✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
যুধিষ্ঠিরের স্বর্গারোহণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/05/blog-post_19.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাভারতের মহাবাণী শেষ হয়ে এল। আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব ও শ্রীকৃষ্ণের শোকে পান্ডবদের আর রাজ্য শাসনের কথা মনে ছিল না। যুধিষ্ঠিরের পরামর্শে সবাই ঠিক করলেন যে তাঁরাও মহাপ্রস্থানে যাবেন। দ্রোপদী জিদ ধরলেন-তিনিও সঙ্গে যাবেন। অগত্যা তাঁকেও সঙ্গে নিতে হল।প্রজাগণ বিলাপ করতে লাগলো। যুধিষ্ঠির তাদের প্রবোধ বাক্যে সান্ত্বনা দিলেন। পূর্বমুখে তাঁরা অগ্রসর হলেন।অগ্নিদেব এসে পথ রোধ করে দাঁড়ালেন-বললেন আমাকে কিছু খাদ্য দাও। অর্জুন তাঁর গাণ্ডীব ধনু,এবং সব দিব্যঅস্ত্র অগ্নিকে প্রত্যপণ করলেন।পান্ডুপুত্রগণ পুরোহিত ধৌম্যকে বিদায় দিয়ে লোভ,মোহ,কাম, ক্রোধ ইত্যাদিকে পরিহার করে শ্রীগোবিন্দ পদে মনঃসংযোগ করলেন। পরে পরীক্ষিতের হাতে রাজ্যভার অর্পণ করে স্বর্গপথে প্রয়াণ করিলেন।এইভাবে কত বন, কত পর্বত, কত নদী অতিক্রম করে মেঘনাদ পর্বতে গেলেন। সেখান থেকে তপস্বী মুনির আশ্রম দেখলেন - ভয়ঙ্কর নদ-নদী তাঁদের সামনে।বহু তপস্বী, কেউ পর্বত কন্দরে,কেউ বৃক্ষের কোটরে, কেউ নদীর তীরে, কেউ গঙ্গাতটে-নীরাহার ফলাহার কিম্বা বায়ু আহার করিয়া তপস্যা করছেন।
এরপর পান্ডবগণ গেলেন মেঘনাদ পর্বতে। সেখানে দানবদের যুদ্ধে পরাস্ত করিয়া তাঁরা কেদার পর্বতে আরোহণ করিলেন। এবারে পান্ডবেরা উত্তর মুখে চলিলেন। পথে এক ভীষণা রাক্ষসী তাঁদের পথ আটকালো। ভীম অবলীলাক্রমে রাক্ষসীকে নিপাত করলেন। পুনরায় পান্ডবগণ এলেন ভদ্রকালী পর্বতে। এখানকার কালীমূর্তি ভদ্রকালী নামে প্রসিদ্ধা। অতি ভক্তিসহকারে তাঁরা মায়ের পূজো করলেন, মা তুষ্ট হয়ে বললেন বর চাও- ধর্মরাজ জোড়হাতে বললেন
দেবী-এই ফর দাও যে,কলিকালে তুমি জাগ্রত থাকবে। দেবী বললেন- তথাস্তু। এরপর তাঁরা হরিপর্বতে এলেন
এইখানে হিমশীতলতায় দ্রোপদী কিছক্ষণের মধ্যেই দেহত্যাগ করিলেন। তাঁর মৃতদেহ কোলে নিয়ে পাঁচভাই বিলাপ করতে লাগলেন।এবারে ভীম প্রশ্ন করলেন-ধর্মরাজ!কোন পাপে দ্রোপদীর মৃত্যু হইল? তখন ধর্মরাজ বলিলেন-তবে শোন ভাই! পঞ্চ স্বামীর মধ্যে পার্থের প্রতি পাঞ্চালীর আকর্ষণ বেশী ছিল, এই পাপে পাঞ্চালীর মৃত্যু হইল।আবার শুরু হল পথ চলা।বদরিকাশ্রমে গিয়ে তাঁরা দেখা পেলেন অমর অশ্বথামার। বহুদিন পর মিলন হওয়াতে আনন্দের রোল উঠিল।অশ্বথামা বললেন-তোমরা এখানে থাকো। কিন্তু দ্রোপদীকে দেখছি না কেন? তিনি কোথায়? যুধিষ্ঠির বললেন-তিনি পথিমধ্যে দেহত্যাগ করেছেন।শুনে রোদন করতে লাগলেন অশ্বথামা।সেখানে কিছুকাল বিশ্রামের পর আবার যাত্রা শুরু হল।এবার বদরিকাশ্রমে সহদেবের মৃত্যু হল।ভীম প্রশ্ন করলেনকোন পাপে সহদেব ইহলোক ত্যাগ করিল? যুধিষ্ঠির বললেন-জ্যোতিষী রূপে ভাই সহদেবের ভূত, ভবিষ্যৎ, ও বর্তমান সবই জানা ছিল। পাশা খেলায় আমার হার হবে সে একথা জানতো, জেনেও সে আমাকে সতর্ক করিয়া দেয়নি। এই তার পাপ।এরপর তাঁরা এলেন চন্দ্রকালী পর্বতে।এখানে নকুলের মৃত্যু হল।পরবর্তী বিশ্রামাস্থল নন্দীঘোষ পর্বতে অর্জুনের মৃত্যু হল।পুনরায় ভীম প্রশ্ন করলেন যুধিষ্ঠিরকে তিনি বলিলেন যে, কর্ণের সঙ্গে যখন আমার যুদ্ধ হয়, তখন নকুল আমার কাছে ছিল।যখন আমি যুদ্ধ করে দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম, তাহা দেখেও নকুল আমার সাহায্যার্থে অগ্রসর হয়নি। এই তার পাপ।আর অর্জুনের পাপ হল, সে আমাকে যেরকম ভালবাসত তার চাইতেও বেশী ভালবাসতো পাঞ্চালীকে।আর সব কিছুকে হেয় জ্ঞান করতো এই ছিল তার পাপ।
এরপর চলতে চলতে সোমেশ্বর পর্বতে মৃত্যুবরণ করলেন ভীমসেন।হাহাকার করিয়া বিলাপ করতে লাগলেন ধর্মরাজ। এক এক করে স্মরণ করতে লাগলেন ভীমের বীরত্ব কাহিনী।তারপর তাঁর মনে হল, ভীমের মৃত্যু হল কেন? কী পাপ ছিল তাঁর?অমনি ধর্মরাজের মনে পড়ল, পৃথিবীর যাবতীয় খাদ্যবস্তুর উপর প্রচন্ড লোভ ছিল ভীমসেনের।ভক্ষ্য-দ্রব্য দেখলে তিনি আর স্থির থাকতে পারতেন না।লোভই হল তাঁর মৃত্যুর কারণ। এবার ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির একা। ধীরে ধীরে তিনি স্বর্গের পথে অগ্রসর হতে লাগলেন।গন্ধর্ব পর্বত আরোহণের সময় হিমালয়বাসী মুনি ঋষিগণ এক এক করে এসে দেখা করে যেতে লাগলেন। যুধিষ্ঠির প্রত্যেককে প্রণাম করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেন।এইভাবে চলতে চলতে যুধিষ্ঠির একদা স্বর্গের দ্বারদেশে গিয়ে উপনীত হলেন।দ্বারপাল গিয়ে দেবরাজ ইন্দ্রকে সংবাদ দিল। ইন্দ্র বললেন- আমি গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসছি। কিন্তু দেবরাজ ইচ্ছা হল - ধর্মরাজকে আর একবার পরীক্ষা করতে। ব্রাহ্মণের রূপ ধরে তিনি ধর্মরাজের সম্মুখে উপস্থিত হলেন।
ইতিমধ্যে কুকুরের রূপ ধরে স্বয়ং ধর্ম সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি কুকুরকে কামড়াতে গেলেন। ব্রাহ্মণহস্তের লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে প্রহার করলেন কুকুরকে। তখন কুকুর রূপী ধর্ম যুধিষ্ঠিরকে বললেন-ওহে পূণ্যবান পৃথিবীর রাজা!ব্রাহ্মণের দন্ড প্রহারে আমার যে প্রাণ যায়। তুমি ছাড়া আমাকে উদ্ধার করবার আর কেউ নেই।তখন রাজা যুধিষ্ঠির হাতজোড় করে ব্রাহ্মণকে বলিলেন- কুকুরটিকে এইভাবে প্রহার করবেন না প্রভু!রাজা যুধিষ্ঠিরের কথা শুনে ব্রাহ্মণের ক্রোধ আরো বেড়ে গেল।তিনি বললেন-- না, পূণ্যহীন কুকুরের অদ্য আমার হাতে পরিত্রাণ নাই। তখন যুধিষ্ঠির বলিলেন- বেশ আপনার কথায় হবে, তাহলে আমি আমার সঞ্চিত পূণ্যের অর্ধেক কুকুরকে দান করিলাম, আপনি কুকুরটির প্রাণ ভিক্ষা দিন।এইবার ধর্ম কুকুর রূপ দূরে রেখে নিজের রূপ পরিগ্রহ করিয়া - স্বীয় পরিচয় দিলেন।রাজা যুধিষ্ঠির তৎক্ষণাৎ লুটিয়ে পড়লেন তাঁর চরণে।ধর্ম বললেন- বৎস, তুমি আমার পুত্র।আমার ঔরসে কুন্তীর গর্ভে তোমার জন্ম। ততক্ষণে পাশে আর একজন এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর দিকে চেয়ে বললেন- ইনি দেবরাজ ইন্দ্র।ইনি রথ নিয়ে এসেছেন -- তোমাকে স্বর্গে নিয়ে যাবার জন্য।পদব্রজে অনেক ক্লেশ সহ্য করেছ বৎস।এবার রথে আরোহণ কর।দেবরাজের ইঙ্গিতে সারথি রথ নিয়ে এলো।সকলে তাহাতে আরোহণ করিয়া স্বর্গাভিমুখে অগ্রসর হলেন। স্বর্গপুরে বিরাট সম্বর্ধনার মধ্যে রাজা যুধিষ্ঠিরকে স্বাগত জানানো হইল।স্বয়ং নারায়ণ এলেন।কুশল জিজ্ঞাসা করায় ধর্মরাজ বলিলেন- পরীক্ষিতকে রাজ্যভার দিয়ে স্বর্গে আসছিলাম, পথে আমার চারভাই ও দ্রোপদীর মৃত্যু হইল।তাদের বিরহে শোকাচ্ছন্ন হয়ে আছি প্রভু। অতঃপর নারায়ণ যুধিষ্ঠিরকে নিয়ে শ্বেতদ্বীপে অগ্রসর হইলেন।দেখালেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে নিহত তাঁর ভাই, জ্ঞাতিভাই, বন্ধু, গুরু ও সৈন্যগণ - সকলেই সেখানে উপস্থিত। আছেন ভীষ্মদেব, দ্রোণ, কৃপা, শতভাই সহ দুর্য্যোধন, ধৃতরাষ্ট্র, শকুনি
ভীম, কুন্তী, মাদ্রী, দ্রোপদী, সহদেব, নকুল, গান্ধারী, ঘটোৎকচ,জয়দ্রথ, বিরাটরাজা, উত্তরা, অভিমন্যু, বিকর্ণ,
এবং অষ্টাদশ অক্ষৌহিণী।আর এক জায়গায় গিয়ে যুধিষ্ঠির যেন কান্না শুনতে পেলেন।সকলে যেন বলছেন--
অল্প পাপের জন্য আমরা ক্লেশ ভোগ করছি।তোমাকে দেখিয়া তাদের ক্লেশের অবসান হল। যুধিষ্ঠির সকলের কথা শুনছেন, কিন্তু নয়নে কাউকে দেখতে পাচ্ছেন না। তখন গোবিন্দকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করাতে তিনি বললেন-
তোমার নরক দরশন হল। যুধিষ্ঠির বললেন আমার কী পাপে এটি ঘটিল? গোবিন্দ বললেন তবে শোন- ভীষ্মকে মেরেছ সামনে শিখন্ডীকে রেখে, অশ্বথামা নামে হাতীর মৃত্যুকে উপলক্ষ্য করিয়া-( অশ্বথামা হত)বলিয়া দ্রোণকে হত্যা করা।(ইতিগজ) কথাটি নিম্ন কন্ঠে বলবার জন্য মহামতি দ্রোণ তাহা শুনতে পাননি।এইযে অন্ধকারের মধ্যে থেকে একটি আর্তস্বর ভেসে আছছে-- এতেই তোমার নরক দর্শন হল।তখন যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণের পদতলে পড়ে তাঁর স্তব করতে লাগলেন।যে চন্দ্রাতপের তলে বসে রাজা জন্মেজয় এই মহাভারতের কাহিনী শুনছিলেন, কাহিনী শেষ হলে দেখা গেল সেই কৃষ্ণবর্ণের চন্দ্রাতপ শ্বেতবর্ণ ধারণ করেছে।
#######################
অতি সংক্ষিপ্ত কয়েকটি কথার মাধ্যমে স্বর্গারোহণ তুলে ধরলাম।
ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়, জয় নিতাই।
*একটি তত্ত্ব* *কুরুক্ষেত্র সমরাঙ্গনে শ্রীভগবান্ তাঁর প্রিয়ভক্ত অর্জুনের নিকট* *বিশ্বরূপ দেখিয়ে বলেছিলেন*, *"দেবা অপাস্য রূপস্য নিত্যং দর্শনকাঙ্খিণঃ""*।
*অর্থ্যাৎ=দেবতাগণ পর্যন্ত আমার এই রূপ দর্শন করবার জন্য সর্বদাই আকাঙ্খিত*। *কিন্তু তাঁরা কেউই এ রূপ দেখতে পান না* *প্রেমবান ভক্ত ব্যতীত কেউই আমার এই রূপ-দর্শনের যোগ্যতা লাভ করতে পারে না*। *"ভক্ত্যা ত্বনন্যয়া শক্য অহমেবংবিধোহর্জুন।* *জ্ঞাতুং দ্রষ্টুঞ্চ তত্ত্বেন প্রবেষ্টুঞ্চ পরন্তপ*।।
*অর্থ্যাৎ হে অর্জুন!একমাত্র অনন্য ভক্তিযোগেই আমাকে এইভাবে জানতে, বা দেখতে এবং আমার লীলায় প্রবেশ করতে পারা যায়*।
*দামবন্ধন লীলা (কৃষ্ণের বাল্যলীলায়) পরিবেশন করা যাবে*।
*** কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ আরম্ভের পূর্বে কৌরব এবং পান্ডবের মনোমালিন্য দূর করে উভয়ের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করবার জন্য কৃষ্ণ একবার কুরুরাজ দুর্যোধনের কাছে গিয়েছিলেন।কৃষ্ণের আগমনের খবর পেয়ে দুর্যোধন,শকুনি, এবং দুঃশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে কৃষ্ণকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে কারাগারে রাখবার ব্যবস্থা করে রেখেছিল। কিন্তু কৃষ্ণ কুরুরাজসভায় উপস্থিত হলেই তাঁর বিভূত্ব শক্তি দুর্যোধনাদির সামনে এমন ভাবে কৃষ্ণের মূর্তির প্রকাশ করেছিলেন যে,তা দেখে দুর্যোধনাদি ভীত এবং চমকিত হয়ে কৃষ্ণকে বন্ধন করবার ইচ্ছা পরিত্যাগ করেছিল। বহির্মুখ দুর্যোধন দ্বেষবুদ্ধিতে কৃষ্ণকে বন্ধন করতে ইচ্ছা করেছিল বলিয়া বিভূত্ব শক্তি সেখানে দুর্যোধনকে ভীত ও চমকিত করে বন্ধনসংকল্প হতে নিরস্ত করেছিল।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
