✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৫৮. নামাচার্য্য হরিদাসের নীলাচলে আগমন 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori58.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*নামাচার্য্য হরিদাসের নীলাচলে আগমন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻মহাপ্রভুর কয়েকজন অনুরাগী ভক্ত ছুটে গিয়ে হরিদাসের কাছে গেলেন, এবং সব বৃত্তান্ত বললেন কিন্তু দৈন্যের অবতার ঠাকুর হরিদাস কহিলেন=*
*🌷মুঞি-----নীচ-------ছার।*
*🌷মন্দির নিকট যাইতে নাহি অধিকার।।*
*🌷নিভৃতে টোটা মধ্যে যদি স্থান খানিক পাই।*
*🌷তাঁহা পড়ি রহি একা কাল গোঁয়াই।।*
*🌷জগন্নাথের সেবক মোর স্পর্শ নাহি হয়।*
*🌷তাঁহা পড়ি রহি মোর এই বাঞ্জা হয়।।*
*🍀ভক্তগণ হরিদাসের এইকথা শুনে মহাপ্রভুর কাছে তাঁর মনোবাসনা নিবেদন করলেন।তিনি তখন কাশী মিশ্র পন্ডিতকে নিভৃতে নিয়ে বললেন=*
*🌷আমার নিকটে এই পুষ্পের উদ্যানে।*
*🌷একখানি ঘর আছে পরম নির্জনে।।*
*🌷সেই ঘর আমাকে দেহ আছে প্রয়োজন।*
*🌷নিভৃতে বসিয়া তাঁহা করিব স্মরণ।।*
*🌻কাশী মিশ্র তখন দৈন্যভাবে বললেন, হে প্রভু! তোমারই তো সব, চেয়ে কেন লজ্জা দাও।আমাকে আজ্ঞা পালনকারী দাস মনে করে যখন যা আদেশ করবে তখন তাইই পূরণ করব।এইরকম ব্যবস্থা করে মহাপ্রভু সকল ভক্তগণকে নিজ নিজ কক্ষে পাঠিয়ে দিলেন এবং একাকী হরিদাসের কাছে চলে গেলেন। কিছুদূর অগ্রসর হবার পর তিনি দেখলেন যে হরিদাস ঠাকুর এক নির্জন জায়গায় বসে প্রেমানন্দে বিভোর হয়ে উচ্চৈঃস্বরে নাম সংকীর্তন করছেন। পরমদয়াল মহাপ্রভুকে সামনে দেখতে পেয়ে তিনি মহাপ্রভুর শ্রীচরণতলে লুটিয়ে পড়লেন এবং দয়াময় মহাপ্রভু তৎক্ষণাৎ তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে প্রেমালিঙ্গনদানে কৃতার্থ করলেন। ভক্ত-ভগবানের অপূর্ব মিলন।দুইজনেই প্রেমাবেশে বিভোর হয়ে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করতে লাগলেন।উভয়ের শ্রীঅঙ্গ নয়ন ধারায় ভিজে যেতে লাগল এবং এই অযাচিত কৃপার নিদর্শনে ঠাকুর হরিদাস বালকের মতো উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন। এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদ কবিরাজ লিখেছেন যে=*
*🌷দুইজন প্রেমাবেশে করেন ক্রন্দন।*
*🌷প্রভু গুণে ভৃত্য বিকল, প্রভু ভৃত্য গুণে।।*
*🌹কিছুক্ষণ পরে হরিদাস ঠাকুর কিছুটা আত্মসম্বরণ করে বললেন, "হে প্রভু আমায় স্পর্শ করিও না, আমি নীচ জাতি,অস্পৃশ্য নরাধম পামর" ইত্যাদি সব নানাপ্রকার দৈন্যোক্তি করতে লাগলেন।পরমদয়াল গৌর ভগবান তখন ঠাকুর হরিদাসের মহিমা কীর্তন করে বললেন=*
*🌷তোমা স্পর্শী পবিত্র হইতে।*
*🌷তোমার পবিত্র ধর্ম্ম নাহিক আমাতে।।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে কর তুমি সর্ব্ব তীর্থে স্নান।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে কর তুমি যজ্ঞ তপোদান।।*
*🌷নিরন্তর কর চারি বেদ অধ্যয়ন।*
*🌷দ্বিজ ন্যাসী হইতে তুমি পরম পাবন।।*
*🌻এই বলে মহাপ্রভু শ্রীমদ্ ভাগবদ্ হতে সংস্কৃত শ্লোক পাঠ করলেন, যথা=*
*"অহোবত শ্বপচোহতো গরীয়ান য জিহ্বাগ্রে বর্ত্ততে নাম তুভ্যং তেপু স্তপস্তে জুহুবুঃ সস্নুরার্য্যা ব্রহ্মানূচূর্ণাম্ গৃণন্তি যে তে।"*
*🍀যাঁর জিহ্বাতে সতত তোমার নাম বর্তমান, সে ব্যক্তি চন্ডাল হলেও পূজ্যতম।সেহেতু যাঁরা তোমার নাম গ্রহণ করেন,তাঁদেরকে তপস্যা,হোম, তীর্থস্থান সদাচার এবং সাঞ্জবেদ অধ্যয়ন করা হয়।*
*🌹মহাপ্রভু তখন হরিদাসকে সেই নির্জন কুটীর দেখিয়ে দিয়ে কহিলেন=*
*🌷এই স্থানে রহ,কর নাম সংকীর্তন।*
*🌷প্রতিদিন আসি আমি করিব মিলন।।*
*🌷মন্দিরের চক্র দেখি করহ প্রণাম।*
*🌷এই ঠাঁই আসিবে তোমার প্রসাদান্ন।। ইত্যাদি।।*
*🌻এইজন্য মহাজনগণ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে করুণার অবতার বা দয়ার অবতার বলে আখ্যা দিয়েছেন।করুণার অবতার বলেই তিনি সর্ব অবতারের সার এত করুণা,এত দয়া,এত স্নেহ, এত প্রেম শ্রীভগবান আর কোন অবতারে প্রকাশ করেননি। হরিদাস ঠাকুর তাঁর ভক্ত কিন্তু তাঁকে জগন্নাথের সেবকগণ যদি স্পর্ল করেন তাহলে সেবার অঙ্গহানি হবে কিন্তু তাই বলে ভক্তকে কি দূরে ফেলা যায়?স্বয়ং জগন্নাথ প্রতিদিন তাঁর কাছে আসেন,তাঁর যাবার বাঁধা বলে তাইনা?এজন্য মহাপ্রভু তার জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা করে দিলেন। আসলে হরিদাসের উদ্দেশ্য মহাপ্রভুকে নিত্য দর্শন করা, কিন্তু তাতো তাঁর পক্ষে সম্ভব না কারণ মহাপ্রভু থাকেন কাশীমিশ্র আলয়ে, সেহেতু দয়ার সাগর কৃপাময় মহাপ্রভু বললেন=* *"আমি নিত্য আসি তোমায় দর্শন দিয়া যাব।"। এবং নিত্য জগন্নাথের প্রসাদ, সেবক গোবিন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন কারণ তিনি জানতেন যে হরিদাস কখনও ভিক্ষায় বাহির হবেন না, কারণ তাঁর স্পর্শে গৃহী বৈষ্ণবগণ অপবিত্র হয়ে যাবেন। তাই তাঁর বাসস্থান মহাপ্রভু এমন একটি জায়গায় করে দিলেন, সে জায়গা হতে নিত্য জগন্নাথ মন্দিরের চূড়া বা চক্র দর্শন করতে পারবেন। এই জায়গার পরেই মহাপ্রভু তাঁর ইচ্ছাশক্তির দ্বারা জন্নাথদেবের দন্তধাবন জন্য প্রদত্ত বকুল গাছের দাঁতন কাঠ এনে রোপন করেন যা পরে তাঁর ইচ্ছা শক্তিতে এক বৃহতী বকুল বৃক্ষে পরিণত হয়।এই বকুল বৃক্ষের তলদেশে হরিদাস শীতাতপ সব উপেক্ষা করে নামানন্দে বিভোর হয়ে থাকতেন এবং এই স্থানেই তাঁর মহাপ্রয়াণ হয়।*
🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥
*কহে বিপদ ভঞ্জণ,কৃপা কর নারায়ণ,*
*রাখ প্রভু এইবার মোদের জীবন*।
*তারা জানায় বেদনা,কহি সেথা কথা নানা,*
*রথোপরি ছিল তবে রাম জনার্দন।।*
*গোপগণ সঙ্গে যত,রহে সবে হরষিত,*
*রাম-কৃষ্ণ সাথে তারা করিয়া গমন।*
*দধি,দুগ্ধ,ক্ষীর,ছানা,লয় আরো দ্রব্য নানা,*
*সংখ্যা তার ছিল কত না যায় গণন।।*
*রথ গতি বন্ধ করি,কহিলেন সবে হরি,*
*কেন বৃথা শোকে সবে করহ রোদন।*
*না করিও দুঃখ আর,আমি আসিব আবার,*
*সকলের সাথে পুনঃ হইবে মিলন।।*
🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴🌴
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
