✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১০৭. উপবীত--তত্ত্ব 📖 বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob107.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১০৮. উপবীত----তত্ত্ব 💮 বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob108.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০৮)গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাস*
*উপবীত----তত্ত্ব*
*****************
*🔥বৈদিক ধর্মসূত্রে স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যায় যে,উত্তরীয় অর্থ্যাৎ চাদরকে উপবীত করবে।চাদরের অভাবে সুতাকে উপবীত করবে।যজ্ঞের সময়ে যেরকম বস্ত্র ধারণ করা হয় তারই নাম যজ্ঞোপবীত।অধুনা প্রত্যেক শুভ কর্মে ব্রাহ্মণেতর জাতিকে যে ভাবে উপবীত-আকারে উত্তরীয় পরিধান করিয়ে থাকেন ইঁহাই প্রাচীন বৈদিক প্রথা।উপবীত না হলে কোন দৈব বা পৈত্র্য কার্য্য সম্পন্ন করা যায় না। বতর্মানে যজ্ঞোপবীত শব্দটি যজ্ঞ সময়ের চাদর পরিধান বা সুতা পরিধান হতে উন্নত পদ পেয়ে সর্বদা স্কন্ধস্থিত সূত্ররূপে স্থান পেয়েছে।আমাদের এই কথায় দ্বিজাতি-সমাজ চমকিত হতে পারেন। কিন্তু চমকিত হলে চলবে কেন?এ সব কথা যে তাঁদেরই পূবা পুরুষ আর্য্য ঋষিদের উদার-নীতি।ইতিহাস পাঠেও অবগত হওয়া যায়, মহারাজ বল্লান সেন বৌদ্ধধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু তান্ত্রিক ধর্ম অবলম্বন করলে,হিন্দু-তান্ত্রিকগণের উন্নতি কল্পে ব্রাহ্মণদেরকে সর্বদা যজ্ঞোপবীত ধারণের বিধি প্রবর্তিত করেন।এই সময়ে দেশের লোক বৈদিক-সংস্কারাদির উপর তেমন বিশেষ আস্থাবান ছিলেন না। তান্ত্রিকতার অবাধ প্লাবনে দেশ ডুবে গিয়েছিল।যাঁরা বেদাচার অনুসারে যজ্ঞোপবীত গ্রহণ করতেন,তাঁরা সময়ে সময়ে তা ফেলেও দিতেন।উপবীত ধারণ তখন একরকম লোকের স্বেচ্ছাধীন ছিল।বল্লাল সেন ইহার সংস্কার সাধনে তাদৃশ কৃতকার্য্য হননি।পরে নিজপুত্র মহারাজ লক্ষ্মণ সেন এইরকম রাজ-আইন বিধিবদ্ধ করেন যে,যে ব্যক্তি যজন,যাজন,অধ্যয়ন,অধ্যাপনা করবেন,তাঁকে সর্বদা উপবীত ধারণ করতেই হবে।নতুবা ঐ সমস্ত কাজ করতে পারবেন না।এই রাজ শাসনে দেশের অনেকেই উপবীত গ্রহণ করে ব্রাহ্মণ বলে পরিচয় দিতে সক্ষম হলেন। বতর্মানে ব্রাহ্মণ ও বৈদিক বৈষ্ণবগণের যে সর্বদা উপবীত ধারণের রীতি প্রচলিত দেখা যায়,সেটি উক্ত রাজশাসনের ফল বলে অনুমিত হয়।এই সময়ে কৌলিন্য প্রথা প্রচলিত হওয়ায় সমাজ শাসনের ভয়ে অ_ বিচারও প্রবর্তিত হয়। বতর্মানে যজ্ঞোপবীত ধারণের যে রীতি দেখা যায়,সেটি বৈদিক বিধানের নয়।কারণ উহার গ্রন্থি শিথিল করা যায় না। বিশেষতঃ চাদরের উপবীত করা চাই,অভাবে সুতার। কিন্তু ভারতবর্ষ নির্ধন, কাজেই চাদরের জায়গায় সুতাই মুখ্য হয়ে পড়েছে। আরও কৌতুকের বিষয় "পারস্কর গৃহ্য-সূত্রে" উপনয়নের সময়ে উপবীত ধারণের বিধান নাই।ভাষ্যকারেরা টানাটানি করে উপবীতের বিষয় এনেছেন,যথা=*
*অত্র যদ্যপি সূত্রকারেণ যজ্ঞোপবীত ধারণং ন সূত্রিতং তথাপ্যেক বস্ত্রা প্রাচীনাবীতিন ইতি প্রেতোদকদানে প্রাচীনাবীতিত্ব বিধানাৎ "ইত্যুপক্রম্য" যজ্ঞোপবীত ধারণং তাবদুনয়ন প্রভৃতি প্রাপ্তম্।তচ্চ কুত্র কর্তব্য ইত্যবাসরাপেক্ষায়াং ঔচিত্যাৎ মেখলাবন্ধনানন্তরম্ যুজ্যতে।এতদেব কর্কোপাধ্যায় বাসুদেব রেণুদীক্ষিত প্রভৃতয়ঃ স্ব স্ব গ্রন্থে যজ্ঞোপবীত ধারণ মাত্রাবসরে লিখিত।(হরিহর ভাষ্য,দ্বিতীয় কান্ড,দ্বিতীয় কন্ডিকা ৯|১০ সূত্র)।*
*🍀এই স্থানে যদ্যপি সূত্রকার যজ্ঞোপবীত ধারণ লেখেননি, তথাপি একবস্ত্র ও প্রাচীনাবীতি হয়ে প্রেত কার্য্য করবার বিধান থাকায় (প্রেতের উদকদান প্রকরণে প্রাচীনাবীতিত্ব অর্থ্যাৎ দক্ষিণ কাঁধে উপবীত ধারণ বিধান থাকায়) যজ্ঞোপবীত ধারণ কোথা করা চাই? এই অপেক্ষায় ঔচিত্য হেতু মেখলা বন্ধনের পর ধারণ করা উচিত।অতএব কর্কোপাধ্যায়,বাসুদেব দীক্ষিত ও রেণু দীক্ষিত প্রভৃতি নিজ নিজ গ্রন্থে এই অবসরে যজ্ঞোপবীত ধারণ লিখেছেন।*
*🌹এতে স্পষ্ট প্রতীত হয়,উপনয়নের সময়ে যজ্ঞোপবীত ধারণ পারস্কর আচার্য্যের মতে তত আবশ্যক বিবেচিত হয় নি। অনুমান হয়,বৈদিক সময়ে যজ্ঞাদি কর্মের সময়েই উপবীত চাদররূপে ঝুলাবার প্রথা ছিল।চাদরের অভাবে সুতা ধারণ করা যেত।পরে স্মার্ত যুগে নিজেকে সর্বদা যাজ্ঞিক বলে পরিচয় দিবার জন্য সর্বকালে সর্বকালে উপবীত ধারণের বিধান হল।পরে তার ধারণের মন্ত্র, প্রস্তুতের রীতি ও পরিত্যাগের দোষাদি প্রচলিত হল।* *যজ্ঞোপবীত ধারণের মন্ত্র=*
*"ওঁ যজ্ঞোপবীতং পরম পবিত্রং প্রজাপতে র্যৎ সহজং পুরস্তাৎ আয়ুষ্যমগ্র্যং প্রতিমুঞ্চ, শুভ্রং যজ্ঞোপবীতং বলমস্তু তেজঃ।" ব্রহ্মোপনিষদ ২৪।*
*🔥আরও রহস্যের বিষয়,উপনয়নেও যজ্ঞোপবীত ধারণের বিধান নাই।আরুণি,উদ্দালক, ঋষির যজ্ঞে বৃত হয়ে উদীচ্য দেশে গমন করেন।সেখানে শৌণকের কাছে বিচারে পরাস্ত হয়ে তাঁর কাছে সমিধ্ হস্তে উপস্থিত হয়ে বললেন, "আমাকে উপনীত করুন"। শৌণক বললেন, তুমি অধ্যয়ন করবে? আরুণি বললেন=*
*"যানেব মা প্রশ্না ন প্রাক্ষিস্তানেব মে ব্রুহীতি।"*
*(যজুর্বেদ,শতপথ ব্রাহ্মণে ১১|২|৭|৯)*
*🌻আপনি যে সমস্ত প্রশ্ন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন,তাহাই পাঠ করব। তখন শৌণক কহিলেন=*
*"স হোবাচানুপেতায়ৈব ত এতান্ ব্রুবানিতি।"*
*🍀তোমাকে উপনীত না করেই আমি এ সকল তোমাকে বলিব।*
*🌹এতে জানা যায়,তৎকালে উপনয়ন এক জীবনে কয়েকবার হত এবং উপনীত না করেও শিক্ষা দেওয়া হত।*
*🌺এর পর আরও একটি রহস্যের কথা আছে,তৎকালে শূদ্রগণেরও উপনয়ন বিধান ছিল।পারস্কর গৃহ্যসূত্রে হরিহর ভাষ্যধৃত আপস্তম্বসূত্রম্=*
*"শূদ্রাণা মদুষ্ট কর্মণামুপনয়নম্।*
*অদুষ্টকর্মণাং মদ্যপান-রহিতানামিতি কল্পতরুকার।"*
*🌹অর্থ্যাৎ অদুষ্ট-কর্ম শূদ্রের উপনয়ন করা কর্তব্য।মদ্যপান রহিতকে অদুষ্ট কর্ম বলা হয়, ইহা কল্পতরুকার ব্যাখ্যা করেছেন। বৈদিক সময়ে মদ্যপানাদি রহিত ও সদাচারী শূদ্রগণেরও উপনয়ন দিবার বিধান দেখা যায়।এই জন্য বেদে শূদ্রেরও অধিকার দেখা যায়, যজুর্বেদ মেঘ-মন্দ্রে গর্জন করে সমভাবে আচন্ডাল সকলের জন্য বিদ্বেষ বৈষম্যের অন্ধ-তমসা বিনষ্ট করে ঘোষণা করেছিলেন=*
*"যথেমাং বাচং কল্যাণী মাবদানি জনেভ্যঃ।*
*ব্রহ্ম রাজন্যাভ্যাং শূদ্রায় চার্য্যায় চ স্বায় চারণায়"।।*
*(যজু, ২৬|২)*
*🌻ভগবান বলছেন=আমি যেমন সমস্ত মানুষের জন্য এই পরম কল্যাণকারী ঋগ্বেদাদি বেদবাণীর উপদেশ দিচ্ছি,তোমরাও সেরকম ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ্য,শূদ্র,দাসদাসী ও অত্যন্ত নীচ ব্যক্তিকেও ইহার উপদেশ দিবে অর্থ্যাৎ অধ্যয়ন অধ্যাপনাদি করাবে।*
*আজ এই পর্য্যন্ত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
🔜 ক্রমাগত 👉 ১০৯. বৈষ্ণবের উপবীত ধারণ 👏 বৈষ্ণব বিবৃতি 🙏 শ্রীযুক্ত মধুসূদন তত্ত্ববাচস্পতি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/boisnob109.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
