শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
            *🏢খোশালচাঁদ🏢*
       ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀মীরকাসিম ও কোম্পানীর সংঘর্ষ-জনিত বিপ্লবানল নিভলেও দেশমধ‍্যে শান্তি ফিরে আসতে বেশ কয়েক বৎসর সময় লেগেছিল।এই মহাগ্নিতে যে বঙ্গরাজ‍্য দগ্ধ,বিদগ্ধ হয়ে যায়,তা বলা বাহুল‍্য মাত্র।কাজেই অল্পদিনের মধ্যে সমগ্র দেশ শান্ত ভাব অবলম্বন করতে পারিনি।বাংলার যে সমস্ত সম্ভ্রান্ত বংশ এই দাবানলে ভস্মস্তূপে পরিণত হয়,তাদের অঙ্কুরোদ্গমেরও দেরী হয়েছিল, আবার কোনটিও বা একেবারেই নির্মূল হয়ে যায়।জগৎশেঠ মহাতপচাঁদ ও মহারাজ স্বরূপচাঁদের মৃত‍্যুর পর মুর্শিদাবাদের শেঠবংশ নিস্তেজ হয়ে পড়ে।যদিও তারবংশগণ নিজেদের কারবার চালাবার জন্য চরম চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাতে সম‍্যক্ প্রকারে কৃতকার্য হতে পারেননি।তারা সে সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক ছিল না,কাজেই নিজেদের গদীর পূর্ব গৌরব রক্ষা করতে সম্পূর্ণরূপে সমর্থ হয়নি। তার কিছু উল্লেখ দিচ্ছি=*
*🍁বকসারের যুদ্ধের পর বাদশাহ শাহ আলম ও নবাব-উজীর সুজাউদ্দৌলার সঙ্গে সন্ধির পরামর্শ চলতে থাকে।মীরজাফর কোম্পানীর দেয় অর্থের পীড়াপীড়িতে পাটনা হতে কলকাতা আসতে বাধ‍্য হন।মীরজাফর দ্বিতীয়বার রাজ‍্য গ্রহণকালে নন্দকুমারকে দেওয়ান নিযুক্ত করেছিলেন।মীরকাসিম কোম্পানীর দেয় অর্থ পরিশোধের জন্য অনেক পরিমাণে রাজস্ব বৃদ্ধি করলেও,জমিদারদের কাছ হতে তা সম্পূর্ণরূপে আদায় হয়নি।নন্দকুমার নতুন বন্দোবস্ত করে কতক পরিমাণে রাজস্বের লাঘব করলেও,সমস্ত টাকা আদায় করে উঠতে পারেনি।কোম্পানীর কর্মচারীগণ নবাবের কাছ হতে বারংবার অর্থের দাবী করতে লাগলেন।যুদ্ধের ব‍্যয় ও কোম্পানীর ক্ষতিপূরণ প্রভৃতিতে নবাবের দেয় ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে। কোম্পানি ও তার কর্মচারীগণের দাবী বাড়িতে বাড়িতে অবশেষে তিপ্পান্ন লক্ষ টাকায় পরিণত হয়।রাজা দুর্লভরামও এই সময়ে নিজামত বিভাগের দেওয়ান নিযুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু নন্দকুমারের হাতে খুব বেশী পরিমাণে ক্ষমতা দেওয়া হয়।নন্দকুমার ও দুর্লভরাম কোম্পানির ও তার কর্মচারীগণের প্রাপ‍্য অর্থ পরিশোধের বিশেষ কোন উপায় করতে পারেননি।দুশ্চিন্তায় ক্রমে মীরজাফরের শরীর খারাপ হতে লাগল। তিনি উদ্বিগ্ন হৃদয়ে কলকাতা হতে মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হলেন।তার পর তিনি শয‍্যাগত হয়ে পড়েন,ক্রমে তাঁর অন্তিমকাল উপস্থিত হয়।জাফর দুশ্চিকিৎস‍্য কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৪ বৎসর বয়সে মারা গেলেন।*
*🍀মহাতপচাঁদ ও স্বরূপচাঁদের মৃত‍্যুর পর তাঁদের পুত্র খোশালচাঁদ ও উদায়তচাঁদ গদীর ভার গ্রহণ করেন।তাঁরা একসঙ্গেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।এই সময়ে তাঁরা প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন না, সুতরাং কারবারের কাজ ঠিকমত করতে পারছিলেন না।তাছাড়াও তাঁদের আর্থিক অবস্থাও খুব খারাপ ছিল।মীরকাসিম শেঠদের সর্বস্ব লুঠ করে নিয়ে ছিল।খোশালচাঁদের ভাই গোলাপচাঁদ ও উদায়তচাঁদের ভাই মিহিরচাঁদ, মহাতপচাঁদ ও স্বরূপচাঁদের সঙ্গে মুঙ্গেরে অবরুদ্ধ হয়েছিলেন, একথা আগে বলা হয়েছে।জগৎশেঠ ও স্বরূপচাঁদের হত‍্যাকান্ডের পর গোলাপচাঁদ ও মিহিরচাঁদ মীরকাসিম কর্তৃক বাদশাহ শাহ আলমের হাতে সমর্পিত হন।এর উদ্দেশ্য এরকম ছিল যে,তাঁদেরকে মুক্ত করতে শেঠগণকে অনেক অর্থ উপঢৌকন দিতে হবে।কাজেই তাইই ঘটেছিল।*
*নবাব মীরজাফর খাঁ উজীর সুজাউদ্দৌলাকে তাঁদের মুক্তির জন্য লিখে পাঠালে উজীর উত্তর দেন যে,তাঁদের সম্বন্ধে যথা কর্তব্য স্থির করে পরে উত্তর দেওয়া যাবে। "I have had the pleasure to receive your two letters mentioning the arrival of the royal presents,and your desire that the sets sons may be released, and I have represented in a proper manner to his Majesty the strength and firmness of your obedience. The high in station Raja Beny Bahadre will shortly arrive in the royal presence,and these matters will be settled and answer sent you.(From the Vizier to the Nabob January 8th 1764) Long, P,355. কিন্তু এর পর কোনও উত্তর এসেছিল বলে বোধ হয় না।সেই অল্প বয়স্ক শেঠ দুইভাই কতক অর্থ ঋণ ও কতক অর্থ নিজেদের হীরা জহরাদির বদ্ধক দ্বারা সংগ্রহ করে বাদশাহ ও উজীরকে নজরপ্রদানে অব‍্যাহতি লাভ করতে সমর্থ হন।এই সমস্ত অর্থ পরিশোধের জন্য খোশালচাঁদ ও উদায়তচাঁদকে নিজেদের বাসনপত্রাদি মুদ্রায় পরিণত ও হীরা জহরাদিও বিক্রি করতে হয়েছিল।এরপরে তাঁদের অবস্থা অত‍্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়ে।এই সমস্ত কারণে তাঁরা নিজেদের কারবার ভাল ভাবে চালাতে পারছিলেন না।তাছাড়াও নবাব সরকারে ও কোম্পানীর কাছে তাঁদের যে সমস্ত প্রাপ‍্য অর্থ ছিল,তাহাও তাঁরা যথাসময়ে পেয়েছিলেন বলে বোধ হয় না।ফলতঃ জগৎশেঠ মহতপচাঁদ ও মহারাজ স্বরূপচাঁদ যেরকম গৌরবের সঙ্গে নিজেদের কারবার পরিচালনা করেছিলেন, খোশালচাঁদ ও উদায়তচাঁদ যে সেরকম ভাবে চালাতে পারেননি সেইবিষয়ে কোন সন্দেহ নাই।বিশেষ করে তাঁরা অল্পবয়স্ক হওয়ায়,কাজের নানাপ্রকার অসুবিধাও ঘটেছিল।*
🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔷🔶🔶🔶🔶🔶🔶

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২)🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
           *🏢খোশালচাঁদ🏢*
       ∆∆☆∆∆☆∆∆☆∆∆☆
*🍀তারপরে মীরজাফরের দ্বিতীয় পুত্র নজমউদ্দৌলা মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন।অতঃপর ভাই ভাই মধ্যে নানাপ্রকার ঝগড়া ঝামেলা লাগায় ঠিকমত রাজকার্য‍্য পরিচালনা হচ্ছিল না।এতে অর্থের টান পরে,খোশালচাঁদের কাছে বাধ‍্য হয়ে হাত পাততে হয়েছিল।তাঁরা মতিরাম নামে একব‍্যক্তির দ্বারা খোশালচাঁদকে বলে পাঠান যে,খোশালচাঁদ তাঁদের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করলে,তাঁরা তাঁদের সবরকম কাজের সুব‍্যবস্থা করে দিবেন।ইতিপূর্বে তাঁরা লর্ড ক্লাইভকে অনেক অর্থ দিয়েছিলেন বলে সভ‍্যগণ উল্লেখ করেন।খোশালচাঁদ ক্লাইভকে অর্থ প্রদান করা অস্বীকার করে তাঁদেরকে নিরস্ত হতে বলেন। কিন্তু সভ‍্য মহোদয়েরা সহজে নিবৃত্ত হবার পাত্র ছিলেন না।তাঁরা খোশালচাঁদকে নানারকম ভয় দেখাতে আরম্ভ করল,খোশালচাঁদ বাধ‍্য হয়ে সভাদেরকে সওয়ালক্ষ টাকা প্রতিশ্রুত হন।তারমধ‍্যে পঞ্চাশ হাজার টাকা তক্ষুনি দিয়ে দেন,অবশিষ্ট টাকা শেঠদের পাওনা আদায়ের পর দেবার কথা হয়।অতঃপর অনুসন্ধান সমিতি গঠিত হলে,জগৎশেঠ ও মতিরাম উক্ত সমিতির কাছে এই সমস্ত বিষয়ের সাক্ষ‍্য দিয়েছিলেন।কলকাতা কাউন্সিল হতে ডিরেক্টরগণের কাছে এই বিষয়ের পত্র পাঠান হয়।এর পর ক্লাইভ কিছুকাল পরে পুনর্বার কলকাতার গর্ভণর নিযুক্ত হয়ে আসেন।ক্লাইভ এদেশে আসামাত্র খোশালচাঁদ ও উদায়তচাঁদ তাঁকে তাঁদের দুরবস্থার কথা জানান।কিভাবে মীরকাসিম কর্তৃক তাঁদের পিতা,পিতৃব‍্য নির্যাতিত ও হৃতসর্বস্ব হয়ে জীবন বিসর্জন করেছেন, এবং কিভাবে গোলাপচাঁদ ও মিহিরচাঁদ বহু কষ্ট ভোগ করে বহু অর্থব‍্যয়ে উদ্ধারলাভ করতে সমর্থ হন। আর কিভাবেই বা সেই সমস্ত অর্থ পরিশোধের জন্য তাঁদেরকে সর্বশান্ত হতে হয়,উক্ত পত্রে এই সমস্তই লিখিত থাকে।পরে ক্লাইভ দেওয়ানী গ্রহণ করে অবিলম্বে বাংলায় উপস্থিত হন, এবং খোশালচাঁদকে কোম্পানির সরফ বা গদীয়ানের পদে নিযুক্ত করেন।এইসময়ে খোশালচাঁদের বয়স আঠার পূর্ণ হয়নি। নবাব নজমউদ্দৌলাও খোশালচাঁদ ও দুর্লভরামের পরামর্শক্রমে কার্য‍্য নির্বাহ করতে অনুরুদ্ধ হন।পূর্ববর্তী বা পরবর্তী সমস্ত নবাব নাজিমগণই জগৎশেঠের পরামর্শে কার্য পরিচালনা করতে অনুরুদ্ধ হয়েছিলেন বলে দেখা যায়।ক্লাইভ খোশালচাঁদকে কোম্পানির গদীয়ান নিযুক্ত করলেও, ভাগ‍্যলক্ষ্মী তাঁদের প্রতি সুপ্রসন্না হয়েছিলেন বলে বোধ হয় না।*
*শেঠগণের অবস্থা দিন দিন হীন হচ্ছিল, তা সহজেই বুঝা যায়।তথাপি তাঁরা নিজেদের কারবার চালাতে যথাসাধ‍্য চেষ্টা করেছিলেন।অনেক চেষ্টার পর ধীরে ধীরে কারবার চলতে আরম্ভ হলে, বাদশাহ শাহ আলম ১৭৬৬ খৃষ্টাব্দে খোশালচাঁদকে জগৎশেঠ ও উদায়তচাঁদকে মহারাজ উপাধি প্রদান করেন। তারপর ১৭৬৬ খৃষ্টাব্দে নজমউদ্দৌলা এ জগৎ হতে বিদায় নেন।তাঁর সহোদর ভাই সৈফউদ্দৌলা মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন।তিনি জগৎশেঠ, দুর্লভরাম ও রেজা খাঁর পরামর্শে নিজামতের কার্য নির্বাহ করতে প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন।শেঠগণ নিজেদের কারবার চালানোর জন্য চরম চেষ্টা করছিলেন।কিন্তু ভাগ‍্যলক্ষ্মী তাঁদের প্রতি সুপ্রসন্না না হওয়ায় তাঁদের অবস্থা দিন দিন হীনই হতে থাকে। তাঁরা আবার বৃত্তির জন্য কোম্পানির শরণাপন্ন হন।ক্লাইভ জগৎশেঠ খোশালচাঁদকে বার্ষিক তিনলক্ষ টাকা বৃত্তি দিতে ইচ্ছা করেছিলেন। কিন্তু খোশালচাঁদ তা প্রত‍্যাখ‍্যান করে বলেছিলেন যে,আমার মাসিক ব‍্যয় লক্ষ টাকার কমনয়, এই সামান্য বৃত্তিতে আমার কোনই উপকার হবে না। সুতরাং তা নেবার কোন প্রয়োজন নাই। খোশালচাঁদ কিছু অপরিমিত ব‍্যয়ী ছিলেন,তবে অধিকাংশ অর্থ সৎকাজেই ব‍্যয়িত করতেন। এই বিষয় পরে উল্লেখ করব।ফলে শেঠদের অবস্থা দিন দিন শোচনীয় হয়ে উঠে।রাজস্বের ভার কোম্পানি স্বয়ং গ্রহণ করায় তাঁদের অবনতির প্রধান কারণ। কোম্পানি মুর্শিদাবাদে বৎসরের প্রথমে রাজস্ব আদায়ের জন্য পুণ‍্যাহ-ক্রিয়া করতেন। নবাব সৈফউদ্দৌলাও গর্ভণর ভেরলেস্টের সহিত মোতিঝিলে বসে পুণ‍্যাহ-ক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন।এর কয়েক বৎসর পরে বাংলায় ছিয়াত্তরে মন্বন্তর আবির্ভূত হয়ে সমস্ত দেশকে শ্মশানে পরিণত করে। নবাব সৈফউদ্দৌলা তার প্রচণ্ড মহামারীতে জীবন বিসর্জন করতে বাধ‍্য হন। এই দেশ ব‍্যাপী দুর্ভিক্ষে শেঠদেরও ভয়ানক ক্ষতি হয়েছিল।অনেক অর্থ জলে চলে গিয়েছিল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩)🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
             *🏢খোশালচাঁদ🏢*
*🍀সৈফউদ্দৌলার পর মীরজাফরের অপর বেগম বব্বুবেগমের গর্ভজাত মোবারকদ্দৌলা মুর্শিদাবাদের মসনদে বসেন।তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায়,তাঁর মাতার পরিবর্তে তাঁর বিমাতা মণি বেগম অভিভাবিকা নিযুক্ত হন।তদুপলক্ষ‍্যে কোম্পানীর কর্মচারীগণ অনেক অর্থলাভ করেছিলেন।এই সময়ে ওয়ারেন্ হেষ্টিংস বাংলার গর্ভণর হয়ে আসেন।তিনি ভারতবর্ষের গর্ভণর জেনারেল পদেও প্রতিষ্ঠিত হন।মোবারকদ্দৌলার সময় নিজামতের বৃত্তি কমতে কমতে শেষে ষোল লক্ষ টাকায় পরিণত হয়।এই সময়ে নিজামত দপ্তরের কাগজপত্রে জগৎশেঠেরও বার্ষিক দেড়লক্ষ টাকার এক বৃত্তি উল্লেখ দেখা যায়।ওয়ারেন্ হেষ্টিংসের রাজত্বকালে দেশমধ‍্যে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।তিনি ক্লাইভের প্রবর্তিত দ্বৈতশাসনের মূলোচ্ছেদ করে রাজস্ব ও বিচার উভয়েই স্বহস্তে গ্রহণ করেন।নবাব নাজিম কেবল বৃত্তিভোগী মাত্র থাকেন।মুর্শিদাবাদ হতে খালসা বা রাজস্ব বিভাগ কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়।হেস্তিংস একসনা ও পাঁচসনা বন্দোবস্তে সমস্ত জমিদারি বন্দোবস্ত করতে আরম্ভ করেছিলেন।তাঁর অনুগ্রহে কান্তবাবু,গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ, দেবী সিংহ প্রভৃতি বহু সম্পত্তির অধীশ্বর হয়ে কাসীমবাজার,কান্দী ও নশীপুর প্রভৃতি রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।মহারাজ নন্দকুমারের সঙ্গে হেষ্টিংসের বিবাদ হওয়ায়,তিনি এক জাল বা নকল মোকদ্দমায় আসামী হয়ে ফাঁসীকাঠে জীবন বিসর্জন করতে বাধ‍্য হন।এইসময়ে গর্ভণর জেনারেল যেরকম কাউন্সিলের সদস‍্যগণ শাসনকার্য‍্যের ক্ষমতা পেয়েছিলেন,সেরকম কলকাতায় সুপ্রীম কোটে একজন প্রধান জজসহ কয়েকজন জজ বিচারকার্য‍্যের পরিচালনা করতে থাকেন।মফস্বলের সঙ্গে তাদের বিশেষ কোন সম্বন্ধ ছিল না।হেস্টিংস মফস্বলে হিন্দু ও মুসলমান আইন প্রচলিত রেখে দেশের অনেক উপকার সাধন করে ছিলেন। কিন্তু কলকাতায় বিলাতি আইন প্রচলিত থাকায় নানারকম অসুবিধা ঘটে।সেইসময়ে সারা ভারতবর্ষ ব‍্যাপিয়াও মহা আন্দোলন চলছিল।সেইসময় মহারাষ্টীয়গণ,মহীশূরের হায়দার আলি প্রভৃতি প্রবল হয়ে উঠায়,হেস্টিংসকে তাঁদের দমনের জন্য বিশেষ ভাবে ব‍্যস্ত থাকতে হয়েছিল।তাছাড়াও তাঁর রাজত্বকালে কাশীর চেৎসিংহ ও অযোধ‍্যার বেগমদের সম্পত্তি নিয়ে অনেক গোলযোগ ঘটে।এদের কাছে অর্থশোষন করায় ওয়ারেন্ হেষ্টিংসের নামে অত‍্যন্ত কলঙ্ক রটে,এমন কি তারজন‍্য পার্লামেন্ট সভায় তাঁর বিচার হয়েছিল।তারপরে তিনি মুক্তিলাভ করেন।যাইহোক,মুর্শিদাবাদ থেকে খালসা বা রাজত্ব বিভাগ স্থানান্তরিত করায়,শেঠদের সঙ্গে তার সম্বন্ধ ছিন্ন হয়। সুতরাং তাঁরা অত‍্যন্ত অর্থকষ্ট অনুভব করতে থাকেন।জগৎশেঠ খোশালচাঁদ তারজন‍্য হেষ্টিংসকে পত্র লিখে পাঠান যে,তাঁদের পূর্বপুরুষরা বরাবরই খালসা বিভাগের দেখাশুনা করতেন, এক্ষণে তাঁদের সঙ্গে উক্ত বিভাগের সম্বন্ধ ছিন্ন হওয়ায়,তাঁরা অত‍্যন্ত কষ্টে আছেন।তাঁর অনুরোধ এই যে,গর্ভণর জেনারেল অনুগ্রহপূর্বক তাঁকে পুনর্বার খালসা বিভাগের দেখাশোনাই নিযুক্ত করেন। হেষ্টিংস তার উত্তরে লিখে পাঠিয়েছিলেন যে,তিনি সমস্ত বিষয়টি জানেন যে,জগৎশেঠের পিতা ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ‍্য স্থাপনের জন্য চরমভাবে সহায়তা করেছেন, এবং তাঁরদ্বারা কোম্পানীরও যথেষ্ট উপকার হয়েছে।উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ হতে ফিরে আসার পর তিনি তাঁদের প্রার্থনা পূরণের চেষ্টা করবেন। কিন্তু হিষ্টিংসপ্রত‍্যাগত হতে না হতে সহসা কন্ঠরোধ হয়ে খোশালচাঁদ মৃত‍্যুমুখে নিপতিত হন।তখন তাঁর বয়স চল্লিশ বৎসরও পূর্ণ হয়নি।এইভাবে জৎশেঠ খোশালচাঁদ ইহজগৎ হতে বিদায় নেন।তিনি অনেক চেষ্টা করেও পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসেতে পারেননি।পরে তিনি বৃত্তির ভিখারী হলেও,সম‍্যকরূপে কৃতকার্য‍্য হননি।তাঁর মৃত‍্যুর পর হতে জগৎশেঠদের অবস্থা দিন দিন আরও হীন হতে থাকে।জগৎশেঠ খোশালচাঁদ কিছু অপরিমিত ব‍্যয়ী ছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁর সমস্ত অর্থ প্রায়ই সদ্ব‍্যয়ে নিয়োগ করতেন।তাঁদের প্রধান তীর্থ পরেশনাথ পর্বতের সঙ্গে খোশালচাঁদের নাম বিশেষভাবে বিজড়িত আছে। তাঁর পূর্বপুরুষরা সম্রাট মহম্মদ শাহের কাছ হতে পরেশনাথের অনেক ভূভাগ নিষ্কররূপে পেয়েছিলেন।সম্রাট প্রদত্ত ভূভাগের বা সেই জমির ফার্মান অনেকদিন পর্যন্ত জগৎশেঠদের কাছে ছিল,এক্ষণে স্থানান্তরিত হয়েছে।এই প্রসিদ্ধ জৈনতীর্থ অনেক দিন পর্যন্ত অনাবিষ্কৃত ভাবে ছিল বলে কথিত হয়ে থাকে।জগৎশেঠ খোশালচাঁদই তার আবিষ্কার করেন।প্রবাদমুখে শোনা যায় যে,তিনি মুর্শিদাবাদ হতে হাতীরপিঠে পরেশনাথে আসিতেন এবং প্রকৃত তীর্থের অনুসন্ধান করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েন।পরে তাঁর প্রতি প্রত‍্যাদেশ হয় যে,যে যে জায়গায় পীতচন্দনের চিহ্ন দেখা যাবে,সেই সেই জায়গায়ই প্রকৃত তীর্থ।খোশালচাঁদ পীতচন্দনের চিহ্ন দেখে তীর্থস্থান স্থির করেন।*
*পরেশনাথের মন্দিরে অনেক মূর্তিতে জগৎশেঠদের নামাঙ্কিত আছে।পরেশনাথের পর্বতশিখরে যে সমস্ত মন্দির আছে,তারমধ‍্যে জগৎশেঠদের মন্দির সব থেকে সুন্দর ও রমণীয়।তাঁদের প্রতিষ্ঠিত মূর্তির নিচে,সংবৎ ১৮২২ (১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে) ও সুগলচাঁদ জগৎশেঠের নাম খোদিত আছে।সুগলচাঁদ খোশালচাঁদের ভাই সুখলালচাঁদই বলে বোধ হয়। তাছাড়া ছোট ছোট গুমটির চরণপদ্মেও ১৮২৫ সংবৎ (১৭৮৬ খৃষ্টাব্দ) সুগলচাঁদ জগৎশেঠের নাম অঙ্কিত দেখা যায়।পরেশনাথের পাদদেশে মধুবন নামক গ্রামে উপরালি,মাঝালি ও নীচালি নামে তিনটি প্রসিদ্ধ মন্দির আছে।এই মাঝালি মন্দির শেঠদের তৈরী করা।তার প্রতিষ্ঠিত মূর্তির নিচে ১৮২৫ সংবৎ ও সুগলচাঁদ ও হুসিয়ালচাঁদের নাম আছে।হুসিয়াল সম্ভবত খুশিয়াল বা খোশালচাঁদ হবে।এই মন্দিরের সংলগ্ন ধর্মশালা,নহবতখানা ইত্যাদি মধুবনের মধ্যে একটি প্রধান দৃশ্য।মুর্শিদাবাদের জৈন মহাজনগণ এক্ষণে এর দেখাশোনা করে থাকেন।বালুচরের প্রসিদ্ধ ধনী মহারাজ বাহাদুর এক্ষণে এর অধ‍্যক্ষ।জগৎশেঠরা শ্বেতাম্বর জৈন ছিলেন। কিন্তু দিগম্বর জৈনদের একটি মন্দিরে স্থাপিত মূর্তির নিচে রূপচাঁদ জগৎশেঠ ও সংবৎ ১৮৭৩ (১৮১৬ খৃষ্টাব্দ) অঙ্কিত দেখা যায়।সম্ভবত জগৎশেঠরা দিগম্বর সম্প্রদায়কে উক্ত মূর্তি উপহার দিয়ে থাকবেন। কিন্তু ১৮৭৩ সংবৎ বা ১৮১৬ খৃষ্টাব্দে রূপচাঁদ জগৎশেঠ ছিলেন কিনা শেঠদের বংশতালিকা হতে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।খোশালচাঁদের আরও অনেক কীর্তির কথা শোনা যায়।কথিত আছে যে,কোন জগৎশেঠ পত্নীর ধর্মার্থে ১০৮টি পুষ্করিণী খনন করিয়েছিলেন।কার সময় এই পুষ্করিণী খনন করা হয় তা সঠিক বলা যাবে না।জগৎশেঠদের বাড়ীর কাছে খোশালচাঁদের নির্মিত একটি সুন্দর উদ‍্যান ছিল।তা খোশালবাগ নামেই প্রসিদ্ধ হয়।আবার এরকম প্রবাদ আছে যে,খোশালচাঁদের অবস্থা হীন হলেও তাঁর কাছে বহু অর্থ ছিল।তিনি সব অর্থ মাটির তলে পুঁতে রাখেন।হঠাৎ তাঁর মৃত‍্যু হওয়ায়,তিনি কারও কাছে অর্থের কথা বলে যেতে পারেননি।সেইজন‍্য তাঁর মৃত‍্যুর পর হতে শেঠদের উত্তরোত্তর দুর্দশা উপস্থিত হয়।*
🏢🏢🏢🏢🏢🏢🔴🏢🏢🏢🏢🏢🏢
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
        *🔷পরবর্তী শেঠগণ🔷*
        ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🌺জগৎশেঠগণের গৌরব হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে খোশালচাঁদ এ জগৎ হতে বিদায় নিয়েছেন।তিনি যেরকম অর্থাভাব অনুভব করেছিলেন,সেইরকম নিঃসন্তান হওয়ায় তাঁর হৃদয়ে সর্বদা অশান্তি বিরাজ করছিল।এই অশান্তি দূর করবার জন্য তিনি নিজ ভাই সমীরচাঁদের পুত্র হরকচাঁদকে দত্তক নিয়েছিলেন।খোশালচাঁদের মৃত‍্যুর পর হরকচাঁদ অল্পবয়স্ক ছিলেন।হিষ্টিংসখোশালচাঁদের প্রার্থনা পূর্ণ করতে না পেরে দুঃখিত হন।তারজন‍্য তিনি ১৭৮২ খৃষ্টাব্দে হরকচাঁদকে খেলাত ও জগৎশেঠ উপাধি দান করেছিলেন।এই সময় হতে ব্রিটিশ গর্ভণমেন্ট স্বয়ং উপাধি প্রদান করতে আরম্ভ করেন।তাঁরা এর জন্য দিল্লীর দরবারের অনুমতির অপেক্ষা করতেন না।হরকচাঁদ বয়ঃপ্রাপ্ত হলে হেস্টিংস খোশালচাঁদের প্রার্থনা সম্বন্ধে বিবেচনা করবেন বলে আশা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে ইংল‍্যান্ডে গমন করতে হয় বলে, হেস্টিংস নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি।তার পর লর্ড কর্ণওয়ালিস ভারতের গর্ভণর জেনারেল হয়ে আসেন। তিনি মুর্শিদাবাদ হতে নিজামত আদালাদি কলকাতায় স্থানান্তরিত করেন, এবং জমিদারদের সঙ্গে প্রথমে দশশালা পরে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে,বাংলার জমিদারদেরকে পুরুষানুক্রমে জমিদারী ভোগ করবার ব‍্যবস্থা করে দেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর হতে বাংলার জমিদারদের যে সর্বাংশে সুযোগ ঘটেছে,তা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। ভারতবর্ষের রাজধানী কলকাতা দিন দিন সব বিষয়ে শ্রীশালিনী হতে থাকায়,মুর্শিদাবাদ ক্রমে অতীতের গর্ভে নিমগ্ন হতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে নবাব নাজিম ও জগৎশেঠদেরও অবস্থা হীন হয়ে পড়ে।নবাব নাজিমগণ বৃত্তিভোগী হয়ে সামান্য আমোদ প্রমোদ নিয়েই নিজেদের সময় অতিবাহিত করতে রত হন।খোশালচাঁদের মৃত‍্যুর পর হরকচাঁদ অত‍্যন্ত অর্থাভাব অনুভব করেছিলেন। কিন্তু তিনি পিত‍ৃব‍্য গোলাপচাঁদের উত্তরাধিকারিত্ব লাভ করায় কিছু পরিমাণে অবস্থার উন্নতি করেছিলেন।এই সময় হতে শেঠদের কারবার বন্ধ হয়ে যায়।তাঁরা নিজেদের যৎকিঞ্চিৎ সঞ্চিত অর্থেথ উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ‍্য হন।হরকচাঁদ নিজেদের পৈতৃক জৈনধর্ম পরিত‍্যাগ করে বৈষ্ণবধর্ম অবলম্বন করেন।তাঁর বৈষ্ণব ধর্মগ্রহণের কারণ শুনতে পাওয়া যায়।হরকচাঁদ প্রথমে নিঃসন্তান থাকায় অত‍্যন্ত বিষণ্ণ হৃদয়ে কাল যাপন করতেন।সন্তানলাভের আশায় তিনি জৈনমতে অনেক ক্রিয়ার অনুষ্ঠান করেছিলেন, কিন্তু কিছুতেই ফললাভ করতে পারেননি।পুত্রমুখ দর্শনে বঞ্চিত হয়ে,হরকচাঁদ অত‍্যন্ত অশান্তিতে সময় কাটাচ্ছিলেন।এই সময়ে একজন বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসী তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন।তিনি হরকচাঁদের মনোকষ্টের কারণ জেনে তাঁকে বৈষ্ণবমতে অনুষ্ঠান করতে বলেন।তাঁরই উপদেশ অনুসারে কাজ করে হরকচাঁদ সন্তান লাভ করেছিলেন।পরে উক্ত সন্ন‍্যাসীর পরামর্শক্রমে তিনি জৈনধর্ম পরিত‍্যাগ করে বৈষ্ণবধর্ম অবলম্বন করেছিলেন।হরকচাঁদের বৈষ্ণবধর্ম অনুরাগের জন্য তিনি বাসভবন সংলগ্ন স্থানে ঠাকুরবাড়ী নির্মাণ করে।*
*ঠাকুরবাড়ী নির্মাণ কোরে,তাতে গোবিন্দজীনামক শ্রীকৃষ্ণ মূর্তির প্রতিষ্ঠা করেন।মন্দিরের ভিতরের দিকে চীনামাটির নির্মিত ইট দিয়ে সাজানো ও ঘরগুলি মর্মরপাথরে মন্ডিত করা হয়।হরকচাঁদের পর থেকে জগৎশেঠবংশীয়গণ বৈষ্ণবমতই অবলম্বন করে আসছেন।তাঁরা বৈষ্ণবমতে চলিত হলেও জৈন আচার-ব‍্যবহার একেবারে পরিত‍্যাগ করেননি।তাঁদের পূর্বপ্রতিষ্ঠিত কষ্টিপাথর নির্মিত জৈনমন্দির অনেকদিন পর্যন্ত বিদ‍্যমান ছিল।ভাগীরথী তাকে গর্ভস‍াৎ করতে উদ‍্যত হওয়ায়,তার পাথরগুলি আর পরে খুঁজে পাওয়া যায়নি।জগৎশেঠ বংশীয়দের আদানপ্রদান জৈনসমাজেই অনুষ্ঠিত হয়।তাঁরা জৈনসমাজের নেতা বলেও অভিহিত হয়ে আসছেন। সাধারণ জৈনগণ তাঁদের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপনে নিজেদেরকে গৌরবান্বিত মনে করে থাকেন।ওয়ারেন্ হেস্টিংস হরকচাঁদকে যে অনুগ্রহ প্রদর্শন করবেন বলে আশা দিয়েছিলেন,শোনা যায় লর্ড কর্ণওয়ালিসও নাকি সে বিষয়ে বিবেচনা করবেন বলে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু হরকচাঁদেরও হঠাৎ মৃত‍্যু হওয়ায় কর্ণওয়ালিস হরকচাঁদের অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্রদের প্রতি কোনরকম ভার অর্পণ করতে সাহসী হন নাই।ইন্দ্রচাঁদ ও বিষণচাঁদ নামে হরকচাঁদের দুই পুত্র পিতার মৃত‍্যুর পর সম্পত্তি তুলাংশে ভাগ করে নেন।ইন্দ্রচাঁদের বিয়ের সময় তাঁকে গর্ভণমেন্টহতে খেলাত দেওয়া হয়েছিল।☆Long, Appendix F.P. 579. পরে তিনি জগৎশেঠ উপাধি লাভ করেন।ইন্দ্রচাঁদই শেষ জগৎশেঠ, তাঁর পর আর উক্ত বংশের কেউ সেই ইতিহাস বিশ্রুত উপাধি পাননি।ইন্দ্রচাঁদ উপাধি পেয়ে অনেক ধূমধাম করেছিলেন।তারজন‍্য তাঁকে অনেক পরিমাণে অর্থ ব‍্যয় করতে হয়।এর পর হতে শেঠগণের গৌরব একেবারে শূন‍্য হয়ে যায়। অতঃপর জগৎশেঠ বংশীয়গণ বৃত্তিভোগী হয়ে কোনরকমে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ‍্য হন।শেঠবংশীধরদের ভাগ‍্যে তাও বেশীদিন স্থায়ী হয়নি।*
🔥🔥🔥🔥🔥🔥🌷🔥🔥🔥🔥🔥🔥
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
           *পরবর্তী শেঠগণ🏢*
          ☆☆☆☆◆☆☆☆☆
*☘মহারাজ উদারতচাঁদ নিঃসন্তান হওয়ায়,কীরিতসিংহকে দত্তক গ্রহণ করে পরলোক গমন করেন।উদারতচাঁদের ভাই অভয়চাঁদ মহারাজ উপাধির দাবী করেছিলেন, কিন্তু তাঁর দাবী গ্রাহ‍্য হয়েছিল বলে জানা যায় না।অভয়চাঁদের কোন পুত্র না থাকায় তিনি স্বীয় দৌহিত্র দুকুলচাঁদকে দত্তক গ্রহণ করে তাঁর শেঠ উপাধির জন্য প্রার্থনা করেন।তাঁর আশা ছিল,পরে দুকুলচাঁদ মহারাজ উপাধি পাবে।অন‍্যদিকে উদারতচাঁদের বিধবা পত্নী কীরিত সিংহের জন‍্যও মহারাজ উপাধি প্রার্থনা করেছিলেন।☆Long, Appendix F.P 579.এই সমস্ত গোলযোগের জন্য উদারতচাঁদের পর শেঠবংশে আর কেউ মহারাজ উপাধি পাননি।*
*🍁ইন্দ্রচাঁদের পর তাঁর পুত্র গোবিন্দচাঁদ শেঠদের গদীতে বসেন।এর পূর্ব হতেই শেঠদের কারবার বন্ধ হয়ে যায়।পৈতৃক যা কিছু সম্পত্তি ছিল,তার দ্বারাই গোবিন্দচাঁদ জীবিকা নির্বাহ করতে আরম্ভ করেন।তিনি অত‍্যন্ত অপরিমিতব‍্যয়ীও ছিলেন।সম্পত্তির আয় দ্বারা তাঁর বাসনা পূর্ণ না হওয়ায়,তিনি নিজেদের হীরাজহরাদি বিক্রি করতে আরম্ভ করেন।ক্রমে তাঁর অবস্থা অত‍্যন্ত শোচনীয় হয়ে উঠে।অবশেষে তিনি ব্রিটিশ গভর্ণমেন্টের শরণাপন্ন হন।তিনি নিজেদের পূর্বপুরুষগণের সঙ্গে ব্রিটিশ গভর্ণমেন্টের সম্বন্ধ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বৃত্তির জন্য আবেদনপত্র পাঠিয়ে দিলে,মুর্শিদাবাদের এজেন্ট মেজর জেনারেল রেপারের ও ভারত গভর্ণমেন্টের অনুরোধে ডিরেক্টরগণ ১৮৪৩ খৃষ্টাব্দে গোবিন্দচাঁদকে মাসিক ১২০০ টাকা বৃত্তি অনুমোদন করেন। তাঁর তাঁদের পত্রে গোবিন্দচাঁদের পূর্ব পুরুষদের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের সম্বন্ধ স্বীকার করলেও,গোবিন্দচাঁদের সহিত তাঁদের কোনরকম সম্বন্ধ থাকা স্বীকার করেননি।তবে এজেন্ট মেজর জেনারেল রেপারের অনুরোধক্রমে তাঁর মাসিক ১২০০ টাকা বৃত্তি নির্দেশ করে দেন।বিষণচাঁদের পুত্র শেঠ কিষাণচাঁদও বৃত্তির জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সে সময়ে তাঁকে কোন স্বতন্ত্র বৃত্তি দেওয়া হয়নি। ডিরেক্টরগণ বাসনা করেছিলেন যে, গোবিন্দচাঁদ সন্তানহীন হওয়ায়, তিনি তাঁর প্রাপ‍্য বৃত্তি হতে কিষাণচাঁদকে সাহায্য করতে পারেন। পরে গোবিন্দচাঁদের মৃত‍্যুর পর কিষাণচাঁদের বৃত্তি সম্বন্ধে বিবেচনা করবেন।গোবিন্দচাঁদ নিজ জীবদ্দশায় গোপালচাঁদের বিয়ের সময় নিজামত তহবিল হতে ৫০০০ টাকা সাহায্য দেওয়া হয়েছিল।১৮৪৯ খৃষ্টাব্দে বঙ্গের তখনকার লেপ্টেনান্ট গভর্ণর হেলিডে সাহেব গোবিন্দচাঁদের ১২০০টাকা ও কিষাণচাঁদের 300 টাকা বৃত্তি দেওয়ার আদেশ করেন। গোবিন্দচাঁদ এই আদেশের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেন।উক্ত আবেদনপত্র স্টেট সেক্রেটারি স‍্যার চার্লস উডের কাছে পাঠালে,তিনি লেপ্টেনান্ট সরকারের আদেশ অগ্রাহ‍্য করে গোবিন্দচাঁদের 1200 টাকা বৃত্তিই অক্ষুণ্ণ রাখেন। 1867 খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে পত্নী জগৎশেঠানী প্রাণকুমারী ও দত্তক পুত্র গোপালচাঁদকে রেখে গোবিন্দচাঁদ পরলোক গমন করেন।*
*🍀গোবিন্দচাঁদের মৃত‍্যুর পর গোপালচাঁদ ও কিষাণচাঁদ একযোগে বৃত্তি প্রার্থনায় এরকম মর্মে আবেদন করেন যে,গোবিন্দচাঁদের প্রদত্ত 1200 টাকা বৃত্তি হতে গোপালচাঁদকে 700 টাকা ও কিষাণচাঁদকে 500 টাকা দেওয়া হোক। কিন্তু সরকার তাঁদের সে আবেদন গ্রাহ‍্য না করে কিষাণচাঁদের জীবিতকাল পর্যন্ত 800টাকা বৃত্তি নির্দেশ করে দিয়ে গোবিন্দচাঁদের বিধবা ও অন‍্যান‍্য পরিবারবর্গকে প্রতিপালনের আদেশ দেন।গোপালচাঁদ পুনর্বার আবেদন করলে,কিষাণচাঁদের ৮০০টাকা বৃত্তি হতে তাঁকে তিনশ টাকা বৃত্তে দেওয়ার আদেশ হয়।গোপালচাঁদ কিষাণচাঁদে বৃত্তি কমিয়ে দিয়ে এই অল্ট পরিমাণ বৃত্তি নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। সরকারকে ধন‍্যবাদ দিয়ে তাঁদের দান প্রত‍্যাখ‍্যান করে পত্রও পাঠিয়েছিলেন।তার পর তিনি অত‍্যন্ত অর্থকষ্টে পড়ে হতাশ মনে ইহ জীবনের লীলা শেষ করতে বাধ‍্য হন।কিষাণচাঁদের মৃত‍্যু হলে গোবিন্দচাঁদের বিধবা জগৎশেঠানী প্রাণকুমারী সরকারের কাছ হতে তিনশ টাকা বৃত্তি পেয়েছিলেন। গোপালচাঁদের মৃত‍্যুর পর তিনি গোলাপচাঁকে দত্তক নেন। গোলাপচাঁদ প্রাপ্তবয়স্ক হলে প্রাণকুমারী নিজ বৃত্তিবৃদ্ধির জন্য ও গোলাপচাঁদের একটি স্বতন্ত্র বৃত্তির জন্য সরকারের কাছে বারংবার প্রার্থনা করেন।তাঁর শেষ আবেদন লেপ্তেনান্ট গভর্ণর স‍্যার চার্লস এলিয়েটের কাছে করা হয়। কিন্তু সরকার সেই আবেদনে কর্ণপাত করেননি।প্রাণকুমারীর মৃত‍্যুর পর গোলাপচাঁদ পুনর্বার বেঙ্গল সরকার ও ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোন জায়গায় তাঁর আবেদন গ্রাহ‍্য হয়নি।অবশেষে তিনি ১৮৯২ খৃষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে স্টেট সেক্রেটারির কাছেও এক আবেদন পত্র পাঠিয়ে ছিলেন।বলা বাহুল‍্য, গোলাপচাঁদ তাতেও কোন ফল পাইনি।তাঁদের পুরাতন বাসভবন জীর্ণ হয়ে ভগ্নস্তূপে পরিণত হওয়ায়, সরকার তাঁর নতুন বাড়ী নির্মাণের জন্য পাঁচহাজার টাকা সাহায্য করেছিলেন।গোলাপচাঁদ অত‍্যন্ত অর্থকষ্টে দিন কাটাতে লাগলেন।সম্প্রতি তিনি ইহজগৎ হতে বিদায় নিয়েছেন।তাঁর ফতেচাঁদ ও উদয়চাঁদ নামে দুইটি পুত্র বিদ‍্যমান আছেন।তাঁরা এক্ষণে নুতন বাড়ীতে বাস করতেন।এইভাবে যে জগৎশেঠগণ অষ্টাদশ শতাব্দীতে বঙ্গরাজ‍্যে ধন-মান ও মহিমায় মন্ডিত হয়ে সমস্ত ভারতবর্ষে নিজেদের গৌরবকিরণ বিকিরণ করেছিলেন,কালের কুটিল ক্রীড়ায় ক্রমে তাঁরা দীন-হীন দশায় পড়ে অতিকষ্টে জিবন যাপন করতে বাধ‍্য হন।*
🤣🤣🤣🤣🤣🤣😭🤣🤣🤣🤣🤣🤣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
             *🏢উপসংহার🏢*
         🐃🐃🐃🐃🐃🐃🐃
*🍀অষ্টাদশ শতাব্দীর ইতিহাস আলোচনা করে আমরা দেখলাম যে,উক্ত শতাব্দীতে জগৎশেঠগণ বঙ্গরাজ‍্যে কিরকম গৌরব বিস্তার করেছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার ইতিহাস উত্থান-পতনের যে বিচিত্র চিত্র অঙ্কিত করে অদ‍্যাপি কৌতূহল পরায়ণ পাঠকের হৃদয়ে বিস্ময়ের নতুন নতুন লীলার সঞ্চার করেছে,সেই বিস্ময়কর চিত্র জগৎশেঠগণের আলো ও ছায়ায় যে পরিস্ফুট হয়েছিল,তা পূর্বাপর আলোচনা করলে সকলে হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন।আলিবর্দীর উত্থান,সরফরাজের পতন,সিরাজের পতন ও মীরজাফরের উত্থান, আবার মীরজাফরের পতন ও মীরকাসিমের অভ‍্যুদয়,কাসিমের পতন ও মীরজাফরের পুনরুদয়, এবং সর্বশেষ মুসলমান রাজত্বের অবসান ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা, এই উত্থানপতনের বিচিত্র ইতিহাসের সঙ্গে জগৎশেঠগণের যে বিশেষভাবে সম্বন্ধ ছিল,সেকথা বোধহয় আর নতুন করে বলতে হবে না।সেই উত্থানপতনের বিচিত্র ব‍্যাপারের সঙ্গে সঙ্গে অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীর ইতিহাস তাঁদেরও যে উত্থান পতনের চিত্র অঙ্কিত করেছে,আমরা যথাসাধ‍্য তাও দেখাতে চেষ্টা করেছি।অষ্টাদশ শতাব্দীর কৌতূহল উদ্দীপক ইতিহাসে জগৎশেঠগণের জায়গা যে কত উপরে ছিল,তা সকলেই উপলব্ধি করতে পারছেন।উক্ত শতাব্দীর অধিকাংশ রাজনৈতিক ব‍্যাপারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।তাঁদের ধন-সম্পত্তির পরিমাণ ছিল না।তাঁদের গৌরবপ্রভা হয়ত দুপুরের সূর্য‍্যের কিরণকেও পরাভূত করেছিল।বাদশাহ,নবাব,রাজা,মহারাজা,জমিদার,মহাজন সকলেই তাঁদের অনুগ্রহের ভিখারী ছিলেন।তাঁরাও দুইহাতে অনুগ্রহ বিতরণ করে গেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে,অনুগ্রহ বর্ষণ করতে করতে তাঁরাও অবশেষে অনুগ্রহভিখারী হয়ে পড়েন।যে জগৎশেঠগণ ধনসম্পত্তি মাথায় তুলে হিমালয়ের অভ্রভেদী শিখরের সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবার চেষ্টা করেছিল,কালের এক সামান্য ফুৎকারে তা বঙ্গোপসাগরে অতল গর্ভে চিরকালের জন্য ডুবে যায়।পরবর্তী জগৎশেঠগণ অনেক চেষ্টা করেও আগের মত উদ্ধার সাধন করতে পারেননি।বহু পরিশ্রম করেও তাঁরা আর নিজেদের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারেননি।কিছুদিন তাঁরা ব্রিটিশ সরকারের অনুগ্রহ পেয়ে ছিলেন সত‍্য, কিন্তু পরিণামে তা হতে বঞ্চিত হয়ে একরকম ভিখারীবেশে দিনযাপন করতে হয়েছিল।ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রধান সহায় মহাতপচাঁদের, বংশদের শেষ পরিণাম যে দুঃখবহ সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই।ধনৈশ্বর্য‍্যের লীলাক্ষেত্র তাঁদের বিলাসভবন ভগ্নস্তূপে পরিণত।তাঁদের সুরম‍্য উদ‍্যানাদি জঙ্গলে পরিপূর্ণ, কষ্টিপাথর নির্মিত চৌবাচ্চা ভাঙ্গা ও মন্দিরাদি মাটির তলায় তলিয়ে গেছে।এইসব দেখলে বোধহয়,যেন বিরাট ঐশ্বর্য‍্যস্তম্ভ চূর্ণ হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।ভাগীরথীও তার চিহ্ন বিলুপ্ত করবার জন্য প্রতি বৎসর ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছেন।আর কিছুদিন পরে জগৎশেঠগণের নামের সঙ্গে তাঁদের বাসভবনের চিহ্ন হয়ত ধরণীপৃষ্ঠ হতে মুছে যাবে বলে মনে হয়।ভাগ‍্যলক্ষ্মীর বরপুত্র,গৌরবের আদর্শস্থল, ধনসম্পত্তির বিরাট স্তম্ভ,মণিমাণিক‍্যের উজ্জ্বল খনি, জগৎশেঠগণের নাম বাংলার ইতিহাসে চিরদিনই স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে বলেই বোধ হয়, কিন্তু তাঁদের কোন নিদর্শন ধরণীপৃষ্ঠে বিরাজ করবে বলে মনে হয় না। ইতিহাসের পৃষ্ঠা ছাড়া আর কোথাও জগৎশেঠগণের পরিচয় পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧





শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯১)🙏শ্রীগৌরিঙ্গের চরিতসুধা*
        *রথ উৎসব ও ভক্ত সম্মিলন*
       °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেব মুরারি গুপ্তকে আলিঙ্গন করে সকলকে বললেন, ইনি রামভক্ত, আমি এঁকে কৃষ্ণনাম করতে বলি।ইনি আমার আজ্ঞা প্রতিপাল‍্য বলিয়া গৃহে গমন করলেন।পরদিন আমার কাছে এসে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "রামকে হৃদয় হতে পরিত‍্যাগ করতে আমার প্রাণ যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় "।আমি তাঁর এইকথা শুনে তাঁকে আলিঙ্গন করে বললাম,তোমার বিশ্বাস দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি,এরকম বিশ্বাসই প্রয়োজন। ভক্তগণ তাঁর প্রেমপূর্ণ কথা শুনে ও প্রীতি ও আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে গভীর ব‍্যথা নিয়ে বিদায় নিলেন।(শ্রীচৈতন‍্যদেবকে ছেড়ে যেতে হচ্ছে এই গভীর ব‍্যথা)।মহাপ্রভুও তাঁর স্নেহের পাত্রদেরকে বিদায় দিয়ে অশ্রু বিসর্জন করতে লাগলেন।পুরুষোত্তমে গদাধর পন্ডিত,জলেশ্বর,পুরীগোঁসাই, জগদানন্দ,স্বরূপদামোদর পন্ডিত,গোবিন্দ, কাশীশ্বর প্রভৃতি ভক্ত ও সেবকেরা তাঁর সঙ্গে বাস করতে লাগলেন। গৌড়ভক্তগণ স্বদেশে প্রত‍্যাগমন করলে, সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাপ্রভুর কাছে এসে তাঁকে একমাস কাল নিমন্ত্রণ গ্রহণ করবার জন্য অনুরোধ করলেন। শ্রীচৈতন‍্যদেব বললেন, সন্ন‍্যাসীর পক্ষে একমাস এককভাবে কোন গৃহস্থের বাড়ীতে ভিক্ষা গ্রহণ উচিত নয়,তাতে তার ধর্মহানিহবার সম্ভাবনা। ভট্টাচার্য্য তাঁকে কুড়ি দিনের জন্য তাঁর অনুরোধ রক্ষা করতে বললেন, গৌরহরি তাহাও যতীর কর্তব‍্য নয় বলে রাজি হলেন না। পনের দিনের জন্য সার্বভৌম অনুরোধ করলেন,তাঁর সে অনুরোধও রক্ষিত হল না।অবশেষে পাঁচ দিনের জন্য বলিলে,মহাপ্রভু আর আপত্তি না করে ভিক্ষা গ্রহণে স্বীকৃত হলেন। ভট্টাচার্য্য পুরীগোঁসাই প্রভৃতিকেও ভিন্ন ভিন্ন দিনে নিমন্ত্রণ করে একমাস পূর্ণ করলেন। সার্বভৌম বাড়ীতে এসে নিজের পত্নীকে শ্রীগৌরাঙ্গের জন্য নানান অন্ন ব‍্যঞ্জন রন্ধন করতে বললেন।বাসুদেব সার্বভৌম ভট্টাচার্যের ষাটি নামে এক কন‍্যা ছিল, এবং অমোঘ নামে তার স্বামী শ্বশুরালয়ে বাস করত। মহাপ্রভু যথাসময়ে ভট্টাচার্যের গৃহে উপস্থিত হলেন।বড় কলাপাতায় অন্ন রাখা হল, এবং তার উপরে পীতবর্ণ গব‍্যঘৃত দেওয়া হল।নানান প্রকার ব‍্যঞ্জন দুধ কলা ক্ষীর পাতার চারিদিকে সাজিয়ে দেওয়া হল। গৌরহরি প্র‍থমে এত অন্ন দেখে সে পাতায় বসতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে, সার্বভৌম বললেন, যা পার তাই খাও,অনুরুদ্ধ হয়ে, মহাপ্রভু ভোজনে বসিলেন। হঠাৎ সার্বভৌমের জামাতা অমোঘ,সবসময় তার মুখে সাধুনিন্দা ছাড়া ভাল কথা বলত না, গৌরহরি আহার করতে বসিলে, সে জানলা দিয়ে উঁকি মেরে বলল, এ সন্ন‍্যাসী তো দশজনের খাবার একাই খাচ্ছে। সার্বভৌম অমোঘের কথা শুনে হাতে লাঠি নিয়ে তাকে ধরতে গেলেন কিন্তু পারলেন না।গৌরহরি এই অবস্থা দেখে হাসতে লাগলেন। সার্বভৌম বাড়ীতে এসে বললেন,ষাটি বিধবা হোক, ইত্যাদি কথা বলে অমোঘের প্রতি ভয়ানক ক্রোধ প্রকাশ করতে লাগলেন।মহাপ্রভুর আহারের শেষে সার্বভৌম অতি বিনীতভাবে বললেন, তোমাকে নিমন্ত্রণ করে আজ তোমার মনে বড়ই কষ্ট দিলাম। মহাপ্রভু বললেন, অমোঘের কথায় আমার কোনই কষ্ট হয়নি, সে যথার্থ কথায় বলেছে। ভট্টাচার্য্য মনের দুঃখে সেদিন অনাহারেই দিন যাপন করেন।অমোঘ সে রাত্রে যেখানে থাকে সেখানে সে বিসূচিকা রোগে আক্রান্ত হয়। গোপীনাথাচার্য‍্য মহাপ্রভুকে এই সমাচার দিলে,তিনি তৎক্ষণাৎ অমোঘের শয‍্যাপার্শ্বে উপস্থিত হয়ে তাঁর সুকোমল হাত অমোঘের বক্ষে রাখে বললেন, এই মাৎসর্য‍্যরূপ চন্ডালকে স্থানদান করে কেন এ পবিত্র জায়গাকে অপবিত্র করছ?উঠ, ভক্তিভরে হরিনাম কর, অচিরে ভগবানের কৃপা লাভ করবে। সানুনিন্দুক অমোঘ শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের সুকোমল হস্তস্পর্শে শারীরিক ও মানসিক ব‍্যাধি হতে মুক্তীলাভ করল। সে মহাপ্রভুর কথায় উঠে বসিল এবং তাঁর চরণ ধরে কাঁদতে কাঁতে ক্ষমা প্রার্থনা করল। সেই মুহূর্তে অমোঘ শ্রীচৈতন‍্যের মধুময় ভক্তিপথের পথিক হয়ে বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করে জীবন অতিবাহিত করতে লাগিল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*বৃন্দাবনযাত্রা ও গৌড়দর্শন এবং পুনরায় নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀দেখতে দেখতে সন্ন‍্যাস গ্রহণের পর শ্রীচৈতন‍্যদেবের চার বৎসর কেটে গেল।দক্ষিণদেশ ভ্রমণ ও অন‍্যান‍্য স্থানে দুই বৎসর ও পুরুষোত্তমে অপরার্দ্ধ গত হল।শেষে দুই বৎসর বৃন্দাবনগমনের বাসনা প্রবল হয়ে উঠে, কিন্তু ভক্তবৃন্দগণ তাঁর বিচ্ছেদ অতীব কষ্টকর হবে বলে, তাঁর মনের বাসনা পূর্ণ হতে দেন নাই।তৃতীয় বৎসরে গৌড়ীয় ভক্তগণ পূর্বের ন‍্যায় রথযাত্রার সময় পুরুষোত্তমে আগমন করলেন।এবার মহাপ্রভুর দর্শন লালসায় অদ্বৈতাচার্য‍্যের পত্নী সীতাদেবী,শ্রীবাস পন্ডিতের পত্নী মালিনীদেবী ও শিবানন্দ সেন প্রভৃতির পত্নীরা আপন আপন স্বামীসহ নীলাচলে আগমন করেছেন।গৌড়ীয় ললনারা গৌরহরির জন্য নানারকম খাদ‍্যদ্রব‍্য সঙ্গে করে এনেছেন।তাঁরা দূর হতে মহাপ্রভুকে দর্শন করে ভক্তিভরে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন ; শ্রীচৈতন‍্যদেবও তাঁদেরকে শুভাশীর্বাদ জ্ঞাপন করলেন। এবৎসরও পূর্ব বৎসরের ন‍্যায় গুন্ডিচা মার্জন,রথোৎসবে কীর্তন,পংক্তিতে প্রসাদান্ন ভোজন প্রভৃতিতে অতিবাহিত হল।রথোৎসব সম্পন্ন হলে,ভক্তগণ গৌরহরি সঙ্গে চারমাস যাপন করলেন।এই সময়ে অদ্বৈতাচার্য‍্যের বাসায়(পুরীতে সেখানে ছিলেন ) গৌরহরি অনেক সময় নিমন্ত্রিত হতেন।গৌড়বাসীরা এই চারমাস শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের সঙ্গে ধর্ম-প্রসঙ্গে ও কীর্তনানন্দে অতিবাহিত করেন ; এবং বিদায়কালে তাঁর আশীর্বাদ মস্তকে নিয়ে স্বদেশে প্রত‍্যাবর্তন করলেন।*
*🌺পঞ্চম বর্ষে গৌরাঙ্গপ্রভু বৃন্দাবন গমনের উদ্দেশ্য রামরায় ও সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে নিজের মনের কথাগুলি বললেন, তোমরা দুই বৎসরকাল আমাকে আজ-কাল করে এখানে রেখেছ, এখন খুশীমনে আমাকে বিদায় দাও ; শ্রীধাম বৃন্দাবন দর্শন করে আসি।গৌড়দেশে আমার আমার অত‍্যন্ত অন্তরের বস্তু রয়েছে,জননী ও জাহ্নবী।যাবার সময় গৌড়ে ইঁনাদের দর্শন করে যাব স্থির করেছি।তখন রামরায় ও সার্বভৌম ভাবলেন, নিজেদের সুখের জন্য মহাপ্রভুর সঙ্কল্পের পথে আর বিঘ্ন দেওয়া কর্তব‍্য নয়। তাঁরা উভয়ে পরামর্শ করে বললেন,এখন বর্ষাকাল, এ সময় বাহির হলে পথে অত‍্যন্ত কষ্ট হবে, আগামী বিজয়াদশমীর দিন বৃন্দাবন যাত্রা নির্দ্ধারণ করলে ভাল হয়।ভক্তবৎসল গৌরহরি তাঁদের পরামর্শ অনুসারে কয়েক মাস পরে বিজয়া দশমীর দিন সকালবেলা শ্রীজগন্নাথদেব দর্শন করে বৃন্দাবন যাত্রা করলেন।বহুভক্ত সঙ্গের সাথী হয়ে মহাপ্রভুর সঙ্গে গমন করতে লাগলেন।ভক্তদল ভবানীপুরে উপস্থিত হলে,বাণীনাথ প্রসাদান্ন নিয়ে ও রামানন্দ দোলায় করে সেখানে উপস্থিত হলেন।তার পরদিন তাঁরা ভুবনেশ্বর দর্শন করে কটকে উপধীত হলেন। এখানে স্বপ্নেশ্বর নামক জনৈক ব্রাহ্মণের অনুরোধে মহাপ্রভু তাঁর ভবনে ভিক্ষা গ্রহণ করে,আহারান্তে এক বকুল বৃক্ষের তলে আশ্রয় নিলেন।উৎকলাধিপতি রাজা প্রতাপরুদ্র ইতিপূর্বেই মহাপ্রভুর বৃন্দাবন-যাত্রার বিষয়,অবগত হয়েছিলেন ; বর্তমানে কটকে তাঁর আগমনবার্তা শুনে,তাড়াতাড়ি বকুলতলায় এসে শ্রীচৈতন‍্যদেবের শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম করে,ভক্তি প্রণোদিত অন্তরে স্তুতি করতে লাগলেন। মহাপ্রভু তাঁর ব‍্যাকুলতা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করলেন।রাজকর্মচারীরাও প্রণাম করল। তারপর রাজা মহাপ্রভুর কাছ হতে বিদায় নিয়ে গমনপথের সবরকম সুব‍্যবস্থা করবার জন্য কর্মচারীদের আদেশ করলেন।রাজার আদেশে কর্মচারীগণ মহাপ্রভুর নদী পার হবার জন্য সমস্ত ব‍্যবস্থা করল।মহাপ্রভু সদলে নদী পার হবেন বলে তটে সুন্দর নৌকা রাখা হল।রাজা প্রতাপরুদ্র গৌরহরিকে নিরাপদে নিয়ে যাবার জন্য কয়েকজন লেঠেল সঙ্গে যেতে আদেশ করলেন, এবং রামরায়কেও সঙ্গে থাকতে বললেন। মহাপ্রভু সন্ধ‍্যার সময় যাত্রা করবেন শুনে উৎকলাধিপতি হাতীপিঠে পটমন্ডপাচ্ছাদিত করে রাজমহিষী ও পুরাঙ্গনাদেরকে নিয়ে মহাপ্রভুর যাত্রাপথে অপেক্ষা করতে লাগলেন ; সন্ধ‍্যা হলে ভক্তসকল যখন মহাপ্রভুকে নিয়ে গমন করতে লাগলেন,তখন রাজমহিষীগণ তাঁকে প্রণাম করলেন, এবং তাঁর ভক্তিপূর্ণ মূর্তিদর্শনে বিমোহিত হয়ে অশ্রু বিসর্জন করতে লাগলেন।প্রভু নদীতটে উপস্থিত হলে,অন‍্যান‍্য ভক্তদের মত গদাধর তাঁর সঙ্গে যেতে ইচ্ছে প্রকাশ করলে, তিনি তাঁকে সঙ্গে যেতে নিষেধ করে বললেন, তুমি আমার সঙ্গে গেলে গোপীনাথের সেবা হবে না।গদাধর পন্ডিত বললেন, তুমি যেখানেই থাক সেই নীলাচল, আর তোমার শ্রীচরণ দর্শনেই কোটি দেবসেবার ফল হয়ে থাকে। মহাপ্রভু তাঁকে বুঝিয়ে বললেন,দেবসেবা পরিত‍্যাগ করলে তোমার অপরাধ হবে আর তুমি নীলাচলে থাকলে আমি ভীষণ সুখী হব।এই বলে তিনি নৌকায় চড়িলেন।রায় রামানন্দ, মঙ্গরাজ,হরিচন্দন, রাজাদিষ্ট কর্মচারী ও পুরীগোঁসাই,স্বরূপদামোদর, জগদানন্দ,মুকুন্দ,গোবিন্দ, কাশীশ্বর, হরিদাস ঠাকুর, গোপীনাথাচার্য‍্য, পন্ডিত দামোদর মহাপ্রভুর সঙ্গে নৌকায় চড়িলেন।গদাধর পন্ডিত প্রভুর অনুমতি না পেয়ে মনে ব‍্যাথা পেয়ে নদীতটে চেতনাহীন হয়ে পড়লেন।প্রভুর বিদায়কালে সার্বভৌম কাছেই ছিলেন। যদিও গৌরাঙ্গ বিচ্ছেদে তাঁরও প্রাণ শোকাকুল হয়ে পড়েছিল,তথাপি গদাধর পন্ডিতের অবস্থা দেখে তিনি প্রবোধবাক‍্যে তাঁর মনে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন।অবশেষে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে নীলাচলে প্রত‍্যাগমন করলেন।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*বৃন্দাবনযাত্রা ও গৌড়দর্শন এবং মাঝপথ হতে নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*⚪আজ জ‍্যোৎস্নাময়ী রজনী ;চন্দ্রমার রজত কিরণে চারিদিক আলোকিত ; স্রোতস্বিনী বহে নৌকাটি পূণ‍্যাত্মাদেরকে নিয়ে পরপারে উপস্থিত হল।গৌরহরি সপার্ষদে চতুর্দ্বার নামক স্থানে রাত্রি যাপন করলেন।রাজার আজ্ঞায় সব জায়গায়ই রাজকর্মচারীরা তাঁদের পরিচর্য‍্যায় নিজেদের যতটুকু করা কর্তব‍্য তাইই করেছিল।তাঁরা যেখানেই গিয়েছন সেখানেই চরম সম্মান পেতে লাগলেন।কেবল রাজ আজ্ঞায় নহে, শ্রীচৈতন‍্যদেবের দর্শন ও সেবাতে লোকে নিজেদের জন্ম সার্থক হল মনে করতে লাগলেন।পরদিন সকালে চতুর্দ্বারে বাণীনাথের পাঠানো প্রসাদান্ন উপস্থিত হল।সকলে স্নানান্তে চরম আনন্দ সহকারে ভোজন করে পুনরায় চলতে লাগলেন। ক্রমে তাঁরা যাজপুরে উপস্থিত হলেন,যে দুইজন রাজকর্মচারী তাঁর সঙ্গে আগমন করছিলেন,মহাপ্রভু তাদেরকে বিদায় দিলেন।যাজপুর হতে তাঁরা রেমুনায় উপস্থিত হলেন।মহাপ্রভু এখান হতে রামরায়কে বিদায় করলেন।এ পর্যন্ত তিনি রামানন্দের সঙ্গে কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গে সময় অতিবাহিত করছিলেন।বিদায়কালে রামরায়ের মন ভীষণ কষ্ট পেতে লাগল।তাঁর নয়ন দিয়ে অবিরল বারিধারা বহিতে লাগল। তিনি বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা সহ‍্য করতে না পেরে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। করুণাময় গৌরহরি রামরায়কে কোলে তুলে নিয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন। তারপর সেখান হতে ক্রমে সকলে উৎকল রাজ‍্যের সীমান্ত প্রদেশে এসে পৌঁছলেন।এখানে উৎকলাধিপতির জনৈক কর্মচারী শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রতি যথোচিত ভক্তি প্রদর্শন করে তাঁদের থাকবার ব‍্যবস্থা ও সেবার আয়োজন করে দিলেন।রাজকর্মচারী মহাপ্রভুকে বললেন, এটিই উৎকল রাজার সীমান্ত প্রদেশ ; নিকটবর্তী পিছিলদা নদীর পরপার হতে মদ‍্যপ যবন রাজার আধিপত‍্য।আপনারা এখানে দিনকয়েক অপেক্ষা করুন।মুসলমান অধিপতির সঙ্গে একটা সন্ধি করে নেয়।তারপর আপনাদেরকে পিছিলদা পার করাইয়ে দিব।পরপারে যাত্রীদের বিচরণ নিরাপদ নয়।ইতিমধ‍্যে মদ‍্যপের এক হিন্দু চর ছদ্মবেশে মহাপ্রভুর দর্শনার্থে আগমন করে।সে চৈতন‍্য মহাপ্রভুর অসাধারণ ঈশ্বরানুরাগ ও তাঁর সঙ্গীদের জীবনের অনুপম সৌন্দর্য্য দেখে বিস্মিত হয়ে রাজার হয়ে রাজার কাছে গিয়ে সে সকলের উল্লেখ করতে করতে যেন আত্মহারা হয়ে পড়ল এবং কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে প্রেমোন্মত্ত বৈষ্ণবের মত নৃত্য করতে লাগল।এরকম শক্তি যিনি মানবের অন্তরে সঞ্চার করাইতে পারেন,তিনি নরলোকের অতীত।এই কথা শুনে মনের বিশ্বাসে মদ‍্যপরাজ শ্রীচৈতন‍্যের দর্শন-লালসায় ব‍্যাকুল হয়ে তাঁর কাছে একজন কর্মচারী পাঠিয়ে দিলেন।যবনরাজ আপন কর্মচারীকে এই উপলক্ষ্যে উৎকলের সঙ্গে সন্ধি স্থাপিত হবে বলে উৎকল-সীমান্ত-রাজকর্মচারী মহাপাত্রকে জ্ঞাপন করলেন। মদ‍্যপরাজার পাঠানো লোক এসে শ্রীচৈতন‍্য-চরণে প্রণাম করে যবনরাজের দর্শনের ইচ্ছা বলল।মহাপাত্র মদ‍্যপরাজার লোককে যথোচিত সম্মান করে বললেন,যবনরাজ নিরস্ত্র চার পাঁচজন লোক সঙ্গে নিয়ে মহাপ্রভুকে দেখতে এখানে আসতে পারেন।মদ‍্যপ কর্মচারী যবনরাজের সন্ধি স্থাপনের বাসনাও জানাল।যবনরাজ দূতমুখে মহাপাত্রের সম্মতি জেনে শ্রীচৈতন‍্যকে দেখবার জন্য বেরোলেন এবং অনেক দূর হতে তাঁকে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।মহাপাত্র আগন্তুককে অভ‍্যর্থনা করে আনয়ন করলেন।যবনরাজ মহাপ্রভুর কাছে এসে বললেন, আমি যদি যবনকুলে জন্মগ্রহণ না করে হিন্দু হতাম তাহলে আমি তোমার পবিত্র শ্রীচরণে স্থান পেতাম।গৌরহরি তার হৃদয়ের ব‍্যাকুলতা দেখে পরম আনন্দিত হয়ে তাকে কৃষ্ণনাম গ্রহণ করতে বললেন।যবনরাজ মহাপ্রভুর কৃপায় মুগ্ধ হয়ে বললেন,যদি আমার পরিত্রাণের জন্য কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত করলে,তাহলে আমাকে কৃপা করে তোমার সেবার অধিকারী কর।আমি বৈষ্ণব-নিন্দা প্রভৃতি অনেক অপরাধে এ জীবন কলঙ্কিত করেছি ; এমন সময় মুকুন্দ দত্ত মুসলমান অধিপতিকে বললেন, মহাপ্রভুর গঙ্গা-পথে যাবার যদি ব‍্যবস্থা করে দেন তাহলেই এ সময় বিশেষ উপকার করা হয়।তাঁর পক্ষে শ্রীচৈতন‍্যেদেবের জন্য এই উপকার অকিঞ্চিৎকর মনে করে মদ‍্যপরাজ তৎক্ষণাৎ মুকুন্দের প্রস্তাবে রাজি হয়ে সেদিন মহাপ্রভুর চরণে প্রণত হয়ে বিদায় নিলেন।পরদিন যবনরাজ মহাপ্রভুর যাবার জন্য একটি সুন্দর সুসজ্জিত বড় নৌকা পাঠিয়ে দিলেন।*
*🍀সেইসময়ে স্থলপথ ও জলপথ দস‍্যুদের অত‍্যাচার ছিল। এ জন্য ভক্তদের রক্ষার জন্য সৈন‍্যপূর্ণ আরো দশটি নৌকা সঙ্গে নিয়ে যবনরাজ স্বয়ং ভক্তগণের সঙ্গে গমন করতে লাগলেন। শ্রীগৌরাঙ্গের নৌকা অবশেষে নদ নদী ও বঙ্গোপসাগর অতিক্রম করে পানিহাটী গ্রামে উপস্থিত হল।শ্রীচৈতন‍্যপ্রভুর আগমনবার্তা চারিদিকে প্রচারিত হয়ে পড়ল।পথে এত লোক হয়েছিল যে,রাঘব পন্ডিত লোকের ভিড় ঠেলে অতিকষ্টে তাঁকে নিজ ভবনে নিয়ে আসিলেন।সেখানে একদিন থাকবার পর তিনি কুমারহট্ট শ্রীবাসের গৃহে অবস্থান করে অবশেষে বাচস্পতির গৃহে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।মহাপ্রভুকে দেখবার জন্য সেখানে বহুলোকের সমাগম হতে লাগল।*
*🌺এত লোকজনের ভিড় দেখে মহাপ্রভু গোপনে বাচস্পতির গৃহ হতে অন‍্যত্র চলে যান।কিন্তু যাঁকে দেখবার জন্য হাজার হাজার লোক ব‍্যাকুল হয়ে উঠেছে,বাচস্পতি গৃহে তাঁকে দেখতে না পেয়ে, অনেকেই বাচস্পতিকে দোষারোপ করে বলতে লাগল যে,তিনি গৌরসুন্দরকে লুকিয়ে রেখেছেন। গৌরহরি কোথায় গেছেন তা বাচস্পতি জানেন না। একদিকে লোকের গঞ্জনা, অন‍্যদিকে মহাপ্রভু বিরহের কষ্ট,এইসবে তাঁর চিত্ত অস্থির হয়ে পড়ল।তাঁর নয়ন দিয়ে বারিধারা বহিতে লাগল। অল্প সময়ের মধ্যে প্রচারিত হয়ে পড়ল যে, গৌরহরি কুলিয়াগ্রামে মাধবদাসের বাড়িতে রয়েছেন।মহাপ্রভু কুলিয়ায় এক সপ্তাহ বাস করেন।এই কয়েকদিন গৌরচন্দ্রের দর্শন অভিলাষী হয়ে হাজার হাজার লোক গ্রাম গ্রামান্তর হতে কুলিয়ায় আসতে লাগল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৪)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*বৃন্দাবনযাত্রা ও গৌড়দর্শন ও মাঝপথ হতে নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍁লোকের পারাপারের জন্য নদীবক্ষে বহু নৌকা রাখা হল।কিন্তু জনগণ এত বেশী হয়ে পড়ল যে,বহুসংখ‍্যক নৌকা হওয়া সত্ত্বেও তাতে তাদের জায়গা হল না। অনেক লোক কলস প্রভৃতির সাহায্যে নদী পার হতে লাগল।গ্রামের পথে আর যেন জায়গা নেই, অনেকে গাছের উপর উঠে একবার নবদ্বীপচন্দ্র গৌরসুন্দরকে দেখে নয়ন সার্থক করতে লাগল।নানা জায়গায় মহোৎসবের মত মেলা বসে গেল।*
*🌺মহাপ্রভু তারপর সকলকে নিয়ে শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবনে গমন করলেন।আচার্য‍্য শচীদেবীকে নিজ ভবনে আনয়ন করেন।তিনি আচার্য‍্য ভবনে এসে পুত্রের চাঁদবদন দর্শন করে আনন্দলাভ করলেন।নবদ্বীপ হতে বহু সংখ্যক লোক আচার্য‍্য ভবনে আসেন। গৌরহরি দশদিন আচার্য‍্যভবনে ছিলেন।এই দশদিন যেন তাঁর ভবনে এক মহোৎসব হয়েছিল মহাপ্রভুকে কেন্দ্র করে। সেখানে শচীমা স্বহস্তে রন্ধন করে নিমাইকে ও তাঁর ভক্তগণকে ভোজন করিয়ে পরম আনন্দ লাভ করতে লাগলেন।এখানে ধনশালী গোবর্দ্ধন দাসের পুত্র রঘুনাথ দাস আগমন করতঃ মহাপ্রভুর দর্শনলাভে চরিতার্থ হন।*
*🌺গৌরসুন্দর তারপরে বঙ্গের রাজধানী গৌড়ের নিকটবর্তী রামকেলিগ্রামে আগমন করেন।হোসেন শাহ তখন গৌড়ের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত।গৌরহরি যেখানেই যেতেন সেইখানেই বহু বহুলোকের সমাগম হত।রাজনানীর নিকটবর্তী রামকেলিগ্রামে তিনি উপস্থিত হলে গৌড়াধিপতি মহাপ্রভুর আগমনবার্তা ও তাঁর প্রচারপ্রণালীর বিষয় শুনে, তাঁর জনৈক কর্মচারীকে মহাপ্রভুর প্রভাব সম্বন্ধে বলেন, আমি অর্থ ব‍্যয় করেও আমার কর্মচারীদের এমন আনুগত‍্য লাভ করতে সমর্থ হই না। আর শত শত লোক বিনা অর্থে এ ব‍্যক্তির আদেশ পালন ও পরিচর্য‍্যা করে নিজেদের জীবন সফল হল বলে মনে করছে।* *মুসলমান উপাধিধারী "বীরখাস বা সাকরমল্লিক" ও "দবিরখাস" নামে গৌড়াধিপতির দুইজন কর্মচারী ছিলেন,তাঁরা পরমভক্ত ও ধর্মানুরাগী এবং পন্ডিত ছিলেন।অনেক দিন হতে শ্রীচৈতন‍্যের প্রতি অনুরাগী হয়ে ভক্তির পথ অবলম্বন করেছিলেন।তাঁরা ভাবলেন, মুসলমানধিপতিকে বিশ্বাস নাই। হয়ত কোন সময় বিপদ ঘটাতে পারে।তাঁরা এইজন‍্য গৌরহরিকে রামকেলি হতে অন‍্যত্র গমন করবার জন্য বললেন।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যের ভক্তবৃন্দের মধ্যে যাঁরা চরম ভগবৎপ্রেম,বিভিন্ন শাস্ত্র অধ‍্যয়ন ও বৈরাগ‍্যের অত‍্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শ্রীরূপ-সনাতনের নাম চিরদিনই উজ্জ্বলবর্ণে চিত্রিত থাকবে। যজুর্বেদীয় ব্রাহ্মণবংশে কর্ণাটরাজ সর্বজ্ঞ জন্মগ্রহণ করেন।দেহান্তের সময় তিনি তাঁর পুত্র অনিরুদ্ধের হাতে রাজ‍্যভার অর্পণ করে যান।অনিরুদ্ধের দুই পত্নীর গর্ভে রূপেশ্বর ও হরিহর দুই সহোদর জন্মগ্রহণ করেন। রূপেশ্বর কনিষ্ঠ ভাই হরিহর কর্তৃক রাজ‍্যচ‍্যুত হয়ে মা ও পত্নীসহ পৌরস্ত দেশে আসিয়া বাস করেন। এখানে তাঁর একটি পুত্র জন্মগ্রহণ করে।তাঁর নাম পদ্মনাভ। পদ্মনাভ বড় হয়ে,গঙ্গাতীরে বাস করবার জন্য নবহট্ট (নৈহাটি) গ্রামে এসে বাসগৃহ নির্মাণ করেন।পদ্মনাভ ধর্মপরায়ণ ছিলেন, এইজন‍্য যাগযজ্ঞ অনুষ্ঠানে পরমানন্দেই সময় অতিবাহিত করতেন।ইঁনার ১৮ কন‍্যা ও পাঁচ পুত্র জন্মগ্রহণ করেন।এই পঞ্চপুত্রের সর্বকনিষ্ঠের নাম মুকুন্দ।মুকুন্দের পুত্র কুমারদেব। ইঁনি অতি ধীর ও ধর্মাত্মা ব‍্যক্তি ছিলেন।*
*হিন্দুসমাজের উৎকট জাত‍্যভিমানের(আভিজাত‍্যের জন্য অর্থ‍্যাৎ উচু বংশে জন্মের জন্য কুলগর্ব)জন‍্য কুমারদেব যবন দেখলেই ধর্মনষ্ট হল বলে তারজন‍্য প্রায়শ্চিত্ত করতেন। কিন্তু জানা যায় না কেন, ইনি গ্রামের আত্মীয়স্বজনের অপ্রিয় ব‍্যবহারে উত‍্যক্ত হয়ে বাখরগঞ্জে এসে বাস করেন, এবং যশোহরের মধ্যে ফতোয়াবাদে গৃহ নির্মাণ করেন। এই জায়গায় শ্রীরূপ-সনাতন জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সনাতন জ‍্যেষ্ঠ রূপ মধ‍্যম,বল্লভ বা অনুপম নামে আরেক ভাই ছিলেন তিনি কনিষ্ঠ।শ্রীরূপ সনাতন বাল‍্যকালে সংস্কৃতভাষায় বিশেষ ব‍্যুৎপত্তিলাভ করেছিলেন। সনাতন সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের সহোদর বিদ‍্যাবাচস্পতির কাছে যথানিয়মে শ্রুতি,স্মৃতি,দর্শন প্রভৃতি অধ‍্যয়ন করেছিলেন। তিনি তাঁর কোন গ্রন্থে শিক্ষাগুরুর নাম উল্লেখ করে গিয়েছেন। শ্রীরূপ-সনাতন যেমন সুপন্ডিত তেমনি ধর্মানুরাগী ছিলেন।ইঁনাদের বুদ্ধিও প্রখর ছিল। সেইসময় হোসেন শাহ বঙ্গের রাজধানী গৌড়ের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।গৌড়েশ্বর শ্রীরূপ-সনাতনের পান্ডিত‍্য ও বুদ্ধিমত্তার কথা শুনে সনাতনকে সচিবের ও রূপকে রাজ‍্যের উচ্চতর পদে অধিষ্ঠিত করেন।ভ্রাতৃদ্বয় মুসলমান রাজসরকারে কাজ করতে ইচ্ছুক  ছিলেন না, কিন্তু তাঁদের প্রতি কোন উৎপীড়ন হয়, এই ভয়ে কর্মে যুক্ত হতে বাধ‍্য হন। অল্পকাল মধ্যে গৌড়েশ্বর দুইভাইয়ের কার্যদক্ষতা দেখে ভীষণ সন্তুষ্ট হয়ে তাঁদেরকে স্বল্প করে অনেক জমিদারী দান করেন।তাঁরা গৌড়ের কাছে রামকেলিগ্রামে নেজেদের বাসভবন নির্মাণ করেছিলেন।অতুল ঐশ্বর্যের অধিকারী হয়ে,তাঁরা পন্ডিত ও সাধুদের সঙ্গে জ্ঞান ও ধর্মচর্চায় অনেক সময় অতিবাহিত করতেন।*
*শ্রীরূপ-সনাতন বাড়ীর সম্মুখে কদম্ববৃক্ষ-পরিবেষ্টিত শ‍্যাম ও রাধাকুন্ড নামে দুইটি জলাশয় খনন করে সেই খানে বসে হরির ধ‍্যান ও কীর্তনে রত হতেন।শ্রীসনাতন রাজমন্ত্রীর পদে থেকেও রাজ‍্যের সমস্ত ভার মাথায় নিয়েও "হংসদূত" ও "পদাবলী" নামক দুইখানি সংস্কৃত গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।যেসময় শ্রীচৈতন‍্যদেব হরিনামের মধুর কীর্তনে বঙ্গের নানাজায়গায় লোকদেরকে মাতোয়ারা করে তুলেছিলেন, ভক্তির সুধারসে শুকনো কঠোর বৈদান্তিকদের হৃদয় অভিষিক্ত করে তাঁদেরকে ভক্তিপথাবলম্বী করেছেন। সেসময় শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রের পবিত্র সঙ্গ লাভ করবার জন্য রূপসনাতনের চিত্ত ব‍্যাকুল হয়ে উঠে ; কিন্তু রাজকার্য‍্যের গুরুতর ভারে লিপ্ত থাকায় তা পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয় মনে করে,তাঁরা হৃদয়ের পিপাসা নিবারণের জন্য অতি দীনভাবে তাঁর কাছে পত্র লিখতেন।মহাপ্রভু তাঁদের ব‍্যাকুলতা দেখে বিমুগ্ধ হয়ে পত্রদ্বারা এই শ্লোক লিখে পাঠিয়েছিলেন।*
*🌷পরব‍্যসনিনী নারী ব‍্যগ্রাপি গৃহকর্মসু।*
*🌷✋তমেবা স্বাদয়ত‍্যন্তর্নবসঙ্গরসায়নম্।।*
*🌺কোন কুলনারী অন‍্য পুরুষে আসক্তা হয়ে গৃহকর্মে রতা থেকেও যেমন অন্তরের ভিতর প্রেমরস আস্বাদন করে থাকেন,তদ্রূপ কার্য‍্যের মধ্যে লিপ্ত থেকেও সেই ভগবানের মধুর রসে সতত চিত্তকে নিমগ্ন রাখবে।ধর্মানুরাগী দুইভাই শ্রীচৈতন‍্যের উপদেশ অনুসারেই বিষয়ের মধ্যে থেকেও হরিপ্রেমানুরাগী হয়েই বাস করতেন।*
*🌳শ্রীচৈতন‍্যদেব বৃন্দাবন যাত্রাকালে যখন রামকেলি 🌹মালদহ হতে প্রায় ৮/৯ ক্রোশ দূরে অবস্থিত।সনাতন গোস্বামী খোদিত সনাতনসাগর ও রূপ গোস্বামী খোদিত রূপসাগর আজও উক্ত গ্রামে এই ভক্তদ্বয়ের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষা করছে।এখানে প্রতি বৎসর জ‍্যৈষ্ঠ মাসের সংক্রান্তিতে বৈষ্ণবভক্তগণের বিশাল মিলনমেলা শুরু হয়।*
*🍀তখন শ্রীরূপ-সনাতন তাঁর দর্শন অভিলাষী হয়ে,গভীর রাত্রিতে দীনবেশে হরিদাস ও নিত‍্যানন্দের সামনে উপস্থিত হলেন।গৌরহরি ভক্তদ্বয়কে দেখে পুলকিত অন্তরে তাঁদেরকে আলিঙ্গন করলেন।শ্রীরূপ সনাতন অতি দীনভাবে কাঁদতে কাঁদতে শ্রীচৈতন‍্য চরণে দন্ডবৎ ও প্রণাম করে বললেন, আমরা অতি হীন,মহাপাপী,বিষয় কূপে ডুবে রয়েছি।কিভাবে পরিত্রাণ লাভ করব, তার উপায় বলে দিন। শ্রীচৈতন‍্য তাঁদের প্রার্থনায় মুগ্ধ হয়ে বললেন, শীঘ্রই কৃষ্ণ তোমাদের বন্ধন মোচন করবেন। তোমরা এখন যেমত কর্মে রত আছ, সেরকম ভাবেই থাক।অবশেষে গৌরহরি তাঁদের সম্বোধন করে বললেন, অদ‍্য হতে যাবনিক নামের পরিবর্তে তোমাদের নাম হল শ্রীরূপ ও শ্রীসনাতন।সকলেই এই নামে এঁদেরকে সম্বোধন করবে।দবিরখাস ও সাকরমল্লিকের প্রতি কৃপা-আশীর্বাদ ও তাঁদের নতুন নামকরণে সকলের হৃদয় আনন্দে ভরে গেল।তাঁরা হরিধ্বনিতে নিস্তব্ধ নৈশগগন বিকম্পিত করে তুললেন। বিদায় নিবার সময় সনাতন বললেন, প্রভো! যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের উদ্ধার করুন। পরদিন প্রভাতে মহাপ্রভু কানাইয়ের নাটশালায় আগমন করলেন।🌹কানাইয়ের নাটশালা, গৌড়ের নিকটে রাজমহল হতে তিন ক্রোশ দূরে।*
*🍁মহাপ্রভু যেখানেই যান সেইখানেই প্রবল জনস্রোত তাঁর অনুগমন করে। বৃন্দাবনের পথে যেতে যেতে কি যেন মনে হল মহাপ্রভুর, তিনি কি যেন মনে ভাবলেন এবং নীলাদ্রি যাবেন বলে মনোস্থির করে, পুনঃ কি যেন চিন্তা হল! তিনি পুনরায় শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবনে গমন করলেন। সেখানে শচীমাকে পুনঃ আনা হয় এবং শচীমা স্বয়ং রন্ধনাদি করে সকলকে আহার করান।মহাপ্রভু এখানে দশদিন থেকে ভক্তসঙ্গে কীর্তন করে নীলাচলাভিমুখে প্রত‍্যাগমন করেন। মহাপ্রভু নীলাচল পথে যেতে যেতে বরাহনগর নামে কোন গ্রামে উপস্থিত হন।সেই গ্রামে এক ব্রাহ্মণ বাস করতেন, ইনি সুপন্ডিত।শ্রীচৈতন‍্যদেব,তাঁর ভাগবত পাঠ শুনে প্রেমাবিষ্ট হয়ে পড়লেন ; এবং বিপ্রকে বললেন, আমি তোমার মুখে যেরকম ভাগবত পাঠ শুনলাম, সত‍্যই অন‍্য কারো মুখ হতে এমন মিষ্ট পাঠ শুনি নাই।শ্রীচৈতন‍্য বিপ্র গৃহে গভীর রাত্রি পর্যন্ত ভাগবত শ্রবণ ও কীর্তনাদিতে যাপন করে গন্তব‍্য স্থলে যাত্রা করলেন।যাবার সময় তিনি ব্রাহ্মণকে "ভাগবতাচার্য‍্য" উপাধি দান করেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🦚🙏🙏🙏🙏🙏🙏
══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৫)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *বৃন্দাবন যাত্রা ও বিহার*
           👣👣👣👣👣👣👣👣
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেব নীলাচলে ফিরে বৃন্দাবন গমনের বাধা-বিপত্তির কথা সকল ভক্তকে জানালেন, এবং রামরায় ও দামোদরকে বললেন, আমি এবার কাউকেও সঙ্গে না নিয়ে একাকীই বনপথে গমন করব স্থির করেছি।তোমরা এ বিষয়ে বাধা-বিপত্তির কারণ হইও না।সন্তুষ্টমনে আমাকে সেখানে যাবার অনুমতি দাও।মহাপ্রভুর বৃন্দাবনগমনের একান্ত বাসনার বিষয় সকলেই জানতেন।এখন যেন মহাপ্রভুর মনের বাসনা পূর্ণ হয় আমাদের সেই ব‍্যবস্থা করতে হবে, রামরায় একথা বললেন।তবে এখন বর্ষাকাল নিকটবর্তী ; পথে বাহির হলে অত‍্যন্ত কষ্ট পেতে হবে ; বর্ষান্তে শরতের শুরুতে বাহির হওয়ায় ভাল।আর ঐ দুর্গম পথে গমন করতে হলে, তোমার সেবার জন্য দুইজন লোক সঙ্গে থাকা চাই।মহাপ্রভু বললেন, সঙ্গীদের মধ্যে একজনকে নিলে অন‍্যজনও আমার সাথী হতে চাইবে।তখন পরামর্শদাতারা বললেন, "বলভদ্র ভট্টাচার্য্য সম্প্রতি তোমার সঙ্গে গৌড় হতে এসেছেন,তাঁর সঙ্গে একজন ভাল ব্রাহ্মণ সেবক আছে।সাথী করে নিলে,তোমারও সাহায্য হবে আর ইঁনারাও তোমার সঙ্গে থেকে তোমার সেবাতে ও তীর্থদর্শনে নিজেদের জীবনকে সার্থক বিবেচনা করবে।মহাপ্রভু তাঁদের কথায় কোন উত্তর দিলেন না নীরব হয়ে রইলেন।শরৎকাল সমাগত হলে,চৈতন‍্যদেব একদিন শ্রীজগন্নাথ দর্শন ও তদীয় আজ্ঞা নিয়ে উষাকালে বলভদ্র ভট্টাচার্য্য ও তদীয় সহচরকে সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞাতসারে বৃন্দাবন যাত্রা করলেন।নির্জন বনপথে সেই হৃদয়বিহারী হরির মধুময় নাম কীর্তন করতে করতে গমন করবেন,এই তাঁর হৃদয়ের বাসনা।গৌরহরি এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মানুষের সাধারণ যাতাযাতের পথ ছেড়ে দিয়ে কটক শহর ডানদিকে রেখে বনপথে প্রবেশ করলেন।ক্রমে ঘন হতে ঘনতর জঙ্গলের মধ্যে তাঁরা প্রবেশ করতে লাগলেন।ভগবৎ প্রেমিকেরা চিরদিনই সব দেশে ও সব জায়গায় নির্জন প্রকৃতির সঙ্গ উপভোগে অপার আনন্দ অনুভব করে থাকেন।আজ ভগবদ্ভক্তদের শিরোভূষণ শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব বৃন্দাবন যাত্রাকালে গহন বনে পাখীররবে বৃক্ষশ্রেণীর মধ‍্য দিয়ে,মনের উল্লাসে নিজ ইষ্টদেবতার নামকীর্তন করতে করতে গমন করতে লাগলেন।🌹কথিত আছে,এই নিবিড় জঙ্গলে, তিনি বাঘ সিংহ প্রভৃতি হিংস্র জন্তু সকলের মধ‍্য দিয়ে যখন গমন করতে লাগলেন,তখন তারাও মহাপ্রভুর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, নিজেদের হিংসাবৃত্তি ভুলে হরিনামামৃত রসে ডুবে গিয়েছিল।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই=একদিন একটা বাঘ পথেরমধ‍্যে শুয়েছিল, চৈতন‍্যদেব ভাবে বিভোর হয়ে চলতে চলতে, বাঘের গায়ে চরণ স্পর্শিত হলে,বাঘ তৎক্ষণাৎ মাটি হতে উঠে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"বলে নৃত্য করতে লাগল।🌹আর একদিন মহাপ্রভু অরণ‍্য মাঝে নদীতে স্নান করছিলেন, এমন সময় এক হাতীরদল জল পান করবার জন্য সেই নদীতে নামল ;মহাপ্রভু অঞ্জলী ভরে,হাতীর দলের গায়ে জল ফেললেন, তাদের গায়ে জল পড়লে,তারা ভাবে প্রেমে উন্মত্ত হয়ে কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করতে করতে,কেউ মাটিতে গড়াগড়ি দিতে লাগল, কেউ বা নৃত্য করতে লাগল। শ্রীচৈতন‍্যের কন্ঠনিঃসৃত সুমধুর হরিনাম শুনে কুরঙ্গের(মৃগ বা হরিণের) দল আকৃষ্ট হয়ে,তাঁর সামনে উপস্থিত হল, এবং প্রেমাবিষ্ট হয়ে হরিগুণ কীর্তন করতে নৃত্য করতে লাগিল।ময়ূর ও অরণ‍্যের বিহগকুল মধুর হরিগুণ কীর্তন করে আনন্দে নাচতে নাচতে মহাপ্রভুর সঙ্গে চলতে লাগল।মহাপ্রভুর আগমনে ঝারিখন্ড অরণ‍্যের তরুলতা সবও যেন কৃষ্ণপ্রেমের মধুর আস্বাদনে বিভোর হয়ে,হরিধ্বনি করতে লাগল।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী এ সকল ঘটনা বলভদ্র ভট্টাচার্য্যের চাক্ষুষ দর্শনের প্রমাণ বলে বর্ণনা করে গিয়েছেন।*
*বনপথে অসভ‍্য ভীলদের ছোট ছোট পল্লী অতিক্রম করে চলতে হয়েছিল। যিনি গৌড়দেশ, দাক্ষিণাত‍্য ও উৎকল-বাসীদের কৃষ্ণনামে যেমন উন্মত্ত করে তুলেছিলেন, তিনি নিরক্ষর অর্দ্ধ উলঙ্গাকৃতি ভীলদেরকেও সেই প্রেমের অধিকারী করে তুলতে লাগলেন।তারাও মহাপ্রভুর আগমনে ও সুমধুর হরিনামে "হরি হরি" বলে নাচতে লাগল।*
*🍀মহাপ্রভু ও সঙ্গীগণ আনন্দিত মনে নির্জন বনে চলতে লাগলেন।গৌরহরি ঝরণার উষ্ণজলে ত্রিসন্ধ‍্যা স্নান করতেন, বনের কাষ্ঠখন্ড জ্বালিয়ে কোন কোনও সময় শীত নিবারণ করতেন।তাঁরা যখন কোন জনপদে দিয়ে চলতেন,তখন বলভদ্র ভট্টাচার্য্য সময়ে সময়ে দীর্ঘকাল চলার জন্য,ভিক্ষালব্ধ তন্ডুলাদি সঞ্চয় করে রাখতেন।ভট্টাচার্য‍্য বনের বিভিন্ন শাক নিয়ে রন্ধন করতেন, মহাপ্রভু অতি আনন্দমনে শাকান্ন ভোজন করে পরম আনন্দ উপভোগ করতেন।মহাপ্রভু আরও বললেন যে,শ্রীকৃষ্ণ কৃপাময়,তিনি আমাকে এই নির্জন পথে নিয়ে আসিলেন। আহা!তাঁর কি অপার করুণা!আমি বনপথে বিচরণ করে যে সুখ অনুভব করছি,তা আমি আর জীবনে কখনও করিনি।শ্রীকৃষ্ণের অপার করুণা ছাড়া জীবনে কোন সুখই লাভ হয় না।বলভদ্র বিনম্র ভাবে বললেন,প্রভো!আমি অধম পামর,তুমি সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ,তুমি যে কৃপা করে, আমাকে সঙ্গে নিয়ে আসিলে,এটিই আমার পরম সৌভাগ্য,তুমি আমাকে সঙ্গে এনে কাককে গরুঅএর সম্মান দান করলে।*
*শ্রীচৈতন‍্যদেব এরকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে দেখতে সঙ্গীদের সঙ্গে কাশীধামে উপনীত হলেন। দুপুরে যখন তিনি মণিকর্ণিকার ঘাটে স্নান করবার জন্য যাচ্ছিলেন, তখন তপন মিশ্রও স্নানের জন্য সেখানে যাচ্ছিলেন।🌹মহাপ্রভু যখন পূর্ববঙ্গে গিয়েছিলেন,তখন তপন মিশ্রের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, এ বিষয় পূর্বেই বলা হয়েছে।মিশ্র গৌরহরিকে দেখেই ভক্তিভরে তাঁর চরণে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন, মহাপ্রভু তাঁর হাত ধরে তুলে প্রেমভরে আলিঙ্গন করলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌  🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
     *শ্রীধামবৃন্দাবন যাত্রা ও বিহার*
    ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀বহুদিন পরে গৌরহরিকে দেখে তপন মিশ্রের নয়ন হতে অশ্রু বর্ষিত হতে লাগল।যাইহোক, স্নানের পর বিশ্বেশ্বর ও বিন্দুমাধব দর্শন করবার পর মিশ্র মহাপ্রভুকে নিজ ভবনে ভিক্ষার জন্য নিমন্ত্রণ করলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব মিশ্রের ভবনে গমন করলে, মিশ্র-পরিবারের সকলে,যেন আনন্দ-নীরে ভাসতে লাগলেন ;এবং তাঁর শ্রীচরণ ধৌত করে,পাদোদক পান করলেন।বলভদ্র মহাপ্রভুর জন্য রন্ধন করলেন।ভোজনান্তে গোরাচাঁদ শয়ন করলে,তপন মিশ্রের পুত্র রঘুনাথ তাঁর চরণ-সেবা করতে লাগলেন।তাঁর আগমনবার্তা শুনে মহাপ্রভুর পরিচিত চন্দ্রশেখর এসে উপস্থিত হলেন।ইনি কাশীতে লিখনকার্য করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।চন্দ্রশেখর মহাপ্রভুকে দেখে ভক্তিভরে শ্রীচরণতলে পড়ে কাঁদতে লাগলেন।দয়াময় মহাপ্রভুও প্রেমভরে তাঁর হাত ধরে তুললেন।চন্দ্রশেখর কাঁদতে কাঁদতে বললেন,প্রভো!এই জায়গায় মায়াবাদ,অদ্বৈতবাদ ও শুকনো বেদান্তের কথা ছাড়া আর অন‍্য কোন ভক্তিমার্গের কথা শুনতে পাবেন না কেবল তপনমিশ্র আমাকে হরিকথা শুনিয়ে আমার তাপিত প্রাণ শীতল করে থাকেন। আমরা নিত‍্যই আপনার অনুপম চরিত্রের গুণানুকীর্তন করি।*
*🌺সেইসময়ে কাশীতে প্রকাশানন্দ স্বামী বৈদান্তিকদের মধ্যে বিশিষ্ট ব‍্যক্তি বলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।তিনি শিষ‍্যদেরকে বেদান্ত শিক্ষা দিতেন।একদিন এক ব্রাহ্মণ প্রকাশানন্দ স্বামীর কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, "শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব নামে এক পরম ভক্ত এখানে এসেছেন।এই পরমরূপবান সন্ন‍্যাসীর মধ্যে দেব-বাঞ্জিত ভক্তির সব লক্ষণই প্রকাশ পেয়ে থাকে, তিনি কখন ভক্তির উচ্ছ্বাসে নাচেন, আবার কখনও কাঁদেন।ইঁনাকে দেখলেই সাক্ষাৎ বৈকুন্ঠের নারায়ণ বলে প্রতীয়মান হয়।বৈদান্তিক প্রকাশানন্দ বিপ্রের মুখ হতে শ্রীচৈতন‍্যদেবের দেবোপম গুণাবলীর কথা শুনে,তাচ্ছিল‍্যের হাসি হেসে বলতে লাগলেন, "গৌড়দেশেরএক ভাবুক সন্ন‍্যাসী কেশবভারতীর শিষ্য,ঐন্দ্রজালিক শক্তিপ্রভাবে লোককে বিমোহিত করেন ; এবং দেশে দেশে,গ্রামে গ্রামে লোক নাচিয়ে বেড়ান,তা শুনেছি।এই ভাবুক সন্ন‍্যাসী প্রসিদ্ধ বৈদান্তিক সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্যকেও নাকি মোহিনীশক্তি প্রভাবে ভাব-রসের রসিক করে ফেলেছেন। কিন্তু কাশীধাম ভাব-প্রধান জায়গা নয় ; এখানে তাঁর ভাবকালি বিক্রি হবে না। বিপ্র শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রতি প্রকাশানন্দের এইরকম ভাব,ও তাচ্ছিল‍্যরূপ কথাবার্তা শুনে ব‍্যথিত হৃদয়ে, মহাপ্রভুর কাছে এসে সব কথা নিবেদন করলেন।শ্রীচৈতন‍্য মিষ্টি মধুর হাসি হেসে বললেন,কাশীধামে ভাবকালি বিক্রি করবার জন্য এসেছি, যদি বিক্রি না হয় তাহলে আপন গৃহে ফিরে যাব, অথবা সুবিধা হলে অল্পমূল‍্যেও বিক্রি করব।*
*🌹মহাপ্রভু বারাণসীধামে থাকাকালীন সুবুদ্ধি রায়কে হরিনাম গ্রহণ করতে বলে তাঁর পরিত্রাণের পথ দেখিয়ে ছিলেন।সুবুদ্ধি রায় একসময়ে গৌড়ের অধীশ্বর ছিলেন।তাঁর অধীনে হোসেন শাহ কর্ম করতেন।একবার এক দীঘি খনন করবার ভার হোসেনের উপর অর্পিত হয় ; সুবুদ্ধি রায় তার কাজের ভুলের জন্য তার পিঠে চাবুকের আঘাত করেন।যে কোন কারণেই একসময় হোসেন শাহ গৌড়ের সিংহাসনে বসেন।হোসেন শাহর পত্নী,স্বামীর প্রতি সুবুদ্ধি রায়ের প্রহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁকে হত‍্যা করতে বলে।হোসেন শাহ বললেন,সুবুদ্ধি রায়ের কাছ হতে আমি অনেক উপকার পেয়েছি, আমি তাঁর প্রাণ বিনাশ অপরাধে অপরাধী হতে পারব না। কিন্তু শাহ পত্নী জেদবশত, পুনঃপুনঃ স্বামীকে বলতে লাগলেন যে যদি তাঁকে যথাযোগ্য শাস্তি না দেন আমি থাকব না।পত্নীর কথা আর ফেলতে পারলেন না,হোসেন শাহ সুবুদ্ধি রায়ের মুখে জাতি নষ্ট করবার জন্য করোয়ার জল মুখে ঢেলে দেন।সুবুদ্ধিরায় জাতিভ্রষ্ট হয়ে ঘৃণায় ও লজ্জায় চিরদিনের জন্য নিজের আবাস ভূমি পরিত‍্যাগ করে কাশীধামে চলে আসেন।কারণ সেখানে ব্রাহ্মণ পন্ডিতদের কাছ হতে,প্রায়শ্চিত্তের বিধান প্রার্থনা করাতে,পন্ডিতগণ তপ্তঘৃত পানে জীবন নাশ করায় এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত বলে বিধান দেন।সুবুদ্ধি রায় হিন্দু পন্ডিতদের এই বিধান পালনে বিমুখ হয়ে, মনের দুঃখে লোকের আড়ালে বাস করতে লাগলেন।যখন শ্রীচৈতন‍্যদেব কাশীধামে আসেন,তখন সুবুদ্ধি রায় তাঁর কাছে এসে সমস্ত কথা বললেন।চৈতন‍্যদেব তাঁর সমস্ত কথা শুনে বললেন, "তুমি সদাসর্বদা হরিনাম কীর্তন কর, এটিই তোমার প্রকৃত প্রায়শ্চিত্ত হবে "।সুবুদ্ধি রায় মহাপ্রভুর এইকথা শুনে হরিনামামৃত রসপানে ও দীন-দুঃখীদের সেবায় জীবন কাটাতে লাগলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌👣🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৭)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
     *শ্রীধামবৃন্দাবন যাত্রা ও বিহার*
    ◆☆∆◆☆∆◆☆∆◆☆∆◆☆∆
*🍀অনন্তর গৌরহরি কাশীধাম পরিত‍্যাগ করে প্রয়াগে গমন করেন। এখানে যমুনা দর্শন করে তাঁর এমন ভাবোদয় হল যে,তিনি তাতে ঝাঁপ দিলেন।বলভদ্র ভট্টাচার্য্য তৎক্ষণাৎ জলে ঝাঁপ দিয়ে মহাপ্রভুকে জল হতে ডাঙ্গায় উঠিয়ে নিয়ে এলেন।মহাপ্রভু তিনদিন প্রয়াগে থেকে বহু লোককে কৃষ্ণপ্রেমানুরাগী করে,মথুরাধামে গমন করলেন।এখানে বিশ্রামতীর্থে স্নান করে তিনি কেশব দর্শন করে তিনি ভাবে-বিভোর হয়ে নৃত্য কীর্তনাদি করলেন।এখানে এক বিপ্র তাঁর সঙ্গে নৃত্য ও কীর্তনাদি করছেন দেখে,তাঁকে পরম কৃষ্ণভক্ত বলে মনে হল।মহাপ্রভু তাঁকে নিভৃতে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মধ্যে আমি চরম ভগবৎভক্তির ভাব দর্শন করছি ; তুমি এ মধুর ভাব কোথা হতে লাভ করলে?বিপ্র তদুত্তরে বললেন, শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী একবার এখানে এসেছিলেন,কৃপা করে আমার গৃহে আতিথ‍্য স্বীকার করেন, এবং আমার হাতের রান্না তিনি ভোজন করেছিলেন।তিনি গরিবের গৃহে কয়েকদিন থেকে আমাকে কৃতার্থ করেন, এবং দীক্ষাদানে আমাকে তাঁর শিষ‍্য করে যান।গৌরহরি মাধবেন্দ্রপুরীর কথা শুনে চরম ভক্তিভরে সেই বিপ্রের চরণে প্রণিপাত করলেন। শ্রীচৈতন‍্যদেবের এইরকম কাজ দেখে বিপ্র ভীত ও লজ্জিত হয়ে বললেন,আমি সামান্য মানুষ,আপনি আমার চরণ স্পর্শ করে আমাকে কেন চরম অপরাধী করেন?এইকথা বলে বিপ্র মহাপ্রভুর শ্রীচরণে লুটিয়ে পড়লেন।তখন বলভদ্র ভট্টাচার্য্য বিপ্রকে বললেন, মাধবেন্দ্রপুরীর শিষ্য ঈশ্বরপুরী মহাপ্রভুর গুরুদেব।তখন বিপ্র গৌরসুন্দরকে নিজ ভবনে ভিক্ষা গ্রহণের জন্য নিমন্ত্রণ করলেন।ভাবময় গৌরহরি নিমন্ত্রণ স্বীকার করলে বিপ্র তাঁদেরকে নিজ ভবনে নিয়ে গেলেন। বিপ্রগৃহে বলভদ্র ভট্টাচার্য্য রন্ধন করলেন এবং মহাপ্রভু ভোজন করলেন।সনোড়িয়া ব্রাহ্মণের গৃহে সাধারণত সন্ন‍্যাসীগণ ভোজন করেন না ; কিন্তু মাধবেন্দ্রপুরী ও শ্রীচৈতন‍্যদেব সে নিয়ম উলঙ্ঘন করেছিলেন।বিপ্র মহাপ্রভুর অপূর্ব ভক্তি ও উদারতার কথা উল্লেখ করে বললেন,তুমি আমার গৃহে ভিক্ষা গ্রহণ করলে, এ আমার পরম সৌভাগ্য ; তুমি তো আর মনুষ‍্য নহে, তুমি সাধারণ বিধির অতীত।*
*🍁মহাপ্রভু যখন এই সনোড়িয়া ব্রাক্ষণের গৃহে অতিথি হলেন,তখন তাঁর আগমনবার্তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।বহুসংখ‍্যক লোক তাঁকে দেখবার জন্য আসতে লাগল।বিপ্র গৌরহরিকে সঙ্গে করে বৃন্দাবনের নানাস্থান দেখাতে লাগলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ বৃন্দাবনের চব্বিশ ঘাটে স্নান করলেন, এবং মধুবন,তালবন প্রভৃতি ভক্তিভরে দেখলেন।🌹কথিত আছে,তিনি যখন বৃন্দাবনের পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন,তখন গাভীগণ হাম্বারবে কাছে এসে তাঁর গাত্র লেহন করেছিল ; মৃগীগণও নির্ভয়ে তাঁর মুখের দিকে অনিমিষনয়নে তাকিয়ে থাকত।বিহঙ্গমগণ বৃক্ষশাখা হতে মধুরস্বরে গান করত ; ময়ূর তাদের পুচ্ছ বিস্তার নৃত্য করত ;তরুলতা সব প্রেমে বিভোর হয়ে পুষ্পবর্ষণ করত, তাঁর অভ‍্যর্থনা করত।শুক-সারী গাছেরডালে বসে রাধাকৃষ্ণের গুণাবলী কীর্তনে মহাপ্রভুর হৃদয়ে সুধা বর্ষণ করত। এইভাবে শ্রীবৃন্দাবনধাম শ্রীরাধাগোবিন্দের মিলিত তনু শ্রীগৌরাঙ্গের আগমনে যেন এক নতুন আকার ধারণ করল।জল-স্থল যেন হরিপ্রেমরসে অনুরঞ্জিত হয়ে উঠিল।বৃন্দাবন দর্শনে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুরও কৃষ্ণপ্রেম পূর্বাপেক্ষা আরো ঘনীভূত হয়ে দাঁড়াল ; সকল বস্তুই তাঁর হৃদয়ের প্রেম প্রস্রবণকে আরো উচ্ছ্বসিত করে তুলতে লাগল, সব বস্তুতেই তাঁর কৃষ্ণস্ফূর্তি জেগে উঠতে লাগল।একবার কাঁটায়ভরা দুর্গম পথে যেতে যেতে ময়ূর দেখে তাঁর কৃষ্ণস্মৃতি উদিত হয়ে উঠিল, তিনি হঠাৎ মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।বলভদ্র ভট্টাচার্য্য তাঁর কানে কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করাতে,তিনি চেতনা লাভ করে,পথে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।কাঁটায় তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে রক্তেরধারা বহিতে লাগল।ভট্টাচার্য‍্য জলসেক প্রভৃতির দ্বারা তাঁর সেবা করতে লাগলেন ; মহাপ্রভু প্রেমানন্দে নৃত্য গীত করতে করতে বৃন্দাবনের দ্বাদশবন ভ্রমণ করে অরিটগ্রামে উপনীত হলেন। সেখানে গমন করে,তিনি গ্রামের লোককে জিজ্ঞাসা করলেন, "রাধাকুন্ড কোথায়"? কেউ তার তত্ত্ব বলতে না পারায়, তিনি কুন্ডের উদ্দেশ্যে এক ধানক্ষেতের জলে স্নান করলেন।বৃন্দাবনধাম চৌরাশী ক্রোশ।শ্রীচৈতন‍্যের বৃন্দাবন গমনের পূর্বে প্রকৃত বৃন্দাবন ক্ষেত্র বলে কোন নির্দিষ্ট স্থান লোকে নির্ণয় করতে পারত না।তাঁর সময় হতেই বৃন্দাবনের স্থান নির্দিষ্ট হ'ল,শ্রীকৃষ্ণের লুপ্ত কীর্তি সব পুনর্জীবন লাভ করল, বৃন্দাবনের মাহাত্ম্য ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে লাগল।*
*🌲মহাপ্রভু তারপর সুমোল সরোবর ও গোবর্দ্ধন গিরি দর্শন করেন।গিরি গৌবর্দ্ধন দর্শন করে কৃষ্ণলীলার স্মৃতি তাঁর হৃদয়পথে উদিত হয়ে তাঁকে প্রেমে বিহ্বল করে দিল।তৎপর অন্নকূট, গোকুল প্রভৃতি জায়গা দর্শন করে,তিনি পুনরায় মথুরায় ফিরে গেলেন। মথুরায় আসিলে,তাঁকে দেখবার জন্য বহু বহুলোক এক এককরে জমায়েত হতে লাগল।লোক সমাগম দেখে তিনি নির্জনতা লাভের জন্য অক্রূর তীর্থে গমন করলেন।এখানে যমুনার কাছে একটি তেঁতুল গাছের তলায় সুন্দর বসবার জন্য বেদীর মত ছিল,বৃক্ষটি বহু পুরাতন।এই বৃক্ষটি দ্বাপরযুগে শ্রীকৃষ্ণলীলা সময়কার বলে পরিচিত।মহাপ্রভু এই রমণীয় জায়গায় খুব আনন্দ মনে বসিলেন।বৃক্ষতলে বসে,তিনি সম্মুখে পবিত্র যমুনার স্রোত প্রবাহিত হতে দেখে শ্রীকৃষ্ণের গুণগানে রত হলেন।জনকোলাহলশূন‍্য জায়গায় তিনি তাঁর প্রাণনাথকে নিয়ে হৃদয়ে সম্ভোগ করবেন, এই বাসনা তাঁর প্রবল হয়েছিল বটে, কিন্তু তা পূর্ণ হল না। তাঁর দর্শনলালসা লোকের হৃদয়ে এত প্রবল হয়ে উঠেছিল যে,তিনি যেখানেই যেতেন জনস্রোত তাঁর পেছন পেছন ধাবিত হয়ে তাঁকে ঘিরে ফেলত,এই নির্জন জায়গাতেও তা ঘটিল।যারা তাঁকে দেখত,তাঁর কন্ঠ হতে সুধামাখা হরিধ্বনি শুনত, তারাই মন্ত্রমুগ্ধের মত তাঁর পথ অনুসরণ করত।বৃন্দাবনধামে তিনি বহুসংখ‍্যক লোককে শ্রীকৃষ্ণের উপাসক করেছিলেন।ব্রজবাসীগণ তাঁকেই শ্রীকৃষ্ণ জ্ঞানে,শ্রীকৃষ্ণ প্রকট হয়েছেন বলে ঘোষণা করতে লাগলেন।মহাপ্রভু এক বৃক্ষেরতলে বসে আছেন,এমন সময় এক ব‍্যক্তি এসে বলল,বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হয়েছেন। শ্রীচৈতন‍্য জিজ্ঞাসা করলেন,তিনি কোথায়?সে বলল, সে যে স্বয়ং আপনিই।শ্রীচৈতন‍্য তার কথা শুনে বললেন,"বিষ্ণু বিষ্ণু" জীবাধমকে কোনদিনও কৃষ্ণ বলিও না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
     *শ্রীধামবৃন্দাবন যাত্রা ও বিহার*
    👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*🌳অক্রূরতীর্থে থাকাকালীন কৃষ্ণদাস নামে এক রাজপুত মহাপ্রভুকে দেখতে এসে তাঁর রূপগুণে এতই আকৃষ্ট হয়ে পড়ল যে,সে ব‍্যক্তি বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করে সংসার সুখ একেবারেই বিসর্জন দিয়ে সন্ন‍্যাসের পথ অবলম্বন করল। এস্থলে অবস্থান থাকাকালীন লোকে তাঁকে দেখেই যে হৃদয়ের পিপাসা নিবৃত্তি করত তা নয়,বহুসংখ‍্যক লোক তাঁকে নিজ ভবনে ভিক্ষা গ্রহণের জন্য নিমন্ত্রণ করতে লাগল।বলভদ্র প্রতিদিন একটির বেশী নিমন্ত্রণ গ্রহণ করতেন না।অক্রূরতীর্থে কিছুদিন থাকবার পর বলভদ্র,বিপ্র কৃষ্ণদাস মহাপ্রভুকে নিয়ে প্রয়াগে যাত্রা করলেন।পথে যেতে যেতে গৌরহরি সঙ্গীদের ক্লান্তি দেখে, বিশ্রামের জন্য এক বৃক্ষতলে বসিলেন। সেই সময় হঠাৎ এক গোপ বাঁশী বাজাতে আরম্ভ করে ; ভাবনিধি গৌরহরি বংশীধ্বনি শুনে বিমুগ্ধ হয়ে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।তাঁর মুখ হতে ফেন নির্গত হতে লাগল ; সঙ্গীরা সহজে তাঁর চেতনা ফেরাতে পারলেন না।এমন সময়ে দশজন পাঠান সৈন‍্য অশ্বারোহণে সেইদিক দিয়ে আসছিল,তারা সেই জায়গায় ঘোড়ার পিঠ হতে নেমে শ্রীচৈতন‍্যের চেতনাহীন অবস্থা দেখে মনে করল, ইঁনার কাছে যারা বসে আছে,এরাই অর্থলোভে এই ব‍্যক্তিকে নেশার বস্তু খাইয়েছে ; এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে তারা বলভদ্র প্রভৃতিকে প্রাণদন্ডের ভয় দেখিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলল।অশ্বারোহী পাঠানদের কথায় সকলেই ভীত হলেন। কিন্তু রাজপুত কৃষ্ণদাস নির্ভয়ে বললেন,যিনি অজ্ঞান অবস্থায় শয়ন করে আছেন, ইনি আমাদের গুরু ; ইঁনার মৃগীরোগ আছে। কিছুক্ষণ পরেই মহাপ্রভু চেতনা লাভ করবেন।এই বলে আবার কৃষ্ণদাস বললেন,এই গ্রামেই আমার নিবাস ; আমি যদি এখনই গ্রামে সংবাদ দেয় তাহলে দুইশ তুরুকী এখানে উপস্থিত হবে এবং দুইশ কামানও আসবে ; তুরুকীরা তোমাদের যা কিছু আছে সমস্ত কেড়ে নিয়ে অনেক কিছুই করতে পারে। যাদের তুমি চোর বলছ, এঁরা কেউই চোর নহে।রাজপুতের মুখ হতে এইসব কথা শুনে তারা সকলেই ভয় পেল, যাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছিল,তাদের মুক্ত করল। এইসব কথোপকথনের মাঝে শ্রীচৈতন‍্যদেবের মূর্ছা ভঙ্গ হয়ে গেল, তিনি প্রেমাবেশে উর্দ্ধবাহু হয়ে হরি হরি বলতে বলতে নৃত্য করতে লাগলেন।পাঠানগণ মহাপ্রভুর এইরকম দেবভাব দেখে তাঁর চরণ বন্দনা করল।এই পাঠানদের মধ্যে এক ব‍্যক্তি অদ্বৈতবাদ বিষয়ে প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে, গৌরসুন্দর তা খন্ডন করে দিলেন।সে ব‍্যক্তি মহাপ্রভুর যুক্তি শুনে পরম সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর চরণ ধরে বলল,আমি অধম,আমাকে দয়া কর। আমি অনেক শাস্ত্রাদি আলোচনা করেছি, কিন্তু এতদিন আমি কোনপথ নির্দ্ধারণ করতে পারেনি।আজ আমার সব সংশয় দূর হল।তুমি মানব নহে,সাক্ষাৎ পরমেশ্বর।মহাপ্রভু তাকে কৃষ্ণনাম করতে বললেন, আর তাকে রামদাস নামে তার করণ করলেন।অশ্বারোহীদের মধ্যে একজন নবীনবয়স্ক রাজকুমার ছিলেন, মহাপ্রভু তারও পূর্বনামের পরিবর্তে "বিজুলী" নাম রাখলেন। বর্তমানে রাজকুমার বিজুলী ও রামদাস প্রভৃতি পাঠানই মহাপ্রভু শ্রীচরণে প্রণিপাত করল, এবং তাঁরই উপদেশ অনুসারে কৃষ্ণ-উপাসক হয়ে বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
          *শ্রীরূপ-সনাতন সম্মিলন*
          ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀বহুদিন হতেই রূপ-সনাতনের হৃদয়ে সংসারত‍্যাগের বাসনা প্রবল হয়ে উঠেছিল।মহাপ্রভু রামকেলি গ্রামে যখন গমন করেন,তখন রূপ-সনাতন তাঁর দর্শন লাভে কৃতার্থ হন।গৌরহরি তাঁদের সংকল্পের সহায় হয়ে,তাঁদের প্রাণে বৈরাগ‍্যানল প্রদীপ্ত করে দেন দুইভাই ঘরে ফিরে এসে বিষয়-বন্ধন একেবারে ছিন্ন করবার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন।শ্রীরূপ-সনাতন গৌড়াধিপতির প্রধান কর্মচারী।তাঁরা জানতেন,কাজ হতে অবসর নিতে চাইলে হোসেন শাহ কখনই অনুমতি দিবেন না। কিন্তু তাঁদের অন্তরে যে আগুনেরশিখা জ্বলে উঠেছে তা উত্তরোত্তর বাড়তে লাগল।শ্রীসনাতন রাজমন্ত্রী ; তাঁকে সবসময়ই রাজধানীতে থাকতে হত। শ্রীরূপ রাজ‍্যের অন‍্যত্র কাজ করতেন।তারজন‍্য তিনি গোপনে নিজের অভিলাষ সিদ্ধ করবার সুযোগ পেলেন। তিনি সমস্ত ধনসম্পত্তি নৌকা পূর্ণ করে স্বদেশাভিমুখে যাত্রা করলেন।যাবার সময় কি মনে হল,এক মুদির দোকানে মুদির দোকানদারের হাতে দশহাজার মুদ্রা জমা রেখে দিলেন, এই ভেবেই যে, যদি জ‍্যেষ্ঠভ্রাতা সনাতনের আবশ‍্যক হলে তাঁকে দিয়ে দিবেন।শ্রীরূপ,বাড়ীতে গিয়ে সমস্ত সম্পত্তি ব্রাহ্মণ,বৈষ্ণব ও আত্মীয়স্বজনদের ভাগ করে দিলেন।* *এদিকে সনাতন বিষয়-পিঞ্জর হতে মুক্তি লাভ করবার জন্য ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন।তিনি মনে মনে ভাবলেন,রাজার কোন অপ্রিয় কাজ করে তাঁর প্রাণে অসন্তোষ ভাব না জাগাতে পারলে,তাঁর মনোবাঞ্জা পূরণ হবার উপায় নাই।সনাতন পাতশার (মুসলমাল সম্রাট বা নৃপতির)কাছে নিজ শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে রাজকার্য‍্যে অবহেলা করে ঘরে বসে,ভাগবত অধ‍্যয়ন, ও ব্রাহ্মণ পন্ডিতদের সঙ্গে শাস্ত্র আলোচনায় সময় কাটাতে লাগলেন।হোসেন শাহ রাজমন্ত্রীর অসুস্থতার কথা শুনে চিকিৎসার জন্য রাজবৈদ‍্য পাঠিয়ে দিলেন।বৈদ‍্য এসে দেখলেন, সনাতনের কোন রোগেরই লক্ষণ নাই। রাজবৈদ‍্য কর্তব‍্যানুরোধে রাজাকে তদনুরূপ সংবাদ প্রদান করলেন।*
*সনাতন সুস্থদেহে রাজকার্য‍্য পরিত‍্যাগ করে ঘরে বসে আছেন শুনে হোসেন শাহ অবাক হলেন এবং এর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করবার জন্য একদিন তিনি স্বয়ং হঠাৎ সনাতনের ভবনে চলে গেলেন।গৌড়াধিপতি সনাতন গৃহে গেলে,সকলে সসম্ভ্রমে দাঁড়িয়ে থেকে যথোচিত অভ‍্যর্থনা করে তাঁকে বসবার আসন দিলেন।রাজা আসনে বসে থেকে বললেন, তোমার অসুস্থতার সংবাদ শুনে বৈদ‍্য পাঠালাম, কিন্তু তিনি তোমার সুস্থতার কথা বললেন।তোমাকে নিয়েই আমার সমস্ত কাজ ; আমার যে সর্বনাশ হচ্ছে! তোমার মনে কি ভাব আমায় খুলে বলতে পার?সনাতন বিনীতভাবে বললেন,জাঁহাপনা!বিষয়কার্য‍্য করবার আমার আর বাসনা নাই ; আমা হতে আপনার আর রাজকার্য‍্য চলবে না, আপনি অন্য লোক নিযুক্ত করে কার্য‍্য পরিচালনের ব‍্যবস্থা করুন।হোসেন শাহ সনাতনের কথা শুনে বিরক্তির স্বরে বললেন, তোমার ভাই রূপ যেন দস‍্যুর মত পালিয়ে গিয়েছে।পরম বৈরাগী ও ভক্ত রূপের প্রতি গৌড়েশ্বর ঐরকম কর্কশ বা রুক্ষ কথা শুনে সনাতন মনে মনে অত‍্যন্ত বিরক্ত হয়ে বললেন,আপনি স্বাধীন রাজা, দোষীর প্রতি আপনি যেরকম শাস্তি উচিত মনে করেন,তাইই বিধান করতে পারেন।সনাতনের এই কথা শুনে হোসেন শাহ ক্রব্ধচিত্তে আসন পরিত‍্যাগ করে উঠলেন, এবং সনাতনকে বন্দী করতে আদেশ করে রাজপ্রাসাদে প্রত‍্যাগমন করলেন।*
*শ্রীরূপ যখন বিষয়-সম্পত্তি সকলের মধ্যে ভাগ করে দিলেন,তখন শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু কোথায় আছেন তা অবগত হবার জন্য দুইজন ভৃত‍্য নীলাচলে পাঠিয়ে দিলেন।তারা ফিরে এসে মহাপ্রভুর বৃন্দাবন যাত্রার বিষয় তাঁকে অবগত করল।শ্রীরূপ তাঁর ছোট ভাই বল্লভের সঙ্গে বৃন্দাবন যাত্রা করলেন।যাবার সময় সনাতনকে সমস্ত বিষয় উল্লেখ করে একটি পত্র লিখে গেলেন।*
*বিপদসঙ্কুল দুর্গম পথ অতিক্রম করে তাঁরা প্রয়াগে উপনীত হলেন।গিয়ে দেখলেন,মহাপ্রভু তখন বিন্দুমাধব মন্দিরের কাছে প্রেমানন্দে উর্দ্ধবাহু হয়ে,মধুর হরিনাম কীর্তন করতে করতে নৃত্য করছেন।তাঁর নয়নযুগল থেকে বারিধারা প্রবাহিত হয়ে তাঁর গাল ভাসিয়ে দিচ্ছে।সমবেত লোকমন্ডলীও তাঁর সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে,উচ্চরবে ভক্তিভরে হরিধ্বনিতে চারিদিক প্রতিধ্বনিত করছে,প্রেমাবেশে তারাও মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছে।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
             *শ্রীরূপ-সনাতন সম্মিলন*
            •••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀প্রেমাবেশে তারাও মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছে। শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়েছেন=*
*🌷কেহ কাঁন্দে কেহ হাসে কেহ নাচে গায়।*
*🌷কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি কেহ গড়াগড়ি যায়।।*
*🌷গঙ্গা যমুনা প্রয়াগ নারিল ডুবাতে।*
*🌷প্রভু ডুবাইল প্রেমের বন‍্যাতে।।*
*শ্রীরূপ ও সনাতন এই জনবহুল ঠেলে মহাপ্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা বিশেষ সুবিধা নয় মনে করে তাঁরা জনমন্ডলীর এক পার্শ্বে দাঁড়িয়ে থেকে মহাপ্রভুর অপরূপ লীলা দেখতে লাগলেন। এই সময় এক বিপ্র গৌরহরিকে নিজ ভবনে ভিক্ষার জন্য নিমন্ত্রণ করে গেলেন।সেখানে মহাপ্রভু এক নিভৃত জায়গায় বসে,শ্রীরূপ ও বল্লভ দুইজনে দুইগুচ্ছ তৃণ দন্তে করে দূর হতে দন্ডবৎ প্রণাম করে,ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে লাগলেন।মহাপ্রভু শ্রীরূপকে দেখে হাত ধরে "উঠ,উঠ" বলে,তাঁকে মাটি থেকে তুলে কাছে বসিয়ে সনাতনের কথা জিজ্ঞাসা করলেন।শ্রীরূপ, গৌড়াধিপতি কর্তৃক তাঁর কারাগারে বন্দী হয়েছেন সেই কথা বললে, মহাপ্রভু বললেন,"সনাতন কারামুক্ত হয়েছে,শীঘ্রই আমার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে "।শ্রীরূপ ও বল্লভ প্রয়াগে বসবাস করতে লাগলেন।প্রয়াগের কাছেই যমুনার পরপারে বল্লভ ভট্ট নামে এক সুপন্ডিত ব্রাহ্মণ বাস করতেন।তিনি শ্রীচৈতন‍্যদেবের আগমনবার্তা শুনে,তাঁকে নিমন্ত্রণ করবার জন্য ছুটে এলেন।ভট্ট আগমন করলে শ্রীচৈতন‍্যদেব,শ্রীরূপ ও বল্লভের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করে দিলেন।ভট্ট এই নবাগত ভক্তদেরকে আলিঙ্গন করতে গেলে,তাঁরা নিজেদেরকে অস্পৃশ‍্য বলে দূরে সরে গেলেন।বল্লভ ভট্ট তাঁদের বিনয় ও ভগবন্নিষ্ঠা দর্শন করে মুগ্ধ হলেন।মহাপ্রভু বল্লভ ভট্টের সঙ্গে অম্বুলি গ্রামে গমন করলেন।অম্বুলি গ্রামে যমুনার নিকটবর্তী।মহাপ্রভু প্রসন্নসলিলা,কলনাদিনী যমুনার শ‍্যামল জলরাশি দেখে ভাবে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি এখানে উপস্থিত হলে, বহুসংখ‍্যক লোক তাঁর দর্শন করবার জন্য আসতে লাগল ; এবং তাঁর জীবনের অনুপম মাধুরী দর্শনে বিমুগ্ধ হয়ে,তাঁরই প্রদর্শিত মধুময়ভক্তিপথের পথিক হয়ে পড়ল।যমুনার কাছে গিয়ে মহাপ্রভু ভাবোচ্ছাসে উচ্ছসিত হয়ে যমুনায় ঝাঁপ দিতে পারেন মনে করে,এই ভয়ে,বল্লভাচার্য‍্য তাঁকে পুনরায় প্রয়াগে আনয়ন করলেন।*
*শ্রীচৈতন‍্যদেব শ্রীরূপের হৃদয়ে শক্তি সঞ্চার করে,ভক্তিতত্ত্ব উপদেশ শিক্ষা দিয়েছিলেন।মহাপ্রভু বলেছিলেন, রূপ!ভক্তিসিন্ধু অনন্ত গম্ভীর ও পারাপারশূন‍্য।কেশাগ্র শতভাগ করে, সেটি পুনরায় শতভাগ করলে যেরকম হয়,জীবের স্বরূপ তদ্রূপ জানবে।মানব অনেক সময়ে জীবাত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে অভেদ স্বীকার করে থাকে,এটি অত‍্যন্ত ভ্রম।জীব ক্ষুদ্র, ভগবান অপরিমেয়, তিনি সর্বগত ও সৃষ্টিকর্তা।জগৎ সৃষ্ট ; তিনি শাসনকর্তা,মানব শাসনাধীন।যাঁরা ঈশ্বর ও জীব তুল‍্য মনে করেন,তাঁরা বিশ্বনিয়ন্তার স্বরূপ সম্বন্ধে বড়ই অনভিজ্ঞ।*
*মানুষ ও জীবজন্তপূর্ণ এই বিশাল সংসার সেই অনন্ত স্বরূপের তুলনায়, অতি ক্ষুদ্রতম।নিকৃষ্ট প্রাণীদের মধ্যে মানুষের সংখ্যা যৎসামান্য বললেই হয় ; তার মধ্যে ম্লেচ্ছ,পুলিন্দ,বৌদ্ধ ও শবর আছে ; বেদনিষ্ঠদের মধ্যে, অধিকাংশ ব‍্যক্তিই বেদবিহিত কর্ম প্রতিপালন করে না,কেবল মুখেই বেদনিষ্ঠ বলে স্বীকার করে থাকে।ধর্মচারীদের মধ্যে অধিকাংশ* *কর্মনিষ্ঠ। কোটি ধর্মনিষ্ঠদের মধ্যে কেবল একজন মাত্র ব‍্যক্তিকেই জ্ঞাননিষ্ঠ বলা হয়।কোটি জ্ঞানীর মধ্যে একজন মুক্ত ; আবার কোটি মুক্ত জীবের মধ্যে একজন প্রকৃত কৃষ্ণভক্ত পাওয়া যায়।কৃষ্ণভক্তগণ কামনাশূন‍্য,অতএব শান্ত।যাঁরা* *মুক্তিপ্রার্থী,সিদ্ধ ও ফলকামী,তাঁরা*
*অশান্ত।যদি কোন ভাগ‍্যবান ব‍্যক্তি শ্রীকৃষ্ণের প্রসাদে ভক্তিলতা বীজ প্রাপ্ত হন, এবং তদুপরি শ্রবণ-কীর্তনরূপ জলসেচন করেন, তাহলে সেই লতা,গোলোকে, শ্রীকৃষ্ণচরণরূপ কল্পবৃক্ষ আশ্রয় করে ; সেটি হতেই প্রেমফল উৎপন্ন হয়।বৈষ্ণব-অপরাধরূপ হাতী যদি মস্তক উত্তোলন করে, তাহলে ভক্তিলতা উৎপাটিত,ছিন্ন ও শুষ্ক হয়ে যায়।*
*যদি বিষয়-লালসা,মুক্তির বাসনা প্রভৃতি উপশাখাগণ তারসঙ্গে উত্থিত হয়, তাহলে ভক্তিলতাকে একেবারে বিনষ্ট করা ফেলে ; এই জন্য আগে উপশাখা সব ছেদন করে ফেলতে হবে।ইক্ষুরস গাঢ় হলে যেমন তা হতে ক্রমে মিছরি তৈরী হয়,সেরকম সাধনভক্তি হতে রতি জন্মায়।এই রতি গাঢ় হলে,তাকে প্রেম বলা যায়।প্রেম হতে প্রণয়,অনুরাগ,ভাব ও মহাভাব সমস্ত উৎপন্ন হয়ে থাকে।ভক্তির প্রকৃতিভেদে রতি পাঁচ প্রকার= যথা,শান্ত,দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও মধুর। এই মাধুর্য‍্য রসে সব রসেরই সমাবেশ হয়ে থাকে।হে রূপ!ভক্তির পথ ভাল করে অবলম্বন কর।ভক্তিতেই প্রকৃত শান্তি। মহাপ্রভু শ্রীরূপকে ভক্তিতত্ত্ব সম্বন্ধে উপদেশ দান করে, বারাণসী যাবার জন্য প্রস্তুত হলেন।শ্রীরূপ তাঁর সঙ্গে যেতে চাইলে,মহাপ্রভু বললেন, বৃন্দাবনের এত কাছে এসে, সেটি দর্শন করা উচিত। তুমি এখন বৃন্দাবনে যাও,পরে গৌড় হয়ে নীলাচলে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিও।এই বলিয়া মহাপ্রভু ভট্টাচার্যের সঙ্গে কাশীধামে যাত্রা করলেন।শ্রীরূপ প্রভুবিরহে অত‍্যন্ত শোকাকুল হয়ে পড়লেন।অবশেষে তিনি বল্লভকে সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবনে গমন করলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧





বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭১)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
*উত্তর-পশ্চিমের মুসলমান বৈষ্ণব কবি*
•▪◆•▪◆•▪◆•▪◆•▪◆•▪◆☆
*🔵 বাংলাদেশে এক সময়ে অনেকগুলি মুসলমান বৈষ্ণব কবির আবির্ভাব হয়েছিল,এটি সাহিত‍্যের ইতিহাস হতে জানা যায়।নসির মামুদ, সালবেগ,সৈয়দ মর্ত্তুজা, আকবর প্রভৃতি বহু মুসলমান কবি যে বৈষ্ণব ভাবের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন,একথা বৈষ্ণব সাহিত‍্যের পাঠকমাত্রেই জানেন।মুনসী আবদুল করিম সাহিত‍্যবিশারদও কয়েকজন মুসলমান বৈষ্ণব কবির পরিচয় দিয়েছেন,যাঁরা রাধাকৃষ্ণের প্রেম অবলম্বন করে কবিতা রচনা করে গিয়েছেন। গরিব খাঁ নামক একজন কবি শুধু বৈষ্ণব পদ রচনা করে ক্ষান্ত হননি,বৈষ্ণব রসতত্ত্বেও ডুবেছিলেন। "রাই-কানু একতনু হয়ে যে নদীয়ায় এসে গৌরাঙ্গ হয়েছেন, এ নিগূঢ় তত্ত্বও তাঁর অজ্ঞাত বা অজানা ছিল না ঃ------*
*🌷গবির কয় ধরমু বলে ডুবে পেলে না,*
        *তাই ক্ষেপে নদেয় এসেছে।*
*🌺বাংলায় আরেকজন মুসলমান কবি গৌরাঙ্গ সম্বন্ধে পদ রচনা করেছেন। পদটি এই=*
*🌷জীউ জীউ মেরে মনোচোরা গোরা।*
*🌷আপহি নাচত আপন রসে ভোরা।।*
*🌷খোল করতাল বাজে ঝিকি ঝিকি ঝিকিয়া।*
*🌷ভকত আনন্দে নাচে লিকি লিকি লিকিয়া।।*
*🌷পদ দুই চলু নট নট নটিয়া।*
*🌷থির নাহি হোয়ত আনন্দে মাতুলিয়া।।*
*🌷ঐছন পহুঁক যাঙ বলিহারি।*
*🌷সাহ আকবর তেরে প্রেমভিখারী।।*
                    *(গৌরপদতরঙ্গিণী)*
*🍁এই সাহ আকবর কে ছিলেন তা জানা যায় না।ইনি যে আকবর বাদশাহ নন,তা না বললেও চলে। কারণ ঐ পদটির মধ্যে যে গৌরপ্রীতি দেখা যায়,তার কোন নিদর্শন সম্রাট আকবরের চরিত্রে ঘুণাক্ষরেও পাওয়া যায় না,যদি ঐ আকবর হত, তাহলে বোধহয় বৃন্দাবন আক্রমণ করত না।*
*🌻কিন্তু ঐ একই সময়ে খান খানান আবদুর রহিম খান বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি যে প্রীতিসম্পন্ন হয়েছিলেন,তা জানা যায়। আবদুর রহিম আকবরের অভিভাবক বৈরাম খানের পুত্র ছিলেন। তিনি নিজেও একজন অসাধারণ রাজনীতিজ্ঞ এবং যোদ্ধা ছিলেন।মোগল সম্রাটের সেনাপতি পদে অধিষ্ঠিত থেকেও তিনি কাব‍্যলক্ষ্মীর সেবা করতে পেরেছিলেন।তাঁর দান এত বেশী ছিল যে,অনেকে তাঁকে দাতাকর্ণের সঙ্গে তুলনা করত।আকবরের এক সভাকবি ছিলেন,তাঁর নাম গঙ্গ। এই কবিকে রহিম ছত্রিশ লাখ টাকা দান করেছিলেন।আবদুর রহিম একবার বাদশাহ জাহাঙ্গীরের কোপে পড়ে সর্বস্বান্ত ও কারারুদ্ধ হন। রহিম তুলসীদাসের অতি প্রিয়পাত্র ছিলেন। রহিমের রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে দোহাবলী,সৎসই,রাসপঞ্চাধ‍্যায়ী প্রভৃতির নাম পাওয়া যায়।রহিমের কৃষ্ণভক্তির পরিচয় পাওয়া যায় নিম্ন লিখিত পদে ঃ---*
*🌷অনুদিন শ্রীবৃন্দাবন ব্রজ তেঁ আবন আবন জানি।*
*🌷অব রহীম চিতে তেঁ টরতি হ‍্যায় সকল স‍্যামকী বানি।।*
 *(হিন্দি সাহিত‍্যকা ইতিহাস পৃঃ ১৮৫)*
*🌺উত্তর পশ্চিমের আর একজন মুসলমান কবি বৈষ্ণব ভক্তিবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।ইঁনার নাম কি ছিল,তা জানা যায় না।কবিতার ভণিতায় ইনি নিজেকে "রসখান" বলে পরিচিত করেছেন,রসখান বাদশাহ-বংশসম্ভূত ছিলেন (খানদানি), একথা তিনি নিজেই বলেছেন।যতদূর জানা যায়,তাতে রসখান দিল্লীর একজন পাঠান সর্দার ছিলেন।ইঁনার রচিত "সুজান রসখান" ও "প্রেমবাটিকা" নামক পদ‍্যগ্রন্থদ্বয় পাওয়া যায়।প্রেমবাটিকা ১৬৭১ সংবৎ অর্থ‍্যাৎ ১৬১৪ খ্রীষ্টাব্দে রচিত হয়।*
*🌷বিধু সাগরে রস ইন্দু সুভ বরস সরস রসখানি।*
*🌷প্রেমবাটিকা রুচির রুচির চির হিয় হরসি বখানি।।*
*🌹এই সময়ে বঙ্গদেশে বৈষ্ণব কাব‍্য ও সঙ্গীতের সুবণা যুগ চলছিল। শ্রীনিবাস,নরোত্তম ও শ‍্যামানন্দের প্রভাবে বঙ্গ ও উৎকল কীর্তনে মেতে উঠেছিল। বাংলার অধিকাংশ বৈষ্ণব কবি এই যুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পাঞ্জাবে নানকজী হতে যে ভক্তিবাদের ধারা প্রবাহিত হয়, মিথিলায় বিদ‍্যাপতির মধ্যে যে ধারার পরিণতি দেখা যায়,উত্তর পশ্চিমে সূরদাস,তুলসীদাস ও বল্লভাচার্য‍্যের দ্বারা সেই ধারারই পুষ্টি ও বৃদ্ধি হয়, সে সম্বন্ধে সন্দেহ নেই।*
              *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭২)🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌹*
*উত্তর-পশ্চিমের মুসলমান বৈষ্ণব কবি*
#######"###################
*🍁বাঙ্গালী কবিগণ যে উত্তর পশ্চিমের বৈষ্ণব কবিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন অথবা উত্তর পশ্চিমের কবিগণ যে বাঙ্গালী কবির কাছ হতে তাঁদের প্রেরণা লাভ করেছিলেন তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ সম্বন্ধে অবশ‍্য এখনও যথেষ্ট অনুসন্ধান হয়নি। সূরদাস যখন তাঁর "সূর সাগর" গোকুলে বসে রচনা করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই বৃন্দাবনে রূপ-সনাতন প্রভৃতি গোস্বামীগণ গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের ভিত্তি নির্মাণ করছিলেন।আশ্চর্য‍্যের বিষয় এই যে,ইঁনাদের মধ্যে কোনও সংস্রব (যোগাযোগ) ছিল কিনা,তা জানা যায় না।মীরাবাঈয়ের সম্বন্ধে প্রবাদ কিছু পাওয়া যায়, কিন্তু সূরদাসের সম্বন্ধে প্রবাদও নীরব। অথচ সূরদাসের পদাবলীর সঙ্গে বাঙ্গালী বৈষ্ণব কবির এমন অদ্ভুত সাজাত‍্য (একজাতীয়তা) কিভাবে আসিল,তা বুঝা যায় না।রসখানের পদাবলীর সহিতও বাংলা পদাবলীর ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ রয়েছে।রসখান যে রসটিকে গ্রহণ করেছিলেন তাহাও বৈষ্ণব রসতত্ত্বের মধ্যে একটি বিশিষ্ট রস ; তিনি সখ‍্য রসের উপাসক ছিলেন।এই রসের সাধক খুব একটা বেশী আছে বলে মনে হয় না।তাঁর এই আবেশ ছিল যে, তিনি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে নিত‍্য গোচারণে যেতেন। তাঁর কবিতায় মধুর বা শৃঙ্গার রসেরও অভাব নাই। তিনি একটি কবিতায় গোপী-ভাবের আবেশে বলেছেন=*
*🌷মোর পখা সির উপর রাখিহৌ,*
         *গুঞ্জকী মাল গরে পহিরৌংগী।*
*🌷ওঢ়ি পিতাম্বর লৈ লকুটি বন,*
             *গোধন গ্বারন সঙ্গ ফিরৌংগী।।*
*🌷ভাবতো সোই মেরো রসখান সো,*
        *তেরে কহে সব স্বাংগ করৌংগী।*
*🌷যা মুরলী মুরলীধর-কী,*
             *অধরান ধরী অধরা ন ধরৌংগী।।*
*🌻আমি মাথার উপর ময়ূরপুচ্ছ ধারণ করব,গলে গুঞ্জমালা পরব।পীতাম্বর পরে,লাঠি হয়ে গোধন গোয়ালার সঙ্গে বেড়াব। (রসখান বলেন) তিনি যে অভিপ্রায় করেন (অথবা তিনিই যখন আমার প্রিয় তখন) তিনি বলিলেই আমি তা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করব। কিন্তু, যে মুরলী মুরলীধর অধরে ধারণ করেন,তা অধরে স্পর্শ করব না। (কারণ মুরলী আমাকে বঞ্চিত করে শ্রীকৃষ্ণের অধর-সুধা পান করছে।*
*🌹রসখান ভাবাবেশে গরু চরাইতেন, শ্রীকৃষ্ণের মোহনবেণু শুনে বিভোর হতেন,আর তাঁর রূপ-সুধারস পান করবার জন্য পাগল হয়ে যেতেন=*
*🌷মত্ত ভয়ো মন সঙ্গ ফিরৈ,*
            *রসখানি সুরূপ-সুধারস ঘুটয়ো।*
*🍁এবং নদী যেমন সাগরে মিলিতে ছুটে যায়,সেইরকম ভাবে মন কুলের বাঁধ ভেঙ্গে ফেলে--------*
*🌷সাগর কোঁ সরিতা জিমি ধাবতি,*
       *রোকি রহে কুলকৌ পুল টুটয়ো।*
*🌹রসখানজী শ‍্যামের রূপ এইভাবে আস্বাদন করেছেন=*
*🌷সুন্দর স‍্যাম সিরোমণি মোহন,*
             *জোহন মেঁ চিত চোরতু হ‍্যায়।*
*🌷বাঁকী বিলোকনি কী অবলোকনি,*
          *নোকনু কৈ দৃগ্ জোরতু হ‍্যায়।।*
*🌷রসখানি মনোহর রূপ সলোনে কৌ,*
         *মারগ তেঁ মন মোরত হ‍্যায়।*
*🌷গৃহ-কাজ সমাজ সবৈ কুল লাজ,*
        *ললা ব্রজরাজ কৌ তোরতু হ‍্যায়।।*
*🌻সুন্দর শ‍্যাম মোহন-শিরোমণিকে অনুসন্ধান করতেই আমার চিত্ত চুরি করেছে। সুন্দর নয়নের যে অবলোকন (দৃষ্টি ভঙ্গী) তা দেখলাম, নাসিকার উপর চক্ষু দুইটি যেন যুক্ত হয়েছে। রসখান বলেছেন, সুন্দর মনোহর রূপ আমার মনের পথ ফিরিয়ে দিয়েছে, অর্থ‍্যাৎ অন‍্য পথে যেতে গেলে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে, ব্রজ-রাজ লালা (কিশোর তনয়) গৃহকাজ, সমাজ,সমস্ত কুললাজ ভেঙ্গে দিল।*
*🌺রসখানের একটি দানের পদ আছে =*
*🌷দানী ভয় নয়ে মাঙ্গত দান,*
           *সুইন জু-পৈ কংস তৌ বাঁধিকৈ জৈহো।*
*🌷রোকত হৌ বন মে রসখানি,*
              *পসারত হাথ ঘনৌ দুখ পৈহো।।*
*🌷টুটে ছরা বছরা অরু গোধন,*
             *জো ধন হ‍্যায় সূ সবৈ ধরি দৈহো।*
*🌷জৈছে ভুষণ কাহূ সখী কৌ,*
            *তো মোল ছলা কে ললা ন বিকৈহো।।*
*🍀দানী হয়ে নতুন দান চাইছে,ভয় নাই! কংস যখন শুনবে তখন তোমাকে বেঁধে নিয়ে যাবে।রসখান বলছেন বনের মধ্যে পথ রোধ করে (দানের জন্য ) হাত পেতেছ, এতে অত‍্যন্ত দুঃখ পাবে।যদি হার ছিঁড়ে যায়,তবে তোমার গরু-বাছুর সব ধরে নিয়ে যাবে।যদি কোনও সখীর অলঙ্কার যায়,তবে,হে লালা!তোমাকে বেচলেও হারের দাম পরিশোধ হবে না।*
*🌹এই দানের পালা নিয়ে বাংলাদেশে বেশ একটু কৌতূককর আলোচনা আছে। শ্রীমদ্ভাগবতে দানলীলার প্রসঙ্গ নাই।এ দানলীলার ব‍্যাপার কোথা হতে আসিল?এটিই প্রশ্ন।*
*এতদিন পরে দানলীলার প্রাচীনতম প্রামাণিক বর্ণনা পাওয়া যায় শ্রীপাদ রূপগোস্বামীর দানলীলাকৌমুদী এবং রঘুনাথ দাস গোস্বামীর দানকেলিচিন্তামণিতে।*
               *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🌳🌳🌳🌻🌻🌻🌹🌹🌹🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৩)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🙏*
*উত্তর-পশ্চিমের মুসলমান বৈষ্ণব কবি*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌹বৈষ্ণব রস সাহিত‍্য বিরাম পর্য‍্যায়🌹*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀দানকেলিকৌমুদী নামক ভাণিকা (হাস‍্যরসাত্মক একাঙ্ক নাটিকা)রচিত হয়।*
*🌷গতে মনুশতে শাকে চন্দ্রস্বর সমন্বিতে।*
*🌷নন্দীশ্বরে নিবসতা ভাণিকেয়ং বিনির্মিতা।।*
*🌻এরই অল্পদিন পরে দানকেলিচিন্তামণি রচিত হয়েছিল। এই গ্রন্থে শ্রীরূপ গোস্বামীর নাম আছে। ভক্তিরত্নাকরে শ্রীরঘুনাথ গোস্বামীর এই গ্রন্থ দানচরিত নামে উল্লিখিত হয়েছে ঃ---*
*🌷রঘুনাথ দাস গোস্বামীর গ্রন্থত্রয়।*
*🌷স্তবমালা নাম স্তবাবলী পরে কয়।।*
*🌷শ্রীদানচরিত মুক্তাচরিত মধুর।*
*🌷যাহার শ্রবণে মহা দুঃখ যায় দূর।।*
*🌺দাসগোস্বামীর দানচরিত বলে কোনও গ্রন্থ নাই।কাজেই দানকেলিচিন্তামণিকে শ্রীনরহরি চক্রবর্তী দানচরিত বলে উল্লেখ করেছেন এটিই বোধ হয়।*
*🍁সূরদাস অনুমান ১৪৮৩ খৃঃ জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর কবিতায় দান লীলার উল্লেখ আছে। সূরদাসের দানলীলার পদাবলী এখনও গান হয়ে থাকে।রসখানের দানলীলার সম্বন্ধে পদ রয়েছে। এটি হতে অনুমান হয় যে দানলীলা সম্বন্ধে নিশ্চয়ই কোনও পূর্বতন (বহুদিন আগে) সংস্কৃত কাব‍্য উত্তর ভারতে প্রচলিত ছিল যা হতে পশ্চিমদেশীয় কবিগণ এ বঙ্গদেশের মহাজনগণ প্রেরণা পেয়েছিলেন।সূরদাস এবং শ্রীরূপগোস্বামী সমসাময়িক কবি ; কিন্তু আগেই বলেছি ইঁনাদের মধ্যে একজন যে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এরকম কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না।একটু প্রণিধান (মনোনিবেশ) করলেই বুঝতে পারা যায় যে,রসখানজীর দানের পদে যে ভাবটি রয়েছে,বঙ্গদেশীয় দানলীলার পদাবলীতে ঠিক সেই ভাবটি আমরা দেখতে পাই ঃ----*
*গায়ের গরবে তুমি,চলিতে না পার জানি,*
        *রাজপথে কর পরিহাস।*
*রাজকর নাহি মান,কংস দরবার জান,*
        *দেখি কেনে নহে একপাশ।।*
                             *(জ্ঞানদাস)*
*🌳অন‍্য একটি পদে=*
*🌷সহজই তুহুঁ সে অধীর।*
*🌷ধর কুলবধূগণ চীর।।*
*🌷রাজভয় নাহিক তোহার।*
*🌷পথমাহা এতহুঁ বেভার।।*
                         *(রাধাবল্লভ দাস)*
*🍀দানলীলার মধ্যে কাব‍্য-বৈচিত্র‍্য এই যে গোপীরা দধি-দুগ্ধ-ঘৃতের পসরা সাজিয়ে চলেছেন,আর পথের মধ্যে রসিক শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের কাছে "দান" সাধছেন অর্থ‍্যাৎ শুল্ক বা কর চাইছেন।গোপীরা তাঁকে কংসরাজার ভয় দেখিয়ে নিরস্ত হতে বলছেন।ইঁনাদের মধ্যে যে উক্তি-প্রত‍্যুক্তি, তা কাব‍্যরসে সরস হয়ে উঠেছে।দান চাইবার ছলে শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক রাধার রূপ বর্ণন, এবং প্রেম নিবেদন অনাবিল কাব‍্যসম্পদে ভূষিত।চন্ডীদাসের কৃষ্ণ-কীর্তনেই কেবল এর ব‍্যতিক্রম দেখা যায়।রসখানের কবিতায়ও যে কাব‍্যকলা আছে,তাহাও উপভোগ‍্য। রাধিকা বলছেন--,সখীগণের কোনও ভূষণ যদি ছিঁড়ে দাও বা নষ্ট কর, তাহলে তোমাকে বেচলেও তার মূল‍্য হবে না।কেননা তুমি ধেনুর রাখাল। রসখানজী যে যে একজন ভক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।তিনি শ্রীবৃন্দাবনের পশুপাখী হয়ে থাকতে পারলেও নিজেকে ধন‍্য মনে করেন,অন‍্য কিছু কামনা করেন না।*
*🌷মানুষ হোঁ তো বহী রসখান,*
           *বসৌ ব্রজ গোকুল গাঁব কে গ্বারন।*
*🌷জো পসু হোঁ তো কহা বসু মেরো,*
       *চরৌ নিত নন্দকী ধেনু মঁ ঝারন।।* 
*🌷পাহন হৌঁ তো বহী গিরি কো,*
           *জো কিয়ো করছত্র পুরন্দর-ধারণ।*
*🌷জৌ খগ হোঁ তো বসেরো করৌঁ,*
           *মিলি কালিন্দী-কূল-কদম্ব কী ডারন।।*
*🌻যদি মানুষ হই,তবে (রসখান বলেন)যেন ঐ ব্রজগোকুল গ্রামের গোয়ালা হয়ে বাস করি।যদি পশু হই,তবে নন্দের ধেনুপাল মধ্যে যেন চরতে পারি। যদি পাষাণ(পাথর) হই, তবে যেন গিরিগোবর্দ্ধনের পাষাণ হই, যে গোবর্দ্ধনকে শ্রীকৃষ্ণ ছত্ররূপে ধারণ করেছিলেন।যদি পাখী হই,তবে যেন কালিন্দী-কুল-কদম্ব তরুর ডালে বাস করতে পারি।*
*🌲আমরা জানি বৃন্দাবন বাঙ্গালীরই সৃষ্টি।বাঙ্গালী কবিগণই নানা ছন্দে এর মাহাত্ম্য ঘোষণা করেছেন। কিন্তু হিন্দী কবিদের মধ্যেও এর প্রভাব যথেষ্ট দেখতে পাওয়া যায়।*
*🌹বংশী-অলি নামে একজন কবি অষ্টাদশ বিক্রমসংবতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।তাঁর শিষ্য কিশোরী-অলির একটি প্রসিদ্ধ পদ আছে =*
*🌷শ্রীবৃন্দাবন বৃন্দাবন বৃন্দাবন কহুরে।*
*🌷বৃন্দাবন রজ কী তূ সরণ বেগি গহুরে।।*
*🙏শ্রীবৃন্দাবনের রজে গড়াগড়ি দিতে বিলম্ব করিও না।*
*🔴আর একজন কবি বলেছেন=*
*🌷প্রথম জথামতি প্রণউ শ্রীবৃন্দাবন অতি রম‍্য।*
*🌷শ্রীরাধিকা কৃপা বিনু সব কে মাননি অগম‍্য।।*
                *(হিতহরিবংশ ১৫৫৯ সংবৎ)*
*🌻বাঙ্গলী কবিগণও গেয়েছেন=*
*🌷মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।*
                          *(নরোত্তম দাস)*
*🍀শুধু বৃন্দাবনের মাহাত্ম্য-প্রচারে না,রাধাতত্ত্ব সম্বন্ধেও উত্তর-পশ্চিমের কবিদের সঙ্গে বাঙ্গালী কবিদের যথেষ্ট মিল দেখা যায়। শ্রীকৃষ্ণকে পেতে হলে মূর্তিমতী ভক্তিরূপিণী শ্রীরাধিকার আরাধনা আবশ‍্যক। ভগবান যে ভক্তির বশ এই কথাটি বৈষ্ণব কবিগণ ও বৈষ্ণব ভক্তগণ বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন। এমন কি মুসলমান কবি রসখান তাঁর একটি কবিতায় সেই ভাবটি সুন্দরভাবে ব‍্যক্ত করেছেন।তিনি বলেছেন,বেদে,পুরাণে ব্রহ্মকে খুঁজলাম, পেলাম না ; কত নরনারী জিজ্ঞাসা করিলাম,কেউই সন্ধান দিতে পারে না ; দেখলাম তিনি নিভৃত কুঞ্জ-কুটীরে শ্রীরাধিকার পদসেবা করছেন=*
*🌷দেখো দুরয়ৌ বহ কুঞ্জ-কুটীর মেঁ,*
           *বৈঠয়ৌ পলোটতু রাধিকা-পায়ন।।*
*🌹রসখান প্রেমভক্তি সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।তাঁর পদাবলী লালিত‍্যে ও সরলতায় অপূর্ব।ইঁনার জীবন-কথা সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না।একটি প্রবাদ আছে যে,তিনি একজন রমণীর প্রতি অত‍্যন্ত অনুরক্ত ছিলেন। কিন্তু বিল্বমঙ্গলের চিন্তামণির ন‍্যায় এই রমণী তাঁর প্রেমের সমাদর করত না।সে অত‍্যন্ত অভিমানিনী ও রূপগর্বিতা ছিল।রসখান একদিন ঘটনাক্রমে শ্রীমদ্ভাগবতের একটি ঊর্দু অনুবাদে দেখলেন যে,ব্রজের হাজার হাজার গোয়ালিনী শ্রীকৃষ্ণকে দেহ-মন-প্রাণ সমর্পণ করেছিলেন।সেই হতে রসখান শ্রীকৃষ্ণের সম্বন্ধে অনুসন্ধান করতে লাগলেন এবং শ্রীনাথজীর একটি চিত্র দেখে মোহিত হলেন।অতঃপর এই প্রেমিক কবি তাঁর সমস্ত প্রেম শ্রীকৃষ্ণকে অর্পণ করলেন এবং বৃন্দাবনে গিয়ে সাধন-ভজনে আত্মনিয়োগ করলেন।নিচের কবিতায় এর আভাস পাওয়া যায়।*
*🌷তোরি মানিনী তেঁ হিয়ো ফোরি মোহনী মান।*
*🌷প্রেমদেব কী ছবি হি লখি ভয়ে মিয়া রসখান।।*
*🌹প্রেমদেবতার ছবি দেখে তোমার মোহিনী মায়া অতিক্রম করতে সক্ষম হয়ে রসখান শ্রেষ্ঠ (মিয়াঁ) হল।*
*🌺"২৫২ বৈষ্ণবন কী বার্ত্তা" নামক গ্রন্থে এই সম্বন্ধে আর একটি প্রবাদ দেখা যায়।রসখান প্রেমে এক বাণিয়ার পুত্রের প্রতি এত অনুরক্ত হয়েছিলেন যে তার উচ্ছিষ্ট পর্যন্ত ভোজন করতেন।একদিন কয়েকজন বৈষ্ণবের মধ্যে কথা হতে হতে একজন বলে উঠিল যে,ঐ বাণিয়ার ছেলের প্রতি রসখানের যেরকম ভালবাসা, ভগবানের প্রতি কারও যদি ঐরকম ভালোবাসা হত!কথাটি রসখানের কানে পৌঁছল। তখন তিনি ভগবানের রূপ কেমন জানবার জন্য ব‍্যাকুল হলেন।তাঁকে একজন শ্রীনাথজীর চিত্র বা ছবি দেখাল।সেই অবধি তিনি বণিক পুত্রের প্রতি অনুরাগ ত‍্যাগ করে শ্রীনাথজীর প্রতি আকৃষ্ট হলেন।রসখান তারপর বল্লভাচার্য‍্য স্বামীর পুত্র বিঠ্ ঠলনাথের শরণাপন্ন হলেন। এবং বিঠ্ ঠল নাথজী তাঁর অনুরাগ দেখে রসখানকে শিষ‍্যরূপে গ্রহণ করলেন, জাতি ধর্মের বিচার করলেন না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🙌 🙌জয় নিতাই গৌর হরিবল, বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য এখানেই বিরাম দিলাম। বানান,ভুলভ্রান্তি,ভাষা অসামঞ্জস্য হলে মার্জনা করবেন,লেখক যেভাবে গ্রন্থে লিখেছেন আমি হুবহু সেই ভাবেই তুলে ধরেছি,তবে সাধুভাষার স্থানে চলিত ভাষা প্রয়োগ করেছি।🙏*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds