✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৮৪. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori84.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৮৫. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori85.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*🙏শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🙏কৃষ্ণপ্রেমে পাগল এই পুরীগোস্বামী সন্ন্যাসী তিনি এতভাবে শ্রীগোপালের কৃপা পাওয়া সত্ত্বেও সদাসর্বদা অশ্রুসজল নয়নে "হা মথুরানাথ কবে আমি তোমার শ্রীচরণ দর্শন পাব! তোমার অদর্শনে আমার হৃদয় মন বড়ই কাতর--, তোমার বিরহ ক্ষণিকের জন্যও আমি সহ্য করতে পারছি না"। এইভাবে সদাসর্বদা হা হুতাশ করে বিলাপ করিতেন।অতি প্রিয়জনের কাছে যেরকম সাধারণ মানুষ কামনা করে এবং সদাসর্বদা তার সঙ্গ সুখ চায় সেইরকম পুরী গোস্বামীও তাঁর দয়িত (প্রিয়)ইষ্টদেবের অদর্শনে সবসময়ই ব্যাকুলতা প্রকাশ করে হা হুতাশ করিতেন। আর যেন উদভ্রান্তের মতো অর্থ্যাৎ আপন ভোলা পাগলের মতো দিন কাটাতেন।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী নিজেই বলেছেন=*
*🌹তাঁর ঠাঁই গোপালের লুকা কিছু নাই।*
*🌻কিন্তু তথাপি এই পাওয়ার কোন শেষ নেই। এই আক্ষেপ বা অনুশোচনা সকলের পক্ষেই সমভাবে প্রযোজ্য। সেহেতু মহাপ্রয়াণ কালেও তিনি নিচর এই স্তবটি পাঠ করতে করতে অঝোর নয়নে কাঁদতে কাঁদতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন, যথা=*
*💧অয়ি দীনদয়ার্দ্রনাথ,হে মথুরানাথ,কদা অবলোক্যসে,*
*💧হৃদয়ং তদলোক কাতরং দয়িত ভ্রাম্যতি কিং করোম্যহম্।*
*🌻এই উপলক্ষ্যে কিছু প্রসঙ্গ এখানে উল্লেখ করি। আমাদের এই বৈষ্ণব জগতের মূল এবং মধ্যমণি হচ্ছেন এই মাধবেন্দ্রপুরী গোঁসাই যিনি হচ্ছেন মহাপ্রভুর পরমগুরুদেব। কৃষ্ণভক্তির এ প্রেমভক্তির প্রধান উৎস হচ্ছেন এই মহাপুরুষ।কারণ যে মহাপ্রভু, আমাদের আরাধ্য দেবতা, (হ্যাঁ এই কলিযুগের একমাত্র আরাধ্য দেবতা করুণাময় পতিতপাবন শ্রীমন্মহাপ্রভু)আর,ইনি হচ্ছেন তাঁর গুরুদেবের গুরুদেব এবং সেই হিসাবে তিনি সর্বজন পূজ্য এবং সর্বজন আরাধ্য।এই মহাপুরুষের শেষ জীবন যাপিত হয় রেমুনায় এবং এখানেই তাঁর স্থূল সমাধি বিদ্যমান।*
*🙏এই পুরী গোস্বামীর ভক্তিময় জীবন কাহিনী প্রসঙ্গ আর বিশেষ কিছু অধম লেখকের জানা নাই। কিন্তু তথাপি মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করে পুরীধামে গমন কালে তিনি এই রেমুনাতে অবস্থান করেন এবং সকল সঙ্গীদেরকে তাঁর পরমগুরুদেবের প্রসঙ্গ শ্রবণ করিয়েছিলেন, এই প্রসঙ্গটি শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী মহাশয় তাঁর শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে যেভাবে পরিবেশন করেছেন তা সাধক ভক্তের চিত্তে দেয় অপার আনন্দ আর শ্রদ্ধায় মস্তক অবনত হয় সেই মহাপুরুষের শ্রীচরণতলে। সেইজন্য শ্রীচরিতামৃতের কিছু পয়ার নিচে দেওয়া হল যা মহাপ্রভু নিজ শ্রীমুখে ব্যক্ত করেছিলেন।কবিরাজ গোস্বামী তাঁর ঐশী শক্তির মাধ্যমে এই প্রসঙ্গ পয়ারের মাধ্যমে তা আমাদের নিকট প্রকাশ করেছেন।এর দ্বারাই প্রমাণিত হবে যে এই সিদ্ধ পীঠস্থানের কি মহিমা এবং তা আমাদের কাছে কত পূজ্য হওয়া উচিৎ।🌹ত্রেতাযুগের সেই গোপীনাথজীর বিগ্রহ দর্শন করিলে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়, কারণ এরূপ লাবণ্যময় শ্রীবিগ্রহ সচরাচর দর্শন করা যায় না। কিন্তু এই পাষাণ বিগ্রহের মহিমা দ্বিগুণভাবে বর্দ্ধিত হয়েছে এই মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামীর দ্বারা। সেজন্য ভগবান নিশ্চয়ই তার ভক্ত সেবায় জনগণের আগ্রহ দর্শন করলে প্রীত হবেন এটিই মনের দৃঢ় বিশ্বাস।মহাপ্রভু রেমুনাতে বসে যা প্রসঙ্গ করেছিলেন তা শ্রীচরিতামৃতকারের ভাষায় শ্রবণ করুন।*
*🌷প্রভু কহে নিত্যানন্দ করহ বিচার।*
*🌷পুরী সম ভাগ্যবান জগতে নাহি আর।।*
*🌷দুগ্ধ দান ছলে কৃষ্ণ যারে দেখা দিল।*
*🌷তিনবার স্বপ্নে আসি যাঁরে কৃপা কৈল।।*
*🌷যাঁর প্রেমে বশ হইয়া প্রকট হইলা।*
*🌷সেবা অঙ্গীকার করি জগৎ তারিলা।।*
*🌷যাঁর লাগি গোপীনাথ ক্ষীর চুরি কৈলা।*
*🌷কর্পূর চন্দন যাঁর অঙ্গে চড়াইলা।।*
*🌷ম্লেচ্ছদেশে কর্পূর চন্দন আনিতে জঞ্জাল।*
*🌷পুরী দুঃখ পাবে ইহা জানিয়া গোপাল।।*
*🌷মহা দয়াময় প্রভু ভকত বৎসল*।
*🌷চন্দন পরি ভক্ত শ্রম করিল সফল।।*
*🌹মাধবেন্দ্রপুরী বিরাম পর্ব আগামীকাল*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*জেনো স্বীয় কর্ম দোষে,গুরু পুত্র হেথা আসে,*
*কালপ্রান্তে আসিয়াছে তোমার সদন।*
*মোর আদেশে এখন,কর তারে আনয়ন,*
*তাহার কারণে মোর হেথা আগমন।।*
*কন যবে নারায়ণ,যমরাজ সেইক্ষণ,*
*গুরুপুত্রে তাঁর কাছে করে আনয়ন।*
*রাম হরি অতঃপর,চলে অবন্তী নগর,*
*অবশেষে গুরুগৃহে উপনীত হন।।*
*পুত্রে তাঁর করে দিয়া,তিরপিত দোঁহা হিয়া,*
*পুনঃ তারে লভি মুনি আনন্দে আকুল।*
*দক্ষিণা বাঞ্জিত যাহা,দিয়াজ গুরুকে তাহা,*
*আমার ভাগ্যের যে গো নাহি হয় তুল।।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*(৮৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*🙏শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
*🌷প্রগাঢ় প্রেমের এই স্বভাব আচার।*
*🌷নিজ দুঃখ বিঘ্নাদিক না করে বিচার।।*
*🌷এই তার গাঢ় প্রেম লোকে দেখাইতে।*
*🌷গোপাল তাঁরে আজ্ঞা দিলা চন্দন আনিতে।।*
*🌷বহু পরিশ্রমে চন্দন রেমুনা আনিল।*
*🌷আনন্দ বাড়িল মনে দুঃখ না গণিল।।*
*🌷পরীক্ষা করিতে গোপাল কৈল আজ্ঞাদান।*
*🌷পরীক্ষা করিয়া শেষে হৈল দয়াবান।।*
*🌷এই ভক্ত,ভক্তি প্রিয় কৃষ্ণ ব্যবহার।*
*🌷বুঝি তিঁহো যো সবার নাহি অধিকার।।*
*🌷এত কহি পড়ে প্রভু তাঁর কৃত শ্লোক।*
*🌷যেই শ্লোক চন্দ্রে জগৎ করেছে আলোক।।*
*🌷ঘষিতে ঘষিতে যৈছে মলয়জ সার।*
*🌷গন্ধ বাড়ে তৈছে এই শ্লোকের বিচার।।*
*🌷রত্নগণ মধ্যে যৈছে হয় কৌস্তুভ মণি।*
*🌷রসবাক্য মধ্যে তৈছে এই শ্লোক গণি।।*
*🌷এই শ্লোক কহিয়াছেন রাধা ঠাকুরাণী।*
*🌷তাঁর কৃপায় স্ফুরিয়াছে মাধবেন্দ্রাণী।।*
*🌷কিবা গৌরচন্দ্র ইহা করে আস্বাদন।*
*🌷ইহা আস্বাদিতে অধিকারী নহে চৌঠজন।।*
*🌷শেষ কালে এই শ্লোক পড়িতে পড়িতে।*
*🌷সিদ্ধি প্রাপ্তি হইল পুরীর শ্লোকের সহিতে।।*
*🌷পুরীর প্রেম পরাকাষ্ঠা করহ বিচার।*
*🌷অলৌকিক প্রেম চিত্তে লাগে চমৎকার।।*
*🌷পরম বিরক্ত মৌনী সর্বত্র উদাসীন।*
*🌷গ্রাম্যবার্তা ভয়ে দ্বিতীয় জনসঙ্গহীন।।*
*🌷হেনজন গোপালের আজ্ঞামৃত পাইয়া।*
*🌷সহস্র ক্রোশ আসি বুলে চন্দন মাঁগিয়া।।*
*🌷ভুখা রহে তবু অন্ন মাঁগিয়া না খায়।*
*🌷হেন জন চন্দন ভার বহি লঞা যায়।।*
*🌷অনেক চন্দন তোলা বিশেষ কর্পূর।*
*🌷গোপালে পরাবে এই আনন্দ প্রচুর।।*
*🌷সঙ্গে এক বট নাহি খাটি দান দিতে।*
*🌷তথাপি উৎসাহ মনে চন্দন লইতে।।*
*🌻এর পর মহাপ্রভু স্বয়ং সেই পুণ্য শ্লোক পুনঃপুনঃ আবৃত্তি করে সকলকে শোনালেন কারণ এই শ্লোকই ছিল তাঁর পরম গুরুদেবের শেষ জীবনের সর্বক্ষণের জপ তপ ধ্যান ধারণা এবং তার সঙ্গে প্রেমাশ্রু বরিষণ।এই শ্লোকের ভাবার্থ আগেই বলা হয়েছে, সেজন্য আর পুনরাবৃত্তি করব না। যথা=*
*অয়ি দীনদয়ার্দ্রনাথ,হে মথুরানাথ কদা অবলোক্যসে,*
*হৃদয়ং তদলোক কাতরং দয়িত ভ্রাম্যতি কিং করোম্যহম্।*
*🍀এই শ্লোক আবৃত্তি করবার পর মহাপ্রভুর কি দশা হল তা শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর ভাষায় শুনুন।*
*🌷এই শ্লোক পড়িতে প্রভু মূর্চ্ছিত হইলা।*
*🌷প্রেমেতে বিবশ হইয়া ভূমিতে পড়িলা।।*
*🌷আস্তে ব্যস্তে কোলে করি নিল নিত্যানন্দ।*
*🌷ক্রন্দন করিয়া তবে উঠে গৌরচন্দ্র।।*
*🌷প্রেমোন্মাদ হইল উঠি ইতি উতি ধায়।*
*🌷হুঙ্কার করয়ে প্রভু হাসে নাচে গায়।।*
*🌻এটিই হল এই মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রসঙ্গ এবং আগ্রহী ভক্তগণ বালাশোরের অন্তর্গত রেমুনাতে গমন করে তাঁর সমাধি মন্দির দর্শন করতে পারেন।কারণ এই পুণ্য ক্ষেত্রেই তাঁর স্থূল সমাধি বিদ্যমান।পরম ভাগবদ্ রামদাস বাবাজী মহারাজের ভাষায় সমস্ত সমাধি ক্ষেত্রই চিরপ্রকট এবং সেখানে গমন করে অন্তরের ভক্তি অর্ঘ্য নিবেদন করলে তাঁরা ঠিকই তা শোনেন কারণ বৈষ্ণবদেহ চিন্ময়।*
*🙏এই রেমুনাতেই আবার ক্ষীরচোরা গোপীনাথ বিগ্রহ বিদ্যমান সুতরাং এক যাত্রায় উভয় পীঠস্থানই দর্শন হবে।*
*🙌জয় শ্রীগোপীনাথজী কি জয়*
*🙌জয় শ্রী মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী কি জয়*
*🙌জয় শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী কি জয়*
*🙌জয় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কি জয়*
*🙌জয় শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু কি জয়*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৮৬. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori86.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
