✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৯১. বর্ণ------প্রকরণ 🏵️ বৈষ্ণব শূদ্র নহে 📖 বৈষ্ণব বিবৃতি🙏শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob91.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯২. বর্ণ-----প্রকরণ🌻বৈষ্ণবের----দ্বিজত্ব 📖 বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob92.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯২)গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাস*
*💧💧বর্ণ-----প্রকরণ💧💧*
*🌻বৈষ্ণবের----দ্বিজত্ব🌻*
****************************
*🌹এই শ্লোকের টীকায় শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী লিখেছেন-- "নৃণাং সর্বেবামেব দ্বিজত্বং বিপ্রতা", অর্থ্যাৎ রসের বিধান অনুসারে যেমন কাঁসাও খনিজাত সোনার মতো বর্ণে,গুণে ও মূল্যে তুল্যতা প্রাপ্ত হয়, সেইরকম মানুষমাত্রেই যথা-বিধানে বৈষ্ণবীদীক্ষা গ্রহণ করলে দ্বিজত্ব অর্থ্যাৎ বিপ্রতা প্রাপ্ত হন।এখানে "বিপ্রতা প্রাপ্ত হন" বলায় বুঝতে হবে, বৈষ্ণবমাত্রেই তখন বেদপাঠে অধিকারী হতে পারেন,তা স্পষ্ট প্রমাণিত হল।পুনশ্চ কাশীখন্ডে লিখিত আছে=*
*"অন্ত্যজা অপি তদ্রাষ্ট্রে শঙ্খচক্রাঙ্কধারিণঃ।*
*সংপ্রাপ্য বৈষ্ণবীং দীক্ষাং দীক্ষিতা ইব সংভুব"।।*
*🍀অর্থ্যাৎ ময়ূরধ্বজ প্রদেশে অন্ত্যজ জাতিও বৈষ্ণবীদীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে যাজ্ঞিকের মতো শোভা পেয়ে থাকেন।*
*🌺বৈষ্ণবের এই বিপ্র-তুল্য ব্যবহার দর্শন করে অনেক কর্মজড় ব্রাহ্মণাভিমানী স্মার্তজন বৈষ্ণবকে ভ্রষ্টাচারী বলে উপহাস ও নিন্দা করে থাকেন।আরো বলে থাকেন, বৈষ্ণব বর্ণাশ্রম ধর্ম মানে না। কিন্তু তাঁদের জানা উচিত,বৈষ্ণবধর্ম বেদ-প্রণিহিত ধর্ম, সুতরাং বৈষ্ণবজন বেদানুসারেই বর্ণাশ্রম ধর্ম পালন করে থাকেন, তাঁরা বেদ-বিরুদ্ধ কপোল-কল্পিত কোন বিধি-নিষেধের অনুবর্তী হন না।অতএব বৈষ্ণবের বিপ্রতুল্যতা বেদ-মূলক।বেদ কোন বর্ণবিশেষকে উল্লেখ না করে দীক্ষিত মাত্রকে ব্রাহ্মণ বলেছেন।যথা শতপথ ব্রাহ্মণে=*
*"তদ্বৈ বসন্ত এবাভ্যারভেত বসন্তো বৈ ব্রাহ্মণস্যর্তু য উ বৈ কশ্চ যজতে ব্রাহ্মণীভূয়ৈব যজতে।" ১৩ প্রপা। অঃ ৪|১|১।*
*🌹অর্থ্যাৎ বসন্তেই আরম্ভ করা আবশ্যক।বসন্তই ব্রাহ্মণের ঋতু,যে কেউ যজন করে থাকেন তিনিই ব্রাহ্মণ হয়ে যজন করেন।*
*💧বৈষ্ণবের দ্বিজত্ব, বেদ-সিদ্ধ।*
*🍀ফাল্গুন চৈত্র মাসই বসন্ত ঋতু।এই দুই মাসই দীক্ষা গ্রহণের প্রশস্ত সময়।যথা হরিভক্তি বিলাসে ২য়, বিঃধৃত=*
*"ফাল্গুনে সর্ববশ্যত্ব মাচার্য্যোঃপরিকীর্তিতঃ।* *(আগমে)*
*মন্ত্রারম্ভস্তু চৈত্রে স্যাৎ সমস্ত পুরুষার্থদঃ"। (গৌতমীয়ে।*)
*🌻ফলে বসন্তকালই বৈষ্ণবীদীক্ষা গ্রহণ করে ভগবদ্ভক্তজন আরম্ভ করতে হয়,ইহাই বৈদিক বিধান।বেদ এইরকম দীক্ষিত ব্যক্তিকে ব্রাহ্মণ বলে নির্দেশ করেছেন। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে স্পষ্ট লিখিত আছে।*
*"যথৈতদ্ ব্রাহ্মণস্য দীক্ষিতস্য ব্রাহ্মণো দীক্ষিষ্টেতি।*
*দীক্ষামাবেদয়ন্ত্যেব মেবৈতৎ ক্ষত্রিয়স্য"।। ৩|৪ অঃ।।*
*🌹অর্থ্যাৎ যে প্রকার ব্রাহ্মণের দীক্ষা সময় "আমি অমুক ব্রাহ্মণ দীক্ষা,নিচ্ছি" বলে আবেদন করতে হয়, সেইরকম ক্ষত্রিয়কেও "আমি অমুক ব্রাহ্মণ" বলে আবেদন করতে হয়।*
*🍀এই শ্রুতির ভাষ্যে আপস্তম্ভ সূত্রের যে বচন উদ্ধৃত হয়েছে,তাতে উক্ত শ্রুতির মর্ম আরও স্পষ্টতর হয়েছে। যথা=*
*"ব্রাহ্মণো বা এষ জায়তে যো দীক্ষতে তস্মাদ্রাজন্য বৈশ্যৌ অপি ব্রাহ্মণ ইত্যেবাবেদয়তি "।।*
*🌷অর্থ্যাৎ যে দীক্ষা গ্রহণ করে,সে ব্রাহ্মণ হয়ে যায়। সুতরাং ক্ষত্রিয় বৈশ্যকেও দীক্ষা গ্রহণের পরে "ব্রাহ্মণ" বলে আবেদন করতে হবে।*
*🌼এইসব বৈদিক বচনকে আশ্রয় করেই পুরাণসমূহ বৈষ্ণবকে "দ্বিজাধিক" বলে ঘোষণা করেছেন। যথা নারদীয়ে=*
*" শ্বপচোহপি মহীপাল বিষ্ণোর্ভক্তো দ্বিজাধিকঃ।"*
*🌺অর্থ্যাৎ হে রাজন্!বিষ্ণুভক্তিহীন ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ্য অপেক্ষা শ্বপচ কুলোৎপন্ন বিষ্ণুভক্ত অর্থ্যাৎ বৈষ্ণবের মহিমা ও গৌরব অনেক বেশী।*
*🍀এই জন্যই শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী শ্রীহরিভক্তি বিলাসের টীকায় লিখেছেন=*
*"যতঃ শূদ্রেষ্বন্ত্যজেষ্বপি যে বৈষ্ণবা স্তে শূদ্রাদয়ো ন কিলোচ্যন্তে"।*
*🌷অর্থ্যাৎ শূদ্র কি অন্ত্যজ কুলে জন্মগ্রহণ করলেও বিষ্ণদীক্ষা গ্রহণের পর বৈষ্ণব-সদাচার পালন দ্বারা যদি "বৈষ্ণব" সংজ্ঞা লাভ হয়, তবে আর তাকে শূদ্রাদি নীচজাতি বলা যায় না। কিন্তু ভগবদ-দীক্ষা প্রভাবে তাঁদের বিপ্র-সাম্য সিদ্ধ হয়।*
*"কিঞ্চ ভগবদ্দীক্ষা প্রভাবেন শূদ্রাদীনামপি বিপ্র-সাম্যং সিদ্ধমেব।"*
*🍁ফলে যে ব্যক্তি দীক্ষা গ্রহণ করেন তিনিই বিপ্রের মতো শ্রীভগবৎ-যজন যোগ্যতা লাভ করে থাকেন।*
*🌻এই বৈদিক সিদ্ধান্ত অনুসারেই শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী বলেছেন=*
*"অতএব বিপ্রৈঃ সহ বৈষ্ণবানামেকত্রৈব গণনা"।*
*🍀অর্থ্যাৎ বৈষ্ণবকে বিপ্রের সঙ্গে একত্র গণনা করবে। যেহেতু হরিভক্তি-সুধোদয়ে শ্রীভগবদ্ ব্রহ্মসংবাদে উক্ত হয়েছে =*
*"তীর্থান্যশ্বত্থতরবো গাবো বিপ্রা স্তথাদ্বয়ং।*
*মদ্ভক্তাশ্চেতিবিজ্ঞেয়াঃ পঞ্চৈতে তনবো মম "।।*
*🌷মানে=তীর্থ,অশ্বত্থতরু,বৈষ্ণব এই পাঁচটি আমার তনু বলে জানবে। শ্রীগোস্বামীপাদ শ্রীমদ্ভাগবতাদি হতে আরও বহু প্রমাণ উদ্ধৃত করে মন্তব্য প্রকাশ করেছেন যে=*
*"ইত্থং বৈষ্ণবানাং ব্রাহ্মণৈঃ সহ সাম্যমেব সিদ্ধতি।*
*কিঞ্চ,বিপ্রাদ্দিষড়্ গুণযুতাদিত্যাদি বচনৈরবৈষ্ণব ব্রাহ্মণেভ্যো নীচজাতি জাতানামপি বৈষ্ণবানাং শ্রৈষ্ঠ্যং নির্দিন্যতেতরাং"।*
*☘অতএব পূর্বোক্ত শ্রৌত প্রমাণ ও তদনুগত পৌরাণিক বচন অনুসারে বুঝা যাচ্ছে যে, জাতি পূজ্য নহে, গুণই পূজ্য।কিন্তু গুণ ও কর্ম অনুসারেই বর্ণ নির্ণয় হয়ে থাকে। যথা=*
*"ন জাতি পূজ্যতে রাজন্ গুণাঃ কল্যাণকারকাঃ।*
*চন্ডালমপি বৃত্তস্থং তং দেবা ব্রাহ্মণং বিদুঃ"।।*
*(বৃদ্ধ গৌতম সংহিতা ২১ অঃ)*
*🍁অর্থ্যাৎ হে রাজন!জাতি পূজ্য নহে,গুণই কল্যাণকার।চন্ডালও যদি বৃত্তস্থ হয় অর্থ্যাৎ যথাবিধি দীক্ষা গ্রহণ করে সদাচার পরায়ণ হয়,দেবতাগণ তাকে ব্রাহ্মণ বলে জ্ঞাত হন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯৩. বৈষ্ণবাচার্য্যগণের অভিমত 📖 বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob93.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
