শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

১৩০. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda130.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১২৯. মহাপ্রভুর সঙ্গে রাজার মিলন👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda129.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৩০. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda130.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩০)শ্রীরামানন্দ রায়,বিশাখা*
       *মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা*
       ***************************
*🌻মহাপ্রভু দক্ষিণ দেশ হতে ফেরবার পরই শ্রীধাম বৃন্দাবন যাবেন বলে বাসনা প্রকাশ করলেন।এই কথায় ভক্তগণের প্রাণ বিদীর্ণ (ছিন্ন ভিন্ন )হতে লাগিল।তিনি প্রতিপদের চাঁদের মত দেখা দিয়েই আবার ভক্তগণদের অন্ধকারে ফেলে অন্তর্দ্ধান করবেন, ভক্তগণ এইকথা ভেবে ব‍্যাকুল হলেন,বিশেষ করে রাজা প্রতাপরুদ্র এই সংবাদে মর্ম্মাহতও ম্রিয়মাণ হয়ে পড়লেন। তিনি রামরায় ও সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয়কে ডেকে বললেন, "এই তো শ্রীগৌরসুন্দর সেদিন দক্ষিণ হতে ফিরে এলেন,আমি যদিও তাঁর শ্রীচরণ দর্শনে অধিকারী না,তথাপি তিনি যে এখানে বিরাজ করছেন,তা মনে করেই আমার হৃদয় আনন্দ অনুভব করে। কিন্তু তিনি এ জায়গা থেকে চলে গেলে আমি কোন ভাবেই তিষ্ঠিতে(বেশীদিন বাস করতে) পারব না।তাঁকে ছাড়া এখন আমার এই রাজ‍্য-বৈভব আদি কিছুই ভালো লাগে না।আপনারা তাঁকে অনুনয় বিনয় করে এই স্থানেই রাখবেন। যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷প্রভুর ইচ্ছা হইল যাইতে শ্রীবৃন্দাবন।*
*🌷শুনিয়া প্রতাপরুদ্র হইল বিমন।।*
*🌷সার্বভৌম রামানন্দ আনি দুইজনে।*
*🌷দোঁহাকে কহেন রাজা বিনয় বচনে।।*
*🌷নীলাদ্রি ছাড়ি প্রভুর মন অন‍্যত্র যাইতে।*
*🌷তোমরা করিহ যত্ন তাঁহারে রাখিতে।।*
*🌷তাঁরে বিনা এই রাজ‍্য মোর নাহি ভায়।*
*🌷গোসাঞী রাখিতে দোঁহে করিহ উপায়।।*
*🌻ইঁনারা উভয়েই এ বিষয়ে আগে হতে চেষ্টা করছিলেন,তার উপর আবার রাজার অনুনয়।মহাপ্রভু শ্রীবৃন্দাবন যেতে কৃতসঙ্কল্প হচ্ছেন, তাঁকে বাধা দেওয়া অসম্ভব। কিন্তু ইঁনারা একটি নীতি অবলম্বন করলেন ; মহাপ্রভুর সঙ্কল্পে বাধা না দিয়ে মাঝে মধ্যে এক একবার গমনের দিন সম্বন্ধে এক একটা আপত্তি উত্থাপন করতে লাগলেন।মহাপ্রভু জ‍্যৈষ্ঠমাসে শ্রীধাম বৃন্দাবন যেতে উদ‍্যত হলেন, রামরায় ও সার্বভৌম তাঁর শ্রীচরণতলে এসে বলতে লাগলেন, "তুমি বৃন্দাবনে যাবে, তাতে কে তোমায় বাধা দিবে? আর বাধা দিলেই বা তুমি তাতে বাধ‍্য হবে কেন?আমরা এখন সেরকম বাধা দিতে আসি নাই।আমরা বলি, এই তো রথযাত্রা এসে পড়েছে,এখন তুমি এখানে না থাকলে আমাদের মনোকষ্ট হবে,রথযাত্রা দেখে না হয় তার পরে যেও।আমরা আর আপত্তি করব না।*
*🌲তাঁদের কথা শুনে মহাপ্রভু সম্মত হলেন। রথযাত্রা চলে গেল,তিনি আবার বৃন্দাবন যাবার উদ‍্যত হলেন। সার্বভৌম ও রামানন্দ আবার তাঁর কথায় সায় দিয়ে বললেন, "যাবে বৈ কি, আমরা কি তোমায় ধরে রাখতে পারব?তবে এখন অত‍্যন্ত বৃষ্টি বাদল।তোমার তো কিছুতেই কষ্ট নাই, কিন্তু আমাদের মনে অত‍্যন্ত কষ্ট হবে।আমাদের সততই( সবসময়ই ) মনে হবে বন জঙ্গলের পথে তুমি কোথায় ভিজছো, কোথায় কত কষ্ট পাচ্ছো।বৃষ্টি বাদেলের দিন চলে যাক, কার্তিকমাসে যেও।তাঁদের কথা শুনে শ্রীগৌরহরি মৌন অবলম্বন করলেন। আষাঢ়,শ্রাবণ, ভাদ্রমাস চলে গেল,কার্তিকমাসে মহাপ্রভু বললেন, তবে এখন তোমরা আমায় বিদায় দাও বৃন্দাবনে যাবার জন‍্য?ইঁনারা করজোড়ে বলতে লাগলেন, তোমাকে বিদায় দেওয়া অসম্ভব।এই তো শীত উপস্থিত হ'ল,উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়ানক শীত,তুমি ভীষণ শীতে নগ্নদেহে বা খালি গায়ে বনে বনে ঘুরে বেড়াবে, আর আমরা শীতবস্ত্র গায়ে দিয়ে ঘরে আরাম ভোগ করব, এইকথা মনে করেও প্রাণ ফেটে যাচ্ছে।শীতকাল যাক, শুভ বসন্তের শুরুতে দোলযাত্রার পরে শ্রীধাম বৃন্দাবনে যেও।এখন আমরা কিছুতেই যেতে দিব না। যথা, শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷দোঁহে কহে রথযাত্রা কর দরশন।*
*🌷কার্তিক মাস আইলে করিহ গমন।।*
*🌷কার্তিক আইলে কহে এবে মহাশীত।*
*🌷দোলযাত্রা দেখি যাইও এই ভাল রীত।।*
☆          ☆          ☆          ☆          ☆
*🌷যদ‍্যপি স্বতন্ত্র প্রভু নাহি নিবারণ।*
*🌷ভক্ত ইচ্ছা বিনা তবু না করে গমন।।*
*🌹এইরকম বাধায় বাধায় দুই বৎসর চলে গেল, মহাপ্রভু রাম রায়াদির অনুরোধে দুই বৎসর নীলাচলেই থেকে গেলেন।দেখতে দেখতে আবার রথযাত্রা সামনে এসে গেল।গৌড়ীয় ভক্তগণ শ্রীগৌরাঙ্গের শ্রীচরণ দর্শনের জন্য মনের আনন্দে আবার নীলাচলে উপস্থিত হলেন।নীলাচলের রথোৎসব স্বভাবতই ভক্তগণের অত‍্যন্ত আনন্দের উৎসব। শ্রীকবিকর্ণপুর লিখেছেন=*
*"উৎপক্ষ্মাক্ষিসরোরুহাঞ্জলিপুটৈ নীলাদ্রিচূড়ামণেঃ,*
*শ্রীমূর্ত্তিচ্ছরিতামৃতানি পিবতামুল্লাসধন‍্যাত্মনাম্।*
*নিস্পন্দং পুলকাবলীবিলসতামানন্দ মন্দাকিনী,*
*কল্লোলৈঃ কিল তত্রতত্র ভবতামাসীন্মহানুৎসবঃ।।*
*🌻নীলাচলবাসীর এই মহামহোৎসব ভক্তজনের হৃদ‍্য ও আস্বাদ‍্য এবং সুকবির বর্ণনীয়। কিন্তু গৌড়ীয় ভক্তগণ কেবল শ্রীরথযাত্রার উৎসব দেখবার আকুল নন।তাঁদের প্রাণের প্রাণ,আত্মার আত্ম,শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরের মুখশশি সন্দর্শন করাই তাঁদের হৃদয়ের পূর্ণকাঙ্খক্ষা।বৎরান্তে বা বৎসরের শেষে ভক্তগণ নীলাচলে উপস্থিত হয়ে মহাপ্রভুর সঙ্গে সম্মিলিত হলেন,রথযাত্রার আনন্দ উপভোগ করলেন,নৃত‍্য কীর্তনে যেন গোলোকরস উছলিয়ে উঠিল।তাঁরা বলেন গোলোকে যে সুখ, তার থেকে অনেক অনেক বেশী সুখ আমরা মহাপ্রভুর সঙ্গে রথযাত্রায় পায়। রথযাত্রার উৎসব অতিবাহিত হল।গৌরহরি আবার শ্রীবৃন্দাবন যাত্রার প্রস্তাব উত্থাপন করলেন। প্রস্তাব শোনামাত্রই ভক্তগণের মুখ শুকিয়ে গেল, কিন্তু উপায় নেই, তাঁকে আর বাধা দিয়ে রাখা যাবে না।এবারে মহাপ্রভু রামানন্দ ও সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্যকে ডাকলেন, তাঁদেরকে প্রীতিপূর্বক আলিঙ্গন করে মধুর কথায় বললেন, শ্রীবৃন্দাবন দর্শন করার জন্য আমি একান্ত উৎকণ্ঠিত, কিন্তু তোমাদের আপত্তিতে প্রায় দুই বৎসর অতিবাহিত হতে চলল,আর বাধা দিও না, এখন অনুমতি দাও, তোমাদের অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারি না।*
         *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৩১. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda131.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






১২৯. মহাপ্রভুর সঙ্গে রাজার মিলন👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda129.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১২৮. মহাপ্রভুর সঙ্গে রাজার মিলন👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda128.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১২৯. মহাপ্রভুর সঙ্গে রাজার মিলন👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda129.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৯)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা*
*প্রতাপরুদ্রদেব উদ্ধার (চৈঃভাঃকথা*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🍀শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতের বর্ণনা অনুসারে,মহাপ্রভু যে সময় নীলাচলে প্রথম শুভ বিজয় করেন তখন গজপতি প্রতাপরুদ্র বিজয়নগর জয় করবার জন্য গিয়েছিলেন।কিছুদিন পুরীতে বাস করবার পর গঙ্গা ও শচীমাতাকে দেখবার জন্য মহাপ্রভু গৌড়দেশে আসেন এবং পুনঃ রামকেলি হয়ে নীলাচলে যাত্রা করেন।মহারাজ প্রতাপরুদ্র এই সময় মহাপ্রভুকে দেখবার জন্য কটক থেকে পুরীতে আগমন করলেন ও তাঁকে দর্শন করবার জন্য ভক্তগণকে বিশেষ অনুনয় বিনয় করতে থাকেন।রাজার আর্ত্তি দেখে ভক্তগণ রাজাকে আড়াল থেকে মহাপ্রভুর নৃত্য-গীত দেখতে পরামর্শ দেন।আড়াল থেকে রাজা গৌরহরির নৃত্য-গীত দেখতে আরম্ভ করলেন।দেখতে পেলেন দিব‍্যোন্মাদ অবস্থায় মূর্ছিত হয়ে মহাপ্রভু ভূতলে গড়াগড়ি দিচ্ছেন, নয়নের জলে ও মুখের লালায় তাঁর শ্রীঅঙ্গ সিক্ত হচ্ছে।দিব‍্যভাব রাজা বুঝতে পারলেন না,তাঁর মনে ঘৃণার ভাব এলো।রাজা মহাপ্রভুর এ সমস্ত দেখে ঘরে ফিরে গেলেন।সে-দিন রাত্রে স্বপ্ন দেখতে লাগলেন=*
*🌷রাজা দেখে-- জগন্নাথ-অঙ্গ ধূলাময়।*
*🌷দুই শ্রীনয়নে যেন গঙ্গা-ধারা হয়।।*
*🌷দুই শ্রীনাসায় জল পড়ে নিরন্তর।*
*🌷শ্রীমুখের লালা পড়ে,তিতে কলেবর।।*
        *(চৈঃভাঃ অন্ত‍্য=৫|১৬৮-১৬৯)*
*🌺রাজা শ্রীজগন্নাথদেবের শ্রীচরণ স্পর্শ করতে উদ‍্যত হলে শ্রীজগন্নাথ বলছেন--,তোমার অঙ্গ কর্পূর-চন্দনে বিলেপিত।আমার শরীর ধূলা-লালাময়। তুমি আমায় স্পর্শ কোরো না। আমি যখন নৃত্য করছিলাম, তখন আমার অঙ্গে ধূলা লালা দেখে তুমি আমায় ঘৃণা করেছিলে।*
*🌷সেই ক্ষণে দেখে রাজা সেই সিংহাসনে।*
*🌷চৈতন‍্যগোসাঞী বসি,আছেন আপনে।।* 
*🌷সেই মত সকল শ্রীঅঙ্গ ধূলাময়।*
*🌷রাজারে বলেন হাসি, এ ত যোগ‍্য নয়।।*
             *(ঐ=৫|১৭৭-১৭৮)*
*🍀এবার গজপতি প্রতাপরুদ্র মহারাজ বুঝতে পারলেন যিনি জগন্নাথ তিনিই সন্ন‍্যাসীরূপী শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভু।তখন মহারাজ ভূতলে পড়ে বার বার ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলেন।*
*💧শ্রীপ্রতাপরুদ্রেরবংশাবলী💧*
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌻সূর্য‍্য বংশের শেষ রাজা শ্রীচূড়ঙ্গদেব।শ্রীচূড়ঙ্গদেবের সপ্তম অধস্তন পুরুষ শ্রীঅনঙ্গ ভীমদেব। ইনি শ্রীজগন্নাথের বতর্মান মন্দির প্রায় আটশ বছর আগে নির্মাণ করেছিলেন।*

*শ্রীঅনঙ্গভীমদেবের সপ্তম অধস্তন পুরুষ শ্রীকপিলেন্দ্রদেব (১৪৩৫-১৪৭০)।তাঁর পুত্র শ্রীপুরুষো‍ত্তমদেব(১৪৭০-১৪৯৭)। শ্রীপুরুষোত্তমদেবের পুত্র শ্রীপ্রতাপরুদ্রদেব(১৪৯৭-১৫৪১)। পদ্মা,পদ্মালয়া,শ্রীইলা ও মহিলা এই চারজন প্রতাপরুদ্রের মহিষী ছিলেন। প্রতাপরুদ্র দেবের তিনপুত্র--, পুরুষোত্তম জানা,কালু আদেব ও কখাড় আদেব।শ্রীমতী তুক্কা নামে প্রতাপরুদ্রের এক কন‍্যা ছিলেন। শ্রীসরস্বতী বিলাস নামক গ্রন্থে উৎকল রাজাদের বংশাবলীর বিশেষ বর্ণনা আছে।*
*শ্রীপুরুষোত্তম জানা শ্রীরাধা ঠাকুরাণী কর্তৃক স্বপ্নদৃষ্ট হয়ে নীলাচল চক্রবেড়ের মধ‍্য হতে শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীগোবিন্দ দেব কাছে আগমন করেছিলেন।*
*প্রতাপরুদ্র দেবের রাজ‍্য সীমা (১৪৯৭ খৃঃ) বাংলাদেশের হুগলী ও মেদিনীপুর জেলা থেকে আরম্ভ করে মাদ্রাজের গুণ্টুর জেলা পর্যন্ত এবং তেলেঙ্গানার অধিকাংশ প্রতাপরুদ্রের অধিকারে ছিল।১৫১০ খৃষ্টাব্দের প্রারম্ভে প্রবল পরাক্রান্ত শ্রীকৃষ্ণদেব রায় বিজয় নগরের সিংহাসনে আরোহণ করার পর উড়িষ‍্যা রাজ‍্যের দক্ষিণ ভাগ বিজয়ে মনোনিবেশ করেন।তাই দক্ষিণ সীমা রক্ষা করবার জন্য প্রতাপরুদ্রদেব দক্ষিণ দিকে যাত্রা করেন।এ সময় মহাপ্রভু নীলাচলে শুভাগমন করেন।*
*🌷যে সময় ঈশ্বর আইলা নীলাচলে।*
*🌷তখন প্রতাপরুদ্র নাহিক উৎকলে।।*
*🌷যুদ্ধ রসে গিয়াছেন বিজয় নগরে।*
*🌷অতএব প্রভু না দেখিলা সেই বারে।।*
*শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে আছে, দক্ষিণ গোদাবরী,উত্তরে রূপ-নারায়ণ নদের তীরবর্তী পিছলদা পর্যন্ত।*
*🌷পিছলদা পর্য‍্যন্ত সেই যবন আইলা।*
*প্রতাপরুদ্র দেবের অপ্রকট সম্বন্ধে সঠিক সংবাদ কিছুই পাওয়া যায় না।ময়ূরভঞ্জের রাজধানী বারিপদা থেকে এগার মাইল দক্ষিণে পূর্বদিকে প্রতাপপুর নামে এক গ্রাম আছে।প্রতাপরুদ্র মহারাজের সমাধি মন্দির নাকি সেখানে ছিল। বর্তমান নদীর ভাঙ্গনে তা জলমগ্ন হয়েছে।বিগ্রহগণ (মহাপ্রভু,জগন্নাথ ও দধিবামন) প্রতাপপুরে অন‍্যত্র অবস্থান করছেন।শ্রীগৌর আবির্ভাব তিথিতে প্রতাপপুরে মহোৎসব হয়।(শ্রীক্ষেত্র, গৌড়ীয় মিশন)।*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৩০. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda130.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






১২৮. মহাপ্রভুর সঙ্গে রাজার মিলন👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda128.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১২৭. শ্রীপ্রতাপরুদ্রদেবের উদ্ধার 👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda127.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১২৮. মহাপ্রভুর সঙ্গে রাজার মিলন👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda128.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৮)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা*
*মহাপ্রভুর সঙ্গে রাজার মিলন*
******************************
*🌺রথযাত্রা এলো।রথযাত্রার পূর্বদিন মহাপ্রভু শ্রীগুন্ডিচা মন্দির মার্জন উৎসব সম্পন্ন করলেন।রথযাত্রার দিন ভক্তগণ সহ শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের বিজয়-উৎসব দর্শন করতে লাগলেন।রাজবেশ ত‍্যাগ করে প্রতাপরুদ্রদেব শ্রীমন্দির থেকে রথ পর্যন্ত শ্রীজগন্নাথ বিজয়-মার্গ সোনার ঝাড়ু দিয়ে মার্জন ও চন্দন জল দিয়ে ধৌত করে দিলেন।  রাজাকে এত দীন ভাবে শ্রীজগন্নাথদেবের সেবা করতে দেখে মহাপ্রভুর মনে কৃপার উদয় হল।*
*🌷উত্তম হঞা রাজা করে তুচ্ছ সেবন।*
*🌷অতএব জগন্নাথের কৃপার ভাজন।।*
*🌷মহাপ্রভু সুখ পাইল সে-সেবা দেখিতে।*
*🌷মহাপ্রভুর কৃপা হৈল সে-সেবা হইতে।।*
               *(চৈঃচঃমধ‍্য=১৩|১৭-১৮)*
*🌺অতঃপর রথে বসে শ্রীজগন্নাথ গুন্ডিচা যাত্রাকালে মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথের আগে চৌদ্দ সম্প্রদায় নিয়ে মহানৃত‍্য-গীত করতে লাগলেন।তা দেখে রাজার আনন্দের সীমা রইল না।মহারাজ স্বয়ং পাত্র-মিত্র নিয়ে লোকের ভিড় রক্ষা করতে লাগলেন।নৃত‍্য করতে করতে মহাপ্রভুপ্রতাপরুদ্রের সামনে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।অমনি প্রতাপরুদ্রদেব তাঁকে ধরে ফেললেন।কিছুক্ষণ পরে গৌরহরির বাহ‍্যদশা ফিরে এলে তিনি বুঝতে পারলেন, ভক্তগণের অসাবধানতা হেতু রাজা তাঁকে স্পর্শ করেছেন।মহাপ্রভু রাজার সেবায় অন্তরে খুশী হলেও বাহ‍্যে বলতে লাগলেন--,ছি-ছি রাজা আমাকে স্পর্শ করেছে। মহাপ্রভুর এ তাচ্ছিল্য ভাব দেখে রাজা একটু মনঃক্ষুন্ন হলেন।তখন সার্বভৌম পন্ডিত রাজাকে আশ্বাস দিয়ে শান্ত করলেন।রথ ক্রমে বলগন্ডি নামক স্থানে এলো। সেখানে ভক্তগণসহ মহাপ্রভু মহানৃত‍্য গীত করতে করতে প্রেমে মূর্চ্ছা প্রাপ্ত হলেন।এদিকে,বলগন্ডিতে জগন্নাথের ভোগের সময় হয়েছে দেখে ভক্তগণ মহাপ্রভুকে "জগন্নাথবল্লভ" উদ‍্যানে নিয়ে গেলেন এবং একবৃক্ষমূলে বেদিকার উপর শয়ন করিয়ে রাখলেন।কাননটির সৌন্দর্য্য ঠিক যেন বৃন্দাবনের।এ সময় সার্বভৌম পন্ডিতের পরামর্শে মহারাজ প্রতাপরুদ্রদেব বৈষ্ণব বেশ ধারণ করে সেখানে প্রবেশ করলেন এবং ভক্তগণের অনুমতি নিয়ে মহাপ্রভুর শ্রীপিদপদ্মের সেবা করতে করতে রাস পঞ্চাধ‍্যায়ের গোপী গীত শ্লোক মধুর স্বরে পাঠ করতে লাগলেন।*
*🌷শুনিতে শুনিতে প্রভুর সন্তোষ অপার।*
*🌷'বল, বল' বলি' প্রভু বলে বার বার।।*
*🌷"তব কথামৃতং" শ্লোক রাজা যে পড়িল।*
*🌷উঠি,প্রেমাবেশে প্রভু আলিঙ্গন কৈল।।*
*🌷তুমি মোরে দিলে বহু অমূল‍্য রতন।*
*🌷মোর কিছু দিতে নাহি দিলুঁ আলিঙ্গন।।*
☆           ☆            ☆           ☆           ☆
*'ভুরিদা' 'ভুরিদা' বলি' করে আলিঙ্গন।*
*🌷ইহোঁ নাহি জানে,--ইহোঁ হয় কোন জন।।*
*🌷পূর্ব্ব সেবা দেখি' তাঁরে কৃপা উপজিল।*
*🌷অনুসন্ধান বিনা কৃপা-প্রসাদ করিল।।*
             *(চৈঃচঃমধ‍্যঃ=১৪|৯-১৫)*
*🌹প্রতাপরুদ্রের প্রতি মহাপ্রভুর কৃপা দেখে ভক্তগণের আনন্দের সীমা রইল না।*
*🌳শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা করে মহাপ্রভু কটক মহানদীর কিনারে এলেন ও সাক্ষী-গোপাল দর্শন করলেন।সেখানে স্বপ্নেশ্বর নামক এক ব্রাহ্মণের গৃহে ভোজন করলেন এবং বকুলতলায় এসে বিশ্রাম করলেন।এ খবর পেয়ে মহারাজ প্রতাপরুদ্র তাড়াতাড়ি মহাপ্রভুর দর্শনে এলেন এবং দূর হতে মহাপ্রভুকে বহু স্তব স্তুতি করতে লাগলেন।*
*🌷তাঁর ভক্তি দেখি,প্রভুর তুষ্ট হৈল মন।*
*🌷উঠি,মহাপ্রভু তাঁরে কৈল আলিঙ্গন।।*
                   *(ঐ=১৬|১০৫)*
*🍀অতঃপর মহাপ্রভু রাজাকে কৃষ্ণ নাম উপদেশাদি করলেন।রাজার প্রতি এ কৃপা দেখে ভক্তগণ মহাপ্রভুর এক নাম দিলেন--,"প্রতাপরুদ্র সংত্রাতা"।*
*🔵সন্ধ‍্যায় যে ঘাটে মহানদী পার হয়ে মহাপ্রভু যাত্রা করবেন,সে ঘাটের পার্শ্বে হস্তী-পৃষ্ঠে রাজপরিবারবর্গ মহাপ্রভুকে দর্শনের জন্য সারি সারি দাঁড়ালেন।মহারাজ নূতন নৌকা নিয়ে পাত্র মিত্র সঙ্গে ঘাটে অবস্থান করতে লাগলেন।অতঃপর মহাপ্রভু নদী পারের জন্য ঘাটে এলেন,মহারাজ সাষ্টাঙ্গে গৌরহরিকে বন্দনা করে সজল-নয়নে নৌকা আরোহণের জন্য প্রার্থনা জানালেন।মহাপ্রভু রাজার প্রীতি দেখে প্রেমার্দ্র-হৃদয়ে তাঁদের করুণ দৃষ্টিপাত করতে করতে এবং তাঁকে আশীর্বাদ দিতে দিতে নৌকা আরোহণ করলেন।মহাপ্রভুর নৌকা আরোহণ দেখে রাজপরিবারবর্গ প্রেমে ক্রন্দন করতে লাগলেন।মহারাজ ধরাতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।সার্বভৌম পন্ডিত রাজাকে সাবধানে ধরে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন। "কৃষ্ণ কৃষ্ণ কহে নেত্রে অশ্রু বরিষয়"। "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে অঝোর নয়নে রাজা ক্রন্দন করতে লাগলেন।তখন মহারাজ প্রতাপরুদ্র শ্রীরামরায়কে বলে দিলেন--,শ্রীমনমহাপ্রভু যে যে ঘাটে নদী পার হবেন এবং বিশ্রাম করবেন,সে সে ঘাটে যেন তাঁর শ্রীচরণ স্মৃতি চিহ্ন-স্বরূপ স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।আমি নিত‍্য সে ঘাটে স্নান করব এবং এ দেহ অন্তিম সময়ে সেখানে ত‍্যাগ করব।*
*🌷তাঁহা স্তম্ভ রোপন কর "মহাতীর্থ" করি।*
*🌷নিত‍্য স্নান করিব তাঁহা,তাঁহা যেন মরি।।*
    *(শ্রীচৈঃচঃ মধ‍্যলীলা ষোড়শ অধ‍্যায়)*
      *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১২৯. মহাপ্রভুর সঙ্গে রাজার মিলন👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda129.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






১২৭. শ্রীপ্রতাপরুদ্রদেবের উদ্ধার 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda127.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১২৬. শ্রীপ্রতাপরুদ্রদেবের উদ্ধার 👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda126.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১২৭. শ্রীপ্রতাপরুদ্রদেবের উদ্ধার 👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda127.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২৭)শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা,*
     *শ্রীপ্রতাপরুদ্রদেবের উদ্ধার*
     ****************************
*🌷"আত্মা বৈ জায়তে পুত্রঃ" এই শাস্ত্রবাণী।*
*🌷পুত্রের মিলনে যেন মিলিলা আপনি।।*
*🌹এর পরে শ্রীরামরায় আর কোন আপত্তি করা প্রয়োজনীয় বলে মনে করলেন না।রামরায় এই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে রাজার কাছে গেলেন এবং এই সবকথা রাজাকে বললেন।তখন রাজা বললেন, "তাঁর যা আজ্ঞা, তা অবশ্যই পালনীয়। তিনি যেরকম ভাবে আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে ইচ্ছুক,তাইই করবেন, এ বিষয়ে আমার আর বেশী কথা কি হতে পারে?"*
*🍀রাজা তখন নিজ পুত্রকে শ্রীরামরায়ের হাতে অর্পণ করে মনে মনে ভাবতে লাগলেন "আজ আমি পুত্র হতে শ্রীভগবৎ কৃপালাভ করব, সৌভাগ্যক্রমে ভগবান আমায় এহেন রত্ন দান করেছেন তাই সাক্ষাৎ সম্বন্ধে না হোক, গৌণ ভাবেও আমি শ্রীভগবৎকৃপা পেলাম।হায় আমার এই বিষময় বিষয়, শ্রীগৌরাঙ্গ ভগবানকে দর্শন করার পরিপন্থী (প্রতিকূল) হয়ে দাঁড়াল।আজ যদি আমি রাজা না হয়ে ভিখারি হতাম, তাহাও আমার পক্ষে শতগুণে শ্রেয় ছিল।এদিকে শ্রীরামরায় মহারাজ প্রতাপরুদ্রের পুত্রকে মহাপ্রভুর সামনে উপস্থাপিত করে দিলেন। তার কৈশোর বয়স,বর্ণ শ‍্যামল,নয়নযুগল সুদীর্ঘ, ভাসা-ভাসা ও ঢল ঢল ; নাসিকা তিল ফুলের মতো,পরিধানে পীত পট্টবস্ত্র। প্রেমময় মহাপ্রভু প্রতাপরুদ্রের পুত্রকে দেখে আনন্দিত হলেন।তাঁর শরীর সহসা রোমাঞ্চিত হয়ে উঠিল,পুত্রটিকে দেখামাত্রই তাঁর হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণরূপের উদ্দীপনা হল,তিনি প্রেমানন্দে বিবশ হয়ে বললেন ঃ---*
*🌷এই মহাভাগবত,যাহার দর্শনে।*
*🌷ব্রজেন্দ্রনন্দন-স্মৃতি হয় সর্বজনে।।*
*🌷কৃতার্থ হইলাম আমি ইহার দর্শনে।।*
*🌹গৌরহরি এই বলেতাঁকে আলিঙ্গন করলেন।তাঁর প্রেমপূর্ণ আলিঙ্গন লাভে রাজপুত্রের সাত্ত্বিক বিকার উপস্থিত হল।বালক কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে নাচতে লাগলেন, রোদন করতে লাগলেন।বালকের এইরকম অদ্ভুত অষ্টসাত্ত্বিক-বিকার দেখে ভক্তমাত্রেই বিস্মিত হলেন।যাঁরা সূক্ষ্মদর্শী,তাঁরা বুঝলেন,এটি মহাপ্রভুর শক্তিসঞ্চারের ফল।প্রতাপরুদ্র পুত্র হতে প্রেমলাভ করবেন,প্রেমলাভ করে নবজীবন প্রাপ্ত হবেন এবং তৎপরে মহাপ্রভুর সঙ্গে মিলিত হবেন, এটিই মহাপ্রভুর ব‍্যবস্থা।এই ব‍্যবস্থাভঙ্গী মনে করে সূক্ষ্মদর্শী ভক্তগণ বুঝতে পারলেন প্রতাপরুদ্রের পরিত্রাণের আর বিলম্ব নাই।*
*🍀মহাপ্রভু রাজপুত্রকে সম্বোধন করে বলে দিলেন "তুমি প্রত‍্যহ আমাকে এসে দেখে যাবে তো?পুত্র মাথা নেড়ে স্বীকার করলেন। তখন রামরায় বললেন "গোসাঞীকে প্রণাম করে এখন ঘরে চলো"। রাজপুত্র তখনি শ্রীগৌরাঙ্গের কোমল রাতুল চরণে মস্তক রেখে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।মহাপ্রভু তাকে উঠিয়ে আলিঙ্গন করে বিদায় দিলেন,শ্রীরামানন্দ রাজপুত্রকে রাজার কাছে নিয়ে আসিলেন।*
*🌺রাজা, পুত্রের হাবভাব আকার প্রকার দেখে প্রতাপরুদ্রের ধারণা হল, তিনি যে পুত্রকে মহাপ্রভুর কাছে পাঠিয়েছিলেন, সে পুত্র বিষয়ীর পুত্র, কিন্তু এখন যে পুত্র পেলাম,এ পুত্রের সেই আকৃতি বটে, কিন্তু বর্ণ যেন শতগুণে সমুজ্জ্বল, নয়নে যেন এক অমানুষিক অদ্ভুত প্রেমপূর্ণ দৃষ্টি,কথাগুলি যেন সহস্রগুণে মধুর।পুত্রকে দেখে রাজার পুত্রস্নেহ হাজারগুণে বেড়ে উঠিল। তিনি প্রবৃদ্ধ  ( অত‍্যন্ত বয়স বা প্রবীণ) প্রেমবেগে পুত্রকে আলিঙ্গন করলেন।আলিঙ্গন করে স্তম্ভিত (বিস্ময়ে স্তব্ধ) হলেন,তাঁর বোধ হল যেন যুগযুগান্তরে সঞ্চিত, জন্মজন্মান্তরে সঞ্চিত-- হৃদয়তাপ মুহুর্তের মধ্যে দূরে চলে গেল।তাঁর হৃদয়ে এক অপূর্ব ভাব প্রকাশ পেল।এমন ভাব তিনি জীবনে আর কখনও অনুভব করেননি। প্রকৃতপক্ষে মহানন্দে তাঁর হৃদয় পূর্ণ হয়ে উঠিল।তাঁর দৃঢ়ধারণা হল যেন তিনি সাক্ষাৎ মহাপ্রভুর স্পর্শলাভে কৃতার্থ হয়েছেন।ফলে মহাপ্রভু প্রতাপরুদ্রের পুত্রকে আলিঙ্গন দ্বারা তার দেহে নিজ শক্তি সঞ্চারিত করে দিয়ে প্রতাপরুদ্রকে অনুগৃহীত ও মিলন-যোগ‍্য করে নিলেন।শ্রীরামরায়ের এই মিলন সাধনায় মহারাজ প্রতাপরুদ্র পরম উপকৃত হলেন এবং তাঁকে ধন‍্য ধন‍্য করতে লাগলেন।অতঃপরে অবশ‍্য কোনও সময়ে প্রতাপরুদ্র মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ স্পর্শলাভও করেছিলেন।*
*🌻প্রতাপরুদ্র উদ্ধার এখানেই রইল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১২৮. মহাপ্রভুর সঙ্গে রাজার মিলন👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda128.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৭৪. বক্রেশ্বরাষ্টক 🏵️ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/bokreshwar.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৭৩. বক্রেশ্বর-অষ্টক 🏵️ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/austok.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ৭৪. বক্রেশ্বরাষ্টক 🏵️ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/bokreshwar.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                               বক্রেশ্বরাষ্টক 
(১)
পবিত্র বিপ্রের কুলে উদয়ে যাঁহার,
প্রকাশিল পূৰ্ব্বপ্রভা অতুলনা তার।
বাল্য হ’তে অনুজনে দয়ার আধার,
নমি সেই বক্রেশ্বরে প্রাণেশ আমার।।

(২)
অশেষ শাস্ত্রের গূঢ়-মৰ্ম্ম-বিশারদ,
বিদ্যার্থি-বন্দিত যার পদ-কোকনদ ।
দয়া করি বিদ্যা দান করিলেন সার
নমি নেই বক্রেশ্বরে প্রাণেশ আমার ॥

(৩)
উদিত পাষণ্ড-পথ করি অপনীত,
শুনিয়া পণ্ডার কথা যতেক পণ্ডিত।
সার্থক পণ্ডিত নাম রাখিলেন যাঁর,
নমি সেই বক্রেশ্বরে প্রাণেশ আমার ॥


(৪)
চতুর্ব্বর্গ মুখ-আশা বৰ্জ্জন করিয়া,
নিরন্তর ঐকান্তিকী ভক্তি আচরিয়া।
লইলেন ভক্তিপথে নীচাত্মা সবার,
নমি সেই বক্রেশ্বরে প্রাণেশ আমার

( ৫)
আপন অভীষ্ট দেব শ্রীচৈতন্যে সদা,
একভাবে তোষি, যিনি ছিলেন একদ!
নৃত্যে ভোর তিন দিন আশ্চর্য্য প্রকার,
নমি সেই বক্রেশ্বরে প্রাণেশ আমার

(৬)
সহস্ৰ গন্ধৰ্ব্ব যদি সাথে গান করে,
নাচিয়া আনন্দ তবে এই আশা করে,
যাচিলেন প্রভু ঠাঁই তাই বারংবার,
নমি সেই বক্রেশ্বরে প্রাণেশ আমার ॥

(৭)
লোকহিতে আকুলিত অন্তর যাঁহার,
প্রভুমত করিলেন উৎকলে প্রচার ।
শত শত নরে আনিলেন বশে তাঁর;
নমি সেই বক্রেশ্বরে প্রাণেশ আমার


(৮)
যাঁহার চরণ লোকে করিয়া আশ্রয়,
পাইল বিশুদ্ধ ভক্তি, হরিপদাশ্রয়।
ভক্তিপ্রদ ভক্তবর সেই প্রেমাধার,
নমি প্রভু বক্রেশ্বরে প্রাণেশ আমার ॥

ফলশ্রুতি শ্লোকের অর্থ:-

যিনি বিশ্বস্তর দেবের পার্ষদশ্রেষ্ঠ শ্রীপণ্ডিত বক্রেশ্বরকে নীলমনি রচিত এই অষ্ট শ্লোকের স্তব দ্বারা শ্রদ্ধাসহকারে স্তব করিবেন। তাঁহার শ্রীবিশ্বম্ভরের প্রতি অতিশয় ভক্তি লাভ হইবে।

🙏🙏🙏🙏🚩🚩🚩🚩সম্পূর্ণ🚩🚩🚩🚩🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁ 👇📖 সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী 📖👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৭৩. বক্রেশ্বর-অষ্টক 🏵️ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/austok.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৭২. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/bokreshwar72.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ৭৩. বক্রেশ্বর-অষ্টক 🏵️ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/austok.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
প্রভু বক্রেশ্বর পণ্ডিতের একটী 'অষ্টশ্লোকী স্তব দেওয়া হইল। অষ্টকটী শ্রীমদ্ভাগবত শাস্ত্রে অদ্বিতীয় সুপণ্ডিত শ্রীনীলমণি গোস্বামী প্রভুর বিরচিত। এই অষ্টকটী সম্বন্ধে দুই একটা কথা বলা প্রয়োজন বোধ করিতেছি। জেলা মেদিনীপুরের মধ্যে কোন পল্লীগ্রাম-নিবাসী জনৈক পরিচিত ব্যক্তির নিকট হইতে শ্রীমদ্বক্রেশ্বর পণ্ডিত প্রভুর অষ্টশ্লোকী স্তোত্র-সম্বলিত একখানি লিপি প্রাপ্ত হই। সেই লিপিখানি দেখিয়াই বোধ হইল যে, উহা শব্দ-পতন ও বর্ণাশুদ্ধি প্রভৃতি দোষে অনেক স্থলে অশুদ্ধিপূর্ণ। মনে হইল যে, কোন কাব্যশাস্ত্র-বিশারদ ভাগবত গোস্বামী পণ্ডিতের দ্বারা অষ্টকটীর অশুদ্ধি শোধন করাইয়া লইয়া পাঠোপযোগী করিয়া রাখা উচিত। সে সময় সরকারি কাৰ্য্যে বিদেশে থাকা নিবন্ধন অনেক দিন পর্যন্ত আর তাহার কোন সুযোগ হইয়া উঠিল না। অবশেষে মনে পড়িয়া গেল যে, আমার একজন হিতৈষী সুহৃদ্ শ্রীপণ্ডিত প্রভু নীলমণি গোস্বামীর মন্ত্র-শিষ্য। আমার ঐ বন্ধুবর তৎকালে নিত্যধাম শ্রীবৃন্দাবনে সপরিবারে বাস করিতেছিলেন এবং নিয়ত ধৰ্ম্মচর্চ্চা ও ভক্তিচর্চ্চায় সার আনন্দ অনুভব করিতে ছিলেন। তাঁহার গুরুদেবও শ্রীবৃন্দাবনে বাস করিতেন। উক্ত প্রভুপাদের ‘কৃপাভিক্ষা মানসে আমার ঐ বন্ধুবরকে একথানি পত্র লিখিলাম এবং তৎসহিত ঐ অশুদ্ধ অষ্টকটীরও একখণ্ড অবিকল নকল পাঠাইয়া দিলাম। ঐ পত্রের উত্তরে উক্ত মহাত্মা গোস্বামী প্রভুর আমার প্রতি দয়ার কথা ভাবগত হইলাম। বন্ধুবর যে পত্র লিখিয়াছিলেন তাহাতে লেখা ছিল যথা—
“মহাশয়ের ( এই দীনাতিদীনের) প্রেরিত অষ্টকটী শ্রীযুত প্রভুপাদকে দেখান হইয়াছে । শ্রীযুক্ত প্রভুপাদ অষ্টকটী আদ্যোপান্ত পাঠ করিয়া বলিলেন যে, ইহাতে সংস্কৃত ভাষা দোষ-পূর্ণ, আর যে তূণকছন্দেঃ অবলম্বন করিয়া অষ্টক রচিত হইয়াছে, ঐ ছন্দও ঠিক হয় নাই।বিশেষতঃ ঐ তূণকছন্দে “বক্রেশ্বর” এই নাম বিলাস করা যাইতে পারে না । আপনার যদি অভিপ্রেত হয়, তবে শ্রীযুক্ত প্রভুপাদ শ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিতের একটী স্তব অন্য কোন ছন্দে রচনা করিয়া দিতে পারেন।”

এই' পত্র পাইয়া আমার মনে যে ভাবের উদয় হইল, তাহা বর্ণনাতীত! প্রভুপাদের এই দীনাতিদীন সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তির প্রতি এরূপ অসীম দয়া প্রকাশ জন্য মনে মনে শ্রদ্ধাসমন্বিত শত সহস্রবার উদ্দেশে তাঁহার শ্রীচরণে প্রণাম করিলাম। বলা বাহুল্য যে, প্রভুপাদের রচিত একটী অষ্টক প্রাপ্তির আশায়, বন্ধুবরকে পত্র লিখিলাম। কিছুদিন পরেই বন্ধুবরের একখানি পত্র ও তাহার মধ্যে গোস্বামী প্রভুর রচিত ঐ অষ্টকটী প্রাপ্ত হইলাম। বন্ধুবর ঐ পত্রে লিখিয়াছিলেন, যথা—“এক্ষণে অবসর পাইয়া শ্রীপাদ আপনার (এই সেবকাধামের) জন্য শ্রীশ্রী বক্রেশ্বর পণ্ডিতের একটা অষ্টক ইন্দুবংশা ছন্দে রচনা করিয়াছেন।

ইন্দু বংশা ছন্দ অতীব মধুর।” ঐ অষ্টকটী আমার নিত্যপাঠ্য এবং তাহাই এই অধ্যায়ে লিখিলাম ।

                                        অষ্টক
(১)
বিপ্ৰান্বয়ে পূর্ধ্বতনীং পবিত্রতামাবির্ভবন্নাবি-রভাবয়দ্ ভুবি।
যো বাল্যতঃ পাল্যজনানুকম্পকস্তং নৌমি বক্রেশ্বর-মীশ্বরং মম ॥

(2)
অশেষ-শাস্ত্রার্থ-রহস্য-কোবিদো, বিদ্যার্থিভির্বন্দিত-পাদ-পঙ্কজঃ ।
বিদ্যাং দদৌ যঃ সদয়ং দয়ার্দ্রধীস্তং নৌমি বক্রেশ্বর-মীশ্বরং মম ॥

(3)
উদ্দণ্ড-পাষণ্ড-পথাবখণ্ডিনীং যস্যৈব পণ্ডাং পরিচিত্য পণ্ডিতৈঃ ।
প্রীত্যাপিতা সার্থক-পণ্ডিতাভিধা, তং নৌমি বক্রেশ্বর-মীশ্বরং মম ॥

(8)
হিত্বা চতুৰ্ব্বর্গসুখাভিলাষিতামৈকান্তিকীং ভক্তিমভীক্ষ্ণমাচরন্ ।
যোহজীগ্ৰহজ্জাল্মমতীন্ জগজ্জনান্, তং নৌমি বক্রেশ্বরমীশ্বরং মম ॥

(৫)
শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্য-মভীষ্ট-মাত্মনঃ সন্তোষয়ন্ সম্ভত-মেকভাবতঃ ।
যোহহস্রয়ং জাতু ননৰ্ত্ত চিত্রধা তং নৌমি বক্রেশ্বর-মীশ্বরং মম ।।

(৬)
গায়ন্তি গন্ধবগণাঃ সহস্ৰশো নৃত্যামি চেত্তত্ৰ তদৈব মে সুখং।
দেহীতি যঃ প্ৰাহ মুহুর্মহাপ্রভুং তং নৌমি বক্রেশ্বর-মীশ্বরং মম ।।

(৭)
যেনোৎকলে লোকহিতোৎকচেতসা শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যমতং ব্যতন্যত।
নীতা নরাস্তদ্বশতাং পরঃশতা স্তং নৌমি বক্রেশ্বর-মীশ্বরং মম।।

(৮)
যৎপাদমাশ্রিত্য নরাঃ সহস্রশঃ শুদ্ধাং হরের্ভক্তি মবাপুরঞ্জসা।
ভক্তিপ্রদং ভক্তবরং মহাপ্রভোস্তং নৌমি বক্রেশ্বর-মীশ্বরং মম।।


                                    ফলশ্রুতি
যঃ স্তৌতি বক্রেশ্বরপণ্ডিতাভিধং বিশ্বস্য বিশ্বম্ভর-পার্ষদষভং ।
নৃত্যানয়া নীলমণি-প্ৰণীতয়া, বিশ্বস্তরে ভক্তিভরং লভেত সঃ।
অর্থ।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৭৪. বক্রেশ্বরাষ্টক 🏵️ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/bokreshwar.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁ 👇📖 সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী 📖👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৭২. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/bokreshwar72.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৭১. চতুর্ব্বিধ, রসের মধ্যে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ যে শৃঙ্গার রস 🚩 শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/bokreshwar71.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ৭২. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/bokreshwar72.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শাক্ত উপাসকগণ আদ্যাশক্তিরূপি পরব্রহ্মকে যে মাতৃ সম্বোধনে ভজনা করেন, তাহা বৈষ্ণবগণের পূর্বোক্তরূপ সম্পর্ক পাতাইয়া ভজনার মত সম্বোধন নহে। শাক্ত উপাদকের যে “মা,” তিনি ঐশ্বৰ্য্যময়ী, সমস্ত-জগজ্জননী; আর, বৈষ্ণব উপাসকের উপাস্য প্রভু তাঁহার নিজের প্রভু, বা সথা, বা পুত্র, বা পতি। তবে শ্রীচৈতন্যদেব যে রসাত্মক ভজন-প্রণালী প্রচার করিয়াছিলেন, তাহাতে তাঁহার পরবর্তী কালে কোন কোন শাক্ত সাম্প্রদায়িক সাধকও বৈষ্ণবদিগের উপাসনার আদর্শানুকরণে ভাবাবিষ্টচিত্তে আদ্যাশক্তির প্রতি ঐরূপ “মা” সম্পৰ্ক পাতাইয়া ভজনা করিয়াছেন। ভক্তপ্রবর রামপ্রসাদ সেন ঐরূপেই মাতৃসম্বোধন করিতেন। ঠিক পুত্রের নিজ জননীর নিকট যেরূপ আব্দার, তাঁহারও রচিত গীতগুলির মধ্যে এক একটী পদে ঐরূপ মাখামাখি পুত্রবং আব্দার দেখিতে পাওয়া যায় ও তদ্বারা তিনি যে কত বড় ভক্ত ছিলেন, তাহার পরিচয়ও প্রাপ্ত হওয়া যায় । শ্রীমন্মহাপ্রভু হইতে যে বৈষ্ণবসম্প্রদায়ের উৎপত্তির কথা
পূৰ্ব্বে বলা গিয়াছে, সেই নিমানন্দ সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিত। প্রভুর সকল রূপ অপেক্ষা সৰ্ব্বপূৰ্ব্ব যে শ্রীনিমাইরূপ, তিনি সেইরূপেই মুগ্ধ ছিলেন ও সেইরূপেই ঐ সম্প্রদায়ের উপাসনা নির্দিষ্ট হয় । নিমাই তাঁহার আনন্দ, এই জন্য তাঁহার প্রবর্তিত সম্প্রদায়ের নাম নিমানন্দ । শ্রীবক্রেশ্বর-প্রবর্ত্তিত সম্প্রদায়ের উপাসনা পদ্ধতিতে শ্রীনিমাইই শ্রীব্ৰজেন্দ্ৰনন্দন শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া ঠাকুরাণীই' ব্রজেশ্বরী শ্রীরাধিকা। এই সাম্প্রদায়িক বৈষ্ণবগণ যুগলরূপের উপাসক। শ্রীরাধাকৃষ্ণ তাঁহাদের উপাস্য দেবতা এবং ঐ উপাসনা শ্রীনিমাই-বিষ্ণুপ্রিয়া লইয়াও হইতে পারে। এই দীনাতিদীন অধমের ইষ্টদেব শ্রীপাদ যদুনাথ পাঠক গোস্বামী, ঐ নিমানন্দ সম্প্রদায়ভুক্ত বৈষ্ণব গোস্বামী ছিলেন এবং শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিত প্রভুর পঞ্চ শাখার মধ্যে শ্রীমদ্ গোপালগুরু গোস্বামীর পরিবারভুক্ত ছিলেন।
এই ভক্তিহীন পামরের গুরুপ্রণালীটীও লিপিবদ্ধ হইল । —
(১) শ্রীশ্ৰীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু, তস্য সেবক ও পার্ষদপ্রবর।

(২)শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিত গোস্বামী, তস্য সেবক।

(৩) শ্রীশ্রীগোপালগুরু গোস্বামী, তস্য অনুগত শিষ্য।

(৪) শ্রীগোবিন্দরাম পাঠক গোস্বামী, তস্য অনুগত শিষ্য।

(৫) শ্রীকৃষ্ণরাম পাঠক গোস্বামী, তস্য অনুগত শিষ্য।

(৬) শ্রীবলরাম পাঠক গোস্বামী, তস্য অনুগত শিষ্য।

(৭) শ্রীবিনোদমোহন পাঠক গোস্বামী, তস্য অনুগত শিষ্য।

(৮) শ্রীযদুনাথ পাঠক গোস্বামী।

এই যে পাঠক গোস্বামিগণের উল্লেখ করা হইল, তাহাদের বাসস্থান জেলা মেদিনীপুরের অন্তর্গত শ্রীপাঠ বলিহারপুর । ঐ শ্রীপাঠে অতি মনোহর শ্রীশ্রীগোবিন্দ দেব জীউর সেবা বিরাজমান। পাঠক-গোস্বামিবংশের সকলেই অতি দীর্ঘজীবী ছিলেন । সম্প্রতি এই সেবকাধমের ইষ্টদেবের পরলোকপ্রাপ্তির পর ঐ বংশের আর কেহহ পুরুষ জীবিত নাই। শ্রীশ্রীগোবিন্দ জীউর সেবার ভার শ্রীপাদ মদীয় ইষ্টদেবের একটা বালিকা বিধবা ভ্রাতুষ্পুত্রীর উপরই ন্যস্ত হইয়াছে। এই জন্য প্রধান প্রধান শিষ্যমগুলীর পরামর্শমতে জনৈক সম্বংশজাত জ্ঞানবান্ নিষ্ঠাবান্ ব্রাহ্মণযুবককে শ্রীশ্রীবিগ্রহের সেবাধিকারী করা হইয়াছে। তিনি নীলাচলের মঠের আশ্রমধারী মোহান্তের নিকট হইতে দীক্ষা গ্রহণ করিয়া ঐ সম্প্রদায়ভুক্ত বৈষ্ণব হইয়া অতি নিষ্ঠার সহিত সেবা কার্য্য নির্ব্বাহ করিতেছেন। শিষ্যমগুলীর আর তাঁহাকে গোস্বামী বলিয়া স্বীকার করিতে এবং তাঁহার নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিতে কোন আপত্তি হইতে পারে না।

এই অভিলাষ মনে--      গৌরাঙ্গচাঁদের গুণে
              মাতিয়া বেড়াই দিবানিশি ।
লক্ষ্মী-বিষ্ণুপ্রিয়াসঙ্গ।      নদীয়া-বিহাররঙ্গ,
              সে সুখ-সায়রে যেন ভাসি ৷৷
                      (ভক্তিরত্নাকর )
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৭৩. বক্রেশ্বর-অষ্টক 🏵️ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🏵️ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/austok.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁ 👇📖 সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী 📖👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীশ্রীমদনমোহনদেবের ইতিহাস ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madan.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীশ্রীমদনমোহনদেবের ইতিহাস ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madan.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(শ্রীশ্রীমদনমোহনদেবের ইতিহাস)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🦚সত‍্যযুগে মহারাজ শ্রীঅম্বরীষ এই শ্রীমদনগোপাল দেবের সেবা করতেন। ক্রমান্বয়ে দেবরাজ ইন্দ্র ও লঙ্কাধিপতি রাবণের হস্তগত হয়।লঙ্কা বিজয়ের শ্রীরামচন্দ্র শ্রীজানকী দেবীকে দেন।শ্রীশত্রুঘ্ন লবণাসুরকে ধ্বংস করবার জন্য যুদ্ধ যাত্রাকালে এইমূর্তি সঙ্গে করে মথুরায় আসেন।শ্রীবিগ্রহ সেই জায়গাতেই থেকে যায়। শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য শ্রীবৃন্দাবনে এসে আদিত‍্যটীলার মাটিরতল হতে উদ্ধার করে মথুরার চৌবেদের হাতে দিয়ে বঙ্গে চলে আসেন।শ্রী সনাতন গোস্বামী সেখান হতে প্রাপ্ত হন।*
*🌻এ সম্বন্ধে শ্রীব্রজবাসীগণের প্রবাদ এই যে, শ্রীমদনমোহনজীউ শ্রীমথুরায় শ্রীদামোদর চৌবে মতান্তরে শ্রীপরশুরাম চৌবে (চতুর্বেদী)নামক চৌবে ব্রাহ্মণদের গৃহে ব্রাহ্মণ বালকদের সঙ্গে খেলা করতেন।শ্রীপাদ সনাতন শ্রীবৃন্দাবন হতে দৈনিক মাধুকরী ভিক্ষার জন্য মথুরায় যেতেন। একদিন দেখেন নিজপ্রভু শ্রীমদনমোহন খুব আনন্দে খেলার সঙ্গীদের সাথে খেলা করছেন।প্রাণ ভরে দর্শন করে সেই আবেশে তন্ময় বা বিভোর হয়ে শ্রীসনাতন শ্রীবৃন্দাবনে নিজ ভজনকুটীরে আসিলেন এবং রাত্রিতে স্বপ্নে মদনমোহন বলছেন--, সনাতন!তুমি চিন্তা করিও না,আমি শীঘ্রই তোমার কাছে চিরদিনের জন্য আসিব। আমি যাঁদের বাড়ীতে খেলা করি, আগামীকাল হতে তাঁদের বাড়ীতে খুব ব‍্যারাম বা ব‍্যাধি দেখা দিবে ; এবং আমি তোমাকেই সেই ব‍্যাধির বৈদ‍্যরাজ বলে তাঁদেরকে স্বপ্ন দিব। তাঁরা তোমার কাছে আসিলে তুমি যা দিবে এবং যা বলবে,তাঁদের তাতেই বিশ্বাস হবে  ও সকলের ব‍্যাধি নিরাময় হবে।তারপর তাঁরা শ্রদ্ধা করে তোমাকে যখন কিছু প্রণামী দিতে আসবেন, তখন প্রণামীর পরিবর্তে তুমি বলবে--, আপনাদের একটি বালক আমাকে দেন,আমি তাঁর সেবা প্রাণ ভরে করিব এবং সময়মত আপনাদের গৃহে যাবে।তাতে তারা খুবই সন্তুষ্ট হয়ে কোন্ বালক নির্ণয় করতে বললে--, যাঁর বদনকমলের সামনে ভ্রমর পুনঃ পুনঃ গুঞ্জন করছে দেখবে, সেই আমাকে চেয়ে নিবে।পুনরায় পরীক্ষার জন্য তাঁরা যখন তোমার চোখ কাপড় দিয়ে ভালভাবে বেঁধে দিয়ে অনেক ব্রজবালকের মধ‍্য হতে বেছে নিতে বলবেন, তখনও এইরকম অনুমান করবে এবং আমি স্বয়ং তোমার কাছে অগ্রসর হয়ে তোমার কোলে উঠিব।তখন আর অন‍্য কোন বালকই আসবে না। এইরকম হলে আর কোনরকম কথায় কারও বলবার থাকবে না।পরে তোমার নিকট আসিলে যা হবার ক্রমান্বয়ে হবে।এইসব কথা তুমি মনে রাখবে, আর কাউকেও বলবে না।রাত্রি প্রভাত হলে সনাতন সেই কথামত তাড়াতাড়ি সেই জায়গায় গিয়ে নিজ প্রাণ সর্বস্ব মদনগোপালের নয়ন কমলে দৃষ্টিপাত করা মাত্রই যেন বুঝতে পারলেন যে,রাত্রির স্বপ্নযোগের সমস্ত কথায় সত‍্য এবং চক্রধারী শ্রীশ্রীমদনমোহন এইরকম ভঙ্গী করে সনাতনের কাছে এসে প্রেমসেবা গ্রহণ করতে থাকলেন।*
*পরের অংশ, আস্বাদন করুন।*
*🌳শ্রীযমুনা হতে প্রায় পঞ্চাশ ফুট উচ্চ আদিত‍্য টীলা।(শ্রীকৃষ্ণ শ্রীযমুনাগর্ভে কালিয়দমন লীলা করবার পর যখন শ্রীযমুনা হতে উপরে উঠে আসেন তখন তাঁর শীত নিবারণ করবার জন্য সূর্য‍্যদেব দ্বাদশ মূর্তিতে প্রকাশিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের শ্রীঅঙ্গে তাপ দান করেন এবং সেই তাপে শ্রীকৃষ্ণের শীত নিবারণ হবার পর শ্রীঅঙ্গ হতে ঘাম বের হয়ে যমুনায় পড়ে।এই জন্য এই টীলার নাম আদিত‍্যটীলা (আদিত‍্য=সূর্য‍্য) ও ঘাটের নাম প্রস্বন্দন (ঘাম) তীর্থ।এই আদিত‍্যটীলার পাদদেশেই শ্রীমদনগোপালের ঘাট লুপ্ত হয়েছিল। শ্রীবৃন্দাবনবাসী পন্ডিত শ্রীমৎ কিশোরীদাস বাবাজী মহাশয়ের সেবা চেষ্টায় বর্তমানে সেই ঘাটের পরমানন্দ ভট্টাচার্য্য শ্রীপাদ রূপ-সনাতনের ভক্তিশাস্ত্র শিক্ষাগুরু। ইনি বৃন্দাবনে বংশীবটে শ্রীগোপীনাথ বিগ্রহ পেয়ে শ্রীমধু পন্ডিতকে সেই সেবা সমর্পণ করেন।(সাধন দীপিকা ও ভঃরঃ ২|৪৭৫--৭৬ দেখুন) শ্রীসাক্ষীগোপাল= উড়িষ‍্যাবাসী ছোটবিপ্র ও বড়বিপ্রের সাক্ষী দেওয়ার জন্য শ্রীবৃন্দাবন হতে পদব্রজে উড়িষ‍্যায় সাক্ষীগোপাল সত‍্যবাদী গ্রামে গিয়ে বিরাজ করছেন)।*
*এই আদিত‍্য টীলার উপর শ্রীমন্দির তার উচ্চতা প্রায় ষাট ফুট হবে।উত্তরদিকের নাট‍্যমন্দিরের দরজায় "সম্বৎ ১৬৮৪ বৎসর শ্রাবণ,বা ১৬২৭ খৃষ্টাব্দ লেখা আছে।পুরাতন মন্দিরের পেছনদিকের অপেক্ষাকৃত নিম্ন-ভূমিতে একটি লাল পাথরের ছোট কুঠরী ঘর শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামীর ভজন কুটীর বলে দর্শন হয়।কাছেই শ্রীপাদ সনাতনের সমাধি ও কূপ বতর্মান আছে।তার পার্শ্বেই নূতন শ্রীমন্দিরে প্রতিনিধি শ্রীবিগ্রহগণ অবস্থান করে সেবা-স্মৃতি রক্ষা করছেন।কথিত হয় যে =শ্রীমদনমোহনজীউ বঙ্গদেশীয় শ্রীনন্দকুমার বসু মহাশয়কে স্বপ্নাদেশ করে শ্রীশ্রীবৃন্দাবনে বতর্মান নূতন শ্রীমদনমোহন,শ্রীগোবিন্দ,শ্রীগোপীনাথ মন্দির নির্মাণ করিয়ে সেখানে প্রতিনিধি শ্রীবিগ্রহরূপে স্ব স্ব মন্দিরে অবস্থান করে সেবা গ্রহণ করছেন এবং জগদ্ বাসীকে দর্শন দান করে উদ্ধার করছেন।*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 প্রথম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/gauranga1.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত🙏*
 *যজ্ঞোপবীত ও পিতৃ বিয়োগ*
  ***************************
*🌻বর্তমানে নিমাইয়ের বয়স নবম বৎসর।পিতা জগন্নাথ, পুত্রের উপবীত দিবার দিন ধার্য‍্য করলেন।ক্ষৌরকার নিমাইয়ের মস্তক মুন্ডন করে দিলে, তাঁকে লাল রঙের বস্ত্র পরান হল ; এবং তাঁর হাতে দন্ড ও স্কন্ধে বা কাঁধে ঝুলি দেওয়া হল।এই ব্রহ্মচারীর বেশে তাঁকে সাজানো হল। তখন তাঁর অন্তরের ও বাইরের জ‍্যোতিঃ যেন ফুটে বাহির হতে লাগল। এই উপলক্ষ্যে জগন্নাথ-পরিবারের অনেক আত্মীয় স্বজন ব‍্যক্তিগণ নিমন্ত্রিত হয়ে জগন্নাথ গৃহে এসেছিলেন।শচীমায়ের যেন আনন্দের সীমা নেই। অনেক নারী আজ সমবেত হয়ে আনন্দ কোলাহল করতে লাগলেন।শচীগৃহ উৎসবময় হয়ে উঠিল।মৃদঙ্গ, সানাই প্রভৃতি বাদ‍্য বেজে উঠল।বাদকেরা নেচে নেচে বাদ‍্য বাজাতে লাগিল। সানাই মোহনসুরে ধ্বনি ধরিল ; চারিদিকে আনন্দ-কোলাহলে যেন মুখরিত হয়ে উঠিল।এদিকে শ্রীগৌরের মোহনমূর্তি কত লোক নয়ন ভরে দেখতে লাগল, আর যেন মনে মনে এই কথা বলতে লাগল, এমন দেবতুল‍্য,এমন রূপবান, ব্রাহ্মণকুমার আর তো কোথাও দেখিনি। এই উৎসবময় গৃহে যজ্ঞসূত্র ধারণের সময়  উপস্থিত হল।গৌরের পিতৃদেব সন্তানের কর্ণে গায়ত্রী মন্ত্র প্রদান করলেন।নবদ্বীপে হাজার হাজার বালকের কানে গায়ত্রী মন্ত্র প্রদান করা হয়েছে ; কিন্তু বিশ্বম্বরের কানে সে বৈদিক মন্ত্র প্রদান করা হলে,এক নূতন ঘটনা উপস্থিত হল,মন্ত্র দেওয়া মাত্রই, তাঁর শরীরে যেন এক বৈদ‍্যুতিক শক্তি সঞ্চারিত হল।নিমাই হুঙ্কার করে উঠিলেন ; তাঁর বদনমন্ডল এক অপূর্ব শ্রী ধারণ করল, তাঁর চক্ষু যেন কি এক মনোহর মূর্তি দর্শন করতে লাগল।মন্ত্র-দীক্ষিত নিমাই সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।*
*🌹তাঁর এইসব লক্ষণ দেখে,সমবেত পন্ডিতমন্ডলী বলতে লাগলেন, এ বালক সামান্য বালক নহেন,এঁর শরীরে শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছেন।কিছুক্ষণ পরে নিমাইয়ের জ্ঞানোদয় হলে, তিনি শচীদেবীকে বললেন, মা! একাদশীর দিন তুমি অন্ন আহার করিও না। জননী নিমাইকে সেইসময় সামান্য সন্তান বলে মনে করেননি।পুত্রের শ্রীমুখ হতে এইকথা শোনামাত্র, তিনি তৎক্ষণাৎ বললেন, "হ‍্যাঁ বাপ, তুমি যা বললে আমি এবার হতে,তোমার কথা অনুসারেই কাজ করব।*
*💧ব্রাহ্মণ‍্যধর্মের নিয়ম অনুসারে তাঁকে কয়েকদিন নির্জন জায়গায় বাস করতে হয়েছিল।এ অবস্থায় তাঁর রূপলাবণ‍্য যেন আরো বৃদ্ধি হতে লাগিল। তাঁর আত্মা ভগবানের জ‍্যোইতে জ‍্যোইষ্মান হয়ে উঠিল।একাদশ দিনে তিনি যখন ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে করে,সকলের কাছে ভিক্ষাপ্রার্থী হলেন,তখন পুরুষ ও নারী, যার যতটুকু সাধ‍্য তারা সেই ঝুলির মধ্যে প্রদান করতে লাগলেন। এমন সময়ে, এক ব্রাহ্মণ সেই ঝুলির মধ্যে একটি সুপারী ফেলে দিলেন।সুপারীটি বাহির করে, নিমাই সেই সুপারীটি চিবিয়ে ভক্ষণ করলেন।ভক্ষণ করিবামাত্র, তিনি হুঙ্কার রবে গর্জন করতে লাগলেন,তারপর মাকে বললেন,মা! আমার এই শরীর পড়ে রইল দেখিও, আমি চললাম। এইকথা বলবার পরই তিনি জ্ঞানহারা হয়ে ভূমিতে পড়ে গেলেন।শচীমা এই কথায় বেশ অবাক হলেন, কথার মানে বুঝতে পারলেন না।তারপর তাঁর চৈতন‍্য পেরাবার জন্য তাঁর সমস্ত অঙ্গ গঙ্গার শীতল জল দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হল। ভেজানোর পর গৌরহরি চেতনা লাভ করলেন। তখন তাঁর ঐ ভাবাবেশ দূরীভূত হলে,শচীনন্দন গৌরহরি সহজ বালকের অবস্থা প্রাপ্ত হলেন।গৌরহরির এই অবস্থা দেখে, সকলে বলতে লাগলেন--,শ্রীকৃষ্ণ এই বালকের দেহে আশ্রয় করেছিলেন।উপনয়ন কার্য‍্য সম্পন্ন হয়ে গেল। কিন্তু জগন্নাথ মিশ্রের মনে বিশ্বরূপের সন্ন‍্যাসের পর হতেই কেমন এক আশঙ্কার উদয় হত ; এবং ইতিঃপূর্বে নিমাইয়ের নিদ্রিত অবস্থায় বিশ্বরূপের আবির্ভাব, ও তদীয় ভাইকে বৈরাগ‍্য অবলম্বন করতে অনুরোধ ; যজ্ঞোপবীতের পর নিমাইয়ের এই ভাবাবেশ ও প্রহেলিকাপূর্ণ (এখানে প্রহেলিকাপূর্ণ বলতে,যে রচনায় বাহ‍্য অর্থের আবরণে স্বরূপার্থ গূঢ়ভাবে অবস্বিতি করে, বা এককথায় হেঁয়ালী)কথাবার্তার বিষয় মনে উদিত হয়ে,তাঁর চিত্তকে আলোড়িত করে তুলল।তিনি পুত্রকে কাছে বসিয়ে পড়াতেন, আর তাঁর অনুপম মুখের সৌন্দর্য্য দেখতে দেখতে মনে করতেন, নিমাই কি আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবে? আর নীরবে বসে অশ্রুপাত করতেন।একদিন ব‍্যাকুল হৃদয়ে, রঘুনাথ ঠাকুরের কাছে প্রণাম করে বললেন, "ঠাকুর"! আমার পুত্র যেন সন্ন‍্যাসী না হয়। বিশ্বম্ভর তখন একটু দূরে ছিলেন, পিতা মিশ্র মহাশয় তা জানতেন না। নিমাইয়ের কানে পিতার প্রার্থনা প্রবেশ করল।তিনি পিতার এই প্রার্থনা শুনে দূর হতেই ঈষৎ হাসিলেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🦚🪷🪷🪷🪷🪷🪷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত🙏*
      *নিমাইয়ের পিতৃবিয়োগ*
       **********************
*🌻মানুষের মনে যখন যে চিন্তা প্রবল হয়,তখন আহারে, বিহারে, শয়নে, স্বপনে সেটি তার মনকে অধিকার করে বসে।নিমাই সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করবে,এই চিন্তাই জগন্নাথ মিশ্রের মনকে প্রবলভাবে অধিকার করে বসেছিল।তিনি একদিন স্বপ্ন দেখলেন, গৌরের মস্তক মুন্ডিত, মধ্যে একটি শিখা শোভা পাচ্ছে ; গৈরিক বসন পরিহিত ;হাতে দন্ড ও কমন্ডলু, মুখে এক অপূর্ব জ‍্যোতিঃ নির্গত হচ্ছে, গৌর সন্ন‍্যাসীর বেশে সজ্জিত হয়ে,সংসার পরিত‍্যাগ করে চলে যাচ্ছেন।তাঁর নিদ্রা ভঙ্গ হ'ল, আর নয়নজলে তাঁর বক্ষ ভেসে গেল।তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে শচীকে স্বপ্ন বৃত্তান্ত বললেন। শচীদেবী দেখলেন,স্বামীর হৃদয় যেন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে, তিনি তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, নিমাই আমার সদাসর্বদা পাঠে রত থাকে, নিমাই আমার এমনটি করতে পারে না।সে কেন আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবে? আপনি আপনার মন থেকে স্বপ্ন কথা মুছে ফেলুন।দিন যেতে লাগল, মিশ্র মহাশয় বৃদ্ধ হয়েছেন।তিনি পীড়াগ্রস্ত হয়ে পড়লেন, কিছুতেই মন থেকে স্বপ্নের কথা মুছে ফেলতে পারলেন না।সেই পীড়াতেই তাঁর দেহান্তের সব লক্ষণ প্রকাশ পেল।তিনি আর চলাফেরা করতে পারছেন না,তখন মৃত‍্যু আসন্ন দেখে জগন্নাথ মিশ্রকে গঙ্গাতীরস্থ করবার আয়োজন করা হলে, নিমাই কেঁদে আকুল হয়ে পড়লেন এবং জাহ্নবী-তীরে গমন করে পিতৃদেবের মৃত‍্যুশয‍্যার কাছে বসলেন, এবং কাঁদতে কাঁদতে বললেন, বাবা!আমাদের ফেলে তুমি চলে গেলে, আমাদের আর কে দেখবে?তখন নিমাইয়ের কথা শুনে পুরন্দর মহাশয় হয়ত শেষবারের মত স্নেহভরে আলিঙ্গন করলেন ; এবং নিমাইয়ের চন্দ্রবদন দেখতে লাগলেন।হয়ত পিতা-পুত্রের এই শেষ দেখা। পুরন্দর মিশ্র বিষ্ণুনাম উচ্চারণ করতে করতে চিরদিনের জন্য চক্ষু বুজিলেন। জগন্নাথ পরলোক গমন করলে,শচীমা পুত্রকে নিয়ে যেন অকুল সাগরে ভাসতে লাগলেন। পরিবার প্রতিপালনের জন্য তিনি কিছুই ধন সম্পত্তি রেখে যেতে পারেননি।একদিকে পতিবিরহ,অপর দিকে সাংসারিক কষ্ট,এতে শচীমায়ের দেহ মন ভেঙ্গে পড়ল। তবু,এত কষ্টের মধ্যেও, তাঁর একটু সান্ত্বনা ছিল, সে সান্ত্বনা কেবল নিমাইয়ের মুখ দর্শন।নিমাই যখন মা বলে ডাকতেন তিনি তিনি সব কষ্ট ভুলে যেতেন।এ সংসারে নিমাই ছাড়া যে তাঁর আর কেউই ভালবাসার পাত্র ছিল না। স্বামী নাই,আর অন‍্য পুত্র কন‍্যা কেউই নাই,এইজন‍্য তাঁর সকল স্নেহ ও ভালোবাসা তাঁর একমাত্র পুত্র গৌরচন্দ্রেতেই বদ্ধমূল হয়ে পড়েছিল। তাই শচীমা নিমাইয়ের সকল আবদারই সহ‍্য করতেন।নিমাই যদি রাগ করে সংসারের কোন বস্তু অপচয় করতেন, শচীমা নিমাইকে কোন তিরস্কার বা প্রহার করতেন না।*
*🌻একদিন নিমাই বিষ্ণুপূজা করবার জন্য মায়ের কাছে মালা চাইলেন ; মা মালাকারের নিকট হতে মালা আনতে যাবেন বলাতে, নিমাই যেন হঠাৎ রাগে অধীর হয়ে উঠলেন, এবং এতক্ষণ মালা আনা হয়নি বলে, লাঠি হাতে নিয়ে ঘরের সমস্ত জিনিস ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেললেন।চাল,ডাল,লবণ প্রভৃতি ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে ফেললেন।ঘি, তেলের ভান্ড ভেঙ্গে ফেলাতে, ঘি তেল চারিদিকে গড়িয়ে পড়ল। কেবল ঐসব জিনিস নষ্ট করেই ক্ষান্ত হলেন না, ঘরের দেয়ালের অধিকাংশ জায়গার মাটি পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেললেন।অবশেষে ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে নিদ্রায় অভিভূত হয়ে পড়লেন।নিমাই যখন ক্রোধপরবশ হয়ে লাঠি হাতে নিয়ে ঘরের দ্রব‍্যাদি ভাঙ্গছিলেন,তখন শচীমা দূরে ছিলেন, না জানি কি হতে কি হয়।এখন পুত্র নিদ্রাভিভূত হলে, ধীরে ধীরে কাছে এসে,স্নেহভরে নিমাইয়ের গায়ে হাত বুলাতে লাগলেন।ইতঃপূর্বেই মালাকারের কাছ হতে মালা এনে রেখেছিলেন।শচীমা তাঁর প্রাণসম পুত্রের গায়ে হাত বুলাতে বুলাতে বলতে লাগলেন, "বাপ! এই মালা নে, আর বিষ্ণুপূজা কর।নিমাইয়ের ঘুম ভেঙ্গে গেল,তিনি দেখলেন,পুত্রবৎসলা শচীমদেবী তাঁর পার্শ্বে বসে তাঁর গায়ে হাত বুলাচ্ছেন। নিমাই মায়ের হাত থেকে মালা নিয়ে, গঙ্গাস্নান করতে গেলেন, এবং আপনার ইষ্টদেবতার পূজা করে গৃহে ফিরে এলেন।যখন আহার করতে বসলেন, তখন শচীমা মিষ্টবাক‍্যে ক্রোধের বিষয় উল্লেখ করে বললেন, বাপ!রাগ করে কি নিজের ঘরের জিনিস এইরকম ভাবে নষ্ট করতে হয়, আমাদের ঘরে আর অন্নের সংস্থান নাই। তখন নিমাই মায়ের কথায় নিজের ক্রোধের জন্য অত‍্যন্ত লজ্জিত হয়ে মাথা নিচু করে রইলেন। কিন্তু সংসারের অভাবর জন্য তাঁকে চিন্তা করতে নিষেধ করলেন।*
*🌹কথিত আছে,সেদিন সন্ধ‍্যাকালে অধ‍্যয়ন-স্থান হতে বাড়ী আসবার সময়,তিনি কিছু সময়ের জন্য জাহ্নবী তটে গমন করেন, এবং সেখান হতে দুই তোলা সোনা এনে মাকে তা প্রদান করেন।এইরকমে সময়ে সময়ে সংসারের অভাব হলে,তিনি মাকে সোনা এনে দিতেন, মা কিছুতেই বুঝতে পারতেন না কারণ কি!*
*🌳জগন্নাথ মিশ্রের পরলোক গমনের পর, শচীমা শোকে অভিভূতা হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সন্তানের জন্য তিনি সে শোকের আবেগ সম্বরণ করতেন।তিনি জানতেন যে,নিমাইয়ের হৃদয় অতি কোমল ও স্নেহপ্রবণ ; তিনি স্বামী শোকে অধৈর্য‍্য হয়ে ক্রন্দন করলে,নিমাইয়ের মনে পিতৃশোক উদ্দীপ্ত(উত্তেজিত) হয়ে তার মনকে চঞ্চল করে তুলবে।এই পতিপ্রাণা শচীদেবী তাঁর এই একমাত্র পুত্রের মুখ দেখেই শোকাবেগ হৃদয়েই আবদ্ধ করে রাখতেন।*
*🌲কিন্তু স্বাভাবিক গতিকে একেবারে কে রোধ করতে পারে? সময়ে সময়ে তাঁর ধৈর্য‍্যের সীমা অতিক্রম করে সে বেগ উথলিয়ে উঠত, শচীদেবী তখন কেঁদে আকুল হতেন।তখন নিমাই মাকে অনেক সান্ত্বনা দিতেন, আর বলতেন,মা! যিনি সকলের অভাব মোচন করেন,তিনিই আমাদের দেখবেন।শচীমা পুত্রের মুখ হতে মধুর ধর্মবিশ্বাসের কথা শুনে, নিজের চোখের জল মুছে স্বাভাবিক হতেন। আর তাঁর এই নয়নমণিকে কোলে নিয়ে,সেই চাঁদবদনে চুম্বন করে,প্রাণে শান্তি অনুভব করতেন।*
    🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা🙏*
             *অধ‍্যয়ন ও অধ‍্যাপনা*
            ***********************
*🌺গৌরহরির পিতার শ্রদ্ধাক্রিয়া করলেন।পুরন্দর মিশ্র পরলোক গমনের পূর্বেই নিমাইকে শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিতের চতুষ্পাঠীতে ভর্ত্তি করে দিয়েছিলেন।গৌরহরি এখন আবার পাঠের জন্য গঙ্গাদাসের নিকট গমন করলেন।গঙ্গাদাস পন্ডিত ব‍্যাকরণে নবদ্বীপের মধ্যে অদ্বিতীয় ছিলেন ; তাঁর খ‍্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।পুরন্দর মিশ্র পরলোক গমন করলে, শচীদেবী তাঁর(গঙ্গাদাস পন্ডিতের) বাড়ীতে গমন করেন, এবং গৃহের এক পার্শ্বে দাঁড়িয়ে পিতৃহীন নিমাইয়ের প্রতি স্নেহদৃষ্টি রেখে,তার শিক্ষা দানে মনোযোগী হন, এ বিষয়ে তাঁকে অনুরোধ করেন। গঙ্গাদাস শচীমায়ের কথা শুনে বললেন, "নিমাইয়ের মতো ছাত্র পেয়ে তিনি পরম সুখী হয়েছেন ; এইরকম ছাত্র পেয়ে তিনি নিজেকে পরম সৌভাগ্যশালী বলে মনে করে থাকেন।শচীমা অধ‍্যাপকের মুখ হতে এইরকম কথা শুনে খুবই আনন্দ পেলেন এবং স্বগৃহে ফিরে আসিলেন।*
*🌹নিমাই কেবল যে তাঁর জননীর আদরের দুলাল,তা নয় ; নিমাইকে সকলেই ভালবাসতেন।তাঁর মুখ দেখলেই লোকের চিত্ত আকৃষ্ট হত।গঙ্গাদাস পন্ডিত কি এমন ছাত্রকে ভাল না বেসে থাকতে পারেন?তাঁর চিত্তহারী রূপ দেখে তিনি তো মুগ্ধ হতেনই,তার উপরে তাঁর অসাধারণ বুদ্ধি,অদ্ভুত স্মৃতিশক্তি দর্শন করে, তিনি সময়ে সময়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়তেন।তিনি নিজের সন্তানের মত গৌরহরিকেও ভালবাসতেন। গঙ্গাদাস পন্ডিতের চতুষ্পাঠীতে শ্রীমুরারি গুপ্ত পাঠ করতেন।মাঝে মধ্যেই তাঁর সঙ্গে তর্ক বেঁধে যেত। মুরারি নিমাইয়ের অপেক্ষা বয়সে অনেক বড় ছিলেন, কিন্তু তিনি এই প্রতিভাশালী বালকের কাছে পরাস্ত হতেন।নিমাই হেসে বলতেন,যাও,যাও লতা-পাতা নিয়ে থাকো,ব‍্যাকরণে বুৎপত্তি লাভ করা সামান্য নয়।এইসব কথা বলে, নিমাই তাঁর সঙ্গে হাসিতামাসা করতেন, আর হাসতে হাসতে প্রেমের সঙ্গে তাঁর গায়ে হাত দিতেন, মানে রঙ্গরস করতেন।সে সুকোমল হাতের স্পর্শে মুরারির শরীর যেন আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠিত।তিনি নিমাইয়ের সেই মনোহর মুখখানি অনিমিষ নয়নে চেয়ে থাকতেন, আর বলতেন, এ বালক কি নরলোকের, না কোন দেবলোকের?*
*☘নিমাই মায়ের কথা মনে করে,অতি মনোযোগের সঙ্গে পাঠ করতে আরম্ভ করলেন।তিনি ব‍্যাকরণে, চতুষ্পাঠীর সব ছাত্রের মধ্যে উচ্চ স্থান অধিকার করলেন।এই ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ব‍্যাকরণের একখানি টিপ্পনী লিখতে আরম্ভ করেন।তাঁর এই টিপ্পনীর সাহায্যে চতুষ্পাঠীর অনেক ছাত্র বিশেষ উপকৃত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন সে টিপ্পনীর কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না। যাইহোক,নবদ্বীপের চতুষ্পাঠীর ছাত্রেরা গঙ্গায় স্নান করতে গিয়ে,শাস্ত্রাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন।নিমাই তর্ক যুদ্ধে কেশরী (প্রধান) ছিলেন। তিনি স্নানের সময় অন‍্যান‍্য চতুষ্পাঠীর ছাত্রদের সঙ্গে তর্কে রত হতেন।সময়ে সময়ে ঘোরতর তর্ক বেধে যেত, কিন্তু সব সময়েই নিমাই সকলকে পরাস্ত করে, নিজের বুদ্ধিমত্তার বিশেষ পরিচয় দান করতেন।*
*🍀গঙ্গাদাস পন্ডিত মহাশয়ের এই প্রতিভাশালী ছাত্র নিমাই কেবল যে বুদ্ধিমত্তার ও প্রতিভার পরিচয় দানে শিক্ষকের মুখ উজ্জ্বল করতেন তা নয়,নিমাই সন্তরণ(সাঁতার)বিদ‍্যাতেও বেশ পটু ছিলেন।জাহ্নবীর বক্ষে কোমরে গামছা বেধে সঙ্গীদের সঙ্গে আমোদ করতে করতে বহুদূর পর্যন্ত সাঁতার দিয়ে চলে যেতেন।কখন কখনও সাঁতার দিয়ে এপার হতে ওপারে গিয়ে উপস্থিত হতেন।*
    *🙌 জয় মহাপ্রভু🙌*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা🙏*
         *নিমাই পন্ডিতের অধ‍্যাপনা*
         ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹নিমাইয়ের ব‍্যাকরণ পাঠ সমাপ্ত হল।এই ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর যশ খ‍্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।সকলেই তাঁর অদ্ভুত বুদ্ধির প্রশংসা করতেন।নিমাই, শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিতের কাছে পাঠ সমাপ্ত করে তাঁর শুভাশীর্বাদ মস্তকে গ্রহণ করে চতুষ্পাঠী হতে বিদায় নিলেন।বিশারদ সার্বভৌমের চতুষ্পাঠী তখন নবদ্বীপের মধ্যে ন‍্যায়শাস্ত্র আলোচনা করবার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ বলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।নিমাই এখন ন‍্যায়শাস্ত্র অধ‍্যয়ন করবার জন্য সার্বভৌমের চতুষ্পাঠীতে ভর্ত্তি হলেন।সার্বভৌমের চতুষ্পাঠীতে অন‍্যান‍্য ছাত্রের মধ্যে রঘুনাথ ন‍্যায়শাস্ত্রে বিশেষ দক্ষতা লাভ করেছিলেন।নিমাই যখন চতুষ্পাঠীতে প্রবেশ করলেন বা ভর্ত্তি হলেন, তখন রঘুনাথ ভাবলেন, নিমাইয়ের কাছে তাঁর বুদ্ধি অতি ক্ষীণপ্রভ অর্থ‍্যাৎ খুবই কম বলে বোধ হবে,তাঁর জ্ঞান গরিমা খর্ব্ব হয়ে যাবে,যে জায়গায় তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ বলে পরিগণিত হতেন,সে জায়গায় নিমাইয়ের প্রতিভা জয়যুক্ত হবে।এইসব তাঁর মনে উদিত হয়ে,তাঁর হৃদয়ে এক কালিমার রেখা পড়ে গেল।নিমাই সার্বভৌমের চতুষ্পাঠীতে প্রবিষ্ট হয়ে অতি উৎসাহের সঙ্গে ন‍্যায়শাস্ত্র আলোচনা করতে লাগলেন। শ্রীগঙ্গাদাসের চতুষ্পাঠীতে নিমাই যেমন ব‍্যাকরণে প্রতিপত্তি লাভ করেছিলেন,সার্বভৌমের চতুষ্পাঠীতেও ন‍্যায়শাস্ত্রেও সেইরকম প্রশংসা লাভ করতে লাগলেন।সব জায়গায় গুরু ও তাঁর সহপাঠীরা তাঁর সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধি, ও সব বিষয় পরিস্কার ভাবে হৃদয়ঙ্গম করবার ক্ষমতা দেখে অবাক হয়ে যেতেন। নিমাই ন‍্যায়শাস্ত্র অধ‍্যয়ন করে একখানি ন‍্যায়ের টীকা রচনায় রত হন।তার আগেই, রঘুনাথ একখানি টীকা রচনা করে ফেলেছেন।তিনি এই টীকা রচনা করে মনে করেছিলেন যে,তাঁর টীকা সর্বত্র আদৃত বা সম্মানিত হবে এবং তিনিই অদ্বিতীয় নৈয়ায়িক পন্ডিত বলে পরিগণিত হবেন। কিন্তু যখন শুনলেন যে, নিমাইও একখানি টীকা রচনা করেছেন,তখন তাঁর আশার প্রদীপ যেন নিবিয়ে গেল প্রায়। তিনি উৎসুক হয়ে নিমাইকে জিজ্ঞাসা করলেন,ভাই! তুমিও নাকি একখানি ন‍্যায়ের টীকা রচনা করেছ? রঘুনাথ যখন শুনল যে,তিনিও একটি ন‍্যায়ের টীকা রচনা করেছেন, তখন তিনি নিমাইয়ের টীকা শুনবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।নিমাই শোনাতে রাজী হলেন, এবং বললেন,যখন ওপারে নৌকায় করে যাব, তখন আমি তোমাকে সেটি পাঠ করে শোনাব।উভয়ে যখন গঙ্গা বক্ষ দিয়ে তরণী করে যাচ্ছিলেন,তখন রঘুনাথ সেটি শুনবার জন্য নিমাইকে অনুরোধ করলেন।নিমাই টীকা পাঠ করতে লাগলেন।  রঘুনাথ এক মনে তা শুনছিলেন, কিছুক্ষণ পরে রঘুনাথের চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগিল। তিনি স্থির থাকতে না পেরে কাঁদতে লাগলেন।নিমাইচাঁদ রঘুনাথকে কাঁদতে দেখে বললেন,ভাই, কাঁদছ কেন? কি হয়েছে বলো? এইকথা বলে গৌরহরি তাঁর গায়ে নিজের সুকোমল হাত বুলাতে লাগলেন, তাতে রঘুনাথের কান্না আরও বেড়ে গেল, এবং কাঁদতে কাঁদতে বললেন,ভাই নিমাই!আমি দীধিতি (ন‍্যায়শাস্ত্রের একটি টীকা)লিখে মনে করেছিলাম,আমার টীকায় সর্বজন সম্মানিত হবে, সব চতুষ্পাঠীতে আমার টীকা পঠিত হবে।এখন দেখছি, তোমার টীকার কাছে, আমার টীকা কোন জায়গা পাবার উপযুক্ত নয়।আমি এক পৃষ্ঠায় যা লিখেছি,তুমি দুই-একটি সূত্রের মধ্যেই তা বিশদরূপে প্রকাশ করেছ।তোমার টীকা প্রকাশিত হলে, আমার টীকা আর কে গ্রহণ করবে? উদারহৃদয় পন্ডিতবর নিমাই সকরুণ বাক‍্যে বললেন, "এর জন্য আর দুঃখ কি?" এই বলে স্বরচিত হস্তস্থিত টীকাখানি ভাগীরথীর খরতর স্রোতে চিরদিনের জন্য ফেলে দিলেন।*
*🔵প্রসিদ্ধ বৈয়াকরণ,প্রসিদ্ধ নৈয়ায়িক নিমাইচাঁদের ন‍্যায়শাস্ত্রের টীকা গঙ্গার জলে ফেলে দেবার কথা, কেবল নবদ্বীপে নয়,দেশ দেশান্তরে প্রচারিত হতে লাগিল।এইকথা শুনে সকলেরই মুখ হতে সরবে বা নীরবে,একথায় উঠে এসেছিল যে,নিমাই পন্ডিত কি মানুষ না দেবতা?*
*🍀নিমাই সার্বভৌমের চতুষ্পাঠীতে থেকে ন‍্যায়,স্মৃতি প্রভৃতি নানা শাস্ত্রে ব‍্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। বিদ‍্যা বুদ্ধির জন্য তাঁর নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।নবদ্বীপ নগরে সকল চতুষ্পাঠীর ছাত্রগণের মধ্যে তাঁর নাম সর্বোপরি শোভা পেতে লাগল।তিনি জয় পতাকা হাতে নিয়ে,  সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্যের চতুষ্পাঠী হতে বেড়িয়ে এলেন। এই প্রতিভাশালী জ্ঞানানুরাগী ব‍্যক্তি কি জ্ঞান বিতরণ না করে কি থাকতে পারেন? এবার নিমাইপন্ডিত নিজে চতুষ্পাঠী স্থাপনের সঙ্কল্প করলেন। নবদ্বীপের মুকুন্দ সঞ্জয় নামক এক ধনী ব‍্যক্তির চন্ডীমন্ডপে নিমাই পন্ডিত চতুষ্পাঠী স্থাপন করলেন। প্রতিভা অপূর্ব পদার্থ।সেটি যে মানুষকে স্পর্শ করে তার শক্তি সাধারণ লোক অপেক্ষা, অধিকতররূপে ফুটে উঠে। নিমাই পন্ডিত যখন চতুষ্পাঠী স্থাপন করলেন,তখন তাঁর বয়স ষোল বৎসর মাত্র।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🦜🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস‍্য শ্রীগৌর*
       *অধ‍্যয়ন ও অধ‍্যাপনা*
*********************************
*🍀সেইসময়ে নবদ্বীপে অনেক বিশিষ্ট পন্ডিতদের চতুষ্পাঠী ছিল ; কিন্তু নিমাই পন্ডিত চতুষ্পাঠী স্থাপন করেছেন, শুনে,দলে দলে বিদ‍্যার্থীরা তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করবার জন্য আসিতে লাগল।তাঁর শিক্ষার প্রণালী, ছাত্রদের প্রতি তাঁর মিষ্ট ব‍্যবহার,এইসব গুণে তাঁর চতুষ্পাঠীর প্রশংসা সকলের মুখে কীর্তিত হতে লাগল।গৌরহরি কেবল চতুষ্পাঠীতে ছাত্রদেরকে শিক্ষা দিয়েই নিশ্চিন্ত থাকতেন না,তিনি বহু ছাত্র নিয়ে প্রতিদিন সন্ধ‍্যার সময় জাহ্নবী-তটে গমন করতেন,এবং এই সব ছাত্রদের দ্বারা পরিবৃত হয়ে,শাস্ত্র আলোচনায় রত হতেন।তাঁর চতুষ্পাঠীতে হাজারের বেশী ছাত্র ভর্তি হয়েছিল। নিমাই বিখ‍্যাত পন্ডিত বলে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন সত‍্য, কিন্তু তাঁর চরিত্রে গাম্ভীর্য‍্য দেখা যেত না।অর্থ‍্যাৎ কোন অহং ভাব ছিল না।তাঁর সময়ে শ্রীহট্টের আরও অন‍্যান‍্য লোক নবদ্বীপে এসে বাস করে।অনেকে সংস্কৃত শিক্ষার এই প্রধান স্থানে অধ‍্যয়ন করার জন্য আসিতেন।মুকুন্দ দত্ত একজন শ্রীহট্টবাসী। তিনি অন‍্য চতুষ্পাঠীতে অধ‍্যয়ন করতেন। মুকুন্দ একজন সুগায়ক ছিলেন,তিনি অদ্বতাচার্য‍্য প্রমুখ বৈষ্ণবদলের সঙ্গে মিলিত হয়ে,বৈষ্ণবধর্ম আলোচনা করতেন, এবং অবসর সময় মধুর সুরে গান করে, বৈষ্ণবদলের তৃপ্তি সাধন করতেন। একদিন শ্রীগৌরাঙ্গ পথে দাঁড়িয়ে আছেন,এমন সময়ে তাঁকে দেখে, পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন,গৌর,কাছের লোকদের বললেন, "এ আমায় দেখে এইরকম ভাবে পালিয়ে যায় কেন?এইকথা বলে তিনি মুকুন্দকে ডাকলেন,ডেকে বললেন,তুমি আমাকে দেখে পালিয়ে যাও কেন, আমি তোমাকে এমন ভাবে আবদ্ধ করব যে তুমি আমায় ছেড়ে পালাতে পারবে না। মুকুন্দ মনে করলেন নিমাই তো ব‍্যাকরণে দক্ষ, ইনি তো আর অলঙ্কার ভাল জানেন না,এখন ইঁনাকে "অলঙ্কার" বিষয়ে প্রশ্ন করা যাক, তাহলে ইঁনি পরাস্ত হবেন।গৌরহরি ত‍ৎক্ষণাৎ তাঁর প্রশ্নের সদুত্তর দিয়ে দিলেন।মুকুন্দ প্রশ্নের উত্তর শুনে,অবাক হয়ে গেলেন,আর মনে মনে বলতে লাগলেন, "এমন পন্ডিত তো আর দেখিনি, সব বিষয়েই ইঁনার ব‍্যুৎপত্তি (জ্ঞান,অভিজ্ঞতা,গভীর পান্ডিত‍্য) দেখছি ; এমন লোক যদি ভক্তিপথ অবলম্বন করে,তাহলে, বৈষ্ণবধর্মের বিশেষ মঙ্গল হয় "।গৌরহরি সকলের সামনে বললেন, "আমি যদি বৈষ্ণব হই, তাহলে এমন বৈষ্ণব হ'ব যে দেবতারাও সেরকম হতে পারবেন না।*
*🍀আর একদিন গৌরহরি, গদাধর মিশ্রকে পথে দেখতে পেলেন।ইনি ন‍্যায়শাস্ত্র পাঠ করতেন,গৌরাঙ্গ তাঁর হাত ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, "মুক্তি কাকে বলে?" গদাধর বললেন, আত‍্যন্তিক দুঃখ নিবৃত্তির নাম মুক্তি।" গৌরহরি প্রশ্নের উত্তর শুনে মুক্তি বিষয়ে অতি বিশদভাবে তাঁকে বুঝিয়ে দিলেন।*
*🌻কিছুদিন পরে এক ঘটনা ঘটিল।নিমাই গঙ্গায় স্নান করতে গিয়েছেন, এমন সময় একটি পরমাসুন্দরী বালিকা গৌরহরির মোহন মূর্তি দেখে বিমুগ্ধ হয়ে যায়। সুন্দরী,গৌরহরির চরণে প্রণাম করে,তাঁর গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিল। গৌরহরিও মেয়েটির দিকে তাকিয়ে তার মনোগত ভাব বুঝতে পারলেন।শ্রীগৌরের প্রাণ তার দিকে আকৃষ্ট হল। সেদিন এই পর্য‍্যন্ত।আর একদিন বনমালী ভট্টাচার্য্য নামক এক ব‍্যক্তির সঙ্গে গৌরহরি বেড়াতে বাহির হয়েছেন, এমন সময়,ঘটনাক্রমে ঐ মেয়েটি তাঁদের সম্মুখীন হল।প্রেমের মিলন কে নিবারণ করতে পারে,মেয়েটিকে দেখামাত্র,নিমাইয়ের হৃদয়ে ভাবতরঙ্গ যেন উথলিয়ে উঠিল। তিনিও সেই সুন্দরী মেয়েটির দিকে তাকালেন, আর সেই মেয়েটিও, এই অপরূপ-রূপলাবণ‍্য-জড়িত যুবক পুরুষের চোখের উপর নিজের চোখের পলক ফেলতে লাগলেন।বনমালী সবই দেখলেন, এবং উভয়ের মনের ভাব পরিস্কারভাবে হৃদয়ঙ্গম করলেন।এ মেয়েটি আর কেউ নন, তিনি বল্লভাচার্য‍্যের কন‍্যা নাম লক্ষ্মীপ্রিয়া।বনমালী একজন ঘটক।*
*🍀বনমালী শচীদেবীর কাছে গিয়ে বল্লভাচার্য‍্যের এই লক্ষ্মীপ্রিয়া নামে কন‍্যার সঙ্গে নিমাইয়ের বিয়ের প্রস্তাব করলেন।শচীদেবী এই প্রস্তাব শুনে বললেন, আমার নিমাই, এখন বালক, বর্তমানে বিদ‍্যা শিক্ষায় ব‍্যস্ত, এইসব কথার দ্বারা তিনি বিয়ের অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন।বনমালী নিরাশ হয়ে চলে গেলেন।পথে যেতে যেতে নিমাইয়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হল।নিমাই বনমালীকে একটু বিরক্তবদনে যেতে দেখে, কারণ জিজ্ঞাসা করে, সবকিছুই জানতে পারলেন। নিমাই আর কিছু না বলে বাড়ীতে চলে এলেন। বাড়ীতে এসে মাকে জিজ্ঞাসা করলেন, মা!বনমালী আমাদের বাড়ীতে এসেছিলেন শুনলাম,তিনি কেন এমন মনমরা হয়ে চলে গেলেন?শচীমা পুত্রের কথায় সবই বুঝতে পারলেন।আর কালবিলম্ব না করে,বনমালীকে ডেকে, বল্লভাচার্য‍্যের কাছে প্রস্তাব উপস্থিত করতে বললেন। এমন গুণবান পাত্রকে কে না কন‍্যা দিতে ইচ্ছে করে?*
🦋🦋🦋🦋🦋🦋🌷🦋🦋🦋🦋🦋🦋
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)    শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস‍্য শ্রীগৌর*
      *নিমাই ও লক্ষ্মীপ্রিয়ার বিবাহ*
*********************************
*☘বল্লভাচার্য‍্য, বনমালীর প্রস্তাবে সম্মত হলে শুভ লগ্নে বিয়ের দিন স্থির হল। শচীর গৃহে তাঁদের আত্মীয়স্বজন মিলিত হলেন ; সকল রমণীগণ এসে সমবেত হলেন।আনন্দ কোলাহলে বাড়ীর প্রাঙ্গণ পূর্ণ হল।শচীমা সকলের কাছে বিনীতভাবে বললেন, আমরা দরিদ্র,তাতে আবার নিমাই পিতৃহীন, আমি তোমাদের উচিত মত সেবা করতে পারব না।এমন সময়ে শচীমা দেখলেন,বিশ্বম্ভর বসে ক্রন্দন করছেন। শচীমা, নিমাইকে ক্রন্দন করতে দেখে,দৌড়িয়ে এসে নিজের আঁচল দিয়ে, নিমাইয়ের নয়নের জল মুছাতে মুছাতে বললেন,বাপ!কাঁদ কেন?তোমার কি হয়েছে?নিমাই, বিশ্বরূপ ও পিতার কথা উল্লেখ করে বললেন,আজ বাবা ও দাদা থাকলে কত আনন্দ হত! পুত্রের কান্না দেখে শচীমাও কাঁদতে কাঁদতে নিমাইকে সান্ত্বনা দিলেন।*
*🎎বিয়ের সকল আয়োজন স্থির হলে,নিমাই বল্লভাচার্য‍্যের বাড়ীতে গমন করলেন। লক্ষ্মীপ্রিয়া নিমাইয়ের বামপার্শ্বে দাঁড়ালেন।শঙ্খধ্বনি ও রমণীগণের উলুধ্বনির মধ্যে শুভ কার্য‍্য সমাধা হয়ে গেল।পরদিন নিমাই লক্ষ্মীপ্রিয়া সহ নিজের বাড়ীতে আগমন করলেন।শচীমা,নববধূকে নিজের কোলে নিয়ে আশীর্বাদ করতে করতে মুখচুম্বন করলেন।কুলরমণীদের মঙ্গল ধ্বনির মধ্যে লক্ষ্মীপ্রিয়া স্বামী-গৃহে প্রবেশ করলেন।নিমাই পন্ডিত নিজ পত্নীকে নিয়ে গৃহস্থালী করতে লাগলেন।*
*🍀পরমভক্ত শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর একজন শিষ্য শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী একজন প্রধান ভক্ত ছিলেন।এখানে ঈশ্বরপুরীর একটু পরিচয় দান করা আবশ‍্যক।ইনি হালিশহর গ্রামে বৈদ‍্য বংশে জন্মগ্রহণ করেন।ইনি পরমভক্ত ছিলেন।সর্বদাই কৃষ্ণপ্রেমে বিভোর হয়ে থাকতেন।ইনি রসযুক্ত শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত নামক একটি সুন্দর কাব‍্যগ্রন্থ রচনা করেন।ভক্তপুরী দেশ পর্য‍্যটন করে বেড়াতেন।এ সময় তিনি নানা জায়গা ঘুরতে ঘুরতে নবদ্বীপে এসে উপস্থিত হন, এবং বৈষ্ণবদের শিরোমণি অদ্বৈতাচার্য‍্যের গৃহে আতিথ‍্য গ্রহণ করেন।অদ্বৈত-প্রমুখ বৈষ্ণবগণ প্রথমে তাঁর কিছুই পরিচয় পাননি।অদ্বৈত, ঈশ্বরপুরীর গম্ভীর,প্রশান্ত ও ধর্মভাব পূর্ণ মুখমন্ডল দেখে,তিনি বৈষ্ণব কিনা, এ বিষয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।পুরী তদুত্তরে বলেন যে,তিনি একজন সামান্য লোক মাত্র আর কিছুই নহে।পরে তাঁরা তাঁর প্রকৃত পরিচয় পেলেন।ঈশ্বরপুরী সুপন্ডিত ও অনুরাগী বৈষ্ণব।তিনি অদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবনে বাস করতে লাগলেন।নবদ্বীপের ক্ষুদ্র বৈষ্ণবমন্ডলী তাঁকে পেয়ে পরম আনন্দিত হলেন, এবং এই পন্ডিত ও ভক্তের কাছে ভক্তিধর্ম শিক্ষা করতে লাগলেন।*
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গ শিষ‍্যবৃন্দ বা ছাত্রদের সঙ্গে প্রায়ই নগর ভ্রমণে বাহির হতেন।একদিন ঈশ্বরপুরীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হল।নিমাই পন্ডিতের নাম চারিদিকে প্রচারিত হয়েছিল।পুরীপাদ নিমাইকে দেখে যেন বিমুগ্ধ হয়ে গেলেন।উভয়ের কিছুক্ষণ কথোপকথনের পর তাঁরা পরস্পর বিদায় নিলেন।এই সাধু পুরুষকে দেখে, নিমাইয়ের হৃদয়ে ভক্তি-তরঙ্গ যেন উথলিয়ে উঠিল। তিনি প্রতিদিন অদ্বৈত ভবনে এই পরমভক্তকে দেখবার জন্য ও তাঁর শ্রীচরণে প্রণিপাত করবার জন্য গমন করতে লাগলেন।*
*🍀পুরীপাদ, "শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত" গ্রন্থ রচনা করেছিলেন আগেই বলা হয়েছে। একদিন গৌরহরিকে বললেন, "আমার রচিত "শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত" গ্রন্থ পাঠ করে যদি কোন দোষ থাকে তাহলে আমাকে বলবে, তাতে কিছুমাত্র সঙ্কোচ বোধ করবে না। নিমাই,ঈশ্বরপুরীর এইরকম অনুরোধ শুনে বললেন, " আপনি গ্রন্থ রচনা করেছেন, এতে আর দোষ কি?পরে পুরীপাদের অনুরোধে তিনি গ্রন্থখানি আদ‍্যপান্ত পাঠ করেন। বলেন, কৃষ্ণ যাঁর প্রতি সহায় হন, তাঁর কি কোন ভুল থাকতে পারে। ঈশ্বরপুরী ও শ্রীগৌরাঙ্গ, উভয়ের মধ্যে যেন এক অদৃশ্য সম্বন্ধ স্থাপিত হয়েছিল।কিছুদিন পরে পুরীপাদ নবদ্বীপ থেকে অন‍্যত্র চলে গেলেন।*
*🌻🌻দিগ্বিজয়ীর সঙ্গে বিচার🌻🌻*
*🍀নবদ্বীপে পন্ডিতদের সঙ্গে বিচার করার জন্য এক দিগ্বিজয়ী আগমন করেন।ইঁনার নাম কেশব,নিবাস কাশ্মীরে।এইজন‍্য ইনাকে কেশব কাশ্মিরী বলা হত।পন্ডিত কেশব কাশ্মিরী নবদ্বীপে আগমন করে,পন্ডিতদের সঙ্গে বিচার করতে প্রস্তুত হন।তিনি নবদ্বীপে আগমন করে বলেন,পন্ডিতগণ আমার সঙ্গে বিচার করুন,অথবা তাঁরা আমার কাছে পরাস্ত হলেন বলে,আমাকে জয়পত্র লিখে দিন।দিগ্বিজয়ী বললেন যে,তিনি সব শাস্ত্র বিষয়েই বিচার করতে প্রস্তুত আছেন।কেশব কাশ্মীরী সরস্বতীর বরপুত্র বলে বিদিত।ইঁনার আগমনে নবদ্বীপের খ‍্যাতনামা পন্ডিতগণ,কেউই তাঁর সঙ্গে বিচারে অগ্রসর হতে সাহসী হলেন না।তাঁরা মনে করলেন,দিগ্বিজয়ীর সঙ্গে বিচারে পরাস্ত হলে নবদ্বীপের কলঙ্ক হবে।কেশব কাশ্মীরী দেখলেন, কেউই তাঁর সঙ্গে তর্কযুদ্ধে সমকক্ষ নয় বলে বিচারে প্রবৃত্ত হচ্ছেন না। নিমাই পন্ডিত চতুষ্পাঠীতে অধ‍্যাপনায় নিযুক্ত আছেন,এমন সময় তাঁর ছাত্রগণ তাঁকে দিগ্বিজয়ীর আগমন বার্তা ও তাঁর অভিপ্রায় জ্ঞাপন করে বললেন, "তাঁর সঙ্গে বিচারে রত হয়ে তাঁকে পরাস্ত করতে না পারলে,নবদ্বীপের পন্ডিতমন্ডলী তাঁর কাছে পরাভূত হলেন, এইরকম জয়পত্র তাঁকে লিখে দিতে হবে। নিমাই পন্ডিত ছাত্রদের মুখে এইরকম দিগ্বিজয়ীর কথা শুনে বললেন,পরমেশ্বর অহঙ্কারীর অহঙ্কার চিরদিনই চূর্ণ করে থাকেন। নিমাই পন্ডিত সন্ধার সময় গঙ্গাতীরে শিষ‍্যবৃন্দের সঙ্গে বসে নানারকম কথাবার্তায় রত আছেন,চন্দ্রালোকে চারিদিক আলোকিত ; এমন স, কেশব কাশ্মীরী দূর হতে,নিমাই পন্ডিত ছাত্রদের সঙ্গে গঙ্গার তীরে রয়েছেন, শুনে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন।নিমাই ও তদীয় শিষ‍্যেরা সম্ভ্রমের সঙ্গে তাঁকে অভ‍্যর্থনা করে বসতে দিলেন।দিগ্বিজয়ী নিমাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমারই নাম নিমাই পন্ডিত? তুমি না ব‍্যাকরণে বিশেষ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছ?*
*গৌরহরি বললেন,ব‍্যাকরণ পড়াই বটে, কিন্তু একনও সেটির তাৎপর্য‍্য ভাল করে বুঝতে সমর্থ হয়নি।*
*দিগ্বিজয়ী বললেন, না,আমি শুনেছি, তুমি ব‍্যাকরণে অদ্বিতীয়।*
*🍀তারপরে কেশব কাশ্মীরী তাঁর সঙ্গে নিমাইকে শাস্ত্র আলোচনা করতে বললেন।নিমাই বিনীতভাবে বললেন, আমি আপনার সঙ্গে শাস্ত্র বিষয়ে আলোচনা করি, আমার এমন ক্ষমতা আছে? আপনি দিগ্বিজয়ী, আপনি কৃপা করে আমাকে শাস্ত্রের কথা কিছু বলুন।*
*তখন দিগ্বিজয়ী বললেন,কোন শাস্ত্র? কোন বিষয় তুমি শুনতে ইচ্ছা কর? গর্বচূর্ণকারী গৌরহরি কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বললেন,আচ্ছা, এই গঙ্গার মাহাত্ম্য বিষয়ে আপনি কিছু বর্ণনা করুন।*
           *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭) শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস‍্য শ্রীগৌর*
     *দিগ্বিজয়ী পন্ডিতের গর্ব চূর্ণ*
********************************
*🍀দিগ্বিজয়ী পন্ডিত গঙ্গার মাহাত্ম্য বিষয়ে প্রায় একশত শ্লোক বলে গেলেন।বলা শেষ হলে নিমাই পন্ডিততার মধ্যে একটি শ্লোক উল্লেখ করে দিগ্বিজয়ীকে তার ব‍্যাখ‍্যা করতে বললেন।কেশব কাশ্মীরী বিস্মিত হয়ে বললেন,"শত শ্লোক বলে গেলাম, এর মধ্যে তুমি কিভাবে সেটি স্মরণ করে যথাযথ শ্লোকটি উল্লেখ করলে?গৌরহরি একটু হেসে বললেন, "সরস্বতীর বরে কেউ শাস্ত্র-বেত্তা হয়,কেউবা শ্রুতিধর হয়।*
*নিমাই বললেন যাইহোক,আপনি শ্লোকটির দোষ গুণ বিচার করে আমাকে কৃতার্থ করুন। দিগ্বজয়ী বলেন,শ্লোকের দোষ দেখি না। নিমাই পন্ডিত তারপরে বিনীতভাবে দোষ গুণ প্রদর্শনের অনুমতি প্রার্থনা করে শ্লোকটির মধ্যে ব‍্যাকরণের ও অলঙ্কার-ঘটিত দোষগুলি দেখিয়ে দিলেন, এবং যা প্রশংসনীয় সে বিষয়ও উল্লেখ করলেন। কেশব কাশ্মীরী নিমাই পন্ডিতের মুখ হতে শ্লোকের নানান দোষের উল্লেখগুলি যথাযথ মনে করে লজ্জায় অধোবদন হয়ে রইলেন।নিমাই পন্ডিতের ছাত্রগণ দিগ্বিজয়ীর অহংকার চূর্ণ হল দেখে সকলে হাসতে লাগলেন।গৌরহরি তাঁদের একটু মৃদুস্বরে ভর্ৎসনা করে,দিগ্বিজয়ীকে বললেন, মহাশয়, আপনি এজন‍্য দুঃখিত হবেন না।আপনি যে অল্পসময়ের মধ্যে একশ কবিতা অনর্গল বলে গেলেন, এতে আপনার আশ্চর্য‍্য কবিতা-শক্তির পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে।কালিদাস,ভবভূতি প্রভৃতি কবি শ্রেষ্ঠদেরও কবিতার দোষ দেখা যায়।আপনার কবিতায় সামান্য দোষই প্রকাশ পাচ্ছে। কেশব কাশ্মীরী অবশেষে নিমাই পন্ডিতের জ্ঞানের ভূয়সী প্রশংসা করে বললেন, "তুমি অলঙ্কার শাস্ত্র পাঠ না করেও অলঙ্কারে এত জ্ঞান লাভ করেছ? এই আশ্চর্য‍্যের বিষয়। এই বলে কেশব কাশ্মীরী চলে গেলেন। কেশবকাশ্মীরী সর্বজন সমক্ষে এক তরুণ বয়স্ক যুবাপুরুষের কাছে পরাভূত হয়ে মর্মাহত হয়ে পড়লেন।তাঁর সব গর্ব খর্ব হয়ে গেল।ভারাক্রান্ত হৃদয়ে শয‍্যায় শয়ন করে তাঁর আরাধ‍্য দেবী সরস্বতীকে বললেন, মা!তুমি আজ এই বালকের কাছে আমাকে অপমানিত করলে?বীণাপানী তার উত্তরে বললেন, নিমাই পন্ডিত যে শ্রীকৃষ্ণের অবতার। প্রভাতের সূর্য‍্য আকাশে উদিত হবার পরেই কেশব কাশ্মীরী বিনীতভাবে নিমাই পন্ডিতের কাছে এসে,তাঁর চরণদ্বয়ের কাছে মাথা নত করে আত্মসমর্পণ করলেন।*
*🌹🌹পূর্ব-বঙ্গে গমন🌹🌹*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀দিগ্বিজয়ী কেশব কাশ্মীরী নিমাই পন্ডিতের কাছে পরাস্ত হলে, নিমাই পন্ডিতের যশ চরমভাবে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল যে, নিমাই পন্ডিত দিগ্বিজয়ী কেশব কাশ্মীরীকে পরাস্ত করেছেন। শ্রীগৌরাঙ্গের গৌরবে নবদ্বীপের গৌরব বেড়ে গেল।কেউ কেউ বলতে লাগলেন, নিমাইয়ের মত পন্ডিত আর কোথায় নেই।পথে,বাজারে,ঘরে, বিভিন্ন চতুষ্পাঠীতে সব জায়গায় ঐ একই কথা, নিমাই পন্ডিতের মত আর বড় পন্ডিত কোথাও কেউই নেই। নিমাই কেবল পন্ডিত নহেন,তিনি হৃদয়বানও বটে। তিনি লক্ষ্মীপ্রিয়ার সঙ্গে যখন পরমানন্দে গৃহাশ্রম বাস করতেন,তখন তাঁর বাড়ীতে অতিথি অভ‍্যাগত উপস্থিত হলে,কেউ আর তাঁর আতিথ‍্যসৎকারে বিমুখ হয়ে ফিরে যেত না।তাঁর গৃহের দ্বার সর্বদাই অতিথির জন্য খোলা থাকত।লক্ষ্মীপ্রিয়া যেন সাক্ষাৎ বৈকুন্ঠের লক্ষ্মীর মত অন্ন ব‍্যঞ্জনাদি রন্ধন করতেন। অল্প বয়সে তিনি রন্ধনে বেশ দক্ষতা লাভ করেছিলেন।নিমাই পন্ডিতের বাড়ীতে প্রতিদিন প্রায় কমবেশী বিশ বাইশজন অতিথি আহার করতেন।বিয়ের পর লক্ষ্মীপ্রিয়াই প্রায়ই গৃহের এইসব আগন্তুকের অন্ন ব‍্যঞ্জন রন্ধন করতেন।যত অতিথি শচীমায়ের গৃহে আসিতেন, সকলেই সকলের ব‍্যবহারে মুগ্ধ হয়ে যেত।*
*এইভাবে চলতে লাগল, কিছুদিন পরে নিমাইয়ের পূর্ববঙ্গ যাবার বাসনা মনে উদিত হল।মাতৃভক্ত নিমাই, সে জন্য তিনি মায়ের অনুমতি প্রার্থনা করলেন।নিমাই তাঁর নয়নমণি,নিমেষকাল তাঁর অদর্শনে মায়ের মন চঞ্চল হয়ে উঠে ; নিমাই বহু দূরদেশে যাবেন,এটি কি সহ‍্য করা যায়? কিন্তু কি করবেন, সন্তানের মনের প্রবল বাসনা রোধ করাও ভাল নয়,এই ভেবে বললেন,বাপ!তোমার যদি একান্তই ইচ্ছে হয় তবে যাও।গৌরহরি মায়ের আজ্ঞা পেয়ে, কয়েকজন শিষ‍্য নিয়ে, পূর্বাঞ্চলে গমন করলেন। তিনি পূর্ববঙ্গের কোন কোন জায়গায় গমন করেছিলেন,তা স্পষ্টভাবে ঠিক বলা যায় না।তবে বোধ হয়, ঐদেশের যেসব জায়গায় চতুষ্পাঠী ছিল, এবং সেসব জায়গায় পন্ডিতদের বসতি ছিল,সেইসব জায়গায় তিনি গমন করেছিলেন, এই সব কথা জানা যায়। তিনি পূর্ববঙ্গে উপস্থিত হলে,আশেপাশের চতুষ্পাঠীর ছাত্রগণ তাঁর কাছে আসেন,সকল পন্ডিতমন্ডলী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তাঁর অসাধারণ পান্ডিত‍্যের প্রশংসা করতে লাগলেন। ইতঃপূর্বে তাঁর নাম পূর্ববঙ্গের চারিদিকেই ঘোষিত হয়েছিল। নিমাই দেখলেন, তাঁর ব‍্যাকরণের টিপ্পনি ঐ অঞ্চলের সব চতুষ্পাঠীর ছাত্রগণই অধ‍্যয়ন করে থাকে।তিনি যেখানে যেতেন,সেইখানেই ছাত্রগণ এসে তাঁর কাছে ব‍্যাকরণের পাঠ নিত,ও অন‍্যান‍্য শাস্ত্রাদির জ্ঞাতব‍্য বিষয় সকল, মীমাংসা করে নিত।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🪷🌷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)    শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস‍্য শ্রীগৌর*
           *পূর্ব-বঙ্গে গমন*
*********************************
*🍀শ্রীতপন মিশ্র নামে একজন অতি পরমভক্ত পূর্ববঙ্গে বাস করতেন।গৌরচন্দ্রের আগমনে তাঁর প্রাণ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠে।তিনি নিমাই পন্ডিতকে দেখে, যেন মনে হল আকাশের চন্দ্র তিনি হাতে পেয়েছেন। তাঁর ভক্তিপ্রবণ হৃদয়, গৌর দরশনে যে ভক্তির উচ্ছাসে উচ্ছসিত হয়ে উঠিল।তিনি এ সময় এক মধুর স্বপ্ন দেখলেন ; কে যেন তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে বলছেন, "গৌরচন্দ্র মনুষ‍্য নহে" তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের অবতার।তপন মিশ্র এই স্বপ্ন দেখে,পরদিন আগমন করে শ্রীগৌরহরির শ্রীচরণ ধরে কাঁদতে লাগলেন,আর বললেন,প্রভো!আমি জানতে পেরেছি,আপনি মনুষ‍্য নহেন, স্বয়ং ভগবান।প্রভো!আমি আপনার সঙ্গের সাথী হয়ে থাকব।পরমদয়াল গৌরহরি তপন মিশ্রের ব‍্যাকুলতা দেখে পরম সন্তুষ্ট হলেন। গৌরহরি বুঝলেন, তপন মিশ্র যথার্থই ভক্ত।তিনি তাঁর ব‍্যাকুলতা দেখে বললেন, "তুমি স্ত্রী-পুত্র নিয়ে,বৃন্দাবনে গমন কর, পরে তোমার সঙ্গে সেখানে আমার সাক্ষাৎ হবে।" তিনি সে সময়  তপন মিশ্রকে কেন বৃন্দাবনে বাস করতে বললেন,তা কিন্তু কিছুই বুঝা যায় না ; আর তিনি যে ভবিষ্যতে সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করে,বৃন্দাবনে গিয়ে,তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন,এটিও তিনি কিভাবে বুঝতে পেরেছিলেন,তাও বলতে পারা যায় না।*
*🍀পূর্ববঙ্গে কয়েক মাস বাস করে, গৌরসুন্দর গৃহে প্রত‍্যাগত হলেন।সেখানে থাকাকালীন তিনি অনেক বস্তু উপহার পেয়েছিলেন।গৃহে প্রত‍্যাগত হবার সময় ঐসব দ্রব‍্য সঙ্গে নিয়ে আসিলেন।এ সময় সেখানকার কয়েকজন ছাত্রও তাঁর চতুষ্পাঠীতে অধ‍্যয়ন করবার জন্য তাঁর অনুগমন করে। বহুদিন পরে,মা ও পত্নীর মুখ দেখে কতসুখী হবেন, মনে করে গৃহে প্রবেশ করলেন।গৃহে প্রবেশ করেই মায়ের চরণে প্রণাম করলেন। কিন্তু বহুদিন পরে সন্তানের আগমনে মায়ের মুখ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠবে ; নিমাইয়ের সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণের প্রসঙ্গ উপস্থিত করবেন, কিন্তু তা না হয়ে,শচীমায়ের মুখ মলিন হয়ে রয়েছে। তিনি বিশেষ কোন কথা বললেন না।নিমাই এর কারণ কিছুই বুঝতে পারলেন না।তাঁর মনে হতে লাগল,মায়ের মুখ এমন বিষণ্ণ কেন, কিছু বিপদ ঘটেছে!এমন সময় শচীমা নিজের আঁচলে চোখের জল মুছতে মুছতে বললেন,বাপ!লক্ষ্মীপ্রিয়া আর নেই,সে পরলোকে চলে গেছে, সর্পাঘাতে তার মৃত‍্যু হয়েছে।*
*☘গৌরহরির কোমল হৃদয় ব‍্যথিত হয়ে উঠিল।তিনি নিজের গালে হাত দিয়ে শোক প্রকাশ করতে লাগলেন।কিছুকাল পরে মনকে স্থির করে,মাকে বুঝাতে লাগলেন,মা সকলই অসার, বৃথা শোক করে আর কি লাভ।*
*🍀নিমাই পন্ডিতের প্রশংসায় চারিদিক পূর্ণ হলেও,নিমাইয়ের বালকের মত সরলতা এখনও দেখা যেত।লোকেও বলত, নিমাই এত বড় পন্ডিত, কিন্তু এখনও তাঁর বালকত্ব ঘুচিল না। নিমাই একদিন তাঁর কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে পান চিবাতে চিবাতে যাচ্ছেন এমন সময় শ্রীবাস পন্ডিতের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। শ্রীবাস পন্ডিত পরমবৈষ্ণব। একমাত্র অদ্বৈতাচার্য‍্য ছাড়া,তাঁর মতো বৈষ্ণবমন্ডলীর মধ্যে আর উপযুক্ত সম্মানিত ব‍্যক্তি কেউই ছিলেন না।শ্রীবাস গৌরহরিকে জ্ঞানাভিমানী ব‍্যক্তি বলেই বিশ্বাস করতেন।এজন‍্য,তাঁকে সশিষ‍্যে আসতে দেখে অহঙ্কারীর শিরোমণি বলে সম্বোধন করলেন।নিমাই অবনত মস্তকে তাঁর চরণে প্রণাম করলেন।শ্রীবাস পন্ডিত ভক্তের মতো বললেন,"নিমাই, কেবল জ্ঞান উপার্জনে কি ফল?"শ্রীকৃষ্ণে ভক্তি না হলে মানব-জীবন বৃথা।নিমাই গম্ভীর ভাবে বললেন, "আমি ভবিষ্যতে এমন বৈষ্ণব হব,যে তেমন কেউই আর হতে পারে নাই।নিমাইয়ের দম্ভপূর্ণ কথা শুনে শ্রীবাস পন্ডিত হাসতে লাগলেন।নিমাইও তারসঙ্গে একটু হাসিলেন।শ্রীবাস তাঁর ধর্ম-বিশ্বাসের কথা জিজ্ঞাসা করতে, গৌরহরি বললেন,আমিই ভগবান।এইসব কথা বলে তিনি হাসতে হাসতে চলে গেলেন।নিমাই, শ্রীবাসের কথায় এইরকম উত্তর দেওয়াতে,শ্রীবাস মনে করলেন, শ্রীজগন্নাথ মিশ্র পরম বৈষ্ণব, হয়ত নিমাইও একদিন সত‍্যিকারের বৈষ্ণব হবে। কিন্তু শ্রীবাস ও তাঁর পত্নী মালিনীদেবী নিমাইকে অত‍্যন্ত স্নেহ করতেন।তাঁরা শৈশব কালে নিমাইকে কোলে নিলে মনে হত তাপিত জীবন সুশীতল হল।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯)   শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস‍্য শ্রীগৌর*
        *গৌরহরির বাজার দর্শন*
*********************************
*🍀শ্রীগৌরহরি ছাত্রদের সঙ্গে নগরের চারিদিক ঘুরে বেড়াতেন।পান চিবাতে চিবাতে গমন করতেন, আর সঙ্গীদের সঙ্গে হাস‍্য পরিহাস করতেন। দেখলে মনে হত,যেন এক আনন্দের উৎস সর্বদা তাঁর হৃদয় হতে উথলিয়ে উঠছে। গৌরহরির বদনমন্ডল সবসময়ই যেন আনন্দে ভরা ; তাঁকে দেখলে লোকে মুগ্ধ হত।তাঁর এমন যাদু শক্তি ছিল যে,তিনি ইচ্ছে করলেই লোককে বশীভূত করে ফেলতে পারতেন। তিনি একদিন ছাত্রদের বললেন,চল বাজারে যাই, অনেক জিনিসপত্র কিনতে হবে।ছাত্রেরা দেখলেন, গুরুজীর হাতে একটিও কপর্দকও(অর্থও) নাই। তাঁরা বললেন,গুরুজীর কাছে তো জিনিস কেনার কোন পয়সা নাই, তখন গৌরহরি বললেন,মূল‍্যের প্রয়োজন নাই,চল যাই,মিষ্ট কথা বলে জিনিস আনতে পারব। ছাত্রগণ নিমাইয়ের সঙ্গে হাটে প্রবেশ করলেন।গৌরহরি এক তন্তুবায়ের দোকানে গেলেন।গৌরহরি বললেন,"ভাল কাপড় বাহির করুন দেখি"।তন্তুবায় কাপড় দেখালে, তিনি কাপড় হাতে করে বলতে লাগলেন, কাপড়টি বেশ, কিন্তু হাতে পয়সা নাই, কিভাবেই বা কিনি? তন্তুবায় বলিল, তুমি ঠাকুর একন না হয়, যখন সুবিধে হবে তখন কাপড়ের দাম দিয়ে দিও। নিমাই বললেন, "ধারে কোন জিনিস কেনা ভাল নয়"।তখন তন্তুবায় বলিল, ঠাকুর তুমি এ কাপড় নিয়ে যাও,তোমাকে আর দাম দিতে হবে না।গৌরহরি আনন্দিত মনে কাপড় নিয়ে, ছাত্রদের কাছে এসে বললেন, এই দেখ,বিনামূল‍্যে কাপড় পেয়েছি।*
*🍀সর্বজনপ্রিয় গৌরহরি গোয়ালার বাড়ীতে গমন করলেন।গোপগণ তার রূপকান্তি দেখে মুগ্ধ হয়ে যেত।গৌরহরি যাওয়ামাত্র তারা অতি আগ্রহের সাথে তাঁকে বসতে আসন দিত।অনেকে "মামা,মামা" বলে ডাকতে লাগল।তারা দুগ্ধ,দধি,নবনী এনে উপস্থিত করল।*
*🍀নিমাই তাম্বূলীর দোকানের কাছে যাওয়ামাত্র, পান বিক্রেতা অতি সুন্দর করে পানের খিলি সাজিয়ে তাঁর হাতে দিল।নিমাই পানের খিলেটি হাতে বললেন,পান তো দিলে, কিন্তু হাতে তো পয়সা নাই।তাম্বূলী বলল,আমি পানের পয়সা চাই না। তুমি খেয়ে সুখী হলেই আমি সুখী হব।*
*🍀গৌরহরি গন্ধবণিকের ঘরে গমন করলে,সে সম্ভ্রমে তাঁর চরণে প্রণত হয়ে, বসতে আসন দিলেন ; এবং সুগন্ধি দ্রব‍্য প্রদান করে বলিল, আমি তোমার কাছে কিছুই চাই না, এই সুগন্ধি দ্রব‍্য কাপড়ে লাগালে, কাপড় ধৌত করলেও আটদিনে এর গন্ধ যাবে না।*
*🍀এইরকম ঘুরতে ঘুরতে তিনি শঙ্খবণিকের কাছে গেলেন।সে গৌরহরিকে বসতে আসন দান করলে,গৌর বললেন,ভাই!ভাল শাঁখ নিয়ে এসো, তবে কিন্তু আমার হাতে পয়সা নাই।শঙ্খবণিক খুব ভাল শঙ্খ বেছে তাঁর কাছে এনে বলল,শঙ্খ নিয়ে ঘরে যাও,যখন সুবিধে হবে,তখন মূল‍্য দিও।গৌর আনন্দিত মনে শঙ্খ হাতে নিয়ে গৃহে চললেন।*
*🍀শ্রীগৌর এক জ‍্যোতিষীর নিকট গেলেন। গণক ঠাকুর তাঁকে দেখে প্রণাম করে বসতে আসন দিলেন।গৌর বললেন,তুমি,ভবিষ‍্যৎ ও বর্তমানের সব বিষয়ই বলতে পার, আচ্ছা বলত দেখি, আমি পূর্বজন্মে কি ছিলাম? জ‍্যোতিষী চোখ বুজে কিছুক্ষণ বসলেন।তিনি এইরূপে ধ‍্যানস্থ হয়ে দেখলেন ; গোকুলের শ্রীকৃষ্ণ শঙ্খ,চক্র,গদা,পদ্ম হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, ব্রজের বালকগণ তাঁকে বেষ্টন (ঘিরে) করে রয়েছে।আবার ক্ষণকাল পরে দেখলেন, তিনি ত্রিভঙ্গ বেশে মুরলী বাজাচ্ছেন। জ‍্যোতিষী দিব‍্যচক্ষে দেখলেন,আর গণনার দ্বারা জানলেন,সেই শ্রীকৃষ্ণই গৌররূপ ধারণ করে,নবদ্বীপে গৌরচন্দ্ররূপে আবির্ভূত হয়েছেন।জ‍্যোতিষী চোখ খুললেন।দেখলেন, গৌরাঙ্গ সেখানে বসে রয়েছেন, তিনি তখন তাঁর বদনমন্ডলে যেন এক অপরূপ জ‍্যোতিঃ দেখতে পেলেন। গৌরের সে রূপমাধুরী নিরীক্ষণ করতে করতে, তার নয়নদ্বয় হতে বারিধারা বহিতে লাগিল।তিনি গৌররূপধারী গোকুলের সেই শ্রীকৃষ্ণকে যেন প্রত‍্যক্ষ করতে লাগলেন। আর আনন্দে তাঁর হৃদয় উথলিয়ে উঠিল।তিনি মনে করতে লাগলেন, এমন লোকের জীবন-ঘটনা গণনা করে,আমার জীবন আজ ধন‍্য হল। তিনি গৌরহরির শ্রীচরণে সাষ্টাঙ্গে প্রণত হয়ে,তাঁর পূর্ব জন্মের বিষয় জ্ঞাপন করলেন।নিমাইচাঁদ ঈষৎ হেসে সেখান থেকে চলে গেলেনব মানবজীবনের ভবিষ্যৎ গণনায় সময়ে সময়ে সত‍্য ফলই প্রসব করে থাকে দেখা যায়। কিন্তু ভবিষ‍্য গণনা যে কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে,তা নিঃসংশয়ে বলা যেতে পারা যায় না। গৌর সম্বন্ধে গণকের গণনা, অনেকাংশে সত‍্য বলেই মনে হয়।*
*🍀বাজারে শ্রীধর নামক এক পসারি,থোড়,মোচা,খোলা প্রভৃতি বিক্রি করত।শ্রীধর বৈষ্ণব ও অতি সাধু লোক।সে এইসব সামান্য দ্রব‍্য বিক্রি করে,যা উপার্জন করত,তাতেই এক রকমে সংসার প্রতিপালন করত। ভক্ত শ্রীধর সব সময়ে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে হৃদয়ে শান্তি লাভ করত।শ্রীগৌরাঙ্গ শ্রীধরকে ভীষণ ভালবাসতেন,এবং শ্রীধরের সঙ্গে রসিকতা করে কিছু তৃপ্তি লাভ করতেন।গৌরসুন্দর বাজারে উপস্থিত হয়ে,শ্রীধর পসারির কাছে আসিলেন।*
*🍀শ্রীধর গৌরহরিকে দেখে ঠাকুর বলে প্রণাম করল।গৌরহরি শ্রীধরের সঙ্গে একটু আমোদ করবার জন্য বললেন,শ্রীধর! তুমি তো সদাসর্বদা হরিনাম করো,তবে এত কষ্ট পাও কেন?শ্রীধর বলল,ঠাকুর কিসের কষ্ট? আমি তো আর উপবাস থাকি না ; ছোট হোক বা বড় হোক কাপড় পরছি।তারপরে শ্রীধরের সঙ্গে একটু কৌতূক করবার জন্য গৌরহরি বললেন, শ্রীধর! তোমার অনেক লুকোনো অর্থ আছে,তা আমি শুনেছি।শ্রীধর বলল, "ঠাকুর, আমি অর্থ কোথা পাব। আমি থোড়,মোচা, খোলা বিক্রি করি এই মাত্র।*
*🌷প্রভু বোলে তোমার বিস্তর আছে ধন।*
*🌷তাহা তুমি লুকাইয়া করহ ভোজন।।*
*🌻গৌরহরি শ্রীধরের দোকান হতে থোড়,মোচা প্রভৃতি নিলে, শ্রীধর বলল, ঠাকুর!এ জিনিসগুলির যা মূল‍্য হয় তাই দিবেন।গৌরহরি বললেন, "তুমি জান না, যে গঙ্গার তুমি পূজো কর, আমি তাঁর পিতা, তুমি বিনামূল‍্যে দেবতাদেরকে এসব দ্রব‍্য দিয়ে থাক, আমাকে না হয় অর্ধেক দামেই বা দিলে? তাতে ক্ষতি কি? শ্রীধর বললে,ঠাকুর!তোমার কাছ থেকে আমি আর দাম চাই না, তুমি প্রতিদিন থোড় মোচা আমার কাছ থেকে নিয়ে যেও।*
*🌷চিন্তিয়া শ্রীধর বলে,শুনহ গোসাঞি।*
*🌷কড়ি পাতি তোমার কিছুই দেয় নাই।।*
*🌷থোড়,কলা,মূলা,খোলা দিব এই মনে।*
*🌷সবে আর কোন্দল না কর আমা সনে।।*
*🍀গৌরহরি শ্রীধরের কথা শুনে বললেন, যখন তুমি আমাকে এসব জিনিস বিনামূল‍্যে দিবে,তখন আর তোমার সঙ্গে বিবাদের প্রয়োজন কি?*
*🌷প্রভু বলে ভাল ভাল আর দ্বন্দ্ব নাই।*
*🌷সবে থোড় কলা মূলা ভাল যেন পাই।।*
*🌻এইকথা বলে নিমাইচাঁদ হাসতে হাসতে চলে গেলেন।আর মনে মনে ভাবতে লাগলেন, শ্রীধর কি সরল!এমন লোকই যথার্থ বৈষ্ণব হবার উপযুক্ত।*
🙌  🙌  🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০) শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলিযুগের একমাত্র উপাস‍্য শ্রীগৌর*
        *শ্রীগৌরাঙ্গ ও বিষ্ণুপ্রিয়া*
  ********************************
*🍀শ্রীগৌরসুন্দর পূর্ববঙ্গ হতে ফিরে এসে,চতুষ্পাঠীতে পুনরায় অধ‍্যাপনা কার্য‍্যে নিযুক্ত হলেন।তাঁর অনুপস্থিতিকালে চতুষ্পাঠীর কার্য‍্য স্থগিত ছিল।প্রায় দুই বৎসর হয়ে গেল, লক্ষ্মীপ্রিয়া ইহলোক হতে চলে গিয়েছেন।শচীমা পুত্রের পুনরায় বিয়ের জন্য মনস্থ করলেন।সুন্দরী, গুণবতী একটি কন‍্যার সঙ্গে, নিমাইয়ের পরিণয় কার্য‍্য সম্পন্ন হয়,মনে মনে এই সঙ্কল্প করে, সেই বিষয়ের চেষ্টায় রত হলেন।*
*🍀শচীমা প্রতিদিন গঙ্গাস্নান করতে যেতেন,আর দেখতেন, একটি সুন্দরী,রূপলাবণ‍্যময়ী বালিকা স্নান করবার জন্য গঙ্গায় প্রত‍্যহ আসিত। বালিকাটি শচীমাকে দেখে, তাঁর কাছে আসিত, এবং তাঁর চরণে প্রণাম করত।শচীমা, মেয়েটির সৌন্দর্য্য, বিনয় ও ধর্মনিষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতেন।তাঁর মনে হল,এ মেয়েটি তাঁর পুত্রবধূ হলে, শচীমার গৃহ আলোকিত হয়ে থাকবে।তিনি একদিন মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, বাছা!তোমার নাম কি?তুমি কার মেয়ে?সুন্দরী বালিকাটি,মাথা নত করে ধীরে ধীরে বলল, আমার নাম বিষ্ণুপ্রিয়া, আমার পিতার নাম সনাতন পন্ডিত। সনাতন পন্ডিত নবদ্বীপের মধ্যে ধনী ব‍্যক্তিদের মধ্যে গণনীয়।শচীমা মনে করলেন,এই কুসুমের ন‍্যায় মেয়েটিকে আমার গৃহে নিয়ে যাই, আমার তো ষোলআনা ইচ্ছে, কিন্তু সনাতনের মত ধনী ব‍্যক্তি কি,আমার মত দরিদ্র পরিবারের পুত্রের হাতে তাঁর কন‍্যা সমর্পণ করবেন?*
*🍀বালিকা বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রতি তাঁর অন্তরের ভালোবাসা হয়েছে।শচীমা গৃহে ফিরে এসে, কাশীনাথ নামক ঘটককে সংবাদ দিয়ে নিজ বাড়ীতে আনিলেন।কাশীনাথ উপস্থিত হলে,তিনি সমস্ত ঘটনা তাঁর কাছে বর্ণন করে বললেন, "সনাতন ধনী ব‍্যক্তি" তিনি কি আমার ঘরে তাঁর কন‍্যা দিবেন? কাশীনাথ শচীদেবীর কথা শুনে, সনাতন পন্ডিতের নিকট উপস্থিত হলেন।শচীদেবী বর্ণিত সমস্ত ঘটনা তাঁর কাছে নিবেদন করে বললেন,"নিমাইপন্ডিতের সঙ্গে আপনার কন‍্যার বিয়ে হলে তিনি সুখী হন।সনাতন এইকথা শুনিবামাত্র, কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইলেন।তাঁর হৃদয়ে আনন্দের সঞ্চার হতে লাগল ; মনে মনে বলতে লাগলেন, নিমাই পন্ডিতের নাম প্রায় জগতে ছড়িয়ে পড়েছে, নিমাইয়ের মত পাত্রে বিষ্ণুপ্রিয়া সমর্পিত হবে,তা পরম সৌভাগ্যের কথা মনে করতে লাগলেন।কিছুক্ষণ পরে, কাশীনাথকে বসতে বলে,তিনি পত্নীকে এই শুভ সংবাদ জানাবার জন্য বাড়ীর ভিতরে গমন করলেন।সনাতন-পত্নী, স্বামীর মুখ হতে শচীদেবীর বাসনা শুনলেন, বললেন, "নিমাইয়ের মত জামাতা লাভ করা, এর তুল‍্য সৌভাগ্য আর কি আছে?সনাতন সহাস‍্য বদনে, মনের আনন্দে ঘর থেকে বাইরে বেড়িয়ে কাশীনাথকে তাঁদের এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অভিমতের কথা জানালেন। কাশীনাথও পরম আনন্দে নিমাইজননীর কাছে চললেন, শচীগৃহে এসে সনাতনের অভিমত জ্ঞাপন করলেন।এইকথা শুনে আর শচীমায়ের প্রাণে আনন্দ ধরে না ; বিষ্ণুপ্রিয়ার মত রূপসী ও গুণবতী কন‍্যা,তাঁর নিমাইয়ের পত্নী হবে, এ-কথা তাঁর মনে যত উদিত হতে লাগল,ততই আনন্দে তাঁর মন যেন উথলিয়ে উঠতে লাগল।তিনি সহাস‍্য বদনে কাশীনাথকে সনাতনের কাছে যথাযথরূপে উপস্থিত করবার জন্য অনুরোধ করলেন।*
*🍀কাশীনাথ এই আনন্দজনক প্রস্তাব শিরোধার্য‍্য করে, পুনরায় সনাতনের ভবনে উপস্থিত হলেন।সনাতন এই প্রস্তাবের সূচনা মাত্র শুনে, চরম আনন্দ লাভ করলেন। এখন ঘটকের কাছ হতে,সবকথা শুনে সনাতনের আর আনন্দ ধরে না, নিমাই আমার জামাতা হবে!আমার পরম সৌভাগ্য।তিনি আর কাল বিলম্ব না করে, বিয়ের দিন ধার্য‍্য করবার জন্য,এক বিখ‍্যাত জ‍্যোতিষকে আহ্বান করলেন। গণকঠাকুর বিশ্বম্ভরের বিয়ের শুভদিন ধার্য‍্য করবার জন্য সনাতন পন্ডিতের বাড়ীতে গমন করছেন,এমন সময়ে পথিমধ‍্যে নিমাইয়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। নিমাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, গণকঠাকুর, কোথায় যাচ্ছেন?গণক বললেন,কেন,তোমার বিয়ের দিন স্থির করতে। সনাতন পন্ডিতের কন‍্যার সঙ্গে তোমার যে বিয়ে হবে, তা কি তুমি জানো না? নিমাই বললেন, আমার বিয়ে!কৈ আমি তো জানি না?গণকঠাকুর নিমাইয়ের সঙ্গে আর কিছু কথা না বলে সনাতন ভবনে গিয়ে উপস্থিত হলেন।সনাতন পন্ডিত অতি আনন্দের সঙ্গে গণকঠাকুরকে কন‍্যার বিয়ের জন্য, শুভদিন ও শুভলগ্ন দেখতে বললেন।তখন গণকঠাকুর বললেন, এইমাত্র এখানে আসিবার সময়,নিমাইয়ের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়, কিন্তু নিমাই তো এ বিয়ে সম্বন্ধে কিছুই জানেন না বললেন। গণকের মুখ হতে এই কথা শুনে সনাতনের আনন্দপূর্ণ হৃদয় নিরানন্দে ভরে উঠল।তাঁর আশাপূর্ণ মন নিরাশার অন্ধকারে ঢাকা পড়ে গেল।তাঁর বদনমন্ডল মলিন হয়ে গেল। তিনি নিরাশ হয়ে পত্নীকে এই সমাচার জানানোর জন্য অন্তঃপুরে প্রবেশ করলেন। গণক পাত্রের অনিচ্ছায় এ বিয়ে এখন সম্ভবপর নয় বিবেচনা করে গৃহে ফিরে গেলেন।*
*🍀সনাতন ভাবলেন,নিমাই বালক নহেন,তিনি বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছেন,তাঁর জননীর এ বিয়েতে সম্পূর্ণ মত থাকলেও,সন্তানের অমতে তিনি এইরকম কাজে অগ্রসর হবেন!এইসব চিন্তা করে,সনাতন পন্ডিত বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে নিমাইয়ের বিয়ে হবে না মনে করে যেন হতাশ হয়ে পড়লেন।*
*🙏কোন বৈষ্ণব লেখক বলেন, শ্রীসনাতন পন্ডিত শ্রীগৌরাঙ্গকে সাধারণ মানুষ বলে মনে করতেন না। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং গৌরাঙ্গরূপে নবদ্বীপ ধামে অবতীর্ণ হয়েছেন বলিয়া তাঁর বিশ্বাস জন্মেছিল।এমন নররূপধারী দেবতাকে কন‍্যা অর্পণ করলে, বিষ্ণুপ্রিয়া সশরীরে স্বর্গের শান্তি অনুভব করবে, এবং তারও মানবজীবনধারণ সার্থক হবে। এই বিশ্বাসে তাঁর মন যেন এক অপার্থিব আনন্দে ভাসছিল।আজ সে আনন্দের উপর চরম বাধা সৃষ্টি হল দেখে, তিনি নিরাশ মনে হা গৌরাঙ্গ,হা গৌরাঙ্গ বলে দীর্ঘনিশ্বাস ত‍্যাগ করতে লাগলেন, আর তাঁর দুইনয়ন দিয়ে অশ্রুধারা বহিতে লাগিল।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
 ✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧








adds