✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৮৩. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori83.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৮৪. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori84.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*🙏শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
*********************************
*👣প্রকৃত বৈষ্ণবগণ নাম,যশ, প্রতিষ্ঠাকে বড়ই ভয় করেন, সেহেতু পরদিন লোক তাঁর সম্বন্ধে সব জেনে তাঁর জয় জয়কার করে তা তিনি মোটেও চান না, তাই ভেবে তিনি রাত্রির অন্ধকারে রেমুণা পরিত্যাগ করে শ্রীক্ষেত্র অভিমুখে রওনা হলেন।অদ্যাপি সেই রেমুনায় সেই শ্রীবিগ্রহ অতীতের গৌরবময় ঐতিহ্যকে বহন করে বিরাজমান। আগ্রহী ভক্তগণ একবার দর্শন করিলে মনে অপার আনন্দলাভ করবেন।ধন্য, ধন্যাতিধন্য মাধবেন্দ্রপুরী যাঁকে মর্য্যাদা দিবার জন্য পাষাণ বিগ্রহ এই মহিমা প্রকাশ করেছিলেন।(আমরা কথায় কথায় "ভক্ত" শব্দটি ব্যবহার করে থাকি, তাইনা?প্রকৃত ভক্ত কেমন হওয়া উচিৎ নিশ্চয়ই আর বেশী কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না)। যাইহোক, সুতরাং বিগ্রহ যে শুধু পাষাণ প্রতিমা নহেন এবং প্রকৃত ভক্তের কাছে তিনি সদা জাগ্রত এটির প্রত্যক্ষ প্রমাণ রেমুনার এই "ক্ষীর চোরা গোপীনাথ"। যাঁর মাধ্যমে শ্রীমন্মহাপ্রভুর পরমগুরুর মহিমা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর একটি পয়ার ভক্তগণের কাছে অতীব শিক্ষণীয় এবং সাধন জগতের সহায়ক ঃ-----*
*🌷প্রতিষ্ঠার স্বভাব এই জগতে বিদিত।*
*🌷যে না বাঞ্জে তার হয় বিধাতা নির্ম্মিত।।*
*🌷প্রতিষ্ঠার ভয়ে পুরী গেলা পলাইয়া।*
*🌷কৃষ্ণপ্রেমে প্রতিষ্ঠা চলে সঙ্গে গড়াইয়া।।*
*🌹মানুষ যদি সত্যই নিঃস্বার্থ, নির্লোভ,মন এবং মুখকে এককরে ভগবানের কর্ম করেন, তাহলে তাঁকে লাভ যশ প্রতিষ্ঠার জন্য অভিনয় করতে হবে না, লাভ যশ প্রতিষ্ঠা সেই মন এবং মুখ এককরা মানুষটির পেছন পেছন ঘুরে বেড়াবে।*
*🌻যাইহোক,অতঃপর পুরী গোস্বামী নীলাচলে উপস্থিত হয়ে ভক্তগণ সমীপে বৃন্দাবনের শ্রীগোপালের জন্য মলয়জ চন্দন সংগ্রহের কথা নিবেদন করলেন।ধামবাসী ভক্তগণ এই পরম বৈষ্ণবের মনোবাঞ্জা পূরণের জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই চন্দন কাষ্ঠ,সঙ্গে কর্পূর জোগাড় করে দিলেন এবং ঘাটী ও দানিদের অত্যাচার এড়াবার জন্য রাজার কাছ হতে রাজলেখা সংগ্রহ করে তাঁকে দিলেন। সেই বৃদ্ধ বৈষ্ণবের কষ্টের ভার লাঘবের জন্য এক বিপ্রকেও সঙ্গে দিলেন।ভাবলে অবাক লাগে যে এই সুদীর্ঘ পথ চলা বন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে কতই দুষ্কর, তার উপরে এক বৃদ্ধ বৈষ্ণবকে এক বোঝা চন্দন কাঠ মাথায় করে চলতে হচ্ছে!প্রভুর কৃপা হলে সবই সম্ভব মাধবপুরী সত্যবদ্ধ কারণ তাঁর গোপাল তাঁকে কৃপা করবেন বলিয়াই স্বপ্নে বলেছিলেন যে মাধব! তোমাকে নিজেকেই যেতে হবে, কারণ মাধব না গেলে রেমুনায় এই লীলা সঙ্ঘটিত হত না।শ্যামানন্দ প্রভুকে যেরকম নিধুবনে ঝাড়ু সেবার কার্য্য না দিলে তো তিনি মহাপ্রেমময়ী মহাভাবস্বরূপিনী রাধা ঠাকুরাণীর কৃপা প্রাপ্ত হতেন না।সেইরকম তাঁর ইষ্টদেব তাঁর ভক্তের মহিমা জীবজগতে প্রচার করবার নিমিত্ত তাঁকেই যেতে আদেশ করেছিলেন। এটি যে কত সত্য তা রেমুনার পরবর্তী ঘটনার মধ্য দিয়েই স্পষ্টভাবে বুঝা যাবে।*
*🌲মলয়জ চন্দন সংগ্রহ করে ফিরবার পথে তিনি পুনরায় রেমুনায় আগমন করেন।এইবার রেমুনাবাসী সকলে তাঁকে যথেষ্ট মর্য্যাদা দিলেন কারণ গোপীনাথজীর ক্ষীর চুরির প্রসঙ্গ সকলে শুনেছিলেন বটে, কিন্তু যাঁর জন্য চুরি করেছিলেন সেই মহাত্মার সঙ্গে তখনও পর্যন্ত তাঁদের সাক্ষাৎ দর্শন হয়নি।মাধবপুরীও গোপীনাথজীকে দর্শন করে প্রাণে অপার আনন্দ লাভ করলেন এবং সেই রাত্রেই বৃন্দাবনের গোপালজী তাঁকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে কহিলেন যে মাধব তোমাকে কষ্ট করে এই মলয়জ চন্দন তুমি এই রেমুনাই গোপীনাথজীর শ্রীঅঙ্গে লেপন করো এবং তাতেই আমার অঙ্গতাপ দূর হবে।কারণ গোপীনাথ আর আমি একই স্বরূপ সুতরাং মনে কোন দ্বিধা করিও না, আমি তোমার নিষ্ঠা পরীক্ষার জন্য তোমাকে এই আদেশ করেছিলাম এবং এখন আবার এই আদেশ এবং এখন আবার এই আদেশ করছি তা দ্বিধাহীন ভাবে পালন করো। শ্রীচরিতামৃতে পায়=*
*⚪শেষ রাত্রি হইল পুরী দেখিল স্বপন।।*
*🌷গোপাল আসিয়া কহে শুন হে মাধব।*
*🌷কর্পূর চন্দন আমি পাইলাম সব।।*
*🌷কর্পূর সহিত যদি এসব চন্দন।*
*🌷গোপীনাথের অঙ্গে নিত্য করহ লেপন।।*
*🌷দ্বিধা না ভাবিও না করিহ কিছু মনে।*
*🌷বিশ্বাস করি চন্দন দেহ আমার বচনে।।*
*🪷তখন পুরী গোসাঞী তাঁর স্বপ্ন বৃত্তান্ত গোপীনাথের সেবকের কাছে ব্যক্ত করলে সেবক এবং পূজারী সকলেই মাধবের উপর গোপীনাথের এই কৃপার দ্বিতীয় নিদর্শনে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন এবং রেমুনাবাসী সকলেই তখন রেমুনাকে দ্বিতীয় বৃন্দাবন ধাম হিসাবে করতে গণ্য করতে লাগলেন।এটি যে সঠিক সিদ্ধান্ত সে বিষয়ে কারও কোন দ্বিধা থাকা উচিৎ নহে কারণ ব্রজধামের অধীশ্বর হচ্ছেন গোপালজী এবং তিনি তাঁর প্রিয় ভক্তকে বলেছেন যে রেমুনার গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে মলয়জ চন্দন লেপন করলেই তাঁর অঙ্গতাপ দূর হবে সুতরাং সে হিসাবে রেমুধাকে দ্বিতীয় বৃন্দাবন ভাবে গণ্য অসমীচীন নহে।তখন সকলে গোপীনাথজীর মহিমা বেশ ভাল ভাবে উপলব্ধি করলেন। পুরী গোসাঞী দুইজন টহলিয়া (চৌকিদার)(এখানে চৌকিদার বলতে সে পাহারাদার নহে,চন্দন ঘষিবার জন্য বলা হয়েছে )নিয়োগ করলেন নিত্য সেবার চন্দন ঘষিবার জন্য।মনের আনন্দে সেই মলয়জ চন্দন গোপীনাথজীর শ্রীঅঙ্গে লেপন করা হতে লাগল।ভাগ্যবান মাধবের আনন্দের আর সীমা নেই, কারণ এই ঘটনা পর্যন্ত তিনি পরপর তিন তিনবার গোপালের স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন।সুতরাং পরমার্থ জীবনের জন্য যে ব্যাকুলতা তিনি তাঁর প্রিয়শিষ্য কমলাক্ষের কাছে ব্যক্ত করেছিলেন তা আশাতীত ভাবে পূরণ হল।মাধবেন্দ্রপুরী তখন চন্দন সেবার সুব্যবস্থা করে গ্রীষ্মকাল অন্তে পুনরায় পুরীধাম গমন করলেন। এর পর তাঁর সাধন জগতের আর বিশেষ কোন ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না। পরিশেষে এই রেমুনাতে তিনি গোপীনাথের চরণতলে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এবং এইভাবে বৈষ্ণব কুলচূড়ামণি এই মহাসাধক মহাভক্তের মহাপ্রয়াণ হয়।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
*সাগরের বাক্য হরি,তখন শ্রবণ করি,*
*ক্রোধে তিনি জলমধ্যে ত্বরা করি যান।*
*সেথা সেই দৈত্য হেরি,লন তারে প্রাণ হরি,*
*উদরেতে গোরু পুত্রে দেখিতে না পান।।*
*শঙ্খাসুর দেহ হ'তে,উৎপন্ন সে শঙ্খ হাতে,*
*করিলেন আরোহণ রথে ভগবান।*
*বলরাম জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা,অপেক্ষায় রন সেথা,*
*তাঁরে ল'য়ে সংযমনী পুরী পানে যান।।*
*পৌঁছে সেই যমপুরী,বাজালেন শঙ্খ হরি,*
*শুনি যম আসি করে দোঁহারে পূজন।*
*সকল জীবের তুমি,আশ্রয় করেন স্বামী,*
*অবনীর ভার যত করেছ হরণ।।*
*তোমরা যে ভগবান,ভক্তকে করিতে ত্রাণ,*
*মায়াতে মানব রূপ করিলে ধারণ।*
*মম বাসে আগমন,কহ প্রভু কি কারণ,*
*বল তুমি কিবা কার্য্য সাধিব এখন।।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪷🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৮৫. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori85.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
