✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৩১. শ্রাদ্ধে বৈষ্ণব ভোজন 🏵️ বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob131.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩২. বর্ণ---বিভাগ 🏵️ বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob132.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩২)গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাস*
*💧⭐বর্ণ---বিভাগ⭐💧*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏বৈষ্ণব দীক্ষা-প্রভাবে বৈষ্ণব ত্রিজন্ম লাভ করেন। কারণ, দীক্ষাতেই দ্বিজাতির জ্ঞান কান্ডের পরিসমাপ্তি। মনু বলেছেন=*
*"মাতুরগ্রেহধিজননং দ্বিতীয়ং মৌঞ্জি-বন্ধনে।*
*তৃতীয়ং যজ্ঞ-দীক্ষায়াং দ্বিজস্য শ্রুতি চোদনাৎ।।"*
*🍀দ্বিজাতির প্রথম জন্ম মাতৃগর্ভে, পরে শ্রুতি বিধান অনুসারে মৌঞ্জীবন্ধন(শরতৃণ,এই ঘাসে রজ্জু প্রস্তুত হয় এবং উপনয়নও বলা হয়।) চিহ্নাত্মক উপনয়ন সংস্কারে দ্বিতীয় জন্ম। অতঃপর যজ্ঞদীক্ষায় অর্থ্যাৎ জ্যোতিষ্টোমাদিযজ্ঞ (সূর্য্য-চন্দ্রাদির স্তুতি করে)বা শব্দ বিষ্ণুকে বুঝায়,অতএব বিষ্ণু-দীক্ষায় তৃতীয় জন্ম লাভ হয় এবং শ্রুতিজ্ঞানের পরিসমাপ্তি হয়।অতএব "বৈষ্ণব" এই নামে বৈষ্ণবের শূদ্রত্বাদি খন্ডিত হয়ে তুরীয় (চতুর্থ বা চতুর্থাংশের পূরণ) বর্ণত্ব অভিব্যঞ্জিত(প্রকাশিত) হয়ে পড়ে। সুতরাং শাস্ত্র অনুসারে বৈষ্ণবের বিপ্রবর্ণ অভ্রান্ত সিদ্ধান্ত বলে স্বীকার করতে হবে।অনেকে বৈষ্ণব জাতির মধ্যে নানা বর্ণের মিশ্রণ দেখে নাসিকা কুঞ্চিত করে বলেন, বৈষ্ণব বর্ণসঙ্কর এবং ওনারা বর্ণাশ্রম ধর্ম মানেন না। সত্ত্ব,রজঃ ও তমোগুণের তারতম্য অনুসারে ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ্য ও শূদ্র চারটি বর্ণে বিভক্ত হয়েছে। এই বর্ণবিভাগের পর হতেই ভারতের সনাতন ধর্ম বর্ণাশ্রম নামে অভিহিত হয়।তারপর এই চারটিবর্ণ অনুলোম-প্রতিলোম (উচ্চবর্ণের সঙ্গে নিম্নবর্ণের সঙ্গে) ভাবে মিলিত হওয়াই বর্ণান্তর্গত জাতির সৃষ্টি হয়। এই সব জাতির অধিকাংশই দ্বিবর্ণ-সম্ভূত অর্থ্যাৎ আধুনিক কালের ব্রাহ্মণাদি সকল বর্ণই মিশ্রবর্ণ।এটি অস্বীকার করবার উপায় নাই।এঁনাদের গোত্র প্রবরাদি আলোচনা করলেই এই বাক্যের সত্যতা সহজে উপলব্ধ হবে।তারমধ্যে কতকগুলি অনুলোমজ আর কতকগুলি প্রতিলোমজ এইমাত্র প্রভেদ।অনুলোমে অর্থাৎ উচ্চবর্ণের পুরুষ, নিম্নবর্ণের স্ত্রী-সংযোগে পিতৃ-সবর্ণ হয় এবং প্রতিলোমে অর্থ্যাৎ উচ্চবর্ণা স্ত্রী ও নিম্নবর্ণের পুরুষ-সংযোগে বর্ণসঙ্কর হয়ে থাকে। নারদ সংহিতায় পাওয়া যায় দেখুন=*
*"আনুলোম্যেন বর্ণানাং যজ্জন্ম স বিধিঃ স্মৃতঃ।*
*প্রাতিলোম্যেন যজ্জন্ম স জ্ঞেয়ো বর্ণসঙ্করঃ।।"*
*🌻আবার শাস্ত্র আরও বলেন=*
*"মাতা ভস্ত্রা পিতুঃ পুত্রো যেন জাতঃ স এব সঃ।"*
*(বিষ্ণুপুরাণ)*
*🌺অর্থ্যাৎ মাতা যে জাতীয়া হোক না কেন,মাতা ভস্ত্রার (মসকের, এখানে মাতৃ গর্ভকে বোঝান হয়েছে ) স্বরূপ কেবল গর্ভে ধারণ করেন মাত্র। সুতরাং পুত্র মাতার পুত্র হবে না পিতারই পুত্র এবং পিতারই বর্ণ প্রাপ্ত হবেন। ভগবান রামচন্দ্রের কুলগুরু বশিষ্ঠদেব মিত্রাবরুণের ঔরসে স্বর্গ-পতিতা উর্বশীর গর্ভজাত হয়েও ব্রাহ্মণ। মহর্ষি বেদব্যাস অনূঢ়া(কুমারী) কন্যার গর্ভে বৈধজাত না হয়েও ব্রাহ্মণ, মহর্ষি শক্ত্রির ঔরসে শ্বপাক(চন্ডাল)কন্যার গর্ভে জন্ম নিয়েও উৎকৃষ্ট ব্রাহ্মণ।*
*🌹আবার এ কালেও বঙ্গদেশের বহু ব্রাহ্মণ সে দিন পর্য্যন্ত "ভরার মেয়ে" (নৌকা করে আনীতা ইতর জাতীয়া কন্যা) বিয়ে করতেন।ভরার মেয়েরা কার কন্যা কোন জাতীয়া তা কেউ জানতেন না।একজন খুড়া বা মামা সেজে সেই কন্যাদেরকে ব্রাহ্মণের সঙ্গে বিয়ে দিতেন। সেই বিয়েজাত সন্তানেরা পিতারই জাতি ও উপাধি লাভে অধিকারী হতেন।এইরকম দৃষ্টান্তের অভাব নাই।*
*🍀অতএব আমাদের আলোচ্য সদাচার-সম্পন্ন বৈদিক-গৃহী-বৈষ্ণবগণের অধিকাংশ বীজপুরুষ বা পূর্বপুরুষ দ্বিজাতি কুলোদ্ভূত বলে তাঁদের বংশধরগণ বর্ণসঙ্কর না হয়ে বিপ্রবর্ণের অন্তর্গত হওয়ায় বিচার-সঙ্গত ও শাস্ত্র-সম্মত। আবার বৈষ্ণবী দীক্ষা প্রভাবে "বৈষ্ণব" আখ্যা হলেও তাঁর যখন বিপ্রসাম্য সিদ্ধ হয়,তখন তাঁর বংশধরগণ কদাচ (কখনও) বর্ণসঙ্কর হতে পারে না। "ব্যভিচারেণ জায়ন্তে বর্ণসঙ্করাঃ। আচার-ভ্রষ্টতা বা স্ত্রী-পুরুষের অবৈধ সম্মিলনে বা প্রতিলোম-সংসর্গ ফলে যার জন্ম তাকেই বর্ণসঙ্কর বলে। বর্ণসঙ্করগণ শূদ্রধর্মী। যথা=*
*"শৌচাশৌচং প্রকুর্বীরন্ শূদ্রবৎ বর্ণ-সঙ্করাঃ।"*
*🌻কিন্তু আমাদের আলোচ্য বৈদিক গৃহী বৈষ্ণবগণের মধ্যে স্বধর্মত্যাগ, অগম্যাগমন(যে স্ত্রীকে সম্ভোগ করা অবৈধ অর্থ্যাৎ নীতি ও ধর্ম বিরুদ্ধ ) [নিজ স্ত্রী ভিন্ন অন্য স্ত্রীসঙ্গই অগম্যা] প্রতিলোম-সংসর্গ না থাকায় এঁনারা বর্ণসঙ্কর বলে গণ্য হতে পারেন না।অবশ্য মিশ্রণ-দোষ যে নাই বা থাকতে পারে না, একথা বলছি না,এ দোষ অল্প-বিস্তর সকল সমাজেই দেখা যায়? জাতি গঠনের সময়ে মিশ্রণ-দোষের স্বীকার অবশ্যই স্বীকার করতে হয়।তবে এখন সে দোষ না থাকতে পারে।সমাজ-বন্ধনের পর হতেই সে অবাধ মিশ্রণের গতিরোধ হয়ে গেছে। তারপর বহু শতাব্দি গত হয়ে গিয়েছে বলে সে সব দোষ এখন বিস্মৃতির অন্ধকারে ঢেকে গেছে।* *তবে এই আলোচ্য সমাজ একেবারে সম্পূর্ণ নির্দোষ, সমাজগত বা জাতিগত কোন দোষই নাই, একথা বললে বাস্তবিকই সত্যের অপলাপ করা হয়। কিন্তু এইরকম দোষের হাত হতে বরেণ্য ব্রাহ্মণ সমাজও মুক্ত হতে পারেন নাই।যাঁরা কুলীন-সমাজের কুলগ্রন্থের আলোচনা করেছেন,তাঁরাই এর সত্যতা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। কত "কু" সমাজে "লীন" হয়ে কুলীন নামের সার্থকতা করেছে। কুলীন সমাজে যে মেল বন্ধন, সেটি= "দোষান্ মেলয়তি ইতি মেলঃ"। এরকম নানা দোষের মিলনে কুলাচার্য্য দেবীবর ৩৬টি মেল বা শ্রেণী বিভক্ত করেন।এইসব মেলের বা শ্রেণীর কুলগত পঞ্চবিংশিত(২৫) দোষ।যথা====*
*"কন্যা পুংসো রভাবেন রন্ডিকাগমনাদপি।*
*জীবতঃ পিন্ডদানেন স্বজনাক্ষিপ্ত এব চ।।*
*ত্যাজ্যপুত্র ভবেদ্দোষ যথা কন্যা-বহির্গমাৎ।*
*অগ্নিদগ্ধা কৃতোদ্বাহে বলাৎকার স্তথৈব চ।।*
*পোষ্যপুত্রো ব্রহ্মহত্যা জন্মান্ধ কুষ্ঠরোগকঃ।*
*খঞ্জেনাপি বিপর্য্যায় নীচোদ্বাহে চ নাস্তিকে।।*
*অন্যপূর্বা বয়োজ্যেষ্ঠা মাতৃনামা সগোত্রিকা।*
*দুষ্ট-কন্যাঙ্গহীনা চ কানা কুব্জা চ বাগ্ জড়া।।*
*পঞ্চবিংশতি দোষাশ্চ কুলহীন করা স্মৃতাঃ।।"(মেলবিধি)*
*🌹অর্থ্যাৎ পুত্র কন্যার অভাব,রন্ডিকাগমন,জীবীত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে পিন্ডদান,পিতৃপক্ষ পাঁচ পুরুষের মধ্যে বিয়ে (স্বজনাপেক্ষ), ত্যাজ্যপুত্র,কন্যাবহির্গমন,অগ্নিদগ্ধা (পিতা-মাতা-ভ্রাতৃশূন্যা কন্যা)বিবাহ, বলাৎকার,পোষ্যপুত্র,(স্বগোত্র পরগোত্র বা পোষ্যপুত্রঃ কুলং দহেৎ), ব্রহ্মহত্যা,জন্মান্ধ, কুষ্টী,খঞ্জ,বিপর্য্যায়, নীচ কুলে বিয়ে, নাস্তিক,অন্যপূর্বা(যে কন্যা বাগদানাদি দ্বারা পূর্বে অন্যদীয়া হয়েছিল, অর্থ্যাৎ বাগদত্তা,কোন কারণে যদি সেই বর ঐ কন্যার পতি না হয়, তবে তাকে অন্যপূর্বা বলে।) বাগ্ দানাদির পর যদি বরের মৃত্যু হয়, যে কন্যাকে নিতে অস্বীকার করে তাকে অন্যপূর্বা বলে। অন্যপূর্বা সাত প্রকার। যথা=বাকদত্তা, মনোদত্তা, কৃত-কৌতক-মঙ্গলা, উদক-স্পর্শিতা,পাণিগৃহীতিকা,অগ্নিপরিগতা (যে অগ্নি প্রদক্ষিণ করেছে অথচ বিয়ে সম্পূর্ণ হয় নি) ও পুনর্ভূ-প্রসবা। বয়োজ্যেষ্ঠা,মাতৃনামা, সগোত্রা, দুষ্টকন্যা, অঙ্গহীনা,কানা, কুব্জা, বাগজড়া,কন্যার পাণিগ্রহণ কুলগত দোষ।*
*আজ এই পর্য্যন্ত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৩৩. ব্রাহ্মণের আচরণ 🏵️ বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob133.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
