✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৯৩. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori93.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯৪. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori94.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀পূর্ব জন্মের সুকৃতিই হোক বা প্রারব্ধই হোক, তিনি বাল্যকাল হতেই পরোপকারী,সত্যনিষ্ঠ এবং দেব-দ্বিজে ভক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।কোন এক অজ্ঞাত আকর্ষণে তিনি যে কোন,ধর্মসভা পূজাপাঠ যেখানেই হত সে সব জায়গায় তিনি গিয়ে উপস্থিত হতেন।এর দ্বারা তাঁর কৃষ্ণচন্দ্র নামের স্বার্থকতা শৈশবকাল হতেই ধীরে ধীরে প্রতীয়মান হয়, বা বুঝা যায়।অর্থ্যাৎ ঐশ্বর্য্য এবং ভোগ বিলাসের মধ্যে মানুষ হলেও তাঁর অন্তরের অন্তস্থলে শ্রীকৃষ্ণের অদৃশ্য প্রেরণা তাঁকে চালিত করত। অতুল ঐশ্বর্য্যের মালিক হলেও তিনি তখন পিতার অধীন, কারণ তখন পিতামহ গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ পরলোক গমন করেছিলেন এবং তাঁর পিতা প্রাণকৃষ্ণ সিংহই তখন উত্তরাধীকার সূত্রে সর্বপ্রথম।একসময় বালক লালাবাবু দেখলেন যে "দেউড়ীর গেটের দ্বার রক্ষক একজন লোককে কিছুতেই রাজ-দরবারে যাবার অনুমতি দিচ্ছে না"। হঠাৎ লালাবাবুর তা নজরে আসিল এবং তিনি কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করলে উক্ত লোকটি সানুনয় কন্ঠে বললেন, "বাবা আমি একজন গরীব ব্রাহ্মণ কন্যাদায়গ্রস্থ হয়ে মহা সমস্যায় পড়ে রাজ দরবারে কিছু সাহায্যের আলায় এসেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত এই দ্বার রক্ষক কিছুতেই আমাকে ভিতরে যেতে অনুমতি দিচ্ছে না এবং আমি দিনের পর দিন আসি আর ফিরে যায়।লালাবাবুর কিশোর হৃদয়ে করুণার সঞ্চার হয় এবং তিনি তাকে রাজ দরবারে খাজাঞ্চী খানায় নিয়ে গেলেন এবং সেই ব্রাহ্মণকে এক হাজার টাকা সাহায্য দিতে আদেশ করলেন। (সেই সময়ের একহাজার টাকা মানে অনেক টাকা) বৃদ্ধ খাজাঞ্চী মহা সমস্যায় পড়ে গেলেন, একদিকে কুমার বাহাদুরের আদেশ,অপরদিকে কর্তা প্রাণকৃষ্ণের অনুমতি ছাড়া দেওয়া উচিত হবে না। যাইহোক,তিনি প্রাণকৃষ্ণের কাছে গমন করে সংক্ষেপে বৃত্তান্ত বললে, অপরিমেয় ধন সম্পত্তির মালিক তিনি, জমিদার প্রাণকৃষ্ণ সিংহ খুব গম্ভীর ভাবে বললেন যে, লালা যখন কথা দিয়েছে একহাজার টাকা দিয়ে দিন কিন্তু লালাকে বলে দিবেন যে এইরকম দানধ্যান সে যেন আর না করে যতদিন পর্যন্ত নিজে অর্থ উপার্জন না করতে পারে।"*
*🍁বৃদ্ধ খাজাঞ্চী ব্রাহ্মণকে একহাজার টাকা দিয়ে বিদায় করলেন এবং মহারাজের আজ্ঞা পারনের জন্য পিতা প্রাণকৃষ্ণের বক্তব্য কিশোর লালাবাবুকে জানিয়ে দিলেন।ভাবলে অবাক লাগে যে এইরকম একজন ধনীর মনোভাব কি কখনও এইরকম হতে পারে বা হওয়া উচিৎ?যে বংশে মাতৃ শ্রাদ্ধে কুড়ি লক্ষ টাকা ব্যয় হয় সেই বংশের একমাত্র উত্তরাধিকারীর এক হাজার টাকা দানে এত কৃপণতা কেন হয়? বাস্তব জগতেও আমরা দেখি যে অর্থ থাকলেই রোকে দান করা তো দূরের কথা নিজে ভোগ পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রে করতে পারে না। শ্রোতা পাঠকগণ এই ক্ষুদ্র ঘটনাটি শোনার পর নিশ্চয়ই মনে মনে প্রাণকৃষ্ণকে ধিক্কার দিবেন তাঁর এই কার্পণ্যের জন্য। তিনি তো তাঃর পুত্রের এই দানশীল প্রবণতা দেখে সুখী হতেও পারতেন, নিজে বুঝিয়েও বলতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি।আপাত দৃষ্টিতে ঘটনাটি খুবই ঘৃণ্য হলেও লালাবাবুর পরবর্তী জীবন পর্য্যালোচনা করলেই দেখা যায় এইরকম একটি আঘাত না পেলে তাঁর ভক্তিময় জীবনের উদয় হত না।পিতার এই কথা তাঁর হৃদয়ে শেলের মত বিদ্ধ হল এবং তিনি মনে মনে সঙ্কল্প করলেন যে নিজের উপার্জিত অর্থ ছাড়া তিনি আর কখনও কোন অর্থ রাজকোষ হতে নিবেন না।এইরকম ভয়ানক সঙ্কল্পের বশবর্তী হয়ে তিনি চাকরীর উদ্দেশ্যে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে বর্দ্ধমান শহরে এসে বর্দ্ধমান "কালেকটর" অফিসে সেরেস্তাদার হিসাবে কাজে নিযুক্ত হলেন। অদৃষ্টের কি নির্মম পরিহাস! সুবিখ্যাত সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী জমিদার গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের একমাত্র পৌত্র অর্থ উপার্জনের জন্য সেরেস্তাদারের চাকরী গ্রহণ করলেন, যাঁর নিজস্ব জমিদারিতে এইরকম শত শতলোক এই ধরণের কাজ করেন।একেই বলে ভবিতব্য। যাইহোক, অতি অল্প দিনের মধ্যেই বিভিন্ন ভাষায় জ্ঞান থাকার ফলে তিনি চাকরীতে খুবই উন্নতি করেন এবং সর্বোচ্চ দেওয়ানের পদে উন্নীত হন। লালাবাবু তখন বৃটিশ সরকারের একজন গণ্যমান্য অফিসার এবং হাতে অসীম ক্ষমতা।এই সময় তিনি পুরীর জগন্নাথ মন্দির যে ভাবে রক্ষা করেছিলেন তা অদ্যাপি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, যদিও অনেকেই এই প্রসঙ্গে অবগত নন। অর্থ্যাৎ পুরীর মন্দিরের বাৎসরিক দেয় রাজস্ব বা কর সময় মত জমা না পড়ায় বৃটিশ সরকার মন্দির নিলামের আদেশ জারী করে কিন্তু ভক্তপ্রবর লালাবাবু তাঁর ক্ষমতা বলে এই নীলাম রদ করে দেন কারণ জগন্নাথদেবের এই পবিত্র পীঠস্থান এইভাবে নীলাম হলে হিন্দু ধর্মের অবমাননা হবে এবং প্রভু জগন্নাথের মন্দিরের মর্য্যাদা হানি হবে এইসব চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্য পুরীর রাজা এই রাজস্ব জমা করেন এবং এর ফলে পুরীর রাজার সঙ্গে তিনি সখ্যসূত্রে আবদ্ধ হন।পুরীর রাজা কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাঁকে তাঁর জমিদারির ভিতর বিস্তীর্ণ এক অঞ্চল দান করেন এবং অদ্যাপি প্রতি ১২ বৎসর অন্তর জগন্নাথদেবের যে নব-কলেবর হয়, সেই উপলক্ষ্যে যে নিমবৃক্ষ আনতে হয় তা এই লালাবাবুর জমি হতে সংগৃহীত হয়। নব-কলেবরের কথাটি আমরা জানি ১২ বৎসর অন্তর জগন্নাথদেবের যে দারুব্রহ্ম স্বরূপে নূতন বিগ্রহ তৈরী হয় তাও জানি, কিন্তু এর মূলে যে লালাবাবু এইকথাটি হয়ত আমরা অনেকেই জানি না।যাইহোক, জগন্নাথদেবের কৃপায় লালাবাবুর অন্তরের সুপ্ত ভক্তিবীজ ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হয় এবং তার ফলে চৈতন্য মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভু প্রবর্তিত প্রেমভক্তির প্রতি তাঁর আকর্ষণ বাড়তে থাকে।ভক্তি সংস্কার নিয়ে যাঁদের জন্ম তাঁদের প্রত্যেকের এই জাতীয় পরিবর্তন সংঘটিত হতে দেখা যায়।*
*⭐এই সময় একবার তিনি তীর্থ পর্য্যটন মানসে শ্রীধাম বৃন্দাবনে আগমন করেন। বিভিন্ন স্থানে শ্রীকৃষ্ণের লীলাস্থলী ও গোস্বামীগণের প্রবর্তিত মঠ মন্দির সব দর্শন করে হৃদয়ে অনাবিল আনন্দের আস্বাদ পেয়ে থাকেন।তার সঙ্গে ধামবাসী সিদ্ধ বৈষ্ণব মহাজনগণের সাধন ভজন ত্যাগ তিতিক্ষা এবং ভজন প্রথা সমূহ দর্শন করে তাঁর মনে গভীর বৈরাগ্যের সঞ্চার হয়। তখন তিনি ভাবতে লাগলেন যে, "এ ধন যৌবন পুত্র পরিজন ইথে কি আছে পরতীতে রে--- নলিনী দলজল জীবন টলমল ভজহুঁ হরিপদ নিতিরে।" অর্থ্যাৎ ভোগ ঐশ্বর্য্য প্রতিষ্ঠ ধন সম্পদ জন কিছুই তো চিরস্থায়ী নয়, যে কথা গোবিন্দ কবিরাজ আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে "শীত আতপ বাপ বরিখনে এ দিন যামিনী জাগিরে-- বিফলে সেবিনু কৃপণ দুরজন চপল সুখলব লাগিরে।" অর্থ্যাৎ প্রকৃত শান্তি যদি পেতে হয় তাহলে পরমার্থের সন্ধানে জীবনযাপন করাই মানুষের মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এইভাবে এক নবজীবনের হাতছানি যেন তিনি অনুভব করতে লাগলেন এবং কবে তা বাস্তবে পরিণত হবে এই আশায় দিন কাটাতে লাগলেন।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*সর্বজীবে ভগবান,নিয়ত বিরাজমান,*
*যথা বহ্নি কাষ্ঠ মধ্যে রহে বিদ্যমান।*
*নাহি মন্থন করিলে,অগ্নি তাহে নাহি জ্বলে,*
*ভক্তি বিনা তথা কৃষ্ণে কেহ নাহি পান।।*
*গোপীগণ সেইক্ষণে,নন্দরাজ নিকেতনে,*
*দেখে এক স্বর্ণরথ সেথা উপনীত।*
*পুনঃ হেথা রথ কেন,কাহার বা রথ হেন,*
*মনে মনে চিন্তে তবে ব্রজনারী যত।।*
*কেহ বলে ক্রোধ বশে,বুঝি বা অত্রুূর আসে,*
*এসেছিল পূর্বে সে যে কংস প্রয়োজনে।*
*হরেছিল প্রাণধন,পুনঃ কেন আগমন,*
*না জানি কেন সে আসে কি কার্য্য সাধনে।।*
*ব্রজে আসে কৃষ্ণধন,বলে সেথা গোপীগণ,*
*কোন গোপী বলে তবে কেন সে আসিবে।*
*কহিতেছে গোপী আর,বলি শোন এইবার,*
*বৃন্দাবনে নাই কৃষ্ণ কারে বা লইবে।।*
🦚🪷🙏🌸🌷🦚🪷🙏🌸🌷🦚🌸🌷
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯৫. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori95.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
