✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৫৬. অদ্বৈতাচার্য্যের বিবাহ প্রসঙ্গ 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori56.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*অদ্বৈতাচার্য্যের বিবাহ প্রসঙ্গ*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের দুইটি পত্নী ছিলেন,নাম সীতাদেবী ও শ্রী-দেবী।ইঁনারা উভয়েই নারায়ণপুর নিবাসী শ্রীনৃসিংহ ভুদুড়ীর কন্যা। উভয়েই যমজ কন্যা বলেই পরিচিতা, কিন্তু---। অদ্বৈতাচার্য্যের শিষ্য ও বাল্য সহচর শ্রীঈশান নাগর তাঁরই প্রণীত "অদ্বৈত প্রকাশ" শ্রীগ্রন্থে লিখেছেন যে এই সীতাদেবী অযোনী সম্ভবা দুহিতা বা কন্যা।ত্রেতা যুগে জনক রাজা যেরকমে হলকর্ষণ কালে একটি সোনার ডিম পেয়েছিলেন এবং তা হতেই শ্রীরামচন্দ্র বনিতা সীতাদেবীর উদ্ভব।সেইরকম অদ্বৈতাচার্য্যের পত্নী সীতাদেবীও অযোনি সম্ভবা অর্থ্যাৎ তিনি মাতৃগর্ভজাত নহেন।*
*🪷এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রসঙ্গে শ্রীঈশান নাগর লিখেছেন যে নারায়ণপুর গ্রামের অতি কাছেই একটি জলাশয়ে বহু পদ্মপুষ্প ফুটত।পূজ্যপাদ শ্রীনৃসিংহ ভাদুড়ী মহাশয় অতি নিষ্ঠাবান বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণ ছিলেন।গৃহদেবতার পূজোর জন্য নিত্য সেই জলাশয় হতে পদ্মপুষ্প তুলতেন।একদিন তিনি একটি প্রস্ফুটিত পদ্মফুলের মধ্যে অঙ্গুষ্ঠ প্রমাণ এক পরমা সুন্দরী কন্যাকে দেখতে পান।তখন তিনি এই কন্যাকে স্বগৃহে বা নিজঘরে এনে স্বীয় বা নিজ গৃহিণীকে সকল বৃত্তান্ত বললেন।দৈবযোগে সেইদিনই ভাদুড়ী গৃহিণী এক কন্যা সন্তান প্রসব করলেন।সেই নবপ্রসূত কন্যাটির কাছে এই অঙ্গুষ্ঠ প্রমাণ কন্যাটিকেও রাখিবামাত্র সেই শিশু সদ্য গর্ভজাত কন্যাটির মত সমান আকার ধারণ করলেন।সেই হতে লোকে জানিল যে ভাদুড়ী মহাশয়ের পত্নী যমজ কন্যা প্রসব করেছেন।ভাদুড়ী মহাশয় এই অযোনি সম্ভবা কন্যাকে জ্যেষ্ঠা বা বড় কন্যা বলে স্বীকার করেন, এবং তাঁর নাম দেন সীতাদেবী।এই উভয় কন্যার পাণিগ্রহণ বা বিবাহ করেন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য। এই অত্যাশ্চর্য্য কাহিনীটি গৌর ভক্তগণ পাঠ করে মনে বিমল আনন্দ লাভ করবেন, ইহাই অধম লেখকের আশা। বিঃ দ্রঃ--,এই প্রসঙ্গে "অদ্বৈত প্রকাশ" শ্রীগ্রন্থের মূল পদাবলী গ্রন্থ শেষে পাবেন।*
*💧বালক অচ্যুতানন্দ প্রসঙ্গ💧*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏অদ্বৈতাচার্য্যের পুত্রগণের মধ্যে অচ্যুতানন্দই হচ্ছেন বৈষ্ণব জগতে সর্ব্ব প্রসিদ্ধ।যখন তাঁর পাঁচ বৎসর বয়স, দিগম্বর বেশে ঘুরে বেড়ান তখন তিনি যে লীলারঙ্গ প্রকাশ করেছিলেন তা বৈষ্ণব জগতের এক অমূল্য সম্পদ।তাঁর তখনকার বয়স প্রসঙ্গে পূজ্যপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ মহাশয় লিখেছেন যে=*
*🌷পঞ্চবর্ষ বয়স মধুর দিগম্বর।*
*🌷খেলা খেলি সর্ব ধূলায় ধূসর।।*
*🌷অভিন্ন কার্ত্তিক যেন সর্ব্বাঙ্গ সুন্দর।*
*🌷সর্বজ্ঞ পরম ভক্ত সর্ব্বশক্তি ধর।।*
*🌺অর্থ্যাৎ তাঁর পাঁচবৎসর বয়ঃক্রমকাল হতেই তিনি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের পরম ভক্ত এবং শক্তিধর ছিলেন যার পরিচয় আমরা নিম্নলিখিত প্রসঙ্গ হতে জানতে বা বুঝতে পারি।এই সময় একদিন এক অপরিচিত সন্ন্যাসী তাঁদের বাড়ীতে আসেন এবং তাঁকে যখন সযতনে অভ্যর্থনাকরা হল তখন তিনি বললেন যে=*
*"আমি যাহা চাই অগ্রে তাহা ভিক্ষা দিন পরে অন্য কথা"।অদ্বৈতাচার্য্য তখন অত্যন্ত বিনয় নম্রতার সঙ্গে বললেন "বলুন আপনার কি জিজ্ঞাসা আছে?" সন্ন্যাসী ঠাকুর তখন কহিলেন=*
*🌻এই কেশব ভারতী।*
*🌻চৈতন্যের কে হন কহ মোর প্রতি।।*
*🌳সীতানাথ এই অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে হঠাৎ যেন থতমত খেয়ে গেলেন এবং বললেন যে তিনি স্বয়ং ঈশ্বরের অবতার হলেও লৌকিক ব্যবহারে শ্রীপাদ কেশব ভারতী শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর সন্ন্যাসগুরু ছাড়া আর কেউই নন। অদ্বৈতনন্দন,অচ্যুতানন্দ সেখানে খেলা করছিলেন, পিতার কথা তাঁর কানে যাওয়া মাত্র তিনি ক্রোধাবিষ্টভাবে যা বলেছিলেন ভাবার্থ এইরকম=*
*🌷কি কহিলি বাপ্ বোলো দেখি আরবার।*
*🌷চৈতন্যের গুরু আছে বিচার তোমার।।*
*🌷কোন বা সাহসে তুমি এমত বচন।*
*🌷জিহ্বায় আনিলা এতো অদ্ভুদ্ কারণ।।*
*🌷তোমার জিহ্বায় যদি এমত আইল।*
*🌷হেন বুঝি এখানে যে কলিকাল হৈল।।*
*🌷অনন্ত চৈতন্য মায়া পরম দুস্তর*।
*🌷যাহাতে পায়েন মোহ ব্রহ্মাদি শঙ্কর।।*
*🌷বুঝিলাম বিষ্ণুমায়া হইল তোমারে।*
*🌷কে বা চৈতন্যের মায়া তরিবারে পারে।।*
*🌷চৈতন্যের গুরু আছে বলিলা যখনে।*
*🌷মায়াবল বিনা ইহা কহিলা কেমনে।।*
*🌷অনন্ত ব্রহ্মান্ড যবে চৈতন্যে ইচ্ছায়।*
*🌷সব চৈতন্যের লোমকূপেতে মিশায়।।*
*🌷জলক্রীড়া পরায়ণ চৈতন্য গোসাঞী।*
*🌷বিহরেণ আত্মক্রীড়া আর দুই নাই।।*
*🌷যত যত মহামুনি মহা অভিমান*।
*🌷উদ্দেশো না থাকে কারো কোথাকার নাম।।*
*🌷পুনঃ সেই চৈতন্যের অচিন্ত্য ইচ্ছায়।*
*🌷নাভিপদ্ম হইতে ব্রহ্মা হয়েন লীলায়।।*
*🌷হইয়াও না থাকে দেখিতে কিছু শক্তি।*
*🌷তবে শেষে করেন একান্তভাবে উক্তি।।*
*🌷তবে ভক্তিবশে তুষ্ট হইয়া তাহানে।*
*🌷তত্ত্ব উপদেশ প্রভু কহেন আপনে।।*
*🌷তবে সেই ব্রহ্মা প্রভু আজ্জা করি শিরে।*
*🌷সৃষ্টি করি সেই জ্ঞান কহেন সবারে।।*
*🌷সেই জ্ঞান সনকাদি পাই ব্রহ্মা হইতে।*
*🌷প্রচার করেন তবে কৃপায় জগতে।।*
*🌷যাঁহা হইতে হয় আদি জ্ঞানের প্রচার।*
*🌷তান গুরু কেমতে বোলহ আছে আর।।*
*🌷বাপ তুমি,তোমা হইতে শিখিবাই কোথা।*
*🌷শিক্ষা গুরু হই কেন বলহ অন্যথা।।*
*💧এইভাবে পিতাকে জ্ঞান দিয়ে পাঁচ বৎসরের বালক বদন অবনত করে মৌন হয়ে রইলেন।অদ্বৈতাচার্য্য পুত্রের এই গৌর প্রীতি এবং গৌর ভক্তি দেখে হতবাক হয়ে গেলেন এবং তিনি সানন্দে পুত্রকে কোলে তুলে নিয়ে শত শত চুম্বন করলেন। তাঁর নয়নজলে পুত্রের সর্ব অঙ্গ ভিজে যেতে লাগল।তখন তিনি ভাবাবেশে বিভোর হয়ে বললেন=*
*🌷তুমি সে জনক বাপ মুঞি সে তনয়।*
*🌷শিখাইতে পুত্ররূপে হইলে উদয়।।*
*🌷অপরাধ করিনু ক্ষমহ বাপ্ মোরে।*
*🌷আর না বলিনু এই কহিনু তোমারে।।*
*💧বালক অচ্যুতানন্দের দেহে তখন অষ্টসাত্ত্বিক ভাবের বিকাশ হচ্ছে সর্ব অঙ্গ দিয়ে যেন এক জ্যোতি নির্গত হচ্ছে এবং এমত অবস্থায় পিতার কাছ হতে আত্মস্তুতি শুনে যেন মর্মাহত হয়ে গেলেন।এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদ কবিরাজ মহাশয় লিখেছেন যে=*
*🌷আত্মস্তুতি শুনি শ্রীঅচ্যুত মহাশয়।*
*🌷লজ্জায় রহিলা প্রভু মাথা না তোলয়।।*
*🙏এখানে লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে মহাজ্ঞানী মহাপন্ডিত,পূজ্যপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ মহাশয়ের মত ব্যক্তি, এই বালককে "মহাশয়" এবং "প্রভু" এই ভূষণে ভৃষিত করেছেন।পিতাপুত্র উভয়েই ভাবাবেশে বিভোর।উভয়ের নয়নদ্বয় দিয়ে প্রেমাশ্রু বহে যাচ্ছে।উভয়ে উভয়কে গুরু বলে মানছেন এবং আগন্তুক সন্ন্যাসী মহাশয় সমস্ত ব্যাপার নিরীক্ষণ করে স্তব্ধ হয়ে গেলেন।তখন তিনি হঠাৎ নিজ আসন হতে উঠে একেবারে সেই বালকের চরণতলে সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করে বললেন=*
*🌷দেখ দেখ অদ্বৈত নন্দন।*
*🌷যেন পিতা তেন পুত্র অচিন্ত্য কথন।।*
*🌷এ তো ঈশ্বরের শক্তি বিনে অন্য নহে।*
*🌷বালকের মুখে কি এমত কথা হয়ে।।*
*🌷শুভলগ্নে আইলাম অদ্বৈত দেখিতে।*
*🌷অদ্ভুদ্ মহিমা দেখিলাম নয়নেতে।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*কাঁদি কহে বারে বারে,যেতে নাহি দিব তারে,*
*দেখি সে কেমনে যায় মথুরা এখন।*
*রথচক্রে দিয়া মাথা,বসি রব মোরা সেথা,*
*দেখিতে পাইবে কানু মোদের মরণ।।*
*প্রাণনাথে নাহি দেখি,না রবে পরাম সখি,*
*নিমেষার্দ্ধ অদর্শনে না বাঁচি পরাণে।*
*চলেছেন হরি যেথা,গোপীসবে যাব সেথা,*
*কৃষ্ণ বিনা হেথা মোরা রহিব কেমনে।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
