✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
টোটা গোপীনাথের 🌿 তেতুলপাতার 🌿 মহোৎসব নীলাচলে 🏵️ আষাঢ়ী শুক্লা পঞ্চমীতিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস এবং শ্রী দীপ বাগুই একত্রে 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/gopinath.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*টোটা_গোপীনাথের_তেতুলপাতার_মহোৎসব_নীলাচলে।*
*(আষাঢ়ী_শুক্লা_পঞ্চমী_তিথি)*
শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভু কে প্রত্যেক বৎসর নীলাচলে আসতে মানা করেছিলেন মহাপ্রভু, গৌড়মণ্ডলে প্রচারকার্য ছেড়ে। কিন্তু আর থাকতে পারলেন না। প্রাণের টানে চলে আসলেন, এসেই একান্ত জায়গায় বসে ধ্যান করতে লাগলেন। মহাপ্রভুও বুঝতে পারলেন নিত্যানন্দের আগমন, মহাপ্রভু এসে পরিক্রমা করতে লাগলেন। তারপর উভয়েই প্রেমালিঙ্গনে আবদ্ধ। সেকি আনন্দানুভূতি! মরমীজনেরই অনুভববেদ্য।
সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে, পরে আসলেন গদাধর ভবনে। গদাধর ভাগবত পাঠ করছিলেন। প্রাণের টান অনুভব করে ভাগবত পাঠ বন্ধ করে বাইরে এসে দেখেন সামনে দাঁড়িয়ে নিত্যানন্দ।ছুটে গিয়ে বাহু পসারিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। আজ আবার বহুদিন পরে দুই বোনের মিলন হল।
#গদাধর_রাইকিশোরী_নিতাই_অনঙ্গমঞ্জরী।
সহোদরা দুই ভগ্নি আজ এক প্রাণ হয়ে গেল। সেকি আনন্দের পাথার! প্রেমের বিথার!! দু'জনের চোখের জলে দু'জনে সিক্ত হল। অনেকক্ষণ পরে ভাব শান্তি হলে, গদাধর হাতে ধরে নিয়ে ঘরের ভেতরে বসালেন।
নিত্যানন্দ প্রভু গৌড়দেশ হতে আনীত সূক্ষ্ম ও সুগন্ধি এক "মাণ" (ছয় সের এক পোয়া )চাল ও একটি রঙিন শাড়ি গদাধর পণ্ডিতের হাতে সমর্পণ করলেন।নিয়ে গিয়েছিলেন মহাপ্রভুর জন্য, কিন্তু দিলেন গদাধর কে। প্রীতি রাজ্যের বিপরীত রীতি!
দুজনেই বসলেন গৌরকথা কীর্তনে।
আজ সম-প্রাণে দুইজনে, নিভৃত-নিরজনে, গৌর-গুণ-কীর্তনে, গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গনে, কি আনন্দ সিন্ধু উদ্বেলনে, কে করবে তার বর্ণনে?
এ যে অন্তরঙ্গ জনের রসচর্বন!!
গদাধর নিমন্ত্রণ করলেন নিতাইকে, আজ তোমার এখানেই ভিক্ষা।
কিন্তু মহাপ্রভুকে তো বলা হল না, তাকে বাদ দিয়ে কি সেবায় সুখ হবে?
নিমন্ত্রণ করতে যেতে মনও চাইলো না।
তাই প্রাণে প্রাণে ডাকতে লাগলেন। তোমার নিতাই এসেছে _একবার আসবে না?
তারে নিমন্ত্রণ করেছি_ তুমি না আসলে নিতাই তো খাবেনা!
তাই একবার এস _ নিতাই এর প্রীতে।
আমি প্রকাশ্যে ডাকতে ভয় পাই,
বহুলোক সংঘটিত হয়, তাই।
সবাই আসবে তোমার সাথে _ প্রকাশ্যে ডাকলে।
আমার প্রাণের আশা মিটবে না তাতে।
সেবা করে সুখ পাই না।
তোমায় একা না পেলে আশ মেটেনা_ সেবা করে সুখ পাই না।
মনে বড় আশা হয়েছে।
নির্জনে তোমায় সেবা করব।
তুমি একা একা এসো হে ।
সেবা করব আশ মিটায়ে।
তোমাকে একলা পেতে সাধ আমাদের।
পুঁটুলি খুলে চাউল দেখে গদাধর বিস্মিত বলছেন, গোঁসাই কি বৈকুণ্ঠ থেকে এই চাল নিয়ে এসেছ ?
#লক্ষ্মী_মাত্র_এ_তন্ডুল_করেন_রন্ধন।
#কৃষ্ণ_সে_ইহার_ভোক্তা_তবে_ভক্তগণ।।
বারবার প্রশংসা করে, বস্ত্র নিয়ে গোপীনাথের সামনে বলছেন - গোপীনাথ! কর অঙ্গীকার - তোমার অনঙ্গের প্রীতি উপহার!!
গোপীনাথের আনন্দ আর ধরে না -নিতাই দত্ত বসন পেয়ে।
গদাধর ও আনন্দে ভাসে- নিতাই দত্ত বসন গোপীনাথের অঙ্গে দেখে।
তবে গদাধর রন্ধনের কাজ আরম্ভ করলেন।
কি রান্না করবেন? ঘরে তো কিছুই নেই। তাই গেলেন বাগানে দেখছেন সুন্দর শাক হয়ে আছে। অনেক রকমের বন্য শাক। নয়ন জলে ভেসে গদাধর,গৌর সেবার জন্য শাক তুললেন। আর দেখলেন গাছে কচি কচি তেতুল পাতা হয়েছে, সেই পাতা তুলে এনে বেঁটে চাটনি তৈরি করলেন।
প্রেমের ঠাকুর গৌর আমার - হৃদয়ের ভাব খানি গ্রহন করেন। উপকরণ কি আছে সেদিকে দৃষ্টি নেই। কলা খাওয়াচ্ছে না খোসা খাওয়াচ্ছে তার জ্ঞান থাকে না।
তিনি তার হৃদয়ের ভাবটি গ্ৰহন করেন।
চাটনি আর শাক দিয়ে গোপীনাথের ভোগ নিবেদন করলেন।
প্রসাদের সুগন্ধে সারা "টোটা" (বাগান) আমোদিত হয়ে উঠল।
বাহিরে এসে প্রাণে প্রাণে ডাকছেন - বড় সাধে করেছি রন্ধন, এসো প্রাণ শচীনন্দন, শুধু গদাধর একা নয়!
নিতাই-গদাই দুইজনে- প্রাণে প্রাণে টানছেন।
দুজনেই গৌরগত প্রাণ,
গৌর বিনে তারা জানে না আন।
জানে না তারা গৌর বিনে_ শয়নে স্বপনে জাগরনে।
নিতাই ও ডাকছেন আমি এনেছি কত সাধ করে - গৌড়মণ্ডল হতে মাথায় করে _ প্রাণ গৌর তোমার সেবার তরে।
একবার এসো হে , দিয়েছি গদাধরের করে _ তার রন্ধনে তোমার প্রীতি জেনে। একবার আসবে না কি? গদাধরের রন্ধন প্রীতে? দুইজনে ডাকে প্রাণে প্রাণে__আর কি গৌর রইতে পারে
প্রাণের নিতাই-গদাই ডাকে তারে__
গৌর বাঁধা যাদের প্রেম ডোরে।
সেই টানে টানে চলে আসলেন।
প্রাণগৌর টোটার দ্বারদেশে এসে ডাকছেন -
*#গদাধর____ ও_____গদাধর*
*#অমিয়া_মাখান_বোলে_এই_টোটার_দ্বারে_প্রাণগৌর_ডাকে।*
যেন _ অমিয়ার প্রস্রবণ __ গৌর মুখে "গদাধর" বচন।
*#গদাধর!_গদাধর!_ডাকে_গৌরচন্দ্র।সম্ভ্রমে_বন্দেন_গদাধর_পদদ্বন্দ্ব।।*
আর কি গদাই রইতে পারে?
প্রাণনাথ ডাকছে তারে!
গদাধর ব্যাকুল প্রাণে ছুটে আসলেন।
আজ তার মনে আনন্দ আর ধরে না! আজ মনোভীষ্ট সিদ্ধি হল।
সসম্ভ্রমে চরণ বন্দনা করলেন।
দুই নয়নের ধারায় চরণ ধুয়ে দিলেন।
হেঁসে বলছেন মহাপ্রভু - গদাধর! আমি কি তোমার নিমন্ত্রণের ভিতরে নই?
আমি কি তোমাদের কেউ নই?
তোমরা চুপিচুপি ভোগের আয়োজন করেছ! নিতাইকে পেয়ে গোপনে ! আমাকে না জানিয়ে দুইজনে?
এ কেমন তোমাদের ব্যবহার?
বয়ে গেল আনন্দের পাথার।
এ প্রেমের ভাষায় না জানি কত সুধা ভরা আছে।
এক; নিতাইর আনীত দ্রব্য,
দুই;তোমার রন্ধন
তিন; গোপীনাথের প্রসাদ।
তিন দিক থেকেই আমার অধিকার আছে।
তাই তোমরা না ডাকলেও আমি চলে এসেছি।
আমার ভাগ আছে তাই এসেছি! তোমরা দুজনে কেউ ডাক নাই!
প্রীতি টেনে এনেছে আমাকে।
দায়ভাগ-সূত্রে__
তিন শর্তে আমার দাবি ।
কেন তবে লুকালে আমাকে __তিন শর্তে আমার দাবি আছে।
আ'মরি কি প্রেমের ভাষা
গদাধর-গৌরাঙ্গের __ আ'মরি কি প্রেমের ভাষা।
জয় জয় গৌরহরি__
প্রেম-পুরুষোত্তম লীলাকারী __ জয় জয় গৌরহরি। (মাতন)
তোমরা না দিলেও আমি জোর করে খাব।
*"#কৃপা_বাক্য_শুনি_নিত্যানন্দ_গদাধর।*
*#মগ্ন_হইলেন_সুখ_সাগর_ভিতর।।"*
আনন্দ আর ধরে না__ পূর্ণ হল মনের বাসনা।
নিত্যানন্দ গদাধরের - মন সাধ পূর্ণ হল __
প্রাণে প্রাণে যা চেয়েছিল।
প্রাণে প্রাণে প্রাণ-ধনে পেয়ে __ আজ,- আনন্দ আর ধরে না মনে।
সেবাশ্রম সফল হল জেনে _ তখন ধারা বহে দু'নয়নে।
নিতাই গদাই দুহাত ধরে প্রভুকে নিয়ে বসালেন। সামনে ভোগের পারশ এনে রাখলেন।
মহাপ্রভু বললেন - তিন ভাগ কর, আমরা তিনজনে একসঙ্গে বসে প্রসাদ পাব।
গৌরহরি আনন্দ ভরে, প্রসাদ বন্দনা করলেন।
আজ দক্ষিনেতে নিত্যানন্দ বামে গদাধর, সন্মুখেতে মহাপ্রসাদ অতীব সুন্দর।
প্রিয়জন সঙ্গে মহাপ্রসাদ আস্বাদনের কি আনন্দ, আজ তারা অনুভব করছেন।
গৌরহরি বারবার অন্ন-ব্যঞ্জনের প্রশংসা করছেন। বলছেন - এ অন্নের গন্ধেও সর্বথা। কৃষ্ণভক্তি হয় এতে নাহিক অন্যথা।। গদাধর! তোমার কি মনোহর পাক! এমন শাক আমি কখনো খাই নাই, আর এই তেতুল পাতার এত সুন্দর ব্যঞ্জন!এতো অমৃতকেও নিন্দা করছে!
বুঝেছি,তুমি বৈকুণ্ঠে রন্ধন কর, তবে আর নিজেকে লুকাচ্ছো কেন? এইরূপ মহানন্দে হাস্য-পরিহাসে তিন প্রভু আজ ভোজন রস আস্বাদন করছেন।
এদিকে ভক্তগন মহাপ্রভুকে দেখতে না পেয়ে চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করছেন। খুঁজতে খুঁজতে ভক্তগণ টোটা-গোপীনাথের অঙ্গনে এসে পড়লেন। সকলে মহানন্দে প্রভুর অধরামৃত লুণ্ঠন করলেন।
ভাবলে অবাক হতে হয় শুধু বন্য শাক আর তেতুল পাতা বেঁটে লবণ দিয়ে চাটনি। এরই সুগন্ধে সারা বাগান আমোদিত হয়ে গেল!
এ দ্রব্যের গুণ নয়! ভক্তির গুন। কত কেঁদে কেঁদে শাক তুলেছেন।ব্যাকুল প্রাণে প্রার্থনা করে রন্ধন করেছেন। তারপরে ভোগ লাগিয়েছেন কত আকুতি করে। সেই হৃদয়ের প্রেমভক্তি, হৃদয় নিঙ্ড়ানো ভালোবাসা, তারই সৌগন্ধ!!
*#জয়_নিতাই_গৌরাঙ্গ_গদাই।
~~~#অনঙ্গ_কানাই_রাই।।*
*নিত্যানন্দ প্রভু ও গৌড়ীয় গোস্বামী সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিবিধ প্রসঙ্গ জানতে এই গ্রুপে অ্যাড হোন, বন্ধুদের অ্যাড করুন , লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন।*
*এখানে ধর্মীয় ভক্তি-জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন পোস্ট পেতে পারবেন।*
*🌹🪴🙏🪴🌹*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি, উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

