✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৩৪. প্রকাশানন্দ সরস্বতী উদ্ধার 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori34.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*প্রকাশানন্দ সরস্বতী উদ্ধার*
++++++++++++++++++++
*☘সাধারণতঃ আমরা জানি মহাপ্রভু কাশীর খ্যাতনাম মায়াবাদী সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ের প্রধান প্রকাশানন্দকে উদ্ধার করেছিলেন কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে মহাপ্রভু উপযাজক হয়ে গিয়ে ইহা করেছিলেন। এর পেছনে অনেক কাহিনী আছে।প্রকাশানন্দ জানতেন যে নীলাচলে এক অদ্ভুত সন্ন্যাসীর প্রাধান্য দেখা দিয়েছে যিনি হাসেন,কাঁদেন,নাচেন পুষ্পমালা গলায় দিয়ে তিলক চন্দনের দ্বারা নিজেকে সুশোভিত করে উচ্চৈঃস্বরে নৃত্য কীর্তন করেন ইত্যাদি।তাঁদের চোখে এটি বিধর্মীর আচরণ এবং তাঁরা মহাপ্রভুকে কোন আমলই দিতেন না বরং কটাক্ষ এবং বিদ্রূপ করতেন যার পেকৃষ্ট পরিচয় পাওয়া যায় এই এক পত্র মাধ্যমে। অর্থ্যাৎ একবার কাশীর এই সম্প্রদায়ের মুখপাত্র প্রকাশানন্দ সরস্বতী কি লিখেছিলেন তা শুনুন=*
*🌷সন্ন্যাসী হইয়া করে গায়ন নাচন।*
*🌷না করে বেদান্ত পাঠ করে সঙ্কীর্তন।।*
*🌷মূর্খ সন্ন্যাসী নিজ ধর্ম নাহি জানে।*
*🌷ভাবুক হইয়া ফিরে ভাবুকের সনে।।*
*🌹আবার কখনও বা বলতেন=*
*🌷শুনিয়াছি গৌড়দেশে সন্ন্যাসী ভাবুক।*
*🌷কেশব ভারতী শিষ্য লোক প্রতারক।।*
*🌷চৈতন্য নাম তার ভাবুকগণ লইয়া।*
*🌷দেশে দেশে গ্রামে গ্রামে বুলে নাচাইয়া।।*
*যেই তাঁরে দেখে সেই ঈশ্বর করি কহে।*
*ঐছে মোহন বিদ্যা--যে দেখে সে মোহে।।*
*সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য পন্ডিত প্রবল।*
*🌷শুনি চৈতন্যের সঙ্গে হইল পাগল।।*
*🌷সন্ন্যাসী নাম মাত্র--মহা ইন্দ্রজালি।*
*কাশীপুরে না বিকাবে তার ভাবকালি।।*
*🌳এছাড়াও সমসাময়িক মহাপ্রভুর পার্ষদ জয়ানন্দ তাঁর রচিত চৈতন্যমঙ্গল গ্রন্থে আর একটি সুন্দর নিদর্শন দিয়াছেন এই কটাক্ষ প্রসঙ্গে তা লিপিবদ্ধ করা হল=*
*🌻একবার কাশীধাম হতে পত্রবাহক মারফৎ এক পত্র এসে হাজির হল মহাপ্রভুর কাছে,যা ভক্তপ্রবর জয়ানন্দ এইভাবে বর্ণনা করেছেন=*
*নীলাচলে শ্রীচৈতন্য আছেন এক চিত্তে।*
*বারাণসী হইতে পত্র আইল আচম্বিতে।।*
*বড় বড় সন্ন্যাসী সকল পত্র লেখি।*
*নীলাচলে চৈতন্য আর সভেই মনে বড় দুঃখী।।*
*🍀অর্থ্যাৎ নীলাচলে মহাপ্রভু তাঁর নিজস্ব প্রবর্তিত ভক্তি ধর্মে শান্তির সঙ্গে আছেন এমন সময় কাশী হতে বড় বড় সব মায়াবাদী সন্ন্যাসীরা এক অদ্ভুত চিঠি পাঠালেন যা পাঠ করে স্বয়ং মহাপ্রভু এবং তাঁর ভক্তগণ অতীব মর্মবেদনা অনুভব করলেন। পত্রের ভাবার্থ এইরকম=*
*🌷সন্ন্যাসীর যোগ্যস্থল নীলাচল নহে।*
*🌷সে সব সুখদ স্থল সন্ন্যাসীর যোগ্য নহে।।*
*🌷সম্ভোগ লক্ষণ মাল্য চন্দন যে পরে।*
*🌷পাষাণ শরীর হয় অবশ্য বিগারে।।*
*🌻এইরকম লেখা পত্র পেয়ে মহাপ্রভু খুব মন খুলে হাসিলেন এবং বললেন যে আমি এর যথাযোগ্য উত্তর দিব। সার্বভৌম পন্ডিত এর কি উত্তর দিয়েছিলেন তা শুনুন=*
*🍀সিংহের সমান বল নাহি কারো গায়।*
*🍀আর তাহে সিংহ শূকর হস্তীর মাংস খায়।।*
*🍀তবু সিংহ শরীরেতে না হয় বিগার।*
*🍀বৎসরেতে শৃঙ্গার সভে করে একবার।।*
*🍀পাথরের কণা ধান্য পারাবত খায়।*
*🍀তাহে কাম অনুক্ষণ স্ত্রী সঙ্গেতে যায়।।*
*🍀ইহার বিচার লেখি পাঠাবে আমারে।*
*🌺কাশীর মায়াবাদী সন্ন্যাসী সম্প্রদায় মহাপ্রভুকে লিখেছেন যে ঃ---*
*🌷আপনি কেন নীলাচলে আছেন তা আমরা বুঝতে পারি না কারণ নীলাচল সন্ন্যাসীগণের উপযুক্ত জায়গা নয়।তাঁদের বিচারে নীলাচল সুখদ স্থান অর্থ্যাৎ আমাদের সন্ন্যাসী মহাপ্রভু যেন কত সুখেই নীলাচলে আছেন? তাঁরা আরো কটাক্ষ করে বলেছেন যে সাধু সন্ন্যাসী হয়ে মালা চন্দন পরা একটি সম্ভোগ লক্ষণ অর্থ্যাৎ এটি দ্বারা স্ত্রী সঙ্গের বাসনা বা ভোগ জাগ্রত হয় এবং এটি এমনই বস্তু যে পাষাণ শরীরেও বিকার জন্মিতে বাধ্য। মহাপ্রভু এই পত্র পাঠ করে মৃদুহাস্য করিলেন এবং উত্তরে সার্বভৌম পন্ডিত লিখেছিলেন যে=*
*🔥আপনাদের পত্র প্রাপ্ত হয়েছি এবং তদুত্তরে আমি বলছি তার উত্তর অবশ্যই দিয়ে সুখী করবেন এবং বললেন সিংহ হচ্ছে পশুরাজ এবং সে বিশালাকায় হস্তীর মাংস পর্যন্ত খায়। অর্থ্যাৎ একে মাংসাশী তারপরে বলশালী কিন্তু তবুও এত উত্তেজক দ্রব্য খাওয়া সত্ত্বেও সে বৎসরে একবার মাত্র স্ত্রী সঙ্গম করে। অর্থ্যাৎ উত্তেজক খাদ্য গ্রহণ যদি কামোদ্দীপক হত তাহলে সে অনুক্ষণ শৃঙ্গার করত কিন্তু তা না করে সে বারো মাসের মধ্যে একবার মাত্র স্ত্রী সঙ্গম করে।আবার দেখুন ক্ষুদ্র পক্ষী পারাবত (পায়রা বা কবুতর) কি খায়?যেমন পাথরের কণা জাতীয় শুকনো ধান ইত্যাদি কিন্তু তথাপি সে অনুক্ষণ কামোদ্দীপনায় মত্ত অর্থ্যাৎ যখন তখন স্ত্রী সঙ্গম করছে।এর কারণ কি আমায় বলতে পারেন?*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
*ভগবান বনে আজি,অপরূপ সাজে সাজি,*
*গোপ বালকগণ মাঝে রন বিরাজিত।*
*মনে ইচ্ছা যার যাহা,পরিপূর্ণ আজি তাহা,*
*সবার অন্তর তাই হয় তিরপিত।।*
*ইচ্ছা যদি তীব্র রয়,ধন জন তুচ্ছ হয়,*
*তাহারে শ্রীহরি কৃপা করেন সত্বর।*
*তাই বলি ওরে মন,কৃষ্ণে স্মর অনুক্ষণ,*
*শোক দুঃখ হ'তে মুক্ত রহিবে অন্তর।।*
*ভক্তবাঞ্জা পূর্ণকারী,নন্দের নন্দন হরি,*
*স্মরিলে বাসনা তিনি করেন পূরণ।*
*কায়মনোবাক্যে যদি,সমর্পণ হয় হৃদি,*
*অনায়াসে পাবে তুমি রাতুল চরণ।।*
*শ্রীকৃষ্ণের আলিঙ্গন,পায় সবে গোপীগণ,*
*কৃষ্ণ সোহাগিনী ভাবি মনে দর্প হয়।*
*কৃষ্ণপ্রেমে অভিমানী,হ'য়ে যতেক গোপিনী,*
*মনে ভাবে নারী মাঝে শ্রেষ্ঠ তারা রয়।।*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
