✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৭৮. দলমাদল---কামান 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori78.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৭৯. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori79.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🙏শ্রীপাদ্ মাধবেন্দ্রপুরীর জীবনচরিত প্রসঙ্গ আলোচনা করতে গেলে কিঞ্চিৎ প্রসঙ্গ করা অপরিহার্য্য, কারণ দক্ষিণ ভারতে যে মাধ্ব সম্প্রদায় বৈদিক ভক্তির প্রবর্ত্তক ছিলেন তার জন্য অনেকেই এ বিষয়ে সামান্য সংশয়ের সৃষ্টি হয়।খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগে দাক্ষিণাত্যে তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে পদ্মা নগরীতে এই মহাপুরুষের আবির্ভাব। তাঁর পিতার নাম সায়ন এবং মাতার নাম শ্রীমতী।এই মাধবাচার্য্যের প্রভাবে সমগ্র ভারতে বৈদিক ধর্মের পুনঃ প্রতিষ্ঠা হয়।এই সম্প্রদায়কে মাধ্ব সম্প্রদায় বলা হয়।*
*🙏কবি কর্ণপুর তাঁর রচিত "গৌর গণোদ্দেশ দীপিকা" গ্রন্থে লিখেছেন যে মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামীর আবির্ভাব খৃষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে (১৪০১-১৪৯৯ সাল হচ্ছে পঞ্চদশ শতাব্দী) কিন্তু মধ্বাচার্য্যের আবির্ভাব তার পূর্বে অর্থ্যাৎ চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এবং এই হিসাবে (১৩০১-১৩৯৯ সালকে চতুর্দশ শতাব্দী হিসাবে গণ্য)।সেই জন্য আমাদের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামীর আবির্ভাব তাঁর পরে এটিই ঠিক।*
*💧এছাড়াও হৃষীকেশ বেদান্তশাস্ত্রী প্রণীত "মাধবেন্দ্রপুরী" গ্রন্থে পাওয়া যায় যে তাঁর আবির্ভাব শ্রীহট্ট জেলার পূর্ণীপাট গ্রামে এবং তিনি ছিলেন কশ্যপ গোত্রীয় বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ। সুতরাং এই মাধ্ব সম্প্রদায়ের এবং মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী সম্পূর্ণ দুই স্বতন্ত্র পুরুষ তারউপরে মাধবেন্দ্রপুরী ছিলেন কৃষ্ণপ্রেমের এবং কৃষ্ণভক্তির প্রযোজক এবং মাধবাচার্য্য ছিলেন বৈদিক ধর্মের প্রবর্ত্তক।*
*🙏শ্রীহট্টে তাঁর জন্ম হলেও পরমার্থ জগতের প্রেরণায় তিনি যে দক্ষিণ ভারতেই গুরুকরণ করেন তা অতীব সত্য। সেই হিসাবে অনেকের মনে এইরকম বিভ্রান্তি হওয়া স্বাভাবিক যে তিনি যদি বাঙ্গালী হবেন তাহলে দক্ষিণ ভারতের এক মহাপুরুষকে গুরুপদে বরণ করবেন কেন?এর পেছনে নানা কারণ আছে।বাংলার প্রেম ভক্তির নিজস্ব সম্পদের অধিকারী হন শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী এবং তারসঙ্গে এসে সংমিশ্রণ হয় দাক্ষিণাত্যের আড়বাদের ভক্তিরস। মাধবেন্দ্রপুরীর জীবনে প্রেমভক্তি অঙ্কুরোগ্দম হয় বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসের গ্রন্থের প্রভাবে।তৎকালে দক্ষিণ ভারতে ভাগবদ ধর্মের এক অপূর্ব বিকাশলাভ শ্রবণে পুরী গোস্বামী সেই সঙ্গ মানসে পদব্রজে দাক্ষিণাত্য অভিমুখে রওনা হন, পরিক্রমার মাধ্যমে উদীপিমঠে এসে উপস্থিত হন।তখনকার দিনে মাধবাচার্য্যের উত্তর সাধকদের শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র ছিল এই "উদীপিমঠ" মঠের যিনি ধর্মনেতা বা প্রধান ছিলেন সেই লক্ষ্মীপতি মহারাজকেই মাধবেন্দ্রপুরী গুরুরূপে বরণ করেন।বেশ কিছুদিন এই মাধ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে অবস্থান করেন এবং মনে মনে সঙ্কল্প করেন যে, শ্রীগুরুদেব প্রবর্ত্তিত দ্বৈতবাদী সাধনার মধ্য দিয়েই নিজ অভীষ্টে পৌঁছবেন। কিন্তু করুণাময় ভগবানের ইচ্ছা এইরকম নয়, সেহেতু এই ধর্মের মূল তত্ত্বসমূহ আয়ত্ত করে তিনি কৃষ্ণপ্রেমের প্রেমভক্তিরূপ সাধন পথকেই শ্রেয়জ্ঞানে সেই পথে নিজের জীবনকে চালনা করবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।এই সময়ে কবি শ্রীজয়দেব গোস্বামীর গীত-গোবিন্দ, বিল্বমঙ্গল, এবং বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসের কৃষ্ণভক্তিময় গ্রন্থগুলি তাঁর জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে, তারসঙ্গে দক্ষিণ ভারতের আড়বা সম্প্রদায়ের প্রেমধর্মও তাঁর সহায়ক হয়।*
*🌹কিন্তু এ কথাও ঠিক যে গৌড়ীয় বৈষ্ণব প্রসঙ্গে অনেকে মাধবেন্দ্রপুরীর এই সম্প্রদায়কে মাধ্ব সম্প্রদায় বলে আখ্যা দিয়েছেন। যেমনটি দেখা যায় শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে শ্রীবাস পন্ডিতকে বহুক্ষেত্রে শ্রীনিবাস আখ্যা দেওয়া হয়েছে।তবে মাধবেন্দ্রপুরী যে এক নববৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্ত্তক একথা কবি কর্ণপুর এবং শ্রীজীব গোস্বামী পর্য্যন্ত স্বীকার করে গিয়েছেন। শ্রীজীব গোস্বামী এক বৈষ্ণব বন্দনার শেষে বলেছেন যে =*
*🌷এতদ্বৈষ্ণব বন্দনঃ সুখকরং সর্ব্বার্থ সিদ্ধি প্রদং শ্রীমন্মাধব সম্প্রদায় গমনং শ্রীকৃষ্ণ ভক্তি প্রদম্।*
*🌻আবার এও দেখা যায় যে পুরীগোস্বামী যেরকম শ্রীহট্টে জন্মগ্রহণ করে দাক্ষিণাত্যের উদিপী মঠের লক্ষ্মীপতি মহারাজকে গুরুপদে বরণ করেছিলেন, সেইরকম দক্ষিণ ভারতের পরমানন্দ পুরীও তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এইরকম আর একজন শিষ্য ছিলেন যাঁর নাম শ্রীরঙ্গপুরী। এছাড়াও কমলাক্ষ (অদ্বৈতাচার্য্য)পুন্ডরীক বিদ্যানিধি,নৃসিংহ তীর্থ,ব্রহ্মানন্দপুরী, ব্রহ্মানন্দভারতী, মৈথিলী ব্রাহ্মণ বিষ্ণুপুরী,রঘুপতি উপাধ্যায়,কৃষ্ণানন্দ, সুখানন্দপুরী,রামচন্দ্রপুরী,রঘুনাথপুরী, অনন্তপুরী,গোপালপুরী ইত্যাদি সকলে পুরীগোস্বামীর শিষ্য ছিলেন।শ্রীরায় রামানন্দের শ্রীগুরুদেব শ্রীপাদ রাঘবেন্দ্রও ছিলেন তাঁর শিষ্য। এছাড়াও নবদ্বীপের রত্নগর্ভ আচার্য্য (যিনি ছিলেন শ্রীজগন্নাথ মিশ্রের ঘনিষ্ঠ সুহৃদ) শুক্লম্বর ব্রহ্মচারী,গঙ্গাদাস,হিরণ্য,সদাশিব, জগদীশ পন্ডিত প্রভৃতি ভক্তগণও তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।*
*🙏সুতরাং এইসব ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে এইই সুপ্রতিষ্ঠিত হয় যে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের মূল প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রবর্ত্তক হচ্ছেন শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী এবং দক্ষিণ ভারতের মাধবাচার্য্য সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই মহাপুরুষ। এইবার আমরা এই মহাপুরুষের জীবনী প্রসঙ্গে অবতারণা করব।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*সযতনে যশোমতী,আর তুমি মহামতি,*
*পালন করেছ মোরে স্নেহে অতুলন।*
*হৃষ্ট চিত্তে এইবারে,যাও ফিরে নিজ ঘরে,*
*না হইও পিতা তুমি শোকে নিমগন।।*
*🪷🪷গুরুগৃহে আগমন🪷🪷*
*রামকৃষ্ণ ভ্রাতা দোঁহে,যান তবে গুরু গৃহে,*
*অবন্তী নগরে ধাম,সান্দীপনি নাম।*
*উপনীত হ'য়ে সেথা,ভক্তিতে কহিয়া কথা,*
*শ্রদ্ধাভরে দুই ভাই করিলা প্রণাম।।*
*আমাদের সবে মাত্র,ছিল অত্র এক পুত্র,*
*প্রভাসে সাগরে তার হয়েছে মরণ।*
*যদি কিছু দিতে চাও,মৃত পুত্র আনি দাও,*
*তবে সে দক্ষিণা মোরা করিব গ্রহণ।।*
*🙏ক্রমাগত🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 ক্রমাগত 👉 ৮০. শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori80.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
