শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

*দেবলোক পিতৃলোক, পায় তারা মহাসুখ,* *সাধু সাধু বলে অনুক্ষণ।* *যুগল ভজন যারা, প্রেমানন্দে ভাসে তারা,* *তাহার নিছনি ত্রিভূবন।।* ব্যাখ্যা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/home-page-pdf-httpsmrinmoynandy_38.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ *দেবলোক পিতৃলোক, পায় তারা মহাসুখ,* ꧂
               ꧁ *সাধু সাধু বলে অনুক্ষণ।* ꧂
  ꧁ *যুগল ভজন যারা, প্রেমানন্দে ভাসে তারা,* ꧂
             ꧁ *তাহার নিছনি ত্রিভূবন।।* ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐
*দেবলোক পিতৃলোক, পায় তারা মহাসুখ,*
     *সাধু সাধু বলে অনুক্ষণ।*
*যুগল ভজন যারা, প্রেমানন্দে ভাসে তারা,*
    *তাহার নিছনি ত্রিভূবন।।*
⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐
*অনন‍্যভজননিষ্ঠ(যাঁরা একমন ও মুখ নিয়ে শ্রীযুগল শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দ ছাড়া আর অন‍্য কোন ভজন করেন না)ভগবৎপরায়ণ ভক্ত সবসময় স্বীয়(নিজ)উপাস‍্য ভগবানের আরাধনায় নিবিষ্ট(মনোযোগী)থাকবেন,কখনই অন‍্যান‍্য দেবতার আরাধনা করবেন না; কারণ এতে তাঁদের অনন‍্যভক্তির ক্ষতির কথা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।এতে অনেকের অনেক মতামত হতে পারে,কিন্তু স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন,হে পার্থ!তুমি কেবল আমার প্রতি সবকিছু রেখ,আমাকে পূজো করলেই সকল দেবদেবী সন্তুষ্ট হবেন।আমা হতেই সকলের সৃষ্টি।যাইহোক এক্ষণে পিতৃঋণ এবং দেবঋণ পরিশোধের জন্য যে দেবগণের ও পিতৃগণের আরাধনার কথা শোনা যায়,ভক্তগণের সেই ঋণশোধের উপায় কি?* *অর্থ‍্যাৎ পিতৃঋণ এই দেহাদি প্রাপ্তির হেতু এবং বৃষ্টি প্রভৃতি দানের দ্বারা দেবগণ দেহরক্ষার হেতু হয়ে থাকেন।* *এইজন‍্যই তাঁদের আরাধনা অর্থ‍্যাৎ পিন্ডদানাদির দ্বারা পিতৃগণের এবং যাগযজ্ঞ বা ভোগাদি অর্পণের দ্বারা দেবগণের আরাধনার বিধি শাস্ত্রে দেখা যায়।* *যাঁরা অন‍্য কোন দেবতার আরাধনা না করে একনিষ্ঠভাবে ভগবৎ-সেবাপরায়ণ হয়েছেন,তাঁদের সেই পিতৃঋণ এবং দেবঋণশোধের উপায় কি?* *এই প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, "দেবলোক পিতৃলোক,পায় তারা মহাসুখ,সাধু সাধু বলে অনুক্ষণ"।🌻বৃক্ষের মূলে জল সেচন করলে যেমন বৃক্ষের শাখা প্রশাখা সব পরম তুষ্টি লাভ করে বা সুখী হয়ে থাকে,তেমনি সর্বদেব ও পিতৃগণের মূলস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় সমস্ত দেবদেবী ও পিতৃমাতৃলোক পরম সুখ লাভ করে থাকেন।তাই ""কাম ত‍্যাগি কৃষ্ণভজে শাস্ত্র-আজ্ঞা মানি।দেব-ঋষি-পিত্রাদিকের কভু নহে ঋণী""।* *(চৈঃচঃ)(শ্রীমদ্ভাগত ১১|৫|৪১)মহর্ষি করভাজন নিমি রাজার প্রতি বলেছেন=*
*"দেবর্ষিভূতাপ্তনৃণাং পিতৃণাং ন কিঙ্করো নায়মৃণী চ রাজন। সর্বাত্মনা যঃ শরণং শরণ‍্যং গতো মুকুন্দং পরিহৃত‍্য কর্তম।।

অর্থ‍্যাৎ হে রজন!যিনি সর্ববিধ কৃত‍্যকর্ম পরিহার (সবরকম অন‍্যান‍্য কর্ম বাদ দিয়ে) সর্বতোভাবে শরণাগত পালক শ্রীমুকুন্দের শরণ গ্রহণ করেছেন, তিনি আর দেবতা,ঋষি,পোষ‍্য-কুটুম্বাদি বা পিতৃগণের নিকট ঋণী থাকেন না, সুতরাং তিনি তাঁদের কিঙ্করও বা চাকরও নহেন।* *(এই শ্লোকের টীকায় শ্রীধরস্বামী লিখেছেন)"ভক্তস‍্য বিধিনিষেধনিবৃতেঃ কৃতকৃত‍্যতামাহ দেবর্ষীতি।আপ্তাঃ পোষ‍্যাঃ কুটুম্বিনঃ ইতরে দেবাদয়ঃ পঞ্চযজ্ঞদেবতাঃ এতেষাং যথা অভক্ত ঋণী অতএব তেষাং কিঙ্করস্তদর্থং নিত‍্যং পরিত‍্যজ‍্য।...............অয়ন্তু ন তথা। কোহস‍্য যঃ সর্বভাবেন শ্রীমুকুন্দং শরণং গতঃ।কর্তং কৃত‍্যং পরিত‍্যজ‍্য।যদ্বা কর্তং ভেদং পরিহৃত‍্য।কৃতীছেদন ইত‍্যস্মাৎ।বাসুদেবঃ সর্বমিতি বুদ্ধ‍্যেত‍্যর্থঃ""। অর্থ‍্যাৎ ""ভক্তের বিধিনিষেধ স্বতঃই(নিজ হতেই)নিবৃত্ত(বিরত)হওয়ায় তাঁদের কৃতকৃত‍্যতা (আরম্ভ কিন্তু অসম্পন্ন)বা কৃতার্থতা এই শ্লোকে বলা হয়েছে।"আপ্তা"শব্দের অর্থ পোষ‍্যজন বা কুটুম্ব সকল।অন‍্যান‍্য যে দেবাদি অর্থ‍্যাৎ পঞ্চ যজ্ঞদেবতা, বিষ্ণুভক্তিহীন সাধারণ মানুষ যেমন এঁদের নিকট ঋণী ; অতএব এঁদের কিঙ্করও,এইজন‍্যই এরা নিত‍্য পঞ্চবিধ যজ্ঞ করে থাকেন।যাঁরা সর্বতোভাবে শ্রীমুকুন্দের শরণাগত হয়েছেন,তাঁরা এঁদের মতো নহেন।কি ভাবে শরণাগত হয়েছেন? না,সর্ববিধ কৃত‍্যাকৃত‍্যকর্ম বা ভেদ পরিত‍্যাগ অর্থ‍্যাৎ সবই শ্রীবাসুদেব এই বুদ্ধিতে""।* *সকলের মূল বাসুদেব সন্তুষ্ট হলে (বৃক্ষমূলে জলসেচনে শাখা-প্রশাখাদির মতো)স্বতঃই অন‍্যান‍্য দেবতা,পিতৃগণ, ভূতগণ সকলেই তাঁদের নিজ সেবন অপেক্ষা হাজার গুণ আনন্দ লাভ করে থাকেন।* *তাই কুলে বৈষ্ণব জন্ম হলে পরলোকে পূর্বপুরুষেরা মহাসুখে নৃত‍্য করে থাকেন।তাঁরা মনে করে থাকেন "ইনিই আমাদের কুলের পরিত্রাণ-কর্তা হবেন। "নৃত‍্যন্তি পিতরঃ সর্বে নৃত‍্যন্তি চ পিতামহাঃ।মদ্বংশে বৈষ্ণবো জাতঃ স মে ত্রাতা ভবিষ‍্যতি।। শ্রীকৃষ্ণভজনকারী ভক্তগণের প্রতি পরম প্রসন্ন হয়ে সকলেই "সাধু সাধু"বলে সবসময় তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করে থাকেন।*
       ক্রমশ
*তারপর বললেন,"যুগল ভজন যারা, প্রেমানন্দে ভাসে তারা,তাহার নিছনি ত্রিভূবন"।যাঁরা শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন করেন,তাঁরা প্রেমানন্দে রসসায়রে ভাসমান হয়ে থাকেন, ত্রিভূবনের জনগণ পরম ভক্তিভরে তাঁদেরকে নির্মঞ্জন(আরাধনা বা আরতি)করে থাকেন।অতি রহস‍্যময় ও বেদগোপ‍্য এই যুগল উপাসনা,এই বিশেষ কলিতে শ্রীগৌরাঙ্গমহাপ্রভুর অনর্পিতচরী করুণার অবদান এবং তাঁর শ্রীচরণাশ্রিত আচার্য‍্যপাদগণ কর্তৃক জীবগোস্বামীপাদ তাঁর তত্ত্ব,পরমাত্ম,ভগবৎ ও শ্রীকৃষ্ণ এই চারটি সন্দর্ভে সম্বন্ধতত্ত্ব নিরূপণ করে সর্বশেষ বলেছেন,""তদেবং সন্দর্ভচতুষ্টয়েন সম্বন্ধেো ব‍্যাখ‍্যাতঃ। তস্মিন্নপি সম্বন্ধে শ্রীরাধামাধবরূপেণৈব প্রাদুর্ভাবস্তস‍্য সম্বন্ধিনঃ পরমঃ প্রকর্ষঃ। তদুক্তং শ্রুত‍্যা 'রাধয়া মাধবো দেব' ইতি। এদর্থমেব ব‍্যতানিষমিমাঃ সর্বা অপি পরিপাটীরীতি পূর্ণঃ সম্বন্ধঃ।।(শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভঃ=১৮৯ অনুচ্ছেদ), তাৎপয‍্য এই যে, "শ্রীভগবৎসন্দর্ভের চারটি সন্দর্ভে সম্বন্ধতত্ত্ব বা উপাস‍্যতত্ত্ব ব‍্যাখ‍্যাত হয়েছে।সম্বন্ধতত্ত্ব ভগবানের বহুবিধ প্রকাশ।তারমধ‍্যে শ্রীরাধামাধবরূপে যে প্রাদুর্ভাব(আবির্ভাব),তাতেই পরম উৎকর্ষ বিদ‍্যমান।তার করণ এই যে,শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান =বিশ্ব ভগবৎস্বরূপের মূলতত্ত্ব।ঐশ্বর্য‍্যে,ভগবত্তায়,পরিপূর্ণতম তত্ত্ব হয়েও সাক্ষাৎ মাধুর্য‍্যেরই মূর্তি।এইরকম অধরবিম্বে মধুর,মন্দহাস‍্যে মঞ্জুল,(সৌন্দর্য‍্যতা),অমৃতনাদে শিশির,দৃষ্টিপাতে শীতল,বেণুনাদে বিশ্রুত ভগবৎস্বরূপ আর অন‍্য কেউ নাই।(বিশ্রুত=অতীব মধুর ধ্বনি)* *আবার মাদনাখ‍্য মহাভাববতী রাধারাণীর সন্নিধ‍্যে (কাছে) শ্রীকৃষ্ণমাধুর্য‍্যসিন্ধু সবসময় উত্তাল হয়ে উঠে।তাই শ্রুতি বলেছেন="রাধাদ্বারা মাধব দীপ্তিমান"ইত‍্যাদি।শ্রীরাধামাধবের পরম উৎকর্ষ খ‍্যাপনের(গুণকীর্তন)জন‍্য এই সকল বিচার-পরিপাটী উপস্থিত করা হয়েছিল, এক্ষণে বৃন্দাবনে যুগলিত(কুঞ্জবিহার পরায়ণ) শ্রীশ্রীরাধামাধব পরমস্বরূপ ও পরমতত্ত্বের চরম সীমারূপে নিশ্চিত হওয়ায় এই সম্বন্ধ বিচার সম্পূর্ণ হল।* *শ্রীঠাকুরমহাশয় বলছেন,যাঁরা যুগলভজন করেন,তাঁরা প্রেমানন্দে ভাসিয়া থাকেন।স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের যে ভগবৎ-স্বরূপ যাদৃশ (অর্থ‍্যাৎ যে পরিমাণ অংশ ও কলা সেই স্বরূপের ভক্তগণের মধ্যে তাদৃশ পরিমাণেই প্রেমের আংশিক অভিব‍্যক্তি হয়।* *ব্রজের শুদ্ধ মাধুর্য‍্য উপাসক সখ‍্য ও বাৎসল‍্যেরসের ভক্তগণের মধ্যে নিরতিশয় প্রেমরসের প্রকাশ হলেও পরতত্ত্বের পরাকাষ্ঠা সর্বাতিশায়ী অসমোর্ধ সৌন্দর্য মাধুর্য‍্য পারাবার শ্রীশ্রীরাধামাধবের সখী মঞ্জরীর মধ্যেই প্রেম পূর্ণতমরূপে প্রকাশ পেয়ে থাকে।সর্বোপরি রাধার কিঙ্করী মঞ্জরীগণেরই প্রেমরসাস্বাদনের পরাকাষ্ঠা।এই মঞ্জরীভাবসাধনায় শ্রীমন্মহাপ্রভুর যুগে তাঁর শ্রীচরণাশ্রিত গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের সাধ‍্যবস্তু।* *তাই বলা হয়েছে,যুগলভজনকারী মঞ্জরীভাবের সাধক প্রেমানন্দ-রসতরঙ্গণীতে ভাসতে ভাসতে শ‍্যামরসসিন্ধু ও রাধা প্রেমসিন্ধুর মিলন কেন্দ্রে অর্থ‍্যাৎ ব্রজের নিকুঞ্জে অবগহন(স্নান)করে ধন‍্যাতিধন‍্য হয়ে থাকেন।ত্রিভূবনের জনগণ তাই তাঁদের সর্বদা নির্মঞ্জন বা আরাত্রিক করে নিজেদেরও ধন‍্য বলে মনে করে থাকেন।*
*🙏বানান,ভুল ক্ষমা করবেন🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





শ্রীশ্রী অবধূত নিত্যানন্দ প্রভু 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 🔀 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_80.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রী অবধূত নিত্যানন্দ প্রভু  
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
পঞ্চতত্ত্বাত্মকং কৃষ্ণং ভক্তরূপস্বরূপকম্।
ভক্তিবতারং ভক্তাখ্যং নমামি ভক্তশক্তিকম্।।


(১) ভক্তরূপে - স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু। 
(২) ভক্তস্বরূপ - শ্রী নিত্যানন্দ।
 (৩) ভক্তাবতার - শ্রী অদ্বৈত আচার্য। 
(৪) ভক্তশক্তি - শ্রীগদাধর। 
(৫) ভক্তাখ্য বা শুদ্ধভক্ত - শ্রীবাসাদি।

শ্রীগৌরাঙ্গ প্রথম তত্ত্ব বুঝিতেই হয়।
নিত্যানন্দ তাঁর পরে সদা মনে রয়।।
তৃতীয়তে শ্রীঅদ্বৈত তত্ত্ব বুঝ সবে।
গদাধর পণ্ডিতেরে চতুর্থ ধরিবে।।
শ্রীবাস পঞ্চতত্ত্ব নাহি কেহ আর।
কেশবের পঞ্চতত্ত্ব ইহা জেন সার।।

স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত শক্তির মধ্যে তিনটি প্রধান শক্তি চিচ্ছক্তি, জীবশক্তি ও মায়াশক্তি। চিছক্তি হল শ্রীভগবানের অন্তরঙ্গা বা স্বরুপশক্তি। জীবশক্তির অন্য নাম তটস্থাশক্তি এবং মায়াশক্তিকে বলে জড়শক্তি বা বহিরাঙ্গশক্তি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদেশে বা ইঙ্গিতে শ্রীনিত্যানন্দ বা শ্রীবলরামই কারণার্ণবশায়ীরূপে মায়াকে নিয়ন্ত্রণ করে সৃষ্টি কার্য পরিচালন করেন। সুতরাং সাক্ষাৎ সম্বন্ধে কারণার্ণবশায়ী পূরুষই হলেন মায়ার অধীশ্বর। সৃষ্টির প্রারম্ভে কারণার্ণবশায়ী পুরুষ দৃষ্টি দ্বারাই মায়াতে সৃষ্ঠি করিনী শক্তি সঞ্চারিত করেন এবং তারই শক্তির ফলে মায়ার সহতায় সৃষ্ঠি হয় অনন্ত ব্রহ্মান্ডের । এই অনন্ত ব্রহ্মান্ডকে এই কারণার্ণবশায়ী পুরুষ নিজ দেহে ধারণ করেন। যার অঙ্গ অনন্ত ব্রহ্মান্ড সমূহের আশ্রয় , যিনি মায়ার সাক্ষাৎ অধীশ্বর এবং যিনি কারণ সমুদ্রে শায়িত আছেন। সেই আদি-অবতার প্রথম পুরুষ মহাবিষ্ণু যার একটি অংশ আমি সেই নিত্যানন্দ নামক বলরাম কে আশ্রয় গ্রহন করি।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
বৃন্দাবন দাস ঠাকুর লিখেছেন----------– 
"মহাবধূত বেশ প্রকাণ্ড শরীর।
নিরবধি ভক্তিরসে দেখি মহা ধীর।।
অহর্নিশ বদনে বোলয়ে কৃষ্ণনাম।
ত্রিভুবনে অদ্বিতীয় চৈতন্যের ধাম।
নিজানন্দে ক্ষণে ক্ষণে করয়ে হুঙ্কার।
মহামত্ত যেন বলরাম অবতার।।"

শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে অবধূত বলে অভিহিত করা হয়, অবধূত বলতে বোঝানো হয় শাক্ত তান্ত্রিক সন্ন্যাসী কে। শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভু ছিলেন ত্রিপুরাসুন্দরীর সেবক। তিনি বীরভূম জেলার একচক্রা গ্রামে হাড়াই পণ্ডিতের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।আবির্ভাব কাল আনুমানিক ১৪৭৬-৭৭ সালের মাঘমাসের শুক্লা ত্রয়োদশী তিথিতে। এ বিষয়ে বৃন্দাবন দাস শ্রীশ্রীচৈতন্য ভাগবতে বর্ণনা করেছেন -------
"মাঘমাসে শুক্লা ত্রয়োদশী শুভদিনে।
পদ্মাবতী গর্ভে একচাকা নামে গ্রামে।।"

শ্ৰীনিত্যানন্দ লীলামৃত গ্রন্থে আছে--------
“রাঢ় দেশে একচক্র গ্রাম মনোহর।
ভারতের উচ্চভূমি অতিশোভাকর ॥"


নিতাই-পদ-কমল, কোটি-চন্দ্র-সুশীতল 
যে ছায়ায় জগত জুড়ায়
হেন নিতাই বিনে ভাই, রাধা-কৃষ্ণ পাইতে নাই
দৃঢ করি’ ধর নিতাইর পায়" ------------নরোত্তম দাস ঠাকুর।।

যস্যাংশাংশঃ শ্রীল- গর্ভোদশায়ী যন্নাভ্যব্জং লোকসংঘাতনালম্।
লোকস্রষ্টুঃ সূতিকাধাম ধাতুস্তং শ্রীনিত্যানন্দরামং প্রপদ্যে।। ১০

' পুরুষের লোমকূপে ব্রহ্মান্ডের জালে' ১|৫|৬২

এই কারণার্ণবশায়ী পুরুষ সমগ্র ব্রহ্মান্ডের অন্তর্যামী । ঈশ্বরের যে সমস্ত স্বরুপ সৃষ্ঠি কার্যে নিযুক্ত আছেন, তাদের মধ্যে কারণার্ণবশায়ী পুরুষই সর্বপ্রথম এই সৃষ্ঠি কার্য্য শুরু করেছিলেন বলে তাকে আদি দেব বা আদি অবতার বলা হয়েছে।

শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর ধ্যান: -
বিদ্দ্যামমদাভির্ম্মনরুচি বিস্তীর্ণবক্ষঃস্থলম্। প্রেমৌদঘূর্ণিতলোচনাঞ্চললসৎস্মেরাভিরম্যানম।নানাভূষণভূষিতং সুমনুরং বিভ্র গ্লন্তস্বরম্। নিত্যানন্দবরংভজামি সততং সর্ব্বপ্রির্য় পন্ডিতং।

শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ মন্ত্র - 
ক্লীঁ নিত্যানন্দচন্দ্রায় স্বাহা।

শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ গায়ত্রী - 
ক্লীঁ নিত্যানন্দায় বিদ্মহে সঙ্কর্ষণায় ধীমহি তন্মো নিত্যানন্দৌ প্রচোদয়াৎ।

শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রণাম মন্ত্র:-
প্রণাম -নিত্যানন্দ নমস্তভ্যং প্রানন্দ প্রদায়িনে। কলৌকল্মষনাশায় জাহ্নবীপতয়ে নমঃ।


শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ তত্ত্ব:-----
সর্ব অবতারী কৃষ্ণ - স্বয়ং ভগবান্।
তাহার দ্বিতীয় দেহ - শ্রী বলরাম।।
একই স্বরূপ দোঁহে ভিন্ন মাত্রা কায়।
আদ্য কায়ব্যৃহ - কৃষ্ণলীলা সহায়।।
সেই কৃষ্ণ নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যচন্দ্র।
সেই বলরাম সঙ্গে নিত্যানন্দ।।
শ্রী বলরাম গোঁসাইঞ্চি মূল সঙ্কর্ষণ।
পঞ্চরূপ ধরি করেন কৃষ্ণের সেবন।।
আপনে করেন কৃষ্ণ লীলার সহায়।
সৃষ্টিলীলা কার্য্য করে ধরি চার কায়।।
সর্ব্বরূপে আস্বাদয়ে কৃষ্ণ-সেবানন্দ।
সেই রাম শ্রীচৈতন্য সঙ্গে নিত্যানন্দ।।

কৃষ্ণ বিগ্রহ যৈছে বিভূতাদি গুণবান।
সেই পরমব্রহ্মে নারায়ণের চারিপাশে।
দ্বারকা চতুর্বূহ দ্বিতীয় প্রকাশে।।
বাসুদেব সংকর্ষণ প্রদ্যুম্ন অনিরুদ্ধ।
দ্বিতীয় চতুব্যুহের এই তুরীয় বিশুদ্ধ।।
তাহা যে রামের রুপ মহাসঙ্কর্ষণ।
চিচ্ছক্তিআশ্রয় তিহোঁ কারণের কারণ।।
চিচ্ছক্তি বিলাসএক শুদ্ধ সত্ত্ব নাম।
শুদ্ধ সত্ত্বময় যত বৈকুন্ঠাদি ধাম।।
ষড়বিধ ঐশ্বর্য তাহা - সকল চিন্ময়।
সঙ্কর্ষণের বিভূতি সব জানিহ নিশ্চয়।।
জীব নাম তটস্হাখ এক শক্তি হয়।
মহাসঙ্কর্ষণ সর্ব জীবের আশ্রয়।।
যাহা হইতে রাষ্টবিশ্বোৎপতি যাহাতে প্রলয়।
সেই পুরুষের সসঙ্কর্ষণ সমাশ্রয়।।
সর্ব্বাশ্র সর্ব্বোদ্ভুত ঐশ্বর্য অপার।
অনন্ত কহিতে নারে মহিমা যাহার।।
তুরীয় বিশুদ্ধ সত্ত্ব সংকর্ষণ নাম।
তিহোঁ যার অংশ সেই নিত্যানন্দ রাম।।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীশ্রী অবধূত নিত্যানন্দ প্রভু 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 🔀 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_80.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রী অবধূত নিত্যানন্দ প্রভু  
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
পঞ্চতত্ত্বাত্মকং কৃষ্ণং ভক্তরূপস্বরূপকম্।
ভক্তিবতারং ভক্তাখ্যং নমামি ভক্তশক্তিকম্।।


(১) ভক্তরূপে - স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু। 
(২) ভক্তস্বরূপ - শ্রী নিত্যানন্দ।
 (৩) ভক্তাবতার - শ্রী অদ্বৈত আচার্য। 
(৪) ভক্তশক্তি - শ্রীগদাধর। 
(৫) ভক্তাখ্য বা শুদ্ধভক্ত - শ্রীবাসাদি।

শ্রীগৌরাঙ্গ প্রথম তত্ত্ব বুঝিতেই হয়।
নিত্যানন্দ তাঁর পরে সদা মনে রয়।।
তৃতীয়তে শ্রীঅদ্বৈত তত্ত্ব বুঝ সবে।
গদাধর পণ্ডিতেরে চতুর্থ ধরিবে।।
শ্রীবাস পঞ্চতত্ত্ব নাহি কেহ আর।
কেশবের পঞ্চতত্ত্ব ইহা জেন সার।।

স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত শক্তির মধ্যে তিনটি প্রধান শক্তি চিচ্ছক্তি, জীবশক্তি ও মায়াশক্তি। চিছক্তি হল শ্রীভগবানের অন্তরঙ্গা বা স্বরুপশক্তি। জীবশক্তির অন্য নাম তটস্থাশক্তি এবং মায়াশক্তিকে বলে জড়শক্তি বা বহিরাঙ্গশক্তি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদেশে বা ইঙ্গিতে শ্রীনিত্যানন্দ বা শ্রীবলরামই কারণার্ণবশায়ীরূপে মায়াকে নিয়ন্ত্রণ করে সৃষ্টি কার্য পরিচালন করেন। সুতরাং সাক্ষাৎ সম্বন্ধে কারণার্ণবশায়ী পূরুষই হলেন মায়ার অধীশ্বর। সৃষ্টির প্রারম্ভে কারণার্ণবশায়ী পুরুষ দৃষ্টি দ্বারাই মায়াতে সৃষ্ঠি করিনী শক্তি সঞ্চারিত করেন এবং তারই শক্তির ফলে মায়ার সহতায় সৃষ্ঠি হয় অনন্ত ব্রহ্মান্ডের । এই অনন্ত ব্রহ্মান্ডকে এই কারণার্ণবশায়ী পুরুষ নিজ দেহে ধারণ করেন। যার অঙ্গ অনন্ত ব্রহ্মান্ড সমূহের আশ্রয় , যিনি মায়ার সাক্ষাৎ অধীশ্বর এবং যিনি কারণ সমুদ্রে শায়িত আছেন। সেই আদি-অবতার প্রথম পুরুষ মহাবিষ্ণু যার একটি অংশ আমি সেই নিত্যানন্দ নামক বলরাম কে আশ্রয় গ্রহন করি।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
বৃন্দাবন দাস ঠাকুর লিখেছেন----------– 
"মহাবধূত বেশ প্রকাণ্ড শরীর।
নিরবধি ভক্তিরসে দেখি মহা ধীর।।
অহর্নিশ বদনে বোলয়ে কৃষ্ণনাম।
ত্রিভুবনে অদ্বিতীয় চৈতন্যের ধাম।
নিজানন্দে ক্ষণে ক্ষণে করয়ে হুঙ্কার।
মহামত্ত যেন বলরাম অবতার।।"

শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে অবধূত বলে অভিহিত করা হয়, অবধূত বলতে বোঝানো হয় শাক্ত তান্ত্রিক সন্ন্যাসী কে। শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভু ছিলেন ত্রিপুরাসুন্দরীর সেবক। তিনি বীরভূম জেলার একচক্রা গ্রামে হাড়াই পণ্ডিতের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।আবির্ভাব কাল আনুমানিক ১৪৭৬-৭৭ সালের মাঘমাসের শুক্লা ত্রয়োদশী তিথিতে। এ বিষয়ে বৃন্দাবন দাস শ্রীশ্রীচৈতন্য ভাগবতে বর্ণনা করেছেন -------
"মাঘমাসে শুক্লা ত্রয়োদশী শুভদিনে।
পদ্মাবতী গর্ভে একচাকা নামে গ্রামে।।"

শ্ৰীনিত্যানন্দ লীলামৃত গ্রন্থে আছে--------
“রাঢ় দেশে একচক্র গ্রাম মনোহর।
ভারতের উচ্চভূমি অতিশোভাকর ॥"


নিতাই-পদ-কমল, কোটি-চন্দ্র-সুশীতল 
যে ছায়ায় জগত জুড়ায়
হেন নিতাই বিনে ভাই, রাধা-কৃষ্ণ পাইতে নাই
দৃঢ করি’ ধর নিতাইর পায়" ------------নরোত্তম দাস ঠাকুর।।

যস্যাংশাংশঃ শ্রীল- গর্ভোদশায়ী যন্নাভ্যব্জং লোকসংঘাতনালম্।
লোকস্রষ্টুঃ সূতিকাধাম ধাতুস্তং শ্রীনিত্যানন্দরামং প্রপদ্যে।। ১০

' পুরুষের লোমকূপে ব্রহ্মান্ডের জালে' ১|৫|৬২

এই কারণার্ণবশায়ী পুরুষ সমগ্র ব্রহ্মান্ডের অন্তর্যামী । ঈশ্বরের যে সমস্ত স্বরুপ সৃষ্ঠি কার্যে নিযুক্ত আছেন, তাদের মধ্যে কারণার্ণবশায়ী পুরুষই সর্বপ্রথম এই সৃষ্ঠি কার্য্য শুরু করেছিলেন বলে তাকে আদি দেব বা আদি অবতার বলা হয়েছে।

শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর ধ্যান: -
বিদ্দ্যামমদাভির্ম্মনরুচি বিস্তীর্ণবক্ষঃস্থলম্। প্রেমৌদঘূর্ণিতলোচনাঞ্চললসৎস্মেরাভিরম্যানম।নানাভূষণভূষিতং সুমনুরং বিভ্র গ্লন্তস্বরম্। নিত্যানন্দবরংভজামি সততং সর্ব্বপ্রির্য় পন্ডিতং।

শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ মন্ত্র - 
ক্লীঁ নিত্যানন্দচন্দ্রায় স্বাহা।

শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ গায়ত্রী - 
ক্লীঁ নিত্যানন্দায় বিদ্মহে সঙ্কর্ষণায় ধীমহি তন্মো নিত্যানন্দৌ প্রচোদয়াৎ।

শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রণাম মন্ত্র:-
প্রণাম -নিত্যানন্দ নমস্তভ্যং প্রানন্দ প্রদায়িনে। কলৌকল্মষনাশায় জাহ্নবীপতয়ে নমঃ।


শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ তত্ত্ব:-----
সর্ব অবতারী কৃষ্ণ - স্বয়ং ভগবান্।
তাহার দ্বিতীয় দেহ - শ্রী বলরাম।।
একই স্বরূপ দোঁহে ভিন্ন মাত্রা কায়।
আদ্য কায়ব্যৃহ - কৃষ্ণলীলা সহায়।।
সেই কৃষ্ণ নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যচন্দ্র।
সেই বলরাম সঙ্গে নিত্যানন্দ।।
শ্রী বলরাম গোঁসাইঞ্চি মূল সঙ্কর্ষণ।
পঞ্চরূপ ধরি করেন কৃষ্ণের সেবন।।
আপনে করেন কৃষ্ণ লীলার সহায়।
সৃষ্টিলীলা কার্য্য করে ধরি চার কায়।।
সর্ব্বরূপে আস্বাদয়ে কৃষ্ণ-সেবানন্দ।
সেই রাম শ্রীচৈতন্য সঙ্গে নিত্যানন্দ।।

কৃষ্ণ বিগ্রহ যৈছে বিভূতাদি গুণবান।
সেই পরমব্রহ্মে নারায়ণের চারিপাশে।
দ্বারকা চতুর্বূহ দ্বিতীয় প্রকাশে।।
বাসুদেব সংকর্ষণ প্রদ্যুম্ন অনিরুদ্ধ।
দ্বিতীয় চতুব্যুহের এই তুরীয় বিশুদ্ধ।।
তাহা যে রামের রুপ মহাসঙ্কর্ষণ।
চিচ্ছক্তিআশ্রয় তিহোঁ কারণের কারণ।।
চিচ্ছক্তি বিলাসএক শুদ্ধ সত্ত্ব নাম।
শুদ্ধ সত্ত্বময় যত বৈকুন্ঠাদি ধাম।।
ষড়বিধ ঐশ্বর্য তাহা - সকল চিন্ময়।
সঙ্কর্ষণের বিভূতি সব জানিহ নিশ্চয়।।
জীব নাম তটস্হাখ এক শক্তি হয়।
মহাসঙ্কর্ষণ সর্ব জীবের আশ্রয়।।
যাহা হইতে রাষ্টবিশ্বোৎপতি যাহাতে প্রলয়।
সেই পুরুষের সসঙ্কর্ষণ সমাশ্রয়।।
সর্ব্বাশ্র সর্ব্বোদ্ভুত ঐশ্বর্য অপার।
অনন্ত কহিতে নারে মহিমা যাহার।।
তুরীয় বিশুদ্ধ সত্ত্ব সংকর্ষণ নাম।
তিহোঁ যার অংশ সেই নিত্যানন্দ রাম।।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা ( শিক্ষাষ্টকং ) 📚 শ্রীশ্রীগম্ভীরা মাহাত্ম্য


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা ( শিক্ষাষ্টকং )  
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
চেতো দর্পণমার্জ্জনং ভবমহা দাবাগ্নি-নির্বাপণম্
শ্রেয়ঃ-কৈরব-চন্দ্রিকা-----বিতরণং বিদ্যা-বধূ-জীবনম্ ।
আনন্দাম্বু ধিবর্দ্ধনং প্রতিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদনং
সর্বাত্মস্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্ত্তনম্ ॥ ১ ॥

নাম্নামকারি বহুধা নিজসর্বশক্তিঃ
স্তত্রাপিতা নিয়মিতঃ স্মরণে ন কালঃ ।
এতাদৃশী তব কৃপা ভগবন্মমাপি
দুর্দৈবমীদৃশামিহাজনি নানুরাগঃ ॥ ২ ॥

তৃণাদপি সুনীচেন তরোরপি সহিষ্ণুনা ।
অমানিনা মানদেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ ॥ ৩ ॥

ন ধনং ন জনংন সুন্দরীং কবিতাং বা জগদীশ কাময়ে ।
মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে ভবতাদ্ ভক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি ॥ ৪ ॥


অয়ি নন্দতনুজ কিংকরং পতিতং মাং বিষমে-ভবাম্বুধৌ ।
কৃপয়া তব পাদপঙ্কজস্থিত-ধূলি-সদৃশং বিচিন্তয় ॥ ৫ ॥

নয়নং গলদশ্রাধারয়া বদনং গদ্-গদরুদ্ধয়া গিরা ।
পুলকৈ র্নিচিতং বপুঃ কদা তব নামগ্রহণে ভবিষ্যতি ॥ ৬ ॥

য়ুগায়িতং নিমেষেণ চক্ষুষা প্রাবৃষায়িতম্ ।
শূন্যায়িতং জগত সর্ব্ব গোবিন্দ----বিরহেণ মে ॥ ৭ ॥

আশ্লিষ্য বা পাদরতাং পিনষ্টু মা
মামদর্শনান্মর্ম্ম হতাং করোতু বা ।
যথা তথা বা বিদধাতু লম্পটো
মত প্রাণনাথস্তু সে এব নাপরঃ ॥ ৮ ॥

ইতি শ্রী গৌরচন্দ্র মুখপদ্মবিনির্গতশিক্ষাষ্টকং সম্পূর্ণম ।।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা ( শিক্ষাষ্টকং ) 📚 শ্রীশ্রীগম্ভীরা মাহাত্ম্য


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা ( শিক্ষাষ্টকং )  
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
চেতো দর্পণমার্জ্জনং ভবমহা দাবাগ্নি-নির্বাপণম্
শ্রেয়ঃ-কৈরব-চন্দ্রিকা-----বিতরণং বিদ্যা-বধূ-জীবনম্ ।
আনন্দাম্বু ধিবর্দ্ধনং প্রতিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদনং
সর্বাত্মস্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্ত্তনম্ ॥ ১ ॥

নাম্নামকারি বহুধা নিজসর্বশক্তিঃ
স্তত্রাপিতা নিয়মিতঃ স্মরণে ন কালঃ ।
এতাদৃশী তব কৃপা ভগবন্মমাপি
দুর্দৈবমীদৃশামিহাজনি নানুরাগঃ ॥ ২ ॥

তৃণাদপি সুনীচেন তরোরপি সহিষ্ণুনা ।
অমানিনা মানদেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ ॥ ৩ ॥

ন ধনং ন জনংন সুন্দরীং কবিতাং বা জগদীশ কাময়ে ।
মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে ভবতাদ্ ভক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি ॥ ৪ ॥


অয়ি নন্দতনুজ কিংকরং পতিতং মাং বিষমে-ভবাম্বুধৌ ।
কৃপয়া তব পাদপঙ্কজস্থিত-ধূলি-সদৃশং বিচিন্তয় ॥ ৫ ॥

নয়নং গলদশ্রাধারয়া বদনং গদ্-গদরুদ্ধয়া গিরা ।
পুলকৈ র্নিচিতং বপুঃ কদা তব নামগ্রহণে ভবিষ্যতি ॥ ৬ ॥

য়ুগায়িতং নিমেষেণ চক্ষুষা প্রাবৃষায়িতম্ ।
শূন্যায়িতং জগত সর্ব্ব গোবিন্দ----বিরহেণ মে ॥ ৭ ॥

আশ্লিষ্য বা পাদরতাং পিনষ্টু মা
মামদর্শনান্মর্ম্ম হতাং করোতু বা ।
যথা তথা বা বিদধাতু লম্পটো
মত প্রাণনাথস্তু সে এব নাপরঃ ॥ ৮ ॥

ইতি শ্রী গৌরচন্দ্র মুখপদ্মবিনির্গতশিক্ষাষ্টকং সম্পূর্ণম ।।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





*তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু,* *মোহে প্রভো! কর অবধান।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_29.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁ *তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু*  ꧂
             ꧁ *মোহে প্রভো! কর অবধান।* ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু,*
    *মোহে প্রভো! কর অবধান।*
*পড়িনু অসৎ ভোলে,কাম তিমিঙ্গিলে গিলে,*
    *ওহে নাথ!কর পরিত্রাণ।।*
*🙏🙏অধমের প্রতি কৃপা🙏🙏*
*শ্রীঠাকুরমহাশয় শ্রীকৃষ্ণকে "মহাশয়" অর্থ‍্যাৎ উদারচেতা বা কৃপালু বলে জড়ীয় বিষয়াবেশ হতে পরিত্রাণ লাভের জন্য তাঁর করুণা কামনা করেছেন।শ্রীকৃষ্ণকে "মহাশয়" বলে সম্বোধন করায় বিশ্বের অপর কোন মহাশয় বা উদারচেতার মত তাঁকে মনে হতে পারে বলে এই ত্রিপদীতে বলছেন,*
*"তুমি তো দয়ার সিন্ধু", "সিন্ধু" যেমন অসীম,অপারও দুর্বিগাহ,শ্রীকৃষ্ণের করুণাও তেমনি অনন্ত অপার। ক্ষুদ্র জীবশক্তির কথা দূরে থাকুক=ব্রহ্মা,মহেশ্বর,অনন্তদেব প্রভৃতিও যাঁর করুণাদি গুণের অন্ত পান না; জীবের পক্ষে সেই অপার করুণাসিন্ধুর একবিন্দুর স্পর্শ করা ব‍্যতীত আর কোন উপায় নাই।সেই করুণাসিন্ধুর কথাই আমরা কিঞ্চিৎ* *উল্লেখ করছি।জীবের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের করুণা দুইরকম ভাবে বর্ষিত হয়,(১)মায়াময়ী (২)স্বরূপশক্তিময়ী।মায়াশক্তির দ্বার দিয়ে যে করুণার প্রকাশ হয়,তাহাই মায়াময়ী-করুণা।সেই মায়াময়ী করুণাও কোন অংশে কম নয়।শ্রীকৃষ্ণের তটস্থাশক্তি সংখ‍্যাতীত চিৎকণ জীব দুই প্রকার (১)নিত‍্যমুক্ত (২)নিত‍্যবদ্ধ।* *এই দুই শ্রেণীর জনসমষ্টি অনাদিকাল হতেই রয়েছে।যাঁরা নিত‍্য মুক্ত, তাঁরা নিত‍্যকাল কৃষ্ণের সেবানন্দে বিভোর রয়েছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন। নিত‍্যব‍দ্ধ জীবগণ অনাদিকাল হতেই কৃষ্ণবহির্মুখ,এই বহির্মুখতার কারণ তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্যদাস হয়েও তাঁর সেবা ভুলে স্বতন্ত্রভাবে ভোগ আকাঙ্খায় রত আছে।* *ভগবান কৃপা করে মায়াশক্তির দ্বারা ভোগ আকাঙ্খী কৃষ্ণবহির্মুখ জীবের ভোগের ক্ষেত্র এই ব্রহ্মান্ড এবং ভোগ আয়তন দেহ-রচনা করছেন।* *যদিও ভোগাকাঙ্খা ভোগের দ্বারা নিবৃত্ত হয় না,তবু ভোগের দ্বারা নরকাদি দুঃখপ্রাপ্তির ফলে অনুতপ্ত বা নির্বেদপ্রাপ্ত হয়ে সাধু-গুরু কৃপায় জীব শ্রীকৃষ্ণচরণে উন্মুখ হয়ে থাকে এবং ভজনের ফলে প্রেমসেবা লাভ করে চিরতরে ধন‍্য হয়।* *শ্রীকৃষ্ণ মায়াশক্তির দ্বারা তাদের ভোগভূমি এই ব্রহ্মান্ড রচনা না করলে অনন্তকাল তাদের শীকৃষ্ণবহির্মুখ হয়েই থাকতে হতো।* *আবার এই বিশাল ব্রহ্মান্ড, এখানের জীবকুলের প্রাণ ধারণের জন্য জল,বায়ু,সূর্য‍্য,চন্দ্র,গ্রহ,নক্ষত্র ও বিবিধ ভোগ‍্য-পদার্থ‍্যের যিনি স্রষ্টা,মায়াশক্তির দ্বার দিয়ে তাঁর এইসব করুণা কম নয়, কিন্তু এতে জীবের সংসারবন্ধন মোচন হয় না বা নিত‍্য কৃষ্ণদাস জীব নিজ স্বরূপের সন্ধান লাভ করে নিত‍্যপ্রভু শ্রীকৃষ্ণের সেবালাভ করে ধন‍্য হতে পারে না বলে স্বরূপশক্তির দ্বার দিয়ে শ্রীগুরু বৈষ্ণবের কৃপা সাহায্যে জীবকুলকে তাঁর স্বরূপশক্তি হ্লাদিনী এবং সম্বিতের বৃত্তি ভক্তি প্রদান করে থাকেন এবং এই মৃন্ময় ব্রহ্মান্ডে তাঁর চিন্ময়ী লীলার অবতারণা করে নিজ নাম,গুণ,লীলারূপ ভজন উপকরণ দ্বারা জীবকুলকে প্রেমদানে এবং সাক্ষাৎ প্রেমসেবাদানে ধন‍্য করে থাকেন।* *তাঁর এইসব করুণা অত‍্যন্ত ব‍্যাপক,বিশাল ও অফুরন্ত বলে "দয়ার সিন্ধু"শব্দে তার সূচনা করা হয়েছে মাত্র,বস্তুত তাঁর বিশালতার কাছে কোটি কোটি সিন্ধুও তুচ্ছাতিতুচ্ছ।*
      ক্রমশ


*শ্রীকৃষ্ণ অফুরন্ত করুণার সিন্ধু হলেও তাঁর স্বরূপশক্তিময়ী করুণা কখনো ধন,জন,আভিজাত‍্য অভিমানীর চিত্তে জায়গা পাই না,তাই ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,"অধম জনার বন্ধু, মোহে প্রভু!কর অবধান",হে প্রভো!তুমি অধম জনার বন্ধু এবং আমিও নিতান্ত অধম, সুতরাং তোমার করুণা পাওয়ার যোগ‍্যই।আমার কথা একবার স্মরণ করিও।ঠাকুরমহাশয়ের এই প্রার্থনাবাক‍্যে সাধকের ইহাই শিক্ষনীয় যে,ভক্তিপথে থেকে শ্রীগুরু-বৈষ্ণব এবং ভগবানের করুণা লাভ হলে দেহ-দৈহিকাদির সমস্ত অভিমান ত‍্যাগ করে ""অধম"" হতে হবে।* *নীচ,দীন,অপকৃষ্ট,নিন্দিত,তুচ্ছ ইত‍্যাদি "অধম"শব্দের আভিধানিক অর্থ।ভক্ত বিশ্ব সদগুণের খনি হয়েও নিজেকে অতি হীন,দীন,অপকৃষ্ট(নীচ)বলেই মনে করেন।* *এটি সর্ব সদগুণ-খনি,ভাগবতী-ভক্তি হতেই প্রকাশ পেয়ে থাকে।তার কারণ এই যে,স্বরূপত জীবাত্মা স্বাধীন তত্ত্ব নয়,পরমাত্মার অধীন,আবার মায়িক বিশ্বে কাল,কর্ম,গুণাদি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। মহদকৃপায় জীব যখন ভক্তি পথাশ্রয় করে,তখন মহৎসঙ্গে এই রহস‍্যটি অবগত হয় এবং এই আত্মজ্ঞানের উন্মেষে(নয়ন খুলে গেলে) স্বীয় (নিজ)কর্তৃতাদির অভাববোধ হেতু সর্বকর্মে নিজেকে অযোগ্য ও অসমর্থ মনে করে এবং সর্বত্র ঈশ্বরের প্রবল কর্তৃত্ব অনুভব করে সর্বোভাবে তাঁর চরণে প্রপন্ন(আশ্রয়প্রার্থী)হয়,তখনি নিজেকে অধম বা অপকৃষ্ট বলে মনে হয়,ইহার নাম "দৈন‍্য" ইহা ভক্তগণের সাধন-সম্পদ।যা অতি তাড়াতাড়িই সাধকের প্রতি ভগবানের করুণাকে আকর্ষণ করে আনে।জাতরতি সাধকের লক্ষণে কথিত হয়েছে "সর্বোত্তম আপনাকে "হীন" করি মানে"(চৈঃচঃ)*
*ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,হে প্রভো!অতি অধম দুর্গতজন আমার কথা একবার মনে করিও।শ্রীকৃষ্ণ যদি বলেন,'তোমার কি কথা মনে করতে হবে? তদুত্তরে বলছেন,""পড়িনু অসৎ ভোলে,কাম তিমিঙ্গিলে গিলে,ওহে নাথ! কর পরিত্রান।""*
*'হে নাথ! আমি অসৎ ভোলে ,কাম বা কামনারূপ তিমিঙ্গিল আমায় গিলে ফেলছে,তার কবল হতে তুলে আমায় তুমি রক্ষা কর।এখানে শব্দান্তরের বিন‍্যাস দেখে মনে হয় অসৎভোল বলতে অসৎ অর্থ‍্যাৎ দেহ-দৈহিকাদি নশ্বর বস্তুকে সৎ বা সত‍্য বলে ভোল বা ভ্রান্তিতে পড়ে যাওয়াই অসৎভোলে পড়ে যাওয়া বা পতিত হওয়া।* *এইরকম ভ্রান্তি হতেই দেহ-দৈহিকাদিকে সত‍্য মনে করে স্বরূপ বিভ্রান্ত মানুষ কুল বিশ্বের অর্থ-সম্পদাদিই কামনা করে থাকে এবং এতে তাদের এমনি আবেশ জন্ম হয় যে,এদের নশ্বরত্ব বা দুঃখদত্ব বিষয়ে শত শত সদউপদেশ শুনেও তা কিছুতেই ধরে রাখতে পারে না।কার্যত এই কামের সেবাতেই জীবন অতিবাহিত করে থাকে।যেমন কাম-কামনা ভোগের আধার এই দেহের স্বরূপ বিচার করলে দেখা যাবে(যোগোপনিষদ)*
*"অমেধ‍্যপূর্ণে কৃমিজালসঙ্কুলে স্বভাবদুর্গন্ধিবিনিন্দিতান্তরে।কলেবরে মূত্রপুরিষভাবিতে রমন্তি মূঢ়া বিরমন্তি পন্ডিতাঃ।।*
*অর্থ‍্যাৎ অমেধ‍্যপূর্ণ(অপবিত্রপূর্ণ), কৃমিজালসঙ্কুল,স্বভাবতই দুর্গন্ধযুক্ত মূত্র-পুরীষপূর্ণ এই কলেবরে মূঢ়গণই(মহামুর্খগণই) ভোগের লালসা করে থাকে,পন্ডিতগণ এই জঘণ‍্য দেহিসক্তি হতে বিরত হন।*
*🌻আরো কথিত আছে 🌻*
*ব্রণমুখমিব দেহং পূতিচর্মাবনদ্ধং কৃমিকুলশতপূর্ণং মূত্রবিষ্ঠানুলেপম্। বিগতবহুলরূপং সর্বভোগাদিবাসং ধ্রুবমরণনিমিত্তং কিন্তু মোহপ্রসক্ত‍্যা।।*
*অর্থ‍্যাৎ=এই দেহ ব্রণমুখ,(ক্ষতে ভরা),দুর্গন্ধ-চর্মজড়িত,শত শত কৃমিপূর্ণ,মূত্রবিষ্ঠালিপ্ত,ভিন্ন ভিন্ন বয়সে ভিন্ন রূপ প্রাপ্ত যা নিশ্চিত বিনাশপ্রাপ্ত হবে তবুও মোহ প্রসক্তিদ্বারা এই দেহ সকল-প্রকার কামনা ভোগের কারণ হয়েছে।*
*এই সকল সহজ ও অতি সত‍্য উপদেশগুলি শুনে বুঝেও এই দেহকেই "আমি"বলে মনে হয়েছে -- এটিই ঠাকুরমহাশয় বলছেন। সেই প্রবল কামনা যেন তিমিঙ্গলের মতো আমায় গিলে ফেলেছে।সমুদ্রের তিমিঙ্গিল যেন গ্রাস করেছে।এতে কামনার শক্তি বা ভয়াবহতা প্রদর্শিত হয়েছে।ক্ষুদ্র মানুষের নিজের ইচ্ছায় বা সামর্থে এর কবল হতে আত্মরক্ষা করবার সাধ‍্য নাই, তাই বলা হয়েছে =ওহে নাথ!কর পরিত্রাণ।হে প্রভো!শ্রীকৃষ্ণ!তুমিই একমাত্র মহাশক্তিশালী কামের হাত থেকে রক্ষা করতে পার,অতএব এর কবল হতে আমায় রক্ষা কর।*
*🌻বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






*তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু,* *মোহে প্রভো! কর অবধান।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_29.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁ *তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু*  ꧂
             ꧁ *মোহে প্রভো! কর অবধান।* ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু,*
    *মোহে প্রভো! কর অবধান।*
*পড়িনু অসৎ ভোলে,কাম তিমিঙ্গিলে গিলে,*
    *ওহে নাথ!কর পরিত্রাণ।।*
*🙏🙏অধমের প্রতি কৃপা🙏🙏*
*শ্রীঠাকুরমহাশয় শ্রীকৃষ্ণকে "মহাশয়" অর্থ‍্যাৎ উদারচেতা বা কৃপালু বলে জড়ীয় বিষয়াবেশ হতে পরিত্রাণ লাভের জন্য তাঁর করুণা কামনা করেছেন।শ্রীকৃষ্ণকে "মহাশয়" বলে সম্বোধন করায় বিশ্বের অপর কোন মহাশয় বা উদারচেতার মত তাঁকে মনে হতে পারে বলে এই ত্রিপদীতে বলছেন,*
*"তুমি তো দয়ার সিন্ধু", "সিন্ধু" যেমন অসীম,অপারও দুর্বিগাহ,শ্রীকৃষ্ণের করুণাও তেমনি অনন্ত অপার। ক্ষুদ্র জীবশক্তির কথা দূরে থাকুক=ব্রহ্মা,মহেশ্বর,অনন্তদেব প্রভৃতিও যাঁর করুণাদি গুণের অন্ত পান না; জীবের পক্ষে সেই অপার করুণাসিন্ধুর একবিন্দুর স্পর্শ করা ব‍্যতীত আর কোন উপায় নাই।সেই করুণাসিন্ধুর কথাই আমরা কিঞ্চিৎ* *উল্লেখ করছি।জীবের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের করুণা দুইরকম ভাবে বর্ষিত হয়,(১)মায়াময়ী (২)স্বরূপশক্তিময়ী।মায়াশক্তির দ্বার দিয়ে যে করুণার প্রকাশ হয়,তাহাই মায়াময়ী-করুণা।সেই মায়াময়ী করুণাও কোন অংশে কম নয়।শ্রীকৃষ্ণের তটস্থাশক্তি সংখ‍্যাতীত চিৎকণ জীব দুই প্রকার (১)নিত‍্যমুক্ত (২)নিত‍্যবদ্ধ।* *এই দুই শ্রেণীর জনসমষ্টি অনাদিকাল হতেই রয়েছে।যাঁরা নিত‍্য মুক্ত, তাঁরা নিত‍্যকাল কৃষ্ণের সেবানন্দে বিভোর রয়েছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন। নিত‍্যব‍দ্ধ জীবগণ অনাদিকাল হতেই কৃষ্ণবহির্মুখ,এই বহির্মুখতার কারণ তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্যদাস হয়েও তাঁর সেবা ভুলে স্বতন্ত্রভাবে ভোগ আকাঙ্খায় রত আছে।* *ভগবান কৃপা করে মায়াশক্তির দ্বারা ভোগ আকাঙ্খী কৃষ্ণবহির্মুখ জীবের ভোগের ক্ষেত্র এই ব্রহ্মান্ড এবং ভোগ আয়তন দেহ-রচনা করছেন।* *যদিও ভোগাকাঙ্খা ভোগের দ্বারা নিবৃত্ত হয় না,তবু ভোগের দ্বারা নরকাদি দুঃখপ্রাপ্তির ফলে অনুতপ্ত বা নির্বেদপ্রাপ্ত হয়ে সাধু-গুরু কৃপায় জীব শ্রীকৃষ্ণচরণে উন্মুখ হয়ে থাকে এবং ভজনের ফলে প্রেমসেবা লাভ করে চিরতরে ধন‍্য হয়।* *শ্রীকৃষ্ণ মায়াশক্তির দ্বারা তাদের ভোগভূমি এই ব্রহ্মান্ড রচনা না করলে অনন্তকাল তাদের শীকৃষ্ণবহির্মুখ হয়েই থাকতে হতো।* *আবার এই বিশাল ব্রহ্মান্ড, এখানের জীবকুলের প্রাণ ধারণের জন্য জল,বায়ু,সূর্য‍্য,চন্দ্র,গ্রহ,নক্ষত্র ও বিবিধ ভোগ‍্য-পদার্থ‍্যের যিনি স্রষ্টা,মায়াশক্তির দ্বার দিয়ে তাঁর এইসব করুণা কম নয়, কিন্তু এতে জীবের সংসারবন্ধন মোচন হয় না বা নিত‍্য কৃষ্ণদাস জীব নিজ স্বরূপের সন্ধান লাভ করে নিত‍্যপ্রভু শ্রীকৃষ্ণের সেবালাভ করে ধন‍্য হতে পারে না বলে স্বরূপশক্তির দ্বার দিয়ে শ্রীগুরু বৈষ্ণবের কৃপা সাহায্যে জীবকুলকে তাঁর স্বরূপশক্তি হ্লাদিনী এবং সম্বিতের বৃত্তি ভক্তি প্রদান করে থাকেন এবং এই মৃন্ময় ব্রহ্মান্ডে তাঁর চিন্ময়ী লীলার অবতারণা করে নিজ নাম,গুণ,লীলারূপ ভজন উপকরণ দ্বারা জীবকুলকে প্রেমদানে এবং সাক্ষাৎ প্রেমসেবাদানে ধন‍্য করে থাকেন।* *তাঁর এইসব করুণা অত‍্যন্ত ব‍্যাপক,বিশাল ও অফুরন্ত বলে "দয়ার সিন্ধু"শব্দে তার সূচনা করা হয়েছে মাত্র,বস্তুত তাঁর বিশালতার কাছে কোটি কোটি সিন্ধুও তুচ্ছাতিতুচ্ছ।*
      ক্রমশ


*শ্রীকৃষ্ণ অফুরন্ত করুণার সিন্ধু হলেও তাঁর স্বরূপশক্তিময়ী করুণা কখনো ধন,জন,আভিজাত‍্য অভিমানীর চিত্তে জায়গা পাই না,তাই ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,"অধম জনার বন্ধু, মোহে প্রভু!কর অবধান",হে প্রভো!তুমি অধম জনার বন্ধু এবং আমিও নিতান্ত অধম, সুতরাং তোমার করুণা পাওয়ার যোগ‍্যই।আমার কথা একবার স্মরণ করিও।ঠাকুরমহাশয়ের এই প্রার্থনাবাক‍্যে সাধকের ইহাই শিক্ষনীয় যে,ভক্তিপথে থেকে শ্রীগুরু-বৈষ্ণব এবং ভগবানের করুণা লাভ হলে দেহ-দৈহিকাদির সমস্ত অভিমান ত‍্যাগ করে ""অধম"" হতে হবে।* *নীচ,দীন,অপকৃষ্ট,নিন্দিত,তুচ্ছ ইত‍্যাদি "অধম"শব্দের আভিধানিক অর্থ।ভক্ত বিশ্ব সদগুণের খনি হয়েও নিজেকে অতি হীন,দীন,অপকৃষ্ট(নীচ)বলেই মনে করেন।* *এটি সর্ব সদগুণ-খনি,ভাগবতী-ভক্তি হতেই প্রকাশ পেয়ে থাকে।তার কারণ এই যে,স্বরূপত জীবাত্মা স্বাধীন তত্ত্ব নয়,পরমাত্মার অধীন,আবার মায়িক বিশ্বে কাল,কর্ম,গুণাদি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। মহদকৃপায় জীব যখন ভক্তি পথাশ্রয় করে,তখন মহৎসঙ্গে এই রহস‍্যটি অবগত হয় এবং এই আত্মজ্ঞানের উন্মেষে(নয়ন খুলে গেলে) স্বীয় (নিজ)কর্তৃতাদির অভাববোধ হেতু সর্বকর্মে নিজেকে অযোগ্য ও অসমর্থ মনে করে এবং সর্বত্র ঈশ্বরের প্রবল কর্তৃত্ব অনুভব করে সর্বোভাবে তাঁর চরণে প্রপন্ন(আশ্রয়প্রার্থী)হয়,তখনি নিজেকে অধম বা অপকৃষ্ট বলে মনে হয়,ইহার নাম "দৈন‍্য" ইহা ভক্তগণের সাধন-সম্পদ।যা অতি তাড়াতাড়িই সাধকের প্রতি ভগবানের করুণাকে আকর্ষণ করে আনে।জাতরতি সাধকের লক্ষণে কথিত হয়েছে "সর্বোত্তম আপনাকে "হীন" করি মানে"(চৈঃচঃ)*
*ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,হে প্রভো!অতি অধম দুর্গতজন আমার কথা একবার মনে করিও।শ্রীকৃষ্ণ যদি বলেন,'তোমার কি কথা মনে করতে হবে? তদুত্তরে বলছেন,""পড়িনু অসৎ ভোলে,কাম তিমিঙ্গিলে গিলে,ওহে নাথ! কর পরিত্রান।""*
*'হে নাথ! আমি অসৎ ভোলে ,কাম বা কামনারূপ তিমিঙ্গিল আমায় গিলে ফেলছে,তার কবল হতে তুলে আমায় তুমি রক্ষা কর।এখানে শব্দান্তরের বিন‍্যাস দেখে মনে হয় অসৎভোল বলতে অসৎ অর্থ‍্যাৎ দেহ-দৈহিকাদি নশ্বর বস্তুকে সৎ বা সত‍্য বলে ভোল বা ভ্রান্তিতে পড়ে যাওয়াই অসৎভোলে পড়ে যাওয়া বা পতিত হওয়া।* *এইরকম ভ্রান্তি হতেই দেহ-দৈহিকাদিকে সত‍্য মনে করে স্বরূপ বিভ্রান্ত মানুষ কুল বিশ্বের অর্থ-সম্পদাদিই কামনা করে থাকে এবং এতে তাদের এমনি আবেশ জন্ম হয় যে,এদের নশ্বরত্ব বা দুঃখদত্ব বিষয়ে শত শত সদউপদেশ শুনেও তা কিছুতেই ধরে রাখতে পারে না।কার্যত এই কামের সেবাতেই জীবন অতিবাহিত করে থাকে।যেমন কাম-কামনা ভোগের আধার এই দেহের স্বরূপ বিচার করলে দেখা যাবে(যোগোপনিষদ)*
*"অমেধ‍্যপূর্ণে কৃমিজালসঙ্কুলে স্বভাবদুর্গন্ধিবিনিন্দিতান্তরে।কলেবরে মূত্রপুরিষভাবিতে রমন্তি মূঢ়া বিরমন্তি পন্ডিতাঃ।।*
*অর্থ‍্যাৎ অমেধ‍্যপূর্ণ(অপবিত্রপূর্ণ), কৃমিজালসঙ্কুল,স্বভাবতই দুর্গন্ধযুক্ত মূত্র-পুরীষপূর্ণ এই কলেবরে মূঢ়গণই(মহামুর্খগণই) ভোগের লালসা করে থাকে,পন্ডিতগণ এই জঘণ‍্য দেহিসক্তি হতে বিরত হন।*
*🌻আরো কথিত আছে 🌻*
*ব্রণমুখমিব দেহং পূতিচর্মাবনদ্ধং কৃমিকুলশতপূর্ণং মূত্রবিষ্ঠানুলেপম্। বিগতবহুলরূপং সর্বভোগাদিবাসং ধ্রুবমরণনিমিত্তং কিন্তু মোহপ্রসক্ত‍্যা।।*
*অর্থ‍্যাৎ=এই দেহ ব্রণমুখ,(ক্ষতে ভরা),দুর্গন্ধ-চর্মজড়িত,শত শত কৃমিপূর্ণ,মূত্রবিষ্ঠালিপ্ত,ভিন্ন ভিন্ন বয়সে ভিন্ন রূপ প্রাপ্ত যা নিশ্চিত বিনাশপ্রাপ্ত হবে তবুও মোহ প্রসক্তিদ্বারা এই দেহ সকল-প্রকার কামনা ভোগের কারণ হয়েছে।*
*এই সকল সহজ ও অতি সত‍্য উপদেশগুলি শুনে বুঝেও এই দেহকেই "আমি"বলে মনে হয়েছে -- এটিই ঠাকুরমহাশয় বলছেন। সেই প্রবল কামনা যেন তিমিঙ্গলের মতো আমায় গিলে ফেলেছে।সমুদ্রের তিমিঙ্গিল যেন গ্রাস করেছে।এতে কামনার শক্তি বা ভয়াবহতা প্রদর্শিত হয়েছে।ক্ষুদ্র মানুষের নিজের ইচ্ছায় বা সামর্থে এর কবল হতে আত্মরক্ষা করবার সাধ‍্য নাই, তাই বলা হয়েছে =ওহে নাথ!কর পরিত্রাণ।হে প্রভো!শ্রীকৃষ্ণ!তুমিই একমাত্র মহাশক্তিশালী কামের হাত থেকে রক্ষা করতে পার,অতএব এর কবল হতে আমায় রক্ষা কর।*
*🌻বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর 'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/home-page-pdf-httpsmrinmoynandy.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ *'গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর* 
         ꧁ *'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর*  ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🙏
*'গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর* 
*'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর*  
*আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।*
*সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে।।*
*বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন*।
*কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন।।*
*রূপ-রঘুনাথ বলি হইবে আকূতি।*
*কবে হাম বুঝব সে যুগল পিরীতি।।*
*রূপ-রঘুনাথ-পদে রহু মোর আশ*।
*প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তম দাস*।।
🙏🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🙏
*🌻শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয়ের প্রেমভক্তিচন্দ্রিকার মতো ""প্রার্থনা"" ও বৈষ্ণবজগতে তাঁর এক অতুলনীয় অবদান।তাঁর অতি সরল প্রাঞ্জল এবং প্রাণের আবেগময়ী প্রার্থনায় যে অসাধারণ সাধন সম্পদ্ বা ভাবোচ্ছাস নিহিত আছে,তা ভক্তিজগতে মৃতসঞ্জীবনীসুধার মতো ত্রিতাপদগ্ধ মুমূর্ষ(মৃতমুখী)কলিজীবের যুগলভজনরূপ জীবনদায়ী এবং পরম আস্বাদ‍্য।*
*🌻"প্রার্থনা" শব্দের আভিধানিক অর্থ "যাচ্ঞা" বা "চাওয়া"।শুদ্ধ ভক্তগণের অভীষ্টের কাছে নিজেদের প্রার্থনার কিছুই থাকে না।ঐহিকের (ইহকালের) ঐশ্বর্য‍্য-সম্পদাদি বা পারত্রিকের(পরকালের)স্বর্গাদি,এমনকি মুক্তিলাভের প্রার্থনাও ভক্তের অন্তরে জাগলে ভক্তি আভাসিত হয়ে পড়েন ; আর প্রেমফল প্রসব করেন না।অর্থ‍্যাৎ প্রেমফল জন্মাইতে পারে না।* *নিজ সুখের জন্য কোন বাসনা শুদ্ধভক্তের অন্তরে না থাকলেও অভীষ্টের  সুখের জন্য ভজনকামনা,প্রেমকামনা বা অভীষ্টের সাক্ষাৎসেবা কামনার তরঙ্গ তাঁদের হৃদয়-নদীতে সবসময় দোলা দিতে থাকে!তাই তাঁরা অভীষ্টচরণে ঐ বিষয়ে সবসময় প্রার্থনা জ্ঞাপন করে থাকেন।ভক্তের সকাতর প্রার্থনা ভগবানের করুণার অর্গল খুলে দেয়। ভগবানের করুণাধারায় স্নান করে ভক্ত অভীষ্টলাভে ধন‍্য হয়ে থাকেন। শ্রীঠাকুর মহাশয়ের প্রার্থনা বাণী তাহারই উৎস।*
*🌻শ্রীমৎ রূপগোস্বামীপাদ তাঁর ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে শ্রীমদ্ভাগবত প্রণিহিত-(প্রাপ্তি) শ্রবণ কীর্তনাদি নববিধাভক্তির বিবৃতি প্রসঙ্গে চৌষট্টি প্রকার ভজনাঙ্গের উল্লেখ করেছেন,তাতে (প্রার্থনা) ভক্তির একটি অন‍্যতম অঙ্গ। শ্রীপাদ প্রার্থনার প্রকারভেদ নিরূপণে বলেছেন=*
*"সংপ্রার্থনাত্মিকা দৈন‍্যবোধিকা লালসাময়ী।*
*ইত‍্যাদির্বিবিধা ধীরৈঃ কৃষ্ণে বিজ্ঞপ্তিরীরিতা।।*
    *(ভক্তিরসামৃতসিন্ধু=১|২|১৫২)*
*🌻অর্থ‍্যাৎ "বিজ্ঞজন শ্রীকৃষ্ণের কাছে বিজ্ঞপ্তির সংপ্রার্থনাত্মিকা,দৈন‍্যবোধিকা এবং লালসাময়ী ইত‍্যাদি বিবিধভেদ নিরূপণ করে থাকেন"।* *এই* *প্রসঙ্গে শ্রীমৎ জীবগোস্বামীচরণ তাঁর দুর্গমসঙ্গমনী টীকায় লিখেছেন=* *"যতঃ সংপ্রার্থনা অনুৎপন্নভাবস‍্য,লালসা তু জাতভাবস‍্যেতি ভেদঃ।লালসাময়ত্বাৎ সংপ্রার্থনাপ‍্যত্র লালসেত‍্যেব হি ভণ‍্যতে,অতো লালসাময়ীয়ম্।অত্রেদৃশে সংপ্রার্থনা লালসে প্রস্তাবাদেব দর্শিতে, কিন্তু রাগানুগায়ামেব জ্ঞেয়ে"।* *তাৎপর্য‍্য এই যে,মন,বুদ্ধি প্রভৃতিকে ভগবানের চরণে নিষ্ঠাপ্রাপ্তি করাবার প্রার্থনাই "সংপ্রার্থনা",অতএব ইহা অজাতরতি সাধকের এবং অভীষ্টের সেবাদি প্রার্থনারূপ লালসা জাতরতি সাধকের সম্ভবপর হয়।* *জাতরতি সাধকের সংপ্রার্থনাগুলিও লালসাপূর্ণ বলে তাঁকেও লালসাময়ী বলতে কোন বাধা নাই। প্রসঙ্গত বৈধীভক্তির প্রকরণে সংপ্রার্থনা এবং লালসার বিবৃতি দিলেও রাগানুগা প্রকরণেই ইহার উপযুক্ত স্থল বলে জানতে হবে"।* *শ্রীঠাকুরমহাশয় প্রেমের মূরতি এবং রাগানুগাভক্তির আচার্য‍্য সুতরাং তাঁর সংপ্রার্থনা,দৈন‍্যবোধিকা প্রভৃতি বিজ্ঞপ্তি সবই প্রগাঢ় লালসাময়ী বলে জানতে হবে।* *সুতরাং এইসব প্রার্থনার অনুবাদে বা শ্রবণ-কীর্তনে সাধকের প্রাণের প্রার্থনাটি খাঁটি হবে এবং এই মহাশক্তিশালী প্রার্থনাবাণী সাধকের প্রতি ভগবানের করুণার অর্গল খুলে দিবে।* 
*(ক্রমশ)*


*শ্রীঠাকুরমহাশয় প্রার্থনা পদের আরম্ভে ভাবদশার কামনায় বললেন=* *"গৌরাঙ্গ-----ব'বে নীর,(ব'বে=বইবে বা বহিবে)*। *নাম ও নামী অভিন্নতত্ত্ব, সুতরাং নামে নামী ভগবানের পূর্ণশক্তির অভিব‍্যক্তি (প্রকাশ)রয়েছে।ব্রজেন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ প্রেমময়ী রাধারাণীর ভাবকান্তি গ্রহণ করেই গৌর হয়েছেন। সুতরাং সেই প্রেমাবতারের অন্তরে যেমন সবসময় মহাভাবসিন্ধুর বিপুল আলোড়ন,তেমনি শ্রীঅঙ্গও সর্বদা অশ্রু পুলকাদি অষ্ট সাত্ত্বিক বিকারে ব‍্যাপ্ত।"গৌরাঙ্গ"শব্দের উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই সেই মহা প্রেমময় বিগ্রহের স্মৃতিতে নাম উচ্চারণকারীর দেহও পুলকিত হয়ে উঠে। ""অদ‍্যাপিহ দেখ-- চৈতন্য-নাম যেই লয়।কৃষ্ণপ্রেমে পুলকাশ্রু বিহ্বল সে হয়।।* *শ্রীঠাকুরমহাশয় দৈন‍্যবশত ভাবছেন,হায়!এমন প্রেমময় গৌরাঙ্গ নামে আমার রতি জন্মিল না। কবে আমার এমন শুভদিন হবে,যেদিন "গৌরাঙ্গ"নাম উচ্চারণে ভাবদশার উদয়ে দেহ পুলকিত হয়ে উঠবে!"গৌরাঙ্গ"নামে রতি কামনা করে "হরি"নামে বা কৃষ্ণনামে রতি কামনা করছেন, "হরি হরি বলিতে নয়নে ব'বে (বইবে বা বহিবে)নীর। "হরি" নাম উচ্চারণ করতেই স্বপ্রকাশ হরিনাম শ্রীঠাকুরমহাশয়ের প্রেমময় জিহ্বায় পুনঃপুনঃ উচ্চারিত হতে লাগল।কতবার যে জিহ্বায় হরিনাম উচ্চারিত করলেন,তা কারো ধারণা করবার সাধ‍্য নেই।কেল 'হরি হরি'এই দুইবার লিখেই তিনি সেই পুনঃপুনঃ সমুচ্চারিত অনন্ত হরি নামের ইঙ্গিত করলেন মাত্র।হায়!হরি হরি বলতে কবে আমার নয়নে অশ্রুধারা প্রবাহিত হবে।*
       *ক্রমশ*
 *🌻শ্রীঠাকুরমহাশয় গৌরাঙ্গ নামে এবং হরিনামে যে অশ্রু-পুলকাদি কামনা করলেন,তার নাম "সাত্ত্বিক" ভাব। ""কৃষ্ণসম্বন্ধিভিঃ সাক্ষাৎ কিঞ্চিদ্বা ব‍্যবধানতঃ।ভাবৈশ্চিত্তমিহাক্রান্তং সত্ত্বমিত‍্যুচ‍্যতে বুধৈঃ।সত্ত্বাদস্মাৎ সমুৎপন্না যে যে ভাবাস্তে তু সাত্ত্বিকাঃ।।(ভঃরঃসিঃ ২|৩|১-২,) অর্থ‍্যাৎ ""শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধীয় দাস‍্য,সখ‍্যাদি পঞ্চবিধ মুখ‍্যরতি সাক্ষাৎ ভাবে এবং হাস, করুণাদি সপ্তগৌণরতি দ্বারা কিঞ্চিৎ ব‍্যবধানে আক্রান্ত চিত্তকে পন্ডিতগণ ""সত্ত্ব"" বলে থাকেন।* *কেবল সেই সত্ত্ব হতে সমুৎপন্ন ভাবগুলিকে ""সাত্ত্বিক""বলা হয়। অশ্রু,পুলক,কম্প,বৈবর্ণাদি অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব।ভাব বা রতি কর্তৃক আক্রান্ত গলিত চিত্তে এই অশ্রুপুলকাদি উদিত হলেই তার আস্বাদন চমৎকারীত্ব প্রকাশ পায়,চিত্তগলনের আগে অশ্রু,পুলকাদি উদিত হলেও তাকে সাত্ত্বিকভাস বলা হয় ।ইহার কোন আস্বাদন চমৎকারিতা নাই।* *এইজন‍্য অশ্রু পুলকাদিকে ভাবোদয়ের সাধারণ লক্ষণ বলা হয়েছে।অসাধারণ লক্ষণ বা অনুভাব নয়টি যথা=*
*ক্ষান্তিরব‍্যর্থকালত্বং বিরক্তির্মানশূন‍্যতা।আশাবন্ধঃ সমুৎকন্ঠা নামগানে সদা রুচিঃ।আসক্তিস্তদগুণাখ‍্যানে প্রীতিস্তদ্বসতিস্থলে।ইত‍্যাদয়োহনুভাবাঃ স‍্যুর্জাতভাবাঙ্কুরে জনে।।(ভঃরঃসিঃ=১|৩|২৫)* 
      ক্রমশ
*ভঃরঃসিঃ ১|৩|২৫ ব‍্যাখ‍্যা, অর্থ‍্যাৎ ক্ষান্তি,(তিতিক্ষা বা ক্ষমা),অব‍্যর্থকালতা,বিরক্তি,নিরভিমানতা,আশাবন্ধ,সমুৎকন্ঠা,নামগানে সদা রুচি,ভগবানের গুণ-রূপ-অনুবাদে আসক্তি এবং বসতিস্থলে প্রীতিভাবের অঙ্কুরমাত্র যাঁদের উদিত হয়েছে,তাঁদের মধ্যে এই ভাবগুলি উদিত হয়ে থাকে।*
*🌻শ্রীমৎ জীবগোস্বামীপাদ লিখেছেন="তদেবং প্রীতের্লক্ষণং চিত্তদ্রবস্তস‍্য চ রোমহর্ষাদিকম্।কথঞ্চিজ্জাতেহপি চিত্তদ্রবে রোমহর্ষাদিকে বা ন চেদাশয়শুদ্ধিস্তদাপি ন ভক্ত‍্যেঃ সম‍্যগাবির্ভাবঃ ইতি জ্ঞাপিতম্। (প্রীতিসন্দর্ভ=৬৯ অনুচ্ছেদ),*
*অর্থ‍্যাৎ "প্রীতির লক্ষণ চিত্তদ্রবতা এবং তার লক্ষণ অশ্রু-পুলকাদি।সামান‍্য পরিমাণে চিত্ত দ্রবিত হলেও বা অশ্রুপুলকাদির উদয় হলেও যদি চিত্তশুদ্ধি বা কৃষ্ণসেবা ছাড়া অন‍্য কোনসব পরিত‍্যাগ এবং শ্রীকৃষ্ণেই প্রীতি ইচ্ছার প্রকাশ না হয়,তাহলে তাও ভক্তির সম‍্যক আবির্ভাব নয় বলেই জানতে হবে।* *এইজন‍্য ঠাকুরমহাশয় ভাবদশার প্রার্থনা করেও বললেন,""আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে"", সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে।। বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন।। শ্রীপাদ ঠাকুরমহাশয় শ্রীশ্রীনিতাইচাঁদের প্রমের মূরতি হয়েও দৈন‍্যভরে প্রার্থনা করে এই গৌর-নিতায়ের যুগের মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছেন।এইযুগে পতিত উদ্ধারণ জন্য পতিতপাবন শ্রীনিতাইচাঁদে যে অসাধারণ করুণার অভিব‍্যক্তি ঘটেছে,তার কোন তুলনায় নাই।*
*""দন্তে তৃণ ধরি নিতাই নগরে বেড়ায়"",* 
*যারে দেখে তারে কহে দন্তে তৃণ করি।* 
*আমারে কিনিয়া লহ বল গৌরহরি।।* 
*এইরকম দয়াময় নিতাইচাঁদের কৃপা ছাড়া কলিজীবের অনাদিকালের সংসার বাসনা বা দেহ-দৈহিকাদিতে আসক্তির প্রবল সংস্কার তুচ্ছ হবে কিকরে?* *আমার নিতাইয়ের করুণা হলে বিষয় বিষে ডুবে থাকা মন ত‍্যাগ হবে,মন শুদ্ধ হবে,এবং তখনি বৃন্দাবন দর্শনের জন্য প্রাণে ব‍্যাকলতা জাগবে ও মধুর বৃন্দাবনের শোভা নয়ন গোচর হবে।* *শ্রীবৃন্দাবন শ্রীরূপ-রঘুনাথের ভজনস্থলী এই বৃন্দাবনেই শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের খোঁজ করছেন।""ভজন""মানেই অভীষ্টকে খোঁজা বা অন্বেষণ করা।বৃন্দাবন শ্রীগোস্বামীপাদগণের আকূতিময় ভজনরসে ভরপূর।বৃন্দাবনে আসলে শুদ্ধচিত্ত সাধকেরও সেই আকূতির যথাসম্ভব সংক্রমণ হয়ে থাকে।শ্রীরূপ-রঘুনাথের কৃপাতে সাধক তখন যুগলপ্রীতি বুঝতে পারেন।* *গোস্বামীপাদগণই ব্রজেরই মঞ্জরী,যুগলপ্রীতি বিশ্বমানবকে বুঝাবার জন‍্যই শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গে বিশ্বে নেমে আসা।সেইজন‍্য তাঁরা তাঁদের বিপুল অনুভূতিপূর্ণ যুগলপ্রীতির শিক্ষা তাঁদের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রেখেছেন।সাধক তাঁদের ভজনস্থলী এই বৃন্দাবনে তাঁদের জন্য ব‍্যাকুল হবেন,হারূপ!হা রঘুনাথ! তোমরা আছ দর্শন দাও।এইতো তোমাদের ভজনস্থলী,শ্রীবৃন্দাবন।এই জায়গায় তোমাদের নিত‍্যলীলা চলছে, মোহান্ধ আমি,তোমাদের লীলা দেখতে পাচ্ছি না,সাধক এইভাবে এই বৃন্দাবনে রূপ-রঘুনাথের নাম নিয়ে ব‍্যাকুল হলে তাঁদের করুণা নেমে আসবে।""কবে হাম বুঝব সে যুগল পিরীতি।। যুগল পিরীতি=শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের পরম বিশুদ্ধ পারস্পরিক প্রেম।এইপ্রেমের বোধ অতি সুদুর্লভ,একমাত্র শ্রীরূপ-রঘুনাথের কৃপা সাপেক্ষ।তাই বলছেন,রূপ-রঘুনাথ পদে রহু মোর আশ।প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তম দাস।।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর 'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/home-page-pdf-httpsmrinmoynandy.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ *'গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর* 
         ꧁ *'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর*  ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🙏
*'গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর* 
*'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর*  
*আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।*
*সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে।।*
*বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন*।
*কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন।।*
*রূপ-রঘুনাথ বলি হইবে আকূতি।*
*কবে হাম বুঝব সে যুগল পিরীতি।।*
*রূপ-রঘুনাথ-পদে রহু মোর আশ*।
*প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তম দাস*।।
🙏🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🙏
*🌻শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয়ের প্রেমভক্তিচন্দ্রিকার মতো ""প্রার্থনা"" ও বৈষ্ণবজগতে তাঁর এক অতুলনীয় অবদান।তাঁর অতি সরল প্রাঞ্জল এবং প্রাণের আবেগময়ী প্রার্থনায় যে অসাধারণ সাধন সম্পদ্ বা ভাবোচ্ছাস নিহিত আছে,তা ভক্তিজগতে মৃতসঞ্জীবনীসুধার মতো ত্রিতাপদগ্ধ মুমূর্ষ(মৃতমুখী)কলিজীবের যুগলভজনরূপ জীবনদায়ী এবং পরম আস্বাদ‍্য।*
*🌻"প্রার্থনা" শব্দের আভিধানিক অর্থ "যাচ্ঞা" বা "চাওয়া"।শুদ্ধ ভক্তগণের অভীষ্টের কাছে নিজেদের প্রার্থনার কিছুই থাকে না।ঐহিকের (ইহকালের) ঐশ্বর্য‍্য-সম্পদাদি বা পারত্রিকের(পরকালের)স্বর্গাদি,এমনকি মুক্তিলাভের প্রার্থনাও ভক্তের অন্তরে জাগলে ভক্তি আভাসিত হয়ে পড়েন ; আর প্রেমফল প্রসব করেন না।অর্থ‍্যাৎ প্রেমফল জন্মাইতে পারে না।* *নিজ সুখের জন্য কোন বাসনা শুদ্ধভক্তের অন্তরে না থাকলেও অভীষ্টের  সুখের জন্য ভজনকামনা,প্রেমকামনা বা অভীষ্টের সাক্ষাৎসেবা কামনার তরঙ্গ তাঁদের হৃদয়-নদীতে সবসময় দোলা দিতে থাকে!তাই তাঁরা অভীষ্টচরণে ঐ বিষয়ে সবসময় প্রার্থনা জ্ঞাপন করে থাকেন।ভক্তের সকাতর প্রার্থনা ভগবানের করুণার অর্গল খুলে দেয়। ভগবানের করুণাধারায় স্নান করে ভক্ত অভীষ্টলাভে ধন‍্য হয়ে থাকেন। শ্রীঠাকুর মহাশয়ের প্রার্থনা বাণী তাহারই উৎস।*
*🌻শ্রীমৎ রূপগোস্বামীপাদ তাঁর ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে শ্রীমদ্ভাগবত প্রণিহিত-(প্রাপ্তি) শ্রবণ কীর্তনাদি নববিধাভক্তির বিবৃতি প্রসঙ্গে চৌষট্টি প্রকার ভজনাঙ্গের উল্লেখ করেছেন,তাতে (প্রার্থনা) ভক্তির একটি অন‍্যতম অঙ্গ। শ্রীপাদ প্রার্থনার প্রকারভেদ নিরূপণে বলেছেন=*
*"সংপ্রার্থনাত্মিকা দৈন‍্যবোধিকা লালসাময়ী।*
*ইত‍্যাদির্বিবিধা ধীরৈঃ কৃষ্ণে বিজ্ঞপ্তিরীরিতা।।*
    *(ভক্তিরসামৃতসিন্ধু=১|২|১৫২)*
*🌻অর্থ‍্যাৎ "বিজ্ঞজন শ্রীকৃষ্ণের কাছে বিজ্ঞপ্তির সংপ্রার্থনাত্মিকা,দৈন‍্যবোধিকা এবং লালসাময়ী ইত‍্যাদি বিবিধভেদ নিরূপণ করে থাকেন"।* *এই* *প্রসঙ্গে শ্রীমৎ জীবগোস্বামীচরণ তাঁর দুর্গমসঙ্গমনী টীকায় লিখেছেন=* *"যতঃ সংপ্রার্থনা অনুৎপন্নভাবস‍্য,লালসা তু জাতভাবস‍্যেতি ভেদঃ।লালসাময়ত্বাৎ সংপ্রার্থনাপ‍্যত্র লালসেত‍্যেব হি ভণ‍্যতে,অতো লালসাময়ীয়ম্।অত্রেদৃশে সংপ্রার্থনা লালসে প্রস্তাবাদেব দর্শিতে, কিন্তু রাগানুগায়ামেব জ্ঞেয়ে"।* *তাৎপর্য‍্য এই যে,মন,বুদ্ধি প্রভৃতিকে ভগবানের চরণে নিষ্ঠাপ্রাপ্তি করাবার প্রার্থনাই "সংপ্রার্থনা",অতএব ইহা অজাতরতি সাধকের এবং অভীষ্টের সেবাদি প্রার্থনারূপ লালসা জাতরতি সাধকের সম্ভবপর হয়।* *জাতরতি সাধকের সংপ্রার্থনাগুলিও লালসাপূর্ণ বলে তাঁকেও লালসাময়ী বলতে কোন বাধা নাই। প্রসঙ্গত বৈধীভক্তির প্রকরণে সংপ্রার্থনা এবং লালসার বিবৃতি দিলেও রাগানুগা প্রকরণেই ইহার উপযুক্ত স্থল বলে জানতে হবে"।* *শ্রীঠাকুরমহাশয় প্রেমের মূরতি এবং রাগানুগাভক্তির আচার্য‍্য সুতরাং তাঁর সংপ্রার্থনা,দৈন‍্যবোধিকা প্রভৃতি বিজ্ঞপ্তি সবই প্রগাঢ় লালসাময়ী বলে জানতে হবে।* *সুতরাং এইসব প্রার্থনার অনুবাদে বা শ্রবণ-কীর্তনে সাধকের প্রাণের প্রার্থনাটি খাঁটি হবে এবং এই মহাশক্তিশালী প্রার্থনাবাণী সাধকের প্রতি ভগবানের করুণার অর্গল খুলে দিবে।* 
*(ক্রমশ)*


*শ্রীঠাকুরমহাশয় প্রার্থনা পদের আরম্ভে ভাবদশার কামনায় বললেন=* *"গৌরাঙ্গ-----ব'বে নীর,(ব'বে=বইবে বা বহিবে)*। *নাম ও নামী অভিন্নতত্ত্ব, সুতরাং নামে নামী ভগবানের পূর্ণশক্তির অভিব‍্যক্তি (প্রকাশ)রয়েছে।ব্রজেন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ প্রেমময়ী রাধারাণীর ভাবকান্তি গ্রহণ করেই গৌর হয়েছেন। সুতরাং সেই প্রেমাবতারের অন্তরে যেমন সবসময় মহাভাবসিন্ধুর বিপুল আলোড়ন,তেমনি শ্রীঅঙ্গও সর্বদা অশ্রু পুলকাদি অষ্ট সাত্ত্বিক বিকারে ব‍্যাপ্ত।"গৌরাঙ্গ"শব্দের উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই সেই মহা প্রেমময় বিগ্রহের স্মৃতিতে নাম উচ্চারণকারীর দেহও পুলকিত হয়ে উঠে। ""অদ‍্যাপিহ দেখ-- চৈতন্য-নাম যেই লয়।কৃষ্ণপ্রেমে পুলকাশ্রু বিহ্বল সে হয়।।* *শ্রীঠাকুরমহাশয় দৈন‍্যবশত ভাবছেন,হায়!এমন প্রেমময় গৌরাঙ্গ নামে আমার রতি জন্মিল না। কবে আমার এমন শুভদিন হবে,যেদিন "গৌরাঙ্গ"নাম উচ্চারণে ভাবদশার উদয়ে দেহ পুলকিত হয়ে উঠবে!"গৌরাঙ্গ"নামে রতি কামনা করে "হরি"নামে বা কৃষ্ণনামে রতি কামনা করছেন, "হরি হরি বলিতে নয়নে ব'বে (বইবে বা বহিবে)নীর। "হরি" নাম উচ্চারণ করতেই স্বপ্রকাশ হরিনাম শ্রীঠাকুরমহাশয়ের প্রেমময় জিহ্বায় পুনঃপুনঃ উচ্চারিত হতে লাগল।কতবার যে জিহ্বায় হরিনাম উচ্চারিত করলেন,তা কারো ধারণা করবার সাধ‍্য নেই।কেল 'হরি হরি'এই দুইবার লিখেই তিনি সেই পুনঃপুনঃ সমুচ্চারিত অনন্ত হরি নামের ইঙ্গিত করলেন মাত্র।হায়!হরি হরি বলতে কবে আমার নয়নে অশ্রুধারা প্রবাহিত হবে।*
       *ক্রমশ*
 *🌻শ্রীঠাকুরমহাশয় গৌরাঙ্গ নামে এবং হরিনামে যে অশ্রু-পুলকাদি কামনা করলেন,তার নাম "সাত্ত্বিক" ভাব। ""কৃষ্ণসম্বন্ধিভিঃ সাক্ষাৎ কিঞ্চিদ্বা ব‍্যবধানতঃ।ভাবৈশ্চিত্তমিহাক্রান্তং সত্ত্বমিত‍্যুচ‍্যতে বুধৈঃ।সত্ত্বাদস্মাৎ সমুৎপন্না যে যে ভাবাস্তে তু সাত্ত্বিকাঃ।।(ভঃরঃসিঃ ২|৩|১-২,) অর্থ‍্যাৎ ""শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধীয় দাস‍্য,সখ‍্যাদি পঞ্চবিধ মুখ‍্যরতি সাক্ষাৎ ভাবে এবং হাস, করুণাদি সপ্তগৌণরতি দ্বারা কিঞ্চিৎ ব‍্যবধানে আক্রান্ত চিত্তকে পন্ডিতগণ ""সত্ত্ব"" বলে থাকেন।* *কেবল সেই সত্ত্ব হতে সমুৎপন্ন ভাবগুলিকে ""সাত্ত্বিক""বলা হয়। অশ্রু,পুলক,কম্প,বৈবর্ণাদি অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব।ভাব বা রতি কর্তৃক আক্রান্ত গলিত চিত্তে এই অশ্রুপুলকাদি উদিত হলেই তার আস্বাদন চমৎকারীত্ব প্রকাশ পায়,চিত্তগলনের আগে অশ্রু,পুলকাদি উদিত হলেও তাকে সাত্ত্বিকভাস বলা হয় ।ইহার কোন আস্বাদন চমৎকারিতা নাই।* *এইজন‍্য অশ্রু পুলকাদিকে ভাবোদয়ের সাধারণ লক্ষণ বলা হয়েছে।অসাধারণ লক্ষণ বা অনুভাব নয়টি যথা=*
*ক্ষান্তিরব‍্যর্থকালত্বং বিরক্তির্মানশূন‍্যতা।আশাবন্ধঃ সমুৎকন্ঠা নামগানে সদা রুচিঃ।আসক্তিস্তদগুণাখ‍্যানে প্রীতিস্তদ্বসতিস্থলে।ইত‍্যাদয়োহনুভাবাঃ স‍্যুর্জাতভাবাঙ্কুরে জনে।।(ভঃরঃসিঃ=১|৩|২৫)* 
      ক্রমশ
*ভঃরঃসিঃ ১|৩|২৫ ব‍্যাখ‍্যা, অর্থ‍্যাৎ ক্ষান্তি,(তিতিক্ষা বা ক্ষমা),অব‍্যর্থকালতা,বিরক্তি,নিরভিমানতা,আশাবন্ধ,সমুৎকন্ঠা,নামগানে সদা রুচি,ভগবানের গুণ-রূপ-অনুবাদে আসক্তি এবং বসতিস্থলে প্রীতিভাবের অঙ্কুরমাত্র যাঁদের উদিত হয়েছে,তাঁদের মধ্যে এই ভাবগুলি উদিত হয়ে থাকে।*
*🌻শ্রীমৎ জীবগোস্বামীপাদ লিখেছেন="তদেবং প্রীতের্লক্ষণং চিত্তদ্রবস্তস‍্য চ রোমহর্ষাদিকম্।কথঞ্চিজ্জাতেহপি চিত্তদ্রবে রোমহর্ষাদিকে বা ন চেদাশয়শুদ্ধিস্তদাপি ন ভক্ত‍্যেঃ সম‍্যগাবির্ভাবঃ ইতি জ্ঞাপিতম্। (প্রীতিসন্দর্ভ=৬৯ অনুচ্ছেদ),*
*অর্থ‍্যাৎ "প্রীতির লক্ষণ চিত্তদ্রবতা এবং তার লক্ষণ অশ্রু-পুলকাদি।সামান‍্য পরিমাণে চিত্ত দ্রবিত হলেও বা অশ্রুপুলকাদির উদয় হলেও যদি চিত্তশুদ্ধি বা কৃষ্ণসেবা ছাড়া অন‍্য কোনসব পরিত‍্যাগ এবং শ্রীকৃষ্ণেই প্রীতি ইচ্ছার প্রকাশ না হয়,তাহলে তাও ভক্তির সম‍্যক আবির্ভাব নয় বলেই জানতে হবে।* *এইজন‍্য ঠাকুরমহাশয় ভাবদশার প্রার্থনা করেও বললেন,""আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে"", সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে।। বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন।। শ্রীপাদ ঠাকুরমহাশয় শ্রীশ্রীনিতাইচাঁদের প্রমের মূরতি হয়েও দৈন‍্যভরে প্রার্থনা করে এই গৌর-নিতায়ের যুগের মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছেন।এইযুগে পতিত উদ্ধারণ জন্য পতিতপাবন শ্রীনিতাইচাঁদে যে অসাধারণ করুণার অভিব‍্যক্তি ঘটেছে,তার কোন তুলনায় নাই।*
*""দন্তে তৃণ ধরি নিতাই নগরে বেড়ায়"",* 
*যারে দেখে তারে কহে দন্তে তৃণ করি।* 
*আমারে কিনিয়া লহ বল গৌরহরি।।* 
*এইরকম দয়াময় নিতাইচাঁদের কৃপা ছাড়া কলিজীবের অনাদিকালের সংসার বাসনা বা দেহ-দৈহিকাদিতে আসক্তির প্রবল সংস্কার তুচ্ছ হবে কিকরে?* *আমার নিতাইয়ের করুণা হলে বিষয় বিষে ডুবে থাকা মন ত‍্যাগ হবে,মন শুদ্ধ হবে,এবং তখনি বৃন্দাবন দর্শনের জন্য প্রাণে ব‍্যাকলতা জাগবে ও মধুর বৃন্দাবনের শোভা নয়ন গোচর হবে।* *শ্রীবৃন্দাবন শ্রীরূপ-রঘুনাথের ভজনস্থলী এই বৃন্দাবনেই শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের খোঁজ করছেন।""ভজন""মানেই অভীষ্টকে খোঁজা বা অন্বেষণ করা।বৃন্দাবন শ্রীগোস্বামীপাদগণের আকূতিময় ভজনরসে ভরপূর।বৃন্দাবনে আসলে শুদ্ধচিত্ত সাধকেরও সেই আকূতির যথাসম্ভব সংক্রমণ হয়ে থাকে।শ্রীরূপ-রঘুনাথের কৃপাতে সাধক তখন যুগলপ্রীতি বুঝতে পারেন।* *গোস্বামীপাদগণই ব্রজেরই মঞ্জরী,যুগলপ্রীতি বিশ্বমানবকে বুঝাবার জন‍্যই শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গে বিশ্বে নেমে আসা।সেইজন‍্য তাঁরা তাঁদের বিপুল অনুভূতিপূর্ণ যুগলপ্রীতির শিক্ষা তাঁদের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রেখেছেন।সাধক তাঁদের ভজনস্থলী এই বৃন্দাবনে তাঁদের জন্য ব‍্যাকুল হবেন,হারূপ!হা রঘুনাথ! তোমরা আছ দর্শন দাও।এইতো তোমাদের ভজনস্থলী,শ্রীবৃন্দাবন।এই জায়গায় তোমাদের নিত‍্যলীলা চলছে, মোহান্ধ আমি,তোমাদের লীলা দেখতে পাচ্ছি না,সাধক এইভাবে এই বৃন্দাবনে রূপ-রঘুনাথের নাম নিয়ে ব‍্যাকুল হলে তাঁদের করুণা নেমে আসবে।""কবে হাম বুঝব সে যুগল পিরীতি।। যুগল পিরীতি=শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের পরম বিশুদ্ধ পারস্পরিক প্রেম।এইপ্রেমের বোধ অতি সুদুর্লভ,একমাত্র শ্রীরূপ-রঘুনাথের কৃপা সাপেক্ষ।তাই বলছেন,রূপ-রঘুনাথ পদে রহু মোর আশ।প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তম দাস।।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds