✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৯৫. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori95.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯৬. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori96.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু*
************************
*💧সেইরকম আরেক জনের কথা বলি,শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ যখন সদ্য বিবাহ করে নব পরিণীতা পত্নীকে নিয়ে পালকী করে নিজালয়ে ফিরছিলেন তখন আচার্য্য প্রভু যাজিগ্রামে সেই পথের পার্শ্বের একটি বৃক্ষতলে বসে ভাগবত পাঠ করছিলেন। হঠাৎ রামচন্দ্র কবিরাজ সে জায়গায় প্রণাম ও বিশ্রাম করবার জন্য পালকী থেকে নেমেই তাঁকে দর্শনমাত্র আচার্য্য প্রভু যা বলেছিলেন তা শুনুন=*
*🌷রামচন্দ্র হেন কালে,বিবাহান্তে নিজালয়ে,*
*ফিরিছেন মূরতি মধুর।*
*হেরি তার রূপঠাম,শ্রীআচার্য্য গুণধাম,*
*কহিছেন উদ্দেশে তাঁহার।।*
*অপূর্ব এরূপ ধন্য,নহে আত্মভোগ জন্য,*
*যোগ্য শুধু গোবিন্দ সেবার।*
*সংসার বিষয় কূপে,ডুবাইতে সর্ব জীবে,*
*মায়ার মূরতি এই নারী।*
*কৃষ্ণদাস্য ভুলাইতে,নরক যন্ত্রণা দিতে,*
*পুরুষ রতন লয় কাড়ি।।*
*🍀আচার্য্য প্রভুর এইকথা কিন্তু রামচন্দ্রের কানে প্রবেশ করল এবং তার ফলে তাঁর জীবনে প্রবল ভাবান্তর উপস্থিত হল।তখন তাঁর মন অনুতাপানলে দগ্ধ হতে লাগল এবং অন্তরে তীব্র বৈরাগ্যের আগুন জ্বলে উঠিল। যার ফলে তিনি সদ্য বিবাহিতা পত্নী রত্নমালা দেবীকে চিরতরে পরিত্যাগ করে আচার্য্য প্রভুর কাছে এসে চরণতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন।এই প্রসঙ্গে গ্রন্থে লেখা আছে ঃ-----*
*🌷সবাকার অলক্ষিতে,অতি ব্যাকুলিত চিতে,*
*আসি নিশিযোগে যাজিগ্রামে।*
*প্রাতে ছিন্নমূল বৃক্ষপ্রায়,কাঁদি তিঁহ উভরায়,*
*পড়িলেন আচার্য্য চরণে।।*
*🌹এস্থলেও ঐরকম একটি কথা রামচন্দ্র কবিরাজের জীবন অদ্যাপি বৈষ্ণব জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন*
*🌻সেরকম আবার ভক্ত তুলসী দাসের জীবনেও দেখা যায় যে তিনি একজন সাধারণ সংসারী মানুষ ছিলেন এবং পত্নীর প্রতি অতীব আসক্ত ছিলেন।বিয়ের পর হতে এক দিনের জন্যও পত্নীকে শ্বশুড়ালয়ে যেতে দেননি,যার একমাত্র কারণ যে তিনি পত্নীকে ছেড়ে থাকতে পারতেন না। স্বামীর এই আসক্তি বা ভালোবাসা স্ত্রীর কাছে অনেক ক্ষেত্রে অসহনীয় হলেও কোন উপায় তাঁর ছিল না।দৈবযোগে একদিন কোন শুভকার্য্য উপলক্ষ্যে পিত্রালয় হতে তাঁকে নিতে লোক আসে এবং ভাগ্যক্রমে তখন তুলসীদাস বাড়ীতে ছিলেন না।স্বামীর অনুমতি নিতে গেলে যাওয়া হবে না জেনে, তিনি বাবার বাড়ী চলে যান।সেইদিন ঘরে এসে তুলসীদাস পত্নীকে না দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ শ্বশুরবাড়ী রওনা হয়ে গেলেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে ফিরবার জন্য মত প্রকাশ করলেন।তাঁর পত্নী অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ হয়ে ক্রোধান্বিত হয়ে তখন বললেন--, "আমাকে না হলে তুমি একটা রাত্রি বাস করতে পার না, আমার উপর তোমার যে এত আকর্ষণ তার সিকি ভাগও যদি তোমার ঈশ্বরের প্রতি থাকত তাহলে তোমার জীবনের গতি ফিরে যেত।*
*🍀তাঁর পত্নী কখনও স্বপ্নেও ভাবতে পারননি যে এই কথায় তাঁর সাংসারিক জীবনের যবনিকাপাত ঘটাবে। অর্থ্যাৎ স্ত্রীর মুখ থেকে এইরকম কথা শোনা মাত্র তুলসীদাস গৃহত্যাগ করে চলে গেলেন এবং ভক্তি রাজ্যের অতীব উচ্চ শিখরে তিনি আরোহণ করতে সমর্থ হয়েছিলেন।এর মূলেও ঠিক ঐ একটি কথা।*
*🍁সেইরকম সাধক ভক্ত বিল্বমঙ্গলের জীবন পর্য্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি একজন পতিতা রমণীর প্রতি অতীব আসক্ত ছিলেন।প্রত্যেকদিন রাত্রে ঐ পতিতা রমণীর ঘরে তিনি অবশ্যই যেতেন।তাঁর পিতৃ বিয়োগ কালে সেই পতিতা রমণী বারবার তাঁকে নিষেধ করেছিলেন যে তিনি যেন অশৌচকালে সেই পতিতা রমণীর ঘরে ন আসেন।অবশেষে শ্রাদ্ধের দিন রাত্রিতে রিপুর তাড়নায় তিনি গভীর রাত্রিতে সেই পতিতা রমণীর ঘরে গিয়ে উপস্থিত হন এবং সেই পতিতা রমণী তুলসীদাসের পত্নীর মতো তাঁকে অতীব শ্লেষ সহকারে তার প্রতি তার আসক্তি নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করে।এতে বিল্বমঙ্গলের জীবনের গতিও ফিরে যায় এবং তাঁর ভক্তিময় জীবনী প্রসঙ্গ পাঠ করলে হৃদয় মন জুড়িয়ে যায়। এখানেও ঠিক সেই একটি কথা।*
*🌹যাইহোক,"বেলা যে যায় " এই কথাটি লালাবাবুর জীবনের গতি সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দেয় এবং তিনি সর্বস্ব পরিত্যাগ করে কঠোর সাধন ভজনের মধ্য দিয়ে নিজের পরমার্থ জীবনের ভিত তুলবেন এই দৃঢ় সঙ্কল্প নিয়ে শ্রীধাম বৃন্দাবনে যাত্রার উদ্যোগ করেন।একবার বাস্তব নয়নে বিচার করে দেখুন যে তখনকার সময়ের কোটিপতি এক জমিদার মাত্র কুড়ি বৎসর বয়সে ধন দৌলত,রাজ্য,ঐশ্বর্য্য,মান সম্মান সব পরিত্যাগ করে চিরতরে সংসারের নাগপাশ হতে নিজেকে মুক্ত করে চলেছেন একখানি কৌপিন এবং বহির্বাস পরিধান করে শ্রীধাম বৃন্দাবনে।*
*💧ভগবান যাঁকে যখন আত্মসাৎ করতে চাহেন তখন তাঁর কাছে পার্থিব ধন দৌলত অতীব তুচ্ছ মনে হয় এবং তাঁর মনের একমাত্র বাসনা পরমার্থের সন্ধান।লালাবাবুর এই সংবাদ প্রচার হওয়া মাত্র চারিদিকে হাহাকার পড়ে গেল এবং সমস্ত রাজবাড়ী যেন অমানিশার অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে গেল এবং তখনকার পরিবেশ অনেকটা এইরকম যথা=*
*🌷কাঁদিলেন পুত্র তাঁর প্রেয়সী রমণী।*
*🌷কাঁদিল বদন ধরি স্নেহের জননী।।*
*🌷কাঁদিলেন প্রজাকুল প্রভুর কারণ।*
*🌷কাঁদিল সকলে গুণ করিয়া স্মরণ।।*
*🌷মায়াময় এ সংসার ভাবি নিজমনে।*
*🌷ত্যজিলেন সব বস্তু বিবেক সেবনে।।*
*🌷হরি ভজনের লাগি ধাম বৃন্দাবনে।*
*🌷চলিলেন মহারাজ আনন্দিত মনে।।*
*🙏অবশেষে তিনি শ্রীধাম বৃন্দাবনে আগমন করে চরম বৈরাগ্য অবলম্বন করে সাধন ভজনে লিপ্ত হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯৭. বৈষ্ণব চূড়ামণি কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori97.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
