✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১. অর্থ ও পরমার্থ 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/madhukori1.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*শ্রীগুরু কৃপাপ্রার্থী বৈষ্ণব দাসানুদাস শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা মহোদয়।উনার শ্রীগুরুদেব শ্রীসনাতন দাস বাবাজী।*
*🍀🍀🍀অর্থ ও পরমার্থ🍀🍀🍀*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*দৈনন্দিন জীবনে আমরা সদাসর্বদা যেন ছুটে বেড়াচ্ছি কিরকম ভাবে দুটি পয়সা উপার্জন করব এবং তার জন্য নানা লোকে নানা পন্থা অবলম্বন করছেন যার বিশদ ব্যাখ্যা নিষ্প্রোয়জন। আমরা সকলেই মনে করি যে টাকা থাকলে আর ভাবনা কি-- বাড়ী,গাড়ী,সম্পত্তি আমোদ প্রমোদ সবই আমার করায়ত্ব হবে এবং সেজন্য অর্থের মোহে আমরা ছুটে চলেছি।আমার এই প্রবন্ধ বিশেষভাবে সম্পন্ন লোকেদের উপলক্ষ্য করে এবং সে হেতু তাঁদের জিজ্ঞাসা করতে চাই যে জীবনে সবই তো পেয়েছেন ; কিন্তু মনে কি শান্তি পেয়েছেন।ঐশ্বর্য্য ভোগবিলাসের চরমসীমায় পৌঁছিয়ে কি আত্মতৃপ্তি বা আত্মতুষ্টি লাভ করতে পেরেছেন? একথা অবশ্যই স্বীকার্য্য যে সাংসারিক জীবনে প্রতিপদেই অর্থের প্রয়োজন নিজের ভোগবিলাসের জন্য যেমন দরকার তেমনি আবার পরোপকার,সৎকার্য্য, সাধু মহাত্মাগণের সেবা সব ব্যাপারেই অর্থের প্রয়োজন।একথা আপনারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে মানুষ মাত্রেই যে যার পূর্ব জন্মের কর্মফল ভোগ করে এবং সেই হিসাবে ধন সম্পদ অর্জনও মানুষের এই পূর্ব জন্মের অর্জিত পুণ্যফল ছাড়া আর কিছুই নয়।সে হেতু নিজের মনে অপেক্ষাকৃত সম্পন্ন লোকেদের চিন্তা করতে হবে যে ভগবান যে সম্পদ দিয়েছেন কিরকমে তার সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানো যায়।তবে একথাও ঠিক যে মানুষ মাত্রেই স্বীয় স্বার্থকে সর্বাপেক্ষা অগ্রাধিকার দেয়।এখন স্বীয় বলতে আমরা কি বুঝি?প্রথমে যখন আমরা স্কুল কলেজে পড়ি তখন একা খেয়ে একা পরেই আনন্দ পাই।পরে সেই লোকটি যখন একজন অপরিচিত নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তখন কিন্তু সে আর একা খেয়ে শান্তি বা আনন্দ পায় না বরং কি করে তার নব পরিণীতা স্ত্রীকে সুখস্বাচ্ছন্দ্য দান করবে তার চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে পড়ে। অর্থ্যাৎ এই একত্ব বোধ দ্বিতে পরিণত হয়। পরে আবার এই দুইজনার সংযোগ মাধ্যমে যখন সন্তান সৃষ্টি হয় এই উভয়ই তখন নিজেরা না খেয়ে তাদের সন্তানকে খাওয়ায়।সন্তানস্নেহের প্রাবল্যে নিজেদের সুখস্বাচ্ছন্দ্য সব বিসর্জন দেয় তার ফলে এই আমিত্বের সঙ্কীর্ণ পরিধি ধীরে ধীরে ব্যাপ্ত হতে থাকে এবং পরে ক্রমশ নাতি নাতিনীর দিকে বিস্তৃত হয়।এই নশ্বর পৃথিবীতে মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমরা যাদের আপনজন বা রক্তেরজন বলে মনে করি তারা যে কেউই আমার কর্তৃত্ত্বাধীন নয় এই সার কথাটি কিন্তু মানুষ বুঝেও বুঝে না।তথাপি এই পরকে বা নবাগতকে আপন করার এক সহজাত প্রবৃত্তি মানুষের মধ্যে সর্বস্তরে বিদ্যমান।এখন যাঁদের দু'পয়সা ভগবান দিয়েছেন তাঁরা যদি তাঁদের এই দৃষ্টি ভঙ্গী বা মানসিকতাকে আরও একটু বিস্তার করেন তাহলে সমাজের বা দেশের অশেষ মঙ্গল সাধন হবে। অর্থ্যাৎ এই "আমার আমার " বোধটিকে যদি নিজের গরীব আত্মীয়স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী ও গ্রাম বা দেশের দিকে বিস্তার করা যায় তাহলেই দেখবেন যে মনে কত শান্তি পেবেন কারণ মহাজনগণ বলেছেন যে "আপন পেটতো শেয়াল কুকুরেও ভরায়-- পাঁচজনকে যে দিয়ে খায় সেই তো প্রকৃত মানুষ "।*
*🌳এইসব ধনী সম্প্রদায়ের দিকে একটু তাকালেই দেখা যায় যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থানুকূল্যে ভাগ্যবিধাতা তাদের ধন ভান্ডারকে পূর্ণ করে দিয়েছেন।সংসারের এমন লোক নেই যে ভোগ করবে তথাপি তাঁদের মধ্যে এইসব হতভাগ্যদের কল্যাণকল্পে দানশীল প্রবণতা দেখা যায় না।সমাজ যেন আজ আত্মকেন্দ্রিক। ভগবান যাঁদের উদার হস্তে দিয়েছেন তাঁরা কিন্তু শুধু নিজেদের ভোগবিলাসের ব্যাপারেই সচেতন কিন্তু আমরা যেন ভুলে না যায় যে কথা "কবিগুরু" উদাত্ত কন্ঠে বলেছেন=*
*হে মোর দুর্ভাগা দেশ,যাদের করেছ অপমান।*
*অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।।*
*মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে।*
*ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।।*
*বিধাতার রুদ্ররোষে,দুর্ভিক্ষের দ্বারে বসে,*
*ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান।*
*অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।।*
*চরণে দলিত হয়ে ধূলায় সে যায় বয়ে সেই নিম্নে নেমে এসো নহিলে নাহিরে পরিত্রাণ।*
*অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।*
*যারে তুমি নীচে ফেলো সে তোমারে বাধিবে যে নীচে,*
*পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে---*। *ইত্যাদি।।*
*🍁সত্যি ভারতবাসী আজ একটি স্বাধীন জাতি।অর্থে সামর্থ্যে একশ্রেণী আজ অনেক সমৃদ্ধ কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ব্যবহারে তারা যে কত দরিদ্র হয়ে পড়েছে তা সমাজের বিত্তশালী সম্প্রদায়ের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বুঝা যায়।এ সমস্যা কিন্তু সারা বিশ্বের যা ধনী দেশগুলির কার্য্যকলাপের মাধ্যমে অবিরত প্রতিফলিত হচ্ছে। সুতরাং হে ধনী সম্প্রদায়,একথা আপনারা সকলে নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থই মানুষকে বিপথে চালিত করে।কয়জন বিত্তশালী ব্যক্তি তাঁদের বিপুল অর্থকে সৎকার্য্যে ব্যয় করে নিজের জীবন ধন্য করতে পারেন?এই প্রসঙ্গে বলতে চাই যে বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার প্রচণ্ড ধ্বংসলীলার মাধ্যমে দেশের পর দেশ জয় করে অতুল ঐশ্বর্য্যের অধিকারী হয়েছিলেন এবং পরে এই নিষ্ঠুর জয়লোভী যশলোভী মানুষটি যখন অন্তিম শয্যায় শায়িত তখন তিনি তার ঘনিষ্ঠ লোকদের বলেছিলেন যে "আমি মরে গেলে যেন আমার দেহ সঙ্গে সঙ্গে কবর দেওয়া না হয় এবং তৎপূর্বে যেন তার মৃতদেহ সারা শহরে পরিক্রমা করানো হয় দুটি হাত দুদিকে ঝুলিয়ে দিয়ে "।এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে আলেকজান্ডার বলেছিলেন যে "আমি জগৎবাসীকে দেখিয়ে দিতে চাই যে যাবার সময় আলেকজান্ডারকে খালি হাতেই চলে যেতে হল। এই চরম সত্যটি ধনী সম্প্রদায় যত তাড়াতাড়ি তাঁদের জীবনে উপলব্ধি করতে পারবেন ততই তাঁদের নিজস্ব মঙ্গল, সমাজের মঙ্গল,দেশের মঙ্গল।*
*🌷সেইরকম আবার সমাজের বিত্তশালী সম্প্রদায়কে যদি জিজ্ঞাসা করা যায় আপনার অর্থ বা সম্পদ সংগ্রহের বাসনা কি স্তিমিত হয়েছে,তার উত্তরে তাঁরা বলবেন =এ বাসনার কোন শেষ নাই ভোগ বিলাস করতে পারি বা না পারি ধনাকাঙ্ক্ষা কখনও স্তিমিত হয় না বা হবে না এবং এই অর্থই যত অনর্থের মূল যে কথা প্রাচীন শাস্ত্রকারগণ বলেছেন যে =*
*অর্থনাম অর্জনে দুঃখম্ অর্জিতানাঞ্চ রক্ষণে,*
*নাশে দুঃখং ব্যয়ে দুঃখং ধিক্ অথং দুঃখ অর্জনং।*
*🍀ভাবার্থ হচ্ছে, যে অর্থের অর্জনে দুঃখ,অর্জিত অর্থের সংরক্ষণে দুশ্চিন্তা, এবং দুঃখ,অর্থ নাশে দুঃখ,ব্যয়ে দুঃখ অতএব এমন যে অর্থ তাকে ধিক ধিক।তথাপি যে কথা আগেই বলা হয়েছে যে সমাজের প্রতি কাজে অর্থের প্রয়োজন অতএব অর্থকে বাদ দিয়ে তো জীবনে চলা যায় না। কিন্তু এই অর্থ এত উদ্বেগের বা অশান্তির কারণ হয় না যদি নিজের কার্পণ্য সুলভ মনোবৃত্তিকে এবং নিজ ভোগ বিলাসের জন্য মন শুধু সঞ্চয়ের দিকে ধাবিত না হয়। একথা সকলেই স্বীকার করবেন যে যারা যত ধনী তারা ততই অশান্তি ভোগ করছে। ঘরে চর্ব্যচোষ্য লেহ্যপেয় ভোজন দ্রব্যাদি থাকলেও হজম করবার ক্ষমতা নাই। দুগ্ধ ফেননিভ শয্যায় শয়ন করেও চোখে ঘুম নাই, নিজের সন্তানাদির কাছ হতেওধন ভীতি সুতরাং এই স্বল্প পরিসর মানব জীবনে শান্তিই যদি সে না পায় অর্থের মাধ্যমে তাহলে সে অর্থের মূল্য কি?যে কথা শঙ্করাচার্য্য তাঁর মোহমুদ্গর শ্লোকে বলেছেন=*
*"অর্থ অনর্থের মূল ভাব সদা মনে*।
*যথার্থই লেশমাত্র সুখ নাহি ধনে।।*
*তনয় হতেও হয় ধনশালী ভীত।*
*সর্বত্রই রীতি আছয়ে বিহিত।।*
*অতএব*
*ধন জন যৌবনের ত্যজ অহঙ্কার।*
*নিমেষে কৃতান্ত করে সকলি সংহার।।*
*পরিহর এ সংসার ঘোর মায়াময়।*
*জানি ব্রহ্মপদ সবে করহ আশ্রয়*
*পরমাত্মা তত্ত্ব সদা করহ চিন্তন।*
*অনিত্য ধনের চিন্তা করহ বর্জন।।*
*ক্ষণকাল সাধুসঙ্গ কেবল সংসারে*।
*একমাত্র তরি, ভবসিন্ধু তরিবারে*।।
*সুতরাং জ্ঞানী ব্যক্তি বা ভাগ্যবান ব্যক্তি মানব জীবন সম্বন্ধে ধীর স্থির এবং সংযতভাবে চিন্তা করে দেখেন যে কর্মফলের হাত হতে যখন নিষ্কৃতি পাবার ঊপায় কারও নাই, তখন রাজা পরীক্ষিতের মতো নাতিদীর্ঘ স্বল্পপরিসরময় জীবনকে কিভাবে মহিমান্বিত করা যায় এবং তার একমাত্র পন্থা হচ্ছে পরমার্থের সন্ধান। অর্থ মানে টাকা পয়সা আর পরমার্থ মানে শ্রেষ্ঠ অর্থ। এই পরমার্থের সন্ধান প্রাপ্ত হলে মানুষের আর তখন কোন পার্থিব ঐশ্বর্য্যের মোহ থাকে না।*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*শ্রীকৃষ্ণের লীলা কথা,হরে সব মনোব্যথা,*
*শুনিলে শ্রবণ ইচ্ছা হয় বিবর্ধন।*
*তাই লীলাকথা তাঁর,বাঞ্জা জাগে শুনিবার,*
*হয়েছে অন্তর মন পবিত্র এখন।।*
*যেইরূপ গঙ্গাবারি,অন্তর পবিত্রকারী,*
*সেইরূপ কৃষ্ণলীলা পাঠে ও শ্রবণে।*
*বক্তা শ্রোতা উভয়েরে,অতি ত্বরা শুদ্ধ করে,*
*সদা শান্তি রাজে তবে তাহাদের মনে।।*
*চতুর্ভূজ নারায়ণ, আসি দেন দরশন,*
*বসুদেব দেবকীরে কারার ভিতরে।*
*সেই কালে ভগবান,ভক্তেকে করিতে ত্রাণ,*
*প্রবিষ্ট হলেন আসি দেবকী উদরে।।*
*স্তুতি শুনি হরি কন,কর শোক সম্বরণ,*
*তোমাদের পুত্ররূপে আসিনু এখন।*
*কাঁদিও না আর মাতা,শোক দুঃখে আমি ত্রাতা,*
*ভাবনা কি তার-- যার পুত্র নারায়ণ।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏 *ক্রমাগত* 🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
২. অর্থ ও পরমার্থ 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/06/madhukori2.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
