শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৯৬. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori96.html

  ✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৯৫. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori95.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯৬. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori96.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
        *বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু*
        ************************
*💧সেইরকম আরেক জনের কথা বলি,শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ যখন সদ‍্য বিবাহ করে নব পরিণীতা পত্নীকে নিয়ে পালকী করে নিজালয়ে ফিরছিলেন তখন আচার্য‍্য প্রভু যাজিগ্রামে সেই পথের পার্শ্বের একটি বৃক্ষতলে বসে ভাগবত পাঠ করছিলেন। হঠাৎ রামচন্দ্র কবিরাজ সে জায়গায় প্রণাম ও বিশ্রাম করবার জন্য পালকী থেকে নেমেই তাঁকে দর্শনমাত্র আচার্য‍্য প্রভু যা বলেছিলেন তা শুনুন=*
*🌷রামচন্দ্র হেন কালে,বিবাহান্তে নিজালয়ে,*
       *ফিরিছেন মূরতি মধুর।*
*হেরি তার রূপঠাম,শ্রীআচার্য‍্য গুণধাম,*
      *কহিছেন উদ্দেশে তাঁহার।।*
*অপূর্ব এরূপ ধন‍্য,নহে আত্মভোগ জন‍্য,*
      *যোগ‍্য শুধু গোবিন্দ সেবার।*
*সংসার বিষয় কূপে,ডুবাইতে সর্ব জীবে,*
       *মায়ার মূরতি এই নারী।*
*কৃষ্ণদাস‍্য ভুলাইতে,নরক যন্ত্রণা দিতে,*
     *পুরুষ রতন লয় কাড়ি।।*
*🍀আচার্য‍্য প্রভুর এইকথা কিন্তু রামচন্দ্রের কানে প্রবেশ করল এবং তার ফলে তাঁর জীবনে প্রবল ভাবান্তর উপস্থিত হল।তখন তাঁর মন অনুতাপানলে দগ্ধ হতে লাগল এবং অন্তরে তীব্র বৈরাগ‍্যের আগুন জ্বলে উঠিল। যার ফলে তিনি সদ‍্য বিবাহিতা পত্নী রত্নমালা দেবীকে চিরতরে পরিত‍্যাগ করে আচার্য‍্য প্রভুর কাছে এসে চরণতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন।এই প্রসঙ্গে গ্রন্থে লেখা আছে ঃ-----*
*🌷সবাকার অলক্ষিতে,অতি ব‍্যাকুলিত চিতে,*
     *আসি নিশিযোগে যাজিগ্রামে।*
*প্রাতে ছিন্নমূল বৃক্ষপ্রায়,কাঁদি তিঁহ উভরায়,*
     *পড়িলেন আচার্য‍্য চরণে।।*
*🌹এস্থলেও ঐরকম একটি কথা রামচন্দ্র কবিরাজের জীবন  অদ‍্যাপি বৈষ্ণব জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন*
*🌻সেরকম আবার ভক্ত তুলসী দাসের জীবনেও দেখা যায় যে তিনি একজন সাধারণ সংসারী মানুষ ছিলেন এবং পত্নীর প্রতি অতীব আসক্ত ছিলেন।বিয়ের পর হতে এক দিনের জন্যও পত্নীকে শ্বশুড়ালয়ে যেতে দেননি,যার একমাত্র কারণ যে তিনি পত্নীকে ছেড়ে থাকতে পারতেন না। স্বামীর এই আসক্তি বা ভালোবাসা স্ত্রীর কাছে অনেক ক্ষেত্রে অসহনীয় হলেও কোন উপায় তাঁর ছিল না।দৈবযোগে একদিন কোন শুভকার্য‍্য উপলক্ষ্যে পিত্রালয় হতে তাঁকে নিতে লোক আসে এবং ভাগ‍্যক্রমে তখন তুলসীদাস বাড়ীতে ছিলেন না।স্বামীর অনুমতি নিতে গেলে যাওয়া হবে না জেনে, তিনি বাবার বাড়ী চলে যান।সেইদিন ঘরে এসে তুলসীদাস পত্নীকে না দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ শ্বশুরবাড়ী রওনা হয়ে গেলেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে ফিরবার জন্য মত প্রকাশ করলেন।তাঁর পত্নী অত‍্যন্ত ক্ষুণ্ণ হয়ে ক্রোধান্বিত হয়ে তখন বললেন--, "আমাকে না হলে তুমি একটা রাত্রি বাস করতে পার না, আমার উপর তোমার যে এত আকর্ষণ তার সিকি ভাগও যদি তোমার ঈশ্বরের প্রতি থাকত তাহলে তোমার জীবনের গতি ফিরে যেত।*
*🍀তাঁর পত্নী কখনও স্বপ্নেও ভাবতে পারননি যে এই কথায় তাঁর সাংসারিক জীবনের যবনিকাপাত ঘটাবে। অর্থ‍্যাৎ স্ত্রীর মুখ থেকে এইরকম কথা শোনা মাত্র তুলসীদাস গৃহত‍্যাগ করে চলে গেলেন এবং ভক্তি রাজ‍্যের অতীব উচ্চ শিখরে তিনি আরোহণ করতে সমর্থ হয়েছিলেন।এর মূলেও ঠিক ঐ একটি কথা।*
*🍁সেইরকম সাধক ভক্ত বিল্বমঙ্গলের জীবন পর্য‍্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি একজন পতিতা রমণীর প্রতি অতীব আসক্ত ছিলেন।প্রত‍্যেকদিন রাত্রে ঐ পতিতা রমণীর ঘরে তিনি অবশ্যই যেতেন।তাঁর পিতৃ বিয়োগ কালে সেই পতিতা রমণী বারবার তাঁকে নিষেধ করেছিলেন যে তিনি যেন অশৌচকালে সেই পতিতা রমণীর ঘরে ন আসেন।অবশেষে শ্রাদ্ধের দিন রাত্রিতে রিপুর তাড়নায় তিনি  গভীর রাত্রিতে সেই পতিতা রমণীর ঘরে গিয়ে উপস্থিত হন এবং সেই পতিতা রমণী তুলসীদাসের পত্নীর মতো তাঁকে অতীব শ্লেষ সহকারে তার প্রতি তার আসক্তি নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করে।এতে বিল্বমঙ্গলের জীবনের গতিও ফিরে যায় এবং তাঁর ভক্তিময় জীবনী প্রসঙ্গ পাঠ করলে হৃদয় মন জুড়িয়ে যায়। এখানেও ঠিক সেই একটি কথা।*
*🌹যাইহোক,"বেলা যে যায় " এই কথাটি লালাবাবুর জীবনের গতি সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দেয় এবং তিনি সর্বস্ব পরিত‍্যাগ করে কঠোর সাধন ভজনের মধ‍্য দিয়ে নিজের পরমার্থ জীবনের ভিত তুলবেন এই দৃঢ় সঙ্কল্প নিয়ে শ্রীধাম বৃন্দাবনে যাত্রার উদ‍্যোগ করেন।একবার বাস্তব নয়নে বিচার করে দেখুন যে তখনকার সময়ের কোটিপতি এক জমিদার মাত্র কুড়ি বৎসর বয়সে ধন দৌলত,রাজ‍্য,ঐশ্বর্য‍্য,মান সম্মান সব পরিত‍্যাগ করে চিরতরে সংসারের নাগপাশ হতে নিজেকে মুক্ত করে চলেছেন একখানি কৌপিন এবং বহির্বাস পরিধান করে শ্রীধাম বৃন্দাবনে।*
*💧ভগবান যাঁকে যখন আত্মসাৎ করতে চাহেন তখন তাঁর কাছে পার্থিব ধন দৌলত অতীব তুচ্ছ মনে হয় এবং তাঁর মনের একমাত্র বাসনা পরমার্থের সন্ধান।লালাবাবুর এই সংবাদ প্রচার হওয়া মাত্র চারিদিকে হাহাকার পড়ে গেল এবং সমস্ত রাজবাড়ী যেন অমানিশার অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে গেল এবং তখনকার পরিবেশ অনেকটা এইরকম যথা=*
*🌷কাঁদিলেন পুত্র তাঁর প্রেয়সী রমণী।*
*🌷কাঁদিল বদন ধরি স্নেহের জননী।।*
*🌷কাঁদিলেন প্রজাকুল প্রভুর কারণ।*
*🌷কাঁদিল সকলে গুণ করিয়া স্মরণ।।*
*🌷মায়াময় এ সংসার ভাবি নিজমনে।*
*🌷ত‍্যজিলেন সব বস্তু বিবেক সেবনে।।*
*🌷হরি ভজনের লাগি ধাম বৃন্দাবনে।*
*🌷চলিলেন মহারাজ আনন্দিত মনে।।*
*🙏অবশেষে তিনি শ্রীধাম বৃন্দাবনে আগমন করে চরম বৈরাগ‍্য অবলম্বন করে সাধন ভজনে লিপ্ত হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯৭. বৈষ্ণব চূড়ামণি কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori97.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৯৫. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori95.html

  ✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৯৪. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori94.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯৫. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori95.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
   *বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু*
 *****************************
*🔵শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামী যখন মহাপ্রভুর সঙ্গ মানসে সর্বস্ব ত‍্যাগ করে যেতে চেয়েছিলেন তখন পতিতপাবন গৌরহরি তাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন।*
*🌷স্থির হও রঘুনাথ না হও বাতুল*।
*🌷ক্রমে ক্রমে পায় লোক ভবসিন্ধু কুল।।*
*🌷মর্কট বৈরাগ‍্য না করো লোক দেখাইয়া।*
*🌷যথাযোগ‍্য বিষয় ভুঞ্জ অনাসক্ত হইয়া।।*
*🌷অন্তরে নিষ্ঠা করো বাহ‍্যে লোক ব‍্যবহার।*
*🌷অচিরাতে কৃষ্ণ তোমায় করিবেন উদ্ধার।।*
*🌻এ ক্ষেত্রেও অনেকটা এইরকম,কারণ নিষ্ঠা যেখানে প্রবল, সঙ্কল্প যেখানে পাষাণ সদৃশ, ব‍্যাকুলতা যেখানে প্রকৃত অন্তর হতে উত্থিত সে জায়গায় সিদ্ধি অনিবার্য‍্য। এইসবই মানুষের সর্বপ্রকারের জীবনের বেলাতেই প্রযোজ‍্য এবং ভক্তি জগতে এর ভুরি ভুরি নিদর্শন আছে। ভগবানই তাঁকে অদৃশ‍্যভাবে এমন সহায়তা করেন,যার ফলে ভক্তি নদীর স্রোতে তাঁর জীবন তরণী প্রবাহিত হয়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছিয়ে যায়।লালাবাবুর জীবনে যে এটি কত সত‍্য তার প্রমাণ আমরা এই প্রসঙ্গেই পাব।*
*🍀ধাম দর্শনের পর তিনি যখন কর্মস্থলে ফিরে এলেন তখন তাঁর পিতা মৃত‍্যু শয‍্যায় শায়িত, একমাত্র পুত্রের দর্শন মানসে তিনি বহু আক্ষেপ করে গিয়েছেন কিন্তু অভিমানী পুত্র পিতার সে ডাকে সাড়া দেননি,যার ফলে মৃত‍্যুর পূর্বে এই একমাত্র সন্তানের সঙ্গে তাঁর আর জীবনে সাক্ষাৎ হয়নি।সামান‍্য এক হাজার মুদ্রার জন্য পুত্রের মনে যে ব‍্যথা দিয়েছিলেন তার পরিণতি তাঁকে মর্ম্মে মর্ম্মে ভোগ করতে হয়েছিল। অতঃপর লালাবাবুকে সকলে গিয়ে তাঁর পৈতৃক এই বিশাল জমিদারীর দায়ভার গ্রহণ করতে বলিলে তিনি তাতে রাজী হন এবং এইভাবে গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের অতুল ঐশ্বর্য‍্যের অধিকারী হন লালাবাবু।এই সময়ে একদিন জমিদারীর মহল দর্শন করে তিনি যখন পালকী করে পাইক বরকন্দাজ সহ ফিরছিলেন,তখন পথিমধ‍্যে বিকেলবেলায় এক নদীর ধারে কিছুক্ষণ বিশ্রামের জন্য পালকী থেকে নেমে বসলেন।পুণ‍্যতোয়া নদী কুলকুল শব্দে বহে যাচ্ছে,নদীর তীরে সুশীতল বৃক্ষছায়ায় আচ্ছাদিত, স্নিগ্ধ শীতল বায়ুর প্রবাহে পরিবেশ খুবই উপভোগ‍্য, তার উপরে অস্তাচলগামী সূর্য‍্য ধীরে ধীরে পশ্চিম গগনে কিরণ দিচ্ছে।লালাবাবু বিশ্রাম করছেন,এমন সময় একটি বালিকার কন্ঠস্বর তাঁর কানে প্রবেশ করল এবং সে যেন বলছে, "বাবা বেলা যে যায় বাসনায় আগুন দাও"। বাসনা বলতে, কলাগাছের যে শুকনো ছাল হয় তাকে বাসনা বলা হয়েছে, অর্থ‍্যাৎ কলার বাসনা জাতীয় কোন জিনিসে আগুন ধরাও।এই কথাটি লালাবাবুর কানে শুনলেন যে,"বেলা যে যায়" অর্থ‍্যাৎ বালিকাটি ধীবরের কন‍্যা, এই ধীবরের কন‍্যাটি দিন যে গড়িয়ে যাচ্ছে, সন্ধ‍্যা আসছে, সন্ধ‍্যা আগত প্রায় এই হিসাবে তার নিদ্রিত বাবাকে ঘুম হতে জাগাবার জন্য ডাকছিল। কিন্তু লালাবাবুর জীবনে তার অর্থ অন‍্যভাবে আত্মপ্রকাশ করল। তিনি চিন্তাকুল হৃদয়ে ভাবতে লাগলেন যে নিরক্ষর এই সাধারণ গ্রাম‍্য বালিকাটি সত‍্যই তো যথার্থ কথা বলেছে।তাঁর জীবনের বেলাও তো ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তথাপি তিনি কামনা বাসনা ভোগ বিলাসের মধ্যেই তো নিজের জীবন অতিবাহিত করছেন! তখন তিনি ভাবতে লাগলেন যে এটি ঈশ্বরের কৃপা বা অদৃশ্য আকর্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়।এই কথায় তাঁর জীবনে বৈরাগ‍্যের তীব্র লালসা ও সাধন ভজনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা সুপ্তভাবে বিরাজ করছিল এবং এইকথাটি যেন কশাঘাতের মতো তাঁর মোহ নিদ্রা ভেঙ্গে চুরমার করে দিল। অর্থ‍্যাৎ ক্ষেত্র প্রস্তুতই ছিল শুধু বীজ বপনের অপেক্ষা। "বেলা যে যায় " এই কথাটি তো আমরা প্রত‍্যেকদিনই বলি বা শুনি, কিন্তু আমাদের জীবনের গতি তো পরিবর্তন হয় না বরণ আমরা পাশ কাটিয়ে বা পাশ ফিরিয়ে ঘুমাই যাতে আর কিছুক্ষণ সুখনিদ্রা ভোগ করতে পারি।*
*☘এই একটি কথায় জীবনের গতি পরিবর্তন হয়েছিল শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীর জীবনে যখন তিনি হোসেন শাহের অধীনে রাজস্ব সচিবের কর্ম করছিলেন।একদিন রাত্রে প্রচণ্ড প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে রাস্তা ঘাট বিপর্য‍্যস্ত, সব জলপ্লাবিত এবং গাছপালা পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, এমনকি জঙ্গলের জীবজন্তু পর্যন্ত বাইরে আসতে সাহস পায় না।এমনই দুর্য‍্যোগপূর্ণ রাত্রিতে নবাব কোন এক বিশেষ কারণে শ্রীরূপ গোস্বামীকে তলব করেন বা ডাক দেন।পালকী বেহারা অতি সাবধানে পাইক সৈন‍্যসামন্ত নিয়ে তাঁর রাজপ্রাসাদে যায় এবং নবাবের আদেশ নিবেদন করেন।হাজার অনিচ্ছা থাকলেও রূপ গোস্বামী বাধ‍্য হয়ে যাত্রা করেন এবং তাঁর পালকী যখন এক রজক রজকিনীর বাড়ীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন,  তখন পালকী বাহকগণের জলের মধ্যে দিয়ে চলবার শব্দ সময় তাঁদের কানে যায়। সেই রজক রজকিনী দুশ্চিন্তায় রাত্রে ঘুমোতে পারেনি। তারা বলাবলি করতে লাগল কিসের এই শব্দ।এই দুর্য‍্যোগে তো কেউ বাহির হবে না। তখন রজকিনী বললেন--, "হয় চোর না হয় কুকুর না হয়  রাজার গোলাম"।রজকিনীর এইকথা রূপগোস্বামীর কানে শেলের মতো বিদ্ধ হল তিনি উদাস মনে পালকীর মধ্যে বসে ভাবতে লাগলেন যে রজকিনী ঠিক কথায় বলেছে, তিনি রাজস্ব সচীব হলেও "রাজার গোলাম বা চাকর" ছাড়া কিছুই নন, অতএব আর তিনি এই দাসত্ব শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে চান না। এর পর নানারকম ঘটনার মধ‍্য দিয়ে তিনি শ্রীধাম বৃন্দাবনে পালিয়ে গিয়েছিলেন।মূল কারণ কিন্তু ঐ একটি কথা যদিও ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।*
⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪
*আমাদের লইবারে,আসে রথ এইবারে,*
   *মনোরথ পূর্ণ সখী বুঝি এতদিনে।*
*কৃষ্ণ লাগি মনে ব‍্যথা,কহে তাই নানা কথা,*
   *ঝরে কত অশ্রু তবে সবার নয়নে।।*
*উদ্ধবের সেইক্ষণ,হয় সেথা আগমন,*
   *আজানুলম্বিত বাহু কমল নয়ন।*
*গলদেশে শোভে তার,বনফুলে গাঁথা হার,*
    *পরিধানে পীতবাস অতি সুদর্শন।।*
*ব্রজবাসী সেথা যত,বিস্ময়েতে বিমোহিত,*
   *তখন উদ্ধবে সবে করিল বেষ্টন*।
*রূপ তাঁর অপরূপ,শ্রীকৃষ্ণের অনুরূপ,*
   *বেশ ভূষা সব কিছু কৃষ্ণের মতন।।*
🦚🪷🌷🦚🪷🌷🦚🪷🌷🦚🪷🌷🪔
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯৬. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori96.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৯৪. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori94.html

  ✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৯৩. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori93.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯৪. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori94.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
     *বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু*
   •••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀পূর্ব জন্মের সুকৃতিই হোক বা প্রারব্ধই হোক, তিনি বাল‍্যকাল হতেই পরোপকারী,সত‍্যনিষ্ঠ এবং দেব-দ্বিজে ভক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।কোন এক অজ্ঞাত আকর্ষণে তিনি যে কোন,ধর্মসভা পূজাপাঠ যেখানেই হত সে সব জায়গায় তিনি গিয়ে উপস্থিত হতেন।এর দ্বারা তাঁর কৃষ্ণচন্দ্র নামের স্বার্থকতা শৈশবকাল হতেই ধীরে ধীরে প্রতীয়মান হয়, বা বুঝা যায়।অর্থ‍্যাৎ ঐশ্বর্য‍্য এবং ভোগ বিলাসের মধ্যে মানুষ হলেও তাঁর অন্তরের অন্তস্থলে শ্রীকৃষ্ণের অদৃশ্য প্রেরণা তাঁকে চালিত করত। অতুল ঐশ্বর্য‍্যের মালিক হলেও তিনি তখন পিতার অধীন, কারণ তখন পিতামহ গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ পরলোক গমন করেছিলেন এবং তাঁর পিতা প্রাণকৃষ্ণ সিংহই তখন উত্তরাধীকার সূত্রে সর্বপ্রথম।একসময় বালক লালাবাবু দেখলেন যে "দেউড়ীর গেটের দ্বার রক্ষক একজন লোককে কিছুতেই রাজ-দরবারে যাবার অনুমতি দিচ্ছে না"। হঠাৎ লালাবাবুর তা নজরে আসিল এবং তিনি কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করলে উক্ত লোকটি সানুনয় কন্ঠে বললেন, "বাবা আমি একজন গরীব ব্রাহ্মণ কন‍্যাদায়গ্রস্থ হয়ে মহা সমস‍্যায় পড়ে রাজ দরবারে কিছু সাহায্যের আলায় এসেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত এই দ্বার রক্ষক কিছুতেই আমাকে ভিতরে যেতে অনুমতি দিচ্ছে না এবং আমি দিনের পর দিন আসি আর ফিরে যায়।লালাবাবুর কিশোর হৃদয়ে করুণার সঞ্চার হয় এবং তিনি তাকে রাজ দরবারে খাজাঞ্চী খানায় নিয়ে গেলেন এবং সেই ব্রাহ্মণকে এক হাজার টাকা সাহায্য দিতে আদেশ করলেন। (সেই সময়ের একহাজার টাকা মানে অনেক টাকা) বৃদ্ধ খাজাঞ্চী মহা সমস‍্যায় পড়ে গেলেন, একদিকে কুমার বাহাদুরের আদেশ,অপরদিকে কর্তা প্রাণকৃষ্ণের অনুমতি ছাড়া দেওয়া উচিত হবে না। যাইহোক,তিনি প্রাণকৃষ্ণের কাছে গমন করে সংক্ষেপে বৃত্তান্ত বললে, অপরিমেয় ধন সম্পত্তির মালিক তিনি, জমিদার প্রাণকৃষ্ণ সিংহ খুব গম্ভীর ভাবে বললেন যে, লালা যখন কথা দিয়েছে একহাজার টাকা দিয়ে দিন কিন্তু লালাকে বলে দিবেন যে এইরকম দানধ‍্যান সে যেন আর না করে যতদিন পর্যন্ত নিজে অর্থ উপার্জন না করতে পারে।"*
*🍁বৃদ্ধ খাজাঞ্চী ব্রাহ্মণকে একহাজার টাকা দিয়ে বিদায় করলেন এবং মহারাজের আজ্ঞা পারনের জন্য পিতা প্রাণকৃষ্ণের বক্তব‍্য কিশোর লালাবাবুকে জানিয়ে দিলেন।ভাবলে অবাক লাগে যে এইরকম একজন ধনীর মনোভাব কি কখনও এইরকম হতে পারে বা হওয়া উচিৎ?যে বংশে মাতৃ শ্রাদ্ধে কুড়ি লক্ষ টাকা ব‍্যয় হয় সেই বংশের একমাত্র উত্তরাধিকারীর এক হাজার টাকা দানে এত কৃপণতা কেন হয়? বাস্তব জগতেও আমরা দেখি যে অর্থ থাকলেই রোকে দান করা তো দূরের কথা নিজে ভোগ পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রে করতে পারে না। শ্রোতা পাঠকগণ এই ক্ষুদ্র ঘটনাটি শোনার পর নিশ্চয়ই মনে মনে প্রাণকৃষ্ণকে ধিক্কার দিবেন তাঁর এই কার্পণ‍্যের জন্য। তিনি তো তাঃর পুত্রের এই দানশীল প্রবণতা দেখে সুখী হতেও পারতেন, নিজে বুঝিয়েও বলতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি।আপাত দৃষ্টিতে ঘটনাটি খুবই ঘৃণ‍্য হলেও লালাবাবুর পরবর্তী জীবন পর্য‍্যালোচনা করলেই দেখা যায় এইরকম একটি আঘাত না পেলে তাঁর ভক্তিময় জীবনের উদয় হত না।পিতার এই কথা তাঁর হৃদয়ে শেলের মত বিদ্ধ হল এবং তিনি মনে মনে সঙ্কল্প করলেন যে নিজের উপার্জিত অর্থ ছাড়া তিনি আর কখনও কোন অর্থ রাজকোষ হতে নিবেন না।এইরকম ভয়ানক সঙ্কল্পের বশবর্তী হয়ে তিনি চাকরীর উদ্দেশ্যে রাজপ্রাসাদ ত‍্যাগ করে বর্দ্ধমান শহরে এসে বর্দ্ধমান "কালেকটর" অফিসে সেরেস্তাদার হিসাবে কাজে নিযুক্ত হলেন। অদৃষ্টের কি নির্মম পরিহাস! সুবিখ্যাত সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী জমিদার গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের একমাত্র পৌত্র অর্থ উপার্জনের জন্য সেরেস্তাদারের চাকরী গ্রহণ করলেন, যাঁর নিজস্ব জমিদারিতে এইরকম শত শতলোক এই ধরণের কাজ করেন।একেই বলে ভবিতব‍্য। যাইহোক, অতি অল্প দিনের মধ্যেই বিভিন্ন ভাষায় জ্ঞান থাকার ফলে তিনি চাকরীতে খুবই উন্নতি করেন এবং সর্বোচ্চ দেওয়ানের পদে উন্নীত হন। লালাবাবু তখন বৃটিশ সরকারের একজন গণ‍্যমান‍্য অফিসার এবং হাতে অসীম ক্ষমতা।এই সময় তিনি পুরীর জগন্নাথ মন্দির যে ভাবে রক্ষা করেছিলেন তা অদ‍্যাপি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, যদিও অনেকেই এই প্রসঙ্গে অবগত নন। অর্থ‍্যাৎ পুরীর মন্দিরের বাৎসরিক দেয় রাজস্ব বা কর সময় মত জমা না পড়ায় বৃটিশ সরকার মন্দির নিলামের আদেশ জারী করে কিন্তু ভক্তপ্রবর লালাবাবু তাঁর ক্ষমতা বলে এই নীলাম রদ করে দেন কারণ জগন্নাথদেবের এই পবিত্র পীঠস্থান এইভাবে নীলাম হলে হিন্দু ধর্মের অবমাননা হবে এবং প্রভু জগন্নাথের মন্দিরের মর্য‍্যাদা হানি হবে এইসব চিন্তায় ব‍্যাকুল হয়ে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই অবশ‍্য পুরীর রাজা এই রাজস্ব জমা করেন এবং এর ফলে পুরীর রাজার সঙ্গে তিনি সখ‍্যসূত্রে আবদ্ধ হন।পুরীর রাজা কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাঁকে তাঁর জমিদারির ভিতর বিস্তীর্ণ এক অঞ্চল দান করেন এবং অদ‍্যাপি প্রতি ১২ বৎসর অন্তর জগন্নাথদেবের যে নব-কলেবর হয়, সেই উপলক্ষ্যে যে নিমবৃক্ষ আনতে হয় তা এই লালাবাবুর জমি হতে সংগৃহীত হয়। নব-কলেবরের কথাটি আমরা জানি ১২  ব‍ৎসর অন্তর জগন্নাথদেবের যে দারুব্রহ্ম স্বরূপে নূতন বিগ্রহ তৈরী হয়  তাও জানি, কিন্তু এর মূলে যে লালাবাবু এইকথাটি হয়ত আমরা অনেকেই জানি না।যাইহোক, জগন্নাথদেবের কৃপায় লালাবাবুর অন্তরের সুপ্ত ভক্তিবীজ ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হয় এবং তার ফলে চৈতন‍্য মহাপ্রভু এবং নিত‍্যানন্দ প্রভু প্রবর্তিত প্রেমভক্তির প্রতি তাঁর আকর্ষণ বাড়তে থাকে।ভক্তি সংস্কার নিয়ে যাঁদের জন্ম তাঁদের প্রত‍্যেকের এই জাতীয় পরিবর্তন সংঘটিত হতে দেখা যায়।*
*⭐এই সময় একবার তিনি তীর্থ পর্য‍্যটন মানসে শ্রীধাম বৃন্দাবনে আগমন করেন। বিভিন্ন স্থানে শ্রীকৃষ্ণের লীলাস্থলী ও গোস্বামীগণের প্রবর্তিত মঠ মন্দির সব দর্শন করে হৃদয়ে অনাবিল আনন্দের আস্বাদ পেয়ে থাকেন।তার সঙ্গে ধামবাসী সিদ্ধ বৈষ্ণব মহাজনগণের সাধন ভজন ত‍্যাগ তিতিক্ষা এবং ভজন প্রথা সমূহ দর্শন করে তাঁর মনে গভীর বৈরাগ‍্যের সঞ্চার হয়। তখন তিনি ভাবতে লাগলেন যে, "এ ধন যৌবন পুত্র পরিজন ইথে কি আছে পরতীতে রে--- নলিনী দলজল জীবন টলমল ভজহুঁ হরিপদ নিতিরে।" অর্থ‍্যাৎ ভোগ ঐশ্বর্য‍্য প্রতিষ্ঠ ধন সম্পদ জন কিছুই তো চিরস্থায়ী নয়, যে কথা গোবিন্দ কবিরাজ আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে "শীত আতপ বাপ বরিখনে এ দিন যামিনী জাগিরে-- বিফলে সেবিনু কৃপণ দুরজন চপল সুখলব লাগিরে।"  অর্থ‍্যাৎ প্রকৃত শান্তি যদি পেতে হয় তাহলে পরমার্থের সন্ধানে জীবনযাপন করাই মানুষের মুখ‍্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এইভাবে এক নবজীবনের হাতছানি যেন তিনি অনুভব করতে লাগলেন এবং কবে তা বাস্তবে পরিণত হবে এই আশায় দিন কাটাতে লাগলেন।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*সর্বজীবে ভগবান,নিয়ত বিরাজমান,*
   *যথা বহ্নি কাষ্ঠ মধ্যে রহে বিদ‍্যমান।*
*নাহি মন্থন করিলে,অগ্নি তাহে নাহি জ্বলে,*
   *ভক্তি বিনা তথা কৃষ্ণে কেহ নাহি পান।।*
*গোপীগণ সেইক্ষণে,নন্দরাজ নিকেতনে,*
   *দেখে এক স্বর্ণরথ সেথা উপনীত।*
*পুনঃ হেথা রথ কেন,কাহার বা রথ হেন,*
    *মনে মনে চিন্তে তবে ব্রজনারী যত।।*
*কেহ বলে ক্রোধ বশে,বুঝি বা অত্রুূর আসে,*
    *এসেছিল পূর্বে সে যে কংস প্রয়োজনে।*
*হরেছিল প্রাণধন,পুনঃ কেন আগমন,*
   *না জানি কেন সে আসে কি কার্য‍্য সাধনে।।*
*ব্রজে আসে কৃষ্ণধন,বলে সেথা গোপীগণ,*
   *কোন গোপী বলে তবে কেন সে আসিবে।*
*কহিতেছে গোপী আর,বলি শোন এইবার,*
   *বৃন্দাবনে নাই কৃষ্ণ কারে বা লইবে।।*  
🦚🪷🙏🌸🌷🦚🪷🙏🌸🌷🦚🌸🌷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯৫. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori95.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৯৩. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori93.html

  ✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৯২. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori92.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯৩. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori93.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
   *বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু*
    *************************
*যে কোনও মহাপুরুষের জীবনী প্রসঙ্গে লিখতে গেলে সবার আগে র্বশ পরিচয় দেওয়া উচিত। বর্তমানে আমরা যে পাইকপাড়ার B.T রোডের ধারে দেখতে পাই এবং যাঁদের পদবী হচ্ছে "সিংহ" আমাদের লালাবাবু হচ্ছেন সেই জমিদার বংশ সম্ভুত।বৃটিশ আমলে ইঁনাদের প্রচুর জমিদারী ছিল যার মধ্যে মুর্শিদাবাদের কাঁদির জমিদার বলেই তাঁরা তখনকার সময়ে বিখ‍্যাত ছিলেন। এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ এবং ওয়ারেন হেষ্টিংয়ের শাসনকালে তিনি তার খুবই প্রিয়পাত্র এবং বিশ্বস্ত ছিলেন। সেই কারণেই তিনি অজস্র ধনরত্নের মালিক হয়েছিলেন।এই ধনরত্নের সীমা ছিল না।যার একটি ছোট্ট নিদর্শনের দ্বারা বুঝা যাবে।তিনি তাঁর মাতৃশ্রাদ্ধে তৎকালে ২০ লক্ষ টাকা ব‍্যয় করেছিলেন এবং সেইরকম শ্রাদ্ধ আর কোনদিন বঙ্গদেশে হয়নি আর হবে না। সুতরাং মা লক্ষ্মীর কৃপা তাঁর উপর যে কি ভাবে বর্ষিত হয়ছিল তা সহজেই অনুমান করা যায়।*
*🌺এই গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের এক ভাই ছিলেন যাঁর নাম শ্রীরাধাগোবিন্দ সিংহ এবং তিনি যদিও অতীব ধনশালী ছিলেন তথাপি তাঁর কোন সন্তানাদি ছিল না।গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের একমাত্র পুত্রের নাম হচ্ছে প্রাণকৃষ্ণ সিংহ এবং তাঁরই একমাত্র পুত্রের নাম হচ্ছেন লালাবাবু (যদিও প্রকৃত নাম শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র সিংহ)। সুতরাং অতি শৈশবে যে নামকরণ পন্ডিতগণ করেছিলেন ভবিষ্যৎ কালে তা যথার্থ স্বার্থকতা লাভ করে।দাদু গঙ্গগোবিন্দ সিংহ তাঁকে আদর করে "লালা" বলে ডাকতেন এবং ভবিষ্যৎ কালে তিনি বৈষ্ণব জগতে লালাবাবুই নামেই চির পরিচিত হয়ে আছেন, যদিও প্রকৃত নাম শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র সিংহ। প্রচুর প্রচুর ঐশ্বর্য‍্য এবং ভোগ বিলাসের মধ্যেই লালাবাবু বাল‍্যকাল হতে লালন পালন হয়ে বড় হয়েছেন, তার উপরে রাধাগোবিন্দ সিংহও তাঁর সমস্ত সম্পত্তি তাঁর ভ্রাতৃষ্পুত্র প্রাণকৃষ্ণকেই দান করে যান যার একমাত্র উত্তরাধিকারী ছিলেন এই লালাবাবু।*
*🍀বৈষ্ণব জগতে আমরা সপ্তগ্রামের জমিদার শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামীকেই সর্বাপেক্ষা ধনী বলে জানি কিন্তু ঐশ্বর্য‍্যের মাপকাঠিতে বিচার করলে লালাবাবুই একদিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ। শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রঘুনাথের যখন সংসারের উপর তীব্র বিতৃষ্ণা জন্মে তখন তাঁর মাতাপিতা পুত্রের ভাববিকার লক্ষ্য করে বলেছিলেন--, "দড়ির বন্ধনে তারে রাখিবে কেমনে জন্মদাতা পিতামাতা নারে প্রারব্ধ খন্ডাইতে।" লালাবাবুর জীবনী প্রসঙ্গ পাঠ করলেও ঠিক এই কথায় প্রমাণিত হয় যে পরমার্থ জগতের প্রতি যখন মানুষের প্রকৃত আকর্ষণ জন্মে তখন ঐশ্বর্য‍্য ভোগ বিলাস সবই তুচ্ছ হয়ে যায়।যার পরিচয় আমরা পরে পাব।*
*🌹লালাবাবুর মায়ের নাম ঠিক জানা যায় না।তবে তাঁর পত্নীর নাম কাত‍্যায়নী দেবী যিনি পাইকপাড়ার বিখ‍্যাত মহারাণী হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। লালাবাবুর একটি মাত্র পুত্র সন্তান ছিলেন যাঁর নাম শ্রীনারায়ণ সিংহ।*
*☘বাল‍্যকাল ও বিদ‍্যা শিক্ষা = প্রসঙ্গত বলা যায় যে পিতামহ গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ আদুরে নাতি লালাবাবুর অন্নপ্রাশনের সময় যে মহাসমারোহ করেছিলেন তা তৎকালীন বঙ্গদেশে বা অদ‍্যাপি কেউ করেছেন বলে জানা যায় না। মাতৃশ্রাদ্ধে তিনি সেরকম কুড়ি লক্ষ টাকা ব‍্যয় করেছিলেন সেইরকম পৌত্রের অন্নপ্রাশনের একটি ঘটনা হতেই তার কিছু আভাস পাওয়া যাবে। তিনি এই উপলক্ষ্যে যে হাজার হাজার নিমন্ত্রণ পত্র দিয়েছিলেন তা সবই সোনার পাতের উপর খোদাই করে লেখা।*
*🍁অতঃপর পিতামহ তাঁর বিদ‍্যাশিক্ষার যথোপযুক্ত ব‍্যবস্থাও করেছিলেন এবং তিনি বিভিন্ন ভাষায় ব‍্যুৎপত্তি লাভ করেন। সেহেতু সংস্কৃত এবং বাংলা ছাড়া তাঁর জন্য বিভিন্ন সুপন্ডিত নিযুক্ত ছিলেন।তার ফলে তিনি ইংরেজি,ফার্সী, আরবী ভাষায় যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করেন এবং এতগুলি ভাষার মধ্যে সংস্কৃত এবং ফার্সী ভাষাতেই তিনি সবিশেষ ব‍্যুৎপত্তি লাভ করেন।*
          🦚🦚🦚🦚🦚🦚
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯৪. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori94.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






১৩২. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda132.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৩১. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda131.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৩২. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda132.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩২)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা,*
   *শ্রীমন্মহাপ্রভুর বৃন্দাবন যাত্রা*
   *****************************
*🌻শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীওএই উক্তির প্রতিধ্বনি করে লিখেছেন=*
*🌷রামানন্দ আইলা পাছে দোলায় চড়িয়া।*
*🌷বাণীনাথ বহু প্রসাদ দিল পাঠাইয়া।।*
*🍁রামানন্দ কটকে ছিলেন। তিনি রাজা প্রতাপরুদ্রের সঙ্গে কটকেই থাকতেন, তখনও তিনি সম্পূর্ণরূপে রাজার সঙ্গে সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন করেননি।রাজা তখনও পূর্ণরূপে মহাপ্রভুর প্রেমপাত্র হননি।তিনি জানতেন রামরায়ের দ্বারাই তাঁর অভীষ্ট সিদ্ধ হবে এবং যে শেষ পর্যন্ত তাঁর অভীষ্ট সিদ্ধ না হয়, ততদিন পর্যন্ত রামরায়কে ছেড়ে দেওয়া যুক্তি সিদ্ধ নয়।মহাপ্রভু যখন ভবানীপুরে পৌঁছিলেন,রামরায় কটক হতে তখন সেখানে এসে উপস্থিত হলেন,পরদিন মহাপ্রভু ভুবনেশ্বর অভিমুখে যাত্রা করলেন।*
*🌺রামরায় মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে চলিলেন।মহাপ্রভু রস-কোন্দল করতে খরতে বললেন "রামরায়,তুমি আমার সঙ্গে কেন?কটকে যাও," এই বলে মহাপ্রভু ফিরে দাঁড়ালেন, দাঁড়িয়ে বললেন, "তুমি আমার সঙ্গে গেলে* *আমি যাব না।" রামরায় বললেন, প্রভো!ভৃত‍্যকে ত‍্যাগ করিবেন না "।*
*আমি আপনার দাসানুদাস, সব অপরাধ ক্ষমা করে আমাকে সঙ্গে নিন।করুণাময় গৌরহরি তখন হেসে বললেন, বেশ তবে চল।*
*🌻রামরায় গৌরহরির বিরহ ক্ষণকালও সইতে পারতেন না।সুতরাং তিনি যতক্ষণ পারেন তাঁর সঙ্গে সথাকবেন, এই মনস্থ করলেন।ফলে মহাপ্রভু যখন তাঁকে ত‍্যাগ করে শ্রীধাম বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন,তখন তাঁর বিরহ প্রকৃতই দুঃসহ হয়ে উঠেছিল। এ সম্বন্ধে শ্রীকবি কর্ণপুর লিখেছেন=*
*"🌷কিয়দ্দূরং ততো গত্বা বিররাম মহাপ্রভুঃ।*
*🌷শ্রীরামানন্দরায়েন প্রণয়দ্বন্দ্ববান্মিথঃ।।*
*🌷স ত‍্যক্তা গচ্ছতা তেন প্রভূনানুনরৈর্বহু।*
*🌷তর্পিতোহপি ন বৈ তৃপ্তিং জগাম ক্ষণমপ‍্যুত।।*
*🌷মনোজ্ঞদৃঙ্ নামনোজ্ঞবিভ্রমভ্রমণাকুলঃ।*
*🌷স তু প্রেমাস্পদস‍্যাস‍্য রামানন্দো মহানিধিঃ।।*
*🌷তদ্ লোকেন দুঃখেন কথঙ্কারং ভবিষ‍্যতি।।*
*🌻অতঃপরে যথাসময়ে ভুবনেশ্বরে উপস্থিত হয়ে মহাপ্রভু শ্রীভুবনেশ্বর দর্শন এবং সেই জায়গায় বিশ্রাম করলেন।তাঁর বিশ্রামের জন্য আগে থেকেই রামরায় নূতন ঘর নির্মাণ করে রেখেছিলেন।এই ঘরে গৌরহরি, পরমানন্দপুরী ও রামরায় কৃষ্ণকথায় সমস্ত রাত্রি অতিবাহিত করলেন, যথা=*
*🌷তত্র নূতন গেহাদি কারয়িত্বা নিদেশতঃ।*
*🌷পুরা রামানন্দ রায়ো নিনায় প্রভুমঞ্জসা।।*
*🌷লেপিতং শুদ্ধমালোক‍্যং গৃহং তত্র কৃপানিধিঃ।*
*🌷উবাস পরম প্রীত‍্যা প্রেম্নোপাস‍্য চ তৈঃ সমং।।*
*🌷শ্রীরামানন্দ রায়েন কথয়া রজনীং যযৌ।।*
*🌺পরদিন সকালবেলা পরমানন্দপুরী ও মহাপ্রভু সেখান হতে প্রস্থান করলেন।রামরায় পেছন পেছন চলতে লাগলেন।অনন্তর তিনি গোপীনাথকে দর্শন করে কটক অভিমুখে যাত্রা করলেন।এদিকে করুণাসিন্ধু গৌরচন্দ্র  আসছেন, গজপতি প্রতাপরুদ্র এই সংবাদ শুনে নিজ হাতে সমস্ত ঘাট পরিস্কার করতে লাগলেন।মহাপ্রভু পরমানন্দপুরী প্রভৃতি ভক্তগণকে কটকে যেতে অনুমতি করে স্বয়ং কোনও ভক্তের আলয়ে বিশ্রাম করলেন।সেখান হতে কটকে শুভাগমন করে শ্রীগোপাল দর্শন করলেন।রামানন্দ রায় তাঁর বাসাবাড়ীর উদ‍্যানে মহাপ্রভুর সঙ্গীয় ভক্তগণকে নিমন্ত্রণ করলেন।কটকের বিশাল বাগানে তখন যে শুভ দৃশ্যের উদয় হয়েছিল, সুকবির বর্ণনাতেও তা প্রকাশ করা অসম্ভব। রায় রামানন্দের বিশাল উদ‍্যান। তাতে নানান রকম বৃক্ষ,চারিদিকে চম্পক,মালতী, কুরুবক প্রভৃতি নানানরকম ফুল ফুটে রয়েছে।একটি প্রকান্ড বকুল বৃক্ষ,খুবই উচা ঘন ঘন শাখা বিস্তার করে উদ‍্যানের মধ্যেখানে বিরাজমান।এই বিবরণ কবিকর্ণপুর অতি সুন্দর ভাষায় শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত-মহাকাব‍্যে বর্ণনা করেছেন।বৃক্ষটির তলদেশে গোলাকার পাথরের বেদী।ভোজন শেষে মহাপ্রভু তাতে বসিলেন, আর চারিদিকে ভক্তগণ তাঁকে ঘিরে বসলেন।*
*এদিকে রামরায় রাজার কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন রাজন!মহাপ্রভু সমাগত, এক্ষণে ভোজনান্তে এ অধমের বাইরের উদ‍্যানে বকুল-বেদিকায় বসে আছেন।আমি মনে করি তাঁর শ্রীচরণ সন্দর্শনের এখনই উপযুক্ত সময়। প্রতাপরুদ্র আর ক্ষণকাল বিলম্ব করলেন না।শ‍্যামসুন্দরের বাঁশী রবে বিবশা ব্রজবালার মতোআকুল হয়ে তিনি শ্রীগৌরাঙ্গ চরণ দর্শনের জন্য রামরায়ের উদ‍্যান অভিমুখে ধাবিত হলেন।উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন, বকুলমূলে নটবর রসিকশেখর শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর যেন মূর্তিমান রসের দেবতারূপে বিরাজ করছেন।সে রূপ লাবণ‍্য মাধুরী দেখে প্রতাপরুদ্র বিস্মিত ও বিহ্বল হয়ে পড়লেন।তাঁর সর্বাঙ্গ কাঁপতে লাগল।প্রেমের বৈদ‍্যুতিক শক্তি তাঁর সর্বাঙ্গে পরিব‍্যাপ্ত হয়ে পড়ল। তিনি অবশ হয়ে কাঁপতে কাঁপতে মহাপ্রভুর শ্রীচরণতলে গিয়ে পড়লেন।আর তৎক্ষণাৎ আবিষ্টের মতো উত্থিত হলেন,আবার দন্ডবৎ প্রণত হয়ে পড়লেন।প্রতাপরুদ্র প্রেম বিহ্বল ভাবে এইরকম বহুবার উঠলেন আবার প্রণাম করে, মহাপ্রভুর স্তব করতে লাগলেন। তাঁর দেহ প্রেমে পুলকাঞ্চিত হয়ে উঠিল।প্রেমাশ্রুতে বক্ষ ভিজে গেল।প্রতাপরুদ্র অচেতন ভাবে গৌরহরির চরণতলে দন্ডবৎ প্রণাম করে পড়ে রইলেন।করুণাময় মহাপ্রভু এবার আর স্থির থাকতে পারলেন না।ভক্তের ভগবান ভক্তের আর্তি দেখে দয়ার্দ্র হলেন।যে প্রতাপরুদ্র তাঁকে দর্শন করতে চাইলে তিনি "আকারদপি ভেতব‍্যং স্ত্রীণাং বিষয়িনামপি" এই শ্লোক বলে অমত প্রকাশ করতেন, আজ সেই প্রতাপরুদ্রকে তিনি প্রীতিময় আলিঙ্গন দান করে কৃতার্থ করলেন। গৌরহরির দুই নয়ন হতে শ্রাবণের ধারার মত অশ্রুধারা প্রবাহিত হতে লাগল।আর সেই নয়নজলে প্রতাপরুদ্রের মস্তক ভিজে গেল।*
*🙏জয় করুণাময় মহাপ্রভুর জয়🙏*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৩৩. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda133.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






১৩১. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda131.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৩০. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda130.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৩১. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda131.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩১)শ্রীরামানন্দ রায়,বিশাখা*
  *শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা*
<><><><<<<<<<><<<><><><><<
*🍀মহাপ্রভু বললেন--,তোমাদের অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারি না।গৌড়ের পথে যাব ; গমনকালে জননী ও জাহ্নবী দর্শন করে যাব।*
*🌷গৌড়দেশে হয় মোর দুই সমাশ্রয়।*
*🌷জননী জাহ্নবী এই দুই দয়াময়।।*
*🌷গৌড়দেশ দিয়া যাব তা সবা দেখিয়া।*
*🌷তুমি দোঁহে আজ্ঞা দেহ প্রসন্ন হইয়া।।*
*🌹এর পরে সার্বভৌম ও রামরায় আর অপত্তি করা সঙ্গত বোধ করলেন না। কিন্তু তথাপি তাঁকে বর্ষাকালে ছেড়ে দিবেন না,--বললেন, প্রভো!আর তোমায় বাধা দিব না,তুমি ইচ্ছাময়, তুমি স্বতন্ত্র,আমরা ক্ষুদ্রজীব, তুমি দয়া করে আমাদের বাঞ্জা পূরণ না করলে আমরা কি এই কয়েক মাস তোমার দর্শনানন্দ আস্বাদন করতে পারতাম?তবে একটা কথা এই চতুর্মাস‍্য অন্তে বিজয়া দশমীর দিনে যাত্রা করিও,তখন আর কোন বাধা দিব না। মহাপ্রভু বললেন,--তথাস্তু*
*শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর শ্রীবৃন্দাবনে যাবেন, এই দুঃসহ বিরহ-চিন্তায় শ্রীরামরায় অধীর হয়ে পড়লেন।তিনি চাতুর্মাস‍্যের শেষে বৃন্দাবনে যাত্রা করবেন,চাতুর্মাস‍্য শেষ প্রায়।রামরায় বিরহ-বেদনা দিন দিন বাড়তে লাগল। রামরায় আপন মনে বলতে লাগলেন, "আর কতদিন তাঁর গমনে বাধা দিব,আর কতদিন কি বলে রাখব?তিনি যখন বৃন্দাবন যাত্রার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছেন আর কতদিনই বা তাঁকে বাধা দিয়ে রাখব?ইনি বিজয়া দশমীর পরে যাত্রা করবেন, কিন্তু আমি তার আগেই দশমী দশায় পড়ে রয়েছি।মহাপ্রভুর বিরহে কি রকমভাবেই বা প্রাণ ধারণ করব? এইরকম ভেবে ভেবে রামরায় বিষণ্ণ হয়ে পড়লেন।*
*🌻মহাপ্রভু জননী ও জাহ্নবী দর্শন করে বৃন্দাবনে যাত্রা করবেন এই প্রস্তাব স্থির হল।নীলাচলে আবার এক বিষাদের ঘন-কৃষ্ণ-ছায়া দেখা দিল।ভক্তগণের মুখমন্ডল পরিম্লান বা অত‍্যন্ত মলিন ; সকলেরই ইচ্ছা তাঁরা গৌরহরির সঙ্গে গমন করেন, কিন্তু তিনি কাউকেও সঙ্গে নিবেন না। বায়ুর প্রবল নাড়াচাড়াই মধুগন্ধি মৃণালশোভা কমলকুসুম চঞ্চল হলেও ভ্রমরগণ যেমন উড়ে উড়ে সেই কুসুমের দিকেই ধাবিত হয়, শ্রীগৌরাঙ্গ-চরণাবিন্দে মকরন্দলুব্ধ (পুষ্মমধু লোভে) ভক্তমধুপগণও সেইরকম গমনশীল শ্রীগৌরাঙ্গের চরণযুগলাভিমুখে ধাবিত হতে লাগলেন।মহাপ্রভু শ্রীনীলাচলচন্দ্রের শ্রীমন্দির প্রদক্ষিণ করতে করতে স্তব পাঠ করতে রত হলেন,আর তৃষিত (পিপাসাযুক্ত)চকোরের মতো তাঁর শ্রীমুখচন্দ্র নিরীক্ষণ করতে লাগলেন।প্রদক্ষিণের পর দীর্ঘসময় মহাপ্রভু নির্নিমেষলোচনে (অপলকনয়নে) জগন্নাথদেবের মুখপঙ্কজ অভিমুখে তদগতভাবে চেয়ে চেয়ে যেন কত কথা বললেন,তাঁর দুইনয়ন হতে বিন্দু বিন্দু অশ্রু মণিমুক্তার মোহনমালার মতো বক্ষ বহিয়া গড়িয়ে পড়ল। তিনি  সাষ্টাঙ্গে প্রণত হলেন,নীলাচলচন্দ্রের কাছে বিদায় গ্রহণ করলেন, জননীর জন্য প্রসাদী বস্ত্র নিয়ে শ্রীধাম হতে গৌড়দেশ অভিমুখে যাত্রা করলেন।যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷আনন্দে মহাপ্রভু বর্ষা কৈলা সমাধান।*
*🌷বিজয়া দশমী দিনে করিলা পয়াণ।।*
*🌷জগন্নাথের প্রসাদ প্রভু যত পাইয়াছিল।*
*🌷কড়ার চন্দন ডোর সব সঙ্গে লইল।।*
*🌷জগন্নাথের আজ্ঞা মাগি প্রভাতে চলিলা।*
*🌷উড়িয়াভক্তগণ সব পাছে চলি আইলা।।*
*🌻ভক্তগণের হৃদয় অনুদিন বা দিনের পর দিন শ্রীভগবানের প্রতি আকৃষ্ট। প্রিয়পাঠক, আপনি ব্রজগোপীদের প্রেমাকর্ষণের কথা শুনেছেন। গোপীগণ বাঁশীর রবে শ্রীকৃষ্ণের জন্য উন্মাদিনী হয়ে নিবিড় বনে গমন করতেন।কুল-শীল-মান বিপদ-আপদের কথা মনে রাখতেন না। বাঁশীর মোহন মধুরধ্বনি শুনে তাঁদের চিত্ত আকৃষ্ট ও আকুল হত। কিন্তু শ‍্যামের বাঁশী না বাজলেও গোপীকাকুল আকুল হয়ে কৃষ্ণের অনুসরণ করেছেন।বৃন্দাবনে প্রেমলীলার এইরকম ঘটনা বেশী দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু এই গৌরাঙ্গলীলায় সেইরকম বাধাবিঘ্ন কিছুই ছিল না। সুতরাং গৌরাঙ্গ ভক্তগণ কোন দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে মহাপ্রভুর পদানুসরণে রত হতেন।গৌরাঙ্গসুন্দর বৃন্দাবন দর্শনের জন্য যাত্রা করলেন, আর ভক্তগণ ব‍্যাকুল হয়ে তাঁর অনুগমন করলেন। এই সম্বন্ধে শ্রীকর্ণপুর শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যে একাক্ষরময় একটি অদ্ভুত শ্লোক রচনা করেছেন, যথা=*

*"ললল্লীলো ললল্লীলো লোলো লোলো ললল্ললঃ।*
*লীলালোলোহ লিলীলালীং লীলালীং  লোললাংললুঃ।।"*
*🌹অর্থ‍্যাৎ মহাপ্রভু নীলাচল-লীলা পরিহার করে ব্রজগমনরূপ লীলায় রত হওয়ার জন্য চঞ্চল ও আকুল হলেন এবং সমস্ত ভক্তগণকে পরিত‍্যাগ করে বৃন্দাবনে যাত্রা করলেন। এদিকে মধুলুব্ধ ভ্রমরগণের মত ভক্তগণও সেই চঞ্চলমনা গৌরচন্দ্রকে ধরবার জন্য ব‍্যাকুলভাবে তাঁর পেছন পেছন গমন করতে লাগিলেন।*
*🌺এর তাৎপর্য‍্য এই যে ভ্রমরগণ যেমন বায়ুচালিত পদ্ম হতে বিক্ষিপ্ত ( এলোমেলো) হয়েও পুনঃপুনঃ সেটিতে বসতে চেষ্টা করে, মহাপ্রভুর পদানুরক্ত ভক্তগণও তদ্রুপ গমনচঞ্চল মহাপ্রভুর পাদপদ্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গমন করতে লাগিলেন। কিন্তু গৌরহরি কাউকেও সঙ্গে নিলেন না। তিনি একাকী বৃন্দাবন যাবেন বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছেন। সুতরাং সকলকেই অনুগমন করতে নিষেধ করলেন। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷উড়িয়া ভক্তগণে প্রভু যত্নে নিবারিলা।*
*🌷নিজগণ সঙ্গে প্রভু ভবানীপুরে আইলা।।*
*🌺তদ্ যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যে ঃ------*
*🌷কাশীমিশ্রমুখাঃ সর্ব্বে পশ্চাৎ পশ্চাৎ সমাযযুঃ।"*
*🌷সমনুব্রজতস্তাং স্তান্ বিসসর্জ্জ কৃপানিধিঃ।।*
*🌷নিশাবসানে তৈরেতৈঃ কীর্তনদ্ভির্মুহুর্মুহুঃ।*
*🌷প্রতস্থে গানকলয়া লোলঃ শ্রীগৌরসুন্দরঃ।।*
*🌷গোবিন্দো জগদানন্দঃ শ্রীদামোদরপন্ডিতঃ।*
*🌷যতিশ্রেষ্ঠ পুরী স্বামী কীর্তয়ন্তঃ সমাযযুঃ।।*
*🌻মহাপ্রভু কাশীমিশ্র প্রভৃতি উড়িষ‍্যাবাসী ভক্তগণকে পুরীক্ষেত্র হতেই বিদায় দিলেন।তাঁর সঙ্গে সঙ্গে কেবল গোবিন্দ,জগদানন্দ, দামোদর পন্ডিত এবং পন্ডিতবর পরমানন্দপুরী কীর্তন করতে করতে ভবানীপুর পর্য‍্যন্ত শুভাগমন করিলেন।*
*☘অতঃপর রায় রামানন্দ কটক হতে দোলায় চড়ে ভবানীপুরে উপস্থিত হলেন এবং মহাপ্রভুর সঙ্গে মিলিত হলেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যে=*
*🌷ততোহনু দোলামারুহ‍্য শ্রীরামানন্দরায়কঃ।*
*🌷এতদীয়াশ্চ যে চান‍্যে সমেতাস্তে ত আযযুঃ।।*
*🌷শ্রুত্বা সর্ব্বে জনাস্তত্র স্ত্রীপুমাংসঃ সমন্ততঃ।*
*🌷হরিং বদেতি সোৎকন্ঠং বদন্তো ভূয় আযযুঃ।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ তারপরে শ্রীরামানন্দ রায় দোলায় চড়ে এসে উপনীত হলেন এবং অন‍্যান‍্য ভক্তগণও আগমন করিলেন।সেখানে কি স্ত্রী, কি পুরুষ সকলেই মহাপ্রভুর কথা শুনে উৎকণ্ঠার সঙ্গে পুনঃপুনঃ হরিধ্বনি করতে করতে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন।*
           *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৩২. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda132.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






সনাতন শব্দের অর্থ পূর্বতন, অদ্যতন, ভবিষ্যম্। যা আগে ছিল, কতদিন আগে ছিল ❓ সেবা বিগ্রহ নিত্যানন্দ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/nityananda.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সনাতন শব্দের অর্থ পূর্বতন, অদ্যতন, ভবিষ্যম্। যা আগে ছিল, কতদিন আগে ছিল ❓ সেবা বিগ্রহ নিত্যানন্দ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/nityananda.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
_*🪷 সেবা বিগ্রহ নিত্যানন্দ🪷*_

 *সনাতন শব্দের অর্থ পূর্বতন, অদ্যতন, ভবিষ্যম্। যা আগে ছিল, কতদিন আগে ছিল? কেউ বলতে পারবে না, কেননা এটা অনাদি। সময়ে সময়ে যুগের উপযোগী করে ধর্ম পরিবেশন করার প্রয়োজন পড়ে। যেমন বেদব্যাস একই বেদ চার ভাগে বিভাজন এবং বেদাঙ্গ, ব্রহ্মসূত্র, পুরাণ, মহাভারত আদি আনয়ন করলেন। প্রণয়ন নয় আনয়ন করলেন। কেননা সনাতন গ্রন্থ আগেও ছিল। যুগের প্রয়োজনে যেগুলো দরকার সামনে নিয়ে আসতে হয়। সনাতন ধর্মই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ধর্ম, অন্য সব মতবাদ। এই সনাতন ধর্মে সব কিছুর বর্ণন রয়েছে। যেমন আমরা শ্রীমদ্ভাগবতে দেখতে পাই যবনের কথা, কালযবন তিন কোটি সৈন্য নিয়ে মথুরা আক্রমণ করেছিলেন। অধর্মের সমান্তরালে তাদেরও বৃদ্ধি হয়। আরো যত অধর্মের বৃদ্ধি হবে যবনেরও সেই পরিমানে বৃদ্ধি হবে। খ্রিস্ট মতবাদ, বৌদ্ধ মতবাদ, ইসলাম মতবাদে একজনই আরাধ্য, দ্বিতীয় নেই। কিন্তু মানুষ তিন প্রকার সাত্ত্বিক প্রকৃতির, রাজসিক প্রকৃতির, তামসিক প্রকৃতির। সনাতন ধর্মে সব রকমের উপাসনার নিদান দেওয়া রয়েছে। কেননা সনাতনধর্ম পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। নিজ নিজ রুচি অনুসারে উপাসনা করবে। যার যতটা শক্তি ততটুকু জ্ঞান আহরণ করতে পারবেন। কেউই সব জানতে পারেন না। যিনি মনে করেন আমি সব জানি। তিনি যত বড়ই পন্ডিত অথবা শাস্ত্রী হোন না কেন তিনি নিশ্চয়ই অজ্ঞ।তিনি যদি ব্যাসগদিতে বসেনও তথাপি জানতে হবে তার ব্যাসদেবের কৃপা লাভ হয় নাই।* 
*কালে কালে সনাতন ধর্মের অনেক উত্থান পতন হয়েছে, অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা বয়ে গেছে।*
*পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রারম্ভিক মুহূর্তে পুনরায় বিপর্যয় নেমে এসেছিল। একদিকে গোঁড়া ব্রাহ্মণদের জাত-পাতের বিভেদ মূলক বৈষম্য, ছুৎমার্গীয় নির্যাতন অপরদিকে ইসলামিক আগ্রাসন ও ঘৃন্য পৈশাচিক উৎপীড়ন। উভয়ের নিষ্পেষণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দিশেহারা হয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যাচ্ছিল। সেই যুগসন্ধিক্ষণে বঙ্গদেশে এক সাম্যবাদী মহাবিপ্লবীর আবির্ভাব হয়েছিল, যার নাম ছিল নিত্যানন্দ। সর্বপ্রথম নিত্যানন্দই অসীম সাহসিকতায়, প্রবল পরাক্রমী ব্রাহ্মণদের বিষম বিরোধ উপেক্ষা করে, জাত-পাতের বেড়া ভেঙে, অচ্ছুৎ-অপাংতেয়, শোষিত-পীড়িত-নির্যাতিতদের এক ছত্রছায়াতলে নিয়ে এসেছিলেন। সকলকে এক প্রেমের মন্ত্র শুনিয়েছিলেন। ভালোবাসা দিয়ে সকলকে আপন করে নিয়েছিলেন। চৈতন্যের নির্দেশে সকলকে হরিনাম দিয়ে চিত্তশুদ্ধি করে চির অনর্পিত রাধাদাস্য দান করেছিলেন।* (বিস্তারিত জানতে বিলাপ কুসুমাঞ্জলী দ্রষ্টব্য) 
*সেই নিত্যানন্দের  প্রথম এবং প্রধান শিষ্য ঠাকুর বৃন্দাবন দাস। ছোট থেকেই বৃন্দাবনকে নিজের হাতে মানুষ করেছিলেন। লেখাপড়ায় শাস্ত্র-চর্চায় সবকিছুতেই পারঙ্গত করেছিলেন। একান্তে বসে নিজের মনের কথা, হৃদয়ের ব্যথা, গৌর কথা, সরহস্য নিজ স্বরূপ-তত্ত্ব সবই বলেছিলেন, শুধু বলেই ক্ষান্ত হন নাই, কৃপাশক্তি সঞ্চারও করেছিলেন। নিজের মনোবৃত্তি তার হৃদয়ে প্রতিস্থাপন করে সাধ্য-সাধন তত্ত্বের অনুভব দান করেছিলেন।* 
*সেই নিত্যানন্দ কৃপাধন্য বৃন্দাবন দাস ঠাকুর তাঁর হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্ত ভাব উৎসারিত হয়েছিল, অন্তরে বাইরে নিতাইকেই দেখেছিলেন। জগতের সব কিছুতেই নিতাই দর্শন হচ্ছিল। নিত্যানন্দময় জগত দেখতে পাচ্ছিলেন। ভাবের আবেশে স্ফূর্তি হল -*
 *অন্তরে নিতাই বাহিরে নিতাই নিতাই জগতময়।  নাগর নিতাই নাগরী নিতাই নিতাই কথা সে কয়।।*
 *সাধন নিতাই ভজন নিতাই নিতাই নয়ন তারা। দশদিক ময় নিতাই সুন্দর নিতাই ভুবন ভরা।।*
 *রাধার মাধুরী অনঙ্গ মঞ্জরী নিতাই নিতু সে সেবে।  কোটি শশধর বদন সুন্দর সখা সখী বলদেবে।।*
 *রাধার ভগিনী শ্যাম সোহাগিনী সব সখীগণ প্রাণ।  যাহার লাবনী মণ্ডপ সাজনি শ্রীমণিমন্দির নাম।।*
 *নিতাই সুন্দরে যোগপীঠে ধরে রত্ন সিংহাসন শেজে।  বসন নিতাই ভূষণ নিতাই বিলসে সখীর মাঝে।।*
 *কি কহিব আর নিতাই সবার আঁখি মুখ সর্ব অঙ্গ।  নিতাই নিতাই নিতাই নিতাই নিতাই নতুন রঙ্গ।।*
 *নিতাই বলিয়া দুবাহু তুলিয়া চলব বরজ পুরে।  দাস বৃন্দাবন করে নিবেদন নিতাই না ছাড়িও মোরে।।*
*হৃদয়ের ভাবাবেগ আরো বৃদ্ধি পেল। নিতাই চাঁদের স্বরূপ দর্শন হতে লাগলো। সেই আবেশে পুনরায় লিখলেন-* 
*নিতাই নাগর রসের সাগর সকল রসের গুরু।*
 *যে যাহা চায় তারে তাহা দেয় বাঞ্ছা কল্পতরু।।*
*নিতাই, - রাধার সমান কৃষ্ণ করে মান সতত থাকয়ে  সঙ্গে। নিশি দিশি নাই ফিরয়ে সদাই কৃষ্ণ কথা রসরঙ্গে।।*
*বসি বাম পাশে মৃদু মৃদু হাসে প্রাণনাথ বলি ডাকে। রাধার যেমন মনের বাসনা তেমতি করিয়া থাকে।।*

*সোনার কেতকি রসের মূরতি সাধিতে মনের সাধা। দাস বৃন্দাবন করে নিবেদন দেখিতে নিতাই রাধা।।*
*শুধুমাত্র ভাবাবেশেই গাইলেন না তার প্রমাণও দিলেন ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে ধরণী শেষ সংবাদে -*
_*নিত্যা শ্রীরাধিকানাম আনন্দো রসবিগ্রহঃ। উভয়োর্মিলনান্নাম নিত্যানন্দো বসুন্ধরে।*_
মহাপ্রভু বলেছেন সর্বত্র প্রমাণ দিবে পুরাণ বচন তাই নিজের মনগড়া কিছু না বলে শাস্ত্র প্রমাণসহ উদ্ধৃত করা হলো। 
স্বয়ং মহাপ্রভু বললেন 
*অতিগূঢ় নিত্যানন্দ এই অবতারে।*
সকলেই বুঝতে পারবে না। *অতএব কহি কিছু করিয়া নিগুঢ়। বুঝিবে রসিক ভক্ত, না বুঝিবে মূঢ়।।* 
*সেবক তত্ত্ব, আশ্রয় তত্ত্ব, সেবাবিগ্রহ নিত্যানন্দ।* 
*মর্যাদা পুরুষোত্তম  রামজীর অনুজ ভ্রাতা রূপে সেবা করেছেন। ছোট ভাই বলে রামজী অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগ করলেও মুখে কিছু বলতে পারেন নাই। তাই কৃষ্ণলীলায় বড় ভ্রাতা হয়ে আসলেন। শাসনে সোহাগে সেবা করেছেন। লীলা পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের সহায়ক, রক্ষক, উপদেষ্টা রূপে সেবায় সংলগ্ন থেকেছেন।*
 *সেই কৃষ্ণ রাধা ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে একীভূত হয়ে যখন গৌরাঙ্গ রূপে আবির্ভূত হলেন, তখন তার ভাবানুকূল হয়ে প্রকট হলেন নিত্যানন্দ। যুগল না হলে যুগলের সেবা হবে না।* *তাই বলরাম-অনঙ্গ মঞ্জরী মিলিত হয়ে নিত্যানন্দ রূপে আসলেন সেব্যের সুখ বিধানের নিমিত্ত।* 
তথাহি- *স্বাসাং মধ্যে বিরোচিতানঙ্গেহানঙ্গমঞ্জরী। পরোক্ষে প্রকৃতিশ্চৈব প্রত্যক্ষে পুরুষস্তথা।।*
*ভাবনিধি গৌরহরি। ভাবের সমুদ্রে যখন যে তরঙ্গ উঠে সেই ভাবেই তরঙ্গায়িত হন নিত্যানন্দ। গৌর রাধাভাবে আবিষ্ট হলে নিতাই কৃষ্ণ রূপে বিরহ দূর করেন। কৃষ্ণভাবের উদ্দীপন হলে রাধা ভাবে বামে বসে রসপুষ্টি করেন। *বসি বাম পাশে মৃদু মৃদু হাসে, প্রাণনাথ বলি ডাকে।*
*সেবাবিগ্ৰহ নিত্যানন্দের সেবাই পরম লক্ষ্য, সেবায় পরম ধর্ম। সেবা মানে সুখ দেওয়া। যেভাবে সাজলে, যে আচরণ করলে সেব্য সুখী হবেন, তিনি তাই করতেন। *আতপে শীতলং ছত্রং, নিদাঘে শীতলোঽনিলঃ। শয়নে দিব্যপর্যঙ্কো রমণে প্রাণবল্লভা।। গমনে পাদুকারূপী রহস্যে সখীরূপকঃ। কৃষ্ণেঽপি সর্বদাতা চ সর্ব্বকার্য্যে সহায়বান্। স এব কলিকালেঽস্মিন্ নিত্যানন্দো ভবিষ্যতি।।* *এছাড়াও গৌরহরি যখন যে আদেশ করেছেন তা নির্বিচারে পালন করেছেন। প্রতি বৎসর নীলাচলে আসতে নিষেধ করলেন এবং গৌড়মন্ডলে গিয়ে বিবাহ করে নাম-প্রেম প্রচার করতে বললেন। নিতাই চাঁদ বিনা বাক্য ব্যয়ে তাঁর আজ্ঞা স্বীকার করে নিলেন। এতোটুকু ভাবলেন না, লোক কি ভাববে, সমাজ কি বলবে! এই বয়সে বিবাহ করলে! এই হল সেবকের স্বরূপ। তুমি যাতে সুখ পাও। *ত্বৎ সুখে সুখিত্বম্।*
অলমিতি।
জয় নিতাই।
 জয় গৌর হরি।।🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ꧁👇📖 সূচীপত্র 🙏 শ্রী গোপীশরণ দাস 📖👇꧂

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীবলরাম 🏵️ শ্রাবণী পূর্ণিমা 🌷 ঝুলন পূর্ণিমা 🙇 শ্রীবলরামের আবির্ভাব তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/balaram.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীবলরাম 🏵️ শ্রাবণী পূর্ণিমা 🌷 ঝুলন পূর্ণিমা 🙇 শ্রীবলরামের আবির্ভাব তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/balaram.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*শ্রীবলরাম 🏵️ শ্রাবণী পূর্ণিমা 🌷 ঝুলন পূর্ণিমা 🙇  শ্রীবলরামের আবির্ভাব তিথি।*
 
দ্বাপর যুগে কৃষ্ণ লীলায় কৃষ্ণের অগ্রজ(দাদা) রূপে শ্রীবলরাম দেহ ধারণ করেন।#পিতা_বসুদেব এবং #মাতা_রোহিণীর  সন্তান রূপে শ্রীবলরাম প্রকট হন।  শ্রীবলরাম কখনোই কৃষ্ণের থেকে পৃথক সত্ত্বা নন।কৃষ্ণ হলেন স্বয়ং ভগবান।রাম-বলরাম আদি সব অবতার পুরুষগণ এই কৃষ্ণের অংশ বা কলা ।দৈত্যনিপীড়িত লোককে যুগে যুগে এনারা রক্ষা করেন।

*#এতে_চাংশকলাঃ_পুংসঃ_কৃষ্ণস্তু_ভগবান্_স্বয়ম্।  #ইন্দ্রারিব্যাকুলং_লোকং_মৃড়য়ন্তি_যুগে_যুগে।।*

সুতরাং কৃষ্ণের অংশই হলেন বলরাম।সেই কারণে কৃষ্ণ আর বলরাম দুজনেই অভিন্ন সত্ত্বা।লীলাবিলাস কারণে দুজনে দুইদেহ ধারণ করেছেন মাত্র। 
*#একই_স্বরূপ_দোঁহে_ভিন্নমাত্র_কায়।  #আদ্য_কায়ব্যূহ_কৃষ্ণলীলার_সহায়।।*

অর্থাৎ কৃষ্ণ লীলাকে পরিপুষ্ট করার জন্যই তাঁর দেহধারণ।সঙ্কর্ষণ বিষ্ণু, কারণাব্ধিশায়ী বিষ্ণু, গর্ভোদশায়ী বিষ্ণু,পয়োব্ধিশায়ী বিষ্ণু এবং শ্রী অনন্তদেব(শেষনাগ) এই পঞ্চরূপেই শ্রী বলরামের প্রকাশ। যদিও বলরাম মূলতঃ সঙ্কর্ষণ তত্ত্ব তথাপি এই পাঁচ রূপেই তিনি কৃষ্ণ সেবা করতে উন্মুখ। 
*#শ্রী_বলরাম_গোসাঞি_মূল_সঙ্কর্ষণ । #পঞ্চরূপ_ধরি_করেন_কৃষ্ণের_সেবন।।*

প্রথম চারতত্ত্বে তিনি কৃষ্ণের জগত সৃষ্টির কার্য নির্বাহ করেন।এবং অনন্ত দেব(শেষনাগ) রূপে তিনি কৃষ্ণের  অঙ্গসেবাদি কার্য করেন। সেই কৃষ্ণই যখন লীলাবিলাস কালে দেহধারণ করেন তখন অনন্ত দেবও বলরাম রূপে দেহধারণ করেন। 
*#সৃষ্ট্যাদিক_সেবা_তার_আজ্ঞার_পালন।  #শেষ_রূপে_করে_কৃষ্ণের_বিবিধ_সেবন।।*

এই কৃষ্ণই ত্রেতাতে অযোধ্যাপতি রামচন্দ্র রূপে এসেছিলেন।এবং লীলাসহায়কারী বলরাম লক্ষ্মণ রূপে এসেছিলেন।কিন্তু ত্রেতাতে লক্ষ্মণ ছিলেন রামচন্দ্রের কনিষ্ঠ ভাই-বয়সে ছোট। সেই কারণে রামচন্দ্রের সমস্ত দুঃখ কষ্ট নীরবে সহ্য করেছেন। মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেন নি। তাই কৃষ্ণ লীলাতে অগ্রজ-বয়সে বড় দাদা রূপে বলরাম হয়ে এসেছেন।অভিভাবক সুলভ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।সবটাই সেবাসুখ আস্বাদন করবার জন্যে ।
*#রামের_চরিত্র_সব_দুঃখের_কারণ।  #স্বতন্ত্র_লীলার_দুঃখ_সহেন_লক্ষ্মণ।।*

*#নিষেধ_করিতে_নারে_যাতে_ছোটো_ভাই।  #মৌন_ধরি_রহে_লক্ষ্মণ_মনে_দুঃখ_পাই।।*
*#কৃষ্ণ_অবতারে_জ্যেষ্ঠ_হৈলা_সেবার_কারণ। #কৃষ্ণ_কে_করাইল_নানা_সুখ_আস্বাদন ।।*

বৃন্দাবনলীলা থেকে লীলাবসান পর্যন্ত বলরাম কৃষ্ণের সহায়তা করেছেন।কখনো অনুকূলে কখনো প্রতিকূলে।সেবার মূর্তিমন্ত প্রতীক হলেন বলরাম। এই বলরাম স্বরূপ কলিযুগে শ্রীগৌরাঙ্গ লীলাতে *#পতিতপাবন_প্রভু_নিতাইচাঁদ_রূপে_প্রকট_হয়েছেন।।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী দীপ বাগুই 📖 👇꧂
      এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds