শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৫৯. শ্রীজগন্নাথ-বলরাম-বিগ্রহ 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori59.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
      *শ্রীজগন্নাথ-বলরাম-বিগ্রহ*
     ***********🙏************
*🙏শ্রীধাম পুরীতে শ্রীজগন্নাথদেবের যে বিগ্রহ আছেন এবং যা সারা ভারতবাসীর কাছে অতি পবিত্র স্থান।সেই শ্রীমন্দিরে বিগ্রহের এই জাতীয় অবয়ব সাধারণের মনে স্বতঃই (নিজে থেকে )প্রশ্নের সৃষ্টি করে যে ভগবানের বিগ্রহ কেন এইরকম ভাবে প্রকাশ পেল।এই প্রসঙ্গে মতান্তর থাকলেও সর্বতোভাবে গ্রহণযোগ্য বিশ্লেষণ হচ্ছে এইরকম।*
*🙏শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা লীলার সময় একদা মহিষীগণ একত্রে সমবেত হয়ে নানারকম কথোপকথন করছিলেন এই সময় একজন বললেন "ভাই, ঠাকুর বৃন্দাবন লীলায় না জানি কতই আনন্দ উপভোগ করেছেন।না হলে দ্বারকায় এত ঐশ্বর্য‍্যের মধ্যে থেকেও তিনি কেন বৃন্দাবনবাসী গোপীগণের কথা ভুলে যেতে পারেন না।আমরা এত মহিষীগগণের এত পরিচর্য‍্যার মধ্যে থেকেও নিদ্রাকালে "রাধে-রাধে" বলে কেঁদে উঠেন। তখন সমবেত অন‍্যান‍্য মহিষীগণও সেই কথায় সায় দিয়ে বললেন--,"হ‍্যাঁ ভাই ঠিক বলেছ।"*
*🍀এর কারণ নির্দ্ধারণের জন্য সকলে মিলে নানারকম আলোচনা করতে লাগলেন।তখন শ্রীকৃষ্ণের পত্নী সত‍্যভামা বললেন--, "ঠাকুরের বৃন্দাবন অবস্থানকালে সঙ্গে ছিলেন এবং ঠাকুরের সব লীলা বৃত্তান্ত অবগত আছেন এমন কেউ দ্বারকায় আছেন কিনা তা অনুসন্ধান করা দরকার।তখন অন‍্য মহিষী রুক্মিণী দেবী বলিলেন একমাত্র শ্বশ্রুমাতা রোহিণী দেবী ছাড়া এমন আর কেউই নাই এবং আমরা সকলে মিলিতভাবে যদি তাঁর কাছে এই বৃন্দাবন লীলার বিশদ বিবরণ শুনতে চাই তাহলে হয়তো আমাদের অভিলাষ পূর্ণ হতে পারে। এইরকম সংলাপের পর সকল মহিষীগণ মিলিতভাবে রোহিণী দেবীর কাছে আগমন করে বৃন্দাবন লীলাকথা শুনবার জন্য তাঁকে অনুরোধ করতে লাগলেন।*
*🌹রোহিণী দেবী বললেন, "মা সকল আমি মাতা হয়ে কিভাবে পুত্রের এই সুমধুর প্রেম কাহিনী বর্ণনা করি?বলরাম ও কৃষ্ণের এই কথা কর্ণগোচর হলে আমার লজ্জার আর সীমা থাকবে না।তোমরা যদি এমন কোন নিভৃত স্থান নির্দেশ করতে পারো যেখানে যেখানে অন‍্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না, তাহলে আমি তা বর্ণনা করতে পারি।তখন মহিষীগণ বললেন, "মা, আমাদের এই অন্তঃপুরে বাইরের লোক কি ভাবে আসবে? প্রত‍্যুত্তরে রোহিণী দেবী বললেন--,"মা সকল! বৃন্দাবনলীলা কথার এমনই আকর্ষণী শক্তি যে যেখানেই বৃন্দাবন লীলাকথা হবে আমার রাম-কৃষ্ণকে সেস্থানে আসতেই হবে।তখন সকলে মিলিত ভাবে সুভদ্রাকে দ্বারী হিসাবে নিযুক্ত করলেন যাতে বাইরের কেউ অন্দরমহলে প্রবেশ করতে না পারেন।অগত‍্যা সুভদ্রা দেবী দ্বারী হিসাবে দ্বার রক্ষার কাজে *ব‍্যাপৃত বা নিযুক্ত রইলেন।এইভাবে রোহিণীদেবী শ্রীকৃষ্ণের মহিষীগণের কাছে ধীরে ধীরে ব্রজলীলার সুমধুর কাহিনী সব বর্ণনা করতে লাগলেন।বৃন্দাবন লীলা বর্ণনা কালে রোহিণী দেবী এবং মহিষীগণ এমনই তন্ময় বা বিভোর হয়ে পড়লেন যে তাঁদের বাহ‍্যস্মৃতি লোপ পেল এবং তাঁরা ভাবাবেশে মোহিত হয়ে পড়লেন।ক্রমে রোহিণী দেবীর কন্ঠস্বর উচ্চ হত উচ্চতর হয়ে অন্তঃপুর প্লাবিত করে দ্বারদেশ পর্য‍্যন্ত পৌঁছাল এবং সেই অমৃতময় লীলা তরঙ্গে সুভদ্রা দেবীরও দেহস্মৃতি লোপ পেতে লাগল।*
*🪷এই সময় বলরাম এবং শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকায় রাজসভায় চঞ্চল হয়ে উঠলেন এবং বৃন্দাবন লীলার আকর্ষণী শক্তিতে আকৃষ্ট হয়ে রাজসভা হতে অন্তঃপুরের দ্বারদেশে এসে উপস্থিত হলেন।তখন সুভদ্রা দেবীর আর দেহস্মৃতি নেই তিনি ভাবে বিহ্বলা এবং প্রেমসাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন।সুভদ্রার এই ভাব-বিহ্বলা আনন্দ ঘন মূর্তি নিরীক্ষণ করে দুইভাই কৌতূহলাবিষ্ট(অভিনব বিষয় শুনতে বা জানতে মানসিক চঞ্চল) হয়ে এর কারণ অনুসন্ধানে রত হলেন।এই সময়ে হঠাৎ রোহিণীদেবীর শ্রীমুখ নিঃসৃত আনন্দময়ী বৃন্দাবন লীলা কাহিনী তাঁদের (রাম-কৃষ্ণের) কর্ণগোচর হল এবং তাঁরা তখন সুভদ্রাদেবীর উভয় পার্শ্বে দাঁড়িয়ে ভাবসাগরে ডুবে গেলেন। এবং নীরব নিশ্চলভাবে বৃন্দাবন লীলাকথা শুনতে লাগলেন।*
*🌺গোপীপ্রেম এবং রাধাপ্রেমের কথা শুনতে শুনতে তাঁদেরও বাহ‍্যস্মৃতি লোপ পেতে লাগল। তাঁরাও আনন্দ লহরীতে ডুবে গেলেন।এমত অবস্থায় প্রেমের প্রবাহে রাম-কৃষ্ণ ও সুভদ্রাদেবীর হস্তপদ সব সঙ্কুচিত এবং নয়নদ্বয় বিস্ফারিত(বিকম্পিত) হতে লাগল এবং শ্রীকৃষ্ণের বক্ষস্থিত সুদর্শন চক্রও প্রেমে বিগলিত হয়ে লম্বিত আকার ধারণ করলেন। এমনই এক সময়ে দেবর্ষি নারদ শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করবার জন্য দ্বারকায় এসে উপস্থিত হলেন এবং রাজসভায় রামকৃষ্ণকে দেখতে না পেয়ে উদ্ধবকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন যে কিছুক্ষণ পূর্বে তাঁরা উভয়ে অন্তঃপুর অভিমুখে গিয়েছেন।নারদ তখন অন্তঃপুর অভিমুখে যাত্রা করলেন এবং অন্তঃপুরের দ্বারদেশে উপনীত হয়ে দেখলেন যে ঃ--*
*🍀সুভদ্রাদেবীর ডানদিকে বলরাম, মধ‍্যস্থলে সুভদ্রাদেবী,বাম ভাগে কৃষ্ণচন্দ্র এবং তদ্ বামে সুদর্শন চক্র। এই চার মূর্তি স্থির ভাবে ভাববিহ্বল পরিবেশে পাশাপাশি অবস্থান করছেন।সকলেরই নয়নে অশ্রুধারা হাত-পা সব সঙ্কুচিত (কোঁকড়ান), নেত্রদ্বয় বিস্ফারিত (বিকম্পিত) এবং সুদর্শন চক্র লম্বিত ভাবে অবস্থিত। প্রেমে বিগলিত,ভাবসাগরে ডুবে আছেন, এই চতুর্ধা মূর্তি দর্শনে দেবর্ষি নারদ চরম অবাক হয়ে খানিক দূরে দাঁড়িয়ে উঁনাদের পূর্ব অবস্থা পাওয়ার সময় পর্যন্ত প্রতীক্ষা করতে লাগলেন। অবশেষে অন্তঃপুরের মধ্যে রোহিণীদেবীর বৃন্দাবন লীলাকথা এবং রাধাপ্রেম ও গোপীপ্রেমের বিশুদ্ধ কাহিনী যখন সমাপ্তি হল তখন কৃষ্ণচন্দ্র ঘুম থেকে উঠার মতো চমকিত ভাবে ভাব সম্বরণ করে পূর্বাবস্থা পেলেন।ক্রমে বলরাম সুভদ্রা ও সুদর্শনেরও ধীরে ধীরে তাঁদের আগের অবস্থায় ফিরে এলেন।প্রেমাবেশে হাত-পা ও শরীরের সব গ্রন্থিগুলি যে কিরকম বিগলিত আকার ধারণ করতে পারে তার কিঞ্চিৎ পরিচয় আমরা মহাপ্রভুর গম্ভীরা লীলায় দেখতে পাই।প্রেমাবেশে তিনি যখন যমুনা ভ্রমে নীলাচলে ঝাঁপ দিয়ে ছিলেন এবং পরে যখন জেলের জালে তিনি ধরা পড়েন তখনও তাঁর হাত-পা ও শরীরের সব গ্রন্থিগুলি সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। সুতরাং রাধাপ্রেমের যে কি সম্মোহোনী শক্তি আছে তা আশাকরি ভক্ত পাঠকগণের কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হবে না।*
*🔥যাইহোক,কৃষ্ণচন্দ্র তখন সহসা দেবর্ষি নারদকে সেখানে দেখে একটু অবাক হয়েই বললেন "দেবর্ষি কতক্ষণ আগমন হয়েছে,সব কুশল মঙ্গল তো? নারদ তখন বললেন, প্রভু আমার বিষয় পরে আলোচনা করব, আগে আপনি আমার কৌতূহলের নিবৃত্তি করুন। কৃষ্ণ ভগবান তখন বললেন--, নারদ তোমার মনে কি কৌতূহল জন্মেছে তা আমাকে খুলে বলো। নারদ তখন অতীব বিনীতভাবে কহিলেন--, প্রভু হে!আজ এইক্ষণে তোমাদের এই যে অপূর্ব স্বর্গীয় প্রেমময় মূর্তি আমি দেখলাম এর কারণ কি? কৃষ্ণ ভগবান বললেন, "নারদ এই ত্রিজগতে তোমার অজানা কিছুই নাই তথাপি তোমার যখন কৌতূহল জন্মেছে তা শ্রবণ করো।আজ অন্তঃপুর মধ্যে মা রোহিণী দেবী, আমার মহিষীগণের কাছে রসময় বৃন্দাবন লীলাকথা, গোপীপ্রেম  ও রাধাপ্রেমের গূঢ় তত্ত্বকথা,ব‍্যাখ‍্যা করছিলেন এবং সেখানে যাতে বাইরের বা আমরা যেতে না পারি সেজন‍্য ভগিনী সুভদ্রাকে অন্তঃপুরের দ্বারী হিসাবে রেখেছিলেন। কিন্তু তুমি তো জানো,যে এই বিশুদ্ধ প্রেমের এমনই আকর্ষণী শক্তি যে যেখানেই এইসব লীলাকথা বা প্রসঙ্গ আলোচনা হয় সেখানে আমরা উপস্থিত না হয়ে থাকতে পারি না।সেজন‍্য রাজ সিংহাসনে বসেও আমরা মনে শান্তি পাচ্ছিলাম না এবং এই শোনার জন্য অন্তঃপুর অভিমুখে ধাবিত হই এবং এখানে এসে বাধা প্রাপ্ত হই।সেহেতু প্রেমের তরঙ্গে ঐসব লীলাকথা শুনতে শুনতে আমাদের ওই বিগলিত ভাবের সঞ্চার হয়েছিল এবং প্রসঙ্গের শেষে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসি। এই সব কথা শুনে নারদ পর্যন্ত নিজেকে ভাগ‍্যবান মনে করলেন এবং বৃন্দাবন লীলা ও বৃন্দাবন বাসিনীদেরকে ধন‍্য ধন‍্য করতে লাগলেন।তখন কৃষ্ণ ভগবান বললেন--,নারদ আজ আমার বড় আনন্দের দিন,তুমি তোমার ইচ্ছেমত বর প্রার্থনা করো।নারদ তখন বললেন, হে ত্রিজগৎনাথ! আপনি যদি আমার উপর এতই সদয় হলেন, তাহলে এমন বর দিন যাতে প্রেমে বিগলিত এই রসময় চতুর্ধা মূতি জগতে প্রকাশিত হয়ে বৃন্দাবন লীলাবিলাস,গোপীপ্রেম ও রাধাপ্রেমের উৎকর্ষতা ও আপনাদের এই অপরূপ স্বর্গীয় মূর্তি জীব জগতের লোকে চিরকাল উপভোগ করতে পারে এবং আপামর জনসাধারণ এর মহিমা উপলব্ধি করতে পারে।*
*🌷কৃষ্ণ ভগবান তখন দেবর্ষি নারদের এই প্রার্থনা সম্মতি হলেন এবং বললেন "নারদ আগে থেকেই আমি মহামায়ার তপস‍্যায় তুষ্ট হয়ে সর্বসাধারণকে মহাপ্রসাদ বিতরণের জন্য প্রতিশ্রুত আছি।এইছাড়া রাজা ইন্দ্রদ‍্যুম্নের আরাধনায় নীলাদ্রীতে প্রকাশ হব বলেও প্রতিশ্রুত আছি।  সুতরাং তোমার এই মনোবাসনা পূরণের জন্য আমি নীলাচলে দারুব্রহ্মরূপে এই মূর্তিতে প্রকাশিত হব। নারদ তখন আনন্দের আতিশয‍্যে ভগবানকে তাঁর প্রণতি জানিয়ে বীণা বাজাতে বাজাতে ও কৃষ্ণগুণগান করতে করতে প্রস্থান করলেন। এর ফলে অর্থ‍্যাৎ দেবর্ষি নারদের কৃপায় এবং কৃষ্ণ ভগবানের ইচ্ছায় নীলাচলে আমরা দারুময় মূর্তিতে এই চার মূর্তির বিকাশ দেখতে পায়। মূর্তির অবয়ব এবং গঠন যে কেন এই অস্বাভাবিক তার কারণ আশাকরি সকলে বুঝতে পেরেছেন।*
*🌻অন‍্যান‍্য গ্রন্থে দেখা যায় যে বিশ্বকর্মা তাঁর মনোমত শ্রীভগবানের মূর্তি নির্মাণে আবিষ্ট হয়েছিলেন এবং তাতে তিনি সম্মত হয়ে বলেছিলেন যে তাঁর এই কাজের সময় যেন কেউ তাঁর বিঘ্ন না ঘটায়।শ্রীমূর্তি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিশ্চিন্ত মনে একাকী তা প্রকাশ করবেন কিন্তু বাধাপ্রাপ্ত হওয়াতে শ্রীমূর্তির অবয়ব এইরূপে অসম্পূর্ণ থেকে যায় ইত‍্যাদি। কিন্তু তাইই যদি হয়, তাহলে সুভদ্রার উপস্থিতি কিভাবে হল?*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৫৮. নামাচার্য‍্য হরিদাসের নীলাচলে আগমন 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori58.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*নামাচার্য‍্য হরিদাসের নীলাচলে আগমন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻মহাপ্রভুর কয়েকজন অনুরাগী ভক্ত ছুটে গিয়ে হরিদাসের কাছে গেলেন, এবং সব বৃত্তান্ত বললেন কিন্তু দৈন‍্যের অবতার ঠাকুর হরিদাস কহিলেন=*
*🌷মুঞি-----নীচ-------ছার।*
*🌷মন্দির নিকট যাইতে নাহি অধিকার।।*
*🌷নিভৃতে টোটা মধ্যে যদি স্থান খানিক পাই।*
*🌷তাঁহা পড়ি রহি একা কাল গোঁয়াই।।*
*🌷জগন্নাথের সেবক মোর স্পর্শ নাহি হয়।*
*🌷তাঁহা পড়ি রহি মোর এই বাঞ্জা হয়।।*
*🍀ভক্তগণ হরিদাসের এইকথা শুনে মহাপ্রভুর কাছে তাঁর মনোবাসনা নিবেদন করলেন।তিনি তখন কাশী মিশ্র পন্ডিতকে নিভৃতে নিয়ে বললেন=*
*🌷আমার নিকটে এই পুষ্পের উদ‍্যানে।*
*🌷একখানি ঘর আছে পরম নির্জনে।।*
*🌷সেই ঘর আমাকে দেহ আছে প্রয়োজন।*
*🌷নিভৃতে বসিয়া তাঁহা করিব স্মরণ।।*
*🌻কাশী মিশ্র তখন দৈন‍্যভাবে বললেন, হে প্রভু! তোমারই তো সব, চেয়ে কেন লজ্জা দাও।আমাকে আজ্ঞা পালনকারী দাস মনে করে যখন যা আদেশ করবে তখন তাইই পূরণ করব।এইরকম ব‍্যবস্থা করে মহাপ্রভু সকল ভক্তগণকে নিজ নিজ কক্ষে পাঠিয়ে দিলেন এবং একাকী হরিদাসের কাছে চলে গেলেন। কিছুদূর অগ্রসর হবার পর তিনি দেখলেন যে হরিদাস ঠাকুর  এক নির্জন জায়গায় বসে প্রেমানন্দে বিভোর হয়ে উচ্চৈঃস্বরে নাম সংকীর্তন করছেন। পরমদয়াল মহাপ্রভুকে সামনে দেখতে পেয়ে তিনি মহাপ্রভুর শ্রীচরণতলে লুটিয়ে পড়লেন এবং দয়াময় মহাপ্রভু তৎক্ষণাৎ তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে প্রেমালিঙ্গনদানে কৃতার্থ করলেন। ভক্ত-ভগবানের অপূর্ব মিলন।দুইজনেই প্রেমাবেশে বিভোর হয়ে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করতে লাগলেন।উভয়ের শ্রীঅঙ্গ নয়ন ধারায় ভিজে যেতে লাগল এবং এই অযাচিত কৃপার নিদর্শনে ঠাকুর হরিদাস বালকের মতো উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন। এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদ কবিরাজ লিখেছেন যে=*
*🌷দুইজন প্রেমাবেশে করেন ক্রন্দন।*
*🌷প্রভু গুণে ভৃত‍্য বিকল, প্রভু ভৃত‍্য গুণে।।*
*🌹কিছুক্ষণ পরে হরিদাস ঠাকুর কিছুটা আত্মসম্বরণ করে বললেন, "হে প্রভু আমায় স্পর্শ করিও না, আমি নীচ জাতি,অস্পৃশ‍্য নরাধম পামর" ইত‍্যাদি সব নানাপ্রকার দৈন‍্যোক্তি করতে লাগলেন।পরমদয়াল গৌর ভগবান তখন ঠাকুর হরিদাসের মহিমা কীর্তন করে বললেন=*
*🌷তোমা স্পর্শী পবিত্র হইতে।*
*🌷তোমার পবিত্র ধর্ম্ম নাহিক আমাতে।।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে কর তুমি সর্ব্ব তীর্থে স্নান।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে কর তুমি যজ্ঞ তপোদান।।*
*🌷নিরন্তর কর চারি বেদ  অধ‍্যয়ন।*
*🌷দ্বিজ ন‍্যাসী হইতে তুমি পরম পাবন।।*
*🌻এই বলে মহাপ্রভু শ্রীমদ্ ভাগবদ্ হতে সংস্কৃত শ্লোক পাঠ করলেন, যথা=*
*"অহোবত শ্বপচোহতো গরীয়ান য জিহ্বাগ্রে বর্ত্ততে নাম তুভ‍্যং তেপু স্তপস্তে জুহুবুঃ সস্নুরার্য‍্যা ব্রহ্মানূচূর্ণাম্ গৃণন্তি যে তে।"*
*🍀যাঁর জিহ্বাতে সতত তোমার নাম বর্তমান, সে ব‍্যক্তি চন্ডাল হলেও পূজ‍্যতম।সেহেতু যাঁরা তোমার নাম গ্রহণ করেন,তাঁদেরকে তপস‍্যা,হোম, তীর্থস্থান সদাচার এবং সাঞ্জবেদ অধ‍্যয়ন করা হয়।*
*🌹মহাপ্রভু তখন হরিদাসকে সেই নির্জন কুটীর দেখিয়ে দিয়ে কহিলেন=*
*🌷এই স্থানে রহ,কর নাম সংকীর্তন।*
*🌷প্রতিদিন আসি আমি করিব মিলন।।*
*🌷মন্দিরের চক্র দেখি করহ প্রণাম।*
*🌷এই ঠাঁই আসিবে তোমার প্রসাদান্ন।। ইত‍্যাদি।।*
*🌻এইজন‍্য মহাজনগণ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে করুণার অবতার বা দয়ার অবতার বলে আখ‍্যা দিয়েছেন।করুণার অবতার বলেই তিনি সর্ব অবতারের সার এত করুণা,এত দয়া,এত স্নেহ, এত প্রেম শ্রীভগবান আর কোন অবতারে প্রকাশ করেননি। হরিদাস ঠাকুর তাঁর ভক্ত কিন্তু তাঁকে জগন্নাথের সেবকগণ যদি  স্পর্ল করেন তাহলে সেবার অঙ্গহানি হবে  কিন্তু তাই বলে ভক্তকে কি দূরে ফেলা যায়?স্বয়ং জগন্নাথ প্রতিদিন তাঁর কাছে আসেন,তাঁর যাবার বাঁধা বলে তাইনা?এজন‍্য মহাপ্রভু তার জন্য স্বতন্ত্র ব‍্যবস্থা করে দিলেন। আসলে হরিদাসের উদ্দেশ্য  মহাপ্রভুকে নিত‍্য দর্শন করা, কিন্তু তাতো তাঁর পক্ষে সম্ভব না  কারণ মহাপ্রভু থাকেন কাশীমিশ্র আলয়ে, সেহেতু দয়ার সাগর কৃপাময় মহাপ্রভু বললেন=* *"আমি নিত‍্য আসি তোমায় দর্শন দিয়া যাব।"। এবং নিত‍্য জগন্নাথের প্রসাদ, সেবক গোবিন্দের মাধ‍্যমে পাঠিয়ে দিতেন কারণ তিনি জানতেন যে হরিদাস কখনও ভিক্ষায় বাহির হবেন না, কারণ তাঁর স্পর্শে গৃহী বৈষ্ণবগণ অপবিত্র হয়ে যাবেন। তাই তাঁর বাসস্থান মহাপ্রভু এমন একটি জায়গায় করে দিলেন, সে জায়গা হতে নিত‍্য জগন্নাথ মন্দিরের চূড়া বা চক্র দর্শন করতে পারবেন। এই জায়গার পরেই মহাপ্রভু তাঁর ইচ্ছাশক্তির দ্বারা জন্নাথদেবের দন্তধাবন জন্য প্রদত্ত বকুল গাছের দাঁতন কাঠ এনে রোপন করেন যা পরে তাঁর ইচ্ছা শক্তিতে এক বৃহতী বকুল বৃক্ষে পরিণত হয়।এই বকুল বৃক্ষের তলদেশে হরিদাস শীতাতপ সব উপেক্ষা করে নামানন্দে বিভোর হয়ে থাকতেন এবং এই স্থানেই তাঁর মহাপ্রয়াণ হয়।*
🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥
*কহে বিপদ ভঞ্জণ,কৃপা কর নারায়ণ,*
  *রাখ প্রভু এইবার মোদের জীবন*।
*তারা জানায় বেদনা,কহি সেথা কথা নানা,*
  *রথোপরি ছিল তবে রাম জনার্দন।।*
*গোপগণ সঙ্গে যত,রহে সবে হরষিত,*
  *রাম-কৃষ্ণ সাথে তারা করিয়া গমন।*
*দধি,দুগ্ধ,ক্ষীর,ছানা,লয় আরো দ্রব‍্য নানা,*
   *সংখ‍্যা তার ছিল কত না যায় গণন।।*
*রথ গতি বন্ধ করি,কহিলেন সবে হরি,*
  *কেন বৃথা শোকে সবে করহ রোদন।*
*না করিও দুঃখ আর,আমি আসিব আবার,*
   *সকলের সাথে পুনঃ হইবে মিলন।।*
🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৫৭. বালক অচ‍্যুদানন্দ প্রসঙ্গ ও নামাচার্য‍্য হরিদাসের নীলাচলে আগমন 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori57.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
   ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*বালক অচ‍্যুদানন্দ প্রসঙ্গ ও নামাচার্য‍্য হরিদাসের নীলাচলে আগমন।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌷শুভলগ্নে আইলাম অদ্বৈত দেখিতে।*
*🌷অদ্ভুদ্ মহিমা দেখিলাম নয়নেতে।।*
*🌻এই বলে পিতা পুত্র উভয়কে দন্ডবৎ প্রণাম করে সন্ন‍্যাসী ঠাকুর সে জায়গা হতে অলক্ষিতে প্রস্থান করলেন।এতদিনে যেন তাঁর মনস্কামনা সিদ্ধ হল।বালকের মুখে গৌরাঙ্গ তত্ত্বের যে ব‍্যাখ‍্যা তিনি শুনলেন,তাঁর সাধক জীবনের চির পাথেয় হল এবং সর্বাপেক্ষা আশ্চর্য‍্যের বিষয় হল এই যে পাঁচ বৎসরের বালক অচ‍্যুতানন্দ এই প্রধান সন্ন‍্যাসীর গুরু হলেন।অদ্বৈত আচার্য‍্যের আনন্দের আজ আর সীমা নাই।কারণ তিনি নিজে গৌর আনা গোসাঞী হলেও শিশু পুত্রের এই জ্ঞানগর্ভ তত্ত্ব কথায় মুগ্ধ হয়ে পুত্রগর্বে স্ফীত(গর্বিত) হয়ে গেলেন। কিন্তু তথাপি তাঁর বাহ‍্যজ্ঞান নাই যে বালকপুত্রকে কোলে করে তাঁর শ্রীঅঙ্গে শত শতচুম্বন দান করতে লাগলেন। বাৎসল‍্য ভাবে তার সর্বাঙ্গে হাত বুলাচ্ছেন আর অঝোর নয়নে কাঁদছেন।সন্ন‍্যাসী ঠাকুর যে ভিক্ষা না করে চলে গেলেন তা পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি গোচর হল না। হঠাৎ তিনি আনন্দাতিশয‍্যে বলে উঠলেন "চৈতন‍্যের পার্ষদ জন্মিলা মোর ঘরে " এই বলে হাতে তালি দিয়ে মধুর অঙ্গ ভঙ্গিতে নৃত্য করতে লাগলেন।এই প্রসঙ্গে শ্রীচরিতামৃতে লেখা আছে =*
*🌷পুত্রের মহিমা দেখি অদ্বৈত আচার্য‍্য।*
*🌷পুত্র কোলে করি কান্দে ছাড়ি সর্বকার্য‍্য।।*
*🌷পুত্রের অঙ্গের ধূলা আপনার অঙ্গে।*
*🌷লেপেন অদ্বৈত,অতি পরমানন্দ রঙ্গে।।*
*🌷চৈতন‍্য পার্ষদ জন্মিলা মোর ঘরে।*
*🌷এত বলি নাচে প্রভু তালি দিয়া করে।।*
*🍀যেদিনে শান্তিপুরে অদ্বৈত ভবনে এই লীলারঙ্গ প্রকাশ হয়েছিল সেই দিনই সেই সময় ভুবনমঙ্গল হরি সংকীর্তন করতে করতে মহাপ্রভু সপার্ষদ তাঁর ভবনে শুভাগমন করেছিলেন (এটি অবশ‍্য তাঁর নীলাচল হতে গৌড়দেশে আগমন কালে)।কি অপূর্ব যোগাযোগ কি শুভ সংযোগ সবই যেন পূর্ব পরিকল্পিত, শুভলগ্নে শুভক্ষণে মহাপ্রভুর পদার্পণে পুত্রসহ অদ্বৈত আচার্য‍্য যেন দিশেহারা হয়ে গেলেন কারণ তাঁদের হৃদয় মন্দিরে তখন গৌরাঙ্গদেবের অভিষেক সমাপ্ত। এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাসঠাকুর লিখেছেন=*
*🌷পুত্রের মহিমা দেখি অদ্বৈত বিহ্বল।*
*🌷হেন কালে উপসন্ন সর্ব সুমঙ্গল।।*
*🌷সপার্ষদে শ্রীগৌরসুন্দর সেইক্ষণে।*
*🌷আসি আবির্ভাব হইলা অদ্বৈত ভবনে।।*
*🌹আশাকরি সুধী পাঠকগণ এইসব তত্ত্বকথা পাঠ বা শুনে মহাপ্রভু বা গৌরাঙ্গ পার্ষদগণের মহিমা উপলব্ধি করতে পারবেন।ইঁনারা সকলেই চিহ্নিতদাস-নররূপে আবির্ভূত শুধুমাত্র লীলা প্রকট করবার উদ্দেশ্যে।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🌹নামাচার্য‍্য হরিদাসের নীলাচলে আগমন।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺নবদ্বীপ,কালনা,কাটোয়া, যাজিগ্রাম,শ্রীখন্ডবাসী এবং গৃহীভক্তগণ সংসারের মায়া ত‍্যাগ করে অশেষ কষ্ট স্বীকার করে প্রত‍্যেক বৎসর রথের আগে নীলাচলে আসিতেন পদব্রজে।তখনকার দিনে রেলপথ ছিল না।মুসলমানদের রাজত্বে নানাস্থানে নানা বিড়ম্বনাকে তুচ্ছজ্ঞান করে সকলে নামানন্দে বিভোর হয়ে এই সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করতেন শুধু মহাপ্রভুর সঙ্গলাভ এবং শ্রীচরণ দর্শন মানসে।এমন কি মহিলারাও তাঁদের অনুগামী হতেন। যে সমস্ত ভক্তগণ আসতেন তাঁদের মধ্যে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য,হরিদাস ঠাকুর,শিবানন্দ সেন,বাসুদেব ঘোষ,বাসুদেব দত্ত, গঙ্গাদাস পন্ডিত,শঙ্কর পন্ডিত, মুরারি গুপ্ত, নারায়ণ পন্ডিত,হরিভট্ট,নৃসিংহানন্দ, গোবিন্দ,মাধব,রাঘব পন্ডিত, শ্রীমান, শ্রীকান্ত, শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারী, শ্রীধর, আখুরিয়া বিজয়,বল্লভ সেন,পুরুষোত্তম, সঞ্জয়,সত‍্যরাজ খান, মুকুন্দ দাস, নরহরি সরকার, রঘুনন্দন, শ্রীখন্ডবাসী চিরঞ্জীব,সুলোচন, আরো বহু প্রবীণগণ ভক্ত প্রধান।*
*🍀রাজা প্রতাপরুদ্র এই সমস্ত বৈষ্ণবদের কীর্তনের ভঙ্গি এবং আর্তি দেখে অবাক হয়ে যেতেন।বৈষ্ণবগণের শরীর হতে বিচ্ছুরিত অপূর্ব তেজোরাশি দর্শন করে তিনি সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে বলেছিলেন=*
*🌷রাজা কহে দেখি আমার হৈল চমৎকার।*
*🌷বৈষ্ণবের ঐছে তেজ নাহি দেখি আর।।*
*🌷কোটি সূর্য‍্যসম সবার উজ্জ্বল বরণ।*
*🌷কভু নাহি শুনি এই মধুর কীর্তন।।*
*🌷ঐছে প্রেম ঐছে নৃত্য ঐছে হরিধ্বনি।*
*🌷কাঁহা নাহি দেখি ঐছে কাঁহা নাহি শুনি।।*
*🌹এইকথা শুনে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য কহিলেন=*
*🌷রাজা তোমার সুসত‍্য বচন।*
*🌷চৈতন‍্যের সৃষ্টি এই নাম সংকীর্তন।।*
*🌷অবতার চৈতন্য কৈল ধর্ম্ম প্রচারণ।*
*🌷কলিকালের ধর্ম্ম কৃষ্ণনাম সঙ্কীর্ত্তন।*
*🌷সংকীর্তন যজ্ঞে তাঁর করে আরাধন।।*
*🌷সেই তো সুমেধা আর কলিহত জন।*
*🌺সকলকে নিজের মধ্যে পেয়ে করুণাময় গৌরহরি তাঁদের সেবা যত্নের ব‍্যবস্থা করতেন এবং এই কাজে রাজা প্রতাপরুদ্রের রাজভান্ডার দরাজভাবে খোলা ছিল। কাশীমিশ্র পন্ডিত, বাণীনাথ পট্টনায়ক, গোপীনাথ আচার্য‍্য এই ব‍্যাপারে সবার আগে থাকতেন।সবাইকে পেয়েও মহাপ্রভু যেন উদাস ভাবে চারিদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলেন যেন তাঁর প্রাণপ্রিয় একজনকে দেখতে পাচ্ছেন না।তখন তিনি উপস্থিত ভক্তগণকে নামাচার্য‍্য হরিদাস ঠাকুর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করায় তাঁরা বললেন তিনি নীচ জাতি ও যবনান্নে প্রতিপালিত বলে সঙ্কোচে পুরুষোত্তমের ক্ষেত্রের ভিতর আসেননি। পুরুষোত্তমের সীমানার বাইরে বসে নীলাচলপ্রভুকে স্মরণ করে উচ্চৈঃস্বরে নামসংকীর্তন করছেন এবং নয়নজলে ভেসে যাচ্ছেন।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
*সুমধুর তাঁর হাসি,মুগ্ধ করে মনে পশি,*
   *রাসস্থলে কত লীলা করিলেন হরি।*
*সবে করিয়া রোদন, কত জানায় বেদন,*
  *কহে কে বাজাবে বাঁশী মন মুগ্ধ করি।।*
*প্রাণকৃষ্ণে ল'য়ে যবে, যাত্রা করে গোপ সবে,*
  *রথের পশ্চাতে ত্বরা ধায় গোপীগণ।*
*রথচক্র তারা তবে,ধরি রাখে দৃঢ়ভাবে,*
  *গোপগণ রথে রহি করে দরশন*।।
*কৃষ্ণগত রহে প্রাণ,কৃষ্ণগোপী ধ‍্যান জ্ঞান,*
   *বিচ্ছেদ স্মরিয়া হয় সজল নয়ন*।
*লাজমান পরিহরি,উচ্চরব তবে করি,*
  *কাতর অন্তরে তারা করিল রোদন।।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦜🦚🦚🦚🦚🦚🦚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৫৬. অদ্বৈতাচার্য‍্যের বিবাহ প্রসঙ্গ 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori56.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
   *অদ্বৈতাচার্য‍্যের বিবাহ প্রসঙ্গ*
    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের দুইটি পত্নী ছিলেন,নাম সীতাদেবী ও শ্রী-দেবী।ইঁনারা উভয়েই নারায়ণপুর নিবাসী শ্রীনৃসিংহ ভুদুড়ীর কন‍্যা। উভয়েই যমজ কন‍্যা বলেই পরিচিতা, কিন্তু---। অদ্বৈতাচার্য‍্যের শিষ‍্য ও বাল‍্য সহচর শ্রীঈশান নাগর তাঁরই প্রণীত "অদ্বৈত প্রকাশ" শ্রীগ্রন্থে লিখেছেন যে এই সীতাদেবী অযোনী সম্ভবা দুহিতা বা কন‍্যা।ত্রেতা যুগে জনক রাজা যেরকমে হলকর্ষণ কালে একটি সোনার ডিম পেয়েছিলেন এবং তা হতেই শ্রীরামচন্দ্র বনিতা সীতাদেবীর উদ্ভব।সেইরকম অদ্বৈতাচার্য‍্যের পত্নী সীতাদেবীও অযোনি সম্ভবা অর্থ‍্যাৎ তিনি মাতৃগর্ভজাত নহেন।*
*🪷এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রসঙ্গে শ্রীঈশান নাগর লিখেছেন যে নারায়ণপুর গ্রামের অতি কাছেই একটি জলাশয়ে বহু পদ্মপুষ্প ফুটত।পূজ‍্যপাদ শ্রীনৃসিংহ ভাদুড়ী মহাশয় অতি নিষ্ঠাবান বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণ ছিলেন।গৃহদেবতার পূজোর জন্য নিত‍্য সেই জলাশয় হতে পদ্মপুষ্প তুলতেন।একদিন তিনি একটি প্রস্ফুটিত পদ্মফুলের মধ্যে অঙ্গুষ্ঠ প্রমাণ এক পরমা সুন্দরী কন‍্যাকে দেখতে পান।তখন তিনি এই কন‍্যাকে স্বগৃহে বা নিজঘরে এনে স্বীয় বা নিজ গৃহিণীকে সকল বৃত্তান্ত বললেন।দৈবযোগে সেইদিনই ভাদুড়ী গৃহিণী এক কন‍্যা সন্তান প্রসব করলেন।সেই নবপ্রসূত কন‍্যাটির কাছে এই অঙ্গুষ্ঠ প্রমাণ কন‍্যাটিকেও রাখিবামাত্র সেই শিশু সদ‍্য গর্ভজাত কন‍্যাটির মত সমান আকার ধারণ করলেন।সেই হতে লোকে জানিল যে ভাদুড়ী মহাশয়ের পত্নী যমজ কন‍্যা প্রসব করেছেন।ভাদুড়ী মহাশয় এই অযোনি সম্ভবা কন‍্যাকে জ‍্যেষ্ঠা বা বড় কন‍্যা বলে স্বীকার করেন, এবং তাঁর নাম দেন সীতাদেবী।এই উভয় কন‍্যার পাণিগ্রহণ বা বিবাহ করেন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য। এই অত‍্যাশ্চর্য‍্য কাহিনীটি গৌর ভক্তগণ পাঠ করে মনে বিমল আনন্দ লাভ করবেন, ইহাই অধম লেখকের আশা। বিঃ দ্রঃ--,এই প্রসঙ্গে "অদ্বৈত প্রকাশ" শ্রীগ্রন্থের মূল পদাবলী গ্রন্থ শেষে পাবেন।*
 *💧বালক অচ‍্যুতানন্দ প্রসঙ্গ💧*
    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏অদ্বৈতাচার্য‍্যের পুত্রগণের মধ্যে অচ‍্যুতানন্দই হচ্ছেন বৈষ্ণব জগতে সর্ব্ব প্রসিদ্ধ।যখন তাঁর পাঁচ বৎসর বয়স, দিগম্বর বেশে ঘুরে বেড়ান তখন তিনি যে লীলারঙ্গ প্রকাশ করেছিলেন তা বৈষ্ণব জগতের এক অমূল‍্য সম্পদ।তাঁর তখনকার বয়স প্রসঙ্গে পূজ‍্যপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ মহাশয় লিখেছেন যে=*
*🌷পঞ্চবর্ষ বয়স মধুর দিগম্বর।*
*🌷খেলা খেলি সর্ব ধূলায় ধূসর।।*
*🌷অভিন্ন কার্ত্তিক যেন সর্ব্বাঙ্গ সুন্দর।*
*🌷সর্বজ্ঞ পরম ভক্ত সর্ব্বশক্তি ধর।।*
*🌺অর্থ‍্যাৎ তাঁর পাঁচবৎসর বয়ঃক্রমকাল হতেই তিনি শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের পরম ভক্ত এবং শক্তিধর ছিলেন যার পরিচয় আমরা নিম্নলিখিত প্রসঙ্গ হতে জানতে বা বুঝতে পারি।এই সময় একদিন এক অপরিচিত সন্ন‍্যাসী তাঁদের বাড়ীতে আসেন এবং তাঁকে যখন সযতনে অভ‍্যর্থনাকরা হল তখন তিনি বললেন যে=*
*"আমি যাহা চাই অগ্রে তাহা ভিক্ষা দিন পরে অন‍্য কথা"।অদ্বৈতাচার্য‍্য তখন অত‍্যন্ত বিনয় নম্রতার সঙ্গে বললেন "বলুন আপনার কি জিজ্ঞাসা আছে?" সন্ন‍্যাসী ঠাকুর তখন কহিলেন=*
*🌻এই    কেশব   ভারতী।*
*🌻চৈতন‍্যের কে হন কহ মোর প্রতি।।*
*🌳সীতানাথ এই অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে হঠাৎ যেন থতমত খেয়ে গেলেন এবং বললেন যে তিনি স্বয়ং ঈশ্বরের অবতার হলেও লৌকিক ব‍্যবহারে শ্রীপাদ কেশব ভারতী শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর সন্ন‍্যাসগুরু ছাড়া আর কেউই নন। অদ্বৈতনন্দন,অচ‍্যুতানন্দ সেখানে খেলা করছিলেন, পিতার কথা তাঁর  কানে যাওয়া মাত্র তিনি ক্রোধাবিষ্টভাবে যা বলেছিলেন ভাবার্থ এইরকম=*
*🌷কি কহিলি বাপ্ বোলো দেখি আরবার।*
*🌷চৈতন‍্যের গুরু আছে বিচার তোমার।।*
*🌷কোন বা সাহসে তুমি এমত বচন।*
*🌷জিহ্বায় আনিলা এতো অদ্ভুদ্ কারণ।।*
*🌷তোমার জিহ্বায় যদি এমত আইল।*
*🌷হেন বুঝি এখানে যে কলিকাল হৈল।।*
*🌷অনন্ত চৈতন্য মায়া পরম দুস্তর*।
*🌷যাহাতে পায়েন মোহ ব্রহ্মাদি শঙ্কর।।*
*🌷বুঝিলাম বিষ্ণুমায়া হইল তোমারে।*
*🌷কে বা চৈতন‍্যের মায়া তরিবারে পারে।।*
*🌷চৈতন‍্যের গুরু আছে বলিলা যখনে।*
*🌷মায়াবল বিনা ইহা কহিলা কেমনে।।*
*🌷অনন্ত ব্রহ্মান্ড যবে চৈতন‍্যে ইচ্ছায়।*
*🌷সব চৈতন‍্যের লোমকূপেতে মিশায়।।*
*🌷জলক্রীড়া পরায়ণ চৈতন‍্য গোসাঞী।*
*🌷বিহরেণ আত্মক্রীড়া আর দুই নাই।।*
*🌷যত যত মহামুনি মহা অভিমান*।
*🌷উদ্দেশো না থাকে কারো কোথাকার নাম।।*
*🌷পুনঃ সেই চৈতন‍্যের অচিন্ত‍্য ইচ্ছায়।*
*🌷নাভিপদ্ম হইতে ব্রহ্মা হয়েন লীলায়।।*
*🌷হইয়াও না থাকে দেখিতে কিছু শক্তি।*
*🌷তবে শেষে করেন একান্তভাবে উক্তি।।*
*🌷তবে ভক্তিবশে তুষ্ট হইয়া তাহানে।*
*🌷তত্ত্ব উপদেশ প্রভু কহেন আপনে।।*
*🌷তবে সেই ব্রহ্মা প্রভু আজ্জা করি শিরে।*
*🌷সৃষ্টি করি সেই জ্ঞান কহেন সবারে।।*
*🌷সেই জ্ঞান সনকাদি পাই ব্রহ্মা হইতে।*
*🌷প্রচার করেন তবে কৃপায় জগতে।।*
*🌷যাঁহা হইতে হয় আদি জ্ঞানের প্রচার।*
*🌷তান গুরু কেমতে বোলহ আছে আর।।*
*🌷বাপ তুমি,তোমা হইতে শিখিবাই কোথা।*
*🌷শিক্ষা গুরু হই কেন বলহ অন‍্যথা।।*
*💧এইভাবে পিতাকে জ্ঞান দিয়ে পাঁচ বৎসরের বালক বদন অবনত করে মৌন হয়ে রইলেন।অদ্বৈতাচার্য‍্য পুত্রের এই গৌর প্রীতি এবং গৌর ভক্তি দেখে হতবাক হয়ে গেলেন এবং তিনি সানন্দে পুত্রকে কোলে তুলে নিয়ে শত শত চুম্বন করলেন। তাঁর নয়নজলে পুত্রের সর্ব অঙ্গ ভিজে যেতে লাগল।তখন তিনি ভাবাবেশে বিভোর হয়ে বললেন=*
*🌷তুমি সে জনক বাপ মুঞি সে তনয়।*
*🌷শিখাইতে পুত্ররূপে হইলে উদয়।।*
*🌷অপরাধ করিনু ক্ষমহ বাপ্ মোরে।*
*🌷আর না বলিনু এই কহিনু তোমারে।।*
*💧বালক অচ‍্যুতানন্দের দেহে তখন অষ্টসাত্ত্বিক ভাবের বিকাশ হচ্ছে সর্ব অঙ্গ দিয়ে যেন এক জ‍্যোতি নির্গত হচ্ছে এবং এমত অবস্থায় পিতার কাছ হতে আত্মস্তুতি শুনে যেন মর্মাহত হয়ে গেলেন।এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদ কবিরাজ মহাশয় লিখেছেন যে=*
*🌷আত্মস্তুতি শুনি শ্রীঅচ‍্যুত মহাশয়।*
*🌷লজ্জায় রহিলা প্রভু মাথা না তোলয়।।*
*🙏এখানে লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে মহাজ্ঞানী মহাপন্ডিত,পূজ‍্যপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ মহাশয়ের মত ব‍্যক্তি, এই বালককে "মহাশয়" এবং "প্রভু" এই ভূষণে ভৃষিত করেছেন।পিতাপুত্র উভয়েই ভাবাবেশে বিভোর।উভয়ের নয়নদ্বয় দিয়ে প্রেমাশ্রু বহে যাচ্ছে।উভয়ে উভয়কে গুরু বলে মানছেন এবং আগন্তুক সন্ন‍্যাসী মহাশয় সমস্ত ব‍্যাপার নিরীক্ষণ করে স্তব্ধ হয়ে গেলেন।তখন তিনি হঠাৎ নিজ আসন হতে উঠে একেবারে সেই বালকের চরণতলে সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করে বললেন=*
*🌷দেখ দেখ অদ্বৈত নন্দন।*
*🌷যেন পিতা তেন পুত্র অচিন্ত‍্য কথন।।*
*🌷এ তো ঈশ্বরের শক্তি বিনে অন‍্য নহে।*
*🌷বালকের মুখে কি এমত কথা হয়ে।।*
*🌷শুভলগ্নে আইলাম অদ্বৈত দেখিতে।*
*🌷অদ্ভুদ্ মহিমা দেখিলাম নয়নেতে।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*কাঁদি কহে বারে বারে,যেতে নাহি দিব তারে,*
   *দেখি সে কেমনে যায় মথুরা এখন।*
*রথচক্রে দিয়া মাথা,বসি রব মোরা সেথা,*
   *দেখিতে পাইবে কানু মোদের মরণ।।*
*প্রাণনাথে নাহি দেখি,না রবে পরাম সখি,*
    *নিমেষার্দ্ধ অদর্শনে না বাঁচি পরাণে।*
*চলেছেন হরি যেথা,গোপীসবে যাব সেথা,*
   *কৃষ্ণ বিনা হেথা মোরা রহিব কেমনে।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



adds