✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৭৪. শ্রীজীব গোস্বামী 📖 বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob74.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৭৫. শ্রীগোপালভট্ট গোস্বামী 🏵️ শ্রীরঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী 🏵️ বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob75.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৫)গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাস*
*বৈষ্ণব-সাহিত্য,শ্রীগোপালভট্ট গোস্বামী*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🙏শ্রীগোপালভট্ট গোস্বামী= দাক্ষিণাত্যে শ্রীরঙ্গনাথক্ষেত্রের নিকটবর্তী ভট্টমারী(কোন মতে বেলগুঁড়ি গ্রামে)১৪২৫ শকে খৃঃ ১৫০৩, জন্মগ্রহণ করেন।পিতার নাম শ্রীবেঙ্কট ভট্ট।তীর্থ-ভ্রমণ কালে শ্রীমন্মহাপ্রভু এই বেঙ্কট ভট্টের আলয়ে সমগ্র বর্ষাকাল অবস্থান করে শ্রীগোপালভট্টকে কৃপা করেন। যথাসময়ে ভট্টগোস্বামী শ্রীবৃন্দাবনে এসে শ্রীপাদ রূপ ও সনাতনের সঙ্গে সম্মিলিত হন।ইনি খুল্লতাত শ্রীপাদ প্রবোধানন্দ সরস্বতীর শিষ্য।নীলাচল হতে মহাপ্রভু নিজ ডোর কৌপীন ও বসিবার আসন পাঠিয়ে শ্রীগোপালভট্টকে শক্তি সঞ্চার করেছিলেন।শ্রীভট্ট গোস্বামী পূজিত শ্রীদামোদর শিলা হতে যে শ্রীকৃষ্ণমূর্তি প্রকটিত হয়েছিলেন, সেটিই বর্তমান শ্রীশ্রীরাধারমণ বিগ্রহ। "শ্রীহরিভক্তি বিলাস" "সৎক্রিয়া-সারদীপিকা" শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের "শ্রীকৃষ্ণবল্লভা" টীকা ইঁনারই রচিত।শ্রীনিবাস আচার্য্য ইঁনারই নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন। ১৫০৭ শকে শ্রাবণী শুক্লা পঞ্চমীতে, প্রিয়শিষ্য দেববন-নিবাসী শ্রীগোপীনাথ গোস্বামীর উপর শ্রীশ্রীরাধারমণের সেবাভার অর্পণ করে নিত্যলীলায় প্রবেশ করেন।গোপীনাথের অপ্রকটের পর তদীয় ভাই শ্রীদামোদর গোস্বামী সেবাভার প্রাপ্ত হন।ইঁনারই বংশধর বতর্মান সেবাইত প্রসিদ্ধ বৈষ্ণবাচার্য্য শ্রীমন্ মধুসূদন গোস্বামী-- সার্বভৌম বৈষ্ণব জগতের উজ্জ্বল রত্ন।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🙏শ্রীরঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী= ইনি ছয় গোস্বামীর অন্যতম।পিতার নাম শ্রীতপন মিশ্র।কাশীতে তপন মিশ্রের গৃহে শ্রীমন্মহাপ্রভুর অবস্থান কালে কৃপালাভ করেন এবং তাঁর আদেশে শ্রীবৃন্দাবনে বাস করেন।ইনি প্রত্যহ একলক্ষ হরিনাম ও এক হাজার বৈষ্ণবকে প্রণাম করতেন১৪৮৫ শকে আশ্বিনী শুক্লাদ্বাদশীতে ৫৮ বৎসর বয়সে শ্রীবৃন্দাবনে অপ্রকট হন।ইঁনার রচিত কোন গ্রন্থাদির বিবরণ পাওয়া যায় না।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🙏শ্রীরঘুনাথ দাসগোস্বামী=ইনি কঠোর বৈরাগ্য-সম্পন্ন মহাভাগবত চূড়ামণি ছিলেন।জেলা হুগলী, ত্রিশবিঘা রেল স্টেশনের নিকট সরস্বতী নদী-তীরে কৃষ্ণপুর গ্রামে ১৪১৯ শকে জন্মগ্রহণ করেন।সপ্তগ্রামের ১২ লক্ষ মুদ্রার আয়ের জমিদারীর অধীশ্বর কায়স্থ-বংশীয় শ্রীগোবর্ধন মজুমদারের পুত্র।বাল্যকালেই ইঁনার হৃদয়ে বৈরাগ্য-অঙ্কুর জন্মে,বৈরাগ্যের অবস্থা দেখে ইনার পিতা এক পরমা রূপবতী কন্যার সঙ্গে বিবাহ দেন। রঘুনাথ অতুল ঐশ্বর্য্য ও রূপবতী পত্নীকে পরিত্যাগ করে ১৯ বৎসর বয়সে নীলাচলে মহাপ্রভুর শ্রীচরণমূলে উপস্থিত হন। সেখানে ১৬ বৎসর শ্রীস্বরূপ গোস্বামীর সঙ্গে থেকে মহাপ্রভুর পরিচর্য্যা করে,মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর ৪১ বৎসর শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীরাধাকুন্ড তীরে অবস্থান করেন।১৫০৮ শকাব্দে আশ্বিনী শুক্লা দ্বাদশীতে শ্রীবৃন্দাবনে অপ্রকট হন।শ্রীরাধাকুন্ডের ঈশান কোণে ইঁনার সমাধি বিরাজিত।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻রঘুনাথ বাল্যকালে শ্রীরাধারমণ-বিগ্রহের সেবা করতেন। মুসলমান অত্যাচারে এই বিগ্রহ নদীতে ফেলে দিলে এই সংবাদ শুনে শ্রীমৎ দাসগোস্বামী বৃন্দাবন হতে শ্রীকৃষ্ণকিশোর নামক জনৈক শিষ্যকে প্রেরণ করেন। তিনি ঐ বিগ্রহের উদ্ধার ও সেবা প্রকাশ করেন।শ্রীমৎ দাসগোস্বামী বৈরাগ্যের আদর্শমূরতি।তাই মহাপ্রভু বলেছেন, "রঘুনাথের বৈরাগ্য হয় পাষাণের রেখা"। সত্যই, বৈষ্ণব রাজ্যে শ্রীমৎ দাসগোস্বামীর মতো কঠোরব্রতী দেখা যায় না।শ্রীমন্মহাপ্রভু দাসগোস্বামীকে শ্রীগোবর্ধনশিলা ও গুঞ্জমালা প্রদান করে পূজা করতে আজ্ঞা দেন।*
*🌹অধুনা(বর্তমান) কোন কোন বর্ণাশ্রম-রক্ষাভিলাষী স্মার্তমন্য পন্ডিত এই দৃষ্টান্ত দেখিয়ে ব্রাহ্মণেতর বৈষ্ণবের শ্রীশালগ্রাম শিলার্চনে অধিকার নাই বলে মন্তব্য প্রকাশ করে থাকেন।*
*🌻শ্রীমহাপ্রভু শ্রীরঘুনাথকে কেন যে গোবর্ধনশিলা পূজা করতে বলেছিলেন, তার যখন কোন স্পষ্ট নির্দেশ নাই, তখন অনুমানের উপর নির্ভর করে একটা স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না।ব্রাহ্মণেতর কুলোদ্ভব বৈষ্ণব শ্রীশালগ্রামার্চন করতে পারবে না,এইরকম যদি মহাপ্রভুর অভিপ্রায় হ'ত,তাহলে শ্রীপাদ সনাতনের দ্বারা বৈষ্ণব-স্মৃতি হরিভক্তিবিলাসে ভগবৎপর-স্ত্রী-শূদ্রাদিও শ্রীশিলার্চনে অধিকারী,এইরকম লেখাতেন না।অথবা "ব্রাহ্মণস্যৈব পূজ্যোহমিত্যাদি" স্মৃতির বাক্যকে অবৈষ্ণবপর বলে খন্ডন করতেন না। কেউ কেউ টীকার লিখিত= "যতো বিধিনিষেধা ভগবদ্ভক্তানাং ন ভবন্তী" "দেবর্ষিভুতাপ্তনৃণাং পিতৃণামিত্যাদি বচনৈঃ"। ইত্যাদি বাক্য উদ্ধৃত করে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে,উহা ত্যাগী বৈষ্ণব সম্বন্ধে ; কিন্তু তা সর্বতোভাবে অসঙ্গত।যেহেতু অবৈষ্ণব ত্যাগীও দৈব ও পৈত্র কর্মাদিকে পরিত্যাগ করে থাকেন।তাহলে বৈষ্ণবের বিশেষত্ব রইল কি?ত্যাগী কাকে বলে? "সর্বকর্ম-ফলত্যাগং প্রাহুস্ত্যাগং বিচক্ষণাঃ।।(গীতা)।বৈষ্ণব সর্বদা কাম-সঙ্কল্প-বর্জিত বলে সকল অবস্থাতেই ত্যাগী। সুতরাং তাঁর অধিকার থাকবে না কেন? আরও বৈষ্ণব স্মৃতিকার বলেন=*
*"অতো নিষেধকং যদ্ যদ্বচনং শ্রুয়তে স্ফুটং।*
*অবৈষ্ণবপরং তত্তদ্বিজ্ঞেয়ং তত্ত্বদর্শিভিঃ"।।*
*🍀এই যে স্বয়ং কারিকা করেছেন, ইহা তাঁর স্বকপোল কল্পিত নহে, ইহা সমর্থনের জন্যই টীকাকার "দেবর্ষিভূতাপ্তাদি" শ্লোকের উল্লেখ করেছেন।এস্থলে বিশেষ বিধি দ্বারা সামান্য বিধি প্রমাণিত করেছেন।*
*🌺অথবা এমনও হতে পারে,শ্রীগন্ডকীশিলার মতো শ্রীগোবর্ধনশিলাও যে বৈষ্ণবগণের পরমার্চনীয় বস্তু,তা প্রদর্শনের জন্যই স্বীয় অন্তরঙ্গ ভক্ত শ্রীরঘুনাথকে শ্রীগোবর্ধনশিলা পূজা করতে আজ্ঞা করেন।শ্রীশালগ্রামশিলা বৈষ্ণব মাত্রেই তো পূজো করবেন ; বিশেষ শ্রীশালগ্রাম পূজা যখন বৈধী ভক্তির অন্তর্গত। সুতরাং রাগানুগা ভক্তের উজ্জ্বল-আদর্শ শ্রীরঘুনাথের দ্বারা যদি শ্রীগোবর্ধন শিলার্চন প্রকাশ হয়,তাহলেই বৈধ ও রাগানুগা উভয় শ্রেণীর ভক্তগণ দ্বারাই শালগ্রামের মতো শ্রীগোবর্ধন-শিলার্চনও অনুষ্ঠিত হবে।এই উদ্দেশ্যই মহাপ্রভু শ্রীরঘুনাথকে শ্রীগোবর্ধনশিলার্চন করতে দিয়েছিলেন। অথবা শ্রীগোবর্ধন-শিলা ও গুঞ্জমালা মহাপ্রভু তিন বৎসর ধারণ করিলেন ; শুধু ধারণ করা নয়,যাঁকে শ্রীকৃষ্ণ-কলেবর বলে=*
*------- -------- কভু হৃদয়ে নেত্রে ধরে।*
*কভু নাসায় ঘ্রাণ লয় কভু শিরে করে।।*
*নেত্রজলে সেই শিলা ভিজে নিরন্তর।*
*শিলাকে কহেন প্রভু কৃষ্ণ-কলেবর।।*
*🌻এই সমস্ত উক্তি গ্রন্থকারের, শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি মহোদয়।* *গ্রন্থ=গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাস,পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৬৪-১৬৫।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৭৬. শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামী 👏 বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob76.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
