✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৮৭. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori87.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৮৮. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori88.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী*
***************************
*💧শ্রীমন্মহাপ্রভুর আচরণ হতে দেখা যায় যে তিনি যে কাজ করতে মনস্থ করতেন তা এমন সুকৌশলে করিয়ে নিতেন যে বিপক্ষকে শেষ পর্যন্ত তাঁর মতে সায় দিতেই হত।প্রসঙ্গত বলা যায় যে তিনি শচীমায়ের কাছ হতে অতি সুকৌশলে সংসার আশ্রম ত্যাগের অনুমতি আদায় করে নিয়েছিলেন।বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কাছ হতেও একইরকম ভাবে তিনি তাঁকে তাঁর সিদ্ধান্তে রাজী করিয়েছিলেন।গদাধর পন্ডিত যখন মহাপ্রভুর বিরহে গোপীনাথ সেবা ত্যাগ করে তাঁর সঙ্গে বৃন্দাবন যাত্রার সঙ্গী হতে চেয়েছিলেন তখনও তিনি অতীব সুন্দরভাবে ক্ষেত্র সন্ন্যাস পরিত্যাগ করা যে কতবড় অপরাধ তা তাঁকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। অর্থ্যাৎ আমাদের প্রেমের ঠাকুর মহাপ্রভু জোর করে বা জিদ্ করে নিজ পুরুষাকারের পরিচয় কখনও এই জাতীয় ক্ষেত্রে দেননি বরং তার পরিবর্তে প্রেম ভালবাসা স্নেহ মমতা এবং যুক্তিদ্বারা নিজ কর্ম সমাধা করে নিতেন।এ ক্ষেত্রেও লোকনাথ যখন মহাপ্রভুর সঙ্গ ছাড়তে রাজী হলেন না, তখন তাঁর সামনে এমন অকাট্য যুক্তি স্থাপন করলেন যে লোকনাথের আর বলবার কিছু রইল না।অর্থ্যাৎ লোকনাথকে একাকী সেই গহন বন পরিবেশযুক্ত শ্রীধাম বৃন্দাবন গমন করে শ্রীকৃষ্ণলীলার পুন জাগরণ করতে হবে।এমনই সময় ভূগর্ভ গোস্বামী সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি হচ্ছেন গদাধর পন্ডিতের শিষ্য।তাঁর মনেও শ্রীধাম বৃন্দাবন যাত্রার সুপ্ত বাসনা সদা জাগ্রত এবং সেজন্য তিনি তখন কৃপাময় মহাপ্রভুর কাছে নিবেদন করলেন যে তিনিও লোকনাথের সঙ্গে সঙ্গী হতে চান। এতে মহাপ্রভু অতি আনন্দের সঙ্গে অনুমতি প্রদান করলেন। এইভাবে এক দুই মহাপুরুষ মহাপ্রভুর পার্ষদ হিসাবে সর্বপ্রথম এই পূণ্যভূমি বৃন্দাবনে আগমন করেন। মহাপ্রভুর সঞ্চারিত শক্তিই তাঁদের একমাত্র সম্বল, কারণ যে দুরূহ কাজের গুরুদায়িত্ব তাঁদের উপর অর্পিত হয়েছিল তা শুধু বৃন্দাবন পরিক্রমার মাধ্যমে পরিব্রাজকের কাজ না, তার পরিবর্তে তা হচ্ছে কঠোর সাধন ভজন এবং তীব্র বৈরাগ্য ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে কৃষ্ণকৃপা লাভ করা। শ্রীধাম বৃন্দাবনই যে সেই শ্রীকৃষ্ণের দ্বাপর যুগের পদাঙ্কিত ভূমি এবং সেই লুপ্ত গৌরব পুনরুদ্ধার করা।এটি পাওয়ার একমাত্র উপায় কঠোর সাধন ভজধের মাধ্যমে কৃষ্ণকৃপা লাভ করা এবং নানারকম ঘটনা ও স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে গুপ্ত বিগ্রহ সমূহ প্রকাশ করা। তার পরে সেই শ্রীবিগ্রহের অপার মহিমা প্রকাশ করা যা একমাত্র সম্ভব ভক্তের আনুগত্য এবং চরম নিষ্ঠা দ্বারা।লোকনাথ গোস্বামী এবং ষড়্ গোস্বামীগণের চরিত সুধা পাঠ করলেও দেখা যায় যে করুণাময় কৃষ্ণ ভগবান এবং দয়ময়ী রাধারাণী তাঁদের আনুগত্য এবং নিষ্ঠার চরম পুরস্কার হিসাবে তাঁদের যথাযথ মর্য্যাদা দান করেছেন। অর্থ্যাৎ পরিত্যক্ত সেই অনাবাদি জমি যেরকম উপযুক্ত চাষীর হাতে পড়লে তাতে সোনার ফসল ফলে সেইরকম বিশাল এই শ্বাপদসঙ্কুল (হিংস্রজন্তু পরিপূর্ণ ) বন পরিবেশই যে দ্বাপর যুগের কৃষ্ণলীলার চিহ্নিত ভূমি তা এইসব মহাশক্তিধর মহাপুরুষগণ সাধন ভজনরূপ চাষ-আবাদের দ্বারা সেখানে সোনার ফসল ফলিয়ে, মহাপ্রভুর মহিমা এবং মাধুর্য্য ও অবতারতত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন।লোকনাথ গোস্বামী হচ্ছেন তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম। লোকনাথ গোস্বামী যখন এইরকম ব্যথিত অন্তরে ভূগর্ভ গোস্বামীর সঙ্গে শ্রীধাম বৃন্দাবনে আগমন করেন তখন সদাসর্বদা তিনি মহাপ্রভুর ধ্যানে সমাহিত (একাগ্রচিত্ত)।করুণাময় মহাপ্রভু ভক্তের মনোকষ্টে ব্যথিত হয়ে স্বপ্নের মাধ্যমে তাঁকে দর্শনদান করে কি বলেছিলেন তা শুনুন, যা নরোত্তম বিলাস গ্রন্থে পাওয়া যায় =🌹মধুর বচনে কহে লোকনাথ প্রতি।*
*🌹তো সবার সহিত মোর সদা এথা স্থিতি।।*
*🌹বৃন্দাবনে সুখের সমুদ্র উথলিব।*
*🌹তো সবার দ্বারা মনোবৃত্তি প্রকাশিব।।*
*🌹সে সুখ সমুদ্রে তুমি সতত ভাসিবে।*
*🌹তোমার মনেতে যাহা, তাহা সর্বসিদ্ধি হবে।।*
*🌹কতদিন পরে এক নৃপতি নন্দন।*
*🌹হইবে তোমার শিষ্য নাম নরোত্তম।।*
*🌹তিঁহ প্রেম ভক্তিরসে ভাসিবে সদায়।*
*🌹জীবের কলুষ নাশ করিবে হেলায়।।*
*🌹প্রকাশিবে পরম মধুর উচ্চ গান।*
*🌹যাহার শ্রবণে দ্রবে এ দারু পাষাণ।।*
*🌹ঐছে কহি লোকনাথে কৈলা আলিঙ্গন।*
*🌹লোকনাথ ভূমে পড়ি বন্দিলা চরণ।।*
*🌹হেন কালে নিদ্রাভঙ্গ প্রভু অন্তর্দ্ধান।*
*🌹লোকনাথ ব্যাকুল ধরিতে নারে প্রাণ।।*
*অর্থ্যাৎ মহাপ্রভু পদ্মাবতী তীরে দাঁড়িয়ে যখন "নরু নরু" বলে অজানা কাকে সম্বোধন করেছিলেন বা পুরীধামে যেরকম "শ্রীনিবাস শ্রীনিবাস" বলে অজানা ভাবে ডাক দিয়েছিলেন তাঁদের আবির্ভাবের বহু আগে, সেরকম আবার স্বপ্নের মাধ্যমে লোকনাথ গোস্বামীকেও ইঙ্গিত করেছিলেন যে তাঁর ভাগ্যে একজন শিষ্য মিলবে তাঁর নাম নরোত্তম।এইরকম ইঙ্গিত মহাপ্রভু দক্ষিণদেশ ভ্রমণকালে গোপালভট্টকেও দিয়েছিলেন, শ্রীনিবাস আচার্য্যকে দীক্ষাদান বিষয়ে।অর্থ্যাৎ ভবিতব্য সবই মহাপ্রভু বহু আগেই প্রকাশ করেছিলেন।*
*🍀একদিকে মহাপ্রভু তাঁর প্রিয়জন এবং ভক্তগণ নিয়ে নবদ্বীপে প্রেমের হাট পত্তন করেছিলেন আর অন্যদিকে এই নির্জন বন পরিবেশে বন্যজাতি এবং শ্বাপদসঙ্কুল পরিবেশে কি করে একাকী সময় কাটাবেন লোকনাথ গোস্বামী তা ভেবে কুল পান না। কিন্তু সঙ্কল্প যেখানে দৃঢ়--, নিষ্ঠা যেখানে প্রবল, আনুগত্য যেখানে চরম সেখানে কৃপার বাতাস বহিতে বাধ্য। অর্থ্যাৎ ভগবানের কৃপা প্রয়াসলভ্য নহে প্রসাদলভ্য।তিনি অতীব দয়াময়, তাঁর করুণার শেষ নেই প্রতিপদে প্রতিক্ষণে কৃষ্ণভক্ত মানুষ তা অনুভব করেন এবং তাঁকে পাওয়া যেমন কঠিন তেমনি আবার সহজ।একমাত্র ভক্তেরই তিনি দাস সেজন্য শাস্ত্র বলেছেন যে=*
*🌷বৎসের পশ্চাতে যেমন ধায় ধেনুগণ।*
*🌷তেমনি ভক্তের পাছে ধায় ভগবান্।।*
*সেজন্য আমাদের এই ভারতবর্ষে সাধু বৈষ্ণবগণের জীবনী পাঠ করলে দেখা যায় মানুষরূপী ভক্তগণ ভগবদ্ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে অসাধ্য সাধন করা গিয়েছেন, যা জ্ঞান বিজ্ঞানের পক্ষে সম্ভব না।একমাত্র কৃপা দ্বারাই তা সম্ভব।সেজন্য করুণাময় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান এবং দয়াময়ী রাধারাণী লোকনাথের আনুগত্যে প্রীত হয়ে ধীরে ধীরে করুণাধারা বর্ষণ করতে লাগলেন যার ফলে লোকনাথের জীবন পরিপূর্ণতার আনন্দে ভরপুর হয়ে গেল।*
⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪
*পরিহরি গৃহ ধন,কুলধর্ম নিজজন,*
*আসিয়াছে গোপনারী আমার কারণ।*
*হ'য়ে সবে এক চিত্ত,আমারে ভজিছে নিত্য,*
*কোনরূপে করিতেছে জীবন ধারণ।।*
*গোপ গোপী ব্রজে যত,সবে হয় শোকান্বিত,*
*মৃত প্রায় হইয়াছে আমার কারণে*।
*কৃষ্ণের আদেশ যবে,উদ্ধব ত্বরিতে তবে,*
*আরোহণ করে রথে প্রফুল্ল অন্তরে।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🌻🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৮৯. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori89.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
