শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

১২১. পুনর্ম্মিলন ও নীলাচলে আগমন 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramanamda121.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ১২০. পুনর্ম্মিলন ও নীলাচলে আগমন 👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda120.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১২১. পুনর্ম্মিলন ও নীলাচলে আগমন 👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramanamda121.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২১)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা*
 *পুনর্ম্মিলন ও নীলাচলে গমন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹শ্রীশ্রীমহাপ্রভু পুরুষোত্তমে (নীলাচলে)প্রত‍্যাগত(ফিরে আসিলে) পুরুষোত্তমবাসী ভক্তগণ তাঁর সাক্ষাৎ দর্শনের জন্য তৃষিত (পিপাসাযুক্ত)চাতকের মতো উৎকণ্ঠিত হলেন।শ্রী সার্বভৌম ভক্তবৃন্দকে মহাপ্রভুর পরিচিতি করিয়ে দিলেন।এই সময়ে শ্রীরামরায় মহাশয়ের পিতা তাঁর অপর চারপুত্রকে নিয়ে মহাপ্রভুর শ্রীচরণতলে দন্ডবৎ প্রণত হয়ে পড়লেন। সার্বভৌম বললেন ইনি শ্রীভবানন্দ রায়, আপনার প্রিয়তম শ্রীরামরায়ের পিতা।আর এই চারজন ইনার পুত্র। মোট পাঁচ সহোদর।রামরায় সর্বজ‍্যেষ্ঠ। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷হেন কালে আইলা তথা ভবানন্দ রায়।*
*🌷চারি পুত্র সঙ্গে পড়ে মহাপ্রভুর পায়।।*
*🌷সার্বভৌম কহে এই রায় ভবানন্দ।*
*🌷ইহার প্রথম পুত্র রায় রামানন্দ।।*
*🌹মহাপ্রভু সার্বভৌমের মুখে শ্রীভবানন্দের পরিচয় পেয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করে বললেন=
*🌷রামানন্দ হেন রত্ন যাঁহার তনয়*।
*🌷তাঁহার মহিমা লোকে কহিলে না হয়।।*
*🌷সাক্ষাৎ পান্ডু তুমি তোমার পত্নী কুন্তী।*
*🌷পঞ্চপুত্র পান্ডব তোমার পাঁচ পুত্র মহামতি।।*
*🍀দ্বাপর যুগ-লীলায় ভবানন্দ যে পান্ডুরাজা ছিলেন মহাপ্রভু এই কথা দ্বারা তাহাঁই প্রকাশ করলেন।*
*🌻বৃদ্ধ শ্রীভবানন্দ মহাপ্রভুর মুখে এই প্রশংসা কথা শুনে দীন বিনীতভাবে বললেন--, আমি শূদ্র, বিষয়ী ও জীবাধম, আপনি সাক্ষাৎ শ্রীভগবান, আপনি যে জীবাধমকে স্পর্শ করলেন,এটি আপনারই দয়া।আমার বাড়ীঘর, বিষয়-আশয়,ভৃত‍্য পুত্রাদি সহ আমি আপনার ঐ পতিতউদ্ধারণ রাতুলচরণে আত্মসমর্পণ করিলাম।আমরা ও আমাদের যা কিছু আছে, সে সকলই আপনার। যথা শ্রীচরিতামৃত=*
*🌷রায় কহে আমি শূদ্র বিষয়ী অধম।*
*🌷মোরে স্পর্শ তুমি, এই ঈশ্বর লক্ষণ।।*
*🌷নিজগৃহ বিত্তভৃত‍্য পঞ্চপুত্র সনে।*
*🌷আত্মসমর্পিনু আমি তোমার চরণে।।*
*🌹ফলে যিনি রামারায়ের মতো পুত্ররত্নের পিতা,এটি তাঁরই উপযুক্ত কথা।রায় ভবানন্দ কেবল এই কথা বলে ক্ষান্ত হলেন না।তিনি নিজের পুত্র শ্রীমান্ বিণীনাথকে শ্রীগৌরহরির পরিচারকরূপে নিযুক্ত করে দিয়ে বললেন=*
*🌷এই বাণীনাথ রহিবে তোমার চরণে।*
*🌷যবে যেই আজ্ঞা সেই করিবে সেবনে।।*
*🌷আত্মীয় জ্ঞান করি সঙ্কোচ না করিবে।*
*🌷যেই হবে ইচ্ছা তোমার,সেই আজ্ঞা দিবে।।*
*🌳শ্রীভবানন্দ রায় মহাশয় বংশানুক্রমে পুরুষোত্তমে অতি সম্ভ্রান্ত ব‍্যক্তি ; ইনি রাজমন্ত্রী সুপন্ডিত শ্রীরামানন্দের পিতা।বাণীনাথ এই সমৃদ্ধশালী অতি সম্ভ্রান্ত বংশের আদুরে ছেলে,বাণীনাথের সেবার জন্য হয়ত দুই চারজন পরিচারক ছিল। কিন্তু রায় ভবানন্দ মহাপ্রভুর পরিচর্য‍্যার জন্য নিজের সেই স্নেহের ধন উৎসর্গ করে দিলেন ; দিয়ে বললেন,প্রভো! তোমার যখন যা মনে হয়,বাণীনাথকে বলিও। রামানন্দকে কৃপা করে বন্ধু বলে গ্রহণ করেছ, তারজন‍্য কোন সঙ্কোচ করিও না।বাণীনাথকে তোমার শ্রীচরণ সেবার দাসরূপে নিযুক্ত করে দিলাম।তুমি যখন যা বলবে,বাণী শুনামাত্র অমনি সেই কাজ করবে।*
*🌹প্রভু বললেন,তুমি তো আমার পর নও, যে সঙ্কোচ করব? শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌹প্রভু কহে কি সঙ্কোচ?নহ তুমি পর।*
*🌹জন্মে জন্মে তুমি আমার সবংশ কিঙ্কর।।*
*🌺ব‍্যাপার দেখেন, ভক্তের নিকট মহাপ্রভুর আত্মপ্রকাশ কেমন সরলতামাখা, কেমন সুস্পষ্ট।কেউ কেউ মনে করেন, সময় বিশেষে মহাপ্রভু নিজকে ঈশ্বর বলিয়া প্রকাশ করতেন, সে ভাব অস্বাভাবিক। পাঠক দেখুন, এখানে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই।শ্রীভবানন্দের সঙ্গে গৌরহরি সরল ভাবে কথা বরতে বরতে প্রকাশ করলেন ঃ--*
*🌷জন্মে জন্ম তুমি আমার সবংশ কিঙ্কর।*
*🌻এই কথা শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যরূপ সন্ন‍্যাসীর কথা নয়,এই কথা সাক্ষাৎ শ্রীভগবানের।শ্রীরাম রায়ের পিতা অতি সরল ভক্ত,তাঁর প্রাণ সবল ভক্তিতে পরিপূর্ণ।মহাপ্রভু তাঁর সঙ্গে ছল বা কোন কথার গোপন করতে পারেন না।তাই স্পষ্ট কথায় বলে দিলেন "তুমি জন্মে জন্মেই সবংশে আমার কিঙ্কর"।তোমরা আমার নিত‍্যদাস।প্রতি জন্মেই তোমরা আমার পরিচারক।বাণীনাথ যে কেবল এই জন্মে আমার সেবার নিযুক্ত হল তা নয়,সে চিরদিনই আমার পরিচারক।সঙ্কোচ করব কেন?তোমরা কি আমার পর?*
*🌹শ্রীভবানন্দ প্রাকৃত মানুষ।তাঁর জাতিস্বরা বিদ‍্যা ছিল না ; পূর্ব জন্মে তিনি কে ছিলেন,তা তিনি জানেন না।মহাপ্রভু বুঝিয়ে দিলেন,ভবানন্দ রায় জন্মে জন্মেই তাঁর দাসত্ব করে আসছেন।তিনি চমৎকৃত ও স্তম্ভিত হয়ে মহাপ্রভুর শ্রীমুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।ভবানন্দ ভেবে ছিলেন যে বাণীনাথকে বুঝি একটি অতি হিতকর অভিনব কাজে নিযুক্ত করে দিলেন ; কিন্তু মহাপ্রভুর কথায় বুঝলেন তিনি সবংশে তাঁর পুরাতন ভৃত‍্য,জন্ম জন্মেই তাঁরা শ্রীগৌরহরির পরিচর্য‍্যা করে আসছেন, এতে নূতন কিছুই নাই,মহাপ্রভুরও কোন সঙ্কোচের বিষয় নাই।পুরাতন আজ্ঞাবহ পরিচারকের প্রতি আজ্ঞা করতে কে সঙ্কোচ করে?বৃদ্ধ ভবানন্দ অপ্রতিভ(লজ্জিত) হয়ে মহাপ্রভুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।*
*🌻মহাপ্রভু আরও বললেন=*
*🌷দিন সাত পাঁচ ভিতর আসিবে রামানন্দ।*
*🌷তার সঙ্গে পূর্ণ হবে আমার আনন্দ।।*
*🌹এই কথা বলে ভবানন্দরায়কে দৃঢ়রূপে আলিঙ্গন করলেন,তাঁর পুত্রগণ মহাপ্রভুর শ্রীচরণতলে লুটিয়ে পড়লেন।ভবানন্দ এইভাবে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ নিকটে বিদায় নিয়ে তিন পুত্রসহ গৃহে গমন করলেন,শ্রীমান্ বাণীনাথকে গৌরহরি কাছে রাখলেন।এর কয়েক দিন পরে শ্রীরায় রামানন্দ রাজধানীতে উপস্থিত হলেন-----।*
*🦚শ্রীচৈতন‍্যচরিত মহাকাব‍্যে শ্রীল রামরায়ের পুরুষোত্তমে আগমন সম্বন্ধে আর একরকম বর্ণনা দেখতে পাওয়া যায়।তার মর্ম এই যে মহাপ্রভু পুরুষোত্তমে পৌঁছিয়ে কিছুদিন অন্তরে শ্রীরামরায়কে আনয়ন করার জন্য পুনর্বার বিদ‍্যানগরে গমন করেন এবং সেখানে চার মাসকাল অতিবাহিত করে রামরায় সহ হেমন্তকালে ফিরে আসেন, যথা=*
*হেমন্তকালে তথৈব তেন সমং সমন্তাৎ করুণাং বিচিন্বন্।*
*সমাবষৌ ক্ষেত্রবরং বরীয়ান্,জানাতু কস্তচ্চরিতং বিচিত্রম্।।*
               *(১৩ সর্গ ৬০|৬১ শ্লোক)*
*🌻এই বিষয়ে কবিকর্ণপুরের এই কথার সঙ্গে শ্রীচরিতামৃতের মত-বৈষম‍্য দেখা যায়।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রী কর্ণপুরের গ্রন্থ উত্তমরূপেই পাঠ করেছিলেন,এমন কি তিনি এই মহাকাব‍্য হতে অনেক ঘটনা সংগ্রহ করে নিজ গ্রন্থে তা লিপিবদ্ধ করেছেন।মহাপ্রভু যে ভবানন্দকে পান্ডুরাজার তুল‍্য বলে অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন, শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাঠক তা পাঠ করেছেন। শ্রীকবিকর্ণপুরের মহাকাব‍্যেও ঐ কথার উল্লেখ আছে, যথা=*
     *🙏আগামী পর্বে*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ১২২. পুনর্ম্মিলন ও নীলাচলে আগমন 👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda122.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৮৫. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori85.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৮৪. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori84.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৮৫. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori85.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*🙏শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🙏কৃষ্ণপ্রেমে পাগল এই পুরীগোস্বামী সন্ন‍্যাসী তিনি এতভাবে শ্রীগোপালের কৃপা পাওয়া সত্ত্বেও সদাসর্বদা অশ্রুসজল নয়নে "হা মথুরানাথ কবে আমি তোমার শ্রীচরণ দর্শন পাব! তোমার অদর্শনে আমার হৃদয় মন বড়ই কাতর--, তোমার বিরহ ক্ষণিকের জন‍্যও আমি সহ‍্য করতে পারছি না"। এইভাবে সদাসর্বদা হা হুতাশ করে বিলাপ করিতেন।অতি প্রিয়জনের কাছে যেরকম সাধারণ মানুষ কামনা করে এবং সদাসর্বদা তার সঙ্গ সুখ চায় সেইরকম পুরী গোস্বামীও তাঁর দয়িত (প্রিয়)ইষ্টদেবের অদর্শনে সবসময়ই ব‍্যাকুলতা প্রকাশ করে হা হুতাশ করিতেন। আর যেন উদভ্রান্তের মতো অর্থ‍্যাৎ আপন ভোলা পাগলের মতো দিন কাটাতেন।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী নিজেই বলেছেন=*
*🌹তাঁর ঠাঁই গোপালের লুকা কিছু নাই।*
*🌻কিন্তু তথাপি এই পাওয়ার কোন শেষ নেই। এই আক্ষেপ বা অনুশোচনা সকলের পক্ষেই সমভাবে প্রযোজ‍্য। সেহেতু মহাপ্রয়াণ কালেও তিনি নিচর এই স্তবটি পাঠ করতে করতে অঝোর নয়নে কাঁদতে কাঁদতে শেষ নিশ্বাস ত‍্যাগ করেন, যথা=*
*💧অয়ি দীনদয়ার্দ্রনাথ,হে মথুরানাথ,কদা অবলোক‍্যসে,*
*💧হৃদয়ং তদলোক কাতরং দয়িত ভ্রাম‍্যতি কিং করোম‍্যহম্।*
*🌻এই উপলক্ষ্যে কিছু প্রসঙ্গ এখানে উল্লেখ করি। আমাদের এই বৈষ্ণব জগতের মূল এবং মধ‍্যমণি হচ্ছেন এই মাধবেন্দ্রপুরী গোঁসাই যিনি হচ্ছেন মহাপ্রভুর পরমগুরুদেব। কৃষ্ণভক্তির এ প্রেমভক্তির প্রধান উৎস হচ্ছেন এই মহাপুরুষ।কারণ যে মহাপ্রভু, আমাদের আরাধ‍্য দেবতা, (হ‍্যাঁ এই কলিযুগের একমাত্র আরাধ‍্য দেবতা করুণাময় পতিতপাবন শ্রীমন্মহাপ্রভু)আর,ইনি হচ্ছেন তাঁর গুরুদেবের গুরুদেব এবং সেই হিসাবে তিনি সর্বজন পূজ‍্য এবং সর্বজন আরাধ‍্য।এই মহাপুরুষের শেষ জীবন যাপিত হয় রেমুনায় এবং এখানেই তাঁর স্থূল সমাধি বিদ‍্যমান।*
*🙏এই পুরী গোস্বামীর ভক্তিময় জীবন কাহিনী প্রসঙ্গ আর বিশেষ কিছু অধম লেখকের জানা নাই। কিন্তু তথাপি মহাপ্রভু সন্ন‍্যাস গ্রহণ করে পুরীধামে গমন কালে তিনি এই রেমুনাতে অবস্থান করেন এবং সকল সঙ্গীদেরকে তাঁর পরমগুরুদেবের প্রসঙ্গ শ্রবণ করিয়েছিলেন, এই প্রসঙ্গটি শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী মহাশয় তাঁর শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে যেভাবে পরিবেশন করেছেন তা সাধক ভক্তের চিত্তে দেয় অপার আনন্দ আর শ্রদ্ধায় মস্তক অবনত হয় সেই মহাপুরুষের শ্রীচরণতলে। সেইজন‍্য শ্রীচরিতামৃতের কিছু পয়ার নিচে দেওয়া হল যা মহাপ্রভু নিজ শ্রীমুখে ব‍্যক্ত করেছিলেন।কবিরাজ গোস্বামী তাঁর ঐশী শক্তির মাধ‍্যমে এই প্রসঙ্গ পয়ারের মাধ‍‍্যমে তা আমাদের নিকট প্রকাশ করেছেন।এর দ্বারাই প্রমাণিত হবে  যে এই সিদ্ধ পীঠস্থানের কি মহিমা এবং তা আমাদের কাছে কত পূজ‍্য হওয়া উচিৎ।🌹ত্রেতাযুগের সেই গোপীনাথজীর বিগ্রহ দর্শন করিলে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়, কারণ এরূপ লাবণ‍্যময় শ্রীবিগ্রহ সচরাচর দর্শন করা যায় না। কিন্তু এই পাষাণ বিগ্রহের মহিমা দ্বিগুণভাবে বর্দ্ধিত হয়েছে এই মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামীর দ্বারা। সেজন‍্য ভগবান নিশ্চয়ই তার ভক্ত সেবায় জনগণের আগ্রহ দর্শন করলে প্রীত হবেন এটিই মনের দৃঢ় বিশ্বাস।মহাপ্রভু রেমুনাতে বসে যা প্রসঙ্গ করেছিলেন তা শ্রীচরিতামৃতকারের ভাষায় শ্রবণ করুন।*
*🌷প্রভু কহে নিত‍্যানন্দ করহ বিচার।*
*🌷পুরী সম ভাগ‍্যবান জগতে নাহি আর।।*
*🌷দুগ্ধ দান ছলে কৃষ্ণ যারে দেখা দিল।*
*🌷তিনবার স্বপ্নে আসি যাঁরে কৃপা কৈল।।*
*🌷যাঁর প্রেমে বশ হইয়া প্রকট হইলা।*
*🌷সেবা অঙ্গীকার করি জগৎ তারিলা।।*
*🌷যাঁর লাগি গোপীনাথ ক্ষীর চুরি কৈলা।*
*🌷কর্পূর চন্দন যাঁর অঙ্গে চড়াইলা।।*
*🌷ম্লেচ্ছদেশে কর্পূর চন্দন আনিতে জঞ্জাল।*
*🌷পুরী দুঃখ পাবে ইহা জানিয়া গোপাল।।*
*🌷মহা দয়াময় প্রভু ভকত বৎসল*।
*🌷চন্দন পরি ভক্ত শ্রম করিল সফল।।*
*🌹মাধবেন্দ্রপুরী বিরাম পর্ব আগামীকাল*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪

*জেনো স্বীয় কর্ম দোষে,গুরু পুত্র হেথা আসে,*
    *কালপ্রান্তে আসিয়াছে তোমার সদন।*
*মোর আদেশে এখন,কর তারে আনয়ন,*
    *তাহার কারণে মোর হেথা আগমন।।*
*কন যবে নারায়ণ,যমরাজ সেইক্ষণ,*
   *গুরুপুত্রে তাঁর কাছে করে আনয়ন।*
*রাম হরি অতঃপর,চলে অবন্তী নগর,*
   *অবশেষে গুরুগৃহে উপনীত হন।।*
*পুত্রে তাঁর করে দিয়া,তিরপিত দোঁহা হিয়া,*
   *পুনঃ তারে লভি মুনি আনন্দে আকুল।*
*দক্ষিণা বাঞ্জিত যাহা,দিয়াজ গুরুকে তাহা,*
   *আমার ভাগ‍্যের যে গো নাহি হয় তুল।।*
          🦚🦚🦚🦚🦚🦚

*(৮৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*🙏শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷

*🌷প্রগাঢ় প্রেমের এই স্বভাব আচার।*
*🌷নিজ দুঃখ বিঘ্নাদিক না করে বিচার।।*
*🌷এই তার গাঢ় প্রেম লোকে দেখাইতে।*
*🌷গোপাল তাঁরে আজ্ঞা দিলা চন্দন আনিতে।।*
*🌷বহু পরিশ্রমে চন্দন রেমুনা আনিল।*
*🌷আনন্দ বাড়িল মনে দুঃখ না গণিল।।*
*🌷পরীক্ষা করিতে গোপাল কৈল আজ্ঞাদান।*
*🌷পরীক্ষা করিয়া শেষে হৈল দয়াবান।।*
*🌷এই ভক্ত,ভক্তি প্রিয় কৃষ্ণ ব‍্যবহার।*
*🌷বুঝি তিঁহো যো সবার নাহি অধিকার।।*
*🌷এত কহি পড়ে প্রভু তাঁর কৃত শ্লোক।*
*🌷যেই শ্লোক চন্দ্রে জগৎ করেছে আলোক।।*
*🌷ঘষিতে ঘষিতে যৈছে মলয়জ সার।*
*🌷গন্ধ বাড়ে তৈছে এই শ্লোকের বিচার।।*
*🌷রত্নগণ মধ্যে যৈছে হয় কৌস্তুভ মণি।*
*🌷রসবাক‍্য মধ্যে তৈছে এই শ্লোক গণি।।*
*🌷এই শ্লোক কহিয়াছেন রাধা ঠাকুরাণী।*
*🌷তাঁর কৃপায় স্ফুরিয়াছে মাধবেন্দ্রাণী।।*
*🌷কিবা গৌরচন্দ্র ইহা করে আস্বাদন।*
*🌷ইহা আস্বাদিতে অধিকারী নহে চৌঠজন।।*
*🌷শেষ কালে এই শ্লোক পড়িতে পড়িতে।*
*🌷সিদ্ধি প্রাপ্তি হইল পুরীর শ্লোকের সহিতে।।*
*🌷পুরীর প্রেম পরাকাষ্ঠা করহ বিচার।*
*🌷অলৌকিক প্রেম চিত্তে লাগে চমৎকার।।*
*🌷পরম বিরক্ত মৌনী সর্বত্র উদাসীন।*
*🌷গ্রাম‍্যবার্তা ভয়ে দ্বিতীয় জনসঙ্গহীন।।*
*🌷হেনজন গোপালের আজ্ঞামৃত পাইয়া।*
*🌷সহস্র ক্রোশ আসি বুলে চন্দন মাঁগিয়া।।*
*🌷ভুখা রহে তবু অন্ন মাঁগিয়া না খায়।*
*🌷হেন জন চন্দন ভার বহি লঞা যায়।।*
*🌷অনেক চন্দন তোলা বিশেষ কর্পূর।*
*🌷গোপালে পরাবে এই আনন্দ প্রচুর।।*
*🌷সঙ্গে এক বট নাহি খাটি দান দিতে।*
*🌷তথাপি উৎসাহ মনে চন্দন লইতে।।*
*🌻এর পর মহাপ্রভু স্বয়ং সেই পুণ‍্য শ্লোক পুনঃপুনঃ আবৃত্তি করে সকলকে শোনালেন কারণ এই শ্লোকই ছিল তাঁর পরম গুরুদেবের শেষ জীবনের সর্বক্ষণের জপ তপ ধ‍্যান ধারণা এবং তার সঙ্গে প্রেমাশ্রু বরিষণ।এই শ্লোকের ভাবার্থ আগেই বলা হয়েছে, সেজন‍্য আর পুনরাবৃত্তি করব না। যথা=*
*অয়ি দীনদয়ার্দ্রনাথ,হে মথুরানাথ কদা অবলোক‍্যসে,*
*হৃদয়ং তদলোক কাতরং দয়িত ভ্রাম‍্যতি কিং করোম‍্যহম্।*
*🍀এই শ্লোক আবৃত্তি করবার পর মহাপ্রভুর কি দশা হল তা শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর ভাষায় শুনুন।*
*🌷এই শ্লোক পড়িতে প্রভু মূর্চ্ছিত হইলা।*
*🌷প্রেমেতে বিবশ হইয়া ভূমিতে পড়িলা।।*
*🌷আস্তে ব‍্যস্তে কোলে করি নিল নিত‍্যানন্দ।*
*🌷ক্রন্দন করিয়া তবে উঠে গৌরচন্দ্র।।*
*🌷প্রেমোন্মাদ হইল উঠি ইতি উতি ধায়।*
*🌷হুঙ্কার করয়ে প্রভু হাসে নাচে গায়।।*
*🌻এটিই হল এই মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রসঙ্গ  এবং আগ্রহী ভক্তগণ বালাশোরের অন্তর্গত রেমুনাতে গমন করে তাঁর সমাধি মন্দির দর্শন করতে পারেন।কারণ এই পুণ‍্য ক্ষেত্রেই তাঁর স্থূল সমাধি বিদ‍্যমান।পরম ভাগবদ্ রামদাস বাবাজী মহারাজের ভাষায় সমস্ত সমাধি ক্ষেত্রই চিরপ্রকট এবং সেখানে গমন করে অন্তরের ভক্তি অর্ঘ‍্য নিবেদন করলে তাঁরা ঠিকই তা শোনেন কারণ বৈষ্ণবদেহ চিন্ময়।*
*🙏এই রেমুনাতেই আবার ক্ষীরচোরা গোপীনাথ বিগ্রহ বিদ‍্যমান সুতরাং এক যাত্রায় উভয় পীঠস্থানই দর্শন হবে।*
*🙌জয় শ্রীগোপীনাথজী কি জয়*
*🙌জয় শ্রী মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী কি জয়*
*🙌জয় শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী কি জয়*
*🙌জয় শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু কি জয়*
*🙌জয় শ্রীনিত‍্যানন্দ প্রভু কি জয়*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৮৬. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori86.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৮৪. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori84.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৮৩. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori83.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৮৪. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori84.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*🙏শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
*********************************
*👣প্রকৃত বৈষ্ণবগণ নাম,যশ, প্রতিষ্ঠাকে বড়ই ভয় করেন, সেহেতু পরদিন লোক তাঁর সম্বন্ধে সব জেনে তাঁর জয় জয়কার করে তা তিনি মোটেও চান না, তাই ভেবে তিনি রাত্রির অন্ধকারে রেমুণা পরিত‍্যাগ করে শ্রীক্ষেত্র অভিমুখে রওনা হলেন।অদ‍্যাপি সেই রেমুনায় সেই শ্রীবিগ্রহ অতীতের গৌরবময় ঐতিহ্যকে বহন করে বিরাজমান। আগ্রহী ভক্তগণ একবার দর্শন করিলে মনে অপার আনন্দলাভ করবেন।ধন‍্য, ধন‍্যাতিধন‍্য মাধবেন্দ্রপুরী যাঁকে মর্য‍্যাদা দিবার জন্য পাষাণ বিগ্রহ এই মহিমা প্রকাশ করেছিলেন।(আমরা কথায় কথায় "ভক্ত" শব্দটি ব‍্যবহার করে থাকি, তাইনা?প্রকৃত ভক্ত কেমন হওয়া উচিৎ নিশ্চয়ই আর বেশী কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না)। যাইহোক, সুতরাং বিগ্রহ যে শুধু পাষাণ প্রতিমা নহেন এবং প্রকৃত ভক্তের কাছে তিনি সদা জাগ্রত এটির প্রত‍্যক্ষ প্রমাণ রেমুনার এই "ক্ষীর চোরা গোপীনাথ"। যাঁর মাধ‍্যমে শ্রীমন্মহাপ্রভুর পরমগুরুর মহিমা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর একটি পয়ার ভক্তগণের কাছে অতীব শিক্ষণীয় এবং সাধন জগতের সহায়ক ঃ-----*
*🌷প্রতিষ্ঠার স্বভাব এই জগতে বিদিত।*
*🌷যে না বাঞ্জে তার হয় বিধাতা নির্ম্মিত।।*
*🌷প্রতিষ্ঠার ভয়ে পুরী গেলা পলাইয়া।*
*🌷কৃষ্ণপ্রেমে প্রতিষ্ঠা চলে সঙ্গে গড়াইয়া।।*
*🌹মানুষ যদি সত‍্যই নিঃস্বার্থ, নির্লোভ,মন এবং মুখকে এককরে ভগবানের কর্ম করেন, তাহলে তাঁকে লাভ যশ প্রতিষ্ঠার জন্য অভিনয় করতে হবে না, লাভ যশ প্রতিষ্ঠা সেই মন এবং মুখ এককরা মানুষটির পেছন পেছন ঘুরে বেড়াবে।*
*🌻যাইহোক,অতঃপর পুরী গোস্বামী নীলাচলে উপস্থিত হয়ে ভক্তগণ সমীপে বৃন্দাবনের শ্রীগোপালের জন্য মলয়জ চন্দন সংগ্রহের কথা নিবেদন করলেন।ধামবাসী ভক্তগণ এই পরম বৈষ্ণবের মনোবাঞ্জা পূরণের জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই চন্দন কাষ্ঠ,সঙ্গে কর্পূর জোগাড় করে দিলেন এবং ঘাটী ও দানিদের অত‍্যাচার এড়াবার জন্য রাজার কাছ হতে রাজলেখা সংগ্রহ করে তাঁকে দিলেন। সেই বৃদ্ধ বৈষ্ণবের কষ্টের ভার লাঘবের জন্য এক বিপ্রকেও সঙ্গে দিলেন।ভাবলে অবাক লাগে যে এই সুদীর্ঘ পথ চলা বন জঙ্গলের মধ‍্য দিয়ে কতই দুষ্কর, তার উপরে এক বৃদ্ধ বৈষ্ণবকে এক বোঝা চন্দন কাঠ মাথায় করে চলতে হচ্ছে!প্রভুর কৃপা হলে সবই সম্ভব মাধবপুরী সত‍্যবদ্ধ কারণ তাঁর গোপাল তাঁকে কৃপা করবেন বলিয়াই স্বপ্নে বলেছিলেন যে মাধব! তোমাকে নিজেকেই যেতে হবে, কারণ মাধব না গেলে রেমুনায় এই লীলা সঙ্ঘটিত হত না।শ‍্যামানন্দ প্রভুকে যেরকম নিধুবনে ঝাড়ু সেবার কার্য‍্য না দিলে তো তিনি মহাপ্রেমময়ী মহাভাবস্বরূপিনী রাধা ঠাকুরাণীর কৃপা প্রাপ্ত হতেন না।সেইরকম তাঁর ইষ্টদেব তাঁর ভক্তের মহিমা জীবজগতে প্রচার করবার নিমিত্ত তাঁকেই যেতে আদেশ করেছিলেন। এটি যে কত সত‍্য তা রেমুনার পরবর্তী ঘটনার মধ‍্য দিয়েই স্পষ্টভাবে বুঝা যাবে।*
*🌲মলয়জ চন্দন সংগ্রহ করে ফিরবার পথে তিনি পুনরায় রেমুনায় আগমন করেন।এইবার রেমুনাবাসী সকলে তাঁকে যথেষ্ট মর্য‍্যাদা দিলেন কারণ গোপীনাথজীর ক্ষীর চুরির প্রসঙ্গ সকলে শুনেছিলেন বটে, কিন্তু যাঁর জন্য চুরি করেছিলেন সেই মহাত্মার সঙ্গে তখনও পর্যন্ত তাঁদের সাক্ষাৎ দর্শন হয়নি।মাধবপুরীও গোপীনাথজীকে দর্শন করে প্রাণে অপার আনন্দ লাভ করলেন এবং সেই রাত্রেই বৃন্দাবনের গোপালজী তাঁকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে কহিলেন যে মাধব তোমাকে কষ্ট করে এই মলয়জ চন্দন তুমি এই রেমুনাই গোপীনাথজীর শ্রীঅঙ্গে লেপন করো এবং তাতেই আমার অঙ্গতাপ দূর হবে।কারণ গোপীনাথ আর আমি একই স্বরূপ  সুতরাং মনে কোন দ্বিধা করিও না, আমি তোমার নিষ্ঠা পরীক্ষার জন্য তোমাকে এই আদেশ করেছিলাম এবং এখন আবার এই আদেশ এবং এখন আবার এই আদেশ করছি তা দ্বিধাহীন ভাবে পালন করো। শ্রীচরিতামৃতে পায়=*
*⚪শেষ রাত্রি হইল পুরী দেখিল স্বপন।।*
*🌷গোপাল আসিয়া কহে শুন হে মাধব।*
*🌷কর্পূর চন্দন আমি পাইলাম সব।।*
*🌷কর্পূর সহিত যদি এসব চন্দন।*
*🌷গোপীনাথের অঙ্গে নিত‍্য করহ লেপন।।*
*🌷দ্বিধা না ভাবিও না করিহ কিছু মনে।*
*🌷বিশ্বাস করি চন্দন দেহ আমার বচনে।।*
*🪷তখন পুরী গোসাঞী তাঁর স্বপ্ন বৃত্তান্ত গোপীনাথের সেবকের কাছে ব‍্যক্ত করলে সেবক এবং পূজারী সকলেই মাধবের উপর গোপীনাথের এই কৃপার দ্বিতীয় নিদর্শনে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন এবং রেমুনাবাসী সকলেই তখন রেমুনাকে দ্বিতীয় বৃন্দাবন ধাম হিসাবে করতে গণ‍্য করতে লাগলেন।এটি যে সঠিক সিদ্ধান্ত সে বিষয়ে কারও কোন দ্বিধা থাকা উচিৎ নহে কারণ ব্রজধামের অধীশ্বর হচ্ছেন গোপালজী এবং তিনি তাঁর প্রিয় ভক্তকে বলেছেন যে রেমুনার গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে মলয়জ চন্দন লেপন করলেই তাঁর অঙ্গতাপ দূর হবে  সুতরাং সে হিসাবে রেমুধাকে দ্বিতীয় বৃন্দাবন ভাবে গণ‍্য অসমীচীন নহে।তখন সকলে গোপীনাথজীর মহিমা বেশ ভাল ভাবে উপলব্ধি করলেন। পুরী গোসাঞী দুইজন টহলিয়া (চৌকিদার)(এখানে চৌকিদার বলতে সে পাহারাদার নহে,চন্দন ঘষিবার জন‍্য বলা হয়েছে )নিয়োগ করলেন নিত‍্য সেবার চন্দন ঘষিবার জন্য।মনের আনন্দে সেই মলয়জ চন্দন গোপীনাথজীর শ্রীঅঙ্গে লেপন করা হতে লাগল।ভাগ‍্যবান মাধবের আনন্দের আর সীমা নেই, কারণ এই ঘটনা পর্যন্ত তিনি পরপর তিন তিনবার গোপালের স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন।সুতরাং পরমার্থ জীবনের জন্য যে ব‍্যাকুলতা তিনি তাঁর প্রিয়শিষ‍্য কমলাক্ষের কাছে ব‍্যক্ত করেছিলেন তা আশাতীত ভাবে পূরণ হল।মাধবেন্দ্রপুরী তখন চন্দন সেবার সুব‍্যবস্থা করে গ্রীষ্মকাল অন্তে পুনরায় পুরীধাম গমন করলেন। এর পর তাঁর সাধন জগতের আর বিশেষ কোন ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না। পরিশেষে এই রেমুনাতে তিনি গোপীনাথের চরণতলে শেষ নিশ্বাস ত‍্যাগ করেন এবং এইভাবে বৈষ্ণব কুলচূড়ামণি এই মহাসাধক মহাভক্তের মহাপ্রয়াণ হয়।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣

*সাগরের বাক‍্য হরি,তখন শ্রবণ করি,*
   *ক্রোধে তিনি জলমধ‍্যে ত্বরা করি যান।*
*সেথা সেই দৈত‍্য হেরি,লন তারে প্রাণ হরি,*
   *উদরেতে গোরু পুত্রে দেখিতে না পান।।*
*শঙ্খাসুর দেহ হ'তে,উৎপন্ন সে শঙ্খ হাতে,*
   *করিলেন আরোহণ রথে ভগবান।*
*বলরাম জ‍্যেষ্ঠ ভ্রাতা,অপেক্ষায় রন সেথা,*
   *তাঁরে ল'য়ে সংযমনী পুরী পানে যান।।*
*পৌঁছে সেই যমপুরী,বাজালেন শঙ্খ হরি,*
   *শুনি যম আসি করে দোঁহারে পূজন।*
*সকল জীবের তুমি,আশ্রয় করেন স্বামী,*
   *অবনীর ভার যত করেছ হরণ।।*
*তোমরা যে ভগবান,ভক্তকে করিতে ত্রাণ,*
    *মায়াতে মানব রূপ করিলে ধারণ।*
*মম বাসে আগমন,কহ প্রভু কি কারণ,*
    *বল তুমি কিবা কার্য‍্য সাধিব এখন।।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪷🪔🪔🪔🪔🪔🪔
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৮৫. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori85.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৮৩. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori83.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৮২. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori82.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৮৩. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori83.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
  *শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
   <><><><><><><><><><><><>
*🌻শ্রীচরিতামৃতে এই প্রসঙ্গে লেখা আছে যে=*
*🌹সন্ধ‍্যায় ভোগ লাগে অমৃত কেলি নাম।*
*🌹দ্বাদশ মৃৎ পাত্র ভরি অমৃত সমান।।*
*🌹গোপীনাথের ক্ষীর বলি প্রসিদ্ধি যাহার।*
*🌹পৃথিবীতে ঐছে ভোগ কাঁহা নাহি আর।।*
*🌻এই প্রসঙ্গে জানা দরকার যে শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী অযাচক বৃত্তি অবলম্বনে দিন যাপন করতেন।মাগিয়া বা ভিক্ষা করে তিনি কখনও নিজ আহার্য‍্য সংগ্রহ করতেন না।প্রকৃত ভক্তের যোগক্ষেম ভগবান স্বয়ং নিজেই বহন করেন এবং এই ভাবেই তিনি তাঁর ভক্তকে চিরকাল রক্ষা করেন।অমৃতকেলি ভোগের নাম শুনে এইরকম যে পুরী গোস্বামীর মনে হঠাৎ বাসনা হল যে কি এমন ক্ষীর প্রসাদ যে তাঁর মাহাত্ম্য এমন হতে পারে।এইরকম ক্ষীর প্রসাদ যদি তাঁর ভাগ‍্যে একটু জুটিত তাহলে তিনি তা আস্বাদন করে বৃন্দাবনে তাঁর শ্রীগোপালজীকে তা ভোগ দিতেন। অর্থ‍্যাৎ প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপালজীকে ভোগ দেওয়া নিজে পাওয়া নহে। কিন্তু এইরকম লালসা বা বাসনা জাগ্রত হওয়া অযাচক বৃত্তি অবলম্বনকারী সাধু বৈষ্ণবের নিকট নীতি বিরুদ্ধ এবং সেইজন‍্য তিনি আত্মগ্লানিতে পীড়িত হতে লাগলেন। অবশেষে মন্দিরের ভোগরাগ সমাপ্ত হয়ে গেলে তিনি কৃষ্ণনাম জপ করতে করতে রাত্রির অন্ধকারে কাছেই একটি হাটে বা বাজারে বসে ধ‍্যানমগ্ন অবস্থায় রাত্রি কাটাতে লাগলেন।মনের এই গুপ্ত বাসনা আর কেউ জানতে পারলেন না, কিন্তু যিনি জানবার তিনি ঠিকই জেনেছিলেন এই জন‍্যই ভগবানের আরেক নাম ভাবগ্রাহী জনার্দন।এদিকে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে গেল।মন্দিরের সেবা পূজা সমাপ্ত  করে সেবক বিগ্রহের নিত‍্য নৈমিত্তিক কার্য‍্যকলাপ সমাপ্ত করে গভীর নিশিতে নিদ্রামগ্ন। হঠাৎ তিনি স্বপ্নাবেশে দেখলেন যে স্বয়ং গোপীনাথজী তাঁর শিয়রে দাঁড়িয়ে থেকে বলছেন যে ঃ----*
*🌷উঠহ পূজারী করো দ্বার উন্মোচন।*
*🌷ক্ষীর এক রাখিয়াছি সন্ন‍্যাসী কারণ।।*
*🌷ধড়ার অঞ্চলে ঢাকা ক্ষীর এক হয়।*
*🌷তোমরা না জানিলে তাহা আমার মায়ায়।।*
*🌷মাধবপুরী সন্ন‍্যাসী আছে হাটেতে বসিয়া।*
*🌷তাঁহাকে তো এই ক্ষীর শীঘ্র দেহ লইয়া।।*
*🌻গভীর নিশীথে এইরকম অস্বাভাবিক স্বপ্নদেশ পেয়ে পূজারী শয‍্যা ত‍্যাগ করে স্নান করে শুদ্ধাচারে মন্দিরের দরজা খুললেন।মনে প্রচণ্ড আলোড়ন কারণ যে স্বপ্ন তিনি দেখেছেন তার বাস্তবতা কতখানি তা প্রত‍্যক্ষ করবার জন্য।যাই হোক, তিনি তখন দেখলেন যে গোপীনাথজীর পীতধড়ার নিচে এক ভান্ড ক্ষীর প্রসাদ লুকিয়ে রেখেছেন এবং তিনি চিত্ত প্রসাদে ও আত্মতৃপ্তিতে ভরপুর হয়ে গেলেন কারণ এতদিনে তিনি তাঁর গোপীনাথ সেবার প্রকৃত উপহার প্রাপ্ত হলেন।তখন সেই ক্ষীর প্রসাদ মস্তকে ধারণমাত্র তাঁর সর্বাঙ্গে অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব বিকার পরিলক্ষিত হল এবং তিনি গোপীনাথজীর অপার করুণার কথা স্মরণ করে ভাবাবেশে রোদন করতে লাগলেন।তখন তিনি স্বপ্নাদেশ পালনের জন্য সেই ক্ষীর ভান্ড মাথায় ধারণ করে কাছের সেই হাটে গেলেন, এবং কে মাধবপুরী তা খোঁজ করতে লাগলেন।এই প্রসঙ্গে শ্রীচরিতামৃতের কিছু বর্ণনা আস্বাদন করুন।*
*🌷ক্ষীর লহ এই যার নাম মাধবপুরী।*
*🌷তোমার লাগি গোপীনাথ ক্ষীর কৈল চুরি।।*
*🌷ক্ষীর লইয়া পুরী তুমি করহ ভক্ষণে।*
*🌷তোমা সম ভাগ‍্যবান নাহি ত্রিভবনে।।*
*🌲পুরী গোঁসাই তখন গভীর রাত্রে অন্ধকারের মধ্যে নির্জন সেই হাটের এক প্রান্তে বসে নামানন্দে বিভোর, বাহ‍্যজ্ঞান নেই।কিন্তু হঠাৎ তাঁর নিজ নাম কর্ণে শোনা মাত্র তিনি নিজ পরিচয় প্রদান করলে সেবক সেই ক্ষীর চুরির অপূর্ব প্রসঙ্গ সব তাঁকে বললেন এবং তাঁর শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম করে অপ্রাকৃত সেই ক্ষীর পুরী গোসাঞীকে সমর্পণ করলেন।ক্ষীর প্রসাদ স্পর্শ মাত্র পুরী গোঁসাই এর বাহ‍্যজ্ঞান বিলুপ্ত হল।প্রভুর অপার করুণার কথা স্মরণ করে প্রেমাবেশে অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলেন।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর ভাষায় তাঁর অবস্থা অনেকটা এইরকম=*
*🌷স্বেদ কম্প পুলক অশ্রু গদগদ বৈবর্ণ‍্য।*
*🌷উন্মাদ বিষাদ ধৈর্য‍্য গর্ব্ব হর্ষ দৈন‍্য।।*
*🌷এই ভাবে প্রেমা ভক্তগণেরে নাচায়।*
*🌷কৃষ্ণের আনন্দামৃত সাগরে ভাসায়।।*
*🌹পরে বাহ‍্যজ্ঞান প্রাপ্ত হলে মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী সেই ক্ষীর প্রসাদ মস্তকে ধারণ করে কিঞ্চিৎ আস্বাদন করে প্রায় পাগলের ন‍্যায় তাঁর সর্ব অঙ্গে লেপিতে লাগলেন। অবশেষে সেই মৃৎপাত্রটি টুকরো টুকরো করে তাঁর বহির্বাসে বেন্ধে নিলেন।পূজারী সব দেখে শুনে অবাক। ভক্তের প্রতি ভগবানের কৃপার এতবড় দৃষ্টান্ত খুবই বিরল।সেই হতেই এই শ্রীবিগ্রহের নূতন নামকরণ হয় "ক্ষীরচোরা গোপীনাথ"।*
         🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৮৪. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori84.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৮২. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori82.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৮১. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori81.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৮২. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori82.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
  *🙏শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

*🔷যে কোন ভক্তের সাধন ভজন জীবনে এটি অপেক্ষা চরম উপহার আর কি হতে পারে?শ্রীভগবান নিজ শ্রীমুখে বলেছেন যে, আমি তোমার সেবা ছাড়া অন‍্য কারও সেবা গ্রহণ করিব না।তুমি আমায় এই বন জঙ্গলের মধ‍্য হতে উদ্ধার করে আমায় প্রকট করে দ্বাপর যুগের সেই শ্রীকৃষ্ণ মহিমা বিস্তার করো যাতে এই দিব‍্য-চিন্তামণি-ধাম বৃন্দাবন মহিমা কলিযুগে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হয়।মাধব!আমিই তোমাকে নিজহাতে দুগ্ধ পান করিয়েছি কিন্তু আমার বৈষ্ণবী মায়াতে তুমি আমার স্বরূপ বুঝতে পারো নাই। সেজন‍্য এখন তোমাকে তা বুঝিয়ে দিলাম।এই প্রসঙ্গেও শ্রীচরিতামৃত হতে কিঞ্চিৎ উদ্ধৃত করা হল, আস্বাদন করুন=*
*🌷স্বপ্নে দেখে সেই বালক সম্মুখে আসিয়া।*
*🌷এক কুঞ্জে লইয়া গেলা হাতেতে ধরিয়া।।*
*🌷কুঞ্জ দেখাইয়া কহে কুঞ্জে আমি রই।*
*🌷শীত বৃষ্টি দাবাগ্নিতে বড় দুঃখ পাই।।*
*🌷গ্রামের লোক আনি আমায় কাড় কুঞ্জ হইতে।*
*🌷পর্বত উপরে লইয়া রাখ ভালমতে।।*
*🌷বহুদিন তোমার পথ করি নিরীক্ষণ।*
*🌷কবে আসি মাধব আমায় করিবে সেবন।।*
*🌷এত বলি সে বালক অন্তর্দ্ধান হইল।*
*🌷জাগিয়া মাধবপুরী বিচার করিল।।*
*🌷কৃষ্ণকে দেখিনু মুঞি নারিনু চিনিতে।*
*🌷এত বলি প্রেমাবেশে পড়িলা ভূমেতে।।*
*🌷ক্ষণেক রোদন করি মন কৈল স্থির।*
*🌷আজ্জা পালন লাগি হইয়া সুস্থির।।*
*🌻অতঃপর তিনি শ্রীকৃষ্ণের আদেশ পালনের জন্য ব্রজবাসীগণের কাছে স্বপ্নের বৃত্তান্ত বলে তাঁদের সহায়তায় সেই পর্বতের উপরে নিবিড় বন জঙ্গল হতে শ্রীগোপাল বিগ্রহ উদ্ধার করলেন।সেখানেই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে ঠাকুর প্রতিষ্ঠা করলেন।শ্রীকৃষ্ণের শ্রীঅঙ্গে তৈল মার্জন করে গোবিন্দ কুন্ডের শীতল জলে তাঁকে স্নান করালেন এবং যথারীতি শৃঙ্গার করে চন্দন তুলসী পুষ্পমাল‍্য দিয়ে শ্রীগোপালের অভিষেক করে নানাবিধ উপচারে শ্রীগোপালকে ভোগ নিবেদন করলেন।ভোগ নিবেদনের পর ভক্তদের মধ্যে সেই প্রসাদ বিতরণের জন্য সবই পূর্বমত পুনঃ স্থাপনা করলেন।এই প্রসঙ্গে শ্রীচরিতামৃতে লেখা রয়েছে যে =*
*🌷অনেক ঘট ভরি দিল সুশীতল জল।*
*🌷বহুদিনের ক্ষুধায় গোপাল খাইল সকল।।*
*🌷যদ‍্যপি গোপাল সব অন্ন ব‍্যঞ্জন খাইল।*
*🌷তাঁর হস্ত স্পর্শে অন্ন পুনঃ তৈছে হইল।।*
*🌷ইহা অনুভব কৈল শ্রীমাধব গোঁসাই।*
*🌷তাঁর ঠাঁই গোপালের লুকা কিছু নাই।।*
*🌳এইভাবে গোপালের যে ভোগ হয়েছিল তাকে অন্নকূট উৎসব বলা হয়।অন্নকূট কথাটির অর্থ হচ্ছে স্তূপীকৃত রাশি রাশি অন্ন অর্থ‍্যাৎ যেন অন্নের পাহাড়।সেই হতে ব্রজধামে অন্নকূট উৎসব প্রচলন হয়।ভক্তিমান ভক্তিমতি ব্রজবাসীগণ এই উপলক্ষ্যে তাঁদের আরাধ‍্য গোপালকে নানারকম উপচারে ভোগ নিবেদন করেন এবং শুধু বৃন্দাবনেই নহে ভারতের বিভিন্ন বৈষ্ণব মন্দির বা আশ্রমে অতীব জাঁকজমকের সঙ্গে এই অন্নকূট উৎসব পালিত হয় যার মাধ‍্যমে গোপাল সেবার উৎসব  পুরীগোস্বামীর মহিমাই বেশী কীর্তিত হয়।এইভাবে ব্রজবাসীগণ দিনের পর দিন মহা সমারোহের সহিত নিত‍্য গোপাল সেবার ভোগ দিতে লাগলেন।সকলের গোপাল সেবার আগ্রহ দেখে পুরী গোসাঞী বিধান দিলেন যে এক একদিন এক একগ্রামে এই সেবার অধিকারী হবেন।ব্রজবাসীগণ প্রাণভরে গোপাল সেবা দিতে লাগলেন মাধবপুরী নামক এক মহাবৈষ্ণব গোপাল প্রকট করেছেন এই সংবাদ সারা ব্রজমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ল।মাধবেন্দ্র পুরী গোপালের সেবা দিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভরপুর, কারণ এতদিনে তিনি তাঁর ইষ্টদেবের দেখা এবং কৃপা পেয়েছেন। দিনের পর দিন শ্রীগোপালের রাজসেবা চলতে লাগল, এই সময় গৌড়দেশ হতে আগত দুইজন নিষ্কিঞ্চন বৈষ্ণবের হাতে নিত‍্যসেবার ভার সমর্পণ করে তিনি নিজে সাধন ভজনে নিমগ্ন হলেন।*
*🌹শ্রীগোপালজী শুধুমাত্র একবার কৃপা করেই ক্ষান্ত হলেন না, কারণ তিনি চান তাঁর প্রিয় ভক্ত মাধবের মহিমা আরও প্রকট করতে।সেই জন্য তিনি পুনরায় তাঁকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বললেন, মাধব!তুমি আমার সেবা প্রকাশ করেছ বটে, কিন্তু বৃন্দাবনের দারুণ গ্রীষ্মে আমি বড়ই কষ্ট পাচ্ছি, আমার এই তাপ নিবারণের জন্য একমাত্র মলয়জ চন্দন সংগ্রহ করে আনো।বৃদ্ধ মাধব এইরকম প্রত‍্যাদেশ পেয়ে সেবার দায়িত্ব সেবককে বুঝিয়ে দিয়ে চললেন পদব্রজে নীলাচল অভিমুখে, তাঁর প্রাণপ্রিয় ঠাকুরের সুখবিধান জন্য এই যাত্রা কালে তিনি শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্য‍্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তারপরে রেমুণা হয়ে পুরীধাম গমন করেছিলেন।এই প্রসঙ্গে শ্রীচরিতামৃতের কিছু পয়ার দেওয়া হল।*
*🍀একদিন পুরী গোসাঞী দেখিল স্বপন-----------------*
*🌷গোপাল কহে পুরী আমার তাপ নাহি যায়।*
*🌷মলয়জ চন্দন লেপ তবে সে জুড়ায়।।*
*🌷মলয়জ আন গিয়া নীলাচল হইতে।*
*🌷অন‍্য হইতে নহে,তুমি চলহ ত্বরিতে।।*
*🌷স্বপ্ন দেখি পুরী গোসাঞী হইল প্রেমাবেশ।*
*🌷প্রভু আজ্ঞা পালিবারে চলিলা পূর্বদেশ।।*
*🌷শান্তিপুর আইলা শ্রীঅদ্বৈতের ঘরে।*
*🌷পুরীর প্রেম দেখি আচার্য‍্য আনন্দ অন্তরে।।*
*🌻অতঃপর তিনি বালাশোরের অন্তর্গত রেমুনাতে গোপীনাথ মন্দির দর্শন করবার জন্য রেমুনা গ্রামে গমন করলেন। 🌹এখানেই অধিষ্ঠিত ত্রেতাযুগের শ্রীরামচন্দ্র কর্তৃক গঠিত শ্রীগোপীনাথ বিগ্রহ।🌹*
*🌺এই জাগ্রত বিগ্রহের অনেক কাহিনী তিনি শুনেছিলেন কিন্তু এতদিন দর্শনের সৌভাগ্য হয়নি। গোবিন্দ গোপীনাথ তাঁর অন্তরে সদা জাগ্রত কিন্তু তথাপি রেমুনার গোপীনাথ বিগ্রহ যে ভাবে উদার হস্তে তাঁর উপর কৃপার বারি বর্ষণ করেছিলেন সেরূপটি বোধহয় তাঁর ভাগ‍্যে আর হয়নি।তিনি রেমুনাতে পৌঁছিয়ে প্রাণ ভরে গোপীনাথজীকে দর্শন করলেন এবং নৃত্য গীত করে জগমোহনে বসে পূজারীর কাছ হতে সেবার সব কাহিনী শুনতে লাগলেন।সেবক তখন তাঁর মহিমা কিছুই জানতেন না। তিনি আর পাঁচজনের মতো তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা করে বললেন যে এই মন্দিরের সর্বাপেক্ষা বিশেষত্ব হচ্ছে "অমৃতকেলি" ক্ষীর ভোগ যা প্রত‍্যহ দ্বাদশ (১২) মাটির পাত্রে সমর্পণ করা হয় এবং তিনি এও বললেন যে পৃথিবীতে কোথাও এইরকম ভোগ হয় না।*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৮৩. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori83.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৮১. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori81.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৮০. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori80.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৮১. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori81.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
   *শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
*😭দিনের পর দিন চলতে থাকে ভক্তের আকুতি এবং শ্রীকৃষ্ণদর্শন লালসা।হা কৃষ্ণ,কোথা কৃষ্ণ বলিয়া তিনি পাগলের মতো হয়ে গেলেন।আহার বিহারে কোন তাগিদ নেই।কারণ তিনি মাধুকরী বৃত্তি অবলম্বন করতেন না এবং অযাচক বৃত্তি অবলম্বনে সাধন সমুদ্রে ভাসমান থাকতেন।ভক্তের ভগবান ভক্তের কাছে ধরা দিবার জন্য সদা প্রস্তুত।তিনি যখন দেখেন যে ভক্ত তাঁকে ছাড়া আর কাউকেও চান না,দেহ মন প্রাণ সব তাঁর রাতুল চরণে সমর্পণ করেছে তখনই কৃপার বাতাসে তাঁর জীবনকে মধুময় করে তোলেন।এইরকম অযাচক (তিনি কারও কাছে কিছু চাইতেন না, স্বেচ্ছায় কিছু দিলে কেবল দুগ্ধ ছাড়া অন‍্য কিছু পান করতেন না )বৃত্তি অবলম্বনে অনাহারে,অনিদ্রায় তিনি যখন ভজনে আবিষ্ট, তখন ভক্তের ক্ষুধা তৃষ্ণা নিবারণের জন্য শ্রীকৃষ্ণ ভগবান স্বয়ং একদিন গোপবালক বেশে একভান্ড দুগ্ধ নিয়ে তাঁকে খাওয়াতে এলেন এবং বললেন যে,হে ঠাকুর!তুমি দিনের পর দিন অনাহারে রয়েছ, তাই তোমার জন্য এই দুধ নিয়ে এসেছি তুমি পান করো।পুরী গোস্বামী অবাক বিস্ময়ে সেই গোপবালককে জিজ্ঞাসা করলেন যে তিনি অভুক্ত, একথা তুমি কেমনভাবে জানতে পারলে?তখন গোপবালক বললেন, যে ব্রজমাইগণ জল আনবার সময় আপনাকে দেখে তাঁদের মনে হয়েছিল যে আপনি অভুক্ত, তাই আমার হাত দিয়ে এই একভান্ড দুধ পাঠিয়ে দিল।ঠাকর তুমি পান করো, আমি বড় ব‍্যস্ত গোধন চারণে,দুধ দোহন করা নানান কাজে আমি ব‍্যস্ত। আমি যাই তুমি ধীরে ধীরে দুধ পান করো,আমি পরে এসে ভান্ড নিয়ে যাব।পুরী গোস্বামী অবাক বিস্ময়ে সেই বালকের রূপ সৌন্দর্য পান করছিলেন আর ভাবছিলেন যে কৃপাময়ী রাধারাণীর কি অপার করুণা যে তার ক্ষুণ্ণিবৃত্তির জন্য (ক্ষুধা নিবারণের জন্য ) গোপবালকের মাধ‍্যমে দুধ পাঠিয়ে দিয়েছেন।এই প্রসঙ্গে শ্রীচরিতামৃতে পাওয়া যায়।*
*🌷গোপবালক এক দুগ্ধ ভান্ড লইয়া।*
*🌷আগে আসি ধরি কিছু বলিলা হাসিয়া।।*
*🌷পুরী এই দুগ্ধ লইয়া কর তুমি পান।*
*🌷মাঁগি কেন নাহি খাও কিবা কর ধ‍্যান।।*
*🌷বালকের সৌন্দর্য্যে পুরীর হইল সন্তোষ।*
*🌷তাঁহার মধুর বাক‍্যে গেলা ভোগ শোষ।।*
*🌷পুরী কহে কে তুমি কাঁহা তোমার বাস।*
*🌷কেমনে জানিলে আমি করি উপবাস।।*
*🌷বালক কহে গোপ আমি এই গ্রামে বসি।*
*🌷আমার গ্রামেতে কেহ না রহে উপবাসী।।*
*🌷কেহ মাঁগি খায় অন্ন কেহ দুগ্ধাহার।*
*🌷অযাচক জনে আমি দিয়ে তো আহার।।*
*🌻ইত‍্যাদি সব বৃত্তান্ত শুনে মাধবপুরীর মনে বড় আনন্দ হল এবং তিনি দুধ পান করে ভান্ডটি রেখে আবার ভজনে আবিষ্ট হলেন। কিন্তু সেই গোপ বালক আর আসিলেন না। কাজেই ভান্ডটি তাঁর কাছেই  থেকে গেল। ভগবান কখন কাকে কিভাবে কৃপা করেন তার কোন বিধিবদ্ধ নিয়ম নেই কারণ তিনি প্রয়াসলভ‍্য নহেন প্রসাদলভ‍্য।*
*🌺অবশেষে শেষ রাত্রিতে পুরী গোস্বামী তন্দ্রার মাধ‍্যমে স্বপ্ন দেখলেন যে সেই গোপবালক তাঁর হাত ধরে পর্বতের উপরে এক বৃহৎ বনানীর মধ্যে তাঁকে নিয়ে গেলেন এবং বললেন যে হে মাধব!আমি বড়ই কষ্টে আছি।যবনদের নিগ্রহ হতে আমাকে রক্ষা করবার জন্য সেবক আমাকে এই জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। তার ফলে আমার কষ্টের শেষ নাই।না হয় আমার সেবা, না হয় আমার স্নান, না হয় আমার ভোগ। আমিি হচ্ছি শ্রীকৃষ্ণের পৌত্র বজ্রনাভ কর্তৃক স্থাপিত শ্রীগোপাল বিগ্রহ এবং আমার আরেক নাম গোবর্দ্ধনধারী। আমি শুধু তোমার পথ চেয়ে বসে আছি যে কবে আমার মাধব বৃন্দাবনে আসবে এবং কবে আমায় উদ্ধার করবে কারণ আমি মাধবের সেবা ভিন্ন বর্তমানে অন‍্য কারো সেবা গ্রহণ করব না।আমাকে তুমি প্রকট করো আমি আর কষ্ট সহ‍্য করতে পারছি না।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪

*মহাবীর বলরাম,নন্দের নন্দন শ‍্যাম,*
   *করেন তথাস্তু বলি রথে আরোহণ।*
*উপনীত তারা ধীরে,প্রভাস সাগর তীরে,*
   *তবে সেথা রন  বসি দোঁহে কিছুক্ষণ।।*
*সাগর তাদের হেরি,আসি সেথা ত্বরা করি,*
  *করে নানা উপচারে দোঁহারে পূজন।*
*ভগবান নারায়ণ,সাগরেরে তবে কন,*
   *শীঘ্র মোর গুরু পুত্রে কর আনয়ন।।*
*তারে করেছে হরণ,তুলি তরঙ্গ আপন,*
   *এবার ফিরিয়ে দাও গুরুর নন্দন।*
*কৃষ্ণের বচন শুনি,কহে সাগর তখনি,*
   *সত‍্য কহি আমি তারে করিনি হরণ।।*
*শোন কহি জনার্দন,নাম তার পঞ্চজন,*
   *শঙ্খ রূপে রহিয়াছে জলের মাঝার।*
*হয় মোর অনুমান,সেই দুষ্ট হরে প্রাণ,*
    *অতএব নাই দোষ ইহাতে আমার।।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🦜🌷🌷🌷🌷🌷🌷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৮২. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori82.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৮০. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori80.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৭৯. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori79.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৮০. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori80.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
   *শ্রীপাদ্ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌹যে কথা পূর্বেই বলা হয়েছে শ্রীহট্টের পূর্ণিপাট গ্রামে এক ধর্মপরায়ণ ব্রাহ্মণবংশে তাঁর জন্ম হয়  এবং তিনি ছিলেন বারেন্দ্র শ্রেণীর ব্রাহ্মণ।উপনয়ন সংস্কারের পর এই বালককে চতুষ্পাঠীতে ভর্তি করে দেওয়া হয়। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সব শাস্ত্র আয়ত্ত করে ফেলেন যা দেখে তার শিক্ষক বা আচার্য‍্যগণ বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে যান।এইভাবে তিনি সর্ব শাস্ত্রে বিপুল জ্ঞানার্জন করেন এবং ক্রমে যৌবনকালে পূর্বজন্মের সংস্কার বলে ভগবদ্ প্রেমের বিকাশ ঘটতে থাকে।বেদ,বেদান্ত,ভাগবদ্ ইত্যাদি হিন্দুধর্মের সুপ্রাচীন গ্রন্থ সমূহ অধ‍্যয়ন করে তৎকালীন শ্রীহট্ট তথা পূর্ববঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাঁর প্রতিভার আলোক ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় মাধবেন্দ্রপুরী অধ‍্যাপনার মাধ‍্যমে বেশ অর্থও উপার্জন করতে লাগলেন এবং পুত্রের যৌবনকাল সমাগত দেখে মাতাপিতা তাঁর বিবাহ দিবার সিদ্ধান্ত নেন। এইভাবে তিনি সংসার আশ্রমে আবদ্ধ হন।ক্রমে এই বিবাহের ফলে তাঁর একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে যাঁর নাম বিষ্ণুদাস*।
*🔵সাধারণতঃ মনে হয় যে কৃষ্ণ প্রেমের আকর মাধবেন্দ্রপুরী,যিনি হচ্ছেন শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর গুরুদেব তিনি বোধহয় কখনও সংসারী জীবন যাপন করেন নাই কিন্তু তা প্রকৃত তথ‍্য সত‍্য নহে। কিন্তু তাঁর পরবর্তী জীবন পর্য‍্যালোচনা করলে দেখা যায় যে এই বিবাহ এবং সন্তান জন্মের মাধ‍্যমে তাঁর ভক্তিময় জীবনের উন্মেষ ঘটেছিল।অর্থ‍্যাৎ পুত্রের জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর পত্নীবিয়োগ হয় এবং ধীরে ধীরে সংসার জীবনের প্রতি তাঁর বীতস্পৃহা (আকাঙ্ক্ষারহিত) বা অনীহা জন্মে। তিনি এই নাবালক পুত্রকে সঙ্গে করে গঙ্গাতীরে বাস করবার মানসে বঙ্গদেশের কুমার হট্টের সন্নিকটে (বর্তমান কামারহাটী) বিষ্ণুগ্রামে আগমন করে এক চতুষ্পাঠী খুলে অধ‍্যাপনার কাজে নিজেকে নিয়োগ করেন এবং এই সময়ে তাঁর কৃষ্ণভক্তির বিকাশ দর্শন করে শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী তাঁর শিষ‍্যত্ব গ্রহণ করেন কারণ তাঁর আদি নিবাসও ছিল এই অঞ্চলে। অতঃপর শ্রীহট্টের লাউড় গ্রামের এক তরুণ ছাত্র (কমলাক্ষ)তাঁর ভক্তিশাস্ত্রের পান্ডিত‍্য এবং শাস্ত্রজ্ঞানে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর চতুষ্পাঠীতে ভর্ত্তি হন। ক্রমে তাঁর শিষ‍্যত্ব গ্রহণ করেন।এই কমলাক্ষই হচ্ছেন মহিবিষ্ণুর অবতার শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য।কমলাক্ষকে দর্শন করা মাত্র মাধবেন্দ্রপুরী তাঁর মধ্যে অনন‍্য সাধারণ গুণাবত্তার পরিচয় প্রাপ্ত হলেন এবং তাঁর সূক্ষ্মদৃষ্টির দ্বারা  সাগ্রহে এবং সানন্দে তাঁকে নিজ কোলে স্থান দিলেন।অধ‍্যাপনা কালে কৃষ্ণপ্রেমের অফুরন্ত পিপাসা তাঁর মধ্যে ধীরে ধীরে জেগে উঠতে থাকে এবং তখন আর তাঁর বিষ্ণুগ্রামে থেকে অধ‍্যাপনা করতে মন চাইল না। সেজন‍্য প্রিয়শিষ‍্য কমলাক্ষের কাছে নিজপুত্র বিষ্ণুদাসকে সমর্পণ করে মায়ার বন্ধন হতে নিজেকে চিরতরে মুক্ত করে দক্ষিণ ভারত পরিক্রমায় বাহির হয়ে পড়লেন।*
*🦚বিদায় বেলায় গুরু-শিষ‍্যের সংলাপ বড়ই করুণ এবং হৃদয়গ্রাহী।তিনি বিষ্ণুদাসকে কমলাক্ষের হাতে সমার্পণ করে কহিলেন যে বাবা!কৃপাময় ভগবান তোমাকে আমার সান্নিধ্যে এনে দিয়েছিলেন।বিষ্ণুদাস আমার নাবালক সন্তান ওর দেখাশোনার সব দায়িত্ব তোমার উপর রইল। আমি চলিলাম এক নব জীবনের সন্ধানে।মনের গোপন বাসনা কন্থাকরঙ্গধারী হয়ে বেড়িয়ে পরব এবং কোনদিন যদি আমার ইষ্টদেবের দর্শন মেলে তখনই আবার আসিব।*
*🙏গুরুদেবের এই মনোবাঞ্জা শুনে কমলাক্ষের শিরে যেন বজ্রাঘাত হ'ল এবং তিনি অশ্রুসজল কন্ঠে রোদন করতে লাগলেন।শিষ‍্যের এই অবস্থা দেখে গুরুদেব তাঁকে সান্ত্বনা দিবার ছলে বললেন যে, বাবা! আমার মত অভাগার জন্য তোমার এই নয়নবারি শোভা পায় না।🌹কাঁদতেই যদি হয়  তবে কলির এই হতভাগা কৃষ্ণবহির্মুখ জীবের জন্য কাঁদ,যাতে তিনি (ভগবান) আবির্ভূত হয়ে জীব উদ্ধার কার্য‍্য সম্পাদন করেন।কমলাক্ষ তখন গুরুদেবের কথা শুনে কিছু  শান্ত হয়ে কহিলেন গুরুদেব!কলির জীবের কি এই ভাগ‍্য হবে?তখন তাঁকে আশ্বাসবাণী প্রদান করে তিনি বললেন হ‍্যাঁ বাবা, তাঁর আসবার সময় হয়ে গেছে। পৃথিবী আজ পাপে পরিপূর্ণ,ধর্মের গ্লানিতে ভরপুর, সেইজন‍্য গীতার বাণী সত‍্যতা প্রকটের সময় আগত প্রায়। সেই জন্য তাঁর আবির্ভাবকে বাস্তবে রূপায়িত করবার জন্য আমি তিল-তুলসী হাতে নিয়ে ভারতের তীর্থে তীর্থে কাঁদতে বেরোচ্ছি আর তুমিও তুলসী-গঙ্গাজলের দ্বারা তাঁর জন্য কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা জানাও।এই সমস্ত গোপন কথা প্রিয়শিষ‍্য কমলাক্ষকে বলে তিনি তাঁকে নানারকম প্রবোধ দিয়ে কৌপীন ও বহির্বাস সম্বল করে দক্ষিণ ভারত মুখে যাত্রা করেন।🍀আমরা গঙ্গাজল ও তুলসী দ্বারা অদ্বৈতাচার্য‍্যের যে প্রার্থনার কথা জানি তার মূল হোতা হচ্ছেন শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী। গুরুবাক‍্য শিরোধার্য‍্য করে তিনি সাধন পথে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। যে কথা বৈষ্ণব পদাবলীতে পাওয়া যায়।*

*আঁখি মুদি রহে, প্রেমে নদী বহে,*
        *বসন তিতিল ঘামে।।*
*নিজ প্রভু মনে,        ঘন গরজনে,*
      *উঠে জোড়ে জোড়ে লম্ফ।*
*ডাকে বাহু তুলি,কাঁদে ফুলি ফুলি,*
       *দেহে বিপরীত কম্প।।*
*অদ্বৈত হুঙ্কারে,  সুরধূনীর তীরে,*
       *আইলা নাগর রাজ।*
*তাহারই পিরীতে, আইলা তুরিতে,*
        *উদয় নদীয়া মাঝ।।*
*🪷এইভাবে প্রিয় শিষ্য কমলাক্ষের উপর যৌথ-দায়িত্ব অর্পণ করে মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণে বাহির হন। উপরিউক্ত ঘটনাবলীর মধ‍্য দিয়ে কৃষ্ণপ্রেমের উন্মাদনায় পুনরায় নবদ্বীপে প্রত‍্যাগমন করেন এবং অবশেষে মনস্থ করেন যে কৃষ্ণপ্রেমের যে আদি উৎস সেই বৃন্দাবন ধামে গমন করে ইষ্টদেবের আরাধনায় নিজেকে নিবদ্ধ রাখবেন।* *পুরী গোস্বামী কৃষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে এমনই ভাবান্তর হয়েছিলেন যে নীল আকাশের দিকে তাকালেই তাঁর মনে কৃষ্ণস্ফূর্তি হত।আকাশে মেঘ দেখে ময়ূর ময়ূরী যখন শিখিপুচ্ছ বিস্তার করে নৃত্য করিত, তারদর্শনে মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামীর হৃদয় মনও কৃষ্ণপ্রেমের উন্মাদনায় নৃত্য করিত।নীল নভোমন্ডলের দিকে তাকালে তাঁর মনে সেই শ‍্যামসুন্দরের স্মৃতি জাগরিত হত এবং বিরহের উন্মাদনায় তাঁর কপোলদ্বয় অশ্রুধারায় ভেসে যেত। অর্থ‍্যাৎ তিনি শয়নে স্বপনে জাগরণে সদাসর্বদা কৃষ্ণ সান্নিধ্য এবং কৃষ্ণবিরহ অনুভব করতেন।তাঁর এইসব ভাব-বিকার দেখে ব্রজবাসীগণ তাঁকে কৃষ্ণপাগল সন্ন‍্যাসী আখ‍্যা দিয়েছিলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৮১. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori81.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৭৯. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori79.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৭৮. দলমাদল---কামান 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori78.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৭৯. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori79.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

*🙏শ্রীপাদ্ মাধবেন্দ্রপুরীর জীবনচরিত প্রসঙ্গ আলোচনা করতে গেলে কিঞ্চিৎ প্রসঙ্গ করা অপরিহার্য‍্য, কারণ দক্ষিণ ভারতে যে মাধ্ব সম্প্রদায় বৈদিক ভক্তির প্রবর্ত্তক ছিলেন তার জন্য অনেকেই এ বিষয়ে সামান্য সংশয়ের সৃষ্টি হয়।খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর মধ‍্যভাগে দাক্ষিণাত‍্যে তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে পদ্মা নগরীতে এই মহাপুরুষের আবির্ভাব। তাঁর পিতার নাম সায়ন এবং মাতার নাম শ্রীমতী।এই মাধবাচার্য‍্যের প্রভাবে সমগ্র ভারতে বৈদিক ধর্মের পুনঃ প্রতিষ্ঠা হয়।এই সম্প্রদায়কে মাধ্ব সম্প্রদায় বলা হয়।*
*🙏কবি কর্ণপুর তাঁর রচিত "গৌর গণোদ্দেশ দীপিকা" গ্রন্থে লিখেছেন যে মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামীর আবির্ভাব খৃষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে (১৪০১-১৪৯৯ সাল হচ্ছে পঞ্চদশ শতাব্দী) কিন্তু মধ্বাচার্য‍্যের আবির্ভাব তার পূর্বে অর্থ‍্যাৎ চতুর্দশ শতাব্দীর মধ‍্যভাগে এবং এই হিসাবে (১৩০১-১৩৯৯ সালকে চতুর্দশ শতাব্দী হিসাবে গণ‍্য)।সেই জন্য আমাদের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামীর আবির্ভাব তাঁর পরে এটিই ঠিক।*
*💧এছাড়াও হৃষীকেশ বেদান্তশাস্ত্রী প্রণীত "মাধবেন্দ্রপুরী" গ্রন্থে পাওয়া যায় যে তাঁর আবির্ভাব শ্রীহট্ট জেলার পূর্ণীপাট গ্রামে এবং তিনি ছিলেন কশ‍্যপ গোত্রীয় বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ। সুতরাং এই মাধ্ব সম্প্রদায়ের এবং মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী সম্পূর্ণ দুই স্বতন্ত্র পুরুষ তারউপরে মাধবেন্দ্রপুরী ছিলেন কৃষ্ণপ্রেমের এবং কৃষ্ণভক্তির প্রযোজক এবং মাধবাচার্য‍্য ছিলেন বৈদিক ধর্মের প্রবর্ত্তক।*
*🙏শ্রীহট্টে তাঁর জন্ম হলেও পরমার্থ জগতের প্রেরণায় তিনি যে দক্ষিণ ভারতেই গুরুকরণ করেন তা অতীব সত‍্য। সেই হিসাবে অনেকের মনে এইরকম বিভ্রান্তি হওয়া স্বাভাবিক যে তিনি যদি বাঙ্গালী হবেন তাহলে দক্ষিণ ভারতের এক মহাপুরুষকে গুরুপদে বরণ করবেন কেন?এর পেছনে নানা কারণ আছে।বাংলার প্রেম ভক্তির নিজস্ব সম্পদের অধিকারী হন শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী এবং তারসঙ্গে এসে সংমিশ্রণ হয় দাক্ষিণাত‍্যের আড়বাদের ভক্তিরস। মাধবেন্দ্রপুরীর জীবনে প্রেমভক্তি অঙ্কুরোগ্দম হয় বিদ‍্যাপতি ও চন্ডীদাসের গ্রন্থের প্রভাবে।তৎকালে দক্ষিণ ভারতে ভাগবদ ধর্মের এক অপূর্ব বিকাশলাভ শ্রবণে পুরী গোস্বামী সেই সঙ্গ মানসে পদব্রজে দাক্ষিণাত‍্য অভিমুখে রওনা হন, পরিক্রমার মাধ‍্যমে উদীপিমঠে এসে উপস্থিত হন।তখনকার দিনে মাধবাচার্য‍্যের উত্তর সাধকদের শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র ছিল এই "উদীপিমঠ" মঠের যিনি ধর্মনেতা বা প্রধান ছিলেন সেই লক্ষ্মীপতি মহারাজকেই মাধবেন্দ্রপুরী গুরুরূপে বরণ করেন।বেশ কিছুদিন এই মাধ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে অবস্থান করেন এবং মনে মনে সঙ্কল্প করেন যে, শ্রীগুরুদেব প্রবর্ত্তিত দ্বৈতবাদী সাধনার মধ‍্য দিয়েই নিজ অভীষ্টে পৌঁছবেন। কিন্তু করুণাময় ভগবানের ইচ্ছা এইরকম নয়, সেহেতু এই ধর্মের মূল তত্ত্বসমূহ আয়ত্ত করে তিনি কৃষ্ণপ্রেমের প্রেমভক্তিরূপ সাধন পথকেই শ্রেয়জ্ঞানে সেই পথে নিজের জীবনকে চালনা করবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।এই সময়ে কবি শ্রীজয়দেব গোস্বামীর গীত-গোবিন্দ, বিল্বমঙ্গল, এবং বিদ‍্যাপতি ও চন্ডীদাসের কৃষ্ণভক্তিময় গ্রন্থগুলি তাঁর জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে, তারসঙ্গে দক্ষিণ ভারতের আড়বা সম্প্রদায়ের প্রেমধর্মও তাঁর সহায়ক হয়।*
*🌹কিন্তু এ কথাও ঠিক যে গৌড়ীয় বৈষ্ণব প্রসঙ্গে অনেকে মাধবেন্দ্রপুরীর এই সম্প্রদায়কে মাধ্ব সম্প্রদায় বলে আখ‍্যা দিয়েছেন। যেমনটি দেখা যায় শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীবাস পন্ডিতকে বহুক্ষেত্রে শ্রীনিবাস আখ‍্যা দেওয়া হয়েছে।তবে মাধবেন্দ্রপুরী যে এক নববৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্ত্তক একথা কবি কর্ণপুর এবং শ্রীজীব গোস্বামী পর্য‍্যন্ত স্বীকার করে গিয়েছেন। শ্রীজীব গোস্বামী এক বৈষ্ণব বন্দনার শেষে বলেছেন যে =*
*🌷এতদ্বৈষ্ণব বন্দনঃ সুখকরং সর্ব্বার্থ সিদ্ধি প্রদং শ্রীমন্মাধব সম্প্রদায় গমনং শ্রীকৃষ্ণ ভক্তি প্রদম্।*
*🌻আবার এও দেখা যায় যে পুরীগোস্বামী যেরকম শ্রীহট্টে জন্মগ্রহণ করে দাক্ষিণাত‍্যের উদিপী মঠের লক্ষ্মীপতি মহারাজকে গুরুপদে বরণ করেছিলেন, সেইরকম দক্ষিণ ভারতের পরমানন্দ পুরীও তাঁর শিষ‍্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এইরকম আর একজন শিষ‍্য ছিলেন যাঁর নাম শ্রীরঙ্গপুরী। এছাড়াও কমলাক্ষ (অদ্বৈতাচার্য‍্য)পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি,নৃসিংহ তীর্থ,ব্রহ্মানন্দপুরী, ব্রহ্মানন্দভারতী, মৈথিলী ব্রাহ্মণ বিষ্ণুপুরী,রঘুপতি উপাধ‍্যায়,কৃষ্ণানন্দ, সুখানন্দপুরী,রামচন্দ্রপুরী,রঘুনাথপুরী, অনন্তপুরী,গোপালপুরী ইত‍্যাদি সকলে পুরীগোস্বামীর শিষ‍্য ছিলেন।শ্রীরায় রামানন্দের শ্রীগুরুদেব শ্রীপাদ রাঘবেন্দ্রও ছিলেন তাঁর শিষ্য। এছাড়াও নবদ্বীপের রত্নগর্ভ আচার্য‍্য (যিনি ছিলেন শ্রীজগন্নাথ মিশ্রের ঘনিষ্ঠ সুহৃদ) শুক্লম্বর ব্রহ্মচারী,গঙ্গাদাস,হিরণ‍্য,সদাশিব, জগদীশ পন্ডিত প্রভৃতি ভক্তগণও তাঁর শিষ‍্যত্ব গ্রহণ করেন।*
*🙏সুতরাং এইসব ঘটনা প্রবাহের মধ‍্য দিয়ে এইই সুপ্রতিষ্ঠিত হয় যে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের মূল প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রবর্ত্তক হচ্ছেন শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী  এবং দক্ষিণ ভারতের মাধবাচার্য‍্য সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই মহাপুরুষ। এইবার আমরা এই মহাপুরুষের জীবনী প্রসঙ্গে অবতারণা করব।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚

*সযতনে যশোমতী,আর তুমি মহামতি,*
    *পালন করেছ মোরে স্নেহে অতুলন।*
*হৃষ্ট চিত্তে এইবারে,যাও ফিরে নিজ ঘরে,*
    *না হইও পিতা তুমি শোকে নিমগন।।*
*🪷🪷গুরুগৃহে আগমন🪷🪷*
*রামকৃষ্ণ ভ্রাতা দোঁহে,যান তবে গুরু গৃহে,*
    *অবন্তী নগরে ধাম,সান্দীপনি নাম।*
*উপনীত হ'য়ে সেথা,ভক্তিতে কহিয়া কথা,*
   *শ্রদ্ধাভরে দুই ভাই করিলা প্রণাম।।*
*আমাদের সবে মাত্র,ছিল অত্র এক পুত্র,*
    *প্রভাসে সাগরে তার হয়েছে মরণ।*
*যদি কিছু দিতে চাও,মৃত পুত্র আনি দাও,*
     *তবে সে দক্ষিণা মোরা করিব গ্রহণ।।*
       *🙏ক্রমাগত🙏*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৮০. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori80.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




adds