শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীদামোদরাষ্টকম্ বাংলা মানে সহ 🌼 নিয়মসেবা কি❓ কি ভাবে পালন করা উচিৎ ❓✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/damodar.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীশ্রীদামোদরাষ্টকম্ বাংলা মানে সহ 🌼 নিয়মসেবা কি❓  কি ভাবে পালন করা উচিৎ ❓✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/damodar.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
  ꧁👇📖সূচীপত্র ✍️ শ্রী গোপীশরণ দাস📖👇
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
          *রাগানুগা ভক্তি*
         ********************
*🍀ভক্তি এবং জ্ঞানের প্রাধান্য নিয়ে অনেক বাদানুবাদ শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু এ সম্বন্ধে দুই একটি কথা স্মরণ না রাখলে স্বভাবতঃ যে বিষয় জটিল,তার জটিলতা আরও বেশী হয় বলে মনে হয়।প্রথমেই মনে রাখা আবশ্যক এই বিষয়টি ভগবৎ-সম্বন্ধী।অন‍্য কোনও প্রসঙ্গে এ প্রশ্ন উঠতে পারে না। অর্থ‍্যাৎ বস্তুবিচার বা তত্ত্ব-মীমাংসায় এ বিতর্কের কোনও স্থান নাই।জ্ঞানের দ্বারা বস্তুর স্বরূপ লভ‍্য হয়। সারসত‍্যের আলোচনায়ও জ্ঞানই সাধন। কিন্তু ভক্তির দ্বারা বস্তুজ্ঞান লাভ হয় না।যেখানে ভগবানই সারসত‍্য বা পরমার্থ তত্ত্ব, সেখানে অবশ‍্য ভক্তির অধিকার আছে। সুতরাং সাধারণ ভাবে বলা যেতে পারে যে, ঈশ্বর যেখানে অনুসন্ধান বা উপলব্ধির বিষয়,সেখানেই ভক্তি ও জ্ঞানের প্রাধান্য বিষয়ক প্রশ্ন উঠতে পারে। দ্বিতীয়তঃ জ্ঞান বলতে কি বুঝি, ভক্তি বলতেই বা কি বুঝি, তা স্থির না হওয়া পর্যন্ত,জ্ঞান ও ভক্তির প্রাধান্যের কথা উঠতে পারে না। প্রাথমিক এই প্রশ্নের মীমাংসা করতে হলে আমাদের মনস্তত্ত্ববিজ্ঞানের স্মরণ নিয়ে হবে।আমরা হয়ত নিজ নিজ মতের প্রতি পক্ষপাতিত্বের আতিশয‍্যে এই কথাটি অনেক সময়ে স্মরণ রাখি না।জ্ঞান ও ভক্তি উভয়ই চিত্তের ব‍্যাপার। সুতরাং মনস্তত্ত্ব হতেই এদের সম্বন্ধে জানা যায়।মনোবিজ্ঞান অনুসারে জ্ঞান বা ভক্তিকে পৃথক ব‍্যাপার বা Crocess বলেই বোধ হয়।তার কারণ এতদুভয়ের ধর্ম অনেকটা পৃথক।যদিও জ্ঞান ও ভক্তি উভয়ই পরিণত মনের ক্ষেত্রে যুগপৎ ক্রিয়াশীল,তথাপি উহাদের কাজ এবং গতি স্বতন্ত্র।জ্ঞানের বিষয়বস্তু সত‍্য,ভক্তির বিষয় ব‍্যক্তি বা ব‍্যক্তিসাম‍্য-বিশিষ্ট পদার্থ।একখন্ড শর্করা জ্ঞানের বিষয়ীভূত হতে পারে। কিন্তু ব‍্যক্তি-নিরপেক্ষ ভক্তি দেখা যায় না।মানব মনের বিশ্লেষণে যে তিনটি বিভাগ প্রধান বলে বর্ণিত হয় অর্থ‍্যাৎ চেতনা,অনুভূতি এবং ইচ্ছা,তারমধ‍্যে চেতনার পরিণতি জ্ঞানে এবং সুখদুঃখরূপা অনুভূতির অবস্থাবিশেষ ভক্তি।অতএব জ্ঞান ও ভক্তিকে পৃথীরূপে না ভেবে উপায় নাই। চিত্তের যে রসস্বরূপ একটি ধর্ম (Sentiment) আছে,ভক্তি তারই ব‍্যাপার।অথচ এমন অনেকে আছেন যাঁরা জ্ঞান ও ভক্তিকে এক বলে মনে করেন। তাঁদের কাছে পরিবিদ‍্যাও যা, পরাভক্তিও তাইই।*
*🌺মহাভারতে শান্তিপর্বে ব্রহ্মসংস্থার উল্লেখ আছে।এই "সংস্থা" ভক্তিরেব ন জ্ঞানং।শঙ্করাচার্য‍্যও এখানে ব্রহ্মসংস্থার অর্থ করেছেন "ব্রহ্মণি সম‍্যগবস্থিতিঃ।আচার্য‍্য শঙ্করের ব্রাহ্মীস্থিতি ভক্তির নামান্তর হতে পারে।কারণ যাঁরা যোগদৃষ্টির দ্বারা ব্রহ্মকে লাভ করেন,তাঁদের তন্ময়তা ভক্তি হতে হয়ত পৃথক না। কিন্তু সাধারণ দৃষ্টিতে ভক্তির স্বরূপ জ্ঞানের দ্বারা পরিমিত না। উপনিষৎ যখন বলেন=*
*যস‍্যামতং তস‍্য মতং মতং যস‍্য ন বেদ সঃ।*
*অবিজ্ঞাতং বিজানতাং বিজ্ঞাতমবিজানতাম্।।*
                   *(কেনোপনিষৎ)*
*🍀অর্থ‍্যাৎ যিনি জানেন না,তিনিই জানেন,যিনি জানেন,তিনি জানেন না।তাঁর অবিজ্ঞাত এবং যিনি জানেন না,তাঁরই বিজ্ঞাত।জ্ঞানের অনুসরণে আমরা এই রহস‍্যবাদে উপনীত হই।যাঁকে জানবার জন্য অনাদিকাল হতে মানব-মন ছুটেছে, তাঁকেই জানা যায় না --, এটিই সিদ্ধান্ত করে নিরাশ হতে হয়।কঠোপনিষৎ বললেন যে তিনি আছেন, এইমাত্র বলতে পারা যায়=*
*🌷অস্তীতি ব্রুবতোহন‍্যত্র কথং তদুপলভ‍্যতে।*
*🌹যাঁরা তর্ক করেন, তর্কের মুখে এতটুকুও ঢোকে না। সুতরাং উপনিষৎ যখন বললেন যে,তিনি পুত্র হতে প্রিয়, বিত্ত হতে প্রিয়,অন‍্য সব হতে প্রিয়,তখন আমরা এক নূতন আলোকের সন্ধান পেলাম।আমরা বুঝলাম জ্ঞানের ক্ষুদ্র পরিধি, যে বিরাট পুরুষকে ছুঁই ছুঁই করেও ধরতে পারে না, তিনি প্রেমের কাছে আপনি ধরা দেন। উপনিষদের সেই আলোকে আমরা পথের কিছু সন্ধান পাই, এবং সে সন্ধান পেয়ে ধন‍্য হই।তাই আমাদের বরেণ‍্য কবি সকলের হয়ে বলেছেন=*
*🌷তোমারে বলেছে যারা পুত্র হতে প্রিয়।*
*🌷বিত্ত হতে প্রিয়তর যা কিছু আত্মীয়।।*
*🌷সব হতে প্রিয়তম নিখিল ভুবনে।*
*🌷আত্মার অন্তরতম,তাদের চরণে।।*
*🌷পাতিয়া রাখিতে চাহি হৃদয় আমার।*
*🌹ভারতীয় ভক্তিবাদের এটিই মূলসূত্র।ঋষিগণ তাই বললেন=*
*🌷ওঁ ত্রিসত‍্যস‍্য ভক্তিরেব গরীয়সী।*
*🌳পাশ্চাত‍্য পন্ডিত বলেছেন যে ভক্তির উপাদান দুইটি।এক প্রেম, অপর ভয়। REVERENCE IS LOVE MIXED WITH AWE. আমরা তা বলি না, আমরা বলি ভক্তি শুধুই প্রেম।"সা কস্মৈ পরমপ্রেমস্বরূপা"। ভক্তি অর্থ‍ে প্রেম,অনুরাগ,রতি,পরমাবিষ্টতা।জ্ঞান স্থির,ধীর,অচল,অটল ; ভক্তি ব‍্যাকুলময়ী।নারদভক্তিসূত্রে ভক্তিকে "পরম ব‍্যাকুলতা" বলা হয়েছে। আমরা জানি ভগবদ্ জনের নাম ভক্তি।ভগবদ্-ভজনে যে সব চিত্তবৃত্তির প্রয়োজন হয়,তারমধ‍্যে প্রেমই শ্রেষ্ঠ।এখানে ভক্তি জানায় কল্প‍্যতে।অর্থ‍্যাৎ যাঁকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসা যায়,তাঁকেই সত‍্যরূপে জানতে পারা যায়। জ্ঞান এবং ভক্তির যোগে তখন চিত্ত বিমল শান্তি লাভ করে।"ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নত্মা ন শোচতি না কাঙ্ক্ষতি"। সব চাওয়া সব পাওয়ার শেষ এখানেই।*
*🌻যীশুখ্রীষ্ট এই ভগবৎ প্রেমের মহিমা কীর্তন করেছিলেন।যখন তাঁকে বধ‍্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন এক তার্কিক জিজ্ঞাসা করল,আপনি তো চললে, আপনার শেষ আদেশটি কি প্রভু?যীশুখ্রীষ্ট ব‍্যথার কন্টকক্ষত হৃদয়ে তাঁকে অমোঘ বাণী শুনিয়ে দিলেন, ভগবানকে ভালবাসা।Love God.*
*🍀কিন্তু এই ভালোবাসা কি পদার্থ, তার সম‍্যক্ আলোচনা পাশ্চাত‍্য পন্ডিতেরা বা খ্রীষ্ট্রীয় ধর্ম-যাজকেরা করেন নাই।প্রেম তাঁদের সুপরিচিত একটি চিত্তধর্ম বলেই হোক বা যে কারণেই হোক,ঐ LOVE কথাটিকেই তাঁরা পর্য‍্যাপ্ত বলে গ্রহণ করেছেন। আমাদের দেশে পন্ডিতগণ কিন্তু ভক্তির প্রেমস্বরূপতা নির্দেশ করে সন্তুষ্ট নহেন। এ প্রেম যে কি বস্তু, তা বলে বুঝান যায় না। "মূকাস্বাদনবৎ"।বোবা যেমন কোনও দ্রব‍্য আস্বাদন করলে তা ব‍্যক্ত করতে পারে না,সেরকম। কিন্তু এই প্রেমের একটি গুণ এই যে এটি গুণরহিত,কামনা রহিত। সর্বোপাধি বিনির্মুক্তং তৎপরত্বেন নির্মলং (নারদ পাঞ্চরাত্র)।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
                *প্রেমধর্ম*
           °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀এরই ব‍্যাখ‍্যায় বলা হ'ল=*
*লক্ষণং ভক্তিযোগস‍্য নির্গুণস‍্য হ‍্যুুদাহৃতম্।*
*অহৈতুক‍্যব‍্যবহিতা যা ভক্তিঃ পুরুষোত্তমে।।*
*🌻নির্গুণ ভক্তিযোগের এই লক্ষণ= পুরুষোত্তমে যে অহৈতুকী ও অব‍্যবহিত প্রীতি তারই নাম ভক্তি।অর্থ‍্যাৎ এটি নির্মল এবং কামশূন‍্য। এরই প্রতিধ্বনি করে শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী বললেন=*
*🌷অন‍্যাভিলাষিতাশূন‍্যং জ্ঞানকর্মাদ‍্যনাবৃতম্।*
*🌷আনুকুল‍্যেন কৃষ্ণানুশীলনং ভক্তিরুত্তমা।।*
                         *(ভক্তিরসামৃতসিন্ধু)*
*🍀কোনও অভিলাষ বা বাসনা বা কামনা থাকবে না,জ্ঞানের দ্বারা বিতর্কিত হবে না, কর্মের দ্বারা বাধিত হবে না এমন ভাবে শ্রীকৃষ্ণের একনিষ্ঠ ভজন করলে তাকে উত্তমা ভক্তি বলা যায়।*
*🌹এখন কথা হ'ল যে,কৃষ্ণের ভজন অর্থে যদি তাঁকে "একান্তভাবে আশ্রয় " করা যায়, তাহলে শ্রীমদ্ভাগবতগীতায় যে শরণাগতির কথা বলা হয়েছে,তাইই সাধনতত্ত্বের শেষ কথা বলে মানতে হবে।*
*🌷সর্ব ধর্মান্ পরিত‍্যজ‍্য মামেকং শরণং ব্রজ।*
*🌻কিন্তু বৈষ্ণবধর্ম যখন প্রেম ও ভক্তির মধ্যে সমস্ত ব‍্যবধান ঘুচিয়ে দিল অর্থ‍্যাৎ ভক্তি ও ভগবৎ-প্রেমের তাদাত্ম‍্য প্রতিস্থাপিত হ'ল,তখন প্রেম কি বস্তু তা জানবার প্রয়োজন হ'ল।যতই অনির্বচনীয় হোক,প্রেম একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞাবিশিষ্ট চিত্তবৃত্তি।কাজেই সেটির স্বরূপ কি,সেটির উপাদান কি কি প্রণালীতে সেটি পরিণতি প্রাপ্ত হয়,তা অনুসন্ধানের বিষয় হল আগেই বলেছি মনোবিজ্ঞানেই সমস্ত চিত্তবৃত্তির উৎপত্তি ও প্রকৃতি আলোচিত হয়। আমাদের দেশে এই কাজ অলঙ্কারশাস্ত্র করেছেন।পাশ্চাত‍্য দেশে মনোবিজ্ঞানের অস্তিত্ব সপ্তদশ খ্রীষ্ট্রাব্দের পূর্বে অপরিজ্ঞাত ছিল।অর্থ‍্যাৎ জানা ছিল না। কিন্তু প্রায় স্মরণাতীত কাল হতে এদেশে অলঙ্কার-শাস্ত্রসমূহ মনোবিজ্ঞানের আলোচনা করে আসছে।কাব‍্যের আস্বাদ‍্য হিসাবে প্রেমের স্বরূপ সম্বন্ধে আলোচনা এদেশের অলঙ্কারশাস্ত্রে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।তার কারণ প্রেমই কাব‍্যের চিরন্তন ও প্রধান আস্বাদ‍্য বস্তু।ভগবৎ-প্রেম যখন প্রেম পদবাচ‍্য, তখন এটি সাধারণ নরনারীর অনুরাগ হতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হতে পারে না।অপরা অনুরক্তি আমাদের পরিজ্ঞাত।কাজেই পরানুরক্তি তারই সুচির ও চরমোৎকর্ষভূত পরিণতি মনে করতে পারা যায়।সমস্ত অসীমের কল্পনাই সসীমের উপলব্ধি হতে জাত বা জন্ম।প্রেমের যে কামনা-বাসনা-শূন‍্য আত্মহরা পরিণতি,তাইই ভগবদ্ জনের অনুকূল। ভগবান অনন্ত হতে পারেন, কিন্তু তাঁর পূজোর ফুল মানুষের ঘরের কাছের উদ‍্যানেই ফুটে।সেইরকম আদর্শ মানবীয় প্রেমের এক অনির্বচনীয় পরিণতি যে ভক্তি তাইই ভগবানকে লাভ করবার একমাত্র অথবা প্রশস্ত উপায় বলে বর্ণিত হয়েছে।তার কারণ এই যে, ভগবান যদি চৈতন‍্যস্বরূপ হতেন, তাহলে তাঁকে একমাত্র জ্ঞানের দ্বারা লভ‍্য বলে মনে করতে বাধা ছিল না। কিন্তু তিনি তো কেবল জ্ঞানস্বরূপ নহেন। তিনি সচ্চিদানন্দ-আনন্দঘন বিগ্রহ।*
*🌹ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।*
                      *(ব্রহ্মসংহিতা)*
*🌻সৎ,চিত্ত ও আনন্দ এই তিনগুণের সমবায়ে সেই পরম ঈশ্বর কৃষ্ণের বিগ্রহ রচিত। বিজ্ঞানমানন্দং ব্রহ্ম (বৃহদারণ‍্যক) তিনি আনন্দস্বরূপ। আনন্দ হতেই সমস্ত জীব জন্মলাভ করেছে,আনন্দই জীবের উপজীব‍্য।প্রেমের গঠনে আনন্দই সর্বপ্রধান উপাদান।পাশ্চাত‍্য মনোবিজ্ঞানও এই কথায় বলেন।LOVE IS THE HIGHEST FORM OF DELIGHT. প্রেমে দুঃখও সুখ।
*🔵দুঃখমপ‍্যধিকং চিত্তে সুখত্বেনৈব ব‍্যজ‍্যতে।* 
*🔵যতস্তু প্রণয়োৎকর্ষাৎ স রাগ ইতি কীর্ত‍্যতে।।উঃনীলমণি।।*
*🌻প্রণয়ের উৎকর্ষ হেতু যে স্থলে চিত্তমধ‍্যে অতিশয় দুঃখও সুখরূপে অনুভূত হয়,তাকে রাগ কহে।*
*❤মানবজীবনে প্রেমের মত আর কিছুই নাই,চন্ডীদাসের উক্তি।*
*🌷চন্ডীদাস কহে শুনহে নাগরি,*
             *পিরীতি রসের সার।*
*🌷পিরীতি রসের রসিক নহিলে,*
           *কি ছার জীবন তার।।*
*🌹এখানে রস অর্থে আনন্দ, আনন্দেরই নামান্তর প্রেম।*
*🔶ভগব‍ৎ-প্রেমের করতে গিয়ে মনস্তাত্ত্বিক এই অনির্বচনীয় তত্ত্বে উপনীত হন।প্রেম জ্ঞানের মত শান্ত ও স্থির নহে ; মানুষের প্রায় সমস্ত EMOTION বা SENTIMENT চিত্তকে চঞ্চল করে তোলে।প্রেম ব‍্যাকুলতায় ভরা।যেখানে ব‍্যাকুলতা নেই,সেখানে প্রেম নেই।শান্তশিষ্টভাবে ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসা পাগল কোরে ছাড়ে এরই নাম "রাগ"।*
*🌷ইষ্টে স্বারসিকী রাগঃ পরমাবিষ্টতা ভবেৎ।*
*🌷তন্ময়ী যা ভবেদ্ ভক্তিঃ সাহত্র রাগাত্মিকোদিতা।।*
     *(রাগবত্মর্চন্দ্রিকা=বিশ্বনাথ চক্রবর্তী)*
*🌹এই যে পরমাবিষ্টতা,একান্ত তন্ময়তা, এতে শ্রুতি,বুদ্ধি বা শাস্ত্র জ্ঞানের অপেক্ষা করে না।*
*🌷নাত্র শাস্ত্রং ন যুক্তিঞ্চ তল্লোভোৎপত্তি-কারণং।*
             *(শ্রীপাদ রূপগোস্বামী)*
*🌷ইষ্টে গাঢ়তৃষ্ণা এই স্বরূপলক্ষণ*।
*🌷ইষ্টে আবিষ্টতা এই তটস্থ লক্ষণ।।চৈঃচঃ।।*
*❤প্রেমের লক্ষণ গাঢ়তৃষ্ণা।কাজেই ভক্তিবাদের আলোচনায় আমরা এক নূতন স্তরে উপনীত হলাম।প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে যে আবিষ্টতা দেখা যায়,যা কোনও কিছুর অপেক্ষা করে না,যা শাস্ত্রের শাসন মানে না,যা ধর্মাধর্মের বিচার রাখে না,যাতে উৎকট লোভই হয় পথপ্রদর্শক, তাইই ভক্তি।এই ভক্তির নামই রাগানুগা ভক্তি।*
*🌷কৃষ্ণ তদ্ ভক্ত কারুণ‍্যমাত্রলোভৈক হেতুকা।*
*🌷পুষ্টিমার্গতয়া কৈশ্চিদিয়ং রাগানুগোচ‍্যতে।।*
          *(ভক্তিরসামৃতসিন্ধু)*
*🌻এই যে ধর্মাধর্ম নিরপেক্ষ ভক্তিবাদ এটি সর্বসম্মত হতে পারে নাই। কারণ আমরা দেখি এক দলভক্ত বলছেন যে,এতে উৎপাতের সৃষ্টি হতে পারে।*
*🌷শ্রুতি স্মৃতি পুরাণাদি পঞ্চরাত্রবিধিং বিনা।*
*🌷ঐকান্তিকী হরের্ভক্তিরুৎপাতায় কল্প‍্যতে।।*
*🌹যাঁরা এই রাগানুগা ভক্তির দুর্লভ এবং আশঙ্কাপূর্ণ পন্থা অনুসরণ করতে ইচ্ছে করেন না,তাঁদের জন্য বৈধীভক্তি উপদিষ্ট হয়েছে।রাগমার্গে ভজনশীল ব‍্যক্তিও বিধিমার্গ পরিত‍্যাগ করবেন না, এটিই রূপ গোস্বামীপাদের অভিমত বলে বোধ হয়।*
*🌷বস্তুতত্ত্ব লোভপ্রবর্তিতং বিধি মার্গেণ সেবনমেব রাগমার্গ উচ‍্যতে*।
*🍀পশ্চিমাঞ্চলে বল্লভাচার্য‍্য কর্তৃক পুষ্টিমার্গ উপদিষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গদেশে বোধহয় শ্রীরূপগোস্বামী প্রথমে এর উল্লেখ করেন।অন্ততঃ শ্রীবিশ্বনাথ চক্রবর্তীর সেইরকম ধারণা ছিল কারণ তিনি রাগবত্মর্চন্দ্রিকায় তাঁকেই সর্বাগ্রে নমস্কার করেছেন।*
*🌷শ্রীরূপবাকসুধাস্বাদি চকোরেভ‍্যো নমঃ নমঃ।*
*🌷যেষাং কৃপালবৈর্বক্ষ‍্যে রাগবত্মনি চন্দ্রিকাম্।।*
*শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ শ্রীচৈতনের শ্রীমুখ দিয়ে এই রাগানুগা ভক্তির ব‍্যাখ‍্যা শুনিয়েছেন।*
*🌷রাগানুগাভক্তির লক্ষণ শুন সনাতন।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷ইষ্টে গাঢ়তৃষ্ণা রাগ-স্বরূপ লক্ষণ।*
*🌷ইষ্টে আবিষ্টতা, এই তটস্থ লক্ষণ।।*
*🌷রাগময়ী ভক্তির হয় রাগাত্মিকা নাম।*
*🌷তাহা শুনি লুব্ধ হয় কোন ভাগ‍্যবান।।*
*🌷লোভে ব্রজবাসী-ভাবে করে অনুগতি।*
*🌷শাস্ত্রযুক্তি নাহি মানে রাগানুগার প্রকৃতি।।*
*🌷বাহ‍্য অন্তর ইহার দুই ত সাধন*।
*🌷বাহ‍্যে সাধক দেহে করে শ্রবণ কীর্তন।।*
*🌷মনে নিজ সিদ্ধ দেহ করিয়া ভাবন।*
*🌷রাত্রি দিনে করে ব্রজে কৃষ্ণের সেবন।।*
*🙏এটি কৃষ্ণভজন প্রণালীর সঙ্কেত এবং ভক্তির ব‍্যাখ‍্যায় এটিই এ পর্যন্ত সর্বশেষ স্তর বলে মনে হয়।*
🦚🦋🙏🪔🌷🦜🌸🪷🦚🦋🪔🌷🌸🪔

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
*বৈষ্ণব সাহিত‍্যে প্রেমের আদর্শ*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌹বৈষ্ণব সাহিত‍্যে প্রেমের যে আদর্শ স্থাপিত হয়েছে,অন‍্য কোথায়ও তার তুলন মিলে না।অন‍্য অনেক সাহিত‍্যেও প্রেমের বর্ণনা আছে, আস্বাদন আছে,তাতেও আমাদের মন মুগ্ধ হয়। কিন্তু প্রেম যেমন বৈষ্ণবের সর্বস্ব,জোর গলায় বলতে পারি এমনটি আর কোথাও নাই।বৈষ্ণবের আরাধ‍্য প্রেম,বৈষ্ণবের ভজন প্রেম, বৈষ্ণবের সাধন প্রেম,বৈষ্ণবের স্বর্গও প্রেম।বৈষ্ণব সাহিত‍্য প্রেমের কবিতা, বৈষ্ণবের গান প্রেমের গান,বৈষ্ণবের ভগবান প্রেমময়, "প্রেম দিয়ে গড়া তনু"।তাঁদের মতে সংসারের পঞ্চম পুরুষার্থ প্রেম।তাঁরা ভুক্তি বা ভোগের কামনা করেন না,মুক্তিরও কামনা করেন না।আনন্দকন্দ শ্রীনন্দনন্দনই তাঁদের একমাত্র কাম‍্য।*
*🌻ভগবানের সহিত মানুষের যে প্রেমের সম্বন্ধ, সে কথা অন‍্য অনেক ধর্মে স্বীকৃত হয়েছে। কিন্তু বৈষ্ণবগণ যেমন প্রেমের তত্ত্ব উপলব্ধি করেছিলেন, অন‍্য কোনও মতবাদে তার শতাংশের একাংশও পাওয়া যায় না।বৈষ্ণবগণ তত্ত্বের দিক দিয়ে প্রেমকেই ধর্মের ভিত্তি করেছেন।ধর্মে প্রেমের প্রয়োজন আছে বলিয়া তাঁরা ক্ষান্ত হন নাই,প্রেমকেই ধর্মে পরিণত করেছেন।এই পরিণতির ফলে বৈষ্ণব কাব‍্যের গূঢ় অর্থ হয়েছে এই যে,এটি উপাস‍্যেরই স্তুতি।বৈষ্ণব সঙ্গীত মাত্রই ভজন।ভজনই ভগবৎ-প্রাপ্তির একমাত্র উপায়।কাজেই বৈষ্ণব সাহিত‍্যের মণিমন্দির এই প্রেম-কবিতায় ভরে গেল।পূজার ফুলের মত এই কবিতার রাশি বাঞ্জিতের চরণোপান্তে সঞ্চিত হয়ে স্তূপাকার হয়েছিল। গানে গানে দেশের আকাশ বাতাস একদিন পূর্ণ হয়েছিল।কারণ গীতায়, ভাগবতে বলা হয়েছে যে,"একমাত্র ভক্তির দ্বারাই তাঁকে লাভ করা যায় "।এই ভক্তিই প্রেম।যার নাম ভক্তি তাইই যখন প্রেম বলে নিরাকৃত হল,তখন কাব‍্যে,কবিতায় প্রেমের নির্ঝর উচ্ছসিত হয়ে উঠিল।*
*🌺আমরা সাধারণ ভাবে স্থির করে নিয়েছি যে, সংসারে নরনারীর মধ্যে যে সর্বগ্রাসী আকর্ষণ,তাইই বৈষ্ণবদের প্রেম।কথাটা যে একেবারে অমূলক,তা হয়ত নয়। কারণ ভাষা মানুষের স্বাভাবিক মনোভাব প্রকাশ করবার জন্যই কল্পিত হয়। আমরা প্রিয়তমের জন্য যে মালা গাঁথি,তাইই আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্ঘ‍্য।কাজেই দেবতার উদ্দেশ্যে আমরা যা নিবেদন করি তাও আমাদের সেই বিরলে গাঁথা মালাখানি, রবীন্দ্রনাথ বলেছেন=*
*🌷প্রিয়জনে যাহা দিতে পাই,*
*🌷তাই দিই দেবতারে,আর পাবো কোথা?*
*🌹কিন্তু বৈষ্ণবগণ এই পার্থিব গন্ডী অতিক্রম করে তাঁদের প্রেমকে এক অনাস্বাদিতপূর্ব অপ্রাকৃত জগতে নিয়ে গিয়েছেন।তাঁরা বলেন, এ প্রেম বুঝানো যায় না, এটি এক অনির্বচনীয় ব‍্যাপার। নারদ ভক্তিসূত্রে বলেছেন, "অনির্বচনীয়ং প্রেমস্বরূপং"। একজন হিন্দী কবি তার প্রতিধ্বনি করে বললেন=*
*🌷প্রেম হৃদয়কী বস্তু হ‍্যায় পরমগুহ‍্য আনমোল।*
*🌷কথনীমে আবৈ নহী সকৈন কোউ বোল।।*
*🌹ভাষায় প্রকাশ করা যায় না এই গুহ‍্যাতিগুহ‍্য প্রেম,এটি অনুভবের বস্তু অর্থ‍্যাৎ হৃদয়ে (ভাগ‍্যগুণে) যদি বা অনুভূত হয়,কথায় তা প্রকাশ করা যায় না।আর একজন ভক্ত কবি এই প্রেমের লক্ষণ বলেছেন=*
*🌷রসময় স্বাভাবিক বিনা স্বারথ অচল মহান্।*
*🌷সদা এক রস বঢ়ত নিত শুদ্ধ প্রেম রসখান।।*
*🌻এই "রসখান" একজন পাঠান ছিলেন।উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে ইনি একজন ধনী গণ‍্যমান‍্য ব‍্যক্তি ছিলেন। ঘটনাচক্রে শ্রীকৃষ্ণের রূপ দেখে রসখান মুগ্ধ হলেন।ইঁনার কবিতায় যে ভক্তিভাব ফুটেছে,তা সত‍্যই অদ্ভুত। যাইহোক,উপরে যে কাব‍্যাংশ উদ্ধৃত হয়েছে,তা হতে বুঝা যায় যে,প্রেমের স্বরূপ সম্বন্ধে বাংলার বাইরেও বৈষ্ণবদের ধারণা কত উচ্চে উঠেছিল।প্রেম বিশুদ্ধ,সহজ,নিঃস্বার্থ, অচল ও মহান, নিত্য বৃদ্ধিশীল এবং চির-আনন্দ-স্বরূপ।ভক্তিসূত্রেও এই লক্ষণ আমরা দেখতে পাই=*
*গুণরহিতং কামনারহিতং প্রতিক্ষণ বর্দ্ধমানং,*
*অবিচ্ছিন্নং সূক্ষ্মতরমনুভবস্বরূপম্*।
                  *(নারদ ভক্তিসূত্র=৫৪)*
*❤এই প্রেম সূক্ষ্মাদপিসূক্ষ্ম এবং কেবল অনুভূতিবেদ‍্য।*
*🌹প্রেম যে কি বস্তু,তা নির্দেশ করাও যায় না, অথচ বৈষ্ণবগণের চেষ্টারও অবধি নাই।যা সহজে জানা যায় না,তাইই জানবার জন্য মানুষের অফুরন্ত কৌতূহল। কিন্তু বৈষ্ণবদের মত এত কৌতূহল আর কেউ দেখাননি, আর এত বিশ্লেষণও অন‍্য কোন জায়গায় দেখা যায় না। শ্রীচৈতন‍্যদেবের সঙ্গে শ্রীরূপ গোস্বামীর মিলন প্রসঙ্গে যে প্রেমতত্ত্ব ব‍্যাখ‍্যা আমরা পাই,তা মনস্তত্ত্বের দিক দিয়েও বিস্ময়কর। মহাপ্রভু বলেছেন যে =*
*🌷সাধন ভক্তি হৈতে হয় রতির উদয়।*
*🌷রতি গাঢ় হৈলে তারে প্রেম নাম কয়।।*
*🌷প্রেম বৃদ্ধিক্রমে নাম স্নেহ মান প্রণয়।*
*🌷রাগ অনুরাগ ভাব মহাভাব হয়।।*
*🌺অর্থ‍্যাৎ প্রেম হৃদয়ে সঞ্জাত বা জন্ম হলে সেটি স্নেহমান প্রণয় রাগ অনুরাগের মধ‍্য দিয়ে ভাব ও পরে মহাভাবে পরিণত হয়। সুতরাং প্রেমের স্তর বিন‍্যাসে মহাভাবই প্রেমের পরাকাষ্ঠা।এই মহাভাব আবার দুইপ্রকার=রূঢ় ও অধিরূঢ়।গোপীকাগণের যে প্রেম তার নাম "অধিরূঢ়" মহাভাব।এর মধ্যেও আবার বিরহে যে অধিরূঢ় মহাভাব হয় তার নাম "মোহন"। মোহনাখ‍্য মহাভাবে দিব‍্যোন্মাদ হয় যাতে সমস্তই কৃষ্ণময় হয়ে যায়, এমনকি নিজেকেও কৃষ্ণ বলিয়া ভ্রম হয়।*
*🌷অনুখন মাধব মাধব সোঙরিতে,*
    *সুন্দরি ভেলি মাধাই। বিদাপতি*।
*🍀আবার এর বহু পূর্বে শ্রীজয়দেব গোস্বামী লিখেছেন=*
*🌷মুহুরবলোকিত-মন্ডনলীলা,*
*🌷মধুরিপুরহমিতি ভাবনশীলা।।*
*🌻এই দিব‍্যোন্মাদই প্রেমের বিবর্তনে শেষ কথা। তখন ভক্ত =*
*🌷স্থাবর জঙ্গম দেখে না দেখে তাঁর মূর্তি।*
*🌷যাঁহা যাঁহা নেত্র পড়ে তাঁহা কৃষ্ণস্ফূর্তি।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
 *বৈষ্ণব সাহিত‍্যে প্রেমের আদর্শ*
********************************
*🌹বৈষ্ণব অলঙ্কার শাস্ত্রে প্রেম নামক চিন্ময় রসের যে স্তর-পরম্পরা বর্ণিত হয়েছে,তা অন‍্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। সুতরাং প্রেম বৈষ্ণবগণের আদর্শ বা লক্ষ্য,এটি বলিলেই সব বলা হল না। যে প্রেম ঈশ্বর-প্রাপ্তির একমাত্র সাধন বা উপায়,তার স্বরূপ নির্ণয় করা বড় সহজ নহে। বর্তমান প্রবন্ধে আমি শুধু এইই বলতে চাই যে,বৈষ্ণব তত্ত্ববিদগণ প্রেমের সুর এইরকম উচ্চগ্রামে বেঁধেছিলেন বলেই বৈষ্ণব কাব‍্যে এর এত প্রসার দেখতে পাই। "বৈষ্ণব পদকর্তাগণ প্রেমের কথা বলতে অজ্ঞান।কোনও উপমাই ইঁনাদের বাদ পড়ে নাই,তথাপি যেন তৃপ্তি নাই।এত বলেও বলার শেষ নাই। প্রেম যে অনির্বচনীয় বস্তু,কাব‍্য কথার স্বর্ণসূত্রে সে গাঁথা পড়তে চাহে না। (বিদ‍্যাপতির রাধা উপমার পর উপমা সাজিয়েছেন,পঞ্চ প্রদীপের মত আরতি করে তাঁর প্রেমকে উজ্জ্বল করে তুলেছেন, কিন্তু কিছুতেই তৃপ্তি হচ্ছে না)।*
*🌷হাথক দরপণ মাথক ফুল।*
*🌷নয়নক অঞ্জন মুখক তাম্বুল।।*
*🌷হৃদয়ক মৃগমদ গীমক হার।*
*🌷দেহক সরবস, গেহক সার।।*
*🌷পাখীক পাখ,মীনক পানি।*
*🌷জীবক জীবন হাম তুহুঁ জানি*
*🌷তুহুঁ কৈসে মাধব কহ তুহুঁ মোয়*।
*🌷বিদ‍্যাপতি কহ দুহুঁ দোহা হোয়।।*
*🌻হে রাধে প্রিয়তম তুমি আমার হাতের আরসী,মাথার ফুল,আঁখির কাজল,অধরের তাম্বুল,হিয়ার মৃগমদচিত্র,গলার মালা,দেহের সর্বস্ব, সংসারের সার,পাখীর পাখা,মীনের নীর,জীবনের জীবন, এত বলেও বলার শেষ হল না। শেষে বলছেন,তুমি কেমন আমাকে বলে দাও।বিদ‍্যাপতি বলছেন, তোমরা উভয়ে উভয়ের তুলনা, অর্থ‍্যাৎ তোমাদের তুলনা নাই।*
*🌺চন্ডীদাস রাধাকৃষ্ণ প্রেমের তুলনার জন্য প্রকৃতির ভান্ডার উজাড় করেছেন,তথাপি সে প্রেমের নাগাল পাওয়া গেল না।*
*🌷এমন পিরীতি কভু দেখি নাহি শুনি।*
*🌷পরাণে পরাণ বান্ধা আপধা আপনি।।*
*🌷দুহু কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।*
*🌷আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া।।*
*🌷জল বিনু মীন যেন কভু নাহি জীয়ে।*
*🌷মানুষে এমন প্রেম কোথা না শুনিয়ে।।*
*🌷ভানু কমল বলি সেহো হেন লয়।*
*🌷হিমে কমল মরে ভানু সুখে রয়।।*
*🌷চাতক জলদ কহি-- সে নহে তুলনা।*
*🌷সময় নহিলে সে না দেয় এক কণা।।*
*🌷কুসুমে মধুপ কহি সেহো নহে তুল।*
*🌷না আইলে ভ্রমর আপনি না যায় ফুল।।*
*🌷কি ছার চকোর চান্দ দুহুঁ সম নহে।*
*🌷ত্রিভুবনে হেন নাহি চন্ডীদাস কহে।।*
*🌹এইসব উপমা সম্বন্ধে বিদাপতি ও চন্ডীদাসের মধ্যে অদ্ভুত সাদৃশ‍্য দেখা যায়। কিন্তু ত্রিভুবনে এর তুলনা হয় না। মুরারি গুপ্ত সেইজন‍্য বলেছেন=*
*খাইতে শুইতে রৈতে,আন নাহি লয় চিতে,*
      *বঁধূ বিনা আন নাহি ভায়।*
*মুরারি গুপতে কহে,পিরীতি এমনি হৈলে,*
     *তার গুণ তিন লোকে গায়।।*
*🌻বিদ‍্যাপতির একটি উপমা মামুলি বুলি ছড়িয়ে গিয়েছে।*
*🌷খোঁজলুঁ সকল মহীতল গেহ।*
*🌷খীর নীর সম ন হেরল নেহ।।*
*🌷যব কোই বেরি আনল মুখ আনি।*
*🌷খীর দন্ড দেই নিরসত পানি।।*
*🌷তবহুঁ খীর উমড়ি পড় তাপে।*
*🌷বিরহ বিয়োগে আগ দেই ঝাঁপে।।*
*🌷যব কোই পানি আনি তাহি দেল।*
*🌷বিরহ বিয়োগ তবহি দূর গেল*।।
*🌷ভণই বিদ‍্যাপতি এহেন সুনেহ।*
*🌷রাধামাধব ঐসন নেহ।।*
*🌹সমস্ত পৃথিবী খুঁজিলাম দুগ্ধ ও জলের মধ্যে যে প্রেম, তার তুলনা দেখলাম না।যদি কেউ জলমিশ্রিত দুধ আগুনে চাপিয়ে দেয় এবং জল শুকিয়ে দেয়(নিরসত),তাহলে দুধ উথলিয়ে জলের বিরহে আগুনে ঝাঁপ দেয়।তখন যদি কেউ তাতে একটু জল দেয়, তখন বিরহ দূরে যায় এবং দুধ শান্ত ভাব অবলম্বন করে। বিদাপতি বলছেন যে,এরই নাম প্রেম এবং রাধামাধবের প্রেম এইরকমই।*
*🌺গোবিন্দদাসের রাধা যখন বিরহে কাতর,মিলনের আর কোনও আশাই দেখা যায় না, তখন মরণে মিলন কামনা করছেন।*
*🌷যাঁহা পহুঁ অরুণ চরণে চলি যাত।*
*🌷তাহাঁ তাহাঁ ধরণি হইয়ে মঝু গাত।।*
*🌷যো সরোবরে পহুঁ নিতিনিতি নাহ।*
*🌷মঝু অঙ্গ সলিল হোই তথি মাহ।।*
*🌷এ সখি বিরহ মরণ নিরদন্দ।*
*🌷ঐছন মিলই যব গোকুল চন্দ*।।
*🍀হে সখি!আজ বিরহ মরণ নির্দ্বন্দ্ব হোক,যাতে আমি (মরণের মধ‍্য দিয়ে ) আমার প্রিয়তমকে লাভ করতে পারি। আমার শরীরের পঞ্চভূত পঞ্চভূতে মিশে যাক এবং আমার অঙ্গপ্রিয়তমের গমন পথের মৃত্তিকা হোক।যে সরোবরে প্রিয়তম নিত‍্য স্নান করেন, আমার অঙ্গের সলিলাংশ যেন সেই সরোবরের সলিল বা জল হয়।*
*🙏এ প্রেম কি এতই সহজ? ভগবদগীতা যে বলেছেন "মামেকং শরণং ব্রজ" সেই "কৃষ্ণৈকশরণ" কি কথার কথা?*
*পীরিতি পীরিতি, সব জন কহে,*
       *পীরিতি সহজ কথা।*
*বিরিখের ফল, নহে তো পীরিতি,*
      *নাহি মিলে যথাতথা।।*
*(সংস্কৃত কাব‍্যের অনুকরণে এ কবিতা রচিত)।*
*পিরীতি লাগিয়া, আপনা ভুলিয়া,*
       *পরেতে মিশিতে পারে।*
*পরকে আপন, করিতে পারলে,*
      *পিরীতি মিলয়ে তারে।।*
*দুই ঘুচাইয়া, এক অঙ্গ হও,*
       *থাকিলে পিরীতি আশ।*
*পিরীতি সাধন, বড়ই কঠিন,*
       *কহে দ্বিজ চন্ডীদাস।।*
*🍀বৈষ্ণব কবিদের মধ্যে চন্ডীদাসের মত পিরীতি পাগল আর কেউ ছিলেন কিনা সন্দেহ আছে।চন্ডীদাসের প্রেমের আদর্শ আজও অম্লান শুভ্রতায় সদ‍্যঃপ্রস্ফুটিত যুঁই ফুলের মত দেবতার বেদীমূলে উজ্জ্বল হয়ে আছে।প্রেমে-- এমন কি মানবীয় প্রেমে, যে তন্ময়তা আনে,তারই চরম বিকাশ চন্ডীদাসের প্রেমে। গীতায় যেমন ভগবান বলেছেন=*
*যো মাং পশ‍্যতি সর্বত্র সর্বং চ ময়ি পশ‍্যতি।*
*তস‍্যাহং ন প্রণশ‍্যামি স চ মে ন প্রণশ‍্যতি।। ষষ্ঠ অঃ।।*
*🌺এই রকম প্রেমিক ভক্ত প্রকৃত প্রম উপলব্ধি করতে পারেন।তাঁর চিত্ত কৃষ্ণময় হয়ে যায়।চক্ষু কৃষ্ণ বিনা আন কিছু দেখে না,কান মধুরাতিমধুর ব্রহ্মময়ী বেণুধ্বনি বিনা আর কিছুই শুনে না।নাসিকা সেই অঙ্গ-সৌরভে পাগল হয়।জিহ্বা সবসময়ই তাঁরই নামলীলারসে বিভোর হয়।এরই নাম কৃষ্ণপ্রেম।তখন দিনরাত্রি ঘরপর কিছুই আর জ্ঞান থাকে না।*
*🌷ঘর কৈনু বাহির বাহির কৈনু ঘর।*
*🌷পর কৈনু আপন আপন কৈনু পর।।*
*🌷রাতি কৈনু দিবস দিবস কৈনু রাতি।*
*🌷বুঝিতে নারিনু বঁধূ তোমার পিরীতি।।* *(চন্ডীদাস)*
*📿কলঙ্ক সে তো গলার হার।গরব করে কলঙ্কের হার পরতে সাধ হয়।কারও কথায় কিছু আসে যায় না।বিধি নিষেধেরও তখন অধিকার থাকে না।*
*🌺বাহির দুয়ারে কপাট লেগেছে,*
           *ভিতর দুয়ার খোলা।*
*🌺(তোরা)নিসাড়া হইয়া আইলো সজনি,*
        *আঁধার পেরিয়ে আলা।।*
*🌻যে সেই সমুদ্রে ডুব দিয়েছে,তার পক্ষে বাহির জগতের অস্তিত্ব লুপ্ত হয়েছে।বাহির জগৎ খোলা খোলা থাকতে তো অনুভূতি প্রাণে জাগে না। যোগে যেমন চিত্তবৃত্তি নিরোধ হয়, এই প্রেমের যোগীরও সেইরকম সর্বেন্দ্রিয়বৃত্তি প্রেমাস্পদের অনুভূতিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। তোরা কথা কহিস না, অনুভূতির নেশা ছুটে যাবে।ক্ষণিকের জন্য হয়ত মনে হবে যে,বহির্জগৎ হতে চিত্ত বিযুক্ত হলে বুঝি আর কিছুই রইল না, শুধু অন্ধকার। কিন্তু তা না,কিছুক্ষণ পরেই চিত্তে প্রেমের যে নির্মল জ‍্যোতি ফুটে উঠবে,তাতে জীবনের সমস্ত আঁধার, সমস্ত সংশয় নিমেষে অন্তর্হিত হয়ে যাবে।*
*🍀আর একজন কবি কি ভাবে এই একান্ত আত্ম-বিলয়ের কথা বলেছেন, এই বলেই প্রেমের কথা বিরাম দেব।*
*🌻শ্রীমতী বলছেন=*
*🌷নব রে নব রে নব নবঘন-শ‍্যাম*।
*🌷তোমার পিরীতিখানি অতি অনুপাম।।*
*🌷তোমার পিরীতি-সুখ-সায়রের মাঝ।*
*🌷তাহাতে ডুবিল মোর কুলশীল লাজ।।*
*🌷কি দিব কি দিব বন্ধু মনে করি আমি।*
*🌷যে ধন তোমারে দিব সে ধন আমার তুমি।।*
*🌷তুমি যে আমার বন্ধু আমি যে তোমার।*
*🌷তোমার ধন তোমারে দিব কি যাবে আমার।।*
*🌹ত্বদীয়তাময় এবং মদীয়তাময় প্রেমের দুইটি ধারা এখানে একত্র মিশে গিয়েছে।এই নিত‍্য নবায়মান প্রেমে তুমি-আমির পালা শেষ হয়ে এক অখন্ড,অনবছিন্ন, সম্পূর্ণ,কেবলানন্দময় অনুভূতি জাগরিত হয়।*
*হৃদয় মন্দিরে মোর, কানু ঘুমাওল,*
       *প্রেম প্রহরী রহু জাগি।*
               *(গোবিন্দ দাস)*
*🌷আমার হৃদয় মধ্যে প্রমময় ভগবান একাত্ম হয়ে মিশে গিয়েছেন, প্রেমই শুধু জেগে আছে।*
🙏🌸🪔🦚🌷🦋🦜🪷🌷🦚🪔🌸

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
       *ভক্তিবাদ ও শ্রীমদ্ভাগবত*
      ••••••••••••••••••••••••••••••••
*🙏ভক্তিবাদ অতীব প্রাচীন। বতর্মানে যে সব ধর্মমতের প্রতি লোকের আস্থা দেখা যায়,তার সবগুলির মধ্যেই ভক্তিবাদ অল্পাধিক পরিমাণে মিশ্রিত আছে। কিন্তু এমন এক সময় ছিল,যখন ভক্তিবাদ লোকের মন আকৃষ্ট করবার জন্য বিশেষভচেষ্টিত হয়েছিল। ভগবদ্ গীতায় এর কিছু আভাস পাওয়া যায় ; চতুর্থ অধ‍্যায়ে উক্ত হয়েছে ঃ---*
*🌷ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব‍্যয়ম্।*
*🌷বিফস্বান্ মনবে প্রাহ মনুরিক্ষাকবেহব্রবীৎ।।*
*🌻ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বরছেন যে,তিনি পূর্বে এই অব‍্যয় যোগ সূর্য‍্যকে শিক্ষা দিয়েছিলেন, সূর্য‍্য তাঁর পুত্র মনুকে এবং মনু ইক্ষাকুকে বলেছিলেন। নিমি প্রভৃতি রাজর্ষিগণ পরম্পরাক্রমে এই যোগ অবগত হয়েছিলেন। কিন্তু কালবশে এই যোগ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।আজ আমি তোমাকে সেই পুরাতন যোগের কথা বলছি।*
*🌷স এবায়ং ময়া তেহদ‍্য যোগঃ প্রোক্তঃ পুরাতনঃ।*
*🌷ভক্তোহসি মে সখা চেতি রহস‍্যং হ‍্যেতদুত্তমম্।।*
                          *(গীতা=৪র্থ অঃ)*  
*🍀অর্জুনের মনে সংশয় হল।তিনি বললেন,তুমি তো আধুনিক অর্থ‍্যাৎ এখন বতর্মান, বিবস্বান্ (সূর্য‍্য) প্রাচীন কালের একজন, তুমি কিভাবে তাঁকে এই যোগ শিক্ষা দিলে? তার উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, "আমি অজ হয়েও বহুবার জন্মগ্রহণ করেছি,তুমিও তাই।আমি সেসব রহস‍্য জানি, তুমি অবিদ‍্যার অধীন বলে ভুলে গিয়েছ। যাইহোক, গীতারও বহু পূর্বে যে এই ভক্তিতত্ত্ব ভারতে সুবিদিত ছিল,তা বুঝা যায়।গীতার রচনাকাল নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে সুপ্রসিদ্ধ পন্ডিত জ‍্যাকোবি প্রভৃতির মতে গীতা মহাভারতের অংশ হলেও সেটিতে প্রথমে কোন ধর্মতত্ত্ব ছিল না। গীতার যে সমস্ত শিক্ষা সভ‍্যজগতের বিস্ময় ও শ্রদ্ধা উৎপাদন করেছে, সেটি নাকি পরবর্তী কালের যোজনা! এরকম মতবাদের সারবত্তা সম্বন্ধে পন্ডিতগণের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, ভক্তিবাদ যে খ্রীষ্ট-জন্মেরও পূর্ব হতে ভারতে পরিজ্ঞাত ছিল,এটি অস্বীকার করা যায় না।*
*🌹ভক্তিবাদের প্রধান প্রচারক ছিলেন পাঞ্চরাত্র সম্প্রদায়।মহাভারতের শান্তিপর্বে যে "হরিগীতং পুরাতনম্" আছে, তা এই পাঞ্চরাত্র সম্প্রদায়েরই মত।শান্তিপর্ব এবং তদন্তর্গত মোক্ষধর্ম ও নারায়ণীয় পরবর্তীকালে সংযোজিত বলে কোন কোন পন্ডিত মত প্রকাশ করেছেন।এইরকম প্রক্ষেপবাদ হতে পরিত্রাণ পাওয়া অবশ‍্য সুদুষ্কর। কিন্তু অনেক জায়গায় দেখা যায়, এরকম মতবাদের ভিত্তি নিতান্তই শিথিল। দক্ষিণদেশের একটি জায়গা বোধহয় উত্তর-ভারতের পদাবলী।এইসব তামিল দেশীয় ভক্তকবি খ্রীষ্টীয় তৃতীয় হতে অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে আবির্ভূত হন বলে জানা যায়।ইঁনাদের ভক্তিবাদ "দ্রাবিড়াম্নায়" নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে।এর এক অংশ দ্রাবিড় সামবেদ নামে কথিত।শঠারি,শটকোপ বা নম্মা আলবার এই সামবেদের রচয়িতা।নম্মা আলবার সম্বন্ধে কথিত আছে যে তিনি ষোল বৎসর বয়স পর্যন্ত মৌন ছিলেন।এই সময়ে তিনি এক বকুল বৃক্ষের তলে বসে থাকতেন এবং ভগবান অনেক সময়ে তাঁকে দেখা দিতেন।ষোল বৎসরের পর তিনি যখন "প্রকাশ" হলেন তখন লোকে দেখল যে তাঁর দেহে নানা অলৌকিক ভাব প্রকটিত হয়।অশ্রুকম্প,পুলক প্রভৃতি সাত্ত্বিক লক্ষণগুলি দেখা দিল।তিনি কখনও হাসেন, কখনও কাঁদেন, কখনও নৃত্য করেন, আবার কখনও গান করেন।এই সমস্ত দেখে লোকে তাঁকে অসাধারণ ব‍্যক্তি বলে বুঝতে পারল।কেউ কেউ তাঁকে বিষ্ণুর অবতার বলতেও কুন্ঠিত হতেন না। নম্মা আলবারের শিষ্য মধুরকবি নামক আলবার বলেছেন যে, ব্রজরমণীগণের যে ভাব ছিল শ্রীকৃষ্ণে, শঠারি মুনিরও সেই সব ভাব দেখা যেত। ভাগবতেও আমরা অনুরূপ ভাবের বর্ণনা পাই।*
*🌷এবং ব্রতঃ স্বপ্রিয় নামকীর্ত্ত‍্যা,*
*জাতানুরাগো দ্রুতচিত্ত উচ্চৈঃ।*
*🌷হসত‍্যথ রোদিতি রৌতি গায়,*
*তুন্মুত্তবৎ নৃত‍্যতি লোকবাহ‍্যঃ।।*
              *(ভাঃ=১১|২|৪০)*
*🌻তামিল দার্শনিক কবি বেদান্তদেশিকাচার্য‍্য "তাৎপর্য‍্য রত্নাবলী" নামক গ্রন্থ, শঠারি সম্বন্ধে বলেছেন যে, তিনি ব্রজরমণীগণের রীতি অবলম্বনে ভগবানকে আস্বাদন করেছিলেন=*
*🌷ব্রজযুবতীগণ-খ‍্যাতনীত‍্যাহন্বভুংক্ত।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ ব্রজযুবতীগণ যে ভাবে শ্রীকৃষ্ণকে আস্বাদন করেছিলেন,ইনি (শঠারি) সেই বিখ‍্যাত নীতিতে ভগবান কে উপভোগ করেছিলেন। এখানে আমরা মধুর ভাব বা কান্তাভাবের উপাসনা-পদ্ধতির সর্বপ্রথম পরিচয় লাভ করেছে।আলবারদের মধ্যে ১২ জন খুব বিখ‍্যাত হয়েছিলেন।ইঁনাদের শেষ ব‍্যক্তি তিরুমঙ্গই আলবার খ্রীষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে বতর্মান ছিলেন।অন‍্যান‍্য আলবাররা ইঁহার পূর্বে পাঁচ কি ছয় শত বৎসরের মধ্যে প্রাদুর্ভাব হয়েছিলেন।নম্মা আলবার এই দ্বাদশ জনের মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করে আছেন। সেই অতি প্রাচীন কাল হতে দক্ষিণ ভারতে ভক্তিধর্মের এই অভ‍্যুত্থান দেখে বুঝতে পারা যায় যে, ভাগবতধর্ম সারা ভারতবর্ষে কি অদ্ভুত প্রেরণা যোগিয়েছিল।গ্রীকদূত কর্তৃক খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে বাসুদেবের নামে দাক্ষিণাত‍্যে বেসনগর স্তম্ভ উৎসর্গীকৃত হয়েছিল, কবি ভাস শ্রীকৃষ্ণের লীলা অবলম্বন করে বালচরিতম্ লিখিলেন, মহাকবি কালিদাস মেঘদূতে শ্রীকৃষ্ণের নবঘনশ‍্যামরূপের উল্লেখ করলেন, এ সমস্ত ব‍্যাপারই ইহা হতে বুঝতে পারা যায়। তামিল ভাষার প্রাচীন গ্রন্থ "কুরল" এই গ্রন্থে প্রেমের যে বিশ্লেষণ আছে তা রাধাকৃষ্ণের লীলাই স্মরণ করিয়ে দেয়।প্রণয়,মান, মানান্তে মিলন প্রভৃতির সুন্দর চিত্র এই গ্রন্থে পাওয়া যায়।*
*🌻ভক্তিধর্মের অভ‍্যুত্থানের যে অদ্ভুত ইতিহাস আমরা দক্ষিণ ভারতে পাই,অন‍্যত্র তার তুলনা নাই।পরবর্তীকালে বাংলায় যে প্রেমভক্তির অভ‍্যুদয় হয়েছিল,পাঞ্জাবে এবং উত্তর পশ্চিমে যে ভক্তিধর্মের ধারা নানকজী, মীরাবাঈ প্রভৃতির মধ্যে দেখতে পাই, তার মূল উৎস অনুসন্ধান করতে সম্ভবত দক্ষিণ ভারতেই যেতে হবে।পূর্বে আলবারদের কথা বললাম,তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা ছিলেন, তাঁর নাম আন্ডাল।এই মহিলা আলবারের পিতা পেরি আলবরও প্রসিদ্ধ ব‍্যক্তি ছিলেন।আন্ডালের এই অভিমান ছিল যে,শ্রীরঙ্গনাথ তাঁর স্বামী! এই হেতু তাঁর পিতা আন্ডালের বিয়ে দেননি।আন্ডালের বিগ্রহ এখনও শ্রীরঙ্গনাথের মন্দিরে পূজিত হয়।মীরাবাঈ আন্ডালেরই যেন প্রতিমূর্তি এইরকম মনে হবে।এই দুই মহিলার চরিত্রে এইরকম সাদৃশ‍্য দেখা যায় যে,একই উৎস হতে অনুপ্রাণনা এসেছিল এরকম মনে না করে উপায় নাই।*
           *ক্রমাগত*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
   *শ্রীচৈতন‍্য ও পদাবলী*
   ***********************
*🍀সমাজের দিক দিয়ে,শ্রীচৈতন‍্য প্রচারিত ধর্ম শুধু জাতিভেদ এবং সাম্প্রদায়িক মনোভাবের শিথিলতা সম্পাদন করেই ক্ষান্ত হয়নি, নীচুজাতিদের উন্নত করতেও ইহা বহুল পরিমাণে কৃতকার্য‍্য হয়েছিলেন।বৌদ্ধধর্মের অবনতির যুগে যে সব পঙ্কিলতা সমাজদেহকে কলুষিত করেছিল,তার কুফল কতদূর গড়াত,তা বলা যায় না, যদি সেই সময়ে বৈষ্ণবধর্ম বাধা না জন্মাত।আমরা ইতিহাস হতে জানতে পারি যে,শ্রীমন্নিত‍্যানন্দের পুত্র বীরচন্দ্র প্রভু বহু নেড়ানেড়ি ও তথাকথিত সহজিয়াকে বৈষ্ণব ধর্মে স্থান দান করেছিলেন।এও জানা যায় যে, পরবর্তীকালে এতে বৈষ্ণবধর্মে কতকটি ময়লা প্রবেশ করেছিল, কিন্তু তা শ্রীচৈতন‍্যের সংকল্পিত আদর্শের দোষে নয়।কারণ বৈষ্ণবধর্মের আদর্শ সেই যুগে যে উচ্চ ধাপে স্থাপিত হয়েছিল, তা যে কোন যুগে যে কোনও দেশের পক্ষে গৌরবজনক এটি নিঃসংকোচে বলা যায়।*
*🌷অসৎসঙ্গ ত‍্যাগ এই বৈষ্ণব আচার।*
*🌷স্ত্রীসঙ্গী এক অসাধু কৃষ্ণাভক্ত আর।।*
             *(শ্রীচৈঃচঃমধ‍্যলীলা)*
*🌹স্ত্রীলোকের কাছে ভিক্ষা-গ্রহণের জন্য মহাপ্রভু প্রিয়ভক্ত ছোট হরিদাসকে বর্জন করেছিলেন।সেই উচ্চ আদর্শ যে পরবর্তীকালে অনুসৃত হয়নি, তাইই বৈষ্ণব ধর্মের অবনতির অন‍্যতম কারণ, এ সম্বন্ধে সন্দেহ নাই। সংসারে থেকে এরকম আদর্শ পালন করা অসম্ভব বলে শ্রীচৈতন‍্য এবং তাঁর প্রসিদ্ধ সঙ্গীগণ সংসারের মায়ামোহ হেলায় উপেক্ষা করে চলে গিয়েছিলেন।*
*🍀কিন্তু একটি লক্ষ্য করবার বিষয়ে এই যে,ইঁনারা সন্ন‍্যাসী হয়েও সংসারকে অবজ্ঞা করেননি। সংসার পাপের কুন্ড অতএব সংসার ছেড়ে না গেলে মুক্তিলাভ অসম্ভব, এই চিন্তা নিয়ে শ্রীচৈতন‍্য সংসার ত‍্যাগ করেননি। পক্ষী যেমন বায়ুভরে উর্দ্ধ আকাশে উড়ে সস্নেহে নিচের পৃথিবীর দিকে চেয়ে থাকে,শ্রীচৈতন‍্য ও তাঁর পারিষদগণের অন্তরও সেইরকম জগতের প্রতি করুণায় পরিপূর্ণ ছিল।দুর্গত মানুষের উপায় কি হবে?তারা কি উপায়ে সহজে উন্নততর জীবনের স্বাদ লাভ করবে,এটিই তাঁদের সন্ন‍্যাসপূত জীবনের একমাত্র কাম‍্য ছিল বললে বেলী বলা হবে না।জগতের জন্য কেঁদেই মহাপ্রভু জগতের হৃদয় জয় করেছিলেন।প্রেম যার কাছে পরম পুরুষার্থ স্নেহপ্রণয়রতি যার সমস্ত কামনা সমস্ত কল্পনার সার বস্তু,জগৎ তার কাছে এক নূতন সত‍্যরূপে প্রতিভাত হবে,এতে বিচিত্র কি?সংসারের অসারতা, জগতের অনিত‍্যতার কথা নিত‍্য শুনে শুনে মানুষের মনে যে অনপনেয় দৈন‍্য,যে নৈরাশপূর্ণ কষ্ট এসেছিল,তা কতকটা এই নূতন ধর্মের শিক্ষায় দূর হতে লাগল।সংসার দুঃখময়,এর হাত হতে পরিত্রাণ লাভই একমাত্র কাম‍্য, এই শিক্ষায় যে কুফল ফলে,তা আমরা মর্মে মর্মে বুঝেছি।শ্রীচৈতন‍্যের প্রেমধর্ম এই শিক্ষায়মোড় ফিরাতে চেষ্টা করেছিলেন। মানুষকে সবরকম হীনতা হতে মুক্ত করে শ্রীচৈতন‍্য তাকে সংসারের মধ্যে স্থাপন করলেন।সবার উপরে মানুষ সত‍্য। ভগবানের যত লীলা আছে,তার মধ্যে সর্বোত্তম নরলীলা, নরবপু তাহার স্বরূপ। মানুষকে এমন করে মর্য‍্যাদা দান আর কেউ কখনও করেনি। ভগবান মানুষের সঙ্গে মানুষ সেজে লীলাখেলা করেন। মানুষ হেয় নহে,অসার নহে,মানুষ ভগবানের নিত‍্য দাস।এই দাসত্বই তার সারাজীবনের সারকামনা। "গোপীভর্ত্তুশ্চরণ কমলয়ো র্দাসদাসানুদাসঃ "।*

*জীব যে কৃষ্ণের নিত‍্য দাস তা ভুলে গিয়েই যত গন্ডগোল বাধিল এবং মায়া তখনই তার গলায় ফাঁস পরাল।তা না হলে মানুষ নিজ স্বরূপে অবস্থান করে সংসারের দুঃখ শোক মোহ হেলায় অতিক্রম করতে পারত?যে ভগবৎপ্রেম মানুষের পক্ষে পরম কাম‍্য তা তার জন্মগত অধিকার।এ অধিকার কষ্টসাধ‍্য তপ জপ আসন প্রাণায়ামের দ্বারা লাভ করা যায় না।আপনা হতেই এই মনুষ‍্য জন্মেই ভগবানের দান হিসাবে এটি লাভ করেছে।*
*🌷নিত‍্য সিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম সাধ‍্য কভু নয়।*
*🌹সংসার দুঃখময় কে বলিল? যে সংসারে থেকে এই মানুষ দেহেই কৃষ্ণসেবার অধিকার লাভ করা যায়, তা হতে পলায়ন করাই যে শ্রেয়ঃ এরকম মনে করবার কি কারণ আছে? বৈষ্ণবগণ এই জন্য মুক্তি চাহেন না।এই যে দৃষ্টিভঙ্গী জগতের সম্বন্ধে,সমাজের সম্বন্ধে,মানবজীবনের সম্বন্ধে এটি সম্পূর্ণ অভিনব। ভগবান প্রেমময়, তিনি জগৎ সংসারকে দুঃখ-কষ্টের আগার করে সৃষ্টি করবেন কেন? ভগবান মধুর,এই জগৎ মধুর, তুমি মধুর, আমিও মধুর।মাধুর্য‍্যভরা এই জগতের মাঝখানে মানুষকে স্থাপন করে ভগবান তার প্রেম লুন্ঠন করবার জন্য সর্বদা লালায়িত।❤যেমন খদ্দের না থাকলে দোকানের কি মূল‍্য!ভক্ত না থাকলে ভগবানের কি কদর! এই মাধুর্য‍্যবাদ সাহিত‍্যে,সঙ্গীতে,শিল্পে বিকশিত হয়ে উঠেছিল শ্রীচৈতন‍্যদেবের শিক্ষায়। বাংলাদেশে সাহিত‍্য যে প্রেরণা লাভ করিল,তার ফলে অসংখ্য কবি অসংখ্য কবিতার অর্ঘ‍্য রচনা করলেন প্রেমের উদ্দেশ্যে, প্রেমময়ের উদ্দেশ্যে।সেই যুগে অর্থ‍্যাৎ শ্রীচৈতন‍্যের পরবর্তী যুগে কাব‍্য সাহিত‍্যে যেরকম বান বা বন‍্যা ডেকেছিল, তেমন আর কোনও দেশে,কোনও যুগে দেখা যায় নাই।চন্ডীদাস,বিদ‍্যাপতি পদ রচনা করে যুগলভজনের প্রশস্ত পথ প্রস্তুত করে দিয়ে গিয়েছিলেন।শ্রীমন্মহাপ্রভুর পরে সেই পথে অসংখ্য লোক প্রেমের পথে যাত্রা করিল।অধিকন্তু নূতন যুগে সেই যাত্রাপথের পুরোভাগে সর্বসম্মতিক্রমে স্থাপন করল ল্রীচৈতন‍্যদেবকে।সেই হতে গৌরচন্দ্রিকায় সাহিত‍্যের আর এক বিরাট পর্ব আরম্ভ হল।গৌরাঙ্গলীলা স্বতন্ত্রভাবেও সাহিত‍্যে একটি সুপরিসর জায়গা করে নিল।খেতরির মহোৎসব হতে আজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ বৎসর বৈষ্ণব কবিতায় শ্রীগৌরাঙ্গের অপ্রতিহত প্রভাব চলে আসছে। এখানেও আমরা দেখি যে,শ্রীচৈতন‍্য সম্বন্ধে বাংলা কাব‍্যসাহিত‍্যে যে দরদ তার তুলনা আমরা আর কোথাও পাই না।*
*পূর্বে শ্রীচৈতন‍্যের প্রবর্তিত সাম‍্যবাদের কথা বলেছি।এই সময়ের পদাবলী সাহিত‍্যে সেই অখণ্ড সাম‍্যবাদের প্রকৃষ্ট বা উত্তম পরিচয় পাওয়া যায়।মহাপ্রভুর পূর্ববর্তী পদকর্তাদের পরিচয়ে দেখি "দ্বিজ" "বড়ু" (ব্রাহ্মণতনয়) প্রভৃতি আভিজাত‍্যবোধক শব্দের ছড়াছড়ি। কিন্তু শ্রীচৈতন‍্য পরবর্তী সাহিত‍্যে সকলেই সমান।সকলের উপাধি "দাস"।ব্রাহ্মণ,বৈদ‍্য,কায়স্থ প্রত‍্যেক বর্ণই দাস-সংজ্ঞায় অভিহিত হতে চেয়েছেন।এটিকে "বিনয়"মাত্র মনে করলে ভুল করা হবে।এখন অনেক জায়গায় বৈষ্ণবদের দৈন‍্য বা বিনয় উপহাসের বিষয় হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে,বিনয় মিলনের পক্ষে একান্ত পরিহার্য‍্য।যতক্ষণ মনে অভিমান বা অহংকার থাকে,ততক্ষণ কোনও রকম সাম‍্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।সমাজের মধ্যে যে অসংখ্য প্রকার উচনীচ ভেদ চলে আসছে,তাকে সমভূমিতে নিয়ে আসতে না পারলে সমস্ত সাম‍্য চেষ্টাই ব‍্যর্থ হতে বাধ‍্য।এই নিগূঢ় মনস্তত্ত্ব শ্রীমন্মহাপ্রভু ও তাঁর পরিকরগণ বুঝিয়েছিলেন। আমরা কিন্তু এখনও তা বুঝতে পারিনি।জগতে মানুষে মানুষে যদি,কখনও ভালবাসা সম্ভফ হয়,তবে তার প্রথম সোপান রচিত হবে এই বিনয়ের মধ‍্য দিয়ে ; সনাতন রক্ষণশীলতার অপ্রতিহত প্রভাব সেই জায়গায় ব‍্যর্থ। হাজার হাজার টোলে বাংলা ও ভারতের নানাস্থান হতে ছাত্রেরা নবদ্বীপে এসে ন‍্যায়শাস্ত্র,দর্শনশাস্ত্র,কাব‍্য,স্মৃতির আলোচনা করে ; বিদ‍্যার বিলাসই সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্রাহ্মণদের জীবনের প্রধান আনন্দ।জাতিভেদের কঠিন নিগড়ে বা শিকলে সমস্ত সমাজ বাঁধা, ব্রত নিয়ম অনুষ্ঠান,আচার ও প্রথার নির্মম অনুশাসনে সমাজ জীবন নিষ্প্রভ, মানুষের চলার পথ শত বাধানিষেধে কন্টকিত।শ্রীগৌরাঙ্গ প্রথমেই সেই প্রাণহীন আচার অনুষ্ঠানের অচলায়তনের নির্মমভাবে আঘাত করলেন,শুকনো তর্ক ও বিদ‍্যাবিলাসের মোহকে ছিন্ন করতে রত হলেন,ছুৎমার্গের নাগপাশকে শিথিল করে দিলেন। তিনি নির্ভীকভাবে প্রচার করলেন,ঈশ্বরে ভক্তিই ধর্ম,জ্ঞান ও তর্কের পথে এই ধর্মলাভ হয় না। ভগবানের দৃষ্টিতে উচনীচ জাতিভেদ নেই।প্রেমধর্মের মধ‍্য দিয়ে মানুষকে তিনি নূতন মর্য‍্যাদা দিলেন,হিন্দু সমাজের সামনে তিনি নূতন আদর্শ স্থাপন করলেন।সমাজের যে অস্পৃশ‍্য অন্ত‍্যজ,দীনাতিদীন, সেও তার প্রেমস্পর্শে আত্ম উপলব্ধি করতে শিখিয়েছিল।মহাপ্রভু তাঁর অমোঘ ভাষায় বলে দিলেন=*
*🌷যে-ই ভজে,সে-ই বড় অভক্ত হীন ছার।*
*🌷কৃষ্ণ ভজনে নাহি জাতি কুলাদি বিচার।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ মানুষ মানুষের সঙ্গে মিলতে পারে একমাত্র প্রশস্ত ক্ষেত্রে ; সেই ক্ষেত্র হচ্ছে ধর্মের বিস্তৃত প্রাঙ্গণ।ধর্ম বাহিরের বস্তু নয়,প্রাণের বস্তু।প্রাণের মিলনই সত‍্যকার মিলন। সুতরাং ভারতবর্ষে সাম‍্যবাদের প্রতিষ্ঠা করতে হলে শ্রীচৈতন‍্যের শিক্ষায় অবলম্বন করতে হবে।অর্থের জন্য, সুযোগ সুবিধার জন্য যে মিলন তা সাময়িক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেও তার স্থায়িত্ব সম্বন্ধে নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
     *শ্রীচৈতন‍্যের বিদ‍্যাবিলাস*
    **************************
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেবকে যাঁরা ভগবানের স্বরূপ বলে মনে করেন,তাঁদের কাছে তিনি কতদূর লেখাপড়া শিখেছিলেন, এ প্রশ্ন একান্ত অবান্তর ও অনাবশ‍্যক। যিনি সর্বজ্ঞ এবং সর্ববিভূত্বমন্ডিত,যিনি সরস্বতিপতি ও অন্তর্য‍্যামী,তাঁর সমস্ত জ্ঞান করাকমলবৎ,সমস্ত বিদ‍্যা অধীত। কিন্তু জগন্নাথ মিশ্র তনয় বিশ্বম্ভর, শচীর আদরের দুলাল, ব্রাহ্মণ পন্ডিত মেখলা পন্ডিত নবদ্বীপের অধ‍্যাপক নিমাই কোন্ কোন্ বিদ‍্যায় পারদর্শী হয়েছিলেন,তা জানতে কৌতূহল হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে নবপ্রকাশিত একটি গ্রন্থে বলা হয়েছে যে,চৈতন‍্যের বিদ‍্যার দৌড় ছিল কলাপ ব‍্যাকরণ,কিছু কাব‍্য ও কিছু অলঙ্কারশাস্ত্র এই পর্যন্ত।*
*💧His(Chaitanya's) Studies,however,appear to have been chiefly onfined to sanskrit Grammar especially kalapa Grammar and some literature and rhetoric to which allusion is made.*
*Padyavali=By Rupa Gosvamin edited by professor Sushil Kumar De Interduction, page xviii.*
*It is misdirected zeal which invest him (chaitanya) with the false lory of scholastic eminence •••••••••••. lbid p, xxxiv.*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন ঃ---,*
*🌷হয় ব‍্যাখ‍্যা নয় করে নয় করে হয়।*
*🌷সকল খন্ডিয়া শেষে সকল স্থাপয়।।*
*🍀এইরকম পান্ডিত‍্য গ্রীস দেশে সক্রেতিসের সম্বন্ধে শুনতে পাওয়া যায়। সেকালে ঐ দেশে আরও কতকগুলি পন্ডিত আবির্ভূত হয়েছিলেন, তাঁরা শুধু তর্কের জোরে এইরকম "হয়"কে "নয়" এবং "ধয়"কে "হয়" করতে পারতেন।তাঁদের নাম ছিল "সফিষ্ট"(Sophist)।এইসব পন্ডিতের সম্বন্ধে আর যাই বলা যাক না কেন,তাঁরা যে অসাধারণ পান্ডিত‍্য লাভ করেছিলেন,সে সম্বন্ধে কারও সন্দেহ নাই।*
*🌹অধ‍্যাপক হয়ে নিমাই পন্ডিত শত শত ছাত্র পড়াতেন।*
*🌷শত শত শিষ‍্য সঙ্গে সদা অধ‍্যাপন।*
*🌷ব‍্যাখ‍্যা শুনি সর্বলোকের চমৎকার মন।।*
       *(শ্রীচৈঃচঃ ১৬ পরিচ্ছেদ)*
*🌺নিমাই পন্ডিত তাঁর পিতার মৃত‍্যুর পরে একবার পূর্ববঙ্গ ভ্রমণে বাহির হয়েছিলেন।তখন সেই বাইশ বছরের "বালক" পন্ডিত কিরকম সম্মান পেয়েছিলেন,তাও চিন্তা করবার বিষয়। সেখানে---*
*🌷বিদ‍্যার প্রভাবে দেখি চমৎকার চিত্তে।*
*🌷শত শত পড়ুয়া আসি লাগিল পড়িতে।।*
*কিছুদিন পূর্ববঙ্গে ভ্রমণ করে যথেষ্ট ধন উপার্জন করে নিমাই নবদ্বীপে ফিরে আসিলেন।*
*🌷ঘরেতে আইলা প্রভু নানাধন লঞা।*
*🌷মাতৃস্থানে দিল ধন হরষিত হঞা।।*
         *(লোচনদাসের চৈঃমঃ আদি)*
*☘লোচনদাসের মতে অধ‍্যাপক গঙ্গাদাস পন্ডিত ব‍্যতীত বিষ্ণু পন্ডিত এবং সুদর্শন পন্ডিতের কাছে চৈতন‍্যদেব পাঠাভ‍্যাস করেছিলেন*
*🌷হেনমতে নবদ্বীপে প্রভু বিশ্বম্ভর।*
*🌷পড়িবারে গেলা বিষ্ণু পন্ডিতের ঘর।।*
*🌷সুদর্শন আর গঙ্গাদাস যে পন্ডিতে।*
*🌷পঢ়িলা জগত-গুরু তা' সভার হিতে।।ঐ,ঐ।।*
*🌹এর দ্বারা বোধ হয় চৈতন‍্যদেব গঙ্গাদাসের কাছে ব‍্যাকরণ এ বিষ্ণু পন্ডিত এবং সুদর্শনের কাছে কাব‍্য,দর্শন ও অলঙ্কার ইত্যাদি পড়েছিলেন।*
*🌺এইসময়ে একজন দিগ্বিজয়ী পন্ডিত বহুস্থান হতে জয়পত্র নিয়ে নবদ্বীপে আসিলেন।তিনি অনেক হাতী ঘোড়া দোলা লোকজন নিয়ে দিগ্বিজয়ে বাহির হয়েছিলেন।সম্ভবতঃ তিনি কোন রাজার সভাপন্ডিত ছিলেন।তা না হলে ব্রাহ্মণ পন্ডিতের এইরকম বিভব হওয়া সম্ভবপর নয়।যাইহোক,গঙ্গাতীরে এসে তিনি নিমাই পন্ডিতের সঙ্গে তর্ক যুদ্ধে রত হলেন। দিগ্বিজয়ী বললেন ঃ--"*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
   *শ্রীচৈতন‍্যের বিদ‍্যাবিলাস*
****************************
*🍀দিগ্বিজয়ী বললেন=*
*🌷ব‍্যাকরণ পড়াও নিমাই পন্ডিত তোমার নাম।*
*🌷বাল‍্য শাস্ত্রে লোক কহে তোমার গুণগ্রাম।।*
*🌷ব‍্যাকরণ মধ্যে জানি পড়াহ কলাপ।*
*🌷শুনিল ফাঁকিতে তোমার শিষ‍্যের সংলাপ।।*
            *(শ্রীচৈঃচঃ আদি)*
*🌹এবারে দিগ্বিজয়ীর গঙ্গাস্তব শুনে নিমাই পন্ডিত তার অলঙ্কার দোষ ধরলেন।দিগ্বিজয়ী বিদ্রূপ করে বললেন=*
*🌷ব‍্যাকরণিয়া তুমি নাহি পড় অলঙ্কার।*
*🌷তুমি কি জানিবে এই কবিত্বের সার।।*
*🍀কিন্তু শেষমেষ এই অলঙ্কারের বিচারেই দিগ্বিজয়ী পরাভব স্বীকার করতে বাধ‍্য হলেন।ইঁনারা সকলেই যখন নিমাইকে কলাপ ব‍্যাকরণের পন্ডিত বলছেন,তখন অধ‍্যাপক সুশীল কুমার বললেন, তা আর বিচিত্র কি? কিন্তু কথা এই যে,যাঁরা নিমাই পন্ডিতকে ব‍্যাকরণিয়া বলেছেন,তাঁরাই আবার তাঁকে সর্বশাস্ত্রে পন্ডিত বলেছেন।কাজেই তাঁদের সাক্ষ‍্য গ্রহণ করলে সমস্তটাই গ্রহণ করতে হয়।এক অংশ গ্রহণ করে অন‍্য অংশ বর্জন করা সাক্ষ‍্য সম্বন্ধীয় আইন (Evidence Act) ও অনুমোদন করে না।*
*🌺শ্রীমন্মহাপ্রভু যখন নীলাচলে গমন করলেন,তখন সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য সেই অপরিণত বয়স্ক সন্ন‍্যাসীকে দেখে কিছু সদুপদেশ দিতে রত হলেন।সার্বভৌম প্রবীণ পন্ডিত।তিনি সমস্ত উত্তরভারতে পান্ডিত‍্যের খ‍্যাতি অর্জন করে উড়িষ‍্যার স্বাধীন নরপতি গজপতি প্রতাপরুদ্রের রাজপন্ডিত পদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।এটি শুধু বাসুদেব সার্বভৌমের ব‍্যক্তিগত গৌরব নহে,এটি বঙ্গদেশের গৌরব। সার্বভৌম বললেন,সন্ন‍্যাস গ্রহণে কি লাভ?এতে কেবল অহঙ্কার,দাম্ভিকতা বাড়ে।সন্ন‍্যাসী হলেই তাঁকে মহাজ্ঞানী সাজতে হয়।মহাভাগবতগণ সন্ন‍্যাসী দেখলেই প্রণাম করেন।অথচ তাঁদের প্রণাম গ্রহণ করা মহাপাপ।তুমি এমন কাজ করবে কেন?কৃষ্ণভক্ত যে হয়,সে সকলকেই প্রণাম করে। শিখাসূত্র ঘুচিয়ে লাভ হয় এই যে,কাউকেও প্রণাম করতে হয় না, সকলের প্রণাম গ্রহণ করা হয়। তখন মহাপ্রভু বললেন, আমি সন্ন‍্যাসী এ-কথা আপনাকে কে বলল?আপনি আমাকে কৃপা করে কৃষ্ণপ্রেম দান করুন।*
*🌷সন্ন‍্যাসী করিয়া জ্ঞান ছাড় মোর প্রতি।*
*🌷কৃপা কর যেন মোর কৃষ্ণে হয় মতি।।চৈঃভাঃ।।*
*🙏মহাপ্রভু আবার বিনীতভাবে বললেন=*
*🌷----মোর এক আছে মনোরথ।*
*🌷তোমার মুখেতে শুনিবাঙ ভাগবত।।*
*🍀সার্বভৌম জিজ্ঞাসিলেন=*
*🌷বল দেখি তোমার সন্দেহ কোন স্থানে।*
*🌷আছে তাহা যথাশক্তি করিব বাখানে।।*
*🌹শ্রীমন্মহাপ্রভু তখন তাঁকে "আত্মারামাশ্চ মনয়ে" ইত্যাদি শ্লোকের অর্থ বলতে বললেন, সার্বভৌম ভাগবতের এই প্রসিদ্ধ শ্লোকের তের রকম ব‍্যাখ‍্যা করলেন। তখন=*
*🌷ঈষৎ হাসিয়া গৌরচন্দ্র প্রভু কয়।*
*🌷যত বাখানিলে তুমি সব সত‍্য হয়।।*
*🌷এবে শুন আমি কিছু করিয়ে ব‍্যাখান।*
*🌷বুঝ দেখি বিচারিয়া হয় কি প্রমাণ।।চৈঃভাঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ সার্বভৌম যে তের প্রকার ব‍্যাখ‍্যা করেছিলেন, তার পরেও শ্রীচৈতন‍্যদেব আরও অনেক রকম ব‍্যাখ‍্যা করে সার্বভৌমকে স্তম্ভিত করলেন। ইহা হতেই বুঝা যায় যে,নিমাই পন্ডিত শুধু কলাপ ব‍্যাকরণে পন্ডিত ছিলেন না, তিনি নানা শাস্ত্রে অসাধারণ পান্ডিত‍্য লাভ করেছিলেন।*
*🌺জয়ানন্দের চৈতন‍্যমঙ্গলে আছে=*
*গৌরাঙ্গ সুন্দর, পঢ়ে নিরন্তর,*
          *ভোট কম্বলে বসিঞা।*
*কলাপে আলাপ, করয়ে প্রলাপ,*
             *ঈষৎ হাসিয়া।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*সটীক ব‍্যাস বৈ, কাব‍্য অলঙ্কার,*
      *নাটক তর্ক সাহিত‍্যে।*
*না দেখি না শুনি, বেদশাস্ত্র বাখানি,*
      *সভা মোহে কবিত্বে।।*
*🌹মহাপ্রভু দক্ষিণাপথে বৃদ্ধকাশী দর্শন করে যখন এক গ্রামে আসিলেন,তখন ব্রাহ্মণগণের সঙ্গে শাস্ত্র বিচারে শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর পারদর্শিতা সপ্রমাণ করেছিলেন=*
*🌷তার্কিক মীমাংসক মায়াবাদীগণ।*
*🌷সাংখ‍্য পাতঞ্জল স্মৃতি পুরাণ আগম।।*
*🌷নিজ নিজ শাস্ত্রোদগ্রাহে সবাই প্রচণ্ড।*
*🌷সর্বমত দূষি প্রভু করে খন্ড খন্ড।।চৈঃচঃমঃ।।*
*🍀মহাপ্রভুর পান্ডিত‍্যের কথা শুনে পাষন্ডীরা আসিল।পাষন্ডী অর্থে বৌদ্ধ নাস্তিক প্রভৃতি বুঝাত।মহাপন্ডিত বৌদ্ধাচার্য‍্য স্বয়ং এসে তর্কে রত হলেন। সুতরাং ভক্তির দোহাই দিয়ে ইঁনাকে নিরস্ত করা সম্ভব হল না।*
*🌷তর্কপ্রধান বৌদ্ধশাস্ত্র নবমতে।*
*🌷তর্কেই খন্ডিল প্রভু না পারে স্থাপিতে।।*
*🌷বৌদ্ধাচার্য‍্য নব নব প্রশ্ন উঠাইল।*
*🌷দৃঢ় যুক্তি তর্কে প্রভু খন্ড খন্ড কৈল।।ঐ ঐ।।*
*🌻গোবিন্দ দাসের কড়চার প্রমাণও এই প্রসঙ্গে উদ্ধৃত করা যেতে পারে।কড়চাকে অনেকে প্রামাণ্য বলে স্বীকার করেন না। কিন্তু অধ‍্যাপক সুশীল কুমার দে কড়চা হতে যখন প্রমাণ উদ্ধৃত করেছেন, তখন আমরাও তাঁর অনুসরণ করে দেখাব যে গোবিন্দ দাসের প্রমাণ অনুসারেওমহাপ্রভু একজন অসামান্য পন্ডিত ছিলেন।তিনিও শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর মত নানা জায়গায় শাস্ত্রবিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।দাক্ষিণাত‍্য-ভ্রমণে মহাপ্রভুর উদ্দেশ্য ছিল সকলকে হরিনাম লওয়াতে। যাঁরা তাঁর প্রেমাশ্রু দেখে গলে যেতেন,তাঁদেরকে সহজেই নিজ মতে নিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যারা তার্কিক,মায়াবাদী বা নাস্তিক তাঁদের সঙ্গে বিচার করতে হত। গোবিন্দ দাস লিখেছেন যে =*
*🌷কখন তামিল বুলি বলে গোরারায়।*
*🌷কভু বা সংস্কৃত বলি শ্রোতারে মাতায়।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







রঘুনাথভট্ট, রঘুনাথদাস ও কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর অপ্রকট তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/raghunath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

রঘুনাথভট্ট, রঘুনাথদাস ও কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর অপ্রকট তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/raghunath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*রঘুনাথভট্ট_রঘুনাথদাস_ও_কৃষ্ণদাসকবিরাজ_গোস্বামীর_অপ্রকট_তিথি।*

(আশ্বিন_শুক্লা_দ্বাদশী_তিথি)

*১___রঘুনাথভট্ট_গোস্বামী ।*

মহাপ্রভু রাধাকৃষ্ণের মাধুর্য আস্বাদন করলেন গম্ভীরাতে বসে। নিতাইচাঁদ কে পাঠালেন গৌড়বঙ্গে ।আর রূপাদি গোস্বামীগণকে পাঠালেন ব্রজে । উদ্দেশ্য একটাই- > লুপ্ত তীর্থ উদ্ধার করে বিশ্ব সাহিত্যে বৈষ্ণব সাহিত্যকে গৌরবান্বিত করা এবং জনমানসে ব্রজের স্থান সম্পর্কে সচেতনতা আনা। ভূগর্ভ ; লোকনাথ আদি যেসমস্ত গোস্বামীগণ ব্রজে এসেছিলেন তাদের অন্যতম হলেন #রঘুনাথ_ভট্ট_গোস্বামী। 
প্রাজ্ঞ গোস্বামীগণ প্রায় সবাই গ্রন্থ রচনা করে খ্যাত হয়েছেন। কিন্তু রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামীর নামাঙ্কিত কোনো গ্রন্থের নাম শোনা যায় না। রঘুনাথ ভট্টের একটাই সেবা ছিল। কেবলমাত্র #ভাগবত_অধ্যয়ন_সেবা। তিনি ভাগবত পাঠ করতেন এবং গোস্বামীগণ তাঁর পঠিত ভাগবত শ্রবণ করতেন।এই ছিল তাঁর সেবা।

মহাপ্রভু তখন আঠারো উনিশ বছরের কিশোর।লক্ষ্মীপ্রিয়া ঠাকুরানির সাথে পরিণয় হবার পরে অর্থ উপার্জনের চেষ্টাতে গেছেন পূর্ববঙ্গে।সেখানে দেখা #তপন_মিশ্রের সাথে। তপন মিশ্র রাতে স্বপ্ন দেখেছেন কেউ একজন এসে বলছেন- নিমাই পণ্ডিত এর থেকে সাধ্যসাধন শিখতে।
#নিমাই_পণ্ডিত_পাশ_করহ_গমন।
#তিহো_কহিবেন_তোমা_সাধ্যসাধন।।

 তারপরের দিনই মহাপ্রভুর শুভ পদার্পণ ঘটে পূর্ববঙ্গে । স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী তপন মিশ্র নিমাই পণ্ডিত এর কাছে সাধ্যসাধন শিখতে চাইলে নিমাই পণ্ডিত তাকে কুটিনাটি পরিহার করে একান্ত অনুরাগে কৃষ্ণ আরাধনা করতে বললেন এবং সপরিবার কাশীতে যেতে আদেশ করলেন।নিমাই পণ্ডিতের আদেশ মতো তপন মিশ্র #কাশীতে গিয়ে বসবাস করতে লাগলেন।কাশীতে বসবাস কালেই তপন মিশ্রের ছেলেরূপে জন্মালেন #রঘুনাথ_ভট্ট_গোস্বামী।

এরপরে সেই নিমাই পণ্ডিত সন্ন্যাস গ্রহণ করেছেন। নাম নিয়েছেন #শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য । নানা জায়গা ঘুরে এলেন কাশীতে। পুনরায় তপন মিশ্রের সাথে দেখা হল। মিশ্রের আনন্দ আর ধরে না । তাঁর ঘরে নিত্য ভিক্ষা নির্বাহ করতে লাগলেন মহাপ্রভু । এখানেই বালক রঘুনাথ মহাপ্রভুর সেবার সুযোগ পান।

#শ্রীমান_রঘুনাথ_ভট্ট_গোস্বামী_মহান।
#গৌরাঙ্গ_সর্বস্ব_যার_গৌরাঙ্গ_পরান।। 

বড় হয়ে মা বাবার আদেশ নিয়ে এলেন পুরীতে মহাপ্রভু কে দেখতে। মহাপ্রভুর আদেশ মতো রঘুনাথ সংস্কৃত শিক্ষা গ্রহণ করে পাণ্ডিত্য অর্জন করলেন।সময় এগিয়েছে।তপন মিশ্র এবং তাঁর স্ত্রী দেহত্যাগ করেছেন।মহাপ্রভুর আদেশ মতোই রঘুনাথ বিয়ে করেননি। মা বাবার কৃত্য অন্তে রঘুনাথ পুনরায় এলেন পুরীতে। মহাপ্রভু এবার আদেশ দিলেন ব্রজে যেতে। বৃন্দাবনে এসে রঘুনাথ ভট্ট মিললেন রূপ সনাতনের সাথে। 

*#আমার_আজ্ঞায়_রঘুনাথ_যাহ_বৃন্দাবনে । #তাহা_যাই_রহ_রূপ_সনাতন_স্থানে।।*

*#ভাগবত_পড়_সদা_লহ_কৃষ্ণনাম।*
*#অচিরাতে_কৃপা_করিবেন_কৃষ্ণ_ভগবান ।।*

রঘুনাথ ভট্ট ভাগবত পাঠে অসামান্য প্রতিভাধর ছিলেন। ব্রজের #গোবিন্দ_মন্দিরের_নাটমন্দিরে প্রতিদিন বিকেলে তিনি ভাগবত পাঠ করতেন । তাঁর সুললিত কণ্ঠে পাঠ ও ব্যাখ্যা শুনে দিনেদিনে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে লাগল।

*#পণ্ডিত_সুশান্ত_অতি_গম্ভীর_স্বভাব । #শ্রীমদ্ভাগবত_শাস্ত্রে_ঐকান্তিক_ভাব।*

তখন অবশ্য গোবিন্দ মন্দির বর্তমানের মতো ছিল না। রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী নিজের এক শিষ্যকে দিয়ে গোবিন্দ জীর কর্ণকুণ্ডল এবং বাঁশি নির্মাণ করিয়েছিলেন।রঘুনাথ ভট্ট নিজে কোনো বিগ্রহ সেবা প্রকাশ করেন নি। রূপ গোস্বামীর প্রাণধন #গোবিন্দ_জীই ছিলেন তাঁর আরাধ্য ।
পুরী থেকে তিনি যখন ব্রজে আসেন তখন মহাপ্রভু তাকে *#জগন্নাথের_প্রসাদী_তুলসীর_মালা* উপহার দিয়েছিলেন।জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত সেই মালা তিনি হৃদয় দিয়ে সেবা করেছেন। আশ্বিন শুক্লা দ্বাদশী তিথিতে অর্থাৎ আজকের দিনে তিনি মহাপ্রভুর পাদপদ্মে নিত্যলীলাতে প্রবিষ্ট হন। গোবিন্দ মন্দিরের উল্টো দিকের রাস্তা ধরে কিছু টা গেলেই চৌষট্টি মহান্তের স্মৃতি সমাধি মন্দির আছে। ঐ মন্দির প্রাঙ্গণেই রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী র সমাধি বিরাজিত ।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

রঘুনাথভট্ট, রঘুনাথদাস ও কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর অপ্রকট তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/raghunath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*রঘুনাথভট্ট রঘুনাথদাস ও কৃষ্ণদাসকবিরাজ গোস্বামীর অপ্রকট তিথি;*

(আশ্বিন শুক্লা দ্বাদশী)

রঘুনাথদাস গোস্বামী

আদি সপ্তগ্রামের জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন রঘুনাথ দাস গোস্বামী।শৈশবে হরিদাস ঠাকুরের স্নেহ লাভ করেন।শৈশব থেকেই পড়াশোনাতে যথেষ্ট মনোযোগী ছিলেন।অল্প বয়সে সংস্কৃতে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। সন্ন্যাস গ্রহণ করে যখন মহাপ্রভু অদ্বৈত প্রভুর গৃহে এসেছিলেন, তখন রঘুনাথ অদ্বৈত ভবনে এসে মহাপ্রভু কে প্রথম দেখেই আত্মসমর্পণ করেন এবং মহাপ্রভুর সঙ্গলাভ কামনা করেন।কিন্তু মহাপ্রভু বললেন-
*#স্থির_হও_রঘুনাথ_না_হও_বাতুল। #ক্রমে_ক্রমে_পায়_লোকে_ভবসিন্ধুকুল।।*

রঘুনাথ বাড়িতে ফিরে এলেন বটে।কিন্তু মন পড়ে রইল তাঁর চরণে।এরপরে বৈষয়িক এক সমস্যার সম্মুখীন হলেও রঘুনাথ নিজের বুদ্ধিবলে সেই সমস্যা থেকে মুক্ত হন।রঘুনাথের মন ক্রমেই বৈরাগ্যের দিকে এগোচ্ছে দেখে রঘুনাথের মা বাবা ছেলের বিয়ে দিয়ে দিলেন।এরমধ্যে অবশ্য রঘুনাথ বহুবার বাড়ি থেকে পালিয়ে পুরী যেতে চাইলেও প্রতিবার সেই যাত্রাতে বাধা এসেছে।এমন সময়ে পানিহাটিতে নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপাশীর্বাদ লাভ করেন রঘুনাথ। (এই কৃপাশীর্বাদই দণ্ড মহোৎসব নামে পরিচিত।) এরপরেই রঘুনাথের কাছে গৃহত্যাগের পথ খুলে যায়। আঠারো দিনের পথ বারোদিনে অতিক্রম করে রঘুনাথ চলে আসেন পুরীর গম্ভীরা তে।মহাপ্রভু রঘুনাথকে স্বরূপ দামোদরের হাতে সমর্পণ করেন। মহাপ্রভুর কাছে প্রতিনিয়ত ত্যাগ ও বৈরাগ্যের পরীক্ষা দিতে দিতে রঘুনাথ হয়ে ওঠেন বৈরাগ্যের চূড়ান্ত প্রতিমূর্তি।মহাপ্রভু তাঁর প্রাণের রঘুনাথকে দেন গিরিরাজ গোবর্ধন শিলা এবং গুঞ্জামালা।
*#এত_বলি_তারে_পুনঃ_প্রসাদ_করিলা।#গোবর্ধনশিলা_গুঞ্জামালা_তারে_দিলা।*
_
ষোলো বছর রঘুনাথ গম্ভীরা তে মহাপ্রভুর রাধাপ্রেম আস্বাদন লীলা দর্শন করেন। 

*#আপন_উদ্ধার_লীলা_রঘুনাথ_দাস।#চৈতন্যস্তবকল্পবৃক্ষে_করিয়াছেন_প্রকাশ।।*
মহাপ্রভুর অপ্রকটের পর রঘুনাথ চলে আসেন বৃন্দাবনে।রূপাদি গোস্বামী গণের সাথে মিলে চলল অষ্টকালীন লীলা স্মরণ। গোস্বামী গণের আদেশেই রঘুনাথ দাস রাধাকুণ্ডের তীরে বসে ভজন আরম্ভ করেন।

*#যার_গুণে_ঝুরি_ঝুরি_রঘুনাথ_দাস ।#সকল_বিষয়_ছাড়ি_রাধাকুণ্ডে_বাস।।*

রাধাকুণ্ডে বসবাসের সময় থেকেই রঘুনাথের বৈরাগ্য তীব্র পর্যায়ে পৌছায়।সাড়ে সাত প্রহর অর্থাৎ বাইশ ঘন্টারও বেশী সময় অতিবাহিত হয় কীর্ত্তন আর স্মরণে। বাকি সময়ে দৈহিক কৃত্য সহ অন্যান্য কাজ।

মহাপ্রভু রাধাকুণ্ড প্রকট করেছিলেন মাত্র ।কিন্তু আজকে যে রাধাকুণ্ড আমরা দর্শন করি তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দাস গোস্বামীর।রাধাকুণ্ড সুন্দর ভাবে খনন করে তাকে সার্থক রূপ দেন দাস গোস্বামীই। রাধাকুণ্ডে ভজনকালে বাঘ এসে রঘুনাথ দাস গোস্বামীকে আক্রমণ করতে চাইলে ছোট্ট গোপাল এসে বাঘ তাড়িয়ে নিজভক্তকে রক্ষা করেন। রাধাকুণ্ড তীরে বসে রৌদ্রে বসে স্মরণ করতে করতে সারা দেহ ঘর্মাক্ত হয়ে গেলে স্বয়ং কুণ্ডেশ্বরী রাধারানি নিজ শাড়ির আঁচলে রঘুনাথ কে ছায়াদান করেন। 

*#অনন্ত_রঘুনাথের_গুণ_কে_করিবে_লেখা। #রঘুনাথের_নিয়ম_যেন_পাষাণের_রেখা।।*

ঐহিক জীবন রক্ষান্তে দাসগোস্বামীকে রাধাকুণ্ডেই তার ভজনকুটিরে সমাহিত করা হয়। রাধাকুণ্ডের ঈশান কোণে আজও তার সমাধি বিরাজিত।।


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

রঘুনাথভট্ট, রঘুনাথদাস ও কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর অপ্রকট তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/raghunath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*রঘুনাথভট্ট_রঘুনাথদাস_ও_কৃষ্ণদাসকবিরাজ_গোস্বামীর_অপ্রকট_তিথি।*

(আশ্বিন_শুক্লা_দ্বাদশী_তিথি।)

*৩__কৃষ্ণদাস_কবিরাজ :*
বর্ধমান জেলার ঝামটপুর গ্রামে আনুমানিক ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণদাস জন্ম গ্রহণ করেন বৈদ্য বংশে।তাঁর ছয় বছর বয়সের সময় তাঁর বাবা ভগীরথ দেহত্যাগ করেন।কিছুদিন পরেই তাঁর মা সুনন্দা দেবীও দেহত্যাগ করেন। তাঁর পিসি কৃষ্ণদাস কে এবং তাঁর ছোটোভাই শ্যামদাস কে লালন পালন করতে থাকেন। কৃষ্ণদাস গ্রাম্য পাঠশালা তে সংস্কৃত শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সংস্কৃতে তাঁর অসাধারণ ব্যুৎপত্তি জন্মায়।কৃষ্ণদাসের যখন ২৬বছর বয়স তখন তাঁর পিসি দেহত্যাগ করেন।
কৃষ্ণদাসের কুলদেবতার পূজারী গুণার্ণব মিশ্র আস্তিক হলেও মহাপ্রভুর ভগবৎ স্বত্বাতে বিশ্বাসী ছিলেন না। তাঁর ভাই শ্যামদাসও তাই। একদিন নিত্যানন্দ প্রভুর শিষ্য মীনকেতন রামদাস ঝামটপুরে এলে শ্যামদাস এবং গুণার্ণব মিশ্র মহাপ্রভুর ভগবৎ স্বত্বা নিয়ে অবিশ্বাসের প্রশ্ন তোলেন।মহাপ্রভু কে খানিকটা মানলেও নিত্যানন্দ প্রভু কে একেবারেই মানতেন না। কৃষ্ণদাস নিজের ভাই শ্যামদাসের ওপর যথেষ্ট ক্ষুব্ধ হন এবং মীনকেতন রামদাসের সামনে নিজের পাণ্ডিত্যে মহাপ্রভুর ভগবৎ স্বত্বা প্রমাণ করেন। এইদিন রাতেই কৃষ্ণদাস স্বপ্নে নিত্যানন্দ প্রভুর দর্শন পান এবং শ্রীবৃন্দাবনে যাওয়ার আদেশ লাভ করেন। পরদিন সকালে কৃষ্ণদাস সমস্ত বিষয় সম্পত্তি ভাই শ্যামদাস কে দিয়ে বেরিয়ে পড়েন ব্রজের উদ্দেশ্যে।
বৃন্দাবনে তখন চাঁদের হাট।রূপ-সনাতন অতি বৃদ্ধ অবস্থা তেও লীলাস্মরণ করে চলেছেন।গোপাল ভট্ট আর জীব গোস্বামী একের পর এক বৈষ্ণব সিদ্ধান্ত সমন্বিত গ্রন্থ রচনা করে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম কে 'জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন' এ বসাতে চলেছেন। এদের সবার সাথে দেখা করলেন কৃষ্ণদাস। এলেন ব্রজমুকুটমনি শ্রীরাধাকুণ্ডে, ভজন করে চলেছেন রঘুনাথ দাস গোস্বামী।
তার কাছেই থাকতে আরম্ভ করলেন।
হঠাৎ একদিন দেখলেন রঘুনাথ দাস গোস্বামীর কাছে অনেক পুঁথি । সেগুলো খুলতেই দেখতে পেলেন ঐ পুথিটি মহাপ্রভুর পার্ষদ স্বরূপ দামোদর গোস্বামীর কড়চা পুঁথি।এরপর কৃষ্ণদাস মাঝে মাঝে বৃন্দাবনে আসেন।গোস্বামীদের লেখা গ্ৰন্থগুলো দেখেন।কৃষ্ণদাসের পাণ্ডিত্য দেখে সবাই অনুরোধ করলেন মহাপ্রভু কে নিয়ে গ্রন্থ রচনা করতে। কৃষ্ণদাস তখন বৃদ্ধ । 

*#বৃদ্ধ জরাতুর আমি অন্ধ বধির।#হস্ত হালে মনোবুদ্ধি নহে মোর স্থির।।*
*#নানা রোগগ্রস্ত চলিতে বসিতে না পারি। #পঞ্চরোগ পীড়া ব্যাকুল রাত্রিদিন মরি।।*

রূপ সনাতন ভট্টরঘুনাথ এনারা নিত্যলীলাতে প্রবেশ করেছেন। কৃষ্ণদাসও ভরসা পাননি এই বয়সে গ্রন্থ লিখতে।এরপরে বৃন্দাবনের মদনগোপাল(মদনমোহন) এর আদেশে তিনি আরম্ভ করলেন গ্রন্থ রচনা।

*#শ্রীমদনগোপাল মোরে লেখায় আজ্ঞা করি।*

*#মহাপ্রভুর_অচিন্ত্যভেদাভেদ_তত্ত্ব;* সাধ্যসাধন তত্ত্ব;মহাপ্রভুর গম্ভীরা লীলা বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করলেন এই গ্রন্থে । এই গ্রন্থটিই সমস্ত বৈষ্ণব গ্রন্থের সার। ১৫৩৭শকাব্দে সমাপ্ত হল সেই মহাগ্রন্থ রচনা।গৌড়ীয় বৈষ্ণব জগত তথা গোটা পৃথিবী পেল এক অমূল্য সাহিত্যনিধি কে। সেই সাহিত্যনিধির ভুবনমঙ্গল নামকরণ হল *#শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত নামে*।
 চরিতামৃত ছাড়াও কৃষ্ণদাস আরো বহু গ্রন্থ রচনা করছেন। তার পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে বৃন্দাবনের তৎকালীন গোস্বামীগণ তাকে কবিরাজ উপাধিতে ভূষিত করেন। আর গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের কাছে তিনি প্রণম্য হন গোস্বামী রূপে। এই সময় থেকেই তিনি কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী নামে ভুবনবন্দিত হতে থাকেন। কবিরাজ গোস্বামীর সেবিত *#রাধা_বৃন্দাবনচন্দ্র বৃন্দাবনে রাধাদামোদর মন্দিরে আজও বিরাজিত বিজয় বিগ্রহ রূপে।*
 *আর প্রকৃত স্বরূপ সেবিত হচ্ছেন রাজস্থানের জয়পুরে*।
কবিরাজ গোস্বামীর দেহান্তে তাকে সমাহিত করা হয় রাধাদামোদর মন্দিরেই। আজো তাঁর সমাধি বিরাজিত।এই মহাপুরুষ আজকের তিথিতেই নিত্যলীলাতে প্রবেশ করেছিলেন। কৃষ্ণদাস পূর্বলীলায় কস্তুরী মঞ্জরী ছিলেন।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী দীপ বাগুই 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫১)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
               *👥নগর----সংকীর্তন*
             ************************
*🍀সবার গৃহস্থের বাড়ীর বাইরে বহু প্রদীপ জ্বালানো হয়েছে ; আমেরশাখা সম্বলিত জলপূর্ণ কলস,নারিকেল,পাত্রের উপরে ধান,দূর্বা,দধি,কলা প্রভৃতি হিন্দুজাতির শুভ অনুষ্ঠানের দ্রব‍্য সব সজ্জিত রয়েছে।কীর্তনকারীগণ গৃহস্থের বাড়ীর সামনে উপস্থিত হলে,নারীগণ শঙ্খধ্বনিতে তাঁদের অভ‍্যর্থনাকরতে লাগলেন।চতুর্দিক হতে পুষ্প,খই,কড়ি প্রভৃতি ছিটাতে লাগলেন।সহস্রাধিক লোকের কন্ঠ হতে সেই পাপতাপহারী হরিনামের মধুর কীর্তন ধ্বনি উত্থিত হয়ে চারিদিক বিকম্পিত করতে লাগল।নবদ্বীপ যেন টলমল করে উঠিল।যে ভাবের প্রবল বন‍্যায় উত্তরকালে বঙ্গদেশের চারিদিক প্লাবিত করবে,আজ নবদ্বীপে তারই সূচনা হল।ধর্মেতিবৃত্তে আজ এক নূতন পরিচ্ছেদ সংযোজিত হল,বঙ্গদেশে ও ভারতে এক নবযুগের সূত্রপাত হল।*
*🌻কীর্তনের দল ক্রমে কাজীর বাড়ীর দিকে এগিয়ে চলিল।কাজী দূর হতে কীর্তনের মহাশব্দ শুনে, তত্ত্ব জানবার জন্য কয়েকজন লোক পাঠিয়ে দিলেন।তারা একে একে ফিরে এসে,সব ঘটনা বিবৃত করল, এবং নগরের সাজ সজ্জা, বহুসংখ‍্যক লোকের সমাগম প্রভৃতি বর্ণনা করে বলল, কোন রাজপুত্রের বিয়েতেও এমন সমারোহ হয় না।দেখতে দেখতে কীর্তনকারীগণের দল হরিনামের ধ্বনি করতে করতে কাজীর বাড়ীর কাছে এসে উপস্থিত হল।কাজী দূর হতে অসংখ্য মানুষের মাথা দেখে, ভয়ে ভীত হয়ে লুকিয়ে পড়লেন।এদিকে হাজার হাজার লোকে তার বাড়ী ঘিরে ফেলিল, এবং "কাজী সাহেব কোথায়" বলে চিৎকার করতে লাগল।*
*☘হাজার হাজার লোক তাঁর পুষ্পোদ‍্যানে প্রবেশ করে ফুলের গাছ গুলো উপড়াতে ও বৃক্ষের শাখা সব ভেঙ্গে ফেলতে আরম্ভ করল।ফুলে সুসজ্জিত গাছগুলি নষ্ট করতে লাগল।কেউ কেউ তাঁর ভবনের অন‍্যান‍্য দ্রব‍্য ভাঙ্গতে লাগল।কেউ বা কার কথা শুনে কেও বা নিষেধ করে।শত শত মৃদঙ্গ ও করতাল বাজছে,তারসঙ্গে হাজার হাজার কন্ঠ হতে গভীর নিনাদে নামের জয়ধ্বনি উত্থিত হচ্ছে।এই মহা কোলাহলের মধ্যে মহাপ্রভু কিছুক্ষণের জন্য কীর্তন বন্ধ করতে আদেশ করলেন।*
*🍀 সকলে নিস্তব্দ হলে,শ্রীমন্মহাপ্রভু কাজীকে ডেকে পাঠালেন। কাজী উপস্থিত হলে,মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন,আমরা আপনার বাড়ীতে এসেছি,এসময় কি আপনার দূরে থাকা উচিৎ? মহাপ্রভু তারপর কাজীকে দুইটি অনুরোধ করলেন। প্রমথটি গো বধ করতে নিষেধ। তিনি বললেন যে,গাভী মাতা আমাদের দুগ্ধ দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করে,তাকে কি বধ করতে আছে? দ্বিতীয়টি, সংকীর্তনের বিরুদ্ধে তিনি যেন আর কোন উপায় অবলম্বন না করেন।কাজী মহাপ্রভুর কথা অতি বিনম্র ভাবে শুনে, প্রথম অনুরোধটি সম্বন্ধে বললেন, "আমাদের শাস্ত্রে গো বধের ব‍্যবস্থা আছে,এবং হিন্দু শাস্ত্রানুসারে বৈদিক সময়ে গোমাংস ভক্ষণের ব‍্যবস্থাও ছিল। তখন মহাপ্রভু গোমাংস সম্বন্ধে কাজীর হিন্দু শাস্ত্রের দ্বারাই খন্ডন করে দেন।এবিষয়ে কাজী মহাপ্রভুর কথার কোন উত্তর দিতে পারলেন না।দ্বিতীয় অনুরোধটি সম্বন্ধে কাজী বললেন, তোমার দেশের হিন্দুরাই এসে তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থিত করত।( কিছু শয়তান কুলীন ব্রাহ্মণ) তারা বলত,নিমাই পন্ডিত এক নূতন ধর্মের সৃষ্টি করছে, আর এই কীর্তনের জন্য অনেক সময় লোকের ঘুমের ব‍্যাঘাত হয়ে থাকে ইত্যাদি।আমি সেইজন‍্যই কীর্তন বন্ধ করবার চেষ্টা করেছিলাম।এখন দিব‍্য বা শপথ করে বলছি, নবদ্বীপে সংকীর্তনের বিরুদ্ধে আমি কখনও হাত দেব না, আমার তরফ হতে কোন বারণ থাকবে না। এবং আমার পরিবারের কেউ এর প্রতিকূলাচরণ করবে না। উভয়ের মধ্যে প্রীতি সঞ্চার হল।হরিনামের স্রোত অবাধে চলবার পথ পরিস্কার হয়ে গেল।এখন কাজীর ভবনে লক্ষ কন্ঠ হতে জয় জয় ধ্বনি উঠিল।শত শত মৃদঙ্গ ও করতাল বাজতে লাগল। শিঙ্গার ভোঁ ভোঁ শব্দে যেন সকলের কর্ণকুহর বধির হয়ে যেতে লাগল।দেশবিজয়ী কীর্তনকারীদের দল পরিশেষে আবার মধুর স্বরে কীর্তন করতে করতে,সারি বদ্ধ হয়ে, শ্রীমন্মহাপ্রভুর ভবনে উপস্থিত হল।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*শ্রীবাসের পুত্রশোক ও অদ্বৈতের দন্ড*
**************************************
*🙏ভক্তগণের চরিত্র সাধারণ লোক অপেক্ষা বহুগুণে আলাদা।সংসারের কোন দুর্ঘটনায় যেখানে সাধারণ লোকের চিত্ত বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে,সেখানে তাঁরা অবিকৃত চিত্তে নিজেদের জীবনের উদ্দেশ্য সাধনে তৎপর থাকেন।একদিন শ্রীবাসের ঘরে শ্রীগৌরসুন্দর নিজ ভক্তগণসহ সংকীর্তন নৃত‍্যাদিতে রত আছেন, এমন সময়, অন্তঃপুর হতে ক্রন্দনের ধ্বনি শ্রীবাসের কর্ণগোচর হ'ল।ইতঃপূর্বে শ্রীবাসের একটি পুত্র কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে শয‍্যাশায়ী ছিল। ক্রন্দনের শব্দ শ্রীবাসের কর্ণগোচর হলে, তিনি ধীরে ধীরে গৃহদ্বার উন্মোচন করে,বাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করলেন ; গিয়ে দেখলেন, সন্তান গতাসু হয়েছে।তিনি নানাপ্রকারে নিজের পত্নী ও অন‍্যান‍্য যাঁরা ছিলেন সংসারের অনিত‍্যতা বিষয়ে উপদেশ দিয়ে বললেন,এখন আর কাঁদিও না, এখন শোকের আবেগ মনের মধ্যে চেপে রাখ, কারণ মহাপ্রভু এখন গৃহের মধ্যে ভাবে বিভোর হয়ে নৃত্য করছেন। তোমাদের কান্নার শব্দে যদি তাঁর ভাবের ব‍্যাঘাত উপস্থিত হয়ে তাঁর নৃত্য ভঙ্গ হয়, তাহলে আমি গঙ্গার জলে ডুবে মরিব।*
*🌷কলরব শুনি যদি প্রভু বাহ‍্য পায়।*
*🌷তবে আজি গঙ্গা প্রবেশিনু সর্বথায়।।চৈঃভাঃ।।*
*🍀শ্রীবাস পন্ডিতের এইকথা শুনে তাঁর পত্নী মালিনী দেবী ও অন‍্যান‍্য নারীগণও শোকাবেগ সম্বরণ করলেন।তাঁদের দ্বারা মহাপ্রভুর নৃত্যের কোন ব‍্যাঘাত হবার সম্ভাবনা নাই, দেখে,তিনি ভক্তদের সঙ্গে যোগদান করে,আগের মত প্রেমানন্দে কীর্তনাদি করতে লাগলেন। নিশাবসানে শ্রীগৌরসুন্দরের বাহ‍্যজ্ঞান হল।তিনি তারপর শ্রীবাসের পুত্র বিয়োগের কথা শুনে,জিজ্ঞাসা করলেন, কতক্ষণ?ভক্তগণ বললেন, "রাত্রি চারদন্ডের সময় "। কিন্তু পাছে আপনার ভাবের কোন ব‍্যাঘাত উপস্থিত হয়,সেজন‍্য পন্ডিত নীরবে থেকে, কীর্তনাদি করছিলেন ও পরিবারের নারীগণের কান্না বন্ধ করে রেখেছিলেন।মহাপ্রভু ভক্তবৃন্দের মুখ হতে এইসব কথা শুনে, ল্রীবাসের অপূর্ব ধৈর্য‍্য,তাঁর অসাধারণ ভগবদ্ভক্তিও তাঁর প্রতি অসাধারণ ভক্তি ও প্রীতির নিদর্শন স্মরণ করে, "গোবিন্দ গোবিন্দ "বলে উঠিলেন। আরও বললেন,এত করে আমায় যে ভালবাসে,তাকে কিভাবে পরিত‍্যাগ করে যাব!মহাপ্রভু শ্রীবাস পন্ডিতকে কিভাবে ত‍্যাগ করে যাবেন, কেন বললেন, তা তাঁরা বুঝতে না পেরে চিন্তা করতে লাগলেন।তারপর গৌরহরি ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে, শ্রীবাস পত্নী মালিনী দেবীকে বললেন, "মা পুত্রশোক নিবারণ কর, তোমার এক পুত্র পরলোক গমন করিল, কিন্তু আমি ও নিতাই তোমার দুই পুত্র, তুমি আমাদেরকে ভালবাসবে "।গৌরহরির শ্রীমুখের মধুর বাণীতে শোকদগ্ধ জননীর প্রাণ শীতল হয়ে গেল।শোকাভিভূত শ্রীবাস পরিবারের সকলেই তাঁর শ্রীচরণে প্রণিপাত করল। গৌরহরি বালকের ঔর্দ্ধদেহিক (অন্ত‍্যোষ্টি সম্বন্ধীয় বা মৃত‍্যুর পরে করণীয় অগ্নিসংস্কার কর্ম),কার্য‍্য সমাধা করবার জন্য ভক্তগণ কীর্তন করতে করতে শ্মশানে গমন করলেন।*
*🌻যখন গৌরহরি নবদ্বীপে হরিরস মদিরা বিতরণে সবাইকে মত্ত বা পাগল করছেন,সেই সময়ে, কেন ঠিক বলা যায় না--, অদ্বৈতাচার্য‍্য মহাপ্রভু-সঙ্গ পরিত‍্যাগ করে পত্নীসহ শান্তিপুরে গমন করে বাস করতে থাকেন।ভক্ত নামাচার্য‍্য হরিদাসও তখন আচার্য‍্য ভবনেই ছিলেন।একদিন গৌর-নিতাইয়ের সঙ্গে বেড়াতে বেড়াতে নিতাইকে বললেন, আচার্য‍্য শান্তিপুরে বাস করছেন, চল আমরা তাঁর বাড়ীতে যাই।নিত‍্যানন্দ তাঁর কথায় সম্মত হলে,উভয়ে শান্তিপুরে যাত্রা করলেন। শান্তিপুর যাবার পথে ললিতপুর নামক একখানি ছোট গ্রাম আছে।সেখানে গঙ্গাতীরে এক গৃহস্থ সন্ন‍্যাসীর আশ্রম।তাঁরা ললিতপুরে উপস্থিত হলেন।সন্ন‍্যাসীর আশ্রমে উভয়ে উপস্থিত হয়ে দেখলেন,গৈরিকবসন পরিধেয়,জটাজূটধারী এক সন্ন‍্যাসী সেখানে বসে আছেন।গৌর-নিতাই তাঁকে প্রণাম করলে,সন্ন‍্যাসী বললেন, "তোমরা সুন্দরী পত্নী ও ধনলাভ করে সংসারে সুখে বাস কর"।এই তোমাদের আশীর্বাদ করি। শ্রীকৃষ্ণানুগতপ্রাণ গৌরসুন্দর সন্ন‍্যাসীর আশীর্বাদে প্রীত না হয়ে বললেন, "আপনার কাছে এরকম অকিঞ্চিকর (যৎসামান‍্য,তুচ্ছ) আশীর্বাদের প্রত‍্যাশা করি না।যাতে জীবনে বিষ্ণুভক্তির সঞ্চার হয়, এইরকম আশীর্বাদ করাই আপনার মত সন্ন‍্যাসীর শোভা পায়।সন্ন‍্যাসী গৌরহরিকে অর্বাচীন মনে করে, কামিনী ও কাঞ্চন যে মানবজীবনের সুখকর বস্তু তাইই তাঁকে বুঝাতে চেষ্টা করলেন।গৌরসুন্দর তাঁর কথায় সন্তুষ্ট হলেন না।তিনি বুঝলেন,সন্ন‍্যাসী ভগবদ্ভির মধুর আস্বাদন এখনও লাভ করতে পারেননি।*
*☘কিছুক্ষণ পরে সন্ন‍্যাসীর অনুরোধে তাঁরা জলযোগ করতে বসিলে,সন্ন‍্যাসী নিত‍্যানন্দকে ইঙ্গিতে জানালেন যে,তিনি আনন্দ নিয়ে আসিলে,তাঁরা সেটি পান করবেন কি না? গোরহরি যখন শুনলেন, আনন্দ অর্থ সুরা, তখন তিনি কিছু না বলে,ভোজন দ্রব‍্য ফেলে গৃহের বাইরে হলেন,নিতাইচাঁদও তাঁর সঙ্গে বাহির হয়ে পড়লেন।এইরকম নৈতিক বল না থাকলে কি গৌরহরি ও নিতাইচাঁদ বঙ্গভূমিতে যুগান্তর আনয়ন করতে পারতেন?*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌸🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                *অদ্বৈতাচার্য‍্যের দন্ড*
              •••••••••••••••••••••••••••••
*🍀ললিলপুরের আশ্রম পরিত‍্যাগ করে গৌর-নিতাই গন্তব‍্য স্থাধের দিকে যাত্রা করে শান্তিপুরে আচার্য‍্য-ভবনে উপনীত হলেন।গিয়ে দেখলেন, অদ্বৈতাচার্য‍্য শিষ‍্যবৃন্দ পরিবৃত হয়ে যোগবাশিষ্ঠ ব‍্যাখ‍্যা করছেন। আমার গৌরসুন্দর সেখানে গিয়েই তাঁকে প্রশ্ন করলেন, "নাড়া!জ্ঞান বড় কি ভক্তি বড়"? আচার্য‍্য বললেন, আমার মনে হয় জ্ঞানই বড়, এটিই তো চিরদিন সকলে বলে আসছে। গৌরহরি একথায় বড় ক্রদ্ধ হয়ে পড়লেন, আর ধৈর্য‍্য ধরতে না পেরে,বৃদ্ধ অদ্বৈতের পিঠে মুষ্ট‍্যাঘাত করতে লাগলেন।অদ্বৈত পত্নী সীতাদেবী ঘরের ভিতর হতে দৌড়ে এসে বললেন, কি কর বুড়ো যে মরে যাবে?আচার্য‍্য প্রহার খেয়ে আনন্দে নৃত্য করতে লাগলেন, এবং তারপরে তাঁর স্নেহের নিমাইকে কোলে কোরে বসিলেন। এই অভিনব দৃশ্য দেখে,নিতাইচাঁদ মৃদু মৃদু হাসতে লাগলেন। আচার্য‍্যের শিষ্যগণ অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে।সীতাদেবীর নয়ন হতে প্রেমাশ্রু বহিতে লাগিল। তারপর গৌরহরি নিত‍্যানন্দসহ আচার্য‍্য ভবনে তিনদিন ছিলেন।এই তিনদিন যেন অদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবনে মহোৎসব হয়েছিল।সকল ভক্তগণ গৌরহরিসহ যেমন সংকীর্তনে সময় অতিবাহিত করতে লাগলেন। তেমনি প্রীতি ভোজনেও সকলে তৃপ্তিলাভ করতে লাগলেন।*
*🌻🌻সন্ন‍্যাসের পূর্বাবস্থা🌻🌻*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀শ্রীগৌরসুন্দর নবদ্বীপে নগর-সংকীর্তন প্রবর্তিত করলেন। কারণ নবদ্বীপে যেমন মানুষের কামনা বাসনা নিয়ে সংসার যাপন করছিলেন, ভক্তি ও প্রেম বলে প্রায় ছিল না বললেই চলে।তিনি দেখলেন,নরনারীর হৃদয়ের কলুষভাব দূর করতে,তৃষিত ও তাপিত হৃদয় শীতল করতে,শুষ্ক ও ধর্মহীন হৃদয়ের অভ‍্যন্তর হতে ভগবৎ-প্রেমের উৎস উৎসারিত করতে,দাম্ভিক হৃদয়ের অহঙ্কার চূর্ণ করে,তাদের তৃণাপেক্ষা দীন করতে ও ভক্ত-হৃদয়ের প্রেমপ্রবণতা বৃদ্ধি করতে, একমাত্র হরিনাম সংকীর্তন ছাড়া আর উচ্চতর উপায় নাই। তিনি নিজে যে নাম কীর্তনে ও ধ‍্যানে অপার ও অপার্থিব আনন্দ সম্ভোগ করতেন, সে সুধামাখা মধুর নাম কেবল,নবদ্বীপবাসীর কাছে প্রচার করে,তাঁর হৃদয় তৃপ্তি হল না, সে প্রাণপ্রদ রসস্বরূপ ভগবানের নাম,বঙ্গদেশের নরনারীর মধ্যে কীর্তন, ও দ্বারে দ্বারে বিতরণের জন্য তিনি ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন।*
*🌲নরনারীকে ভক্তির পথে পরিচালিত করবার জন্য তাঁর বাসনা দিন দিন প্রবল হতে লাগিল। কিন্তু সন্ন‍্যাসাশ্রম গ্রহণ না করলে,তাঁর সে বাসনা কিছুতেই পূরণ হবে না।এই ভাবই ক্রমে তাঁর মনে উদিত হতে লাগিল।কথিত আছ,একদিন এমন সময়ে তিনি একটি স্বপ্ন দর্শন করেন যে,কোন সদানন্দ পুরুষ তাঁর সম্মুখীন হয়ে তাঁকে বলছেন যে,তুমি জননী ও পত্নী পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসব্রত অবলম্বন কর।এসব মায়ার বন্ধন ছিন্ন করা যুক্তিযুক্ত কি না, গৌরহরি তাঁকে এই প্রশ্ন করিতে, স্বপ্নদ্রষ্ট সন্ন‍্যাসী গম্ভীরভাবে তাঁর জীবনের মহাব্রতের কথা তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলেন, এবং সংসারের বন্ধন ছিন্ন করে ত্বরায় সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণ করে,নরনারীর উদ্ধারের জন্য হরিগুণ-কীর্তনে রত হতে বললেন।স্বপ্ন দেখার পর মহাপ্রভুর নিদ্রা ভেঙ্গে গেল।তারপর হতে তাঁর হৃদয়ের মধ্যে যে ভাব প্রধূমিত (বিশেষভাবে জেগে ওঠা বা জ্বলে ওঠা)হচ্ছিল,তদ্ভাবাপন্ন স্বপ্ন দর্শনে সে স্পৃহা (বাসনা) তাঁর যেন অগ্নিশিখার মত প্রজ্বলিত হয়ে উঠিল।শিখাসূত্র পরিত‍্যাগ করে দন্ডধারী হয়ে নরনারীকে পরিত্রাণের পথ প্রদর্শন করবার জন্য তিনি কৃতসঙ্কল্প হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৪) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                 *সন্ন‍্যাসের পূর্বাভাস*
             *************************
*🍀এ-সময়ে আর একটি ঘটনা ঘটিল।কেশব ভারতী নামক একজন পরিব্রাজক দন্ডী,নবদ্বীপে আগমন করেন,তাঁকে দেখামাত্র গৌরহরির স্বপ্নবৃত্তান্ত স্মৃতিপথে উদিত হল ; তিনি দেখলেন, যিনি স্বপ্নযোগে তাঁর সম্মুখে প্রকাশিত হয়ে,তাঁকে সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করতে উপদেশ দিয়েছিলেন,নবাগত দন্ডী, কেশব ভারতীর অবয়বের সঙ্গে সেই স্বপ্নদ্রষ্ট ব‍্যক্তির অঙ্গের সমস্ত সাদৃশ‍্যই পরিলক্ষিত হচ্ছে।তাঁরও হাতে কমন্ডলু ছিল, কেশবভারতীর হাতেও সেই একই কমন্ডলু শোভা পাচ্ছে।স্বপ্ন সত্র হল দেখে তিনি বিস্ময়াপন্ন হয়ে পড়লেন, এবং দন্ডী কেশবভারতীকে নিজ ভবনে আতিথ‍্য গ্রহণের জন্য অনুরোধ করলেন।নবাগত সন্ন‍্যাসীও শ্রীগৌরসুন্দরের গৃহে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।গৌরহরি কেশবভারতীর আগমনে, নিজের সঙ্কল্প সিদ্ধ হবার পক্ষে বিশেষ সহায়তা হল মনে করতে লাগলেন।তিনি রাত্রিতে সন্ন‍্যাসীর নিভৃত শয়নকক্ষে গমন করে,সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ ও তাঁর কাছে দীক্ষিত হবার মনের বাসনা জানালেন। শ্রীগৌরাঙ্গের পান্ডিত‍্য ও তাঁর অদ্ভুত ধর্মানুরাগের কথা,দেশ দেশান্তরে প্রচারিত হয়ে পড়েছিল।কেশবভারতীও তাঁর গুণগৌরবের কথা শুনেছিলেন।তিনি এখন সেই গৌরহরির ভবনে অতিথি হয়ে এবং তাঁকে স্বচক্ষে দর্শন করে পরম আনন্দ উপভোগ করতে লাগলেন।সেই সুবিখ‍্যাত সুপন্ডিত ও ভক্তিপথাবলম্বী গৌরসুন্দর যখন তাঁর কাছে দীক্ষা গ্রহণের অভিপ্রায় জ্ঞাপন করলেন, তখন ভারতী মহাশয়, আনন্দে ও বিস্ময়ে যেন অভিভূত হয়ে পড়লেন। তিনি বললেন,"তুমি তো মনুষ‍্য নহে, সাক্ষাৎ গোলোকপতি "।পরে জিজ্ঞাসা করলেন,কবে দীক্ষার দিন স্থির করেছ? গৌরহরি বললেন,আগামী উত্তরায়ণ-সংক্রান্তির পর দিন।কেশবভারতী তাঁকে দীক্ষাদানে স্বীকৃত হয়ে আশীর্বাদ করলেন।পরদিন প্রভাতে ভারতীগোঁসাই কাটোয়ায় তাঁর আশ্রম অভিমুখে গমন করলেন।*
*🌹এই সন্ন‍্যাস গ্রহণের সংবাদ সর্বপ্রথম কিন্তু নিত‍্যানন্দকে প্রকাশ করেছিলেন।কারণ নিত‍্যানন্দ শ্রীগৌরহরির প্রধান সহচর।প্রতি যুগে যুগে তিনি ভগবানের সহায়তা করে এসেছেন।গৌরহরি নিত‍্যানন্দকে নিভৃতে সর্বাগ্রে তাঁর কাছে নিজের মনের কপাট খুলে দিলেন। অর্থ‍্যাৎ মনের কথাগুলি নিতাইচাঁদকে বললেন।তিনি বললেন, "দেখ, আমি নিজের উদ্ধারের জন্য যজ্ঞসূত্র পরিত‍্যাগ ও মস্তক মুন্ডন করে সন্ন‍্যাসী হব।ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করব। আর সকলের দ্বারে দ্বারে মধুর শ্রীহরিনাম বিতরণ করব।আমি সঙ্কল্প করেছি, গৃহ পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসাশ্রম গ্রহণ করব।তুমি এজন‍্য দুঃখিত হইও না ; আর তুমি আমার এই বাসনার বিরুদ্ধে কোন কথা বলিও না,ধর্মপ্রবর্তকদের এই প্রধান পথ,তা তো তুমি সবই জান। নিতাইচাঁদ গৌরহরির শিখাসূত্র বর্জনের কথা শুনে প্রাণে বড় কষ্ট পেলেন। কিন্তু নিত‍্যানন্দ স্বয়ং অবধূত, তিনি জানতেন, ভগবান একবার যা সিদ্ধান্ত নিবেন,তা কারও খন্ডন করবার ক্ষমতা নাই। এবং ধর্মপ্রচারের এই প্রকৃষ্ট(উত্তম) উপায়। যাইহোক,নিত‍্যানন্দ বললেন,তুমি জগৎ উদ্ধারের জন‍্যই যদি বাহির হবে, তবে তোমার সঙ্গীদের তোমার এ সঙ্কল্পের কথা অবশ্যই বলা উচিত।তাঁরা যা বলবেন, তা শুনে তোমার যা করা উচিত তাইই করবে।গৌরহরি নিত‍্যানন্দের নিকট হতে নিজের অভিপ্রায়ানুরূপ কথা শুনে পরম আনন্দিত হয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন।নিত‍্যানন্দ কর্তব‍্যবোধে তাঁর মন্তব‍্য প্রকাশ করলেন বটে, কিন্তু গৌরহরি গৃহস্থাশ্রম পরিত‍্যাগ করলে, বৃদ্ধা শচীমায়ের কিভাবে তাঁর প্রাণসম পুত্রের মুখ দর্শন না করে জীবনধারণ করবেন, বালিকা বিষ্ণুপ্রিয়া কিভাবে স্বামীবিরহ যাতনা হৃদয়ে ভোগ করবে, এবং তাঁরাই বা কিভাবে তাঁদের হৃদয়ের পুত্তলি ও নয়নের তারাসম গৌরহরিকে না দেখে নবদ্বীপে বাস করবেন, এইসব চিন্তা তাঁর মনের মধ্যে উত্থিত হয়ে তাঁর হৃদয়কে যেন বিদীর্ণ করতে লাগল।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৫)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                *সন্ন‍্যাসের পূর্বাবস্থা*
              ***********************
*🌻এবারে গৌরহরি তাঁর প্রাণসম ভক্তবৃন্দের কাছে নিজের মনের কথা জ্ঞাপন করতে লাগলেন, এবং তিনি মুকুন্দ দত্তের গৃহে গমন করে, তাঁকে কীর্তন গাইতে বললেন।গৌরহরি তাঁর মধুর কন্ঠে শ্রীকৃষ্ণের গুণানুকীর্তন করতে লাগলেন, মহাপ্রভু তাঁর কীর্তন শুনে পরম আনন্দ লাভ করে বললেন, মুকুন্দ! আমি শিখাসূত্র পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করব, সঙ্কল্প করেছি।মুকুন্দ এই হৃদয় বিদারক কথা শুনে দুঃখে অভিভূত হয়ে পড়লেন।মুকুন্দ জানেন,গৌরহরি একবার যা সঙ্কল্প করবেন, তা কোনমতেই নড়চড় হবার নহে।তিনি সেজন্য অতি ব‍্যাকুল হয়ে বললেন, প্রভো!যদি একান্তই আমাদের ছেড়ে যাবে,তাহলে আর কিছুদিন আমাদের সঙ্গে থেকে কীর্তনাদি কর।গৌরসুন্দর মুকুন্দের এই মিনতি শুনে বললেন, তাইই হবে।তারপর তিনি গদাধরের কাছে গিয়ে নিজের মনের কথাগুলি প্রকাশ করলেন।গদাধর মহাপ্রভুর সন্ন‍্যাসের কথা শুনে ভীষণ ব‍্যথিত হলেন। তিনি বললেন,সংসারে থেকে কি বৈষ্ণবধর্ম সাধন করা যায় না, তুমি সংসার ত‍্যাগ করে গেলে শচীমা কিভাবে বাঁচবেন? কি আর বলব, যদি সন্ন‍্যাস ধর্মই ঠিক মনে করে থাক, তবে তুমি স্বতন্ত্র, তাইই কর। বিদ‍্যুৎবেগে গৌরহরির সন্ন‍্যাস গ্রহণের কথা তাঁর সকল ভক্তগণের মধ্যে প্রচারিত হয়ে গেল।যাঁকে একদিন না দেখলে তাঁদের চিত্ত অস্থির হয়ে উঠিত,যাঁকে মধ‍্যস্থলে রেখে, তাঁরা কীর্তনানন্দে উন্মত্ত হয়ে উঠতেন, সুখে দুঃখে বিপদে যাঁর জীবনের মধুময় আদর্শ তাঁদেরকে শান্তির পথে, ভক্তির পথে ও অটল ধর্মবিশ্বাসের পথে পরিচালিত করত, জীবনের এমন সহায় ও বন্ধুকে হারিয়ে তাঁরা কিভাবে জীবন ধারণ করবেন, এই চিন্তা করে সকলেরই হৃদয় ভারাক্রান্ত ও বিষাদে পূর্ণ হল।দিবাবসানে শ্রীবাসভবনে যখন সকল ভক্তবৃন্দ মিলিত হলেন, তখন গৌরহরির সন্ন‍্যাস যাত্রার কথা উত্থিত হল।সকলেই কেঁদে আকুল হয়ে পড়লেন।তখন গৌরহরি বললেন,সকল নরনারীর কল‍্যাণের জন্য আমি সংসার পরিত‍্যাগ করছি,এজন‍্য তোমরা দুঃখ করিও না।তোমরা সদাসর্বদাই আমার হৃদয়মাঝে থাকবে। এই বলে তিনি দুইবাহু তুলে একে একে সকলকেই আলিঙ্গন করলেন।এই বিদায়ের দিনে সকল বিষ্ণুভক্তের নয়ন হতে বারিধারা বহিতে লাগল, সকলের কন্ঠ হতে মধুর হরিধ্বনি উত্থিত হতে লাগিল।*
*গৌরহরি সন্ন‍্যাসব্রত অবলম্বন করবেন,এ বার্তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।এ সংবাদ শচীমা যখন শুনলেনতাঁর হৃদয়ের রতন নিমাই তাঁদেরকে পরিত‍্যাগ করে চলে যাবেন, তখন তিনি ছিন্নমূল তরুর মত ভূতলে পড়ে গিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন।সরলা বিষ্ণুপ্রিয়ার হৃদয় এ সংবাদে যেন বিদীর্ণ হতে লাগল,তিনি অশ্রুজলে নিজের বক্ষঃস্থল সিক্ত করতে লাগলেন।শচীমা কাতর হৃদয়ে নিমাইকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুই নাকি সন্ন‍্যাসী হয়ে চলে যাবি?এই কথা বলতে বলতে,তাঁর কন্ঠরোধ হয়ে আসিল।নিমাই বললেন, মা!সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করে দ্বারে দ্বারে হরিনাম প্রচার করব স্থির করেছি,সেজন‍্য তুমি দুঃখিত হইও না।শচীমা কাঁদতে কাঁদতে বললেন,বাপ নিমাই!বিশ্বরূপ ছেড়ে চলে গেছে,কেবর তোর মুখ চেয়ে এখন সংসারে বাস করছি,বাপ!তুই চলে গেলে, আমি গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে ডুবে মরিব।তুই যদি সন্ন‍্যাসী হয়ে বাহির হয়ে যাস,তবে বিষ্ণুপ্রিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যা বাপ।তাকে কে দেখবে নিমাই?এইকথা বলতে বলতে তাঁর হৃদয় যেন ছিন্নভিন্ন হতে লাগল।তিনি শোকে ও দুঃখে অভিভূত হয়ে পড়লেন, তাঁর আর মুখে বাক‍্য স্ফুরে না।নিমাই জননীর বক্ষে হাত রেখে শোআভিভূত জননীকে সান্ত্বনা প্রদান করতে লাগলেন।তিনি বললেন,মা!এ সংসারে কেউ কারও নয়,লোকে সর্বদা মায়াতে আচ্ছন্ন হয়ে বাস করছে, এই মোহ-মায়া পরিত‍্যাগ করাই কর্তব‍্য, মা!তুমি শ্রীকৃষ্ণে মন প্রাণ অর্পণকরে বাস কর,মা! মায়া পরিত‍্যাগ কর।তৎপর শচীকুমার জননীকে নিজের অবতারত্ব বিষয়ে কয়েকটি কথা বলতে লাগলেন।সন্তানের কথাতে যখন তাঁর এই বিশ্বাস হল যে,তাঁর গৌরসুন্দর মনুষ‍্য নহেন,স্বয়ং ভগবান মানবাকারে তাঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে।তখন তাঁর তাপিত ও দুঃখিত জর্জরিত হৃদয়ে শান্তির শিশিরবিন্দু কিছু পরিমাণে নিপতিত হল।যেন আনন্দের রশ্মি ক্রীড়া করতে লাগিল। শ্রীগৌরহরি শ্রীকৃষ্ণের অবতার হলেও শচীদেবীর পুত্রবাৎসল‍্য চলে যেতে পারে না, নিমাই তাঁর সন্তান।নিমাইয়ের প্রবোধ বাক‍্যে ক্ষণকাল তাঁর হৃদয় সুস্থ হল বটে, কিন্তু পরক্ষণেই সন্তানের বিচ্ছেদকথা স্মরণ করে দ্বিগুণতররূপে তাঁর দুঃখানল প্রজ্বলিত হয়ে উঠিল। গৌরহরি পুনরায় নানাপ্রকারে সেই আগুনে শান্তির বারি সিঞ্চন করবার জন্য বললেন মা! তুমি যখনই আমাকে স্মরণ করবে,আমি তখনই তোমার কাছে প্রকাশিত হব।আমি যেখানে বসৃ আহার করি,তুমি সেখানে আমার জন্য অন্ন ব‍্যঞ্জন রেখে,আমাকে স্মরণ করবে। সন্তান নানান প্রকারে তাঁর দুঃখানল নিবৃত্তি করতে প্রয়াস পেলেন বটে, কিন্তু মাতৃস্নেহ কি সামান্য বস্তু? গৌরহরির প্রবোধ বাক‍্যে কি তাঁর জননীর হৃদয়ের জ্বালা নিবারিত হতে পারে?প্রতি মুহূর্তে নিমাইয়ের সন্ন‍্যাসের কথা,তাঁর স্মরণে উদিত হয়ে,ঘৃতাহুতির ন‍্যায় শোকের অনল শিখাকে অধিকতর প্রজ্বলিত করে তুলতে লাগিল।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                *সন্ন‍্যাসের পূর্বাবস্থা*
             💧💧💧💧💧💧💧💧
*🌹পতিপরায়ণা,লক্ষ্মীস্বরূপা, বিষ্ণুপ্রিয়া প্রাণবল্লভের সন্ন‍্যাসের কথা স্মরণ করে,যেন মৃতের ন‍্যায় গৃহের মধ্যে অবস্থিতি করছেন।নয়নের জল মুছতে মুছতে তাঁর বসনাঞ্চল সিক্ত হচ্ছে।এদিকে বৃদ্ধা শচীমা শোকাভিভূতা হয়ে মাটিতে শয়ন করে আছেন, দেহে কেবল প্রাণটুকু আছে মাত্র।পুন্দর মিশ্রের গৃহে সূর্য‍্যের জ‍্যোতিঃ ও চন্দ্রের বিমল স্নিগ্ধ কিরণ যেন ফিবাদের ঘন মেঘে আবৃত হয়ে পড়েছে।তাঁর গৃহ নিরানন্দের অন্ধকারে সমাচ্ছন্ন।বিশ্বম্ভর জননীকে সান্ত্বনা দিয়ে মনে বুঝলেন, আবার প্রবোধ বাক‍্যে পত্নীর শোক দূর করবার চেষ্টা করতে হবে।*
*🍀রজনী সমাগত হল।নবদ্বীপচন্দ্র ভক্তদের সঙ্গে কীর্তনাদি করে,গৃহে ফিরে এলেন, এবং আহারাদি করে শয‍্যায় শয়ন করলেন।বিষ্ণুপ্রিয়া শয়নগৃহে প্রবেশ করে দেখলেন,প্রাণবল্লভ নিদ্রিত। তিনি সজল নয়নেতাঁর চরণসেবা করতে লাগলেন।বিষ্ণুপ্রিয়ার হস্তস্পর্শে মহাপ্রভুর নিদ্রা ভঙ্গ হল।তিনি উঠে দেখলেন,সুন্দরী সরলা বিষ্ণুপ্রিয়া তাঁর পদযুগলে নিজের সুকোমলহস্ত স্থাপন করে রয়েছেন,তাঁর মুখকমল মলিন, আর দুই নয়ন হতে অবিরল ধারে বারি নির্গত হচ্ছে।তিনি ভাবলেন, বিষ্ণুপ্রিয়ার হৃদয়ে সান্ত্বনা প্রদান করা বড় কঠিন সমস‍্যা, আর তরুণবয়স্কা যুবতী বিষ্ণুপ্রিয়াকে সংসারের অনিত‍্যতার কথা বুঝিয়ে তাঁর চিত্তকে বৈরাগ‍্য প্রণোদিত করে,স্বামীবিচ্ছেদে সুস্থির রাখতে প্রয়াস পাওয়া বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি পত্নীকে ক্রন্দন করতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, বিষ্ণুপ্রিয়া!তুমি কাঁদছ কেন? বিষ্ণুপ্রিয়া বললেন, তুমি না সন্ন‍্যাসী হবে?গৌরহরি বললেন, কে বলল? বিষ্ণুপ্রিয়া বললেন,লোকের মুখে শুনছি,তুমি সন্ন‍্যাসী হবে।তুমি নবদ্বীপের গৌরব,তোমার জন্য আমি ভাগ‍্যবতী, তোমার গৌরবে আমি গৌরবান্বিতা। আমার জীবনে কত আশা ছিল ; সে সকলই কি ভেঙ্গে দিবে?একটি কথা চিন্তা করে আমার মনে মনে বড়ই ব‍্যথা অনুভব হচ্ছে,তুমি সন্ন‍্যাসী হলে দ্বারে দ্বারে শ্রীনাম বিতরণ করে বেড়াবে,তোমার ঐ রাঙ্গাচরণে কত কষ্ট হবে! এইসব কথা বলতে বলতে তিনি স্বামীর কোলের উপর মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।গৌরহরি তাঁর চৈতন‍্য ফিরাবার তাঁকে কোলে নিয়ে নানারকম মিষ্ট আলাপে তাঁর প্রাণে আনন্দের সঞ্চার করতে যত্নবান হলেন।মহাপ্রভু বললেন, প্রিয়ে তুমি আর কেঁদ না, শোক পরিত‍্যাগ কর,আমি কেবল হরিনাম প্রচারের জন্য বাহির হচ্ছি। আমি তোমাকে কখনও ভুলব না। শ্রীলোচনদাস বললেন,সেদিন গৌরহরি বিষ্ণুপ্রিয়ার নিকট শঙ্খ,চক্র,গদাপদ্মধারী হয়ে প্রকাশিত হয়েছিলেন। বিষ্ণুপ্রিয়া সেরূপ দর্শনে মূর্ছিতা হয়ে পড়েন।তিনি চেতনা পেলে,গৌরহরি তাঁর কাছে স্বামীরূপে প্রকাশিত হয়ে,নানান উপদেশে তাঁর ভগ্নহৃদয়ে ধর্মবলের সঞ্চার করতে যত্নবান হন।বিষ্ণুপ্রিয়া প্রাণবল্লভকে শ্রীকৃষ্ণরূপে প্রকাশিত হতে দেখে,তাঁকে নরদেহধারী শ্রীকৃষ্ণের অবতার বলেই বিশ্বাস করেছিলেন। এবং সে বিশ্বাসে তিনি সে-সময় সামান্য পরিমাণে প্রাণে শান্তিও লাভ করেছিলেন। অন্তর্য‍্যামী গৌরহরি প্রেমভরে বললেন,শুন বিষ্ণুপ্রিয়া!তুমি ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ, তুমি কৃষ্ণানুরাগিনী হয়ে তোমার নামের সার্থকতা সম্পাদন কর। গৌরহরি দেবতা হলেও তিনি তাঁর প্রাণবল্লভ।সতী-হৃদয়ে স্বামী বিচ্ছেদের যন্ত্রণা অসহনীয়।তাই বিষ্ণুপ্রিয়া, স্বামী হৃদয়ের মহৎ বাসনা হৃদয়ঙ্গম করলেও তাঁর সংসার পরিত‍্যাগের কথা স্মরণ করে আকুল হৃদয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন। শ্রীগৌরহরি পুনঃ মধুর বচনে তাঁকে সান্ত্বনা করতে চেষ্টা করে বললেন, বিষ্ণুপ্রিয়া! তুমি যখনই আমাকে স্মরণ করবে,আমি তোমায় কথা দিচ্ছি নিশ্চয়বলছি,আমি তখনই তোমার কাছে উপস্থিত হব।তাই লোচনদাস চৈতন‍্য মঙ্গলে বলেছে=*
*শুন দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া,এ তোরে কহিল হিয়া,*
        *যখনে যে তুমি মনে কর।*
*আমি যথা তথা যাই,আছয়ে তোমার ঠাঁই,*
         *সত‍্য সত‍্য কহিলাম দৃঢ়।।*
*🌺প্রাণবল্লভের কথা শুনে, বিষ্ণুপ্রিয়া ভাবলেন, আমার প্রাণবল্লভ সামান্য মানব নহেন।ইনি শ্রীকৃষ্ণের অবতার,এমন স্বামীর আমি পত্নী ; ইনি নরনারীর উদ্ধারের জন্য সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করছেন, আমি আর ইনার পথের বাধা দেই কেন? আমার হৃদয় মন ভেঙ্গে গেলেও ইঁনার জীবনের মহান ব্রতের অন্তরায় হব না।এইসব চিন্তা করে তিনি নীরবে সজলনেত্রে তাঁর দেবসদৃশ প্রাণবল্লভের চরণকমলে প্রণিপাত করলেন। হৃদয়ের প্রবল শোকাবেগ সম্বরণ করে স্বামীর হৃদয়ে সন্তোষ উৎপাদনের জন্য,অবনত মস্তকে ধীর গম্ভীরভাবে বললেন,"তুমি যা ভাল মনে কর তাইই কর"।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৭) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
              *শ্রীমন্মহাপ্রভুর গৃহত‍্যাগ*
             *************************
*🍀এইরকম ভাবে কিছুদিন কেটে গেল।লোকের মনে গৌরহরির সন্ন‍্যাসব্রতের কথা ক্রমে কিছু ম্লান হয়ে পড়ল।শচীদেবী ও বিষ্ণুপ্রিয়া এ বিষয়ে আর কোন কথায় বলতেন না, তাঁদের মনে হয়েছিল যে,গৌরহরি বোধহয় গৃহত‍্যাগ করবেন না। ওদিকে গৌরহরিও এ বিষয়ের কোন কথার উল্লেখ করে তাঁদের মনে অশান্তি ও উদ্বেগের সঞ্চার করতেন না। তিনি নিত‍্য ভক্তবৃন্দের সঙ্গে কীর্তনাদি করে দিন কাটাতে লাগলেন। কিন্তু গৌরহরির হৃদয়ে সন্ন‍্যাসগ্রহণের যে সঙ্কল্প উদিত হয়েছে,তা কিছুতেই ম্লান হবার নয়।তাঁর হৃদয়াভ‍্যন্তরে যে অগ্নি প্রধূমিত(ধূমায়িত) হচ্ছে, তা শীঘ্রই প্রজ্বলিত হয়ে উঠবে।*
*🌷১৪৩১ শকের উত্তরায়ণ সংক্রান্তির পূর্বদিন,গৌরহরি নবভানু আকাশে উদিত হতে না হতেই,শয‍্যা পরিত‍্যাগ করে শ্রীবাসের ভবনে উপস্থিত হলেন।হরিপ্রেমানুরাগী ভক্তগণ একে একে মিলিত হতে লাগলেন। যে সুরাপানে তাঁরা অনুদিন মত্ত থাকতে ইচ্ছা করেন,হরিকীর্তনরূপ সেই সুধাপানে তাঁরা রত হলেন।শ্রীনামরসে বিভোর হয়ে তাঁরা মধ‍্যাহ্নকাল পর্যন্ত সংকীর্তনে যাপন করলেন।কীর্তন বিরাম হলে,আহারাদির জন্য সকলে স্ব স্ব গৃহে গমন করলেন।শ্রীশচীনন্দনও গৃহে ফিরে এলেন।তিনি স্নান ও আহারান্তে আপন শয়নগৃহে বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে কিছু সময় হাস‍্য-পরিহাসে অতিবাহিত করলেন।অপরাহ্নে কিছু জলযোগ করে অনুগত বিষ্ণু-ভক্ত সহচরদের সঙ্গে প্রসন্ন-সলিলা জাহ্নবীতটে গমন করলেন।সেখানে ভক্তগণ সঙ্গে আত্মার কল‍্যাণকারী হরিপ্রসঙ্গে কিছুকাল অতিবাহিত করে,পুনরায় গৃহে আগমন করলেন।গৌরসুন্দর ঘরে এসে বসিলে,ভক্তগণ তাঁর কন্ঠে ফুলের মালা পরিয়ে দিলেন,ও তাঁর অঙ্গ চন্দনে চর্চিত করলেন।এই দিব‍্যকান্তি বিশিষ্ট যুবা পুরুষের সৌন্দর্য্য যেন আরও মনোহারী হতে লাগল।গৌরহরি প্রাণপ্রদ হরিকথা আরম্ভ করলেন।তাঁর মধুর কথামৃত সকলেই প্রাণ ভরে পান করতে লাগলেন।সেদিন তাঁর কথার মিষ্টতা যেন মধুর হতে সুমধুর বা মধুরতর হয়ে উঠেছিল।তাঁর কমনীয় কান্তির ভিতর হতে যেন এক অপূর্ব লাবণ‍্য বাহির হতে লাগল।সমবেত ভক্তেরা তাঁর অমিয়মাখা কথা প্রাণ ভরে পান করতে লাগলেন।শ্রীকৃষ্ণে জীবন সমর্পণ তাঁর জীবনের শিক্ষা ; যিনি নরনারীর দ্বারে দ্বারে হরিনাম বিতরণ করবেন,প্রাতঃসূর্য‍্য পশ্চিম গগনে উদিত হতে না হতেই যিনি পরমারাধ‍্যা, প্রাণপ্রিয়া বিষ্ণুপ্রিয়া ও তাঁর প্রাণসম গদাধর নিত‍্যানন্দ প্রভৃতিকে পরিত‍্যাগ করে কাটোয়া নগরে যাত্রা করবেন,আজ সন্ধ‍্যাকালে সেই হরিগুণ কীর্তনে রত হবার জন্য তিনি সকলকে বিশেষ রূপে অনুরোধ করলেন।গৌরসুন্দর বললেন,ভাই সকল! যদি আমার প্রতি তোমাদের কিছু ভালোবাসা থাকে তাহলে আমার এই কথা সর্বদা পালন করবে, শ্রীকৃষ্ণ জগতের সার,তাঁর চরণে সর্বদা মতি রাখবে। আর কি ভোজনে,কি শয়নে,সর্বদা তাঁর নাম কীর্তন করবে।*
*🌹এমন সময় তাঁর ভালোবাসার পাত্র শ্রীধরমহাপ্রভুর ভোজনের জন্য একটি লাউ হাতে করে আগমন করল।মহাপ্রভু তাঁর সঙ্গে দুই-একটি কথা বলে,তাঁর প্রেমের উপহারের ফলটি গ্রহণ করলেন।এমন সময় আর এক ব‍্যক্তি তাঁর জন্য দুগ্ধ নিয়ে এলো।গৌরহরি মাকে ডেকে বললেন, মা!আজ তুমি শ্রীধরের লাউ, ও গোয়ালার দুধ দিয়ে পায়েস তৈরী কর। শচীমা তৎক্ষণাৎ পাকশালায় গমন করে তাঁর প্রাণের নিমাইয়ের জন্য পায়েস তৈরী করলেন।রাত্রি বেশী হলে,একে একে সমাগত ব‍্যক্তিরা আপন আপন গৃহে গমন করতে লাগল।সেদিন নিশাবসানে যে নবদ্বীপচন্দ্র নবদ্বীপ পরিত‍্যাগ করে চলে যাবেন,তা কয়েকজন ব‍্যক্তি ছাড়া আর কেউই জানতেন না। গৌরহরি আহারাদি সমাপন করে শয়নকক্ষে প্রবেশ করলেন। চৈতন‍্য মঙ্গলের লোচনদাস বলেন,সে দিন তিনি বিষ্ণুপ্রিয়াকে মধুর আলিঙ্গনে ও প্রেমালাপে সুখী করেছিলেন।প্রাণবল্লভের আলিঙ্গনে ও প্রেমালাপে বিষ্ণুপ্রিয়া যেন অতীতের সব কথা ভুলে গিয়েছিলেন।প্রাণবল্লভের প্রেম ভালোবাসায় প্রেমসাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। যাইহোক,যিনি আর কয়েক ঘন্টার মধ্যে চিরদিনের জন্য সকল মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে,পথের ভিখারী হবেন, তারপূর্বে তিনি যেরকম শান্ত ও প্রফুল্ল চিত্তে,জননীর সঙ্গে কথাবার্তা ও পত্নীর সঙ্গে প্রেমালাপে রত হয়েছিলেন,তা স্মরণ করলে,তাঁকে কি আর সামান্য মানব বলে মনে হয়?*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪔🦚🦚🦚🦚🦚🦚

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
        *শ্রীমন্মহাপ্রভুর গৃহত‍্যাগ*
       ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻আজ গৌরসুন্দরের নয়নে আর নিদ্রা নাই।ওদিকে শচীমাও বাণবিদ্ধা মৃগীর মত নিমাইয়ের সন্ন‍্যাস গ্রহণের কথা মনে করে ভূতলশায়িনী হয়ে ছটফট করছেন।সরলা বিষ্ণুপ্রিয়া হয়ত বুঝতে পারেননি,যে, প্রাণবল্লভের আজকের প্রেমালিঙ্গন ও প্রেমালাপ চিরদিনের জন্য শেষ হল।তাই তিনি নিশ্চিন্ত মনে, প্রাণবল্লভের পার্শ্বে নিদ্রায় অভিভূত হয়ে পড়লেন।*
*🌳রাত্রি আর চারদন্ড আছে।গৌরহরি শয‍্যা পরিত‍্যাগ করলেন।কি এক মোহন রব তাঁর কর্ণকুহরে সর্বদা ধ্বনিত হচ্ছে।তিনি সেই ধ্বনি শুনে আর ঘরে থাকতে পারলেন না। দ্বারে দ্বারে হরিনাম বিতরণের জন্য ভগবান তাঁকে আহ্বান করছেন; তিনিই স্বয়ং বংশী বাজিয়ে নবদ্বীপচন্দ্রকে মুগ্ধ করে, সন্ন‍্যাসীর আহ্বান করছেন। গৌরহরি শয়ন কক্ষ হতে বাইরে আসিলেন,দুই-এক পা অগ্রসর হলেন, আবার একটু পিছিয়ে এসে বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রেমপূর্ণ মুখের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করলেন।হয়ত মহাপ্রভুর একবার মনে হল,হায়!কিভাবে এ পতিপ্রাণা বিষ্ণুপ্রিয়াকে চিরদিনের জন্য পরিত‍্যাগ করে চলে যাই?পরক্ষণেই তাঁর চৈতন‍্যোদয় হল।তিনি মত্ত মাতঙ্গের মত সে মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে অগ্রসর হলেন। দ্বারে শচীমা ভূতলশায়িনী হয়ে রয়েছেন।পুত্র চলে যাবার সময় চিরদিনের জন্য একবার সে চাঁদবদন প্রাণ ভরে দেখে নিবেন।*

*এই তাঁর বাসনা।নিমাই মায়ের কাছে আসিলেন, এসে বললেন,মা!তুমি আমাকে পরম যতনে লালন-পালন করেছ, বিদ‍্যাশিক্ষা দিয়েছ,আমি তোমার ঋণ ইহজন্মে পরিশোধ করতে পারব না।মা!শ্রীকৃষ্ণই সংযোগ, বিয়োগের কর্তা ; মানুষ স্বাধীন নয়।মা! আমি যেখানেই থাকি,তোমার সমস্ত ভার আমার উপর। এইকথা বলে বিশ্বম্ভর জননীকে প্রদক্ষিণ করে দ্রুতপদে বাড়ীর বাহির দরজা খুলে বেড়িয়ে গেলেন।শচীমা নিমাইয়ের সঙ্গে একটিও কথা বললেন না। মায়ের শোকের গভীরতা এতই বেশী যে,তাঁর বাক‍্যস্ফূরণের সামর্থ‍্য ছিল না।তিনি স্পন্দহীনের মত পড়ে রইলেন।*
*🍀ধর্মাচার্য‍্য ও ভক্তকবি পন্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী মহাশয়ের সুবিখ‍্যাত "চৈতন‍্যের সন্ন‍্যাস" নামক কবিতা হতে কয়েক পংক্তি এখানে দেওয়া হল।শাস্ত্রী মহাশয় নিমাই-জননীকে প্রবোধ দিয়ে বলেছেন=*
*🌷ওই গেল চলে পাগলের প্রায় ;*
*🌷জান না ত মাতা কে তাঁরে লওয়ায়!*
*🌷উন্নত আকাশে খধূপ প্রকাশে।*
*🌷আপনার বেগে সে কি সেথা যায়?*

*🌷প্রবল আগুন জ্বলেছে ভিতরে,*
*🌷আর তারে হেথা কেবা রাখে ধরে?*
*🌷তাই মহাবেগে যায় অনুরাগে,*
*🌷পাপী জগতের পরিত্রাণ তরে।*

*🌷ধরেছ জঠরে তাই বলে তারে,*
*🌷পার কি রাখিতে আপন আগারে?*
*🌷যে কাজ সাধিতে আসা অবনীতে,*
*🌷নিলেন ঈশ্বর সে কাজে তাহারে।*

*🌷নদীয়াতে ছিল তোমার নিমাই,*
*🌷আজি সে হইল পাপীদের ভাই;*
*🌷জগতের তরে সে যে প্রাণ ধরে,*
*🌷বুঝিলে না মাতা কাঁদিতেছ তাই।*
*🌹ধর্মাচার্য‍্যগণ অধিকাংশ জায়গায় নিজেদের পুত্র ও আত্মীয় স্বজন অপেক্ষা শিষ‍্যদের সাহায্য লাভ করে থাকেন। গৌরহরি যখন গৃহত‍্যাগ করবেন,তখন শিষ‍্যগণ শুনলেন, গদাধর ও হরিদাস তাঁর সঙ্গের সাথী হবার জন্য প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু গৌরহরি বারণ করে বললেন,কারও সঙ্গ আমি প্রার্থনা করি না, একমাত্র অদ্বিতীয় শ্রীকৃষ্ণই আমার সঙ্গী।সেই অখিলের একমাত্র স্বামীর প্রতি গৌরচন্দ্রের কি অটল বিশ্বাস, কি অপূর্ব প্রেম!*
*🔴যামিনী প্রভাত হ'ল।গৌরহরির ভক্তগণ এসে দেখলেন, গৌর-জননী যেন মৃতবৎ গৃহ-প্রবেশ-দ্বারে পড়ে রয়েছেন।তাঁদের জীবন-পথের জীবন ও তাঁদের পথপ্রদর্শক চলে গিয়েছেন।অভাগিনী বিষ্ণুপ্রিয়া তখনও নিদ্রিতা। নিমাইয়ের সন্ন‍্যাসযাত্রার কথা শুনে এক একটি করে লোক আগমন করতে লাগলেন।সকলেই কেঁদে আকুল।বিষ্ণুপ্রিয়ার নিদ্রা ভঙ্গ হলে তিনি বুঝতে পারলেন, তাঁর প্রাণবল্লভ তাঁকে ত‍্যাগ করেছেন।অন্তঃপুরবাসিনী লজ্জাশীলা বিষ্ণুপ্রিয়া আজ লোকলজ্জা বিসর্জন দিয়ে,কাঁদতে কাঁদতে বাইরে এলেন।ক্রমে গৌরহরির গৃহত‍্যাগ সমাচার চারদিকে প্রচারিত হয়ে গেল।এইকথা শুনে বহুলোক ব‍্যথিত হৃদয়ে আগমন করতে লাগলেন।শচীভবন লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেল, কান্নায় সকলে ভেঙ্গে পড়ল।আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নয়নের জলে বক্ষঃস্থল ভাসাতে লাগলেন।যারা শ্রীচৈতন‍্যের নব-প্রচারিত ভক্তি-ধর্মের বিপক্ষে ছিলেন, আজ তারাও শোকাকুল হয়ে নয়নজলে ভাসতে লাগলেন।গৌরসুন্দরের অভাবে নবদ্বীপের সকল গৃহই যেন শোকে আচ্ছাদিত হয়ে গেল।শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর এসময়কার বর্ণনা স্থলে,লিখেছেন, গৌরহরির শোকে কেউ কেউ অধীর হয়ে বলতে লাগলেন,গৌর বিহনে এ জীবন ধারণে আর সুখ কি?চল, গৃহ দগ্ধ করে আমরাও গৌর-পথ অপনুসরণ করি।*
*হরিপ্রেমানুরাগী গৌরসুন্দর প্রেমে গদগদ হয়ে হরিগুণ কীর্তন করতে করতে,গঙ্গা পার হয়ে কাটোয়াভিমুখে গমন করতে লাগলেন। তাই ভক্ত শিবনাথ যেন সেই দৃশ্য দর্শন করে বলছেন=*
*🌷এদিকেতে গোরা নিজ বেগে ধায়।*
*🌷কেশব ভারতী আছেন যথায়*।।
*🌷হরিগুণ গান করি পথে যান।*
*🌷প্রেমের সাগর উথলিয়া যায়।।*

*🌷প্রিয় হরিনাম, ঘুষিব বিদেশে,*
*🌷দ্বারে দ্বারে যাব ভিখারীর বেশে ;*
*🌷নিজে পায়ে ধরি ভজাইব হরি ;*
*🌷হরিনামে পাপী ঘুচাবে ক্লেশে।*

*🌷এত বলি গোরা নদে ছাড়ি যায়,*
*🌷নদে পুরী শোকে করে হায় হায়!*
*🌷কারে কি যে কর জান হে ঈশ্বর!*
*🌷দেখে শুনে কবি হত-বুদ্ধিপ্রায়*।
*🌺এদিকে গদাধর,মুকুন্দ,চন্দ্রশেখর প্রভৃতি পঞ্চজন ভক্ত,গৌরহরির তত্ত্বাবধান ও শরীর রক্ষা করবার জন্য,দ্রুতপদে তাঁর অনুসরণ করলেন।ইঁনারা পথিমধ‍্যে শ্রীগৌরসুন্দরের দর্শন লাভ করে,তাঁর সমভিব‍্যাহারী হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
      *শ্রীকেশব ভারতীর আশ্রমে*
      ****************************
*🍀দিনবসান হয়েছে সন্ধ‍্যা এসেছে। সান্ধ‍্য-সমীরণ প্রবাহিত হচ্ছে ; পক্ষীগণ বৃক্ষোপরি আপনাপন কুলায়ে উড়ে যাচ্ছে।রাখালেরা গরুর পাল নিয়ে গৃহে ফিরে যাচ্ছে।এমন সময়ে গৌরসুন্দর সঙ্গীদের সঙ্গে কাটোয়া নগরে কেশবভারতীর আশ্রমে উপস্থিত হলেন।কেশবভারতী শিষ‍্যগণসহ শ্রীগৌরহরিকে দর্শন করে,আসন হতে উঠে তাঁদেরকে অভ‍্যর্থনা করলেন।গৌরহরি ভক্তির সহিত ভারতীর চরণে প্রণাম করে বললেন,প্রভো!অদ‍্য উত্তরায়ণ সংক্রমণ,আগামী কল‍্য আমাকে দিক্ষা দান করে সংসার-বন্ধন-মোচন করুন।ভারতী বললেন,তোমার সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণের এখনও সময় হয়নি।তুমি যুবা পুরুষ,পঞ্চাশ বৎসর উত্তীর্ণ না হলে,সংসারাশ্রম পরিত‍্যাগ করা উচিত নয়।তোমার মা ও পত্নী তোমার এ কাজের কি অনুমোদন করেছেন? তুমি এখনও পুত্রমুখ দর্শন কর নাই। এ সঙ্কল্প পরিত‍্যাগ কর।কেশব ভারতীর কাছ হতে এই নিরাশার কথা শুনে,গৌরহরি ভারতীকে তাঁর পূর্ব প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব‍্যাকুল হৃদয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন।গৌরহরি সংসারের সব মায়া পরিত‍্যাগ করে দ্বারে দ্বারে হরিপ্রেম বিতরণ করবার জন্য গৃহ হতে বাহির হয়েছেন।কে তাঁর গতিরোধ করবেন?তিনি হরিধ্বনি করতে করতে পাগলের মত নৃত্য করতে আরম্ভ করলেন।সুগায়ক মুকুন্দ মহাপ্রভুর নৃত্য দর্শন করে মধুর কন্ঠে কীর্তন আরম্ভ করলেন।সে মধুর গীত যেন বীণার ঝঙ্কারের মত লোকের প্রাণ বিমোহিত করতে লাগল।মুকুন্দের কীর্তনে গৌরহরির অনাসক্ত ও ভাবপ্রবণ হৃদয়ে যেন প্রেমতরঙ্গ উঠতে লাগল। তিনি শ্রীকৃষ্ণের চরণারবিন্দ লাভের জন্য ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন,অবিরাম নৃত্য ও হরিধ্বনিতে চারিদিক মুখরিত করে তুললেন।*
*☘সংসারে ভগবৎ-প্রেমের এইরকম অপরূপ দৃশ্য আর কেউ কখনও দেখেছেন বলে বোধ হয় না।কেশব ভারতী শ্রীগৌরাঙ্গের অপার্থিব মনোহর দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেলেন।তিনি মনে করলেন,আমি কাকে সন্ন‍্যাস গ্রহণে প্রতি নিবৃত্তি হতে বলছি, গৌরহরি তো মানুষ নন,ইনি তো সাক্ষাৎ ভগবান।অবশেষে তিনি নিমাইকে বললেন,আমি তোমার যরকম ভক্তি দেখলাম, সেরকম ভক্তি সাধারণ মানবে কখনও সম্ভব না। তুমি নরনারীর গুরু হয়ে অবতীর্ণ হয়েছ,আমি তোমার গুরু হবার যোগ্য নহে।তবে ধর্মজীবন লাভের জন্য গুরুকরণ যে আবশ‍্যক,এই সত‍্যটি শিক্ষা দিবার জন্য তুমি আমাকে গুরুরূপে বরণ করে দীক্ষা গ্রহণ করবে, আমার তাইই বোধ হচ্ছে।শ্রীগৌরাঙ্গ কেশব ভারতীর কথা শুনে বললেন,আমাকে এমন ভাবে দীক্ষিত করবেন যেন আমি শ্রীকৃষ্ণের চিরসেবক হয়ে দিন যাপন করতে পারি।ভক্তবৃন্দের আগমনে কেশব ভারতীর আশ্রম আজ স্বর্গপুরী হয়ে উঠিল।সমস্ত রজনী সংকীর্তনে কেটে গেল।ভারতী গৌরহরিকে লাভ করে, অপার আনন্দ লাভ করেছিলেন।দেখতে দেখতে রজনী প্রভাত হয়ে গেল।আজ দীক্ষার দিন।দিনমণি পূব আকাশে উদিত হতে না হতেই গৌরহরি চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যকে দীক্ষার আয়োজন করতে বললেন।শচীকুমার জননী ও পত্নীকে পরিত‍্যাগ করে কেশব ভারতীর আশ্রমে আগমন করেছেন, এ বার্তা ইতঃপূর্বেই কাটোয়াতে প্রচারিত হয়ে পড়েছিল।শ্রীগৌরাঙ্গের কাটোয়া নগরীতে আগমনের সময়েই বহুসংখ‍্যক নরনারী ভারতীর আশ্রম সন্নিধানে উপস্থিত হয়েছিলেন, এবং এমন রূপবান যুবাপুরুষ, মাতা ও পত্নীকে বিষাদের অতল জলে নিক্ষেপ করে,সন্ন‍্যাসের পথ অবলম্বন করবে,ইহা ভেবে সকলেই অশ্রুবারি বর্ষণ করতে লাগলেন।*
*🌳আজ গৌরচন্দ্র সন্ন‍্যাস-ব্রত অবলম্বন করবেন। তিনি মস্তকের চাঁচর কেশ ফেলে দিবেন,গৈরিক বসন পরিধান করে,দন্ড ও কমন্ডলু গ্রহণ করবেন।এই দৃশ্য দর্শন করবার জন্য সকালবেলা হতে দলে দলে পুরুষ নারী আগমন করতে লাগলেন।গৌরহরির মত চিত্তবিমোহন যুবাপুরুষ সন্ন‍্যাসী হবেন,এইকথা মনে করে বহু সংখ্যক নরনারী কেঁদে আকুল হয়ে পড়ল।কত লোকে তাঁকে এ পথ হতে ফিরাবার জন্য করুণ বচনে বুঝাতে লাগলেন, বয়স্কা নারীগণ বলতে লাগলেন, বাবা! তোমার মা স্ত্রী তোমার বিচ্ছেদে কিভাবে জীবন ধারণ করবেন? তুমি ঘরে ফিরে যাও, নয়ত তাঁরা প্রাণে বাঁচবেন না।এইসব কথা বলতে বলতে তাদের হৃদয় যেন বিদীর্ণ হতে লাগল। তারা মনোকষ্টে কাঁদতে লাগলেন।*
😭😭😭😭😭😭🙏😭😭😭😭😭😭

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
         *শ্রীকেশব ভারতীর আশ্রম*
        ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺এদিকে চন্দ্রশেখর আচার্য‍্য দীক্ষা-গ্রহণের জন্য যথাবিধি আয়োজন করতে লাগলেন। কিন্তু দীক্ষার জন্য যে সব বস্তুর প্রয়োজন, অযাচিতরূপে সেইসব দ্রব‍্য বহুল পরিমাণে আসতে লাগল। দুগ্ধ,দধি,চিনি প্রভৃতি বস্তুতে আশ্রমের গৃহ ও প্রাঙ্গণ পূর্ণ হয়ে যেতে লাগল।হাজার হাজার লোকের সমাগমে চারিদিক পূর্ণ হয়ে গেল।সকলেরই হৃদয় বিষাদে পূর্ণ ; সকলেরই অশ্রুবারিতে বক্ষঃস্থল ভিজতে লাগিল। কিন্তু গৌরসুন্দর নিজের ভাবে বিভোর ; তিনি নিজের হৃদয়-দেবতার মোহনমূর্তি নিজের হৃদয়ধামে দর্শন করে,কখন হাসছেন,কখন ক্রন্দন করছেন, ও কখন নৃত্য করতে করতে ভূতলে পড়ে যাচ্ছেন।বিশ্বম্ভরের মস্তক মুন্ডন করবার জন্য নরসুন্দর আসিলে,চারিদিক কান্না রবে পূর্ণ হয়ে গেল।এমন রূপবান যুবাপুরুষ মুন্ডিত মস্তকে দন্ড কমন্ডলু গ্রহণ করবেন, এ দৃশ্য স্মৃতিপথে উদিত হলে, কারও চক্ষু হতে বারিধারা নির্গত না হয়? নবদ্বীপচন্দ্রের সেই দৃশ্য আজ দেখতে হবে বলে সকলের প্রাণে দারুণ যন্ত্রণা উপস্থিত হয়েছে।ক্ষৌরকার শ্রীগৌরাঙ্গের মস্তক কিভাবে মুন্ডন করে দিবে, ইহা ভেবে সেও কেঁদে আকুল হল, এবং ক্ষৌরকার্য‍্যে অনিচ্ছা প্রকাশ করল।পরে গৌরহরির অনুরোধে সে যখন ক্ষুর হাতে নিয়ে ক্ষৌরকার্য‍্য করতে বসিল, তখন নয়নেরজলে তার চক্ষু অন্ধপ্রায় হয়ে আসিল।নরসুন্দরের হাত কাঁপতে লাগল। এদিকে গৌরচন্দ্রও সুস্থির হয়ে বসতে পারছেন না,কেবল "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"বলে কখন কাঁদছেন,কখন নৃত্য করছেন, কখন বা সেই মোহনমূর্তি ধরবার জন্য ধাবিত হচ্ছেন।নাপিতও ক্ষুর হাতে নিয়ে ভাবছে, কিভাবে গৌররূপের অপরূপ সৌন্দর্য্য নষ্ট হবে ভেবে, অশ্রুবেগ সম্বরণ করতে পারছে না।অপরদিকে গৌরহরিও শ্রীকৃষ্ণ বিরহে চঞ্চল।ক্ষৌরকার্য‍্য সমাধা হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াইল।বেশ কিছুক্ষণ এইভাবে কেটে গেল,অবশেষে দিবাবসানে গৌরহরি একটু শান্ত হয়ে জীবনের মহাব্রত সাধনের জন্য, ক্ষৌরকারের সামনে একটু স্থির হয়ে বসিলে,ক্ষৌরকার পুনরায় ক্ষুর হাতে মস্তক মুন্ডনে রত হল।নরসুন্দর তখন কেঁদে বলে উঠিল, আমি আজ যাঁর মস্তকে হাত দিচ্ছি, আমি আবার এ হাত কার পায়ে দিব,আমি আর এ কাজ করব না।গৌরহরি নাপিতের একথা শুনে বললেন,তুমি আজ হতে ক্ষৌরকার্য‍্য পরিত‍্যাগ করে শ্রীকৃষ্ণের দাস হয়ে,সদাসর্বদা সেই নাম কীর্তনে জীবন যাপন করবে।*
*😭তারপর সে যখন শচীমায়ের নয়নমণি,বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রাণবল্পভ, রূপের আধার গৌরসুন্দরের চাঁচর কেশ মুন্ডন করতে আরম্ভ করল,তখন নরনারীর হৃদয়ভেদি ক্রন্দন ধ্বনিতে চারিদিক পূর্ণ হয়ে গেল।সেইসময় নিত‍্যানন্দ ক্রন্দন করতে করতে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।বিলাপ ধ্বনির মধ্যে ক্ষৌরকার্য‍্য সমাধা হয়ে গেল।গৌরহরি স্নানান্তে অরুণ বসন পরিধান করলেন।*

*অল্পসময় পরেই গৌরচন্দ্র কেশবভারতীর কাছে সন্ন‍্যাসীর বেশে দীক্ষা গ্রহণের জন্য বসিলেন,তখন তিনি ভারতীকে বললেন,"আমি স্বপ্নে একটি মন্ত্র লাভ করেছি, যদি সেই মন্ত্র আপনার কাছে ফলপ্রদ বলে বোধ হয়,তাহলে ঐ মন্ত্রেই আমাকে দীক্ষিত করবেন "। দীক্ষার্থীর ভাবী গুরু উক্ত মন্ত্র শুনতে প্রস্তুত হলে,জগৎগুরু শ্রীগৌরহরি ভারতীর কানে সেই মন্ত্র উচ্চারণ করলেন।দীক্ষার পূর্বে শ্রীগৌরসুন্দর আচার্য‍্যকে (ভারতীকে) আগেই দীক্ষিত করলেন। সেই স্বপ্নলব্ধ মন্ত্র শুনে ভারতীর হৃদয় যেন বিস্ময়ে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।তিনি সেই মন্ত্রেই তাঁকে দীক্ষিত করতে সম্মত হলেন। চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যরত্ন প্রভৃতি তাঁর গলদেশ পুষ্পমালায় পরিশোভিত করে,তাঁর উজ্জ্বল গৌরবরণ দেহ চন্দনে চর্চিত করে দিলেন।তাঁর এক হাতে দন্ড ও অপর হাতে কমন্ডলু শোভা পেতে লাগিল।কেশব ভারতী গৌরহরির সেই স্বপ্নলব্ধ মন্ত্র দানেই তাঁকে দীক্ষিত করলেন।গৌরভক্তগণ ঊচ্চরবে সুমঙ্গল হরিধ্বনি করে উঠিলেন।*
*🌺নবজীবন লাভের সঙ্গে নূতন নামকরণ অনেক স্থলে প্রয়োজন হয়ে থাকে।কেশবভারতী এই নবদীক্ষার্থীর এই নবীন সন্ন‍্যাসীর একটি উপযুক্ত নামকরণের চিন্তা করতে লাগলেন। ভারতী দেখলেন,যিনি তাঁর কাছে দীক্ষিত হলেন,ইনি মোহান্ধ জীব সকলের আত্মাকে জাগ্রত করে,শ্রীহরির চরণানুরাগী করবার জন্যই জন্মগ্রহণ করেছেন।এইজন‍্য এই শুভদিনে তিনি শ্রীগৌরাঙ্গের নাম রাখলেন "শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব"।১৪৩১ শকাব্দে,মাঘমাসে পঞ্চবিংশতি বর্ষ বয়সে শ্রীগৌরহরি সংসার-বন্ধন ছিন্ন করে,বঙ্গদেশ ও ভারতভূমিতে মধুর হরিপ্রেমের স্রোত প্রবাহিত করবার জন্য সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণ করলেন।*
*🌳দীক্ষকার্য‍্য সমাধা হয়ে গেল।তিনি দীক্ষাগুরুর চরণে ভক্তিভরে প্রণত হলেন,এবং এক নব বলে বলীয়ান হয়ে হরিবোল বলিয়া নৃত্য করতে লাগলেন।শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব ভারতভূমিতে এক সুরসাল ভক্তি-ধর্মের স্রোত প্রবাহিত করবার জন্য দন্ডায়মান হলেন।এক নবযুগের সূত্রপাত করলেন।ভক্তবৃন্দ তাঁর চরণে প্রণত হলেন।কেশবভারতী এই দীক্ষাকার্য‍্যে আপনাকে উপকৃত বোধ করতে লাগলেন। গৌরহরির হৃদয়ের ভগবৎপ্রেমের মধুর ও স্নিগ্ধ হিল্লোলে তাঁর জীবনও শীতল হতে লাগল, ভক্তকে দীক্ষিত করে তাঁর চিত্তও ভক্তিরসে পূর্ণ হয়ে গেল।তিনি নবদীক্ষিতের সঙ্গে হরিগুণ কীর্তনে রত হলেন।ভারতীর আশ্রমে সমস্ত রজনী নামসংকীর্তনেই অতিবাহিত হ'ল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙏🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds