✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ আঞান বেশে মিলন ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
***আঞান বেশে মিলন ***
প্রথম পদ
গগনে নিরখি বেলা,ছল করি কুটিলা
রাধার মন্দিরে যায় ধেয়ে।
গিয়া রাধার ভবনে,দেখে সব সখীগণে
যায় রাধা স্নানের লাগিয়ে।।
** কুটিলমতি কুটিলার মন যেমন হয়,
কুটিল মন নিয়ে কোনদিনই সুকর্ম হতে পারে না,সর্বদা রাধার বদনাম করবার জন্য কুটিলার মন কুটিলতায় ব্যস্ত। প্রভাতকাল সবে, হঠাৎ গগন পানে চেয়ে দ্যাখে প্রভাত সময়, কুটিলার মন কুটিলতায় পরিপূর্ণ, মনে করল দেখি রাধা কি করছে?রাধার কক্ষে গিয়ে দেখে,সকল সখীগণ সঙ্গে রাইধনি কথোপকথন করছেন। কোথায় যাবেন? না, অদ্য "মকরস্নানের তিথি" এইদিনে অবগাহন করলে আয়ু,যশ,মান সব কিছুরই মঙ্গল হয়। কুটিলার মনে আবার কুটিল ভাব দেখা দিল-----
*প্রথম পদ দ্বিতীয় অন্তরা*
দুই এক পদ যায়,নন্দালয় পানে চায়
দেখি মনে সংশয় জন্মিল।
দেখিব কৃষ্ণ কি করে,এত চিন্তি অন্তরে,
নন্দের মন্দিরে প্রবেশিল।।
** এবারে রাধার কক্ষ হতে মনে সংশয় হল রাধা যখন সখীদের সঙ্গে নিয়ে স্নানে যাচ্ছে তাহলে এই কলঙ্কিণী রাধা ঐ কালার সঙ্গে দেখা করবে!কুটিলা কি করল,না, দুই এক পা এগোতে এগোতে নন্দালয়ের দিকে চলিল,নন্দালয়ের কাছে এসে দেখছে কালা ঘরে আছে কি না, হঠাৎ এক দাসীর সঙ্গে দেখা হলে বলল, কালা আছে? দাসী বললে যমুনায় গেল।
** প্রথম পদ তৃতীয় অন্তরা**
দেখে কৃষ্ণ গেল স্নানে,কুটিলা কূপিত মনে, দাঁড়াইয়া ক্ষণেক ভাবিল।।
* যখন শুনল কালা যমুনায় স্নানে গেল,তখন কুটিলার মন বিষময় হল, রাগে গজ গজ করতে লাগল। আর মনে মনে ভাবতে লাগল, নিশ্চয়ই পোড়ামুখী ঐ কালার সঙ্গে ফষ্টি নষ্টি করবে।
(আজি ইহার তত্ত্ব লয়ে,শাস্তি দিব দাদারে কয়ে, ভাবি পদ লখিয়া চলিল।।)
* আজ রাধার সব ফষ্টিনষ্টি ঘুচাব, দাদা আঞানকে বলে চরম শাস্তি দেওয়াইব। এই ভাবতে ভাবতে চরতে লাগল।
প্রথম পদ পরের অন্তরা
তুলসী দেখিল দূরে,ঘন দুটি হাত নেড়ে কুটিলা আসিছে কুঞ্জপানে।নিরখি সভয় চিত,মন্দিরে পশি তুরিত নিবেদিল রাধাকৃষ্ণ স্থানে।। যে কুঞ্জে রাধাকৃষ্ণ কথোপকথন কথন করছিলেন, সেই কুঞ্জের দেখার ভার তুলসীর প্রতি ছিল, কখন কে আসে তার বার্তা দেবার।অদূরে কুটিলাকে দেখিয়া তুলসী লতাদি- বেষ্টিত কুঞ্জে প্রিতম কৃষ্ণের সঙ্গে হাস্য-বিলাসরসে মগ্ন হয়েছেন,তা দেখে আনন্দিতা হয়ে তুলসী বললেন, ওগো সখীবৃন্দ! তোমরা যে মহোৎসবের অনুষ্ঠান করছ ভাল কথা, কিন্তু সাবধান! এই অনুষ্ঠান দেখবার জন্য কুটিলমতি কুটিলা অতি ধীর গতিতে গোঠ হতে এইদিকে আসছে। এই কথা শুনে------------
প্রথম পদে পরের অন্তরা
শুনি বিনোদিনী রাই,কৃষ্ণ মূখ পানে চায়,
ভয়ে অঙ্গ কাঁপে থরহরি।
সজল নয়নদ্বয়, বিনয়ে কান্তারে কয়
রক্ষা কর বিপদ কান্ডারী।।
** তুলসীর কথা শুনে সকল সখীগণ বললেন,হায় হায়!এখন কি হবে? কুটিলা আসছে এই কথা শুনে রাইধনির অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি, তুলসীকে ইসারা করে বলছে ননদিনী কত দূরে? অদূরে রয়েছে, রাধা তখন কৃষ্ণের মুখপানে চেয়ে বলছেন ওগো বিপদভঞ্জন এখন কি হবে, রক্ষে কর, নইলে আজ আমার অকালে প্রাণ যাবে।
প্রথম পদ পরের অন্তরা
কৃষ্ণ কন ভয় হেন,কর প্রাণেশ্বরী কেন
আজি মোর মায়া বিস্তারিব।
আঞান মূরতি হয়ে,এখনি নিকটে গিয়ে,
কুটিলারে বঞ্চনা করিব।।
তবে রাইয়ে প্রবোধিয়ে,বৃন্দার নিকটে গিয়ে,
আঞান রূপ করিলা ধারণ।
ভণে দ্বিজ অকিঞ্চন,তার শঙ্কা কি কারণ,
যার সখা বিপদভঞ্জন।।
** এবারে কৃষ্ণ তুলসীকে ডেকে বললেন, ঐ কুটিলমতি কুটিলাকে কোথায় দেখলে? তুলসী বললেন, ঐ
"সটীকরা"নামধেয় বনের নিকটে আমি দেখেছি।অনুমান করি এতক্ষণ হয়ত কুঞ্জের আশেপাশে চলে এসে হবে।একথা শোনার পর রাধার চরম
অবস্থায় পরিণত হল, রাধার অবস্থা দেখে কৃষ্ণ বললেন,ওগো প্রাণপ্রিয়ে!
তুমি চুপচাপ এখানে থাক, তোমার কোন ভয় নেই,আজ আমি অন্য খেলা খেলিব, কি জানো? আমি বৃন্দার কাছে গিয়ে আঞান ঘোষের বেশ ধারণ করব, কৃষ্ণ যখন আঞান রূপ ধারণ করলেন, এবং আয়ানের কন্ঠ
স্বর বলতে লাগলেন তখন যেন মনে হচ্ছিল সত্যই আঞান ঘোষ।কুটিলা যেপথ ধরে কুঞ্জের দিকে আসছিল,
কৃষ্ণ আঞান বেশে সেই পথের চললেন। যেন মনে হল আয়ানই বটে।
*আয়ান বেশে মিলন দ্বিতীয় পদ*
আঞানের বেশে হরি বাহির হইলা।
কুটিলা নিকটে গিয়া তুরিতে ভেটিলা
আঞানের স্বরে তারে বলিছেন বাণী।
কুটিলে বিজন বনে কেন একাকিনী।।
*আঞানের বেশ ধারণ করে কৃষ্ণ কুঞ্জ হতে বাহির হলেন।যেদিক দিয়ে কুটিলা আসছিল কৃষ্ণ সেদিকে চললেন, কুটিলার সঙ্গে দেখা করলেন, দেখা করে বললেন, ভগ্নি কুটিলে! এই সময় তুমি বিজন বনে কেন? কেন তুমি গোঠ হতে বাহির হয়েছে? তখন কুটিলা বলল, দাদা! তোমার সতী বধু রাধার সন্ধানে এখানে এসেছি। কৃষ্ণ বললেন, রাধা কোথায় গেছে? কুটিলা বললে, যমুনায় স্নান করার ছলে এই বনের ভেতরে কোন কুঞ্জে লুকিয়ে আছে। কৃষ্ণ বললেন, সেই রমণী-চোর (কৃষ্ণ) কোথায়?কুটিলা বলল,সেও স্নান করতে এসেছে। মা এইজন্য আমাকে তোমার সতী বৌয়ের চরিত্র জানতে এই বনমধ্যে পাঠিয়েছে। এখন কি করব বল?
*দ্বিতীয় পদে দ্বিতীয় অন্তরা*
আমি ভ্রমিতেছি করি বৃষ অন্বেষণ।
তুমি কোন অভিপ্রায়ে কৈলে আগমন
কুটিলা কহিছে,করি বধু অন্বেষণে।।
করিয়ে স্নানের ছলা এসেছে এ বনে
** কৃষ্ণ বললেন, ওরে ভগিনী! আজ আমার এক নবীন বৃষ, হলে যুক্ত করবার সময় হলচ্যুত হয়ে কোথায় যে পালিয়ে গেল, আমি খোঁজ করতে করতে এইদিকে এসেছি।আমার নবীন বৃষ হারিয়ে গেল,এতে আমার হৃদয়ে অতি অল্পমাত্র ব্যথা লেগেছে, কিন্তু ঐ রমণী-চোর (কৃষ্ণ)আমার পত্নীর প্রতি লম্পটতায় যে দারুণ ব্যথা হৃদয়ে লাগল,তা সহ্য করতে পারছি না।হে বুদ্ধিমতি ভগিনী! প্রথমত আমার একটি যুক্তি শোন,
*দ্বিতীয় পদের তৃতীয় অন্তরা*
হরি কহেন মুখে রোষ করিয়া প্রকাশ।
আমি হেথা বসি তুমি করহ তল্লাস।।
যদি কৃষ্ণ সহ তারে একত্রে দেখিবে।
নিকটে না যাবে আসি আমারে ডাকিবে।।
*ভগিনী তুমি আমার কথা শোন,এই কুঞ্জে আমি লুকিয়ে থাকি, তুমি এদিক ওদিক রাধাকে খোঁজ করো,যদি সে কৃষ্ণবিনা একাকিনী থাকে,তাহলে তাকে ছলনা করে এই কুঞ্জে নিয়ে আসবে।
*দ্বিতীয় পদের শেষ অন্তরা*
যদি একাকিনী থাকে ছল প্রকাশিয়া।
আমার নিকটে তারে আনিবে ডাকিয়া
শুনিয়া কুটিলা বড় হরষিত মন।
কুটিলার অন্বেষণ ভণে অকিঞ্চন।।
** আর যদি কৃষ্ণের কাছে থাকে,তাহাহলে আমাকে ডেকে নেবে। আমি দূর হতে সব তার কীর্তিকলাপ দেখবো।এই কথা শুনে কুটিলার মনে ভীষণ আনন্দ হল, যে ঠাকুর যে যে ফুলে তষ্ট হয়,সেই সেই ফুল দিয়ে পূজো করতে হয় তাইনা? এবারে কুটিলা কালিয়-হ্রদ-তট হতে প্রতি কুঞ্জ দেখতে দেখতে কেশিতীর্থ কাছে পুষ্পোদ্যানে এসে অমল পরিমলশালিনী, এবং সখী নিষেবিতা কীর্তিদার কীর্তিবল্লী শ্রীরাধাকে দেখতে পেল। (নিষেবিতা= সেবা পরায়ণা)
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১
লীলা কীর্তন PDF 📚 ভবিষ্যতে আরো PDF এই লিঙ্কে আপলোড করা হবে।👉 https://drive.google.com/drive/folders/1j7S6jqXPssNeUbC2Fq9lPJbN2vFwfWn3
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম।
ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*
শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম।
নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভালীয়া, আরামবাগ, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
📚 *PDF গ্রন্থ* 📚
👉 https://www.facebook.com/groups/SriMrinmoyNandy 👉 https://drive.google.com/folderview?id=1_2ZHIyZKJeOOLMK0uLv53SkpMNgyi6eR
Whatsapp Group 👉 https://chat.whatsapp.com/KaxjcTegzmy9y1DJzQjIFI
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧