✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৩৩. মহাপ্রভুর সার্বভৌম আত্মসাৎ 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori33.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*মহাপ্রভুর সার্বভৌম আত্মসাৎ*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*সার্বভৌমের গৃহে উপস্থিত হয়ে তিনি তখন "ভট্টাচার্য্য ভট্টাচার্য্য "বলে উচ্চৈঃস্বরে সম্বোধন করে ডাকতে লাগলেন। সার্বভৌম তখন নিদ্রার আবেশে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে হাই তুললেন এবং তা মহাপ্রভুর কর্ণগোচর হল।গৌরহরি ইহা স্বকর্ণে শ্রবণ করে মনে বড় আনন্দ অনুভব করলেন। যথা=*
*কৃষ্ণ কৃষ্ণ স্ফুট কহি ভট্টাচার্য্য জাগিলা।*
*কৃষ্ণ নাম শুনি প্রভুর আনন্দ বাড়িলা।।*
*🌷সার্বভৌম এর আগে পর্যন্ত কখনও এইকথা বলেননি কারণ মহাপ্রভুর কৃপা পাওয়ার পর হতে তাঁর কৃষ্ণ নামে রতি হয়েছে।তাঁর সৌভাগ্য দেখে শ্রীগৌরাঙ্গর মনে বড় আনন্দ হল।তারপর সার্বভৌম তখন গৌরহরির শ্রীচরণ বন্দনা করে তাঁর রাতুল চরণতলে বসিলেন।কৃপাময় মহাপ্রভু তখন কৃপা করে জগন্নাথদেবের সেই প্রসাদ সার্বভৌমকে অর্পণ করলেন।ভট্টাচার্য্য তখন পর্যন্ত মুখ প্রক্ষালন করেন নাই, বাসিমুখে অতীব নিষ্ঠার সঙ্গে সেই প্রসাদ সেবা করলেন।চতুর চূড়ামণি শ্রীগৌর ভগবান উপযুক্ত সময় বুঝে তাঁর প্রসাদে ভক্তি পরীক্ষা করবার জন্য এই লীলারঙ্গ করলেন এবং সার্বভৌমও মহাপ্রভুর কৃপায় সেই প্রসাদের যথোচিত মর্য্যাদা দান করলেন।মহাপ্রসাদ গ্রহণ সম্বন্ধে শাস্ত্রে পাওয়া যায় =*
*"শুষ্কং পর্য্যুসীতং বাপী নীতং বা দূরদেশতম্।*
*প্রাপ্তমাত্রেণ ভোক্তব্যম্ নাত্রকাল বিচারনা।।"*
*🙏অর্থ্যাৎ মহাপ্রসাদ শুকনোই হোক,বা কথাকথিত বাসি হোক অথবা দূরদেশ থেকে নিয়ে আসাই হোক বিচার বিবেচনা না করেই তা তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করা সর্বতোভাবে কর্তব্য।*
*🌷মহাপ্রভু তখন আনন্দ আতিশর্য্যে নৃত্য কীর্তন করতে করতে কহিতে লাগিলেন=*
*আজি মুঞি করিনু বৈকুন্ঠে আরোহণ।।*
*আজি মোর পূর্ণ হইল সর্ব অভিলাষ।*
*সার্বভৌমের হইল মহাপ্রসাদে বিশ্বাস।।*
*🌻ভক্তবৎসল গৌর ভগবান আবার কহিলেন=*
*আজি তুমি নিষ্কপটে হৈলা,কৃষ্ণাশ্রয়।*
*কৃষ্ণ নিষ্কপটে তোমা হইলা সদয়*।।
*আজি সে খন্ডিল তোমার দেহাদি বন্ধন।*
*আজি তুমি ছিন্ন কৈলে মায়ার বন্ধন।।*
*আজি কৃষ্ণ প্রাপ্তি যোগ্য হইলা তোমার মন।*
*বেদ ধর্ম লঙ্ঘি কৈলে প্রসাদ ভক্ষণ।।*
*🍀গোপীনাথ আচার্য্যের আজ আনন্দের আর সীমা নাই কারণ এতদিনে তাঁর সর্ব অভিলাষ পূর্ণ হয়েছে। তখন তিনি "হরি হরি" ধ্বনি করতে লাগলেন। যথা=*
*গোপীনাথ আচার্য্য তাঁর বৈষ্ণবতা দেখিয়া।*
*হরি হরি বলি নাচে হাতে তালি দিয়া।।*
*🙏জয় নিতাই, এই হল সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্যের আত্মসাতের মোটামুটি প্রসঙ্গ। সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের জীবনের আর একটি স্মরণীয় ঘটনা হচ্ছে তাঁর ন্যায়শাস্ত্র শিক্ষা।তখনকার দিনে কৃষ্ণভক্তি খুবই বিরল ছিল, এবং প্রায় সকলেই বেদ বেদান্ত ন্যায়শাস্ত্র ইত্যাদি গ্রন্থ পাঠে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। বঙ্গদেশে এই ন্যায়শাস্ত্র শিক্ষার কোন টোল ছিল না,একমাত্র সুদূর পশ্চিমে মিথিলা ছাড়া, সেজন্যই সকলে মিথিলায় গমন করে ন্যায়শাস্ত্র অধ্যয়ন করতেন। সেখানকার মৈথিলী পন্ডিতগণের এই বিধান ছিল যে পাঠাভাস কালে বা পরে কেউ কোন গ্রন্থ বা টীকা সে জায়গা থেকে নিয়ে আসতে পারবেন না। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল যে,যাতে তাঁদের (মৈথিলী পন্ডিতদের) একছত্র আধিপত্য অব্যাহত থাকে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*সেহেতু সার্বভৌম মনে মনে স্থির করলেন যে কোন গ্রন্থ বা টীকি নিয়ে যেতেই যখন পারবেন না তখন সমস্ত প্রাচীন ন্যায়শাস্ত্রের গ্রন্থ এবং টীকাগুলি তিনি কন্ঠস্থ করে ফেলবেন কারণ মানুষের মস্তিষ্কের উপর তো আর কোন বাধা নিষেধ আরোপ করা চলে না।দিনের পর দিন চলতে থাকে এই অধ্যবসায় এবং যার ফলে তিনি তাঁর মিথিলায় থাকা কালে এইসব সুদুষ্কর দুষ্প্রাপ্য সুপ্রাচীন গ্রন্থগুলি সব কন্ঠস্থ করে ফেলেন এবং তাঁর মনোবাসনা ছিল যে বঙ্গদেশে ফিরে গিয়ে তিনি ন্যায়শাস্ত্রের অধ্যাপনা করবেন।এইরকম মানসিকতার বশবর্তী হয়ে তিনি এই দুঃসাধ্য অভাবনীয় অচিন্ত্যনীয় কাজ সম্পূর্ণ করেন।তারপরে নবদ্বীপে ফিরে এসে স্মরণ মননের মাধ্যমে সেই সব গ্রন্থ পুনঃ রচনা করেন।এইটি যে কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব তা ভাবা যায় না কিন্তু এক হিসাবে তিনি তো আর মানুষ ছিলেন না, ভগবানের অসীম কেপা ভিন্ন কোনমতেই সম্ভব নহে।এই ভাবে সার্বভৌমের কৃপায় বঙ্গদেশে ন্যায়শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জনের দ্বার উন্মুক্ত হয়। এই হচ্ছে সার্বভৌম পন্ডিতের জীবনের এক অত্যাশ্চর্য্য বিশেষত্ব।*
*🌺"আত্মারামশ্চ মুনয়ো" নামক এই ভাগবদীয় শ্লোকটি যা ৭৩ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছেন বৈষ্ণব জগতের নিকট এক বিশেষ মূল্য আছেন। এজন্য এই সুকঠিন শ্লোকটির কিছু ব্যাখ্যা এবং শব্দার্থ দেওয়া হল।"আত্মারাম" আত্মস্বরূপ জ্ঞান হেতু-- সদাসর্বদা পরমানন্দে মগ্ন-- সন্তুষ্ট চিত্ত-- আত্মাতে যাঁর আরাম এই জাতীয় ভাবার্থ।"নির্গ্রন্থা" শব্দের ব্যাখ্যা করে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী মহাশয় বলেছেন--নির্গ্রন্থা শব্দে বলে অবিদ্যা গ্রন্থহীন--বিধি নিষেধ বেদ শাস্ত্র জ্ঞানাদি বিহীন-- মুর্খ নীচ ম্লেচ্ছ আদি শাস্ত্র রিক্তগণ-- ধনসঞ্চয়ী নির্গ্রন্থ আর যে নির্ধন।"ঊরুক্রমে"=শ্রীভগবানে। (বৃহৎ যাঁর ক্রম)।। "ইত্থম্ভূত"=এবংভূত--ঈদৃশ--চরিতামৃত বলছেন, ইত্থম্ভূত গুণ শব্দের অর্থ পূর্ণানন্দময় যাঁর আগে ব্রহ্মানন্দ তৃণপ্রায় হয়।*
*🍁সেহেতু মোটামুটি ভাবার্থ=আত্মারাম অর্থ্যাৎ যাঁরা সদাসর্বদা পরমানন্দে মগ্ন অর্থ্যাৎ যাঁদের অবিদ্যা গ্রন্থি ছিন্ন হয়েছে সেই সকল মুনিগণ শ্রীভগবানে অহৈতুকী ভক্তি করে থাকেন।শ্রীহরির এমনই গুণ বা মহিমা। সার্বভৌম পন্ডিত এই শ্লোকটির নয়টি ব্যাখ্যা করেছিলেন কিন্তু মহাপ্রভু তার কোন আশ্রয় না নিয়েই একষট্টি প্রকার ব্যাখ্যা করেছিলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
