি আমি অনুকূল বায়ুরূপে প্রবাহিত হয়ে ইহা চালিয়ে থাকি, এহেন অনেক যত্নলভ্য অথচ যদৃচ্ছাপ্রাপ্ত দেহ লাভ করে যে ভবপারের জন্য প্রযত্ন না করে,সে আত্মঘাতী।*
*ভাবাবিষ্ট পদকর্তা আরও বলছেন যে গৌর গোবিন্দ লীলা হ'ল দুটি ধারা, একটি হ'ল স্বমাধুর্য্য আস্বাদন, অপরটি হ'ল জীব শিক্ষা। তাহলে জীবশিক্ষা এ পর্যন্ত হলো। এইবার স্বমাধুর্য্য আস্বাদন করব।*
*১|প্রিয় গদাধর সঙ্গে,পূরব রভস রঙ্গে,*
*নৌকায় বসিয়া করে কেলি।*
*🌹আখর=*
*আনন্দ ধরে না।*
*আনন্দ ধরে না।*
*আনন্দ ময় গৌর হরির সেই পূরবের ভাব মনে করে।।*
*২|ডুবু ডুবু করে না',বহয়ে বিষম বা',*
*দেখি হাসে গোরা বনমালী।।*
*🌺কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন--, গৌরসুন্দর আমার দুই প্রকার ভক্ত নিয়ে এই মন্ডলী করে নৌকায় উঠেছেন,উঠে গৌর আমার এতই ভাবে বিভোর হয়েছেন যে নিজেই নৌকাখানি দোলাচ্ছেন।*
*🌹আখর=*
*দোলাইতে লিগিলেন।*
*মহাভাবের তরণী খানি।*
*প্রেম সমুদ্র মাঝে।।*
*🌺কথা= নৌকাখানি ডুবু ডুবু দেখে--*
*১|কেহ করে উতরোল,ঘন ঘন হরিবোল,*
*দুকুলে নদীয়ার লোক দেখে।*
*🌺কথা=নৌকাখানি ডুবু ডুবু দেখে,যারা ভক্তিহীন ভক্ত তারা ডুবে ম'লাম ডুবে ম'লাম বলে চিৎকার করছেন।আর যাঁরা নাকি আমার গৌরসুন্দরের অন্তরঙ্গ ভক্ত তাঁরা----*
*🌹আখর= হরিবোল বলছে।*
*গৌর বদন নিরখিয়া।*
*প্রেমানন্দে বাহু তুলে।।*
*🌺কথা=আরও বলছেন----*
*🌹আখর=যেন ডুবায়ে রেখ হে।*
*তোমার) প্রেম সিন্ধু মাঝে।*
*সদাই যেন ) সাঁতার খেলতে পারি।।*
*২|ভুবন মোহন নেইয়া,দেখিয়া বিবশ হইয়া,*
*যুবতী ভুলিল লাখে লাখে।।*
*🌹আখর= তারাই ভুলেছে।*
*যারা যুবতী হয়েছে।*
*পুরসত্তা )অভিমান ছেড়ে দিয়ে।*
*অন্তর মুখী হয়েছে।।*
*🌺কথা=যদি বলেন অন্তর মুখী কেমন? বহির্মুখীই বা কেমন? তার প্রমাণ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন---*
*🌷বহির্মুখী জীবের নাই কৃষ্ণ স্মৃতি জ্ঞান।*
*🌷এ কারণে কৈলেন বেদ আর পুরাণ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ বহির্মুখী ধারায় জগৎ সৃষ্টি হচ্ছে।এই ধারা অর্থাৎ এইটি,আত্মসুখ জনিত ধারা। এতে ইষ্টসুখ অর্থ্যাৎ গৌর সেবার নাম গন্ধ টুকুও নেই।যাঁরা সদ্ গুরু আশ্রয় করে শ্রীগুরুর শ্রীপাদপদ্ম হৃদয়ে ধারণ করে অন্তর মুখী হয়ে হা গৌর বলে কাঁদতে পেরেছেন।*
*🌹আখর= তারাই তো ডুবেছে।*
*গৌর প্রেম রসার্ণবে।*
*সৎ ) গুরু চরণ হিয়ায় ধরে।।*
*১|জগ জন চিত চোর, গৌর সুন্দর মোর,*
*যে করে তাহাই পরতেক।*
*২|কহে দীন রামানন্দে,এ হেন আনন্দ কন্দে,*
*বঞ্চিত হইনু মুই এক।।*
*জামালী---মধ্যম*
*🙌গৌরচন্দ্রিকা এখানেই রইল।*
*🌹ব্রজলীলা নৌকা বিলাস।*
*তাল=তেওট*
*সখা গণ---গণ সঙ্গ ও ছোড়ি যদুনন্দন*
*কাট, প্রথম,*
*আর তো খেলা ভাল লাগে নারে।*
*২|প্রাণ যেন )কেমন কেমন কেমন কেমন করে রে*
*৩| উদ্দীপনের বদন দেখে রে*
*৪|আর যে ধৈরজ ধরতে, আর যে ধৈরজ ধরতে নারি রে।*
*তাল=ছোট দশকুশি*
*চলতহি নাগর রাজ।*
*তাল=মধ্যম*
*শ্যাম আমার চলে যায় ও চলে যায়*
*সখা গণের সঙ্গ ছাড়ি।*
*রাধা বদন উদ্দীপন হয়ে*
.*উদ্দীপনের বদন দেখবে বলে।।*
*🏵কথা=শ্রীনন্দ নন্দন যশোদাদুলাল ব্রজ বল্লভ শ্যামসুন্দর আজ সকালে সখাদের সঙ্গে গোচারণে এসেছেন।গোচারণে এসে শীতল তরুর ছায়ায় বিপিন খেলায় মেতে আছেন।খেলতে খেলতে হঠাৎ মরম সখা সুবলের বদন দর্শন করা মাত্রই অমনি রাধারাণীর বদনখানি উদ্দীপন হয়েছে।কারণ টি কি?না,কারণ হল মরম সখা সুবলের বদন হল রাধারাণীর বদনের মত।ঐ রাধা বদন যখনি উদ্দীপন হয়েছে অমনি সখ্যরসের খেলা আর ভাল লাগছে না।তখন খেলা ভেঙ্গে দিয়ে যে পথে গেলে রাধা বদন দর্শন পাবে,শ্যামসুন্দর আমার সেই পথ ধরে চলে যাচ্ছেন।এমন সময় ঐ মরম সখা সুবল ছুটে এসে কানাইয়ের পথ আগলিয়ে দাঁড়িয়ে বলছেন,*
*🌻সুরে= ভাই কানাইরে------ আমরা সব রাখালগণে মিলিত হয়ে সকালবেলা মাকে বলে কয়ে, কত হাতে ধরে,পায়ে পরে তোকে আমরা বনে এনেছি ভাই----- কেন জানিস?না,আমরা বনে এসে তোকে মাঝে রেখে আমরা খেলা পাতি,আর খেলার মাধ্যমে ঘুরে ঘুরে তোর ঐ অলকাবৃত বদনখানি দেখতে পাই ভাই। কিন্তু এমন করে,এমন সুন্দর খেলা ভেঙ্গে দিয়ে কোথায় চলেছিস ভাই?*
*🏵সুরে=শ্যামনাগর বলছেন--,ভাই সুবলরে------ তুই যে আমার মরম সখা----- আমি যে কেন খেলা ভেঙ্গে দিয়ে চলে যাচ্ছি,মুখে বলবার কথা নয়-----, আয় আয় আমার কাছে আয়, এই বোলে কানাই সুবলকে আলিঙ্গনবদ্ধ করেছেন আর কানে বদন দিয়ে বলছেন---*
*তাল=মধ্যম*
*তোর মুখ দেখে মুখ মনে ------ মনে পরলরে-- ওরে আমার মরম সখা--।*
*১|সখারে----- আমার আর যে খেলা ভাল লাগে নারে*
*২|ঐ বদন দরশন বিনে----*
*🏵কথা=তখনি মরম সখা সুবল কানাইয়ের মরমের ভাব বুঝতে পেরে অমনি পথটি ছেড়ে দিয়েছে।তবে ও পথ আবদ্ধ করবার মত সাধ্য একমাত্র সুবলেরই আছে।কারণ, কারণ হলো--- সুবল একে হলো কানাইয়ের মরম সখা। তারপর আবার হল প্রিয়নর্ম্মসখা।*
*🌹কৃষ্ণের সখা হল পাঁচ প্রকার। উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে নায়ক সহায়ে ৪৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে--*
*চেটক, বিট, বিদুষক, পীঠমর্দ্দ ও প্রিয়নর্ম্ম, এই পাঁচ প্রকার মধ্যে তিন প্রকার প্রধান। এদের গুণ কি?*
*১|পরিহাস বাক্য কথনে নিপুনতা।*
*২|সর্বদা গাঢ় অনুরাগিত্ব।*
*৩|দেশ কালের অভিজ্ঞতা।*
*৪|গোপীগণ রুষ্ট হলে প্রসন্নতা করতে পারে।*
*৫|নিগূঢ় মন্ত্রণা দেওয়া ইত্যাদি।*
*🍀এদের মধ্যে প্রধান তিনটির গুণ কি কি?*
*প্রধান হল বিদূষক,পীঠমর্দ্দ ও প্রিয়নর্ম্ম।*
*😄বিদুষক সখার গুণ।*
*বসন্তাদ্যভিধো লোলো ভোজনে কলহপ্রিয়ঃ।*
*বিকৃতাঙ্গ বচো বেশৈর্হাহ্যকারী বিদুষক।।*
*🌻অর্থ্যাৎ যে ব্যক্তি ভোজন বিষয়ে অত্যন্ত লোলুপ ও কলহপ্রিয়, এবং দেহ বেশ ও কথার বিকৃতি করে লোকের কাছে হাস্যকারী হয়,তাকে বিদুষক বলা হয়। (মধুমঙ্গল হলেন বিদুষক সখা)।*
*পীঠমর্দ্দ সখার গুণ*
*গুণৈর্নায় ককল্লোয়ঃ প্রেম্না তত্রানুবৃত্তি মান।*
*পীঠমর্দ্দ স কথিতঃ শ্রীদাম স্যাদযথা হরে।।*
*🌻অর্থ্যাৎ যে ব্যক্তি কৃষ্ণ তুল্য গুণবান হয়েও সেই কৃষ্ণেরই অনুবৃত্তি কারী হয়, তাকে পীঠমর্দ্দ সখা কহে। (শ্রীদাম সখাই হলেন পীঠমর্দ্দ সখা)।*
*আর প্রিয় নর্ম্ম সখা কাকে বলে?*
*অত্যান্তিক রহস্যজ্ঞঃ সখিভাব সমাশ্রিতঃ।*
*সর্বেভ্যঃ প্রণয়িভ্যো হসৌ প্রিয় নর্ম্ম সখৌ বরঃ।।*
*স্ব গোকুলেতু সুবলস্তথা স্যাদর্জুনা দিকঃ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ অত্যন্ত রহস্যজ্ঞ ও সখি ভাবাশ্রিতা এবং প্রণয়ীগণ মধ্যে অত্যন্ত প্রিয় তাকে প্রিয় নর্ম্ম সখা বলে। (গোকুল মধ্যে সুবল এবং দ্বারকায় অর্জুন,ইঁহারাই কৃষ্ণের প্রিয় নর্ম্ম সখা)।*
*তা এই সুবল এই বৃন্দাবনে মাধুর্য্যময় কৃষ্ণপ্রেম সরোবরে এমন ভাবেই নিমজ্জিত হয়েছেন যে উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে ৪৯ পৃষ্ঠায় নায়ক সহায় মধ্যে সনাতনী টীকায় উল্লেখ আছে যে--*
*🌹একদিন শ্রীরূপ মঞ্জরী নিজ সখীকে কহিলেন সখী! সুবল শ্রীকৃষ্ণের কোন সেবার অধিকারই না পেয়েছেন। দেখ কৃষ্ণ প্রেয়সীগণ শ্রীকৃষ্ণ সনে খেলা করতে করতে কলহ করে সেখান থেকে চলে গেলেন, ঠিক এমনি সময়ে সুবল ছুটে গিয়ে নানান বিনয় বাক্যে তাদের ফিরিয়ে এনে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে মিলিয়ে পুনঃ মিলন করান।*
*🌻সব জায়গায় বলা চলবে না।*
*🌺আরও নিগূঢ় তত্ত্বে বলেছেন যে,শ্রীরাধাগোবিন্দের নিভৃত নিকুঞ্জ গৃহে অপূর্ব কন্দর্প লীলাচিত শয্যা রচনা করে দিয়েছেন বা দেয়।*
*🌹আরও নিগূঢ় তত্ত্বে বলেছেন যে,যখন শ্রীগোবিন্দ আমার স্বরসমরে ক্লান্ত হয়ে প্রেয়সীর হৃদয় পরিন্যাস্তাঙ্গ হন, তখন সুবল চামর গ্রহণ করে ব্যজন করতে থাকেন।*
*🏵কাজেই এমন সেবাধিকারী সুবল কৃষ্ণের হৃদয়ের ভাব অনুভব করে পথটি ছেড়ে দিলেন। যখনি পথ ছেড়ে দিলেন অমনি কানাই রাধা দর্শনের পথ পেয়ে---*
*তাল=লোফা*
*পদ*
*ভাবিনি মনরথে,চলত বিপিন পথে,*
*সাধিতে মনমথ কাজ।।*
*🌹আখর=*
*ধরে না রে।*
*আনন্দ আর ধরে না রে।*
*শ্রীরাধা দরশন পাবে বলে।।*
*পদ*
*তাল=কয়ালী*
*চতুর শিরোমণি কান।*
*হেরি যমুনার জল মনমথ উথলল,*
*🏵কথা=কানাই ব্রজ রাখালদের সঙ্গ ছেড়ে শ্রীযমুনার কিনারে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। দাঁড়িয়ে যমুনার জল পানে লক্ষ্য করে দেখছেন যে শ্রীযমুনা করজোড়ে শ্রীগোবিন্দের বদন পানে চেয়ে আছে।শ্রীগোবিন্দ যমুনার বদন পানে চেয়ে হঠাৎ একটা কথা মনে করলেন। মনে করেই শ্রীগোবিন্দ বলছেন--*
*🌻আখর=*
*আমার মনে পড়েছে।*
*তোমার) মন বাসনা।*
*রাইকে বামে লয়ে, পূরণ করব।*
*তোমার মনের বাসনা।।*
*🏵কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন যে, এই গোবিন্দের কাছে শ্রীযমুনা কি বাসনা করেছিলেন, না, বাসনা হ'ল এই যে-----*
*সুরে কথা= যেদিন শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় জন্মগ্রহণ করেন,সেদিন কি ভীষণ দুর্যোগ পূর্ণ রজনী।*
*🌷বৃষ্টি পরে ঘন ঘন তাতে অশনি গর্জন।*
*🌷হেন কালে জন্ম নিলেন শ্রীমধুসূদন।।*
*🍀পুত্রে মুখ দেখে দৈবকী ও বসুদেবের ভীষণ ভয় হল, হেন পুত্রের জীবন কেমন করে রাখব! রাত্রি প্রভাত হতে না হতেই সেই অত্যাচারী কংস এসে উপস্থিত হবে। দৈবকী ও বসুদেব পুত্র কোলে নিয়ে অত্যন্ত চিন্তা করছেন।এমন সময় শূন্যপথে দৈববাণী হ'ল।ঐ দৈববাণী শুনে বসুদেব নিজ পুত্র বক্ষে নিয়ে কারাগারের দরজায় এসে দেখেন, যোগমায়ার প্রভাবে দ্বার খুলে গেল, প্রহরীরা সবাই অচৈতন্য হয়ে পড়ে আছে, বসুদেব তখন অতি সন্তর্পণে কারাগার হতে বাহির হয়ে বৃন্দাবনের দিকে গমন করলেন।যেতে যেতে শ্রীযমুনার কিনারে দাঁড়িয়ে ঐ ঘনঘটা পূর্ণ ঘোর অন্ধকার রজনীতে এই খরতর যমুনা কেমন করে পার হবেন এই চিন্তায় বসুদেব আকুল হয়ে পরেছেন।এমন সময় যোগমায়া, যিনি এই শ্রীরাধাগোবিন্দের লীলার অঘটন-ঘটন-পটীয়ষী, তিনি এক শৃগালিনীর বেশে বাম দিক দিয়ে পদব্রজে যমুনা পার হয়ে যাচ্ছে। এই দেখে বসুদেব অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে ঐ শৃগালিনীর পিছন পিছন চলতে লাগলেন, এমন সময় যমুনা ঐ গোবিন্দের শ্রীচরণ পাবার জন্য ক্রমশ বাড়তে লাগল।বসুদেবের অত্যন্ত চিন্তা হল বুঝি যমুনার তরঙ্গে পুত্রধনকে আর রাখতে পারব না।এই ভেবে পুত্রকে মস্তকে তুলতে নিয়েছেন, এমন সময় বসুদেবের বক্ষ হতে শ্রীগোবিন্দ যমুনায় পড়ে গেলেন।যমুনা তখন শ্রীগোবিন্দের শ্রীচরণ হিয়ায় ধরে প্রেম হিল্লোলে ভাসতে লাগল।এদিকে পুত্রহারা বসুদেব পাগলের মত পুত্রকে খুঁজছেন। এবার শ্রীগোবিন্দ যমুনাকে বলছেন যমুনা! ও যমুনা ঐ দেখ আমার পিতা আমায় হারিয়ে কেমন পাগলের মত খুঁজে চলেছেন।এইবার আমায় ছেড়ে দাও।তখন যমুনা বলছেন, হে প্রাণ বল্লভ!তুমি তো জানো, তোমার ঐ শ্রীচরণ যে একবার হিয়ায় ধারণ করেছে সে কি কখন আর ছেড়ে দিতে পারে।তবে আমি তোমায় ছেড়ে দিতে পারি, যদি তুমি আমায় প্রতিশ্রুতি দাও প্রভু, শ্রীগোবিন্দ তখন বললেন, বল যমুনা তুমি কি প্রতিশ্রুতি চাও? যমুনা বললে হে প্রাণ বল্লভ! প্রাণ গোবিন্দ!তুমি শ্রীবৃন্দাবনে যাচ্ছ মানব লীলা করবার জন্য, আমার এই প্রার্থনা প্রভু! তোমার ঐ মাধুর্য্যময় লীলা যেন আমার বক্ষে সতত বিস্তার বা অনুষ্ঠিত হয়।আমি যেন তোমার ঐ মাধুর্য্যময় লীলা দর্শন করতে পারি।শ্রীরাইধনিকে বামে লয়ে আমার হৃদয় পরে যুগল হয়ে বিলাস করবে আর আমি----*
*🌹আখর=*
*নয়ন ভরে দরশন করব।*
*তোমার ঐ যুগল বিলাস।*
*আর,ঐ যুগল চরণ সেবা করব।*
*যুগল চরণ হিয়ায় ধরে।।*
*🏵কথা= শ্রীগোবিন্দ বললেন, তথাস্তু। তখনি যমুনা অমনি ছেড়ে দিলেন, বসুদেব তখন পুত্র পেয়ে, যমুনা পার হয়ে বৃন্দাবনে এলেন।সেই যে প্রতিশ্রুতির কথা আজ হঠাৎ মনে পড়েছে। অমনি শ্রীগোবিন্দ ত্রিভঙ্গ বঙ্কিম ঠামে দাঁড়িয়ে অধরে মুরলী ধরে----*
*পদ*
*পূরল মুরলী নিশান।*
*তাল=মধ্যম*
*🌹আখর=*
*মুরলী ধরে বাজাইতে--------*
*মুরলী বাজাতে লাগলোরে শ্যামসুন্দর।*
*প্রেমময়ী, রাধা দেখা------ দাও বোলে।*
*অদর্শনে প্রাণ থাকে না।।*
*🏵কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বললেন যে,ঐ যে শ্রীগোবিন্দ আমার মুরলী ধ্বনি করলেন, এই মুরলীধ্বনির দুইটি ধারা, একটি হল গোপী চিত্ত আকর্ষণ করা, অপরটি হল এই লীলায় যে সহায়কারিণী যোগমায়া বড়ি মাই। অর্থ্যাৎ ইনি হলেন বৃন্দাবনে সান্দিপনী মুনির পত্নী,ইনার দুই কন্যা,এক পুত্র।বীরা ও বৃন্দা এই দুই কন্যা, আর পুত্র হলেন মধুমঙ্গল। এঁরা সবাই মিলে সদাসর্বদা শ্রীকৃষ্ণ লীলায় যোগ করেছেন।কাজেই শ্রীগোবিন্দ ঐ যোগমায়া বড়িমাইকে মুরলীধ্বনিতে আকর্ষণ করেছেন।মুরলীধ্বনি শ্রবণ করা মাত্র যোগমায়া এসে কৃষ্ণের কাছে উপস্থিত হলেন।বললেন হে গোবিন্দ!বলো তোমার কি বাসনা?*
*🌺সুরে=শ্রীগোবিন্দ আমার বলছেন-----মাগো আমার------- মনে বড় সাধ------অদ্য আমি শ্রীমতীরাইধনিকে বামে নিয়ে সখীসহ শ্রীযমুনার মাঝখানে নৌকায় বিলাস করব।তুমি মা কৃপা কোরে সখীগণ সহ আমার প্রেমময়ী রাধারাণীকে মিলিয়ে দাও এবং সুন্দর করে আমার রাই বিলাসের একখানি তরণী সৃজন করে দাও।তখন যোগমায়া গোবিন্দের মনোবাসনা পূরণের জন্য-----*
*সৃজিল তরণী খানি,প্রবাল মুকুতা আনি,*
*মাঝে মাঝে হীরার গাথনি।*
*🌹আখর= তরণী সৃজন কৈলেন।*
*রাধা, গোবিন্দের বিলাসের তরী।*
*বড়াই মাই, বড় সাধে সাধে।।*
*পদ*
*শিখি পুচ্ছ গুঞ্জাছড়া,রজত কাঞ্চনে ভরা,*
*কেরোয়াল রজত কিঙ্কিণী।।*
*🏵কথা= কেরোয়াল অর্থ্যাৎ নৌকার হাল।*
*যোগমায়া যখন হালের সঙ্গে ডুরি বেঁধে দিলেন,অমনি ঐ ডুরির সঙ্গে যমুনার জলের একটা যোগ লেগে কিঙ্কিণী কিঙ্কিণী শব্দ উঠছে।ঐ শব্দ শুনে পদকর্তা বলছেন যে, হে জগৎবাসী! তোমরা শোন ঐ তরণীর তারে আনন্দে বাজছে বা ডেকে বলছে, কি বলছে?*
*🌹আখর=কিং কিনি কিং কিনি।*
*এই রসের বাজারে এসে।*
*রাই কিনি না শ্যাম কিনি।।*
*🏵কথা=সখী ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, শুধু রাই কিনেও সুখ হবে না, আবার শুধু শ্যাম কিনেও সুখ হবে না।কাজেই সুখ পেতে হলে---*
*🌺আখর=আমরা যুগল কিনিব।*
*এই রসের বাজারে এসে।*
*রাধা গোবিন্দের যুগোল।।*
*🌻কথা=উপস্থিত বৈষ্ণব ভক্তগণ,মা এবং বোনেরা চিন্তা করুন আজ আমরা এসেছি কোথায়, না রসের বাজারে তাইনা?এই রসের বাজারে আমরা কি নেব? না,নেয়ার মত এ বাজারে আর কিছুই নেই। আছে শুধু অপার্থিব মাধুর্য্যময় যুগলসেবা।*
*🍀অন্য বাজারে যার পয়সার জোর বেশী যে তাড়াতাড়ি ভাল ভাল জিনিসগুলো কিনে নেয়, কিন্তু এ বাজারে বিনামুল্যে কিছু মিলবে না।যদি বলেন এ বাজারে এসেও যদি পয়সা লাগে তাহলে তো বড়ই মুশকিল। তবে এখানে পয়সা লাগে না কিন্তু কড়ি লাগে। কারণ কড়িতেই তরী।এই কড়ি কেমন, না, বিশুদ্ধ প্রেমভক্তি কঅই।এই কড়ির যাঁর জোর আছে,সে অনায়াসে যুগোল সেবা কিনে নিয়ে নিজ ঘরে গিয়ে রসে প্রাণ ভরে যুগল সেবা করবেন। যদি বলেন,যার ভক্তিদেবীর জোড় আছে সে না হয় কিনে নিয়ে গেল,আর যার ভক্তি জোড় নেই,সে কি শুধু খালি হাতে ফিরে যাবে? না-----*
*🌺আখর=*
*তারা বসে বসে কাঁদ কাঁদ।*
*যাদের কোন সম্বল নাই গো।*
*প্রাণ গোবিন্দ তোমার হলেম বলে।।*
*যাদের, আর কিছুই নাই কাঁদাই ভাল।*
*যদি, কাঁদার মত কাঁদতে পার।।*
*সৎগুরু চরণ হিয়ায় ধরে।।*
*সুরে== দেহ মন প্রাণ এক করে ভগবানের সামনে বসে দুইটি নয়নজলে ভেসে হৃদয় খানা পেতে দিয়ে যদি প্রিণ খুলে বলতে পার, হে প্রাণ বল্লভ, প্রাণ গোবিন্দ, এই আমি হৃদয় মন্দির বিছিয়ে দিয়েছি, এই হৃদয় কারাগারে অবস্থান কর।এই কারাগারে আবব্ধ করে নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে আমার নিজ পরিজন বেষ্টিত হয়ে সবাই মিলে---*
*🌻আখর=*
*প্রাণ ভরে সেবা করব।*
*নিরালা নির্জনে বসে।*
*হা-রাধা, গোবিন্দ তোমার হলেম বলে।।*
*🌺কথা=তাই সখীভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন যে,অদ্য আমরা রসের বাজারে এসেছি। ঐ ঐ যোগমায়ার সৃজিত তরণীর ডূরিতে যদি যুগল কিনতে পারি তাহলে আমাদেরও তো শ্রীরাধাকৃষ্ণ বিলাসের উপযুক্ত এই দেহতরী আছে।এই হৃদয় বীণার তারে সুর ধরে যদি একবার হা রাধা গোবিন্দ বোলে বাজাতে পারি তাহলে---*
*🏵আখর=*
*আমরাও যুগল কিনে নেব।*
*এই রসের বাজারে এসে।।*
*🌹কথা=মেলাতে গিয়ে যদি কেউ মাটির যুগলমূর্তি কিনে নিয়ে যায় তবে সে রাখে কোথায়?না, ভেঙ্গে যাবে বোলে হৃদয়ে ধরে নিয়ে যায়।আমরাও----*
*🍀আখর=*
*এই হৃদয়ে ধরে নিয়ে যাব।*
*অতি, সযতনে যুগল মূরতি।।*
*🏵কথা=তাই পদকর্তা বলছেন--- রসের বাজারে সবাই কিনি কিনি বলছে।তাই ঐ তরণীরও----*
*পদ*
*কেরোয়ালে রঞ্জিত কিংকিনি।*
*🌼সুরে=*
*তপন তনয়া নীরে,তরণী লইয়া ফিরে,*
*বিদগধ নাগর রাজ।*
*🌲কথা=সূর্য্যকন্যা যমুনার মাঝে শ্রীগোবিন্দ আমার তরণীতে উঠলেন নাবিক বেশে বিচরণ করছেন।*
*🍀সুরে=*
*গোবিন্দ দাস ভণে,কি আনন্দ হল মনে,*
*ঝুনুর ঝুনুর নূপুর বাজ।।*
*🌼এইবারে অঘটন-ঘটন-পটীয়সী যোগমায়া জটিলার মন্দিরে এসে রাধারাণীর কাছে উপস্থিত হয়েছেন।দেখছেন, রাধারাণী সখীগণ পরিবেষ্টিতা হয়ে,শ্রীগোবিন্দের মুরলী ধ্বনি শুনে,বসে বসে কাঁদছেন। কি বলে কাঁদছেন-- আর বলছেন-----*
*🌲সুরে=আমি কেমন করে ----- আমার------বঁধূর--------মুরলী রঞ্জিত বদন------দরশনে যাব। এমন সময় বুড়িমাই এসে বলছেন,ও নাতিনি বধূ দরশনে যাবি না?রাইধনি বলছেন, বুড়িমাইগো-----*
*🏵সুরে=তুমি যখন এসে পড়েছ------- তখন------- বধূ দরশনে যাবার উপায়------ তুমিই করে দাও গো-------তোমার কৃপা ছাড়া গোবিন্দ দরশনের আর কোন উপায় দেখি না। বড়াই বললেন---- আমি এখুনি জটিলির কাছ হতে আদেশ নিয়ে আসছি। এই বোলে জটিলার কাছে গিয়ে বলছেন---- ও জটিলে-------মথুরার হাটে বিকিকিনি করতে যাবি না? জটিলা বললেন, আমি বয়স্কা আমি তো যেতে পারব না, তবে কি কুটিলা যাবে? তখন জটিলা বলছেন, কুটিলা যদি হাটে যায়, ভরা হাট ভেঙ্গে দিবে।বুড়িমাই বললেন তাহলে কি হবে, পুনঃ বললেন তাহলে আজ তোর বধূকে নিয়ে মথুরায় বিকিকিনি করতে যায় কেমন?*
*🌻কথা=জটিলা বলছেন ভাল,আমিও তাই ভাবছিলাম যে আজ বধূকেই পাঠাই। তখন বড়াই বলছেন,নতূন হাটে তোর বধূকে নিয়ে যাব। জটীলা ববলছেন, যদি নতূন হিটে যাও তবে,আমার বধূকে বলো যে যখন পসরা নিয়ে ঘরের বাহির হবে তখন যেন আমাদের কুলদেবী শ্যামা-মা আছেন তার জয় দিয়ে যেন যায়।বড়াই বললেন,তার জয় দিলে কি হবে?জটিলা বললেন, বেশী লাভের সম্ভাবনা থাকবে। ঐশ্বর্য্যবতী মা কিনা!তাই মায়ের জয় দিলে ঐশ্বর্য্য হবে।বড়াই বললেন তাই-ই হবে। এই বোলে বড়াই ফিরে এসে রাধারাণীকে এবং সখীদেরকে বললেন আজ বিকিকিনির ছলে আমরা গোবিন্দ দরশনে যাব।তোরা যার যা পসরা সাজিয়ে নে।*
*পদ*
*তাল=কয়ালী*
*দধি দুগ্ধ ঘৃত ঘোলে সাজায়ে পশরা।*
*🌲আখর= সাজাইতে লাগিল।*
*যার যার পশরা খানি।*
*বিকি কিনি করবে বলে।।*
*🏵কথা=দধি,দুগ্ধ,ঘৃত ও ঘোল--, এই এক একটি রস দিয়ে এক একটি পাত্র পূরণ করলেন। চারটি রসের পাত্র একত্রিত করে একটি করে পশরা সাজাতে লাগিল।এ পশরা হল বিকিকিনির পশরা।পদকর্তা বলছেন, আমরা জানি যে ব্রজের পাঁচটি রস। তাহলে চারটি রস দিয়ে পশরা সাজালেন কেন?আর একটি রস কে বা কোথায় থাকল? তাহলে বৃন্দাবনে কি দাস্য,সখ্য,বাৎসল্য ও মধুর এই চারটি রস।আর একটি রস অর্থ্যাৎ শান্তরস কি বৃন্দাবনে নেই?তখন পদকর্তা বলছেন,না, একটি রসও আছে।সে রসটি কোথায়? না, সে রসটি---*
*🌼আখর=শান্ত রসের পাগ বেঁধেছে।*
*🌹কথা=পাগটি কেমন?না, আমাদের দেশের ঘোষ মহাশয়গণও প্রত্যেকটি রস পাত্রের নিচে একটি করে বিড়ে বা বিড়া বেঁধে দিয়ে তার উপরে পাত্রটি বসিয়ে রাখে।কেন? না----*
*🌺আখর=*
*পশরা টলে পরবে না।*
*এই বৃন্দাবনের পথে যেতে।*
*বৃন্দাবনের পথে যেতে,যার২ পশরা।।*
*🍀কথা=খুব সাবধান, কারণ পশরা যদি টলে পড়ে যায়,তাহলে আর রসের বাজারে বেচা কেনা হবে না। গোবিন্দ সেবায়ও লাগবে না।তাই পশরা স্থিত বা শান্ত রস সাবধানে রাখতে হলে প্রথমেই ধীর-স্থির শান্ত রসটি আগে চাই। এ তো একটি করে পশরা হল।তার সঙ্গে আর একটি করে পশরাও----*
*🌹আখর=সাজাইতে লাগিল।*
*এই পঞ্চরসের পশরা খানি।*
*গোবিন্দ, সেবায় লাগবে বোলে।।*
*🏵কথা=রাধারাণী ও সখীগণ সকলেই বলছেন--*
*দাস পারিয়া*
☆☆☆☆☆☆
*যেন তোমার সেবায় লাগে হে।*
*অতি যতন করে পশরা সাজালাম।*
*প্রাণবল্লভ, তোমার সেবায় লাগবে বলে।*
*ওহে প্রাণ বঁধূ, এইতো ঘরের বাহির এলাম।।*
*পদ*
*দধি দুগ্ধ ঘৃত ঘোলে সাজাইয়া পশরা।*
*মথুরায় বিকে চলে যত ব্রজবালা।।*
*🌺কথা=যার যার পশরা মাথায় তুলে নিয়ে এইবার ঘরের বাহির হচ্ছে, এমন সময় বড়িমাই বলছেন ও নাতিনী শুন শুন, তোর শ্বাশুড়ী ঠাকরুণ বলেছেন যে,তুই যখন পশরা নিয়ে ঘরের বাহির হবি তখন তোদের যে কুলদেবী শ্যামা-মা আছেন তাঁর যেন জয় জয় দিয়ে যাস। রাইধনি বললেন, ঐ শ্যামা মায়ের জয় দিলে কি হবে?বড়াই বলছেন,অনেক বেশী লাভ হবে রে, কি বেশী লাভ হবে? তখন রাধারাণী বলছেন,ও ললিতে তুই জয় দে, ললিতা বলছেন, হেইমা, মলেম আর কি?আমি ওসব পারব না। বড়াই বলছেন, তা হলে হয়ত আর যাওয়াই হবে না।ললিতা বলছেন,যাওয়া হয় হোক আর না হোক, আমি জয় দিতে পারব না।*
*🍀রাধারাণী বলছেন, ও বিশাখা তুই জয় দে না? বিশাখা বলছেন হেই-মা আমি পারব না বাপু শেষে কি বলতে কি বলব তাতে হয়ত যাওয়াই হবে না।তোদের কুলদেবী তুই জয় দে। আমাদের কুলও নেই,আমাদের দেবীও নেই, আর আমাদের জয় পরাজয়ও নেই। রাইধনি তুই জয় দে। আমরা সবাই তোর মঙ্গলের জন্য সকলেই তোর সঙ্গে জয় দিব।তখন রাইধনি চিন্তা করলেন যে,যদি জয় না দিয়ে যায় তাহলে যে দর্জাল শ্বাশুড়ী হয়ত মাঝ রাস্তা হতে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। কাজেই আমি জয় দিব। সখী! তোরা যেন সবাই আমার সঙ্গে জয় দিস।এই বোলে রাইধনি জয় দিচ্ছেন----*
*🏵আখর=*
*শ্যামা মার শ্যাম আমার।*
*তোরা সবাই মিলে বল সখী।।*
*🌹কথা=তখন সখী দেখলেন, রাধারাণী সর্বনাশ করল। অমন করে শ্যাম আমার শ্যাম আমার বলে চিৎকার করল নিশ্চয়ই কোন অঘটন হবে।আর হয়ত গোবিন্দ দরশনে যাওয়াই হবে না।কাজেই চতুরা সখীগণ ঐকথা ঢাকবার জন্য সবাই মিলে উচ্চকন্ঠে বদন ভরে জয় দিতে লাগলেন, আর বলছেন---*
*শ্যাম আমার শ্যাম আমার।*
*সখী সব, বদন ভরে জয় দাও বলো।*
*জয় দিলে জয় হবে।*
*বদন ভরে জয় দাও।।*
*🌻কথা=ঐ জয়ধ্বনি শুনে,গৃহমধ্য হতে হাত তুলে জটিলা আশীর্বাদ করছেন---*
*🏵আখর=যেন পূরণ হয় গো*
*বধূ তোমার মনো বাসনা।*
*আমি প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করলাম।।*
*পদ*
*মথুরার বিকে চলে যত ব্রজবালা।*
*🌹আখর=*
*তারা, সারি সারি চলেছে।*
*কেহ আগে কেহ পিছে।*
*কৃষ্ণ নামের সারী গেয়ে।।*
*🌼কথা=কৃষ্ণ দরশনে চলেছেন,তাতে আগে পরে কেন?*
*🏵আখর=আগে পিছে চলেছে।*
*যার যেমন অধিকার।*
*যার এমন ভজনে গতি তার তেমন অধিকার।।*
*মরালিনী চলেছে।*
*সাগরে খেলবে বোলে।*
*কৃষ্ণ, প্রেম সাগর মাঝে।।*
*🌲কথা= ইহ জগতেও তাই, যার যেমন ভজনের গতি,তার সেই গতি অনুযায়ী অধিকার হবে।আর এই অধিকার অনুযায়ী সেবা স্থান পাবে।*
*পদ*
*তপনক তাপে,তাপিত ভেল মহীতল,*
*বালুকা দহন সমান।*
*চড়ই মনরথে,ভাবিনী চলু পথে,*
*তাপ তাপি কিছু নাহি মান।।*
*🌹আখর=তাপ লাগে না।*
*অগম্য পথে চলেছেন।*
*বৃষভানু রাজ নন্দিনী।।*
*পদ*
*প্রেমক গতি দুরবার।*
*🏵আখর=এই তো রীতি।*
*কৃষ্ণ প্রেমের।*
*উর্দ্ধ মুখে হয় তার গতি।।*
*পদ*
*নবীনা যৌবনা ধনি,চরণ কমল জিনি,*
*তবহি করল অভিসার।।*
*সতীগণ সৌরভ,গুরুজন গৌরব,*
*তৃণ করি না মানল বাধা।*
*ছুটল মন মাহা, মন্মথে মাতল,*
*ডুবল কুল সবিসাদা।।*
*প্রখর রবির তাপে,চলিয়া যাইতে পথে,*
*ঘামিয়াছে ও মুখ শশী।*
*শীতল তরুর ছায়,রহিয়া রহিয়া যায়,*
*যমুনাতে দেখা দিল আসি।।*
*🌻কথা=সখীগণ বেষ্টিতা হয়ে,রাইধনি আমার বড়িমায়ের সঙ্গে যমুনা পুলিনে এসে দাঁড়িয়েছেন। দাঁড়িয়ে বলছেন-- বড়াই ও বড়াই----*
*🌹আখর=তারে তো দেখি না।*
*যার লাগি এই বিকিকিনি।*
*পশার, কেবা কিনিবে।।*
*🌻কথা=রাইধনি যমুনার পুলিনে এসে প্রাণবল্লভ, প্রাণবধূকে যমুনার তটে তটে খুঁজছেন এবং দূরে লক্ষ্য করছেন।এদিকে শ্রীযমুনা কিন্তু কুল ভেঙ্গে দূর করতে না পেরে জলোচ্ছাস করে দুইকুল ঝেপে দিয়ে রাধারাণীর পদ প্রান্তে এসে শ্রীপাদপদ্ম স্পর্শ করেছেন।অমনি রাইধনি চমকে উঠে নিজ চরণ পানে লক্ষ্য করে সখীদের বলছেন---*
*🏵লোফা🏵*
*রাই কহে নিকটে জল পশরা সব তিতে।*
*কোথা হতে এলো জল একি আচম্বিতে।।*
*একদিকে গোপীগণ যমুনা পানে চায়।*
*তরী আরোহিত হরি দেখিল তথায়।।*
🌹কথা=যখন রাইধনির দুটি নয়ন গিয়ে শ্রীগোবিন্দের রূপ সাগরে পরেছে,অমনি রাইধনি মনে করছেন,বুঝি আমি একাই দেখেছি, কিন্তু তা নয়। সখী ও বড়াই সকলের লক্ষ্য গিয়ে একসঙ্গে রাধা বল্লভ শ্যামনাগরের উপর পরেছে।তখন রাধারাণী লক্ষ্য স্থির রেখে বড়াইকে ডেকে বলছেন, ও বড়ি মাই--- ঐ দেখ-----*
*পদ=তিন*
*তাল=কাটা দশকুশী*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*তরণীতে তরুণ তমাল।*
*শিকলি=*
*একবার চেয়ে দেখ গো বড়াই।*
*বড়াই গো, তরীর নাবিক বড় দয়াল বটে,*
*আরোহীদের বড় দুঃখ দেখে*
*একটি নবীন তমাল তরু,তরু এনে বসায়েছে,*
*চেয়ে দেগ গো বড়াই।*
*বড়াই গো--আরোহীগণ সংসার তপন তাপে,*
*তাপিত হয়ে, ত্রিতাপ জ্বালায় জ্বলে পুড়ে,*
*তরুণ তমাল তলে, তলে বসে বসে প্রাণ জুড়াবে।*
*চেয়ে দেখ গো বড়াই।*
*বড়াই গো--বড়াই আমার দৃষ্টির ভ্রম,কি মনের ভ্রম,তমাল গাছে গুণে দেখলাম, এখন তমাল গাছে এক এক বৃন্তে বৃন্তে থোকা থোকা চাঁদ ধরেছে।।*
*🏵কাট=*
*তার রূপে দুকূল আলো করেছে।*
*রূপ দেখে প্রাণ জুড়াইল।।*
*এমন রূপ তো দেখি নাই গো।।*
*একতালী বা কয়ালী*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*তরুণীতে তরুণ তমাল।*
*কিয়ে নব জলধর,অঙ্গে কত বিধুবর,*
*রূপেতে করেছে দুকুল আলো।।*
*🌻কথা=রাধারাণী বলছেন-- ও বড়াই! প্রথমে দেখে মনে করেছিলাম যে তমাল তরুই বটে, পরে যা দেখলাম বা দেখছি,তাতে প্রথমের সঙ্গে কোন সামঞ্জস্যই নাই।এখন মনে হচ্ছে---*
*🏵আখর= মেঘ লেগেছে।*
*শ্রীযমুনার মাঝখানে।*
*মনে হয়, এখনি বরিষণ হবে।।*
*তাল=কয়ালী*
*পদ*
*গলে গজমতি হার,মণিময় অলঙ্কার,*
*দামিনী দরপ ঘুচাইল।*
*🌹আখর= হলে নিল রে।*
*আমার মন মণি।*
*আমি, আর যে ধৈরজ ধরতে নারি।।*
*অলকা তিলক ভালে,শ্রবণ যুগল মূলে,*
*মকর কুন্ডল দোলে ভাল।।*
*দাস---পারিয়া*
*🏵আখর=*
*এনা তিলক কেনা পরে।*
*দেখ বড়াই, কপাল গুণে তিলক ঝলমল করে।।*
*হেইমা এসে, দেখে নয়ন ফেরান যায় না।।*
*এসে, দেখে মনের সাধ মেটে না।।*
*এই, বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে।।*
*তাল=লোফা*
*পরিধানে পীত ধড়া,চূড়া বেড়া গুঞ্জছড়া,*
*আর তাহে শোভে নানা ফুল।*
*🌼আখর= ভুলাইল গো।*
*ধরায় ধরা ভুলাইল গো।।*
*একা আমি ভুলি নাই গো।।*
*দেখিয়া বদন চাঁদে,মদন পড়িল ফাঁদে,*
*যুবতী কেমনে রাখে কুল।।*
*তাল=মধ্যম/বিরাম দশকুশী*
*🌹আখর=*
*আজ বুঝি, কুল বিকাইয়ে গেল রে, ওগো সখী।*
*এই পার ঘাটে-------যমুনার জলে--------*
*আমি, আর যে ধৈরজ ধরতে নারি।।*
*🍀সুরে=এত আভরণ যার, কিসের অভাব তার, সে কেন ঘাটের ঘাটোয়াল।*
*যদুনাথ দাসের বাণী,শুন রাধা বিনোদিনী,*
*পরিচয় পাবে তৎকাল।।*
*🔳🔳পদ---চার🔳🔳*
*বড়----দোঠুকি*
*************
*১| বড়াই ঐ কি ঘাটের নিয়ে।*
*কাট=*
*নাবিকের, মাথায় দেখি মোহন চূড়া।*
*এযে দেখি, ভূবন মোহন চূড়া।*
*চূড়ায় ভূবন ডুবাইল।।*
*এযে, যেমন তেমন চূড়া নয় যে।।*
*তাল=ছোট দোঠুকি*
*২|কোথা হতে আসি,দিল দরশন,*
*বিনোদ নাগর নেয়ে।*
*🌺আখর=*
*এমন নেয়ে দেখি নাই গো,*
*নিতুই নিতুই আসি যাই মা,*
*ঐ মথুরার হাটে যেতে।।*
*১|রজত কাঞ্চনে,না'খানি সাজান,*
*বাজিছে কিঙ্কিণী জাল।*
*২|অপরূপ তাতে,শোভে রাঙ্গা হাতে,*
*মণি বাধা কেরোয়াল।।*
*🌺আখর=*
*এত মণি কোথায় পেল।*
*মণি দিয়ে হাল বেধেছে।*
*ঘাটের ঘাটোয়াল হয়ে।।*
*🌹সুরে=*
*১|রতনের ফালি,শিরে ঝলমলি,*
*কদম্ব কুসুম কানে।*
*২|জঠর অঞ্চলে,বাঁশীটি গুঁজেছে,*
*শোভে নানা আভরণে।।*
*১|হাসিতে হাসিতে,গীত আলাপিছে,*
*ঢুলায়েছে রাঙ্গা আঁখি।*
*🏵আখর=*
*ও বুঝি, জন্মে নারী দেখে নাই গো।*
*তাই অমন করে, নারীর পানে চেয়ে আছে।*
*আবার আঁখি, ঢুলায়ে ঢুলায়ে কিবা বলছে।*
*আমাদের পানে চেয়ে চেয়ে।।*
*২|চাপাইয়া নায়,কি যেন কি চায়,*
*চঞ্চল উহারে দেখি।*
*🌻কথা=রাইধনি বলছেন, বড়িমাই! ঐ নাবিকের দিকে চেয়ে দেখ-----*
*🌹আখর=*
*নয়ন না চাইছে।*
*আমা পানে চাইছে। *নেয়ের, এত গৌরব কিসের।।*
*আমার মনে হয়, উহার স্বভাব বড় ভাল নয় গো।*
*ও নারীর পানে চেয়ে থাকে।*
*এই ঘাটের ঘাটোয়াল হয়ে।।*
*১|আমরা কহিব,কংসের যোগান,*
*মুখে না হারিও কেহ।*
*২|জগন্নাথে কহে,শশী ষোল কলা,*
*পেলে কি ছাড়িবে রাহু।।*
*🏵কথা=সখী ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন---*
*তাল=মধ্যম*
*চাঁদ পেলে কি রাহু ছাড়ে রে----*
*এবার, শুভ যোগ মিলেছে।*
*এযে, চূড়া মণি যোগের ঘটা।।*
*🌲কথা=বড়াই বলছেন, নাতিনী তুই যাই বল, ও এই ঘাটেরই নাবিক। এই দেখ ওকে ডেকে আনছি। এই বোলে বড়িমাই নাবিককে ডাকছে।ও বলছেন, ও ন্যাইয়া হে! আমাদেরকে পার কর---*
*🌹🌹🌹পদ পাঁচ🌹🌹🌹*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*লোফা*
*১|হেদে হে সুন্দর নেয়ে,*
*বিকিকিনি গেল বয়ে,* *কুলেতে আসহ খেওয়া তরী।*
*২|এ তিন সংসার,সবে হইল পার,*
*মোরা অনাথিনী নারী।।*
*১|ওহে নবীন কান্ডারী,*
*দীন হীনের কান্ডারী,*
*নাবিক সেজেছ ভাল।*
*২|করি দিলে পার,*
*এ যশ তোমার,*
*ঘুচিবে কতক কাল।।*
*🌲আখর=*
*তোমার, কাল বরণ ঘুচে যাবে।*
*আমাদের, বিনামূল্যে পার করিলে।*
*তোমার, যশে জগৎ ভরে যাবে।*
*এই পারের ঘাটে সবাই আসবে।।*
*🏵সুরে=*
*কুলেতে আইসহ,রূপখানি নেহারি,*
*শুনহ নেয়ের পো।*
*আমরা মথুরার,বিকেতে যাইব,*
*ওপারে লইয়া থো।।*
*🌻কথা=বড়ি মায়ের ঐ কথার উত্তরে নাবিক বলছেন---*
*তাল=দাস পাড়িয়া*
*১|আলো তোরা কে লো খঞ্জনা নয়নী।*
*২|এ হেন সুন্দর সাজে,*
*বল যাবে কোন কাজে,*
*বলনা বলনা তাই শুনি।।*
*🌹কথা=সুচতুর নাবিক প্রথমে গোপীদের নয়নের তুলনা দিলেন খঞ্জনা নয়নের সঙ্গে।অতঃপর নাবিক বলছেন,হে ব্রজাঙ্গনাগণ আমার মনে হয় এই ব্রজের মধ্যে--*
*🏵আখর=(১)*
*তোমরাই সুন্দরী বটে।*
*তাতে আবার, সুন্দর সাজ সেজেছ গো।*
*তোমাদের, পানে চাইলে নয়ন ফেরান যায় না।।*
*(২)*
*তা বল তোমরা কোথায় যাবে।*
*দেখে মনে হয়, তোমরা কুলের ভয় রাখ না।।*
*কুলবতী সতী হয়ে--*
*এই দুপুর বেলায়, ঘরের বাহির হয়েছ গো।।*
*১|যে হই সে হই মোরা,*
*তরণী আনহ ত্বরা,*
*কাজে কাজে জানিবে সকলি।*
*🌲আখর=*
*পরিচয়ের কাজ কি আছে।*
*কুলের কুল বধূ সনে।*
*ঘাটের ঘাটোয়াল হয়ে।।*
*🌻কথা=যখন গোপীগণ ঐভাবে বলছেন,অমনি চতুর নাবিকও বলছেন---*
*২|তোমরা ডাকিছ সুখে, *আমার তরণী পরেছে পাকে,*
*🏵আখর=*
*আমি দোটানায় পরেছি।*
*ঐ নয়নের টানে,আর এই যমুনার টানে।*
*তাইত তরী বাইতে নারি।।*
*🏵আখর=*
*আমি এই, ঘুরণি পাকে পরে আছি।*
*আমি, আর তরণী বাইতে নারি।*
*ঐ রূপ ঘূর্ণি পাকে পড়ে।।*
*🌹কথা=যখনি নাবিক ঐ "রূপ" কথাটি বলেছেন,অমনি সুচতুরা ললিতা সখী রাধারাণীর চিবুকখানা ধরে বদন উচু করে ধরে বলছেন--*
*🌻আখর=*
*এই লক্ষ্য করে বেয়ে এসো।*
*তোমার মতি যেন ঠিক থাকে।*
*হোকনা নদীর তুফান ভারী।।*
*🌻আখর=*
*তোমার মতি যেন নড়ে না হে।*
*আমাদের এই, শ্রীমতীর বদন দেখে।*
*মতি থাকলেই মিলবে রতি।।*
*🌼কথা=নাবিক তাড়াতাড়ি বলছেন--*
*২|আপনি সামালি আগে আসি*
*সামালিয়া আসি।।*
*🍀সুরে=*
*দেখিয়া গোপীর ঠাট,নাবিক নাগায় না,*
*অঙ্গ ভঙ্গ গান রঙ্গ রসে।*
*২|যমুনা আনন্দ ভরে,সম্বরিতে নাহি পারে,*
*উছলি পড়িছে দুই পাশে।।*
*১|কিবা সে তরণীখানি, রজত কাঞ্চন মণি,*
*মানিক খচিত দেবলোভা।*
*তার মাঝে নীলোৎপল,কান্তি জিনি সুকমল,*
*প্রফুল্ল বদন অঙ্গ শোভা।।*
*১|রমণী ভ্রমরী যত,শবদ করয়ে কত,*
*পরিমলে লুব্ধ হইয়া।*
*২|চঞ্চল সে নীলোৎপল,অগাধ যমুনার জল,*
*আনন্দ তরঙ্গ যায় বৈয়া।।*
*🌹কথা=নাবিক ধীরে ধীরে তরণীখানি কুলে নিয়ে এসে লাগিয়ে বলছেন, হে ব্রজাঙ্গনাগণ! তোমরা তাড়াতাড়ি নৌকায় উঠে বস। দেরী করলে আমার চলবে না। তারপর কোন কথা বোলো না। কারণ----*
*🍀পদ,তাল=একতালী🍀*
*******************
*কথায় কথায় বেলা যায়,*
*দান দিয়া চড় নায়,*
*আঁধার করিয়ে এল দেওয়া।*
*ছোট দশকুশী*
*🌲আখর=তোমরা নৌকায় উঠ।*
*পারের কড়ি বুঝে দিয়।*
*আমার বিলম্ব সহে না।।*
*একে আমার ভাঙ্গা না,*
*তাহাতে উঠিছে বা',*
*দুই প্রহরে দেই এক খেওয়া।।*
*তাল=লোফা*
*সবে আছে দিন,দন্ড দুই তিন,*
*তোমরা অবলা জাতি।*
*তাল=দোঠুকি*
*একে একে পার করিতে সবে,*
*হইবে অনেক রাতি।।*
*নৌকাখানি মোর,অতিশয় ক্ষীণ,*
*বুঝিয়া চাপিতে হয়।*
*শুন সব সই, দুই জনা বই,*
*তিন জনা নাহিক সয়।।*
*🏵কথা=নাবিক বলছেন, হে সখীগণ! আমার এই নৌকা খুবই ক্ষীণ।কাজেই দুইজন ভিন্ন তিনজন উঠা চলবে না।এই বলতে বলতে চতুর নাবিক লক্ষ্য করছেন ললিতা সখীর দিকে,আর হাত বাড়িয়েছেন রাধারাণীর দিকে।হাতখানা বাড়িয়ে বলছেন----*
*আগে কে চাপিবে,চাপহ তুরিতে,*
*নৌকা রাখিবারে নারি।*
*অতি খর জলে,নৌকাখানি দোলে,*
*চাপ মোর হাত ধরি।।*
*🍀আখর=*
*নৌকায় উঠ।*
*আমার হাত ধরে।*
*এতে কুল যাবে না মান যাবে না।*
*এই নাবিকের অনুগত হলে পরে।।*
*🌻কথা=যখনি নাবিক রাধারাণীর দিকে হাত বাড়িয়ে নৌকায় উঠতে বলছেন,অমনি প্রেমময়ী রাইধনি আর ধৈর্য্য ধরতে না পেরে নাবিকের হাত ধরতে গিয়েছেন, এমন সময় কাছেই ললিতা সখী ছিলেন,অমনি উভয়ের মাঝখানে বাধা দিয়ে বলছেন--*
*হাসিয়া ললিতা, কহয়ে বচন,*
*শুনহ খেওয়ানি রায়।*
*বেতন চুকাইলে, নৌকাতে চড়িব,*
*মাধব এ রস গায়।।*
*🌹আখর= কি নেবে হে।*
*পারের কড়ি নি নেবে হে।*
*সময় থাকতে চুকায়ে নাও।।*
*🌼কথা=ললিতা সখী বলছেন,ও নাবিক! তুমি হ'লে নবীন নাবিক আমাদের যে পার করবে,সেই পারের কড়ি কি নেবে বলো?তবে তোমার নৌকায় উঠিব। ঐকথা শুনে নাবিক বলছেন--*
*আমার সুন্দর নৌকায় যেবা পার হবে।*
*এক মণ ওজন ষোল আনা কড়ি দেবে।।*
*🌹কথা= হে গোপীগণ! আমার নৌকায় পার হতে হলে ষোল আনা কড়ি দিতে হবে।*
*🌹ললিতা বলছেন,হে নাবিক! তুমি ষোল আনা কড়ি চাইছ, আর আমাদের কাছে এক আনাও কড়ি নেই।*
*🌹নাবিক বলছেন, তোমাদের সঙ্গে এত অলংকার দেখতে পাচ্ছি। না জানি তোমরা কত বড় ধনী। ধনী ব্যক্তির দাসী হয়ে বিশেষ করে পারের ঘাটে এসে এত কৃপণতা সাজে না।*
*🌹ললিতা সখী বলছেন, নাবিক! তুমি বিশ্বাস কর আমাদের বলতে কিছুই নেই।*
*🌻সুরে=নাবিক হে! আমাদের বলতে যা কিছু ছিল সব একজনকে দিয়ে ফেলেছি। নাবিক বলছেন, কাকে দিয়েছ? ললিতা বলছেন,ও কথা তুমি শুনিও না নাবিক, আমাদের বলতে যা ছিল সব আমরা এই ব্রজের এক রাখালকে দিয়েছি। নাবিক বলছেন,তাহলে তোমাদের সঙ্গে তাকে দেখছি না কেন?আর দিয়ে দেওয়া বস্তু সঙ্গে রেখেছ কেন?তখন ললিতা সখী বলছেন,কেবলমাত্র তারই সুখের জন্য আমরা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি।*
*🍀নাবিক বলছেন,বেশ! দত্তা বস্তুর উপরে আমার কোন লোভ নেই। কিন্তু আমার এই নৌকায় উঠতে হলে,এক মণ ওজন হতে হবে।তার বেশী হলেও চলবে না, আর কম হলেও চলবে না।*
*🌺ললিতা সখী বলছেন, আচ্ছা নাবিক! তোমার ঘাটে যদি কেউ এক মণের বেশী ওজন আসে তাহলে,তাকে বোধ হয় তুমি পার কর না?সে বোধহয় ফিরে অন্য ঘাট দিয়ে পার হয়ে যায়? নাবিক বলছেন------*
*🌻আখর=*
*আর ঘাট নাই হে।*
*এই ঘাট ছাড়া।*
*যেথায় সেথায় যাক না কেন।।*
*আর ঘাট নাই হে।*
*ঘুরে ঘুরে, আমার ঘাটেই আসতে হবে।*
*যদি, পারের আশা থাকে।।*
*🏵কথা=নাবিক বলছেন, একেবারে পার হবার আর অন্য কোন ঘাট নেই।সবে মাত্র আমার এই ঘাট।তবে আর যে সব ঘাট আছে, সে সব ঘাটেও পার হবার উপায় আছে, কিন্তু পার হলেও নির্ধারিত দিন আছে, সেই দিন ফুরিয়ে গেলে আবার ফিরে আসতে হবে, কিন্তু আমার ঘাটে পার হলে পরে আর এপারে ফিরে আসতে হয় না।কাজেই আমার ঘাটের ওজন এক মণ (এক মন)।তবে যে জন এক মণের বেশী হয়ে এই ঘাটের কুলে এসে পৌঁছায়, তাকেও আমি পার করে দেয়। ললিতা বলছেন, কি করে পার কর?*
*🌺আখর=*
*তারে আমি শুকায়ে লই।*
*বিরহানলের তাপ দিয়ে।*
*🌲কথা=তার পর কি করি জানো?*
*🏵আখর=*
*ওজন, ঠিক করে পার কোরে দেই।*
*তাকে আর, ঘরে ফিরে যেতে হয় না।*
*যদি, একবার ঘাটে আসতে পারে।।*
*🌺কথা=ললিতা বলছেন, যে এক মণের কম হয়,তাকে কি কর নাবিক?*
*🌲আখর=*
*তারে আমি ভিজায়ে লই।*
*এই ঘাটের কুলে কাঁদাইয়ে।*
*পার কর দয়াল নাবিক বলে।।*
*🏵কথা=এই ঘাটের কুলে বসায়ে নয়নজলে ভিজায়ে যখন দেখি এক মণ ওজন হয়ে যাই--*
*🌻আখর=*
*তখন তারে পারে কোরে দেই।*
*তার পারের কড়ি আর লাগে না।।*
*অনায়াসে পারে যায় সে।।*
*🍀কথা=তখন সখীদের মধ্যে একজন বলছেন, আমাদের সঙ্গে গোরস ছাড়া আর কিছুই নেই।আচ্ছা নাবিক!যাদের কোন সম্বল নেই,তাদের কে কি তুমি পার কর না?এদিকে রাই কমলিনী নাবিকের কথা শুনে বলছেন, আমার কাছে একটি আধুলি ( আটআনা, বা পঞ্চাশ পয়সা) আছে। এই বোলে শাড়ীর আঁচল থেকে আধুলিটি দিতে যাচ্ছেন, এমন সময় নেয়ে বলছেন----*
*🏵আখর=*
*আমি আধুলি চাই না ধূলি বিনে।*
*🌹কথা=তবে নাবিক আট আনা নাও।*
*🌺আখর=*
*আমি,আট আনা চাইনা।*
*আর, টানা টানি রেখ না।*
*আমার এই পারের ঘাটে।।*
*🏵কথা=এই ঘাটে পার হতে হলে ষোল আনায় লাগবে। তখন প্রেমময়ী বিনোদিনী বলছেন, আমরা না হয় নয়-আনা দিব। তখন নাবিক বলছেন--*
*🌹আখর=নয়া না নয়া না।*
*আমি বহুদিনের পুরানা।*
*আমি যুগে যুগে পার করি।।*
*🌺কথা=নাবিকের এইরকম কথা শুনে ভাবাবিষ্ট পদকর্তা ব্রজ সুন্দরীগণকে ডেকে বলছেন, তোমরা-----*
*🌲আখর=*
*ষোল আনা ধরে দাও।*
*দশ ইন্দ্রিয় ছয় রিপু।*
*কৃষ্ণায় নমঃ নমঃ বোলে।।*
*🌼কথা= ললিতা সখি বলছেন, তাহলে ষোল আনা না হয় দেওয়া হ'ল, আচ্ছা নাবিক! তোমার তো ওজনের কোন সরঞ্জাম দেখছি না?তা আমাদের কি করে ওজন করবে? নাবিক বললেন,এই নৌকায় হল ওজনের।*
*🍀ললিতা বললেন, কেমন ওজনের নৌকা? নাবিক বলেন,এই দেখ,আমি এইদিকে হাল ধরে দাঁড়িয়ে আছি-- আমার এক মন,আর যে নৌকায় উঠবে, তার এক মন।*
*🌻আখর=*
*যখন,দুইমন ভেঙ্গে একমন হবে,*
*আমার, মনে তার মন মিলে যাবে।*
*আমার তরী তখন আপনি চলিবে।।*
*🌺কথা=ললিতা সখী বলছেন,বেশ দেখি তোমার কেমন ওজন। এই বলে ললিতা সখীকে রাধারাণী নয়ন ইঙ্গিত করলেন, অমনি--*
*পদ*
*বিনোদিনী পহিলে চাপিলা গিয়া নায়।*
*বামেতে পশরাখানি,দক্ষিণে ঘোমটা টানি,*
*গুড়া ধরি বসাওলো তায়।।*
*🌹আখর= উঠে বসিল।*
*বৃষভানু রাজনন্দিনী।*
*আনন্দের আর সীমা নাই রে।।*
*🌻কথা=এইবার রাইধনি ঘোমটা টেনে গুড়া ধরে নৌকায় বসিলেন।তারপর ললিতা সখী বলছেন, নাবিক ওজন ঠিক হ'ল তো? নাবিক বললেন, হ্যাঁ, আমার মনের সঙ্গে মন মিলে, এক মন ওজন পূর্ণ হয়েছে।*
*🏵ললিতা পুনঃ বলছেন, এইবার তোমার তরী সাবধান। আর তুমি তরীর কান্ডারী তুমিও সাবধান।এবার আমরা সকলে মিলে একযোগে নৌকায় উঠব। নাবিক বললেন, তা হয় না।আমি একে একে সবার ওজন দেখব। ললিতা বললেন,আর ওজন দেখতে হবে না,আমরা--------*
*🌻আখর=*
*আমরা, সবাই মিলে একমন আছি।*
*আমরা, আন মন আর কেউই নাই হে।*
*আমরা সবাই, এক মনে তোমায় ভজি।।*
*🌺কথা=এই বলে সব সখীগণ বড়ি মাইয়ের হাত ধরাধরি করে--*
*🌷হুলু হুলু জয় দিয়া নৌকাতে উঠিল।*
*🌺কথা=ললিতা সখী বলছেন--*
*সবাই, মন সুখে জয় দে সই।*
*আমাদের, রমণীর মণি রাধারাণীর।*
*জয় দিলে জয় হবে।।*
*🌷হুলু হুলু জয় দিয়া নৌকাতে উঠিল।*
*🌷আনন্দে তরণী খানি চলিতে লাগিল।।*
*🌹আখর=তরী আপনি চলছে।*
*রাধা গোবিন্দে হৃদে পেয়ে।*
*সবার, আনন্দের আর সীমা নাই।।*
*🌺কথা=এইভাবে নৌকা খানি মাঝ যমুনায় গিয়ে ধীরে ধীরে চলেছেন।এমন সময় চতুরের শিরোমণি নাবিক দেখলেন যে রাধারাণী ঘোমটা টেনে বসে আছেন।কিছুতেই তাঁর বদন দর্শন করতে পারছেন না। তাই চিন্তা করে রাধা বদন দরশনের উপায় স্থির করে----*
*কহিছে কান্ডারী,শুনহ গৌরী,*
*তেজহ ও নীলশাড়ী।*
*নব ঘন বলি, বাড়িবে পবন,*
*রাখিতে নারিব তরী।।*
*🌺কথা= নাবিক বলছেন, হে ধনি! তোমার ঐ----*
*খুলে ফেল নীল শাড়ী।*
*ঐ শাড়ীতে পবনের আড়ি।*
*হবে, যমুনার তুফান ভারী।*
*তাইতো তরী রাখতে নারি।।*
*🌷ধনি ত্যজহ বসন তোর।*
*তরঙ্গ বাড়িবে, বিষম হইবে,*
*না'খানি ডুবিবে মোর।।*
*🌹আখর=*
*আমার অপযশে ঘিরে যাবে।*
*কেউ, পার হবে না আমার ঘাটে।*
*আমার, তরী যদি ডুবে যায় গো।।*
*🌺কথা=এবার রাইধনি বলছেন--*
*🌷নেয়ে তুমি কি কহিলে ভাল।*
*নব ঘন জিনি, তোমার বরণ,*
*কেমনে ঘুচিবে কাল।।*
*🌺কথা=ললিতা বলছেন,ওহে নাবিক---*
*🌹আখর=
*তোমার, কাল বরণ যাবে কিসে।*
*দেখ দেখি নিজ বরণ চেয়ে।*
*বল বল ওহে নাবিক।।*
*আছয়ে উপায়, বলিহে তোমায়,*
*তবে শুন মোর বোল।*
*কালিয়া মূরতি, ঘুচাইবে যদি,*
*শিরে ঢালি দিব ঘোল।।*
*🌹কথা=হে নাবিক উপায় আছে, আমার কথা শোন---*
*তোমার কাল বরণ দূর করিব।*
*সব সখী মিলে ঘোল ঢালিয়ে।*
*তোমায় কেহ চিনতে পারবে নাহে।।*
*তোমার মাথায় ঘোল ঢালিব।*
*তোমার কাল বরণ সাদা হবে।*
*পবনের ভয় আর থাকবে নাহে।।*
*শ্লোক*
*সর্ব্ব ব্যাধি হরের তক্র*
*কিন্তু কফ্ বদ্ধক্।*
*🌺কথা=সখীগণ বলছেন, আমাদের এই ঘোলে সর্বব্যাধি বিনাশ করে। কিন্তু কফকে একটু বৃদ্ধি করে মাত্র।তবে আর একটি গুণ আছে সেটি হ'ল বায়ুর ব্যাধি একেবারে ভাল হয়ে যায়। তাইতো বলছি ওহে নাবিক---*
*শিরে ঢালি দিব ঘোল।।*
*🌹আখর=*
*বায়ুর ভয় আর থাকবে নাহে।*
*শোন ওহে নীল কান্ডারী।*
*মোদের পার করে দাও তাড়াতাড়ি।।*
*এ বোল শুনিয়া,অবনত হইয়া,*
*রহল চতুর নেয়ে।*
*জ্ঞান দাস কহে,বিলম্ব না সহে,*
*বিকিকিনি গেল বয়ে।।*
*🌺কথা= সুচতুর নাবিক, ক্ষণকাল অবনত মস্তকে থেকে একটি চতুরতা বুদ্ধির সৃষ্টি করে নিজেই নৌকাখানি দোলাতে লাগলেন।আর কি করলেন? না নিজেই----*
*🌷ডুবিল ডুবিল ছলনা করি।*
*🌷উচ্চ স্বরে বলে হলি।।*
*🌹আখর= ডুবে গেল রে।*
*আমার তরী বুঝি।*
*আমি আর তরণী বাইতে নারি।।*
*🌺কথা=নৌকাখানি নিজেই দোলাচ্ছেন আর ডুবে গেল ডুবে গেল বলে চিৎকার করছেন।নৌকাতে যখনি জোড়ে দোলন দিয়েছেন,অমনি----*
*🌷গুড়া ঝাপি উঠিলেক জল।*
*🌷ভয়েতে কাঁপয়ে রমণী সকল।।*
*🌺কথা=নৌকার গুড়া (নৌকার দুইপাশের বসার তক্তা)ঝেঁপে জল উঠছে দেখে রমণীগণ ভয়ে থরথর করে কাঁপছেন। রাধারাণী দেখলেন যে নৌকাটি এখুনি ডুবে যাবে, ঐ অবস্থা দেখে নেয়েকে লক্ষ্য করে রাইধনি বলছেন, ওহে নাবিক! তরী ভাল করে চালাও, তোমার নাকাতে জল ঢুকছে।*
*🏵ঐকথা শুনে চতুর নাবিক বলছেন---*
*🌷দধি দুগ্ধ ঘৃত ফেলহ ঘোল।*
*🌷ডালা ভরি বালা সেচহ জল।।*
*🌹আখর=জল সেচ রাই।*
*ডালা ভরি জল সেচ রাই।*
*নইলে তরী ডুবে যাবে।।*
*🏵কথা=রাধারাণী নাবিকের নয়নে নয়ন রেখে বলছেন,ওহে নাবিক! আমি হলেম বৃষভানু রাজার মেয়ে, আমি তো জল সেচতে জানি না। নাবিক বলছেন, তা বটেই তো,তুমি জানবে কেন,তবে-----*
*🌹আখর=কত জল ফেলিছে।*
*তোমার মত কত নারী।*
*ঘরের কোণে বসে বসে।*
*হা কৃষ্ণ গোবিন্দ বলে।।*
*🌺কথা=তখন সুচতুর নাবিক নৌকাখানি আরও জোড়ে দোলাচ্ছেন, ঐ দেখে----*
*🌷হুতাশে নিশ্বাস ছাড়য়ে রাই।*
*🌺কথা=রাধারাণী হতাশ হয়ে পড়েছেন,কেন হতাশ হয়েছেন? নিজে ডুবে মরবেন বলিয়া তা নয়----*
*ছোট দাস পারিয়া*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*আমার,বধূ যদি ডুবে মরে।*
*প্রাণবধূকে, রাখব হিয়ায় ধরে।*
*আমি হৃদয় ছাড়া করব নাহে।।*
*🌷বধূর গলেতে ধরিল যাই।।*
*🌹আখর *আমার, প্রাণবধূ হৃদে এলো।*
*অমনি,বধূর গলে জড়িয়ে ধরল।।*
*ঐ বৃষভানু রাজ নন্দিনী।।*
*🌺কথা=তখন শ্যাম নাগর,*
*🌷রাইকে লইয়া বিনোদ নেয়ে।*
*🌷ঝাঁপ দিলে জলে আকুল হয়ে।।*
*🌺কথা=শ্রীযমুনার আশা পূরণের লাগি রাই-কানু একত্রিত হয়ে যমুনায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন।
*🌹আখর=*
*এইবার যমুনার আশা পূরণ হল।*
*হৃদয়ে, রাধা গোবিন্দের যুগল পেয়ে।*
*যমুনার, আনন্দের আর সীমা নাইরে।।*
*🌷পিঠের উপরে শোভয়ে বেণী।*
*🌷যেন,হেম পিঠের উপর শোভে ফণি।।*
*🌹আখর=*শ্রীরাধা, গোবিন্দের বিলাস দর্শন করে।*
*শ্রীযমুনার হৃদয় পরে।*
*যা হয় নাই আর হবার নাইরে।।*
*🌷উলট কমল, কমল মুখী।*
*🌷তা দেখি নাগর কতেক সুখি।।*
*🌷পুড়িল দোঁহার মনের আশ।*
*🌷দূরেতে হেরয়ে মাধব দাস।।*
*🏵ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন--*
*🌹আখর=*
*আমাদের, সবার আশা পূরণ হল।*
*তোমরা, বদন ভরে রাধাগোবিন্দ বলো।*
*সবাই, বদন ভরে জয় দাও গো।।*
*🏵কথা=শ্রীরাধাশ্যাম শ্রীযমুনার আশা পূরণ করে তীরে উঠলেন সহচরী মেলি। শুকনো বসন পরিধান করে,সকলে গেলেন নিকুঞ্জ মন্দিরে।*
*🍀সেবা পরা যত সখিগণ, বসাওল রতন বেদীর উপরে,*
*🌷যেখানে বিগলিত হয়েছে বেশ।*
*🌷সাজাওল সখীগণে মনের আবেশ।।*
*🏵ক্ষীর, সর, ছানা,যা কিছু ছিল আগে দেয় কৃষ্ণ বদনে,পরে রাধার মুখে দেয় সবে। মনসুখে প্রসাদ পেল জনে জনে। আচমন করে কর্পূর তাম্বুল দিল মুখে। কর্পূর তাম্বুল খেয়ে সখীগণ বললেন--*
*🌹আখর=*
*দাঁড়া রাই দাঁড়া রাই।*
*তোরা যুগল হয়ে।*
*আমরা নয়ন ভরে দেখে যাই।।*
*🏵 দাঁড়াইল রে।*
*দোঁহা যুগল হয়ে।*
*রূপে ভূবন আলো করে।*
*বদন ভরে জয় দাও।*
*শ্রীরাধা গোবিন্দের যুগল হেরে।।*
*🙏নৌকা বিলাস লীলা এখানেই রইল। বানান ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।*
*শ্রীশ্রীরাধা-শ্যামসুন্দরের জয়।*